ট্যাগ ইয়ামাল

  • এমবাপ্পেকে ইয়ামালের চ্যালেঞ্জ

    এমবাপ্পেকে ইয়ামালের চ্যালেঞ্জ

    ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে কিলিয়ান এমবাপ্পেকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানালেন বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। ফরাসি ফরোয়ার্ডের আত্মবিশ্বাসী মন্তব্যের জবাবে ইয়ামাল বলেছেন, গত মৌসুমের সাফল্য বিবেচনায় এই পুরস্কার তারই প্রাপ্য।

    মুভিস্টার প্লাসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইয়ামাল বলেন, ‘আমার মতে, এমবাপ্পে আর আমিই এখন বিশ্বের সেরা দুই খেলোয়াড়। সত্যিই বিশ্বাস করি, বিশ্বের সেরা ফুটবলার হিসেবে আমরা দুজনই আছি। তবে এ বছর আমি যে শিরোপাগুলো জিতেছি, সেই বিচারে ব্যালন ডি’অরটা আমারই প্রাপ্য।’

    গত মৌসুমে বার্সেলোনার হয়ে ৪৫ ম্যাচে ২৪ গোল ও ১৭ অ্যাসিস্ট করেন ইয়ামাল। তার পারফরম্যান্সে লা লিগা ও স্প্যানিশ সুপার কাপ জেতে কাতালান ক্লাবটি। স্পেনের হয়ে ১২ ম্যাচে এক গোল ও তিন অ্যাসিস্টের পাশাপাশি বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্যও ছিলেন তিনি।

    তবে এবারের ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে এগিয়ে রাখা হচ্ছে বায়ার্ন মিউনিখের ইংলিশ স্ট্রাইকার হ্যারি কেইনকে। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে গত মৌসুমে ৬৫ ম্যাচে ৭৩ গোল ও আট অ্যাসিস্ট করেন তিনি। বায়ার্নের হয়ে বুন্দেসলিগা ও জার্মান কাপ জয়ের পাশাপাশি ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন কেইন।

    এবারের ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠান হবে ২৬ অক্টোবর লন্ডনে। ২০১৯ সালের পর থেকে নিয়মিত প্যারিসের থিয়েটার দ্যু শাতলেতে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল অনুষ্ঠানটি।

  • ফাইনালের পর মাঠ মাতাল ইয়ামালের ছোট ভাই, দেখুন ১৫টি ছবি

    ফাইনালের পর মাঠ মাতাল ইয়ামালের ছোট ভাই, দেখুন ১৫টি ছবি

    স্পেন–আর্জেন্টিনা ফাইনালের পর মাঠের অন্যতম আলোচিত চরিত্র কোনো খেলোয়াড় বা কোচিং স্টাফের সদস্য নন, লামিনে ইয়ামালের ভাই কেইনে ইয়ামাল। বিশ্বকাপজুড়ে প্রচারমাধ্যমের আলোয় থাকা কেইনেকে ফাইনালের পুরস্কার বিতরণীর আগে মাঠজুড়ে ঘুরে নানা কাণ্ড–কীর্তিতে মেতে উঠতে দেখা গেছে। ছবিতে দেখুন মজার সেসব দৃশ্য।

    ১ / ১৫

    কেইনে ইন মুড ...

    কেইনে ইন মুড …রয়টার্স

    ২ / ১৫

     বল পায়ে নিয়ে একটু খেলা যাক

    বল পায়ে নিয়ে একটু খেলা যাক রয়টার্স

    ৩ / ১৫

    দূরপাল্লার শট ...

    দূরপাল্লার শট …রয়টার্স

    ৪ / ১৫

    উদ্‌যাপনে ভাই না হলে কি চলে!

    উদ্‌যাপনে ভাই না হলে কি চলে! রয়টার্স

    ৫ / ১৫

    ভাইয়ের গলায় ওটা কী? দেখি তো!

    ভাইয়ের গলায় ওটা কী? দেখি তো! রয়টার্স

    ৬ / ১৫

    কেইনেও তারকা। ফটোগ্রাফারদের ভিড়েও খেলায় মনোযোগ

    কেইনেও তারকা। ফটোগ্রাফারদের ভিড়েও খেলায় মনোযোগ রয়টার্স

    ৭ / ১৫

    গোলের জাল কেটে নিচ্ছেন মিকেল ওইয়ারসাবাল। কেইনেরও একটু দরকার

    গোলের জাল কেটে নিচ্ছেন মিকেল ওইয়ারসাবাল। কেইনেরও একটু দরকার রয়টার্স

    ৮ / ১৫

    নেট এনে নিউইয়র্ক পুলিশের এক সদস্যের সঙ্গে খুনসুটি কেইনের

    নেট এনে নিউইয়র্ক পুলিশের এক সদস্যের সঙ্গে খুনসুটি কেইনের রয়টার্স

    ৯ / ১৫

    পুলিশও কম যায় না, মাথার ক্যাপ পরিয়ে দিলেন কেইনের মাথায়

    পুলিশও কম যায় না, মাথার ক্যাপ পরিয়ে দিলেন কেইনের মাথায়র রয়টার্স

    ১০ / ১৫

     সবাই ব্যস্ত যাঁর যাঁর মতো। কেইনে ব্যস্ত ফাঁকা পোস্ট আর ছেঁড়া জালে গোল দেওয়ায়

    সবাই ব্যস্ত যাঁর যাঁর মতো। কেইনে ব্যস্ত ফাঁকা পোস্ট আর ছেঁড়া জালে গোল দেওয়ায় রয়টার্স

    ১১ / ১৫

    গোওওওওল ...

    গোওওওওল …

    ১২ / ১৫

    ভাই এক পাশে, অন্য পাশে বল নিয়ে কেইনে

    ভাই এক পাশে, অন্য পাশে বল নিয়ে কেইনে রয়টার্স

    ১৩ / ১৫

     বিশ্বকাপের মাঠে সমবয়সী একজনকে পেয়ে গেছে কেইনে

    বিশ্বকাপের মাঠে সমবয়সী একজনকে পেয়ে গেছে কেইনে রয়টার্স

    ১৪ / ১৫

    শরীরের তুলনায় বলের আকার ছোটখাটো নয়

    শরীরের তুলনায় বলের আকার ছোটখাটো নয় রয়টার্স

    ১৫ / ১৫

    কার দিকে তাকিয়ে এত হাসি কেইনের?

    কার দিকে তাকিয়ে এত হাসি কেইনের? রয়টার্স

  • এক ফ্রেমে মেসি-ইয়ামাল, ফুটবল দেখল নতুন যুগের প্রতীক

    এক ফ্রেমে মেসি-ইয়ামাল, ফুটবল দেখল নতুন যুগের প্রতীক

    স্পেনের উল্লাসে বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষ হয়েছে। কিন্তু ট্রফি উঁচিয়ে ধরার সেই উৎসবের মধ্যেও সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত হলো লামিন ইয়ামাল ও লিওনেল মেসির একটি আলিঙ্গন। মুহুর্তেই ছবিটি ভাইরাল হয়। একজন নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, অন্যজন সদ্য হারানো স্বপ্নের ভারে নুয়ে পড়া কিংবদন্তি; দুই প্রজন্মের এই সাক্ষাৎ ছুঁয়ে গেছে কোটি ফুটবলপ্রেমীকে।

    অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় স্পেন। শেষ বাঁশি বাজার পর যখন সতীর্থদের সঙ্গে উদযাপনে ব্যস্ত স্প্যানিশ ফুটবলাররা, তখন ইয়ামাল সবার কাছ থেকে সরে গিয়ে মাঠের এক পাশে বসে থাকা লিওনেল মেসির দিকে হাঁটতে শুরু করেন।

    ৩৯ বছর বয়সি মেসি তখন নিজের ষষ্ঠ ও সম্ভবত শেষ বিশ্বকাপের শেষ অধ্যায়ের বেদনায় ডুবে ছিলেন। ইয়ামাল তার সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই মেসি উঠে দাঁড়ান। এরপর দুজন একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন এবং কিছুক্ষণ ব্যক্তিগত কথা বলেন। কী কথা হয়েছে, তা প্রকাশ করেননি কেউ। তবে সেই মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

  • ইয়ামাল কি একলব্য, মেসি কি দ্রোণাচার্য

    ইয়ামাল কি একলব্য, মেসি কি দ্রোণাচার্য

    মহাভারতের একলব্য ও দ্রোণাচার্যের কাহিনিতে ট্র্যাজেডি আছে, আছে কর্তৃত্ব। কিন্তু মহাভারত আমাদের আরেকটি কথাও বলে– সময়ের কাছে দ্রোণাচার্যও অনিশ্চিত, একলব্যও অনিশ্চিত। ইতিহাস কখনও একক বীরের সম্পত্তি নয়। বিশ্বকাপও তাই।

    একুশের সিকি শতাব্দী পার করে তাই প্রশ্নটি শুধু রোমান্টিক নয়, গভীরভাবেই দার্শনিক–লামিনে ইয়ামাল কি একলব্য, আর লিওনেল মেসি কি দ্রোণাচার্য? নাকি উল্টোটা? কিংবা তারা কেউই নন? বিশ্বকাপের আরাধ্য সোনালি ট্রফিটি কি আদৌ কোনো পৌরাণিক উপমার কাছে আত্মসমর্পণ করে?

    বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে লিওনেল মেসি এক দীর্ঘ আলোকবর্তিকা। প্রায় দুই দশক ধরে তিনি কেবল ফুটবলার নন; তিনি এক ভাষা, এক নন্দন, এক শিল্পরীতি। অসংখ্য নবীনের শৈশবের দেয়ালে শোভিত পোস্টারের নাম মেসি। আজকের প্রজন্মের বিস্ময়বালক লামিনে ইয়ামালের ক্ষেত্রেও সেই সত্যের ব্যতিক্রম নেই। ইয়ামালের ফুটবলীয় অভিধানে মেসি একটি অনিবার্য উচ্চারণ।

    মহাভারতের একলব্য দ্রোণাচার্যের কাছে প্রত্যাখ্যাত হয়েও তাঁকেই মানসগুরু মেনেছিলেন। দূর থেকে দেখে, অনুকরণ করে নিজেকে গড়ে তুলেছিলেন। সেই অর্থে ইয়ামালও যেন আধুনিক ফুটবলের এক একলব্য। বার্সেলোনার ঘাসে, ইউরোপীয় ফুটবলের নন্দনতত্ত্বে দীক্ষিত এবং মেসির রেখে যাওয়া শিল্পভাষায় বেড়ে ওঠা তরুণ। ফুটবল তাঁকে শিখিয়েছে, একজন গুরু সব সময় সামনে বসে থাকেন না; অনেক সময় তিনি হয়ে ওঠেন একটি আদর্শ, একটি ছায়া, একটি স্বপ্ন– দূরে অবস্থান করেও। কিন্তু এখানেই তুলনার উপমাটি বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।

    কারণ দ্রোণাচার্যের সঙ্গে একলব্যের সম্পর্ক ছিল অসম ক্ষমতার সম্পর্ক। সেখানে প্রত্যাখ্যান ছিল, ছিল শ্রেণি ও বর্ণবৈষম্যের নির্মমতা। লিওনেল মেসি কখনও লামিনে ইয়ামালের অগ্রযাত্রার পথে অঙ্গুলি দাবি করেননি। বরং ফুটবলের সৌন্দর্য এখানেই যে, একজন কিংবদন্তি আরেকজন কিংবদন্তির জন্মের জন্য জায়গা করে দেন। মেসির উত্তরাধিকার কোনো সংকীর্ণ উত্তরাধিকার নয়; এটি এমন এক নদী, যা নতুন স্রোতকে স্বাগত জানায়।

    তবুও বিশ্বকাপের প্রসঙ্গে এই উপমা আমাদের অন্য এক জায়গায় নিয়ে যায়। ফুটবলের সবচেয়ে নির্মম সত্য হলো– বিশ্বকাপ কাউকে কিছু পাওনা রাখে না।
    জোহান ক্রুইফ বিশ্বকাপ জেতেননি। ফেরেঙ্ক পুসকাস জেতেননি। পাওলো মালদিনি জেতেননি। রোনালদো নাজারিওর দুটি বিশ্বকাপ আছে, কিন্তু রোনালদিনহোর একটি। আবার আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার একটি গোল তাঁকে অমর করেছে। বিশ্বকাপ সব সময় ন্যায়বিচারের আদালত নয়; এটি অনিশ্চয়তারও সবচেয়ে সুন্দর ক্ষেত্র। হয়তো এই অনিশ্চয়তাই ফুটবলের সবচেয়ে বড় গণতন্ত্র।

    ২০২২ সালে মেসি বিশ্বকাপ জিতেছেন। এতে ফুটবল তাঁর কাছে ঋণ শোধ করেছে। কিন্তু সত্যি বলতে কী, ফুটবল কারও কাছে ঋণী নয়। যদি তিনি সেই ফাইনালে হেরে যেতেন, তাহলেও তিনি লিওনেল মেসিই থাকতেন। যেমন ২০১৪ সালের পরও তিনি ছিলেন সর্বকালের অন্যতম সেরা।

    একইভাবে লামিনে ইয়ামাল যদি ভবিষ্যতে বিশ্বকাপ জিতে যান, তবে তা হবে তাঁর প্রজন্মের এক মহাকাব্যিক ব্যক্তিত্ব। আর যদি কখনও বিশ্বকাপ না-ও জেতেন, তাহলে কি তাঁর শিল্পের মূল্য কমে যাবে? মাইকেল অ্যাঞ্জেলোর কোনো ভাস্কর্যের মূল্য কি নোবেল পুরস্কার না পাওয়ায় কমে যায়? শিল্পের পরিমাপ সব সময় পুরস্কারে হয় না। ফুটবলও শেষ পর্যন্ত শিল্পেরই এক রূপ।

    না চাইলেও আসলে বিশ্বকাপকে একটি চূড়ান্ত নৈতিক বিচারক বানিয়ে ফেলেছি আমরা। যেন ট্রফিটি নির্ণায়ক, বলে দেয়– কে মহৎ আর কে নয়। অথচ বিশ্বকাপের ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে, এটি প্রতিভা, প্রস্তুতি, ভাগ্য, সময়, ইনজুরি, একটি ভুল পাস কিংবা একটি টাইব্রেকারের সম্মিলিত নাট্যমঞ্চ।

    অনেকে বলেন, ইয়ামালই হবেন নতুন মেসি, তারা হয়তো ভবিষ্যতের প্রতি অতি উদার। আবার যারা মনে করেন, মেসির উচ্চতায় পৌঁছানো অসম্ভব, তারাও হয়তো সময়ের সৃজনশীলতাকে মূল্যায়ন করছেন না। ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ভুলগুলোর একটি হলো, পরবর্তী প্রজন্মকে পূর্ববর্তী প্রজন্মের ছায়ায় আটকে রাখা।

    মহাভারতের একলব্য শেষ পর্যন্ত নিজের অঙ্গুলি উৎসর্গ করেছিলেন। কিন্তু আধুনিক ফুটবলের একলব্যদের কোনো অঙ্গুলি কেটে দিতে হয় না। তাদের প্রয়োজন নিজেদের স্বকীয়তার চর্চা করা। কারণ প্রকৃত উত্তরাধিকার নিহিত অনুকরণে নয়, অতিক্রমে।

    তাই ইয়ামাল একলব্য কিনা, মেসি দ্রোণাচার্য কিনা– এটি প্রশ্ন হওয়া উচিত নয়। বরং প্রশ্ন হওয়া উচিত, বিশ্বকাপের অনিশ্চয়তা আমাদের কী শেখায়?

    শেখায়– সোনালি সেই ট্রফি গন্তব্য হতে পারে, পরিচয় নয়। বিশ্বকাপ একজন খেলোয়াড়ের জীবনের সবচেয়ে উজ্জ্বল অলংকার হতে পারে, কিন্তু তাঁর শিল্পের একমাত্র পরিমাপক নয়। মেসি বিশ্বকাপ জিতেও মহান; ইয়ামাল বিশ্বকাপ না জিতেও মহান হতে পারেন। আবার উল্টো ঘটনাও সত্য হতে পারে।

    কারণ ফুটবল শেষ পর্যন্ত মহাভারত নয়, যেখানে পূর্বলিখিত নিয়তি অপেক্ষা করে থাকে। ফুটবল এমন এক মহাকাব্য, যার শেষ পৃষ্ঠাটি এখনও লেখা হয়নি। সেখানে দ্রোণাচার্যও একদিন বিস্মিত হন, আর একলব্যও নিজের ভাষায় ইতিহাস লিখে ফেলেন।

    বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফিটি সেই অমোঘ সত্যেরই আরেক নাম– অনিশ্চয়তা।

    এম এম খালেকুজ্জামান
    আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
    adv.mmkzaman@gmail.com

    সূত্রঃ দৈনিক সমকাল

  • বিশ্বকাপে মাঠের বাইরের তারকা ইয়ামালের ছোট ভাই

    বিশ্বকাপে মাঠের বাইরের তারকা ইয়ামালের ছোট ভাই

    বিশ্বকাপের আলোচনায় সাধারণত জায়গা করে নেন মাঠে দাপিয়ে বেড়ানো তারকারা। কিন্তু এবার সেই প্রচলিত চিত্র বদলে দিয়েছেন মাত্র তিন বছরের এক শিশু। স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালের ছোট ভাই কেইন মাঠে না নেমেও নিজের প্রাণবন্ত উপস্থিতি আর দুষ্টুমিতে হয়ে উঠেছেন বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণ।

    স্পেনের প্রতিটি ম্যাচেই গ্যালারিতে দেখা যাচ্ছে ছোট্ট কেইনকে। তার হাসি, উচ্ছ্বাস, নাচ, মজার অঙ্গভঙ্গি কিংবা ক্যামেরার সামনে স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়া মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ফলে ফুটবলারদের পাশাপাশি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে জায়গা করে নিয়েছে এই খুদে দর্শকও।

    আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোও কেইনকে নিয়ে একের পর এক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে। অনেকের মতে, এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় চমক কোনো গোল বা ট্রফি নয়, বরং গ্যালারিতে থাকা এই তিন বছরের শিশুটি। কেউ তাকে ‘বিশ্বকাপের ক্ষুদে তারকা’, আবার কেউ ‘স্পেনের গ্যালারি সুপারস্টার’ বলেও অভিহিত করছেন।

    স্পেনের ম্যাচ চলাকালে সম্প্রচার ক্যামেরা যখনই কেইনের দিকে ঘুরে যায়, তখনই তার হাসিখুশি মুখভঙ্গি দর্শকদের মন জয় করে নেয়। কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামকে হারানোর পরও এমনই এক মুহূর্তে আবার আলোচনায় আসে সে। খেলোয়াড়রা মাঠে জয় উদযাপনে ব্যস্ত থাকলেও ক্যামেরায় ধরা পড়ে গ্যালারিতে থাকা কেইনের আনন্দ-উচ্ছ্বাস। তার দুষ্টুমি দেখে হাসিতে মেতে ওঠেন বড় ভাই লামিন ইয়ামালও। সেই দৃশ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

    অবশ্য কেইনের পরিচিতি এবারই প্রথম নয়। ২০২৪ সালে স্পেন ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ভাইয়ের সঙ্গে শিরোপা উদযাপনে অংশ নিয়েছিল সে। একই বছর প্যারিসে ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানে ছোট্ট কালো স্যুট ও স্নিকার্স পরে রেড কার্পেটে হেঁটে নজর কাড়ে এই খুদে।

    পারিবারিকভাবে লামিন ইয়ামাল ও কেইনের মা একই হলেও তাদের বাবা আলাদা। ইয়ামালের বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর জন্ম হয় কেইনের। তবে বয়সের প্রায় ১৫ বছরের ব্যবধান দুই ভাইয়ের সম্পর্কের গভীরতায় কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি।

    ছোট ভাইকে নিয়ে ইয়ামাল বরাবরই আবেগপ্রবণ। তিনি বলেন, ‘আমার ছোট ভাই আমার কাছে সবকিছু। আমি তাকে প্রচণ্ড ভালোবাসি। মনে হয় সে আমার নিজের সন্তান।’

    অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে স্পেনের জয়ের পর গ্যালারিতে দুই হাত তুলে ‘ভামোস!’ বলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায় কেইনকে। সেই দৃশ্যও দর্শকদের হৃদয় ছুঁয়ে যায়।

    ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে জন্ম নেওয়া কেইন এখনো শৈশবের আনন্দে মেতে থাকলেও ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে পরিচিত মুখে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে, বিশ্ব ফুটবলের নতুন সুপারস্টার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছেন লামিন ইয়ামাল। একসময় কঠিন আর্থিক বাস্তবতায় বেড়ে ওঠা এই বার্সেলোনা তারকা জানিয়েছেন, এখন সবচেয়ে বেশি আনন্দ পান মায়ের মুখে হাসি দেখতে এবং ছোট ভাইকে সুন্দর শৈশব উপভোগ করতে দেখে।

    বর্তমানে একজন মাঠে পায়ের জাদুতে দর্শকদের মুগ্ধ করছেন, আর অন্যজন গ্যালারিতে নিজের নিষ্পাপ হাসি, উচ্ছ্বাস ও প্রাণচাঞ্চল্যে কোটি মানুষের ভালোবাসা কুড়িয়ে নিচ্ছে।

  • বিশ্বকাপের ফাইনালে মেসির মুখোমুখি হওয়া নিয়ে যা বলেছিলেন ইয়ামাল

    বিশ্বকাপের ফাইনালে মেসির মুখোমুখি হওয়া নিয়ে যা বলেছিলেন ইয়ামাল

    আগামী ১৯ জুলাই ফুটবল বিশ্ব দেখতে যাচ্ছে এক রূপকথার ফাইনাল। একদিকে ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন স্পেন, অন্যদিকে কোপা আমেরিকার ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা—বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে মুখোমুখি হচ্ছে এই দুই পরাশক্তি।

    তবে এই ব্লকবাস্টার ফাইনালের মূল আকর্ষণ কেবল ট্রফি জয় নয়, বরং ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম অবিশ্বাস্য এক নিয়তি। ফুটবল ভক্তদের সব আলো এখন কেড়ে নিচ্ছেন দুই মহাতারকা: লিওনেল মেসি এবং লামিন ইয়ামাল।

    আর্জেন্টিনার এই জীবন্ত কিংবদন্তির সঙ্গে ফুটবলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠে নামার স্বপ্ন দেখতেন ইয়ামাল। অবশেষে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় মঞ্চে বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে সেই স্বপ্ন।

    সম্প্রতি মেসির মুখোমুখি হওয়া প্রসঙ্গে জনপ্রিয় স্পোর্টস প্ল্যাটফর্ম ডেজন-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইয়ামাল হাসিমুখে বলেছিলেন, ‘আমি একটু বড় হয়েছি, আর লিও-ও (অভিজ্ঞতায়) বেড়েছে। আশা করি আমি একটি ফাইনালে তার মুখোমুখি হতে পারব, বিশেষ করে যেহেতু আমাদের মধ্যে ফিনালিসিমা ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত মাঠে গড়ায়নি।’

    অবশেষে ইয়ামালের সেই স্বপ্নই সত্যি হতে যাচ্ছে। ফুটবল অমরত্বের লড়াইয়ে মেসিরই মুখোমুখি দাঁড়াতে যাচ্ছেন এই স্প্যানিশ পোস্টারবয়।

    আগামী রোববার (১৯ জুলাই) ফাইনালের মহারণে এই দুজন মুখোমুখি হবেন একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে। একদিকে মেসির সামনে তার সোনালী ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরার হাতছানি, অন্যদিকে তরুণ ইয়ামালের সামনে বিশ্বজয়ের মঞ্চে নিজেকে নতুন রাজা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ। ফুটবলের এই মহাকাব্যিক লড়াইয়ের অপেক্ষায় এখন পুরো বিশ্ব।

  • চিত্রনাট্য লিখতে চেয়েছিলেন এমবাপ্পে, লিখলেন ইয়ামাল

    চিত্রনাট্য লিখতে চেয়েছিলেন এমবাপ্পে, লিখলেন ইয়ামাল

    কিলিয়ান এমবাপ্পে মাথা নোয়ালেন। ঘাসের দিকে তাকিয়ে ছিলেন অন্তত এক মিনিট। শরীর দিয়ে ঘাম ঝরছে। সতীর্থ আরও কয়েকজন মাঠ ছাড়তে চাচ্ছিলেন না। সান্ত্বনা দেয়ার মতো কেউ নেই। পুরো টিমই বিধ্বস্ত। ডালাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামের চিত্র এটাই। খেলার খবর সবাই জানেন। ফরাসিদের বিশ্বকাপের স্বপ্ন ছিনিয়ে নিয়েছে স্পেন। চারদিকে আলাপ ছিল- এই অপ্রতিরোধ্য ফ্রান্সকে কে থামাবে। কিন্তু স্পেন থামিয়েই দিলো। নাটকীয় ফলাফল। ভাষ্যকাররা বলছিলেন, বল ফ্রান্সের জাল চিনে ফেলেছে। একের পর এক গোল যেভাবে হচ্ছিল তাতে এটা মনে হওয়ারই কথা। মাঝ মাঠেই খেলা হয় প্রথমার্ধে। পেনাল্টি ছাড়া এমন কোনো অ্যাকশন ছিল না। ফরাসিদের ভয় ছিল ইয়ামালকে নিয়ে। সেই ইয়ামালই তাদের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে দিয়েছেন। ইয়ামাল কখন যে ডি বক্সের ভেতরে ঢুকে পড়েছেন তা টেরই পাননি ডিফেন্ডার লুকাস দিনিয়ে। বল নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে ইয়ামালের শরীরে টাচ লাগে। এরপর যা হওয়ার তাই হলো। নির্ভেজাল পেনাল্টি। এই নিখুঁত পেনাল্টি শট নিলেন মিকেল ওইয়ারজাবাল। এ নিয়ে বিশ্বকাপে তার গোল সংখ্যা হলো ৫। খেলার নিয়ন্ত্রণ চলে যায় স্পেনের হাতে। খেলা দেখে মনে হচ্ছিল- ফ্রান্সকে ফুটবলের প্রথম পাঠ শেখাচ্ছে স্পেন। সেমিফাইনালের মতো খেলা নয়। যদিও এই খেলা ঘিরে অনেক হিসেব-নিকেশ ছিল। ফ্রান্সের সাবেক অধিনায়ক প্যাট্রিক ভিয়েরা আইটিভিকে বলেছেন, পুরো টিমে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি লক্ষ্য করা গেছে। জানি না তারা এই স্প্যানিশ দলটিকে নিয়ে অতিরিক্ত ভয় পেয়েছিল কিনা। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার মতো ব্যক্তিত্ব ও চরিত্রের অভাব ছিল তাদের মধ্যে। কিলিয়ান এমবাপ্পে বলের জন্য হা-হুতাশ করছিলেন। এক পর্যায়ে মনে হলো তিনি সেন্ট্রাল স্ট্রাইকার হিসেবে খেলছেন না। তিনি ডানে-বামে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। বল খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করছেন। খেলায় আরও বেশি সম্পৃক্ত হতে চাচ্ছেন। কিন্তু সব চেষ্টাই ব্যর্থ হয়ে যায়। স্পেনের খেলাটা সত্যি অসাধারণ ছিল। তারা এমনভাবে বল ঘুরাচ্ছিল তখন ফরাসিদের চরম অসহায়ত্ব দেখে কে! কিন্তু পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে অত্যন্ত উজ্জ্বল ছিল ফরাসিদের আক্রমণভাগ। তবে ওলিসে এবং দেম্বেলের পারফরম্যান্স ছিল বেশ হতাশাজনক। নির্মম সত্য হলো- ফরাসি শিবিরে আর কোনো আলোর ঝলকানি দেখা যায়নি। স্পেন আসলেই এক অসমান্য ম্যাচ খেলেছে। বিখ্যাত ফরাসি দৈনিক লেকিপ বলেছে, প্রতিটি ক্ষেত্রে ফ্রান্স সম্পূর্ণ কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল। স্পেনের কাছে হারাটা অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত। ২০২৪ ইউরোর পর ফরাসিদের বিপক্ষে আরও একবার নিজেদের আধিপত্যের পুনরাবৃত্তি ঘটালো স্প্যানিশরা। ফরাসি বাস্তিল দিবসে এই পরাজয়ে সবকিছু ম্লান হয়ে গেল। তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছা হলো না তাদের।
    ম্যাচের কিছু অংশে স্পেনের নিখুঁত নিয়ন্ত্রণের সামনে ফ্রান্সের কোনো প্রতিরোধ গড়ে না ওঠায় তৈরি হয়েছিল অস্বস্তিকর পরিস্থিতি। পেনাল্টির আট মিনিট পর ফরাসি শিবিরে দুঃস্বপ্ন নেমে আসে। পিঠের ব্যথার কারণে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন দলের নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার উইলিয়াম সালিবা। এরপর ফ্রান্স কেমন যেন খেলার গতি হারিয়ে ফেলে। চূড়ান্ত পর্যায়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে স্পেন। আর গোলের জন্য সব প্রশংসা পাচ্ছেন পেদ্রো পোরো। স্পেনের গোটা টিমের বিল্ডআপও ছিল চমৎকার। কুকুরেয়ার নাম উল্লেখ করতেই হয়। পোরোর পাস দেয়া এবং সঙ্গে সঙ্গে এগিয়ে যাওয়াটাও ছিল দারুণ। যদিও ফ্রান্স কয়েকবার চেষ্টা করেছিল স্পেনের জালে বল পাঠাতে। কিন্তু সবই ছিল এলোমেলো, নিয়ন্ত্রণহীন। এমবাপ্পেকে যেমন খুঁজে পাওয়া যায়নি, পুরো টিমটার অবস্থাও ছিল নাজুক। ম্যাচটি শেষ হয় গ্যালারিতে উপস্থিত স্প্যানিশ সমর্থকদের বিপুল আনন্দধ্বনি আর ওলে ওলে স্লোগানের মধ্য দিয়ে। ফরাসি শিবিরে তখন কান্না।

  • আমরা ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন, কাউকে ভয় পাই না

    আমরা ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন, কাউকে ভয় পাই না

    সোমবার ১৯ বছরে পা দিয়েছেন স্পেনের তরুণ তুর্কি লামিন ইয়ামাল। জন্মদিনের আবহে ডলাসে বসে তিনি যেভাবে ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনালের আগের সংবাদ সম্মেলনে কথা বললেন, তাতে বয়সের চেয়ে তার মানসিক পরিপক্কতাই বেশি ফুটে উঠল। ফ্রান্স কি স্পেনকে ভয় পাচ্ছে? এমন প্রশ্নে ইয়ামাল যেন সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন ফরাসিদের। তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, ‘আমরা ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন, আমরা কাউকে ভয় পাই না।’

    এর আগে ইয়ামাল বলেছিলেন, ফ্রান্সের স্পেনকে ভয় পাওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আবারও তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো দ্বিধা না করে বলেন, ‘আমাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল আমি ফ্রান্সকে ভয় পাই কি না, আমি বলেছি না। আমরা ইউরোপ চ্যাম্পিয়ন। ফুটবল মাঠে আমরা কাউকে ভয় পাই না। আমার সেই মন্তব্যকে তারা কীভাবে ব্যাখ্যা করবে, তা তাদের ব্যাপার।’

    ফ্রান্সের জুলস কুন্দে অবশ্য ইয়ামালের মন্তব্যকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে চাননি। তিনি কিছুটা উপেক্ষা করেই বলেছেন, ‘ইয়ামাল কেমন তা আমার জানা আছে।’ কিন্তু মাঠে নামার আগে ইয়ামালের এই আত্মবিশ্বাস যে ফরাসি রক্ষণভাগের জন্য বড় চাপের কারণ, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। অবশ্য এবারের বিশ্বকাপে ছয় ম্যাচে ইয়ামালের গোল মাত্র একটি, সৌদি আরবের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে। কোনো অ্যাসিস্ট নেই।

    সমালোচকরা অনেকেই বলছেন, বড় মঞ্চে ইয়ামাল তার সেরা ছন্দে নেই। কিন্তু এই সমালোচনাকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে ইয়ামাল বলেন, ‘তারা যদি মনে করে আমি আমার সেরা ছন্দে নেই, তবে মঙ্গলবারের ম্যাচের জন্য আমার কাছ থেকে কোনো প্রত্যাশা না রাখাই ভালো। এটিই আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। আমরা সবাই ২০১০ সালের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন দেখছি। কেন আমরা পারব না?’

    পরিসংখ্যান বলছে, বড় টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে ইয়ামাল বরাবরই বিধ্বংসী। ইউরো ২০২৪-এর সেমিফাইনালে ফ্রান্সের জালে গোল করেছিলেন তিনি। আবার নেশনস লিগের সেমিফাইনালেও জোড়া গোল করেছিলেন। ফ্রান্সের বিপক্ষে তার এই ধারাবাহিকতা কি এবারও অব্যাহত থাকবে? সংবাদ সম্মেলনে ইয়ামালের আত্মবিশ্বাসই বলে দিচ্ছে, নিজের জন্মদিনে নিজেকে নিশ্চয়ই আরেকটি গোল উপহার দিতে চাইবেন।

  • এমবাপ্পে-ইয়ামাল দ্বৈরথে কে সবচেয়ে সফল?

    এমবাপ্পে-ইয়ামাল দ্বৈরথে কে সবচেয়ে সফল?

    বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মঞ্চে মুখোমুখি ফ্রান্স ও স্পেন। একদিকে কিলিয়ান এমবাপ্পের ক্ষিপ্রতা আর গোল করার অদম্য ক্ষুধা, অন্যদিকে লামিন ইয়ামালের জাদুকরী ফুটবল। ডালাসের এআইটি অ্যান্ড টি স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার যখন দুই দল মুখোমুখি হবে, তখন মাঠের লড়াই ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে এই দুই মহাতারকার ব্যক্তিগত দ্বৈরথ।

    এবারের বিশ্বকাপে প্রত্যাশিতভাবেই কিলিয়ান এমবাপ্পে গোলমেশিন রূপে আবির্ভূত হয়েছেন। ৬ ম্যাচে ৮ গোল করে গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়ে এগিয়ে। রিয়াল মাদ্রিদে দুর্দান্ত এক মৌসুম কাটানোর পর জাতীয় দলের জার্সিতেও তিনি অপ্রতিরোধ্য। নিজে গোল করার পাশাপাশি মোট ১১টি গোলে অবদান রেখেছেন। ফ্রান্সের আক্রমণভাগ হয়ে উঠেছে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বিধ্বংসী।

    পরিসংখ্যানের চেয়েও বড় কথা, এমবাপ্পে এখন শুধু গোলই করছেন না, দলের প্রয়োজনে ডিফেন্সেও ভূমিকা রাখছেন সমানতালে। ফ্রান্সের ফুটবল বিশেষজ্ঞ জুলিয়েন লরেনসের মতে, ‘জিনেদিন জিদান বা মিশেল প্লাতিনির চেয়েও বড় খেলোয়াড় হওয়ার পথে এমবাপ্পে। এই টুর্নামেন্টের পর তিনি সম্ভবত ফ্রান্সের ইতিহাসের সেরা ফুটবলার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবেন।’

    অন্যদিকে মাত্র ১৯ বছরের ইয়ামালকে অনেকেই দেখছেন ফুটবলের ভবিষ্যৎ হিসেবে। বার্সেলোনার এই বিস্ময়বালককে খোদ জাভি হার্নান্দেজ তুলনা করেছেন মেসি, ম্যারাডোনা ও পেলের সাথে। এবারের বিশ্বকাপে যদিও গোলের দেখা খুব একটা পাননি, কিন্তু তার ট্যাকটিক্যাল প্রভাব স্পেনের খেলায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। প্রতিপক্ষের ডি বক্সের সামনে বল পেলেই ইয়ামাল হয়ে ওঠেন ত্রাস। কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে তার লড়াকু মানসিকতা কোচ দে লা ফুয়েন্তেকে মুগ্ধ করেছে।

    এখন পর্যন্ত ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ফুটবলে এই দুই তারকা মুখোমুখি হয়েছেন মোট ১০ বার। ইয়ামাল জয়ী হয়েছেন ৮টি ম্যাচে, এমবাপ্পের জয় মাত্র ২ ম্যাচে। জয়ের হিসেবে ইয়ামাল এগিয়ে থাকলেও, গোল করার ক্ষেত্রে আধিপত্য এমবাপ্পের। এই ১০ ম্যাচে এমবাপ্পে গোল করেছেন ৯টি, আর ইয়ামাল গোল পেয়েছেন ৬টি। গত ইউরো এবং নেশনস লিগের সেমিফাইনালে স্পেন ফ্রান্সকে হারিয়েছে ইয়ামালের হাত ধরেই। এবার কি পারবে ফ্রান্স সেই হিসাব চুকিয়ে ফাইনালে যেতে? নাকি ইয়ামাল আবারও দেখাবেন তার জাদু?

  • ফ্রান্স-স্পেন সেমিফাইনাল; পরিসংখ্যানে এগিয়ে কারা?

    ফ্রান্স-স্পেন সেমিফাইনাল; পরিসংখ্যানে এগিয়ে কারা?

    ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বাংলাদেশ সময় আজ (মঙ্গলবার) দিবাগত রাত ১টায় মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের দুই শক্তিধর দল ফ্রান্স ও স্পেন। টেক্সাসের ডালাস স্টেডিয়ামে হতে যাওয়া বহুল প্রতীক্ষিত এই ম্যাচকে অনেকেই ‘ফাইনালের আগেই ফাইনাল’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন।

    পুরো বিশ্বকাপজুড়ে দাপুটে ফুটবল খেলেছে ফ্রান্স। তাই শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। অন্যদিকে, কেপভার্দের বিপক্ষে অপ্রত্যাশিত হোঁচট খাওয়ার পর দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়ে নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরেছে স্পেন। ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা এবার বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর আক্রমণভাগকে সামলানোর কঠিন পরীক্ষায় নামছে।

    দুই দলের খেলার ধরনেও রয়েছে স্পষ্ট পার্থক্য। ফ্রান্স দ্রুতগতির পালটা আক্রমণে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে পছন্দ করে, আর স্পেন বলের দখল ধরে রেখে ধৈর্যের সঙ্গে আক্রমণ গড়ে তুলতে অভ্যস্ত।

    সেমিফাইনালে ওঠার পথে ফ্রান্সকে তেমন কোনো কঠিন বাধার মুখে পড়তে হয়নি। দলের আক্রমণভাগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। ছয় ম্যাচে আট গোল করে তিনি গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে শীর্ষ সারিতেই রয়েছেন। তার সঙ্গে আক্রমণে রয়েছেন মাইকেল ওলিসে, ব্যালন ডি’অরজয়ী উসমান দেম্বেলে এবং পিএসজির তরুণ জুটি ব্র্যাডলি বারকোলা ও ডিজায়ার দুয়ে।

    ২০ বছর পর সেমিতে স্পেন ও ফ্রান্স, জমে উঠেছে মনস্তাত্ত্বিক লড়াই

    অন্যদিকে, লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে স্পেন বল দখলভিত্তিক ফুটবল, পরিকল্পিত আক্রমণ এবং ভারসাম্যপূর্ণ দলগত পারফরম্যান্সে ভর করে শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে। রক্ষণ থেকে আক্রমণ—প্রতিটি বিভাগেই তারা দেখিয়েছে পরিপক্বতার ছাপ।

    সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে ফ্রান্সের বিপক্ষে এগিয়ে রয়েছে স্পেন। গত বছরের উয়েফা নেশনস লিগে ৫-৪ গোলের রোমাঞ্চকর জয়ের আগে ইউরো ২০২৪-এর সেমিফাইনালেও ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছিল ফরাসিদের। তবে বিশ্বকাপে টানা তৃতীয়বারের মতো সেমিফাইনালে উঠে নতুন ইতিহাস গড়েছে ফ্রান্স। এর আগে এই কীর্তি গড়তে পেরেছিল শুধু জার্মানি ও ব্রাজিল।

    মুখোমুখি পরিসংখ্যান

    এখন পর্যন্ত সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩৮ বার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে ফ্রান্স ও স্পেন। এর মধ্যে ১৮টি ম্যাচে জয় পেয়েছে স্পেন, আর ফ্রান্স জিতেছে ১৩টিতে। বাকি সাতটি ম্যাচ ড্র হয়েছে।

    ২০১৮ বিশ্বকাপের পর বড় টুর্নামেন্টে স্পেনের ধারাবাহিকতাও ঈর্ষণীয়। ২৭ ম্যাচের মধ্যে তারা হেরেছে মাত্র একটিতে, জিতেছে ১৬টি এবং ড্র করেছে ১০টি। ২০২২ বিশ্বকাপে জাপানের বিপক্ষে হারের পর টানা ১৪ ম্যাচ অপরাজিত রয়েছে স্প্যানিশরা। এই সময়ে তারা মাত্র পাঁচটি গোল হজম করেছে এবং কোনো ম্যাচেই একটির বেশি গোল খায়নি। নয়টি ম্যাচে প্রতিপক্ষকে গোলের সুযোগই দেয়নি তারা।

    তবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে দুই দলের একমাত্র আগের দেখায় জয় পেয়েছিল ফ্রান্স। ২০০৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে পিছিয়ে থেকেও শেষ ১০ মিনিটে দুটি গোল করে ৩-১ ব্যবধানে স্পেনকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল লে ব্লুরা। তাই এবার বিশ্বকাপের দ্বিতীয় মুখোমুখি লড়াইয়ে ইতিহাস বদলাবে, নাকি পুরোনো স্মৃতি ফিরবে—সেই উত্তর মিলবে ডালাসের মাঠেই।