বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানের করাচিতে সপ্তাহে তিনটি ফ্লাইট পরিচালনার জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. ইকবাল হোসেন খান।গতকাল বুধবার পাকিস্তানের ফরেন সার্ভিসেস একাডেমিতে বক্তব্য দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান। ইকবাল হোসেন খান বলেন, ‘হ্যাঁ, আমরা পাকিস্তানের সঙ্গে সরাসরি ফ্লাইট শুরু করছি। আমাদের জাতীয় বিমান সংস্থা করাচিতে তিনটি সাপ্তাহিক ফ্লাইট পরিচালনা করবে।’ফ্লাইটের রুট ভারতের আকাশসীমা ব্যবহার করবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ভারতীয় উড়োজাহাজ যেমন বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারে, তেমনি বিমানের ফ্লাইটও ভারতীয় আকাশসীমা ব্যবহার করে চলবে।’ভারতের আকাশসীমা ব্যবহারে পাকিস্তানের ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে পাকিস্তানি বিমান সংস্থাগুলোর ঢাকা রুটে শিগগির ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনা কম।পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সম্পর্কের বিষয়ে হাইকমিশনার বলেন, ‘পাকিস্তান ও বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ব্যাপকভাবে বাড়ানোর সুযোগ আছে। কিন্তু সরাসরি প্রবেশাধিকার না থাকায় বাণিজ্য সীমিত। অতীতে রেলপথে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বাণিজ্য হতো। কিন্তু বর্তমানে পাকিস্তানের খেজুর দুবাই হয়ে আঞ্চলিক বাজারে পৌঁছায়।
আন্তর্জাতিক
-

কম্বোডিয়ায় নদীতে বাস পড়ে নিহত ১৬
কম্বোডিয়ায় বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেতু থেকে নদীতে পড়ে ১৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ২৪ জনের বেশি মানুষ। বৃহস্পতিবার রাত ৩ টার দিকে কাম্পং থম প্রদেশে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বাসটি যাত্রী নিয়ে উত্তর ওদ্দার মিঞ্চে প্রদেশ থেকে রাজধানী নমপেনে যাচ্ছিল। দুর্ঘটনার সময় বাসটির চালক ঘুমিয়ে ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবর আল জাজিরার।
কাম্পং থম প্রদেশের ডেপুটি পুলিশ প্রধান সিভ সোভান্না ফোনে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানান, বাসে থাকা সকলেই কম্বোডিয়ার নাগরিক। বাসটিতে প্রায় ৪০ জন যাত্রী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সিয়েম রিপ থেকে রাতের বেলায় রওনা হওয়ার পর চালক ঘুমিয়ে পড়েছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। তবে নিহতদের মধ্যে চালক আছেন কিনা তা স্পষ্ট নয়।দেশটির গণপূর্ত ও পরিবহন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে কম্বোডিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় এক হাজার ৫০৯ জন নিহত হয়েছেন। আর ২০২৫ সালের প্রথম নয় মাসে নিহত হয়েছের এক হাজার ৬২ জন।
-

দিল্লির লাল কেল্লার কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ৮
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক লাল কেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় কমপক্ষে আটজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে, নগর পুলিশের মুখপাত্র সঞ্জয় ত্যাগী।
স্থানীয় গণমাধ্যমের ভিডিওতে ফুটেজে, দিল্লির একটি মেট্রো স্টেশনের কাছে যানজটপূর্ণ রাস্তায় একাধিক গাড়ি থেকে আগুন এবং ধোঁয়া বের হতে দেখা গেছে।
লাল কেল্লার কাছে গাড়িতে বিস্ফোরণের ঘটনার সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি এবং তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সঞ্জয় ত্যাগী ।
দিল্লির ডেপুটি ফায়ার চিফ জানিয়েছেন, কমপক্ষে ছয়টি গাড়ি এবং তিনটি অটোরিকশায় আগুন লেগেছে, তিনি আরো জানিয়েছেন, দমকল বাহিনীর সদস্যরা আগুন নেভাতে সক্ষম হয়েছেন।
স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বিষ্ফোরণের ঘটনায় কমপক্ষে ১১ জন আহত হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বাসিন্দা এনডিটিভিকে জানিয়েছেন, আমরা একটি বড় শব্দ শুনেছি, আমাদের জানালা কেঁপে উঠেছে।
এদিকে, বিস্ফোরণের পর দিল্লিতে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
-

ঢাকা-ওয়াশিংটন বিলিয়ন ডলারের চুক্তি, ভারতের ঘুম হারাম
সম্প্রতি এক বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের সয়াবিন রপ্তানি চুক্তি করেছে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র। এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের তিনটি শীর্ষ সয়াবিন প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান আগামী এক বছর যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিপুল পরিমাণ সয়াবিন আমদানি করবে।
ঢাকা-ওয়াশিংটনের এই বিশাল অর্থনৈতিক চুক্তি ভারতের জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হয়ে এসেছে বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু।
বুধবার (৫ নভেম্বর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে দ্য হিন্দু জানায়, চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারতের তেল ও সয়ামিল রপ্তানি এমনিতেই নিম্নমুখী ছিল। এর ওপর বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এই চুক্তি ভারতের সয়ামিল রপ্তানিকারকদের মধ্যে গভীর দুশ্চিন্তা তৈরি করেছে।
ভারতীয় সূত্রগুলো বলছে, বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ সয়ামিল আমদানিকারক বাজার হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছে দেশটি। গত অর্থবছরেই বাংলাদেশের বাজারে ভারতের সয়ামিল রপ্তানি ১.৬৩ লাখ টনে নেমে আসে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪৬ শতাংশ কম।
ভারতের সয়াবিন প্রসেসর অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক ডি.এন. পাঠক এ বিষয়ে বলেন,
“বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে স্বল্পমূল্যে প্রচুর সয়াবিন কিনছে। এর ফলে ২০২৪-২৫ তেলবছরে আমাদের রপ্তানি তীব্রভাবে কমে গেছে। বাংলাদেশ মাত্রই এক বিলিয়ন ডলারের বিশাল চুক্তি করেছে, যা আমাদের জন্য স্পষ্ট সংকেত—বাংলাদেশ আর ভারত থেকে এ পণ্য কিনবে না। এটি ভারতের জন্য উদ্বেগের বিষয়।”
এর আগে গত মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) ঢাকায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস জানায়, বাংলাদেশের তিনটি শীর্ষ সয়াবিন প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান আগামী ১২ মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১ বিলিয়ন ডলারের সয়াবিন আমদানি করবে।
এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ শুধু খাদ্যনিরাপত্তায় নয়, কূটনৈতিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক আরো মজবুত করেছে, যার ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের একক প্রভাবের ভারসাম্যে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে।
সুত্র আমার দেশ -

সুদানে রাস্তায় শত শত লাশ, দাফন করার কেউ নেই
সুদানের উত্তর দারফুর রাজ্যের রাজধানী এল-ফাশের শহরে ভয়াবহ সহিংসতার পর রাস্তায় পড়ে আছে শত শত লাশ। কবর দেওয়ার মতো কেউ নেই।
শহরটি গত সপ্তাহে দখল করে নেয় আধা-সামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)। এ সময় তারা কমপক্ষে ১,৫০০ মানুষকে হত্যা করে। শুধু একটি হাসপাতালে নিহত হয় প্রায় ৪৬০ জন।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, শহরটিতে আটকে থাকা সাধারণ মানুষ মারাত্মক বিপদের মধ্যে আছে। অনেকেই নিহত হয়েছেন, আহতরা খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছেন। শহর থেকে প্রায় ৩৬ হাজার মানুষ ৭০ কিলোমিটার দূরের তাভিলা শহরে পালিয়ে গেছেন, যেখানে ইতোমধ্যে ৬ লাখ ৫০ হাজারের বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।

হায়াত নামে এক নারী জানান, সাতজন আরএসএফ সদস্য তাদের বাড়িতে ঢুকে লুটপাট চালায় এবং তার ১৬ বছর বয়সি ছেলেকে তার সামনেই হত্যা করে। তিনি বলেন, ‘আমরা রাস্তায় অসংখ্য লাশ পড়ে থাকতে দেখেছি, আহতদের কেউ উদ্ধার করতে পারেনি।’
আরেকজন বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি হুসেইন বলেন, এল-ফাশেরের পরিস্থিতি ভয়াবহ। মৃতদেহগুলো রাস্তায় পড়ে আছে, তাদের কবর দেওয়ার মতো কেউ নেই। অন্যদিকে, তাভিলা শরণার্থী শিবিরে কর্মরত নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল জানায়, পালিয়ে আসা মানুষের সংখ্যা এখনো অনেক কম। তারা আশঙ্কা করছেন, যারা রওনা দিয়েছিল, তাদের অনেকেই পথেই মারা গেছে।
জাতিসংঘের মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক জানিয়েছেন, দারফুরে ত্রাণ কার্যক্রম জোরদারের জন্য সেন্ট্রাল ইমার্জেন্সি রেসপন্স ফান্ড থেকে ২০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা অনুমোদন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ৪৫০ জনেরও বেশি মানুষকে হত্যার ঘটনায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তাদের মধ্যে রোগী, স্বাস্থ্যকর্মী ও বেসামরিক নাগরিক ছিলেন।
সুদান বিশেষজ্ঞ শায়না লুইস বলেন, দারফুরে এ হত্যাযজ্ঞ অত্যন্ত মর্মান্তিক। আমরা এক বছরেরও বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই গণহত্যার ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছিলাম, কিন্তু তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি।
লুইস আরও জানান, মহাকাশ থেকে পাওয়া স্যাটেলাইট চিত্রেও রক্তাক্ত দৃশ্য দেখা যাচ্ছে—বিশাল এলাকায় লালচে রঙে ঢেকে আছে মাটি এবং মৃতদেহের মতো ছায়া ফুটে উঠছে।
সহিংসতায় জর্জরিত এল-ফাশের শহরে এখনো খাদ্য, পানি ও ওষুধের চরম সংকট। মানবিক সংগঠনগুলো বলছে, এটি সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়।
