আন্তর্জাতিক

  • যুক্তরাষ্ট্রের ১৬ শহরে গাইবেন কনা

    যুক্তরাষ্ট্রের ১৬ শহরে গাইবেন কনা

    জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী দিলশাদ নাহার কনা মঙ্গলবার (২১ জুলাই) কনসার্টের উদ্দেশে আমেরিকা ট্যুরে গেছেন। তবে কবে, কোথায় গাইবেন, সেসব না জানিয়ে পাড়ি জমান সাতসমুদ্দর তেরো নদীর ওপারে। রেখেছিলেন গোপন। শনিবার সেটি প্রকাশ করলেন। কনা জানান, তার এই ট্যুর আয়োজন করছে দেশি মিউজিক এন্টারটেইনমেন্ট।

    একটি সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ১৬ শহরে গান গাইবেন গায়িকা কনা। যেসব শহরে গাইবেন, তার মধ্যে রয়েছে— ইন্ডিয়ানা, মিশিগান, আটলান্টিক সিটি, লস অ্যাঞ্জেলেসে, ওকলোহামা সিটি, ডালাস, হিউস্টন, শিকাগো, বস্টন, অরল্যান্ডো, ওয়াশিংটন ডিসি, মিয়ামি, আটলান্টা, আবেয়া, অ্যারিজোনা ও নিউইয়র্ক। তার এ কনসার্ট ট্যুর শুরু হচ্ছে ২৫ জুলাই থেকে। আর শেষ হবে আগামী ৩ অক্টোবর। প্রায় তিন মাস ধরে তিনি দেশটির বিভিন্ন শহরে গান শোনাবেন। দেশের শিল্পীদের মধ্যে এটা অন্যতম দীর্ঘ সংগীত সফর বটে।

    আমেরিকা যাওয়ার সামাজিক মাধ্যমে এ সংগীতশিল্পী ঘোষণা দিয়েছেন। সেখানে কনা লিখেছেন— ‘প্রিয় আমেরিকাবাসী, আমি আসছি তোমাদের শহরে। চলো, একসঙ্গে স্মরণীয় কিছু মুহূর্ত উপভোগ করি।’

    এর আগে কনার সর্বশেষ গান প্রকাশ হয়েছে ১১ জুলাই সিএমভির ইউটিউব চ্যানেলে— ‘তোমার হতে চাই’ গানটি। রবিউল ইসলাম জীবনের কথায় গানটির সুর ও সংগীত করেছেন সজীব দাস। গানে কনার সঙ্গে দ্বৈত গেয়েছেনও সজীব। এটি ব্যবহৃত হয়েছে রাফাত মজুমদার রিংকুর নাটক ‘ভালোবাসার গল্প’তে।

  • এমবাপ্পে, হলান্ডের রাত দেখালো মেসি এখনো ফুটবল মহাবিশ্বের সূর্য

    এমবাপ্পে, হলান্ডের রাত দেখালো মেসি এখনো ফুটবল মহাবিশ্বের সূর্য

    মঙ্গলবার রাতটা (বাংলাদেশ সময়) বিশ্বকাপের অন্য রাতের মতো ছিল না। এ রাতে পৃথক ম্যাচে মাঠে নেমেছিলেন নতুন প্রজন্মের দুই তারকা- কিলিয়ান এম্বাপে ও আর্লিং হলান্ড। নিউইয়র্ক, বোস্টন থেকে তারা যখন ফুটবল বিশ্বে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার বার্তা দিচ্ছিলেন, তখন যুক্তরাষ্ট্রের আরেক প্রান্তে কানসাস সিটিতে সবার নজর ছিল লিওনেল মেসির দিকে।

    আলজেরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নেমে নতুনদের উদ্দেশে মেসি যেন সেই চিরাচরিত বার্তাটিই দিলেন- ‘সেরা হতে চাইলে আগে সেরাকে হারাতে হবে।’

    কয়েক ঘণ্টা আগেই বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় মেসিকে ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন এম্বাপে। অন্যদিকে ইরাকের বিপক্ষে দুই গোল করে বিশ্বমঞ্চে নিজের আগমনী বার্তা দেন হলান্ড। তখন মনে হচ্ছিল, বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় তারকার আসনটি দখল করতে নতুন প্রজন্মের এই দুই নক্ষত্র প্রায় প্রস্তুত।

    গোলের পর এম্বাপের উদযাপন। ছবি: এএফপি

    কয়েকদিনের মধ্যে ৩৯ বছরে পা দিতে যাওয়া মেসি কিংবা ৪১ বছর বয়সী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে অনেকেই অতীতের অধ্যায় হিসেবে দেখতে শুরু করেছেন। এমন সময়ে বিশ্বমঞ্চে হ্যাটট্রিক করে মেসি যেন নিজের দাপটের কথা আরেকবার জানান দিলেন।

    প্রথমে তিনি বিশ্বকাপে গোল সংখ্যার তালিকায় এম্বাপেকে ছাড়িয়ে যান। এরপর নিজের প্রথম বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিক পূর্ণ করে ১৬ গোল নিয়ে যৌথভাবে শীর্ষস্থানে ওঠেন। সেখানে তাঁর সঙ্গী জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসে। আরেকটি বিরল কীর্তিও গড়েছেন মেসি। তিনিই এখন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী এবং সবচেয়ে বেশি বয়সী গোলদাতা।

    ম্যাচে লিওনেলের প্রথম গোল পেতে খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি। সেই গোলটি ছিল অসাধারণ এক শট, যা নিঃসন্দেহে এবারের বিশ্বকাপের সেরা মুহূর্তগুলোর তালিকায় জায়গা করে নেবে। মাঠের মাঝখান দিয়ে বাড়ানো একটি থ্রু বল পেয়ে মেসি বক্সের দিকে এগিয়ে যান। তাঁকে ঘিরে ধরতে এগিয়ে আসেন পাঁচজন আলজেরিয়ান ডিফেন্ডার। ঠিক তখনই তিনি বাম দিকে এক পা সরিয়ে জোরালো শট নেন। প্রায় ২০ গজ দূর থেকে নেওয়া সেই শট গোলরক্ষক লুকা জিদানের আঙুল ছুঁয়ে জালে জড়ায়।

    গোলটির পর অনেক দর্শকের মনেই দোলা দেয়- ‘এটাই যেন সেই চিরচেনা মেসি। সেই জাদুকর মেসি’।

    দ্বিতীয় গোলের শট নিচ্ছেন মেসি। ছবি: এএফপি

    মেসি দ্বিতীয় গোলের দেখা পান দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর ১৫ মিনিট পর। তখন তাঁকে দেখা যায় বার্সেলোনার সেই ‘সুযোগসন্ধানী স্ট্রাইকার’ রূপে। বক্সের প্রায় ৩০ গজ বাইরে থেকে আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার জোরালো শট নেন। বলটি সোজা আলজেরিয়ার গোলরক্ষকের দিকে গেলেও শটের গতি সামলাতে পারেননি। বল ছিটকে বেরিয়ে আসতেই তা লুফে নেন মেসি। আলজেরিয়ার এক ডিফেন্ডারের অসতর্কতার কারণে অনসাইডে থাকা মেসি সহজেই বল জালে পাঠিয়ে আর্জেন্টিনাকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। এটি ছিল এমন এক কিংবদন্তির গোল, যিনি এখনো পায়ের মতোই মস্তিষ্ক দিয়ে খেলেন।

    তৃতীয় গোলটি যেন প্রথম দুই গোলেরই আরেক রূপ। ততক্ষণে আলজেরিয়ার রক্ষণভাগ মেসি ও তাঁর সতীর্থদের চাপে বিধ্বস্ত। ফলে ওই সময় বক্সের কিনারায় কেউই আর মেসিকে মার্ক করতে যাননি। উইং থেকে নিকো গনজালেসের বাড়ানো পাসটি মেসির পেছনের দিকে ছিল। কিন্তু ক্লান্ত আলজেরিয়ান ডিফেন্ডাররা তা প্রতিহত করার কোনো তাড়াহুড়োই দেখাননি। সে সুযোগে মেসি পা বাড়িয়ে বল নিয়ন্ত্রণে নেন, অর্ধেক ঘুরে নিচু শটে বল পাঠিয়ে দেন জালের কোণে। সেখানেই ম্যাচের নিষ্পত্তি হয়ে যায়।

    আগের ম্যাচগুলোতে কিলিয়ান এম্বাপে ও আর্লিং হলান্ডের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর মহাতারকা লিওনেল মেসির কাছে থেকেও একই মানের কিছু দেখার প্রত্যাশা ছিল সবার। ফ্রান্সের হয়ে এম্বাপের জোড়া গোল সামর্থ্যের পুরো ঝলক দেখিয়েছে। তাঁর দ্বিতীয় গোলটিতে ফুটে ওঠে অসাধারণ দক্ষতার পরিচয়। প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে নেওয়া শক্তিশালী শট সেনেগালের গোলরক্ষক এদুয়ার মেন্ডিকে পরাস্ত করে জালে জড়ায়।

    প্রথম ম্যাচেই বিশ্বমঞ্চে নিজের আগমনী বার্তা দিয়েছেন আর্লিং হলান্ড। ছবি: এএফপি

    অন্যদিকে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ম্যাচেই জোড়া গোল করে নিজের কার্যকারিতা দেখিয়েছেন হলান্ড। প্রথমে নিখুঁত এক ক্রসে স্লাইড করে বল জালে পাঠিয়ে নরওয়ের হয়ে গোলের সূচনা করেন। এরপর ইরাকের এক ডিফেন্ডারের ঢিলেঢালা ব্যাকপাসে দ্রুত ঝাঁপিয়ে পড়ে গোলরক্ষকের আগে বল দখলে নিয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন। শেষ পর্যন্ত নরওয়ে ম্যাচটি ৪-১ ব্যবধানে জেতে।

    বিশ্বকাপের এমন এক রাতে যখন একের পর এক তারকা আলো ছড়াচ্ছিলেন, তখন অনেকেরই মনে হচ্ছিল বিশ্ব ফুটবলে নেতৃত্ব বদলের সময় বোধহয় এসে গেছে। মেসি ও রোনালদো এত দীর্ঘ সময় ধরে আধিপত্য ধরে রেখেছেন যে, নিজেরাই তাদের উত্তরসূরির উত্থান-পতন দেখেছেন। এবার তারা দুজনই ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপ খেলছেন।

    তবে এম্বাপেকে অনেকেই মেসি-রোনালদোর প্রকৃত উত্তরসূরি হিসেবে দেখেন। অপরদিকে হলান্ড নিজেকে বিশ্বের সেরা ও নিখুঁত স্ট্রাইকারদের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। তারা নিঃসন্দেহে উজ্জ্বল নক্ষত্র।

    কিন্তু কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে ম্যাচ শেষ হওয়ার ১১ মিনিট আগে যখন মেসি মাঠ ছাড়েন এবং দর্শকদের বজ্রধ্বনির মতো করতালিতে বিদায় নেন, তখন তিনি আবারও মনে করিয়ে দেন- এম্বাপে, হলান্ড কিংবা অন্যরা হয়তো তারকা, কিন্তু ফুটবল নামের এই মহাবিশ্ব এখনো সেই সূর্যকে ঘিরে আবর্তিত হয়। যে সূর্যের নাম লিওনেল মেসি।

  • ১৯ বছর পর আবারও আলজেরিয়ার মুখোমুখি হচ্ছেন মেসি

    ১৯ বছর পর আবারও আলজেরিয়ার মুখোমুখি হচ্ছেন মেসি

    ২০০৭ সালের ৫ জুন বার্সেলোনার ঐতিহ্যবাহী ক্যাম্প ন্যু স্টেডিয়ামে এক প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়া। কোচ আলফিও বাসিলের অধীনে তখন আর্জেন্টিনা কোপা আমেরিকার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

    সেই ম্যাচে মাঠে ছিলেন অভিজ্ঞ ও তারকাখ্যাত খেলোয়াড়দের পাশাপাশি এক তরুণ লিওনেল মেসি, যিনি তখনো আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের জাদুকরী ড্রিবলিং ও প্রতিভা দিয়ে ধীরে ধীরে আলোচনায় উঠে আসছিলেন। রবার্তো আয়ালা, হুয়ান সেবাস্তিয়ান ভেরন এবং হুয়ান রোমান রিকেলমের মতো অভিজ্ঞদের পাশে দাঁড়িয়ে মেসি সেদিন আলজেরিয়ার রক্ষণভাগকে বারবার চাপে ফেলেন এবং নিজের আক্রমণাত্মক ফুটবলে ম্যাচে বড় প্রভাব রাখেন।

    ঐ ম্যাচটি ছিল গোলসমৃদ্ধ ও নাটকীয় এক লড়াই। শুরু থেকেই আর্জেন্টিনা আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে খেলা শুরু করে এবং মাত্র দেড় মিনিটের মাথায় কার্লোস তেভেজ পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। তবে আলজেরিয়া দ্রুতই ম্যাচে ফিরে আসে এবং ৯ মিনিটে আনথার ইয়াহিয়ার গোলে সমতা আনে। এরপর প্রথমার্ধের শেষ দিকে মাজিদ বুগেরা গোল করে আলজেরিয়াকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেয়, যা আর্জেন্টিনার জন্য বড় ধাক্কা ছিল।

    দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় আর্জেন্টিনা। এই সময়ে লিওনেল মেসির অনুপ্রেরণায় দলটি দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায়। মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে ম্যাচের গতিপথ পুরোপুরি বদলে যায়।

    প্রথমে মেসি পেনাল্টি থেকে গোল করে সমতা ফেরান, এরপর এস্তেবান ক্যাম্বিয়াসো দ্রুত আরেকটি গোল করে আর্জেন্টিনাকে আবার এগিয়ে নেন। পরে ম্যাচের ৭৩ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে দলের জয় প্রায় নিশ্চিত করে দেন মেসি। শেষ মুহূর্তে আলজেরিয়া একটি গোল শোধ করলেও আর্জেন্টিনা শেষ পর্যন্ত ৪-৩ ব্যবধানে এক রোমাঞ্চকর জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে।

    প্রায় ১৯ বছর পর আবারও আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়া বড় মঞ্চে মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এবার আর কোনো প্রীতি ম্যাচ নয়, বরং বিশ্বকাপের মতো গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টে দুই দল আবার মুখোমুখি হচ্ছে। ২০২৬ বিশ্বকাপে এই লড়াইকে ঘিরে আগ্রহ তৈরি হয়েছে, কারণ দীর্ঘ সময় পর একই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আবারও মাঠে নামছে তারা।

    এই নতুন প্রেক্ষাপটে আর্জেন্টিনা তাদের শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে। দলটি এখনো অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মিশ্রণে শক্তিশালী একটি ইউনিট হিসেবে বিবেচিত। অন্যদিকে আলজেরিয়া, যাদের ‘ডেজার্ট ফক্সেস’ নামে ডাকা হয়, তারা তাদের দ্রুতগতির ফুটবল, শক্তিশালী কাউন্টার অ্যাটাক এবং আক্রমণাত্মক মানসিকতা দিয়ে বড় দলগুলোর বিপক্ষে চমক দেখানোর ক্ষমতা রাখে। ফলে এই ম্যাচ ঘিরে দুই দলের মধ্যে আরেকটি উত্তেজনাপূর্ণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইয়ের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

  • বিজিবি-বিএসএফের যৌথ বিবৃতি

    বিজিবি-বিএসএফের যৌথ বিবৃতি

    দিল্লির বৈঠক থেকে শান্তির বার্তা, একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার

    সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও উত্তেজনার ঘটনার মধ্যেও আলোচনার পথেই এগিয়ে চলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ ও ভারত। নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মহাপরিচালক পর্যায়ের চার দিনব্যাপী বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে সীমান্তে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে।

    গত ৯ জুন শুরু হয়ে ১১ জুন শেষ হওয়া ৫৭তম মহাপরিচালক পর্যায়ের এই বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং ভারতের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বিএসএফ মহাপরিচালক প্রবীণ কুমার।

    যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই দেশের সীমান্তকে শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ এবং অপরাধমুক্ত রাখতে উভয় বাহিনী ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাবে। সীমান্তে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা কমিয়ে আনা, পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানো এবং দ্রুত তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে উদ্ভূত সমস্যার সমাধানে উভয়পক্ষ একমত হয়েছে।

    বৈঠকে সীমান্ত হত্যা, অনিয়মিত অনুপ্রবেশ, মানবপাচার, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান, সীমান্ত অবকাঠামো নির্মাণ এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। উভয়পক্ষই এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহযোগিতার মনোভাব বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে।

    কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ও মতপার্থক্য দেখা দিলেও দুই দেশের শীর্ষ সীমান্তরক্ষী কর্মকর্তাদের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে খোলামেলা আলোচনা হওয়া একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে। কারণ, প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে আস্থা ও সহযোগিতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এই ধরনের বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক শুধু সীমান্ত নিরাপত্তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ বহু ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে সীমান্ত সংক্রান্ত যেকোনো বিষয় আলোচনা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা ভবিষ্যতের জন্য আশাব্যঞ্জক।

    যৌথ বিবৃতিতে উভয় বাহিনী সীমান্তে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার পাশাপাশি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণের বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেও দুই পক্ষ একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বজুড়ে যখন সীমান্ত প্রশ্নে নানা ধরনের উত্তেজনা ও সংঘাত দেখা যাচ্ছে, তখন বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে নিয়মিত সংলাপ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা দক্ষিণ এশিয়ার জন্য একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হতে পারে। দিল্লির এই বৈঠক তাই শুধু সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা নয়, বরং দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে আস্থা, সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, এই বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়িত হলে সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা আরও সুদৃঢ় হবে এবং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।

  • বিশ্বকাপের আগে বিপাকে নরওয়ে

    বিশ্বকাপের আগে বিপাকে নরওয়ে

    সবকিছু ঠিক থাকলে ১১ জুন তথা বৃহস্পতিবার থেকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোতে শুরু হবে ফুটবল বিশ্বকাপ। ফিফার এই গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে দল ঘোষণা করেছে অংশগ্রহণকারী ৪৮টি দল।

    বিশ্বকাপ খেলতে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগে অসলোর সমুদ্রসৈকতে অফিসিয়াল ফটোশুটে অংশ নিয়ে বিপাকে নরওয়ে ফুটবল টিম।

    নরওয়ে টিম আসলে পশুর চামড়া দিয়ে তৈরিয়ে ‘ভাইকিং’ পোশাকে ফটোশুটে অংশ নেয়। যে কারণে দেশবাসীর রোষানলে পড়ে। সেই পোশাক যে নরওয়ের মানুষকেই দুইভাগে বিভক্ত করে দেবে, কে জানত!

    এমন পোশাকে ফটোশুট করায় দেশটির এক সংবাদপত্রে তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। বলা হচ্ছে, ‘ভাইকিং’ পোশাক পরে ফোটোশুট করা উগ্র দেশাত্মবোধের পরিচয়। নরওয়ে টিমের এমন আচরণকে ‘নিও নার্থস’ গোত্রীয় বলেও অভিহিত করা হয়েছে।

    শুধু নরওয়ের সংবাদপত্রই নয়। জেন হং স্কোলদিনামক সে দেশের এক রিসার্চার হালান্ডদের কৃতকর্মকে ‘উগ্র পুরুষত্ব প্রদর্শন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। বলে দিয়েছেন, “এটা আসলে ডানপন্থী মানসিকতার উদাহরণ।”

    ফোটোশুটকে ঘিরে উত্তেজনা এতই বেড়েছে যে, নরওয়ে কোচ স্টেল সোলবাকেনকে পর্যন্ত সাংবাদিক সম্মেলনে এ নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। যদিও তিনি বলেন, “ফোটোশুট নিয়ে কথা বলে আমি আমার সময় নষ্ট করতে চাই না।”

    ১৯৯৮ সালের পর এই প্রথম ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যাবে নরওয়েকে। মাঝের ছয় বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হলেও এবার সেই খরা কাটিয়ে বিশ্ব ফুটবলের মহারণে নামছে আর্লিং হাল্যান্ড ও মার্টিন ওডেগার্ডদের দল।

  • পেরেজ আবার প্রেসিডেন্ট হলে রিয়ালের নতুন কোচ হবেন মরিনিও

    পেরেজ আবার প্রেসিডেন্ট হলে রিয়ালের নতুন কোচ হবেন মরিনিও

    রিয়াল মাদ্রিদের পরবর্তী কোচ কে হবেন, এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই জল্পনা-কল্পনা চলছিল। অবশেষে এ বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন ক্লাবটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ। আসন্ন নির্বাচনে তিনি পুনর্নির্বাচিত হলে হোসে মরিনিওকে রিয়াল মাদ্রিদের নতুন প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। বেইন স্পোর্টসের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে প্রকাশিত এক ভিডিওতে এ ঘোষণা দেন পেরেজ।

    এই ঘোষণার মাধ্যমে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে হোসে মরিনিওর বহুল আলোচিত প্রত্যাবর্তনের পথ উন্মুক্ত হলো। বেনফিকায় দায়িত্ব পালনের পর এবার রিয়াল মাদ্রিদে নিজের দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছেন পর্তুগিজ এই কোচ।

    ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত ‘আরও ইতিহাস তৈরির পথে’ স্লোগানসংবলিত ভিডিওতে রিয়ালের জার্সি পরিহিত মরিনিওকে দেখা যায়। সেখানে একটি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি শুধু বলেন, ‘হ্যাঁ’।

    রিয়াল মাদ্রিদে মরিনিওর প্রথম মেয়াদ ছিল ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত। সেই সময়ে তার অধীনে দলটি একটি লা লিগা, একটি কোপা দেল রে এবং একটি স্প্যানিশ সুপার কাপ শিরোপা জেতে। এছাড়া তার নেতৃত্বেই রিয়াল মাদ্রিদ লিগে ঐতিহাসিক ১০০ পয়েন্ট অর্জনের কীর্তি গড়ে।

    তবে প্রথম মেয়াদে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ জিততে পারেননি মরিনিও। ফলে দ্বিতীয়বার দায়িত্ব নিলে ইউরোপের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ক্লাব ট্রফিটি জয় করাই হবে তার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

    এদিকে সম্ভাব্য দ্বিতীয় অধ্যায়ে মরিনিওকে আরও একটি বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। সেটি হলো, রিয়াল মাদ্রিদের দুই মৌসুমের শিরোপা খরা দূর করে দলকে আবারও সাফল্যের ধারায় ফিরিয়ে আনা।

  • বিশ্বকাপের আগে পানামাকে ৬-২ গোলে হারিয়ে ছন্দে ফিরল ব্রাজিল

    বিশ্বকাপের আগে পানামাকে ৬-২ গোলে হারিয়ে ছন্দে ফিরল ব্রাজিল

    বিশ্বকাপ শুরুর আগেই সমর্থকদের প্রত্যাশা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে ব্রাজিল। মারাকানা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি ম্যাচে পানামাকে ৬-২ গোলে পরাজিত করেছে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা। দলের হয়ে ছয়টি গোলই করেছেন ছয় ভিন্ন খেলোয়াড়- ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, কাসেমিরো, রায়ান, লুকাস পাকেতা, ইগর থিয়াগো ও দানিলো।

    ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই ভিনিসিয়ুসের গোলে এগিয়ে যায় ব্রাজিল। তবে ১৪তম মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে আসা বল ম্যাথিউস কুনহার গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করলে সমতায় ফেরে পানামা।

    প্রথমার্ধে চার রক্ষণভাগ, দুই মধ্যমাঠ ও চার আক্রমণভাগের বিন্যাসে দলকে খেলান আনচেলত্তি। তবে এ সময়ে মধ্যমাঠে কাসেমিরো ও ব্রুনো গিমারাইসকে বেশ চাপে পড়তে হয়। আক্রমণে প্রত্যাশিত ধারও দেখা যায়নি।

    দ্বিতীয়ার্ধে একসঙ্গে ১০ জন খেলোয়াড় পরিবর্তনের পর ব্রাজিলের খেলায় নতুন গতি দেখা যায়। এ সময় রায়ান, পাকেতা, থিয়াগো ও দানিলো গোল করে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে দেন। পানামার হয়ে কার্লোস হার্ভি একটি গোল শোধ করলেও তা কেবল ব্যবধান কমাতেই সাহায্য করে। শেষ পর্যন্ত ৬-২ গোলের বড় জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

    তবে বড় জয়ের পরও দলের প্রথমার্ধের পারফরম্যান্স নিয়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন কোচ আনচেলত্তি। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, দ্বিতীয়ার্ধের খেলা তার মনে কিছু ইতিবাচক সংশয়ের জন্ম দিয়েছে। তবে তার মতে, দলের ভেতরে সুস্থ প্রতিযোগিতা ও নিজেদের জায়গা ধরে রাখার লড়াই থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ।

    বিশ্বকাপে ব্রাজিল কোন কৌশল বা বিন্যাসে খেলবে এমন প্রশ্নের জবাবে আনচেলত্তি হাস্যরসের সুরে বলেন, তিনি বিশ্বকাপ শুরুর আগে কিছু রহস্য বজায় রাখতে চান। এতে সমর্থক ও গণমাধ্যমের আগ্রহও বজায় থাকবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    এদিকে ম্যাচের আগে ও পরে মাঠে উপস্থিত ছিলেন নেইমার। পুরো স্টেডিয়াম দাঁড়িয়ে করতালির মাধ্যমে তাকে স্বাগত জানায়। শারীরিকভাবে পুরোপুরি প্রস্তুত না হওয়ায় তিনি প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে অংশ নিচ্ছেন না।

    ম্যাচ শেষে খেলোয়াড়দের স্বল্প সময়ের জন্য পরিবারের সঙ্গে থাকার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। পরে পুরো দল যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা দেবে। সেখানে তাদের সঙ্গে যোগ দেবেন সাম্প্রতিক মহাদেশীয় ক্লাব প্রতিযোগিতার ফাইনালে অংশ নেওয়া মারকিনিওস, গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েস ও গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি।

    বিশ্বকাপের আগে এই বড় জয় ব্রাজিল শিবিরে আত্মবিশ্বাস বাড়ালেও দলকে আরও পরিপূর্ণ করতে কিছু জায়গায় কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন কোচ আনচেলত্তি।

  • আয়োজক মেক্সিকোর বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা

    আয়োজক মেক্সিকোর বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা

    এবারের বিশ্বকাপ ফুটবলের অন্যতম আয়োজক মেক্সিকো ২৬ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করেছে মেক্সিকো। স্কোয়াডের সবচেয়ে বড় চমক হলেন গোলরক্ষক গিয়ের্মো ওচোয়া। ৪০ বছর বয়সী এই তারকা ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে নেওয়ার কীর্তি গড়েদুই মহাতারকা মেসি-রোনাল্ডোর পাশে নিজের নাম লিখালেন। মেসি ও রোনালদো এবারের আসর নিয়ে ৬টি বিশ্বকাপ খেলার রেকর্ড গড়বেন।

    গোলরক্ষক গিয়ের্মো ওচোয়া ২০০৬ সালে জার্মানি বিশ্বকাপে প্রথমবার জাতীয় দলে সুযোগ পান ওচোয়া। এরপর বিশ্বকাপ মঞ্চে তার একাধিক স্মরণীয় পারফরম্যান্স মেক্সিকোর ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত অধ্যায় হয়ে ওঠে। সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় দলে নিয়মিত না খেললেও অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বগুণের কারণেই আগিররের পরিকল্পনায় জায়গা পেয়েছেন তিনি।

    বিশ্বকাপে মেক্সিকোর নেতৃত্ব দেবেন অধিনায়ক এডসন আলভারেজ। গেল মৌসুমে ওয়েস্ট হ্যাম থেকে ধারে ফেনারবাহচেতে খেলেছেন এই অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার। , কোচ জাভিয়ের আগুইরে ২৬ সদস্যের দলে জায়গা করে নিয়েছেন ইংলিশ ক্লাব ফুলহ্যামের স্ট্রাইকার রাউল হিমেনেজ।

    দলে অভিজ্ঞদের পাশাপাশি রাখা হয়েছে বেশ কয়েকজন তরুণকেও। দলে সুযোগ পেয়েছে ১৭ বছর বয়সী গিলবার্তো মোরা। এতে তিনি হতে চলেছেন দেশটির সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড়। অন্যদিকে দলে জায়গা করে নিয়েছে আরেক উদীয়মান প্রতিভা ২৩ বছর বয়সী আরমান্দো গঞ্জালেজ।

    মেক্সিকোর হয়ে ষষ্ঠবারের মতেো বিশ্বকাপের আসরে খেলবেন ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক গিয়ের্মো ওচোয়া

    মেক্সিকোর কোচ হিসেবে আগুইরের এটি তৃতীয় বিশ্বকাপ হবে। এর আগে তিনি ২০০২ এবং ২০১০ সালের আসরেও দলটিকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

    ২০২৬ বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করছে মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা। ঘরের মাঠে মেক্সিকো সর্বশেষ বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল ১৯৮৬ সালে, যেখানে তারা কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছেছিল। এবারও সেই সাফল্য ছুঁয়ে দেখার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে দলটি।

    বিশ্বকাপ শুরুর আগে বৃহস্পতিবার সার্বিয়ার বিপক্ষে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে মেক্সিকো। এরপর ১১ জুন ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজতেকা-তে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে তারা।

    মেক্সিকোর বিশ্বকাপ স্কোয়াড

    গোলরক্ষক : রাউল রাঙ্গেল (গুয়াদালাহারা), গিয়েরমো ওচোয়া (এএল লিমাসোল), কার্লোস অ্যাসেভেডো (সান্তোস লাগুনা)।

    ডিফেন্ডার : হোর্হে সানচেজ (পিএওকে), ইজরায়েল রেয়েস (ক্লাব আমেরিকা), সিজার মন্টেস (লোকোমোটিভ মস্কো), জোহান ভাসকেজ (জেনোয়া), জেসুস গ্যালার্দো (টোলুকা), মাতেও শ্যাভেজ (এজেড)।

    মিডফিল্ডার : এরিক লিরা (ক্রুজ আজুল), অরবেলিন পিনেদা (এইকে অ্যাথেন্স), আলভারো ফিডালগো (রিয়াল বেটিস), রবার্তো আলভারাদো, ব্রায়ান গুতেরেস, লুইস রোমো (গুয়াদালাজারা), এডসন আলভারেজ (ওয়েস্ট হ্যাম), ওবেদ ভার্গাস (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ), গিলবার্তো মোরানা (তিউনি) লুইজোয়ানা (তবে)।

    ফরোয়ার্ড : সেজার হুয়ের্তা (আন্ডারলেখ্ট), অ্যালেক্সিস ভেগা (টোলুকা), জুলিয়ান কুইনোনেস (আল-কাদসিয়া), গুইলারমো মার্টিনেজ (ইউএনএএম), আরমান্দো গঞ্জালেজ (গুয়াদালাজারা), সান্তিয়াগো গিমেনেজ (এসি মিলান), রাউল জিমেনেজ (ফুলহাম)।

  • ঢাকায় হাইকমিশনার হিসেবে বিজেপি নেতাকে নিয়োগ দিচ্ছে ভারত

    ঢাকায় হাইকমিশনার হিসেবে বিজেপি নেতাকে নিয়োগ দিচ্ছে ভারত

    ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং বর্তমানে বিজেপি নেতা দীনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নরেন্দ্র মোদী নেতৃত্বাধীন সরকার। রোববার (১৯ এপ্রিল) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গেছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘ সময় পর প্রতিবেশী বাংলাদেশে প্রথম রাজনৈতিক নিয়োগপ্রাপ্ত হিসেবে ত্রিবেদী পেশাদার কূটনীতিক প্রণয় ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হবেন। আর প্রণয় ভার্মা ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) ভারতীয় রাষ্ট্রদূত হিসেবে ব্রাসেলসে যাচ্ছেন।

    এতে আরও বলা হয়, ত্রিবেদীর জন্য ঢাকায় তারেক রহমান সরকারের কাছ থেকে সম্মতি চাওয়া হলেও, ৭৫ বছর বয়সী একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদকে বাংলাদেশে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে পাঠানোর সিদ্ধান্তটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কূটনীতিকদের প্রতি জবাবদিহিতার একটি বার্তাও বহন করছে।

    হিন্দুস্তান টাইমস বলছে, ত্রিবেদী ইউপিএ সরকারের আমলে তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য হিসেবে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০২১ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি তৃণমূল কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করেন এবং ওই বছরের ৬ মার্চ ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগ দেন।

    সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরবর্তী সময়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের শাসনামলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, তা মেরামতের চেষ্টার অংশ হিসেবে ত্রিবেদীকে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হন বলে দাবি করা হয় প্রতিবেদনে।

    দীনেশ ত্রিবেদীর নিয়োগের মাধ্যমে মোদি সরকার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোতে রাজনৈতিক নেতাদের দূত হিসেবে পাঠাতে কুণ্ঠিত নয় এবং এসব কাঙ্ক্ষিত পদ কেবল ইন্ডিয়ান ফরেন সার্ভিস কর্মকর্তাদের জন্য সংরক্ষিতও নয়।

    সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল দলবীর সিং সুহাগ ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সেশেলসে ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ত্রিবেদীকে ঢাকায় পাঠানোর মাধ্যমে ভারত এখন থেকে প্রতিবেশী দেশগুলোতে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের রাষ্ট্রদূত নিয়োগের ইঙ্গিত দিয়েছে।

    সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল দলবীর সিং সুহাগ ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সেশেলসে ভারতীয় হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ত্রিবেদীকে ঢাকায় পাঠানোর মাধ্যমে ভারত ইঙ্গিত দিয়েছে এখন থেকে প্রতিবেশী দেশগুলোতে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের রাষ্ট্রদূত হিসেবে পাঠাবে। এতে বোঝা গেল অন্তত উপমহাদেশে সুখসন্তপ্ত রাষ্ট্রদূতের যুগ শেষ হয়ে গেছে।

    সুত্র: আমাদের সময় /আরডি

  • ইরানের সঙ্গে বসতে ইসলামাবাদে পৌঁছাল মার্কিন প্রতিনিধিদল

    ইরানের সঙ্গে বসতে ইসলামাবাদে পৌঁছাল মার্কিন প্রতিনিধিদল

    ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা সামনে রেখে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে সাজ সাজ রব পড়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, আলোচনার উদ্দ্যেশ্যে আজ রোববার (১৯ এপ্রিল) ওয়াশিংটনের একটি দল ইসলামাবাদে পৌঁছেছে। আগামী সপ্তাহে এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে সংলাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। যদিও পাকিস্তান, ইরান বা মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই আলোচনার সময়সূচি এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

    বিদেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের আগমনে ফেডারেল রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নজিরবিহীনভাবে জোরদার করা হয়েছে। ইসলামাবাদ পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত শহরের রেড জোন এবং বর্ধিত রেড জোন এলাকায় সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।

    যাতায়াতের জন্য নাগরিকদের বিকল্প পথ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিণ্ডির জেলা প্রশাসন দুই শহরে সব ধরনের গণপরিবহণ ও পণ্যবাহী যান চলাচল স্থগিত ঘোষণা করেছে। কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ না দর্শিয়েই জেলা প্রশাসকরা এই নির্দেশ জারি করেছেন এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন।

    রাওয়ালপিণ্ডি পুলিশের সিটি অফিসার সৈয়দ খালিদ মাহমুদ হামদানির নির্দেশে পুরো শহরকে উচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। বিদেশি প্রতিনিধিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১০ হাজারেরও বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং শহরের প্রবেশ ও বহির্গমন পথগুলোতে ৬০০-এর বেশি বিশেষ পিকেট স্থাপন করা হয়েছে। এলিট কমান্ডো ও স্নাইপাররা গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থান নিয়েছেন এবং ডলফিন ফোর্সসহ কুইক রেসপন্স ইউনিটগুলো সার্বক্ষণিক টহল দিচ্ছে। স্পর্শকাতর স্থাপনা ও আবাসন এলাকায় নজরদারির জন্য ‘সেফ সিটি’র সিসিটিভি ক্যামেরা ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।