আর্জেন্টিনা

  • অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা

    অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    শেষ বাঁশি বাজালো রেফারি! বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম সেরা এক অঘটন ঘটিয়েই ফেলেছিল মিশর। কিন্তু তার বদলে ফুটবল বিশ্ব দেখলো আর্জেন্টিনার মহাকাব্যিক এক প্রত্যাবর্তন। বিশ্বকাপের মঞ্চে এই প্রথম দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও ম্যাচ জিতলো আলবিসেলেস্তেরাম্যাচ শেষে কান্নায় ভেঙে পড়লেন লিওনেল মেসি। তবে এ কান্না বিষাদের নয়, আনন্দের। প্রথমার্ধে পেনাল্টি মিস করে যে চাপ তিনি তৈরি করেছিলেন, দ্বিতীয়ার্ধে মাত্র ৪ মিনিট ১৮ সেকেন্ডের ব্যবধানে এক অ্যাসিস্ট আর এক গোল করে দলকে সমতায় ফিরিয়ে নিজেই তার প্রায়শ্চিত্ত করলেন। আর্জেন্টিনা শিবির এখন স্বস্তি আর উল্লাসে ভাসছে। টানা দ্বিতীয় এবং চতুর্থ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন এখনো টিকে রইল তাদের।অন্যদিকে রেফারির শেষ বাঁশির পর শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন মোহাম্মদ সালাহ ও তার দল। পুরো ম্যাচে বীরের মতো লড়াই করেও এমন হার মেনে নেয়া কঠিন। তবে মিশর আজ ম্যাচ হারলেও মাথা উঁচু করেই মাঠ ছেড়েছে, কারণ তারা কোনো ভুল করেনি। তারা স্রেফ হেরে গেছে এক অতিমানবীয় ফুটবল জাদুকরের পায়ের কাছে।এর আগে যোগ করা সময়ে গোল খেয়ে ম্যাচ হাতছাড়া হওয়ার শঙ্কায় মেজাজ হারায় মিশরীয় শিবির। আর্জেন্টিনার কাউন্টার অ্যাটাক থেকে গোল হওয়ার ঠিক আগে নিজেদের বক্সে ম্যাক অ্যালিস্টার মিশরের ফাতিকে টেনে ফেলে দিয়েছিলেন বলে দাবি করে তারা। এই নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ করায় গোলকিপার শোবের হলুদ কার্ড দেখেন এবং মিশরের একজন স্টাফ মাঠের ভেতর ঢুকে লাল কার্ড পান। পরে প্রতিবাদ করায় ফাতি এবং ম্যাক অ্যালিস্টারকে ফাউল করায় আতিয়াও হলুদ কার্ড দেখেন। ক্ষোভে ফেটে পড়া মিশরের কোচ হোসাম হাসানও রেফারিকে কিছু বলায় হলুদ কার্ডের তালিকায় নাম লেখান। শেষ মুহূর্তে বদলি হিসেবে ওতামেন্দি ও মেদিনা মাঠে নামেন এবং লাউতারো মার্টিনেজ কর্নার ফ্ল্যাগের কাছে বল ধরে রেখে সময় নষ্ট করতে গিয়ে আতিয়ার সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ান।গোল! অবিশ্বাস্য এক নাটকীয়তায় লিড নিলো আর্জেন্টিনা! ডান প্রান্ত থেকে আরও একটি চমৎকার ক্রস ভেসে আসে মিশরের বক্সে। সেখানে লাফিয়ে উঠে এনজো ফার্নান্দেজ নিখুঁত এক হেডে বল পাঠিয়ে দেন পোস্টের ডান দিকের উপরের কোণায়। গোলকিপার শোবেরের সাধ্য ছিল না এটি আটকানোর। দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও যোগ করা সময়ে দুর্দান্ত এই গোল করে অবিশ্বাস্য এক প্রত্যাবর্তন সম্পূর্ণ করল আলবিসেলেস্তেরা।

    ৮৩ মিনিট: আর্জেন্টিনা ২-২ মিশর

    গোল! সমতায় ফিরলো আর্জেন্টিনা, লিওনেল মেসি ম্যাজিক! ডান প্রান্ত থেকে মেসির বাড়ানো ক্রসটি মিশরের রক্ষণভাগ ঠিকমতো ক্লিয়ার করতে পারেনি। বাঁ প্রান্ত থেকে বলটি আবার বক্সের ভেতর ফেরত পাঠান লাউতারো মার্টিনেজ। হুলিয়ান আলভারেজ বুক দিয়ে আলতো ছোঁয়ায় বলের গতি কমিয়ে মেসির সামনে বাড়িয়ে দেন। ড্রপ খাওয়া বলটিতে কোনো সময় নষ্ট না করে নিখুঁত এক শটে জালের ঠিকানা খুঁজে নেন মেসি। মিশরীয় গোলকিপারের এবার আর কিছুই করার ছিল না। ৪ মিনিটের ব্যবধানে জোড়া গোল করে ম্যাচে দুর্দান্তভাবে ফিরে এলো আলবিসেলেস্তেরা।

    ৯ মিনিট: আর্জেন্টিনা ১-২ মিশর

    গোল! রোমেরোর হেডে ব্যবধান কমালো আর্জেন্টিনা। ডান প্রান্ত থেকে নিখুঁত এক ক্রসে বল বক্সে বাড়ান লিওনেল মেসি। সেখানে সম্পূর্ণ অরক্ষিত থাকা ক্রিস্টিয়ান রোমেরো মাত্র ছয় গজ দূর থেকে চমৎকার হেডে বল জালের ডান দিকে পাঠান। মিশরীয় গোলকিপার শোবের ঝাঁপিয়ে পড়ে বলে হাত ছোঁয়ালেও বলের গতি রুখতে পারেননি। এই গোলের মাধ্যমে ম্যাচে ফেরার দারুণ ইঙ্গিত দিল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

    ৬৭ মিনিট: আর্জেন্টিনা ০-২ মিশর

    গোল! এবার আর কোনো ভুল নেই। জিকোর গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করলো মিশর! আর্জেন্টিনার একটি কর্নার থেকে বল পেয়েই কাউন্টার অ্যাটাকে গতি বাড়ান মোহাম্মদ সালাহ। ক্রিস্টিয়ান রোমেরোকে কাটিয়ে তিনি ডান প্রান্তে থাকা হাসানকে পাস দেন। হাসান গতিতে নাহুয়েল মলিনাকে পরাস্ত করে একদম বাইলাইনের কাছ থেকে বক্সে চমৎকার কাট-ব্যাক করেন। সেখানে ওত পেতে থাকা জিকো মাত্র ছয় গজ দূর থেকে বুলেট গতির শটে বল জালে জড়িয়ে দেন। বিশ্বমঞ্চে এবার সত্যিই বড় এক অঘটনের সুবাস দিচ্ছে মিশর।

    ৫৮ মিনিট: আর্জেন্টিনা ০-১ মিশর

    গোল বাতিল! ভিএআরের হস্তক্ষেপে বেঁচে গেল আর্জেন্টিনা। পাল্টা আক্রমণ থেকে অসাধারণ এক গোল করে উল্লাসে মেতে উঠেছিল মিশর। তবে গোলটির ঠিক আগের মুহূর্তে, মিশরের নিজেদের অর্ধে আতিয়া আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্টিনেজকে জার্সি টেনে ধরে ফাউল করেছিলেন। ভিএআর দেখে রেফারি ফাউলের কারণে গোলটি বাতিল করে আর্জেন্টিনার পক্ষে ফ্রি-কিকের সিদ্ধান্ত নেন। সিদ্ধান্তটি সঠিক হলেও মিশরের জন্য এটি ছিল চরম এক হৃদয়ভঙ্গ।

    হাফটাইম: আর্জেন্টিনা ০-১ মিশর

    আটলান্টা স্টেডিয়ামে বড়সড় এক অঘটনের আভাস দিয়ে বিরতিতে গেল দুই দল। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এর আগে কোনো ম্যাচ না জেতা মিশরের জন্য এটি স্বপ্নের এক প্রথমার্ধ। অন্যদিকে, তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এবং ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এক গোলে পিছিয়ে থেকে মাঠ ছাড়লো। আলবিসেলেস্তেরা এখনো প্যানিক না করলেও, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে দ্বিতীয়ার্ধে তাদের কৌশলে বড় পরিবর্তন আনতে হবে।

    প্রথমার্ধের শেষ দিকে গোল শোধের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা। তবে নিজেদের বক্সের সামনে মিশরীয় ডিফেন্ডারদের কড়া পাহারায় লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা কেবল অফসাইডই হতে পেরেছেন। অন্যদিকে, গোলকিপার মোস্তফা শোবেরের একের পর এক দুর্দান্ত সেভে মাথায় হাত পড়ে লিওনেল মেসি এবং হুলিয়ান আলভারেজের। গ্যালারিতে থাকা অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ কোচ দিয়েগো সিমিওনেও আলভারেজের শটটি নিশ্চিত গোল ভেবে বসেছিলেন। কিন্তু শোবেরের বিশ্বমানের সেভ সবাইকে স্তব্ধ করে দেয়। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত ৫ মিনিটেও নিজেদের রক্ষণভাগের শৃঙ্খলা ধরে রাখে মিশর।

    ৪০ মিনিট: আর্জেন্টিনা ০-১ মিশর

    বাঁ প্রান্ত দিয়ে তাগলিয়াফিকোকে লক্ষ্য করে একটি লম্বা পাস বাড়ানো হয়। তিনি কোনোমতে পা বাড়িয়ে বলটি বক্সের মাঝখানে দেন হুলিয়ান আলভারেজের উদ্দেশ্যে। আলভারেজ শরীরটা ঘুরিয়ে ডান দিকের নিচের কোণ লক্ষ্য করে জোরালো সাইডফুট শট নেন। একদম ছবির মতো সুন্দর এক গোল হতে পারত এটি। কিন্তু পুরো শরীর বাতাসে ভাসিয়ে এক হাতের দারুণ ছোঁয়ায় বল পোস্টের বাইরে ঠেলে দেন মিশরীয় গোলকিপার শোবের। আরও একবার অসাধারণ এক সেভে আর্জেন্টিনাকে হতাশ করলেন তিনি।

    ২৯ মিনিট: আর্জেন্টিনা ০-১ মিশর

    আর্জেন্টিনার আক্রমণের গতি বাড়ল। ডান প্রান্ত থেকে রদ্রিগো ডি পল চমৎকার একটি ক্রস বাড়ান বক্সে। গোলপোস্টের মাত্র ছয় গজ দূর থেকে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার হেড করলেও তা মিশরীয় ডিফেন্ডারদের গায়ে লেগে প্রতিহত হয়। এরপর বক্সের প্রান্ত থেকে এনজো ফার্নান্দেজ ফিরতি বলে জোরালো শট নিলেও সেটিও ব্লক করে দেয় মিশরের রক্ষণভাগ।

    ২১ মিনিট: আর্জেন্টিনা ০-১ মিশর

    মেসির পেনাল্টি মিস! পেনাল্টি নেয়ার চিরচেনা আনুষ্ঠানিকতা শেষে মেসি শট নিলেও, তা আটকে দেন মিশরের গোলকিপার শোবের। মেসি পোস্টের ডান দিকের নিচের কোণ লক্ষ্য করে মারলেও শটটিতে পর্যাপ্ত গতি ছিল না। গোলকিপারদের জন্য একদম সুবিধাজনক উচ্চতায় থাকা বলটির দিক আগেই অনুমান করে চমৎকারভাবে ফিরিয়ে দেন শোবের। ফলে পেনাল্টি থেকেও সমতায় ফেরা হলো না আর্জেন্টিনার।

    ১৫ মিনিট: আর্জেন্টিনা ০-১ মিশর

    গোল! ইব্রাহিমের চোখধাঁধানো হেডে এগিয়ে গেল মিশর। ডান প্রান্তে লিসান্দ্রো মার্টিনেজকে চাপে ফেলে ম্যাচের প্রথম কর্নার আদায় করে নেন হ্যানি। কর্নার থেকে বল ফেরত পেয়ে উইং দিয়ে ভেতরে ক্রস বাড়ান আতিয়া। সেখানে লিসান্দ্রো মার্টিনেজকে ফাঁকি দিয়ে অনেকটা নিঃশব্দে বক্সে ঢুকে চমৎকার এক হেডে বল জালে জড়ান ইব্রাহিম। পোস্টের ডান দিকের উপরের কোণ দিয়ে বল জালে জড়ানোর সময় গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্টিনেজের স্রেফ দাঁড়িয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করার ছিল না।

    ৭ মিনিট: আর্জেন্টিনা ০-০ মিশর

    ডান প্রান্তে দারুণ খেলে একটি ফ্রি-কিক আদায় করে নিলেন মিশরের হাসান। আতিয়া সেই ফ্রি-কিক থেকে বক্সের ভেতর বল বাড়ালেও আর্জেন্টিনার গোলপোস্টের সামনে দিয়ে তা পার হয়ে যায়। সেখানে কোনো মিশরীয় ফুটবলার না থাকায় বেঁচে গেল আলবিসেলেস্তেরা।

    কিক অফ

    শুরু মাঠের লড়াই

    ৩ পরিবর্তন আর্জেন্টিনার

    বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার হাইভোল্টেজ ম্যাচে আজ আটলান্টায় মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও মিশর। একদিকে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠে প্রথম জয়ের স্বাদ পাওয়া রূপকথার মিশর, অন্যদিকে শিরোপাপ্রত্যাশী আলবিসেলেস্তেরা। দুই ভিন্ন মেজাজের দলের এই দ্বৈরথকে ঘিরে ফুটবল বিশ্বে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে

    মিশরের রক্ষণ ভাঙতে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি শুরুর একাদশে তিনটি বড় পরিবর্তন এনেছেন। পেশির টানের কারণে ফাকুন্দো মেদিনার জায়গায় ইনজুরি কাটিয়ে ফিরছেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নিকোলাস তাগলিয়াফিকো। মাঝমাঠে ধার বাড়াতে থিয়াগো আলমাদার পরিবর্তে শুরু থেকেই খেলবেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস। ফলে আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টার কিছুটা ওপরে উঠে খেলার স্বাধীনতা পাবেন। আক্রমণভাগেও এসেছে বড় বদল। অফফর্মে থাকা লাওতারো মার্তিনেজের জায়গায় গোড়ালির চোট কাটিয়ে ফিরেই মূল একাদশে জায়গা করে নিয়েছেন তরুণ হুলিয়ান আলভারেজ।

    লিভারপুলের কিংবদন্তি মোহামেদ সালাহ জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘদিন ধরে বড় কোনো সাফল্য পাচ্ছিলেন না। তবে এবার সালাহর জাদুকরী নেতৃত্বেই ইতিহাস বদলে দিয়েছে ‘ফারাও’রা। বিশ্বকাপে এর আগে কখনো কোনো ম্যাচ না জেতা মিসর এবার শেষ ১৬তে জায়গা করে নিয়েছে। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচটি কঠিন হলেও, জিতলে সালাহর দল পৌঁছে যাবে অনন্য এক উচ্চতায়।আর্জেন্টিনা একাদশ: এমিলিয়ানো মার্টিনেজ, নাহুয়েল মলিনা, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো, রদ্রিগো ডি পল, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, এনজো ফার্নান্দেজ, আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টার, লিওনেল মেসি, হুলিয়ান আলভারেজ।

    মিশর একাদশ: মোস্তফা শোবেইব, মোহামেদ হানি, রামি রাবিয়া, ইয়াসির ইব্রাহিম, করিম হাফেজ, ইমাম আশুর, মারোয়ান আতিয়া, মোহামেদ লাশিন, হাসান, মোহামেদ সালাহ, জিকো।

  • আর্জেন্টিনার সমর্থক হয়েও মিশরের জয় চান বর্ষা

    আর্জেন্টিনার সমর্থক হয়েও মিশরের জয় চান বর্ষা

    ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের শেষ ষোলোর ম্যাচে আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও মিশর। ম্যাচটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে ব্যাপক আলোচনা। সমর্থকদের পাশাপাশি এ আলোচনায় অংশ নিয়েছেন ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা বর্ষাও।

    দীর্ঘদিন ধরে আর্জেন্টিনা ও তারকা ফুটবলার লিওনেল মেসির সমর্থক হিসেবে পরিচিত বর্ষা। তবে এবারের ম্যাচকে সামনে রেখে তিনি প্রতিপক্ষ মিশরের জয় কামনা করেছেন।

    আজ মঙ্গলবার দুপুরে ফেসবুকে আর্জেন্টিনার জার্সি পরা একটি ছবি প্রকাশ করেন ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘আজ আমার প্রিয় দল আর্জেন্টিনা হারলেও কষ্ট পাব না। কারণ, মন থেকে চাই দুনিয়ার বুকে মুসলিমদের জয় হোক। আমিন।’

    বর্ষার এই পোস্ট প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় নানা আলোচনা ও সমালোচনা। অনেকেই এটিকে তার ব্যক্তিগত মতামত হিসেবে সম্মান জানিয়ে সমর্থন প্রকাশ করেছেন। আবার কেউ কেউ মনে করেন, খেলাধুলাকে ধর্মের সঙ্গে না জড়ানোই উচিত। তবে এসব ব্যাপারে কোনো ব্যাখ্যা বা মন্তব্য করতে দেখা যায়নি অভিনেত্রী বর্ষাকে।

  • মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশ যেমন হচ্ছে

    মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশ যেমন হচ্ছে

    লিওনেল স্কালোনি আজ কী করবেন? মিসরের বিপক্ষে কারা থাকবেন শুরুর একাদশে? এরই মধ্যে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি জানিয়েছেন, শুরুর একাদশে তিনটি পরিবর্তন নিশ্চিত। লিয়ান্দ্রো পারেদেসের একাদশে ফেরার কথাও জানিয়েছেন আর্জেন্টিনা কোচ। বাকি দুজন কারা?

    আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম এল গ্রাফিকো জানিয়েছে, চোট কাটিয়ে বাঁ দিকের রক্ষণভাগে ফিরছেন নিকোলাস তাগলিয়াফিকো। গত ম্যাচে ক্র্যাম্প হওয়ায় মাঠ ছাড়তে হয়েছিল ফাকুন্দো মেদিনাকে। আজকের ম্যাচে মেদিনার জায়গায় শুরু থেকেই খেলবেন তাগলিয়াফিকো। মিডফিল্ডে জায়গা হারাচ্ছেন থিয়াগো আলমাদা। পারেদেসকে একাদশে জায়গা করে দিতে বেঞ্চে বসতে হচ্ছে তাঁকে।

    সংবাদমাধ্যমটি আরও জানিয়েছে, আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগেও পরিবর্তন আসবে। লিওনেল মেসির সঙ্গী হিসেবে শুরুর একাদশে খেলবেন হুলিয়ান আলভারেজ। টুর্নামেন্টের আগের ম্যাচগুলোতে শুরুর একাদশে ছিলেন মার্তিনেজ।

    আজ আক্রমণভাগে শুরু থেকে খেলবেন আলভারেজ রয়টার্স

    এ ছাড়া অনুশীলনে রদ্রিগো দি পলের জায়গায় নিকো গঞ্জালেজকে দিয়েও পরখ করে দেখেছেন কোচ স্কালোনি। তবে ম্যাচের শুরু থেকে এই পরিবর্তন দেখার সম্ভাবনা কম। ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে পরবর্তীতে গঞ্জালেজকে মাঠে নামানো হতে পারে।

    আর্জেন্টিনার আরেকটি সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস জানিয়েছে, আর্জেন্টিনার প্রথম একাদশে আজ দেখা যাবে আলভারেজ, তাগলিয়াফিকো ও পারদেস।

    মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ

    মার্তিনেজ (গোলকিপার); নাহুয়েল মলিনা, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো, রদ্রিগো দি পল, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, এনজো ফার্নান্দেজ; হুলিয়ান আলভারেজ ও লিওনেল মেসি।

  • ‘ওদের আছে মেসি, আমাদের আছে সালাহ’

    ‘ওদের আছে মেসি, আমাদের আছে সালাহ’

    কোয়াটার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আজ আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ মিশর। বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলতে নামার আগে লিওনেল মেসিদেরই হুঁশিয়ারি দিয়েছে মিশর।

    রাউন্ড অফ ৩২-এ টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছে মিশর। তাদের হয়ে শেষ শট নিয়েছেন দলের সবচেয়ে বড় তারকা মোহামেদ সালাহ্‌। তিনি জানেন, এটিই তার শেষ বিশ্বকাপ হতে পারে।

    আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নামার আগে সালাহ্‌ বলেছেন, ‘আমি জানি না, এটা আমার শেষ বিশ্বকাপ কি না। তাই প্রতিটা ম্যাচ ফাইনাল ধরে খেলছি। এটাই আমার ফুটবল ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ম্যাচ। সেটা ভেবেই খেলতে নামব।’

    সালাহর উপর ভরসা রয়েছে দলের ডিরেক্টর ইব্রাহিম হাসানের। তার মতে, প্রিমিয়ার লিগে ২৫৭ গোল করা, চার বার সোনার বুট জেতা সালাহ্‌কে হালকা ভাবে নিলে প্রতিপক্ষ ভুগবে। তিনি বলেন, ‘আমরা মেসিকে নিয়ে ভাবছি না। দলের ছেলেদের বলেছি, মাঠে নেমে নিজেদের খেলাটা খেলো। দেখিয়ে দাও ওরা কাদের বিপক্ষে খেলতে নেমেছে।’

    তবে শুধু সালাহ্ নন, পুরো দলের উপরেই ভরসা দেখিয়েছেন ইব্রাহিম। তিনি বলেন, ‘ওদের দলে মেসি থাকতে পারে। আমাদের দলে সালাহ্‌ আছে। যে কোনও প্রতিপক্ষকে ও একাই শেষ করে দিতে পারে। আমাদের দলে ২৬ জন মেসি আছে।’

    মিশরকে সমীহ করছেন আর্জেন্টিনার কোচ স্কালোনি। তিনি কোনও দিনই প্রতিপক্ষকে হালকা ভাবে নেন না। এই ম্যাচেও নেবেন না। খেলার আগে সাংবাদিক বৈঠকে স্কালোনি বলেন, ‘মিশর বেশ কঠিন দল। ভালো ফুটবল খেলেছে বলেই এত দূর এসেছে। আরও একটা কঠিন লড়াই আমাদের সামনে। একটা কথা মাথায় রেখেই নামব। জিততে হবে।’

    মিশরের বিপক্ষে খেলার ধরন না বদলালেও দলে বদল করতে পারেন স্কালোনি। তিনি বলেন, ‘কাদের দলে রাখব সেটা আমি জানি। এখন তা বলব না। তবে যারা আগে বেশি খেলার সুযোগ পায়নি, তেমন কয়েক জনকে খেলাতে পারি। ওরা তরতাজা আছে। তাতে আমাদের সুবিধা হবে।’

    স্কালোনি বলেন, ‘আমরা চারটে ম্যাচই জিতেছি। তাতে আমি খুশি। কিন্তু আগের দিন রক্ষণের সময় গতির অভাব হচ্ছিল। তাই কেপ ভার্দে বল পাচ্ছিল। আমরা রক্ষণের সময়েও গতিশীল ফুটবল খেলতে ভালোবাসি। সেটা মিশরেরর বিরুদ্ধে খেলতে হবে।’

  • আর্জেন্টিনা ম্যাচের আগে যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশের সঙ্গে সাক্ষাৎ মিসরের

    আর্জেন্টিনা ম্যাচের আগে যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশের সঙ্গে সাক্ষাৎ মিসরের

    কেপ ভার্দের বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস জয়ের পর আর্জেন্টিনা শেষ ষোলোতে খেলবে মিসরের বিপক্ষে। পরশু আটলান্টায় মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা-মিসর; যা ডালাস থেকে প্রায় ১৩০০ কিলোমিটার দূরে। নতুন ভেন্যুতে যাওয়ার আগে মিসর ফুটবল দলের সদস্যরা ডালাস পুলিশ ডেপুটি চিফের সঙ্গে দেখা করেছেন।

    মিসর ফুটবল দলের সঙ্গে ডালাস পুলিশ সৌজন্য সাক্ষাতের আয়োজন করেছে। সামাজিক মাধ্যমে একাধিক ছবিও পোস্ট করেছে পুলিশ। ডালাস পুলিশ বিভাগ নিজেদের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে গতকাল রাতে ছবি পোস্টের পর ক্যাপশনে লিখেছে, ‘ডালাস পুলিশ বিভাগ আমাদের কমিউনিটির সদস্য এবং আন্তর্জাতিক অতিথিদের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্ককে অত্যন্ত মূল্য দেয়। আমরা বিশ্বাস করি, একটি কথোপকথনও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। সম্মান শুধু কথায় নয়, কাজের মাধ্যমেই প্রকাশ পায়। আজ (গতকাল) মিসর ফুটবল দলের সদস্যরা ডালাস পুলিশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং উপহার বিনিময় করেন।’

    ডালাস পুলিশ বিভাগের ডেপুটি চিফ ইসমাইলের সঙ্গে মিসর অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহ, কোচ হোসাম হাসানসহ অনেকে ছিলেন। অন্যদের মধ্যে রয়েছেন হিউস্টনে মিসরের কনসাল জেনারেল শেরিফ মোখতার , মিসর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হানি আবু রিদা এবং মিসর ফুটবল দলের পরিচালক ইবরাহিম হাসান। যাঁদের মধ্যে হানি আবু রিদা ফিফা কাউন্সিলের একজন বিশিষ্ট সদস্য।

    পরশু রাতে ডালাসে টাইব্রেকারে শেষ বত্রিশের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ৪-২ গোলে হারায় মিসর। শেষ ষোলো নিশ্চিত করার পর মিসর ফুটবল দলের সঙ্গে গতকাল সৌজন্য সাক্ষাতের আয়োজন করে ডালাস পুলিশ। মিসরকে অভিনন্দন জানিয়ে ফেসবুকে ডালাস পুলিশ লিখেছে, ‘গতকাল (গত পরশু) অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের জন্য মিসর দলকে অভিনন্দন। ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ চলাকালীন এবং এর পরেও তাদের সঙ্গে এই সুসম্পর্ক বজায় থাকবে বলে আশা করছি।’

    অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ ৩২-এর ম্যাচে মাঠে নামার আগে মিসর দলের সঙ্গে ঘটেছিল এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। হোটেলে নিরাপত্তাকর্মী ও দলটির কর্মকর্তাদের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছিল, মিসর দলের পরিচালক ইব্রাহিম হাসান স্থানীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়লে তা হাতাহাতিতে পৌঁছেছিল। এরপর অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর পর মিসর দলের সঙ্গে তো সৌজন্য সাক্ষাতের আয়োজন করল ডালাস পুলিশ।

  • ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা কত দূর যাবে, কী বলছে সুপারকম্পিউটার

    ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা কত দূর যাবে, কী বলছে সুপারকম্পিউটার

    বলতে গেলে শেষ ভাগে এসে পড়েছে বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬। ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ শেষ হতে বাকি শুধু ১৪ দিন। যে টুর্নামেন্টের জন্য বিশ্ববাসী চার বছর অপেক্ষা করে, যার জন্য এত উন্মাদনা। তবে নকআউট পর্বে এখন যে রোমাঞ্চ ছড়াচ্ছে, তাতে কোন দল জিতবে শিরোপা, তা নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে চলছে নানা আলাপ-আলোচনা।

    বিশ্বকাপ ফুটবলের সময় বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের বড় অংশ ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা দলে ভাগ হয়ে পড়ে। তথ্য বিশ্লেষণে বিশেষজ্ঞ প্রযুক্তি অপ্টা সুপারকম্পিউটারের মতে, লাতিন আমেরিকার দুই দল উঠবে কোয়ার্টার ফাইনালে। সুপারকম্পিউটারের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ব্রাজিলের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা প্রায় ৬৭ শতাংশ। বাংলাদেশ সময় আজ রাত ২টায় নিউইয়র্কে শুরু হবে ব্রাজিল-নরওয়ে শেষ ষোলোর ম্যাচ। আর আর্জেন্টিনার শেষ আটে ওঠার সম্ভাবনা ৭৯ শতাংশ। পরশু আটলান্টায় হবে শেষ ষোলোর আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচ।

    অপ্টা সুপারকম্পিউটার বিশ্লেষণের জন্য প্রায় ১০ হাজার সিমুলেশন চালিয়েছে, যাতে প্রতিটি দলের জয়ের সম্ভাবনা নির্ধারণ করা যায়। বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচগুলোর সম্ভাব্য ফেবারিট দলগুলোর ব্যাপারেও ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল তারা। শেষ বত্রিশের ১৬ ম্যাচের মধ্যে ১৪ ম্যাচের বিজয়ী সঠিকভাবে নির্ণয় করতে পেরেছিল অপ্টা সুপারকম্পিউটার। এর আগে একই প্ল্যাটফর্ম ২০২৫-২৬ মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগে প্যারিস সেন্ট-জার্মেইয়ের (পিএসজি) শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা দেখিয়েছিল ৫৬ শতাংশ।

    কানাডা-মরক্কো, ফ্রান্স-প্যারাগুয়ে—গত রাতে এই দুই ম্যাচ দিয়ে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ ষোলো শুরু হয়েছে। অপ্টা সুপারকম্পিউটার যা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল, তা-ই হয়েছে। মরক্কো ও কানাডার জয়ের সম্ভাবনা দেখিয়েছিল ৬৫.৭০ এবং ৩৪.৩০ শতাংশ। মরক্কো জিতেছে ৩-০ গোলে। আর প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ফ্রান্সের জয়ের সম্ভাবনা ৮৬.৬৮ শতাংশ দেখিয়েছিল সুপারকম্পিউটার। কিলিয়ান এমবাপ্পের গোলে ফ্রান্স ১-০ গোলে জিতে নিশ্চিত করেছে কোয়ার্টার ফাইনাল।

    অপ্টা সুপারকম্পিউটারের পাশাপাশি অন্যরাও করছে ভবিষ্যদ্বাণী। গেতুলিও ভার্গাস ফাউন্ডেশনের (এফজিভি) স্কুল অব অ্যাপ্লাইড ম্যাথেমেটিকস স্পেনের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা বলছে ১৫.৫৭ শতাংশ। ব্রাজিলের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা ৪.৬৮ শতাংশ। এদিকে ‘ওয়ার্ল্ড কাপ সিয়ার’ নামে পরিচিত একজন ব্রাজিলীয় পরিসংখ্যানবিদ এই ভবিষ্যদ্বাণীর সঙ্গে একমত নন। তাঁর মতে পর্তুগাল হবে চ্যাম্পিয়ন। যেখানে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো কয়েক মাস আগে জানিয়েছিলেন, এটাই তাঁর শেষ বিশ্বকাপ। ‘ওয়ার্ল্ড কাপ সিয়ার’-এর মতে স্পেন হবে রানার্সআপ। ব্রাজিল বিদায় নেবে সেমিফাইনালের আগেই।

    ৭ জুলাই কলম্বিয়া-সুইজারল্যান্ড ম্যাচ দিয়ে শেষ হবে শেষ ষোলো। ভ্যাঙ্কুভারে ম্যাচটি বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় শুরু হবে। সেদিন যুক্তরাষ্ট্র-বেলজিয়াম, আর্জেন্টিনা মিসর ম্যাচও রয়েছে। এরপর ৯ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত হবে কোয়ার্টার ফাইনাল। শিরোপা নির্ধারণী ফাইনাল ১৯ জুলাই।

  • আর্জেন্টিনার দেওয়া সেই ক্ষত এখনও ভোলেনি ইংল্যান্ড

    আর্জেন্টিনার দেওয়া সেই ক্ষত এখনও ভোলেনি ইংল্যান্ড

    ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে মেক্সিকোর বিপক্ষে আগামীকাল মাঠে নামবে ইংল্যান্ড। এই মাঠটি মোটেও ইংলিশদের জন্য সুখকর নয়। সবশেষ স্মৃতি ছিল বড় ক্ষতের। সেই ক্ষত এখনও ভুলতে পারছে না লায়নরা।

    ভোরে মাঠে নামার আগে ইংলিশ কোচ টমাস টুখেলের করা সংবাদ সম্মেলনে ঘুরেফিরে এসেছে সেই ১৯৮৬ বিশ্বকাপের প্রসঙ্গ।

    সেবার কোয়ার্টার ফাইনালে আজতেকায় ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে শিরোপার দিকে এগিয়ে গিয়েছিল আর্জেন্টিনা। ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত দুটি গোল করেছিলেন দিয়েগো ম্যারাডোনা। একটি ‘হ্যান্ড অব গড’ (ঈশ্বরের হাত) এবং অন্যটি ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ (শতাব্দীর সেরা গোল) নামে পরিচিত।

    হৃদয়ভাঙা সেই ম্যাচের সময় পেরিয়ে গেছে ৪০ বছর। আজতেকার নাম বদলে হয়েছে মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়াম। তবে ক্ষত এখনো রয়ে গেছে।

    সংবাদ সম্মেলনে টুখেল বলেন, ‘সবাই সেই (আর্জেন্টিনার বিপক্ষে) ম্যাচটির কথা মনে রেখেছে। গোল দুটি ছিল আইকনিক— হ্যাঁ, এই স্টেডিয়ামেই (আজতেকা) দুটি ঐতিহাসিক গোল হয়েছিল। আর্জেন্টিনার ক্ষত এখনও টাটকা, সেই স্মৃতিটা এখনও আমাদের পোড়ায়।’

    আগের ক্ষত থাকলেও এখন প্রেক্ষাপট পুরোপুরি বদলে গেছে। এবার ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা নয়, বরং স্বাগতিক দেশ মেক্সিকো। ইংল্যান্ডের কোচ হিসেবে নিজের প্রথম বিশ্বকাপ মিশন সামলানো টুখেল বলেন, ‘স্টেডিয়ামটা এক হলেও এবারের প্রতিপক্ষ তো এক নয়। আর প্রতিপক্ষ এক হলেও প্রতিশোধের মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামার কোনো মানে হয় না। আমরা এখানে নতুন একটি অধ্যায় লিখতে এসেছি।’

    টুখেল বলেন, ‘মেক্সিকোর বিপক্ষে তাদের মাটিতে সেরা পারফরম্যান্স দেখাতে হলে প্রচুর সাহসের প্রয়োজন হবে। তবে আমরা তৈরি।’

  • অথচ ফুটবলটাই ছাড়তে চেয়েছিলেন আর্জেন্টিনার জয়ের নায়ক

    অথচ ফুটবলটাই ছাড়তে চেয়েছিলেন আর্জেন্টিনার জয়ের নায়ক

    গুরুতর চোটের কারণে একসময় ফুটবলকেই বিদায় জানাতে চেয়েছিলেন লিসান্দ্রো মার্তিনেস। তবে জীবনের এক বিশেষ মুহূর্ত বদলে দেয় তাঁর সব ভাবনা। কন্যাসন্তান জন্মের পর নতুন করে লড়াইয়ের শক্তি খুঁজে পান আর্জেন্টিনার এই ডিফেন্ডার।

    কেপ ভার্দের বিপক্ষে সেরা ৩২-এর ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে আর্জেন্টিনাকে রাউন্ড অব সিক্সটিনে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মার্তিনেস। অথচ মাত্র এক বছর আগেও হাঁটুর অ্যান্টেরিয়র ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট (এসিএল) ছিঁড়ে যাওয়ায় তাঁর ফুটবল ক্যারিয়ারই অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছিল।

    সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন সময়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অকপটে নিজের মানসিক সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন মার্তিনেস। তিনি বলেন, ‘আমি সত্যিই খুব খারাপ অবস্থায় ছিলাম। এমনকি অবসর নেওয়ার কথাও ভেবেছিলাম।’

    কন্যাসন্তানের জন্ম যেন মার্তিনেসের অন্ধকার সময়ে আলোর দিশা হয়ে আসে। এই প্রসঙ্গে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তারকা বলেন, ‘তারপর আমার মেয়ের জন্ম হলো, আর সবকিছুই ভারসাম্যে ফিরে এল।’

    স্ত্রীর সন্তান জন্ম দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়া কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা মার্তিনেসের মানসিকতাই বদলে দেয়, ‘আমি আমার স্ত্রীকে সন্তান জন্ম দিতে দেখেছি এবং এর জন্য তিনি কতটা পরিশ্রম করেছেন, তা দেখেছি। তখনই আমি নিজেকে বলেছিলাম, ‘আমি কীভাবে লড়াই চালিয়ে না যেতে পারি?’

    চোট কাটিয়ে যে দারুণভাবেই ফিরেছেন, চলমান বিশ্বকাপের সেটার প্রমাণ দিচ্ছেন মার্তিনেস। রক্ষণভাগে নিজের স্বাভাবিক দৃঢ়তা ও নেতৃত্ব দিয়ে আবারও আর্জেন্টিনা দলের অবিচ্ছেদ্য সদস্য হয়ে উঠেছেন তিনি। কেপ ভার্দের বিপক্ষে সেরা ৩২-এর ম্যাচে যোগ করা সময়ে তাঁর গোলেই দ্বিতীয়বারের মতো এগিয়ে যায় আলবিসেলেস্তেরা। এরপর অতিরিক্ত সময়ের আত্মঘাতী গোলে আর্জেন্টিনার জয় নিশ্চিত হয়।

  • ‘কেপ ভার্দে ম্যাচই শেষ’ ধরে খেলার আহ্বান ডি পলের 

    ‘কেপ ভার্দে ম্যাচই শেষ’ ধরে খেলার আহ্বান ডি পলের 

    ‘মনোযোগ থাকবে শুধুই কেপ ভার্দে ম্যাচে। আর কোন কিছুতে নয়।’ আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার রদ্রিগো ডি পল সতীর্থদের এভাবেই সতর্ক করেছেন। দলের তরুণ সতীর্থদের তিনি বলেছেন- এই জার্সি পরাই শেষ পরা হতে পারে। এভাবেই তিনি এতো বছর খেলে এসেছেন বলেও মন্তব্য করেন।

    শনিবার মায়ামিতে বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টার কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে ডি পল বলেন, ‘আগামী ম্যাচের বাইরে কিছু ভাবলে তা বড় ভুল হবে। আগামী ম্যাচই শেষ ম্যাচ হতে পারে। এভাবেই আমি দেখে আসছি। কিন্তু এটাই যেন শেষ ম্যাচ না হয়, সেজন্য যা যা করণীয় আমি করবো। এটাই আমার মানসিকতা।’

    এবারের বিশ্বকাপে এরই মধ্যে একাধিক অঘটন ঘটে গেছে। টাইব্রেকারে জার্মানিকে বিদায় করেছে প্যারাগুয়ে। টুর্নামেন্টের ফেবারিট নেদারল্যান্ডস টাইব্রেকারে মরক্কোর কাছে হেরেছে। ইংল্যান্ডকে ডিআর কঙ্গো, বেলজিয়ামকে প্রায় রুখে দিয়েছিল সেনেগাল। এসব থেকে শিক্ষা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়া ডি পল। আকাশি-সাদা জার্সির জন্য সর্বস্ব বাজি রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।

    তিনি বলেন, ‘আমরা তরুণদের বলছি, এই যে জাতীয় দলের জার্সি পরে নামছো, এটাই শেষ ম্যাচ হতে পারে। যেন শেষ ম্যাচ না হয়, সেটা নিশ্চিত করেই খেলো। এভাবেই আমি গত আট-নয় বছর খেলে আসছি। এই জার্সি পরলে আমি কখনো পিছনে ফিরে তাকাই না। দেশের হয়ে খেলা, জাতীয় দলের জার্সি পরা সর্বোচ্চ সম্মান। এটার জন্য সর্বোচ্চ দিয়ে খেলতে হবে।’

  • ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা নিয়ে ওয়েব সিরিজ

    ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা নিয়ে ওয়েব সিরিজ

    বিশ্বকাপ এলেই দেশের অলিগলি থেকে শুরু করে সবখানেই ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার সমর্থকদের তুমুল উন্মাদনা দেখা যায়। চলে প্রিয় দলের জয়-পরাজয় নিয়ে তুমুল তর্ক-বির্তক, পতাকা টানানো। সবমিলিয়ে বিশ্বকাপ পরিণত ভিন্ন এক উৎসবে। সেই চেনা বাস্তবতাকেই পর্দায় তুলে আনছে নতুন ওয়েব সিরিজ ‘ব্রাজেন্টিনা ক্লাব’। খেলা হবে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার মাঠে, কিন্তু সমর্থকদের উন্মাদনায় যেন আরেকটি বিশ্বকাপ বসে বাংলাদেশের পাড়া-মহল্লায়। সেই গল্পই হাস্যরসের মোড়কে তুলে ধরা হবে ‘ব্রাজেন্টিনা ক্লাব’-এ।

    সিরিজটি পরিচালনা করেছেন তারিক মুহাম্মাদ হাসান। এতে অভিনয় করেছেন ফুটবলার জামাল ভূঁইয়া, তাসনুভা তিশা, লামিমা লাম, শরাফ আহমেদ জীবন, সহীদ উন নবী ও ইশতিয়াক আহমেদ রোমেল।

    নির্মাতা তারিক মুহাম্মাদ হাসান বলেন, ‘বাংলাদেশের মহল্লাগুলোতে বিশ্বকাপ এলেই যে মজার মজার ঘটনা ঘটে, সেগুলোই সিরিজে তুলে ধরা হয়েছে।’

    ‘ব্রাজেন্টিনা ক্লাব’র মাধ্যমে প্রথমবার অভিনয়ে নাম লিখিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। অভিনয়ের নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি জানান, এর আগে বিজ্ঞাপনে কাজ করলেও নাটক বা সিরিজে অভিনয় এবারই প্রথম।

    জামাল বলেন, ‘এর আগে কয়েকটি বিজ্ঞাপনচিত্রে মডেল হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকলেও নাটকে বা সিরিজে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা এবারই প্রথম।’

    অভিনয়ের অভিজ্ঞতাকে ‘ম্যাজিক্যাল’ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘পুরো বিষয়টি বেশ ম্যাজিক্যাল লাগছে। ক্যামেরার সামনের অভিনয়ের ব্যাপারটা সহজ নয়।’

    নিজের অভিনয় নিয়ে দর্শকদের প্রতিক্রিয়া নিয়েও বেশ খোলামেলা জামাল। তিনি বলেন, ‘আমার অভিনয় দেখে দর্শকরা মজা করুক, মিমস বানাক, ট্রল করুক- তাতে আমার কোনো আপত্তি নেই।’

    জানা গেছে, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম আইস্ক্রিনে আগামী ৭ জুলাই থেকে সিরিজটি স্ট্রিমিং শুরু হবে। আট পর্বের এই সিরিজের প্রতিটি পর্বের দৈর্ঘ্য প্রায় ২৫ মিনিট।

  • সুখবর পেল আর্জেন্টিনা

    সুখবর পেল আর্জেন্টিনা

    বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব শুরুর আগে স্বস্তির খবর পেয়েছে আর্জেন্টিনা। চোট কাটিয়ে অনুশীলনে ফিরেছেন দলের নির্ভরযোগ্য সেন্টারব্যাক ক্রিস্তিয়ান রোমেরো। সবকিছু ঠিক থাকলে কেপ ভার্দের বিপক্ষে শেষ ৩২-এর ম্যাচেই তাঁকে শুরুর একাদশে দেখা যেতে পারে।

    আগামী ৪ জুলাই ভোরে মায়ামি স্টেডিয়ামে কেপ ভার্দের বিপক্ষে খেলতে নামবে আর্জেন্টিনা। টিওয়াইসি স্পোর্টস জানিয়েছে, তার আগে দলীয় অনুশীলনে অংশ নেন রোমেরো। সব ধরনের শারীরিক পরীক্ষায় পাস করেছেন তিনি। তবে এই ডিফেন্ডারকে নিয়ে শেষ অনুশীলনের আগে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাননি লিওনেল স্কালোনি। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, কেপ ভার্দের বিপক্ষে নিকোলাস ওতামেন্দির পরিবর্তে রোমেরোকে শুরুর একাদশে ফেরাতে চান স্কালোনি।

    অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে ডান হাঁটুতে চোট পান রোমেরো। সতর্কতার অংশ হিসেবে জর্ডানের বিপক্ষে তাঁকে বিশ্রাম দেওয়া হয়। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে টটেনহাম হটস্পারের হয়ে খেলার সময় একই হাঁটুর ল্যাটারাল লিগামেন্টে মচকানোর চোটেও ভুগেছিলেন তিনি।

    রোমেরোর ফেরা নিশ্চিত হলেও আক্রমণভাগ নিয়ে এখনো ভাবতে হচ্ছে স্কালোনিকে। লিওনেল মেসির সঙ্গী হিসেবে কে খেলবেন, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন আর্জেন্টিনার কোচের জন্য। লাউতারো মার্তিনেস কিছুটা এগিয়ে থাকলেও হুলিয়ান আলভারেসও সমানভাবে কোচের বিবেচনায় আছেন। কোচিং স্টাফ এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।

    বাম প্রান্তের রক্ষণেও থাকতে পারে চমক। নিকোলাস তালিয়াফিকো কাফের চোট কাটিয়ে জর্ডানের বিপক্ষে খেলেছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ের ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্সের কারণে শুরুর একাদশে জায়গা পেতে পারেন ফাকুন্দো মেদিনা, দাবি টিওয়াইসি স্পোর্টসের।

    অন্যদিকে মাঝমাঠ নিয়ে স্কালোনির ভাবনা অনেকটাই পরিষ্কার। রদ্রিগো দে পল, আলেক্সিস মাক আলিস্তার, এনসো ফার্নান্দেস ও থিয়াগো আলমাদাকে নিয়েই মাঝমাঠ সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে এই কোচের।

  • বিশ্ব ফুটবলমঞ্চে এক মহাকাব্যিক লড়াইয়ের গল্প

    বিশ্ব ফুটবলমঞ্চে এক মহাকাব্যিক লড়াইয়ের গল্প

    বিশ্ব ফুটবল মঞ্চে একটি খেলাকে ঘিরে এতো আলোচনা আর কখনও হয়েছে—এমনটা জানা নেই। এটা এমনই এক লড়াই যা ডেভিড বনাম গোলিয়াথ বা রূপকথার গল্পকেও হার মানায়। একদিকে তিনবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন, ফুটবলের অবিসংবাদিত পরাশক্তি আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে আটলান্টিক মহাসাগরের ছোট্ট দীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে। যারা এই প্রথমবার বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে পা রেখে ইতিহাস গড়েছে। ফুটবল পণ্ডিতরা বলছেন, এটি শুধু ফুটবল ম্যাচ নয়। এটি হলো অভিজ্ঞতা আর এক নতুন স্বপ্নের রোমাঞ্চকর লড়াই। অভিজ্ঞতার দিক থেকে এটি আকাশ-পাতাল তফাৎ। দুই দলের অভিজ্ঞতা যোগ করলে মনে হবে—একপাশে রয়েছে হিমালয় পর্বত, আর অন্যপাশে ছোট মাটির ঢিবি। আর্জেন্টিনার এটা ১৮তম বিশ্বকাপ। মোট তিনবার তারা বিশ্বসেরার মুকুট মাথায় পরেছে। বিশ্বকাপের মঞ্চে একশটিরও বেশি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা তাদের। অনেকেই কেপ ভার্দেকে পুঁচকে বলে বর্ণনা করছেন। তারাই এখন বলছেন, এই লড়াই হতে যাচ্ছে মহাশক্তি বনাম এক রূপকথার। মায়ামি স্টেডিয়ামে কী হবে তা নিয়েই যত হিসেব-নিকেশ। পাঁচ লাখ ৩০ হাজার জনসংখ্যার এই দ্বীপ রাষ্ট্র কেপ ভার্দের জন্য এটিই প্রথম বিশ্বকাপ। এর আগে আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে তারা কয়েকবার চমক দেখিয়েছে বটে। কিন্তু বিশ্বকাপের মতো মেগা টুর্নামেন্টের চাপ সামলানোর অভিজ্ঞতা তাদের একেবারেই নেই। পরিসংখ্যানের এই বিশাল ব্যবধান আর্জেন্টিনাকে অনেক এগিয়ে রেখেছে। তাই মাঠের লড়াইয়ে নামার আগেই মানসিক দিক থেকে তারা বেশ চাঙ্গা। আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দের এই লড়াইয়ের পেছনে রয়েছে এক অদ্ভুত ভৌগোলিক ও ফুটবলীয় ইতিহাস।

    আর্জেন্টিনা ফুটবলকে ধর্ম মনে করে। ম্যারাডোনা ও মেসির মতো কিংবদন্তির জন্ম দিয়েছে। কেপ ভার্দের ফুটবল মূলত পর্তুগালের ঔপনিবেশিক ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত। একসময় কেপ ভার্দের সেরা ফুটবলাররা পর্তুগালের হয়ে খেলতেন। পর্তুগালের কিংবদন্তি ফুটবলার নানির (Nani) জন্ম এই কেপ ভার্দেতেই। তিনি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের একজন সেরা ফরওয়ার্ড ছিলেন। গত এক দশকে নিজেদের ফুটবলকে নতুন করে সাজিয়েছে দ্বীপ রাষ্ট্রটি। প্রবাসে থাকা প্রতিভাদের একত্র করেছে। কেটেছে বিশ্বকাপের টিকিট। আর্জেন্টিনার আভিজাত্যের বিপরীতে কেপ ভার্দের এই উঠে আসার গল্প ফুটবল ভক্তদের চোখে পানি এনে দেয়। কেপ ভার্দে- আর্জেন্টিনার সঙ্গে কোনো হিসেবেই মিল নেই। আর্জেন্টাইন শিবিরের মোট বাজার মূল্য বিলিয়ন ডলারের ওপরে। অন্যদিকে কেপ ভার্দের পুরো দলের মূল্য যে কোনো একজন বেঞ্চের খেলোয়াড়ের মূল্যের চেয়েও কম। আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগে রয়েছেন বিশ্বসেরা তারকারা। যারা ইউরোপের বিভিন্ন ক্লাবে খেলেন। সেখানে কেপ ভার্দের ভরসা তাদের অধিনায়ক রেকর্ড গোলদাতা রায়ান মেন্দেসের মতো সৈনিক। এছাড়া ইউরোপের মাঝারি সারির ক্লাবে খেলা কিছু লড়াকু ফুটবলার।

    গোলরক্ষক ভোজিনিয়া বাড়তি শক্তি কেপ ভার্দের। ভোজিনিয়াকে চীনের গ্রেটওয়ালের সঙ্গে তুলনা করা হয়। চল্লিশ বছর বয়সি এই গোলরক্ষক মেসিদের গোলার মতো শটগুলো কীভাবে রুখে দেন, তাই দেখার বিষয়। তাদের অবশ্য হারাবার কিছু নেই। জয়ের আকাঙ্ক্ষা আছে। রয়েছে লড়াইয়ের প্রস্তুতি। আমরা সবাই জানি, ফুটবলের নিষ্ঠুর সত্য হচ্ছে—আবেগ দিয়ে জয় পাওয়া যায় না। আর্জেন্টিনার মতো দলের রক্ষণভাগ তছনছ করা প্রায় অসম্ভব। আর সেখানে যদি মেসির পায়ে বল থাকে—তাহলে তো কথাই নেই। আর্জেন্টিনা এই ম্যাচে পরিষ্কার হট ফেভারিট। কেপ ভার্দেকে নিয়ে আবার অনেকেই আত্মবিশ্বাসী। মঙ্গলবার ডালাস এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামের প্রেসবক্সে ভিয়েতনামী সাংবাদিক ত্রুং-এর সঙ্গে কথা হয়। যিনি ছয়টি বিশ্বকাপ কাভার করেছেন। তার মতে, কেপ ভার্দে যদি প্রথম ২০ মিনিট গোল না খেয়ে টিকে থাকতে পারে, তাতেই একটি মহাকাব্যিক লড়াইয়ের সাক্ষী হবে বিশ্ব ফুটবল। এতে কোনো সন্দেহ নেই।

  • আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে ম্যাচে রেফারির দায়িত্ব পেলেন ফিশার

    আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে ম্যাচে রেফারির দায়িত্ব পেলেন ফিশার

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশে আর্জেন্টিনা আর কেপ ভার্দের ম্যাচ পরিচালনা করবেন কানাডার রেফারি ড্রু ফিশার। ফিফা এই খবর নিশ্চিত করেছে। আগামী শুক্রবার রাত ৭টায় মায়ামিতে এই ম্যাচ হবে।

    ৪৫ বছর বয়সী এই রেফারি এর আগেও আর্জেন্টিনার একটি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। তবে ২০২৩ সালে তার বিরুদ্ধে মেক্সিকোকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল, একটি কনকাকাফ নেশনস লিগ ম্যাচে।

    ক্যালগেরিতে জন্ম নেওয়া ফিশারের উত্তর আমেরিকার ফুটবলে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা আছে। তিনি নিয়মিত এমএলএসের ম্যাচ পরিচালনা করেন। যে লিগে প্রতি সপ্তাহান্তে খেলেন লিওনেল মেসি, সেই লিগে তিনি ইতিমধ্যে ২২৯টি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন।

    ২০১৫ সাল থেকে তিনি আন্তর্জাতিক রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ভ্যাঙ্কুভার হোয়াইটক্যাপসের বিপক্ষে ইন্টার মায়ামির ৩-১ গোলের জয়ের ম্যাচেও তিনি রেফারি ছিলেন। এই জয়ে মেসির দল তাদের প্রথম লিগ শিরোপা জিতেছিল।

    তবে ২০২৩ সালের একটি ঘটনা তার ক্যারিয়ারে দাগ ফেলেছে। মেক্সিকো আর হন্ডুরাসের মধ্যে কনকাকাফ নেশনস লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে ভিএআর বুথে ছিলেন ফিশার। তিনি এল সালভাদরের রেফারি ইভান বার্টনকে জানিয়েছিলেন, ইনজুরি টাইমে এগারো মিনিট যোগ করতে হবে।

    ম্যাচ শেষে বার্টন বলেছিলেন, ‘ভিএআর বুথের কানাডিয়ান রেফারি আমাকে ডেকে বলেছিলেন, তোমাকে ৯ মিনিট ৪০ সেকেন্ড যোগ করতে হবে। কিন্তু আমি ঠিক করেছিলাম নয় মিনিট যোগ করব। নয় মিনিট শেষ হওয়ার পর ভিএআর আমাকে আবার ডেকে বলেছিল, বার্টন, তোমাকে আরও দুই মিনিট যোগ করতে হবে।’

    কী হয়েছিল তখন? ইনজুরি টাইমের দশম মিনিটে গোল করে সমতা ফেরায় মেক্সিকো। এরপর টাইব্রেকারে জিতে যায় দলটি।

    কয়েকদিন পরই এই বিতর্ক অনেকটা চাপা পড়ে যায়। কারণ মেক্সিকো আর যুক্তরাষ্ট্রের ফাইনাল ম্যাচেও রেফারি ছিলেন ফিশার। সেই ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্র ২-০ গোলে জিতেছিল।

    আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের ম্যাচ ফিশার পরিচালনা করেছেন মাত্র একবার। ২০২৪ কোপা আমেরিকার আগে ফিলাডেলফিয়ায় একটি প্রীতি ম্যাচে তিনি রেফারি ছিলেন। সেই ম্যাচে আনহেল দি মারিয়ার গোলে ইকুয়েডরকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল লিওনেল স্কালোনির দল। সেই টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনা পরে চ্যাম্পিয়নও হয়েছিল।

    এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত দুটি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন ফিশার। ফ্রান্স ৩-০ গোলে ইরাককে হারানো ম্যাচ আর ক্রোয়েশিয়া ২-১ গোলে ঘানাকে হারানো ম্যাচ। এই জয়ে ক্রোয়েশিয়া শেষ ষোলোয় জায়গা করে নেয়।

  • গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে সবার ওপরে মেসি

    গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে সবার ওপরে মেসি

    বয়স যতই বাড়ুক, গোল করার ক্ষুধায় যে এতটুকুও ভাটা পড়েনি, তা আবারও প্রমাণ করলেন লিওনেল মেসি। চলতি ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা আর্জেন্টাইন অধিনায়ক সোমবার জর্ডানের বিপক্ষে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেই নিজের জাত চিনিয়েছেন। ম্যাচের ৮০তম মিনিটে দৃষ্টিনন্দন এক ফ্রি-কিক থেকে গোল করে টুর্নামেন্টে নিজের গোলসংখ্যা বাড়িয়ে করেছেন ৬।

    এই গোলের সুবাদে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে এককভাবে শীর্ষে উঠে গেছেন ৩৯ বছর বয়সি এই মহাতারকা। কিলিয়ান এমবাপ্পে, এরলিং হালান্ড ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের মতো সময়ের সেরা তরুণ ফরোয়ার্ডদের পেছনে ফেলে মাত্র তিন ম্যাচে ছয় গোল করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন মেসিই। গ্রুপ পর্বে তার এই দুর্দান্ত গোল-পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে, বয়স কেবলই একটি সংখ্যা।

    বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রথম দুই ম্যাচেও দলের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন মেসি। জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচে ৬০তম মিনিটে তিনি মাঠে নামেন, যখন আর্জেন্টিনা ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও প্রতিপক্ষ চাপ সৃষ্টি করছিল। মাঠে নেমেই আক্রমণে গতি এনে শেষ পর্যন্ত ফ্রি-কিক থেকে দুর্দান্ত গোল করে দলের জয় প্রায় নিশ্চিত করে দেন তিনি।

    ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে সাত গোল করে সিলভার বুট জিতেছিলেন মেসি। এবার গ্রুপ পর্ব শেষ হওয়ার আগেই ছয় গোল করে তিনি গোল্ডেন বুট জয়ের অন্যতম প্রধান দাবিদারে পরিণত হয়েছেন। বর্তমান ফর্ম ধরে রাখতে পারলে ক্যারিয়ারে আরও একটি বিশ্বকাপ গোল্ডেন বুট জয়ের সম্ভাবনাও উজ্জ্বল হয়ে উঠবে তার।

    আগামী ৩ জুলাই রাউন্ড অব ৩২-এ কেপ ভার্দের বিপক্ষে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। নকআউট পর্বেও যদি মেসি একই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেন, তাহলে গোল্ডেন বুট জয়ের পাশাপাশি শিরোপা ধরে রাখার আর্জেন্টিনার স্বপ্নও আরও শক্ত ভিত পাবে।

  • ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপে মুখোমুখি হতে পারে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা

    ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপে মুখোমুখি হতে পারে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা

    বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর প্রতিদ্বন্দ্বিতার নাম ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা। ২০২৬ বিশ্বকাপেও সেই বহুল প্রতীক্ষিত মহারণের সম্ভাবনা জাগতে শুরু করেছে। নিজ নিজ গ্রুপে শীর্ষস্থান অর্জন করে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে দুই লাতিন পরাশক্তি। ফলে টুর্নামেন্টের শেষ দিকে তাদের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনাও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।

    গ্রুপ ‘জে’ চ্যাম্পিয়ন হয়ে শেষ ৩২-এ উঠেছে আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে গ্রুপ ‘সি’-তে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল। বর্তমান নকআউট সূচি অনুযায়ী দুই দল রয়েছে টুর্নামেন্টের ভিন্ন অংশে। তাই ফাইনালের আগে তাদের দেখা হওয়ার সম্ভাব্য মঞ্চ হতে পারে সেমিফাইনাল।

    তবে সেই স্বপ্নের লড়াই দেখতে হলে দুই দলকেই পেরোতে হবে নকআউট পর্বের একাধিক কঠিন ধাপ। শেষ ৩২, শেষ ১৬ ও কোয়ার্টার ফাইনালে জয় পেলে তবেই সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দল।

    গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত ছন্দে আছে আর্জেন্টিনা। প্রথম দুই ম্যাচে আলজেরিয়াকে ৩-০ এবং অস্ট্রিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে নকআউট নিশ্চিত করে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। শেষ ৩২-এ তাদের প্রতিপক্ষ হবে গ্রুপ ‘এইচ’-এর রানার্সআপ দল।

    অন্যদিকে ব্রাজিল শুরুটা করেছিল মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র দিয়ে। তবে পরবর্তী দুই ম্যাচে হাইতি ও স্কটল্যান্ডকে একই ব্যবধানে ৩-০ গোলে হারিয়ে ঘুরে দাঁড়ায় কার্লো আনচেলত্তির দল। গোল ব্যবধানে মরক্কোকে পেছনে ফেলে গ্রুপসেরা হয়ে নকআউট নিশ্চিত করে সেলেসাওরা। শেষ ৩২-এ তাদের প্রতিপক্ষ হতে পারে গ্রুপ ‘এফ’-এর রানার্সআপ—নেদারল্যান্ডস, সুইডেন কিংবা জাপানের মধ্যে কোনো একটি দল।

    ফুটবল ইতিহাসে এখন পর্যন্ত ১০৬টি অফিসিয়াল ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। পরিসংখ্যানে সামান্য এগিয়ে আর্জেন্টিনা। আলবিসেলেস্তেরা জিতেছে ৪১টি ম্যাচ, ব্রাজিলের জয় ৩৯টি, আর ২৬টি ম্যাচ শেষ হয়েছে ড্রয়ে। সাম্প্রতিক সময়েও এই ঐতিহ্যবাহী লড়াইয়ে কিছুটা আধিপত্য ধরে রেখেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

    এখন ফুটবলপ্রেমীদের অপেক্ষা, নকআউটের বাধা পেরিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে আরেকটি স্মরণীয় ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা মহারণ উপহার দিতে পারে কি না দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী।

  • এক ম্যাচেই মেসির ৪ গিনেস রেকর্ড

    এক ম্যাচেই মেসির ৪ গিনেস রেকর্ড

    বিশ্বকাপের মঞ্চে লিওনেল মেসি যেন প্রতিনিয়ত নতুন ইতিহাস লিখে চলেছেন। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ২-০ গোলের জয়ে জোড়া গোল করে শুধু দলকে নকআউট পর্বে তুলেই দেননি, একই সঙ্গে গড়েছেন চারটি নতুন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডও।

    টেক্সাসে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে আর্জেন্টিনার জয়ের নায়ক ছিলেন মেসি। তার দুই গোলের সুবাদে শেষ ৩২ নিশ্চিত করে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে ম্যাচ শেষে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল মেসির নতুন রেকর্ডগুলো।

    আর্জেন্টিনার ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্যের ভিত্তিতে জানায়, অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করার মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজের মোট গোলসংখ্যা ১৮-তে উন্নীত করেছেন মেসি।

    এই কীর্তির মাধ্যমে তিনি জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ড পেছনে ফেলে পুরুষদের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে এককভাবে বসেছেন। একই সঙ্গে ব্রাজিলের নারী ফুটবল তারকা মার্তার ১৭ গোলের রেকর্ডও অতিক্রম করে নারী-পুরুষ মিলিয়ে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার স্বীকৃতি অর্জন করেছেন।

    গোলের রেকর্ড ছাড়াও জয়সংখ্যার দিক থেকেও নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছেন মেসি। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জয়টি ছিল বিশ্বকাপে তার ১৮তম জয়, যা ক্লোসার ১৭ জয়ের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।

    এ ছাড়া ম্যাচে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডও আরও সমৃদ্ধ করেছেন তিনি। এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে তার ম্যাচসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮, যা এই আসরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

    আরেকটি উল্লেখযোগ্য অর্জন এসেছে খেলার সময়ের হিসাবে। বিশ্বকাপে মোট ২,৪৮৯ মিনিট মাঠে থেকে ইতালির কিংবদন্তি পাওলো মালদিনির ২,২১৭ মিনিটের রেকর্ডও ভেঙে দিয়েছেন মেসি।

    এক ম্যাচেই চারটি নতুন গিনেস রেকর্ড নিজের করে নিয়ে আবারও প্রমাণ করেছেন, বিশ্বকাপের ইতিহাসে তার নামটি বিশেষ এক উচ্চতায় অবস্থান করছে।

  • আর্জেন্টিনার নকআউট প্রতিপক্ষ নিয়ে যত সমীকরণ

    আর্জেন্টিনার নকআউট প্রতিপক্ষ নিয়ে যত সমীকরণ

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    জোড়া গোলে অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে আগেই ২০২৬ বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছিল আর্জেন্টিনা। পরে জর্ডানের বিপক্ষে আলজেরিয়ার জয়ে ‘জে’ গ্রুপের শীর্ষস্থানও নিশ্চিত হয়ে যায় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। ফলে শেষ ৩২-এ আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হবে ‘এইচ’ গ্রুপের রানার্সআপ দলের।

    এখন প্রশ্ন একটাই—লিওনেল মেসিদের সামনে কে আসছে? স্পেন, উরুগুয়ে, কেপ ভার্দে নাকি সৌদি আরব?

    ‘এইচ’ গ্রুপে এখনও প্রতিটি দলের একটি করে ম্যাচ বাকি। শেষ রাউন্ডে স্পেন খেলবে উরুগুয়ের বিপক্ষে, আর কেপ ভার্দের প্রতিপক্ষ সৌদি আরব। এই দুই ম্যাচের ফলই ঠিক করে দেবে আর্জেন্টিনার পরবর্তী প্রতিপক্ষ।

    বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে আলোচনায় রয়েছে কেপ ভার্দে। আফ্রিকার ছোট দেশটি যদি সৌদি আরবকে হারাতে পারে এবং স্পেন নিজেদের ম্যাচে উরুগুয়েকে পরাজিত করে, তাহলে স্পেন গ্রুপসেরা হবে আর কেপ ভার্দে রানার্সআপ হয়ে আর্জেন্টিনার সামনে পড়বে।

    অন্যদিকে, স্পেন যদি উরুগুয়ের কাছে হেরে যায়, তখন সমীকরণ বদলে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে কেপ ভার্দে-সৌদি ম্যাচের ফলাফলের ওপর নির্ভর করে রানার্সআপ হতে পারে স্পেনও। তখন নকআউটে মেসিদের প্রতিপক্ষ হবে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন।

    সৌদি আরবের সামনেও সুযোগ রয়েছে। তারা যদি কেপ ভার্দেকে হারায় এবং একই সঙ্গে স্পেন উরুগুয়েকে পরাজিত করে, তাহলে সৌদিরা রানার্সআপ হয়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে ২০২২ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে চমকে দেওয়া সৌদি আরবের সঙ্গে আবারও দেখা হয়ে যেতে পারে মেসিদের।

    তবে সবচেয়ে জটিল সমীকরণ উরুগুয়েকে ঘিরে। যদি উরুগুয়ে স্পেনকে হারায় এবং একই সময়ে কেপ ভার্দেও সৌদির বিপক্ষে জয় পায়, তাহলে রানার্সআপ নির্ধারণে আসবে গোল ব্যবধান। বর্তমানে দুই দলেরই গোল ব্যবধান সমান। গোল ব্যবধানও সমান থাকলে দেখা হবে কারা বেশি গোল করেছে। সেখানেও সমতা থাকলে ফেয়ার প্লে রেকর্ড বিবেচনায় নেওয়া হবে।

    ফলে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য প্রতিপক্ষের তালিকায় এখনও চারটি দলেরই নাম রয়েছে। তবে বর্তমান অবস্থান অনুযায়ী কেপ ভার্দেই সবচেয়ে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ। যদিও শেষ রাউন্ডের দুটি ম্যাচ একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হওয়ায় মুহূর্তেই বদলে যেতে পারে পুরো চিত্র।

    গ্রুপ ‘এইচ’-এর শেষ ম্যাচগুলো তাই শুধু ওই চার দলের জন্য নয়, আর্জেন্টিনা শিবিরের জন্যও সমান গুরুত্ব বহন করছে।

  • তাহলে কোন একাদশ নিয়ে নামছে আর্জেন্টিনা

    তাহলে কোন একাদশ নিয়ে নামছে আর্জেন্টিনা

    আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নামবে আর্জেন্টিনা। ডালাস স্টেডিয়ামে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে হতে যাওয়া ম্যাচটি জিতলেই নকআউট নিশ্চিত হয়ে যাবে লা আলবিসেলেস্তেদের। তার আগে আলোচনায় তিনবারের চ্যাম্পিয়নদের সম্ভাব্য একাদশ।

    আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে আর্জেন্টিনা। টিওয়াইসি স্পোর্টসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম ম্যাচে দারুণ পারফরম্যান্সের পরও ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের একাদশে একটি পরিবর্তন আসবে। চোটের কারণে রাইটব্যাক গনসালো মন্তিয়েলকে বিশ্রাম দেবেন লিওনেল স্কালোনি। ডান পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে টান অনুভব করায় তাঁকে বেঞ্চে রাখা হচ্ছে। মন্তিয়েলের অনুপস্থিতিতে শুরুর একাদশে রাখা হবে নাউয়েল মলিনাকে। এই পজিশনে স্কালোনির প্রথম পছন্দ তিনি।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শুধু রাইব্যাকই নয়, অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ সামনে রেখে আরও দুটি পরিবর্তন আসতে পারে আর্জেন্টিনার একাদশে। শুরুর একাদশে দেখা যেতে পারে হুলিয়ান আলভারেসকে। গোড়ালির চোট কাটিয়ে আলজেরিয়ার বিপক্ষে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন এই ফরোয়ার্ড। তবে আতলেতিকো মাদ্রিদ তারকা এখনো পুরোপুরি ম্যাচ ফিটনেস ফিরে পাননি বলে কিছুটা শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। আলজেরিয়া ম্যাচের মতো অস্ট্রিয়ার বিপক্ষেও লাউতারো মার্তিনেস শুরুর একাদশে নামলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

    আক্রমণভাগে আরও একটি পরিবর্তন নিয়ে ভাবছেন স্কালোনি। থিয়াগো আলমাদা একাদশে থাকবেন নাকি তাঁর জায়গায় সুযোগ পাবেন নিকোলাস গনসালেস—এখনো সেই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেনি টিম ম্যানেজমেন্ট। তবে আলজেরিয়ার বিপক্ষে শুরু করা আলমাদার ওপরই আবারও আস্থা রাখার সম্ভাবনা বেশি—এমনটাই দাবি টিওয়াইসি স্পোর্টসের।

    লেফটব্যাক পজিশনে ফাকুন্দো মেদিনাকেই ধরে রাখছেন স্কালোনি। কাফের চোট কাটিয়ে নিকোলাস তালিয়াফিকো দলে ফিরলেও তাঁকে শুরু থেকেই খেলিয়ে ঝুঁকি নিতে চায় না কোচিং স্টাফ। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে দেখা যেতে পারে এই ডিফেন্ডারকে। ধীরে ধীরে ম্যাচ ফিটনেস ফিরে পাওয়ায় লিয়ান্দ্রো পারেদেসকেও কিছুটা সময় খেলাতে পারেন স্কালোনি, বলা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে।

    অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ: এমিলিয়ানো মার্তিনেস, নাউয়েল মলিনা, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেস, ফাকুন্দো মেদিনা; রদ্রিগো দে পল, আলেক্সিস মাক আলিস্তার, এনসো ফার্নান্দেস, থিয়াগো আলমাদা অথবা নিকোলাস গনসালেস, লিওনেল মেসি ও লাউতারো মার্তিনেস।

  • নকআউটে উঠলে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হতে পারে যে দল

    নকআউটে উঠলে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হতে পারে যে দল

    আলজেরিয়ার বিপক্ষে বড় জয়ে বিশ্বকাপ শুরু করা আর্জেন্টিনার পুরো নজর এখন অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ ঘিরে। একইভাবে ‘এইচ’ গ্রুপের দিকেও তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে লিওনেল মেসিদের। কারণ অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু না হলে এই গ্রুপের যেকোনো এক দলের বিপক্ষেই সেরা ৩২-এ খেলতে নামবে আর্জেন্টিনা।

    ‘এইচ’ গ্রুপে স্পেন ছাড়াও আছে উরুগুয়ে, কেপ ভার্দে ও সৌদি আরব। গতকাল রাতে সৌদি আরবকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে স্প্যানিশরা। দুই ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে টেবিলে সবার ওপরে অবস্থান করছে ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়নরা। সমান দুই পয়েন্ট করে নিয়ে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে উরুগুয়ে এবং কেপ ভার্দে। এক পয়েন্ট নিয়ে সবার নিচে সৌদি আরব।

    ‘জে’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউট পর্বে ওঠলে ‘এইচ’ গ্রুপের রানার্সআপ দলের বিপক্ষে নকআউটে খেলতে নামবে আর্জেন্টিনা। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ ঘিরে তাই তৈরি হয়েছে নানা সমীকরণ। বর্তমান পরিস্থিতিতে উরুগুয়ে যদি স্পেনকে হারায় এবং কেপ ভার্দে জয় না পায়, তাহলে স্পেন রানার্সআপ হয়ে নকআউটে আর্জেন্টিনাকে পাবে। আবার উরুগুয়ে ও কেপ ভার্দে উভয় দল জিতলে গোল ব্যবধান, গোলসংখ্যা কিংবা প্রয়োজন হলে ফেয়ার প্লে সূচক দিয়ে নির্ধারিত হবে গ্রুপের অবস্থান।

    অন্যদিকে কেপ ভার্দে জয় পেলে এবং উরুগুয়ে ড্র করলে আফ্রিকার দলটিই রানার্সআপ হয়ে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলতে নামবে। সৌদি আরবও এখনো পুরোপুরি সমীকরণের বাইরে নয়। উরুগুয়ে জয় না পেলে এবং সৌদি আরব নিজেদের শেষ ম্যাচ জিতলে তারাও রানার্সআপ হওয়ার সুযোগ পেতে পারে।

    এবারের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব শেষে দলগুলোর পয়েন্ট সমান হলে অলিম্পিক পদ্ধতির টাইব্রেকার প্রয়োগ করা হবে। সে ক্ষেত্রে প্রথমে বিবেচনায় আসবে মুখোমুখি ম্যাচের ফল, এরপর গোল ব্যবধান, গোলসংখ্যা, সামগ্রিক গোল ব্যবধান, মোট গোল, শৃঙ্খলাজনিত রেকর্ড এবং সবশেষে ফিফা র‌্যাংকিং।

  • ‘মেসি সেরাদের সেরা’

    ‘মেসি সেরাদের সেরা’

    বিশ্বকাপের শুরুতেই নিজের মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে যেন বুঝিয়েছেন, ৩৯ ছুঁইছুই বয়সেও দলের জন্য কতটা কার্যকর তিনি। এমন পারফরম্যান্সের পর চারদিক থেকে এই ফরোয়ার্ডকে নিয়ে প্রশংসা বাক্য শোনা যাচ্ছে। সবশেষ মেসিকে প্রশংসায় ভাসালেন কিলিয়ান এমবাপ্পে।

    প্রথম ম্যাচেই দারুণ হ্যাটট্রিক করে আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার বড় জয়ে নেতৃত্ব দেন মেসি। গোল্ডেন বুট জেতার দৌড়ে আলোচনায় সবার আগে দশ নম্বর জার্সিধারী। মেসির সঙ্গে এই আলোচনায় আছে এমবাপ্পে, হ্যারি কেইন ও আরলিং হালান্ডের নাম। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে তিনজনই জোড়া গোল করেছেন। এখন পর্যন্ত গোল্ডেন বুটের আলোচনায় আছেন এই চারজন।

    এই চারজনের মধ্যে দ্বিধাহীনভাবে মেসিকে এগিয়ে রাখলেন এমবাপ্পে। দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফরাসি তারকা বলেন, ‘মেসি এই চারজনের মধ্যে সেরা। এটা পরিষ্কার। সে সেরাদেরও সেরা, ঠিক যেমন ক্রিস্টিয়ান রোনালদো।’

    মেসির প্রশংসা করে এমবাপ্পে আরও বলেন, ‘সে (মেসি) গত ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে অসাধারণ মান দেখিয়ে আসছে। বাকিদের নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে, কিন্তু সেটা সাংবাদিক ও ভক্তদের বিষয়। এটা আমার মাথায় নেই। আমি শুধু নিজের পারফরম্যান্স দেখানোর চেষ্টা করি।’

    কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে যায় ফ্রান্স। দল শিরোপা জিততে না পারলেও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে রঙিন ছিলেন এমবাপ্পে। সে আসরের গোল্ডেন বুট উঠেছিল তাঁর হাতে। তবে এই ফরোয়ার্ড জানালেন, ব্যক্তিগত নয়, তাঁর কাছে দলগত সাফল্যই সবার আগে, ‘আমি জানতাম মেসি গোল করবে, সে সব সময়ই এটা করে। সে আমার চেয়ে এগিয়ে। কিন্তু আমি দলের জন্য গোল করে যেতে চাই। গোল করলে রেকর্ড ভাঙা যায়, কিন্তু আমার লক্ষ্য বিশ্বকাপ জয়।’

    বিশ্বকাপে ‘আই’ গ্রুপে আজ রাতে ইরাকের বিপক্ষে মাঠে নামবে ফ্রান্স। যেটা হবে এমবাপ্পের শততম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। এমন একটি ম্যাচের আগেও তাঁর ভাবনায় দল, ‘জাতীয় দলে খেলা সব সময়ই বিশেষ কিছু। ১০০তম ম্যাচ বিশ্বকাপে খেলাটা ঐতিহাসিক। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো জয় তুলে নেওয়া।’

  • অস্ট্রিয়ার জন্য নতুন ছকের

    অস্ট্রিয়ার জন্য নতুন ছকের

    ইঙ্গিত স্কালোনির

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপে দারুণ শুরু করেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পর এবার অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত লিওনেল স্কালোনির দল। তবে সেই ম্যাচে শুরুর একাদশে অন্তত দুটি পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।

    আর্জেন্টিনার গণমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসের দাবি, প্রথম ম্যাচের একাদশে থাকা কয়েকটি জায়গা নিয়ে নতুন করে ভাবছেন কোচ স্কালোনি। বিশেষ করে আক্রমণভাগে পরিবর্তনের সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি।

    আলজেরিয়ার বিপক্ষে লাউতারো মার্তিনেজ শুরু থেকে খেললেও দ্বিতীয়ার্ধে নেমে দারুণ প্রভাব ফেলেন হুলিয়ান আলভারেজ। বাঁ গোড়ালির চোট কাটিয়ে পুরোপুরি ফিট হয়ে ওঠা এই ফরোয়ার্ড এবার শুরুর একাদশে ফেরার দৌড়ে এগিয়ে আছেন। প্রথম ম্যাচে তাকে বেঞ্চে রাখার কারণ ছিল শারীরিক অবস্থা, পারফরম্যান্স নয়।

    মিডফিল্ডেও রয়েছে বড় প্রশ্ন। এনজো ফার্নান্দেজ, রদ্রিগো দে পল ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের সঙ্গে প্রথম ম্যাচে খেলেছিলেন থিয়াগো আলমাদা। তবে তিনি প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। ফলে তার জায়গায় নিকোলাস গনসালেসকে দেখা যেতে পারে। দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে গনসালেস আর্জেন্টিনার আক্রমণে বাড়তি গতি ও বৈচিত্র্য যোগ করেছিলেন।

    অন্যদিকে লেফট-ব্যাক পজিশনে পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। ফাকুন্দো মেদিনা প্রথম ম্যাচে দায়িত্ব ভালোভাবে পালন করায় পুরোপুরি ফিট থাকা সত্ত্বেও নিকোলাস তাগলিয়াফিকোকে নিয়ে তাড়াহুড়ো করতে চাইছে না টিম ম্যানেজমেন্ট।

    সব মিলিয়ে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে স্কালোনির দলকে কিছুটা ভিন্ন রূপে দেখা যেতে পারে। আক্রমণে নতুন গতি আর মিডফিল্ডে ভিন্ন সমীকরণ নিয়ে মাঠে নামার পরিকল্পনাই করছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

    সম্ভাব্য একাদশ: এমিলিয়ানো মার্তিনেজ; নাহুয়েল মলিনা, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, ফাকুন্দো মেদিনা; রদ্রিগো দে পল, এনজো ফার্নান্দেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, নিকোলাস গনসালেস; লিওনেল মেসি ও হুলিয়ান আলভারেজ।

  • আর্জেন্টিনার সামনে আলজেরিয়া

    আর্জেন্টিনার সামনে আলজেরিয়া

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    আগামীকাল বুধবার থেকে পুরোদমে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ। কেননা, এদিন মাঠে নামছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। বাংলাদেশের ফুটবল অনুরাগীদের বড় অংশই হলো আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের সমর্থক। এরই মধ্যে ব্রাজিল এক ম্যাচ খেলেছে। এবার আর্জেন্টিনার অপেক্ষা। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যানসান সিটিতে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ আলজেরিয়া। বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৭টায় দুদলের ম্যাচটি শুরু হবে। এ ম্যাচ দিয়ে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ ট্রফি ধরে রাখার মিশনে নামবে লিওনেল মেসিং অ্যান্ড কোং।

    ইতিহাসে ব্রাজিল ও ইতালির টানা দুবার বিশ্বকাপ জয়ের রেকর্ড আছে। আর্জেন্টিনার সামনে তৃতীয় দল হিসেবে টানা বিশ্বকাপ জয়ের হাতছানি। রেকর্ড গড়ার পথে আছেন আর্জেন্টিনার ফুটবল মহাতারকা লিওনেল মেসিও। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নামবেন এই ফুটবল জাদুকর। আর বিশ্বকাপে ২৭তম ম্যাচ। শুধু তা-ই নয়, প্রথম ফুটবলার হিসেবে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলবেন মেসি। মেসির পায়ের জাদু দেখার শেষ সুযোগ এ বিশ্বকাপেই।বিশ্বকাপ ধরে রাখার অভিযানের শুরুতেই আর্জেন্টিনার সামনে লড়াকু দল আলজেরিয়া। এ পর্যন্ত মাত্র একবারই প্রীতি ম্যাচে আলজেরিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল আলবিলেসেস্তেরা। ২০০৭ সালের ওই ম্যাচে ৪-৩ গোলে জিতেছিল আর্জেন্টিনা। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটিতেই আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রথম গোলের খাতা খুলেছিলেন লিওনেল মেসি। সময়ের পরিক্রমায় বিশ্বমঞ্চে আর্জেন্টিনার সামনে আফ্রিকান দলটি। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ভালো চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে আলজেরিয়া। এ দলটি ঘিরে বেশি সতর্ক থাকছেন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি। কেননা, ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপে চমক দিয়েছিল দলটি। গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ওই সময়ের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন পশ্চিম জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্ববাসীকে স্তব্ধ করে দেয় আলজেরিয়া।

    ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে শিরোপা পুনরুদ্ধারের পর থেকে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের ছন্দ ধরে রেখেছে আর্জেন্টিনা। কোচ স্কালোনির অধীনে দলটি এখন আরো বেশি পরিপক্ব, সুশৃঙ্খল ও গোছানো। যেকোনো পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্ষম দলটি। কোচের পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন লিওনেল মেসি। মাঝ মাঠ আর আক্রমণভাগের দারুণ রসায়নই আর্জেন্টিনা দলের মূল চালিকাশক্তি। আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগ এখন শুধু মেসি-নির্ভর নয়। তরুণ ও অভিজ্ঞদের মিশেলে এক বিশ্বসেরা আক্রমণভাগ।

    মাঠে গতি, ড্রিবলিং আর নিখুঁত পাসের পসরা সাজায় আর্জেন্টাইনরা। বল পজিশন ধরে রাখা, প্রতিপক্ষের আক্রমণ নস্যাৎ করে দেওয়া এবং কাউন্টার অ্যাটাকে দ্রুত বল বাড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে আর্জেন্টিনা মিডফিল্ডের অনেক সুনাম। সব মিলে দলটির মধ্যে জয়ের মানসিকতা প্রবল। আর তাতেই বিশ্বকাপ ধরে রাখার মিশনে আত্মবিশ্বাসী আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে থেকেই খেলার টিকিট নিশ্চিত করে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এ যাত্রায় সফল নায়ক মেসি।

    এছাড়া ঘরের মাঠ বুয়েন্স এইরেসে ব্রাজিলের বিপক্ষে ৪-১ গোলের স্মরণীয় জয় আর্জেন্টিনাকে অন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। বিশ্বকাপের আগ মুহূর্তে প্রীতি ম্যাচের জয়ও তাদের জন্য আত্মবিশ্বাসের জ্বালানি হিসেবে কাজ করছে। তারকা গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের খেলা নিয়ে শঙ্কা কেটে গেছে। গত ইউরোপা লিগের ফাইনালের আগে আঙুল ভেঙে যাওয়া মার্টিনেজ খেলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। পেশি সমস্যা কাটিয়ে উঠেছেন লিওনার্দো পেরেদেস ও নিকো গঞ্জালেসও। তবে নিকোলাস তাগলিয়াফিকো ইনজুরির কারণে বিশ্বকাপের শুরুতে খেলতে পারছেন না।

    এদিকে প্রথম ম্যাচে বড় প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা হলেও আত্মবিশ্বাসী আলজেরিয়া। দলটিকে বলা হয় ‘লে ফেনেক্স’ বা ‘মরুর শিয়াল’। নামের সঙ্গে তাদের কাজেরও দারুণ মিল রয়েছে। মাঠে চতুরতা, গতি ও অবিশ্বাস্য শারীরিক শক্তিই দলটির প্রধান অস্ত্র। রক্ষণ জমাট রেখে দ্রুত প্রতি-আক্রমণে যাওয়াই আলজেরিয়ার খেলার ধরন। প্রথম মিনিট থেকে ৯০ মিনিট পর্যন্ত একই গতিতে হাই-প্রেসিং ফুটবল খেলতে পারে তারা। আর্জেন্টিনার টেকনিক্যাল ও পাসিং ফুটবলকে রুখে দিতেই মাঠে নামবে আফ্রিকানরা। মাঝমাঠ থেকে তাদের কড়া ট্যাকল ও প্রেসিং ফুটবল মেসিদের জন্য অস্বস্তির কারণ হতে পারে।সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সও দারুণ আলজেরিয়ার। টানা চার ম্যাচে অপরাজিত দলটি। এর মধ্যে উরুগুয়ের বিপক্ষে ড্র এবং নেদারল্যান্ডসকে ১-০ গোলে হারিয়েছে তারা। সর্বশেষ প্রীতি ম্যাচে বলিভিয়াকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দেয় আফ্রিকার দলটি। আর্জেন্টিনাকেও হারানোর আত্মবিশ্বাস আলজেরিয়া শিবিরে। সবচেয়ে বেশি আলোচনায় তাদের তরুণ অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার ইব্রাহিম মাজা। সব মিলে শেষে এটাই বলা যায়- আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়া ম্যাচে লাতিন আমেরিকার শৈল্পিক ফুটবল বনাম আফ্রিকার পাওয়ার ফুটবলের এক ক্লাসিক দ্বৈরথ দেখা যেতে পারে।

  • ১৯ বছর পর আবারও আলজেরিয়ার মুখোমুখি হচ্ছেন মেসি

    ১৯ বছর পর আবারও আলজেরিয়ার মুখোমুখি হচ্ছেন মেসি

    ২০০৭ সালের ৫ জুন বার্সেলোনার ঐতিহ্যবাহী ক্যাম্প ন্যু স্টেডিয়ামে এক প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়া। কোচ আলফিও বাসিলের অধীনে তখন আর্জেন্টিনা কোপা আমেরিকার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

    সেই ম্যাচে মাঠে ছিলেন অভিজ্ঞ ও তারকাখ্যাত খেলোয়াড়দের পাশাপাশি এক তরুণ লিওনেল মেসি, যিনি তখনো আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের জাদুকরী ড্রিবলিং ও প্রতিভা দিয়ে ধীরে ধীরে আলোচনায় উঠে আসছিলেন। রবার্তো আয়ালা, হুয়ান সেবাস্তিয়ান ভেরন এবং হুয়ান রোমান রিকেলমের মতো অভিজ্ঞদের পাশে দাঁড়িয়ে মেসি সেদিন আলজেরিয়ার রক্ষণভাগকে বারবার চাপে ফেলেন এবং নিজের আক্রমণাত্মক ফুটবলে ম্যাচে বড় প্রভাব রাখেন।

    ঐ ম্যাচটি ছিল গোলসমৃদ্ধ ও নাটকীয় এক লড়াই। শুরু থেকেই আর্জেন্টিনা আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে খেলা শুরু করে এবং মাত্র দেড় মিনিটের মাথায় কার্লোস তেভেজ পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। তবে আলজেরিয়া দ্রুতই ম্যাচে ফিরে আসে এবং ৯ মিনিটে আনথার ইয়াহিয়ার গোলে সমতা আনে। এরপর প্রথমার্ধের শেষ দিকে মাজিদ বুগেরা গোল করে আলজেরিয়াকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেয়, যা আর্জেন্টিনার জন্য বড় ধাক্কা ছিল।

    দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় আর্জেন্টিনা। এই সময়ে লিওনেল মেসির অনুপ্রেরণায় দলটি দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায়। মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে ম্যাচের গতিপথ পুরোপুরি বদলে যায়।

    প্রথমে মেসি পেনাল্টি থেকে গোল করে সমতা ফেরান, এরপর এস্তেবান ক্যাম্বিয়াসো দ্রুত আরেকটি গোল করে আর্জেন্টিনাকে আবার এগিয়ে নেন। পরে ম্যাচের ৭৩ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে দলের জয় প্রায় নিশ্চিত করে দেন মেসি। শেষ মুহূর্তে আলজেরিয়া একটি গোল শোধ করলেও আর্জেন্টিনা শেষ পর্যন্ত ৪-৩ ব্যবধানে এক রোমাঞ্চকর জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে।

    প্রায় ১৯ বছর পর আবারও আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়া বড় মঞ্চে মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এবার আর কোনো প্রীতি ম্যাচ নয়, বরং বিশ্বকাপের মতো গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টে দুই দল আবার মুখোমুখি হচ্ছে। ২০২৬ বিশ্বকাপে এই লড়াইকে ঘিরে আগ্রহ তৈরি হয়েছে, কারণ দীর্ঘ সময় পর একই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আবারও মাঠে নামছে তারা।

    এই নতুন প্রেক্ষাপটে আর্জেন্টিনা তাদের শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে। দলটি এখনো অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মিশ্রণে শক্তিশালী একটি ইউনিট হিসেবে বিবেচিত। অন্যদিকে আলজেরিয়া, যাদের ‘ডেজার্ট ফক্সেস’ নামে ডাকা হয়, তারা তাদের দ্রুতগতির ফুটবল, শক্তিশালী কাউন্টার অ্যাটাক এবং আক্রমণাত্মক মানসিকতা দিয়ে বড় দলগুলোর বিপক্ষে চমক দেখানোর ক্ষমতা রাখে। ফলে এই ম্যাচ ঘিরে দুই দলের মধ্যে আরেকটি উত্তেজনাপূর্ণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইয়ের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

  • আলভারেজ নাকি লাওতারো, নতুন করে ভাবতে হচ্ছে আর্জেন্টিনাকে

    আলভারেজ নাকি লাওতারো, নতুন করে ভাবতে হচ্ছে আর্জেন্টিনাকে

    আগামী বুধবার সকাল ৭টায় বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। তার আগে আকাশি–সাদার সমর্থকদের মাথায় হয়তো একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, কে হবেন লিওনেল স্কালোনির শুরুর একাদশের নাম্বার নাইন।

    খেলাধুলাবিষয়ক আর্জেন্টাইন টিভি চ্যানেল টিওয়াইসি স্পোর্টস জানিয়েছে, এত দিন লাওতারো মার্তিনেজই ছিলেন কোচের প্রথম পছন্দ।

    কারণ, হুলিয়ান আলভারেজ পায়ের গোড়ালির চোটে ভুগছিলেন। সে জন্য হন্ডুরাস ও আইসল্যান্ডের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে লাওতারোকেই কাজে লাগিয়েছেন স্কালোনি। হন্ডুরাস ম্যাচে বল পায়ে দ্যুতিও ছড়ান লাওতারো। এক গোলের সঙ্গে সতীর্থ জুলিয়ানো সিমিওনেকে দিয়েও গোল করান তিনি।

    কিন্তু হুলিয়ান চোট কাটিয়ে ফেরায় আক্রমণভাগ নিয়ে নতুন করেই ভাবতে হচ্ছে আর্জেন্টাইন কোচকে। এরই মধ্যে দলের সঙ্গে অনুশীলনও শুরু করেছেন এই ফরোয়ার্ড।

    আর্জেন্টিনা দলের অনুশীলন

    তবে এখনি বলা যাচ্ছে না শেষ পর্যন্ত কে হবেন স্কালোনির শুরুর একাদশের নাম্বার নাইন। টিওয়াইসি স্পোর্টস অবশ্য জানিয়েছে, যদি আলভারেজ ফিটনেস পরীক্ষায় উতরে যান, তাহলে কোচের পছন্দে এগিয়ে থাকবেন তিনিই।

    যদিও দুজনই নিজ নিজ ক্লাবের হয়ে দারুণ ফর্মে। লা লিগার দল অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদে খেলা আলভারেজ ৪৯ ম্যাচ খেলে করেছেন ২০ গোল। অন্যদিকে ইন্টার মিলানের জার্সিতে লাওতারোর গোল ৪১ ম্যাচে ২২টি।

    বিশ্বকাপেও নিজেকে প্রমাণ করেছেন আলভারেজ। কাতার বিশ্বকাপে সাত ম্যাচ খেলে করেন চার গোল, সঙ্গে এক গোলে সহায়তাও। যেখানে লাওতারোর নামের পাশে নেই কোনো গোল। একটি বিশ্বকাপ খেলেছেন তিনিও, সেটি ২০২২ কাতারে। সেই আসরে ৬ ম্যাচ খেলে কোনো গোল করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত কার ওপর স্কালোনি ভরসা রাখেন, সেটাই এখন দেখার।

  • আর্জেন্টিনা সমর্থক তানজিকার স্বামী বধ!

    আর্জেন্টিনা সমর্থক তানজিকার স্বামী বধ!

    ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে উন্মাদনা। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) মধ্যরাতে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠছে চলতি আসরের। ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন দ্য আর্থ’ খ্যাত এ টুর্নামেন্টকে ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে উৎসবের আমেজ।

    বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে সাধারণ দর্শকদের পাশাপাশি শোবিজ অঙ্গনের তারকারাও মেতে উঠেছেন আনন্দ-উৎসবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের উচ্ছ্বাস ও উত্তেজনার প্রকাশও চোখে পড়ছে।

    বিশ্বকাপের ফুটবল উন্মাদনায় পিছিয়ে নেই জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিকা আমিনও। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার একটি পোস্ট ভক্তদের নজর কাড়ে। পোস্টে তিনি স্বামী সাইফ বাসুনিয়ার সঙ্গে চারটি ছবি শেয়ার করেছেন। ছবিগুলোর মধ্যে দুটিতে তাদের আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যবাহী আকাশী-সাদা জার্সি পরে হাস্যোজ্জ্বল ও রোমান্টিক ভঙ্গিতে দেখা গেছে।

    তবে ধারণা করা হচ্ছে, জার্সি পরা ছবিগুলো এআই-জেনারেটেড। একই সঙ্গে পোস্টে থাকা বাকি দুটি ছবিতে তাদের সাধারণ পোশাকে একই ধরনের পোজে দেখা গেছে।

    সবচেয়ে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে তানজিকার দেওয়া ক্যাপশন, যা নেটিজেনদের মধ্যে হাসির রসদ জুগিয়েছে। কারণ, বাস্তবে তার স্বামী আর্জেন্টিনার সমর্থক নন, তিনি ব্রাজিলের কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত।

    ছবির ক্যাপশনে তানজিকা আমিন নিজেই এই জার্সিবদলের মজার রহস্যের খোলাসা করেছেন। রসাত্মক ভঙ্গিতে ইংরেজিতে তিনি লিখেছেন, ‘সংসারে শান্তি বজায় রাখার জন্য আমার স্বামীর এটি অত্যন্ত চতুর একটি পদক্ষেপ। সে একজন পাক্কা ব্রাজিলের সমর্থক, কিন্তু আগামীতে আরও অনেক বছর সে সুস্থ ও শান্তিতে বেঁচে থাকতে চায় বলেই তার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস!’

    স্বামীর এমন কাণ্ড যে বেশ উপভোগ করেছেন তানজিকা, তিনি লেখেন, ‘আই লাইকড ইট। চিয়ার্স টু সাইফ বাসুনিয়া এবং তার চিরকালের প্রিয় স্লোগান— হ্যাপি ওয়াইফ, হ্যাপি লাইফ।’

    ক্যাপশনের শেষে আর্জেন্টিনার পতাকার ইমোজি দিয়ে তিনি লিখেছেন ‘ভ্যামোস’।

    শোবিজ অঙ্গনে বরাবরের মতোই আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল—দুই দলের সমর্থকদের আধিক্য দেখা যায়। বিশ্বকাপ সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যে অনেক তারকাকে আর্জেন্টিনার জার্সিতে দেখা গেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন মেহজাবীন চৌধুরী ও তার বোন মালাইকা চৌধুরী।

    অন্যদিকে, বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী দেশের বিনোদন অঙ্গনের একাধিক জনপ্রিয় তারকা ব্রাজিলের সমর্থক হিসেবে পরিচিত। এ তালিকায় আছেন মোশাররফ করিম, জয়া আহসান, জিয়াউল ফারুক অপূর্ব, আফরান নিশো, অপু বিশ্বাস ও শবনম বুবলীর মতো তারকারা।

    অপরদিকে আর্জেন্টিনার কড়া ভক্তদের তালিকায় আছেন জাহিদ হাসান, চঞ্চল চৌধুরী, নুসরাত ইমরোজ তিশা, পরীমণি ও পূজা চেরির মতো প্রথম সারির তারকারা।

  • বিশ্বকাপ প্রস্তুতি সেরে ঐক্যের ডাক দিলেন মেসি

    বিশ্বকাপ প্রস্তুতি সেরে ঐক্যের ডাক দিলেন মেসি

    বিশ্বকাপের আগে আর্জেন্টিনার প্রস্তুতিটা দারুণ হলো আর্জেন্টিনা। হন্ডুরাসের পর এবার আইসল্যান্ডকে হারিয়েছে লা আলবিসেলেস্তেরা। প্রস্তুতি ম্যাচে শতভাগ জয় তুলে নেওয়ার পর বিশ্বকাপের মূল পর্বেও জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চান লিওনেল মেসি। এ জন্য সতীর্থদের দল হিসেবে খেলার আহ্বান জানালেন দশ নম্বর জার্সিধারী।

    হন্ডুরাসের বিপক্ষে ২-০ গোলে জিতেছিল আর্জেন্টিনা। চোটজনিত ঝুঁকি এড়াতে সে ম্যাচে মাঠে নামেননি মেসি। তবে আজ ভোরে আইসল্যান্ড ম্যাচে ৬৯ তম মিনিটে মাঠে নামেন মেসি। মাঠে নামার মাত্র ১১৯ সেকেন্ড পরই গোলের দেখা পান তিনি। আলাবামার অবার্ন ইউনিভার্সিটির জর্ডান-হেয়ার স্টেডিয়ামে পেনাল্টি থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে জালের দেখা পান আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী। আর্জেন্টিনা ম্যাচটা জিতে নেয় ৩-০ গোলে। দলের জয়ে অবদান রাখার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সরব দেখা গেল মেসিকে।

    ‘জে’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আগামী ১৭ জুন আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ আলজেরিয়া। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের আগে আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর জন্য আইসল্যান্ডের বিপক্ষে এই জয়টা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। সেই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ জিতে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে মাঠে নামার আগে দলের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছেন মেসি।

    ম্যাচ শেষে নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে খেলার বেশ কয়েকটি ছবি পোস্ট করেন মেসি। সেই পোস্টের শেষেই বিশ্বকাপকে সামনে রেখে দলের প্রতি ঐক্যের বার্তা দেন তিনি। মেসি লিখেছেন, ‘চলো এগিয়ে যাই, আগের চেয়ে আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ হয়ে।’

    আইসল্যান্ডের বিপক্ষে করা গোলটি ছিল আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির ১১৭ তম। একই সঙ্গে তিনি গড়েছেন নতুন এক রেকর্ডও। ৩৮ বছর ১১ মাস ১৮ দিন বয়সে গোল করে তিনি আর্জেন্টিনার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে গোলদাতা ফুটবলার হয়ে গেছেন। এর আগে এই রেকর্ডটি ছিল আঙ্গেল লাবরুনার দখলে। ‘এল ফেও’ নামে পরিচিত কিংবদন্তি এই ফরোয়ার্ড ১৯৫৭ সালে রোকা কাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে ৩৮ বছর ৯ মাস ১০ দিন বয়সে গোল করেছিলেন। আইসল্যান্ডের বিপক্ষে গোল করে সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়লেন মেসি।