ট্যাগ জাতীয় সংসদ

  • সম্পত্তি দান করলেও আজীবন ভোগ করবেন মা-বাবা

    সম্পত্তি দান করলেও আজীবন ভোগ করবেন মা-বাবা

    দান করার পর দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তি ভোগ করতে পারবেন– এমন বিধান রেখে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের সংশোধনী পাস হয়েছে। গতকাল রোববার সংসদে ‘১৮৮২ সালের দ্য ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামন্ডমেন্ট) বিল’ সংসদে পাস হয়। আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করেন। বিলের ওপর আনা বিরোধী সদস্যদের জনমত যাচাই-বাছাই কমিটিতে প্রেরণ ও সংশোধনী প্রস্তাবগুলো কণ্ঠভোটে নিষ্পত্তি করা হয়।

    পাস হওয়া বিলে বলা হয়েছে, পিতামাতা বা পিতামহ/মাতামহ তাঁর সন্তান বা নাতি-নাতনিকে (অথবা বিপরীতক্রমে) অথবা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পত্তি দান করার পর দাতা নিজে জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তি ভোগ করতে পারবেন। দাতার জীবদ্দশায় গ্রহীতার মৃত্যু হলে সম্পত্তি ভোগের অধিকার থাকবে এবং আইন অনুযায়ী সম্পত্তি গ্রহীতার ওয়ারিশদের কাছে স্থানান্তরিত হবে।

    বিলের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে আইনমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান আইনে সম্পত্তি হস্তান্তরের পদ্ধতি সম্পর্কে বিধান থাকলেও দাতার জীবনকাল পর্যন্ত সম্পত্তি ভোগের অধিকার সংরক্ষণ করে দান করার বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট বিধান নেই। প্রস্তাবিত জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণপূর্বক দান হবে সম্পত্তি হস্তান্তরের একটি স্বতন্ত্র পদ্ধতি। এই বিধান সব ধর্মাবলম্বীর ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য হবে। এর ফলে প্রচলিত সাধারণ দান, মুসলিম আইনের অধীন হেবা বা আইন দ্বারা স্বীকৃত অন্য কোনো প্রকার সম্পত্তি হস্তান্তরের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না বা সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি করবে না।

    বিল পাসের আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এই আইনের সঙ্গে শরিয়তের স্পষ্টত কন্ট্রাডিকশন আছে। এখানে আমার প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা কী কোরআনের মূলনীতি রাখব নাকি বাদ দেব? আমি মনে করি, এটা খুবই স্পর্শকাতর বিষয়। এটি কোরআন-সুন্নাহর মূলনীতি ও প্রয়োগের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়। এই আইন এভাবে উপস্থাপন করায় সমাজে ব্যাপক উচ্ছৃঙ্খলা ও বিশৃঙ্খলা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। এই আইন দ্বারা হকদারের হকও বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা আছে।’

    আইনটি কোরআন-সুন্নাহবিরোধী উল্লেখ করে জামায়াতের নাজিবুর রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি বলেছিল, তারা কোরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন প্রণয়ন করবে না। কিন্তু কোরআন-সুন্নাহ সুস্পষ্ট বিরোধী এই আইন পাস করতে যাচ্ছে। ইসলামিক স্কলারদেরও এই আইনটি নিয়ে ঘোর আপত্তি রয়েছে।

    পাবনা-৩ আসনের আলী আছগার এই বিলকে কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে আখ্যায়িত করেন।

    চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের মাসুদ পারভেজ বলেন, ‘সব সন্তান পিতামাতার সঙ্গে এই আচরণ করছেন না। গুটি কয়েক অপরাধীর সঙ্গে আমাদের মূল চিন্তা ও বিশ্বাসে সাংঘর্ষিক আইন আমরা পাস করতে পারি না।’

    বাগেরহাট-৪ আসনের আব্দুল আলীম বলেন, এই আইন না করে কোরআনে বিধান রয়েছে এক-তৃতীংয়াশের বেশি কেউ দান করতে পারবে না। সেই বিধানটি আইনে পরিণত করা দরকার। ইসলামিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক এই আইনে ইসলামিক স্কলারদের মতামত দরকার।

    শেরপুর-১ আসনের রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘সংবিধানে ৭০ অনুচ্ছেদ বলে একটি নিয়ম থাকলেও আমি বিশ্বাস করি, অধিকাংশ সংসদ সদস্য এই আইন পাসের সময় হয় বিরোধিতা করবেন, না হয় চুপ থাকবেন। ইসলামিক উত্তরাধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক একটি কাঠামো তৈরি হলে তা আমরা মেনে নিতে পারি না।’

    ময়মনসিংহ-৬ আসনের কামরুল হাসান বলেন, ‘এই আইন সংশোধন করতে গিয়ে মুসলিম পারিবারিক আইনে হাত দেওয়া হয়েছে। মানবাধিকারের কথা বলে কৌশলে এই আইন পাস করা হচ্ছে। এই আইন সব ধর্মের জন্য প্রযোজ্য হবে বলে যে বিধান যুক্ত করা হয়েছে, তাতে আমাদের চরম আপত্তি রয়েছে। এই আইন পর্যালোচনা করা না হলে জনবিক্ষোভের আশঙ্কা রয়েছে।’

    কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের (স্বতন্ত্র) শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল বলেন, ‘এই আইন দ্রুত পাস করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করছি। যাতে কোনো কুলাঙ্গার সন্তান দ্বারা কোনো বাবা-মা লাঞ্ছিত না হন।’

    স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা মা-বাবার কথা বিবেচনা করে এই বিল আনার জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

    আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, ‘এই আইন হেবা বা অন্যভাবে সম্পত্তি হস্তান্তরের ওপর প্রভাব ফেলবে না। এখানে আমরা মুসলিম ল’কে টাচ করিনি। এই আইনে যে গিফটের (সম্পত্তি হস্তান্তর) কথা বলা হচ্ছে, তা হেবা নয়। এটি হেবার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। এই আইনে হেবা বা অন্য কোনো সম্পত্তি হস্তান্তর বাধাগ্রস্ত হবে না।’

    মুসলিম পারিবারিক আইনের প্রসঙ্গ টেনে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সামাজিক বাস্তবতার কথা চিন্তা করে এই বিলটি এনেছি।’

    ইসলামী ব্যাংকিং প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ইসলামিক আইনে সুদ নয়, মুনাফা নেওয়া হয়। উনারা মুনাফা নেন কিন্তু লোকসানের ভাগ নেন না। লোকসানের ভাগদান না হলে ইসলামিক এই ব্যাংকিং সিস্টেম অনুমোদিত না, কিন্তু এটা চলছে।

    একাধিক মুসলিম দেশের উদাহরণ টেনে আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, এই আইন অগণিত পিতামাতার শেষ নিঃশ্বাস শান্তিতে নিতে সহায়তা করবে। এই আইন সমাজের চাহিদা পূরণ করবে। মুসলিম পারিবারিক আইন ১৯৬১-এর তুলনায় ইসলামের সঙ্গে অসাংঘর্ষিক।’

  • জ্বালানি পরিস্থিতি দুই বছরের মধ্যে আরও উন্নতি হবে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

    জ্বালানি পরিস্থিতি দুই বছরের মধ্যে আরও উন্নতি হবে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এলএনজি আমদানি ও সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ফলে জ্বালানি পরিস্থিতি দুই বছরের মধ্যে আরো উন্নতি হবে।বুধবার জাতীয় সংসদে দেওয়া জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে তিনি পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন ।

    সংসদে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী জানান, কক্সবাজারের মহেশখালীর গভীর সমুদ্রে কুতুবদিয়া এলাকায় একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের জন্য একটি আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। প্রস্তাবিত এই টার্মিনালের মাধ্যমে ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এলএনজি সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

    এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশে এলএনজি আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং সামগ্রিক জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির আরো উন্নতি ঘটবে বলে জানান তিনি।

    এদিকে, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জ্বালানি চাহিদা মেটানোর বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পায়রা ও মোংলা বন্দর এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে আরও দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের প্রস্তাব নিয়ে কাজ চলছে।

    দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জ্বালানি চাহিদা পূরণের উদ্দেশ্যে এই টার্মিনালগুলো স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, প্রস্তাবিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের সামগ্রিক জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির পাশাপাশি গ্যাসের সংকটও অনেকটাই কমে আসবে।

  • প্রধানমন্ত্রী আট প্রশ্নের উত্তর দিলেন, সব প্রশ্নই সরকারি দলের, যা বললেন স্পিকার

    প্রধানমন্ত্রী আট প্রশ্নের উত্তর দিলেন, সব প্রশ্নই সরকারি দলের, যা বললেন স্পিকার

    বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রীর উত্তর দেওয়ার জন্য নির্ধারিত তারকা চিহ্নিত সবকটি প্রশ্নই সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। বুধবার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এ বিষয়ে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

    বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, ‘আজ প্রধানমন্ত্রীর জন্য যে প্রশ্নোত্তর রাখা হয়েছে, সেখানে আটটি তারকা চিহ্নিত প্রশ্নই সরকারি দলীয় সংসদ সদস্যদের। বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরাও প্রশ্ন জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু আগে আপনি (স্পিকার) আমাদের চারটি সুযোগ দিলেও আজকে আটটির সবগুলোই ছিল সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের।’

    সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা যত বেশি প্রশ্ন করবেন, জবাবদিহিতার সংস্কৃতি তত বেশি শক্ত হবে। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে বিশেষ খেয়াল রাখার জন্য স্পিকারের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

    নাহিদ ইসলামের এই অভিযোগের জবাবে সরকারি দলের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, সরকার সবসময়ই জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে চায় এবং সরকার জবাবদিহিমূলক। তবে প্রশ্ন বরাদ্দের ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয়ের চেয়ে নিয়ম ও অগ্রগণ্যতার বিষয়টি প্রাধান্য পায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এখানে সরকারি দল বা বিরোধী দল বলে কথা নয়। নিয়ম অনুযায়ী যিনি প্রশ্ন আগে জমা দেবেন, তিনি আগে সুযোগ পাবেন—এটাই হলো পদ্ধতি এবং এটি সিলেক্ট করেন মাননীয় স্পিকার।’

    বিরোধী দলের সদস্যরা পিছিয়ে পড়লে তা তাদের নিজস্ব অসুবিধা উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এখন থেকে সবাই সময়মতো প্রশ্ন জমা দেওয়ার প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন।

    উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম প্রশ্ন জমার প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে বলেন, প্রশ্ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সিরিয়ালকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।

    পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন করে স্পিকার বলেন, ‘আমার পরিষ্কার মনে আছে, অতীতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বিছানাপত্র নিয়ে আগের রাতেই প্রশ্ন জমা দেওয়ার অফিসের সামনে পজিশন নিতেন। আরও দুই-একজন সদস্য আছেন, যারা আগের রাত সেখানে শুয়ে থাকতেন। এ ছাড়া অনেক সদস্য তাদের প্রাইভেট সেক্রেটারিকে সেখানে পাঠাতেন।’

    সংসদ সদস্যরা আগে থেকেই এসে নিজেদের প্রায়োরিটি নিশ্চিত করেন জানিয়ে স্পিকার বলেন, প্রশ্ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের মধ্যে একটি তুমুল প্রতিযোগিতা হয়ে থাকে। তাই বিরোধী দলের সদস্যদেরও এই ঐতিহ্য ও নিয়ম অনুসরণ করে আগে প্রশ্ন জমা দেওয়ার চেষ্টা করার পরামর্শ দেন তিনি। সেই সঙ্গে বিষয়টি ভবিষ্যতে যথাযথভাবে বিবেচনা করার আশ্বাসও দেন স্পিকার।

  • সোলার সিস্টেমের আওতায় আসবে জাতীয় সংসদ ভবন: প্রধানমন্ত্রী

    সোলার সিস্টেমের আওতায় আসবে জাতীয় সংসদ ভবন: প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, কয়েকমাসের মধ্যে জাতীয় সংসদ ভবন সোলার সিস্টেমের আওতায় আসবে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে নিলোফার চৌধুরি মনির এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সরকার নানারকম পদক্ষেপ নিয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় আগামী কয়েকমাসের মধ্যে জাতীয় সংসদ ভবনও সোলার সিস্টেমের আওতায় আসবে।’

    তারেক রহমান বলেন, ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি পণ্যে আয়কর পরিহার করা হয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে যারা রুফটপ সোলার স্থাপন করবেন তাদের কাছ থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ সাড়ে ১০ টাকায় কিনবে সরকার। এটা আগামী তিন বছর চলবে। এ ছাড়া সরকারি বিভিন্ন স্থাপনার জন্য জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের জন্য লিথিয়াম ব্যাটারির স্ট্যান্ডার্ড ফিক্স করে দিবে সরকার। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য লোনের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। যারা ইন্ডাস্ট্রিয়ালভাবে সোলার প্যানেল স্থাপন করবে, তাদের কাঁচামালের ওপর ট্যাক্স মওকুফ করা হয়েছে।’

    প্রধানমন্ত্রী জানান, জ্বালানি ও বিদ্যুৎখাতে আগামী ১০ বছরের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী কিছুদিনের মধ্যেই তা সংসদে উপস্থাপন করবেন।

  • মন্ত্রী-এমপিদের যে ৩ বিষয়ে সতর্ক করলেন প্রধানমন্ত্রী

    মন্ত্রী-এমপিদের যে ৩ বিষয়ে সতর্ক করলেন প্রধানমন্ত্রী

    বিএনপির সংসদীয় দলের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে বৃহস্পতিবার। এতে প্রধানমন্ত্রী-মন্ত্রী-চিফ হুইপ-হুইপ ও এমপিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় মোটা দাগে তিনটি বিষয়ে মন্ত্রী-এমপিদের সতর্ক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সভা সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

    আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন (বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ) উপলক্ষ্যে সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়া এবং দলের ভেতর যেন কোনো ধরনের কোন্দল তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

    স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দল সমর্থিত প্রার্থীকে জয়ী করতে সংসদ-সদস্যদের ভূমিকা রাখার নির্দেশনাও দেন সংসদ নেতা তারেক রহমান। বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদে দল সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে এবং ‘সৎ ও যোগ্য’ প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার কথা বলেন তিনি।

    একাধিক সংসদ-সদস্য বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের সতর্ক করে বলেছেন, যেহেতু আগামী নির্বাচনে কোনো দলীয় প্রতীক থাকছে না, সেক্ষেত্রে ত্যাগীদের বাদ দেওয়া ঠিক হবে না। অনেক এমপি তাদের পছন্দের প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার চেষ্টা করছেন, তরুণদের সামনে আনছেন, এটা যেন তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে করা হয়। যাতে তৃণমূল পর্যায়ে কোনো ক্ষোভ বা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে না হয়। দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে কোনো ধরনের দূরত্ব বা বিরোধ তৈরি করা যাবে না বলেও সতর্ক করেন প্রধানমন্ত্রী।

    দ্বিতীয়ত: প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী নিয়ে সিরিয়াস বিএনপি।সভা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে সব সংসদ-সদস্য ও মন্ত্রীকে নিজ নিজ এলাকায় উপস্থিত থেকে কর্মসূচি পালনের নির্দেশনা দেন। সরকারের বিরুদ্ধে যেসব প্রচার, অপপ্রচার বা প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার এবং এর জবাব দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    তৃতীয়ত: প্রধানমন্ত্রী সরকারের বিরুদ্ধে চলা অপপ্রচারের জবাব দেওয়ার জন্য মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থাকার নির্দেশ দেন। তিনি জানান, বিদ্যমান সংকট নিয়ে মন্ত্রীরা যে ব্রিফ করেছেন, তার সঠিক বার্তা যেন সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। যাতে সরকার সম্পর্কে মানুষ ভুল না বোঝে। স্থানীয় সরকারের সঙ্গে বিদ্যুৎ-জ্বালানি, সার ও গ্যাস সংকটের বিষয়ে মানুষকে অবহিত করার জন্য দলীয় সংসদ-সদস্যদের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

    সভায় জানানো হয়, সারের সংকট কাটাতে আগামী দু-একদিনের মধ্যেই নতুন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টরা কাজ শুরু করেছেন। সার সরবরাহ ও বিতরণ যাতে যথাযথভাবে হয় সেদিকেও সরকার কড়া নজর রাখছে। এ বিষয়ে কেউ যাতে অপপ্রচার চালাতে না পারে, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

  • ঠাকুরগাঁও-১ সংসদীয় আসন শূন্য ঘোষণা

    ঠাকুরগাঁও-১ সংসদীয় আসন শূন্য ঘোষণা

    সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে।

    শনিবার (২২ আগস্ট) বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয় লেজিসলেটিভ সাপোর্ট উইং আইন প্রণয়ন শাখা-২-এর সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনি এলাকা ৩, ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত (২১ আগস্ট, শুক্রবার) রাষ্ট্রপতির কার্যভার গ্রহণ করায় ওই আসনটি সংবিধানের ৫০(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তার কার্যভার গ্রহণের তারিখ থেকে শূন্য হলো।

    বিজ্ঞপ্তিটি অবিলম্বে বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশের জন্য সরকারি মুদ্রণালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া শূন্য হওয়া আসনটিতে উপ-নির্বাচন আয়োজনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রজ্ঞাপনের অনুলিপি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর পাঠানো হয়েছে।

    একইসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের কার্যালয়, বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব দফতরে অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।

  • সম্প্রসারণ হচ্ছে মন্ত্রিসভা, যুক্ত হচ্ছেন আরও কয়েকজন

    সম্প্রসারণ হচ্ছে মন্ত্রিসভা, যুক্ত হচ্ছেন আরও কয়েকজন

    • সাচিং প্রু জেরী হচ্ছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী, ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাচ্ছেন শামীম কায়সার লিংকন
    • প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে যেকোনো সময়

    সরকারের সার্বিক কার্যক্রমে আরও গতি আনতে মন্ত্রিসভায় রদবদল-সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    সরকার সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রমতে, বিদ্যমান মন্ত্রিসভায় যুক্ত হচ্ছেন আরও কয়েকজন। এর মধ্যে বান্দরবান থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরীকে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়কমন্ত্রী এবং গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকনকে ধর্মবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ বিষয়ে যেকোনো সময় প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানাচ্ছে, এই দুইজনের বাইরে আরও কমপক্ষে দুজনকে যুক্ত করা হতে পারে মন্ত্রিসভায়।

    নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত হলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে রদবদলও হতে পারে। বিশেষ করে বিএনপির সদ্য সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে যাওয়ায় তার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করা হবে। পাশাপাশি আরও কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে পরিবর্তন আনার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর বিবেচনায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

    গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের মাধ্যমে প্রায় দুই দশক পর ক্ষমতায় আসে বিএনপি।

    তারেক রহমানের নেতৃত্বে ১৭ ফেব্রুয়ারি গঠিত হয় নতুন সরকার। প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে বর্তমানে তার সরকারে ২৪ জন মন্ত্রী, ২৩ জন প্রতিমন্ত্রী এবং মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় ১০ জন উপদেষ্টা রয়েছেন।

    এখন পর্যন্ত তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় কোনো রদবদল হয়নি, তবে পদত্যাগ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়কমন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। এ মন্ত্রণালয়ের ভার সামলাচ্ছেন প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।

  • রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ভোট দেননি চার এমপি

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ভোট দেননি চার এমপি

    দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ১০ মিনিটে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ শুরুর দুই ঘণ্টার মধ্যেই নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন অধিকাংশ সংসদ সদস্য।

    তবে, বিএনপির মির্জা আব্বাস, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা, জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত গাজী নজরুল ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহকে ভোট দিতে দেখা যায়নি।

    বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস অসুস্থ থাকায় দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ায় চিকিৎসাধীন। অসুস্থজনিত কারণে ভোট দিতে আসেননি তিনি। আর নৈতিক স্খলনজনিত কারণে গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে জামায়াত। এরপর আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি এ সংসদ সদস্যকে। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বর্জন করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলীয় সিদ্ধান্তের কারণে ভোট দেননি মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ। অপর সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার ভোট না দেওয়ার বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।

    এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে ভোটগ্রহণ শুরু হলে প্রথমে ভোট দেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এরপর ভোট দেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল। তারপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভোট দেন।

  • ২৩তম রাষ্ট্রপতি হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

    ২৩তম রাষ্ট্রপতি হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

    দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হলেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ভোট পেয়েছেন ২৫৫টি।

    বিস্তারিত আসছে…

  • রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে বৈঠকে সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে বৈঠকে সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সামনে রেখে বৈঠকে বসেছেন সরকারি দল বিএনপির সংসদ সদস্যরা। বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের নবম তলায় সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বিএনপির সংসদীয় দলের সভা শুরু হয়।

    প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ তথ্য জানিয়েছেন। সংসদীয় দলের এ বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও উপস্থিত রয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সংসদ সভা কক্ষে ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দুপুর ২টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হবে। ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

    দীর্ঘ ৩৫ বছর পর এবারই প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

    এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপি ও সমমনা দলের মনোনীত প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    অপর প্রার্থী হয়েছেন জামায়াতসহ ১১ দলীয় ঐক্য জোটের প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমেদ।

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মোট ভোটারের সংখ্যা ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য।

    সর্বশেষ ১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর সংসদ সভা কক্ষে রাষ্ট্রপতি পদে ভোটগ্রহণ হয়েছিল। ওই সময়ে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন আব্দুর রহমান বিশ্বাস এবং আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) প্রার্থী ছিলেন বদরুল হায়দার চৌধুরী।

    ১১তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বদরুল হায়দার চৌধুরীকে ৯২ ভোটে পরাজিত করে ১১তম রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন আব্দুর রহমান বিশ্বাস। তিনি পেয়েছিলেন ১৭২ ভোট।