রংপুর বিভাগ

  • সংখ্যালঘুরা জুলুমের শিকার হলে পাশে থাকবে এনসিপি: সারজিস

    সংখ্যালঘুরা জুলুমের শিকার হলে পাশে থাকবে এনসিপি: সারজিস

    পঞ্চগড়ে জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, যারা সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যায় কম তারা যদি অন্য যে কোনো ব্যক্তি, নেতা বা রাজনৈতিক দল, কারো দ্বারা বিন্দুমাত্র হুমকি, হয়রানি কিংবা জুলুমের শিকার হন, আপনারা আমাদের সাথে যোগাযোগ করবেন। আমরা পাশে থাকবো।

    শনিবার পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় কমিটি প্রকাশ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    এ সময় তিনি তার নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা কোনোদিন কারো পায়ে লাগতে যাবো না। কেউ যদি পায়ে পা দিয়ে লাগতে আসে আমরা তাদের ছাড়ও দেবো না। অন্য যে কোনো দলের যারা ভালো কাজ করবে, সে যেই দলই হোক না কেন, আপনারা তাদেরকে সমর্থন করবেন, সহযোগিতা করবেন। ভালোটাকে ভালো না বললে ভালো কাজে মানুষ উৎসাহ পাবে না।

  • দিনে কোটি টাকার জলপাই বিক্রি, যাচ্ছে বিদেশেও

    দিনে কোটি টাকার জলপাই বিক্রি, যাচ্ছে বিদেশেও

    জলপাইয়ের নাম শুনলে জিহ্বায় জল আসে না-এমন মানুষ বোধ হয় খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। তাছাড়া জলপাইয়ের কথা উঠলেই কবি সুকুমার রায়ের সেই বিখ্যাত নাটক অবাক জলপান এর কথাও স্মৃতিতে ভেসে উঠে। ছোটবেলায় জলপাই নিয়ে এমন হাসির নাটক পড়ে আমরা প্রায় সবাই কমবেশি হেসেছিও সমানতালে। আর এই জলপাই এখন পঞ্চগড় তথা দেশের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। প্রতিদিন জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলা শহরের দেবদারু তলায় বসছে জলপাইয়ের হাট। এটি দেশে জলপাইয়ের সর্ববৃহৎ হাট। এই হাটে প্রতিদিন গড়ে অন্তত ১০০ টন জলপাই বিক্রি হচ্ছে। যার বাজার মূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা।

    ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই দেবীগঞ্জের দেবদারু তলায় শুরু হয় জলপাই কেনাবেচা। বিভিন্ন স্থান থেকে ভ্যান, রিকশা, মোটরসাইকেল ও পিকআপ ভর্তি করে বস্তা বোঝাই জলপাই আসে বাজারে। রাজশাহী, নওগাঁ, বগুড়া, রংপুর ও দিনাজপুরসহ বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা এসে জলপাই কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। মানভেদে প্রতি কেজি জলপাইয়ের দাম পড়ছে ৩০ থেকে ৫০ টাকা। প্রতি বছর অক্টোবর মাস থেকে শুরু হয় জলপাই আহরণ। মৌসুমের ৩ মাস ধরে বেচাকেনা চলে জলপাই।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাঈম মোর্শেদ জানান, জলপাইয়ের এই হাটটি প্রতিদিনই সম্প্রসারিত হচ্ছে। একই সঙ্গে পঞ্চগড়ে জলপাইয়ের আবাদও বাড়ছে। আমরা চাষিদের ব্যাপারে খোঁজখবর নিচ্ছি। জলপাই চাষ করে চাষিরা লাভবান হচ্ছেন। পঞ্চগড়ে উৎপাদিত জলাপাই শুধু দেশের বাজারেই নয়। রপ্তানি হচ্ছে বিদেশেও। অনলাইনের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় জলপাই পাঠাচ্ছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। ফলে জেলার অর্থনীতিতে যোগ হয়েছে নতুন মাত্রা। জলপাই ব্যবসাকে ঘিরে পঞ্চগড় জেলার কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক ধারায় নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, পঞ্চগড়ে বড় পরিসরে বাগান না থাকলেও জেলায় ছোট ছোট খামার, বাড়ির উঠান, রাস্তার ধার ও জমির আইলে সব মিলিয়ে জলপাই চাষ হচ্ছে ১৩ দশমিক ৮ হেক্টর জমিতে। গত মৌসুমে পঞ্চগড়ে জলপাই উৎপাদন হয়েছে ৩ হাজার টন। এবার তা আরও বাড়বে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।

  • জুলাই সনদ ভঙ্গের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ শুরু করেছে বিএনপি: সারজিস আলম

    জুলাই সনদ ভঙ্গের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ শুরু করেছে বিএনপি: সারজিস আলম

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, জুলাই সনদ ভঙ্গের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ শুরু করেছে বিএনপি।

    তিনি বলেন, জুলাই সনদকে উপেক্ষা করে বিএনপি যদি মনে করে, তারা জনগণের বিপক্ষে গিয়ে রাজনীতি করে টিকে থাকতে পারবে এবং সংসদ স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করবে- তা সম্ভব নয়। কোনো একটা দল যদি তাদের দলীয় স্বার্থ বাস্তবায়ন করতে চায়, স্বৈরাচারের পথে হাঁটতে চায়, তাহলে জনগণ এবং আমরা বিরোধী দল একসঙ্গে প্রতিরোধ করব।

    তিনি আরও বলেন, আমরা সংসদের প্রথম অধিবেশনে এই রাষ্ট্রপতির অভিশংসন চেয়েছি, কারণ এ রাষ্ট্রপতির হাত ধরে নতুন সরকার চলতে পারে না।

    বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে পঞ্চগড় সরকারি অডিটোরিয়াম চত্বরের মুক্তমঞ্চে কিশোরকণ্ঠ ফাউন্ডেশনের আয়োজনে মেধাবৃত্তি পরীক্ষায় বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সারজিস আলম এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, আগামীতে বাংলাদেশের মানুষকে বিএনপি ভালো বার্তা দিল না। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন অনুযায়ী সংসদে স্পিকার সরকারি দল থেকে হলেও ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ডেপুটি স্পিকার দেওয়া হয়েছে বিএনপি সমর্থিত এমপি ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে।

  • কাউনিয়ার চর ঢুষমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি পূর্বের স্থানেই রাখার দাবীতে মানববন্ধন

    কাউনিয়ার চর ঢুষমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি পূর্বের স্থানেই রাখার দাবীতে মানববন্ধন

    কাউনিয়া উপজেলার সবার চর ঢুষমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি পূর্বের স্থানে রাখার দাবি জানিয়েছে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে এলাকাবাসী।

    মঙ্গলবার দুপুরে বিদ্যালয়ের সামনে অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও এলাকা বাসী এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। সেই সাথে বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতি অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে তারা।

    এলাকাবাসী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন কালে বলেন চর ঢুষমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণি পাঠদান কার্যক্রম প্রায় এক বছর ধরে স্থগিত রয়েছে। স্কুলে তালা ঝুলছে, ছাত্র-ছাত্রীরা অনুপস্থিত, ৩ বছর থেকে স্কুলের পরিচালনা কমিটি নেই। বিষয়টি নিয়ে ইতোপূর্বে লিখিত এবং মৌখিক ভাবে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হলেও কোন ফল পাওয়া যায়নি। বর্তমানে শোনা যাচ্ছে স্কুলটি অন্য জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা চলছে। ১৯৬০ সালে সরকারি হওয়া স্কুলটি কাউনিয়া থানার ৪০ নম্বর স্কুল নামে পরিচিত । বর্তমানে স্কুলের আশে-পাশের প্রায় ২০০ পরিবার বসবাস করে এবং স্কুলে ১০৫ জন ছাত্র-ছাত্রী থাকার পরেও স্কুলে ১ (এক) বছর ধরে তালা ঝুলে আছে। অন্যত্র সরিয়ে নিলে এলাকার কোমলমতি শিশুদের নদী পাড়ি দিয়ে অন্য গ্রামে গিয়ে লেখাপড়া করা প্রায় অসম্ভব। স্কুলটি নিয়ে বর্তমানে দুর্নীতি ও অনিয়ম সহ ছিনিমিনি খেলা চলছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ গত ১৯ ফেব্রুয়ার অত্র বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোঃ আসাদুজ্জামান তোতা ও মোঃ মুকুল ইসলাম সহ বহিরাগত কিছু কু-চক্রী মহল যোগসাজস করে উক্ত বিদ্যালয়টি অন্য জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার পায়তারা চালাচ্ছে। এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ তাদের বাধা দিলে তারা উক্ত বিদ্যালয়টি সরিয়ে নেওয়ার অনুমতি পত্র দেখিয়ে বলে আপনারা আমাদের বাঁধা দিয়ে কোন লাভ নেই। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা উক্ত বিদ্যালয়টি সরিয়ে নিচ্ছি।
    এলাকার মহৎ ব্যক্তিবর্গ ও ছাত্র-ছাত্রী এবং অভিভাবকবৃন্দ বিষয়টি জানতে পেরে স্কুল টি সরিয়ে নিতে নিষেধ করে। বর্তমানে উক্ত বিদ্যালয়টি পূর্বের স্থানেই বিদ্যমান আছে। অভিযোগ কারী নজরুল ইসলাম মানববন্ধন কর্মসূচি পালন কালে বলেন বিদ্যালয়টি যদি কখনো স্থানান্তর করার প্রয়োজন হয় আমরা এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উক্ত বিদ্যালয়ের জমি জায়গা দিতে প্রস্তুত আছি। স্কুলটি সরেজমিনে তদন্ত সাপেক্ষে পূর্বের স্থানেই কার্যক্রম চলমান রাখা ও পরিচালনার সু-ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য দাবী জানাচ্ছি।
    উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আঞ্জুমানআরা বেগম বলেন স্কুলটি পূর্বের স্থানে রাখার দাবীতে একটি অভিযোগ পেয়েছি বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানার কাছে একটি স্মারক লিপি প্রদান করা হয়। এ সময় পাপিয়া সুলতানা বলেন।স্কুলটি বন্ধ আছে কিনা এ বিষয়ে আমি ভালো জানিনা সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করে বিষয়টি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে অবগত করবো।

  • ন্যাশনাল লাইফ ইনস্যুরেন্স পিএলসি পীরগাছা জোনাল অফিসের আয়োজনে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

    ন্যাশনাল লাইফ ইনস্যুরেন্স পিএলসি পীরগাছা জোনাল অফিসের আয়োজনে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

    পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ন্যাশনাল লাইফ ইনস্যুরেন্স পিএলসি পীরগাছা জোনাল অফিসের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    রবিবার বিকালে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে জোন প্রধান নাছরীন নাহারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট ও রংপুর এরিয়া প্রধান বদিউজ্জামান।

    এজিএম জাকিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন সহকারী জোনাল ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম, ডিস্ট্রিক্ট কো-অর্ডিনেটর রেজাউল করিম, রহিমা খাতুনসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ও আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।

    এসময় বক্তারা রমজানের শিক্ষা ও তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, রমজান আত্মসংযম, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করার মাস। তারা প্রতিষ্ঠানের সেবার মান উন্নয়ন, গ্রাহকদের আস্থা অর্জন এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা পালনে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

    ইফতারের পূর্বে দেশ ও জাতির কল্যাণ, প্রতিষ্ঠানের উত্তরোত্তর সাফল্য এবং সকলের সুস্বাস্থ্য কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।

    পরে উপস্থিত সবার মাঝে ইফতার পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠানে পীরগাছা জোনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন শাখার প্রতিনিধি ও আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশগ্রহণ করেন।

    এ কে

  • তারাগঞ্জে অবৈধভাবে মাটি কাঁটার অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড

    তারাগঞ্জে অবৈধভাবে মাটি কাঁটার অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড

    রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে এক ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।

    রবিবার বিকালে উপজেলার খিয়ারজুম্মা বাজারের বাঙ্গালীপুর নামক স্থানে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।

    অভিযানকালে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ এর ১৫(১) ধারা লঙ্ঘন করায় উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের দোয়ালীপাড়া গ্রামের মোঃ ইদ্রিস আলীর ছেলে মোঃ হামিদুল ইসলাম (৩৫) কে এ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয় এবং তা আদায় করা হয়।

    ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট ও অতিরিক্ত কমিশনার (ভূমি) আসমা উল হুসনা। তিনি বলেন, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • এনসিপির ইফতারে যুবশক্তির নেতাদের পেটাল ছাত্রশক্তির নেতারা, আহত ৫

    এনসিপির ইফতারে যুবশক্তির নেতাদের পেটাল ছাত্রশক্তির নেতারা, আহত ৫

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বিভাগীয় ইফতার মাহফিলে রংপুরে জাতীয় যুবশক্তির রংপুর মহানগর ও জেলা নেতাদের ওপর মহানগর ছাত্রশক্তির কয়েকজন নেতা হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। যুবশক্তির নেতাদের দাবি, তাদের পাঁচ নেতাকর্মী হামলার শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজন বেসরকারি একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এছাড়া আরও দুইজন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

    বুধবার (১১ মার্চ) সন্ধ্যায় রংপুরের শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে হামলার এ ঘটনা ঘটে।

    ইফতার মাহফিলে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি, সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী, রংপুর বিভাগীয়আসাংগঠনিক সম্পাদক আতিক মুজাহিদ এমপি, জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি তারিকুল ইসলামসহ এনসিপির বিভিন্ন পর্যায়ের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

    রংপুরের এনসিপি, যুবশক্তি ও ছাত্রশক্তির কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই ইফতার মাহফিলে স্টেডিয়াম প্রবেশ ফটকে অভ্যর্থনার দায়িত্বে ছিলেন রংপুর মহানগর ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা।

    এনসিপির রংপুর মহানগর কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব আলমগীর নয়ন অভিযোগ করেন, কাউনিয়া-পীরগাছার যুবশক্তির পাঁচকর্মী এসেছিলেন। তাদের হাতে দাওয়াত কার্ড ছিল না। ছাত্রশক্তির নেতারা তাদের স্টেডিয়ামের ভেতরে ঢুকতে না দেওয়ায় তিনি তাদের ঢোকাতে যান। তখন ছাত্রশক্তির নেতারা সেখানে হট্টগোল শুরু করেন।

    অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রশক্তির মহানগর কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব ফারহান তানভীর ফাহিম বলেন, আমাদের রাজনৈতিক প্রোগ্রাম ছিল। এটা নিয়ে আমাদের হাউসে মিটিং হচ্ছে। এটা নিয়ে স্টেটমেন্ট (বক্তব্য) দেওয়ার কিছু নেই। তেমন কিছু হয়নি ওখানে। মারামারি দুই পক্ষের হয়েছে।

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আতিক মুজাহিদ বলেন, বিষয়টা নিয়ে আমরা বসেছি। যারা অন্যায় করেছে, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • বাংলাদেশি যুবককে ধরে নিয়ে গেছে বিএসএফ

    বাংলাদেশি যুবককে ধরে নিয়ে গেছে বিএসএফ

    লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্ত থেকে রাশেদুল ইসলাম নামে এক বাংলাদেশি যুবককে ধরে নিয়ে গেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।

    শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আটক রাশেদুল ইসলাম (২৫) পাটগ্রাম উপজেলা বাউড়া এলাকার বাসিন্দা।

    স্থানীয়রা জানায়, লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার ডাংগাটারী বিওপি ক্যাম্পের অধীন ৮০১/১১ নম্বর পিলারের কাছ দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে রাশেদুল ইসলাম। এ সময় ভারতীয় ৩০ বিএসএফের নিউ কুচলিবাড়ি ক্যাম্পের সদস্যরা তাকে আটক করে নিয়ে যায়।

    রংপুর ব্যাটালিয়ন (৫১ বিজিবি) বর্ডার গার্ড অধিনায়ক সেলিম আল দীন বলেন, আটক বাংলাদেশিকে ফেরত আনার বিষয়ে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে।

  • ৫৩ কোটি টাকার সম্পদের মালিক দুলু, আয় বেশি কৃষি খাতে

    ৫৩ কোটি টাকার সম্পদের মালিক দুলু, আয় বেশি কৃষি খাতে

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লালমনিরহাট-৩ (সদর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রংপুর বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু। তার বার্ষিক আয়ের প্রধান উৎস কৃষি। তার মোট স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৫৩ কোটি টাকা। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া তার হলফনামায় এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

    হলফনামা অনুযায়ী, এক সময়ের কলেজ অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু বর্তমানে তার পেশা হিসেবে ‘কৃষি ও ব্যবসা’ উল্লেখ করেছেন। তার স্ত্রী লায়লা হাবিব পেশায় একজন ব্যবসায়ী, বিশেষ করে পরিবহন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। দুলুর দুই সন্তানের মধ্যে আহনাফ হাবিব ইনতেসার বর্তমানে বেসরকারি চাকরিতে নিয়োজিত এবং ছোট ছেলে আহমিক হাবিব ইয়ারদান ছাত্র। দুই ছেলের নামে কোনো সম্পদ বা ব্যাংক জমার তথ্য হলফনামায় উল্লেখ নেই।

    আসাদুল হাবিব দুলুর বার্ষিক আয়ের বড় অংশ আসে কৃষি খাত থেকে। কৃষি খাতে বাৎসরিক আয় ১ কোটি ১৪ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭০ টাকা। বাড়ি/অ্যাপার্টমেন্ট/দোকান ভাড়া থেকে ১৪ লাখ ৬৭ হাজার টাকা। ব্যবসা থেকে ৫ লাখ ২৩ হাজার ৩৫৫ টাকা। অন্যান্য উৎস থেকে ৬ লাখ ৭২ হাজার ৭০২ টাকা। শেয়ার ও ব্যাংক আমানত রয়েছে ৪৬ হাজার ৪৩৪ টাকা।

    নির্বাচনী ব্যয়ের জন্য খোলা নতুন অ্যাকাউন্টে ১০ লাখ ৮২ হাজার ৮২০ টাকাসহ তার হাতে ও বিভিন্ন ব্যাংকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। নগদ অর্থ রয়েছে ১৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে সোনালী ব্যাংকে ৮ লাখ ৫৫ হাজার ৬৮৬ টাকা এবং ৩৮ হাজার ৭৬৯ টাকা (দুটি পৃথক হিসাব)। ব্যাংক এশিয়ায় ২৬ হাজার ৬৭৭ টাকা, এবি ব্যাংকে ৪৭ হাজার ৬৭৭ টাকা, প্রাইম ব্যাংকে ৩৫ হাজার ৬০৬ টাকা , ডাচ-বাংলা ব্যাংক ৩৮ হাজার ৭৬৯ টাকা, সিটি ব্যাংকে ২ হাজার ১৫৬ টাকা এবং ইসলামী ব্যাংকে নামমাত্র স্থিতি ২৬ টাকা রয়েছে।

    বিনিয়োগ ও বাহন হিসেবে দুলুর রয়েছে তালিকাভুক্ত নয়- এমন কোল্ড স্টোরেজ ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকার এবং ব্যাংকের শেয়ার, যার ক্রয়মূল্য ৪ লাখ ৪৮ হাজার ৬৪০ টাকা। যানবাহন হিসেবে তার মালিকানায় রয়েছে দুটি মাইক্রোবাস, দুটি বাস, একটি ট্রাক এবং একটি নতুন গাড়ি। এর মধ্যে মাইক্রোবাস দুটির বর্তমান বাজারমূল্য ৬২ লাখ ৩৭ হাজার টাকা এবং বাস দুটির বর্তমান মূল্য প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখ টাকা। ইলেকট্রনিক্স পণ্য, আসবাবপত্র ও একটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ অন্যান্য অস্থাবর সম্পদের বর্তমান আনুমানিক মূল্য ২ কোটি ৪৬ লাখ ৯৯ হাজার ১২০ টাকা।

    আসাদুল হাবিব দুলুর স্থাবর সম্পদের মধ্যে জমির পরিমাণই সবচেয়ে বেশি। এর মধ্যে কৃষি জমি ৩৬.৫১২ একর (সরকারি গড় মূল্য ২২ কোটি ৮৭ লাখ ১২ হাজার ৮৫৯ টাকা)। অকৃষি জমি ৪.৫৮৫৭ একর (সরকারি গড় মূল্য ২২ কোটি ৯৫ লাখ ৭৫ হাজার ৫৯১ টাকা)। ঢাকার বনানীতে ৩ কোটি টাকা মূল্যের একটি ভবন, লালমনিরহাটে ২০ লাখ ৬৪ হাজার টাকার সম্পদ এবং চা বাগান, রাবার বাগান ও মৎস্য খামার বাবদ ৩ কোটি ৭২ লাখ ৬০ হাজার ৫০ টাকার সম্পদ রয়েছে। সব মিলিয়ে তার স্থাবর

    স্ত্রী লায়লা হাবিবের নামে পরিবহন ব্যবসা, টিনশেড বাড়ি ও ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার রয়েছে। তার মোট সম্পদের বর্তমান বাজারমূল্য দেখানো হয়েছে ৮৭ লাখ ৪১ হাজার ৭৮৭ টাকা।

    আসাদুল হাবিব দুলু ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে এই আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। সংসদ সদস্য থাকাকালীন তিনি লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর বাঁধ নির্মাণ, আন্তঃনগর ট্রেন চালু, টিটিসি ও যুব উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন এবং ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণের মতো উল্লেখযোগ্য নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়।

  • ‘আপু’ সম্বোধন করায় আয়োজকের সঙ্গে ইউএনওর বাগবিতণ্ডার অভিযোগ

    ‘আপু’ সম্বোধন করায় আয়োজকের সঙ্গে ইউএনওর বাগবিতণ্ডার অভিযোগ

    লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামিমা আক্তার জাহানকে ‘আপু’ সম্বোধন করাকে কেন্দ্র করে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজকের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

    জানা গেছে, কালীগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ‘রয়েল ফুটবল একাডেমি’র ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সম্প্রতি একটি চড়ুইভাতি (পিকনিক) অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটি শেষ হতে রাত প্রায় ১২টা বেজে গেলে ইউএনও শামিমা আক্তার জাহান একাডেমির সহসভাপতি মেহেরবান মিঠুকে ফোন করে অনুষ্ঠানের বিষয়ে জানতে চান।

    ফোনালাপে মেহেরবান মিঠু জানান, রয়েল ফুটবল একাডেমির একজন সদস্য বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) সুযোগ পাওয়ায় তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছিল, সে কারণেই অনুষ্ঠান শেষ হতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘এখনি শেষ হয়ে যাবে, আপু।’ এ সময় ‘আপু’ সম্বোধন শুনে ইউএনও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান বলে অভিযোগ ওঠে।

    ফোনালাপের একটি অংশে ইউএনওকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি আপনার আপু নই—ফর ইউর কাইন্ড ইনফরমেশন। অনুমতি নেওয়ার সময় তো এত রাত হওয়ার কথা ছিল না। আপনি কি এই অনুষ্ঠানের অনুমতি নিতে এসেছিলেন?’ মিঠু জানান, এ সময় তিনি নিজে অনুমতি নিতে উপস্থিত ছিলেন না। পরে ইউএনওর কঠোর মনোভাবের কারণে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত অনুষ্ঠানটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

    ঘটনার পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

    অনেকেই মন্তব্য করেন, সরকারি কর্মকর্তাদের ‘স্যার’ বা ‘ম্যাম’ বলে সম্বোধনের কোনো সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নেই এবং ‘আপু’ একটি সম্মানসূচক সম্বোধন। আবার কেউ কেউ প্রশাসনিক শৃঙ্খলার বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।

    এ বিষয়ে রয়েল ফুটবল একাডেমির সহসভাপতি মেহেরবান মিঠু বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরি হওয়ায় আমি বিনয়ের সঙ্গে দুঃখ প্রকাশ করে ‘আপু’ বলেছিলাম। কিন্তু এতে তিনি ক্ষুব্ধ হবেন, তা ভাবিনি। বিষয়টি আমাদের সবাইকে কষ্ট দিয়েছে।’

    তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউএনও শামিমা আক্তার জাহান বলেন, ‘আপু বলার কারণে আমি রাগ করিনি। গভীর রাত পর্যন্ত অনুষ্ঠান চলছিল, তাই সেটি বন্ধ করতে বলেছি। বিষয়টি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।’

  • লালমনিরহাটে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ২০

    লালমনিরহাটে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ২০

    লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় নির্বাচনি প্রচারণা ও গণসংযোগককে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একে অপরকে দোষারোপ করেছে দুই দল।

    রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে হাতীবান্ধা উপজেলার টংভাঙ্গা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মেডিকেল মোড়-সংলগ্ন কসাইটারী এলাকায় এ সংঘর্ষ ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

    স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাট-১ (পাটগ্রাম ও হাতীবান্ধা) আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান রাজীব প্রধান। একই আসনে রোববার বিকেলে ওই এলাকায় দুই প্রার্থীর সমর্থকদের পৃথক গণসংযোগ চলাকালে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী আহত হন।জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট আনোয়ারুল ইসলাম রাজু।

    এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম রাজু জানান, সংঘর্ষের কারণ এবং আহতদের সংখ্যা সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত জানেন না। তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের ঘটনাস্থল থেকে তথ্য সংগ্রহ করার অনুরোধ জানান।

    সংঘর্ষের বিষয়ে জানতে বিএনপির প্রার্থী হাসান রাজীব প্রধানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

    জেলা পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, নির্বাচনি প্রচারণার সময় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিষয়টি নির্বাচনি আচরণবিধির আওতায় পড়ায় আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • নবাবগঞ্জে ৭০০ মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ

    নবাবগঞ্জে ৭০০ মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ

    দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে শীতার্ত মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ লাঘবে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছে উপজেলা জামায়াতে ইসলামী যুব বিভাগ। রিনাইসেন্স ডিজাইন লিমিটেডের সহযোগিতায় শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল ৯টায় হালুয়াঘাট মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।এ সময় উপজেলার বিভিন্ন মাদ্রাসার মোট ৭০০ শিক্ষার্থীর হাতে শীতবস্ত্র তুলে দেওয়া হয়, যা পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দের ঝলক ফুটে ওঠেশীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি সেলিম রেজা, বিনোদনগর ইউনিয়ন যুব বিভাগের সভাপতি আরিফুল ইসলাম, এবং রিনাইসেন্স ডিজাইন লিমিটেডের প্রতিনিধিরা।

  • বাস-ইজিবাইকের সংঘর্ষে  ৪ জন নিহত

    বাস-ইজিবাইকের সংঘর্ষে ৪ জন নিহত

    দিনাজপুরে মিনিবাসের সঙ্গে ইজিবাইকের সংঘর্ষে ৪ জন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় আরও ৪ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

    শনিবার (২২ নভেম্বর) দুপুরে দিনাজপুর–দশমাইল হাইওয়ের নদিনাজপুরে বাস-ইজিবাইক সংঘর্ষে একই পরিবারের ৪ জন নিহত। হাইওয়ের নশিপুরে গণগবেষণা কেন্দ্র সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি কোতয়ালি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামান জানান, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে দিনাজপুর–দশমাইল মহাসড়কের নশিপুর গবেষণা ইনস্টিটিউটের সামনে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী মিনিবাস ইজিবাইকটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই চার যাত্রীর মৃত্যু হয়। আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে।

  • পনেরো বছরের জঞ্জাল ১৫ মাসে পরিষ্কার করা যায় না: ধর্ম উপদেষ্টা

    পনেরো বছরের জঞ্জাল ১৫ মাসে পরিষ্কার করা যায় না: ধর্ম উপদেষ্টা

    অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনকালে ১৫ মাসে যথেষ্ট সফলতা আছে, তবে ১৫ বছরের জঞ্জাল ১৫ মাসে পরিষ্কার করা সম্ভব নয়। তারপরও আমি একটি ‌‌‘ট্রা‌ন্সপারেন্ট গভর্নমেন্ট প্রশাসন’ স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছি।

    শুক্রবার ( ৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পঞ্চগড়ের জালাসী এলাকায় পঞ্চগড় দারুল উলুম মদিনাতুল ইসলাম মাদরাসা মাঠে জেলার তৌহিদী জনতার উদ্যোগে আজিমুশ্বান শানে রিসালাত সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন

    তিনি বলেন, আমাদের সরকারের বয়স ১৫ মাস। আমরা বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছি। হজ্জ ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন এনেছি। মডেল মসজিদ রযেগুলো নির্মাণে দুর্নীতি অথবা অনিয়ম আছে, এগুলোর জন্য আমরা পাওয়ার ফুল কমিটি গঠন করেছি। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বেশ কিছু অনিয়ম ছিল। আমরা একজন সাবেক বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন করেছিলাম। কালকে আমাকে রিপোর্ট দিয়েছেন এবং ওনার েতদন্ত অনুযায়ী আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নিবো।

    তিনি আরও বলেন, হজে টাকা ফেরত দিয়েছি ৩৯ কোটি টাকা। যেগুলো এজেন্সির টাকা সৌদি আরবে ছিল। আমার মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতির কোনো স্কোপ নেই। আমি নিজেও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত নই। আমার অফিসারাও যাতে দুর্নীতিমুক্ত হয়ে থাকে, আমি যথেষ্ট সোচ্চার আছি।সম্মেলন বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি মাওলানা আব্দুল হান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, হাফেজ মাওলানা মাহমুদুল আলম, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ইকবাল হোসাইন, সেক্রেটারি মাওলানা দেলোয়ার হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সভাপতি আব্দুল হাই, সহসভাপতি ক্বারী মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সুলতান মাহমুদ, খেলাফত মজলিসের সভাপতি হাফেজ মীর মোর্শেদ তুহিন প্রমুখ।

    এর আগে, ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেনকে ক্রেস্ট ও ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। পরে পঞ্চগড় তৌহিদী জনতার পক্ষ থেকে ১২ দাবি সংবলিত একটি স্মারকলিপি তুলে দেন স্থানীয় আলেমরা।

  • ভুলভাবে রায় বাস্তবায়ন, খোলা আকাশের নিচে ৩ পরিবার

    ভুলভাবে রায় বাস্তবায়ন, খোলা আকাশের নিচে ৩ পরিবার

    নীলফামারীতে সহায়-সম্বল হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে ৩ সপ্তাহ ধরে মানবেতর জীবন-যাপন করছে ৩টি পরিবার।

    এ অমানবিক ঘটনাটি ঘটেছে ১১ অক্টোবর জেলা সদর উপজেলার চাপড়া সরমজানী ইউনিয়নের বাবরীঝাড় এলাকায়।

    দেন আদালত। এরই প্রেক্ষিতে ডিক্রিদার পক্ষে সিভিল কোর্ট কমিশনার অ্যাডভোকেট সাইদুল ইসলাম শাহের উপস্থিতিতে সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত নাজির মেহেদী পারভেজকে দখল প্রদানের নির্দেশ দেন আদালত।

    আদালতের নির্দেশে ওই উচ্ছেদ অভিযানে দায়িত্বরত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নালিশী জমির পাশাপাশি নালিশীর বাইরের ভূমির গাছপালাসহ স্থাপনা উচ্ছেদের অভিযোগ তুলছেন ভুক্তভোগীরা।

    বিবাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট বাবুল হোসেন জানান, বাদী পক্ষ লুৎফর রহমান গং নীলফামারী সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে অন্য ১৬/১৫ নম্বর মামলা করেন। উক্ত মামলায় নালিশী জমি ছিল চার শতাংশ এবং বাদী পক্ষের মোকদ্দমায় বিবাদীর তিনটি টিনের চালাঘর উচ্ছেদের নিমিত্তেই এই মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালত বাদীপক্ষকে চার শতাংশের মধ্যে টিনের চালাঘর অপসারণের রায় ডিক্রি প্রদান করেন। এতে বিবাদীপক্ষ সংক্ষুব্ধ হয়ে জেলা জজ আদালতে অন্য আপীল ৯৫/২৪ দায়ের করেন। বর্তমানে মামলাটি অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত-১ এ বিচারাধীন রয়েছে।

    বাদীপক্ষ অন্য ডিং ১৬/১৫ নম্বর মামলার রায় ডিক্রি প্রাপ্ত হয়ে সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে অন্য ডিং-০৫/২৪ মামলা করেন। যা বিবাদীপক্ষ অবগত ছিল না এবং অন্য ডিং-০৫/২৪ মামলা পরিচালনা সংক্রান্তে বিবাদী পক্ষ আদালত থেকে কোনো প্রকার নোটিশ প্রাপ্ত হননি। বিবাদী পক্ষ অন্য ডিং-০৫/২৪ মামলার দখলি পরোয়ানার বিষয়বস্তু জানতে পেরে মামলার কার্যক্রম স্থগিতের নিমিত্তে অন্য ৯৫/২৪ নম্বর মামলায় দরখাস্ত আনয়ন করলে, আদালত ২৩ সেপ্টেম্বর/২৫ শুনানির জন্য ধার্য করেন। কিন্তু বাদীপক্ষ স্থগিতের দরখাস্তের বিষয় জানতে পেরে নালিশী ভূমি দখলে নেয়ার পাঁয়তারা করে। এরই প্রেক্ষিতে গত ১১ সেপ্টম্বর/২৫ আদালত হতে দেনদার পক্ষের নালিশীয় চার শতাংশ জমির উপর চারটি টিনের চালাঘর উচ্ছেদের নির্দেশ থাকলেও, নালিশীয় চার শতাংশের অভ্যন্তরে ওই ৩টি টিনের চালাঘরসহ আরও বেনালিশীয় আটটি টিনের চালাঘর ভেঙ্গে ফেলা হয় এবং নালিশের বাইরের ভূমির গাছপালাও কেটে ফেলা হয়। এতে বিবাদীপক্ষের প্রায় ২৫ লাখ টাকা ক্ষতি হয়। আদালতের নির্দেশে ডিক্রিদার পক্ষে চার শতাংশ জমির উপর স্থাপনা উচ্ছেদের সময় জমি পরিমাপ করে বাদীপক্ষকে বুঝিয়ে দেয়া উচিত ছিল। কিন্তু বলাই বাহুল্য, যারা অপসারণের দায়িত্বে ছিল আদালতের আদেশ আইনানুগভাবে পালন না করায় চরমভাবে আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বিবাদীপক্ষ। তারা বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।

    সরেজমিনে দেখা যায়, আদালতের আদেশ ভুলভাবে বাস্তবায়নে সহায়-সম্বল হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে পলিথিনের ছাউনি দিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করলেও, আদালতের প্রতি ন্যায় বিচারে যথেষ্ট আশাবাদী তারা।

  • নবাবগঞ্জে জামায়াতের নতুন আমির নির্বাচিত

    নবাবগঞ্জে জামায়াতের নতুন আমির নির্বাচিত

    দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হয়েছে। মাওলানা আবুল কাসেমকে নবাবগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের নতুন আমির হিসেবে নির্বাচিত করা হয়

    জামায়াতের কেন্দ্রীয় নীতিমালা অনুযায়ী সম্প্রতি উপজেলা শূরা সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সর্বসম্মতিক্রমে মাওলানা আবুল কাসেমকে নতুন আমির নির্বাচিত করা হয়।

    মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ১০টায় নবাবগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের অফিসে আনুষ্ঠানিকভাবে জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ আনিসুর রহমান নতুন আমির মাওলানা আবুল কাসেমকে শপথ পাঠ করান। এসময় জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ড. মুহাদ্দিস এনামুল হক, সহকারী সেক্রেটারি সাইদুল ইসলাম সৈকত, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল ইসলাম, পেশাজীবী সেক্রেটারি আ. রহিমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

    উল্লেখ্য, নবাবগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের পূর্ববর্তী আমির অধ্যাপক নজরুল ইসলাম ২৭ অক্টোবর ভোরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তার মৃত্যুতে পদটি শূন্য ছিল।

  • বীরগঞ্জে দেড় শ বছরের ঐতিহ্যের ঘোড়া-মহিষের মেলা শুরু

    বীরগঞ্জে দেড় শ বছরের ঐতিহ্যের ঘোড়া-মহিষের মেলা শুরু

    দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলা সংবাদ

    দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের বৈরবাড়ী, চাপাপাড়া ও হিরামণি মৌজাজুড়ে শুরু হয়েছে উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী ও দেড়শ বছরের পুরোনো ঢেমঢেমিয়া কালিমেলা। বাংলা কার্তিক মাসের শ্যামাপূজার অমাবস্যা উপলক্ষে আয়োজন করা এই মেলা। শুধু পূজাকেন্দ্রিক নয়, এটি আজ গ্রামীণ সমাজ, লোকজ সংস্কৃতি ও বাণিজ্যের মহামিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। সাত দিনের পূজার আনুষ্ঠানিকতার পরও মেলার রেশ থাকে পুরো মাসজুড়ে।

    মেলায় সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ ঘোড়ার হাট। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী ও রংপুর থেকে আগত বিক্রেতারা এনেছেন তাজি, ভুটানি, মনিপুরী, পঙ্খীরাজ ও রাজা বাহাদুরসহ বিরল জাতের ঘোড়া।

    চিরিরবন্দর থেকে আসা বিক্রেতা ইউসুফ আলী জানান, তিনি চারটি ঘোড়া মেলায় নিয়ে এসেছেন। এর মধ্যে একটি তাজি জাতের ঘোড়ার দাম চেয়েছেন ৩ লাখ টাকা, তবে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত প্রস্তাব পাওয়া গেছে।ঘোড়ার পাশাপাশি মহিষের হাটেও চলছে পাল্টাপাল্টি দর-কষাকষি। সারি সারি পাড়া মহিষ, গয়াল ও দেশি জাতের মহিষ নিয়ে উপস্থিত হয়েছেন বিক্রেতারা। আকার ও ওজনভেদে প্রতি জোড়া মহিষের দাম দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত।

    ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরের আলম হোসেন বলেন, তিনি তিন জোড়া পাড়া জাতের মহিষ এনেছিলেন, যার মধ্যে দুই জোড়া তিনি বিক্রি করেছেন।এক জোড়া ৫ লাখ ৫০ হাজার ও আরেক জোড়া ৫ লাখ টাকা।

    মেলা প্রাঙ্গণে শুধু পশু বেচাকেনা নয়, রয়েছে গ্রামীণ উৎসবের পুরো আবহ। শিশুদের খেলনা, মিঠাই-মিষ্টি, নাগরদোলা, গৃহস্থালির সামগ্রী, হস্তশল্প ও লোকজ পণ্যের অসংখ্য দোকানে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। পুরোনো দিনের মেলার রঙ, তাল আর উচ্ছ্বাস এখনো অক্ষুণ্ন রেখেছে ঢেমঢেমিয়া কালিমেলা।

    মেলার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর আহমেদ বলেন, মেলা ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

    ক্রেতা-বিক্রেতা ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ঐতিহ্য ও স্বকীয়তা রক্ষায় স্থানীয় মেলা কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    উত্তরবঙ্গের গ্রামীণ ঐতিহ্য, সামাজিক সম্প্রীতি ও লোকসংস্কৃতির অমূল্য নিদর্শন হিসেবে ঢেমঢেমিয়া কালিমেলা প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধরে শুধু একটি মেলা নয়, বরং গ্রামবাংলার মানুষের মিলনমেলা ও স্মৃতির উৎসব হয়ে আছে।

  • আত্মগোপনে চেয়ারম্যান অদৃশ্যভাবে চলছে ইউপি, জনদুর্ভোগ চরমে

    আত্মগোপনে চেয়ারম্যান অদৃশ্যভাবে চলছে ইউপি, জনদুর্ভোগ চরমে

    • ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান আত্মগোপনে থেকে চালাচ্ছেন পরিষদের কার্যক্রম। ট্রেড লাইসেন্স, জন্মনিবন্ধন সনদ, নাগরিক সেবাসহ পরিষদের কাগজপত্র গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে পাঠিয়ে দিয়ে স্বাক্ষর নিয়ে কোনো রকমে চলছে পরিষদের কার্যক্রম। অন্যদিকে কাগজে-কলমে গ্রাম আদালত পরিচালনা হলেও বাস্তবে পরিষদ থাকে বন্ধ। জনগণের সেবায় পরিষদের চেয়ারম্যানের উপস্থিতি থাকা বাধ্যতামূলক হলেও দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে থেকে অদৃশ্যভাবে চালানো হচ্ছে পরিষদ। ফলে কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। চিত্রটি নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার চাঁদখানা ইউনিয়ন পরিষদের।গত বৃহস্পতিবার দুপুরে দেখা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সচিব, ইউপি সদস্য, গ্রাম আদালত পরিচালনার রুম তালাবদ্ধ। দুপুর ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থানকালে পরিষদের রুমগুলো বন্ধ পাওয়া যায়। এসময় শুধু অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটরের রুম খোলা পাওয়া যায়।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চাঁদখানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান যাদু মিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। ফ্যাসিস্ট সরকার পালিয়ে গেলে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম অদৃশ্য স্থান থেকে পরিচালনা করছেন। তিনি এক বছর ধরে পরিষদে আসেন না। তবে পরিষদের কাগজপত্র একজন গ্রাম পুলিশকে দিয়ে তার কাছে পাঠিয়ে দিয়ে স্বাক্ষর নেয়া হয়।গ্রাম আদালত পরিচালনা নেই বললে চলে। ট্রেড লাইসেন্স, জন্মনিবন্ধনসহ নাগরিক সেবার কাগজপত্রে জনগণকে বুড়িরহাটে গিয়ে স্বাক্ষর নিয়ে আসতে হয়। ফলে কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়াসহ জনগণের দুর্ভোগ বেড়েছে। চেয়ারম্যান মাঝে মধ্যে পরিষদের এলেও পাঁচ থেকে দশ মিনিটের বেশি থাকেন না বলে জানা গেছে। এছাড়া তিনি উপজেলা পরিষদের মাসিক সভা, আইনশৃঙ্খলা সভাসহ অন্যান্য সভায় রয়েছেন প্রায় ৮ মাস ধরে অনুপস্থিত। তবু তিনি রয়েছেন বহালতবিয়তে।ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন এলাকাবাসী একরামুল জানান, চেয়ারম্যান অনেক দিন ধরে অফিসে আসে না। ফলে জনগণের ভোগান্তি বেড়েছে। জনগণ যেখান থেকে সেবা পাওয়ার কথা, সেখান থেকে পাচ্ছে ভোগান্তি। দূরদূরান্ত থেকে লোকজন এসে যখন দেখছেন পরিষদে চেয়ারম্যান নেই, তখন তাদের বুড়িরহাটে চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়।গ্রাম পুলিশ আব্দুল ওহাবকে কাগজপত্রে স্বাক্ষর নিয়ে আসার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি স্বীকার করে বলেন, আমি কাগজপত্র চেয়ারম্যান সাহেবে যেখানে থাকে, সেখানে গিয়ে স্বাক্ষর নিয়ে আসি। আমাকে সচিব কাগজ দেন, আমি স্বাক্ষর নিয়ে আসি।হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মোর্শেদুল হক বলেন, আমরা জনগণকে সেবা দিচ্ছি। প্রথমে চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতির বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে তিনি তা স্বীকার করেন। অফিসের সব রুমে তালাবদ্ধ, কেউ কি অফিসে আসেন না, জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, সচিব ম্যাডাম কিছুক্ষণ আগে চলে গেছেন। গ্রাম আদালতের সব মামলা মীমাংসার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তাই আজ গ্রাম আদালত বসেনি। নাগরিক সনদে স্বাক্ষর নেয়া রয়েছে, জনগণ এলে দেয়া হয়। ট্রেড লাইসেন্স, জন্মনিবন্ধনসহ অন্যান্য নাগরিক সেবার জন্য চেয়ারম্যান সাহেবের কাছে পাঠিয়ে দেয়া হয়। চেয়ারম্যান না আসায় ট্রেড লাইসেন্সসহ নাগরিক সেবায় একটু হলেও ভোগান্তি হচ্ছে।ইউপি সচিব আনোয়ারা বেগম জানান, চেয়ারম্যান মাঝে মধ্যে আসেন। জনগণের অতি প্রয়োজন হলে বুড়িরহাটে তার নিজস্ব অফিসে পাঠানো হয়। নাগরিক সেবা দেয়া হচ্ছে। আমি অফিস থেকে কিছুক্ষণ আগে বাড়ি এসেছি।উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রীতম সাহা জানান, নাগরিক সেবা বঞ্চিত হচ্ছে, ভোগান্তি হচ্ছে এ রকম অভিযোগ আমাকে এখন পর্যন্ত কেউ দেয়নি। উপজেলা পরিষদের সভায় তিনি প্রতিনিধি পাঠান। ওই চেয়ারম্যানের সাথে এখন পর্যন্ত আমার দেখা হয়েছে বলে মনে পড়ে না। অফিস সময়ে ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান-ইউপি সদস্যদের উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক। কেন অফিস বন্ধ থাকে, কেন তিনি উপস্থিত থাকছেন না, এ ব্যাপারে খোঁজ-খবর নেয়া হচ্ছে।

  • বীরগঞ্জে হত্যা মামলায় ৬ আ.লীগ নেতা কারাগারে

    বীরগঞ্জে হত্যা মামলায় ৬ আ.লীগ নেতা কারাগারে

    বিডি নিউজ ডেস্ক:
    ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

    দিনাজপুরের বীরগঞ্জে শিবির কর্মী সালাউদ্দীন ও আসাদুল ইসলাম হত্যা মামলায় আ.লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুর ইসলাম নূর (৫৪), সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এমএ খালেক (৫৬) ও রেজাউল করিম শেখ (৫২)সহ ৬ নেতাকে কারাগারে প্রেরণ করেছে আদালত

    গ্রেপ্তারকৃত অন্যরা হলেন শতগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি অব. প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা (৬২), মো. আমিনুল ইসলাম (৫৫) ও যুবলীগ মরিচা ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক শফিউল আজম (৪৫)। বিকেলে তাদেরকে দিনাজপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

    বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক মো. আমিনুল ইসলাম।

    সূত্র মতে জানা যায়, গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর বীরগঞ্জ উপজেলার ভগিরপাড়া গ্রামের আবুল কালাম আজাদের স্ত্রী জহুরা বেগম বাদী হয়ে বীরগঞ্জ থানায় তার দুইপুত্রের হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য মনোরঞ্জনশীল গোপালসহ ২৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও প্রায় শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়।

    এজাহারে বলা হয়, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন বীরগঞ্জের ভেলাপুকুর এলাকায় আসামিদের হামলায় শিবির কর্মী সালাউদ্দিন (১৬) ও আসাদুল হক (১৫) গুরুতর আহত হন। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনই মারা যায়। তৎকালীন সময়ে পুলিশ মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানায় কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত বছর মামলাটি দায়ের করা হয়।

    বীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুল গফুর জানান, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

  • জিপিও ভবন ‘সচিবালয়ে যুক্ত করার প্রস্তাবের’ প্রতিবাদ

    জিপিও ভবন ‘সচিবালয়ে যুক্ত করার প্রস্তাবের’ প্রতিবাদ

    রাজধানীর গুলিস্তানে অবস্থিত জেনারেল পোস্ট অফিস (জিপিও) ভবন ও ডাক বিভাগের সাবেক প্রধান কার্যালয়কে পরিত্যক্ত ও অব্যবহৃত উল্লেখ করে তা সচিবালয়ের সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তার প্রতিবাদ করেছেন বিভাগের কর্মীরা। পাশাপাশি এই প্রস্তাব বাতিলের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

    সম্প্রতি বিসিএস পোস্টাল অ্যাসোসিয়েশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘটনায় উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে। সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক ও ডাক বিভাগের (ডাক জীবন বীমা, পূর্বাঞ্চল, ঢাকা) ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আতিয়া সুলতানা স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে ‘জিপিও ভবন পরিত্যক্ত ও অব্যবহৃত’ দাবি করে তা সচিবালয়ের এক্সটেনশন হিসেবে সচিবালয়ের মাস্টারপ্ল্যানে অন্তর্ভুক্তি ও হস্তান্তরের প্রস্তাব দিয়ে প্রধান উপদেষ্টার কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে।

    এ প্রস্তাবে উল্লিখিত তথ্যকে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উল্লেখ করে সংস্থাটি জানিয়েছে, জিপিও কম্পাউন্ড সরকারঘোষিত একটি কেপিআইভুক্ত স্থাপনা। এখানে ডাক বিভাগের ১৪টি অপারেশনাল অফিস সক্রিয়ভাবে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এখান থেকে ডাকসেবা গ্রহণ করছে। ডাক বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরবচ্ছিন্ন সেবা দেওয়ার এই কেন্দ্র কখনোই পরিত্যক্ত ছিল না।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কার্যালয় শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত ডাক ভবনে স্থানান্তরিত হলেও অন্যান্য অপারেশনাল অফিস আগের মতো জিপিও কম্পাউন্ডেই চলমান।

    ডাক বিভাগের মতামত ছাড়াই এ ধরনের চিঠি দেওয়া এবং তা প্রধান উপদেষ্টার কাছে উপস্থাপন করায় নিন্দা জানিয়ে বিসিএস পোস্টাল অ্যাসোসিয়েশন বলেছে, জিপিও ভবন শুধু একটি স্থাপনা নয়, এটি ডাক বিভাগের প্রায় ৪০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রাণের জায়গা, তাদের গর্ব ও ঐতিহ্যের প্রতীক। ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এই ভবন কেড়ে নেওয়ার যেকোনো উদ্যোগকে তারা সরাসরি দেশের ডাকসেবার ওপর আঘাত হিসেবেই বিবেচনা করে।

  • টক দইয়ের অম্বলের রেসিপি

    টক দইয়ের অম্বলের রেসিপি

    উপকরণ

    টক দই ২ কাপ, ডুমা ডুমা করে কাটা বেগুন ১ কাপ, শর্ষে অল্প পরিমাণ, পেঁয়াজবাটা ১ চা-চামচ, লবণ পরিমাণমতো, চিনি ১ টেবিল চামচ, শর্ষের তেল অল্প পরিমাণ।

    প্রণালি

    ডুমা ডুমা করে কাটা বেগুন ভেজে তুলে রাখুন। দই অল্প পানিতে মসৃণভাবে গুলে নিতে হবে। কোনো রকম দানা দানা ভাব থাকতে পারবে না। শর্ষে ফোড়ন দিয়ে পেঁয়াজবাটা হালকা করে ভেজে নিতে পারেন। গোলানো দই ঢেলে দিন। লবণ ও চিনি দিন। ফুটে উঠলে ভাজা বেগুনগুলো দিয়ে নামিয়ে নিন। দই বেশি ফুটতে থাকলে ফেটে গিয়ে ছানা কেটে যাবে। সেদিকে লক্ষ রাখুন।

  • গরমে শিশুর যত্নে এসব ভুল করছেন না তো?

    গরমে শিশুর যত্নে এসব ভুল করছেন না তো?

    প্রচণ্ড গরমে বড়দের চেয়ে অনেকটাই বেশি ঝুঁকিতে থাকে শিশুরা। তাপপ্রবাহে সহজেই পানিশূন্য হয়ে পড়তে পারে তাদের ছোট্ট দেহ। তৃষ্ণা পেলে অনেক সময় তারা তা ঠিকভাবে প্রকাশ করতে সক্ষম না-ও হতে পারে। শিশুরা যদি বোঝার মতো বয়সী হয়, তাহলে গরমের সময় কী খাওয়া উচিত, কী খাওয়া উচিত নয়—এসব বিষয়ে শিশুকে জানিয়ে রাখা ভালো। পোশাক বা খেলাধুলার মতো রোজকার সাধারণ ব্যাপারেও যত্নবান হোন। নিত্যদিনের জীবনযাপনে যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল হয়ে না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখুন।

    মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শিশু বিভাগের কনসালট্যান্ট ডা. তাসনুভা খান বলেন, ‘গরমে শিশুর পানির চাহিদা মেটানোর অর্থ কিন্তু এই না, তাকে বারবার জবরদস্তি পানি পান করাতে হবে। বরং তার দেহের চাহিদা বোঝার চেষ্টা করুন। শিশু প্রস্রাব করার সময় রং ও পরিমাণ খেয়াল করুন। শিশু যদি পর্যাপ্ত প্রস্রাব করে এবং প্রস্রাবের রং যদি হয় হালকা হলুদ খড়ের মতো, তাহলে

    এই চিকিৎসকের কাছ থেকে এই সময়ে শিশুর যত্নে কিছু ভুল সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

    পানি নিয়ে জোরাজুরি

    বয়স ছয় মাস পার হলে শিশুকে পানি পান করানো শুরু করতে হয়। দুই বছর বয়স পর্যন্ত মায়ের দুধ থেকেই পানির চাহিদা অনেকটা মিটে যায়। পানি, অন্যান্য তরল ও ফলমূল থেকেও সে পানি পায়। সারা দিনই মাঝেমধ্যে শিশুকে পানি বা তরল খাবার খেতে উৎসাহ দিন। ফলের রস বা স্মুদি করে দিতে পারেন। তবে খুব বেশি চিনি দেওয়া পানীয় দেবেন না। তার সঙ্গে নিজেও পানি পান করুন। স্কুলে গেলেও যাতে পর্যাপ্ত পানি পায়, সে ব্যবস্থা রাখুন। তবে পানিশূন্যতার লক্ষণ না থাকলে শিশুকে পানি পান করানোর ব্যাপারে জোর করবেন না। অকারণ বিরক্তি ভাব বা জেদ, খানিকটা নিস্তেজ ভাব, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, গাঢ় হলুদ বা কমলা রঙের প্রস্রাব হওয়া, মুখ বা জিব শুকিয়ে যাওয়া, চোখ বসে যাওয়া প্রভৃতি হতে পারে পানিশূন্যতার লক্ষণ।

    যা খুশি তা–ই খাওয়া

    গরমে পানি ও খাবারের মাধ্যমে বহু মারাত্মক রোগ ছড়ায়। অস্বাস্থ্যকর উপায়ে তৈরি করা পানীয় ও খাবারের মাধ্যমে জীবাণু সংক্রমণ হয়। এগুলো এড়িয়ে চলার ব্যাপারে শিশুকে বুঝিয়ে বলুন, স্কুলের পথে একলা সুযোগ পেলেও যেন সে এসব খাবার না খায়। রসনার তৃপ্তি মেটাতে বাড়িতে তার পছন্দের খাবার ও পানীয় তৈরি করে দিন। আইসক্রিম খাওয়া নিয়ে অতিরিক্ত কড়াকড়ি করবেন না, যদি না ঠান্ডায় তার খুব বেশি অ্যালার্জি থাকে। মাঝেমধ্যে আইসক্রিম বা হালকা ঠান্ডা পানীয় খাওয়ার সুযোগ দিন, তবে তা যেন নিরাপদভাবে তৈরি করা হয়। তাকে এটাও বুঝিয়ে বলুন, কড়া রোদ থেকে ঘরে বা ক্লাসে ঢোকামাত্রই ঠান্ডা কিছু খাওয়া উচিত নয়। একটু রয়েসয়ে তারপর সে খেতে পারে হালকা ঠান্ডা পানীয় বা খাবার।

    পোশাক ও পরিচ্ছন্নতার ভুল

    • বাইরে গেলে হাতাকাটা পোশাক পরানো ভুল। কারণ, তাতে রোদ আর ধুলা–ময়লায় বেশি ক্ষতি হয়। পাতলা সুতি কাপড়ের ফুলহাতা জামা-পায়জামা পরালে শিশু সুরক্ষিত থাকবে।

    • আঁটসাঁট পোশাক পরানোও ভুল।

    • গাঢ় রঙের পোশাক পরানোও উচিত নয়। কারণ, এগুলো তাপ ধরে রাখে।

    • যিনি খাবার প্রস্তুত বা পরিবেশন করবেন, হাত ধোয়ার ব্যাপারে তাঁর উদাসীন হওয়াটা মারাত্মক ভুল।

    • দুধ ও অন্যান্য খাবার খুব বেশি সময় বাইরে রাখা ঠিক নয়। এগুলো গরমে নষ্ট হয়ে যায়। সব খাবারই সঠিক তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা জরুরি।

    খেলার সময়কার ভুল

    • কড়া রোদের সময় বাইরে বা ছাদে খেলতে দেওয়ার ভুলটা করবেন না। খুব গরমে ঘরেই খেলুক। দুপুরে স্কুলে থাকলেও যাতে সে ভুলটা না করে।

    • শিশু যদি পার্কে খেলতে যায়, তাহলে তাকে আগেই ধাতব খেলার সামগ্রীগুলোতে উঠতে দেওয়া আরেক ভুল। প্রথমে এগুলোর তাপমাত্রা হাতের তালুর উল্টো পিঠ দিয়ে পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত। কারণ, দুপুরের রোদের তাপে উত্তপ্ত হয়ে ওঠা ধাতবসামগ্রী পরেও গরম থাকতে পারে। এগুলো তাপমাত্রাসহনীয় হলে তাকে উঠতে দিন।

    • পানির কাছে তাকে একা ছাড়ার ভুলটি করা যাবে না। ঝোপঝাড়ে শিশু যেন হাত না দেয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন।