রাজনীতি

  • ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেন, আমরা তার ছাত্র হওয়ার জন্য আসিনি’

    ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেন, আমরা তার ছাত্র হওয়ার জন্য আসিনি’

    সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে কথা বলা এবং নিজেকে শিক্ষক মনে করার মানসিকতার তীব্র সমালোচনা করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘সংসদে তিনি শিক্ষকের ভূমিকা পালন করবেন—এমন দুঃসাহস তিনি দেখিয়েছেন। আমরা তার ছাত্র হওয়ার জন্য এখানে আসি নাই।’

    বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ অভিযোগ করেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি সম্মান রেখে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তিনি আজ নতুন করে এসব শব্দ উচ্চারণ করেননি; বরং সংসদ অধিবেশন যেদিন থেকে বসা শুরু হয়েছে, সেদিন থেকেই তিনি সবাইকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে কথা বলে আসছেন। তিনি নিজেকে কী মনে করেন, তা বোধগম্য নয় বলে মন্তব্য করেন বিরোধীদলীয় নেতা।

  • মক্কা প্যাক্টে যোগদান বাংলাদেশের একান্ত নিজস্ব বিষয়:ডা. শফিকুর রহমান

    মক্কা প্যাক্টে যোগদান বাংলাদেশের একান্ত নিজস্ব বিষয়:ডা. শফিকুর রহমান

    জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘মক্কা প্যাক্টে যোগদান বাংলাদেশের একান্ত নিজস্ব বিষয়। দেশ ও জাতির প্রয়োজন এবং স্বার্থে বাংলাদেশ কোনো সিদ্ধান্ত নিলে তাতে অন্য কারও শ্বাসকষ্টে ভোগার প্রয়োজন নেই।’

    বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ফেসবুক পেইজে দেয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।

    সম্প্রতি সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশ যোগ দিতে পারে—এমন আলোচনা চলছে। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে পক্ষে-বিপক্ষে নাো মত প্রকাশ করা হচ্ছে।

    গত ৭ আগস্ট মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে এই যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই হয়। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটি দেশ সামরিক হামলার শিকার হলে সেটিকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

  • বিদিশাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

    বিদিশাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

    রাজধানীর গুলশান থানার প্রতারণা মামলায় সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিকের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

    বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকালে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালত এ আদেশ দেন।

    রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ গোলাম মুর্তুজা ইবনে ইসলাম এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    আসামি বিদিশার পক্ষে আতিকুর রহমান জামিন চান। রাষ্ট্রপক্ষে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর সৈয়দ গোলাম মর্তুজা ইবনে ইসলাম জামিনের বিরোধিতা করে জেলহাজতে পাঠানোর আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

    এর আগে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাত সাড়ে আটটার দিকে গুলশানের অ্যারাবিকা রেস্টুরেন্ট থেকে বিদিশাকে গ্রেফতার করা হয়।

    ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে গুলশান থানায় একটি প্রতারণা মামলা হয়। মামলার বিচার শেষে বিদিশা সিদ্দিকের দুই বছরের সাজা হয়। এ মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল।

    ফ্ল্যাট বিক্রি নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে এক মামলায় গত ২০ মে বিদিশা সিদ্দিককে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম ওই রায় ঘোষণা করেন। কারাদণ্ডের পাশাপাশি বিদিশাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

    বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রি করা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ এনে ২০০৮ সালে গুলশান থানায় এই মামলা করেছিলেন মোশাররফ হোসেন সিকদার নামের এক ব্যবসায়ী।

    মামলার অভিযোগে বলা হয়, মোশাররফ হোসেনের বারিধারায় একটি ফ্ল্যাট কেনার প্রয়োজন ছিল। লোকজনের কাছ থেকে তথ্য পেয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী বিদিশা ২০০১ সালের ১ জুলাই মোশাররফকে প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট দেখান এবং বিক্রির প্রস্তাব দেন। পরে ফ্ল্যাট বিক্রির জন্য ‘৮০ লাখ টাকায় চুক্তি’ হয়। ১০ জুলাই মোশাররফ হোসেনকে বনানীর রজনীগন্ধা অফিসে ডেকে নেন বিদিশা। তার মনোনীত ব্যক্তি ও বন্ধু আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দিতে বলেন। বাদী স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখার মাধ্যমে ওই টাকা পরিশোধ করেন। পরে উভয়ের মধ্যে বায়নানামা সম্পাদিত হয়।

    সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী বিদিশা। এরশাদের সঙ্গে তার বিবাহবিচ্ছেদও হয়েছিল। তাদের সংসারে এক ছেলে রয়েছে।

  • দলের নাম ভাঙিয়ে দখল-চাঁদাবাজি করলে কঠোর ব্যবস্থা: রিজভী

    দলের নাম ভাঙিয়ে দখল-চাঁদাবাজি করলে কঠোর ব্যবস্থা: রিজভী

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেন, দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ চাঁদাবাজি বা দখলদারিত্বে জড়িত হলে তাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে বিএনপি।

    সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সঙ্গে সঙ্গে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তিনি।

    বুধবার (২৬ আগস্ট) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।

    চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে রুহুল কবির রিজভী সুস্পষ্টভাবে বলেন, দলের নাম ব্যবহার করে কেউ যদি চাঁদাবাজি বা দখলদারিত্বের সঙ্গে জড়িত হয় এবং তদন্তে যদি সেই অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ হয়, তবে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    বিএনপি সব সময় জনগণের সঙ্গে সমতার পরিচয় দিয়েছে এবং অঙ্গীকার রক্ষার পরিচয় দিয়েছে। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো সরকার অত্যন্ত সততার সঙ্গে বাস্তবায়ন করছে।

    সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের মূল্যায়নে বিরোধী দলের আনা ব্যর্থতার অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, এটি বিরোধী দলের একটি ঢালাও মন্তব্য।

    বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান সরকারের কাজের ডাটা প্রসেস করে ইতিবাচক প্রতিবেদন দিচ্ছে।

    এছাড়া বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল কবে হবে-সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে রিজভী জানান, কাউন্সিলের বিষয়টি নিয়ে দলের নীতি-নির্ধারণী ফোরামে আলোচনা চলছে। তবে দিন, তারিখ ও মাস এখনও চূড়ান্ত হয়নি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হবে।

    এ সময় সম্প্রতি রংপুরে একই পরিবারের ৪ জনকে হত্যার ঘটনায় অপরাধীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করায় সরকারকে ধন্যবাদ জানান রিজভী। সামগ্রিক পরিস্থিতি খারাপ না হলেও এখান থেকে উত্তরণ প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির এ নেতা।

    সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির কেন্দ্রীয় ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • খলিল-হুমায়ুনের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক, কী আলোচনা হলো

    খলিল-হুমায়ুনের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক, কী আলোচনা হলো

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।

    মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

    দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আলোচনার অংশ হিসেবেই এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। উভয়পক্ষ সম্প্রতি দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেছে বলে জানা গেছে।

    তবে বৈঠকের বিষয়ে কোনো পক্ষ থেকেই তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

    কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে— আলোচনায় পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, সামগ্রিক বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক, আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যতে সহযোগিতার সম্ভাবনার মতো বিষয়গুলো স্থান পেয়ে থাকতে পারে। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতৃত্বের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও আলোচনা বজায় রেখেছেন।

  • ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম

    ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম

    দুই দিনের সফরে ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আগামী ৩০ আগস্ট ঠাকুরগাঁওয়ে যাবেন তিনি এবং সফর শেষে ৩১ আগস্ট ঢাকায় ফিরবেন। রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক, আবাসন ও যানবাহনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এ বিষয়ে সোমবার (২৪ আগস্ট) বঙ্গভবনের প্রটোকল শাখা থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আগামী ৩০ ও ৩১ আগস্ট ঠাকুরগাঁও জেলা সফর করবেন। সফর শেষে ৩১ আগস্ট তিনি ঢাকায় প্রত্যাবর্তন করবেন।

    রাষ্ট্রপতি ও তার সফরসঙ্গীদের গমনাগমনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা, আবাসন এবং যানবাহনের ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে। সফরের বিস্তারিত সূচি এবং সফরসঙ্গীদের অনুমোদিত তালিকা পরবর্তী সময়ে পাঠানো হবে বলেও চিঠিতে জানানো হয়েছে।

    এর আগে গত ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে জয়ী হন। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হন।

    নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।

    পরদিন শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের ঐতিহাসিক দরবার হলে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শপথ অনুষ্ঠানের পর এটিই তার প্রথম জেলা সফরগুলোর একটি হিসেবে ঠাকুরগাঁও সফর হতে যাচ্ছে।

  • বিনা বিচারে দীর্ঘদিন আটকে না রাখার আহ্বান হিউম্যান রাইটস ওয়াচের

    বিনা বিচারে দীর্ঘদিন আটকে না রাখার আহ্বান হিউম্যান রাইটস ওয়াচের

    বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষকে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজনীতিক ও অন্যদের দীর্ঘদিন ধরে বিনা বিচারে আটকে রাখার নিন্দা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। এই চর্চা বন্ধে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

    গতকাল রোববার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, ২০২৪ সালের আগস্টে কয়েক সপ্তাহের বিক্ষোভে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হওয়ার পর পুলিশ আওয়ামী লীগের হাজারো নেতা-কর্মী ও সমর্থককে আটক করে। তাঁদের মধ্যে কয়েক শ ব্যক্তি এখনো কোনো অপরাধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত না হয়েই জেলহাজতে।

    এইচআরডব্লিউ বলেছে, শেখ হাসিনা সরকারের গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে কিছু কর্মকর্তা জড়িত থাকতে পারেন। তবে অনেককেই কোনো দৃশ্যমান প্রমাণ ছাড়াই বিক্ষোভকারীদের হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের পরিবার ও আইনজীবীরা অভিযোগ করেছে, তাঁদের অনেকেই বয়স্ক এবং কেউ কেউ গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। এরপরও তাঁদের জামিন ও চিকিৎসাসহ মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।

    ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের অন্তত ১০ জন পদধারী ব্যক্তি কারাগারে মারা গেছেন। তাঁদের অধিকাংশের বিরুদ্ধেই কোনো অপরাধের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়নি।

    হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক এলেইন পিয়ারসন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সেই সংস্কারের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে তাঁর উচিত রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের দীর্ঘস্থায়ী ও নির্বিচার আটক বন্ধ করা।

    সরকারের নতুন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিলটি বর্তমান রূপে পাস হলে নতুন কমিশনকে নির্বিচার গ্রেপ্তারের অভিযোগ তদন্ত থেকে বিরত রাখবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে এইচআরডব্লিউ।

    এইচআরডব্লিউ বলেছে, যেসব মামলায় কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি, সেসব মামলায়ও রাষ্ট্রপক্ষ বারবার জামিনের বিরোধিতা করছে। নিম্ন আদালত ও জেলা আদালতগুলো নিয়মিত জামিন প্রত্যাখ্যান করছেন। এমনকি হাইকোর্ট জামিন দিলেও সরকারি কর্তৃপক্ষ নতুন মামলা দিয়ে সেই জামিন কার্যকর হওয়া ঠেকিয়ে দিচ্ছে।

    বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার করে থাকেন। এই ট্রাইব্যুনালের বিধান অনুযায়ী, অভিযোগ গঠন ছাড়াই এক বছরের বেশি সময় আটক রাখা কেবল লিখিতভাবে নির্ধারিত ‘বিশেষ পরিস্থিতিতে’ সম্ভব, কিন্তু ট্রাইব্যুনাল এখন পর্যন্ত যে ১৬০ জনের বেশি মানুষকে আটক করেছে, তাঁদের কাউকেই জামিন দেননি। জামিন প্রত্যাখ্যানের বিরুদ্ধে তাঁদের আপিল করার অধিকারও নেই।

    হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন কিছু ক্ষেত্রে বিচার শুরুর আগে আটক রাখা অথবা শর্ত সাপেক্ষে মুক্তির অনুমতি দেয়। তবে বিনা বিচারে আটক হওয়া উচিত ব্যতিক্রম, নিয়ম নয়। প্রত্যেক ব্যক্তির ক্ষেত্রে আলাদাভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

    প্রত্যেক আটক ব্যক্তির আটকাদেশের বৈধতা ও প্রয়োজনীয়তা পর্যালোচনার জন্য একজন বিচারক বা সমপর্যায়ের কর্তৃপক্ষের সামনে হাজির করার অধিকার থাকা উচিত। আটক ব্যক্তির দ্রুত বিচারের অধিকার রয়েছে অথবা তাঁকে মুক্তি দিতে হবে।

    এ ছাড়া বিচার শুরুর আগে আরোপ করা যেকোনো বিধিনিষেধ ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার, নির্দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার নীতি ও আইনের দৃষ্টিতে সমতার অধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।

    এলেইন পিয়ারসন বলেন, বাংলাদেশ সরকারের উচিত কারাগারে ঘটে যাওয়া সব মৃত্যুর বিষয়ে স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ দেওয়া এবং অভিযোগ ছাড়াই মানুষকে দীর্ঘ দিন ধরে নির্বিচারে আটক রাখা বন্ধ করা।

  • বিএনপির নাম ভাঙিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ড করলে ছাড় দেয়া হবে না: রিজভী

    বিএনপির নাম ভাঙিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ড করলে ছাড় দেয়া হবে না: রিজভী

    বিএনপির নাম ভাঙিয়ে কোনো ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড করলে ছাড় দেয়া হবে না বলে নেতা কর্মীদের সতর্ক করেছেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সোমবার রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে জিয়া উদ্যানে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ কথা বলেন। ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দলের নেতা কর্মীদের নিয়ে তিনি সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান।

    নেতাকর্মীদের উদ্দেশে রুহুল কবির রিজভী বলেন, দলের মধ্যে হয়তো দুই-একজন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে থাকতে পারেন, তাদেরকে বলবো, ৫ই আগস্টের পর থেকে দেখেছেন- যারা দলের নাম ভাঙিয়ে অপকর্মে যুক্ত ছিলেন- আমাদের চেয়ারম্যান কত শক্ত হাতে তাদের বিরুদ্ধে শক্ত পদক্ষেপ নিয়েছেন। সুতরাং কেউ অনৈতিক কাজ করবেন না, গঠনমূলক কাজে থাকবেন এবং দলকে শক্তিশালী করবেন। যাতে নেতাকর্মীরা জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতে পারে, সেই চেষ্টাই আপনারা করবেন।

    তিনি বলেন, আমাদের যে কর্তব্য হবে, সেটি দলকে সুশৃঙ্খল এবং সমন্বিতভাবে পরিচালনা করা। দলের চেয়ারম্যান নির্দেশিত যে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চলমান আছে, সেই সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড যাতে সুসম্পন্ন করা যায়, সংগঠিত করা যায় এবং সুন্দরভাবে এই প্রক্রিয়া নিষ্পন্ন করা যায়, সেই দিকেই আমি নিয়ে যেতে চেষ্টা করব, নিয়ে যাবো।

    রিজভী বলেন, আজকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জনগণের সমর্থন নিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতার পরিচালকের আসনে বসেছে। সরকার গঠন করেছেন তারেক রহমানের নেতৃত্বে। তার যে ঘোষিত কর্মসূচি—প্রত্যেকটি কর্মসূচি জনগণের স্বার্থে, মানব কল্যাণে এবং সামাজিক সুরক্ষাসহ অবকাঠামোগত যে উন্নয়নে তিনি পদক্ষেপ নিয়েছেন, সেই পদক্ষেপ যাতে সুচারুভাবে পরিচালিত হয়, সেই বিষয়টি এবং জনকল্যাণে তার একটার পর একটা যে পদক্ষেপ, সেই পদক্ষেপগুলো জনগণকে অবহিত করবেন এবং জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকবেন।

    তিনি আরও বলেন, নেতাকর্মী যদি জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকেন, তাহলে কেউ যদি অনৈতিক চিন্তা করে, তারা তা করতে পারবে না। কারণ আমাদের প্রত্যেকটি কাজ, প্রত্যেকটি কর্মকাণ্ড, সরকারের প্রত্যেকটি কর্মসূচি যেটি বাস্তবায়ন হচ্ছে, প্রত্যেকটির ব্যাপারে আমাদের প্রধানমন্ত্রী প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করেছেন।

    জনস্বার্থের বাইরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল কোনো কাজ করবে না উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, বিএনপি একটি জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল হিসেবে আজকে জনগণের কাছে জনপ্রিয় কেন? কারণ এর প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, তারা যে জনকল্যাণে কাজ করেছেন, তারা নারীর ক্ষমতায়ন এবং দেশের আর্থিক উন্নতির জন্য যে কাজগুলো করেছেন, সেই কাজগুলোই আজকে জনগণের কাছে বিএনপির জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি করেছে। এখন তাদের সুযোগ্য জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান সেই ধারাবাহিক কাজ এবং তার নতুন এমন কিছু কর্মসূচি, যেটি জনগণের মাঝে অত্যন্ত জনপ্রিয়তা লাভ করেছে, সেগুলো তিনি বাস্তবায়ন করছেন।

    আমাদের দলের নেতাকর্মীরা সেই বাস্তবায়নকে সহযোগিতা করব, জনগণের কাছে তুলে ধরব এবং এর মাধ্যমেই জনগণের কাছে দলের জনপ্রিয়তা আরো বৃদ্ধি পাবে।
    স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে আমাদের দলের নেতৃবৃন্দ যারা আছেন, ইউনিয়ন, উপজেলার বা জেলার নেতারা-তারা সবকিছু যাচাই-বাছাই করে ইউপি নির্বাচনে যিনি যোগ্য প্রার্থী তাকে সমর্থন দেবেন। কারণ দলীয় প্রতীকে এখন তো নির্বাচন হবে না। একজন দলীয় সমর্থিত ব্যক্তি অবশ্যই নির্বাচিত হবে।

    রিজভী বলেন, আজকে এত অপপ্রচার, চক্রান্ত এবং ষড়যন্ত্র হচ্ছে তারপরেও জরিপে দেখা গেছে বিএনপির জনপ্রিয়তা অনেক বেশি। প্রায় ৫৪, ৫৫ বা ৫৬ শতাংশ। আর ব্যক্তিগতভাবে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রিয়তা আরও বেশি ৬৫-৬৬ শতাংশ। সুতরাং জনগণের পক্ষে এবং স্বার্থে কাজ করলে, সেই সরকার কোনোদিনই ব্যর্থ হবে না, সেই সরকার জনগণের সমাদৃত সরকার হিসেবে নিয়োজিত থাকবে।

    এসময় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, আব্দুস সালাম আজাদ, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবসহ বিএনপিসহ এর অঙ্গ-সহযোগি সংগঠনে নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

  • তারেক রহমানের কোনো পরিকল্পনা নেই, ৬ মাসে সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ: নাহিদ ইসলাম

    তারেক রহমানের কোনো পরিকল্পনা নেই, ৬ মাসে সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ: নাহিদ ইসলাম

    তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাসকে ‘সম্পূর্ণ ব্যর্থ’ দাবি করে সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ—অগ্রাধিকার দেওয়া তিনটি ক্ষেত্রেই সরকার নিদারুণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। তার দাবি, ১৮০ দিনে প্রমাণ হয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেশ পরিচালনার কোনো পরিকল্পনা নেই।

    সোমবার (২৪ আগস্ট) ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের ১৮০ দিনের ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পলিসি ও রিসার্চ বিষয়ক উপ-কমিটি সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন তিনি।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘অব্যবস্থাপনা, অদক্ষতা এবং পরিকল্পনাহীনতা থেকেই সরকার ফ্যাসিবাদী স্বৈরতান্ত্রিক কাঠামোতেই ফেরত যাচ্ছে। ১৮০ দিনে এটাই প্রমাণিত হয়েছে যে তারেক রহমানের দেশ পরিচালনার কোনো ধরনের পরিকল্পনা নেই।’

    সরকারের প্রথম ছয় মাসের কার্যক্রম মূল্যায়ন করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সরকার ১৮০ দিনে জ্বালানি সংকট, দ্রব্যমূল্য ও আইন শৃঙ্খলার অবনতিসহ ২৯টি জায়গায় অব্যবস্থাপনা এবং ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘সরকার ১৮০ দিনের জন্য একটা পরিকল্পনা নির্ধারণ করেছিল। যেখানে তারা তিনটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়েছিল। একটি হচ্ছে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন ও বিদ্যুৎ জ্বালানি সরবারহ। আমরা দেখতে পারলাম, এই ছয় মাসে যে তিনটি বিষয়কে যারা তারা অগ্রাধিকার দিয়েছিল, এই তিনটি বিষয়েই তারা নিদারুণভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।’

    সরকার ক্ষমতায় বসে পুরোনো পরিকল্পনা ও নীতির পথেই দেশ পরিচালনা করছে অভিযোগ তুলে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘অপরিকল্পনা, দুর্নীতি এবং অব্যবস্থা করার কারণে আপনারা দেখছেন, ছয় মাসের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদের পুনর্গঠন করা লাগছে এবং সরকার বলেছিল তাদের পরিকল্পনা রয়েছে প্ল্যান রয়েছে। এখন সরকার দুই দিনের কাছে প্ল্যান চাচ্ছে মন্ত্রী তারা পরিবর্তন করছে প্রতিমন্ত্রী তারা পরিবর্তন করছে। আমরা জানিনা কখন পরিবর্তন করতে করতে প্রধানমন্ত্রীকে পরিবর্তন করার প্রয়োজন দেখা দেবে।’

    অন্তর্বর্তী সরকার কিন্তু তিন মাসের সময় দেয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তাদের দুঃখ প্রকাশ করা উচিত ছিল। ক্ষমা প্রার্থনা করা যে, গ্যাসের সংকটে সারাদেশে মানুষ ভুগছে সে প্রকার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এবং তারা যে তারা বলেছিল যে যে কনফিডেন্স আত্মবিশ্বাস তারা দেখেছিল যে তারা একটা অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা আনবে এবং প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা পরিবেশ করবে। কোন কিছু কিন্তু তারা পারেনি।’

    সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রম মূল্যায়নের জন্য ছয় মাস যথেষ্ট কি না—এমন প্রশ্ন উঠতে পারে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘ছয় মাস অতিবাহিত হলে কিন্তু এই সরকার আর বলতে পারবে না অন্তর্বর্তী সরকারের দায় বা ফ্যাসিবাদী সরকারের দায়। এটা কিন্তু জনগণের কাছে কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না।’

    তিনি বলেন, সরকার যদি সংকটগুলা সুরাহা না করে পুরনো রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তনের চেষ্টা থেকে সরে না আসে, তাহলে তারা ব্যাপক আন্দোলনের মুখে তারা পড়বে।

    নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘আরও ছয় মাস অতিবাহিত হলে এই সরকার আর বলতে পারবে না যে এটি অন্তর্বর্তী সরকারের দায় বা আগের সরকারের দায়। জনগণের কাছে এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না।’

    এনসিপির পক্ষ থেকে সরকারের প্রথম ছয় মাসের কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক জনগণের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে জানিয়ে দলটির আহ্বায়ক বলেন, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকট, ওষুধনীতি, সার, মানবাধিকার, ভূমি কমিশন আইনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছে দলটি।

  • আমাদের কাজী নজরুল তারেক রহমান: চিফ হুইপ

    আমাদের কাজী নজরুল তারেক রহমান: চিফ হুইপ

    জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন অন্যায়, অবিচার ও শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের কবি। তিনি একইসঙ্গে প্রেম, মানবতা, ধর্ম ও দ্রোহের কবি। নজরুল যুগে যুগে জন্ম নেন না; তার সৃষ্টিকর্মের মধ্য দিয়ে তিনি আমাদের মাঝে বেঁচে আছেন। আজকের বাংলাদেশে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে যে নেতৃত্ব প্রয়োজন, সেই নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারেক রহমান। আমাদের নজরুল তারেক রহমান।

    সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের আকরাম খাঁ হলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের উদ্যোগে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য মুহাম্মদ আব্দুল মালিক এবং প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন।

    নূরুল ইসলাম মনি বলেন, দেশের মানুষ দীর্ঘদিন অন্যায়, নির্যাতন, নিপীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছে। আয়নাঘর, গুম, জেল-জুলুম ও নির্যাতনের মতো ঘটনা মানুষের মনে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে। এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তারেক রহমান নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং কঠিন সময়েও মানুষের পাশে থেকেছেন।

    তিনি বলেন, নজরুল যুগে যুগে জন্ম নেন না। আমাদের যে নজরুলকে আমরা পেয়েছি, তাকে অবহেলা করলে আর ফিরে পাওয়া যাবে না। একইভাবে দেশের মানুষের কল্যাণে তারেক রহমান যে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তা উপলব্ধি করে তার পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন।

    চিফ হুইপ বলেন, কাজী নজরুল ইসলামের বিচরণ ছিল সমাজ ও রাষ্ট্রের নানা অসঙ্গতি, অন্যায়, অবিচার, ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও মানুষের অধিকার নিয়ে। তিনি মানুষের কথা বলেছেন, নিপীড়িত মানুষের কথা বলেছেন। তাই বাঙালি জাতি ও বাংলাদেশ নজরুলের কাছে চিরঋণী।

    তিনি বলেন, নজরুল শুধু একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের কবি নন; তিনি সকল মানুষের কবি। তার লেখায় যেমন দ্রোহ রয়েছে, তেমনি রয়েছে প্রেম, মানবতা ও মানুষের মৌলিক অধিকারের কথা। জীবদ্দশায় নজরুলকে যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। তাই শুধু মৃত্যুবার্ষিকীতে আনুষ্ঠানিকভাবে স্মরণ নয়, তার আদর্শ ও মানবিক চেতনাকে জীবনে ধারণ করতে হবে।

    তিনি আরও বলেন, দেশের বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান রাতারাতি সম্ভব নয়। দীর্ঘদিনের সংকট কাটিয়ে একটি দেশকে এগিয়ে নিতে সময় ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। তাই জনগণকে ধৈর্য ধরতে হবে এবং দেশকে এগিয়ে নিতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

    চিফ হুইপ বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ একসময় দুর্ভিক্ষ ও সংকট থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। দেশকে এগিয়ে নিতে তার অবদান স্মরণীয়। আজকের বাংলাদেশকেও অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকট থেকে উত্তরণের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের সভাপতি হুমায়ুন কবির বেপারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক আব্দুল লতিফ মাসুম ও নাট্যকার বাবুল আহমেদ। আলোচনা সভায় সংস্কৃতি অঙ্গনের ব্যক্তিত্ব, সাংস্কৃতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।