বিএনপি

  • রাত পোহালেই ভোট, কে হাসবে—বিএনপি না জামায়াত

    রাত পোহালেই ভোট, কে হাসবে—বিএনপি না জামায়াত

    রাত পোহালেই বহুল আলোচিত ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও সমর্থকদের মধ্যে শেষ মুহূর্তে চরম উত্তেজনা ও স্নায়ুযুদ্ধ বিরাজ করছে। নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন, ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের তালিকা নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে ভোটের পরিবেশ, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও সামগ্রিক নিরাপত্তা এখন সর্বমহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করায় ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সাল আমিন। বিপরীতে এ আসনে জয় ছিনিয়ে নিয়ে সংসদে নিজেদের শক্তি বাড়াতে মরিয়া জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা ও প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন। আসনটিতে দুই দলেরই সাংগঠনিক ভিত্তি শক্ত হওয়ায় এই উপনির্বাচন রূপ নিয়েছে নিজেদের রাজনৈতিক আধিপত্য ও গ্রহণযোগ্যতা যাচাইয়ের মর্যাদাপূর্ণ লড়াইয়ে।দুই দলের টানটান উত্তেজনার মাঝে শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে কড়া নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে স্থানীয় প্রশাসন। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আশ্বস্ত করেছেন, ভোটারদের নির্বিঘ্ন ভোটদান নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ব্যালটে নিজেদের রায় জানাবেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সাধারণ ভোটাররা। শেষ পর্যন্ত ঐতিহ্যবাহী এই ঘাঁটিতে জয়ের হাসি কার মুখে ফুটবে—বিএনপির মির্জা ফয়সাল আমিন নাকি জামায়াতের দেলাওয়ার হোসেন, এখন তারই অপেক্ষায় পুরো জনপদ।

  • তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা নিয়ে নতুন ‘আইডিয়া’

    তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা নিয়ে নতুন ‘আইডিয়া’

    নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠনপদ্ধতি নিয়ে নতুন একটি ‘আইডিয়া’ বা ধারণা পেয়েছে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি। আজ শনিবার সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনের অধ্যাপক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের সঙ্গে কমিটির মতবিনিময়ে নতুন এ ধারণা উঠে আসে। সংসদ দুই কক্ষের হলে উচ্চকক্ষ থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা যায় কি না—এমন একটি ধারণা সভায় আলোচনায় আসে। তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার রূপরেখা কেমন হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।কমিটির সভা শেষে বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের এ কথা জানান। সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে বেলা ১১টায় বৈঠক শুরু হয়। দুপুরে এক ঘণ্টার বিরতি দিয়ে বৈঠক শেষ হয় বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে। এতে ৪৪ জন অংশ নেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৈঠকে বিচার বিভাগের জন্য স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠা, প্রধান ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য আনা, দুর্নীতি দমন কমিশন ও মানবাধিকার কমিশনকে সাংবিধানিক সংস্থা করা, মৌলিক অধিকারের পরিধি বাড়ানো, নিম্নকক্ষের মেয়াদ ৪ বছর ও উচ্চকক্ষের মেয়াদ ৬ বছর করা, ৬৪ জেলা থেকে ও বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সদস্যদের নিয়ে উচ্চকক্ষ গঠন করা, সংরক্ষিত নারী আসনে সরাসরি ভোট দেওয়া, নির্বাচন কমিশনসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগে নিরপেক্ষ বাছাই কমিটির বিধান করা, অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলাসংক্রান্ত প্রশাসনিক দায়িত্ব বিচার বিভাগের হাতে দেওয়ার মতো প্রস্তাব এসেছে।

    অবশ্য বাংলাদেশের মতো দেশে উচ্চকক্ষের প্রয়োজনীয়তা আছে কি না, সে প্রশ্নও কেউ কেউ তুলেছেন। এর বদলে একটি উপদেষ্টা পরিষদ করা যায় কি না, সে প্রস্তাবও এসেছে। এ ছাড়া সরকারি হিসাব, সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির মতো কয়েকটি কমিটির বাইরে পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি বিরোধী দল থেকে দেওয়া; সংসদীয় কমিটির ক্ষমতা বাড়াতে সংবিধানের ৭৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইন করার প্রস্তাবও দিয়েছেন কেউ কেউ। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উচ্চ আদালতের রায়ের মাধ্যমে সরাসরি সংবিধান সংশোধন হয়ে যায় কি না—এ বিষয়েও আলোচনা হয়। বেশির ভাগ মত দিয়েছেন, এ ক্ষেত্রে সংসদকে সংশোধনী আকারে রায় সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

    তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা
    বৈঠক শেষে সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া এবং কর্মপরিধি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে একটি নতুন ‘আইডিয়া’ এসেছে। ধারণাটি সম্পর্কেও তিনি সাংবাদিকদের জানান।নতুন আইডিয়াটি এ রকম—যদি সংসদের উচ্চকক্ষ গঠিত হয়, এর মেয়াদ নিম্নকক্ষের সঙ্গে শেষ হবে না। উচ্চকক্ষ থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া রাখা যায় কি না, সে আলোচনা এসেছে। এ ক্ষেত্রে যদি উপরাষ্ট্রপতির পদ সৃজন করা হয়, তাহলে উপরাষ্ট্রপতিকে উচ্চকক্ষের স্পিকারের দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব এসেছে। বিকল্প হিসেবে এসেছে সরকারি দল ও বিরোধী দলের সম্মতিতে উচ্চকক্ষের স্পিকার নির্বাচিত হবেন। তাঁকেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করা যায় কি না এবং অন্য উপদেষ্টাদেরও সরকারি ও বিরোধী দলের সম্মতিতে উচ্চকক্ষ থেকে নিযুক্ত করা—সেটার একটা বিধান থাকতে পারে।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এ রকম মতামত এসেছে। এটা বিবেচনা করা যায়। তবে আরও প্রস্তাব এলে কমিটি তাদের প্রতিবেদনে সেগুলো তুলে ধরবে। এ বিষয়ে সবাইকে লিখিত মতামত দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সবার বক্তব্য ছিল বিচার বিভাগ এবং রাষ্ট্রপতিকে বাইরে রেখে ঐকমত্যের ভিত্তিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা প্রয়োজন। এটা নিয়ে ‘থিওরিটিক্যাল’ আলোচনা ছিল। কমিটি বলেছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠনপ্রক্রিয়া নিয়ে লিখিত মতামত দিলে সুবিধা হবে। কমিটি প্রত্যেকের মতামতগুলো দেখবে। তাঁরা চান সমঝোতার মধ্য দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারপদ্ধতি ঠিক হোক।

    নোট অব ডিসেন্ট প্রসঙ্গ
    অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে যেসব ক্ষেত্রে বিএনপির ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (ভিন্ন মত) আছে, সেখানে ছাড় দেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এখনো সে রকম কোনো সিদ্ধান্ত তাঁরা নেননি। তিনি বলেন, তাঁরা বিরোধী দলকে আহ্বান জানাচ্ছেন। যদি বিরোধী দল কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট শিথিল (ভিন্ন মত) করার কথা বলে, সেটা কমিটিতে এসে বিরোধী দলকে বলতে হবে। তখন কমিটি এটা বিবেচনা করতে পারে।

    বিশেষ কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ‘স্টিউটারি কনস্টিটিউশনাল বোর্ড’ নামে একটা নতুন ‘ডেফিনেশন’ তাঁরা দিতে চেয়েছেন। সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর গঠন, কর্মপরিধি, প্রতিষ্ঠাগুলো কীভাবে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে—সে রকম কোনো চিন্তাভাবনা করা যায় কি না, এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সংবিধানের মৌলিক কাঠামো তত্ত্ব, নির্বাহী বিভাগ ও আইন প্রণয়নসংক্রান্ত কার্যক্রমের ওপর বিচার বিভাগের পর্যালোচনার ক্ষমতা, সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে বিচার বিভাগের এখতিয়ার নিয়েও বিশেষজ্ঞরা মতামত দিয়েছেন।

    সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এ বিষয়ে সরকারের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। তবে আগের সরকারের জারি করা অধ্যাদেশে বিভিন্ন ত্রুটি থাকায় সেটিকে আইনে পরিণত করা হয়নি। পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়টি কমিটির আলোচনায় রয়েছে।

    লক্ষ্য অর্জন গুরুত্বপূর্ণ
    এর আগে দুপুরে বৈঠক থেকে বের হয়ে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের বলেন, আওয়ামী লীগ আমলে ২০১১ সালে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তদের নেতৃত্বে সংসদীয় সংবিধান সংশোধন কমিটির বৈঠকেও তিনি কথা বলেছিলেন। অনেক প্রত্যাশা নিয়ে তিনি সে বৈঠকে গিয়েছিলেন। কিন্তু পরে প্রতারিত হয়েছেন। এবার আশা করছেন, ভালো পরিবর্তন পাবেন। গণ–অভ্যুত্থানের প্রত্যাশাটা যেন মাথায় থাকে, সেটা তিনি সবার কাছে ‘আপিল’ করেছেন।

    আসিফ নজরুল বলেন, বিরোধী দলগুলোর মতের ভিত্তিতে যেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারপদ্ধতি ঠিক করা হয়। তিনিসহ আরও কেউ কেউ বিরোধী দলকে আলোচনার প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার কথা বলেছেন। কমিটি বলেছে, তারা এ বিষয়ে অনেক রকম চেষ্টা করেছে।

    এক প্রশ্নের জবাবে আসিফ নজরুল বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ হবে নাকি সংবিধান সংশোধন কমিটি হবে, এটা একটা রাজনৈতিক বিরোধ। এটার মধ্যে তিনি যেতে চান না। তবে ব্যক্তিগতভাবে তিনি মনে করেন, সংবিধানে যেকোনো পরিবর্তনই একটা সংস্কার, যদি সেটা ইতিবাচক হয়। লক্ষ্য অর্জন করা যাচ্ছে কি না, সেটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মনে করেন।

    বৈঠকে অন্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান, অধ্যাপক মুহাম্মদ একরামুল হক, অধ্যাপক বোরহান উদ্দিন খান, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সংসদ সদস্য এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, আইনজীবী সমিতির সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহদীন মালিক, রাগীব রউফ চৌধুরী, সুব্রত চৌধুরী, মনজিল মোর্শেদ প্রমুখ।

    বৈঠকে কমিটির সদস্যদের মধ্যে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, জয়নুল আবেদীন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন ও সাকিলা ফারজানা অংশ নেন।

  • প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ, ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার

    প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ, ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার

    দখলমুক্ত ফুটপাত পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অনুসরণের অভিযোগে তানভীর জোমাদ্দার নামে এক ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তানভীর পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি।

    বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে মিরপুর মডেল থানা পুলিশ।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাজধানীর মিরপুর-১০ এলাকার দখলমুক্ত ফুটপাত পরিদর্শনে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি ওই ছাত্রলীগ নেতাও প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন। পরিদর্শনের একপর্যায়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করে তার কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করেন।

    ঘটনার ৩৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ওই ছাত্রলীগ নেতাকে খুঁজতে থাকেন। পরে মিরপুরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় দখলমুক্ত ফুটপাত পরিদর্শনের সময় ওই ছাত্রলীগ নেতা পুলিশ, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের ডিঙিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে অন্যদের পেছনে ফেলে প্রধানমন্ত্রীর কাছাকাছি পৌঁছে যান তানভীর।

    মিরপুর মডেল থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত শনিবার মিরপুরে ফুটপাত পরিদর্শনে আসেন। এ সময় এক ছাত্রলীগ নেতা তাকে অনুসরণ করেন। ঘটনার ভিডিও যাচাই-বাছাই করে তানভীরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

  • নিজের সন্তানের জন্য হলেও ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন রাখুন: প্রধানমন্ত্রী

    নিজের সন্তানের জন্য হলেও ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন রাখুন: প্রধানমন্ত্রী

    ঢাকা শহরকে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও বাসযোগ্য করে তুলতে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘সবার কথা বাদ দেন, নিজের সন্তানের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ, একটি স্বাস্থ্যকর শহর গড়ে তুলি। আসুন, আমরা সবাই মিলে সেই চেষ্টা করি।’

    সোমবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান কার্যালয় নগর ভবন পরিদর্শনকালে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

    সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে নগরীকে পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, কেউ নিশ্চয়ই চান না তার সন্তান নোংরা, জীবাণুযুক্ত ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বড় হোক। সন্তান শুধু নিজের বাসার আশপাশে থাকে না; স্কুল, কলেজ, খেলার মাঠসহ শহরের বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত করে। তাই শুধু নিজের এলাকা নয়, পুরো শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। তিনি বলেন, ‘আপনার সন্তান তো শুধু আপনার এলাকায় থাকবে না। সে সারা ঢাকা শহরে বিচরণ করবে। কাজেই আসুন, আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করি। চেষ্টা করলে আমরা পারব।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা শহরের অন্যতম বড় সমস্যা আবর্জনা ও অপরিচ্ছন্নতা। এই সমস্যা এক দিনে বা সাত দিনে সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে সবাই আন্তরিকভাবে চেষ্টা করলে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে।

    সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই সমস্যার সমাধানের সঙ্গে জড়িত। হয়তো সময় লাগবে, কিন্তু চেষ্টা করে গেলে পরিবর্তন আসবেই। আপনাদের মধ্যে সেই আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে ইচ্ছা।’

    কর্মকর্তাদেরও একইভাবে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমি যখন যেখানে যাই, দেখতে থাকি কোথায় কী সমস্যা আছে। তারপর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ফোন করি। আপনারাও যদি এভাবে সমস্যাগুলো দেখেন এবং সমাধানে পদক্ষেপ নেন, তাহলে পরিবর্তন অবশ্যই সম্ভব।’

    যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরের উদাহরণ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ষাট বা সত্তরের দশকে লন্ডনের অনেক জায়গায়ও ময়লা-আবর্জনা ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা ও নাগরিক সচেতনতার মাধ্যমে তারা পরিস্থিতির পরিবর্তন করেছে।

    তিনি বলেন, ‘আপনারা অনেকেই হয়তো বিদেশের সুন্দর, পরিচ্ছন্ন শহর দেখেছেন। দেশে ফিরে নিশ্চয়ই আফসোস হয়েছে, আমাদের শহরটা যদি এমন হতো! কিন্তু সেই আফসোস করে বসে থাকলে হবে না। নিজেদের দায়িত্বও পালন করতে হবে।’

    ঢাকার পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী দক্ষিণ কোরিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারের সঙ্গে তার সাম্প্রতিক কথোপকথনের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করা দক্ষিণ কোরিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের একজন শীর্ষ ব্যক্তি সম্প্রতি তার সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় ঢাকার পরিবর্তন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, শহরের পরিচ্ছন্নতা আগের তুলনায় কিছুটা ভালো হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তিনি কিন্তু বলেননি অনেক পরিবর্তন হয়েছে। বলেছেন, কিছুটা ভালো হয়েছে। তার মানে পরিবর্তন সম্ভব। আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করলে আরও ভালো করা যাবে।’

    নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অবস্থা সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়ার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোথাও সড়ক বিভাজক নতুন করে তৈরি হচ্ছে, কোথাও বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্রের অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। এসব উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে।

    কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনি আমার সমালোচনা করতেই পারেন। কিন্তু নিজের ভেতরেও নিজের সমালোচনা করতে হবে। ভাবতে হবে, আমি আমার দায়িত্ব কতটুকু সঠিকভাবে পালন করছি, কতটুকু চেষ্টা করছি।’

    এর আগে প্রধানমন্ত্রী নগর ভবনের জরুরি পরিচালন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি আবহাওয়ার তথ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) ভূমিকম্পসংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য, বাতাসের গতিবেগ, বন্যার পূর্বাভাস এবং বায়ুর মান পর্যবেক্ষণের বিভিন্ন ওয়েবসাইট দেখেন। এসব তথ্য কীভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং জরুরি পরিস্থিতি সম্পর্কে কীভাবে জানা যায়, সে বিষয়ে খোঁজখবর নেন।

    এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে নগরীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর উন্নয়ন ও বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে তৈরি একটি ভিডিওচিত্রও দেখেন তিনি।

    এ সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব শহীদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।

  • বিরোধীদলীয় নেতার অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন-প্রধানমন্ত্রী

    বিরোধীদলীয় নেতার অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন-প্রধানমন্ত্রী

    জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেয়েও বিরোধীদলীয় নেতা ও অন্য নেতাদের অংশ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক দূরত্ব থাকতে পারে। কিন্তু জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের পাশে না দাঁড়িয়ে বিরোধী দল বুঝিয়ে দিয়েছে, তারা জুলাইকে ধারণ করে না।

    সোমবার ঢাকার ঐতিহাসিক ওসমানী উদ্যানে নবনির্মিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন শেষে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

    তারেক রহমান বলেন, বিরোধীদলীয় নেতাসহ বিরোধী দলের শীর্ষ নেতাদের যথাযথভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তাঁরা সরকারি মঞ্চে না বসলেও জুলাইয়ের শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহতদের পাশে এসে বসতে পারতেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, যাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজ বিরোধীদলীয় নেতা ও সংসদ সদস্য হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন, সেই শহীদ ও আহতদের সম্মান জানাতে তাঁদের অনুষ্ঠানে আসা উচিত ছিল।

    তিনি আরও বলেন, বিরোধী দলের সঙ্গে সরকারের রাজনৈতিক দূরত্ব থাকতেই পারে। তবে শহীদ ও আহতদের পাশে দাঁড়ালে বোঝা যেত, তাঁরাও জুলাইয়ের চেতনা হৃদয়ে ধারণ করেন। তাঁদের অনুপস্থিতি প্রমাণ করেছে, তাঁরা জুলাইকে ধারণ করেন না।

  • এ্যানিকে নতুন দায়িত্ব দিলো বিএনপি

    এ্যানিকে নতুন দায়িত্ব দিলো বিএনপি

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটে ২৫ জন রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধি নির্বাচনের লক্ষ্যে গ্র্যাজুয়েটদের তালিকাভুক্তকরণ এবং জাতীয়তাবাদী ঐক্য পরিষদের নির্বাচন পর্যালোচনায় ৮ সদস্যের একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করেছে বিএনপি।

    ওই কমিটিতে বিএনপি নেতা ও সংসদ সদস্য (এমপি) মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে আহ্বায়ক করা হয়েছে।

    আজ বৃহস্পতিবার বিএনপির সহদপ্তর সম্পাদক মুহাম্মদ মুনির হোসেনের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    কমিটির অপর সদস্যদের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

    > অধ্যাপক ড. মোঃ মোর্শেদ হাসান খান, সিন্ডিকেট সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সদস্যসচিব

    > ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম, সদস্য

    > অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম, প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সদস্য

    > অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সদস্য

    > অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান, প্রো-উপাচার্য, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সদস্য

    > অধ্যাপক ড. আবুল কালাম সরকার, ডিন, কলা অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সদস্য

    > মো. আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী, সদস্য

  • সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের সমালোচনা করলেও বর্তমানে কেউ গুম হচ্ছেন না: রিজভী

    সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের সমালোচনা করলেও বর্তমানে কেউ গুম হচ্ছেন না: রিজভী

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বর্তমানে বিরোধী দলের অনেকেই সরকারের বা শীর্ষ নেতৃত্বের সমালোচনা করছেন। কিন্তু কাউকে গুম হতে হচ্ছে না। মূলত এটাই বাকস্বাধীনতা ও প্রকৃত গণতন্ত্রের বহিঃপ্রকাশ।

    বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষ্যে উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরাম এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

    রিজভী বলেন, তারেক রহমান তখন রাজনীতিতে নবীন। তাকে বন্দি করার মূল উদ্দেশ্য ছিল জাতীয়তাবাদী রাজনীতি যেন আর কোমর সোজা করে দাঁড়াতে না পারে। এটি কোনো ছোটখাটো বা কেবল দেশীয় ষড়যন্ত্র ছিল না; বরং এটি ছিল দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্তের যৌথ বহিঃপ্রকাশ।

    তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের কৃতিত্ব, সততা, নিষ্ঠা, উৎপাদন, উন্নয়ন, পররাষ্ট্রনীতি, অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা এবং একটি জাতিকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার ঐতিহাসিক অর্জনের সফলতার পতাকাই বহন করছেন তারেক রহমান।

    অতীতের স্মৃতিচারণ করে রিজভী বলেন, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের দুর্ভিক্ষ, লুটপাট, সহিংসতা, বিরোধী দল দমন, রক্তপাত, পত্রিকা ও রাজনৈতিক দল বন্ধ করে মানুষকে এক রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে জিয়াউর রহমান গণতন্ত্রের অবারিত দ্বার উন্মুক্ত করেছিলেন। সেখানে মানুষ নির্ভয়ে কথা বলার ও মুক্তকণ্ঠে আওয়াজ তোলার স্বাধীনতা পেয়েছিল। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান সেই গণতন্ত্রের অর্জনেরই নিশ্চয়তা।

    তিনি বলেন, আল্লাহ যার সহায় এবং জনগণ যার পাশে থাকে, কোনো চক্রান্তই তাদের পরাস্ত করতে পারে না। সেদিন তারেক রহমানের ওপর শুধু মানসিক বা কারাবন্দিত্বের অত্যাচারই চালানো হয়নি, তাকে শারীরিকভাবেও নির্মম নির্যাতন করা হয়েছে। সেই শারীরিক আঘাতের ক্ষত তিনি আজও বহন করে চলেছেন।

    তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে রিজভী বলেন, ২০১৮ সাল থেকে তিনি গোটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ ও উদ্বুদ্ধ করেছেন। শেখ হাসিনার ভয়ংকর দুঃশাসনের বিরুদ্ধে এবং গণতন্ত্রের দরজা খোলার আন্দোলনে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন। তৃণমূলের ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে গুম, হত্যা ও নির্যাতনের শিকার পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছেন। ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ সংগঠনের মাধ্যমে কিংবা অঙ্গসংগঠনের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর কাছে নিয়মিত সহানুভূতি ও সহায়তা পৌঁছে দিয়েছেন।

    তিনি আরও বলেন, তারেক রহমানকে নিয়ে অনেক অপপ্রচার চালানো হয়েছে এবং এখনো চলছে। কিন্তু জনগণ দেখছে, তিনি আজ প্রধানমন্ত্রী হয়ে দিন-রাত শুধু ঘরে বসে বা ঘুমিয়ে থাকেননি। দেশের মানুষের কাছে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে পূরণ করে যাচ্ছেন।

    রুহুল কবির রিজভী বলেন, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে রুখে দিতে দেশীয় নানা চক্রান্ত সক্রিয় ছিল। কিন্তু জনগণ এবং মহান আল্লাহ সঙ্গে থাকলে কেউ যে ক্ষতি করতে পারে না, তা আজ প্রমাণিত হয়েছে।

    তিনি বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ২০১৮ সাল থেকে তারেক রহমান দেশের গ্রাম থেকে শুরু করে শহর পর্যন্ত প্রতিটি অঞ্চলে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের হাতে অত্যাচারিত মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেছেন এবং দেশ রক্ষার কাজে নিজেকে আত্মনিয়োগ করেছেন।

    হাসিনা মেগা প্রকল্পের নামে কিছু দৃশ্যমান কাজ দেখালেও বাকি অর্থ বিদেশে পাচার করেছেন, যা তার দলীয় নেতাকর্মীদের পকেটে গেছে বলে অভিযোগ করেন রিজভী। অন্যদিকে, তারেক রহমান জনগণের টাকা জনগণের কাছেই ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করছেন বলে দাবি করেন তিনি। এর প্রমাণ হিসেবে কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’, পরিবারগুলোর জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং দেশব্যাপী ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মতো বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন।

    রিজভী বলেন, বর্তমানে বিরোধী দলের অনেকেই সরকারের বা শীর্ষ নেতৃত্বের সমালোচনা করছেন। কিন্তু কাউকে গুম হতে হচ্ছে না। মূলত এটাই বাকস্বাধীনতা ও প্রকৃত গণতন্ত্রের বহিঃপ্রকাশ।

    তিনি বলেন, তারেক রহমান আগামী পাঁচ বছরের জন্য যে উন্নয়ন ও পরিবর্তনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন, তা ছাত্রসমাজসহ দেশের সর্বস্তরের জনগণের কাছে ছড়িয়ে দিতে হবে।

    রিজভী আরও বলেন, তারেক রহমানের শ্রদ্ধেয় বাবা ও মা যে দেশ গড়ার দূরদর্শী অঙ্গীকার নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন, তারেক রহমান আজ সেই আদর্শিক পথই অনুসরণ করে এগিয়ে চলেছেন।

    প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী এবং উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরামের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর হেলাল। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরামের নেতাকর্মীসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা।

  • প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বাবা-মায়ের সমাধিতে তারেক রহমানের শ্রদ্ধা

    প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বাবা-মায়ের সমাধিতে তারেক রহমানের শ্রদ্ধা

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি শ্রদ্ধা জানান।

    ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দলটির এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এসেছে ভিন্ন এক রাজনৈতিক পরিবেশে। দলের চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর তার ছেলে তারেক রহমান এখন বিএনপি চেয়ারম্যানের দায়িত্বে। তার নেতৃত্বেই দলটি বর্তমানে সরকার পরিচালনা করছে।

    ৪৮ বছরে নানা রাজনৈতিক উত্থান-পতন, আন্দোলন-সংগ্রাম ও ক্ষমতার পালাবদলের মধ্য দিয়ে পথচলা বিএনপি এবার রাষ্ট্রক্ষমতায় থেকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে। প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও দীর্ঘদিনের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে ধারণ করে তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলটি এখন নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে।

    প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পাঁচ দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি সারা দেশে জেলা, মহানগর ও দলীয় ইউনিটগুলোও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছেÑদলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন, জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে

    শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভা, বর্ণাঢ্য র‌্যালি, বৃক্ষরোপণ, মৎস্য অবমুক্তকরণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও খেলাধুলার অনুষ্ঠান।

    আজ সকাল ৬টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশে দলীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।

    প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর বেলা ৩টায় রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ মিলনায়তনে ‘বিএনপি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দলের সিনিয়র নেতা ও দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবীরাও এতে অংশ নেবেন।এছাড়া প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ ও মৎস্য অবমুক্তকরণ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। মৎস্য অবমুক্তকরণ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেবেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেবেন দলের যুগ্ম মহাসচিব ও পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। সারা দেশে জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং এর ইউনিটগুলো সুবিধাজনক সময়ে আলোচনা সভা ও অন্যান্য কর্মসূচি পালন করবে।

    প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী এবং দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।

    বাণীতে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল বিএনপির সাহস, সংগ্রাম, ত্যাগ ও সাফল্যের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী দেশের মানুষের জন্য আনন্দ, উদ্দীপনা ও প্রেরণার। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঢাকার রমনা এলাকায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তার মতে, বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার ইতিহাসে বিএনপির প্রতিষ্ঠা ছিল একটি যুগান্তকারী ঘটনা।

    তারেক রহমান প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন। একই সঙ্গে তিনি তার মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকেও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া তার নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার মাধ্যমে বিএনপিকে বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিয়েছিলেন।

    ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিএনপি প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে দেশের রাজনীতিতে নতুন একটি রাজনৈতিক ধারার সূচনা হয়। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দলটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন। স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের প্রত্যয় সামনে রেখে তিনি বিএনপিকে সংগঠিত করেন। পরবর্তী সময়ে দলটি দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়।

    ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর বিএনপি নেতৃত্বের সংকটে পড়ে। পরে ১৯৮৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দলের হাল ধরেন তার সহধর্মিণী খালেদা জিয়া। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বিএনপিকে নেতৃত্ব দিয়ে একাধিকবার সরকার গঠন করেন এবং দেশের রাজনীতিতে অন্যতম প্রধান নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন।

    তবে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দুই বছরের বেশি সময় কারাভোগের পর ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর তিনি মুক্তি পান। চিকিৎসার জন্য লন্ডনে অবস্থানের পর দেশে ফিরে ২০২৫ সালের শেষদিকে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

    খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর বিএনপির নেতৃত্বে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমানে রাষ্ট্র পরিচালনা করছে বিএনপি। দীর্ঘ ১৭ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকার পর সরকারে ফিরে এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন দলটির জন্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

    তারেক রহমান তার বাণীতে বলেন, জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অক্ষুণ্ণ রেখে বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীকে দেশমাতৃকার সেবায় নিজেদের নিবেদন করতে হবে। জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চায় বিএনপি সরকার। বাংলাদেশকে একটি জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    বিএনপির ভাষ্য অনুযায়ী, দেশে যতবার গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়েছে, ততবারই দলটির নেতাকর্মীরা আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে গণতন্ত্র ও সুশাসনের আন্দোলনে যারা প্রাণ দিয়েছেন বা আহত হয়েছেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে তাদেরও গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হচ্ছে।

  • আ.লীগ আমলে শেয়ারবাজার ছাড়েন ৫০ হাজার বিনিয়োগকারী

    আ.লীগ আমলে শেয়ারবাজার ছাড়েন ৫০ হাজার বিনিয়োগকারী

    ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকার গঠিত হওয়ার প্রথম ৬ মাসে প্রায় ৫০ হাজার বিনিয়োগকারী বাজার ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় প্রায় ১৭ হাজার বিনিয়োগকারী বাজারে যুক্ত হয়েছেন। অপরদিকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বিজয়ী বিএনপি সরকার গঠিত হওয়ার পর যুক্ত হওয়া বিনিয়োগকারীর সংখ্যা সাড়ে আট হাজারের মতো। এ হিসাবে প্রথম ছয় মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের তুলনায় বিএনপি সরকারের আমলে যুক্ত হওয়া বিনিয়োগকারীর সংখ্যা ৫০ শতাংশ কম।

    শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে আবশ্যকীয় বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) অ্যাকাউন্টের তথ্য বিশ্লেষণে এমন চিত্রই উঠে এসেছে। শেয়ারবাজার বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব ও শেয়ারের তথ্য সংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান হচ্ছে সেন্ট্রাল ডিপোজেটরি পার্টিসিপেন্ট অব বাংলাদেশ (সিডিবিএল)।

    সিডিবিএলের তথ্যানুযায়ী, ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি বিও অ্যাকাউন্টধারী বিনিয়োগকারীর সংখ্যা ছিল ১৪ লাখ ৬৮ হাজার ৫১৮ জন। প্রথম ছয় মাস শেষে ৬ জুলাই এ সংখ্যা কমে গিয়ে দাঁড়ায় ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৮৩৮-তে। এ হিসাবে আওয়ামী লীগ সরকার গঠিত হওয়ার প্রথম ৬ মাসে শেয়ারবাজার ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন ৪৯ হাজার ৬৮০ জন বিনিয়োগকারী। এ সময়ে নতুন বিও হিসাব খোলার সংখ্যা হচ্ছে ১ লাখ ৪১ হাজার ১৫৮টি। পক্ষান্তরে বিও হিসাব বন্ধ হয়েছে ১ লাখ ৯০ হাজার ৮৩৮টি।

    অপরদিকে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতন ও ভারতে পলায়নের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রথম ৬ মাসে ১৬ হাজার ৯৬০ জন বিনিয়োগকারী শেয়ারবাজারে নতুন করে যুক্ত হয়েছেন। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ গ্রহণের দিন শেয়ারবাজারে বিও হিসাবধারীর সংখ্যা ছিল ১৬ লাখ ৬৮ হাজার ৮৯৫ জন। প্রথম ৬ মাস শেষে ২০২৫ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বিও হিসাবধারীর সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় ১৬ লাখ ৮৫ হাজার ৮৫৫-তে। এ সময় নতুন বিও হিসাব খোলা হয়েছে ৩৯ হাজার ১৭২টি এবং বন্ধ হয়েছে ২২ হাজার ২১২টি। এ হিসাবে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বিও হিসাবের সংখ্যা বেড়েছে ১৬ হাজার ৯৬০-এ।

    অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে বিজয়ী হয় বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট। চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করে বিএনপি সরকার। সরকার গঠনের দিন দেশের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীর সংখ্যা ছিল ১৬ লাখ ৪৭ হাজার ৯১৬ জন। ৬ মাসের ব্যবধানে ১৬ আগস্ট এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৬ লাখ ৫৬ হাজার ৪৮৬তে। এ সময়ে নতুন বিও হিসাব খোলার পরিমাণ ৫৫ হাজার ৮১৪টি। বিপরীতে হিসাব বন্ধ হয়েছে ৪৭ হাজার ২৪৪টি। এ হিসাবে বিএনপি সরকারের প্রথম ৬ মাসে নতুন করে শেয়ারবাজারে যুক্ত হয়েছেন ৮ হাজার ৫৭০ জন। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম ৬ মাসের তুলনায় বিএনপি সরকারের একই সময়ে বিও হিসাবের বৃদ্ধির সংখ্যা প্রায় ৫০ শতাংশ।

    বাজার-সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকার গঠনের সঙ্গে শেয়ারবাজারে বিও হিসাব খোলার মধ্যে একটা সম্পর্ক থাকতে পারে। কিন্তু এটি এককভাবে সরকার গঠনের উপর নির্ভর করে না। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সরকারের আর্থিক নীতি, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির আর্থিক পরিস্থিতি, নতুন আইপিও অনুমোদন, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার নেতৃত্বে কারা রয়েছেনÑএসব কিছু ফ্যাক্টর হিসাবে কাজ করে। আবার প্রতি বছর জুন মাসে বিও হিসাব নবায়ন করতে হয়। এজন্য নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হয়। কিন্তু ফি পরিশোধ না করলে বিও হিসাব স্থগিত করে দেওয়া হয়। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সরকারের প্রথম ৬ মাস সময়কালে জুন-ক্লোজিংয়ের ইস্যু জড়িত রয়েছে। ফলে জুন ক্লোজিংয়ের কারণেও বিও অ্যাকাউন্ট একটা প্রভাব থাকতে পারে।

    এদিকে বিএনপি সরকার গঠন করলেও বিএসইসির নেতৃত্বে পরিবর্তন এসেছে প্রায় চার মাস পর। করপোরেট ব্যক্তিত্ব মাসুদ খানকে গত ৪ জুন বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। চেয়ারম্যানের পাশাপাশি তিন কমিশনারকেও নিয়োগ দেওয়া হয়। সরকার গঠনের পর বিএসইসির নেতৃত্বে পরিবর্তনের বিষয়ে সময় ক্ষেপনেরও প্রভাব পড়েছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্ট বিভাগের শিক্ষক ও পুঁজিবাজার সংস্কারে গঠিত টাস্কফোর্সের সাবেক সদস্য অধ্যাপক আল-আমিন আমার দেশকে বলেন, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের আসা-যাওয়ার চেয়ে মার্কেট কতটা স্ট্যাবল সেটা গুরুত্বপূর্ণ। আইপিওতে লটারি পদ্ধতির কারণে বিও হিসাবের সংখ্যা বাড়ে। যত বেশি আবেদন আইপিওর লটারি জেতার সম্ভাবনা তত বেশিÑএমন প্রত্যাশায়ও অনেকে বিও অ্যাকাউন্ট খুলেছেন। তাদের সে প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ার কারণে কিংবা অন্য আরো অনেক কারণে যেমন অনেকে বাজার ছেড়ে গেছেন আবার নতুন প্রত্যাশায় অনেকেই শেয়ারবাজারে আসছেন।

    ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ আমলে দেশের শেয়ারবাজারে নজিরবিহীন কেলেংকারির ঘটনা ঘটে। এতে কয়েক লাখ বিনিয়োগকারী তাদের পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন। কিন্তু কারসাজি চক্রের হোতাদের কোনো ধরনের শাস্তির মুখে পড়তে হয়নি। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরে আসার পর শেয়ারবাজারে সেই দুঃসহ স্মৃতি ফিরে আসে সাধারণ বিনিয়োগকারীর মানসপটে। বাজার সংশ্লিষ্টদের অনেকেই মনে করছেন, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী আমলে শেয়ারবাজারে কেলেংকারির ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ২০০৯ সালের প্রথম দিকে বাজার ছেড়ে চলে যান প্রায় ৫০ হাজার বিনিয়োগকারী।

    প্রথম ৬ মাসে বিও হিসাবের সংখ্যা কমলেও এরপর ধীরে ধীরে তা বাড়তে শুরু করে। ব্যাংকের সুদের হার কমানো, ব্যাংকগুলোর শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের সীমা বৃদ্ধি, ১৯৯৬ সালের পুনরাবৃত্তি না ঘটার আশ্বাসসহ নানাভাবে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে সাধারণ মানুষকে প্রলুব্ধ করা হয়। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে ২০১০ সালে বিও অ্যাকাউন্টের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় প্রায় ৩২ লাখ ৮০ হাজারে। বিপুলসংখ্যক বিনিয়োগকারীর আগমনের সুযোগে কারসাজির চক্রের হোতারা শেয়ারবাজারকে অর্থ লুটপাটের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। ১৯৯৬ সালের চেয়ে আরো বড় ধরনের কেলেংকারি ও বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটে ২০১০ সালে। ধসের কারণে পুঁজি হারিয়ে কয়েকজন বিনিয়োগকারী আত্মহত্যাও করেছেন। এখনো সেই বিপর্যয়ের ধকল থেকে বের হয়ে আসতে পারছে না বাজার। বিশেষ করে মার্জিন লোনের কারণে শুধু সাধারণ বিনিয়োগকারীই নয়, প্রতিষ্ঠানগুলোও বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

    শেয়ারবাজার থেকে আওয়ামী লীগের আমলে এক লাখ কোটি টাকা লুটপাট বা আত্মসাত হওয়ার তথ্য অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে তৈরি বাংলাদেশের অর্থনীতির অবস্থা সম্পর্কিত শ্বেতপত্র প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। জুলাই অভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদ্যোগে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক অবস্থা ও পূর্ববর্তী সরকারের নানা অনিয়ম, দুর্নীতি তুলে ধরার জন্য ‘বাংলাদেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক অবস্থার শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি’ গঠন করা হয়েছিল।

  • প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফর সফলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: রিজভী

    প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফর সফলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: রিজভী

    জাতিসংঘের ৮১ তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইর্য়কে পৌঁছানোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। যুক্তরাষ্ট্র সফর সর্বাত্মকভাবে সফল করতে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের প্রত্যেকটি নেতাকর্মীকের ঐক্যবদ্ধ থেকে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

    যুক্তরাষ্ট্র আগমন উপলক্ষে বিএনপির সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে স্থানীয় সময় গতকাল রোববার যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক নেতৃবৃন্দ, কানাডা বিএনপি ও নিউইয়র্কসহ ১৮টি স্টেট ও মহানগর কমিটি, যুক্তরাষ্ট্র যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, জাসাসসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের ভার্চুয়ালি যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    এতে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। যৌথ প্রস্তুতি সভার সমন্বয়ক ও সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছর পর নিউইয়র্কে আসবেন। তার আগমনকে সফল করতে আমরা সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছি।

    রিজভী নেতাকর্মীদের খুবই সহনশীলতার সাথে সবকিছু দেখভাল করার জোর তাগিদ দেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফরের সময় সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজকর্ম করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এই সফরকে আমরা কোনো বিভেদ বা সংঘাতের উপলক্ষ বানাবো না বরং ঐক্য, শৃঙ্খলা, সৌন্দর্য ও বাংলাদেশের মর্যাদা বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করব।

    সভার আরো বক্তব্য রাখেন— বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুল লতিফ সম্রাট, জিল্লুর রহমান জিল্লু, গিয়াস আহমদ, মিজানুর রহমান ভূঁইয়া মিল্টন, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক নেতাদের মধ্যে শরাফত হোসেন বাবু, নেওয়াজ আহমেদ জুয়েল, আনোয়ার হোসেন, কামাল পাশা বাবুল, গিয়াস উদ্দিন, আখতার হোসেন বাদল, আব্দুস সবুর, মোশাররফ হোসেন সবুজ, কাজী আজম, ফিরোজ আহমেদ, জসিম ভুইয়া, মুশফিকুর রহমান খসরু, একে আজাদ, সালেহ আহমেদ মানিক, শফিকুর রহমান দুলাল, গোলাম ফারুক শাহীন, ডিউক খান, জগলুল হায়দার, মুকুল (জাবি) প্রমুখ।

    সভায় কানাডা পূর্ব ও কানাডা পশ্চিম বিএনপি, যুক্তরাষ্ট্রের সকল স্টেট, মহানগর উওর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি সাধারণ সম্পাদক, অঙ্গসহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ সকল পর্যায়ের নেতাকর্মী তারেক রহমানের আগমনকে স্বাগত জানান ও ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

  • আমাদের জন্য ঘোর অন্ধকার অপেক্ষা করছে: বিএনপির সংসদ সদস্য

    আমাদের জন্য ঘোর অন্ধকার অপেক্ষা করছে: বিএনপির সংসদ সদস্য

    আমাদের জন্য ঘোর অন্ধকার অপেক্ষা করছে বলে মন্তব্য করেছেন লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম।

    গতকাল রোববার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এমন মন্তব্য করেন। সম্প্রতি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের কারণে মানুষের ভোগান্তির প্রসঙ্গ তুলে তিনি প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

    শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, আমার স্পষ্ট মনে হচ্ছে, প্রশাসনের একটি প্রভাবশালী অংশ এই সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণ করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। এখনই যদি এই দায়িত্বজ্ঞানহীন চক্রটিকে চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয়,তবে সামনে আমাদের জন্য ঘোর অন্ধকার অপেক্ষা করছে। জনদুর্ভোগ সৃষ্টি ও চরম দায়িত্বহীনতার অপরাধে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কালবিলম্ব না করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

    গত শুক্রবার রাত থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনা থেকে নারায়ণগঞ্জের আষাড়িয়ারচর পর্যন্ত টানা ৩২ ঘণ্টা তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। দীর্ঘ যানজটে অ্যাম্বুলেন্স আটকে এক রোগীর মৃত্যু এবং সময়মতো বিমানবন্দরে পৌঁছাতে না পেরে কয়েকজন প্রবাসীর নির্ধারিত ফ্লাইট মিস করার ঘটনাও ঘটে বলে পোস্টে উল্লেখ করেন শাহাদাত হোসেন সেলিম।

    দুর্ভোগের কারণ অনুসন্ধানে জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন। কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি), হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীদের নিয়ে জুমে এ বৈঠক হয়।

    শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, তিনি হুইপের পাশে বসে পুরো বৈঠকটি পর্যবেক্ষণ করেছেন। এত বড় জনদুর্ভোগের পরও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের মধ্যে অনুশোচনা বা দায়বদ্ধতা দেখতে পাননি বলে দাবি করেন তিনি।

    তার ভাষ্য, সেতু সংস্কারকাজের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী, হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার কিংবা কুমিল্লার জেলা প্রশাসকের কাছে আগাম কোনো তথ্য ছিল না। কর্মকর্তাদের মধ্যে এমন সমন্বয়হীনতা ও জবাবদিহিতার অভাব উদ্বেগজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    শাহাদাত হোসেন সেলিমের দাবি, পরিস্থিতি দেখে হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান ক্ষোভ ও বিরক্তি প্রকাশ করেন। সেতু সংস্কারের আগে গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে সাধারণ মানুষকে অবহিত করা প্রয়োজন ছিল। সংবাদপত্র, টেলিভিশনের স্ক্রল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগাম প্রচার চালানো হলে যাত্রীরা বিকল্প পথ ব্যবহার করতে পারতেন এবং এমন দুর্ভোগ এড়ানো সম্ভব হতো বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    পরে হুইপ সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলেন। সেখানেও দায়িত্বশীলতার ইতিবাচক মনোভাব দেখা যায়নি বলে পোস্টে দাবি করেন শাহাদাত হোসেন সেলিম।

    শেষে তিনি বলেন, জনদুর্ভোগ সৃষ্টি ও চরম দায়িত্বহীনতার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

    পরে সাংবাদিকদের কাছে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেন শাহাদাত হোসেন সেলিম। তিনি বলেন, জনগণের দুর্ভোগ দেখে তিনি মর্মাহত। সড়কের কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছেন। কিন্তু তাতেও কোনো সুফল না পাওয়ায় হতাশা ও ক্ষোভ থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই পোস্ট দিয়েছেন।

    তিনি বলেন, ‘জনগণের দুর্ভোগ দেখে আমি কষ্ট পাচ্ছি। কাজটি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে দফায় দফায় কথা বলেছি। কিন্তু কোনো কিছুতেই কাজ হচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত মনের কষ্ট থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই স্ট্যাটাস দিয়েছি।’

    শাহাদাত হোসেন সেলিম বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান ছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নিজ দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দেন তিনি।

  • মির্জা ফখরুলের চেয়ারে সালাহউদ্দিনকে বসিয়ে কী বার্তা দিল বিএনপি?

    মির্জা ফখরুলের চেয়ারে সালাহউদ্দিনকে বসিয়ে কী বার্তা দিল বিএনপি?

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাতীয় সংসদের আসন ছাড়ার পর তার জায়গায় বসেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনে নতুন আসনবিন্যাসে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের পাশের আসনটি পেয়েছেন তিনি। এতদিন ওই আসনে বসতেন মির্জা ফখরুল।

    বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে, সংসদের প্রথম সারিতে প্রধানমন্ত্রীর পাশের আসনটি শুধু বসার জায়গা নয়, রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক গুরুত্বের দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ। ফলে ফখরুলের আসনে সালাহউদ্দিন আহমদকে বসানোর বিষয়টি বিএনপির ভেতরে-বাইরে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। যদিও এটি সংসদের নিয়মিত আসনবিন্যাসের অংশ, রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকে এর মধ্যে দলটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের একটি প্রতীকী বার্তাও দেখছেন।

    এখন সালাহউদ্দিন আহমদকে সংসদের উপনেতা করা হচ্ছে কিনা, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

    তবে সালাহউদ্দিন আহমদকে সংসদের উপনেতা করার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা আসেনি। উপনেতা কে হবেন, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নতুন আসনবিন্যাসকে সরাসরি উপনেতা হওয়ার সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তবে গুরুত্বপূর্ণ এ আসনে তাকে বসানোকে ইঙ্গিতবহ মনে করছেন অনেকেই।

    এত দিন সংসদ নেতা তারেক রহমানের পাশের আসনে বসতেন বিএনপির সদ্য বিদায়ী মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার পরের চেয়ারে বসতেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এর পরে ছিল সালাহউদ্দিনের সিট।

    মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন। একই সঙ্গে তার সংসদীয় আসন ঠাকুরগাঁও-১ শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে।

    নতুন বিন্যাসে মির্জা ফখরুল ইসলামের আসনে উঠে এসেছেন সালাহউদ্দিন। তার পরের আসনে রয়েছেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এর পরের আসনে বিএনপির বর্ষীয়ান নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

    সালাহউদ্দিনের আগের আসনে এখন বসছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন। ট্রেজারি বেঞ্চের প্রথম সারির ১০টি আসনের নতুন বিন্যাসে পেছনের সারি থেকে সামনে এসেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির নতুন সদস্য আমানউল্লাহ আমান।

    সালাহউদ্দিনকে প্রধানমন্ত্রীর পাশের আসনে বসানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে তার রাজনৈতিক ও সরকারি অবস্থানের কারণেও। বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন বর্তমানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন। তা ছাড়া দলের সম্ভাব্য মহাসচিব হিসেবে তার নামও আলোচনায় রয়েছে। সরকার ও দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকা এই নেতাকে সংসদীয় কার্যক্রমে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় আনার চিন্তা আছে কিনা, সে আলোচনা জোরালো হয়েছে।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী শনিবার গণমাধ্যমকে বলেন, তিনি এ ব্যাপারে কিছু জানেন না। এটি প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতার এখতিয়ার।

    সংসদের উপনেতা পদটি সংসদ নেতার সহায়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ। সংসদ নেতার অনুপস্থিতিতে সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনায় উপনেতাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হয়। অতীতেও ক্ষমতাসীন দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের এ পদে রাখার নজির রয়েছে।

    সালাউদ্দিনকে সংসদ নেতার পাশে বসানো এটি কি কেবল নতুন আসনবিন্যাস, নাকি সংসদে তাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তুতি—সেটি স্পষ্ট হবে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত এলে।

    তবে বিএনপি অন্যান্য সব পদ পূরণ করলেও এখন উপনেতার পদটি শূন্য রেখেছে। এই পদ ঘিরে সিনিয়র নেতাদের মধ্যে এক ধরনের প্রতিযোগিতা কাজ করে।

    এই প্রতিযোগিতার কারণে একাদশ সংসদে খালেদা জিয়াও সংসদ উপনেতার পদটি শূন্য রাখেন। আবার ২০০৮ সালের পার্লামেন্টে তিনি বিরোধী দলীয় উপনেতার পদটিও শূন্য রেখেছিলেন। তখন তিন সিনিয়র নেতা উপনেতা হওয়ার প্রত্যাশায় ছিলেন। তারা হলেন—ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন ও সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী।

  • সাড়ে পাঁচ মাস পর দেশে ফিরছেন মির্জা আব্বাস

    সাড়ে পাঁচ মাস পর দেশে ফিরছেন মির্জা আব্বাস

    সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় সাড়ে পাঁচ মাসের বেশি সময় চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস। আগামী বুধবার রাত ৯টায় বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে তার ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

    রোববার বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস এখন অনেকটাই সুস্থ। মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরছেন।

    গত ১১ মার্চ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারান মির্জা আব্বাস। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ওই রাতেই তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়।

    পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ মার্চ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা শেষে বিশেষায়িত চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য তাকে মালয়েশিয়ায় নেওয়া হয়। এরপর থেকে সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

  • চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় নিজ দলীয় কর্মীর হাতে যুবদল নেতা খুন!

    চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় নিজ দলীয় কর্মীর হাতে যুবদল নেতা খুন!

    চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁওয়ে সড়কে ভাসমান ভ্যান বসানো ও চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে ফজলুল আমিন নামে এক যুবদল নেতাকে মারধরের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

    শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে চান্দগাঁও থানার ওমর আলী মাতব্বর বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    স্বজনদের অভিযোগ, ভ্যান বসানো চাঁদা নেওয়ার প্রতিবাদ করায় নিজ দলের কর্মী হিসেবে পরিচিত শাহজাহান ও তার ছেলে সিফাতের সঙ্গে ফজলুল আমিনের বিরোধ হয়। একপর্যায়ে তাকে ধাক্কা ও ঘুষি মারা হলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

    নিহত ফজলুল আমিন ৬ নম্বর পূর্ব ষোলশহর ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। অভিযুক্ত শাহাজাহান চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির এক সদস্যের অনুসারী এবং কৃষক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে।

    এ ঘটনায় অভিযুক্ত মো. শাহজাহান (৪৫) ও তার ছেলে সিফাতকে (২০) আসামি করে চান্দগাঁও থানায় মামলা করেছেন নিহতের পরিবার।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই এলাকায় ভাসমান ভ্যান বসানো নিয়ে আগে থেকেই বিরোধ ছিল। স্থানীয়দের বৈঠকে নির্দিষ্ট স্থানে ভ্যান না বসানোর সিদ্ধান্ত হলেও শুক্রবার সেখানে আবার ভ্যান বসানো হলে ফজলুল আমিন বাধা দেন। এ নিয়ে শাহজাহানের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। ঘটনার আগের দিন ভ্যান সরিয়ে দেওয়া হলেও পরে আবার তা বসানো হয়। ভ্যান বসানোর পেছনে প্রভাবশালী এক নেতার নির্দেশের কথা বলা হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।

    ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক যুবক বলেন, ‘চলাচলের রাস্তায় ভ্যান না বসাতে বলেন। এ নিয়ে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে তাকে ঘুষি মারা হলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। আমরা তাকে হাসপাতালে পাঠাই। মারামারি বেশি হয়নি, তবে ঘুষির আঘাতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে জানতে পারি, হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়েছে।’

    ৬ নম্বর পূর্ব ষোলশহর ওয়ার্ড যুবদলের জয়নাল আবেদিন বলেন, ‘ভাসমান ভ্যান থেকে চাঁদা আদায়ের বিষয়টি নিয়ে ফজল আমিন শাহজাহানের কাছে জানতে চেয়েছিল বলে শুনেছি। গরিব মানুষ ভাসমান দোকান বসিয়ে জীবিকা চালায়, তাদের কাছ থেকে কেন চাঁদা নেওয়া হচ্ছে এমন প্রশ্নের পর তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে শাহজাহান ফজল আমিনকে ধাক্কা ও ঘুষি মারে বলে আমরা জানতে পেরেছি। এরপর তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।’

    নিহতের ছেলে বলেন, ‘আমার বাবা সারাজীবন এলাকার মানুষের জন্য কাজ করেছেন। আমরা চাই, তার মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত হোক এবং যারা জড়িত তাদের বিচার হোক। ৫ আগস্টের পর এলাকায় নতুন করে নেতৃত্বে আসা কিছু ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের বিষয়ে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।’

    চান্দগাঁও থানার ওসি জসিম উদ্দিন বলেন, ‘দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে। মামলায় আরও ৫ থেকে ৭ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং বিরোধের প্রকৃত কারণ কী, তা তদন্ত করা হচ্ছে।’

    এদিকে, ফজলুল আমিনের মরদেহ এলাকায় আনার পর স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। নিজ দলের কর্মীর হাতে তার মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। স্বজন ও স্থানীয়রা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।

  • বুধবার যৌথসভা ডেকেছে বিএনপি

    বুধবার যৌথসভা ডেকেছে বিএনপি

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) আসন্ন ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে যৌথসভা আহ্বান করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক মো. মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুর ১২টায় রাজধানীর নয়াপল্টনস্থ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

    আসন্ন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলীয় করণীয় নির্ধারণের জন্যই মূলত এই যৌথসভার আয়োজন করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

  • বিএনপির নাম ভাঙিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ড করলে ছাড় দেয়া হবে না: রিজভী

    বিএনপির নাম ভাঙিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ড করলে ছাড় দেয়া হবে না: রিজভী

    বিএনপির নাম ভাঙিয়ে কোনো ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড করলে ছাড় দেয়া হবে না বলে নেতা কর্মীদের সতর্ক করেছেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সোমবার রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে জিয়া উদ্যানে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ কথা বলেন। ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দলের নেতা কর্মীদের নিয়ে তিনি সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান।

    নেতাকর্মীদের উদ্দেশে রুহুল কবির রিজভী বলেন, দলের মধ্যে হয়তো দুই-একজন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে থাকতে পারেন, তাদেরকে বলবো, ৫ই আগস্টের পর থেকে দেখেছেন- যারা দলের নাম ভাঙিয়ে অপকর্মে যুক্ত ছিলেন- আমাদের চেয়ারম্যান কত শক্ত হাতে তাদের বিরুদ্ধে শক্ত পদক্ষেপ নিয়েছেন। সুতরাং কেউ অনৈতিক কাজ করবেন না, গঠনমূলক কাজে থাকবেন এবং দলকে শক্তিশালী করবেন। যাতে নেতাকর্মীরা জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতে পারে, সেই চেষ্টাই আপনারা করবেন।

    তিনি বলেন, আমাদের যে কর্তব্য হবে, সেটি দলকে সুশৃঙ্খল এবং সমন্বিতভাবে পরিচালনা করা। দলের চেয়ারম্যান নির্দেশিত যে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চলমান আছে, সেই সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড যাতে সুসম্পন্ন করা যায়, সংগঠিত করা যায় এবং সুন্দরভাবে এই প্রক্রিয়া নিষ্পন্ন করা যায়, সেই দিকেই আমি নিয়ে যেতে চেষ্টা করব, নিয়ে যাবো।

    রিজভী বলেন, আজকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জনগণের সমর্থন নিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতার পরিচালকের আসনে বসেছে। সরকার গঠন করেছেন তারেক রহমানের নেতৃত্বে। তার যে ঘোষিত কর্মসূচি—প্রত্যেকটি কর্মসূচি জনগণের স্বার্থে, মানব কল্যাণে এবং সামাজিক সুরক্ষাসহ অবকাঠামোগত যে উন্নয়নে তিনি পদক্ষেপ নিয়েছেন, সেই পদক্ষেপ যাতে সুচারুভাবে পরিচালিত হয়, সেই বিষয়টি এবং জনকল্যাণে তার একটার পর একটা যে পদক্ষেপ, সেই পদক্ষেপগুলো জনগণকে অবহিত করবেন এবং জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকবেন।

    তিনি আরও বলেন, নেতাকর্মী যদি জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকেন, তাহলে কেউ যদি অনৈতিক চিন্তা করে, তারা তা করতে পারবে না। কারণ আমাদের প্রত্যেকটি কাজ, প্রত্যেকটি কর্মকাণ্ড, সরকারের প্রত্যেকটি কর্মসূচি যেটি বাস্তবায়ন হচ্ছে, প্রত্যেকটির ব্যাপারে আমাদের প্রধানমন্ত্রী প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করেছেন।

    জনস্বার্থের বাইরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল কোনো কাজ করবে না উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, বিএনপি একটি জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল হিসেবে আজকে জনগণের কাছে জনপ্রিয় কেন? কারণ এর প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, তারা যে জনকল্যাণে কাজ করেছেন, তারা নারীর ক্ষমতায়ন এবং দেশের আর্থিক উন্নতির জন্য যে কাজগুলো করেছেন, সেই কাজগুলোই আজকে জনগণের কাছে বিএনপির জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি করেছে। এখন তাদের সুযোগ্য জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান সেই ধারাবাহিক কাজ এবং তার নতুন এমন কিছু কর্মসূচি, যেটি জনগণের মাঝে অত্যন্ত জনপ্রিয়তা লাভ করেছে, সেগুলো তিনি বাস্তবায়ন করছেন।

    আমাদের দলের নেতাকর্মীরা সেই বাস্তবায়নকে সহযোগিতা করব, জনগণের কাছে তুলে ধরব এবং এর মাধ্যমেই জনগণের কাছে দলের জনপ্রিয়তা আরো বৃদ্ধি পাবে।
    স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে আমাদের দলের নেতৃবৃন্দ যারা আছেন, ইউনিয়ন, উপজেলার বা জেলার নেতারা-তারা সবকিছু যাচাই-বাছাই করে ইউপি নির্বাচনে যিনি যোগ্য প্রার্থী তাকে সমর্থন দেবেন। কারণ দলীয় প্রতীকে এখন তো নির্বাচন হবে না। একজন দলীয় সমর্থিত ব্যক্তি অবশ্যই নির্বাচিত হবে।

    রিজভী বলেন, আজকে এত অপপ্রচার, চক্রান্ত এবং ষড়যন্ত্র হচ্ছে তারপরেও জরিপে দেখা গেছে বিএনপির জনপ্রিয়তা অনেক বেশি। প্রায় ৫৪, ৫৫ বা ৫৬ শতাংশ। আর ব্যক্তিগতভাবে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রিয়তা আরও বেশি ৬৫-৬৬ শতাংশ। সুতরাং জনগণের পক্ষে এবং স্বার্থে কাজ করলে, সেই সরকার কোনোদিনই ব্যর্থ হবে না, সেই সরকার জনগণের সমাদৃত সরকার হিসেবে নিয়োজিত থাকবে।

    এসময় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, আব্দুস সালাম আজাদ, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবসহ বিএনপিসহ এর অঙ্গ-সহযোগি সংগঠনে নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

  • জ্বালানিসংকটের জন্য সরকার দায়ী নয়, প্রাকৃতিক: রিজভী

    জ্বালানিসংকটের জন্য সরকার দায়ী নয়, প্রাকৃতিক: রিজভী

    বিরাজমান জ্বালানিসংকটের জন্য বর্তমান সরকার দায়ী নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে যে সংকট (জ্বালানিসংকট) তৈরি হয়েছে, তার জন্য সরকার বা কোনো ব্যক্তি দায়ী নয়। এটি একধরনের প্রাকৃতিক সংকট। যুদ্ধের কারণে জ্বালানিসংকট তৈরি হয়েছে।

    আজ রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন ও ফাতেহা পাঠ শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এসব কথা বলেন। এ দিন প্রধানমন্ত্রীর নবনিযুক্ত রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনকে নিয়ে সমাধি প্রাঙ্গণে যান রিজভী।

    জ্বালানিসংকটের প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, এ ছাড়া মহেশখালীর গ্যাস ও এলএনজি সরবরাহকারী টার্মিনালে ত্রুটির কারণে বিগত কয়েক দিন গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় বিভিন্ন এলাকার কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যায় এবং বাসাবাড়ির রান্নার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন।

    জ্বালানিসংকট প্রসঙ্গে রিজভী আরও বলেন, ‘মহেশখালীর ভাসমান টার্মিনালের ত্রুটি ইতিমধ্যে সম্পূর্ণভাবে মেরামত করা হয়েছে। এলএনজির কার্গোও এসে পৌঁছেছে এবং সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। ফলে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ আবার বেড়েছে এবং লোডশেডিংও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।’

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, এই সমস্যা দ্রুত নিরসনে সরকারের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি ছিল না, দেশবাসী তা দেখেছে। তবে এর মধ্যেও অনেক চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। সরকার এসব চক্রান্ত শনাক্ত করে তা প্রতিহত করেছে এবং একই সঙ্গে জনকল্যাণ, সামাজিক সুরক্ষা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

    বর্তমান সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে দাবি করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, একটি সরকার তখনই সফল হয়, যখন সে আন্তরিকতার সঙ্গে জনগণের কল্যাণে মনোনিবেশ করে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারও আন্তরিকতার সঙ্গে জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে।

    রিজভী বলেন, অনেক সংকটের মধ্য দিয়ে গেলেও সরকার তার কর্মকাণ্ডে সততা ও নিষ্ঠার পরিচয় দিয়েছে। নির্বাচনের আগে দলের চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সরকার তা বাস্তবায়নে নিরন্তর ও নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সেই প্রচেষ্টা এখন দৃশ্যমান।

    বিএনপির এ জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, সরকারের প্রতিটি কর্মকাণ্ডের জবাবদিহি থাকবে। এই জবাবদিহি সংসদে হতে পারে, দলের নেতা-কর্মীদের কাছেও হতে পারে এবং গণমাধ্যমের মাধ্যমেও হতে পারে। সরকার ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

    বর্তমান সরকারকে জনকল্যাণমুখী সরকার হিসেবে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, বর্তমান সরকার সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করার পাশাপাশি সব ধরনের দুর্নীতির ঊর্ধ্বে উঠে অবকাঠামো উন্নয়ন করছে। অতীতে, বিশেষ করে, ‘ফ্যাসিস্ট আমলে’, মেগা প্রকল্পের নামে ‘মেগা দুর্নীতি’ হয়েছে। সেই অবস্থা থেকে উত্তরণ করে সরকার এখন প্রকৃত উন্নয়ন করছে।

    দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে তাঁর কাছে কোন বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পাচ্ছে—এ সম্পর্কে জানতে চাইলে রিজভী বলেন, ‘আমার প্রধান দায়িত্ব হলো সংগঠনকে শক্তিশালী করা, নেতা ও কর্মীদের মধ্যে সমন্বয় ও তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সমৃদ্ধ ও দৃঢ় করা এবং তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত সংগঠনে বিদ্যমান বা ভবিষ্যতে দেখা দিতে পারে—এমন ত্রুটিবিচ্যুতি কীভাবে দূর করা যায়, তা দেখভাল করা।’

    রিজভী বলেন, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দিকনির্দেশনা সাংগঠনিকভাবে তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হবে। এ কাজে দলের সহকর্মীরা সহযোগিতা করবেন বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

    এ সময় মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর কমিটি প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, যেসব কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে, সেসব কমিটিতে নতুন নেতৃত্বের ঘোষণা দেওয়া হবে এবং যথাসময়ে কমিটিগুলোর সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

    দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব জানান, কেউ পদ থেকে সরে দাঁড়ালেও তিনি পুরোপুরি সংগঠন থেকে বিচ্ছিন্ন হবেন না। বরং, তাঁর ‘ঊর্ধ্বমুখী অগ্রগতি’ হবে এবং তাঁকে বিএনপি বা দলের অন্য কোনো সংগঠনে উচ্চতর পদ ও দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।

  • শপথ নিলেন দুই প্রতিমন্ত্রী

    শপথ নিলেন দুই প্রতিমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় নতুন করে দুই প্রতিমন্ত্রী শপথ নিয়েছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে তাদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নতুন রাষ্ট্রপতি তাদের শপথবাক্য পাঠ করান। নতুন ২ জন প্রতিমন্ত্রী হলেন, শামীম কায়সার লিংক। এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল তাকে শপথ পড়ান। রাষ্ট্রপতির শপথের পরপরই নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হয়।

  • রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল

    রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল

    দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে তিনি শপথ গ্রহণ করেন। ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল শপথ বাক্য পাঠ করান। প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

    এর আগে ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, ওই দিনই জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে নিজ দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই। ফলে সংসদে ক্ষমতাসীন বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির প্রার্থীর জয় আগেই নিশ্চিত ছিল। তবু প্রতিদ্বন্দ্বী থাকায় তফসিল অনুযায়ী গতকাল ভোট গ্রহণ করা হয়। নির্বাচনে ৩৪৯ ভোটের মধ্যে মির্জা ফখরুল ২৫৫ ভোট ও এগারো দলীয় প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ পান ৮৮ ভোট। সরকারি ও বিরোধী দলের ৬ জন এমপি ভোট দানে অনুপস্থিত ছিলেন। এর আগে ১৯৯১ সালে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর ওই বছরই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রথম ভোট হয়েছিল। পরবর্তীতে সকল রাষ্ট্রপতি সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচিত হন। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট গ্রহণ হয়েছে।

  • বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পেলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী। আজ বৃহস্পতিবার বিএনপির সহ দপ্তর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই মর্মে সকলের জ্ঞাতার্থে জানানো যাচ্ছে যে, বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭। খ)৬) ধারা অনুযায়ী বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভীকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। এই মনোনয়ন অবিলম্বে কার্যকর হবে।

    বিএনপির সদ্য সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্থলাভিষিক্ত হলেন রুহুল কবির রিজভী। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে মহাসিচব ও দলীয় সব ধরনের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    রুহুল কবির রিজভী বর্তমানের প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি বিএনপির স্থায়ী কমিটি হওয়ার আগে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন। এ পদে থেকে তিনি মূলত দলের দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন।

    রুহুল কবির রিজভীর পৈত্রিক নিবাস কুড়িগ্রামে। তিনি ঢাকার হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে জন্মগ্রহণ করেন।তিনি

    বগুড়া জিলা স্কুল, কুড়িগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, বগুড়া বাংলা স্কুল, রাজশাহী কলেজ, রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজ ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেছেন।

    রাজনীতি জীবনের শুরুতে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করার পর রুহুল কবির রিজভী বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়ন নামের একটি বামপন্থী সংগঠনের মাধ্যমে ছাত্র রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। তিনি বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়ন রাজশাহী সরকারি কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পরবর্তীকালে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর সংগঠনটিতে যোগ দেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পান রুহুল কবির রিজভী। পরবর্তী সময়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। রুহুল কবির রিজভী ১৯৮৯ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) নির্বাচনে এর সহ-সভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হন এবং ১৯৯০ সাল পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করেন।

    রুহুল কবির রিজভী ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হন। তিনি ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পান। গত ১৫ আগস্ট তিনি বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হন।

  • সরকারি গাছ কেটে টাকা ফেরত দিতে হলো বিএনপি নেতাকে

    সরকারি গাছ কেটে টাকা ফেরত দিতে হলো বিএনপি নেতাকে

    চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে অনুমতি ছাড়া সড়কের সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় পর গাছের মূল্য বাবদ ৮ হাজার ৩০০ টাকা পৌরসভার তহবিলে জমা দিয়েছেন পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ বেলায়েত হোসেন সেলিম।

    আজ মঙ্গলবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মনিরা খাতুন।

    খোঁজ নিয় জানা গেছে, গত পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটির সময় শাহরাস্তি পৌরসভার সাহাপুর এলাকায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের সামনের সড়কের পাশ থেকে কয়েকটি গাছ কাটার অভিযোগ ওঠে বিএনপি নেতা শেখ বেলায়েত হোসেন সেলিমের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

    পরে বিষয়টি তদন্তের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা বন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তদন্তে অনুমতি ছাড়া গাছ কাটার সত্যতা পাওয়ার পর গাছের মূল্য পরিশোধের নির্দেশ প্রদান করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে শেখ বেলায়েত হোসেন সেলিম ৮ হাজার ৩০০ টাকা শাহরাস্তি পৌরসভার তহবিলে জমা দেন।

    শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মনিরা খাতুন বলেন, গাছ কাটার সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্ত ব্যক্তি পৌরসভার তহবিলে ৮ হাজার ৩০০ টাকা জমা দিয়েছেন।

    এর আগে গাছ কাটার অভিযোগ অস্বীকার করে শেখ বেলায়েত হোসেন সেলিম দাবি করেছিলেন, তিনি পৌরসভা থেকে সড়কটি লিজ নিয়ে সেখানে গাছের চারা রোপণ করেছিলেন এবং গাছগুলো মসজিদে দান করা হয়েছে। মসজিদ কর্তৃপক্ষই পরবর্তীতে গাছগুলো কেটে নিয়েছে বলেও তিনি দাবি করেছিলেন।

  • রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ২৪৭ বনাম ৯০, তবু হিসাব ভোটের বাইরেই

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ২৪৭ বনাম ৯০, তবু হিসাব ভোটের বাইরেই

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী জোটের দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্রই বৈধ হয়েছে। ২০ আগস্ট ভোট হবে। প্রাথমিক সমীকরণে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে ২৪৭ এবং জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদের পক্ষে ৯০ জন সংসদ সদস্য রয়েছেন।

    সংখ্যার এই ব্যবধানে জয়-পরাজয় নিয়ে কার্যত কোনো অনিশ্চয়তা নেই। মির্জা ফখরুলের জয় প্রায় নিশ্চিত। এরপরও ভোটটিতে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা আছে। তবে সেটি ফলাফলের চেয়ে অলি আহমদ কত ভোট পান, বিরোধী জোটের ৯০টি ভোট অটুট থাকে কি না এবং দুই শিবিরের বাইরের সংসদ সদস্যরা কোন দিকে যান—এসব প্রশ্নকে ঘিরে।

    আজ রোববার রাষ্ট্রপতি পদে জমা দেওয়া মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। বিএনপির সদ্য সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং এলডিপির চেয়ারম্যান অলি আহমদ—দুজনের মনোনয়নপত্রই বৈধ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ রয়েছে। তবে কোনো প্রার্থীরই মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সম্ভাবনা নাই। ফলে ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদকক্ষে দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোট হবে। ভোটার হবেন সংসদ সদস্যরা।

    গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। সংবিধান অনুসারে, পদত্যাগের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হয়।

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও কর্নেল (অব.) অলি আহমদ; রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপি ও ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী তাঁরা ফাইল ছবি

    সংখ্যার চেয়ে ভোটের বিন্যাসে নজর

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনসহ বর্তমানে সদস্য রয়েছেন ৩৪৯ জন। বিএনপির সদস্য ২৪৭ জন। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের সদস্য ৯০ জন। চট্টগ্রাম-৪ আসনে নির্বাচিত ঘোষিত বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা আদালতের রায়ে বাতিল হওয়ায় তিনি শপথ নিতে পারেননি। ফলে আসনটি শূন্য রয়েছে।

    দুই প্রধান রাজনৈতিক শিবিরের বাইরে থাকা ১২ সদস্যের মধ্যে তিনজন বিএনপির মিত্র গণসংহতি আন্দোলন, গণ অধিকার পরিষদ ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি)। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সদস্য একজন। বাকি আটজন স্বতন্ত্র; তাঁদের প্রায় সবাই একসময় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

    এই সমীকরণে মির্জা ফখরুলের জয় প্রায় নিশ্চিত হলেও বাকি ১২টি ভোট রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অলি আহমদ স্বতন্ত্র কিংবা ইসলামী আন্দোলনের ভোট টানতে পারলে বিরোধী জোট সেটিকে রাজনৈতিক অর্জন হিসেবে তুলে ধরতে পারবে। অন্যদিকে মির্জা ফখরুল বিএনপির বাইরের ভোট পেলে ক্ষমতাসীন দল তাঁর প্রতি বৃহত্তর রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার বার্তা দিতে পারবে।

    অলি আহমদের সামনে মূল লক্ষ্য তাই রাষ্ট্রপতি হওয়া নয়; নিজের জোটের ভোট অটুট রেখে এর বাইরে কতটি ভোট পাওয়া যায়, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

    ভোট প্রকাশ্য, ৭০ অনুচ্ছেদে বিতর্ক

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যরা প্রকাশ্যে ভোট দেন। ব্যালট পেপারে পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশাপাশি ভোটদাতা সদস্যের নাম ও আসন নম্বরও উল্লেখ করতে হয়। ফলে কে কাকে ভোট দিয়েছেন, তা শনাক্ত করা যায়।

    জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি ১১ আগস্ট বলেছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর থাকবে। কেউ দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দিলে তাঁর সংসদ সদস্য পদ শূন্য হবে।

    জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হবেন রাষ্ট্রপতি ফাইল ছবি

    সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো দলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত সংসদ সদস্য দল থেকে পদত্যাগ করলে কিংবা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তাঁর আসন শূন্য হবে। তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নির্বাচন কমিশন পরিচালিত একটি স্বতন্ত্র সাংবিধানিক প্রক্রিয়া হওয়ায় এতে ৭০ অনুচ্ছেদ প্রযোজ্য হবে কি না, তা নিয়ে ভিন্ন আইনি মত রয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইনে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে দেওয়া বৈধ ভোট বাতিলেরও কোনো বিধান নেই।

    রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, আইনি ব্যাখ্যা যা-ই হোক, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে কোনো সংসদ সদস্য ভোট দেবেন—এমন সম্ভাবনা খুবই কম।

    সর্বশেষ ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোট হয়েছিল। ওই সংসদে বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামী, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টিসহ বেশ কয়েকটি দলের সদস্য ছিলেন। মোট ৩৩০ সদস্যের মধ্যে ৬৬ জন ভোট দেননি। এবারের সংসদের প্রায় সব সদস্যই ক্ষমতাসীন ও বিরোধী—এই দুই রাজনৈতিক শিবিরে বিভক্ত। ফলে বড় ধরনের ভোট-বিচ্যুতির সম্ভাবনা আরও কম।

    অলির প্রার্থিতায় রাজনৈতিক বার্তা

    অলি আহমদ শুধু একজন বিরোধী প্রার্থী নন। তিনি বিএনপির সাবেক নেতা, জিয়াউর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং বীর বিক্রম খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৮০ সালে সেনাবাহিনী ছেড়ে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। খালেদা জিয়ার প্রথম সরকারের যোগাযোগমন্ত্রীও ছিলেন তিনি।

    অর্থাৎ একসময়ে বিএনপির ঘরের মানুষ অলি আহমদ এখন বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর প্রার্থিতার এই প্রতীকী দিকটি জামায়াতের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

    রাজনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের মধ্যে একজন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করে জোটটি আলাদা রাজনৈতিক বার্তা দিতে চাইছে। জাতীয় নির্বাচনের আগেও অলি আহমদকে সামনে রেখে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের প্রশ্নে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছিল জামায়াত। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও সেই রাজনীতির ধারাবাহিকতা দেখা যাচ্ছে।

    জোটসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়ার আশ্বাসের ভিত্তিতে এলডিপি জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটে এসেছিল। ফলে পরাজয় নিশ্চিত জেনেও তাঁকে প্রার্থী করা একদিকে সেই রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি রক্ষা, অন্যদিকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার বিপরীতে বিরোধী পক্ষের উপস্থিতি জানান দেওয়ার চেষ্টা।

    জাতীয় নির্বাচনের পর বিরোধী দলগুলোর ঐক্য কতটা টেকসই, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সেই ঐক্যের পরীক্ষা হবে। অলি আহমদ জোটের ৯০টি ভোটের সব কটি পেলে বিরোধীরা ঐক্যের বার্তা দিতে পারবে। ভোট কমে গেলে জোটের ভেতরের দুর্বলতাও প্রকাশ পাবে।

    মির্জা ফখরুল দীর্ঘদিন বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্ব এবং তারেক রহমানের দেশের বাইরে থাকার সময়ে তিনি দলের কঠিন সময়ের অন্যতম প্রধান মুখ ছিলেন। তাঁকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়ার মধ্য দিয়ে বিএনপি দীর্ঘদিনের একজন পরীক্ষিত নেতাকে সক্রিয় দলীয় রাজনীতি থেকে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক কাঠামোর ভিন্ন ভূমিকায় নিয়ে যাচ্ছে।

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফল প্রায় নিশ্চিত হলেও ২০ আগস্টের ভোট তাই অর্থহীন আনুষ্ঠানিকতা নয়। ফখরুলের জয়ের চেয়ে অলি কত ভোট পেলেন, বিরোধী জোটের ৯০টি ভোট অটুট থাকল কি না, দুই শিবিরের বাইরের ভোট কোন দিকে গেল এবং কোনো ভোট-বিচ্যুতি ঘটল কি না, ভোটের পরের রাজনীতিতে এসব প্রশ্নই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

  • বিএনপিতে যোগ দিলেন আ.লীগ সমর্থিত ১১ ইউপি সদস্য

    বিএনপিতে যোগ দিলেন আ.লীগ সমর্থিত ১১ ইউপি সদস্য

    কুমিল্লার তিতাস উপজেলার ৮ নম্বর জিয়ারকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের আওয়ামী লীগ সমর্থিত ১১ ইউপি সদস্য বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন।

    শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় হোমনায় কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়ার বাসভবনে গিয়ে তার হাতে ধানের শীষ তুলে দিয়ে তারা বিএনপিতে যোগ দেন। যোগদানকারীরা সবাই নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।

    যোগদানকারীরা হলেন—১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য বিল্লাল মোল্লা, ২ নম্বর ওয়ার্ডের হারুনুর রশিদ, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মো. আমীর হোসেন গাজী, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আশরাফ উদ্দিন, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের খুরশিদ আলম, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শাহ আলী, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মো. জাবেদ হোসেন, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মুনসুর আলী, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হান্নান মিয়া এবং সংরক্ষিত ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রিপা বেগম ও ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রোজিনা আক্তার।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন তিতাস উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ওসমান গনি ভূঁইয়া, তিতাস উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান সেলিম ভূঁইয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিম মোল্লা এবং তিতাস উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম।

    যোগদানের পর বিএনপিতে সদ্য যোগ দেওয়া মো. বিল্লাল মোল্লা তার ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, দূর থেকে আমরা অনেকেই অনেক সময় নেতিবাচক চিন্তাভাবনা করি। সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া সত্যিই ভালো মনের মানুষ। তাই আজ জিয়ারকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের সব সদস্য (মেম্বার) সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে বিএনপির রাজনীতিতে যোগদান করলাম।

  • রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে ৭০ অনুচ্ছেদের প্রশ্নটা অবান্তর: গয়েশ্বর

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে ৭০ অনুচ্ছেদের প্রশ্নটা অবান্তর: গয়েশ্বর

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা ৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে সংবিধানের ৭০ নং অনুচ্ছেদ নিয়ে প্রশ্ন তোলাটা অবান্তর।

    রোববার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কনফারেন্স রুমে নির্বাচনি কর্তা ও সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিন যাচাই-বাছাই শেষে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন। এরপর সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

    গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আগামী ২০ আগস্ট। এ মাসের ১৩ তারিখে আমরা বিএনপির পক্ষ থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি এবং আজকে বাছাই পর্ব ছিল। আমাদের পক্ষ থেকে প্রার্থী ঘোষণা করেছিলাম আমাদের দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে। এর প্রস্তাবক ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান। সমর্থনকারী হিসেবে ছিলাম আমি।

    তিনি বলেন, আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, আমাদের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে বৈধ ঘোষিত হয়েছেন। এখন আমরা অপেক্ষায় থাকবো, ২০ তারিখের নির্বাচনের জন্য।

    জামায়াতের প্রতিনিধি, অর্থাৎ ১১ দলের প্রতিনিধিরা বলছেন, ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন হওয়া দরকার। এ বিষয়ে সংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গয়েশ্বর বলেন, ‘সেটা পরের চ্যাপ্টার। পরবর্তী সংসদ যদি বিবেচনা করে সবাই মিলে, এটা হতে পারে। এখন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগেই প্রশ্নটা অবান্তর। একটা কনফিউশন সৃষ্টি করে লাভ নেই।’

    ‘১১ দলীয় জোট বলছে এটা বড় অন্তরায়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এটা বড় বাধা’ এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘না, বড় বাধা না। প্রচলিত সংবিধান অনুযায়ী, আমাকে পথ চলতে হবে। সেই সংবিধানে যেখানে বাধা আছে, সেই বাধা অতিক্রম করার জন্য আমাকে সংসদ থেকেই সংশোধন করতে হবে।’

    এ সময় দলের মহাসচিব নিয়ে কি কোনো চিন্তাভাবনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দলের মহাসচিব তো নির্বাচন কমিশনের চিন্তাভাবনা না। ওটা আমাদের গুলশান অফিসে আমাদের স্থায়ী কমিটির চিন্তা।’

    এ সময় বিএনপির প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু।

  • তারেক রহমানের দিল্লি সফর বাতিল করল ঢাকা

    তারেক রহমানের দিল্লি সফর বাতিল করল ঢাকা

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফরের সম্ভাবনা আপাতত বাতিল হয়ে গেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে বলেছে, ‘এই সফরের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন।’

    ঢাকায় রোববার দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম।

    এর আগে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো আভাস দিয়েছিল, আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি দুই দিনের সফরে ভারত যেতে পারেন তারেক রহমান।

    মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম বলেছেন, ‘দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনা এবং অন্যান্য পলাতক অপরাধীদের দ্রুত ফেরত পাঠাতে এবং শহীদ শরীফ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ঘাতকদের বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানিয়েছি। বাংলাদেশ এই জবাবের অপেক্ষায় আছে।’

    প্রসঙ্গত, তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসা ভারতীয় লোকসভার স্পিকার দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে তারেক রহমানকে ভারত সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।

    এছাড়া ভারতের দিক থেকে আরও একটি আমন্ত্রণ ছিল। সেটি হলো, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লিতে ব্রিকসের যে সম্মেলন হবে, সেখানে বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাতের পর এসব আমন্ত্রণের কথা জানিয়ে বলেছিলেন, তারা তখনো এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেননি।

    কিন্তু এর মধ্যেই দুই দেশের সংবাদমাধ্যমে কর্তৃপক্ষের সূত্রকে উদ্ধৃত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহে দিল্লি সফরে যেতে পারেন বলে খবর বেরিয়েছিল।

    রোববার দুপুরে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম এক সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন।

    তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে ‘উভয় দেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে পরস্পরের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করছে।’

    ‘তবে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা গত ৫ আগস্ট নতুন দিল্লিতে যেভাবে প্রকাশ্য সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেছেন, তাতে এই প্রক্রিয়ার পরিবেশ বিনষ্ট হয়েছে। আমরা এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছি। আমরা মনে করি, এই সফরের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন।’

    শহীদুল করিম বলেন, ‘দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনা এবং অন্যান্য পলাতক অপরাধীদের দ্রুত ফেরত পাঠাতে এবং শহীদ শরীফ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ঘাতকদের বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানিয়েছি। বাংলাদেশ এই জবাবের অপেক্ষায় আছে।’

    ‘এ সময় সরকারের পক্ষ থেকে পুনর্ব্যক্ত করা হয়, সার্বভৌম সমতা, জাতীয় মর্যাদা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে প্রতিবেশীসহ অন্যান্য সকল দেশের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে আমরা আমাদের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ (বাংলাদেশ প্রথম) নীতি অব্যাহত রাখব।’

  • সংসদে আসছে ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা

    সংসদে আসছে ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা

    দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে আগামী ২৭ আগস্ট শুরু হতে যাওয়া সংসদ অধিবেশনে ১০ বছর মেয়াদি একটি জ্বালানি পরিকল্পনা উপস্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশের ৫০৩টি উপজেলার প্রত্যেকটিতে ১৫১ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

    শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি কলোনি মাঠে দরিদ্র ও অসহায়দের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার দেশের অর্থনীতিসহ প্রতিটি ব্যবস্থাকে ফোকলা করে দিয়ে গেছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে বাংলাদেশের মানুষ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে এই ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে গড়ে তুলতে হবে।

    দেশের স্বাস্থ্যখাতে ব্যাপক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আগামী ৫ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের ৫০৩টি উপজেলার ইনশাল্লাহ প্রত্যেকটিতে আমরা ১৫১ শয্যার উপজেলা হাসপাতাল তৈরি করব। যেখানে মানুষ তার প্রয়োজনমতো চিকিৎসা সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে।’

    বর্তমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নিয়ে দেশবাসীর কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সমগ্র বাংলাদেশের মানুষ যে বিদ্যুতের কষ্ট পাচ্ছেন, আমি আন্তরিকভাবে তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি।

    কিন্তু এই সরকার আপনাদের সরকার এবং আমরা কাজ করছি যত দ্রুত সম্ভব মানুষকে এই কষ্টের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য।’
    তিনি ঘোষণা দেন, ‘আগামী যে সংসদ ২৭ তারিখে শুরু হবে, এই সংসদেই আমরা বাংলাদেশের জনগণের সামনে উপস্থাপন করব—আগামী ১০ বছর আমরা কীভাবে এই দেশের মানুষের জন্য জ্বালানি সমস্যার সমাধান করব, সেই পরিকল্পনা দেব।’

    গ্যাস সংকট সমাধানে সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকার তৃতীয় এলএনজি জাহাজের পারমিশন বাতিল করেছিল, যা এখন নতুন করে করতে হচ্ছে।

    চীনের সঙ্গে ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, তৃতীয় জাহাজটি চলে এলে গ্যাসের সমস্যা অনেকাংশে কমে যাবে। তবে জাহাজ তৈরিতে সময় লাগে বিধায় দেশবাসীকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

    সামনে হারিকেন, পেছনে ফ্যান
    সম্প্রতি বিদ্যুৎ-গ্যাসের দাবিতে হারিকেন হাতে একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিবাদের কড়া সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘দুদিন আগে দেখলাম একটি দলের কিছু সদস্য গ্যাস-বিদ্যুৎ চেয়ে সামনে হারিকেন নিয়ে বসে আছে। অথচ তাদের পেছনে ফ্যান চলছে, তারা ফ্যানের বাতাস খাচ্ছে। এই হচ্ছে তাদের হঠকারিতা।’

    ওইসব রাজনৈতিক দলের উদ্দেশে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, ‘শুধুমাত্র জনগণকে বিভ্রান্ত করার রাজনীতি বাদ দিন। আপনাদের কাছে যদি এমন কোনো বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা থাকে যা আগামী তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে সমস্যার সমাধান করতে পারবে, তবে সংসদে নিয়ে আসুন। আমরা আপনাদের পরিকল্পনাই বাস্তবায়ন করবো। আর যদি কেবল বিভ্রান্ত করার জন্য এসব বলে থাকেন, তবে জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।’

    ১৭ বছর তাদের রাজপথে দেখা যায়নি
    বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলের কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, ‘বিগত ১৭ বছর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রত্যেকটি নেতাকর্মী যুদ্ধ করে এই রাজপথেই টিকেছিল। আজ যারা বড় বড় গলা উঁচু করে বিভ্রান্তিকর কথা বলছে, গত ১৭ বছর মানুষ আপনাদেরকে রাজপথে দেখতে পায়নি।’

    পত্রিকার পাতা খুঁজলেই বিগত দিনে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর গুম, খুন ও নির্যাতনের চিত্র উঠে আসবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘রাস্তায় বসে ভাঙচুর করা বা বিশৃঙ্খলা তৈরি করার দিন শেষ। জনগণ এখন সেই রাজনীতি আর সমর্থন করে না। মুরোদ থাকলে শার্টের হাতা গুটিয়ে, কোদাল হাতে মাঠে নামুন, মানুষের জন্য কাজ করুন।’

    ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত
    দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘এই ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কর্মীর হাতে, শ্রমিকের হাতে রূপান্তরিত করতে হবে। আজ আমি কী পেলাম সেটি বড় কথা নয়, আমি এই দেশ এবং দেশের মানুষের জন্য কী দিতে পারলাম সেটিই হচ্ছে বড় কথা।’

    শনিবার বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে সবার কাছে দোয়া চান তারেক রহমান।

  • বিরোধী দলকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন; প্রধানমন্ত্রী

    বিরোধী দলকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন; প্রধানমন্ত্রী

    গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট দ্রুত সমাধানে কার্যকর পরিকল্পনা দিতে বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে গ্যাস ও বিদ্যুতের সমস্যা সমাধানের কোনো পরিকল্পনা বিরোধী দলের কাছে থাকলে তা সরকারকে দিতে পারে। কার্যকর হলে সরকার তা গ্রহণ করবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

    শনিবার রাজধানীর বনানীতে টিঅ্যান্ডটি কলোনি মাঠে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন মরহুম বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মধ্যে আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

    বিরোধী দলের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘আপনাদের যদি এমন কোনো পরিকল্পনা থাকে, যা দিয়ে আগামী ছয় মাসের মধ্যে গ্যাস ও বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান করা যাবে, তাহলে সেটা দেন। আমরা অবশ্যই সেটা গ্রহণ করব। আমি আপনাদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলাম।’

    তিনি বলেন, ‘দেশের বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে বিরোধী দলের কোনো কার্যকর পরিকল্পনা থাকলে তা বাস্তবায়নে সরকার ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।’

    আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে দুর্বল করে রেখে গিয়েছিল।’ এর ফলে মানুষ চিকিৎসাসেবা নিতে নির্দিষ্ট একটি দেশে যেতে বাধ্য হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    জামায়াতের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী ২৭ আগস্ট জাতীয় সংসদের অধিবেশন বসছে। বিরোধী দলের কাছে ভালো কোনো পরিকল্পনা থাকলে তা সংসদে উপস্থাপনের আহ্বান জানান তিনি।

    তিনি বলেন, ‘আপনাদের যদি ভালো কোনো পরিকল্পনা থাকে, সেটা উপস্থাপন করুন। আমরা সেটা বাস্তবায়ন করব।’

  • বিএনপির শূন্য মহাসচিব পদে কে আসছেন?

    বিএনপির শূন্য মহাসচিব পদে কে আসছেন?

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পদত্যাগ করায় বিএনপির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মহাসচিব পদটি শূন্য হয়ে গেছে। রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ার পর তিনি মহাসচিব ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যপদ থেকে সরে দাঁড়ান। এতে এই পদ কাকে দিয়ে পূরণ করা হবে তা নিয়ে দলের ভেতরে-বাইরে আলোচনা এখন তুঙ্গে।

    মহাসচিব পদে আসতে বিএনপির অনেক সিনিয়র নেতাই আগ্রহী। তারা ভেতরে ভেতরে লবিংও করছেন। তবে মহাসচিব বেছে নেওয়ার দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকেই নিতে হবে।

    অতীতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব থেকে যেভাবে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ছিলেন, সেই আদলে বর্তমানে রুহুল কবির রিজভীকে অনেকেই ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসাবে বিবেচনা করছেন। তবে এখন পর্যন্ত দলের পক্ষ থেকে কারও নাম চূড়ান্ত করা হয়নি। তবে রিজভীকে শনিবার (১৫ আগস্ট) স্থায়ী কমিটির সদস্য পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।

    এদিন চার নেতাকে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য করা হয়। তারা হলেন—রুহুল কবির রিজভী, আমান উল্লাহ আমান, ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার ও ইসমাইল জবিউল্লাহ।

    এখন মহাসচিব পদটিতে তারেক রহমান কাকে বেছে নেন সেটি দেখার অপেক্ষায় দলের নেতাকর্মীরা। এই পদের দৌড়ে সিনিয়র নেতাদের একটি অংশ সক্রিয় রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কার পক্ষে যায় তা পুরোপুরি নির্ভর করছে দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর।

    রিজভী ছাড়াও মহাসচিব পদে আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহউদ্দিন আহমেদ। দলের একটি অংশ চাচ্ছে স্থায়ী কমিটি থেকে কাউকে মহাসচিব করতে। তাদের যুক্তি এতে দলের ভারসাম্য রক্ষা হবে। আমির খসরু ও সালাহউদ্দিন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দুটি মন্ত্রণালয় সামলাচ্ছেন।

    রুহুল কবির রিজভীকে স্থায়ী কমিটির সদস্য করায় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের পদটি ফাঁকা হয়েছে। এই পদেও অন্তত তিনজন নেতা আলোচনায়। তারা হলেন—যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী, হাবিব উন নবী খান সোহেল, রকিবুল ইসলাম বকুল। তিনজনই সাবেক ছাত্রনেতা।

    এদিকে এই সরকারের প্রথম ৬ মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে ১৬ আগস্ট। অন্যদিকে, ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে রাষ্ট্রপতি হিসাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথ নেবেন ২০ অথবা ২১ আগস্ট।

    দায়িত্বশীল সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতির শপথগ্রহণের পরপরই বর্তমান মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন করা হতে পারে। এ নিয়ে বর্তমানে বিএনপির সর্বস্তরে আলোচনা ও গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হতে আগ্রহীদের মধ্যে যেমন অস্থিরতা তৈরি হয়েছে; তেমনি অস্থিরতা বিরাজ করছে বাদ পড়ার আশঙ্কায় থাকা মন্ত্রীদের মধ্যেও। উভয়পক্ষই প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের প্রভাশালী কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সিনিয়র মন্ত্রী ও নেতাদের কাছে দৌড়ঝাঁপ করে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছেন।

    আগ্রহীরা তদবির করছেন মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে; আর বাদ পড়ার আশঙ্কায় থাকা মন্ত্রীরা চেষ্টা চালাচ্ছেন টিকে থাকতে।

  • ৪৮ বছর বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্বে ছিলেন যারা, কে কতদিন?

    ৪৮ বছর বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্বে ছিলেন যারা, কে কতদিন?

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রায় ৪৮ বছরের রাজনৈতিক পথচলায় দলটির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন একাধিক নেতা। দেশের বৃহত্তম এই রাজনৈতিক দলটির গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদে কেউ ছিলেন কয়েক বছর, আবার কেউ দায়িত্ব পালন করেছেন এক দশকেরও বেশি সময়। ঝানু রাজনীতিক থেকে হাইপ্রোফাইল ব্যক্তিবর্গ এই পদটিতে আসীন ছিলেন। তাদের অনেকেই সফলতার গল্প নিয়ে দায়িত্ব শেষ করেছেন। আবার কারও কারও ভাগ্যে জুটেছে লঞ্ছনা।

    বিএনপিতে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ২০১১ সালে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০১৬ সালে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব হন। রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) তিনি মহাসচিবসহ দলের সব পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।

    বিএনপির দ্বিতীয় শীর্ষস্থানীয় পদটিতে কারা ছিলেন এবং কে কতদিন দায়িত্ব পালন করেছেন, তা নিয়ে এই প্রতিবেদন—

    ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিএনপি প্রতিষ্ঠার সময় দলের প্রথম মহাসচিব করা হয় অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে। তিনি ১৯৭৮ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত প্রায় আট বছর এ দায়িত্বে ছিলেন। তার সময় বিএনপির চেয়ারম্যান ছিলেন জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া।

    এরপর মহাসচিব হন অবসরপ্রাপ্ত লে. কর্নেল মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি ১৯৮৬ থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত প্রায় এক বছর মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন।

    মোস্তাফিজুর রহমানের পর ১৯৮৭ সালে মহাসচিব হন কে এম ওবায়দুর রহমান। মহাসচিব হিসেবে তার মেয়াদকাল খুব একটা লম্বা হয়নি। এক বছরের মতো এই পদে আসীন ছিলেন সাবেক এই ছাত্রনেতা

    ১৯৮৮ সালে তাকে সরিয়ে ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদারকে মহাসচিব করা হয়। সালাম তালুকদার ১৯৮৮ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত প্রায় আট বছর এ পদে ছিলেন। ৯৬ সালের নির্বাচনে বিএনপির পরাজয়ের পর তিনি মহাসচিবের দায়িত্ব হারান।

    ১৯৯৬ সালের জুনে বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পান আবদুল মান্নান ভূঁইয়া। এর আগে তিনি দলটির যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন। তিনি টানা ১১ বছর দলটির মহাসচিব ছিলেন। মান্নান ভূঁইয়ার দীর্ঘ মেয়াদকে বিএনপির ইতিহাসে অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী মহাসচিবের মেয়াদ হিসেবে ধরা হয়। ওয়ান ইলেভেনের সময় দলের শীর্ষ নেতৃত্বে সঙ্গে বেইমানি করেন মান্নান ভুইয়া। পরে তাকে ২০০৭ সালে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

    দলের দুর্দিনে খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করা হয়। এর আগে তিনি দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন।

    খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন ২০০৭ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব নিয়ে ২০১১ সালের ১৬ মার্চ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত প্রায় চার বছর বিএনপির মহাসচিব ছিলেন। তার মৃত্যুর পর দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

    দীর্ঘ পাঁচ বছর ভারপ্রাপ্ত থাকার পর ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ মির্জা ফখরুলকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির মহাসচিব করা হয়। তবে তিনি ২০১১ সালের মার্চ থেকেই কার্যত দলের মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। ২০২৬ সালের আগস্টে রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর পদত্যাগের আগ পর্যন্ত তার মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় দাঁড়ায় প্রায় ১৫ বছর ৫ মাস। বিএনপির মহাসচিব পদে দীর্ঘসময় দায়িত্ব পালন করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    বিএনপির মহাসচিবদের মেয়াদ

    এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী — ১৯৭৮–১৯৮৬, প্রায় ৮ বছর

    মোস্তাফিজুর রহমান — ১৯৮৬–১৯৮৭, প্রায় ১ বছর

    কে এম ওবায়দুর রহমান — ১৯৮৭–১৯৮৮, প্রায় ১ বছর

    আবদুস সালাম তালুকদার — ১৯৮৮–১৯৯৬, প্রায় ৮ বছর

    আবদুল মান্নান ভূঁইয়া — ১৯৯৬–২০০৭, প্রায় ১১ বছর

    খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন — ২০০৭–২০১১, প্রায় ৪ বছর

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর — ২০১১–২০২৬, প্রায় ১৫ বছর ৫ মাস; প্রথমে ভারপ্রাপ্ত, ২০১৬ থেকে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব।

    ফলে বিএনপির ইতিহাসে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই সবচেয়ে দীর্ঘ সময় মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। তার পর দীর্ঘ সময় এই পদে ছিলেন আবদুল মান্নান ভূঁইয়া। আর প্রতিষ্ঠাকালীন মহাসচিব এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও আবদুস সালাম তালুকদার প্রায় আট বছর করে দায়িত্ব পালন করেন।

  • মন্ত্রিসভা ও বিএনপিতে পরিবর্তনের হাওয়া

    মন্ত্রিসভা ও বিএনপিতে পরিবর্তনের হাওয়া

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি শেষের দিকে। ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিরতিহীন ভোট গ্রহণ করা হবে। জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ভোট হবে। সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী পরাজয় নিশ্চিত জেনেও জোটের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে।

    ক্ষমতাসীন দল বিএনপি এখনও প্রার্থীর নাম প্রকাশ না করলেও দলটির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলামকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করা হচ্ছে বলে দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে। সংসদের অধিবেশন কক্ষে প্রকাশ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট গ্রহণ করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন ডেকেছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ। আগামী ২৭ আগস্ট এ অধিবেশন বসবে।

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে তাঁকে দলের মহাসচিবের পদ এবং মন্ত্রিসভা; উভয় স্থান থেকেই পদত্যাগ করতে হবে। ফলে বিএনপি এবং সরকারের নীতিনির্ধারণী পদে দেখা যেতে পারে বড় ধরনের পরিবর্তন।

    এমন অবস্থায় দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে দলের সপ্তম জাতীয় কাউন্সিল করার পরিকল্পনার কথা আগেই জানিয়েছে বিএনপি। ফলে কাউন্সিলের আগ পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন রিজভী। তিনি বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

    নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার আগে থেকেই নতুন রাষ্ট্রপতি কে হবেন, তা নিয়ে আলোচনা চলছে ক্ষমতাসীন বিএনপিতে। শুরুতে অনেকের নাম শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকেই সবাই এগিয়ে রাখছেন। তবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকালে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগে এ বিষয়ে কেউ কথা বলতে রাজি নন।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলের স্থায়ী কমিটির দুই সদস্য সমকালকে বলেন, দীর্ঘ দিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, গ্রহণযোগ্যতা, সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে দক্ষতা এবং বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকবেন এমন একজনকেই রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করবে বিএনপি। সেই হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকেই যোগ্য ও আস্থাভাজন হিসেবে সবাই মনে করছেন।

  • সরোয়ার আলমগীরের এমপি পদ চ্যালেঞ্জ করে জামায়াত প্রার্থীর লিভ টু আপিল

    সরোয়ার আলমগীরের এমপি পদ চ্যালেঞ্জ করে জামায়াত প্রার্থীর লিভ টু আপিল

    চট্টগ্রাম-২ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেছেন জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমীন।

    নুরুল আমীনের আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, লিভ টু আপিলের আবেদনে হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিতের আবেদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সরোয়ার আলমগীর যাতে সংসদ অধিবেশনে অংশ নিতে না পারেন, সে জন্যও নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়েছে।

    এর আগে গত ৯ জুলাই বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন। ওই দিনই তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন।

    চট্টগ্রাম-২ আসনে সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা রিটার্নিং কর্মকর্তা বৈধ ঘোষণা করার পর ঋণখেলাপির অভিযোগ তুলে তার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমীন।

    বিষয়টি নিয়ে শুনানি শেষে গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত দেয়। পরে নির্বাচন কমিশনের ওই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন সরোয়ার আলমগীর।

    এর ধারাবাহিকতায় গত ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট নির্বাচন কমিশনের দেওয়া প্রার্থিতা বাতিলের আদেশ স্থগিত করেন। পরবর্তী সময়ে চূড়ান্ত রায়ে সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।

    হাইকোর্টের সেই রায়ের বিরুদ্ধেই এবার সর্বোচ্চ আদালতে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে লিভ টু আপিল করেছেন জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমীন।

  • বিএনপি সরকারে আসবে, আপনারা জাতীয় পার্টি-জামায়াত করবেন। কেমনে হবে? পাবেন কেমনে?- রংপুরে মির্জা ফখরুল

    বিএনপি সরকারে আসবে, আপনারা জাতীয় পার্টি-জামায়াত করবেন। কেমনে হবে? পাবেন কেমনে?- রংপুরে মির্জা ফখরুল

    ‘হাসিনা যে ভাষায় কথা বলত, বিরোধী দলও ওই ভাষাতেই কথা বলতেছে’, এমন মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    রংপুরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রংপুরের লোকেরা আমরা সব সময় পিছিয়ে পড়া। কেন পিছিয়ে পড়া? আমরা তো সঠিক জিনিসটাই বুঝি না। যখন বিএনপি গভর্নমেন্টে আসবে, তখন আপনারা করবেন জাতীয় পার্টি। যখন বিএনপি গভর্নমেন্টে আসবে, তখন আপনারা করবেন জামায়াত। তাহলে কেমনে হবে? পাবেন কেমনে?’

    আজ রোববার বেলা দেড়টায় রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক চ্যারিটি সংস্থা লাভ শেয়ার বিডি অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে। সংস্থাটির নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত ‘সুবিধাবঞ্চিতদের স্বাবলম্বীকরণ প্রকল্প’–এর উদ্বোধন এবং রংপুর অঞ্চলের ২৫ সুবিধাবঞ্চিত ব্যক্তির মধ্যে ২৫টি চা–ঘর হস্তান্তর করা হয়।

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমাদের একটা বিরোধী দল আছে। এই বিরোধী দল দুর্ভাগ্যক্রমে আবার সেই আগের মতোই ভূমিকা পালন করতে শুরু করেছে। হাসিনা যে ভাষায় কথা বলত, এরাও ওই করতে দেব না, চলতে দেব না…ভাষাতেই কথা বলতেছে।’ এই সরকারের বয়স যে মাত্র চার–পাঁচ মাস এবং এই সময়ে যে সরকার অনেকগুলো কাজ করেছে, সেই কথা তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।

    গ্যাস–সংকট নিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমাদের একটা প্রতিষ্ঠান আছে বাপেক্স, যে বাপেক্সকে দিয়ে আমরা এই গ্যাস বা তেল আহরণ করার চেষ্টা করি, খোঁজার চেষ্টা করি কূপ খনন করে, সেটাকে পঙ্গু করে রেখে দিয়েছিল। সেটাকে আবার চালু করা হয়েছে। বিদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে আমাদের এখানে গ্যাস অনুসন্ধান করার জন্য টেন্ডার করা হয়েছে, সেগুলো আসতেছে।’

    জ্বালানি পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘তেল ও গ্যাস বিদেশ থেকে আনতে হয় জাহাজে এবং সেখানে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ হয়। ইরান–যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশের প্রায় চার বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়ে গেছে পেমেন্ট করতে গিয়ে। তারপরও কেউ তেল ছাড়া, গ্যাস ছাড়া এক দিনও থাকেনি। কমেছে, তবে পাওয়া তো যাচ্ছে।’

    রংপুর ও উত্তরাঞ্চলে কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আরেকটি কথা বলেছেন যে তিনি এই রংপুর বিভাগ, উত্তরাঞ্চলে কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলতে চান। যার ফলে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে, কাজ পাব, বেকার থাকব না।’ রংপুরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রংপুরের লোকেরা আমরা সব সময় পিছিয়ে পড়া। কেন পিছিয়ে পড়া? আমরা তো সঠিক জিনিসটাই বুঝি না। যখন বিএনপি গভর্নমেন্টে আসবে, তখন আপনারা করবেন জাতীয় পার্টি। যখন বিএনপি গভর্নমেন্টে আসবে, তখন আপনারা করবেন জামায়াত। তাহলে কেমনে হবে? পাবেন কেমনে?’

    সরকার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে, পার্লামেন্ট হয়েছে, কথা বলার সুযোগ আছে, পত্রিকাগুলো এখন যা খুশি লিখতে পারে বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্যের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

    অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মুশফিকুল ফজল আনসারী, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. সামসুজ্জামান সামু, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম ও লাভ শেয়ার বিডির পরিচালক জাহিদ খান।

  • হাসিনাকে ভারত এই সুযোগ কেন দিল, প্রশ্ন বিএনপির

    হাসিনাকে ভারত এই সুযোগ কেন দিল, প্রশ্ন বিএনপির

    বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নয়াদিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলার সুযোগ দেওয়ায় ভারত সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির শীর্ষপর্যায়ের নেতাদের অনেকে।

    দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, ‘শেখ হাসিনাকে ভারত সরকার গণমাধ্যমে কথা বলার সুযোগ কেন দিল—এটি আমাদের প্রশ্ন।’

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নিয়ে আছেন। সেই প্রসঙ্গে টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ভারত তাকে আশ্রয় দিয়েছে। কিন্তু সেখানে আশ্রয়ে থেকে শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে নিয়ে রাজনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছেন; তাকে সরাসরি গণমাধ্যমে কথা বলা সুযোগ দেওয়া হলো।’

    ‘বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ড নিয়ে ভারতে থাকা শেখ হাসিনাকে ভারত সরকার কেন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর এই সুযোগ দিলে’—এই প্রশ্নও রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    পাঁচই আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনের পতনের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে নয়াদিল্লিতে দক্ষিণ এশিয়া ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিসি সাউথ এশিয়া) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অডিও কলে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা। সেই সংবাদ সম্মেলনে তিনি বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবও দিয়েছেন।

    এ ব্যাপারে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। সরকারি দল বিএনপির নেতৃত্বের মাঝেও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে বলে দলটির নেতাদের অনেকে বলছেন।

    বাংলাদেশে জুলাই আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের জন্য শেখ হাসিনা দুঃখপ্রকাশ বা ক্ষমা চাইবেন কি না, নয়াদিল্লির সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সেই প্রশ্ন এড়িয়ে গেছেন তিনি।

    ওই সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত থাকা তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, জুলাই আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে একপক্ষকে ইনডেমনিটি বা দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে; একপক্ষ দায়মুক্তি পেলে অন্যপক্ষেরও সে অধিকার আছে।

    দুই বছর আগে গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত দলটির নেতাদের কোনো অনুশোচনা না থাকায় বাংলাদেশে বর্তমানে সক্রিয় রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে আসছে।

    বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে তারা (আওয়ামী লীগ সরকার) গণহত্যা চালিয়েছে। কিন্তু তারা এখন পর্যন্ত দুঃখ প্রকাশ করেনি বা ক্ষমা চায়নি। এমনকি তাদের কোনো অনুশোচনা নেই।’

    ‘বরং তারা ভারতে আশ্রয় নিয়ে থেকে বাংলাদেশের মানুষের বিরুদ্ধে তৎপরতা চালাচ্ছে। জনগণ তাদের প্রতি ক্ষুব্ধ,’ মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    দুই বছর আগে শেখ হাসিনার শাসনের পতন হলে সে সময় গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার অধ্যাদেশের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছিল। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত কোনো সত্তার যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিধান এনে ওই অধ্যাদেশ যুক্ত করা হয়েছিল।

    জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠনের পর এই সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশোধনী প্রস্তাব সংসদে পাস করে। ফলে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধই থেকে যায়।

    নয়া দিল্লির সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা তাদের দলের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানান।


    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের তদন্ত চলছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দলটির ব্যাপারে বিচার হবে। সংশ্লিষ্ট আইনে সেই বিধান যুক্ত করা হয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘বিএনপি নির্বাহী আদেশে কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে চায় না। কিন্তু আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিয়ে আদালতের সিদ্ধান্তের বিষয়। তারা তো (আওয়ামী লীগ) আদালতে যায়নি। আদালত থেকেই যে সিদ্ধান্ত আসবে, সেভাবেই সরকার কাজ করবে।’

    একইসাথে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য হচ্ছে, ‘জনগণও বিচার করবে। জুলাই আন্দোলনে তারা (আওয়ামী লীগ সরকার) গণহত্যা চালিয়েছে। তাদের দীর্ঘ শাসনে বিরোধী দল ও মতের মানষকে দমন-পীড়ণ চালিয়েছে; গুম, খুন করেছে। ফলে তাদের প্রতি জনগণের কোনো আস্থা নেই এবং তাদের ব্যাপারে জনগণও বিচার করবে।’

    এদিকে, ভারতের নয়া দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি যুক্ত হতে পারেন, এমন খবর যখন আলোচনায় আসে, তখনই বাংলাদেশের বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে ভারতের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

    গত সোমবার ঢাকায় ভারতের হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সে সময় পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা দিল্লিতে শেখ হাসিনা যাতে রাজনৈতিক কার্যক্রম না চালায়, সেজন্য ভারত সরকারের সহযোগিতা চান।

    একই দিনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ভারত সরকারকে এ বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করতে আহ্বান জানান।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতিকে ঘিরে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন, দুই দেশের সম্পর্ককে স্বাভাবিক করার চেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

    এছাড়া এরপর মঙ্গলবার আদালতের নির্দেশনা তুলে ধরে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তথ্য বিবরণীতে শেখ হাসিনার বক্তব্য বাংলাদেশের গণমাধ্যমে প্রচার না করতে অনুরোধ করা হয়।

    প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান এ ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেছিলেন।

    যদিও ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, সংবাদ সম্মেলনটি বেসরকারিভাবে আয়োজন করা হচ্ছে। এরসাথে ভারত সরকারের সম্পর্ক নেই। এবং সেখানে যে বক্তব্য আসবে, তা ভারত সরকার সমর্থন করে না।

    কিন্তু বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে প্রতিক্রিয়া দেখানোর পরও নয়া দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন হয়েছে এবং তাতে শেখ হাসিনা সরাসরি বক্তব্য ও প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন।

    বিএনপি সরকারের একাধিক সূত্র বলছে, ভারত সরকারের পক্ষ থেকে যে বক্তব্যই দেওয়া হোক না কেন, তাদের সমর্থন ছাড়া নয়া দিল্লিতে এ ধরনের সংবাদ সম্মেলন করা সম্ভব নয় বলে তারা মনে করেন।

    আর সেকারণে বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে ও দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের মধ্য থেকেও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া এসেছে।

  • জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মহানায়ক  গণতন্ত্রকামী জনগণ; প্রধানমন্ত্রী

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মহানায়ক গণতন্ত্রকামী জনগণ; প্রধানমন্ত্রী

    রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বুধবার ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এর উদ্বোধন করে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, এ জাদুঘর কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর একক রাজনৈতিক ভাষ্য প্রতিষ্ঠার স্থান হবে না। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত মহানায়ক দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ।

    তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের, আর ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার। তাই এ আন্দোলনের শহীদদেরও জাতি কখনো ভুলবে না। তিনি বলেন, জাদুঘরটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আত্মত্যাগ, সংগ্রাম ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরবে এবং ইতিহাস সংরক্ষণে সত্যতা নিশ্চিত করতে হবে।

    তারেক রহমান জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতদের সরকারি হাসপাতালে বিনা মূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গুরুতর আহতদের বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং গেজেটভুক্ত ১৩ হাজারের বেশি জুলাইযোদ্ধাকে মাসিক সম্মানী ভাতা দেওয়া হচ্ছে।

    তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হতাহতদের প্রতিটি ঘটনার বিচার আইনি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে অযথা ইস্যু তৈরি করে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

    অনুষ্ঠানের শেষে জাদুঘর প্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানিয়ে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

  • রাজনীতিকে সংসদের বাইরে নেওয়ার অপচেষ্টা চলছে: তথ্যমন্ত্রী

    রাজনীতিকে সংসদের বাইরে নেওয়ার অপচেষ্টা চলছে: তথ্যমন্ত্রী

    রাজিনীতিকে কৃত্রিমভাবে সংসদের বাইরে নিয়ে যাওয়ার অপচেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদকে কার্যকর করা, রাজনৈতিক বিতর্ককে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে মহিমান্বিত করাই হওয়া উচিত সবার প্রধান লক্ষ্য।

    আজ সোমবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি’ উপলক্ষে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    তথ্যমন্ত্রী বলেন, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের ৫৫ বছর পরও ভোটাধিকারের জন্য মানুষকে প্রাণ দিতে হয়েছে, যা জাতির জন্য লজ্জা ও আত্মসমালোচনার বিষয়। তবে দীর্ঘ আন্দোলন ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে জনগণ ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছে এবং সেই ম্যান্ডেটের ভিত্তিতেই বর্তমান সংসদ পরিচালিত হচ্ছে।

    তথ্যমন্ত্রী বলেন, এত রক্ত ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্রের কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত জাতীয় সংসদ। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এখনো রাজনীতিকে রাজপথে বা সংসদের বাইরে নিয়ে যাওয়ার অপচেষ্টা চলছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সাধারণ মূল্যবোধের বাইরে গিয়ে নানা অপপ্রচার, অশ্লীলতা ও চক্রান্তের আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে, যা কোনো শুভ লক্ষণ নয়।

    জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষরের সঙ্গে শহীদদের রক্ত জড়িয়ে আছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচিত সংসদের মাধ্যমেই জুলাই সনদের শতভাগ বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, সংসদকে আরও কার্যকর করা, বিচার বিভাগের মর্যাদা বৃদ্ধি, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার।

    তথ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতে ক্ষমতার বাইরে থেকে যেভাবে বিএনপি সুশাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করেছে, এখন ক্ষমতায় থেকেও সরকার একই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করছে। শহীদদের আত্মত্যাগ তখনই সার্থক হবে, যখন গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর ঐক্যের মাধ্যমে দেশে সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়া বিএফইউজের সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদসহ সাংবাদিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

  • ৫ আগস্ট ঘিরে তৎপরতা চালানোর মুরোদ আওয়ামী লীগের নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    ৫ আগস্ট ঘিরে তৎপরতা চালানোর মুরোদ আওয়ামী লীগের নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি ঘিরে তৎপরতা চালানোর মুরোদ কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগের নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, দলটি একদিকে নিষিদ্ধঘোষিত (কার্যক্রম নিষিদ্ধ), আবার মাফিয়া শক্তি। তারা মাঝেমধ্যে বিদেশ থেকে উঁকিঝুঁকি দিতে পারে। এর বেশি কিছু দেখা যায় না।

    আজ সোমবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে সাংবাদিকের প্রশ্নে এ কথা বলেন সালাহউদ্দিন আহমদ।

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়েছিল। ৫ আগস্টের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঘিরে আগামীকাল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি বৈঠক হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই বৈঠকে সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা থাকবেন।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগকে নাশকতা করতে দেওয়া হবে না। সেই শক্তিও এই দলটির এখন আর নেই।

    সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের জামিনের খবরের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এক সাংবাদিক। এ বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার নিয়োজিত ল ফার্মকে (আইনজীবী প্রতিষ্ঠান) অনুরোধ করা হয়েছে, দ্রুত বেনজীরের জামিন বাতিলের ব্যবস্থা করার জন্য।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বেনজীরকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কেন তাঁকে জামিন দেওয়া হয়েছে, তা এখনই তিনি বলতে পারছেন না। বেনজীরের কাছে অন্য দেশের পাসপোর্ট রয়েছে বলে জানান তিনি।

    সম্প্রতি মেট্রোস্টেশনে ‘বোমাসদৃশ বস্তু’ পাওয়া প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। তিনি বলেন, এখানে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। কোনো সম্প্রদায় বা গোষ্ঠী সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে চেয়েছিল। এর পেছনে কারা আছে, সেটি খুঁজতে তদন্ত চলছে।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অতীতের তুলনায় উগ্রবাদী তৎপরতা বর্তমানে অনেক কম। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দেশে উগ্রবাদী তৎপরতা বন্ধ করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে। কোনোভাবেই যেন উগ্রবাদী ও মৌলবাদীরা মাথা চাড়া দিতে না পারে, সে ব্যাপারে সরকার সচেষ্ট রয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত সার্জিও গরের বাংলাদেশ সফরের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হয়। তিনি বলেন, তাঁর বাংলাদেশ সফর তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। তিনি নিজেই বলে গেছেন, তারেক রহমান সরকারকে সব ধরনের সহায়তা করবে যুক্তরাষ্ট্র।

  • থানার সামনে গিয়ে আত্মহত্যার হুমকি বিএনপি নেতার

    থানার সামনে গিয়ে আত্মহত্যার হুমকি বিএনপি নেতার

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের বিরুদ্ধে ‘অপপ্রচার’ চালানোর অভিযোগ এনে ১২ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের শনাক্ত করার দাবি জানিয়েছেন গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর বিএনপির সদস্যসচিব মো. বিল্লাল হোসেন ব্যাপারী। ঘোষিত সময়ের মধ্যে পুলিশ কোনো অগ্রগতি দেখাতে না পারলে থানার সামনে আত্মহত্যা করবেন বলেও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

    রোববার (২ আগস্ট) বিকালে শ্রীপুর থানা-পুলিশের আয়োজনে মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী মতবিনিময় সভায় গাজীপুরের পুলিশ সুপার শরিফ উদ্দীনের উপস্থিতিতে তিনি এ ঘোষণা দেন।

    বিল্লাল হোসেন ব্যাপারী শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং শ্রীপুর পৌর বিএনপির সদস্যসচিব।

    বক্তব্যে বিল্লাল হোসেন ব্যাপারী অভিযোগ করেন, কয়েকটি ভুয়া ফেসবুক আইডি আমার একটি ছবির সঙ্গে টেবিলে রাখা কয়েকটি মদের বোতল এবং আরও দুই ব্যক্তির ছবি সংযুক্ত করে সম্পাদিত একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে। এতে তার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

    বিএনপি নেতা বলেন, বিষয়টি জানার পরপরই আমি শ্রীপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছি। তবে এখন পর্যন্ত পুলিশ এ বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখাতে পারেনি।

    পুলিশ সুপারকে উদ্দেশ্য করে বিল্লাল হোসেন ব্যাপারী বলেন, আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যে অপপ্রচারকারীদের শনাক্ত করতে না পারলে আমি থানার সামনে এসে আত্মহত্যা করব।

    তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, একজন পৌর বিএনপি নেতার অভিযোগেরও যদি কার্যকর প্রতিকার না হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ কীভাবে পুলিশের সেবা পাবে?

    শ্রীপুর থানার ওসি মোহাম্মদ শাহীনুর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন গাজীপুরের পুলিশ সুপার শরিফ উদ্দীন। সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, শিক্ষক, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

    গাজীপুরের পুলিশ সুপার শরীফ উদ্দিন যুগান্তরকে জানান, শ্রীপুর পৌর বিএনপির সদস্যসচিব বিল্লাল হোসেন বেপারীর এমন বক্তব্যে আমি সঠিক বিচার পাইয়ে দেওয়ার আশ্বস্ত করেছি। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা প্রতিটি নাগরিকের পাশে যেভাবে থাকে তার পাশেও সেভাবে থাকবে এবং ন্যায়বিচার পাবেন বলে নিশ্চিত করেছি।

  • বিরোধী দল শেখ হাসিনার ভাষায় কথা বলছে: মির্জা ফখরুল

    বিরোধী দল শেখ হাসিনার ভাষায় কথা বলছে: মির্জা ফখরুল

    বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এখন যে ভাষায় বিরোধীদলীয় নেতারা কথা বলছেন, ‘৫ বছর ক্ষমতায় থাকতে দেব না।’ ঠিক এমনই কথা বলতেন শেখ হাসিনা।

    সোমবার (৩ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবে আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

    স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগ বলেছিল, সরকারকে একটি মুহূর্তের জন্য শান্তিতে থাকতে দেব না। ঠিক সেই একই ভাষায় কথা বলতে শুরু করেছে বর্তমান বিরোধীদলের নেতারা।

    মির্জা ফখরুল আরও বলেন, বিএনপি জুলাই সনদের বাস্তবায়ন চায় না, এমনটা বলে ভুল বোঝানো হচ্ছে। গণভোটের একটি প্রশ্ন ঐকমত্য কমিশন চাপিয়ে দিয়েছে। জাতির সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। বিএনপি যেখানে একমত নয়, সেটা বলেছে। স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের প্রতিটি অংশ পালন করবে বিএনপি।

    স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, রাজপথে বিরোধীদলের নেতারা যে ভাষায় কথা বলছেন, সেটা ঠিক নয়। রাজপথে আন্দোলন তাদের অধিকার। কিন্তু, সেটা যেন সংঘাতের দিকে না যায়।

    তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রতিনিয়ত জনগণের কল্যাণে কাজ করছেন। এ অবস্থায় সরকারকে সহযোগিতা করার পরিবর্তে শুধু নেতিবাচক প্রচারণা চালালে দেশের অগ্রযাত্রা ব্যাহত হবে। দেশের স্বার্থে সংঘাত নয়, সহনশীলতা ও ঐক্যের সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন।

    গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রসঙ্গ তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান সরকার সংবাদমাধ্যমের ওপর কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করছে না। পাশাপাশি বেকার সাংবাদিকদের কর্মসংস্থানের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবেন বলেও জানান তিনি।

  • সিলেটে এনসিপির গাড়ি বহরে আবারো হামলা

    সিলেটে এনসিপির গাড়ি বহরে আবারো হামলা

    সিলেট অঞ্চলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) টানা কর্মসূচির মধ্যেই আবারও হামলার শিকার হয়েছেন দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করে সিলেট জেলা সদর ও জৈন্তাপুর উপজেলার মধ্যবর্তী সড়ক দিয়ে সিলেটে ফেরার পথে তার ওপর এই অতর্কিত হামলা চালানো হয়।

    শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাতে এই হামলার ভিডিও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নিজস্ব ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট করেন। হামলায় যাত্রীবাহী গাড়িটির কাঁচ ভেঙে গেছে এবং ভাঙা কাঁচের আঘাতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ অন্তত দুজন রক্তাক্ত হয়েছেন।

    একই তথ্য নিশ্চিত করে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকেও।

    তিনি লিখেছেন, সিলেটের জৈন্তাপুরে জুলাই পদযাত্রা শেষে ফেরার পথে এনসিপির গাড়িবহরে আবারও হামলা করেছে বিএনপির সন্ত্রাসী বাহিনী। হামলাকারীরা গাড়ির কাঁচ ভাঙচুর করে। ভাঙা কাঁচে আহত হন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ দুইজন।

    এদিকে বহরের গাড়িতে থাকা এনসিপির সহযোগী সংগঠন ছাত্রশক্তির সিলেট মহানগরের আহ্বায়ক জুবায়ের আহমদ বলেন, জৈন্তাপুরে পথসভা শেষে কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহর হরিপুর বাজার পার হয়ে চিকনাগুল পৌছার আগে ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ এনসিপির বহরের চলন্ত গাড়িতে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে গাড়ির গ্লাস ভেঙে নারীরুদ্দীন পাটোয়ারী ও রেদোয়ান আহত হন।

    উল্লেখ্য, সিলেট বিভাগে এনসিপির রাজনৈতিক সফরকে কেন্দ্র করে পরপর কয়েকদিন ধরে একাধিক সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। এর আগে হবিগঞ্জে পদযাত্রা শেষে দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের ওপর হামলা ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে, যাতে জাতীয় ছাত্রশক্তির বেশ কয়েকজন নেতা আহত হন। পরবর্তীতে সিলেটের গোলাপগঞ্জেও এনসিপি নেতাদের বহরে হামলা চালানো হয়। জৈন্তাপুরের এই সাম্প্রতিক হামলার মধ্য দিয়ে সিলেট অঞ্চলে মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে টানা তিনবার এনসিপির বহরে হামলার ঘটনা ঘটল।

  • জুলাই সনদের আলোকেই আইন সংস্কারের প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হবে: আইনমন্ত্রী

    জুলাই সনদের আলোকেই আইন সংস্কারের প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হবে: আইনমন্ত্রী

    আইন সংস্কার কমিশনের দেওয়া প্রস্তাবনাগুলো ‘জুলাই সনদের’ আলোকেই বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। আজ শুক্রবার সকালে ঝিনাইদহ শহরের পুরাতন ডিসি কোর্ট চত্বরে আয়োজিত এক বৃক্ষমেলার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

    মন্ত্রী বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় আইন সংস্কার কমিশন ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করেছিল। যার প্রায় সবগুলোই আমরা গ্রহণ করেছি।’

    একই অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত দেশের পর্যটন খাতের উন্নয়ন নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে একটি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের পর্যটন খাত উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    অনুষ্ঠানে এনসিপির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বক্তব্যের সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। তিনি এনসিপির বক্তব্যকে ‘রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত’ বলে অভিহিত করেন।

    রাশেদ খান বলেন, ‘আমরা এনসিপিকে পরামর্শ দেব নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে বাদ দিয়ে তারা দেশের যেখানেই রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যাক না কেন, বিএনপি তাদের সার্বিক সহযোগিতা করবে।’

    ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক নোমান হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই বৃক্ষমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মজিদ, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা।

  • ধর্ম-বর্ণ বিবেচনায় কোনো চক্রান্ত বাস্তবায়ন হতে দেওয়া হবে না: তথ্যমন্ত্রী

    ধর্ম-বর্ণ বিবেচনায় কোনো চক্রান্ত বাস্তবায়ন হতে দেওয়া হবে না: তথ্যমন্ত্রী

    তথ্যমন্ত্রী এম জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ধর্ম বিশ্বাস, ধর্ম চর্চাকে পূঁজি করে কোনো মহল কাউকে পকেটে নেওয়ার চেষ্টা করলে সাধারণ মানুষ তাদের চিহ্নিত করবে। বাংলাদেশে ধর্ম, বর্ণ বিবেচনায় কোনো চক্রান্ত বাস্তবায়ন হতে দেওয়া হবে না।

    শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরে বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে বরিশাল পূজা উদযাপন পরিষদ, বরিশাল জেলা শাখার দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    এম জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। অতএব কোনো ধর্মাবলম্বীকে যদি কেউ ব্যবহার করতে চায়, রাষ্ট্রকে কোনো ধর্মের মাধ্যমে গ্রাস করবে, এ ধরণের সাম্প্রদায়িকতা ধর্মবিরোধী। যখনই ধর্ম বিশ্বাসকে, চর্চাকে কোনো মহল একটি সাম্প্রদায়িক পকেটে পরিণত করার চেষ্টা করবে, সঙ্গে সঙ্গে ধর্মপ্রাণ মানুষ ওই ধর্ম ব্যবসায়ীকে চিহ্নিত করবেন।

    তথ্যমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক নেতাদের সমস্ত বক্তব্য জনগণের কল্যাণের জন্য। যতক্ষণ পর্যন্ত জনগণ তা কল্যাণকর মনে করবে ততক্ষণ পর্যন্ত সেই দল, সেই মার্কা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য থাকবে।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন, বরিশাল জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নুরুল আলম ফরিদ, জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাবেক সভাপতি রাখাল চন্দ্র দে, সাদা মনের মানুষখ্যাত বিজয় কৃষ্ণ দেসহ পূজা উদযাপন কমিটির স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি মানিক লাল মুখার্জি।

  • ২৫ লাখে খুনি ভাড়া, নেপথ্যে বিএনপি নেতা জনি: সংবাদ সম্মেলনে যুবদল নেতা

    ২৫ লাখে খুনি ভাড়া, নেপথ্যে বিএনপি নেতা জনি: সংবাদ সম্মেলনে যুবদল নেতা

    রাজধানীর মিরপুর ১৩ নম্বরে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া আলোচিত গোলাগুলি ও হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব বা চাঁদাবাজি নয়, বরং আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে প্রার্থিতাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক শত্রুতা কাজ করেছে। এমন দাবি করেছেন ঢাকা মহানগর উত্তরের কাফরুল থানা যুবদলের সদস্যসচিব হাফিজুল ইসলাম বাবু।

    হামলায় বেঁচে যাওয়া যুবদলের এই নেতার অভিযোগ, নির্বাচনে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে তাঁর প্রার্থিতা ও গ্রহণযোগ্যতা সহ্য করতে না পেরে কাফরুল থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাব্বির দেওয়ান জনি তাঁকে হত্যার মূল নীল নকশা সাজিয়েছিলেন।

    আজ বুধবার সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স ইউনিটি (ক্র্যাব) মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে তিনি হত্যাচেষ্টা, হামলা ও একাধিক সন্দেহভাজন ঘাতকের সঙ্গে অভিযুক্ত বিএনপি নেতার ছবি সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন।

    সংবাদ সম্মেলনে হাফিজুল ইসলাম বাবু বলেন, গত ২৪ জুলাই (শুক্রবার) রাত ১১টা ১০ মিনিটের দিকে মিরপুর ১৩ নম্বর এলাকায় তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়ি গুলি চালায় একদল দুর্বৃত্ত। হামলায় কাফরুল থানা যুবদল কর্মী ইউসুফ নিহত হন এবং দুই ফুটপাত ব্যবসায়ী গুরুতর আহত হন।

    ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতিমধ্যে ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

    হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে কাফরুল থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাব্বির দেওয়ান জনিকে অভিযুক্ত করে তিনি বলেন, ‘মূল মাস্টারমাইন্ড বা মূল ঘাতক সাব্বির দেওয়ান জনি। সে-ই অর্থদাতা বলে আমার সন্দেহ। তবে তা প্রমাণের দায়িত্ব রাষ্ট্র ও প্রশাসনের।’

    তিনি অভিযোগ করেন, স্থানীয় একটি মার্কেটের গ্যারেজ অবৈধভাবে সিএনজি হাফিজ নামে এক ব্যক্তিকে ভাড়া দেওয়া হয়েছিল, যা কিলিং মিশন পরিচালনার কাজে ব্যবহৃত হয়। ওই মার্কেটের সভাপতি সাব্বির দেওয়ান জনি অন্য সদস্যদের মতামত না নিয়ে জেনেশুনেই তাঁকে আশ্রয় দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।

    ঘটনার পরপরই ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) দেওয়া বক্তব্যকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেন এই যুবদল নেতা।

    ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল—স্থানীয় আধিপত্য, বর্জ্য সংগ্রহের টেন্ডার, ডিশ-ইন্টারনেট ব্যবসা ও ফুটপাতের চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

    পুলিশের এই দাবি খণ্ডন করে হাফিজুল ইসলাম বাবু বলেন, ‘মিরপুর ১৩ নম্বরে আমার বা অন্য কারও ডিশ-ইন্টারনেটের ব্যবসা কিংবা ফুটপাতে চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট নেই। এমনকি সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে এখনো এই অঞ্চলে ময়লার কোনো টেন্ডারই আহ্বান করা হয়নি।’

    বাবু দাবি করেন, মূল চক্রান্তকারীকে আড়াল করতেই চক্রান্তকারীরা মামলাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

    সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, এই কিলিং মিশন বাস্তবায়নের জন্য ঢাকার বাইর থেকে ২৫ লাখ টাকার বিনিময়ে পেশাদার খুনিদের ভাড়া করা হয়েছিল।

    পরিকল্পনাকারী নেপথ্যে থেকে ‘সিএনজি হাফিজ’ নামের এক ব্যক্তিকে দিয়ে পুরো মিশন পরিচালনা করান বলে অভিযোগ করা হয়। পরবর্তী সময়ে ভাড়াটে খুনি আবির, জিয়ারুল ও বাস্তবায়নকারী হাফিজের সঙ্গে সাব্বির দেওয়ান জনির একাধিক ছবি সাংবাদিকদের সামনে প্রদর্শন করা হয়।

    হাফিজুল ইসলাম প্রশ্ন তোলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তি ও পলাতক ঘাতকদের সঙ্গে সাব্বির দেওয়ান জনির সরাসরি ছবি থাকার পরও কেন পুলিশ তাঁকে এখনো গ্রেপ্তার বা জিজ্ঞাসাবাদ করছে না।

    নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর শঙ্কার কথা প্রকাশ করে এই যুবদল নেতা বলেন, ‘আমাকে হত্যার চেষ্টা এক দিনে নয়, দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনা করে করা হচ্ছে। বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে থাকা নেতাদের সরিয়ে দিয়ে যারা নতুন করে নিজেদের জাহির করতে চাইছে, তারাই নিজেদের পথ পরিষ্কার করতে কিলারদের নিয়োগ দিয়েছে।’

    সংবাদ সম্মেলন থেকে হাফিজুল ইসলাম আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব ছাড়া নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা এবং মূল নির্দেশদাতাসহ সব পরিকল্পনাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের জোর দাবি জানান।

  • কাফরুলে যুবদলকর্মী হত্যা; ২৫ লাখ টাকার চুক্তিতে শুটার ভাড়া করেন সিএনজি হাফিজ: ডিবিপ্রধান

    কাফরুলে যুবদলকর্মী হত্যা; ২৫ লাখ টাকার চুক্তিতে শুটার ভাড়া করেন সিএনজি হাফিজ: ডিবিপ্রধান

    ময়লা বাণিজ্য ও ফুটপাত দখল নিয়ে বিরোধে যুবদল নেতা বাবুকে হত্যার ছক

    রাজধানীর কাফরুলে যুবদলকর্মী মো. ইউসুফকে গুলি করে হত্যায় জড়িত সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) মিরপুর বিভাগ ও কাফরুল থানা পুলিশ। ডিবি বলছে, কাফরুল থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান হাফিজ ওরফে সিএনজি হাফিজের পরিকল্পনায় এ ঘটনা ঘটে। কাফরুল থানা যুবদলের সদস্য সচিব হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার উদ্দেশ্যে তিনি ২৫ লাখার চুক্তিতে শুটার ভাড়া করে আনেন। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- নাহিদ হাসান, শাফিন আহমেদ, জিয়ারুল মোল্লা, আলী হোসেন, জিহাদ মোল্লা, মাসুম বিল্লাহ ও আবির হাওলাদার।

    এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে ডিবি প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার ময়লার টেন্ডার, ফুটপাত দখল ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধে বাবুকে হত্যার পরিকল্পনা করে হাফিজ। তবে ঘটনাচক্রে অস্ত্রধারীদের গুলিতে যুবদল কর্মী ইউসুফ নিহত হন এবং দুজন গুরুতর আহত হন।

    ডিবি প্রধান জানান, হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ৪ শুটারসহ ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যার মিশনে ১১ জন অংশ নেয়। ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন হাফিজুর। জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানান, সিএনজি হাফিজ যুবদল নেতা বাবুকে হত্যার জন্য তাদের ভাড়া করেন। ২৫ লাখ টাকার চুক্তিতে ৫০ হাজার টাকা অগ্রিম দেওয়া হয়। ঘটনার দিন চঞ্চল নামে এক শুটারকে অস্ত্রসহ আটক করা হয়।

    ডিবি সূত্রে জানা যায়, ২৪ জুলাই রাত সোয়া ১১টার দিকে কাফরুলের ওপেক্স গার্মেন্টসের দক্ষিণ পাশে লিংক রোডের মাথায় কয়েকজন অস্ত্রধারীর ছোড়া গুলিতে যুবদল কর্মী মো. ইউসুফ, সবজি বিক্রেতা নালাম সরদার ও মনির হোসেন গুলিবিদ্ধ হন। স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক ইউসুফকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত নালাম সরদার ও মনির হোসেন চিকিৎসাধীন।

    মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে ডিবি প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম

    এদিকে ঘটনার সময় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টার সময় স্থানীয় জনতা অস্ত্রসহ এক সন্ত্রাসীকে আটক করে কাফরুল থানায় সোপর্দ করে। পরে পুলিশ তার দেহ তল্লাশি করে একটি বিদেশি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহত ইউসুফের বড় ভাই বাদী হয়ে কাফরুল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার পরপরই ডিএমপির গোয়েন্দা মিরপুর বিভাগ ও কাফরুল থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। ২৫ জুলাই গোয়েন্দা পুলিশের মিরপুর বিভাগের একটি দল মিরপুর এলাকা থেকে নাহিদ হাসান ও শাফিন আহমেদকে গ্রেপ্তার করে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাগুরার শালিখা উপজেলার আড়পাড়া এলাকা থেকে জিয়ারুল এবং মিরপুর এলাকা থেকে আলী হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    অপরদিকে, কাফরুল থানা পুলিশ শরীয়তপুর থেকে জিহাদ মোল্লা এবং যশোরের বাগারপাড়া এলাকা থেকে মাসুম বিল্লাহকে গ্রেপ্তার করে। এছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত আবির হাওলাদারকে গণপিটুনির পর স্থানীয়রা কাফরুল থানায় সোপর্দ করেছিল।

    ডিবি সূত্রে আরও জানা যায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানায় মূল পরিকল্পনাকারী হাফিজুর রহমান হাফিজ ওরফে সিএনজি হাফিজের প্রতিপক্ষ হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার উদ্দেশ্যে পেশাদার খুনি ভাড়া করে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়।
    গত ২৯ জুন পেশাদার খুনি হাসান, জিয়ারুল, চঞ্চল, জিহাদসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জন ঢাকায় এসে সিএনজি হাফিজের সঙ্গে বৈঠক করে। তারা মিরপুর-১০ এলাকার বৈশাখী হোটেলের ৭১৪ নম্বর কক্ষে অবস্থান নেয় এবং পরে সিএনজি হাফিজের গ্যারেজে একত্রিত হয়। এ সময় আবির হাওলাদারের কাছ থেকে হাফিজের ম্যানেজার নাহিদ দুটি পিস্তল গ্যারেজে নিয়ে আসে। হাফিজ অস্ত্রে গুলি ভরার সময় একটি পিস্তল থেকে আকস্মিকভাবে মিসফায়ার হলে ওই দিনের হত্যার পরিকল্পনা স্থগিত করা হয়। তবে অভিযুক্তরা হাফিজুল ইসলাম বাবুর অফিসের আশপাশে গিয়ে তাকে শনাক্ত করে এবং সিএনজি হাফিজের কাছ থেকে অগ্রিম ৫০ হাজার টাকা নিয়ে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যায়।

    পরবর্তীতে ২২ জুলাই হাফিজের নির্দেশে তারা পুনরায় ঢাকায় আসে এবং মিরপুর-২ এলাকার সোনালী হোটেলের ৬০৮ নম্বর কক্ষে অবস্থান নেয়। এরপর ২৩ জুলাই সন্ধ্যায় পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সবাই আবার সিএনজি হাফিজের গ্যারেজে একত্রিত হয়। সেখানে নাহিদের কাছ থেকে জিহাদ দুটি লোড করা পিস্তল নিয়ে একটি জিয়ারুল এবং অপরটি চঞ্চলের কাছে হস্তান্তর করে। পরে জিয়ারুল, চঞ্চল, হাসান, জিহাদ, মাসুম বিল্লাহসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জন হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার অফিসের সামনে অবস্থান নেয়। সিএনজি হাফিজের কর্মচারী শাফিন এবং জিয়ারুলের আত্মীয় আলী হোসেন ঘটনাস্থল রেকি, আসামিদের পালিয়ে যেতে সহায়তা এবং ঘটনার পর পুলিশের তৎপরতা ও এলাকার পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য সরবরাহের দায়িত্ব পালন করে।

    ডিবি আরও জানায়, ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ১১টায় হাফিজুল ইসলাম বাবু তার কার্যালয়ের সামনে নেতাকর্মীদের সঙ্গে অবস্থানের সময় অপরিচিত কয়েকজন ব্যক্তিকে সন্দেহ হলে তাদের পরিচয় জানতে চান। একপর্যায়ে তাদের দেহ তল্লাশি করার চেষ্টা করলে অভিযুক্তদের একজন পিস্তল বের করে গুলি চালায়। এতে যুবদল কর্মী মো. ইউসুফ বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়।

  • রাষ্ট্রপতি চাইলে পদত্যাগ করতে পারেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    রাষ্ট্রপতি চাইলে পদত্যাগ করতে পারেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সাংবিধানিকভাবে পদত্যাগ করতে চাইলে সেই সুযোগ তাঁর রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ বা পদক্ষেপ নেই।

    রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জনের মধ্যে আজ বৃহস্পতিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে কক্সবাজারের উন্নয়ন পরিকল্পনা-সংক্রান্ত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সম্ভাবনা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিকভাবে পদত্যাগ করতে চাইলে, স্বাস্থ্যগত কারণে বা অন্য যেকোনো কারণে, তাঁর সেই সুযোগ রয়েছে। তবে আমরা এ বিষয়ে কিছু জানি না।’ সরকার এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে কিছু বলা হচ্ছে না। আপনারা পত্রিকায় যা দেখছেন, সেটাই দেখছেন। যদি এমন কিছু ঘটে, তখন আমরাও দেখব।’

    রাষ্ট্রপতিকে ঘিরে চলা গুঞ্জনের বিষয়ে আরেক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিককে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনিই তো বললেন, এটি গুঞ্জন। গুঞ্জন তো গুঞ্জনই।’ স্বাস্থ্যগত কারণেই রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেটা তাঁকেই (রাষ্ট্রপতি) জিজ্ঞেস করতে হবে।’

    এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অভিযোগ করেছিলেন, তাঁকে কার্যত কোণঠাসা করে রাখা হয়েছিল। বিদেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন মিশন থেকে তাঁর ছবি সরিয়ে ফেলা এবং বঙ্গভবনের প্রেস উইং সংকুচিত করায় তিনি অপমানবোধ করেছিলেন বলেও উল্লেখ করেন।

    গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে সরকার গঠন করলেও রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেননি। ১৭ ফেব্রুয়ারি তাঁর কাছেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেন। পরে ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে মো. সাহাবুদ্দিন জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তাঁর দুঃসময়ে বিএনপি শতভাগ সহযোগিতা করেছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁর পাশে ছিল।

  • ‘ধর্মকে ভিত্তি করে বহুমাত্রিক রাষ্ট্রকে দীর্ঘস্থায়ীভাবে ঐক্যবদ্ধ রাখা সম্ভব নয়’

    ‘ধর্মকে ভিত্তি করে বহুমাত্রিক রাষ্ট্রকে দীর্ঘস্থায়ীভাবে ঐক্যবদ্ধ রাখা সম্ভব নয়’

    তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনই বাংলাদেশের সব ভাষা, ধর্ম, সংস্কৃতি, নৃগোষ্ঠী ও জনগোষ্ঠীকে ধারণ করে গড়ে ওঠা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয়। এ দর্শন বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমানার ভেতরে বসবাসকারী প্রতিটি নাগরিককে সমানভাবে জাতীয় পরিচয়ের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

    বুধবার (২২ জুলাই) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা আয়োজিত ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    মন্ত্রী বলেন, ভারত উপমহাদেশে ধর্মের ভিত্তিতে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলেও, শুধুমাত্র ধর্মকে ভিত্তি করে একটি বহুমাত্রিক রাষ্ট্রকে দীর্ঘস্থায়ীভাবে ঐক্যবদ্ধ রাখা সম্ভব নয়। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ সেই ঐতিহাসিক বাস্তবতার ধারাবাহিক প্রকাশ।

    তথ্যমন্ত্রী এ সময় মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অনবদ্য ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সাহসী সিদ্ধান্ত ও নেতৃত্ব মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে যুদ্ধকে সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

    জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা ও মহান মুক্তিযুদ্ধে তার নেতৃত্ব ইতিহাসের প্রমাণিত উপাদান বলে উল্লেখ করেন তথ্যমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, স্বাধীনতা অর্জনের পরও জাতীয় পরিচয়ের প্রশ্নে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়। কেবল ভাষাভিত্তিক পরিচয়ও দেশের সব জনগোষ্ঠীর কাছে সমভাবে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠেনি। এ বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নাগরিকভিত্তিক ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর দর্শন উপস্থাপন করেন, যা বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিককে সমান মর্যাদায় একটি অভিন্ন জাতীয় পরিচয়ের বন্ধনে আবদ্ধ করেছে।

    জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিক- তিনি যে ভাষায় কথা বলুন, যে ধর্ম পালন করুন কিংবা যে নৃগোষ্ঠীরই হোন না কেন- বাংলাদেশি পরিচয়ের মধ্যেই তার মর্যাদা ও সমঅধিকার নিশ্চিত হয়। এ অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয়তাবাদ দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা, জাতীয় সংহতি এবং বহুত্ববাদী সমাজব্যবস্থাকে শক্তিশালী করেছে।

    তিনি বলেন, আধুনিক বিশ্বে জাতীয়তাবাদ কেবল ভাষা, ধর্ম কিংবা বর্ণের ভিত্তিতে সংজ্ঞায়িত হয় না; বরং একটি রাষ্ট্রের নাগরিকদের অভিন্ন স্বার্থ, ভূখণ্ড, সাংবিধানিক অঙ্গীকার এবং যৌথ ভবিষ্যৎ নির্মাণের আকাঙ্ক্ষার ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনও সেই আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তারই প্রতিফলন।

    কোনো একটি ভাষা বা সংস্কৃতিকে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে অন্য ভাষা বা সংস্কৃতিকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন তথ্যমন্ত্রী।

    বাংলাদেশের সব ভাষা, সংস্কৃতি, ধর্মীয় বিশ্বাস ও নৃগোষ্ঠীর পরিচয়কে সম্মান ও ধারণ করেই বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ বিকশিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ দর্শনের মাধ্যমেই দেশের প্রতিটি নাগরিক নিজেকে সমানভাবে বাংলাদেশের অংশ হিসেবে অনুভব করতে পারেন।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ জাতীয় ঐক্য ও সংহতির ভিত্তি হিসেবে আজও প্রাসঙ্গিক এবং ভবিষ্যতেও দেশের অগ্রযাত্রায় পথনির্দেশক হিসেবে কাজ করবে।

    ইউট্যাব জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ। প্রধান আলোচক ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদদীন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউট্যাব, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক নাসির আহমাদ।

  • দলের দুঃসময়ের ত্যাগীদের মূল্যায়নের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

    দলের দুঃসময়ের ত্যাগীদের মূল্যায়নের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

    দলের দুঃসময়ে ত্যাগ স্বীকার করা নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়নের আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল রোববার সচিবালয়ে কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ আশ্বাস দেন তিনি।

    সাক্ষাতে জুলাই আন্দোলনে হাবিবুর রহমানের ভূমিকা, তাঁর ত্যাগ-তিতিক্ষা ও বর্তমান শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন প্রধানমন্ত্রী। জুলাই আন্দোলনে আহত হাবিবুরের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে জানতে চান তিনি।

    এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দলের জন্য তোমার যে অবদান, তা দল কখনো ভুলবে না। তুমি যেভাবে দলের জন্য সময়, শ্রম ও ত্যাগ স্বীকার করেছ, ইনশাআল্লাহ দল তার যথাযথ মূল্যায়ন করবে।’

    আন্দোলনের সময়কার শারীরিক যন্ত্রণা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তুমি যে যন্ত্রণা নিয়ে আজও বেঁচে আছ, সেই যন্ত্রণা আমিও এখনো বহন করে চলেছি। আল্লাহ আমাদের সবার ত্যাগ কবুল করুন।’

    হাবিবুর রহমান জুলাই আন্দোলনের অগ্রসারির একজন সংগঠক হিসেবে পরিচিত। ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে তিনি দলের বিভিন্ন আন্দোলন-কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ২০ জুলাই শনির আখড়া এলাকায় সংঘর্ষের সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন।

    হাবিবুর রহমান জানান, আহত অবস্থায় তাঁকে স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে নেওয়া হলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাননি। সময়মতো উন্নত চিকিৎসা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান না পাওয়ায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার ক্ষত এখনো তাঁকে শারীরিকভাবে ভোগাচ্ছে। দীর্ঘদিন পরও তিনি বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন।

    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করে হাবিবুর রহমান বলেন, ‘এই অভিশপ্ত জুলাই আমাদের জীবন থেকে অনেক কিছু কেড়ে নিয়েছে, যা কোনো কিছুর বিনিময়ে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। কীভাবে যে এখন বেঁচে আছি, সেই কষ্ট আমার পরিবার ছাড়া আর কেউ জানে না।’

    তিনি বলেন, ‘দলের জন্য জীবন বাজি রেখে কাজ করেছি, রাস্তায় থেকেছি, রক্ত দিয়েছি। আমার বিশ্বাস, দল আমাদের সেই ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন করবে। আজ প্রধানমন্ত্রী আমাকে দোয়া করেছেন, সাহস দিয়েছেন এবং বলেছেন—আমার অবদানের মূল্যায়ন অবশ্যই হবে।’

    হাবিবুর রহমান এর আগে ছাত্রদল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য, সহ-অর্থ সম্পাদক, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-স্কুলবিষয়ক সম্পাদক, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এবং যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

  • আওয়ামী স্বৈরাচারের পতন হলেও তাদের অনুসারীদের রক্তপাত থেমে নেই: মির্জা ফখরুল

    আওয়ামী স্বৈরাচারের পতন হলেও তাদের অনুসারীদের রক্তপাত থেমে নেই: মির্জা ফখরুল

    আওয়ামী স্বৈরাচারের পতন হলেও তাদের অনুসারীদের অস্ত্রের ঝনঝনানী ও রক্তপাত থেমে নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃস্পতিবার এক শোকবার্তায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, গতকাল বুধবার রাত ১০টার দিকে কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরকে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আওয়ামী স্বৈরাচারের পতন হলেও তাদের অনুসারীদের অস্ত্রের ঝনঝনানী ও রক্তপাত থেমে নেই। গতকাল জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরকে কুপিয়ে হত্যা করার ঘটনা সেটিরই ধারাবাহিকতা। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী শক্তিকে নির্মূল করতে তাদের প্রচেষ্টা এখনও অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু এভাবে খুন-জখমের মাধ্যমে আওয়ামী লুটপাটের রাজত্ব আবারও ফিরে আসবে না।

    তিনি বলেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট শহীদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এর নীতি ও আদর্শ এবং বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী দর্শনে গভীরভাবে আস্থাশীল ছিলেন জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর। তিনি মিঠামইন উপজেলা বিএনপিকে শক্তিশালী, গতিশীল ও সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি ছিল তার অবিচল আস্থা। তাদের নেতৃত্বে সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে মরহুম জাহাঙ্গীর সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন। মহান রাব্বুল আলামীনের দরবারে দোয়া করি তিনি যেন জাহাঙ্গীরকে জান্নাত নসীব এবং শোকাহত পরিবারবর্গকে ধৈর্য ধারণের ক্ষমতা দান করেন।


    বিএনপি মহাসচিব জাহাঙ্গীরের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যবর্গ, আত্মীয়স্বজন, গুণগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে তিনি অবিলম্বে জাহাঙ্গীরকে হত্যাকারী দুষ্কৃতিকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান।

  • আসুন মিলেমিশে দেশের জন্য কাজ করি: প্রধানমন্ত্রী

    আসুন মিলেমিশে দেশের জন্য কাজ করি: প্রধানমন্ত্রী

    দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘কদিন আগে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলে মিলে এ দেশ থেকে স্বৈরাচার হটিয়েছি। এবার আসুন সবাই মিলেমিশে দেশের জন্য কাজ করি।’

    তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ যখন হয়েছিল, দল নির্বিশেষে সকলে মিলে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমরা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলাম। এইমাত্র ক’দিন আগের কথা, আমরা এই দেশ থেকে স্বৈরাচারকে বিদায় করেছি। সকল শ্রেণি-পেশা, সকল ধর্ম-মত নির্বিশেষে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ রাজপথে নেমে এসে এই দেশটাকে হটিয়েছে। তার মানে আমরা সকলে মিলে যদি কাঁধে কাঁধ রেখে দেশের জন্য, মানুষের জন্য যদি ভালো কাজগুলো করি, তাহলে সকলে মিলে উপকৃত হবো।’

    সোমবার বরিশালের ত্রিশ গোডাউন বধ্যভূমি এলাকায় সাগরদী খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনের আগে প্রধানমন্ত্রী জনসাধারণের প্রতি এ আহ্বান জানান।

    প্রধানমন্ত্রী একটি নারিকেল গাছের চারা রোপণ করে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। বৃক্ষরোপণ শেষে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

    পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরিবেশ রক্ষা সরকারের একার দায়িত্ব নয়, সিটি কর্পোরেশনের একার দায়িত্ব নয়। আমাদের সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। আসুন, আজকে বৃক্ষরোপণের দিনে আমরা সকলে মিলে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হই— সকলে মিলে দেশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখব, ঠিক রাখব। এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।’

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা প্রত্যেকে চেষ্টা করব আমাদের আশেপাশের এলাকা, আমাদের ঘরবাড়ির আশেপাশের এলাকা, আমাদের অফিস আদালতের আশেপাশের এলাকা, আমাদের স্কুল-কলেজের আশেপাশের এলাকা, আমাদের হাসপাতালের আশেপাশের এলাকাগুলো প্রত্যেকে আমরা চেষ্টা করব সেখানের পরিবেশটা যাতে নষ্ট না হয়, পরিবেশটা যাতে সুন্দর থাকে, ভালো থাকে।’

    ত্রিশ গোডাউনে সা

    গরদী খালের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সাগরদী খালটি এই এলাকার জন্য নিশ্চয়ই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা খাল। এই খালটার যত্ন করাও কিন্তু শুধু সিটি কর্পোরেশনের একার দায়িত্ব না। এই খালটা যত্ন করা খালের দু’পাশে যে সকল মানুষ আছেন, তাদের সকলকে এই খালটার যত্ন করতে হবে।’

    তিনি বলেন, ‘এই খালের পানির মধ্যে অনেক সময় অনেক প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিনের কাগজ, টিস্যু পেপারসহ আরো বিভিন্ন জিনিস ভাসতে থাকে। অর্থাৎ আমরা যারা এখানে পার্কে আসি, হয়ত পানি খেলাম আর বোতলটা ফেলে দিলাম খালের মধ্যে। আপনাদের কাছে আমার বিনীত অনুরোধ থাকবে, এখানে আপনারা যারা উপস্থিত আছেন সকলের কাছে, আপনারা যখনই যার সাথে দেখা হবে— দয়া করে প্রত্যেককে বলবেন যে, খালের মধ্যে আমরা এগুলো ফেলবো না।’

    সিটি কর্পোরেশনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে একটা ময়লা ফেলার বিন লাগানো আছে। সবাইকে আপনারা দয়া করে মাইকেও প্রচার করবেন, যারা এই খালের পাশে বসবেন, বিকেল বেলায় অনেকে বেড়াতে আসেন তারা যেন বিনের মধ্যে ময়লা ফেলেন। খাল পরিষ্কার রাখতে হবে।’

    তিনি বলেন, ‘দেখুন, খালের অপরপাড়ে একটা পাইপ লাগানো হয়েছে, এটা কীসের পাইপ? যা খালের সাথে এসে যুক্ত হয়েছে। বাসা-বাড়ির ব্যবহারের পানি? সিটি কর্পোরেশনের কাছে আমি অনুরোধ করব, আপনারা বাসা-বাড়ির পানির ড্রেনেজ সিস্টেম করুন। কিন্তু পানি বা সুয়ারেজ লাইনের কানেকশনগুলো খালের মধ্যে না রাখাই ভালো। এগুলো থাকলে পরিবেশ নষ্ট হয়ে যায়, পানি দূষিত হয়ে যায়। কাজেই আমাদের নিজেদের পরিবেশ আমাদের নিজেদেরকে রক্ষা করতে হবে।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যদি আমাদের নিজের ঘর নিজেরা গুছিয়ে না রাখি, তাহলে ঘরটা যেমন ময়লা হয়ে যায়। ঠিক একইভাবে আমরা যদি আমাদের এলাকা, আমাদের এরিয়া, আমাদের পাড়া, আমাদের দেশ যদি আমরা নিজেরা পরিষ্কার না রাখি, নিজেরা যদি পরিবেশের খেয়াল না রাখি, তাহলে ভুক্তভোগী আমরাই হবো। অন্য দেশের সুন্দর সুন্দর জায়গা নিয়ে আমরা আফসোস করব, কিন্তু নিজের দেশের জায়গাগুলো সব আমরা নষ্ট করে দেব।’

    পরিবেশ প্রতিম

    ন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, নৌ প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মজিবুর রহমান সারোয়ার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বিলকিস জাহান শিরিনসহ নেতৃবৃন্দরা খালের দুই পাড়ে একটি করে গাছ রোপণ করেন।

    এসময় নেতাকর্মীরা স্লোগান ধরেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম, এক জিয়া লোকান্তরে, লক্ষ জিয়া ঘরে ঘরে, জিয়ার সৈনিক এক হও, এক হও।’

    প্রধানমন্ত্রী বৃক্ষরোপণের এই কর্মসূচি শেষ করে সার্কিট হাউসে গিয়ে মধ্যাহ্নভোজ ও জোহরের নামাজ আদায় করেন। বরিশাল সফরে প্রধানমন্ত্রীর শেষ কর্মসূচি শিল্পকলা একাডেমিতে দলীয় নেতাদের সাথে মতবিনিময়।

  • স্থানীয় নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে বিএনপি

    স্থানীয় নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে বিএনপি

    আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে দলের জন্য একটি বড় সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে বিএনপি। একই সঙ্গে চলতি বছরের শেষদিকে দলের জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের পক্ষেও মত দিয়েছেন স্থায়ী কমিটির অধিকাংশ সদস্য। স্থানীয় সরকার নির্বাচন, জাতীয় কাউন্সিল, সাংগঠনিক কার্যক্রম, অর্থনীতি, নেতাকর্মীদের স্বাবলম্বী করা এবং সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন—এ বিষয়গুলো কেন্দ্র করে গতকাল শনিবার রাতে অনুষ্ঠিত বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির বৈঠকে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। তবে কোনো বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

    দলীয় সূত্র জানায়, রাত ৮টার দিকে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে বৈঠক শুরু হয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা চলে। রাত ১০টার দিকে বৈঠক শেষ হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকের শুরুতে মালয়েশিয়া ও চীন সফর সফলভাবে সম্পন্ন করায় তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানান স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। এ সময় তার হাতে একটি ক্রেস্টও তুলে দেওয়া হয়।

    বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক সূত্রের ভাষ্য, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে কয়েকজন সদস্য চলতি বছরের শেষদিকে নির্বাচন শুরুর পক্ষে মত দেন। যদিও নির্দিষ্ট কোনো সময় নির্ধারণ করা হয়নি। আলোচনায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আলোচনা এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. জাহিদ হোসেনের সেপ্টেম্বরে নির্বাচন শুরুর সম্ভাবনা নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যও উঠে আসে। তবে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

    অধিকাংশ সদস্যের অভিমত ছিল, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তাই এখন থেকেই তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদার, স্থানীয় পর্যায়ে দলের অবস্থান শক্তিশালী করা এবং নির্বাচনের উপযোগী সংগঠন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

    জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। কয়েকজন সদস্য এ প্রসঙ্গ উত্থাপন করলে তারেক রহমান বলেন, দলের কাউন্সিল অবশ্যই হবে।

    সূত্র জানায়, স্থায়ী কমিটির অধিকাংশ সদস্য চলতি বছরের শেষ দিকে কাউন্সিল আয়োজনের পক্ষে মত দেন। একই সঙ্গে যেসব জেলা, মহানগর ও অন্যান্য সাংগঠনিক ইউনিটের কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে, সেগুলো দ্রুত পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মসূচির কথা বিবেচনায় রেখে তৃণমূলে নতুন নেতৃত্ব তৈরি ও সাংগঠনিক কাঠামো আরো শক্তিশালী করার ওপরও জোর দেন নেতারা।

    দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং কর্মসংস্থানের বিষয়েও বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সূত্র জানায়, বেকারত্ব কমানো, কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং সরকারের বিভিন্ন নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। এছাড়া ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং খাল পুনঃখনন কর্মসূচির বাস্তবায়ন পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি যেসব প্রতিশ্রুতি এখনো বাস্তবায়ন হয়নি, সেগুলোর বাস্তবায়ন কৌশল নিয়েও মতবিনিময় করে

    ন স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।

    বৈঠকে দীর্ঘদিন রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যে থাকা নেতাকর্মীদের আর্থিক অবস্থার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। দুজন সদস্য বলেন, গত ১৭ বছরে অনেক নেতাকর্মী চাকরি, ব্যবসা কিংবা জীবিকার সুযোগ হারিয়েছেন। তাদের পুনর্বাসন এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় যোগ্যতা, দক্ষতা ও মেধার ভিত্তিতে মূল্যায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

    সদস্যদের মতে, আওয়ামী লীগের মতো শুধু রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করে বিএনপি চাকরি দেবে না। কারণ এমন নীতি অনুসরণ করলে অতীতের মতো অনেকের চাকরি হারানোর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

    বর্তমান বন্যা পরিস্থিতিও বৈঠকের আলোচনায় স্থান পায়। বন্যাকবলিত এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে দলের ত্রাণ কার্যক্রম আরো জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে দুর্গত এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের সক্রিয়ভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন,

    সরকার গঠনের পর নানা ব্যস্ততার কারণে দীর্ঘদিন পর এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সরকারের কার্যক্রম এবং দলের সাংগঠনিক বিষয়গুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে।

    বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেগম সেলিমা রহমান এবং ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন।

    ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এটি বিএনপির স্থায়ী কমিটির তৃতীয় বৈঠক। এর আগে গত ৪ এপ্রিল ও ১৭ মে দলটির স্থায়ী কমিটির দুটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

  • শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে যুবদলের ৩০০ নেতা-কর্মী বহিষ্কার

    শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে যুবদলের ৩০০ নেতা-কর্মী বহিষ্কার

    দলীয় শৃঙ্খলা ও আদর্শ পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সারা দেশে যুবদলের প্রায় ৩০০ নেতা-কর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না।বুধবার (৮ জুলাই) রাজধানীর পল্টনে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

    যুবদল সভাপতি বলেন, ‘জাতীয়তাবাদী যুবদল সুশৃঙ্গল ও আদর্শিক রাজনৈতিক চর্চায় বিশ্বাসী। কোনো রকম বেআইনি, অনৈতিক ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমকে প্রশ্রয় দেয় না। দলীয় শৃঙ্খলা ও আদর্শ পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ইতোমধ্যে সারা দেশে প্রায় ৩০০ নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’

    তিনি জানান, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সংগঠনের নাম ব্যবহার করে বেআইনি কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ পাবে না। ভবিষ্যতে যাতে কেউ সংগঠনের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে না পারে, সে জন্য কঠোর নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে দেশব্যাপী যুবদলের ৮২টি সাংগঠনিক ইউনিটের নেতাকর্মীরা জীবনের সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়ে আন্দোলন সফল করেছেন। আন্দোলনকে চূড়ান্ত পর্যায়ে উন্নীত করতে যুবদলের ৭৮ জন নেতাকর্মী শহীদ হয়েছেন। শত শত নেতাকর্মী পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন এবং হাজার হাজার নেতাকর্মী রক্তাক্ত হয়েছেন।’

  • ৫৯ রাজনৈতিক নেতাকর্মী খুন, ৪৫ জন বিএনপির

    ৫৯ রাজনৈতিক নেতাকর্মী খুন, ৪৫ জন বিএনপির

    চলতি বছরের প্রথম সাড়ে পাঁচ মাসে সারাদেশে ৫৯ রাজনৈতিক নেতাকর্মী খুন হয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন বিএনপির ৪৫ জন এবং জামায়াতের সাতজন ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাতজন। দলীয় কোন্দল এবং অন্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ ও হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩০ জন। এর মধ্যে ২৩ জনই বিএনপি ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী। জামায়াতের পাঁচজন ও আওয়ামী লীগের দুজন। বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কোন্দলে নিহত হয়েছেন ১৪ জন। বিএনপি ও জামায়াতের বিরোধে নিহত হয়েছেন ১১ জন। তাদের মধ্যে ছয়জন বিএনপির ও পাঁচজন জামায়াতের নেতাকর্মী। বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের সহিংসতায় নিহত হয়েছেন পাঁচজন। তাদের তিনজন বিএনপির ও দুজন আওয়ামী লীগের।

    অন্যান্য ঘটনায় খুন হন ২৯ নেতাকর্মী। তাদের মধ্যে ২২ জন বিএনপির, পাঁচজন আওয়ামী লীগের ও দুজন জামায়াতের। এসব খুনের ১৩টির ক্ষেত্রে আধিপত্য বিস্তার, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব, চাঁদা না দেওয়া, জমি নিয়ে বিরোধ, পারিবারিক, ওয়াজ-মাহফিলের টাকার হিসাব ও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচন নিয়ে বিরোধসহ নানা কারণ বেরিয়ে এসেছে। বাকি ১৬টি খুনের কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যান ও সমকালের নিজস্ব তথ্য বিশ্লেষণে এমন চিত্র উঠে এসেছে।

    রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরোধে সবচেয়ে বেশি ১১টি খুনের ঘটনা ঘটেছে খুলনা বিভাগে। এর পরের অবস্থানে আছে রাজশাহী, সেখানে আটজন খুন হয়েছেন। এ ছাড়া ঢাকা বিভাগে পাঁচ, ময়মনসিংহ বিভাগে তিন এবং চট্টগ্রাম, সিলেট ও রংপুর বিভাগে একজন করে খুন হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৪ জনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে, পাঁচজনকে গুলি করে এবং ১১ জনকে লাঠিসোটা দিয়ে পিটিয়ে, ইট দিয়ে মাথা থেঁতলে ও কিলঘুসি মেরে হত্যা করা হয়েছে।

    আসকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ৩৪৭টি সংঘাতের ঘটনায় ৫৫ জন রাজনৈতিক নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন। তবে সেই সূত্র ধরে যাচাই করতে গিয়ে ৫৩টি ঘটনার বিষয়ে নিশ্চিত হয় সমকাল। এ ছাড়া একই সময়ে চট্টগ্রামের রাউজানে বিএনপিকর্মী কাউসারুজ্জামান বাবলুকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটে। আর জুনে এ পর্যন্ত খুন হয়েছেন পাঁচ রাজনৈতিক নেতাকর্মী। এর মধ্যে তিনটি ঘটনায় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরোধের বিষয়টি সামনে এসেছে। ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত মোট ৫৯ রাজনৈতিক নেতাকর্মী খুন হয়েছেন।

    আসকের তথ্য বলছে, বছরের প্রথম পাঁচ মাসে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংঘর্ষে আহত হন দুই হাজার ৬৩৬ নেতাকর্মী। এর মধ্যে বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষে সর্বাধিক ৯৮০ জন আহত হন। এর বাইরে বিএনপি-বিএনপি সংঘর্ষে ৭৪৫, বিএনপির প্রার্থীর সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে ২৭০, বিএনপি-আওয়ামী লীগ সংঘর্ষে ১২৯ ও বিএনপি-এনসিপি সংঘর্ষে ১০২ জন আহত হয়েছেন।

    যেসব কারণে খুন
    রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরোধে ৩০ খুনের মধ্যে সাতটিই ছিল জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে। নির্বাচনের আগে ও পরে প্রতিপক্ষের প্রার্থীর সমর্থকদের সঙ্গে সহিংসতায় এই সাতজন নিহত হন। তাদের চারজন বিএনপির ও তিনজন জামায়াতের নেতাকর্মী।

    নির্বাচনী বিরোধের জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হাসাদহ বাজারে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে দুজন গুরুতর আহত হন। পরে সেদিনই মারা যান জামায়াতকর্মী হাফিজুর রহমান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ মার্চ মৃত্যু হয় স্থানীয় বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মফিজুর রহমানের।

    জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ জানান, সংসদ নির্বাচনের পরদিন হাসাদহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসানকে মারধর করে প্রতিপক্ষ। সেই ঘটনার জেরে ওই সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় মামলায় মেহেদীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    নির্বাচনের আগেও প্রাণহানির ঘটনা রয়েছে। গত ১৬ জানুয়ারি ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় ছুরিকাঘাতে বিএনপিকর্মী নজরুল ইসলাম নিহত হন। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমরের (বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত) কর্মী ছিলেন। ঘটনার দিন এরশাদ বাজার এলাকায় তাদের একটি নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধনের পর সেখানে হামলা চালায় বিএনপি প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা। এক পর্যায়ে নজরুল ইসলামকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়।

    এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধে খুন হন বিএনপির সাতজন এবং জামায়াত ও আওয়ামী লীগের একজন করে নেতাকর্মী। এর মধ্যে গত ২১ মার্চ চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষে শিমুল কাজী নামের এক তরুণ নিহত হন। সেদিন দুপুরে ছত্রপাড়া গ্রামে ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হান্নান ও ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি লাল খানের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। তাতে আব্দুল হান্নানের কর্মী শিমুল খুন হন। এর আগে তাঁর দাদা নাজিম উদ্দিন কাজী নাতিকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে অসুস্থ হয়ে মারা যান। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ছত্রপাড়া গ্রামে বিপুল পরিমাণ খাসজমি আছে, যা সব সময় সরকারি দলের নেতাকর্মীদের দখলে থাকে। সেসব জমির নিয়ন্ত্রণসহ এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই দুপক্ষের সংঘর্ষ হয়।

    ৮ জুন রাতে রাজধানীর মৌচাকের আনারকলি মার্কেটের সামনে রমনা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক বিল্লাল হোসেনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় যুবদলের ২১ নেতাকর্মীকে আসামি করে মামলা হয়েছে। রমনা থানার ওসি মুহাম্মদ রাহাৎ খান বলেন, পাঁচ আসামিকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ফুটপাতের চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

    এর আগে ২ জুন ময়মনসিংহে রানা মিয়া নামের এক বিএনপিকর্মীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। নগরীর ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের চর ঈশ্বরদিয়া মধ্যপাড়া এলাকার গাঙের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। হত্যায় জামায়াত নেতাকর্মীদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এনে মামলা হয়।

    কোতোয়ালি থানার ওসি মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। এতে জড়িত সন্দেহে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন– মাহমুদুল ইসলাম মাহিন (জামায়াত নেতা মফিদুল ইসলামের ছেলে), তোফাজ্জল হোসেন, তাঁর ছেলে হূমায়ুন কবীর আকাশ ও মনিরুল ইসলাম।

    গত ৯ জুন রাতে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি বাদল মোড়লকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ছাড়া আহত হন বারুইপাড়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবদুল্লাহ মোড়ল। রাজনৈতিক ও আধিপত্য বিস্তারের জের ধরে এ ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এ জন্য স্থানীয় জামায়াত নেতাদের দুষছেন বিএনপির নেতারা।

    বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার বলেন, এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গত ১৫ জুন গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে হাসানকে ঢাকা ও মশিউরকে যশোরের অভয়নগর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    এদিকে ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া নিয়ে বিরোধে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে গত ১০ মার্চ বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষ হয়। এতে যুবদলকর্মী সজিব চৌধুরী আকাশ নিহত হন। সংঘর্ষের পর তাঁর খোঁজ মিলছিল না। পরদিন সবজি ক্ষেত থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। সীতাকুণ্ড থানার ওসি মহিনুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন-সংক্রান্ত বিষয়ে একটা বিরোধ ছিল। এ মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    পুলিশ সূত্র জানায়, ইউপি নির্বাচনে প্রার্থিতা নিয়ে স্থানীয় মুরাদপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাব উদ্দিনের অনুসারীদের সঙ্গে বিএনপির কর্মী মোহাম্মদ আলিমের অনুসারীদের সংঘর্ষে নিহত হন সজিব।

    এ ছাড়া বিভিন্ন ঘটনায় বিএনপির নেতাকর্মী খুন হয়েছেন। যেমন সংগঠনের কমিটি গঠন ও পদ-পদবি নিয়ে মতবিরোধ থেকে সংঘর্ষে একজন, দরপত্র নিয়ে বিরোধে একজন, মসজিদের জলসায় প্রধান অতিথি করা নিয়ে সংঘাতে একজন, জলাশয় ইজারা নিয়ে সংঘর্ষে দুজন, জামায়াতের নারী কর্মীদের সভা নিয়ে তর্কাতর্কির জেরে মারধরে একজন, খাসজমির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধে একজন, জামায়াত নেতার ফেসবুক পোস্টে বিরূপ মন্তব্য নিয়ে বিরোধে একজন, ধান কাটা নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডতার জেরে একজন ও মাটি কাটা নিয়ে বিরোধে একজন খুন হন। পাশাপাশি রাজনৈতিক কারণে পূর্বশত্রুতার জের ধরে আওয়ামী লীগের একজন এবং মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিন অপসারণ নিয়ে বিরোধে জামায়াতের একজন খুন হয়েছেন।

    ১৬ খুনের কারণ অজানা
    রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরোধ ছাড়াও বিভিন্ন কারণে আরও ২৯ নেতাকর্মী খুন হয়েছেন। এর মধ্যে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের ২২ জন রয়েছেন। তাদের ৯ জনের খুনের কারণ জানা গেছে। তিনজন আধিপত্য বিস্তারের বিরোধে, একজন ওয়াজ-মাহফিলের টাকার হিসাব নিয়ে বিরোধ, ইউপি নির্বাচন নিয়ে বিরোধে একজন, একজন পারিবারিক বিরোধ, একজন জমি নিয়ে বিরোধ, একজন ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বে ও একজন চাঁদা না দেওয়ায় খুন হন।

    ১৩ জুন দুপুরে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার পাহাড়তলীতে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন যুবদল নেতা মাকসুদুল হক। তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। এ ঘটনায় আইয়ুব আলী নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। সংস্থাটি বলছে, মাসুদুল হক রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন। তিনি যাতে নির্বাচন করতে না পারেন, সেজন্য হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।

    রাউজান থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে শনাক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

    একই সময়ে আওয়ামী লীগ ও এর ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের পাঁচ নেতাকর্মীও অন্যান্য কারণে খুন হন। ব্যক্তিগত বিরোধে ভোলার চরফ্যাসনে যুবলীগ নেতা আবদুর রহিমকে কুপিয়ে এবং বাগেরহাটে ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের জেরে শ্রমিক লীগ নেতা সোহাগ শেখকে গুলি করে হত্যা করা হয়। আর নাটোরের সিংড়ায় জিয়া পরিষদের নেতা রেজাউল করিমকে গলা কেটে হত্যার ঘটনার জেরে আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে আগুন দিলে সাবিহা বেগমের মৃত্যু হয়। অপর দুটি খুনের কারণ জানা যায়নি। পৃথক ঘটনায় জামায়াত ও শিবিরের দুই নেতাকর্মী খুন হন। তাদের মধ্যে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে শিবিরের সাবেক নেতা জামাল উদ্দিনকে খুনের কারণ জানা গেছে। গার্মেন্টের ঝুট ব্যবসা নিয়ে বিরোধে তাঁকে গুলি করি হত্যা করা হয়।

    রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন বন্ধ করতে হবে: ড. তৌহিদুল হক
    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল‍্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক সমকালকে বলেন, অনেক সময় একই রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাসীদের মধ্যে স্বার্থ, পদ-পদবি, দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে টাকা উপার্জনের মতো বিষয়ে বিরোধ দেখা দেয়। সেই বিরোধ প্রাণঘাতী সহিংসতায় গড়ায়। কোনো রাজনৈতিক সরকারই এটা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন বন্ধ করতে হবে। নইলে রাজনৈতিক অপরাধ বন্ধ হবে না। তথ্য-প্রমাণ থাকলে অভিযুক্ত নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে হবে। আর হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় থাকলে পুলিশের পক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন। সে ক্ষেত্রে সরকারকেই সহায়তা করতে হবে, যাতে পুলিশ সঠিক দায়িত্ব পালন করতে পারে।

    পুলিশ সদরদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (গণমাধ্যম) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, রাজনৈতিক নেতাকর্মী খুনের মামলার তদন্তে দেখা যায়, সব সময় রাজনৈতিক কারণে হত্যাকাণ্ড ঘটে না। এর একটি বড় অংশই ব্যক্তিগত বিরোধ, জমি বা অন্যান্য কারণে ঘটে। আর অল্পসংখ্যক ঘটনায় রাজনৈতিক সংঘাতের বিষয়টি প্রমাণিত হয়।

  • ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট সাময়িকভাবে বাতিলের প্রস্তাব বিএনপি এমপির

    ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট সাময়িকভাবে বাতিলের প্রস্তাব বিএনপি এমপির

    মানুষের ঘরে থাকা নগদ অর্থ ব্যাংকে আনতে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট সাময়িকভাবে বাতিলের প্রস্তাব দিয়েছেন বিএনপির সংসদ সদস্য এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।

    আজ রোববার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এ প্রস্তাব দেন তিনি।

    ব্যাংক খাতের ওপর মানুষের আস্থা নষ্ট হয়ে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে মাহবুব উদ্দিন বলেন, অনেক মানুষ এখন ব্যাংকে টাকা না রেখে নগদ অর্থ বাসায় সংরক্ষণ করছেন। আবার যাঁরা অতীতে টাকা বিদেশে পাচার করতে চেয়েছিলেন কিংবা স্বৈরাচারী শাসনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁরাও বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ রেখে গেছেন। ফলে বিপুল অঙ্কের টাকা ব্যাংকের বাইরে রয়ে গেছে।

    তাই ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিলের প্রস্তাব দিয়ে মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, সরকার যদি এই নোটগুলো বাতিল করে দুই মাসের মধ্যে ব্যাংকে জমা দেওয়ার সুযোগ দেয়, তাহলে যাঁদের ট্যাক্স ফাইলে ওই অর্থের হিসাব নেই, তাঁরা ২৫ শতাংশ কর দিয়ে তা বৈধ করতে পারবেন। এতে বাজেট–ঘাটতি কমবে, ব্যাংকিং খাতে তারল্য বাড়বে, ব্যাংক শক্তিশালী হবে এবং সেই অর্থ বিনিয়োগ ও উৎপাদনমুখী খাতে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

    বাংলাদেশে এত ব্যাংকের প্রয়োজন না দেখার কথাও জানান নোয়াখালী–১ আসনে বিএনপির এই সংসদ সদস্য। ব্যাংকের সংখ্যা কমিয়ে এনে ব্যাংকে জনগণের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পক্ষপাতী তিনি।

    মাহবুব উদ্দিন বলেন, ‘টাকা নেই। ব্যাংকগুলো লুট হয়ে গেছে। এত ব্যাংক দরকার কী বাংলাদেশে? এত ব্যাংকের দরকার নেই। এমপি হলে একটা ব্যাংক লাগবে, নেতা হলেই একটা লিজিং কোম্পানি লাগবে, এগুলো বন্ধ করতে হবে। ব্যাংকের সংখ্যা কমাতে হবে। জনগণের টাকা দিয়ে ব্যাংকের ঘাটতি পূরণ করতে হয়। তাই জনগণের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।’

    টাকা পাচারকে দেশের অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে এই আইনজীবী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার কথা বারবার বলা হলেও বাস্তবে একটি টাকাও ফেরানো যায়নি। কারণ, আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশ করার পর সেই অর্থ ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত কঠিন।

    মাহবুব উদ্দিন বলেন, ‘টাকারও একটি স্বভাব আছে। মানুষ যেখানে নিরাপত্তা অনুভব করে, সেখানেই টাকা রাখে। আমাদের এমন একটি আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে দেশের মানুষ বিদেশে টাকা না পাঠিয়ে দেশেই বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হয়। শুধু আইন করলেই হবে না, পুরো সিস্টেম পরিবর্তন করতে হবে। সিঙ্গাপুর, দুবাই, কানাডা ও থাইল্যান্ডে মানুষ আস্থার সঙ্গে অর্থ রাখে। কারণ, সেখানে সেই পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে।’

    নতুন বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট বাস্তবায়নের অন্যতম চ্যালেঞ্জ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বেকারত্বের বিষয়টি তুলে ধরেন দলের এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, কোটি কোটি যুবককে বেকার রেখে আইনশৃঙ্খলার উন্নতি আশা করা যায় না। কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং যুবকদের জন্য কাজের সুযোগ বাড়াতে হবে।

    মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, এবারের বাজেট ঘাটতির হলেও এটি অস্বাভাবিক নয়। বিশ্বের অনেক দেশেই ঘাটতির বাজেট হয়, বাংলাদেশেও অতীতে প্রায় সব বাজেটই ঘাটতির ছিল।

    মাহবুব উদ্দিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে মাত্র তিন মাসের মধ্যে একটি বিধ্বস্ত অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। লুটপাটের অর্থনীতি থেকে দেশকে উদ্ধারের প্রচেষ্টার মধ্যেই বাজেটটি এসেছে। এ কারণেই বাজেট নিয়ে বড় ধরনের সমালোচনা দেখা যাচ্ছে না।

  • পাবনায় নদীতে বালু উত্তোলন নিয়ে দু’গ্রুপে গোলাগুলি, বিএনপি কর্মী নিহত

    পাবনায় নদীতে বালু উত্তোলন নিয়ে দু’গ্রুপে গোলাগুলি, বিএনপি কর্মী নিহত

    পাবনার পদ্মা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে মঞ্জু শেখ (৩৫) নামের এক বিএনপি কর্মী নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

    আজ শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে চরতারাপুর ও ভাঁড়ারা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী জোতকাকুরিয়া কলাবাগান পদ্মার চর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত মঞ্জু শেখ আড়িয়া গোহাইলবাড়ি এলাকার দারোগ শেখের ছেলে। তিনি সুজানগর উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব শেখ আব্দুর রউফ ও চরতারাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি শেখ রহমত আলীর আপন ভাতিজা। তিনি বিএনপি কর্মী বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

    এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, চরতারাপুরের চর এলাকা জোতকাকুড়িয়ায় কলাবাগান এলাকার পদ্মার চরে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দুইগ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। আজ সকালেও এ বিষয় নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সকালে দুই গ্রুপের লোকজন বালু আছে কিনা চেক করতে গিয়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গোলাগুলি ও সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়। এরপর স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়।

    সুজানগর উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব শেখ আব্দুর রউফ বলেন, চরতারাপুর ও ভাঁড়ারা এলাকার কিছু লোকজন বালু তুলতে গেলে আমরা ভাতিজারা বাঁধা দেয়। এ সময় তাদেরকে কয়েকজন আমার ভাতিজাকে গুলি করে হত্যা করে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তিনি। অবিলম্বে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করতে হবে। সে আমাদের দলেরও একজন কর্মী।

    পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনূর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে গুলিতে মঞ্জু শেখ নিহত হন। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে। হত্যার কারণ উদ্‌ঘাটনে কাজ করছে পুলিশ।

  • ঝালকাঠিতে  কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে  পৌর বিএনপির বিক্ষোভ

    ঝালকাঠিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে পৌর বিএনপির বিক্ষোভ

    কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে ঝালকাঠিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে পৌর বিএনপি।

    সোমবার (২২ জুন) সকালে জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে থেকে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: আনিচুর রহমান তাপুর নেতৃত্বে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়।

    বিক্ষোভ মিছিলটি দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ফায়ার সার্ভিস মোড়ে শেষ হয়।

    এ সময় বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীদের ‘নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঠিকানা এই বাংলায় হবে না’, ‘একটা একটা লীগ ধর, ধইরা ধইরা জেলে ভর’—সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।

    সমাবেশে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: আনিচুর রহমান তাপু বলেন, ‘নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদেই আজকের এই বিক্ষোভ সমাবেশ। দেশকে অস্থিতিশীল করার কোনো অপচেষ্টা করলে তাদের কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। আপনারা যেখানেই থাকুন, ভারতে বসে উস্কানি দিয়ে কোনো লাভ হবে না।’

    তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে আরো বলেন, ‘আগামী দিনগুলোতেও দলের পক্ষ থেকে এ ধরনের কঠোর কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। তারই ধারাবাহিকতায় আগামীকাল (মঙ্গলবার) সকালে ও বিকেলে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে পুনরায় বিক্ষোভ মিছিল করা হবে।’

  • মাদক সেবনের ভিডিও ভাইরাল- সেই বিএনপি নেতাকে অব্যাহতি

    মাদক সেবনের ভিডিও ভাইরাল- সেই বিএনপি নেতাকে অব্যাহতি

    জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাইদুল ইসলামের মাদক সেবনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। এ ঘটনায় দলীয় পদ থেকে তাকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

    একই সঙ্গে গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে ৩১ সদস্য বিশিষ্ট নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। শনিবার রাতে (গত রাতে) আক্কেলপুর উপজেলা বিএনপির এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাইদুল ইসলামের মাদক সেবনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ভাইরাল হলে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হলে উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে মঙ্গলবার রাতেই তাকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

    শনিবার রাতে (গতরাতে) তদন্ত কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর উপজেলা বিএনপি সাংগঠনিক ব্যবস্থা হিসেবে মাদক সেবনের ভিডিও ভাইরাল হওয়া বিএনপি নেতা সাইদুল ইসলামকে সভাপতির পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়। এছাড়া গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির কমিটিও বিলুপ্ত করে এসএম কায়কোবাদকে আহ্বায়ক করে ৩১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।

    ওই অব্যাহতি পত্রে বলা হয়েছে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে সাইদুল ইসলামকে গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির পদ থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হলো। তার সঙ্গে দলীয় কোনো কর্মকাণ্ডে কেউ জড়িত হলে সেটি তার ব্যক্তিগত দায় হিসেবে গণ্য করা হবে।

    এ ব্যাপারে সাইদুল ইসলাম জানান, ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাটি পরিকল্পিত। শনিবার বিকালে তদন্ত হয়েছে। আমার পক্ষে বেশির ভাগ লোকজন কথা বলেছেন। তদন্ত কমিটির সদস্যরা চলে যাওয়ার পর আমাকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে চিঠি পেয়েছি। ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি ভেঙে দেওয়ার বিষয়টিও আমি জেনেছি।

    এ বিষয়ে আক্কেলপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামরুজ্জামান কমল জানান, মাদক সেবনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় সাইদুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি তদন্তে ৫ সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর তাকে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

  • জেলা বিএনপি সভাপতির নাম ভাঙিয়ে জমি দখল; সংবাদ সম্মেলন

    জেলা বিএনপি সভাপতির নাম ভাঙিয়ে জমি দখল; সংবাদ সম্মেলন

    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার গাড়াবাড়িয়া গ্রামে জেলা বিএনপির সভাপতির নাম ভাঙিয়ে জমি দখল, চাঁদাবাজি, বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে সাজ্জাদ হোসেন পলাশের বিরুদ্ধে। পলাশ এর আগেও সড়কে মাইক্রোবাস চাপায় তিনজন নিহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি এবং এলাকায় অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।

    শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে গাংনী উপজেলার গাড়াবাড়িয়া গ্রামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন স্থানীয় বিএনপি কর্মী মজিদুল ইসলাম ও তার ভাই মহিরুল ইসলাম।

    লিখিত বক্তব্যে তারা অভিযোগ করেন, মেহেরপুর জেলা বিএনপির সভাপতি জাভেদ মাসুদ মিল্টনের নাম ব্যবহার করে সাজ্জাদ হোসেন পলাশ এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন। তার বিরুদ্ধে ভয়ভীতি দেখিয়ে জমি দখল, চাঁদা দাবি, হামলা-মামলার হুমকি এবং সালিশের নামে অর্থ আদায়ের মতো বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ করেন তারা। তাদের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডে এলাকার সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন।

    ভুক্তভোগীরা আরও জানান, প্রায় পাঁচ বছর আগে জেলা জামায়াতের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. সিদ্দিকুর রহমানের কাছ থেকে সাড়ে ১৬ শতক জমি ক্রয় করে সেখানে বসতঘর নির্মাণ এবং বিভিন্ন গাছপালা রোপণ করেন তারা। জমির বৈধ কাগজপত্র ও রেকর্ড থাকার পরও সাজ্জাদ হোসেন পলাশ তাদের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন তারা। চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রতিপক্ষ মকলেছুর রহমান, আবুল কালাম ও তাদের সহযোগীদের নিয়ে ওই জমিতে হামলা চালিয়ে ঘরবাড়ি ভাঙচুর, মালামাল লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে জোরপূর্বক দখল করে নেওয়া হয় বলে দাবি করেন তারা। এতে তাদের প্রায় পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান।

    এ ঘটনায় মেহেরপুর আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা করার পর তা তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। বর্তমানে তারা ও তাদের পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে দাবি করে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

    তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সাজ্জাদ হোসেন পলাশ বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। জেলা বিএনপির সভাপতির নাম ভাঙিয়ে কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও সত্য নয় বলে তিনি দাবি করেন।

    এ বিষয়ে মেহেরপুর জেলা বিএনপির সভাপতি জাভেদ মাসুদ মিল্টন বলেন, “কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পর্ক নেই। কোনো ব্যক্তি ব্যক্তিগতভাবে কোনো অন্যায় কাজ করলে তার দায় দল নেবে না; দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই বহন করতে হবে।”

    এদিকে বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ভাংচুর লুটপাটের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় দুজনকে গ্রেফতার করেছে গাংনী থানা পুলিশ। মামলার শীর্ষ আসামি ওই গ্রামের আবু তালেবের ছেলে মকলেছুর রহমান ও একই গ্রামের ছ্যান ভিশ্বাসের ছেলে আবুল কালাম। তারা দুজনেই জেল হাজতে রয়েছে।
    গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)
    মুহাদ্দিদ মোর্শেদ বলেন, এই ঘটনায় মামলা হয়েছে। দুজনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাদের জেল হাজতে প্রেরণ করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে উভয় পক্ষকে আইন মেনে চলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

  • মোহাম্মদপুরে বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে জখম

    মোহাম্মদপুরে বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে জখম

    রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক নূর ইসলামকে কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা।

    আজ শুক্রবার দুপুরে সাতমসজিদ হাউজিংয়ের ৪ নম্বর সড়কে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

    ঢাকা মহানগর পুলিশের মোহাম্মদপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনার জুয়েল রানা জানান, এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে কাজ করছে পুলিশ ও র‍্যাব। সম্ভাব্য স্থানগুলোতে অভিযান চলছে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুই মোটরসাইকেলে আসা চার আরোহী হঠাৎ করেই নূর ইসলামের ওপর হামলা চালায়। তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে ফেলে যায়।

  • হাতিয়ায় বাসের ধাক্কায় বিএনপি নেতা নিহত

    হাতিয়ায় বাসের ধাক্কায় বিএনপি নেতা নিহত

    নোয়াখালীর হাতিয়ায় বাসের ধাক্কায় মো: সোহেল মাহমুদ (৪৫) নামে এক বিএনপি নেতা নিহত হয়েছেন। বুধবার (১৭ জুন) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার হরণী ইউনিয়নের সুবর্ণচর-চেয়ারম্যানঘাট সড়কের বয়ারচর মানিক কাউন্টারের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    জানা গেছে, হরনী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি সোহেল মাহামুদ মেঘনা নদীর ভাঙনের কারণে পরিবার নিয়ে বর্তমানে সুবর্ণচর উপজেলার চরবাটা ইউনিয়নের ফরেস্ট সিরাজের বাড়িতে বসবাস করছেন।

    বুধবার সকালে তিনি মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে চানন্দী ইউনিয়নের নিজ গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। যাত্রাপথে হরণী ইউনিয়নের বয়ারচর মানিক কাউন্টার এলাকায় পৌঁছালে একটি বাস তাকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি সড়কে ছিটকে পড়ে যান।

    দুর্ঘটনায় তিনি পেট, হাত ও পায়ে আঘাত পান। পরে তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পথে দুপুর সোয়া ১২দিকে তার মৃত্যু হয়।

    হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: কবির হোসেন জানান, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। তবে এ বিষয়ে এখনো নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো অভিযোগ আসেনি।

  • ইমামতি রেখে পালিয়ে যাওয়া বিএনপির বহিষ্কৃত সেই নেতা গ্রেপ্তার

    ইমামতি রেখে পালিয়ে যাওয়া বিএনপির বহিষ্কৃত সেই নেতা গ্রেপ্তার

    নামাজে ইমামতি করার সময় কৌশলে পালিয়ে যাওয়া গোলাম আজম (৪৫) নামে এক আসামিকে পুনরায় গ্রেপ্তার করেছে পল্টন থানা পুলিশ।

    বুধবার (১৭ জুন) সকালে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় রাজধানীর মাদারটেকের নন্দীপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা কামাল জানান, চাঁদপুর আদালতে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসন আইন, ২০১৩-এর অধীনে করা একটি মামলায় রিকাব ইন্টারন্যাশনাল ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের স্বত্বাধিকারী গোলাম আজমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। সেই পরোয়ানা কার্যকর করতে গত সোমবার (১৫ জুন) পুলিশ রাজধানীর পুরানা পল্টনে তার প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালায়।

    ওসি জানান, গ্রেপ্তারের সময় গোলাম আজম আসরের নামাজ আদায়ের অনুমতি চান। পুলিশ অনুমতি দিলে তিনি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে ইমামতি শুরু করেন। কিন্তু দ্বিতীয় রাকাতে মুসল্লিরা সিজদায় থাকা অবস্থায় পেছনের দিক দিয়ে পালিয়ে যান।

    এরপর গোয়েন্দা পুলিশের সহযোগিতায় তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে বুধবার সকালে তার অবস্থান শনাক্ত করা হয় এবং বাসভবনে অভিযান চালিয়ে তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়।

    পুলিশ জানায়, গোলাম আজম দীর্ঘদিন ধরে জনশক্তি রপ্তানি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে মানবপাচার-সংক্রান্ত একাধিক মামলার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তিনি নিজেকে বিএনপির প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচয় দিলেও দলটির কোনো সাংগঠনিক পদে নেই এবং দীর্ঘদিন আগে বহিষ্কৃত হয়েছেন বলে পুলিশের দাবি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে তোলা ছবি ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারেরও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

    পল্টন থানা পুলিশ জানিয়েছে, মামলার অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এ এম

  • গাংনীতে আবারও হাতবোমা ও হুমকির চিরকুট উদ্ধার, বিএনপি নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন

    গাংনীতে আবারও হাতবোমা ও হুমকির চিরকুট উদ্ধার, বিএনপি নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন

    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার মটমুড়া গ্রামে বিএনপি নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে একটি হাতবোমা ও হুমকিমূলক চিরকুট রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা বলে অভিযোগ উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে মেহেরপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে একই ধরনের হাতবোমা ও চিরকুট উদ্ধারের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মাঝে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বেড়েছে।

    বুধবার (১৭ জুন) সকাল ৮টার দিকে গাংনী উপজেলার নওদা মটমুড়া গ্রামের একটি চায়ের দোকানের সামনে লাল কসটেপে মোড়ানো একটি হাতবোমা ও হুমকিমূলক চিরকুট উদ্ধার করে গাংনী থানা পুলিশ।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে কোনো এক সময় নওদা মটমুড়া গ্রামের শরিফুল ইসলামের চায়ের দোকানের সামনে বেঞ্চের উপর বোমা ও চিরকুটটি রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। সকালে দোকান খুলে পরিষ্কার করার সময় শরিফুল ইসলাম হাতবোমা ও চিরকুটটি দেখতে পান। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে কুমারীডাঙ্গা পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বোমাটি উদ্ধার করে নিরাপদে পানি ভর্তি পাত্রে সংরক্ষণ করেন।

    উদ্ধার হওয়া চিরকুটে লেখা ছিল, “এই দোকানে বিএনপির কোনো লোক বসবে না। যারা বসবে তাদের সমস্যা আছে। এই গ্রামে বিএনপির নামগন্ধ রাখব না।”

    গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজাদ্দিদ মোর্শেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থল থেকে একটি হাতবোমা ও চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তা খুঁজে বের করতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

    এর আগে চলতি মাসে মেহেরপুরের বিভিন্ন এলাকায় একই কায়দায় অন্তত ২৫/৩০ টি স্থানে হাতবোমা ও হুমকিমূলক চিরকুট উদ্ধারের ঘটনা ঘটে। এছাড়া গাংনী উপজেলার সাহারবাটি গ্রামের বিএনপি নেতা মুকুল হোসেনকে হত্যার উদ্দেশ্য গুলি বর্ষণ করে। মুকুল হোসেন বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
    এসব ঘটনায় রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি ও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

    একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা দ্রুত ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।