ইয়ামাল

  • এমবাপ্পে-ইয়ামাল দ্বৈরথে কে সবচেয়ে সফল?

    এমবাপ্পে-ইয়ামাল দ্বৈরথে কে সবচেয়ে সফল?

    বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মঞ্চে মুখোমুখি ফ্রান্স ও স্পেন। একদিকে কিলিয়ান এমবাপ্পের ক্ষিপ্রতা আর গোল করার অদম্য ক্ষুধা, অন্যদিকে লামিন ইয়ামালের জাদুকরী ফুটবল। ডালাসের এআইটি অ্যান্ড টি স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার যখন দুই দল মুখোমুখি হবে, তখন মাঠের লড়াই ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে এই দুই মহাতারকার ব্যক্তিগত দ্বৈরথ।

    এবারের বিশ্বকাপে প্রত্যাশিতভাবেই কিলিয়ান এমবাপ্পে গোলমেশিন রূপে আবির্ভূত হয়েছেন। ৬ ম্যাচে ৮ গোল করে গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়ে এগিয়ে। রিয়াল মাদ্রিদে দুর্দান্ত এক মৌসুম কাটানোর পর জাতীয় দলের জার্সিতেও তিনি অপ্রতিরোধ্য। নিজে গোল করার পাশাপাশি মোট ১১টি গোলে অবদান রেখেছেন। ফ্রান্সের আক্রমণভাগ হয়ে উঠেছে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বিধ্বংসী।

    পরিসংখ্যানের চেয়েও বড় কথা, এমবাপ্পে এখন শুধু গোলই করছেন না, দলের প্রয়োজনে ডিফেন্সেও ভূমিকা রাখছেন সমানতালে। ফ্রান্সের ফুটবল বিশেষজ্ঞ জুলিয়েন লরেনসের মতে, ‘জিনেদিন জিদান বা মিশেল প্লাতিনির চেয়েও বড় খেলোয়াড় হওয়ার পথে এমবাপ্পে। এই টুর্নামেন্টের পর তিনি সম্ভবত ফ্রান্সের ইতিহাসের সেরা ফুটবলার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবেন।’

    অন্যদিকে মাত্র ১৯ বছরের ইয়ামালকে অনেকেই দেখছেন ফুটবলের ভবিষ্যৎ হিসেবে। বার্সেলোনার এই বিস্ময়বালককে খোদ জাভি হার্নান্দেজ তুলনা করেছেন মেসি, ম্যারাডোনা ও পেলের সাথে। এবারের বিশ্বকাপে যদিও গোলের দেখা খুব একটা পাননি, কিন্তু তার ট্যাকটিক্যাল প্রভাব স্পেনের খেলায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। প্রতিপক্ষের ডি বক্সের সামনে বল পেলেই ইয়ামাল হয়ে ওঠেন ত্রাস। কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে তার লড়াকু মানসিকতা কোচ দে লা ফুয়েন্তেকে মুগ্ধ করেছে।

    এখন পর্যন্ত ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ফুটবলে এই দুই তারকা মুখোমুখি হয়েছেন মোট ১০ বার। ইয়ামাল জয়ী হয়েছেন ৮টি ম্যাচে, এমবাপ্পের জয় মাত্র ২ ম্যাচে। জয়ের হিসেবে ইয়ামাল এগিয়ে থাকলেও, গোল করার ক্ষেত্রে আধিপত্য এমবাপ্পের। এই ১০ ম্যাচে এমবাপ্পে গোল করেছেন ৯টি, আর ইয়ামাল গোল পেয়েছেন ৬টি। গত ইউরো এবং নেশনস লিগের সেমিফাইনালে স্পেন ফ্রান্সকে হারিয়েছে ইয়ামালের হাত ধরেই। এবার কি পারবে ফ্রান্স সেই হিসাব চুকিয়ে ফাইনালে যেতে? নাকি ইয়ামাল আবারও দেখাবেন তার জাদু?

  • ফ্রান্স-স্পেন সেমিফাইনাল; পরিসংখ্যানে এগিয়ে কারা?

    ফ্রান্স-স্পেন সেমিফাইনাল; পরিসংখ্যানে এগিয়ে কারা?

    ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বাংলাদেশ সময় আজ (মঙ্গলবার) দিবাগত রাত ১টায় মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের দুই শক্তিধর দল ফ্রান্স ও স্পেন। টেক্সাসের ডালাস স্টেডিয়ামে হতে যাওয়া বহুল প্রতীক্ষিত এই ম্যাচকে অনেকেই ‘ফাইনালের আগেই ফাইনাল’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন।

    পুরো বিশ্বকাপজুড়ে দাপুটে ফুটবল খেলেছে ফ্রান্স। তাই শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। অন্যদিকে, কেপভার্দের বিপক্ষে অপ্রত্যাশিত হোঁচট খাওয়ার পর দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়ে নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরেছে স্পেন। ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা এবার বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর আক্রমণভাগকে সামলানোর কঠিন পরীক্ষায় নামছে।

    দুই দলের খেলার ধরনেও রয়েছে স্পষ্ট পার্থক্য। ফ্রান্স দ্রুতগতির পালটা আক্রমণে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে পছন্দ করে, আর স্পেন বলের দখল ধরে রেখে ধৈর্যের সঙ্গে আক্রমণ গড়ে তুলতে অভ্যস্ত।

    সেমিফাইনালে ওঠার পথে ফ্রান্সকে তেমন কোনো কঠিন বাধার মুখে পড়তে হয়নি। দলের আক্রমণভাগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। ছয় ম্যাচে আট গোল করে তিনি গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে শীর্ষ সারিতেই রয়েছেন। তার সঙ্গে আক্রমণে রয়েছেন মাইকেল ওলিসে, ব্যালন ডি’অরজয়ী উসমান দেম্বেলে এবং পিএসজির তরুণ জুটি ব্র্যাডলি বারকোলা ও ডিজায়ার দুয়ে।

    অন্যদিকে, লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে স্পেন বল দখলভিত্তিক ফুটবল, পরিকল্পিত আক্রমণ এবং ভারসাম্যপূর্ণ দলগত পারফরম্যান্সে ভর করে শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে। রক্ষণ থেকে আক্রমণ—প্রতিটি বিভাগেই তারা দেখিয়েছে পরিপক্বতার ছাপ।

    সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে ফ্রান্সের বিপক্ষে এগিয়ে রয়েছে স্পেন। গত বছরের উয়েফা নেশনস লিগে ৫-৪ গোলের রোমাঞ্চকর জয়ের আগে ইউরো ২০২৪-এর সেমিফাইনালেও ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছিল ফরাসিদের। তবে বিশ্বকাপে টানা তৃতীয়বারের মতো সেমিফাইনালে উঠে নতুন ইতিহাস গড়েছে ফ্রান্স। এর আগে এই কীর্তি গড়তে পেরেছিল শুধু জার্মানি ও ব্রাজিল।

    মুখোমুখি পরিসংখ্যান

    এখন পর্যন্ত সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩৮ বার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে ফ্রান্স ও স্পেন। এর মধ্যে ১৮টি ম্যাচে জয় পেয়েছে স্পেন, আর ফ্রান্স জিতেছে ১৩টিতে। বাকি সাতটি ম্যাচ ড্র হয়েছে।

    ২০১৮ বিশ্বকাপের পর বড় টুর্নামেন্টে স্পেনের ধারাবাহিকতাও ঈর্ষণীয়। ২৭ ম্যাচের মধ্যে তারা হেরেছে মাত্র একটিতে, জিতেছে ১৬টি এবং ড্র করেছে ১০টি। ২০২২ বিশ্বকাপে জাপানের বিপক্ষে হারের পর টানা ১৪ ম্যাচ অপরাজিত রয়েছে স্প্যানিশরা। এই সময়ে তারা মাত্র পাঁচটি গোল হজম করেছে এবং কোনো ম্যাচেই একটির বেশি গোল খায়নি। নয়টি ম্যাচে প্রতিপক্ষকে গোলের সুযোগই দেয়নি তারা।

    তবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে দুই দলের একমাত্র আগের দেখায় জয় পেয়েছিল ফ্রান্স। ২০০৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে পিছিয়ে থেকেও শেষ ১০ মিনিটে দুটি গোল করে ৩-১ ব্যবধানে স্পেনকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল লে ব্লুরা। তাই এবার বিশ্বকাপের দ্বিতীয় মুখোমুখি লড়াইয়ে ইতিহাস বদলাবে, নাকি পুরোনো স্মৃতি ফিরবে—সেই উত্তর মিলবে ডালাসের মাঠেই।

  • মেসিকে নিয়ে কেন আনন্দিত ইয়ামাল

    মেসিকে নিয়ে কেন আনন্দিত ইয়ামাল

    ক্যারিয়ারের গোধূলিলগ্নে পৌঁছালেও জাদু দেখানো শেষ হয়নি লিওনেল মেসির। প্রতিনিয়ত মুগ্ধতা ছড়াচ্ছেন তিনি। ৩৯ বছর বয়সেও তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখে পুলকিত লামিনে ইয়ামাল। মেসিকে নিয়ে তাই ভীষণ আনন্দিত ইয়ামাল।

    আর্জেন্টাইন অধিনায়কের প্রতি মুগ্ধতার কথা জানিয়েছেন স্প্যানিশ সংবাদ মাধ্যম এল মুন্দো দের্পোতিভোয়। স্পেনের প্লেমেকার বলেছেন, ‘অবিশ্বাস্য। মেসি কে সবাই জানে। কিন্তু এই বয়সে এসেও তার কাছে এমন দুর্দান্ত পারফম্যান্স, হয়তো কেউ আশাই করেনি। এ জন্যই তাকে নিয়ে আমি সত্যি আনন্দিত।’ ২০২২ বিশ্বকাপে নিজের আজন্ম স্বপ্ন পূরণ করেছেন মেসি।

    স্বপ্নের বিশ্বকাপ জেতায় মনে করা হচ্ছিল তার আর কিছুই চাওয়া-পাওয়া নেই। কিন্তু এই বিশ্বকাপে যা করছেন তাতে মনে হচ্ছে ক্ষুধা যেন তার শেষ হয়নি। কাতার বিশ্বকাপের মতোই এবারও আর্জেন্টিনাকে একাই টানছেন ইন্টার মিয়ামির স্ট্রাইকার। দলের ১৪ গোলের ৮টি তার করা।

    বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়া নেইমার-ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে নিয়েও কথা বলেছেন ইয়ামাল।

    এখন যারা খেলছে তাদের শৈশব রাঙিয়ে দিয়েছে এমনটা জানিয়ে বার্সেলোনার ফরোয়ার্ড বলেছেন, ‘নেইমার-রোনালদোকে নিয়েও আমি আনন্দিত। যদিও তারা বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে। এখন যারা খেলছে তাদের শৈশব রাঙানোর নায়ক তারা।’

  • ইতিহাস যখন ইয়ামালদের ভয়

    ইতিহাস যখন ইয়ামালদের ভয়

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    লস অ্যাঞ্জেলেস শহরের সোফি স্টেডিয়ামটি জমজমাট রূপ ধারণ করেছে। বিশ্বকাপ ঘিরে মাঠের ভেতরে ও বাইরে ভক্তদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস, বর্ণিল আয়োজনে পুরো পরিবেশকে একটি সিনেমার চিত্রনাট্যের মতো করে তুলেছে। আর হলিউডের শহর খ্যাত লস অ্যাঞ্জেলেসের এই স্টেডিয়ামের কাছের একটি ভবনে স্পেনের তারকা ফরোয়ার্ড লামিনে ইয়ামালকে চিত্রিত করে প্রদর্শিত হচ্ছে বিজ্ঞাপন। তাঁর অবিশ্বাস্য ড্রিবলিং, ক্ষিপ্রতা এবং দর্শনীয় গোল করার ক্ষমতা নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় গণমাধ্যম ‘সিবিএস’ প্রচার করেছে। লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, আর্লিং হালান্ডের মতো তারকা দ্যুতি ছড়ালেও উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের অন্যতম বিজ্ঞাপন হয়ে ওঠা বার্সেলোনার এ সুপারস্টার এখন পর্যন্ত তাঁর সেরাটা দেখাতে পারেননি। গ্রুপ পর্বে স্পেন যে তিনটি ম্যাচ খেলেছে, তার কোনোটিতেই পুরো ৯০ মিনিট মাঠে ছিলেন না ফুটবলের এ জাদুকর। তাই তো শেষ বত্রিশে আজ

    অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ইয়ামাল-শোর অপেক্ষায় পুরো ফুটবল দুনিয়া।

    ইতিহাস আর ঐতিহ্যে এই স্পেন দুর্দান্ত। অস্ট্রিয়ার মতো দল বড় বাধা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু বিশ্বকাপের একটি পরিসংখ্যান যে ইয়ামালদের জন্য ভয়ের কারণ। ২০০৬, ২০১০ ও ২০১৪ সালের বিশ্বকাপজয়ীদের (ইতালি, স্পেন ও জার্মানি) কেউই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ফুটবলের মহাযজ্ঞের কোনো নকআউট ম্যাচ জিততে পারেনি। ২০১০ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জেতার পাশাপাশি স্পেনের সোনালি প্রজন্ম পরপর তিনটি বড় টুর্নামেন্ট (ইউরো ২০০৮, বিশ্বকাপ ২০১০, ইউরো ২০১২) জয়ের রেকর্ড গড়েছিল। কিন্তু এর পর থেকে বৈশ্বিক মঞ্চে স্পেনকে বেশ সংগ্রাম করতে হয়েছে। ২০১৪ সালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে তারা গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। আর গত দুটি বিশ্বকাপে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে যথাক্রমে রাশিয়া ও মরক্কোর কাছে টাইব্রেকারে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যায়। লা ফুরিয়া রোজারা অবশ্যই এই ধারা ভাঙতে মরিয়া হয়ে থাকবে। প্যারাগুয়ের কাছে জার্মানি বিদায় নেওয়ার পর স্পেনও যে আতঙ্কে আছে, তা ফুটে উঠেছে দলটির সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার ফ্যাবিয়ান রুইজের কণ্ঠে, ‘আমরা দেখতেই পাচ্ছি যে বর্তমানে যে কোনো দলই যে কোনো দলকে হারিয়ে দিতে পারে। আমি মনে করি, আমরা এর জন্য প্রস্তুত এবং ম্যাচটির দিকে তাকিয়ে আছি।’স্পেন বর্তমানে ইউরো চ্যাম্পিয়ন। দলটির লক্ষ্য এখন বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে দীর্ঘ ১৬ বছরের জয়ের খরা কাটানো। এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট স্পেনের শুরুটা হয়েছিল কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র দিয়ে। পরে সৌদি আরব ও উরুগুয়েকে হারিয়ে গ্রুপ ‘এইচ’ থেকে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থেকে নকআউটে পা রাখে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দলটি। বিপরীতে এই পর্যায়ে আসার পথটি অস্ট্রিয়ার জন্যও ছিল নাটকীয়। গ্রুপ ‘জি’-তে শেষ দিনে আলজেরিয়ার বিপক্ষে তাদের ম্যাচটি নিষ্প্রাণ এক লড়াই হবে বলেই সবাই ধরে নিয়েছিল। কিন্তু ম্যাচটি মোটেও তেমন ছিল না; বরং ৩-৩ গোলের এক রোমাঞ্চকর ড্র দিয়ে এটি শেষ হয়। ম্যাচের ৯৪ মিনিটে সাশা কালাইজিচ যদি হেড থেকে সমতাসূচক গোলটি না করতেন, তবে অস্ট্রিয়া বিশ্বকাপ থেকেই বিদায় নিয়ে নিত। জর্ডানের বিপক্ষে ৩-১ গোলে জয় এবং আর্জেন্টিনার কাছে ২-০ ব্যবধানের পরাজয় স্পষ্ট করে দেয় যে তাদের এই যাত্রা কতটা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেছে। ১৯৫৪ সালের পর এই প্রথম অস্ট্রিয়া বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে।স্পেনের এই দলটিতে বার্সেলোনার প্রভাবই বেশি। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে একতাবদ্ধতা এবং ইয়ামালের ওপর ভরসা করছে লা ফুরিয়া রোজারা। হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে গ্রুপের তিনটি ম্যাচেই ইয়ামালকে সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করেন স্পেন কোচ। কেপ ভার্দের বিপক্ষে ১৯ মিনিট, সৌদি আরবের বিপক্ষে ৪৫ মিনিট খেলে একটি গোলও করেছিলেন ইয়ামাল। উরুগুয়ের বিপক্ষে খেলেছিলেন ৭৬ মিনিট। অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের ২৩ বছর বয়সী উইঙ্গার নিকো উইলিয়ামস উরুগুয়ে ম্যাচে চোটে পড়ায় তাঁকে নিয়ে বৃহস্পতিবার ঝুঁকি নেবেন না লুইস দে লে ফুয়েন্তে। সে ক্ষেত্রে ম্যাচের শুরু থেকেই ইয়ামালকে দেখা যেতে পারে। তাই ইয়ামালের জন্য মঞ্চটা এবার নিজেকে মেলে ধরার।

  • এই বিস্ময়বালকের হাতেই কি এবারের বিশ্বকাপ

    এই বিস্ময়বালকের হাতেই কি এবারের বিশ্বকাপ

    ফুটবল বিশ্বের নয়া পোস্টার বয় লামিনে ইয়ামাল। নিউ ইয়র্কের টাইম স্কয়ারের বিলবোর্ডে তার বিশাল ছবি। ভাবা যায়! মাত্র ১৮ বছর বয়সে টাইম স্কয়ারের মতো স্থানে ইয়ামালের এই উপস্থিতি। বলুনতো এতে কী প্রমাণ হয়। স্প্যানিশ তারকা লামিনে ইয়ামাল শুধু ইউরোপেই সীমাবদ্ধ নেই। বরং বিশ্ব ফুটবলে নিজেকে অনন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। বিশ্বের তাবৎ মিডিয়া বিস্ময়বালক হিসেবেই তাকে চিহ্নিত করেছে। এই মুহূর্তে বিশ্ব ফুটবলের এক নম্বর মুকুটহীন সম্রাট। অনেকে তার মধ্যে আরেক মেসির ছায়া স্পষ্ট দেখতে পান। লামিনে ইয়ামালের গায়ে বার্সেলোনার ঐতিহ্যবাহী ১০ নম্বর জার্সি। স্পেনের হয়েই ইউরো ২০২৪ জয় করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গোল করেছেন ৫৩টি। তার ক্যারিয়ার রীতিমতো চোখ ধাঁধানো। পারিবারিক অস্থিরতার মধ্যেই বড় হন। মাত্র তিন বছর বয়সেই তার বাবা-মায়ের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে। লামিনে’র দাদি এসেছিলেন মরক্কো থেকে। অবৈধ অভিবাসী হিসেবে এখানে-ওখানে থাকতেন। শেষমেশ তার ঠাঁই হয় স্পেনের মাতারো শহরে। মা আসেন ইকুয়েটোরিয়াল গিনি থেকে। মাথাগোঁজার ঠাঁই ছিল না। যাযাবরের মতো থাকতেন। দারিদ্র্যতা ছিল তার নিত্যসঙ্গী। এখন বিবেচনা করলে মনে হবে, এটা এক রোমাঞ্চকর বাস্তব জীবন। যা কিনা সিনেমার গল্পকেও হার মানায়। আর্থিক কষ্টের মধ্যে মাতারো শহরের দুইজন সহৃদয় ব্যক্তি সাহায্যের হাত বাড়ান। এই মুহূর্তে ইনজুরি সমস্যায় ভুগছেন লামিনে। তবুও কোচ তাকে মাঠে নামাবেনই। কেপ ভার্দের সঙ্গে স্পেন ড্র করে। বিশ মিনিট মাঠে নামেন অবশ্য। সৌদি আরবের সঙ্গে খেলেছেন একটু বেশি সময়। গোলও পেয়ে গেছেন। গোলের পর দুই হাতের আঙ্গুল দিয়ে ৩০৪ চিহ্নটি দেখান। এর পেছনে একটা ইতিহাস রয়েছে। এটা আসলে রোকো ফন্ডা এলাকার পোস্টাল কোড। এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বকে পিছিয়ে পড়া শ্রমজীবী মানুষের পরিচয়কে তুলে ধরতে চান। খ্যাতির চূড়ায় এখন অনেকটা শীর্ষে। এর মধ্যে লামিনের জীবনে যুক্ত হয়েছে নানা চাঞ্চল্যকর বিতর্ক। ইয়ামালের মূল অনুপ্রেরণা কিন্তু ব্যালন ডি’অর বা কোটি টাকার জাঁকজমকপূর্ণ জীবন নয়। তিনি পরিবারের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চান। ইয়ামালের মা কাজ করতেন ম্যাকডোনাল্ডসে। হাড়ভাঙা খাটুনি। তারকা হয়ে ওঠার পর লামিনে তার মা’র জীবনটা বদলে দিয়েছেন। কিনে দিয়েছেন এক বিলাসবহুল বাড়ি।

    মার সঙ্গে লামিনে ইয়ামাল

    চাচা কাজ করতেন এক বেকারিতে। তার জীবনও পাল্টে গেছে। মজার ব্যাপার হচ্ছে- এখনও তিনি মরক্কো ও ইকুয়েটোরিয়াল গিনিকে স্মরণ করেন। তার বুটে আঁকা থাকে ওই দুটি দেশের পতাকা। এতে তিনি প্রমাণ করতে চান-অতীত যত কুয়াশাছন্নই হোক না কেন- সেটা তিনি ভুলতে চান না। একদিকে মাঠের পারফরম্যান্স ধরে রাখার অবিশ্বাস্য চাপ। অন্যদিকে জীবনের নানামুখী আইনি বিতর্ক। মিডিয়ার নজর তো আছেই। বার্সেলোনার প্রধান কোচ হান্সি ফ্লিক বলেছেন, লামিনের জীবন এক অবিশ্বাস্য নাটকীয়তায় ভরা। তার মতে, শুধু প্রতিভা নয়, কঠোর পরিশ্রম করতে হবে এসব ধরে রাখতে। অসাধারণ ড্রিবলিং ক্ষমতার পাশাপাশি বর্ণবাদের বিরুদ্ধেও তার অবস্থান স্পষ্ট। রিয়েল মাদ্রিদের সাবেক তারকা ডিফেন্ডার মিশেল সালগাডো ইয়ামালের প্রশংসা করেছেন। বলেছেন, আমাদের সামনে এক নতুন মেসিকে দেখা যাচ্ছে। জনপ্রিয় খেলার কাগজ মার্কা বলেছে, এই তরুণ তারকা তার ক্যারিয়ারের সঠিক পথটি বেছে নিয়েছেন। সৌদি আরবকে ৪-০ গোলে পরাজিত করার পর বলা হচ্ছে, স্পেনকে ফাইনালে পৌঁছানো এখন আর কোনো অলীক কল্পনা নয়। একটি বাস্তব সম্ভাবনা। বিশ্বকাপের আসরে লামিনে ইয়ামালকে নিয়ে অনেকেই অংক মেলাচ্ছেন। বলছেন, এই বিস্ময়বালকের হাতেই কি এবারের বিশ্বকাপ!