খেলা

  • ১৯ বছর পর আবারও আলজেরিয়ার মুখোমুখি হচ্ছেন মেসি

    ১৯ বছর পর আবারও আলজেরিয়ার মুখোমুখি হচ্ছেন মেসি

    ২০০৭ সালের ৫ জুন বার্সেলোনার ঐতিহ্যবাহী ক্যাম্প ন্যু স্টেডিয়ামে এক প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়া। কোচ আলফিও বাসিলের অধীনে তখন আর্জেন্টিনা কোপা আমেরিকার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

    সেই ম্যাচে মাঠে ছিলেন অভিজ্ঞ ও তারকাখ্যাত খেলোয়াড়দের পাশাপাশি এক তরুণ লিওনেল মেসি, যিনি তখনো আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের জাদুকরী ড্রিবলিং ও প্রতিভা দিয়ে ধীরে ধীরে আলোচনায় উঠে আসছিলেন। রবার্তো আয়ালা, হুয়ান সেবাস্তিয়ান ভেরন এবং হুয়ান রোমান রিকেলমের মতো অভিজ্ঞদের পাশে দাঁড়িয়ে মেসি সেদিন আলজেরিয়ার রক্ষণভাগকে বারবার চাপে ফেলেন এবং নিজের আক্রমণাত্মক ফুটবলে ম্যাচে বড় প্রভাব রাখেন।

    ঐ ম্যাচটি ছিল গোলসমৃদ্ধ ও নাটকীয় এক লড়াই। শুরু থেকেই আর্জেন্টিনা আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে খেলা শুরু করে এবং মাত্র দেড় মিনিটের মাথায় কার্লোস তেভেজ পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। তবে আলজেরিয়া দ্রুতই ম্যাচে ফিরে আসে এবং ৯ মিনিটে আনথার ইয়াহিয়ার গোলে সমতা আনে। এরপর প্রথমার্ধের শেষ দিকে মাজিদ বুগেরা গোল করে আলজেরিয়াকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেয়, যা আর্জেন্টিনার জন্য বড় ধাক্কা ছিল।

    দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় আর্জেন্টিনা। এই সময়ে লিওনেল মেসির অনুপ্রেরণায় দলটি দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায়। মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে ম্যাচের গতিপথ পুরোপুরি বদলে যায়।

    প্রথমে মেসি পেনাল্টি থেকে গোল করে সমতা ফেরান, এরপর এস্তেবান ক্যাম্বিয়াসো দ্রুত আরেকটি গোল করে আর্জেন্টিনাকে আবার এগিয়ে নেন। পরে ম্যাচের ৭৩ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে দলের জয় প্রায় নিশ্চিত করে দেন মেসি। শেষ মুহূর্তে আলজেরিয়া একটি গোল শোধ করলেও আর্জেন্টিনা শেষ পর্যন্ত ৪-৩ ব্যবধানে এক রোমাঞ্চকর জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে।

    প্রায় ১৯ বছর পর আবারও আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়া বড় মঞ্চে মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এবার আর কোনো প্রীতি ম্যাচ নয়, বরং বিশ্বকাপের মতো গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টে দুই দল আবার মুখোমুখি হচ্ছে। ২০২৬ বিশ্বকাপে এই লড়াইকে ঘিরে আগ্রহ তৈরি হয়েছে, কারণ দীর্ঘ সময় পর একই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আবারও মাঠে নামছে তারা।

    এই নতুন প্রেক্ষাপটে আর্জেন্টিনা তাদের শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে। দলটি এখনো অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মিশ্রণে শক্তিশালী একটি ইউনিট হিসেবে বিবেচিত। অন্যদিকে আলজেরিয়া, যাদের ‘ডেজার্ট ফক্সেস’ নামে ডাকা হয়, তারা তাদের দ্রুতগতির ফুটবল, শক্তিশালী কাউন্টার অ্যাটাক এবং আক্রমণাত্মক মানসিকতা দিয়ে বড় দলগুলোর বিপক্ষে চমক দেখানোর ক্ষমতা রাখে। ফলে এই ম্যাচ ঘিরে দুই দলের মধ্যে আরেকটি উত্তেজনাপূর্ণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইয়ের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

  • আলভারেজ নাকি লাওতারো, নতুন করে ভাবতে হচ্ছে আর্জেন্টিনাকে

    আলভারেজ নাকি লাওতারো, নতুন করে ভাবতে হচ্ছে আর্জেন্টিনাকে

    আগামী বুধবার সকাল ৭টায় বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। তার আগে আকাশি–সাদার সমর্থকদের মাথায় হয়তো একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, কে হবেন লিওনেল স্কালোনির শুরুর একাদশের নাম্বার নাইন।

    খেলাধুলাবিষয়ক আর্জেন্টাইন টিভি চ্যানেল টিওয়াইসি স্পোর্টস জানিয়েছে, এত দিন লাওতারো মার্তিনেজই ছিলেন কোচের প্রথম পছন্দ।

    কারণ, হুলিয়ান আলভারেজ পায়ের গোড়ালির চোটে ভুগছিলেন। সে জন্য হন্ডুরাস ও আইসল্যান্ডের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে লাওতারোকেই কাজে লাগিয়েছেন স্কালোনি। হন্ডুরাস ম্যাচে বল পায়ে দ্যুতিও ছড়ান লাওতারো। এক গোলের সঙ্গে সতীর্থ জুলিয়ানো সিমিওনেকে দিয়েও গোল করান তিনি।

    কিন্তু হুলিয়ান চোট কাটিয়ে ফেরায় আক্রমণভাগ নিয়ে নতুন করেই ভাবতে হচ্ছে আর্জেন্টাইন কোচকে। এরই মধ্যে দলের সঙ্গে অনুশীলনও শুরু করেছেন এই ফরোয়ার্ড।

    আর্জেন্টিনা দলের অনুশীলন

    তবে এখনি বলা যাচ্ছে না শেষ পর্যন্ত কে হবেন স্কালোনির শুরুর একাদশের নাম্বার নাইন। টিওয়াইসি স্পোর্টস অবশ্য জানিয়েছে, যদি আলভারেজ ফিটনেস পরীক্ষায় উতরে যান, তাহলে কোচের পছন্দে এগিয়ে থাকবেন তিনিই।

    যদিও দুজনই নিজ নিজ ক্লাবের হয়ে দারুণ ফর্মে। লা লিগার দল অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদে খেলা আলভারেজ ৪৯ ম্যাচ খেলে করেছেন ২০ গোল। অন্যদিকে ইন্টার মিলানের জার্সিতে লাওতারোর গোল ৪১ ম্যাচে ২২টি।

    বিশ্বকাপেও নিজেকে প্রমাণ করেছেন আলভারেজ। কাতার বিশ্বকাপে সাত ম্যাচ খেলে করেন চার গোল, সঙ্গে এক গোলে সহায়তাও। যেখানে লাওতারোর নামের পাশে নেই কোনো গোল। একটি বিশ্বকাপ খেলেছেন তিনিও, সেটি ২০২২ কাতারে। সেই আসরে ৬ ম্যাচ খেলে কোনো গোল করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত কার ওপর স্কালোনি ভরসা রাখেন, সেটাই এখন দেখার।

  • বাবার দেশের বিপক্ষে গোল করে সিজদায় লুটিয়ে পড়লেন ইয়াসিন

    বাবার দেশের বিপক্ষে গোল করে সিজদায় লুটিয়ে পড়লেন ইয়াসিন

    ২২ বছর বয়সী ইয়াসিন আয়ারির জন্য বিশ্বকাপে অভিষেকটা এর চেয়ে ভালো আর হতে পারত না। সুইডেনের হয়ে প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলতে নেমেই তিনি জোড়া গোল করে দলকে তিউনিসিয়ার বিপক্ষে ৫-১ ব্যবধানের বড় জয় এনে দেন। তবে প্রথম গোলের পর তার উদযাপনই সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ে।

    মেক্সিকোর মনতেরেতে অনুষ্ঠিত ম্যাচের সপ্তম মিনিটে দুর্দান্ত এক ভলিতে বল জড়িয়ে দেন তিউনিসিয়ার জালে। গোল করার পর সাধারণ কোনো তরুণ ফুটবলারের মতো উচ্ছ্বাসে ভেসে না গিয়ে দুই হাত তুলে সম্মান জানান এবং এরপর সিজদায় লুটিয়ে পড়েন।

    এর পেছনে রয়েছে তার রক্তের গভীরে থাকা তিউনিসিয়ার সম্পর্ক। আয়ারির বাবা তিউনিসিয়ান এবং মা মরক্কান বংশোদ্ভূত। যদিও তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা সুইডেনে।

    ১৮ বছর বয়সে তিনি সিদ্ধান্ত নেন বাবা-মায়ের দেশের পরিবর্তে নিজের জন্মভূমি সুইডেনের প্রতিনিধিত্ব করবেন। এই সিদ্ধান্তে পূর্ণ সমর্থন ছিল তার বাবারও।

    আয়ারির বাবা আজ্জুজ আয়ারি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমি চেয়েছিলাম সে সুইডেনের হয়ে খেলুক। যে দেশ তাকে বড় করেছে এবং যত্ন নিয়েছে, তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করাই উচিত।’

    তিনি জানান, তিউনিসিয়ার পক্ষ থেকেও ইয়াসিনকে দলে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাবা ও ছেলে কেউই সেটিকে গুরুত্ব দেননি।

    শৈশবে নিজ শহরের একটি ক্লাবে ফুটবল শুরু করেন আয়ারি। পরে দেশের অন্যতম বড় ক্লাবে যোগ দিয়ে দ্রুতই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। এরপর ইংল্যান্ডের একটি শীর্ষ পর্যায়ের ক্লাবে পাড়ি জমান এবং ২০২৩ সালে সুইডেন জাতীয় দলে অভিষেক হয় তার।

    সুইডেনের জার্সি বেছে নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আয়ারি জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি সুইডেনের বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলের হয়ে খেলেছেন। তাই সুইডেনের প্রতিনিধিত্ব করাটাই তার কাছে স্বাভাবিক মনে হয়েছে।

    বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ড্র অনুষ্ঠিত হওয়ার পর যখন জানা যায় সুইডেন ও তিউনিসিয়া একই গ্রুপে পড়েছে, তখন বিষয়টি তাকে বিস্মিত করেছিল। আয়ারি বলেন, ‘এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য ছিল যে আমরা একই গ্রুপে পড়েছি।’

    ম্যাচে তিউনিসিয়ার বিপক্ষে সুইডেনের বড় জয়ে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন এই তরুণ মাঝমাঠের খেলোয়াড়। প্রথম গোলের পাশাপাশি যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে আরও একটি অসাধারণ গোল করেন তিনি।

    প্রতিপক্ষের গোলমুখের সামনে বল পেয়ে দূরের কোণে নিখুঁত শটে বল পাঠিয়ে দেন জালে। বিশ্বকাপ অভিষেক ম্যাচেই নিজের দ্বিতীয় গোলটি করার পর এবার অবশ্য উচ্ছ্বাস লুকিয়ে রাখেননি। গ্যালারিতে থাকা আনন্দে মাতোয়ারা সুইডিশ সমর্থকদের অভিনন্দন সানন্দে গ্রহণ করেন তিনি।

    বাবার জন্মভূমির বিপক্ষে গোল করেও সম্মান দেখানো এবং নিজের দেশের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স—দুইয়ের সমন্বয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে স্মরণীয় এক অভিষেক উপহার দিলেন ইয়াসিন আয়ারি।

  • স্পেন এবার কতটা ভালো

    স্পেন এবার কতটা ভালো

    সেলিব্রিটিদের অবকাশযাপনের জন্য বিখ্যাত ইবিজা স্পেনে। চোখজুড়ানো আরও অনেক সমুদ্রতট আছে এই দেশে। কিন্তু সেখানে কি হাঙর আছে?

    আচ্ছা, স্পেন-কেপ ভার্দে ম্যাচের আগে হাঙরের কথা আসছে কেন? আপনার জানা না–ও থাকতে পারে, কেপ ভার্দে নামের পুঁচকে দ্বীপদেশটির ফুটবলের ডাকনাম ‘নীল হাঙর’। নিজেদের ইতিহাসে প্রথম বিশ্বকাপের ম্যাচে কি তারা কামড়ে দিতে পারবে স্পেনকে? কেপ ভার্দে হাঙর হলে স্পেন তো নীল তিমিই, তাই না?

    প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দের চেয়ে স্পেনের চিন্তাটা বোধ হয় নিজেদের নিয়েই বেশি। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচ কী নিয়ে অপেক্ষা করছে, কে জানে! গত তিনটি বিশ্বকাপের কথা মনে করে দেখুন।

    ২০১৪ বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের কাছে ৫-১ গোলে উড়ে যাওয়া। পরের বিশ্বকাপে পর্তুগালের সঙ্গে ৩-৩ গোলে ড্র। ২০২২ বিশ্বকাপে আবার কোস্টারিকাকে ৭-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়া। শুরুর ম্যাচে অননুমেয় হলেও একটা ব্যাপার অনুমান করা যায়, স্পেনের উদ্বোধনী ম্যাচ মানেই অনেক গোল। আবার এই তিন বিশ্বকাপে একবারও স্পেন পার হতে পারেনি শেষ ষোলোর বাধা।

    সেই বাধা টপকানো তো বটেই, এবার স্পেন অনেকের চোখেই অন্যতম ফেবারিট। লুইস দে লা ফুয়েন্তে দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২৪ ইউরো থেকে দুর্দান্ত ফুটবল খেলছে স্পেন। জোহানেসবার্গ ফুটবল সিটি স্টেডিয়ামে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা যে সোনালি ট্রফিটা এনে দিয়েছিলেন আইবেরিয়ান উপদ্বীপে, সেই ছবিটা এবার কে আঁকবেন?

    স্পেন তারকা লামিনে ইয়ামাল

    যাঁর ওপর সবচেয়ে বেশি বাজি, সেই লামিনে ইয়ামালকে নিয়েই এবার অনিশ্চয়তা। এপ্রিলে লা লিগার ম্যাচে চোট পাওয়ার পর ইয়ামাল শুরুতে ভেবেছিলেন, তাঁর বিশ্বকাপটাই বোধ হয় শেষ!

    বিশ্বকাপ খেলার তীব্র জেদ থেকেই হয়তো সেরে উঠছেন নির্ধারিত সময়ের আগে। শুরুতে গ্রুপ পর্বে তাঁকে পাওয়া নিয়ে সংশয় থাকলেও দে লা ফুয়েন্তে দুই দিন আগে জানিয়েছেন, ইয়ামাল ফিরতে পারেন প্রথম ম্যাচেই। এর মধ্যে দলের সঙ্গে অনুশীলনও শুরু করেছেন। আজ কেপ ভার্দের বিপক্ষে শুরু থেকে না হলেও কিছু সময়ের জন্য তাঁকে হয়তো দেখা যাবে।

    চোটের সমস্যা আরও আছে। ডান প্রান্তে ইয়ামাল আর বাঁ প্রান্তে নিকো উইলিয়ামসের রসায়ন ছিল ইউরোতে স্পেনের গোপন ফর্মুলা। উইলিয়ামসও সেরে উঠছেন, সেই সঙ্গে চোট কাটিয়ে ওঠার পথে আরেক ফরোয়ার্ড ভিক্টর মুনিয়োজ। এই তিনজনকে না পেলে দুই প্রান্তের জন্য বিকল্প কিছু ভাবতে হবে ফুয়েন্তেকে।

    কেপ ভার্দে এবার প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলবে

    অবশ্য স্পেনের যে দলীয় গভীরতা, তাতে খুব সমস্যা হওয়ার কথা নয়। মিডফিল্ডেই দেখুন না—রদ্রি, পেদ্রি, ফাবিয়ান রুইজদের নিয়ে বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা। যে কারণে মিকেল মেরিনো, দানি ওলমো বা মার্তিন জুবিমেন্দির মতো খেলোয়াড়দেরও বসে থাকতে হতে পারে বেঞ্চে। বিলবাওয়ের উনাই সিমন, আর্সেনালের দাভিদ রায়া আর বার্সার হোয়ান গার্সিয়া—গোলকিপার নিয়েও ফুয়েন্তের মধুর সমস্যা। রক্ষণে পাউ কুবারসি, এমেরিক লাপোর্ত, মার্ক কুকুরেয়ারা জোগাচ্ছেন নির্ভরতা।

    এই স্পেন দলের সামনে তো ‘পুঁচকে’ কেপ ভার্দের উড়ে যাওয়ার কথা। পাঁচ লাখের সামান্য বেশি জনসংখ্যার দেশটি আফ্রিকা থেকে বিশ্বকাপ বাছাই পেরিয়ে এসেছে ক্যামেরুনের মতো মহাদেশীয় পরাশক্তিকে পেছনে ফেলে। প্রবাসী ফুটবলারদের আশীর্বাদে বিশ্বকাপের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে তাদের।

    পর্তুগিজ লিগে খেলা দাইলান লিভ্রামেন্তো সম্ভবত তাদের সবচেয়ে বড় তারকা। কিন্তু স্পেনের তারায় তারায় খচিত আকাশের সঙ্গে তুলনায় কেপ ভার্দে অনেক দূরে টিমটিম করে জ্বলতে থাকা কোনো তারাপুঞ্জ। র‍্যাঙ্কিংয়ের দ্বিতীয় দলের সঙ্গে ৬৭তম দলের কোনো তুলনা হয়, আপনিই বলুন!

  • আনচেলত্তিই ব্রাজিলকে বদলে দেবেন, বিশ্বাস কাকার

    আনচেলত্তিই ব্রাজিলকে বদলে দেবেন, বিশ্বাস কাকার

    পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল শিরোপা ছুঁয়ে দেখেনি ২৪ বছর হলো দীর্ঘদিনের খরা কাটিয়ে ব্রাজিলকে আবারও শিরোপার দেখতে চান দেশটির কিংবদন্তি ফুটবলার কাকা। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে বর্তমান কোচ কার্লো আনচেলত্তির ওপরই আস্থা রাখছেন ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী এই মিডফিল্ডার।

    ইএসপিএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কাকা বলেন, বর্তমান সময়ে ব্রাজিলের জন্য আনচেলত্তিই সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রত্যাশিত সাফল্য না পেলেও ব্রাজিলের ঐতিহ্য ও ফুটবল সংস্কৃতি সবসময়ই দলটিকে বিশ্বকাপের অন্যতম দাবিদার হিসেবে রাখে বলে মনে করেন তিনি।

    কাকা বলেন, ‘টুর্নামেন্ট শুরুর আগে হয়তো ব্রাজিল শীর্ষ তিন ফেভারিটের মধ্যে ছিল না। কিন্তু এটি এখনও একটি শক্তিশালী দল। আর কার্লো তো কার্লোই।’

    কাকার বিশ্বাস, অভিজ্ঞ ইতালিয়ান কোচের নেতৃত্বে সেলেসাওরা আবারও বিশ্বমঞ্চে নিজেদের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে পারবে। তিনটি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া এই সাবেক তারকা বলেন, ‘বিশ্বকাপের আবেগ, চাপ এবং প্রত্যাশা আনচেলত্তি খুব ভালোভাবেই বোঝেন। তাই ব্রাজিল যদি দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে একটি সফল বিশ্বকাপ উপহার দিতে পারে, সেটি পুরো দেশের জন্যই হবে বিশেষ আনন্দের বিষয়।’

    ২০০২ সালের পর আর শিরোপার দেখা পায়নি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এই সময়ের মধ্যে মাত্র একবার সেমিফাইনালে উঠতে পেরেছে দলটি। ২০১৪ সালে নিজেদের মাটিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের পরাজয়ের গ্লানি এখনও দেশটির ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বেদনাদায়ক স্মৃতি। সেই হতাশা পেছনে ফেলে নতুন স্বপ্ন নিয়ে দায়িত্ব নিয়েছেন কার্লো আনচেলত্তি। ক্লাব ফুটবলের ইতিহাসের অন্যতম সফল এই কোচের হাত ধরে ব্রাজিল আবারও বিশ্বকাপ জয়ের পথে ফিরবে বলে আশা সমর্থকদের।

    তবে বিশ্বকাপ অভিযান শুরুটা খুব একটা স্বস্তিদায়ক হয়নি ব্রাজিলের। নিজেদের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে তারা। ম্যাচ শেষে আনচেলত্তিও স্বীকার করেছেন, দলকে আরও উন্নতি করতে হবে এবং সামনে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন।

    তবু দলের ওপর আশা হারাচ্ছেন না কাকা। তার মতে, আনচেলত্তির অভিজ্ঞতা, চাপ সামলানোর দক্ষতা এবং বড় মঞ্চে সাফল্যের দীর্ঘ ইতিহাস ব্রাজিলকে নতুন করে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছে। কিংবদন্তি এই ফুটবলারের বিশ্বাস, সঠিক দিকনির্দেশনায় সেলেসাওরা আবারও বিশ্ব ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে।

  • আলজেরিয়া ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনার দলে স্বস্তির খবর

    আলজেরিয়া ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনার দলে স্বস্তির খবর

    ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে বুধবার আলজেরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের আগে দলের জন্য এসেছে স্বস্তির খবর—চোট কাটিয়ে অনুশীলনে ফিরেছেন নিকোলাস তালিয়াফিকো ও লিয়ান্দ্রো পারেদেস।

    কোচ লিওনেল স্কালোনির অধীনে কানসাসের কম্পাস মিনারেলস ন্যাশনাল পারফরম্যান্স সেন্টারে সোমবার অনুশীলন করে আর্জেন্টিনা। সেখানে পারেদেস নিজের ফিটনেস যাচাই করতে একটি অনুশীলন ম্যাচেও অংশ নেন, যা তার সম্পূর্ণ ফেরা নিয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছে।

    গত মাসে তিনি বোকা জুনিয়র্সের হয়ে খেলার সময় হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়েন এবং তখন থেকেই পুনর্বাসনে ছিলেন।

    অন্যদিকে নিকোলাস তালিয়াফিকো হন্ডুরাসের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে চোট পাওয়ার পর থেকে আলাদা অনুশীলন করছিলেন। আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) জানিয়েছে, তিনি এখন জিম ও ফিজিও সেশনের মাধ্যমে উন্নতি করছেন এবং তার অগ্রগতি সন্তোষজনক।

    তবে তালিয়াফিকোর ফিটনেস নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে পরবর্তী মেডিকেল পরীক্ষার পর। এরপরই কোচ স্কালোনি তাকে দলে রাখবেন কি না তা নির্ধারণ করবেন।

    এদিকে ফরোয়ার্ড হুলিয়ান আলভারেজের ইনজুরি আপডেটও আজ প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে। তিনি ইতোমধ্যেই গোড়ালির চোট কাটিয়ে পুরোপুরি অনুশীলনে ফিরেছেন।

    বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৭টায় আলজেরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, ম্যাচের ২৪ ঘণ্টা আগে পর্যন্ত চোট পাওয়া খেলোয়াড়কে স্কোয়াড থেকে পরিবর্তনের সুযোগ থাকে।

  • আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচ ঘিরে কানসাসে উৎসবের আমেজ

    আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচ ঘিরে কানসাসে উৎসবের আমেজ

    আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু হতে আর মাত্র এক দিন বাকি আছে। ‘জে’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আগামী বুধবার ভোরে আলজেরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে আলবিসেলেস্তেরা। সে ম্যাচকে সামনে রেখে এরই মধ্যে কানসাস সিটিতে ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সমর্থকদের উচ্ছ্বাস। আলজেরিয়া ম্যাচকে সামনে রেখে শহরের বিভিন্ন স্থানে জড়ো হতে শুরু করেছেন হাজারো আর্জেন্টাইন সমর্থক—যাদের উপস্থিতিতে নীল-সাদা রঙে রঙিন হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ।

    টিওয়াইসি স্পোর্টসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শহরের রেস্তোরাঁপল্লীতে একটি জনপ্রিয় বিয়ার ব্র্যান্ডের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় বড় ধরনের সমর্থক সমাবেশ। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত আর্জেন্টাইনদের পাশাপাশি বিশ্বকাপ উপলক্ষে আর্জেন্টিনা থেকে আসা সমর্থকরাও এতে অংশ নেন। শুধু আর্জেন্টিনার ভক্তরাই নন, লিওনেল মেসি ও দিয়েগো ম্যারাডোনার প্রতি ভালোবাসা থেকে অন্যান্য দেশের ফুটবলপ্রেমীরাও যোগ দেন এই উৎসবে।

    সমাবেশস্থলের কাছাকাছি থাকা সল মন্টেসরি স্কুলের বেড়া সাজানো হয় আকাশি-সাদা পতাকা, তিনটি বিশ্বকাপজয়ী তারকার প্রতীক, বিভিন্ন স্লোগান, আর্জেন্টাইন ক্লাবগুলোর চিহ্ন, দেশের বিভিন্ন শহরের নাম এবং মেসি-ম্যারাডোনার প্রতিকৃতি দিয়ে। এতে পুরো এলাকাজুড়েই তৈরি হয় এক উৎসবমুখর আবহ।

    বিশেষ আকর্ষণ ছিল আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি সমর্থক তুলার বিখ্যাত ঢোল। ফিফার ‘দ্য বেস্ট’ পুরস্কারে বিশ্বের সেরা সমর্থক হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া তুলা ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে মারা যান। তাঁর পরিবারের অনুরোধে সেই ঐতিহাসিক ঢোলটি কানসাসে নিয়ে আসেন গিয়ের্মো। টিওয়াইসি স্পোর্টসকে তিনি বলেন, ‘১৯৭৪ সালের পর থেকে এই ঢোল প্রতিটি বিশ্বকাপে গেছে। আমরা এটি বাজাচ্ছি। সব সমর্থককে একত্র করছি।’

    আয়োজকদের প্রত্যাশা, ম্যাচ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে সমর্থকদের উপস্থিতি। ম্যাচের আগে আরও হাজার হাজার আর্জেন্টাইন কানসাসে পৌঁছাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ৭৬ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার কানসাস সিটি স্টেডিয়ামেও তাদের সরব উপস্থিতি দেখা যাবে। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে সমর্থকদের উচ্ছ্বাসই জানিয়ে দিচ্ছে, বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ঘিরে প্রত্যাশা ও আবেগের কমতি কতখানি।

  • যেভাবে বিশ্ব ফ্যাশনের গতিপথ বদলে দিচ্ছে ফুটবল

    যেভাবে বিশ্ব ফ্যাশনের গতিপথ বদলে দিচ্ছে ফুটবল

    ফ্যাশন দুনিয়া সব সময়ই ফুটবলের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা ধার করেছে। তবে ২০২৬ সালের চিত্রটা একটু ভিন্ন—এবার নিয়ন্ত্রণটা চলে গেছে ফুটবলের হাতেই। এবারের ফিফা বিশ্বকাপে দেখা যাচ্,ছে এই মেগা ইভেন্টটি কেবল সাময়িক কোনো ফ্যাশন ট্রেন্ড তৈরি করছে না, বরং ফ্যাশন দুনিয়ার গতিপথই বদলে দিচ্ছে।

    অভিজাত লাক্সারি ব্র্যান্ড থেকে শুরু করে স্ট্রিটওয়্যার এবং বৈশ্বিক স্পোর্টসওয়্যার জায়ান্ট—সবার ডিজাইনের মূল অনুপ্রেরণা এখন ফুটবল। পোশাকের ডিজাইন, স্টাইলিং ও বিপণন—সবকিছুই এখন আবর্তিত হচ্ছে ফুটবলকে কেন্দ্র করে।

    এই পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে আধুনিক ‘জার্সি’। এক সময় যা কেবল স্টেডিয়ামের গ্যালারি আর সমর্থকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, তা এখন অবলীলায় জায়গা করে নিয়েছে ফ্যাশন শো, ইনফ্লুয়েন্সারদের সোশ্যাল মিডিয়া ফিড এবং বড় বড় ফ্যাশন কোলাবোরেশনে।

    ব্রাজিল, ফ্রান্স ও নাইজেরিয়ার মতো দলগুলোর জন্য নাইকির আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপের জার্সি ডিজাইনেও এই বিবর্তনের ছোঁয়া স্পষ্ট। অ্যারো-ফিট কুলিং সিস্টেমের মতো প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের পাশাপাশি জার্সিগুলো মাঠের বাইরে সাধারণ পোশাকে কেমন দেখাবে, সেই নান্দনিকতার দিকেও সমান নজর দেওয়া হয়েছে।

    পিছিয়ে নেই বিশ্বসেরা লাক্সারি ব্র্যান্ডগুলোও। স্প্যানিশ জাতীয় দলের অফিশিয়াল ওয়ার্ডরোব পার্টনার হয়েছে বিখ্যাত ব্র্যান্ড ‘লোয়েভে’ (Loewe)। তারা নিজস্ব কারুশিল্পের সঙ্গে স্পোর্টস আইডেন্টিটির এক দারুণ মেলবন্ধন ঘটিয়েছে। অন্যদিকে, ফিফার অফিশিয়াল ফরমাল ওয়্যার পার্টনার হিসেবে যুক্ত হয়েছে ‘বোগি মিলানো’ (Boggi Milano), যা ফুটবলের প্রাতিষ্ঠানিক রূপটিতে নিয়ে এসেছে ক্ল্যাসিক টেইলরিংয়ের ছোঁয়া।

    ফ্যাশন ডিজাইনারদের যৌথ উদ্যোগ বা কোলাবোরেশন এই ধারাকে আরও বেগবান করেছে। যেমন ফরাসি জাতীয় দলের জন্য ‘জ্যাকমুস’ (Jacquemus) এবং নাইকির যৌথ প্রয়াস। তারা ফুটবলের জুতো ও পোশাককে র‍্যাম্প মডেলদের উপযোগী করে মিনিমালিস্টিক ও আকর্ষণীয় রূপে ফুটিয়ে তুলেছে।

    একই সময়ে ফুটবলের এই ফ্যাশন এখন সাধারণ মানুষের আরও হাতের নাগালে চলে এসেছে।

    পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘গ্যাপ’ (Gap) নিয়ে এসেছে ফিফা বিশ্বকাপ কালেকশন। অন্যদিকে ‘আর্বান আউটফিটার্স’-এর মতো রিটেইলাররা ফুটবলের অনুষঙ্গগুলোকে ক্যাপ, ওভারসাইজড টি-শার্ট ও ক্যাজুয়াল লেয়ারিংয়ের মাধ্যমে দৈনন্দিন ফ্যাশনে রূপান্তর করছে।

    স্ট্রিটওয়্যারের দুনিয়াও এই ধারাকে লুফে নিয়েছে। ‘অ্যাডিডাস’-এর সঙ্গে মিলে ‘কিথ’ (Kith) ফুটবলকে ফ্যাশনের এমন এক সংগ্রহযোগ্য আইটেমে পরিণত করেছে, যা প্রায়শই লিওনেল মেসির মতো মহাতারকাদের নামের সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে।

    পাশাপাশি ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়র নাইকি ফুটবলের অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে এই পরিবর্তনেরই প্রতিনিধিত্ব করছেন, যেখানে জার্সিগুলোকে কেবল খেলার পোশাক নয়, বরং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার মতো একটি নিজস্ব পরিচিতি বা ‘আইডেন্টিটি সিস্টেম’ হিসেবে ডিজাইন করা হচ্ছে।

    স্টেডিয়ামের বাইরে ফুটবলের এই নান্দনিক রূপ তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখছেন সঙ্গীতশিল্পী ও ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটররা।

    জনপ্রিয় মার্কিন গায়িকা অলিভিয়া রদ্রিগোকে সম্প্রতি এফসি বার্সেলোনার জার্সিতে দেখা গেছে। এটি প্রমাণ করে কীভাবে ক্লাবের নিজস্ব পরিচিতি এখন তরুণ প্রজন্ম ও সেলিব্রিটি স্টাইলিংয়ের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে।

    এই বৈশ্বিক পরিবর্তনের অন্যতম সেরা উদাহরণ হলো ‘অ্যাডিডাস অরিজিনালস’-এর সঙ্গে যৌথভাবে হংকংভিত্তিক ব্র্যান্ড ক্লটের (Clot) ‘মুন্ডিয়াল কালেকশন’। এটি এশিয়ান স্ট্রিটওয়্যারের সঙ্গে ফুটবলের বৈশ্বিক ঐতিহ্যের এক চমৎকার মিশ্রণ।

    একইভাবে, বিখ্যাত ডিজাইনার প্রিয়া আহলুওয়ালিয়া স্পোর্টস ব্র্যান্ড পুমা (Puma)-র সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে তাঁর ভারতীয় ও নাইজেরিয়ান পারিবারিক পটভূমিকে ফুটিয়ে তুলেছেন ফুটবলের পোশাকের নকশায়, যা মূলত এক ধরনের সাংস্কৃতিক গল্প বলা।

    এমনকি নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানীকেও সম্প্রতি ফিফা কাপের জার্সি পরে প্রার্থনা করতে দেখা গেছে। একই সাথে তিনি নিউইয়র্ক সিটির আবহ নিয়ে তৈরি এবং সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে বিশ্বকাপের নতুন জার্সি বাজারে আনার ঘোষণাও দিয়েছেন।

    সব মিলিয়ে এই পরিবর্তনগুলো একটি বড় বাস্তবতার দিকেই ইঙ্গিত করে।ফুটবল ফ্যাশন এখন আর কেবল কোনো নির্দিষ্ট মৌসুমের ট্রেন্ড বা ফ্যাশন নয়। এটি এখন ক্রীড়াবিদ, ডিজাইনার, ব্র্যান্ড এবং ডিজিটাল সংস্কৃতির যৌথ সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এক বিশাল বৈশ্বিক সিস্টেম।

  • ‘আপনি আমার খেলা দেখেছেন?’ সাংবাদিককে বললেন রোনালদো

    ‘আপনি আমার খেলা দেখেছেন?’ সাংবাদিককে বললেন রোনালদো

    ফুটবলে যা কিছু জেতার আছে তার প্রায় সবই জিতেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। শুধু এক বিশ্বকাপই জেতা হয়নি। পর্তুগালের অধিনায়ক এখন ষষ্ঠ বিশ্বকাপে পা রাখছেন।

    তবে এর আগে প্রশ্ন উঠছে তার ফিটনেস নিয়ে। সবশেষ ২ ম্যাচে কয়েকটি সহজ সুযোগ নষ্ট করেছেন তিনি। এরপর সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের মুখোমুখি হলেন তিনি। শুক্রবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা রোনালদোর ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

    তবে ৪১ বছর বয়সী এই তারকা সেই সংশয়কে পাত্তাই দেননি। চিলি ও নাইজেরিয়ার বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে তার পারফরম্যান্সের কথা বলে নিজেই জবাব দিয়েছেন। রোনালদো বলেছেন, ‘শারীরিকভাবে? আমি ভালো আছি। আপনি কি ম্যাচগুলো দেখেননি?’

    ৪০ পেরিয়েও রোনালদোর গোল করার ধার কমেনি। ২০২৫-২৬ সৌদি প্রো লিগে আল-নাসরের হয়ে ৩০ ম্যাচে ১৬১টি শট নিয়ে ২৮ গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি।

    এই সাফল্য ও গতিকে সঙ্গে নিয়ে এখন বিশ্বকাপে পর্তুগালকে এগিয়ে নিতে চান রোনালদো। দলের প্রস্তুতি নিয়ে তিনি সন্তুষ্টির কথাও জানিয়েছেন।

    রোনালদো বলেছেন, ‘প্রস্তুতি ভালো হয়েছে, তবে ক্লান্তিকরও ছিল। কারণ আমরা অনেক কঠোর পরিশ্রম করেছি। ম্যাচগুলোতে আমরা ভালো খেলেছি। তবে আসল বিষয় হলো ১৭ তারিখে, প্রথম ম্যাচে যখন বল মাঠে গড়াতে শুরু করবে এবং চাপ সত্যিকার অর্থে বাড়তে থাকবে, তখনই আসল চ্যাম্পিয়নরা বেরিয়ে আসবে।’

  • এসআইসহ ২ পুলিশ সদস্য বরখাস্ত, তদন্ত কমিটি গঠন

    এসআইসহ ২ পুলিশ সদস্য বরখাস্ত, তদন্ত কমিটি গঠন

    জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে মারধরের অভিযোগে পুলিশের এক উপ-পরিদর্শকসহ (এসআই) দুজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)।

    শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে ক্রিকেটার নাঈম হাসানের বাসায় গিয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী।

    নাঈম হাসানের বাসা চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁওয়ের ফরিদারপাড়া এলাকায়। তাকে মারধরের ঘটনার বিষয়ে জানতে ও দুঃখ প্রকাশ করতে সেখানে যান সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

    হাসান মো. শওকত আলী বলেন, অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরই মধ্যে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিভাগীয় মামলাও প্রক্রিয়াধীন। ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশ কমিশনার বলেন, কারও ব্যক্তিগত অপরাধের দায় পুলিশ নেবে না। যার দায় তাকেই নিতে হবে। জড়িতদের বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।

    ঢাকায় প্রিমিয়ার লিগের খেলা শেষে বাসায় ফেরার পথে গতকাল শুক্রবার রাতে চট্টগ্রাম নগরের লালখান বাজার এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে নামিয়ে নাঈমকে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। পরে তাকে থানায় নিয়ে গিয়েও হেনস্তা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

    নাঈম হাসান সাংবাদিকদের জানান, রাতের ফ্লাইটে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে নামেন তিনি। সেখান থেকে সিএনজিতে করে বাসার উদ্দেশে রওনা হন তিনি। এক্সপ্রেসওয়ে থেকে নামার সময় লালখান বাজার এলাকায় পুলিশ সিএনজি থামার সংকেত দেয়। এরপর চালকের কাছ থেকে গাড়ির কাগজপত্র নিয়ে নেয় পুলিশ। পরে গাড়ি থেকে নামিয়ে নাঈম হাসানকে লাঠি ও পাইপ দিয়ে মারধর করেন খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম ও পুলিশের সোর্স সোহেল। একপর্যায়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে নাঈমকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। সেখানেও তাকে হেনস্তা করা হয়। পরে বিসিবি কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে থানা থেকে ছাড়া পান নাঈম।

    এ ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত হওয়া দুই পুলিশ সদস্য হলেন- খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম ও কনস্টেবল মো. রাসেল চৌধুরী।

    এর আগে গতকাল রাতেই তাদের খুলশী থানা থেকে প্রত্যাহার করে সিএমপির দামপাড়া পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়। এদিকে এ ঘটনায় পুলিশের সোর্স সোহেলকেও আটক করা হয়েছে বলে জানান সিএমপি কমিশনার।