চুরি

  • গাংনী সরকারী অফিসে চুরি

    গাংনী সরকারী অফিসে চুরি

    মেহেরপুরের গাংনীতে উপজেলা প্রশাসনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে চুরির ঘটনা ঘটেছে। গভীর রাতে জানালার গ্রীল কেটে অফিসে ঢুকে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র তছনছ করেছে দুর্বৃত্তরা। ঘটনাটি ঘিরে সরকারি অফিসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।
    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা ভূমি অফিস ও সাবরেজিস্ট্রি অফিসে একই রাতে প্রায় একই সময়ে চুরির ঘটনা।
    সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাত আড়াইটার দিকে জানালার গ্রীলের রড কেটে অফিসে প্রবেশ করে দুর্বৃত্তরা। প্রায় ২০ মিনিট ধরে চলে তছনছ ও চুরির চেষ্টা।

    উপজেলা সাবরেজিস্ট্রি অফিসে ঢুকে বিভিন্ন কক্ষের আলমারি ভেঙে গুরুত্বপূর্ণ ফাইলপত্র এলোমেলো করে ফেলে চোরেরা। অন্যদিকে, ভূমি অফিসের পেছনের জানালা ভেঙে প্রধান অফিস সহকারীর কক্ষে ঢুকে কাগজপত্র তছনছ করা হয়।

    তবে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি কোনো গুরুত্বপূর্ণ নথি বা ফাইল চুরি হয়েছে কিনা।
    আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল ৯ টার সময় অফিস দুটিতে কর্মচারীরা আসার পর এদৃশ্য দেখেন।
    পরে পুলিশকে খবর দিলে গাংনী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উত্তম কুমার দাস, তদন্ত অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং আলামত সংগ্রহ করেন।

    গাংনী উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার নাইমা ইসলাম বলেন, “সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, জানালার গ্রীল কেটে ভেতরে ঢুকে ফাইলপত্র তছনছ করা হয়েছে। কী কী ক্ষতি হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”

    গাংনী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাস জানান, “আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি, আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।”

    এদিকে, একই রাতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অফিসে চুরির ঘটনা স্থানীয়দের মাঝে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
    বিশেষ করে, রাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নাইটগার্ডের উপস্থিতি এবং অফিস কক্ষগুলো তালাবদ্ধ না থাকা, এসব বিষয় নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। সরকারি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে এমন দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি তাদের।
    ঘটনার তদন্ত চলছে বলে জানালেও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নিরাপদ আছে কিনা, সে প্রশ্নের উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়।

  • ঝিনাইদহে ভূমি অফিসের জানালা ভেঙে ৩ লাখ টাকা চুরি

    ঝিনাইদহে ভূমি অফিসের জানালা ভেঙে ৩ লাখ টাকা চুরি

    ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসে চুরি সংঘটিত হয়েছে। বুধবার দিবাগত রাতে চোরেরা অফিস সহকারী তপন কুমার রায়ের অফিসের পিছনের জানালা ভেঙে নগদ ৩ লাখ টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। চোরেরা রাতের কোনো এক সময় অফিসের একটি সিসি ক্যামেরা ভেঙে ফেলে চুরি করে।

    বৃহস্পতিবার অফিসের প্রোসেস সার্ভার ইমদাদুল হক এ ঘটনায় কালীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। এছাড়া সংশ্লিষ্ট তিনজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। জনবল সংকটের কারণে তপর কুমার রায় ওই দফতরের অফিস সহকারীর সঙ্গে অতিরিক্ত দ্বায়িত্ব হিসাবে অর্পিত সম্পত্তি ও নাজিরের দ্বায়িত্ব পালন করছেন।জিডিতে উল্লেখ করা হয়, বুধবার (১৯ নভেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে অফিস বন্ধ করে চলে যায়। পরের দিন বৃহস্পতিবার অফিসে এসে জানতে পারি সহকারী তপন কুমার রায়ের রুমের ভেতর থেকে লক করা। অনেক চেষ্টা করেও দরজা খোলা সম্ভব হয়নি। পরে অফিসের পেছনে গিয়ে দেখা যায় জানালা ভাঙা। এরপর ভূমি অফিসারকে বিষয়টি অবগত করা হয়। পরে রুম খুলে দেখা যায় আলমিরার ড্রয়ার ভেঙে প্রায় তিন লাখ টাকা নিয়ে গেছে।ঘটনার দিন দ্বায়িত্বে থাকা নাইটগার্ড আরজু আহম্মেদ জানান, আমি কিডনি রোগী। ওষুধ খেলে ঘুম আসে। ওইদিন রাত ২টার পর ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। পরে সকাল ৯টার দিকে অফিসে তালা খুললেও রুমটি খোলা যাচ্ছিল না। তখন আমরা টের পায় অফিসে চুরি হয়েছে।অফিস সহকারী তপন কুমার রায় জানান, প্রতিদিনের মতো ওইদিন বিকেলে অফিস বন্ধ করে চলে যায়। সকালে অফিসে এসে তালা খুলে দরজা খুলতে গিয়ে দেখি ভেতর থেকে লক করা। তখন পেছনে গিয়ে দেখা যায় একটি জানালা ভাঙা।কালীগঞ্জ থানার ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, চুরির ঘটনায় একটি জিডি হয়েছে, তদন্ত চলছে। আশা করি দ্রুতই চুরির বিষয়ে জানা যাবে।কালীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শাহিন আলম জানান, এ ঘটনা জানার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। অফিস সহকারী তপন কুমার রায়, নাইটগার্ড শহিদুজ্জামান ও আরজু আহম্মেদ কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে থানায় জিডি করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে, তারা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।উল্লেখ্য, এর আগে এ অফিসের ড্রয়ার থেকে এক লাখ ও জানালা ভেঙে ৮০ হাজার নগদ টাকা চুরির ঘটনা ঘটে। এছাড়া একটি মোটরসাইকেল চুরির ঘটনাও ঘটেছিল। এসব ঘটনায় তৎকালীন দ্বায়িত্বে থাকা ভূমি অফিসাররা আইনি কোনো ব্যবস্থা নেননি।