এনসিপি

  • হবিগঞ্জে যাওয়ার পথে পুলিশি বাধার মুখে এনসিপি নেতারা

    হবিগঞ্জে যাওয়ার পথে পুলিশি বাধার মুখে এনসিপি নেতারা

    রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জের পথে রওনা হয়েছেন এনসিপি নেতারা। কিন্তু পথে শ্রীমঙ্গলের চা-কন্যা এলাকায় পুলিশ তাদের আটকে দিয়েছে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে এনসিপি নেতাদের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে।

    বুধবার বিকাল ৪টার কিছু আগে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউজ থেকে এনসিপি নেতাদের বহনকারী গাড়ির বহর হবিগঞ্জের পথে রওনা হয়। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে তাদের চা-কন্যা এলাকায় আটকে দেওয়া হয়।

    সেখানে এনসিপি আহ্বায়ক সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ, যুগ্ম সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য মাহমুদা মিতু রয়েছেন।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, এনসিপি নেতাদের বহরে প্রায় ১০টি মাইক্রোবাস রয়েছে। অপরদিকে চা-কন্যা এলাকায় শতাধিক পুলিশ মূল সড়কে অবস্থান নিয়ে আটকে রেখেছেন।

    গাড়ি থেকে নেমে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন এনসিপি নেতারা।

    ১৪৪ ধারার মধ্যে পুলিশ এনসিপি নেতাদের হবিগঞ্জে না যেতে বলছে। অপরদিকে এনসিপি নেতারা পুলিশি বাধা তুলে নেওয়ার কথা বলছেন।

    মঙ্গলবার কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা হবিগঞ্জ শহরে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেছেন এনসিপি নেতারা। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন।

    এ ঘটনা নিয়ে বিএনপি ও এনসিপির মধ্যে টান টান উত্তেজনার মধ্যে বুধবার সকাল থেকে হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন।

    হবিগঞ্জের একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেছেন, তারা সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের সীমান্ত এলাকায় পুলিশ রয়েছেন। তারা সতর্ক রয়েছেন।

    মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ শহরের টাউন হলের সামনে পদযাত্রা শেষে ফেরার পথে এনসিপির নেতাদের বহনকারী গাড়িতে স্থানীয় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে।

    পুলিশ জানায়, এ সময় সাংবাদিকদের কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় আহত হন দলটির কয়েকজন নেতাকর্মী। এ সময় দলটির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী হামলা থেকে বাঁচতে সোনালী ব্যাংকে গিয়ে আশ্রয় নেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে নিয়ে যায়। রাতে তারা মৌলভীবাজারে অবস্থান করেন।

    এর মধ্যে বুধবার এনসিপি তাদের পূর্বঘোষিত মৌলভীবাজার জেলায় দুটি ‘জুলাই পদযাত্রা’ সাময়িক স্থগিত করে হবিগঞ্জ শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ঘোষণা দেয়। অন্যদিকে জেলা ছাত্রদল ও বিএনপির পৃথক কর্মসূচির ঘোষণাকে কেন্দ্র করে শহরে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়।

    পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।

  • এনসিপি সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক; গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও সংস্কার নিয়ে আলোচনা

    এনসিপি সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক; গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও সংস্কার নিয়ে আলোচনা

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম এমপিসহ দলের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দুপুর সাড়ে ১২টায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

    মার্কিন প্রতিনিধি দলে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে ছিলেন দূতাবাসের রাজনৈতিক উপদেষ্টা এরিক গিলান এবং রাজনৈতিক সচিব জেমস স্টুয়ার্ট। এনসিপির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, আন্তর্জাতিক সেলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান আলাউদ্দিন মোহাম্মদ এবং আন্তর্জাতিক সেলের সদস্য মনিরা শারমিন ও নাভিদ নওরোজ শাহ।

    বৈঠকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতি, গণতান্ত্রিক উত্তরণ, জাতীয় নাগরিক পার্টির রাজনৈতিক দর্শন, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনীতি ও ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় হয়।

    আলোচনার একপর্যায়ে এনসিপি নেতারা সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে জনগণের মধ্যে বিদ্যমান প্রশ্ন ও উদ্বেগের বিষয়গুলো তুলে ধরেন। জবাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও তার প্রতিনিধিদল এসব বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন এবং চুক্তিটি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনার আহ্বান জানান। তাদের মতে, এ চুক্তি ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং উভয় দেশের জনগণের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে।

    এছাড়া গণভোটের রায় এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা হয়। এ সময় এনসিপি নেতৃবৃন্দ গণভোটের রায়কে যথাযথ গুরুত্ব না দিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সংবিধান সংশোধন কমিটির মাধ্যমে সংস্কার বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
    এ সময় মার্কিন রাষ্ট্রদূত রাজনৈতিক সংলাপ, অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    বৈঠক শেষে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার পারস্পরিক সহযোগিতা, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং গঠনমূলক সংলাপ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

  • জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত যেতে বাধ্য হবো: নাহিদ ইসলাম   

    জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত যেতে বাধ্য হবো: নাহিদ ইসলাম   

    সরকার গণভোটের রায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে গণআন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, সরকার যদি গণভোটের রায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে তাহলে গণআন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত যেতে আমরা বাধ্য হবো। শনিবার (১৮ জুলাই) বরিশালের হেমায়েত উদ্দিন ঈদগাহ ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা এখানো কোনো কঠোর কর্মসূচি দেই নাই। আমরা হরতাল-অবরোধের মতো কর্মসূচি দেই নাই। কিন্তু যেকোনো সময় সেই ধরনের কর্মসূচি দেওয়ার প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে। আমরা বাংলাদেশে এই মুহূর্তে এই ধরনের কর্মসূচি দেওয়ার পক্ষে ছিলাম না। কিন্তু সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্রমশ পরিস্থিতি কে সেই দিকে ঠেলে নিয়ে যাচ্ছে।

    এনসিপির এই নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী অনেক ভালো ভালো কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখে মধু, অন্তরে ছলনা। কারণ আমরা দেখলাম যেই গণভোটের পক্ষে, যেই জুলাই সনদের পক্ষে তিনি হ্যাঁ এর প্রচারণা করলেন, নির্বাচনের ফলাফলের পরে ৭০ শতাংশ জনগন গণভোটে সংস্কারের পক্ষে রায় দেওয়া সত্ত্বেও তিনি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করছেন না। অন্যদিকে মুখে বলে যাচ্ছেন জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবো। গণঅভুত্থানের সময় আমাদের একটা স্লোগান ছিল নাটক কম করো পিও। তারেক রহমানকেও বলে দিচ্ছি নাটক কম করেন পিও। বাংলাদেশের জনগন আপনাকে ক্ষমতা দিয়েছে মানে এই নয়, আপনি যা খুশি করবেন, যেরকম খুশি ছলনা, প্রতারণা এদেশের জনগণের সাথে করবেন।

    বিএনপি গত ১৬ বছর গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছে, কিন্তু দুঃখের বিষয়, ৫ আগস্টের পর থেকে তারা গণতন্ত্রের বিপক্ষে লড়াই করে যাচ্ছে। আসলকথা বিএনপি কখনই গণতন্ত্রের পক্ষে ছিলনা । তারা লড়াই করেছে ক্ষমতার জন্য। তারা গণঅভ্যুত্থানে আমাদের সাথে কাধ মিলিয়েছিল ক্ষমতার জন্য। নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা কুক্ষিগত হয়েছে এখন তারা সংস্কারের কথা বলে না।

  • এনসিপিতে নতুন উপ-কমিটি, যারা দায়িত্ব পেলেন

    এনসিপিতে নতুন উপ-কমিটি, যারা দায়িত্ব পেলেন

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মিডিয়া, প্রচার ও ব্র্যান্ডিং-বিষয়ক উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে আহ্বায়ক করা হয়েছে দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য সারোয়ার তুষারকে।

    রোববার (১২ জুলাই) রাতে দলের দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনার সই করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেন দলের গণযোগাযোগ, প্রচার কার্যক্রম, ব্র্যান্ডিং, গণমাধ্যম সমন্বয় এবং ডিজিটাল যোগাযোগব্যবস্থাকে আরও সুসংহত, কার্যকর ও যুগোপযোগী করতে মিডিয়া, প্রচার ও ব্র্যান্ডিং-বিষয়ক উপ-কমিটির অনুমোদন দেন।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার মূল দায়িত্বে থাকবেন। সদস্য হিসেবে রয়েছেন— তাহসীন রিয়াজ (প্রচার ও ব্র্যান্ডিং), জয়নাল আবেদীন শিশির (প্রিন্ট ও ওয়েব মিডিয়া), ইয়াসির আরাফাত (ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া), মাহবুব আলম (নিউ মিডিয়া ও মাল্টিমিডিয়া), আবদুল্লাহ আল মামুন (ফ্যাক্টচেকিং, এআই ও ডিজিটাল ইনভেস্টিগেশন), শাহাদাত হোসেন (সোশ্যাল মিডিয়া), আবু সুফিয়ান রায়হান (ব্র্যান্ডিং), যাবের বিন নূর ঐশি আলম পৃথ্বী (দফতর ও আর্কাইভ), সজীব ওয়াফি।

  • সাংগঠনিক কাঠামোতে পরিবর্তন আনছে এনসিপি, ফেব্রুয়ারিতে প্রথম কাউন্সিল

    সাংগঠনিক কাঠামোতে পরিবর্তন আনছে এনসিপি, ফেব্রুয়ারিতে প্রথম কাউন্সিল

    ডেস্ক নিউজ : জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীদের নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রথম কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে আগামী বছরের শুরুর দিকে। গত বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে দলটি যাত্রা শুরু করে এক বছরের কম সময়ের ব্যবধানে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন লাভ করে। নিবন্ধন পাওয়ার পর প্রথম জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নিয়ে জোটগতভাবে ছয়টি আসন লাভ করে। সংরক্ষিত নারী আসনে রয়েছে দলটির আরও দুই নারী প্রতিনিধি। সব মিলে জাতীয় সংসদেও ৩৫০ আসনের মধ্যে নতুন এই দলটির রয়েছে ৮টি আসন। দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায় প্রথম কাউন্সিল করতে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত গড়াতে পারে। তবে তার আগেই দলের কাঠামোতে কিছুটা পরিবর্তন আনা হতে পারে। বর্তমানে সাংগঠনিক কাঠামোতে এনসিপির আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব এবং মুখ্য সমন্বয়ক, মুখ্য সংগঠক (২ জন), মুখপাত্র, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক (২ জন), জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব (২ জন) ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক এই ১১টি শীর্ষ পদ রয়েছে। যদিও দলটির নীতিনির্ধারণী ফোরামে এই পদগুলো নয়, দলটির নীতিনির্ধারণী ফোরামে বর্তমানে ১৮ জন সদস্য রয়েছেন। দলটি এই ফোরামের নাম রেখেছে ‘পলিটিক্যাল কাউন্সিল’ বা পিসি। কেন্দ্রীয় কাঠামোতে ১১টি গুরুত্বপূর্ণ পদ থাকলেও মূলত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয় পিসিতে। নতুন কাউন্সিলের আগে দলটির কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। আর এই পরিবর্তনের ফলে গুরুত্বপূর্ণ পদ ১১টির স্থলে ৬টিতে দাঁড়াতে পারে। সেক্ষেত্রে আহ্বায়ক, সদস্যসচিব, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক (২ জন) ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব (২ জন) এই ছয়টি পদ গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে দলটির নীতিনির্ধারকরা এসব পদকে গুরুত্বপূর্ণ পদ বলতে নারাজ। তারা বলছেন, সাংগঠনিক কাঠামোতে পরিবর্তন আসছে এটা ঠিক, তবে দল চলবে পলিটিক্যাল কাউন্সিলে গৃহিত সিদ্ধান্ত মোতাবেক।

    পলিটিক্যাল কাউন্সিল কী, কারা আছেন এ ফোরামে
    এনসিপির ‘পলিটিক্যাল কাউন্সিল’ বা রাজনৈতিক পর্ষদ হচ্ছে দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম। এই ফোরামেই দলের সব ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে গৃহিত হয়। এই ফোরামের বাইরের এককভাবে দলীয় সিদ্ধান্ত দিতে পারেন না। দলটির সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ এই ফোরামে এখন ১৮ জন সদস্য রয়েছেন। এরা হচ্ছেন দলটির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ, মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন ও আরিফুল ইসলাম আদীব, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব নাহিদা সারওয়ার নিভা ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ দলটির পলিটিক্যাল কাউন্সিল সদস্য। এরসঙ্গে যুক্ত হয়েছে দুই ধাপে আরও আট জন নেতা। প্রথম ধাপে যুক্ত হয়েছে, সংসদ সদস্য ড. আতিক মুজাহিদ ও আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল আমিন। এরপর গত ১১ জুন গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে জানানো হয়, দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম, সারোয়ার তুষার ও আলী আহসান জুনায়েদ, যুগ্ম সদস্যসচিব আকরাম হুসাইন সিএফ ও সালেহ উদ্দিন সিফাত, এবং যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতুকেও পলিটিক্যাল কাউন্সিলে যুক্ত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে নতুন এই দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের সদস্য সংখ্যা এখন ১৮ জনে দাঁড়িয়েছে।

    কবে হচ্ছে প্রথম কাউন্সিল
    ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে ওই অভ্যুত্থানের নেতৃত্বে থাকা শিক্ষার্থীদের একটি অংশের উদ্যোগেই গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে এনসিপি। চলতি বছরের ‘২৮ ফেব্রুয়ারি এনসিপির এক বছর পূর্তি উৎসব পালিত হয়।’ আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি দলটির দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি হতে যাচ্ছে। ওই সময়টাতে দলটির কাউন্সিল আয়োজনের চিন্তা করছে শীর্ষনেতারা। যদিও এসব বিষয় এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। দলটি চাচ্ছে কাউন্সিল করার আগে দলের গঠনতন্ত্র চূড়ান্ত করতে, সেটি এখনও সম্ভব হয়নি। দল পরিচালনায় গঠনতন্ত্রের একটি খসড়া ইতোমধ্যে তৈরি করা হয়েছে বলে দলটির সিনিয়র নেতারা জানিয়েছেন। সেই খসড়া সম্ভাব্য প্রথম কাউন্সিলে পাশ করা হতে পারে বলেও জানিয়েছেন নেতারা। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ দলটির দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিকে ঘিরে কাউন্সিল হওয়ার সম্ভাবনার কথা নেতারা জানালেও তা এখনও কেউ নিশ্চিত করে বলছেন না।

    এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও পলিটিক্যাল কাউন্সিল সদস্য সারোয়ার তুষার জানিয়েছেন, এনসিপি এখন যে কাঠামোতে চলছে সেই কাঠামোতে কিছুটা পরিবর্তন আসবে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, কোনো দলে আহ্বায়ক কমিটি থাকলে আহ্বায়ক, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও যুগ্ম আহ্বায়ক থাকে। সদস্য সচিব পদের পর যেভাবে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ও যুগ্ম সদস্য সচিব থাকে সেভাবেই পদগুলো থাকবে। এখন যেমন মুখ্য সংগঠক পদ রয়েছে, এ পদ থাকছে না।

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব জয়নাল আবেদীন শিশির বলেছেন, গুরুত্বপূর্ণ সব সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য দলের একটি নীতিনির্ধারণী ফোরাম রয়েছে। এনসিপির এই ফোরামের নাম হচ্ছে পলিটিক্যাল কাউন্সিল বা পিসি। এই কাউন্সিলেই গুরুত্বপূর্ণ সব সিদ্ধান্ত হয়। এর বাইরে সিদ্ধান্তগ্রহণকারী কোনো নীতিনির্ধারণী ফোরাম নেই এনসিপিতে। তবে দলের বর্তমান কাঠামোতে কিছুটা পরিবর্তন আসার কথা জানিয়ে জয়নাল আবেদীন শিশির বলেন, এনসিপির পরিচালনায় গঠনতন্ত্র এখনও চূড়ান্ত হয়নি। আগামী কাউন্সিলে খসড়া তৈরি হওয়া গঠনতন্ত্র পাশ হওয়ার কথা রয়েছে।

  • ৫ আগস্টের মধ্যে জুলাই জাদুঘর না খুললে জনগণই খুলে নেবে: নাহিদ ইসলাম

    ৫ আগস্টের মধ্যে জুলাই জাদুঘর না খুললে জনগণই খুলে নেবে: নাহিদ ইসলাম

    জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আগামী ৫ আগস্টের মধ্যে জুলাই জাদুঘর খুলে দেওয়া না হলে জনগণ নিজেরাই সেটি খুলে নেবে।

    বুধবার (১ জুলাই) রাজধানীর রায়েরবাজারে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের গণকবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আজ পহেলা জুলাই। দুই বছর আগে যে গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল, তার শহীদদের স্মরণে আমরা রায়েরবাজারে গণকবরে কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা জানাতে এসেছি। আজ থেকে আমাদের ৩৬ দিনব্যাপী কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। ঢাকা ও সারাদেশে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে নানা কর্মসূচি পালন করা হবে।’

    তিনি বলেন, ‘আমরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিম, ফারহান, ফাইয়াজ, রিয়াগোপসহ জুলাইয়ের প্রায় ১৪০০ শহীদকে। আমরা স্মরণ করছি আহত প্রায় ৩০০ জন জুলাই যোদ্ধাকে। একই সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে রাজপথে নামা ছাত্রসমাজ পাবলিক, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা, স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।’

    নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘শ্রমিক, নিম্নবিত্ত মানুষ, নারী সমাজ, শিক্ষক, অভিভাবক, সাংস্কৃতিক কর্মী, আলেম সমাজ, সাংবাদিক, আইনজীবীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ এই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছে। প্রবাসী ভাই-বোনেরা, বিদেশি বন্ধুরাও আমাদের সহযোগিতা করেছে। সাবেক সেনা কর্মকর্তাসহ সেনাবাহিনীর তরুণ সদস্যরাও প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ভূমিকা রেখেছেন সবাইকে আমরা স্মরণ করছি।’

    তিনি বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর হয়ে গেছে। আমরা বলেছিলাম, জুলাই গণহত্যার বিচার, সংস্কার এবং বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই। কিন্তু সেই আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ এখনো পাইনি।’

    ট্রাইব্যুনালের সাম্প্রতিক রায় নিয়ে অসন্তোষ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গতকাল ট্রাইব্যুনালের একটি রায় এসেছে, যা জনগণকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধারাও ন্যায়বিচার পায়নি। হাসানুল হক ইনুকে যে সাজা দেওয়া হয়েছে, সেটি যথেষ্ট নয়। আমরা আপিল করে আরও কঠোর বিচার প্রত্যাশা করছি।’

    তিনি অভিযোগ করেন, ‘এই সরকার আসার পর মাত্র দুটি মামলার রায় হয়েছে। তদন্ত ও প্রতিবেদন দাখিলে ধীরগতি দেখা যাচ্ছে। আমরা চাই দ্রুত বিচার সম্পন্ন হোক।’

    শেখ হাসিনার বিচারের প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘শেখ হাসিনাসহ যারা জুলাই গণহত্যার সঙ্গে জড়িত এবং যারা ভারতে পালিয়ে আছে, তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। শেখ হাসিনার ফাঁসির রায় কার্যকর করতে হবে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘শহীদ পরিবারদের আর্থিক সহায়তা ও জুলাই যোদ্ধাদের পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে হবে। কবরস্থান সংরক্ষণের পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন হয়নি এটি দ্রুত করতে হবে।’

    জুলাই সনদ ও সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, সংস্কার বাস্তবায়ন এবং গণভোটের রায় অনুযায়ী রাষ্ট্র কাঠামোর সংস্কার করতে হবে। এখনো আমরা সেই সংস্কার পাইনি।’

    তিনি অভিযোগ করেন, ‘এই সরকারের পক্ষ থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়নি। শুধু নামমাত্র পালন করলে হবে না, আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতে হবে।’

    জুলাই জাদুঘর প্রসঙ্গে কঠোর অবস্থান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘৫ আগস্টের মধ্যে জুলাই জাতীয় জাদুঘর খুলে দিতে হবে। না হলে জনগণ নিজেরাই সেটি খুলে নেবে এবং সেখানে যাওয়ার ব্যবস্থা করবে।’

  • এনসিপির এমপিদের ৬ জনই শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিল – আব্দুল্লাহ হিল বাকী

    এনসিপির এমপিদের ৬ জনই শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিল – আব্দুল্লাহ হিল বাকী

    এনসিপির এমপিদের মধ্যে ৬ জনই আগে-পরে সাংগঠনিকভাবে কিংবা কোচিং টিচার হিসেবে নানানভাবেই শিবিরের সাথে সংযুক্ত ছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন আব্দুল্লাহ হিল বাকী।

    শনিবার (২০ জুন) দিবাগত রাত ১টায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন।

    পোস্টে তিনি বলেন, এনসিপির এমপিদের মধ্যে ৬ জনই আগে-পরে সাংগঠনিকভাবে কিংবা কোচিং টিচার হিসেবে; নানানভাবেই শিবিরের সাথে সংযুক্ত ছিলো। এখন হয়তো পথ-মত, চিন্তাধারা আলাদা হয়ে গেছে। এসব নিয়ে নাক সিঁটকানোরও এখন কিছু নাই। অতিরঞ্জনেরও কিছু নাই।

    তিনি আরও লেখেন, দুইদিন পরপর এনসিপিতে এই ক্যাঁচালটা লাগে যে, কে সাবেক শিবির আর কে শিবির না, এসব নিয়ে বাটখারা বসানো হয়। কেউ শিবির বা জামায়াতের রাজনীতিটা করবে না বলেই সে এনসিপিতে এসেছে। এটাকে সানন্দেই গ্রহণ করা উচিত।

    আবদুল্লাহিল বাকী বলেন, এনসিপি সেক্যুলার পার্টি, মধ্যপন্থি রাজনীতি করবে। এই লাইনের রাজনীতিটা ধারণ করেই পার্টি ফর্ম হয়েছে। ভবিষ্যৎ কোন দিকে যায় সেটা আসলে আগ থেকে কেউই বলতে পারবে না।

  • রাষ্ট্র সংস্কার প্রশ্নে  এক একবিন্দুও ছাড় নয়

    রাষ্ট্র সংস্কার প্রশ্নে এক একবিন্দুও ছাড় নয়

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী বলেছেন, বর্তমান সরকার রাষ্ট্র সংস্কার করছে না, তাই এই দাবিতে আমরা মাঠে নেমেছি। সংস্কার প্রশ্নে এই সরকারকে আমরা এক একবিন্দুও ছাড় দেব না । বিএনপি সরকার যদি ৭৫ভাগ মানুষকে ডিনাই করে তাহলে তাদের পতন হতেও সময় লাগবে না। শুক্রবার (১৯জুন) দুপুরে বাগেরহাটের খানজাহান আলী ( রহ:) এর মাজার জিয়ারতের পূর্বে সাংবাদিকদের সাথে তিনি এ কথা বলেন।

    খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত শেষে ষাট গম্বুজ মসজিদ প্রাঙ্গণে দুটি বৃক্ষরোপণ করেন এবং সেখানে জুমার নামাজ আদায় করেন।

    বাগেরহাট প্রশ্নে সাংবাদিকদের সাথে তিনি আরো বলেন, বাগেরহাটে শেখ পরিবারের একটা রাজত্ব ছিল। এরা কোন কাজ করেনি। শুধু অর্থ ভাগিয়ে নিয়েছে।

    এ সময় এনসিপির স্থানীয় নেতাকর্মী, প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, রাষ্ট্র সংস্কার কার্যক্রম, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চলমান বিচার প্রক্রিয়া এবং ঋণখেলাপিদের বিষয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরেন, এর পাশাপাশি সংস্কারের ব্যাপারে তার দলের অভিমত ব্যক্ত করেন। তিনি এসব বিষয়ে সরকারের কার্যক্রম ও জাতীয় রাজনীতির বিভিন্ন দিক নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন।

    সফর শেষে তিনি বাগেরহাটের ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর গুরুত্ব তুলে ধরে এ অঞ্চলের ঐতিহ্য সংরক্ষণে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান জানান। এবং এসকল ঐতিহাসিক স্থাপনা গুলো কিভাবে সংরক্ষণ করা যায় সে বিষয়ে সকলকে সহযোগিতা করার জন্য বলেন।

  • ‘থানা পুড়িয়ে দিয়েছি’ হুমকি দেওয়া সেই বৈষম্যবিরোধী নেতাকে ছাত্রদলের ‘ধাওয়া’!,থানায় আশ্রয়

    ‘থানা পুড়িয়ে দিয়েছি’ হুমকি দেওয়া সেই বৈষম্যবিরোধী নেতাকে ছাত্রদলের ‘ধাওয়া’!,থানায় আশ্রয়

    হবিগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা শাখার সদস্যসচিব মাহাদী হাসান অভিযোগ করেছেন, ফেসবুকে তাঁর দেওয়া একটি স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের কর্মীরা তাঁকে ধাওয়া দিয়েছেন। পরিস্থিতি ‘বেগতিক’ দেখে তিনি হবিগঞ্জ সদর থানায় গিয়ে আশ্রয় নেন।

    আজ বুধবার দুপুরে শহরের বৃন্দাবন সরকারি কলেজের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

    তবে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এমন কোনো ঘটনায় ঘটেনি। মাহাদী হাসান ‘নিজের গুরুত্ব বাড়ানোর জন্য’ মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছেন। পুলিশও বলেছে, এ ঘটনার কোনো সত্যতা খুঁজে পায়নি তারা।

    এ বছরের ২ জানুয়ারি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন এই ছাত্রনেতা জেলার শায়েস্তাগঞ্জ থানায় গিয়ে ওসিকে হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, ‘বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে কিন্তু আমরা জ্বালাই দিয়েছিলাম।’ এই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তিনি আলোচনায় আসেন।

    মাহাদী হাসান আজ বিকেল পাঁচটার দিকে মুঠোফোনে প্রথম আলোক বলেন, সম্প্রতি নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া একটি রাজনৈতিক স্ট্যাটাস নিয়ে তাঁকে লক্ষ্য করে এ ঘটনা ঘটে। ওই স্ট্যাটাসে তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নিয়ে সমালোচনা করেন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ এনে তাঁর প্রশংসা করেন। বিষয়টি জেলা ছাত্রদলের কিছু নেতা-কর্মী সহজভাবে নেননি বলে তাঁর দাবি।

    আটক ব্যক্তিকে ছাড়িয়ে নিতে গত ২ জানুয়ারি হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানায় এসে ওসিকে হুমকি দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মাহদী হাসানছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

    আজ দুপুরে মাহাদী হাসান ফেসবুক লাইভে এসে উত্তেজিত কণ্ঠে বলেন, ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে তিনি বিআরটিএর কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে তিনি একটি ইজিবাইকে করে বাসায় ফিরছিলেন। এ সময় ছাত্রদলের কর্মীরা তাঁকে ধাওয়া করেন। ভিডিওতে মাহাদীর সঙ্গে ইজিবাইকে আরেকজনকে দেখা যায়। তাঁরা হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় গিয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা বলেন।

    থানা সূত্রে জানা গেছে, মাহাদী যখন থানায় যান, তখন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) থানায় উপস্থিত ছিলেন না। মাহাদী ডিউটি অফিসারকে জানান তাঁকে ধাওয়া করার বিষয়টি। তখন ডিউটি অফিসার একজন এসআইকে সঙ্গে নিয়ে থানার ফটক পর্যন্ত এসে কাউকে দেখতে পাননি। মাহাদী বেলা দুইটা থেকে বেলা তিনটা পর্যন্ত থানায় অবস্থান করেন। খবর পেয়ে বেলা আড়াই দিকে ওসি থানায় এলে তাঁকে এ বিষয়ে বলেন মাহাদী।

    মাহাদীর এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে জেলা ছাত্রদল। সংগঠনটির জেলা সভাপতি রাজীব আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, মাহাদী হাসানের সঙ্গে ছাত্রদলের কোনো নেতা-কর্মীর ধাওয়ার ঘটনা ঘটেনি। তিনি নিজের গুরুত্ব বাড়ানোর জন্য মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, ‘সে ভিডিও লাইভ করলেও কারা তাকে দৌড়াচ্ছে, সেই দৃশ্য কেন সে ধারণ করেনি? এতে প্রমাণিত হয় সে পুরো ঘটনাটি সাজিয়েছে। তাকে কেউ ধাওয়া করেনি। এটা তার সাজানো নাটক।’

    হবিগঞ্জ সদর থানার ওসি জাহিদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, মাহাদী হাসানের তথ্য অনুযায়ী পুলিশ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করেছে। ঘটনাস্থল এবং আশপাশের ভিডিও ক্যামেরা যাচাই-বাছাই করেছে। কিন্তু অভিযোগের কোনো সত্যতা খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাঁরা ঘটনাস্থলের আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁরাও এ ধরনের দৃশ্য দেখেছেন বলে কেউ জানাননি। তবে ওই ছাত্রনেতা লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ আরও তদন্ত করে দেখবে বলে জানান ওসি।

  • সংবিধান সংশোধন কমিটিতে যাবে না জামায়াত-এনসিপি­

    সংবিধান সংশোধন কমিটিতে যাবে না জামায়াত-এনসিপি­

    সংবিধানের অষ্টাদশ সংশোধনীর জন্য বিএনপির নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন জোট ‘সংবিধান সংশোধন বিশেষ কমিটি’ গঠনের যে প্রস্তাব করেছে, তাতে অংশ নেবে না জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট। তারা গণভোটের ফলাফল অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের দাবি জানিয়ে যাবে।

    বিরোধীদের ভাষ্য, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সরকার যেভাবে চাইবে, সেভাবেই সংবিধান সংশোধন করতে পারে। বিরোধীদের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ আমলে না নিলে কিছুই করার নেই। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশগুলো বাছাইয়ে গঠিত সংসদীয় কমিটিতে বিরোধী দলের নোট অব ডিসেন্ট গ্রহণ করা হয়নি। এগুলো নিয়ে পরে সংসদে আলোচনার সিদ্ধান্ত হলেও তা কার্যকর করা হয়নি।

    বিরোধী জোটের নেতারা বলছেন, শুধু ‘বৈধতা’ দিতে কমিটিতে অংশগ্রহণের কোনো অর্থ নেই। তাই তারা রাজপথেই সমাধান দেখছেন।

    আগামী ১৩ জুন থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত ছয় বিভাগীয় শহরে সমাবেশ করবে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। গত ১৫ মে তারা প্রথম সমাবেশ করেছে রাজশাহীতে। আগস্টে ঢাকায় বড় জমায়েত করার পরিকল্পনা রয়েছে এই জোটের।

    সংবিধান সংশোধনে গত ২৯ এপ্রিল জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। সেদিন তিনি বলেন, ১৭ সদস্যের কমিটি গঠন হবে। এর সাতজন হবেন বিএনপির এমপি। গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন এবং স্বতন্ত্র এমপিদের মধ্যে পাঁচজন হবেন কমিটির সদস্য। বিরোধী দল থেকে আরও পাঁচজন সদস্য থাকবেন।
    বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান সেদিন সংসদে বলেন, কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে তাদের ধারণাগত ভিন্নতা আছে। তারা এ প্রস্তাবটি নিজেরা আলোচনা করে পরে সিদ্ধান্ত জানাবেন। বিরোধী দল চেয়েছে সংস্কার, কিন্তু সরকারি দল করতে চাইছে সংবিধানের সংশোধন।

    সেদিন আইনমন্ত্রী বলেছিলেন, বিরোধী দলের সিদ্ধান্তের জন্য পরবর্তী অধিবেশন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে অসুবিধা হবে না। আগামী ৭ জুন সংসদে বাজেট অধিবেশন শুরু হবে। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ সমকালকে বলেছেন, এই কমিটিতে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে সংসদ এবং কমিটিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সরকারি দল যা চাইবে, তাই হবে। তাই এ ধরনের কমিটিতে অংশগ্রহণ অর্থহীন এবং বৈধতা দেওয়া ছাড়া আর কিছু নয়।

    সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর জন্য ২০১০ সালে গঠিত সংসদের বিশেষ কমিটিতে যোগ দেয়নি তৎকালীন বিরোধী দল বিএনপি। আওয়ামী লীগের সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীকে চেয়ারম্যান এবং সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে কো-চেয়ারম্যান করে গঠিত ১৫ সদস্যের ওই কমিটিতে জাতীয় পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টি এবং জাসদের একজন করে এমপি ছিলেন। বিএনপি থেকে তিনজন সদস্য নেওয়ার প্রস্তাব করেছিল তৎকালীন সরকারি দল আওয়ামী লীগ।

    এই কমিটি সংবিধানে ৫১টি সংশোধনের প্রস্তাব করেছিল। এতে সংবিধানে জাতির পিতা বিধান যোগ করা, গণভোট বাদ দেওয়া, সংবিধান সংশোধনকে কঠিন করা, সংবিধান লঙ্ঘনে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধানের মতো সুপারিশ ছিল। তবে ছিল না তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপের সুপারিশ।

    পরে আদালতের রায়ের নজির দিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের পক্ষে অবস্থান নেন। সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) তথ্যানুযায়ী, এতে কমিটির ১৫ সদস্য আগেই অবস্থান বদলে ফেলেন। সর্বসম্মতিক্রমে সুপারিশ করেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিলোপে।

    অতীতের এই উদাহরণ দিয়ে সেই সংসদের এমপি হামিদুর রহমান আযাদ গতকাল বুধবার সমকালকে বলেন, এবারও তাই হবে। জামায়াত বা ১১ দলের নিজস্ব কোনো দাবি নেই। গণভোটের ফলাফল যেভাবে হয়েছে, সেভাবেই সংবিধান সংস্কার করতে হবে। এ জন্য সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে; কমিটি নয়। আজকের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী প্রচারে গণভোটে হ্যাঁ ভোট চেয়েছিলেন। সেখান থেকে সরে গিয়ে জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংস্কার না করা প্রতারণা। এতে জামায়াত অংশীদার হবে না।

    এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন একই অবস্থানের কথা জানান। তিনি বলেন, গণভোটে অনুমোদিত জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশে স্পষ্ট করে বলা আছে, কীভাবে সংবিধান সংস্কার করতে হবে। কিন্তু সরকারি দল জনগণের অনুমোদিত আদেশকেই অবৈধ বলছে। এনসিপি গণভোটের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা হয় এমন কিছু মানবে না। তাতে অংশও নেবে না।

    বিরোধী দল কমিটিতে অংশ না নিলেও, সংবিধান সংশোধনের কাজ এগিয়ে নেবে বলে সরকারি দলের সূত্রে জানা গেছে। এ বিষয়ে হামিদুর রহমান আযাদ ও আখতার হোসেন সমকালকে বলেন, সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে তা করতেই পারে। কিন্তু পরিণাম কারও জন্যই ভালো হবে না।

    সরকারের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হচ্ছে কিনা– এমন প্রশ্নে হামিদুর রহমান বলেন, অন্যান্য বিষয়ে কথা হলেও সংবিধান সংশোধন বা সংস্কার বিষয়ে আলোচনা নেই। বিরোধী জোট মনে করে, গণভোটের মাধ্যমে বিষয়টি ফয়সালা হয়ে গেছে। রাষ্ট্রের মালিক হিসেবে জনগণ সিদ্ধান্ত দিয়েছে, কীভাবে সংবিধান করতে হবে। যারা তা মানবে না, তারা ফ্যাসিবাদ অব্যাহত রাখার জন্য দায়ী হবে।

    জামায়াত জোটে আরেক শরিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমীন সমকালকে বলেন, জোটগতভাবে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে ১১ দলের অন্য শরিকদের মতো বাংলাদেশ খেলাফতের অবস্থান হলো গণভোটে ৬৮ শতাংশ জনগণ যেভাবে সংবিধান সংস্কারের পক্ষে ভোট দিয়েছে, সেভাবে সংবিধান সংস্কার করতে হবে। অন্য কিছু গ্রহণযোগ্য হবে না।

    রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপে জুলাই জাতীয় সনদ তৈরি করেছিল জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। সনদের ৪৮টি প্রস্তাব সংবিধান-সম্পর্কিত। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠন পদ্ধতি; ভোটের অনুপাতে সংসদের

    উচ্চকক্ষ গঠন ও সংবিধান সংশোধনে অনুমোদন; সাংবিধানিক কমিটির মাধ্যমে সরকারি কর্মকমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, ন্যায়পাল এবং মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক নিয়োগের প্রস্তাবে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট (ভিন্নমত) রয়েছে। গণভোটে অনুমোদিত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশকে অবৈধ আখ্যা দেওয়া দলটি নোট অব ডিসেন্ট অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন করতে যাচ্ছে।

    অন্যদিকে জামায়াত, এনসিপিসহ জোটের শরিকরা জুলাই সনদের সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলো হুবহু বাস্তবায়নের পক্ষে। তাদের ভাষ্য, গণভোটে ৬৮ দশমিক ৬ শতাংশ ভোটার হ্যাঁ ভোট দিয়ে এসব সংস্কারে সম্মতি দিয়েছে। তা মেনে সংশোধন নয়, সংবিধান সংস্কার করতে হবে।