ডেঙ্গু

  • ডেঙ্গু টিকা এখনই দরকার

    ডেঙ্গু টিকা এখনই দরকার

    বাংলাদেশে সম্প্রতি হামের প্রকোপ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই নতুন করে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে এবং কয়েকজনের মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে। বর্ষাকাল শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এডিস মশার বংশবৃদ্ধির জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    ডেঙ্গু এখন আর শুধু রাজধানী ঢাকার সমস্যা নয়; এটি সারাদেশের জনস্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে। প্রতি বছর বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী মৌসুমে হাজার হাজার মানুষ আক্রান্ত হন। অনেক ক্ষেত্রে রোগী দ্রুত শকে চলে যান, রক্তক্ষরণ হয়, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিকল হতে পারে এবং মৃত্যুও ঘটে। তাই ডেঙ্গুকে শুধুমাত্র একটি “মশাবাহিত জ্বর” হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
    ডেঙ্গুর টিকা: নতুন আশার আলো-

    বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বর্তমানে ডেঙ্গু প্রতিরোধে টিকা ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশেষ করে থাইল্যান্ড, ইন্দেনেশিয়া, ব্রাজিল এবং কিছু লাতিন আমেরিকান দেশে ডেঙ্গু টিকা অনুমোদিত হয়েছে।
    বর্তমানে কোন কোন ডেঙ্গু টিকা আছে?
    ১. উবহমাধীরধ (ডেঙভ্যাক্সিয়া) প্রথম অনুমোদিত ডেঙ্গু টিকা। তবে এটি শুধুমাত্র পূর্বে ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য উপযোগী বলে বিবেচিত হয়।
    ২. ছফবহমধ ( কিউডেঙ্গা)- বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত ডেঙ্গু টিকা। এটি জাপানের তাকেডা ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানী তৈরি করেছে। বেশ কয়েকটি দেশে অনুমোদিতও হয়েছে।

    এটা কে কিভাবে কত ডোজ নিবে?
    এই টিকা আপাতত দুই ডোজ নিতে হবে ৩ মাসের ব্যবধানে। ৪ বছর থেকে ৬০ বছর বয়সিদের এটি নেয়ার কথা বলা হচ্ছে।
    প্রথম ডোজ নেয়ার ১৪ দিন পরই ইমিউনিটি ডেভেলপ করতে শুরু করে। তাই কেউ চাইলে ডেঙ্গু প্রবণ এলাকায় যাওয়ার ১৪ দিন আগে এটি নিতে পারে। এক ডোজের পরেও ৮২ শতাংশ প্রতিরোধ ক্ষমতা প্রাপ্ত হয়। ২য় ডোজ নেয়ার ৩০ দিন পর সবচেয়ে ভাল প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরী হয়।

    কিউডেঙ্গা কতটা কার্যকর?
    বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে:
    হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমায়, যা প্রায় ৯০.৪ শতাংশ পর্যন্ত বলেও গবেষকেরা দাবী করেছে।
    গুরুতর ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমায়, ডেঙ্গু হলেও তা মারাত্মক পর্যায় পর্যন্ত যায় না।
    চারটি সেরোটাইপের বিরুদ্ধেই সুরক্ষা দেয়, যাকে বিশেষজ্ঞরা খুবই গুরুত্বপূর্ণ হিসাবে দেখছে।

    এটা ৪ বছর থেকে ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত সবাই নিতে পারবে।
    আগে ডেঙ্গু না হলেও এটা নেয়া যাবে। আগেরটারমত এই শর্ত এখানে নাই।
    টিকা নেয়ার আগে কোন রক্ত পরীক্ষার প্রয়োজন নাই।
    তবে এই টিকা শতভাগ সুরক্ষা দেয় না। ৮০.২ শতাংশ পর্যন্ত সুরক্ষার কথা বলা হচ্ছে। তাই টিকা নেওয়ার পরও মশা নিয়ন্ত্রণ ও ব্যক্তিগত সতর্কতা প্রয়োজন।
    শুধু টিকা কি সমস্যার সমাধান? না।
    পাশের দেশ থাইল্যান্ডে টিকার দাম কত?
    দেশভেদে মূল্য ভিন্ন। থাইল্যান্ডে সাধারণত দুই ডোজ সম্পূর্ণ করতে আনুমানিক ৩,০০০-৬,৫০০ থাই বাথ বা তারও বেশি খরচ হতে পারে, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১১,০০০-২২,০০০ টাকার সমপরিমাণ হতে পারে। তবে ক্লিনিক ও হাসপাতাল ভেদে মূল্য পরিবর্তিত হয়।

    বাংলাদেশে ডেঙ্গুর টিকা চালু করতে কার কী করণীয়?
    ১. সরকার-
    আন্তর্জাতিক তথ্য পর্যালোচনা
    নিরাপত্তা মূল্যায়ন
    স্থানীয় গবেষণানিয়ন্ত্রক অনুমোদন দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে।
    ২. ঔষধ প্রশাসন- ডিরেক্টর জেনারেল অব ড্রাগ এডমিনিস্ট্রেশনকে টিকার নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা মূল্যায়ন করতে হবে।
    ৩. আইইডিসিআর- ইনস্টিটিউট অব এপিডিমিওলজি ডিজিজ কন্ট্রোল এন্ড রিসার্চকে রোগতাত্ত্বিক তথ্য বিশ্লেষণ করতে হবে।
    ৪. চিকিৎসক সমাজ- কোন বয়সী জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে তা নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে হবে।
    ৫. আন্তর্জাতিক সহযোগিতা-বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ এবং অন্যান্য সংস্থার সহযোগিতা নেওয়া যেতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা উচ্চ ডেঙ্গু প্রবণ এলাকার ৬ থেকে ১৬ বছর বয়সীদের জন্য এটি সুপারিশ করেছে। সরকার স্থানীয়ভাবে এটি উৎপাদনের কথা বিবেচনা করছে।
    ডেঙ্গু কী?

    ডেঙ্গু হলো একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা ডেঙ্গু ভাইরাস দ্বারা হয় এবং সংক্রমিত স্ত্রী এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে ছড়ায়। প্রধান বাহক হলো: এডিস এইজিপ্টি ও এডিস এলবোপিক্টাস নামের মশা।
    এডিস মশা সাধারণত দিনের বেলায় কামড়ায় এবং পরিষ্কার জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে।
    কেন বাংলাদেশে ডেঙ্গু বাড়ছে?

    ১. জলবায়ু পরিবর্তন- তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বৃষ্টি এবং দীর্ঘায়িত বর্ষাকাল মশার বংশবৃদ্ধির জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করছে।
    ২. অপরিকল্পিত নগরায়ণ- অসংখ্য নির্মাণাধীন ভবন, ছাদে জমে থাকা পানি, ফেলে রাখা টায়ার, ড্রাম, ফুলের টব ও প্লাস্টিকের পাত্র এডিস মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হচ্ছে।
    ৩. জনসচেতনতার ঘাটতি- অনেক মানুষ এখনও মনে করেন ডেঙ্গু শুধু নোংরা পানিতে জন্মানো মশার মাধ্যমে হয়। বাস্তবে এডিস মশা পরিষ্কার পানিতেই বেশি জন্মায়।
    ৪. সমন্বিত কর্মসূচির অভাব- মশকনিধন, পরিবেশ ব্যবস্থাপনা, নজরদারি এবং স্বাস্থ্যশিক্ষা কার্যক্রম অনেক সময় যথেষ্ট সমন্বিতভাবে পরিচালিত হয় না।

    ডেঙ্গুর লক্ষণ-

    সাধারণ লক্ষণ: হঠাৎ উচ্চ জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, চোখের পিছনে ব্যথা, শরীর ও জয়েন্টে ব্যথা, বমি বমি ভাব, ত্বকে র‌্যাশ ইত্যাদি।
    বিপদসংকেত-
    নিম্নোক্ত লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে: তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, শ্বাসকষ্ট, নাক বা মাড়ি থেকে রক্ত পড়া, কালো পায়খানা, অতিরিক্ত দুর্বলতা, অস্থিরতা বা ঘুমঘুম ভাব, প্রস্রাব কমে যাওয়া।
    সরকার কী করতে পারে? ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
    ১. জাতীয় জরুরি কর্মসূচি- স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, সিটি কর্পোরেশন ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে জাতীয় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি জোরদার করতে হবে।
    ২. মশার উৎস ধ্বংস- শুধু ফগিং করে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।

    গুরুত্ব দিতে হবে:
    লার্ভা ধ্বংস
    পানি জমার স্থান অপসারণ
    নির্মাণাধীন ভবন পরিদর্শন
    নিয়মিত জরিমানা
    ৩. হাসপাতাল প্রস্তুতি- প্রতিটি জেলা হাসপাতালে:
    ডেঙ্গু কর্নার
    পর্যাপ্ত নরমাল স্যালাইনের সরবরাহ নিশ্চিত করা

    রক্ত সঞ্চালন ও প্লেটলেট সাপোর্ট
    প্রশিক্ষিত চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য সাপোর্টিং স্টাফ নিশ্চিত করতে হবে।
    ৪. রোগতত্ত্ব নজরদারি- প্রতিদিনের তথ্য বিশ্লেষণ করে কোন এলাকায় সংক্রমণ বাড়ছে তা দ্রুত শনাক্ত করতে হবে।
    ৫. স্কুলভিত্তিক কর্মসূচি- স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে পরিবার পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা যেতে পারে।

    ৬. গবেষণায় বিনিয়োগ- বাংলাদেশে ডেঙ্গুর চারটি সেরোটাইপের কোনটার কখন কোথায় বিস্তার হচ্ছে, মশার ঘনত্ব এবং জলবায়ুর প্রভাব নিয়ে গবেষণা বাড়াতে হবে।
    জনগণের করণীয়: সপ্তাহে অন্তত একদিন “২০ মিনিট ডেঙ্গু অভিযান”
    বাড়িতে ও বাড়ির চারপাশে:
    টব
    ড্রাম
    এসির ট্রে
    ফ্রিজের ট্রে
    টায়ার
    ডাবের খোসা
    বোতল পরিষ্কার করতে হবে।
    ব্যক্তিগত সুরক্ষা: এটাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ
    মশারি ব্যবহার
    ফুলহাতা পোশাক পরিধান
    মশা নিরোধক ব্যবহার

    জানালায় নেট
    জ্বর হলে:
    দ্রুত রক্ত পরীক্ষা
    প্রচুর তরল পান
    চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনে হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে

    যা করা যাবে না:
    নিজে নিজে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া
    জ্বরের জন্য আইবুপ্রোফেন বা ডাইক্লোফেনাক সেবন
    অযথা ভয়ে প্লেটলেট দেওয়া
    ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের মূল ভিত্তি তিনটি:
    ১. মশার উৎস ধ্বংস
    ২. দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ
    ৩. উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা
    টিকা একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ব্যবস্থা মাত্র।
    যদি চারপাশে মশার ঘনত্ব বেশি থাকে, তবে টিকা থাকা সত্ত্বেও সংক্রমণ চলতে পারে।

    ভবিষ্যৎ করণীয়-
    বাংলাদেশের জন্য একটি সমন্বিত ডেঙ্গু কৌশল প্রয়োজন:
    সারা বছর মশা নিয়ন্ত্রণ
    আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা
    গবেষণা বৃদ্ধি
    হাসপাতাল প্রস্তুতি
    গণসচেতনতা
    ডেঙ্গু টিকার সম্ভাব্য অন্তর্ভুক্তি

    পরিশেষে মনে রাখতে হবে, হামের প্রাদুর্ভাবের পর ডেঙ্গুর বিস্তার বাংলাদেশের জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ। ডেঙ্গু একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ হলেও অবহেলা করলে এটি প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। যা আমরা আগের বছর গুলিতেই দেখেছি। শুধু সরকার বা স্বাস্থ্য বিভাগ একা এই সমস্যা মোকাবিলা করতে পারবে না; জনগণকেও সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে হবে। বাড়ির আঙিনা থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত সমন্বিত উদ্যোগই পারে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমাতে।
    ডেঙ্গুর টিকা বিশ্বে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে টিকা আসার অপেক্ষায় না থেকে এখনই মশার উৎস ধ্বংস, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করাই হবে ডেঙ্গু মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। একটি সচেতন পরিবার, একটি পরিচ্ছন্ন বাড়ি এবং একটি সমন্বিত জাতীয় কর্মসূচিই পারে হাজারো প্রাণ রক্ষা করতে।

  • জুলাই-আগস্টে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    জুলাই-আগস্টে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    জুলাই ও আগস্ট মাসে দেশে ডেঙ্গু সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তবে সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ডেঙ্গু প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী।

    বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্যাথলজি বিভাগে অত্যাধুনিক মাইক্রোস্কোপ ও ল্যাবরেটরি যন্ত্রপাতি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ডেঙ্গু রোগ দ্রুত শনাক্ত করতে দেশের থানা, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালগুলোতে এনএস১ (NS1) পরীক্ষার কিট পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে রোগ নির্ণয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রি-এজেন্ট, চিকিৎসা সরঞ্জাম, স্যালাইন এবং অন্যান্য ওষুধের পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করা হয়েছেতিনি বলেন, ঢাকা এবং অন্যান্য বড় শহরের হাসপাতালগুলোকে ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। রোগীর সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে অতিরিক্ত শয্যা চালু করা হবে। প্রয়োজন হলে মোবাইল হাসপাতাল স্থাপন করেও চিকিৎসাসেবা দেওয়া হবে।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, শুধু হাসপাতাল প্রস্তুত রাখলেই হবে না, ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে। এ লক্ষ্যে ইউনিয়ন পর্যায় থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং মসজিদের ইমামদের মাধ্যমে জনসচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সবাইকে নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানান তিনি।

    তিনি বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, সিটি করপোরেশন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। প্রতিদিন আক্রান্ত ও মৃত্যুর তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী জনগণকে জ্বর, শরীরব্যথা, মাথাব্যথা বা ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসা শুরু করলে ডেঙ্গুজনিত জটিলতা এবং মৃত্যুর ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষা মৌসুমে টানা বৃষ্টি ও জমে থাকা পানির কারণে এডিস মশার বংশবিস্তার দ্রুত বাড়ে। তাই জুলাই ও আগস্ট মাসকে ডেঙ্গুর জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তারা

  • বদলে যাচ্ছে ডেঙ্গুর ধরন, যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন

    বদলে যাচ্ছে ডেঙ্গুর ধরন, যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন

    ডেঙ্গু এখন আর শুধু বর্ষাকালের রোগ নয়। বছরের বিভিন্ন সময়ই এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন মানুষ। তবে বর্ষা মৌসুমে সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। চিকিৎসকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শুধু ডেঙ্গুর প্রকোপই বাড়েনি, বদলে গেছে এর লক্ষণ ও জটিলতার ধরনও। ফলে আগের মতো উপসর্গ দেখে রোগ শনাক্ত করা অনেক ক্ষেত্রে কঠিন হয়ে পড়ছে।

    মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. সাইফ হোসেন খান বলেন, আগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে উচ্চ জ্বর, চোখে ব্যথা, শরীর ও অস্থিসন্ধিতে তীব্র ব্যথা এবং ত্বকে লালচে র‍্যাশ দেখা যেত। কিন্তু বর্তমানে অনেক রোগীর ক্ষেত্রে এসব পরিচিত লক্ষণ স্পষ্টভাবে দেখা যায় না।

    বর্তমান সময়ে অনেকেই সামান্য জ্বর বা শরীর ম্যাজম্যাজ করার মতো উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে রোগী বুঝতেই পারেন না যে তিনি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। অথচ কয়েক দিনের মধ্যেই হঠাৎ করে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে পারে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান ডেঙ্গুতে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময় হলো জ্বর কমে যাওয়ার পরের কয়েক দিন। সাধারণভাবে অনেকে জ্বর কমে গেলে সুস্থ হয়ে উঠছেন বলে মনে করেন। কিন্তু ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে এই সময়টিই ‘ক্রিটিক্যাল ফেজ’। জ্বর কমার দিন থেকে পরবর্তী তিন দিন পর্যন্ত রক্তচাপ কমে যাওয়া, প্লাটিলেট দ্রুত হ্রাস পাওয়া এবং রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। তাই এ সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো জরুরি।

    এ ছাড়া নতুন ধরনের ডেঙ্গুতে শুধু জ্বর নয়, তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, পাতলা পায়খানা, অতিরিক্ত দুর্বলতা কিংবা অস্বাভাবিক ক্লান্তিও গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে লিভার, কিডনি ও মস্তিষ্কও আক্রান্ত হতে পারে।

    চিকিৎসকদের ভাষ্য, ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি ধরন বা সেরোটাইপ রয়েছে। আগে একবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়া ব্যক্তি পরবর্তীতে ভিন্ন সেরোটাইপে আক্রান্ত হলে মারাত্মক জটিলতা, যেমন ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার বা ডেঙ্গু শক সিনড্রোমের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

    বিশেষ করে অতিরিক্ত বমি, পেটের ডান পাশে তীব্র ব্যথা, জন্ডিসের লক্ষণ বা অস্বাভাবিক দুর্বলতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

    এ ছাড়া ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তিকে পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার গ্রহণ, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

  • ডেঙ্গুতে আরও ১ জনের মৃত্যু

    ডেঙ্গুতে আরও ১ জনের মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে ১৬৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    বুধবার (১ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৪৬ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৭ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৩ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৮ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৭ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৪ জন এবং খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৪ জন রয়েছেন।

    এই সময়ে ১৬১ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর এ পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫ হাজার ৭৯৩ জন।

    চলতি বছরের এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৬ হাজার ২৬৭ জন। এর মধ্যে ৬২ দশমিক ২ শতাংশ পুরুষ ও ৩৭ দশমিক ৮ শতাংশ নারী। এ বছর ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়।

    ২০২৪ সালে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয় ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৫৭৫ জনের মৃত্যু হয়।

  • ডেঙ্গুতে ৫ জনের মৃত্যু

    ডেঙ্গুতে ৫ জনের মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত ১২৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

    আজ সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল রোববার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত) নতুন আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৩৭, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮, ঢাকা বিভাগে ২, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৬, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৭, খুলনা বিভাগে ১৪, ময়মনসিংহ বিভাগে ২ ও রাজশাহী বিভাগে আটজন রয়েছে।

    গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ১০০ জন ডেঙ্গু রোগী। চলতি বছর এ পর্যন্ত মোট ৫ হাজার ৪৫৫ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া পাঁচজনের মধ্যে দুজন পুরুষ ও তিনজন নারী।

    চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মারা গেছে ১৮ জন, যাদের মধ্যে ১০ জন পুরুষ ও আটজন নারী।

  • ডেঙ্গুতে আরও ১ জনের মৃত্যু, ভর্তি ১৯৮

    ডেঙ্গুতে আরও ১ জনের মৃত্যু, ভর্তি ১৯৮

    গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ভর্তি হয়েছে ১৯৮ জন।

    বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিটি পুরুষ। এছাড়া ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্ত ১৯৮ জনের মধ্যে পুরুষ ১২৬ জন।

    এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেওয়া রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৫১৫ জনে। আর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছর মারা যাওয়াদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আটজন মারা গেছেন জুন মাসে। এ ছাড়া, মে মাসে একজন, ফেব্রুয়ারিতে দুইজন এবং জানুয়ারিতে মারা গেছেন দুইজন।

    এর আগে, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ দুই হাজার ৮৬১ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়।

  • ডেঙ্গু প্রতিরোধে টাস্কফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত

    ডেঙ্গু প্রতিরোধে টাস্কফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত

    ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম জোরদার করতে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। টাস্কফোর্সটি বিভিন্ন সংস্থার কার্যক্রম তদারকি, সমন্বয় বৃদ্ধি ও জরুরি পদক্ষেপ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করবে।

    মঙ্গলবার (২৩ জুন) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধবিষয়ক জাতীয় কমিটি’র প্রথম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    সভাপতির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। ডেঙ্গু মোকাবিলায় শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, জনগণের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন।

    সভায় ডেঙ্গু ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—

    ১. বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার মাধ্যমে ব্যাপক হারে লিফলেট ও সচেতনতামূলক প্রচারপত্র বিতরণ।

    ২. স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করে ডেঙ্গু প্রতিরোধবিষয়ক বিশেষ প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনা করা।

    ৩. স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজের সমন্বয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার করা।

    ৪. ফগার মেশিন ও মশক নিধন কার্যক্রমের মান (কোয়ালিটি) নিয়মিত পরীক্ষা ও তদারকি করা।

    ৫. এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংসে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা।

    ৬. নির্মাণাধীন ভবন, ছাদবাগান, টায়ারের দোকান, গ্যারেজ এবং জলাবদ্ধ এলাকায় নিয়মিত পরিদর্শন বৃদ্ধি করা।

    ৭. গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচার জোরদার করা।

    ৮. ডেঙ্গুর লার্ভা শনাক্ত হওয়া স্থানগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

    ৯. ডেঙ্গু প্রতিরোধবিষয়ক মনিটরিং ও তদারকি কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা।

    ১০. ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের তথ্য দ্রুত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

    সভায় বক্তারা বলেন, বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা থাকায় এখন থেকেই সমন্বিত ও জোরালো প্রস্তুতি গ্রহণ জরুরি।

    জাতীয় কমিটির গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রমের গতি বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সংস্থা ও সিটি কর্পোরেশনের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ওয়াসা, এলজিইডি, ডিপিএইচই, রাজউক এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

  • হামের প্রাদুর্ভাবের মাঝেই ডেঙ্গুর থাবা; ছড়িয়েছে ৫৮ জেলায়

    হামের প্রাদুর্ভাবের মাঝেই ডেঙ্গুর থাবা; ছড়িয়েছে ৫৮ জেলায়

    এক সময় ডেঙ্গুর মৌসুম বলতে শুধু বর্ষাকালকেই বোঝানো হতো। কিন্তু গত কয়েক বছরে সে ধারণা পাল্টে গেছে। এডিস মশার জীবনচক্রের পরিবর্তন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং জনসচেতনতার ঘাটতির কারণে এখন শীত-গ্রীষ্মেও ডেঙ্গুর সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে।

    রাজধানী ছাড়িয়ে রোগটি এখন গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে। চলতি বছর হামের ভয়াবহ প্রকোপের মধ্যেই আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু। ইতোমধ্যে ৫৮ জেলায় ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। বরিশাল বিভাগের জেলাগুলোতে ডেঙ্গুর রোগী বেশি দেখা যাচ্ছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসের প্রথম ২১ দিনেই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ৭০৩ জন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্ত হয়েছেন ২২০ জন—যা চলতি বছরে এক দিনে সর্বোচ্চ আক্রান্ত ও মৃত্যুর রেকর্ড। এর আগে মে মাসে আক্রান্ত ছিলেন ৭১৪ জন এবং এপ্রিলে ৬৪০ জন। অর্থাৎ, সংক্রমণের হার ধারাবাহিকভাবে বাড়ছেই।

    আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী পাওয়া গেছে বরিশাল বিভাগে। যদিও এখন পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা তুলনামূলক কম, তবুও মৌসুম শুরুর আগেই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও কীটতত্ত্ববিদরা। একইসঙ্গে খোদ সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রীও শঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, এবার ডেঙ্গু মোকাবিলা সহজ হবে না। ডেঙ্গু এখন আর সাধারণ কোনো রোগ নয়, এটি পুরো জাতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এডিস মশার প্রজননের অনুকূল সময়। মে মাসের পর জমে থাকা পানিতে মশার ডিম দ্রুত লার্ভায় পরিণত হয় এবং থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে প্রজনন আরো বাড়ে। আগে ঢাকাকে ডেঙ্গুর প্রধান কেন্দ্র হিসেবে দেখা হলেও এখন এটি সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের মতে, বছরব্যাপী মশক নিধন কার্যক্রমে উদাসীনতা, পর্যাপ্ত নজরদারির অভাব এবং সমন্বিত উদ্যোগের ঘাটতির কারণেই পরিস্থিতি জটিল হয়েছে।

    দেশে প্রথম ডেঙ্গু শনাক্ত হয় ২০০০ সালে। সে সময় রোগটি ‘ঢাকা ফিভার’ নামে পরিচিত ছিল। পরে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এটি ডেঙ্গু জ্বর বলে শনাক্ত করেন এবং সে বছর থেকেই প্রথম ডেঙ্গু রোগীর তথ্য রেকর্ড করা হয়। ওই বছর ডেঙ্গুতে ৯৩ জনের মৃত্যু হয় এবং আক্রান্ত হন পাঁচ হাজার ৫৫১ জন। পরবর্তী এক দশকের বেশি সময় রোগটির প্রকোপ সীমিত থাকলেও ২০১৯ সালে তা ভয়াবহ রূপ নেয়। ওই বছর এক লাখ এক হাজার ৩৫৪ জন আক্রান্ত হন এবং ১৭৯ জন মারা যান।

    তবে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয় ২০২৩ সালে। সে বছর ডেঙ্গুতে মারা যান এক হাজার ৭০৫ জন এবং আক্রান্ত হন তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন। তখন দেশের ৬৪ জেলাতেই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। ২০২৪ সালে আক্রান্ত হন এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন এবং মৃত্যু হয় ৫৭৫ জনের। ২০২৫ সালে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল এক লাখ দুই হাজার ৮৬১ এবং মৃত্যু হয় ৪১৩ জনের।চলতি বছরের ২১ জুন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছেন মোট চার হাজার ৯০০ জন। এর মধ্যে প্রায় ৬২ দশমিক ৭ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭ দশমিক ৩ শতাংশ নারী। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত বরিশাল বিভাগে। সেখানে রোগীর সংখ্যা এক হাজার ২৯৭ জন। আক্রান্তের সংখ্যায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ, যেখানে রোগী ৯৭২ জন। বরিশাল বিভাগের ছয় জেলাতেই ডেঙ্গুর প্রকোপ তুলনামূলক বেশি। এর মধ্যে বরিশাল জেলায় আক্রান্ত ৩৪৪, পিরোজপুরে ২৯৭, পটুয়াখালীতে ২৪৪, ঝালকাঠিতে ২৩০, বরগুনায় ১১৮ এবং ভোলায় ৬৪ জন।

  • ডেঙ্গু চিকিৎসায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নতুন নির্দেশনা

    ডেঙ্গু চিকিৎসায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নতুন নির্দেশনা

    বিশ্বজুড়ে ডেঙ্গু এখন দ্রুত ছড়িয়ে পড়া একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এই রোগের ঝুঁকি বেশি এবং অনেক ক্ষেত্রে জটিলতা মারাত্মক হতে পারে। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে প্রথমবারের মতো শিশুদের জন্য আলাদা ডেঙ্গু চিকিৎসা উন্নয়নে নতুন নির্দেশনা প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)।

    ১৫ জুন, ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এই নির্দেশনায় শিশু-কেন্দ্রিক ডেঙ্গু চিকিৎসা উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটি বলছে, এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুর কোনো নির্দিষ্ট ও অনুমোদিত চিকিৎসা নেই। সাধারণত রোগীদের সহায়ক চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করা হয়, যা অনেক সময় শিশুদের জন্য যথেষ্ট নয়।

    শিশুদের জন্য আলাদা চিকিৎসার প্রয়োজন কেন

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, শিশুদের শরীর ডেঙ্গু ভাইরাসে প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় ভিন্নভাবে প্রতিক্রিয়া করে। অনেক শিশুর ক্ষেত্রে রোগ দ্রুত গুরুতর পর্যায়ে চলে যেতে পারে। ফলে তাদের জন্য আলাদা ও সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা পদ্ধতি থাকা জরুরি হয়ে পড়েছে।নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ভবিষ্যতের ডেঙ্গু ওষুধ ও চিকিৎসা পদ্ধতি যেন শিশুদের উপযোগী করে তৈরি করা হয়। এটি শুধু ডোজের বিষয় নয়, বরং ওষুধের ফর্মুলেশন, নিরাপত্তা এবং ব্যবহারযোগ্যতার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত।

    নতুন পিএডিও (PADO) উদ্যোগ কী বলছে

    এই নির্দেশনা এসেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার Paediatric Drug Optimization বা PADO প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। এর উদ্দেশ্য হলো শিশুদের জন্য উপযুক্ত ওষুধ ও চিকিৎসা উন্নয়নের পথ নির্ধারণ করা।

    এই উদ্যোগে বিশেষজ্ঞরা ডেঙ্গু চিকিৎসার বিভিন্ন সম্ভাব্য ওষুধ, গবেষণা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং বিনিয়োগের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছেন। এতে কিছু উন্নয়নাধীন চিকিৎসা পদ্ধতিকে অগ্রাধিকার তালিকায় রাখা হয়েছে, যা আগামী কয়েক বছরের মধ্যে শিশুদের চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

    গবেষণা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাবিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ডেঙ্গু চিকিৎসার ক্ষেত্রে শিশুদের নিয়ে গবেষণা আরও দ্রুত শুরু করতে হবে। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য চলমান ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফল পাওয়ার পরই শিশুদের ওপর গবেষণা শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    এছাড়া শিশুদের ক্ষেত্রে ডেঙ্গুর লক্ষণ, পুষ্টিগত অবস্থা এবং অন্যান্য শারীরিক সমস্যা বিবেচনায় নিয়ে আলাদা গবেষণা ও চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতামতবিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিজ্ঞান ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিশুদের জন্য নিরাপদ ও কার্যকর চিকিৎসা তৈরি করতে হলে শুরু থেকেই তাদের কথা বিবেচনায় নিতে হবে। পরবর্তীতে যুক্ত করা হলে চিকিৎসা কাঠামো যথেষ্ট কার্যকর নাও হতে পারে।

    বিভিন্ন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও গবেষণা সংস্থা এই উদ্যোগকে শিশুদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন।

    কেন এই নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ

    বিশ্বে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে এবং এর একটি বড় অংশ শিশু। অনেক দেশে এখনো উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা সীমিত। ফলে শিশুদের জন্য নির্দিষ্ট নির্দেশনা ভবিষ্যতে চিকিৎসা উন্নয়ন, গবেষণা এবং স্বাস্থ্য নীতিনির্ধারণে বড় প্রভাব ফেলবে।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই নতুন নির্দেশনা শিশুদের ডেঙ্গু চিকিৎসায় একটি নতুন দিক উন্মোচন করেছে, যা ভবিষ্যতে আরও নিরাপদ ও কার্যকর চিকিৎসা ব্যবস্থার পথ তৈরি করতে পারে। সূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

  • ডেঙ্গুতে একদিনে ১০ মৃত্যু!

    ডেঙ্গুতে একদিনে ১০ মৃত্যু!

    সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৬৯ জন রোগী।

    বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি, অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

    অধিদপ্তর জানিয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় পাঁচজন, উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় তিনজন এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগে একজন করে মারা গেছেন।

    এতে বলা হয়েছে, গত একদিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১০৬৯ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১২৮ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৯৯ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) ২১৯ জন, ঢাকা উত্তর সিটিতে ২৫১ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ১৫২ জন, খুলনা বিভাগে ৬৮ জন (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে), ময়মনসিংহ বিভাগে ৭০ জন (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে), রাজশাহী বিভাগে ৩৪ জন (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে), রংপুর বিভাগে ৪৩ জন (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) এবং সিলেট বিভাগে ৫ জন (সিটি করপোরেশনের বাইরে) নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

    এদিকে গত একদিনে সারা দেশে ৯৫৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর ছাড়পত্র পেয়েছেন ৭১ হাজার ৪৮৭ জন।

    এ বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সবমিলিয়ে ৭৫ হাজার ৯৯২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ৩০২ জনের।

    প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুবরণ করেছেন ৫৭৫ জন। এর আগে ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট এক হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয় এবং ওই বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন মোট তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন।