ট্যাগ এনসিপি

  • আওয়ামী লীগের চ্যাপ্টার ক্লোজ: সারজিস আলম

    আওয়ামী লীগের চ্যাপ্টার ক্লোজ: সারজিস আলম

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ খুনি, স্বৈরাচারী ও গণহত্যাকারী। আওয়ামী লীগের পতন হয়েছে এবং ভারতে গিয়ে তাদের দাফন হয়েছে, সুতরাং এই চ্যাপ্টার ক্লোজ। তাই বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো তুলনা করা যাবে না।

    বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে ভোলা জেলা পরিষদ মিলনায়তনে এনসিপির ভোলা জেলা শাখা আয়োজিত সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

    সারজিস আলম বলেন, বিএনপিকে নিয়ে আমাদের কঠোর আলোচনা ও সমালোচনা থাকবে। তারা চাঁদাবাজি বা জমি দখল করলে আমরা সেটাও বলব, কিন্তু বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের তুলনা করব না।

    তিনি আরও বলেন, বিএনপির এই ছয় মাসের কর্মকাণ্ড নিয়ে আমরা মোটেও সন্তুষ্ট না। আমরা মনে করি তারা আস্তে আস্তে লাইনচ্যুত হয়ে যাচ্ছে।তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করছে, আমরা দেখতেছি প্রত্যেকটা জায়গায় তারা দলীয়করণ, স্বজনপ্রীতি করছে, চাকরিতে কেউ রিটেনের টিকলে তাদের কোঠায় চাকরি দেয়া শুরু করেছে। আমরা মনে করি এটা হচ্ছে তাদের পুরনো কায়দা, এখান থেকে তাদেরকে বেরিয়ে আসতে হবে। আমরা এটা যৌক্তিক সমালোচনা করবো যদি তারা এই জায়গা থেকে বের হয়ে না আসে তাহলে আমরা রাজপথে তাদের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর কর্মসূচি পালন করবো। পাশাপাশি তারা গণভোটের রায় যদি বাস্তবায়ন না করে তাহলে পাঁচ বছর তাদেরকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না।

    এর আগে তিনি, সমন্বয় সভায় তাদের দলীয় নেতা-কর্মীদেরকে দল পরিচালনার জন্য বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। একই সঙ্গে জেলার প্রতিটি উপজেলা, থানা ও ইউনিয়ন কমিটি করার আহ্বান জানান।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদাত খন্দকার মঞ্জু, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কাজী সালমান, কেন্দ্রীয় সদস্য রায়হানুল ইসলাম ও ভোলা জেলা সভাপতি মাকসুদুর রহমানসহ স্থানীয় নেতা-কর্মীরা।

  • তারেক রহমানের কোনো পরিকল্পনা নেই, ৬ মাসে সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ: নাহিদ ইসলাম

    তারেক রহমানের কোনো পরিকল্পনা নেই, ৬ মাসে সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ: নাহিদ ইসলাম

    তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাসকে ‘সম্পূর্ণ ব্যর্থ’ দাবি করে সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ—অগ্রাধিকার দেওয়া তিনটি ক্ষেত্রেই সরকার নিদারুণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। তার দাবি, ১৮০ দিনে প্রমাণ হয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেশ পরিচালনার কোনো পরিকল্পনা নেই।

    সোমবার (২৪ আগস্ট) ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের ১৮০ দিনের ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পলিসি ও রিসার্চ বিষয়ক উপ-কমিটি সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন তিনি।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘অব্যবস্থাপনা, অদক্ষতা এবং পরিকল্পনাহীনতা থেকেই সরকার ফ্যাসিবাদী স্বৈরতান্ত্রিক কাঠামোতেই ফেরত যাচ্ছে। ১৮০ দিনে এটাই প্রমাণিত হয়েছে যে তারেক রহমানের দেশ পরিচালনার কোনো ধরনের পরিকল্পনা নেই।’

    সরকারের প্রথম ছয় মাসের কার্যক্রম মূল্যায়ন করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সরকার ১৮০ দিনে জ্বালানি সংকট, দ্রব্যমূল্য ও আইন শৃঙ্খলার অবনতিসহ ২৯টি জায়গায় অব্যবস্থাপনা এবং ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘সরকার ১৮০ দিনের জন্য একটা পরিকল্পনা নির্ধারণ করেছিল। যেখানে তারা তিনটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়েছিল। একটি হচ্ছে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন ও বিদ্যুৎ জ্বালানি সরবারহ। আমরা দেখতে পারলাম, এই ছয় মাসে যে তিনটি বিষয়কে যারা তারা অগ্রাধিকার দিয়েছিল, এই তিনটি বিষয়েই তারা নিদারুণভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।’

    সরকার ক্ষমতায় বসে পুরোনো পরিকল্পনা ও নীতির পথেই দেশ পরিচালনা করছে অভিযোগ তুলে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘অপরিকল্পনা, দুর্নীতি এবং অব্যবস্থা করার কারণে আপনারা দেখছেন, ছয় মাসের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদের পুনর্গঠন করা লাগছে এবং সরকার বলেছিল তাদের পরিকল্পনা রয়েছে প্ল্যান রয়েছে। এখন সরকার দুই দিনের কাছে প্ল্যান চাচ্ছে মন্ত্রী তারা পরিবর্তন করছে প্রতিমন্ত্রী তারা পরিবর্তন করছে। আমরা জানিনা কখন পরিবর্তন করতে করতে প্রধানমন্ত্রীকে পরিবর্তন করার প্রয়োজন দেখা দেবে।’

    অন্তর্বর্তী সরকার কিন্তু তিন মাসের সময় দেয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তাদের দুঃখ প্রকাশ করা উচিত ছিল। ক্ষমা প্রার্থনা করা যে, গ্যাসের সংকটে সারাদেশে মানুষ ভুগছে সে প্রকার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এবং তারা যে তারা বলেছিল যে যে কনফিডেন্স আত্মবিশ্বাস তারা দেখেছিল যে তারা একটা অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা আনবে এবং প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা পরিবেশ করবে। কোন কিছু কিন্তু তারা পারেনি।’

    সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রম মূল্যায়নের জন্য ছয় মাস যথেষ্ট কি না—এমন প্রশ্ন উঠতে পারে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘ছয় মাস অতিবাহিত হলে কিন্তু এই সরকার আর বলতে পারবে না অন্তর্বর্তী সরকারের দায় বা ফ্যাসিবাদী সরকারের দায়। এটা কিন্তু জনগণের কাছে কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না।’

    তিনি বলেন, সরকার যদি সংকটগুলা সুরাহা না করে পুরনো রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তনের চেষ্টা থেকে সরে না আসে, তাহলে তারা ব্যাপক আন্দোলনের মুখে তারা পড়বে।

    নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘আরও ছয় মাস অতিবাহিত হলে এই সরকার আর বলতে পারবে না যে এটি অন্তর্বর্তী সরকারের দায় বা আগের সরকারের দায়। জনগণের কাছে এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না।’

    এনসিপির পক্ষ থেকে সরকারের প্রথম ছয় মাসের কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক জনগণের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে জানিয়ে দলটির আহ্বায়ক বলেন, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকট, ওষুধনীতি, সার, মানবাধিকার, ভূমি কমিশন আইনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছে দলটি।

  • সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরু ২৭ আগস্ট

    সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরু ২৭ আগস্ট

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরু হচ্ছে ২৭ আগস্ট থেকে। ওই দিন বেলা ৩টা থেকে অধিবেশন আহ্বান করেছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

    মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, বাংলাদেশের সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি (ভারপ্রাপ্ত) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ২৭ আগস্ট রোজ বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় সংসদ কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন আহ্বান করেছেন।

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন গত ১৫ জুলাই শেষ হয়েছিল।

  • ৭২-এর সংবিধান শুরু থেকেই দেশকে বিভাজিত করে রেখেছে: নাহিদ ইসলাম

    ৭২-এর সংবিধান শুরু থেকেই দেশকে বিভাজিত করে রেখেছে: নাহিদ ইসলাম

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, একটা সরকার টু থার্ড মেজরিটি নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। অথচ পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের কোনো প্রতিনিধি নেই। দ্বীপেন দেওয়ানকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটা বাংলাদেশের ইতিহাসে কবে হয়েছে আমার জানা নেই।

    তিনি বলেন, এটা করতে পারছে কারণ, সরকার কোনো জবাবদিহির আওতায় নেই। ফলে আমরা মনে করি, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে পাহাড় থেকেও আওয়াজ আসা উচিত। ৭২-এর সংবিধান শুরু থেকেই দেশকে বিভাজিত করে রেখেছে।

    রোববার (২ আগস্ট) বিকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে জাতীয় নাগরিক পার্টির উদ্যোগে ‘পাহাড়ে জুলাই: সমমর্যাদা, সহাবস্থান ও সম্প্রীতি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তেব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    পাহাড়ের সংকট নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা সবার সমান নাগরিক অধিকারের পক্ষে। একই সঙ্গে আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আমরা আপসহীন। সবাই মিলে আমরা আমাদের সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করব। পাহাড়ের বঞ্চনার অবসান করতে হবে। আমরা পাহাড়ে ভিন্ন ধরনের চাঁদাবাজির কথা শুনতে পাই। আলাদা ধরনের সন্ত্রাস আছে। এসবের সমাধান লাগবে। পাহাড় থেকে সমতল- সর্বত্র জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

    তিনি আরও বলেন, ৭২-এর সংবিধান শুরু থেকেই দেশকে বিভাজিত করে রেখেছে। সাম্প্রদায়িকতার নামে, ধর্মের নামে, সমাজের নামে দেশকে বিভাজিত করে রাখা হয়েছে। আমরা মনে করি- এসব বিভাজন দূর করে, জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রশ্নে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকব। পাহাড়ের রাজনীতি, সমাজ ও অর্থনীতি জটিল। এটার একরৈখিক সমাধান নেই। পাহাড়ের নৃগোষ্ঠীগুলো বিভিন্নভাবে বঞ্চিত, সমান মর্যাদা পায় না। আবার বাঙালিরাও নানা বঞ্চনার শিকার। তাদের মধ্যে বিভিন্ন সময়ের বিভাজন, দ্বন্দ্বের কথা শুনি। এটার সুযোগ নেয় বিদেশি শক্তি। আমাদের কাজ হচ্ছে, আমরা সবাই বাংলাদেশি। এ দেশকে উন্নত করলে, সুষম বণ্টন হলে সবাই উপকৃত হবেন। পাহাড়ের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, নিপীড়নের রাজনৈতিক সমাধান প্রয়োজন।

    এনসিপি চট্টগ্রামের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম সুজা উদ্দিনের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য সারোয়ার, আলী আহসান জুনায়েদ প্রমুখ।

  • জেলে নিলে জেলে যাব, মেরে ফেললে কবরে যাব: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    জেলে নিলে জেলে যাব, মেরে ফেললে কবরে যাব: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, জেলে নিয়ে গেলে জেলে যাব, আর মেরে ফেললে কবরে চলে যাব। মামলা-হামলা দিয়ে আমাদের আন্দোলন দমিয়ে রাখা যাবে না। মানুষ ভয় পায়, আমরাও ভয় পাই। কিন্তু ভয় পেয়ে রাজনীতি ছেড়ে দেব না।

    শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে পদযাত্রা ও সমাবেশে যোগ দেওয়ার আগে সিলেট সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    হবিগঞ্জে এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় করা মামলার পর এনসিপির মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ ৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে দায়ের করা অভিযোগ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এনসিপি স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করছে। মামলা দিয়ে কিংবা হামলা চালিয়ে তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম থামানো সম্ভব নয়।

    দায়ের করা মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, মামলায় হামলা, হয়রানি ও ছিনতাইয়ের মতো যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলোর কোনো ভিত্তি নেই। তিনি বলেন, আমি মামলাগুলো দেখেছি। সেখানে লেখা হয়েছে আমরা হামলা করেছি, হয়রানি করেছি, ছিনতাই করেছি। এসব কতটুকু সত্য, তা দেশবাসী নিজের চোখেই দেখেছে।

    তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশেই এসব মামলা দায়ের করা হচ্ছে। তার ভাষায়, “তাদের নতুন সরকার যদি মামলাবাজি, টেন্ডারবাজি, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের রাজনীতি করতে চায়, করুক। কিন্তু একদিন এসবেরও শেষ হবে।”

    বাংলাদেশের রাজনীতিতে “গ্যাংবাজির সংস্কৃতি” প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে অভিযোগ করে এনসিপির এই নেতা বলেন, “রাজনীতির নামে গ্যাংবাজি চলছে। যদি গ্যাংবাজিই করতে চান, তাহলে রাজনীতির নামে না করে সরাসরি গ্যাংবাজির ঘোষণা দিন।”

    মামলায় আইফোন ছিনতাইয়ের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন, “তারা বলছে আইফোন ছিনতাই হয়েছে। সেটি কি জি কে গাউসের আইফোন, নাকি তারেক রহমানের আইফোন ছিল? এমন অভিযোগ অত্যন্ত লজ্জাজনক।”

    নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও অভিযোগ করেন, দেশে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির রাজত্ব কায়েম করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, “জি কে গাউস, নুরু, সালাউদ্দিনসহ একটি গ্যাং চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে গুলশানের অফিসে জমা দেয়। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।”

    পাল্টা মামলা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমাদের ওপর হামলা হয়েছে। সেই ঘটনায় আমরা মামলা করেছি। এরপর তারা পাল্টা একটি মামলা করেছে। ঘটনাটি এতটুকুই।”

    তিনি আবারও বলেন, “মানুষ ভয় পায়, আমরাও ভয় পাই। কিন্তু ভয় পেয়ে রাজনীতি ছেড়ে দেব না। মামলা-হামলা দিয়ে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না।”

    উল্লেখ্য, হবিগঞ্জে এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার পর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সারজিস আলমসহ ৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সেই অভিযোগ নিয়েই সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।টওয়ারী।

  • এখন বিএনপির অবস্থা ব্রেইনলেস আওয়ামী লীগের মতো: সারজিস আলম

    এখন বিএনপির অবস্থা ব্রেইনলেস আওয়ামী লীগের মতো: সারজিস আলম

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম বলেছেন, বর্তমানে বিএনপি যেভাবে আমাদেরকে বাধা দেওয়ার, প্রতিরোধ করার, গলা টিপে ধরার চেষ্টা করছে, এটা হচ্ছে ব্রেইনলেস আওয়ামী লীগের মতো। মানে তাদের তো ওইটুকু ছিল, এরা ওইটুকুও শো করতে পারছে না।

    শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরে সিলেট সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

    হবিগঞ্জে সাম্প্রতিক মামলা প্রসঙ্গে সারজিস আলম বলেন, এনসিপির রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে বিএনপি এমন আচরণ করছে, যা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এনসিপিকে রাজনৈতিকভাবে দমিয়ে রাখতে পরিকল্পিতভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে, গলা টিপে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে।

    আমরা শুনলাম আমাদের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের মামলা হয়েছে। আসলে ছিনতাই একটা হয়েছে, তারেক রহমান ও বিএনপির মান-সম্মানের ছিনতাই হয়েছে। কিন্তু ছিনতাই তারা করেছে। তাদের কাজের মাধ্যমে ছিনতাই করেছে। এখন বাংলাদেশের মানুষের সামনে তাদের তো মুখ দেখানোর মতো অবস্থা নেই। এইজন্য মানে তাদের এখন অবস্থা।

    তিনি বলেন, যারা ছাত্রদলের হয়ে এটা করেছে, তারা কতটা অথর্ব হলে এত মান-সম্মান চলে যাওয়ার পরে আবার এমন একটা কাজ করে, যেটা দিয়ে মানুষের কাছে হাসির খোরাক হয়। এটা হচ্ছে তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক অবস্থা।

    সারজিস আলম আরও বলেন, এখন আমি তো শুধু এটাই চিন্তা করি যে যেখানে মামলাটা নেওয়া হলো, যে মামলাটা লিখেছে। সেও হয়তো যারা মামলাটা লিখতে বাধ্য করেছে মনে মনে তাদেরকে গালি দিচ্ছিল।

  • এনসিপির ওপর হামলা; যা বললেন নাহিদ ইসলাম

    এনসিপির ওপর হামলা; যা বললেন নাহিদ ইসলাম

    খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে যেভাবে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা হামলা করেছিল, ঠিক সেভাবেই বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এনসিপির ওপর হামলা করছে বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

    তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার সংস্কার চায় না। দেশে নতুন কোনো রাজনৈতিক শক্তির উত্থানও সরকার চায় না। তাই বারবার এ ধরনের ঘটনা ঘটছে।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জুলাই স্মরণে: অগ্নিঝরা জুলাই, রক্তের ঋণ ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন।

    এর আগে গোলাপগঞ্জে দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

    এ সময় দলের যুগ্ম সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, এনসিপি কোনো সংঘাতের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। তাই আগামীতে কোনো রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে তিনি মুখ না খোলার ঘোষণা দেন।

    এর আগে জেলার গোলাপগঞ্জে দলটির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে অংশ নিতে যাওয়া কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। এ সময় দুর্বৃত্তরা ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দেয়।

    ঘটনার সময় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।

  • আ.লীগের পথেই বিএনপি- এনসিপি

    আ.লীগের পথেই বিএনপি- এনসিপি

    জাতীয় ছাত্রশক্তির হবিগঞ্জ জেলা শাখার নেতা আলিফ চৌধুরী চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার সরকারকে বহন ও হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

    বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালে (এনআইওএইচ) হবিগঞ্জে এনসিপির জুলাই পদযাত্রায় চোখ হারানো কিশোর আলিফকে দেখার পর এক সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এ দাবি জানান।

    আখতার হোসেন বলেন, হবিগঞ্জ জেলা শাখার নেতা আলিফ চৌধুরী হামলায় এক চোখ হারিয়েছেন। অপারেশনের পর তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার ক্ষতিগ্রস্ত চোখ আর কখনো ভালো হবে না। এছাড়া অন্য চোখেও তিনি ঝাপসা দেখছেন, ফলে সেটিও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    তিনি বলেন, শুধু হবিগঞ্জের ঘটনাই নয়, সংবাদ সম্মেলনের ঘণ্টাখানেক আগে সিলেটে এনসিপির গাড়িবহরের ওপরও হামলা হয়েছে। ওই সময় এনসিপির নেতারা কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নয়, জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের কবর জিয়ারত ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে ফিরছিলেন। ফেরার পথেই তাদের বহরে হামলা চালানো হয়।

    এনসিপির সদস্য সচিব বলেন, বুধবার হবিগঞ্জে এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে। সেখানে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও উপস্থিত নারী সংসদ সদস্যদেরও হেনস্তা ও হামলার মুখে পড়তে হয়েছে। একইভাবে হবিগঞ্জের ঘটনার প্রতিবাদে কুড়িগ্রাম, দিনাজপুর, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত এনসিপির বিক্ষোভ কর্মসূচিতেও ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

    তিনি বলেন, দেশে একটি ভয়াবহ ও বীভৎস রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের আমলে যেভাবে বিরোধী দলের ওপর হামলা-নিপীড়ন চালানো হতো, বর্তমান বিএনপি সরকারও একই পথে হাঁটছে। সত্যিকারের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর হামলা, মামলা ও নিপীড়ন বন্ধ করতে হবে।

    তিনি আরও বলেন, হবিগঞ্জে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে কোনো ধরনের সহিংসতা বা অস্ত্রের মহড়া ছিল না। তারপরও পুলিশ ব্যারিকেড ও ট্রাক দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে নেতাকর্মীদের অগ্রযাত্রা আটকে দেয়। অতীতে ফ্যাসিবাদী শাসনামলে যেভাবে বিরোধী দলের কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করা হতো, বর্তমান পরিস্থিতিও সেই রকম বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    এ সময় সরকারের কাছে তিন দফা দাবি তুলে ধরে আখতার হোসেন বলেন, আলিফ চৌধুরীর চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার সরকারকে বহন করতে হবে এবং তাকে ও তার পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। হবিগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে হামলায় জড়িত ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির চিহ্নিত হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। এনসিপিসহ দেশের সব গণতান্ত্রিক বিরোধী রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম, জুলাই পদযাত্রাসহ সব কর্মসূচি নির্বিঘ্নে পরিচালনার জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

  • সিলেটে সারজিস আলমকে বহনকারী গাড়িতে হামলা, ভেঙে গেছে পেছনের কাচ

    সিলেটে সারজিস আলমকে বহনকারী গাড়িতে হামলা, ভেঙে গেছে পেছনের কাচ

    সিলেটের গোলাপগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমকে বহন করা গাড়িতে হামলা হয়েছে। গাড়ির পেছনের কাচ ভেঙে গেছে। হামলার জন্য ছাত্রদলকে দায়ী করেছেন সারজিস।

    আজ বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে তিনটার দিকে গোলাপগঞ্জ পৌরসভা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠান শেষে চলে যাওয়ার সময় এই ঘটনা ঘটে। পৌরসভা অডিটোরিয়ামে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছিল।

    এনসিপির শ্রমিক সংগঠন জাতীয় শ্রমিক শক্তির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য শিব্বির আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, এনসিপির সংসদ সদস্য মাহমুদা মিতু ও আতিকুর রহমান মোজাহিদের গাড়িতেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া সাত শহীদ পরিবারের সদস্যদের বহন করা গাড়ি আক্রান্ত হয়েছে।

    এনসিপির একাধিক স্থানীয় নেতাদের ভাষ্য, সভা শেষে সারজিস আলমকে বহনকারী গাড়িবহর অডিটোরিয়াম এলাকা ত্যাগ করছিল। তখন কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে বোতল ও পাথর ছুড়ে মারেন। এতে গাড়িতে আঘাত লাগে। ঘটনাস্থলে সাময়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ সময় সারজিস আলমের গাড়ি ও পৌরসভার সামনে পুলিশের সদস্যরা ছিলেন।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, গাড়ি লক্ষ্য করে কোমল পানীয়র ছোট বোতল ছুড়ে মরা হয়। সারজিস আলমকে বহনকারী গাড়ির পেছনের গ্লাস ভেঙে যায়। এ সময় ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেওয়া হয়।

    সিলেটের গোলাপগঞ্জে গাড়িতে হামলার পর সিলেট সার্কিট হাউসে ফিরে ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ির সামনে ঘটনার বর্ণনা দেন সারজিস আলম। বৃহস্পতিবার দুপুরে

    সিলেটের গোলাপগঞ্জে গাড়িতে হামলার পর সিলেট সার্কিট হাউসে ফিরে ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ির সামনে ঘটনার বর্ণনা দেন সারজিস আলম। বৃহস্পতিবার দুপুরেছবি: আনিস মাহমুদ

    এ ঘটনায় কেউ আহত হয়েছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বোতল নিক্ষেপের ঘটনার বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ পাহারায় সারজিস আলমকে বহনকারী গাড়ি সিলেটের দিকে চলে যেতে দেখা যায়।

    পরে সিলেট সা‌র্কিট হাউসে ফিরে সারজিস আলম বলেন, ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা এই হামলা চা‌লিয়েছে। এ ছাড়া সিলেটে ফেরার পথে পাঁচমাইল এলাকায়ও চাপা‌তি ও রামদা দিয়ে হামলা হয়েছে।

    তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ‌সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ছাত্রদলের‌ নেতা–কর্মীদের একজনও থেকে থাকলে তাঁরা দেখাক। তাঁরা নেতা–কর্মীদের নিয়ে কোনো কথা বললেও বাধা না দেওয়ার‌ নির্দেশনা দেওয়া ছিল। নিহত প‌রিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেছেন; কিন্তু আহতদের কারও সঙ্গে দেখা করেন‌নি, সেখান‌ থেকেই ঝামেলা হয়েছে বলে শুনেছেন।

    এর আগে অডিটোরিয়ামে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে গোলাপগঞ্জ উপজেলার শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এনসিপির সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভা হয়। এতে শহীদ পরিবারের সদস্যরা এবং এনসিপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা অংশ নেন।

  • হবিগঞ্জে যাওয়ার পথে পুলিশি বাধার মুখে এনসিপি নেতারা

    হবিগঞ্জে যাওয়ার পথে পুলিশি বাধার মুখে এনসিপি নেতারা

    রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জের পথে রওনা হয়েছেন এনসিপি নেতারা। কিন্তু পথে শ্রীমঙ্গলের চা-কন্যা এলাকায় পুলিশ তাদের আটকে দিয়েছে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে এনসিপি নেতাদের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে।

    বুধবার বিকাল ৪টার কিছু আগে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউজ থেকে এনসিপি নেতাদের বহনকারী গাড়ির বহর হবিগঞ্জের পথে রওনা হয়। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে তাদের চা-কন্যা এলাকায় আটকে দেওয়া হয়।

    সেখানে এনসিপি আহ্বায়ক সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ, যুগ্ম সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য মাহমুদা মিতু রয়েছেন।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, এনসিপি নেতাদের বহরে প্রায় ১০টি মাইক্রোবাস রয়েছে। অপরদিকে চা-কন্যা এলাকায় শতাধিক পুলিশ মূল সড়কে অবস্থান নিয়ে আটকে রেখেছেন।

    গাড়ি থেকে নেমে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন এনসিপি নেতারা।

    ১৪৪ ধারার মধ্যে পুলিশ এনসিপি নেতাদের হবিগঞ্জে না যেতে বলছে। অপরদিকে এনসিপি নেতারা পুলিশি বাধা তুলে নেওয়ার কথা বলছেন।

    মঙ্গলবার কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা হবিগঞ্জ শহরে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেছেন এনসিপি নেতারা। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন।

    এ ঘটনা নিয়ে বিএনপি ও এনসিপির মধ্যে টান টান উত্তেজনার মধ্যে বুধবার সকাল থেকে হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন।

    হবিগঞ্জের একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেছেন, তারা সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের সীমান্ত এলাকায় পুলিশ রয়েছেন। তারা সতর্ক রয়েছেন।

    মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ শহরের টাউন হলের সামনে পদযাত্রা শেষে ফেরার পথে এনসিপির নেতাদের বহনকারী গাড়িতে স্থানীয় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে।

    পুলিশ জানায়, এ সময় সাংবাদিকদের কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় আহত হন দলটির কয়েকজন নেতাকর্মী। এ সময় দলটির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী হামলা থেকে বাঁচতে সোনালী ব্যাংকে গিয়ে আশ্রয় নেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে নিয়ে যায়। রাতে তারা মৌলভীবাজারে অবস্থান করেন।

    এর মধ্যে বুধবার এনসিপি তাদের পূর্বঘোষিত মৌলভীবাজার জেলায় দুটি ‘জুলাই পদযাত্রা’ সাময়িক স্থগিত করে হবিগঞ্জ শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ঘোষণা দেয়। অন্যদিকে জেলা ছাত্রদল ও বিএনপির পৃথক কর্মসূচির ঘোষণাকে কেন্দ্র করে শহরে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়।

    পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।