আবারও পিছিয়ে গেল প্রাথমিক শিক্ষকদের পদায়ন, বাড়ছে দুর্ভোগ

প্রতিবেদন:

·

,

ওইদিন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয়-২ শাখা থেকে উপ-সচিব রওশন আরা পলি স্বাক্ষরিত আদেশে নবযোগদানকৃত সহকারি শিক্ষকদের পদায়নের তারিখ পিছিয়ে ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণের সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে।

এতে বলা হয়, উপর্যুক্ত বিষয় ও সূত্রের পরিপ্রেক্ষিতে নবনিযুক্ত শিক্ষকগণের পদায়ন আদেশে ১১ অক্টোবর তারিখের পরিবর্তে ১৮ অক্টোবর ২০২৬ নির্ধারণ এবং ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণ ১৫ অক্টোবর তারিখ পর্যন্ত সময় বর্ধিত করা হলো। এ বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

এর আগে ১ অক্টোবর নতুন শিক্ষকদের নিজ নিজ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে যোগদান শেষে ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণের কথা ছিল। মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী ৪ অক্টোবর পদায়নের কথা থাকলেও তা প্রথমে ১১ অক্টোবর করা হয়। এবার দ্বিতীয় দফায় আরও এক সপ্তাহ পিছিয়ে ১৮ অক্টোবর নির্ধারণ করা হলো।

এর আগে এ নিয়োগের চূড়ান্ত ফল গত ৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ করা হয়। এতে ৬১ জেলায় ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়। পরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ডোপ টেস্ট ও পুলিশ ভেরিফিকেশনসহ বিভিন্ন যাচাই শেষে ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে নিয়োগপত্র দেওয়া শুরু হয়। তবে প্রথম তালিকায় বিপুলসংখ্যক সুপারিশ প্রাপ্তের নাম না থাকায় আন্দোলন শুরু হলে পর্যায়ক্রমে অধিকাংশকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়।

সর্বশেষ হিসাবে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছিলেন ১৩ হাজার ৮৩১ জন। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৭৪৮ জন নিয়োগপত্র পেয়েছেন। কিন্তু ১ অক্টোবর নির্ধারিত দিনে তাঁদের মধ্যে ৯১৮ জন যোগ দেননি। অন্যদিকে ৫৫৩ জন প্রয়োজনীয় কাগজপত্রই জমা দেননি। সব মিলিয়ে ১ হাজার ৪৭১ জন শেষ পর্যন্ত যোগদান করেননি।

এদিকে যাচাই-বাছাইয়ের পরও ৮৩ জন প্রার্থী নিয়োগপত্র পাননি বলে সর্বশেষ তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের মধ্যে ৩১ জনকে নিয়ে উচ্চ আদালতে রিট করার প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছেন বঞ্চিত প্রার্থীদের একজন। তাঁদের অভিযোগের নিষ্পত্তি না হলে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে আইনি জটিলতার আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকসংকটের মধ্যেই এ নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। ৩৬ হাজারের বেশি প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য থাকায় সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির মাধ্যমে এসব পদ পূরণের প্রক্রিয়াও এগোচ্ছে। ফলে নতুন করে সহকারী শিক্ষক পদ শূন্য হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। এ অবস্থায় বারবার পদায়নের তারিখ পরিবর্তন এবং নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের অনিশ্চয়তা দ্রুত নিরসনের দাবি উঠেছে।

যোগদান করা সহকারী শিক্ষকদের পদায়ন প্রক্রিয়া পেছানোর কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ আছে কিনা তা জানতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয়-২ শাখার উপ-সচিব রওশন আরা পলির সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরে তার হোয়াটস আপ নম্বরে বক্তব্য চাওয়া হলেও তার প্রতিউত্তর পাওয়া যায়নি।

তবে নাম ও পদবী প্রকাশ না করার শর্তে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা জানান, ৩৬ হাজারের বেশি প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য থাকায় সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির মাধ্যমে এসব পদ পূরণের প্রক্রিয়া চলছে। ফলে নতুন সহকারী শিক্ষকদের পদায়নে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।

Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ