ফুটবল

  • সেমিফাইনালে অপরাজিত থাকার রেকর্ড ধরে রাখল আর্জেন্টিনা

    সেমিফাইনালে অপরাজিত থাকার রেকর্ড ধরে রাখল আর্জেন্টিনা

    বিশ্ব ফুটবলে ধারাবাহিকতার আরেকটি অনন্য নজির গড়েছে আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এখন পর্যন্ত যতবার সেমিফাইনাল খেলেছে আলবিসেলেস্তেরা, প্রতিবারই নিশ্চিত করেছে ফাইনালের টিকিট। অর্থাৎ ৭টি সেমিফাইনাল খেলে ৭ বারই উঠেছে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে।

    চলমান বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে এই অনন্য রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ করেছে লিওনেল স্কালোনির দল। ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে জয় তুলে নেয় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

    আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ ইতিহাসে সেমিফাইনাল মানেই ফাইনালের নিশ্চয়তা। ১৯৩০, ১৯৮৬, ১৯৯০, ২০১৪, ২০২২ এবং ২০২৬—প্রতিবারই শেষ চারের বাধা পেরিয়ে ফাইনালে পৌঁছেছে তারা। এই ধারাবাহিকতা বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম সেরা নকআউট রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

    আরও পড়ুন

    উল্লেখ্য, ১৯৭৮ সালের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হলেও ওই টুর্নামেন্টে বর্তমান ফরম্যাটের মতো আলাদা সেমিফাইনাল ছিল না। সে সময় দ্বিতীয় রাউন্ডের গ্রুপ পর্ব থেকে সরাসরি ফাইনালিস্ট নির্ধারিত হয়েছিল।

    ২০২৬ এর সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। গোল না করলেও দুইটি অ্যাসিস্ট করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তিনি। এই জয়ে আর্জেন্টিনা টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল নিশ্চিত করেছে এবং শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্নও বাঁচিয়ে রেখেছে।

  • নিঃসন্দেহে মেসি সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়: হ্যারি কেইন

    নিঃসন্দেহে মেসি সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়: হ্যারি কেইন

    ৯ বছর বয়সেও লিওনেল মেসির ফুটবল জাদু যেন একটুও ম্লান হয়নি। মাঠে তার নেতৃত্ব, ক্ষিপ্রতা ও ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার ক্ষমতা এখনো আগের মতোই কার্যকর। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা, আর এই সাফল্যের অন্যতম নায়ক ছিলেন মেসি। তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইনও অকপটে স্বীকার করেছেন, মেসি সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার।

    আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় সেমিফাইনালে শুরু থেকেই আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগকে নেতৃত্ব দেন মেসি। ম্যাচের ৮৪ মিনিট পর্যন্ত ১-০ গোলে পিছিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। তবে শেষ মুহূর্তে অভিজ্ঞ এই ফরোয়ার্ডের দুই অসাধারণ অ্যাসিস্ট বদলে দেয় পুরো দৃশ্যপট। তার তৈরি করা সুযোগ থেকেই গোল করেন এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্তিনেজ।

    ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে হারের হতাশা নিয়েও মেসির প্রশংসা করতে কার্পণ্য করেননি ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন। তিনি বলেন, ‘বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে এমনটাই হয়। যখন তারা ফাইনাল থার্ডে (প্রতিপক্ষের পেনাল্টি বক্সের কাছাকাছি এলাকা) বল পায়, তখন যেকোনো মুহূর্তে জাদু দেখাতে পারে। মেসি আজ আবার সেটাই করেছে। নিঃসন্দেহে সে সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। এর পেছনে যথেষ্ট কারণ রয়েছে।’

    প্রথমার্ধে দুই দলই ছিল বেশ রক্ষণাত্মক। আক্রমণের চেয়ে মাঝমাঠের লড়াই, শারীরিক দ্বৈরথ এবং ফাউলই বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। ফলে গোলশূন্য অবস্থায় বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড।

    দ্বিতীয়ার্ধের ৫৫ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। দীর্ঘ সময় সেই ব্যবধান ধরে রাখলেও শেষ দিকে মেসির অনবদ্য নেতৃত্বে ম্যাচে ফিরে আসে আর্জেন্টিনা। ৮৫ মিনিটে তার নিখুঁত পাস থেকে সমতাসূচক গোল করেন এনজো ফার্নান্দেজ। এরপর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে মেসির দারুণ ক্রসে হেড করে জয়সূচক গোলটি করেন লাউতারো মার্তিনেজ।

    জয়ের খুব কাছাকাছি গিয়েও শেষ পর্যন্ত পরাজয় মেনে নিতে হয়েছে ইংল্যান্ডকে। রক্ষণভাগের কিছু ভুলের সুযোগ নিয়ে আর্জেন্টিনা ম্যাচ নিজেদের করে নেয়। আর সেই নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন মেসি। বয়স ৩৯ হলেও তার প্রভাব, সৃজনশীলতা ও ম্যাচ নির্ধারণী ভূমিকা আবারও প্রমাণ করেছে—ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে তিনি এখনো সমানভাবে প্রাসঙ্গিক এবং ভয়ংকর।

  • এই জয় ম্যারাডোনার জন্য উপহার: মেসি

    এই জয় ম্যারাডোনার জন্য উপহার: মেসি

    লিওনেল মেসির হাতে বিশ্বকাপ ট্রফি ওঠার স্বপ্ন দেখেছিলেন আর্জেন্টাইন ফুটবলের কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনা। কিন্তু সেই দৃশ্য দেখার আগেই পৃথিবী ছেড়ে চলে যান তিনি। পরে কাতার বিশ্বকাপে ম্যারাডোনার সেই স্বপ্ন পূরণ করেন মেসি। ১৯৮৬ সালে ম্যারাডোনার বিশ্বকাপ জয়ের ৩৬ বছর পর আর্জেন্টিনাকে আবারও শিরোপা এনে দেন তিনি।

    ২০২২ সালে কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে যে ট্রফিতে চুম্বন করেছিলেন মেসি, চার বছর পর নিউইয়র্কে আবারও সেই স্বপ্ন ছোঁয়ার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। সেমিফাইনালে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছেন এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্তিনেজরা। দুই গোলের পেছনেই ছিল মেসির অবদান, দুটি অ্যাসিস্টই এসেছে তার পা থেকে। আর এই স্মরণীয় জয়টি তিনি উৎসর্গ করেছেন প্রয়াত কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনাকে।

    ম্যাচ শেষে টিওয়াইসি স্পোর্টসের এক প্রতিবেদক মেসির হাতে তুলে দেন ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ম্যারাডোনার পরা আর্জেন্টিনার ঐতিহাসিক জার্সি। আবেগঘন সেই মুহূর্তে মেসি জানান, এই জয় ম্যারাডোনার জন্যও বিশেষ এক উপহার।

    মেসি বলেন, ‘আমি নিশ্চিত, দিয়েগো ওপর থেকে এই ম্যাচ উপভোগ করছেন। আজ তার জন্য খুবই বিশেষ একটি দিন। তিনি যেখানেই থাকুন না কেন, তাকে এই আনন্দ দিতে পেরেছি। এটাও তার জন্য একটি উপহার।’

    ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার এই জয় অনেকের মনেই ফিরিয়ে এনেছে ১৯৮৬ বিশ্বকাপের স্মৃতি। সেবার কোয়ার্টার ফাইনালে ম্যারাডোনা ‘হ্যান্ড অব গড’ ও ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ খ্যাত দুটি গোল করে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছিলেন। পরে তার নেতৃত্বেই বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পায় আর্জেন্টিনা।

    চার দশক পর আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে একই প্রতিপক্ষকে একই ব্যবধানে হারাল আলবিসেলেস্তেরা। আর সেই জয়ের কেন্দ্রে ছিলেন লিওনেল মেসি। ম্যাচে শুরুতে পিছিয়ে পড়লেও তিনি ছিলেন শান্ত ও ধৈর্যশীল। মাঝমাঠে নেমে খেলার ছন্দ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি তৈরি করেছেন দুই গোলের সুযোগ।

    প্রথমে এনজো ফার্নান্দেজকে নিখুঁত পাস দিয়ে সমতাসূচক গোলের পথ খুলে দেন। পরে লাউতারো মার্তিনেজের উদ্দেশে ভাসানো ক্রস থেকে আসে জয়সূচক হেড। এখন শিরোপার পথে আর্জেন্টিনার সামনে শেষ বাধা স্পেন।

    আগামী রোববার অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল। সেই ম্যাচে জয় পেলে ১৯৬২ সালের ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুইবার বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়বে আর্জেন্টিনা।

    তবে ফাইনালের আগে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই ঐতিহাসিক জয়কে ম্যারাডোনার প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য হিসেবেই দেখছেন মেসি। তার বিশ্বাস, আর্জেন্টিনার প্রতিটি বড় অর্জনের সঙ্গে ম্যারাডোনার স্মৃতি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে থাকবে।

  • ‘কেউ আমাদের সুবিধা দেয়নি, আমরা সেরা বলেই ফাইনালে’

    ‘কেউ আমাদের সুবিধা দেয়নি, আমরা সেরা বলেই ফাইনালে’

    ফুটবল বিশ্বকাপ কি পুরোটাই সাজানো? ফিফা কি আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছে লিওনেল মেসির হাতে ট্রফি তুলে দেবে? রেফারিদের পক্ষপাতিত্ব থেকে শুরু করে ভিএআর এর সুবিধা নিয়ে কম বিতর্ক হয়নি। বিশ্বকাপ যত এগিয়েছে, আর্জেন্টিনাকে নিয়ে এমন অভিযোগের তালিকা ততই দীর্ঘ হয়েছে। তবে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার পর সমালোচকদের সব ধোঁয়াশা দূর করে দিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি।

    মাঠের পারফরম্যান্সে সব অভিযোগের দাঁতভাঙা জবাব দিয়ে মেসি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ২০২২ সালের বিশ্বকাপ থেকে মাঠের লড়াইয়ে তারাই বিশ্বের সেরা দল, আর এটাই চূড়ান্ত প্রমাণিত সত্য।

    সমালোচকদের উদ্দেশে ক্ষোভ ঝেড়ে মেসি বলেন, ‘এই কথাগুলো খুব কষ্ট দেয়। গত চার বছর ধরে আমরাই বিশ্বের সেরা দল। সেটা কারও পছন্দ হোক বা না হোক। পরপর দুটো বিশ্বকাপে আমরা দেখালাম, আমরা কাকতালীয়ভাবে জিতিনি। কেউ আমাদের বাড়তি সুবিধা দেয়নি। পরপর দুটো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা সহজ নয়। এই দলটা সেটা করে দেখিয়েছে।’

    চলতি বিশ্বকাপে একের পর এক কঠিন পরিস্থিতি থেকে ম্যাচ বের করে এনেছে আর্জেন্টিনা। কিন্তু তারপরও সমালোচনা থেমে থাকেনি। মেসি মনে করেন, ইংল্যান্ডের কাছে হেরে গেলে হয়তো এই নিন্দুকরা আরও অর্বাচীনের মতো কথা বলার সুযোগ পেত। তিনি বলেন, ‘যদি আমরা ইংল্যান্ডের কাছে হেরে যেতাম, তাহলে অনেকে অর্বাচীনের মতো কথা বলত। ওদের সেই সুযোগটাই দিইনি। আমরা জানি আমরা কতটা ভালো খেলি। তাই কে কী বলল, তাতে কিছু যায়-আসে না। কিন্তু আমার মনে হয়, কিছু বলার আগে ভাবা উচিত। এমন কিছু বলা উচিত নয়, যাতে পরে আফসোস করতে হয়।’

    বিশ্বকাপের মঞ্চে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড লড়াইয়ের ঐতিহাসিক গুরুত্ব মেসির অজানা নয়। তাই ইংল্যান্ডকে হারানোর আনন্দটা অন্যসব জয়ের চেয়ে কিছুটা বেশিই। মেসি বলেন, ‘এটা বিশ্বকাপের আরও একটা ম্যাচ হলেও বাকি ম্যাচের থেকে আলাদা। সমর্থকেরা এই জয়টা চেয়েছিল। কারণ, ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার মতো আনন্দ আর কিছুতে নেই। সেটা আমরা সমর্থকদের দিতে পেরেছি।’

    মেসি আরও জানান, এই ম্যাচে তাদের হারার কোনো উপায় ছিল না। আর্জেন্টাইনদের কাছে এই হার হজম করা অসম্ভব ছিল। মেসির কথায়, ‘আর্জেন্টিনার কেউ এই ম্যাচটা হারতে চায়নি। এই হার হজম করতে পারতাম না, সেটা সকলেই জানে। তাই হয়তো আনন্দ কিছুটা বেশিই হচ্ছে। আমি জানি, গোটা আর্জেন্টিনা এখন আনন্দে লাফাচ্ছে।’

  • যেভাবে ইংল্যান্ডকে এলোমেলো করে দিলেন মেসি

    যেভাবে ইংল্যান্ডকে এলোমেলো করে দিলেন মেসি

    আর্জেন্টিনা গোল করেছে দুটি। একটি এনজো ফার্নান্দেজ, অন্যটি লাওতারো মার্তিনেজ। গোলদাতার তালিকায় তাঁর নাম নেই। তবু সবাই জানেন, সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার জয়ের নায়ক লিওনেল মেসিই।

    ম্যাচের ৫৫ মিনিট পর্যন্ত তাঁকে প্রায় আটকেই রেখেছিল ইংল্যান্ড। এরপর যা হলো, তা যেন এক খেলোয়াড়ের হাতে পুরো ম্যাচের চিত্রনাট্য বদলে যাওয়ার গল্প।

    টমাস টুখেলের দল হয়তো ম্যাচ শেষে স্কোরলাইন দেখেছে ২–১। কিন্তু মাঠের ভেতরে তারা আসলে হেরেছে একজন মেসির কাছেই।

    ক্যারিয়ারে এর আগে কখনো ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হননি মেসি। তাঁর অভিষেকের পর আর্জেন্টিনা যে একবার (২০০৫ সালে) ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছিল, সেদিন তিনি লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞায় মাঠে ছিলেন না। অবশেষে ৩৯ বছর বয়সী মেসিকে প্রথম দেখায় ইংলিশদের যে অভিজ্ঞতা হলো, এমন কিছু নিশ্চয়ই ভুলে যেতে চাইবে তারা।

    প্রথমার্ধে মেসিকে মাঝমাঠেই আটকে রেখেছিল ইংল্যান্ড। বল পেলে কয়েকটি চমৎকার টাচ দেখিয়েছেন, কিন্তু ম্যাচে তাঁর প্রভাব চোখে পড়ার মতো ছিল না। ইংল্যান্ডও খেলছিল পরিকল্পনামাফিকই। ৫৫ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়েও যায় তারা। এরপরই আসলে দিক বদলাতে শুরু করে ম্যাচের স্রোতোধারা।

    দ্বিতীয়ার্ধে মাঠের মেসির অবস্থান বদলে ফেলা হয় এএফপি

    গোল হজম করার পর আর্জেন্টিনা কোচের কৌশল না পাল্টে উপায় ছিল না। সেই কৌশলে ঝুঁকিও ছিল। লিওনেল স্কালোনি মেসিকে মাঠের ডান দিকে সরিয়ে দেন। স্কালোনির এই একটি সিদ্ধান্তই ইংল্যান্ডের পুরো রক্ষণ-পরিকল্পনা ভেঙে দেয়। ম্যাচ শেষে এমিলিয়ানো মার্তিনেজও স্বীকার করেছেন, ‘মেসিকে উইংয়ে নিয়ে আসাটাই ছিল আমাদের জন্য টার্নিং পয়েন্ট।’

    ওদিকে ইংল্যান্ড কোচ টুখেল তখন রক্ষণ আরও শক্ত করতে ডিফেন্ডার নামাতে শুরু করেন। উদ্দেশ্য ছিল এগিয়ে থাকা স্কোরলাইন ধরে রাখা। কিন্তু সেটিই বুমেরাং হয়। ইংল্যান্ড ক্রমেই নিজেদের অর্ধে গুটিয়ে যায়, আর বলে দখল বাড়ে আর্জেন্টিনার।

    এতটাই যে ৫৫ থেকে ৯২ মিনিটের মধ্যে ৮৮ শতাংশ বলই ছিল আর্জেন্টিনার দখলে। এর মধ্যে ম্যাচের ৬৬ থেকে ৮৪ মিনিট—এই ১৮ মিনিটে ইংল্যান্ডের সঠিক পাস ছিল মাত্র ২টি। দুটিই গোলকিপার জর্ডান ও পিকফোর্ড সেন্টারব্যাক জন স্টোনসের একে অপরকে দেওয়া ফিরতি পাস।

    মূলত এ সময়টাতেই ম্যাচের নাটাই নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন মেসি। বল পেলেই একজন, দুজন, কখনো তিনজন ইংলিশ ফুটবলারকে নিজের দিকে টেনে নিয়েছেন। ডান প্রান্ত থেকে কখনো ভেতরে ঢুকেছেন, কখনো বক্সের সামনে এসে জায়গা তৈরি করেছেন, আবার কখনো এমন পাস দিয়েছেন, যা পুরো ইংলিশ রক্ষণকে এলোমেলো করে দিয়েছে।

    ইংল্যান্ডের প্রথম গোলের পর মেসিই ম্যাচের নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠেন এএফপি

    পরিসংখ্যানই বলে দেয়, ইংল্যান্ড আসলে কতটা অসহায় ছিল। ম্যাচে মেসির সফল ড্রিবল ছিল ৯টি। পুরো ইংল্যান্ড দল মিলে করেছে মাত্র ৭টি। অর্থাৎ, একাই পুরো ইংল্যান্ড দলের চেয়েও বেশি ডিফেন্ডার কাটিয়েছেন তিনি।

    ইংল্যান্ডের বক্সে মেসির টাচ ছিল ৭টি, যা পুরো ইংল্যান্ড দলের সমান। গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন ৪টি, এটিও পুরো ইংলিশ দলের সমান। ম্যাচে সবচেয়ে বেশি ৯টি ক্রসও এসেছে তাঁর পা থেকেই।

    আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার, আর্জেন্টিনার দুটি গোলের পেছনেই ছিল তাঁর সরাসরি অবদান। ৮৫ মিনিটে কর্নার থেকে তাঁর পাস পেয়ে দূরপাল্লার শটে সমতা ফেরান এনজো। এরপর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে তাঁর ক্রস থেকেই হেডে জয়সূচক গোল করেন লাওতারো মার্তিনেজ।

    ইংল্যান্ডের সাবেক ডিফেন্ডার মিকা রিচার্ডস তাই বলছিলেন, ‘সে মাঠের মধ্যে হেঁটে বেড়ায়, কিন্তু বল পায়ে আসামাত্রই জ্বলে ওঠে। এখানেই তার প্রতিভা। আর এটা প্রায়ই ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেয়।’

    মেসির এই ‘হেঁটে বেড়ানো’ নিয়ে আলোচনা নতুন নয়। হাঁটতে হাঁটতেই তিনি প্রতিপক্ষের অবস্থান পড়েন, শক্তি সঞ্চয় করেন, তারপর ঠিক মুহূর্তে আঘাত করেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেটিই আবার দেখা গেল।

    আরও একবার আর্জেন্টিনার জয়োৎসবের কেন্দ্রবিন্দু লিওনেল মেসিরয়টার্স

    ইংল্যান্ডের সাবেক গোলকিপার জো হার্টের বিশ্লেষণও একই রকম, ‘আমরা মেক্সিকো আর নরওয়ের বিপক্ষে যেভাবে রক্ষণ লক করে রেখেছিলাম, সে রকমই করতে চেয়েছি। কিন্তু তাতে করে মেসি পুরোপুরি স্বাধীন হয়ে যায়। আর সেই তালা খোলার চাবি তো তাঁর কাছেই ছিল। শেষ ১৫ মিনিট সে একাই ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করেছে।’

    ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইনও স্বীকার করেছেন, মেসির কারণেই দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়েছে তাঁর দল, ‘আমরা দীর্ঘ সময় ওকে ভালোভাবেই আটকে রেখেছিলাম। কিন্তু বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে যা হয়, বল পেলেই তারা নতুন কিছু তৈরি করতে পারে। এমনি এমনি তো তিনি ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হননি।’

    সম্ভবত এটাই মেসির সবচেয়ে বড় পরিচয়।

  • আবারও সেই স্টেডিয়াম, কান্নার সেই মাঠে আরেক ফাইনালে মেসি

    আবারও সেই স্টেডিয়াম, কান্নার সেই মাঠে আরেক ফাইনালে মেসি

    এক সময় এই মাঠেই কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন লিওনেল মেসি। কণ্ঠে ছিল হতাশা। ম্যাচ শেষে ঘোষণা দিয়েছিলেন, আর্জেন্টিনার জার্সিতে আর খেলবেন না। সেই মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই প্রায় এক দশক পর আবার ফিরছেন—তবে এবার বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলতে।

    নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়াম ফুটবল ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয় ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকা সেন্টেনারিওর ফাইনালের জন্য। চিলির বিপক্ষে নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময় গোলশূন্য ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে হেরে যায় আর্জেন্টিনা। টাইব্রেকারে নিজের শটও মিস করেছিলেন মেসি।

    অবসরের কথাও বলেছিলেন। তবে সেই সিদ্ধান্ত বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। সমর্থকদের ভালোবাসা আর দেশের প্রতি দায়বদ্ধতায় কয়েক সপ্তাহ পরই জাতীয় দলে ফিরে আসেন। এরপর শুরু হয় এক নতুন অধ্যায়।

    ২০২১ সালে আর্জেন্টিনাকে ২৮ বছরের শিরোপাখরা কাটিয়ে কোপা আমেরিকা জেতান মেসি। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে পূরণ করেন আজীবনের স্বপ্ন, জেতেন বিশ্বকাপ। ২০২৪ সালে আরও একটি কোপা আমেরিকা শিরোপা যোগ হয় তার ক্যারিয়ারে। এবার আরেকটি বিশ্বকাপ।

    ভাগ্য যেন আবারও মেসিকে ফিরিয়ে এনেছে সেই মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। তবে এবার দৃশ্যপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। যে মাঠ একদিন ছিল কান্না আর হতাশার প্রতীক, সেই মাঠই এখন হতে পারে তার ক্যারিয়ারের আরেকটি সোনালি অধ্যায়ের সাক্ষী।

    বিশ্বকাপের ফাইনালে এই মাঠেই স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। যে মাঠে একদিন বিদায়ের ঘোষণা দিয়েছিলেন মেসি, সেই মাঠেই কি এবার আরেকটি বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরবেন?

  • বিশ্বকাপের ফাইনালে মেসির মুখোমুখি হওয়া নিয়ে যা বলেছিলেন ইয়ামাল

    বিশ্বকাপের ফাইনালে মেসির মুখোমুখি হওয়া নিয়ে যা বলেছিলেন ইয়ামাল

    আগামী ১৯ জুলাই ফুটবল বিশ্ব দেখতে যাচ্ছে এক রূপকথার ফাইনাল। একদিকে ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন স্পেন, অন্যদিকে কোপা আমেরিকার ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা—বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে মুখোমুখি হচ্ছে এই দুই পরাশক্তি।

    তবে এই ব্লকবাস্টার ফাইনালের মূল আকর্ষণ কেবল ট্রফি জয় নয়, বরং ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম অবিশ্বাস্য এক নিয়তি। ফুটবল ভক্তদের সব আলো এখন কেড়ে নিচ্ছেন দুই মহাতারকা: লিওনেল মেসি এবং লামিন ইয়ামাল।

    আর্জেন্টিনার এই জীবন্ত কিংবদন্তির সঙ্গে ফুটবলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠে নামার স্বপ্ন দেখতেন ইয়ামাল। অবশেষে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় মঞ্চে বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে সেই স্বপ্ন।

    সম্প্রতি মেসির মুখোমুখি হওয়া প্রসঙ্গে জনপ্রিয় স্পোর্টস প্ল্যাটফর্ম ডেজন-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইয়ামাল হাসিমুখে বলেছিলেন, ‘আমি একটু বড় হয়েছি, আর লিও-ও (অভিজ্ঞতায়) বেড়েছে। আশা করি আমি একটি ফাইনালে তার মুখোমুখি হতে পারব, বিশেষ করে যেহেতু আমাদের মধ্যে ফিনালিসিমা ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত মাঠে গড়ায়নি।’

    অবশেষে ইয়ামালের সেই স্বপ্নই সত্যি হতে যাচ্ছে। ফুটবল অমরত্বের লড়াইয়ে মেসিরই মুখোমুখি দাঁড়াতে যাচ্ছেন এই স্প্যানিশ পোস্টারবয়।

    আগামী রোববার (১৯ জুলাই) ফাইনালের মহারণে এই দুজন মুখোমুখি হবেন একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে। একদিকে মেসির সামনে তার সোনালী ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরার হাতছানি, অন্যদিকে তরুণ ইয়ামালের সামনে বিশ্বজয়ের মঞ্চে নিজেকে নতুন রাজা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ। ফুটবলের এই মহাকাব্যিক লড়াইয়ের অপেক্ষায় এখন পুরো বিশ্ব।

  • মেসির রেটি ৯, স্কালোনির কেন ১০?

    মেসির রেটি ৯, স্কালোনির কেন ১০?

    বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে শ্বাসরুদ্ধকর এক লড়াই উপহার দিল আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। আটলান্টার মার্সিডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়ামে বুধবার রাতে পিছিয়ে পড়েও ২-১ গোলের জয়ে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা উঠে গেল ফাইনালে। শিরোপা লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ স্পেন। কোচ লিওনেল স্কালোনির অসাধারণ ট্যাকটিকস আর লিওনেল মেসির জাদুকরীয় ফুটবলে টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জয়ের দ্বারপ্রান্তে আর্জেন্টিনা। ম্যাচ শেষে বিশ্লেষকদের দেওয়া রেটিংয়ে স্কালোনি পেয়েছেন পূর্ণ ১০ এবং মেসি পেয়েছেন ৯। কিন্তু কেন?

    শুরুতেই দেখে নেওয়া যাক ইএসপিএনের বিশ্লেষকেরা আর্জেন্টিনা দলকে কেমন রেটিং দিয়েছেন:

    এমিলিয়ানো মার্তিনেস (৬/১০): খুব বেশি পরীক্ষা দিতে হয়নি, তবে দায়িত্বশীল ছিলেন।

    নিকোলাস তাগলিয়াফিকো (৬/১০): রক্ষণে নিজের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আক্রমণেও সহায়তা করেছেন।

    লিসান্দ্রো মার্তিনেস (৬/১০): বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ট্যাকল করেছেন।

    ক্রিস্টিয়ান রোমেরো (৬/১০): রক্ষণভাগে ছিলেন বেশ সতর্ক।

    নাহুয়েল মলিনা (৩/১০): ইংল্যান্ডের গোলটির সময় তার ভুলই কাল হয়ে দাঁড়ায়।

    এনজো ফার্নান্দেস (৮/১০): দলের প্রয়োজনে দুর্দান্ত এক গোল করে ম্যাচে ফেরান আর্জেন্টিনাকে।

    আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার (৭/১০): মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ছিল তার হাতে।

    লেয়ান্দ্রো পারেদেস (৫/১০): মাঝমাঠে শারীরিক শক্তিতে ভূমিকা রেখেছেন।

    জুলিয়ানো সিমিওনে (৫/১০): প্রেস করার কাজটা ভালো করলেও প্রথমার্ধের পরেই বদলি হন।

    হুলিয়ান আলভারেস (৬/১০): দলের হয়ে সুযোগ তৈরি করেছিলেন, তবে গোল পাননি।

    লিওনেল মেসি (৯/১০): ৩৯ বছর বয়সেও বিশ্বকাপের মঞ্চে তিনি যেন অজেয়। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে তার বাঁ পায়ের জাদুকরী ক্রস থেকেই জয়সূচক গোলটি আসে। ৩৯ বছর বয়সেও তিনি যেভাবে পুরো দলকে এক সুঁতায় গেঁথেছেন, তা এক কথায় বিস্ময়কর। ম্যাচের প্রথমার্ধে যখন আর্জেন্টিনা ধুঁকছিল, তখন মেসি নিজেই নিচে নেমে আসেন। ইংল্যান্ডের শক্তিশালী ডিফেন্সিভ ব্লকের ফাঁকফোকর খুঁজে বের করার কাজটি তিনিই করেছেন। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে তার সেই অসাধারণ ক্রস থেকে লাউতারো মার্টিনেসের জয়সূচক গোল। এটিই প্রমাণ করে, বড় মঞ্চে মেসি কেন এখনো অপ্রতিদ্বন্দ্বী। গোল না পেলেও খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া অ্যাসিস্ট ও তার উপস্থিতি আর্জেন্টিনার জন্য ছিল মহাগুরুত্বপূর্ণ।

    লিওনেল স্কালোনি (১০/১০): আর্জেন্টাইন মাস্টারমাইন্ড লিওনেল স্কালোনিকে দশে দশ দিয়েছেন ইএসপিএনের বিশ্লেষকেরা। এর মূল কারণ তার তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা। ইংল্যান্ড যখন এগিয়ে গিয়েছিল, তখন স্কালোনি ঘাবড়ে যাননি। তার সাবস্টিটিউশনগুলো ছিল নিখুঁত। ৭২ মিনিটে মলিনা ও পারেদেসকে তুলে নিয়ে রদ্রিগো ডি পল ও গঞ্জালো মনতিয়েলকে নামানো ছিল টার্নিং পয়েন্ট। এই পরিবর্তনের ফলেই আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগ আরও ধাঁরালো হয়ে ওঠে এবং ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগ চাপে পড়ে যায়। তাছাড়া সঠিক সময়ে লাউতারোকে নামিয়ে ম্যাচ বের করে আনেন। কোচ হিসেবে স্কালোনি দেখিয়েছেন পরিস্থিতি বুঝে কীভাবে ছক পরিবর্তন করে জয় ছিনিয়ে আনতে হয়।

    প্রশ্ন আসতে পারে, স্কালোনিকে কেন মেসির চেয়েও বেশি রেটিং দেওয়া হলো? বিশ্লেষকরা বলছেন, স্কালোনির ১০ পাওয়ার কারণ তার নির্ভুল গেম প্ল্যান ও প্লেয়ার পরিবর্তন। অন্যদিকে মেসির ৯ পাওয়ার কারণ তার একক ম্যাজিক। ফুটবল ইতিহাসে এমন অনেক ম্যাচ দেখা গেছে যেখানে দুর্দান্ত কৌশল থাকা সত্ত্বেও শেষ মুহূর্তে খেলোয়াড়দের ব্যর্থতায় জয় আসে না। আবার অনেক সময় খেলোয়াড়রা ভালো খেললেও ভুল কৌশলের কারণে দল হারে। আটলান্টায় এই দুইয়ের মহামিলন ঘটেছে। স্কালোনি ছক এঁকেছেন, আর মেসি সেই ছক অনুযায়ী দলের জয় নিশ্চিত করেছেন। নিজে গোল না পেলেও রেখেছেন গোল অবদান।

    ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার আগে আর্জেন্টিনা কোচ ও অধিনায়ক যে ফর্মে আছেন, তাতে আর্জেন্টাইন সমর্থকরা স্বপ্ন দেখছেন আরও একটি বিশ্ব জয়ের। মেসি কি পারবেন ফাইনালে নিজের রেটিং ১০-এ নিয়ে যেতে? উত্তর মিলবে ১৯ জুলাই।

  • ফাইনালে স্পেনের প্রতিপক্ষ কে? জানাল সুপারকম্পিউটার

    ফাইনালে স্পেনের প্রতিপক্ষ কে? জানাল সুপারকম্পিউটার

    ডালাসের মাঠে ফরাসিদের দাপটের সাথে বিদায় করে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে পা রেখেছে স্পেন। গত রাতে প্রথম সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। ফাইনালে স্প্যানিশ আর্মাডাদের প্রতিপক্ষ কে হচ্ছে, তা জানতে ফুটবল বিশ্বকে অপেক্ষা করতে হবে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা।

    আজ বুধবার দিবাগত রাত ১টায় আটলান্টায় দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। এই ম্যাচের জয়ী দলই আগামী রোববার নিউ ইয়র্কের ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই বিশ্বখ্যাত ডাটা অ্যানালিটিক্স প্রতিষ্ঠান ‘অপটা’র সুপারকম্পিউটার হিসাব কষে জানিয়েছে, ফাইনালে স্পেনের সঙ্গী হওয়ার দৌড়ে আসলে কারা এগিয়ে। প্রথম সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ফেভারিট ঘোষণা করলেও সুপার কম্পিউটারের সেই পূর্বাভাস মাঠে ভুল প্রমাণিত হয়েছে। ফরাসিদের বিদায় দিয়ে ফাইনালে উঠে গেছে স্পেন।

    ফরাসি জুজু কাটার পর এবার আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচ নিয়ে পূর্বাভাস দিল অপটা’র সুপারকম্পিউটার। অপটার ২৫,০০০ প্রাক-ম্যাচ সিমুলেশনের গাণিতিক হিসাব অনুযায়ী, বর্তমান ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার চেয়ে ফাইনালে ওঠার দৌড়ে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে থমাস টুহেলের ইংল্যান্ড। ইংল্যান্ডের ফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা ৫২.৫৩ শতাংশ, অন্যদিকে আর্জেন্টিনার ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা ৪৭.৪৭ শতাংশ।

    পরিসংখ্যান বলছে, থ্রি লায়ন্সদের লড়াকু ফুটবল আর ট্যাকটিক্যাল শক্তির কারণে লিওনেল মেসির দলের টানা দ্বিতীয়বার ফাইনাল খেলার স্বপ্ন আজ রাতে বড় বাধার মুখে পড়তে পারে।

    প্রথম দল হিসেবে ফাইনালে পা রাখার পর ট্রফি জয়ের দৌড়েও পরিবর্তন এসেছে। সুপার কম্পিউটারের সর্বশেষ অ্যালগরিদম অনুযায়ী, তিন সিংহের দল কিংবা আলবিসেলেস্তেরা যারাই ফাইনালে উঠুক না কেন, শিরোপা জয়ের জন্য এখন সবচেয়ে বড় ফেভারিট স্পেন। অপটার হিসাব মতে, স্পেনের দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা এখন ৫৬.১৫ শতাংশ।

  • বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর ফ্রান্সে উত্তেজনা, গ্রেফতার কমপক্ষে ১৬০

    বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর ফ্রান্সে উত্তেজনা, গ্রেফতার কমপক্ষে ১৬০

    বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে বিদায় নেওয়ার পর ফ্রান্সের একাধিক শহরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ম্যাচ শেষে প্যারিস ও লিওঁসহ কয়েকটি এলাকায় সমর্থকদের একাংশের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অভিযান চালিয়ে দুই শহর মিলিয়ে ১৬০ জনের বেশি ব্যক্তিকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

    ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘বিএফএমটিভি’ জানিয়েছে, শুধু রাজধানী প্যারিস থেকেই ১৪১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ প্রিফেকচারের তথ্যমতে, বেশির ভাগ গ্রেফতারের কারণ ছিল পুলিশ সদস্য ও জরুরি সেবাকর্মীদের লক্ষ্য করে আতশবাজির মর্টার ছোড়া।

    অন্যদিকে, লিওঁর প্লাস বেলকুর চত্বরে বড় পর্দায় শত শত সমর্থক সেমিফাইনাল উপভোগ করেন। ম্যাচ শেষ হওয়ার পরও সেখানে অনেকেই অবস্থান করছিলেন। পরে কয়েকটি ছোট দল নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে বিভিন্ন বস্তু, বিশেষ করে আতশবাজি নিক্ষেপ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

    পরিস্থিতি সামাল দিতে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ ইউনিট সিআরএস ৮৩-এর সহায়তা নেয় পুলিশ। পরে যৌথ অভিযানে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করা হয় এবং প্রায় ২০ জনকে আটক করা হয়। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের বেশির ভাগই ২০০২ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া তরুণ।

    তবে পুরো ঘটনায় স্বস্তির খবরও রয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংঘর্ষের সময় কোনো গুরুতর আহতের ঘটনা ঘটেনি। পাশাপাশি সরকারি বা বেসরকারি সম্পদের উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির খবরও এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।