খেলাধুলা

  • ইমরান খানের মুক্তি এখন আন্তর্জাতিক ইস্যু

    ইমরান খানের মুক্তি এখন আন্তর্জাতিক ইস্যু

    ইমরান খানকে কারাবন্দি রাখা গেলেও তার আন্তর্জাতিক পরিচিতি, ক্রিকেটীয় উত্তরাধিকার এবং রাজনৈতিক প্রতীকী শক্তিকে বন্দি রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। পাকিস্তানের কর্তৃপক্ষ তার বিষয়টি দেশের অভ্যন্তরে সীমাবদ্ধ রাখতে চাইলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনের ব্যক্তিত্বদের হস্তক্ষেপ সেটিকে আন্তর্জাতিক মানবিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত করছে।

    সাউথ এশিয়া মনিটরে ৩১ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত ‘ইমরান খান, দ্য ক্রিকেটিং ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড দ্য প্যারাডক্স কনফ্রন্টিং পাকিস্তান’ শীর্ষক বিশ্লেষণধর্মী নিবন্ধে লেখক ভারতীয় সাংবাদিক, সম্পাদক ও আঞ্চলিক-বৈশ্বিক বিষয় বিশ্লেষক রাজু কোর্তি এসব মন্তব্য করেন।

    মাইকেল আথারটনের সাক্ষাৎকার থেকে নতুন বিতর্ক

    ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইকেল আথারটন লর্ডসে ইমরান খানের দুই ছেলে সুলেইমান ও কাসিমের সঙ্গে ১৮ মিনিটের একটি সাক্ষাৎকার নেন। সেখানে তারা অভিযোগ করেন, ইমরানকে চরম বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রাখা হচ্ছে, তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতি হচ্ছে এবং কর্তৃপক্ষ তাঁকে হত্যা করার চেষ্টা করছে। তবে শেষের অভিযোগটি পরিবারের অভিযোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) সাক্ষাৎকারটির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং স্কাই স্পোর্টস-এর কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করে।

    ক্রিকেট কেন ইমরান ইস্যুকে আন্তর্জাতিক করেছে?

    ইমরান খান শুধু পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নন; তিনি পাকিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের একজন। ১৯৯২ সালে তার নেতৃত্বেই পাকিস্তান প্রথম ও এখন পর্যন্ত একমাত্র ক্রিকেট বিশ্বকাপ জেতে। ফলে তার প্রতি ক্রিকেটবিশ্বের আবেগ রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরেও বিস্তৃত। আথারটনের মতো একজন সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক যখন তার স্বাস্থ্য ও মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন, তখন সেটিকে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে সহজে উপেক্ষা করা কঠিন।

    ২২ সাবেক অধিনায়কের আবেদন

    ২২ জন সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অধিনায়ক পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের কাছে ইমরানের যথাযথ চিকিৎসা ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তালিকায় ভারতের সুনীল গাভাস্কার, কপিল দেব ও দিলীপ ভেংসরকার, অস্ট্রেলিয়ার গ্রেগ চ্যাপেল ও ইয়ান চ্যাপেলসহ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পরিচিত ব্যক্তিত্বদের নাম রয়েছে। অর্থাৎ ইমরান ইস্যুটি এখন শুধু পাকিস্তানের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিরোধ নয়; ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কও এতে নৈতিক অবস্থান নিতে শুরু করেছে।

    গ্রেগ চ্যাপেল ও জাভেদ মিয়াঁদাদের উদ্বেগ

    অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক গ্রেগ চ্যাপেল ইমরানের শারীরিক অবস্থার অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, কয়েক বছর আগে পাকিস্তানে দেখা ইমরানের তুলনায় বর্তমান ইমরান অনেক দুর্বল। অন্যদিকে পাকিস্তানের সাবেক তারকা জাভেদ মিয়াঁদাদ, যিনি ইমরানের সঙ্গে একই ড্রেসিংরুমে খেলেছেন, আবেগপূর্ণ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটার উসমান খাজাও পিসিবি-এর প্রতিক্রিয়াকে ব্যঙ্গ করেছেন।

    এরা রাজনৈতিক কর্মী নন; তারা ইমরানের সাবেক ক্রিকেটীয় সহকর্মী ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠ। ফলে তাদের বক্তব্যের একটি আলাদা নৈতিক ও প্রতীকী গুরুত্ব রয়েছে। এভাবে নিবন্ধটিতে ইমরান খানের কারাবাস, তার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ এবং ক্রিকেটবিশ্বের প্রতিক্রিয়ার মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও সামরিক ক্ষমতার কাঠামো বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

    আসল ক্ষমতা কোথায়—সরকার, নাকি সামরিক প্রতিষ্ঠান?

    ইমরানের কারাবাসকে শুধু শেহবাজ শরিফ সরকার বা কারা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখলে পাকিস্তানের বাস্তব ক্ষমতার কাঠামো পুরোপুরি বোঝা যাবে না। ইমরানের রাজনৈতিক আন্দোলন ও পাকিস্তানের সামরিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষমতার দ্বন্দ্বের সঙ্গে তাঁর কারাবাস ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ গভীরভাবে যুক্ত। সামরিক প্রতিষ্ঠান ইমরানকে শুধু একজন রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নয়, বরং দীর্ঘদিনের ক্ষমতাকাঠামোর জন্য সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখে—এমন বিশ্লেষণই লেখক উপস্থাপন করেছেন।

    ক্রিকেটীয় চাপ কতটা কার্যকর?

    তাৎক্ষণিকভাবে খুব বেশি নয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বরা পাকিস্তানের ওপর নৈতিক ও আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারেন। কিন্তু সেই চাপ সরাসরি পাকিস্তানের নিরাপত্তা ও সামরিক কাঠামোর রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। তবে চাপটি পুরোপুরি অকার্যকরও নয়। এটি—ইমরান ইস্যুকে আন্তর্জাতিক করে; তার চিকিৎসা ও কারাবাস নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক রেকর্ড তৈরি করে; পাকিস্তান সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক নজরদারি বাড়ায়; তার স্বাস্থ্যের অবনতি হলে রাজনৈতিক মূল্য আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

    স্বাস্থ্য নিয়ে তথ্যের ঘাটতি কেন সমস্যা?

    ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে সব অভিযোগকে সত্য হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়। সমস্যাটি হলো—ইমরান খান ৭৩ বছর বয়সী, কারাগারে রয়েছেন, তার পরিবারের পক্ষ থেকে চিকিৎসা নিয়ে অভিযোগ রয়েছে এবং তার প্রকৃত স্বাস্থ্য পরিস্থিতি স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন। ফলে একটি ইনফরমেশন ভ্যাকুয়াম তৈরি হচ্ছে, যেখানে গুজব ও জল্পনা সহজেই ছড়িয়ে পড়তে পারে। এর সমাধান: স্বাধীন চিকিৎসা পরীক্ষা + নিয়মিত স্বাস্থ্য প্রতিবেদন + পরিবার ও আইনজীবীদের পর্যাপ্ত প্রবেশাধিকার + প্রকৃত স্বাস্থ্য পরিস্থিতির স্বচ্ছ প্রকাশ।

    পাকিস্তানের সামনে সবচেয়ে বড় ‘প্যারাডক্স’

    ইমরান খানকে বন্দী করে রাখা পাকিস্তানের জন্য সমস্যার সমাধান নাও হতে পারে। কারণ এতে দুটি সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। একদিকে, তাকে দীর্ঘদিন কারাগারে রেখে রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় করা যেতে পারে। অন্যদিকে, যদি তার স্বাস্থ্য আরও খারাপ হয় বা তাঁর প্রতি অন্যায় আচরণের ধারণা আরও শক্তিশালী হয়, তাহলে তিনি আরও বড় প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে উঠতে পারেন। এটাই পাকিস্তানের ক্ষমতাকাঠামোর প্যারাডক্স।

    দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে সামরিক প্রতিষ্ঠান, নির্বাচিত সরকার, জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং জনমতের সম্পর্ককে আলাদা করে দেখা যায় না। ইমরান খানের ক্ষেত্রে ক্রিকেট তার রাজনৈতিক জনপ্রিয়তার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

    ফলে তার ক্রিকেটীয় পরিচিতি আজও তার রাজনৈতিক পরিচয়কে আন্তর্জাতিকভাবে শক্তিশালী করছে। অন্যদিকে, কোনো জনপ্রিয় নেতাকে দীর্ঘদিন রাজনৈতিক পরিসর থেকে সরিয়ে রাখলে তার জনপ্রিয়তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হয়ে যায়—এমন নিশ্চয়তা নেই। কখনো কখনো কারাবাসই একজন নেতাকে আরও শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রতীকে পরিণত করতে পারে।

    ইমরান খানকে কারাগারে রাখা সম্ভব, কিন্তু তার উত্তরাধিকারকে কারাগারে রাখা কঠিন। ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক হিসেবে যে ব্যক্তির পরিচিতি পাকিস্তানের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে প্রতিষ্ঠিত, তাঁর কারাবাসের প্রশ্নও শেষ পর্যন্ত ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পৌঁছে যাচ্ছে।

    ফলে পাকিস্তানের জন্য সমস্যাটি এখন শুধু ইমরান খানকে কীভাবে রাজনৈতিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে—তা নয়; বরং তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে তাকে আরও বড় রাজনৈতিক প্রতীকে পরিণত করা হচ্ছে কি না, সেটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

  • কেন আর্জেন্টিনাকে বিদায় জানালেন মেসি

    কেন আর্জেন্টিনাকে বিদায় জানালেন মেসি

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    জাতীয় দল তো একদিন ছাড়তেই হতো। বয়সও হয়ে গিয়েছিল ৩৯ বছর। আর্জেন্টিনার জার্সিতে সম্ভাব্য সবকিছুই জেতা হয়েছে। তবু কারও কারও কাছে গতকাল রাতে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা দল থেকে অবসরের ঘোষণা এসেছে চমক হয়ে। কারণ, এ সিদ্ধান্ত মেসি প্রকাশের আগপর্যন্ত ব্যাপারটা কেউ ঘুণাক্ষরেও টের পাননি যে আজই (গতকাল) সেই দিন!

    তাই জল্পনা–কল্পনা এখনো থামেনি। মেসি কেন এখন অবসর ঘোষণা করলেন, উঠছে সে প্রশ্নও। আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম লা নাসিওন জানিয়েছে, গত ১৯ জুলাই বিশ্বকাপ ফাইনালের ৪৩ দিন আগে জাতীয় দল থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন মেসি। এ তথ্যের সঙ্গে দুইয়ে দুইয়ে চার মিলিয়ে নেওয়া যায়।

    মেসি তাঁর অবসরবার্তার শেষ অংশে লিখেছেন, ‘এই (অবসরবার্তা) কথাগুলো আমি ২১ জুলাই লিখেছিলাম, ফাইনালের দুই দিন পর। আমার বাবার ঘটনার পর আজ (গতকাল) আমি আগের চেয়েও বেশি নিশ্চিত।’

    বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে ৩৯ দিন। অর্থাৎ বিশ্বকাপের আগেই অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছিলেন মেসি। ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে ১–০ গোলে হারের পর সেই সিদ্ধান্ত আরেকটু পাকা হয়। এরপর গত ৮ আগস্ট বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুর পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন।

    মেসি বিশ্বকাপ শুরুর আগেই জাতীয় দলে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ কথা বলেছিলেন। বাবাকে হারানোর পর স্বীকার করেছিলেন, তাঁর শরীর আর আগের মতো সায় দিচ্ছে না। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর সতীর্থদেরও ইঙ্গিত ছিল যে মেসির অবসরের দিন ঘনিয়ে আসছে। গত ২৫ আগস্ট যেমন তাঁর জাতীয় দল সতীর্থ লিয়ান্দ্রো পারেদেস বুঝিয়ে দেন, জাতীয় দলে শেষ ম্যাচটা খেলে ফেলেছেন মেসি। আর সেই ম্যাচটি হলো বিশ্বকাপের ফাইনাল। পারেদেসের ভাষায়, ‘আমার মনে হয়, সে ঠিক করেই রেখেছিল যে এটিই জাতীয় দলের হয়ে তার শেষ ম্যাচ।’

    পারেদসের সেই কথা এবং মেসির অবসরবার্তার কয়েকটি কথা মেলালে ব্যাপারটা কিছুটা পরিষ্কার হয়। অবসরবার্তায় মেসি বলেছেন, ‘আমার দেওয়ার মতো আর কিছু বাকি নেই। তা ছাড়া পেছনে অনেক দুর্দান্ত তরুণ খেলোয়াড় আসছে, যাদের (জাতীয় দলে) থাকাটা প্রাপ্য।’

    বিশ্বকাপ ফাইনালটা স্মরণ করা যায়। স্পেনের বিপক্ষে রীতিমতো পর্যুদস্ত হয়েছিল আর্জেন্টিনা। সেটাও মেসি মাঠে থাকতে—যেটা তাঁর ক্যারিয়ারেই বিরল ঘটনা।

    ক্যারিয়ারের শেষ লগ্নে দাঁড়িয়ে সেই বিরল তেতো স্বাদ পাওয়ার মুহূর্তে কি মেসির মনে হয়েছে, তাঁর আর কিছু দেওয়ার নেই? পাশাপাশি নিকো পাজ–থিয়াগো আলমাদার মতো তরুণেরাও উঠে এসেছেন। সে জন্যই কি মেসির মনে হয়েছে, সময়টা এখনই? প্রশ্নটি তোলা যায়, কারণ সেই ফাইনালকে জাতীয় দলে নিজের শেষ ম্যাচ বানিয়ে অবসরবার্তায় মেসি বলেছেন, ‘আমি বুঝতে পারছি যে এটাই সঠিক সময়।’

    বিশ্বকাপের পর ফিফার প্রথম আন্তর্জাতিক বিরতি ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত। তার আগে অবসরের ঘোষণা দিলেন মেসি। অর্থাৎ চার বছরের নতুন একটি বিশ্বকাপ চক্র শুরুর আগের এ সময়কে আকাশি–সাদা জার্সি থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার সঠিক সময় বলে মনে হয়েছে কিংবদন্তির। এই বিরতিতে প্রতিটি জাতীয় দল এক থেকে চারটি ম্যাচ খেলতে পারবে। লা নাসিওন জানিয়েছে, আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) বুয়েনস এইরেসে বিশ্বকাপ রানার্সআপ আর্জেন্টিনা দল এবং মেসিকে সম্মান জানাতে জমকালো বিদায়ী সংবর্ধনার আয়োজন করার পরিকল্পনা করছে। সুতরাং জাতীয় দলের জার্সিতে তাঁকে অন্তত আরও একবার মাঠে দেখার সম্ভাবনা আছে।লা নাসিওন আরও জানিয়েছে, ২৩ দিন আগে বাবার মৃত্যু মেসির এ সিদ্ধান্তে প্রভাব রেখেছে। সে সময় মেসি বলেছিলেন, ‘আমি আর কত দিন ফুটবল চালিয়ে যাব, এখন তা নিয়ে আমার সংশয় আছে।’ আরও একটি কারণ অনুমান করা যায়। জাতীয় দলে যে প্রজন্মের সঙ্গে তিনি বছরের পর বছর কাটিয়েছেন, সেই দলটি ভেঙে পড়তে শুরু করেছে। ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ সামনে রেখে আর্জেন্টিনা এখন পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দলটির বেশ কয়েকজন সতীর্থের ক্যারিয়ারের চক্র শেষের পথে, দল পুনর্গঠন করতে হবে। এমনকি আগামী ডিসেম্বরের পর কোচ লিওনেল স্কালোনির থাকা নিয়েও সংশয় আছে।পাশাপাশি সহ-আয়োজক হিসেবে আর্জেন্টিনা ইতিমধ্যে ২০৩০ বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে। অর্থাৎ দীর্ঘ বাছাইপর্ব খেলতে হবে না। সে হিসাবে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের পরবর্তী বড় টুর্নামেন্ট ২০২৮ কোপা আমেরিকা। ৩৯ বছর বয়সী মেসি সম্ভবত মাঝের এই দুই বছরে নিজের বয়স আরও ভারী করে সে পর্যন্ত আর অপেক্ষা করতে চাননি।

    এএফএর অনেকেই আশা করেছিলেন, মেসি জাতীয় দলে আরও কিছুদিন খেলবেন। জাতীয় দলের জার্সিতে তাঁর শেষ স্মৃতিটি কোনো হেরে যাওয়া ফাইনাল যেন না হয়, সেটা ছিল এই আশার পেছনের কারণ। অন্তত কোপা আমেরিকা পর্যন্ত খেলবেন, এই আশাও করেছিলেন কেউ কেউ। কিন্তু মেসিকে জানা থাকলে একটি বিষয় ভেবে নেওয়াই যায়। জাতীয় দলে সব সময় নিজের সেরাটা দিতে পারেন—এই বিশ্বাস সব সময়ই ছিল মেসির। দুই বছর পর কোপায় সেটা দিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে কি সন্দেহে ভুগেছেন? মেসির অবসরবার্তাতেই সেটা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অবসরবার্তাতেই বলে দিয়েছেন, ‘নিজেকে সম্পূর্ণ উজাড় করে দিয়েছি।’

    অর্থাৎ আর দেওয়ার কিছু নেই? সেটা মেসি বুঝেছেন বলেই কি সরে দাঁড়ালেন!

  • ‘তুমি পড়ে গিয়েছ, আবার উঠে দাঁড়িয়েছ’—মেসিকে আন্তোনেলা

    ‘তুমি পড়ে গিয়েছ, আবার উঠে দাঁড়িয়েছ’—মেসিকে আন্তোনেলা

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    আর্জেন্টিনা দল থেকে লিওনেল মেসির বিদায় ঘিরে আবেগে ভাসছে পুরো ফুটবলবিশ্ব। দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার ঘোষণা দেওয়ার পর সতীর্থ, সমর্থক ও স্বজনদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। এবার স্বামীকে উদ্দেশ করে হৃদয়ছোঁয়া এক বার্তা দিয়েছেন তাঁর স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া দীর্ঘ এক পোস্টে মেসির ফুটবল ক্যারিয়ারের নানা উত্থান-পতনের কথা স্মরণ করেছেন আন্তোনেলা। একই সঙ্গে একজন ফুটবলার ও বাবা হিসেবে মেসির প্রতি নিজের গর্বের কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।ইনস্টাগ্রামে আন্তোনেলা লিখেছেন, ‘তোমাকে এভাবে এই অধ্যায়ের সমাপ্তি টানতে দেখে কী যে গর্ব হচ্ছে। কত বছর, কত মুহূর্ত, কত আনন্দ, আর কত প্রতিকূলতাও ছিল।’

    মেসির জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘ পথচলায় সাফল্যের পাশাপাশি কঠিন সময়ও খুব কাছ থেকে দেখেছেন আন্তোনেলা। আর্জেন্টিনার হয়ে একের পর এক ব্যর্থতার পরও কীভাবে মেসি লড়াই চালিয়ে গেছেন, সে কথাও উঠে এসেছে তাঁর লেখায়।

    আন্তোনেলা লিখেছেন, ‘আমি তোমাকে কষ্ট পেতে দেখেছি, পড়তে দেখেছি, আবার উঠে দাঁড়াতেও দেখেছি। যখন পরিস্থিতি তোমার অনুকূলে ছিল না, তখনও তোমাকে লড়ে যেতে দেখেছি এবং সব সময় আবার চেষ্টা করতে দেখেছি। আর এত বছর পর, তোমার স্বপ্নগুলো পূরণ হতে এবং আমাদের জীবনের সবচেয়ে আনন্দের কিছু মুহূর্ত উপভোগ করতে দেখার সৌভাগ্যও আমার হয়েছে।’

    তবে মেসির ফুটবলজীবনের চেয়েও একটি বিষয় আন্তোনেলাকে বেশি আবেগাপ্লুত করেছে—তাঁদের তিন সন্তান থিয়াগো, মাতেও ও সিরো বাবার পুরো যাত্রাটির সাক্ষী হয়ে বড় হয়েছে।

    এ প্রসঙ্গে আন্তোনেলা লিখেছেন,‘তবে এই পুরো গল্পের একটি বিষয় আমাকে বিশেষভাবে নাড়া দেয়—আমাদের সন্তানরা নিজের চোখে এসবের সাক্ষী হয়ে বড় হয়েছে। তারা তাদের বাবাকে নিজের চাওয়া পূরণের জন্য লড়তে দেখেছে, কখনো হাল না ছাড়তে দেখেছে এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিশ্বাস ধরে রাখতে দেখেছে। এরপর তারা নিজের চোখেই দেখেছে, তাদের বাবা সবকিছু অর্জন করেছেন এবং বিশ্বকাপ উঁচিয়ে ধরেছেন।’

    আন্তোনেলার মতে, সন্তানরা হয়তো এখনও পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারেনি তাদের বাবা মাঠে কতটা অসাধারণ কীর্তি গড়েছেন। তবে একজন বাবা হিসেবে মেসিকে নিয়ে তাদের গর্বের কোনো কমতি নেই, ‘হয়তো একদিন তারা সত্যিকার অর্থেই বুঝতে পারবে তোমার গল্পের বিশালতা। আজ তারা শুধু তাদের বাবাকে নিয়ে গর্বিত।’সবশেষে স্বামীকে উদ্দেশ করে ভালোবাসা ও গর্বে ভরা বার্তা দিয়েছেন আন্তোনেলা, ‘আর আমি তোমাকে নিয়ে গর্বিত। তোমার পথচলা নিয়ে, তুমি যেসব বাধা অতিক্রম করেছ সেসব নিয়ে এবং সবকিছুর চেয়েও বেশি—প্রতিটি মুহূর্তের আড়ালে থাকা মানুষটিকে নিয়ে। তোমার পাশে থেকে এই সবকিছুর অংশ হতে পারা কত বড় সৌভাগ্যের। আমরা তোমাকে অসীম ভালোবাসি।’

  • আর্জেন্টিনার জার্সিতে যেসব কীর্তি রেখে গেলেন মেসি

    আর্জেন্টিনার জার্সিতে যেসব কীর্তি রেখে গেলেন মেসি

    ক্রীড়াডেস্ক:

    যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে—বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত এই পঙ্‌ক্তিই লিওনেল মেসি আজ সবাইকে মনে করিয়ে দিলেন। সামাজিক মাধ্যমে আবেগঘন এক পোস্টে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। আর্জেন্টিনার জার্সিতে গোল, শিরোপা জয়ের পর তাঁর উচ্ছ্বাস, উদ্‌যাপন আর দেখা যাবে না।আর্জেন্টাইন ভক্ত-সমর্থকদের কাঁদিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে দীর্ঘ ২১ বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন মেসি। ক্যারিয়ারে অজস্র রেকর্ড গড়ে পেয়েছেন ‘রেকর্ডের বরপুত্র’ উপাধি। আর্জেন্টিনার জার্সিতে দীর্ঘ দুই দশকের ক্যারিয়ারে ২০৭ ম্যাচে ১২৫ গোলের পাশাপাশি অ্যাসিস্ট করেছেন ৬৮ গোলে। ২০২২ ফুটবল বিশ্বকাপ জিতে পূরণ করেছেন তাঁর আজন্মলালিত স্বপ্ন। অবসরের ঘোষণা দেওয়ার ২৩ মিনিট পর নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে ২ মিনিটের একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। স্প্যানিশ গানে তৈরি সেই ভিডিওতে তুলে ধরেছেন তাঁর ২১ বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার। চলুন, এবার জেনে নিই, তিনি কী কী কীর্তি ও রেকর্ড গড়ে আর্জেন্টিনা দলকে বিদায় বলেছেন।

    আর্জেন্টিনার হয়ে লিওনেল মেসির রেকর্ড ও কীর্তি

    আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বোচ্চ গোল: ১২৫

    আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা: ২০৭

    আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ হ্যাটট্রিক: ১১

    এক পঞ্জিকাবর্ষে আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ গোল: ২০২২ সালে ১৮টি

    দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইয়ে সর্বোচ্চ গোল: ৩১টি

    ফ্রি-কিক থেকে সর্বোচ্চ গোল: সরাসরি ফ্রি-কিকে ১২ গোল

    বিশ্বকাপে মেসির রেকর্ড

    অধিনায়ক হিসেবে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ম্যাচ: ১৯

    আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে কম বয়সে গোল করা খেলোয়াড়: ২০০৬ সালে ১৮ বছর বয়সে

    আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে কম বয়সে গোল করা খেলোয়াড়: ২০২৬ সালে ৩৮ বছর বয়সে

    জাতীয় দলে বড় শিরোপা

    ফিফা বিশ্বকাপ: ২০২২

    কোপা আমেরিকা: ২০২১, ২০২৪

    কনমেবল-উয়েফা কাপ অব চ্যাম্পিয়নস (ফিনালিসিমা): ২০২২

    অলিম্পিক স্বর্ণপদক: ২০০৮

    আবেগঘন এক বার্তায় মেসি আজ সামাজিক মাধ্যমে দিয়েছেন অবসরের ঘোষণা। তবে এই সিদ্ধান্ত তিনি নিয়ে রেখেছিলেন ২১ জুলাই। ১৯ জুলাই নিউজার্সিতে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারার পর মেসির দুচোখ বেয়ে যেভাবে পানি পড়ছিল, আজ তাঁর পোস্টেও যেন সেটারই ছাপ দেখা গেছে।

    এর আগে ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে একবার অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন মেসি। চিলির কাছে টাইব্রেকারে হারের পর হতাশায় আর্জেন্টিনাকে বিদায় বলেছিলেন তিনি। তখন তাঁর বয়স ছিল ২৯ বছর। কিন্তু এবার তাঁর বয়স হয়েছে ৩৯ বছর। ২০১৬ সালের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

  • ফুটবল হারাল তার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ

    ফুটবল হারাল তার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণায় স্তব্ধ হয়ে গেছে ফুটবল বিশ্ব। আর্জেন্টিনার হয়ে দুই দশকেরও বেশি সময়ের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের ইতি টানার খবরকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংবাদমাধ্যম দেখছে একটি যুগের সমাপ্তি হিসেবে।

    সোমবার সন্ধ্যায় আবেগঘন এক বার্তায় আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন মেসি। এই সিদ্ধান্ত তাঁকে কষ্ট দিচ্ছে বলে জানান এই ফরোয়ার্ড। তবে দেশের জন্য নিজের দেওয়ার মতো সবকিছুই দিয়ে ফেলেছেন বলে মনে করেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় সংবাদপত্র ওলে ২০২৬ সালের ৩১ আগস্টকে দেশটির ফুটবল ইতিহাসের একটি স্মরণীয় দিন হিসেবে দেখেছে। তাদের মতে, এই দিনেই মেসি আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করলেন নিজের অতুলনীয় উত্তরাধিকার।

    পত্রিকাটি মেসির বিদায়ী বার্তার ব্যক্তিগত আবহের কথাও তুলে ধরেছে। জাতীয় দলকে ভালোবাসতেন এবং সবসময়ই ভালোবাসবেন—এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে মেসি জানিয়েছেন, মাঠের খেলোয়াড় হিসেবে নয়, এবার বাইরে থেকে একজন সমর্থক হিসেবে তিনি আর্জেন্টিনার পাশে থাকবেন, সুখের সময়েও, কঠিন সময়েও।

    মেসির বিদায়ের পর আর্জেন্টিনার সামনে নতুন এক অধ্যায় শুরু হচ্ছে বলেও মনে করছে ওলে। তার অবসর শুধু একজন খেলোয়াড়ের বিদায় নয়, জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, নেতৃত্ব এবং কোচ লিওনেল স্কালোনির পরবর্তী দল নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

    স্প্যানিশ সংবাদপত্র মার্কা মেসির অবসরকে বিশ্বজুড়ে বোমা ফাটানো খবর বলে মন্তব্য করেছে। আর্জেন্টিনার হয়ে ২১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তি ঘটালেন তিনি। শিরোপা ও রেকর্ডে ভরা সেই যাত্রার পরিসংখ্যানও সহজে ছাপিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।

    আর্জেন্টিনার হয়ে ২০৭ ম্যাচে ১২৫ গোল করেছেন মেসি। জাতীয় দলের ইতিহাসে তিনিই সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা এবং সর্বোচ্চ গোলদাতা।

    কাতালান সংবাদমাধ্যম মুন্দো দেপোর্তিভো মেসিকে অভিহিত করেছে সেরাদের সেরা হিসেবে। তাদের মতে, ‘ফুটবল বিশ্বে বোমা ফাটানো খবর। সুন্দর এই খেলার ইতিহাসে অনেকের চোখে সর্বকালের সেরা ফুটবলার ৩৯ বছর বয়সী লিওনেল মেসি সদ্য আর্জেন্টিনার দলের হয়ে খেলা থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন।’

    ইতালির লা গাজেত্তা দেলো স্পোর্ত মেসির সিদ্ধান্তকে দেখেছে অন্য এক মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে। তাদের কাছে এটি ছিল বেদনাদায়ক তবে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত।

    মেসির বক্তব্য তুলে ধরে পত্রিকাটি লিখেছে, ‘আমার দেওয়ার মতো আর কিছু নেই, আর সামনে দারুণ কিছু তরুণ খেলোয়াড় আছে, যারা এখানে থাকার যোগ্য।’

    আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির শেষটা হয়েছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এবং দুবারের কোপা আমেরিকা জয়ী হিসেবে। দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক শিরোপার অপেক্ষার পর ২০২১ সালে কোপা আমেরিকা জিতে আর্জেন্টিনার হয়ে বড় শিরোপার খরা কাটিয়েছিলেন তিনি। পরের বছর কাতার বিশ্বকাপ জিতে পূর্ণতা পায় তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার।

    ফরাসি সংবাদপত্র লেকিপ গুরুত্ব দিয়েছে মেসির দীর্ঘ আন্তর্জাতি ক্যারিয়ারকে। দুই দশকের বেশি সময় জাতীয় দলের সঙ্গে থাকার পর ৩৯ বছর বয়সে অবসরে যাচ্ছেন তিনি। সিদ্ধান্তটি এখনও তাঁকে ভেতর থেকে কষ্ট দেয় বলেও নিজের বার্তায় জানিয়েছেন মেসি।

    ফরাসি ওয়েবসাইট ফুট মার্কাতো লিখেছে, ‘মেসির অবসর আর্জেন্টাইন ফুটবলের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটাল।’ তাদের মতে, ফাইনালে একের পর এক হতাশার পর ২০২১ সালে মেসির শিরোপার খরা কাটানোই আর্জেন্টিনার সোনালি এক যুগের শুরু; যার চূড়ান্ত পরিণতি ২০২২ সালের বিশ্বকাপ জয়।

    ভারতের দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস আরও আবেগঘন ভাষায় মেসির বিদায়কে তুলে ধরেছে। তাদের শিরোনাম, ‘মেসি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিয়েছেন: ফুটবল তার আত্মার একটি অংশ হারাল।’

    আর্জেন্টিনার টিএনটি স্পোর্টস মেসিকে বিদায় জানিয়েছে, ‘তুমি একজন মহান, অধিনায়ক।’ খবরটি সরাসরি দর্শকদের জানাতে গিয়ে বিশ্লেষক পাবলো হিরালতকে চোখের জল সামলাতেও দেখা গেছে।

    ২০১৬ সালে প্রথমবার আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন মেসি। সেই ঘটনার স্মৃতি টেনে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সান শিরোনাম করেছে, ‘মেসি আবার আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিয়েছেন।’ অন্যদিকে দ্য টেলিগ্রাফ লিখেছে, ‘আর্জেন্টিনার জার্সিতে দুর্দান্ত এক ক্যারিয়ারের সমাপ্তি ঘটালেন মেসি।’জার্মানি

    র ‘বিল্ড’-এর শিরোনাম ছিল সংক্ষিপ্ত—‘ফুটবলে বিস্ময়: জাতীয় দল থেকে অবসর নিলেন মেসি।’ পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম আ বোলা’ও একে বলেছে ‘ফুটবল বিশ্বে বোমা ফাটানো খবর’ এবং মেসির সিদ্ধান্তকে অভিহিত করেছে ‘একটি যুগের সমাপ্তি’ হিসেবে।

    জার্মান সংবাদপত্র ডি সাইট-এর মতে, স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের ৪৩ দিন পর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ করার ঘোষণা দিয়েছেন মেসি। তাদের তথ্য অনুযায়ী, ফাইনালের মাত্র দুই দিন পরই, ২১ জুলাই নিজের অবসরের বার্তাটি লিখেছিলেন তিনি। তবে সেটি প্রকাশের আগে অপেক্ষা করেন আরও কিছুদিন।

  • ২১ বছরের সম্পর্ক শেষ, নতুন ঠিকানায় বাংলাদেশের হামজা

    ২১ বছরের সম্পর্ক শেষ, নতুন ঠিকানায় বাংলাদেশের হামজা

    লেস্টার সিটি ছেড়ে স্থায়ীভাবে শেফিল্ড ইউনাইটেডে যোগ দিচ্ছেন বাংলাদেশের মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী। এর মধ্য দিয়ে লেস্টারের সঙ্গে তার ২১ বছরের সম্পর্কের ইতি ঘটল।

    ২৮ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার আবার ফিরছেন ব্রামল লেনে। এর আগে ২০২৪-২৫ মৌসুমে ধারে শেফিল্ড ইউনাইটেডে খেলেছিলেন তিনি। সেই সময় ব্লেডসদের হয়ে ১৬টি ম্যাচ খেলেন হামজা।

    লেস্টার সিটি তাদের বিবৃতিতে জানায়, ‘লেস্টার সিটিতে ২১ বছর কাটানোর পর হামজা চৌধুরী স্থায়ী চুক্তিতে শেফিল্ড ইউনাইটেডে যোগ দিতে যাচ্ছেন। এর আগে চৌধুরী ব্লেডসদের হয়ে ধারে খেলেছিলেন, যেখানে তিনি ২০২৪-২৫ মৌসুমে ১৬টি ম্যাচ খেলেন। আমরা তোমার জন্য শুভকামনা জানাই, হামজা।’

    ছোটবেলায় লেস্টারের একাডেমিতে যোগ দিয়েছিলেন হামজা। এরপর ক্লাবটির হয়ে ১৬৫টি ম্যাচ খেলেন তিনি। ২০২১ সালে জেতেন এফএ কাপ, আর ২০২৪ সালে জেতেন চ্যাম্পিয়নশিপ শিরোপা।

    তার এই স্থায়ী দলবদল বাংলাদেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ এক অধ্যায় বয়ে আনল। কারণ তার ক্যারিয়ার এখন বাংলাদেশ ফুটবলের জন্য বেশ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    ইংল্যান্ডের লাফবরায় জন্ম নেওয়া হামজার মা বাংলাদেশি। এর আগে তিনি ইংল্যান্ডের অনূর্ধ্ব-২১ দলের হয়ে খেলেছিলেন। পরে তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাংলাদেশকে বেছে নেন।

    ২০২৫ সালের মার্চে ভারতের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র হওয়া ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশের জার্সিতে অভিষেক হয় হামজার। এরপর থেকে তিনি বাংলাদেশের হয়ে ১০টি ম্যাচ খেলেছেন, গোল করেছেন চারটি।

  • ৭০ বছরে পাকিস্তানের জঘন্যতম ক্রিকেট বোর্ড

    ৭০ বছরে পাকিস্তানের জঘন্যতম ক্রিকেট বোর্ড

    ইংল্যান্ড সফরে প্রথম টেস্টে ১০৩ রানে পরাজিত হওয়ার পর দ্বিতীয় টেস্টে ১৯৪ রানে হেরেছে পাকিস্তান। পর পর দুই টেস্টে লজ্জার হারের পর পাকিস্তান ক্রিকেটে ছাঁটাইয়ের গুঞ্জন। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) টার্গেটে আছেন টেস্ট দলের কোচ সরফরাজ আহমেদ।

    পাকিস্তান ক্রিকেট দল এবার ইংল্যান্ডে খেলতে যাওয়ার পর ব্রিটেনের সংবাদমাধ্যম লিখেছিল, ৫০ বছরে জঘন্যতম পাকিস্তান দল। শুধু দল নয়, এর দায় ক্রিকেট বোর্ডেরও নেওয়া উচিত বলে মনে করেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক রশিদ লতিফ।

    জিও নিউজকে লতিফ বলেছেন, ‘সকলে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের কথা বলছে। ৫০ বছরে এটা জঘন্যতম ক্রিকেট দল। একদম ঠিক কথা। কিন্তু কেউ তো এখনকার ক্রিকেট বোর্ডের কথা বলছে না। ৭০ বছরে জঘন্যতম ক্রিকেট বোর্ড।’

    পাকিস্তানের সাবেক এই অধিনায়ক আরও বলেছেন, ‘কেউ তো বলছে না, এই বোর্ডেরই নির্বাচক কমিটি ও কোচেরাই এই জঘন্য দল বেছে নিয়েছে। তাহলে আসল দায় কাদের। সকলেই জানে, কে পাকিস্তান ক্রিকেটকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। কিন্তু কেউ মুখ খুলবে না। এই দলের জেতার ক্ষমতাই নেই। একের পর এক টেস্ট হারবে।’

  • প্রাইম মিনিস্টার গোল্ডকাপ: মাঠ প্রস্তুতের নির্দেশ

    প্রাইম মিনিস্টার গোল্ডকাপ: মাঠ প্রস্তুতের নির্দেশ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা ২০২৬ সামনে রেখে দেশের প্রতিটি উপজেলায় অন্তত পাঁচটি করে ফুটবল খেলার উপযোগী মাঠ প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। একই সঙ্গে মাঠগুলো প্রস্তুত হয়েছে কি না, তা সরেজমিনে পরিদর্শন করে সচিত্র প্রতিবেদন পাঠাতে বলা হয়েছে।

    রোববার (৩০ আগস্ট) মাউশির শারীরিক শিক্ষা বিভাগের উপপরিচালক অধ্যাপক মো. শহিদুল ইসলামের সই করা এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

    চিঠিতে বলা হয়েছে, আগামী ১০ সেপ্টেম্বর শুরু হবে প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা। এতে দেশের বিভিন্ন ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অংশ নেবে। স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রায় ৫০ হাজার দল এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

    প্রতিযোগিতাকে সামনে রেখে প্রতিটি উপজেলায় পাঁচটি করে ফুটবল খেলার মাঠ প্রস্তুত আছে কি না, তা সরেজমিনে পরিদর্শনের জন্য মাধ্যমিক ও থানা শিক্ষা কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিদর্শনের পর মাঠের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে সচিত্র প্রতিবেদন আঞ্চলিক পরিচালকের মাধ্যমে মাউশিতে পাঠাতে হবে। এ জন্য নির্ধারিত ই-মেইল ঠিকানায় প্রতিবেদন পাঠাতে বলা হয়েছে। মাঠ প্রস্তুতির অগ্রগতি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়।

    এদিকে মাউশি সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি তাদের মধ্যে ক্রীড়ার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে সারাদেশে প্রথমবারের মতো ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়ে বড় পরিসরে এ ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হচ্ছে।

    প্রতিযোগিতার প্রাথমিক পর্ব উপজেলা পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়ে ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হবে।

    উল্লেখ্য, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে।

  • ১৬ বছর পর হকির বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা

    ১৬ বছর পর হকির বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা

    মধুর প্রতিশোধই নিল আর্জেন্টিনা। মেয়েদের হকি বিশ্বকাপ ফাইনালের গত আসরে নেদারল্যান্ডসের কাছে হেরেছিল তারা। এবার সেই ডাচদের হারিয়েই জিতল শিরোপা। ফাইনালে নির্ধারিত সময়ে ১-১ সমতার পর টাইব্রেকারে ৩-১ ব্যবধানে জেতে তারা।

    আর্জেন্টিনা সর্বশেষ হকির বিশ্বকাপ জিতেছিল ২০১০ সালে। ১৬ বছর পর শিরোপা ঘরে তুলল তারা। নারীদের হকি বিশ্বকাপে এটা আর্জেন্টিনার তৃতীয় শিরোপা। সেটাও এল টানা তিনবারের চ্যাম্পিয়ন নেদারল্যান্ডসের মুকুট কেড়ে নিয়ে।

    আমস্টারডামের ফাইনালে ইবি ইয়ানসের গোলে এগিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ৫১ সেকেন্ড আগে ম্যাচের প্রথম পেনাল্টি কর্নার থেকে ইবি ইয়ানসেনের জোরালো শট গোলপোস্টের বাঁ দিক দিয়ে জড়ায় জালে। গোলের পর গর্জে উঠে গ্যালারিভর্তি দর্শক। এবারের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ৮ গোল করলেন তিনি।

    চতুর্থ কোয়ার্টারে খেলা শেষের ছয় মিনিট আগে আরেকটি পেনাল্টি কর্নার থেকে মারিয়া গ্রানাতোর গোলে সমতায় ফেরে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের আলোচিত ঘটনা ছিল আর্জেন্টিনা গোলরক্ষক ক্রিস্তিনা কোসেন্তিনোর একটি অসাধারণ চমৎকার সেভ। পিয়েন ডিকের আক্রমণের মুখে গোলপোস্ট ছেড়ে প্রতিরোধ গড়ে স্কোরলাইন সমতায় রাখেন তিনি। এরপর ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানেই বাজিমাত আর্জেন্টিনার।

    ম্যাচসেরা আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক ক্রিস্তিনা কোসেন্তিনো ফাইনাল শেষে ভাসলেন উচ্ছ্বাসে, ‘আমি ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। আমরা এই মুহূর্তটির জন্যই অপেক্ষা করছিলাম ১৬ বছর ধরে। নেদারল্যান্ডস খুবই শক্ত প্রতিপক্ষ আর আমরা জানতাম ম্যাচটা এমনই হবে। আমাদের পরিকল্পনা ছিল প্রতিটি বলের জন্য লড়াই করা, গোল ঠিকই আসবে। আর তারপর শুটআউটে গিয়ে নিছক উপভোগ করা।’

    এর আগে, ব্রোঞ্জ পদকের লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়েছে বেলজিয়াম। ৪৮ বছরের অপেক্ষার সমাপ্তি ঘটিয়ে বিশ্বকাপে প্রথম পদক জিতল তারা।

  • সাংবাদিক ওসমানের উপর সন্ত্র সন্ত্রাসী হামলা।

    সাংবাদিক ওসমানের উপর সন্ত্র সন্ত্রাসী হামলা।

    মহেশপুর ( ঝিনাইদাহ) প্রতিনিধি

    ঝিনাইদহ মহেশপুরে সস্তার হাইস্কুল মাঠে বিকাল পাঁচটার দিকে মহেশপুর প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক সাংবাদিক শামীম ওসমানের উপর সন্ত্রাসীরা হামলা করেছে।

    স্থানীয় সূত্রে, জানা গেছে সস্তার হাইস্কুল মাঠে হুদো গ্রাম এবং শিবানন্দপুর গ্রামের মধ্যে ফুটবল খেলা কে কেন্দ্র করে নাটিমা ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ডের সম্ভাব্য মেম্বার প্রার্থী জাকির হোসেনের উপর হুদো গ্রামের ছেলেরা আক্রমণ করে।
    সাংবাদিক শামীম ওসমান তখন রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং তার মুঠোফোনে মারামারির এই দৃশ্যটি ধারণ করার জন্য ভিডিও করা শুরু করেন। এই বিষয়টি স্থানীয় হুদো গ্রামের ছাত্রদলের আনোয়ার ও তার সাথে থাকা ছেলেরা দেখে ফেলে। এবং সঙ্গে সঙ্গে আনোয়ারের নেতৃত্বে আব্দুল্লাহ, বিল্লাল ,সাব্বির সহ ১০ থেকে ১২ জনের একটি গ্রুপ অতর্কিত হামলা করে বসে সাংবাদিক ওসমানের উপর। শামীম ওসমান সাংবাদিক পরিচয় দিলে তারা বলে ,তোর সাংবাদিকতা ছুটাচ্ছি।এ সময় তারা তাদের হাতে থাকা হকিস্টিক, কালো কালারের পাইপ, দেশীয় অস্ত্র দিয়ে পেছন দিক থেকে এবং সামনে দিক থেকে সাংবাদিক শামীম ওসমানের উপর উপর্যুপরি হামলা করে। শামীম ওসমান রাস্তার উপর পড়ে যান ।আবার ওঠার চেষ্টা করে চলে যায়, তাকে আবার ধরে ফেলে এবং অমানবিক নির্যাতন করে। রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা সাংবাদিক শামীম ওসমানকে স্থানীয় জনগণ উদ্ধার করে মহেশপুর হসপিটালে নিয়ে আসে।
    হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে সাংবাদিক শামীম ওসমানের মাথায় সাতটা সেলাই দেওয়া লাগছে। এবং তার দুই পা ও হাতে লাঠি দিয়ে আঘাত করে যখম করে দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় মহেশপুর প্রেসক্লাবের সভাপতিসহ সাংবাদিক সমাজ চরম উদ্বিগ্ন ,সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

    এ,আরো

  • ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে কেঁদে যা বললেন মিয়াঁদাদ

    ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে কেঁদে যা বললেন মিয়াঁদাদ

    তিন বছর ধরে কারাবন্দি পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খান। একাধিক মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত এই সাবেক ক্রিকেটারের মুক্তির দাবিতে এবার সরব হয়েছেন পাকিস্তান ক্রিকেটের আরেক কিংবদন্তি জাভেদ মিয়াঁদাদ।

    সম্প্রতি ইমরান খানের চিকিৎসা ও মৌলিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কাছে যৌথ চিঠি পাঠান ২১ জন সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অধিনায়ক। গত ২৪ আগস্ট পাঠানো ওই চিঠির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান টেস্ট অধিনায়ক প্যাট কামিন্সও।

    এরই ধারাবাহিকতায় পাকিস্তানি সাংবাদিকদের প্ল্যাটফর্ম ‘ন্যারেটিভস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইমরান খানের পক্ষে কথা বলেন জাভেদ মিয়াঁদাদ।

    তিনি বলেন, ‘কেউ আমাকে বুঝিয়ে বলুক, তিনি (ইমরান খান) কি পাকিস্তানকে খেয়ে ফেলবেন? আমরা সবাই পাকিস্তানি। আমাদের একসঙ্গে বসে সমস্যার সমাধান করা উচিত। বিষয়টি অযথা দীর্ঘায়িত করা হচ্ছে, যা দেশের জন্য ভালো নয়।’

    ইমরানের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিনের নানা গুঞ্জনও নাকচ করে দেন ৬৯ বছর বয়সি এই সাবেক ব্যাটার। তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে কখনও কোনো শত্রুতা বা ঝগড়া ছিল না।’

    ইংল্যান্ডে একসঙ্গে কাউন্টি ক্রিকেট খেলার স্মৃতি তুলে ধরে মিয়াঁদাদ বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে কাউন্টি ক্রিকেট খেলেছি এবং প্রায় ছয় মাস একসঙ্গে ছিলাম। পরে পাকিস্তান দলে আমি তাকে অধিনায়কত্বও দিয়েছিলাম। আমাদের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ভালো। আমরা একসঙ্গে পাকিস্তান ক্রিকেটের দারুণ একটি সময় কাটিয়েছি।’

    সাবেক এই অধিনায়ক আরও বলেন, ‘তিনি কারও না কারও সন্তান। প্রায়ই ভাবি, কী কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে তিনি যাচ্ছেন। আমরা খুব ঘনিষ্ঠ ছিলাম। একসঙ্গে খেলেছি, সময় কাটিয়েছি এবং একে অপরকে ভালোভাবে বুঝতাম। পাকিস্তান ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি।’

    যদিও অবসরের পর রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) পরিচালনার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অতীতে ইমরান খানের সমালোচনা করেছেন মিয়াঁদাদ, তবু তিনি মনে করেন, দেশের জন্য ইমরানের অবদান ভুলে যাওয়া উচিত নয়।

    মিয়াঁদাদ বলেন, ‘যা ভুল, তা অবশ্যই ভুল। কিন্তু তিনি একজন জাতীয় বীর। আমি চাই এই সমস্যার সমাধান হোক। পাকিস্তান সরকারের কাছেও আমার আবেদন রয়েছে। হয়তো আমি সবকিছু বলার অবস্থানে নেই, তবে এটুকু বলতে পারি—তিনি আমার দীর্ঘদিনের সহকর্মী। আমরা একসঙ্গে খেলেছি, সময় কাটিয়েছি। আমি তাকে খুব ভালোভাবে চিনি। তিনি একজন সৎ মানুষ।’

    সাক্ষাৎকারের একপর্যায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মিয়াঁদাদ। অশ্রুসিক্ত চোখে তিনি বলেন, ‘আমার একটাই প্রার্থনা—সত্য ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা হোক। এর বেশি আর কী বলব? আপনারা আমার চোখে পানি এনে দিয়েছেন। আমি হৃদয়ের গভীরতা থেকেই এসব কথা বলছি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমি যদি কোনোভাবে সাহায্য করতে পারি, অবশ্যই করব। আমরা সবাই পাকিস্তানি এবং দেশের পতাকা বহন করেছি। মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু দেশের স্বার্থে সেগুলোর অবসান হওয়া উচিত। দেশপ্রেমের প্রশ্নে ইমরান কারও চেয়ে কম নন। আমরা মাঠে লড়েছি পাকিস্তানের জন্যই। যা হওয়ার হয়েছে। মানুষ ভুল করতেই পারে। এখন সময় এসেছে এই অধ্যায়ের ইতি টানার।’

  • হালান্ডের জোড়া গোল, বড় জয় সিটির

    হালান্ডের জোড়া গোল, বড় জয় সিটির

    ম্যানচেস্টার সিটি শুক্রবার রাতে ক্রিস্টাল প্যালেসকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে। রায়ান চেরকি ও আর্লিং হালান্ড দুজনেই জোড়া গোল করেছেন। এই জয়ে সিটি প্রিমিয়ার লিগে টানা দুই ম্যাচ জিতল।

    প্যালেস শুরুতে ভালো খেলেছিল। কিন্তু ১৭ মিনিটে তারা পিছিয়ে পড়ে। অ্যান্টোইন সেমেনিওর ক্রসে লাফিয়ে উঠে হেড করেন হালান্ড। গোলরক্ষক ডিন হেন্ডারসন বল ধরতে পারেননি। এটি ছিল নতুন মৌসুমে হালান্ডের প্রথম গোল।

    ২১ মিনিটে ফিল ফোডেন বল বাইরে মারেন। এরপর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে এডি এনকেতিয়াও একটি সুযোগ নষ্ট করেন। ৫৪ মিনিটে চেরকি প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেদ করে গোল করেন।

    দুই মিনিট পর প্যালেস একটি গোল শোধ করে। ইয়েরেমি পিনোর ফ্রি কিক ক্রসবারে লাগে। এরপর বল সিটির গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মার গায়ে লেগে পোস্টে লেগে জালে ঢোকে।

    তবে প্যালেসের ফেরার আশা বেশিক্ষণ টেকেনি। ৫৯ মিনিটে চেরকি আবার গোল করেন। তার শট ক্রিস রিচার্ডসের গায়ে লেগে দিক পাল্টে জালে জড়ায়। এটি ছিল তার রাতের দ্বিতীয় গোল।

    ৮৫ মিনিটে হালান্ডও নিজের দ্বিতীয় গোল করেন। ফোডেনের পাস থেকে বাঁ পায়ে জোরালো শট নেন তিনি। এই গোলে সিটির জয় নিশ্চিত হয়। কোচ এনজো মারেস্কার দল প্রথম দুই ম্যাচ থেকে পূর্ণ ছয় পয়েন্ট পেল।

    এই জয়ের পর সিটি প্রায় এক সপ্তাহ বিশ্রাম পাবে। এরপর তাদের পরের ম্যাচ নতুন প্রমোশন পাওয়া দল কভেন্ট্রি সিটির বিপক্ষে।

    তার পরের সপ্তাহে তারা ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে যাবে। সেখানে তারা এই মৌসুমের প্রথম ডার্বি ম্যাচে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মুখোমুখি হবে।

  • সেমিতে উঠলো বাংলাদেশ এইচপি

    সেমিতে উঠলো বাংলাদেশ এইচপি

    আব্দুল গাফফার সাকলাইন সোজা অফ ড্রাইভে মারলেন চার। সাকলাইনের এই চারটা কেবল চারই নয়। ডারউইনে আজ এই চারে এক ঢিলে দুই পাখি মারলেন তিনি। নর্দার্ন টেরিটরি স্ট্রাইককে হারিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট কাটল বাংলাদেশ হাইপারফরম্যান্স (এইচপি) একাদশ।

    ডারউইনে আজ নর্দার্ন টেরিটরি স্ট্রাইকের বিপক্ষে ১০ বল হাতে রেখে ৩ উইকেটে জিতল বাংলাদেশ এইচপি। তাতে করে টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করল এইপি। ৬ ম্যাচে ৫ জয় ও ১ হারে এইচপি ১০ পয়েন্ট নিয়ে সবার ওপরে এখন এইচপি। দুই ও তিনে থাকা অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্স একাডেমি ও ভিক্টোরিয়া সিএ উভয়েরই পয়েন্ট ৮।

    চার ও পাঁচে থাকা নর্দার্ন টেরিটরি স্ট্রাইক ও হায়দরাবাদ কিংসমেন একাডেমিরও পয়েন্ট ৬। শুধু অ্যাডিলেড ও ভিক্টোরিয়ার ১০ পয়েন্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যেহেতু এই দুই দলই ৬ ম্যাচের মধ্যে ৫ ম্যাচ খেলেছে। ৯ দলের মধ্যে সবার নিচে হোবার্ট হারিকেন্স একাডেমি। ৫ ম্যাচ খেলে প্রত্যেকটিতেই হেরেছে তারা। দুই পয়েন্ট নিয়ে আটে অস্ট্রেলিয়া ক্যাপিটাল টেরিটরি। সমান ৪ পয়েন্ট নিয়ে ছয় ও সাতে অবস্থান করছে নিউজিল্যান্ড এ ও নেপাল।

    ১৪৪ রানের লক্ষ্যে নেমে বাংলাদেশ এইচপি শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে থাকে। তাতে উইকেটও হারিয়েছে। ৪.৫ ওভারে ২ উইকেটে ৪১ রানে পরিণত হয় এইচপি। আরিফুল ইসলাম ও হাবিবুর রহমান সোহান ১০ ও ২২ রান করেছেন। তৃতীয় উইকেটে এরপর শামীম হোসেন পাটোয়ারী ও সাব্বির রহমান ৩৪ রানের জুটি গড়েন।

    দশম ওভারের তৃতীয় বলে শামীমকে (১১) ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন রেলি মার্ক। চতুর্থ উইকেটে এরপর সাব্বির ও অধিনায়ক ইরফান শুক্কুর গড়েন ৩৫ রানের জুটি। ১৫তম ওভারের প্রথম বলে সাব্বিরকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন টম মেনেজিস। ৩৭ বলে ৪ চার ও ১ ছক্কায় ৪৭ রান করেন সাব্বির।

    সাব্বির ফেরার পর সাময়িক ধস নামে এইচপির ইনিংসে। ৩ উইকেটে ১১০ রান থেকে মুহূর্তেই ১৬.৫ ওভারে ৬ উইকেটে ১২৩ রানে পরিণত হয় শুক্কুরের দল। শুক্কুর ও এসএম মেহেরব ১৭ ও ৮ রান করে বিদায় নেন। জিততে যখন চার রান বাকি, সেই মুহূর্তে আউট হন সামিউন বাশির রাতুল। ৮ বলে ১ চার ও ১ ছক্কায় করেন ১৪ রান। ১৮তম ওভারের শেষ বলে রাতুলকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন মেনেজিস।

    এমন অবস্থায় ম্যাচ শেষ করতে বাংলাদেশ এইচপির লেগেছে কেবল এক বল। ১৯তম ওভার করতে আসা ওয়েস অ্যাগারকে প্রথম বলে ডট দেন সাকলাইন। দ্বিতীয় বলে চার মেরে এইচপির ৩ উইকেটের জয় নিশ্চিত করেন সাকলাইন। সাব্বিরের ৪৭ রানই বাংলাদেশের ইনিংসে সর্বোচ্চ। মার্ক, মেনেজিস দুটি করে উইকেট নিয়েছেন।

    এর আগে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন নর্দার্ন টেরিটরি অধিনায়ক হামিশ মার্টিন। আগে ব্যাটিং করে ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৪৩ রান করে দলটি। ইনিংস সর্বোচ্চ ৩১ রান করেন জর্ডান সিল্ক। এইচপির মোহাম্মদ রুবেল ৪ ওভারে ২৪ রানে নিয়েছেন ৫ উইকেট। একটি করে উইকেট পেয়েছেন রাতুল, রাকিবুল হাসান, মেহেরব ও মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী।

  • আর্জেন্টিনার অনুরোধে সাড়া দিয়ে শাস্তি তুলে নিচ্ছে ফিফা

    আর্জেন্টিনার অনুরোধে সাড়া দিয়ে শাস্তি তুলে নিচ্ছে ফিফা

    ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা তো কম হয়নি। বিশেষ করে ফাইনাল শেষে স্পেনের ফুটবলারদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ানোয় আর্জেন্টিনার ফুটবলার-কোচদের শাস্তিও দেওয়া হয়েছে। অবশেষে তাঁরা পেলেন সুখবর। ফিফা সেই শাস্তি তুলে নিচ্ছে।

    আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) গতকাল নিশ্চিত করেছে যে ফুটবলার-কোচদের শাস্তি তুলে নিতে ফিফার কাছে অনুরোধ করা হয়েছে। বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা তা অনুমোদন করেছে। এক বিবৃতিতে এএফএ বলেছে, ‘আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন নিজেদের এবং নিজেদের খেলোয়াড়দের অধিকার রক্ষায় সিদ্ধান্তগুলোর বিস্তারিত কারণ জানার অপেক্ষায় রয়েছে। এরপর ফিফার আপিল কমিটির কাছে যথাযথ আবেদন করা হবে। প্রয়োজনে সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে ক্রীড়া আদালতে যাব।’

    ১৯ জুলাই নিউজার্সির ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে যাওয়ার পর লেয়ান্দ্রো পারেদেস মেজাজ ধরে রাখতে পারেননি। এমনিতেই ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে একটা হলুদ কার্ড দেখেছিলেন। রানার্সআপ হওয়ার পর পারেদেস স্পেনের দুই ফুটবলার গাভি ও দানি অলমোর গলা চেপে ধরেছিলেন। জোড়া হলুদ কার্ডে লাল কার্ড দেখার পর ফিফা সেই শাস্তি তুলে নিয়েছিল।

    পারেদেসের শাস্তি তুলে নেওয়ায় সমালোচনার মুখে পড়ে ফিফা আর্জেন্টিসা-স্পেন ফাইনাল নিয়ে তদন্ত করে। বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা এরপর পারেদেসকে ১০ ম্যাচ, নাউয়েল মলিনাকে ৭ ম্যাচ এবং থিয়াগো আলমাদাকে ১ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেয়। তাছাড়া গলা চেপে ধরার কাণ্ডে জড়িত থাকায় সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালা জড়িত থাকায় তিন ম্যাচ নিষিদ্ধ করা হয়।

    মলিনা-পারেদেসদের নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি আর্থিক জরিমানাও করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী কোপা আমেরিকা বা বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের কথা থাকলেও এএফএর পক্ষ থেকে ফিফার কাছে বিশেষ অনুরোধ করা হয়। ফুটবলাররা যেন অফিশিয়াল টুর্নামেন্টের বাইরে প্রীতি ম্যাচগুলোতেও তাঁদের নিষেধাজ্ঞা কাটাতে পারেন, সেই অনুরোধ করেছে এএফএ।বিশ্ব
    ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা আর্জেন্টিনার এই আবেদন মঞ্জুর করেছে। দরকার পড়লে ক্রীড়া আদালত পর্যন্ত যাওয়ার চিন্তা করছে এএফএ।

    আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জেতে স্পেন। এর আগে ২০১০ সালে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল স্প্যানিশরা। স্পেনের মতো ফ্রান্সও দুইবার জিতেছে বিশ্বকাপ। সর্বোচ্চ পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ব্রাজিল। জার্মানি-ইতালি চারবার করে বিশ্বকাপ জিতেছে। আর্জেন্টিনা তিনটি বিশ্বকাপ জিতেছে।

  • পতাকা বিতর্কে বিশ্বকাপজয়ীদের সংবর্ধনা বাতিল করল বার্সেলোনা

    পতাকা বিতর্কে বিশ্বকাপজয়ীদের সংবর্ধনা বাতিল করল বার্সেলোনা

    স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপ জেতা খেলোয়াড়দের মৌসুমের প্রথম হোম ম্যাচে সংবর্ধনা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল বার্সেলোনা।

    তবে কাতালোনিয়ার স্বাধীনতাপন্থী প্রতীক এস্তেলাদা পতাকা ঘিরে সৃষ্ট ঘটনার পর সেই আয়োজন বাতিল করেছে লা লিগার ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।

    বৃহস্পতিবার অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের বিপক্ষে স্প্যানিশ লিগের হোম ম্যাচে নামার আগে ক্যাম্প ন্যুতে এস্তেলাদার সমর্থনে একটি কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় একটি সংগঠনের আয়োজনে সমর্থকদের মধ্যে প্রায় ১০ হাজার ছোট পতাকা বিতরণ করা হয়। গ্যালারিতেও দেখা যায় বড় আকারের বেশ কিছু পতাকা ও ব্যানার। বার্সার সংগীত বাজানোর সময় সমর্থকেরা পতাকাগুলো উঁচিয়ে ধরেন।

    ম্যাচের আগে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক হাজার সমর্থক ক্যাম্প ন্যুর আশপাশে এস্তেলাদা হাতে মিছিলও করেন।

    বিশ্বকাপজয়ী স্পেন দলে বার্সার আটজন খেলোয়াড় ছিলেন। এরা হলেন জোয়ান গার্সিয়া, এরিক গার্সিয়া, পেদ্রি, পাউ কুবার্সি, গাভি, রদ্রি, দানি ওলমো ও লামিনে ইয়ামাল। কোনো ক্লাবের মধ্যে এই সংখ্যা সর্বোচ্চ। এ কারণেই তাঁদের সম্মান জানাতে বিশেষ সংবর্ধনার পরিকল্পনা করেছিল বার্সা।

    তবে গত সপ্তাহে এলচের বিপক্ষে ম্যাচের আগে বার্সার এক তরুণ সমর্থকের কাছ থেকে পুলিশ এস্তেলাদা পতাকা নিয়ে নেওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। ওই সমর্থক পুলিশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তর্কে জড়ালে তাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে আটক করা হয়।

    এই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে বার্সা। ক্লাবটির দাবি, এস্তেলাদা একটি আইনসম্মতভাবে স্বীকৃত প্রতীক এবং এটি প্রদর্শন করা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বৈধ প্রয়োগ। একই সঙ্গে সমর্থককে আটকের পদ্ধতিকেও অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছে বার্সা। পুলিশের বলপ্রয়োগের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় যৌক্তিকতা ছিল না বলে মনে করে ক্লাবটি।

    বিশ্বকাপজয়ী খেলোয়াড়দের সংবর্ধনা বাতিলের ব্যাখ্যায় বার্সা সভাপতি হোয়ান লাপোর্তা বলেন, ‘এই মুহূর্তে এমন কিছু আয়োজন করা যাচ্ছে না। ফুটবলকে ঐক্যবদ্ধ করা উচিত। সংঘাত তৈরি করা যাবে না।’

    বিশ্বকাপজয়ী স্পেনের খেলোয়াড়দের সম্মান জানাতে এর আগে দেশটির অন্যান্য ক্লাবও স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে যৌথভাবে বিভিন্ন আয়োজন করেছে। সেসব অনুষ্ঠানে বিশ্বকাপ ট্রফি প্রদর্শনের পাশাপাশি স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তেকেও উপস্থিত রাখা হয়েছিল। তবে বার্সার ক্ষেত্রে এস্তেলাদা পতাকা ঘিরে তৈরি উত্তেজনার কারণে সেই ধারাবাহিকতা আর থাকল না।

  • শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে সরকারের ৭ নির্দেশনা

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে সরকারের ৭ নির্দেশনা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা ২০২৬’ ঘিরে দেশজুড়ে প্রচার কার্যক্রম জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে দেশের সব স্কুল, কলেজ ও মাদরাসাসহ মাঠপর্যায়ের শিক্ষা অফিসগুলোতে লোগো, মাসকট, ড্রপডাউন-গেট ব্যানার ও ফেস্টুন প্রদর্শনসহ সাত ধরনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতা সম্পর্কে জানানো এবং প্রতিষ্ঠানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ওয়েবসাইটে প্রচারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।


    মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) প্রকাশিত এক পরিপত্রে জানানো হয়েছে, সম্প্রতি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক সভায় প্রতিযোগিতার প্রচার-প্রচারণা জোরদারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২৪ আগস্ট মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) শারীরিক শিক্ষা বিভাগ এবং ২৫ আগস্ট বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড পৃথক বিজ্ঞপ্তি দিয়ে তাদের আওতাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছে।

    নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মাঠপর্যায়ের শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট সব অফিস তাদের আওতাধীন এলাকার গুরুত্বপূর্ণ ও দর্শনীয় স্থানে প্রতিযোগিতার লোগো, মাসকট, ড্রপডাউন-গেট ব্যানার ও ফেস্টুন প্রদর্শনের ব্যবস্থা করবে। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ফটক বা গেটে বাধ্যতামূলকভাবে ব্যানার প্রদর্শন করতে হবে। প্রতিষ্ঠানের ভেতরের দর্শনীয় স্থানেও ড্রপডাউন ব্যানার ঝোলাতে হবে। এছাড়া ক্লাস চলার সময় প্রতিটি শ্রেণিতে নোটিশ পাঠ করে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ‘প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা ২০২৬’ সম্পর্কে জানাতে হবে। প্রতিষ্ঠানের মূল নোটিশ বোর্ডে এ-সংক্রান্ত তথ্য টাঙানোর পাশাপাশি নিজস্ব অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজ বা গ্রুপেও প্রতিযোগিতার প্রচার চালাতে হবে। একইভাবে প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রতিযোগিতা-সংক্রান্ত তথ্য ও ব্যানার প্রকাশ করতে হবে।

    প্রচার উপকরণ হিসেবে লোগো, মাসকট, ব্যানার ও ফেস্টুনের নমুনা সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে নির্দিষ্ট গুগল ড্রাইভে দেয়া হয়েছে। সেখান থেকে এসব উপকরণ সংগ্রহ করে মাঠপর্যায়ে প্রচার ও প্রদর্শনের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।

    তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান ফুটবলার তুলে আনা, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ এবং দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য তৈরির লক্ষ্য নিয়ে ‘প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা ২০২৬’ আয়োজন করা হচ্ছে। প্রায় ৫০ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এ প্রতিযোগিতার সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ফুটবল দল গঠনের উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। সংশোধিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ৯ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু হবে। মাধ্যমিক পর্যায়ের উপজেলা বা থানা পর্যায়ের খেলা হবে ৯ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর। জেলা পর্যায়ের খেলা হবে ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত। শিক্ষা অঞ্চল পর্যায়ের খেলা হবে ২২ থেকে ২৫ অক্টোবর এবং জাতীয় পর্যায়ের খেলা হবে ২৭ থেকে ৩০ অক্টোবর।

    উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে উপজেলা পর্যায়ের খেলা হবে ১ থেকে ১০ অক্টোবর, জেলা পর্যায়ের খেলা ১৩ থেকে ২০ অক্টোবর এবং শিক্ষা অঞ্চল ও জাতীয় পর্যায়ের খেলা যথাক্রমে ২২ থেকে ২৫ অক্টোবর এবং ২৭ থেকে ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে।

    প্রতিযোগিতায় মাধ্যমিক পর্যায় (বালক), মাধ্যমিক পর্যায় (বালিকা-ঐচ্ছিক), উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় (বালক) এবং উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় (বালিকা-ঐচ্ছিক)-এই চার বিভাগে খেলা হবে। প্রতিযোগিতাটি উপজেলা বা থানা, জেলা, শিক্ষা অঞ্চল ও জাতীয়-চার ধাপে অনুষ্ঠিত হবে। প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও যাতায়াত সহজ করতে উপজেলা পর্যায়ের খেলা চার থেকে পাঁচটি ভেন্যুতে আয়োজনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ের বিজয়ী দল জেলা পর্যায়ে এবং জেলা পর্যায়ের বিজয়ী দল শিক্ষা অঞ্চল পর্যায়ে খেলবে। ঢাকা, খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ-এই সাত শিক্ষা অঞ্চলের বিজয়ী দলের সঙ্গে কুমিল্লা ও সিলেট অঞ্চলের যৌথ বাছাই থেকে একটি দল নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে মোট আটটি আঞ্চলিক দল অংশ নেবে।

    জাতীয় পর্যায়ে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক-দুই স্তরে বালক ও বালিকা মিলিয়ে মোট ৩২টি দল খেলবে। এর মধ্যে মাধ্যমিক পর্যায়ের ১৬টি এবং উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের ১৬টি দল থাকবে।

    নীতিমালা অনুযায়ী, মাধ্যমিক পর্যায়ের খেলোয়াড়দের বয়স সর্বোচ্চ ১৭ বছর এবং উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের খেলোয়াড়দের বয়স সর্বোচ্চ ১৯ বছর হতে হবে। বয়স নির্ধারণের তারিখ ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬। অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়কে নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়মিত শিক্ষার্থী হতে হবে। চলমান এসএসসি বা এইচএসসি পরীক্ষার্থীরাও নিজ প্রতিষ্ঠানের হয়ে খেলতে পারবেন। প্রতিটি দলে ১৬ জন খেলোয়াড় এবং দুজন কর্মকর্তা বা শিক্ষক-ম্যানেজার ও কোচ-থাকবেন। বালিকা দলের ক্ষেত্রে অন্তত একজন নারী শিক্ষিকা থাকা বাধ্যতামূলক। খেলা হবে নকআউট পদ্ধতিতে। প্রতিটি ম্যাচের সময় ৯০ মিনিট। নির্ধারিত সময়ে খেলা অমীমাংসিত থাকলে সরাসরি টাইব্রেকারে বিজয়ী নির্ধারণ করা হবে। প্রতি ম্যাচে সর্বোচ্চ পাঁচজন খেলোয়াড় পরিবর্তন করা যাবে।

    প্রতিযোগিতায় অবৈধ, ভুয়া বা অপেশাদার খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করালে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী, শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানপ্রধানের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোনো দল পাতানো খেলায় জড়িত হলে বা ইচ্ছাকৃতভাবে ম্যাচ ছেড়ে মাঠ থেকে উঠে গেলে শৃঙ্খলা উপকমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দলকে সর্বোচ্চ দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হতে পারে। এ ছাড়া রেফারি, প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় বা সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে লাঞ্ছিত করলে দল ও খেলোয়াড়কে বহিষ্কারের বিধান রাখা হয়েছে। প্রতিযোগিতার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, খেলোয়াড়, শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের নীতিমালা কঠোরভাবে মেনে চলতে বলা হয়েছে।

    জাতীয় পর্যায়ের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলকে ট্রফি, মেডেল ও নগদ অর্থ পুরস্কার দেয়া হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন পর্যায়ের বিজয়ী দল এবং সেরা খেলোয়াড়, সেরা গোলরক্ষক ও সর্বোচ্চ গোলদাতাকেও পুরস্কৃত করা হবে।

  • ভারত সিরিজে আফগানিস্তানের নতুন অধিনায়ক

    ভারত সিরিজে আফগানিস্তানের নতুন অধিনায়ক

    ভারতের বিপক্ষে ইব্রাহিম জাদরানকে অধিনায়ক করে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের দল ঘোষণা করেছে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি)।

    দলে ফেরানো হয়েছে পেস বোলার নবীন উল হককে। ডান কাঁধের চোটের জন্য কয়েক মাস মাঠের বাইরে ছিলেন তিনি। খেলতে পারেননি গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও। দলে রয়েছেন ফজল হক ফারুকি, আবদুল্লাহ আহমেদজাইয়ের মতো পেসার। অলরাউন্ডার আজমতউল্লাহ ওমরজাইও।

    দলে ফেরানো হয়েছে অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার গুলবাদিন নাইবকেও। রশিদ খান, মোহাম্মদ নবি, নুর আহমেদ, নানগেলিয়া খারোতের মতো নিয়মিত ক্রিকেটারেরাও আসছেন ভারতে। প্রথম উইকেটরক্ষক হিসাবে দলে রয়েছেন রহমাউল্লাহ গুরবাজ। দ্বিতীয় উইকেটরক্ষক হিসাবে রয়েছেন নুর রহমান।

    এসিবির সিইও নাসিব খান জানিয়েছেন, ভারসাম্যযুক্ত দল নির্বাচন করা হয়েছে। ব্যাটিং-বোলিং, স্পিন বোলিং-জোরে বোলিং, অভিজ্ঞতা-তারুণ্য সব কিছুরই ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।

    ভারত-আফগানিস্তান টি-টোয়েন্টি সিরিজের সব ম্যাচই হবে দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে। ম্যাচগুলি হবে ১৩, ১৫ এবং ১৭ সেপ্টেম্বর।

    আফগানিস্তান দল: ইবরাহিম জাদরান (অধিনায়ক), রহমানউল্লাহ গুরবাজ (উইকেটরক্ষক), নুর রহমান (উইকেটরক্ষক), রশিদ খান, মোহাম্মদ নবি, সেদিকুল্লাহ অটল, দারউইশ রাসুলি, নবিন-উল হক, ফজল হক ফারুকি, আবদুল্লাহ আহমেদজাই, মুজিব-উর রহমান, আজমতউল্লাহ ওমরজাই, গুলবাদিন নাইব, নুর আহমেদ, নানগেলিয়া খারোত।

    রিজার্ভ: ইজাজ আহমেদজাই, শহিদুল্লাহ কামাল, ফরিদ আহমেদ মালিক।

  • সেই ডারউইনে টানা তৃতীয় জয় এইচপির

    সেই ডারউইনে টানা তৃতীয় জয় এইচপির

    অস্ট্রেলিয়ায় টপ এন্ড টি-টোয়েন্টিতে দাপট অব্যাহত বাংলাদেশ হাইপারফরম্যান্সের (এইচপি)। ডারউইনে গতকাল তারা ৫ উইকেটে হারিয়েছে ভিক্টোরিয়াকে। এই ডারউইনেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট জিতেছিল বাংলাদেশ। একই ভেন্যুতে টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে টানা তৃতীয় জয় পেল এইচপি। পয়েন্ট টেবিলেও তারা আছে শীর্ষে। শুরুতে ব্যাট করে ভিক্টোরিয়া গুটিয়ে যায় ১৩১ রানে। জবাবে এইচপি লক্ষ্যে পৌঁছে ১৬ বল হাতে রেখে।

    ৩৭ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল এইচপি। সেখান থেকেই হালটা ধরেন শামীম হোসেন ও অধিনায়ক ইরফান শুক্কুর। দুজন পঞ্চম উইকেটে গড়েন ৮৩ রানের জুটি। তাতেই ঘুরে যায় ম্যাচের মোড়। ৩২ বলে ৪৩ করে ইরফান ফিরলেও দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন শামীম। ৩৩ বলে ২ বাউন্ডারি ৩ ছক্কায় ৫১ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। ওপেনার হাবিবুর রহমান সোহান প্রথম ওভারে ফিরেছিলেন ০ রানে। জিশান আলম ১১ ও আরিফুল ইসলাম করেন ১৫।

    এর আগে মোহাম্মদ রুবেল ১৫ রানে ৪টি আর রাকিবুল হাসান ২৮ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ভিক্টোরিয়াকে গুটিয়ে দিয়েছিলেন ১৩১ রানে। সর্বোচ্চ ৪৯ করেছিলেন অধিনায়ক স্যাম হার্পার।

    বাংলাদশ প্রথম ম্যাচে ৯ উইকেটে হারিয়েছিল নেপালকে। দ্বিতীয় ম্যাচে হোবার্ট হারিকেনস একাডেমিকে হারায় ৩ উইকেটে। সেই ম্যাচে ৪৫ বলে ৫৯ রান করেছিলেন হারিয়ে যেতে বসা সাব্বির রহমান। গতকাল ভিক্টোরিয়ার বিপক্ষে অবশ্য করতে পারেননি তেমন কিছু। আউট হয়ে যান ১৪ বলে ৫ রানে।

  • এলচেকে পাঁচ গোলে উড়িয়ে বার্সার দুর্দান্ত শুরু

    এলচেকে পাঁচ গোলে উড়িয়ে বার্সার দুর্দান্ত শুরু

    লা লিগায় শিরোপা ধরে রাখার অভিযানটায় দুর্দান্ত শুরু করেছে বার্সেলোনা। নতুন মৌসুমে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই এলচের মাঠে গোলের উৎসব করেছে হানসি ফ্লিকের দল। স্বাগতিকদের ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত করে বড় জয় দিয়ে মৌসুম শুরু করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

    বার্সেলোনার বড় জয়ে জোড়া গোল করেছেন রাফিনিয়া ও ফেরমিন লোপেস। অভিষেকেই গোলের দেখা পেয়েছেন নতুন সাইনিং করিম আদেইয়েমি। আর বদলি হিসেবে মাঠে নেমে দুই গোলে সহায়তা করে নজর কেড়েছেন অ্যান্থনি গর্ডন।

    ম্যাচের শুরু থেকেই এলচের ওপর চাপ তৈরি করে বার্সেলোনা। ১৪ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন রাফিনিয়া। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আদেইয়েমি। রাফিনিয়ার পাস কাজে লাগিয়ে বার্সেলোনার জার্সিতে নিজের অভিষেকটা গোল দিয়ে রাঙান তিনি।

    বিরতির পর বার্সেলোনার আক্রমণ আরও ধারালো হয়ে ওঠে। বদলি হিসেবে নামা গর্ডনের পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন রাফিনিয়া। এরপর গর্ডনের আরেকটি অ্যাসিস্ট কাজে লাগিয়ে স্কোরলাইন ৪-০ করেন ফেরমিন। চার গোলে এগিয়েও আক্রমণের ধার কমায়নি ফ্লিকের দল। ম্যাচের শেষ দিকে জাভি এস্পার্তের পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ফেরমিন। তাতে ৫-০ গোলের দাপুটে জয় নিশ্চিত হয় কাতালানদের।

    নতুন মৌসুমের প্রথম ম্যাচেই পাঁচ গোলের জয় দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীদেরও বার্তা দিয়ে রাখল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। একই সঙ্গে শিরোপা ধরে রাখার অভিযানের শুরুতেই পূর্ণ তিন পয়েন্ট তুলে নিল বার্সেলোনা। এর আগের দিন জয় দিয়ে লিগ অভিযান শুরু করে রিয়াল মাদ্রিদও। এস্পানিওলের মাঠে শেষ মুহূর্তের গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় পায় হোসে মরিনহোর দল।

  • কোচদের হাতাহাতি, ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশ ডাকলেন বাংলাদেশের ইংলিশ কোচ

    কোচদের হাতাহাতি, ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশ ডাকলেন বাংলাদেশের ইংলিশ কোচ

    আগামী ৩১ আগস্ট উজবেকিস্তানে শুরু হবে এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের বাছাইপর্ব। মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই বাংলাদেশ দল ২৭ আগস্ট দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিন্তু মাঠের অনুশীলন কিংবা দলীয় পারফরম্যান্সের চেয়ে আলোচনায় উঠে এসেছে কোচিং স্টাফের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব। দলের প্রধান কোচ জেরার্ড জোন্স ও সহকারী কোচ আতিকুর রহমান মিশুর মধ্যে বিরোধ এবার গড়িয়েছে হাতাহাতি পর্যন্ত। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শেষ পর্যন্ত পুলিশ ডাকতে হয়েছে ব্রিটিশ কোচ জোন্সকে।

    দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তির তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার ঢাকার একটি হোটেলে জেরার্ড জোন্স ও মিশুর মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি পর্যন্ত গড়ায়। পরে জোন্স জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে বিষয়টি জানান। পুলিশ হোটেলে গেলেও শেষ পর্যন্ত বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

    কোচিং স্টাফের এমন ঘটনায় বিব্রত বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনও। বয়সভিত্তিক দল হলেও অনূর্ধ্ব-২০ জাতীয় দল আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দেশের প্রতিনিধিত্ব করে। ফলে দলের গুরুত্বপূর্ণ দুই কোচের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি মাঠের প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    ঘটনার বিষয়ে দলের ম্যানেজার ও বাফুফের ডেভেলপমেন্ট কমিটির সদস্য সামিদ কাশেম বলেন, ‘আমরা ডেভেলপমেন্ট কমিটি বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। আশা করছি, দ্রুতই একটি সুন্দর সমাধান হবে। আমাদের লক্ষ্য ফুটবলারদের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করে দেশকে সাফল্য এনে দেওয়া।’

    অবশ্য জেরার্ড জোন্সকে ঘিরে বিতর্ক এবারই প্রথম নয়। কিছুদিন আগে বেতনসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে আলোচনায় এসেছিলেন এই ইংলিশ কোচ। সেখানে নিজের পরিবার ও ব্যক্তিগত পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন তিনি। বাফুফের সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের সঙ্গে তার আচরণ নিয়েও অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল বলে জানা গেছে।

    বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের কোচিং নিয়ে বিতর্ক অবশ্য জোন্সের আগেও ছিল। তার আগে দায়িত্বে থাকা ব্রিটিশ কোচ মার্ক কক্সের কোচিং সনদ ও যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। জোন্সের যোগ্যতা নিয়ে বড় কোনো প্রশ্ন না থাকলেও এবার তার আচরণ নিয়ে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।

  • নেপালকে উড়িয়ে টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি শুরু বাংলাদেশের

    নেপালকে উড়িয়ে টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি শুরু বাংলাদেশের

    টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজে নিজেদের প্রথম ম্যাচে নেপালকে ৯ উইকেটে হারিয়ে দারুণ শুরু করেছে বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্স দল। মোহাম্মদ রুবেলের স্পিন ও জিসান আলমের ঝড়ো ব্যাটিংয়ের সুবাদে সহজেই জয় পায় টাইগাররা।

    অস্ট্রেলিয়ার মারারা ওভালে টসে জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ এইচপি। ব্যাটিংয়ে নেপালের হয়ে কুশল ভুর্তেল ছাড়া আর কেউ সুবিধা করতে পারেনি। ত্রিত রাজ দাস, অধিনায়ক অনিল সাহ, পবন সররফ, কুশল মাল্লা ও লোকেশ বম–– এই ৫ জন ব্যাটারের কেউ ই দুই অঙ্কের রান স্পর্শ করতে পারেনি। এর ভেতর অনিল ও পবন কোনো রান না করেই ফেরেন।

    টপ ও মিডল অর্ডারের ব্যর্থতায় মাত্র ১৩ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপদে পরে নেপাল। এরপর ষষ্ঠ উইকেটে সাদাব আলমকে সঙ্গে নিয়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন ভুর্তেল। ৩২ রানের জুটি গড়ার পর ১১ রান করে সামিউন বসিরের বলে আউট হন সাদাব। একই ওভারে রানআউট হন নারায়ণ যোশি।

    ৪৬ রানে ৭ উইকেট হারানোর পর রিজান ধকলকে নিয়ে সম্মানজনক সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যান ভুর্তেল। ২৯ রান যোগ করার পর রুবেলের বলে ইরফান শুক্কুরকে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন ভুর্তেল। ৩ চার ও ১ ছয়ের সাহায্যে ৪০ বলে ৪৬ রান করেন তিনি। রিজান ১০ রান করে রানআউট হন।

    শেষ উইকেট বাঁচিয়ে বাংলাদেশকে ১০০ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দেয় নেপাল। বিপিন খাতরি অপরাজিত থাকেন ১১ রানে ও আকাশ চাঁদ ৫ রানে। বাংলাদেশের হয়ে রুবেল ১৮ রান দিয়ে চারটি উইকেট তুলে নেন। এছাড়া বসির, রোহনাত দৌল্লাহ বর্ষণ ও রিপন মণ্ডল ১ টি করে উইকেট পান।

    জবাবে খুব সহজেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন জিসান। তৃতীয় ওভারে ৭ রান করে সাদাবের বলে আউট হন হাবিবুর রহমান সোহান। এরপর আরিফুল ইসলামকে নিয়ে ৫৮ বল হাতে রেখেই দলকে জয় এনে দেন জিসান। ২৯ বলে ৫২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন তিনি। ৩টি চার ও ৪টি ছয়ে প্রায় ১৮০ স্ট্রাইকরেটে ব্যাট করেন এই ওপেনার। আরিফুল অপরাজিত থাকেন ৩৪ রানে।

    বাংলাদেশ এইচপির পরবর্তী ম্যাচ হোবার্ট হারিকেন্স একাডেমীর বিপক্ষে আগামীকাল।

  • বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সুলিভানকে মেরে শাস্তি পেলেন মেসি

    বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সুলিভানকে মেরে শাস্তি পেলেন মেসি

    মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ম্যাচে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত কুইন সুলিভানকে চড় মারার ঘটনায় জরিমানা করা হয়েছে ইন্টার মায়ামির তারকা লিওনেল মেসিকে। তবে জরিমানার পরিমাণ প্রকাশ করেনি টুর্নামেন্ট কর্তৃপক্ষ।

    গত ২০ আগস্ট ফিলাডেলফিয়ার বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচের শেষ দিকে সুলিভানের মাথার পেছনে চড় মারেন মেসি। বল খেলার পর সুলিভান তাঁকে কনুই দিয়ে আঘাত করেছেন—এমন অভিযোগ করতে গিয়ে ওই ঘটনার সূত্রপাত। মেসির চড়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান সুলিভান। পরে রেফারি দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

    এই ম্যাচে মায়ামির হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন মেসি। বাবার মৃত্যুর পর এটিই ছিল তাঁর প্রথম গোল। ৬৮ বছর বয়সে দীর্ঘ অসুস্থতার পর মারা যান মেসির বাবা ও দীর্ঘদিনের এজেন্ট হোর্হে মেসি। বাবার শেষকৃত্যে অংশ নিতে আর্জেন্টিনায় ছিলেন মেসি।

    সুলিভানের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় মেসিই একমাত্র শাস্তি পাওয়া খেলোয়াড় নন। মায়ামির ইয়ান ফ্রেকেও জরিমানা করা হয়েছে। বক্সের মধ্যে সুলিভান পড়ে যাওয়ার পর দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তাঁর গলা চেপে ধরেছিলেন ফ্রে।

    উত্তপ্ত ম্যাচটিতে যোগ করা সময়ে দুটি লাল কার্ডও দেখা যায়। মায়ামির ইয়ানিক ব্রাইট এবং ফিলাডেলফিয়ার কাভান সুলিভানকে মাঠ ছাড়তে হয়। তবে পর্যালোচনার পর কাভানের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে।

    এদিকে, ইস্টার্ন কনফারেন্সে বর্তমানে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে মায়ামি। শীর্ষে থাকা ন্যাশভিলের চেয়ে সাত পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে তারা।

    বাবার মৃত্যুর পর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও ইঙ্গিত দিয়েছেন মেসি। বাবাকে স্মরণ করে দেওয়া এক দীর্ঘ বার্তায় আর্জেন্টিনার অধিনায়ক ইঙ্গিত দেন, ফুটবলে তাঁর পথচলা হয়তো আর খুব বেশি দীর্ঘ হবে না।

  • সুয়ারেজের কামড়ের চেয়েও বেশি শাস্তি, ফিফার রায় নিয়ে প্রশ্ন তুলল আর্জেন্টিনা

    সুয়ারেজের কামড়ের চেয়েও বেশি শাস্তি, ফিফার রায় নিয়ে প্রশ্ন তুলল আর্জেন্টিনা

    ২০১৪ বিশ্বকাপে ইতালির জর্জিও কিয়েল্লিনিকে কামড়ে দিয়েছিলেন লুইস সুয়ারেজ। সেই ঘটনায় উরুগুয়ের তারকাকে ৯ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছিল ফিফা। ১২ বছর পর আরেকটি বিশ্বকাপে ফাইনাল-পরবর্তী হাতাহাতির ঘটনায় আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো পারেদেস পেয়েছেন ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা। সুয়ারেজের সেই শাস্তির সঙ্গে তুলনা টেনে পারেদেসের সাজা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)।

    বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর মাঠে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড়। স্পেনের এরিক গার্সিয়ার গলা চেপে ধরা এবং গাভিকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় পারেদেসকে ১০ ম্যাচ নিষিদ্ধ করেছে ফিফা। সঙ্গে তাঁকে ৯০ হাজার ডলার জরিমানাও করা হয়েছে।

    এএফএর আইনি উপদেষ্টা আন্দ্রেস পাটোন উরিচের দাবি, পারেদেসের শাস্তি তাঁর কাজের তুলনায় ‘স্পষ্টতই অতিরিক্ত’। ফিফার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে শাস্তি কমানোর চেষ্টা করবে আর্জেন্টিনা।

    ডি স্পোর্টস রেডিওকে উরিচ বলেছেন, ‘পারেদেসের নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে যদি ২০১৪ সালে সুয়ারেজের ঘটনাটির তুলনা করেন, প্রতিপক্ষকে কামড় দেওয়ার পরও সে ৯ ম্যাচ নিষিদ্ধ হয়েছিল। অথচ পারেদেস পেয়েছে ১০ ম্যাচ। আমাদের মতে, আরও গুরুতর কিছু ঘটনার ক্ষেত্রেও একই বা কম শাস্তি হয়েছে।’

    শুধু সুয়ারেজের ঘটনাই নয়, অন্য একটি নজিরের কথাও তুলেছেন উরিচ। তাঁর দাবি, এক ইউরোপীয় ফুটবলার নাৎসি প্রতীক প্রদর্শন করে ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছিলেন। এএফএর মতে, শাস্তির মাত্রা নির্ধারণে এসব নজির পারেদেসের ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

    এ বিষয়ে উরিচের কথা, ‘আমরা ভিডিওগুলো ফ্রেম ধরে ধরে দেখেছি। আমাদের ধারণা ছিল, শাস্তি এর চেয়ে কম হওয়া উচিত ছিল। পারেদেস ও মলিনার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা স্পষ্টতই অতিরিক্ত।’

    এভাবে মাটিতে পড়ে যান গাভি রয়টার্স

    পারেদেসের পাশাপাশি নাহুয়েল মলিনাকেও ৭ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ফিফা। তাঁকেও ৯০ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়েছে। আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবের্তো আয়ালা পেয়েছেন ৩ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা ও ৩০ হাজার ডলার জরিমানা।

    তবে থিয়াগো আলমাদার ১ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন এএফএর আইনি উপদেষ্টা। ফলে পারেদেস, মলিনা ও আয়ালার শাস্তি কমানোর দিকেই মূলত নজর দিচ্ছে সংস্থাটি।

    এএফএ এখন ফিফার সিদ্ধান্তের পূর্ণাঙ্গ কারণ জানতে চাইবে। এরপর প্রমাণ ও আইনি যুক্তি দিয়ে আপিল করা হবে। আপিল কমিশনও যদি শাস্তি বহাল রাখে, তাহলে কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টসে (সিএএস) যাওয়ার কথাও ভাবছে আর্জেন্টিনা।

    আর্জেন্টিনার সামনে অবশ্য একটি পুরোনো নজিরও আছে। ২০১৮ বিশ্বকাপ বাছাইয়ে সহকারী রেফারিকে গালাগাল করার অভিযোগে লিওনেল মেসিকে ৪ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। পরে আপিলে সেই নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

    সেই নজিরে এবার পারেদেস ও মলিনাদের শাস্তিও কমানোর আশা করছে এএফএ। তবে আপাতত তাদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন একটাই—প্রতিপক্ষকে কামড় দেওয়ার জন্য সুয়ারেজের শাস্তি যেখানে ছিল ৯ ম্যাচ, সেখানে বিশ্বকাপ ফাইনালের হাতাহাতির ঘটনায় পারেদেসকে কেন এক ম্যাচ বেশি নিষিদ্ধ করা হলো?

  • লজ্জার রেকর্ডে পাকিস্তানের নাম

    লজ্জার রেকর্ডে পাকিস্তানের নাম

    হেডিংলিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে বড় পরাজয়ের পাশাপাশি অনাকাঙ্ক্ষিত এক রেকর্ডের মালিক হয়েছে পাকিস্তান। টেস্ট ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে একই ম্যাচের দুই ইনিংসেই দলীয় রান শূন্য থাকা অবস্থায় প্রথম উইকেট হারিয়েছে তারা।

    প্রথম ইনিংসে পাকিস্তানের ওপেনার আজান ওয়াইসকে শূন্য রানে এলবিডব্লিউ করেন ওলি রবিনসন। দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতেও একই ঘটনা ঘটে—ইমাম-উল-হক কোনো রান না করেই জফরা আর্চারের শিকার হন। টেস্টে শূন্য রানে প্রথম উইকেট হারানো নতুন কিছু নয়, তবে একই ম্যাচে দুই ইনিংসেই এমন ঘটনার নজির অত্যন্ত বিরল।

    এই অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডে পাকিস্তানই এখন সবার ওপরে। দলটি মোট সাতবার একই টেস্টে দুই ইনিংসেই শূন্য রানে প্রথম উইকেট হারিয়েছে। তালিকায় এরপর রয়েছে ইংল্যান্ড ৫ বার, অস্ট্রেলিয়া ৪ বার, ভারত ২ বার এবং নিউজিল্যান্ড ১ বার।

    হেডিংলি টেস্টে পাকিস্তানের ব্যাটিং ব্যর্থতা ছিল চরম। প্রথম ইনিংসে ১৭১ রানে অলআউট হওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে গুটিয়ে যায় মাত্র ১৩৫ রানে। বিপরীতে ইংল্যান্ড এক ইনিংসেই সংগ্রহ করে ৪০৬ রান। ফলে ইনিংস ও ১০৩ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় পায় স্বাগতিকরা।

    পাকিস্তানের ব্যাটিং ধসের অন্যতম প্রধান কারণ ছিলেন ইংলিশ পেসার ওলি রবিনসন। দুই ইনিংস মিলিয়ে ৮ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন তিনি। প্রথম ইনিংসে তার বোলিং ফিগার ছিল ৫/৫১।

    দ্বিতীয় ইনিংসে ২৩৮ রানে পিছিয়ে থেকে ব্যাট করতে নামে পাকিস্তান। শুরুতেই আর্চারের বলে ইমাম-উল-হক শূন্য রানে ফিরলে বিপদ আরও ঘনীভূত হয়। এরপর শান মাসুদ কয়েকটি বাউন্ডারি মেরে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও ইংল্যান্ডের বোলাররা চাপ ধরে রাখেন। আবদুল্লাহ শফিকও ক্যাচ দিয়ে ফেরেন।

    এরপর জশ টাং পাকিস্তানের মিডল অর্ডারে বড় ধাক্কা দেন। সাউদ শাকিলকে ফেরানোর পর একই ওভারে শান মাসুদ ও সালমান আগাকে সাজঘরে পাঠিয়ে সফরকারীদের ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে দেন।

    মোহাম্মদ রিজওয়ান ৪১ রানের লড়াকু ইনিংস খেলে কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। তবে অন্য প্রান্তে রবিনসনের আঘাত অব্যাহত থাকে। পরে গাস অ্যাটকিনসন রিজওয়ানের ইনিংস শেষ করেন এবং ৩৮তম ওভারে আর্চার শেষ ব্যাটারকে আউট করে পাকিস্তানের ইনিংসের সমাপ্তি টানেন।

    প্রথম ইনিংসেও পাকিস্তান ইংলিশ পেসারদের সামনে সুবিধা করতে পারেনি। রবিনসন ৫/৫১ এবং জশ টাং ৫/৪৬ নিয়ে পাকিস্তানকে ১৭১ রানে গুটিয়ে দেন। জবাবে ইংল্যান্ডের মিডল অর্ডারের চার ব্যাটারের অর্ধশতকে বড় সংগ্রহ গড়ে। হ্যারি ব্রুক ৯১, জর্ডান কক্স ৭৩, জো রুট ৬৬ এবং ড্যান লরেন্স ৫১ রান করেন।

  • ১০১ রানের লিডে প্রথম দিন শেষ করল অস্ট্রেলিয়া

    ১০১ রানের লিডে প্রথম দিন শেষ করল অস্ট্রেলিয়া

    মিচেল স্টার্কের বিধ্বংসী বোলিংয়ে মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হয়েছিল বাংলাদেশ। ২২ বলের মধ্যে ৫ উইকেট নিয়ে ইনিংসে মোট ৬ উইকেট শিকার করেন অজি পেসার। তবে তার আগুনে বোলিংয়ের দারুণ জবাব দিয়েছেন শরিফুল ইসলাম।

    ইনজুরি কাটিয়ে দলে ফিরে ব্যাট হাতে দলের সর্বোচ্চ রান করার পর বল হাতেও অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামিয়েছেন শরিফুল। দিন শেষে ৬ উইকেট তুলে নিয়েছেন শরিফুলও।

    ম্যাকাই টেস্টের প্রথম দিনের খেলা শেষে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ৮ উইকেটে ১৬৫ রান। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের চেয়ে ১০১ রানে এগিয়ে রয়েছে স্বাগতিকরা।

    শরিফুলের বিধ্বংসী বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস একসময় ১৪৮ রানে ৮ উইকেটে পরিণত হয়। নিজের নবম ও দলের ৩২তম ওভারে মাত্র তিন বলের ব্যবধানে বেউ ওয়েবস্টার ও প্যাট কামিন্সকে ফিরিয়ে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন তিনি। পরের ওভারেই মিচেল স্টার্ককে আউট করে নিজের ষষ্ঠ শিকার তুলে নেন শরিফুল। মাত্র পাঁচ বলের মধ্যে তিন উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার লোয়ার অর্ডার তছনছ করে দেন তিনি।

    এর আগে দ্বিতীয় সেশনেও দুই দলের মোট সাতটি উইকেট পড়ে। বাংলাদেশকে ৬৪ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর চা-বিরতির আগেই অস্ট্রেলিয়া ৩ উইকেটে ৫০ রান সংগ্রহ করে। শরিফুলের জোড়া আঘাতে মাত্র ৪১ রানেই তিন উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। তবে স্টিভ স্মিথ ও ক্যামেরন গ্রিনের ৭৭ রানের জুটি বাংলাদেশকে পালটা চাপে ফেলে দেয়। শেষ পর্যন্ত এই জুটিও ভাঙেন শরিফুল।

    এর আগে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের শুরুতেই ভালো বোলিং করে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিল বাংলাদেশ। তৃতীয় ওভারে তাসকিন আহমেদের বলে স্লিপে তানজিদ হাসান তামিমের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ম্যাট রেনশ। জেক ওয়েদারাল্ডের বদলে একাদশে সুযোগ পাওয়া এই ওপেনার করেন মাত্র ৮ রান।

    এরপর অষ্টম ওভারে আক্রমণে এসে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন শরিফুল। দ্বিতীয় বলেই ট্র্যাভিস হেডকে ইনসাইড এজে বোল্ড করেন তিনি। মাত্র ২২ রান করে ফেরেন অজি ওপেনার। এরপর চার বলের ব্যবধানে মার্নাস লাবুশেনকেও বোল্ড করেন শরিফুল। ৯ বল খেলে মাত্র ৪ রান করেন লাবুশেন। ফলে ৪১ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া।

    এর আগে স্টার্কের তাণ্ডবে মাত্র ৬৪ রানে শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১৪ রান করেন শরিফুল। এরপর বল হাতেও শুরু থেকেই কার্যকর ছিলেন তিনি।

    শেষ সেশনে নিজের দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে স্মিথ ও গ্রিনের জুটি ভাঙেন শরিফুল। স্মিথকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন তিনি। আম্পায়ার প্রথমে আউট দিলে রিভিউ নেন স্মিথ, কিন্তু আম্পায়ার্স কল থাকায় সিদ্ধান্ত বদলায়নি। ৭৪ বলে ৪২ রান করে ফিরতে হয় অজি ব্যাটারকে। ১১৮ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।

    এরপর ক্যামেরন গ্রিনের সঙ্গে জুটি গড়েন অ্যালেক্স ক্যারি। তবে তাদের জুটিও বেশিদূর এগোয়নি। ২৭ রান যোগ হওয়ার পর মেহেদী হাসান মিরাজের বলে হাসান মাহমুদের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৫ রানে আউট হন ক্যারি।

    এরপর দ্রুত ব্যাটিং ধসে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। মাত্র ৩ রানের ব্যবধানে চারটি উইকেট হারায় তারা। শরিফুলের পরের ওভারে বেউ ওয়েবস্টার গোল্ডেন ডাকে ফেরেন। এলবিডব্লিউয়ের সিদ্ধান্ত রিভিউ করেও বাঁচতে পারেননি তিনি। দুই বল পর প্যাট কামিন্সকেও লিটনের ক্যাচে পরিণত করেন শরিফুল। নতুন ব্যাটার কামিন্সের সংগ্রহ ছিল মাত্র ১ রান।

    সবশেষে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়া মিচেল স্টার্ককেও নিজের ষষ্ঠ শিকার বানিয়ে দুর্দান্ত এক বোলিং পারফরম্যান্সের পূর্ণতা দেন শরিফুল ইসলাম।

  • ১১ মাসে যা করেছি,  ১০৫ বছরেও কেউ পারেনি: সাদিক কায়েম

    ১১ মাসে যা করেছি, ১০৫ বছরেও কেউ পারেনি: সাদিক কায়েম

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ১১ মাসে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে এমন কাজ করা হয়েছে, যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫ বছরের ইতিহাসে আর কেউ করতে পারেননি বলে দাবি করেছেন ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম।

    আজ পটুয়াখালী জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

    সাদিক কায়েম বলেন, ‘১১ মাসে আমরা প্রমাণ করেছি কিভাবে শিক্ষার্থীদের অধিকার নিশ্চিত করতে হয়, শিক্ষার্থীরাই বলে আমরা গত ১১ মাসে ডাকসুতে দায়িত্ব নেওয়ার পরে যে কাজ করেছি বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাসে ১০৫ বছরের সে কাজ করতে পারেনি। ’

    ডাকসুর বর্তমান নেতৃত্বের সময়ে ক্যাম্পাসে মারামারি, হানাহানি, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে বলেও দাবি করেন তিনি। একাধিক জরিপের তথ্য তুলে ধরে ডাকসুর ভিপি বলেন, ৯৩ শতাংশ শিক্ষার্থী মনে করেন, বর্তমান সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সবচেয়ে নিরাপদ অবস্থায় রয়েছে।

    ডাকসুর ভিপি আরও বলেন, একই সঙ্গে ক্যাম্পাসের মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা করা গবেষণা করা চিন্তা করা প্রশ্ন করা এবং নতুন নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কার করা। এজন্য সেই একাডেমিক পরিবেশ আমরা ইতিমধ্যে নিশ্চিত করেছি।

    দেশের তরুণ প্রজন্মকে যথাযথ স্বীকৃতি ও সুযোগ না দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের এই দেশে আমরা গত ৫৫ বছর জুড়ে আমাদের যারা নেতৃত্ব ছিল তারা আমাদেরকে নিয়ে যেভাবে ভাবা দরকার ছিল আমাদের তরুণ প্রজন্মদেরকে নিয়ে আমাদের ছাত্র-ছাত্রীদেরকে নিয়ে যেভাবে ভাবা দরকার ছিল তাদেরকে যেভাবে স্বীকৃতি দেওয়া দরকার ছিল সেটা তারা দিতে পারেনি। সাদিক কায়েম বলেন, দীর্ঘদিনের এ ব্যর্থতার কারণেই জাতি একই বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে। দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীরা বিদেশের নামী বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিলেও দেশে তাদের মেধার যথাযথ বিকাশ ও কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পটুয়াখালী ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আন নাহিয়ান। এতে পটুয়াখালী সদর উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৩০০ কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

  • অবসরের ইঙ্গিত দিলেন দি মারিয়া

    অবসরের ইঙ্গিত দিলেন দি মারিয়া

    কোপা লিবার্তাদোরেস থেকে রোজারিও সেন্ট্রালের বিদায়ের পরই নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী তারকা আনহেল দি মারিয়া। হারের হতাশার মধ্যেই অবসরের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন ৩৭ বছর বয়সি অভিজ্ঞ এই উইঙ্গার।

    বৃহস্পতিবার কোপা লিবার্তাদোরেসের রাউন্ড অব ১৬-এর দ্বিতীয় লেগে করিন্থিয়ানসের কাছে ১-০ গোলে হেরে যায় রোজারিও সেন্ট্রাল। সেই হারের পর স্বাভাবিকভাবেই ভেঙে পড়েন দি মারিয়া। আরও আবেগঘন হয়ে ওঠে মুহূর্তটি, কারণ ১২ বছর আগে একই স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার জার্সিতে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে গোল করেছিলেন তিনি। সেই গোলই তাকে নিয়ে গিয়েছিল ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ ফাইনালের পথে।

    ম্যাচ শেষে ইএসপিএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা জানান দি মারিয়া। তিনি বলেন, ‘এটি একটি কঠিন মুহূর্ত। আমার স্বপ্ন ছিল অন্যরকম। ইচ্ছা ছিল খেলা চালিয়ে যাওয়ার। তবে এটাই ফুটবল। এখন আমাকে চিন্তা করে দেখতে হবে আমি সামনে কী করতে চাই।’

    ফক্স স্পোর্টসের কাছেও ম্যাচের হতাশা প্রকাশ করেন আর্জেন্টাইন তারকা। তার ভাষায়, ‘আমাদের গোল করার সুযোগ ছিল, কিন্তু আমরা যেভাবে খেলতে চেয়েছিলাম ম্যাচটি সেভাবে এগোয়নি। আমরা বেশ লড়াই করেছি, কিন্তু সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারিনি।’

    দীর্ঘ ১৮ বছর ইউরোপের ফুটবলে দাপট দেখানোর পর ২০২৫ সালের মাঝামাঝি শৈশবের ক্লাব রোজারিও সেন্ট্রালে ফিরে আসেন দি মারিয়া। এরপর গত জুনে ক্লাবটির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ান তিনি। নতুন চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত ক্লাবটিতে থাকার কথা রয়েছে তার। সে সময় তার বয়স হবে ৩৯ বছর।

    তবে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই অবসরের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন আর্জেন্টিনার অন্যতম সফল এই ফুটবলার। সাম্প্রতিক মন্তব্যে অন্তত তেমনই আভাস পাওয়া গেছে।

    রোজারিও সেন্ট্রালে ফেরার পর এখন পর্যন্ত ৪৩টি ম্যাচ খেলেছেন দি মারিয়া। এই সময়ে ১৪ গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ৭টি গোল। তবে কোপা লিবার্তাদোরেস থেকে বিদায়ের পর তার পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকেই এখন তাকিয়ে ভক্তরা।

  • ভক্তদের তোপের মুখে আর্জেন্টিনার ফরোয়ার্ড

    ভক্তদের তোপের মুখে আর্জেন্টিনার ফরোয়ার্ড

    বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করায় হুলিয়ান আলভারেসের সঙ্গে আতলেতিকো মাদ্রিদের সমর্থকদের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। লা লিগার প্রথম ম্যাচে আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডকে উদ্দেশ্য করে কটূক্তিমূলক স্লোগান দেওয়ার পর এবার ক্লাবের অনুশীলনে বিক্ষোভ করেছেন ক্ষুব্ধ সমর্থকেরা।

    অনুশীলন মাঠের সামনে ‘হুলিয়ান আউট’ লেখা ব্যানার টানানো হয়। কোথাও কোথাও আলভারেসের ১৯ নম্বর জার্সির ওপর ক্রস চিহ্ন এঁকে তাঁর বিদায়ও দাবি করেছেন ভক্তরা। বার্সায় যেতে চাওয়ার কথা প্রকাশ্যে বলার পর থেকেই সমর্থকদের বড় একটি অংশ আলভারেসের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।

    পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছেন আতলেতিকোর প্রধান কোচ দিয়েগো সিমিওনে। মালাগার বিপক্ষে ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আলভারেসকে দলে না রাখার কারণ দলবদলের গুঞ্জন নয়, ম্যাচ খেলার মতো শারীরিক প্রস্তুতির অভাব। সে এখনো আমাদের সেরা খেলোয়াড়। সে আমার পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আশা করছি ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ম্যাচে সে খেলবে।’

    ২০২৪ সালের গ্রীষ্মে ম্যানচেস্টার সিটি থেকে আতলেতিকোতে যোগ দেন আলভারেস। এরপর ১০৬ ম্যাচে ৪৯ গোল ও ১৭ অ্যাসিস্ট করে দলের আক্রমণভাগের অন্যতম ভরসায় পরিণত হয়েছেন তিনি।

    আলভারেসের সঙ্গে আতলেতিকোর চুক্তি ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আতলেতিকো আর্সেনালের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় আগ্রহ দেখালেও আলভারেস যেতে চান বার্সাতেই। কিন্তু মাদ্রিদের ক্লাবটি কাতালানদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা করতে রাজি হয়নি। ফলে আক্রমণভাগের জন্য বিকল্প খেলোয়াড় খুঁজতে শুরু করেছে লা লিগার ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।

    শনিবার দিবাগত রাতে ভিয়ারিয়ালকে আতিথেয়তা দেবে আতলেতিকো। চোটের কারণে আলেকজান্ডার সরলথ না থাকায় সে ম্যাচে আলভারেসের মাঠের নামার সম্ভাবনা বেশি। শেষ পর্যন্ত খেলতে নামলে তাঁর সামনে আরেকটি কঠিন দিন অপেক্ষা করছে। ঘরের মাঠে আরও একবার আতলেতিকোর দর্শকদের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার মুখেও পড়তে পারেন তিনি।

  • ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত স্পেনের দায়িত্বে দে লা ফুয়েন্তে

    ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত স্পেনের দায়িত্বে দে লা ফুয়েন্তে

    ২০২৬ বিশ্বকাপে স্পেনকে শিরোপা জেতানোর পর কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের সঙ্গে চুক্তি নবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন (আরএফইএফ)। তার বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত। তবে ফেডারেশনের পরিকল্পনা, ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত দে লা ফুয়েন্তেকেই জাতীয় দলের দায়িত্বে রাখা।

    আগামী ২০৩০ বিশ্বকাপ স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো যৌথভাবে আয়োজন করবে। এরই মধ্যে দে লা ফুয়েন্তের চুক্তি বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে আরএফইএফ। ফেডারেশন সভাপতি রাফায়েল লুজান জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের মঞ্চে দে লা ফুয়েন্তেকে পাওয়া তাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ‘আমার মনে হয় লুইস এটা পাওয়ার যোগ্য এবং আমরা এটা নিয়েই কাজ করছি। তার চুক্তিটি ২০২৮ সাল পর্যন্ত আছে, তবে আমরা এখন থেকেই কাজ শুরু করেছি যেন এটি ২০৩০ সাল বা তার কাছাকাছি সময় পর্যন্ত বাড়িয়ে নেওয়া যায়। ২০৩০-এর বিশ্বমঞ্চে তার থাকাটা অত্যন্ত জরুরি,’ বলেন লুজান।

    দে লা ফুয়েন্তের প্রশংসা করে আরএফইএফ সভাপতি আরও বলেন, ‘তার বিনয়ী আচরণ এবং কঠোর পরিশ্রমের ক্ষমতাই আমাদের এই ঐতিহাসিক সাফল্যের মুখে দাঁড় করিয়েছে, যার পেছনে ছিল স্প্যানিশ জাতীয় দলের এক অবিস্মরণীয় খেলোয়াড়েরা।’

    নিজেদের মাটিতে ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল আয়োজনেরও জোর চেষ্টা চালাচ্ছে স্পেন। ফাইনাল নিয়ে আশাবাদী লুজানও। তার ভাষায়, ‘এটা মেনে নেওয়া কঠিন হবে যে ওই মহান বিশ্বকাপের ফাইনাল স্পেনে অনুষ্ঠিত হবে না।’

    বিশ্বকাপ জয়ের পর এবার শিরোপা ধরে রাখার নতুন অভিযানে নামবে স্পেন। দে লা ফুয়েন্তেকে দীর্ঘমেয়াদে দায়িত্বে রাখলে দলের কৌশলগত ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের গড়ে তোলার কাজও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

    সামনেই অবশ্য দে লা ফুয়েন্তের দলের জন্য রয়েছে নতুন পরীক্ষা। আগামী মাসে উয়েফা নেশন্স লিগে ইংল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। বিশ্বকাপ জয়ের পর নতুন চক্রের শুরুতেই নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে হবে স্পেনকে।

  • জর্জিয়ান তারকার হাতেই ব্যালন ডি’অর দেখতে চান ক্রুস

    জর্জিয়ান তারকার হাতেই ব্যালন ডি’অর দেখতে চান ক্রুস

    ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর কার হাতে উঠবে, তা নিয়ে নিজের পছন্দের কথা জানিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদ ও জার্মানির সাবেক তারকা মিডফিল্ডার টনি ক্রুস। ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কারটি তিনি দেখতে চান পিএসজির জর্জিয়ান ফরোয়ার্ড খিচা কাভারৎস্খেলিয়ার হাতে।

    স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘ফুট মার্কাতো’র বরাত দিয়ে জানা গেছে, ক্রুসের চোখে এবারের ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে কাভারৎস্খেলিয়াই এক নম্বর পছন্দ। নিজের পছন্দের কথা জানিয়ে সাবেক এই জার্মান তারকা বলেন, ‘আমার কাছে সে এখন এক নম্বর খেলোয়াড়।’

    ক্রুসের এই পছন্দে অবশ্য অনেকেই অবাক হতে পারেন। কারণ ব্যালন ডি’অরের আলোচনায় থাকা রদ্রি, লিওনেল মেসি, জুড বেলিংহ্যাম কিংবা কিলিয়ান এমবাপ্পের মতো তারকাদের তিনি এগিয়ে রাখেননি। তার মতে, ক্লাবের হয়ে এমন অসাধারণ মৌসুম কাটাতে পারেননি তারা, যা দিয়ে এই পুরস্কারের জন্য শক্তিশালী দাবি তোলা যায়।

    অন্যদিকে কাভারৎস্খেলিয়ার গত মৌসুমের পারফরম্যান্স ক্রুসকে মুগ্ধ করেছে। তিনি জর্জিয়ান উইঙ্গারকে ‘গত মৌসুমের সেরা খেলোয়াড়’ হিসেবে উল্লেখ করার পাশাপাশি ‘বিশ্বের সেরা ফুটবল দলের বর্তমান সেরা খেলোয়াড়’ বলেও প্রশংসা করেছেন।

    পরিসংখ্যানও কাভারৎস্খেলিয়ার পক্ষে কথা বলছে। পিএসজির হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪৮ ম্যাচে ১৯ গোল করার পাশাপাশি ১১টি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। বিশেষ করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তার পারফরম্যান্স ছিল আরও নজরকাড়া। ১৬ ম্যাচে ১০ গোলের সঙ্গে সতীর্থদের দিয়ে ৭টি গোল করিয়েছেন ২৫ বছর বয়সি এই তারকা।

    চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট পর্বেও কাভারৎস্খেলিয়ার অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। মোনাকো, চেলসি, লিভারপুল ও বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে দলের হয়ে কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত পিএসজির চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের পথেও তার পারফরম্যান্স ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

    এমন পারফরম্যান্সের পর কাভারৎস্খেলিয়াকে ব্যালন ডি’অরের অন্যতম দাবিদার মনে করছেন ক্রুস। রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক তারকার মতো একজন তারকা তার পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় জর্জিয়ান এই ফুটবলারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।

    তবে বিশ্বকাপজয়ী ইয়ামাল, রদ্রি কিংবা রানার্সআপ মেসির মতো তারকাদের পেছনে ফেলে কাভারৎস্খেলিয়ার ব্যালন ডি’অর জেতা নিঃসন্দেহে বড় চমক হবে। আগামী ২৬ অক্টোবর লন্ডনে ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর বিজয়ীর নাম ঘোষণা করবে ‘ফ্রান্স ফুটবল’ ম্যাগাজিন।

  • ইসলাম ধর্ম গ্রহণের গুঞ্জন নিয়ে যা বললেন কার্লোস

    ইসলাম ধর্ম গ্রহণের গুঞ্জন নিয়ে যা বললেন কার্লোস

    ব্রাজিলের সাবেক তারকা ফুটবলার রবার্তো কার্লোস এবার মুখ খুললেন। মরক্কোর নাগরিক সুহাইলা আল-তাহিরিকে বিয়ে করার পর তার ইসলাম গ্রহণ নিয়ে অনেক গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল। এই গুজবের জবাব দিলেন তিনি নিজেই। সেই খবরকে সরাসরি নাকচ করেছেন রিয়াল মাদ্রিদের কিংবদন্তি এই ফুটবলার। একই সঙ্গে ইসলামের প্রতি নিজের গভীর শ্রদ্ধার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

    সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, ব্রাজিলের মুসলিম সম্প্রদায়ের পরিচিত ব্যক্তি শেখ জিহাদ হামাদার কাছে শাহাদাহ পাঠ করে ইসলাম গ্রহণ করেছেন ৫৩ বছর বয়সী কার্লোস। তুরস্কের জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির সংসদ সদস্য আলী শাহিনের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের পর বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে।

    আলী শাহিন জানিয়েছিলেন, সাও পাওলোতে শেখ জিহাদ হামাদার সঙ্গে সাক্ষাতের পর কার্লোস ইসলাম গ্রহণ করেছেন। এর সঙ্গে ইসলামি রীতিতে বিয়ের কিছু ছবি ছড়িয়ে পড়ায় গুঞ্জন আরও জোরালো হয়।

    তবে সৌদি সংবাদমাধ্যম ‘ওকাজ’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কার্লোস পরিষ্কার করে দিয়েছেন, তার ইসলাম গ্রহণের খবর সত্য নয়। তিনি বলেন, ‘ইসলামের প্রতি আমার সর্বোচ্চ সম্মান রয়েছে। আমার স্ত্রীকে নামাজ পড়তে দেখা দারুণ এক অভিজ্ঞতা, তবে আমার ধর্মান্তরিত হওয়ার যে খবর ছড়িয়েছে তা সম্পূর্ণ অসত্য।’

    বিয়ের অনুষ্ঠান নিয়েও তৈরি হওয়া বিভ্রান্তির ব্যাখ্যা দিয়েছেন সাবেক এই লেফটব্যাক। তার পরিবারের সদস্যরা ক্যাথলিক হওয়ায় তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী একটি আয়োজন ছিল। একই সঙ্গে তার মরক্কান স্ত্রী ও মুসলিম বন্ধুদের ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি সম্মান জানিয়ে ইসলামি রীতিতেও আয়োজন করা হয়।

    কার্লোস বলেন, ‘আমার পরিবারের সদস্যরা ক্যাথলিক। তাদের বিশ্বাসকে সম্মান জানিয়ে যেমন আয়োজন ছিল, তেমনই আমার মরোক্কান স্ত্রী ও তার মুসলিম বন্ধুদের ব্যাকগ্রাউন্ডের কথা মাথায় রেখে সেই ধর্মীয় রীতিও রাখা হয়েছিল।’ কার্লোস স্পষ্ট করেছেন, স্ত্রীর ধর্মের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার অর্থ এটা নয় যে তিনি নিজে ধর্ম পরিবর্তন করেছেন।

    সোহাইলা আল তাহিরির সঙ্গে নিজের সম্পর্কের শুরু নিয়েও কথা বলেছেন কার্লোস। ফুটবল-সংক্রান্ত একটি ব্যবসায়িক বৈঠকে তাদের প্রথম পরিচয় হয়। সোহাইলাকে সফল নারী ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করে কার্লোস জানান, প্রায় দুই বছর ধরে তাদের সম্পর্ক। এই সময়ে ব্যক্তিগত ও পেশাগত—দুই ক্ষেত্রেই তাদের বোঝাপড়া আরও গভীর হয়েছে।

    কার্লোসের জন্য এটি তৃতীয় বিয়ে। প্রথম স্ত্রী আলেকজান্দ্রা পিনহেইরোর সঙ্গে ২০০৩ সালে বিচ্ছেদ হয়। সেই সংসারে তার তিন সন্তান। এরপর ২০০৯ সালের জুনে মারিয়ানা লুকনের সঙ্গে বিয়ে হয় তার। ১৫ বছরের বেশি সময় সংসারের পর ২০২৫ সালের শুরুতে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। এই সংসারে কার্লোসের ২টি কন্যাসন্তান রয়েছে। সব মিলিয়ে ৭ জন নারীর গর্ভে কার্লোসের ১১ সন্তান।

    ব্রাজিলের হয়ে ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী কার্লোস ক্লাব ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বেশি আলো ছড়িয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদে। স্প্যানিশ ক্লাবটির হয়ে ১১ মৌসুমে পাঁচ শতাধিক ম্যাচ খেলে জিতেছেন তিনটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও চারটি লা লিগা শিরোপা। ১৯৯৭ সালে ফ্রান্সের বিপক্ষে তার অবিশ্বাস্য বাঁকানো ফ্রি-কিক গোলও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় গোল।

  • মেসিদের বিপক্ষে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভানের লাল কার্ড, কী হয়েছিল?

    মেসিদের বিপক্ষে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভানের লাল কার্ড, কী হয়েছিল?

    বাবার মৃত্যুর পর প্রথমবার গোল করে আবেগে আকাশের দিকে তাকিয়েছিলেন লিওনেল মেসি। তার গোলে ইন্টার মায়ামি এগিয়েও গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত অবশ্য ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করে মাঠ ছাড়তে হয়েছে মায়ামিকে। তবে ম্যাচের শেষ মুহূর্তের ঘটনায় আলোচনায় উঠে এসেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণ ফুটবলার কাভান সুলিভান।

    বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সকালে সুবারু পার্কে ম্যাচের ৯০ মিনিট শেষে যোগ করা হয় ১২ মিনিট। অতিরিক্ত সময়ের একেবারে শেষদিকে ফিলাডেলফিয়ার কুইন সুলিভান ও মায়ামির ইয়ান ফ্রের মধ্যে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। কুইনকে ফাউল করা হয়েছে, এমন অভিযোগ থেকেই দুজনের মধ্যে তর্ক শুরু হয়।

    ভাইয়ের পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে আসেন কাভান। এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে মায়ামির ইয়ানিক ব্রাইট ও ফিলাডেলফিয়ার কাভানের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর রেফারি ফিলিপ দুজিচ দুজনকেই সরাসরি লাল কার্ড দেখান। ঘটনার শুরুতে জড়িয়ে পড়া কুইন সুলিভান অবশ্য লাল কার্ড দেখেননি। তাকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি।

    ম্যাচের শুরু থেকেই মাঠে ছিলেন কাভান। পুরো ম্যাচ খেললেও আক্রমণে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেননি তিনি। ৩৫ মিনিটে বাঁ পায়ের শটে মায়ামির গোলমুখে একটি চেষ্টা করেছিলেন কাভান, তবে সেটি রুখে দেন গোলরক্ষক ডেইন সেইন্ট ক্লেয়ার। কুইন অবশ্য শুরু থেকে একাদশে ছিলেন না। ৬৮ মিনিটে ইন্ডিয়ানা ভাসিলেভের বদলি হিসেবে মাঠে নামেন তিনি। ম্যাচের ১১ মিনিটে এই ভাসিলেভই ফিলাডেলফিয়ার হয়ে প্রথম গোলটি করেছিলেন।

    এদিকে ম্যাচে লিওনেল মেসির সঙ্গে কুইনের কিছুটা বাক্যবিনিময় হয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কুইনের মাথার পেছনে হালকা চাপড় দিতে দেখা যায় মেসিকে। বিষয়টি বড় কোনো সংঘর্ষে রূপ নেয়নি।

    বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সুলিভান পরিবারের ফুটবল গল্প অবশ্য এখানেই শেষ নয়। কাভান ও কুইনের দুই ভাই রোনান ও ডেকলান সুলিভান বাংলাদেশের হয়ে এ বছর অনূর্ধ্ব-২০ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছেন। ডেকলান টুর্নামেন্টে বেশি সময় মাঠে থাকার সুযোগ না পেলেও রোনান ছিলেন বাংলাদেশের অন্যতম আলোচিত খেলোয়াড়। পাকিস্তানের বিপক্ষে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই জোড়া গোল করেছিলেন রোনান। পরে ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে পেনাল্টিতে পানেনকা শটে গোল করে তাঁ জার্সি খুলে উদ্‌যাপনের দৃশ্যও বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের মনে জায়গা করে নেয়।

    এদিকে ফিলাডেলফিয়ার বিপক্ষে ড্র করেও এমএলএসের ইস্টার্ন কনফারেন্সে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইন্টার মায়ামি। ২০ ম্যাচে ১১ জয়, ৬ ড্র ও ৩ হারে তাদের পয়েন্ট ৩৯। ২০ ম্যাচে ৪৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে ন্যাশভিল।

  • বিশ্বকাপ ফাইনালের ‘ষড়যন্ত্র-তত্ত্ব’ নিয়ে মুখ খুলল আর্জেন্টিনা

    বিশ্বকাপ ফাইনালের ‘ষড়যন্ত্র-তত্ত্ব’ নিয়ে মুখ খুলল আর্জেন্টিনা

    বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর আর্জেন্টিনা দলকে ঘিরে যে নানা প্রশ্ন ও ষড়যন্ত্রের গল্প ছড়িয়েছিল, এবার তার জবাব দিল আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। ফাইনালের এক মাস পূর্তিতে প্রকাশিত এক ভিডিওতে কথা বলেছেন এএফএ সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, মাঠে কোনো রহস্যজনক ঘটনা ঘটেনি, বরং শিরোপার জন্য সর্বোচ্চটা দিয়েই লড়েছিল দল।

    নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে গত মাসে অনুষ্ঠিত ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জেতে স্পেন। ম্যাচের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আর্জেন্টিনার পারফরম্যান্স, খেলোয়াড়দের আচরণ ও ড্রেসিংরুমের পরিবেশ নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে। সেখান থেকেই জন্ম নেয় ‘ষড়যন্ত্র-তত্ত্ব’। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে মূল ধারার অনেক সংবাদ মাধ্যমই প্রচার করে ফাইনালে আর্জেন্টিনা দলে ‘কিছু একটা ঘটেছিল’।

    ফাইনালের এক মাস পূর্তিতে নিজেদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করে এএফএ। সেখানে পুরো বিশ্বকাপ অভিযানের বিভিন্ন মুহূর্ত তুলে ধরার পাশাপাশি খেলোয়াড়দের লড়াইয়ের প্রশংসা করা হয়। ভিডিওর ধারাভাষ্যে বলা হয়, ‘এক মাস আগে কিছু একটা ঘটেছিল। অনেকেই চায়নি সেটা ঘটুক, কিন্তু সেটাই ঘটল। আর্জেন্টিনা আরেকটি ফাইনালে খেলল। যদিও অনেকে এটা এড়িয়ে যেতে চান। আমরা প্রতিটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়েছি। ইংল্যান্ডকে সেমিফাইনালে বিদায় করে ইতিহাস গড়েছি।’

    ফাইনালের পর ওঠা ষড়যন্ত্র-তত্ত্ব নিয়ে এএফএর অফিশিয়াল বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সব ধরনের আর্জেন্টিনাবিরোধী প্রচারণা সত্ত্বেও আমরা ঠিকই ফাইনালে পৌঁছেছিলাম। তাই কেউ যখন বলবে, কিছু একটা ঘটেছিল, শুধু বলবেন, হ্যাঁ। আসলে যা ঘটেছিল তা হলো, একটি দল জেতার জন্য সবকিছু উজাড় করে দিয়েছিল। তারা শেষ পর্যন্ত লড়েছে, কখনো হাল ছাড়েনি। সবকিছু জেতার পরও এই দফায় তাদের হেরে যেতে হয়েছে।’

    ভিডিওর শেষ দিকে দেখানো হয় ফাইনাল শেষে রানার্সআপের পদক নেওয়ার সময় আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসির আবেগঘন মুহূর্ত। এরপর নেপথ্য ধারাভাষ্যকার ভিডিও শেষ করেন এভাবে, ‘আমাদের অধিনায়কের কান্না আমাদের আরেকবার শিখিয়ে দিয়েছে যে আপনি হারতে বা জিততে পারেন; কিন্তু যা-ই ঘটুক না কেন, কখনোই হাল ছাড়া যাবে না।’

    এএফএর এই বার্তার পাশাপাশি সরব হয়েছেন সংস্থাটির সভাপতি ক্লদিও তাপিয়াও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে তিনি ফাইনালের পর আর্জেন্টিনা দলকে ঘিরে ছড়ানো অভিযোগকে ‘নিকৃষ্ট প্রচারণা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

    তাপিয়ার অভিযোগ, ফাইনালের পর কিছু সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যক্তিত্ব এমনভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করেছিলেন, যেন আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়েরা ইচ্ছাকৃতভাবে ম্যাচ ছেড়ে দিয়েছিলেন। তার দাবি, মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনাল শেষ হওয়ার পর থেকেই দলটির বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা শুরু হয়।

    সবচেয়ে বেশি ক্ষুব্ধ তাপিয়া এ কারণে যে, ঘটনার এক মাস পেরিয়ে গেলেও যারা এসব অভিযোগ তুলেছিলেন, তাদের কেউ নিজেদের ভুল স্বীকার করেননি। তার ভাষায়, এখনো কেউ প্রকাশ্যে বলেনি, ‘আমরা ভুল ছিলাম।’

    তাপিয়া আরও বলেন, খেলোয়াড়েরা যখন মাঠে নিজেদের উজাড় করে দিচ্ছিলেন, তখন তাদের বিরুদ্ধে বাইরে থেকে ঘৃণা ও বিভাজন ছড়ানো হচ্ছিল। জাতীয় দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তার। এএফএ সভাপতি মনে করেন, এমন অভিযোগকে নীরবে মেনে নেওয়া উচিত নয়। সময়ের সঙ্গে বিষয়টি চাপা পড়ে যাবে, এমন অপেক্ষাও করতে রাজি নন তিনি। বিশেষ করে কোনো প্রমাণ ছাড়াই জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলার বিষয়টি মেনে নেওয়া যায় না বলে স্পষ্ট করেছেন তাপিয়া।

    তিনি সতর্ক করে বলেন, জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের ‘দেশদ্রোহী’ হিসেবে আখ্যা দেওয়ার মতো অভিযোগের পর বিষয়টি আর হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। যারা এমন অভিযোগ তুলেছেন, তাদেরই এখন নিজেদের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে হবে।

    সবশেষে কোচিং স্টাফ, সাপোর্ট স্টাফ ও খেলোয়াড়দের পাশে থাকার কথা জানিয়ে তাপিয়া বলেন, যারা মাঠে নিজেদের সবটুকু দিয়ে লড়েছেন, তাদের কোনো ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং ব্যাখ্যা দিতে হবে তাদের, যারা প্রমাণ ছাড়াই মিথ্যা অভিযোগ ছড়িয়েছেন।

  • ঐতিহাসিক জয়ের পর সুখবর পেলেন শান্ত-হাসানরা

    ঐতিহাসিক জয়ের পর সুখবর পেলেন শান্ত-হাসানরা

    প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জিতেছে বাংলাদেশ। ডারউইনে ৯ উইকেটে জয়ের পথে অজিদের পাত্তা না দিয়ে রীতিমতো দাপুটে ক্রিকেট খেলেছে সফরকারীরা। সেটার প্রভাব পড়েছে ব্যক্তিগত র‍্যাঙ্কিংয়ে। আইসিসি হালনাগাদকৃত সবশেষ র‍্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি করেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত, হাসান মাহমুদরা।

    মারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে সাড়ে তিন দিনই অস্ট্রেলিয়ার ওপর ছড়ি ঘুরিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে অতিথিদের বিধ্বংসী বোলিংয়ে ১৯৮ রানে গুটিয়ে যায় স্বাগতিকেরা। অস্ট্রেলিয়াকে হাতের নাগালে আটকে রাখতে বড় ভূমিকা রাখেন হাসান; ৫৫ রানে ৬ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের সফল বোলার তিনি।

    দ্বিতীয় ইনিংসেও সুবিধা করতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। এ যাত্রায় ২৮৪ রানে অলআউট হয় তারা। এই ইনিংসে হাসানের শিকার ৩ উইকেট। সবমিলে ৯ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন এই পেসার। ঐতিহাসিক এই জয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ায় এবার বোলারদের র‍্যাঙ্কিংয়েও বড় সুখবর পেলেন হাসান।

    ২৬ ধাপ উন্নতি করেছেন হাসান। ৫০৩ রেটিং নিয়ে ৩৮ নম্বরে আছেন তিনি। ৩ ধাপ এগিয়ে ৩৪-এ উঠে এসেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। এই অলরাউন্ডারের নামের পাশে শোভা পাচ্ছে ৬৫২ রেটিং। প্রথম ইনিংসে উইকেটশূন্য থাকার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৬ রানে ৫ উইকেট নেন মিরাজ। মূলত তাঁর স্পিন ঘূর্ণিতেই বাংলাদেশকে বড় লক্ষ্য দিতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। র‍্যাঙ্কিংয়ে সেটারই সুফল পেলেন মিরাজ।

    প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার করা ১৯৮ রানের জবাবে ৪২৬ রান তোলে বাংলাদেশ। সফরকারীদের এই বড় ইনিংসের ভীত গড়ে দেন তানজিদ হাসান তামিম। টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি করার পথে ১০১ রান এনে দেন এই ওপেনার। ব্যাটারদের র‍্যাঙ্কিংয়ে সবচেয়ে বেশি ৮৪ ধাপ এগিয়েছেন তিনি। বর্তমানে ৮৮ নম্বরে আছেন তানজিদ। সে ইনিংসে সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়েও ৮৪ রানে আউট হন শান্ত। ৯ ধাপ উন্নতি করে ২০তম স্থানে উঠে এসেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

    ডারউইন টেস্টের দুই ইনিংসে মুমিনুল হকের ব্যাট থেকে আসে ৪৯ ও ৩০* রান। ৫ ধাপ এগিয়েছেন সাবেক অধিনায়ক। বর্তমানে ৩১ নম্বরে আছেন তিনি। বোলিংয়ের পাশাপাশি ব্যাটিংয়েও উন্নতি করেছেন মিরাজ। দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৫ রানের মহাগুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলে ৫ ধাপ এগিয়ে ৫৯ নম্বরে আছেন তিনি। ৩ ধাপ উন্নতি করা সাদমান ইসলাম আছেন মিরাজের ওপরেই।

    অবনতি হয়েছেন লিটন দাসের। ৫ ধাপ পিছিয়ে ২৮ নম্বরে নেমে গেছেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার।

  • অস্ট্রেলিয়া দল থেকে কে বাদ পড়লেন, কে এলেন

    অস্ট্রেলিয়া দল থেকে কে বাদ পড়লেন, কে এলেন

    ম্যাকাইয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের জন্য অস্ট্রেলিয়ার স্কোয়াড থেকে বাদ পড়েছেন ওপেনার জেক ওয়েদারাল্ড। ম্যাট রেনশ ডাক পেয়েছেন তাঁর জায়গায়। ডারউইনে প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের কাছে ৯ উইকেটে হারে অস্ট্রেলিয়া। ম্যাকাইয়ে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের জন্য দলে এই একটি পরিবর্তনই এনেছে অস্ট্রেলিয়া।

    ডারউইন টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার দুই ইনিংসে ২৩ ও ০ রানে আউট হন ওয়েদারাল্ড। তখন থেকেই দলে তাঁর জায়গা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেকরা। গত মৌসুমে অ্যাশেজসহ ছয়টি ম্যাচ খেলে ২০.৩৮ গড়ে তাঁর সংগ্রহ ছিল ২২৪ রান। বাংলাদেশের বিপক্ষে ডারউইন টেস্টে তাঁর ব্যাটিং কৌশলে কিছুটা পরিবর্তন দেখা গিয়েছিল। কাউন্টি ক্রিকেটে খেলার সময় ব্যাটিং কৌশলে এ পরিবর্তন আনলেও বাংলাদেশের বিপক্ষে কোনো ইনিংসেই থিতু হতে পারেননি ওয়েদারাল্ড।

    ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার দুই লাইনের বিবৃতিতে ওয়েদারাল্ডের বাদ পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। সিরিজের আগে দুই টেস্টের জন্যই অস্ট্রেলিয়ার ১৩ জনের স্কোয়াড ঘোষণা করা হয়।

    জেক ওয়েদারাল্ড এএফপি

    ডারউইনে হারের পর দ্বিতীয় টেস্টের জন্য দল নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অস্ট্রেলিয়ার কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড ওয়েদারাল্ডের ব্যাটিং কৌশলে পরিবর্তনের বিষয়টি উল্লেখ করেন, ‘জেকের শরীরের অবস্থান ও নড়াচড়ার ধরনে কিছু পরিবর্তন এসেছে। ছোট পরিসরের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে সমালোচনা করা বা তা কতটা টেকসই হবে, সেটি বিচার করা সব সময়ই কঠিন।’

    বাংলাদেশের সিরিজের আগে, চলতি বছরের শুরুতে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় চুক্তির আওতায় আসেন ৩১ বছর বয়সী ওয়েদারাল্ড। এই সিরিজের আগে দুটি টেস্টই খেলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন এই ওপেনার, ‘দুটি ম্যাচ খেলার এবং রান করার ভালো সুযোগ সামনে, চার ইনিংসে সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। না পারলে ভাগ্য অন্যের হাতে তুলে দিতে হবে।’

    ম্যাট রেনশ এএফপি

    ২০২৩ সালের পর প্রথম টেস্ট খেলার অপেক্ষায় আছেন রেনশ। ব্রিসবেনে দলের সঙ্গে অনুশীলনের পর এ সিরিজের জন্য স্ট্যান্ডবাই হিসেবে ছিলেন। গত শেফিল্ড শিল্ড মৌসুমে তিনটি সেঞ্চুরিসহ তাঁর গড় ছিল ৪৯.৯০ এবং অস্ট্রেলিয়ার সীমিত ওভারের দলে সুযোগ পেয়ে প্রতিভার ছাপ রাখেন।

    টেস্টে ৩০ বছর বয়সী রেনশর ব্যাটিং গড় ২৯.৩১। এই সংস্করণে তাঁর সর্বোচ্চ স্কোর ১৮৪, পাকিস্তানের বিপক্ষে ২০১৭ সালে। চলতি সিরিজে দ্বিতীয় টেস্টের ভেন্যু ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দুটি সেঞ্চুরি আছে রেনশর।

    এ পরিবর্তনের ফলে ২০২৪ সালের শুরুতে ডেভিড ওয়ার্নার অবসর নেওয়ার পর মোট সাতজন ওপেনার ব্যবহার করল অস্ট্রেলিয়া। চলতি বছরের জানুয়ারিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছেড়ে দেওয়া উসমান খাজাকে বাইরে রেখে এ হিসাব করা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া দলে থিতু ছিলেন খাজা।

    দ্বিতীয় টেস্টে অস্ট্রেলিয়া স্কোয়াড
    ট্রাভিস হেড, ম্যাট রেনশ, মারনাস লাবুশেন, স্টিভেন স্মিথ, ক্যামেরন গ্রিন, অ্যালেক্স ক্যারি, বো ওয়েবস্টার, প্যাট কামিন্স (অধিনায়ক), মিচেল স্টার্ক, নাথান লায়ন, জশ হ্যাজলউড, জস ইংলিশ ও স্কট বোল্যান্ড।

    সর্বশেষ অ্যাশেজে সফল হওয়ায় ট্রাভিস হেড ওপেনারের ভূমিকায় খেলছেন। সেই সিরিজে পার্থ টেস্টে খাজার চোটের পর হেডকে ওপেনিংয়ে নামানো হয়। স্টিভেন স্মিথ, নাথান ম্যাকসুয়ানি, স্যাম কনস্টাস, মারনাস লাবুশেন ও ওয়েদারাল্ডকে ওপেনিংয়ে নামিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।

    আগামী শনিবার শুরু হবে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। দুই ম্যাচের সিরিজে ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে বাংলাদেশ।

  • ম্যাচ চলাকালে মাঠেই লুটিয়ে পড়লেন মুসিয়ালা

    ম্যাচ চলাকালে মাঠেই লুটিয়ে পড়লেন মুসিয়ালা

    আরবি লাইপজিগের বিপক্ষে এক প্রীতি ম্যাচে মাঠেই ঢলে পড়েন বায়ার্ন মিউনিখ ও জার্মানির আক্রমণভাগের খেলোয়াড় জামাল মুসিয়ালা। এতে দুশ্চিন্তায় পড়ে যান সবাই। তেইশ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার গোল করার কিছুক্ষণ পরই এই ঘটনা ঘটে। তবে বায়ার্ন জানিয়েছে, তাদের এই তারকা খেলোয়াড় এখন ভালো আছেন।

    বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামেন মুসিয়ালা। ম্যাচের ৮১ মিনিটে গোল করেন তিনি। এই ম্যাচে ৩-১ গোলে জয় পায় বায়ার্ন। ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় মুসিয়ালাকে নিয়ে উদ্বেগ কমানোর চেষ্টা করেন বায়ার্নের স্পোর্টিং ডিরেক্টর ম্যাক্স এবারল।

    এবারল বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সে ভালো আছে। এর বাইরে আর কিছু বলার নেই।’ তবে মুসিয়ালা কেন মাঠে ঢলে পড়েছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি ক্লাব কর্তৃপক্ষ।

    মাঠে নামার প্রায় পনেরো মিনিট পরই ঢলে পড়েন মুসিয়ালা। এরপর দুই দলের চিকিৎসক দলই তার শুশ্রূষায় এগিয়ে আসেন। পরে নিজে থেকেই উঠে দাঁড়ান তিনি এবং হেঁটে টানেলের দিকে চলে যান। তবে তাকে বেশ ভীত দেখাচ্ছিল। ম্যাচের ৮৮ মিনিটে তাকে তুলে নেওয়া হয় মাঠ থেকে।

    জার্মানির সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হঠাৎ মাথা ঘোরার কারণে এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। সেসময় মিউনিখের তাপমাত্রা ছিল ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে। তবে এই ঘটনার সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত করেনি বায়ার্ন। তার শারীরিক অবস্থার ওপর নজর রাখবে ক্লাবটি।

    এই ঘটনার সময় নিয়েই স্বাভাবিকভাবে নতুন করে আলোচনায় আসে মুসিয়ালার সাম্প্রতিক ইনজুরি সমস্যার কথা। গত গ্রীষ্মে প্যারিস সেন্ট জার্মেইনের বিপক্ষে ক্লাব বিশ্বকাপের ম্যাচে গুরুতর পায়ের চোট পান তিনি। এতে তার ফিবুলা হাড় ভেঙে যায়। এরপর বেশ কয়েক মাস মাঠের বাইরে থাকতে হয় তাকে।

    জানুয়ারিতে মাঠে ফেরেন মুসিয়ালা এবং এরপর থেকে নিজের সেরা ফর্মে ফেরার চেষ্টা করছেন তিনি। জার্মানির ২০২৬ বিশ্বকাপ দলেও ছিলেন তিনি। তার রিকভারি নিয়ে যেভাবে সতর্কতার সাথে পরিকল্পনা করা হচ্ছিল, তাতে এই সাম্প্রতিক ঘটনা সবাইকে বেশ চিন্তায় ফেলে দিয়েছে।

    ব্যক্তিগত পুনর্বাসন কর্মসূচি অনুসরণের পর সম্প্রতি দলগত অনুশীলনে ফেরেন তেইশ বছর বয়সী এই ফুটবলার। তার খেলার চাপ নিয়েও সতর্কতার সাথে পরিকল্পনা করছিল বায়ার্ন। পুরোপুরি ফিট হয়ে ওঠার জন্য গ্রীষ্মের ছুটিও কমিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।

    তবে আপাতত প্রাথমিক লক্ষণগুলো ইতিবাচক। বায়ার্ন আশা করছে, গরম বা মাথা ঘোরার কারণে সাময়িক এই প্রতিক্রিয়া হয়েছিল, এই মৌসুমে যাকে নিয়ে বড় প্রত্যাশা রয়েছে সেই খেলোয়াড়ের জন্য এটি নতুন কোনো ধাক্কা নয়।

  • টেস্ট বিশ্বকাপের ফাইনালের দৌড়ে বাংলাদেশ, বাদ পাকিস্তান

    টেস্ট বিশ্বকাপের ফাইনালের দৌড়ে বাংলাদেশ, বাদ পাকিস্তান

    বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার লড়াই থেকে ছিটকে গেছে পাকিস্তান আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আছে বাংলাদেশসহ ৭টি দল। তবে প্রত্যেকের সামনে আলাদা সমীকরণ।

    পয়েন্টের শতাংশ অনুযায়ী শীর্ষে থাকা দুটি দল টেস্ট বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলে। কার সামনে কী অঙ্ক তা দেখে নেওয়া যাক।

    ১) অস্ট্রেলিয়া (পয়েন্ট ৮৪, পয়েন্টের শতাংশ ৭৭.৭৮)

    সবচেয়ে ভাল জায়গায় রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। তাদের বাকি আর ন’টি ম্যাচ। তার মধ্যে পাঁচটি জিতলেই ফাইনালে ওঠার পাকা প্যাট কামিন্সদের।

    ২) দক্ষিণ আফ্রিকা (পয়েন্ট ৩৬, পয়েন্টের শতাংশ ৭৫.০০)

    দ্বিতীয় স্থানে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকারও বাকি রয়েছে ন’টি টেস্ট। তার মধ্যে ছ’টি জিততে হবে টেম্বা বাভুমাদের।

    ৩) নিউজিল্যান্ড (পয়েন্ট ৫২, পয়েন্টের শতাংশ ৭২.২২)

    প্রথম বার চ্যাম্পিয়ন নিউ জ়িল্যান্ডের সামনে রয়েছে আটটি ম্যাচ। তার মধ্যে পাঁচটি জিতলে আরও এক বার ফাইনালে উঠবে তারা।

    বাংলাদেশ (পয়েন্ট ৪০, পয়েন্টের শতাংশ ৬৬.৬৭)

    অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম টেস্টে হারিয়ে নিজেদের সুযোগ বাড়িয়েছে বাংলাদেশ। বাকি ন’টি টেস্টের মধ্যে সাতটি জিততে হবে তাদের।

    ৪) বাংলাদেশ (পয়েন্ট ৪০, পয়েন্টের শতাংশ ৬৬.৬৭)

    অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম টেস্টে হারিয়ে নিজেদের সুযোগ বাড়িয়েছে বাংলাদেশ। বাকি ন’টি টেস্টের মধ্যে সাতটি জিততে হবে তাদের।

    ৫) ভারত (পয়েন্ট ৫২, পয়েন্টের শতাংশ ৪৮.১৫)

    শুভমন গিলদের বাকি রয়েছে ন’টি টেস্ট। তাঁদেরও অন্তত সাতটি টেস্ট জিততে হবে। নইলে আরও এক বার ব্যর্থ হতে হবে ভারতকে।

    ৬) শ্রীলংকা (পয়েন্ট ২০, পয়েন্টের শতাংশ ৪১.৬৭)

    বাকি আটটি ম্যাচের মধ্যে পাঁচটি জিততে হবে তাদের। ড্র করতে হবে দু’টি। একটির বেশি টেস্ট হারলেই শ্রীলঙ্কার সুযোগ শেষ।

    ৭) ইংল্যান্ড (পয়েন্ট ৩৮, পয়েন্টের শতাংশ ২৪.৩৬)

    বাকি সব টেস্ট জিততে হবে ইংল্যান্ডকে। তবেই তাদের ফাইনাল খেলার সুযোগ থাকবে।

    এই সাত দেশের নিজেদের মধ্যে খেলা রয়েছে। ফলে এক দল জিতলে অপর দল হারবে। তাই পরিসংখ্যান প্রতি ম্যাচের পরেই বদলে যাবে।

  • এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়…

    এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়…

    সেই কবে ১৮৮২ সালের ওভালে গিয়ে প্রথমবার ব্রিটিশ সিংহকে খাঁচায় পুরেছিল অসিরা, আর বুক চাপড়ে দ্য স্পোর্টিং টাইমস লিখেছিল ইংরেজ ক্রিকেটের ‘মৃত্যুসংবাদ’। কল্পনায় সেই মৃতদেহ দাহ করে ছাই অস্ট্রেলিয়া নিয়ে গিয়েছে বলেও ব্যঙ্গ করেছিলেন সাংবাদিক রেজিনাল্ড শার্লি ব্রুকস। সেই থেকেই তো ছাই-ভস্মের সেই অ্যাশেজ সিরিজ। দেড় শতাব্দী পর ডারউইনের বাইশ গজে আজ কি তবে ক্যাঙারু-বধের পর অস্ট্রেলিয়ান মিডিয়াও নিজেদের ক্রিকেটের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া করবে?

    ডেভিড হুকস (ইনি সেই ভদ্রলোক, যিনি কিনা ২০০৩ সালে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ায় খেলতে গেলে সিডনি মর্নিং হেরাল্ডে লিখেছিলেন– এক দিনের টেস্টের জন্য সবাই প্রস্তুত হও) বেঁচে থাকলে আজ হয়তো ঠিক এই হাহাকারটাই করতেন। অথচ কী আশ্চর্য, মাররা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে কোনো শোরগোল হলো না, কোনো আগাম দামামা বাজল না; অথচ টেস্ট ক্রিকেটের দীর্ঘ মহাকাব্যে ঘটে গেল এক নিঃশব্দ রূপান্তর-পর্ব!

    কোনো সমঝদার বাংলাদেশি চাইলে ডারউইনের এই পুণ্যমাটি মুঠোভরে দেশে নিয়ে আসতেই পারেন। দলের সঙ্গে থাকা নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমনের কাছে সেই প্রত্যাশার কথা রাখতেই হাসিতে সম্মতি দিয়েছেন। এই শতাব্দীর পাকিস্তান যা পারেনি, আধুনিক ক্রিকেটের কোনো শ্রীলঙ্কান মায়াজাল যা করতে পারেনি, দীর্ঘ ২৩ বছর পর অসি মুলুকে ব্রাত্য ও উপেক্ষিত থাকার পর মাত্র এক সপ্তাহের আমন্ত্রণে এসে নাজমুল হোসেন শান্তর বাংলাদেশ সেটাই করে দেখাল! অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে অস্ট্রেলিয়াকেই টেস্টে হারাল। পরাশক্তির অহংকার চূর্ণ করে বাঘেদের এই জিগীষা দেখে আজ ডারউইনের গ্যালারি ছাড়িয়ে গোটা ক্রিকেটবিশ্ব থমকে দাঁড়িয়েছে।

    সুকান্তের সেই লাইনগুলো খুব মনে পড়ছে– ‘সাবাস বাংলাদেশ, এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়: জ্বলে-পুড়ে মর ছারখার, তবু মাথা নোয়াবার নয়।’ ডারউইনের সবুজগালিচায় আজ লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা যেন সেই অবিনাশী স্পর্ধার এক মহিমান্বিত উপাখ্যানই লিখে গেল!

    কোথায় টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ের মগজে বসে থাকা ক্রিকেটের এক নম্বর রাজাধিরাজ অস্ট্রেলিয়া, আর কোথায় তলানির নবমতম স্থানে ধুঁকতে থাকা এক লড়াকু বাংলাদেশ! বোদ্ধাদের ক্রিকেটীয় খেরোখাতায় এই ম্যাচের ফলাফল তো টসের আগেই একতরফা লিখে রাখা হয়েছিল। অসম, অসমঞ্জস্য এবং অসমাপ্ত এক দ্বৈরথ। হয়েছেও অবশ্য তাই– অসম লড়াইয়েই জিতেছে বাংলাদেশ, প্রথমে অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে গুটিয়ে দিয়ে; অসমঞ্জস্যও হয়েছে– সেখানে তানজিদ তামিমের সেঞ্চুরি আর মেহেদী হাসান মিরাজের ৬৫ রানের ইনিংসে ভর দিয়ে চার শতাধিক(৪২৬) রান তুলেছে বাংলাদেশ। এবং শেষ পর্যন্ত সাড়ে তিন দিনের অসমাপ্ত এক দ্বৈরথ– অস্ট্রেলিয়াকে দ্বিতীয় ইনিংসেও ২৮৪ রানে গুটিয়ে দিয়েছে হাসান মাহমুদ-মেহেদী হাসানরা। যদিও এই জয়টিকে কেউ কেউ ‘আপসেট’ বলছেন। কিন্তু যেভাবে পুরো টেস্টের এগারো সেশনে পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলেছেন শান্তরা, তাতে আপসেট বলাটা অসম্মানের মতোই।

    টেস্টটি শুরু হওয়ার আগেও অসি মিডিয়া দুদিন, না তিন দিনে তা শেষ হবে– প্যাট কামিন্সের কাছে জানতে চেয়েছিল। অতিথিদের নিয়ে একটা অবজ্ঞা ছিল তাদের মধ্যে। সেই জেদেই কিনা ট্রাভিস হেড-স্টিভ স্মিথদের অস্ট্রেলিয়াকেই কিনা সাড়ে তিন দিনে স্রেফ মুড়ি-মুড়কির মতো শাসন করল শান্তর বাংলাদেশ! হাসান মাহমুদের সেই সুইং আর মিরাজের ঘূর্ণিজালে যখন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল ক্যাঙারুদের দর্প, ডারউইনের আকাশ-বাতাস তখন সাক্ষী থাকল এক নতুন মহাজাগরণের। কোনো অলৌকিক মোজেজা বা ফ্লুক নয়; সাড়ে তিন দিন ধরে ক্রিকেটের কুলীন রাজাদের এভাবে ব্যাকফুটে ঠেলে দেওয়া– তা তো আসলে বাঘেদের এক পঞ্জরীভূত লড়াকু মানসিকতা এবং ক্রিকেট ইতিহাসের তীব্রতম এক বৈপ্লবিক বিবর্তনের নাম! তা ছাড়া এটি অস্ট্রেলিয়ার ‘এ’, ‘বি’ কিংবা ‘সি’ দল খেলেছে বলেও জয়ের মাহাত্ম্য হালকা করা যাবে না। ট্রাভিস হেড, লাবুশেন, স্মিথ, গ্রিন, ক্যারি, কামিন্স, স্টার্ক, হ্যাজেলউড, লায়ন– রীতিমতো অস্ট্রেলিয়ার অ্যাশেজ জয়ী দল এটা।

    ম্যাচের মাঝে অসি পেসার হ্যাজেলউড অসহায়ের মতো স্বিকারক্তি দিয়েছিলেন এই বলে যে বাংলাদেশের এই দলের অনেক ক্রিকেটারের ভিডিও তাদের কাছে ছিল না। তারা অনেকটা অচেনা ছিল ! টেস্টের এক নম্বর দলের কেউ যখন এই কথা বলে তখন তার পেশাদারিত্ব নিয়েই প্রশ্ন তোলা যায়। নয়তো তারা যে বাংলাদেশকে নিয়ে উদাসীন ছিলেন সেটা বোঝা যায়। তাদের নতুন মৌসুমের প্রথম ম্যাচ ছিল এটি। অথচ তারা ডারউইনে এসেই ছিল দুই দিন আগে। ব্রিজবেনে দলের কেউ কেউ একসঙ্গে হলেও ক্যাম্পটি বেশি দিনের ছিল না। হয়ত তারা বাংলাদেশের নাম ভেবেই ধরে নিয়েছিল অত পড়ালেখার দরকার নেই। এমনও হতে পারে তারা পড়ে এসেছিল মুশফিক, তাসকিনদের মতো ক্রিকেটারদের, কিন্তু টেস্টের পরীক্ষায় এসেগেছে হাসান মাহমুদ, তানজিদ তামিম, মেহেদী হাসান মিরাজরা। যারা কিনা প্রায় দুই বছর ধরে এই সিরিজের জন্যই মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলেন। হাসান মাহমুদ ইংল্যান্ডের কেন্টে গিয়ে ট্রায়াল দিয়ে তাদের দলে জায়গা করে নিয়েছিলেন। কাউন্ট খেলার সেই অভিজ্ঞতাটা তিনি কাজে লাগিয়েছেন এই ম্যাচে।

    ১৯৯৭ সালের কুয়াশাচ্ছন্ন কুয়ালালামপুরে আইসিসি ট্রফি জিতে বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নেওয়ার সেই যে বাঁধভাঙা কান্না, কিংবা ২০০৭-এর ত্রিনিদাদে তারুণ্যের ঔদ্ধত্যে পরাক্রমশালী ভারতকে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দেওয়ার সেই অবিশ্বাস্য কীর্তি—বাঙালির আবেগের মণিকোঠায় এদের স্থান চিরন্তন। এর ঠিক দুই বছর পর, ২০০৯ সালে খোদ ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে গিয়ে উইন্ডিজদের হোয়াইটওয়াশ করার সেই মহাকাব্য, কিংবা ঘরের মাঠে ক্রিকেটের জনক ইংল্যান্ডের অহংকার গুঁড়িয়ে দেওয়ার সেই রোমাঞ্চকর টেস্ট জয়—সময়ের নিক্তিতে মেপে দেখুন, সেগুলোর কোনটির মূল্য কিন্তু এক রত্তি কম নয়! প্রতিটি জয়ই ছিল তৎকালীন প্রেক্ষাপটে, তখনকার চড়াই-উতরাইয়ের বাস্তবতায় আমাদের ক্রিকেট ইতিহাসের একেকটি ‘সেরা’ বিজ্ঞাপন।

    মাউন্ট মঙ্গানুইয়ের ২০২২ সালে সেই বিখ্যাত টেস্ট জয় কিংবা ২০২৪ রাওয়ালপিন্ডির বুক চিরে ইতিহাস ছিনিয়ে আনা—সবকিছুকে এক লহমায় ম্লান করে দিল ডারউইনের এই ৯ উইকেটের জয়। একে স্রেফ একটা ক্রিকেট ম্যাচ জেতা বললে ক্রিকেটের ব্যাকরণকে অপমান করা হয়; এটি আসলে বাইশ গজের এক নিঃশব্দ, নির্মম সাম্রাজ্য-খর্বতার উপাখ্যান! দীর্ঘ তেইশ বছর ধরে যে ক্রিকেটীয় অস্পৃশ্যতার দেয়াল তুলে লাল-সবুজকে নিজেদের আঙিনায় ঢুকতে দেয়নি অজিরা, সিডনি–মেলবোর্নের মতো স্টেডিয়ামে আমন্ত্রন না জানিয়ে ডারউইনের মতো পার্কে খেলতে ডাকার মতো অবজ্ঞাকে পায়ে মারিয়ে এই জয় ছিনিয়ে নিয়েছে শান্তরা।

    ডারউইনের এই মহাকাব্যিক বিজয়ের পর বিশ্ব ক্রিকেটের মানচিত্রে বাংলাদেশের দিকে তাকানোর দৃষ্টিভঙ্গিটাই চিরতরে বদলে গেল; এখন থেকে লাল-সবুজের এই দলটিকে সবাই সমীহ আর পরম সম্মানের চোখে দেখবে। এতকাল যারা বাংলাদেশকে কেবলই ‘কন্ডিশনের সুবিধা নেওয়া’ হোম-টিম কিংবা অঘটন ঘটানো কোনো ক্ষণস্থায়ী দল হিসেবে ভাবত, তাদের সেই পুরনো চশমাটা আজ ভেঙে চুরমার। বিশ্ব ক্রিকেটের কুলীন প্রধানদের ডেরায় গিয়ে, তাদেরই পাতা ফাঁদে তাদের ধুলিসাৎ করে শান্তর দল প্রমাণ করল—বাংলাদেশ এখন আর কোনো ব্রাত্য বা করুণাপ্রার্থী দল নয়, বরং বাইশ গজের এক নতুন পরাশক্তি। ডারউইনের সবুজ গালিচায় আজ যে সম্মানের রাজমুকুট বাঘেরা মাথায় পরল, তা ক্রিকেট বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশকে এনে দিল এক পরম স্বীকৃতি ও চিরস্থায়ী কৌলিন্য।

  • ‘তোমরা আমাদের অবাক করে দিয়েছ’, মিরাজকে গিলক্রিস্ট

    ‘তোমরা আমাদের অবাক করে দিয়েছ’, মিরাজকে গিলক্রিস্ট

    ঐতিহাসিক জয়ের পর অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটারদের কাছ থেকে প্রশংসা পাচ্ছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে কিংবদন্তি অ্যাডাম গিলক্রিস্টের প্রশংসা আলাদাভাবে উল্লেখ করেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

    মিরাজ বলেন, ‘যেটা আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে, এখানে সব কিংবদন্তি খেলোয়াড়কে দেখেছি। আজ আমি পাঁচ উইকেট নেওয়ার পর অ্যাডাম গিলক্রিস্ট আমার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন, বিষয়টি আমার খুব ভালো লেগেছে।’

    গিলক্রিস্ট বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে বিস্ময় প্রকাশ করে প্রশংসা করেছেন বলেও জানান মিরাজ। ‘তিনি আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং বলেছেন, বাংলাদেশ খুব ভালো ক্রিকেট খেলেছে।’

    গিলক্রিস্ট বলেন, ‘তোমরা আমাদের অবাক করে দিয়েছ। আমরা কখনো ভাবিনি তোমরা এভাবে ক্রিকেট খেলতে পারো।’

    মিরাজের মত গিলক্রিস্টের এমন মন্তব্য বাংলাদেশের জন্য বিশেষ। ‘এমন একজন কিংবদন্তি যখন আমাদের দল সম্পর্কে এত ভালো কথা বলেন, তখন নিজের কাছেও খুব ভালো লাগে।’

  • ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ে টাইগারদের প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

    ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ে টাইগারদের প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

    অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাদেরই মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট ম্যাচ জয়ের ঐতিহাসিক সাফল্যে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    আজ রোববার ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্টে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে স্মরণীয় এই জয় তুলে নেয় টাইগাররা। দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমেই এই সাফল্য অর্জন করল বাংলাদেশ।

    টাইগার দল যখন এই ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করে, তখন কিশোরগঞ্জের পথে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেন এবং ঐতিহাসিক জয়ের জন্য তাদের অভিনন্দন জানান।এ সময় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের মানুষের পক্ষ থেকেও দলের খেলোয়াড়দের শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন।

    তারেক রহমান বলেন, অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে তাদের মাটিতে বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক জয় দেশের ক্রিকেটের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। দলের খেলোয়াড়দের দৃঢ় মনোবল, আত্মবিশ্বাস, দক্ষতা ও দলগত প্রচেষ্টার ফলেই এই অসাধারণ সাফল্য অর্জিত হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, পরের টেস্টেও বাংলাদেশ ভালো খেলবে এবং সিরিজ জয়ের এই সম্ভাবনাকে সাফল্যে রূপ দেবে।

    উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৭ সালে মিরপুরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একটি টেস্ট ম্যাচে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। এবার টেস্ট র‍্যাংকিংয়ের এক নম্বর দল অস্ট্রেলিয়াকে তাদেরই মাটিতে হারিয়ে নতুন ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ।

  • অস্ট্রেলিয়ায় দ্রুততম টেস্ট জয়ী দ্বিতীয় দল এখন বাংলাদেশ

    অস্ট্রেলিয়ায় দ্রুততম টেস্ট জয়ী দ্বিতীয় দল এখন বাংলাদেশ

    অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জিতে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন দলটি ডারউইনের মারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে চলমান দুই ম্যাচের সিরিজের প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে।

    প্রথম ইনিংসে ২২৮ রানের বিশাল লিড নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে ২৮৪ রানে গুটিয়ে দেয় বাংলাদেশ। ফলে জয়ের জন্য মাত্র ৫৭ রানের লক্ষ্য পায় সফরকারীরা। প্রথম ইনিংসে শতক করা তানজিদ হাসান তামিম মাত্র পাঁচ বল খেলে শূন্য রানে ফিরে গেলেও কোনো বিপদ হয়নি। মাত্র ১৪ দশমিক ২ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।

    এই ঐতিহাসিক জয়ের ফলে গত ৩০ বছরে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জেতা এশিয়ার মাত্র দ্বিতীয় দল হলো বাংলাদেশ। এর আগে এই সময়ে কেবল ভারতই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জিতেছিল। পাকিস্তানের সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়া জয় এসেছিল ১৯৯৫ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরে।

    অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট জিততে পাকিস্তানকে সপ্তম প্রচেষ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল। ভারতকে অপেক্ষা করতে হয়েছিল নিজেদের ১২তম টেস্ট পর্যন্ত। সেখানে বাংলাদেশ মাত্র তৃতীয় টেস্টেই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে জয়ের কীর্তি গড়েছে।

    অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট জিততে বাংলাদেশের চেয়ে কম ম্যাচ লেগেছে কেবল ইংল্যান্ডের।

    ডারউইনে রোববারের স্মরণীয় জয়ের আগে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে মাত্র দুটি টেস্ট খেলেছিল বাংলাদেশ। দুটি ম্যাচই হয়েছিল ২০০৩ সালের জুলাইয়ে। দুটিতেই ইনিংস ব্যবধানে জয় পেয়েছিল অস্ট্রেলিয়া।

    অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট জিততে যে কয়টি ম্যাচ লেগেছে…

    ইংল্যান্ড — ২ ম্যাচ, ১৮৭৭ সালে ৪ উইকেটে জয়

    বাংলাদেশ — ৩ ম্যাচ, ২০২৬ সালে ৯ উইকেটে জয়

    দক্ষিণ আফ্রিকা — ৩ ম্যাচ, ১৯১১ সালে ৩৮ রানে জয়

    ওয়েস্ট ইন্ডিজ — ৫ ম্যাচ, ১৯৩১ সালে ৩০ রানে জয়

    পাকিস্তান — ৭ ম্যাচ, ১৯৭৭ সালে ৮ উইকেটে জয়

    নিউজিল্যান্ড — ৭ ম্যাচ, ১৯৮৫ সালে ইনিংস ও ৪১ রানে জয়

    ভারত — ১২ ম্যাচ, ১৯৭৭-৭৮ সালে ২২২ রানে জয়

    শ্রীলঙ্কা — এখনো জিততে পারেনি

    জিম্বাবুয়ে — এখনো জিততে পারেনি

    বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ে বড় অবদান রেখেছেন পেসার হাসান মাহমুদ। প্রথম ইনিংসে তিনি ৬ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি দ্বিতীয় ইনিংসেও অস্ট্রেলিয়ার তিন ব্যাটারকে সাজঘরে ফেরান।

    অন্যদিকে দ্বিতীয় ইনিংসে স্পিন অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ ৬৬ রানে ৫ উইকেট নিয়ে দুর্দান্ত বোলিং করেন।

    তবে পাঁচ উইকেট নেওয়ার আগে ব্যাট হাতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন মেহেদী। সাত নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ১৫৪ বলে ৬৫ রান করেন তিনি। এর আগে তানজিদ হাসান তামিম ১৯৭ বলে ১০১ এবং অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ১২৬ বলে ৮৪ রান করেন।

  • অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেষ্ট জয়

    অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেষ্ট জয়

    ২৩ বছরের পুরোনো গল্পটা এবার বদলে দিল বাংলাদেশ। যে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এতদিন জয় বা ড্র ছিল অধরা, সেই অস্ট্রেলিয়াকেই ডারউইনে হারিয়ে ইতিহাস লিখল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এটাই বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়। শুধু একটি ম্যাচের জয় নয়, বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। পুরো ক্রিকেট বিশ্বের জন্য বাংলাদেশের পরিস্কার এবং শক্তিশালী একটা বার্তা।

    ম্যাচের তৃতীয় দিনেই জয়ের ভিতটা শক্ত করে ফেলেছিল বাংলাদেশ। চতুর্থ দিন লাঞ্চের পর শুধু শেষ পেরেকটা ঠোকার অপেক্ষা। শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়াকে দ্বিতীয় ইনিংসে ২৮৪ রানে অলআউট করে জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে দাঁড়ায় মাত্র ৫৭ রানের লক্ষ্য। ছোট্ট সেই পথ পেরোতে অবশ্য শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান তানজিদ হাসান তামিম ফিরেছেন শূন্য রানে।

    তাতে অবশ্য জয়ের পথে কোনো বাধা তৈরি হয়নি। সাদমান ইসলামকে পাশে নিয়ে মুমিনুল হক ঠান্ডা মাথায় বাকি কাজটা শেষ করেন। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ ৯ উইকেটে। মুমিনুলের ব্যাটে জয়সূচক রান আসার সঙ্গে সঙ্গে ডাগআউট পুরো বাংলাদেশ দল আনন্দ উদযাপনে আত্মহারা। মারারা স্টেডিয়ামের গ্যালারির এক কোণে প্রবাসীরা তখন গলা ফাটাচ্ছেন বাংলাদেশ বাংলাদেশ ধ্বনিতে।

    এই জয়ের নায়ক বাংলাদেশের বোলাররা। দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ৬৬ রানে ৫ উইকেট নিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, চতুর্থ ইনিংসে চাপের মুখে স্পিন কতটা ভয়ংকর হতে পারে। হাসান মাহমুদ নিয়েছেন ৩ উইকেট। পুরো ম্যাচে তার শিকার ৯ উইকেট। দুই ইনিংসেই অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের পরীক্ষা নিয়েছেন বাংলাদেশের বোলাররা।

    অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যামেরন গ্রিনের সেঞ্চুরি তাদের ইনিংস পরাজয়ের লজ্জা থেকে বাঁচিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো বড় পুঁজি এনে দিতে পারেনি। ২৮৪ রানেই থেমে যায় অস্ট্রেলিয়ার লড়াই।

    সিরিজ শুরুর আগে অস্ট্রেলিয়াই ছিল পরিষ্কার ফেভারিট। টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর দল তারা। বাংলাদেশ সেখানে নয় নম্বরে। র‌্যাঙ্কিংয়ের সেই বিশাল ব্যবধানকে মাঠে মুছে দিল শান্তর দল। ডারউইনের চারদিনে বারবার মনে হয়েছে, র‌্যাঙ্কিং নয়, ক্রিকেটটা খেলছে বাংলাদেশই।

    প্রথম দিন প্রথম বল থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখেছিল বাংলাদেশ। ব্যাটে, বলে, ফিল্ডিংয়ে অস্ট্রেলিয়াকে এক মুহূর্তের জন্যও স্বস্তি দেয়নি তারা। অথচ সিরিজ শুরুর আগে শান্ত বলেছিলেন, ম্যাচটাকে পঞ্চম ও শেষ দিন পর্যন্ত নিয়ে যেতে চান। বাস্তবতা ছিল একেবারেই ভিন্ন। অস্ট্রেলিয়াই পঞ্চম দিনে যেতে পারল না!

    ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটে ফিরেছিল বাংলাদেশ। সেই ফেরা যে ইতিহাস হয়ে যাবে, হয়তো কেউ ভাবেনি। কিন্তু ডারউইনে বাংলাদেশ শুধু একটি টেস্ট জেতেনি। তারা বদলে দিয়েছে নিজেদের গল্পও।

    এবার সেই গল্পে লেখা থাকবে, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেও বাংলাদেশ পারে।

    দুই ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশ এখন এগিয়ে ১-০ ব্যবধানে। সামনে আরও একটি টেস্ট। ইতিহাসের দরজা একবার খুলেছে। এবার সেটি আরও বড় করে খোলার পালা।

    সংক্ষিপ্ত স্কোর

    অস্ট্রেলিয়া: ১৯৮ ও ২৮৪ (গ্রিন ১০৪, স্মিথ ৪৪, লাবুশেন ৩১, ক্যারি ৩০, স্টার্ক ১৮, লায়ন ১৫; মিরাজ ৫/৬৬, হাসান ৩/৫৬, তাসকিন ১/৬৬, তাইজুল ১/৫১, ইবাদত ০/৩৮)

    বাংলাদেশ: ৪২৬ ও ১/৫৭ (মুমিনুল ৩০, সাদমান ২৫, তানজিদ ০; হ্যাজলউড ১/৫, স্টার্ক ০/১৫, লায়ন ০/২৩)।

    ফল: বাংলাদেশ ৯ উইকেটে জয়ী।

    ম্যাচ অব দ্য ম্যাচ: হাসান মাহমুদ।

  • টানা দ্বিতীয়বার স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে গেলেন না রাহুল

    টানা দ্বিতীয়বার স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে গেলেন না রাহুল

    ভারতে এবার নিয়ে টানা দু’বছর লালকেল্লার স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে গেলেন না কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খারগে এবং বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী।

    গত ২০২৪ সালেও রাহুলের বসার জায়গা নিয়ে বড় বিতর্ক হয়েছিল। বিরোধী দলনেতা হিসেবে তার সামনের সারিতে বসার কথা থাকলেও, তাকে পিছনের দিকে বসতে দেওয়া হয়েছিল। কংগ্রেস একে সরাসরি ‘অপমান’ বলেছিল। যদিও সরকারের দাবি ছিল, অলিম্পিক খেলোয়াড়দের সম্মান জানাতে ও জায়গা দিতেই এমনটা করা হয়েছিল। এই বছরও তাদের না যাওয়াকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলেছেন বিজেপি নেতা গিরিরাজ সিং।

    বর্তমানে সরকার ও বিরোধীদের সম্পর্ক খুব একটা ভালো যাচ্ছে না। সদ্য শেষ হওয়া সংসদের বাদল অধিবেশনেও এর প্রভাব দেখা গেছে। ওই অধিবেশনে দু’পক্ষের ঝামেলায় তেমন কোনো কাজই হয়নি। শুধু ‘প্রশ্নপত্র ফাঁস বিরোধী’ আইন নিয়েই ঠিকমতো আলোচনা হয়েছে।

    এমনকী, অধিবেশন শেষ হওয়ার পর স্পিকার ওম বিড়লার ডাকা প্রথাগত চা-চক্রও বয়কট করে কংগ্রেস, তৃণমূল এবং সমাজবাদী পার্টি।

  • লা লিগা মাঠে গড়াচ্ছে আজ

    লা লিগা মাঠে গড়াচ্ছে আজ

    ক্লাব ফুটবলের অন্যতম আকর্ষণীয় আসর ‘লা লিগা’ মাঠে গড়াচ্ছে আজ। বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১১টায় দেপোর্টিভো আলভেস-গেতাফে ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে দীর্ঘ এ লড়াই। তবে প্রথম সপ্তাহে লা লিগার দুই জায়ান্টের কোনো ম্যাচ নেই। ২৪ আগস্ট রাত দেড়টায় এলচের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে হ্যাটট্রিক শিরোপা মিশন শুরু করবে বার্সেলোনা। তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ লিগ শুরু করবে ২৩ আগস্ট রাত দেড়টায় এস্পানিওলের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। তৃতীয় শক্তি হিসেবে খ্যাত অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ নামবে ২০ আগস্ট রাত ১টায় মালাগার বিপক্ষে।

    ২৪ আগস্ট রাত দেড়টায় এলচের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে হ্যাটট্রিক শিরোপা মিশন শুরু করবে বার্সেলোনা। তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ লিগ শুরু করবে ২৩ আগস্ট রাত দেড়টায় এস্পানিওলের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। তৃতীয় শক্তি হিসেবে খ্যাত অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ নামবে ২০ আগস্ট রাত ১টায় মালাগার বিপক্ষে।

    রিয়াল-বার্সার ম্যাচ এত দেরিতে শুরু হওয়ার কারণ, এ দুই দলের অধিকাংশ খেলোয়াড় বিশ্বকাপ খেলে ক্লান্ত। তাদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম দিতেই সপ্তাহখানেক দেরিতে ফেলা হয়েছে দুই জায়ান্টের ম্যাচ। এর মধ্যে বার্সার জার্মান কোচ হ্যান্সি ফ্লিক অন্য রকম একটি চ্যালেঞ্জ নিয়ে মাঠে নামছেন। একবিংশ শতাব্দীতে বার্সেলোনার চারজন কোচ তাদের প্রথম দুই মৌসুমেই টানা লা লিগে জিতেছেন। তাদের মধ্যে কেবল পেপ গার্দিওলাই লা লিগার হ্যাটট্রিক শিরোপা জিততে পেরেছিলেন। হ্যান্সি ফ্লিক কি পারবেন তাঁকে স্পর্শ করতে? তাঁর জন্য কাজটা ভীষণ কঠিন হতে চলেছে। কারণ সেন্টার ফরোয়ার্ড ছাড়াই লিগ শুরু করতে হচ্ছে বার্সাকে।

    আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার জুলিয়ান আলভারেজের সঙ্গে অনেক আগে থেকেই কথা পাকা করে রেখেছিল বার্সা। কিন্তু অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ বেঁকে বসায় আলভারেজের বার্সায় আসা হচ্ছে না। এরই মধ্যে বর্ষীয়ান ফরোয়ার্ড রবাট লেভানডস্কিকে ছেড়ে দিয়েছে, বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করা ফেরান তোরেসও পিএসজিতে চলে গেছেন। তাদের অভাব পূরণে বার্সা এখন কোনো সেন্টার ফরোয়ার্ড পাচ্ছে না। হ্যান্সি ফ্লিক ও স্পোর্টিং ডিরেক্টর ডেকো এখন হন্যে হয়ে সেন্টার ফরোয়ার্ড খুঁজছেন। শেষ পর্যন্ত তারা স্পোর্টিং লিসবন থেকে কলম্বিয়ান ফরোয়ার্ড লুইস সুয়ারেজকে আনার চেষ্টা করছেন। বিশ্বকাপে গোল্ডেন বল জেতা রদ্রির ট্রান্সফার নিয়েও ম্যানসিটির সঙ্গে দর কষাকষি চলেছে। এর পরও লামিনে ইয়ামাল, রাফিনহা, পেদ্রি, গাভি, দানি ওলমো, কুবার্সিরা রয়েছেন। বরুশিয়া ডর্টমুন্ড থেকে তরুণ জার্মান ফরোয়ার্ড করিম আদিয়েমিকে টেনেছে তারা।

    বার্সার এই হ্যাটট্রিক শিরোপা ছিনিয়ে নিতে ১৩ বছর পর আবার হোসে মরিনহোকে কোচের দায়িত্ব দিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। দলবদলের বাজারেও ভীষণ সক্রিয় তারা। মরিনহোর চাওয়া মতো এরই মধ্যে চেলসি থেকে বিশ্বকাপজয়ী লেফট-ব্যাক মার্ক কুকুরেয়া, লিভারপুল থেকে ফরাসি সেন্টার ব্যাক ইব্রাহিম কোনাতে, ম্যানসিটি থেকে পর্তুগিজ মিডফিল্ডার বার্নার্দো সিলভা, ইন্টার মিলান থেকে রাইট-ব্যাক ডেনজেল ডামফ্রিসকে দলে ভিড়িয়েছে তারা। লাইপজিগ থেকে রেকর্ড ১৪০ মিলিয়ন ইউরো ট্রান্সফার ফি দলে টেনেছে তরুণ আইভরিয়ান প্রতিভা ইয়ান দিয়ামান্দেকে।

    আর সবচেয়ে বড় বিষয় হলো কিলিয়ান এমবাপ্পে-ভিনিসিয়ুস জুনিয়র জুটি ভাঙতে দেননি মরিনহো। ভিনির নতুন চুক্তি নিয়ে তৈরি হওয়া অচলাবস্থা দূর করায় নতুন উদ্যমে মাঠে নামবেন তারা।

    আর সবচেয়ে বড় বিষয় হলো কিলিয়ান এমবাপ্পে-ভিনিসিয়ুস জুনিয়র জুটি ভাঙতে দেননি মরিনহো। ভিনির নতুন চুক্তি নিয়ে তৈরি হওয়া অচলাবস্থা দূর করায় নতুন উদ্যমে মাঠে নামবেন তারা। টানা দুই বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জেতা এমবাপ্পে যে রিয়ালের তারকাপুঞ্জে সবচেয়ে বড় তারা, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। ভিনিও কম যান না, নতুন চুক্তিই প্রমাণ করে রিয়ালের কাছে ব্রাজিলিয়ান এ তারকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। ইংল্যান্ডের জার্সিতে গত বিশ্বকাপে ৭ গোল করা জুড বেলিংহামও কম যান না। এই ত্রয়ীর ওপরই নির্ভর করছে রিয়ালের শিরোপা উদ্ধার মিশন।

  • পরাজয়ের শঙ্কায় অস্ট্রেলিয়া, ডারউইন টেস্ট কি বাংলাদেশের হতে চলেছে

    পরাজয়ের শঙ্কায় অস্ট্রেলিয়া, ডারউইন টেস্ট কি বাংলাদেশের হতে চলেছে

    ম্যাচটা চতুর্থ দিনে যাবে কি না সংশয় হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত গিয়েছে। তবে পঞ্চম দিনে যাওয়ার সম্ভাবনা যে খুবই কম, আজ এই বিশ্বাস নিয়েই ঘরে ফিরে গেছেন ডারউইনের দর্শকেরা।

    ‘বিশ্বাস’ বলাটা কি ঠিক হলো! অস্ট্রেলিয়ানরা তো নিশ্চিতভাবেই চাইবে টেস্টটা শেষ দিনে যাক। তাহলেই তাদের মানসম্মান কিছুটা বাঁচার সম্ভাবনা থাকবে। চতুর্থ দিনে শেষ হওয়ার যে সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে, সেটা তো আসলে বাংলাদেশের পক্ষে! কাল টেস্ট শেষ হওয়া মানে তো বাংলাদেশেরই জয় আসলে।

    ভাবতে একটু অন্য রকমই লাগছে যে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে একটি টেস্ট যেন চতুর্থ দিনে শেষ হয়ে যায়, সেই পালে হাওয়া দেওয়া দলটির নাম বাংলাদেশ! আর স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া মনেপ্রাণে চাইছে যেন তা না হয়। কাল তাদের দ্বিতীয় ইনিংসটা যেন এতটাই লম্বা হয় যে শেষ দিনেও অন্তত লড়াইটা করা যায়।

    টেস্টের আয়ু নিয়ে এই আলোচনার কারণটা ডারউইন টেস্টে স্কোরকার্ডের দিকে তাকালেই পরিষ্কার হবে। আজ তৃতীয় দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ উইকেটে ১৬১ রান করে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশের চেয়ে এখনো পিছিয়ে ৬৭ রানে। এর আগে টেলএন্ডারদের দৃঢ়তায় ২২৮ রানের লিড নিয়ে লাঞ্চের পরপর বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস শেষ হয় ৪২৬ রানে। টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান। ২০০৬ সালে ফতুল্লা টেস্টের প্রথম ইনিংসে করা ৪২৭–ই এখনো সর্বোচ্চ।

    সকালের সেশনে টেল এন্ডারদের নিয়ে দারুণ ব্যাট করেন মিরাজ

    বাংলাদেশের লিড ২০৬ অতিক্রম করার পর থেকেই ইতিহাসের পাতা চোখ রাঙাতে শুরু করেছে অস্ট্রেলিয়াকে। নিজেদের টেস্ট ইতিহাসেই যে কখনো ঘরের মাঠে প্রথম ইনিংসে ২০৬ রানের বেশি পিছিয়ে থাকা ম্যাচে জেতেনি তারা! অর্থাৎ ডারউইনে জিততে ঘরের মাঠে প্রথম ইনিংসে সবচেয়ে বেশি রানে পিছিয়ে থাকার ঘাটতি কাটিয়ে ওঠার রেকর্ড গড়তে হবে তাদের।

    কিন্তু তৃতীয় দিনে শেষ সেশনে ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়া যেভাবে উইকেট হারাতে শুরু করল, তাতে রেকর্ডটা নতুন করে লিখতে একটু কষ্টই হওয়ার কথা তাদের। প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়া হাসান মাহমুদ এবারও কাঁপিয়ে দিয়েছেন স্বাগতিকদের শুরুটা। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে বোল্ড করেছেন ওপেনার জেক ওয়েদারাল্ডকে এবং ট্রাভিস হেডকে ১১তম ওভারে। হাসানকে কাট করতে গিয়েছিলেন হেড। কিন্তু শরীরের কাছাকাছি থাকা বলটা ব্যাটে লেগে ভেঙে দেয় স্টাম্প।

    ৩৭ রানে ২ উইকেট হারানো অস্ট্রেলিয়ার ভরসা তখন মারনাস লাবুশেন আর স্টিভেন স্মিথের তৃতীয় উইকেট জুটি। ৩৬ রানের জুটিতে দুজনই মোটামুটি থিতু হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু ২০তম ওভারের শেষ বলে তাইজুল ইসলাম ৫৯ বলে ৩১ রান করা লাবুশেনেকে বোল্ড করে দিলে আরেকবার কেঁপে ওঠে স্বাগতিকেরা। স্মিথ ফিরেছেন আরেকটু এগিয়ে, ৪৪ রান করে মেহেদী হাসান মিরাজের বলে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে। অস্ট্রেলিয়া ১২২ রানে চতুর্থ উইকেট হারানোর পর ডারউইনের প্রেসবক্সে আলোচনা—টেস্টটা চতুর্থ দিনে যাবে তো!

    আবারও হাসান মাহমুদের বলে বোল্ড ট্রাভিস হেড

    ক্যামেরন গ্রিন তো বটেই, অস্ট্রেলিয়ারও সৌভাগ্য যে তাসকিন আহমেদের একটি বল তাঁর স্টাম্পে লাগলেও বেলস পড়েনি। অবিশ্বাস্যভাবে স্টাম্পে আঘাত করে বলটা ছাড়িয়ে গেছে বাউন্ডারিও! সেই সৌভাগ্য নিয়েই অস্ট্রেলিয়া দিন শেষ করেছে আর কোনো উইকেট না হারিয়ে।

    ডারউইন টেস্টটা যে তৃতীয় দিন শেষে এই জায়গায় দাঁড়িয়ে, সেটির বড় কৃতিত্ব প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের টেলএন্ডের ব্যাটিংয়ের। কিন্তু সেখানে কোনটি বিশেষ? নাথান লায়নকে স্লগ সুইপে ডিপ মিড উইকেটের ওপর দিয়ে মারা ইবাদত হোসেনের বিশাল ছক্কা? নাকি হাসান মাহমুদের ১৪ রান করার ছলে ৯২টি বল খেলে যাওয়া!

    অস্ট্রেলিয়ানরা বলবে—এর কিছুই নয়। ঝামেলা তো পাকিয়েছে আমাদের ফিল্ডাররা। এক সেশনে তিনটা ক্যাচ ফেলে কেউ? তা–ও আবার এক ওভারে দুইটা। ক্যাচ ফেললে টেলএন্ডার ব্যাটসম্যান কেন, শিশুরাও রান করত পারবে।

    মিরাজের ব্যাটে ভর করে লিড দুই শ পেরিয়ে যায় বাংলাদেশের

    যে যেভাবেই দেখুক, আজ ডারউইন টেস্টের আরও একটি দিনকে শুরু থেকেই বাংলাদেশ করে নিয়েছিল নিজেদের এবং সে কৃতিত্বের প্রায় পুরোটাই টেলএন্ডারদের দারুণ ব্যাটিংয়ের। ১৫৪ বলে মিরাজের ৬৫–কে খুঁটি বানিয়ে সেটাকে চক্কর দিয়ে ব্যাটিং করে গেছেন আগের দিনের অপরাজিত হাসান, তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ আর ইবাদত।

    কাল দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশের লেজের দিকের ব্যাটিং শুরু হয়েছিল ৮৩.৩ ওভারে, মুশফিকুর রহিমের আউটের পর রান তখন ৬ উইকেটে ৩০৮। মিরাজের সঙ্গে এরপর কালকের শেষ সেশন আর আজকের প্রথম সেশন মিলিয়ে টেলএন্ডাররাই অস্ট্রেলিয়ান বোলারদের দিয়ে বল করিয়েছেন ৫২.৩ ওভার। এই সময়ে রান যোগ হয়েছে আরও ১১৮, যার ৭৫–ই এসেছে আজ। এসব কারণেই সম্ভবত হ্যাজলউড ৬ উইকেট নিয়ে টেস্টে ৩০০ উইকেটের মাইলফলকের দেখা পেলেও অর্জনটি অস্ট্রেলিয়ানরা ঠিক উদ্‌যাপন করতে পারেনি।

    জুটিগুলোর দিকেও একটু তাকিয়ে দেখুন। মিরাজ–হাসানের সপ্তম উইকেটে ৪৬, মিরাজ–তাইজুলের অষ্টম উইকেটে ১৮, মিরাজ–তাসকিনের নবম উইকেটে ৪, এমনকি তাসকিন–ইবাদতের শেষ উইকেটে ৮ রান, যার মধ্যে ইবাদতের ওই ছক্কাটাও আছে।

    মারারা স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে টেস্টের তৃতীয় দিনটাও দারুণ কাটল বাংলাদেশের সমর্থকদের

    টুপিখোলা অভিনন্দন পাওয়ার যোগ্য টেলএন্ডারদের এই কীর্তিতেই তৃতীয় দিনের প্রথম সেশন পার করে লাঞ্চের পরও ৫ ওভার ব্যাটিং করেছে বাংলাদেশ। হাসান, ইবাদতের কথা তো বলাই হলো, মাঝে এক ছক্কা এক চারে তাইজুলের ২৩ বলে ১৭ আর তাসকিনের দুই বাউন্ডারি মেশানো ৩২ বলে অপরাজিত ১৪ রানের ইনিংস দুটির সময়ও মনে হয়নি অস্ট্রেলিয়ার পেস–বাউন্স খুব একটা ভোগাচ্ছে তাঁদের। হ্যাঁ, তিনটা ক্যাচ পড়েছে প্রথম সেশনে, যার দুটি আবার এক ওভারে।

    কিন্তু তাতে কী! তানজিম হাসান তো আগের দিনই বলে দিয়েছেন, ক্যাচ ধরবে–ক্যাচ পড়বে এসব খেলারই অংশ।

    সংক্ষিপ্ত স্কোর

    অস্ট্রেলিয়া : ১৯৮ ও ৫৩ ওভারে ১৬১/৪ (স্মিথ ৪৪, গ্রিন ৪৩*, লাবুশেন ৩১, হেড ১৭, ক্যারি ৭*; হাসান ২/৩৩, তাসকিন ০/৩৮, ইবাদত ০/৩৮, তাইজুল ১/২৮, মিরাজ ১/২০)। বাংলাদেশ: ৪২৬।

  • আগামী শিক্ষাবর্ষেই যুক্ত হচ্ছে খেলাধুলা

    আগামী শিক্ষাবর্ষেই যুক্ত হচ্ছে খেলাধুলা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণির পাঠ্যক্রমে খেলাধুলা অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি বলেন, তরুণসমাজকে মাদকাসক্তি থেকে মুক্ত করতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই।

    যুবকদের কর্মসংস্থান হলে সামাজিক অপরাধ কমে আসবে। সরকার খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে কাজ শুরু করেছে। যেখানেই খালি জায়গা থাকবে সেখানেই খেলার মাঠ করার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলাকে এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা হবে।

    গতকাল শুক্রবার ঢাকায় এফডিসিতে আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি। আয়োজনে সহযোগিতা করেছে কেয়ার বাংলাদেশ ও এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজেস বাংলাদেশ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

    প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, গত ১৭ বছরে দক্ষতা বৃদ্ধির নামে দুর্নীতির আখড়া তৈরি করে বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাচার করা হয়েছিল। বর্তমান সরকার দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিগত সরকার যেসব ভুল করেছে বর্তমান সরকার সেই ভুল করবে না। প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে যুবসমাজকে কর্মক্ষম করে গড়ে তোলা হবে।

    তিনি বলেন, ডিগ্রি নিয়ে যুবকরা যাতে বেকার হয়ে ঘরে বসে না থাকে, তারা যাতে বিভিন্ন কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন করে নিজেদের স্বাবলম্বী করে তুলতে পারে, সেই ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার।

    হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, বিগত শাসনামলে চাকরির বাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা হয়নি। সার্টিফিকেটনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল। এতে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা দিনে দিনে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমান সরকার কর্মমুখী শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। দেশে ও বিদেশের চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষিত জনগোষ্ঠী গড়ে তোলার উদ্যোগ নিচ্ছে।

    ‘দক্ষ যুবশক্তি গড়ে তুলতে সরকারের চেয়ে বেসরকারি খাতের সম্পৃক্ততা বেশি গুরুত্বপূর্ণ’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির বিতার্কিকদের পরাজিত করে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতার্কিকরা বিজয়ী হন। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মুহাম্মদ রইস, ড. শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন, ড. এস এম মোর্শেদ, কেয়ার বাংলাদেশের পরিচালক রওনক জাহান এবং এসওএসের ডেপুটি ন্যাশনাল ডিরেক্টর মো. মাসুদ রানা। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র দেওয়া হয়।

  • তানজিদ–নাজমুলের পর আবার হাসান, ডারউইনে দ্বিতীয় দিনও বাংলাদেশের

    তানজিদ–নাজমুলের পর আবার হাসান, ডারউইনে দ্বিতীয় দিনও বাংলাদেশের

    ছয় সেশনের মধ্যে কেবল একটিতেই একটু হাসি–আনন্দ করতে পারল অস্ট্রেলিয়ানরা। সেটিও আজ দিনের শেষ সেশনে। সারা দিনে বাংলাদেশের যে পাঁচটি উইকেট অস্ট্রেলিয়া নিতে পেরেছে, এই সেশনেই এসেছে তার তিনটি। এটুকু বাদ দিলে ডারউইন টেস্টের প্রথম দিনের মতো আজ দ্বিতীয় দিনটাও ছিল বাংলাদেশেরই।

    একটি সেঞ্চুরি, একটি সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগানো ইনিংস, একটি শতোর্ধ্ব রানের জুটি এবং শতরানের কাছাকাছি আরেকটি জুটি মিলিয়ে বোলিংয়ের মতো প্রথম ইনিংসের ব্যাটিংয়েও বাংলাদেশের জ্বলজ্বলে পারফরম্যান্স। হাসান মাহমুদের আগুনে পুড়ে গতকাল অস্ট্রেলিয়া অলআউট হয় ১৯৮ রানে। আজ দ্বিতীয় দিন শেষে ৬ উইকেটে ৩৫১ রান করে বাংলাদেশ এগিয়ে ১৫৩ রানে। ডারউইনে এমন কিছুর জন্য নিশ্চয়ই প্রস্তুত ছিল না অস্ট্রেলিয়া। তবে দ্বিতীয় দিন শেষের সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশকেই কৃতিত্ব দিয়ে গেছেন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার বো ওয়েবস্টার।

    বাংলাদেশকে এমন দিন এনে দেওয়ার মূল কৃতিত্ব ওপেনার তানজিদ হাসান ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেনের। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নেমেই তানজিদ করেছেন প্রথম সেঞ্চুরি। তাঁর ১৯৭ বলে ১০১ রানের ইনিংসটি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেই টেস্টে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের প্রথম সেঞ্চুরি। নাজমুল শতরানের দেখা পাননি, তবে বাংলাদেশের আরেকটি ভালো দিনে ১২৬ বলে তাঁর ৮৪ রানের ইনিংসেরও আছে বড় ভূমিকা।

    ডারউইনে এখন শীতকাল হলেও সেই শীতের ধরনটা কেমন, তা বোঝা গেল আজ দুপুরে স্টেডিয়ামের বড় পর্দায় ভেসে ওঠা এক সতর্কবার্তায়; যাতে বলা হয়েছে, তাপমাত্রা অনেক বেশি। সবাই যেন পর্যাপ্ত পানি পান করে এবং সানস্ক্রিন ব্যবহার করে।

    সেঞ্চুরির কাছাকাছি গিয়ে আউট হন নাজমুল

    নাজমুল যে সময়ে উইকেটে আসেন, ডারউইনের এই গা জ্বালানো রোদের ‘শীতে’ও বাংলাদেশের ইনিংসে তখন বসন্তের হাওয়া। জশ হ্যাজলউডের করা অফ স্টাম্পের বেশ বাইরের বলে মারতে গিয়ে প্রথম সেশনে মুমিনুল হক কট বিহাইন্ড হয়ে যান ফিফটি থেকে মাত্র ১ রান দূরে থাকতে। কিন্তু যাওয়ার আগে দ্বিতীয় উইকেটে তানজিদের সঙ্গে গড়ে দিয়ে যান ১০২ রানের জুটি। বাংলাদেশের সাড়ে তিন শ পেরিয়ে যাওয়ার প্রথম ভিত গড়ে দিয়েছিল সেটাই।

    স্কোরবোর্ডে ২ উইকেটে ১৩৮ রান, উইকেট তখনো বেশ ব্যাটিং–বান্ধব। মুমিনুল ফিরে যাওয়ার পর তানজিদের সঙ্গে অধিনায়ক নাজমুলের কাজ ছিল আরেকটি বড় জুটির সঙ্গী হওয়া, নিজেও বড় ইনিংস খেলা।

    দুটিতেই সফল বলতে হবে তাঁকে। তানজিদের সেঞ্চুরির একটু আগেই নাজমুল পূর্ণ করেন নিজের ফিফটি, সেঞ্চুরির পরপর তানজিদ আউট হওয়ার আগে তৃতীয় উইকেটে দুজনের জুটি দাঁড়ায় ৯৩ রানের। নাথান লায়নের একটা বল লং অফে পাঠিয়ে ১ রান নিয়ে নাজমুল ফিফটি পেয়ে যান ৭৪ বল খেলেই।

    সেঞ্চুরি করে উদ্‌যাপন তানজিদের

    টেস্ট ক্রিকেটে এর আগে ১৫ বার ফিফটি করে ৯ বারই তিন অঙ্কে পৌঁছেছেন। নাজমুলের ফিফটি হলেই তাই সেঞ্চুরির সুবাস ছড়াতে শুরু করে। ডারউইন টেস্টেও তা হলে বাংলাদেশের স্বপ্নের পরিধিটা আরও বড় হতে পারত। কিন্তু হ্যাজলউড নতুন বল হাতে নেওয়ার পরই ছোটখাটো একটা বিপর্যয়, নাজমুলকে দিয়েই যার শুরু।

    নতুন বলে একটু বেশি বাউন্স পেয়েছিলেন হ্যাজলউড। অফ স্টাম্পের বাইরের সে বলটা ঠিকঠাক সামলাতে না পেরে স্লিপে স্মিথের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরতে নয় নাজমুলকে। তাতে ভেঙে যায় মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে তাঁর ৯৮ বলে ৬৬ রানের জুটি।
    দলের ২৯৭ রানে নাজমুল আউট হয়েছেন ৮২তম ওভারে। এরপর ৮৫ ও ৮৬তম ওভারে কামিন্স আর মিচেল স্টার্কের বলে বাংলাদেশে হারায় আরও দুই স্বীকৃত ব্যাটসম্যান লিটন দাস আর মুশফিকুর রহিমকে। ৩ উইকেটে ২৯৭ থেকে বাংলাদেশের স্কোর মাত্র ৫ ওভারের মধ্যে হয়ে যায় ৩০৮/৬।

    দিনের তখনো অনেকটা খেলা বাকি ছিল বলে মনে হচ্ছিল, বাংলাদেশ হয়তো অলআউটই হয়ে যাবে আজ। ব্যাট করার মতো আর তো ছিলেন কেবল মেহেদী হাসান মিরাজ, অন্যদের মূল পরিচয় বোলার।

    কিন্তু বল হাতে ৬ উইকেট নেওয়া হাসান মাহমুদ ব্যাট হাতেও মিরাজের সঙ্গে এমনই দেয়াল হয়ে দাঁড়ালেন যে বাংলাদেশকে অলআউট করতে অপেক্ষায় থেকেই দিন শেষ হলো অস্ট্রেলিয়ার।

    পাকা ব্যাটসম্যানের মতোই খেলেন হাসান মাহমুদ

    সপ্তম উইকেটে ২৪.৩ ওভার অবিচ্ছিন্ন থেকেছে মিরাজ–হাসানের সপ্তম উইকেট জুটি; এই সময়ে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে যোগ হয়েছে আরও ৪৩ রান। ৭৩ বলে ৩২ রানে অপরাজিত মিরাজের সঙ্গে হাসানের স্কোরটাই বেশি বিস্ময় জাগায়। দুটি বাউন্ডারি মেরে তিনি অপরাজিত ১৬ রানে, তবে অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের চরম হতাশা উপহার দিয়ে বল খেলেছেন ৭৬টি। শেষ দিকে আর উইকেট ফেলতে না পেরে অন্য পথেও গিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটাররা। কিন্তু তাঁদের স্লেজিং মনঃসংযোগে কোনো ব্যাঘাতই ঘটাতে পারেনি মিরাজ–হাসানের।

    সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ১১০ ওভারে ৩৫১/৬ (তানজিদ ১০১, নাজমুল ৮৪, মুমিনুল ৪৯, মুশফিক ৩৬, মিরাজ ৩২*, হাসান ১৩* ; স্টার্ক ২/৬৮, হ্যাজলউড ২/৬৮, কামিন্স ১/৫০)। অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস: ১৯৮। —দ্বিতীয় দিন শেষে।

  • ভারতের জায়গায় ফিফা আসিয়ান কাপে খেলতে চায় বাংলাদেশ

    ভারতের জায়গায় ফিফা আসিয়ান কাপে খেলতে চায় বাংলাদেশ

    সুযোগটা হঠাৎই এসেছে বাংলাদেশের সামনে। ফিফার অর্থায়নে ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠেয় আসিয়ান কাপের অংশ হওয়ার পথে বাংলাদেশ। মূলত ভারতের সরে দাঁড়ানোতেই খুলেছে এই দরজা। শেষ মুহূর্তে পাওয়া আমন্ত্রণ গ্রহণের ব্যাপারে আজ ইতিবাচক সিদ্ধান্তের দিকেই এগিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।

    আজ বিকেলে জাতীয় দল কমিটির বিশেষ সভায় টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় উপস্থিত কমিটির সদস্যরা বাংলাদেশকে আসিয়ান কাপে পাঠানোর ব্যাপারে সম্মতি জানিয়েছেন। এখন ফিফার নিশ্চয়তার অপেক্ষা।

    বাংলাদেশের জন্য এই টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার সবচেয়ে বড় সুবিধা, এ নিয়ে বাফুফেকে বাড়তি আর্থিক চাপ নিতে হচ্ছে না। আয়োজকদের পক্ষ থেকেই অংশগ্রহণকারী দলগুলোর যাতায়াত ও আবাসনের খরচ বহন করা হবে। টুর্নামেন্টের জন্য দলগুলোকে অর্থও দেওয়া হবে।

    ফিফার অর্থায়নে ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর ইন্দোনেশিয়ায় হবে টুর্নামেন্টের ডিভিশন-১। অংশগ্রহণকারী ৮ দলকে দুটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি গ্রুপে চারটি করে দল। ভারতের জায়গায় বাংলাদেশ গ্রুপ পর্বে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে একটি করে ম্যাচ খেলবে।

    এই টুর্নামেন্টের ফরম্যাটেও রয়েছে ভিন্নতা। গ্রুপ পর্ব শেষে দুই গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দল সরাসরি খেলবে ফাইনালে। শুধু শিরোপার লড়াইয়েই শেষ নয় প্রতিযোগিতা। দুই গ্রুপের রানার্সআপ দল খেলবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে। দুই গ্রুপের তৃতীয় হওয়া দলগুলো মুখোমুখি হবে পঞ্চম স্থান নির্ধারণী ম্যাচে। আর গ্রুপে চতুর্থ হওয়া দল দুটি খেলবে সপ্তম স্থান নির্ধারণী ম্যাচ। তাই টুর্নামেন্টে চারটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে বাংলাদেশ।

    ৩ অক্টোবর কলকাতায় ব্রাজিলের বিপক্ষে খেলবে ভারত। সেই ম্যাচকে সামনে রেখে আসিয়ান কাপ থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করেছে তারা। ফলে ফিফার নতুন এই টুর্নামেন্টে ভারতের ফাঁকা জায়গায় বাংলাদেশের জন্য সুযোগ তৈরি হয়েছে।

  • আবারও পারভেজের ৫ উইকেট, সিরিজ বাংলাদেশের যুবাদের

    আবারও পারভেজের ৫ উইকেট, সিরিজ বাংলাদেশের যুবাদের

    এক দল বিনা উইকেটেই তুলে ফেলেছিল ৮৯ রান। আরেক দল ৫৮ রান তুলতেই হারায় ৫ উইকেট। তবে আজ রাজধানীর বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্সে জিতেছে দ্বিতীয় দলটিই। দ্বিতীয় দলটির নাম বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩। দ্বিতীয় এক দিনের ম্যাচে মালয়েশিয়া জাতীয় দলকে ৩ উইকেটে হারিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজটাও এক ম্যাচ হাতে রেখে জিতে নিয়েছে বাংলাদেশের যুবারা।

    প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের দলটির জয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতা শেখ পারভেজ জীবন আজও হয়েছেন ম্যাচসেরা। আগের ম্যাচের মতোই আজও ৫ উইকেট নিয়েছেন। প্রথম ম্যাচে ১৬ রানে ৫ উইকেট নেওয়া পারভেজ আজ ৮ ওভারে ২৩ রান দিয়েছেন।

    আসলাম খান মালিক ও সাইফ উল্লাহ মালিক মালয়েশিয়াকে উদ্বোধনী জুটিতে এনে দেন ৮৯ রান। ২৫ রান করা সাইফকে বোল্ড করে জুটি ভাঙেন পারভেজ। আসলাম এক প্রান্ত ধরে রাখলেও একের পর এক উইকেট হারিয়ে ১৭৬ রানে অলআউট মালয়েশিয়া। নয় নম্বর ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হওয়ার আগে ১০৭ বলে ঠিক ১০০ রান করেন আসলাম। সেঞ্চুরিয়ান আসলামকে বোল্ড করেই পঞ্চম উইকেট পেয়ে যান পারভেজ।

    রান তাড়ায় ৫৮ রানে ৫ উইকেট খোয়ানো বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দলকে উদ্ধার করে আহরার আমিন ও দেবাশিস সরকারের ৯২ রানের ষষ্ঠ উইকেট জুটি। দুজনই ফিফটিও পেয়েছেন। ৪১ বলে ৫ চার ও ৪ ছক্কায় ৫৮ রান করে দেবাশিস আউট হলেও দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন আহরার। ৭৬ বলে তাঁর ব্যাট থেকে আসে অপরাজিত ৫৭ রান। ৩১.৫ ওভারেই জয় পায় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল।

    সংক্ষিপ্ত স্কোর

    মালয়েশিয়া: ৩৮ ওভারে ১৭৬ (আসলাম ১০০, সাইফ ২৫; পারভেজ ৫/২৩, স্বাধীন ২/৩৬, রাহিন ২/৫২)।
    বাংলাদেশ অ-২৩ দল: ৩১.৫ ওভারে ১৭৭/৭ (দেবাশিস ৫৮, আহরার ৫৭*, ইকবাল ২৬; বিজয় ২/২৩, প্রশান্ত ২/২৬)।
    ফল: বাংলাদেশ অ-২৩ দল ৩ উইকেটে জয়ী।
    সিরিজ: ৩-ম্যাচ সিরিজে বাংলাদেশ অ-২৩ দল ২-০-তে এগিয়ে।
    ম্যান অব দ্য ম্যাচ: শেখ পারভেজ।

  • দীর্ঘদিনের প্রেমের পর বিয়ে করলেন রোনালদো-জর্জিনা

    দীর্ঘদিনের প্রেমের পর বিয়ে করলেন রোনালদো-জর্জিনা

    দীর্ঘ এক দশকের প্রেমের পর অবশেষে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হলেন পর্তুগিজ ফুটবল তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও জর্জিনা রদ্রিগেজ। মঙ্গলবার পর্তুগালের সৈকত শহর কাসকাইসে ঘরোয়া আয়োজনে বিয়ে করেন তাঁরা।

    রোনালদোর প্রতিনিধিরা বিয়ের খবর নিশ্চিত করেছেন। তাঁর জনসংযোগের দায়িত্বে থাকা ব্রান্সউইক গ্রুপ বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছে, একান্ত পারিবারিক এই অনুষ্ঠানে দম্পতির পাঁচ সন্তান উপস্থিত ছিল।

    বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসে রোনালদোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি পোস্টের মাধ্যমে। বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার রাতে তিনি জর্জিনার হাতের ওপর নিজের হাত রাখা একটি ছবি প্রকাশ করেন। দুজনের অনামিকায় দেখা যায় আংটি। ছবির ক্যাপশনে ভালোবাসার ইমোজির সঙ্গে ছিল ‘সি’ ও ‘জি’ অক্ষর। এর পরই ভক্তদের মধ্যে তাঁদের বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে যায়।

    এর ঠিক এক বছর আগে, ২০২৫ সালের ১১ আগস্ট বাগ্‌দানের ঘোষণা দিয়েছিলেন জর্জিনা। সেদিনও রোনালদোর হাতের ওপর নিজের হাত রেখে অনামিকায় বড় একটি আংটি পরা ছবি প্রকাশ করেছিলেন তিনি। এক বছর পর সেই হাত বদলে গেছে বিয়ের বন্ধনে।

    রোনালদো ও জর্জিনার বিয়ের সম্ভাব্য স্থান নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যমে নানা আলোচনা চলছিল। লিসবনের বাইরে সিনত্রা কিংবা রোনালদোর জন্মস্থান মাদেইরায় বিয়ের গুঞ্জনও ছড়িয়েছিল। এমনকি মাদেইরার ফুনশালের একটি গির্জায় তাঁদের বিয়ে হচ্ছে বলে খবর ছড়িয়ে পড়লে সেখানে ভিড় করেন শত শত মানুষ। পরে অবশ্য জানা যায়, সেখানে রোনালদো-জর্জিনার কোনো অনুষ্ঠান নির্ধারিত ছিল না।

    শেষ পর্যন্ত লিসবন থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার পশ্চিমে কাসকাইসকে বিয়ের স্থান হিসেবে বেছে নেন তাঁরা। এই শহরে দম্পতির একটি ভিলাও রয়েছে।

    রোনালদো ও জর্জিনার পরিচয় ২০১৬ সালে। তখন মাদ্রিদের একটি গুচি শোরুমে বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করতেন জর্জিনা। সেখান থেকেই দুজনের সম্পর্কের শুরু। জর্জিনার ভাষায়, সেটি ছিল ‘প্রথম দেখাতেই প্রেম’। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে ফিফার বর্ষসেরা পুরস্কার অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো তাঁদের একসঙ্গে প্রকাশ্যে দেখা যায়। একই বছরের মে মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জর্জিনার সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেন রোনালদো।

    এরপর থেকে বিশ্বের অন্যতম আলোচিত তারকা জুটি হয়ে ওঠেন তাঁরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুজনের অনুসারীর সংখ্যা ৭৫ কোটির বেশি। ফুটবলের বাইরে ফ্যাশন, হোটেল ব্যবসাসহ বিভিন্ন খাতেও তাঁদের বিনিয়োগ রয়েছে।

    রোনালদোর বড় ছেলে ক্রিস্টিয়ানো জুনিয়রের জন্ম ২০১০ সালে। তাঁর মায়ের পরিচয় কখনো প্রকাশ করেননি রোনালদো। ২০১৭ সালে সারোগেসির মাধ্যমে যমজ সন্তান ইভা মারিয়া ও মাতেওর বাবা হন তিনি। একই বছরের শেষ দিকে জর্জিনার গর্ভে জন্ম নেয় তাঁদের মেয়ে অ্যালানা মার্টিনা। ২০২২ সালে জর্জিনার গর্ভে যমজ সন্তান জন্ম নিলেও ছেলে অ্যাঞ্জেল জন্মের কিছুক্ষণ পর মারা যায়। তাঁদের মেয়ে বেলা বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে রয়েছে।

    দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, সন্তান ও পারিবারিক জীবনের পর এবার আনুষ্ঠানিকভাবে স্বামী-স্ত্রী হলেন রোনালদো ও জর্জিনা।

  • লাখ টাকা ভাতা নিয়ে ‘খেপ’ খেলা যাবে না

    লাখ টাকা ভাতা নিয়ে ‘খেপ’ খেলা যাবে না

    জাতীয় দলের ফুটবলার হিসেবে সরকারের কাছ থেকে নিয়মিত ক্রীড়া ভাতা পাচ্ছেন খেলোয়াড়রা। দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার পাশাপাশি ক্লাব ফুটবলেও তারা পেশাদার চুক্তির অধীন।

    এরপরও অনেকে স্থানীয় পর্যায়ের ‘খেপ’ ম্যাচ খেলতে যান। আর এ নিয়েই এবার প্রশ্ন উঠেছে খেলোয়াড়দের পেশাদার আচরণ ও দায়িত্ববোধ নিয়ে।

    সম্প্রতি জাতীয় দলের কয়েকজন ফুটবলারের বিভিন্ন এলাকার খেপ ম্যাচে অংশ নেওয়ার বিষয়টি এরই মধ্যে আলোচনায় এসেছে। টাঙ্গাইল ও ঝিনাইদহে গিয়ে এমন ম্যাচে জাতীয় দলের বর্তমান খেলোয়াড়দের দেখেছেন বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

    গতকাল রাতে কালশীতে সাংবাদিকদের একটি ফুটবল ম্যাচ দেখতে গিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন সাবেক এই তারকা ফুটবলার।

    যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমার প্রশ্নটা হচ্ছে সেই প্লেয়ারদের কাছে এবং আমি বাফুফের কাছেও প্রশ্নটা রাখব, যেখানে আমরা খেলোয়াড়দেরকে পেশাগত স্বীকৃতি বাবদ ক্রীড়াভাতা প্রদান করছি, সরকার তাদের মাসিক ভাতা দিচ্ছে, তো সেই ক্ষেত্রে খেলোয়াড়দের খেপ খেলতে যাওয়াটা কতটুকু সমীচীন হয়েছে এবং দেশের প্রতি যে একটু আগে বলছিলাম যে কমিটমেন্টের অভাব, যে তার নিজের প্রতি যে কমিটমেন্টের অভাব সেটার কিন্তু বহিঃপ্রকাশ ইতিমধ্যে পেয়েছি।’

    প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি ব্যস্ততার কারণে এখন পর্যন্ত আমাদের বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতির সাথে কথা বলতে পারিনি, তবে আমি দ্রুতই তার সাথে হয়তোবা দু–এক দিনের ভেতরে কথা বলব যে যেই খেলোয়াড়েরা বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে খেপ খেলেছে, সেই বিষয় নজরে এনে তাদেরকে সতর্ক করা, আমরা প্রথম অবস্থায় সতর্ক করতে চাই, তারপর আমরা হয়তোবা ব্যবস্থা নেওয়ার চিন্তা করব।’

  • ইতিহাস গড়ে এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের মূল পর্বে ফর্টিস

    ইতিহাস গড়ে এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের মূল পর্বে ফর্টিস

    ঘরের মাঠে কিরগিজস্তানের মুরাস ইউনাইটেডকে ১-০ গোলে হারিয়ে এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে ফর্টিস এফসি। বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় ফর্টিসের হয়ে জয়সূচক গোলটি করেন মো. ইব্রাহীম।

    এএফসি মঞ্চে অভিষেক ম্যাচেই এমন সাফল্য পেল বাংলাদেশ ফুটবল লিগের সর্বশেষ মৌসুমের তৃতীয় হওয়া দলটি। ফলে প্রথমবার আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় খেলতে নেমেই ইতিহাস গড়ল ফর্টিস।

    ২০২৫-২৬ মৌসুমে বাংলাদেশ ফুটবল লিগের শিরোপা জেতে বসুন্ধরা কিংস। রানার্সআপ হয় ঢাকা আবাহনী। তবে দুই ক্লাবের ওপর ফিফার নিষেধাজ্ঞা থাকায় এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে খেলার সুযোগ পায় তৃতীয় হওয়া ফর্টিস ও পুলিশ এফসি।

    এরই মধ্যে সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েছে ফর্টিস। রাতে প্রিলিমিনারি রাউন্ডে সিরিয়ার আল ইত্তিহাদের বিপক্ষে মাঠে নামার কথা রয়েছে তাদের।

    গত মৌসুমের এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের প্রিলিমিনারি রাউন্ডেও মুরাস ইউনাইটেডের প্রতিপক্ষ ছিল ঢাকা আবাহনী। সেবার ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে মারুফুল হকের দলকে ২-০ গোলে হারিয়ে পরের ধাপে উঠেছিল কিরগিজ ক্লাবটি। এবার অবশ্য বাংলাদেশে এসে জয়ের হাসি নিয়ে ফিরতে পারেনি তারা। ফর্টিসের কাছে হেরে মূল পর্বের টিকিটও হাতছাড়া হয়েছে মুরাসের।

    ম্যাচের ২২ মিনিটে ফর্টিস এগিয়ে যাওয়ার দারুণ সুযোগ তৈরি করে। বক্সের বাঁ দিক দিয়ে একক প্রচেষ্টায় আক্রমণে উঠে গোলকিপারকে একা পেয়ে যান পা ওমর বাবু। বাঁ পায়ের শটে মুরাসের গোলরক্ষক কস্তিককে পরাস্ত করলেও বল সাইড পোস্টে লেগে বাইরে চলে যায়।

    বিরতির পর অবশ্য মুরাসই তুলনামূলক বেশি চাপ তৈরি করে। তবে ফর্টিসের শ্রীলঙ্কান গোলরক্ষক সুজন পেরেরা দুই দফায় প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকিয়ে দলকে বিপদমুক্ত রাখেন।

    এরপর ৫২ মিনিটে ম্যাচের একমাত্র গোলটি আসে। পা ওমর বাবুর বাড়ানো থ্রু থেকে বল পেয়ে যান ইব্রাহিম। ডান পায়ে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাঁ পায়ের নিচু শটে মুরাসের গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন তিনি। বল গোলরক্ষকের শরীরের নিচ দিয়ে পোস্টে জড়িয়ে গেলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ফর্টিস।

    ৫৬ মিনিটে ফর্টিস ব্যবধান দ্বিগুণ করার কাছাকাছি চলে যায়। তবে মুরাসের গোলরক্ষক ওরেস্ট কস্তিক পরপর দুটি দুর্দান্ত সেভ করে দলকে ম্যাচে রাখেন।

    ৭৪ মিনিটে ম্যাচে সমতা ফেরানোর বড় সুযোগ পায় মুরাস। মাদানভ ইসমইলোভিচের শট বক্সের ভেতরে এরিক বিস্তার হাতে লাগায় পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। কিন্তু স্পটকিক থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন আতাবায়েভ এরবল। তার ডান পায়ের শট সাইড পোস্টে লেগে ফিরে আসে।

    শেষ পর্যন্ত মুরাসের সব আক্রমণ সামলে ১-০ গোলের জয় ধরে রাখে ফর্টিস। এই জয়ের মাধ্যমে প্রথমবার এএফসি প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েই চ্যালেঞ্জ লিগের মূল পর্বে জায়গা করে নিয়ে বাংলাদেশের ফুটবলে নতুন ইতিহাস গড়ল দলটি।

  • ২ কোটি ২৯ লাখ টাকায় আড়াইহাজারে ১০২ শতাংশ জমি কিনছে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ

    ২ কোটি ২৯ লাখ টাকায় আড়াইহাজারে ১০২ শতাংশ জমি কিনছে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ

    ভবিষ্যতে ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণের জন্য ১০২ শতাংশ জমি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি।

    কোম্পানিটি জানিয়েছে, গতকাল সোমবার অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় জমি কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানার ব্রাহ্মন্দী-৩৭ মৌজায় ১০২ শতাংশ জমি কেনা হবে। জমিটির মোট ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ কোটি ২৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

    ডিএসইর ঘোষণায় বলা হয়েছে, কোম্পানির নামে এই জমি কেনা হবে। জমির মালিক জামান মিয়া, মো. মনিরুজ্জামান ভূঁইয়া ও অন্যদের কাছ থেকে এই জমি কেনা হবে। ভবিষ্যতে ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় স্থাপনা নির্মাণে এ জমি ব্যবহার করা হবে।

    ডিএসইর ঘোষণায় আরও জানানো হয়, জমি নিবন্ধনের ভ্যাট, করসহ অন্য সব খরচ অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ বহন করবে।

    চলতি বছর নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার মদনপুরে সোয়া ১৯ শতাংশ জমি কিনেছে কোম্পানিটি। এই জমির মোট ক্রয়মূল্য ছিল পৌনে ৫৮ লাখ টাকা।

    ব্যবসা সম্প্রসারণের এই ঘোষণার জেরে আজ ডিএসইতে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারের দাম বেড়েছে। আজ দিনের সর্বোচ্চ দাম ছিল ১৫৪ টাকা, সর্বনিম্ন দাম ১৫২ টাকা ৯০ পয়সা। কোম্পানিটি ২০২৫ সালে ৩০ শতাংশ, ২০২৪ সালে ১০ শতাংশ ও ২০২৩ সালে ৬০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে।

    ১৯৮৯ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানি হিসেবে এ শ্রেণিভুক্ত। দেশের বিস্কুট ও কনফেকশনারি পণ্যের বাজারের বড় হিস্যা আছে এই কোম্পানির। বাজারে এই কোম্পানির যেসব পণ্যের পরিচিতি আছে, সেগুলো হলো এনার্জি, নাটি, টিপ, লেক্সাসসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিস্কুট ও ব্যাটারি।

    গত অর্থবছরের প্রথম নয় মাসের (জুলাই ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬) অনিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ৭ টাকা ৪১ পয়সা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যা ছিল ১০ টাকা ৬ পয়সা।

    বর্তমানে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের মোট শেয়ারের সংখ্যা ১৯ কোটি ৯৯ লাখ ৩৮ হাজার ৮৮৬টি। গত ৩১ জুলাই পর্যন্ত হিসেবে কোম্পানিটির মোট শেয়ারের ৩৭ দশমিক ৩৮ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে। এ ছাড়া কোম্পানির ২২ দশমিক ৮৫ শতাংশ শেয়ার প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, ২৭ দশমিক ৫১ শতাংশ শেয়ার বিদেশি বিনিয়োগকারী ও ১২ দশমিক ২৬ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে আছে।

  • প্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তারা ফুটবলে বিনিয়োগে আগ্রহী কেন

    প্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তারা ফুটবলে বিনিয়োগে আগ্রহী কেন

    তীব্র বিরোধিতার মুখে বিশ্বকাপের একাংশ বেসরকারীকরণের পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছে ফিফা। এই ঘটনায় অনেক দেশ ভবিষ্যতে বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি দিয়েছিল। পাশাপাশি ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে পদত্যাগের আহ্বানও জানানো হয়েছিল।

    বিষয়টা হলো, প্রযুক্তি খাতের বিনিয়োগকারীরা বিশ্বকাপে কেন আগ্রহী হয়ে উঠেছিলেন। সেই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রস্তাব কি আবারও আসবে, তা নিয়ে চলছে আলোচনা।

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মানুষের বিনোদন ও অবসর কাটানোর ধরন আমূল বদলে দিতে পারে— বাস্তবতা সেদিকেই যাচ্ছে। সেই সময় ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান থ্রাইভ ক্যাপিটালের সহযোগী প্রতিষ্ঠান থ্রাইভ ইটার্নালের কর্মকর্তারা বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিনিয়োগ করতে চেয়েছিলেন। এ জন্য তারা বিনিয়োগকারীদের কনসোর্টিয়াম গঠন করে।

    তারা ফুটবল বিশ্বকাপকে নতুন বিনিয়োগ কৌশলের অংশ হিসেবে দেখেছিল। তাদের বিশ্বাস, এআই বিপ্লবের মধ্যেও খেলাধুলা শুধু টিকে থাকবে না, বরং এর মূল্য আরও বাড়বে।

    থ্রাইভ ক্যাপিটালের নেতৃত্বে আছেন জশুয়া কুশনার। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা ও উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনারের ভাই। থ্রাইভ মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করা প্রযুক্তি কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে। প্রতিষ্ঠানটি ওপেনএআইয়ের অন্যতম বড় আর্থিক পৃষ্ঠপোষক।

    চলতি বছরের এপ্রিলে নিউইয়র্কভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি ‘থ্রাইভ ইটার্নাল’ নামে নতুন বিনিয়োগ শাখা চালু করে। প্রযুক্তির মাধ্যমে যেসব বিষয় ‘অনুকরণ করা যায় না’, তেমন খাতে বিনিয়োগ করাই এই কোম্পানির লক্ষ্য।

    এই কৌশলের কেন্দ্রে রয়েছে খেলাধুলা। সেখান থেকেই ফুটবলে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়। ফিফার প্রস্তাবিত ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজের (এফএফই) মাধ্যমে বিশ্বকাপের অংশীদারত্ব নেওয়ার বিষয়টি তাদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।

    বিনিয়োগকারীদের ধারণা, ফুটবলের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও পরিচয়ের সঙ্গে মানুষের যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে, তার কারণে এই খেলা এআইজনিত আমূল পরিবর্তনের হাত থেকে রক্ষা পাবে। চলচ্চিত্র ও সংগীতের মতো বিনোদনের অন্যান্য ক্ষেত্রে যেখানে প্রযুক্তি ইতিমধ্যে মানুষের জায়গা নিতে শুরু করেছে, ফুটবলের ক্ষেত্রে সেই ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম।

    ক্রীড়া বিশ্লেষকেরা বলেন, বিনিয়োগের আগ্রহ ও বাণিজ্যিকীকরণের কারণে ফুটবল ও সমর্থক–সংক্রান্ত অনেক সিদ্ধান্ত এখন ‘ওয়াল স্ট্রিট ও সিলিকন ভ্যালিতে’ নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি ধীরে ধীরে চেপে বসেছে এবং কী ঘটছে, তা নিয়ে অনেকেই প্রকৃত অর্থে ভাবেননি।

    ফিফার পরিচালনব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও বিশ্লেষকেরা বলেন, মানুষ পছন্দ করুক বা না করুক, খেলাধুলায় বেসরকারি মূলধন বিনিয়োগ এখন বাস্তবতা।

    এবারের বিশ্বকাপে বাণিজ্যিকীকরণের স্পষ্ট চিত্র পাওয়া গেলেও বিবিসি জানতে পেরেছে, এফএফই প্রস্তাব নিয়ে থ্রাইভের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে গত বছর। বাণিজ্যিক পরামর্শক হিসেবে আনা হয়েছিল ফর্মুলা ওয়ানের মালিক প্রতিষ্ঠান লিবার্টি মিডিয়ার সাবেক প্রধান গ্রেগ ম্যাফেইকে।

    থ্রাইভ সাবেক ডিজনি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বব আইগারকেও নিয়োগ দিয়েছিল।

    থ্রাইভ ইটার্নাল ইতিমধ্যে অন্যান্য ক্রীড়া খাতেও বিনিয়োগ করছে। প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরুর সময় জানিয়েছিল, তারা মেজর লিগ বেসবলের দল সান ফ্রান্সিসকো জায়ান্টসের একাংশ কেনার বিষয়ে চুক্তি করেছে। এ ছাড়া লাস ভেগাসে নতুন এনবিএ ফ্র্যাঞ্চাইজি কেনার সম্ভাব্য উদ্যোগ নিয়েও প্রতিষ্ঠানটির আগ্রহ আছে বলে জানা গেছে।

    থ্রাইভ ইটার্নালের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ‘ঐতিহ্য, পরিচয় ও অভিন্ন অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত এসব ‘খ্যাতনামা সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান’ এআই বিপ্লবের মধ্যে শুধু টিকে থাকবে না, বরং ভবিষ্যতে এগুলোর গুরুত্ব আরও বাড়বে।

    ফিফায় বিনিয়োগের পরিকল্পনা এবং তা নিয়ে পরবর্তী বিতর্কের বিষয়ে কুশনার ও থ্রাইভ ইটার্নাল মন্তব্য করেনি।

    তবে প্রতিষ্ঠানটির ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, ফিফার সদস্যসংস্থাগুলোর অনুমোদনসাপেক্ষ এই পরিকল্পনার উদ্দেশ্য দ্রুত মুনাফা করা ছিল না; বরং দীর্ঘ মেয়াদে বিনিয়োগ করে ফুটবলের উন্নয়নে অর্থায়ন করাই ছিল এর লক্ষ্য।

    প্রাথমিকভাবে ৪২০ কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রস্তুতি নেওয়া বিনিয়োগকারীরা ধরে নিয়েছিলেন, কয়েক দশক মুনাফা হবে না। সেই বিষয়টি মাথায় নিয়েই এগোচ্ছিলেন তাঁরা। কেননা, থ্রাইভ ইটার্নালকে হোল্ডিং কোম্পানি হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে।

    সূত্রটি আরও জানায়, এফএফই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে ২০০ কোটি ডলারের মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রতিটি সদস্যসংস্থা সর্বোচ্চ ৯ কোটি ১০ লাখ ডলার মূল্যের অংশীদারত্ব পেত। তবে ওই অংশীদারত্বের নিয়ন্ত্রণ বিনিয়োগকারীদের হাতে নয়, ফিফার কাছেই থাকত। পরবর্তী সময়ে সেই অংশীদারত্বের কোনো অংশ বিক্রি করা হবে কি না, তা নিধর্ধারণের ভারও ছিল সংশ্লিষ্ট সদস্যসংস্থার।

    সূত্রটি বলেছে, বাইরের বিনিয়োগের মূল উদ্দেশ্য ছিল যেসব দেশ সাধারণত বৈদেশিক অর্থায়নের সুযোগ পায় না, সেসব দেশের হাতে শুরুতেই বেশি অর্থ তুলে দেওয়া। ওই অর্থ দিয়ে তারা স্টেডিয়াম, প্রশিক্ষণ অবকাঠামোসহ নিজেদের দেশে ফুটবলের উন্নয়নে বিনিয়োগ করতে পারত।

    ফিফার ভাষ্য অনুযায়ী, এফএফইর লক্ষ্য ছিল ‘ফুটবলের ব্যবসা খেলাটির পরিচালনা থেকে আলাদা করা’।

    ইংল্যান্ডে ফুটবলের ব্যবসা বেড়েছে, বিশেষ করে প্রিমিয়ার লিগ চালুর পর। এই লিগের আর্থিক নিয়মকানুন, খেলোয়াড় কেনাবেচার চুক্তি ও ক্লাবের পরিচালনা পর্ষদের নানা খবর এখন মাঠের খেলার মতোই সমর্থকদের আলোচনার বিষয়।

    ফুটবলে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ অবশ্য নতুন কিছু নয়। দুই দশকেরও বেশি আগে গ্লেজার পরিবার ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কেনার পর থেকে ইংল্যান্ড ও ইউরোপের অন্যান্য ক্লাবে মার্কিন বিনিয়োগ ক্রমেই বেড়েছে।

    তবে প্রশ্ন উঠেছে, ফিফা ও বিশ্বকাপের এই অর্থের প্রয়োজন কেন। ফিফা দাবি করেছে, বিশ্বকাপ থেকে যতটা আয় করা সম্ভব, ততটা হচ্ছে না। তবে পানিবিরতির বিজ্ঞাপন, টিকিটের দামে পরিবর্তন, সম্প্রচার ও স্পনসরশিপ স্বত্ব থেকে রেকর্ড আয়—সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ থেকে রেকর্ড রাজস্ব আয় হয়েছে বলে জানা গেছে।

    ৪৮ দলের বিশ্বকাপ ও ভবিষ্যতে ৬৪ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের যে সম্ভাবনা, তাতে আরও বেশি বাণিজ্যের সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা আছে। বেশি দেশ মানে বেশি দর্শক, বেশি দর্শক মানে বেশি আয়।

    পোর্টসমাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান ও ক্রীড়া অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ক্রিস্টিনা ফিলিপু বলেন, নগদ অর্থের প্রবাহে সমস্যা দেখা দিলে অন্যান্য খেলাধুলা ও ব্যক্তিমালিকানাধীন ফুটবল ক্লাবেও এ ধরনের বাইরের বিনিয়োগ নেওয়া হয়েছে।

    তবে ফিফার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি তেমন নয়। তাঁর ভাষায়, ‘ফিফা এমন অবস্থায় নেই যে তাদের অর্থের জন্য মরিয়া হতে হবে; বরং তারা চাইলে হাতে থাকা অর্থ দিয়েই সদস্যসংস্থাগুলোকে আরও বেশি অর্থ দিতে পারে। বাইরের অর্থ আনার প্রয়োজন নেই।’

    থ্রাইভ ইটার্নাল এ পরিকল্পনা বাতিলের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে মোদ্দা কথা হলো, ফুটবলে বিনিয়োগের আগ্রহ যে এখনো প্রবল, তা পরিষ্কার।

  • পিতৃহারা মেসিকে গোল উৎসর্গ ডি পলের

    পিতৃহারা মেসিকে গোল উৎসর্গ ডি পলের

    মাঠে ছিলেন না লিওনেল মেসি, তবে তার উপস্থিতি যেন অনুভব করল পুরো স্টেডিয়াম। গোল করে জার্সি খুলতেই রদ্রিগো ডি পলের গায়ে দেখা গেল মেসির ১০ নম্বরের জার্সি। শোকাহত অধিনায়ক ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুর প্রতি ভালোবাসা এবং সমর্থনের এই বার্তা ছুঁয়ে গেছে ফুটবলপ্রেমীদের।

    ম্যাচ শুরুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই আর্জেন্টিনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মেসির বাবা হোর্হে মেসি (৬৮)। বাবার শেষকৃত্যে যোগ দিতে তড়িঘড়ি করে আর্জেন্টিনায় পাড়ি জমানায় মেক্সিকান ক্লাব মন্তেরের বিপক্ষে ইন্টার মায়ামির হয়ে মাঠে নামা হয়নি তার।

    মেসির বাবার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ম্যাচ শুরুর আগে এক মিনিট নীরবতা পালন করে দুই দল। গ্যালারিতেও মেসির প্রতি সমর্থন জানাতে ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে হাজির হন মায়ামির সমর্থকেরা। সেসব বার্তায় লেখা ছিল, ‘শক্ত থাকো, লিও।’ এরপর ম্যাচের ৩১তম মিনিটে দুর্দান্ত এক গোল করে মেসির প্রতি নিজের শ্রদ্ধা জানান ডি পল। পেনাল্টি বক্সের বেশ বাইরে থেকে জোরালো শটে মন্তেরের গোলরক্ষক লুইস কার্দেনাসকে পরাস্ত করেন আর্জেন্টাইন এই মিডফিল্ডার।

    গোলের পরই নিজের জার্সি খুলে ফেলেন ডি পল। আর তখনই তার পরনে থাকা গেঞ্জিতে ফুটে ওঠে মেসির ১০ নম্বরের প্রতীক। মেসির অন্যতম ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সতীর্থ হিসেবে পরিচিত ডি পলের এই উদযাপনকে শোকাহত বন্ধুর প্রতি ভালোবাসা ও সমর্থনের বার্তা হিসেবেই দেখছেন ফুটবলপ্রেমীরা।

    ২০২৬ বিশ্বকাপের সময়ও বাবার অসুস্থতার কারণে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে গেছেন মেসি। জাতীয় দলের হয়ে সেই সময় তার পাশে ছিলেন ডি পল। এবার ক্লাব ফুটবলেও বন্ধুর সবচেয়ে কঠিন সময়ে আবেগঘন এই শ্রদ্ধা জানালেন তিনি। তবে ডি পলের গোল শেষ পর্যন্ত ইন্টার মায়ামিকে জয় এনে দিতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধে হুগো কুইপার্সের গোলে সমতায় ফেরে মন্তেরে। ম্যাচের ৯০তম মিনিটে দিয়েগো রসি গোল করলে শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মেক্সিকান ক্লাবটি।

  • মারা গেলেন মেসির বাবা হোর্হে মেসি

    মারা গেলেন মেসির বাবা হোর্হে মেসি

    আর্জেন্টাইন ফুটবল মহাতারকা লিওনেল মেসির বাবা হোর্হে মেসি মারা গেছেন। একাধিক আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ খবর নিশ্চিত করেছে স্প্যানিশ গণমাধ্যম গোলডটকম।

    আর্জেন্টাইন গণমাধ্যম ইনফোবায়ে এবং রোসারিও৩ নেটওয়ার্ক দাবি করেছে, ৬৮ বছর বয়সে মারা গেছেন হোর্হে মেসি। বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি শারীরিক নানা সমস্যায় ভুগছিলেন।

    গত জুনে বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার হয়ে গোল করার পর আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন মেসি। ম্যাচের পর নিজের কান্নার কারণ জানতে চাইলে তিনি জানিয়েছিলেন, এর সঙ্গে ফুটবলের কোনো সম্পর্ক নেই এবং তিনি কয়েকটি কঠিন দিনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন।

    এরপর মেসির বাবার শারীরিক অবস্থা নিয়ে নানা খবর ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে সে সময় মেসি পরিবার এক বিবৃতিতে জানায়, হোর্হে মেসি স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ভুগছেন এবং চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে গুজব ও জল্পনা না ছড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।

    পরিবারের পক্ষ থেকে হোর্হে মেসি ও তার স্বজনদের গোপনীয়তা এবং ব্যক্তিগত পরিসরের প্রতি সম্মান দেখানোর অনুরোধও করা হয়েছিল। তবে এবার এখনও মেসির পরিবারের পক্ষ থেকে হোর্হে মেসির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়নি।

    ছোটবেলা থেকেই ছেলের ফুটবল ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন হোর্হে মেসি। মাত্র ১৩ বছর বয়সে ২০০০ সালে লিওনেল মেসির বার্সেলোনায় যাওয়ার পথ তৈরি করতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পরবর্তীতে ফুটবল খেলোয়াড়দের এজেন্ট হিসেবে কাজ শুরু করেন হোর্হে মেসি।

  • অবশেষে আলভারেজের ভবিষ্যৎ নিয়ে মুখ খুললেন সিমিওনে

    অবশেষে আলভারেজের ভবিষ্যৎ নিয়ে মুখ খুললেন সিমিওনে

    আতলেতিকো মাদ্রিদের আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড হুলিয়ান আলভারেজের ভবিষ্যত নিয়ে চলছে তুমুল গুঞ্জন। নতুন চ্যালেঞ্জের খোঁজে বার্সেলোনায় পাড়ি জমাতে ইচ্ছুক এই তারকা ফুটবলার। তবে আতলেতিকো তাদের এই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে ছাড়তে নারাজ। এই টানাপোড়েন ও জল্পনা-কল্পনার মধ্যেই নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ক্লাবের কোচ দিয়েগো সিমিওনে।

    সংবাদ সম্মেলনে ট্রান্সফার জটিলতা ও আলভারেজের অবস্থান নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সিমিওনে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে নিজের মন্তব্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি একদম পরিষ্কার। ক্লাবের প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ এমন একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে যা মিগেল অ্যাঞ্জেল খুব ভালোভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তবে ফুটবলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বললে, হুলিয়ানের মতো একজন খেলোয়াড়কে দলে পেয়ে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। সে যেন ক্রমাগত আরও উন্নতি করতে পারে এবং আরও বড় হয়ে উঠতে পারে, সেজন্য আমরা তাকে সব ধরনের সহায়তা করব।’

    আলভারেজের বর্তমান দলবদল পরিস্থিতির তুলনামূলক ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আতলেতিকো মাদ্রিদের সাবেক তারকা অঁতোয়ান গ্রিজমানের দৃষ্টান্ত স্মরণ করিয়ে দেন সিমিওনে। তিনি বলেন, ‘বিগত বছরগুলোতে আমরা গ্রিজমানের সঙ্গেও এমন একটি সময় পার করেছি, যখন তাকে বাধ্য হয়ে ক্লাব ছাড়তে হয়েছিল এবং পরবর্তীতে তিনি আবারও ফিরে এসেছিলেন। ফিরে আসার পর নিজের মান এবং ফুটবলে নিজের মর্যাদা কী—তা তাকে মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই প্রমাণ করতে হয়েছিল।’

    বার্সেলোনা এই মুহূর্তে আলভারেজকে দলে নিতে সবচেয়ে এগিয়ে থাকলেও রিয়াল মাদ্রিদ, আর্সেনাল এবং প্যারিস সেইন্ট জার্মেইর মতো ইউরোপের জায়ান্ট ক্লাবগুলোও এই আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকারের দিকে নজর রাখছে। তবে আতলেতিকোর অনমনীয় অবস্থানের কারণে প্রস্তাব ও দরকষাকষি বেশ জটিল রূপ ধারণ করেছে।

    খেলোয়াড়ের দলবদল নিয়ে নানা গুঞ্জন থাকলেও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আশা প্রকাশ করে সিমিওনে সবশেষে মন্তব্য করেছেন, ‘সব বিষয়ই সময়ে সুরাহা হয়ে যাবে এবং সমাধান খুঁজে পাবে।’

  • ‘সাকিবের জাতীয় দলে ফেরার সুযোগ নেই’

    ‘সাকিবের জাতীয় দলে ফেরার সুযোগ নেই’

    জাতীয় দলের হয়ে ঘরের মাঠে বিদায়ী সিরিজ খেলার আশা প্রকাশ করেছিলেন সাকিব আল হাসান। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পর সেই সম্ভাবনা আরও ক্ষীণ হয়ে গেছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সাকিবের দেশে ফিরে জাতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগ নেই। ক্রিকবাজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, সাকিবের জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনা তিনি দেখছেন না। তিনি বলেন, ‘তার দেশে ফিরে খেলার কোনো সুযোগ নেই।’

    ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই দেশ ছাড়েন। ওই সময় আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ছিলেন সাকিব। সম্প্রতি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর তাকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। আমিনুল হকের ভাষ্য, একজন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হিসেবে সাকিবের যে গ্রহণযোগ্যতা ছিল, রাজনৈতিক অবস্থান নেওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে গেছে।

    তিনি বলেন, ‘একজন ক্রিকেটার হিসেবে যে অবস্থানে তিনি ছিলেন, সেখান থেকে সরে গিয়ে যখন রাজনৈতিক পরিচয় বেছে নিয়েছেন, তখন আমার মনে হয় না তার দেশে ফিরে আসার কোনো সুযোগ আছে। দেশে ফিরলে তাকে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।’

    ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, এতদিন সাকিবকে মূলত একজন ক্রিকেটার হিসেবেই বিবেচনা করা হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক পদক্ষেপের পর সেই অবস্থান বদলেছে। তিনি বলেন, ‘একজন খেলোয়াড় হিসেবে আমি এবং অন্য সবাই তার বিষয়টি নিয়ে অনেক সহনশীল ছিলাম। কিন্তু এখন তার ফেরার জন্য কোনো ব্যবস্থা করার সুযোগ আছে বলে মনে করি না। তিনি স্বৈরাচারদের মঞ্চে উঠে তাদের সঙ্গে দাঁড়িয়েছেন। তাই তার দেশে ফিরে জাতীয় দলের হয়ে খেলার কোনো সুযোগ নেই।’

    এদিকে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাকিব আল হাসান বলেছেন, সরকারের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পেলে তিনি দেশে ফিরে বিচারের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে দেশের মাটিতে একটি বিদায়ী সিরিজ খেলা এবং ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের হয়ে মাঠে নামার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছিলেন।

    তবে সরকারের সর্বশেষ অবস্থানের পর সাকিবের সেই বিদায়ী সিরিজের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা।

  • খুলে ফেলছে মসজিদের মাইক

    খুলে ফেলছে মসজিদের মাইক

    শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণের নামে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মসজিদগুলো থেকে মাইক খুলে ফেলার প্রতিবাদে দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সাথে সাক্ষাৎ করেছেন স্থানীয় ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়ার (এনসিপিআই) তিনজন বিধানসভা মুসলিম সদস্য।

    বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দিল্লিতে অমিত শাহর সাথে তাদের এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় তারা দাবি করেন, শব্দদূষণ রোধে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা যেন সব ধর্মের ক্ষেত্রেই সমানভাবে কার্যকর হয়, শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট ধর্মকে এর জন্য টার্গেট করা উচিৎ নয়

    সাক্ষাতে যাওয়া তিন সংখ্যালঘু এমপি হলেন- আবু তাহের, খলিলুর রহমান এবং সাবেক ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠান। স্বল্প সময়ের বৈঠকে তারা রাজ্যে মসজিদ থেকে মাইক খুলে ফেলার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে উত্থাপন করেন।

    বৈঠক শেষে আবু তাহের স্পষ্ট জানান, সুপ্রিম কোর্টের গাইডলাইন তখনই তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে, যখন তা সব ধর্মের আচার-অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। দুর্গাপূজা বা কালীপূজার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম বলবৎ হলে তাদের কোনো আপত্তি নেই।

    তিনি বলেন, কিন্তু বেছে বেছে শুধুমাত্র মুসলিমদের টার্গেট করে মসজিদ থেকে মাইক নামানোর ঘটনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং বেদনাদায়ক।

    সূত্রের খবর, সাক্ষাৎকালে অভিযোগ শোনার পর অমিত শাহ এই বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।

    উল্লেখ্য, রাজ্য শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের পুরনো নির্দেশিকা এবং সুপ্রিম কোর্টের নিয়ম অনুযায়ী যেকোনো উপাসনালয়ে উচ্চস্বরে লাউডস্পিকার বাজানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এই নির্দেশিকা মেনেই সম্প্রতি রাজ্যজুড়ে একাধিক মসজিদ থেকে মাইক খোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে।

    তবে পুলিশের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই ‘স্বেচ্ছাচারী’ আচরণের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে আইএসএফ এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ। আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকিও এই বিষয়ে কলকাতা হাইকোর্টে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

  • সাফে আসছে আরও পাঁচ প্রবাসী ফুটবলার

    সাফে আসছে আরও পাঁচ প্রবাসী ফুটবলার

    হামজা চৌধুরীর আগমনের পরই বাংলাদেশের ফুটবলে যোগ হচ্ছেন একের পর এক প্রবাসী ফুটবলার। শমিত সোম, ফাহিমদুল ইসলামরা তো এখন লাল-সবুজের অন্যতম তারকা। তাদের দেখে ইউরোপ-আমেরিকাতে থাকা প্রবাসী ফুটবলাররা স্বপ্ন দেখছেন বাংলাদেশের জার্সি গায়ে জড়ানোর। এরই মধ্যে বয়সভিত্তিক দলে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলার যোগ দিয়েছেন। আগামী নভেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আগে আরও পাঁচ প্রবাসী ফুটবলার দেখা যেতে পারে বাংলাদেশ দলে।

    সেপ্টেম্বরে ফিফা উইন্ডো এবং সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ সামনে রেখে প্রবাসী ফুটবলার যোগ করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। এরই মধ্যে দুজনের খেলানোর ব্যাপারটি অনেকটাই চূড়ান্ত হয়েছে। যুক্তরাজ্য প্রবাসী উইঙ্গার ফারহান আলী এবং ফরোয়ার্ড জায়ান হাকিমের ফিফা ও এএফসি থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে বাফুফে। হয়তো কিছুদিনের মধ্যে এ দুই প্রবাসীর বাংলাদেশি হওয়ার সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। আরও তিন ফুটবলারের মধ্যে দুজন ইংল্যান্ডের এবং একজন জাপানের বলে গতকাল সমকালকে জানিয়েছেন বাফুফের সহসভাপতি ফাহাদ করিম। তবে কোচ তাদের ট্রায়ালে ডাকেন কিনা, সেটার অপেক্ষায় আছে ফেডারেশন। যে কারণে তিনজনের নাম এখনই প্রকাশ করতে চাইছেন না ফাহাদ করিম, ‘সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের চূড়ান্ত স্কোয়াডে পাঁচ প্রবাসীর মধ্যে কোচ কয়জনকে নেবেন, সেটা তাঁর এখতিয়ার। তবে আমি বলতে পারি, এই পাঁচজন বাফুফের ক্যাম্পে থাকবেন।’

    ইউরোপ-আমেরিকার ফুটবলার নিয়ে গত বছর ঢাকায় প্রবাসী ফুটবলারদের ট্রায়াল আয়োজন করেছিল বাফুফে। এই ট্রায়ালে অংশ নিয়েছিলেন প্রায় ৫০ জন প্রবাসী। ট্রায়াল থেকে খুব বেশি ফুটবলার খুঁজে পায়নি বাফুফে। তাই এবার ভিন্ন পথে হাঁটতে যাচ্ছে তারা। ঢাকায় না করে ইউরোপের কোনো দেশে ট্রায়ালের আয়োজন করতে চান ফাহাদ করিম, ‘আগামী গ্রীষ্মে আমার ইচ্ছা আছে ইউরোপের কোনো দেশে ট্রায়াল করা। সভাপতির সঙ্গে আলাপ করব। এরই মধ্যে কোচের সঙ্গে এটা নিয়ে কথা বলেছি, তিনি খুবই আগ্রহী।’

    প্রবাসীরা যেন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে কারণে ইউরোপে ট্রায়াল করার চিন্তা বলে জানান বাফুফের এ সহসভাপতি, ‘আমাদের বেশির ভাগ আবেদন আসছে ইউরোপ থেকে। বাংলাদেশে ট্রায়াল দেওয়ার জন্য আমরা তো তাদের কোনো অর্থ দেব না। কে টিকে, না টিকে, তা তো আমরা বলতে পারব না। আমরা দেখেছি অনেকেই নিজ খরচে আসতে চায় না বা পারে না। অনেকে আবার নিজ খরচে আসে; কিন্তু টিকে না। তখন আমাদের বদনাম করে যে দূর থেকে এলাম নিল না। তাই ইউরোপের লন্ডন বা যেসব জায়গা থেকে বেশি প্রবাসী আসবে, ওই জায়গায় করব যেন তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন।’

    সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আগে সেপ্টেম্বর উইন্ডো কাজে লাগাতে চায় বাফুফে। দুটো বিষয় নিয়ে চিন্তা করছে ফেডারেশন। কিরগিজস্তানে গিয়ে তিন জাতি টুর্নামেন্ট খেলবে অথবা ঢাকায় চার জাতি প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে। কোচ থমাস ডুলির চাওয়া ঢাকায় ম্যাচ খেলা। চার জাতি টুর্নামেন্টের জন্য স্বাগতিক বাংলাদেশ ছাড়াও কিরগিজস্তান ও মঙ্গোলিয়া চূড়ান্ত হয়েছে। বাকি একটি দেশ চূড়ান্ত করার চেষ্টা করছে বাফুফে।