খেলাধুলা

  • দলের ব্যাটিং বিপর্যয়ের মাঝে মিরাজের দাপুটে সেঞ্চুরি

    দলের ব্যাটিং বিপর্যয়ের মাঝে মিরাজের দাপুটে সেঞ্চুরি

    দুশ্চিন্তা ছিল অস্ট্রেলিয়ার পেসারদের নিয়ে। কিন্তু স্বাগতিকরা দাপট দেখালেন স্পিনে। অস্ট্রেলিয়া একাদশের হয়ে অফ-স্পিনার কোরি রকিচিওলি একাই ৬ উইকেট শিকার করে বাংলাদেশকে ধসিয়ে দেন। প্রথম দিনে ৭ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ যখন ব্যাটিং বিপর্যয়ে ধুঁকছিল, তখন ব্যাট হাতে দ্যুতি ছড়ান মেহেদী হাসান মিরাজ। হাঁকান দারুণ এক সেঞ্চুরি। ১৪১ বলে ১১ ছক্কা ও ৪ চারের ওপর ভর করে ১০৯ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলে অপরাজিত থেকে যান। তাতে অতিথিরা পেয়েছে সম্মানজনক স্কোর। মিরাজের সেঞ্চুরির ওপর ভর করে প্রথম ইনিংসে সবকটি উইকেট হারিয়ে ২৬৩ রানের পুঁজি গড়েছে বাংলাদেশ।

    অস্ট্রেলিয়া সফরের শুরুতে তিন দিনের একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশ দুর্দান্ত বোলিং করে। আক্রমণের মুখে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা পড়ে যায় ব্যাটিং বিপর্যয়ে। প্রথম দিনের চা বিরতি পর্যন্ত ৭ উইকেট হারিয়ে ১৭৫ রান তুলে চাপে পড়ে গিয়েছিল সফরকারীরা।

    তার আগে ডারউইনের মারারা ওভালে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তবে শুরুতেই হোঁচট খায় বাংলাদেশ। দলীয় মাত্র ৭ রানে ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমকে সাজঘরে ফেরান হান্নো জ্যাকবস। ওপেনার তানজিদ বিদায় শূন্য রানে। এরপর সাদমান ইসলাম এবং মুমিনুল হক চাপ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও রানের গতি ছিল বেশ মন্থর।

    অধিনায়ক শান্ত ৫৩ বলে ৭টি বাউন্ডারির সাহায্যে ইনিংসের সর্বোচ্চ ৩৭ রান করে সাজঘরে ফেরেন। সাদমান করেন ৪৭ বলে ৩১ রান। অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মুমিনুল হক (১৬) ও টেস্টে অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা অমিত হাসান (১৫) উইকেটে থিতু হলেও বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন। মিডল অর্ডারে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন মুশফিকুর রহিম। লাঞ্চের আগেই চার উইকেট হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। যথারীতি শুরুর ছয় ব্যাটসম্যান প্রথম ইনিংসে ব্যর্থ হন এই প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথম দিন।

    অস্ট্রেলিয়ার হয়ে কোরি রকিচিওলি ২৪ ওভারে ৮৩ রান দিয়ে ৬টি উইকেট নেন। এছাড়া হান্নো জ্যাকবস, জাভিয়ার ক্রোন, ক্যাম্পবেল থম্পসন ও জারসিস ওয়াদিয়া ১টি করে উইকেট লাভ করেন।

    সংক্ষিপ্ত স্কোর

    বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ২৬৩/১০, ৭৫.৫ ওভার

    (মিরাজ ১০৯*, শান্ত ৩৭, সাদমান ৩১, মুমিনুল ১৬, সৌম্য ১৬; রকিচিওলি ৬/৮৩, জ্যাকবস ১/২৮, ক্যাম্পবেল ১/২৬ ক্রোন ১/৪৮ ও ওয়াদিয়া ১/২৬)।

  • ভুলের জন্য ক্ষমা চাইলেন ইনফান্তিনো, থাকছেন ফিফার শীর্ষ পদে

    ভুলের জন্য ক্ষমা চাইলেন ইনফান্তিনো, থাকছেন ফিফার শীর্ষ পদে

    ফিফা আয়োজিত প্রতিযোগিতাগুলোর অংশীদারিত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির বিতর্কিত প্রস্তাবের কারণে যে ‘ভুল’ তৈরি হয়েছে সেটির জন্য ক্ষমা চেয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।

    তবে মরক্কোতে অনুষ্ঠিত এক সভায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমর্থন পাওয়ায় ফিফা সভাপতির পদেই বহাল থাকছেন তিনি।

    তার এই প্রস্তাবগুলো বাতিল হয়ে যাওয়ার পর তীব্র সমালোচনার মুখে বুধবার মরক্কোর রাবাতে ফিফার আফ্রিকা কার্যালয়ে পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের তলব করেন ইনফান্তিনো।

    ওই বৈঠকটি শেষ হওয়ার চার ঘণ্টা পর ফিফা ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন জানিয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে।

    এর আগে, গত সপ্তাহের শেষে ইউরোপীয়ান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা জানিয়েছিল, তারা ইনফান্তিনোর ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছে।

    উয়েফা ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) প্রস্তাবটিকে একটি “নিম্নমানের, গোপন ও অস্পষ্ট চুক্তি” হিসেবে অভিহিত করেছে।

    ফিফার ভেতর থেকেও বেশ কিছু সমালোচনা এসেছে। যার মধ্যে ছিলেন সংস্থাটির মহাসচিব ম্যাথিয়াস গ্রাফস্ট্রোম, যিনি বুধবারের বৈঠকেও উপস্থিত ছিলেন।

    মঙ্গলবার ফিফার কর্মীদের কাছে পাঠানো একটি স্মারকে তিনি লেখেন, এই পরিস্থিতিটি একটি “দুঃখজনক ও নিন্দনীয় ঘটনাপ্রবাহ”।

    যদিও বৈঠকের পর দেওয়া এক বিবৃতিতে ফিফা সভাপতি হিসেবে ইনফান্তিনোর প্রতি তাদের “পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত” করেছেন গ্রাফস্ট্রোম এবং ফিফার পরিচালনা পর্ষদ।

    ফিফার সহ-সভাপতি, কাউন্সিল এবং ২১১টি সদস্য সংস্থাকে ইনফান্তিনো এবং গ্রাফস্ট্রোমের স্বাক্ষরিত একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। বিবিসি এই চিঠিটি দেখেছে।

    চিঠিতে তারা তাদের ভুলের জন্য “আন্তরিকভাবে ক্ষমা চান” এবং “ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর ঘটবে না বলে প্রতিশ্রুতি” দেন।

    ওই বৈঠকের পরে ইনফান্তিনো এবং গ্রাফস্ট্রোমকে রাবাতে উইমেনস আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের একটি ম্যাচ একসঙ্গে উপভোগ করতে দেখা গেছে।

    এফএফই নামের একটি নতুন অঙ্গসংগঠনের মাধ্যমে পুরুষ ও নারী বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন টুর্নামেন্টে বেসরকারি বিনিয়োগের প্রস্তাবটি সমর্থন করলে প্রতিটি সদস্য সংস্থাকে ৪০ মিলিয়ন ডলার অথবা চার কোটি ডলার (৩০ মিলিয়ন পাউন্ড) দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ইনফান্তিনো।

    ফিফা জানিয়েছে, বুধবারের বৈঠকে এফএফই সংক্রান্ত “ভুলগুলো স্বীকার করা হয়েছে।”

    এই সংস্থাটির দাবি, ফিফা কাউন্সিল ও সদস্য সংগঠনগুলো যেন “এই প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়েছে বলে মনে না করে”। এই প্রক্রিয়াটি “ভিন্নভাবে পরিচালনা করা উচিত ছিল” বলেও তারা উল্লেখ করে।

    নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি আরো জানিয়েছে, “গণমাধ্যমে প্রস্তাবটি ফাঁস হয়ে যাওয়ার পরেও যে ভুল হয়েছে” সেটি তারা স্বীকার করেছে।

    ২৮শে জুলাই দ্য টাইমসে ইনফান্তিনোর এই পরিকল্পনার খবরটি প্রথম ব্রেকিং হিসেবে প্রকাশ করে।

    তবে, বিবৃতিতে ফিফা এটিও বলেছে, “সততা, সুশাসন এবং যথাযথ প্রক্রিয়ার ওপর কোনো আঘাত আর সহ্য করা হবে না এবং সংস্থার সুনাম রক্ষা ও সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে”। সূত্র-বিবিসি বাংলা

  • শেয়ার কেলেঙ্কারির মামলায় সাকিবসহ ১৫ জনের নামে চার্জশিট শিগগির

    শেয়ার কেলেঙ্কারির মামলায় সাকিবসহ ১৫ জনের নামে চার্জশিট শিগগির

    শেয়ারবাজারে কারসাজি ও জালিয়াতির মাধ্যমে ২৫৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও অর্থ পাচারের অভিযোগে করা মামলায় জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানসহ ১৫ জনের নামে দ্রুতই চার্জশিট দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

    বৃহস্পতিবার সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান দুদকের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম।

    তিনি বলেন, শেয়ারবাজারে কারসাজির মাধ্যমে ২৫৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে। সাকিব আল হাসানসহ ১৫ জনের নামে দ্রুতই আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে।

    এর আগে, ২০২৫ সালের ১৭ জুন দুদকের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

  • মেসির জোড়া গোলে লিগ কাপে ইন্টার মায়ামির সহজ জয়

    মেসির জোড়া গোলে লিগ কাপে ইন্টার মায়ামির সহজ জয়

    মেসির জোড়া গোলে আতলেতিকো সান লুইসকে ৪-২ গোলে হারিয়েছে ইন্টার মায়ামি। বৃষ্টিস্নাত রাতে শুরুতে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত সহজ জয় পায় ইন্টার মায়ামি। এই ম্যাচে জোড়া গোল করে লিগ কাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে শীর্ষে উঠে এলেন মেসি।

    ন্যু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটির দ্বিতীয়ার্ধে ওই এলাকায় বজ্রপাতের কারণে খেলা ৩০ মিনিট বিলম্বিত হয়।

    মেসি ম্যাচের ১১ ও ৪৪তম মিনিটে গোল করেন। ১২টি লিগ কাপ ম্যাচে তার গোল সংখ্যা এখন ১৪টি—যা টুর্নামেন্টের চার বছরের ইতিহাসে লস অ্যাঞ্জেলেস এফসির ডেনিস বোয়াঙ্গার চেয়ে এক গোল বেশি এবং এর মাধ্যমে তিনি এখন টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা।

    মেসি বাদেও তেলাস্কো সেগোভিয়া এবং ডিফেন্ডার মাইকায়েল একটি করে গোল করেছেন এবং নোয়াহ অ্যালেন তিনটি অ্যাসিস্ট করেছেন। এর সুবাদে টানা ৮ ম্যাচ ধরে অপরাজিত রইলো ইন্টার মায়ামি।

    এদিন বিশ্বকাপের পর নিজের দ্বিতীয় ম্যাচে মায়ামির শুরুর একাদশে ফিরেছেন মেসি। বিশ্বকাপে তিনি আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে তুলেছিলেন, তবে লা আলবিসেলেস্তেরা স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে যায়। ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা শনিবার কলম্বাস ক্রুর সাথে ২-২ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে ৩৭ মিনিট মাঠে ছিলেন।

    কলম্বাসের বিপক্ষে গোলবঞ্চিত থাকার পর, বুধবার প্রভাব বিস্তার করতে মেসির বেশি সময় লাগেনি। ম্যাচের চার মিনিটের মাথায় ডেভিড রদ্রিগেজ হেডে গোল করে সান লুইসকে এগিয়ে নেওয়ার পর, অ্যালেনের বাড়ানো একটি লম্বা ক্রস থেকে আন্দ্রেস সানচেজকে ফাঁকি দিয়ে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান মেসি। প্রথমার্ধের শেষের দিকে তিনি খুব কাছ থেকে ফিনিশ করে আরও একটি গোল করেন এবং স্টপেজ টাইমে মাইকায়েলের হেডে করা গোলেও অ্যাসিস্ট করেন।

    ২০২৩ সালে ক্লাবে যোগ দেওয়ার পরপরই মেসি মায়ামিকে লিগ কাপের শিরোপা জিতিয়েছিলেন। ইন্টার মায়ামি গত বছরও ফাইনালে পৌঁছেছিল, তবে সিয়াটলের কাছে তারা ৩-০ গোলে হেরে যায়।

  • আর্সেনাল গুঞ্জনের মধ্যে রিয়ালের অনুশীলনে ফিরলেন ভিনি

    আর্সেনাল গুঞ্জনের মধ্যে রিয়ালের অনুশীলনে ফিরলেন ভিনি

    আর্সেনালে দলবদলের গুঞ্জন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনার মাঝেই রিয়াল মাদ্রিদের অনুশীলনে ফিরেছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। বিশ্বকাপ মিশন শেষে ছুটি কাটিয়ে গতকাল স্থানীয় সময় সকালে মাদ্রিদের ভালদেবেবাস ট্রেনিং কমপ্লেক্সে উপস্থিত হন এই ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার। সেখানে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে নতুন কোচ হোসে মরিনহোর অধীনে দলের সঙ্গে প্রথম অনুশীলন সেশন সম্পন্ন করেছেন তিনি।

    স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভিনিকে দলে ভেড়াতে ব্যক্তিগতভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন আর্সেনাল বস মিকেল আর্তেতা। গানারদের এই কোচ ভিনিকে পুরো আর্সেনাল প্রজেক্টের কেন্দ্রবিন্দু বানানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং ক্লাবটিকে ইউরোপের পরবর্তী আধিপত্যশীল দল হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য প্রস্তুত করেছেন। রিয়ালের সঙ্গে ব্রাজিলিয়ান এই তারকার বর্তমান চুক্তির মেয়াদ আর মাত্র ১২ মাস বাকি রয়েছে। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি বা ব্যক্তিগত শর্তে সমঝোতা হয়নি।

    রিয়াল মাদ্রিদে ভিনির ফেরার বিষয়ে ক্লাবটির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ‘বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের পর ভিনি জুনিয়র এবং ব্রাহিম দিয়াজ রিয়াল মাদ্রিদে ফিরে এসেছে। কোচের নতুন অধীনে প্রথম প্রশিক্ষণ সেশন সম্পন্ন করার আগে দুই খেলোয়াড় আজ সকালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ভালদেবেবাস হাসপাতালে উপস্থিত হন।’

    দ্বিতীয় দফায় অল হোয়াইটদের নতুন কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেয়া হোসে মরিনহো তার এই তারকা ফরোয়ার্ডকে হারাতে নারাজ। লস ব্লাঙ্কোস শিবিরও তাদের আক্রমণভাগের অন্যতম এই অস্ত্রকে ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর। যদিও চুক্তি নবায়ন নিয়ে এখনো ক্লাব কর্তাদের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়নি।

    তবে আর্সেনালের গভীর আগ্রহ এবং ভিনির বর্তমান পরিস্থিতি গ্রীষ্মের ট্রান্সফার উইন্ডোকে বেশ রোমাঞ্চকর করে তুলেছে। প্রি-সিজনের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে মরিনহোর অধীনে ভিনির পারফরম্যান্স এখন ফুটবল বিশ্বের অন্যতম আলোচনার বিষয়।

  • এমবাপ্পেকে ঢাকায় আনার পরিকল্পনা

    এমবাপ্পেকে ঢাকায় আনার পরিকল্পনা

    দেশব্যাপী আয়োজিত ‘প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ’ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠানে ফ্রান্সের তারকা ফুটবলার কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ঢাকায় আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। একইসঙ্গে প্রতিযোগিতাকে সফল করতে দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বাধ্যতামূলকভাবে ফুটবল দল গঠনের আহ্বান জানান তিনি। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে কোনো প্রতিষ্ঠান দল গঠন না করলে তাদের এমপিও সুবিধা স্থগিত রাখার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।

    সোমবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ’ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতার স্টিয়ারিং কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান তিনি। সভায় আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় দেশব্যাপী এ ফুটবল টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি বিষয়ে বিশদ আলোচনা হয়। দেশের ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো অংশগ্রহণ করবে।

    আগামী সেপ্টেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। সভায় উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরিফুল আলম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহ্দী আমিনসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও কর্মকর্তারা।

    সভায় জানানো হয়, শিক্ষার্থীদের মধ্যে খেলাধুলার প্রসার ঘটানো, প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে বের করা, আনন্দময় শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ছেলে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি করে এবং মেয়েদের জন্য নির্ধারিত অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে। সভাপতির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম ক্রীড়া আয়োজন। এটি শিক্ষার্থীদের মেধা, মননশীলতা, নেতৃত্বের গুণাবলি, শৃঙ্খলা ও দলগত মনোভাব গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরাও যাতে সমান সুযোগ নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরতে পারে, সে লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হচ্ছে। এ সময় শিক্ষামন্ত্রী এই প্রতিযোগিতা আয়োজনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের তাদের সার্বিক সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান।

    সভাশেষে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেন, আমরা চাই দেশজুড়ে একটি উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হোক। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সবসময় বলে এসেছেন, আগামী শিক্ষা ব্যবস্থা এমন হবে যেখানে আমাদের শিক্ষার্থীদের মেধা, মননশীলতা এবং সৃজনশীলতার বহিঃপ্রকাশ ঘটবে। সে লক্ষ্যেই ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় একযোগে দেশব্যাপী সারা বছরজুড়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে।

  • চিলিতে পা রাখতেই রাজকীয় সংবর্ধনা পেলেন ভোজিনহা

    চিলিতে পা রাখতেই রাজকীয় সংবর্ধনা পেলেন ভোজিনহা

    ২০২৬ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসেন কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনহা। এবার নতুন অধ্যায় শুরু করতে চিলিতে পৌঁছেছেন তিনি। ঐতিহ্যবাহী ক্লাব কলো-কোলোতে যোগ দিতে সান্তিয়াগোয় পা রাখতেই ৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষককে ঘিরে তৈরি হয় উৎসবের আমেজ।

    সান্তিয়াগো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভোজিনহাকে স্বাগত জানাতে জড়ো হন হাজারো সমর্থক। ব্যানার, পতাকা, ড্রাম আর স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে বিমানবন্দর এলাকা। প্রিয় তারকাকে একনজর দেখতে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করেন সমর্থকেরা।

    সমর্থকদের ভালোবাসায় আবেগাপ্লুত ভোজিনহা বলেন, ‘এখানে আসতে পেরে আমি ভীষণ আনন্দিত। আমার জন্য ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করায় সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ। খুব শিগগিরই মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে আপনাদের সঙ্গে দেখা হবে।’

    গত ২৪ জুলাই কলো-কোলো ভোজিনহাকে দলে ভেড়ানোর ঘোষণা দেয়। যদিও চিলিতে তার আগমন কয়েক দফা পিছিয়ে যায়। ভিসা ও অন্যান্য প্রশাসনিক জটিলতার পাশাপাশি ব্যক্তিগত কারণেও সফরের সূচিতে পরিবর্তন আনতে হয়েছিল। এ সময় মরক্কোর ক্লাব আরএস বারকানসহ অন্য কয়েকটি ক্লাবের আগ্রহ নিয়েও নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে রোববার স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে সান্তিয়াগোয় পৌঁছান তিনি। বিমানবন্দরে কলো-কোলোর স্পোর্টিং ডিরেক্টর এবং সাবেক তারকা ড্যানিয়েল মোরন ভোজিনহাকে স্বাগত জানান।

    পর্তুগিজ ক্লাব শাভেসের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ফ্রি এজেন্ট হিসেবে নতুন ক্লাবের সন্ধানে ছিলেন ভোজিনহা। সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপে কেপ ভার্দেকে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। টুর্নামেন্টে ১৮টি সেভের পাশাপাশি স্পেনের বিপক্ষে স্মরণীয় ক্লিন শিট রেখে জায়গা করে নেন বিশ্বকাপের সেরা একাদশেও।

    ভোজিনহার আগমনকে সামনে রেখে চিলির ফুটবলেও ঘটেছে বিরল এক ঘটনা। দেশটির ফুটবল কর্তৃপক্ষ বিশেষ অনুমতি দিয়ে কলো-কোলোর জার্সির পেছনে তার পারিবারিক নামের পরিবর্তে বিশ্বজুড়ে পরিচিত ডাকনাম ভোজিনহা ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে।

    কোচ ফার্নান্দো অর্টিজের অধীনে প্রাথমিকভাবে ছয় মাসের চুক্তিতে খেলবেন ভোজিনহা। চুক্তিতে আরও এক বছর মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগও রাখা হয়েছে।

  • হ্যান্ডবলের পরও পেনাল্টি পায়নি বার্সেলোনা, নতুন নির্দেশনা উয়েফার

    হ্যান্ডবলের পরও পেনাল্টি পায়নি বার্সেলোনা, নতুন নির্দেশনা উয়েফার

    প্রায় ৪ মাস পর বার্সেলোনা অবশেষে একটা নৈতিক জয় পেয়েছে। উয়েফা এখন রেফারিদের জন্য পরিষ্কার নির্দেশনা দিয়েছে। পেনাল্টির জন্য এই নির্দেশনাটি দিয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ এই সংস্থা।

    মাঠের কোনো খেলোয়াড় যদি নিজের বক্সের ভেতরে ইচ্ছা করে হাত দিয়ে বল ধরে, আর তখন বল খেলার মধ্যেই থাকে, তাহলে রেফারিকে অবশ্যই পেনাল্টি দিতে হবে। উয়েফা বলেছে, এই ধরনের ঘটনায় আর কোনো ব্যাখ্যা বা তথাকথিত ‘কমন সেন্স’ খাটানো যাবে না।

    এই নতুন নির্দেশনা মূলত এল চ্যাম্পিয়নস লিগ কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগের একটা বিতর্কিত ঘটনার প্রেক্ষিত। ২০২৬ সালের ৮ এপ্রিল বার্সেলোনা ও আতলেতিকো মাদ্রিদের মধ্যে সেই ম্যাচ হয়েছিল।

    গোলকিক থেকে আতলেতিকোর গোলরক্ষক হুয়ান মুসো বল বাড়ান মার্ক পিউবিলের কাছে। পিউবিল তখন নিজের বক্সের ভেতরে হাত দিয়ে বলটা থামিয়ে দেন, যদিও তখন বল খেলার মধ্যেই ছিল। কিন্তু প্রধান রেফারি ইস্তভান কোভাচ পেনাল্টি দেননি, আর ভিএআরও তাকে ঘটনাটা আবার দেখার জন্য ডাকেনি।

    বার্সেলোনা এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ করে। তারা দাবি করে, রেফারির এই ভুল স্বীকার করতে হবে। কিন্তু উয়েফার শৃঙ্খলা কমিটি সেই অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানিয়ে দেয়। এখন নতুন নির্দেশনা দিয়ে উয়েফা ঘুরিয়ে হলেও বার্সেলোনার কথাকেই সঠিক বলে মেনে নিল।

    উল্লেখ্য, সেই বিতর্কিত ঘটনার সময় বার্সেলোনা আতলেতিকোর কাছে ০-১ গোলে পিছিয়ে ছিল। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটা তারা ০-২ গোলে হারে। দুই লেগ মিলিয়ে মাদ্রিদের দলের কাছে হেরে বার্সেলোনা চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে যেতে পারেনি।

  • বিশ্বকাপ ট্রফি বিক্রি করে বিতর্কের মুখে ফ্রান্সের ফুটবলার

    বিশ্বকাপ ট্রফি বিক্রি করে বিতর্কের মুখে ফ্রান্সের ফুটবলার

    রাশিয়া বিশ্বকাপজয়ী ফ্রান্স দলের সদস্য বেঞ্জামিন মেন্দি নিজের কাছে থাকা ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফির অফিসিয়াল প্রতিকৃতি বিক্রি করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। বিশ্বকাপজয়ী দলের খেলোয়াড়দের দেওয়া এই স্মারক নিলামে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ক্রীড়া স্মারক নিলাম প্রতিষ্ঠান ‘গোল্ডিন’-এর ‘গ্লোবাল ফুটবল অকশন পার্ট ২’-এ ট্রফিটির রেপ্লিকা বিক্রির জন্য তোলেন মেন্দি। নিলামে এটি ৬২ হাজার মার্কিন ডলারে, অর্থাৎ প্রায় ৫৪ হাজার ইউরোতে বিক্রি হয়।

    বিশ্বকাপের মতো মর্যাদাপূর্ণ স্মারক বিক্রি করায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়েন ফরাসি এই ডিফেন্ডার। তবে সমালোচনায় বিচলিত না হয়ে স্ন্যাপচ্যাটে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।

    মেন্দির ভাষ্য, ট্রফিটি তার ব্যক্তিগত সম্পত্তি। তাই সেটি রাখবেন নাকি বিক্রি করবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার একান্তই তার। সমালোচকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, অন্য কারও এ বিষয়ে মন্তব্য করার সুযোগ নেই।

    পরে কিছুটা রসিকতার সুরে তিনি আরও বলেন, ট্রফিটি এতদিন আলমারিতে অযথাই জায়গা দখল করে ছিল। তাই সেটি বিক্রি করে দেওয়ায় তিনি কোনো সমস্যা দেখেন না।

  • বিশ্বের সেরা দশে মেসির এমএলএস, ত্রিশের বাইরে রোনালদোর সৌদি লিগ

    বিশ্বের সেরা দশে মেসির এমএলএস, ত্রিশের বাইরে রোনালদোর সৌদি লিগ

    নতুন মৌসুম শুরুর আগে ধাক্কা খেল ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, হোয়াও ফেলিক্সদের সৌদি প্রো লিগ। গ্লোবাল ফুটবল র‍্যাঙ্কিংয়ের হিসেবে বিশ্বের সেরা লিগের তালিকায় ত্রিশের বাইরে চলে গেছে সৌদি আরবের এ লিগ। অন্য দিকে সেরা দশে উঠে এসেছে লিওনেল মেসিদের মেজর লিগ সকার (এমএলএস)।

    ফিফা বিশ্বকাপ শেষে আপাতত নতুন মৌসুম শুরুর অপেক্ষায় এসপিএল। আগামী ১৩ আগস্ট শুরু হবে ২০২৬-২৭ মৌসুমের খেলা। অন্য দিকে বিশ্বকাপের বিরতির পর এরই মধ্যে মাঠে গড়িয়েছে এমএলএসের অসমাপ্ত মৌসুমের খেলা।

    এর মাঝে বিশ্বের ফুটবল লিগগুলোর র‍্যাঙ্কিং প্রকাশ করেছে গ্লোবাল ফুটবল র‍্যাঙ্কিং ওয়েবসাইট। যেখানে ৭৯.৩ পয়েন্ট নিয়ে দশ নম্বরে অবস্থান করছে মেজর লিগ সকার (এমএলএস)। অন্যদিকে ৭৫.১ পয়েন্ট নিয়ে ৩৬ নম্বরে আছে সৌদি প্রো লিগ।

    এছাড়া নির্দিষ্ট ক্লাবের হিসেবে এমএলএসের ক্লাবগুলোর মধ্যে সবার ওপরে আছে মেসির ইন্টার মায়ামি। গ্লোবাল র‍্যাঙ্কিংয়ে ৮৪.৯ পয়েন্ট নিয়ে ৭৯ নম্বরে আছে তারা। আর এসপিএলের ক্লাবগুলোর মধ্যে ৮৫ পয়েন্ট নিয়ে গ্লোবাল র‍্যাঙ্কিংয়ে ৭৫ নম্বরে আল আহলি।

    রোনালদো-ফেলিক্সদের আল নাসর আপাতত সেরা একশতেও নেই। তারা ৮৩.৪ পয়েন্ট নিয়ে রয়েছে ১১৬ নম্বরে।

    বিশ্বের সেরা লিগের র‍্যাঙ্কিংয়ে বরাবরের মতো শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ইংল্যান্ডের ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ। একমাত্র লিগ হিসেবে নব্বইয়ের বেশি (৯১.৮) পয়েন্ট তাদের।

    এছাড়া চমকে দেওয়ার মতো উন্নতি হয়েছে ইতালিয়ান সিরি আ’র। স্প্যানিশ লা লিগাকে (৮৬) টপকে ৮৬.১ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে উঠে গেছে ইতালির লিগটি। এছাড়া সেরা পাঁচে আছে ফ্রান্সের লিগ ওয়ান (৮৫.৬) ও জার্মানির বুন্দেসলিগা (৮৫.৪)।

    উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে সবশেষ লিগ র‍্যাঙ্কিং প্রকাশ করেছে ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব ফুটবল হিস্ট্রি এন্ড স্ট্যাটিস্টিকস (আইএফএফএইচএস)। তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৬২৬.৭৫ পয়েন্ট নিয়ে ২৭ নম্বরে সৌদি আরবের লিগ। আর ১৭০৭.৭৫ পয়েন্ট নিয়ে ৪৮ নম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের লিগ।

  • টানা পঞ্চমবার সাফের সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন

    টানা পঞ্চমবার সাফের সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন

    আবারও দক্ষিণ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের (সাফ) সভাপতি হলেন কাজী সালাহউদ্দিন। শনিবার (১ আগস্ট) ভুটানে হয়ে গেল সাফের কনগ্রেস। সেখানে বিভিন্ন এজেন্ডার মধ্যে ছিল কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনও। সবগুলো পদের নির্বাচনে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়নি। সবার মতো বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের বস হলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সাবেক এ সভাপতি।

    সাফের গঠনতন্ত্রের ২৪.২ ধারা অনুযায়ী, কোনো পদের জন্য প্রার্থীর সংখ্যা শূন্যপদের বেশি না হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচিত বলে গণ্য হন।

    কাজী সালাহউদ্দিন ২০০৯ সাল থেকে সাফের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এ নিয়ে তিনি পঞ্চমবারের মতো নির্বাচিত হলেন।

    ৭০ বছরের ঊর্ধ্ব কেউ সাফের নির্বাহী কমিটির কোনো পদে প্রার্থী হতে পারবেন না- এত দিন এ কথাই বলা ছিল সাফের গঠনতন্ত্রে। তবে নিয়মটা গত বছর কলম্বোয় সাফের বিশেষ সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে বয়সের সীমা তুলে দেওয়া হয়। তাতে নির্বাচন করতে আর কোনো বাধা হয়নি সালাহউদ্দিনের জন্য।

    নতুন কার্যনির্বাহী কমিটিতে বাংলাদেশ থেকেও বাড়ছে প্রতিনিধিত্ব। বাফুফের সহ-সভাপতি সাব্বির আহমেদ আরিফ প্রথমবারের মতো সাফের এক্সিকিউটিভ কমিটির সদস্য হতে যাচ্ছেন। সহ-সভাপতি পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হচ্ছেন শ্রীলঙ্কার জাসওয়ার উমারু লাবে। আর কার্যনির্বাহী কমিটির আরেক সদস্য হিসেবে থাকছেন মালদ্বীপের হুসাইন শাফিউ।

  • ‘হয় থাকো, নয়তো চলে যাও’—ভিনিসিয়ুসকে রিয়ালের বার্তা

    ‘হয় থাকো, নয়তো চলে যাও’—ভিনিসিয়ুসকে রিয়ালের বার্তা

    ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ভবিষ্যৎ নিয়ে দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কার দাবি, ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের সামনে এখন দুটি রাস্তা খোলা রেখেছে ইউরোপের অন্যতম সফল ক্লাবটি।

    ভিনিসিয়ুসের সঙ্গে রিয়ালের চুক্তি আছে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারকা ফুটবলারের প্রতিনিধিদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, হয়তো চুক্তি নবায়ন করে থেকে যেতে হবে, অন্যথায় চলতি গ্রীষ্মেই তাঁকে বিক্রির বিষয়টি নিয়ে সামনে এগোবে রিয়াল।

    গত কয়েক মাস ধরে ভিনিসিয়ুস-রিয়াল চুক্তির আলোচনা আলোর মুখ দেখছে না। কোনো পক্ষই নিজেদের অবস্থান থেকে সরে না আসায় কেবল অনিশ্চয়তাই বেড়েছে। এর মধ্যে ভিনিসিয়ুসকে দলে ভেড়াতে আর্সেনালের আগ্রহ রিয়ালকে একটা সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করছে। প্রিমিয়ার লিগের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা যোগ দেওয়ায় তারকা উইঙ্গারের দলবদল নিয়ে আর সময়ক্ষেপন করতে চাইছে না রিয়াল।

    মার্কার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ভিনিসিয়ুসের প্রতিনিধিদের রিয়াল জানিয়েছে, বর্তমান প্রস্তাবের বাইরে আর কোনো বেতন বৃদ্ধি বা নতুন করে আলোচনার সুযোগ নেই। ক্লাবের বার্তা পরিষ্কার—ভিনিসিয়ুস প্রস্তাব গ্রহণ করলে চুক্তি নবায়ন হবে। সেটা না হলে ভিনিসিয়ুসকে ধরে রাখতে আগ্রহী নয় রিয়াল। ভবিষ্যতে বিনা ট্রান্সফার ফিতে হারানোর ঝুঁকি এড়াতেই এই পথে হাঁটতে চায় চ্যাম্পিয়নস লিগের রেকর্ড শিরোপাজয়ীরা।

    কড়া অবস্থান নিলেও রিয়াল এখনো ভিনিসিয়ুসকে নিজেদের প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবেই বিবেচনা করছে। গত কয়েক মৌসুমে তাঁর অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে উল্লেখযোগ্য আর্থিক উন্নতির প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বেতন কাঠামোর ক্ষেত্রে নিজেদের নীতি থেকে একচুলও সরে আসতে রাজি নয় রিয়াল। ক্লাবের অবস্থান, কোনো খেলোয়াড়ের জন্যই দলের নির্ধারিত বেতন কাঠামো ভাঙা হবে না, তিনি যত বড় তারকাই হোন না কেন।

    রিয়ালের ডাগআউটে ফেরার পর দলবদলে পরিবর্তনের হাওয়া এনেছেন জোসে মরিনিয়ো। ভিনিসিয়ুস থেকে গেলেও তাই একাদশে আগের মতো নিয়মিত হতে পারবেন কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। দুই উইংয়েই খেলতে সক্ষম দিয়োমান্দের সম্ভাব্য আগমন মরিনিয়োর জন্য ভালো বিকল্প হবেন। যেটা ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারের ওপর নির্ভরতা অনেকটা কমিয়ে দেবে। এসব বিবেচনায় ভবিষ্যত নিয়ে এখন এক কঠিন সিদ্ধান্তই নিতে হচ্ছে ভিনিসিয়ুসকে।

  • ‘আমি দলে জায়গা পাইনি’ চিরকুট লিখে ভারতীয় নারী ক্রিকেটারের আত্মহত্যা

    ‘আমি দলে জায়গা পাইনি’ চিরকুট লিখে ভারতীয় নারী ক্রিকেটারের আত্মহত্যা

    ভারতে দলে সুযোগ না পেয়ে আত্মহত্যা করেছেন এক নারী ক্রিকেটার। ভারতের নাগপুরে এই ঘটনাটি ঘটেছে।

    বিদর্ভ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের দলে সুযোগ না পেয়ে ১৭ বছর বয়সী এই নারী ক্রিকেটার আত্মহত্যা করেছেন বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা। ইন্ডিয়া টুডে, টাইমস অব ইন্ডিয়াসহ বেশ কয়েকটি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এই খবর দিয়েছে।

    টাইমস অব ইন্ডিয়া তাদের প্রতিবেদনে লিখেছে, মেয়েটির নাম অদিতি চৌখান্ডে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত তরুণীর বাড়ি মহারাষ্ট্রের আকোলায়। ভালো মানের ক্রিকেট প্রশিক্ষণের জন্য দুই বছর ধরে তাঁর মায়ের সঙ্গে নাগপুরে বসবাস করছিলেন। সেখানে একটি ক্রিকেট একাডেমিতে নিয়মিত অনুশীলন করতেন তিনি। তাঁর ভাইও একজন পেশাদার ক্রিকেটার।

    গত বুধবার সকাল সাড়ে ৫টার দিকে নাগপুরের লক্ষ্মীনগর এলাকার একটি বাসা থেকে ওই তরুণীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

    ঘটনাস্থল থেকে একটি হাতে লেখা চিঠি উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। সেখানে লেখা ছিল, ‘আমি দলে জায়গা পাইনি’। চিঠি থেকে পুলিশের ধারণা, দলে সুযোগ না পাওয়ার হতাশাই এই ঘটনার নেপথ্যে কাজ করেছে।

    পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, সম্প্রতি বিদর্ভের দলে নাম না থাকায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন এই ক্রিকেটার। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও সার্বিক পরিস্থিতি চূড়ান্ত তদন্তের পর জানা যাবে।

    খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক সুরতহাল শেষে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে।

  • বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কিনলেন বিরাট-আনুশকা, কী আছে এতে

    বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কিনলেন বিরাট-আনুশকা, কী আছে এতে

    ভারতের তারকা দম্পতি বিরাট কোহলি ও আনুশকা শর্মা আবারও রিয়েল এস্টেটে বড় বিনিয়োগ করেছেন। মুম্বাইয়ের ভারসোভা এলাকায় একটি বিলাসবহুল আবাসনে প্রায় ১৮ কোটি ২৯ লাখ রুপি মূল্যের নতুন ফ্ল্যাট কিনেছেন তারা।

    ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নতুন ফ্ল্যাটটির আয়তন ২ হাজার ৬৪৪ বর্গফুট। বহুতল ভবনের ওপরের দিকের একটি তলায় অবস্থিত এই ফ্ল্যাটের সঙ্গে রয়েছে অতিরিক্ত ৩১৬ বর্গফুট ব্যবহারযোগ্য জায়গা। এছাড়া তিনটি গাড়ি রাখার জন্য নির্দিষ্ট পার্কিং সুবিধাও রয়েছে।

    এর আগে ২০১৬ সালে মুম্বাইয়ের ওরলি এলাকার সমুদ্রঘেঁষা একটি আবাসনের ৩৫তম তলায় ৭ হাজার ১৭১ বর্গফুটের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট প্রায় ৩৪ কোটি রুপিতে বুক করেছিলেন বিরাট। চার শয়নকক্ষের সেই ফ্ল্যাটের বুকিং পরে বাতিল করা হয়। ফলে চুক্তিটি বাস্তবায়িত হয়নি।

    নতুন এই ফ্ল্যাটের মাধ্যমে বিরাট-আনুশকার সম্পত্তির তালিকায় আরও একটি সংযোজন হলো। এরই মধ্যে মুম্বাই, গুরুগাঁও ও আলিবাগে তাদের একাধিক বিলাসবহুল বাড়ি ও জমি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ করে আসছেন এই তারকা দম্পতি।

    পশ্চিম দিল্লিতে বেড়ে ওঠা বিরাটের গুরুগ্রামের ডিএলএফ ফেজ-১ এলাকায় প্রায় ১০ হাজার বর্গফুটের একটি বিলাসবহুল বাড়িও রয়েছে। শহরের অন্যতম অভিজাত এলাকায় অবস্থিত বাড়িটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৮০ কোটি রুপি। সেখানে ব্যক্তিগত সুইমিং পুল, আধুনিক জিমসহ নানা সুযোগ-সুবিধা রয়েছে।

    ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে আলিবাগের আওয়াস সমুদ্রসৈকতের কাছে জিরাড গ্রামে পাঁচ একরের বেশি জমি কেনেন বিরাট ও আনুশকা। জমিটির মূল্য ছিল প্রায় ৩৭ কোটি ৮৬ লাখ রুপি।

    এর আগে ২০২২ সালে আলিবাগেই প্রায় আট একর জমি ১৯ কোটি রুপিতে কিনেছিলেন তারা। পরে সেখানে একটি বিলাসবহুল ভিলা নির্মাণ করেন। সেই ভিলায় রয়েছে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত সুইমিং পুল, বিশেষ নকশার রান্নাঘর, চারটি বাথরুম, জাকুজি, বড় ল্যান্ডস্কেপ বাগান, ছাউনি দেওয়া পার্কিং এবং কর্মীদের থাকার জন্য আলাদা ব্যবস্থা।

  • বিশ্বকাপ বর্জনের সিদ্ধান্ত ইউরোপের ৫৫ দেশের

    বিশ্বকাপ বর্জনের সিদ্ধান্ত ইউরোপের ৫৫ দেশের

    ফিফার বাণিজ্যিক কাঠামোয় বেসরকারি বিনিয়োগ আনার পরিকল্পনার প্রতিবাদে বিশ্বকাপ বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপের ৫৫টি ফুটবল ফেডারেশন। বৃহস্পতিবার উয়েফার সদস্য দেশগুলোর এক ভার্চ্যুয়াল সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি ও দ্য অ্যাথলেটিকসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

    ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সম্প্রতি ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামে একটি নতুন প্রতিষ্ঠান গঠনের প্রস্তাব দেন। এই প্রতিষ্ঠানের অধীনে ফিফার বাণিজ্যিক স্বত্ব ও টুর্নামেন্ট পরিচালনার কার্যক্রম একীভূত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রায় ২ হাজার কোটি মার্কিন ডলার মূল্যায়নের ওই প্রতিষ্ঠানের একটি অংশের শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে প্রায় ৪২০ কোটি ডলার সংগ্রহ করতে চায় ফিফা। সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের তালিকায় জশুয়া কুশনারের প্রতিষ্ঠান থ্রাইভ ইটারনাল এর নামও এসেছে।

    শুরু থেকেই এ পরিকল্পনার বিরোধিতা করে আসছে উয়েফা। ইউরোপীয় ফুটলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির দাবি, ফুটবলের পরিচালনা ও ঐতিহ্যকে বাণিজ্যিক পণ্যে পরিণত করা উচিত নয়। তাদের মতে, ফুটবলের মূল কাঠামো ও নিয়ন্ত্রণ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ খেলাটির স্বার্থের পরিপন্থী।

    এই অবস্থান থেকেই বৃহস্পতিবারের সভায় উয়েফার ৫৫ সদস্য দেশ আসন্ন বিশ্বকাপ বর্জনের পক্ষে ভোট দেয়।

    বর্তমান সূচি অনুযায়ী, আগামী গ্রীষ্মে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা নারী বিশ্বকাপ। এরপর ২০৩০ সালে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কোর যৌথ আয়োজনে বসবে পুরুষদের বিশ্বকাপ। উয়েফার এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে দুটি আসরই বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে।

    তবে ফিফার প্রস্তাব এখনো সদস্য দেশগুলোর অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপ বর্জনের হুমকি দিয়ে ফিফার ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে চায় উয়েফা। এর ফলে প্রস্তাবটি নিয়ে দুই পক্ষের আলোচনায় নতুন মোড় আসতে পারে।

  • গাংনীতে ফুটবল খেলতে গিয়ে কিশোরের মৃত্যু

    গাংনীতে ফুটবল খেলতে গিয়ে কিশোরের মৃত্যু

    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার আজান ফুটবল মাঠে ফুটবল খেলার সময় রাব্বি আহমেদ (১৬) নামে এক কিশোর মারা গেছে।
    আজ বৃহস্পতিবার বিকালে গাংনী উপজেলার আজান ও সদর উপজেলার বুঁড়িপোতা গ্রামের কিশোরদের মধ্যে প্রীতি ফুটবল খেলার সময় এঘটনা ঘটে।
    রাব্বি আহমেদ মেহেরপুর সদর উপজেলার বুড়িপোঁতা গ্রামের মালেশিয়া প্রবাসি মিজার উদ্দিনের ছেলে।
    তার সতির্থ খেলোয়াড় রাব্বি হোসেন ও রাকিবুল ইসলাম বলেন, খেলার সময় হঠাৎ সে খেলার মাঠে বসে পড়ে। পরে তার বুকে যন্ত্রণা শুরু হয়। তাকে উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নাহিদ হোসেন তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন।
    গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি বিভাগে কর্মরত চিকিৎসক নাহিদ হোসেন বলেন, হাসপাতালে আনার আগে সে মারা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে হার্ট অ্যাটার্ক্টে মারা গেছে।
    গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মূর্শেদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌছেছে।

  • ‘মেসিই সর্বকালের সেরা’, বললেন পিকে

    ‘মেসিই সর্বকালের সেরা’, বললেন পিকে

    ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত প্রতিদ্বন্দ্বিতাগুলোর একটি লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর লড়াই। প্রায় দুই দশক ধরে বিশ্ব ফুটবলকে শাসন করা এই দুই মহাতারকার দ্বৈরথকে এবার ফুটবলের সেরা অধ্যায়গুলোর একটি বলে অভিহিত করেছেন স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী সাবেক ডিফেন্ডার জেরার্ড পিকে।

    ২০১০ বিশ্বকাপজয়ী এই স্প্যানিশ তারকা মনে করেন, মেসি ও রোনালদোর অসাধারণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা আধুনিক ফুটবলকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। ক্যারিয়ারের শেষভাগে এসেও দুই তারকার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পারফর্ম করার সক্ষমতা তাকে মুগ্ধ করেছে।

    কিংস লিগের এক অনুষ্ঠানে ইএসপিএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পিকে বলেন, ‘গত ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে মেসি ও রোনালদো সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের ফুটবল দক্ষতা দিয়ে অবিশ্বাস্য এক প্রতিদ্বন্দ্বিতা উপহার দিয়েছেন। এখন তারা ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তারপরও এই বিশ্বকাপে আমরা দেখেছি, তারা এখনও বড় মঞ্চে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখানোর ক্ষমতা রাখে।’

    ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই মেসি ও রোনালদোর শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে বিতর্ক চলে আসছে। মেসি তার অসাধারণ বল নিয়ন্ত্রণ, সৃজনশীলতা ও ক্ষুদ্র পরিসরে ড্রিবলিং দক্ষতার জন্য পরিচিত। অন্যদিকে রোনালদো গতি, শারীরিক শক্তি, নিখুঁত ফিনিশিং ও গোল করার দুর্দান্ত সামর্থ্যের মাধ্যমে নিজেকে ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলদাতায় পরিণত করেছেন।

    এই ভিন্নধর্মী দুই ফুটবল দর্শনই প্রায় দুই দশক ধরে বিশ্ব ফুটবলে এক অনন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্ম দিয়েছে। নিজেদের স্বতন্ত্র দক্ষতা ও ধারাবাহিক সাফল্যের মাধ্যমে তারা ফুটবলে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছেন এবং শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের ভিন্ন ভিন্ন পথও দেখিয়েছেন।

    তবে পিকের কাছে সর্বকালের সেরা ফুটবলার একজনই—লিওনেল মেসি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, এই বিশ্বকাপেও মেসি আবার প্রমাণ করেছে যে ফুটবল ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড় সে-ই।’

    যদিও এবারের বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা শিরোপা জিততে পারেনি, তবুও পুরো টুর্নামেন্টে মেসির পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো। তিনি আটটি গোল করেছেন, চারটি গোলে সহায়তা করেছেন এবং দলের আটটি ম্যাচেই মাঠে নেমেছেন।

    মেসির অবদান নিয়ে পিকে বলেন, ‘সে অনেক গোল করেছে এবং দলকে আরেকটি বিশ্বকাপ ফাইনালে তুলেছে। শেষ পর্যন্ত ট্রফি জিততে না পারলেও, তার অর্জন নিঃসন্দেহে গর্ব করার মতো।’

  • শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চালু হবে ট্যালেন্ট হান্ট স্কিম: শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চালু হবে ট্যালেন্ট হান্ট স্কিম: শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্রীড়া ক্ষেত্রে সুদৃঢ় অবস্থান তৈরি করা আমাদের অঙ্গীকারের মধ্যে রয়েছে। সেই লক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ট্যালেন্ট হান্ট স্কিম চালু হবে। সুপ্ত প্রতিভাদের বিকাশের পথ উন্মুক্ত করা আমাদের লক্ষ্য। নারী ক্রীড়াবিদের নিরাপত্তা ও সুযোগ বৃদ্ধি করা হবে। স্পোর্টস ইকোনমি সম্প্রসারণ করা; আনন্দময় শিক্ষা নিশ্চিত করা; যুব সমাজকে খেলাধুলা মাধ্যমে সুস্থ ও দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করা হবে।

    বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, চট্টগ্রাম থেকে একই দিনে একই সময়ে দেশের সব উপজেলায় এই টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করা হবে। তবে চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতি ও প্রস্তুতির কারণে পূর্বনির্ধারিত ৯ আগস্টের পরিবর্তে আগামী ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর উদ্বোধনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এই প্রতিযোগিতায় মাদরাসা এবং স্কুল কলেজের ছাত্রীদের অংশগ্রহণ অপশনাল বা ঐচ্ছিক। ইচ্ছে করলে জয়েন করতে পারেন আবার নাও করতে পারেন। এটা ঐচ্ছিক বিষয়ে আমরা রেখেছি।

    বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে কিছু অঙ্গীকার রয়েছে শিক্ষায়। প্রথমত তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলা সম্প্রসারণ। খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাও আমাদের ইশতেহারের একটি অঙ্গীকার।

    ড. মিলন জানান, দেশের প্রায় এক কোটি ৬০ লাখ শিক্ষার্থী এই আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হবে। দেশের ১৯ হাজার ২২১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১ হাজার ৯৫৬টি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ৩ হাজার ৩৮০টি কলেজ, ৯ হাজার ২৯৬টি মাদরাসা এবং ৬৭৮টি কারিগরি প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীরা অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে।এসময় ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনসহ বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্যরা, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভুবন ভোলানো হাসিতে মন জয় করা সেই তাহসিনের সাক্ষাৎ

    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভুবন ভোলানো হাসিতে মন জয় করা সেই তাহসিনের সাক্ষাৎ

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে সেই তাহসিন, যে কিনা বড় বোন হারিয়ে হাসতে ভুলে গিয়েছিল। আজ বুধবার (২৯ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাবা নাজমুল হককে নিয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে।

    প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব গাজী শাহরিয়ার পামির এ কথা জানান।

    রাজধানীর বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে গত ২৭ জুলাই অনুষ্ঠিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২৬’-এর সমাপনী আয়োজনে একটি ছবি মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। হাজারো শিশুর ভিড়ে স্কুলড্রেস পরা এক কিশোরের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিকে বাড়িয়ে দেওয়া দু’হাত আর চোখেমুখে উচ্ছ্বসিত হাসি স্পর্শ করে অসংখ্য মানুষের হৃদয়। সেই কিশোরের নাম তাহসিন আব্দুল্লাহ।কিন্তু ছবির হাসির আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক গভীর বেদনার গল্প।

    উত্তরার মাইলস্টোন স্কুলে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় তাহসিন হারিয়েছিল তার সবচেয়ে প্রিয় মানুষ, বড় বোন তাসনিয়াকে। একই স্কুলে পড়লেও সেদিন তারা ছিল আলাদা ভবনে। তাহসিন তখন ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী, আর তাসনিয়া পড়ত অষ্টম শ্রেণিতে। যুদ্ধবিমানটি আছড়ে পড়ে তাসনিয়াদের স্কুল ভবনে।

    বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনে ছোট্ট তাহসিন দৌড়ে যায় বড় বোনকে খুঁজতে। কারও কাছ থেকে শুনেছিল স্যালাইন ও পানির প্রয়োজন। বড় বোনের জন্য ছোট্ট দুই হাতে স্যালাইন ও পানির বোতল নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল তাহসিন। কিন্তু সেই অপেক্ষার আর অবসান হয়নি।

    পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, সেই দুর্ঘটনার পর বদলে যায় তাহসিন। এক হিলিং সেশনে সে কাগজে লিখেছিল, ‘আমার কষ্ট অনেক। আমি আমার প্রিয় বোনকে হারিয়ে ফেলেছি। সে মারা গেছে। ওকে আমি অনেক অনেক মিস করি, ও আমার বেস্ট ফ্রেন্ড।’

    বোনকে হারানোর পর থেকে তাহসিনের মুখে আগের মতো প্রাণখোলা হাসি আর দেখা যেতো না।বর্তমানে সে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ছে। পরিবারে তার নার্সারিতে পড়ুয়া আরও একটি ছোট বোন রয়েছে।

    গত ২৭ জুলাই বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামের অনুষ্ঠানে যেনো দেখা মিলল অন্য এক তাহসিনের। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যখন মাঠ প্রদক্ষিণ করছিলেন, তখন তাঁর কাছাকাছি আসার মুহূর্তে আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে শিশুটি। সেই নির্মল হাসি আর উচ্ছ্বাস ক্যামেরাবন্দি হয়। পরে ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং অসংখ্য মানুষ তাহসিনের হাসির সঙ্গে নিজেদের অনুভূতি মিলিয়ে নেন।

    পরবর্তীকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানতে পারেন, ছবির সেই হাসিমাখা মুখটির পেছনে রয়েছে এক হৃদয়বিদারক পারিবারিক ইতিহাস। বিষয়টি জানার পর তিনি তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে তাহসিন ও তার পরিবারের খোঁজখবর নেওয়ার নির্দেশ দেন।

    প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব জানান, সেই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তাহসিনের সাক্ষাৎ হয়।

    সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তাহসিনের পড়াশোনার খোঁজখবর নেন এবং বড় হয়ে কী হতে চায়, তা জানতে চান। তাহসিন জানায়, সে বড় হয়ে একজন সফল ব্যবসায়ী হতে চায়। এছাড়া এমন কিছু করতে চায়, যার মাধ্যমে মানুষের উপকার এবং যার প্রতি মানুষ আকৃষ্ট হবে।

    প্রধানমন্ত্রী তাহসিনের এই স্বপ্নের প্রশংসা করেন। পাশাপাশি ছোট্ট তাহসিনকে মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া, নিয়মিত খেলাধুলা এবং নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

    আলাপচারিতায় তাহসিন জানায়, তার শখ ফুটবল খেলা। প্রধানমন্ত্রী নিজের স্বাক্ষর করা একটি বাস্কেটবল এবং ড্রোনসেট উপহার হিসেবে তুলে দেন তাহসিনের হাতে।

    সাক্ষাৎ শেষে উচ্ছ্বসিত তাহসিন জানায়, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আবারও দেখা করতে পেরে সে খুবই আনন্দিত। এমন একটি সুযোগ পাবে, তা সে কল্পনাও করেনি। পুরো বিষয়টিই তার কাছে ছিল একেবারে সারপ্রাইজ। সে বলে, স্কুলে গিয়ে বন্ধুদের কাছে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা হওয়ার গল্প শোনানোর জন্য সে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।

    মাইলস্টোনের যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় সন্তান হারানো তাহসিনের বাবার প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

  • আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন নেইমার

    আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন নেইমার

    ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার জুনিয়র আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ব্রাজিলের স্বপ্নভঙ্গের পর এবার আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় দলের জার্সি তুলে রাখার ঘোষণা দিয়েছেন ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা ফরোয়ার্ড।

    মঙ্গলবার(২৮ জুলাই) কোপা সুদামেরিকানায় ভেনেজুয়েলার ক্লাব ইউনিভার্সিদাদ সেন্ট্রালের বিপক্ষে সান্তোসের ৪-২ গোলের জয়ের পর নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার বিষয়টি নিশ্চিত করেন নেইমার।

    জাতীয় দলকে বিদায় জানিয়ে নেইমার বলেন, জাতীয় দলের সঙ্গে আমার পথচলা শেষ। আমি ইতিহাস গড়েছি, অনেক ভালো মুহূর্ত পেয়েছি। হলুদ জার্সির জন্য নিজের রক্ত, জীবন সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি। কিন্তু এখন আর চালিয়ে যেতে চাই না।

    ২০১০ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে ব্রাজিলের সিনিয়র দলে অভিষেক হয় নেইমারের। দীর্ঘ ১৬ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তিনি ১৩০ ম্যাচে ৮০ গোল ও ৫৯টি অ্যাসিস্ট করে ব্রাজিলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে জায়গা করে নেন।

    তবে ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি বিশ্বকাপ কিংবা কোপা আমেরিকার শিরোপা জয়ের স্বপ্ন পূরণ হয়নি তার। ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের বিদায়ের পর থেকেই তার অবসর নিয়ে জোর গুঞ্জন শুরু হয়। শেষ ম্যাচ শেষে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন নেইমার। শেষ পর্যন্ত সেই ম্যাচটিই হয়ে থাকল তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়।

    জাতীয় দলকে বিদায় জানানোর পর এখন ক্লাব ফুটবলে মনোযোগ দিচ্ছেন নেইমার। ইউনিভার্সিদাদ সেন্ট্রালের বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে সান্তোসের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। এই জয়ে কোপা সুদামেরিকানার শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে সান্তোস, যেখানে তাদের পরবর্তী প্রতিপক্ষ ইকুয়েডরের মাকারা।

    এদিকে সম্প্রতি তরুণ সতীর্থদের অপমান করেছেন এমন গুঞ্জনও নাকচ করে দিয়েছেন নেইমার। তিনি জানান, ম্যাচ শেষে অধিনায়ক হিসেবে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা করেছিলেন। কিন্তু সেই বিষয়টিকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে সংবাদমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর খবর প্রকাশ করা হয়েছে। সূত্র: গোল ডট কম

  • রোদ্রিকে দলে নিতে প্রস্তুত রিয়াল মাদ্রিদ

    রোদ্রিকে দলে নিতে প্রস্তুত রিয়াল মাদ্রিদ

    রিয়াল মাদ্রিদ তাদের মিডফিল্ড শক্তিশালী করতে রোদ্রিকে দলে ভেড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ইয়ান দিওমান্দের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর ম্যানচেস্টার সিটির এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডারের জন্য আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে ক্লাবটির।

    স্প্যানিশ সংবাদপত্র ‘মার্কা’–এর দাবি, রিয়াল সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেস ৩০ বছর বয়সী রোদ্রিকে দলে নেওয়ার পরিকল্পনায় এরই মধ্যেই সবুজ সংকেত দিয়েছেন।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিয়ালের প্রধান কোচ হোসে মরিনহো প্রথমে মিডফিল্ড শক্তিশালী করতে এনসো ফের্নান্দেস এবং মাতেউস ফের্নান্দেস সহ আরও কয়েকটি বিকল্প বিবেচনা করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত রোদ্রিকেই প্রধান লক্ষ্য হিসেবে বেছে নেন তিনি। ২০২৬ বিশ্বকাপে রোদ্রির দুর্দান্ত পারফরম্যান্স এবং গোল্ডেন বল জেতা এই সিদ্ধান্তকে আরও দৃঢ় করেছে বলে জানিয়েছে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম।

    রোদ্রির সঙ্গে ম্যানচেস্টার সিটির বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত। তবে তিনি চুক্তি নবায়ন করতে আগ্রহী নন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ৫ থেকে ৬ কোটি ইউরোর বিনিময়ে এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডারকে দলে ভেড়ানো সম্ভব হবে বলে বিশ্বাস করছে রিয়াল মাদ্রিদ।

  • নাম বদলাতে বাধ্য হচ্ছেন বিশ্বকাপ কাঁপানো ‘ভোজিনহা’

    নাম বদলাতে বাধ্য হচ্ছেন বিশ্বকাপ কাঁপানো ‘ভোজিনহা’

    ২০২৬ বিশ্বকাপে চোখধাঁধানো পারফরম্যান্স করে ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ‘ভোজিনহা’। বিশ্বকাপের সেই পারফরম্যান্সে ফ্রি এজেন্ট হিসেবে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন চিলির ঐতিহ্যবাহী ক্লাব কলো-কলোতে। তবে নতুন ক্লাবে নিজের পরিচিত ডাকনামটি জার্সিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তিনি।। চিলির প্রিমেরা ডিভিশনের কঠোর নিয়মের কারণে চিলিয়ান ক্লাবে খেলার জন্য এখন নাম বদলাতে বাধ্য হচ্ছেন এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক।

    চিলিয়ান প্রিমেরা ডিভিশনের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ফুটবলার নিজের জার্সির পেছনে কোনো ধরনের ‘ডাকনাম’ ব্যবহার করতে পারবেন না। এই নিয়ম অমান্য করে কোনো খেলোয়াড় মাঠে নামলে সরাসরি হলুদ কার্ড দেখবেন এবং সংশ্লিষ্ট ক্লাবকে গুনতে হবে মোটা অঙ্কের জরিমানা। তাই কলো-কলোর হয়ে খেলতে হলে ভোজিনহাকে নিজের আসল নাম বা পারিবারিক পদবি ব্যবহার করতে হবে।

    ফুটবলপ্রেমীদের কাছে ভোজিনহা নামেই পরিচিত এই গোলরক্ষকের পুরো নাম জোসিমার হোসে এভোরা দিয়াস। চিলিয়ান লিগের নিয়মে পরিবর্তন না এলে আগামী মৌসুমে তার জার্সিতে ‘এভোরা’, ‘দিয়াস’ অথবা ‘এভোরা দিয়াস’ লেখা থাকবে। একমাত্র চিলিয়ান লিগের সব ক্লাবের মালিকদের সম্মতিক্রমে নিয়ম পরিবর্তন হলেই কেবল তিনি নিজের ভালোবাসার ‘ভোজিনহা’ নামটি পোশাকে ধরে রাখতে পারবেন, যা হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

    শুধু নামই নয়, জার্সি নম্বরেও পরিবর্তন আনতে হতে পারে ভোজিনহাকে। কলো-কলোর ১ নম্বর জার্সিটি বর্তমানে গোলরক্ষক ফার্নান্দো দে পলের দখলে রয়েছে। ফলে নতুন মৌসুমে ভোজিনহাকে সম্ভবত ১৬ নম্বর জার্সি পরতে হতে পারে।

  • ২০৩০ সাল পর্যন্ত ফ্রান্সের কোচ জিদান

    ২০৩০ সাল পর্যন্ত ফ্রান্সের কোচ জিদান

    দিদিয়ে দেশমের দীর্ঘ ১৪ বছরের পথচলার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ফরাসি ফুটবলের মহানায়ক জিনেদিন জিদানকেই কোচ হিসেবে নিয়োগ দিল ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন (এফএফএফ)। রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়ার পর বহু চড়াই-উতরাই ও দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে নিজের আজন্ম লালিত স্বপ্নের চেয়ারে বসলেন এই ফরাসি কিংবদন্তি। এফএফএফ অফিশিয়ালি বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

    জিদানের সঙ্গে ২০৩০ সাল পর্যন্ত চুক্তি করেছে ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন। এর ফলে ইউরো ২০২৮ এবং ২০৩০ ফিফা বিশ্বকাপে লে ব্লুদের ডাগআউটে দেখা যাবে সাবেক এই বিশ্বজয়ীকে।

    জিদানকে কোচ হিসেবে ঘোষণা করার পর এফএফএফ সভাপতি ফিলিপ দিয়ালো একে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘এটি এক অসাধারণ ও অবিস্মরণীয় মুহূর্ত। দীর্ঘ ১৪ বছর পর ফেডারেশন নতুন কোনো প্রধান কোচ নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ পেল। আমি দেশমের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ধন্যবাদ জানাতে চাই। দীর্ঘ ১৪টি বছর তিনি ফরাসি ফুটবলকে বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষ চূড়ায় ধরে রেখেছিলেন। মাঠের ফুটবলে লে ব্লুদের ভাবমূর্তি তিনি অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তার অবদানকে যথাযথ সম্মান জানানো অত্যন্ত জরুরি।’

    প্যারিসের এই নতুন অধ্যায় নিয়ে উচ্ছ্বাস আর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি জিদানও। দায়িত্ব পেয়ে নিজের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এটি আমার জন্য এক অসীম আনন্দের মুহূর্ত। আমি সত্যিই ভীষণ আনন্দিত ও শিহরিত। এই নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে আমি পুরোপুরি প্রস্তুত এবং এটি আমাকে ভীষণভাবে অনুপ্রাণিত করছে।’

    রিয়াল মাদ্রিদে অভূতপূর্ব সাফল্যের পর বিভিন্ন নামি ক্লাবের প্রস্তাব ফেরালেও জিদানের পাখির চোখ ছিল কেবলই ফ্রান্স দলের ওপর। নিজের পুরোনো স্মৃতি ও ফ্রান্স জাতীয় দলের প্রতি ভালোবাসার কথা স্মরণ করে জিদান আরও বলেন, ‘রিয়াল মাদ্রিদে কোচিং পর্ব শেষ করার পর ফ্রান্স জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়াই ছিল আমার একমাত্র ইচ্ছা। আমি অন্য সব ক্লাবের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছি শুধু ফরাসি জাতীয় দলের কোচ হওয়ার জন্য। শৈশব থেকেই এই লালিত স্বপ্নের কথা আমি জানি; ফরাসি যুব দল থেকে শুরু করে প্রতিটি ধাপ পেরিয়ে একসময় মূল জাতীয় দলে খেলেছি, যা একজন ফুটবলারের ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ চূড়া। এই দলের জন্য কাজ করা এবং তাদের একের পর এক জয় সুনিশ্চিত করা-এটিই এখন আমার একমাত্র অনুপ্রেরণা।’

    খেলোয়াড় হিসেবে দেশের হয়ে ১৯৯৮ বিশ্বকাপ ও ২০০০ ইউরোজয়ী জিদান কোচিং ক্যারিয়ারেও রিয়াল মাদ্রিদকে টানা তিনটি চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতিয়ে ইতিহাসে নাম লিখিয়েছেন। দেশমের বিদায়ের পর ডাগআউটে জিদানের মতো ব্যক্তিত্বের আগমন ফরাসি ফুটবলে এক নতুন সূর্যোদয়ের বার্তা দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, খেলোয়াড় ও ক্লাব কোচের সাফল্য তিনি ফরাসি ডাগআউটে কতটা ধরে রাখতে পারেন।

  • বার্সেলোনায় যেতে মরিয়া আলভারেজ, আতলেতিকোর ওপর ক্ষুব্ধ

    বার্সেলোনায় যেতে মরিয়া আলভারেজ, আতলেতিকোর ওপর ক্ষুব্ধ

    বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা আরও স্পষ্ট করেছেন হুলিয়ান আলভারেজ। আতলেতিকো মাদ্রিদের সঙ্গে চলমান টানাপোড়েনের মধ্যে ক্লাব ছাড়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে প্রকাশ্যে নিজের অবস্থান জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন আর্জেন্টাইন এই ফরোয়ার্ড। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম স্পোর্ট জানিয়েছে, আগস্টের শুরুতেই নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারেন তিনি।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলভারেজের দাবি, আতলেতিকো কর্তৃপক্ষ তাকে আশ্বাস দিয়েছিল যে কোনো বড় ক্লাব থেকে উপযুক্ত প্রস্তাব এলে তারা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবে। তবে বার্সেলোনা ১০০ মিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাব দেওয়ার পরও সেটি নিয়ে আলোচনায় বসেনি মাদ্রিদের ক্লাবটি। এতে ক্লাবের অবস্থানে অসন্তুষ্ট আলভারেজ।

    ২০৩১ সাল পর্যন্ত আতলেতিকোর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ এই ফরোয়ার্ডের বাই-আউট ক্লজ ৫০০ মিলিয়ন ইউরো। ক্লাবটি নিজেদের অবস্থান থেকে সরে না আসায় দলবদল প্রক্রিয়া আপাতত অচলাবস্থায় রয়েছে। স্পোর্ট-এর দাবি, পরিস্থিতি বদলাতে এবার নিজেই প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার কথা ভাবছেন আলভারেজ।

    বিশ্বকাপ চলাকালীনই ভবিষ্যৎ নিয়ে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন আলভারেজ। তিনি বলেছিলেন, ‘ক্লাব কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আমি মনে করি, এই মুহূর্তে দলবদল সবার জন্যই ভালো হবে এবং আমি আমার স্বপ্ন পূরণ করতে চাই।’

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, আপাতত অন্য কোনো ক্লাবে যাওয়ার বিষয়ে আগ্রহী নন তিনি। আর্সেনালের আগ্রহের গুঞ্জন থাকলেও সেটি আর এগোয়নি। অন্যদিকে বার্সেলোনার কোচিং স্টাফ আলভারেজকে আক্রমণভাগের জন্য আদর্শ সংযোজন হিসেবে বিবেচনা করছে। তবে বার্সা কেবল তখনই নতুন কোনো পদক্ষেপ নেবে, যখন আলভারেজ নিজেই আতলেতিকোর বরফ গলাতে সক্ষম হবেন।

    আগামী ১০ আগস্ট দিয়েগো সিমিওনের অধীনে আতলেতিকোর প্রাক-মৌসুম অনুশীলন শুরু হওয়ার কথা। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, তার আগেই নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত অবস্থান পরিষ্কার করতে পারেন আলভারেজ।

  • ফুলহামের মূল দলে অভিষেক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফারহানের

    ফুলহামের মূল দলে অভিষেক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফারহানের

    প্রিমিয়ার লিগে খেলা বাংলাদেশের একমাত্র ফুটবলার কে? উত্তরটা সবারই কমবেশি জানা—হামজা চৌধুরী। হামজার পথ ধরে সামনের মৌসুমে আরও একজন বাংলাদেশি নাম লেখাতে পারেন। ফারহান আলী ওয়াহিদের বাংলাদেশের হয়ে এখনো অভিষেক হয়নি, তবে ক্লাব ক্যারিয়ারে আজ তাঁর দিনটি ছিল স্মরণীয়। নরউইচের বিপক্ষে আজ প্রাক্‌–মৌসুম প্রস্তুতি ম্যাচে ফুলহামের মূল দলের অভিষেক হয়েছে এই উইঙ্গারের।

    ফুলহামের মূল দলের হয়ে নরউইচের বিপক্ষে ম্যাচে ৪৬ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন ফারহান। যদিও গোল বা অ্যাসিস্ট করতে পারেননি, ম্যাচটাও ২-০ গোলে হেরে গেছে তাঁর দল। তবে স্প্যানিশ কোচ আলভারো আরবেলোয়ার অধীনে মূল দলে অভিষেকটা তাঁর জন্য স্বপ্নপূরণের মতোই। রুদ্ধদ্বার বলে ম্যাচটি কোথাও দেখানো হয়নি, ফারহান কেমন খেলেছেন তা বলার উপায় নেই। তবে ফুলহামের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ফারহানের একটি বাঁকানো শট গোলকিপারের পরীক্ষা নিয়েছে।

    ২০০৬ সালের ৯ ডিসেম্বর ইংল্যান্ডে জন্ম ফারহানের। বাবা-মা দুজনই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত, সিলেটি শিকড়ের—যদিও তাঁরা নিজেরাও জন্মেছেন যুক্তরাজ্যে। লন্ডনের রাস্তায় বেড়ে ওঠা একটা ছেলে, ফুটবলের প্রথম পাঠ নিয়েছিলেন চেলসির একাডেমিতে। কিন্তু ২০১৯ সালে তিনি পাড়ি জমান পশ্চিম লন্ডনের আরেক ক্লাব ফুলহামে।


    এরপরের বছরগুলো ছিল ধাপে ধাপে ওঠার গল্প। অনূর্ধ্ব-১৮ দলে তাঁর অভিষেক হয় এফএ ইয়ুথ কাপে রচডেলের বিপক্ষে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে বদলি নেমে। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে ফুলহামের সঙ্গে স্কলারশিপ চুক্তি সই করেন, আর ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে অনূর্ধ্ব-২১ দলে অভিষেক হয়। বাঁ প্রান্তের এই উইঙ্গার তত দিনে চিনিয়ে ফেলেছেন নিজের খেলার ধরন—‘ওয়ান টু ওয়ান’ লড়াইয়ে ভয়ডরহীন, কাট করে শটে দক্ষ, গতির সঙ্গে টেকনিক্যাল দক্ষতার মিশেল।

    প্রিমিয়ার লিগ-২ মাসের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার হাতে ফারহান প্রিমিয়ার লিগ ওয়েবসাইট

    ২০২৫ সালে আসে বড় স্বীকৃতি—ফুলহামের সঙ্গে প্রথম পেশাদার চুক্তি। আর ২০২৫-২৬ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ টু-তে তাঁর ফর্ম রীতিমতো নজরকাড়া। নভেম্বরে জেতেন মাসসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার, মৌসুম শেষে জায়গা পান বর্ষসেরার সংক্ষিপ্ত তালিকায়।


    এর মধ্যে এই বছরের মে মাসে বাফুফে সহসভাপতি ফাহাদ করিম এক ভিডিও বার্তায় জানান, ফারহানকে জাতীয় দলে টানার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তাঁর এজেন্টের পক্ষ থেকে আগ্রহ প্রকাশ করে যোগাযোগ করা হয়েছিল ফেডারেশনের সঙ্গে, আর এরপর শুরু হয় বাংলাদেশি পাসপোর্টের কাগজপত্র তৈরির কাজ। সেপ্টেম্বরের আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে তাঁকে চায় বাংলাদেশ। তাঁকে এমনকি নভেম্বরের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের দলেও তাঁকে বিবেচনা করার কথা ভাবছে ফেডারেশন, এমনই জানিয়েছিলেন ফাহাদ করিম সেই ভিডিও বার্তায়।

  • ‘ভালো ফুটবলার, ভালো মানুষ’—এভাবেই বিশ্বকাপ জিতেছে স্পেন

    ‘ভালো ফুটবলার, ভালো মানুষ’—এভাবেই বিশ্বকাপ জিতেছে স্পেন

    বিশ্বকাপজয়ী দলের কথা উঠলে সাধারণত আলোচনায় আসে কৌশল, ফরমেশন কিংবা তারকা ফুটবলারদের পারফরম্যান্স। কিন্তু স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের কাছে বিশ্বকাপ জয়ের আরেকটি বড় সূত্র আছে। তাঁর ভাষায়, দলে শুধু ভালো ফুটবলার থাকলেই হয় না, ভালো মানুষও থাকতে হয়।

    বিশ্বকাপ জয়ের পর স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএস-কে দেওয়া দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে স্পেনের সাফল্যের নেপথ্যের দর্শন তুলে ধরেছেন ৬৫ বছর বয়সী এই কোচ। সেখানে তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, কীভাবে বছরের পর বছর ধরে একই ফুটবল-দর্শনে অবিচল থাকা, সঠিক খেলোয়াড় নির্বাচন এবং ড্রেসিংরুমের পরিবেশ ধরে রাখা স্পেনকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন করেছে।

    ভালো ফুটবলারের পাশাপাশি ভালো মানুষ কেন দরকার, সেই ব্যাখ্যায় ফুয়েন্তে বলেন, ‘আমরা বিশ্বকাপে একসঙ্গে ৫২ দিন কাটিয়েছি, অলিম্পিকে ৪৫ দিন এবং অনূর্ধ্ব-২১ দলের সঙ্গে ৪৩ দিন থেকেছি। ভালো মানসিকতার মানুষের সঙ্গে কাজ করতে চাওয়াটাই তো স্বাভাবিক। এতে দল পরিচালনা করাটা অনেক সহজ হয়।’

    ফুয়েন্তে জানান, স্পেনের দীর্ঘ সময়ের বিশ্বকাপ ক্যাম্পে একটি সমস্যাও হয়নি। এমনকি যাঁরা এক মিনিটও খেলেননি, তাঁরাও অসন্তোষ প্রকাশ করেননি, ‘বয়সভিত্তিক ফুটবলে বহু বছর কাজ করার কারণে তাদের বেশির ভাগ খেলোয়াড়কেই আমরা খুব ভালোভাবে চিনি। তারা আমাদের কাঁচামাল। আমরা জানি কারা মানসিকভাবে শক্ত, বা ক্যাম্পের ৫২ দিন এক মিনিটও খেলার সুযোগ না পেলেও কারা মুখ গোমড়া করে বসে থাকবে না।’

    ফুয়েন্তেকে জিজ্ঞাসা করা হয় ২০১০ সালের বিশ্বকাপজয়ী স্পেন দলের সঙ্গে এই দলের কী কী মিল তিনি দেখতে পান? এই স্পেনও কি সেই ‘টিকিটাকা’র ধারকবাহক কি না। জবাবে মূল মডেল একই আছে জানিয়ে স্পেন কোচ বলেন, ‘টিকিটাকার মতো বহুল প্রচলিত শব্দের আমার পছন্দ নয়। এটাকে আমার ‘কম্বিনেশন ফুটবল’ বলতে ভালো লাগে। মাঝেমধ্যে ‘টিকিটাকা’ শব্দটিকে কিছুটা নেতিবাচকভাবেও ব্যবহার করা হতো। তা সত্ত্বেও এই ফুটবল দর্শন স্প্যানিশ ফুটবলের রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে আছে, যার সূচনা হয় ক্লাব পর্যায়ে। জাতীয় দল কেবল এটিকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিচিতি দিয়েছে।’

    ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপ জিতেছে স্পেনএএফপি

    ফুয়েন্তের মতে এখনকার ফুটবলে শুধু বল দখলে রাখলেই সাফল্য সম্ভব নয়। একটি দল ৩০ শতাংশ বলের দখল রেখেও ৩-১ ব্যবধানে জিততে পারে। স্পেন বর্তমানে যে মডেল ব্যবহার করে, সেটি বোঝার জন্য ইউরোপের অন্য পরাশক্তিরা জানতে আসে বলেও জানান ফুয়েন্তে, ‘ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি—সবাই এসেছে। একটা সময় ইতালি খুব ঘনঘন আসত। জার্মানিরও একটা সময় আমাদের মতো খুব শক্তিশালী ভিত্তি ছিল। তবে এটি খুব সহজ নয়, বেশ জটিল। প্রথমত, এর জন্য বছরের পর বছর কাজ করতে হয়। দ্বিতীয়ত, এটি ক্লাবগুলোর ওপর ভীষণভাবে নির্ভর করে। কারণ, ক্লাবের কোচেরাই তরুণদের গড়ে তোলেন। একদম ছোটবেলা থেকে পাওয়া এই শিক্ষার কারণেই ম্যাচের পরিস্থিতি বোঝার ক্ষেত্রে স্প্যানিশ খেলোয়াড়রা বিশ্বের সেরা।’

  • সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জনের মধ্যে নীরবতা ভাঙলেন ইয়ামালের প্রেমিকা

    সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জনের মধ্যে নীরবতা ভাঙলেন ইয়ামালের প্রেমিকা

    বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে ঐতিহাসিক শিরোপা জেতে স্পেন। নিউ ইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বজয়ের সেই আনন্দঘন মুহূর্তে স্প্যানিশ বিস্ময়বালক লামিন ইয়ামালের পাশে মাঠে উপস্থিত ছিলেন তার প্রেমিকা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর ইনেস গার্সিয়া। টুর্নামেন্ট শেষ হতেই কিছু ভিডিও ও ছবিকে কেন্দ্র করে সমালোচনার শিকার হতে হচ্ছে তাকে। দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে এবার বিষয়টি নিয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তিনি।

    বিশ্বকাপ ফাইনালের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিও ও ছবির ভিত্তিতে কিছু ব্যবহারকারী দাবি করেন, উদযাপনের সময় ইয়ামাল ও ইনেস গার্সিয়ার মধ্যে স্বাভাবিক ঘনিষ্ঠতা দেখা যায়নি। সেখান থেকেই তাদের সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই বলতে শুরু করেন, তাদের সম্পর্কের ইতি ঘটতে চলেছে। এরপর থেকে ইনেসের বিরুদ্ধে হিংসাত্মক ও বিদ্বেষমূলক প্রচারণা শুরু হয়, যেখানে তাকে অপমান ও মানসিক হেনস্তার মুখোমুখি হতে হয়।

    এসবের জবাবে স্প্যানিশ দৈনিক মার্কাকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইনেস গার্সিয়া নিজের অনুভূতির কথা তুলে ধরেন। নিজের কষ্টের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি কয়েক ঘণ্টা ধরে আমাকে নিয়ে করা মন্তব্যগুলো পড়ছি। শক্ত থাকার চেষ্টা করি, কিন্তু দিনশেষে আমিও একজন মানুষ। আমারও অনুভূতি আছে, আমিও মানুষ, আমিও কাঁদি।’ তিনি বলেন, কোনো পরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কে থাকলেই একজন মানুষ তার অনুভূতি হারিয়ে ফেলেন না।

    মানুষকে আরও সহানুভূতিশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ইনেস লেখেন, ‘কোনো মন্তব্য করার আগে মনে রাখবেন, পর্দার ওপাশেও একজন মানুষ আছে। তার পরিবার আছে, বন্ধু আছে, ভয় আছে, অনুভূতি আছে। আপনার একটি মন্তব্য তার ওপর কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, তা আপনি জানেন না।’

    বার্তার শেষ অংশে আবেগ আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তিনি বলেন, ‘আমিও অনুভূতিসম্পন্ন একজন নারী। আমার পরিবারও এসব মন্তব্য পড়ে। অন্য সবার মতো আমারও ভালো ও খারাপ দিন আসে। আমি কাউকে বলছি না যে আমাকে ভালোবাসতেই হবে। শুধু সামান্য সহমর্মিতা আর মানবিকতা চাই। কারণ হাজার হাজার ঘৃণামূলক বার্তা পাওয়ার যোগ্য কেউ নয়।’

    নিজের বক্তব্যে ইনেস বলেন, তিনি কখনো কারও ক্ষতি করার চেষ্টা করেননি। তার ভাষ্যে, ‘আমি লামিন ইয়ামাল বা অন্য কারও কোনো ক্ষতি করিনি। আমি কারও কাছ থেকে কিছু কেড়ে নিইনি। আমি শুধু নিজের মতো করে জীবনযাপন করছি।’

    শেষে ইনেস আশা প্রকাশ করেন, একদিন ইন্টারনেট এমন একটি জায়গায় পরিণত হবে, যেখানে নিষ্ঠুরতাকে আর উৎসাহ দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, তার একমাত্র উদ্দেশ্য নিজের জীবনের ছোট ছোট মুহূর্তগুলো ভাগ করে নেওয়া, কাউকে আঘাত করা নয়। বার্তার শেষ লাইনে তিনি লেখেন, ‘আমরা সবাই নিজেদের জীবনকে সুন্দরভাবে বাঁচানোর চেষ্টা করছি। আশা করি, আমরা সবসময় ঘৃণার বদলে সহমর্মিতাকেই বেছে নেব।’

  • ম্যানসিটি থেকে রিয়াল মাদ্রিদে যাচ্ছেন রদ্রি

    ম্যানসিটি থেকে রিয়াল মাদ্রিদে যাচ্ছেন রদ্রি

    বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়কে ধরে রাখতে পারলেন না ম্যানচেস্টার সিটির নতুন কোচ এনজো মারেস্কা। রিয়াল মাদ্রিদে নাম লেখাতে যাচ্ছেন বিশ্বকাপে ‘গোল্ডেন বল’জয়ী রদ্রি। এরই মধ্যে ৩০ বছর বয়সী এ মিডফিল্ডারের সঙ্গে ব্যক্তিগত শর্তাবলি নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে রিয়াল। এখন শুধু দুই ক্লাবের মধ্যে ট্রান্সফার ফি নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছানো বাকি।

    স্পেনকে বিশ্বকাপ জেতানো মিডফিল্ডার রদ্রিকে কিনতে চেয়েছিল পিএসজি-বার্সেলোনাও। দুবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগজয়ী ফরাসি জায়ান্ট পিএসজি নাকি ম্যানসিটির সঙ্গে যোগাযোগও করেছিলো। তবে ম্যানসিটি তাঁকে ছাড়তে চায়নি। পেপ গার্দিওলার কাছ থেকে সিটির দায়িত্ব নেওয়া এনজো মারেস্কা রদ্রিকে কেন্দ্র করেই মাঝমাঠ সাজাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তারকা এ মিডফিল্ডারের অনীহায় তা সম্ভব হচ্ছে না। স্প্যানিশ এ ফুটবলারের সঙ্গে মাত্র এক বছরের চুক্তি বাকি সিটির। সে কারণে গত এপ্রিলে তাঁকে নতুন চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছিল সিটি। কিন্তু রদ্রি সাড়া দেননি। তারকা এ মিডফিল্ডার মাদ্রিদে ফিরে যেতে চান। ২০১৯ সালে ম্যানসিটিতে যোগ দেওয়ার আগে তিনি মাদ্রিদের অন্য ক্লাব অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদে এক বছর ছিলেন। মূলত পরিবারের জন্যই তিনি নিজ দেশে ফিরে যেতে চান। এ সপ্তাহের শুরুতেই রদ্রির এজেন্ট রিয়াল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যক্তিগত খুঁটিনাটি বিষয়গুলো চূড়ান্ত করে ফেলেছেন বলে জানিয়েছে ইংলিশ গণমাধ্যম ডেইলি মেইল।

    এখন ট্রান্সফার ফি নিয়ে দুই ক্লাবের সমঝোতার অপেক্ষায় রদ্রি। ধারণা করা হচ্ছে, মোটা ট্রান্সফার ফি হাঁকতে পারে সিটি। তাতেও অবশ্য কাজ হবে না। একে তো মাত্র এক বছর চুক্তি বাকি, তার ওপর রদ্রিও থাকতে চাইছেন না। আর সিটি এরই মধ্যে ৮৫ মিলিয়ন পাউন্ডে মিডফিল্ডার এলিয়ট এন্ডারসনকে দলে নিয়ে ফেলেছে। বিশ্বকাপে সাড়া জাগানো তরুণ মরোক্কান মিডফিল্ডার আইয়ুব বুয়াদ্দিকেও দলে নেওয়ার ব্যাপারে অনেক দূর এগিয়ে গেছে তারা। তাই রদ্রিকে বিক্রি করে অর্থ জোগাড়ই তাদের লক্ষ্য।

    দ্বিতীয় মেয়াদে রিয়ালের দায়িত্ব নেওয়া হোসে মরিনহোর আগ্রহেই রদ্রিকে দলে নিচ্ছে রিয়াল। পর্তুগিজ এ কোচ মাঝমাঠে রদ্রির মতো সিনিয়র একজনকে নেতা হিসেবে চান। মরিনহোর কৌশলে রদ্রি খুবভাবে ফিট হয়ে যাবেন বলেও ধারণা। প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলোর জন্য এখানে আরও একটি হিসাব আছে। রদ্রিকে দলে নেওয়া মানে ফরাসি মিডফিল্ডার এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গাকে ছেড়ে দেবে রিয়াল। আরেক ফরাসি মিডফিল্ডার আরেলিও চুয়েমেনিও নিয়মিত খেলার সুযোগ হারাবেন। তাই তিনিও রিয়াল ছাড়তে পারেন। তাদের কেনার জন্য ওত পেতে রয়েছে প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলো।

  • কলকাতায় ব্রাজিলের প্রীতি ম্যাচ নিশ্চিতের পথে, আলোচনায় বাংলাদেশও!

    কলকাতায় ব্রাজিলের প্রীতি ম্যাচ নিশ্চিতের পথে, আলোচনায় বাংলাদেশও!

    ফুটবলপ্রেমীদের জন্য দারুণ এক খবর। ভারতের মাটিতে প্রীতি ম্যাচ খেলতে পারে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। আর এই ম্যাচটির সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে উঠে আসছে কলকাতার নাম। ‘ইএসপিএন ব্রাজিল’-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ চলাকালীন সময়েই ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের (সিবিএফ) এবং ভারতীয় আয়োজকদের মধ্যে এই আলোচনা শুরু হয়। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের নামও!

    বিশ্বকাপে ভারতীয় সমর্থকদের অভূতপূর্ব উন্মাদনা দেখে মুগ্ধ হয় ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সেই সমর্থনের ছবিগুলোই মূলত ব্রাজিল দলকে ভারতে আসার ব্যাপারে উৎসাহিত করেছে। আসন্ন সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে অক্টোবরের শুরুর দিকে তিনটি প্রীতি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে সেলেসাওদের। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুটি ম্যাচ ইতিমধ্যে নিশ্চিত হয়েছে। আগামী ২৫শে সেপ্টেম্বর টাউন্সভিল এবং ২৯শে সেপ্টেম্বর ব্রিসবেনে এই ম্যাচ দুটি অনুষ্ঠিত হবে। তৃতীয় ম্যাচটির জন্য ভারতকে বেছে নিতে আলোচনা চালাচ্ছে সিবিএফ।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত এই ম্যাচের প্রতিপক্ষ এখনো ঠিক হয়নি। ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশ, সিঙ্গাপুর ও কাতারে ম্যাচটি আয়োজনের আলোচনা ছিল। তবে এই মুহূর্তে শুধু ভারতের সঙ্গেই আলোচনা অনেক দূর পর্যন্ত এগিয়েছে।
    সবকিছু চূড়ান্ত হলে কলকাতার ফুটবলপ্রেমীরা আরও একবার চাক্ষুষ করবেন বিশ্ব ফুটবলের তারকাদের। এর আগে ১৯৭৭ সালে মোহনবাগানের বিপক্ষে নিউ ইয়র্ক কসমসের হয়ে ইডেন গার্ডেনসে খেলেন কিংবদন্তি পেলে। সেই ঐতিহ্যবাহী শহরেই এবার পা রাখতে পারে সেলেসাওরা।

    চলতি বিশ্বকাপটা অবশ্য ভালো কাটেনি ব্রাজিলের। শেষ ১৬তে নরওয়ের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয় কার্লো আনচেলোত্তির দলকে। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র দুর্দান্ত ফর্মে থাকলেও দলকে টিকিয়ে রাখতে পারেননি। ১৯৯০ সালের পর এটিই ব্রাজিলের সবচেয়ে দ্রুততম বিশ্বকাপ বিদায়।

    তবে বিশ্বকাপের ক্ষত ভুলে নতুন শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। নতুন ‘সুপার ফিফা উইন্ডো’-র অধীনে এই ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এই আন্তর্জাতিক উইন্ডোটি ১৬ দিন পর্যন্ত দীর্ঘ হতে পারে। ফলে দলগুলো কয়েকটি প্রীতি বা প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে।

    বিশ্বকাপ চলাকালীন কলকাতার উত্তরপাড়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন অলিগলি সেজে ওঠে নেইমার ও ভিনি জুনিয়রের ম্যুরালে। কলকাতার মানুষের এই ফুটবল উন্মাদনা নতুন কিছু নয়। যদি সবকিছু ঠিকঠাক থাকে, তবে কলকাতার সবুজ ঘাসে খুব শীঘ্রই দেখা মিলবে হলুদ জার্সির সাম্বা তারকাদের।

  • মেসির অবসর নিয়ে নতুন তথ্য আর্জেন্টিনা ফুটবলারের

    মেসির অবসর নিয়ে নতুন তথ্য আর্জেন্টিনা ফুটবলারের

    আর্জেন্টিনা দলে লিওনেল মেসির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সতীর্থ লিয়ান্দ্রো পারেদেস জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ ফাইনালের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন দশ নম্বর জার্সিধারী।

    মেসির খুব কাছের মানুষদের একজন পারেদেস। এলএমটেনের জাতীয় দলে দীর্ঘদিনের সতীর্থ বোকা জুনিয়র্সের এই মিডফিল্ডার। পিএসজিতেও দুজন একসঙ্গে খেলেছেন। তাই পারেদেসের মুখ থেকে মেসির অবসর ভাবনার কথা উঠে আসায় তা বাড়তি গুরুত্ব পেয়েছে।

    সাংবাদিকদের পারেদেস বলেন, ‘এটা কষ্ট দেয়, কারণ বিশ্বকাপজুড়েই আমরা বলেছিলাম, আমরা চাইনি মেসি শেষ ম্যাচটি আসুক। আমার মনে হয়, সে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে জাতীয় দলের হয়ে সেটিই (বিশ্বকাপ ফাইনাল) ছিল তার শেষ ম্যাচ।’

    তবে পারেদেসের আশা, আপাতত অবসরের বিষয়টি একপাশে রেখে আর্জেন্টিনার হয়ে খেলা চালিয়ে যাবেন মেসি, ‘আশা করি, এমনটা হবে না। আশা করি, সে আরও খেলতে পারবে। সিদ্ধান্তটা তারই হবে। সে যা করলে খুশি থাকবে, সেটাই আমাদের জন্যও আনন্দের হবে।’

    মেসির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা যখন তুঙ্গে, তখন নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও নিশ্চিত নন পারেদেস। আর্জেন্টিনার হয়ে সাম্প্রতিক সাফল্যের পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে সময় প্রয়োজন বলে জানালেন তিনি, ‘আমি জানি না, এটা একটা প্রক্রিয়া। আমাদের বিষয়টি হজম করতে হবে, ভাবতে হবে। তাড়াহুড়ো করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। অবশ্যই এ নিয়ে আলোচনা করতে হবে।’

    পারেদেস আরও যোগ করেন, ‘অনেকের জন্যই চালিয়ে যাওয়া বা না যাওয়ার সিদ্ধান্ত কঠিন হবে। এটা ছিল সুন্দর, অসাধারণ একটি প্রক্রিয়া। আমরা গুরুত্বপূর্ণ কিছু অর্জন করেছি। এই পর্যায় ধরে রাখা এবং দলকে এভাবে কার্যকর রাখা কঠিন হবে। আমাদের অনেক বিষয় বিবেচনা করতে হবে, কোচের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে এবং শান্তভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’

  • বিশ্বকাপের অবৈধ সম্প্রচারের অভিযোগে প্রায় ৩ হাজার ওয়েবসাইট বন্ধ

    বিশ্বকাপের অবৈধ সম্প্রচারের অভিযোগে প্রায় ৩ হাজার ওয়েবসাইট বন্ধ

    ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ম্যাচ অবৈধভাবে সম্প্রচার রোধে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশে যৌথ অভিযানে প্রায় ৩ হাজার ওয়েবসাইট বন্ধ বা জব্দ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে) জানিয়েছে, কপিরাইট লঙ্ঘন ও ডিজিটাল পাইরেসির বিরুদ্ধে পরিচালিত এই অভিযান বিশ্বকাপ চলাকালীন সময়ে পরিচালিত হয়।

    ডিওজের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে এক হাজারের বেশি ডোমেইন বন্ধ করা হয়েছে। একই সংখ্যক ওয়েবসাইট বন্ধ করা হয়েছে কলম্বিয়ায়। এছাড়া আর্জেন্টিনা, ইকুয়েডর, পেরু, ব্রাজিল ও ডোমিনিকান রিপাবলিকেও আরও ৮৩০টি ওয়েবসাইটের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

    ‘অপারেশন অফসাইডস’ এবং ‘অপারেশন রেড কার্ড’ নামে পরিচালিত এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশের কর্তৃপক্ষ অংশ নেয়।

    যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইটস কো-অর্ডিনেশন সেন্টারের (এনআইপিআরসিসি) পরিচালক ইভান জে. আরভেলো বলেন, অনুমতি ছাড়া বিশ্বকাপের ম্যাচ সম্প্রচার শুধু মেধাস্বত্ব আইন লঙ্ঘনই নয়, এটি অপরাধী চক্রগুলোকেও আর্থিকভাবে শক্তিশালী করে।

    ডিওজে জানায়, গত মাসের শেষ পর্যন্ত অবৈধ বিশ্বকাপ স্ট্রিমিংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৪০০টি ওয়েবপেজ বন্ধ করা হয়েছিল। পরবর্তী অভিযানে আরও শত শত ওয়েবসাইট ও ডোমেইন বন্ধ বা জব্দ করা হয়েছে।

    ডিওজের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এ. টাইসেন ডুভা বলেন, ‘বিশ্বকাপের অবৈধ সম্প্রচারে ব্যবহৃত এক হাজারেরও বেশি ডোমেইন জব্দ করা প্রমাণ করে যে, মেধাস্বত্ব সুরক্ষা এবং ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সফল আয়োজন নিশ্চিত করতে প্রশাসন দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

    ডিজিটাল পাইরেসি প্রতিরোধে কাজ করা সংস্থা অ্যালায়েন্স ফর ক্রিয়েটিভিটি অ্যান্ড এন্টারটেইনমেন্ট (এসিই)-এর চেয়ারম্যান চার্লস রিভকিন বলেন, বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক সরাসরি সম্প্রচারিত আসরকে লক্ষ্য করে পাইরেসি নেটওয়ার্কগুলো খুব দ্রুত সক্রিয় হয়ে ওঠে।

    অভিযানে ফিফা, বিআইএন মিডিয়া গ্রুপ, এনবিসি ইউনিভার্সাল, আলটিমেট ফাইটিং চ্যাম্পিয়নশিপ (ইউএফসি) এবং ওয়ার্নার ব্রাদার্সও সহযোগিতা করেছে। সম্প্রচারস্বত্ব বিক্রি থেকেই ফিফার আয়ের বড় একটি অংশ আসে।

    কলম্বিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর জানিয়েছে, অভিযানের সময় ‘লস সিবেরইনফিলত্রাদোস’ নামে পরিচিত একটি সাইবার অপরাধী চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বিশ্বকাপের ম্যাচে প্রবেশাধিকার অর্জন ও তা বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

    এছাড়া অবৈধ স্ট্রিমিংয়ের পাশাপাশি কলম্বিয়ায় জাল ক্রীড়া পোশাকের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী তল্লাশি ও জব্দ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ডিওজে জানিয়েছে, নকল ক্রীড়া সামগ্রী উৎপাদন ও বিতরণের অভিযোগে দেশটিতে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

    কর্তৃপক্ষ বলছে, অবৈধ স্ট্রিমিং ও নকল পণ্যের বিরুদ্ধে এ ধরনের আন্তর্জাতিক সমন্বিত অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে, যাতে ক্রীড়া সম্প্রচার শিল্পের মেধাস্বত্ব ও বাণিজ্যিক স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে।

  • বিশ্বকাপ শেষে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বললেন একঝাঁক তারকা

    বিশ্বকাপ শেষে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বললেন একঝাঁক তারকা

    ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুধু নতুন চ্যাম্পিয়ন কিংবা রোমাঞ্চকর ম্যাচের জন্যই স্মরণীয় হয়ে থাকবে না বরং আন্তর্জাতিক ফুটবলের এক যুগের অবসানের সাক্ষীও হয়ে থাকবে এই আসর। বিশ্বকাপ শেষে ব্রাজিলের নেইমার, জার্মানির ম্যানুয়েল নয়্যার, আর্জেন্টিনার নিকোলাস ওতামেন্দি, মেক্সিকোর গিয়ের্মো ওচোয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের একাধিক অভিজ্ঞ ফুটবলার জাতীয় দলের জার্সিকে বিদায় জানিয়েছেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বিশ্বকাপ, মহাদেশীয় শিরোপা ও অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দেওয়া এই তারকারা নিজেদের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে নতুন প্রজন্মের জন্য জায়গা ছেড়ে দিলেন।

    ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার ২০১৪ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত অভিষেকের পর দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় জাতীয় দলের অন্যতম ভরসা ছিলেন। তবে ইনজুরির কারণে এবারের বিশ্বকাপে তার খেলার সুযোগ সীমিত ছিল। নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের বিদায়ের ম্যাচে মাত্র ৫৫ মিনিট খেলেই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন তিনি। ম্যাচ শেষে নেইমার বলেন, ‘সবকিছুর শুরু হয়েছিল মেটলাইফ স্টেডিয়ামে, আর এখানেই শেষ হলো। এখন সব শেষ।’ ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ তাকে ‘অসাধারণ প্রতিভাবান ফুটবলার’ বলে অভিহিত করে বলেন, তার বিদায় ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের জন্য দুঃখের মুহূর্ত।

    জার্মানির কিংবদন্তি গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যার ২০১০ সালে প্রথম বিশ্বকাপ খেলেন এবং ২০১৪ সালে জার্মানির বিশ্বকাপজয়ী দলের অন্যতম নায়ক ছিলেন। ইউরো ২০২৪-এর পর অবসর নিলেও এবারের বিশ্বকাপের আগে সিদ্ধান্ত বদলে দলে ফেরেন। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে টাইব্রেকারে হারের পর ২৩তম ও শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানেন তিনি। পরে নয়্যার বলেন, ‘শেষটা তিক্ত হলেও ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়ে আমার কোনো আক্ষেপ নেই।’

    চেক প্রজাতন্ত্রের স্ট্রাইকার প্যাট্রিক শিক প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেললেও দল গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। শেষ ম্যাচের কয়েক ঘণ্টা পরই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আজ জাতীয় দলের সঙ্গে আমার অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।’ চেক ফুটবল ফেডারেশন তার অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।

    মেক্সিকোর অভিজ্ঞ গোলরক্ষক গিয়ের্মো ওচোয়া, যিনি ২০১৪ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছিলেন, এবারের আসরে সীমিত সময় খেললেও শেষ ম্যাচে সতীর্থদের কাছ থেকে বিশেষ সম্মান পান। বিদায়বার্তায় তিনি বলেন, ‘মেক্সিকোর হয়ে খেলতে পারা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান।’

    আলজেরিয়ার অধিনায়ক রিয়াদ মাহরেজ ১২ বছর পর আবার বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পান। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে দুই গোল করলেও শেষ পর্যন্ত সুইজারল্যান্ডের কাছে হেরে শেষ ৩২ থেকেই বিদায় নেয় আলজেরিয়া। অবসরের ঘোষণা দিয়ে মাহরেজ বলেন, ‘নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করা সবসময়ই আমার স্বপ্ন ছিল।’

    ইকুয়েডরের সর্বোচ্চ গোলদাতা এনার ভ্যালেন্সিয়া ২০১৪ ও ২০২২ বিশ্বকাপে ছয় গোল করলেও এবারের আসরে আর গোলের দেখা পাননি। মেক্সিকোর বিপক্ষে বিদায়ের পর তিনি জানান, জাতীয় দলের হয়ে এটাই ছিল তার শেষ ম্যাচ। ইকুয়েডর ফুটবল ফেডারেশন তাকে দেশের সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে অভিহিত করেছে।

    ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনা দলের অন্যতম স্তম্ভ নিকোলাস ওতামেন্দিও বিশ্বকাপের আগেই জানিয়েছিলেন, এটিই হবে তার শেষ আসর। ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে বেশিরভাগ ম্যাচ খেললেও এবার শিরোপা ধরে রাখতে পারেননি। বিদায়বার্তায় তিনি বলেন, ‘এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ। এরপর থেকে আমি শুধু একজন সমর্থক।’

    অস্ট্রিয়ার অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড মার্কো আরনাউটোভিচ নিজের প্রথম ও শেষ বিশ্বকাপেই দুটি গোল করেন। স্পেনের কাছে হেরে বিদায় নেওয়ার পর আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘অস্ট্রিয়ার হয়ে খেলাই ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। এখন থেকে দ্বিতীয় পরিবারের সঙ্গে আর দেখা হবে না এটাই সবচেয়ে কষ্টের।’

    সেনেগালের তারকা সাদিও মানে ২০১৮ বিশ্বকাপে খেললেও চোটের কারণে ২০২২ বিশ্বকাপ মিস করেছিলেন। এবারের বিশ্বকাপ শেষে তার অবসরের খবর প্রকাশ পেলেও সেটির সত্যতা নিয়ে কিছু প্রশ্ন রয়েছে। তবুও সেনেগাল ফুটবল মহলে তার অবদানকে সর্বোচ্চ সম্মান জানানো হয়েছে।

    স্কটল্যান্ডের গোলরক্ষক ক্রেইগ গর্ডন ২০০৪ সালে আন্তর্জাতিক অভিষেকের পর ৮৪টি ম্যাচ খেলেছেন। প্রথম বিশ্বকাপে মাঠে নামার সুযোগ না পেলেও বিশ্বকাপ শেষে ক্লাব ও আন্তর্জাতিক দুই ধরনের ফুটবল থেকেই অবসরের ঘোষণা দেন তিনি।

    আইভরি কোস্টের মিডফিল্ডার জ্যঁ মিশেল সেরি প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলে ১১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন। সামাজিক মাধ্যমে তিনি অবসরের ঘোষণা দিলে সতীর্থ ও অধিনায়ক ফ্রাঙ্ক কেসিয়েসহ অনেকে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

    বিশ্বকাপ শেষে একসঙ্গে এতগুলো অভিজ্ঞ ফুটবলারের বিদায় আন্তর্জাতিক ফুটবলে একটি যুগের সমাপ্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে। আগামী দিনে নতুন প্রজন্মের ফুটবলাররা জাতীয় দলের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিলেও, নেইমার, নয়্যার, ওচোয়া কিংবা ওতামেন্দিদের স্মরণীয় অবদান ফুটবল ইতিহাসে দীর্ঘদিন অমলিন হয়ে থাকবে।

  • ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত জার্মানির দায়িত্বে ক্লপ

    ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত জার্মানির দায়িত্বে ক্লপ

    ২০২৬ বিশ্বকাপের ব্যর্থতা ঝেড়ে ফেলে নতুন যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে জার্মানি ফুটবল। ইউলিয়েন নাগেলসম্যানের বিদায়ের পর জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ইয়ুর্গেন ক্লপ। আগামী ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত ৫৯ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ কোচের সঙ্গে চুক্তি নিশ্চিত করেছে জার্মান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ডিএফবি)।

    এবারের বিশ্বকাপে প্যারাগুয়ের কাছে টাইব্রেকারে হেরে শেষ ৩২ থেকে বিদায় নেয় চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এরপরই নাগেলসম্যানের সঙ্গে পারস্পরিক সম্মতিতে চুক্তি বাতিল করে জার্মানি। এরপর আজ আনুষ্ঠানিকভাবে ক্লপকে দায়িত্ব দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়। আগামী ১৫ই আগস্ট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন অধ্যায় শুরু করবেন সাবেক লিভারপুল মাস্টারমাইন্ড।

    জার্মান ফুটবলের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে নিজের উচ্ছ্বাস চেপে রাখতে পারেননি ক্লপ। চুক্তি স্বাক্ষরের পর তিনি বলেন, ‘জাতীয় দল জার্মানদের যেভাবে ঐক্যবদ্ধ করতে পারে, অন্য কিছু তা পারে না। আর এটাই এই কাজটিকে আমার কাছে এত বিশেষ করে তুলেছে। আমরা বিনয় এবং ধৈর্য নিয়ে একসঙ্গে কাজ করব। এমন একটি দল তৈরি করবো, যারা একে অপরের জন্য লড়াই করবে এবং ফুটবলের আনন্দ ফিরিয়ে আনবে।’

    জার্মান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বার্নড নয়েনডর্ফ নিশ্চিত করেন, শুরু থেকেই ক্লপ ছিলেন তাদের প্রথম পছন্দ। ক্লপের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘ইয়ুর্গেন ক্লপ আবেগ, বিশ্বাসযোগ্যতা এবং অন্যদের অনুপ্রাণিত করার ক্ষমতার রূপক। নাগেলসম্যানের পদত্যাগের পর কোনো দ্বিধা ছাড়াই তিনি আমাদের প্রথম পছন্দ ছিলেন।’

    এছাড়া সংস্থার সহ-সভাপতি হান্স-জোয়াকিম ওয়াটজকে এ বিষয়ে বলেন, ‘আমার কাছে ইয়ুর্গেন বিশ্বের অন্যতম সেরা কোচ। খেলোয়াড়দের বিকাশ ঘটানো এবং পুরো জাতিকে একসূত্রে বাঁধার দারুণ দক্ষতা রয়েছে তার। আর ঠিক এই জিনিসটাই এখন জার্মান দলের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।’

    ক্লপের কোচিং স্টাফে সহকারী হিসেবে যোগ দিচ্ছেন পেপিন লিন্ডার্স, পিটার ক্রাভিয়েৎস এবং সভেন বেন্ডার। এর আগে বরুসিয়া ডর্টমুন্ডকে ২টি জার্মান বুন্ডেসলিগা জেতান ক্লপ। পরের অধ্যায়ে লিভারপুলকে চ্যাম্পিয়নস লীগ ও দীর্ঘ ৩০ বছর পর ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগ শিরোপা জয়ের স্বাদ এনে দেন তিনি।

    আগামী ২৪শে সেপ্টেম্বর নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে উয়েফা ন্যাশনস লীগের ম্যাচ দিয়ে জার্মানির ডাগআউটে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হতে যাচ্ছে ক্লপের।

  • ভারতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ নিয়ে টেন্ডুলকারের বার্তা

    ভারতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ নিয়ে টেন্ডুলকারের বার্তা

    প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে ভারতজুড়ে চলমান বিক্ষোভ ইস্যুতে বার্তা দিয়েছেন ক্রিকেটার শচীন টেন্ডুলকার। সামাজিকমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে তিনি বেলন, এমন একটি স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন, যেখানে কোনো ছাত্রছাত্রীর যেন মনে না হয় কঠোর পরিশ্রমের মূল্য দেওয়া হয়নি।

    কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে চলা আন্দোলন নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও, সততা, পরিশ্রম ও মেধার গুরুত্বের ওপরে জোর দিয়েছেন শচীন। বাবার শেখানো মূল্যবোধের কথা তুলে ধরে শচীন লেখেন, ‘আমার বাবা একজন অধ্যাপক ছিলেন। বহু ছাত্রছাত্রীর শিক্ষক ও পথপ্রদর্শক ছিলেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই আমাকে একটি শিক্ষা দিয়েছিলেন— ব্যর্থ হওয়া মেনে নেওয়া যায়, কিন্তু প্রতারণা নয়। কখনো শর্টকাট বেছে নেবে না।’

    ভারতের এই প্রাক্তন ক্রিকেটারের মতে, এমন একটি সংস্কৃতি গড়ে তোলা উচিত, যেখানে ফলাফলের চেয়ে পরিশ্রমকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং মেধাই হবে সাফল্যের একমাত্র মাপকাঠি।

    শচীন বলেন, ‘সমাজের প্রাপ্তবয়স্ক সদস্য হিসেবে আমাদের দায়িত্ব সংস্কৃতি গড়ে তোলা। যদি পরিশ্রমের বদলে শুধু ফলাফলকে গুরুত্ব দেওয়া হয়, তা হলে মানুষ মেধার বদলে শর্টকাটই খুঁজবে। আজ যদি ছাত্রছাত্রীরা মনে করে যে তাদের কঠোর পরিশ্রমের মূল্য দেওয়া হয়নি, তা হলে তাদের হতাশ হওয়া স্বাভাবিক। ভবিষ্যতে যাতে কোনো ছাত্রছাত্রীকে এমন পরিস্থিতির শিকার না হতে হয়, সেটা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত।’

  • গার্দিওলার আগে আনচেলোত্তির শরণাপন্ন হয়েছিল ইতালি!

    গার্দিওলার আগে আনচেলোত্তির শরণাপন্ন হয়েছিল ইতালি!

    চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালির ফুটবলে এখন যেন চরম দুর্দিন! টানা তৃতীয়বারের মতো ফুটবল বিশ্বকাপে সুযোগ পেতে ব্যর্থ হওয়ার পর ফাঁকা পড়ে আছে জাতীয় দলের কোচের পদ। তবে এই শূন্যস্থান পূরণে কোনো ছাড় দিতে নারাজ ইতালি ফুটবল ফেডারেশন (এফআইজিসি)। পেপ গার্দিওলার সঙ্গে যোগাযোগ করার আগে তাদের প্রথম পছন্দ ছিলেন রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক ও ব্রাজিলের বর্তমান কোচ কার্লো আনচেলোত্তি।

    সম্প্রতি ইতালির নতুন টেকনিক্যাল ডিরেক্টর এবং ক্লাব কিংবদন্তি পাওলো মালদিনি এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের তিনি জানান, জাতীয় দলের দায়িত্বে বিশ্বের সেরা কোচদেরই আনতে চান তারা। এসি মিলানের কিংবদন্তি ডিফেন্ডার মালদিনি বলেন, ‘পেপের (গার্দিওলা) সঙ্গে কথা বলার আগে আমি কার্লো আনচেলোত্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম। আমাদের কাছে মনে হয়েছে বিশ্বের সেরা যাদের ভাবা হয়, তাদের দিয়েই শুরু করা উচিত। শুরুতেই তাদের সাধারণ আগ্রহ এবং তারা খালি আছেন কি না, সেটা যাচাই করে দেখা আমাদের দায়িত্ব ছিল।’
    অবশ্য ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত বাড়িয়ে নিয়েছেন আনচেলোত্তি। ফলে এই স্বদেশি মাস্টারমাইন্ডকে পাওয়া ইতালির জন্য সম্ভব হচ্ছে না।
    অন্যদিকে, ম্যানচেস্টার সিটিতে সফল ১০ বছর কাটানোর পর দল ছাড়ায় পেপ গার্দিওলাকে কোচ করার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রাখছে ইতালি। যদিও গুঞ্জন ছিল স্প্যানিশ এই কোচ বছরে ২০ মিলিয়ন ইউরো পারিশ্রমিক দাবি করেছেন, যা ইতালির বাজেটের দ্বিগুণ। তবে মালদিনি এই তথ্যকে স্রেফ গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তার ভাষায়, ‘পেপের ক্ষেত্রে আর্থিক বিষয় বা পারিশ্রমিক মোটেও কোনো বাধা বা বড় বিষয় নয়।’

    গত এপ্রিলে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে হেরে বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব থেকে বাদ পড়ার পর ইতালি। এর পরপর কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ান জেনারো গাত্তুসো। বর্তমানে আনচেলোত্তি খালি না থাকায় গার্দিওলার পাশাপাশি সাবেক ইউরো বিজয়ী কোচ রবার্তো মানচিনি এবং ২০০৬ বিশ্বকাপজয়ী ম্যাজিশিয়ান আন্দ্রেয়া পিরলোর নামও আলোচনায় রয়েছে। আগামী ২০৩২ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপকে সামনে রেখে পুরো ইতালি ফুটবলকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর মাস্টারপ্ল্যান নিয়েছে ফেডারেশন।

  • ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে বদলে গেল সমীকরণ, শীর্ষে কারা?

    ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে বদলে গেল সমীকরণ, শীর্ষে কারা?

    ২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর ব্যালন ডি’অর নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপের পারফরম্যান্সের কারণে অনেক খেলোয়াড়ের অবস্থান বদলে গেছে। এমন প্রেক্ষাপটে স্প্যানিশ ক্রীড়া দৈনিক মার্কা ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অরের শীর্ষ দাবিদারদের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। সেখানে রয়েছেন লিওনেল মেসি, লামিনে ইয়ামাল, রদ্রি, হ্যারি কেইন ও কিলিয়ান এমবাপ্পে।

    ১. রদ্রি (ম্যানচেস্টার সিটি ও স্পেন): ইনজুরি কাটিয়ে বিশ্বকাপে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করেন রদ্রি। স্পেনের মাঝমাঠে নেতৃত্ব দিয়ে দলকে শিরোপা জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতিও পান। বিশ্বকাপে তার প্রভাব এবং মৌসুমজুড়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাকে ব্যালন ডি’অরের অন্যতম প্রধান দাবিদার হিসেবে তুলে ধরেছে।

    ২. লামিন ইয়ামাল (বার্সেলোনা ও স্পেন): মাত্র ১৯ বছর বয়সেই ক্লাব ও জাতীয় দলে সমানতালে নজরকাড়া মৌসুম কাটিয়েছেন ইয়ামাল। বার্সেলোনার হয়ে ২৪ গোল ও ১৭ অ্যাসিস্টের পাশাপাশি জিতেছেন লা লিগা ও স্প্যানিশ সুপার কাপ। বিশ্বকাপেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে স্পেনের শিরোপা জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি।

    ৩. লিওনেল মেসি (ইন্টার মায়ামি ও আর্জেন্টিনা): ৩৯ বছর বয়সেও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। বিশ্বকাপে ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট করে দলকে ফাইনালে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। যদিও ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের কারণে তার নবম ব্যালন ডি‘’অর জয়ের সম্ভাবনা কিছুটা কঠিন হয়ে গেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

    ৪. হ্যারি কেইন (বায়ার্ন মিউনিখ ও ইংল্যান্ড): ক্লাব ফুটবলে আবারও দুর্দান্ত মৌসুম কাটিয়েছেন কেইন। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে ৩৬ গোল করে লিগ ও কাপের ডাবল জিতেছেন। বিশ্বকাপেও ইংল্যান্ডের হয়ে ছয় গোল করে নিজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন। ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানের দিক থেকে তিনিও অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার।

    ৫. কিলিয়ান এমবাপ্পে (রিয়াল মাদ্রিদ ও ফ্রান্স): লা লিগা ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ধারাবাহিক গোল করে আলোচনায় ছিলেন এমবাপ্পে। বিশ্বকাপেও গোল্ডেন বুট জিতে এবং বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড গড়ে ব্যালন ডি’অরের আলোচনায় নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন। তবে দলীয় সাফল্যের দিক থেকে তিনি পিছিয়ে থাকায় লড়াই আরও জমে উঠেছে।

    আগামী ২৬ অক্টোবর লন্ডনের অনুষ্ঠানে জানা যাবে ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর জয়ীর নাম।

  • ভোজিনহার পরিবারকে যে উপহার দিলেন মেসি

    ভোজিনহার পরিবারকে যে উপহার দিলেন মেসি

    বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করেছে আর্জেন্টিনা। তবে মাঠের লড়াইয়ের বাইরেও লিওনেল মেসিকে ঘিরে আলোচনায় এসেছে একটি মানবিক ঘটনা। আর্জেন্টাইন সাংবাদিক ইয়ানিনা লাতোর দাবি, কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহার পরিবারের সদস্যদের জন্য বিশ্বকাপের টিকিটের ব্যবস্থা করেছিলেন মেসি।

    লাতোর তথ্য অনুযায়ী, আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে ভোজিনহার পরিবারের চার সদস্যের পক্ষে স্টেডিয়ামে বসে বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখা সম্ভব হচ্ছিল না। বিষয়টি জানতে পেরে মেসি নিজের উদ্যোগে তাদের জন্য টিকিটের ব্যবস্থা করেন, যাতে তারা গ্যালারি থেকে ম্যাচ উপভোগ করতে পারেন।

    সাংবাদিক ইয়ানিনা লাতো জানান, বিশ্বকাপ চলাকালীন আর্থিক কারণে যাদের পক্ষে মাঠে গিয়ে খেলা দেখা সম্ভব ছিল না, তাদের অনেকের জন্য নিজ খরচে টিকিট কিনেছিলেন মেসি। সেই তালিকায় ছিলেন কেপ ভের্দের গোলকিপার ভোজিনহার পরিবারের চার সদস্যও। মেসির উদ্যোগেই তারা স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনাল গ্যালারি থেকে দেখার সুযোগ পান। এই ঘটনা বিশ্বকাপ চলাকালে প্রকাশ্যে আসেনি। ফাইনালের পর বিষয়টি সামনে আসে।

    ২০২৬ বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের হয়ে দারুণ পারফরম্যান্স করেন ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনহা। রাউন্ড অব ৩২-এ আর্জেন্টিনার বিপক্ষে একের পর এক সেভ করে দলকে ম্যাচে লড়াইয়ে রাখেন তিনি। সেই ম্যাচের পর মেসি প্রতিপক্ষ গোলরক্ষককে আলিঙ্গন করে তার পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেন। মেসির ভাষায়, ‘তুমি অসাধারণ। তোমার দেশের তোমার জন্য গর্বিত হওয়া উচিত।’

    চলতি বিশ্বকাপে মোট ১৮টি সেভ করা ভোজিনহা নিজের অভিজ্ঞতার স্বাক্ষর রেখেছেন বারবার। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে তার নাম জড়িয়েছিল লিওনেল মেসির ইন্টার মায়ামির সঙ্গেও। শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মাঠে নামার পর যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাবটিতে তার সম্ভাব্য যোগদানের গুঞ্জন ছড়ায়। তবে এখন পর্যন্ত সেই আলোচনা আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবে রূপ নেয়নি।

  • থিয়াগো মেসিতে স্বপ্ন আর্জেন্টিনার

    থিয়াগো মেসিতে স্বপ্ন আর্জেন্টিনার

    চার বছর আগে আর্জেন্টিনা যখন কাতার বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছিল, তখন সবাই ধরে নিয়েছিল সেটিই লিওনেল মেসির শেষ বিশ্বকাপ। কিন্তু বয়সকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে ৩৯ বছর বয়সেও উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তোলেন মেসি। স্পেনের কাছে হেরে রানার্সআপ হলেও সবুজগালিচায় মেসি ছিলেন ফুটবলের শিল্পী। ২০৩০ বিশ্বকাপে মেসির বয়স হবে ৪৩। এই বয়সে বিশ্বমঞ্চে তাঁকে না দেখার সম্ভাবনাই বেশি। তবে কিংবদন্তি মেসিকে না পেলেও আগামী বিশ্বকাপে তাঁর ছেলে থিয়াগোকে আকাশি-নীল জার্সিতে পাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন আর্জেন্টাইনরা।

    মেসির বড় ছেলে থিয়াগোর বর্তমান বয়স ১৩। তার এই বয়সের কারণেই আর্জেন্টাইন সমর্থকদের মধ্যে একটা গাণিতিক হিসাব বেশ নজর কেড়েছে, যা ভক্তদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। ২০৩০ সালের আসরটি বিশ্বকাপের শতবর্ষপূর্তির আসর। ততদিনে রোজারিওতে জন্ম নেওয়া ফুটবলের মহাতারকা মেসির জ্যেষ্ঠ পুত্র থিয়াগো প্রাপ্তবয়স্ক হবে। ২০৩০ সালের নভেম্বরে পা দেবে ১৮ বছরে। তাই থিয়াগো মেসিকে নিয়ে স্বপ্নটা দেখছেন আর্জেন্টিনার ফুটবলপ্রেমীরা।

    সামাজিক মাধ্যমে ঝড় তোলা একটি গাণিতিক হিসাব নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে। সবচেয়ে আশাবাদী সমর্থকরা বলছেন, থিয়াগো যদি তার নৈপুণ্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে খুব দ্রুত পেশাদার ফুটবলে পা রাখতে পারে, তবে জাতীয় দলে বাবার সঙ্গে একই ড্রেসিংরুম বা মাঠ ভাগ করে নেওয়ার স্বপ্নের বাস্তবায়ন অসম্ভব কিছু নয়। ১৩ বছর বয়সী এই তরুণ ফুটবলার বর্তমানে ইন্টার মায়ামির যুব একাডেমি থেকে ফুটবলের প্রথম পাঠ নিচ্ছে। ফ্লোরিডার এই একাডেমিতে তার পারফরম্যান্স অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণ করছেন ভক্তরা, যারা এই মেসি পরিবারের রাজত্বকে আরও এগিয়ে যেতে দেখতে চান।

    যদিও বার্সেলোনায় লিওনেল মেসির বর্ণিল সময়ের মধ্যেই থিয়াগোর জন্ম, তবুও আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়ে তরুণ এই ফুটবলার নিজের স্পষ্ট অবস্থান বেশ কয়েকবার প্রকাশ করেছে। চাইলে স্পেনের জার্সিতে খেলতে পারে। তবে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে একাধিক সাক্ষাৎকারে থিয়াগো নিজেই জোর দিয়ে বলেছে, বাবার পথ অনুসরণ করে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের জার্সি গায়ে দেওয়াই তার একমাত্র লক্ষ্য। এককথায় বলা যায়, জাতীয় দলের হয়ে বাবার সঙ্গে একই দল বা মাঠে খেলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে, যা ২০৩০ আসরকে কেন্দ্র করে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের সবচেয়ে বড় আশার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    মেসি পরিবারে ফুটবলের পাশাপাশি খেলাধুলার প্রতি অগাধ ভালোবাসা দেখা যায়। তিন ভাই থিয়াগো, মাতেও ও চিরো– তিনজনেই তাদের শৈশবে ফুটবলের প্রাথমিক স্তরে খেলছে এবং অল্প বয়সেই নিজেদের প্রতিভার ঝলক দেখাচ্ছে।

    বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করে থিয়াগো বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকার (এমএলএস) ক্লাব ইন্টার মায়ামির যুব একাডেমিতে ফুটবল খেলছে এবং দলটির অনূর্ধ্ব-১৪ দলের হয়ে শিরোপাও জিতেছে। তবে ভক্ত থেকে শুরু করে ফুটবল বিশ্লেষকরা সবাই উচ্চপর্যায়ের ফুটবলের কঠিন বাস্তবতা সম্পর্কে সচেতন। তারা মানেন, তাদের বাবার অর্জিত কিংবদন্তিতুল্য উচ্চতায় পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন এক পরীক্ষা। সমর্থকদের উদ্দেশে কেবল একটি চমৎকার সম্ভাবনা উপভোগ করা, তরুণ থিয়াগোর ওপর তার ক্যারিয়ারের শুরুতেই কোনো অতিরিক্ত চাপ বা দায়িত্বের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া নয়। আপাতত সময়ই বলে দেবে, ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আন্তর্জাতিক মঞ্চে আলবিসেলেস্তে সমর্থকদের এই রঙিন স্বপ্ন সত্যি হবে কিনা।

  • জাতিসংঘ মহাসচিব পদে ফিফা সভাপতিকে চান ট্রাম্প

    জাতিসংঘ মহাসচিব পদে ফিফা সভাপতিকে চান ট্রাম্প

    জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব হিসেবে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে দেখতে চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দ্য নিউ ইয়র্ক পোস্ট এক প্রতিবেদনে এ কথা জানিয়েছে।

    ৫৬ বছর বয়সি ইনফান্তিনো চলতি বছরের বিশ্বকাপ আয়োজনের সূত্রে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। গত ডিসেম্বরে ট্রাম্পকে ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ প্রদানের পর তাদের সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ফিফা প্রধান বিশ্বজুড়ে সমাদৃত একজন ব্যক্তি এবং অভিন্ন লক্ষ্যকে সামনে রেখে মানুষকে একত্রিত করার অসাধারণ সক্ষমতা তার রয়েছে।

    বর্তমানে জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আন্তোনিও গুতেরেস। চলতি বছরের ডিসেম্বরেই শেষ হচ্ছে তার বর্তমান মেয়াদ। তবে ইনফান্তিনো নিজে এই পদে আগ্রহী কি না, কিংবা ট্রাম্প এ বিষয়ে তার সঙ্গে কতটা আলোচনা করেছেন—তা স্পষ্ট নয়।

    জাতিসংঘের মহাসচিব হতে হলে প্রার্থীকে প্রথমে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের সুপারিশ পেতে হয়। এরপর সাধারণ পরিষদের অনুমোদনের মাধ্যমে নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়।

    এদিকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় চিলির সাবেক প্রেসিডেন্ট মিশেল ব্যাশেলেট এবং আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রসির নামও আলোচনায় রয়েছে।

  • মার্কার প্রতিবেদন; ১২৮ দলের বিশ্বকাপ, অসম্ভব নয়

    মার্কার প্রতিবেদন; ১২৮ দলের বিশ্বকাপ, অসম্ভব নয়

    স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে ২০২৬ বিশ্বকাপ। শিরোপার উচ্ছ্বাসে চাপা পড়ে গেছে আসরের আগে আলোচিত অনেক বিষয়। টিকিটের উচ্চ মূল্য, স্বাগতিক শহরগুলোর দীর্ঘ দূরত্ব, ৪৮ দল নিয়ে আয়োজনের ফলে মান কমে যাওয়ার শঙ্কা, ভিসা জটিলতা এবং স্বাগতিক দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ—এসব নিয়ে যে বিতর্ক ছিল, টুর্নামেন্ট শেষে তা অনেকটাই আড়ালে চলে গেছে।

    বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর ফিফা এটিকে ইতিহাসের সবচেয়ে সফল আসর হিসেবে তুলে ধরবে, এমনটা অনেকের কাছেই প্রত্যাশিত ছিল। সফল আয়োজন, বিপুল আয় এবং দর্শক আগ্রহকে সামনে রেখে এখন ভবিষ্যতের বিশ্বকাপকে আরও বড় করার আলোচনা শুরু হয়েছে।

    বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় একটি ধারণা বেশ জোরালো হয়ে উঠেছে—যদি ৪৮ দলের বিশ্বকাপ সফল হয়, তাহলে আরও বড় আসর আয়োজনেও আপত্তির কারণ নেই। সেই ভাবনা থেকেই ৬৪ দল কিংবা আরও বড় পরিসরের বিশ্বকাপের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

    যদিও ৬৪ দলের বিশ্বকাপ এখনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব নয়, তবু এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। সমর্থকদের আগ্রহ এবং বাণিজ্যিক সম্ভাবনা বিবেচনায় ভবিষ্যতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া অসম্ভব নয় বলেই মনে করছেন অনেকে।

    অনেকের মতে, অংশগ্রহণকারী দল বাড়লে প্রতিযোগিতার মান কমতে পারে। তবে বিপরীত মতও রয়েছে। তাদের যুক্তি, ফুটবলের সাফল্য এখন শুধু মান দিয়ে নয়, দর্শকসংখ্যা, সম্প্রচারস্বত্ব এবং আয় দিয়েও পরিমাপ করা হয়।

    এই ধারণা আরও এক ধাপ এগিয়ে ১২৮ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, আটটি স্বাগতিক দেশে ১৬টি করে দল নিয়ে আলাদা আটটি পর্ব আয়োজন করা যেতে পারে। প্রতিটি পর্ব থেকে দুটি করে দল পরের ধাপে উঠবে।

    এরপর শেষ ১৬ দলকে নিয়ে নবম একটি দেশে অনুষ্ঠিত হবে চূড়ান্ত পর্ব। সেখানে চারটি গ্রুপে ভাগ করে খেলা শেষে সেমিফাইনাল, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ এবং ফাইনালের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে চ্যাম্পিয়ন।

    প্রথম দেখায় এমন আয়োজন অসম্ভব মনে হলেও হিসাব বলছে, সময় খুব বেশি বাড়বে না। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে ৩৯ দিনে। প্রস্তাবিত ১২৮ দলের বিশ্বকাপও কয়েকটি ধাপ মিলিয়ে প্রায় ৪১ দিনের মধ্যেই শেষ করা সম্ভব বলে মত দেওয়া হয়েছে। ভ্রমণের সময় কিছুটা কমানো গেলে সেটিও ৩৯ দিনের সূচির মধ্যেই রাখা সম্ভব।

    অবশ্য এত বড় আসরের জন্য বাছাইপর্ব আগের মতোই থাকবে। স্বাগতিক দেশগুলো সরাসরি মূল পর্বে খেলবে, আর বাকি দলগুলোকে বাছাইপর্ব পেরিয়ে জায়গা করে নিতে হবে।

    এই পরিকল্পনার সমর্থকদের মতে, এতে ইতালির মতো শক্তিশালী দলগুলোর বিশ্বকাপে না থাকার সম্ভাবনা কমবে। একই সঙ্গে চীন, ভারতসহ বড় বাজারের দেশগুলোর অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়বে। এছাড়া বিভিন্ন দেশ তুলনামূলক কম খরচে বিশ্বকাপের একটি পর্ব আয়োজন করতে পারবে।

    তাদের বিশ্বাস, এতে সম্প্রচারস্বত্বের মূল্য এবং বাণিজ্যিক আয় আরও অনেক বেড়ে যাবে। কারণ ফুটবলের প্রতি সমর্থকদের আগ্রহ কমার কোনো লক্ষণ নেই।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, এমন একটি পরিকল্পনায় অসুবিধার চেয়ে সুবিধাই বেশি। এমনকি ভবিষ্যতে ১২৮ দলের বিশ্বকাপ বাস্তবায়িত হলেও তিনি বিস্মিত হবে না।

  • বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকে রাজকীয় সংবর্ধনা, মাদ্রিদে চ্যাম্পিয়ন প্যারেড

    বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকে রাজকীয় সংবর্ধনা, মাদ্রিদে চ্যাম্পিয়ন প্যারেড

    ২০২৬ বিশ্বকাপ জয়ের পর দেশে ফিরেছে স্পেন ফুটবল দল। সোমবার দুপুরে মাদ্রিদে পৌঁছানোর পর বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ঘিরে শুরু হয় সংবর্ধনার আয়োজন। রাজপ্রাসাদে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংবর্ধনা এবং রাজধানীর প্রধান সড়কজুড়ে ছাদখোলা বাসে চ্যাম্পিয়ন প্যারেডে অংশ নেন লামিন ইয়ামাল, রদ্রি, ফেরান তোরেসরা।

    মাদ্রিদে পৌঁছানোর পর দলের প্রথম গন্তব্য ছিল সারসুয়েলা প্রাসাদ। সেখানে স্পেনের রাজা ফেলিপে ষষ্ঠ, রানি লেতিসিয়া এবং রাজপরিবারের সদস্যরা বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের স্বাগত জানান। এ সময় রাজা ফেলিপে বলেন, ‘এই শিরোপা শুধু একটি দলের অর্জন নয়, এটি পুরো স্পেনের গর্ব।’

    এরপর দল যায় মোনক্লোয়া প্রাসাদে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের অভিনন্দন জানান এবং বিশ্বকাপ জয়ের জন্য ধন্যবাদ জানান। আনুষ্ঠানিকতা শেষে সন্ধ্যা ৭টার দিকে শুরু হয় বহুল প্রতীক্ষিত চ্যাম্পিয়ন প্যারেড। ছাদখোলা বাসে করে রাজধানীর প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা। রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে হাজারো সমর্থক করতালি, পতাকা ও স্লোগানে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের অভিনন্দন জানান।

    প্যারেডের শেষ গন্তব্য ছিল ঐতিহাসিক সিবেলেস স্কোয়ার। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে প্রায় ২০ লাখ সমর্থক জড়ো হয়েছিলেন। আলোকসজ্জা, সংগীত ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। মঞ্চে উঠে খেলোয়াড়রাও সমর্থকদের সঙ্গে বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দ ভাগ করে নেন।

    উৎসবের মঞ্চে স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘এই দলের কোচ হতে পারা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় গর্ব। দুই বছর আগে বলেছিলাম, আমরা একসঙ্গে থাকলে সবচেয়ে শক্তিশালী। আজ সেই বিশ্বাসেরই প্রতিফলন দেখলাম।’

    মাদ্রিদের সংবর্ধনার মধ্য দিয়েই শেষ হচ্ছে না বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের উদযাপন। আগামী কয়েক দিনে স্পেনের বিভিন্ন শহরেও দলটির সম্মানে সংবর্ধনা ও বিজয় উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।

  • সোনালি প্রজন্মে বিচ্ছেদের সুর

    সোনালি প্রজন্মে বিচ্ছেদের সুর

    আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) কার্যালয়ের জাদুঘরের গ্যালারিতে যে কটি দলগত ছবি রয়েছে, কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনা ও লিওনেল মেসি তাতে উজ্জ্বল নক্ষত্র। তারার মেলায় কিছু তারকাকে যেমন খুব সহজে আলাদা করা যায়, দেশটির ফুটবল আকাশে তেমনই উজ্জ্বল নক্ষত্র তারা। ম্যারাডোনাকে আবর্তিত করে ছিয়াশির বিশ্বকাপ জিতেছেন সার্জিও বাতিস্তা, মার্সেলো বোচিনিরা। সময়ের সেরা দল ছিল সেটি। বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি আর্জেন্টাইন ভক্ত তৈরি হয়েছিল ম্যারাডোনাকে দেখে। টানা দুই বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা ম্যারাডোনার বিদায়ের পর সাদামাটা একটি দলে পরিণত হয়েছিল আলবিসেলেস্তারা।

    লিওনেল মেসির দলটিকে দেশটির ফুটবলের সোনালি প্রজন্ম বলা হয়। ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের খেলোয়াড়দের দলগত ছবি দেখলে সমর্থকদের চোখে খেলে খুশির ঝলক। কোচ লিওনেল স্কালোনিকে নিয়ে এই দলটিকে তিল তিল করে গড়ে তুলেছিলেন মেসি। এই সোনালি প্রজন্মের দলেও হয়তো বিচ্ছেদের রাগিণী বাজবে খুব তাড়াতাড়ি। কারণ, পরের বিশ্বকাপ নিয়ে এখন থেকেই যে ভাবতে হবে আর্জেন্টিনাকে।

    মেসি ৩৯ বছর বয়সে খেলেন যুক্তরাষ্ট্রের মেজর সকার লিগের দল ইন্টার মায়ামিতে। তিনি চাইলে জাতীয় দলে আরও দুই বছর খেলতে পারবেন অনায়াসে। তবে সপ্তম বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন দেখা বেশি কিছু চাওয়া। কারণ, তখন মেসির বয়স হবে ৪৩ বছর। ওই বয়সে বিশ্বকাপের মতো হাইভোল্টেজ টুর্নামেন্টে খেলা ভীষণ কঠিন। মেসির মতো কিংবদন্তি অতটা স্বার্থপর না হওয়ারই কথা। আর তাঁর না খেলা মানে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলকে এক সুতায় বেঁধে রাখা কঠিন। দেশটির বর্তমান দলে মেসি ছাড়া দ্বিতীয় কোনো তারকা নেই। তাই নতুন ম্যারাডোনা বা নতুন মেসির খোঁজ করতে হবে তিনবারের বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনাকে। সোনালি প্রজন্মের দল থেকে এক-দুই বছরের মধ্যেই মেসি, নিকোলাস ওতামেন্দি, নিকোলাস তাগলিয়াফিকোদের সময় ফুরিয়ে যেতে পারে। ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ মাথায় রেখে নতুন তারকার খোঁজ করতে হবে কোচ লিওনেল স্কালোনিকে।

    যদিও স্পেনের কাছে ফাইনালে হেরে কোচ মিডিয়ায় বলেছেন, ‘এখন ওর বয়স ৩৯ বছর। এককথায় সে অবিশ্বাস্য। তার থেকে আমি নতুন কিছু আর বের করতে পারব না। এই কথা আমি আগেও বলেছি, এখনও বলছি। মেসি যত দিন চায় খেলে যেতে পারে। সব সমর্থক, সতীর্থ তাঁর পাশে থাকবে। আমি নিশ্চিত, প্রত্যেকে ওকে নিয়ে গর্বিত। ও যা অর্জন করেছে, নিঃসন্দেহে বিশ্বের সর্বকালের সেরা ফুটবলার।’

    আর্জেন্টিনার বর্তমান দলটিকে অভিজ্ঞ আর তরুণ খেলোয়াড়ে ভারসাম্য এনেছিলেন কোচ। যেখানে হেভিওয়েট খেলোয়াড় মেসি। বাকিরা সাধারণ। ক্লাব ফুটবলে তাদের প্রভাব থাকলেও মেসিকে ছাড়া কখনও খেলেনি। তাই ভবিষ্যতের কথা ভেবে আর্জেন্টিনাকে বিকল্প ভাবতে হতে পারে শতবর্ষী বিশ্বকাপ মাথায় রেখে। যদিও এই দল নিয়েই ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপ জিতেছে আর্জেন্টিনা। সদ্য শেষ হওয়া উত্তর আমেরিকার বিশ্বকাপের রানার্সআপ তারা। শেষ চার বিশ্বকাপের তিনটিতে ফাইনাল খেলে রানার্সআপ দুবার। কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতেছে দুবার।

    সাফল্যে মোড়ানো এই দলটিকে কোচ হয়তো এক সুতায় বেঁধে রাখার চেষ্টা করবেন আরও কিছুদিন। কারণ, মেসিদের সাফল্যে সফল তিনিও। বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ কোচ স্কালোনির এই দলে গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, হুয়ান মুসো। মিডফিল্ডে লিওনার্দো বালেরদি, গঞ্জালো মন্তিয়েল, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, ফাকুন্দো মেদিনা, নাহুয়েল মলিনা। মিডফিল্ডে ভালেন্তিন বার্কো, জিওভান্নি লো সেলসো, এক্সেকিয়েল পালাসিওস, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, এনজো ফার্নান্দেজ। আক্রমণভাগে হুলিয়ান আলভারেজ, লিওনেল মেসি, নিকোলাস গঞ্জালেজ, থিয়াগো আলমাদা, জুলিয়ানো সিমিওনে, নিকোলাস পাজ, হোসে ম্যানুয়েল লোপেজ, লাউতারো মার্তিনেজরা হয়তো দলকে এগিয়ে নেবেন। তবে সময়ের আবর্তে একটি-দুটি তারা ঝরে পড়া স্বাভাবিক। সেখানে গোলক্ষক হেরোনিমো রুইয়ি, মিডফিল্ডার রদ্রিগো ডি পল, লিয়ান্দ্রো পারেদেস ঢুকে যেতে পারেন সেই ঝুঁকির তালিকা।

  • কানাডার পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ ট্রাম্পের, নতুন করে বাণিজ্যযুদ্ধের শঙ্কা

    কানাডার পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ ট্রাম্পের, নতুন করে বাণিজ্যযুদ্ধের শঙ্কা

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডার পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি, দুগ্ধজাত পণ্য ও মদের ক্ষেত্রে কানাডা ‘বৈষম্যমূলক আচরণ’ করছে—এ অভিযোগ তুলে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

    নতুন শুল্কের আওতায় আছে ওয়াইন, হকিস্টিকের মতো ভোক্তাপণ্য ও সিমেন্টের মতো শিল্পপণ্য। তবে জ্বালানি, পটাশ, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, মাছসহ কানাডার কয়েকটি প্রধান রপ্তানিপণ্য এ শুল্কের বাইরে রাখা হয়েছে।

    কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা আরও জোরদার করতে তাঁরা প্রস্তুত।

    হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ৩০ দিনের মধ্যে নতুন শুল্ক কার্যকর হবে। এমনিতেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার সম্পর্ক ভালো নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যযুদ্ধের অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে কানাডা। তার ওপর নতুন এই শুল্কের ফলে উত্তর আমেরিকার দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা আরও বেড়ে যাবে বলেই শঙ্কা।

    যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (ইউএসএমসিএ) আওতায় এ পণ্য আছে কি না, তা এই শুল্ক আরোপের সময় বিবেচনা করা হয়নি। অর্থাৎ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আওতায় থাকুক বা না থাকুক, এ শুল্ক দিতেই হবে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে কার্নি বলেন, ‘ইউএসএমসিএর সরাসরি লঙ্ঘন করে যুক্তরাষ্ট্র যে একতরফা পদক্ষেপগুলো নিয়ে আসছে, এটি তার সর্বশেষ উদাহরণ।’

    এদিকে কার্নি কানাডার সার্বভৌমত্বের প্রতি ‘হুমকির’ বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প যে কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হওয়ার কথা বলেছিলেন, সম্ভবত সে প্রেক্ষাপটে কার্নি এ কথা বলেছেন।

    আগে থেকেই ছিল পাল্টাপাল্টি শুল্ক

    গতকাল সোমবার ঘোষিত শুল্কের আগে থেকেই দুই দেশের মধ্যে নানা ধরনের বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ আছে।

    বর্তমানে কানাডার ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও তামার ওপর যুক্তরাষ্ট্র ১৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করে রেখেছে। এ ছাড়া সফটউডে ৩৫ শতাংশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে তৈরি গাড়ির যন্ত্রাংশের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আদায় করছে ওয়াশিংটন।

    এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও যানবাহনের ওপর ২৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে কানাডা।

    দাবানলের ধোঁয়া নয়, পুরোনো বিরোধ

    সম্প্রতি কানাডা যে দাবানল হয়েছে, তার ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরেও ছড়িয়ে পড়ে। সে জন্যও শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। গতকাল তিনি যে নির্বাহী আদেশে সই করেছেন, সেখানে অবশ্য দাবানলের উল্লেখ নেই; বরং দেখা গেছে, এ নির্বাহী আদেশে গাড়ি, দুগ্ধজাত পণ্য ও মদ নিয়ে দীর্ঘদিনের বাণিজ্য বিরোধের প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়েছে। এতে দুই দেশের চলমান বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে যাবে—এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

    গাড়ির ক্ষেত্রে ট্রাম্পের অভিযোগ, ইউএসএমসিএর আওতার বাইরে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি ও যন্ত্রাংশের ওপর কানাডা কর আরোপ করে। তাঁর দাবি, এটি অযৌক্তিক ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বৈষম্যমূলক। কেননা, অন্য দেশের ক্ষেত্রে একই ধরনের কর আরোপ করা হয় না।

    উত্তর আমেরিকায় গাড়ি উৎপাদনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মধ্যে নিবিড় সমন্বয় আছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লাটনিক আগেই বলেছেন, এ খাতে কানাডার চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত।

    দুগ্ধ ও পানীয় নিয়েও দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন

    দুগ্ধজাত পণ্য নিয়ে দুই দেশের বিরোধ নতুন নয়। কানাডার সরবরাহ ব্যবস্থাপনার কারণে বিদেশি দুগ্ধপণ্য আমদানি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখতে হয়। সেই সীমা ছাড়ালে ৩০০ শতাংশের বেশি শুল্ক দিতে হয়।

    অন্যদিকে গত বছর থেকে কানাডার অধিকাংশ প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্রের মদ কার্যত বর্জন করা হচ্ছে। ওয়াশিংটনের যত অভিযোগ আছে, এটি তার মধ্যে অন্যতম।

    কানাডার প্রাদেশিক নেতারা বারবার বলেছেন, ধাতু ও মোটরগাড়ির মতো গুরুত্বপূর্ণ খাত থেকে যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক তুলে নিলে তাঁরাও মার্কিন মদ বর্জন প্রত্যাহার করবেন।

    আলোচনার চেষ্টা চলছে

    কানাডার বাণিজ্যবিষয়ক প্রতিনিধিরা সমঝোতার চেষ্টা করছেন। লক্ষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান শুল্ক কিছু হলেও যদি কমানো যায়। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে বিবিসি হোয়াইট হাউস ও কানাডা সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

    চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ইউএসএমসিএ চুক্তি বিদ্যমান রূপে নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নেয়। কানাডা ও মেক্সিকো চুক্তিটি নবায়নের পক্ষে থাকলেও ট্রাম্প প্রশাসন পরিবর্তন আনতে চায়। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেই এ চুক্তি হয়েছিল।

    বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, এ চুক্তির আওতায় আগামী এক দশক উত্তর আমেরিকার বাণিজ্য পরিচালিত হবে। তবে এর কার্যকারিতা কতটুকু, তা প্রতিবছর পর্যালোচনা করা হবে।

    নতুন আইনের আশ্রয়

    গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আরোপিত আন্তর্জাতিক শুল্ক বাতিল করে দেয়। আদালতের মতে, জাতীয় জরুরি অবস্থার জন্য প্রণীত আইনের আওতায় এই শুল্ক আরোপ করে প্রেসিডেন্ট সীমা লঙ্ঘন করেছিলেন।

    তখন হোয়াইট হাউস জানিয়েছিল, আমদানি শুল্ক আরোপে তারা অন্য আইনের দ্বারস্থ হবে।

    গতকালের নতুন শুল্ক ১৯৩০ সালের ট্যারিফ অ্যাক্টের ৩৩৮ ধারা অনুযায়ী জারি করা হয়েছে। এ ধারা জাতীয় জরুরি অবস্থার পরিবর্তে বাণিজ্যে বৈষম্যমূলক আচরণের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়।

  • মেসি, দয়া করে কেঁদো না, আবেগঘন পোস্ট শশীর

    মেসি, দয়া করে কেঁদো না, আবেগঘন পোস্ট শশীর

    ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করার পর লিওনেল মেসির আবেগঘন মুহূর্ত কোটি ভক্তের মতোই স্পর্শ করেছে ঢাকাই চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী শারমীন জোহা শশীকে। ম্যাচশেষে মেসির কান্না দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি হৃদয়ছোঁয়া স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি, যা ইতোমধ্যে ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

    ‘হাজার বছর ধরে’ সিনেমার এ অভিনেত্রী পোস্টের শুরুতেই মেসির প্রতি নিজের অকৃত্রিম ভালোবাসা প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘আমি তোমাকে ভালোবেসেছি, ভালোবাসি এবং সব সময় ভালোবাসব। তুমি সর্বকালের সেরা। মেসি, তুমি দয়া করে কেঁদো না।’

    নিজেকে আর্জেন্টিনার সমর্থক উল্লেখ করে শশী লেখেন, জীবনে সবাই সবকিছু পায় না—এটাই বাস্তবতা। তাই একটি পরাজয় কখনোই মেসির অসাধারণ অর্জন ও কিংবদন্তি মর্যাদাকে ম্লান করতে পারে না। তার ভাষায়, ‘আজকের দিনটি হয়তো তোমার ছিল না। কিন্তু তাই বলে তুমি কোনো অংশেই কম নও। তোমার ছোট ছোট অপূর্ণতাগুলোই তোমাকে আরও সুন্দর করে তোলে।’

    ফাইনাল শেষে স্পেন যখন শিরোপা জয়ের উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে, তখন নিজের অনুভূতির কথাও তুলে ধরেন এই অভিনেত্রী। তিনি লেখেন, ‘স্পেন যখন উদ্‌যাপনে ব্যস্ত ছিল, আমি দর্শকদের ভিড়ে দাঁড়িয়ে টেলিভিশনের পর্দায় শুধু ১০ নম্বর জার্সিটির দিকেই তাকিয়ে ছিলাম। আমার চোখ সেখানেই আটকে ছিল।’

    পুরো বিশ্বকাপজুড়ে মেসির নেতৃত্ব ও পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে শশী বলেন, জয়-পরাজয়কে কীভাবে গ্রহণ করতে হয়, তা মেসিই শিখিয়েছেন। টুর্নামেন্টজুড়ে অসাধারণ ফুটবল উপহার দেওয়ার জন্য তিনি আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে ধন্যবাদ জানান।

    স্ট্যাটাসের শেষেও মেসি ও আর্জেন্টিনার প্রতি নিজের অটুট ভালোবাসার কথা পুনর্ব্যক্ত করে শশী লেখেন, ‘আজকের দিনটা একসময় হারিয়ে যাবে, কিন্তু মেসি কখনো হারিয়ে যাবে না। তাই এখনো আমার কণ্ঠে একটাই ধ্বনি—মেসি সর্বকালের সেরা, আর সেরা আর্জেন্টিনা।’

    শশীর এই আবেগঘন স্ট্যাটাসে আর্জেন্টিনা ও মেসির অসংখ্য সমর্থক একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। অনেকেই মন্তব্যে লিখেছেন, একটি হার কখনোই লিওনেল মেসির কিংবদন্তি ক্যারিয়ার বা তার প্রতি ভালোবাসাকে ম্লান করতে পারবে না।

  • ট্রাম্পের সঙ্গে রোমেরো হাত না মোলানোর কারণ

    ট্রাম্পের সঙ্গে রোমেরো হাত না মোলানোর কারণ

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালের পর আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে করমর্দন না করে তাকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

    নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে রানার্সআপ হয় আর্জেন্টিনা। ম্যাচ শেষে রৌপ্যপদক গ্রহণের জন্য খেলোয়াড়রা মঞ্চে ওঠেন। সে সময় পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    আর্জেন্টিনার বেশির ভাগ খেলোয়াড় আনুষ্ঠানিকতা মেনে মঞ্চে উপস্থিত কর্মকর্তাদের সঙ্গে করমর্দন করেন। তবে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে হাত না মিলিয়ে তাকে পাশ কাটিয়ে চলে যান। টেলিভিশনের ক্যামেরায় ধরা পড়া সেই মুহূর্তের ভিডিও দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর রোমেরোর এই আচরণ নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা। কেউ তার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন, আবার কেউ এটিকে অসৌজন্যমূলক আচরণ বলে সমালোচনা করেছেন।

    কেন করমর্দন করেননি?

    রোমেরো কেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে করমর্দন করেননি, সে বিষয়ে তিনি এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেননি। ফলে তার এই সিদ্ধান্তের কারণ নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি কোনো ধরনের তর্ক-বিতর্ক বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না করে ট্রাম্পকে পাশ কাটিয়ে মঞ্চ অতিক্রম করেন।

    এ ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ রোমেরোর সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ এটিকে অসৌজন্যমূলক আচরণ হিসেবে সমালোচনা করেছেন। তবে রোমেরো নিজে এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা না দেওয়ায় তার উদ্দেশ্য বা অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।

    মাঠের মতোই আপসহীন

    বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, রোমেরোর এই আচরণ তার দীর্ঘদিনের ব্যক্তিত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে জায়গা করে নেওয়ার আগে ইতালির ক্লাব আতালান্তায় খেলেছেন তিনি। সেখানে দৃঢ়, আগ্রাসী এবং লড়াকু ডিফেন্ডার হিসেবে নিজের পরিচিতি গড়ে তোলেন। পরে কোচ লিওনেল স্কালোনির অধীনে আর্জেন্টিনা দলের রক্ষণভাগের অন্যতম ভরসায় পরিণত হন।

    ২০২৬ বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনার টানা দ্বিতীয় ফাইনালে ওঠার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন রোমেরো। তবে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে স্পেনের কাছে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে হেরে লিওনেল মেসিদের টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত পূরণ হয়নি।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানটি মূলত খেলোয়াড়দের অর্জন উদযাপনের জন্য হলেও ট্রাম্পের উপস্থিতির কারণে সেখানে রাজনৈতিক মাত্রা যোগ হয়। আর সেই প্রেক্ষাপটে রোমেরোর করমর্দন না করার ঘটনাই রাতের সবচেয়ে আলোচিত দৃশ্যগুলোর একটি হয়ে ওঠে।

    কেউ এটিকে অসম্মানজনক বলতে পারেন, তবে প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্মান জোর করে আদায় করা যায় না। রোমেরো বিশ্বের কোটি দর্শকের সামনে নিজের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গে আসা সমালোচনাও মেনে নিয়েছেন।

    ফাইনালে হারের হতাশার মধ্যেও তিনি কোনো কথা না বলেই নিজের নীতির প্রতি অটল থাকার বার্তা দিয়েছেন।

  • মেসিকে নিয়ে আবেগঘন মন্তব্য কুবারসির

    মেসিকে নিয়ে আবেগঘন মন্তব্য কুবারসির

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে স্পেন। ঐতিহাসিক এই জয়ের পর উচ্ছ্বাসের মধ্যেও প্রতিপক্ষের কিংবদন্তি ফুটবলার লিওনেল মেসির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন স্পেনের ১৯ বছর বয়সি সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার পাউ কুবারসি।

    শৈশব থেকেই মেসিকে নিজের অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখে আসা কুবারসি বলেন, প্রিয় খেলোয়াড়কে পরাজিত হতে দেখা তার জন্য সহজ ছিল না। তার ভাষায়, ‘তিনি আমার আদর্শ। তাই তাকে এভাবে হারতে দেখা আমার ভালো লাগেনি।’

    বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার আনন্দের পাশাপাশি ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকার প্রতি কুবারসির এই আবেগঘন মন্তব্য ক্রীড়াঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

  • সবকিছুই মেসির, শুধু ট্রফিটা স্পেনের

    সবকিছুই মেসির, শুধু ট্রফিটা স্পেনের

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    মেটলাইফ স্টেডিয়ামে উপস্থিত ৮০,৬৬৩ জন দর্শকের সিংহভাগই এসেছিলেন এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে—লিওনেল মেসিকে আরও একবার বিশ্বজয়ী হিসেবে দেখার জন্য। নিয়তি হয়তো স্ক্রিপ্টটা অন্যভাবে লিখেছিল। নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে যখন স্প্যানিশ উল্লাস, তখন মাঠের এক কোণে দাঁড়িয়ে থাকা ৩৯ বছর বয়সি ফুটবল জাদুকর চোখের জল ফেলছিলেন। ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালটা লিওনেল মেসির হাতে আরো একটি ট্রফি তুলে দেয়নি সত্যি; কিন্তু বিধাতা তাকে সব দিয়েছেন, যার নাম ‘অমরত্ব’। স্পেনের কাছে ১-০ গোলের হার আর্জেন্টিনার জন্য হৃদয়ভঙ্গ হলেও ফুটবল রোমান্টিকদের জন্য এটি ছিল এক কিংবদন্তির গৌরবময় ‘বিদায়ের মহাকাব্য’!

    কিলিয়ান এমবাপ্পে, জুড বেলিংহাম কিংবা আর্লিং হালান্ডের মতো তরুণ তুর্কিদের গতি আর শক্তির বিশ্বকাপে ৩৯ বছরের মেসি খেলেছেন স্রেফ মস্তিষ্ক দিয়ে। টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনার করা ১৯ গোলের ১২টিই এসেছে তার পা ছুঁয়ে (আট গোল ও চার অ্যাসিস্ট)। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হাঁকিয়েছেন দারুণ এক হ্যাটট্রিক। ফরাসি ফরোয়ার্ড এমবাপ্পের (১০ গোল) চেয়ে মাত্র দুই গোল পিছিয়ে থেকে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে রানার্সআপ হয়েছেন ইন্টার মিয়ামির এই মহাতারকা। বয়স যে স্রেফ একটি সংখ্যা, তা আবারও প্রমাণ করলেন ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী ‘এলএমটেন’।

    এ বিশ্বকাপে মেসির আরেকটি লড়াই ছিল ইতিহাসের পাতায় নিজের অবস্থান আরো শক্ত করার। টুর্নামেন্ট চলাকালে জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ভেঙে শীর্ষে উঠেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে অবস্থান ধরে রাখতে পারেননি। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে গোল করে কিলিয়ান এমবাপ্পে ২২ গোল নিয়ে আবার শীর্ষস্থান দখল করেন। মেসির বিশ্বকাপ গোলসংখ্যা থেমে যায় ২১-এ।

    এবারের বিশ্বকাপে মেসি আন্তর্জাতিক ফুটবলের পরিসংখ্যানকে নতুন করে লিখতে বাধ্য করেছেন; ফুটবল ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে তিনটি ভিন্ন বিশ্বকাপের ফাইনালে অধিনায়কত্ব করার অনন্য কীর্তি গড়েছেন মেসি। বিশ্বকাপে রেকর্ড সর্বোচ্চ ৩৩ গোলে অবদান এবং ১২ অ্যাসিস্টের মালিকও এখন এই মেগাস্টার। আর্জেন্টিনার জার্সিতে ২০৭ ম্যাচ খেলে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও লুকা মদরিচের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ফুটবলের ২০০ ম্যাচের এলিট ক্লাবে নিজের নাম লিখে ফেলেছেন। গোল পেয়েছেন ১২৫টি।

    সংখ্যা বা পরিসংখ্যান দিয়ে লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের গভীরতা মাপা অসম্ভব। ২০০৬ বিশ্বকাপে অভিষেকের পর দীর্ঘ একটা সময় তাকে তীব্র সমালোচনা ও অপবাদের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। ২০০৭ সালের কোপা আমেরিকা, ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ এবং পরে টানা দুটি কোপা আমেরিকার ফাইনালে পরাজয়ের নিষ্ঠুর আঘাত সইতে না

    পেরে ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানান তিনি। তবে সেই অভিমানী বিদায় স্থায়ী হয়নি। রাজকীয় প্রত্যাবর্তনের পর কোচ লিওনেল স্কালোনির ছোঁয়ায় বদলে যায় আর্জেন্টিনার ফুটবলের পুরো দৃশ্যপট। ২০২১ সালের কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা, ২০২২ সালের স্বপ্নের বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকা জয়ে মেসির হাত ধরেই আলবিসেলেস্তেরা প্রবেশ করে সাফল্যের এক অবিস্মরণীয় স্বর্ণযুগে।

    ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার ড্রেসিংরুমের বিষাদ ছুঁয়ে গেছে পুরো ফুটবল বিশ্বকে। তবে কোচ লিওনেল স্কালোনির কথাতেই লুকিয়ে ছিল আসল সত্য, ‘মেসি ফুটবলকে যা দিয়েছে, একটি ম্যাচ বা একটি ট্রফি দিয়ে তার পরিমাপ অসম্ভব।’

    ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার সাথে সাথেই মাঠে হাত রেখে শূন্য দৃষ্টিতে চেয়ে রইলেন মেসি। চার বছর আগে ফ্রান্সের বিপক্ষে টাইব্রেকারে জয় আর টানা দুটি কোপা আমেরিকা জয়ের পর এই হার যেন মেনে নেওয়া কঠিন ছিল ৩৯ বছর বয়সী এই মহাতারকার জন্য। লা লিগা ও পিএসজির পাট চুকিয়ে তিন বছর আগে যখন তিনি এমএলএস-এ যোগ দেন, অনেকেই ভেবেছিলেন তার ক্যারিয়ারের শেষ। কিন্তু এই বিশ্বকাপেও ৮ ম্যাচে ৮টি গোল এবং ৪টি অ্যাসিস্ট করে দলকে ফাইনালে টেনে এনেছেন তিনি।

    ম্যাচ শেষে লামিনে ইয়ামালরা তাকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দিলেও মেসির চোখে-মুখে ছিল রাজ্যের হতাশা। রানার্স-আপ মেডেল নেওয়ার সময় স্প্যানিশ খেলোয়াড়দের দেওয়া ‘গার্ড অব অনার’-এর ভেতর দিয়ে যাওয়ার সময় জোড় করে একটু হাসার চেষ্টা করলেও তা মলিন হয়ে যায়। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এটিই মেসির শেষ ম্যাচ কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। কোচ লিওনেল স্কালোনি জানান, মেসির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে এখনো তাদের কোনো কথা হয়নি। তবে তিনি যোগ করেন, ‘সবাই যেন তাকে নিয়ে গর্ববোধ করে, কারণ সে ফুটবল ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়।’

    আন্তর্জাতিক মঞ্চে এটাই যদি মেসির ‘লাস্ট ড্যান্স’ বা শেষ বিশ্বকাপ হয়ে থাকে, তবে কাপ না পাওয়ার আক্ষেপ ছাপিয়ে ফুটবল বিশ্ব মনে রাখবে এক বুড়ো জাদুকরের অদম্য লড়াইকে। যিনি ট্রফি ছাড়াই ফুটবল মঞ্চ থেকে বিদায় নিলেন সর্বকালের সেরা বা ‘গোট’ হিসেবে।

    স্পেনের এই জয়ের দিনে ফুটবল বিশ্ব যেমন লামিনে ইয়ামালের মতো ১৯ বছর বয়সী নতুন এক তারকার উত্থান দেখল, ঠিক তেমনি দেখল এক কিংবদন্তির ট্র্যাজিক এবং অশ্রুসিক্ত অধ্যায়। কনফেত্তির সোনালী আলোয় যখন স্পেন মেতে উঠেছিল উল্লাসে, তখন কাঁধ ঝুঁকিয়ে গ্লানিভরা মুখে মাঠ ছাড়ছিলেন ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি।

  • ক্ষত শুকাতে সময় লাগবে, তবুও স্পেনকে অভিনন্দন; মেসি

    ক্ষত শুকাতে সময় লাগবে, তবুও স্পেনকে অভিনন্দন; মেসি

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন ভেঙেছে ফাইনালেই। তবে পরাজয়ের বেদনার মাঝেও প্রতিপক্ষকে সম্মান জানাতে ভোলেননি লিওনেল মেসি। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের একদিন পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

    নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে মেসি লিখেছেন, “ব্যথাটা অনেক গভীর এবং এই ক্ষত শুকাতে অনেক সময় লাগবে। কিন্তু আমি ভালো স্মৃতিগুলোকেই আঁকড়ে ধরে রাখতে চাই।”

    টুর্নামেন্টজুড়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করা মেসি ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট নিয়ে বিশ্বকাপ শেষ করেছেন। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে তার নামের পাশে এখন ২১ গোল ও ১২ অ্যাসিস্ট।

    তবে ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলগত সাফল্যই যে তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, সেটিই ফুটে উঠেছে পুরো বার্তাজুড়ে। তিনি লিখেছেন, “যে ম্যাচগুলোতে আমরা সবটুকু উজাড় করে দিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছিলাম, সেগুলো চিরকাল আমাদের স্মৃতিতে থাকবে। পুরো দেশের সমর্থন এবং এই দলের পরিশ্রম আমাদের আবারও বিশ্বের সেরাদের মধ্যে জায়গা করে দিয়েছে। আজ আমরা যা করেছি, তার মূল্যায়ন করা কঠিন। তবে এই দলটি টানা দুটি বিশ্বকাপ ফাইনালে পৌঁছেছে।”

    সমর্থকদের উদ্দেশেও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক, “প্রতিটি শুভেচ্ছা এবং বার্তার জন্য হৃদয় থেকে অনেক ধন্যবাদ। আবারও আমরা দেশ হিসেবে একত্রিত হতে পেরেছি এবং সবাই একসঙ্গে আর্জেন্টাইন হওয়ার বিশাল গর্ব ভাগ করে নিয়েছি।”

    নিজেদের স্বপ্নভঙ্গের মাঝেও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকে অভিনন্দন জানাতে ভোলেননি আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী। পোস্টের শেষ লাইনে তিনি লেখেন, “আমি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য স্পেনকেও অভিনন্দন জানাতে চাই।”

    ফাইনালের পর মেসির এই বার্তা ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। হতাশা, কৃতজ্ঞতা এবং প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মান—সবকিছু মিলিয়ে আর্জেন্টাইন অধিনায়কের এই পোস্টকে অনেকেই একজন সত্যিকারের কিংবদন্তির ক্রীড়াসুলভ মানসিকতার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।

  • মেসিকে ছাড়াই দেশে ফিরে উষ্ণ অভ্যর্থনা পেল আর্জেন্টিনা

    মেসিকে ছাড়াই দেশে ফিরে উষ্ণ অভ্যর্থনা পেল আর্জেন্টিনা

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন ভেঙে রানার্সআপ হয়েই দেশে ফিরেছে আর্জেন্টিনা। তবে দলের সঙ্গে ছিলেন না অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ব্যক্তিগত কারণে তিনি যুক্তরাষ্ট্রেই থেকে গেছেন বলে জানিয়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)।

    সোমবার (স্থানীয় সময়) বুয়েনস আইরেসের এজেইজা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন কোচ লিওনেল স্কালোনির নেতৃত্বাধীন আর্জেন্টিনা দল। বিমানবন্দরে তাদের জন্য ছিল লাল গালিচা সংবর্ধনা এবং সামরিক ব্যান্ডের আয়োজন। বিশ্বকাপ জিততে না পারলেও খেলোয়াড়দের স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন এএফএর কর্মকর্তারাও।

    তবে সবার নজর ছিল লিওনেল মেসিকে ঘিরে। কিন্তু বিমান থেকে নামতে দেখা যায়নি আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে। এএফএ আগেই জানিয়েছিল, স্কোয়াডের কয়েকজন সদস্য দলের সঙ্গে দেশে ফিরবেন না। মেসির পাশাপাশি আরও কয়েকজন ফুটবলার যুক্তরাষ্ট্রেই থেকে গেছেন।

    বৃষ্টি ও শীত উপেক্ষা করে এজেইজা বিমানবন্দরের বাইরে এবং জাতীয় দলের অনুশীলন কেন্দ্রের আশপাশে ভিড় করেন হাজারো সমর্থক। আকাশি-সাদা পতাকা ও ছাতা হাতে তারা করতালি আর স্লোগানে রানার্সআপ দলকে স্বাগত জানান। বিশ্বকাপ হাতছাড়া হলেও খেলোয়াড়দের প্রতি সমর্থকদের ভালোবাসায় কোনো ঘাটতি ছিল না।

    এর আগে বিশ্বকাপ ফাইনালের পরপরই বুয়েনস আইরেসের ঐতিহাসিক ওবেলিস্ক চত্বরে জড়ো হয়েছিলেন হাজারো সমর্থক। আতশবাজি, গান আর করতালিতে দলকে অভিনন্দন জানানো হলেও রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। এক পর্যায়ে উচ্ছৃঙ্খল কিছু সমর্থকের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জলকামান, টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট ব্যবহার করে। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় অন্তত ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে।

    স্পেনের কাছে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে হেরে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেঙেছে আর্জেন্টিনার। তবুও দেশে ফেরার পর দলের প্রতি সমর্থকদের উষ্ণ অভ্যর্থনা স্পষ্ট করে দিয়েছে, শিরোপা হাতছাড়া হলেও স্কালোনির দল এখনও কোটি আর্জেন্টাইন সমর্থকের হৃদয়ের দল।

  • আগামীর কিংবদন্তি লামিনে ইয়ামাল

    আগামীর কিংবদন্তি লামিনে ইয়ামাল

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপ ফাইনালের শেষ বাঁশি বাজার পর যখন ১৯ বছর বয়সি স্প্যানিশ তরুণ লামিনে ইয়ামাল অশ্রুসিক্ত লিওনেল মেসিকে জড়িয়ে ধরলেন, তখন ফুটবল বিশ্ব এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হলো। এটি কেবল সান্ত্বনার কোলাকুলি ছিল না, বরং ছিল বিশ্বফুটবলের রাজদণ্ড এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে হস্তান্তরের প্রতীক।

    নিউ ইয়র্কের নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজার হাজার আর্জেন্টাইন সমর্থক যখন ৩৯ বছর বয়সি মেসির নাম ধরে চিৎকার করছিলেন, তখন হয়তো ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা নায়ক তার শেষ বিশ্বকাপ মঞ্চকে বিদায় জানাচ্ছিলেন। আর ঠিক সে মুহূর্তে বার্সেলোনার বর্তমান ১০ নম্বর জার্সিধারী ইয়ামাল জড়িয়ে ধরলেন ক্লাবটির ইতিহাসের সবচেয়ে কিংবদন্তি ১০ নম্বরকে। ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বরে একটি দাতব্য ক্যালেন্ডারের র‍্যাফেলের অংশ হিসেবে ২০ বছর বয়সি মেসির কোলে থাকা ছয় মাসের শিশু ইয়ামালের সেই ভাইরাল ছবিটির বৃত্ত যেন আজ সম্পূর্ণ হলো। সেই শিশুটিই আজ বিশ্বজয়ী পুরুষ।

    দুবছর আগে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে স্পেনের ইউরো জয়ের নায়ক ইয়ামাল এবার বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে একপ্রকার ‘পূর্ণতা’ দিলেন। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট কাটিয়ে টুর্নামেন্টে খেলতে আসা এই তরুণ মাত্র ১৯ বছর ছয়দিন বয়সে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে একইসঙ্গে বিশ্বকাপ ও ইউরো জয়ের অনন্য কীর্তি গড়লেন।

    ফাইনালের মঞ্চে ইয়ামালের উপস্থিতি ছিল স্পেনের নিখুঁত ও নান্দনিক কৌশলের মূল ভিত্তি। বিপরীতে আর্জেন্টিনার আক্রমণাত্মক ও শারীরিক শক্তি প্রদর্শনের কৌশল সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। স্পেনের হয়ে খেলা ২৮টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের একটিতেও হারেননি ইয়ামাল। তাছাড়া বড় টুর্নামেন্টে মূল একাদশে থেকে টানা ১৩ ম্যাচ জেতার রেকর্ড গড়েছেন, যা ইউরোপীয় ফুটবলে আর কোনো খেলোয়াড়ের নেই। পেলে (১৯৫৮), জিউসেপ্পে বার্গোমি (১৯৮২) এবং কিলিয়ান এমবাপ্পের (২০১৮) পর ইতিহাসের মাত্র পঞ্চম তরুণ হিসেবে বিশ্বকাপ ফাইনালের মূল একাদশে খেলে শিরোপা জেতার গৌরব অর্জন করলেন ইয়ামাল ও তার সতীর্থ পাউ কুবার্সি।

    আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার নিকোলাস তাগলিয়াফিকোসহ প্রতিপক্ষের চরম শারীরিক ও মানসিক চাপ উড়িয়ে দিয়ে মাঠে শান্ত ছিলেন ইয়ামাল। তার এই পরিপক্বতা দেখে ইংল্যান্ডের সাবেক গোলরক্ষক ও বিবিসি স্পোর্টসের পণ্ডিত জো হার্ট বলেন, ‘লামিনে ইয়ামাল কেবল প্রতিক্রিয়াই দেখায়নি, সে বুক চিতিয়ে লড়েছে। পুরো দল তাকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও শান্ত ছিল সে। ১৯ বছর বয়সেই সে ফুটবলকে পূর্ণতা দিয়েদিল।’

    অতিরিক্ত সময়ের ১০৬ মিনিটে ফেরান তোরেসের জয়সূচক গোলে স্পেনের নতুন এই সোনালি অধ্যায় লেখা হয়েছে। ম্যাচ শেষে স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে ইয়ামালের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘ও দারুণ ফুটবল খেলেছে, যা তাকে আরো পরিপক্ব হতে সাহায্য করবে। দলের জন্য ও নিজেকে উজাড় করে দিয়েছে।’

    রদ্রিগোর মতো অভিজ্ঞ অধিনায়কের ছায়ায় এবং নিজের অবিশ্বাস্য প্রতিভায় ভর করে ১৯ বছর বয়সেই ইয়ামাল বিশ্বজয় করেছে। ক্যারিয়ারের একদম শুরুতে দাঁড়িয়ে থাকা এই তরুণের সামনে যে আরো কত সাফল্য অপেক্ষা করছে, তা সময়ই বলে দেবে।

  • ফাইনালের পর মাঠ মাতাল ইয়ামালের ছোট ভাই, দেখুন ১৫টি ছবি

    ফাইনালের পর মাঠ মাতাল ইয়ামালের ছোট ভাই, দেখুন ১৫টি ছবি

    স্পেন–আর্জেন্টিনা ফাইনালের পর মাঠের অন্যতম আলোচিত চরিত্র কোনো খেলোয়াড় বা কোচিং স্টাফের সদস্য নন, লামিনে ইয়ামালের ভাই কেইনে ইয়ামাল। বিশ্বকাপজুড়ে প্রচারমাধ্যমের আলোয় থাকা কেইনেকে ফাইনালের পুরস্কার বিতরণীর আগে মাঠজুড়ে ঘুরে নানা কাণ্ড–কীর্তিতে মেতে উঠতে দেখা গেছে। ছবিতে দেখুন মজার সেসব দৃশ্য।

    ১ / ১৫

    কেইনে ইন মুড …রয়টার্স

    ২ / ১৫

    বল পায়ে নিয়ে একটু খেলা যাক রয়টার্স

    ৩ / ১৫

    দূরপাল্লার শট …রয়টার্স

    ৪ / ১৫

    উদ্‌যাপনে ভাই না হলে কি চলে! রয়টার্স

    ৫ / ১৫

    ভাইয়ের গলায় ওটা কী? দেখি তো! রয়টার্স

    ৬ / ১৫

    কেইনেও তারকা। ফটোগ্রাফারদের ভিড়েও খেলায় মনোযোগ রয়টার্স

    ৭ / ১৫

    গোলের জাল কেটে নিচ্ছেন মিকেল ওইয়ারসাবাল। কেইনেরও একটু দরকার রয়টার্স

    ৮ / ১৫

    নেট এনে নিউইয়র্ক পুলিশের এক সদস্যের সঙ্গে খুনসুটি কেইনের রয়টার্স

    ৯ / ১৫

    পুলিশও কম যায় না, মাথার ক্যাপ পরিয়ে দিলেন কেইনের মাথায়র রয়টার্স

    ১০ / ১৫

    সবাই ব্যস্ত যাঁর যাঁর মতো। কেইনে ব্যস্ত ফাঁকা পোস্ট আর ছেঁড়া জালে গোল দেওয়ায় রয়টার্স

    ১১ / ১৫

    গোওওওওল …

    ১২ / ১৫

    ভাই এক পাশে, অন্য পাশে বল নিয়ে কেইনে রয়টার্স

    ১৩ / ১৫

    বিশ্বকাপের মাঠে সমবয়সী একজনকে পেয়ে গেছে কেইনে রয়টার্স

    ১৪ / ১৫

    শরীরের তুলনায় বলের আকার ছোটখাটো নয় রয়টার্স

    ১৫ / ১৫

    কার দিকে তাকিয়ে এত হাসি কেইনের? রয়টার্স

  • ‘আজকে খেলি নাই তাই জিতি নাই’

    ‘আজকে খেলি নাই তাই জিতি নাই’

    আর্জেন্টিনা দলের সমর্থক ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী কেয়া পায়েল। প্রিয় দলের জয় উদযাপনের জন্য আতশবাজি কিনেছিলেন তিনি। তবে বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে শিরোপা হাতছাড়া হয় আর্জেন্টিনার। প্রিয় দলের এমন পরাজয়ে মন খারাপ আর্জেন্টিনা সমর্থকদের।

    এদিকে ফাইনালে আর্জেন্টিনা হেরে যাওয়ার পরও সেই আতশবাজিগুলো ফুটিয়ে আলোচনা-সমালোচনায় এসেছেন কেয়া পায়েল। গতকাল রোববার গভীর রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন তিনি। সেখানে দেখা যায়, ছাদে দাঁড়িয়ে আতশবাজি ফোটাচ্ছেন কেয়া। ভিডিওর ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, ‘ভাবছিলাম জিতলে ফুটাব, কিন্তু নষ্ট হয়ে যাবে তো, তাই আরকি।’

    এতেই শেষ নয়। পোস্টের মন্তব্যের ঘরে কৌতুক করে তিনি আরও লিখেছেন, ‘আজকে খেলি নাই তাই জিতি নাই, খেললে জিতে যাইতাম।’

    কেয়ার এই ভিডিও প্রকাশের পর নেটদুনিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই তার রসবোধের প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ কেউ মজার ছলে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের খোঁচা দিয়ে মন্তব্যও করছেন।

    বিশ্বকাপ ফাইনালের পর ফুটবলপ্রেমীদের নানা প্রতিক্রিয়ার মধ্যেই কেয়া পায়েলের এই ব্যতিক্রমী উদযাপন নেটদুনিয়ায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

  • বিশ্বকাপ জয়ে উচ্ছ্বসিত সিয়াম আহমেদ

    বিশ্বকাপ জয়ে উচ্ছ্বসিত সিয়াম আহমেদ

    স্পেন দলের সমর্থক ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা সিয়াম আহমেদ। আন্তর্জাতিক ফুটবলের বড় আসর এলেই প্রিয় দলের প্রতি নিজের ভালোবাসার কথা তিনি প্রকাশ করেন নেটদুনিয়ায়। এবার বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে স্পেন। ১-০ গোলে হেরে শিরোপা হাতছাড়া হয় আর্জেন্টিনার।

    ফাইনালে স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনার হার নিশ্চিত হওয়ার পর ফেসবুকে স্ত্রীর সঙ্গে একটি রিলস শেয়ার করেন সিয়াম। সেখানে তাকে বলতে শোনা যায়, ভালো খেলছ- এটা বলা যাচ্ছে না আর্জেন্টিনা। এটা প্রত্যাশা করে স্পেন।

    পোস্টের ক্যাপশনে ছিল শুধু স্পেনের পতাকার ইমোজি, যা দিয়েই দলের প্রতি নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তিনি।

    বলে রাখা যায়, বাংলাদেশে যেখানে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সমর্থক সংখ্যাই বেশি, সেখানে অভিনেতা সিয়াম আহমেদ ব্যতিক্রম। ২০০৭ সাল থেকে তার প্রিয় দল স্পেন।

    মূলত ডেভিড ভিয়ার খেলা দেখেই দলটির প্রতি ভালোবাসা তৈরি হয়েছিল। তার গতি, গোল করার অসাধারণ দক্ষতা এবং মাঠে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা মুগ্ধ করেছে এই অভিনেতাকে। এরপর ধীরে ধীরে স্পেন দলের খেলা নিয়মিত অনুসরণ করতে শুরু করেন তিনি।

    সিয়ামের কথায়, ‘সেই সময় স্পেন বিশ্বের অন্যতম সেরা দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছিল। তাদের নিখুঁত পাসিং ফুটবল, বল দখলে রাখার কৌশল এবং দলগত সমন্বয় ছিল চোখে পড়ার মতো। ডেভিড ভিয়া, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, জাভি হার্নান্দেজদের সেই প্রজন্মের খেলা আজও স্মৃতিতে ভাসে। তাই এত বছর পরও স্পেনই আমার প্রিয় দল আর তাদের সাফল্য আমাকে সবসময় আনন্দ দেয়।’

  • ‘ভাগ্য আমাদের পক্ষেই লেখা ছিল’

    ‘ভাগ্য আমাদের পক্ষেই লেখা ছিল’

    আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জিতেছে স্পেন। অবিশ্বাস্য এই ফাইনাল শেষে স্পেনের ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেস বলেছেন, আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দেশকে বিশ্বকাপ জেতানোর পর মনে হয়েছে, ভাগ্য আমাদের পক্ষে ছিল।

    রোববার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে নেমে অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে একমাত্র গোলটি করেন তোরেস। তার সেই গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতে নেয় স্পেন।

    ম্যাচ শেষে ফিফার সম্প্রচারমাধ্যমকে তোরেস বলেন, ‘আমার মনে হয়, শেষ পর্যন্ত এই গোলটি শুধু আমাদের কয়েকজনের নয়, স্পেনের ৪ কোটি ৭০ লাখ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। আজ ভাগ্য আমাদের পক্ষেই লেখা ছিল। এই শিরোপা আমাদের জন্যই নির্ধারিত ছিল। আজ আমরা আমাদের দেশের মানুষ থেকে অনেক দূরে আছি, কিন্তু যতটা সম্ভব তাদের কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করেছি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘ফাইনাল সব সময়ই কঠিন হয়। প্রতিপক্ষে যখন লিওনেল মেসির মতো একজন খেলোয়াড় থাকে, তখন অবশ্যই কিছুটা দুশ্চিন্ত থাকে। কিন্তু আমরা সব সময় নিজেদের ওপর বিশ্বাস রেখেছি এবং নিজেদের ফুটবল খেলতে চেয়েছি। আমার মনে হয়, সেটি আমরা আবারও করে দেখাতে পেরেছি।’

    গোলের অনুভূতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘গোল করতে পেরে বিশাল স্বস্তি পেয়েছি। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে আমাকে অনেক সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। কিন্তু আমি আগেও বলেছি, ভাগ্য আমাদের পক্ষেই লেখা ছিল। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ। তিনি সব সময় আমাকে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি দেন। আর শেষ পর্যন্ত তিনি সেই মানুষদেরই প্রাপ্য জিনিসটি দেন, যারা সত্যিই তার যোগ্য।’

  • বিশ্বকাপ জিতলে বিয়ে! আর্জেন্টিনার হারের পর যা বললেন পরীমনি

    বিশ্বকাপ জিতলে বিয়ে! আর্জেন্টিনার হারের পর যা বললেন পরীমনি

    স্পেনের কাছে বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে আর্জেন্টিনার। প্রিয় দল আর্জেন্টিনার ১–০ গোলে হারের সঙ্গে আপাতত শেষ হয়ে গেল আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনির ‘বিয়ের পরিকল্পনাও’। ফাইনাল শেষে আর্জেন্টিনার পরাজয়ের প্রতিক্রিয়ায় পরীমনি মজাচ্ছলে বলেন, ‘বিয়েটা আর করতে হলো না, এই আরকি। ভালোবাসার আর্জেন্টিনা, আবার দেখা হবে।’

    পরীমনিছবি : নায়িকার ফেসবুক থেকে

    পরীমনির এমন মন্তব্যেও সাড়া পড়েছে। তাঁর এই ফেসবুক পোস্টে ৫২ হাজারের বেশি রিঅ্যাকশন এসেছে, মন্তব্যের ঘর বন্ধ থাকায় শেয়ার হয়েছে পোস্টটি। কথা প্রসঙ্গে পরীমনি বলেন, ‘ফাইনাল খেলার মধ্য দিয়ে যেন বিয়ের আগেই সব হিসাব-নিকাশ বদলে গেল। আর্জেন্টিনার জন্য মনটা খুব খারাপ। কারণ, এই দলের সঙ্গে ইমোশন ও ভালোবাসা—দুটোই জড়িয়ে আছে। তবে আমি মনে করি, হার মানেই শেষ নয়, নতুনভাবে শুরু করাও। ভালোবাসার আর্জেন্টিনা, তোমাদের জন্য অপেক্ষা থাকবে পরের বিশ্বকাপ পর্যন্ত। নিশ্চয়ই তোমরা আরও দারুণভাবে ফিরে আসবে। আর মেসি তো একটা মায়া, তার জন্য মন থেকে ভালোবাসা।’

    এদিকে বিশ্বকাপের পুরো সময়টায় আর্জেন্টিনার সমর্থনে সরব ছিলেন পরীমনি। দলের প্রতিটি জয় উদ্‌যাপন করেছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। কখনো আকাশি-সাদা জার্সি পরে ভিডিও বানিয়েছেন, কখনো আবার ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসির প্রতি ভালো লাগার কথা জানিয়েছেন বিভিন্ন পোস্টে।

    চিত্রনায়িকা পরীমনির বিয়ের ঘোষণা নিয়ে ফেসবুক পোস্ট আলোচনায় আসে গত বুধবার দিবাগত রাতে। আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনালের আগে তিনি লিখেছিলেন, ‘আর্জেন্টিনা কাপ জিতলে আমি আবার একটা বিয়া করব। ফাইনাল।’ মজার ছলে দেওয়া সেই পোস্ট মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। কয়েক লাখ প্রতিক্রিয়া ও হাজার হাজার শেয়ারে সামাজিক যোগযোগমাধ্যমে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা।

    পরীমনিফেসবুক থেকে

    ফাইনালের আগে সেই পোস্ট নিয়ে খানিকটা অস্বস্তিতেও পড়েছিলেন পরীমনি। গতকাল রোববার দুপুরে হাসতে হাসতেই তিনি বলেন, ‘আমি তো এর আগে ঘোষণা দিয়ে বিয়ে করিনি। প্রেম করেছি, এরপর হুট করে বিয়ে করে ফেলছি। এবার বিয়ের ঘোষণা দিয়ে তো মুসিবতে পড়ে গেলাম। ভাবিনি, এভাবে সবাই বিষয়টিকে সিরিয়াসলি নিয়ে নেবে। এত এত সিরিয়াস সব বিয়ের প্রস্তাব আসতেছে, কিছুই বুঝতেছি না, কী করব।’

    শুধু তা–ই নয়, বিয়ের পথে আরেকটি বড় বাধার কথাও তুলে ধরেন পরীমনি। তিনি বলেন, ‘বিয়ের জন্য তো একজন অভিভাবক লাগে। আগে আমার অভিভাবক ছিল, এখন তো ওই পর্যায়ের কেউই নেই। ভাবছি, ছেলে বড় হোক, ছেলে বিয়েশাদি করুক। এরপর কিংবা তার আগে ছেলে যদি অভিভাবক হয়ে বিয়ে দেয়, তাহলেই বিয়ে করতে পারব।’

    তবে শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার ট্রফি জয়ের স্বপ্ন যেমন পূরণ হয়নি, তেমনি আপাতত সত্য হচ্ছে না পরীমনির সেই বহুল আলোচিত বিয়ের ঘোষণাও। তাই ফাইনাল শেষে অভিনেত্রীর সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়াতেই যেন ধরা পড়েছে আর্জেন্টিনা-ভক্তের আক্ষেপ—‘বিয়েটা আর করতে হলো না, এই আরকি। ভালোবাসার আর্জেন্টিনা, আবার দেখা হবে।’

  • ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল হবে কোথায়

    ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল হবে কোথায়

    ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল কোন স্টেডিয়ামে হবে, তা নিয়ে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। স্পেনের ঐতিহ্যবাহী সান্তিয়াগো বার্নাব্যু ও ক্যাম্প ন্যুর পাশাপাশি এখন জোরালোভাবে উঠে এসেছে মরক্কোর নির্মাণাধীন গ্র্যান্ড হাসান স্টেডিয়ামের নাম। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি, তবে আয়োজক দেশগুলোর মধ্যে এ নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ।

    স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো যৌথভাবে ২০৩০ বিশ্বকাপ আয়োজন করবে। ঐতিহ্য, অবকাঠামো ও অভিজ্ঞতার দিক থেকে শুরু থেকেই ফাইনালের সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে এগিয়ে ছিল রিয়াল মাদ্রিদের সান্তিয়াগো বার্নাব্যু এবং বার্সেলোনার ক্যাম্প ন্যু। তবে মরক্কো নতুন করে সমীকরণ বদলে দিতে চাইছে নির্মাণাধীন ১ লাখ ১৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার হাসান স্টেডিয়ামকে সামনে রেখে।

    মরক্কোর এই স্টেডিয়ামটি নির্মিত হচ্ছে বেনসলিমানেতে। এর নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ। ২০২৩ সালের অক্টোবরে দেশটির সরকার জানায়, স্টেডিয়াম নির্মাণে ব্যয় হবে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫,৯০০ কোটি টাকা। পাশাপাশি ট্যাঙ্গিয়ার, কাসাব্লাঙ্কা, রাবাত, আগাদির, মারাকেশ ও ফেজের স্টেডিয়ামগুলোকে ফিফার মানে উন্নীত করতে ৬০০০ কোটি টাকার ওপরে খরচ হবে।

    বিশ্বকাপের ফাইনাল আয়োজনের দৌড়ে রিয়াল মাদ্রিদের বড় শক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে ক্লাব সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজকে। চলতি বছরের জুনে তিনি আবারও সভাপতি নির্বাচিত হন। ফিফার সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে ২০২৫ ক্লাব বিশ্বকাপ নিয়ে ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর আপত্তি দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি, যা ফিফার জন্য ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প।

    তবে নেপথ্যে একটি সমঝোতার কথাও শোনা যাচ্ছে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিশ্বকাপের ফাইনাল হতে পারে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে, আর একটি সেমিফাইনাল হতে পারে মরক্কোর হাসান স্টেডিয়ামে। এর বিনিময়ে ২০২৯ ক্লাব বিশ্বকাপ আয়োজনের সুযোগ পেতে পারে মরক্কো। প্রতিবেদনে এমনটাই জানিয়েছে ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম গ্লোবো।

    অন্যদিকে, স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, মরক্কোকে ফাইনাল আয়োজনের সুযোগ করে দিতে জোরালো লবিং চলছে। একই সঙ্গে স্পেনের পক্ষ থেকে ফাইনালের আয়োজক হওয়ার দাবিতে এখন পর্যন্ত তেমন শক্ত অবস্থান না নেওয়ায় ফিফাও বিস্মিত বলে আলোচনা রয়েছে।

    ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ে সেমিফাইনালে ওঠার পর থেকেই অবকাঠামো উন্নয়নে বড় বিনিয়োগ শুরু করেছে মরক্কো। স্টেডিয়াম উন্নয়নেই দেশটি ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি ব্যয় করেছে। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজনেও নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে তারা। ২০২৩ সালে ক্লাব বিশ্বকাপ আয়োজন করে মরক্কো, যেখানে চ্যাম্পিয়ন হয় রিয়াল মাদ্রিদ।

    স্পেনও অবশ্য পিছিয়ে নেই। ২০২৩ সালে মোটা টাকা খরচ করে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর আধুনিকায়ন সম্পন্ন করেছে রিয়াল। বর্তমানে স্টেডিয়ামটির ধারণক্ষমতা ৮৪ হাজার। অন্যদিকে সংস্কার শেষ হলে বার্সেলোনার ক্যাম্প ন্যুতে একসঙ্গে ১ লাখ ৫ হাজার দর্শক বসতে পারবেন।

    এরই মধ্যে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে মাদ্রিদভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মার্কা দাবি করেছিল, ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতেই হবে এবং এ বিষয়ে পর্তুগাল ও মরক্কোরও সম্মতি রয়েছে। তবে ফিফা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ফাইনালের ভেন্যু ঘোষণা করেনি। ফলে বিশ্বকাপের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত স্পেনে হবে, নাকি মরক্কোর নতুন সুপারস্টেডিয়ামে—সেই উত্তর জানতে অপেক্ষা করতেই হবে।

  • আর্জেন্টিনার পরাজয়ের দায় তৃণমূল নেতার ওপর চাপালেন বিজেপি নেতা রুদ্রনীল

    আর্জেন্টিনার পরাজয়ের দায় তৃণমূল নেতার ওপর চাপালেন বিজেপি নেতা রুদ্রনীল

    বিশ্বকাপ ফুটবল ফাইনালে স্পেনের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে লিওনেল মেসিরা যেন পায়ে কোনো বলই পাননি! আর্জেন্টিনার এমন হারে মন ভেঙেছে লাখও সমর্থকের।

    এদিকে, প্রিয় দল হারতেই সব দোষ বিরোধীদল তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অরূপ বিশ্বাসের কাঁধে চাপালেন বিজেপি বিধায়ক ও অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ।

    ফাইনালের পর গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এই টালিউড তারকা বলেন, ‘আমি আর্জেন্টিনার সাপোর্টার হতে পারি, মেসি ভক্ত হতে পারি, তবে আজকে ব্রিলিয়ান্টলি যারা খেলেছে, তারাই জিতল। দুঃখ হচ্ছে, অনেকে অনেক কথা বলছে, বুকে পাথর চাপা দিয়ে সয়ে নিচ্ছি। আবার পরের ওয়ার্ল্ডকাপে দেখা হবে। তখন না হয় কথা হবে।’

    এরপর রসিকতা করে তিনি আরও বলেন, ‘অনেকে বলছে যে অরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে যদি মেসির না দেখা হত, তাহলে রেজাল্ট অন্যরকম হত। দুঃখ পেয়েছি, কী আর করা যাবে!’

    উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে কলকাতায় পা রেখেছিলেন আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি। সেসময় যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে তার অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া চরম অব্যবস্থা এবং ভিআইপি সংস্কৃতির তাণ্ডব এখনও স্থানীয়দের স্মৃতিতে দগদগে। হাজার হাজার টাকা খরচ করে টিকিট কেটেও ভক্তরা প্রিয় তারকাকে ভালো করে দেখতে পাননি বলে বিক্ষোভ শুরু করেন। মেসিও নির্ধারিত সময়ের আগেই মাঠ ছাড়েন সেই অব্যবস্থার কারণে।

    এরপর অনুষ্ঠানস্থলে চেয়ার ভাঙচুর করা হয় এবং পুলিশ ও সামনের দিকে থাকা দর্শকদের দিকে বোতল ছোঁড়া হয়। গ্রেপ্তার হন ইভেন্টের মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত। যদিও লিওনেল মেসির আবারও কলকাতা সফরের গুঞ্জন রয়েছে।

  • ১ লাখ ৮৪ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা আয়ে রেকর্ড ফিফার

    ১ লাখ ৮৪ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা আয়ে রেকর্ড ফিফার

    দীর্ঘ লড়াই শেষে স্পেনের জয়ের মাধ্যমে পর্দা উঠেছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়াপ্রতিযোগিতা আসরের। জমজমাট এই আয়োজন থেকে রেকর্ড পরিমাণ আয় করেছে এর আয়োজক ফিফা। রেকর্ড ১,৫০০ কোটি মার্কিন ডলার আয়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে যাচ্ছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এ খবর দিয়েছে অনলাইন গার্ডিয়ান। বিশ্ব ফুটবলের এই মেগা ইভেন্ট থেকে ধারণার চেয়েও অনেক বেশি অর্থ আয় হয়েছে। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই ফিফা ১১ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। তবে সব হিসাব ছাড়িয়ে আয় বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি শনিবার সদস্য দেশগুলোর অ্যাসোসিয়েশনগুলোকে নিশ্চিত করেছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। সংবাদের তথ্য অনুযায়ী, আজকের ডলারের বিনিময় হার (১ ডলার = ১২৩.১২ টাকা হিসাবে) অনুযায়ী ফিফার এই মোট আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ৮৪ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা।

    আয়ের মূল উৎস টিকিট বিক্রি:

    ফিফা সূত্রের খবর অনুযায়ী, বিপুল পরিমাণ আয় বৃদ্ধির পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে বিশেষ হসপিটালিটি প্যাকেজ এবং টিকিটের বিশাল চাহিদা। বিশেষ করে চড়া দামের ‘সেকেন্ডারি টিকিট মার্কেট’ থেকে আয়ের বড় অংশ এসেছে। নিয়ম অনুযায়ী, সেকেন্ডারি মার্কেটে টিকিট কেনাবেচার সময় ক্রেতার কাছ থেকে ১৫ শতাংশ এবং বিক্রেতার কাছ থেকে আরও ১৫ শতাংশ মোট ৩০ শতাংশ কমিশন আদায় করে ফিফা। ফাইনাল ম্যাচের আগের দিন শনিবারও নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ফাইনালের ভিআইপি ও হসপিটালিটি প্যাকেজ ফিফার টিকিট পোর্টালে ট্রফি লাউঞ্জ প্যাকেজ হিসেবে ব্যক্তিপ্রতি সর্বোচ্চ ৩৪,৫০০ ডলারে (প্রায় ৪২ লাখ ৪৮ হাজার টাকা) বিক্রি হতে দেখা গেছে।

    সদস্য দেশগুলোর লাভ ও ইনফান্তিনোর অবস্থান:

    বিশ্বকাপ থেকে অর্জিত এই বাম্পার রেভিনিউ বা রেকর্ড রাজস্বের সুবিধা ফিফার সদস্যভুক্ত ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলোও পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। যদিও তাদের মধ্যে অতিরিক্ত অর্থ কীভাবে বণ্টন করা হবে সেই সম্পর্কিত চূড়ান্ত বিবরণী এখনো তৈরি হয়নি। তবে এই বিশাল আর্থিক সাফল্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোতে মাসব্যাপী আয়োজিত বিতর্কের পর জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর অবস্থানকে ফুটবল অঙ্গনে আরও শক্তিশালী করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সম্প্রতি শেষ ৩২-এর ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে আমেরিকার স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ড স্থগিতের বিষয়ে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপের কাছে ফিফা নতিস্বীকার করেছে এমন অভিযোগে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থাগুলোর (এফএ) মধ্যে ক্ষোভ থাকলেও ২০২৭ সালের মার্চে হতে যাওয়া পরবর্তী ফিফা নির্বাচনে ইনফান্তিনোর পক্ষে এরই মধ্যে ২০০টিরও বেশি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের সমর্থন নিশ্চিত হয়েছে। বিশ্বকাপের অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের সুবাদে অসন্তুষ্ট দেশগুলোও হয়তো প্রকাশ্যে কোনো প্রতিবাদ জানাবে না।

    এই নজিরবিহীন অর্থনৈতিক সাফল্যের ফলে অদূর ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ফের বিশ্বকাপ আয়োজনের সুযোগ পেতে পারে। পরবর্তী খালি থাকা ২০৩৮ সালের বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টের জন্য যুক্তরাষ্ট্র আবারও বিড করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। একটি অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে ট্রাম্প নিশ্চিত করেন যে, তার দেশ আবারও এটি আয়োজন করতে ইচ্ছুক এবং এবার তারা কানাডা ও মেক্সিকোকে ছাড়া এককভাবে আয়োজনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এছাড়া ২০২৯ সালের ক্লাব বিশ্বকাপ আয়োজনের বিষয়েও ফিফার সাথে আলোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

  • এক ফ্রেমে মেসি-ইয়ামাল, ফুটবল দেখল নতুন যুগের প্রতীক

    এক ফ্রেমে মেসি-ইয়ামাল, ফুটবল দেখল নতুন যুগের প্রতীক

    স্পেনের উল্লাসে বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষ হয়েছে। কিন্তু ট্রফি উঁচিয়ে ধরার সেই উৎসবের মধ্যেও সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত হলো লামিন ইয়ামাল ও লিওনেল মেসির একটি আলিঙ্গন। মুহুর্তেই ছবিটি ভাইরাল হয়। একজন নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, অন্যজন সদ্য হারানো স্বপ্নের ভারে নুয়ে পড়া কিংবদন্তি; দুই প্রজন্মের এই সাক্ষাৎ ছুঁয়ে গেছে কোটি ফুটবলপ্রেমীকে।

    অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় স্পেন। শেষ বাঁশি বাজার পর যখন সতীর্থদের সঙ্গে উদযাপনে ব্যস্ত স্প্যানিশ ফুটবলাররা, তখন ইয়ামাল সবার কাছ থেকে সরে গিয়ে মাঠের এক পাশে বসে থাকা লিওনেল মেসির দিকে হাঁটতে শুরু করেন।

    ৩৯ বছর বয়সি মেসি তখন নিজের ষষ্ঠ ও সম্ভবত শেষ বিশ্বকাপের শেষ অধ্যায়ের বেদনায় ডুবে ছিলেন। ইয়ামাল তার সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই মেসি উঠে দাঁড়ান। এরপর দুজন একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন এবং কিছুক্ষণ ব্যক্তিগত কথা বলেন। কী কথা হয়েছে, তা প্রকাশ করেননি কেউ। তবে সেই মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

  • শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া পরিচালনা কমিটি গঠনের নির্দেশ

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া পরিচালনা কমিটি গঠনের নির্দেশ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা উপলক্ষে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া পরিচালনা কমিটি করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

    সোমবার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। এ চিঠি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষার সব আঞ্চলিক পরিচালক, উপপরিচালক, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছে।

    এতে বলা হয় প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা ২০২৬ উপলক্ষে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (স্কুল ও কলেজ) ক্রীড়া পরিচালনা কমিটি করতে হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া পরিচালনা কমিটি গঠনের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।