রাজনীতি

  • প্রবাসী ভোটার: তিন দিনে নিবন্ধন ৮৫৮৪

    প্রবাসী ভোটার: তিন দিনে নিবন্ধন ৮৫৮৪

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ করে দিতে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ নামের একটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে।

    মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন অ্যাপটি উদ্বোধন করেন। দেশের ইতিহাসে এই প্রথম প্রবাসীরা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

    পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপে তিন দিনে ৮ হাজার ৫৮৪ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে পুরুষ ৭ হাজার ৯৩৩ জন ও নারী ৬৫১ জন।

    শনিবার (২২ নভেম্বর) দুপুরে পোস্টাল ভোট বিডি নিবন্ধন অ্যাপ থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

    নির্বাচনে ভোট দিতে আগ্রহীরা গত তিনদিনে ২৯ দেশ থেকে নিবন্ধন করেছেন। নিবন্ধিতদের প্রায় অর্ধেকই দক্ষিণ কোরিয়া প্রবাসী। সবচেয়ে বেশি নিবন্ধন করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার ৩ হাজার ৯৬৮ জন। এছাড়া দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জাপানের এক হাজার ৯৮৪ জন। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে এক হাজার ২৩ জন নিবন্ধন করেছেন।
    নিবন্ধিতরাই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে পারবেন। এক্ষেত্রে নিবন্ধনের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঁচ দিন করে নিবন্ধনের সময় বেঁধে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

    প্রবাসীরা প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন যে পদ্ধতিতে
    এ বিষয়ে আউট অব কান্ট্রি ভোটিং সিস্টেম অ্যান্ড ইমপ্লিমেন্টেশন (ওসিভি-এসডিআই) প্রকল্পের টিম লিডার অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সালীম আহমাদ খান জানান, প্রথম পর্বে ১৯ নভেম্বর থেকে ২৩ নভেম্বর নিবন্ধন করতে পারবেন পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকা অঞ্চলের ৫২ দেশের প্রবাসী বাংলাদেশি ভোটাররা। ২৩ নভেম্বর এ পর্বের পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যাবে।

    বাকি দেশগুলোতে থাকা প্রবাসী ভোটাররা ধাপে ধাপে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত নিবন্ধনের সুযোগ পাবেন। প্রতিটি অঞ্চলের জন্যই পাঁচদিন করে নিবন্ধনের সময় দেওয়া হবে।

    পাশাপাশি দেশের ভেতরে থাকা তিন ধরনের ব্যক্তিদের নিবন্ধনের আওতায় আনা হয়েছে। ১৯ ডিসেম্বর থেকে ২৩ ডিসেম্বরের মধ্যে তারা নিবন্ধন করতে পারবেন। বাদ পড়া প্রবাসীরাও এসময় নিবন্ধন করতে পারবেন।

  • জাতীয় নির্বাচনের দিন গণভোটের প্রস্তুতি নিতে ইসিকে চিঠি দিয়েছে সরকার

    জাতীয় নির্বাচনের দিন গণভোটের প্রস্তুতি নিতে ইসিকে চিঠি দিয়েছে সরকার

    গণভোটের প্রস্তুতি নিতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) চিঠি দিয়েছে সরকার। চিঠিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনেই গণভোটের আয়োজন করতে বলা হয়েছে। আজ ২২ নভেম্বর) ইসির সচিব আখতার আহমেদ এই তথ্য জানান।

    তিনি বলেন, সরকার চিঠি দিয়ে জানিয়েছে-গণভোট করা ইসির দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট করার জন্য বলা হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে তফসিল দিয়ে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট করার পরিকল্পনা রয়েছেন নির্বাচন কমিশনের।

  • ইনসাফ কায়েম না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম চলবে : সাদিক কায়েম

    ইনসাফ কায়েম না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম চলবে : সাদিক কায়েম

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েম বলেছেন, জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে আমরা তরুণ প্রজন্ম নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। গত ৫৪ বছরেও বাংলাদেশের মানুষের মুক্তি হয়নি। যতদিন ইনসাফ কায়েম না হবে, ততদিন আমাদের সংগ্রাম চলবে। এদেশের তরুণ প্রজন্ম ভোট থেকে বঞ্চিত হয়েছে, এবার সময় এসেছে ভোটের মাধ্যমে ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হবে।

    শুক্রবার (২১ নভেম্বর) বিকেলে ঝিকরগাছা উপজেলা জামায়াতের আয়োজিত গণজমায়েতে এসব কথা বলেন তিনি। উপজেলার বিএম মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সমাবেশটির আয়োজন করা হয়।

    সাদিক কায়েম বলেন, বাংলাদেশে যারা রাজনীতি করে, তারা রাজনীতি নিয়ে ব্যাবসা করে। ক্ষমতায় বসলে আর সাধারণ মানুষের খোঁজ কেউ করে না। এমনকি দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ান করার দৃষ্টান্তও রয়েছে। আমরা রাজনীতির নতুন দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করতে চাই। যে রাজনীতি হবে গরিবের জন্য, সমতার জন্য, মুক্তির জন্য, ইসলামের জন্য। চিকিৎসা ব্যবস্থার আমল পরিবর্তন দরকার। হাসপাতালের সিন্ডিকেটমুক্ত করতে হবে।

    তিনি আরও বলেন, একটা রাজনীতিক দল নির্বাচন হওয়ার আগেই ঘোষণা দিয়েছে তারা ক্ষমতায় চলে এসেছে। কেউ যদি আবার নব্য ফ্যাসিস্ট হতে চান, আবার কেন্দ্র দখল করে ম্যাকানিজম করতে চান, তাহলে তাদের অবস্থাও ভয়াবহ হবে নির্বাচনের দিন কেন্দ্র পাহারা দিতে হবে। এখনো শেখ হাসিনাকে দায়মুক্তি দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। খুনি হাসিনার রাজনীতি এই বাংলাদেশে আর হবে না। একইসঙ্গে খুনি হাসিনার দোসরদের বাংলাদেশে রাজনীতি করবে তারাই, যারা বাংলাদেশপন্থি।
    ডাকসুর ভিপি বলেন, জুলাই বিপ্লবের শুরু থেকেই আমরা যুক্ত ছিলাম। আমরা যখন যৌক্তিক আন্দোলন করেছিলাম খুনি হাসিনা আমাদের রাজাকার ট্যাগ দিয়ে আন্দোলন দমানোর চেষ্টা করেছিল। এমনকি হাসপাতালে নেওয়ার পরও আমাদের উপর হামলা চালানো হয়, সেসময়ও সহযোগিতা করেছেন মসলেহ উদ্দিন ফরিদ। তিনি জুলাইয়ে যোদ্ধা। সত্যকে বিজয় করার জন্য, স্বপ্নের চৌগাছা ও ঝিকরগাছা করার জন্য আমাদের মসলেহ উদ্দিন ফরিদ ভাইকে দরকার। বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে হবে।

    ঝিকরগাছা উপজেলা জামায়াতের আয়োজিত গণজমায়েতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত এমপি প্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক মো. আরমান হোসেন, যশোর-৩ (সদর) আসনের প্রার্থী আব্দুল কাদের, যশোর-১ (শার্শা) আসনের প্রার্থী আজিজুর রহমান ও যশোর-৫ আসনের প্রার্থী গাজী এনামুল হক, জামায়াত নেতা গোলাম কুদ্দুস প্রমুখ।

    সভাপতিত্ব করেন ঝিকরগাছা উপজেলা আমির আব্দুল আলিম। বক্তব্য দেন যশোর জেলা পশ্চিমের মো. ইসমাইল হোসেন। সঞ্চালনা করেন ঝিকরগাছা উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি নজরুল ইসলাম ও শিবির নেতা খালিদ বিন খলিল।

  • ভূমিকম্পের ঘটনায় জামায়াত আমিরের শোক

    ভূমিকম্পের ঘটনায় জামায়াত আমিরের শোক

    ভয়াবহ ভূমিকম্পে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখপ্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমানশুক্রবার (২১ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে তিনি এ শোক ও দুঃখপ্রকাশ করেন।

    ওই বিবৃতিতে ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটের সময় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এই ভূমিকম্পে ইতোমধ্যে ঢাকা ও নরসিংদীতে দু’ শিশুসহ কমপক্ষে ছয়জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, গাজীপুরে কারখানা শ্রমিক ও ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তিন শ’র কাছাকাছি মানুষের আহত হওয়ার খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। আমি এই মর্মান্তিক হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখপ্রকাশ করছি।’

    তিনি বলেন, ‘আমি নিহতদের রূহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং আহত ও নিহতদের পরিবার-পরিজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আহত ও নিহতদের পরিবার-পরিজনদের সবরে জামিল দান করুন।’

    তিনি বলেন, ‘আহতদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত এবং নিহত ও আহতদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। পাশাপাশি আহতদের শিগগিরই আরোগ্য কামনা করছি।’

    তিনি আরো বলেন, ‘বিল্ডিং কোড মেনে বহুতল ভবন নির্মাণ হচ্ছে কি না তা কঠোরভাবে তদারকি করতে হবে। পাশাপাশি ভূমিকম্পজনিত ক্ষয়ক্ষতি কমাতে জনগণকে আরো সচেতন করা সরকারের দায়িত্ব। আমি আশা করি, জনগণ ধৈর্য ও সাহসিকতার সাথে এই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি অতিক্রম করতে সক্ষম হবেন, ইনশাআল্লাহ।’

  • প্রধান উপদেষ্টা ও খালেদা জিয়ার সঙ্গে জামায়াত আমিরের সাক্ষাৎ

    প্রধান উপদেষ্টা ও খালেদা জিয়ার সঙ্গে জামায়াত আমিরের সাক্ষাৎ

    অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষৎ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

    শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর সেনাকুঞ্জে সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের ফাঁকে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তারা। এ সময় পারস্পরিক কুশল বিনিময় ও শারীরিক সুস্থতার খোঁজ নেন।
    এর আগে, সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে সেনাকুঞ্জে পৌঁছান বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এ তথ্য জানান বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান।

    প্রধান উপদেষ্টা এ সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক অবস্থার বিষয়ে খোঁজ নেন এবং তার সুস্থতা কামনা করেন।

    বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানান। তিনি প্রধান উপদেষ্টার সহধর্মিণী আফরোজী ইউনূসের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন এবং শুভকামনা জানান।

  • বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে দেশকে রক্ষায় প্রস্তুত থাকতে হবে

    বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে দেশকে রক্ষায় প্রস্তুত থাকতে হবে

    যেকোনো বহিঃশত্রুর আগ্রাসী আক্রমণ থেকে দেশকে রক্ষায় আমাদের সদা প্রস্তুত থাকতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শুক্রবার সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে সেনাকুঞ্জে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

    বক্তব্যের শুরুতে ভূমিকম্পে হতাহতের ঘটনায় শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন প্রধান উপদেষ্টা। পরে স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ এবং ২৪-এর অভ্যুত্থানে শহিদদের স্মরণ করেন তিনি।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি জুলাই অভ্যুত্থান ও চলমান রাষ্ট্র সংস্কারে সেনাবাহিনী জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের আস্থার প্রতি সম্মান জানিয়ে যাচ্ছে। শান্তিপ্রিয় জাতি হিসেবে বন্ধু রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্মানজনক ও বৈশ্বিক সহবস্থানে বিশ্বাসী। তবে যেকোনো বহিঃশত্রুর আগ্রাসী আক্রমণ থেকে দেশকে রক্ষায় আমাদের সদা প্রস্তুত থাকতে হবে।

    নির্বাচন আনন্দ ও উৎসবমুখর করতে সবাইকে মিলিতভাবে চেষ্টা চালানোর আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে আগামী নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ, এই নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনীকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা নতুন বাংলাদেশের পথে যাত্রা করবো।

    এক্ষেত্রে সশস্ত্রবাহিনীর উন্নয়ন ও দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, সশস্ত্রবাহিনীর উন্নয়ন দরকার। ফ্যাসিস্ট আমলে দক্ষতা উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকার এ বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের পদক্ষেপ দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়িয়েছে।

    জাতিসংঘে বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যদের অবদানের প্রশংসা করে তিনি বলেন, বর্তমানে ১০টি মিশনে সেনা সদস্যরা কাজ করছেন। বৃহৎ নারী শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশও আমরা, কাতার আমাদের থেকে জনবল নেবে, এসব আমাদের গৌরবের স্বীকৃতি।

    ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই দিনে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য, মুক্তিযোদ্ধা এবং বাঙালি জনগণ সম্মিলিতভাবে দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সমন্বিত আক্রমণ পরিচালনা করেছিলেন।

    তিনি বলেন, এই ঐতিহাসিক সমন্বিত অভিযান আমাদের বিজয়কে ত্বরান্বিত করেছিল। স্বশস্ত্র বাহিনীর সদস্য ও সাধারণ মানুষের অতুলনীয় ত্যাগের মাধ্যমে আমরা অর্জন করেছি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ।

    ড. ইউনূস শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিত খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারবর্গের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। এ সময় তিনি ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের শহিদদেরও স্মরণ করেন।

    প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ঘটনা হলো মহান মুক্তিযুদ্ধ। এই যুদ্ধে অর্জিত বিজয়ের মাধ্যমে পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

    তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাত থেকে বাঙালি সেনারা সেনানিবাস ত্যাগ করে সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। একই সঙ্গে আমাদের কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র-জনতা-সাধারণ মানুষ যার যা ছিল তাই নিয়ে যুদ্ধে অংশ নেন। এভাবে যুদ্ধটি একটি সর্বাত্মক জনযুদ্ধে রূপ নেয়।

    প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধকে সাংগঠনিক রূপ দেয়ার জন্য একপর্যায়ে যুদ্ধরত সব বাহিনীকে ‘বাংলাদেশ ফোর্সেস’ নামে একীভূত করা হয় এবং সমগ্র দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে অসামান্য সাহসিকতার সঙ্গে যুদ্ধ পরিচালিত হয়।

    তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, তৎকালীন পাকিস্তান নৌবাহিনীতে কর্মরত বাংলাদেশি সাবমেরিনার ও নাবিকদের সমন্বয়ে গঠিত নৌকমান্ডো দল ‘অপারেশন জ্যাকপট’ নামে দুঃসাহসী অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন নদীবন্দরে খাদ্য ও রসদবাহী জাহাজ ডুবিয়ে দেয়। বিমানবাহিনীর সদস্যদের নিয়ে গঠিত ‘কিলোফ্লাইট’ চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সফল হামলা চালায়। এসব দুঃসাহসী অভিযান আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে চিরকাল উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।

    নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, প্রযুক্তি, অর্থনীতি ও সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। তরুণ সমাজকে সম্পদের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও মেধাভিত্তিক সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটিয়ে দেশগঠনে অবদান রাখতে সক্ষম করতে হবে। জুলাই ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার সাহস ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আমাদের সুন্দর ও সমৃদ্ধশালী ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হবে।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহিদ, আহত ও জীবিত ছাত্র-জনতার প্রতি আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকব যেন তাদের দেয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে বিশ্বের সামনে গণতান্ত্রিক উত্তরণের এক দৃষ্টান্ত হিসেবে উপস্থাপন করতে পারি।

  • বিএনপির মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানববন্ধন

    বিএনপির মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানববন্ধন

    বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিএনপির নেতাকর্মীরা।শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় আগৈলঝাড়ার সদরে হিন্দু সম্প্রদায়ের ব্যানারে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়।এতে নির্বাচনি এলাকার বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের শত শত নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। এ সময় তারা ২০০১ সালের নির্বাচনের পর এ এলাকার হাজার হাজার হিন্দু নারী-পুরুষের ওপর হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন।হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা নবীন সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে রবীন্দ্রনাথ গাইন বলেন, বিএনপির ঘোষিত খসড়া তালিকায় যাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, তিনি বিগত ওয়ান-ইলেভেনের সময় জিয়াউর রহমানের পরিবার ও দলকে নিয়ে বিষোদগার করেন। এছাড়াও তিনি সংসদ সদস্য থাকাকালীন এ আসনে সবচেয়ে বেশি সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।এ আসনে যাকে (জহির উদ্দিন স্বপন) মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে তা বাতিল করে ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহানকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি করেন তারা।বিক্ষোভ সমাবেশে আগৈলঝাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ডা. মাহবুবুল ইসলামসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • খালেদা জিয়া ও ড. ইউনূসের কুশল বিনিময়

    খালেদা জিয়া ও ড. ইউনূসের কুশল বিনিময়

    বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ঢাকা সেনানিবাসে সেনাকুঞ্জে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। এসময় তাকে অভ্যর্থনা জানান সেনা প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ জামান ও বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।

    অনুষ্ঠানে বেগম খালেদা জিয়ার বসার ব্যবস্থা হয়েছিল প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের পাশের আসনে। ড. ইউনূস এবং খালেদা জিয়াকে এ সময় হাসিমুখে কুশল বিনিময় করতে দেখা যায়।

    শুক্রবার বিকেল ৪টায় গুলশানের বাসা ফিরোজা থেকে সেনানিবাসের উদ্দেশ্যে রওনা হন খালেদা জিয়া। তার সঙ্গে একই গাড়িতে ছিলেন তার ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শামিলা রহমান সিঁথি, খালেদা জিয়ার প্রয়াত ভাই সাঈদ ইসকান্দারের স্ত্রী নাসরিন ইসকান্দার।

    বিএনপি চেয়ারপারসনের গাড়িবহরের সঙ্গে ছিলেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খালেদা জিয়ার মেডিকেল বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদার, এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহ উদ্দিন আহমদ, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ সেনাকুঞ্চের এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

    ছয় বছর পর গতবছর এই সেনাকুঞ্জের অনুষ্ঠানেই প্রকাশ্যে দেখা দিয়েছিলেন খালেদা জিয়া।

    নানা ধরনের অসুস্থতার কারণে এখন তিনি রাজনৈতিক কোনো কর্মসূচিতে অংশ নেন না। গত এক বছরের মধ্যে কেবল একবারই তাকে প্রকাম্যে দেখা গিয়েছিল। গত ৮ অক্টোবর রাতে তিনি তার স্বামী, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করতে শেরেবাংলা নগরে গিয়েছিলেন।

  • ভূমিকম্পে হতাহতদের জন্য তারেক রহমানের শোক

    ভূমিকম্পে হতাহতদের জন্য তারেক রহমানের শোক

    ঢাকাসহ সারাদেশে ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই শোক প্রকাশ করেন তিনি।

    বিবৃতিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘আজ বাংলাদেশে প্রবল ভূমিকম্পে মানুষের প্রাণহানি এবং ক্ষয়ক্ষতিতে আমি গভীরভাবে শোকাভিভূত। এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে আমি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের প্রতি সংহতি ও সহানুভূতি প্রকাশ করছি। আমি মহান রাব্বুল আলামীনের নিকট দোয়া করছি, তিনি যেন ভূমিকম্পে হতাহতদের পরিবারবর্গকে শোক ও কষ্ট সহ্য করার ক্ষমতা দান করেন।’

    বিবৃতিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘সরকার পূর্ব থেকেই সতর্ক থাকলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার উন্নতি ঘটানোসহ মানুষকে সুরক্ষিত রাখা ও ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব হতো। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের পাশে রয়েছে।’

    বিবৃতিতে তিনি ভূমিকম্পে নিহতদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত এবং তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা ও আহত মানুষদের আশু সুস্থতা কামনা করেন।

  • নির্বাচন পরিচালনার জন্য এনসিপির ১৬ উপ কমিটি

    নির্বাচন পরিচালনার জন্য এনসিপির ১৬ উপ কমিটি

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে মোট ১৬টি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সেক্রেটারি ডা. তাসনিম জারা এই কমিটির অনুমোদন দিয়েছেন।

    শুক্রবার (২১ নভেম্বর) দলের মিডিয়া সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

    দপ্তরের কমিটির প্রধান হয়েছেন সাদিয়া ফারজানা দিনা এবং সেক্রেটারি হয়েছেন মো. তৌহিদ আহমেদ আশিক। আন্তর্জাতিক মিশন বিষয়ক উপ-কমিটির প্রধান মাহবুব আলম মাহির এবং সেক্রেটারি আলাউদ্দীন মোহাম্মদ। আইটি বিষয়ক উপ-কমিটির প্রধান ফরহাদ আলম ভূঁইয়া এবং সেক্রেটারি তারিক আদনান মুন৷

    প্রশাসন বিষয়ক উপ-কমিটির প্রধান অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন এবং সেক্রেটারি আরমান হুসাইন। নির্বাচন কমিশন সমন্বয়ক বিষয়ক উপ কমিটির প্রধান জহিরুল ইসলাম মুসা এবং সেক্রেটারি মোল্লা মোহাম্মদ ফারুক এহসান।

    স্থানীয় পর্যবেক্ষক সংস্থা বিষয়ক উপ-কমিটির প্রধান মনিরা শারমিন এবং সেক্রেটারি নাভিদ নওরেজ শাহ্। ক্যান্ডিডেট প্রশিক্ষণ উপ-কমিটির প্রধান সুলতান মোহাম্মদ জাকারিয়া এবং সেক্রেটারি ফরিদুল হক। নির্বাচনী আইন সহায়তা বিষয়ক উপ-কমিটির প্রধান অ্যাডভোকেট মুকুল মুস্তাফিজ এবং সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মোস্তফা আজগর শরীফী। অর্থ ও ফান্ড রেইজিং বিষয়ক উপ-কমিটির প্রধান এসএম সাইফ মুস্তাফিজ এবং সেক্রেটারি ফরহাদ সোহেল।

    পোলিং এজেন্ট প্রশিক্ষণ উপ-কমিটির প্রধান অ্যাডভোকেট হুমায়রা নূর এবং সেক্রেটারি ডা. জাহেদুল ইসলাম। মিডিয়া উপ-কমিটির প্রধান মাহবুব আলম এবং সেক্রেটারি খান মোহাম্মদ মুরসালিন। ক্যাম্পেইন ম্যানেজার প্রশিক্ষণ উপ-কমিটির প্রধান এহতেশাম হক এবং সেক্রেটারি সাগুফতা বুশরা মিশমা।

    সোশ্যাল মিডিয়া উপ-কমিটির প্রধান মুহাম্মদ মিরাজ মিয়া এবং সেক্রেটারি আসিফ মোস্তফা জামাল। ব্র্যান্ডিং বিষয়ক উপ-কমিটির প্রধান তানজিল মাহমুদ এবং সেক্রেটারি তাহসিন রিয়াজ। শৃঙ্খলা বিষয় উপ-কমিটির প্রধান অ্যাডভোকেট আলী নাছের খান এবং সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট সাকিল আহমদ। অভ্যর্থনা বিষয়ক উপ-কমিটির প্রধান হয়েছেন সাইফুল্লাহ হায়দার এবং সেক্রেটারি হয়েছেন মো. সোহেল রানা।

  • গণতান্ত্রিক মহাসড়কে চলা শুরু: অ্যাটর্নি জেনারেল

    গণতান্ত্রিক মহাসড়কে চলা শুরু: অ্যাটর্নি জেনারেল

    নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের ঐতিহাসিক রায়ের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক মহাসড়কে চলা শুরু বলে উল্লেখ করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

    তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের রায়ের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আজ অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ আগামী দিনে নিজের ভোট নিজে দিতে পারবে। দিনের ভোট রাতে হবে না, মৃত মানুষ এসে ভোট দিয়ে যাবে না। এ রকম একটি গণতান্ত্রিক মহাসড়কে চলা শুরু বলে আমরা মনে করি।’

    অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ত্রুটিপূর্ণ বলেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায়টি আজ বাতিল করা হয়েছে। আগের রায়টি লিখার ক্ষেত্রে সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক ও তার সহযোগী যারা ছিলেন, তারা দণ্ডবিধির ২১৯ ধারায় অপরাধ করেছেন বলে আমরা শুনানিতে বলেছি।

    নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের রায় দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

    আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরের নির্বাচন থেকে এই ব্যবস্থা কার্যকর হবে।

    তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায়কে বাতিল ঘোষণা করে বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ সর্বসম্মতভাবে রায় দেন।

    আপিল বেঞ্চের অপর ছয় বিচারপতি হলেন— বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম ইমদাদুল হক, বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।

    বহুল আলোচিত এই আপিলে বিএনপির পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন ও ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। জামায়াতের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।

    পাঁচ বিশিষ্ট নাগরিকের পক্ষে আপিল শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী শরীফ ভূইয়া।

    রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

    তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী জাতীয় সংসদে গৃহীত হয় ১৯৯৬ সালে। এ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে অ্যাডভোকেট এম সলিম উল্লাহসহ তিনজন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট করেন।

    ২০১১ সালের ১০ মে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনে করা সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে, তা বাতিল করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

    ঘোষিত রায়ের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিলোপসহ বেশ কিছু বিষয়ে আনা পঞ্চদশ সংশোধনী আইন ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পাস হয়। এরপর ২০১১ সালের ৩ জুলাই এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়।

    তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসংক্রান্ত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, পাঁচ বিশিষ্ট নাগরিক ও এক ব্যক্তি আবেদন করেন।

    সে রিভিউ আবেদন থেকে আপিল শুনানির জন্য গত ২৭ আগস্ট লিভ মঞ্জুর করে ২১ অক্টোবর আপিল শুনানির দিন ধার্য করেন। পরবর্তী ১০ দিন এই আপিল শুনানি শেষে রায়ের দিন ধার্য করেন সর্বোচ্চ আদালত।
    সুত্র: আমার দেশ

  • নির্বাচিত সরকারকে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে বাধ্য করতে হবে

    নির্বাচিত সরকারকে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে বাধ্য করতে হবে

    জাতীয় নির্বাচনপরবর্তী সরকারকে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী কাজ করতে বাধ্য করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি মনে করি, আমাদের বিপ্লব গত বছর শেষ হয়ে গেছে, তাহলে ভুল করছি। এটি চলমান আছে। এ বিপ্লব ততদিন চলমান থাকবে, যতদিন না জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বাস্তবায়ন হবে।’

    বৃহস্পতিবার বিকালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সিনেট ভবনে ‘বিপ্লব ও গণঅভ্যুত্থানের সফলতা ও ব্যর্থতা : ৭ নভেম্বর থেকে ৫ আগস্ট’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সংসদ নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি উল্লেখ করে মাহমুদুর রহমান বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সময়মতো হতে হবে। ভোট সময়মতো না হলে যে অস্থিরতা তৈরি হবে, সেটাকে দিল্লি কাজে লাগাবে। এজন্য নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন হতে হবে।

    ‘ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার’ নির্বাচন হওয়ার ব্যাপারে শঙ্কা আছে জানিয়ে তিনি বলেন, শুদ্ধি অভিযান না চালানোয় প্রশাসনিক ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দৃশ্যমান। আওয়ামী দোসরদের তৎপরতার কারণে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়ার ব্যাপারে যথেষ্ট শঙ্কা আছে। এর একটি বড় কারণ হলো, জুলাই বিপ্লবকে অনেকেই বিপ্লব বলতে চাই না। এমনকি বর্তমান সরকারও বিপ্লবকে বিপ্লব বলতে দ্বিধাবোধ করে। তা না হলে তারা বিপ্লবী সরকার ঘোষণা করত। এ সরকার বিপ্লবকে ধারণ করতে পারেনি বলেই শুদ্ধি অভিযান চালাতে পারেনি।

    জুলাই বিপ্লবীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে আমার দেশ সম্পাদক বলেন, ‘গুলি খেতে যাওয়ার সময় কেউ মন্ত্রী হতে চাইনি। আমাদের তরুণ প্রজন্ম আবু সাঈদ হতে চেয়েছে বলেই বিপ্লব সফল হয়েছে। যারা এ বিপ্লব করেছে তারাই বাংলাদেশকে সঠিক পথে আনতে পারবে। তোমরা ঐক্যবদ্ধ থাকো। তোমরা যতদিন ঐক্যবদ্ধ থাকবে বাংলাদেশ পথ হারাবে না। বাংলাদেশকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।’

    বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহা. মাঈন উদ্দীন, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহা. ফরিদ উদ্দীন খান, অধ্যাপক ইমেরিটাস ড. আজহারুল ইসলাম, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. ইফতেখারুল আলম মাসউদ প্রমুখ।

  • এনসিপির মনোনয়ন কিনলেন সেই রিকশাচালক

    এনসিপির মনোনয়ন কিনলেন সেই রিকশাচালক

    ঢাকা-৮ আসন থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মনোনয়ন ফর্ম সংগ্রহ করেছেন জুলাইয়ের আলোচিত রিকশাচালক মো. সুজন।

    বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) সন্ধ্যায় এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয়ে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন তিনি।

    পরে সাংবাদিকদের মো. সুজন বলেন, ‘যারা এতিমের টাকা মেরে, যাত্রাপালা করে সংসদে যেতে পারেন; আমি রিকশাচালক হয়ে কেন সংসদে যেতে পারব না?’

    এসময় এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা উপস্থিত ছিলেন।
    ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। এই আসনে জামায়াতের মনোনয়ন পেয়েছেন অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিন। আর স্বতন্ত্র থেকে এ আসনে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদী।

  • দাঁড়িপাল্লা টাঙানো নিয়ে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে আহত ১৩

    দাঁড়িপাল্লা টাঙানো নিয়ে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে আহত ১৩

    চুয়াডাঙ্গায় পৃথক দুটি স্থানে বিলবোর্ড ও প্রতীক টাঙানো নিয়ে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে ১৩ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের আলমডাঙ্গা উপজেলার শ্যামপুর গ্রামে নিয়ে এ ঘটনা ঘটে।

    এতে মহিলা ইউপি সদস্যসহ অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। এ সময় দুটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। আহতদের আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।

    আহতরা হলেন, আলমডাঙ্গা পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম কনক, সদস্য সাজাহান ও আলিম, কুমারী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক তাইজেল হোসেন, ১ নং ওয়ার্ডের মহিলা ইউপি সদস্য রোকসানা খাতুন ও তার স্বামী রাশিদুল ইসলাম। জামায়াত পক্ষের আহতরা হলেন হারুনের ছেলে মুরাদ আলী, মাহাতাবের ছেলে আরিফ, পলাশের ছেলে লাল্টু, সাদেক আলীর ছেলে ওল্টু এবং তার মেয়ে ফাতেমা খাতুন।এ ব্যাপারে আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম রোকন বলেন, জামায়াত পরিচয়ে যুবলীগ কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। আমাদের ৬জন নেতাকর্মী আহত হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন।

    অপরদিকে আলমডাঙ্গা উপজেলা জামায়াতের আমির শফিউল আলম বকুল বলেন, দাঁড়িপাল্লা টাঙাতে গেলে বিএনপির মহিলা ইউপি সদস্য ও তার স্বামী বাধা দেন। পরে বিএনপির নেতাকর্মীরা আমাদের বাড়িতে হামলা করে। এতে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

    আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুদুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। অপরদিকে মঙ্গলবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের দর্শনা থানার মদনা-পারকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের কামারপাড়া গ্রামে বিলবোর্ড স্থাপনকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সকালে শুরু হওয়া বিরোধের জেরে দুপুরে দুপক্ষের সংঘর্ষে দুজন আহত হয়েছেন। আহতরা হচ্ছেন জামায়াত সমর্থক খাজা এবং বিএনপি সমর্থক আজিজুল ইসলাম।

    এ বিষয়ে দর্শনা থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) সুলতান মাহমুদ বলেন, বিলবোর্ড স্থাপনকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। দুইজন আহত হওয়ার কথা শুনেছি। এখন পর্যন্ত কেউ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দেয়নি, অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে

  • তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল: উন্মোচিত হবে নতুন দিগন্ত

    তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল: উন্মোচিত হবে নতুন দিগন্ত

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালের রায় দেশের রাজনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্রি মেডিকেল ও স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি শেষে সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন।

    আমীর খসরু বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফেরত এসেছে, এটা কিভাবে গঠন হবে সেটা নিয়ে আলোচনা হবে। সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে। গ্রহণযোগ্য অনেকগুলো নির্বাচন এই ব্যবস্থায় হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, অনির্বাচিত সরকারের অধীনে দেশ কতটা পেছাতে পারে সেটা মানুষ দেখেছে। জনগণের রায় নিয়ে কাজ করতে যতটা সহজ হয়, সেটা অনির্বাচিত সরকারের দ্বারা হয় না।

  • মির্জা ফখরুল দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে ‘মব ভায়োলেন্স’ থেকে সরে আসতে হবে

    মির্জা ফখরুল দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে ‘মব ভায়োলেন্স’ থেকে সরে আসতে হবে

    দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে ‘মব ভায়োলেন্স’ থেকে সরে আসতে হবে’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    আজ বুধবার দুপুরে গুলশানে লেকশোরে এক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। ‘চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে বিএনপি’ শীর্ষক সংকলিত গ্রন্থের প্রকাশনা উপলক্ষে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এর আগে, গণঅভ্যুত্থানের ওপর একটি প্রামাণ্য চিত্র উপস্থাপন করা হয়।

    মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গণতন্ত্রের প্রধানতম কথা হচ্ছে, আপনাকে অন্যের মত সহ্য করতে হবে। আমি কথা বলব, আপনার কথা সহ্য করব না, পিটিয়ে দেবো, মব ভায়োলেন্স তৈরি করব, কিছু মানুষ জড়ো করে বলব যে ভেঙে দাও, গুড়িয়ে দাও, তাকে মেরে ফেলো পিটিয়ে, দিস ইজ নট ডেমোক্রেসি।’

    তিনি বলেন, ‘ডেমোক্রেসির মূল কথাটা হচ্ছে, আমি তোমার সাথে একমত নাও হতে পারি। কিন্তু তোমার মত প্রকাশের যে স্বাধীনতা, তাকে আমি আমার জীবন দিয়ে হলেও রক্ষা করব। দ্যাট ইজ ডেমোক্রেসি। দুর্ভাগ্যক্রমে আমরা এখানে অন্যের মতকে সহ্য করতে চাই না, আমরা তাকে উড়িয়ে দিতে চাই। এই জায়গা থেকে আমাদের সরে আসতে হবে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশে সত্যিকার অর্থেই যদি আমরা টেকসই একটা ব্যবস্থা তৈরি করতে চাই, ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হতে না চাই, তাহলে গণতন্ত্রকে আমাদের এখানে প্রতিপালন করতে হবে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্মাণ করতে হবে।’

    ‘কোন দল, কে জিতল, কে হারলো- এটা জরুরি নয়, জরুরি হচ্ছে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানটা শক্তিশালী হলো কিনা, আমাদের জুডিশিয়ারি ইন্ডিপেন্ডেন্ট কিনা, আমাদের মিডিয়া ইন্ডিপেন্ডেন্ট কিনা, আমাদের পার্লামেন্ট ইফেক্টিভ কিনা, আমাদের দেশ আইনের শাসনে চলছে কিনা, সুশাসন চলছে কিনা, মানুষের সামাজিক মর্যাদা সুরক্ষা এবং মানবাধিকার আমরা রাখতে পারছি কিনা, এই বিষয়গুলোকে নিয়েই আমাদের ভবিষ্যতে কাজ করতে হবে।’

    ‘গণতন্ত্রের মোর্চা গড়তে হবে’

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘নির্বাচন আসছে। বিএনপির ওপরে দায়িত্ব বেশি পড়ছে। বিএনপিকে সত্যিকার অর্থেই এমন একটা মোর্চা গড়ে তুলতে হবে, যে মোর্চা গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছে অতীতে, লড়াই করবে এবং গণতন্ত্রকে এখানে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেবে। এই মোর্চাই আমাদের এখানে গড়তে হবে।’

  • চৌগাছায় মনোনয়ন বঞ্চিত বিএনপি নেতার শোডাউন

    চৌগাছায় মনোনয়ন বঞ্চিত বিএনপি নেতার শোডাউন

    চৌগাছা প্রিতিনিধ

    যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনের মনোনয়ন বঞ্চিত বিএনপি নেতা চৌগাছা উপেজলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জহুরুল ইসলাম মোটর সাইকেল শোডাউন করেছেন। মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) দুপুরে চৌগাছা ও ঝিকরগাছার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে এই শোডাউন অনুষ্ঠিত হয়।

    স্থানীয় বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবকদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মী মোটরসাইকেল নিয়ে এতে অংশ নেন। শোডাউন চলাকালে নেতাকর্মীরা দলীয় স্লোগান ও ব্যানার-পোস্টার বহন করে জহুরুল ইসলামের প্রতি মনোনয়নের সমর্থন জানান।

    নেতাকর্মীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের সাথে থেকে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড সক্রিয় রেখেছেন জহুরুল ইসলাম। তাই যশোর-২ আসনে স্থানীয় যোগ্য প্রার্থী হিসেবে তাকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানান তারা।

    এসময় উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি হুসাইন আহমেদ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, মতিউর রহমান মন্টু, পৌর বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আতিয়ার রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক কাউন্সিলর শাহিদুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সদস্য ও উপজেলা কৃষকদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান পলেন, ফুলসারা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ, বিল্লাল হোসেন, পাশাপোল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ড. জহুরুল হক, স্বরুপদাহ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাস্টার শহিদুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মালেক, হাকিমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আবু ছার, পাতিবিলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাস্টার আলী আকবার, সাধারণ সম্পাদক কবীর উদ্দিন বাবলু, জগদীশপুর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুস সাত্তার, সাধারণ সম্পাদক মাস্টার মহিদুল ইসলাম, নারায়নপুর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি কফিল উদ্দীন, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সালাম, বিএনপি নেতা মজনুর রহমান, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম-আহবায়ক সোহেল রানা, কবির হোসেন, কামাল হোসেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আবু বকর সিদ্দিক, যুগ্ম-আহবায়ক আরিফ হোসেন অপু, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব জামাল উদ্দিন, যুবদল নেতা মাষ্টার কামরুল ইসলাম, এম ইলিয়াস আলী, উজ্জ্বল হোসেন, শিমুল রহমান, নাজমুল ইসলাম, উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি আজগর আলী, সহ-সভাপতি বিএম ইকলাচ, সাধারণ সম্পাদক শাহানুর রহমান শাহিন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাত্তার, ফারুক হোসেন, সদর ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির, জেলা ছাত্রদলের সহ সাধারণ সম্পাদক বিএম বাবু, আব্দুল্লাহ আল-মামুন, নারায়নপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মাসুদ রানা পাপ্পু, ছাত্রদল নেতা মাজিদুল ইসলাম, ইমরান নাজির, ইমরান হোসেন, নারায়নপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম, পাতিবিলা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুল ইসলাম, মারুফ হোসেন, রোবায়েত সালাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

    এদিকে একইদিন বিকেলে ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপি আয়োজিত তারুন্যের সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন যশোর-২ আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশী, জেলা বিএনপির সদস্য ও চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জহুরুল ইসলাম।

  • নির্বাচনী প্রচার–প্রচারণায় খরচ হবে ২৫ কোটি টাকা

    নির্বাচনী প্রচার–প্রচারণায় খরচ হবে ২৫ কোটি টাকা

    আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করতে প্রচার–প্রচারণায় ২৫ কোটি টাকা খরচ করবে সরকার। মূলত জনগণের মধ্যে সচেতনতামূলক প্রচারের অংশ হিসেবে দেশের ৬৪টি জেলা এবং ৩০০টি উপজেলায় টিভিসি, ভিডিও ডকুমেন্টারি ইত্যাদি তৈরি করে প্রচারের জন্য এলইডি অ্যাকটিভেশন ক্যারাভানের মাধ্যমে প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

    মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক এ–সংক্রান্ত প্রস্তাবের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    জানা গেছে, এ–সংক্রান্ত কাজ নভেম্বরে শুরু করার নির্দেশনা থাকায় সময় স্বল্পতার জন্য উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা সম্ভব নয়। তাই রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে সরকারি ক্রয় বিধিমালা (পিপিপিআর) অনুসারে ব্র্যান্ড সলিউশন লিমিটেডকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে নিয়োগের ক্রয় প্রস্তাব নিয়ে আসে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়। উপদেষ্টা পরিষদ প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে।

    এদিকে রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে যথাসময়ে চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ৩ লাখ টন চাল আমদানির লক্ষ্যে পিপিআর অনুসারে দরপত্র দাখিলের সময়সীমা পত্রিকা বিজ্ঞাপন প্রকাশের তারিখ হতে ৪২ দিনের পরিবর্তে ১৫ দিন নির্ধারণ করার একটি প্রস্তাব নিয়ে আসে খাদ্য মন্ত্রণালয়। উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি প্রস্তাবটি নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে।

    খান

  • জামায়াত আমিরের সঙ্গে বিশ্বব্যাংক প্রতিনিধি দলের বৈঠক

    জামায়াত আমিরের সঙ্গে বিশ্বব্যাংক প্রতিনিধি দলের বৈঠক

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছে বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি দল। মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) সকালে জামায়াত আমিরের কার্যালয়ে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

    বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকাস্থ আঞ্চলিক অফিসের পরিচালক মি. জঁ ডেনিস পেসমে এর নেতৃত্বে তার সঙ্গে ছিলেন বিশ্বব্যাংকের ঢাকা ডিভিশনের অর্থ উপদেষ্টা মিস. মেহরিন এ মাহবুব ও অপারেশন ম্যানেজার এমএস গায়েল মার্টিন।

    জামায়াত আমিরের সঙ্গে ছিলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. মিজানুর রহমান ও সাবেক সিনিয়র সচিব মুহাম্মাদ সফিউল্লাহ এবং জামায়াত আমিরের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মাহমুদুল হাসান।
    বৈঠকে বাংলাদেশের বিভিন্ন আর্থিকখাতের অবকাঠামোগত সংস্কার ও উন্নয়ন, টেকসই অর্থনীতি, করব্যবস্থা ও সামাজিক খাতের বিভিন্ন দিক নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়।

  • হাসিনার বিরুদ্ধে রায় প্রমাণ করে, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়

    হাসিনার বিরুদ্ধে রায় প্রমাণ করে, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়

    প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ক্ষমতাচ্যুত পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে আদালতের দণ্ডাদেশ প্রমাণ করেছে যে ক্ষমতার অবস্থান যাই হোক, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।

    সোমবার এক বিবৃতিতে প্রধান উপদেষ্টা এ মন্তব্য করেন।

    প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এ বিবৃতিতে তিনি বলেন, আজ বাংলাদেশের আদালত এমন স্পষ্ট ভাষায় কথা বলেছে যা দেশের ভেতর থেকে বৈশ্বিক পরিসর পর্যন্ত প্রতিধ্বনিত হয়েছে। এ রায় জুলাইুআগস্ট ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত হাজারো মানুষের প্রতি পর্যাপ্ত না হলেও ন্যায়বিচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন।

    প্রফেসর ইউনূস বলেন, দেশ এখন দীর্ঘ বছরের দমন-পীড়নে বিধ্বস্ত গণতান্ত্রিক ভিত্তি পুনর্গঠনের এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে রয়েছে। যেসব অপরাধের বিচার হয়েছে, নিরস্ত্র তরুণ-তরুণী ও শিশুদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের নির্দেশ শুধু আইনের লঙ্ঘনই নয়; রাষ্ট্র ও নাগরিকের মধ্যকার মৌলিক আস্থার বন্ধনও ভেঙে দিয়েছিল।

    তিনি বলেন, এ ঘটনা বাংলাদেশের মৌলিক মূল্যবোধ-মর্যাদা, প্রতিরোধ-ক্ষমতা এবং ন্যায়বিচারের প্রতি অঙ্গীকারে তীব্রভাবে আঘাত করেছিল।

    ‘প্রায় ১,৪০০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। তারা কেবল কোনো সংখ্যা ছিলেন না; ছিলেন ছাত্র-ছাত্রী, বাবা-মা ও অধিকারসম্পন্ন নাগরিক,’ যোগ করেন তিনি।

    প্রফেসর ইউনূস জানান, আদালতে মাসের পর মাসের সাক্ষ্যপ্রমাণে উঠে এসেছে নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের ওপর কীভাবে হেলিকপ্টার থেকেও গুলি চালানো হয়েছিল। এ রায় তাদের দুর্ভোগকে স্বীকৃতি দেয় এবং নিশ্চিত করে যে ন্যায়বিচারের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রশ্নে ছাড় নেই।
    তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন বৈশ্বিক জবাবদিহির মূল স্রোতে পুনরায় যুক্ত হচ্ছে। ‘পরিবর্তনের দাবিতে যারা দাঁড়িয়েছিল, তাদের অনেকে নিজের জীবন বিসর্জন দিয়েছে; তাদের আজকের ত্যাগ আমাদের আগামীর পথ তৈরি করছে।’প্রধান উপদেষ্টা বলেন, শুধু আইনি জবাবদিহি নয়, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকের মধ্যে আস্থা পুনর্গঠনও এখন জরুরি। মানুষ কেন প্রকৃত প্রতিনিধিত্বের জন্য সবকিছু ঝুঁকিতে ফেলতে প্রস্তুত হয়েছিল, এখন তা বোঝা এবং সেই আস্থার উপযোগী সিস্টেম তৈরি করা প্রয়োজন।

    তিনি বলেন, আজকের রায় সেই যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি পূর্ণ আস্থা রাখি ‘বাংলাদেশ সাহস ও বিনয়ের সঙ্গে আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে সক্ষম হবে।’

    আইনের শাসন, মানবাধিকার এবং প্রতিটি মানুষের সম্ভাবনার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকলে বাংলাদেশে ন্যায়বিচার শুধু টিকেই থাকবে না, বরং বিজয়ী হবে এবং তা স্থায়ী হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    এর আগে আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ জুলাই-আগস্ট ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে।

    একই সঙ্গে ঘটনার পূর্ণ বিবরণ দেওয়া ও তদন্তে সহযোগিতা করায় রাষ্ট্রপক্ষের স্বীকারোক্তিকারী হিসেবে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে ‘লঘুদণ্ড’ হিসেবে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

  • চুয়াডাঙ্গায় বিএনপির ৫৩ নেতাকর্মী জামায়াত ইসলামীতে যোগদান

    চুয়াডাঙ্গায় বিএনপির ৫৩ নেতাকর্মী জামায়াত ইসলামীতে যোগদান

    ওয়ার্ড বিএনপি’র সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদকসহ ৫৩ জন নেতাকর্মী সমর্থক আনুষ্ঠানিক ভাবে জামায়াত ইসলামীতে যোগদান করেছেন।

    চুয়াডাঙ্গা ১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি মাসুদ পারভেজ রাসেলের কাছ থেকে ফুলের মালা, ফুল নিয়ে ও হাতে হাত রেখে যোগদান করেন।শুক্রবার রাতে জেলা সদরের আলোকদিয়া আকন্দবাড়িয়া গ্রামে একটি স্কুল মাঠে যোগদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

    চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলোকদিয়া ইউনিয়নের আকন্দবাড়িয়া গ্রামের ২ নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক আতিয়ার রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি’র ৫৩ নেতাকর্মী ও সমর্থক আনুষ্ঠানিক ভাবে জামায়াত ইসলামীতে যোগদান করেন।

    • অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি মাসুদ পারভেজ রাসেল। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা আমির বিল্লাল হোসাইন, আলোকদিয়া ইউনিয়ন আমির আব্দুল মমিন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্ড সভাপতি তরিকুল ইসলাম লিটন।
  • মাদারীপুরে ঢাকা–বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ, গাছ ফেলে রেখে বিক্ষোভ

    মাদারীপুরে ঢাকা–বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ, গাছ ফেলে রেখে বিক্ষোভ

    মাদারীপুর জেলার ডাসার উপজেলায় ঢাকা–বরিশাল মহাসড়কে গাছ ফেলে অবরোধের ঘটনা ঘটেছে।

    কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা সোমবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ঘোষিত শাটডাউন কর্মসূচি বাস্তবায়নের দাবিতে রবিবার (১৬ নভেম্বর) ভোর থেকে গোপালপুর বাসস্ট্যান্ডের উত্তর পাশসহ বিভিন্ন স্থানে এ কর্মসূচি শুরু করেন।অবরোধকারীরা মহাসড়কের উপর গাছ ফেলে এবং টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এতে মহাসড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট। দূরপাল্লার যাত্রীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থেকে চরম ভোগান্তির শিকার হন।

    অন্যদিকে, সড়ক থেকে গাছ অপসারণ ও নাশকতামূলক কার্যক্রম মোকাবিলায় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার কাজ শুরু করেছে।

    মাদারীপুরের মোস্তফাপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন আল রশিদ বলেন, “ঢাকা–বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে একদল দুর্বৃত্ত। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা সেখান থেকে সরে যায়। এখন আমরা সড়ক স্বাভাবিক করতে কাজ করছি।”ডাসার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ এহতেশামুল ইসলাম জানান, ডাসার ও কালকিনি থানার অংশে সাত–আটটি স্থানে সড়কের পাশের গাছ কেটে ফেলে রাখা হয়েছিল। এ সময় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে।তিনি আরও বলেন, সড়ক থেকে গাছ অপসারণের কাজ চলমান।

  • কবির আহমেদ নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রয়োজন সৎ, দক্ষ ও নতুন নেতৃত্ব

    কবির আহমেদ নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রয়োজন সৎ, দক্ষ ও নতুন নেতৃত্ব

    ‘অতীতে সব দল দেখা শেষ এবার নতুন বাংলাদেশ গড়তে দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজমুক্ত মানবিক সংগঠন জামায়াতে ইসলামীকে দেখতে হবে। জামায়াতে ইসলামী জাতিকে দুর্নীতি-সন্ত্রাস-চাঁদাবাজমুক্ত এক নতুন বাংলাদেশ উপহার দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে দেশকে ক্ষুধা, দারিদ্র, বেকারত্বমুক্ত করে এক সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের সামনে উপস্থাপন করব

    বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ঢাকা-৯ সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী জননেতা কবির আহমেদের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সমর্থনে একটি ‘‘মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর মুগদা-মানিকনগর মডেল স্কুল মাঠ থেকে শুরু হয়ে শোভাযাত্রাটি বিশ্বরোড, খিলগাঁও, সবুজবাগ ও মুগদার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে খিলগাঁও রেলগেট জোড়পুকুর মাঠে শেষ হয়।

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা-৯ আসনের জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী পরিচালক মাওলানা ফরিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শোভাযাত্রায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন কবির আহমেদ।

    শোভাযাত্রা পূর্ববর্তী উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রয়োজন সৎ, দক্ষ ও নতুন নেতৃত্ব।

    তিনি বলেন, অতীতে সব দল দেখা শেষ এবার নতুন বাংলাদেশ গড়তে দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজমুক্ত মানবিক সংগঠন জামায়াতে ইসলামীকে দেখতে হবে। জামায়াতে ইসলামী জাতিকে দুর্নীতি-সন্ত্রাস-চাঁদাবাজমুক্ত এক নতুন বাংলাদেশ উপহার দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে দেশকে ক্ষুধা, দারিদ্র, বেকারত্বমুক্ত করে এক সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের সামনে উপস্থাপন করবে।

    তিনি বলেন, যারা ৫ বছর ক্ষমতায় থেকে প্রতিবছর দেশকে দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন করেছে তাদের নেতৃত্বে দেশ পরিচালিত হতে পারে না। তারা আবার ক্ষমতায় বসতে পারলে দেশকে দেউলিয়া করে দেবে। যাদের অতীত ইতিহাস দুর্নীতি, সন্ত্রাস আর চাঁদাবাজ তারা আগামীতে আরো ভয়ঙ্করভাবে জাতির ঘাড়ে চেপে বসবে। তাই এদের সুযোগ দেয়া যাবে না। তাদের বিরুদ্ধে পাড়া-মহল্লায়, গ্রাম-গঞ্জে, হাট-বাজারে, শহর-বন্দরে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

    ঢাকা-৯ সংসদীয় এলাকাকে নতুন বাংলাদেশের মডেল হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যত্যয় করে স্থানীয়দের জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণকে একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য মানবিক শহর উপহার দেয়াই জামায়াতে ইসলামীর অঙ্গীকার।

    তিনি আরো বলেন, অতীতে যারা এমপি হয়ে ঢাকা-৯ আসনের জনগণের সাথে প্রতারণা করেছে, দুর্নীতি ও লুটপাটের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে, ব্যাংক-বীমার মালিক হয়েছে, নিজ নামে স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠা করে শিক্ষাবাণিজ্য করেছে তাদেরকে আর ভোট দেয়া যায় না। তারা আবারো সুযোগ পেলে দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য গড়ে তুলবে। জামায়াতে ইসলামীতে দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজের স্থান নেই। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে দুর্নীতিমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

    জামায়াতে ইসলামীকে পরীক্ষামূলক একবার নির্বাচিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর অঙ্গীকার, জাতি পাবে নিরাপদ এক কল্যাণ রাষ্ট্র।

    জুলাইয়ের শহীদদের স্বপ্নের বৈষম্যহীন কল্যাণ ও মানবিক নতুন বাংলাদেশ গড়তে জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে সমর্থন দিতে তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

    এই বিশাল শোভাযাত্রায় হাজার-হাজার মোটরসাইকেলে উপস্থিত নেতাকর্মীর দাঁড়িপাল্লা-দাঁড়িপাল্লা স্লোগানে ঢাকা-৯ সংসদীয় এলাকার রাজপথ মুখোরিত হয়ে ওঠে।

    শোভাযাত্রায় আরো উপস্থিত ছিলেন মহানগরীর মজলিসে শূরা সদস্য যথাক্রমে- খিলগাঁও জোনের সহকারী পরিচালক এস এম মাহমুদ হাসান, সবুজবাগ-মুগদা জোনের সহকারী পরিচালক মনির বিন আনোয়ার, ঢাকা-৯ আসনের জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ শাহজাহান, মহানগরীর সহকারী মিডিয়া সম্পাদক আশরাফুল আলম ইমন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি সোহেল রানা মিঠু, মুগদা পশ্চিম থানা আমির মাওলানা মো: মতিউর রহমান, সবুজবাগ দক্ষিণ থানা আমির মাওলানা আবদুল বারি, খিলগাঁও উত্তর থানা আমির মো: নাসির উদ্দিন, খিলগাঁও দক্ষিণ থানা আমির মাওলানা মো: সাজেদুর রহমান শিবলী, খিলগাঁও পূর্ব থানা আমির মাওলানা মাহমুদুর রহমান, খিলগাঁও মধ্য থানা আমির অ্যাডভোকেট এম.এ.জে ফারুখ, সবুজবাগ পূর্ব থানা আমির মো: রওশন জামান, মুগদা উত্তর থানা আমির অ্যাডভোকেট রিয়াজ উদ্দিন, মুগদা দক্ষিণ থানা আমির ইয়াকুব আলী, মুগদা পূর্ব থানা আমির মাওলানা মো: ইসহাকসহ ঢাকা-৯ সংসদীয় এলাকার জামায়াতে ইসলামীর সকল সাংগঠনিক থানা সেক্রেটারিসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

    এ/ আর ১৪ নভেম্বর

  • জামায়াত ইসলামী সরকার গঠন করলে যুবকদের কর্মস্থানের ব্যবস্থা করা হবে -ডাঃ মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ

    জামায়াত ইসলামী সরকার গঠন করলে যুবকদের কর্মস্থানের ব্যবস্থা করা হবে -ডাঃ মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ

    যশোরের চৌগাছায় পৌর জামায়াতের ৭ নং ওয়ার্ড কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) বিকেলে চৌগাছা ছারাপাইলট বালিকা বিদ্যালয় মাঠে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ৭ নং ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপিত সাবেক কাউন্সিলর আব্দুর রহমান।

    সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় জামায়াত মনোনীত যশোর-২ চৌগাছা-ঝিকরগাছা আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ডাঃ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ বলেন, বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী সরকার গঠন করলে দেশের বেকার যুবকদের কর্মস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। বেকারের সংখ্যা কমে আসলে উন্নয়ের দিকে এগিয়ে যাবে দেশ। কমে আসবে চুরি-ডাকাতি, ছিনতাই-চাঁদাবাজী ও সন্ত্রাস।

    সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন, ঝিকরগাছা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন, চৌগাছা উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা গোলাম মোরশেদ, নায়েবে আমির মাওলানা নূরুল ইসলাম, সেক্রেটারি অধ্যাপক নুরুজ্জামান আল মামুন, সহকারি সেক্রেটারি মাস্টার রহিদুল ইসলাম খান, ও সাবেক পৌর প্যানেল মেয়র মাস্টার কামাল আহমেদ বিশ্বাস, পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল খালেক, পৌর জামায়াতের সেক্রেটারী ডাঃ জিল্লুর রহমান প্রমুখ।

  • সন্ধ্যায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক

    সন্ধ্যায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক

    বিএনপির শীর্ষ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক ডেকেছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় গুলশানস্থ চেয়ারপার্সন কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

    বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দলটির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবীর খান।

    সভায় দেশের সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি, চলমান নির্বাচন প্রক্রিয়া, দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রমসহ গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে জানা গেছে। বৈঠকে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।

  • গণভোটে যে ৪ বিষয়ে হ্যাঁ-না

    গণভোটে যে ৪ বিষয়ে হ্যাঁ-না

    জুলাই সনদ বাস্তবায়নে চারটি বিষয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এতে ভোটাররা হাঁ অথবা না ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবে। সবগুলোই সংবিধান সংস্কার সম্পৃক্ত। এছাড়া গণভোট এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন একই দিনে হবে।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এ তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টা।

    ভাষণে আমি প্রশ্নটি এখন আপনাদের সামনে পাঠ করে শোনাচ্ছি। প্রশ্নটি হবে এরকম:

    “আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত নিম্নলিখিত প্রস্তাবগুলোর প্রতি আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করছেন?”

    ক) নির্বাচনকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হবে।

    খ) আগামী সংসদ হবে দুই কক্ষ বিশিষ্ট। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ জন সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে এবং সংবিধান সংশোধন করতে হলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন দরকার হবে।

    গ) সংসদে নারীর প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও স্থানীয় সরকার-সহ বিভিন্ন বিষয়ে যে ৩০টি প্রস্তাবে জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যমত হয়েছে সেগুলো বাস্তবায়নে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী দলগুলো বাধ্য থাকবে।

    ঘ) জুলাই সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হবে।”

    গণভোটের দিন এই চারটি বিষয়ের ওপর একটিমাত্র প্রশ্নে আপনি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিয়ে আপনার মতামত জানাবেন।
    সুত্র: আমার দেশ
    বিিএ

  • সংসদ ও গণভোট একই দিনে

    সংসদ ও গণভোট একই দিনে

    জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোট এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন একই দিনে হবে। পিআর (আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতিতে গঠিত হবে সংসদের উচ্চকক্ষ বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে এই ঘোষণা দেন তিনি।

    এর আগে বহুল প্রত্যাশিত জুলাই সনদে সই করেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। বৃহস্পতিবার এই সনদে সই করেন তিনি। তবে ছাত্র-জনতার পক্ষ থেকে এর আগে বলা হয়েছিল, রক্তের বিনিময়ে লেখা জুলাই সনদে যদি ফ্যাসিবাদী হাসিনার নিয়োগ করা রাষ্ট্রপতি সই করেন; তাহলে তা মেনে নেয়া হবে না।

  • প্রার্থী তালিকায় বড় পরিবর্তন আনবে না বিএনপি

    প্রার্থী তালিকায় বড় পরিবর্তন আনবে না বিএনপি

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গত ৩ নভেম্বর ২৩৭ আসনে দলীয় সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে বিএনপি। ঘোষিত এই তালিকা কেন্দ্র করে সীমিত কিছু আসনে মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের সমর্থকদের বিক্ষোভ দেখা গেছে। এ অবস্থায় দলটি সংশ্লিষ্ট এসব আসনের পরিস্থিতি মনিটরিং করছে। তবে দু-এক জায়গায় কিছু সমস্যা হলেও এটি ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যাবে বলে মনে করছে বিএনপির হাইকমান্ড। তাই ঘোষিত তালিকায় বড় কোনো পরিবর্তন আনবে না তারা। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনে কিছু আসনে পরিবর্তন আনা হতে পারে, সেটি খুব বেশি নয়। এদিকে, ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের আসন বণ্টন নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে বিএনপি। তবে সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী জোট শরিকদের নিজ দলের প্রতীকে ভোট করার বিধান ভাবাচ্ছে বিএনপিকে। তাই মিত্রদের আসন বণ্টনের ক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দ্বী দলের প্রার্থিতার পাশাপাশি এ বিষয়টিও গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে দলটি। গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে গত সোমবার স্থায়ী কমিটির বৈঠক এবং গত কয়েকদিন স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে এমন আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। এসব বৈঠকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভার্চুয়ালি সংযুক্ত ছিলেন, অথবা বৈঠকের বিষয়ে অবহিত ছিলেন।

    বিএনপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, দল ঘোষিত প্রার্থী তালিকার মধ্যে যেসব প্রার্থীকে নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই, সেগুলো বাদে বাকি আসনগুলোতে মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থীর অবস্থান যাচাই করা হচ্ছে নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান দিয়ে। যাচাই-বাছাইয়ের পর পরিস্থিতি বিবেচনায় ঘোষিত প্রাথমিক প্রার্থী তালিকাতে হয়তো কিছু পরিবর্তন আনতে পারে দলটি, তবে সেটি খুব বেশি নয়। দলটির অবস্থান হচ্ছে, বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল। ফলে দু-এক জায়গায় কিছু সমস্যা হতে পারে। দলীয় উদ্যোগের কারণে এটি ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যাচ্ছে।

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল। প্রার্থিতা নিয়ে দু-এক জায়গায় সমস্যা হতে পারে। দল থেকে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে করে এগুলো ঠিক হয়ে যাচ্ছে আস্তে আস্তে। তারা আশা করছেন, এর ফলে শিগগির প্রতিটি এলাকায় সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করতে কাজ শুরু করবেন।

    এদিকে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সর্বশেষ বৈঠকে জুলাই জাতীয় সনদের পাশাপাশি শরিকদের আসন বণ্টন নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। শিগগির তারা এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন। অবশ্য যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের আসন ছাড় নিয়ে বিএনপি এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে না আসায় জোটের সম্ভাব্য প্রার্থীরা এক ধরনের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন। কারণ, হাতেগোনা কয়েকজন বাদে জোট শরিকের অধিকাংশকেই এখন পর্যন্ত মনোনয়নের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি। ফলে অনেকে নির্বাচনী এলাকায় সেভাবে কাজ করতে পারছেন না। তাই বিএনপির প্রার্থিতা ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচনের মাঠে পূর্ণ উদ্যোমে কাজ করতে দ্রুত মনোনয়ন নিশ্চয়তা চান তারা।

    জানা গেছে, ফাঁকা রাখা ৬৩ আসনের মধ্যে বিএনপি তাদের দলীয় প্রার্থীদের জন্যও বেশ কিছু আসন রেখেছে। একাদশ সংসদ নির্বাচনে শরিকদের জন্য দলটি ৫৯টি আসন ছাড়লেও এবার তাদের জন্য ২৫-৩০টি আসন ছাড়ার কথা ভাবছে। আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী দলের প্রার্থিতা বিবেচনায় নিয়ে মূলত বিজয়ী হওয়ার মতো শরিকদের ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে আসন ছাড়বে বি

    এনপি। আর আসন ছাড়ের সংখ্যা আরও বাড়বে কি না, সেটি নির্ভর করবে বিএনপির নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী জোটের আকার কেমন হয়, তার ওপর। অবশ্য ফাঁকা রাখা আসন ছাড়াও ঘোষিত ২৩৭ আসনে দলের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায়ও জোট শরিকদের জন্য কোথাও কোথাও পরিবর্তন আনতে পারে বিএনপি।

    এদিকে, আসন বণ্টন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিএনপির চাওয়া অনুযায়ী যুগপতের অধিকাংশ মিত্র এরই মধ্যে তাদের প্রার্থী তালিকা জমা দিয়েছে। এখন পর্যন্ত বিএনপির কাছে ১০৩ জনের প্রার্থী তালিকা জমা দিয়েছে যুগপতের শরিকরা। অন্যদিকে, এখনো প্রার্থী তালিকা জমা না দিলেও এ নিয়ে বিএনপির সঙ্গে গণতন্ত্র মঞ্চের আলোচনা চলছে। বিএনপির সঙ্গে অর্ধশত আসনে ‘সমঝোতা’ চায় ছয় দলীয় এই জোট।

    দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শরিকদের এই প্রার্থী তালিকা থেকে বাস্তবতার নিরিখে দলটি একটি শর্টলিস্ট করেছে। দলের নীতিনির্ধারণী নেতারা সেটা নিয়ে শরিক দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের প্রার্থিতার বিষয়টি নানাভাবে বিচার-বিশ্লেষণ করছেন। মিত্রদের আসন চূড়ান্ত করতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শিগগির লিয়াজোঁ কমিটির সঙ্গে ভার্চুয়ালি বৈঠক করবেন। এরপর মিত্রদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠক করবেন লিয়াজোঁ কমিটির নেতারা। তবে এ নিয়ে গতকাল বুধবার রাতে অনানুষ্ঠানিকভাবে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের সঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত এক নেতা বৈঠক করেছেন বলে জানা গেছে।

    অভ্যুত্থানের ছাত্রনেতাদের নিয়ে গঠিত নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গেও আসন সমঝোতা নিয়ে বিএনপির আলোচনা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। স্থায়ী কমিটির সর্বশেষ বৈঠকে এ বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সেখানে এনসিপির সঙ্গে নির্বাচনী জোট বা সমঝোতা নিয়ে বিএনপির অধিকাংশ নেতা তাদের অনীহার কথা জানান। এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য কালবেলাকে বলেন, ‘১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত যতগুলো আন্দোলন হয়েছে, সবগুলোর সম্মুখভাগে ছিলেন ছাত্ররা। আন্দোলন শেষে ছাত্ররা পড়াশোনায় ফিরে গেছেন, তারা সরকারের অংশ হননি। কিন্তু চব্বিশের গণআন্দোলনের পর ছাত্রদের বর্তমানে সরকারের অংশ করায় তাদের সম্পর্কে নানা অভিযোগ উঠেছে; এখন যদি বিএনপিও একই কাজ করে, তা ঠিক হবে না।’

    বিএনপি ও এনসিপির মধ্যে নির্বাচনী সমঝোতা হচ্ছে কি না—বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের এক অনুষ্ঠানে এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘রাজনীতিতে এসব বিষয়ে শেষ কথা তো বলা যায় না। তবে এখন পর্যন্ত বিএনপির সঙ্গে অন্যান্য রাজনৈতিক দল, যারা যুগপৎ আন্দোলনে ছিল; এর বাইরে যারা গণতান্ত্রিক সংগ্রামে ছিল—এমন কিছু ইসলামিক দলসহ আরও কিছু দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে আমরা নির্বাচন করতে চাই।’

    অবশ্য এনসিপির সঙ্গে আলোচনার খবর অস্বীকার করলেও সমঝোতার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিতে চান না সালাহউদ্দিন। তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত এনসিপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হব কি হব না, কিংবা তারা আমাদের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে ইলেকশন করবে কি করবে না, সেটার কোনো প্রস্তাব তাদের পক্ষ থেকেও আসেনি, আর আমাদের পক্ষ থেকেও যায়নি। তবে একদম সেই সমঝোতা বা সেই জোট হবে না—এটাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সে জন্য আরও অপেক্ষা করতে হবে।’

  • আ’লীগের নাশকতা ঠেকাতে ছাত্রশিবির মাঠে থাকবে

    আ’লীগের নাশকতা ঠেকাতে ছাত্রশিবির মাঠে থাকবে

    যেকোন ধরনের নাশকতা ঠেকাতে মাঠে থাকবে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। একইসাথে ফ্যাসিবাদ বিরোধী সকল শক্তির মাঠে থাকার প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন সংগঠনের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম।

    গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, জুলাইসহ সব গণহত্যার বিচার, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি প্রদান এবং নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নাশকতা সৃষ্টির প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার রাজধানীতে ছাত্রশিবিরের বিােভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালিত হবে। বিক্ষোভ মিছিল সকাল ৭টায় ঢাকা কলেজ থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হবে। বিক্ষোভ মিছিল শেষে রাজধানীর অন্তত ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। এসব স্থান হলো, উত্তরা বিএনএস, খিলক্ষেত, বসুন্ধরা গেট, গাবতলী, মিরপুর ১০, ধানমন্ডি ৩২, সায়েন্স ল্যাব, শাহবাগ, রামপুরা, মহাখালী, গুলিস্তান, বাহাদুর শাহ পার্ক, যাত্রাবাড়ী ও চিটাগাং রোড। এ ছাড়াও দেশের প্রতিটি বিভাগীয় শহর, জেলা শহরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে ছাত্রশিবিরের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা।

    ছাত্রসমাজ ও দেশপ্রেমিক জনতাকে আওয়ামী নাশকতা ও আগুন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল খুনি হাসিনার বিচারের রায় ঘোষণা করবে আজ। এ পরিপ্রেক্ষিতে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মী ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি দিয়েছে। আমরা তাদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চাই নতুন বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ ও অরাজকতার কোনো স্থান নেই। দেশের শান্তিশৃঙ্খলা বিনষ্টের যেকোনো প্রচেষ্টা ছাত্রসমাজ ও জনগণ প্রতিহত করবে। জাহিদুল ইসলাম আরো বলেন, ইসলামী ছাত্রশিবির দেশের আপামর ছাত্র-জনতাকে সাথে নিয়ে যেকোনো নৈরাজ্যের উপযুক্ত জবাব দিতে প্রস্তুত। দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী জাঁতাকল থেকে অনেক ত্যাগের বিনিময়ে আমরা নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। এই বাংলাদেশ রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সবার। প্রতিহিংসা, হীনম্মন্যতা ও পরস্পর কাদা ছোড়াছুড়ির রাজনীতি আবার ফ্যাসিবাদী কাঠামো ফিরিয়ে আনতে পারে। তাই জুলাইয়ের আকাক্সক্ষা ধারণ করে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, মামলা বাণিজ্য ও সকল প্রকার সহিংস মনোভাব পরিহার করে একটি যৌক্তিক রাজনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে এগিয়ে নিতে আমরা সব রাজনৈতিক দলকে আহ্বান জানাচ্ছি।

    ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল নূরুল ইসলাম সাদ্দামের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক সিবগাতুল্লাহ, প্রচার সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সাইদুল ইসলামসহ কেন্দ্র ও মহানগর শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

  • সরকারের প্রশাসন থেকেই দোসরদের প্রশ্রয় দেয়া হচ্ছে: রিজভী

    সরকারের প্রশাসন থেকেই দোসরদের প্রশ্রয় দেয়া হচ্ছে: রিজভী

    ’ বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ড. ইউনুসের প্রশাসন থেকেই দোসরদের প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে। শেখ হাসিনা ভারত থেকে অডিও রেকর্ড পাঠাচ্ছেন, আর দেশে চলছে নাশকতার প্রস্তুতি।

    মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) বিকেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল আয়োজিত জাতীয় সংহতি দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    রিজভী বলেন, ‘শেখ হাসিনা গণতন্ত্রকে আঁচলের নিচে লুকিয়ে রেখেছিলেন। বেগম খালেদা জিয়াকে ভালো চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া হয়নি। এখন আবার শোনা যাচ্ছে, ১৩ তারিখে তারা কিছু করবে—এই সাহস তারা কীভাবে পায়? সরকারকে দোসরদের বিষয়ে কঠোর হতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা, পদ্মা সেতুর টাকা, ফ্লাই ওভারের টাকা, সবকিছুর টাকা আছে আওয়ামী লীগের কাছে। যা দিয়ে নাশকতা তৈরি করে একটা চোরা রাস্তা তৈরি করছে আওয়ামী লীগ। তা দিয়ে নাশকতা তৈরিতে ভারত থেকে অডিও বার্তা দিচ্ছে শেখ হাসিনা।’

    তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে কেউ কেউ বলছে ২০২৯ সালে নির্বাচন হবে। এ তো ফ্যসিবাদী কণ্ঠস্বর।

    বিএনপির এই শীর্ষ নেতা আরও বলেন, ‘৭ই নভেম্বর আমরা সত্যিকারের স্বাধীনতা পেয়েছি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সেই সময় সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন। শেখ মুজিবুর রহমান আত্মপরিচয়ের সংকটে ভুগেছিলেন, আর জিয়াউর রহমান আমাদের সেই সংকট থেকে মুক্তি দিয়েছেন।’

    শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের বিষাক্ত ছোবলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও আক্রান্ত হয়েছিল। ক্যাম্পাসে তখন কোনো সহাবস্থান ছিল না। এখন কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। ছাত্রদল সেই মূল্যবোধকে সামনে রেখে রাজনীতি করবে।’

    অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

    সভায় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, ‘রাকসু নির্বাচনে অনেক অনিয়ম ও ষড়যন্ত্র ছিল। প্রশাসন লেভেল প্লেইং ফিল্ড নিশ্চিত করতে পারেনি। তারপরও আমাদের আরও ভালো ফল করা উচিত ছিল। তবে আমরা হতাশ নই, আমাদের লড়াই চলবে। ইনশা আল্লাহ, ভবিষ্যতের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রদল ভালো ফলাফল করবে

  • খুনি হাসিনার দোসরদের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে: সাদিক কায়েম

    খুনি হাসিনার দোসরদের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে: সাদিক কায়েম

    ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েম বলেছেন, সমগ্র দেশের মুক্তিকামী ছাত্র-জনতাকে খুনি হাসিনা ও তার দোসরদের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

    মঙ্গলবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে আয়োজিত ‘রান উইথ জবি শিবির’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।

    সাদিক কায়েম বলেন, খুনি হাসিনা ও তার দোসরদের বিরুদ্ধে আমাদের সর্বদা সজাগ থাকতে হবে। জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের দোসররা বাংলাদেশ থেকে পালিয়েছে। আগামীর বাংলাদেশ খুনি হাসিনা ও তার নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ-যুবলীগের ঠিকানা হবে না। ফ্যাসিবাদের দোসররা এখনো গুপ্ত অবস্থায় আছে, সবাইকে শনাক্ত করে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করাতে হবে।

    তিনি আরও বলেন, আমরা তাদের ধরে পুলিশের হাতে সোপর্দ করব। খুনি হাসিনাসহ তার দোসরদের বাংলাদেশ থেকে সমূলে উৎপাটন করতে হবে। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ একটি জঙ্গি সংগঠন—এদের প্রতিরোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

    জকসু নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জকসুর তারিখ পেছানোর জন্য ওপর থেকে কারও ‘ওহী নাজিল’ হয়েছে বলে মনে হয়। কর্তৃপক্ষের কাছে আহ্বান জানাই—আপনারা পক্ষপাতিত্ব করবেন না। আমরা চাই না শিক্ষক বনাম ছাত্র পরিস্থিতি তৈরি হোক।

    শরীরচর্চা প্রসঙ্গে কায়েম বলেন, আজকের ‘রান উইথ শিবির’ কর্মসূচিতে আমি শিক্ষার্থীদের উৎসবমুখর পরিবেশ দেখেছি। তরুণ প্রজন্ম যদি দেশের জন্য কিছু করতে চায়, তবে তাদের শারীরিকভাবে ফিট থাকতে হবে। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ছাত্রশিবির এমন সৃজনশীল ও ইতিবাচক কার্যক্রম চালিয়ে আসছে, যা ফ্যাসিস্ট আমলে বাধাগ্রস্ত হয়েছিল।

    দৌড় কর্মসূচিতে অংশ নেয় দুই হাজারের বেশি শিক্ষার্থী

    ‘চলো একসাথে হাঁটি, একসাথে দেশ গড়ি’ স্লোগানকে ধারণ করে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে দুই হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে শুরু হয়ে কোর্ট এলাকা, রায় সাহেববাজার মোড়, ধোলাইখাল ঘুরে ধূপখোলা মাঠে গিয়ে এটি শেষ হয়।

    শাখা সূত্রে জানা গেছে, অনলাইনে প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থী নিবন্ধন করে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করে।

    শিবিরের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক সিগবাতুল্লাহ সিগবা বলেন, বাংলাদেশ এখন এক গভীর সংকটের মধ্যে আছে। এই সময়ে তরুণ প্রজন্মই পারে দেশকে রক্ষা করতে। আমাদের তরুণরা যদি সচেতন ও ফিট থাকে, তবে কোনো ফ্যাসিবাদী বা বিদেশি আধিপত্যবাদী শক্তি বাংলাদেশে মাথা তুলতে পারবে না।

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, আমাদের এ কর্মসূচির মূল প্রতিপাদ্য ‘চলো একসাথে হাঁটি, একসাথে দেশ গড়ি’। শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ না থাকলে দেশগঠন সম্ভব নয়। শিক্ষার্থীদের আগ্রহ দেখে আমরা অনুপ্রাণিত হয়েছি।

    কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী সিফাত বলেন, সকাল সকাল ক্যাম্পাসে গিয়ে এমন পরিবেশ পাব ভাবিনি। অসাধারণ লেগেছে! ধন্যবাদ ছাত্রশিবির জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে।

    শিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক মোহতাসিম বিল্লাহ শাহিদী বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শরীরচর্চার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। আজকের কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখে বোঝা যায়, তারা শারীরিকভাবে ফিট থাকতে চায়। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই—শরীরচর্চার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো দ্রুত গড়ে তোলা হোক।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন জবি শিবিরের সাবেক সভাপতি মাকসুদুর রহমান, আসাদুল ইসলাম, শাখা সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল আলিম আরিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ জাহেদ, ও অফিস সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল প্রমুখ।

  • ভোটকে এত ভয় কেন? জামায়াতকে মির্জা ফখরুলের প্রশ্ন

    ভোটকে এত ভয় কেন? জামায়াতকে মির্জা ফখরুলের প্রশ্ন

    ভোটকে ভয় পাচ্ছে বলেই আনুপাতিক ভোট বা পিআরসহ নানা দাবিতে জামায়াতে ইসলামী নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    মঙ্গলবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও কিশমত কেশুর বাড়ি লক্ষীরহাট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বিএনপি আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

    নির্বাচন পেছানোর কোনো সুযোগ নেই উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ভাই, ভোটকে এত ভয় পাচ্ছ কেন? নিজেদের অস্তিত্ব থাকবে না, এটা জানে বলেই অযৌক্তিক কর্মসূচি দিচ্ছে জামায়াত।

    বিএনপি মহাসচিব বলেন, নির্বাচন যদি আর পিছিয়ে দেওয়া হয়, তবে বাংলাদেশ ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে। সংস্কারের বিষয়ে যে বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি, তার বাইরে কিছু জোর করে চাপিয়ে দিলে এর সমস্ত দায় সরকারকেই নিতে হবে। একটি দল বাড়ি বাড়ি গিয়ে নারীদের কাছে ধর্মের অপব্যাখ্যা দিচ্ছে। যারা মুনাফেকি করে, তাদের থেকে সাবধান থাকতে হবে।

    ক্ষমতায় এলে ১৫ মাসে এক কোটি বেকারের কর্মসংস্থান তিনি প্রতিশ্রুতি দেন। পাশাপাশি ‘আমরা বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ স্বাধীন করতে চাই’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    এছাড়া, জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর একমত হওয়া বিষয়গুলোর বাইরে, কোনো কিছু চাপিয়ে না দিতে সরকারকে আহ্বান জানান তিনি। ফখরুল ইসলাম আরো বলেন, দীর্ঘ নয় মাস আপনি যে সংস্কারের নাম করে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কথাবার্তা বললেন এবং একটা একমত হলেন অনেকগুলো বিষয়ে। সেই একমত হওয়া বিষয়গুলোর বাইরে আপনি কোনো কিছু যদি চাপায় দিতে চান এদেশের মানুষের ওপর, তাহলে সব দায়দায়িত্ব আপনার।

  • গণভোট না হলে নির্বাচন ২৯ সালে: হামিদুর রহমান আযাদ

    গণভোট না হলে নির্বাচন ২৯ সালে: হামিদুর রহমান আযাদ

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, গণভোট সামনে এলে বিএনপি সংবিধান দেখায়, তাহলে বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী পাঁচ বছরের আগে নির্বাচনের সুযোগ নেই। তিনি বলেন, পাঁচ বছর পরপর নির্বাচনের কথা সংবিধানে লেখা আছে। ২০২৪ এ যদি নির্বাচন হয়, তাহলে ২০২৬ সালে নির্বাচন হবে কোথায় লেখা আছে? সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হতে হবে ২০২৯ সালে।

    মঙ্গলবার রাজধানীর পল্টন মোড়ে ৮ দলের সমাবেশে এ মন্তব্য করেন তিনি।

    হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‌‘কেউ কেউ বলছেন সংবিধানে গণভোটের বিধান নেই। তাদের বলতে চাই, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংবিধান সংশোধন করে গণভোটের ধারা বাতিল করেছিলেন শেখ হাসিনা। এখন যারা বলেন সংবিধানে গণভোট নেই, তারা কি তাহলে হাসিনার সুরে কথা বলেন না?’

    তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। সমাজকে নতুন ভিত্তিতে শক্তিশালী করতে এবং নতুন বাংলাদেশের পথে যাত্রা শুরু করতে হলে জাতীয় নির্বাচনের আগে সংস্কারের অংশ হিসেবে গণভোট দিতে হবে। নির্বাচনের আগে গণভোট ছাড়া জুলাই সনদ বাস্তবায়নও হবে না, সুষ্ঠু নির্বাচনও সম্ভব নয়।’

    বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, আপনারা আবার নতুন করে ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চান, বাংলাদেশের জনগণ এ ষড়যন্ত্র বাংলার মাটিতে হতে দেবে না। আসুন সরকারকে বলতে চাই জুলাই সনদ আদেশ জারি করুন।

  • আগে জুলাই সনদের আইনি স্বীকৃতি;  পরে নির্বাচন

    আগে জুলাই সনদের আইনি স্বীকৃতি; পরে নির্বাচন

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ছাড়া ২৬ সালে কোনো নির্বাচন হবে না।

    মঙ্গলবার রাজধানীর পল্টনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনসহ আট দলের ডাকা সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

    শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই বিপ্লবের স্বীকৃতি দিতে হলে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দিতে হবে। এই আইনি ভিত্তি ছাড়া কোনো নির্বাচন হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নাই।

    তিনি আরো বলেন, দেশের মুক্তিকামী মানুষের কথা একটাই- জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গণভোট অনুষ্ঠিত হতে হবে। গণভোটের ব্যাপারে সকল দল একমত। তাহলে তারিখ নিয়ে এই বায়নাবাজি কেন?”

    জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে সাংবিধানিক আদেশ জারি ও নভেম্বর মাসেই গণভোট আয়োজন, নির্বাচনে সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করাসহ পাঁচ দফা দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করেছে যুগপৎ কর্মসূচি চালিয়ে আসা সমমনা আটটি রাজনৈতিক দল।

    দলগুলো হলো- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি।

  • সংঘাত বাড়ছে বিএনপিতে মনোনয়ন নিয়ে

    সংঘাত বাড়ছে বিএনপিতে মনোনয়ন নিয়ে

    বিএনপিতে মনোনয়ন নিয়ে সংঘাত বাড়ছে আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ইতোমধ্যে ২৩৭ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। কিন্তু যতই দিন যাচ্ছে, মনোনয়ন নিয়ে দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে সংঘাত ক্রমেই বাড়ছে। এমনকি মনোনয়ন ঘিরে সংঘর্ষে নিহতের ঘটনাও ঘটেছে। দীর্ঘদিন ধরে নিপীড়িত অনেক নেতা বঞ্চিত হওয়ায় তাদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ থেকে এই সংঘাতের সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    সংঘাত নিরসনে দলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সে সঙ্গে প্রয়োজনে প্রার্থীদের নিয়ে বসে দ্বন্দ্ব নিরসনের পরামর্শ দিয়েছেন তারা।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ ১৫ বছর আওয়ামী ফ্যাসিবাদী আমলে দলের জন্য নির্যাতিত হয়েছেন বিএনপির অনেক নেতাকর্মী ও সমর্থক। গণতন্ত্রে উত্তরণের পথে আগামী নির্বাচন ঘিরে মনোনয়নকে দলের কাছে মূল্যায়িত হওয়ার অংশ হিসেবে দেখেছেন তারা। দীর্ঘদিনের নিপীড়িত-নির্যাতিত এসব নেতাকে ঘিরে স্বপ্ন বুনছেন তাদের কর্মী-সমর্থকরা। কিন্তু প্রত্যাশা পূরণ না হওয়া এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিতর্কিত প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত কোথাও কোথাও প্রাণঘাতী সংঘাতে রূপ নিয়েছে।যদিও বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই মনোনয়নের মাধ্যমে যে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে, সেটি সম্ভাব্য।

    বিভিন্ন স্থানে এটির রদবদলও হতে পারে। তবে বিতর্কিত ও তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক নেই—এমন অনেক প্রার্থীর নাম ঘোষণাকে কেন্দ্র করে প্রার্থী পুনর্বিবিবেচনার দাবি উঠেছে তৃণমূল থেকে। বিক্ষোভ, মশাল মিছিল, সভা-সমাবেশ ও মানববন্ধনে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন অনেক মনোনয়নপ্রত্যাশী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা। এ ছাড়া যেসব আসনে বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্ত হয়নি, সেগুলোর কিছু কিছুতে দলীয় প্রার্থীকে মনোনয়নের দাবি জানিয়েছেন নেতাকর্মীরা।এর মধ্যে গত রোববার ময়মনসিংহের গৌরীপুরে বিএনপির মনোনয়নকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় তানজিন আহমেদ আবিদ (৩০) নামে এক ছাত্রদলকর্মী নিহত হন।

    গৌরীপুর পৌর শহরের মধ্যবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।এ ছাড়া বিএনপির প্রার্থী ঘোষণার পর মাদারীপুর-১ (শিবচর), মেহেরপুর-২ (গাংনী), কুষ্টিয়া-৩ (সদর), চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি), চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড), চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী), কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর), কুষ্টিয়া-৪, কুমিল্লা-৬ (সদর ও সেনানিবাস), কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট ও লালমাই উপজেলা), চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ), বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী), ঠাকুরগাঁও-২, জয়পুরহাট-২, জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ), ঢাকা-১২, টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল), ফরিদপুর-১ (বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলা), সিলেট-৪ (গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ ও জৈন্তাপুর), দিনাজপুর-২ (বিরল-বোচাগঞ্জ), রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর), রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর), চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (ভোলাহাট, গোমস্তাপুর ও নাচোল), কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস), কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ), নাটোর-১ (লালপুর ও বাগাতিপাড়া), ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর), গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি), খুলনা-২ (সোনাডাঙ্গা ও খুলনা সদর) আসনে বিদ্রোহ, বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা, বান্দরবানসহ বেশ কয়েক স্থানে বিক্ষোভ দেখা দিয়েছে।এর মধ্যে ফেনী সদর আসনে বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে ধানক্ষেতে দাঁড়িয়ে ক্রিকেটারের ভঙ্গিতে ‘রিভিউ আবেদন’ করে আলোচনায় এসেছেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল। তার অভিনব এই প্রতিবাদ ইতোমধ্যেই দল ও দলের বাইরে সাড়া ফেলেছে। এ ছাড়া বক্তব্যের শেষে আওয়ামী স্টাইলে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে মনোনয়ন হারিয়েছেন মাদারীপুর-১ (শিবচর উপজেলা) আসনের কামাল জামান মোল্লা। এ নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বইছে। একইসঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ৯০ বছর বয়সি সাবেক সচিব মুশফিকুর রহমানের নাম ঘোষণা করেছে বিএনপি। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ ১৭ বছর রাজনীতি এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন থেকে তিনি ছিলেন সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন। কানাডার নাগরিক সাবেক এই সচিব সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। এ নিয়ে দলের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।এদিকে টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে বিএনপির সম্ভাব্য মনোনয়ন ঘোষণা নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

    কেন্দ্রীয়ভাবে প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতামত উপেক্ষিত হওয়ায় এমন প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। আসনটিতে এবার মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য এসএম ওবায়দুল হক নাসিরকে। এরপর থেকেই লাগাতার আন্দোলন করে যাচ্ছেন সাবেক মন্ত্রী, চারবারের সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক উপদেষ্টা লুৎফর রহমান খান আজাদের কর্মী-সমর্থকরা। বিক্ষোভকারীরা জানান, যে পর্যন্ত এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন পরিবর্তন না হবে, সে পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন তারা।জানতে চাইলে লুৎফর রহমান খান আজাদ আমার দেশকে বলেন, ৩৭ বছর ধরে দলের সঙ্গে আছি। তবে এই মনোনয়ন নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি নই। মনোনয়নের মাধ্যমে নির্বাচনি এলাকার বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে বলে মনে করেন কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে আজাদ বলেন, ‘জনআকাঙ্ক্ষা আদৌ পূরণ হয়নি। তবে দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে—এটি চূড়ান্ত নয়, সম্ভাব্য তালিকা। প্রয়োজনে অদল-বদল হতে পারে। এখন দলের হাইকমান্ড বিষয়টি বিবেচনা করবে। সে সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করব।’

    সংঘাত নিরসনে এখন দলকেই এগিয়ে আসতে হবে বলে মন্তব্য করেন রাজনীতি বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ। বলেন, ‘বিএনপির একটু সহানুভূতিশীল হওয়ার সুযোগ আছে। কারণ, দীর্ঘদিন তারা (নেতাকর্মীরা) নানারকম নির্যাতন-অত্যাচার সহ্য করে রাজনীতি করেছেন। এ কারণে তারা তো মনোনয়ন চাইতেই পারেন। কিন্তু দলের পক্ষে সবাইকে মনোনয়ন দেওয়া সম্ভবও হচ্ছে না। দল অনেক কিছু বিচার-বিশ্লেষণ করছে। পুরোটাই নির্ভর করবে দলের ওপর।

    ড. সাব্বির বলেন, ‘তারা (বিএনপির হাইকমান্ড) যদি সমঝোতা করে, আলাপ-আলোচনা করে নিবৃত্ত করতে পারে—সেটা বরং দলের জন্য ভালো। অন্য কোনোভাবে দল পুরস্কৃত করে তাদের ম্যানেজ করার চেষ্টা করতে পারে। এটা দলকেই করতে হবে।
    এ ক্ষেত্রে মনোনয়নবঞ্চিত এসব নেতার অবদানকে স্বীকার করে, তাদের গুরুত্ব দিয়ে বোঝাতে হবে বলে মনে করেন ড. সাব্বির। তিনি বলেন, ‘সবাইকে তো একসঙ্গে খুশি করা যায় না। কিন্তু তাদের বোঝানোটা মনে হয় দলের জন্য কঠিন কোনো কাজ নয়। তারপরও দলের মধ্যে দু-একজন তো থাকেন, যারা কিছু মানতে চান না। তারা বিদ্রোহী প্রার্থী হবেন—সেটাও দলকে চূড়ান্তভাবে সহ্য করে নিতে হবে।’

  • জামায়াত ক্ষমতায় গেলে বাড়তি সুবিধা পাবে নারী শ্রমিকরা

    জামায়াত ক্ষমতায় গেলে বাড়তি সুবিধা পাবে নারী শ্রমিকরা

    নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করতে পারলে কর্মক্ষেত্রে নারীদের নিরাপত্তা বিধান করা হবে বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

    সোমবার রাতে রাজধানীর মিরপুরে ইসলামী ব্যাংক মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে ‘ডা. শফিকুর রহমান সমর্থক গোষ্ঠী’ মিরপুর-কাফরুল অঞ্চল (ঢাকা-১৫ আসন) আয়োজিত প্রীতি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি ।

    জামায়াতের আমির বলেন, নারীদের কর্মে নিয়োগের নীতিমালা করা হবে। কর্মক্ষেত্রে নারীরা পাঁচ ঘন্টা কাজ করবেন বিনিময়ে আট ঘন্টার পারিশ্রমিক পাবেন। পাঁচ ঘন্টার পারিশ্রমিক মালিকপক্ষ পরিশোধ করবেন এবং তিন ঘন্টার পারিশ্রমিক সরকার পরিশোধ করবে। যারা ঘরের কাজ করবেন তাদেরকে রত্নগর্ভা মা হিসেবে সম্মানিত করা হবে। নারীরা আট ঘন্টা কাজ করতে চাইলে তাদেরকে সম্মানিত করা হবে বলেও জানান তিনি।

    তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে আমার কাছে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না বরং আমি নিজে এসে আপনাদের সমস্যার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধান করব।

    তিনি আরো বলেন, যুবকদের কাজ এখনো শেষ হয়নি তাদেরকে সমাজের সব জায়গা থেকে আবর্জনা পরিষ্কার করতে হবে।

    ডা.শফিকুর রহমান আরো বলেন, সুশিক্ষার অভাবে বাংলাদেশ অনেক সমস্যাগ্রস্ত হয়ে আছে। আল্লাহ আমাদেরকে সরকার গঠন করার সুযোগ দিলে প্রত্যেকটি শিশুকে সুশিক্ষিত করে গড়ে তুলে ঘুনে ধরা সমাজ পরিবর্তন করে দিব ইনশাআল্লাহ।

    সভাপতির বক্তব্যে আব্দুর রহমান মুসা দুর্নীতি, অন্যায় ও অশ্লীলতামুক্ত বাংলাদেশ গড়তে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসন থেকে ডা. শফিকুর রহমানকে বিজয়ী করার জন্য সবাইকে একযোগে কাজ করার আহবান জানান।

    প্রীতি সমাবেশে যোগদানের আগে সেনপাড়ার মসজিদুল আকসা জামে মসজিদে মাগরিবের নামাজ ও মসজিদুর রহমান জামে মসজিদে এশার নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য প্রদান ও কুশল বিনিময় করেন জামায়াত আমির।

    এ সময় তিনি দেশের মানুষের জীবনে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য মসজিদ ও মসজিদের বাইরে কোরআন ও সুন্নাহর অনুসরণ করার জন্য বিনীত অনুরোধ করেন এবং সমাজের সব উন্নয়নমূলক কাজ মসজিদের তত্ত্বাবধানে হওয়া উচিৎ বলে মন্তব্য করেন। তিনি দেশ থেকে মন্দকে তাড়িয়ে ভালোকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য যুবকদেরকে অতীতের মত ভবিষ্যতেও অগ্রণী ভূমিকা রাখতে আহ্বান জানান।

    এছাড়াও আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সৎ শাসক পছন্দের জন্য আল্লাহ ও নবীওয়ালা পথে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়ে বলেন, আল্লাহ যদি আমাদের দায়িত্ব দেয় তাহলে আপনাদের আমানতের পাহারাদার হয়ে কাজ করব ইনশা’আল্লাহ।

    ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমমির আব্দুর রহমান মুসার সভাপতিত্বে ও কাফরুল পশ্চিম থানাদ ভারপ্রাপ্ত আমির আতিক হাসান রায়হানের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দীন মানিক।

    আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরী উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা-১৫ আসনের সদস্য সচিব শাহ আলম তুহীন, উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য মোঃ শহীদুল্লাহ, জোন টিম সদস্য জসীমউদ্দীন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কাফরুল জোন পরিচালক মিজানুর রহমান, শ্রমিক নেতা নেসার উদ্দিন ও মিজানুর রহমান, কাফরুল পশ্চিম থানার কর্ম পরিষদ সদস্য মতিউর রহমান, মো. সাইফুল্লাহ, খন্দকার মাহবুবুর রহমান, সুলতান মাহমুদ, নাসিমুল গনি, আমিনুর রহমান আমানসহ স্থানীয় নেতারা

  • নির্বাচনী প্রচারণায় পোস্টার, ড্রোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

    নির্বাচনী প্রচারণায় পোস্টার, ড্রোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রথমবারের মতো সব প্রার্থীর জন্য একই মঞ্চে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করার বাধ্যবাধকতা রেখে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর জন্য ‘আচরণ বিধিমালা, ২০২৫’ জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সোমবার (১১ নভেম্বর) রাতে বিধিমালাটি গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে। এতে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সুপারিশ এবং ২০০৮ সালের আচরণবিধির সঙ্গে সমন্বয় রেখে বেশ কিছু নতুন ও কঠোর বিষয় যুক্ত করে এই আচরণবিধি প্রণয়ন করা হয়েছে।

    নতুন এই বিধিমালায় ভোটের প্রচারণায় প্রথমবারের মতো পোস্টার ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি ড্রোন ব্যবহার এবং বিদেশে যে কোনো ধরনের প্রচারণা কার্যক্রমেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

    বিধিমালা অনুযায়ী, পরিবেশ দূষণ রোধ ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে নির্বাচনী প্রচারণায় সব ধরনের পোস্টার ব্যবহার এবং ড্রোন ব্যবহারের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। প্রার্থীর পক্ষে ২০টির বেশি বিলবোর্ড, ব্যানার বা ফেস্টুন ব্যবহার করা যাবে না।

    • এ ছাড়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভোটের প্রচারেও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আনা হয়েছে। বিশেষত, অসৎ উদ্দেশ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে কোনো প্রচার চালানো সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

    নতুন বিধান অনুযায়ী, আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের নির্বাচন কমিশনে একটি অঙ্গীকারনামা জমা দেয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

    আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে এবার কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। কোনো প্রার্থী বিধিমালা ভঙ্গ করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড ও দেড় লাখ টাকা জরিমানা হতে পারে। এ ছাড়া, রাজনৈতিক দলের জন্য দেড় লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। গুরুতর লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে তদন্ত সাপেক্ষে প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতাও নির্বাচন কমিশনকে দেয়া হয়েছে।

  • নির্বাচিত হলে বাঘারপাড়ার স্বাস্থ্যখাতকে আধুনিক করে গড়ে তুলব : গোলাম রসুল

    নির্বাচিত হলে বাঘারপাড়ার স্বাস্থ্যখাতকে আধুনিক করে গড়ে তুলব : গোলাম রসুল

    বাঘারপাড়ায় আল হেলাল ট্রাস্টের উদ্যোগে বিনামূল্যে সহস্রাধিক রোগীকে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। এসময় রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধসেবা প্রদান করা হয়। সোমবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ ক্যাম্পে বিভিন্ন বয়সের ও শ্রেণির মানুষ চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন যশোর ৪ আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যাপক গোলাম রসুল। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন যশোর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি বেলাল হুসাইন, উপজেলা আমির অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, উপজেলা সেক্রেটারি আ. জব্বারসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাস্টার নাসির হায়দার। ক্যাম্পে ৫ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দিনব্যাপী রোগীদের সেবা ও পরামর্শ প্রদান করেন। অধ্যাপক গোলাম রসুলের তত্ত্বাবধানে আগত রোগীদের মধ্যে বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করা হয়।

    উদ্বোধনী বক্তব্যে অধ্যাপক গোলাম রসুল বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ওয়েলফেয়ার পলিটিক্সে বিশ্বাস করে। যেখানে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেয়া হয়। আমি নির্বাচিত হলে বাঘারপাড়ার স্বাস্থ্যখাতকে আধুনিক ও কার্যকর করে গড়ে তুলব। ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পটির যৌথ আয়োজন করে কাইন্ড ভিশন যশোর ও আল হেলাল ট্রাস্ট বাঘারপাড়া। স্থানীয় জনসাধারণ অধ্যাপক গোলাম রসুলের এ মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করে ভবিষ্যতেও এমন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

  • আ. লীগকে রাজপথেই মোকাবিলার ঘোষণা শিবিরের

    আ. লীগকে রাজপথেই মোকাবিলার ঘোষণা শিবিরের

    পতিত আওয়ামী লীগকে রাজপথেই মোকাবিলা করার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।

    সোমবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এ ঘোষণা দেন তিনি।

    ওই পোস্টে তিনি বলেন, গণহত্যাকারী সংগঠন আওয়ামী লীগকে সরকার অনেক ছাড় দেওয়ায় আজ তারা চোরাগোপ্তা সন্ত্রাসী হামলা চালাচ্ছে। তবে পতিত ফ্যাসিবাদকে রাজপথেই মোকাবিলা করা হবে ইনশাআল্লাহ।

    প্রসঙ্গত, আগামী ১৩ নভেম্বর ঢাকা লকডাউনের ঘোষণা দিয়েছে কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পলাতক নেতারা। তাদের যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা রোধে সজাগ রয়েছে সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী।

  • বিএনপি শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শ থেকে সরে গেছে: হাসনাত আব্দুল্লাহ

    বিএনপি শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শ থেকে সরে গেছে: হাসনাত আব্দুল্লাহ

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন,বিএনপি শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শ থেকে সরে গেছে। ৫ আগস্ট পরর্বতী সময়ে দলটি নিজেদের আদর্শ থেকে সরে গেছে। যারা বিএনপির এ পরিবেশে থাকতে অস্বস্তিবোধ করছেন আমরা আপনাদেরকে ওয়েলকাম জানাচ্ছি। আমরা আপনাদের নমিনেশন দেব। আমরা কুমিল্লার ১১টি আসনে সৎ যোগ্য প্রার্থী দেব। আমরা প্রথম ধাপের প্রার্থী নভেম্বরের ৩য় সপ্তাহের মধ্যে ঘোষণা করব। আমরা এ প্রার্থী ঘোষণার মাধ্যমে এনসিপির সাংগঠনিক নির্বাচনি কার্যক্রম শুরু করব।

    তিনি আরও বলেন, আমরা একটি প্রতিনিধিত্ব মূলক, ভারতীয় আধিপত্য বিরোধী এবং ফ্যাসিবাদ মুক্ত সংসদ চাচ্ছি। যে সংসদ হবে বাংলাদেশপন্থি সংসদ।

    রোববার (৯ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর একটি রেস্টুরেন্টের হলরুমে এনসিপির কুমিল্লা মহনগর, কুমিল্লা উত্তর ও দক্ষিণ জেলার সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, আমরা চাই আগামী সংসদ নির্বাচনে যারা বাংলাদেশপন্থি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে যারা বিশ্বাস করে, যারা ভারতীয় আধিপত্য বিরোধীতায় বিশ্বাস করে, যারা এই গণঅভ্যুত্থান বিশ্বাস করে, সংস্কারে বিশ্বাস করে এবং যারা এই বাংলাদেশে যে জনআকাঙ্খার কারণে এ বিপ্লব হয়েছে, সেটিতে বিশ্বাস করে, তাদেরকে নিয়ে আগামীর সংসদ গঠিত হোক।

    ব্যারিস্টার মাজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমন্বয় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আতাউল্লাহ, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব আলাউদ্দিন মোহাম্মদ, জয়নাল আবেদীন শিশির। কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক নাভিদ নওরোজ শাহ, কেন্দ্রীয় সদস্য হাফসা জাহান, সালাউদ্দিন জামিল সৌরভ কুমিল্লা মহানগর এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী মো. সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ।

  • আজ কলি হয়ে আছি, একদিন ফুটবই: নাহিদ ইসলাম

    আজ কলি হয়ে আছি, একদিন ফুটবই: নাহিদ ইসলাম

    আমরা আজ কলি হয়ে আছি। ইনশাল্লাহ, যদি আপনারা আমাদের সঙ্গে থাকেন, আমরা একদিন ফুটবই বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

    রোববার (৯ নভেম্বর) রাতে এনসিপির পেজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য এনসিপি অনেক লড়াই করে একটা সুন্দর প্রতীক জয় করে নিয়ে এসেছে, সেটি হচ্ছে শাপলাকলি। এটি আমাদের আপামর গ্রাম বাংলার প্রতিচ্ছবি, আমাদের নদীময় সভ্যতার প্রতীক শাপলাকলি শুভ্রতার প্রতীক।

    তিনি বলেন, আপনি হয়ত কখনো ভাবেননি যে, রাজনীতিতে আসবেন। রাজনীতি আপনার কাছে হয়ত একটা ভয়ের বিষয় ছিল। হয়ত অনেক দূরের একটা বিষয়। আপনি মনে করেন যে, রাজনীতি টাকাওয়ালাদের বিষয়। যাদের অনেক লোকবল আছে, রাজনীতি তাদের জন্য। কিন্তু এই রাজনীতি আপনার জীবন ধারা পরিবর্তন করে দেয়, কীভাবে তা পরিচালিত হবে? সরকার কীভাবে পরিচালিত হবে? একটা রাষ্ট্র কোন দিকে এগোবে। ফলে রাজনীতিকে যে ঘৃণা করা, রাজনীতি থেকে দূরে থাকা, এই জায়গা থেকে আমরা এবার সরে আসতে চাচ্ছি।

    এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, আমরা দেখেছি গণ-অভ্যুত্থানে রাজনীতিবিদরা এসে কিন্তু লড়াইটা করেনি। রাজনীতিবিদদের সঙ্গেও সাধারণ মানুষেরা এসেছেন। ফলে আপনার কাছে যদি দেশ বদলের অঙ্গীকার থাকে সেই ধরনের পরিকল্পনা থাকে আপনি এবার আসুন। রাজনীতিকে জয় করুন। রাজনীতিকে নিজের করে নিন। রাজনীতিকে আমরা আর চাই না। যে রাজনীতি কেবল সেই টাকাওয়ালা লুটেরা ব্যবসায়ীদের কাছে থাকবে না, চাঁদাবাজদের হাতে থাকবে না, রাজনীতি হবে সাধারণ মানুষের, সাধারণ জনগণের।

    তিনি আরও বলেন, জনগণের ভোট নিয়ে জনপ্রতিনিধিরা সংসদ ভবনে আসে। আমরা এই সংসদ ভবনকে দখলমুক্ত করেছিলাম ৫ আগস্টে। যেই সংসদ ভবন জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। জনগণের প্রতিনিধিরা এখানে ছিল না। এই সংসদ ভবনকে ব্যবহার করে আমাদের সংবিধানকে কুক্ষিগত করা হয়েছিল। আমাদের রাষ্ট্রকে দলীয়করণ করা হয়েছিল। এই সবকিছু থেকে মুক্ত করতেই কিন্তু আমরা ৫ আগস্ট সংসদ ভবনে এসেছিলাম। সামনেই নির্বাচন হবে। আমরা ৫ আগস্টের পরে পুরা সময়টা ধরে নানা কমিশন ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে দেশের সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করেছি।

    এনসিপির এই নেতা বলেন, বাংলাদেশের কোথায় কী সমস্যা সেই সমস্যাগুলোকে আইডেন্টিফাই করা হয়েছে। একটা ঐকমত্যের জায়গায় এসেছে। তবে সবকিছুই নির্ভর করবে এই সংসদের উপরে। এই সংসদ একটি সংস্কার পরিষদ সভা হবে। যেখানে আমরা যে পরিবর্তনের কথাগুলো বলেছি সেই পরিবর্তন গুলা বাস্তবায়িত হবে। ফলে এবারের সংসদ বাংলাদেশের ইতিহাসের যে কোনো সংসদের থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি সংসদ নির্বাচন হতে যাচ্ছে।

  • বিএনপির দু’গ্রুপের সংঘর্ষে ছাত্রদল কর্মী নিহত

    বিএনপির দু’গ্রুপের সংঘর্ষে ছাত্রদল কর্মী নিহত

    ময়মনসিংহের গৌরীপুরে বিএনপির মনোনয়নকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় তানজিন আহমেদ আবিদ (৩০) নামে এক ছাত্রদল কর্মী নিহত হয়েছেন।

    রোববার বিকালে গৌরীপুর পৌর শহরের মধ্যবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আবিদ ময়মনসিংহ নগরীর কৃষ্টপুর এলাকার মৃত আবুল হোসেনের ছেলে। তিনি জেলা উত্তর ছাত্রদলের কর্মী ছিলেন। তার বাবা দক্ষিণ জেলা উলামা দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন।
    বিজ্ঞাপন

    জানা যায়, সন্ধ্যায় গৌরীপুর সরকারি কলেজ হোস্টেল মাঠে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে সমাবেশের আয়োজন করেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসেন।

    ইকবাল হোসেনের সমর্থকদের অভিযোগ, সমাবেশ শেষে শহরে ফেরার পথে বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত প্রার্থী আহমেদ তায়েবুর রহমান হিরণের সমর্থকরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে ছাত্রদলকর্মী আবিদ গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে দ্রুত সিএনজিযোগে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    ঘটনার পর রাতে ইঞ্জিনিয়ার ইকবালের পক্ষে গৌরীপুরে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এ সময় উপস্থিত ছিলেনÑ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুল ইসলাম খান শহিদ, যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম তালুকদার, উত্তর জেলা যুবদলের সভাপতি শামছুল হক প্রমুখ।

    তাদের দাবি, মনোনয়নবঞ্চিত হিরণপন্থিরা পরিকল্পিতভাবে ইকবাল সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় হিরণ সমর্থকদের ধাওয়ায় মাটিতে পড়ে আবিদ গুরুতর আহত হন।

    এদিন বিকালে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী ইঞ্জিনিয়ার ইকবালপন্থিরা গৌরীপুর সরকারি কলেজের হোস্টেল মাঠে এবং আহমেদ তায়েবুর রহমান হিরণপন্থিরা শহরের মধ্যবাজার ধানমহাল এলাকায় আলাদা সমাবেশের আয়োজন করে। বিকাল ৪টা থেকে দুপক্ষের নেতাকর্মীরা নিজ নিজ সমাবেশস্থলে জড়ো হতে থাকেন, যার পরই সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে।

    গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দিদারুল ইসলাম বলেন, বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও মনোনয়নবঞ্চিত প্রার্থীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রাথমিকভাবে যতটুকু জানা গেছে, সংঘর্ষের সময় আবিদ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেলে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
    বিএ

  • ১১ নভেম্বর পল্টনে ৮ দলের যৌথ সমাবেশ

    ১১ নভেম্বর পল্টনে ৮ দলের যৌথ সমাবেশ

    জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি করে তার ভিত্তিতে গণভোট আয়োজনসহ পাঁচ দফা দাবিতে মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) রাজধানীতে জনসভা করবে জামায়াতে ইসলামীসহ আট দল। আগামীকাল দুপুর ২টায় পল্টন মোড়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।

    এর আগে, পাঁচ দফা দাবিতে গত বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি দেয় আন্দোলনরত আট দল। তখন, দাবি না মানলে ১১ নভেম্বর ঢাকায় সমাবেশেরও ঘোষণা দেন জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের। সে অনুযায়ী, আগামীকাল সমাবেশ করবে দলগুলো।

    সূত্র জানায়, ইসলামী আন্দোলনের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের সভাপতিত্বে জনসভায় জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, নেজামে ইসলাম পার্টির আমির অধ্যক্ষ মাওলানা সরওয়ার কামাল আজিজী, জাগপা সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান, খেলাফত মজলিসের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল বাসিত আজাদ, খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা হাবীবুল্লাহ মিয়াজী এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির সভাপতি অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল হক চাঁন বক্তব্য দেবেন।

    জামায়াত-ইসলামী আন্দোলনের প্রস্তুতি সভা

    আট দলের জনসভা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গতকাল রোববার প্রস্তুতি বৈঠক করেছে জামায়াতে ইসলামী। বৈঠকে জনসভা বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি তা সফল করার লক্ষ্যে নেতাকর্মীদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করা হয় বলে জানা যায়।

    দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের সভাপতিত্বে এতে উপস্থিত ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুম, ড. হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম ও অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, ঢাকা মহানগর উত্তরের নায়েবে আমির আবদুর রহমান মুসা, মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমির আবদুস সবুর ফকির ও অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন প্রমুখ।

    এদিকে, আগামীকালের জনসভাকে সামনে রেখে গতকাল বিকালে পুরানা পল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রস্তুতিমূলক সভা আয়োজন করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। সভায় দলের মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুস আহমাদ বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মধ্যে দিয়ে রাষ্ট্র মেরামতের যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা কোনোভাবেই ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না।
    তিনি আরো বলেন, গত ৬ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম, আমাদের দাবির গুরুত্ব অনুধাবন করে প্রধান উপদেষ্টা কোনো ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবেন। কিন্তু আমাদের হতাশ হতে হয়েছে। তাই আমাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি মাঠে প্রতিফলিত হবে, ইনশাআল্লাহ।

  • জুলাই সনদ নিয়ে সময়সীমা শেষ; এখন কি করবে সরকার

    জুলাই সনদ নিয়ে সময়সীমা শেষ; এখন কি করবে সরকার

    জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোট নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে রাজনৈতিক দলগুলোকে সরকারের দেওয়া এক সপ্তাহের সময়সীমা আজই শেষ হচ্ছে। কিন্তু দলগুলো এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের সমঝোতায় আসতে পারেনি। জামায়াতে ইসলামী বলছে, তারা বিএনপিকে আলোচনার আহ্বান জানালেও দলটি তাতে সাড়া দেয়নি। আর বিএনপি বলছে, আলোচনার উদ্যোগ সরকারকেই নিতে হবে।

    এদিকে বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে সমঝোতার জন্য জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) উদ্যোগ নিয়েছিল; কিন্তু তা সফল হয়নি। এ কারণে জামায়াত ও এনসিপিও চায় সরকার উদ্যোগ নিক। ফলে সব মিলিয়ে সংকট নিরসনের এই বল এখন সরকারের কোর্টে। তাই গণভোটের দিনক্ষণ নির্ধারণ ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অবশ্য সরকার বলছে, দলগুলো সিদ্ধান্তে আসতে না পারলে দ্রুতই সরকারের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

    সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে এখন দুটি অপশন। প্রথমত, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আবার কথা বলতে পারে। দ্বিতীয়ত, কোনো আলোচনা ছাড়াই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতে পারে।

    এ ব্যাপারে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, সরকারের দেওয়া সময়সীমা রোববার শেষ হচ্ছে। এ সময়ের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলো কোনো সিদ্ধান্ত আসতে না পারলে দেশ ও জনগণের স্বার্থে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। সেই সিদ্ধান্ত কবে নাগাদ আসতে পারে-এ প্রশ্নের জবাবে শফিকুল আলম বলেন, সময় শেষ হওয়ার পর নিশ্চয়ই উপদেষ্টারা নিজেদের মধ্যে আলোচনার জন্য আবারও বসবেন। এরপর দেশ ও জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা এখনো আশাবাদী। কারণ, রাজনৈতিক দলগুলো দেশের অনেক বড় সমস্যার সমাধান করেছে। ফলে তারা একটি সিদ্ধান্তে আসবেন। যেহেতু এখনো সময় শেষ হয়নি, তাই সরকারের পক্ষ থেকে আগাম কোনো কিছু বলা ঠিক হবে না। আমরা শেষ সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করব। তার মতে, রাজনীতিতে একদিন অনেক বেশি সময়। একদিনের মধ্যে অনেক কিছু পরিবর্তন হতে পারে। এছাড়াও রাজনৈতিক দলগুলো যদি বলে, তাদের আরও দু-একদিন সময় লাগবে, তবে সরকার তা বিবেচনা করবে। তিনি আরও বলেন, দলগুলোর মধ্যে দ্বিমত থাকবেই। এরপরও আমাদের ঐকমত্যে পৌঁছে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এটা দ্রুতই হবে। কারণ, নির্বাচন নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা থাকুক, সরকার তা চায় না। শফিকুল আলম বলেন, জুলাই সনদে সব বিষয় উঠে এসেছে। সেখানে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের সুচিন্তিত মতামত দিয়েছে। মোট চার হাজার পাতার অডিও-ভিডিও রেকর্ড করা হয়েছে। এই আলোচনা নির্বাচনের পরও আবার শুরু হতে পারে।

    প্রসঙ্গত, এ পর্যন্ত ২৫টি রাজনৈতিক দল জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করেছে। এরপর ২৮ অক্টোবর সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশ জমা দেয় জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। এতে বলা হয়, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার একটি আদেশ জারি করবে। কিন্তু আদেশ জারির আগেই রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। এ অবস্থায় সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে ৩ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে রাজনৈতিক দলগুলোকে সমঝোতার আহ্বান করা হয়। বৈঠক শেষে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেন, দীর্ঘদিন আলোচনার পরও গণভোটের সময় এবং বিষয়বস্তু কী হবে-এসব প্রশ্নে দলগুলোর মধ্যে মতভেদ রয়েছে। এটি উদ্বেগজনক। এ অবস্থায় এ ব্যাপারে জরুরি ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। দলগুলোকে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে দ্রুততম সময়ে সিদ্ধান্তে আসতে হবে। সম্ভব হলে এক সপ্তাহের মধ্যে।

    সরকার ডাকলে সাড়া দেবে বিএনপি : সরকারের আহ্বানের পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বৃহস্পতিবার ফোন করে আলোচনার জন্য আহ্বান জানান জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। বিএনপি মহাসচিব ওইসময়ে দলের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের সঙ্গে আলোচনা করে জানানোর কথা বলেন। পরদিন বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। নেতারা অভিমত ব্যক্ত করে বলেন, জামায়াত তো সরকার না। ফলে রাষ্ট্রীয় কোনো বিষয়ে তারা আমাদের ডাকতে পারে না। ব্যক্তিগত বা দুই দলের কোনো দাওয়াতে ডাকতে পারে। সুতরাং এ ইস্যুতে জামায়াতের আহ্বান ‘সঠিক পন্থা’ নয়। তাই জামায়াতের আহ্বানে বিএনপি সাড়া দেবে না। জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দীর্ঘ আলোচনার পর ঐকমত্যের ভিত্তিতেই সনদ সই হয়েছে। ফলে ভিন্নমতের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে। কিন্তু সেই ঐকমত্য ভেঙে নতুন ইস্যু তোলা হয়েছে। এর মানে হলো সেই ঐক্যের প্রতি অসম্মান। তিনি বলেন, ‘কিছু রাজনৈতিক দল জোর করে নিজেদের দাবি সবার ওপর চাপিয়ে দিতে চায়। শেখ হাসিনার শাসনে আমাদের মধ্যে একটা স্বৈরাচারী মনোভাব চলে আসছে। তাই আমি মনে করি, যতটুকু ঐকমত্য হয়েছে, তা বাস্তবায়িত হবে। যেগুলোয় ঐকমত্য হয়নি, তা নিয়ে যেতে হবে জনগণের কাছে। ঐকমত্যের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’ সূত্র বলছে, বিএনপির নীতিনির্ধারকদের অভিমত, সরকার এবং জাতীয় ঐকমত্য কমিশন মিলে সমস্যার সৃষ্টি করেছে। কারণ, সনদ বাস্তবায়নে কমিশনের সুপারিশের সঙ্গে দলগুলোর ঐকমত্যে স্বাক্ষরিত সনদের মিল নেই।

    জামায়াত যা বলছে : জামায়াতে ইসলামী মনে করছে, আলোচনা বা সমঝোতার উদ্যোগ সরকারকেই নিতে হবে। এ ব্যাপারে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপি তাদের জায়গায় অটল। আমরাও আমাদের দলীয় অবস্থান পরিষ্কার করেছি। ইতোমধ্যে প্রধান উপদেষ্টাকে স্মারকলিপি দিয়েছি। ১১ নভেম্বর জামায়াতসহ ৮ দলের বড় কর্মসূচি রয়েছে। তিনি বলেন, উপদেষ্টা পরিষদের আহ্বানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমরা বিএনপিকে আলোচনায় বসার অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু তারা আলোচনায় আগ্রহ দেখাচ্ছে না। ফলে আলোচনার উদ্যোগ এখন সরকারকেই নিতে হবে। না হলে সমস্যার সমাধান হবে না।

    এনসিপি : বিদ্যমান সংকট উত্তরণে রাজনৈতিক সমঝোতার উদ্যোগ নিয়েছিল এনসিপিসহ ৯টি দল। এজন্য বুধবার দলগুলো জরুরি বৈঠকে বসে। কিন্তু সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি। নেতারা জানান, জুলাই সনদ নিয়ে যে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে, তা দূর করতে বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আলোচনা জরুরি। ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশের পর বিভাজনের রাজনীতি তৈরি হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হয় কিনা, সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এখন সরকারকেই উদ্যোগ নিতে হবে।

    সরকারের ভাবনা : সরকারি সূত্র বলছে, ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ বিশ্লেষণ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শেষে সনদ বাস্তবায়নের ব্যাপারে প্রাথমিক একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছে সরকার। সেক্ষেত্রে দলগুলোর দাবির মধ্যে একটি ভারসাম্য রক্ষা করার চেষ্টা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে-জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোট এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন একই দিনে হবে। এই গণভোটে জুলাই সনদের প্রস্তাবগুলোর ওপর বিভিন্ন দলের দেওয়া নোট অব ডিসেন্ট উল্লেখ থাকবে না। তবে ঐকমত্য কমিশনের পক্ষ থেকে সনদ বাস্তবায়নে ২৭০ দিনের বাধ্যবাধকতার যে সুপারিশ করা হয়েছে, সেটিও তুলে দেওয়া হবে। এছাড়াও পিআর (আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতিতে গঠিত হবে সংসদের উচ্চকক্ষ। অর্থাৎ জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপি-জামায়াত উভয় পক্ষের যে দাবি রয়েছে, সেসব দাবি মানার ক্ষেত্রে সরকার ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করছে।

    বিশ্লেষকদের অভিমত : জানতে চাইলে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমেদ শনিবার যুগান্তরকে বলেন, নাগরিক হিসাবে আমরা আশা করেছিলাম, পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো দায়িত্বশীল আচরণ করবে। নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক উত্তরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। মতভিন্নতা, মতভেদ কিংবা দলীয় বিবেচনার বাইরে এসে প্রাধান্য দেবে দেশ ও মানুষের স্বার্থকে। অন্তর্বর্তী সরকারও নিরপেক্ষভাবে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবে। কিন্তু তেমন লক্ষণ আমরা দেখছি না। এ অবস্থায় আমাদের প্রত্যাশা সরকার আরও দায়িত্বশীল আচরণ করবে।

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক ড. একেএম শাহনওয়াজ বলেন, দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিটাই এমন যে, এখানে সবাই একমত হবেন-এমন আশা করা এককথায় বোকামি। তবে কাছাকাছি আসবে-এমন প্রত্যাশা স্বাভাবিক। তিনি বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর প্রায় ১৫ মাস পার হয়েছে। কিন্তু সরকার জুলাই সনদসহ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে কোনো ধরনের সমঝোতায় আসতে পারেনি। রাজনৈতিক দলগুলোকেও সমঝোতায় আনতে পারেনি। এটা তাদের বড় ব্যর্থতা। এখনো সরকার যদি নিজের মতো করে জোড়াতালি দিয়ে কিছু রাজনৈতিক দলের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে, তা হবে আত্মঘাতী।

    দুই দল মুখোমুখি : সরকারের আহ্বানের পর সমঝোতা দূরের কথা, উলটো বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে প্রকাশ্যে বিরোধ বাড়ছে। দল দুটি এখন মুখোমুখি। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে দুই দলই গণভোটের পক্ষে। কিন্তু বিএনপি জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে গণভোট চায়। এছাড়াও সনদের যে বিষয়ে তারা নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে, সেগুলো গণভোটের প্রস্তাবে উল্লেখ থাকতে হবে। এ অবস্থায় সনদ বাস্তবায়নের আলোচনা থেকে মানুষের দৃষ্টি সরাতে সোমবার ২৩৭টি আসনে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। অন্যদিকে জামায়াত চায় জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট। আর গণভোটের প্রস্তাবে কোনো দলের নোট অব ডিসেন্ট থাকতে পারবে না। এই দাবি বাস্তবায়নে শুক্রবার পর্যন্ত সরকারকে আলটিমেটাম দিয়েছিল জামায়াতের নেতৃত্বে ৮টি ইসলামি দল। বৃহস্পতিবার তারা প্রধান উপদেষ্টাকে স্মারকলিপি দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, উল্লিখিত সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে ১১ নভেম্বর ঢাকায় জনস্রোত নামবে।

  • নূরুল ইসলাম বুলবুল আওয়ামী লীগের পাতানো নির্বাচনের বিজয়ীদের প্রশাসন নির্বাচিত করেছিল

    নূরুল ইসলাম বুলবুল আওয়ামী লীগের পাতানো নির্বাচনের বিজয়ীদের প্রশাসন নির্বাচিত করেছিল

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী) মো: নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগের পাতানো নির্বাচনে জনগণ নয়, বিজয়ীদের প্রশাসন নির্বাচিত করেছিল। প্রশাসনের রাতের ভোটের ওই বিজয়, বিজয় নয়। জনগণ তাদের নির্বাচন বর্জন করেছিল।’

    শনিবার রাতে নিজ নির্বাচনী এলাকা চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের রেহাইচর ভোট সেন্টারে অনুষ্ঠিত যুব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‘২০১৪ সালের একতরফা নির্বাচন, ২০১৮ সালের রাতের ভোট, ২০২৪ সালের আমি-ডামি নির্বাচন ছিল প্রহসনের নির্বাচন। ভোটের আগে প্রশাসনের (ডিসি-এসপির) সাথে কোথায়, কখন, কারা গোপন বৈঠক করেছে তার তথ্য আমাদের জানা আছে। গোপন বৈঠক থেকেই নির্ধারণ করা হয়েছে ‘কে’ নির্বাচিত হবে, ‘কাকে’-‘কিভাবে’ বিজয়ী ঘোষণা করা হবে! প্রহসনের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আজকে কাউকে কাউকে অহংকার আর দাম্ভিকতার সাথে কথা বলতে শুনা যায়। কিন্তু এরা কখনোই জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়নি, হবেও না ইনশাআল্লাহ। কারণ জনগণ জানে কারা দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসী, দখলবাজ, চাঁদাবাজ। জনগণ কখনোই দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসী, দখলবাজ, চাঁদাবাজের ভোট দেয় না, দেবে না।’

    এসময় তিনি আরো বলেন, ‘চাঁপাইনবাবগঞ্জের যুব সমাজকে ধ্বংস করতে যারা যুব সমাজের হাতে মাদক ও অস্ত্র তুলে দিচ্ছে তাদেরকে সম্মিলিতভাবে প্রতিহত করতে হবে। যারা যুব সমাজকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে তাদেরকে ব্যালটের মাধ্যমে তাদেরকে বয়কট করতে হবে।’

    তিনি উপস্থিত যুবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীতে মাদক, সন্ত্রাসের স্থান নাই। জামায়াতে ইসলামী যুব সমাজকে আদর্শিক ও নৈতিক মূল্যবোধের মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে।’

    নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে বেকারত্ব দূরীকরণে যুব সমাজকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা হবে। যুব নারী-পুরুষকে কর্মমূখী প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে প্রত্যেককে জাতীয় সম্পদে রূপান্তরিত করা হবে। তিনি নির্বাচিত হলে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় ভিলেজ পলিটিক্স বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। ঘরে বসেই উর্পাজনের সুযোগ পাবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রতিটি মানুষ। জনগণের কল্যাণে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শহর ও গ্রামকে সমানভাবে গড়ে তোলা হবে। কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষের কল্যাণে সকল বৈষম্যের শিকল ভেঙে দিয়ে দলমত, ধর্ম-বর্ণ, জাতি-গোষ্ঠী নির্বিশেষে সমান সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। বিদেশগামীদের প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা করতে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় পদক্ষেপ নেয়া হবে। যেই পদক্ষেপের ফলে কেউ বিদেশে যাওয়ার জন্য অগ্রিম টাকা দিয়ে প্রতারিত হবে না। বিদেশে যেতে না পারলে বিদেশগামীর টাকা অটোমেটিকভাবে সে ফেরত পাবে। মহানন্দা ও পদ্মা নদী ভাঙ্গন রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। বিশুদ্ধ পানির অভাব দূর করা হবে। ছাত্র ও তরুণ যুব সমাজের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশের রোল মডেল হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জকে গড়ে তোলা হবে।‘ এজন্য যুব সমাজকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে এগিয়ে আসতে তিনি আহ্বান জানান।

    এর আগে বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের রেহাইচর ভোট সেন্টারে অনুষ্ঠিত নারী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‘ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় নারী সমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নারীদের ভোটের মাধ্যমেই সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, দখলবাজ, অস্ত্রবাজ, দুর্নীতিবাজদের পরাজিত করতে হবে।’

    তিনি উপস্থিত নারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘যারা রাজনীতির নামে আপনার সন্তানের হাতে অস্ত্র তুলে দেয়, মাদক তুলে দেয়, আপনার সন্তানের রক্ত ও লাশ নিয়ে রাজনীতি করে আপনি তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার এখনই সময়। সন্তানের ভবিষ্যৎ ও আগামীর নিরাপদ বাংলাদেশের জন্য নিরাপদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ গড়তে তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের মা-বোনদের ইসলামের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ইসলামী সমাজ বিনির্মাণ হলে সমাজের প্রতিটি মানুষ নিরাপদ ও স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার সুযোগ পাবে। ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠা হলে সামাজিক কলহ দূর হবে। সমাজে শান্তি ফিরে আসবে। মানুষের মৌলিক অধিকার ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা হবে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘বিগত ১৭ বছর আওয়ামী সরকারের জুলুম নির্যাতনের পরেও তাকে একদিনের জন্যও জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করা যায়নি। সবসময় নিজে জনগণের সামনে হাজির হতে না পারলেও জনগণের যেকোনো প্রয়োজনে তিনি নিজেকে ভিন্নভাবে, ভিন্ন কায়দায়, ভিন্ন কৌশলে জনগণের সামনে হাজির করেছে, জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছি। জনগণের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন মেডিক্যাল ক্যাম্প পরিচালনা করে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য সেবা এবং ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য রোগীদের হাসপাতালে নিতে নিজস্ব ১০টি অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে সার্ভিস দেয়া হচ্ছে। বেকারত্ব দূরীকরণে যুবকদের কর্মমূখী প্রশিক্ষণ প্রদান এবং নারীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে বিনামূল্যে সেলাই মেশিন বিতরণ, গবাদি পশু বিতরণ করাসহ ব্যাপক ভিত্তিক কর্মসূচি চলমান রয়েছে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা মানুষের মৌলিক অধিকার। এই মৌলিক অধিকার রাষ্ট্র কর্তৃক নিশ্চিত করার কথা থাকলেও স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হয়নি।’

  • জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আমাদের প্রেরণা দেয় : মির্জা ফখরুল

    জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আমাদের প্রেরণা দেয় : মির্জা ফখরুল

    বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানের পর বিভিন্নভাবে চক্রান্ত চলছে। গণতন্ত্রকে আবার ধ্বংস করার চেষ্টা হচ্ছে।

    তিনি বলেন, সেই প্রেক্ষাপটে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আমাদের অনুপ্রেরণা দেয়— যে পথে সত্যিকার অর্থে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

    শুক্রবার সকালে (৭ নভেম্বর ) রাজধানীর জিয়া উদ্যানে বিএনপির উদ্যোগে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টা ২০ মিনিট থেকে ১০টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত চলে এই কর্মসূচি।

    পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মির্জা ফখরুল বলেন, আজকের দিনটি শুধু বিএনপির নয়, বাংলাদেশের প্রত্যন্ত মানুষের কাছেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ৭ নভেম্বরের চেতনা আমাদের শেখায়— জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা ছাড়া গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না।

    তিনি আরও বলেন, জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারবো, সেই লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও বিএনপি এগিয়ে যাবে।

    গতকাল আপনাকে জামায়াতে ইসলামের নায়েবে আমির ফোন করেছিলেন— এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত কী?”

    জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন,গতকাল আমাদের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছি। ঐটাই আমাদের বক্তব্য।

    কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সালাহউদ্দিন আহমদ, অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন; চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান; সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন ও আব্দুস সালাম আজাদ; এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

  • আইআরআইয়ের প্রতিবেদন; জুলাই সনদের বাস্তবায়নসহ ৮ সুপারিশ

    আইআরআইয়ের প্রতিবেদন; জুলাই সনদের বাস্তবায়নসহ ৮ সুপারিশ

    ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নাজুক। নির্বাচনের আগে আরো সহিংসতার শঙ্কার কথা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই)।

    গত ২০-২৪ অক্টোবর সংস্থাটি বাংলাদেশের নির্বাচনি পরিবেশ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মূল্যায়ন করতে মিশন পরিচালনা করে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় সংস্থাটি।

    নির্বাচন পূর্ববর্তী পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে আট দফা সুপারিশ প্রদান করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আইআরআই ।

    তাদের মিশনটি নির্বাচন কমিশন, সরকারি প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল এবং অন্যান্য নির্বাচনি স্টেকহোল্ডারদের জন্য এসব সুপারিশ দিয়েছে।

    এই সুপারিশগুলো যদি নির্বাচনের পূর্ববর্তী সময়কাল এবং পরবর্তীতে কার্যকর করা হয়, তবে তা বিশ্বাসযোগ্য এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সহায়ক হতে পারে বলে রিপোর্টে দাবি করেছে তারা।

    সুপারিশগুলো হলো- জুলাই সনদের বাস্তবায়ন চূড়ান্ত করা, নাগরিক শিক্ষাকে শক্তিশালী করা এবং গণতান্ত্রিক সংস্কার সমর্থন করা, নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ উৎসাহিত করা, প্রার্থী নির্বাচনের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করা, নিরাপত্তা পরিকল্পনায় সমন্বয় বৃদ্ধি, নাগরিক নির্বাচনি পর্যবেক্ষণে স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি, রাজনৈতিক তহবিলে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনের সময় স্বাধীন ও বিশ্বাসযোগ্য তথ্য পরিবেশ প্রচার করা।
    জুলাই চার্টারের বাস্তবায়ন চূড়ান্ত করা: রাজনৈতিক দলগুলোকে জুলাই জাতীয় চার্টার চূড়ান্তকরণ এবং তা কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দেয়া উচিত। এর মধ্যে রয়েছে সময়সীমা নির্ধারণ, নির্দিষ্ট ধারার বিষয়ে বাকি থাকা মতবিরোধ সমাধান এবং গণপরিষদের সামনে তাদের উদ্দেশ্য ঘোষণা করা যে তারা গণতান্ত্রিক সংস্কারগুলোকে সমর্থন করবে। অস্থায়ী সরকার এবং নির্বাচন কমিশনকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে জুলাই চার্টারের গণভোট পরিচালনার জন্য একটি সুস্পষ্ট এবং বৈধ কাঠামো স্থাপন করা উচিত। গণভোটের ক্রম এবং সময় নির্ধারণের সিদ্ধান্ত স্বচ্ছ আইনগত ব্যাখ্যা এবং বিস্তৃত রাজনৈতিক সম্মেলনের ভিত্তিতে গ্রহণ করা উচিত। গণভোটের উদ্দেশ্য, প্রক্রিয়া এবং প্রভাব সম্পর্কে জনগণের সঙ্গে স্পষ্ট ও ধারাবাহিক যোগাযোগ রক্ষা করা অপরিহার্য, যা সংস্কার এজেন্ডা এবং নির্বাচনি প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা নিশ্চিত করবে।

    নাগরিক শিক্ষাকে শক্তিশালী করা এবং গণতান্ত্রিক সংস্কার সমর্থন করা: জুলাই চার্টারের বিষয়বস্তু বোঝার জন্য দৃঢ় নাগরিক শিক্ষার উদ্যোগ অপরিহার্য। নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল, মিডিয়া এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে জাতীয় স্তরে ভোটারদের শিক্ষিত করার প্রচেষ্টা অগ্রাধিকার দিতে হবে। এর মধ্যে থাকবে সংবিধান সংশোধন, নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং প্রস্তাবিত সংস্কারের প্রভাবের ব্যাখ্যা। নাগরিক শিক্ষার প্রচেষ্টা সর্বজনীন, সহজলভ্য এবং প্রথমবার ভোটার, যুবক, নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে তৈরি হতে হবে।

    নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ উৎসাহিত করা: রাজনৈতিক জীবনের সব স্তরে নারীরা এখনও অপ্রতিনিধিত্বমূলক। রাজনৈতিক দলগুলোকে নারীদের অধিকার সুরক্ষা এবং নেতৃত্ব বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হবে। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত-নারী প্রার্থী নিয়োগ, নেতৃত্ব প্রশিক্ষণ প্রদান এবং সংরক্ষিত আসনের বাইরে অংশগ্রহণ সমর্থন করা। দলগুলোকে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নারী ভোটার এবং প্রার্থী উভয়ের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে।

    প্রার্থী নির্বাচনের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করা: রাজনৈতিক দলগুলোকে অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক অনুশীলন শক্তিশালী করতে হবে। প্রার্থী নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ, নিয়মিত এবং পক্ষপাত বা জোরপূর্বক প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে। প্রার্থী মনোনয়নকালে স্থানীয় স্তরের সহিংসতা কমানো এবং নারীদের প্রার্থী ও প্রচারক হিসাবে অংশগ্রহণের সুরক্ষা নিশ্চিত করা উচিত।

    নিরাপত্তা পরিকল্পনায় সমন্বয় বৃদ্ধি: নির্বাচন কমিশনকে সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় বৃদ্ধি করতে হবে, স্থানীয় উত্তেজনা কমাতে এবং নির্বাচনের সময় সহিংসতা প্রতিরোধ করতে। যৌথ পরিকল্পনা,
    পরিষ্কার যোগাযোগ প্রোটোকল এবং সমন্বিত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা জনসাধারণের নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং ভোটার আস্থা শক্তিশালী করতে অপরিহার্য।
    সুত্র: আমার দেশ

  • ১১ নভেম্বরের মধ্যেই গণভোট দেওয়ার আল্টিমেটাম জামায়াতের

    ১১ নভেম্বরের মধ্যেই গণভোট দেওয়ার আল্টিমেটাম জামায়াতের

    বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় জামায়াতসহ আট দলের পক্ষ থেকে পাঁচ দফা দাবিতে স্মারকলিপি দেয়ার পর গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এসব কথা বলেন তিনি।আগামী ১১ নভেম্বর রাজধানীতে আট দলের সমাবেশের আগে পাঁচ দফা মেনে নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এ সময় দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, তার আগে দাবি না মানলে ওই দিন ঢাকার চিত্র ভিন্ন হতে পারে।বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় জামায়াতসহ আট দলের পক্ষ থেকে পাঁচ দফা দাবিতে স্মারকলিপি দেয়ার পর গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

    এসময় তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনায় প্রধান উপদেষ্টাকে ‘রেফারির ভূমিকায়’ থাকার আহ্বান জানান।

    তিনি বলেন, ১১ নভেম্বর ঢাকায় সমাবেশ করবে জামায়াতসহ আটটি রাজনৈতিক দল। তার আগেই সরকারকে দাবি মেনে নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

    ‘পাঁচ দফা দাবি মেনে নিয়ে জুলাই সনদের প্রতি এই গণআকাঙ্ক্ষার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করুন। তা না হলে ১১ তারিখে রাজধানী ঢাকার চিত্র ভিন্ন হবে,’ বলেন তিনি।
    এর আগে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল জানান, আট দলের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে প্রধান উপদেষ্টার পক্ষে উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান স্মারকলিপি গ্রহণ করেছেন।

    সুত্র: নয়াদিগন্ত

  • ছাত্রী হলের সাংগঠনিক দায়িত্বে ছাত্র নেতা!

    ছাত্রী হলের সাংগঠনিক দায়িত্বে ছাত্র নেতা!

    জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবিপ্রবি) ছাত্রী হলের সাংগঠনিক দায়িত্ব পুরুষ সদস্যদের হাতে তুলে দেওয়ায় ক্যাম্পাসে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকা অবস্থায় এমন সিদ্ধান্তে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় বইছে।

    বুধবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাকিল আহমেদ তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে একটি সাংগঠনিক নোটিশ প্রকাশ করেন। এতে ছাত্র ও ছাত্রী হলের সাংগঠনিক কার্যক্রম তদারকির জন্য কয়েকজন নেতার নাম ঘোষণা করা হয়।

    নোটিশে দেখা যায়, ছাত্র হলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যুগ্ম আহ্বায়ক আমির হামজা, সদস্য মোহাম্মদ আমানউল্লাহ ও রবিউল ইসলাম রিমনকে। তবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে ছাত্রী হলের কমিটি।ছাত্রী হলের দায়িত্বে দেওয়া হয়েছে—যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ ইকরাম হোসেন, সদস্য সাদ ইবনে ওয়াহিদ এবং যুগ্ম আহ্বায়ক আদিবা হক মিলাকে। এই তালিকায় দুজন পুরুষ সদস্যের নাম থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—‘ছাত্রী হলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ছেলেদের সম্পৃক্ততা কতটা যৌক্তিক?’

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রী বলেন, ‘আমরা হলে রাজনৈতিক কার্যক্রম চাই না। তাছাড়া ছাত্রী হলের দায়িত্বে ছাত্রদের রাখা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।’

    বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী জানান, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও এ ধরনের সাংগঠনিক ঘোষণা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালার পরিপন্থি এবং প্রশাসনের পূর্বঘোষণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

    প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. নুর হোসেন চৌধুরীর স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে স্পষ্টভাবে জানানো হয়— ক্যাম্পাস এলাকায় কোনো ধরনের রাজনৈতিক সভা, সমাবেশ, প্রচার বা সংগঠন পরিচালনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম, লোগো ও প্রতীক রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার করলে তা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

  • চট্টগ্রামে ফের গোলাগুলি, বিএনপির ৫ নেতা গুলিবিদ্ধ

    চট্টগ্রামে ফের গোলাগুলি, বিএনপির ৫ নেতা গুলিবিদ্ধ

    চট্টগ্রামে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এবার জেলার রাউজানে প্রতিপক্ষের গুলিতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ৫ নেতা আহত হয়েছেন। এর মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

    বুধবার (৫ নভেম্বর) রাত পৌনে ১২টার দিকে উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের কুইয়াপাড়া চৌধুরী পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

    গুলিবিদ্ধরা হলেন- রাউজান উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ সুমন, বাগোয়ান ইউনিয়ন কৃষক দলের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ ইসমাইল, বাগোয়ান ইউনিয়ন শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক খোরশেদ আলম চৌধুরী, বাগোয়ান ইউনিয়ন যুবদলের সহ সভাপতি রবিউল হোসেন রুবেল ও বিএনপি কর্মী মোহাম্মদ সোহেলকে গুরুতর জখম করে। তাদের সবার বাড়ি ওই ইউনিয়নে।

    এর মধ্যে গুলিবিদ্ধ সুমনের বুকে গুলি লাগায় তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। আহত ৪ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, আসন্ন ৭ নভেম্বর ঐতিহাসিক বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা শেষে বাড়ি ফেরার পথে রাউজান উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ইস্তিয়াক চৌধুরী অভি প্রকাশ ‘সন্ত্রাসী অভ্যার’ নেতৃত্বে আলতাফ চৌধুরী টুটুল, জনি চৌধুরীসহ ৭/৮ জন অতর্কিত গুলি চালায়।

    স্থানীয়রা জানান, দুর্বৃত্তরা গুলি করে একটি গাড়িতে করে পালিয়ে যায়।

    এ বিষয়ে রাউজান-রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তখন কাউকে পাইনি। বর্তমানে আমরা অভিযানে আছি। কি কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে জানার চেষ্টা করছি। ঘটনায় জড়িতের আটকের চেষ্টা চলছে।

    এর আগে সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম শহরের পূর্ব বায়েজিদ এলাকার চাইল্লাতলীতে গণসংযোগের সময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত হন বিএনপির মহানগর আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম–৮ (বোয়ালখালী) আসনের দলীয় প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ। গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেওয়া সরোয়ার হোসেন ওরফে বাবলা (৪৩)।

  • বিএনপি-জামায়াতের বাইরে নতুন জোট

    বিএনপি-জামায়াতের বাইরে নতুন জোট

    বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন নির্বাচনি বলয়ের বাইরে তৃতীয় জোট গড়তে চায় ৯ দল। দলগুলো হলো—গণতন্ত্র মঞ্চের সঙ্গে থাকা ছয় দল, এনসিপি, গণঅধিকার পরিষদ ও এবি পার্টি।

    গতকাল বুধবার বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সভা শেষে সাংবাদিকদের এমন তথ্য জানান গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র ফারুক হাসান।

    তিনি বলেন, আমরা অনেক দিন ধরেই ত্রয়োদশ নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে নতুন কিছু করার চেষ্টা করছি। ফের এটিকে আমাদের আলোচনার টেবিলে এনেছি। যেহেতু আনুষ্ঠানিকভাবে আমরা কেউই বিএনপি বা জামায়াতের সঙ্গে জোটে যাইনি। তাই তৃতীয় শক্তি বা নতুন জোট হতে পারি কি না- তা নিয়ে আমরা আলোচনা করছি। আমরা এ বিষয়ে আন্তরিক, জনগণও চায় নতুন শক্তির আবির্ভাব হোক। বিএনপি-জামায়াতের বাইরে ৯টি দল ছাড়াও অন্য দলগুলোকে আমরা যুক্ত করব।

    এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, জুলাই সনদে স্বাক্ষর না করলেও ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে এ সংকট নিরসনে কথা হয়েছে। তবে এটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত সরকারকে নিতে হবে। যদি ব্যর্থ হয়, তাহলে সরকার জনগণের প্রতিনিধিত্ব হারাবে।

    এ সময় রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ুম বলেন, সরকারের দিক থেকে জুলাই সনদ ও গণভোটের বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ হতে রাজনৈতিক দলগুলোকে সাতদিনের সময় দিয়েছে। দলগুলোকেই দায়িত্ব নিতে হবে বলে আমরা মনে করি। সে জায়গা থেকে আমরা বসেছি, কীভাবে সমাধান করা যায়। কিছু বিষয় আমরা কাছাকাছি আসছি। অন্য দলের সঙ্গেও আমরা আলোচনা করব।

    এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন—এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, জেএসডির সিনিয়র সহসভাপতি তানিয়া রব, নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল্লাহ কায়সার এবং ভাসানী জনশক্তি পার্টির মহাসচিব ড. আবু ইউসুফ সেলিম প্রমুখ।

  • ভোটারদের কাছে টানতে জামায়াতের নতুনত্ব

    ভোটারদের কাছে টানতে জামায়াতের নতুনত্ব

    আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে সংস্কার কার্যক্রমসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর মাঝে বেশ অস্বস্তি বিরাজ করছে। তবে সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের বিষয়টি মাথায় রেখে প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে জামায়াতে ইসলামীও। দলীয় নিয়মিত সব কর্মসূচিতেই এখন প্রাধান্য পাচ্ছে নির্বাচনি ইস্যু।

    দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন দলের সঙ্গে আসন সমঝোতা এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রার্থী করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। তার আগে সব আসনে প্রাথমিকভাবে নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করে সর্বোচ্চ প্রচারকাজ চালাচ্ছে দলটি। প্রার্থিতার ক্ষেত্রে দলের তরুণ, শিক্ষিত, সৎ ও যোগ্যদেরই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এসব প্রার্থীর গণসংযোগে গতানুগতিক বিভিন্ন কর্মসূচির পাশাপাশি বৈচিত্র্যপূর্ণ কর্মসূচিও দেখা যাচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ার যথাযথ ব্যবহার ও সমাজসেবামূলক কাজকে প্রাধান্য দিচ্ছেন তারা।

    এরই মধ্যে রাজধানীসহ সারা দেশে সাধারণ ভোটারদের মাঝে বেশ সাড়া ফেলেছেন জামায়াত প্রার্থীরা। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম ও নারী ভোটারদের কাছে দাঁড়িপাল্লার বার্তা পৌঁছে দিতে ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছেন প্রার্থী ও নেতাকর্মীরা। ভোটারদের কাছাকাছি গিয়ে তাদের প্রত্যাশা ও পরামর্শ শোনার পাশাপাশি নিজেদের উন্নয়ন ভাবনা তুলে ধরছেন। ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকদের সঙ্গে মতবিনিময়, অসহায় মানুষকে সহায়তা প্রভৃতি কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এলাকায় সরব জামায়াত প্রার্থীরা। তাদের পক্ষে দাঁড়িপাল্লায় ভোট চেয়ে সর্বত্রই ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুন টানানো হয়েছে।

    নির্বাচনি প্রচারকাজে সক্রিয় করা হয়েছে জামায়াতের নারী জনশক্তিকেও। হিন্দুসহ অন্য ধর্মাবলম্বীদেরও গুরুত্ব দিচ্ছে জামায়াত। এছাড়া ছাত্রশিবির ও ছাত্রী সংস্থাও জামায়াতের পক্ষে জনসমর্থন আদায়ে নিজস্ব নানা কর্মসূচি পালন করছে। সব মিলিয়ে নির্বাচনি এলাকাগুলোতে বেশ ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন দলটির প্রার্থীরা। তবে প্রাথমিকভাবে ঘোষিত এসব প্রার্থীর মধ্য থেকে বেশ কিছু আসনে পরিবর্তন আসতে পারে বলেও জানা গেছে।

    এদিকে নির্বাচনি প্রচারে ভিন্ন মাত্রা দেখা গেছে খুলনা-৫ আসনের প্রার্থী ও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারের এলাকায়। গত ৩১ অক্টোবর তাকে নিয়ে অনুষ্ঠিত হিন্দু সমাবেশ ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ আলোচনা চলছে। ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাধীনতা চত্বরে আয়োজিত ওই সমাবেশে ১৪টি ইউনিয়ন থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক ও বাদ্যযন্ত্রসহ বর্ণিল মিছিল নিয়ে জমায়েত হন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার ওই সমাবেশে বলেন, স্বাধীনতার পর যারাই দেশ পরিচালনা করেছে, তারা সবাই হিন্দু সম্প্রদায়কে ব্যবহার করে শুধু নিজেদের ভাগ্যোন্নয়ন করেছে। এবার হিন্দুদের ভাগ্যোন্নয়ন ও অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন ইসলামি সরকার। এবার হিন্দুদের স্লোগান হলোÑ‘সব মার্কা দেখা শেষ, দাঁড়িপাল্লার বাংলাদেশ’।

    এর আগের দিন ঢাকাসহ সারা দেশে ‘ব্রেস্ট ক্যানসার সচেতনতামূলক ক্যাম্প’আয়োজন করে বেশ সাড়া ফেলে জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগ। সেখানে গোলাম পরওয়ার বলেন, ক্ষমতায় গেলে জামায়াত শাসক নয়, সেবকের ভূমিকা পালন করবে।

    ঢাকার আসনগুলোতেও রাত-দিন ব্যাপক প্রচারকাজ চালাচ্ছেন দলটির প্রার্থীরা। এলাকাভিত্তিক গণসংযোগ, প্রচারপত্র বিলি, ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময়, বিভিন্ন পেশাজীবীকে নিয়ে আলাদা মতবিনিময়-সমাবেশসহ নানা কৌশলে তৎপরতা চালাচ্ছেন জামায়াতের প্রার্থী ও দলীয় নেতাকর্মীরা। গত শুক্রবার ঢাকার বিভিন্ন আসনের প্রার্থীদের মোটর শোভাযাত্রা, বুড়িগঙ্গা দূষণমুক্ত করার দাবি, প্রীতি ম্যারাথন ইত্যাদি কর্মসূচি বেশ আলোচিত হয়ে ওঠে। যথাসম্ভব জনভোগান্তি এড়িয়ে এসব গণসংযোগ করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয় দলটির পক্ষ থেকে।

    নির্বাচনি প্রচারের নানা দিক তুলে ধরে ঢাকা-৬ আসনের প্রার্থী ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান বলেন, আমরা ভোটারের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছি। নারী ও পুরুষ আলাদা গ্রুপ করে গণসংযোগ করছে। প্রতি জুমায় মসজিদ-সংশ্লিষ্টদের অনুমতি নিয়ে কথা বলছি। বিভিন্ন মার্কেটে ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে প্রচার চলছে। তিনি বলেন, এলাকাভিত্তিক খণ্ড খণ্ড সমাবেশের মাধ্যমে আমাদের উন্নয়ন ভাবনা তুলে ধরছি। এ সময় জনগণের কথাও শুনছি। তারা কী চান, কেমন এমপি প্রত্যাশা করেনÑসেই মতামত শুনে নানা আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে। শ্রমিক, ছাত্র-শিক্ষকসহ নানা পেশার লোকদের নিয়ে আলাদা প্রোগ্রাম হচ্ছে।

    তিনি আরো বলেন, ভোটারদের কাছে সন্ত্রাস, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান তুলে ধরা হচ্ছে। অনলাইনেও ব্যাপক প্রচার চলছে। ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসসহ নানা সেবামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। আধুনিক ঢাকা গড়ার যেসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে, তাতে ভোটাররাও বেশ আশাবাদী হচ্ছেন। তবে সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়ে কেন্দ্র পাহারাসহ নিরাপত্তা নিশ্চিতের পরামর্শ দিচ্ছেন অনেকে।

    ঢাকা-১৬ আসনে প্রচারকাজে নিয়োজিত জামায়াত নেতা হাসানুল বান্না চপল জানান, তরুণ প্রজন্মের বেশিরভাগই সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় থাকেন। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে এ মাধ্যমকে নির্বাচনি প্রচারকাজে লাগানো হচ্ছে। তরুণদের কাছে যেতে যত ধরনের কার্যক্রম সম্ভব, তা করা হচ্ছে। ভোটারদের মাঝে জামায়াতের সব ম্যানিফেস্টো তুলে ধরা হচ্ছে। চলছে সামাজিক ও সেবামূলক নানা কর্মসূচিও। অসহায় মানুষদের নানা ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন প্রার্থীরা। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় নেতা নূরুল ইসলাম বুলবুল সম্প্রতি নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজে ছাত্রশিবির আয়োজিত নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বলেন, নতুন প্রজন্মই ভবিষ্যৎ পরিবর্তনের নেতৃত্ব দেবে।

    সব মিলিয়ে মাঠ পর্যায়ে উৎসবমুখর পরিবেশে চলছে জামায়াতের নির্বাচনি প্রচার। তরুণ, নারী ও সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ জোরদারে দলটির প্রার্থীরা চেষ্টা করছেন প্রচলিত ধারা থেকে বেরিয়ে এক নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে।

  • এরশাদ উল্লাহ গুলিবিদ্ধ, জামায়াতের নিন্দা ও প্রতিবাদ

    এরশাদ উল্লাহ গুলিবিদ্ধ, জামায়াতের নিন্দা ও প্রতিবাদ

    চট্টগ্রাম মহানগরী বিএনপির আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম-৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী বিশিষ্ট শিল্পপতি এরশাদ উল্লাহর নির্বাচনী প্রচারণায় সন্ত্রাসীদের হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হওয়া এবং এ ঘটনায় একজন নিহত ও আরও কয়েকজন আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য, চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি এবং চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন।

    বিবৃতিতে তিনি বলেন, “এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য চরম হুমকি। যখন প্রকাশ্যে সন্ত্রাসীরা এরকম প্রাণহানির ঘটনা ঘটায়, তখন তা গোটা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে আতঙ্কিত করে তোলে। আমি এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটির তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি, আহত জনাব এরশাদ উল্লাহর দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।”

    অধ্যক্ষ নুরুল আমিন আরও বলেন, “এই ধরণের ঘটনা ঘটতে থাকলে তা দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিবে। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে- রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধ করা, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা।”

    তিনি প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

  • মনোনয়ন নিয়ে দ্বন্দ্বে মেহেরপুরে বিএনপির দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা

    মনোনয়ন নিয়ে দ্বন্দ্বে মেহেরপুরে বিএনপির দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা

    মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে মনোনয়নপ্রাপ্ত সাবেক এমপি আমজাদ হোসেন ও জেলা বিএনপির সভাপতি জাভেদ মাসুদ মিল্টন সমর্থকদের মধ্যে এ হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আমজাদ হোসেনের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে মিল্টন পক্ষের বিরুদ্ধে। পরে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে বিএনপির দুই কার্যালয় ঘিরে। ইটপাটকেল নিক্ষেপ, অফিস ভাঙচুরের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল ভেঙে ফেলা হয়। এ সময় দুই পক্ষ অফিসের ভেতরের আসবাবপত্র বের করে আগুন দেয়। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী। ভাঙচুর করা হয়েছে অন্তত ১২টি মোটরসাইকেল।

    মেহেরপুর-২ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রাপ্ত সাবেক এমপি আমজাদ হোসেন বলেছেন, মনোনয়ন বঞ্চিত মেহেরপুর জেলা বিএনপির সভাপতি জাভেদ মাসুদ মিল্টনের সমর্থক গাংনী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আউয়ালসহ তার ক্যাডার বাহিনী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে। হামলায় বিএনপির অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

    সাবেক সাবেক এমপি আমজাদ হোসেনের বিএনপির কার্যালয় ভাঙচুরের পর হামলার পাল্টা জবাবে বিএনপির সভাপতি জাবেদ মাসুদ মিল্টনের অফিস ভাঙচুর করেন আমজাদ হোসেনের সমর্থকরা। তবে ্দুই গ্রুপের সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা ছিল নিষ্ক্রিয়।

    আমজাদ হোসেনের সমর্থকরা দাবি করেছেন প্রথমে মিল্টনের সমর্থকরা একতরফাভাবে হামলা করে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে।

    এদিকে মিল্টনের সমর্থক গাংনী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দিন কালু জানিয়েছেন আমজাদ হোসেনের লোকজন তাদের অফিস ভাঙচুর করেছে।

    গাংনী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল জানান, উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পর গাংনীতে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

    উল্লেখ্য, গতকাল রাতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মেহেরপুর-২ আসনে এমপি প্রার্থী ঘোষণা করার পর থেকেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে স্থানীয় রাজনীতি। প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে মিল্টনের সমর্থকরা সোমবার রাতেই শহরে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন।

  • বিএনপির কাছে ২২২ আসনই চায় মিত্ররা

    বিএনপির কাছে ২২২ আসনই চায় মিত্ররা

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ২৩৭ আসনে প্রাথমিক প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। এর মধ্যে বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলন-সংগ্রামে দীর্ঘদিনের মিত্রদের নাম অনুপস্থিত থাকায় ধারণা করা হচ্ছে, বাকি ৬৩ আসন জোট ও শরিকদের জন্য খালি রাখা হয়েছে।

    বিএনপির শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, ৬৩ আসনের সবকটি জোটের জন্য নয়; বরং কিছু আসনে একাধিক শক্তিশালী প্রার্থী থাকায় সেগুলো অমীমাংসিত রয়েছে। তবে শরিকদের আসন ছাড়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মূল্যায়ন করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন নেতারা।

    এদিকে নির্বাচনসংক্রান্ত আইন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ বা আরপিও (সংশোধন) অধ্যাদেশ অনুযায়ী, বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের শরিকরা এবার ধানের শীষ প্রতীক পাবেন না, নিজ দলের প্রতীকে নির্বাচন করতে হবে।

    এ পরিস্থিতিতে চার-পাঁচজন নেতা ছাড়া শরিকদের বেশিরভাগেরই দলগত ও নিজস্ব কোনো ভোটব্যাংক না থাকায় তাদের জয়ের সম্ভাবনা কমে যেতে পারে। ফলে অমীমাংসিত আসনগুলোয় বিএনপির অন্য কারো কপাল খুলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

    বিএনপির সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে ৫০টির বেশি দল একসঙ্গে যুক্ত ছিল। এসব দলের প্রার্থীদের এলাকায় অবস্থান ও জনপ্রিয়তা যাচাই-বাছাই শেষে তাদের জন্য ২৫ থেকে ৩০টি আসন ছাড়া হতে পারে। পাশাপাশি নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপির সঙ্গে জোট হলে তাদের জন্য আরো প্রায় ১০টি আসন ছাড়া হতে পারে।

    মিত্রদের আসন ছাড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের সঙ্গে আন্দোলনে থাকা দলগুলোকে সর্বোচ্চ মূল্যায়ন করা হবে। তাদের কে কোথায় নির্বাচন করবেন, তার আলোচনা চলছে। দ্রুত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হবে।

    তবে বিএনপি এখনো জোটের জন্য কত আসন ছাড়বে তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২৫-৩০টি আসন পেতে পারে বিএনপির আন্দোলনের শরিকরা।

    অন্যদিকে গণতন্ত্র মঞ্চের শীর্ষ ছয় নেতা কে কোথায় নির্বাচন করবেন, তা জানতে চেয়েছিল বিএনপি। পরে গণতন্ত্র মঞ্চের পক্ষ থেকে তখন শীর্ষ নেতাদের প্রার্থিতার বিষয়ে বিএনপিকে বিস্তারিত অবহিত করা হয়।

    দলীয় সূত্রে জানা গেছে, যুগপৎ আন্দোলনে থাকা ১২ নেতাকে ইতোমধ্যে তাদের নির্বাচনি এলাকায় কাজ করার জন্য বলা হয়েছে। তারা হলেন পিরোজপুর-১ আসনে জাতীয় পার্টির (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, বগুড়া-২ আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, ঢাকা-১৭ আসনে

    বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, লক্ষ্মীপুর-১ আসনে বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম এবং কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা। বাকিরা হলেন ঢাকা-১৩ আসনে এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, চট্টগ্রাম-১৪ আসনে এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের ছেলে অধ্যাপক ওমর ফারুক, কুমিল্লা-৭ আসনে দলটির মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ, নড়াইল-২ আসনে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের সমন্বয়ক ও এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, পটুয়াখালী-৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর এবং ঝিনাইদহ-২ আসনে দলটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান।এনসিপির সঙ্গে জোট হলে প্রায় ১০টি আসন ছাড়তে পারে বিএনপি। এনসিপি সূত্রে জানা গেছে, দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঢাকা-১১, সদস্য সচিব আখতার হোসেন রংপুর-৪, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম পঞ্চগড়-১, দক্ষিণের হাসনাত আবদুল্লাহ কুমিল্লা-৪, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা-১৮, তাসনিম জারা ঢাকা-৯, সারোয়ার তুষার নরসিংদী-২, হান্নান মাসউদ নোয়াখালী-৬, আদিবুল ইসলাম আদীব ঢাকা-১৪ থেকে নির্বাচন করতে পারেন।

  • গণসংযোগকালে গুলিবিদ্ধ বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ

    গণসংযোগকালে গুলিবিদ্ধ বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ

    চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ থানার হামজারবাগ এলাকায় নির্বাচনি প্রচারে বের হয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ। তিনি চট্টগ্রাম–৮ (বাকলিয়া–বোয়ালখালী) আসনের প্রার্থী। বুধবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এরশাদ উল্লাহকে দ্রুত একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, বিকেল সাড়ে চারটার দিকে এরশাদ উল্লাহ তার নির্বাচনি কার্যালয় থেকে কর্মীদের সঙ্গে প্রচারণায় বের হন। হামজারবাগ এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ অজ্ঞাত ব্যক্তিরা গুলি চালায়। এতে এরশাদ উল্লাহ গুলিবিদ্ধ হন। এই ঘটনায় একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে মারা গেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে নিহতের বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি।

    চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (উত্তর) উপ-পুলিশ কমিশনার আমিরুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, এরশাদ উল্লাহ গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এই ঘটনায় একজন নিহতের খবর শোনা গেছে, তবে এখনো নিশ্চিত নই।

    এভারকেয়ার হাসপাতালের এক চিকিৎসক জানিয়েছেন, এরশাদ উল্লাহর বুকের বাঁ পাশে গুলির আঘাত লেগেছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। ঘটনার পর বিএনপি নেতাকর্মীরা হাসপাতালে ভিড় করেন। দলটির পক্ষ থেকে হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে এবং অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি তোলা হয়েছে।

  • যশোরে পাঁচটি আসনে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা, নতুন মুখ শ্রাবণ

    যশোরে পাঁচটি আসনে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা, নতুন মুখ শ্রাবণ

    যশোরের ৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ৫টিতে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। অপর আসনটি শরীক দলের জন্য ছাড় দেয়া হতে পারে বলে মনে করছেন জেলা বিএনপির নেতারা। নতুন মুখ হিসেবে প্রার্থী তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ। সোমবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, যেসব আসনে প্রার্থী দেয়া হয়নি সেগুলো পরে ঘোষণা করা হবে। এর বাইরে কিছু আসন শরিকদের ছাড়া হবে।

    ঘোষণা অনুযায়ী, যশোরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যশোর-৩ সদর আসনে প্রার্থী হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের নাম ঘোষণা করা হয়। তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য, সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম ও বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগমের সন্তান। অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এর আগে ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। যেহেতু যশোরের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করেন প্রয়াত তরিকুল ইসলামের স্ত্রী নার্গিস বেগম ও তার ছেলে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। ফলে আসনটিতে দলের অন্য কেউ প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেয়নি। ফলে অনেক আগে থেকেই অমিত মনোনয়ন পাবেন সেটা নেতাকর্মীরা অনুমান করেছিলেন।

    এছাড়া যশোর-১ (শার্শা) আসনে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে বিএনপির সাবেক দফতর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তির নাম। তিনি এ আসন থেকে আগেও বিএনপির হয়ে মনোনয়ন পেয়েছিলেন। সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তৃপ্তি। এই আসনে তৃপ্তি ছাড়া মনোনয়ন দৌঁড়ে ছিলেন উপজেলা বিএনপি সভাপতি হাসান জহির।

    যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে প্রার্থী হিসেবে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবিরা নাজমুলের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তার স্বামী প্রয়াত নাজমুল ইসলাম যশোর জেলা বিএনপির অর্থবিষয়ক সম্পাদক ও ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন। বিগত আওয়ামী লীগ সময়কালে গুমের পর হত্যা করা হয় তার স্বামীকে। স্বামীর মৃত্যুর পর গৃহিনী থেকে একেবারে নতুন মুখ হিসাবে রাজনীতিতে নামেন। ২০১৪ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি চেয়ারম্যান পদে জয়লাভ করেন। যদিও চেয়ারম্যান দায়িত্বপালনকালে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় তাকে ছয় বছর কারাদণ্ড দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত। রায়ে মুন্নির এক কোটি ৭৮ হাজার ১৩৫ টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করেন আদালত। ফলে সাবিরা নাজমুলকে বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রাণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ। মনোনয়ন দৌড়ে ছিলেন জেলা বিএনপি সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও যশোর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মিজানুর রহমান খান। যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনে প্রার্থী ঘোষণা হয়েছে ইঞ্জিনিয়ার টিএস আইয়ুবকে। তিনি কৃষক দলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। তিনি এর আগেও বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন। যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি। বিএনপির সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মতে, এ আসনটি শরীক দলের প্রার্থীকে ছেড়ে দেয়া হতে পারে। যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে নতুন মুখ হিসেবে প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ। তিনি বর্তমানে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণের দীর্ঘ রাজনৈতিক পটভূমি থাকলেও তার পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে। তিনি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর তার পরিবার তাকে তাজ্য ঘোষণা করেছিলেন। এখনও পরিবারের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ নেই। তবে যশোর-৬ আসনে তার জনপ্রিয়তা রয়েছে।

    যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন বলেন, ‘ছয়টি আসনে প্রায় ৩৫ জন নেতাকর্মী দলীয় মনোনয়ন পাবার জন্য তৃণমূলে কাজ করেছে। সম্ভাব্য মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। মনোনয়ন নেয়ার দৌঁড়ে প্রার্থীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রতিযোগিতা ছিলো। তবে দল যাকে মনোনয়ন দিয়েছে; তার পক্ষে সবাই কাজ করবেন। দ্বন্দ্ব গ্রুপিং থাকলেও আস্তে আস্তে সেটা সমাধান হবে শুধুমাত্র দলের জন্য।’

  • কামাল জামান মোল্লার মনোনয়ন স্থগিত

    কামাল জামান মোল্লার মনোনয়ন স্থগিত

    আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে গতকাল সোমবার গুলশানস্থ বিএনপি চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মনোনীত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে, ঘোষণার একদিন পরই একটি আসনের মনোনয়ন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত জানালো দলটি।

    মঙ্গলবার বিকেলে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গতকাল সংবাদ সম্মেলনে ২৩৭টি সংসদীয় আসনের মধ্যে মাদারীপুর-০১ (শিবচর উপজেলা) আসনেও মনোনয়নপ্রাপ্ত কামাল জামান মোল্লার নাম ঘোষণা করা হয়। অনিবার্য কারণবশত: ঘোষিত মাদারীপুর-১ (শিবচর উপজেলা) আসন ও দলীয় মনোনয়নপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম স্থগিত রাখা হলো।

    আমার দেশ

  • কোনো উল্লাস নয়, ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করেত হবে- শরীফুজ্জামান 

    কোনো উল্লাস নয়, ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করেত হবে- শরীফুজ্জামান 

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধ

    চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফের নাম ঘোষণার পরেই চুয়াডাঙ্গার রাজনীতিতে এক নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়।

    চূড়ান্ত মনোনয়নের খবর পেয়ে শরীফুজ্জামান শরীফ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও দেশনেতা তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এরপরই তিনি আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেত নফল নামাজ আদায়ের পর দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তাঁর প্রয়াত পিতা-মাতার কবর জিয়ারত করেন।

    সেখান থেকে তিনি চুয়াডাঙ্গা শহরের নিজ বাড়িতে ফিরে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় তিনি সকলের উদ্দেশ্যে বলেন যে, তিনি শহীদ জিয়া আদর্শে ও তারেক রহমানের নির্দেশনা মোতাবেক কাজ করার প্রতিশ্রুতিতে অবিচল। এখন থেকে তাঁর একমাত্র লক্ষ্য—বিভেদ ভুলে সকলকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করা। এসময় তিনি উপিস্থত নেত-কর্মীদের বলেন, ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে সকলকেই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

  • সুযোগ পেলে মানবতার কল্যাণে কাজ করবো

    সুযোগ পেলে মানবতার কল্যাণে কাজ করবো

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    নির্বাচিত হলে সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যাক্ত করেছেন চূয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী অ্যাড. মাসুদ পারভেজ। তিনি বলেন, জামায়াত খলদারিত্ব এবং চাঁদাবাজির রাজনীতি করেনা। জামায়াত একমাত্র রাজনৈতিক দল যারা সততার গ্যারান্টি দিতে পারে। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে একটি আত্মনির্ভরশীল দূর্নীতিমুক্ত কল্যাণকর রাষ্ট্র গঠন করবে।

    ২ আক্টোবর রোববার চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার ৫নং ওয়ার্ডে গণসংযোগ কালে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, তিনি নির্বাচিত হলে মানুষের অধিকার বাস্তবায়ন করবে। জনগণের সেবক হয়ে কাজ করতে চাই বলে তিনি ঘোষণা দেন।
    তিনি আরো বলেছেন, জামায়াত মানুষের পাশে থাকতে চাই। জামায়াতে ইসলামী নেতারা দলকানা জনপ্রতিনিধি হতে চাইনা । আমরা জনপ্রতিনিধিদের কে জনগেণের নিকট জবাবদিহিতার কালচার প্রতিষ্ঠা করতে চাই।

    আওয়ামী ফ্যাসিবাদের হাজারো আঘাতেও জামায়াতে ইসলামীর কর্মীরা রাজপথে দাঁড়িয়ে ছিল। জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের ফাসিঁ, দিয়েও থামানো যায়নি এ দলের জানবাজ কর্মীদের। ভবিষ্যতেও কোনো হুমকি ধামকিতে কাজ হবেনা বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরো বলেন, দাড়িপাল্লায় ভোট দিলে জিতে যাবে জনগন। এসময় তিনি উপস্থিত জনগণের কাছে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ার আহবান করেন।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চুয়াডাঙ্গা পৌর আমীর অ্যাড. হাসিবুল ইসলাম, নায়েবে আমীর মাহবুব আসিক শফি ও আনোয়ার হোসেন, পৌর সেক্রেটারী মোস্তফা কামাল, সহকারী সেক্রেটারী ইমরান হোসেন, অফিস সম্পাদক আবু যায়েদ আনসারী, পৌর উলামা ও মসজিদ মিশন সভাপতি হাফেজ মাওলানা আঃ শুকুর মালিক, পৌর যুব বিভাগের সভাপতি শাহ আলম, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের পৌর সেক্রেটারি আসাদুজ্জামান, অফিস সম্পাদক সেলিম উল্লাহ মাসুমসহ পৌর নেতৃবৃন্দ।