জাতীয়

  • ‘ঘুষের টাকা’ ফেরত চেয়ে ভূমি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ

    ‘ঘুষের টাকা’ ফেরত চেয়ে ভূমি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ

    ‘ঘুষের টাকা’ ফেরত চেয়ে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা কাজী মো. জাহিদুল ইসলামকে অবরুদ্ধ করে রাখেন ভুক্তভোগীরা।

    রোববার দুপুর ১টায় সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে এ ঘটনা ঘটে।

    এ সময় ১৫ থেকে ২০ জনের তোপের মুখে অন্তত ৩০ মিনিট অবরুদ্ধ থাকেন ওই কর্মকর্তা। পরে উপজেলা সার্ভেয়ার আনসার উদ্দীন ও ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) জাকির হোসাইন সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাজীব দাশ পুরকায়স্থের বরাত দিয়ে অবরুদ্ধকারীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনেন। বিষয়টি দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমাধানের আশ্বাস দিয়ে লিখিত অভিযোগ রাখা হয়।

    অবরুদ্ধকারীরা জানান, ভেকু গাড়ি আটক, খাসজমি বন্দোবস্ত, নিজস্ব দালাল চক্রের মাধ্যমে অনলাইন ভূমি উন্নয়ন কর, হোল্ডিং অনুমোদন, মিউটেশন, সরকারি খাল-পুকুর খাস আদায় নামে প্রতারণা ও মামলার প্রতিবেদনের জন্য মোটা অঙ্কের টাকা ঘুষ হিসেবে নিয়েছেন কাজী জাহিদুল ইসলাম। টাকা না দিলে করা হয় হয়রানি। দালালদের মাধ্যমে দেওয়া হয় হুমকি-ধমকি। অনেকটা বাধ্য হয়েই তারা লেনদেন করেছেন। তবে ঘুষ নিয়েও কাজ না করে নানা অজুহাতে আড়ালে থেকেছেন।

    তারা আরও জানান, সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ হয়। এরপরই গুঞ্জন ওঠে তার বদলি নিয়ে। ঘুষ দিয়েও সেবা না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে টাকা ফেরত নিতে ভূমি অফিসে আসেন তারা।

    এসব অভিযোগের ব্যাপারে জানতে ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা কাজী জাহিদুল ইসলামের মোবাইল ফোনে কল দিলেও বন্ধ পাওয়া যায়।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাজীব দাশ পুরকায়স্থ বলেন, জেলায় মিটিংয়ে আছি। বিষয়টি শুনেছি, সবার লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দেখব।

    অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাসুদ উল আলম কালবেলাকে বলেন, বিষয়টি শুনেছি। জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলব।

  • গোসল করতে নেমে এক ব্যক্তির মৃত্যু

    গোসল করতে নেমে এক ব্যক্তির মৃত্যু

    খাগড়াছড়ির লক্ষীছড়ি উপজেলার ধুরং খালে গোসল করতে নেমে রশি কুমার চাকমা (৫০) নামে এক ব্যক্তি পানিতে ডুবে মারা গেছেন। শুক্রবার দুপুরে মহিষকাটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    রশি কুমার চাকমা মহিষকাটা চাকমাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আনন্দ কুমার চাকমার ছেলে। স্থানীয়রা জানান, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় খালে নামেন। দীর্ঘ সময় ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজ শুরু করলে কালাপানি স্লুইচ গেট এলাকায় তার মরদেহ পাওয়া যায়।

    ক্ষীছড়ি থানার ওসি হুমায়ুন কবীর বলেন, ঘটনার খবর পেয়েছেন, তবে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি।

  • মাটিরাঙ্গা সীমান্তে অস্ত্র উদ্ধার

    মাটিরাঙ্গা সীমান্তে অস্ত্র উদ্ধার

    খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা সীমান্তে বিশেষ অভিযান চালিয়ে একটি ভারতীয় পিস্তল, তাজা গুলি ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে পলাশপুর জোনের বিজিবি সদস্যরা এ অভিযান পরিচালনা করেন।

    বিজিবি সূত্র জানায়, ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর থেকে আনুমানিক ১৩ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে মাটিরাঙ্গা থানাধীন গোমতি ইউনিয়নের বেহাদন্তপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন ও পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি ভারতীয় পিস্তল, দুই রাউন্ড তাজা অ্যামোনিশন এবং তিনটি হাসুয়া (দা) উদ্ধার করা হয়।

    বিজিবি জানায়, উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গুলির আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় এক লাখ টাকা। উদ্ধার করা অস্ত্র ও গোলাবারুদ মাটিরাঙ্গা থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

    এ বিষয়ে খেদাছড়া ব্যাটালিয়ন (৪০ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুহা. শাহীনূল ইসলাম বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় অবৈধ অস্ত্র পাচার ও অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বিজিবির সদস্যরা সর্বদা সতর্ক অবস্থায় দায়িত্ব পালন করছেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • খাগড়াছড়ির গুইমারায় দুই একর জমিতে গাজা চাষ!

    খাগড়াছড়ির গুইমারায় দুই একর জমিতে গাজা চাষ!

    খাগড়াছড়ির গুইমারায় দুই একর জায়গাজুড়ে চাষ করা গাঁজা বাগানের সন্ধান পেয়েছে যৌথ বাহিনী।মঙ্গলবার ভোরে উপজেলার চৌধুরীপাড়া এলাকায় ওই গাঁজা বাগানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরে বাগানের সব গাঁজার গাছ কেটে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

    গুইমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজীব চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বাগানটিতে আনুমানিক প্রায় ১০ কোটি টাকার গাঁজা উৎপাদন হতো। গুইমারা সদর ইউনিয়ন হলেও এলাকাটি দুর্গম। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পাওয়া তথ্য নিশ্চিত হয়ে অভিযান চালানো হয়। বাগানে দুই হাজারের মতো গাঁজার গাছ ছিল।

    গুইমারা থানার ওসি আরিফুর আমিন জানান, সকল গাছ কেটে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। ঘটনাস্থলে কাউকে পাওয়া যায়নি। তদন্তের মাধ্যমে গাঁজা চাষের সঙ্গে সম্পৃক্তদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।

  • লোকালয়ে লজ্জাবতী বানর

    লোকালয়ে লজ্জাবতী বানর

    রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলার বুড়িঘাট ইউনিয়নের লোকালয় থেকে উদ্ধার একটি বিপন্ন প্রজাতির লজ্জাবতী বানর কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে অবমুক্ত করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মাসুম আলমসহ বনকর্মীরা বানরটি অবমুক্ত করেন।

    এ সময় বন বিভাগের কাপ্তাই রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. এএসএম ম‌হিউ‌দ্দিন চৌধুরী, অশ্রেণিভুক্ত বনাঞ্চল বনীকরণ বিভাগের নানিয়ারচর স্টেশন কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম, সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন, বুড়িঘাট স্টেশন অফিসার মো. মনির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

    বন বিভাগের কাপ্তাই রেঞ্জ কর্মকর্তা এএসএম মহিউদ্দিন চৌধুরী জানান, কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে অবমুক্ত হওয়া লজ্জাবতী বানরটি গত সোমবার নানিয়ারচর থেকে উদ্ধার করে বন বিভাগ।

    প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘের (আইইউসিএন) বিপন্ন প্রজাতির লাল তালিকায় রয়েছে ‘বেঙ্গল স্লো লরিস’ প্রজাতির এই লজ্জাবতী বানর।

    বিগত কয়েকমাসে কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে এই প্রজাতির বেশ কিছু বানর অবমুক্ত করা হয়; যেগুলো পার্বত্য চট্টগ্রামের লোকালয় থেকেই উদ্ধার করা হয়েছিল।

  • মানিকগঞ্জে বিএনপি নেতাকে আজীবন বহিষ্কার

    মানিকগঞ্জে বিএনপি নেতাকে আজীবন বহিষ্কার

    মানিকগঞ্জের সদর উপজেলায় প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক কার্যকলাপের সময় হাতেনাতে ধরাপড়া ইউনিয়ন বিএনপি এক নেতাকে দল থেকে আজীবন বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি।

    শনিবার দলীয় প্যাডে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ আনিসুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি এ তথ্য জানানো হয়।

    বহিষ্কৃত ওই নেতার নাম মো. সিরাজুল ইসলাম মুনজেল। তিনি দৌলতপুর উপজেলা ধামশ্বর ইউনিয়নের দপ্তর সম্পাদক ছিলেন। তিনি সদর উপেজেলায় ভাড়ার বাসায় বসবাস করতেন।

    প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলা বিরোধী এবং অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মানিকগঞ্জ জেলা, দৌলতপুর উপজেলা ধামশ্বর ইউনিয়ন শাখার দপ্তর সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলাম মুনজেলকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে আজীবন বহিষ্কার করা হলো। উল্লেখ্য, গতকাল শুক্রবার রাত ২টার দিকে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার ধামশ্বর ইউনিয়নে এক সৌদি প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে সিরাজুল ইসলাম মনজেলের অবৈধ সম্পর্ক ছিল। এ বিষয় নিয়ে গ্রামবাসী দীর্ঘদিন কানাঘুষা করছিল। গতরাতে যখন সিরাজুল ইসলাম মনজেলকে গ্রামের কয়েকজন লোক প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে প্রবেশ করতে দেখেন। তার কিছুক্ষণ পরে অনৈতিক কাজের সময় তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলে গ্রামবাসী। পরে তাকে ঘর থেকে বের করে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে।

  • পাম্পে দাঁড়িয়ে থাকা স্কুলবাসে আগুন

    পাম্পে দাঁড়িয়ে থাকা স্কুলবাসে আগুন

    মানিকগঞ্জের শিবালয়ে মুন্নু ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। রোববার রাত ৮টার দিকে উপজেলার উথলী মোড়ে সারমানো সিএনজি অ্যান্ড ফিলিং স্টেশনের পাশে পার্কিং করে রাখা অবস্থায় এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত ৮টার দিকে পাম্পে দাঁড়িয়ে থাকা বাসটির পেছন দিক থেকে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রথমে পাম্পের কর্মচারী ও স্থানীয়রা আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। পরে ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে, তারা এসে আধাঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। ততক্ষণে বাসটি সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে।

    স্থানীয়দের দাবি, ঘটনাস্থলে আরও কয়েকটি মাটিবাহী ড্রাম ট্রাক থাকা সত্ত্বেও সেগুলোর কোনো ক্ষতি হয়নি। ফলে অনেকের ধারণা, নাশকতার উদ্দেশ্যে আগুন লাগানো হয়েছে।

    পাম্পের কর্মচারী হাবিবুর রহমান বলেন, আমি তখন সিএনজিতে গ্যাস দিচ্ছিলাম। হঠাৎ দেখি বাসের পেছন দিক থেকে আগুনের শিখা বের হচ্ছে। আমরা পানি ঢেলে নেভানোর চেষ্টা করলেও পারিনি। পরে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

    বাসচালক মন্টু মিয়া বলেন, দুপুরে বাসটি পাম্পে রেখে বাসায় চলে যাই। শনিবার রাতে বাসের পেছনের কাচ ভেঙে এলইডি টিভি ও সাউন্ড বক্স চুরি হয়েছিল। বিষয়টি মালিককে জানিয়েছিলাম। আজ রাতে বাসটাই পুড়ে গেল। কী বলব বুঝতে পারছি না।

    বাসটির মালিক সিয়াম আহামেদ বলেন, স্কুলের শিক্ষার্থীদের বহনে ব্যবহৃত হয় বাসটি। আগুনের ঘটনায় প্রায় চার লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এটি মুন্নু ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বাস। আশপাশের কোনো গাড়ি না পুড়ে শুধু আমার গাড়ি পুড়েছে—তাই বিষয়টি নাশকতা বলেই মনে হচ্ছে।

    শিবালয় থানার ওসি এস. এম. আমান উল্লাহ বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। তদন্তের পর অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

  • স্ত্রীর কাছে ক্ষমা চেয়ে স্বামীর আত্মহত্যা

    স্ত্রীর কাছে ক্ষমা চেয়ে স্বামীর আত্মহত্যা

    মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় পারিবারিক কলহের জেরে মো. সেলিম নামে এক ইটভাটার শ্রমিক আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার হরগজ পূর্বনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    মো. সেলিম হরগজ পূর্বনগর গ্রামের মৃত দানের শেখের ছেলে।

    পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে কাজে যাওয়ার আগে সেলিম ও তার স্ত্রীর মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তিনি ঘরের হাঁড়ি-পাতিল ভাঙচুর করেন। পরে স্ত্রী কর্মস্থলে চলে গেলে সকাল ১০টার দিকে ফোন করে শেষবারের মতো ক্ষমা চান তিনি। এর কিছুক্ষণ পরই বিষপান করেন সেলিম।

    আরও জানা গেছে, পরিবারের লোকজন টের পেয়ে সেলিমকে দ্রুত সাটুরিয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। দুপুর ১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। পরিবারের সদস্যরা লাশ বাড়িতে নিয়ে গেলেও খবর পেয়ে পুলিশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

    সাটুরিয়া থানার ওসি শাহিনুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত করা হয়েছে।

  • চোর সন্দেহে ২ জনকে পিটিয়ে হত্যা

    চোর সন্দেহে ২ জনকে পিটিয়ে হত্যা

    মানিকগঞ্জের সিংগাইরে গরু চুরি করতে এসে এলাকাবাসীর গণপিটুনিতে দুই চোর নিহত হয়েছেন।

    রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাত ১টার দিকে সিংগাইর উপজেলার জয়মন্টপ ইউনিয়নের সজের মোড়া তিন রাস্তার মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন—পার্শ্ববর্তী দশানী গ্রামের তোতা মিয়ার ছেলে মজনু (২৭) এবং ছয়আনি গ্রামের বান্ধু মিয়ার ছেলে দীন ইসলাম (২২)।

    স্থানীয়রা জানান, রাতে পাশের ইমামনগর গ্রামের ইউনুস মিয়ার বাড়িতে গরু চুরির উদ্দেশ্যে তালা ভাঙার চেষ্টা করে পাঁচজনের একটি চোরচক্র। এ সময় বাড়ির লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। পরে এলাকাবাসী সংঘবদ্ধ হয়ে পাঁচজন চোরের মধ্যে দুজনকে ধরে গণধোলাই দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় পুলিশ তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

    থানা সূত্রে জানা গেছে, নিহত মজনু ও দীন ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক চুরির মামলা রয়েছে। তারা দুজনই পুলিশের তালিকাভুক্ত চোর ছিলেন। ঘটনার খবর পেয়ে সিংগাইর থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম এবং সহকারী পুলিশ সুপার (সিংগাইর সার্কেল) ফাহিম আসজাদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

    এলাকাবাসীর দাবি, গত তিন বছর ধরে এই চক্র এলাকায় একাধিক চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে। এর আগেও কয়েকবার তাদের আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছিল।

    স্থানীয়রা আরও জানান, ধরা পড়ার পর নিহত দুই চোর তাদের সঙ্গে থাকা আরও তিনজন সহযোগীর নাম প্রকাশ করেছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।

    এ বিষয়ে সিংগাইর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) স্বপন কুমার সরকার বলেন, নিহতদের মরদেহ বর্তমানে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে রয়েছে। সেখানে ময়নাতদন্ত শেষে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

  • একের পর এক খুন করেছে সবুজ

    একের পর এক খুন করেছে সবুজ

    মশিউর রহমান সম্রাটের ছদ্মনামে সবুজ শেখ যেন হয়ে ওঠেছিলেন অপরাধের সম্রাট। একের পর এক ঘটিয়েছেন নৃশংস হত্যাকাণ্ড। তার ভাষায় ‘থার্টি ফোর বা সানডে মানডে ক্লোজড’ মানেই হত্যা করা।

    মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাতে সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) হেলাল উদ্দিন সম্রাটের প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করেন। এর আগে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় তাকে আদালতে তোলা হলে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে ছয় হত্যার দায় স্বীকার করেন সবুজ শেখ।

    মশিউর রহমান সম্রাটের প্রকৃত নাম সবুজ শেখ। তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার হলুদিয়া মুছামান্দা গ্রামের পান্না শেখের ছেলে। ২০২৪ সাল থেকে সাভার মডেল মসজিদে থাকতেন তিনি। এরপর সাভার থানার আশপাশে ভবঘুরেদের মতো থাকতেন।

    সর্বশেষ জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত একজনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তার নাম তানিয়া আক্তার সোনিয়া। তিনি রাজধানীর উত্তরা এলাকার জসিম উদ্দিনের মেয়ে। তিনি মানসিক প্রতিবন্ধী ছিলেন বলে দাবি পুলিশের।

    সাভার মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (অপারেশন) হেলাল উদ্দিন বলেন, সম্রাটের প্রকৃত পরিচয় জানা গেছে। মূলত তার নাম সবুজ শেখ। সে গতকাল আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেছে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সে ভবঘুরেদের মতো চলাফেরা করতো। ছদ্মনাম ব্যবহার করে অপরাধ করেছে। তার পরিবারের সদস্যরা মুন্সিগঞ্জে থাকেন। তবে তার বিস্তারিত আর কিছু পাওয়া যায়নি।

    উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৪ জুলাই সাভার মডেল মসজিদের কাছ থেকে আসমা বেগম (৭৫) নামে এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপরে ২৯ আগস্ট রাতে সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টার থেকে হাত-পা বাঁধা অজ্ঞাত এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। তবে নিহত ওই যুবকের এখনো পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। পরে ১১ অক্টোবর রাতে আবারও সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের ভেতর থেকে অজ্ঞাত (৩০) এক নারীর অর্ধনগ্ন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপরে ১৯ ডিসেম্বর দুপুরে সাভার পৌর এলাকার থানা রোড়ে মহল্লার পরিত্যক্ত পৌর কমিউনিটি সেন্টারের দ্বিতীয় তলার টয়লেটের ভেতর থেকে এক পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করে সাভার মডেল থানা পুলিশ। তবে তিন খুনের ঘটনায় নিহতদের পরিচয় পুলিশ নিশ্চিত করতে পারেনি। এরপর রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের ভেতরে দুইজনের পোড়া মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তাদের মধ্যে একজনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ।