খেলা

  • ইয়ামালকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় বার্সেলোনা

    ইয়ামালকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় বার্সেলোনা

    ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে বড় ধাক্কার আশঙ্কা করছে বার্সেলোনা। শনিবার দলের শেষ অনুশীলনে ছিলেন না লামিন ইয়ামাল। ফলে মেস্তায়ায় ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে লা লিগার ম্যাচে ১৯ বছর বয়সী এই উইঙ্গারের খেলা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

    ২০২৬-২৭ মৌসুমে লা লিগায় নিজেদের চতুর্থ ম্যাচের প্রস্তুতি নিচ্ছে হানসি ফ্লিকের দল। তবে ম্যাচের আগমুহূর্তে ইয়ামালের অনুপস্থিতি সেই প্রস্তুতিতে ফেলেছে দুশ্চিন্তার ছাপ। স্পোর্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেস্তায়ায় কঠিন অ্যাওয়ে ম্যাচের আগে শনিবার দলের শেষ অনুশীলনে অপ্রত্যাশিতভাবেই ছিলেন না ইয়ামাল।

    রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পরই তার অনুপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শনিবার দল ম্যাচের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে ইয়ামালের শারীরিক অবস্থা ভালোভাবে পরীক্ষা করবেন ক্লাবের চিকিৎসকেরা। এরপর ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে কথা বলতে পারেন কোচ ফ্লিক।

    ইয়ামালের চোটের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি বার্সেলোনা। তবে অনুশীলনে তার অনুপস্থিতির সময়টা তরুণ এই তারকার জন্য হতাশাজনকই। কারণ সতীর্থদের ভোটে নতুন সহ-অধিনায়ক নির্বাচিত হওয়ার সুখবর পাওয়ার দিনই অনুশীলনে অনুপস্থিত থাকতে হলো তাকে। মুন্দো দেপোর্তিভোর খবর অনুযায়ী, ড্রেসিংরুমের ভোটে ইয়ামালকে বার্সেলোনার নতুন সহ-অধিনায়ক হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে।

    ইয়ামালকে না পেলে কৌশলে পরিবর্তন আনতে হতে পারে ফ্লিককে। বার্সেলোনার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই জার্মান কোচ হাই-প্রেসিং ফুটবল অনুসরণ করছেন। এই কৌশলে ইয়ামাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। আক্রমণে তার কার্যকারিতার পাশাপাশি বল দখলের জন্য তার নিরলস পরিশ্রমও দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

  • আচরণগত সমস্যায় বাদ রিজওয়ান-ইমাম, বাদ পড়তে পারেন আকিবও

    আচরণগত সমস্যায় বাদ রিজওয়ান-ইমাম, বাদ পড়তে পারেন আকিবও

    ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম দুই টেস্টে হারের পর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সাত ক্রিকেটার ও দুই কোচকে দেশে ফেরানোর সিদ্ধান্তের পেছনে পারফরম্যান্সের পাশাপাশি আচরণগত বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের সংবাদ সংস্থা পিটিআই।

    লর্ডস টেস্টের পর বাদ পড়া সাত ক্রিকেটারের মধ্যে ছিলেন সালমান আগা, ইমাম–উল–হক ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। তাঁদের কেউ ভালো ফর্মে নেই। রিজওয়ান সিরিজের চার ইনিংসে করেছেন মাত্র ৬১ রান। লর্ডস টেস্টে তাঁর শট নির্বাচন নিয়েও সমালোচনা হয়।

    ইমাম তো চোটের কারণে লর্ডস টেস্টে ব্যাটিংয়ে নামেননি। সেই চোট নিয়েও পিসিবির সন্দেহ আছে। সালমান টেস্টে সর্বশেষ ৫ ইনিংসেই হয়েছেন ব্যর্থ। অথচ এই সালামানই হেডিংলি টেস্টে বাবর আজমের পরিবর্তে অধিনায়কত্ব করেছিলেন। লর্ডসে ছিলেন না একাদশে। এরপর তো স্কোয়াড থেকেই বাদ পড়েছেন।

    পিটিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, রিজওয়ান ও ইমামের ক্ষেত্রে শুধু পারফরম্যান্স বিবেচনা করা হয়নি। ড্রেসিংরুমে তাঁদের আচরণও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানা গেছে।

    এমনকি এ দুই ক্রিকেটারকে ডিসিপ্লিনারি কমিটির সামনে আচরণের ব্যাখ্যা দেওয়া লাগতে পারে। পিটিআই জানিয়েছে, রিজওয়ান ও ইমামের সঙ্গে সালমানকেও কমিটির সামনে দাঁড়াতে হতে পারে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড সফরেই নাকি তাঁদের আচরণজনিত সমস্যা দেখা গেছে।

    ইংল্যান্ড থেকে দেশে ফেরত যাওয়া অন্য খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন টেস্ট কোচ মাইক হেসনের সুপারিশে। আগে সাদা বলের দলে যাঁদের সঙ্গে কাজ করেছেন, এমন কয়েকজন ক্রিকেটারকে তিনি পরীক্ষা করে দেখতে চেয়েছেন।

    বোর্ডের একটি সূত্র পিটিআইকে বলেছেন, ‘বাকি যেসব খেলোয়াড়কে ফেরত পাঠানো হয়েছে, তাদের অন্তর্বর্তীকালীন টেস্ট কোচ মাইক হেসনের সুপারিশেই পাঠানো হয়েছে। তিনি সাদা বলের ক্যাম্পে যাঁদের সঙ্গে কাজ করেছেন, এমন কিছু খেলোয়াড়কে সুযোগ দিতে চেয়েছেন।’ তৃতীয় টেস্টের জন্য পাকিস্তান দলে এসেছেন আরাফাত মিনহাস, মোহাম্মদ ইমরান জুনিয়র, সাদ বেগ, মোহাম্মদ ইমরান রান্ধাওয়া, রাজউল্লাহ, সাইম আইয়ুব ও আবদুল্লাহ ফজল।

    নির্বাচক কমিটির প্রধান আকিব জাভেদকেও সরিয়ে দেওয়া হতে পারে এএফপি

    এদিকে এই পরিবর্তনের প্রভাব পড়তে পারে পাকিস্তানের নির্বাচক কমিটিতেও। পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি বড় ধরনের সংস্কারের পরিকল্পনা করছেন। সেই প্রক্রিয়ায় নির্বাচক কমিটির প্রধান আকিব জাভেদকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে।

    এরই মধ্যে আরেকটি বড় পরিবর্তন এসেছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে নির্বাচক মিসবাহ-উল-হক পদত্যাগপত্র দিয়েছেন। তবে পিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর পদত্যাগ গ্রহণ করেছে কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়।

    মিসবাহর পদত্যাগের আগে নির্বাচক কমিটিকে শোকজ নোটিশ দিয়েছিল পিসিবি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড সফরের টেস্ট দলে ইমাম ও রিজওয়ানকে রাখার বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছিল বোর্ড।

    শুধু নির্বাচক কমিটিই নয়, নির্বাচন ও পরামর্শক কমিটির সদস্যদেরও নোটিশ দিয়েছে পিসিবি। ইংল্যান্ড সফরের দলে ইমাম ও রিজওয়ানকে কেন নেওয়া হয়েছিল, তা ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে দল নির্বাচনের নীতিতে কী ধরনের মানদণ্ড ব্যবহার করা হয়েছিল, সেটিও জানতে চেয়েছে বোর্ড।

    পাকিস্তান ওপেনার ইমাম-উল-হক চোটের ইস্যুতে চাপে আছেন এএফপি

    ইংল্যান্ড সফর শেষ হওয়ার পর নতুন নির্বাচক কমিটি গঠন হতে পারে। একটি সূত্রের ভাষায়, ‘ইংল্যান্ড সফরের পর নতুন নির্বাচক কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে।’

    এদিকে ইংল্যান্ড সিরিজের পরও দায়িত্বে থাকতে পারেন হেসন। তাঁকে স্থায়ী প্রধান কোচ করার বিষয়ে আগ্রহী পিসিবি। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে নিউজিল্যান্ডের এই কোচ দায়িত্ব নিতে রাজি হন কি না, তার ওপর।

  • বাবর কি পাকিস্তানের পরের টার্গেট

    বাবর কি পাকিস্তানের পরের টার্গেট

    ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে ব্যর্থতার পর পাকিস্তানের ক্রিকেটে ব্যাপক রদবদল চলছে। একের পর এক ক্রিকেটার ও কোচিং স্টাফকে সরিয়ে দেওয়ার পর এবার সেই তালিকায় অধিনায়ক বাবর আজমের নামও উঠছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক পাকিস্তানি ক্রিকেটার রশিদ লতিফ।

    টেস্ট সিরিজ হাতছাড়া হওয়ার পর সাত ক্রিকেটার ও কোচিং স্টাফের কয়েকজনকে ছাঁটাই করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ ও বোলিং কোচ উমর গুলও দায়িত্ব হারিয়েছেন। একই সময়ে নির্বাচকের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন মিসবাহ উল হক। প্রধান নির্বাচক আকিব জাভেদও পিসিবির পরবর্তী নজরে থাকতে পারেন বলে খবর এসেছে।

    এমন পরিস্থিতিতে বাবরের ভবিষ্যৎ নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন রশিদ। সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পিসিবির দল পরিচালনার ধরন নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি জানতে চেয়েছেন, বাবরই কি হতে যাচ্ছেন পরবর্তী টার্গেট।

    রশিদ লিখেছেন, ‘যদি দলকে রিমোট কন্ট্রোলে চালাতেই হয়, তাহলে সরফরাজ ও উমর গুলকে কেন পাঠানো হলো? গ্যারি কারস্টেন ও জেসন গিলেস্পির কাছ থেকে নির্বাচনের ক্ষমতা কেন কেড়ে নেওয়া হলো? আর অধিনায়ক বাবর আজম যদি কথা না শুনে থাকে, তাহলে অধিনায়ককেই তো বরখাস্ত করা উচিত ছিল—তাহলে সরফরাজ ও উমর গুলকে কেন সরিয়ে দেওয়া হলো? বাবর আজম কি পরের টার্গেট?’

    এর আগে পিসিবির ছাঁটাইয়ের ঘটনায় বাবরের অধিনায়কত্ব ছাড়া উচিত ছিল বলেও মন্তব্য করেছিলেন রশিদ। তাঁর মতে, দলের একাধিক ক্রিকেটার ও কোচকে সরিয়ে দেওয়ার পর বাবরের উচিত ছিল তাঁদের পাশে দাঁড়ানো।

    এই প্রসঙ্গে রশিদ বলেন, ‘বাবরের পদত্যাগ করা উচিত ছিল। দলের অর্ধেক ক্রিকেটারকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি যদি তার জায়গায় থাকতাম, তাহলে অধিনায়কত্ব ছেড়ে দিতাম। তুমি একজন পুতুল অধিনায়ক হয়ে গেছ। নেতা আর অধিনায়কের মধ্যে পার্থক্য আছে।’

    বাবরের কড়া সমালোচনা করে রশিদ আরও বলেন, ‘তোমরা সাতজন ক্রিকেটারকে ফেরত পাঠিয়েছ। ইমামের বিষয়টি আমি বুঝতে পারি, সে চোট পেয়েছিল। কিন্তু তারপরও ছয়জন ক্রিকেটারকে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তোমরা তোমাদের কোচ, তোমাদের মেন্টরকে ফিরিয়ে দিয়েছ। যে কোচ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতিয়েছিল, তাকেও সরিয়ে দিয়েছ। উমর গুলকেও ফিরিয়ে দিয়েছ। তুমি তোমার দলের হয়ে দাঁড়াচ্ছ না। তোমার কোচকে এক পাশে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, আর তুমি নীরবে বসে আছ। এতে বোঝা যায়, পিসিবির সবসময় একজন পুতুল অধিনায়কই প্রয়োজন।’

  • মেসির পর আর্জেন্টিনার নতুন অধিনায়ক রোমেরো?

    মেসির পর আর্জেন্টিনার নতুন অধিনায়ক রোমেরো?

    লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বলার পর আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের নেতৃত্বে পরিবর্তন আসছে। মেসির উত্তরসূরি হিসেবে স্থায়ী অধিনায়ক হতে যাচ্ছেন ক্রিস্তিয়ান রোমেরো। ইএসপিএনের সাংবাদিক এস্তেবান এদুলের বরাতে এমন খবর প্রকাশিত হয়েছে।

    আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তির পর নেতৃত্বের জন্য রোমেরোকেই এগিয়ে রাখা হচ্ছে। যদিও আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন অধিনায়কের নাম ঘোষণা করেনি।

    মেসি নিয়মিত অধিনায়ক থাকা অবস্থাতেই নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা পেয়েছেন রোমেরো। ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে চিলির বিপক্ষে ম্যাচে প্রথমবার আর্জেন্টিনাকে নেতৃত্ব দেন তিনি। শারীরিক অস্বস্তির কারণে সেদিন মেসি বেঞ্চে ছিলেন। রোমেরোর নেতৃত্বে ম্যাচটি ১-০ গোলে জেতে আর্জেন্টিনা।

    পরবর্তী সময়ে ভেনেজুয়েলা ও মৌরিতানিয়ার বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচেও অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পরেছেন এই ডিফেন্ডার। ফলে মেসি-পরবর্তী সময়ে তাকেই নেতৃত্বে দেখার সম্ভাবনা আগে থেকেই তৈরি হয়েছিল।

    ২৮ বছর বয়সী রোমেরোর জাতীয় দলে অভিষেক ২০২১ কোপা আমেরিকার আগে চিলির বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে। এরপর লিওনেল স্কালোনির দলের রক্ষণভাগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে ওঠেন তিনি। এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনার হয়ে খেলেছেন ৫৮ ম্যাচ, গোল করেছেন চারটি।

    রোমেরোর জাতীয় দল অধ্যায়েই আর্জেন্টিনা জিতেছে ২০২১ ও ২০২৪ কোপা আমেরিকা, ২০২২ বিশ্বকাপ এবং ফিনালিসিমা। মেসি, অ্যাঞ্জেল দি মারিয়া, নিকোলাস ওতামেন্দিদের প্রজন্মের পর এবার নতুন নেতৃত্বের কেন্দ্রবিন্দু হতে পারেন রোমেরো।

    ২৮ বছর বয়সে অধিনায়কত্ব পেলে সামনে দীর্ঘ সময় নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ থাকবে তার। ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত আর্জেন্টিনাকে নেতৃত্ব দেওয়ার সম্ভাবনাও থাকছে এই টটেনহাম ডিফেন্ডারের সামনে। তবে আপাতত বিষয়টি নিশ্চিত নয়। এএফএর আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায় থাকতে হবে। একাধিক প্রতিবেদনে অবশ্য মেসির পর স্থায়ী অধিনায়ক হিসেবে রোমেরোকেই সবচেয়ে এগিয়ে রাখা হয়েছে।

  • তিন জন্মসনদে তিন বয়স, নিষিদ্ধ ভারতীয় ক্রিকেটার

    তিন জন্মসনদে তিন বয়স, নিষিদ্ধ ভারতীয় ক্রিকেটার

    একজনেরই তিন জন্মদিন!

    বাস্তবে সম্ভব নয়। তবে কাগজে-কলমে ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের লেগ স্পিনার রোহিত যাদবের জন্মসাল তিনটি—২০০৮, ২০০৯ ও ২০১০। মাসখানেক আগেও শ্রীলঙ্কা সফর করে আসা এই ক্রিকেটারকে বয়সের তথ্য জালিয়াতির দায়ে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই।

    ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল (সিএবি) তাদের খেলোয়াড়দের জন্য প্রাক্‌–মৌসুম নথিপত্র যাচাই কর্মসূচি পরিচালনা করার সময় রোহিতের বিষয়ে গরমিল পায়। পিটিআই জানিয়েছে, ২০০৮, ২০০৯ ও ২০১০—এই তিনটি ভিন্ন জন্মসনদ পাওয়া গেছে তাঁর নামে।

    ইন্ডিয়া টুডের খবরে বলা হয়, রোহিতের আধার কার্ডের তথ্যেও ছিল গরমিল। সিএবির নিবন্ধনে তাঁর জন্মসাল ২০০৭। অন্যদিকে ২০১৭ ও ২০২০ সালে হালনাগাদ করা আধার রেকর্ডে জন্মসাল ছিল ২০০৬। পরে ২০২১ সালে সেটি পরিবর্তন করে করা হয় ২০০৯।

    বয়স নিয়ে এত রকম তথ্য পাওয়ার পর আসন্ন অস্ট্রেলিয়া সফরের ভারত অনূর্ধ্ব-১৯ দল থেকে রোহিতকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

    রোহিত একা নন। একই ধরনের বয়সের গরমিলের কারণে আরও ৬৪ ক্রিকেটারকে নিষিদ্ধ করেছে সিএবি। তাঁদের মধ্যে আছেন ২০২২ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় দলের পেসার রবি কুমারও। ২০২৫-২৬ মৌসুম পর্যন্ত বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে তাঁর সব রেকর্ড বাতিল বলে গণ্য হবে। ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফো জানিয়েছে, রবি কুমারের ক্ষেত্রে বয়সের গরমিল ছিল ৪০ মাসের বেশি।

    বয়স জালিয়াতি ঠেকাতে অতীতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বিসিসিআই। ২০২০ সালে দায়ীদের শাস্তির পাশাপাশি সাধারণ ক্ষমার একটি পরিকল্পনাও প্রস্তাব করেছিল সংস্থাটি। সেই ব্যবস্থায় নিবন্ধিত খেলোয়াড়েরা স্বেচ্ছায় বয়সের গরমিল স্বীকার করে সঠিক জন্মতারিখ জমা দিলে সাময়িক বরখাস্ত এড়াতে পারতেন। তবে পরে নিয়ম লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে তাঁদের নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হতে হতো।

  • একই জার্সিতে দেখা যাবে মেসি-রোনালদোকে!

    একই জার্সিতে দেখা যাবে মেসি-রোনালদোকে!

    ফুটবল ইতিহাসের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো কি এবার একই দলের হয়ে মাঠে নামবেন? বিশ্বজুড়ে ভক্তদের মনে এমন প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম ‘টিএনটি স্পোর্টস’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কার্লোস তেভেজের বিদায়ী ম্যাচে এই অসম্ভবকে সম্ভব করার পরিকল্পনা চলছে।

    আগামী ডিসেম্বরে মাঠে গড়ানোর কথা রয়েছে ‘অ্যাপাচি’ খ্যাত তেভেজের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের শেষ সংবর্ধনা ম্যাচটি। বোকা জুনিয়র্স ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি বৈঠক করেছেন তেভেজ। তার ইচ্ছা, এই বিশেষ আয়োজনে দুই ভিনগ্রহের ফুটবলার মেসি ও রোনালদোকে একসঙ্গে একই একাদশে খেলাবেন।

    ক্যারিয়ারজুড়ে বিশ্ব ফুটবলের বহু নামী ক্লাবে খেলেছেন তেভেজ। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, জুভেন্টাস কিংবা আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির পাশাপাশি ম্যানচেস্টার সিটির জার্সিতে দেখা গেছে তাকে। ইউনাইটেডের হয়ে খেলার সময় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গেও ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি করেন তিনি। ধারণা করা হচ্ছে, তার এই ঐতিহাসিক বিদায়ী ম্যাচে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৬০ জন সাবেক সতীর্থ অংশ নেবেন।

    ২০২২ সালের জুনে পেশাদার ফুটবলকে বিদায় জানানো এই ফরোয়ার্ড কোচিং পেশার সঙ্গেও যুক্ত আছেন। রোসারিও সেন্ট্রাল ও ইন্দেপেন্দিয়েন্তের পর বর্তমানে তায়েরেস কোর্দোবার ডাগআউট সামলাচ্ছেন তিনি। তবে কোচিংয়ের ব্যস্ততা ছাপিয়ে এখন তার সব মনোযোগ ঐতিহাসিক এই বিদায়ী আয়োজন নিয়ে।

    সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে বোকা জুনিয়র্সের বিখ্যাত হোমগ্রাউন্ড লা বমবুনেরা স্টেডিয়ামে আগামী ডিসেম্বরের ১২-১৩ কিংবা ১৮-১৯ তারিখে এই প্রদর্শনী ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে আর্জেন্টাইন লীগের সূচির সঙ্গে যাতে ম্যাচটির তারিখের সংঘাত না ঘটে, সে বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ।

  • চোটে পড়ে মাঠ নিয়ে ক্ষোভ নেইমারের, প্রতিপক্ষ দিল খোঁচা

    চোটে পড়ে মাঠ নিয়ে ক্ষোভ নেইমারের, প্রতিপক্ষ দিল খোঁচা

    এক ম্যাচে তিন চোট। এর মধ্যে একজন নেইমার। চোটের জন্য মাঠ ছাড়ার পরই সান্তোসের মাঠ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। তবে তাঁর এসব কথাকে অজুহাত হিসেবেই দেখছে প্রতিপক্ষ পালমেইরাস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে তারা খোঁচাই দিয়েছে নেইমারকে।

    বুধবার ব্রাজিলিয়ান কাপে পালমেইরাসের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে গোলশূন্য ড্র করে সান্তোস। প্রথম লেগে ৩-০ ব্যবধানে হেরে যাওয়ায় দুই লেগ মিলিয়ে ৩-০ ব্যবধানে হেরে প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নেয় নেইমারের দল। তবে ম্যাচের ফলের চেয়েও বেশি আলোচনায় এসেছে সান্তোসের মাঠ ভিলা বেলমিরোর বেহাল দশা এবং চোটের মিছিল।

    প্রথমার্ধেই চোট নিয়ে মাঠ ছাড়েন নেইমার। তাঁর সঙ্গে চোটে পড়েন সান্তোসের উইঙ্গার আলভারো বারেয়াল ও ডিফেন্ডার লুকাস ভেরিসিমো। মাঠ ছাড়ার সময় নেইমারকে কাঁদতেও দেখা যায়।

    এক দিন পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাঠের অবস্থা নিয়ে খোঁচা দিয়ে নেইমার লেখেন, ‘ভিলা বেলমিরো স্টেডিয়ামের মাঠের দায়িত্বে যিনি আছেন, তাঁকে অভিনন্দিত করতে চাই।’

    এরপরই তাঁর সেই খোঁচা পরিণত হলো তীব্র আগুনে, ‘গতকাল যা দেখলাম, তা ক্লাবের ইতিহাসে সবচেয়ে বাজে মাঠ। ম্যাচের ঠিক আগের দিন কাজ করার কারণে পুরো মাঠ গর্তে ভরা ছিল। অবিশ্বাস্য! প্রতিপক্ষের পাশাপাশি আমাদের মাঠের বিরুদ্ধেও লড়তে হয়েছে।’

    ব্রাজিলিয়ান কাপ থেকে সান্তোসের ছিটকে যাওয়ার দিনে চোট নিয়ে মাঠ ছেড়েছেন নেইমার ইনস্টাগ্রাম/নেইমার

    ক্ষোভের রেশ টেনে এখানেই থামেননি নেইমার। মাঠের বেহাল দশা কীভাবে তাঁদের টেনে নামাল, সেই হিসাব কষে লিখেছেন, ‘সবচেয়ে খারাপ বিষয় হলো, মাঠের এই জঘন্য অবস্থার কারণে আমাদের বাড়তি শারীরিক শক্তি খরচ করতে হয়েছে। প্রথমার্ধেই যে তিনজন খেলোয়াড় চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লেন, তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। দারুণ কাজ করেছেন সত্যিই…খুবই নিম্নমানের কাজ!’

    নেইমারের এই বিলাপের আগুনে পালমেইরাস বাণ মারতে ছাড়েনি। চরম নাটকীয়তায় সুযোগ বুঝে নিজেদের মাঠের প্রশংসা করে এক খোঁচাপূর্ণ বিবৃতি ছাড়ে ক্লাবটি।

    নিজেদের মাঠের নিয়মিত পরিচর্যা ও গুণগত মান নিয়ে খোঁচা দিয়ে পালমেইরাস লেখে, ‘নুবাঙ্ক পারকের মাঠের দায়িত্বপ্রাপ্তদের আমরা অভিনন্দন জানাতে চাই…দিন যা-ই হোক না কেন, এখানকার ঘাস সব সময় নিখুঁত আর গর্তমুক্ত থাকে। কারণ, প্রতিদিন এর যত্ন নেওয়া হয়। বিশ্বাস করুন আর না–ই করুন, প্রতিপক্ষকে ভালো মাঠ উপহার দেওয়ার পাশাপাশি আমাদের খেলোয়াড়েরাও এখানে দৌড়ানোর সময় নিরাপদ বোধ করে। কারণ, পুরো উপরিভাগ সব সময় সমান থাকে। অমনি তো আর গত পাঁচ বছরে সিরি আ-তে পালমেইরাসের খেলোয়াড়েরা সবচেয়ে কম চোটে পড়েনি…সত্যিই অভিনন্দন। দুর্দান্ত কাজ!’

    এখানেই ক্ষান্ত হয়নি তারা। যেন সমস্যার সহজ সমাধান শেখাতে গিয়ে শেষ পেরেকটি ঠুকে দিল, ‘বাজে মাঠের একমাত্র সমাধান হলো একটি ভালো মাঠ তৈরি করা, সহজ বিষয়।’

    লিগ টেবিলে সান্তোস এখন ১৪ নম্বরে, অবনমন অঞ্চল থেকে মোটে চার পয়েন্ট দূরে।

  • মেসিকে মিস করবেন মরিনিও

    মেসিকে মিস করবেন মরিনিও

    বল নিয়ে কাড়াকাড়ি তাঁরা করেননি। একজন ছিলেন মাঠে, অন্যজন ডাগআউটে। তবু একসময় এল ক্লাসিকোতে তাঁদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল ফুটবল–বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত লড়াইগুলোর একটি। একজনের পায়ের নৈপুণ্য আর অন্যজনের মাথার ট্যাকটিকসের লড়াই অনেকের কাছেই ছিল উপভোগ্য।

    এরপর অবশ্য এক যুগেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন মেসি। এ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মরিনিও বলেছেন, মেসির মতো খেলোয়াড়কে তিনি সব সময়ই মিস করবেন।

    আগামীকাল লা লিগায় রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে খেলবে রিয়াল মাদ্রিদ। এ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মেসির জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মরিনিও বলেন, ‘মেসিকে নিয়ে কথা বলা কঠিন। তার খেলোয়াড়ি মান নিয়ে বলার মতো খুব বেশি কিছু নেই। এমনকি এই যে বিশ্বকাপ, সেখানে ৩৮ বা ৩৯ বছর বয়সেও সে আমাদের দেখিয়েছে, সে কী করতে পারে।’

    ২০২২ সালে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতানো মেসি এবারও দলকে বিশ্বকাপের ফাইনালে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা এরপরই ঘোষণা দেন—জাতীয় দলের হয়ে তাঁর পথচলা শেষ। মেসির বিদায় যে ফুটবলের একটি যুগেরও অবসান, মরিনিওর কথায় সেটিই ফুটে উঠেছে, ‘কখনো কখনো এমন খেলোয়াড় থাকে, যাদের আপনি মিস করবেন। তার শেষ কয়েক বছর বা মৌসুমগুলোকে উপভোগ করতে আমাদের হয়তো কিছু এমএলএস ম্যাচ দেখতে হবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে খুব একটা এমএলএস দেখতে পছন্দ করি না, কিন্তু তাকে দেখতে হলে দেখতে হবে। কারণ, সে এমন একজন খেলোয়াড়, যাকে আপনি সব সময়ই মিস করবেন।’

    যখন মেসি ছিলেন বার্সেলোনায়, মরিনিও রিয়ালেছবি: এক্স

    মরিনিও ও মেসি কখনো সরাসরি একই দলের হয়ে কাজ করেননি বা খেলেননি। মেসি বার্সেলোনায় থাকার সময় ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদের কোচ ছিলেন মরিনিও। সেই সময়ের এল ক্লাসিকো উত্তাপ ও বিতর্ক মিলিয়ে উত্তেজনাময় ছিল। কোচ হিসেবে মরিনিওকে বারবারই মোকাবিলা করতে হয়েছে মেসির বার্সেলোনাকে।

    তবে সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা মেসির প্রতি মরিনিওর শ্রদ্ধা কমাতে পারেনি। পর্তুগিজ কোচ বলেছেন, ‘গত দুই দশকে আমাদের প্রজন্মের জন্য সে কী প্রতিনিধিত্ব করে, সেটা আমরা সবাই জানি।’

  • না খেলেই ৬ মাসে ম্যাচ ফি দ্বিগুণ

    না খেলেই ৬ মাসে ম্যাচ ফি দ্বিগুণ

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাসের ভেতর দুবার ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি বাড়ালেন তামিম ইকবাল। প্রথম দফায় অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর চলতি বছরের ৮ এপ্রিল ঘরোয়া ক্রিকেটে ম্যাচ ফি বাড়িয়েছিলেন তামিম। এরপর গতকাল আরও এক দফা তাদের ম্যাচ ফি বাড়িয়েছেন বিসিবি সভাপতি। কারণ হিসেবে যদিও বলেছেন ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও পেশাদারিত্ব বাড়ানোর কথা, তবে চলমান ঘটনাপ্রবাহে এটি স্পষ্ট যে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) আয়োজন করতে না পারার ক্ষতি পোষাতেই বিসিবির এই সিদ্ধান্ত।

    বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে তামিম ইকবাল জানিয়েছেন, এ বছর বিপিএল না হওয়া এবং ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে অবনমন না থাকা ও সুপার লিগ না থাকায় দেশের পেশাদার ক্রিকেটাররা যে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন, সেই ক্ষতি খানিকটা পূরণ করার জন্য বহুমুখী পদক্ষেপ নিচ্ছে বিসিবি। প্রথমত, ঘরোয়া ক্রিকেটে ম্যাচ ফি বাড়ানো হয়েছে। তামিম অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে পুরুষদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের ম্যাচ ফি ৭০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করেছিলেন। সেই ঘোষণার পর দেশের ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট মাঠে গড়ানোর আগেই এসেছে আরেক দফা বৃদ্ধির ঘোষণা— এবার ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। অর্থাৎ গত মৌসুমের চেয়ে শতভাগের চেয়ে বেশি ম্যাচ ফি বাড়ল ক্রিকেটারদের, সেটিও কোনো ম্যাচ না খেলেই!

    আনুপাতিকভাবে বেড়েছে বিসিবি আয়োজিত ৫০ ও ২০ ওভারের ম্যাচের ম্যাচ ফিও। তামিম বলেছেন, ‘এখানে আসার আগে কোয়াবের সিনিয়রদের সঙ্গে আলাপ করেছি। সবাই অনেক খুশি। একজন খেলোয়াড় ঘরোয়া ক্রিকেটের পুরো সিজন খেললে বছরে ৩৫-৪০ লাখ টাকা করে পাবে।’

    সীমিত ওভারের ঘরোয়া প্রতিযোগিতা হিসেবে বিসিবি এনসিএল টি-টোয়েন্টি এবং বিসিএল ওয়ানডে আয়োজন করে থাকে, তবে তামিমের নেতৃত্বাধীন বোর্ড বিসিএলের প্রথম শ্রেণি ও লিস্ট ‘এ’ টুর্নামেন্ট এবং এনসিএল টি- টোয়েন্টিকে এক ছাতার নিচে এনে নতুন একটি টুর্নামেন্ট চালু করার ব্যাপারে অনেকটাই এগিয়ে গেছে।

    বিপিএল না হওয়ার ঘোষণার পর ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব (ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) দেনদরবার করেছে বিসিবির সঙ্গে। বছর দুই আগে তামিম নিজেও খেলোয়াড়দের প্রতিনিধি হয়ে সাবেক বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদের কাছে অনুরোধ করেছিলেন ২৫ শতাংশ পারিশ্রমিক কমিয়েও বিপিএলটা আয়োজন করার, অথচ এ বছর কেন এত আগেই হাল ছেড়ে দেওয়া। তামিম বৃহস্পতিবার স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘তিনটি ফ্র্যাঞ্চাইজি বাদে অন্য কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে চুক্তিই হয়নি আগের বিপিএলে, তাদের কোনো ব্যাংক গ্যারান্টি বা চেক কিছুই জমা নেই বিসিবির কাছে। আমি ফারুক ভাইয়ের কাছে গিয়েছিলাম বিপিএল করার জন্য অনুরোধ করতে, এটা যেমন সত্যি; তেমনি সত্যি হচ্ছে কয়েকদিন পর আমি আবার গিয়ে বলেছি দুটি দলকে ফ্র্যাঞ্চাইজি না দিতে। এর মধ্যে একটা হচ্ছে রাজশাহী। এরপর আপনারাই দেখেছেন কী অবস্থা হয়েছে।’ শুধু আর্থিক লোকসান এড়াতেই যে বিসিবি এ বছর বিপিএল আয়োজন করা থেকে বিরত আছে, ব্যাপারটা তা নয়, ‘আমরা শুধু যে আর্থিক ক্ষতির কারণে বিপিএল করছি না, তা নয়। যদি মাঠে খেলাটা ভালো হতো, খেলোয়াড়রা ঠিকঠাক টাকা পেত, হোটেলগুলো তাদের টাকা পেত, যারা যানবাহন সরবরাহ করেছে তারা টাকা পেত, তাহলে ক্ষতিটা মেনে নেওয়া যেত। কিন্তু কিছুই যেখানে ঠিক নেই, সেখানে কেন এই টুর্নামেন্ট আমাদের তাড়াহুড়ো করে মাঠে নামাতে হবে?’

    তামিমের যুক্তির সঙ্গে ক্রিকেটাররাও একমত হয়েছেন, কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন বুধবার সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় ১৫০ থেকে ২০০ জন ক্রিকেটার যেন উপকৃত হয়, সেটা বেছে নিয়েছি।’

    বিপিএল স্থগিত রাখা নিয়ে খেলোয়াড়দের অবস্থান এবং তামিমের ঘোষণা— এ দুইয়ের ভেতর কোনো যোগসূত্র আছে নাকি ব্যাপারটা নিতান্তই কাকতালীয়, সেই প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, সরকারী কর্মচারীদের নতুন পে স্কেলে ১৪২ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির ৯৬ ঘণ্টার ভেতর ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফিও বেড়ে গেল।

  • ‘পাকিস্তানের নির্বাচকের উচিত আয়নায় নিজের মুখ দেখা’- গিলেস্পি

    ‘পাকিস্তানের নির্বাচকের উচিত আয়নায় নিজের মুখ দেখা’- গিলেস্পি

    ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ নাম তো এমনি এমনি বসেনি পাকিস্তানের নামের সঙ্গে। মাঠের পারফরম্যান্সের মতোই অবস্থা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডেরও (পিসিবি)। কোচ আসেন, কোচ যান। শুধু তাই নয়, অধিনায়ক পরিবর্তনের ঘটনাও ঘটে নিয়মিত। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটার জেসন গিলেস্পি তোপ দাগলেন পিসিবির নির্বাচকের ওপর।

    প্রায় দুই বছর আগে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক শেষ হলেও গিলেস্পি যেন তা কিছুতেই ভুলতে পারছেন না। কারণ, পিসিবির সঙ্গে দুই বছরের চুক্তি থাকলেও আট মাসেই শেষ হয়ে যায় সম্পর্ক। ২০২৪ সালের এপ্রিলে পাকিস্তানের লাল বলের কোচ হয়ে ডিসেম্বরে পদত্যাগ করেছিলেন। একই সময়ে (২০২৪ সালের এপ্রিলে) গ্যারি কারস্টেন পাকিস্তানের সাদা বলের কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। তখন মাত্র ছয় মাস দায়িত্বে থেকেই পদত্যাগ করেছিলেন।

    হেডিংলি ও লর্ডস টেস্টে ইংল্যান্ডের কাছে হেরে সিরিজ খোয়ানোর পর পাকিস্তান দলে চলছে টালমাটাল অবস্থা। নির্বাচকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মিসবাহ উল হক। আকিব এরপর নির্বাচকের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। অস্ট্রেলিয়ান সংবাদপত্র ‘দ্য অস্ট্রেলিয়ান’-কে আজ গিলেস্পি বলেন, ‘আকিব জাভেদ সম্প্রতি এসে পাকিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য সাবেক সাদা বলের কোচ গ্যারি কারস্টেন এবং আমাকে দায়ী করেছেন। আকিব গত দুই বছর ধরে প্রধান নির্বাচকের দায়িত্বে আছেন। অথচ আমরা সেখানে ছিলামই না।’

    পাকিস্তান দলের বাজে অবস্থায় কারস্টেন-গিলেস্পির ওপর দায় চাপানোর কোনো মানেই বের করতে পারলেন না গিলেস্পি। আকিবকে দায়ী করে গিলেস্পি অস্ট্রেলিয়ান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘তারপরও কোনোভাবে তিনি (আকিব) বলছেন, সবকিছুর জন্য আমরা (গিলেস্পি-কারস্টেন) দায়ী। এর কোনো মানে হয়? আমার মনে হয়, আকিব জাভেদের নিজের দিকে আয়নায় তাকানো উচিত।’

    হেডিংলিতে প্রথম টেস্টে ইনিংস ও ১০৩ রানে হেরে যায় পাকিস্তান। দ্বিতীয় টেস্টে তারা হেরেছে ১৯৪ রানে। টানা দুই ম্যাচে ভরাডুবির পর টেস্টের প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ এবং পেস বোলিং কোচ উমর গুলকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি ইংল্যান্ড সফররত দলের সাত ক্রিকেটারকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। সেই সাত ক্রিকেটারের মধ্যে আছেন সালমান আলী আগা ও মোহাম্মদ রিজওয়ানও। এজবাস্টনে তৃতীয় টেস্টের দলে যুক্ত করা হয় পাঁচ ক্রিকেটারকে।

    লর্ডস টেস্টের পর বাদ পড়া সাত ক্রিকেটারের জন্য খারাপ লাগছে গিলেস্পির। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক পেসার বলেন, ‘খেলোয়াড়দের জন্য আমার খারাপ লাগছে। এটা তাদের জীবিকা। বাইরে থেকে মনে হচ্ছে, তারা ভয় নিয়ে খেলছে। এটা স্পষ্ট যে তাদের কোনো নির্বাচনী কৌশলই নেই। বিশেষ করে আকিব জাভেদের অধীনে।’

    বাবর প্রথম টেস্টে খেলতে না পারায় সালমানকে অধিনায়ক করা হয়েছিল। দ্বিতীয় টেস্টে বাবর অধিনায়ক হয়ে ফেরায় সালমান একাদশ থেকেই বাদ পড়েছিলেন। পরবর্তীতে তো তাঁকে ফেরত পাঠানো হলো দেশে। গিলেস্পি বলেন, ‘সালমান আলী আগা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিল। এরপর দ্বিতীয় টেস্টের দল থেকেই বাদ পড়ল। তৃতীয় টেস্টের আগেই দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হলো। এটা কীভাবে সম্ভব? প্রধান নির্বাচক আকিব জাভেদের সঙ্গে আসলে খেলোয়াড়দের যোগাযোগের ঘাটতি রয়েছে। এটা স্পষ্ট।’

    হেডিংলির পর লর্ডসে হেরে টেস্টে পাকিস্তানের জয়ের চেয়ে হারই বেশি। ১৯৫২ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত ৪৭৩ টেস্ট খেলে তারা জিতেছে ১৫৩ ম্যাচ, হার ১৫৪টিতে। ড্র করেছে ১৬৬ ম্যাচ। এজবাস্টন টেস্টে পাকিস্তানের লাল বলের কোচের দায়িত্বে থাকছেন মাইক হেসন। অ্যাশলে নফকে পেস বোলিং কোচ হিসেবে কাজ করবেন। এজবাস্টনে ৯ সেপ্টেম্বর শুরু হবে পাকিস্তান-ইংল্যান্ড সিরিজের তৃতীয় টেস্ট।