ক্রীড়া ডেস্ক:
এক দশক আগে জাতীয় দলকে বিদায় বলেছিলেন লিওনেল মেসি। ২০১৬ কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিলির কাছে হারের পর হতাশায় আন্তর্জাতিক ফুটবল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত বদলে ফেরার পরই শুরু হয় তার এবং আর্জেন্টিনার সোনালি অধ্যায়।
সোমবার অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসেছেন মেসি। বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা এখন ১৮, যা পুরুষ ও নারী—উভয় বিভাগের বিশ্বকাপ মিলিয়ে সর্বোচ্চ। তিনি পেছনে ফেলেছেন জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসাকে, যার গোলসংখ্যা ১৬। ১৭ গোল নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি মার্তা।
ডালাসে অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরুটা অবশ্য মেসির জন্য হতাশার ছিল। অষ্টম মিনিটে পাওয়া পেনাল্টি লক্ষ্যভ্রষ্ট করেন তিনি। তবে ৩৮ মিনিটে দুর্দান্ত এক গোল করে ক্লোসার রেকর্ড স্পর্শ করেন। এরপর যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে আরও একটি গোল করে এককভাবে ইতিহাসের শীর্ষে উঠে যান।
বিশ্বকাপে এটি মেসির ষষ্ঠ আসর। আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, তার ১৮ গোলের মধ্যে ১২টিই এসেছে ৩৫ বছর বয়স পার করার পর। চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার করা পাঁচ গোলের সবকটিই এসেছে তার পা থেকে।
অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে গোল করে মেসি আরেকটি বিরল কীর্তিও গড়েছেন। তিনি বিশ্বকাপে টানা ছয় ম্যাচে গোল করা মাত্র তৃতীয় ফুটবলার। এর আগে এই কৃতিত্ব ছিল শুধু ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইন (১৯৫৮) ও ব্রাজিলের জাইরজিনহোর (১৯৭০)।
বিবিসির বিশ্লেষণে সাবেক ওয়েলস অধিনায়ক অ্যাশলি উইলিয়ামস প্রশ্ন তুলেছেন, “আমরা কি ফুটবল ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়কে দেখছি?” আর সাবেক ইংল্যান্ড মিডফিল্ডার ড্যানি মারফির মতে, “মেসির ফুটবল বুদ্ধিমত্তা অন্য এক পর্যায়ে। তিনি সম্ভবত আমার দেখা সেরা ফুটবলার।”
মজার বিষয় হলো, রেকর্ড গড়ার রাতেও একটি অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড নিজের নামে লিখিয়েছেন মেসি। বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি পেনাল্টি নেওয়া (৭) এবং সবচেয়ে বেশি পেনাল্টি মিস করা (৩) খেলোয়াড়ও এখন তিনি।
তবে শেষ পর্যন্ত রাতটি ছিল শুধুই মেসির। একসময় জাতীয় দলকে বিদায় জানানো ফুটবলারই এখন বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি গোলের মালিক। আর সেই সঙ্গে আর্জেন্টিনাকে টানা আরেকটি নকআউট পর্বের টিকিটও এনে দিয়েছেন তিনি।
Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ
