ফুটবল

  • বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সুলিভানকে মেরে শাস্তি পেলেন মেসি

    বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সুলিভানকে মেরে শাস্তি পেলেন মেসি

    মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ম্যাচে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত কুইন সুলিভানকে চড় মারার ঘটনায় জরিমানা করা হয়েছে ইন্টার মায়ামির তারকা লিওনেল মেসিকে। তবে জরিমানার পরিমাণ প্রকাশ করেনি টুর্নামেন্ট কর্তৃপক্ষ।

    গত ২০ আগস্ট ফিলাডেলফিয়ার বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচের শেষ দিকে সুলিভানের মাথার পেছনে চড় মারেন মেসি। বল খেলার পর সুলিভান তাঁকে কনুই দিয়ে আঘাত করেছেন—এমন অভিযোগ করতে গিয়ে ওই ঘটনার সূত্রপাত। মেসির চড়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান সুলিভান। পরে রেফারি দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

    এই ম্যাচে মায়ামির হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন মেসি। বাবার মৃত্যুর পর এটিই ছিল তাঁর প্রথম গোল। ৬৮ বছর বয়সে দীর্ঘ অসুস্থতার পর মারা যান মেসির বাবা ও দীর্ঘদিনের এজেন্ট হোর্হে মেসি। বাবার শেষকৃত্যে অংশ নিতে আর্জেন্টিনায় ছিলেন মেসি।

    সুলিভানের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় মেসিই একমাত্র শাস্তি পাওয়া খেলোয়াড় নন। মায়ামির ইয়ান ফ্রেকেও জরিমানা করা হয়েছে। বক্সের মধ্যে সুলিভান পড়ে যাওয়ার পর দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তাঁর গলা চেপে ধরেছিলেন ফ্রে।

    উত্তপ্ত ম্যাচটিতে যোগ করা সময়ে দুটি লাল কার্ডও দেখা যায়। মায়ামির ইয়ানিক ব্রাইট এবং ফিলাডেলফিয়ার কাভান সুলিভানকে মাঠ ছাড়তে হয়। তবে পর্যালোচনার পর কাভানের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে।

    এদিকে, ইস্টার্ন কনফারেন্সে বর্তমানে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে মায়ামি। শীর্ষে থাকা ন্যাশভিলের চেয়ে সাত পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে তারা।

    বাবার মৃত্যুর পর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও ইঙ্গিত দিয়েছেন মেসি। বাবাকে স্মরণ করে দেওয়া এক দীর্ঘ বার্তায় আর্জেন্টিনার অধিনায়ক ইঙ্গিত দেন, ফুটবলে তাঁর পথচলা হয়তো আর খুব বেশি দীর্ঘ হবে না।

  • সুয়ারেজের কামড়ের চেয়েও বেশি শাস্তি, ফিফার রায় নিয়ে প্রশ্ন তুলল আর্জেন্টিনা

    সুয়ারেজের কামড়ের চেয়েও বেশি শাস্তি, ফিফার রায় নিয়ে প্রশ্ন তুলল আর্জেন্টিনা

    ২০১৪ বিশ্বকাপে ইতালির জর্জিও কিয়েল্লিনিকে কামড়ে দিয়েছিলেন লুইস সুয়ারেজ। সেই ঘটনায় উরুগুয়ের তারকাকে ৯ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছিল ফিফা। ১২ বছর পর আরেকটি বিশ্বকাপে ফাইনাল-পরবর্তী হাতাহাতির ঘটনায় আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো পারেদেস পেয়েছেন ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা। সুয়ারেজের সেই শাস্তির সঙ্গে তুলনা টেনে পারেদেসের সাজা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)।

    বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর মাঠে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড়। স্পেনের এরিক গার্সিয়ার গলা চেপে ধরা এবং গাভিকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় পারেদেসকে ১০ ম্যাচ নিষিদ্ধ করেছে ফিফা। সঙ্গে তাঁকে ৯০ হাজার ডলার জরিমানাও করা হয়েছে।

    এএফএর আইনি উপদেষ্টা আন্দ্রেস পাটোন উরিচের দাবি, পারেদেসের শাস্তি তাঁর কাজের তুলনায় ‘স্পষ্টতই অতিরিক্ত’। ফিফার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে শাস্তি কমানোর চেষ্টা করবে আর্জেন্টিনা।

    ডি স্পোর্টস রেডিওকে উরিচ বলেছেন, ‘পারেদেসের নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে যদি ২০১৪ সালে সুয়ারেজের ঘটনাটির তুলনা করেন, প্রতিপক্ষকে কামড় দেওয়ার পরও সে ৯ ম্যাচ নিষিদ্ধ হয়েছিল। অথচ পারেদেস পেয়েছে ১০ ম্যাচ। আমাদের মতে, আরও গুরুতর কিছু ঘটনার ক্ষেত্রেও একই বা কম শাস্তি হয়েছে।’

    শুধু সুয়ারেজের ঘটনাই নয়, অন্য একটি নজিরের কথাও তুলেছেন উরিচ। তাঁর দাবি, এক ইউরোপীয় ফুটবলার নাৎসি প্রতীক প্রদর্শন করে ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছিলেন। এএফএর মতে, শাস্তির মাত্রা নির্ধারণে এসব নজির পারেদেসের ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

    এ বিষয়ে উরিচের কথা, ‘আমরা ভিডিওগুলো ফ্রেম ধরে ধরে দেখেছি। আমাদের ধারণা ছিল, শাস্তি এর চেয়ে কম হওয়া উচিত ছিল। পারেদেস ও মলিনার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা স্পষ্টতই অতিরিক্ত।’

    এভাবে মাটিতে পড়ে যান গাভি রয়টার্স

    পারেদেসের পাশাপাশি নাহুয়েল মলিনাকেও ৭ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ফিফা। তাঁকেও ৯০ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়েছে। আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবের্তো আয়ালা পেয়েছেন ৩ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা ও ৩০ হাজার ডলার জরিমানা।

    তবে থিয়াগো আলমাদার ১ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন এএফএর আইনি উপদেষ্টা। ফলে পারেদেস, মলিনা ও আয়ালার শাস্তি কমানোর দিকেই মূলত নজর দিচ্ছে সংস্থাটি।

    এএফএ এখন ফিফার সিদ্ধান্তের পূর্ণাঙ্গ কারণ জানতে চাইবে। এরপর প্রমাণ ও আইনি যুক্তি দিয়ে আপিল করা হবে। আপিল কমিশনও যদি শাস্তি বহাল রাখে, তাহলে কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টসে (সিএএস) যাওয়ার কথাও ভাবছে আর্জেন্টিনা।

    আর্জেন্টিনার সামনে অবশ্য একটি পুরোনো নজিরও আছে। ২০১৮ বিশ্বকাপ বাছাইয়ে সহকারী রেফারিকে গালাগাল করার অভিযোগে লিওনেল মেসিকে ৪ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। পরে আপিলে সেই নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

    সেই নজিরে এবার পারেদেস ও মলিনাদের শাস্তিও কমানোর আশা করছে এএফএ। তবে আপাতত তাদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন একটাই—প্রতিপক্ষকে কামড় দেওয়ার জন্য সুয়ারেজের শাস্তি যেখানে ছিল ৯ ম্যাচ, সেখানে বিশ্বকাপ ফাইনালের হাতাহাতির ঘটনায় পারেদেসকে কেন এক ম্যাচ বেশি নিষিদ্ধ করা হলো?

  • অবসরের ইঙ্গিত দিলেন দি মারিয়া

    অবসরের ইঙ্গিত দিলেন দি মারিয়া

    কোপা লিবার্তাদোরেস থেকে রোজারিও সেন্ট্রালের বিদায়ের পরই নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী তারকা আনহেল দি মারিয়া। হারের হতাশার মধ্যেই অবসরের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন ৩৭ বছর বয়সি অভিজ্ঞ এই উইঙ্গার।

    বৃহস্পতিবার কোপা লিবার্তাদোরেসের রাউন্ড অব ১৬-এর দ্বিতীয় লেগে করিন্থিয়ানসের কাছে ১-০ গোলে হেরে যায় রোজারিও সেন্ট্রাল। সেই হারের পর স্বাভাবিকভাবেই ভেঙে পড়েন দি মারিয়া। আরও আবেগঘন হয়ে ওঠে মুহূর্তটি, কারণ ১২ বছর আগে একই স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার জার্সিতে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে গোল করেছিলেন তিনি। সেই গোলই তাকে নিয়ে গিয়েছিল ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ ফাইনালের পথে।

    ম্যাচ শেষে ইএসপিএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা জানান দি মারিয়া। তিনি বলেন, ‘এটি একটি কঠিন মুহূর্ত। আমার স্বপ্ন ছিল অন্যরকম। ইচ্ছা ছিল খেলা চালিয়ে যাওয়ার। তবে এটাই ফুটবল। এখন আমাকে চিন্তা করে দেখতে হবে আমি সামনে কী করতে চাই।’

    ফক্স স্পোর্টসের কাছেও ম্যাচের হতাশা প্রকাশ করেন আর্জেন্টাইন তারকা। তার ভাষায়, ‘আমাদের গোল করার সুযোগ ছিল, কিন্তু আমরা যেভাবে খেলতে চেয়েছিলাম ম্যাচটি সেভাবে এগোয়নি। আমরা বেশ লড়াই করেছি, কিন্তু সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারিনি।’

    দীর্ঘ ১৮ বছর ইউরোপের ফুটবলে দাপট দেখানোর পর ২০২৫ সালের মাঝামাঝি শৈশবের ক্লাব রোজারিও সেন্ট্রালে ফিরে আসেন দি মারিয়া। এরপর গত জুনে ক্লাবটির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ান তিনি। নতুন চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত ক্লাবটিতে থাকার কথা রয়েছে তার। সে সময় তার বয়স হবে ৩৯ বছর।

    তবে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই অবসরের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন আর্জেন্টিনার অন্যতম সফল এই ফুটবলার। সাম্প্রতিক মন্তব্যে অন্তত তেমনই আভাস পাওয়া গেছে।

    রোজারিও সেন্ট্রালে ফেরার পর এখন পর্যন্ত ৪৩টি ম্যাচ খেলেছেন দি মারিয়া। এই সময়ে ১৪ গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ৭টি গোল। তবে কোপা লিবার্তাদোরেস থেকে বিদায়ের পর তার পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকেই এখন তাকিয়ে ভক্তরা।

  • ভক্তদের তোপের মুখে আর্জেন্টিনার ফরোয়ার্ড

    ভক্তদের তোপের মুখে আর্জেন্টিনার ফরোয়ার্ড

    বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করায় হুলিয়ান আলভারেসের সঙ্গে আতলেতিকো মাদ্রিদের সমর্থকদের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। লা লিগার প্রথম ম্যাচে আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডকে উদ্দেশ্য করে কটূক্তিমূলক স্লোগান দেওয়ার পর এবার ক্লাবের অনুশীলনে বিক্ষোভ করেছেন ক্ষুব্ধ সমর্থকেরা।

    অনুশীলন মাঠের সামনে ‘হুলিয়ান আউট’ লেখা ব্যানার টানানো হয়। কোথাও কোথাও আলভারেসের ১৯ নম্বর জার্সির ওপর ক্রস চিহ্ন এঁকে তাঁর বিদায়ও দাবি করেছেন ভক্তরা। বার্সায় যেতে চাওয়ার কথা প্রকাশ্যে বলার পর থেকেই সমর্থকদের বড় একটি অংশ আলভারেসের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।

    পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছেন আতলেতিকোর প্রধান কোচ দিয়েগো সিমিওনে। মালাগার বিপক্ষে ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আলভারেসকে দলে না রাখার কারণ দলবদলের গুঞ্জন নয়, ম্যাচ খেলার মতো শারীরিক প্রস্তুতির অভাব। সে এখনো আমাদের সেরা খেলোয়াড়। সে আমার পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আশা করছি ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ম্যাচে সে খেলবে।’

    ২০২৪ সালের গ্রীষ্মে ম্যানচেস্টার সিটি থেকে আতলেতিকোতে যোগ দেন আলভারেস। এরপর ১০৬ ম্যাচে ৪৯ গোল ও ১৭ অ্যাসিস্ট করে দলের আক্রমণভাগের অন্যতম ভরসায় পরিণত হয়েছেন তিনি।

    আলভারেসের সঙ্গে আতলেতিকোর চুক্তি ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আতলেতিকো আর্সেনালের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় আগ্রহ দেখালেও আলভারেস যেতে চান বার্সাতেই। কিন্তু মাদ্রিদের ক্লাবটি কাতালানদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা করতে রাজি হয়নি। ফলে আক্রমণভাগের জন্য বিকল্প খেলোয়াড় খুঁজতে শুরু করেছে লা লিগার ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।

    শনিবার দিবাগত রাতে ভিয়ারিয়ালকে আতিথেয়তা দেবে আতলেতিকো। চোটের কারণে আলেকজান্ডার সরলথ না থাকায় সে ম্যাচে আলভারেসের মাঠের নামার সম্ভাবনা বেশি। শেষ পর্যন্ত খেলতে নামলে তাঁর সামনে আরেকটি কঠিন দিন অপেক্ষা করছে। ঘরের মাঠে আরও একবার আতলেতিকোর দর্শকদের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার মুখেও পড়তে পারেন তিনি।

  • ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত স্পেনের দায়িত্বে দে লা ফুয়েন্তে

    ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত স্পেনের দায়িত্বে দে লা ফুয়েন্তে

    ২০২৬ বিশ্বকাপে স্পেনকে শিরোপা জেতানোর পর কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের সঙ্গে চুক্তি নবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন (আরএফইএফ)। তার বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত। তবে ফেডারেশনের পরিকল্পনা, ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত দে লা ফুয়েন্তেকেই জাতীয় দলের দায়িত্বে রাখা।

    আগামী ২০৩০ বিশ্বকাপ স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো যৌথভাবে আয়োজন করবে। এরই মধ্যে দে লা ফুয়েন্তের চুক্তি বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে আরএফইএফ। ফেডারেশন সভাপতি রাফায়েল লুজান জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের মঞ্চে দে লা ফুয়েন্তেকে পাওয়া তাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ‘আমার মনে হয় লুইস এটা পাওয়ার যোগ্য এবং আমরা এটা নিয়েই কাজ করছি। তার চুক্তিটি ২০২৮ সাল পর্যন্ত আছে, তবে আমরা এখন থেকেই কাজ শুরু করেছি যেন এটি ২০৩০ সাল বা তার কাছাকাছি সময় পর্যন্ত বাড়িয়ে নেওয়া যায়। ২০৩০-এর বিশ্বমঞ্চে তার থাকাটা অত্যন্ত জরুরি,’ বলেন লুজান।

    দে লা ফুয়েন্তের প্রশংসা করে আরএফইএফ সভাপতি আরও বলেন, ‘তার বিনয়ী আচরণ এবং কঠোর পরিশ্রমের ক্ষমতাই আমাদের এই ঐতিহাসিক সাফল্যের মুখে দাঁড় করিয়েছে, যার পেছনে ছিল স্প্যানিশ জাতীয় দলের এক অবিস্মরণীয় খেলোয়াড়েরা।’

    নিজেদের মাটিতে ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল আয়োজনেরও জোর চেষ্টা চালাচ্ছে স্পেন। ফাইনাল নিয়ে আশাবাদী লুজানও। তার ভাষায়, ‘এটা মেনে নেওয়া কঠিন হবে যে ওই মহান বিশ্বকাপের ফাইনাল স্পেনে অনুষ্ঠিত হবে না।’

    বিশ্বকাপ জয়ের পর এবার শিরোপা ধরে রাখার নতুন অভিযানে নামবে স্পেন। দে লা ফুয়েন্তেকে দীর্ঘমেয়াদে দায়িত্বে রাখলে দলের কৌশলগত ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের গড়ে তোলার কাজও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

    সামনেই অবশ্য দে লা ফুয়েন্তের দলের জন্য রয়েছে নতুন পরীক্ষা। আগামী মাসে উয়েফা নেশন্স লিগে ইংল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। বিশ্বকাপ জয়ের পর নতুন চক্রের শুরুতেই নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে হবে স্পেনকে।

  • জর্জিয়ান তারকার হাতেই ব্যালন ডি’অর দেখতে চান ক্রুস

    জর্জিয়ান তারকার হাতেই ব্যালন ডি’অর দেখতে চান ক্রুস

    ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর কার হাতে উঠবে, তা নিয়ে নিজের পছন্দের কথা জানিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদ ও জার্মানির সাবেক তারকা মিডফিল্ডার টনি ক্রুস। ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কারটি তিনি দেখতে চান পিএসজির জর্জিয়ান ফরোয়ার্ড খিচা কাভারৎস্খেলিয়ার হাতে।

    স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘ফুট মার্কাতো’র বরাত দিয়ে জানা গেছে, ক্রুসের চোখে এবারের ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে কাভারৎস্খেলিয়াই এক নম্বর পছন্দ। নিজের পছন্দের কথা জানিয়ে সাবেক এই জার্মান তারকা বলেন, ‘আমার কাছে সে এখন এক নম্বর খেলোয়াড়।’

    ক্রুসের এই পছন্দে অবশ্য অনেকেই অবাক হতে পারেন। কারণ ব্যালন ডি’অরের আলোচনায় থাকা রদ্রি, লিওনেল মেসি, জুড বেলিংহ্যাম কিংবা কিলিয়ান এমবাপ্পের মতো তারকাদের তিনি এগিয়ে রাখেননি। তার মতে, ক্লাবের হয়ে এমন অসাধারণ মৌসুম কাটাতে পারেননি তারা, যা দিয়ে এই পুরস্কারের জন্য শক্তিশালী দাবি তোলা যায়।

    অন্যদিকে কাভারৎস্খেলিয়ার গত মৌসুমের পারফরম্যান্স ক্রুসকে মুগ্ধ করেছে। তিনি জর্জিয়ান উইঙ্গারকে ‘গত মৌসুমের সেরা খেলোয়াড়’ হিসেবে উল্লেখ করার পাশাপাশি ‘বিশ্বের সেরা ফুটবল দলের বর্তমান সেরা খেলোয়াড়’ বলেও প্রশংসা করেছেন।

    পরিসংখ্যানও কাভারৎস্খেলিয়ার পক্ষে কথা বলছে। পিএসজির হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪৮ ম্যাচে ১৯ গোল করার পাশাপাশি ১১টি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। বিশেষ করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তার পারফরম্যান্স ছিল আরও নজরকাড়া। ১৬ ম্যাচে ১০ গোলের সঙ্গে সতীর্থদের দিয়ে ৭টি গোল করিয়েছেন ২৫ বছর বয়সি এই তারকা।

    চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট পর্বেও কাভারৎস্খেলিয়ার অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। মোনাকো, চেলসি, লিভারপুল ও বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে দলের হয়ে কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত পিএসজির চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের পথেও তার পারফরম্যান্স ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

    এমন পারফরম্যান্সের পর কাভারৎস্খেলিয়াকে ব্যালন ডি’অরের অন্যতম দাবিদার মনে করছেন ক্রুস। রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক তারকার মতো একজন তারকা তার পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় জর্জিয়ান এই ফুটবলারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।

    তবে বিশ্বকাপজয়ী ইয়ামাল, রদ্রি কিংবা রানার্সআপ মেসির মতো তারকাদের পেছনে ফেলে কাভারৎস্খেলিয়ার ব্যালন ডি’অর জেতা নিঃসন্দেহে বড় চমক হবে। আগামী ২৬ অক্টোবর লন্ডনে ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর বিজয়ীর নাম ঘোষণা করবে ‘ফ্রান্স ফুটবল’ ম্যাগাজিন।

  • ইসলাম ধর্ম গ্রহণের গুঞ্জন নিয়ে যা বললেন কার্লোস

    ইসলাম ধর্ম গ্রহণের গুঞ্জন নিয়ে যা বললেন কার্লোস

    ব্রাজিলের সাবেক তারকা ফুটবলার রবার্তো কার্লোস এবার মুখ খুললেন। মরক্কোর নাগরিক সুহাইলা আল-তাহিরিকে বিয়ে করার পর তার ইসলাম গ্রহণ নিয়ে অনেক গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল। এই গুজবের জবাব দিলেন তিনি নিজেই। সেই খবরকে সরাসরি নাকচ করেছেন রিয়াল মাদ্রিদের কিংবদন্তি এই ফুটবলার। একই সঙ্গে ইসলামের প্রতি নিজের গভীর শ্রদ্ধার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

    সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, ব্রাজিলের মুসলিম সম্প্রদায়ের পরিচিত ব্যক্তি শেখ জিহাদ হামাদার কাছে শাহাদাহ পাঠ করে ইসলাম গ্রহণ করেছেন ৫৩ বছর বয়সী কার্লোস। তুরস্কের জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির সংসদ সদস্য আলী শাহিনের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের পর বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে।

    আলী শাহিন জানিয়েছিলেন, সাও পাওলোতে শেখ জিহাদ হামাদার সঙ্গে সাক্ষাতের পর কার্লোস ইসলাম গ্রহণ করেছেন। এর সঙ্গে ইসলামি রীতিতে বিয়ের কিছু ছবি ছড়িয়ে পড়ায় গুঞ্জন আরও জোরালো হয়।

    তবে সৌদি সংবাদমাধ্যম ‘ওকাজ’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কার্লোস পরিষ্কার করে দিয়েছেন, তার ইসলাম গ্রহণের খবর সত্য নয়। তিনি বলেন, ‘ইসলামের প্রতি আমার সর্বোচ্চ সম্মান রয়েছে। আমার স্ত্রীকে নামাজ পড়তে দেখা দারুণ এক অভিজ্ঞতা, তবে আমার ধর্মান্তরিত হওয়ার যে খবর ছড়িয়েছে তা সম্পূর্ণ অসত্য।’

    বিয়ের অনুষ্ঠান নিয়েও তৈরি হওয়া বিভ্রান্তির ব্যাখ্যা দিয়েছেন সাবেক এই লেফটব্যাক। তার পরিবারের সদস্যরা ক্যাথলিক হওয়ায় তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী একটি আয়োজন ছিল। একই সঙ্গে তার মরক্কান স্ত্রী ও মুসলিম বন্ধুদের ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি সম্মান জানিয়ে ইসলামি রীতিতেও আয়োজন করা হয়।

    কার্লোস বলেন, ‘আমার পরিবারের সদস্যরা ক্যাথলিক। তাদের বিশ্বাসকে সম্মান জানিয়ে যেমন আয়োজন ছিল, তেমনই আমার মরোক্কান স্ত্রী ও তার মুসলিম বন্ধুদের ব্যাকগ্রাউন্ডের কথা মাথায় রেখে সেই ধর্মীয় রীতিও রাখা হয়েছিল।’ কার্লোস স্পষ্ট করেছেন, স্ত্রীর ধর্মের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার অর্থ এটা নয় যে তিনি নিজে ধর্ম পরিবর্তন করেছেন।

    সোহাইলা আল তাহিরির সঙ্গে নিজের সম্পর্কের শুরু নিয়েও কথা বলেছেন কার্লোস। ফুটবল-সংক্রান্ত একটি ব্যবসায়িক বৈঠকে তাদের প্রথম পরিচয় হয়। সোহাইলাকে সফল নারী ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করে কার্লোস জানান, প্রায় দুই বছর ধরে তাদের সম্পর্ক। এই সময়ে ব্যক্তিগত ও পেশাগত—দুই ক্ষেত্রেই তাদের বোঝাপড়া আরও গভীর হয়েছে।

    কার্লোসের জন্য এটি তৃতীয় বিয়ে। প্রথম স্ত্রী আলেকজান্দ্রা পিনহেইরোর সঙ্গে ২০০৩ সালে বিচ্ছেদ হয়। সেই সংসারে তার তিন সন্তান। এরপর ২০০৯ সালের জুনে মারিয়ানা লুকনের সঙ্গে বিয়ে হয় তার। ১৫ বছরের বেশি সময় সংসারের পর ২০২৫ সালের শুরুতে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। এই সংসারে কার্লোসের ২টি কন্যাসন্তান রয়েছে। সব মিলিয়ে ৭ জন নারীর গর্ভে কার্লোসের ১১ সন্তান।

    ব্রাজিলের হয়ে ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী কার্লোস ক্লাব ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বেশি আলো ছড়িয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদে। স্প্যানিশ ক্লাবটির হয়ে ১১ মৌসুমে পাঁচ শতাধিক ম্যাচ খেলে জিতেছেন তিনটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও চারটি লা লিগা শিরোপা। ১৯৯৭ সালে ফ্রান্সের বিপক্ষে তার অবিশ্বাস্য বাঁকানো ফ্রি-কিক গোলও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় গোল।

  • বিশ্বকাপ ফাইনালের ‘ষড়যন্ত্র-তত্ত্ব’ নিয়ে মুখ খুলল আর্জেন্টিনা

    বিশ্বকাপ ফাইনালের ‘ষড়যন্ত্র-তত্ত্ব’ নিয়ে মুখ খুলল আর্জেন্টিনা

    বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর আর্জেন্টিনা দলকে ঘিরে যে নানা প্রশ্ন ও ষড়যন্ত্রের গল্প ছড়িয়েছিল, এবার তার জবাব দিল আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। ফাইনালের এক মাস পূর্তিতে প্রকাশিত এক ভিডিওতে কথা বলেছেন এএফএ সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, মাঠে কোনো রহস্যজনক ঘটনা ঘটেনি, বরং শিরোপার জন্য সর্বোচ্চটা দিয়েই লড়েছিল দল।

    নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে গত মাসে অনুষ্ঠিত ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জেতে স্পেন। ম্যাচের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আর্জেন্টিনার পারফরম্যান্স, খেলোয়াড়দের আচরণ ও ড্রেসিংরুমের পরিবেশ নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে। সেখান থেকেই জন্ম নেয় ‘ষড়যন্ত্র-তত্ত্ব’। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে মূল ধারার অনেক সংবাদ মাধ্যমই প্রচার করে ফাইনালে আর্জেন্টিনা দলে ‘কিছু একটা ঘটেছিল’।

    ফাইনালের এক মাস পূর্তিতে নিজেদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করে এএফএ। সেখানে পুরো বিশ্বকাপ অভিযানের বিভিন্ন মুহূর্ত তুলে ধরার পাশাপাশি খেলোয়াড়দের লড়াইয়ের প্রশংসা করা হয়। ভিডিওর ধারাভাষ্যে বলা হয়, ‘এক মাস আগে কিছু একটা ঘটেছিল। অনেকেই চায়নি সেটা ঘটুক, কিন্তু সেটাই ঘটল। আর্জেন্টিনা আরেকটি ফাইনালে খেলল। যদিও অনেকে এটা এড়িয়ে যেতে চান। আমরা প্রতিটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়েছি। ইংল্যান্ডকে সেমিফাইনালে বিদায় করে ইতিহাস গড়েছি।’

    ফাইনালের পর ওঠা ষড়যন্ত্র-তত্ত্ব নিয়ে এএফএর অফিশিয়াল বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সব ধরনের আর্জেন্টিনাবিরোধী প্রচারণা সত্ত্বেও আমরা ঠিকই ফাইনালে পৌঁছেছিলাম। তাই কেউ যখন বলবে, কিছু একটা ঘটেছিল, শুধু বলবেন, হ্যাঁ। আসলে যা ঘটেছিল তা হলো, একটি দল জেতার জন্য সবকিছু উজাড় করে দিয়েছিল। তারা শেষ পর্যন্ত লড়েছে, কখনো হাল ছাড়েনি। সবকিছু জেতার পরও এই দফায় তাদের হেরে যেতে হয়েছে।’

    ভিডিওর শেষ দিকে দেখানো হয় ফাইনাল শেষে রানার্সআপের পদক নেওয়ার সময় আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসির আবেগঘন মুহূর্ত। এরপর নেপথ্য ধারাভাষ্যকার ভিডিও শেষ করেন এভাবে, ‘আমাদের অধিনায়কের কান্না আমাদের আরেকবার শিখিয়ে দিয়েছে যে আপনি হারতে বা জিততে পারেন; কিন্তু যা-ই ঘটুক না কেন, কখনোই হাল ছাড়া যাবে না।’

    এএফএর এই বার্তার পাশাপাশি সরব হয়েছেন সংস্থাটির সভাপতি ক্লদিও তাপিয়াও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে তিনি ফাইনালের পর আর্জেন্টিনা দলকে ঘিরে ছড়ানো অভিযোগকে ‘নিকৃষ্ট প্রচারণা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

    তাপিয়ার অভিযোগ, ফাইনালের পর কিছু সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যক্তিত্ব এমনভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করেছিলেন, যেন আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়েরা ইচ্ছাকৃতভাবে ম্যাচ ছেড়ে দিয়েছিলেন। তার দাবি, মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনাল শেষ হওয়ার পর থেকেই দলটির বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা শুরু হয়।

    সবচেয়ে বেশি ক্ষুব্ধ তাপিয়া এ কারণে যে, ঘটনার এক মাস পেরিয়ে গেলেও যারা এসব অভিযোগ তুলেছিলেন, তাদের কেউ নিজেদের ভুল স্বীকার করেননি। তার ভাষায়, এখনো কেউ প্রকাশ্যে বলেনি, ‘আমরা ভুল ছিলাম।’

    তাপিয়া আরও বলেন, খেলোয়াড়েরা যখন মাঠে নিজেদের উজাড় করে দিচ্ছিলেন, তখন তাদের বিরুদ্ধে বাইরে থেকে ঘৃণা ও বিভাজন ছড়ানো হচ্ছিল। জাতীয় দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তার। এএফএ সভাপতি মনে করেন, এমন অভিযোগকে নীরবে মেনে নেওয়া উচিত নয়। সময়ের সঙ্গে বিষয়টি চাপা পড়ে যাবে, এমন অপেক্ষাও করতে রাজি নন তিনি। বিশেষ করে কোনো প্রমাণ ছাড়াই জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলার বিষয়টি মেনে নেওয়া যায় না বলে স্পষ্ট করেছেন তাপিয়া।

    তিনি সতর্ক করে বলেন, জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের ‘দেশদ্রোহী’ হিসেবে আখ্যা দেওয়ার মতো অভিযোগের পর বিষয়টি আর হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। যারা এমন অভিযোগ তুলেছেন, তাদেরই এখন নিজেদের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে হবে।

    সবশেষে কোচিং স্টাফ, সাপোর্ট স্টাফ ও খেলোয়াড়দের পাশে থাকার কথা জানিয়ে তাপিয়া বলেন, যারা মাঠে নিজেদের সবটুকু দিয়ে লড়েছেন, তাদের কোনো ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং ব্যাখ্যা দিতে হবে তাদের, যারা প্রমাণ ছাড়াই মিথ্যা অভিযোগ ছড়িয়েছেন।

  • ম্যাচ চলাকালে মাঠেই লুটিয়ে পড়লেন মুসিয়ালা

    ম্যাচ চলাকালে মাঠেই লুটিয়ে পড়লেন মুসিয়ালা

    আরবি লাইপজিগের বিপক্ষে এক প্রীতি ম্যাচে মাঠেই ঢলে পড়েন বায়ার্ন মিউনিখ ও জার্মানির আক্রমণভাগের খেলোয়াড় জামাল মুসিয়ালা। এতে দুশ্চিন্তায় পড়ে যান সবাই। তেইশ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার গোল করার কিছুক্ষণ পরই এই ঘটনা ঘটে। তবে বায়ার্ন জানিয়েছে, তাদের এই তারকা খেলোয়াড় এখন ভালো আছেন।

    বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামেন মুসিয়ালা। ম্যাচের ৮১ মিনিটে গোল করেন তিনি। এই ম্যাচে ৩-১ গোলে জয় পায় বায়ার্ন। ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় মুসিয়ালাকে নিয়ে উদ্বেগ কমানোর চেষ্টা করেন বায়ার্নের স্পোর্টিং ডিরেক্টর ম্যাক্স এবারল।

    এবারল বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সে ভালো আছে। এর বাইরে আর কিছু বলার নেই।’ তবে মুসিয়ালা কেন মাঠে ঢলে পড়েছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি ক্লাব কর্তৃপক্ষ।

    মাঠে নামার প্রায় পনেরো মিনিট পরই ঢলে পড়েন মুসিয়ালা। এরপর দুই দলের চিকিৎসক দলই তার শুশ্রূষায় এগিয়ে আসেন। পরে নিজে থেকেই উঠে দাঁড়ান তিনি এবং হেঁটে টানেলের দিকে চলে যান। তবে তাকে বেশ ভীত দেখাচ্ছিল। ম্যাচের ৮৮ মিনিটে তাকে তুলে নেওয়া হয় মাঠ থেকে।

    জার্মানির সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হঠাৎ মাথা ঘোরার কারণে এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। সেসময় মিউনিখের তাপমাত্রা ছিল ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে। তবে এই ঘটনার সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত করেনি বায়ার্ন। তার শারীরিক অবস্থার ওপর নজর রাখবে ক্লাবটি।

    এই ঘটনার সময় নিয়েই স্বাভাবিকভাবে নতুন করে আলোচনায় আসে মুসিয়ালার সাম্প্রতিক ইনজুরি সমস্যার কথা। গত গ্রীষ্মে প্যারিস সেন্ট জার্মেইনের বিপক্ষে ক্লাব বিশ্বকাপের ম্যাচে গুরুতর পায়ের চোট পান তিনি। এতে তার ফিবুলা হাড় ভেঙে যায়। এরপর বেশ কয়েক মাস মাঠের বাইরে থাকতে হয় তাকে।

    জানুয়ারিতে মাঠে ফেরেন মুসিয়ালা এবং এরপর থেকে নিজের সেরা ফর্মে ফেরার চেষ্টা করছেন তিনি। জার্মানির ২০২৬ বিশ্বকাপ দলেও ছিলেন তিনি। তার রিকভারি নিয়ে যেভাবে সতর্কতার সাথে পরিকল্পনা করা হচ্ছিল, তাতে এই সাম্প্রতিক ঘটনা সবাইকে বেশ চিন্তায় ফেলে দিয়েছে।

    ব্যক্তিগত পুনর্বাসন কর্মসূচি অনুসরণের পর সম্প্রতি দলগত অনুশীলনে ফেরেন তেইশ বছর বয়সী এই ফুটবলার। তার খেলার চাপ নিয়েও সতর্কতার সাথে পরিকল্পনা করছিল বায়ার্ন। পুরোপুরি ফিট হয়ে ওঠার জন্য গ্রীষ্মের ছুটিও কমিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।

    তবে আপাতত প্রাথমিক লক্ষণগুলো ইতিবাচক। বায়ার্ন আশা করছে, গরম বা মাথা ঘোরার কারণে সাময়িক এই প্রতিক্রিয়া হয়েছিল, এই মৌসুমে যাকে নিয়ে বড় প্রত্যাশা রয়েছে সেই খেলোয়াড়ের জন্য এটি নতুন কোনো ধাক্কা নয়।

  • লা লিগা মাঠে গড়াচ্ছে আজ

    লা লিগা মাঠে গড়াচ্ছে আজ

    ক্লাব ফুটবলের অন্যতম আকর্ষণীয় আসর ‘লা লিগা’ মাঠে গড়াচ্ছে আজ। বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১১টায় দেপোর্টিভো আলভেস-গেতাফে ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে দীর্ঘ এ লড়াই। তবে প্রথম সপ্তাহে লা লিগার দুই জায়ান্টের কোনো ম্যাচ নেই। ২৪ আগস্ট রাত দেড়টায় এলচের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে হ্যাটট্রিক শিরোপা মিশন শুরু করবে বার্সেলোনা। তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ লিগ শুরু করবে ২৩ আগস্ট রাত দেড়টায় এস্পানিওলের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। তৃতীয় শক্তি হিসেবে খ্যাত অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ নামবে ২০ আগস্ট রাত ১টায় মালাগার বিপক্ষে।

    ২৪ আগস্ট রাত দেড়টায় এলচের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে হ্যাটট্রিক শিরোপা মিশন শুরু করবে বার্সেলোনা। তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ লিগ শুরু করবে ২৩ আগস্ট রাত দেড়টায় এস্পানিওলের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। তৃতীয় শক্তি হিসেবে খ্যাত অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ নামবে ২০ আগস্ট রাত ১টায় মালাগার বিপক্ষে।

    রিয়াল-বার্সার ম্যাচ এত দেরিতে শুরু হওয়ার কারণ, এ দুই দলের অধিকাংশ খেলোয়াড় বিশ্বকাপ খেলে ক্লান্ত। তাদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম দিতেই সপ্তাহখানেক দেরিতে ফেলা হয়েছে দুই জায়ান্টের ম্যাচ। এর মধ্যে বার্সার জার্মান কোচ হ্যান্সি ফ্লিক অন্য রকম একটি চ্যালেঞ্জ নিয়ে মাঠে নামছেন। একবিংশ শতাব্দীতে বার্সেলোনার চারজন কোচ তাদের প্রথম দুই মৌসুমেই টানা লা লিগে জিতেছেন। তাদের মধ্যে কেবল পেপ গার্দিওলাই লা লিগার হ্যাটট্রিক শিরোপা জিততে পেরেছিলেন। হ্যান্সি ফ্লিক কি পারবেন তাঁকে স্পর্শ করতে? তাঁর জন্য কাজটা ভীষণ কঠিন হতে চলেছে। কারণ সেন্টার ফরোয়ার্ড ছাড়াই লিগ শুরু করতে হচ্ছে বার্সাকে।

    আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার জুলিয়ান আলভারেজের সঙ্গে অনেক আগে থেকেই কথা পাকা করে রেখেছিল বার্সা। কিন্তু অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ বেঁকে বসায় আলভারেজের বার্সায় আসা হচ্ছে না। এরই মধ্যে বর্ষীয়ান ফরোয়ার্ড রবাট লেভানডস্কিকে ছেড়ে দিয়েছে, বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করা ফেরান তোরেসও পিএসজিতে চলে গেছেন। তাদের অভাব পূরণে বার্সা এখন কোনো সেন্টার ফরোয়ার্ড পাচ্ছে না। হ্যান্সি ফ্লিক ও স্পোর্টিং ডিরেক্টর ডেকো এখন হন্যে হয়ে সেন্টার ফরোয়ার্ড খুঁজছেন। শেষ পর্যন্ত তারা স্পোর্টিং লিসবন থেকে কলম্বিয়ান ফরোয়ার্ড লুইস সুয়ারেজকে আনার চেষ্টা করছেন। বিশ্বকাপে গোল্ডেন বল জেতা রদ্রির ট্রান্সফার নিয়েও ম্যানসিটির সঙ্গে দর কষাকষি চলেছে। এর পরও লামিনে ইয়ামাল, রাফিনহা, পেদ্রি, গাভি, দানি ওলমো, কুবার্সিরা রয়েছেন। বরুশিয়া ডর্টমুন্ড থেকে তরুণ জার্মান ফরোয়ার্ড করিম আদিয়েমিকে টেনেছে তারা।

    বার্সার এই হ্যাটট্রিক শিরোপা ছিনিয়ে নিতে ১৩ বছর পর আবার হোসে মরিনহোকে কোচের দায়িত্ব দিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। দলবদলের বাজারেও ভীষণ সক্রিয় তারা। মরিনহোর চাওয়া মতো এরই মধ্যে চেলসি থেকে বিশ্বকাপজয়ী লেফট-ব্যাক মার্ক কুকুরেয়া, লিভারপুল থেকে ফরাসি সেন্টার ব্যাক ইব্রাহিম কোনাতে, ম্যানসিটি থেকে পর্তুগিজ মিডফিল্ডার বার্নার্দো সিলভা, ইন্টার মিলান থেকে রাইট-ব্যাক ডেনজেল ডামফ্রিসকে দলে ভিড়িয়েছে তারা। লাইপজিগ থেকে রেকর্ড ১৪০ মিলিয়ন ইউরো ট্রান্সফার ফি দলে টেনেছে তরুণ আইভরিয়ান প্রতিভা ইয়ান দিয়ামান্দেকে।

    আর সবচেয়ে বড় বিষয় হলো কিলিয়ান এমবাপ্পে-ভিনিসিয়ুস জুনিয়র জুটি ভাঙতে দেননি মরিনহো। ভিনির নতুন চুক্তি নিয়ে তৈরি হওয়া অচলাবস্থা দূর করায় নতুন উদ্যমে মাঠে নামবেন তারা।

    আর সবচেয়ে বড় বিষয় হলো কিলিয়ান এমবাপ্পে-ভিনিসিয়ুস জুনিয়র জুটি ভাঙতে দেননি মরিনহো। ভিনির নতুন চুক্তি নিয়ে তৈরি হওয়া অচলাবস্থা দূর করায় নতুন উদ্যমে মাঠে নামবেন তারা। টানা দুই বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জেতা এমবাপ্পে যে রিয়ালের তারকাপুঞ্জে সবচেয়ে বড় তারা, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। ভিনিও কম যান না, নতুন চুক্তিই প্রমাণ করে রিয়ালের কাছে ব্রাজিলিয়ান এ তারকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। ইংল্যান্ডের জার্সিতে গত বিশ্বকাপে ৭ গোল করা জুড বেলিংহামও কম যান না। এই ত্রয়ীর ওপরই নির্ভর করছে রিয়ালের শিরোপা উদ্ধার মিশন।