জাতীয়

  • সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন স্পিকার

    সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন স্পিকার

    রাষ্ট্রপতি পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিনের গুঞ্জনের মধ্যে সফর সংক্ষিপ্ত করে কাল শুক্রবার দেশে ফিরছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সংসদ সচিবালয়ের সূত্র জানিয়েছে, আগামীকাল থাই এয়ারওয়েজে ১২টা ১০ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন তিনি।

    গত ১৯ জুলাই চিকিৎসার জন্য ব্যাংকক সফরে যান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সফরসূচি অনুযায়ী, আগামী ২৬ জুলাইয়ের জন্য ফিরতি টিকিট কাটা ছিল। কিন্তু সফরসূচি সংক্ষিপ্ত করে শুক্রবার দেশে ফিরতে স্পিকারকে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে অনুরোধ করা হয়েছে বলে সংসদ সচিবালয়ের সূত্রে জানা গেছে।

    সংসদ সচিবালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘সফর সূচি অনুযায়ী আগামী ২৬ জুলাই স্পিকারের দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে তাঁকে দ্রুত দেশে ফিরতে অনুরোধ করা হয়েছে। সে কারণে তিনি শুক্রবারই দেশে ফিরবেন।’

    কি কারণে দ্রুত দেশে ফিরছেন স্পিকার এমন প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, গতকাল থেকেই বিভিন্ন গুঞ্জন (রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ) শুনছি। সে কারণে হয়তো সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন। আশা করি সবকিছু কালকেই পরিষ্কার হয়ে যাবে।

    বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে বা তিনি দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। সে ক্ষেত্রে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

    স্পিকার সাময়িকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করলেও, সংবিধানের ১২৩ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা বাধ্যতামূলক।

  • অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে

    অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে

    বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড় করাতে হলে নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আমার দেশ সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান। তিনি বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্প ও কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ছাড়া জাতীয় সম্পদ বাড়ানো সম্ভব নয় এবং সম্পদ সৃষ্টি না হলে টেকসই উন্নয়নও নিশ্চিত করা যাবে না। বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের জন্য সম্পদ সৃষ্টির পাশাপাশি তার ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

    বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজ অ্যান্ড থটস (সিএএসটি) আয়োজিত ‘জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষায় বাংলাদেশের অর্থনীতি’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    সেমিনার শেষে সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজ অ্যান্ড থটস থেকে প্রকাশিত ‘বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অর্থনীতির ব্যবচ্ছেদ’ এবং ‘Bangladesh Economy: A Holistic Evaluation’ শীর্ষক দুটি গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

    সেমিনারে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার আলোকে দেশের অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা, গত দেড় দশকের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, বৈষম্য, কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়।

    ড. মাহমুদুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে অর্থনীতি নিয়ে আলোচনা হলেই সবাই জিডিপি প্রবৃদ্ধির কথা বলেন। কিন্তু সেই সম্পদ কীভাবে মানুষের মধ্যে বণ্টিত হচ্ছে, তা নিয়ে আলোচনা খুবই কম। অথচ এই দুই বিষয়কে সমান গুরুত্ব না দিলে বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়।

    বক্তব্যে ড. মাহমুদুর রহমান বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণে প্রথম কাজ হওয়া উচিত নতুন সম্পদ সৃষ্টি, আর তা সম্ভব কর্মসংস্থানের মাধ্যমে। তিনি বলেন, আমার চিন্তাধারা হয়ত অনেকের কাছে পুরোনো মনে হতে পারে। কিন্তু আমি এখনো বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে হলে জব ক্রিয়েশনই একমাত্র কার্যকর পথ। ফ্যামিলি কার্ড কোনো সমাধান নয়; প্রকৃত সমাধান হলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি।

    তিনি বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে উৎপাদনশীল শিল্প ও কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। গত দেড় দশকে উৎপাদনশীল শিল্পের পরিবর্তে মেগা প্রকল্পকেন্দ্রিক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, মেগা প্রকল্পে দুর্নীতির সুযোগ বেশি থাকায় উৎপাদনশীল শিল্পকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

    সরকারি অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ড. মাহমুদুর রহমান। তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে ‘স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর মাধ্যমে বাস্তবতার চেয়ে উন্নয়নের চিত্র বেশি ভালো দেখানো হয়েছে। তিনি জানান, এ বিষয়ে তিনি বিশ্বব্যাংক ও এডিবিসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকেও লিখেছিলেন।

    বিনিয়োগ বোর্ডের সাবেক নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, উৎপাদনশীল শিল্পে প্রবৃদ্ধি অর্জন করা গেলে কর্মসংস্থানও বাড়ে। কৃষিকে শুধু জিডিপিতে অবদানের ভিত্তিতে মূল্যায়ন না করে কর্মসংস্থান ও খাদ্য নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    তিনি বলেন, সরকারের উচিত সব অংশীজনকে নিয়ে জাতীয় সম্পদ বৃদ্ধির কৌশল নির্ধারণ করা। একই সঙ্গে উৎপাদন বাড়াতে গ্যাস-বিদ্যুৎ, অবকাঠামো ও দক্ষ মানবসম্পদ নিশ্চিত করা জরুরি। যে দেশে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট রয়েছে, সেখানে শুধু বিনিয়োগ সম্মেলন করলেই বিদেশি বিনিয়োগ আসবে না।

    সেমিনারে বক্তব্য রাখেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকস অনুষদের ডিন ড. একেএম ওয়ারেসুল করিম। তিনি বলেন, গত এক দশকে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি, সরকারি ঋণ, খেলাপি ঋণ ও আর্থিক খাত নিয়ে তার গবেষণায় উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে।

    তার উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ৬ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা। পুনঃতফসিল, অবলোপন ও আদালতের স্থগিতাদেশে আটকে থাকা ঋণসহ সমস্যাগ্রস্ত ঋণের পরিমাণ প্রায় ১১ লাখ কোটি টাকা। তিনি পুনঃতফসিল করা ঋণকে ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এতে সমস্যার সমাধান হয় না; বরং প্রকৃত চিত্র আড়াল করা হয়।

    ড. ওয়ারেসুল করিম বলেন, মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। কিন্তু কৃষক উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না এবং গার্মেন্টস শ্রমিক, পরিবহন শ্রমিক, ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ নিম্ন আয়ের মানুষের আয়ও ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে বাড়েনি।

    তিনি বলেন, বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালুর নামে নেওয়া ২০ হাজার কোটি টাকার পরিকল্পনা এবং রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান হস্তান্তরের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় তরুণদের জন্য গবেষণার সুযোগ ও গবেষণা তহবিল বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তার মতে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা, কম্পিউটার ল্যাব, বিদ্যুৎ ও স্যানিটেশন খাতে বরাদ্দ কমে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

    শিক্ষাখাতে প্রযুক্তিনির্ভর প্রকল্প গ্রহণের আগে মৌলিক অবকাঠামো নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেক শিক্ষককে ট্যাবলেট দেওয়া বা প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে সিসিটিভি স্থাপনের আগে বিদ্যালয়গুলোতে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, বিজ্ঞানাগার, টয়লেট ও প্রয়োজনীয় শিক্ষাসামগ্রী নিশ্চিত করা উচিত। একই সঙ্গে শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে প্রযুক্তির পরিবর্তে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, নৈতিক শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন তিনি।

    ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, দেশে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে, কিন্তু কৃষক তার উৎপাদিত ধান, সবজি বা অন্যান্য কৃষিপণ্য আগের মতোই কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। বাজারে ভোক্তা পর্যায়ে দাম বাড়লেও কৃষক সেই সুবিধা পাচ্ছেন না। গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়েনি। একইভাবে মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের বেতনও এখনো অত্যন্ত কম। একজন মুয়াজ্জিনকে সাত হাজার টাকার মতো এবং একজন ইমামকে প্রায় দশ হাজার টাকায় সংসার চালাতে হয়। একই অবস্থা পরিবহন শ্রমিক বা অন্যান্য নিম্ন আয়ের মানুষের। অথচ নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের দাম বেড়েই চলেছে।

    তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ অল্প অল্প করে যে অর্থ ব্যাংকে সঞ্চয় করেন, সেই অর্থ লুটপাট করে কেউ কেউ বিদেশে পাচার করে। আরও দুঃখজনক বিষয় হলো, অনেক ঋণখেলাপিকে সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে এবং তারা সংসদে দাঁড়িয়ে ঋণখেলাপিকে স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। এটি রাষ্ট্র ও অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত নেতিবাচক বার্তা।

    গবেষণা খাতের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, যদি সত্যিই দেশের সমস্যার সমাধান করতে হয়, তাহলে তরুণদের গবেষণার সুযোগ তৈরি করতে হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ নেই। বরং গবেষণা তহবিল কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে সরকারবিরোধী বা সমালোচনামূলক গবেষণা নিরুৎসাহিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজ অ্যান্ড থটসের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ও মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. আব্দুর রবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চিন্তক ও গবেষক ফরহাদ মজহার, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ, ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদ, ওয়েস্টার্ন নরওয়ে ইউনিভার্সিটি অব অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সেসের অধ্যাপক ড. আব্দুল কুদ্দুস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. দ্বীন ইসলাম, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. শিব্বির আহমেদসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও বিশিষ্টজন।

  • অধিকাংশ সবজির দাম ১০০ টাকার ওপরে

    অধিকাংশ সবজির দাম ১০০ টাকার ওপরে

    রাজধানীসহ সারা দেশে বাজারে জিনিসপত্রের দাম হুহু করে বাড়ছে। সবজির দাম কেজিতে ৫০ টাকা পর্যন্তও বেড়েছে। টানা বৃষ্টির কারণে প্রভাব পড়েছে কাঁচাবাজারে। সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দাম বাড়ার অভিযোগ ব্যবসায়ীদের।কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা বেড়ে প্রায় প্রতিটি সবজিই এখন নাগালের বাইরে। কোনো কোনো সবজির দাম ছুঁয়েছে তিনগুণ উচ্চতায়। মেঘের গর্ভ থেকে ঝরে পড়া বৃষ্টির পানি যেন সাধারণ মানুষের রান্নাঘরে তৈরি করেছে এক চরম হাহাকার।

    রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ১০০ টাকার নিচে সবজি পাওয়া এখন বিরল এক সৌভাগ্য। প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়, করলা ও ঢ্যাঁড়শ ১০০ থেকে ১২০ টাকা, পটোল ও ঝিঙা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, আর শসার দাম ঠেকেছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়। টমেটো ১২০ থেকে ১৬০ টাকা এবং লাউ প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকায়। গাজর ১৬০ টাকা ও পেঁপে ৪০ থেকে ৫০ টাকায় কিছুটা স্বস্তি দিলেও, পেঁয়াজের ঝাঁজও কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়ে খুচরায় ৬০ টাকায় ঠেকেছে।

    তবে সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে রান্নাঘরের অবিচ্ছেদ্য অংশ কাঁচা মরিচে। মাত্র এক মাস আগেও যে ভালো মানের মরিচ ১০০ থেকে ১২০ টাকায় পাওয়া যেত, তা এখন দ্বিগুণ থেকে তিন গুণ বেড়ে খুচরা বাজারে ২০০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কারওয়ান বাজারে একটু কমে ২০০ টাকায় পাওয়া গেলেও অভিজাত এলাকার খুচরা বাজারে তা ২৫০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    বাজারে সবজি কিনতে আসা ক্রেতা মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা বেসরকারি চাকরিজীবী এম এম আকাশ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বৃষ্টির অজুহাতে প্রতিদিনই নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। এক সপ্তাহ আগে যে মরিচ ৪০ টাকায় ২৫০ গ্রাম কিনেছি, আজ তা ৬০ টাকা দিয়ে কিনতে হলো। সব সবজির দাম এখন আকাশে ঠেকেছে। মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য এভাবে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

    অন্যদিকে, কেরাণীগঞ্জ মডেল টাউনের সবজি বিক্রেতা আজিজুর রহমান আজিজ আমার দেশকে বলেন, বৃষ্টির কারণে পাইকারি বাজারে পর্যাপ্ত সবজি আসছে না। খেতে পানি জমে যাওয়ায় অনেক ফসল পচে নষ্ট হয়েছে এবং কৃষকেরা মাঠ থেকে সবজি তুলতে পারছেন না। সরবরাহ কম এবং চাহিদা বেশি থাকায় বাধ্য হয়েই আমাদের বেশি দামে কিনে কিছুটা লাভে বিক্রি করতে হচ্ছে।

    কৃষিবিদ ড. জামাল উদ্দিনের মতে, আবহাওয়ার এই বৈরী আচরণ চলতে থাকলে স্থানীয় সরবরাহ শৃঙ্খল আরও ভেঙে পড়তে পারে। তবে ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, মেঘ কেটে আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে এবং ক্ষেতের নতুন ফসল বাজারে আসা শুরু করলে দাম কিছুটা নামতে পারে। তত দিন পর্যন্ত শ্রাবণের এই অবিরাম বর্ষণ রাজধানী ও আশপাশের কোটি মানুষের মনে তৈরি করে রাখবে নিত্যপণ্যের চড়া দামের এক দীর্ঘ ও ভারী ছায়া।

  • আগস্টেই চালু হচ্ছে ‘প্রবাসী কার্ড’, কারা আগে পাবেন?

    আগস্টেই চালু হচ্ছে ‘প্রবাসী কার্ড’, কারা আগে পাবেন?

    বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত ‘প্রবাসী কার্ড’ আগামী আগস্ট মাসে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করতে যাচ্ছে সরকার। ডিসেম্বরের মধ্যে ৫০ হাজার এবং আগামী বছরের জুনের মধ্যে মোট ২ লাখ প্রবাসীর হাতে এই কার্ড বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    প্রথম পর্যায়ে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে ডেবিট কার্ড আকারে এটি বিতরণ করা হবে। পরে ধাপে ধাপে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে কার্ডটি সম্প্রসারণ করা হবে।

    সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রবাসী কার্ড চালুর মূল উদ্দেশ্য হলো বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের জন্য একটি সমন্বিত ডিজিটাল পরিচয়ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং ব্যাংকিং, সরকারি ও কল্যাণমূলক সেবাগুলো সহজলভ্য করা। একই সঙ্গে বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে প্রবাসীদের আরও উৎসাহিত করাও এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

    কী হবে প্রবাসী কার্ড?
    প্রবাসী কার্ড হবে এক ধরনের স্মার্ট ডিজিটাল পরিচয়পত্র, যা পরিচয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিভিন্ন আর্থিক ও সরকারি সেবা গ্রহণের মাধ্যম হিসেবেও কাজ করবে। কার্ডে থাকা কিউআর কোড স্ক্যান করলে কার্ডধারীর প্রয়োজনীয় তথ্য দেখা যাবে। পাশাপাশি একটি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ডিজিটাল সংস্করণ ব্যবহার করা যাবে, ফলে সবসময় প্লাস্টিক কার্ড বহনের প্রয়োজন হবে না।

    কী কী সুবিধা পাবেন?
    এই কার্ডের বড় একটি দিক হলো এর অর্থনৈতিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা। প্রবাসীরা এতে যে সমস্ত বিশেষ সুযোগ-সুবিধা পাবেন-

    • ডুয়েল কারেন্সি ও অনলাইন শপিং: এই কার্ডটিতে আধুনিক ব্যাংকিং পেমেন্ট গেটওয়ে যুক্ত থাকবে। ফলে প্রবাসীরা যে দেশে আছেন, সেখানকার মুদ্রায় এবং বাংলাদেশে টাকায় কেনাকাটা বা খরচ করতে পারবেন। এছাড়া প্রবাসে বসেই পরিবারের সদস্যদের জন্য দেশে নির্দিষ্ট সীমার কেনাকাটা করে দেওয়া যাবে।
    • এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ ও ডিসকাউন্ট: বিমানবন্দরে বিশেষ প্রটোকল সেবা, এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ ব্যবহার, উড়োজাহাজের টিকিট ও হোটেলে ডিসকাউন্ট পাবেন কার্ডধারীরা।
    • প্রবাসী সিটি ও আবাসন সুবিধা: বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে গড়ে তোলা ‘প্রবাসী সিটি’ প্রকল্পে আবাসন বা প্লট কেনার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার ও বিশেষ সুবিধা পাবেন তারা।
    • বিএমইটি বীমা ও পুনর্বাসন সুবিধা: বিএমইটির বিমা সুবিধা, আর্থিক ক্ষতিপূরণ, সামাজিক সুরক্ষা এবং রেমিট্যান্সে অতিরিক্ত সরকারি প্রণোদনা বহাল থাকবে।

    কারা আগে পাবেন?
    প্রথম ধাপে যেসব প্রবাসীর জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) নিবন্ধন রয়েছে, তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রবাসী কার্ড দেওয়া হবে। প্রয়োজনীয় তথ্য হালনাগাদ করার পর নতুন নিবন্ধনের মাধ্যমে তারা কার্ড সংগ্রহ করতে পারবেন।

    যাদের ইতোমধ্যে বিএমইটি কার্ড রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে নতুন করে নিবন্ধন ফি না-ও লাগতে পারে। তবে নতুন আবেদনকারীদের নির্ধারিত সরকারি ফি পরিশোধ করতে হতে পারে।

    কীভাবে বিতরণ করা হবে?
    পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সফল হলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে প্রবাসীদের হাতে কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।

    এদিকে বিদেশে শিক্ষার্থী, নির্ভরশীল বা অন্য ভিসায় গিয়ে পরবর্তীতে কর্মসংস্থানে যুক্ত হয়েছেন কিন্তু বিএমইটি কার্ড নেই—এমন বাংলাদেশিদেরও ভবিষ্যতে এই কর্মসূচির আওতায় আনার বিষয়ে কাজ করছে সরকার।

  • উপস্থাপনায় ফিরলেন রুমানা মালিক মুনমুন

    উপস্থাপনায় ফিরলেন রুমানা মালিক মুনমুন

    ‘লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার ২০০৬’ প্রতিযোগিতা দিয়ে শোবিজে পথচলা শুরু রুমানা মালিক মুনমুনের। অভিনয়ে আসেন তৌকীর আহমেদের পরিচালনায় ‘দারুচিনি দ্বীপ’ সিনেমা দিয়ে। এরপর নাটকেও অভিনয় করেছেন। তবে অভিনেত্রীর পরিচয় ছাপিয়ে তিনি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন উপস্থাপনায়।

    কয়েক বছর আগেই কানাডায় স্থায়ী হওয়ায় দীর্ঘদিন শোবিজ থেকে দূরে ছিলেন মুনমুন। সম্প্রতি দেশে এসেছেন তিনি। একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে জানিয়েছিলেন, রিসার্চবেজ কোনো শোর প্রস্তাব পেলে আবারও তিনি বসতে চান সঞ্চালকের আসনে। তবে, শুধু স্ক্রিনে থাকার জন্য নয়, মানসম্পন্ন কাজ করতে চান, যা মানুষের মন ছুঁয়ে যাবে।

    মুনমুনের সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। সম্প্রতি তিনি যুক্ত হয়েছেন ‘লিজেন্ড অ্যান্ড লিগ্যাসি’ নামের একটি শোতে। এতে মুনমুনের অতিথি হিসেবে দেখা যাবে অভিনয়, সংগীত, শিল্প ও সাহিত্য অঙ্গনের মানুষদের। ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে অনুষ্ঠানটির প্রচার। প্রথম পর্বে মুনমুনের অতিথি হয়ে এসেছেন নৃত্যশিল্পী শামীম আরা নিপা। সামনের পর্বগুলোতে মুনমুন কথা বলবেন নাট্যজন মামুনুর রশীদ, আবুল হায়াত, তারিক আনাম খান, সংগীতশিল্পী ফেরদৌসী রহমান, অদিতি মহসিন, নকীব খান, জাদুশিল্পী জুয়েল আইচ, কথাসাহিত্যিক নাসরীন জাহান, স্থপতি রফিক আজম প্রমুখের সঙ্গে।

    লিজেন্ড অ্যান্ড লিগ্যাসি পরিচালনা করছেন সাজ্জাদ হুসাইন। তিনি এক যুগের বেশি সময় পরিচালনা করেছেন ‘আমার আমি’ নামের টক শোটি। আমার আমি দিয়েই উপস্থাপক হিসেবে জনপ্রিয় হয়েছেন মুনমুন।

    নতুন এই অনুষ্ঠান নিয়ে সাজ্জাদ হুসাইন বলেন, ‘বিভিন্ন অঙ্গনের গুণী মানুষদের নিয়ে সাজানো হয়েছে অনুষ্ঠানটি। বাংলাদেশের ইতিহাস বিবেচনায় বিভিন্ন অঙ্গনে যাঁদের ভূমিকা রয়েছে তাঁদেরকে অতিথি হিসেবে রাখার চেষ্টা করেছি। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান কাহিনি স্টুডিওস এমন একটা অনুষ্ঠান করতে চাইছিল যেটা আর্কাইভ হিসেবে থাকবে। যেখানে গুণীদের জীবনের গল্পগুলো দর্শকের অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। সেভাবেই আমরা অনুষ্ঠানটি ডিজাইন করেছি।’

    মুনমুনকে দিয়ে উপস্থাপনা করানোর বিষয়ে সাজ্জাদ বলেন, ‘অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা ঠিক করার পর আমরা কয়েকজন উপস্থাপকের কথা ভেবেছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কারও সঙ্গে মিলছিল না। এরপর আমার মনে হলো এখানে মুনমুন হলে খুব ভালো হয়। প্রযোজকের সঙ্গে আলোচনা করে মুনমুনের সঙ্গে কথা বলি। যেহেতু মুনমুনের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের কাজের সম্পর্ক। বছরের পর বছর আমরা একসঙ্গে শো করেছি। তাই সে আমার পরিকল্পনাটা সহজেই বুঝতে পারে। মুনমুন দেশে এলে আমরা পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী ৫ থেকে ৮ জুলাই শুটিং করেছি। আমার কাছে মনে হয়েছে আমার আমি অনুষ্ঠানের নতুন কিছু পর্ব শুট করলাম। কারণ, ওই অনুষ্ঠানের রিফ্লেকশন পাওয়া যাবে এতে।’

    কাহিনি স্টুডিওস ইউটিউব চ্যানেল ও ওটিটি প্ল্যাটফর্ম বঙ্গতে প্রচারিত হচ্ছে লিজেন্ড অ্যান্ড লিগ্যাসি। প্রতি সপ্তাহে মুক্তি পাবে ১৩ পর্বের এই অনুষ্ঠানের নতুন পর্ব।

  • ব্যাজ পেলেন নৌবাহিনীর নতুন প্রধান

    ব্যাজ পেলেন নৌবাহিনীর নতুন প্রধান

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান বৃহস্পতিবার নতুন নৌপ্রধানকে র‌্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়ে দেন।

    প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি জানান, সকালে ঢাকা সেনানিবাসের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর অফিসে এই আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়।

    তিনি বলেন, র‌্যাঙ্ক ব্যাজ পরানোর পর নতুন নৌবাহিনী প্রধানকে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ভাইস অ্যাডমিরাল মিজবাহ উল আজীম বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

    প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম শামসুল ইসলাম, বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান, সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. শাহীনুর রহমান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান রুমন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

    রিয়ার অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিজবাহ উল আজীমকে গত ১৬ জুলাই ভাইস অ্যাডমিরাল হিসেবে পদোন্নতি দিয়ে নৌবাহিনী প্রধানের দায়িত্ব দেয় সরকার।

    তিনি সর্বশেষ ওমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বে ছিলেন। নৌবাহিনীর শীর্ষ পদে অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসানের স্থলাভিষিক্ত হলেন।

    রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের সপ্তদশ ব্যাচের ছাত্র মিজবাহ উল আজীম ১৯৮৭ সালে বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে কমিশন পান।

    চাকরি জীবনে তিনি ঢাকা ও চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলসহ নৌবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ডের নেতৃত্ব দিয়েছেন।

    বাংলাদেশ নেভাল একাডেমির কমান্ডেন্টের দায়িত্বও তিনি পালন করেছেন।

  • ‘২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার’

    ‘২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার’

    ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জানান, এ লক্ষ্য অর্জনে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ওষুধ শিল্প, ইলেকট্রনিকস, ডিজিটাল সেবা, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, উন্নত বস্ত্রশিল্প, স্বাস্থ্যসেবা ও লজিস্টিকস খাতকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশকে একটি বৈশ্বিক উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা, তৈরি পোশাক খাতের বহুমুখীকরণ এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ওপরও জোর দেয়া হচ্ছে।

    বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই) আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি কূটনীতিক, ব্যবসায়ী, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহী, উন্নয়ন সহযোগী এবং বিভিন্ন খাতের বিনিয়োগকারীরা উপস্থিত ছিলেন।

    দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে এসে নতুন বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়ে সরকারের প্রধান বলেন, নতুন সরকার এমন একটি ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে চায়, যেখানে দেশীয় ও বিদেশি উভয় ধরনের উদ্যোক্তাই আস্থা নিয়ে বিনিয়োগ করতে পারবেন। কেউ বাংলাদেশে মূলধন বিনিয়োগ করলে সরকারও সময়, প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দিয়ে তাদের পাশে থাকবে। এটি শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, সরকারের সুস্পষ্ট অঙ্গীকার।

    তিনি বাংলাদেশে বিনিয়োগকারী দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের অবদানের প্রশংসা করে বলেন, তাদের বিনিয়োগের ফলে দেশে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়েছে।

    নিজের পেশাগত জীবনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, রাজনীতিতে প্রবেশের পূর্বে আমি নিজেও একজন ব্যবসায়ী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলাম। আমার সেই বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে আমি শিখেছি- যেকোনো ব্যবসা কেবল উদ্যোক্তার দক্ষতা বা রাজনৈতিক আশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে সফল হতে পারে না; ব্যবসার সাফল্যের একটি বড় অংশ নির্ভর করে সরকারের প্রবৃদ্ধি-সহায়ক নীতিমালার ওপর।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশের সামনে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও সম্ভাবনার ক্ষেত্র আরও বড়। দ্রুত সম্প্রসারণশীল অভ্যন্তরীণ বাজার, তরুণ ও কর্মক্ষম জনশক্তি, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং জনসমর্থনপুষ্ট নির্বাচিত সরকার এই চারটি শক্তি বাংলাদেশের অর্থনীতিকে টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে সক্ষম।

    সরকারের অর্থনৈতিক লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, একটি নিয়মভিত্তিক, বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে সংযুক্ত এবং বেসরকারি খাতনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। নির্বাচনী ইশতেহারে এই অর্থনৈতিক রূপান্তরের সুস্পষ্ট রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। সরকার শুধু বিদেশি বিনিয়োগ আহ্বান করছে না, বরং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নযাত্রায় আন্তর্জাতিক অংশীদারদেরও সম্পৃক্ত করতে চায়।

    তিনি জানান, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের আগেই অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রস্তুতি শুরু করেছিল। এ সময় বিনিয়োগকারী, উদ্যোক্তা, ব্যবসায়িক সংগঠন, অর্থনীতিবিদ, উন্নয়ন সহযোগী ও নীতিনির্ধারকদের মতামত নেয়া হয়। তাদের পরামর্শে উঠে আসে, বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে হলে বিনিয়োগের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা, ব্যবসাবান্ধব নিয়ন্ত্রক কাঠামো গড়ে তোলা, করব্যবস্থা সহজ করা, অর্জিত মুনাফা বিদেশে নেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা, শক্তিশালী পুঁজিবাজার গড়ে তোলা এবং উন্নত অবকাঠামো নির্মাণ জরুরি।

    এসব সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, আইনি ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আধুনিকায়ন, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা জোরদার, দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা, কর ও ভ্যাট প্রশাসন সহজীকরণ এবং মুনাফা দেশে-বিদেশে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও ঝামেলামুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

    একই সঙ্গে পুঁজিবাজারকে আরও গতিশীল করা, স্টার্টআপ খাতে সহায়তা বৃদ্ধি, অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ ও লাল ফিতার দৌরাত্ম্য কমানো, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সহজ করা এবং সরকারি সেবার ডিজিটাল রূপান্তরের কাজও এগিয়ে চলছে বলে তিনি জানান। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানো, বন্দর ও লজিস্টিকস অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

    তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ শুধু বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর নির্ভর করে না; বরং দীর্ঘমেয়াদি আস্থা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে অংশীদারত্ব গড়ে তোলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রার অংশ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী, ন্যায়ভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব। একই সঙ্গে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

  • ১১ দলীয় ঐক্যের সিলেট বিভাগীয় সমাবেশ সফল করুন: গোলাম পরওয়ার

    ১১ দলীয় ঐক্যের সিলেট বিভাগীয় সমাবেশ সফল করুন: গোলাম পরওয়ার

    গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জুলাই গণহত্যায় জড়িত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ও তার দোসরদের বিচারের দাবিতে আগামী শনিবার ১১ দলীয় ঐক্যের পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সিলেট বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। বেলা আড়াইটায় সিলেটের ঐতিহাসিক আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি।

    লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিতব্য এ সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন।

    এই সমাবেশ সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে সিলেট বিভাগ জামায়াতের সংশ্লিষ্ট সব শাখা এবং এলাকার সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে তিনি এই আহবান জানান।

    গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জুলাই গণহত্যায় জড়িত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ও তার দোসরদের বিচারের দাবিতে আগামী শনিবার ১১ দলীয় ঐক্যের পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সিলেট বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। বেলা আড়াইটায় সিলেটের ঐতিহাসিক আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।

    সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি।

    লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিতব্য এ সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন।

    এই সমাবেশ সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে সিলেট বিভাগ জামায়াতের সংশ্লিষ্ট সব শাখা এবং এলাকার সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে তিনি এই আহবান জানান।

  • জিয়া হত্যায় অভিযুক্ত মোজাফফর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার

    জিয়া হত্যায় অভিযুক্ত মোজাফফর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার

    মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যায় অভিযুক্ত আসামি মোজাফফর হোসেনকে।

    বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আনা হয় তাকে। সেখানে প্রসিকিউশনের আবদনের প্রেক্ষিতে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার দেখানোর নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে, তদন্ত সংস্থাকে দেওয়া হয় অভিযুক্তকে ২ দিনের জিজ্ঞাসাবাদে অনুমতি।

    চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানান, মোজাফফর হোসেনের বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্তে এক এগারোর সরকারের বির্তকিত কর্মকাণ্ড থেকে ২৪ এর জুলাই অভ্যুত্থান পর্যন্ত সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে মিলে নানা অপরাধের প্রমাণ মিলেছে।

    এর আগে, মোজাফফরের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকার অভিযোগে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় তাকে বৃহস্পতিবার হাজির করার জন্য নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

    উল্লেখ্য, গত ১৫ জুলাই রাতে ঢাকার বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে মোজাফফরকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে পরদিন বৃহস্পতিবার। ওইদিন সন্ধ্যায় তাকে সেনা হেফাজতে দেওয়া হয়।

  • জুলাই গণহত্যার দ্রুত বিচার চেয়ে ট্রাইব্যুনালে জামায়াতসহ ১১ দল

    জুলাই গণহত্যার দ্রুত বিচার চেয়ে ট্রাইব্যুনালে জামায়াতসহ ১১ দল

    চব্বিশের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের সব মামলার বিচারকাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়াসহ সাত দফা দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রতিনিধিদল।

    বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামের কাছে এ স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

    এ সময় জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার ফুয়াদসহ জোটের শীর্ষ নেতারা ছিলেন। একইসঙ্গে শহীদ পরিবারের সদস্যরাও তাদের সঙ্গে ছিলেন।

    সাত দফা দাবিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের প্রধান প্রধান ঘটনাস্থলের অধিকাংশের তদন্ত এখনও সম্পন্ন হয়নি। এসব ঘটনাস্থলের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার প্রযোজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া অভিযুক্ত অনেক পুলিশ কর্মকর্তাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এখনও গ্রেফতার হননি। অনেকে সরকারি দায়িত্বে বহাল রয়েছেন এমন অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

    এতে আরও বলা হয়, দেশের ৬৪ জেলার ৬১ জেলায় মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। কিন্তু ঢাকা, রংপুর ও কুষ্টিয়া জেলার বাইরে সংঘটিত বহু ঘটনার তদন্ত কার্যক্রম এখনও শেষ হয়নি। হত্যাকাণ্ড ও হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত আওয়ামী লীগসহ সহযোগী বা অঙ্গসংগঠনের অনেক চিহ্নিত ব্যক্তিকে এখনও গ্রেফতার করা হয়নি। ফলে ভুক্তভোগী ও সাক্ষীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

    এছাড়া গুম-খুন, লাশ গোপন বা ধ্বংস করার অভিযোগে জড়িতদের সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ বিচার কার্যক্রম নিশ্চিত করতে হবে। তবে এ ধরনের তদন্ত ও বিচার কার্যক্রমে অস্বাভাবিক ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে। এজন্য বিচারপ্রার্থী ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের মাঝে ন্যায়বিচার নিয়ে উদ্বেগ ও শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।