মেহেরপুরের গাংনীতে বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের উদ্যোগে শিক্ষক কর্মশালা-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৭ জুন) গাংনী উপজেলার চৌগাছা দারুল ইয়াতিম মিলনায়তনে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন গাংনী উপজেলা শাখার সভাপতি মোঃ আবুল হাশেম।
প্রধান মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের সহকারী জেনারেল সেক্রেটারি অধ্যাপক রবিউল ইসলাম। প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গাংনী উপজেলা আমির মোঃ রবিউল ইসলাম।
বিশেষ মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন মেহেরপুর জেলা শাখার সভাপতি আল আমিন ইসলাম (বকুল), সেক্রেটারি মোঃ হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাংনী পৌর শাখার আমির আহসানুল হক।
কর্মশালায় বক্তারা শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষকতার দায়িত্বশীলতা এবং নৈতিক মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা বিস্তারে শিক্ষকদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মেহেরপুরের গাংনী সীমান্তে একের পর এক অবৈধভাবে বাংলাদেশে মানুষ ঠেলে পাঠানোর (পুশ-ইন) চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। টানা দ্বিতীয় দিনের মতো একই সীমান্ত এলাকায় নতুন করে আরও পাঁচজনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চালায় বিএসএফ। তবে বিজিবির কঠোর অবস্থান ও সীমান্তবাসীর তাৎক্ষণিক প্রতিরোধে সেই চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) ভোরে গাংনী উপজেলার ধলা ও সহড়াতলা সীমান্ত দিয়ে পৃথক দুটি ঘটনায় এক নারীসহ পাঁচজনকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে বিএসএফ। বিষয়টি জানতে পেরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা স্থানীয়দের সহযোগিতায় দ্রুত ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন এবং পুশ-ইনের তীব্র প্রতিবাদ জানান। পরে সকাল ৭টার দিকে বিএসএফ ওই পাঁচজনকেই ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।
স্থানীয় ও সীমান্ত সূত্রে জানা গেছে, ভারতের নদীয়া জেলার মুরটিয়া থানার রংপুর গ্রামের দিক থেকে আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৩৫ নম্বর মেইন পিলারের ৭এস সাব-পিলারের কাছে এক নারীসহ তিনজনকে শূন্যরেখায় এনে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ সময় স্থানীয়রা বিষয়টি বিজিবিকে জানালে বিজিবি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। দীর্ঘ সময় ওই তিনজনকে সীমান্তের শূন্যরেখায় রাখার পর বিএসএফ তাদের আবার ভারতীয় অংশে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
একই সময় মুরটিয়া থানার বিজয়নগর সীমান্ত এলাকায় আরও দুইজনকে জড়ো করে সহড়াতলা সীমান্তের আন্তর্জাতিক ১৪৪ নম্বর মেইন পিলারের ৫এস সাব-পিলার এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। সেখানেও বিজিবি ও স্থানীয়দের কঠোর অবস্থানের মুখে বিএসএফ শেষ পর্যন্ত তাদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।
জানা গেছে, এদিন পুশ-ইনের চেষ্টা করা পাঁচজনের মধ্যে চারজন পুরুষ ও একজন নারী ছিলেন।
এ বিষয়ে ৪৭ বিজিবির কাথুলী কোম্পানি কমান্ডার ওছিকুর রহমান বলেন, “বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় বিএসএফের পুশ-ইনের চেষ্টা সফল হতে দেওয়া হয়নি। সীমান্তে নজরদারি ও টহল আরও জোরদার করা হয়েছে।”
এর আগের দিন বৃহস্পতিবার দিবাগত ভোররাতে একই সহড়াতলা সীমান্ত দিয়ে এক নারীসহ সাতজনকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। সেদিনও বিজিবির বাধার মুখে তাদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী। ফলে মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে একই সীমান্ত এলাকায় দুই দফায় মোট ১২ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
এ নিয়ে চলতি জুন মাসে গাংনী র সীমান্তে অন্তত চার দফা পুশ-ইনের চেষ্টা চালিয়েছে বিএসএফ। গত ৬ জুন তেঁতুলবাড়ীয়া সীমান্ত দিয়ে ৬ জন, ১৯ জুন বুড়িপোতা ইউনিয়নের খালপাড়া সীমান্ত দিয়ে ৪ জন, ২৫ জুন সহড়াতলা সীমান্ত দিয়ে ৭ জন এবং সর্বশেষ ২৬ জুন ধলা ও সহড়াতলা সীমান্ত দিয়ে আরও ৫ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। প্রতিটি ঘটনাতেই বিজিবির কঠোর অবস্থান এবং সীমান্তবাসীর প্রতিরোধের মুখে বিএসএফ তাদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। মেহেরপুরের গাংনীর সীমান্তে বিএসএফের ধারাবাহিক পুশ-ইনের চেষ্টায় সীমান্তজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হলেও, বিজিবির কঠোর নজরদারি ও সীমান্তবাসীর সক্রিয় অংশগ্রহণে এখন পর্যন্ত প্রতিটি অপচেষ্টাই ব্যর্থ হয়েছে।
আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও যন্ত্র সহায়তা প্রদান
গাংনী (মেহেরপুর) সংবাদদাতা:
মেহেরপুরের গাংনীতে কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত করা, মাঠ পর্যায়ে কৃষি জ্ঞান সম্প্রসারণ এবং টেকসই কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্যে ‘পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন ২০২৬) গাংনী উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে এ কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়।
গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন এর সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষিবিদ আলমগীর বিশ্বাস, অতিরিক্ত পরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, যশোর অঞ্চল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সঞ্জীব মৃধা, উপপরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, মেহেরপুর।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কৃষিবিদ শেখ সাজ্জাদ হোসেন, সিনিয়র মনিটরিং অফিসার, ডিএই পার্টনার, যশোর।
অনুষ্ঠানে কৃষকদের কৃষিকাজে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে চারজন কৃষকের মাঝে চারটি ভারমিকম্পোজট সেপারেটর মেশিন বিতরণ করা হয়। এসব যন্ত্র কৃষি উৎপাদন কার্যক্রমকে আরও সহজ ও আধুনিক করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন গাংনী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দিন কালু, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আওয়াল, কাজীপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মু. আলম হুসাইন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বাবলু, উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য শফিকুল ইসলাম, গাংনী পৌর বিএনপির সভাপতি মকবুল হোসেন মেঘলা এবং উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
বক্তারা বলেন, কৃষকদের প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকের জীবনমান উন্নয়ন সম্ভব।
অনুষ্ঠানে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা, ফিল্ড স্কুলের সদস্য ও স্থানীয় কৃষকরা অংশগ্রহণ করেন।
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার শেওড়াতলা সীমান্ত দিয়ে ৭ জনকে বাংলাদেশে জোরপূর্বক পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বিজিবি ও স্থানীয় জনতার তীব্র প্রতিবাদের মুখে তাদের ফেরত নিতে বাধ্য হয় বিএসএফ। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে ভারতের নদীয়া জেলার মুরটিয়া থানার ব্রজনাথপুর গ্রামের দিক থেকে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার ১৪২-এর ৫এস ও ৬এস-এর মধ্যবর্তী শেওড়াতলা সীমান্ত দিয়ে ওই ৭ জনকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, বিষয়টি টের পেয়ে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে কড়া প্রতিবাদ জানায়। এ সময় স্থানীয় লোকজনও পুশইনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে বিএসএফ শেষ পর্যন্ত সাতজনকে নিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যায়। জানা গেছে, পুশইনের চেষ্টা করা সাতজনের মধ্যে ৬ জন পুরুষ ও ১ জন নারী ছিলেন। এ বিষয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়রা দাবি করেছেন, বিজিবির দ্রুত অবস্থান গ্রহণ ও জনসাধারণের প্রতিবাদের কারণেই পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
গাংনী( মেহেরপুর) সংবাদদাতা জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৬ এবং গ্রাফিতি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা-২০২৫ উপলক্ষে মেহেরপুর জেলা পর্যায়ের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ জুন) বিকেলে মেহেরপুর শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়। জেলা শিক্ষা অফিসার মো. আব্দুর রহীম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শিল্পী রানী রায়। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও (শিক্ষা ও আইসিটি)
এসময় শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশ ও গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত শ্রেষ্ঠদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তপন হত্যা মামলার পলাতক আসামি মন্টু শাহকে গ্রেফতার করেছে গাংনী থানা পুলিশ। গাংনীর ভবানিপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ আব্দুল করিমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম একই উপজেলার করমদি গ্রামে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতরাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। মন্টু শাহ গাংনী উপজেলার হাড়াভাঙ্গা গ্রামের পুরাতনপাড়া এলাকার ফজল আলীর ছেলে। আজ রবিবার (২১ জুন) সকাল ১১ টার দিকে তাকে আদালতের মাধ্যমে মেহেরপুর জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে। গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাদ্দিদ মোর্শেদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গত বছরের ২০ ডিসেম্বর গাংনী উপজেলার হাড়াভাঙ্গা ও সাহেবনগর মাঠের মধ্যে একটি পেঁপে বাগান থেকে তপন হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ৷ ওই ঘটনায় তপনের স্ত্রী আশিকা ইয়াসমিন রুপা বাদি হয়ে গাংনী থানায় অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন৷ যার মামলা নং ২২, তারিখ ২২/১২/২০২৫ ইং, ধারা ৩০২/৩৪। মামলায় আসামি হিসেবে সাতজনকে সাসপেক্ট করেন পুলিশ। পুলিশের সেই তালিকার ৬ নং আসামি সে। ওসি মোহাদ্দিদ মোর্শেদ আরও জানান, মামলার পর থেকেই মিন্টু শাহসহ অন্যান্য আসামীরা পলাতক ছিল৷ গ্রেফতারকৃত মন্টুকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগার প্রেরণ করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারেও পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার গাড়াবাড়িয়া গ্রামে জেলা বিএনপির সভাপতির নাম ভাঙিয়ে জমি দখল, চাঁদাবাজি, বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে সাজ্জাদ হোসেন পলাশের বিরুদ্ধে। পলাশ এর আগেও সড়কে মাইক্রোবাস চাপায় তিনজন নিহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি এবং এলাকায় অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে গাংনী উপজেলার গাড়াবাড়িয়া গ্রামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন স্থানীয় বিএনপি কর্মী মজিদুল ইসলাম ও তার ভাই মহিরুল ইসলাম।
লিখিত বক্তব্যে তারা অভিযোগ করেন, মেহেরপুর জেলা বিএনপির সভাপতি জাভেদ মাসুদ মিল্টনের নাম ব্যবহার করে সাজ্জাদ হোসেন পলাশ এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন। তার বিরুদ্ধে ভয়ভীতি দেখিয়ে জমি দখল, চাঁদা দাবি, হামলা-মামলার হুমকি এবং সালিশের নামে অর্থ আদায়ের মতো বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ করেন তারা। তাদের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডে এলাকার সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন।
ভুক্তভোগীরা আরও জানান, প্রায় পাঁচ বছর আগে জেলা জামায়াতের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. সিদ্দিকুর রহমানের কাছ থেকে সাড়ে ১৬ শতক জমি ক্রয় করে সেখানে বসতঘর নির্মাণ এবং বিভিন্ন গাছপালা রোপণ করেন তারা। জমির বৈধ কাগজপত্র ও রেকর্ড থাকার পরও সাজ্জাদ হোসেন পলাশ তাদের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন তারা। চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রতিপক্ষ মকলেছুর রহমান, আবুল কালাম ও তাদের সহযোগীদের নিয়ে ওই জমিতে হামলা চালিয়ে ঘরবাড়ি ভাঙচুর, মালামাল লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে জোরপূর্বক দখল করে নেওয়া হয় বলে দাবি করেন তারা। এতে তাদের প্রায় পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান।
এ ঘটনায় মেহেরপুর আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা করার পর তা তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। বর্তমানে তারা ও তাদের পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে দাবি করে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সাজ্জাদ হোসেন পলাশ বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। জেলা বিএনপির সভাপতির নাম ভাঙিয়ে কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও সত্য নয় বলে তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে মেহেরপুর জেলা বিএনপির সভাপতি জাভেদ মাসুদ মিল্টন বলেন, “কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পর্ক নেই। কোনো ব্যক্তি ব্যক্তিগতভাবে কোনো অন্যায় কাজ করলে তার দায় দল নেবে না; দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই বহন করতে হবে।”
এদিকে বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ভাংচুর লুটপাটের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় দুজনকে গ্রেফতার করেছে গাংনী থানা পুলিশ। মামলার শীর্ষ আসামি ওই গ্রামের আবু তালেবের ছেলে মকলেছুর রহমান ও একই গ্রামের ছ্যান ভিশ্বাসের ছেলে আবুল কালাম। তারা দুজনেই জেল হাজতে রয়েছে। গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ বলেন, এই ঘটনায় মামলা হয়েছে। দুজনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাদের জেল হাজতে প্রেরণ করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে উভয় পক্ষকে আইন মেনে চলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার মটমুড়া গ্রামে বিএনপি নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে একটি হাতবোমা ও হুমকিমূলক চিরকুট রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা বলে অভিযোগ উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে মেহেরপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে একই ধরনের হাতবোমা ও চিরকুট উদ্ধারের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মাঝে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বেড়েছে।
বুধবার (১৭ জুন) সকাল ৮টার দিকে গাংনী উপজেলার নওদা মটমুড়া গ্রামের একটি চায়ের দোকানের সামনে লাল কসটেপে মোড়ানো একটি হাতবোমা ও হুমকিমূলক চিরকুট উদ্ধার করে গাংনী থানা পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে কোনো এক সময় নওদা মটমুড়া গ্রামের শরিফুল ইসলামের চায়ের দোকানের সামনে বেঞ্চের উপর বোমা ও চিরকুটটি রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। সকালে দোকান খুলে পরিষ্কার করার সময় শরিফুল ইসলাম হাতবোমা ও চিরকুটটি দেখতে পান। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে কুমারীডাঙ্গা পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বোমাটি উদ্ধার করে নিরাপদে পানি ভর্তি পাত্রে সংরক্ষণ করেন।
উদ্ধার হওয়া চিরকুটে লেখা ছিল, “এই দোকানে বিএনপির কোনো লোক বসবে না। যারা বসবে তাদের সমস্যা আছে। এই গ্রামে বিএনপির নামগন্ধ রাখব না।”
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজাদ্দিদ মোর্শেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থল থেকে একটি হাতবোমা ও চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তা খুঁজে বের করতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
এর আগে চলতি মাসে মেহেরপুরের বিভিন্ন এলাকায় একই কায়দায় অন্তত ২৫/৩০ টি স্থানে হাতবোমা ও হুমকিমূলক চিরকুট উদ্ধারের ঘটনা ঘটে। এছাড়া গাংনী উপজেলার সাহারবাটি গ্রামের বিএনপি নেতা মুকুল হোসেনকে হত্যার উদ্দেশ্য গুলি বর্ষণ করে। মুকুল হোসেন বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এসব ঘটনায় রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি ও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা দ্রুত ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
মেহেরপুরের গাংনী পৌর শহরে একটি পাগলা কুকুরের আক্রমণে শিশু, নারী ও বৃদ্ধসহ অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন।
গত শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলা পরিষদ গেট এলাকা থেকে শুরু হওয়া কুকুরটির তাণ্ডব বাসস্ট্যান্ড, আমিন মিষ্টির গলি ও রাজলক্ষ্মী থানা মোড়সহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কুকুরটি হঠাৎ উন্মত্ত আচরণ শুরু করে পথচারীদের ওপর হামলা চালাতে থাকে। যে-ই সামনে পড়েছে, তাকেই ধাওয়া করে কামড়ে দেয়। অল্প সময়ের মধ্যে শহরের একাধিক স্থানে অন্তত ১৪ জন আহত হন। স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে পড়লে অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য দোকান ও বাসাবাড়িতে ছুটে যান।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন মহিলা কলেজ পাড়ার নুহু (৯), ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুল মজিদ (৬৩), গাংনী উত্তরপাড়ার মাহাবুর রহমান (১২), ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ফারিয়া আক্তার (১২), চৌগাছা গ্রামের হাজি আব্দুল মান্নান (৭০), পশ্চিম মালসাদহ গ্রামের সাদিয়া (১৬), হারদি গ্রামের কাদব আলী (৫৬), গাংনী বাজারপাড়ার মুকুল মিয়া (৪৫), গাংনী বাগানপাড়ার হাবিবুর রহমান (২২), ধানখোলা গ্রামের রফিক (৫৫), ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হাফিজুর রহমান (৬০) এবং পূর্ব মালসাদহ গ্রামের হযরত আলী (৫০)সহ আরও কয়েকজন।
আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সামিয়া সুলতানা তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কুকুরের কামড়ে আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং জলাতঙ্ক প্রতিরোধে দ্রুত ভ্যাকসিন গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শহরে ভবঘুরে কুকুরের সংখ্যা দীর্ঘদিন ধরেই বেড়ে চলেছে। তবে এ ধরনের ভয়াবহ হামলার ঘটনা আগে খুব একটা দেখা যায়নি। ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে সচেতন মহল ভবঘুরে কুকুর নিয়ন্ত্রণে পৌরসভা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
মেহেরপুরের গাংনীতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রসার এবং শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তাকে উৎসাহিত করতে উপজেলা পর্যায়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলা ও প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ জুন ২০২৬) গাংনী উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. তরিকুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর)-এর সিনিয়র সায়েন্টিফিক অফিসার সুমন চন্দ্র দেবনাথ।
গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাসিমা খাতুন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শামসুল আলম সোনা, গাংনী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দিন কালু, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আওয়াল, এনসিপি নেতা মোঃ মুজাহিদুল ইসলামসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, এনজিও কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সাংবাদিকবৃন্দ।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা একাডেমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাসুম।
মেলায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন প্রকল্প, প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ড প্রদর্শন করেন। শিক্ষার্থীদের এসব উদ্ভাবনী উদ্যোগ ঘুরে দেখেন অতিথিরা এবং তাদের উৎসাহিত করেন।
আয়োজকরা জানান, বিজ্ঞানমনস্ক প্রজন্ম গড়ে তোলা এবং শিক্ষার্থীদের নতুন নতুন উদ্ভাবনে আগ্রহী করে তুলতেই এ ধরনের মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
মেলাটি যৌথভাবে আয়োজন করে গাংনী উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর)।