টাঙ্গাইল

Tangail district

  • ঘাটাইলে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১

    ঘাটাইলে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে প্রাইভেটকার ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন।

    শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের দেউলাবাড়ি বাস স্টেশন সংলগ্ন কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত ও আহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

    পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মধুপুর থেকে আনারস ভর্তি একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ঘাটাইলের দিকে যাচ্ছিল। অপরদিকে ঘাটাইল থেকে ছেড়ে আসা একটি প্রাইভেটকারের সাথে অটোরিকশার সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশার চালকসহ তিন যাত্রী আহত হন। ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়। আহতদের উদ্ধার করে মধুপুর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    ঘাটাইল ফায়ার স্টেশনের কর্মকর্তা মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসি। ঘটনাস্থলে একজনকে মৃত অবস্থায় দেখতে পাই। বাকি আহত তিনজনকে স্থানীয়রা হাসপাতালে পাঠান।’

    ঘাটাইল থানার ওসি মোকসেদুর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে নিহতের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। নিহতের লাশ থানা হেফাজতে রয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে।’ এ,আর

  • ভূঞাপুরে পড়াশোনা না করেই দাঁতের চিকিৎসক, জরিমানা

    ভূঞাপুরে পড়াশোনা না করেই দাঁতের চিকিৎসক, জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে পড়াশোনা না করেই দাঁতের চিকিৎসা প্রদান, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত, অবৈধভাবে কেক তৈরিসহ বিভিন্ন অপরাধে চার প্রতিষ্ঠানকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।

    সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার কুঠিবয়ড়া, গোবিন্দাসী ও পাথাইলকান্দী বাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন সংস্থাটির সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রোমেল।

    তিনি জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে উপজেলার কুঠিবয়ড়া বাজারে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মিষ্টি তৈরির দায়ে আনোয়ার মিষ্টান্ন ভাণ্ডারকে ১০ হাজার টাকা, মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার সংগ্রহের দায়ে কবির স্টোরকে পাঁচ হাজার টাকা, কুকাদইর এলাকায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কেক তৈরির করায় আনন্দ বেকারিকে ১৫ হাজার টাকা ও পাথাইলকান্দী বাজারে ভুয়া ফেরদৌসী ডেন্টাল কেয়ারকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সব মিলিয়ে চারটি প্রতিষ্ঠানকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান আসাদুজ্জামান রোমেল। এ,আর

  • চলন্ত বাসে নারী যাত্রীকে ধর্ষণ, চালকসহ ৩ জনের যাবজ্জীবন

    চলন্ত বাসে নারী যাত্রীকে ধর্ষণ, চালকসহ ৩ জনের যাবজ্জীবন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চলন্ত বাসে নারী যাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে চালকসহ তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া দুই লাখ টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে প্রত্যেককে আরো এক বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

    রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আ ন ম ইলিয়াস এই দণ্ডাদেশ দেন।

    দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার নান্দেরাই গ্রামের আব্দুর রবের ছেলে বাসচালক মো: আলতাফ (২৫), চালকের সহকারী সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার শিবপুর গ্রামের খোকন মিয়ার ছেলে রাব্বি (২১) ও বাসের সুপারভাইজার ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার চাঁদর হাট বাজারের চুন্নু মাতাব্বরের ছেলে সাগর ওরফে সজিব মাতাব্বর (২৪)।

    নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ওমরাও খান দিপু জানান, ধর্ষণের শিকার ওই নারী গত ১৪ জানুয়ারি রাত পৌনে ১২টার দিকে ঢাকার গাবতলী থেকে আশুলিয়া যাওয়ার জন্য সাভার পরিবহনের একটি বাসে উঠেন। পথে বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে অন্য যাত্রীরা নেমে যান।

    পরে চলন্ত বাসে আসামিরা ওই নারীকে পর্যায়ক্রমে ধর্ষণ করেন। এ সময় ভয় দেখিয়ে ওই নারী যাত্রীর কানের দুল, নগদ ৩৬ হাজার টাকা ও মোবাইলফোন ছিনতাই করে নেয় তারা।

    পরদিন টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া আন্ডারপাস এলাকায় বাসটি থামায়। এ সময় ভুক্তভোগী নারী ওই এলাকায় টহলে থাকা হাইওয়ে পুলিশের কাছে ঘটনা খুলে বলেন। হাইওয়ে পুলিশ বাসসহ অভিযুক্তদের আটক করে টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। ওই দিনই টাঙ্গাইল সদর থানায় ভুক্তভোগী নারী মামলা করেন।

    টাঙ্গাইল সদর থানার ওসি (তদন্ত) ভীক্টর ব্যানার্জী তদন্ত শেষে গত ২৯ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। বিচার শেষে রায় ঘোষণার পর আসামিদের টাঙ্গাইল কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। এ,আর

  • নাগরপুরে একই আঙিনায় ৬৪ বছর ধরে মসজিদ ও মন্দিরে হচ্ছে ধর্মচর্চা

    নাগরপুরে একই আঙিনায় ৬৪ বছর ধরে মসজিদ ও মন্দিরে হচ্ছে ধর্মচর্চা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার চৌধুরী বাড়ি এলাকায় দীর্ঘ ৬৪ বছর ধরে একই আঙিনায় অবস্থিত মসজিদ ও মন্দিরে ধর্মচর্চা করে আসছেন স্থানীয় মুসলিম ও সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।

    কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বা হানাহানি ছাড়াই দুই ধর্মের অনুসারীরা সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে নিজ নিজ ধর্ম চর্চা করে আসছে বহু বছর ধরে। উভয় ধর্মের অনুসারীরা একে অপরের ধর্মচর্চায় সহযোগিতার মাধ্যমে নিজ নিজ ধর্ম পালনে সারাদেশে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

    জানা যায়, উপজেলার চৌধুরী বাড়িতে ১৩৩৯ বঙ্গাব্দে (১৯৩২/১৯৩৩ সাল) ওঁঝা ঠাকুর ও হরনাথ স্মৃতি কেন্দ্রীয় দুর্গা মন্দির প্রতিষ্ঠিত করেন শ্রী পরেশ চন্দ্র ও শৈলেশ চন্দ্র দাসয়ো। এরপর থেকে প্রতি বছর ধুমধাম করে দুর্গাপূজা উদযাপন করে এলাকার সনাতন ধর্মের লোকজন।

    মন্দির প্রতিষ্ঠার পর সেটির আঙিনার অপরপাশে (পশ্চিমাংশে) ১৯৬২ সালে নির্মাণ করা হয় নাগরপুর চৌধুরী বাড়ি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ। একই মাঠের পশ্চিমাংশে মসজিদ আর পূর্বাংশে মন্দির নিয়ে স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে কখনো ধর্মীয় কোনো দ্বন্দ্ব বা সাম্প্রদায়িক হানাহানি হয়নি।

    সরেজমিনে নাগরপুর ওঁঝা ঠাকুর ও হরনাথ স্মৃতি কেন্দ্রীয় দুর্গামন্দির পূজামণ্ডপে গিয়ে দেখা যায়, পূজা-অর্চনা, উলুধ্বনি ও ঢাকের বাজনা চলছে। দর্শনার্থীরা প্রতিমা দেখতে ভিড় করছেন। আজানের আগে ঘোষণা করা হলো, আজান ও নামাজের পর আবার পূজার কার্যক্রম শুরু হবে।

    নির্ধারিত সময়ে আজান শুরু হতেই থেমে গেল ঢাক-ঢোল-কাঁসর, মাইক ও উচ্চশব্দের বক্সের বাজনা। আজানের পর মুসল্লিরা মসজিদে এসে নামাজ আদায় করছেন। নামাজ শেষ হওয়ার বেশ কিছু সময় পর আবার বেজে ওঠে মন্দিরের ঢাক-ঢোল-কাঁসর আর উচ্চশব্দের বাজনা।

    এভাবেই নামাজের ওয়াক্তের আজানের শুরুতেই থেমে যায় শঙ্খ ও ঢাক-ঢোলের শব্দ এবং নীরব থাকে নামাজ আদায় শেষ না হওয়া পর্যন্ত। ঠিক তেমনি সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যখন পূজা অর্চনায় মেতে ওঠেন তখন নামাজ ছাড়া কোনো ধরনের ইসলাম ধর্মীয় চর্চা থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকেন মুসল্লিরা।

    এছাড়াও, প্রতিমা দর্শনে আগতরা বেশিরভাগ সময়ে অবস্থান নেন মসজিদের আঙিনায়। রোজা, নামাজ, পূজা একই আঙিনায় পালন করেন দুই ধর্মের অনুসারীরা। এলাকার হিন্দু-মুসলিম সবাই একে অপরের মসজিদ মন্দিরের সুরক্ষায় কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুগের পর যুগ ধরে রেখেছে বন্ধন।

    এর আগে কোনো সহিংসতা তো দূরের কথা, কোনোদিন বাগ্বিতণ্ডার নজির নেই এখানে। উভয় ধর্মের অনুসারীরা এই সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধকে শতাব্দীর পর শতাব্দী টিকিয়ে রাখতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

    মসজিদে নামাজে আসা মুসল্লিরা জানান, এই এলাকার মানুষ অত্যন্ত শান্তিপ্রিয়। দুই ধর্মের লোকদের মাঝে ধর্ম পালন নিয়ে কোনোদিন কোনো বিরোধিতা সৃষ্টি হয়নি। ইসলাম ধর্মের মানুষ তাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করে। তারাও নামাজ ও আজানের সময় পূজা বন্ধ রাখেন। এটা কাউকে বলে দিতে হয় না।

    অন্যদিকে মন্দির পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে আসা ভক্তদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এই মন্দিরের নামকরণ করা হয় নাগরপুর চৌধুরী বাড়ি ওঁঝা ঠাকুর কেন্দ্রীয় দুর্গা মন্দির। মন্দির প্রতিষ্ঠার পর এখানকার ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মন্দিরের পাশেই প্রতিষ্ঠা করেন নাগরপুর চৌধুরী বাড়ি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ। এরপর থেকেই পাশাপাশি চলছে দুই ধর্মের মসজিদ-মন্দিরের কার্যক্রম। এতে ধর্ম পালনে কোনোদিন কোনো ঝামেলা হয়নি। তাদের প্রত্যাশা, যুগ যুগ ধরে চলতে থাকবে এই সম্প্রীতি।

    পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি শিব শংকর সূত্র ধর বলেন, এবার নাগরপুর উপজেলায় ১২টি ইউনিয়নে ১৩৯টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপন হচ্ছে। এই এলাকার হিন্দু-মুসলিম সকলেই একে অপরের মসজিদ-মন্দিরের সুরক্ষায় কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুগের পর যুগ ধরে কাজ করে আসছে। এছাড়াও প্রতিমা দর্শনে আগতরা বেশিরভাগ সময়ে অবস্থান নেন মসজিদ আঙিনায়। ইতোপূর্বে কোনো সহিংসতা তো দূরের কথা, কোনো বাগ্বিতণ্ডার নজির নেই এখানে। উভয় ধর্মের অনুসারীরা এই‌ সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধকে শতাব্দীর পর শতাব্দী টিকিয়ে রাখতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

    মসজিদের পেশ ইমাম ও খতীব মুফতি হুমায়ুন কবীর জানান, মসজিদে আজান দেয়ার আগেই তারা ঢোল বাজনা, পূজা বন্ধ রাখেন। তখন বোঝার উপায় নেই যে এখানে একটু আগেই পূজা হচ্ছিল। একই আঙ্গিনায় মসজিদের পাশে মন্দির বাংলাদেশে নজির স্থাপন করেছে। এখানে এখন পর্যন্ত কোনো সাম্প্রদায়িক সহিংসতা সৃষ্টি হয়নি। এ,আর

  • মির্জাপুরে লৌহজং নদীতে ডুবে শিশুর ‍মৃত্যু

    মির্জাপুরে লৌহজং নদীতে ডুবে শিশুর ‍মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে লৌহজং নদীতে ডুবে সাফুয়ান নামে আড়াই বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার পৌরসদরের কাণ্ঠালিয়া এলাকা সংলগ্ন লৌহজং নদীতে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত শিশু সাফুয়ান কাণ্ঠালিয়া গ্রামের আব্দুল মান্নান মিয়ার ছেলে।

    শিশুটির স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে বাড়ির সবার অগোচরে শিশুটি লৌহজং নদীর পাড়ে চলে যায় এবং একপর্যায়ে গভীর পানিতে পড়ে তলিয়ে যায়। এ সময় নদীর অপর প্রান্ত থেকে কয়েকজন নারী প্রত্যক্ষদর্শী বিষয়টি দেখতে পেয়ে চিৎকার করলেও তাৎক্ষণিকভাবে আশপাশে কেউ না থাকায় তাকে বাঁচানো যায়নি। শিশুটিকে হাত নাড়াতে নাড়াতে পানির নিচে তলিয়ে যেতে দেখেন ওই নারীরা। পরে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন স্থানীয়রা।

    ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ফায়ার সার্ভিসের তিন সদস্যের একটি ডুবুরি দল শিশুটিকে উদ্ধারে বেলা ১১টা থেকে নদীতে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। উদ্ধার অভিযানকালে দুপুর ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে মাঝ নদী থেকে ওই শিশুটির লাশ উদ্ধার করে ডুবুরি দলের সদস্যরা।

    এ বিষয়ে টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের টিম লিডার মো: ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘খবর পাওয়ার পরপরই আমাদের তিন ডুবুরিসহ সাত সদস্যের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করি। দুপুরে শিশুটির লাশ উদ্ধারের পর তার পরিবারের কাছে দেয়া হয়েছে।’ এ,আর

  • কোচিং করতে ঢাকায়, কার্টনে ফিরল রাকিব

    কোচিং করতে ঢাকায়, কার্টনে ফিরল রাকিব

    এইচএসসি পরীক্ষা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে এক মাস আগে টাঙ্গাইল থেকে ঢাকায় আসে রাকিবুল ইসলাম (১৭)। ওঠেন শেওড়াপাড়ার একটি মেসে। পূর্বপরিচিত আবদুল্লাহ আল মামুন (২৫) নামের একজন ফোন করে ডেকে নেওয়ার পর আর বাসায় ফেরেনি এই কিশোর।

    পরে পুলিশের তদন্তে জানা যায়, রাজধানীর শুক্রাবাদের একটি বাসায় নিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। পরে গুম করতে কার্টনে ভরে লাশ নিয়ে যাওয়া হয় নীলফামারীতে। সেখানে একটি সুপারিবাগানের ভেতরে লাশটি মাটিচাপা দেওয়া হয়। আগে থেকেই মুক্তিপণ আদায় করতে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। দেওয়া হয় হত্যার হুমকিও। জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় পরিবারের সদস্যরা মুক্তিপণের টাকাও দেন।

    তারপরও রাকিবুলকে খুঁজে না পেয়ে দুদিন পর ঢাকায় এসে তার নিখোঁজ হওয়ার তথ্য জানিয়ে কাফরুল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তাঁর বড় ভাই জহিরুল ইসলাম। সেই জিডির সূত্র ধরেই এ হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে কাফরুল থানা পুলিশ।

    আজ বুধবার বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির ক্রাইম প্রিভেনশন উত্তর বিভাগের যুগ্ম কমিশনার মহিদুল ইসলাম। পুলিশ কর্মকর্তা মহিদুল বলেন, রাকিবুল ফার্মগেটের একটি কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়েছিল। গত ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে তার হোয়াটসঅ্যাপে একটি ফোন আসে। শেওড়াপাড়া মেট্রোরেল স্টেশনের সামনে যেতে বলা হয় তাকে। সেখান থেকে তাকে নেওয়া হয় রাজধানীর শুক্রাবাদের একটি বাসায়। এরপর আর তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।

    কাফরুল থানা পুলিশের বরাত দিয়ে মহিদুল ইসলাম বলেন, তদন্ত শুরু করে পুলিশ জানতে পারে, মুক্তিপণ দাবি করে যে দুটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে কল দেওয়া হয়, সেগুলোর ব্যবহারকারী মো. আবদুল্লাহ আল মামুন ওরফে মামুন সরকার (২৪) নামের এক ব্যক্তি। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে মামুন রাকিবকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নীলফামারীর ডিমলায় একটি সুপারিবাগান থেকে কার্টনে ভরা অবস্থায় রাকিবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    তদন্তে পাওয়া তথ্য উল্লেখ করে মহিদুল ইসলাম বলেন, রাকিব নিখোঁজ হওয়ার পর তার পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করতে থাকেন। এর মধ্যে পরিবারের কাছে হোয়াটসঅ্যাপে কল করে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন মামুন। টাকা না দিলে রাকিবকে হত্যার হুমকি দেন তিনি। মুক্তিপণ আদায় করতে পরিবারকে বিভিন্নভাবে বিভ্রান্ত করা হয়।

    পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, রাকিবকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে চারটি বিকাশ ও তিনটি নগদ নম্বরে মোট চার লাখ টাকা পাঠান। তারপরও তাকে ফিরে না পেয়ে তার বড় ভাই জহিরুল ইসলাম ঢাকায় এসে কাফরুল থানায় রাকিবের নিখোঁজ হওয়ার জিডি করেন। রাকিব খুন হয়েছে জানার পর তিনি অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় মামলা করেছেন। মামলার তদন্ত চলছে।

    হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরের সূত্র ধরে গ্রেপ্তার
    সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ৫ অক্টোবর সন্ধ্যা ছয়টার দিকে রাজধানীর শুক্রাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে মামুনকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে মামুন জানান, কয়েক মাস আগে অনলাইনে রাকিবের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। তিনি একটি মার্কেটিং কোম্পানিতে চাকরি করেন। ঢাকায় আসার পর একাধিকবার রাকিব তাঁর বাসায় যায়। তাঁদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সর্বশেষ ১৬ সেপ্টেম্বর রাকিব তাঁর বাসায় গেলে তাকে মারধর করা হয়। মামুন তাকে মুক্তিপণের টাকা দিতে চাপ প্রয়োগ করেন। তাঁদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে ঘাড় মটকে রাকিব মারা যায়।

    পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রাকিবকে হত্যা করার পর মুক্তিপণের টাকা আদায় করতে মামুন নিজেই তার পরিবারের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করেন। কয়েকটি নম্বর থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। টাকা পাওয়ার পর নম্বর বন্ধ করে পালিয়ে যান মামুন।

    কার্টনে ভরে নেওয়া হয় নীলফামারীতে
    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাকিব মারা গেলে তার মরদেহ গুম করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন মামুন। মরদেহটি একটি কার্টনে ভরে স্কচটেপ দিয়ে মুড়ে ফেলেন তিনি। এরপর তাঁর বাড়ির দারোয়ানের সহায়তায় কার্টনটি অটোরিকশায় তুলে গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে নিয়ে যান। কার্টনটি এমনভাবে প্রস্তুত করা হয় যে সেটা দেখে মরদেহ আছে বোঝার উপায় ছিল না। ফলে ঢাকা থেকে নীলফামারীতে নেওয়া হলেও কারও সন্দেহ হয়নি।

    পুলিশ আরও জানায়, গাবতলী থেকে বাস ও অন্য যানবাহনে করে নীলফামারীর ডিমলায় নিজের বাড়ির এলাকায় যান মামুন। পরদিন ১৭ সেপ্টেম্বর রাতের আঁধারে বাড়ির সামনে একটি সুপারিবাগানে গর্ত করেন। পরে কার্টনসহ রাকিবের মরদেহ সেখানে মাটিচাপা দেন।

    মহিদুল ইসলাম জানান, মামুনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৬ অক্টোবর বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ডিমলা থানা পুলিশের সহায়তায় ওই সুপারিবাগানে অভিযান চালানো হয়। মামুনের দেখানো স্থান থেকে কার্টনের ভেতর রাকিবের মরদেহ পাওয়া যায়। পরে তার বড় ভাই জহিরুল ইসলাম মরদেহটি শনাক্ত করেন। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

    রাকিবের পরিবারের কাছ থেকে মামুন যে চার লাখ টাকা নিয়েছিলেন, সেখান থেকে ৫০ হাজার টাকা উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। মামুন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে চাওয়ায় তাঁকে আজ ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে মহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন। এ হত্যাকাণ্ডে আর কেউ জড়িত কি না, মুক্তিপণের অর্থের লেনদেন এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

  • টাঙ্গাইলে শিশু ধর্ষণ মামলায় দুই জনের যাবজ্জীবন

    টাঙ্গাইলে শিশু ধর্ষণ মামলায় দুই জনের যাবজ্জীবন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    টাঙ্গাইলে শিশু ধর্ষণ মামলায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেইসাথে তিন লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে প্রত্যেককে আরো তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।

    বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে টাঙ্গাইলের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ড. আব্দুল মজিদ এ দণ্ডাদেশ দেন।

    দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার ব্রাহ্মণবাড়ী গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে আরিফ (২৩) ও একই গ্রামের আয়নালের ছেলে রুবেল (২৩)।

    শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট খন্দকার মো: রোকুনুজ্জামান বলেন, মামলার বাদি পরিবারের অমতে তার প্রেমিককে বিয়ে করেন। তিনি বিগত ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে তার স্বামীর সাথে বাড়ির বাইরে দেখা করতে যান। আসামিরা তখন তার স্বামীকে একটি খুঁটির সাথে বেঁধে রেখে তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন।

    এ ঘটনার ছয় দিন পর ভিকটিম নিজেই বাদি হয়ে মধুপুর থানায় মামলা করেন। একই বছর ১৪ নভেম্বর আদালতে চার্জশিট দেয় পুলিশ।

    বিচার শেষে আজ আসামিদের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও তিন লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে প্রত্যেককে আরো তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। আসামিদের উপস্থিতিতেই রায় পড়ে শোনান বিচারক। পরে তাদের টাঙ্গাইল কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

    মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট হারাধন চন্দ্র সিংহ। এ,আর

  • টাঙ্গাইলে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শ্রমিকের মৃত্যু

    টাঙ্গাইলে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শ্রমিকের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    টাঙ্গাইলের বাসাইলে নির্মাণাধীন দোতলা ভবনে কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে রায়হান মিয়া (২০) নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

    শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে বাসাইল পৌরসভার প্রশিকা এলাকায় প্রবাসী আনিসের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

    মৃত রায়হান দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলার বাসিন্দা বাবুল মিয়ার ছেলে। তিনি কয়েকদিন ধরে আনিসের নির্মাণাধীন ভবনে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করছিলেন।

    জানা গেছে, সকালে রায়হান ভবনের রডের কাজ করছিলেন। এ সময় রডটি ওপরের দিকে উঠালে পল্লীবিদ্যুতের তারের সাথে লেগে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে রায়হান গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    বাসাইল থানার ওসি আলমগীর কবির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘নিহতের লাশ হাসপাতালে রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে।’ এ,আর

  • ঘাটাইলে স্বামীর হাতে স্ত্রী খুনের অভিযোগ

    ঘাটাইলে স্বামীর হাতে স্ত্রী খুনের অভিযোগ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে স্ত্রী তামান্না ইসলাম তন্নিকে (২০) পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী মো: রোমান মিয়ার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামীকে তাৎক্ষণিক আটক করেছে পুলিশ।

    মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার দেউলাবাড়ি ইউনিয়নের উত্তর খিলগাতি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    মৃত তন্নি দেউলাবাড়ি ইউনিয়ন উত্তর খিলগাতি গ্রামের প্রবাসী তোফাজ্জল হোসেনের মেয়ে। অভিযুক্ত স্বামী রোমান মিয়া মধুপুর উপজেলার আলোকদিয়া ইউনিয়নের শিবরামবাড়ি গ্রামের তুলা মিয়ার ছেলে।

    পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে রোমান মিয়া তার শ্বশুর বাড়িতে স্ত্রীর সাথে এক রাত্রিযাপন করেন। রাতে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক ঝামেলা নিয়ে কথা কাটাকাটি এবং মারামারি হয়। এক পর্যায়ে স্বামী রোমান শ্বশুর বাড়ির পরিবারের সবাইকে ডেকে জানান তার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েছে।

    পরে বুধবার ভোরে মুমূর্ষু অবস্থায় তন্নিকে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    পরিবারের দাবি, তন্নির গলায় এবং সারা শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাদের ধারণা রাতেই স্বামীর দেয়া কোনো আঘাতে তার মৃত্যু হয়।

    তন্নির বাবা তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘আমার মেয়ের জামাই রাতেই আমার মেয়েকে মেরে ফেলেছে। এ ঘটনায় আমি থানায় মামলা করতে এসেছি।’

    এলাকাবাসী জানায়, এক বছর আগে রোমানের সাথে বিয়ে হয় তন্নির। রাতে রোমান তন্নির ঘরে ছিলেন এবং তাদের ঝগড়া হয়।

    এ ব্যাপারে দেউলাবাড়ি ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান আবু হানিফ বলেন, ‘মেয়েটিকে অত্যাচার করে তার স্বামী মেরে ফেলেছে। মেয়েটির পরিবার একটি সুখী পরিবার। মাত্র এক বছর আগে অত্যন্ত ঘটা করে মেয়েটির বিয়ে হয়। এমন ঘটনা আগে কখনো আমাদের এলাকায় ঘটেনি। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে সঠিক বিচার দাবি করছি।’

    থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোকসেদুর রহমান বলেন, ‘অভিযুক্ত রোমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হসপিটাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’ এ,আর

  • নাগরপুরে চোরের ছুরিকাঘাতে হতাহত ৩

    নাগরপুরে চোরের ছুরিকাঘাতে হতাহত ৩

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    টাঙ্গাইলের নাগরপুরে চোর ধরতে গিয়ে চোরের ছুরিকাঘাতে মজনু মিয়া (৫০) নামে একজন নিহত হয়েছেন। এ সময় চোরকে বাধা দিতে গিয়ে আহত হয়েছেন আলতাফ ও নাজমুল নামে আরো দুইজন।

    বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার বারাপুষা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

    নিহত মজনু মিয়া ওই গ্রামের মরহুম বেল্লাল মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় ঢালাই মিস্ত্রীর সহকারী ও তিন সন্তানের জনক ছিলেন। পরে জনতা চোর ছামিনুর মিয়াকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার গয়হাটা গ্রামের মুন্নাফ মিয়ার ছেলে ছামিনুর মিয়া বারাপুষা মজনু মিয়ার বাড়িতে চুরি করতে যায়। এসময় গৃহকর্তার ছোট মেয়ে জুলেখা প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘর হতে বের হয়ে চোরকে দেখতে পায়। পরে চোর চোর বলে ডাক চিৎকার করলে চোর ছামিনুর খড়ের গাদার পিছনে লুকায়।

    এসময় গৃহস্থ মজনু মিয়া তাকে ঝাপটে ধরলে চোরের হাতে থাকা ছুরি দিয়ে তার ঘাড়ে ও গলায় আঘাত করে। প্রতিবেশী আলতাফ ও নাজমুল তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে ছামিনুর তাদেরকেও ছুরি দিয়ে আঘাত করে। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার মজনু মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।

    উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (ভার:) ডাক্তার মীর রকিবুল ইসলাম লীন জানান, ছুরির আঘাতে মজনু মিয়ার ক্যারোটিড আর্ট্যরি কেটে যাওয়ায় তার মৃত্যু হয়। অপর আহত দু’জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

    থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতর লাশ উদ্ধার করে টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। জড়িত ছামিনুরকে গ্রেফতার করে নাগরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসা চলছে।’

    আইনি প্রক্রিয়ায় চলমান রয়েছে বলেও তিনি জানান। এ,আর

  • আওয়ামী ডাক্তারদের কাছে জিম্মি টাঙ্গাইলের ৪০ লাখ মানুষ

    আওয়ামী ডাক্তারদের কাছে জিম্মি টাঙ্গাইলের ৪০ লাখ মানুষ

    টাঙ্গাইলে ৪০ লাখ মানুষ চিকিৎসাসেবায় আওয়ামীপন্থি ডাক্তারদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন। হাসপাতালগুলোতে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপের) হাতে বন্দি রয়েছে রোগীরা। সিভিল সার্জনের কার্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রসহ সব সরকারি হাসপাতালে আওয়ামীপন্থি পেশাজীবী সংগঠন স্বাচিপের আধিপত্য ও প্রভাব বিদ্যমান থাকায় ড্যাব সদস্যরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে ওষুধের টেন্ডার।

    অপরদিকে, ফ্যাসিস্ট সরকারের দীর্ঘ সময় দৌড়ের ওপর থাকা ডক্টর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশসহ (ড্যাব) মেধাবী চিকিৎসকরা এখনো কোণঠাসা। যোগ্যতার ভিত্তিতে পদায়নের আশায় দিন কাটছে তাদের। এছাড়া স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম আর সিন্ডিকেটের মাধ্যমে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এমএসআর টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে।

    সম্প্রতি ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ২৫ বস্তা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ নদীতে ফেলে দেওয়ার সময় জনতার হাতে ধরা পড়ে। গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলে এ নিয়ে রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয়। নড়েচড়ে বসে স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ওষুধকাণ্ডের ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা স্বাচিপ সদস্য আবু নয়িম মোহাম্মদ সোহেলকে ওএসডি করা হয়। তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। স্বাচিপের আদিপত্য রোধ, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে চিকিৎসকদের পদায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।

    জানা গেছে, টাঙ্গাইল জেলায় একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, ১২টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ১১১টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে। আওয়ামী শাসনামলে প্রায় ১৭ বছর এসব হাসপাতালের চিকিৎসক নিয়োগ ও বদলির ক্ষেত্রে স্বাচিপের সদস্যই ছিল যোগ্যতার অন্যতম প্রধান মাপকাঠি।

    অনুসন্ধানে জানা যায়, টাঙ্গাইলের বর্তমান সিভিল সার্জন স্বাচিপের আজীবন সদস্য ফরাজী মো. মাহবুবুল আলম মঞ্জু গত বছরের ৯ মার্চ যোগদান করেন। স্বাচিপের অপর দুই সদস্য ডেপুটি সিভিল সার্জন মুহাম্মদ আজিজুল হক এবং মেডিকেল অফিসার আবু জাফর যোগদান করেন আওয়ামী সরকারের সময়ে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক পদে স্বাচিপের দুই সদস্য কামরুল কিবরিয়া ও মারুফ আহমেদ খান সহকারী পরিচালক পদে যোগদান করেন। এর আগে ২০১৪ সালে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রকল্প পরিচালক পদে যোগদান করেন স্বাচিপের আজীবন সদস্য নুরুল আলম মিঞা। এ হাসপাতালের ১১৭ জন চিকিৎসকের বেশিরভাগই স্বাচিপের সদস্য।

    ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ৪৮ জন চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর তালিকা প্রকাশ করে বৈষম্যবিরোধী চিকিৎসকসমাজ। জুলাই গণবিপ্লবের বিরোধিতা, গণহত্যায় মদদদাতার অভিযোগ আনা হয়। এ তালিকার কয়েকজন বদলি হলেও বাকিরা গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রয়েছেন। জেলার ১২ উপজেলার মধ্যে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হিসেবে ৯ জন নিয়োগ পান আওয়ামী সরকারের আমলে। যাদের প্রায় সবাই স্বাচিপ সদস্য বা আওয়ামী সুবিধাভোগী।

    ড্যাবের টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি ডা. আব্দুল মতিন আমার দেশকে জানান, জেলার চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্র এখনো স্বাচিপ ও আওয়ামী সুবিধাবাদী চিকিৎসকদের দখলে। নানা অনিয়ম-দুর্নীতি চলছে আগের মতোই। শূন্যপদে আওয়ামী দুঃশাসনে হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার চিকিৎসকদের পদোন্নতি ও পদায়নের সুযোগ রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন মহলের নজরে আনা হয়েছে।

    এদিকে জেলার ১২টি উপজেলার মধ্যে মির্জাপুর, দেলদুয়ার, নাগরপুর, ভূঞাপুর, গোপালপুর, ধনবাড়ী ও সখিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল, সার্জিকেল অ্যান্ড রিকোজিট টেন্ডারে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব উপজেলা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালার বহির্ভূত শর্ত আরোপ করে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে।

    জেলা সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়, ১২টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অনুমোদিত ৪৫০টি পদের মধ্যে শূন্যপদ ১৭৭টি। পদায়ন করা ২৭৩ জনের মধ্যে বেশিরভাগই আওয়ামীপন্থি সুবিধাভোগী। এছাড়া ৫ আগস্টের পরে যে ১৪৫ জনের পদায়ন কর হয় তার মধ্যেও প্রাধান্য পায় আওয়ামী সুবিধাভোগীরা। টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৭৯০টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে ৬৩ জন আর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ৮৭ জনের বিপরীতে ৫৪ চিকিৎসক রয়েছে। এছাড়া জেলায় ১১১টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ৩৯টি পদ শূন্য রয়েছে। উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসকের অধিকাংশ আওয়ামী পরিবারের সদস্য বা সুবিধাভোগী।

    জেলা সিভিল সার্জন ফরাজী মো. মাহবুবুল আলম মঞ্জু আমার দেশকে জানান, ঘাটাইল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওষুধকাণ্ডের ঘটনায় কর্মকর্তাকে ওএসডি এবং তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপজেলার টেন্ডারে অনিয়ম হলে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তিনি স্বাচিপের সদস্য নন বলেও দাবি করেন।

  • নাগরপুরে ভীমরুলের কামড়ে বৃদ্ধের মৃত্যু, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ

    নাগরপুরে ভীমরুলের কামড়ে বৃদ্ধের মৃত্যু, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    টাঙ্গাইলের নাগরপুরে ভীমরুলের কামড়ে চান মিয়া নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তবে পরিবারের দাবি, চিকিৎসায় গাফিলতির কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।

    শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

    নিহত চান মিয়া উপজেলার মামুদনগর ইউনিয়নের শ্রীবড়টিয়া গ্রামের বাসিন্দা।

    নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুরে চান মিয়া তার নিজ বাড়ির তালগাছে ওঠেন গাছ পরিষ্কার করতে থাকেন। এমন সময় গাছে থাকা ভীমরুলের চাক থেকে বেশ কিছু ভীমরুল তাকে আক্রমণ করে এবং শরীরের একাধিক স্থানে হুল ফোটালে তিনি দ্রুত গাছ থেকে নেমে আসেন। পরে তার অবস্থা গুরুতর দেখে পরিবারের লোকজন তাকে দ্রুত নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল ৫টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

    নিহতের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করে বলেন, হাসপাতালে ভর্তির পর চান মিয়া সঠিক চিকিৎসা দেয়া হয়নি। সঠিক চিকিৎসা না দেয়ার কারণে তার অবস্থা খারাপ হতে থাকে। তারা চিকিৎসা দিতে পারবে না একথা বললে আমরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র নিয়ে যেতাম। চিকিৎসকদের অবহেলার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। আমরা এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

    নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা: রিফাত মাহবুব বলেন, চান মিয়া বিকেল ৫টার দিকে হঠাৎ করেই শকে চলে যান। বহু চেষ্টা করেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এ,আর

  • তালাকের নোটিশ পেয়ে স্ত্রীকে হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যার চেষ্টা

    তালাকের নোটিশ পেয়ে স্ত্রীকে হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যার চেষ্টা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    টাঙ্গাইলের নাগরপুরে স্ত্রী নিলুফা আক্তার মিলুর (৪০) তালাকের নোটিশ পেয়ে তাকে কুপিয়ে হত্যার পর আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন স্বামী হযরত আলী। এ সময় নিলুফার মা এগিয়ে এলে তাকেও কুপিয়ে আহত করা হয়।

    বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার ধুবরিয়া ইউনিয়নের বাদে কাকনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    অভিযুক্ত হযরত উপজেলার ধুবড়িয়া গ্রামের দহর পাচুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা। নিলুফা পার্শ্ববর্তী কাকনা গ্রামের ছইনুদ্দিনের মেয়ে।

    স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, প্রায় ছয় বছর আগে হযরতের সাথে নিলুফার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ লেগেই থাকতো। এরই জেরে নিলুফা এক সপ্তাহ আগে হযরতকে তালাক দেয়। তালাকের খবর পেয়ে হযরত ক্ষিপ্ত হয়ে বুধবার রাত ৮টার দিকে ধারালো ছুরি নিয়ে নিলুফার বাড়িতে যান। সেখানে নিলুফাকে দেখামাত্রই ছুরিকাঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    এ সময় নিলুফার মা চেনবানু এগিয়ে এলে তাকেও কুপিয়ে জখম করা হয়। পরে হযরত তার হাতে থাকা ছুরি দিয়ে নিজের পেটে ও গলায় ছুরিকাঘাত করে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা মুমূর্ষু অবস্থায় হযরত ও চেনবানুকে উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

    নিহত নিলুফার বাবা ছইনুদ্দিন বলেন, ‘আমি বাজারে ছিলাম। খবর পেয়ে বাড়ি যাই। বাড়ি গিয়ে দেখি মেঝেতে মেয়ে ও হযরত রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।’

    দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা: মৌসুমী ভৌমিক বলেন, ‘গুরুতর জখম অবস্থায় হযরত ও চেনবানুকে নিয়ে আসা হয়। প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাদের রাতেই মানিকগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে হযরতের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ও আহত চেনবানুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার সিএমএইচ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে বলে পুলিশ জানায়।’

    নাগরপুর থানার ওসি জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা হত্যা মামলা করেছেন। ঘাতক স্বামী পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।’ এ,আর

  • মাকে ১৭ বছর পর খুঁজে পেয়ে ছেলের চোখে আনন্দাশ্রু

    মাকে ১৭ বছর পর খুঁজে পেয়ে ছেলের চোখে আনন্দাশ্রু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর নিখোঁজ ছিলেন শাহ আলমের গর্ভধারিণী মা সাহারা বেগম (৬৫)। এক সময় মাকে ফিরে পাওয়ার আশা ছেড়ে দেন তিনি ও তার পরিবার। অবশেষে অবসান হলো সেই দীর্ঘ অপেক্ষার। এতো বছর পর মাকে ফিরে পাওয়ায় আনন্দে আত্মহারা সন্তানসহ পরিবারের সবাই।

    শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সাগরদিঘী ইউনিয়নের ফুলমালীর চালার নয়াপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    জানা গেছে, ২০০৯ সালের শুরুতে বাড়ি থেকে হারিয়ে যান মানসিক ভারসাম্যহীন সাহেরা। পরিবারের লোকজন আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ খবর নিয়ে ব্যর্থ হন। কিন্তু থেমে যাননি ছেলে শাহ আলম। প্রিয় মাকে খুঁজে বের করতে ধারদেনা করে কেনেন একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা। সংসার চালানোর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তিনি মাকে খোঁজে বেড়িয়েছেন। মায়ের মায়াবী মুখ দেখার অপেক্ষায় প্রায় কেটে যায় ১৮ বছর।

    শুক্রবার সাহেরা এসে উপস্থিত হন বাড়ির পাশের একটি বাজারে। মা ফিরে আসার সংবাদ পেয়ে শাহ আলম ছুটে যান মায়ের কাছে। মাকে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে যান তিনি। মা-ছেলের আকস্মিক এই আবেগঘন সাক্ষাতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

    শাহ আলম বলেন, ‘১৮ বছর অনেক খোঁজাখুঁজি করেও মাকে পাইনি। মাকে ফিরে পাব, এমন আশাও ছিল না। মাকে পেয়ে আমি খুবই আনন্দিত। পাগল হলেও তিনি আমার মা। এতো বছর পর মায়ের সেবা করতে পারছি এটা আমার জন্য অনেক আনন্দের।’

    স্থানীয় সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ছোট থাকতে সাহারা বেগম বাড়ি থেকে হারিয়ে যান। দীর্ঘদিন পর তাকে খুঁজে পেয়ে পরিবারের সবাই অনেক খুশি।’

    মো: হাবিবুল্লাহ বলেন, ‘ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে উৎসুক লোকজন তাদের বাড়িতে ভিড় করছেন। সাহারা বেগম ফিরে আসার ঘটনায় আমরা সবাই আনন্দিত। তিনি ঠিকভাবে কথা বলতে পারেন না। এতোদিন তিনি কোথায় ছিলেন ও কেমন ছিলেন তা জানা যায়নি।’ এ,আর

  • টাঙ্গাইলে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন

    টাঙ্গাইলে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    টাঙ্গাইলে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেইসাথে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

    সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের সিনিয়র দায়রা জজ মো: হাফিজুর রহমান এ দণ্ডাদেশ দেন।

    দণ্ডিত আসামি হলেন— টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার বাগুয়াটা গ্রামের মরহুম হাজী আজমত আলীর ছেলে মুস্তাক। বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন।

    টাঙ্গাইল দায়রা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো: শফিকুল ইসলাম রিপন নয়া দিগন্তকে জানান, আসামি মুস্তাক দুই শিশুছেলে ও তার স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস মুনিয়াকে নিয়ে ভূঞাপুরের ঘাটান্দি এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মুস্তাক তার স্ত্রী মুনিয়াকে প্রায়ই নির্যাতন করতেন। একপর্যায়ে তিনি বিগত ২০২৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার পর যেকোনো সময় মুনিয়াকে হত্যা করে পালিয়ে যান।

    অনেক খোঁজাখুঁজির পর ১৫ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টার দিকে নিজ ঘরের বক্সখাটের নিচ থেকে মুনিয়ার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মুনিয়ার ভাই আমিনুল ইসলাম খান ভূঞাপুর থানায় মামলা করেন।

    বিচার শেষে আদালত আসামি মুস্তাককে স্ত্রী হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। একইসাথে স্ত্রীর লাশ গুম করার চেষ্টার দায়ে তাকে দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো দুই মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।

    নিহত মুনিয়া গোপালপুরের নলিন বাজার গ্রামের নুরুল ইসলাম খানের মেয়ে।

    মামলায় আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মো: রফিকুল ইসলাম রফিক। এ,আর

  • গাজীপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে পিকআপের ধাক্কা, চালক নিহত

    গাজীপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে পিকআপের ধাক্কা, চালক নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুরের কড্ডা এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকে পিকআপভ্যানের ধাক্কায় সৈকত হোসাইন (২৩) নামে এক চালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পিকআপভ্যানের এক সহকারী গুরুতর আহত হয়েছেন।

    শনিবার সকালে কড্ডা এলাকায় মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে দ্রুতগামী পিকআপভ্যানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সজোরে ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত সৈকত হোসাইন চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার বেরনাইয়া মোল্লাবাড়ী গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে।

    পুলিশ জানায়, শনিবার সকালে টাঙ্গাইল অভিমুখে গমনকারী একটি পিকআপভ্যান কড্ডা এলাকায় সড়কের পাশে থেমে থাকা ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে পিকআপটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই চালক সৈকতের মৃত্যু হয়।

    এদিকে পিকআপভ্যানের আহত সহকারীর পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রাক ও পিকআপভ্যান দুটি নিজেদের হেফাজতে নেয়।

    কোনাবাড়ী থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আব্বাস উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

  • শিশুপুত্রকে কুপিয়ে হত্যা করলেন মা

    শিশুপুত্রকে কুপিয়ে হত্যা করলেন মা

    টাঙ্গাইলের সখীপুরে সাড়ে ৩ বছরের শিশুপুত্র আশরাফুলকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার মা আকলিমা বেগমের (৩৫) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সিদরাতুল (৮) নামে আরেক শিশু গুরুতর আহত হয়েছে। ঘটনার পর শিশুটির মাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে।

    বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার খালিয়ার বাইদ (মুজিবনগর মোড়) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত সিদরাতুল আকলিমা বেগমের আগের স্বামীর ঘরের মেয়ে। তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

    স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শাহীন মিয়া প্রায় ৩০ বছর আগে প্রথম বিয়ে করেন। ওই সংসারে সন্তান না থাকায় পরবর্তীতে প্রথম স্ত্রীর উদ্যোগে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন। দ্বিতীয় স্ত্রী আকলিমা বেগমের ঘরে আশরাফুলের জন্ম হয়।

    আকলিমা বেগম ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করায় বেশির ভাগ সময় বাড়ির বাইরে থাকতেন। ফলে আশরাফুলকে শাহীন মিয়ার প্রথম স্ত্রী নাসিমা আক্তার লালন-পালন করতেন। শিশুটি নাসিমাকে ‘বড়মা’ বলে ডাকত। স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য, সে নিজের মাকেও ‘আন্টি’ বলে ডাকত।

    স্থানীয় কয়েকজন ধারণা করছেন, শিশুটি নিজের মাকে ‘আন্টি’ বলে ডাকায় আকলিমার মধ্যে ক্ষোভ বা অভিমান তৈরি হয়ে থাকতে পারে। তবে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, আকলিমা ও শাহীন মিয়ার মধ্যে কোনো পারিবারিক কলহ ছিল না। ফলে হামলার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। পুলিশ তদন্তের পর ঘটনার কারণ স্পষ্ট হতে পারে।

    শাহীন মিয়া বলেন, প্রায় ৩০ বছর পর তিনি একটি পুত্রসন্তান পেয়েছিলেন। সেই সন্তানকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী এভাবে হত্যা করেছেন। শুধু তার সন্তান নয়, আকলিমার আগের স্বামীর ঘরের মেয়ে সিদরাতুলকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেন।

    ঘটনার পর আশরাফুলকে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মরদেহ ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই রয়েছে।

    সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুরাদ হোসেন বলেন, ঘটনাস্থল সখীপুর ও ভালুকা থানার মধ্যবর্তী এলাকায়। ঘটনার পর শিশুটির মাকে নিরাপত্তার স্বার্থে সখীপুর থানা-পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় অন্যান্য আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

    ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। সাড়ে ৩ বছরের শিশুর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

  • ইয়াবাসহ ভূঞাপুরের ২ যুবদল নেতা গ্রেফতার

    ইয়াবাসহ ভূঞাপুরের ২ যুবদল নেতা গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় ৩০০ পিস ইয়াবাসহ ভূঞাপুর যুবদলের দুই নেতাকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

    মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডের বৃষ্টি হোটেলের সামনে থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতারকৃতরা হলেন ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও চিতুলিয়াপাড়ার আজাহার আলীর ছেলে হাছান আলী (৩৭) এবং একই উপজেলার শালদাইর গ্রামের আব্দুল হকের ছেলে ও গোবিন্দাসী ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য মাহমুদুল হাসান (৩৪)। পুলিশ প্রত্যেকের কাছ থেকে ১৫০ পিস করে ৩০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে।

    জানা গেছে, জুলাই যোদ্ধা পরিচয় দিয়ে তারা দুজন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে মাদক কারবারি করে আসছিলেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় প্রশাসনকে চাপে রাখতেন জুলাই যোদ্ধার পরিচয় ব্যবহার করে।

    জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপপরিদর্শক রাইজ উদ্দিন বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এলেঙ্গার একটি হোটেল সংলগ্ন এলাকা থেকে দুজন জুলাই যোদ্ধাকে ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়। বুধবার আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছেন, ইয়াবা ট্যাবলেট গাবসারা থেকে নিয়ে এসে এলেঙ্গাতে বিক্রির জন্য ক্রেতার অপেক্ষায় ছিলেন।’

  • সাংবাদিক কাজিম রেজা ইন্তেকাল করেছেন

    সাংবাদিক কাজিম রেজা ইন্তেকাল করেছেন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সম্মানজনক ফিলিপস পুরস্কারপ্রাপ্ত বিশিষ্ট সাংবাদিক ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সদস্য সৈয়দ গোলাম বতুল কাজিম রেজা ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন। তার বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর।

    বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তিনি রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (পিজি হাসপাতাল) ইন্তেকাল করেন।

    কাজিম রেজার বড় ভাই ও নয়া দিগন্তের সিনিয়র সাব এডিটর সৈয়দ মুসা রেজা জানিয়েছেন, আজ মাগরিবের নামাজের পর প্রেস ক্লাবে মরহুমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর রাতে রাজধানীর বাসাবোর কদমতলায় দ্বিতীয় জানাজা শেষে সেখানেই স্ত্রীর পাশে তাকে দাফন করা হবে।

    সৈয়দ গোলাম বতুল কাজিম রেজা টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার আতিয়া গ্রামের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ সৈয়দ মোহাম্মদ মুসা কাজিম নুরী ও চাঁদপুরের প্রথম নারী শিক্ষিকা সৈয়দা সাইয়েদা বানু দম্পতির সন্তান। তার দু’টি কন্যাসন্তান রয়েছে। সর্বশেষ তিনি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থায় (বাসস) কর্মরত ছিলেন।

  • নাগরপুরে কলেজ ছাত্রকে হত্যার পর মাটিচাপা, গ্রেফতার ১

    নাগরপুরে কলেজ ছাত্রকে হত্যার পর মাটিচাপা, গ্রেফতার ১

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    টাঙ্গাইলের নাগরপুরে শ্বাসরোধে হত্যা পর মাটিচাপা দেয়া অবস্থায় মো: শামিম (২৩) নামে এক কলেজ ছাত্রের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অনিক (২৮) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল ৭টার দিকে মাটিচাপা অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়

    নিহত শামিম ভাদ্রা ইউনিয়নের পং ভাদ্রা গ্রামের বিল্লাল মল্লিকের ছেলে। তিনি সাইক ইনিস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজির শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী।

    গ্রেফতার অনিক উপজেলার ভিকন ভাদ্রা গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে।

    পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার বিকাল ৪টার দিকে অনিক ফোন করে শামিমকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে শামিম নিখোঁজ হন। স্বজনরা সম্ভ্যাব্য সব জায়গায় খোঁজ নেন কিন্তু তাকে পাওয়া যায়নি। পরে শামিমের বাবা নাগরপুর থানায় সাধারণ ডাইরি (জিডি) করেন।

    শামিমের কল লিস্টের সূত্র ধরে সোমবার রাতে অনিককে তার নিজ বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ। পরে তিনি জিজ্ঞাসাবাদে শামিমকে গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ তার বাড়ির পাশে চাপা দেয়া কথা স্বীকার করেন। পুলিশ অনিকের বাড়ি থেকে শামিমের মোবাইল ফোন উদ্বার করে ও মঙ্গলবার সকালে তার দেয়া তথ্যমতে ঘটনাস্থল থেকে শামিমের বস্তাবন্দি অর্ধগলিত লাশটি উদ্বার করে।

    নিহতের বাবা বিল্লাল মল্লিক বলেন, ‘ঘাতক অনিক শামিমের মোবাইল থেকে আমার বাড়িতে ফোন করে দেড় লাখ টাকা ৩০ মিনিটের মধ্যে পাঠাতে বলে ফোন বন্ধ করে দেয়।’ তিনি সন্তান হত্যার সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।

    নাগরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: জহুরুল ইসলাম জানান, লাশ উদ্বার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে নিহতের বাবা একটি হত্যা মামলা করেছেন। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে অনিক নামের একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অনিক একজন মাদকাসক্ত ও মাদককারবারি। জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে বেশকিছু তথ্য পেয়েছে পুলিশ।

    এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের ব্যাপারে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

  • সখীপুরে নিখোঁজের ৪ দিন পর নারীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

    সখীপুরে নিখোঁজের ৪ দিন পর নারীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    টাঙ্গাইলের সখীপুরে নিখোঁজের চার দিন পর জুলেখা (৫৫) নামে এক নারীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার শিরিরচালা মধ্যপাড়ার একটি জঙ্গল থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

    নিহত জুলেখা ওই গ্রামের মোজাফফর আলীর স্ত্রী।

    নিহতের ছেলে জাকির হোসেন বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে আমার মা নিখোঁজ ছিলেন। তিনি গত পাঁচ বছর ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। এর আগেও তিনি কয়েকবার নিখোঁজ হয়েছিলেন।’

    স্থানীয়রা জানান, রোববার ওই জঙ্গলে অর্ধগলিত লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়া হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে।

    সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুরাদ হোসেন বলেন, ‘লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এটি হত্যা নাকি অন্য কোনো বিষয়, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট কাজ করছে।’

  • ঘুমন্ত দম্পতিকে ঘরে আটকে আগুন দেওয়ার অভিযোগ

    ঘুমন্ত দম্পতিকে ঘরে আটকে আগুন দেওয়ার অভিযোগ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    টাঙ্গাইলের সখীপুরে ঘুমন্ত দম্পতিকে বাইরে থেকে শিকল দিয়ে আটকে রেখে বসতঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আগুন ছড়িয়ে পড়লে টিনের বেড়া কেটে ঘর থেকে বের হয়ে প্রাণে বেঁচেছেন ওই দম্পতি। এ ঘটনায় লাল মিয়া (৫০) নামে এক ব্যক্তি আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

    গতকাল শুক্রবার (২১ আগস্ট) দিবাগত রাত ৩টার দিকে সখীপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গড়গোবিন্দপুর উখারিয়াচালা এলাকায় লাল মিয়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

    ভুক্তভোগী লাল মিয়া জানান, রাতে তাঁর স্ত্রী হঠাৎ ঘরের চারপাশে আগুন দেখতে পেয়ে তাঁকে ঘুম থেকে ডেকে তোলেন। তাঁরা ঘরের বাইরে বের হওয়ার জন্য দরজা খুলতে গেলে দেখেন, বাইরে থেকে শিকল লাগানো। এরই মধ্যে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। পেট্রলের গন্ধ আর ধোঁয়ায় ঘর অন্ধকার হয়ে যায়।

    পরে ঘরে থাকা দা দিয়ে টিনের বেড়া কেটে স্ত্রীকে নিয়ে বাইরে বের হন লাল মিয়া। এ সময় তিনি আহত হন। পরে তাঁকে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

    লাল মিয়ার স্ত্রী বেগম আক্তার (৪৫) অভিযোগ করেন, জমি নিয়ে স্থানীয় এক প্রতিবেশীর সঙ্গে তাঁদের বিরোধ রয়েছে।

    কয়েক দিন আগেও ওই প্রতিবেশীরা তাঁর স্বামীকে পুড়িয়ে মারার হুমকি দিয়েছিলেন। আগুনে তাঁদের ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

    স্থানীয় বাসিন্দা মেহেদী হাসান বলেন, আগুনে পরিবারটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তাঁরা প্রায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে আগুন দেওয়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

    সখীপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের গ্রুপ লিডার সোহেল রানা বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ জানা যায়নি।

    সখীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আজহারুল ইসলাম বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • ঘাটাইলে অস্ত্র ঠেকিয়ে ইটভাটায় ডাকাতি

    ঘাটাইলে অস্ত্র ঠেকিয়ে ইটভাটায় ডাকাতি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে এক ইটভাটায় সংঘবদ্ধ ডাকাত দল ভাটার ম্যানেজার স্বপনকে পিস্তল ঠেকিয়ে জিম্মি ও চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে অজ্ঞান করে নগদ টাকা, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারসহ কয়েক লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে।

    শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার ধলাপাড়া ইউনিয়নের রূপসা ইটভাটায় এ ঘটনা ঘটে।

    পুলিশ ও ইটভাটা সূত্রে জানা গেছে, রাতে একদল অস্ত্রধারী ডাকাত রূপসা ইটভাটার অফিসে অতর্কিতভাবে প্রবেশ করে। ডাকাত দলের সদস্যরা ভেতরে ঢুকেই দায়িত্বরত ম্যানেজার স্বপনকে পিস্তল ঠেকিয়ে জিম্মি করে ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। একপর্যায়ে তাকে জোরপূর্বক ঘুমের ওষুধ মেশানো পানি পান করানো হয়। ম্যানেজার অচেতন হয়ে পড়লে ডাকাতচক্র অফিসে তাণ্ডব চালায়। তারা অফিসের ড্রয়ার ভেঙে নগদ টাকা ও ইটভাটার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও নথি লুট করে নেয়। ইটভাটার আহত ম্যানেজার স্বপন টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধিন রয়েছে।

    ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মোকছেদুর রহমান জানান, ঘটনাটি শুনার পর পরই ধলাপাড়া ফাঁড়ির দায়িত্বে থাকা ইনচার্জকে অবগত করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • মির্জাপুরে বসতঘর থেকে মা-মেয়ের লাশ উদ্ধার

    মির্জাপুরে বসতঘর থেকে মা-মেয়ের লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বসতঘর থেকে মা ও চার বছরের মেয়ের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার আনাইতারা ইউনিয়নের ধুপুরিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন, ধুপুরিয়া গ্রামের রাজমিস্ত্রি রাজীব হোসেনের স্ত্রী কনিকা আক্তার (২২) ও তাদের চার বছরের মেয়ে রাজিয়া।

    পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, প্রায় ছয় বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে রাজীব ও কনিকার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। বৃহস্পতিবার রাতে রাজীব হোসেন সিলেটে বেড়াতে যান। শুক্রবার সকালে কনিকা তার মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে শ্বশুর নাজিমউদ্দিন ও শাশুড়ি তাকে বাবার বাড়িতে যেতে বাধা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়।

    বাড়িতে ফিরে কনিকা মেয়েকে নিয়ে বসতঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন। কিছুক্ষণ পর ঘরের ভেতর থেকে শিশু রাজিয়ার চিৎকার শুনতে পান স্থানীয়রা। পরে দরজা ভেঙে কনিকাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তারা। একই ঘরের মেঝেতে শিশুটিকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে এলাকাবাসী শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মা ও মেয়ের লাশ উদ্ধার করে।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, পারিবারিক কলহের জেরে মেয়েকে হত্যা করে কনিকা আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। নিহতদের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

  • দুর্ঘটনা ঠেকাতে স্বেচ্ছাশ্রমে সড়কের ঝোপঝাড় পরিষ্কার

    দুর্ঘটনা ঠেকাতে স্বেচ্ছাশ্রমে সড়কের ঝোপঝাড় পরিষ্কার

    সাগরদিঘী-ভরাডোবা এবং সাগরদিঘী-ঘাটাইল সড়ক দু’টি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক। এই সড়কের দুই পাশে ঘন ঝোপঝাড়ে ছেয়ে গেছে মূল সড়কের দুইপাশ। কোথাও কোথাও সড়কের উভয় পাশে বেড়ে ওঠা ঝোপঝাড় আর লতাগুল্ম যেনো সড়কটিকে বেদখলে রেখেছে। এ কারণে সড়ক কিছুটা সংকুচিত হয়ে পড়েছে। তাছাড়া সড়কটিতে ঘন ঘন বাঁক থাকায় সড়ক দুর্ঘটনা এখানে নিত্য নৈমিত্তি ব্যাপার।

    এ পরিস্থিতিতে সড়কের দুই পাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কার করে সাধারণের চলাচলে স্বাচ্ছন্দ্য আনতে ও সড়ক দুর্ঘটনার আশঙ্কা কমাতে উদ্যোগ নেন ঘাটাইল উপজেলার শহরগোপীনপুর এলাকার চার তরুণ। তারা হলেন আবু রায়হান, মো: কবির হোসেন, মো: আছাদুল ও মো: জসিম।

    শুক্রবার (৩১ জুলাই) স্বেচ্ছাশ্রমে সাগরদিঘী-ভরাডোবা রাস্তার দু’পাশের প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকা পরিষ্কার করেছেন এই তরুণরা। তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, পর্যায়ক্রমে তারা আশপাশের সড়কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালাবেন।

    রায়হান বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে ঘাটাইল-সাগরদিঘী, সাগরদিঘী-ভরাডোবা, সখিপুর-কালিহাতি, ঘাটাইল-মধুপুর সড়ক এবং সাগরদিঘী-গারোবাজার সড়কের বিপদজনক সব মোড়ের ঝোপঝাড় পরিষ্কার করেছি।’

    তিনি আরো বলেন, ‘সড়কে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। তাই আমাদের দলের নাম রাখা হয় রোড কেয়ার বাংলাদেশ (আরসিবি)। আমাদের ভিডিও ও কার্যক্রম দেখে বিভিন্ন এলাকার মানুষ আমাদের সাথে যোগাযোগ করেন। তারা দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থানগুলোর তথ্য ও ছবি পাঠিয়ে আমাদের জানান। আমরা আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সেই স্থানগুলোতে কাজ করার চেষ্টা করি, যাতে মানুষের চলাচলের ভোগান্তি কমে এবং সবাই নিরাপদে ও সঠিকভাবে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন। বর্তমানে আমাদের দলে ৪ জন সদস্য রয়েছেন। আমরা বিশ্বাস করি, সবার সহযোগিতা ও দোয়া থাকলে ভবিষ্যতেও মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে আমাদের এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

    স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার সাগরদিঘী-ভরাডোবা সড়কে অসংখ্য বাঁক রয়েছে। তাছাড়া সড়কের দুইপাশের ঝোপঝাড় সড়কটিকে আরো সংকীর্ণ করে ফেলেছে। ফলে এ সড়কে প্রায়ই দুর্ঘটনা হতো। বিষয়টি আমলে নিয়ে আরসিবি টিমের সদস্যরা স্বেচ্ছাশ্রমে সড়কের দু’ধার পরিষ্কার করেন। এতে সড়কের চিত্র পুরোটাই পাল্টে গেছে।

    আরসিবি টিমকে সাধুবাদ জানিয়ে টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আল ইসলাম বলেন, ‘যদিও কাজটি আমাদের করার কথা কিন্তু সীমাবদ্ধতার কারণে বৃহৎ আকারে ঝোপঝাড় পরিষ্কার করা হয়ে ওঠে না। তরুণদের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রসংশনীয়।’

  • ভূঞাপুরে ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা পেল দেড় শতাধিক রোগী

    ভূঞাপুরে ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা পেল দেড় শতাধিক রোগী

    টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জুন) সকাল থেকে দিনব্যাপী উপজেলার নিকলা নয়াপাড়া এলাকায় মরহুম অধ্যাপক ডা: মোকতেল হোসেনের স্মরণে এ মেডিক্যাল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। এতে মেডিসিন, ডায়াবেটিস ও নাক, কান, গলাসহ বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন।

    চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা জানান, যেখানে ডাক্তার দেখাতে অনেক টাকার ভিজিট গুণতে হয়, সেখানে বিনামূল্যে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখাতে পারছেন তারা। এতে আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।

    ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পের আয়োজক ডাক্তার হাবিবুল হাসান সৌরভ জানান, গ্রামাঞ্চলের অসহায় মানুষদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করার লক্ষ্যে মরহুম অধ্যাপক ডাক্তার মোকতেল হোসেনের স্মরণে এই ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা চিকিৎসাসেবা প্রদান করেছেন। ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন অব্যাহত থাকবে।

    মেডিক্যাল ক্যাম্পে বিভিন্ন জায়গা থেকে আগত দেড় শতাধিক রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন।

  • নাগরপুরে নিখোঁজের ৩ দিন পর পাটক্ষেত থেকে বৃদ্ধের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

    নাগরপুরে নিখোঁজের ৩ দিন পর পাটক্ষেত থেকে বৃদ্ধের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

    টাঙ্গাইলের নাগরপুরে নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর পাটক্ষেত থেকে শওকত মোল্লা (৫৫) নামে এক বৃদ্ধের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

    বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের বিন্নাওঝা গ্রামের গাজী কবিরের পাটক্ষেত থেকে ওই লাশ উদ্ধার করে নাগরপুর থানা পুলিশ।

    নিহত বৃদ্ধ শওকত মোল্লা উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের নলসন্ধ্যা গ্রামের মরহুম জয়েদ আলী মোল্লার ছেলে।

    পরিবার, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে বিন্নাওঝা গ্রামের জনৈক গাজী কবিরের পাটক্ষেতে অর্ধগলিত একটি লাশ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। ঘটনার খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের পরিচয় শনাক্ত করেন। পরে সংবাদ পেয়ে নাগরপুর থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।

    নিহতের চাচাত ভাই মো: আয়নাল মোল্লা (৪৩) জানান, গত তিন দিন ধরে তার ভাই শওকত মোল্লা নিখোঁজ ছিল। আজ (বুধবার) দুপুর ১টার দিকে বিন্নাওঝা গ্রামে একটি লাশ পাওয়ার খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে দেখি আমার ভাইয়ের লাশ পড়ে রয়েছে।

    নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: জহুরুল ইসলাম জানান, এই ঘটনার মোটিভ সম্পর্কে এখনো কোনো কিছু জানা যায়নি। তবে তদন্তের পর মোটিভ সম্পর্কে জানা যাবে। লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

  • টাঙ্গাইলে নারীর হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার

    টাঙ্গাইলে নারীর হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার

    টাঙ্গাইল শহরের শিবনাথপাড়া এলাকার একটি বাসা থেকে নাজমা আলম (৫১) নামে এক নারীর হাত-পা বাঁধা ও গলায় রশি পেঁচানো লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিজ বাসার ড্রয়িং রুমে সোফার ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়েছিল তার নিথর দেহ।

    রোববার (২৮ জুন) দুপুরে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায় পুলিশ। নিহত নাজমা আলম ওই এলাকার ভেটেরিনারি ডাক্তার শফিউল আলম শাহীনের স্ত্রী।

    নিহতের স্বজনরা জানান, নিহতের স্বামী ডা: শফিউল আলম সকালে অফিসে চলে যান। পরে তিনি নাজমার মোবাইলফোনে একাধিকবার কল দিলেও কোনো সাড়া পাননি। তখন তিনি বাসার নিচতলার ভাড়াটিয়ার সাথে যোগাযোগ করলে ভাড়াটিয়া ওই বাসার তিনতলায় ঘরে গিয়ে হাত-পা বাঁধা ও গলায় রশি পেঁচানো রক্তাক্ত অবস্থায় নাজমার লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। সাথে সাথে পরিবারের সদস্যদের ও পুলিশে খবর দেয়া হয়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

    টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এইচ এম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী বলেন, ‘এটি নিঃসন্দেহে হত্যা। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে।’

  • বিদ্যালয়ের নলকূপের পানি পান করে হাসপাতালে ৩৭ শিক্ষার্থী

    বিদ্যালয়ের নলকূপের পানি পান করে হাসপাতালে ৩৭ শিক্ষার্থী

    নলকূপে কীটনাশক জাতীয় বিষ ঢালার অভিযোগ

    বিডি টাইমস ডেস্ক,

    বিদ্যালয়ের নলকূপের পানি পান করে অসুস্থ হয়ে পড়েছে অন্তত ৩৭ শিক্ষার্থী। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার মামুদনগর উচ্চ বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটেছে।

    বিদ্যালয়ের পাশ থেকে পলিথিনে ভরা সাদা পেস্টের মতো বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে– মঙ্গলবার সকালে কে বা কারা বিদ্যালয়ের নলকূপে কৃষি জমিতে ব্যবহারের তরল কীটনাশক ঢেলে দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা না জেনে সেই পানি পান করার পরপরই অসুস্থ হয়ে পড়তে থাকে।

    নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্যমতে, ৩৭ জন শিক্ষার্থী বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসে। তাদের মধ্যে ২৯ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ দুজনকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া ৬ জন শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।

    মাহমুদনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, মঙ্গলবার সকালে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের নলকূপের পানি পান করে একে একে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়।

    চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থী মারুফা আক্তার জানায়, ঝালমুড়ি খাওয়ার পর তারা কয়েকজন স্কুলের পাশের নলকূপের পানি পান করে। এরপর বমি করে অসুস্থ হয়ে পড়ে তারা। শিক্ষকরা পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তাঁর দাবি, সবাই ঝালমুড়ি খায়নি। কেউ কেউ গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পানি পান করে অসুস্থ হয়ে পড়ে।

    মামুদনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ জজ কামাল জানান, কে বা কারা বিদ্যালয়ের নলকূপের পানিতে কীটনাশক বা বিষ জাতীয় ওষুধ প্রয়োগ করেছে। যে কারণে নলকূপের পানি পান করে শিক্ষার্থীরা একে একে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এটি কোনো নাশকতা কিনা, তদন্ত করে দোষীদের শনাক্ত করা প্রয়োজন।

    নাগরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাদীর আহমেদ বলেন, এই ঘটনায় পুরো এলাকায় ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। নলকূপের পাশ থেকে পলিথিনে ভরা সাদা পেস্টের মতো বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। এই পেস্ট নলকূপের পানির মধ্যে মেশানোর কারণে বিষক্রিয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল কাদীরের ভাষ্য, ৩৭ শিক্ষার্থী বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আসে। তাদের মধ্যে ২৯ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ দুজনকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ৬ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

    নাগরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহুরুল ইসলাম জানান, খবর শুনেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা এখন অনেকটাই সুস্থ।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এরফান উদ্দিন বলেন, পানিতে কোনো কিছু মেশানো হয়েছে কিনা এটা নিশ্চিত হওয়ার জন্য নলকূপের পানি পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • ১০ জেলায় ঝড়ের আভাস

    ১০ জেলায় ঝড়ের আভাস

    দেশের ১০ জেলায় ৬০ কিলোমিটার বেগে শক্তিশালী ঝড় ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

    শুক্রবার (১২ জুন) সাপ্তাহিক ছুটির দিনে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানা গেছে।

    এতে বলা হয়েছে—ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট জেলার ওপর দিয়ে পূর্ব অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

    এ সময় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে। তাই এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

    বি. এ

  • যমুনা সেতুর আগে তীব্র যানজট, ২৫ কিলোমিটারে থেমে থেমে চলছে যানবাহন

    যমুনা সেতুর আগে তীব্র যানজট, ২৫ কিলোমিটারে থেমে থেমে চলছে যানবাহন

    ঈদ যাত্রায় ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুর অংশে স্বস্তি মিললেও টাঙ্গাইলে যমুনা সেতু এলাকার আশপাশে যানজটে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন ঘরমুখী মানুষ। আজ বৃহস্পতিবার বেলা তিনটা পর্যন্ত যমুনা সেতু থেকে টাঙ্গাইল শহর বাইপাস পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে থেমে থেমে চলছে যানবাহন। তবে গাজীপুরের চন্দ্রা এলাকায় দুপুরের পর থেকে তেমন যানজট নেই।

    যমুনা সেতু এলাকার যানজট নিরসনের জন্য বেলা ১১টা থেকে বেলা দেড় পর্যন্ত উভয় লেন দিয়ে উত্তরবঙ্গগামী যানবাহন পার করানো হয়েছে। এরপর শুধু উত্তরবঙ্গগামী লেন দিয়ে সেখানকার যানবাহন চলতে দেওয়া হয়েছে।

    আজ সকাল ৯টার দিকে মহাসড়কটিতে দেখা যায়, যানবাহনের দীর্ঘ সারি। এক জায়গাতেই বাস–ট্রাক স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মহাসড়কের সদর উপজেলার বিক্রমহাটিতে যানজটে আটকে থাকা ট্রাকচালক মোতাহার হোসেন জানান, প্রায় এক ঘণ্টা ধরে এখানে দাঁড়িয়ে আছেন। ঢাকা থেকে রাত ১১টায় রওনা হয়েছিলেন। পুরো রাস্তাতেই এভাবে যানজটে আটকে থাকতে হয়েছে।

    কালিহাতী উপজেলার পৌলী এলাকায় যানজটে আটকে থাকা সিরাজগঞ্জের নজরুল ইসলাম জানান, তিনি মালয়েশিয়া থেকে রাত ১২টায় ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমেছেন। এরপর ভাড়া করা ট্যাক্সিতে সিরাজগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হন। ৯ ঘণ্টা লেগেছে টাঙ্গাইল পর্যন্ত আসতে।

    যানজটে দুর্ভোগের মাত্রা বেড়ে যায় সকালের বৃষ্টির কারণে। ট্রাকে আরোহীদের ভিজে দুর্ভোগ পোহাতে দেখা যায়। টাঙ্গাইল শহর বাইপাস এলাকায় ট্রাকে আরোহী সাভারের পোশাক কারখানার শ্রমিক ফজলু মিয়া বলেন, ‘সারা রাত যানজটে কষ্টে আছি। এর মধ্যে বৃষ্টিতে ভিজে কাহিল হয়েছি।’

    যানজটের কারণে নারী যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বেশি পোহাতে হয়। শৌচাগার ব্যবহারের জন্য মহাসড়কের আশপাশের বাড়িতে যেতে হচ্ছে তাঁদের।
    যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে এই যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে ১৭ থেকে ১৮ হাজার যানবাহন প্রতিদিন পারাপার হয়। কিন্তু ঈদের ছুটি শুরু হওয়ার পর তিন গুণের বেশি যানবাহন চলাচল করছে।

    টোল প্লাজা সূত্র জানায়, যানজট নিরসনের জন্য দুই দফায় পৌনে চার ঘণ্টা সেতুর উভয় লেন দিয়ে উত্তরবঙ্গগামী যানবাহন পাড় করানো হয়। ভোর ৪টা ৩৫ থেকে সকাল ৬টা ৪০ পর্যন্ত ২ ঘণ্টা ৫ মিনিট এবং রাত ১২টা ১০ মিনিটে থেকে ১টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট উভয় লেন দিয়ে উত্তরবঙ্গগামী যানবাহন পার করানো হয়। এতে চাপ কিছুটা কমে। কিন্তু পরে আবার চাপ বাড়তে থাকে। পরে বেলা ১১টা থেকে আবার উভয় লেন দিয়ে উত্তরবঙ্গগামী যান পার করানো শুরু করা হয়।

    গাজীপুরের মহাসড়কে স্বস্তি

    গত দুই দিনের তীব্র যানজট ও দুর্ভোগ কাটিয়ে আজ দুপুরের পর থেকে স্বস্তি ফিরেছে গাজীপুরের মহাসড়কে। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুর অংশে বর্তমানে বড় কোনো যানজট, অনেকটাই ফাঁকা হয়ে এসেছে মহাসড়ক।

    গতকাল মঙ্গলবার দুপুর থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত গাজীপুরের দুই মহাসড়কে ঘরমুখী মানুষের ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়। এতে দীর্ঘ যানজটের পাশাপাশি দেখা দেয় পরিবহনসংকট। বিশেষ করে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের প্রায় ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটার এলাকায় রাতভর যানজট ছিল। কয়েক কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে।

    তবে বুধবার বেলা ১১টা পর্যন্ত যানবাহনের চাপ থাকলেও দুপুরের পর পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হতে শুরু করে। মহাসড়কে যানবাহন চলাচল এখন অনেকটাই স্বস্তিদায়ক।
    গত দুই দিনে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির কেন্দ্র ছিল ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা এলাকা। বুধবার দুপুরে সরেজমিন সেখানে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। চিরচেনা যানজট নেই, নেই পরিবহনের সংকটও। যাত্রীরা সহজেই পছন্দের পরিবহনে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন।

    যাত্রী কবির হোসেন বলেন, ‘আজ চন্দ্রায় এসে দেখছি কোনো যানজট নেই; বরং যাত্রীর চেয়ে পরিবহনই বেশি। এখানে সমস্যা না থাকলেও যমুনা সেতুর আগে কিছুটা যানজট আছে বলে শুনেছি।’

    রাজশাহীগামী হিমাচল পরিবহনের চালক কামরুল ইসলাম বলেন, গতকাল যে চাপ ছিল, আজ তার দশ ভাগের এক ভাগও নেই। গতকাল ১০ মিনিটেই গাড়ি যাত্রীতে পূর্ণ হয়ে গেছে। আজ এক ঘণ্টা পার হলেও গাড়ি ভর্তি হচ্ছে না।

    আজ ঘরমুখী মানুষ অনেকটাই স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছেন বলে জানান নাওজোড় হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম। তিনি বলেন, এরপরও চন্দ্র এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে।

  • টাঙ্গাইলে ধানক্ষেত থেকে অজ্ঞাত নারীর লাশ উদ্ধার

    টাঙ্গাইলে ধানক্ষেত থেকে অজ্ঞাত নারীর লাশ উদ্ধার

    বুধবার সকালে ধানের জমিতে কাজ করতে গিয়ে তারা রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা এক নারীর লাশ দেখতে পান। পরে বিষয়টি দেলদুয়ার থানা পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে ধানক্ষেত থেকে অজ্ঞাত পরিচয় এক নারীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (৬ মে) দুপুরে উপজেলার লাউহাটী ইউনিয়নের সল্পলাড়ু গ্রামে ধলেশ্বরী নদীর পাশ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, সকালে ধানের জমিতে কাজ করতে গিয়ে তারা রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা এক নারীর লাশ দেখতে পান। পরে বিষয়টি দেলদুয়ার থানা পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

    দেলদুয়ার থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আজহারুল ইসলাম জানান, নিহত নারীর পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • সৈয়দপুরে বিহারি ক্যাম্পে ৬৬ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া

    সৈয়দপুরে বিহারি ক্যাম্পে ৬৬ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া

    নীলফামারীর সৈয়দপুরে বিহারি ক্যাম্পগুলোতে কয়েক বছর ধরে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করায় বকেয়া দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৬ কোটি টাকা। বকেয়া বিল তুলতে হিমশিম খাচ্ছে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো)।

    মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে সৈয়দপুর নেসকোর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আলিমুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

    নেসকো সূত্রে জানা যায়, সৈয়দপুরে বিভিন্ন ক্যাম্পে স্থাপিত ২৪টি বিদ্যুতের মিটার থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৫০ লাখ টাকার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া হচ্ছে। তবে নিয়মিত বিল পরিশোধ না হওয়ায় চলতি বছরের এপ্রিল মাস পর্যন্ত বকেয়া বিল দাঁড়িয়েছি প্রায় ৬৬ কোটি টাকা ৷

    ২০০৮ সালে হাইকোর্টের রায়ের মাধ্যমে বিহারিরা বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার লাভ করেন। ২০১৬ সালের ২৮ মার্চ পর্যন্ত বিহারি ক্যাম্পগুলোর বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। পরে ক্যাম্পবাসী নিজ নিজ বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সিদ্ধান্তের পর থেকে কোনো বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেনি ক্যাম্পবাসী।

    আরও জানা যায়, নেসকো কর্তৃপক্ষের বিদ্যুৎ সংযোগ থাকলেও ক্যাম্পবাসী নিজস্বভাবে বিভিন্ন জায়গায় বৈদ্যুতিক তার ব্যবহার করে কয়েকশত সংযোগ দিয়ে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন। বিভিন্ন সময়ে বকেয়া বিল নিতে গিয়ে হামলা ও তোপের মুখে পড়ে ফিরে এসেছে নেসকো কর্তৃপক্ষ।

    বিহারি ক্যাম্পের বাসিন্দা মনোয়ার হোসেন বলেন, দীর্ঘদিনের কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল দেওয়া আমাদের পক্ষে দেওয়া সম্ভব না। আমরা যারা এখানে বসবাস করছি তারা সবাই নিম্নআয়ের মানুষ। কীভাবে এত টাকা পরিশোধ করবো। আমাদের এত টাকা পরিশোধ করার উপায় নেই।

    আরেক বাসিন্দা রাজিব হাসান বলেন, আমরা ক্যাম্পে মানবেতর জীবনযাপন করি। আমাদের বিদ্যুৎ কেটে দিলে কীভাবে চলবো এজন্য আমরা সংযোগ বন্ধ করতে দেই না।

    উর্দুভাষী ক্যাম্প উন্নয়ন কমিটির সভাপতি মাজেদ ইকবাল বলেন, আমাদের বিভিন্ন ধরনের দাবি রয়েছে। আমরা হাইকোর্টে আপিল করেছিলাম। সে সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল আমাদের সকল বকেয়া বিল সরকার পরিশোধ করবে, কিন্তু করেনি। আমরা ক্যাম্পে খুবই মানবেতর জীবনযাপন করছি, এখানে আমাদের কষ্টের শেষ নাই। এখন যদি হঠাৎ করে বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেয় আমাদের অনেকে অসুস্থ হয়ে গরমে মারা যাবে, ঠিকমতো পানি পাবে না। ক্যাম্পে অনেক গরিব মানুষ বসবাস করে, আমরা হুট করে এতগুলো টাকা কীভাবে পরিশোধ করব। আমি এ বিষয়ে সরকারকে অনুরোধ করছি আমাদের দিকে বিবেচনা করতে এবং আমাদের দাবি মেনে নিতে।

    এ বিষয়ে সৈয়দপুর নেসকোর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আলিমুল ইসলাম বলেন, বিহারি ক্যাম্পে দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ৬৬ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে। আমরা সেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন কিংবা বিল চাইতে গেলে হামলা ও তোপের মুখে পড়ি। অনেক সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাহায্য নিয়ে ফিরে এসেছি। আমরা বিষয়টি সিনিয়র কর্মকর্তাকে জানিয়েছি, তারা আসবেন এসে যা ভালো হয় সে সিদ্ধান্ত নেবেন।

  • নীলফামারীর সৈয়দপুরে যৌতুকের দাবিতে পিটিয়ে হত্যা মামলার ৩ এজাহারনামীয় আসামি গ্রেফতার

    নীলফামারীর সৈয়দপুরে যৌতুকের দাবিতে পিটিয়ে হত্যা মামলার ৩ এজাহারনামীয় আসামি গ্রেফতার

    বাংলাদেশ আমার অহংকার’—এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে এলিট ফোর্স র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ, যৌতুকসহ বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর ও গুরুতর অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। বিশেষ করে নারী ও শিশু নির্যাতন এবং হত্যার মতো জঘন্য অপরাধ প্রতিরোধে র‌্যাব সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।

    বাদীর দায়েরকৃত এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম মোছাঃ শিমু আক্তার (৩১)-এর সঙ্গে ১নং এজাহারনামীয় আসামি মোঃ রায়হান রিতু (৩০)-এর প্রায় ১৩ বছর আগে, ২০১৩ সালে ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী বিবাহ সম্পন্ন হয়। বিবাহের পর থেকেই আসামি রায়হান রিতু যৌতুকের দাবিতে ভিকটিমের ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। ভিকটিমের পরিবার যৌতুক দিতে অপারগ হওয়ায় নির্যাতনের মাত্রা ক্রমেই বৃদ্ধি পায়।

    এরই ধারাবাহিকতায়, গত ০৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ০৮:০০ ঘটিকায় আসামির নিজ বাড়িতে পরিকল্পিতভাবে ভিকটিমকে অন্যান্য আসামিদের সহায়তায় মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। পরবর্তীতে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে আসামিরা জোরপূর্বক ভিকটিমের মুখে বিষ প্রয়োগ করে এবং তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ রাত ০৮:৪৫ ঘটিকায় ভিকটিম মৃত্যুবরণ করেন।

    ঘটনার পর ভিকটিমের পিতা ১২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ১১(ক)/৩০ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১২)।

    মর্মান্তিক এ ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে গুরুত্বসহকারে প্রচারিত হয়। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় র‌্যাব-১৩ আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে এবং অভিযান ত্বরান্বিত করে।

    এরই ধারাবাহিকতায়, র‌্যাব-১৩, সিপিসি-২, নীলফামারী ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল ১৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ দুপুর ০২:৩০ ঘটিকায় নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর থানাধীন ধলাগাছ মতির মোড় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ১নং এজাহারনামীয় পলাতক আসামি মোঃ রায়হান রিতু (৩০), পিতা—মৃত মোর্শেদ; ৩নং আসামি মোঃ জসিম (৩২), পিতা—মোঃ সেলিম; এবং ৪নং আসামি মোঃ জিতু (৩৪), পিতা—মৃত মোর্শেদুল হক; সর্ব সাং—সৈয়দপুর, জেলা—নীলফামারী—এই তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানা যায়।

    গ্রেফতারকৃত আসামিদের পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

    র‌্যাব জানায়, যৌতুক, হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণসহ সকল ধরনের অপরাধ দমনে তাদের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র‌্যাব সর্বদা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

  • নাগপুরে ৫০ শয্যার হাসপাতাল, চলছে ৩১ শয্যার জনবল নিয়ে!

    নাগপুরে ৫০ শয্যার হাসপাতাল, চলছে ৩১ শয্যার জনবল নিয়ে!

    টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও জনবল সংকটে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন নাগরপুর উপজেলার হাজারো রোগী। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও দীর্ঘদিন ধরে ৩১ শয্যার জনবল দিয়েই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ফলে স্বাভাবিক চিকিৎসা কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসক ও কর্মচারী সংকট চরমে। এছাড়া উপজেলায় স্থাপিত উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতেও একই অবস্থা।

    হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ২১ এপ্রিল নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যা চালুর প্রশাসনিক অনুমোদন দেয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। ৫০ শয্যা বিশিষ্ট এই হাসপাতালে ১৮ জন মেডিকেল অফিসার থাকার কথা, সেখানে রয়েছে ১১ জন। এদের মধ্যে ৫ জন অন্যত্র প্রেষণে (ডেপুটেশন) কর্মরত। কাজেই মাত্র ৬ জন মেডিকেল অফিসার দিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে স্বাস্থ্য সেবা। এ ছাড়া ১০ জন কনসালটেন্টের মধ্যে কর্মরত রয়েছেন ৪ জন। অপর দিকে অ্যানেসথেশিয়া (অজ্ঞান-কারক), সার্জারি, কার্ডিও, চক্ষু, চর্ম ও যৌন, নাক, কান ও গলা জুনিয়র কনসালটেন্ট একজনও কর্মরত নেই।

    গুরুতর রোগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সে এলে শুধু চিকিৎসক না থাকার কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং বাধ্য হয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা সদরসহ অন্য জায়গায় পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

    সূত্রটি আরও জানায়, প্রশাসনিক শাখায় ক্যাশিয়ার, হিসাবরক্ষক, অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর দুটি পদের মধ্যে দুটিই শূন্য রয়েছে। অফিস সহায়ক (এমএলএসএস) চারটি পদের মধ্যে মাত্র একজন কর্মরত আছে, বাকি তিনটি পদ শূন্য । শূন্য রয়েছে দুই নার্স (সেবিকা) ও পরিছন্নতা কর্মীর পদ। আধুনিক প্রযুক্তির যুগে নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেই আগের আমলের এনালগ এক্স-রে মেশিন দিয়ে চালানো হচ্ছে পরীক্ষা নিরীক্ষা।

    স্থানীয়রা জানান, চিকিৎসক, ক্যাশিয়ার, হিসাব রক্ষক, নার্সসহ গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকায় এই হাসপাতাল যেন নিজেই রোগীতে পরিণত হয়েছে। চিকিৎসক সংকট থাকায় রোগীরা বাধ্য হয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে অতিরিক্ত খরচ করে কখনও কখনও অপচিকিৎসার শিকার হচ্ছেন। সরেজমিন হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় রোগীদের উপচেপড়া ভিড়। বহির্বিভাগে রোগীদের দীর্ঘ লাইন। শত শত রোগীদের মাত্র ৫ জন চিকিৎসক সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন।

    উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকতা ডা. মো. হাফিজুর রহমান যুগান্তরকে জানান, সীমাবদ্ধতার মাঝেও আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছি। তবে প্রয়োজনীয় জনবল ও ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন নিশ্চিত হলে মানসম্মত চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে। এছাড়া আমি গত এপ্রিলে আমি যোগদান করার পর গত মার্চ মাসে হাসপাতালের ইউজার ফি ছিল ৯৯ হাজার ৯৭০ টাকা; যা বর্তমান জুলাই মাসে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৩ হাজার ৪ শত ১৫ টাকা।

  • মধুপুরে পুলিশের এসআই সেজে থানায় যুবক

    মধুপুরে পুলিশের এসআই সেজে থানায় যুবক

    টাঙ্গাইলের মধুপুর থানায় পুলিশ পরিচয়ে তদবির করতে এসে শেষ পর্যন্ত পুলিশের হাতেই আটক হয়েছেন এক যুবক।

    গত বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) মধুপুর থানায় আটক হন এ ভুয়া পুলিশ সদস্য।

    আটক মো. মিজানুর রহমানের (৩০) বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারি উপজেলার বাগভান্ডার গ্রামে। তার বাবার নাম গোলাম মোস্তফা।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার মধুপুর থানায় এসে মিজানুর নিজেকে পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি ৩৬তম ব্যাচের একজন এসআই এবং পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের এলআইসি শাখায় কর্মরত আছেন বলে দাবি করেন।

    এ সময় তিনি মধুপুর পৌরশহরের মাস্টারপাড়া এলাকার একটি জমি সংক্রান্ত মামলায় এক পক্ষের হয়ে তদবির করতে আসেন।

    মধুপুর থানার এসআই সেলিম তালুকদারের কাছে তার কথাবার্তা ও আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে বিষয়টি দ্রুত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাফর ইকবালকে জানানো হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তার পরিচয়ে অসংগতি ধরা পড়ে।

    একপর্যায়ে মিজানুর রহমান স্বীকার করেন, তিনি পুলিশের কেউ নন এবং ভুয়া পরিচয়ে তদবির করতে এসেছিলেন।

    পুলিশ জানায়, তিনি চুক্তির ভিত্তিতে ওই জমি সংক্রান্ত মামলায় একটি পক্ষের হয়ে কাজ করতে এসে এমন প্রতারণার চেষ্টা করেন।

  • টাঙ্গাইলে হত্যা মামলার সাড়ে ৩ বছর পর রহস্য উদঘাটন

    টাঙ্গাইলে হত্যা মামলার সাড়ে ৩ বছর পর রহস্য উদঘাটন

    টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার নাথের পাড়া এলাকায় ২০২২ সালের টাইলস মিস্ত্রি রফিকুল ইসলামের হত্যার রহস্য সাড়ে তিন বছর পর উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় রফিকুলের বোনের স্বামী মকবুলকে (৫৫) গ্রেফতার করা হয়েছে।টাঙ্গাইল পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন তালুকদার মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে তার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জানান, ২০২২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি মামুন মিয়া ধনবাড়ীর নাথেরপাড়া গ্রামে রফিকুল ইসলামের রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ দ্রুত সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে লাশ মর্গে পাঠায়।

  • দেলদুয়ার আ.লীগের সম্পাদক শিবলী কারাগারে

    দেলদুয়ার আ.লীগের সম্পাদক শিবলী কারাগারে

    টাঙ্গাইলে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দেলদুয়ার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শিবলী সাদিককে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মামলায় কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

    মঙ্গলবার বিকালে সিনিয়র জুডিশিয়াল সদর থানা আমলি আদালতের বিচারক রুমেলিয়া সিরাজম তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

    এর আগে সোমবার রাতে তাকে টাঙ্গাইল শহরের ঢাকা রোডের বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

    টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুহুল আমিন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার নামে একাধিক বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মামলা রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কোনো রিমান্ড আবেদন করা হয়নি। দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

  • আচরণবিধি লঙ্ঘনে টাঙ্গাইল-২ আসনের হাতপাখার প্রার্থীকে দণ্ড

    আচরণবিধি লঙ্ঘনে টাঙ্গাইল-২ আসনের হাতপাখার প্রার্থীকে দণ্ড

    টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের (হাতপাখা) এমপি প্রার্থী হাফেজ মাওলানা মনোয়ার হোসেন সাগরকে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে উপজেলা বাসস্ট্যান্ড চত্বরে হাতপাখা প্রতীকের নির্বাচনি সমাবেশ চলাকালে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে এ জরিমানা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রাজিব হোসেন।

    এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. রাজিব হোসেন বলেন- নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে সরকারি স্থাপনায় হাতপাখা প্রতীকের নির্বাচনি প্রচারণার কার্যালয় স্থাপন করায় তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে কার্যালয়টিতে নির্বাচনি প্রচারণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কোনো প্রার্থী যদি নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • বিদ্যুৎস্পর্শে প্রাণ গেল এমপি প্রার্থীর

    বিদ্যুৎস্পর্শে প্রাণ গেল এমপি প্রার্থীর

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে মনোনীত মুফতি মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বিদ্যুৎস্পর্শে মারা গেছেন।

    বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টের এই ঘটনা ঘটলেও বৃহস্পতিবার সকালে মৃত্যুর বিষয়টি জানা যায় বলে তার জামাতা ডা. হিমেল কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন।

    মুফতি মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কাকরাজান ইউনিয়নে। তিনি পরিবার সদস্যদের নিয়ে ঘাটাইল পৌরর কলেজ রোড এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করতেন। বর্তমানে ঘাটাইল উপজেলার হামিদপুর ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসায় সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি। ইসলামী শিক্ষায় সুদক্ষ এই আলেম একাধারে একজন মুহাদ্দিস ও বিজ্ঞ ইসলামিক চিন্তাবিদ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

    ডা. হিমেল জানান, বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাতের কোনো এক সময়ে বিদ্যুৎস্পর্শ হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে তার বাড়ির পার্শ্ববর্তী একটি ফসলি ক্ষেত থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে সারারাত তার ব্যবহৃত মোবাইলে কল করলেও সেটির সংযোগ বন্ধ পাওয়া যায় বলে তিনি জানান।

    কাকরাজান এলাকার স্থানীয়রা জানান, তার বসতবাড়ির পাশে নিজস্ব একটি ফসলি ক্ষেতে বিদ্যুৎচালিত সেচযন্ত্রে তড়িতায়িত হয়ে বুধবার রাতের কোনো এক সময়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে বাড়ির পাশের ক্ষেত থেকে বৃহস্পতিবার সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    মুফতি মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের আকস্মিক এই মৃত্যুতে ঘাটাইলের আলেম সমাজ ও সচেতন মহল, রাজনৈতিক অঙ্গন এবং তার ভক্ত ও অনুসারীদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এদিকে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, বিএনপিসহ বিভিন্ন ইসলামী ও রাজনৈতিক সংগঠন তার মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সমবেদনা প্রকাশ করেন।

    পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার আসরের নামাজের পর কাকরাজান এলাকায় জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

    জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে সংগঠনটির প্রার্থী ছিলেন মুফতি মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন। পরবর্তী সময় সংগঠনটি বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হলে তিনি তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে সম্প্রতি এক সভায় আসনটিতে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ওবায়দুল হক নাসিরকে সমর্থন করেন।

  • প্রতীক পাওয়ার ২ দিন পর মাঠ ছাড়লেন প্রার্থী, হতাশ কর্মী-সমর্থক

    প্রতীক পাওয়ার ২ দিন পর মাঠ ছাড়লেন প্রার্থী, হতাশ কর্মী-সমর্থক

    (মধুপুর-ধনবাড়ী) সংসদীয় আসনে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চলাকালেই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাড. মোহাম্মদ আলী। তার এই সিদ্ধান্তে এলাকায় তার নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে ক্ষোভ ও চরম হতাশা বিরাজ করছে।

    জানা গেছে, বিএনপির দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে নামেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. মোহাম্মদ আলী। স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম সম্পাদক ও জিয়া পরিষদের ডিরেক্টর পদ থেকে সদ্য বহিষ্কৃত হয়েছেন। এ আসনে দলের মনোনয়ন পেয়েছেন বিগত সময় দুইবার নির্বাচন করা ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির আরেক সদস্য ফকির মাহবুব আনাম স্বপন।একাধিক সূত্র জানায়, দলীয় প্রার্থী ফকির মাহবুব আনাম স্বপনের সঙ্গে দফায়-দফায় বৈঠকের পরই মোহাম্মদ আলী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ঢাকাসহ টাঙ্গাইলের এলেঙ্গায় বৈঠকের পর শুক্রবার সকালে আনোয়ার হোসেনের বাসায় চুড়ান্ত আলোচনা হয়।

    গত দেড় বছর ধরে ঘর-সংসার, স্ত্রী-সন্তান ও আত্মীয়স্বজন ছেড়ে নিজের অর্থ ব্যয় করে মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে রাজনীতি করেছেন বলে জানান মধুপুর উপজেলার আউশনারা ইউনিয়নের লাল মিয়া। তিনি জানান, ‘স্থানীয় সন্তান ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে জনপ্রিয় হওয়ায় ভেবেছিলাম তিনি দলীয় মনোনয়ন পাবেন। মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ার খবরে আমরা শকড হই। স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে প্রতীক পাওয়ার পর দ্বিতীয় দিন দুপুর পর্যন্ত প্রচার করেছি। হঠাৎ খবর এলো, নেতা নির্বাচন থেকে সরে যাচ্ছেন। মাথায় যেন বাজ পড়লো।’ কথা বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

    মধুপুরের আলোকদিয়ার গাংগাইর এলাকার তোতা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘নেতা হয়ে এমন বেঈমানি করলেন কেন? কোথায় যাবো আমরা? টাকা দরকার হলে বলতেন। নির্বাচন শুরু না করেই মাঠ ছেড়ে দিলেন। আপনার নাম ইতিহাসে মীরজাফরের পাশে লেখা থাকবে।’

    ধনবাড়ী উপজেলা কৃষক দলের সাবেক সভাপতি ও যদুনাথপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুল হাই জানান, শুক্রবার সকাল থেকেই লিফলেট বিতরণ ও ভোটের প্রচারে ব্যস্ত ছিলেন তিনি। নামাজের পর মধুপুরে এসে খবরটি শুনে হতবাক হয়ে যান। তিনি বলেন, ‘যদুনাথপুরসহ ধনবাড়ীতে মোহাম্মদ আলীর বড় অবস্থান তৈরি হয়েছিল। তার সঙ্গে দীর্ঘ পথচলা হঠাৎ থেমে গেল। নিজের রাজনীতি নিয়েও এখন অনিশ্চয়তায় পড়েছি।’

    এদিকে মধুপুর আদালত পাড়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রধান সমন্বয়ক আনোয়ার হোসেনের বাসায় সকাল থেকেই নেতাকর্মীদের ভিড় জমে। বিকাল ৪টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন তারা। সেখানে অবস্থান করা অনেকে জানান, ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষ থেকে অনেক নেতা যোগাযোগ করেছিলেন, কিন্তু আদর্শের রাজনীতি করি বলে মোহাম্মদ আলীর সঙ্গেই ছিলাম। এখন কোনো দিকনির্দেশনা নেই—কি করবো বুঝতে পারছি না।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্বপন ফকির চলে যাওযার পর খবর ছড়িয়ে পড়লে আবেগে উত্তেজিত কর্মী-সমর্থকরা সেখানে জড়ো হন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বাইরে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে কর্মীরা মোহাম্মদ আলীকে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন। পরবর্তীতে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে নিরাপত্তার জন্য কর্মীদের বেষ্টনীতে মোহাম্মদ আলীকে সেখান থেকে নামিয়ে গাড়িতে তুলে বাসায় পাঠানো হয়।

    এ বিষয়ে মধুপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি জয়নাল আবেদীন খান বাবলু কালবেলাকে বলেন, ‘নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন মোহাম্মদ আলী। কিন্তু সে আমাদের সঙ্গে পূর্বে কোনো পরামর্শ না করেই নির্বাচন থেকে সরে গেলেন। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে পারে।’

  • টাঙ্গাইলে ঘর থেকে বৃদ্ধ দম্পতির মরদেহ উদ্ধার

    টাঙ্গাইলে ঘর থেকে বৃদ্ধ দম্পতির মরদেহ উদ্ধার

    টাঙ্গাইলের বাসাইলে বৃদ্ধ দম্পতিকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে নিজ ঘর থেকে পুলিশ মরদেহ দুটি উদ্ধার করে।

    নিহতরা হলেন- বাসাইলের গোসাখালি গ্রামের ঠান্ডু মিয়া (৭৫) ও তার স্ত্রী রিজিয়া বেগম (৭০)।নিহতদের স্বজনরা জানান, দুই দিন আগে বোরো ধান আবাদে কাজ করার জন্য কয়েকজন দিনমজুর আনা হয়। তারা নিহত দম্পতির বাড়ির পাশের একটি কক্ষে অবস্থান করছিলেন। সোমবার রাতে দিনমজুরদের অস্বাভাবিক চলাফেরা দেখে নিহতদের নাতি শাকিল সিকদারের সন্দেহ হয়। পরদিন সকালে ঘরের দরজা খোলা দেখতে পেয়ে ভেতরে প্রবেশ করলে ঠান্ডু মিয়া ও রেজিয়া বেগমকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। এসময় ঘরের আলমারি ও আসবাবপত্র এলোমেলো অবস্থায় ছিল। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর কবির বলেন, সোমবার রাতে তার বাড়িতে উত্তরাঞ্চল থেকে শ্রমিকরা এসেছিল। রাতে ঠান্ডু পেটে ব্যথা অনুভব করলে ওই শ্রমিকরা তাদের সঙ্গে থাকা ওষুধ খেতে দেয়। পরে মঙ্গলবার সকালে তারা ঘুম থেকে না ওঠায় আশপাশের লোক ডাকাডাকির এক পর্যায়ে ঘরে গিয়ে দেখে তারা পড়ে আছেন। ঘরের আসবাবপত্র এলোমেলো হয়েছিল। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহতদের মরদেহ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে রয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

  • সখীপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ৩টি নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর

    সখীপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ৩টি নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর

    (বাসাইল-সখীপুর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শিল্পপতি সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেলের (হরিণ) প্রতীকের ৩টি নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর ও দুটি অফিসে তালা ঝুঁলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খানের কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে। রোববার (২৫ জানুয়ারি) এ বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন হরিণ প্রতীকের এজেন্ট ফজলুল হক বাচ্চু।
    হরিণ প্রতীকের এজেন্ট ফজলুল হক বাচ্চু অভিযোগ করেন, এ আসনের সখীপুর উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়নের কালমেঘা এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেলের হরিণ প্রতীকের তিনটি নির্বাচনী অফিস বিএনপি প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা ভাঙচুর করে। ভাঙচুর চালানো নির্বাচনী অফিসগুলো হচ্ছে- রাঙ্গামাটি কেন্দ্রের সলঙ্গা অফিস, ইলিমজান উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের সোনাতলা মোড় অফিস ও দেওয়ানপুর কেন্দ্রের দেওয়ানপুর অফিস। এছাড়া বহেড়াতৈল ইউনিয়নের বহেড়াতৈল ও কালিয়া ইউনিয়নের বাসারচালা অফিস দুটিতে তালা ঝুঁলিয়ে দেওয়া হয়েছে।

    লিখিত অভিযোগে বলা হয়, বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী আহমেদ আযম খানের কর্মী-সমর্থকরা শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাতে ৩টি নির্বাচনী অফিসে ভাঙচুর চালায় এবং রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকালে দুটি নির্বাচনী অফিসে তালা ঝুঁলিয়ে দেয়। একই সঙ্গে তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেলের কর্মী-সমর্থকদের পিটিয়ে আহত করে। একই আসনের শোলাপ্রতিমা ও কালিয়া এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর হরিণ প্রতীকের দুটি বিলবোর্ডও ভাঙচুর করা হয়।

    হরিণ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী লাবিব গ্রুপের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেল নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর ও তালা ঝুঁলানোর তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, প্রতিপক্ষের কর্মী-সমর্থকরা পরাজয়ের ভয়ে এসব অপকর্ম করছে। হিংসা-প্রতিহিংসা কারো জন্যই মঙ্গলজনক নয়। নির্বাচনের পরিবেশ যেন শান্তিপূর্ণ থাকে এবং জনগণ যেন স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে- সেটি নিশ্চিত করা সবারই দায়িত্ব। নিজের কর্মী-সমর্থকদের ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার আহ্বান জানান তিনি।বিষয়ে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী আহমেদ আযম খান বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীর নির্বাচনে ভোটের দেউলিয়াত্বে ভুগছেন। তাই নানা ধরণের কাল্পনিক, ভিত্তিহীন ও মিথ্যা অভিযোগ তুলে পরিস্থিতি ঘোলা করার চেষ্টা করছেন। বাসাইল-সখীপুরের মানুষ এগুলো বুঝে এবং তারা বুঝে-শুনেই ভোটাধিকার প্রয়োগ করার জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন।
    এ বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, নির্বাচনে অনিয়ম প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশে গঠিত ইলেকশন অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি রয়েছে। তাদের কাছে অভিযোগ করা হয়ে থাকলে তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এছাড়া ওই অনুসন্ধান বা তদন্ত কমিটি অভিযোগের প্রমাণ পেলে তাৎক্ষণিকভাবে বিচারের আওতায় এনে দোষীদের সাজার ব্যবস্থা করতে পারে।

  • টাঙ্গাইল-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল হালিমকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার

    টাঙ্গাইল-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল হালিমকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার

    আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী কালিহাতী উপজেলা বিএনপি’র উপদেষ্টা ও জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল হালিমকে বিএনপির সকল পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সোমবার (২৬ জানুয়ারী) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী সাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল হালিমকে দল থেকে বহিষ্কার করার কথা জানানো হয়েছে।

    প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য টাঙ্গাইল জেলাধীন কালিহাতী উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা ইঞ্জি. আব্দুল হালিমকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। একইসাথে ইঞ্জি. আব্দুল হালিমকে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি পদসহ দলের সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিস্কার করা হয়েছে।

    উল্লেখ্য, ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল হালিম কালিহাতী উপজেলা নিয়ে গঠিত টাঙ্গাইল-৪ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন। কিন্তু বিএনপির হাই কমান্ড এ আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য লুৎফর রহমান মতিনকে মনোনয়ন দেয়। দলের এ সিদ্ধান্ত অমান্য করে ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল হালিম স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মোটর সাইকেল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন এবং পুরো নির্বাচনী এলাকায় নিয়মিত প্রচারনা চালাচ্ছেন। দলের বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় নেতা-কর্মীরা বিভক্ত হয়ে পরেছেন।

  • মির্জাপুরের তরফপুরে পাহাড়ের মাটি বিক্রির মহোৎসব

    মির্জাপুরের তরফপুরে পাহাড়ের মাটি বিক্রির মহোৎসব

    টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে চলছে পাহাড়ের টিলা কেটে লাল মাটি বিক্রির মহোৎসব। পাহাড় ধ্বংস করে মাটি বিক্রি করায় একদিকে হুমকির মুখে পড়ছে প্রাকৃতিক পরিবেশ। অন্যদিকে জীববৈচিত্র্য ও ফলজবৃক্ষসহ উজাড় হচ্ছে বনাঞ্চল। এই লাল মাটি বিক্রির উৎসব মাসব্যাপি ধরে চললেও প্রশাসন শক্ত হাতে দমনের ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন পাহাড়ি অঞ্চলের সাধারণ মানুষ। লালমাটি বহনকারি ড্রাম্প ট্রাকের চাকার দাপটে খানাখন্দক হচ্ছে গ্রামীণ রাস্তা।
    জানা গেছে, ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে মির্জাপুর উপজেলা গঠিত। এর মধ্যে আজগানা, বাঁশতৈল, তরফপুর, লতিফপুর ও গোড়াই ইউনিয়ন হলো পাহাড়বেষ্টিত। এই পাহাড়ের বিস্তৃর্ণ বনাঞ্চলে ছিল শত শত উঁচু টিলা। পাহাড়বেষ্টিত ইউনিয়নগুলোর বনে এক সময় বাঘসহ নানা জাতের পশু-পাখির বসবাস ছিল। এছাড়া এই বনাঞ্চল শাল ও গজারিসহ নানান জাতের ফলজ এবং ওষুধি গাছে ভরপুর ছিল।

    প্রতিবছর এই অঞ্চলে মাটি ব্যবসায়িরা অবৈধভাবে পাহাড়ের টিলা কেটে ইটভাটাসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অন্য বছরের মতো টিলা কেটে মাটি বিক্রির মহোৎসব এবারও থেমে নেই। প্রতিবছর টিলা কেটে মাটি বিক্রি করায় পাহাড়ি অঞ্চলটির টিলার সংখ্যা দিনকে দিন কমে আসেছে। সরেজমিনে তরফপুর ইউনিয়নে গিয়ে দেখা গেছে, এক মাসের ব্যবধানে এই এলাকায় পাহাড়ের কমপক্ষে ১০টি বড় বড় টিলা কেটে মাটি বিক্রি করেছে। ইউনিয়নটির রাখেরচালায় গিয়ে দেখা গেছে, কয়েকটি বড় বড় টিলার মাটি ভেকু মেশিন দিয়ে কেটে মাটি বিক্রি করা হয়েছে। পাশের অন্য আরও একটি টিলার মাটি কাটার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। টিলাটির ওপরের আকাশমনি, কাঠাল ও আমসহ সকল গাছ-গাছালি কেটে ফেলছেন কয়েকজন শ্রমিক।

    তরফপুর গ্রামের হযরত আলী, মাসুম ও শহিদ জানান বাঁশতৈল এলাকার রোকন নামে এক ব্যক্তি মাটি কেটে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে টাকিয়া কদমা গ্রামের রাধারচালায় দুইটি টিলার মাটি একইভাবে কেটে নিচ্ছে অবৈধ এই লাল মাটিখেকোর দল। নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন বাঁশতৈল এলাকার শহিদুল নামে এক মাটি ব্যবসায়ি এই টিলার মাটি কেটে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
    এদিকে টিলার লালমাটি বহনকারি বড় বড় ড্রাম্প ট্রাক অনবরত চলাচল করায় ওই এলাকার গ্রামীণ রাস্তা খানাখন্দক হয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এলাকার সাধারণ মানুষ অভিযোগ করেছেন। মাটি ব্যবসায়িরা প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ টু শব্দ করতে পারেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। মাটি ব্যবসায়ি রোকনের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, আমি মাটি ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছি। এখন অন্যরা করছে বলে তিনি জানান।এ বিষয়ে তরফপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজ রেজার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পাহাড়ের টিলা কাটার বিষয়টি আমার জানা নেই।
    এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুরাইয়া ইয়াসমিন স্থানীয় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি থামাতে একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করে জরিমানাসহ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আমরা রাতেও অভিযান পরিচালনা করেছি। কিন্তু ওরা নানা কৌশল অবলম্বন করছে। তবে আমাদের অভিযান থেমে থাকবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

  • জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হামলা ও বসতঘর ভাঙচুরের অভিযোগ

    জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হামলা ও বসতঘর ভাঙচুরের অভিযোগ

    টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের নঠুরচর এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক পরিবারের ওপর হামলা ও বসতঘর ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। রবিবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।

    ভুক্তভোগী মো. আ. রাজ্জাক জানান, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী নাজিম উদ্দীনের পরিবারের সঙ্গে তাদের জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে রবিবার সন্ধ্যায় পাশ্ববর্তী বাড়ির মৃত অভিশেখের ছেলে নাজিম উদ্দীন ও তার অনুসারীরা তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলার সময় ঘরবাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি ঘরে থাকা বিভিন্ন মালামাল লুটপাট করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

    রাজ্জাক আরও জানান, হামলা প্রতিরোধ করতে গেলে নারী ও শিশুসহ অন্তত পাঁচজনকে মারধর করা হয়। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    1. এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আ. রাজ্জাক গোপালপুর থানায় ৯ জনকে আসামি করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্তরা হলেন— মৃত অভিশেখের ছেলে নাজিম উদ্দীন, মৃত আজালী শেখের ছেলে আ. হামিদ, হামিদের ছেলে মো. হাফিজুল ইসলাম, মো. কবির হোসেন, হারুন, নাজিমের ছেলে কামরুল হোসেন, হাফিজুলের ছেলে শাহীন ও হারুনের ছেলে পারভেজ।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাজ্জাকের পরিবারের সঙ্গে নাজিমের পরিবারের দীর্ঘদিনের জমি সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। রবিবার সন্ধ্যায় সেই বিরোধের জের ধরেই নাজিম উদ্দীনের অনুসারীরা রাজ্জাকের বাড়িতে হামলা চালিয়ে মারধর ও ভাঙচুর করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

    তবে অভিযুক্ত পক্ষের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, রাজ্জাকের পরিবার নিজেরাই ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে নাটক সাজিয়েছে এবং তারাই উল্টো তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।

    এ বিষয়ে গোপালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, “লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বর্জ্য যুক্ত পানি, দুর্গন্ধ ও আবর্জনার স্তূপ|| চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি

    টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বর্জ্য যুক্ত পানি, দুর্গন্ধ ও আবর্জনার স্তূপ|| চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি

    টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল জেলার সর্ববৃহৎ সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্র হলেও বর্তমানে চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পরিণত হয়েছে। হাসপাতালের ভেতর ও বাইরে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা বর্জ্য যুক্ত পানি, ময়লা-আবর্জনা ও দুর্গন্ধ। অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। টাঙ্গাইলের নবাগত পৌর প্রশাসক (ডিডিএলজি) মাহফুজুল আলম মাসুম ও পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোঃ আনিসুর রহমান শহরে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযানের অংশ হিসেবে গতকাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান।

    এ সময় টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. আব্দুল কুদ্দুছকে সাথে নিয়ে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা দেখতে হাসপাতালের ভেতরে ও বাইরে পরিদর্শন করেন। এসময় দেখা যায়, টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অভ্যন্তরীণ সিঁড়ি, ভেতরে ও বাইরে বর্জ্য অব্যবস্থাপনা, আঙিনা, ওয়ার্ডের আশপাশে খোলা অবস্থায় আবর্জনা পড়ে আছে। কোথাও কোথাও মেডিকেল বর্জ্যও সঠিকভাবে অপসারণ না করায় মশা-মাছির উপদ্রব বেড়েছে। এতে ডেঙ্গু, ডায়রিয়া ও অন্যান্য সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের স্বজনরা অভিযোগ করে বলেন, “হাসপাতালে এসে রোগ সেরে ওঠার কথা, কিন্তু এই নোংরা পরিবেশে উল্টো নতুন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ভয় থাকে।” অনেক রোগী জানান, দুর্গন্ধের কারণে ওয়ার্ডে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

    স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় এমন পরিবেশ মারাত্মক সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষ করে মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অবহেলা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি।

    এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত তদারকির দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। তাদের মতে, একটি হাসপাতাল কখনোই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের প্রতীক হতে পারে না, বরং পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপদ চিকিৎসার আদর্শ হওয়া উচিত। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে হাসপাতালের পরিবেশ নোংরা-আবর্জনায় ভরে থাকে। স্যালাইন, ন্যাকিন, সূঁচ সহ সিরিঞ্জ, গজ-ব্যান্ডেজ হাসপাতালের পরিত্যক্তস্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। হাসপাতালে ঢুকলেই উৎকট গন্ধে অবস্থান করা দূরূহ হয়ে পড়ে।

    টাঙ্গাইলের নবাগত পৌর প্রশাসক (ডিডিএলজি) মাহফুজুল আলম মাসুম বলেন, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযানের এই কাজটা জেলা প্রশাসকেরও ইচ্ছা। যেগুলো ময়লা বাইরে আছে, পৌরসভার পক্ষ থেকে আমরা সেগুলো পরিস্কারের ব্যবস্থা করবো। কিন্তু ভেতরের অবস্থা খুবই অস্বাস্থ্যকর। মেডিকেল বর্জ্যগুলোকে অপসারণের জন্য আলাদাভাবে রাখতে বলেন। যাতে পৌরসভা সেগুলো আলাদাভাবে সরিয়ে নিতে পারেন। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য কোন সমস্যা হলে, তিনি হাসপাতালের পরিচালককে তাকে সাথে নিয়ে জেলা প্রশাসন ও গণপূর্ত বিভাগের সাথে কথা বলতে বলেন।

    টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজের পরিচালক ডা. আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, আপনারা যেমন চান আমিও চাই, এই হাসপাতাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা মুক্ত হোক। যাতে রোগীরা সুন্দরভাবে চিকিৎসা নিতে পারে। আমি মনে করি এটা আমাদের সমন্বিত প্রচেষ্টার প্রয়োজন। জেলা প্রশাসকের সাথে কথা বলে, একটা প্লান করে কিভাবে ধীরে ধীরে এ সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা যায়, সেই চেষ্টা করবো। এ সময় তিনি পৌর প্রশাসককে হাসপাতাল পরিদর্শনের জন্য ধন্যবাদ জানান।

    এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোঃ আনিসুর রহমান, নাগরিক অধিকার সুরক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নূর মোহাম্মদ রাজ্য, যুগ্ম সম্পাদক মেহেদী সাজু, মানবাধিকার সংস্থা ‘হিউম্যান রাইটস্ রিভিউ সোসাইটি’ টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি মোঃ রাশেদ খান মেনন (রাসেল), বিডি ক্লিনের সদস্যগণ, পৌরসভার স্টাফগণ ও সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ের সুধীজন।

  • টাঙ্গাইলে বাস–ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ৩

    টাঙ্গাইলে বাস–ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ৩

    ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বাসাইল উপজেলার বাঐখোলা এলাকায় বাস ও ট্রাক সংঘর্ষে নারীসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১২ জন। হতাহত ব্যক্তিদের সবাই বাসযাত্রী।

    আজ বুধবার বেলা আড়াইটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তিরা হলেন, সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার চকনুর গ্রামের সোহরাব আলী সরকার (৭৮), জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার কাঞ্চনপুর গ্রামের শিল্পী বেগম (৪২), একই উপজেলার বারইপটল গ্রামের ফাহিম (২২)।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, জামালপুরের তারাকান্দি থেকে ছেড়ে আসা ভাই ভাই পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। বাসটি মহাসড়কের বাঐখোলা এলাকায় ঢাকাগামী একটি ট্রাককে অতিক্রম করার চেষ্টা করে। এ সময় ঢাকাগামী রডভর্তি অন্য একটি ট্রাকের সঙ্গে বাসটির সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে এক নারী নিহত হন। পুলিশ আহত ১৪ জনকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক আরও দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন।