ডেঙ্গু

  • ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু

    ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু

    সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৯ জন মারা গেছেন। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯০২ জন। সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিস্তারিত আসছে…

  • গত ২৪ ঘন্টায় ডেঙ্গুতে আরও ছয় জনের মৃত্যু

    গত ২৪ ঘন্টায় ডেঙ্গুতে আরও ছয় জনের মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরো ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর একই সময়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২,০৮৯ জন। এই নিয়ে চলতি মাসের ৪ দিনে মৃত্যু হয়েছে ১৭ জনের এবং মোট আক্রান্ত হয়েছে ৬ হাজার ৮৩৮ জন।

    রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮ টা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বরিশাল বিভাগে ২০৩ জন, চট্টগ্রামে ৩২৪ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৫১৪ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১০৬ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৯৬ জন, খুলনায় ৩৩০ জন, ময়মনসিংহে ৯৯ জন, রাজশাহীতে ২২৮ জন, রংপুরে ৮৩ জন এবং সিলেটে ১০ জন ভর্তি হয়েছেন। এই সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে ১,৮৬৫ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৬ হাজার ৪৫৮ জনে। আর এ বছরে মোট মৃত্যু হয়েছে ২৬২ জনের। মৃতদের মধ্যে জানুয়ারিতে ২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মে মাসে একজন, জুনে ১৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন এবং আগস্টে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    এছাড়াও এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু মোট আক্রান্তদের মধ্যে ৬২.৩ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭.৭ শতাংশ নারী ।

  • ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১,৬০৮

    ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১,৬০৮

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরো ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর একই সময়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১,৬০৮ জন। সব মিলিয়ে চলতি মাসের তিন দিনে মোট ১১ জনের মৃত্যু এবং মোট আক্রান্ত হয়েছে ৪ হাজার ৭৪৯ জন।

    শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮ টা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বরিশাল বিভাগে ২১৫ জন, চট্টগ্রামে ৩১৯ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৩১ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৭১ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ২২৩ জন, খুলনায় ২৭৬ জন, ময়মনসিংহে ৭৯ জন, রাজশাহীতে ১৩২ জন এবং রংপুরে ৬২ জন ভর্তি হয়েছেন। এই সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে ১,৬২১জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৪ হাজার ৩৬৯ জনে। আর এ বছরে মোট মৃত্যু হয়েছে ২৫৬ জনের। মৃতদের মধ্যে জানুয়ারিতে ২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মে মাসে একজন, জুনে ১৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন আগস্টে ৪৩ জন এবং সেপ্টেম্বরে ১৪৮ মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু মোট আক্রান্তদের মধ্যে ৬২.৪ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭.৬ শতাংশ নারী ।

  • ডেঙ্গু পরীক্ষায় ৫ লাখ কিট দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

    ডেঙ্গু পরীক্ষায় ৫ লাখ কিট দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

    বাংলাদেশে চলমান ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলায় রোগী শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় সহায়তা হিসেবে পাঁচ লাখ ডেঙ্গু এনএস১ র‍্যাপিড ডায়াগনস্টিক টেস্ট কিট দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত স্ট্রাইডস কার্যক্রমের মাধ্যমে এসব কিট দেওয়া হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার রাজধানীর কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের কাছে কিটগুলো হস্তান্তর করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত (চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স) তৃষিতা মওলা।এ সময় ডেঙ্গু পরীক্ষার কিটগুলো দ্রুত সারা দেশে বিতরণের নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, যানজট ও যাতায়াতের সুবিধার কথা বিবেচনা করে হস্তান্তর অনুষ্ঠানটি কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতালে আয়োজন করা হয়েছে। তবে হস্তান্তর করা সব কিট সরাসরি কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে (সিএমএসডি) জমা হবে। পরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে চাহিদা অনুযায়ী দেশের সব জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে এসব কিট পৌঁছে দেওয়া হবে।

    সাখাওয়াত হোসেন বলেন, নতুন পাওয়া কিটের পাশাপাশি সরকারি খাতেও বর্তমানে পর্যাপ্ত ডেঙ্গু অ্যান্টিজেন কিট ও আইভি স্যালাইন মজুদ রয়েছে। ফলে দেশের যেকোনো অঞ্চলে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য বিভাগ প্রস্তুত রয়েছে।

    বাংলাদেশে ডেঙ্গু ভ্যাকসিন চালুর বিষয়ে সরকারের চিন্তাভাবনা রয়েছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভ্যাকসিনটির ব্যয় বেশি হওয়ায় এর কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি। এ বিষয়ে ডব্লিউএইচও, ইউনিসেফ ও গ্যাভির সঙ্গে আলোচনা চলছে। আন্তর্জাতিক নির্দেশিকা অনুসরণ করে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. রফিকুল ইসলাম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান, কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইদুর রহমান, মার্কিন দূতাবাস ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    পরে তারা হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ড ও রোগনির্ণয় পরীক্ষাগার ঘুরে দেখেন।

  • ডেঙ্গুতে আরো ৪ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৯৭৮

    ডেঙ্গুতে আরো ৪ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৯৭৮

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরো ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর একই সময়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১,৯৭৮ জন। সব মিলিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যু হয়েছে ২৪৯ জনের এবং মোট আক্রান্ত হয়েছে ৮১ হাজার ৫৯৮ জন।

    বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮ টা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বরিশাল বিভাগে ২৬০ জন, চট্টগ্রামে ৩৫৮ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৩২৮ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৮০ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৭৬ জন, খুলনায় ২৫৬ জন, ময়মনসিংহে ৯৪ জন, রাজশাহীতে ২০৯ জন, রংপুরে ১০১ জন এবং সিলেটে ১৬ জন ভর্তি হয়েছেন। এই সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে ১,৮০৯ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরে মৃতদের মধ্যে জানুয়ারিতে ২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মে মাসে একজন, জুনে ১৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, আগস্টে ৪৩ এবং সেপ্টেম্বরে ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু মোট আক্রান্তদের মধ্যে ৬২.৫ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭.৫ শতাংশ নারী ।

  • ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ জনের মৃত্যু

    ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ জনের মৃত্যু

    দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯৪৮ জন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪৫ জনে।

    আর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৭৯ হাজার।

    বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯৪৮ জন। এ নিয়ে চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন মোট ৭৯ হাজার ৬২০ জন।

    একই সময়ে ডেঙ্গুতে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে চলতি বছরে এ রোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৪৫ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্ষা মৌসুমে সাধারণত ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে দেখা যায়। এ সময় এডিস মশার বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ে।

    ফলে জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা, বমি বা দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

    ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি বাড়ি ও আশপাশের জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, নির্মাণাধীন ভবনের বিভিন্ন স্থানসহ যেখানে পানি জমে থাকতে পারে, সেসব জায়গা পরিষ্কার রাখার পরামর্শ রয়েছে।

    এদিকে, হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা প্রতিদিন বাড়তে থাকায় ডেঙ্গু মোকাবিলায় চিকিৎসাব্যবস্থা ও মশকনিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • ডেঙ্গুতে ২৯ দিনে ১৪২ জনের মৃত্যু

    ডেঙ্গুতে ২৯ দিনে ১৪২ জনের মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরো ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১,৯৪২ জন। সব মিলিয়ে চলতি মাসের ২৯ দিনে মৃত্যু হয়েছে ১৪২ জনের এবং মোট আক্রান্ত হয়েছে ৪১ হাজার ৮২৬ জন।

    মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বরিশাল বিভাগে ২১৩ জন, চট্টগ্রামে ৩০১ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৩৭৮ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৭৮ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ২২৯ জন, খুলনায় ২৬৪ জন, ময়মনসিংহে ১২০ জন, রাজশাহীতে ১৯৭ জন, রংপুরে ৫৬ জন এবং সিলেটে ৬ জন ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে ১,৭৫১ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৭ হাজার ৬৭২ জনে। আর এ বছরে মোট মৃত্যু হয়েছে ২৩৯ জনের। মৃতদের মধ্যে জানুয়ারিতে ২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মে মাসে একজন, জুনে ১৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন এবং আগস্টে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু মোট আক্রান্তদের মধ্যে ৬২.৩ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭.৭ শতাংশ নারী ।

  • ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৯৪২

    ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৯৪২

    ডেঙ্গু আক্রান্ত আরও ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময় নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও এক হাজার নয়শত ৪২ জন রোগী।

    আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে।

  • ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসকের মৃত্যু, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর শোক

    ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসকের মৃত্যু, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর শোক

    ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৪২তম বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের কর্মকর্তা ও মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সহকারী রেজিস্ট্রার (নিউরোলজি) ডা. আঁচল রায় মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৩০ বছর ৷ চিকিৎসকের এ অকালমৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল।

    রোববার রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ডা. আঁচল রায়ের অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, তার মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত। স্বাস্থ্য পরিবার একজন নিবেদিতপ্রাণ চিকিৎসককে হারাল। মন্ত্রী প্রয়াতের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার, স্বজন ও সহকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

    জানা গেছে, ডা. আঁচল রায় মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগে কর্মরত ছিলেন। সম্প্রতি তাকে রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগে সংযুক্ত করা হয়েছিল। চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি মাঝে মাঝে ডেঙ্গু রোগীদেরও চিকিৎসা দিয়েছেন। চিকিৎসক আঁচল তৎকালীন আবদুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজে (বর্তমানে নোয়াখালী মেডিকেল কলেজ) পড়াশোনা করেছেন। তিনি সম্প্রতি ইন্টারনাল মেডিসিনে এফসিপিএসের মিড-টার্ম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এর আগে যুক্তরাজ্যের এমআরসিপি পরীক্ষার পার্ট-ওয়ানও পাস করেন তিনি।

    আঁচলের স্বামী বিপ্লব চন্দ্র দাস বলেন, চার দিন ধরে বাসায় চিকিৎসা নেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। পঞ্চম দিনে রক্তে প্লাটিলেটের মাত্রা দ্রুত কমে গেলে তাকে স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রথমে তাকে হাসপাতালের হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিটে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয় এবং রোববার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

  • বেড খালি নেই চট্টগ্রামের হাসপাতালে, ক্রাশ প্রোগ্রামেও মরছে না মশা

    বেড খালি নেই চট্টগ্রামের হাসপাতালে, ক্রাশ প্রোগ্রামেও মরছে না মশা

    ডেঙ্গু জ্বরে কাঁপছে চট্টগ্রাম নগরী। সরকারি-বেসরকারি কোনো হাসপাতালে রোগীর জন্য বেড খালি নেই। শত চেষ্টা করেও হাসপাতালের বারান্দা কিংবা ভেতরে বেড মিলছে না। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে ঘরেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। আর অনেকে জ্বরের যন্ত্রণায় আইসিইউতে কাতরাচ্ছেন। কয়েক দিনের যুদ্ধ শেষে জীবনের কাছে হার মানতে হচ্ছে জ্বরে আক্রান্তদের। মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে বাড়লেও মশার উপদ্রব কমাতে ব্যর্থ হচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও জেলার উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদগুলো।

    বর্তমানে আক্রান্তের দিক থেকে শহর এলাকা গ্রামকে ছাড়িয়ে গেছে। প্রতিদিনই মৃত্যুর মিছিলে যোগ হচ্ছে শিশু, যুবক থেকে শুরু করে বৃদ্ধদের নামও। এ অবস্থায় ডেঙ্গু নিধনে চসিক ও স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের ওপর আস্থা তলানিতে ঠেকেছে। চসিকের দেওয়া ওষুধের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

    নগরবাসীর অভিযোগ, চসিক ক্রাশ প্রোগ্রাম চললেও ৪১টি ওয়ার্ডে নিয়মিত ফগিং ও স্প্রে করা হচ্ছে না। তা ছাড়া ওষুধ প্রয়োগের চেয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় জোর দেওয়া উচিত। অথচ চসিক তা করছে না। সংস্থাটির ব্যবহৃত বিটিআই ওষুধ মশা নিধনে আদৌ কাজে আসছে কি না, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন বাসিন্দারা।

    সরেজমিনে নগরীর বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, ডেঙ্গু ওয়ার্ডগুলোয় কোনো বেড খালি নেই। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০৪ জনসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মিলিয়ে ২৩১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন। নতুন করে রোগী ভর্তি করতে নারাজ সব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আক্রান্ত রোগীদের বেশির ভাগ বাসাবাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বিভিন্ন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডেঙ্গু পরীক্ষার কেন্দ্রে প্রতিদিন ভিড় বাড়ছে।

    চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে ইশতিয়াক আহমেদ মেহেরাজ বলেন, বহু কষ্টে সন্তানের জন্য একটি বেড পেয়েছি। ২০ দিন ধরে আমার চার বছর বয়সি সন্তানের গায়ে জ্বর কমছেই না। অথচ কোনো ভাইরাসই ধরা পড়ছে না। উদ্বেগের মধ্যে আছি। তিনি বলেন, নগরীর হালিশহর ডেঙ্গুর হটস্পট। অথচ সেখানে তেমন কোনো ওষুধ ছিটানো হচ্ছে না। চসিকের কর্মীদের অবহেলা অথবা ওষুধ প্রয়োগে অদক্ষতার কারণে মশা মরছে না বলে মনে করেন তিনি।

    আকবরশাহ এলাকার বাসিন্দা হোসনে আরা বেগম বলেন, আমার পুত্রবধূ আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে দুবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। হাসপাতালে কোনো বেড পেলেও সেখানে চিকিৎসা নেই বললেই চলে। চসিকের কোনো লোকজনকে মশার ওষুধ দিতে দেখিনি। তিন মাস আগে একবার এলেও তাদের মতো করে ফগিং করে চলে যান। এতে মশার আবাসস্থল ধ্বংস হচ্ছে না।

    দুই নম্বর গেটের বাসিন্দা রেজাউল রাজু বলেন, সন্ধ্যা হলেই মশার উপদ্রব বাড়ে। কাজ থেকে ফিরে মশা মারতে নানা আয়োজন করতে হয় স্বামী-স্ত্রীকে। অথচ সিটি করপোরেশনের তেমন কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ে না। তার অভিযোগ, ক্রাশ প্রোগ্রামের নামে লোকদেখানো প্রচার চলছে। ওষুধ কাজ করে কি না, তা নিয়ে আমার সন্দেহ।

    এদিকে চট্টগ্রামে ডেঙ্গু কেড়ে নিচ্ছে অনেক প্রাণ। চলতি মাসে চট্টগ্রামে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত শনিবার নগরীর বেসরকারি সাজিনাস হাসপাতাল থেকে মুচলেকা দিয়ে ছাড়পত্র নিয়ে নেন মনি আক্তার নামে এক নারী। ফেরার পথেই তার মৃত্যু হয়। বর্তমানে তার আট বছর বয়সি ছেলে আবু জাহেদও হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন ডেঙ্গু জ্বরে।

    আবু জাহেদের বাবা আল আমিন জানান, স্ত্রী হারানোর আগেই ছেলে জ্বরে আক্রান্ত হন। সাজিনাস হাসপাতালে স্ত্রীকে চিকিৎসার বিল দাঁড়ায় ১ লাখ ২১ হাজার টাকা। ৩০ হাজার টাকা নগদ দিয়ে অবশিষ্ট টাকা বকেয়া রেখে তিনি চলে যান। সেদিনই তার স্ত্রীর মৃত্যু হয়। সেই শোক এখনো কাটেনি। এখন ছেলেকে নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) উদ্বেগে রয়েছেন।

    এদিকে জেলার ১৫টি উপজেলার ডেঙ্গুর পরিস্থিতিও নাজুক। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত সীতাকুণ্ডে। ওই উপজেলায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর ডেঙ্গুতে সিরাজুল মুনিরা (৫) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। ২২ সেপ্টেম্বর কোরবান আলী রিফাত নামে ১৬ বছরের কিশোরের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে গত ১০ দিনে সীতাকুণ্ডে ডেঙ্গুতে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। উপদ্রব কমাতে সেই উপজেলায় তেমন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা। অন্য উপজেলায় আক্রান্ত লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে।

    বাসিন্দারা বলছেন, বর্তমানে পৌরসভা-ইউনিয়ন পরিষদগুলোয় কোনো কাউন্সিলর-মেম্বার ও মেয়র-চেয়ারম্যান নেই। সরকারি কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করছেন। তারা অন্য কাজে ব্যস্ত থাকেন। অভিযোগ দেওয়ার স্থানও তারা পাচ্ছেন না। মশার উপদ্রব বেড়েই চলছে।

    জেলা সিভিল সার্জন সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম জেলায় গত বছরের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বরের তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৫৫.৯৫ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৫ সালের প্রথম ৯ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিল ২,৫১৫ জন। বিপরীতে ২০২৬ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৩,৯২২ জন। এর মধ্যে জেলার ১৫ উপজেলায় ১,৭১১ জন। আর চসিক এলাকায় ১,৭৭০ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আক্রান্ত বেড়েছে ১,৪০৭ জন।

    তবে শুধু সেপ্টেম্বর মাসের হিসাব ডেঙ্গু নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিল ৯৩৫ জন। আর মৃত্যু হয়েছিল চারজনের। চলতি সেপ্টেম্বরের ২৪ দিনে আক্রান্ত ১,৭৮৬ জন এবং মারা গেছেন ১৩ জন। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় আক্রান্ত ৯১.০২ শতাংশ এবং মৃত্যু ২২৫ শতাংশ বেড়েছে।

    চসিকের মশক নিধন কর্মকর্তা শরফুল ইসলাম মাহী জানান, ১৫৮টি স্প্রে মেশিন ও ৮৬টি ফগার মেশিন দিয়ে কাজ চলছে। ৬০ জনের একটি বিশেষায়িত টিমও মাঠে রয়েছে। স্প্রে ও ফগিংÑএই দুভাবে মশা নিধন করা হচ্ছে। বিটিআই ওষুধটি একটি ব্যাকটেরিয়া। সরাসরি মশার পাকস্থলীতে আক্রমণ করে। ডিসেম্বর পর্যন্ত ওষুধটি ব্যবহার করা হবে।

    এ বিষয়ে সদ্য বদলি হওয়া চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা কমান্ডার ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, আমরা নিয়মিত ক্রাশ প্রোগ্রাম চালাচ্ছি। পাঁচটি হটস্পটকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ৪১টি ওয়ার্ডে কাজ করতে গেলে কিছুটা গ্যাপ থেকে যায়। আমরা চেষ্টা করছি। তিনি বলেন, বিটিআই আগের চেয়ে ভালো করছে বলেই আমরা এটি ব্যবহার করছি।

    চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. ফজলে রাব্বি বলেন, চসিকের সঙ্গে আমরা ওষুধ নিয়ে কথা বলব। নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু সিজন থাকবে। আমরা মানুষকে সচেতন করে যাচ্ছি। পাশাপাশি যৌথভাবে কাজ করছি।

    বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল ইনফেকশাস ডিজিজেসের ক্লিনিক্যাল ট্রপিক্যাল মেডিসিনের প্রধান অধ্যাপক মামুনুর রশীদ বলেন, তিন কারণে ডেঙ্গু বাড়ছে। থেমে থেমে বৃষ্টি, বিদ্যমান তাপমাত্রা ও বাতাসে ৮০ শতাংশের ওপরে আর্দ্রতা। এটি এডিস বৃদ্ধি ও বিস্তারের জন্য সহায়ক। এতে বৃষ্টির সংস্পর্শে এডিস মশার পেড়ে রাখা ডিম তিন দিনের মধ্যে অ্যাডাল্ট হয়ে যাচ্ছে। আমাদের ধারণা নভেম্বর পর্যন্ত এটি চলবে। আর থেমে থেমে বৃষ্টি কমে গেলে আরো আগে কমে যেতে পারে।

    তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে চার ধরনের ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছেন রোগীরা। বর্তমানে চট্টগ্রামের ডেঙ্গুর ধরন জানতে নমুনা দেশের বাইরে পাঠানো হয়েছে।

  • ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৪৩২

    ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৪৩২

    গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৪৩২ জন দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে বরিশাল বিভাগে ২০৪ জন, চট্রগ্রাম বিভাগে ২০৯ জন, ঢাকা বিভাগে সিটি কর্পোরেশনের বাইরে ২৮০ জন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন ১০৬ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ১৭০ জন, খুলনা বিভাগে ২৪১ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১১২ জন, রাজশাহী বিভাগে ৫৭ জন এবং রংপুর বিভাগে বিভাগে ৫৩ জন রয়েছেন। চলতি বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭১ হাজার ৫৩৬ জন।

    চলতি বছরে এ যাবত মোট ৬৬ হাজার ২৫৬ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

  • ডেঙ্গুর হটস্পট সীতাকুণ্ড, ১৬ দিনে দুই শিশুসহ মৃত্যু ৫

    ডেঙ্গুর হটস্পট সীতাকুণ্ড, ১৬ দিনে দুই শিশুসহ মৃত্যু ৫

    চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়ছে। গত ১৬ দিনে উপজেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দুই শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৫০৮ জন। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার চার বছরের শিশু লামিয়া আক্তার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সীতাকুণ্ডকে ডেঙ্গুর হটস্পট বিবেচনায় নিয়ে এডিস মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত ও ধ্বংসে সমন্বিত মাঠপর্যায়ের অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    লামিয়া সোনাইছড়ি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বড় আউলিয়া এলাকার ভূঁইয়া বাড়ির বাসিন্দা। তার বাবা মৃত ইমাম হোসেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, চার দিন জ্বরে ভোগার পর স্থানীয় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করালে লামিয়ার ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। পরে তাকে ফৌজদারহাটের বক্ষব্যাধি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার তার মৃত্যু হয়।

    সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শিব্বীর আহমেদ প্রিন্স বলেন, লামিয়া চার দিন জ্বরে ভোগার পর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। পরে তাকে চমেকে রেফার করা হলেও পরিবারের সদস্যরা নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

    ডা. শিব্বীর আহমেদ প্রিন্স বলেন, ‘সীতাকুণ্ড এখন ডেঙ্গুর হটস্পটে পরিণত হয়েছে। এ পর্যন্ত উপজেলায় ৫০৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন দুই শিশুসহ পাঁচজন।’ জ্বরকে সাধারণ অসুস্থতা মনে করে অবহেলা না করে দ্রুত পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য পুরুষ, নারী ও শিশু ওয়ার্ডে মোট ১০টি শয্যা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট ও স্যালাইনের ঘাটতি নেই। জটিল রোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী চট্টগ্রাম নগরের উচ্চতর চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে।

    স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, রোগীর চিকিৎসার পাশাপাশি সংক্রমণের উৎস নিয়ন্ত্রণে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা জরুরি। সীতাকুণ্ডের শিল্পাঞ্চল, জাহাজভাঙা ইয়ার্ড, অভ্যন্তরীণ কনটেইনার ডিপোসহ বিভিন্ন এলাকায় জমে থাকা পানি এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল হতে পারে। পরিত্যক্ত যন্ত্রপাতি, পুরোনো টায়ার, ক্যান, ড্রাম ও বিভিন্ন পাত্রে জমে থাকা পানিও এ ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ।

    সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এসব স্থানে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও নজরদারি না থাকলে এডিস মশার বিস্তার এবং ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকি থেকে যেতে পারে।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসন, পৌর প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বয়ে মাঠপর্যায়ে অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান, শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক সীতাকুণ্ড পৌর কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এরপর সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে লার্ভা ধ্বংসে প্রশিক্ষিত জনবল ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নিয়ে অভিযান চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

    স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, এককালীন অভিযান চালানোর পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে নিয়মিত নজরদারি, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং প্রজননস্থল ধ্বংসের ব্যবস্থা চালু রাখা প্রয়োজন। পাঁচজনের মৃত্যুর পর সীতাকুণ্ডে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এসব কার্যক্রম কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

  • ডেঙ্গুতে এ বছরে মৃত্যু ২১১, আক্রান্ত ৭০ হাজার ১০৪

    ডেঙ্গুতে এ বছরে মৃত্যু ২১১, আক্রান্ত ৭০ হাজার ১০৪

    দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৯৫৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা ৭০ হাজার ছাড়িয়েছে। এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ২১১ জন।

    শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের প্রথম ২৫ দিনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১১৪ জন। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৪ হাজার ২৫৮ জন।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল বিভাগে ৪৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৪৬ জন, ঢাকা বিভাগে (ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ছাড়া) ২৪১ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৭৬ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৩৩ জন, খুলনা বিভাগে ১৩০ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩৭ জন, রংপুর বিভাগে ৪৪ জন এবং সিলেট বিভাগে ৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    একই সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৯৫৩ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতদের মধ্যে জানুয়ারিতে দুজন, ফেব্রুয়ারিতে দুজন, মে মাসে একজন, জুনে ১৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন এবং আগস্টে ৪৩ জন মারা গেছেন। সেপ্টেম্বর মাসে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১১৪ জনের।

    এ বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ৬২ দশমিক ৪ শতাংশ এবং নারী ৩৭ দশমিক ৬ শতাংশ।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৭০ হাজার ১০৪ জন। একই সময়ে মারা গেছেন ২১১ জন।

  • শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ডেঙ্গু মশা নিধন কর্মসূচি বাস্তবায়নের তথ্য আহ্বান

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ডেঙ্গু মশা নিধন কর্মসূচি বাস্তবায়নের তথ্য আহ্বান

    কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ডেঙ্গু মশা নিধন কর্মসূচি বাস্তবায়নের তথ্য আহ্বান করা হয়েছে। এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন কার্যক্রমের ছবি, সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদনসহ প্রয়োজনীয় তথ্য নির্ধারিত মেইলে পাঠাতে হবে।

    গতকাল কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের এক চিঠিতে এ তথ্য জানা যায়। চিঠিটি অধিদপ্তরের আওতাধীন সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানদের পাঠানো হয়েছে।

    এতে জানা যায়, ডেঙ্গু মশা নিধন কর্মসূচি বাস্তবায়ন কার্যক্রমের ছবি, সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদনসহ প্রয়োজনীয় তথ্য প্রমানক এ দপ্তরের ই-মেইল: ad2dte@techedu.gov.bd এ অবগতি ও পরবর্তী প্রয়োজনীয় কার্যার্থে সাপ্তাহিকভাবে পাঠানো জন্য নির্দেশ করা হলো।

    কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের ‘ডেঙ্গু মশা নিধন কর্মসূচি’ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত চিঠিতে জানা যায়, সব সরকারি-বেসরকারি দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বাজার কমিটি, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, স্বেচ্ছাসেবী ও সামাজিক সংগঠনসমূহ প্রতি শনিবার ডেঙ্গু মশক নিধনের লক্ষ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করবে; স্কাউটস, বিএনসিসি, শিক্ষার্থী, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্র, বাসস্থান, জনসমাগমস্থল ও সংলগ্ন এলাকায় সম্ভাব্য এডিস মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে জমে থাকা পানি অপসারণ এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হবে; দপ্তর প্রধানরা প্রতি শনিবার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় তার দপ্তর ও দপ্তরসংলগ্ন স্থানে ডেঙ্গুমশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করবে; ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে র্যালি, মাইকিং, প্রচার-প্রচারণা, সভা, সেমিনার, আলোচনা ও উদ্বুদ্ধকরণ সভাসহ স্থানীয়ভাবে উপযোগী কার্যক্রম নিতে হবে; প্রতি শনিবার পরিচালিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রমের ছবি, সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদনসহ প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণক সংরক্ষণ করতে হবে।

  • ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আট জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৭৮২

    ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আট জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৭৮২

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আটজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৭৮২ জন। এনিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে ২০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুমের ডেঙ্গুবিষয়ক ড্যাশবোর্ড থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বরিশাল বিভাগে ১৬৪ জন, চট্টগ্রামে ২৮৮ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৩৭১ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৫১ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৯৪ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেটে ১৭ জন ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে ১,৭ ৫৭জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে। আর এ বছরে মোট মৃত্যু হয়েছে ২০৯ জনের। মৃতদের মধ্যে জানুয়ারিতে ২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মে মাসে একজন, জুনে ১৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন এবং আগস্টে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু মোট আক্রান্তদের মধ্যে ৬২.৫ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭. ৫ শতাংশ নারী ।

  • ডেঙ্গুর ভয়ংকর রূপ, প্রাথমিক লক্ষণে WHO’র সতর্কতা

    ডেঙ্গুর ভয়ংকর রূপ, প্রাথমিক লক্ষণে WHO’র সতর্কতা

    ক্রমশ ভয়ংকর হয়ে উঠছে বাংলাদেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এডিস মশাবাহিত এই রোগটিতে আক্রান্তের পাশাপাশি মৃত্যুও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে ডেঙ্গুতে মৃত্যুহীন দিনের দেখা খুব কমই মিলছে। এ অবস্থায় ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে প্রয়োজন টেকসই ব্যবস্থা। ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ডেঙ্গুর প্রাথমিক লক্ষণগুলো উল্লেখ করে সতর্কবার্তা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

    বার্তায় বলা হয়েছে, যদি কেউ ডেঙ্গুর প্রাথমিক লক্ষণগুলোর কোনোটির মুখোমুখি হন, তবে অবিলম্বে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে।

    ডব্লিউএইচও’র উল্লেখিত ডেঙ্গুর প্রাথমিক লক্ষণগুলো হলো তীব্র মাথা ব্যথা; চোখের পেছনের দিকে ব্যথা; হাড়ের জোড়া এবং মাংসের পেশিতে ব্যথা; বমি বমি ভাব; বমি করা এবং চামড়ায় লালচে ছোট ছোট ফুসকুড়ি ওঠা।

    এসব লক্ষণের যেকোনোটি দেখা দিলে সময়মতো চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এদিকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চলতি বছরে প্রাণহানির সংখ্যা ইতোমধ্যে ২০০ ছাড়িয়ে গেছে। শুধু চলতি সেপ্টেম্বরের ২২ দিনেই মৃত্যু হয়েছে ১০৪ ডেঙ্গু রোগীর। সবশেষ বুধবারের (২৩ সেপ্টেম্বর) আপডেট অনুযায়ী, ৬ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে এডিস মশাবাহিত রোগটি। একইদিন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৮৬৮ জন। এদিকের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডাটা বলছে, গত ৮ বছরে ভয়ংকর রূপ নিয়েছে ডেঙ্গু। ২০০০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ডেঙ্গুতে যেখানে ২৯৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, সেখানে পরবর্তী ৭ বছর ৯ মাসে মশাবাহিত রোগটিতে ৩ হাজার ৪৬৬ জন মারা গেছে দেশে। সরকারি হিসাবে এই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে ৭ লাখ ৮৬ হাজার ৯১ জন; আগের দেড় যুগে যা ছিল ৫০ হাজার ২০৮।

    অর্থাৎ, সবশেষ ৭ বছর ৯ মাসে আগের দেড় যুগের তুলনায় ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়েছে ১১ দশমিক ৭১ গুণ এবং আক্রান্ত বেড়েছে ১৫ দশমিক ৬৬ গুণ।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এডিস মশার প্রজনন নিয়ন্ত্রণে দুর্বলতা, আক্রান্তের সংখ্যা কম নথিভুক্ত হওয়া, হাসপাতালে ভর্তিতে দেরি করা এবং একই ব্যক্তি বারবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়া এই ভয়ংকর পরিস্থিতির জন্য দায়ী।তাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বাংলাদেশের পরিবর্তিত পরিবেশের সঙ্গে বেশ ভালোভাবে খাপ খাইয়ে নিয়েছে এডিস মশা । তাই ডেঙ্গুকে এখন আর শুধুমাত্র মৌসুমি রোগ হিসেবে বিবেচনার সুযোগ নেই। অল্প পরিমাণ জমে থাকা পানিতেও এই মশা বংশবিস্তার করতে পারে। এমনকি ফেলে দেওয়া ছোট পাত্রের ভেতরেও এডিস মশার প্রজনন হতে পারে। এর বিস্তার এখন আর কেবল শহরাঞ্চলে সীমাবদ্ধ নেই, এটি ক্রমেই গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং বারবার সংক্রমণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। একজন ব্যক্তি একাধিকবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হতে পারেন। যেসব জনগোষ্ঠীর ভেতরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা কম বা শূন্যের কোটায় ছিল, তারাও এখন এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

    ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে টেকসই ব্যবস্থা গড়ে তুলতে স্বল্পমেয়াদি অভিযানের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি, সমন্বিত ও জনকেন্দ্রিক জনস্বাস্থ্য কর্মসূচি প্রয়োজন বলে অভিমত বিশেষজ্ঞদের।

  • ডেঙ্গুতে চলতি বছর মৃত্যু ২০০ ছাড়াল

    ডেঙ্গুতে চলতি বছর মৃত্যু ২০০ ছাড়াল

    গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট ২০১ জনের মৃত্যু হল।

    এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ৮৬৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ বছর এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ৬৭ হাজার ৩৬৭ জন।

    বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১৭৮ জন, চট্রগ্রাম বিভাগে ৩১৭ জন, ঢাকা বিভাগে সিটি কর্পোরেশনের বাইরে ৪০৫ জন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন ১৭৩ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ১৭৯ জন, খুলনা বিভাগে ২৮০ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১১৩ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৫৬ জন, রংপুর বিভাগে ৫৯ জন এবং সিলেট বিভাগে আটজন রয়েছেন।

    চলতি বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬৭ হাজার ৩৬৭ জন।

    চলতি বছরে এ যাবত মোট ৬২ হাজার ১১৭ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে এক হাজার ৫৫৭ জন চিকিৎসাধীন আছেন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট ২০১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ দুই হাজার ৮৬১ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়।

    ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৫৭৫ জনের মৃত্যু হয়।

    ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট এক হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়, পাশাপাশি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন মোট তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন।

  • ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু

    ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৮৬৮ জন। এ নিয়ে চলতি বছরে ২০১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় এ তথ্য।

  • ডেঙ্গু আক্রান্তদের করণীয়

    ডেঙ্গু আক্রান্তদের করণীয়

    দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। ভাইরাসের নতুন রূপ বা ধরনের কারণে আক্রান্তদের দ্রুত শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে দেখা যাচ্ছে। তবে সঠিক সচেতনতা ও সময়মতো চিকিৎসা নিলে ডেঙ্গুতে মৃত্যুঝুঁকি অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব।

    বাসায় চিকিৎসা ও সাবধানতা

    ডেঙ্গু পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ এলে আতঙ্কিত না হয়ে পূর্ণ বিশ্রামে থাকুন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনোভাবেই প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য কোনো ব্যথানাশক ওষুধ (যেমন : আইবুপ্রোফেন, নেপ্রোক্সেন ও ডাইক্লোফেনাক) খাওয়া যাবে না; এতে রক্তপাতের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। অতিরিক্ত পানি, ডাবের পানি, ওরস্যালাইন, লেবুর শরবত ও সুপজাতীয় তরল খাবার প্রচুর পরিমাণে গ্রহণ করুন। ডেঙ্গু যেন অন্য সদস্যদের মধ্যে না ছড়ায়, সে জন্য রোগীকে সার্বক্ষণিক মশারি টানিয়ে রাখুন।

    বিপজ্জনক লক্ষণ

    ডেঙ্গু জরের তিন থেকে সাত দিনের মধ্যে যখন জ্বর কমতে শুরু করে, তখনই মূলত জটিলতা বা ‘ক্রিটিক্যাল ফেজ’ শুরু হয়। এ সময় নিচের যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে সেটিকে বিপদচিহ্ন হিসেবে বিবেচনা করতে হবে—

    * ক্রমাগত বমি হওয়া বা মুখে কোনো কিছু না রাখা।

    * তীব্র পেটব্যথা।

    * মাড়ি, নাক বা বমির সঙ্গে রক্তপাত এবং কালো পায়খানা হওয়া।

    * চরম ক্লান্তি, অলসতা বা মানসিক অস্থিরতা।

    * প্রস্রাবের পরিমাণ মারাত্মকভাবে কমে যাওয়া।

    * হঠাৎ প্রেশার কমে যাওয়া বা শরীর অতিরিক্ত ঠান্ডা হয়ে যাওয়া।

    কখন দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হবেন

    উপরে উল্লিখিত যেকোনো একটি বিপজ্জনক লক্ষণ দেখা দেওয়া মাত্রই রোগীকে অবিলম্বে নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং ডায়াবেটিস বা হৃদরোগের মতো জটিল রোগে আক্রান্তদের ডেঙ্গু হলে শুরু থেকেই বাড়তি সতর্কতায় চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে রাখা প্রয়োজন। মনে রাখবেন, ডেঙ্গু চিকিৎসায় সচেতনতা ও দ্রুত সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণই জীবন রক্ষার প্রধান উপায়। লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

  • ডেঙ্গুতে ৫ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৮৭২ নতুন রোগী

    ডেঙ্গুতে ৫ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৮৭২ নতুন রোগী

    গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ডেঙ্গুতে ৫ জন মারা গেছেন। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৮৭২ জন।

    মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর দেশে ডেঙ্গুতে এ পর্যন্ত মোট ১৯৫ জন মারা গেছেন। আর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬৫ হাজার ৪৯৯ জন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী বিভাগে দুজন এবং ঢাকা দক্ষিণ, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকা ও বরিশাল বিভাগে একজন করে ডেঙ্গুতে মারা গেছেন। তাদের মধ্যে তিনজন পুরুষ ও দুজন নারী।

    এর আগে, গত ১৬ সেপ্টেম্বর এক হাজার ৭৫৩ জন, ১৫ সেপ্টেম্বর এক হাজার ৫৯৩ জন ও ৮ সেপ্টেম্বর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন এক হাজার ৫৭১ জন।

  • ডেঙ্গুর ভুল ব্যবস্থাপনা রুখতে ১৬০০ চিকিৎসককে প্রশিক্ষণ

    ডেঙ্গুর ভুল ব্যবস্থাপনা রুখতে ১৬০০ চিকিৎসককে প্রশিক্ষণ

    ডেঙ্গুর চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনায় ভুল ঠেকাতে দেশের ৪০টি জেলায় ১ হাজার ৬০০ চিকিৎসককে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ও চিকিৎসকদের পরিচালনায় দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

    মঙ্গলবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ‘ট্রেনিং অব ডক্টরস অন ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট অব ডেঙ্গু’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।

    অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ, সিভিল সার্জন এবং তৃণমূল থেকে বিশেষায়িত হাসপাতালের চিকিৎসক প্রতিনিধিরা সরাসরি ও ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

    ড. এম এ মুহিত বলেন, ডেঙ্গুর চিকিৎসায় বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতি অনুসরণ করতেই এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী চিকিৎসকদের দক্ষ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে চিকিৎসার ভুলে মৃত্যু ঠেকানো এবং মৃত্যুর হার কমানো সম্ভব হবে।

    স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, এবারের ডেঙ্গু মৌসুমে এখন পর্যন্ত ৬৩ হাজার ৬২৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ৫৯ হাজার ৮৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। বর্তমানে প্রায় ৪ হাজার ৩০০ জন চিকিৎসাধীন। সীমিত সুযোগ-সুবিধা ও রোগীর চাপের মধ্যেও চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সেবায় আক্রান্তদের প্রায় ৯৯ শতাংশ সুস্থ হয়ে উঠেছে।

    ড. মুহিত বলেন, শুধু আবেগ বা অপরিকল্পিত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা যায় না। তাই রোগতাত্ত্বিক তথ্য সংগ্রহ ও বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনার মাধ্যমে চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে সমন্বিতভাবে সংকট মোকাবিলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    চিকিৎসকদের পেশাগত মর্যাদা ও সামাজিক সুরক্ষার ওপরও গুরুত্ব দেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যকর্মীদের বিরুদ্ধে কোনো ঢালাও মিডিয়া ট্রায়াল গ্রহণযোগ্য নয়। সেবাদাতা ও জনগণের মধ্যে দূরত্ব থাকা উচিত নয়। চিকিৎসকদের যথাযথ সম্মান দিয়েই স্বাস্থ্যব্যবস্থার সংস্কার এগিয়ে নিতে হবে।

    অনুষ্ঠানে জানানো হয়, মূল প্রশিক্ষণের আগে বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের উদ্যোগে প্রায় সাড়ে ৩৫০ জন সিনিয়র চিকিৎসককে ‘ট্রেইনার্স ট্রেনিং’ দেওয়া হয়। তাদের মাধ্যমে দেশের ৪০টি জেলায় একযোগে ১ হাজার ৬০০ চিকিৎসককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

  • ডেঙ্গুর ছোবল অব্যাহত, আরও ৬ মৃত্যু

    ডেঙ্গুর ছোবল অব্যাহত, আরও ৬ মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৬৫৫ জন। এ নিয়ে চলতি বছরে ১৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় এ তথ্য।

  • ডেঙ্গুতে আরো ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৫৯৩

    ডেঙ্গুতে আরো ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৫৯৩

    গত একদিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫৯৩ জন।

    রোববার স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় এ তথ্য।

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এতে বলা হয়— গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১৫৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৬৫ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) ৩৮৩ জন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে ১৭১ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ১৩২ জন, খুলনা বিভাগে ২৯০ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৮২ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৩৭ জন, রংপুর বিভাগে ৬৫ জন এবং সিলেট বিভাগে ৯ জন রয়েছেন।

    এ নিয়ে চলতি বছরে ১৮৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬১ হাজার ৯৭২ জন।

  • ডেঙ্গুতে একদিনে ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ২৩২

    ডেঙ্গুতে একদিনে ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ২৩২

    সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ২৩২ জন।

    শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

  • ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ৭৪৭ জন, মৃত্যু নেই

    ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ৭৪৭ জন, মৃত্যু নেই

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৪৭ জন। এই সময়ে কারো মৃত্যু হয়নি। সব মিলিয়ে চলতি মাসের ১৭ দিনে মৃত্যু হয়েছে ৭৯ জনের এবং মোট আক্রান্ত হয়েছে ২৩ হাজার ৩০১ জন।

    শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮ টা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বরিশাল বিভাগে ২৫ জন, চট্টগ্রামে ১৮০ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২১৬ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৬১ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৪০ জন, খুলনায় ৮১ জন, ময়মনসিংহে ৯২ জন এবং রংপুর বিভাগে ৫২ জন ভর্তি হয়েছেন। এই সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে ৭৪৬জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৯ হাজার ১৪৭ জনে। আর এ বছরে মোট মৃত্যু হয়েছে ১৭৬ জনের। মৃতদের মধ্যে জানুয়ারিতে ২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মে মাসে একজন, জুনে ১৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন এবং আগস্টে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু মোট আক্রান্তদের মধ্যে ৬২ দশমিক ৬ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ নারী ।

  • ডেঙ্গু কেড়ে নিল আরও ৫ প্রাণ

    ডেঙ্গু কেড়ে নিল আরও ৫ প্রাণ

    গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৪৮৪ জন।

    বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    তে বলা হয়— গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে বরিশাল বিভাগে ২১১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৯২ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৯০ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ২০৭ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ২২৭ জন, খুলনা বিভাগে ২৫২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৬৪ জন, রাজশাহী বিভাগে ১০২ জন, রংপুর বিভাগে ৩৫ জন এবং সিলেট বিভাগে চারজন রয়েছেন।

    এ নিয়ে চলতি বছরে ১৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

  • হামে আক্রান্তদের ৮৫.২ শতাংশই টিকাবিহীন

    হামে আক্রান্তদের ৮৫.২ শতাংশই টিকাবিহীন

    চট্টগ্রাম বিভাগে ৩০০ জন শিশুকে নিয়ে যৌথ গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, এসপেরিয়া হেলথ রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের পেডিয়াট্রিক রিসার্চ গ্রুপ। গবেষণায় দেখা গেছে, হামে আক্রান্ত ৩০০ জন শিশুর মধ্যে ৮৫.২ শতাংশই ছিল টিকাবিহীন। তাছাড়া শিশুদের শারীরিক জটিলতা ও হামে আক্রান্ত হওয়ার পেছনের কারণ হিসেবে অপুষ্টির বিষয়টি উঠে এসেছে। এসব শিশুর দেহে শতভাগ ক্ষেত্রে ‘বি৩ জেনোটাইপ’ ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।

    বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য উন্মোচন করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. তসলিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. মো. জসিম উদ্দিনসহ বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ও গবেষকেরা।

    গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, চট্টগ্রাম বিভাগের ৩০০ জন হাম আক্রান্ত শিশুর ওপর গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়েছে। তাদের বয়স ২ মাস থেকে ১১ বছর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। গবেষণায় আর্থিক ও সার্বিক সহায়তা করেছে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড।

    গবেষণায় দেখা যায়, আক্রান্ত শিশুদের এক-তৃতীয়াংশই তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছিল। অপুষ্টিই শিশুদের হামের মারাত্মক জটিলতায় পড়ার সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। গবেষণার আওতায় আসা ৩০০ জন শিশুর মধ্যে ৩১ শতাংশ তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছিল। এছাড়া আক্রান্তদের মধ্যে ১১ শতাংশের বয়স ৬ মাসের নিচে, ২৩.৫ শতাংশ শিশুর বয়স ১-৫ বছর। আর ৪৬ শতাংশ শিশুর বয়স ছিল ৯ মাসের কম। অর্থাৎ নিয়মিত টিকাদানের নির্ধারিত বয়সে পৌঁছানোর আগেই তারা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুদের ৮৫.২ শতাংশই ছিল টিকাবিহীন। টিকাবিহীন শিশুদের মধ্যে ৫২ শতাংশের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের অসচেতনতা বা টিকার তারিখ ভুলে যাওয়া মূল কারণ ছিল। এছাড়া গত ছয় মাসে মাত্র ৩২.১ শতাংশ শিশু ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল পেয়েছিল। যেসব শিশু ভিটামিন ‘এ’ পায়নি, তাদের ৫৯ শতাংশই গুরুতর জটিলতায় ভুগেছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৭৫.৫ শতাংশ শিশু ছিল গ্রামীণ এলাকার এবং ৬৪.৮ শতাংশ ছিল নিম্ন আর্থ-সামাজিক পরিবারের।

    সংক্রমণের উৎস বিশ্লেষণে দেখা যায়, গবেষণায় থাকা আক্রান্ত শিশুদের প্রায় ৫৯.৪ শতাংশই কোনো না কোনো স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র বা হাসপাতাল থেকে হামের ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছে, যা হাসপাতালগুলোর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দুর্বলতাকে নির্দেশ করে। আর ১৬.৩ শতাংশ শিশু পূর্বে হামে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে এসেছে বলে তথ্য মিলেছে। এছাড়া ১৮.৯ শতাংশ শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়ানো হয়নি। এসব শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা খুবই দুর্বল।

    গবেষণার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক দিক ছিল ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্সিং পরীক্ষায় শতভাগ নমুনায় ‘বি৩ জেনোটাইপ’ শনাক্ত হওয়া। যা আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায়ে পূর্বে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।

    চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, হাম একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ, এতে কোনো শিশুর মৃত্যু গ্রহণযোগ্য নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় অর্ধেক শিশু টিকার বয়স হওয়ার আগেই আক্রান্ত হচ্ছে। তাই সময়মতো সঠিক নিয়মে টিকাদান নিশ্চিত করতে হবে। তিনি টিকার কভারেজ ৯৫ শতাংশে উন্নীত করা, অপুষ্টি দূর করা এবং প্রয়োজনে বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা ও হাসপাতালগুলোর সংক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করার নির্দেশ দেন।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এসপেরিয়া হেলথ কেয়ার লিমিটেডের চেয়ারম্যান গোলাম বাকি মাসুদ। তিনি বলেন, গবেষণাকে কেবল বৈজ্ঞানিক প্রতিবেদনে সীমাবদ্ধ না রেখে এর উপাত্তগুলোকে বাস্তবভিত্তিক জনস্বাস্থ্য উদ্যোগে রূপান্তর করতে হবে। গবেষণার মূল উদ্দেশ্য তথ্য তৈরি করা নয়, বরং জীবন বাঁচানো।

  • ডেঙ্গুর উপসর্গে ভিন্নতা

    ডেঙ্গুর উপসর্গে ভিন্নতা

    ডেঙ্গুর পরিচিত লক্ষণ হলো তীব্র জ্বর, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, শরীর ও মাংসপেশিতে ব্যথা, বমি বমি ভাব এবং দুর্বলতা। তবে চলতি মৌসুমে পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, অনেক রোগীর ক্ষেত্রে জ্বর তুলনামূলক কম থাকছে বা উপসর্গ খুব স্পষ্টভাবে প্রকাশ পাচ্ছে না। কেউ কেউ শারীরিক দুর্বলতা, হালকা ব্যথা অনুভব করেন। ফলে অনেকে সাধারণ ভাইরাল জ্বর ভেবে চিকিৎসা নিতে দেরি করছেন। বিপদের দিক হলো, জ্বর কমে যাওয়ার পরও কোনো কোনো রোগীর দ্রুত অবনতি হচ্ছে। এ সময় প্লাটিলেট দ্রুত কমে যাওয়া, রক্তপাত, পেটের তীব্র ব্যথা, বারবার বমি, শ্বাসকষ্ট, রক্তচাপ কমে যাওয়া এবং কিডনি বা লিভারের জটিলতা দেখা দিতে পারে।

    তাই শুধু জ্বরের মাত্রা বা প্লাটিলেটের সংখ্যা দেখে ডেঙ্গুর ঝুঁকি বিচার করা উচিত নয়। জ্বর হলে চিকিৎসকের পরামর্শে যথাসময়ে ডেঙ্গু পরীক্ষা করুন এবং পর্যাপ্ত তরল পান করুন। জ্বর কমে গেলেও পরবর্তী ২৪-৪৮ ঘণ্টা বিশেষভাবে সতর্ক থাকুন। তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, রক্তপাত, অতিরিক্ত দুর্বলতা, অস্থিরতা, শ্বাসকষ্ট বা প্রস্রাব কমে গেলে দ্রুত হাসপাতালে যান। ডেঙ্গুতে নিজের মতো করে ব্যথার ওষুধ, বিশেষ করে অ্যাসপিরিন বা আইবুপ্রফেন, না খাওয়াই নিরাপদ।

  • ডেঙ্গুতে আরও ৭ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৫৩

    ডেঙ্গুতে আরও ৭ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৫৩

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৭৫৩ জন।

    এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭১। আর এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ৫৬ হাজার ৯১৬ জন।

    বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১৮৬ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৭৭ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৩৯৪ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৭৫ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৭৪ জন, খুলনা বিভাগে ৩৪৯ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৮৩ জন, রংপুর বিভাগে ৫৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ৯ জন রয়েছেন।

  • একদিনে ডেঙ্গুতে ৭ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৫৯৩

    একদিনে ডেঙ্গুতে ৭ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৫৯৩

    গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫৯৩ জন।মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয় ।

  • ডেঙ্গুতে আরো ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৭৩৩

    ডেঙ্গুতে আরো ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৭৩৩

    গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৭৩৩ জন।

    সোমবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় এ তথ্য।

    এতে বলা হয়— গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১৯১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৯১ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) ৩৮৮ জন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে ১৭০ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ১৪৩ জন, খুলনা বিভাগে ৩০২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১১০ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৪৫ জন, রংপুর বিভাগে ৮৬ জন এবং সিলেট বিভাগে ৭ জন রয়েছেন।

    এ নিয়ে চলতি বছরে ১৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৩ হাজার ৫৭০ জন।

  • ডেঙ্গুর ভয়াবহতা বাড়ছেই, সেপ্টেম্বরে মৃত্যু ৫২

    ডেঙ্গুর ভয়াবহতা বাড়ছেই, সেপ্টেম্বরে মৃত্যু ৫২

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে এক হাজার ৫৬১ জন ডেঙ্গুরোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চলতি বছর ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত ১৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।এর মধ্যে জানুয়ারিতে দুই, ফেব্রুয়ারিতে দুই, মে মাসে এক, জুনে ১৩ ও জুলাইয়ে ৩৬ ও আগস্টে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরে এখন পর্যন্ত মারা গেছে ৫২ জন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ১৭৬, দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ১৪৪ ও ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বাইরে ৩০৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে।

    এ ছাড়া অন্যান্য বিভাগের মধ্যে বরিশালে ২০২, চট্টগ্রামে ১৮১, খুলনায় ২৭৫, ময়মনসিংহে ৯৩, রাজশাহীতে ১০৪ ও রংপুরে ৭৩ ও সিলেটে ছয়জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু নিয়ে ৫১ হাজার ৮৩৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪৮ হাজার ৯৩ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৩ হাজার ৫৯৫ জন ভর্তি আছে।

  • ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু

    ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু

    গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫৬ জন।

    শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় এ তথ্য।

    এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১৪৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১০৩ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) ২৫১ জন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে ১০৮ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ৭৬ জন, খুলনা বিভাগে ১৯৯ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৪৮ জন, রাজশাহী বিভাগে ৭৩ জন, রংপুর বিভাগে ৪৭ জন এবং সিলেট বিভাগে ৭ জন রয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ১৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫০ হাজার ২৭৬ জন।

  • ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু;  হাসপাতালে ভর্তি ৭৯০

    ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু; হাসপাতালে ভর্তি ৭৯০

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও ২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং নতুন করে আরও ৭৯০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রাম বিভাগ (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় ১ জন করে মোট ২ জন মারা গেছেন। মৃতদের মধ্যে ১ জন পুরুষ এবং ১ জন নারী রয়েছেন। একই সময়ে সারা দেশে নতুন ৭৯০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বিভাগভিত্তিক হিসাবে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ২৪৯ জন ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে (সিটি কর্পোরেশন বহির্ভূত)।

    এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ১৯৬ জন, ময়মনসিংহে ৭৩ জন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে ৬২ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ৬১ জন, খুলনা বিভাগে ৬০ জন, রংপুরে ৩৮ জন, রাজশাহীতে ৩৩ জন এবং বরিশাল বিভাগে ১৮ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হওয়া আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষের হার ৬৫ দশমিক ৭ শতাংশ এবং নারী ৩৪ দশমিক ৩ শতাংশ। অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৯,২২০ জনে। এর মধ্যে মোট মৃত্যু হয়েছে ১৪১ জনের এবং ছাড়পত্র পেয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪৫,৬৪৫ জন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ৩,৪৩৪ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    মোট শনাক্ত আক্রান্তদের মধ্যে ৬২ দশমিক ৪ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭ দশমিক ৬ শতাংশ নারী হলেও মোট মৃত্যুর ক্ষেত্রে নারীদের হার বেশি, যা ৫২ দশমিক ১ শতাংশ।

  • ডেঙ্গু ঝুঁকি মোকাবিলায় সতর্ক থাকার আহ্বান; প্রধানমন্ত্রীর

    ডেঙ্গু ঝুঁকি মোকাবিলায় সতর্ক থাকার আহ্বান; প্রধানমন্ত্রীর

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসের বিশেষ অভিযান উদ্বোধন করবেন। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসব্যাপী এ বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি।

    ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলায় আগামী তিন মাসকে ঝুঁকিপূর্ণ সময় বিবেচনায় নিয়ে এ কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    মঙ্গলবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে আয়োজিত এক সভায় প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে নির্দেশনা দেন।

    প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ তথ্য জানান।

    তিনি জানান, সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু মশকনিধন কার্যক্রমের ওপর নির্ভর না করে পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। এজন্য স্থানীয় প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে সমন্বিতভাবে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

    কর্মসূচির আওতায় মহানগর এলাকায় সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন এবং জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসকরা কার্যক্রম সমন্বয় করবেন। উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও) স্থানীয় পর্যায়ের কার্যক্রম সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকবেন।

    উপ-প্রেস সচিব জানান, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক এ অভিযানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি স্কাউট, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি), গার্ল গাইডস, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবক এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করা হবে।

    প্রতি শনিবার স্বেচ্ছাসেবক ও শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও স্থাপনায় গিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেবেন। একই সঙ্গে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার প্রজননস্থল তৈরি হতে পারে— এমন জায়গা চিহ্নিত করা এবং মানুষকে নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

    হাসান শিপলু জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মাঠপর্যায়ের পরিচ্ছন্নতা অভিযানের পাশাপাশি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষ করে টেলিভিশনে জনসচেতনতামূলক প্রচার এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধের বার্তা নিয়মিতভাবে তুলে ধরতে সংশ্লিষ্টদের বলেছেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী তিন মাস ডেঙ্গু পরিস্থিতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা ও আশপাশের এলাকা নিয়মিত পরিষ্কার রাখার বিষয়ে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. শাকিরুল ইসলাম খান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানাসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • ডেঙ্গুতে আরো ৪ জনের মৃত্যু

    ডেঙ্গুতে আরো ৪ জনের মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরো ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১,৩১৪ জন। এনিয়ে চলতি মাসের সাত দিনে মোট মৃত্যু হয়েছে ২৪ জনের এবং মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮,০৫৮ জন।

    সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮ টা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বরিশাল বিভাগে ১৫৩ জন, চট্টগ্রামে ১৯৮ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২২৫ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৩৯ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৪৩ জন, খুলনায় ২৩৫ জন, ময়মনসিংহে ৮১ জন,রাজশাহীতে ৯৯ জন, রংপুরে ৩৬ জন এবং সিলেট বিভাগে ৫ জন ভর্তি হয়েছেন। এই সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে ১,৩০০ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, সব মিলিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যু হয়েছে ১২১ জনের এবং আক্রান্ত হয়েছে ৪৩ হাজার ৯০৪ জন। মৃতদের মধ্যে জানুয়ারিতে ২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মে মাসে একজন, জুনে ১৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন এবং আগস্টে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু মোট আক্রান্তদের মধ্যে ৬২.২ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭.৮ শতাংশ নারী।

  • ডেঙ্গুতে আরো ৫ জনের মৃত্যু

    ডেঙ্গুতে আরো ৫ জনের মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরো ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এক হাজার ১১০ জন। সব মিলিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যু হয়েছে ১০৭ জনের এবং আক্রান্ত হয়েছে ৩৮ হাজার ২৮০ জন।

    বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮ টা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বরিশাল বিভাগে ১১০ জন, চট্টগ্রামে ১৭৫ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৭১ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৩৫ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৩৪ জন, খুলনায় ১৯০ জন, ময়মনসিংহে ৬৫ জন, রাজশাহী ৯১ জন, রংপুরে ৩২ জন এবং সিলেট বিভাগে ৭ জন ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে এক হাজার ৪৮ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরে জানুয়ারিতে ২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মে মাসে একজন, জুনে ১৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন এবং আগস্টে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু মোট আক্রান্তদের মধ্যে ৬২ দশমিক এক শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭ দশমিক ৯ শতাংশ নারী।

  • ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৩ জনের মৃত্যু

    ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৩ জনের মৃত্যু

    দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৯৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৩ জনে। এর মধ্যে শুধু আগস্ট মাসেই মারা গেছেন ৩৯ জন।

  • আগস্টেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ১৭ হাজার ২৮০

    আগস্টেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ১৭ হাজার ২৮০

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৪২ জন। এ সময়ে কারো মৃত্যু হয়নি। সব মিলিয়ে চলতি মাসের ২৮ দিনে মৃত্যু হয়েছে ৩৪ জনের এবং মোট আক্রান্ত হয়েছে ১৭ হাজার ২৮০ জন।

    শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বরিশাল বিভাগে ৬৩ জন, চট্টগ্রামে ৯৩ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৭২ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৪৩ জন, ময়মনসিংহে ৪৮ জন এবং রংপুরে ২৩ জন ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে ৩৪৫ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ৫৯০ জনে। আর এ বছরে মোট মৃত্যু হয়েছে ৮৮ জনের। মৃতদের মধ্যে জানুয়ারিতে ২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মে মাসে একজন, জুনে ১৩ জন এবং জুলাইয়ে ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু মোট আক্রান্তদের মধ্যে ৬১ দশমিক ৯ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৮ দশমিক ১ শতাংশ নারী।

  • দ্বিতীয়বার ডেঙ্গুতে ঝুঁকি বেশি

    দ্বিতীয়বার ডেঙ্গুতে ঝুঁকি বেশি

    দেশজুড়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় জনমনে আতঙ্ক বাড়ছে। ডেঙ্গুর প্রথম সংক্রমণের চেয়ে দ্বিতীয়বার সংক্রমিত হওয়া অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। তাই এই সময়ে ডেঙ্গুর চার প্রকার ধরন (সেরোটাইপ) এবং দ্বিতীয়বার সংক্রমণের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি।

    সেরোটাইপ কী এবং ঝুঁকি কোথায়

    ডেঙ্গু ভাইরাসের মূলত চারটি ভিন্ন ধরন বা সেরোটাইপ রয়েছে—ডেন-১, ডেন-২, ডেন-৩ এবং ডেন-৪। কোনো ব্যক্তি ডেঙ্গুর একটি নির্দিষ্ট ধরনে আক্রান্ত হলে তার শরীরে কেবল সেই ধরনের বিরুদ্ধেই আজীবন রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়। অর্থাৎ, ওই একই ধরন দিয়ে তিনি দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হবেন না। তবে বাকি তিনটি ধরনের যেকোনো একটি দিয়ে তিনি আবারও ডেঙ্গুতে সংক্রমিত হতে পারেন। চার বছর ধরে দেশে ডেঙ্গুর প্রধান সেরোটাইপ ছিল ডেন-২, তবে চলতি বছর ঢাকাসহ দেশের কয়েকটি এলাকায় ডেন-৩ সেরোটাইপের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।

    দ্বিতীয়বার সংক্রমণ কেন মারাত্মক

    প্রথমবার ডেঙ্গু হলে সাধারণত লক্ষণ মৃদু থাকে এবং সঠিক বিশ্রামে রোগী সুস্থ হয়ে ওঠেন। তবে ভিন্ন সেরোটাইপ দিয়ে যখন কেউ দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হন, তখন শরীরে অ্যান্টিবডি-ডিপেনডেন্ট এনহ্যান্সমেন্ট প্রক্রিয়ার কারণে ভাইরাসটি আরো শক্তিশালী হয়ে ওঠে। এর ফলে রক্তক্ষরণজনিত ডেঙ্গু বা ডেঙ্গু শক সিনড্রোমের মতো মারাত্মক জটিলতা দেখা দেয়। রক্তে প্লাটিলেট বা অণুচক্রিকা দ্রুত কমে যায় এবং অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ শুরু হতে পারে। এতে রোগীর মৃত্যুর ঝুঁকি প্রথমবারের তুলনায় বহুগুণ বেড়ে যায়।

    দ্বিতীয়বার আক্রান্ত রোগীর ক্ষেত্রে তীব্র জ্বরের পাশাপাশি তীব্র শরীরব্যথা, তীব্র পেটব্যথা, অনবরত বমি হওয়া, মাড়ি বা নাক দিয়ে রক্তপাত, শ্বাসকষ্ট এবং চরম ক্লান্তি দেখা দিতে পারে।

    প্রতিরোধে কী করণীয়

    জ্বর আসার প্রথম ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসকের পরামর্শে এনএস১ ও রক্তের সিবিসি পরীক্ষা করাতে হবে। কোনো অবস্থাতেই জ্বর ও শরীরব্যথার জন্য প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য ওষুধ, যেমন অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রোফেন বা ডাইক্লোফেনাক সেবন করা যাবে না। এগুলো রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ায়। রোগীকে প্রচুর পরিমাণে পানি, ওরস্যালাইন, ডাবের পানি ও পুষ্টিকর তরল পান করতে হবে।

    বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। ফুলের টব, টায়ার বা ডাবের খোসায় যেন পানি জমে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে। দিনে ও রাতে ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি ব্যবহার করতে হবে। ডেঙ্গুর দ্বিতীয় সংক্রমণ থেকে বাঁচতে সচেতনতা এবং দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই একমাত্র উপায়।

    লেখক : মেডিসিন ও বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ

    এসএমসি ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টার, দারুস সালাম, মিরপুর

  • ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৯৯৪

    ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৯৯৪

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮৫ জনে দাঁড়াল। এ ছাড়া গত এক দিনে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ৯৯৪ জন।

    আজ সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল রোববার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১১৭, চট্টগ্রাম বিভাগে ১০৭, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৫৮, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৯৭, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১২৬, খুলনা বিভাগে ২১৫, ময়মনসিংহ বিভাগে ৭১, রাজশাহী বিভাগে ৭৬, রংপুর বিভাগে ২৩ ও সিলেট বিভাগে চারজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে ২৯ হাজার ৯২৩ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৮৬২ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২৭ হাজার ৭৫৮ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও জানায়, সব মিলিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ৮৫ জনের। এর মধ্যে চলতি মাসে ৩১ জন মারা গেছে। আর জানুয়ারিতে দুই, ফেব্রুয়ারিতে দুই, মে মাসে এক, জুনে ১৩ ও জুলাইয়ে ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

  • ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৭৫৩

    ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৭৫৩

    মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুতে ভুগে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৭৫৩ জন।

    মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

  • ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু

    ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু

    গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৮৭০ জন দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    সোমবার (১৭ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

    এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেওয়া রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ৮৪৮ জনে। আর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ডেঙ্গু রোগীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৪০৪ জন, বরিশাল বিভাগে ১০২ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৯০ জন, খুলনা বিভাগে ১৫৩ জন, ময়মনসিংহ বিভাগের ৫১ জন, রাজশাহী বিভাগের ৫৭ জন, সিলেট এবং রংপুর বিভাগের ১৩ জন রোগী রয়েছেন।

    চলতি বছরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ৭১ জনের মধ্যে ২৮ জন পুরুষ ও ৪৩ জন নারী।

  • জ্বর হলেই ডেঙ্গু পরীক্ষার পরামর্শ চিকিৎসকদের

    জ্বর হলেই ডেঙ্গু পরীক্ষার পরামর্শ চিকিৎসকদের

    এক থেকে দুই দিনের জ্বর হলেই নিকটস্থ হাসপাতালে গিয়ে ডেঙ্গু পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা। একই সাথে পরীক্ষায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ শনাক্ত হলে ঘরে বসে না থেকে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

    বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, রাজধানীসহ সারা দেশে ডেঙ্গুরোগীর সংখ্যা বাড়ছে। আক্রান্তের উল্লেখযোগ্য অংশই শিশু। এ বছর বিশেষ করে স্কুলগামী শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। তাই জ্বর দেখা দিলেই দেরি না করে ডেঙ্গু পরীক্ষা করানো এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

    এছাড়াও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকেও জ্বর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিকটস্থ হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষা করানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের সব সরকারি হাসপাতালে আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুর এনএস-১ পরীক্ষা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ও সিএম পরীক্ষা ৩০০ টাকা থেকে কমিয়ে মাত্র ৫০ টাকায় নিয়ে এসেছে সরকার।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৮ আগস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৮ হাজার ৬৭৩ জন এবং মারা গেছে ৫৯ জন। আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষ ৬১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং নারী ৩৮ দশমিক ৫ শতাংশ। আক্রান্তের মধ্যে শূন্য থেকে ৩০ বছর বয়সী ১০ হাজার ৮২৭ জন; এ বয়সী মারা গেছে ২৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২২ জন এবং নারী ৩৭ জন। চলতি বছরে এ পর্যন্ত ঢাকা বিভাগেই ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    ২০২৫ ও ২০২৬ সালের ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর তুলনামূলক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি বছরের ৮ আগস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ১৮ হাজার ৬৭৩ জন। ২০২৫ সালে যা ছিল ২৩ হাজার ৪১০ জন। ২০২৬ সালে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। ২০২৫ সালে একই সময়ে এতে ৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল, যার তুলনায় বর্তমান বছরে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার দুটোই কম।

    ডেঙ্গু সচেতনতার বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হাসান হাফিজুর রহমান রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধের প্রধান উপায় এডিস মশা ধ্বংস করা। এর জন্য সর্বপ্রথম প্রয়োজন জনসচেতনতা বৃদ্ধি। তাই আমাদের সবার উচিত বাড়ির আঙিনা সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা। যাতে ফুলের টব, ড্রাম, বালতি, এয়ার কন্ডিশনার এবং রেফ্রিজারেটরের নিচের পানি জমে না থাকে। এডিস মশা ধ্বংসে সকল নাগরিকের সক্রিয় অংশগ্রহণ একান্ত জরুরি।

    তিনি বলেন, ডেঙ্গু জ্বরে শরীরে

    র তাপমাত্রা ১০২ থেকে ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠতে পারে। এ সময় মাথায় পানি দেওয়া ও শরীর মুছে দেওয়ার মাধ্যমে জ্বর কমাতে হবে। এ ছাড়া জ্বরের তীব্রতা বাড়তে থাকলে দ্রুত ডেঙ্গুর পরীক্ষা করাতে হবে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. নুরুল ইসলাম বাসস’কে বলেন, এক-দুই দিনের জ্বর হলেও দ্রুত ডেঙ্গু পরীক্ষা করানো উচিত।

    পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু রোগী বৃদ্ধির আশঙ্কায় দেশের সব হাসপাতালকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম মজুত রয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে অতিরিক্ত শয্যা ও পৃথক ডেঙ্গু ওয়ার্ড চালু করা হবে।

  • ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৫৮০

    ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৫৮০

    সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে ডেঙ্গুতে নতুন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৮০ জন।

    সোমবার (৩ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়– গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়াদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৮১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৭৯ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১২৫ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৫৯ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৭৮ জন, খুলনা বিভাগে ৬৭ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ২২ জন, রংপুর বিভাগে ৩১ জন এবং সিলেট বিভাগে দুজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ১৬ হাজার ৬৮৪ জন। এর মধ্যে ৬২ দশমিক ২ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭ দশমিক ৮ শতাংশ নারী রয়েছেন।

    আর চলতি বছরে ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১৫ হাজার ৩৪৪ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, এ নিয়ে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৯ জনে।

  • ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, নতুন ভর্তি ৪২৩

    ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, নতুন ভর্তি ৪২৩

    সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ৪২৩ জন।

    রোববার (২ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় (শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৫৪, চট্টগ্রাম বিভাগে ৪৯, ঢাকা বিভাগে ১৫৪, খুলনা বিভাগে ৮১, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩৬, রাজশাহী বিভাগে ২৯, রংপুর বিভাগে ১৬ ও সিলেট বিভাগে চারজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

    লতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১৬ হাজার ১০৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও জানায়, চলতি বছর ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৫৬ জনের। এর মধ্যে চলতি মাসে ২ জন মারা গেছে। আর জানুয়ারিতে দুই, ফেব্রুয়ারিতে দুই, মে মাসে এক, জুনে ১৩ জন ও জুলাইয়ে ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

  • ডেঙ্গু নিয়ে উদ্বিগ্ন না হয়ে সচেতন হওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

    ডেঙ্গু নিয়ে উদ্বিগ্ন না হয়ে সচেতন হওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

    ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ, মশার কামড় থেকে সুরক্ষা এবং জ্বর হলে ঘরে বসে না থেকে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া পরামর্শ দিয়েছেন জনস্বাস্থ্যবিদ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

    তারা বলেছেন, মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। কেননা, ডেঙ্গু প্রতিরোধে কোনো ভ্যাকসিন নেই, সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর ওষুধও নেই। তবে মশার প্রজননের অনুকূল পরিবেশ আমাদের চারপাশে আছে। তাই সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং চারপাশ পরিষ্কার রাখা জরুরি।

    দেশব্যাপী ডেঙ্গু ইস্যুতে উদ্বিগ্ন না হয়ে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধের প্রধান উপায় হলো এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ। এর জন্য সর্বপ্রথম প্রয়োজন জনসচেতনতা বৃদ্ধি। কারণ এডিস মশার উৎপত্তিস্থল হলো আমাদের বাড়ির ভেতর, বাইর, ছাদ এবং বিভিন্ন জায়গায় জমে থাকা পানি। তাই আমাদের উচিত বাড়ির আঙিনা সব সময় পরিষ্কার রাখা। বাড়ির আনাচে-কানাচে জমে থাকা অপ্রয়োজনীয় পাত্রসমূহ ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া।

    তারা বলেন, ব্যবহারযোগ্য পাত্র, যেমন- ফুলের টব, ড্রাম, বালতি, এয়ার কন্ডিশনার এবং রেফ্রিজারেটরের নিচের পানি ভর্তি পাত্রে যেন কোনোভাবেই একনাগাড়ে পাঁচদিনের বেশি পানি জমে না থাকে। মূলত এডিস মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য সকল নাগরিকের সক্রিয় অংশগ্রহণ একান্ত জরুরি।

    সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর ২৮ জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৪ হাজার ১৫৬ জন। চলতি বছরে এ যাবৎ মোট ১৭ হাজার ৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হয়েছেন।

    এর আগে ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়।

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. মুশতাক হোসেন বলেন, ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াই কেবল হাসপাতালে নয়, শুরু হতে হবে মানুষের বাড়ি, বিদ্যালয়, কর্মস্থল এবং স্থানীয় জনসমাজ থেকে। রোগীকে দ্রুত শনাক্ত করা, ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া, দরিদ্র রোগীদের সামাজিক সহায়তা নিশ্চিত করা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া গেলে ডেঙ্গুজনিত মৃত্যু ও ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।

    তিনি বলেন, বৃষ্টিকে যদি আমরা ডেঙ্গুর জন্য শুধু প্রাকৃতিক ঘটনা হিসেবে দেখি, তাহলে সংকট আরও গভীর হবে। কিন্তু বৃষ্টির পর যদি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা যায়, তাহলে ডেঙ্গুর এই বার্ষিক দুর্ভোগ থেকে দেশকে ধীরে ধীরে মুক্ত করা সম্ভব।

    ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসার বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হাসান হাফিজুর রহমানে বলেন, মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। মশার প্রজননের অনুকূল পরিবেশ আমাদের চারপাশে আছে। তাই সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সকল মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং চারপাশ পরিষ্কার রাখা জরুরি।

    তিনি বলেন, ডেঙ্গু জ্বরে শরীরের তাপমাত্রা ১০২ থেকে ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠতে পারে। এ সময় মাথায় পানি দেওয়া ও শরীর মুছে দেওয়ার মাধ্যমে জ্বর কমাতে হবে। এছাড়া ছয় থেকে আট ঘণ্টা পরপর জ্বরের তীব্রতা বুঝে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ দিতে হবে। ডেঙ্গু জ্বরের মূল চিকিৎসা হলো শরীরে পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থাপনা। পানির পাশাপাশি ফলের রস, স্যুপ, ওরস্যালাইন, ডাবের পানি, শরবত প্রভৃতি তরল খাবার খাওয়াতে হবে।

    ডা. হাসান হাফিজুর রহমান বলেন, ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধের মূলমন্ত্রই হলো এডিস মশার বিস্তার রোধ এবং এই মশা যেন কামড়াতে না পারে, তার ব্যবস্থা করা। এডিস মশা স্বচ্ছ পরিষ্কার পানিতে ডিম পাড়ে। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার ডিম পাড়ার উপযোগী স্থানগুলোকে পরিষ্কার রাখতে হবে এবং একই সঙ্গে মশক নিধনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। সেইসঙ্গে বাড়ির আশপাশের ঝোপঝাড়, জঙ্গল, জলাশয় ইত্যাদি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

  • ডেঙ্গুতে এক মাসে মৃত্যু ৩৬, আক্রান্ত ৯ হাজারের বেশি

    ডেঙ্গুতে এক মাসে মৃত্যু ৩৬, আক্রান্ত ৯ হাজারের বেশি

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৫৩ জন। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার ৩ জনের মৃত্যু এবং আক্রান্ত হয়েছিলেন ৪৬৭ জন। এনিয়ে চলতি মাসে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৯ হাজার ২০৬ জনে। আর মৃত্যু হয়েছে ৩৬ জনের।

    শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বরিশাল বিভাগে বিভিন্ন হাসপাতালে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৬৯ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৫০ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১১ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৫ জন এবং খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৪ জন ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন ১৫৪ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৩১০ জনে। আর এ বছরে মোট মৃত্যু হয়েছে ৫৪ জনের। মৃতদের মধ্যে জানুয়ারিতে ২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মে মাসে একজন, জুনে ১৩ জন এবং জুলাইয়ে ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর এবার ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩ হাজার ৩১২ জন বরিশাল বিভাগে। এছাড়াও এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু মোট আক্রান্তদের মধ্যে ৬১ দশমিক ৫ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৮ দশমিক ৫ শতাংশ নারী।

  • ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু

    ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু

    ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে এডিস মশাবাহিত রোগটিতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৬৩ জন।

    বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) দেশে ডেঙ্গুতে যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে দুজন এবং খুলনা বিভাগে একজন রয়েছে।

    এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে ৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর এ পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ১৫ হাজার ১৫৩ জন।

    জনস্বাস্থ্যবিদ ও কীটতত্ত্ববিদদের আশঙ্কা, আগামী আগস্ট থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তেই থাকবে।

    সরকারের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ডেঙ্গুতে যত মৃত্যু হয়েছিল, জুলাই মাসের ৩০ দিনেই সেই সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে।

  • ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৩ জনের মৃত্যু

    ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৩ জনের মৃত্যু

    সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ৫৩৪ জন।

    চলতি বছর ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৫০ জনের। এর মধ্যে চলতি মাসে ৩২ জন মারা গেছে। আর জানুয়ারিতে দুই, ফেব্রুয়ারিতে দুই, মে মাসে এক ও জুনে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    আজ বুধবার (২৯ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

  • ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু

    ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু

    সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ৫১২ জন।

    চলতি বছর ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৪৭ জনের। এর মধ্যে চলতি মাসে ২৯ জন মারা গেছে। আর জানুয়ারিতে দুই, ফেব্রুয়ারিতে দুই, মে মাসে এক ও জুনে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    আজ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল সোমবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৭৫, চট্টগ্রাম বিভাগে ৭৫, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৪০, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৮৫, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৭৬, খুলনা বিভাগে ৮৫, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৩, রাজশাহী বিভাগে ৩৪, রংপুর বিভাগে ২৮ ও সিলেট বিভাগে একজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে ১৪ হাজার ১৫৬ জন। এর মধ্যে চলতি মাসে এখন পর্যন্ত ৮ হাজার ৫২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

  • ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪৫৮

    ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪৫৮

    গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ৪৫৮ জন।

    আজ রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল শনিবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৯৯, চট্টগ্রাম বিভাগে ৭৮, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৫, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৮১, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৭৬, খুলনা বিভাগে ৪৮, ময়মনসিংহ বিভাগে ২৫, রাজশাহী বিভাগে ২৬ ও রংপুর বিভাগে ১০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে ১৩ হাজার ৯৮ জন। এর মধ্যে চলতি মাসে এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ৯৯৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও জানায়, চলতি বছর ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৪৩ জনের। এর মধ্যে চলতি মাসে ২৫ জন মারা গেছে। আর জানুয়ারিতে দুই, ফেব্রুয়ারিতে দুই, মে মাসে এক ও জুনে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

  • ডেঙ্গু জ্বরে যে লক্ষণগুলো  অবহেলা করা যাবে না

    ডেঙ্গু জ্বরে যে লক্ষণগুলো অবহেলা করা যাবে না

    দেশে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই ডেঙ্গু আতঙ্ক নতুন করে মাথাচাড়া দেয়। বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার বেড়ে যায়, ফলে ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকিও দ্রুত বৃদ্ধি পায়। চিকিৎসকদের মতে, বর্তমানে ডেঙ্গুর উপসর্গ ও রোগের ধরনে আগের তুলনায় কিছু পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। আগে ডেঙ্গু বলতে অনেকেই ১০৪ থেকে ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত তীব্র জ্বরকে প্রধান লক্ষণ হিসাবে বিবেচনা করতেন। কিন্তু এখন অনেক রোগীর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত জ্বর নাও থাকতে পারে, এমনকি মাঝারি বা তুলনামূলক কম জ্বর নিয়েও তারা গুরুতর জটিলতায় আক্রান্ত হতে পারেন। কারও কারও ক্ষেত্রে শরীরব্যথা, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, বমি, তীব্র দুর্বলতা, পেটব্যথা কিংবা শরীরে লালচে দাগের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

    * ডেঙ্গু এখন কেন ছদ্মবেশী

    ডেঙ্গুর একাধিক সেরোটাইপ একসঙ্গে সক্রিয় থাকার কারণে রোগের প্রকৃতি বদলেছে। অনেক রোগীরই এখন মৃদু জ্বর, অল্প সময়ের জ্বর বা শুধু জ্বর-জ্বর ভাব থাকে। ফলে রোগী ও স্বজনরা ভাবেন, ‘সামান্য জ্বর, এমনিই সেরে যাবে’। কিন্তু এ অবহেলার কারণেই ডেঙ্গু শনাক্ত হতে দেরি হচ্ছে এবং গুরুতর জটিলতার ঝুঁকি বাড়ছে।

    * সবচেয়ে বিপজ্জনক সময় কখন

    জ্বর কমলেই নিশ্চিন্ত হবেন না। ডেঙ্গু জ্বরে ৩-৭ দিনের মাথায় জ্বর আপনাআপনি কমে যায়। চিকিৎসা বিজ্ঞানে একে বলে ‘Critical Phase’ বা বিপজ্জনক সময়। জ্বর কমার পরের ১-২

    দিনেই রক্তনালি থেকে প্লাজমা লিক, অভ্যন্তরীণ রক্তপাত বা শকের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। এ সময় রোগীকে বাইরে থেকে সুস্থ মনে হলেও ভেতরে অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে পারে।

    * এ লক্ষণগুলো কখনো অবহেলা করবেন না

    জ্বর থাকুক বা না থাকুক, নিচের যে কোনো লক্ষণ দেখা দিলেই দেরি না করে নিকটস্থ হাসপাতালে যান-

    ▶ বারবার বমি : দিনে ৩ বারের বেশি বমি, কিছুই পেটে রাখতে না পারা।

    ▶ তীব্র পেটব্যথা : বিশেষ করে পেটের ডানদিকে চেপে ধরার মতো ব্যথা। এটি লিভার ফুলে যাওয়ার সংকেত।

    ▶ অতিরিক্ত দুর্বলতা : উঠে দাঁড়াতে না পারা বা হঠাৎ ভেঙে পড়া।

    ▶ শ্বাসকষ্ট বা অস্বাভাবিক ঘুমঘুম ভাব : অস্থিরতা, ছটফটানি বা অতিরিক্ত ঘুম।

    ▶ শরীরে র‌্যাশ, মাড়ি বা নাক দিয়ে রক্তপাত।

    * প্রতিরোধের উপায় : এডিসকে জায়গা দেবেন না

    ডেঙ্গুর মূল উৎস এডিস মশা, যা পরিষ্কার জমা পানিতে ডিম পাড়ে। বাসার টব, এসির পানি, টায়ার, ডাবের খোসা, নির্মাণসামগ্রীর নিচে জমা পানিই এডিসের প্রজননক্ষেত্র।

    * যা করবেন

    ▶ প্রতি সপ্তাহে একদিন বাসার সব জায়গায় জমা পানি ফেলে দিন।

    ▶ মশার কামড় এড়ান : দিনের বেলায়, বিশেষ করে সকাল ও বিকালে ফুলহাতা জামা পরুন। মশারি বা মশা নিরোধক ব্যবহার করুন।

    ▶ দ্রুত পরীক্ষা করান : জ্বরের প্রথম ৫ দিনের মধ্যে NS1 টেস্ট করলে ডেঙ্গু দ্রুত নিশ্চিত হওয়া যায়।

    * যা করবেন না

    চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া জ্বর কমানোর জন্য ডাইক্লোফেন, আইবুপ্রোফেন বা অ্যাসপিরিন জাতীয় ব্যথার ওষুধ খাবেন না। এগুলো ডেঙ্গুতে রক্তপাতের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। জ্বরের জন্য শুধু প্যারাসিটামল নিরাপদ।

    * পরিশেষে

    ডেঙ্গুতে আতঙ্ক নয়, প্রয়োজন সময়মতো সঠিক ব্যবস্থা। জ্বর মৃদু হলেও, জ্বর চলে গেলেও শরীরের ভাষা বুঝতে হবে। একটু দেরি হলেই রোগীকে আইসিইউ পর্যন্ত যেতে হতে পারে। মনে রাখবেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ-সবার সম্মিলিত উদ্যোগই পারে এডিস মশার বিস্তার রুখতে। সচেতন হোন, নিরাপদ থাকুন।

    লেখক : মেডিসিন ও বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ, এসএমসি ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টার, দারুস সালাম, মিরপুর, ঢাকা।

  • ডেঙ্গুতে একদিনে ৩ মৃত্যু, চলতি বছরে প্রাণহানি ৩৭

    ডেঙ্গুতে একদিনে ৩ মৃত্যু, চলতি বছরে প্রাণহানি ৩৭

    সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৭২ জন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে মোট ৩৭ জন মারা গেছে।

    আজ সোমবার (২০ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়াদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৬৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৫৪ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১০৩ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ২২ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৫২ জন, খুলনা বিভাগে ৪৩ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২১ জন, রাজশাহী বিভাগে চারজন এবং রংপুর বিভাগে ছয়জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ১০ হাজার ৮৫৭ জন। এর মধ্যে ৬০ দশমিক ৯ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৯ দশমিক ১ শতাংশ নারী রয়েছেন। ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৯ হাজার ৭৮৬ জন।

  • ডেঙ্গুতে ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৩৯১

    ডেঙ্গুতে ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৩৯১

    গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ৩৯১ জন।

    আজ বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়াদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৭০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৫৩ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৬৪ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৪৭ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৪৯ জন, খুলনা বিভাগে ৭২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ১২ জন, রংপুর বিভাগে ৬ জন এবং সিলেট বিভাগে ২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ৯ হাজার ৩৭০ জন। এর মধ্যে ৬১ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৯ শতাংশ নারী রয়েছেন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় দুজনের মৃত্যু নিয়ে চলতি মাসে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১২ জনে। এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে জুন মাসে—১৩ জন। আর জানুয়ারিতে দুই, ফ্রেবুয়ারিতে দুই ও মে মাসে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

  • ডেঙ্গুতে আরও দুইজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৩২৭

    ডেঙ্গুতে আরও দুইজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৩২৭

    ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ২৭ জনের মৃত্যু হলো। এ সময় নতুন করে উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩২৭ জন।

    মৃতদের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় একজন এবং অন্যজন চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে)। এদের মধ্যে একজন ২৬ থেকে ৩০ বছর এবং অন্যজনের ৩১ থেকে ৩৫ বছর। তারা উভয়ই নারী।

    সোমবার (১৩ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগীদের মধ্যে ২৯৭ জন সরকারি হাসপাতালে এবং ৩০ জন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছে।

    চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট আট হাজার ৬৫০ জন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৭ হাজার ৮০০ জন রোগী।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে সর্বমোট ৮২৩ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে।

  • ডেঙ্গু প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলনের আহ্বান সড়ক প্রতিমন্ত্রীর

    ডেঙ্গু প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলনের আহ্বান সড়ক প্রতিমন্ত্রীর

    রাজধানীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে জনসাধারণকে সম্পৃক্ত করতে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ অভিযান।

    শনিবার (১১ জুলাই) সকালে রাজধানীর খিলগাঁও দক্ষিণ গোড়ান খেলার মাঠে এ অভিযানের উদ্বোধন করেছেন ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য এবং সড়ক পরিবহন ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।

    তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে কেবল সরকারি বা সিটি করপোরেশনের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, এর জন্য প্রয়োজন সামাজিক আন্দোলন। প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ বাড়ি এবং আঙ্গিনা পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানান তিনি।

    কর্মসূচি উদ্বোধন শেষে প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতিতে জনসচেতনতামূলক একটি র‍্যালি খিলগাঁও, দক্ষিণ গোড়ান ও আশপাশের এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র‍্যালিতে স্থানীয় নেতা, সেচ্ছাসেবক ও সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।

  • ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২৫১

    ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২৫১

    গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত অন্তত ৩ জন মারা গেছেন। একইসময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ২৫১ জন।

    বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

    এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে বরিশাল ও খুলনা বিভাগ এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে একজন করে মারা গেছে।

    এ নিয়ে চলতি বছর দেশে ডেঙ্গুতে মোট ২২ জন মারা গেছেন। এছাড়া, ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে ৭ হাজার ৫৫৭ জনের। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৬৬০ ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন আছেন।

  • সরকারি হাসপাতালে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিনা মূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষা

    সরকারি হাসপাতালে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিনা মূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষা

    দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগ নির্ণয়ে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিনা মূল্যে এনএস১ পরীক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

    স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা-১ শাখা থেকে গত রোববার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

    প্রজ্ঞাপন বলা হয়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সম্মতির পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগ নির্ণয়ের জন্য এনএস১ পরীক্ষা চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিনা মূল্যে করার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

    প্রজ্ঞাপনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

    এদিকে, বর্ষা আসার সঙ্গে সঙ্গে দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ আবার বাড়তে শুরু করেছে। মশাবাহিত এই রোগে চলতি বছরে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে মোট ৭ হাজার ১১০ জন। এর মধ্যে ৬১ দশমিক ৫ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৮ দশমিক ৫ শতাংশ নারী। এ বছর ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

  • ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিতে চট্টগ্রাম আক্রান্তের হার আশঙ্কাজনক

    ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিতে চট্টগ্রাম আক্রান্তের হার আশঙ্কাজনক

    চট্টগ্রামে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। প্রতিদিন গড়ে ১১ জন করে এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। বছরের শুরুতে শহরে রোগী বেশি হলেও বর্ষা মৌসুমের শুরুতে রোগী বেড়েছে গ্রামে। চলতি মাসের প্রথম পাঁচ দিনেই ৫৭ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে গত রোববার ২৪ ঘণ্টায় ১৮ জন আক্রান্ত হন। শুধু তাই নয় নগরীর আটটি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়। সম্প্রতি পরিচালিত এক জরিপে এসব এলাকার প্রতি চারটি বাড়ির একটিতে ডেঙ্গু মশার লার্ভা পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়। লাফিয়ে বাড়তে থাকা ডেঙ্গু আক্রান্তের হার জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালগুলোর পরিকল্পনা, প্রস্তুতি ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে স্থানীয় বাসিন্দারা। নগরবাসীর অভিযোগÑ নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে নিয়মিত ডেঙ্গু ওষুধ ছিটানো হচ্ছে না। মশার উপদ্রব বাড়লেও এলাকাভিত্তিক ওষুধ প্রয়োগের হার বাড়েনি। কোনো কোনো এলাকায় এক মাসেও প্রয়োগ করা হয়নি ওষুধ কিংবা ফগার মেশিন।

    যদিও জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় ও চসিক সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রত্যেক সরকারি হাসপাতালে আলাদা ডেঙ্গু কর্নার চালু করা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে কিট ও বেডের সংখ্যাও। রোগীদের অগ্রাধিকার দিয়ে চিকিৎসা সেবা জোরদার করা হচ্ছে। এছাড়াও প্রত্যেক এলাকায় মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে জনগণকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

    চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) বলছে, সব এলাকায় পর্যাপ্ত পরিমাণে ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। জনবল বাড়ানোর পাশাপাশি উন্নতমানের ওষুধ প্রয়োগ করা হচ্ছে। তবে সময় বুঝে ওষুধ ছিটাতে হয় বলে অনেকেই বিষয়টি নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা রাখেন।

    জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, চলতি জুলাইয়ের প্রথম দিন ৯ জন আক্রান্ত হন। পরের দিন ১০ জন, ৩ জুলাই ৭ ও ৪ জুলাই ১৩ এবং ৫ জুলাই ১৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন। আর চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২ জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৩৫৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে মহানগরে ১৩১ জন আর জেলায় ১৪৪ জন। বাকি ৮০ জন অন্যান্য জেলার রোগী।

    এ বছরের জানুয়ারিতে আক্রান্ত হন ৬৮ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২২, মার্চে ২০, এপ্রিলে ২৯, মে-তে ৩৭, জুনে ১২২ এবং চলতি মাসের পাঁচদিনে ৫৭ জন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সেই হিসাবে দেখা যায়, চলতি বছরের বিগত মাসগুলোর তুলনায় জুলাইয়ের শুরুতেই রোগী বেড়েছে প্রায় তিনগুণ। যেখানে গড়ে প্রতিদিন ১১ জন আক্রান্ত হচ্ছেন।

    জেলা সিভিল সার্জন অফিস জানায়, বর্তমানে ৫১ জন রোগী নগরীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সবচেয়ে বেশি রোগী রয়েছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে ২৮ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। আর উপজেলা পর্যায়ে সীতাকুণ্ডে ডেঙ্গু রোগী সবচেয়ে বেশি। উপজেলাটিতে এখন পর্যন্ত ৩৫ জন ও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রাউজানে ১৭ ও মিরসরাই উপজেলায় ১৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

    চলতি বছর চট্টগ্রামে আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষ ১৯৭, নারী ৯৩ ও শিশু ৬৫ জন। গত পাঁচ মাসে একজনের মৃত্যু হয়েছে চট্টগ্রামে। তবে গত তিন মাসে শহরের তুলনায় গ্রামেই এখন রোগী বেশি।

    জানা যায়, গত বছর চট্টগ্রামে চার হাজার ৮৬৪ আক্রান্তের মধ্যে ২৭ জনের মৃত্যু হয়। চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ মৃত্যু ছিল ২০২৩ সালে। ওই বছর ১৪ হাজার ৮৭ জন ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে ১০৭ জনের মৃত্যু হয়।

    এদিকে, চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তর নগরের আটটি ওয়ার্ডকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা করেছে। ‘ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার বাহক এডিস মশার সার্ভে’ শীর্ষক জরিপে বলা হয়, নগরীর জরিপ করা প্রতিটি ওয়ার্ডেই এডিস মশার উপস্থিতি রয়েছে। তবে ১০ নম্বর উত্তর কাট্টলী, ৩ নম্বর পাহাড়তলী, ২ নম্বর আলকরণ, ১৭ নম্বর পশ্চিম বাকলিয়া, ১৯ নম্বর দক্ষিণ বাকলিয়া, ৩৯ নম্বর দক্ষিণ বালুচরা, ৩৪ নম্বর পাথরঘাটা এবং ৩২ নম্বর আন্দরকিল্লা এই আটটি ওয়ার্ডকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

    বিভা

    গীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ওই জরিপে দেখা গেছে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৮টি ওয়ার্ডে ৩৭০টি বাড়ি পরিদর্শন করা হয়। এর মধ্যে ৯৯টি বাড়িতে, অর্থাৎ ২৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ বা প্রতি চারটি বাড়ির একটি বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। জরিপ চলাকালে ১১৪টি এডিস মশার লার্ভা পজিটিভ কনটেইনারও শনাক্ত করা হয়।

    প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শনাক্ত হওয়া এডিস মশার ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই এডিস ইজিপটাই প্রজাতির, যা ডেঙ্গু ভাইরাসের প্রধান বাহক। বাকি ২০ থেকে ৩০ শতাংশ এডিস এলবোপিকটাস, যা ডেঙ্গুর দ্বিতীয় প্রধান বাহক হিসেবে পরিচিত।

    চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা কমান্ডার ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, সাতটি জোনে আমরা প্রতিদিন নগরে মশার ওষুধ ছিটাচ্ছি। এই বিভাগের জনবল ১৬০ জন থেকে ২০০ জন করা হয়েছে। পুরোনো ও অকেজো সব ফগার মেশিন মেরামত করে চালু করা হয়েছে। মশার প্রজননস্থান ধ্বংসে চসিক কাজ করে যাচ্ছে। কোথাও কোনো অভিযোগ থাকলে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নেব। বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বী জানান, তিনটি কর্মপন্থা ঠিক করেছি। আমরা চসিককে প্রতিবেদনটি দিয়েছি। তারা তাদের আলোকে কাজ করবে। আমরা বলেছি কার্যকর এবং মানসম্মত ওষুধের প্রয়োগ যেন বেগবান করা হয়। সেবা সংস্থাগুলোর জনবলকে আমরা প্রশিক্ষিত করে তুলছি। হাসপাতালে পর্যাপ্ত কীট, মশারি, কর্নার তৈরি করেছি। আমরা চাই যে কোনো রোগীর চিকিৎসা যেন উপজেলা পর্যায়ে শেষ হয়। জনসাধারণের কাছে আহ্বান জানাই তারা যেন নিজ বাড়ির এডিশ মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করে।