জাতীয়

  • টানা ৫ দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস, গভীর নিম্নচাপটির অবস্থা যেমন জানা গেল

    টানা ৫ দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস, গভীর নিম্নচাপটির অবস্থা যেমন জানা গেল

    উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের গভীর নিম্নচাপটি দুর্বল হয়ে পড়েছে। তবে এর প্রভাবে আগামী পাঁচ দিন দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি ও ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

    এদিকে দেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতির আভাস মিললেও সিলেটের একটি পয়েন্টে এখনো নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

    আজ মঙ্গলবার আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

    আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের কিছু কিছু স্থানে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণেরও সম্ভাবনা রয়েছে।

    আগামীকাল বুধবার রংপুর, ময়মনসিংহ, খুলনা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় এবং রাজশাহী, ঢাকা ও বরিশাল বিভাগের অনেক স্থানে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ দিন দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে, তবে রাতের তাপমাত্রায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।

    আগামী বৃহস্পতিবার রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় এবং ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক স্থানে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এ দিন দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

    আগামী শুক্র ও শনিবারও একই ধরনের আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে। বিশেষ করে, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এ সময় তাপমাত্রায় উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।

    আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, বিহার, নিম্নচাপের কেন্দ্রস্থল ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় ও উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় থাকায় আগামী পাঁচ দিন বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।

    এদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের আজকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের পর্যবেক্ষণাধীন পানি সমতল স্টেশনগুলোর মধ্যে বর্তমানে কেবল সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ২১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে পানির উচ্চতা আট সেন্টিমিটার কমেছে। একই সময়ে সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকার নদ-নদীর পানি কমেছে।

    আগামী দুই দিন পানি আরও কমতে পারে এবং তৃতীয় দিনে স্থিতিশীল থাকতে পারে। এতে আগামী তিন দিনের মধ্যে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির আরও উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সুনামগঞ্জের জারুকুল পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি এখনো সতর্কসীমায় রয়েছে।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকার নদ-নদীর পানি কমছে এবং আগামী তিন দিন এ ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকার নদীগুলোর পানি আগামী পাঁচ দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে। উত্তরাঞ্চলের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদের পানিও কমছে, যদিও ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা এখনো সতর্কসীমায় রয়েছে।

    এ ছাড়া চট্টগ্রাম অঞ্চলের মুহুরী নদীর পানি কিছুটা বেড়েছে, তবে গোমতী, ফেনী, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি কমেছে। আগামী এক দিন এসব নদীর পানি কিছুটা বাড়তে পারে, পরে তা স্থিতিশীল হতে পারে। একই সঙ্গে বরিশাল, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের উপকূলীয় নদ-নদীতে স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেশি জোয়ার অব্যাহত থাকতে পারে।

    বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, গভীর নিম্নচাপটি দুর্বল হলেও এর প্রভাবে আগামী দুই দিন মাঝারি থেকে মাঝারি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

  • গ্যাস সংকট নিরসনে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা চাইলেন তারেক রহমান

    গ্যাস সংকট নিরসনে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা চাইলেন তারেক রহমান

    চলমান গ্যাস সংকট নিরসনে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ মঙ্গলবার দুপুরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপে এ সহযোগিতা চান তিনি। পরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী তার দেশের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে বাংলাদেশের গ্যাস সংকট নিরসনে তার দেশের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

    আজ সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

    জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘হতে পারে এফএসআরইউ (ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল) বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত একটি স্থাপনা বা কাঠামো, যার মাধ্যমে আমরা আমদানিকৃত এলএনজিকে রিগ্যাসিফাই করছি, কিন্তু এটা তো জনগণের সরকার। জনগণ ভোট দিয়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছেন। আমরা এই দায়িত্বটা অনুভব করি, জনগণের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে বলেই আমরা প্রাণান্ত করার চেষ্টা করছি এই সমস্যার সমাধানে।’

    তিনি বলেন, ‘সমস্যার গুরুত্ব অনুভব করে প্রধানমন্ত্রী গতকাল (সোমবার) মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে একটি পত্র লেখেন, যেটি আজকে আমাদের শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন (মালয়েশিয়া সফরে আছেন) হস্তান্তর করেছেন কুয়ালালামপুরে। আজকে বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। বাংলাদেশের এই উদ্ভূত জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় তার এবং তার দেশের সহযোগিতা কামনা করেছেন।’

    অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘আনোয়ার ইব্রাহিম প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেছেন, তার তরফ থেকে এবং তার দেশের তরফ থেকে- এ সংকট নিরসনে যা কিছু করার সুযোগ রয়েছে, তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে তার টিমের সঙ্গে কথা বলবেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলে প্রধানমন্ত্রীকে (তারেক রহমান) অবহিত করবেন। তারা (মালয়েশিয়া সরকার) দ্রুত ফিডব্যাক দিবেন, যাতে করে বাংলাদেশের মানুষের কষ্ট লাঘবে মালয়েশিয়া এবং মালয়েশিয়া সরকার পাশে থাকতে পারে।’

    তিনি বলেন, ‘এই বার্তাটি দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা আমি এই কারণে অনুভব করছি যে, মানুষের এই সমস্যা, মানুষের এই কষ্টটা প্রতি মুহূর্তে আমাদেরকে কষ্ট দিচ্ছে এবং বাংলাদেশের মানুষের এই কষ্টে আমরাও সমব্যথী। আমরা ক্ষেত্রবিশেষে আমাদের কথা, আমাদের কষ্ট আরও বেশি কারণ জনগণ আসলে আমাদের দায়িত্ব দিয়েছে তাদের কষ্ট নিরসনের জন্য।’

    সংকট সমাধানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় দিনরাত কাজ করছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘জ্বালানি বিভাগের অন্যান্য সংগঠন পেট্রোবাংলা, আরপিজিসিএল যেমন দিনরাত কাজ কাজ করছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও প্রতি মুহূর্তে ঘটনা সম্পর্কে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং তার তরফ থেকে, তার পক্ষ থেকে যদি কিছু করবার থাকে সেই ব্যাপারে চেষ্টা করছেন। চাহিদা অনুযায়ী কিন্তু গ্যাস সরবরাহ করতে পারছি না। তাহলে চাহিদা এবং সরবরাহের মধ্যে যে গ্যাপটুকু রয়েছে, সে গ্যাপটা মিনিমাইজ করবার জন্য প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা কামনা করেছেন।’

    এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মালয়েশিয়া থেকে আমরা এলএনজি আমদানির সুযোগ নিয়ে কাজ করছি। এটা তো একটা প্রক্রিয়ার ব্যাপার। এই প্রক্রিয়া কত দ্রুততম সময়ের মধ্যে আমরা সম্পন্ন করতে পারি, এ ছাড়া বিকল্প কোনো পন্থা আছে কি না, যেখানে তাদের অভিজ্ঞতা দিয়ে তারা আমাদেরকে সহায়তা করতে পারে, তাদের পরামর্শ দিয়ে আমাদেরকে সহায়তা করতে পারে কিংবা তাদের রিসোর্সেস আমাদের সাথে শেয়ার করতে পারে— সবকিছুই হতে পারে।’

  • টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি, যা বলছে সরকারি সংস্থা বিএসটিআই

    টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি, যা বলছে সরকারি সংস্থা বিএসটিআই

    দেশের অধিকাংশ টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। সংস্থাটি বলেছে, পূর্ণাঙ্গ বৈজ্ঞানিক ও আইনগত যাচাই ছাড়া কোনো ব্র্যান্ড বা টুথপেস্টকে অনিরাপদ বা নিম্নমানের বলে ঘোষণা করাও সঠিক হবে না।

    বিএসটিআই জানিয়েছে, তারা নিজ উদ্যোগে বাজার ও কারখানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে দেশি বা বিদেশি স্বীকৃত পরীক্ষাগারে পুনরায় পরীক্ষা করার উদ্যোগ নিয়েছে। যদি পরীক্ষায় প্রমাণিত হয় যে কোনো পণ্য বাংলাদেশ মান পূরণ করেনি অথবা অনুমোদনহীন উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে, তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    আজ মঙ্গলবার দুপুরে বিএসটিআই এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি একটি বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) পরিচালিত গবেষণায় টুথপেস্টের ৩৪টি নমুনার মধ্যে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়ায় জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

    জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানায় বিএসটিআই। সংস্থাটি বলেছে, মাইক্রোপ্লাস্টিক হলো ৫ মিলিমিটার বা তার চেয়ে ছোট আকারের ক্ষুদ্র প্লাস্টিকের কণা, যা খালি চোখে সাধারণত দেখা যায় না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, মাইক্রোপ্লাস্টিক একটি উদীয়মান পরিবেশগত ও স্বাস্থ্যগত উদ্বেগের বিষয়। মাইক্রোপ্লাস্টিকের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি নিয়ে এখনো গবেষণা চলমান। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক মাইক্রোপ্লাস্টিকের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন রয়েছে, এমনটি মনে করে বিএসটিআই।

    বিভিন্ন দেশ মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছে

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ২০১৫ সালে প্রথম মাইক্রোবিড-ফ্রি ওয়াটার অ্যাক্ট ২০১৫-তে টুথপেস্টসহ ধৌতযোগ্য কসমেটিকস পণ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহার নিষিদ্ধ করে। ইউরোপীয় আইন মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধে উৎপাদনকারীদের ২০২৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের অনেক দেশেই টুথপেস্টে ইচ্ছাকৃতভাবে সংযোজিত প্লাস্টিকের মাইক্রোবিড ব্যবহার নিষিদ্ধ।

    বিএসটিআই বলেছে, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা প্রভৃতি দেশের স্ট্যান্ডার্ডে বা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মান সংস্থা প্রণীত মানে টুথপেস্ট পণ্যের জন্য মাইক্রোপ্লাস্টিকের কোনো মাত্রা বা ব্যবহার নিষিদ্ধের বিষয় উল্লেখ নেই। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে টুথপেস্টে অনিচ্ছাকৃতভাবে থাকা মাইক্রোপ্লাস্টিকের জন্য কোনো নির্দিষ্ট গ্রহণযোগ্য সীমা বা একক পরীক্ষার পদ্ধতি এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

    বিএসটিআই বলেছে, টুথপেস্ট পণ্যের জন্য বাংলাদেশ নির্ধারিত মান (স্ট্যান্ডার্ড) রয়েছে। সেখানে মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহারসংক্রান্ত সরাসরি কোনো বিধিনিষেধ না থাকলেও উক্ত স্ট্যান্ডার্ডে টুথপেস্ট উৎপাদনে ব্যবহারযোগ্য ৮১টি উপাদানের তালিকা দেওয়া হয়েছে, যেখানে মাইক্রোপ্লাস্টিক উল্লেখ নেই। বিএসটিআই থেকে সনদ দেওয়ার আগে টুথপেস্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা যাচাই করা হয়। ফলে টুথপেস্ট উৎপাদনের ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃতভাবে মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহারের সুযোগ নেই।

    সংস্থাটি আরও বলেছে, শুধু কোনো পরীক্ষায় প্লাস্টিকজাত কণা পাওয়া গেছে বলেই সেটি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যবহার করেছে বা সেটি মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়। এ জন্য আরও বিস্তারিত পরীক্ষা, কণার ধরন, উৎস, পরিমাণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি মূল্যায়ন প্রয়োজন।

    বিএসটিআই ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে গবেষণার পূর্ণাঙ্গ তথ্য, পরীক্ষার পদ্ধতি, পরীক্ষার প্রাথমিক তথ্য এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য চেয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উৎপাদনকারী ও আমদানিকারকদের কাছ থেকেও কাঁচামাল, পণ্যের উপাদান ও সিনথেটিক পলিমার ব্যবহারের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিএসটিআই ইতিমধ্যে বিশেষজ্ঞ, গবেষণাপ্রতিষ্ঠান, পরিবেশ অধিদপ্তর, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর, দন্তচিকিৎসক, শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং ভোক্তা প্রতিনিধিদের নিয়ে টুথপেস্টের বাংলাদেশ মান পর্যালোচনার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া গেলে টুথপেস্টে ইচ্ছাকৃতভাবে প্লাস্টিক মাইক্রোবিড ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, উপাদান প্রকাশের বাধ্যবাধকতা এবং পরীক্ষার পদ্ধতি সংযোজনসহ বাংলাদেশ মান হালনাগাদ করা হবে।

  • ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে বৈঠক; রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে যে আলোচনা হলো- জানালেন সিইসি 

    ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে বৈঠক; রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে যে আলোচনা হলো- জানালেন সিইসি 

    জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশন (ইসি) বৈঠক করেছেন। মঙ্গলবার সকাল ১১টায় জাতীয় সংসদে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে এই বৈঠকে আলোচনা হয় বলে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে।

    বৈঠক শেষে সিইসি সাংবাদিকদের জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত আছে কমিশন। দিনক্ষণ এখনও ঠিক হয়নি।

    সিইসি জানান, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। এ–সংক্রান্ত আইনে নির্বাচনের আগে জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শক্রমে দিনক্ষণ ঠিক করার কথা বলা আছে। সে জন্য নির্বাচন কমিশন ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে। জাতীয় সংসদ অধিবেশন থাকলে এ নির্বাচন একভাবে হবে, আর না থাকলে আরেক ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে। এ বিষয়ে প্রাথমিকভাবে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তবে নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এটি চূড়ান্ত হলে জানানো হবে।

    সিইসি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে, তা জানানো হয়েছে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারকে। সংসদ সচিবালয় এ নির্বাচনের ভোটার তালিকা দেবে, এ জন্য নির্বাচন কমিশন চিঠিও দিয়েছে।

    ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে ইসির বৈঠক

    তিনি বলেন, ‘সাতক্ষীরা–৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিষয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়নি। এ আসনের বিষয়ে সংসদ সচিবালয় পদক্ষেপ নিতে বললে কমিশন ব্যবস্থা নেবে।

    বৈঠকে অন্যদের মধ্যে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ও তাহমিদা আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

    এর আগে সোমবার এ বিষয়ে ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত একটি চিঠি সংসদ সচিবের কাছে পাঠানো হয়। চিঠিতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শুক্রবার নিজ পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদের দফা ২-এর বিধান অনুসারে, রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগের কারণে এই পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে তা পূর্ণ করার জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে হবে।’

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ এর ৫ ধারার (২) ও (৩) উপ-ধারার বিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য স্পিকারের সাথে আলোচনাক্রমে নির্বাচন কমিশনকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তপশিল সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে ঘোষণা করতে হবে। এ বিষয়ে স্পিকার কর্তৃক নির্ধারিত সুবিধাজনক তারিখ ও সময়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সাক্ষাতের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হলো।

  • ঋণ শোধ হলো না, দুই ভাই ফিরলেন দুটি কফিনে

    ঋণ শোধ হলো না, দুই ভাই ফিরলেন দুটি কফিনে

    পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে জীবিকার সন্ধানে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন লক্ষ্মীপুরের দুই ভাই ফয়েজ আহমেদ সজীব (২৯) ও ফরহাদ হোসেন সুজন (২১)। কিন্তু প্রবাসের সেই স্বপ্ন সড়ক দুর্ঘটনায় থেমে গেল। সৌদি আরবের দাম্মামে প্রাণ হারানোর পর শেষ পর্যন্ত দুই ভাইকে ফিরতে হলো দুটি কফিনে। তাঁদের একসঙ্গে দাফনের মধ্য দিয়ে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়ে পুরো গ্রাম।

    আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার গনিপুর গ্রামের নিজ বাড়িসংলগ্ন কামারহাট মসজিদ মাঠে তাঁদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয় দুই ভাইকে। শেষবিদায়ে আত্মীয়স্বজন, এলাকাবাসী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

    নিহত ব্যক্তিরা হলেন চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার গনিপুর গ্রামের খলিফার বাড়ির বাসিন্দা আবদুল মালেকের দুই ছেলে সজীব ও সুজন। বড় ভাই সজীব দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের দাম্মামে খেজুরের ব্যবসা করতেন। চলতি বছরের শুরুতে ছোট ভাই সুজনকে কাজের সহযোগিতার জন্য সৌদি আরবে নিয়ে যান তিনি।

    পরিবার সূত্রে জানা যায়, ১৫ জুলাই রাতে খেজুরবোঝাই একটি পিকআপে করে বাগান থেকে ফেরার পথে তাঁদের গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাক-লরির সঙ্গে সজোরে ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়।

    কাঁদতে কাঁদতে নিহত দুই ভাইয়ের বাবা আবদুল মালেক বলেন, ‘ঋণ করে দুই ছেলেকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম, তারা পরিশ্রম করে সংসারের অভাব ঘুচাবে, ঋণ শোধ করবে। কিন্তু সেই ঋণ এখনো শোধ হলো না। আমার দুই ছেলে আর নাই। এমন হবে, আমি কল্পনাও করি নাই।’

    দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে গতকাল সোমবার রাতে তাঁদের লাশ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। শেষবারের মতো একনজর দেখতে শত শত মানুষ ভিড় করেন। আজ জানাজায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিপুলসংখ্যক মুসল্লি অংশ নেন।

    লক্ষ্মীপুরের গ্রামের বাড়িতে আজ দুই ভায়ের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে গ্রামের লোকজন অংশ নেন। আজ সকালে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার গনিপুর গ্রামের কামারহাট মসজিদ মাঠেছবি: প্রথম আলো

    নিহত সজীবের স্ত্রী ও দুই বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে। পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম দুই সদস্যকে হারিয়ে পরিবারটি এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

    স্থানীয় মানুষের ভাষ্য, সজীব ও সুজন ছিলেন অত্যন্ত ভদ্র, পরিশ্রমী ও সবার প্রিয়। তাঁদের অকালমৃত্যুতে শুধু একটি পরিবার নয়, শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো গনিপুর গ্রামে। জানাজা শেষে সজল চোখে দুই ভাইকে শেষবিদায় জানান স্বজন ও এলাকাবাসী।

    চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াসমিন নিপা বলেন, ‘একসঙ্গে দুই ভাইয়ের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।’

  • সংরক্ষিত নারী এমপিদের পছন্দের আসন দিতে আইন করছে সরকার

    সংরক্ষিত নারী এমপিদের পছন্দের আসন দিতে আইন করছে সরকার

    জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যদের নির্দিষ্ট নির্বাচনী এলাকা নেই। তবে এবার তাঁদের এক বা একাধিক সাধারণ সংসদীয় আসনে ‘উন্নয়ন কার্যক্রমে ভূমিকা’ রাখার আইনি পথ তৈরি করতে যাচ্ছে সরকার। এমন উদ্যোগকে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য বলছেন বিশেষজ্ঞ।

    আইনি পথ তৈরির লক্ষ্যে ‘জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইন, ২০০৪’ সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশোধনের খসড়া তৈরি করা হয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ‘জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ শিরোনামের এই খসড়া আইন মন্ত্রণালয় থেকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিলে তা দ্রুত সংসদে উত্থাপন করা হবে।

    লোকপ্রশাসন–বিশেষজ্ঞ ও সংসদবিষয়ক গবেষক অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমেদ দেশের একটি জাতীয় গণমাধ্যমেকে বলেন, উন্নয়ন কার্যক্রমে ভূমিকা রাখার কথা বলে এমন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য। এটি সংসদ সদস্যদের কাজই নয়। তা ছাড়া সংরক্ষিত নারী সদস্যরা কোনো নির্দিষ্ট এলাকার মানুষের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন না। তাঁদের নির্বাচনী এলাকা নেই—এটি জেনেই দলগুলো তাঁদের মনোনয়ন দিয়েছে। এখন আইন করে তাঁদের জন্য এক বা একাধিক সাধারণ আসনে দায়িত্ব দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। এটি বিদ্যমান প্রতিনিধিত্ব–ব্যবস্থাকে আরও দুর্বল করবে এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য হুমকি হয়ে উঠবে।

    খসড়ায় বিদ্যমান আইনের ২৬–এর পর নতুন ধারা ২৬ক সংযোজনের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, সাধারণ আসনে নির্বাচিত সদস্যদের জন্য নির্ধারিত সংসদীয় এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রমে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যের ভূমিকা রাখার লক্ষ্যে দায়িত্ব–কার্যাবলি বণ্টন করা যাবে। এক বা একাধিক সাধারণ আসন (কার্যক্ষেত্র) নির্ধারণ করবে তাঁর দল বা জোট। আর দায়িত্ব–কার্যাবলি ঠিক করবেন তাঁর দল বা জোটের সংসদীয় দলের প্রধান।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, উদ্যোগটির পটভূমিতে রয়েছে বিরোধী দলের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের আসনে ক্ষমতাসীন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যদের দায়িত্ব দেওয়া নিয়ে তৈরি হওয়া সাম্প্রতিক বিতর্ক।

    এ বিতর্কের জেরে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়, নির্বাচনী এলাকা না থাকায় সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যদের কাজের ক্ষেত্র ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বিরোধী দলের নেতারা বলেন, এতে সরাসরি নির্বাচিত বিরোধী সংসদ সদস্যদের কাজে হস্তক্ষেপের পাশাপাশি সমন্বয়হীনতা ও রাজনৈতিক সংঘাত তৈরি হতে পারে।

    উন্নয়ন কার্যক্রমে ভূমিকা রাখার কথা বলে এমন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য। এটি সংসদ সদস্যদের কাজই নয়।

    অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমেদ, লোকপ্রশাসন–বিশেষজ্ঞ

    আসন ঠিক করে স্পিকারকে জানাবে দল–জোট

    খসড়া অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচিত কোনো সদস্যের নাম সরকারি গেজেটে প্রকাশের পর যেকোনো সময় তাঁর এই দায়িত্ব বণ্টন করা যাবে। যে দল বা জোটের আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে তিনি নির্বাচিত হয়েছেন, সেই দল বা জোট তাঁর কার্যক্ষেত্র হিসেবে এক বা একাধিক সাধারণ আসন নির্ধারণ করবে। এরপর তা লিখিতভাবে স্পিকারকে জানাবে।

    এ ক্ষেত্রে স্পিকারের অনুমোদন নেওয়ার কথা নেই খসড়ায়। তাঁকে কেবল ‘অবহিত’ করার বিধান রাখা হয়েছে। অর্থাৎ সংরক্ষিত নারী সদস্যের জন্য সাধারণ আসন নির্ধারণের সিদ্ধান্ত তাঁর দল বা জোটের নেতৃত্বের হাতেই থাকবে।

    খসড়া অনুযায়ী, সাধারণ আসনে ‘উন্নয়ন কার্যক্রমে ভূমিকা’ রাখার ক্ষেত্রে সংরক্ষিত নারী সদস্যের সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব ও কার্যাবলি ঠিক করবেন তাঁর দল বা জোটের সংসদীয় দলের প্রধান।

    স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে নির্বাচিত সংরক্ষিত নারী সদস্যের ক্ষেত্রে সাধারণ আসন নির্ধারণসহ দায়িত্ব কীভাবে ঠিক হবে, তা উল্লেখ আছে খসড়ায়।

    জাতীয় সংসদ অধিবেশন কক্ষ ফাইল ছবি

    প্রস্তাবে বলা হয়েছে, নির্দলীয় জোটভুক্ত স্বতন্ত্র সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠের লিখিত প্রস্তাবের ভিত্তিতে সংরক্ষিত নারী সদস্যের কার্যক্ষেত্র হিসেবে এক বা একাধিক সাধারণ আসন নির্ধারণ করবেন স্পিকার। স্বতন্ত্র সদস্যদের মধ্যে ঐকমত্য না থাকলে সংরক্ষিত নারী সদস্য নিজেই তাঁর পছন্দের আসন উল্লেখ করে স্পিকারের কাছে আবেদন করবেন। আবেদনসহ সংশ্লিষ্ট বিষয় বিবেচনা করে স্পিকার যে সিদ্ধান্ত দেবেন, তা চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।

    প্রস্তাব অনুযায়ী, সাধারণ আসনে নির্বাচিত সদস্যদের জন্য নির্ধারিত সংসদীয় এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রমে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যের ভূমিকা রাখার লক্ষ্যে দায়িত্ব–কার্যাবলি বণ্টন করা যাবে। এক বা একাধিক সাধারণ আসন (কার্যক্ষেত্র) নির্ধারণ করবে তাঁর দল বা জোট। আর দায়িত্ব–কার্যাবলি ঠিক করবেন তাঁর দল বা জোটের সংসদীয় দলের প্রধান।

    খসড়ায় বলা হয়েছে, সংরক্ষিত নারী সদস্যের জন্য এমন কার্যক্ষেত্র নির্ধারণের কারণে সংবিধানের ৬৫(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সরাসরি নির্বাচিত সংসদ সদস্যের দায়িত্ব ও অধিকার কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন হবে না।

    কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর নেই

    একজন সংরক্ষিত নারী সদস্যকে সর্বোচ্চ কতটি সাধারণ আসনের দায়িত্ব দেওয়া যাবে, তা খসড়ায় নির্দিষ্ট করা হয়নি।

    কোনো দল বা জোট কেবল নিজেদের জেতা সাধারণ আসন থেকে সংরক্ষিত নারী সদস্যের কার্যক্ষেত্র বেছে নেবে কি না, তার উল্লেখও খসড়ায় নেই।

    ফলে ক্ষমতাসীন দল বিরোধী দলের জেতা আসন, আর বিরোধী দল ক্ষমতাসীন দলের জেতা আসন নিজেদের সংরক্ষিত নারী সদস্যের জন্য বেছে নিতে পারবে কি না, খসড়ায় তা বলা হয়নি।

    আবার একাধিক দল বা জোট নিজেদের সংরক্ষিত নারী সদস্যকে একটি (একই) সাধারণ আসনের দায়িত্ব দিলে কী হবে কিংবা কীভাবে বিরোধ মিটবে, সে বিষয়ে খসড়ায় কোনো বিধান নেই।

    আইন সংশোধনের লক্ষ্য হিসেবে সাধারণ সংসদীয় আসনে ‘উন্নয়ন কার্যক্রমে’ সংরক্ষিত নারী সদস্যদের ‘ভূমিকার’ কথা উল্লেখ করা হয়েছে খসড়ায়। কিন্তু এই ‘ভূমিকার’ মধ্যে কী কী বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে, তা স্পষ্ট নয়।

    সংশ্লিষ্ট দল বা জোটের সংসদীয় দলের প্রধান সংরক্ষিত নারী সদস্যের দায়িত্ব–কার্যাবলি ঠিক করবেন বলা হলেও এই ক্ষমতার সীমা খসড়ায় নির্ধারণ করা হয়নি।

    একই সংসদীয় এলাকায় দুজন সদস্যের (সরাসরি নির্বাচিত ও সংরক্ষিত) ‘উন্নয়ন কার্যক্রম’–সংক্রান্ত ভূমিকা কীভাবে আলাদা হবে, তার কোনো কার্যপদ্ধতি খসড়ায় নেই। ফলে মাঠপর্যায়ে ক্ষমতার বিরোধ ও সমন্বয়ের জটিলতার আশঙ্কা থাকছে।

    ক্ষমতাসীন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যদের সম্প্রতি বিভিন্ন সংসদীয় আসনের দায়িত্ব দেওয়া হয় ফাইল ছবি

    এখনকার ব্যবস্থায় যা আছে

    সংবিধানের ৬৫(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, একক আঞ্চলিক নির্বাচনী এলাকাগুলো থেকে জনগণের সরাসরি ভোটে ৩০০ জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। আর ৬৫(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদে নারীদের জন্য ৫০ আসন সংরক্ষিত রয়েছে। তাঁরা নির্বাচিত হন সাধারণ আসনের সদস্যদের ভোটে।

    ‘জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইন, ২০০৪’–এ সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টনের পদ্ধতি বলা আছে। সংসদে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতির ভিত্তিতে দল ও জোটের মধ্যে এই ৫০ আসন বণ্টন করা হয়। প্রতি ছয়জন সাধারণ সদস্যের বিপরীতে একটি সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন হয়।

    সে অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বিএনপি জোট ৩৬টি, জামায়াত জোট ১৩টি ও স্বতন্ত্ররা মিলে ১টি সংরক্ষিত নারী আসন পেয়েছে।

    এই সদস্যরা আইন প্রণয়ন, সংসদীয় বিতর্ক, সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে কাজ করাসহ সাধারণ সদস্যদের মতো দায়িত্ব পালন করেন। তাঁদের বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ–সুবিধাও সাধারণ সদস্যদের সমান।

    সরকার–বিরোধীপক্ষের মতভেদ কোথায়

    গত মাসের শুরুতে বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠকে বিরোধী দলের সদস্যদের ৭৯টি আসনে উন্নয়ন তদারকি ও রাজনৈতিক সমন্বয়ের জন্য দলটির সংরক্ষিত নারী সদস্যদের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কোনো নারী সদস্যকে একটি বা দুটি, কাউকে আবার সর্বোচ্চ চারটি আসন এবং কয়েকজনকে পুরো জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়। জামায়াত, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলন ও বিএনপির সঙ্গে না থাকা স্বতন্ত্র সদস্যের আসনও এই বণ্টনের মধ্যে আছে।

    এ সিদ্ধান্তের পেছনে যুক্তি হিসেবে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়, সরাসরি নির্বাচিত সদস্যের যেমন এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখার অধিকার আছে, সংরক্ষিত নারী সদস্যদেরও তেমন অধিকার আছে।

    অন্যদিকে এ সিদ্ধান্তের পর জামায়াত ও এনসিপির পক্ষ থেকে বলা হয়, এটি নির্বাচনী এলাকায় অনর্থক সংঘাত তৈরি করবে। এই সিদ্ধান্তকে ‘অগণতান্ত্রিক ও বৈষম্যমূলক আচরণ’ হিসেবে অভিহিত করে তারা।

    বিশ্লেষকেরা বলছেন, প্রস্তাবিত সংশোধনী পাস হলে শুধু বিএনপি নয়, জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটও নিজেদের সংরক্ষিত নারী সদস্যদের এক বা একাধিক সাধারণ আসনে দায়িত্ব দিতে পারবে। তবে সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যের কাজ কী হবে, একজন কতটি আসনে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন, তা নির্দিষ্ট করে না দিলে বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে।

    অতীতে একই আসনে সাধারণ ও সংরক্ষিত নারী সদস্যদের মধ্যে বিরোধ দেখা গেছে। এমনকি এই বিরোধ সংঘাত–সংঘর্ষেও রূপ নিয়েছিল।

    সরাসরি নির্বাচিত একজন সদস্যের এলাকায় আরেকজন সংরক্ষিত নারী সদস্যকে ‘উন্নয়নকাজের’ দায়িত্ব দিয়ে বসিয়ে দিলে দ্বন্দ্ব অনিবার্য বলে মন্তব্য করেন লোকপ্রশাসন–বিশেষজ্ঞ ও সংসদবিষয়ক গবেষক অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, সে ক্ষেত্রে ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, বরাদ্দ, সুপারিশের মতো বিষয়গুলো নিয়ে টানাটানি হবে। ক্ষমতাসীন দলের সংরক্ষিত নারী সদস্যকে বিরোধী দলের জেতা আসনে দায়িত্ব দেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও ভয়ংকর হবে। এটি সরকার ও বিরোধী দলের সহযোগিতার জায়গা নষ্ট করবে। এ আইন করা হলে বিরোধ ও বিশৃঙ্খলা আরও বাড়বে।

  • স্ত্রী ও তিন ছেলের সবাই প্রবাসে, নিঃসঙ্গ বৃদ্ধের গলিত লাশ মিলল ঘরে

    স্ত্রী ও তিন ছেলের সবাই প্রবাসে, নিঃসঙ্গ বৃদ্ধের গলিত লাশ মিলল ঘরে

    স্ত্রী আর তিন ছেলের সবাই থাকেন মধ্যপ্রাচ্যের সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই শহরে। আবদুর রহমান (৬৫) একাই থাকতেন চট্টগ্রামের চন্দনাইশের গ্রামের বাড়িতে। গতকাল সোমবার ছেলেরা ফোন করে তাঁর সংযোগ পাচ্ছিলেন না। ওই দিন বিকেলে তাঁর ছোট ছেলের স্ত্রী বাবার বাড়ি থেকে খোঁজ নিতে এসে দেখেন, ঘরের দরজা বন্ধ। এলাকার লোকজনের সহায়তায় দরজা খোলার পর দেখা যায়, আবদুর রহমানের পচা-গলা লাশ পড়ে আছে খাটে।

    চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের নগরপাড়া গ্রামের মিয়া সওদাগরের ছেলে আবদুর রহমান নিজেও দুবাইয়ে থাকতেন। দেড় বছর আগে দেশে আসেন তিনি। এরপর আর ফিরে যাননি। বাড়িতে একা থাকতেন, নিজের রান্না নিজে করতেন। গত শুক্রবার শেষবার তাঁকে গ্রামের একটি চা–দোকানে দেখা গিয়েছিল। এরপর গতকাল তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গাউছিয়া কমিটির মানবিক টিমের সহায়তায় তাঁর লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ।

    পুলিশ জানায়, তিন-চার দিন আগে আবদুর রহমানের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাঁর মরদেহে পচন ধরেছিল। নানা স্থানে পোকা ধরে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। চেহারাও বিকৃত হয়ে গেছে বলে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা জানান। পুলিশ জানায়, আবদুর রহমানের স্ত্রী, তিন ছেলে ও বড় ছেলের স্ত্রী দুবাইয়ে থাকেন। তাঁর স্ত্রী দুর্ঘটনায় আহত হওয়ায় তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    চন্দনাইশ উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সোলাইমান ফারুকী বলেন, আবদুর রহমান এলাকায় অনেকটা একা চলাফেরা করতেন। সবার সঙ্গে তেমন যোগাযোগ ছিল না।

    চন্দনাইশ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রিটন মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, খবর পেয়ে গতকাল সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন, লাশের চোখে–মুখে পোকা ধরেছে। দুই হাতের চামড়া খুলে পড়েছে। দুর্গন্ধে টেকা যাচ্ছে না। তাঁর মৃত্যু বেশ কয়েক দিন আগে হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে রিটন মিয়া বলেন, তিনি গত শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে বাড়ির পাশে চায়ের দোকান থেকে চা খেয়ে গেছেন। এরপর তাঁকে আর বাইরে দেখা যায়নি।

    প্রতিবেশীরা জানান, গত জানুয়ারি মাসে চন্দনাইশের বাড়িতে আবদুর রহমানের মেজ ছেলের বিয়ে হয়। বিয়ের পর পরিবারের সবাই দুবাইয়ে ফিরে গেলেও আবদুর রহমান যাননি। মেজ ছেলের স্ত্রী দোহাজারীতে নিজের বাবার বাড়িতে থাকেন। সেখান থেকে মাঝেমধ্যে এসে শ্বশুরকে দেখে যান তিনি। গত সোমবার তিনি খোঁজ নিতে এসে আবদুর রহমানকে মৃত অবস্থায় পান।

    পরিদর্শক রিটন মিয়া বলেন, ছোট ছেলের স্ত্রী পুলিশকে জানায়, দুবাই থেকে ছেলেরা বাবাকে বারবার ফোন করে খবর পাচ্ছিলেন না। তাই সোমবার খোঁজ নিতে এসে মেজ ছেলের স্ত্রী শ্বশুরের লাশ দেখতে পান। তিনি স্ট্রোক করেছেন কিনা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে জানা যাবে।

  • ফ্যামিলি কার্ডে অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা: তথ্যমন্ত্রী

    ফ্যামিলি কার্ডে অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা: তথ্যমন্ত্রী

    তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কোনো ধরনের দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর স্থান নেই। অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে গৌরনদীর কুতুবপুরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত স্বনির্ভর খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী।

    মন্ত্রী বলেন, ক্ষমতার উৎস জনগণ, আমরা কেবল জনগণের সেবক। বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

    পরে অতিথিরা খালের দুই পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন। স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও কর্মসূচিতে অংশ নেন।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান খান মুকুল, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শরীফ জহির সাজ্জাদ হান্নান, পৌর শাখার আহ্বায়ক মো. জাকির হোসেন শরীফ, ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব শফিকুর রহমান শরীফ স্বপন, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউজ্জামান মিন্টু, জেলা যুবদলের সৈয়দ আলম খান সেন্টুসহ অন‍্যান‍্যরা।

  • তিতাস গ্যাসে ১৩৫ পদে চাকরি

    তিতাস গ্যাসে ১৩৫ পদে চাকরি

    তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসিতে ১৩ থেকে ১৮ গ্রেডে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। মোট পদসংখ্যা ১৩৫। আবেদনের শেষ তারিখ ২১ আগস্ট ২০২৬।

    চাকরির বিবরণ

    ১. পদের নাম: হিসাব সহকারী

    পদসংখ্যা: ৪৯

    শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা: ন্যূনতম এইচএসসি পাসসহ (বাণিজ্য) হিসাব/অডিট/অর্থ বিষয়ে কমপক্ষে ৪ বছরের অভিজ্ঞতা।

    গ্রেড ও বেতন স্কেল: (গ্রেড–১৩) ১১,০০০-২৬,৫৯০ টাকা।

    ২. পদের নাম: করণিক

    পদসংখ্যা: ২৮

    শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা: ন্যূনতম এইচএসসি পাস এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে ১ বছরের অভিজ্ঞতা।

    গ্রেড ও বেতন স্কেল: (গ্রেড–১৬) ৯,৩০০-২২,৪৯০ টাকা।

    ৩. পদের নাম: উন্নয়নকারী

    পদসংখ্যা: ৪১

    শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা: বিজ্ঞানে এসএসসি পাসসহ সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে ১ বছরের অভিজ্ঞতা।

    গ্রেড ও বেতন স্কেল: (গ্রেড–১৬) ৯,৩০০-২২,৪৯০ টাকা।

    ৪. পদের নাম: সাহায্যকারী

    পদসংখ্যা: ১৭

    শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা: বিজ্ঞানে এসএসসি পাসসহ সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে ১ বছরের অভিজ্ঞতা।

    গ্রেড ও বেতন স্কেল: (গ্রেড–১৮) ৮,৮০০-২১,৩১০ টাকা।

    বয়সসীমা

    ১৬ জুলাই ২০২৬ তারিখে ১৮ থেকে ৩২ বছরের মধ্যে হতে হবে।

    আবেদনের নিয়ম

    পরীক্ষায় অংশগ্রহণে ইচ্ছুক প্রার্থীরা ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে আবেদন ফরম পূরণ করতে পারবেন।

    আবেদনের সময়সীমা

    আবেদনপত্র পূরণ ও পরীক্ষার ফি জমাদান শুরুর তারিখ ও সময়: ২৩ জুলাই ২০২৬, সকাল ১০টা।

    আবেদনপত্র জমাদানের শেষ তারিখ ও সময়: ২১ আগস্ট ২০২৬, বিকেল ৫টা।

    *বিস্তারিত দেখুন তিতাস গ্যাস টি অ্যান্ড ডি পিএলসির ওয়েবসাইট, পেট্রোবাংলার ওয়েবসাইট এবং টেলিটকের ওয়েবসাইটে।

  • মিরপুরে দেয়াল ধসে দুইজন নিহত, আহত অন্তত ৬

    মিরপুরে দেয়াল ধসে দুইজন নিহত, আহত অন্তত ৬

    রাজধানীর মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের পেছনের সীমানা প্রাচীর ধসে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ছয়জন। মঙ্গলবার দুপুরে লাভ রোড-মন্দির রোড এলাকায় টিসিবির পণ্য বিক্রির সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতদের একজনের নাম নাছিমা বেগম। তিনি পাশের জনতা হাউজিং এলাকার বাসিন্দা। এছাড়া ৪০ বছর বয়সী এক পুরুষের মৃত্যু হয়েছে, তার নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, টিসিবির পণ্য সংগ্রহের জন্য কলেজের দেয়ালের পাশে দীর্ঘ লাইনে সাধারণ মানুষ দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় হঠাৎ করেই কলেজের পেছনের সীমানা প্রাচীর ধসে পড়ে। দেয়াল ধসে কয়েকজন নারী-পুরুষ চাপা পড়েন। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠান। নাছিমা বেগম নামের ওই নারীকে পঙ্গু হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। পরে ঢাকা মেডিকেলে এক পুরুষকে মৃত ঘোষণা করা হয়। সেখানে গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন আরেক নারী।

    পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোস্তাক সরকার সমকালকে বলেন, দেয়াল ধসে ফুটপাতে পড়লে সাত থেকে আটজন চাপা পড়েন। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে এক নারীসহ দুজনের মৃত্যু হয়। তবে তারা টিসিবির পণ্য নেওয়ার জন্য এসেছিলেন কিনা বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। টিসিবির পণ্য বিক্রি হচ্ছিল সড়কে। ওখানে মানুষজন ভিড় করেছিলো। আবার ফুটপাত দিয়েও মানুষজন চলাচল করছিল। দেয়াল ধসে ফুটপাতে থাকা দুইজন মারা যায়। তদন্তে এই বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।