সাফ ফুটবল

  • সাফে খেলবে তো ভারত?

    সাফে খেলবে তো ভারত?

    টুর্নামেন্টের সূচি চূড়ান্ত। ছয় দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত। তবুও আগামী নভেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠেয় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ভারত কেমন দল নিয়ে খেলবে, তা এখনো অজানা। বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের অংশগ্রহণ না করা নিয়ে গুঞ্জন ছড়িয়েছে।

    সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (সাফ) অবশ্য জানিয়েছে, ভারত টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো বার্তা দেয়নি। তবে মাঠের প্রস্তুতি ও দল গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েই গেছে।

    ভারতের সামনে বড় বাধা আন্তর্জাতিক সূচির সংঘাত। ৯ থেকে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত ফিফার আন্তর্জাতিক বিরতিতে নিউজিল্যান্ড সফরে যাবে দেশটির জাতীয় দল। সেখানে ১২ ও ১৫ নভেম্বর স্বাগতিকদের বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলার কথা তাদের।

    অথচ ঢাকায় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ চলবে ৫ থেকে ১৭ নভেম্বর। ৫ নভেম্বর পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার কথা ভারতের। তাদের প্রথম ম্যাচটি ফিফার আন্তর্জাতিক বিরতির আগেই। এই সময়ে ক্লাবগুলো জাতীয় দলের জন্য খেলোয়াড় ছাড়তে বাধ্য নয়। চলমান ঘরোয়া মৌসুমের ব্যস্ততার মধ্যে ভারতীয় সুপার লিগের (আইএসএল) ক্লাবগুলোও তাদের গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারদের ছাড়তে অনাগ্রহী। ফলে সিনিয়র দলের নিয়মিত খেলোয়াড়দের নিয়ে সাফে অংশ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে ভারতের জন্য।

    এই পরিস্থিতিতে অনূর্ধ্ব-২৩ দল পাঠানোর বিকল্পও ভেবেছে অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন (এআইএফএফ)। কিন্তু সেই পরিকল্পনাতেও বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ক্লাবগুলো। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে ইউনিটি কাপের ক্যাম্প থেকে মোহনবাগান নিজেদের খেলোয়াড়দের ফিরিয়ে নেওয়ার পর দুর্বল দল নিয়ে খেলতে গিয়ে বিপর্যস্ত হয়েছিল ভারত। তবে বয়সভিত্তিক দল নিয়ে সাফে ভালো করার অভিজ্ঞতা তাদের আছে। ২০০৯ সালে ঢাকায় অনূর্ধ্ব-২৩ দল পাঠিয়েই শিরোপা জিতেছিল দলটি।

    ভারতের অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা শুরু হয় দলটির নাম প্রত্যাহারের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর। সাফ এক বিবৃতিতে সেই খবরকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ বলেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, এআইএফএফের কাছ থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো বার্তা আসেনি। ঘোষিত ছয় দলকে নিয়েই নির্ধারিত সময়ে প্রতিযোগিতা আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। তবে সাফের বক্তব্যে ভারতের দল নিয়ে প্রশ্নের উত্তর মিলছে না।

    টুর্নামেন্ট শুরু হতে তিন সপ্তাহেরও কম সময় বাকি, অথচ এখনো দল ঘোষণা করেনি এআইএফএফ। নিউজিল্যান্ড সফরের জন্য সিনিয়র দলকে প্রস্তুত করা এবং ঘরোয়া ক্লাবগুলোর অনীহার মধ্যে শেষ পর্যন্ত ঢাকায় ভারত নিজেদের সেরা দল, নাকি অনূর্ধ্ব-২৩ দল পাঠায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

  • সাফ ফুটবলে খেলবেন রোনান সুলিভান

    সাফ ফুটবলে খেলবেন রোনান সুলিভান

    সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের আক্রমণভাগে নতুন মুখ হিসেবে দেখা যাবে রোনান সুলিভানকে।

    যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী এই তরুণ ফরোয়ার্ডের জাতীয় দলের হয়ে খেলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।

    গত এপ্রিলে অনূর্ধ্ব-২০ সাফে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা রোনান সুলিভান এবার সরাসরি জাতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগ পাচ্ছেন।

    বৃহস্পতিবার বাফুফে ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সহসভাপতি ফাহাদ করিম জানান, রোনান তার খেলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আজকেই সে আমাকে নিশ্চিত করেছে যে, ইনশা আল্লাহ আসতে পারবে। আগামী ১৮ অক্টোবর খেলোয়াড় নিবন্ধনের শেষ সময়। আমরা তাকেই স্কোয়াডে রাখব।’

    গত এপ্রিলে মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-২০ সাফে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। সেই সাফল্যে অবদান ছিল রোনানেরও। পাকিস্তানের বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ে ফ্রি-কিক ও হেডে দুটি গোল করেছিলেন তিনি। ভারতের বিপক্ষে ফাইনালেও টাইব্রেকারে গোল করে দলের শিরোপা জয়ে ভূমিকা রাখেন এই ফরোয়ার্ড।

    দীর্ঘদিন ধরে একজন নির্ভরযোগ্য স্ট্রাইকারের অভাব অনুভব করছে বাংলাদেশ। রোনানের অন্তর্ভুক্তিতে জাতীয় দলের আক্রমণভাগ কতটা শক্তিশালী হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

    বয়সভিত্তিক দলের সাফল্যের পর এবার সিনিয়র পর্যায়েও নিজের সামর্থ্য প্রমাণের সুযোগ পাচ্ছেন তিনি।

    আগামী ৪ থেকে ১৭ নভেম্বর ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ১৫তম আসর।

    নেপাল অংশ নিতে না পারায় এবার ছয়টি দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা ও ভুটান। ‘বি’ গ্রুপে খেলবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত, মালদ্বীপ ও পাকিস্তান। গ্রুপ পর্ব শেষে ১৪ নভেম্বর দুটি সেমিফাইনাল এবং ১৭ নভেম্বর ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে।

  • সাফের সূচি চূড়ান্ত, বাংলাদেশের খেলা কবে

    সাফের সূচি চূড়ান্ত, বাংলাদেশের খেলা কবে

    আট বছর পর বাংলাদেশে ফিরছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। টুর্নামেন্টের সূচি অনুযায়ী, আগামী ৫ নভেম্বর ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আসর শুরু করবে স্বাগতিক বাংলাদেশ। ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে রাত ৮টায়। একই দিন বিকেল সাড়ে ৩টায় ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে মুখোমুখি হবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান।

    বাংলাদেশের দ্বিতীয় ম্যাচ ১১ নভেম্বর। সেদিন রাত ৮টায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলবে স্বাগতিকরা। ‘এ’ গ্রুপের অপর ম্যাচে ৮ নভেম্বর ভুটানের মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কা। গ্রুপের সব ম্যাচই হবে জাতীয় স্টেডিয়ামে।

    ‘বি’ গ্রুপে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারতের সঙ্গে রয়েছে মালদ্বীপ ও পাকিস্তান। এই গ্রুপে ৮ নভেম্বর মালদ্বীপের বিপক্ষে খেলবে পাকিস্তান। ১১ নভেম্বর ভারত মুখোমুখি হবে মালদ্বীপের।

    গ্রুপ পর্ব শেষে দুই গ্রুপের শীর্ষ দুটি করে দল সেমিফাইনালে উঠবে। ১৪ নভেম্বর হবে দুটি সেমিফাইনাল। প্রথম ম্যাচটি শুরু হবে বিকেল ৩টায়, দ্বিতীয়টি রাত সাড়ে ৮টায়। ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ১৭ নভেম্বর রাত ৮টায়।

    তবে প্রকাশিত সূচিটি এখনো চূড়ান্ত নয়। ফিফার নিষেধাজ্ঞার কারণে আগস্টের ড্রয়ে নেপালকে রাখা হয়নি। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে নেপালও টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারবে। সে ক্ষেত্রে নেপালকে বাংলাদেশের গ্রুপে যুক্ত করে নতুন সূচি প্রকাশ করা হবে এবং খেলা শুরু হবে ৪ নভেম্বর থেকে।

    ঘরের মাঠে সর্বশেষ ২০০৩ সালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ।

  • টানা পঞ্চমবার সাফের সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন

    টানা পঞ্চমবার সাফের সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন

    আবারও দক্ষিণ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের (সাফ) সভাপতি হলেন কাজী সালাহউদ্দিন। শনিবার (১ আগস্ট) ভুটানে হয়ে গেল সাফের কনগ্রেস। সেখানে বিভিন্ন এজেন্ডার মধ্যে ছিল কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনও। সবগুলো পদের নির্বাচনে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়নি। সবার মতো বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের বস হলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সাবেক এ সভাপতি।

    সাফের গঠনতন্ত্রের ২৪.২ ধারা অনুযায়ী, কোনো পদের জন্য প্রার্থীর সংখ্যা শূন্যপদের বেশি না হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচিত বলে গণ্য হন।

    কাজী সালাহউদ্দিন ২০০৯ সাল থেকে সাফের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এ নিয়ে তিনি পঞ্চমবারের মতো নির্বাচিত হলেন।

    ৭০ বছরের ঊর্ধ্ব কেউ সাফের নির্বাহী কমিটির কোনো পদে প্রার্থী হতে পারবেন না- এত দিন এ কথাই বলা ছিল সাফের গঠনতন্ত্রে। তবে নিয়মটা গত বছর কলম্বোয় সাফের বিশেষ সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে বয়সের সীমা তুলে দেওয়া হয়। তাতে নির্বাচন করতে আর কোনো বাধা হয়নি সালাহউদ্দিনের জন্য।

    নতুন কার্যনির্বাহী কমিটিতে বাংলাদেশ থেকেও বাড়ছে প্রতিনিধিত্ব। বাফুফের সহ-সভাপতি সাব্বির আহমেদ আরিফ প্রথমবারের মতো সাফের এক্সিকিউটিভ কমিটির সদস্য হতে যাচ্ছেন। সহ-সভাপতি পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হচ্ছেন শ্রীলঙ্কার জাসওয়ার উমারু লাবে। আর কার্যনির্বাহী কমিটির আরেক সদস্য হিসেবে থাকছেন মালদ্বীপের হুসাইন শাফিউ।