জাতীয় সংসদ

  • ২৩তম রাষ্ট্রপতি হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

    ২৩তম রাষ্ট্রপতি হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

    দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হলেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ভোট পেয়েছেন ২৫৫টি।

    বিস্তারিত আসছে…

  • রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে বৈঠকে সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে বৈঠকে সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সামনে রেখে বৈঠকে বসেছেন সরকারি দল বিএনপির সংসদ সদস্যরা। বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের নবম তলায় সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বিএনপির সংসদীয় দলের সভা শুরু হয়।

    প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ তথ্য জানিয়েছেন। সংসদীয় দলের এ বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও উপস্থিত রয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সংসদ সভা কক্ষে ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দুপুর ২টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হবে। ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

    দীর্ঘ ৩৫ বছর পর এবারই প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

    এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপি ও সমমনা দলের মনোনীত প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    অপর প্রার্থী হয়েছেন জামায়াতসহ ১১ দলীয় ঐক্য জোটের প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমেদ।

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মোট ভোটারের সংখ্যা ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য।

    সর্বশেষ ১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর সংসদ সভা কক্ষে রাষ্ট্রপতি পদে ভোটগ্রহণ হয়েছিল। ওই সময়ে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন আব্দুর রহমান বিশ্বাস এবং আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) প্রার্থী ছিলেন বদরুল হায়দার চৌধুরী।

    ১১তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বদরুল হায়দার চৌধুরীকে ৯২ ভোটে পরাজিত করে ১১তম রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন আব্দুর রহমান বিশ্বাস। তিনি পেয়েছিলেন ১৭২ ভোট।

  • সরোয়ার আলমগীরের এমপি পদ চ্যালেঞ্জ করে জামায়াত প্রার্থীর লিভ টু আপিল

    সরোয়ার আলমগীরের এমপি পদ চ্যালেঞ্জ করে জামায়াত প্রার্থীর লিভ টু আপিল

    চট্টগ্রাম-২ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেছেন জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমীন।

    নুরুল আমীনের আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, লিভ টু আপিলের আবেদনে হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিতের আবেদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সরোয়ার আলমগীর যাতে সংসদ অধিবেশনে অংশ নিতে না পারেন, সে জন্যও নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়েছে।

    এর আগে গত ৯ জুলাই বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন। ওই দিনই তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন।

    চট্টগ্রাম-২ আসনে সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা রিটার্নিং কর্মকর্তা বৈধ ঘোষণা করার পর ঋণখেলাপির অভিযোগ তুলে তার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমীন।

    বিষয়টি নিয়ে শুনানি শেষে গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত দেয়। পরে নির্বাচন কমিশনের ওই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন সরোয়ার আলমগীর।

    এর ধারাবাহিকতায় গত ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট নির্বাচন কমিশনের দেওয়া প্রার্থিতা বাতিলের আদেশ স্থগিত করেন। পরবর্তী সময়ে চূড়ান্ত রায়ে সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।

    হাইকোর্টের সেই রায়ের বিরুদ্ধেই এবার সর্বোচ্চ আদালতে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে লিভ টু আপিল করেছেন জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমীন।

  • সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরু ২৭ আগস্ট

    সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরু ২৭ আগস্ট

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরু হচ্ছে ২৭ আগস্ট থেকে। ওই দিন বেলা ৩টা থেকে অধিবেশন আহ্বান করেছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

    মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, বাংলাদেশের সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি (ভারপ্রাপ্ত) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ২৭ আগস্ট রোজ বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় সংসদ কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন আহ্বান করেছেন।

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন গত ১৫ জুলাই শেষ হয়েছিল।

  • সংরক্ষিত নারী এমপিদের পছন্দের আসন দিতে আইন করছে সরকার

    সংরক্ষিত নারী এমপিদের পছন্দের আসন দিতে আইন করছে সরকার

    জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যদের নির্দিষ্ট নির্বাচনী এলাকা নেই। তবে এবার তাঁদের এক বা একাধিক সাধারণ সংসদীয় আসনে ‘উন্নয়ন কার্যক্রমে ভূমিকা’ রাখার আইনি পথ তৈরি করতে যাচ্ছে সরকার। এমন উদ্যোগকে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য বলছেন বিশেষজ্ঞ।

    আইনি পথ তৈরির লক্ষ্যে ‘জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইন, ২০০৪’ সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশোধনের খসড়া তৈরি করা হয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ‘জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ শিরোনামের এই খসড়া আইন মন্ত্রণালয় থেকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিলে তা দ্রুত সংসদে উত্থাপন করা হবে।

    লোকপ্রশাসন–বিশেষজ্ঞ ও সংসদবিষয়ক গবেষক অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমেদ দেশের একটি জাতীয় গণমাধ্যমেকে বলেন, উন্নয়ন কার্যক্রমে ভূমিকা রাখার কথা বলে এমন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য। এটি সংসদ সদস্যদের কাজই নয়। তা ছাড়া সংরক্ষিত নারী সদস্যরা কোনো নির্দিষ্ট এলাকার মানুষের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন না। তাঁদের নির্বাচনী এলাকা নেই—এটি জেনেই দলগুলো তাঁদের মনোনয়ন দিয়েছে। এখন আইন করে তাঁদের জন্য এক বা একাধিক সাধারণ আসনে দায়িত্ব দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। এটি বিদ্যমান প্রতিনিধিত্ব–ব্যবস্থাকে আরও দুর্বল করবে এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য হুমকি হয়ে উঠবে।

    খসড়ায় বিদ্যমান আইনের ২৬–এর পর নতুন ধারা ২৬ক সংযোজনের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, সাধারণ আসনে নির্বাচিত সদস্যদের জন্য নির্ধারিত সংসদীয় এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রমে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যের ভূমিকা রাখার লক্ষ্যে দায়িত্ব–কার্যাবলি বণ্টন করা যাবে। এক বা একাধিক সাধারণ আসন (কার্যক্ষেত্র) নির্ধারণ করবে তাঁর দল বা জোট। আর দায়িত্ব–কার্যাবলি ঠিক করবেন তাঁর দল বা জোটের সংসদীয় দলের প্রধান।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, উদ্যোগটির পটভূমিতে রয়েছে বিরোধী দলের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের আসনে ক্ষমতাসীন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যদের দায়িত্ব দেওয়া নিয়ে তৈরি হওয়া সাম্প্রতিক বিতর্ক।

    এ বিতর্কের জেরে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়, নির্বাচনী এলাকা না থাকায় সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যদের কাজের ক্ষেত্র ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বিরোধী দলের নেতারা বলেন, এতে সরাসরি নির্বাচিত বিরোধী সংসদ সদস্যদের কাজে হস্তক্ষেপের পাশাপাশি সমন্বয়হীনতা ও রাজনৈতিক সংঘাত তৈরি হতে পারে।

    উন্নয়ন কার্যক্রমে ভূমিকা রাখার কথা বলে এমন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য। এটি সংসদ সদস্যদের কাজই নয়।

    অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমেদ, লোকপ্রশাসন–বিশেষজ্ঞ

    আসন ঠিক করে স্পিকারকে জানাবে দল–জোট

    খসড়া অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচিত কোনো সদস্যের নাম সরকারি গেজেটে প্রকাশের পর যেকোনো সময় তাঁর এই দায়িত্ব বণ্টন করা যাবে। যে দল বা জোটের আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে তিনি নির্বাচিত হয়েছেন, সেই দল বা জোট তাঁর কার্যক্ষেত্র হিসেবে এক বা একাধিক সাধারণ আসন নির্ধারণ করবে। এরপর তা লিখিতভাবে স্পিকারকে জানাবে।

    এ ক্ষেত্রে স্পিকারের অনুমোদন নেওয়ার কথা নেই খসড়ায়। তাঁকে কেবল ‘অবহিত’ করার বিধান রাখা হয়েছে। অর্থাৎ সংরক্ষিত নারী সদস্যের জন্য সাধারণ আসন নির্ধারণের সিদ্ধান্ত তাঁর দল বা জোটের নেতৃত্বের হাতেই থাকবে।

    খসড়া অনুযায়ী, সাধারণ আসনে ‘উন্নয়ন কার্যক্রমে ভূমিকা’ রাখার ক্ষেত্রে সংরক্ষিত নারী সদস্যের সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব ও কার্যাবলি ঠিক করবেন তাঁর দল বা জোটের সংসদীয় দলের প্রধান।

    স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে নির্বাচিত সংরক্ষিত নারী সদস্যের ক্ষেত্রে সাধারণ আসন নির্ধারণসহ দায়িত্ব কীভাবে ঠিক হবে, তা উল্লেখ আছে খসড়ায়।

    জাতীয় সংসদ অধিবেশন কক্ষ ফাইল ছবি

    প্রস্তাবে বলা হয়েছে, নির্দলীয় জোটভুক্ত স্বতন্ত্র সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠের লিখিত প্রস্তাবের ভিত্তিতে সংরক্ষিত নারী সদস্যের কার্যক্ষেত্র হিসেবে এক বা একাধিক সাধারণ আসন নির্ধারণ করবেন স্পিকার। স্বতন্ত্র সদস্যদের মধ্যে ঐকমত্য না থাকলে সংরক্ষিত নারী সদস্য নিজেই তাঁর পছন্দের আসন উল্লেখ করে স্পিকারের কাছে আবেদন করবেন। আবেদনসহ সংশ্লিষ্ট বিষয় বিবেচনা করে স্পিকার যে সিদ্ধান্ত দেবেন, তা চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।

    প্রস্তাব অনুযায়ী, সাধারণ আসনে নির্বাচিত সদস্যদের জন্য নির্ধারিত সংসদীয় এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রমে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যের ভূমিকা রাখার লক্ষ্যে দায়িত্ব–কার্যাবলি বণ্টন করা যাবে। এক বা একাধিক সাধারণ আসন (কার্যক্ষেত্র) নির্ধারণ করবে তাঁর দল বা জোট। আর দায়িত্ব–কার্যাবলি ঠিক করবেন তাঁর দল বা জোটের সংসদীয় দলের প্রধান।

    খসড়ায় বলা হয়েছে, সংরক্ষিত নারী সদস্যের জন্য এমন কার্যক্ষেত্র নির্ধারণের কারণে সংবিধানের ৬৫(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সরাসরি নির্বাচিত সংসদ সদস্যের দায়িত্ব ও অধিকার কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন হবে না।

    কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর নেই

    একজন সংরক্ষিত নারী সদস্যকে সর্বোচ্চ কতটি সাধারণ আসনের দায়িত্ব দেওয়া যাবে, তা খসড়ায় নির্দিষ্ট করা হয়নি।

    কোনো দল বা জোট কেবল নিজেদের জেতা সাধারণ আসন থেকে সংরক্ষিত নারী সদস্যের কার্যক্ষেত্র বেছে নেবে কি না, তার উল্লেখও খসড়ায় নেই।

    ফলে ক্ষমতাসীন দল বিরোধী দলের জেতা আসন, আর বিরোধী দল ক্ষমতাসীন দলের জেতা আসন নিজেদের সংরক্ষিত নারী সদস্যের জন্য বেছে নিতে পারবে কি না, খসড়ায় তা বলা হয়নি।

    আবার একাধিক দল বা জোট নিজেদের সংরক্ষিত নারী সদস্যকে একটি (একই) সাধারণ আসনের দায়িত্ব দিলে কী হবে কিংবা কীভাবে বিরোধ মিটবে, সে বিষয়ে খসড়ায় কোনো বিধান নেই।

    আইন সংশোধনের লক্ষ্য হিসেবে সাধারণ সংসদীয় আসনে ‘উন্নয়ন কার্যক্রমে’ সংরক্ষিত নারী সদস্যদের ‘ভূমিকার’ কথা উল্লেখ করা হয়েছে খসড়ায়। কিন্তু এই ‘ভূমিকার’ মধ্যে কী কী বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে, তা স্পষ্ট নয়।

    সংশ্লিষ্ট দল বা জোটের সংসদীয় দলের প্রধান সংরক্ষিত নারী সদস্যের দায়িত্ব–কার্যাবলি ঠিক করবেন বলা হলেও এই ক্ষমতার সীমা খসড়ায় নির্ধারণ করা হয়নি।

    একই সংসদীয় এলাকায় দুজন সদস্যের (সরাসরি নির্বাচিত ও সংরক্ষিত) ‘উন্নয়ন কার্যক্রম’–সংক্রান্ত ভূমিকা কীভাবে আলাদা হবে, তার কোনো কার্যপদ্ধতি খসড়ায় নেই। ফলে মাঠপর্যায়ে ক্ষমতার বিরোধ ও সমন্বয়ের জটিলতার আশঙ্কা থাকছে।

    ক্ষমতাসীন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যদের সম্প্রতি বিভিন্ন সংসদীয় আসনের দায়িত্ব দেওয়া হয় ফাইল ছবি

    এখনকার ব্যবস্থায় যা আছে

    সংবিধানের ৬৫(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, একক আঞ্চলিক নির্বাচনী এলাকাগুলো থেকে জনগণের সরাসরি ভোটে ৩০০ জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। আর ৬৫(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদে নারীদের জন্য ৫০ আসন সংরক্ষিত রয়েছে। তাঁরা নির্বাচিত হন সাধারণ আসনের সদস্যদের ভোটে।

    ‘জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইন, ২০০৪’–এ সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টনের পদ্ধতি বলা আছে। সংসদে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতির ভিত্তিতে দল ও জোটের মধ্যে এই ৫০ আসন বণ্টন করা হয়। প্রতি ছয়জন সাধারণ সদস্যের বিপরীতে একটি সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন হয়।

    সে অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বিএনপি জোট ৩৬টি, জামায়াত জোট ১৩টি ও স্বতন্ত্ররা মিলে ১টি সংরক্ষিত নারী আসন পেয়েছে।

    এই সদস্যরা আইন প্রণয়ন, সংসদীয় বিতর্ক, সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে কাজ করাসহ সাধারণ সদস্যদের মতো দায়িত্ব পালন করেন। তাঁদের বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ–সুবিধাও সাধারণ সদস্যদের সমান।

    সরকার–বিরোধীপক্ষের মতভেদ কোথায়

    গত মাসের শুরুতে বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠকে বিরোধী দলের সদস্যদের ৭৯টি আসনে উন্নয়ন তদারকি ও রাজনৈতিক সমন্বয়ের জন্য দলটির সংরক্ষিত নারী সদস্যদের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কোনো নারী সদস্যকে একটি বা দুটি, কাউকে আবার সর্বোচ্চ চারটি আসন এবং কয়েকজনকে পুরো জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়। জামায়াত, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলন ও বিএনপির সঙ্গে না থাকা স্বতন্ত্র সদস্যের আসনও এই বণ্টনের মধ্যে আছে।

    এ সিদ্ধান্তের পেছনে যুক্তি হিসেবে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়, সরাসরি নির্বাচিত সদস্যের যেমন এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখার অধিকার আছে, সংরক্ষিত নারী সদস্যদেরও তেমন অধিকার আছে।

    অন্যদিকে এ সিদ্ধান্তের পর জামায়াত ও এনসিপির পক্ষ থেকে বলা হয়, এটি নির্বাচনী এলাকায় অনর্থক সংঘাত তৈরি করবে। এই সিদ্ধান্তকে ‘অগণতান্ত্রিক ও বৈষম্যমূলক আচরণ’ হিসেবে অভিহিত করে তারা।

    বিশ্লেষকেরা বলছেন, প্রস্তাবিত সংশোধনী পাস হলে শুধু বিএনপি নয়, জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটও নিজেদের সংরক্ষিত নারী সদস্যদের এক বা একাধিক সাধারণ আসনে দায়িত্ব দিতে পারবে। তবে সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যের কাজ কী হবে, একজন কতটি আসনে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন, তা নির্দিষ্ট করে না দিলে বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে।

    অতীতে একই আসনে সাধারণ ও সংরক্ষিত নারী সদস্যদের মধ্যে বিরোধ দেখা গেছে। এমনকি এই বিরোধ সংঘাত–সংঘর্ষেও রূপ নিয়েছিল।

    সরাসরি নির্বাচিত একজন সদস্যের এলাকায় আরেকজন সংরক্ষিত নারী সদস্যকে ‘উন্নয়নকাজের’ দায়িত্ব দিয়ে বসিয়ে দিলে দ্বন্দ্ব অনিবার্য বলে মন্তব্য করেন লোকপ্রশাসন–বিশেষজ্ঞ ও সংসদবিষয়ক গবেষক অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, সে ক্ষেত্রে ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, বরাদ্দ, সুপারিশের মতো বিষয়গুলো নিয়ে টানাটানি হবে। ক্ষমতাসীন দলের সংরক্ষিত নারী সদস্যকে বিরোধী দলের জেতা আসনে দায়িত্ব দেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও ভয়ংকর হবে। এটি সরকার ও বিরোধী দলের সহযোগিতার জায়গা নষ্ট করবে। এ আইন করা হলে বিরোধ ও বিশৃঙ্খলা আরও বাড়বে।

  • পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে সরকার বদ্ধপরিকর: প্রধানমন্ত্রী

    পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে সরকার বদ্ধপরিকর: প্রধানমন্ত্রী

    দেশের পূুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে সরকার বদ্ধপরিকরবলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) এসকে আজিজুল বারীর তারকা চিহ্নিত এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান তিনি। আজিজুল বারীর অনুপস্থিতিতে প্রশ্নটি সংসদে উত্থাপন করেন পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেন।

    আজ ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু। দিনের কর্মসূচিতে প্রথম ৩০ মিনিট প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্ব ছিল। এই সময়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী চারজন সংসদ সদস্য তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন এবং নয়জন সংসদ সদস্যের সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার শেয়ার মার্কেটের (পুঁজিবাজার) স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনাসহ বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারের জন্য বদ্ধপরিকর। সরকার ইতোমধ্যে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতে সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, পণ্যের বৈচিত্রকরণের মাধ্যমে বাজারের গভীরতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ শিক্ষার প্রসার ইত্যাদির মাধ্যমে উন্নত ও টেকসই পুঁজিবাজার গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। মাননীয় স্পিকার আপনি যদি গতকাল বা আজকের পত্র-পত্রিকা খেয়াল করে দেখেন, দেখবেন যে, ধীরে ধীরে পুঁজিবাজার অবস্থার পরিবর্তন করছে এবং এটি ভালো করছে ধীরে ধীরে।’

    সংসদে সরকারের নেওয়া অগ্রাধিকার ১৭ দফা কর্মসূচি তুলে ধরেন তারেক রহমান। এগুলো হচ্ছে, বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতে সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে পুঁজিবাজার বিষয়ে দক্ষ এবং অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একজন চেয়ারম্যান ও তিনজন কমিশনারকে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে নিয়োগ প্রদান, নতুন কমিশন দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই বাজারে বিদ্যমান ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার, লাভজনক সরকারি মালিকাধীন কোম্পানিসমূহের শেয়ার স্টক এক্সচেঞ্জে অফলোডের মাধ্যমে সরাসরি তালিকাভুক্তিকরণে উদ্বুদ্ধ করা, বহুজাতিক কোম্পানিসহ উচ্চ মূলধনসম্পন্ন কোম্পানিসমূহের শেয়ার ও স্টক এক্সচেঞ্জে অফলোডের মাধ্যমে সরাসরি তালিকাভুক্তিকরণের সুযোগ সৃষ্টি করা, এসএমই কোম্পানিসহ ভালো মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানিসমূহকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করা,পুঁজিবাজার কারসাজি বন্ধে অনিয়ম সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ ও প্রদানকারীর প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ও উৎসাহ প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা, তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও বাজার মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের হিসাব নিরীক্ষা, উপর্যুক্ত অডিটরের মাধ্যমে নিরীক্ষার নিমিত্তে নীতিমালা প্রণয়ন করা, ফরেন পোর্টফলিও ইনভেস্টমেন্ট অনবোর্ডিং পোর্টাল চালু, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে সংশ্লিষ্ট বিধি-বিধান সংস্কার, ওয়ান স্টপ সিকিউরিটিজ কাস্টডিয়ান সার্ভিস চালু, ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স হ্রাসকরণ, লভ্যাংশ আয়ে দ্বৈত কর বাতিল এবং বিও অ্যাকাউন্ট খোলা ও মূলধন প্রত্যাবসান প্রক্রিয়া ডিজিটাল করা, পুঁজিবাজার সংক্রান্ত বিশেষ ট্রাইব্যুনালে সরাসরি মামলা দায়ের সংক্রান্ত বিধান সিকিউরিটিজ আইনে অন্তর্ভুক্ত করা, পূঁজিবাজারের সংস্কারকল্পে একটি ‘পুঁজিবাজার সংস্কার কমিশন’ এবং অনিয়ম তদন্তে একটি বিশেষ তদন্ত কমিশন গঠন করা,পুঁজিবাজারে ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহার করে মার্কেট ও পণ্য উভয়ই সম্প্রসারিত করা, ই-কেওয়াইসি এর মাধ্যমে অনলাইন ও মোবাইল ভিত্তিক বিও হিসাব খোলা ও ট্রেডিং সুবিধা চালু করা, বিনিয়োগবান্ধব ও যুক্তিসঙ্গত করনীতি প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া।

    পদক্ষেপের মধ্যে আরও রয়েছে, ব্যাংক ও এমএফএস এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাবে টাকা জমা ও উত্তোলনের সুবিধা প্রদান করা.এআইভিত্তিক শক্তিশালী নজরদারির মাধ্যমে বাজারের অনিয়ম ও জালিয়াতির সাথে জড়িতদের দ্রুত শনাক্তকরণ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ চলমান রাখা, তালিকাভুক্ত ইস্যুয়ার কোম্পানিসমূহে সুশাসন জোরদারকরণে সমন্বিত গ্রাহক হিসাবে অর্জিত সুদ আয়ের অংশ বিশেষ বিনিয়োগকারী সুরক্ষা তহবিলে জমা করার বিধান প্রণয়ন করা, আইনকানুন যুগোপযোগী করার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের সম্পদ আরও সুরক্ষিত কর এবং সরকারী সিকিউরিটিজসমূহের (ট্রেজারি বন্ড, ট্রেজারি বিল ও সরকারি সুকুক) এর লেনদেন স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে নিষ্পন্ন করার মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অন্তর্ভুক্ত করা।

    বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে পূঁজিবাজারে ধসের কারণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের শেয়ারবাজারের ধারাবাহিক পতনের কারণ উদ্‌ঘাটনের লক্ষ্যে বিভিন্ন সময় বিশেষজ্ঞ, বিনিয়োগকারী সংগঠন এবং বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। পরিচালিত কার্যক্রমে শেয়ার বাজারের ধারাবাহিক পতনের পেছনে কারণগুলো ছিল বাজার কারসাজি ও কৃত্রিমভাবে শেয়ারের দাম বাড়ানো-কমানো,কিছু কোম্পানির আইপিও, বন্ড ও অন্যান্য ইস্যুতে অনিয়ম,নিয়ন্ত্রক সংস্থার দীর্ঘমেয়াদী দুর্বল তদারকি এবং সময়মতো ব্যবস্থা না নেওয়া।’

    তিনি বলেন, ‘কর্পোরেট সুশাসনের ঘাটতি ও আর্থিক তথ্যের স্বচ্ছতার অভাব,প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সীমিত অংশগ্রহণ এবং বাজারে আস্থার সংকট,নীতিগত অসঙ্গতি ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও পুঁজিবাজার বান্ধব করনীতির অভাব ইত্যাদি ।’

    এই ব্যাপারে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শেয়ার মার্কেটের ধারাবাহিক পতন ঘটিয়ে হাজার হাজার বিনিয়োগকারীদের নিঃস্ব করার জন্য যারা দায়ী তাদের চিহ্নিত করাসহ তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে শেয়ার মার্কেট কেলেঙ্কারির অভিযোগ দুদক কর্তৃক অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। যার প্রেক্ষিতে কতিপয় ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে মামলাসহ তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘শেয়ার মার্কেট কেলেঙ্কারির সাথে আরো অন্যান্য ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান জড়িত কিনা তা উদ্‌ঘাটনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে শেয়ার মার্কেট কারসাজি, অনিয়ম ও দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন কর্তৃক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ১ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়েছে। এছাড়া দায়ী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের চিহ্নিতকরণে গঠিত তদন্ত কমিটির গঠন ও প্রদত্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে প্রেরণ করা হয়েছে।’

    ‘চট্টগ্রাম পূঁজিবাজারও শক্তিশালী করা হবে’

    সংসদ সদস্য সরোয়ার জামাল নিজামের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই সরকারের অন্যতম একটি মূল লক্ষ্যই হচ্ছে সমাজে বা দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেখানে যেখানে বৈষম্য আছে যার জন্য মানুষ বিভিন্নভাবে ডিপ্রাইভ হচ্ছে সেই বৈষম্যকে দূর করা এবং পুঁজিবাজারের পুঁজিবাজারের ক্ষেত্রেও এই বিষয়টি প্রযোজ্য। আমি একটু আগে মূল প্রশ্নের উত্তরে আমি বলেছিলাম যে, আমরা কয়েকজন বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিকে দায়িত্ব দিয়েছি, তাদেরকে নিযুক্ত করা হয়েছে এবং অবশ্যই আমরা আশা করি যে তারা আমাদেরকে সঠিক পরামর্শ দেবেন। যার ভিত্তিতে শুধু ঢাকা নয়, চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জকেও আমরা ইনশাল্লাহ শক্তিশালী স্টক এক্সচেঞ্জে রূপান্তর করতে পারব।’

    অন্যদিকে, বীমা কোম্পানি অর্থ লুটপাট প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনি নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে বীমা কোম্পানিগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘‘বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ বা ইডরা আছে। এর নতুন চেয়ারম্যান নিযুক্ত করা হয়েছে। আপনার যেই অভিযোগ আপনি তুললেন, অলরেডি এর ভেতরেই চেয়ারম্যান এটি ইনভেস্টিগেশন করছে। এরকম যেগুলো কমপ্লেন সবগুলো ইনভেস্টিগেশন করছে। ইনভেস্টিগেশনটা কমপ্লিট হলে তখন আইন অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারব।’

  • সময় চাহিয়া লজ্জা দিবেন না: সংসদ সদস্যদের স্পিকার

    সময় চাহিয়া লজ্জা দিবেন না: সংসদ সদস্যদের স্পিকার

    জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের সাধারণ আলোচনা শুরুর আগে সংসদ সদস্যদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বক্তব্য শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

    বাড়তি সময় চেয়ে তাঁকে বিব্রত না করার আহ্বান জানিয়ে স্পিকার বলেছেন, ‘মুদিদোকানে লেখা থাকে না, বাকি চাহিয়া লজ্জা দিবেন না। সময় চাহিয়া লজ্জা দিবেন না।’

    আজ শনিবার জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনা শুরুর আগে স্পিকার বলেন, ‘হাতে সময় কম থাকায় আজ ও আগামীকাল—এই দুই দিন বাজেটের সাধারণ আলোচনা হবে। এরপর সংসদের অন্যান্য কার্যক্রম নেওয়া হবে।’

    সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে স্পিকার বলেন, সরকারি দল ও বিরোধী দলের হুইপরা যে সময় নির্ধারণ করেছেন, সেই সময় তিনি সদস্যদের জানিয়ে দেবেন। এরপর আর সময় বাড়ানো হবে না।

    অসমাপ্ত বক্তব্য এড়াতে সংসদ সদস্যদের ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বক্তব্য দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে স্পিকার বলেন, ‘আপনারা ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বক্তব্য রাখবেন এবং এমনভাবে কনক্লুড (শেষ) করবেন, যাতে অসমাপ্ত বক্তৃতা দিয়ে আপনাকে বসে যেতে না হয়।’

    স্পিকার আরও বলেন, ‘বাজেট অধিবেশনের সাফল্যজনক সমাপ্তির জন্য বাধ্য হয়ে আপনাদের সময় স্টিক করতে হচ্ছে। সুতরাং আবারও বলছি, আপনারা অনুরোধ করে বিব্রত করবেন না। যে সময় দেওয়া হবে, ওই সময়ের মধ্যে দয়া করে বক্তব্য শেষ করবেন।’

    এর আগে অধিবেশনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফর নিয়ে আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনাতেও সময়সীমা নির্ধারণ করে দেন স্পিকার। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বক্তব্য দিতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পাঁচ মিনিটের মধ্যে বক্তব্য শেষ করলে দ্রুত বাজেট আলোচনায় ফেরা সম্ভব হবে।’

    ধন্যবাদ প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার পর বাজেটের সাধারণ আলোচনা শুরু হয়। প্রথম বক্তা ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমানকে ছয় মিনিট সময় দিয়ে স্পিকার বলেন, ‘আপনার সময় ছয় মিনিট। ছয় মিনিটে দয়া করে শেষ করবেন।’

    নির্ধারিত সময় শেষ হলে বক্তব্য থামিয়ে দিয়ে পরবর্তী বক্তাকে আহ্বান জানান স্পিকার।

    এরপর গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলনকে ১০ মিনিট সময় দেওয়া হয়। বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি অতিরিক্ত দুই মিনিট সময় চাইলে স্পিকার বলেন, ‘সময় নাই।’

    পরে ফজলুল হক আবার সময়ের আবেদন করলে স্পিকার বলেন, ‘আমি তো বক্তব্যের প্রারম্ভে বলেছি, মুদিদোকানে লেখা থাকে না, বাকি চাহিয়া লজ্জা দিবেন না। সময় চাহিয়া লজ্জা দিবেন না।’

    পরে শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শফিকুর রহমান কিরণকে ছয় মিনিট সময় দিয়ে স্পিকার আগেই সতর্ক করেন। তিনি বলেন, ‘ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বক্তব্য রাখবেন এবং এক মিনিট বাকি থাকতে সমাপ্ত করবেন, যাতে বক্তব্য সমাপ্ত করতে পারেন।’

    চট্টগ্রামের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীও বক্তব্যের সময় বাড়ানোর অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, ‘সাত মিনিট সময় পেয়েছেন, তবে স্পিকারের কাছ থেকে কিছুটা “ম্যাগনানিমিটি” আশা করেছিলেন।’

    জবাবে স্পিকার বলেন, ‘সময় চাহিয়া লজ্জা দিবেন না।’ গিয়াস উদ্দিন কাদের আবার সময়ের প্রসঙ্গ তুললে স্পিকার বলেন, ‘সময় আপনাদের হুইপরা দেন, আমি দিই না। সাত মিনিটে শেষ করুন, প্লিজ।’

  • চুয়াডাঙ্গার জয়রামপুর ও আনছারবাড়ীয়া স্টেশন সংস্কার, সকল ট্রেন  স্টপেজের দাবি জাতীয় সংসদে

    চুয়াডাঙ্গার জয়রামপুর ও আনছারবাড়ীয়া স্টেশন সংস্কার, সকল ট্রেন  স্টপেজের দাবি জাতীয় সংসদে

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গার জয়রামপুর ও আনছারবাড়ীয়া স্টেশন সংস্কারও সকল ট্রেন স্টপেজের জন্য মহান জাতীয় সংসদে জোর দাবি জানিয়েছেন চুয়াডাঙ্গা -২ আসনের ( দর্শনা- দামুড়হুদা ও জীবননগর) নির্বাচিত সংসদ সদস্য রুহুল আমিন এমপি ।

    ৭১ বিধি নোটিশে সম্পুরক প্রশ্নোত্তর কালে বলেন, ১৮৬২ সালে প্রথম দর্শনা দিয়ে রেল যোগাযোগ শুরু হয়। ওই সময়েই জয়রামপুর স্টেশন চালু হয়। অনেক পরে আনসার বাড়িয়া স্টেশন ও চালু হয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় বিগত সরকারের আমলে কোন এক দুষ্ট চক্রের কারণে স্টেশন দুটিতে রেল স্টপেজ বন্ধ হয়ে যায়। তিনি বলেন, আনসার বাড়িয়া ও জয়রামপুরের নিকটে কোন ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না থাকায় ছাত্রদেরকে যন্ত্রচালিত নসিমন, করিমনও ভডভডে নামক এলাকার যানবহনে চড়ে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ আসতে হয়। আসার পথে অনেক সময় সড়ক দুর্ঘটনায় কবলে পড়ে অকালেই তাদেরকে পঙ্গু হতে হয়, এতে তাদের বাবা-মার স্বপ্ন অল্প দিনেই নিভে যায়।তাই তিনি এলাকার অভিভাবকদের ছেলে মেয়েদের উচ্চ শিক্ষা অর্জন করার কথা মাথায় রেখেই রোববার জাতীয় সংসদে মাননীয় স্পিকার এর কাছে এই দুটি স্টেশনে ট্রেন স্টপেজের জন্য জোর জানান।