রাজনীতি

  • রাজনীতিকে সংসদের বাইরে নেওয়ার অপচেষ্টা চলছে: তথ্যমন্ত্রী

    রাজনীতিকে সংসদের বাইরে নেওয়ার অপচেষ্টা চলছে: তথ্যমন্ত্রী

    রাজিনীতিকে কৃত্রিমভাবে সংসদের বাইরে নিয়ে যাওয়ার অপচেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদকে কার্যকর করা, রাজনৈতিক বিতর্ককে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে মহিমান্বিত করাই হওয়া উচিত সবার প্রধান লক্ষ্য।

    আজ সোমবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি’ উপলক্ষে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    তথ্যমন্ত্রী বলেন, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের ৫৫ বছর পরও ভোটাধিকারের জন্য মানুষকে প্রাণ দিতে হয়েছে, যা জাতির জন্য লজ্জা ও আত্মসমালোচনার বিষয়। তবে দীর্ঘ আন্দোলন ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে জনগণ ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছে এবং সেই ম্যান্ডেটের ভিত্তিতেই বর্তমান সংসদ পরিচালিত হচ্ছে।

    তথ্যমন্ত্রী বলেন, এত রক্ত ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্রের কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত জাতীয় সংসদ। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এখনো রাজনীতিকে রাজপথে বা সংসদের বাইরে নিয়ে যাওয়ার অপচেষ্টা চলছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সাধারণ মূল্যবোধের বাইরে গিয়ে নানা অপপ্রচার, অশ্লীলতা ও চক্রান্তের আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে, যা কোনো শুভ লক্ষণ নয়।

    জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষরের সঙ্গে শহীদদের রক্ত জড়িয়ে আছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচিত সংসদের মাধ্যমেই জুলাই সনদের শতভাগ বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, সংসদকে আরও কার্যকর করা, বিচার বিভাগের মর্যাদা বৃদ্ধি, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার।

    তথ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতে ক্ষমতার বাইরে থেকে যেভাবে বিএনপি সুশাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করেছে, এখন ক্ষমতায় থেকেও সরকার একই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করছে। শহীদদের আত্মত্যাগ তখনই সার্থক হবে, যখন গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর ঐক্যের মাধ্যমে দেশে সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়া বিএফইউজের সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদসহ সাংবাদিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

  • ৫ আগস্ট ঘিরে তৎপরতা চালানোর মুরোদ আওয়ামী লীগের নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    ৫ আগস্ট ঘিরে তৎপরতা চালানোর মুরোদ আওয়ামী লীগের নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি ঘিরে তৎপরতা চালানোর মুরোদ কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগের নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, দলটি একদিকে নিষিদ্ধঘোষিত (কার্যক্রম নিষিদ্ধ), আবার মাফিয়া শক্তি। তারা মাঝেমধ্যে বিদেশ থেকে উঁকিঝুঁকি দিতে পারে। এর বেশি কিছু দেখা যায় না।

    আজ সোমবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে সাংবাদিকের প্রশ্নে এ কথা বলেন সালাহউদ্দিন আহমদ।

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়েছিল। ৫ আগস্টের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঘিরে আগামীকাল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি বৈঠক হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই বৈঠকে সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা থাকবেন।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগকে নাশকতা করতে দেওয়া হবে না। সেই শক্তিও এই দলটির এখন আর নেই।

    সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের জামিনের খবরের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এক সাংবাদিক। এ বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার নিয়োজিত ল ফার্মকে (আইনজীবী প্রতিষ্ঠান) অনুরোধ করা হয়েছে, দ্রুত বেনজীরের জামিন বাতিলের ব্যবস্থা করার জন্য।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বেনজীরকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কেন তাঁকে জামিন দেওয়া হয়েছে, তা এখনই তিনি বলতে পারছেন না। বেনজীরের কাছে অন্য দেশের পাসপোর্ট রয়েছে বলে জানান তিনি।

    সম্প্রতি মেট্রোস্টেশনে ‘বোমাসদৃশ বস্তু’ পাওয়া প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। তিনি বলেন, এখানে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। কোনো সম্প্রদায় বা গোষ্ঠী সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে চেয়েছিল। এর পেছনে কারা আছে, সেটি খুঁজতে তদন্ত চলছে।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অতীতের তুলনায় উগ্রবাদী তৎপরতা বর্তমানে অনেক কম। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দেশে উগ্রবাদী তৎপরতা বন্ধ করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে। কোনোভাবেই যেন উগ্রবাদী ও মৌলবাদীরা মাথা চাড়া দিতে না পারে, সে ব্যাপারে সরকার সচেষ্ট রয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত সার্জিও গরের বাংলাদেশ সফরের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হয়। তিনি বলেন, তাঁর বাংলাদেশ সফর তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। তিনি নিজেই বলে গেছেন, তারেক রহমান সরকারকে সব ধরনের সহায়তা করবে যুক্তরাষ্ট্র।

  • সাদিক অ্যাগ্রোর সেই ইমরান গ্রেফতার

    সাদিক অ্যাগ্রোর সেই ইমরান গ্রেফতার

    ‘ছাগল কাণ্ডে’ আলোচিত সাদিক এগ্রোর চেয়ারম্যান ইমরান হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকেন্দ্রিক এক হত্যাচেষ্টার মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

    সোমবার (৩ আগস্ট) পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলমের আদালত এ গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন।

    প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক মো. মিজানুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

    গত ৩১ জুলাই সন্দিগ্ধ আসামি হিসাবে ইমরানকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক রানা রায়। ওইদিন আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন রাখেন সোমবার।

    ওই আবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক তদন্তে আসামি ইমরান হোসেন এ মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত আছে মর্মে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। এমতবস্থায় আসামিকে এ মামলার ঘটনায় জড়িত থাকার স্বপক্ষে তথ্য প্রমাণ পাওয়ায় তাকে গ্রেফতার দেখানো একান্ত প্রয়োজন।

    শুনানি শেষে আদালত তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    মামলার এজাহারে উল্লেখ আছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট মোহাম্মদপুর থানাধীন বছিলা বেড়িবাঁধ, বছিলা ব্রিজ, বছিলা চেকপোস্ট ও সংলগ্ন এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালান। হামলাকারীরা আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করলে বহু মানুষ গুলিবিদ্ধ হন এবং হতাহতের ঘটনা ঘটে। ওই হামলার ঘটনায় ভিকটিম মো. ছালেমানের পায়ের রানে গুলিবিদ্ধ হন।

    ওই ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে মামলাটি দায়ের করেন ভিকটিম মো. ছালেমান।

    উল্লেখ্য, সাদিক অ্যাগ্রোর মালিক ইমরানকে ২০২৫ সালে ৩ মার্চ গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। পরদিন ১৩৩ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে মোহাম্মদপুর থানার মানি লন্ডারিং আইনের মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। এরপর থেকে কারাগারে আটক আছেন আলোচিত এ ব্যবসায়ী।

  • থানার সামনে গিয়ে আত্মহত্যার হুমকি বিএনপি নেতার

    থানার সামনে গিয়ে আত্মহত্যার হুমকি বিএনপি নেতার

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের বিরুদ্ধে ‘অপপ্রচার’ চালানোর অভিযোগ এনে ১২ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের শনাক্ত করার দাবি জানিয়েছেন গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর বিএনপির সদস্যসচিব মো. বিল্লাল হোসেন ব্যাপারী। ঘোষিত সময়ের মধ্যে পুলিশ কোনো অগ্রগতি দেখাতে না পারলে থানার সামনে আত্মহত্যা করবেন বলেও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

    রোববার (২ আগস্ট) বিকালে শ্রীপুর থানা-পুলিশের আয়োজনে মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী মতবিনিময় সভায় গাজীপুরের পুলিশ সুপার শরিফ উদ্দীনের উপস্থিতিতে তিনি এ ঘোষণা দেন।

    বিল্লাল হোসেন ব্যাপারী শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং শ্রীপুর পৌর বিএনপির সদস্যসচিব।

    বক্তব্যে বিল্লাল হোসেন ব্যাপারী অভিযোগ করেন, কয়েকটি ভুয়া ফেসবুক আইডি আমার একটি ছবির সঙ্গে টেবিলে রাখা কয়েকটি মদের বোতল এবং আরও দুই ব্যক্তির ছবি সংযুক্ত করে সম্পাদিত একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে। এতে তার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

    বিএনপি নেতা বলেন, বিষয়টি জানার পরপরই আমি শ্রীপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছি। তবে এখন পর্যন্ত পুলিশ এ বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখাতে পারেনি।

    পুলিশ সুপারকে উদ্দেশ্য করে বিল্লাল হোসেন ব্যাপারী বলেন, আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যে অপপ্রচারকারীদের শনাক্ত করতে না পারলে আমি থানার সামনে এসে আত্মহত্যা করব।

    তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, একজন পৌর বিএনপি নেতার অভিযোগেরও যদি কার্যকর প্রতিকার না হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ কীভাবে পুলিশের সেবা পাবে?

    শ্রীপুর থানার ওসি মোহাম্মদ শাহীনুর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন গাজীপুরের পুলিশ সুপার শরিফ উদ্দীন। সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, শিক্ষক, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

    গাজীপুরের পুলিশ সুপার শরীফ উদ্দিন যুগান্তরকে জানান, শ্রীপুর পৌর বিএনপির সদস্যসচিব বিল্লাল হোসেন বেপারীর এমন বক্তব্যে আমি সঠিক বিচার পাইয়ে দেওয়ার আশ্বস্ত করেছি। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা প্রতিটি নাগরিকের পাশে যেভাবে থাকে তার পাশেও সেভাবে থাকবে এবং ন্যায়বিচার পাবেন বলে নিশ্চিত করেছি।

  • ৭২-এর সংবিধান শুরু থেকেই দেশকে বিভাজিত করে রেখেছে: নাহিদ ইসলাম

    ৭২-এর সংবিধান শুরু থেকেই দেশকে বিভাজিত করে রেখেছে: নাহিদ ইসলাম

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, একটা সরকার টু থার্ড মেজরিটি নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। অথচ পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের কোনো প্রতিনিধি নেই। দ্বীপেন দেওয়ানকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটা বাংলাদেশের ইতিহাসে কবে হয়েছে আমার জানা নেই।

    তিনি বলেন, এটা করতে পারছে কারণ, সরকার কোনো জবাবদিহির আওতায় নেই। ফলে আমরা মনে করি, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে পাহাড় থেকেও আওয়াজ আসা উচিত। ৭২-এর সংবিধান শুরু থেকেই দেশকে বিভাজিত করে রেখেছে।

    রোববার (২ আগস্ট) বিকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে জাতীয় নাগরিক পার্টির উদ্যোগে ‘পাহাড়ে জুলাই: সমমর্যাদা, সহাবস্থান ও সম্প্রীতি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তেব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    পাহাড়ের সংকট নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা সবার সমান নাগরিক অধিকারের পক্ষে। একই সঙ্গে আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আমরা আপসহীন। সবাই মিলে আমরা আমাদের সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করব। পাহাড়ের বঞ্চনার অবসান করতে হবে। আমরা পাহাড়ে ভিন্ন ধরনের চাঁদাবাজির কথা শুনতে পাই। আলাদা ধরনের সন্ত্রাস আছে। এসবের সমাধান লাগবে। পাহাড় থেকে সমতল- সর্বত্র জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

    তিনি আরও বলেন, ৭২-এর সংবিধান শুরু থেকেই দেশকে বিভাজিত করে রেখেছে। সাম্প্রদায়িকতার নামে, ধর্মের নামে, সমাজের নামে দেশকে বিভাজিত করে রাখা হয়েছে। আমরা মনে করি- এসব বিভাজন দূর করে, জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রশ্নে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকব। পাহাড়ের রাজনীতি, সমাজ ও অর্থনীতি জটিল। এটার একরৈখিক সমাধান নেই। পাহাড়ের নৃগোষ্ঠীগুলো বিভিন্নভাবে বঞ্চিত, সমান মর্যাদা পায় না। আবার বাঙালিরাও নানা বঞ্চনার শিকার। তাদের মধ্যে বিভিন্ন সময়ের বিভাজন, দ্বন্দ্বের কথা শুনি। এটার সুযোগ নেয় বিদেশি শক্তি। আমাদের কাজ হচ্ছে, আমরা সবাই বাংলাদেশি। এ দেশকে উন্নত করলে, সুষম বণ্টন হলে সবাই উপকৃত হবেন। পাহাড়ের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, নিপীড়নের রাজনৈতিক সমাধান প্রয়োজন।

    এনসিপি চট্টগ্রামের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম সুজা উদ্দিনের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য সারোয়ার, আলী আহসান জুনায়েদ প্রমুখ।

  • বিরোধী দল শেখ হাসিনার ভাষায় কথা বলছে: মির্জা ফখরুল

    বিরোধী দল শেখ হাসিনার ভাষায় কথা বলছে: মির্জা ফখরুল

    বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এখন যে ভাষায় বিরোধীদলীয় নেতারা কথা বলছেন, ‘৫ বছর ক্ষমতায় থাকতে দেব না।’ ঠিক এমনই কথা বলতেন শেখ হাসিনা।

    সোমবার (৩ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবে আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

    স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগ বলেছিল, সরকারকে একটি মুহূর্তের জন্য শান্তিতে থাকতে দেব না। ঠিক সেই একই ভাষায় কথা বলতে শুরু করেছে বর্তমান বিরোধীদলের নেতারা।

    মির্জা ফখরুল আরও বলেন, বিএনপি জুলাই সনদের বাস্তবায়ন চায় না, এমনটা বলে ভুল বোঝানো হচ্ছে। গণভোটের একটি প্রশ্ন ঐকমত্য কমিশন চাপিয়ে দিয়েছে। জাতির সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। বিএনপি যেখানে একমত নয়, সেটা বলেছে। স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের প্রতিটি অংশ পালন করবে বিএনপি।

    স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, রাজপথে বিরোধীদলের নেতারা যে ভাষায় কথা বলছেন, সেটা ঠিক নয়। রাজপথে আন্দোলন তাদের অধিকার। কিন্তু, সেটা যেন সংঘাতের দিকে না যায়।

    তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রতিনিয়ত জনগণের কল্যাণে কাজ করছেন। এ অবস্থায় সরকারকে সহযোগিতা করার পরিবর্তে শুধু নেতিবাচক প্রচারণা চালালে দেশের অগ্রযাত্রা ব্যাহত হবে। দেশের স্বার্থে সংঘাত নয়, সহনশীলতা ও ঐক্যের সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন।

    গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রসঙ্গ তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান সরকার সংবাদমাধ্যমের ওপর কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করছে না। পাশাপাশি বেকার সাংবাদিকদের কর্মসংস্থানের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবেন বলেও জানান তিনি।

  • সেক্যুলার দল করলে ‘কওমিত্ব’ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, জামায়াত করলে কেন হবে, প্রশ্ন উসামার

    সেক্যুলার দল করলে ‘কওমিত্ব’ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, জামায়াত করলে কেন হবে, প্রশ্ন উসামার

    ইসলামিক স্কলার ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রুকন মুফতি আলী হাসান উসামা বলেছেন, ‘জামায়াতের আকিদা খারাপ বলে যে দাবি করা হয়, তা নির্জলা মিথ্যাচার। জামায়াত একটা রাজনৈতিক দল। দেওবন্দি, মাদানি, আজহারিসহ বহু শিক্ষাধারার লোক এতে রয়েছে। হানাফি, লা মাজহাবি, সুন্নি, তাবলিগিসহ বহু মাসলাকের লোক এর সঙ্গে সম্পৃক্ত। এমনকি কৃষ্ণ নন্দিও জামায়াতের এমপি প্রার্থী হয়েছেন। সুতরাং কোনো সুনির্দিষ্ট আকিদাকে জামায়াতের সব নেতাকর্মীর আকিদা বলে চালিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।’

    আমার দেশ অনলাইনে ‘কওমি শিক্ষার্থীদের জামায়াতে যোগদানে উদ্বিগ্ন হেফাজত’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদন প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন।

    রোববার আমার দেশকে মুফতি উসামা বলেন, ‘আকিদা যার যার, দ্বীন কায়েমের রাজনীতি সবার। জামায়াত কখনো বলে না, আমরা মওদুদির আকিদা পোষণ করি। জামায়াতের গঠনতন্ত্রেই আছে, কুরআন ও সহিহ হাদিসে নির্দেশিত আকিদাই হবে জামায়াতের আকিদা। এরপরও জামায়াতের বিরোধিতা মূলত আদর্শিক নয়; বরং রাজনৈতিক। তারা এসব অপপ্রচারের মাধ্যমে সেক্যুলারদের থেকে বিভিন্ন সুবিধা লাভ করে।’

    তিনি বলেন, ‘কওমি একটি শিক্ষাধারা; কোনো সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নাম ‘কওমি’ নয়। কওমিতে পড়াশোনা করে যে কেউ যেকোনো রাজনৈতিক দল করতে পারেন। এ জন্য কওমি আকাবির আল্লামা আতাহার আলী খানসহ অনেকে বিএনপি করেছেন এবং ধানের শীষ নিয়ে এমপিও হয়েছেন। জাতীয় মসজিদের সাবেক খতিব, কওমি বোর্ড আল-হাইয়াতুল উলয়ার শীর্ষ নেতা এবং গওহরডাঙ্গা মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা রুহুল আমিন আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন এবং ড. আবু রেজা নদবি এমপিও হয়েছিলেন।’

    মুফতি উসামা বলেন, ‘সেক্যুলারিজম সুস্পষ্ট কুফর। এরপরও সেক্যুলার দল করলে যদি ‘কওমিত্ব’ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তাহলে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ইসলামি রাজনৈতিক সংগঠন জামায়াত করলে কেন ‘কওমিত্ব’ যাবে?’

    উসামা আরো বলেন, ‘দেওবান্দিয়াত কোনো দলের নাম নয়। তাওহিদ, সুন্নাহ ও ইলায়ে কালিমাতুল্লাহর নাম দেওবান্দিয়াত। আমি দেওবন্দি ছিলাম, আছি এবং চিরকাল থাকব ইনশাআল্লাহ। আমি একাধিক কওমি মাদরাসার শিক্ষক ও পরিচালক ছিলাম। সহিহ বুখারি, তিরমিজি, মিশকাত, ফাতাওয়া শামি-সহ বহু গ্রন্থের দারস দান করেছি। আগামীতেও কওমি মাদরাসার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার নিয়ত রয়েছে। যার কারণে কেউ জোর করে কওমি থেকে খারেজ করে দেওয়ার সুযোগ নেই। এই ঠিকাদারিও কাউকে দেওয়া হয়নি। যারা কওমির নাম বেচে ঠিকাদার সেজে বিএনপিকে বাংলাদেশের কংগ্রেস ভেবে পদলেহন করে এবং এর মাধ্যমে পার্থিব স্বার্থ অর্জনের ধান্ধা করে, বর্তমান সচেতন তরুণ প্রজন্ম তাদের লাল কার্ড দেখাবে।’

    আমার দেশের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘কওমি ঘরানার কয়েকজন সুপরিচিত আলেম এরই মধ্যে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন। শোনা যাচ্ছে, একই পথে হাঁটছেন বিভিন্ন কওমি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনেক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী। এমন পরিস্থিতিতে গত ১৬ জুলাই চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি জামেয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদরাসায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরীর আহ্বানে কওমি ঘরানার সাতটি ইসলামি দলের নেতাদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।’

    ‘বৈঠকে শিক্ষার্থীদের জামায়াতে যোগদানের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে স্বীকার করে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমির ও খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী বলেন, আমাদের বৈঠকের এজেন্ডায় এটা ছিল না। কিন্তু প্রসঙ্গক্রমে আলোচনা হয়েছে। জামায়াতের সাথে আমাদের আলেমদের জোট থাকায় শিক্ষার্থীরা সেই দলের প্রতি ঝুঁকে পড়ছেন। এ জন্যই হেফাজতের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। কেননা অনেক আলেম এখনো জামায়াতে ইসলামীকে হকপন্থিদের ইসলামী দল মনে করেন না।’

    ‘তিনি আরো বলেন, কওমি তরুণদের একটা অংশ বিএনপির দিকেও ঝুঁকে পড়ছেন। সেই দলে যোগও দিচ্ছেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, সেই বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। এই বিষয়ে অবশ্যই আলোচনার দাবি রাখে।’

  • জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি; গাংনীতে জামায়াতের মিছিল ও সমাবেশ

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি; গাংনীতে জামায়াতের মিছিল ও সমাবেশ

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে গণহত্যার বিচার, জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং শহীদদের স্মরণে মেহেরপুরের গাংনীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

    শনিবার (১ আগস্ট) বাদ আসর গাংনী মডেল প্রাইমারি স্কুল প্রাঙ্গণ থেকে মিছিলটি শুরু হয়। পরে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে গাংনী বাসস্ট্যান্ড চত্বরে গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হয়।

    সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন গাংনী উপজেলা জামায়াতের আমির ও গাংনী পৌরসভার জামায়াত মনোনীত মেয়র প্রার্থী মোঃ রবিউল ইসলাম।

    এসময় বক্তব্য রাখেন জেলা শূরা সদস্য মাওলানা আব্দুল মজিদ, মাওলানা আব্দুর রহমান, পৌর জামায়াতের আমির মোঃ আহসানুল হক, পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি ওয়াস কুরুনী জামিল এবং বায়তুল মাল সম্পাদক জিল্লুর রহমান।

    বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং আহতদের প্রতি সমবেদনা জানান। তারা গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচারের দাবি জানান। পাশাপাশি জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা পূরণের আহ্বান জানান।

    কর্মসূচিতে উপজেলা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন জামায়াতের আমির, সেক্রেটারিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। মিছিল ও সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়।

  • স্বৈরাচারের প্রেতাত্মারা সুযোগ পেলে দেশকে তছনছ করবে: কৃষিমন্ত্রী

    স্বৈরাচারের প্রেতাত্মারা সুযোগ পেলে দেশকে তছনছ করবে: কৃষিমন্ত্রী

    কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন বলেছেন, স্বৈরাচারের প্রেতাত্মারা এখনো ঘাপটি মেরে বসে আছে। সুযোগ পেলে তারা দেশকে তছনছ করে ফেলবে। শনিবার রাতে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত ‘জুলাই স্মৃতিকথা’ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    মন্ত্রী বলেন, ‘২৪-এর গণঅভ্যুত্থান না হলে আজ আমি এখানে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারতাম কি না, জানি না। যারা তখন ক্ষমতায় ছিল, তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত ছিল না। তারা জনগণের সঙ্গে প্রহসনের নির্বাচন করেছে। ফ্যাসিস্টদের অনুসারীরা এখনো আমাদের আশপাশে লুকিয়ে আছে। সুযোগ পেলেই তারা দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হবে।’

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া সবার রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। আহতদের চিকিৎসার জন্য সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।’

    অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির নেতা ইউসুফ মোল্লা টিপু।

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কুমিল্লা মহানগরের আহ্বায়ক আবু রায়হানের সঞ্চালনায় এবং ফেইস দ্য পিপলের সম্পাদক সাইফুর সাগরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রোজী আক্তার, সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর মোহাম্মদ বশির, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ কে এম কামরুজ্জামানসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত ব্যক্তিরা।

  • অবদান নিয়ে বিতর্ক তুলে যারা অনৈক্য তৈরি করেছে ব্যর্থতার দায় তাদের: এবি পার্টি

    অবদান নিয়ে বিতর্ক তুলে যারা অনৈক্য তৈরি করেছে ব্যর্থতার দায় তাদের: এবি পার্টি

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র সংস্কার, রাজনৈতিক ঐক্য এবং অর্জন-ব্যর্থতার মূল্যায়ন নিয়ে ‘৩৬ জুলাইয়ের অবদান বিতর্ক ও ব্যর্থতার দায় পর্যালোচনা’ শীর্ষক এক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    রোববার (২ আগস্ট) রাজধানীর সেগুনবাগিচাস্থ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ সংলাপের আয়োজন করে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি।

    সভায় সভাপতির বক্তব্যে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পার হলেও অর্জনের চেয়ে ব্যর্থতার আলোচনা বেশি হচ্ছে। শেখ হাসিনার পলায়নের পর অবদান নিয়ে বিতর্ক তুলে যারা জাতীয় অনৈক্য সৃষ্টি করেছে, ব্যর্থতার সিংহভাগ দায় তাদেরই নিতে হবে।

    তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর দুটি সরকার দায়িত্ব পালন করেছে, প্রথমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং পরে বিএনপি সরকার। রাষ্ট্র সংস্কার ও মানুষের জীবনযাত্রায় দৃশ্যমান পরিবর্তন না এলে উভয় সরকারকেই ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। বিএনপি সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হলে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম ছয় মাসের সঙ্গে তুলনামূলক মূল্যায়ন করে এবি পার্টি আরেকটি সংলাপের আয়োজন করবে। তখন দেশের অর্থনীতি, দ্রব্যমূল্য, আইন-শৃঙ্খলা ও জনজীবনের বাস্তব চিত্র পরিসংখ্যানসহ জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে।

    তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় শত শত আন্দোলন হলেও বর্তমান সরকারের গত পাঁচ মাসে দাবি-দাওয়া নিয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো আন্দোলন হয়নি। শক্তি প্রয়োগ করে সমালোচনার কণ্ঠরোধের চেষ্টাকে খুবই দুঃখজনক আখ্যা দিয়ে তা সরকারের জন্য হিতে বিপরীত হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।