জাতীয়

  • ‘বিএনপি নেতাদের ডাকে যারা আসছিল, ওদের জন্য হাসিনাকে কোনোদিন পালাইতে হয় নাই’

    ‘বিএনপি নেতাদের ডাকে যারা আসছিল, ওদের জন্য হাসিনাকে কোনোদিন পালাইতে হয় নাই’

    অনলাইন একিক্টভিস্ট সাদিকুর রহমান খান বলেছেন,বিএনপি নেতাদের ডাকে যারা আসছিল, ওদের জন্য হাসিনাকে কোনোদিন পালাইতে হয় নাই।

    বুধবার সন্ধ্যায় ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘তারেক রহমানের ডাকে সরকার পড়লে হাসিনা সরকার পড়ার কথা ছিল ২৮ অক্টোবর। তারেক রহমানের ডাকে ১০ লাখ লোক ঢাকা আসলো। পুলিশ বাঁশি বাজানোর সাথে সাথে ১০ মিনিটে ১০ লাখ পালাইয়া গেল। নেতা নাকি কর্মীরা আগে পালাইসিল, সেটা একটা বড় প্রশ্ন। আরও বড় প্রশ্ন, ১০ লাখ লোক কেমনে ১০ মিনিটে পালাইয়া যায়? এরা এসেছিল ক্ষমতার জন্য।

    একজন মানুষও তারেক রহমানের ডাকে মরতে রাজি হয় নাই। একজনও না। নেতাও না। কর্মীও না। জুলাই আগস্টে মির্জা ফখরুলকে বারবার বলতে হইছে এই আন্দোলন আমাদের আন্দোলন না। আমরা এর সাথে জড়িত না। কারণ জুলাই বিএনপির আন্দোলন হইলে কোটি কোটি মানুষ এই আন্দোলনে আসতই না।

    ১৭ বছরে এক দফা কি কম দিসে?

    একটা মানুষ পাত্তা দিসে?

    দেয় নাই।

    মানুষ যাইয়া শুনলো নাহিদ ইসলাম নামের অপরিচিত, অরাজনৈতিক একটা ছেলের কথা। ৩ আগস্ট নাহিদ ইসলামের এক দফাতেই সরকারের নৈতিক পতন হয়ে যায়। হাসিনা পরিবারের সবাই পালাতে শুরু করে ৩ তারিখ থেকেই। আর ৪ আগস্ট আসিফ মাহমুদ ঢাকা দখলের ডাক দেন। ৫ আগস্ট মানুষ লাঠিসোঁটা নিয়ে ঢাকার রাজপথ দখলে নেয়। শহীদ হয় দুইশরও বেশি মানুষ। বিএনপি নেতাদের ডাকে যারা আসছিল, ওদের জন্য হাসিনাকে কোনদিন পালাইতে হয় নাই। কারণ হাসিনা জানত, পুলিশের বাঁশি শুনলেই এরা পালাবে। ১৭ বছর তো তাই পালাইসে।

    জুলাইয়ে কারা রাজপথে ছিল, সেটা ডকুমেন্টারিতে দেখানোর কিছু নাই। মানুষ দেখেছে জুলাইয়ে কে লন্ডনে ছিল, কে শিলং এ ছিল আর কে ঢাকায় ছিল। এই জেনারেশনের সাথে তামাশা করে লাভ নাই। জুলাইয়ের নেতা কারা, জুলাইয়ের ইমাম কে, বাংলাদেশের একেবারে প্রত্যন্ত এলাকায় যাইয়া ক্লাস ফাইভের বাচ্চাদের জিজ্ঞেস করেন, যান, ১০ সেকেন্ডে এই দেশের বাচ্চারা সাক্ষ্য দেবে নাহিদ, আসিফ, হাসনাত আর আখতারদের নাম।

    জুলাইয়ের ইতিহাসে এই প্রজন্মের অন্তরে লেখা আছে। দুই পয়সার ডকুমেন্টারি দিয়ে সেই লেখা মুছতে পারবেন না। আপনাদের কর্মীরা হইলো ১০ মিনিটে সব রাইখা পালাইয়া যাওয়া বিড়ালের দল,

    আর নাহিদের ডাকে যারা আসছিল, তাদের ব্যাপারে হাসিনার শুনতে হয়েছিল, একটা গুলি করি। একটা মরে, ঐ একটাই যায় স্যার। বাকিডি যায় না।

    গুলি করে যেই জেনারেশনের সাথে হাসিনা পারে নাই, মিথ্যা ইতিহাস আর মিথ্যা ডকুমেন্টারি দিয়ে সেই জেনারেশনকে মুছে ফেলতে চাওয়ার দু:সাহস কেমনে হয় আপনাদের?’

  • ‘কিফায়াতুল মুগতাযি’-এর প্রকাশনা উপলক্ষে আন্তর্জাতিক ইলমি সেমিনার অনুষ্ঠিত

    ‘কিফায়াতুল মুগতাযি’-এর প্রকাশনা উপলক্ষে আন্তর্জাতিক ইলমি সেমিনার অনুষ্ঠিত

    বিশিষ্ট হাদিসবিশারদ ও গবেষক মাওলানা আব্দুল মতিন রচিত ‘কিফায়াতুল মুগতাযি ফি শারহি জামে তিরমিযি’-এর ১৭ খণ্ডের পূর্ণাঙ্গ প্রকাশনা উপলক্ষে রাজধানীতে আন্তর্জাতিক ইলমি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশ-বিদেশের খ্যাতিমান আলেম, মুহাদ্দিস, গবেষক ও শিক্ষাবিদদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ সেমিনারে গ্রন্থটির গবেষণামূল্য, আন্তর্জাতিক গুরুত্ব এবং হাদিসশাস্ত্রে এর অবদান তুলে ধরা হয়।

    বুধবার ঢাকার কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে মুআসসাসা ইলমিয়্যাহ বাংলাদেশের উদ্যোগে ‘হাদিস অনুসরণে সালাফের কর্মপন্থা: প্রসঙ্গ জামে তিরমিযি ও কিফায়াতুল মুগতাযি’ শীর্ষক এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। হাজারো আলেম, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে মিলনায়তন পরিণত হয় এক ব্যতিক্রমধর্মী ইলমি সমাবেশে।

    সেমিনারের প্রধান অতিথি ছিলেন ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দের মুহতামিম ও শায়খুল হাদিস মাওলানা মুফতি আবুল কাসেম নোমানী। তিনি বলেন, “বহু বছরের নিরলস পরিশ্রম ও গবেষণার ফল এই গ্রন্থ। জামে তিরমিযি–এর ব্যাখ্যা রচনার মাধ্যমে লেখক এমন একটি কাজ সম্পন্ন করেছেন, যা উম্মাহর জন্য দীর্ঘদিন উপকারী হয়ে থাকবে।” তিনি আরও বলেন, কুরআন-সুন্নাহর খেদমতে নিবেদিত এ ধরনের গবেষণাকর্ম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মূল্যবান সম্পদ এবং আল্লাহ তাআলা যেন এ গ্রন্থকে উম্মাহর জন্য কবুল করেন।

    সভাপতির বক্তব্যে শায়খুল হাদিস, লেখক ও গবেষক মাওলানা আবুল বাশার বলেন, প্রায় তিন দশকের নিবিড় সাধনা ও গবেষণার মাধ্যমে রচিত এই গ্রন্থ হাদিসশাস্ত্রে বাংলাদেশের এক অনন্য অবদান। তিনি বলেন, “হাদিস পাঠদান ও গবেষণার ক্ষেত্রে এ গ্রন্থ নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং দরসের মান ও পদ্ধতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।”

    স্বাগত বক্তব্যে মুআসসাসা ইলমিয়্যাহ বাংলাদেশের পরিচালক শায়খ তাহমিদুল মাওলা জানান, গ্রন্থটির প্রথম চার খণ্ড প্রকাশের পর থেকেই দক্ষিণ আফ্রিকা, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যায়। তিনি বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকার বিশিষ্ট আলেম মুফতি হোসাইন কাদুদিয়া গ্রন্থটির উচ্চ প্রশংসা করেছেন। আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে আরব বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রকাশনার সমমানের মুদ্রণ ও সম্পাদনার মাধ্যমে গ্রন্থটি প্রকাশ করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    গ্রন্থের রচয়িতা, জামিয়াতুল উলূমিল ইসলামিয়া মোহাম্মদপুর ঢাকার সিনিয়র মুহাদ্দিস মাওলানা আব্দুল মতিন বলেন, “এটি আনন্দের নয়; বরং শুকরিয়া ও দোয়ার মজলিস।” তিনি জানান, ২০০১ সালে জামে তিরমিযি–এর দরসদান শুরু করার পর থেকেই এ গ্রন্থের গবেষণাকাজ শুরু হয়। ২০১৭ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে মূল রচনা সম্পন্ন হলেও এর পেছনে রয়েছে প্রায় ২৬ বছরের গবেষণা, হাজারো গ্রন্থ অধ্যয়ন এবং অসংখ্য নির্ঘুম রাতের শ্রম। তিনি এ কাজে সহযোগিতার জন্য বিশেষভাবে মাওলানা আব্দুল মালেকসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং গ্রন্থটি উম্মাহর জন্য কল্যাণকর হওয়ার দোয়া কামনা করেন।

    সেমিনারে ‘হাদিস অনুসরণে সালাফের কর্মপন্থা: প্রসঙ্গ জামে তিরমিযি ও কিফায়াতুল মুগতাযি’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মাওলানা আব্দুল মালেক। তিনি বলেন, জামে তিরমিযি–এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো মতভিন্নতার মধ্যেও ইলমি শিষ্টাচার ও আদবের সংরক্ষণ, যা এ ব্যাখ্যাগ্রন্থেও অত্যন্ত সুন্দরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

    জামিয়াতুল উলূমিল ইসলামিয়ার নায়েবে মুহতামিম মাওলানা আব্দুল গাফফার বলেন, প্রায় ২৬ বছরের গবেষণার ফসল এই গ্রন্থ। একটি শব্দের ব্যাখ্যার জন্যও লেখক শত শত মূল গ্রন্থ পর্যালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, ভবিষ্যতে হাদিস গবেষণার ইতিহাসে এ গ্রন্থ বাংলাদেশের এক গৌরবময় অবদান হিসেবে বিবেচিত হবে।

    দক্ষিণ আফ্রিকার আলেম শায়খ ইসহাক বানা, সিলেটের প্রবীণ মুহাদ্দিস মাওলানা শফিকুল হক সুরাইঘাটি, মক্কার আলেম ড. শায়খ আব্দুল আজিজ আলহাজ এবং দারুল উলুম দেওবন্দের শুরা সদস্য শায়খ হাসান মাহমুদ রাজস্থানী বক্তব্যে গ্রন্থটির গবেষণামূল্য, পূর্ণাঙ্গতা ও আন্তর্জাতিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা বলেন, জামে তিরমিযি–এর পূর্ণাঙ্গ আরবি ব্যাখ্যাগ্রন্থ হিসেবে এটি সমকালীন হাদিসচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।

    এ ছাড়া মালিবাগ জামিয়ার শায়খুল হাদিস মাওলানা আবু সাবের আব্দুল্লাহ, ফরিদাবাদ মাদ্রাসার প্রধান মুফতি আবু সাঈদ, আকবর কমপ্লেক্সের প্রধান মুফতি দিলাওয়ার হোসাইনসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আলেম-উলামা বক্তব্য দেন।

    অনুষ্ঠানে হাদিস গবেষণার ধারা বিস্তারে নির্বাচিত ১০০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর হাতে ‘কিফায়াতুল মুগতাযি’-এর ১৭ খণ্ডের পূর্ণাঙ্গ সেট বিনামূল্যে তুলে দেওয়া হয়।

    সবশেষে বিশিষ্ট আলেম, সিনিয়র মুহাদ্দিস এবং জামিয়াতুল উলূমিল ইসলামিয়া ঢাকার মুহতামিম মাওলানা মাহমুদুল হাসান দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন। তাঁর দোয়ার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক এ ইলমি সেমিনারের সমাপ্তি ঘটে।

    উল্লেখ্য, ‘কিফায়াতুল মুগতাযি ফি শারহি জামে তিরমিযি’ একজন বাংলাদেশি আলেমের কলমে রচিত জামে তিরমিযি–এর পূর্ণাঙ্গ আরবি ব্যাখ্যাগ্রন্থ। ১৭ খণ্ডে প্রকাশিত এ গ্রন্থকে হাদিস গবেষণার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবদান হিসেবে আখ্যায়িত করছেন দেশ-বিদেশের বহু আলেম, গবেষক ও ইসলামী শিক্ষাবিদ।

  • শান্তির বাংলাদেশ চাই: আজহারী

    শান্তির বাংলাদেশ চাই: আজহারী

    সংঘাত, বিভাজন ও প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন জনপ্রিয় ইসলামি আলোচক মিজানুর রহমান আজহারী।

    বুধবার (৫ আগস্ট) সামাজিক মাধ্যম নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। পোস্টে আজহারী লিখেছেন, শান্তির বাংলাদেশ চাই, সংঘাতের নয়।

    তার এই সংক্ষিপ্ত বার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই পোস্টটি শেয়ার করে শান্তি, সহনশীলতা ও জাতীয় ঐক্যের পক্ষে নিজেদের মত প্রকাশ করেন।

    সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনার পর তার এই বক্তব্য সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন স্তরের মানুষ তার এই শান্তির বার্তাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রেখে দেশের অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নেওয়ার বার্তা দিয়েই তার এই পোস্টটি আলোচনায় এসেছে।

  • বিএনপি নেতাদের ফুল দিয়ে মঞ্চে উঠলেন আ.লীগ নেতা

    বিএনপি নেতাদের ফুল দিয়ে মঞ্চে উঠলেন আ.লীগ নেতা

    ঝালকাঠিতে বিএনপি নেতাদের ফুল দিয়ে বরণ করে দলীয় অনুষ্ঠানের মঞ্চে উঠলেন আওয়ামীলীগ নেতা আবদুর রহিম মিয়া। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

    মঙ্গলবার বিকেলে কীর্তিপাশা ইউনিয়ন পরিষদ সভাকক্ষে ইউনিয়ন বিএনপির এক সাংগঠনিক সভায় এ ঘটনা ঘটে। অনুষ্ঠানে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এসএম এজাজ হাসান ও সাধারণ সম্পাদক মো. খোকন মল্লিকসহ বিএনপি নেতৃবৃন্দ আবদুর রহিম মিয়াকে ফুল দিয়ে বরণ করেন। পরে মঞ্চেই বিএনপি নেতৃবৃন্দের পাশে তাকে আসন গ্রহণ করতে দেখা যায় । তিনি কীর্তিপাশা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। এ সময় কৃীর্ত্তীপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আনিসুজ্জামান চপল ও সাধারণ সম্পাদক শরিফুল হক মিঞাও উপস্থিত ছিলেন।

    আওয়ামীলীগ নেতাকে ফুল নিয়ে বরণ প্রসঙ্গে ঝালকাঠি সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক এজাজ হাসান আমার দেশকে বলেন, আমরা রহিম মিয়াকে দলে নেইনি। তাকে বিএনপিতে নেওয়ার খবর সঠিক নয় বলে তিনি দাবি করেন।

  • ‘জুলাইয়ের পক্ষে আমরা আপসহীন, এখানে নমনীয়তার কোনো সুযোগ নেই’

    ‘জুলাইয়ের পক্ষে আমরা আপসহীন, এখানে নমনীয়তার কোনো সুযোগ নেই’

    বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হক রচিত নতুন গ্রন্থ ‘জুলাই কেন আমাদের লড়াই?’ প্রকাশিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকাল তিনটায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কার্যালয় দারুল খিলাফাহ মিলনায়তনে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ব‌ইটি প্রকাশ হয়।

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে ঘিরে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রাজনৈতিক অবস্থান, গণভোট, সংবিধান সংস্কার, ইসলামপন্থীদের ভূমিকা এবং সমকালীন রাজনৈতিক বাস্তবতার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক এই গ্রন্থে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

    মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হক এর সভাপতিত্বে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বিশিষ্ট লেখক ও ইতিহাসবিদ মাওলানা মনজুর আহমাদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমাদ, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া, বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক মুসা আল হাফিজ।

    আল্লামা মামুনুল হক বলেন, আমরা কেন জুলাইয়ের পক্ষে ছিলাম, আছি এবং থাকতে হবে, এটাই ব‌ইয়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। জুলাইয়ের পক্ষে আমরা আপসহীন। এখানে নমনীয়তার কোনো সুযোগ নেই।

    তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের উপর ক‌ওমি আলেম সমাজের অবদান ও আকাঙ্ক্ষা আমাদের‌ই কিছু কিছু মানুষের‌ই দুর্বল করার যে অপচেষ্টা, তার প্রতি আমরা চূড়ান্ত ক্ষোভ প্রকাশ করছি‌।

    তিনি আরো বলেন, বিগত নির্বাচনে বিএনপির সাথে আমাদের জোট না হ‌ওয়ার সবচে শক্তিশালী কারণ ছিল, জুলাইয়ের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান। তারা কোনোভাবেই চায় না জুলাই প্রতিষ্ঠা পাক।

    আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া বলেন, জুলাইয়ের ইতিহাসকে পরিবর্তন করে ফেলা হচ্ছে। জুলাই জাদুঘরকে বিকৃত করে উদ্বোধন করা হয়েছে। এজন্য‌ই আমরা জুলাই যে যেভাবে দেখেছি সেটা লিপিবদ্ধ করে রাখা দরকার।

    মুসা আল হাফিজ বলেন, জুলাই গণ‌অভ্যুত্থানে যারা ভূমিকা রেখেছেন তাদের লিখিত ব‌ইগুলোর মধ্যে এই ব‌ইটি প্রথম সারিতে থাকবে। জুলাইয়ের যতগুলো পক্ষ সবার‌ই এই ব‌ইকে জুলাইয়ের টেক্সটবুক হিসেবে গ্রহণ করা উচিত।

    মাওলানা আল আবিদ শাকের এর পরিচালনায় আরো উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা কুরবান আলী কাসেমী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা তোফাজ্জল হুসাইন মিয়াজি, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ফয়সাল আহমাদ, মাওলানা আবুল হাসানাত জালালী, মাওলানা এনামুল হক মুসা, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মাওলানা সানাউল্লাহ আমিনী, ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুর্শিদ সিদ্দিকী, সহ-সভাপতি মাওলানা এহসানুল হক, জামিয়াতুত তারবিয়াহ আল ইসলামিয়ার সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা ইব্রাহিম জামিল প্রমুখ।

  • আপনি কেন দেশে এসেছেন, উত্তরে মীর কাশেম আলী বলেন

    আপনি কেন দেশে এসেছেন, উত্তরে মীর কাশেম আলী বলেন

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আমি মীর কাশেম আলীকে জিজ্ঞেস করেছিলাম আপনি কেন ফেরত আসলেন? উত্তরে তিনি বলেছিলেন, আমি ফিরে না আসলে, আমার ছেলেটাকে ধরে নিয়ে যাবে। মীর কাশেম আলী আমার বন্ধু ছিলেন। আমরা এক সাথে কাশেমপুর কারাগারে জেল খেটেছি।

    বুধবার দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অনুষ্ঠানে প্রতিবাদ জানানো ব্যক্তিদের বক্তব্যও আমি মনোযোগ দিয়ে শুনেছি। জুলাই আন্দোলনে সামনে ও পেছনে থেকে যারা সমন্বয় করেছেন, তাদের অবদানও স্মরণ করি। প্রধানমন্ত্রী যদি দীর্ঘদিন নির্বাসনে না থাকতেন, তাহলে হয়তো আরও সুসংগঠিতভাবে আন্দোলন পরিচালনা করা সম্ভব হতো। সে সময় মাঠের অধিকাংশ নেতৃত্ব কারাগারে, গুম বা আত্মগোপনে ছিলেন। তবুও জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের মধ্য দিয়ে ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ স্বৈরাচারের পতন ঘটে।

    নিজের বন্দিজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আয়নাঘরে ৬১ দিন থাকার অভিজ্ঞতা তার রয়েছে। সেখানে একজন মানুষ ২৪ ঘণ্টাও থাকতে পারবে না। তিনি মীর কাসেম আলীর পরিবারের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, স্বৈরাচার কেবল ব্যক্তিকে নয়, পরিবারকেও ধ্বংস করেছে। সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তিনি বলেন, যদি আমরা বলতে শুরু করি— জুলাই কার, তাহলে জুলাই কারও থাকবে না।

    তিনি বলেন, পৃথিবীর বহু জাতি শত বছর সংগ্রাম করেও স্বাধীনতা অর্জন করতে পারেনি। বাংলাদেশে দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম, ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছে। এটি নিউটনের আপেলের মতো হঠাৎ পড়ে যাওয়া কোনো ঘটনা নয়; দীর্ঘ প্রস্তুতি, ত্যাগ ও সংগ্রামের ফসল। তাই এ অর্জনকে কখনো দলীয়করণ করা যাবে না।

  • শহীদ আনাসের চিঠি পাঠ্যপুস্তকে যুক্ত করার দাবি জানালেন তার মা

    শহীদ আনাসের চিঠি পাঠ্যপুস্তকে যুক্ত করার দাবি জানালেন তার মা

    আমি চাই, আমার ছেলের চিঠিটি জাতীয় শিক্ষা কারিকুলামের অন্তর্ভুক্ত করে পাঠ্যপুস্তকে পড়ানো হোক। আগামী ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জানুক, কতটা আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমাদের সন্তানরা এই ফ্যাসিস্টমুক্ত দেশ গড়তে সক্ষম হয়েছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে গিয়ে এভাবেই নিজের দাবি তুলে ধরেন জুলাই আন্দোলনে নিহত আনাসের মা। আনাস বাসা থেকে যাওয়ার আগে একটা চিঠি লিখে গিয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    বুধবার (৫ আগস্ট) জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের পরিবারের সদস্যরা গণহত্যার ন্যায়বিচার, শহীদ ও জুলাই যোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি এবং যথাযথ সম্মান নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা আহতদের উন্নত চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং শহীদ পরিবারের মর্যাদা রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

    জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত শাহারিয়ার খান আনাসের মা সানজিদা খান বলেন, “দুই বছর আগে এই দিন, এই সময় আমার আনাস পৃথিবীতে ছিল। আনাস খুব স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাসী ছিল। তার মতো শহীদ ও আহত সন্তানের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজকে আমরা এই ফ্যাসিস্টমুক্ত দেশ পেয়েছি। আমি ও আমার পরিবারের পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিনীত অনুরোধ, আমরা যেন এই গণহত্যার ন্যায়বিচার পাই। আমাদের এই ভিক্টিম পরিবারগুলোর জন্য যেন ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হয়। জুলাই যোদ্ধাদের যেন যথাযথ রক্তের মূল্যায়ন করা হয়।”

    আনাস বাসা থেকে যাওয়ার আগে একটা চিঠি লিখে গিয়েছিল জানিয়ে তিনি দাবি তুলে বলেন, “আমি চাই, আমার ছেলের চিঠিটি জাতীয় শিক্ষা কারিকুলামের অন্তর্ভুক্ত করে পাঠ্যপুস্তকে পড়ানো হোক। আগামী ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জানুক, কতটা আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমাদের সন্তানরা এই ফ্যাসিস্টমুক্ত দেশ গড়তে সক্ষম হয়েছিল।”

    নিহত আব্দুল্লাহ বিন জাহিদের মা ফাতেমাতুজ জোহরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানিয়ে বলেন, “আমার ছেলে শহীদ আব্দুল্লাহ বিন জাহিদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিল। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিনীতভাবে অনুরোধ জানাবো, ওই কলেজের লাইব্রেরিটি যেন আমার ছেলের নামে করা হয়। আমি তো আর আমার সন্তানকে ফিরে পাবো না। অন্তত ওই স্মৃতিটা দেখে মনে করতে পারবো, আমার ছেলে এই কলেজে পড়েছে।”

    তিনি আরও বলেন, “আমি আরও অনুরোধ করবো, যেসব সন্তান এদেশের জন্য যুদ্ধ করেছে, এদেশের জন্য স্বাধীনতা এনে দিয়েছে, তাদের যেন ন্যায্য বিচার ও সম্মান নিশ্চিত করা হয়। তাদের হত্যার বিচার যেন হয়। সেই ফ্যাসিবাদ যেন আর কোনোভাবেই এদেশে ফিরে না আসে। আমি তাকে (প্রধানমন্ত্রী) বলবো, জুলাই যোদ্ধা ও জুলাই শহীদ পরিবারগুলো যেন উপযুক্ত সম্মান নিয়ে বাঁচতে পারে। জুলাই যোদ্ধাদের চলাচলের ব্যবস্থা করা হোক, তাদের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক।”

    অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী বলেন, “২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আমরা রাজপথে নেমেছিলাম কোনও ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়। আমরা নেমেছিলাম একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে। পরবর্তীকালে যখন এই আন্দোলনের কৃতিত্ব নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়, তখন আমরা অনেকেই নীরবে সরে দাঁড়িয়েছি। কারণ আমাদের বিশ্বাস, দেশের জন্য কাজ করতে পারাটাই আমাদের সম্মানের বিষয়। ব্যক্তিগত পরিচিতি বা স্বীকৃতির চেয়ে দেশের কল্যাণ আমাদের কাছে অনেক বড়।”

    তিনি বলেন, “আজও রাষ্ট্রের কাছে আমার ব্যক্তিগত কোনও দাবি নেই। আমার একমাত্র প্রত্যাশা, বাংলাদেশ এমন একটি রাষ্ট্রে পরিণত হোক, যেখানে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে, মানুষের মর্যাদা রক্ষা পাবে এবং প্রতিটি নাগরিক সমান সুযোগ নিয়ে এগিয়ে যেতে পারবে।”

    তিনি আরও বলেন, “আজ আমি রাষ্ট্রের কাছে দুটি বিনীত দাবি জানাতে চাই। প্রথমত, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ, আহত এবং সকল সংগ্রামীকে যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, সম্মান ও মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হোক। দ্বিতীয়ত, জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তির স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনও বাংলাদেশিকে ন্যায়বিচারের জন্য রাজপথে জীবন দিতে না হয়।”

    প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “জুলাই আমাদের শুধু একটি আন্দোলনের স্মৃতি দেয়নি, এটি আমাদের একটি দায়িত্ব দিয়ে গিয়েছে। সেই দায়িত্ব হলো এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে শিক্ষিত তরুণ বেকার থাকবে না, যোগ্যতার মূল্যায়ন হবে, সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে, দুর্নীতির সুযোগ ও জনভোগান্তি হ্রাস পাবে, পরিবেশ রক্ষা পাবে এবং প্রতিটি মানুষ নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারবে। সবশেষে শুধু একটি কথাই বলতে চাই, জুলাই যেন ইতিহাসের একটি অধ্যায় হয়ে না থাকে; জুলাই যেন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রগঠনের প্রেরণা হয়ে থাকে।”

  • খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষী প্রদানকারী সাবেক যুগ্মসচিব জগলুল পাশা গ্রেপ্তার

    খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষী প্রদানকারী সাবেক যুগ্মসচিব জগলুল পাশা গ্রেপ্তার

    সাবেক যুগ্মসচিব সৈয়দ জগলুল পাশাকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তারকৃত আসামি প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা একটি মামলার (জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট) জাল নথি প্রস্তুতকারক ও আদালতে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানকারী। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও রয়েছে।

    মঙ্গলবার রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

    ডিবি জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, কক্সবাজার থেকে বিমানযোগে ঢাকায় ফিরছেন সাবেক যুগ্ম সচিব সৈয়দ জগলুল পাশা। পরে বিমানবন্দর এলাকায় নজরদারি চালিয়ে রাত আনুমানিক ৮টা ৫০ মিনিটে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    জানা গেছে, সৈয়দ জগলুল পাশা রাজধানীর গুলশান থানার একটি বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলা, যাত্রাবাড়ী থানায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় পারভেজ হত্যা মামলা, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ থানায় অপারেশন ‘ঈগল হান্ট’ সংক্রান্ত মামলা এবং কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানায় বিএনপি নেতা আলতাব হোসেন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।

    এ ছাড়া ডিবি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০১৩ সালে গুলশানে বিএনপির কার্যালয়ের সামনে বালুভর্তি ট্রাক রেখে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির ঘটনায় দায়ের করা মামলার সঙ্গেও সংশ্লিষ্ট।

    পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • জবির আহত শিক্ষার্থীদের দেখতে হাসপাতালে বিরোধীদলীয় নেতা

    জবির আহত শিক্ষার্থীদের দেখতে হাসপাতালে বিরোধীদলীয় নেতা

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) দ্বিতীয় ক্যাম্পাস সংক্রান্ত দাবিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থীদের দেখতে হাসপাতালে গেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

    বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে তিনি রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের দেখতে যান এবং তাদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।

    হাসপাতাল পরিদর্শনকালে বিরোধীদলীয় নেতা চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন এবং যথাযথ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, সম্প্রতি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা, ঢাকা কলেজ ও বাংলা কলেজসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

    তিনি দাবি করেন, এসব হামলায় ছাত্রশিবিরের বহু নেতাকর্মী আহত হয়েছেন এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচিত জিএসসহ কয়েকজন গুরুতর জখম হয়েছেন। হামলার ধরনকে তিনি ‘ফ্যাসিবাদী কায়দার’ সঙ্গে তুলনা করে বলেন, আহতদের হাসপাতালে গিয়েও হামলার শিকার হতে হয়েছে।

    জামায়াত আমির আরও বলেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো ভুক্তভোগীদের হয়রানি করা হলে জনগণ ভুল বার্তা পাবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহিংসতা বন্ধ, আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ এবং সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

    উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরসহ তিন দফা দাবিতে শিক্ষার্থী প্ল্যাকার্ড হাতে কেন্দ্রীয় মিলনায়তনের বাইরে অবস্থান নিলে প্রক্টরিয়াল টিম ও শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের বাগ্‌বিতণ্ডা ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এই সংঘর্ষে জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম আরিফ, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক নূর মোহাম্মদসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।

  • গণ-অভ্যুত্থান দিবসে গাংনীতে আলোচনা সভা, জুলাই চেতনায় দেশ গড়ার আহ্বান

    গণ-অভ্যুত্থান দিবসে গাংনীতে আলোচনা সভা, জুলাই চেতনায় দেশ গড়ার আহ্বান

    জুলাই চেতনায় গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মেহেরপুরের গাংনীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস পালিত হয়েছে।

    বুধবার (৫ আগস্ট) গাংনী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আনোয়ার হোসেন।

    সভায় বক্তারা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের তাৎপর্য তুলে ধরে শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, সুশাসন ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।

    আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন গাংনী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাবিদ হোসেন, উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ মতিয়র রহমান, গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মূর্শেদ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দিন কালু, উপজেলা জামায়াতের আমির মোঃ রবিউল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আওয়াল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু, পৌর বিএনপির সভাপতি মকবুল হোসেন মেঘলা, পৌর জামায়াতের আমির আহসানুল হক, এনসিপি নেতা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মেহেরপুর জেলা শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম, গাংনী টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ স্বপন এবং গাংনী উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি জুলফিকার আলী কানন।

    এ সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।