মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় পূর্বশত্রুতার জেরে এক যুবককে গরু চুরির অপবাদ দিয়ে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দায়ীদের বিচার এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন পাকুড়িয়া গ্রামের বাসিন্দারা।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার পাকুড়িয়া গ্রামের তিন রাস্তার মোড়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এলাকাবাসীরা অভিযোগ করেন, পাকুড়িয়া গ্রামের মোজাম্মেল হকের ছেলে মিলন হোসেনকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ধরে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়। পরে তাকে গরু চুরির মামলায় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে পাকুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আনোয়ার হোসেন ও স্থানীয় বিএনপি নেতা রুস্তম আলীসহ এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, সম্প্রতি বাঁশবাড়িয়া গ্রামে বোনের বাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে মিলনকে কয়েকজন ব্যক্তি আটক করে একটি বাগানে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে তাকে গরু চুরির অপবাদ দিয়ে পুলিশের কাছে দেওয়া হয়।
তারা দাবি করেন, মামলার বাদীর গরু চুরির অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ঘটনার পর অন্যের গরু এনে বাড়িতে রাখার অভিযোগও করেন তারা। পাশাপাশি পুলিশ যথাযথ তদন্ত ছাড়া মিলনকে আদালতে পাঠিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন গ্রামবাসী।
এদিকে, জামিনে মুক্ত হওয়ার পর মিলন হোসেন কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার পরিবারের দাবি, নির্যাতনের কারণে তার অবস্থা গুরুতর।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং পুলিশের ভূমিকা খতিয়ে দেখার দাবি জানান।
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গাংনী থানার এসআই চয়ন সেন বলেন, “পাকুড়িয়া গ্রামের মিঠুনসহ কয়েকজন মিলনকে ধরে থানায় দিয়ে গেছে। গরু চুরির চেষ্টার অভিযোগে একটি মামলা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন, তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।”
আহত অবস্থায় চিকিৎসা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “চিকিৎসার কাগজপত্র রয়েছে। তাকে সুস্থ অবস্থায় আদালতে পাঠানো হয়েছিল।”
এ বিষয়ে গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাসের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।



