শীত মৌসুম শুরুর আগেই জার্মানিতে গ্যাসের মজুত আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় দেশটির গ্যাস সংরক্ষণব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা ও উন্নত করার আহ্বান জানিয়েছে শিল্প খাতের সংগঠন ইনেস (আইএনইএস)। ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটিতে গ্যাসের মজুত বর্তমানে রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে।
শুক্রবার পর্যন্ত জার্মানির গ্যাস সংরক্ষণাগারগুলোর মজুত দাঁড়িয়েছে ৬১ দশমিক ৩৫ শতাংশে। অথচ নভেম্বরের শুরুতে মজুত ৮০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল দেশটির সরকার। এ পরিস্থিতিতে শীত মৌসুমে গ্যাস সরবরাহে সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও জার্মান সরকার জানিয়েছে, দেশে গ্যাস সরবরাহে কোনো ঘাটতি দেখা দেবে না।
ইনেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেবাস্তিয়ান হেইনারমান এক বিবৃতিতে বলেন, ‘গ্যাসের মজুতসংক্রান্ত লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থতা প্রমাণ করে, আগামী শীত মৌসুমগুলোর জন্য পর্যাপ্ত গ্যাস সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।’
তিনি আরও বলেন, ‘গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর বাধ্যতামূলক মজুতের শর্ত আরোপের বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় অর্থনীতি মন্ত্রণালয়ের ইতিবাচক অবস্থান যথাযথ ও গুরুত্বপূর্ণ।’
গ্যাসের মজুত কমে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ এবং এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধিকে দায়ী করা হচ্ছে। এর ফলে গ্রীষ্মকালে গ্যাস কিনে ভূগর্ভস্থ সংরক্ষণাগারগুলো পূর্ণ করা ব্যয়বহুল ও কঠিন হয়ে পড়ে।
এছাড়া ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানকে কেন্দ্র করে রাশিয়া থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। সব মিলিয়ে জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা এবং মূল্যবৃদ্ধির কারণে জার্মানির গ্যাস মজুত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ
