বিএসএফ’র পুশইন চেষ্টা ১১ জনের মানবতার জীবনযাপন

প্রতিবেদন:

·

, ,

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক ‘পুশইন’-এর শিকার ১১ জনের প্রায় ৪০ ঘণ্টা ধরে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
শনিবার ভোরে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ওই ১১ জনকে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তাৎক্ষণিকভাবে তা প্রতিহত করলে তারা দুই দেশের মধ্যবর্তী শূন্যরেখায় অবস্থান নেয়। এরপর থেকেই তারা সীমান্ত এলাকায় আটকে রয়েছেন।

আটকে পড়াদের মধ্যে রয়েছেন ৩ জন পুরুষ, ৪ জন নারী ও ৪ জন শিশু। তাদের মধ্যে একজন ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং একজন প্রতিবন্ধী শিশু রয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুই দফা পতাকা বৈঠক হলেও এখন পর্যন্ত সমস্যার সমাধান হয়নি। ফলে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা ও উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।

ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী রোজিনা আক্তার জানান, তিনি বাবা-মায়ের সঙ্গে ভারতের কলকাতায় বসবাস করছিলেন। পরে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাদের আটক করে বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় ঘোরানোর পর ঠাকুরগাঁও সীমান্তে এনে ছেড়ে দেওয়া হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, খোলা মাঠে পড়ে থাকা নারী ও শিশুদের অবস্থা অত্যন্ত করুণ। মানবিক কারণে গ্রামবাসীরা খাবার ও পানি দিলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

৪২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেন, পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে অবৈধ পুশইনের বিষয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। আইন ও নিয়ম অনুযায়ী যাচাই–বাছাই শেষে বাংলাদেশি নাগরিকদের গ্রহণ করা হবে, তবে অবৈধভাবে ঠেলে দেওয়া কাউকে গ্রহণ করা হবে না।

এদিকে দীর্ঘ সময় ধরে শূন্যরেখায় আটকে থাকা নারী, শিশু ও অসহায় মানুষের মানবিক সংকট নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। দ্রুত কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ