রাজনীতি

  • আইপিইউ প্রতিনিধির কাছে আ.লীগের অভিযোগ, উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

    আইপিইউ প্রতিনিধির কাছে আ.লীগের অভিযোগ, উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ থেকে তাদের ‘মাইনাস’ বা দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

    তিন দিনের সফরে ঢাকায় আসা আইপিইউ প্রতিনিধি দল সোমবার জাতীয় সংসদ ভবন পরিদর্শন ও সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলে এ তথ্য সামনে আসে।

    জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য আকতার হোসেন যৌথ ব্রিফিংয়ে বলেন, ক্ষমতাচ্যুত দলটি আইপিইউ’কে নির্বাচন থেকে বাদ পড়ার অভিযোগ দিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে নতুন সংবিধান সংস্কার, দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ গঠন ও বিরোধী দলের মতামতকে প্রাধান্য দেওয়ার সার্বিক চিত্র আইপিইউ প্রতিনিধি দলকে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

    আইপিইউয়ের মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলের বাংলাদেশ সফরের মধ্য দিয়ে সংসদীয় কূটনীতি ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে।

    সফরকালে আইপিইউ প্রতিনিধি দল সংসদ ভবন পরিদর্শন করেন এবং স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, বিরোধীদলীয় প্রতিনিধি এবং তরুণ ও নারী সংসদ সদস্যদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে অংশ নেন।

    বৈঠক শেষে জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম।

    সংবাদ সম্মেলনে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় বৈঠকে আইপিইউ প্রতিনিধিরা এর প্রশংসা করেছেন। পাশাপাশি দেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চা ও বিরোধী দলের নানা সমস্যার সুরাহা নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।

    ব্রিফিংয়ে সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান বলেন, দেশের চলমান সংবিধান সংশোধন, প্রধানমন্ত্রী পদে এক ব্যক্তি দুই মেয়াদের বেশি না থাকা এবং আইনসভার উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষ গঠনের নতুন প্রস্তাবনাসমূহ আইপিইউ প্রতিনিধি দলকে বিস্তারিতভাবে জানানো হয়েছে।

    এদিকে, সাবেক সরকারি দল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক এই সংস্থার কাছে অভিযোগ জমা দেওয়ার বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য আকতার হোসেন ব্রিফিংয়ে আইপিইউ প্রতিনিধি দলের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে আইপিইউর কাছে সবসময় দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র বহাল থাকার মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করত। কিন্তু বর্তমানে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর তারা উল্টো অভিযোগ করে বলছে যে, আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়েই বা ‘মাইনাস’ করেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ গঠন করা হয়েছে।

    তিন দিনের সফরে ঢাকায় আসা অ্যান্ডা ফিলিপের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের প্রতিনিধি দলটি সংসদীয় কূটনীতির কৌশলগত দিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন। সফরসূচি অনুযায়ী আগামী ২ সেপ্টেম্বর অ্যান্ডা ফিলিপের ঢাকা ত্যাগ করার কথা রয়েছে।

  • বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে আইপিইউ মহাসচিবের সাক্ষাৎ

    বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে আইপিইউ মহাসচিবের সাক্ষাৎ

    জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ সফররত ইন্টারন্যাশনাল পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) মহাসচিব আন্দা ফিলিপ।

    সোমবার (৩১ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ ও আন্তরিক পরিবেশে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

    এসময় আইপিইউ-এর সেক্রেটারি জেনারেলের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সংস্থার প্রোগ্রাম অফিসার রবার্তো রডরিগুয়েজ ভ্যালেন্সিয়া এবং সিনিয়র এক্সপার্ট হেরিয়েনো-এ অ্যাংগোরো।

    সাক্ষাৎকালে তারা জাতীয় সংসদকে আরও কার্যকর করে তোলা এবং সব গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ও সংলাপের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার বিষয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করেন। বিরোধীদলীয় নেতা এ সময় সংসদীয় গণতন্ত্র শক্তিশালীকরণে বিরোধী দলের ভূমিকা এবং সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে সমতাভিত্তিক অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

    আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে সরকারি দল ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে নিয়মিত আলাপ-আলোচনা ও সংলাপ অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

    এছাড়া সংসদীয় কমিটিগুলোর কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং তরুণ সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়, যা আইপিইউ-এর অন্যতম অগ্রাধিকার।

    ইপিইউ মহাসচিব বাংলাদেশের সংসদীয় গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় সংস্থার পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। সাক্ষাৎ শেষে উভয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা ও যোগাযোগ অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    সাক্ষাৎকালে বিরোধী দলীয় নেতার সঙ্গে জাতীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন, বিরোধী দলীয় নেতার পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান এবং বিরোধী দলীয় নেতার পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর উপস্থিত ছিলেন।

    এ ছাড়াও বৈঠকে বিশেষ অতিথি হিসেবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চার আহতযোদ্ধা জসীমউদ্দিন খান, কামরুল হাসান, রিফাত হাওলাদার এবং জাকির শিকদার যোগ দেন।

  • আমাদের জন্য ঘোর অন্ধকার অপেক্ষা করছে: বিএনপির সংসদ সদস্য

    আমাদের জন্য ঘোর অন্ধকার অপেক্ষা করছে: বিএনপির সংসদ সদস্য

    আমাদের জন্য ঘোর অন্ধকার অপেক্ষা করছে বলে মন্তব্য করেছেন লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম।

    গতকাল রোববার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এমন মন্তব্য করেন। সম্প্রতি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের কারণে মানুষের ভোগান্তির প্রসঙ্গ তুলে তিনি প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

    শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, আমার স্পষ্ট মনে হচ্ছে, প্রশাসনের একটি প্রভাবশালী অংশ এই সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণ করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। এখনই যদি এই দায়িত্বজ্ঞানহীন চক্রটিকে চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয়,তবে সামনে আমাদের জন্য ঘোর অন্ধকার অপেক্ষা করছে। জনদুর্ভোগ সৃষ্টি ও চরম দায়িত্বহীনতার অপরাধে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কালবিলম্ব না করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

    গত শুক্রবার রাত থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনা থেকে নারায়ণগঞ্জের আষাড়িয়ারচর পর্যন্ত টানা ৩২ ঘণ্টা তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। দীর্ঘ যানজটে অ্যাম্বুলেন্স আটকে এক রোগীর মৃত্যু এবং সময়মতো বিমানবন্দরে পৌঁছাতে না পেরে কয়েকজন প্রবাসীর নির্ধারিত ফ্লাইট মিস করার ঘটনাও ঘটে বলে পোস্টে উল্লেখ করেন শাহাদাত হোসেন সেলিম।

    দুর্ভোগের কারণ অনুসন্ধানে জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন। কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি), হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীদের নিয়ে জুমে এ বৈঠক হয়।

    শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, তিনি হুইপের পাশে বসে পুরো বৈঠকটি পর্যবেক্ষণ করেছেন। এত বড় জনদুর্ভোগের পরও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের মধ্যে অনুশোচনা বা দায়বদ্ধতা দেখতে পাননি বলে দাবি করেন তিনি।

    তার ভাষ্য, সেতু সংস্কারকাজের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী, হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার কিংবা কুমিল্লার জেলা প্রশাসকের কাছে আগাম কোনো তথ্য ছিল না। কর্মকর্তাদের মধ্যে এমন সমন্বয়হীনতা ও জবাবদিহিতার অভাব উদ্বেগজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    শাহাদাত হোসেন সেলিমের দাবি, পরিস্থিতি দেখে হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান ক্ষোভ ও বিরক্তি প্রকাশ করেন। সেতু সংস্কারের আগে গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে সাধারণ মানুষকে অবহিত করা প্রয়োজন ছিল। সংবাদপত্র, টেলিভিশনের স্ক্রল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগাম প্রচার চালানো হলে যাত্রীরা বিকল্প পথ ব্যবহার করতে পারতেন এবং এমন দুর্ভোগ এড়ানো সম্ভব হতো বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    পরে হুইপ সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলেন। সেখানেও দায়িত্বশীলতার ইতিবাচক মনোভাব দেখা যায়নি বলে পোস্টে দাবি করেন শাহাদাত হোসেন সেলিম।

    শেষে তিনি বলেন, জনদুর্ভোগ সৃষ্টি ও চরম দায়িত্বহীনতার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

    পরে সাংবাদিকদের কাছে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেন শাহাদাত হোসেন সেলিম। তিনি বলেন, জনগণের দুর্ভোগ দেখে তিনি মর্মাহত। সড়কের কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছেন। কিন্তু তাতেও কোনো সুফল না পাওয়ায় হতাশা ও ক্ষোভ থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই পোস্ট দিয়েছেন।

    তিনি বলেন, ‘জনগণের দুর্ভোগ দেখে আমি কষ্ট পাচ্ছি। কাজটি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে দফায় দফায় কথা বলেছি। কিন্তু কোনো কিছুতেই কাজ হচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত মনের কষ্ট থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই স্ট্যাটাস দিয়েছি।’

    শাহাদাত হোসেন সেলিম বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান ছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নিজ দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দেন তিনি।

  • সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চায় যুক্তরাজ্য: সারাহ কুক

    সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চায় যুক্তরাজ্য: সারাহ কুক

    বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারিত্ব আরও এগিয়ে নিতে এবং উভয় দেশের জন্য দৃশ্যমান ও বাস্তব সুফল নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত বৃটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক।

    পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সাক্ষাতের পর রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

    সারাহ কুক বলেন, বৃটেন ও বাংলাদেশের অংশীদারিত্বের শক্তি ও ব্যপ্তি প্রতিনিয়ত আরও সুদৃঢ় ও মজবুত হচ্ছে। দুই দেশের আলোচনায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, অভিবাসনবিষয়ক সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকটে সহায়তা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুসহ নানা যৌথ অগ্রাধিকারের বিষয় উঠে এসেছে।

    বৃটিশ হাইকমিশনার বলেন, যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্ব রয়েছে। দুই দেশের জনগণের মধ্যকার গভীর সম্পর্ক, প্রাণবন্ত বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ইস্যুতে নিবিড় সহযোগিতার ওপর এ অংশীদারিত্ব গড়ে উঠেছে।

    পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করে সারাহ কুক বলেন, শক্তিশালী অংশীদারিত্বকে আরও এগিয়ে নিতে এবং উভয় দেশের জন্যই দৃশ্যমান ও বাস্তব সুফল বয়ে আনতে তিনি বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আশা করছেন।

  • মির্জা ফখরুলের চেয়ারে সালাহউদ্দিনকে বসিয়ে কী বার্তা দিল বিএনপি?

    মির্জা ফখরুলের চেয়ারে সালাহউদ্দিনকে বসিয়ে কী বার্তা দিল বিএনপি?

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাতীয় সংসদের আসন ছাড়ার পর তার জায়গায় বসেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনে নতুন আসনবিন্যাসে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের পাশের আসনটি পেয়েছেন তিনি। এতদিন ওই আসনে বসতেন মির্জা ফখরুল।

    বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে, সংসদের প্রথম সারিতে প্রধানমন্ত্রীর পাশের আসনটি শুধু বসার জায়গা নয়, রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক গুরুত্বের দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ। ফলে ফখরুলের আসনে সালাহউদ্দিন আহমদকে বসানোর বিষয়টি বিএনপির ভেতরে-বাইরে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। যদিও এটি সংসদের নিয়মিত আসনবিন্যাসের অংশ, রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকে এর মধ্যে দলটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের একটি প্রতীকী বার্তাও দেখছেন।

    এখন সালাহউদ্দিন আহমদকে সংসদের উপনেতা করা হচ্ছে কিনা, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

    তবে সালাহউদ্দিন আহমদকে সংসদের উপনেতা করার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা আসেনি। উপনেতা কে হবেন, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নতুন আসনবিন্যাসকে সরাসরি উপনেতা হওয়ার সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তবে গুরুত্বপূর্ণ এ আসনে তাকে বসানোকে ইঙ্গিতবহ মনে করছেন অনেকেই।

    এত দিন সংসদ নেতা তারেক রহমানের পাশের আসনে বসতেন বিএনপির সদ্য বিদায়ী মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার পরের চেয়ারে বসতেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এর পরে ছিল সালাহউদ্দিনের সিট।

    মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন। একই সঙ্গে তার সংসদীয় আসন ঠাকুরগাঁও-১ শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে।

    নতুন বিন্যাসে মির্জা ফখরুল ইসলামের আসনে উঠে এসেছেন সালাহউদ্দিন। তার পরের আসনে রয়েছেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এর পরের আসনে বিএনপির বর্ষীয়ান নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

    সালাহউদ্দিনের আগের আসনে এখন বসছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন। ট্রেজারি বেঞ্চের প্রথম সারির ১০টি আসনের নতুন বিন্যাসে পেছনের সারি থেকে সামনে এসেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির নতুন সদস্য আমানউল্লাহ আমান।

    সালাহউদ্দিনকে প্রধানমন্ত্রীর পাশের আসনে বসানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে তার রাজনৈতিক ও সরকারি অবস্থানের কারণেও। বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন বর্তমানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন। তা ছাড়া দলের সম্ভাব্য মহাসচিব হিসেবে তার নামও আলোচনায় রয়েছে। সরকার ও দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকা এই নেতাকে সংসদীয় কার্যক্রমে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় আনার চিন্তা আছে কিনা, সে আলোচনা জোরালো হয়েছে।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী শনিবার গণমাধ্যমকে বলেন, তিনি এ ব্যাপারে কিছু জানেন না। এটি প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতার এখতিয়ার।

    সংসদের উপনেতা পদটি সংসদ নেতার সহায়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ। সংসদ নেতার অনুপস্থিতিতে সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনায় উপনেতাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হয়। অতীতেও ক্ষমতাসীন দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের এ পদে রাখার নজির রয়েছে।

    সালাউদ্দিনকে সংসদ নেতার পাশে বসানো এটি কি কেবল নতুন আসনবিন্যাস, নাকি সংসদে তাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তুতি—সেটি স্পষ্ট হবে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত এলে।

    তবে বিএনপি অন্যান্য সব পদ পূরণ করলেও এখন উপনেতার পদটি শূন্য রেখেছে। এই পদ ঘিরে সিনিয়র নেতাদের মধ্যে এক ধরনের প্রতিযোগিতা কাজ করে।

    এই প্রতিযোগিতার কারণে একাদশ সংসদে খালেদা জিয়াও সংসদ উপনেতার পদটি শূন্য রাখেন। আবার ২০০৮ সালের পার্লামেন্টে তিনি বিরোধী দলীয় উপনেতার পদটিও শূন্য রেখেছিলেন। তখন তিন সিনিয়র নেতা উপনেতা হওয়ার প্রত্যাশায় ছিলেন। তারা হলেন—ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন ও সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী।

  • কাউকে গুম করেনি সরকার, ভবিষ্যতেও করতে দেবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    কাউকে গুম করেনি সরকার, ভবিষ্যতেও করতে দেবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    বিএনপি সরকার কাউকে গুম করেনি এবং ভবিষ্যতেও কাউকে গুম করতে দেবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, নতুন গুমবিরোধী আইনের মাধ্যমে দেশে মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব।

    রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত আন্তর্জাতিক গুম দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গুমের ঘটনায় শেখ হাসিনার কোনো অনুশোচনা নেই। বরং জুলাইয়ের ঘটনাকে ‘জঙ্গি হামলা’ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। এটিকে তিনি বিশ্বব্যাপী লজ্জাজনক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন।

    তিনি বলেন, দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষ শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগেরও বিচার নিশ্চিত করা হবে।

    নিজে গুমের শিকার হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘নিজে গুমের শিকার হওয়ার পর এই আইন দুর্বল হোক, সেটা কী চাইতে পারি?’ তিনি বলেন, বিএনপি সরকার কাউকে গুম করেনি এবং ভবিষ্যতেও কাউকে গুম করতে দেবে না।

    বিরোধী দলের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক বর্জন ও ওয়াকআউটের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওয়াকআউট কোনো সমাধান নয়। বরং সব বিষয়ে আলোচনা করা উচিত। কোনো কিছু না বলে বা না শুনে ওয়াকআউট করলে জাতি তাদের বক্তব্য থেকে বঞ্চিত হবে।

    জুলাই সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করা হবে।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আগের তুলনায় গুমবিরোধী আইন আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। এই আইনের মাধ্যমে মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব। গুমের শিকার ব্যক্তিরা মামলা করলে সরকার তাদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে বলেও জানান তিনি।

  • ১৪ বছর ধরে নিখোঁজ ইবির দুই শিক্ষার্থী, সন্ধান চেয়ে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ

    ১৪ বছর ধরে নিখোঁজ ইবির দুই শিক্ষার্থী, সন্ধান চেয়ে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ

    আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থী ওয়ালিউল্লাহ ও আল মুকাদ্দাসের সন্ধান এবং তাদের নিখোঁজের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির।

    রোববার দুপুর ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন হল ও প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রধান ফটকের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।

    মিছিল চলাকালে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা ওয়ালিউল্লাহ ও আল মুকাদ্দাসের সন্ধান দাবি করে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবর’, ‘ইসলামী ছাত্রশিবির, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’, ‘ওলি ভাই গুম কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘মুকাদ্দাস ভাই গুম কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘জাস্টিস জাস্টিস, উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘ওলি ভাইয়ের সন্ধান চাই, দিতে হবে দিতে হবে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগানও দেন আন্দোলনকারীরা।

    বিক্ষোভ মিছিলে ইবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. ইউসুফ আলী, সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. ইমরান বিশ্বাসসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।

    সমাবেশে ইবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. ইউসুফ আলী বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর প্রায় ১ হাজার ৯০০টি গুমের অভিযোগ জমা পড়ে। এর মধ্যে ১ হাজার ৫৫৯টি অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এখনো ২৫১ জনের সন্ধান না পাওয়ায় তাঁদের পরিবারগুলো উৎকণ্ঠা ও অপেক্ষার মধ্যে রয়েছে।

    তিনি বলেন, “অবিলম্বে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান নিশ্চিত করতে হবে। তাঁরা জীবিত না থাকলে অন্তত তাঁদের কবরের সন্ধান পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।”

    ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থী ওয়ালিউল্লাহ ও আল মুকাদ্দাসের প্রসঙ্গে ইউসুফ আলী বলেন, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁদের সন্ধান না পাওয়ায় শিক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবার উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। তাঁদের নিখোঁজের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

    এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, নিখোঁজের ঘটনায় অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কয়েকজন শিক্ষক-কর্মকর্তা এখনো দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে তৎকালীন ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তির প্রকাশ্যে চলাফেরার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

    তদন্ত কমিটির কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তুলে ছাত্রশিবির সভাপতি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কমিটির অগ্রগতি ও স্পষ্ট প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি জানান। অন্যথায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জবাবদিহির আওতায় আনার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

    তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অতীতের ব্যর্থতা কাটিয়ে নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থী ওয়ালিউল্লাহ ও আল মুকাদ্দাসের সন্ধানে কার্যকর উদ্যোগ নেবে এবং তাঁদের নিখোঁজের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে—এটাই শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা।

    উল্লেখ্য, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী ওয়ালিউল্লাহ ও আল মুকাদ্দাস দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের সন্ধানের দাবিতে বিভিন্ন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টরা। আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে নতুন করে তাঁদের সন্ধানের দাবি সামনে এনে বিক্ষোভ মিছিল করল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির।

  • ঠাকুরগাঁও-১সহ ১১ সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে ইসির গেজেট প্রকাশ

    ঠাকুরগাঁও-১সহ ১১ সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে ইসির গেজেট প্রকাশ

    নতুন গঠিত উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় ঠাকুরগাঁও-১ সহ ১১টি সংসদীয় আসনের সীমানা নিয়ে নতুন গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর ফলে কাগজে কলমে আসন সীমানায় সংশোধন হলেও বাস্তবে কোনো পরিবর্তন আসবে না বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

    আসনগুলো হচ্ছে—ঠাকুরগাঁও-১, বগুড়া-২, পিরোজপুর-১, ময়মনসিংহ-১০, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ ও ৪, কুমিল্লা-৩, লক্ষ্মীপুর-২ ও ৩, চট্টগ্রাম-২ এবং কক্সবাজার-১। আজ রোববার এ গেজেট প্রকাশ করে ইসি।

    ইসির গেজেট অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলামের ছেড়ে দেওয়া আসন ঠাকুরগাঁও-১। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত ঠাকুরগাঁও-১ আসনে রুহিয়া ও ভুল্লী উপজেলাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সদর উপজেলা ভেঙে এ দুটি উপজেলা গঠন করা হয়। গত মে মাসে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় এ দুটি উপজেলা অনুমোদন দেওয়া হয়।

    বগুড়া-২ আসনে শিবগঞ্জের পাশাপাশি মোকামতলা উপজেলাকেও যুক্ত করা হয়েছে। মোকামতলা উপজেলা গত মে মাসে নিকার বৈঠকে অনুমোদন পায়।

    ময়মনসিংহ-১০ আসনে গফরগাঁও উপজেলার সঙ্গে নবগঠিত দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা যুক্ত করা হয়েছে। এ উপজেলাটি গত জুলাই মাসে নিকার বৈঠকে অনুমোদন পায়।

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে আখাউড়া উপজেলার বরিশল ইউনিয়ন পরিষদকে যুক্ত করা হয়েছে। এ ইউনিয়ন পরিষদ বাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসন গঠন করা হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়ন থেকে ৬টি গ্রাম আলাদা করে আখাউড়া উপজেলার সঙ্গে যুক্ত করে নতুন এই বরিশল ইউনিয়ন গত মে মাসে অনুমোদন দেওয়া হয়।

    কুমিল্লা-৩ আসনে মুরাদনগর উপজেলার সঙ্গে বাঙ্গরা উপজেলাকে যুক্ত করা হয়েছে। গত জুলাই মাসে নিকার বৈঠকে বাঙ্গরা উপজেলা অনুমোদন দেওয়া হয়। চট্টগ্রাম-২ আসনে ফটিকছড়ি উপজেলার সঙ্গে নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা যুক্ত করা হয়েছে। কক্সবাজার-১ আসনে নবগঠিত মাতামুহুরি উপজেলাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

  • দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক সেনাপ্রধান শফিউদ্দিনকে দুদকে তলব

    দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক সেনাপ্রধান শফিউদ্দিনকে দুদকে তলব

    বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টায় তাকে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হয়ে বক্তব্য দিতে বলা হয়েছে।

    রোববার দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম সমকালকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    দুদকের পরিচালক মো. আবুল হাসনাতের পাঠানো নোটিশে বলা হয়েছে, এস এম শফিউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে ‘বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ’ পেয়েছে দুদক। অভিযোগটি অনুসন্ধানের জন্য পরিচালক আবুল হাসনাতকে দলনেতা এবং উপপরিচালক মোজাম্মিল হোসেনকে সদস্য করে দুই সদস্যের একটি দল গঠন করা হয়েছে।

    নোটিশে বলা হয়, অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে শফিউদ্দিন আহমেদের বক্তব্য শোনা ও গ্রহণ করা একান্ত প্রয়োজন। এ কারণে তাকে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি সঙ্গে নিয়ে নির্ধারিত সময়ে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়েছে।

    দুদকের নথি অনুযায়ী, শফিউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু হয় ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর।

    জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ ২০২১ সালের ২৪ জুন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন। তিনি জেনারেল আজিজ আহমেদের কাছ থেকে সেনাপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিন বছর দায়িত্ব পালনের পর ২০২৪ সালের ২৩ জুন অবসরে যান শফিউদ্দিন আহমেদ। সেনাপ্রধানের দায়িত্ব পালনকালে তিনি বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।

  • সাড়ে পাঁচ মাস পর দেশে ফিরছেন মির্জা আব্বাস

    সাড়ে পাঁচ মাস পর দেশে ফিরছেন মির্জা আব্বাস

    সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় সাড়ে পাঁচ মাসের বেশি সময় চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস। আগামী বুধবার রাত ৯টায় বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে তার ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

    রোববার বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস এখন অনেকটাই সুস্থ। মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরছেন।

    গত ১১ মার্চ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারান মির্জা আব্বাস। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ওই রাতেই তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়।

    পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ মার্চ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা শেষে বিশেষায়িত চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য তাকে মালয়েশিয়ায় নেওয়া হয়। এরপর থেকে সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।