আর্ন্তজাতিক

  • ‘ওদের আছে মেসি, আমাদের আছে সালাহ’

    ‘ওদের আছে মেসি, আমাদের আছে সালাহ’

    কোয়াটার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আজ আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ মিশর। বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলতে নামার আগে লিওনেল মেসিদেরই হুঁশিয়ারি দিয়েছে মিশর।

    রাউন্ড অফ ৩২-এ টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছে মিশর। তাদের হয়ে শেষ শট নিয়েছেন দলের সবচেয়ে বড় তারকা মোহামেদ সালাহ্‌। তিনি জানেন, এটিই তার শেষ বিশ্বকাপ হতে পারে।

    আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নামার আগে সালাহ্‌ বলেছেন, ‘আমি জানি না, এটা আমার শেষ বিশ্বকাপ কি না। তাই প্রতিটা ম্যাচ ফাইনাল ধরে খেলছি। এটাই আমার ফুটবল ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ম্যাচ। সেটা ভেবেই খেলতে নামব।’

    সালাহর উপর ভরসা রয়েছে দলের ডিরেক্টর ইব্রাহিম হাসানের। তার মতে, প্রিমিয়ার লিগে ২৫৭ গোল করা, চার বার সোনার বুট জেতা সালাহ্‌কে হালকা ভাবে নিলে প্রতিপক্ষ ভুগবে। তিনি বলেন, ‘আমরা মেসিকে নিয়ে ভাবছি না। দলের ছেলেদের বলেছি, মাঠে নেমে নিজেদের খেলাটা খেলো। দেখিয়ে দাও ওরা কাদের বিপক্ষে খেলতে নেমেছে।’

    তবে শুধু সালাহ্ নন, পুরো দলের উপরেই ভরসা দেখিয়েছেন ইব্রাহিম। তিনি বলেন, ‘ওদের দলে মেসি থাকতে পারে। আমাদের দলে সালাহ্‌ আছে। যে কোনও প্রতিপক্ষকে ও একাই শেষ করে দিতে পারে। আমাদের দলে ২৬ জন মেসি আছে।’

    মিশরকে সমীহ করছেন আর্জেন্টিনার কোচ স্কালোনি। তিনি কোনও দিনই প্রতিপক্ষকে হালকা ভাবে নেন না। এই ম্যাচেও নেবেন না। খেলার আগে সাংবাদিক বৈঠকে স্কালোনি বলেন, ‘মিশর বেশ কঠিন দল। ভালো ফুটবল খেলেছে বলেই এত দূর এসেছে। আরও একটা কঠিন লড়াই আমাদের সামনে। একটা কথা মাথায় রেখেই নামব। জিততে হবে।’

    মিশরের বিপক্ষে খেলার ধরন না বদলালেও দলে বদল করতে পারেন স্কালোনি। তিনি বলেন, ‘কাদের দলে রাখব সেটা আমি জানি। এখন তা বলব না। তবে যারা আগে বেশি খেলার সুযোগ পায়নি, তেমন কয়েক জনকে খেলাতে পারি। ওরা তরতাজা আছে। তাতে আমাদের সুবিধা হবে।’

    স্কালোনি বলেন, ‘আমরা চারটে ম্যাচই জিতেছি। তাতে আমি খুশি। কিন্তু আগের দিন রক্ষণের সময় গতির অভাব হচ্ছিল। তাই কেপ ভার্দে বল পাচ্ছিল। আমরা রক্ষণের সময়েও গতিশীল ফুটবল খেলতে ভালোবাসি। সেটা মিশরেরর বিরুদ্ধে খেলতে হবে।’

  • ‘ভাইকিং রো’ কী, কেন এই উদযাপনে মেতেছে নরওয়ে?

    ‘ভাইকিং রো’ কী, কেন এই উদযাপনে মেতেছে নরওয়ে?

    বিশ্বকাপের রেকর্ড পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় করে দিয়ে গতকাল ‘ভাইকিং রো’ উদযাপনে মেতে ওঠে নরওয়ে ফুটবল দল।

    ‘ভাইকিং রো’ এমন একটি উদযাপন, যেখানে একদল মানুষ মাটিতে বা আসনে বসে শরীর সামনে-পেছনে দুলিয়ে বৈঠা চালানোর ভঙ্গি করেন। ব্রাজিলের বিপক্ষে নরওয়ের সমর্থকরা এই উদযাপনে অংশ নেন।

    একজন ড্রামার তালে তালে গতি ঠিক করে দেন। প্রতি দুই বিট পরপর দর্শকরা একসঙ্গে ‘রো’ বলে স্লোগান দেন এবং সমবেত উদযাপন চলতে থাকে।

    এই উদযাপন মূলত নরওয়ের ভাইকিং ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে চালু হয়েছে। ৮০০ থেকে ১০৫০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে ভাইকিংদের অন্যতম প্রধান আবাসভূমি ছিল নরওয়ে। ইতিহাসের সেই ‘ভাইকিং যুগ’ আধুনিক নরওয়ে রাষ্ট্র ও জাতীয় পরিচয়ের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

    ‘ভাইকিং রো’-এর প্রবর্তক কে?

    নরওয়ের সুপরিচিত সমর্থক ওলে ফ্রয়স্তাদকে ‘ভাইকিং রো’ উদযাপনের প্রবর্তক। ২০২৬ সালের মার্চে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে সমর্থকগোষ্ঠীর সঙ্গে প্রথম এই উদযাপনের সূচনা করেন তিনি। শুরু থেকেই এটি দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। তবে বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পরই ‘ভাইকিং রো’ বিশ্বজুড়ে ভাইরাল হয়ে ওঠে। যা তাকে খ্যাতিও এনে দেয়। যে কারণে তাকে ডাকা হয় ‘মিস্টার রো রো’।

    এখন শুধু সমর্থকরাই নন, নরওয়ের ফুটবলাররাও এই উদযাপনে অংশ নিচ্ছেন। আইভরি কোস্টের বিপক্ষে নকআউট পর্বের ম্যাচের আগে এবং শেষ ষোলো নিশ্চিত করার পর দলের তারকা ফরোয়ার্ড আর্লিং হাল্যান্ড ও মিডফিল্ডার মার্টিন ওডেগার্ড সতীর্থদের নিয়ে ‘ভাইকিং রো’ উদযাপনে নেতৃত্ব দেন।

    সম্প্রতি ইনসাইড ফিফাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওলে ফ্রয়স্তাদ জানান, ‘মানুষকে একসঙ্গে একই তালে বৈঠা চালানোর ভঙ্গি করতে দেখাটা দারুণ আনন্দের। এটা ঐক্যের অনুভূতি তৈরি করে। আমার কল্পনার চেয়েও অনেক বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ভাইকিং রো। বিষয়টি সত্যিই অবিশ্বাস্য।’

  • জাল-ই- ভিসা শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে উধাও ৭১ যাত্রী

    জাল-ই- ভিসা শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে উধাও ৭১ যাত্রী

    হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মালয়েশিয়াগামী একটি ফ্লাইট ঘিরে রহস্যজনক ঘটনা ঘটেছে। বোর্ডিং পাস সংগ্রহ এবং ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করার পরও শেষ মুহূর্তে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ওঠেননি ৭১ যাত্রী। এর আগে বোর্ডিং গেটে পাঁচজন যাত্রীর ভিসা জাল বলে শনাক্ত হওয়ার পর ঘটনাটি সামনে আসে। গত শনিবার রাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা-মালয়েশিয়া রুটের বিজি-৩৮৬ ফ্লাইটটি শেষ পর্যন্ত ওই ৭৬ জন যাত্রী ছাড়াই ঢাকা ছেড়ে যায়।

    বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, বোর্ডিং গেটে পাঁচজন যাত্রীর ই-ভিসা জাল বলে শনাক্ত হয়। এরপর বোর্ডিং লাইনে থাকা আরো অনেক যাত্রী হঠাৎ করে সরে যান। পরে তাদের অনেকেই ইমিগ্রেশনের প্রস্থান সিল বাতিল করে আবার দেশে প্রবেশ করেন।

    সূত্র আরো জানায়, ওই ৭৬ জনের ভিসা যথাযথভাবে যাচাই ছাড়াই চেক-ইন কাউন্টার থেকে ‘ভেরিফায়েড’হিসেবে গ্রহণ করে বোর্ডিং পাস ইস্যু করা হয়েছিল। পরে ইমিগ্রেশনও তাদের বিদেশযাত্রার অনুমতি দেয়। কিন্তু বোর্ডিং গেটে গিয়ে পাঁচজনের জাল ই-ভিসা ধরা পড়ে।

    বিমানবন্দর-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বিমানে না ওঠা ৭৬ জনই ট্যুরিস্ট ভিসায় মালয়েশিয়া যাচ্ছিলেন। তবে একটি ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে দেশটিতে গিয়ে থেকে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

    এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বোর্ডিং চলাকালে কয়েকজন যাত্রীকে আলাদা করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়। পরে তাদের ভিসায় অসঙ্গতি ধরা পড়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে লাইনে থাকা আরো কয়েকজন যাত্রী সেখান থেকে সরে যান। কিছুক্ষণ পর কয়েকজনকে আনুষ্ঠানিকভাবে অফলোড করা হলে বোর্ডিং গেট এলাকায় উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়।

    বিমান বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ বলছে, ওই ফ্লাইটের ১০ জন যাত্রীকে উড়োজাহাজে ওঠার পর আটকে দেয় ইমিগ্রেশন বিভাগ। এরপর আরো পাঁচ যাত্রীকে বিমানবন্দরের বোর্ডিং গেটে আটকে দেওয়ার পর ওই ফ্লাইটের আরো ৬১ জন যাত্রী আর বোর্ডিং গেটেই আসেননি। এর মধ্যে বোর্ডিং গেটে পাঁচজন যাত্রীর ভিসার সঙ্গে পাসপোর্টের তথ্যের অসঙ্গতি ধরা পড়ায় তাদের অফলোড করা হয়।

    বিমানের মহাব্যবস্থাপক জনসংযোগ বোসরা ইসলাম বলেন, মালয়েশিয়াগামী বিমানের ওই ফ্লাইটে ২৮৮ জন যাত্রী টিকিট কেটেছিলেন। তাদের মধ্যে দশজন যাত্রীকে অফলোড করেছে ইমিগ্রেশন বিভাগ। পাঁচজনকে পাসপোর্ট চেকিংয়ের সময় ভিসা সমস্যায় আটকে দেওয়া হয়েছে। ১০ জনকে ইমিগ্রেশনে আটকায়। ফ্লাইটে ৬১ জন যাত্রীকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এরপর আরো ৬১ জন যাত্রী যারা বোর্ডিং পাস নিয়েছিলেন, কিন্তু বোর্ডিংয়ের জন্য আর গেটেই আসেননি। শেষ পর্যন্ত ১৯২ জন যাত্রী নিয়ে সাড়ে ৮টার দিকে ছেড়ে যায় ফ্লাইটটি।

    বিমানবন্দর সূত্র জানায়, এই ফ্লাইটের ৭৬ জন যাত্রী প্লেনে চড়েননি। তাদের রেখেই চলে যায় ফ্লাইট। ৭৬ জনের মধ্যে বোর্ডিং গেটে পাঁচজন যাত্রীর ভিসার সঙ্গে পাসপোর্টের মিল না থাকায় তাদের অফলোড করা হয়। এছাড়া ইমিগ্রেশন থেকে ১০ জন অফলোড করা হয়েছে।

    বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এস এম রাগিব সামাদ বলেন, ঘটনাটি তারা খতিয়ে দেখছেন। বিমানবন্দরে কর্মরত বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

    পুলিশের বিশেষ ব্রাঞ্চের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার চালু হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। কিছু যাত্রী টুরিস্ট ভিসা নামে মালয়েশিয়ায় কাজ করার জন্য ঢাকা ত্যাগ করছিল। ইমিগ্রেশন পুলিশের বিষয়টি নজরে এলে তারা অফলোড করে।

    অবৈধভাবে বিদেশ যেতে কাগজপত্রে ত্রুটি রেখেই বিনা বাধায় ইমিগ্রেশন পার করিয়ে দেয় একটি অসাধু চক্র। যা ‘বডি কন্ট্রাক্ট’ নামে পরিচিত। এর সঙ্গে বিমানবন্দর এবং এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তারা জড়িত থাকতে পারে বলে গোয়েন্দা সংস্থার ধারণা।

    যেসব যাত্রীকে অফলোড করা হয়েছে, তাদের বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের বিশেষ শাখার এ কর্মকর্তা বলেন, আমার কাছে তাদের জাল ভিসা সংক্রান্ত কোনো তথ্য নেই। তবে এসব ক্ষেত্রে দেখা যায় একজন যাত্রী ট্যুরিস্ট ভিসায় যাচ্ছেন, কিন্তু তার আর্থ-সামাজিক অবস্থার সঙ্গে বিদেশে ভ্রমণের বিষয়টি মেলে না। বা আরো কতগুলো বিষয় মিলিয়ে সন্দেহের কারণ থাকে।

    বিমানবন্দর সূত্র জানিয়েছে, বিমানে না ওঠা ৭৬ জনই ট্যুরিস্ট ভিসায় মালয়েশিয়া যাচ্ছিলেন। তবে একই ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে তাদের মালয়েশিয়ায় থেকে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

  • সম্মতি ছাড়াই চুম্বনের দৃশ্য, সেদিন কেঁদেছিলেন রেখা

    সম্মতি ছাড়াই চুম্বনের দৃশ্য, সেদিন কেঁদেছিলেন রেখা

    অভিনেত্রী রেখার জীবনের অন্যতম আলোচিত ও বিতর্কিত অধ্যায় হলো তাঁর কৈশোরে শুটিং করা একটি চুম্বনদৃশ্য। প্রায় ছয় দশক পর সেই ঘটনার প্রসঙ্গ আবার সামনে এনেছেন অভিনেতা বিশ্বজিৎ চ্যাটার্জির মেয়ে পল্লবী চ্যাটার্জি।

    পল্লবী সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তাঁর বাবা যদি সত্যিই ওই দৃশ্যে অংশ নিয়ে থাকেন, তাহলে আগে রেখার সম্মতি নেওয়া উচিত ছিল। তাঁর ভাষায়, ‘এটা অবশ্যই ভুল ছিল। যে-ই করুক না কেন, আগে সম্মতি নেওয়া উচিত ছিল।’ এ মন্তব্য নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে বলিউডের সেই বহুল বিতর্কিত ঘটনাকে, যা প্রথমবার বিস্তারিতভাবে উঠে এসেছিল লেখক ইয়াসের উসমানের লেখা জীবনীগ্রন্থ ‘রেখা: দ্য আনটোল্ড স্টোরি’-তে।

    যে দৃশ্যের জন্য প্রস্তুত ছিলেন না রেখা
    ঘটনাটি ১৯৬৯ সালের দিকে। তখন মাত্র ১৫ বছর বয়সী রেখা হিন্দি সিনেমায় নিজের জায়গা তৈরির জন্য সংগ্রাম করছেন। দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রজগৎ থেকে আসা এই কিশোরী তখনো বলিউডের নিয়মকানুন ভালোভাবে জানতেন না।

    সেই সময় নির্মিত হচ্ছিল ‘আনজানা সফর’ নামের একটি ছবি। ছবিটি পরিচালনা করছিলেন রাজা নওয়াথে। ছবিতে রেখার বিপরীতে ছিলেন বিশ্বজিৎ।

    জীবনীগ্রন্থের বর্ণনা অনুযায়ী, মুম্বাইয়ের মেহবুব স্টুডিওতে একটি রোমান্টিক দৃশ্যের শুটিং চলছিল। কিন্তু দৃশ্যটির প্রকৃত পরিকল্পনা সম্পর্কে নাকি আগে থেকে কিছুই জানতেন না রেখা। ক্যামেরা চালু হওয়ার পর বিশ্বজিৎ হঠাৎই তাঁকে জড়িয়ে ধরে চুমু খান। বইটির দাবি, পরিচালক ‘কাট’ বলেননি আর চুম্বনদৃশ্যটি কয়েক মিনিট ধরে চলতে থাকে। সেটে উপস্থিত অনেকেই তখন হাততালি, শিস কিংবা উল্লাস প্রকাশ করছিলেন।

    বইয়ে বলা হয়েছে, হতভম্ব হয়ে যান কিশোরী রেখা। তিনি চোখ বন্ধ করে দাঁড়িয়ে ছিলেন আর তাঁর চোখ বেয়ে নেমে আসছিল জল। এ বর্ণনা প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই ঘটনাটি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। কারণ, এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি ছিল—রেখার সম্মতি আদৌ ছিল কি না।

    রেখা। এএফপি

    ‘যেকোনো মেয়ের জন্যই এটা ট্রমাটিক’
    পল্লবী চ্যাটার্জি মনে করেন, ঘটনাটি সত্যি হয়ে থাকলে তা যেকোনো কিশোরীর জন্যই মানসিকভাবে আঘাতকর হতে পারে।

    পল্লবীর মতে, সে সময়ের চলচ্চিত্র নির্মাতাদের মধ্যে অনেকেই অভিনেতা-অভিনেত্রীদের পুরো দৃশ্য না জানিয়ে অভিনয় করাতেন, যাতে স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়া ক্যামেরায় ধরা পড়ে। তবে তিনি এটাও স্পষ্ট করে বলেছেন, কারও সম্মতি ছাড়া এমন কিছু করা ঠিক নয়।

    পল্লবী বলেন, ‘তখন রেখা খুবই ছোট ছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে একজন তরুণী কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাবে? অনেক সময় অস্বস্তিকর কিছু ঘটলেও প্রতিবাদ করার সাহস হয় না।’

    আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দুই পরিবারের মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্কও ছিল। পল্লবীর ভাষ্য অনুযায়ী, রেখা প্রায়ই তাঁদের বাড়িতে যেতেন এবং দুই পরিবার ছিল ঘনিষ্ঠ। ফলে ঘটনাটি যদি সত্যিই ঘটে থাকে, তাহলে সেটি রেখার কাছে আরও বেশি বিশ্বাসভঙ্গের মতো মনে হওয়াই স্বাভাবিক।

    বিশ্বজিতের ব্যাখ্যা
    এ বিতর্ক নতুন নয়। অতীতেও বিশ্বজিৎ এ নিয়ে কথা বলেছেন। তাঁর দাবি ছিল, এটি ছিল পরিচালকের নির্দেশ। পরিচালক নাকি চেয়েছিলেন, রেখার মুখে প্রকৃত বিস্ময়ের অভিব্যক্তি ফুটে উঠুক। সে কারণেই আগে থেকে তাঁকে কিছু জানানো হয়নি।
    বিশ্বজিৎ এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘এটা আমার ব্যক্তিগত আনন্দের জন্য ছিল না। ছবির প্রয়োজনে করা হয়েছিল। কিন্তু রেখা নিজেকে প্রতারিত মনে করেছিলেন এবং ভীষণ রেগে গিয়েছিলেন।’

    বিশ্বজিতের এ বক্তব্য বিতর্ক কমানোর বদলে আরও বাড়িয়ে দেয়। কারণ, অনেকের মতে, কোনো দৃশ্যের শিল্পগত প্রয়োজন থাকলেও একজন অভিনেত্রীর সম্মতি ছাড়া তা করা নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।

    ষাট ও সত্তরের দশকের বলিউডে আজকের মতো ‘ইন্টিমেসি কো-অর্ডিনেটর’, লিখিত সম্মতি বা শিল্পীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্পষ্ট নীতিমালা ছিল না। অনেক সময় পরিচালক বা প্রযোজকের সিদ্ধান্তই ছিল চূড়ান্ত। বিশেষ করে নতুন অভিনেত্রীদের পক্ষে আপত্তি তোলা কঠিন ছিল।

    বর্তমান সময়ে পরিস্থিতি অনেকটাই বদলেছে। এখন অন্তরঙ্গ দৃশ্যের আগে বিস্তারিত আলোচনা, লিখিত সম্মতি এবং পেশাদার তত্ত্বাবধানকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। হলিউডের পাশাপাশি ভারতীয় চলচ্চিত্রশিল্পেও ধীরে ধীরে এ সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।

  • ‘ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের পর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে ফিফা সীমা ছাড়িয়ে গেছে’

    ‘ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের পর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে ফিফা সীমা ছাড়িয়ে গেছে’

    শেষ ষোলোতে তারকা এক ফুটবলারকে ছাড়াই মাঠে নামতে হতো যুক্তরাষ্ট্রকে। আগামীকাল সিয়াটলে বাংলাদেশ সময় সকালে হতে যাওয়া ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম। কিন্তু নকআউট পর্বের ম্যাচের আগমুহূর্তে বদলে গেল সিদ্ধান্ত। তাতে তোপের মুখে পড়েছে ফিফা।

    সানফ্রান্সিসকোতে গত ২ জুলাই বসনিয়ার বিপক্ষে শেষ বত্রিশের ম্যাচে লাল কার্ড দেখেন যুক্তরাষ্ট্রের তারকা ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগান। ফলে স্বাভাবিকভাবেই তিনি এক ম্যাচ নিষিদ্ধ এবং শেষ ষোলোতে বেলজিয়াম ম্যাচে তাঁর খেলার কথা না। অথচ সেই শাস্তি কার্যকর হওয়ার আগেই স্থগিত করে দিল ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এরপর ফিফাকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন। বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থার এমন কর্মকাণ্ড নিয়ে উয়েফা আজ এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘গতকাল ফুটবলার ফোলারিন বালোগানকে লাল কার্ডের কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরোপিত এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা এক বছরের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফিফা সীমা অতিক্রম করেছে।’

    গতকাল বালোগানের ওপর থেকে শাস্তি তুলে নেয় ফিফা। এক বিবৃতিতে বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা বলেছে, ‘ফিফা ডিসিপ্লিনারি কোডের ২৭ নম্বর অনুচ্ছেদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার কার্যকর হওয়া এক বছরের পরীক্ষামূলক সময়ের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।’

    তবে বালোগান ফের অপরাধ করলে ফিফা শাস্তির ব্যাপারটি ভেবে দেখবে। বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা বলেছে, ‘যদি ফোলারিন বালোগান পরীক্ষামূলক সময়ের মধ্যে একই ধরনের ও একই মাত্রার আরেকটি অপরাধ করেন, তাহলে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হবে এবং বর্তমান শাস্তি কার্যকর হবে। নতুন অপরাধের জন্য আরোপিত অতিরিক্ত শাস্তির বাইরে এই শাস্তিও কার্যকর হবে।’

    বালোগান শেষ বত্রিশে বসনিয়া ডিফেন্ডার তারিক মুহারেমোভিচকে করা এক ট্যাকলের জন্য প্রথমে হলুদ কার্ডও দেখেননি। পরে ভিডিও সহকারী রেফারির (ভিএআর) পরামর্শে রিপ্লে দেখে রেফারি সিদ্ধান্ত বদলে তাঁকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। সেই সিদ্ধান্তের পরই শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। এবার বালোগানের ওপর থেকে তুলে নেওয়া হলো নিষেধাজ্ঞা। চলতি বিশ্বকাপে তিনি তিন ম্যাচে করেছেন ৩ গোল।

  • আধুনিক ফুটবলের সংজ্ঞাই বদলে দিচ্ছেন হালান্ড

    আধুনিক ফুটবলের সংজ্ঞাই বদলে দিচ্ছেন হালান্ড

    ফুটবল বিশ্বে এর আগে এসেছেন অসংখ্য কিংবদন্তি—ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, লিওনেল মেসি, ওয়েইন রুনি, রোনালদো নাজারিও, দিয়েগো ম্যারাডোনা কিংবা পেলে। কেউ বল নিয়ন্ত্রণে, কেউ নিখুঁত ফিনিশিংয়ে, কেউ গতিতে, আবার কেউ শারীরিক সামর্থ্যে ছিলেন অনন্য। তবে প্রত্যেকের খেলাতেই ছিল কিছু না কিছু সীমাবদ্ধতা।

    কিন্তু আর্লিং হালান্ড যেন সেই প্রচলিত ধারণাকেই বদলে দিচ্ছেন। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে বিদায় করার পর অনেকের মনেই প্রশ্ন জেগেছে—হালান্ড কি সত্যিই একজন সাধারণ মানুষ, নাকি আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি কোনো ‘বায়ো-ইঞ্জিনিয়ারড’ অ্যাথলেট?

    ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার এই নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকারের বিস্ফোরক গতি, শক্তিশালী শারীরিক গঠন এবং গোল করার প্রায় যান্ত্রিক দক্ষতা তাকে বিশ্বের অন্যতম ভয়ঙ্কর ফরোয়ার্ডে পরিণত করেছে। তবে কেবল জন্মগত প্রতিভা নয়, বরং নিজের শরীর ও জীবনযাপনকে বৈজ্ঞানিকভাবে গড়ে তোলার কারণেই তিনি আজ অন্যদের থেকে আলাদা।

    ৬ হাজার ক্যালরির খাদ্যাভ্যাস

    বর্তমান সময়ে বেশিরভাগ ফুটবলারের খাদ্যতালিকায় থাকে প্রোটিন শেক ও নির্দিষ্ট পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট। কিন্তু হালান্ডের খাদ্যাভ্যাস অনেকটাই ব্যতিক্রম। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম হোলার তথ্য অনুযায়ী, তিনি প্রতিদিন প্রায় ৬ হাজার ক্যালরি গ্রহণ করেন। খাদ্যতালিকায় বিশেষ গুরুত্ব থাকে গরুর হৃদপিণ্ড, কলিজাসহ বিভিন্ন অঙ্গের মাংসে।

    নিজের প্রামাণ্যচিত্র Haaland: The Big Decision-এ তিনি বলেন, অনেকেই এসব খাবার খায় না। কিন্তু আমি আমার শরীরের যত্ন নেওয়ার ব্যাপারে খুবই সচেতন।

    পানির ক্ষেত্রেও রয়েছে বাড়তি সতর্কতা। সাধারণ পানি না খেয়ে তিনি বিশেষভাবে পরিশোধিত পানি পান করেন। এছাড়া কাঁচা দুধ, পালং শাক ও কেলের মিশ্রণে তৈরি একটি পানীয় পান করেন, যাকে তিনি মজার ছলে নিজের ‘ম্যাজিক পোশন’ বলে উল্লেখ করেন।

    ঘুমই সবচেয়ে বড় অস্ত্র

    হালান্ডের বিশ্বাস, একজন ফুটবলারের পারফরম্যান্সের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো ঘুম। তাই প্রতিদিন ১০ থেকে ১১ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করেন তিনি। পাশাপাশি নিয়মিত দুপুরেও কিছু সময় বিশ্রাম নেন।

    মেন্স হেলথের তথ্য অনুযায়ী, ঘুমানোর প্রায় তিন ঘণ্টা আগে তিনি কমলা রঙের বিশেষ চশমা ব্যবহার করেন, যা কৃত্রিম আলোর প্রভাব কমিয়ে শরীরে স্বাভাবিকভাবে মেলাটোনিন উৎপাদনে সহায়তা করে।

    এছাড়া ঘুমানোর সময় মুখে বিশেষ টেপ ব্যবহার করেন, যাতে নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস বজায় থাকে। এতে অক্সিজেন গ্রহণ আরও কার্যকর হয় এবং গভীর ঘুমে হৃদস্পন্দনের স্বাভাবিক ছন্দ বজায় রাখতে সহায়তা করে। ঘুমানোর আগে সব ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইসও বন্ধ করে দেন তিনি।

    হালান্ডের অনুশীলনের মূল ভিত্তি শক্তি, গতি ও নমনীয়তা। তার সাবেক ক্লাব রেড বুল সালসবুর্গের সাবেক কোচ স্ট্যানিস্লাভ ম্যাসেক জানিয়েছেন, কিশোর বয়সেই হালান্ডের প্রতিদিনের রুটিনে ছিল ৩০০টি পুশ-আপ ও এক হাজার সিট-আপ। পাশাপাশি পাহাড়ি ঢালে স্প্রিন্ট এবং নিয়মিত যোগব্যায়ামও করেন তিনি।

    শুধু অনুশীলন নয়, পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াতেও বিশেষ গুরুত্ব দেন এই স্ট্রাইকার। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য মিররের তথ্য অনুযায়ী, নিজের বাড়িতে প্রায় ৫০ হাজার পাউন্ড ব্যয়ে একটি অত্যাধুনিক ক্রায়োথেরাপি চেম্বার স্থাপন করেছেন তিনি। অত্যন্ত নিম্ন তাপমাত্রায় শরীরকে রাখার মাধ্যমে ল্যাকটিক অ্যাসিড কমানো, প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ এবং দ্রুত পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করেন হালান্ড, যাতে টানা উচ্চগতির খেলায়ও শরীর সতেজ থাকে।

    মাঠের বাইরেও ভিন্ন এক ব্যক্তিত্ব

    শুধু শারীরিক সক্ষমতা নয়, মানসিক দিক থেকেও নিজেকে আলাদা করেছেন হালান্ড। সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি সবসময় সরাসরি কথা বলতে পছন্দ করেন।

    ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে সেনেগালের বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে শেষ মুহূর্তের গোল নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমি তখন ভীষণ ক্লান্ত ছিলাম। তাই ভাবলাম, অতিরিক্ত সময় খেলতে পারব না। আমাদের এখনই গোল করতে হবে।

    জ্লাতানের পরামর্শেই লম্বা চুল

    মাঠে হালান্ডের আরেকটি পরিচিত দৃশ্য হলো ম্যাচের শেষ দিকে চুলের বাঁধন খুলে দেওয়া। তার লম্বা চুল নিয়েও রয়েছে মজার একটি গল্প।

    টেলিভিশন অনুষ্ঠান জেমস কর্ডেনের স্পেশাল শো ‘After with James Corden’-এ হালান্ড জানান, সুইডিশ কিংবদন্তি স্ট্রাইকার জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ একবার তাকে বলেছিলেন, ‘কখনো চুল কাটবে না। শক্তি লুকিয়ে আছে চুলেই।’

    হালান্ড হাসতে হাসতেই বলেছিলেন, জ্লাতান আমাকে এ কথা বলেছেন। এখন আমি আর কী করতে পারি? তার কথা তো শুনতেই হবে।

    মাত্র ২৫ বছর বয়সেই হালান্ড আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। মাঠের পারফরম্যান্সের পেছনে রয়েছে নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, কঠোর অনুশীলন, পর্যাপ্ত ঘুম, উন্নত ক্রীড়াবিজ্ঞান এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপন। এসব কিছুর সমন্বয়েই তিনি আজকের ফুটবলে একজন আদর্শ অ্যাথলেটের প্রতীক হয়ে উঠেছেন।

  • পড়ে থাকা আম কুড়োলেই ৫ লাখ টাকা জরিমানা!

    পড়ে থাকা আম কুড়োলেই ৫ লাখ টাকা জরিমানা!

    রাস্তার পাশে আমে ভরা গাছ, নিচে পড়ে আছে পাকা আম—এমন দৃশ্য দেখলে অনেকেই হয়তো সহজভাবেই কয়েকটি আম কুড়িয়ে নিতে চাইবেন। তবে সিঙ্গাপুরে এমন কাজ করতে গেলে গুনতে হতে পারে মোটা অঙ্কের জরিমানা। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটির আইন অনুযায়ী, সরকারি জায়গা কিংবা রাস্তার ধারে পড়ে থাকা আম সংগ্রহ করা বা গাছ থেকে আম পাড়া—দুটোই শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

    সম্প্রতি সিঙ্গাপুরপ্রবাসী ভারতীয় বংশোদ্ভূত ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতা প্রিয়াঙ্কা সিনহা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ বিষয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, রাস্তার পাশে একটি আমগাছ পাকা আমে পরিপূর্ণ এবং বেশ কিছু আম মাটিতেও পড়ে রয়েছে। সাধারণভাবে ফলগুলো পরিত্যক্ত মনে হলেও প্রিয়াঙ্কা জানান, সিঙ্গাপুরে অনুমতি ছাড়া এসব আম স্পর্শ করাও নিষিদ্ধ।

    তিনি বলেন, যদি কেউ সেগুলো কুড়ানোর চেষ্টা করে, তবে তাকে ৫ হাজার সিঙ্গাপুরিয়ান ডলার জরিমানা করা হতে পারে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই অংকের পরিমাণ ৫ লাখ টাকার কাছাকাছি (বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী)।

    কারণ, সিঙ্গাপুরের আইন অনুযায়ী পাবলিক প্লেস বা রাস্তার পাশে লাগানো সমস্ত গাছপালা সরকারের সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই অনুমতি ছাড়া গাছ থেকে ফল পাড়া বা মাটি থেকে কুড়ানোকে সরকারি সম্পত্তি চুরির সমান অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। এই কারণেই সরকার এই ধরনের কাজের ওপর কঠোর ও ভারী জরিমানা আরোপ করে থাকে।

    সুতরাং, সিঙ্গাপুরের রাস্তায় চলাচলের সময় সুন্দর ফল দেখে প্রলুব্ধ হওয়ার আগে এর পরিণতির কথা মনে রাখা জরুরি। সামান্য একটি আম কুড়ানোর শখ আপনার জন্য বয়ে আনতে পারে সাড়ে ৪ লাখ টাকারও বেশি জরিমানার বোঝা।

    তথ্যসূত্র: জিও নিউজ

  • বিশ্বকাপে সর্বাধিক গোলের রেকর্ড ভেঙে যেতে পারে

    বিশ্বকাপে সর্বাধিক গোলের রেকর্ড ভেঙে যেতে পারে

    লতি বিশ্বকাপে একের পর এক রেকর্ড ভেঙে দিচ্ছেন লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপে ও আর্লিং হালান্ডেরা।

    আজ রোববার ভোরে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলকে বিদায় করে দিয়েছেন হালান্ড। এই জোড়া গোলের ফলে চলতি বিশ্বকাপে তার গোলের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭। চার ম্যাচ খেলে ৭ গোল করেছেন তিনি।

    সমান সংখ্যক গোল রয়েছে আরও দুই ফুটবলারের। পাঁচ ম্যাচে ৭ গোল করেছেন এমবাপ্পে। মেসি চার ম্যাচে করেছেন ৭ গোল। অর্থাৎ, তিন ফুটবলারই সাতটি করে গোল ইতিমধ্যেই করে ফেলেছেন।

    এই প্রথমবার বিশ্বকাপে তিন ফুটবলার সাত বা তার বেশি গোল করেছেন। চার বছর আগে সংখ্যাটা ছিল দুই। কাতার বিশ্বকাপে মেসি ও এমবাপ্পে সাত বা তার বেশি করেছিলেন। এবার সংখ্যাটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিন। আজ পর্যন্ত কোনও বিশ্বকাপে তিন জন ফুটবলার সাত বা তার বেশি গোল করেননি।

    একটি বিশ্বকাপে সর্বাধিক গোলের রেকর্ড রয়েছে ফ্রান্সের জাঁ ফঁতের। ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাচে ছয় ম্যাচ খেলে ১৩ গোল করেছিলেন তিনি। ১৯৫৪ সালের বিশ্বকাপে ১১ গোল করেছিলেন হাঙ্গেরির সাভর কোসিস।

    মেসি, এমবাপ্পে ও হালান্ড যে গতিতে এগোচ্ছেন, তাতে তারা ফাইনাল পর্যন্ত গেলে এক বিশ্বকাপে সর্বাধিক গোলের রেকর্ডও এবার ভেঙে যেতে পারে।

  • পর্তুগাল-স্পেনের খেলায় কে জিতবে?

    পর্তুগাল-স্পেনের খেলায় কে জিতবে?

    ইউরোপিয়ান ফুটবলের অন্যতম উত্তপ্ত লড়াই ‘আইবেরিয়ান ডার্বি’তে আবারও মুখোমুখি হচ্ছে স্পেন ও পর্তুগাল। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর দ্বৈরথ ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে ফুটবলবিশ্বে।

    একদিকে স্পেনের দৃষ্টিনন্দন পাসিং ফুটবল, অন্যদিকে পর্তুগালের গতিময় আক্রমণ ও তারকাখচিত স্কোয়াড- সব মিলিয়ে ম্যাচটি হতে যাচ্ছে হাইভোল্টেজ এক মহারণ। শেষ পর্যন্ত কার মুখে ফুটবে হাসি— সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

    স্পেন ও পর্তুগালের লড়াই মানেই ইউরোপীয় ফুটবলের অন্যতম সেরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা। একই আইবেরিয়ান উপদ্বীপের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী এবার মুখোমুখি হচ্ছে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয়, যেখানে হার মানেই বিদায়। তাই এই ম্যাচে কৌশল, মানসিক দৃঢ়তা এবং ছোট ছোট মুহূর্তের সিদ্ধান্তই গড়ে দিতে পারে ফল।

    শেষ ৩২-এর ম্যাচে অস্ট্রিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে দারুণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামছে স্পেন। পুরো ম্যাচে বলের দখল, আক্রমণ তৈরির দক্ষতা এবং রক্ষণে দৃঢ়তা- সব ক্ষেত্রেই নিজেদের সামর্থ্যরে প্রমাণ দিয়েছে লা রোহা। অন্যদিকে, পর্তুগাল কঠিন লড়াইয়ের পর ২-১ ব্যবধানে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে। তবে তাদের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতার অভাব নিয়ে আলোচনা রয়েছে।

    স্পেনের শক্তির মূল জায়গা তাদের মিডফিল্ড। ছোট ছোট পাস, বলের দখল ধরে রাখা এবং প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার ক্ষমতায় তারা বিশ্বের অন্যতম সেরা দল। তরুণ তারকাদের গতির সঙ্গে অভিজ্ঞ ফুটবলারদের সমন্বয় স্পেনকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করে তুলেছে। অন্যদিকে পর্তুগালের বড় ভরসা দ্রুত পাল্টা আক্রমণ, শক্তিশালী মিডফিল্ড এবং ব্যক্তিগত নৈপুণ্য। সুযোগ পেলেই ম্যাচের গতি বদলে দেওয়ার সামর্থ্য রয়েছে তাদের আক্রমণভাগের। স্পেনের রয়েছে একঝাঁক তরুণ প্রতিভা। তাদের মধ্যে স্ট্রাইকার লামিনে ইয়ামাল অন্যতম। আরও আছে- পেদ্রি, গাভি, রদ্রি, ওলমো, নিকো আর ওয়ারাবাজালের মতো খেলোয়াড়। স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমন ইতোমধ্যে বিশ্বকাপে রেকর্ড গড়েছেন। ৫১৯ মিনিট গোলবার আগলে রেখে।

    অন্যদিকে পর্তুগাল বিশ্বকাপে ফেবারিট দল হিসেবে এলেও এখন পর্যন্ত আশানুরূপ পারফরম্যান্স দেখাতে পারেনি। দলের অন্যতম সেরা তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো তিন গোল করলেও খেলার ধরন ছিল গড়পড়তা। এখনও দল হিসেবে খেলতে পারছে না কোচ রবার্তো মার্তিনেজের শিষ্যরা। এই ম্যাচের অন্যতম আকর্ষণ হবে প্রজন্মের লড়াইও। একদিকে অভিজ্ঞ তারকাদের নেতৃত্বে পর্তুগাল, অন্যদিকে তরুণদের উচ্ছ্বাসে ভর করে এগিয়ে চলা স্পেন। নকআউট ম্যাচ হওয়ায় শুরু থেকে দুদলই সতর্ক থাকবে। ফলে ম্যাচের প্রথম ভাগে মাঝমাঠের লড়াই এবং বলের দখল নিয়ে টানটান উত্তেজনা দেখা যেতে পারে।

    ইতিহাসও বলছে, স্পেন-পর্তুগাল দ্বৈরথে খুব কম ব্যবধানেই ফল নির্ধারিত হয়। দুদলের আগের বেশির ভাগ লড়াই ছিল হাড্ডাহাড্ডি, যেখানে এক মুহূর্তের ভুল কিংবা একঝলক ব্যক্তিগত নৈপুণ্যই পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ২০১০ সালের একমাত্র দেখায় স্পেন ১-০ ব্যবধানে জিতে শেষ পর্যন্ত শিরোপাও জিতেছিল।

    সবমিলিয়ে এটি শেষ ষোলোর সবচেয়ে আকর্ষণীয় ম্যাচগুলোর একটি হওয়ার অপেক্ষায়। স্পেনের সংগঠিত ফুটবল নাকি পর্তুগালের কার্যকর পাল্টা আক্রমণ— কোন কৌশল শেষ পর্যন্ত সফল হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। ছোট একটি ভুল কিংবা একটি অসাধারণ মুহূর্তই হয়তো নির্ধারণ করবে, আইবেরিয়ান ডার্বিতে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কার হাতে উঠবে।

    স্পেন ও পর্তুগাল এ পর্যন্ত মোট ৪১ বার মুখোমুখি হয়েছে, যার মধ্যে স্পেনের জয় ১৭টি। পর্তুগালের ৭টি। বাকি ১৭টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। সবশেষ মোকাবিলায় ২০২৫ সালের উয়েফা নেশন্স লিগের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল এই দুদল। ম্যাচটি নির্ধারিত সময়ে ২-২ গোলে ড্র ছিল, পরে টাইব্রেকারে স্পেনকে হারিয়ে শিরোপা জেতে পর্তুগাল। বিশ্বকাপে ২০১০ সালে কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেন ১-০ গোলে হারায় পর্তুগিজদের। আর ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে ৩-৩ গোলে ড্র করেছিল দুদল।

  • প্রশান্ত মহাসাগরে সাবমেরিন থেকে সফল ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাল চীন

    প্রশান্ত মহাসাগরে সাবমেরিন থেকে সফল ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাল চীন

    চীন একটি পারমাণবিক সাবমেরিন থেকে প্রশান্ত মহাসাগরে ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে। এর আগে এই অঞ্চলের দেশগুলো সতর্ক করে দিয়েছিল যে, চীন একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পরিকল্পনা করছে। এরপরই এ সোমবার এ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা পরিচালনা করল চীন।

    কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বেইজিংয়ের সামরিক সক্ষমতার বিরল প্রদর্শন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড নিরাপত্তা অংশীদার হিসেবে প্রভাবশালী।

    চীনের নৌবাহিনীর মুখপাত্র ওয়াং শুয়েমেং এক বিবৃতিতে জানান, সোমবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ১ মিনিটে পিপলস লিবারেশন আর্মি নেভির একটি কৌশলগত পারমাণবিক সাবমেরিন প্রশিক্ষণধর্মী সিমুলেশন ওয়ারহেড বহনকারী একটি কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র প্রশান্ত মহাসাগরের নির্ধারিত জলসীমায় সফলভাবে উৎক্ষেপণ করে। ক্ষেপণাস্ত্রটি নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে সঠিকভাবে আঘাত হানে।

    তিনি বলেন, এটি চীনের বার্ষিক সামরিক প্রশিক্ষণের নিয়মিত অংশ এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে আগেই অবহিত করা হয়েছিল।

    তবে এ উৎক্ষেপণের তীব্র সমালোচনা করেছে অঞ্চলের কয়েকটি দেশ। বিশেষ করে জাপান জানিয়েছে, উৎক্ষেপণ না করার জন্য তারা চীনকে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছিল।

    একই দিনে চীনের পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটি ছিংদাও উপকূলে চীন ও রাশিয়ার বার্ষিক যৌথ নৌমহড়া শুরুর কথা ছিল। তবে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাটি ওই মহড়ার অংশ ছিল কি না, তা স্পষ্ট হয়নি।

    সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন দ্রুত পারমাণবিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের মে মাস পর্যন্ত চীনের কাছে ৫০০টিরও বেশি কার্যকর পারমাণবিক ওয়ারহেড ছিল এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এ সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।