জাতীয় সংবাদ

  • পুত্রবধূকে বাঁচাতে গিয়ে মারা গেলেন শ্বশুরও

    পুত্রবধূকে বাঁচাতে গিয়ে মারা গেলেন শ্বশুরও

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রাজশাহীর চারঘাটে পুত্রবধূকে বাঁচাতে গিয়ে মারা গেছেন শ্বশুরও। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার অনুপামপুর কলোনিপাড়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    তারা হলেন- মৃত রেকাত আলীর ছেলে শমসের আলী (৬০) ও শরিফুল ইসলামের স্ত্রী তানিয়া বেগম (২৫)।

    নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিহতের বাড়ির ভেতরে একটি ভ্যান চার্জে দেওয়া ছিল। সেখান থেকে বৈদ্যুতিক সংযোগের একটি তার গোয়াল ঘরের দিকে নেওয়া হয়। ওই বৈদ্যুতিক তারের পাশেই কাপড় শুকানোর জন্য একটি দড়ি টাঙানো ছিল। শুক্রবার দুপুরে তানিয়া বেগম ওই দড়িতে ভেজা কাপড় শুকাতে দিলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এ সময় তার শ্বশুর শমসের আলী পুত্রবধূকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তিনিও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। স্থানীয়রা উদ্ধার করে চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

    স্থানীয় ইউপি সদস্য তাকদিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বৈদ্যুতিক তারের ওপর ভেজা কাপড় দিতে গিয়ে প্রথমে পুত্রবধূ তানিয়া বেগম বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। তাকে বাঁচাতে গিয়ে তার শ্বশুর শমসের আলীও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। পরে দুজনকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। বিষয়টি পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

    চারঘাট মডেল থানার ওসি মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের দুজন মারা গেছেন।

  • কবরস্থানের আধিপত্য নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত ১২০

    কবরস্থানের আধিপত্য নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত ১২০

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নে পুরনো গোরস্থানের আধিপত্য বিস্তার ও সেখানে দোকান নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত চলা এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১২০ জন আহত হয়েছেন।

    সংঘর্ষ চলাকালে অর্ধশতাধিক বাড়িঘর ও দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের আমগড়া এবং পুলিয়া-পানেশ্বর পাড়ার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত ১৮ কাঠা (১৪৪ শতাংশ) আয়তনের পুরোনো গোরস্থানের মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলে আসছে। আমগড়া গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা গোরস্থানের রাস্তার পাশের অংশে ছোট দোকানপাট নির্মাণ করে বাজার বসানোর উদ্যোগ নিলে পানেশ্বর পাড়ার লোকজন তাতে বাধা দেয়।

    পানেশ্বর পাড়ার দাবি, এটি ওয়াকফকৃত সম্পত্তি এবং এটি কেবল কবরস্থান হিসেবেই ব্যবহৃত হবে। এই বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে প্রায় ১৫ দিন আগে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশ দরবার অনুষ্ঠিত হয়েছিল। শুক্রবার সকালে গোরস্থানে ব্যানার ঝোলানোকে কেন্দ্র করে পুনরায় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, শুক্রবার সকালে আমগড়া ও নল্লাপাড়া গ্রামের শত শত মানুষ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পুলিয়া ও পানেশ্বর পাড়া গ্রামে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি বাড়িঘর ও দোকানপাটে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। তাদের তাণ্ডব থেকে বিয়ের বাড়ির গেট এবং গরুর খামারও রক্ষা পায়নি। পানেশ্বর পাড়ার বাসিন্দাদের দাবি, হামলার সময় হামলাকারীরা কমপক্ষে ২০ লাখ টাকার মালামাল লুটপাট করেছে।

    এ ঘটনায় দুই পক্ষের অন্তত ১২০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কেবল আমগড়া, নল্লাপাড়া ও হাসনাগাঁও গ্রামেরই ৫৪ জন আহত হয়েছেন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গুরুতর আহত ছয়জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিরা কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    পানেশ্বর পাড়ার বাসিন্দা আব্দুল ওয়াহাব ও হোসেন মিয়া বলেন, গোরস্থানটি ৮০-৯০ বছর ধরে আমাদের বাপ-দাদারা হেফাজত করে আসছেন। সম্প্রতি আমরা সাড়ে তিন লাখ টাকার মাটি কাটিয়েছি এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য দেয়াল ও পিলারের জন্য এক লাখ ১৯ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। আমগড়ার লোকজন জোরপূর্বক সেখানে দোকান করতে চায়। আজ সকালে যুবলীগ নেতা জুঁই, জনি ও কামাল পাশার নেতৃত্বে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়। তারা আরও দাবি করেন, গোরস্থানের সঠিক দলিল তাদের নামেই রয়েছে এবং প্রশাসনের কাছে তারা এর সুষ্ঠু সমাধান চান।

    অন্যদিকে, আমগড়া গ্রামের কামাল পাশা তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, গোরস্থানের আধিপত্য নিয়েই এই সংঘর্ষের সূত্রপাত। আমাদের পক্ষের অন্তত ৫৪ জন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে ছয়জনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। তিনি জানান, ১৫ দিন আগে ইউনিয়ন পরিষদে দরবার হয়েছিল। আমগড়া ও নল্লাপাড়াসহ কয়েকটি গ্রামের মানুষ পানেশ্বর পাড়ার মানুষদের গোরস্থানটি ব্যবহার করতে দেবে না বলে হুমকি দেয়। এরপর পানেশ্বর পাড়ার লোকজন সেখানে পৌঁছালে মারামারি শুরু হয়।

    রংছাতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাবুল পাঠান ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক উল্লেখ করে জানান, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত ওই গোরস্থানের সার্বিক তত্ত্বাবধান ইউনিয়ন পরিষদ করবে। উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকা বর্তমানে থমথমে থাকলেও পুরোপুরি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • কুলাউড়ায় ট্রেনে কাটা পড়ে যুবতীর মৃত্যু

    কুলাউড়ায় ট্রেনে কাটা পড়ে যুবতীর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় আন্তঃনগর পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে এক অজ্ঞাতপরিচয় যুবতীর মৃত্যু হয়েছে।

    শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার আউটার সিগন্যালের নিকটবর্তী রেলক্রসিং এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।

    কুলাউড়া রেলওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে লাশের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে লাশ ময়নাতদন্ত করা হবে।

  • মির্জাপুরে বসতঘর থেকে মা-মেয়ের লাশ উদ্ধার

    মির্জাপুরে বসতঘর থেকে মা-মেয়ের লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বসতঘর থেকে মা ও চার বছরের মেয়ের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার আনাইতারা ইউনিয়নের ধুপুরিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন, ধুপুরিয়া গ্রামের রাজমিস্ত্রি রাজীব হোসেনের স্ত্রী কনিকা আক্তার (২২) ও তাদের চার বছরের মেয়ে রাজিয়া।

    পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, প্রায় ছয় বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে রাজীব ও কনিকার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। বৃহস্পতিবার রাতে রাজীব হোসেন সিলেটে বেড়াতে যান। শুক্রবার সকালে কনিকা তার মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে শ্বশুর নাজিমউদ্দিন ও শাশুড়ি তাকে বাবার বাড়িতে যেতে বাধা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়।

    বাড়িতে ফিরে কনিকা মেয়েকে নিয়ে বসতঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন। কিছুক্ষণ পর ঘরের ভেতর থেকে শিশু রাজিয়ার চিৎকার শুনতে পান স্থানীয়রা। পরে দরজা ভেঙে কনিকাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তারা। একই ঘরের মেঝেতে শিশুটিকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে এলাকাবাসী শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মা ও মেয়ের লাশ উদ্ধার করে।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, পারিবারিক কলহের জেরে মেয়েকে হত্যা করে কনিকা আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। নিহতদের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

  • ট্রেনের ছাদ থেকে নামার সময় দুই বগির মাঝে পড়ে যুবক নিহত

    ট্রেনের ছাদ থেকে নামার সময় দুই বগির মাঝে পড়ে যুবক নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নরসিংদী রেলস্টেশনে তিতাস কমিউটার ট্রেনের ছাদ থেকে নামার সময় দুই বগির মাঝে পড়ে মো. আমীর হোসেন (২৬) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।

    শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ট্রেনটি স্টেশন ছেড়ে যাওয়ার সময় শত শত মানুষের চোখের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত ওই যুবকের নাম মো. আমীর হোসেন (২৬)। তিনি নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদী থানাধীন নগর বানিয়াদী এলাকার মৃত সামসুল হকের ছেলে।

    রেলওয়ে পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে দুই বন্ধুর সঙ্গে আমীর হোসেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় কেল্লা শাহের মাজারে গিয়েছিলেন। তারা রাতভর সেখানে থেকে সকালে তিতাস কমিউটারের ছাদে উঠে ফিরছিলেন। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ট্রেনটি নরসিংদী রেলস্টেশনে যাত্রাবিরতি দেয়। এ সময় প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যেই অনেক মানুষ ছাদ থেকে নামছিলেন। এদিকে ট্রেন পুনরায় যাত্রা শুরু করলে তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে ট্রেনের দুই বগির মাঝখানে পড়ে যান। পরে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ফরিদা গুলশানারা কবির জানান, ট্রেনে কাটা পড়া ওই ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। পরে তার লাশ রেলওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

    আমীরের ঠিক আগে ট্রেনের ছাদ থেকে নেমেছেন তার বন্ধু আক্রাম হোসেন। তিনি বলেন, একসঙ্গেই আমরা তিন বন্ধু কেল্লা শাহর মাজারে গিয়েছিলাম। ভোরে ট্রেনে ওঠার সময় প্রচণ্ড ভিড়ে ভেতরে যেতে না পেরে ট্রেনের ছাদে উঠি। নরসিংদী আসার পর দুজন ছাদ থেকে নামতে পারলেও আমীর পারেনি। চলতে শুরু করা ট্রেনের দুই বগির মাঝে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে। চোখের সামনেই তার মৃত্যু দেখলাম।

    নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক দিলীপ চন্দ্র সরকার বলেন, তিতাস কমিউটারের ছাদ থেকে দুই বগির মাঝখানে পড়ে ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তার পরিবারের সদস্যদের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিনা ময়নাতদন্তে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • দেওয়ানগঞ্জে গাছের নিচে চাপা পড়ে ৯০ বছরের বৃদ্ধার মৃত্যু

    দেওয়ানগঞ্জে গাছের নিচে চাপা পড়ে ৯০ বছরের বৃদ্ধার মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে গাছের নিচে চাপা পড়ে সমীরণ বেওয়া (৯০) নামে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে।

    শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দেওয়াগঞ্জ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর কালিকাপুর ফকিরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত সমীরণ স্থানীয় ফকিরপাড়া গ্রামের মরহুম গোলাপ শেখের স্ত্রী।

    জানা গেছে, বেশ কদিন ধরে কালিকাপুর ফকিরপাড়া গ্রামে ব্যাপক লোডশেডিং চলছে। শুক্রবার প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ হয়ে বৃদ্ধা সমীরণ বাড়ির পাশে এক গাছের নিচে বিশ্রাম নিতে বসেন। এ সময় হঠাৎ গাছটি তার ওপর ভেঙে পড়ে। চিৎকার শুনে আশেপাশের লোকজন ছুটে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আনোয়ার হোসেন নয়া দিগন্তকে জানান, এ ব্যাপারে পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কেউ কোনো অভিযোগ করেনি।

  • মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের অবস্থান ছিল ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে: মতিউর রহমান আকন্দ

    মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের অবস্থান ছিল ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে: মতিউর রহমান আকন্দ

    ‘মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ নয়, বরং ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে’ জামায়াতের অবস্থান ছিল বলে মন্তব্য করেছেন দলটির নির্বাহী কমিটির সদস্য মতিউর রহমান আকন্দ।

    শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে আয়োজিত এক প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, “যুদ্ধ জয়ের পর স্বাধীন দেশের কাছে আত্মসমর্পণ না করে ভারতীয় বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করা ছিল ষড়যন্ত্রের নীলনকশার বাস্তবায়ন। এ কারণে ভারতীয় সেনাবাহিনীর অধীনে যুদ্ধ করতে জামায়াত প্রস্তুত ছিল না।”

    তিনি বলেন, “দেশের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে জামায়াত প্রস্তুত রয়েছে।”

    দেশের স্বার্থে দলটির নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

    প্রতিনিধি সম্মেলনে বিএনপির সমালোচনা করে মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, “খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে ড. কামাল হোসেনের জোটে গিয়ে নির্বাচন করতে চাওয়া বিএনপি এখন জামায়াতকে ‘গুপ্ত’ বলে।”

    তিনি বলেন, “যারা জামায়াতকে ‘গুপ্ত’ বলছে, তারাই হারিয়ে যাবে।”

    ইসলামি আন্দোলনকে বিদায় করা যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    এ সময় তিনি জামায়াতের নেতা-কর্মীদের কেন্দ্রভিত্তিক মজবুত সংগঠন গড়ে তোলার আহ্বান জানান। আসন্ন নির্বাচনে যাতে কেউ ভোট ডাকাতি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকারও আহ্বান জানান তিনি।

  • তানজিদ–নাজমুলের পর আবার হাসান, ডারউইনে দ্বিতীয় দিনও বাংলাদেশের

    তানজিদ–নাজমুলের পর আবার হাসান, ডারউইনে দ্বিতীয় দিনও বাংলাদেশের

    ছয় সেশনের মধ্যে কেবল একটিতেই একটু হাসি–আনন্দ করতে পারল অস্ট্রেলিয়ানরা। সেটিও আজ দিনের শেষ সেশনে। সারা দিনে বাংলাদেশের যে পাঁচটি উইকেট অস্ট্রেলিয়া নিতে পেরেছে, এই সেশনেই এসেছে তার তিনটি। এটুকু বাদ দিলে ডারউইন টেস্টের প্রথম দিনের মতো আজ দ্বিতীয় দিনটাও ছিল বাংলাদেশেরই।

    একটি সেঞ্চুরি, একটি সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগানো ইনিংস, একটি শতোর্ধ্ব রানের জুটি এবং শতরানের কাছাকাছি আরেকটি জুটি মিলিয়ে বোলিংয়ের মতো প্রথম ইনিংসের ব্যাটিংয়েও বাংলাদেশের জ্বলজ্বলে পারফরম্যান্স। হাসান মাহমুদের আগুনে পুড়ে গতকাল অস্ট্রেলিয়া অলআউট হয় ১৯৮ রানে। আজ দ্বিতীয় দিন শেষে ৬ উইকেটে ৩৫১ রান করে বাংলাদেশ এগিয়ে ১৫৩ রানে। ডারউইনে এমন কিছুর জন্য নিশ্চয়ই প্রস্তুত ছিল না অস্ট্রেলিয়া। তবে দ্বিতীয় দিন শেষের সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশকেই কৃতিত্ব দিয়ে গেছেন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার বো ওয়েবস্টার।

    বাংলাদেশকে এমন দিন এনে দেওয়ার মূল কৃতিত্ব ওপেনার তানজিদ হাসান ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেনের। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নেমেই তানজিদ করেছেন প্রথম সেঞ্চুরি। তাঁর ১৯৭ বলে ১০১ রানের ইনিংসটি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেই টেস্টে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের প্রথম সেঞ্চুরি। নাজমুল শতরানের দেখা পাননি, তবে বাংলাদেশের আরেকটি ভালো দিনে ১২৬ বলে তাঁর ৮৪ রানের ইনিংসেরও আছে বড় ভূমিকা।

    ডারউইনে এখন শীতকাল হলেও সেই শীতের ধরনটা কেমন, তা বোঝা গেল আজ দুপুরে স্টেডিয়ামের বড় পর্দায় ভেসে ওঠা এক সতর্কবার্তায়; যাতে বলা হয়েছে, তাপমাত্রা অনেক বেশি। সবাই যেন পর্যাপ্ত পানি পান করে এবং সানস্ক্রিন ব্যবহার করে।

    সেঞ্চুরির কাছাকাছি গিয়ে আউট হন নাজমুল

    নাজমুল যে সময়ে উইকেটে আসেন, ডারউইনের এই গা জ্বালানো রোদের ‘শীতে’ও বাংলাদেশের ইনিংসে তখন বসন্তের হাওয়া। জশ হ্যাজলউডের করা অফ স্টাম্পের বেশ বাইরের বলে মারতে গিয়ে প্রথম সেশনে মুমিনুল হক কট বিহাইন্ড হয়ে যান ফিফটি থেকে মাত্র ১ রান দূরে থাকতে। কিন্তু যাওয়ার আগে দ্বিতীয় উইকেটে তানজিদের সঙ্গে গড়ে দিয়ে যান ১০২ রানের জুটি। বাংলাদেশের সাড়ে তিন শ পেরিয়ে যাওয়ার প্রথম ভিত গড়ে দিয়েছিল সেটাই।

    স্কোরবোর্ডে ২ উইকেটে ১৩৮ রান, উইকেট তখনো বেশ ব্যাটিং–বান্ধব। মুমিনুল ফিরে যাওয়ার পর তানজিদের সঙ্গে অধিনায়ক নাজমুলের কাজ ছিল আরেকটি বড় জুটির সঙ্গী হওয়া, নিজেও বড় ইনিংস খেলা।

    দুটিতেই সফল বলতে হবে তাঁকে। তানজিদের সেঞ্চুরির একটু আগেই নাজমুল পূর্ণ করেন নিজের ফিফটি, সেঞ্চুরির পরপর তানজিদ আউট হওয়ার আগে তৃতীয় উইকেটে দুজনের জুটি দাঁড়ায় ৯৩ রানের। নাথান লায়নের একটা বল লং অফে পাঠিয়ে ১ রান নিয়ে নাজমুল ফিফটি পেয়ে যান ৭৪ বল খেলেই।

    সেঞ্চুরি করে উদ্‌যাপন তানজিদের

    টেস্ট ক্রিকেটে এর আগে ১৫ বার ফিফটি করে ৯ বারই তিন অঙ্কে পৌঁছেছেন। নাজমুলের ফিফটি হলেই তাই সেঞ্চুরির সুবাস ছড়াতে শুরু করে। ডারউইন টেস্টেও তা হলে বাংলাদেশের স্বপ্নের পরিধিটা আরও বড় হতে পারত। কিন্তু হ্যাজলউড নতুন বল হাতে নেওয়ার পরই ছোটখাটো একটা বিপর্যয়, নাজমুলকে দিয়েই যার শুরু।

    নতুন বলে একটু বেশি বাউন্স পেয়েছিলেন হ্যাজলউড। অফ স্টাম্পের বাইরের সে বলটা ঠিকঠাক সামলাতে না পেরে স্লিপে স্মিথের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরতে নয় নাজমুলকে। তাতে ভেঙে যায় মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে তাঁর ৯৮ বলে ৬৬ রানের জুটি।
    দলের ২৯৭ রানে নাজমুল আউট হয়েছেন ৮২তম ওভারে। এরপর ৮৫ ও ৮৬তম ওভারে কামিন্স আর মিচেল স্টার্কের বলে বাংলাদেশে হারায় আরও দুই স্বীকৃত ব্যাটসম্যান লিটন দাস আর মুশফিকুর রহিমকে। ৩ উইকেটে ২৯৭ থেকে বাংলাদেশের স্কোর মাত্র ৫ ওভারের মধ্যে হয়ে যায় ৩০৮/৬।

    দিনের তখনো অনেকটা খেলা বাকি ছিল বলে মনে হচ্ছিল, বাংলাদেশ হয়তো অলআউটই হয়ে যাবে আজ। ব্যাট করার মতো আর তো ছিলেন কেবল মেহেদী হাসান মিরাজ, অন্যদের মূল পরিচয় বোলার।

    কিন্তু বল হাতে ৬ উইকেট নেওয়া হাসান মাহমুদ ব্যাট হাতেও মিরাজের সঙ্গে এমনই দেয়াল হয়ে দাঁড়ালেন যে বাংলাদেশকে অলআউট করতে অপেক্ষায় থেকেই দিন শেষ হলো অস্ট্রেলিয়ার।

    পাকা ব্যাটসম্যানের মতোই খেলেন হাসান মাহমুদ

    সপ্তম উইকেটে ২৪.৩ ওভার অবিচ্ছিন্ন থেকেছে মিরাজ–হাসানের সপ্তম উইকেট জুটি; এই সময়ে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে যোগ হয়েছে আরও ৪৩ রান। ৭৩ বলে ৩২ রানে অপরাজিত মিরাজের সঙ্গে হাসানের স্কোরটাই বেশি বিস্ময় জাগায়। দুটি বাউন্ডারি মেরে তিনি অপরাজিত ১৬ রানে, তবে অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের চরম হতাশা উপহার দিয়ে বল খেলেছেন ৭৬টি। শেষ দিকে আর উইকেট ফেলতে না পেরে অন্য পথেও গিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটাররা। কিন্তু তাঁদের স্লেজিং মনঃসংযোগে কোনো ব্যাঘাতই ঘটাতে পারেনি মিরাজ–হাসানের।

    সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ১১০ ওভারে ৩৫১/৬ (তানজিদ ১০১, নাজমুল ৮৪, মুমিনুল ৪৯, মুশফিক ৩৬, মিরাজ ৩২*, হাসান ১৩* ; স্টার্ক ২/৬৮, হ্যাজলউড ২/৬৮, কামিন্স ১/৫০)। অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস: ১৯৮। —দ্বিতীয় দিন শেষে।

  • বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে বিএনপির কর্মসূচি ঘোষণা

    বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে বিএনপির কর্মসূচি ঘোষণা

    সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে দেশব্যাপী দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

    শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচির কথা জানানো হয়।

    কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামীকাল শনিবার (১৫ আগস্ট) ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় দলীয় কার্যালয় অথবা মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল আয়োজন করা হবে। এসব কর্মসূচিতে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা অংশ নেবেন।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে ঢাকাসহ সারা দেশে বিএনপি এবং দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এসব দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

    কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার সকাল ১১টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এতে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত থাকবেন বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

    এ ছাড়া রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা, মহানগর, উপজেলা ও অন্যান্য পর্যায়ে দলীয় কার্যালয় কিংবা স্থানীয় মসজিদে অনুরূপ কর্মসূচি পালনের কথা রয়েছে।

    দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং সমর্থকদের এসব আয়োজনে অংশ নেয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে দলটি।

  • আমদানি নীতিতে বড় ছাড়, বাড়ছে বাণিজ্য অর্থায়নের সুযোগও

    আমদানি নীতিতে বড় ছাড়, বাড়ছে বাণিজ্য অর্থায়নের সুযোগও

    আমদানি-সংক্রান্ত আগের বিভিন্ন নির্দেশনা একীভূত ও হালনাগাদ করে জারি করা নতুন সংকলিত প্রজ্ঞাপনে এলসি ছাড়াই আমদানি, দীর্ঘমেয়াদি বাকিতে কাঁচামাল ও মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি, সাপ্লাই চেইন ফাইন্যান্স, ডিজিটাল বাণিজ্য নথি এবং ফ্রি ট্রেড জোনে (এফটিজেড) আমদানির সুযোগ বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার সুদহার ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় ফরওয়ার্ড রেট এগ্রিমেন্টের (এফআরএ) সুযোগও দেয়া হয়েছে।

    গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে ২০২৫ সালের ১৪ আগস্টের আমদানি-সংক্রান্ত সংকলিত প্রজ্ঞাপন এবং পরবর্তী সময়ে জারি করা নির্দেশনাগুলো একত্র করা হয়েছে। নতুন প্রজ্ঞাপন কার্যকর হওয়ার সঙ্গে আগের সংকলিত প্রজ্ঞাপন বাতিল করা হয়েছে। তবে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের গাইডলাইনস ভলিউম-২-এর রিপোর্টিং-সংক্রান্ত নির্দেশনা বহাল থাকবে। প্রজ্ঞাপনটি এক বছর কার্যকর থাকবে।

    নতুন নীতিমালার অন্যতম বড় পরিবর্তন হলো এলসি-নির্ভরতার বাইরে আমদানি অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানো। নির্ধারিত শর্তে ডকুমেন্টারি কালেকশনের আওতায় ডকুমেন্টস এগেইনস্ট পেমেন্ট (ডিপি) ও ডকুমেন্টস এগেইনস্ট অ্যাকসেপ্টেন্স (ডিএ) পদ্ধতিতে আমদানি করা যাবে। ক্রয় বা বিক্রয় চুক্তির আওতায় এলসি ছাড়াও আমদানির সুযোগ রাখা হয়েছে। বাণিজ্যিক আমদানিতে নির্ধারিত সীমার মধ্যে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের ইউজেন্স বা বিলম্বিত পরিশোধের সুবিধাও দেয়া হয়েছে।

    শিল্প খাতের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা এসেছে কাঁচামাল আমদানিতে। নিজস্ব ব্যবহারের জন্য কাঁচামাল আমদানিতে সর্বোচ্চ ২৭০ দিনের ইউজেন্স সুবিধা দেয়া হয়েছে। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত ক্যাশ কনভার্সন সাইকেল এর চেয়ে কম হলে সেই সময়সীমাই প্রযোজ্য হবে। কৃষি যন্ত্রপাতি ও রাসায়নিক সার আমদানিতেও ২৭০ দিনের ইউজেন্স সুবিধা রাখা হয়েছে। স্পেয়ার পার্টস, জাহাজ স্ক্র্যাপিংয়ের জন্য জাহাজ, এপিআই ও ল্যাবরেটরি রিএজেন্টসহ কয়েকটি পণ্যে সর্বোচ্চ ৩৬০ দিন এবং জীবন রক্ষাকারী ওষুধ ও কিছু মেডিকেল সরঞ্জামে ১৮০ দিন পর্যন্ত বাকিতে আমদানির সুযোগ রয়েছে।

    মূলধনি যন্ত্রপাতি ও মূলধনি পণ্য আমদানিতে সর্বোচ্চ তিন বছর মেয়াদি ইউজেন্স সুবিধা দেয়া হয়েছে। ইপিজেড, প্রাইভেট ইপিজেড, অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাই-টেক পার্কসহ সরকারি ঘোষিত বিশেষায়িত অঞ্চলের শিল্পপ্রতিষ্ঠানও এ সুবিধা পাবে। এতে আমদানির সময় এককালীন অর্থ পরিশোধের চাপ কমার পাশাপাশি শিল্পের কার্যকরী মূলধন ব্যবস্থাপনাও সহজ হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    আমদানির আগাম অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রেও কিছুটা ছাড় দেয়া হয়েছে। গ্রহণযোগ্য ব্যাংক গ্যারান্টি থাকলে নির্ধারিত শর্তে আগাম অর্থ পরিশোধ করা যাবে। ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত আগাম পরিশোধে রিপেমেন্ট গ্যারান্টির প্রয়োজন হবে না। জরুরি ক্ষেত্রে নির্ধারিত সীমার বেশি আগাম অর্থ পরিশোধের অনুমোদনের আবেদনও করা যাবে।

    সাপ্লাই চেইন ফাইন্যান্স সম্প্রসারণেও গুরুত্ব দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বায়ার্স ক্রেডিট, সাপ্লায়ার্স ফাইন্যান্সিং ও পে-এবলস ফাইন্যান্সিংয়ের মতো ব্যবস্থার মাধ্যমে আমদানি অর্থায়নের বিকল্প বাড়ানোর সুযোগ দেয়া হয়েছে। এতে আমদানিকারকের পাশাপাশি বিদেশী সরবরাহকারীরও দ্রুত অর্থপ্রাপ্তির সুযোগ তৈরি হবে।

    এদিকে এফটিজেডে আমদানি বাণিজ্যের জন্য পৃথক কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। এফটিজেডের উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ ও রফতানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি অনুমোদিত ট্রেডার ও লজিস্টিকস সেবা প্রদানকারীরাও আমদানি করতে পারবে। কনসাইনমেন্ট ভিত্তিতে আমদানি করা পণ্য নির্দিষ্ট শর্তে ৪৮-৬০ মাস পর্যন্ত সংরক্ষণের সুযোগ রাখা হয়েছে।

    বাণিজ্যের ডিজিটাল রূপান্তরেও নতুন নীতিমালায় গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট শর্তে ইনভয়েস, পরিবহন নথি ও অন্যান্য বাণিজ্যিক দলিল ইলেকট্রনিকভাবে গ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে। অনুমোদিত বাণিজ্য করিডোরে ডিজিটাল ট্রেড ডকুমেন্টের পাইলট কার্যক্রম চালুর সুযোগও দেয়া হয়েছে। ইলেকট্রনিক বিল অব লেডিং, বাণিজ্যিক ইনভয়েস ও বিল অব এক্সচেঞ্জ এ ব্যবস্থার আওতায় আসবে।

  • সীতাকুণ্ডে জাহাজের গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ, দুই সহোদরসহ মৃত বেড়ে ৮

    সীতাকুণ্ডে জাহাজের গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ, দুই সহোদরসহ মৃত বেড়ে ৮

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একটি এলএনজিবাহী পুরাতন জাহাজ কাটিংকালে বিষাক্ত গ্যাসের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনায় দুই সহোদরসহ আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো ৩০ শ্রমিক। তবে নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

    শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার ভাটিয়ারী স্টেশন রোড সমুদ্র উপকূলে মো: লোকমানের মালিকানাধীন ফেরদৌস গ্রিন শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় এলাকাবাসীরা জানান, সকাল ৮টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটলেও ইয়ার্ডের কর্তৃপক্ষ উদ্ধারকাজে বাইর থেকে কাউকে ঢুকতে দেয়নি এবং ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চালায়। যার কারণে হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যায়।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি লোকমানের মালিকানাধীন ফেরদৌস গ্রিন শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে একটি পুরাতন এলএনজিবাহী জাহাজ কাটিং করার জন্য আনা হয়। সেটি কাটিং করতে যান ইয়ার্ডে কর্মরত প্রায় ৩৫ জন শ্রমিক।

    স্থানীয় বাসিন্দা আলী আজগর জানান, শ্রমিকরা তখন জাহাজের ভেতরে ঢুকে কাটিং করার শুরুতে গ্যাসের ট্যাঙ্ক থেকে কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস নিঃসরণ হতে শুরু করে এবং একপর্যায়ে সেটির বিস্ফোরণ ঘটে। কাটিংকালে কোনো সেফটির ব্যবস্থা না থাকায় শ্রমিকরা বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই তিন শ্রমিকের মৃত্যু হয়।

    তিনি আরো জানান, খবর পেয়ে এলাকাবাসী অন্য শ্রমিকদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে আরো পাঁচজনের মৃত্যু হয় বলে জানান চমেক হাসপাতালের কর্তব্যরত ডা: ইশতিয়াক আহম্মেদ।

    মারা যাওয়া আট শ্রমিকের মধ্যে সাতজনের নাম-পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন— সানি জলদাস (২৩), পলাশ জলদাস (২৬), দুই সহোদর মনসুর আলী (৪১) ও নাসির উদ্দিন (৩৭), হাবিবুর রহমান, মো: রানা (২৫) ও মো: সানি। তারা সবাই ভাটিয়ারি এলাকার বাসিন্দা। দুর্ঘটনায় আরো অন্তত ৩০ জন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

    ইয়ার্ডের ম্যানেজার মোহাম্মদ ইউসুফের দাবি, শুক্রবার ইয়ার্ড বন্ধ ছিল। কিন্তু সকাল ১০টার সময় স্ক্র্যাপ এলএনজি জাহাজের একটি ট্যাঙ্ক লিকেজ হয়। খবর পেয়ে স্থানীয় বহিরাগত কিছু লোক তা দেখতে আসে। এ সময় জমে থাকা গ্যাসে কয়েকজনের মৃত্যু ও কয়েকজন আহত হন।

    স্থানীয় জেলে সর্দার চাঁদ জলদাস জানান, কারখানাটির ভেতর থেকে বের হওয়া গ্যাসের গন্ধের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে, সাগরে ইলিশ ধরতে যাওয়া জেলেরা কারখানাটির পাশের খালে প্রবেশ করতে পারেননি। তাদের অন্তত আধা কিলোমিটার দূরে গিয়ে ঘাটে নৌকা ভেড়াতে হয়েছে।

    স্থানীয় বাসিন্দা ইব্রাহিম মাহমুদ বলেন, হঠাৎ কারখানার ভেতর থেকে মানুষের চিৎকার শুরু হয়। তারা কারখানা এলাকায় গেলে দেখতে পান, অসুস্থ কিছু লোককে গাড়িতে তুলে হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে। এরপর জাহাজের ভেতরে কয়েকজন মৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা কারখানার ভেতরে ঢোকেন। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

    নিহত দুই সহোদর মনছুর ও নাছিরের ভগ্নিপতি মহিউদ্দিন কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, মাত্র কয়েক দিন আগেও কারখানায় কাজ করতে কষ্ট হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন মনছুর ও নাছির। এমনকি চাকরি ছেড়ে দেয়ার কথাও বলেছিলেন। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত নেয়ার আগেই ভয়াবহ বিস্ফোরণে প্রাণ হারালেন তারা।

    নিহত খোকনের চাচা ও কারখানাটির সাবেক শ্রমিক আঙ্গুর আলী জানান, সকালে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখতে পান। বিস্ফোরণের পর শ্রমিকরা কারখানার ভেতরে এদিক-সেদিক ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিলেন। গ্যাসের কারণে প্রথম দিকে ভেতরে ঢোকাও সম্ভব হচ্ছিল না।

    সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো: ফখরুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত আটজনের মৃত্যু হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। নিহতদের পরিবারকে বিএসবিএ-এর পক্ষ থেকে ১০ লাখ টাকা করে দেয়া হবে।

    কুমিরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ আল মামুন জানান, বিস্ফোরণ ও বিষক্রিয়ায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

  • বিদ্যুৎ বিতরণ বেসরকারি খাতে গেলে যুগের পর যুগ ভুগতে হবে: তাসনিম জারা

    বিদ্যুৎ বিতরণ বেসরকারি খাতে গেলে যুগের পর যুগ ভুগতে হবে: তাসনিম জারা

    বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিলে সাধারণ মানুষকে দীর্ঘমেয়াদে ভোগান্তি পোহাতে হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেত্রী তাসনিম জারা। তার মতে, বেসরকারি কোম্পানির হাতে বিদ্যুৎ বিতরণ গেলে গ্রাহকের সামনে বিকল্প সরবরাহকারী বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকবে না। ফলে ন্যায্য দাম ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হতে পারে।

    বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

    ফেসবুক পোস্টে তাসনিম জারা বলেছেন, সরকার বিদ্যুৎ বিতরণ বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। এর অর্থ হলো, কোনো এলাকায় বিদ্যুতের যে তার যায়, বাসায় যে মিটার বসে এবং মাস শেষে যে বিল আসে, এসবের নিয়ন্ত্রণ বেসরকারি কোম্পানির হাতে চলে যাবে।

    ‘চাল-ডাল কেনার সময় কোনো দোকানদার বেশি দাম চাইলে ক্রেতা পাশের দোকানে যেতে পারেন। বিকল্প থাকার কারণে দোকানদারও ন্যায্য দাম রাখার চাপ অনুভব করেন। কিন্তু বিদ্যুতের ক্ষেত্রে এমন সুযোগ থাকবে না’, বলছিলেন তাসনিম জারা।

    তার ব্যাখ্যা, কোনো এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য চারটি কোম্পানি চার সেট খুঁটি ও তার বসাবে না। ফলে গ্রাহকের সামনে বিভিন্ন কোম্পানির সেবা ও দাম তুলনা করে পছন্দ করার সুযোগও থাকবে না।

    একটি নির্দিষ্ট এলাকার বিদ্যুতের তার যে কোম্পানির মালিকানায় থাকবে, গ্রাহককে সেই কোম্পানির কাছ থেকেই বিদ্যুৎ নিতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    বিষয়টি বোঝাতে চাল-ডালের দোকানের উদাহরণ দেন তাসনিম জারা। তিনি বলেছেন, কোনো মহল্লায় যদি মাত্র একটি চাল-ডালের দোকান খোলার অনুমতি থাকে এবং দ্বিতীয় দোকান খোলার সুযোগ না থাকে, তাহলে ওই দোকানদার কি দাম কমাবেন? তার মতে, কমাবেন না।

    তবে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিদ্যুৎ বিতরণ বেসরকারি কোম্পানির হাতে রয়েছে, এমন উদাহরণের কথাও স্বীকার করেছেন তিনি।

    তাসনিম জারা বলছিলেন, এসব দেশে কঠিন নিয়ন্ত্রক সংস্থা রয়েছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো ইচ্ছেমতো কিছু করতে পারে না। নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাজ জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা এবং তারা স্বাধীনভাবে সেই দায়িত্ব পালন করে।

    উদাহরণ হিসেবে ব্রিটেনের কথা তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, সেখানে ঝড়ে বিদ্যুতের লাইন বিচ্ছিন্ন হলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা পুনরায় চালু করতে না পারলে তারের কোম্পানিকে গ্রাহককে নির্দিষ্ট পরিমাণ ক্ষতিপূরণ দিতে হয়। এই ক্ষতিপূরণের জন্য গ্রাহককে আলাদাভাবে আবেদন করতে হয় না। কোম্পানিকেই তা দিতে হয়। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    দেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর স্বাধীনতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তাসনিম জারা। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদাহরণ দিয়ে বলছিলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বছরের পর বছর প্রকাশ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সুদের হার কমানোর দাবি জানিয়েছেন। নিজের নিয়োগ দেওয়া গভর্নরকে প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছেন এবং বরখাস্তের হুমকিও দিয়েছেন। কিন্তু তাতে কাজ হয়নি।

    এরপর বাংলাদেশের প্রসঙ্গ টেনে তাসনিম জারা প্রশ্ন রাখেন, দেশের কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থা কখনো সরকারের মুখের ওপর না বলেছে কি না। তার মতে, এমন উদাহরণ মনে করা কঠিন। বরং এর বিপরীত ঘটনাই বেশি মনে পড়বে।

    বিদ্যুৎ বিতরণ সরকারি হাতে থাকলে ব্যর্থতার দায় নির্ধারণ করা তুলনামূলকভাবে সহজ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাসনিম জারার ভাষ্য, লোডশেডিং হলে বা অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল এলে সরকারের দায় থাকে। একই সঙ্গে নির্বাচনে হারার ভয়ও থাকে।

    জারা বলছিলেন, কিন্তু বেসরকারি কোম্পানির ক্ষেত্রে সেই জবাবদিহির পথও বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে মনে করেন তিনি। কারণ, বেসরকারি কোম্পানি জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। ভোট দিয়ে তাদের সরানোরও সুযোগ নেই।

    একই সঙ্গে বাজারে বিকল্প প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকলে গ্রাহকের অন্য কোনো কোম্পানির সেবা নেওয়ার সুযোগও থাকবে না বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    ফেসবুক পোস্টের শেষে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির বিষয়টি তুলে ধরেন তাসনিম জারা। তিনি বলেছেন, এসব চুক্তি সাধারণত ২০-২৫ বছরের জন্য হয়। একবার চুক্তি হয়ে গেলে সরকার পরিবর্তন হলেও তা সহজে পরিবর্তন হয় না। ফলে বর্তমান সরকারের নেওয়া কোনো সিদ্ধান্তের প্রভাব যুগের পর যুগ মানুষকে বহন করতে হতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।

  • ভারতের জায়গায় ফিফা আসিয়ান কাপে খেলতে চায় বাংলাদেশ

    ভারতের জায়গায় ফিফা আসিয়ান কাপে খেলতে চায় বাংলাদেশ

    সুযোগটা হঠাৎই এসেছে বাংলাদেশের সামনে। ফিফার অর্থায়নে ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠেয় আসিয়ান কাপের অংশ হওয়ার পথে বাংলাদেশ। মূলত ভারতের সরে দাঁড়ানোতেই খুলেছে এই দরজা। শেষ মুহূর্তে পাওয়া আমন্ত্রণ গ্রহণের ব্যাপারে আজ ইতিবাচক সিদ্ধান্তের দিকেই এগিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।

    আজ বিকেলে জাতীয় দল কমিটির বিশেষ সভায় টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় উপস্থিত কমিটির সদস্যরা বাংলাদেশকে আসিয়ান কাপে পাঠানোর ব্যাপারে সম্মতি জানিয়েছেন। এখন ফিফার নিশ্চয়তার অপেক্ষা।

    বাংলাদেশের জন্য এই টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার সবচেয়ে বড় সুবিধা, এ নিয়ে বাফুফেকে বাড়তি আর্থিক চাপ নিতে হচ্ছে না। আয়োজকদের পক্ষ থেকেই অংশগ্রহণকারী দলগুলোর যাতায়াত ও আবাসনের খরচ বহন করা হবে। টুর্নামেন্টের জন্য দলগুলোকে অর্থও দেওয়া হবে।

    ফিফার অর্থায়নে ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর ইন্দোনেশিয়ায় হবে টুর্নামেন্টের ডিভিশন-১। অংশগ্রহণকারী ৮ দলকে দুটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি গ্রুপে চারটি করে দল। ভারতের জায়গায় বাংলাদেশ গ্রুপ পর্বে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে একটি করে ম্যাচ খেলবে।

    এই টুর্নামেন্টের ফরম্যাটেও রয়েছে ভিন্নতা। গ্রুপ পর্ব শেষে দুই গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দল সরাসরি খেলবে ফাইনালে। শুধু শিরোপার লড়াইয়েই শেষ নয় প্রতিযোগিতা। দুই গ্রুপের রানার্সআপ দল খেলবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে। দুই গ্রুপের তৃতীয় হওয়া দলগুলো মুখোমুখি হবে পঞ্চম স্থান নির্ধারণী ম্যাচে। আর গ্রুপে চতুর্থ হওয়া দল দুটি খেলবে সপ্তম স্থান নির্ধারণী ম্যাচ। তাই টুর্নামেন্টে চারটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে বাংলাদেশ।

    ৩ অক্টোবর কলকাতায় ব্রাজিলের বিপক্ষে খেলবে ভারত। সেই ম্যাচকে সামনে রেখে আসিয়ান কাপ থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করেছে তারা। ফলে ফিফার নতুন এই টুর্নামেন্টে ভারতের ফাঁকা জায়গায় বাংলাদেশের জন্য সুযোগ তৈরি হয়েছে।

  • সেনাবাহিনীতে ধর্মভীরুতা:কর্নেল মো. শাহজাহান মোল্লা, পিএসসি (অব.)

    সেনাবাহিনীতে ধর্মভীরুতা:কর্নেল মো. শাহজাহান মোল্লা, পিএসসি (অব.)

    একটা কথা দুর্মুখেরা প্রায়ই বলে থাকেন যে সামরিক বাহিনী দিন দিন ধর্মীয় বলয়ে ঢুকছে। কেউ মৌলবাদের গন্ধ ও খোঁজার চেষ্টা করেন। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠের দেশে সেনাসদস্যরা বেশির ভাগ মুসলিম পরিবার থেকেই আসে। তাদের স্বাভাবিক ধর্মকর্মের চর্চা স্বাভাবিক। তারপরও ইলেকট্রনিক যুগে যেকোনো তথ্যের কাছে দ্রুত পৌঁছা উৎসাহব্যঞ্জক। জ্ঞান-বিজ্ঞানের আদান-প্রদান তথ্যপ্রবাহকে করেছে আরো গতিময়। সেনাবাহিনীতে দীর্ঘকাল থেকে উপলব্ধি করেছি সেনাসদস্যরা আগের চেয়ে বর্তমানে ধর্মচর্চার ব্যাপারে আরো আগ্রহী হওয়ার কারণ কী?

    সামরিক বাহিনীতে যোগদানকারী একজন তরুণ প্রথমে দেশপ্রেম, শৃঙ্খলা ও দেশসেবার আদর্শ নিয়ে প্রবেশ করে। কিন্তু কঠোর প্রশিক্ষণ শেষে যখন সে জাতীয় পতাকার সামনে দাঁড়িয়ে ধর্মগ্রন্থ স্পর্শ করে শপথগ্রহণ করে, তখন তার জীবনের দর্শনই বদলে যায়। সে উপলব্ধি করে, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করার পবিত্র দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছে। এই উপলব্ধি মানুষকে অহংকারী নয়, বরং বিনয়ী করে। আর বিনয় থেকেই জন্ম নেয় সৃষ্টিকর্তার প্রতি নির্ভরতা।

    আমার কর্মজীবনের বড় একটি অংশ কেটেছে মাঠপর্যায়ে, দুর্গম এলাকায় এবং অপারেশনাল পরিবেশে। বিশেষ করে, পার্বত্য চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালনকারী একজন সেনাসদস্য প্রতিদিন অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবন কাটান। কখন, কোথায়, কী পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে—তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। অনেক প্রিয় সহযোদ্ধা শহীদ হয়েছেন, অনেককে স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ববরণ করতে এবং অসংখ্য পরিবারকে প্রিয়জন হারানোর বেদনা বহন করতে দেখেছি। এমন বাস্তবতার মধ্যে একজন সৈনিকের সৃষ্টিকর্তার স্মরণে শান্তি খোঁজা খুবই স্বাভাবিক।

    অনেকে মনে করেন, সেনাসদস্যদের ধর্মচর্চা বুঝি কোনো প্রাতিষ্ঠানিক চাপের ফল। কিন্তু বাস্তব অভিজ্ঞতাসম্পূর্ণ ভিন্ন। দুর্গম পাহাড়ের নির্জন ক্যাম্পে দিনের অপারেশন শেষে বিনোদনের সুযোগ খুবই সীমিত। সে সময় অনেকেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে ধর্মীয় গ্রন্থ পড়েন, নামাজ আদায় করেন বা নিজ নিজ ধর্ম অনুযায়ী প্রার্থনা করেন। এটি আদেশের কারণে নয়; বরং মানসিক প্রশান্তি, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং আত্মিক শক্তি অর্জনের একটি ব্যক্তিগত উপায়।

    জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনেও একই অভিজ্ঞতা হয়েছে। কঠোর শৃঙ্খলা, নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এবং দায়িত্বপূর্ণ পরিবেশ একজন সৈনিককে আরো আত্মনিয়ন্ত্রিত করে তোলে। সেখানে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলা আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত। ব্যক্তিগত ধর্মীয় অনুশীলন সেনাসদস্যদের শৃঙ্খলাবোধকে আরো দৃঢ় করে।

    একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে বলা দরকার। বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী কোনো একটি ধর্মের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি সংবিধানের প্রতি অনুগত একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান। এখানে বিভিন্ন ধর্মের সদস্য একসঙ্গে কাজ করেন, একসঙ্গে প্রশিক্ষণ নেন, একসঙ্গে দেশের জন্য জীবন বাজি রাখেন। প্রত্যেকে নিজ নিজ ধর্ম পালনের অধিকার ভোগ করেন এবং সহকর্মীর ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতিও সমান শ্রদ্ধাশীল থাকেন। এই পারস্পরিক সম্মানই বাহিনীর শক্তির অন্যতম ভিত্তি।

    সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেনাপ্রধানের দাড়ি রাখা বা কোনো সেনাসদস্যের ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বিদ্রুপ করতে দেখা যায়। ব্যক্তিগত ধর্মীয় অনুশীলনকে রাজনৈতিক বা বিদ্বেষমূলক বিতর্কে টেনে আনা সমীচীন নয়। একজন সৈনিকের মূল্যায়ন হওয়া উচিত তার সততা, পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব এবং দেশের প্রতি দায়িত্ববোধের ভিত্তিতে—তার ব্যক্তিগত ধর্মীয় অনুশীলনের ভিত্তিতে নয়।

    আমার বিশ্বাস, মৃত্যুর ঝুঁকির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ জীবনের প্রকৃত মূল্য সবচেয়ে গভীরভাবে উপলব্ধি করে। একজন সৈনিক যখন সীমান্তে, পাহাড়ে বা শান্তিরক্ষা মিশনে দেশের পতাকা বুকে ধারণ করে দায়িত্ব পালন করেন, তখন তার কাছে দেশপ্রেম, শৃঙ্খলা, নৈতিকতা এবং সৃষ্টিকর্তার প্রতি বিশ্বাস—এগুলো পরস্পরবিরোধী নয়; বরং একে অন্যের পরিপূরক।

    এ কারণেই আমার কাছে সেনাসদস্যদের ধর্মীয় অনুশীলন কোনো বিস্ময়ের বিষয় নয়। এটি তাদের পেশাগত বাস্তবতা, আত্মিক শক্তি, নৈতিক চেতনা এবং দায়িত্ববোধের স্বাভাবিক প্রকাশ।

    লেখক : মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক পদাতিক কর্মকর্তা

  • আবারও পারভেজের ৫ উইকেট, সিরিজ বাংলাদেশের যুবাদের

    আবারও পারভেজের ৫ উইকেট, সিরিজ বাংলাদেশের যুবাদের

    এক দল বিনা উইকেটেই তুলে ফেলেছিল ৮৯ রান। আরেক দল ৫৮ রান তুলতেই হারায় ৫ উইকেট। তবে আজ রাজধানীর বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্সে জিতেছে দ্বিতীয় দলটিই। দ্বিতীয় দলটির নাম বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩। দ্বিতীয় এক দিনের ম্যাচে মালয়েশিয়া জাতীয় দলকে ৩ উইকেটে হারিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজটাও এক ম্যাচ হাতে রেখে জিতে নিয়েছে বাংলাদেশের যুবারা।

    প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের দলটির জয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতা শেখ পারভেজ জীবন আজও হয়েছেন ম্যাচসেরা। আগের ম্যাচের মতোই আজও ৫ উইকেট নিয়েছেন। প্রথম ম্যাচে ১৬ রানে ৫ উইকেট নেওয়া পারভেজ আজ ৮ ওভারে ২৩ রান দিয়েছেন।

    আসলাম খান মালিক ও সাইফ উল্লাহ মালিক মালয়েশিয়াকে উদ্বোধনী জুটিতে এনে দেন ৮৯ রান। ২৫ রান করা সাইফকে বোল্ড করে জুটি ভাঙেন পারভেজ। আসলাম এক প্রান্ত ধরে রাখলেও একের পর এক উইকেট হারিয়ে ১৭৬ রানে অলআউট মালয়েশিয়া। নয় নম্বর ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হওয়ার আগে ১০৭ বলে ঠিক ১০০ রান করেন আসলাম। সেঞ্চুরিয়ান আসলামকে বোল্ড করেই পঞ্চম উইকেট পেয়ে যান পারভেজ।

    রান তাড়ায় ৫৮ রানে ৫ উইকেট খোয়ানো বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দলকে উদ্ধার করে আহরার আমিন ও দেবাশিস সরকারের ৯২ রানের ষষ্ঠ উইকেট জুটি। দুজনই ফিফটিও পেয়েছেন। ৪১ বলে ৫ চার ও ৪ ছক্কায় ৫৮ রান করে দেবাশিস আউট হলেও দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন আহরার। ৭৬ বলে তাঁর ব্যাট থেকে আসে অপরাজিত ৫৭ রান। ৩১.৫ ওভারেই জয় পায় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল।

    সংক্ষিপ্ত স্কোর

    মালয়েশিয়া: ৩৮ ওভারে ১৭৬ (আসলাম ১০০, সাইফ ২৫; পারভেজ ৫/২৩, স্বাধীন ২/৩৬, রাহিন ২/৫২)।
    বাংলাদেশ অ-২৩ দল: ৩১.৫ ওভারে ১৭৭/৭ (দেবাশিস ৫৮, আহরার ৫৭*, ইকবাল ২৬; বিজয় ২/২৩, প্রশান্ত ২/২৬)।
    ফল: বাংলাদেশ অ-২৩ দল ৩ উইকেটে জয়ী।
    সিরিজ: ৩-ম্যাচ সিরিজে বাংলাদেশ অ-২৩ দল ২-০-তে এগিয়ে।
    ম্যান অব দ্য ম্যাচ: শেখ পারভেজ।

  • নিম্নচাপের প্রভাবে ঝড়ের আভাস

    নিম্নচাপের প্রভাবে ঝড়ের আভাস

    স্থল নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

    শুক্রবার (১৪ আগস্ট) এক সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

    আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, পশ্চিমবঙ্গের উপকূল ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত স্থল নিম্নচাপটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে ঝাড়খণ্ড ও এর কাছাকাছি গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে এগিয়ে ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এছাড়া নিম্নচাপটির প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর, সমুদ্রবন্দর এবং বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে চার সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

    এদিকে, উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

    ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত নৌযানসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

  • মাদকের টাকা না পেয়ে মাকে হত্যার অভিযোগ, ছেলে আটক

    মাদকের টাকা না পেয়ে মাকে হত্যার অভিযোগ, ছেলে আটক

    মনিরুজ্জামান মহেশপুর (ঝিনাইদহ)

    ঝিনাইদহের মহেশপুরে মাদক সেবনের টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে শখের বানু (৫৭) নামে এক নারীকে জবাই করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে। আজ শুক্রবার ভোররাতে উপজেলার শ্যামকুড় গ্রামের পশ্চিমপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর ছেলে ইখলাসুর রহমানকে আটক করেছেন মহেশপুর থানা পুলিশ।

    স্থানীয়রা জানান, ইখলাসুর রহমান মাদক সেবন করতেন। সে মাদক সেবনের জন্য তার মায়ের নিকট টাকা চাই । এ নিয়ে প্রায়ই তাঁর সঙ্গে মা শখের বানুর ঝগড়া-বিবাদ হতো। গত বৃহস্পতিবার রাতেও মাদক সেবনের জন্য মায়ের কাছে টাকা চান ইখলাসুর রহমান। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।

    পরে ভোররাতে ইখলাসুর রহমান তাঁর মায়ের কক্ষে প্রবেশ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে জবাই করে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।

    মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, মাদক সেবন নিয়ে বিরোধের জেরে ছেলে তাঁর মাকে হত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধারের করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পরপরই গ্রামের পাশের একটি পুকুর পাড় থেকে ইখলাসুর রহমানকে আটক করা হয়েছে।

  • ‘লালা’র ভয়ে যুক্তরাষ্ট্রে জরুরি অবস্থা

    ‘লালা’র ভয়ে যুক্তরাষ্ট্রে জরুরি অবস্থা

    গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় ‘লালা’ মোকাবিলায় প্রস্তুতি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। ঝড়টি সপ্তাহান্তে তীব্র বাতাস, বন্যা ও ভূমিধসের কারণ হতে পারে।

    জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা (এনডব্লিউএস) জানিয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থানরত ঝড়টি বর্তমানে আরো শক্তিশালী হচ্ছে। হাওয়াই অঙ্গরাজ্যের বিগ আইল্যান্ডের কাছে পৌঁছানোর সময় এটি হারিকেনে রূপ নিতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

    বর্তমানে ঝড়টির বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ৫০ মাইল (৮০ কিলোমিটার)। তবে দমকা বাতাসের গতি আরো বেশি।

    আবহাওয়া দপ্তর আরো জানিয়েছে, বিগ আইল্যান্ডের কোনো কোনো এলাকায় ঝড়টির প্রভাবে ২৫ ইঞ্চি (৬৩ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার) পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে।

    ঝড়ের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় হাওয়াইয়ের গভর্নর জশ গ্রিন জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। এর ফলে প্রয়োজন হলে ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় দ্রুত অর্থ, সরঞ্জাম ও জনবল ব্যবহারের পথ উন্মুক্ত হয়েছে।

    গভর্নর গ্রিন বলেন, ‘গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় লালা আমাদের অঙ্গরাজ্যের জন্য, বিশেষ করে হাওয়াই দ্বীপের জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করেছে। প্রয়োজনীয় জায়গায় যাতে দ্রুত সম্পদ ও সহায়তা পৌঁছানো যায়, সেজন্য আমরা এখনই ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘সবাইকে নিজ নিজ বাড়িঘর নিরাপদ করার, প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহের, পরিবারের জরুরি পরিকল্পনা পর্যালোচনা করার এবং নির্ভরযোগ্য সরকারি সূত্রের সর্বশেষ তথ্য অনুসরণ করার আহ্বান জানাচ্ছি। এই ঝড়কে গুরুত্বের সঙ্গে নিন এবং একে অন্যের খোঁজখবর রাখুন।’

    প্রায় দুই লাখ ১০ হাজার মানুষের বসবাস হাওয়াই দ্বীপে। জনসংখ্যার দিক থেকে এটি হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের দ্বিতীয় বৃহত্তম দ্বীপ। সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যা ওহাউ দ্বীপে, যেখানে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বসবাস করে।

    ঝড়টি ঠিক কোন পথে এগোবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে পূর্বাভাস অনুযায়ী, এটি উপকূলের কাছাকাছি সমুদ্রে অবস্থান করতে পারে।

    ২০১৮ সালের পর হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জে সরাসরি আঘাত হানা কোনো গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় এটিই প্রথম হতে পারে।

    এ বছর এল নিনো আবহাওয়াজনিত ঘটনা বিশেষভাবে শক্তিশালী। এর ফলে নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা বাড়ছে এবং ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। আবহাওয়াবিদরা এ অঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি সক্রিয় হারিকেন মৌসুমের পূর্বাভাস দিয়েছেন।

    বিজ্ঞানীরা নিয়মিত সতর্ক করে আসছেন, জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর কারণে সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন চরম আবহাওয়ার ঘটনাগুলোর ঘনত্ব ও তীব্রতা বাড়িয়ে দিচ্ছে।

  • যশোর শিশু হাসপাতাল বৃহৎ পরিসরে চালু করা হবে; অমিত

    যশোর শিশু হাসপাতাল বৃহৎ পরিসরে চালু করা হবে; অমিত

    যশোর শিশু হাসপাতালকে বৃহৎ পরিসরে চালুর উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

    শুক্রবার (১৪ আগস্ট) এস এম সুলতান ফাইন আর্ট কলেজ, যশোর আয়োজিত বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ১০৩তম জন্মদিন উপলক্ষে বার্ষিক শিল্পকর্ম প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।

    অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাধ্যমে আমার প্রয়াত পিতা তরিকুল ইসলাম এই হাসপাতালটি শুরু করেন। কিন্তু হাসপাতালটি দীর্ঘদিন ভগ্নদশায় পড়ে আছে।

    তিনি বলেন, ইতোমধ্যে যশোর মেডিকেল কলেজে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে যশোর করোনারি কেয়ার ইউনিটের পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়ার কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। অচিরেই এটি পূর্ণাঙ্গ রূপ লাভ করবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দিয়ে এর উদ্বোধন করা হবে। করোনারি কেয়ার ইউনিট চালুর পর যশোর শিশু হাসপাতালকে বৃহৎ পরিসরে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা বিভিন্ন ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে ফ্যাসিস্ট হয়েছিলেন। আজকে যারা ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিরুদ্ধে কথা বলছে, তাদের বৃহৎ একটি অংশ তাকে ফ্যাসিস্ট হতে সহযোগিতা করেছিল।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে যখন সমাজের প্রতিটি স্তরে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যাত্রা শুরু হয়েছে, তখন সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ এরা মুখে গণতন্ত্রের কথা বলে, অন্তরে ফ্যাসিস্টকে লালন করে। সুযোগ পেলে তারা আবারও ছোবল মারবে।

    প্রতিমন্ত্রী সরকারের পক্ষ থেকে প্রতীকী মূল্যে এস এম সুলতান ফাইন আর্ট কলেজকে জমি দেওয়ার সুযোগ থাকলে তা করারও ঘোষণা দেন।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন এবং যশোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মিজানুর রহমান খান।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এস এম সুলতান ফাইন আর্ট কলেজের অধ্যক্ষ শামীম ইকবাল।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম, এ কে শরফুদ্দৌলা ছোটলু, নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এহসানুল হক সেতু, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আঞ্জুরুল হক খোকনসহ অনেকে।

    তিন দিনব্যাপী প্রদর্শনীতে এস এম সুলতান ফাইন আর্ট কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ৫০টি শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে।

  • ৪৮ বছর বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্বে ছিলেন যারা, কে কতদিন?

    ৪৮ বছর বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্বে ছিলেন যারা, কে কতদিন?

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রায় ৪৮ বছরের রাজনৈতিক পথচলায় দলটির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন একাধিক নেতা। দেশের বৃহত্তম এই রাজনৈতিক দলটির গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদে কেউ ছিলেন কয়েক বছর, আবার কেউ দায়িত্ব পালন করেছেন এক দশকেরও বেশি সময়। ঝানু রাজনীতিক থেকে হাইপ্রোফাইল ব্যক্তিবর্গ এই পদটিতে আসীন ছিলেন। তাদের অনেকেই সফলতার গল্প নিয়ে দায়িত্ব শেষ করেছেন। আবার কারও কারও ভাগ্যে জুটেছে লঞ্ছনা।

    বিএনপিতে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ২০১১ সালে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০১৬ সালে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব হন। রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) তিনি মহাসচিবসহ দলের সব পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।

    বিএনপির দ্বিতীয় শীর্ষস্থানীয় পদটিতে কারা ছিলেন এবং কে কতদিন দায়িত্ব পালন করেছেন, তা নিয়ে এই প্রতিবেদন—

    ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিএনপি প্রতিষ্ঠার সময় দলের প্রথম মহাসচিব করা হয় অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে। তিনি ১৯৭৮ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত প্রায় আট বছর এ দায়িত্বে ছিলেন। তার সময় বিএনপির চেয়ারম্যান ছিলেন জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া।

    এরপর মহাসচিব হন অবসরপ্রাপ্ত লে. কর্নেল মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি ১৯৮৬ থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত প্রায় এক বছর মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন।

    মোস্তাফিজুর রহমানের পর ১৯৮৭ সালে মহাসচিব হন কে এম ওবায়দুর রহমান। মহাসচিব হিসেবে তার মেয়াদকাল খুব একটা লম্বা হয়নি। এক বছরের মতো এই পদে আসীন ছিলেন সাবেক এই ছাত্রনেতা

    ১৯৮৮ সালে তাকে সরিয়ে ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদারকে মহাসচিব করা হয়। সালাম তালুকদার ১৯৮৮ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত প্রায় আট বছর এ পদে ছিলেন। ৯৬ সালের নির্বাচনে বিএনপির পরাজয়ের পর তিনি মহাসচিবের দায়িত্ব হারান।

    ১৯৯৬ সালের জুনে বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পান আবদুল মান্নান ভূঁইয়া। এর আগে তিনি দলটির যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন। তিনি টানা ১১ বছর দলটির মহাসচিব ছিলেন। মান্নান ভূঁইয়ার দীর্ঘ মেয়াদকে বিএনপির ইতিহাসে অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী মহাসচিবের মেয়াদ হিসেবে ধরা হয়। ওয়ান ইলেভেনের সময় দলের শীর্ষ নেতৃত্বে সঙ্গে বেইমানি করেন মান্নান ভুইয়া। পরে তাকে ২০০৭ সালে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

    দলের দুর্দিনে খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করা হয়। এর আগে তিনি দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন।

    খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন ২০০৭ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব নিয়ে ২০১১ সালের ১৬ মার্চ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত প্রায় চার বছর বিএনপির মহাসচিব ছিলেন। তার মৃত্যুর পর দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

    দীর্ঘ পাঁচ বছর ভারপ্রাপ্ত থাকার পর ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ মির্জা ফখরুলকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির মহাসচিব করা হয়। তবে তিনি ২০১১ সালের মার্চ থেকেই কার্যত দলের মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। ২০২৬ সালের আগস্টে রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর পদত্যাগের আগ পর্যন্ত তার মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় দাঁড়ায় প্রায় ১৫ বছর ৫ মাস। বিএনপির মহাসচিব পদে দীর্ঘসময় দায়িত্ব পালন করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    বিএনপির মহাসচিবদের মেয়াদ

    এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী — ১৯৭৮–১৯৮৬, প্রায় ৮ বছর

    মোস্তাফিজুর রহমান — ১৯৮৬–১৯৮৭, প্রায় ১ বছর

    কে এম ওবায়দুর রহমান — ১৯৮৭–১৯৮৮, প্রায় ১ বছর

    আবদুস সালাম তালুকদার — ১৯৮৮–১৯৯৬, প্রায় ৮ বছর

    আবদুল মান্নান ভূঁইয়া — ১৯৯৬–২০০৭, প্রায় ১১ বছর

    খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন — ২০০৭–২০১১, প্রায় ৪ বছর

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর — ২০১১–২০২৬, প্রায় ১৫ বছর ৫ মাস; প্রথমে ভারপ্রাপ্ত, ২০১৬ থেকে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব।

    ফলে বিএনপির ইতিহাসে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই সবচেয়ে দীর্ঘ সময় মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। তার পর দীর্ঘ সময় এই পদে ছিলেন আবদুল মান্নান ভূঁইয়া। আর প্রতিষ্ঠাকালীন মহাসচিব এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও আবদুস সালাম তালুকদার প্রায় আট বছর করে দায়িত্ব পালন করেন।

  • রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে পরাজয় জেনেও যে কারণে প্রার্থী দিল জামায়াত জোট

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে পরাজয় জেনেও যে কারণে প্রার্থী দিল জামায়াত জোট

    নির্বাচন কমিশনে একাধিক মনোনয়ন জমা হওয়ায় দীর্ঘদিন পর রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনের পথে হাঁটছে দেশ। কিন্তু এই নির্বাচনে নিজেদের প্রার্থীর নিশ্চিত পরাজয় জেনেও জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা চলছে।

    সংবিধানের ৪৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যগণের ভোটে পরোক্ষভাবে নির্বাচিত হন রাষ্ট্রপতি। অর্থাৎ সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের মনোনীত প্রার্থীই যে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হবেন এটি নিশ্চিত।

    অতীতে কেবল ১৯৯১ সালেই একাধিক প্রার্থী নিয়ে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল দেশে। সেবার এই পদে সরকারি দল বিএনপির বিপরীতে নিজেদের প্রার্থী দিয়েছিল তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগ।

    এরপর থেকে গত ৩৫ বছরে যে আটবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়েছে, তার প্রতিবারই একক প্রার্থী থাকায় কোনো ভোটের প্রয়োজন হয়নি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সরকারি দল বিএনপির মোট সংসদ সদস্যের সংখ্যা ২৪৭। অর্থাৎ সংসদে দলটির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে।

    এক্ষেত্রে সংসদ সদস্যরা যদি নিজ দলের বাইরে গিয়ে ভোট দিতে পারতেন, তাহলেও হয়তো কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকতো। কিন্তু সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সেই পথও বন্ধ। তার মানে, রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপি যাকে প্রার্থী করবে, তিনিই যে ২৩ তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন, এটি মোটামুটি নিশ্চিত।

    এমন প্রেক্ষাপটে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট কেন প্রার্থী দিল, এর মধ্যে কি রাজনৈতিক সমীকরণ রয়েছে নাকি নামে মাত্র অংশগ্রহণ-এমন নানা প্রশ্ন সামনে আসছে।

    জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূলত রাজনৈতিক কৌশল দেখছেন বিশ্লেষকদের অনেকে। তারা বলছেন, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে জামায়াত নিজেদের সরকারবিরোধী অবস্থান যেমন জানান দিচ্ছে, তেমনি প্রার্থী হিসেবে একজন স্বীকৃত মুক্তিযোদ্ধাকে বেছে নিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে কৌশলে একটি রাজনৈতিক বার্তাও দেওয়ার চেষ্টা করছে।

    জামায়াত জোট যা বলছে

    গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর থেকেই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন এই আলোচনা চলছে। সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর থেকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধান অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বাধ্যতামূলক।

    অবশেষে নির্বাচন কমিশনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ শুরু হলো। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি বা এলডিপি এর চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ এবং বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে কর্নেল (অব.) অলি আহমদ এর মনোনয়নপত্র জমা দেন জোটের প্রতিনিধি দল।

    এ সময় গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন জামায়াত নেতা হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রকে সঠিক ধারায় ফিরিয়ে আনতেই’ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।

    ‘আমরা এখানে জিতব কি হারব, এটা বিষয় নয়। আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়া কোনো নির্বাচন হোক সেটা চাই না। এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।’

    সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গ টেনে আযাদ বলেন, গণতান্ত্রিক চর্চার পেছনে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা একটি প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে। আর্টিকেল ৭০ এ অনাস্থা এবং অর্থবিল ছাড়া সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে মত দিতে পারবেন, ভোট দিতে পারবেন- ঐকমত্য কমিশনে এই বিষয়ে আমরা সবাই চেয়েছি। কিন্তু একগুঁয়েমি এবং দলীয় সংকীর্ণতার কারণে গণভোটের রায় উনারা বাস্তবায়ন করছেন না।

    এ সময় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিএনপির দলীয় ফোরামের বৈঠক নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘সচিবালয় হলো একটা নির্বাহী জায়গা, এখানে রাজনৈতিক দলের শীর্ষ ফোরামের বৈঠক হবে এরকম অতীতের রেকর্ড আমাদের জানা নেই।’

    এদিন দুপুরের পর রাষ্ট্রপতি পদে নিজেদের প্রার্থী, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র নির্বাচন কমিশনে জমা দেয় বিএনপির প্রতিনিধি দলও। এ সময় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জামায়াত জোটের অংশগ্রহণকে স্বাগত জানান দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

    তিনি বলেন, ‘এটি কোনোমতেই নিয়ম রক্ষার নির্বাচন নয়। সংবিধান এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী যেটা হওয়ার সেটাই হচ্ছে।’ এর আগে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকের পর রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থীর নাম জানান বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

    নির্বাচন কমিশনের তফশিল অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর, ১৬ আগস্ট বাছাই ও ১৮ আগস্ট মনোনয়ন প্রত্যাহারের তারিখ নির্ধারণ করা রয়েছে। আর ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে ভোট শেষে ঘোষণা করা হবে বেসরকারি ফলাফল।

    পরাজয় জেনেও কেন নির্বাচন?

    ১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্রে ফেরার পর প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়েছিল। সেবার বিএনপির প্রার্থী আব্দুর রহমান বিশ্বাসের বিপরীতে বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরীকে প্রার্থী করেছিল আওয়ামী লীগ। এরপর ৩৫ বছরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হলেও একক প্রার্থী থাকায় কোনোবারই ভোট হয়নি। এবার সেই ধারা ভাঙছে। ফলে ১৯৯১ সালের পর এটাই প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন।

    কিন্তু রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক নিয়মকানুন অনুযায়ী এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থীই যে রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন, এটি নিশ্চিত। কারণ সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে সংসদ সদস্যদের দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই বললেই চলে।

    জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের এই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পেছনে কয়েকটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলেই মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। যেখানে রাজনৈতিক অবস্থানের জানান দেওয়া, ভবিষ্যতের দরকষাকষি ও সংস্কার আলোচনা চালিয়ে নেওয়ার মতো বিষয়গুলো থাকতে পারে বলেই মনে করছেন অনেকে।

    এছাড়া রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জামায়াত জোট যাকে প্রার্থী হিসেবে বেছে নিয়েছে, সেটি ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে তাদের জন্য বড় হাতিয়ার হতে পারে বলেই মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ।

    তিনি বলেন, জামায়াত ভোটে জিতবে না এটা তারাও জানে, কিন্তু তাদের জন্য এটা একটা বড়ো পলিটিক্যাল গেইন বা অর্জন যে তারা একজন মুক্তিযোদ্ধাকে তাদের প্রার্থী হিসেবে বেছে নিয়েছে।

    তবে, রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ঘোষণার আগে বিএনপি যদি বিরোধী জোটের সঙ্গে আলোচনা করে প্রার্থী দিত, তাহলে জামায়াত জোট এই নির্বাচনে প্রার্থী নাও দিতে পারতো বলেই মনে করেন লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ।

    তার মতে, রাষ্ট্রের অভিভাবক সুলভ পদ হওয়ায় রাষ্ট্রপতি মনোনয়নের বিষয়টি ঐকমত্যের ভিত্তিতে হলেই সব থেকে সুবিধাজনক হত। ‘এর মধ্য দিয়ে বোঝা যাচ্ছে যে দুই পক্ষের মধ্যে স্বাভাবিক সৌজন্য এবং সংলাপের যে পরিবেশটা থাকা দরকার ছিল সেটা আর নাই।’

  • নতুন রাষ্ট্রপতিকে শপথ পাঠ করাবেন কে?

    নতুন রাষ্ট্রপতিকে শপথ পাঠ করাবেন কে?

    বিএনপি রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়ায় তিনি দলের মহাসচিব পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে দায়িত্ব গ্রহণের আগে তাকে নির্ধারিত শপথ নিতে হবে।

    ধারণা করা হচ্ছে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে তাকে শপথ পাঠ করাবেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

    বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। সংবিধানের ৭৪(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করলে সংসদের স্পিকারের কার্যাবলি ডেপুটি স্পিকার পালন করেন। ফলে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে স্পিকার দায়িত্ব পালন করায় বর্তমানে সংসদের স্পিকারের কার্যাবলি পালনের দায়িত্ব ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের ওপর রয়েছে।

    অন্যদিকে, সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, তৃতীয় তফশিলে উল্লেখিত কোনো পদে দায়িত্ব গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নির্ধারিত শপথ নিতে হয়। এসব পদে শপথ পাঠ করানোর দায়িত্ব সংবিধানে নির্ধারিত রয়েছে।

    এই সাংবিধানিক কাঠামো বিবেচনায় নিয়ে ধারণা করা হচ্ছে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে তাকে শপথ পাঠ করানোর দায়িত্ব ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের ওপরই পড়বে।

    কারণ, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন এবং সেই কারণে সংসদের স্পিকারের কার্যাবলি পালন করছেন ডেপুটি স্পিকার।

  • সরকারের অব্যবস্থাপনা ও অদূরদর্শিতায় গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট চরমে: জামায়াত

    সরকারের অব্যবস্থাপনা ও অদূরদর্শিতায় গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট চরমে: জামায়াত

    সরকারের অব্যবস্থাপনা, অদক্ষতা ও অদূরদর্শিতায় বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট চরমে উঠেছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি সতর্ক ক‌রে বলেন, জনগণের মৌলিক ও দৈনন্দিন চাহিদা পূরণে সরকার ব্যর্থ হলে উদ্ভূত যেকোনো পরিস্থিতির দায় সরকারকেই নিতে হবে।

    বৃহস্পতিবার বিবৃতিতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, সম্প্রতি দেশে চরম বিদ্যুৎ ও গ্যাস–সংকট দেখা দিয়েছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় জনদুর্ভোগ বেড়েছে। গত রোববার থেকে ব্যাপক লোডশেডিং হচ্ছে। তথ্যমতে, ৯ আগস্ট দেশে ৩ হাজার ৬৭১ মেগাওয়াট, ১০ আগস্ট ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট, ১১ আগস্ট ৩ হাজার ৪৬৫ মেগাওয়াট এবং ১২ আগস্ট ৩ হাজার ৩৮২ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে। এতে গত কয়েক দিনে গড়ে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি দেখা গেছে।

    গ্যাসের সংকটও তীব্র হয়েছে উল্লেখ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, গত ১২ আগস্ট ৩৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ২০৩ কোটি ঘনফুট। সরকারের অব্যবস্থাপনা, অদক্ষতা, অদূরদর্শিতা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি ও দলীয়করণের কারণে দেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট চরমে উঠেছে। এতে নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবন বিপর্যস্ত হচ্ছে।

    জ্বালানিসংকটের কারণে জনরোষ বাড়ছে দা‌বি ক‌রে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ইতিমধ্যে দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে নিরাপত্তা জোরদারের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন। এটি সরকারের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরে।

  • বাঘারপাড়ায় একই পুকুরে ডুবে ৩ শিশুর মৃত্যু

    বাঘারপাড়ায় একই পুকুরে ডুবে ৩ শিশুর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার জামদিয়া গ্রামে একই পুকুরে পানিতে ডুবে দুই পরিবারের তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।

    নিহত দুই শিশুর নাম লামিয়া (১৩) ও সুলতানা (১০)। তারা জামদিয়া গ্রামের নিছার আলীর মেয়ে। অন্য শিশু ফাহিমা (১০) একই গ্রামের প্রতিবেশী আশিকুলের মেয়ে।

    জামদিয়া গ্রামের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য আতিয়ার রহমান প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানান, নিহত তিন শিশু আশিকুলদের পুকুরের সিঁড়িতে বসে গোসল করছিল। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নিছার আলীর মা লামিয়া ও সুলতানাকে খুঁজতে পুকুরের পাশে আসেন। এ সময় তিনি পুকুরের পাকা সিঁড়িতে তাদের কাপড় পড়ে থাকতে দেখেন। কিন্তু শিশুদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। সন্দেহ হলে তিনি সিঁড়ির দিকে এগিয়ে গিয়ে পানিতে বুদবুদ উঠতে দেখেন। পরে চিৎকার করে লোকজন জড়ো করেন এবং পুকুরে নেমে তল্লাশি শুরু করেন। কিছুক্ষণ পর পানির নিচ থেকে তিন শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে প্রতিবেশীদের সহায়তায় তাদের বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

    বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মাসনুন আব্দুল্লাহ জানান, তিন শিশুকে হাসপাতালে আনার পর তাদের পালস পরীক্ষা ও ইসিজি করা হয়। এতে নিশ্চিত হওয়া যায়, তাদের কেউই বেঁচে নেই। পরে লাশ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।

    বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাজালাল আলম জানান, নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে।

  • বিশ্বমঞ্চে অনন্য উচ্চতায় এক বাংলাদেশি আলেম

    বিশ্বমঞ্চে অনন্য উচ্চতায় এক বাংলাদেশি আলেম

    হাদিস শরিফের সংরক্ষণ মুসলিম উম্মাহর অনন্য বৈশিষ্ট্য। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগ থেকেই লিখিতভাবে হাদিস সংরক্ষণের চর্চা থাকলেও হিজরি তৃতীয় শতাব্দীতে ব্যাপকভাবে গ্রন্থাকারে কিতাব সংকলনের জোয়ার শুরু হয়। তৃতীয় শতাব্দীতেই কুতুবে সিত্তাহ (যা সিহাহ সিত্তাহ নামে প্রসিদ্ধ) বা হাদিসের প্রসিদ্ধ ছয়টি কিতাব সংকলিত হয়। সেসবের মধ্যে ‘জামে তিরমিজি’ অনন্য উচ্চতায় সমাসীন। ইমাম আবু ঈসা মুহাম্মাদ বিন ঈসা বিন সাওরা তিরমিজি (রহ.) [২০৯-২৭৯ হি.] সংকলিত এই গ্রন্থটি রচনাকাল থেকেই ব্যাপকভাবে সমাদৃত ও পঠিত হতে থাকে।

    ব্যাপক সমাদৃত এই গ্রন্থটির একাধিক ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচিত হলেও গুণগত মানে আরো সমৃদ্ধ ও পূর্ণাঙ্গ একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থের প্রয়োজনীয়তা সুধীমহলে অনুভূত হচ্ছিল । দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে বাংলাদেশি আলেম বিদগ্ধ মুহাদ্দিস মাওলানা আবদুল মতীন [জন্ম ১৯৬৪ খ্রি.] ২৫ বছরের দীর্ঘ সাধনায় আরবি ভাষায় ১৭ খণ্ডে জামে তিরমিজির ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেন; নাম ‘কিফায়াতুল মুগতাজি ফি শরহি জামিয়িত তিরমিজি’। ব্যাখ্যাগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়েছে রুচিশীল ও সমাদৃত প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান মুয়াসসাসা ইলমিয়্যা বাংলাদেশ থেকে। চলতি বছরেই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি পূর্ণতা পায়।গত ৫ আগস্ট ঢাকার কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গ্রন্থটির আনুষ্ঠানিক প্রকাশনা সম্পন্ন হয়, যেখানে ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দের মুহতামিম মাওলানা আবুল কাসেম নোমানি এবং জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মাওলানা আব্দুল মালেকসহ দেশ-বিদেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমরা উপস্থিত ছিলেন। প্রাচীন পাণ্ডুলিপি ও আধুনিক গবেষণার অপূর্ব সমন্বয়ে রচিত এই গ্রন্থটিকে আরব বিশ্বসহ আন্তর্জাতিক হাদিস গবেষকরা এক যুগান্তকারী সংযোজন হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিখ্যাত দারুল উলুম দেওবন্দের মুহতামিম ও শাইখুল হাদিস মাওলানা মুফতি আবুল কাসেম নুমানি বলেন, “ইমাম তিরমিজি তাঁর ‘জামে তিরমিজি’ গ্রন্থে শুধু হাদিস সংকলনই করেননি; বরং ফকিহদের মতপার্থক্য, দলিলের বিশ্লেষণ এবং ফিকহি আলোচনাকেও অনন্যভাবে উপস্থাপন করেছেন। মাওলানা আব্দুল মতিন দীর্ঘ গবেষণার মাধ্যমে সেই ঐতিহ্যকে আরো সমৃদ্ধ করেছেন। প্রাচীন পাণ্ডুলিপি, নির্ভরযোগ্য সূত্র এবং আধুনিক গবেষণাপদ্ধতির সমন্বয়ে তিনি একটি উচ্চমানের ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করতে সক্ষম হয়েছেন।”

    সভাপতির বক্তব্যে শায়খুল হাদিস মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘কিফায়াতুল মুগতাজি শুধু একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ নয়; এটি হাদিস পাঠদান, গবেষণা এবং দরস পরিচালনার একটি পূর্ণাঙ্গ মডেল।’ তার মতে, এই গ্রন্থ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের তরুণ আলেমদের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

    জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব ও বিশিষ্ট হাদিস বিশারদ ও গবেষক ফকিহ মাওলানা আবদুল মালেক বলেন, ‘তিরমিজি শরিফের বহু ব্যাখ্যাগ্রন্থ ইতিহাসের নানা পর্যায়ে অসম্পূর্ণ অবস্থায় থেকে গেছে। কিন্তু ‘কিফায়াতুল মুগতাজি’ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিটি হাদিসের ধারাবাহিক ও বিশ্লেষণধর্মী ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেছে। একই সঙ্গে এতে সালাফে সালেহিনের মানহাজ, মতভিন্নতার শিষ্টাচার এবং গবেষণার ভারসাম্য অত্যন্ত সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।’ তিনি মনে করেন, এই গ্রন্থ হাদিস গবেষণার দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ শূন্যতা পূরণ করবে।

    কিফায়াতুল মুগতাজির প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান মুআসসাসা ইলমিয়্যাহ বাংলাদেশের পরিচালক মাওলানা তাহমিদুল মাওলা বলেন, ‘গ্রন্থটির প্রথম চার খণ্ড প্রকাশের পরই দক্ষিণ আফ্রিকা, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক প্রকাশনা-মান বজায় রেখে আরব বিশ্বের আদলে ১৭ খণ্ডের পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ প্রকাশ করা হয়েছে।’

  • রাস্ট্রপতি নির্বাচন: পরাজয় জেনেও যে কারণে প্রার্থী দিল জামায়াত জোট

    রাস্ট্রপতি নির্বাচন: পরাজয় জেনেও যে কারণে প্রার্থী দিল জামায়াত জোট

    নির্বাচন কমিশনে একাধিক মনোনয়ন জমা হওয়ায় দীর্ঘদিন পর রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনের পথে হাঁটছে দেশ। কিন্তু এই নির্বাচনে নিজেদের প্রার্থীর নিশ্চিত পরাজয় জেনেও জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা চলছে।সংবিধানের ৪৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যগণের ভোটে পরোক্ষভাবে নির্বাচিত হন রাষ্ট্রপতি। অর্থাৎ সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের মনোনীত প্রার্থীই যে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হবেন এটি নিশ্চিত।অতীতে কেবল ১৯৯১ সালেই একাধিক প্রার্থী নিয়ে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল দেশে। সেবার এই পদে সরকারি দল বিএনপির বিপরীতে নিজেদের প্রার্থী দিয়েছিল তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগ।

    এরপর থেকে গত ৩৫ বছরে যে আটবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়েছে, তার প্রতিবারই একক প্রার্থী থাকায় কোনো ভোটের প্রয়োজন হয়নি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সরকারি দল বিএনপির মোট সংসদ সদস্যের সংখ্যা ২৪৭। অর্থাৎ সংসদে দলটির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে।

    এক্ষেত্রে সংসদ সদস্যরা যদি নিজ দলের বাইরে গিয়ে ভোট দিতে পারতেন, তাহলেও হয়তো কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকতো। কিন্তু সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সেই পথও বন্ধ। তার মানে, রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপি যাকে প্রার্থী করবে, তিনিই যে ২৩ তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন, এটি মোটামুটি নিশ্চিত।

    এমন প্রেক্ষাপটে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট কেন প্রার্থী দিল, এর মধ্যে কি রাজনৈতিক সমীকরণ রয়েছে নাকি নামে মাত্র অংশগ্রহণ-এমন নানা প্রশ্ন সামনে আসছে।

    জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূলত রাজনৈতিক কৌশল দেখছেন বিশ্লেষকদের অনেকে। তারা বলছেন, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে জামায়াত নিজেদের সরকারবিরোধী অবস্থান যেমন জানান দিচ্ছে, তেমনি প্রার্থী হিসেবে একজন স্বীকৃত মুক্তিযোদ্ধাকে বেছে নিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে কৌশলে একটি রাজনৈতিক বার্তাও দেওয়ার চেষ্টা করছে।

    জামায়াত জোট যা বলছে

    গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর থেকেই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন এই আলোচনা চলছে। সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর থেকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধান অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বাধ্যতামূলক।

    অবশেষে নির্বাচন কমিশনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ শুরু হলো। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি বা এলডিপি এর চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ এবং বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে কর্নেল (অব.) অলি আহমদ এর মনোনয়নপত্র জমা দেন জোটের প্রতিনিধি দল।

    এ সময় গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন জামায়াত নেতা হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রকে সঠিক ধারায় ফিরিয়ে আনতেই’ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।

    ‘আমরা এখানে জিতব কি হারব, এটা বিষয় নয়। আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়া কোনো নির্বাচন হোক সেটা চাই না। এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।’

    সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গ টেনে আযাদ বলেন, গণতান্ত্রিক চর্চার পেছনে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা একটি প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে। আর্টিকেল ৭০ এ অনাস্থা এবং অর্থবিল ছাড়া সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে মত দিতে পারবেন, ভোট দিতে পারবেন- ঐকমত্য কমিশনে এই বিষয়ে আমরা সবাই চেয়েছি। কিন্তু একগুঁয়েমি এবং দলীয় সংকীর্ণতার কারণে গণভোটের রায় উনারা বাস্তবায়ন করছেন না।

    এ সময় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিএনপির দলীয় ফোরামের বৈঠক নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘সচিবালয় হলো একটা নির্বাহী জায়গা, এখানে রাজনৈতিক দলের শীর্ষ ফোরামের বৈঠক হবে এরকম অতীতের রেকর্ড আমাদের জানা নেই।’

    এদিন দুপুরের পর রাষ্ট্রপতি পদে নিজেদের প্রার্থী, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র নির্বাচন কমিশনে জমা দেয় বিএনপির প্রতিনিধি দলও। এ সময় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জামায়াত জোটের অংশগ্রহণকে স্বাগত জানান দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

    তিনি বলেন, ‘এটি কোনোমতেই নিয়ম রক্ষার নির্বাচন নয়। সংবিধান এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী যেটা হওয়ার সেটাই হচ্ছে।’ এর আগে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকের পর রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থীর নাম জানান বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

    নির্বাচন কমিশনের তফশিল অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর, ১৬ আগস্ট বাছাই ও ১৮ আগস্ট মনোনয়ন প্রত্যাহারের তারিখ নির্ধারণ করা রয়েছে। আর ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে ভোট শেষে ঘোষণা করা হবে বেসরকারি ফলাফল।

    ১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্রে ফেরার পর প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়েছিল। সেবার বিএনপির প্রার্থী আব্দুর রহমান বিশ্বাসের বিপরীতে বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরীকে প্রার্থী করেছিল আওয়ামী লীগ। এরপর ৩৫ বছরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হলেও একক প্রার্থী থাকায় কোনোবারই ভোট হয়নি। এবার সেই ধারা ভাঙছে। ফলে ১৯৯১ সালের পর এটাই প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন।

    কিন্তু রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক নিয়মকানুন অনুযায়ী এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থীই যে রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন, এটি নিশ্চিত। কারণ সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে সংসদ সদস্যদের দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই বললেই চলে।

    জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের এই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পেছনে কয়েকটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলেই মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। যেখানে রাজনৈতিক অবস্থানের জানান দেওয়া, ভবিষ্যতের দরকষাকষি ও সংস্কার আলোচনা চালিয়ে নেওয়ার মতো বিষয়গুলো থাকতে পারে বলেই মনে করছেন অনেকে।

    এছাড়া রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জামায়াত জোট যাকে প্রার্থী হিসেবে বেছে নিয়েছে, সেটি ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে তাদের জন্য বড় হাতিয়ার হতে পারে বলেই মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ।

    তিনি বলেন, জামায়াত ভোটে জিতবে না এটা তারাও জানে, কিন্তু তাদের জন্য এটা একটা বড়ো পলিটিক্যাল গেইন বা অর্জন যে তারা একজন মুক্তিযোদ্ধাকে তাদের প্রার্থী হিসেবে বেছে নিয়েছে।

    তবে, রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ঘোষণার আগে বিএনপি যদি বিরোধী জোটের সঙ্গে আলোচনা করে প্রার্থী দিত, তাহলে জামায়াত জোট এই নির্বাচনে প্রার্থী নাও দিতে পারতো বলেই মনে করেন লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ।

    তার মতে, রাষ্ট্রের অভিভাবক সুলভ পদ হওয়ায় রাষ্ট্রপতি মনোনয়নের বিষয়টি ঐকমত্যের ভিত্তিতে হলেই সব থেকে সুবিধাজনক হত। ‘এর মধ্য দিয়ে বোঝা যাচ্ছে যে দুই পক্ষের মধ্যে স্বাভাবিক সৌজন্য এবং সংলাপের যে পরিবেশটা থাকা দরকার ছিল সেটা আর না।

  • ভারতীয় গণমাধ্যমে খবর :আগামী সপ্তাহেই দিল্লি সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী

    ভারতীয় গণমাধ্যমে খবর :আগামী সপ্তাহেই দিল্লি সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী

    বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর ঘিরে বেশ আশাবাদী ভারত। এই ইস্যুতে ঢাকার সঙ্গে জোর আলোচনা চালাচ্ছে নয়াদিল্লি। দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফরে আগামী সপ্তাহের শেষ ভাগে বা সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে নয়াদিল্লি যেতে পারেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    তার এই সফরকে সামনে রেখে ঢাকা ও নয়াদিল্লি উভয় রাজধানীতেই জোর প্রস্তুতি চলছে বলে দুই দেশের কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

    প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়নি। কর্মকর্তারাও নাম প্রকাশ করে কথা বলতে রাজি হননি।

    তবে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো আজ তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফর নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

    এনডিটিভি লিখেছে, সম্ভাব্য এই সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে দুদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এর মধ্যে বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা গুরুত্ব পেতে পারে।

    সব ঠিক থাকলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটাই হবে তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর। দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কের গতিপথ নির্ধারণের ক্ষেত্রেও এ সফর তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে মনে করা হয়।

    সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, দুদিনের এই সফরটি একটি দ্বিপক্ষীয় কর্মসূচি হিসেবে সাজানো হচ্ছে। তবে সফরের চূড়ান্ত সময়সূচি এখনও নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ভারত সরকারের পক্ষ থেকে তাকে নয়াদিল্লি সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এছাড়া আগামী সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস আউটরিচ সেশনেও বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত।

    মোদি-তারেক প্রথম বৈঠক ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ

    প্রতিবেদন বরাতে সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, দিল্লি ও ঢাকা—উভয় পক্ষই নরেন্দ্র মোদি ও তারেক রহমানের মধ্যকার সম্ভাব্য এই প্রথম বৈঠকের দিকে গভীর নজর রাখছে।

    বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ভারতের পক্ষ থেকেও ঢাকার সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন কৌশলগত সমন্বয়ের প্রয়োজন দেখা দেয়। ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দুদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়। এরপর থেকে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং তাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক দাবিসহ বেশ কয়েকটি বিষয়ে দুদেশের মধ্যে মতভিন্নতা তৈরি হয়েছিল।

    তবে বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার ভারতের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সম্প্রতি দুদেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ পুনঃস্থাপনেরও কিছু লক্ষণ দেখা গেছে। এর অংশ হিসেবে গত এপ্রিলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান নয়াদিল্লি সফর করে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন। এছাড়া গত ১০ আগস্ট ঢাকায় তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী, যেখানে দুদেশের মধ্যকার সম্পর্ক উন্নয়নের উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।

    প্রধান ইস্যু: শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ

    ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে যান এবং এরপর থেকেই তিনি সেখানে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশের একটি ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর ঢাকা আনুষ্ঠানিকভাবে দিল্লির কাছে তাকে হস্তান্তরের দাবি জানায়। ভারত অবশ্য জানিয়েছে, এই অনুরোধটি যথাযথ আইনি ও কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    চলতি মাসের শুরুর দিকে শেখ হাসিনা দিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে ভার্চ্যুয়ালি মতবিনিময় করলে এ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ঢাকা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া উচিত নয়। তবে ভারত সরকার ওই অনুষ্ঠান আয়োজনের সঙ্গে কোনো সংশ্লিষ্টতা থাকার কথা অস্বীকার করেছে।

    সূত্র জানিয়েছে, ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বৈঠকেও প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গটি উঠে আসে। সামগ্রিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অগ্রগতি ব্যাহত না করে কীভাবে এই বিরোধপূর্ণ ইস্যুটির সমাধান করা যায়, তা নিয়ে উভয় পক্ষকেই পথ খুঁজতে হবে।

    উভয় দেশের মধ্যে সমাধানের অপেক্ষায় থাকা দীর্ঘদিনের বেশ কিছু বাস্তবভিত্তিক সমস্যাও রয়েছে। আসন্ন আলোচনায় মূলত বাণিজ্য ও ট্রানজিট, জ্বালানি সহযোগিতা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক যোগাযোগের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘ অভিন্ন সীমান্ত এবং জোরালো অর্থনৈতিক ও যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকায়, রাজনৈতিক সমঝোতা তৈরি হলে তা দ্রুত এই খাতগুলোতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

    আরেকটি বড় ইস্যু হতে পারে অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন। ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হতে যাচ্ছে। ফলে সময় ঘনিয়ে আসায় চুক্তি নবায়নের আলোচনাটি বিশেষ গুরুত্ব পাবে। এছাড়া অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়েও ভারতের কাছ থেকে আরও সহযোগিতা চেয়েছে ঢাকা।

    অন্যদিকে, শুধু দীর্ঘ সীমান্তের কারণেই নয়, বরং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ এবং কৌশলগত অবস্থানের কারণেও বাংলাদেশের সঙ্গে একটি স্থিতিশীল ও সুদৃঢ় সম্পর্ক বজায় রাখা নয়াদিল্লির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    সম্পর্কের নতুন দিগন্তের পরীক্ষা

    সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, দুই দেশই যখন তাদের সম্পর্ককে স্বাভাবিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে আগ্রহী, ঠিক তখনই এই সফরের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

    যদিও বিশ্লেষকদের মতে, এই একটি মাত্র সফরেই অমীমাংসিত সব সংকটের সমাধান হয়ে যাবে এমনটি ভাবা ঠিক হবে না। শেখ হাসিনার ইস্যু, পানিবণ্টন, বাণিজ্য ও সীমান্ত নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনার প্রয়োজন পড়বে। তবে নরেন্দ্র মোদি ও তারেক রহমানের মধ্যে সরাসরি আলোচনা দুই দেশের মতপার্থক্য নিরসনে একটি কার্যকর রাজনৈতিক পথ উন্মোচন করতে পারে।

    ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যদি এই সফর হয় তাহলে এর মাধ্যমে তারেক রহমান ঢাকার অবস্থান সরাসরি ভারতের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে তুলে ধরার সুযোগ পাবেন। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্যও এটি বাংলাদেশের নতুন সরকারের কাছ থেকে দিল্লির প্রত্যাশাগুলো তুলে ধরার একটি সুযোগ হবে।

    প্রতিবেদন বরাত বলছে, সফরের চূড়ান্ত তারিখ এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। তবে সবকিছু ঠিক থাকলে, আগামী সপ্তাহে তারেক রহমানের এই দিল্লি সফর হতে পারে ভারত-বাংলাদেশ নতুন রাজনৈতিক সম্পর্কের প্রথম বড় পরীক্ষা। আপাতত উভয় পক্ষের মূল লক্ষ্য—পরস্পরের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা আবার শুরু করা এবং জটিল সংকটগুলো যেন সার্বিক সম্পর্ককে আটকে না ফেলে, সেই পথ তৈরি করা।

  • সীতাকুণ্ডে শিপইয়ার্ডে বিস্ফোরণ, নিহত  ৮

    সীতাকুণ্ডে শিপইয়ার্ডে বিস্ফোরণ, নিহত ৮

    চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল শিপইয়ার্ডে পুরোনো জাহাজ কাটার সময় ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণে আটজন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ১০ জনের বেশি শ্রমিক আহত হয়েছেন। সীতাকুণ্ড থানার ওসি (তদন্ত) আলমগীর হোসেন শুক্রবার দুপুরে আমার দেশকে এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    নিহত আট শ্রমিকের মধ্যে চারজনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন— সানি জলদাস (২২), পলাশ জলদাস (২৭) এবং দুই সহোদর মনসুর আলী (৪০) ও নাসির উদ্দিন (৩৮)। তাঁরা ভাটিয়ারী এলাকার বাসিন্দা।

    এর আগে শুক্রবার সকালে উপজেলার ভাটিয়ারী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

    সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফখরুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, শিপইয়ার্ডটিতে গ্যাস বিস্ফোরণের পর এ পর্যন্ত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া দুর্ঘটনায় ১০ জনের বেশি শ্রমিক আহত হয়েছেন।

    স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে পুরোনো একটি জাহাজ কাটার কাজ চলার সময় হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। সঙ্গে সঙ্গে আগুন ছড়িয়ে পড়লে কয়েকজন শ্রমিক দগ্ধ ও আহত হন। পরে সহকর্মী, স্থানীয় লোকজন, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ উদ্ধারকাজে অংশ নেয়। আহতদের দ্রুত চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়।

    শিপইয়ার্ডের মালিক ফেরদৌস ওয়াহিদের ভাষ্য অনুযায়ী, জাহাজ কাটার কাজ চলাকালীন আকস্মিকভাবে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তবে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পুরোনো জাহাজের ভেতরে জমে থাকা দাহ্য গ্যাস বা বাষ্পের কারণে বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে। জাহাজ কাটার আগে সেটি যথাযথভাবে গ্যাসমুক্ত করা হয়েছিল কিনা, ট্যাংক ও পাইপলাইন পরীক্ষা করা হয়েছিল কিনা এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কিনা, এসব বিষয় এখন তদন্তের কেন্দ্রে।

    সীতাকুণ্ডের শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে এর আগেও বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে শ্রমিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ফলে সর্বশেষ দুর্ঘটনার পর জাহাজ কাটার আগে গ্যাস পরীক্ষা, ‘গ্যাস ফ্রি’ সনদ, শ্রমিকদের সুরক্ষা সরঞ্জাম এবং জরুরি উদ্ধারব্যবস্থা যথাযথভাবে কার্যকর ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

    সংশ্লিষ্টদের মতে, তদন্তে শুধু বিস্ফোরণের কারণ নয়, দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজটি সর্বশেষ কী ধরনের পণ্য বা জ্বালানি বহন করেছিল, ইয়ার্ডে আনার পর কী ধরনের নিরাপত্তা পরীক্ষা করা হয়েছিল, কাটিংয়ের অনুমোদন ও ঝুঁকি মূল্যায়ন হয়েছিল কি না এবং শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল কিনা, এসব বিষয়ও যাচাই করা প্রয়োজন।

    এদিকে নিহত ও আহতদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ এবং আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। পাশাপাশি নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ এবং দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

    সীতাকুণ্ডের শিপব্রেকিং শিল্প দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও বারবার দুর্ঘটনায় শ্রমিকের প্রাণহানিতে এ শিল্পের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সর্বশেষ দুর্ঘটনার পর তাই শুধু দায় নির্ধারণ নয়, ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সব শিপইয়ার্ডে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের দাবি জোরালো হয়েছে।

  • চট্টগ্রামে তিন চোর আটকের পর পড়ানো হলো ১০০ রাকাত নামাজ

    চট্টগ্রামে তিন চোর আটকের পর পড়ানো হলো ১০০ রাকাত নামাজ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে সিএনজি অটোরিকশা চোরচক্রের তিন সদস্যকে হাতেনাতে ধরে ১০০ রাকাত নফল নামাজ পড়িয়েছেন স্থানীয়রা।

    বুধবার (১২ আগস্ট) রাতে উপজেলার মিঠাছড়া বাজারের গাংচিল ফিলিং স্টেশন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    ধরা খাওয়া চোরদের মধ্যে দুইজনের নাম-পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন বারইয়ারহাট এলাকার বেলাল হোসেন ও পূর্ব মোটবাড়িয়া এলাকার রিফাত হোসেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনদিন আগে তিন সদস্যের একটি চক্র মিঠাছড়া বাজার এলাকা থেকে একটি সিএনজি অটোরিকশা চুরি করে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা সিসিটিভি ফুটেজ দেখে চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করার চেষ্টা করেন। সবশেষ গতকাল রাতে চক্রটির তিন সদস্যকে স্থানীয়রা আটক করেন। পরে তাদের আর চুরি করবেন না, এ মর্মে তওবা পড়ানো হয়। এরপর ১০০ রাকাত নফল নামাজ পড়িয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

    স্থানীয় যুবদল নেতা আমজাদ হোসেন বাবু বলেন, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে অপরাধীদের সংশোধনের সুযোগ দিতে এবং শারীরিক নির্যাতন না করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    স্থানীয় বাসিন্দা নুর হোসেন মিয়া বলেন, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে চুরির সঙ্গে জড়িত। বুধবার তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে কোনো ধরনের আঘাত না করে তওবা পড়িয়ে নামাজ আদায়ের সুযোগ দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

    এ বিষয়ে মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, মিঠাছড়া এলাকায় চোর আটক করে নামাজ পড়ানোর বিষয়ে আমরা অবগত নই। এ ঘটনায় থানায় কেউ কোনো অভিযোগও করেননি।

  • মগবাজারে আবাসিক ভবনে ভয়াবহ আগুন; বহু হতাহতের আশঙ্কা

    মগবাজারে আবাসিক ভবনে ভয়াবহ আগুন; বহু হতাহতের আশঙ্কা

    রাজধানীর মগবাজারের একটি আবাসিক ভবনে আগুন লেগেছে। ওই ভবনটিতে আবাসিকের পাশাপাশি বাণ্যিজ্যিক কার্যক্রমও রয়েছে।

    জানা গেছে, আগুন লাগা ওই ভবনে মার্কেন্টাইল ব্যাংক, আইএফআইসি, পূবালী ও ব্র্যাক ব্যাংকের শাখা রয়েছে। একইসঙ্গে ওই ভবনে বিদেশি শিক্ষার্থীরা বসবাস করেন। এরা বেশিভাগই মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী।স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আজ সন্ধ্যা ছয়টা ২৫ মিনিটে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ভবনের ভেতরে এখনও অনেকেই আটকা আছেন।

  • ১২ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ১৪৯ কোটি ৯০ লাখ ডলার

    ১২ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ১৪৯ কোটি ৯০ লাখ ডলার

    চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাই থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত দেশে ৪৩৫ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৩৫৩ কোটি ২০ লাখ ডলার। এ সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ ২৩ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি আগস্টের প্রথম ১২ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১৪৯ কোটি ৯০ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ১০৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার। সে হিসাবে চলতি আগস্টের প্রথম ১২ দিনে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ৪২ দশমিক দুই শতাংশ।

    গতকাল ১২ আগস্ট এক দিনেই প্রবাসীরা দেশে ১১ কোটি ১০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন।

    বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সামগ্রিক বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • ভারতের ভোটার তালিকায় বাংলাদেশে প্রধান শিক্ষকের নাম!

    ভারতের ভোটার তালিকায় বাংলাদেশে প্রধান শিক্ষকের নাম!

    শিক্ষা ডেস্ক:

    খুলনার পাইকগাছার খড়িয়া নবারুণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকারের ভারতীয় নাগরিকত্ব ও ভোটার তালিকায় নাম থাকার অভিযোগ নিয়ে তদন্ত হলেও এখনো তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও জেলা প্রশাসনের দপ্তরের প্রতিবেদনে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় তার নাম থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) তাকে শোকজ করে লিখিত জবাবও পেয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ভারতীয় নাগরিকত্ব থাকার পাশাপাশি দীপক চন্দ্র সরকার বাংলাদেশে বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং সরকারি বেতন-ভাতা গ্রহণ করছেন।

    বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ ও একাধিক তদন্ত হয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি নিজ প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গত ২৯ জুন দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে ‘পশ্চিমবঙ্গের ভোটার হয়েও খুলনায় স্কুলের প্রধান শিক্ষক’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। এরপর প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ে নড়েচড়ে বসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। নথিপত্র ও তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাইকগাছা উপজেলার লস্কর ইউনিয়নের খড়িয়া নবারুণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকারের নাম পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় রয়েছে। সেখানে তাকে উত্তর বর্ধমানের শক্তিগড় থানার ২ নম্বর বরশুল গ্রামের ১ নম্বর মনমোহন দে রোডের পশ্চিমাংশের বাসিন্দা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশে তিনি পাইকগাছার লস্কর ইউনিয়নের খড়িয়া ঢেমশাখালী গ্রামের ভোটার। তার বাবা নগেন্দ্র নাথ সরকার ও মা সুমিত্রা রানী সরকার। অভিযোগকারীদের দাবি, দীপক চন্দ্র সরকারের স্ত্রী, মেয়ে, ভাই ও ভাবিসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্যও ভারতের স্থায়ী বাসিন্দা ও ভোটার। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে দীপক চন্দ্র সরকার বলেন, তিনি বাংলাদেশের নাগরিক এবং নিজে ভারতে ভোটার হননি। প্রাপ্ত অভিযোগের পর পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে উপজেলা রিসোর্স অফিসার মো. ঈমান উদ্দিন ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ২৬ সেপ্টেম্বর একটি তদন্ত প্রতিবেদন দেন।

    এরপর ইউএনওর নির্দেশে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহজাহান আলীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ জানুয়ারি আরেকটি প্রতিবেদন জমা দেয়। একই বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম ছায়েদুর রহমান বিষয়টি নিয়ে আরও একটি তদন্ত করেন। চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো প্রতিবেদনে ইউএনও ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী উল্লেখ করেন, ভোটার তালিকা থেকে দীপক চন্দ্র সরকারের ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নাগরিকত্ব থাকার তথ্য পাওয়া যায়। এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষক-কর্মচারীকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হয়। এ কারণে বিদেশি নাগরিকের এমপিওভুক্ত পদে থাকার বিষয়টি প্রশ্নসাপেক্ষ ও বিতর্কিত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এরপর খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) কানিজ ফাতেমা লিজা গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর ও স্পর্শকাতর উল্লেখ করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রতিবেদন পাঠান। প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে নিয়োগে অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ১২ জুলাই বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মী, নিরাপত্তাকর্মী ও আয়া পদে তিনজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে প্রধান শিক্ষকের ভাইপো ভবেশ সরকার এবং আয়া পদে তার আপন শালিকা লাবনী সরকার নিয়োগ পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

    নিরাপত্তাকর্মী পদে তৎকালীন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির অভিভাবক সদস্য রবীন ঢালীর ভাগ্নে পলাশ কুমার মণ্ডলকে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগের বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিবাদ করেন। ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ জুলাই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ঝাড়ু মিছিল, মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলন ও স্মারকলিপি দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ সময় নিয়োগপত্র না দিয়ে পরে ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের ১ সেপ্টেম্বর ওই তিনজনকে বিদ্যালয়ে হাজির করা হয়। এসব নিয়োগে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও করেন স্থানীয় ব্যক্তিরা। তবে প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

    বিদ্যালয়ের ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রণোদনা অনুদানের পাঁচ লাখ টাকা ব্যয় নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিক্ষক, সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থী এবং প্রতিবন্ধী বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দের ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা যথাযথভাবে ব্যয় করা হয়েছে। তবে অবশিষ্ট অর্থের ব্যয়ের ক্ষেত্রে যথাযথ বিল-ভাউচার পাওয়া যায়নি বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দা প্রকাশ চন্দ্র সরকার বলেন, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। তার ভাষ্য, প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেওয়ার পরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

    মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (বেসরকারি মাধ্যমিক-১) মো. জাকির হোসেন বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকারকে ১০ কার্যদিবসের সময় দিয়ে শোকজ করা হয়েছিল। তিনি প্রথম নোটিশের জবাব দেননি। পরে দ্বিতীয় দফায় নোটিশ দেওয়া হলে তিনি লিখিত জবাব দিয়েছেন। দীপক চন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে জানতে চাইলে মো. জাকির হোসেন বলেন, সংশ্লিষ্ট সব প্রতিবেদন মহাপরিচালকের দপ্তরে উপস্থাপন করা হবে। বিষয়টি পর্যালোচনা করে মহাপরিচালক উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবেন।

    দ্বৈত নাগরিকত্ব ও ভারতীয় ভোটার হওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকার বলেন, আমি এ দেশের নাগরিক। আমি নিজে ভারতে ভোটার হইনি। কেউ আমাকে ফাঁসানোর জন্য ভারতের ভোটার তালিকায় আমার নাম অন্তর্ভুক্ত করেছে। বিদ্যালয়ের অনুদানের অর্থ আত্মসাৎ এবং নিয়োগে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন। তার দাবি, এসব অভিযোগ সত্য নয়।

  • ব্যাংকিংসহ সামগ্রিক আর্থিক খাত সংস্কারে বাংলাদেশ ব্যাংককে সহযোগিতার আশ্বাস এডিবির

    ব্যাংকিংসহ সামগ্রিক আর্থিক খাত সংস্কারে বাংলাদেশ ব্যাংককে সহযোগিতার আশ্বাস এডিবির

    বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, পুনর্গঠন ও পুনঃমূলধনীকরণ এবং আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা ও সক্ষমতা বাড়াতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি)।

    বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো: মোস্তাকুর রহমানের সাথে এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট (দক্ষিণ, মধ্য ও পশ্চিম এশিয়া) ইংমিং ইয়াংয়ের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের বৈঠকে এ আশ্বাস দেয়া হয়।

    বৈঠকে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, পুনর্গঠন ও পুনঃমূলধনীকরণ, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং এ ক্ষেত্রে এডিবির সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়ে ইতিবাচক ও গঠনমূলক আলোচনা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ব্যাংকিং খাতসহ সামগ্রিক আর্থিক খাতে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ব্যাংকের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন।

    এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট এ সংস্কার কার্যক্রমে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিশ্রুতিকে স্বাগত জানান এবং সংস্কার প্রক্রিয়ায় এডিবির সহযোগিতা ও সমর্থন অব্যাহত রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেন। বৈঠকে উভয়পক্ষ বাংলাদেশে আরো শক্তিশালী, স্থিতিশীল ও টেকসই আর্থিক খাত গড়ে তুলতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরো জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে।

    বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মো: হাবিবুর রহমান ও ড. মো: কবির আহমেদ ও ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানিং ডিপার্টমেন্টের (এফএসএসএসপিডি) সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • আমদানি বিধিবিধান একীভূত করে বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার

    আমদানি বিধিবিধান একীভূত করে বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার

    আমদানি লেনদেনে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা আরো সহজ ও সুসংহত করতে গত এক বছরে জারি করা বিভিন্ন নির্দেশনা একীভূত করে নতুন সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) জারি করা এ সার্কুলারের মাধ্যমে আমদানি-সংক্রান্ত বৈদেশিক মুদ্রা বিধিবিধানকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে।

    নতুন সার্কুলারের মাধ্যমে ২০২৫ সালের ১৪ আগস্ট জারি করা এফই সার্কুলার নং-৩৩ হালনাগাদ করা হয়েছে। গত এক বছরে জারি হওয়া পরবর্তী নির্দেশনাগুলোও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে আমদানি লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যাংকার, আমদানিকারক ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের পৃথক পৃথক সার্কুলার অনুসরণের প্রয়োজন অনেকটাই কমবে। নতুন সার্কুলার কার্যকর হওয়ার সঙ্গে আমদানি-সংক্রান্ত আগের নির্দেশনাগুলো বাতিল বলে গণ্য হবে। তবে আমদানি-সংক্রান্ত রিপোর্টিংয়ের নির্দেশনা বহাল থাকবে।

    নতুন কাঠামোয় আমদানি বাণিজ্য ও অনলাইন রিপোর্টিংয়ের পাশাপাশি ঋণপত্র (এলসি) খোলা, অনুমোদিত পরিশোধ পদ্ধতি, অগ্রিম অর্থ প্রেরণ এবং বিল অব এন্ট্রি দাখিলের বিধান রাখা হয়েছে। একই সাথে সরবরাহকারী ও ক্রেতার ঋণ, আমদানি দায় পরিশোধ এবং ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি সংক্রান্ত নিয়মও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    এ ছাড়া বিকল্প বাণিজ্য অর্থায়ন ব্যবস্থা চালুর বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে আমদানি-সংক্রান্ত নথি প্রক্রিয়াকরণ, আমদানি পরিশোধের ক্ষেত্রে রপ্তানি আয় সংরক্ষণ এবং বৈদেশিক মুদ্রায় অভ্যন্তরীণ এলসি ব্যবহারের বিধানও নতুন কাঠামোয় রাখা হয়েছে। বিশেষায়িত ও মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল, স্বর্ণ, রুপা, গহনা এবং বৈদেশিক মুদ্রার নোট আমদানির বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৪৭-এর ২০(৩) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সার্কুলারটি জারি করা হয়েছে। এর নির্দেশনা আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) থেকে এক বছর কার্যকর থাকবে। এ সময়ে নতুন কোনো নির্দেশনা জারি হলে তা নতুন সার্কুলারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রয়োগ করতে হবে।

    ব্যবসায়ী মহল এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, ডিজিটাল নথি প্রক্রিয়াকরণ ও বিকল্প অর্থায়ন ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্তি আমদানি বাণিজ্যের পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে এর সুফল পেতে ব্যাংক ও আমদানিকারকদের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ডিজিটাল অবকাঠামো নিশ্চিত করা জরুরি।

  • আগস্টে আরো ৫ কার্গো এলএনজি আমদানি করবে সরকার

    আগস্টে আরো ৫ কার্গো এলএনজি আমদানি করবে সরকার

    চলতি আগস্ট মাসে আরো পাঁচ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করবে সরকার। যার মোট পরিমাণ প্রায় এক কোটি ৬০ লাখ মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (এমএমবিটিইউ)।

    বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) পরিচালক (অর্থ) এ কে এম মিজানুর রহমান বলেন, ‘গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখতে আগস্ট মাসে আরো পাঁচ কার্গো এলএনজি নিশ্চিত করা হয়েছে। এগুলো স্পট মার্কেট, দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় কেনা হয়েছে।’

    তিনি বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশ তিন ধরনের উৎস থেকেই নিয়মিত এলএনজি আমদানি করছে। গড়ে প্রতিটি কার্গোতে প্রায় ৩২ লাখ এমএমবিটিইউ এলএনজি থাকে।

    মিজানুর রহমান আরো জানান, আগস্ট মাসে মোট নয় কার্গো এলএনজি আমদানি করা হবে। ইতোমধ্যে চার কার্গো দেশে পৌঁছেছে। বাকিগুলো এ মাসেই চলে আসবে। আমদানি করা নয় কার্গোতে মোট এলএনজির পরিমাণ রয়েছে দুই কোটি ৮৮ লাখ এমএমবিটিইউ।

    পেট্রোবাংলা সূত্র জানিয়েছে, আগস্ট মাসের জন্য দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় এক, স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় পাঁচ এবং স্পট মার্কেট থেকে তিন কার্গো এলএনজি কেনা হয়েছে। বাকি চালানগুলো ১৭, ২১, ২৩, ২৭ ও ৩০ আগস্টের দেশে পৌঁছাবে।

    এর আগে, গত জুলাই মাসে দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি চুক্তি এবং স্পট মার্কেটের মাধ্যমে মোট ১১ কার্গো এলএনজি আমদানি করা হয়েছে। যার পরিমাণ ছিল প্রায় তিন কোটি ৫২ লাখ এমএমবিটিইউ।

    রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) তথ্য অনুযায়ী, কাতারভিত্তিক কাতার অ্যানার্জি এবং ওমান সরকারের জ্বালানি ও পণ্য বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান ওকিউ ট্রেডিং দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহ করে থাকে।

    এছাড়া, সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ওকিউ ট্রেডিং স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় বাংলাদেশকে এলএনজি সরবরাহ করছে।

    উল্লেখ্য, প্রতি মাসে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে সরকার স্পট মার্কেট থেকেও এলএনজি কার্গো সংগ্রহ করে থাকে।

  • চার জেলার ‘ত্রাস’ ডাকাত কাজল গ্রেপ্তার

    চার জেলার ‘ত্রাস’ ডাকাত কাজল গ্রেপ্তার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মৌলভীবাজারে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১৫টি ডাকাতি মামলার আসামি সাদ্দাম হোসেন কাজলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ভোর সাড়ে চারটার দিকে সদর উপজেলার আথানগিরী টিলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

    গ্রেপ্তার সাদ্দাম হোসেন কাজল সদর উপজেলার আথানগিরী গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কাজলের বিরুদ্ধে মৌলভীবাজার ছাড়াও সিলেট, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন থানায় মোট ১৫টি ডাকাতির মামলা রয়েছে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে আদালতে আরও চারটি মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল।

    পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রিপটন পুরকায়স্থের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল আথানগিরী টিলা এলাকায় অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

    মৌলভীবাজার সদর থানা সূত্রে জানা যায়, কাজল দীর্ঘ দিন ধরে দেশের বিভিন্ন জেলায় ডাকাতিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। চার জেলায় মামলা থাকায় তিনি দীর্ঘ দিন আত্মগোপনে ছিলেন। গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

  • প্রবাসীর বাড়িতে চুরি করতে গিয়ে ছাত্রলীগ নেতা আটক

    প্রবাসীর বাড়িতে চুরি করতে গিয়ে ছাত্রলীগ নেতা আটক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পিরোজপুর নেছারাবাদে নাঈম (২৫) নামে এক ছাত্রলীগ নেতা প্রবাসীর ঘরে চুরি করতে গিয়ে স্থানীয়দের হাতে আটক হয়েছেন। এ ঘটনায় প্রবাসীর স্ত্রী, কন্যাসহ তিনজনকে কুপিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অভিযুক্ত নাঈম স্বরূপকাঠি পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের রফিক মিয়ার ছেলে ও নিষিদ্ধ ঘোষিত উপজেলা ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় কর্মী।

    বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় উপজেলার স্বরূপকাঠী পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয়রা জানান, উপজেলার স্বরূপকাঠি পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা প্রবাসী ইলিয়াস হোসেনের ঘরের পাশে সুপারি গাছ থেকে উঠে ঘরের প্রবেশ করেন নাঈম। এ সময়ে ঘরে থাকা তার স্ত্রী নাজমা আক্তার দেখে ফেলায় মোবাইলে কল করতে উদ্যত হলে তাৎক্ষণিক হাতে থাকা ছুরি দিয়ে তাকে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে।

    তার চিৎকার শুনে তার মেয়ে বাঁচাতে এলে তাকেও যখন করে। এসময় প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে নুহিন মিয়া এগিয়ে আসলে তাকেও গুরুতর যখম করে পালিয়ে যাওয়ায় সময় স্থানীয়রা তাকে আটক করে ।

    পরবর্তীতে নেছারাবাদ থানায় খবর দিলে নাঈমকে পুলিশ নিয়ে যায়।

    হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত নাজমা আক্তার বলেন, প্রতিদিনের ন্যায় আমি ঘরে কাজ করছিলাম। হঠাৎ দেখি নাঈম ঘরের পাশে থাকা সুপরি গাছ বেয়ে ওঠে আমার ঘরে প্রবেশ করেছে। আমি দেখে চিৎকার করে মোবাইলে ফোন দিতে গেলে তিনি ফোন দিতে বারণ করে হুমকি দেয়।

    এ সময় আমি চিৎকার করি সঙ্গে সঙ্গে তার হাতে থাকা ছুরি দিয়ে আমাকে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে। এতে আমি আমার মেয়ে ও প্রতিবেশী নুহিন মিয়াকে কুপিয়ে জখম করে। আমাদের ডাক-চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসলে তাকে আটক করতে সক্ষম হয়।

    প্রবাসী ইলিয়াস হোসেনের আপন বড় ভাই মিরাজ মিয়া বলেন, আমার ছোট ভাই দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে থাকে। এ সুযোগে নাঈম নামের একটি ছেলে দিনেদুপুরে চুরি করতে এসেছিল। এ ঘটনায় তিনজনকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতরভাবে আহত করেছে। তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছে।

    নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, এ ঘটনায় নাঈম ও তার পিতা রফিককে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

  • আশুলিয়ায় অটোচালককে গলা কেটে হত্যা : মূলহোতাসহ গ্রেফতার ২

    আশুলিয়ায় অটোচালককে গলা কেটে হত্যা : মূলহোতাসহ গ্রেফতার ২

    ঢাকার আশুলিয়ায় নির্মাণাধীন ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচে অটোরিকশা চালক মো: সুজন হাওলাদারকে (২৯) গলা কেটে হত্যার ঘটনায় মূলহোতাসহ দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকা জেলা। লাশ উদ্ধারের পর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে নেমে মাত্র ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

    গ্রেফতাররা হলেন, মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার শসতল গ্রামের মো: হারুন ঢালির ছেলে মো: মারুফ ঢালি (৩৯)। বর্তমানে তিনি ঢাকার লালবাগ থানার বাগানবাড়ী সৈয়দনগর এলাকায় নাহিদ ইসলামের গ্যারেজে বসবাস করে আসছিলেন। অপরজন একই গ্রামের মো: আজিজুল ঢালির ছেলে তানভীর ঢালি ওরফে আকাশ (২২)।

    পিবিআইয়ের দাবি, মারুফ সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জড়িত। আর তানভীর নিহতের লুণ্ঠিত অটোভ্যানটি তার কাছ থেকে কিনেছিলেন। গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে নিহত সুজনের অটোভ্যান ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পরে মারুফের দেখানো মতে ঘটনাস্থল থেকে হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতিও উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতার দুজনই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

    পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, নিহত সুজন হাওলাদার পটুয়াখালী সদর উপজলার লোহালিয়া ইউনিয়নের কুড়িপাইকা গ্রামের মো: আমির হাওলাদারের ছেলে। তিনি ঢাকার কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন আগানগর এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে অটোভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। গত ৮ আগস্ট বিকেল ৫টার দিকে নিজের অটোভ্যান নিয়ে বাসা থেকে বের হন সুজন। এরপর সর্বশেষ রাত ৯টার দিকে স্ত্রীকে ফোন করে কথা বলেন তিনি। এরপরই তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান পাননি। এর দুই দিন পর, ১০ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আশুলিয়া থেকে আব্দুল্লাহপুরগামী সড়কের পাশে নির্মাণাধীন ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ৮১/১ ও ৮১/২ নম্বর পিলারের মধ্যবর্তী স্থান থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    লাশের মাথায় থেতলানোর আঘাত এবং গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। খবর পেয়ে নিহতের মা ও স্ত্রী ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ শনাক্ত করেন। পরে আশুলিয়া থানা পুলিশ লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের মা মোসা: আলো বেগম অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ১১ আগস্ট পিবিআই ঢাকা জেলা স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে এবং পুলিশ পরিদর্শক মো: জামাল উদ্দীন বিপিএম-কে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।

    পিবিআইয়ের ভাষ্য, মামলাটি তদন্তে নেয়ার পর ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। ফিঙ্গারপ্রিন্টসহ প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণের পাশাপাশি ছায়া তদন্ত শুরু করে। নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করার পর তার নিখোঁজ হওয়ার সময়, সর্বশেষ মোবাইল যোগাযোগ, পূর্বপরিচিত ব্যক্তি এবং অটোভ্যানটির গতিবিধি নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন তদন্তকারীরা।

    তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বিত বিশ্লেষণে তদন্তের সূত্র গিয়ে পৌঁছায় মারুফের কাছে। পরে অটোভ্যানটির গতিবিধি অনুসরণ করে পিবিআইয়ের একটি দল মাদারীপুরে অভিযান চালায়। ১১ আগস্ট সকাল আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে মাদারীপুর সদর থানা এলাকার আনসার ক্যাম্পের সামনে একটি অটো গ্যারেজ থেকে মারুফ ও তানভীর ঢালি ওরফে আকাশকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় নিহত সুজনের লুণ্ঠিত অটোভ্যান। মারুফের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় সুজনের মোবাইল ফোন।

    পিবিআই জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মারুফ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলের কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতি উদ্ধার করা হয়।

    পিবিআইয়ের তদন্ত এবং গ্রেফতার আসামিদের আদালতে দেয়া জবানবন্দি অনুযায়ী, মারুফ নিজেও একজন ভ্যানচালক এবং নিহত সুজনের পূর্বপরিচিত ছিলেন। গত ৮ আগস্ট রাত ৯টার দিকে সুজন তার অটোভ্যান নিয়ে মোহাম্মদপুর এলাকায় মারুফের সাথে দেখা করেন। সেখান থেকে দুজন বেড়িবাঁধ হয়ে গাজীপুরের কাশিমপুরের উদ্দেশে রওনা দেন।

    পরদিন ৯ আগস্ট ভোররাত ৩টার দিকে কাশিমপুরে অটোভ্যানে মালামাল লোড করার পর তারা ঢাকার লালবাগের উদ্দেশে রওনা দেন। পথে আশুলিয়া ব্রিজ এলাকায় এসে অটোভ্যানটি বিকল হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও গাড়িটি ঠিক করতে না পারায় তারা নির্মাণাধীন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচে অবস্থান নেন।

    তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে দুজন ইয়াবা সেবন করেন। একপর্যায়ে সুজন নেশাগ্রস্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। তখন মারুফ তার অটোভ্যান থেকে একটি চাপাতি নিয়ে আসেন। পরে ৯ আগস্ট দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে ঘুমন্ত সুজনের মাথায় একটি ভারী পাথর দিয়ে সজোরে আঘাত করেন। এরপর চাপাতি দিয়ে তার গলায় আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয় বলে পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে এসেছে।

    হত্যার পর চাপাতিটি পানিতে ফেলে দেন মারুফ। ঘটনাস্থলে সুজনের লাশ রেখে তার অটোভ্যান ও মোবাইল ফোন নিয়ে সেখান থেকে চলে যান। হত্যার পর সুজনের অটোভ্যান নিয়ে মারুফ লালবাগে চলে যান। পরদিন ১০ আগস্ট সকালে অটোভ্যানটি চালিয়ে মাদারীপুরের উদ্দেশে রওনা হন।

    পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে মাদারীপুরে পৌঁছে তানভীর ঢালি ওরফে আকাশের কাছে অটোভ্যানটি ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন মারুফ। অটোভ্যানটির অবস্থান শনাক্ত করার পরই তদন্তকারীরা মাদারীপুরে অভিযান চালান। সেখান থেকে অটোভ্যানসহ মারুফ ও তানভীরকে গ্রেফতার করা হয়।

    পিবিআইয়ের দাবি, ঘটনাস্থলের আলামত, ফিঙ্গারপ্রিন্ট, তথ্যপ্রযুক্তি এবং গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বিত ব্যবহারের কারণেই দ্রুত এ অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে।

    পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) এম এন মোর্শেদ পিপিএম বলেন, চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের সংবাদ পাওয়ার পরপরই পিবিআই ঢাকা জেলার ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করার পাশাপাশি ছায়া তদন্ত শুরু করা হয়।

    তিনি বলেন, স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণের পর তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নেয়া হয়। নিরলস তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত দুজনকে শনাক্ত ও গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে।

    পিবিআই জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্তে হত্যাকাণ্ডের সাথে অন্য কারো সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • মাগুরায় আলমসাধু উল্টে চালক নিহত

    মাগুরায় আলমসাধু উল্টে চালক নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মাগুরায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আলমসাধু উল্টে মহি (৫০) নামে এক চালক নিহত হয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ভোররাতে ঝিনাইদহ-মাগুরা মহাসড়কের মাগুরা শহরের পুলিশ লাইন এলাকার বাঁশতলা নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত মহি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার উত্তর নারায়ণপুর গ্রামের আব্দুল খালেক মিয়ার ছেলে।

    নিহতের শালা মোহাম্মদ মোজাম্মেল জানান, বুধবার রাত ৮টার দিকে ঝিনাইদহের ডাকবাংলা থেকে চুয়াডাঙ্গার কাঁচামাল নিয়ে মহম্মদপুরের উদ্দেশে রওনা দেন মহি। রাত ১টার দিকে মহম্মদপুর পৌঁছে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে সেখান থেকে বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। ভোরে পুলিশের ফোনের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যরা দুর্ঘটনার খবর জানতে পারেন।

    রামনগর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান জানান, মহি চুয়াডাঙ্গা থেকে কাঁচামাল নিয়ে মাগুরার মহম্মদপুরে যান। সেখানে সবজি দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে পুলিশ লাইন এলাকার বাঁশতলায় পৌঁছালে আলমসাধুটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে উল্টে যায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের লাশ মাগুরা

  • বেনাপোলে ভ্যান-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ২

    বেনাপোলে ভ্যান-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ২

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    যশোরের বেনাপোলে লোহার গ্রিলবোঝাই ব্যাটারিচালিত ভ্যানের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ইব্রাহিম হোসেন (৫০) নামে এক মোটরসাইকেল চালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলের আরোহী ও ভ্যানচালক গুরুতর আহত হয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে বেনাপোল পোর্ট থানার বাইপাস সড়কের ভবারবেড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ইব্রাহিম হোসেন শার্শা উপজেলার গোগা গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে। আহতরা হলেন ইছাপুর দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক ফজলুল হক (৪৫) এবং ভ্যানচালক আলী কদর (৩৫)।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইব্রাহিম হোসেন তার সহকর্মী শিক্ষক ফজলুল হককে নিয়ে মোটরসাইকেলে গোগা থেকে শার্শার দিকে যাচ্ছিলেন। পথে ভবারবেড় এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা লোহার গ্রিলবোঝাই একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যানের সঙ্গে মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

    এতে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে ছিটকে পড়ে। দুর্ঘটনায় তিনজনই গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পথে ইব্রাহিম হোসেনের মৃত্যু হয়। আহত অপর দুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন জানান, দুর্ঘটনাকবলিত ভ্যান ও মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • নাটোরে সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের  বিরুদ্ধে ৭ সাংবাদিক আহত করার প্রতিবাদে মানববন্ধন

    নাটোরে সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৭ সাংবাদিক আহত করার প্রতিবাদে মানববন্ধন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নাটোরের লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ডের সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে দুই উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) অফিসে হামলা, সরকারি কর্মকর্তা ও দৈনিক সংগ্রামের বাগাতিপাড়া উপজেলা প্রতিনিধি ফজলুর রহমানসহ ৭ জন সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের হয়নি। তাছাড়া সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা সরকারি সম্পদ নষ্ট ও কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করলেও মামলা করার কোনো তোড়জোড় নেই দুই উপজেলার ইউএনওদের।

    এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলার প্রতিবাদ এবং হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন জেলার গণমাধ্যমকর্মীরা। এ সময় লালপুর ও বাগাতিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহারের আল্টিমেটাম দেন তারা। অন্যথায় বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা।

    গত বুধবার দুপুরে লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে স্থানীয় ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা ইউএনওর কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন। এ সময় মিছিল নিয়ে বিক্ষুব্ধরা বাগাতিপাড়া উপজেলার নির্বাহী অফিসারের রুমের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। এ সময় বেশ কিছু ফুলের টব ও ইউএনও অফিসের গেট ভাঙচুর করা হয় এবং কৃষি কর্মকর্তা ও এক অফিস সহকারীকে মারপিট করেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ সময় ভিডিও করতে গেলে দৈনিক সংগ্রামের প্রতিনিধি সাংবাদিক ফজলুর রহমান ও চ্যানেল এস-এর খাদেমুল ইসলামসহ চার সাংবাদিককে মারপিট করা হয় এবং চ্যানেল ওয়ান ও স্টার নিউজ টিভির সাংবাদিককে লাইভ সম্প্রচারে বাধা দেওয়া হয়।

    এছাড়া একই দাবিতে লালপুর উপজেলায় ইউএনও অফিস ঘেরাও করে সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর এবং সমাজসেবা কর্মকর্তা মাসুদ রানা ও আইসিটি কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমানকে লাঞ্ছিত করেন সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা। এ সময় ভিডিও ধারণ করতে গেলে মানবজমিন-এর সাংবাদিক রাশেদুল এবং এনটিভি অনলাইনের সজিবুল ইসলাম হৃদয়কে মারপিট করেন তারা।

    এসব ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও দুই উপজেলার ইউএনও কোনো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে দুই উপজেলার ইউএনও কেউ ফোন রিসিভ করেননি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, সরকারি সম্পদ নষ্ট হলেও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

    তবে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম এবং বাগাতিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান বলেন, এখন পর্যন্ত কেউ থানায় অভিযোগ করেনি। তবে অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এদিকে দুই উপজেলায় সাংবাদিকদের মারপিটের ঘটনায় বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে নাটোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে ঘণ্টাব্যাপী এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা অংশ নেন।

    এ সময় মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, পুলিশের দায়িত্ব ছিল সাংবাদিক এবং উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা দেওয়া। কিন্তু তারা সেই দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। পুলিশের উপস্থিতিতেই ইউএনওকে অবরুদ্ধ করা এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

    নির্যাতিত সংগ্রাম-এর প্রতিনিধি ফজলুর রহমান ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, বুধবার দুপুরে আমরা ইউএনও অফিসে সংবাদ সংগ্রহ করছিলাম। এ সময় বাগাতিপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সোহেল রানা ও পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোতালেব হোসেন পান্নার নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী আমাদের ওপর হামলা চালায়। তারা ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে ফুটেজ মুছে ফেলে এবং আমাদের শারীরিকভাবে নির্যাতন করে।

  • আনারকলি ফল চাষে বাজিমাত

    আনারকলি ফল চাষে বাজিমাত

    বিদেশি ফল ‘প্যাশন ফ্রুট’ বাংলাদেশে ‘আনারকলি’ বা ‘ট্যাং ফল’ নামে পনিচিত। এ ফল চাষ করে দারুণ সফলতা পেয়েছেন মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের চাষি সালেহ আহমদ। জেলার পাহাড়ি অঞ্চলে কয়েক বছর আগেই ফলটির চাষ শুরু হয়। তবে এই প্রথম সমতলে আনারকলির বাণিজ্যিক চাষ শুরু করেছেন তিনি। এ কৃষি উদোক্তা কমলগঞ্জ উপজেলার ৫ নম্বর কমলগঞ্জ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম বাঘমারা গ্রামের বাসিন্দা।

    জানা গেছে, মুদু টক-মিষ্টি স্বাদের আনারকলি ফলের জনপ্রিয়তা বাড়ছে দিন দিন। প্রতি পিস আনারকলি পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ টাকায়। রাসায়নিক সার ও কীটনাশক প্রয়োগ ছাড়াই সম্পূর্ণ জৈব পদ্ধতিতে আনারকলি ফল চাষ করা যায়। যে কারণে এর উৎপাদন খরচও কম। ফলে নেই কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি। স্বাদে-গন্ধে অনন্য এ ফলের আবাদে জেলায় ফল উৎপাদনে দেখা দিয়েছে নতুন সম্ভাবনা।

    উদ্যোক্ত সালেহ আহমদ জানান, দর্ঘিদিন ধরে তিনি ধান চাষের পাশাপাশি নিজের জমিতে গড়ে তুলেছেন লেবু, লটকনসহ দেশি-বিদেশি নানা ফলের ক্ষুদ্রায়তন বাগান। ২০২২ সালে নিজের চার শতাংশ জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে তিনটি চারা রোপণের মাধ্যমে শুরু করেন আনারকলি চাষ। ২০২৪ সালে তার ওই তিনটি গাছের ফল পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বিক্রি করেন ১০ হাজার টাকা। আনারকলি ফল বিক্রির পর চাষে তার উৎসাহ বেড়ে যায়। ওই বছরই আরও বেশ কিছু চারা রোপণ করে বাণিজ্যিকভাবে এ ফলের চাষাবাদে তিনি সফলতা অর্জন করেন। বর্তমানে তার বাগানের গাছগুলোতে যে ফল এসেছে তাতে সালেহ আহমদ চলতি মৌসুমে লক্ষাধিক টাকার ফল বিক্রির প্রত্যাশা করছেন।

    সরেজমিনে সালেহ আহমদের আনারকলি ফলের বাগানের গিয়ে দেখা যায়, মাচাং ও বড় বড় গাছের উপর লতানো আনারকলি, প্যাশন ফ্রন্ট বা ট্যাং ফলের গাছগুলো ভরে গেছে ফুল ও ফলে। আলাপকালে কৃষক সালেহ আহমদ বলেন, আমি ছোটবেলা থেকেই কৃষি কাজের সঙ্গে জড়িত। বাপ-দাদাও কৃষক ছিলেন। কৃষিই আমার পরিবারের একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম। ২০২২ সালে কৃষির কাছে একটি খাসিয়া পান পুঞ্জির মন্ত্রীর (পুঞ্জি প্রধান বা হেডম্যান) বাড়িতে প্রথম প্রথম দেখি আনারকলি ফল। ফলটি দেখে পরে ওই মন্ত্রীর কাছে চারা চাইলে তিনি জানান চারা জানবে মেয়ে মাটিতে রোপন করলেই গাছ হবে।

    তার কথামতো তিনটি ভাল কেটে আনি এবং নিতান্তই শখের বসে আমার পরিতাক্ত একটি জমিতে তা রোপন করি। কিছুদিনের মধ্যেই এসব ডালে নতুন পাতা গজায় এবং তরতর করে গাছগুলো লাউ গাছের মতো বড় হতে থাকে। পরে মাচাং তৈরি করে দেই। মাচাংয়ে বড় হতে হতে এক বছরের মধ্যে সুন্দর ফুল ও পরে ফল হতে থাকে। ডাল রোপণের প্রথম বছরই বাড়িতে আমরা অনেকগুলো ফল খাই এবং এলাকার মানুষও ফল চেয়ে নেন। এলাকার এমন কোন বাড়ি নেই যারা আগ্রহভরে আমার কাছ থেকে ফল নেননি। তবে কোনদিনও ভাবতে পারিনি এসব ফল বিক্রি করতে পারবো।

    ২০২৪ সালে আমার এলাকার সায়েদ আলী নামের এক যুবক আমাকে ফল কেনার প্রস্তাব দেয়। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে তার নানা মৌসুমি ফলের দোকান রয়েছে। তার প্রস্তাবে রাজি হয়ে আমি গাছে ঝুলতে থাকা পাকা ফলগুলো প্রতি পিস ২৫ টাকা দরে তার কাছে বিক্রি করতে থাকি। এলাকায় বণ্ঠন ও আমার পরিবারের চাহিদা মেটানোর পরও মৌসুম শেষে ফল বিক্রির অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ১০ হাজার টাকারও বেশি।

    এতে আগ্রহ বাড়ে, নিজের গাছের কলম ও ফলের বীজ থেকে আরও চারা করি। বর্তমানে আমার বাগানের মাচাংয়ে এবং আশপাশের আম, কাঁঠালসহ বিভিন্ন গাছে রয়েছে অনেকগুলো আনারকলি ফলের গাছ। যে পরিমাণ ফুল ও ফল এসেছে তাতে ধারণা করছি এ বছর কমপক্ষে লক্ষাধিক টাকার বিক্রি করতে পারব। তবে ফুল ধরার পর মৌমাছির আক্রমণে অনেক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি। নতুবা ফলের ও বিক্রির আয়ের সংখ্যা আরও বাড়তো। এখন বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ফল ও চারা কিনতে আসছেন।

    বাঘমারা গ্রামের ছদরুল হোসেন বলেন, বকৃষক সালেহ আহমদের আনারকলি ফলের বাগান দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসে। মাত্র চার শতক জমির বাগানে শতশত ফল ধরে। এই ফলের উৎপাদন

    প্রতিটি গাছের ডগায় প্রচুর ফল ধরে। এ ফল চাষ করতে রাসায়নিক সারের প্রয়োজন হয় না। জৈব পদ্ধতিতে আবাদ করা যায়। ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি নেই। ভিটামিন-সি, আয়রন, জিংক ও ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ এ ফল। কৃষক সালেহ আহমদ বলেন, বলেন, বিঘাপ্রতি আনারকলি চাষ করলে কয়েক লাখ টাকার ফল বিক্রি করা সম্ভব। এই ফল পিস হিসেবে বিক্রি করা হয়। উৎপাদন খরচ খুবই কম। বর্তমানে ফল উৎপাদনের পাশাপাশি চারা উৎপাদন শুরু অনেক বেশি। আনারকলি ফল খেতেও মজাদার।

  • স্বাস্থ্যকেন্দ্র এখন গরু-ছাগলের চারণভূমি

    স্বাস্থ্যকেন্দ্র এখন গরু-ছাগলের চারণভূমি

    প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যাশায় নির্মাণ করা হয়েছিল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র। উদ্বোধনের সময় এলাকাবাসীর চোখে ছিল স্বস্তির স্বপ্ন—কাছেই মিলবে চিকিৎসা, ওষুধ ও মাতৃ-শিশুস্বাস্থ্যসেবা। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন অনেকটাই ধুলোয় মিশেছে।

    মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার বর্ণি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে উদ্বোধন করা হলেও ৫ বছর ৯ মাস পরও কার্যকরভাবে চালু হয়নি। জনবল সংকটে চিকিৎসাসেবা কার্যত বন্ধ। উদ্বোধনের পর হাতেগোনা কয়েক দিন ভবনটি খোলা হলেও অধিকাংশ সময়ই থাকে তালাবদ্ধ।শুধু তালাই নয়—অযত্ন আর অব্যবস্থাপনায় সরকারি এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির ভবন ও আশপাশের পরিবেশও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

    যে মাঠে রোগী ও স্বজনদের আনাগোনা থাকার কথা, সেখানে এখন অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে গরু-ছাগল। ভবনের সামনে ও প্রবেশপথে জন্মেছে ঘাস-আগাছা। বিভিন্ন স্থানে জমেছে ময়লা-আবর্জনা। দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবনের দেয়ালের রঙও বিবর্ণ হয়ে গেছে।

    বড়লেখা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্ণি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে চারটি পদের মধ্যে পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা ও আয়া—এই দুটি পদের জনবল অনুমোদিত হয়েছে। অপর দুটি পদ—উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ও এমএলএসএস—এখনও অনুমোদন করা হয়নি।

    সম্প্রতি উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় থেকে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার নজরুল ইসলামকে বর্ণি ও নিজবাহাদুরপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী তার সপ্তাহে দুই দিন বর্ণি কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের কথা।

    তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বাস্তবে তিনি সপ্তাহে এক দিনের বেশি কেন্দ্রে আসেন না। কখনো কিছু সময় অবস্থান করে চলে যান, আবার কোনো কোনো সপ্তাহে তাকে দেখাই যায় না।

    সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির প্রধান ফটক খোলা থাকলেও ভবনের মূল দরজায় ঝুলছে তালা। ভবনের সামনে ও প্রবেশপথের চারপাশে বেড়ে উঠেছে ঘাস-আগাছা। এখানে সেখানে ছড়িয়ে রয়েছে ময়লা-আবর্জনা।

    স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নির্ধারিত সীমানার ভেতরে অবাধে বিচরণ করছে গরু-ছাগল। মাঠের ঘাস খাচ্ছে গবাদিপশু। ভবনের দেয়ালের বিবর্ণ রঙ ও চারপাশের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে মনে হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্রটি কার্যত অচল অবস্থায় পড়ে আছে।

    একটি সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের এমন চিত্র দেখে প্রশ্ন উঠেছে—মানুষের চিকিৎসার জন্য নির্মিত এই ভবন কি শেষ পর্যন্ত গবাদিপশুর চারণভূমিতেই পরিণত হবে?

    স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ জবলুর অভিযোগ, সপ্তাহে একদিন একজন স্বাস্থ্যকর্মী কেন্দ্রে আসেন। তিনি বলেন, সপ্তাহে এক দিন একজন আসেন। খুলেন, মানুষ আসলে বলেন ওষুধ নেই। এরপর আধা ঘণ্টা-৪০ মিনিট বসে চলে যান। আর কোনো খবর মেলে না। কোনো সপ্তাহে আসেন, কোনো সপ্তাহে আসেন না। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চারপাশে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা দেখিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

    জবলু বলেন, ‘ভবনটি উদ্বোধনের সময় আমরা খুশি হয়েছিলাম। প্রতিদিন ডাক্তার থাকার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু প্রায় ছয় বছর হলো, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি কোনো কাজে আসছে না। আমাদের বর্ণিতে অনেক নেতা, কিন্তু কাজের কোনো নেতা নেই।’

    কেন্দ্রটি কার্যকরভাবে চালু না থাকায় ইউনিয়নের মানুষ শুধু সাধারণ চিকিৎসা থেকেই বঞ্চিত হচ্ছেন না; হারাচ্ছেন প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগও।

    পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি, প্রসবপূর্ব সেবা, প্রসবকালীন সেবা, নবজাতকের পরিচর্যা, শিশুস্বাস্থ্য সেবা, কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্যসেবা, সীমিত স্বাস্থ্য পরিচর্যা এবং সাধারণ রোগের চিকিৎসা—এসব সেবা পাওয়ার কথা ছিল এই কেন্দ্র থেকে।

    বিশেষ করে প্রত্যন্ত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য কাছাকাছি একটি সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের গুরুত্ব অনেক। কিন্তু ভবন নির্মাণের পরও যদি সেখানে নিয়মিত চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও ওষুধ না থাকে, তাহলে অবকাঠামো থাকলেও স্বাস্থ্যসেবা থেকে যায় অধরাই।

    বড়লেখা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সীমা সিদ্দিকা বলেন, ‘বর্ণি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি নতুন। এখানে পদ সৃষ্টি হয়নি। ফলে মানুষকে সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আমরা জনবল চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছি। জনবল পাওয়া গেলে যথাযথভাবে মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া সম্ভব হবে।’

  • তৃণমূলের থেকে দেশের সর্বোচ্চ পদে বসতে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল

    তৃণমূলের থেকে দেশের সর্বোচ্চ পদে বসতে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল

    তৃণমূলের রাজনীতি থেকে ধাপে ধাপে উঠে এসেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছাত্রজীবনে ছিলেন ছাত্রনেতা, কর্মজীবনে অর্থনীতির শিক্ষক। পরবর্তীতে রাজনীতিতে যোগ দিয়ে পৌর চেয়ারম্যান, সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী ও মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

    বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম এবার দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ তাকে বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন। ৭৮ বছর বয়সী মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক জীবন দীর্ঘ ও বৈচিত্র্যময়। রাজনৈতিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েও এগিয়েছেন তিনি।

    ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ থেকে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মির্জা ফখরুল। এর আগে ২০১১ সালের ২০ মার্চ থেকে দীর্ঘ পাঁচ বছর দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে তাকে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব মনোনীত করা হয়।

    ছাত্রজীবন থেকেই তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে পড়ার সময় তিনি বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন এবং পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃত্ব দেন। তিনি সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার সভাপতি এবং এসএম হল শাখার নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি ছাত্র ইউনিয়নের ঢাবি শাখার সভাপতি ছিলেন।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেওয়ার পর মির্জা ফখরুল অধ্যাপনা পেশায় যোগদান করেন। ঢাকা কলেজে অর্থনীতি বিভাগে শিক্ষকতার পর তিনি সরকারি চাকরিতে প্রবেশ করেন। ১৯৭৯ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনকালে তৎকালীন উপ-প্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরেন।

    ১৯৮৮ সালে মির্জা ফখরুল ইসলাম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঠাকুরগাঁও পৌরসভা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন। ৯০-এর দশকের শুরুতে এরশাদ বিরোধী দেশব্যাপী আন্দোলনের সময় তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৯২ সালে তাকে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি করা হয়। বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোর বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে মির্জা ফখরুল প্রথমে দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং পরবর্তীতে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব হন।

    দলের শীর্ষ নেতৃত্বে আসার আগে তিনি বিএনপির কৃষক সংগঠন জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের প্রথম সহ-সভাপতি ছিলেন। পরবর্তীতে দীর্ঘদিন সংগঠনটির সভাপতির দায়িত্বও সামলেছেন তিনি। ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজ এলাকা ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি কৃষি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

    ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ এবং বগুড়া-৬ আসন থেকে জয়লাভ করেন তিনি। তবে, দেশজুড়ে ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেননি।

    বিএনপির ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন ও সংকটময় সময়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম দলের অন্যতম শীর্ষ নেতৃত্বের দায়িত্বে আসেন। এক-এগারোর রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনকালে বিএনপি তীব্র দমন-পীড়ন ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মুখে পড়ে। তৎকালীন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ২০১৮ সাল থেকে প্রায় দুই বছর কারাগারে ছিলেন।

    পরবর্তীতে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন। অন্যদিকে, ২০০৮ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বিএনপির তৎকালীন জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনে চলে যান এবং সেখান থেকেই দল পরিচালনা করতে থাকেন।

    এমন এক পরিস্থিতিতে মির্জা ফখরুল ইসলামই দেশে থেকে বিএনপির রাজনৈতিক কার্যক্রম ও আন্দোলনের মূল কাণ্ডারী হয়ে ওঠেন। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথের আন্দোলনে তিনি সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন। শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে তিনবার কারাবরণ করেন তিনি।

    ২০১৬ সালে বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দলের মহাসচিব নির্বাচিত হন। সেই থেকে টানা এ দায়িত্বে রয়েছেন তিনি। ছাত্র রাজনীতি ও শিক্ষকতা থেকে শুরু করে তৃণমূলের নেতৃত্ব অতিক্রম করে শেষ পর্যন্ত তিনি বিএনপির মহাসচিব হন।

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়ী এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মির্জা রুহুল আমিন পেশায় আইনজীবী ছিলেন। তিনি পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের দুইবারের সদস্য এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশের সংসদ সদস্য ছিলেন। এরশাদ সরকারের আমলে তিনি মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। তাঁর মা মির্জা ফাতেমা আমিন।

    ঠাকুরগাঁওয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে অর্থনীতিতে পড়াশোনা সম্পন্ন করেন। তবে তার রাজনীতির শেকড় গড়ে উঠেছিল ছাত্রজীবনেই। বামপন্থী ছাত্র রাজনীতি দিয়ে শুরু করে মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) মাধ্যমে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। পরবর্তীতে শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরির পথ পেরিয়ে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন।

    বিএনপি মহাসচিব হিসেবে দলের নীতি-নির্ধারণ ও সার্বিক কার্যক্রমে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। কঠিন সময়ে বিএনপিকে সুসংগঠিত রাখা এবং দলের রাজনৈতিক অবস্থান টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে তার ভূমিকার প্রশংসা করেছেন দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠনের পর নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মির্জা ফখরুল ইসলাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। ১৩তম জাতীয় সংসদে তার আসনটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঠিক পাশেই। বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের মতে, দলের চরম সংকটে দীর্ঘদিনের ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবেই তাকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে সম্মানিত করা হচ্ছে।

    ব্যক্তিগত জীবনে মির্জা ফখরুল ইসলাম পারিবারিক জীবনকেন্দ্রিক এক ব্যক্তিত্ব। স্ত্রী রাহাত আরা বেগম এবং দুই কন্যা মির্জা শামারুহ ও মির্জা সাফারুহকে নিয়ে তাঁর পরিবার। তার স্ত্রী বেসরকারি একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, বর্তমানে তিনি অবসর জীবন কাটাচ্ছেন। তার বড় মেয়ে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী এবং সিডনিতে পোস্ট ডক্টরাল ফেলো। ছোট মেয়ে ঢাকার একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে শিক্ষকতা করছেন।

    ছাত্রনেতা ও শিক্ষক থেকে শুরু করে তৃণমূলের রাজনীতিবিদ, সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে বিস্তৃত মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক পথচলা বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসের সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত। রাষ্ট্রপতি পদে তার এ মনোনয়ন দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের নতুন এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে।

  • রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের মনোনয়নপত্র জমা

    রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের মনোনয়নপত্র জমা

    রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান।

    বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে নির্বাচন ভবনে নির্বাচনি কর্তা হিসেবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন তিনি।

    মনোনয়নপত্র নিয়ে নির্বাচন ভবনে আসেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল, মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, আখতারুজ্জামান মিয়া ও এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান; দলের যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী ও হাবিব উন নবী খান সোহেলসহ প্রতিনিধি দল।

    মির্জা ফখরুলের মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক হয়েছেন ড. আব্দুল মঈন খান ও সমর্থক গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। মনোনয়নপত্র গ্রহণকালে সিইসির সঙ্গে ইসি সচিব আখতার আহমেদও উপস্থিত ছিলেন।

    এর আগে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করা হয়।

    সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

    তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পক্ষ থেকে আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হয়েছেন দলের সংগ্রামী মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।’

    তিনি বলেন, ‘কিছুক্ষণ আগে দলের সম্মানিত চেয়ারম্যান এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।’

    এর আগে ১১ জোটের প্রার্থী অলি আহমদের মনোনয়নপত্র জমা দেন জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ।

    আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

  • চুয়াডাঙ্গায় লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন, ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা

    চুয়াডাঙ্গায় লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন, ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    অসহনীয় ভ্যাপসা গরমের সাথে পাল্লা দিয়ে চুয়াডাঙ্গা জুড়ে চলছে তীব্র লোডশেডিং। শহর এলাকাগুলোতে দফায় দফায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হলেও গ্রামাঞ্চলের চিত্র করুণ। পল্লী বিদ্যুতের আওতাধীন এলাকাগুলোতে দিন-রাত মিলিয়ে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। ফলে একদিকে যেমন দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, অন্যদিকে স্থবির হয়ে পড়েছে কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও ক্ষুদ্র শিল্পখাত।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, চুয়াডাঙ্গা ও আলমডাঙ্গার শহর এবং উপজেলা সদরে দিনে তিন থেকে চার বার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে, তবে তা প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে আবার স্বাভাবিক হয়। কিন্তু গ্রামীণ জনপদে একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে তিন থেকে চার ঘণ্টার আগে আসার কোনো লক্ষণ থাকে না। এতে তীব্র গরমে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েছে শিশু ও বয়স্করা।

    কৃষিপ্রধান এই জেলায় বর্তমানে মাঠে মাঠে সেচ পাম্প চালু রাখার ব্যস্ত সময়। সময়মতো বিদ্যুৎ না পাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে ফসলের সেচ কার্যক্রম।

    পৌর এলাকার কৃষক শাহাবুল ইসলাম আক্ষেপ প্রকাশ করে জানান, পাম্প চালুর পরই বিদ্যুৎ চলে যায় ও কখন আসবে তা অনিশ্চিত থাকে। ফসল বাঁচাতে বাধ্য হয়ে বাড়তি খরচ করে ডিজেল চালিত পাম্প দিয়ে সেচ দিতে হচ্ছে, যার ফলে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে।

    বিদ্যুৎ সঙ্কটে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে খেটে খাওয়া নিম্নআয়ের মানুষ ও স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকরা রাতে গাড়ি চার্জ দিতে না পেরে দিনে রাস্তায় নামতে পারছেন না। পাশাপাশি চালের মিল, ওয়েল্ডিং কারখানা, পোল্ট্রি ফার্ম ও কোল্ড স্টোরেজ ব্যবসায় ক্ষতির ধস নেমেছে। বাতাস চলাচলের অভাবে বেশ কিছু পোল্ট্রি খামারে মুরগির মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।

    সংশ্লিষ্ট দফতর সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় গ্রিড থেকেই চাহিদার তুলনায় অনেক কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় এই সঙ্কটের সৃষ্টি হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা ও আলমডাঙ্গা মিলিয়ে ওজোপাডিকোর প্রায় ৭০ হাজার গ্রাহকের জন্য ২৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে জাতীয় গ্রিড থেকে মেলে মাত্র ১৫ থেকে ১৮ মেগাওয়াট।

    চুয়াডাঙ্গা ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবীব বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘চাহিদার এই ঘাটতির কারণে নিরুপায় হয়েই লোডশেডিং পরিচালনা করতে হচ্ছে।’

    অন্যদিকে চুয়াডাঙ্গা জোনাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায় প্রায় ৮৪ হাজার গ্রাহকের জন্য প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১০ থেকে ১২ মেগাওয়াট।

    ডিজিএম মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন জানান, চাহিদার প্রায় অর্ধেক সরবরাহ পাওয়ায় লোডশেডিং দিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

    উল্লেখ্য, চুয়াডাঙ্গা গ্রিড সাব-স্টেশন থেকে পাওয়া বিদ্যুতের ৩০ শতাংশ ওজোপাডিকো ও ৭০ শতাংশ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাধ্যমে বন্টন করা হলেও দুই সংস্থায় চাহিদা অনুযায়ী যোগান দিতে পারছে না।

    এদিকে গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতকরণ ও বিদ্যুৎ সেবার বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো: রুহুল আমিন মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে জরুরি বৈঠক করেছেন।

    বৈঠকে বিশেষ করে জীবননগর ও দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সেবা চালু রাখার প্রতি জোর নির্দেশ দেয়া হয়।

    সংসদ সদস্য মো: রুহুল আমিন বলেন, ‘সাধারণ মানুষের সেবা নিশ্চিত করা ও হাসপাতালসহ জরুরি প্রতিষ্ঠানে নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ নিশ্চিত করতে কর্মকর্তাদের আরো দায়িত্বশীল হতে হবে।’

    মতবিনিময় সভায় মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম স্বদেশ কুমার ঘোষসহ সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • প্রধানমন্ত্রীর সাথে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রতিনিধি দলের বৈঠক

    প্রধানমন্ত্রীর সাথে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রতিনিধি দলের বৈঠক

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের ৫০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    আজ বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

    সকাল সাড়ে ৯টায় নির্ধারিত সময়ে বৈঠকটি শুরু হয়। এতে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন এক্সিলারেট এনার্জির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চিফ কমার্শিয়াল অফিসার, অলিভার সিম্পসন এবং ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের সিনিয়র সভাপতি এবং ইউএস চেম্বার অব কমার্সের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্রদূত (অব.) অতুল কেশপ।

  • টাকা ছাপিয়ে দুর্বল ব্যাংককে ধার, ছাড়াল ৮৫ হাজার কোটি

    টাকা ছাপিয়ে দুর্বল ব্যাংককে ধার, ছাড়াল ৮৫ হাজার কোটি

    দুর্বল ব্যাংকগুলোকে টিকিয়ে রাখতে টাকা ছাপিয়ে তারল্য সহায়তা দেওয়ার পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে। গত তিন মাসে নতুন করে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে এসব ব্যাংককে দেওয়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মোট ধার ছাড়িয়েছে ৮৫ হাজার কোটি টাকা। ব্যাংকগুলোর চরম তারল্য সংকট সামাল দিতে এই অর্থ দেওয়া হলেও দীর্ঘদিনেও বড় অঙ্কের এই ধার পরিশোধ করতে পারেনি।

    জানা গেছে, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ডজনখানেকের বেশি ব্যাংকে ব্যাপক লুটপাট করা হয়েছিল। এসব লুটপাটে এস আলমসহ কয়েকটি গ্রুপ জড়িত ছিল। লুটপাটের কারণে ব্যাংকগুলো আর্থিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। এমনকি গ্রাহকের আমানতের অর্থও ফেরত দিতে পারছে না।

    এমন পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ সরকারের শেষদিকে টাকা ছাপিয়ে সংকটে পড়া ব্যাংকগুলোকে তারল্য সহায়তা দেওয়া শুরু হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ব্যাংকগুলোর সংকট আরো প্রকট হয়ে উঠলে তখনও তারল্য সহায়তা দেওয়া হয়। পরে পরিস্থিতিতে কিছুটা স্থিতিশীলতা এলেও বিএনপি সরকারের সময়ে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে ব্যাংকটি আবারও অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংককে আবারও তারল্য সহায়তা দিতে হয়।

    সূত্র বলছে, এখন পর্যন্ত ১৩টি ব্যাংককে টাকা ছাপিয়ে ৮৫ হাজার কোটি টাকার বেশি ধার দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ আমলের সর্বশেষ গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের সময়ে দেওয়া হয় ১৭ হাজার ২৫০ কোটি টাকা, অন্তর্বর্তী সরকারের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সময়ে দেওয়া হয় ৫১ হাজার কোটি টাকা এবং বর্তমান গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সময়ে দেওয়া হয়েছে ১৭ হাজার কোটি টাকা।

    খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, ব্যাংকগুলো লুটপাটের কারণে সংকটে পড়েছে—এটি সত্য। তবে যেভাবে টাকা দেওয়া হচ্ছে, তাতে কাঙ্ক্ষিত উন্নতি হচ্ছে না। এভাবে টাকা ছাপিয়ে দিয়ে কতদিন ব্যাংকগুলো টিকিয়ে রাখা সম্ভব, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। কিছু ব্যাংক একীভূত করা হলেও এ ক্ষেত্রে অগ্রগতি খুবই কম।

    সংকটের নেপথ্যে

    আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাংক খাতের ক্ষত লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। তবে ২০২২ সালের শেষদিকে এস আলমের নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতির খবর গণমাধ্যমে আসতে শুরু করে। তখন ব্যাংকগুলো থেকে গ্রাহকরা অর্থ তুলে নিতে শুরু করেন। এতে ব্যাংকগুলো তারল্য সংকটে পড়ে যায়।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে ব্যাংকগুলো বিধিবদ্ধ নগদ তারল্য সংরক্ষণ হিসেবে সিআরআর এবং সরকারি সিকিউরিটিজ হিসেবে এসএলআর রাখতেও ব্যর্থ হয়। এরপরও ব্যাংকগুলোকে নানা অবৈধ সুবিধা দিয়ে টিকিয়ে রাখেন তৎকালীন গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিসের সঙ্গে প্রতিটি ব্যাংকের একটি চলতি হিসাব থাকে। এই হিসাব থেকে ব্যাংকের বিধিবদ্ধ নগদ তারল্য সংরক্ষণ হিসেবে সিআরআর ও সরকারি সিকিউরিটিজ হিসেবে এসএলআর রাখতে হয়। আবার আন্তঃব্যাংক লেনদেন নিষ্পত্তি, কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে দেওয়া পুনঃঅর্থায়নসহ যাবতীয় লেনদেনও হয় এ হিসাব থেকে।

    সাধারণভাবে সিআরআর ও এসএলআরে ঘাটতি হলেও চলতি হিসাবে ঘাটতি হওয়ার কথা নয়। তবে বিতর্কিত এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যাংকগুলোতে ঋণযোগ্য তহবিল শেষ হয়ে যাওয়ার পর সাবেক গভর্নর আব্দুর রউফ বেআইনিভাবে লেনদেনের সুযোগ দেন। ২০২২ সালের শেষদিকে শরিয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংকের চলতি হিসাব ঋণাত্মক করে লেনদেনের এই নতুন পদ্ধতি চালু করা হয়। এভাবে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কোনো বাধা ছাড়াই লেনদেন চালিয়ে যায় ব্যাংকগুলো।

    তবে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর নতুন গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর দায়িত্ব নিয়ে বেআইনি এসব সুবিধা বন্ধ করে দেন। পাশাপাশি ব্যাংকগুলোকে আগের মতো টাকা ছাপিয়ে দেওয়া হবে না বলেও ঘোষণা দেন তিনি। তবে এই সিদ্ধান্তে বেশিদিন অটল থাকতে পারেননি তিনি। কারণ, চলতি হিসাবে ঘাটতি এবং টাকা ছাপিয়ে ধার দেওয়া বন্ধ করায় গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দিতে হিমশিম খেতে থাকে ব্যাংকগুলো। ব্যাংকের শাখায় শাখায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি শুরু হলে আবারও নতুন করে টাকা ছাপিয়ে ঋণ দেওয়া শুরু করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

    কোন ব্যাংকের কত ধার

    টাকা ছাপিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সবচেয়ে বেশি ধার দিয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশকে। ব্যাংকটিকে দেওয়া হয়েছে ১৭ হাজার কোটি টাকা। এরপর ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংককে ১৫ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। এছাড়া এক্সিম ব্যাংককে ১২ হাজার ১০ কোটি টাকা, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংককে ১০ হাজার ৮৪১ কোটি টাকা, ন্যাশনাল ব্যাংককে ১০ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকা, ইউনিয়ন ব্যাংককে ৫ হাজার ৪২০ কোটি টাকা এবং প্রিমিয়ার ব্যাংককে ৪ হাজার ৯০০ কোটি টাকা ধার দেওয়া হয়েছে।

    এর বাইরে এবি ব্যাংককে ৪ হাজার ২৭০ কোটি টাকা, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংককে ৩ হাজার ৩ কোটি টাকা, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংককে ৬২৪ কোটি টাকা, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংককে ২৫২ কোটি টাকা এবং পদ্মা ব্যাংককে ২৫২ কোটি টাকা ধার দেওয়া হয়েছে।

    এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘এভাবে তারল্য সহায়তা দেওয়া আর ঠিক হবে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংক একপ্রকার বাধ্য হয়ে এসব সহায়তা দিচ্ছে। কারণ, আমানতকারীরা অর্থ ফেরত না পেলে ব্যাংক খাতে আস্থাহীনতা তৈরি হতে পারে। এতে সংকট আরো গভীর হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।’

  • রাতে মেট্রোরেলের যাত্রা বাড়ছে, আগামী মাসে সময় বাড়ানোর চিন্তা

    রাতে মেট্রোরেলের যাত্রা বাড়ছে, আগামী মাসে সময় বাড়ানোর চিন্তা

    রাজধানীর শাহবাগে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের একটি রেস্তোরাঁয় চাকরি করেন রবিউল ইসলাম। প্রতিদিন মেট্রোরেলের শেষ ট্রেনে ফার্মগেট যান তিনি। কিন্তু ভিড়ের কারণে নাকাল হতে হয়। কোনো কারণে ট্রেনে উঠতে ব্যর্থ হলে বাস বা অন্য বাহনে যেতে ব্যাপক ঝক্কি পোহাতে হয়।

    রবিউল ইসলাম বলেন, ফার্মগেটে মেট্রোরেলে নেমেই পূর্ব রাজাবাজার তাঁর বাসা। এর চেয়ে সহজ যাতায়াত আর নেই। শেষ দিকে ট্রেন কিংবা চলাচলের সময় বাড়ানো হলে তিনিসহ সব যাত্রীরই উপকার হবে।

    রবিউলের কথার সঙ্গে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের হিসাবেরও মিল আছে। গত ৭ জুন থেকে রাতে মেট্রোরেলের চলাচল উভয় দিক থেকে ২০ মিনিট করে বাড়ানো হয়েছে। তবে শেষের ট্রেনটি ২০ মিনিট বিরতি দিয়ে চলাচল করে। ফলে ভিড় হচ্ছে প্রচুর। দুটি ট্রেন বাড়ানোর পর যাত্রীদের যাতায়াত বেড়েছে ১০ হাজারের মতো। এই পরিস্থিতিতে আরও দুটি ট্রেন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ। চলতি মাসের শেষ দিকেই বাড়তি দুটি ট্রেনের চলাচল শুরু হবে। এ ক্ষেত্রে এখন শেষ ট্রেনের মাঝখানে যে ২০ মিনিটের বিরতি আছে, তা কমে ৭ থেকে ৮ মিনিটে নেমে আসবে।

    ঢাকায় মেট্রোরেল নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। সংস্থাটির সূত্র বলছে, আগামী সেপ্টেম্বর থেকে মেট্রোরেলের চলাচলের সময় আরও ২০ মিনিট থেকে আধা ঘণ্টা বাড়ানোর চিন্তা আছে। সে ক্ষেত্রে রাত ১১টায় শেষ ট্রেন চলাচল করবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

    ডিএমটিসিএলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাতে সময় বাড়াতে হলে ট্রেনের চালক (অপারেটর) বাড়াতে হবে। ইতিমধ্যে অপারেটর নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। তাঁদের এখন প্রশিক্ষণ চলছে। ২৬ আগস্ট প্রশিক্ষণ শেষ হবে। এরপর তাদের দিয়ে ট্রেন চালানো শুরু হবে। এ ছাড়া রাতে সময় বাড়ালে রক্ষণাবেক্ষণসহ অন্যান্য প্রস্তুতির কাজ কীভাবে করা হবে, সেই পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।

    বর্তমানে রাতে মতিঝিল থেকে উত্তরার পথে সর্বশেষ ট্রেন ছাড়ছে সাড়ে ১০টায়। আর উত্তরা থেকে রাতের সর্বশেষ ট্রেন ছাড়ছে ৯টা ৫০ মিনিটে। প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৬টায় উত্তরা থেকে মতিঝিলগামী দিনের প্রথম মেট্রোরেল ছাড়ে। আর মতিঝিল থেকে উত্তরাগামী দিনের প্রথম মেট্রোরেল ছাড়ে সকাল সোয়া ৭টায়। সকালে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ানোর বিষয়ে আপাতত কোনো পরিকল্পনা নেই বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রটি জানিয়েছে।

    ডিএমটিসিএলের কর্মকর্তারা বলছেন, সাড়ে তিন মিনিট পরপর একটি করে ট্রেন চালানোর সক্ষমতা আছে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের। এ ছাড়া সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত মেট্রোরেল চলবে বলেও প্রকল্প নেওয়ার সময় অনুমান করা হয়েছিল। কিন্তু লোকবলের অভাবে তা হয়নি। এখন পর্যায়ক্রমে সময় বাড়ানো হচ্ছে।

    অনুমান অনুযায়ী, উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত প্রতিদিন পাঁচ লাখ যাত্রী যাওয়ার কথা। বর্তমানে মেট্রোরেলে দিনে গড়ে সাড়ে চার লাখের মতো যাত্রী যাতায়াত করেন। কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল সম্প্রসারণের কাজ চলছে। বর্ধিত অংশ আগামী বছর চালু হতে পারে। তখন দিনে যাত্রীসংখ্যা ৬ লাখ ৭৭ হাজারে যাওয়ার কথা।

    ঢাকায় ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর প্রথম মেট্রোরেল চালু হয়। শুরুতে চলাচল করত উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত। পর্যায়ক্রমে স্টেশনের সংখ্যা বাড়ে। মতিঝিল পর্যন্ত সব স্টেশনে যাত্রী ওঠানামা শুরু হয় ২০২৩ সালের শেষ দিনে।

    ডিএমটিসিএলের পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, রাতে দুটি ট্রেন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। দিন-তারিখ শিগগিরই চূড়ান্ত করা হবে। ট্রেন বাড়লে দুই ট্রেনের বিরতিও কমে আসবে। আগামী মাসে রাতে মেট্রোরেলের সময় বাড়ানোর বিষয়েও কাজ চলছে বলে জানান তিনি।

  • সাভার-আশুলিয়ায় ১২ দিনে ১৬ বোমা উদ্ধার, আতঙ্কে স্থানীয়রা

    সাভার-আশুলিয়ায় ১২ দিনে ১৬ বোমা উদ্ধার, আতঙ্কে স্থানীয়রা

    ঢাকার সাভার ও আশুলিয়ায় গত ১২ দিনে পৃথক তিনটি এলাকা থেকে ১৬টি শক্তিশালী বোমা উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এসব ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উদ্ধার করা বোমাগুলোর সঙ্গে জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) লিফলেট পাওয়ার কথাও জানিয়েছে পুলিশ।

    সর্বশেষ গতকাল মঙ্গলবার গভীর রাতে সাভারের বনগাঁও ইউনিয়নের লালটেক গোপের বাড়ি এলাকার জামিআ ইলমুল ইলাহ্ সোসাইটি মাদ্রাসা ও জামে মসজিদের সামনের জঙ্গল থেকে স্কচটেপে মোড়ানো প্রেসার কুকারসদৃশ একটি শক্তিশালী বোমা উদ্ধার করা হয়।

    একই রাতে সাভারের তেঁতুলঝরা ইউনিয়নের শ্যামপুর ও হেমায়েতপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ১৪টি পাইপবোমা এবং বোমা তৈরির বিপুল সরঞ্জাম উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় হেমায়েতপুর এলাকা থেকে আরিফ হোসেন (২৮) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারের সময় তাঁর কাছ থেকে পাঁচটি পাইপবোমা পাওয়া যায়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যমতে একটি বাড়ি থেকে আরও নয়টি পাইপবোমা উদ্ধার করা হয়।

    এর আগে গত ৩০ জুলাই মধ্যরাতে আশুলিয়ার চারাবাগ এলাকায় জয়ী জেনারেল স্টোরের সামনে একটি ট্রাভেল ব্যাগ থেকে স্কচটেপে মোড়ানো প্রেসার কুকারসদৃশ আরও একটি শক্তিশালী বোমা উদ্ধার করা হয়। পরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সদস্যরা সেটি একটি খোলা মাঠে নিয়ে নিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়ায় নিষ্ক্রিয় করেন।

    মাদ্রাসার সামনে ড্রামে বোমা

    স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গতকাল দিবাগত রাত ১টার দিকে ব্যাটারিচালিত একটি বাইকে করে তিন ব্যক্তি লালটেক গোপের বাড়ি এলাকার মাদ্রাসার সামনে আসেন। বিদ্যুৎ না থাকায় ওই সময় এলাকা কিছুটা অন্ধকার ছিল। তাঁরা মাদ্রাসার পাশের জঙ্গলের মধ্যে একটি ড্রাম রেখে দ্রুত সেখান থেকে চলে যান।

    মাদ্রাসার পাশের বাসিন্দা ও চায়ের দোকানি আজিম উদ্দিন বলেন, ‘রাত ১টার দিকে ব্যাটারিচালিত হ্যালো বাইকে করে তিন ব্যক্তি এসে মাদ্রাসার সামনে জঙ্গলের মধ্যে একটি ড্রাম রেখে যান। তখন বিদ্যুৎ ছিল না। ড্রাম ফেলার শব্দ শুনে চোর ভেবে পাশের বাড়ির দেলোয়ার হোসেন ঘর থেকে বের হয়ে আমাকে ডেকে তোলেন। ঘর থেকে বের হয়ে আমরা তিনজন লোক ও একটি হ্যালো বাইক দেখতে পাই। আমাদের দেখেই তাঁরা হ্যালো বাইক নিয়ে সাধাপুরের দিকে চলে যান।’

    আজিম উদ্দিন আরও বলেন, ‘পরে জঙ্গলের মধ্যে ড্রামটি পড়ে থাকতে দেখি। বিষয়টি জানাজানি হলে আরও লোকজন সেখানে জড়ো হন। পরে কয়েকজন মিলে ড্রামটি মাদ্রাসা ও মসজিদের মূল ফটকের সামনে নিয়ে রাখি। এরপর মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের বিষয়টি জানানো হয়।’

    মাদ্রাসার কিতাবখানার দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল রাফি জানান, স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে বিষয়টি জানার পর তাঁরা ড্রামের ঢাকনা খুলে ভেতরে কোরআন, কিছু তার, জামাকাপড়, একটি ডায়েরি, বাকরখানি ও স্কচটেপে মোড়ানো প্রেসার কুকারসদৃশ একটি বোমা দেখতে পান।

    আব্দুল্লাহ আল রাফির দাবি, ড্রামের ভেতরে একটি রিমোট কন্ট্রোলও ছিল। ওই রিমোট কন্ট্রোল ও বোমাটির গায়ে আর ওয়ান (R1) লেখা ছিল। তাঁর ধারণা, এটি কোনো সংকেত হতে পারে।

    মাঠে সরিয়ে রাখা হয় বোমা: মাদ্রাসার পাশের মানিকগঞ্জ ভ্যারাইটিজ স্টোরের মালিক রফিকুল ইসলাম বলেন, ড্রাম থেকে বোমাটি বের করে মাদ্রাসার মূল ফটক থেকে কিছুটা দূরে মাঠের একটি খোলা জায়গায় রাখা হয়। ড্রাম ও রিমোট কন্ট্রোলটি তখন মাদ্রাসার প্রধান ফটকের সামনে ছিল।

    রফিকুল ইসলাম বলেন, বোমাটির ওজন অন্তত ১৫ কেজি হবে বলে মনে হয়েছে। ভোর ৬টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি ব্যাটারিচালিত হ্যালো বাইকে করে এসে রিমোট কন্ট্রোলসহ ড্রামটি নিয়ে দ্রুত চলে যান। পরে বিষয়টি ভবানীপুর পুলিশ ফাঁড়িকে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।

    রফিকুল ইসলাম বলেন, বোমাটি মাঠে রেখে যাওয়ার পর কীভাবে ও কারা রিমোট কন্ট্রোলসহ ড্রামটি নিয়ে গেছে, তা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    পুলিশের নিরাপত্তাবেষ্টনী: ভবানীপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ইমরান হোসেন বলেন, সকালে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বোমাটির চারপাশে নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরি করে। পুলিশের পাহারায় সেটি নিরাপদ স্থানে রাখা হয়। পরে থানা-পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ ও র‍্যাবের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পুরো এলাকা ঘিরে রাখেন।

    সাভার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ বলেন, বোমা উদ্ধারের পর বিষয়টি ডিএমপির বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলকে জানানো হয়। পরে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে বোমাটি খোলা মাঠে নিয়ে নিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়ায় নিষ্ক্রিয় করেন।

    নূর মোহাম্মদ আরও বলেন, বোমাটি নিষ্ক্রিয় করার সময় বিকট শব্দ হয়। এতে আশপাশের এলাকা কেঁপে ওঠে।

    একের পর এক বোমা উদ্ধারে আতঙ্ক : সাভার ও আশুলিয়ায় অল্প সময়ের ব্যবধানে একের পর এক বোমা উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে, বসতবাড়ি, মাদ্রাসা ও জনবহুল এলাকার কাছাকাছি এসব বোমা উদ্ধারের ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাসিন্দারা ।

    সাভার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ বলেন, উদ্ধার করা বোমাগুলোর উৎস, এগুলো কারা তৈরি করেছে ও কোথায় ব্যবহারের জন্য রাখা হয়েছিল—এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া জেএমবির লিফলেটের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

  • তিন বন্ধ পাটকল ইজারা নিয়ে বিনিয়োগ করবে বেসরকারি খাতের দুই প্রতিষ্ঠান, চুক্তি সই

    তিন বন্ধ পাটকল ইজারা নিয়ে বিনিয়োগ করবে বেসরকারি খাতের দুই প্রতিষ্ঠান, চুক্তি সই

    বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত তিনটি পাটকল পুনরায় চালুর লক্ষ্যে বেসরকারি দুই প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দিয়েছে সরকার। আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) সঙ্গে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ ও হ্যামকো গ্রুপের এ–সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন।

    প্রধানমন্ত্রী প্রেস উইং এই তথ্য জানিয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, সিরাজগঞ্জের জাতীয় জুট মিলস লিমিটেড ও খুলনার স্টার জুট মিলস লিমিটেড ইজারা নিয়েছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলস লিমিটেড ইজারা নিয়েছে হ্যামকো গ্রুপ।

    চুক্তিতে বিজেএমসির পক্ষে সংস্থাটির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কবির উদ্দিন সিকদার স্বাক্ষর করেন। প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পক্ষে কোম্পানির সচিব আমিনুর রহমান এবং হ্যামকো গ্রুপের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ টি এম মোস্তফা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

    প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে জানানো হয়, চুক্তির আওতায় দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা তিনটি মিল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পুনরায় চালু করা হবে। মিল ৩টি চালু হলে কমপক্ষে ১১ হাজার ৬২৯ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্ভাব্য বার্ষিক টার্নওভার হবে প্রায় ১ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা।

    অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বিজেএমসির উৎপাদন বন্ধ থাকা ২৫টি মিলের মধ্যে ২০টি ইজারার ভিত্তিতে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ১৪টি মিলের ইজারা সম্পন্ন করে গ্রহীতাদের কাছে দখল হস্তান্তর করা হয়েছে এবং এর মধ্যে ৯টি মিলে উৎপাদন শুরু হয়েছে।

    অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, বস্ত্র ও পাটসচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরীসহ বিজেএমসি ও লিজ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • ঢাকায় পরিচয়পত্র ছাড়া কেউ হকারি করতে পারবে না: ডিএসসিসি প্রশাসক

    ঢাকায় পরিচয়পত্র ছাড়া কেউ হকারি করতে পারবে না: ডিএসসিসি প্রশাসক

    ভবিষ্যতে রাজধানীতে নিজস্ব পরিচয়পত্র ছাড়া কোনো হকার থাকবেন না। এমনকি নির্ধারিত স্থানের বাইরে কেউ ব্যবসা করতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম।

    আজ বুধবার ঢাকা ইউটিলিটি রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডুরা) সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

    ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ঢাকায় পরিচয়পত্র ছাড়া কেউ হকারি করতে পারবেন না। তাঁদের রেজিস্ট্রেশন নম্বর থাকবে এবং নির্ধারিত এলাকার বাইরে ব্যবসা করা যাবে না।

    আবদুস সালাম বলেন, রাস্তার ওপর হকার বসতে দেওয়া হবে না। তবে প্রশস্ত ফুটপাতের কিছু অংশে তাঁদের বসার সুযোগ দেওয়া হতে পারে। এ ছাড়া শুক্র ও শনিবার হলিডে মার্কেট এবং অফিস সময়ের পর মতিঝিলে নাইট মার্কেট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এসব স্থানে হকারদের জন্য টয়লেট ও পরিচ্ছন্নতার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।

    রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ধানমন্ডি, নিউমার্কেট, ঢাকা কলেজ ও গ্রিনরোড এলাকার পানি নিষ্কাশনের একটি পুরোনো পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ওই এলাকার পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এটি পুনরায় কার্যকর করতে দীর্ঘমেয়াদি ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এই কাজ এক-দুই মাসে শেষ করা সম্ভব নয়।

    আবদুস সালাম বলেন, পুরান ঢাকার অনেক ড্রেন পুরোনো ও ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। ড্রেন ও খাল পরিষ্কারের কাজ চললেও বর্ষার কারণে খননকাজে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ড্রেনে পলিথিনসহ নানা ধরনের বর্জ্য ফেলার কারণে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

    ডেঙ্গু প্রসঙ্গে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, যেসব ব্যক্তিগত জায়গায় সিটি করপোরেশনের কর্মীরা প্রবেশ করতে পারেন না, সেসব স্থানে সংশ্লিষ্ট মালিক বা ব্যবহারকারীকেই ব্যবস্থা নিতে হবে।

    ব্যাটারিচালিত রিকশার বিষয়টিও ডিএসসিসির ভাবনায় আছে জানিয়ে প্রশাসক বলেন, নির্বিচারে এসব রিকশা যেন চলাচল করতে না পারে, সে জন্য অঞ্চলভিত্তিক ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। নির্দিষ্ট অঞ্চলের রিকশা নির্দিষ্ট অঞ্চলের মধ্যেই চলবে এবং কিছু সড়কে রিকশা চলাচল নিষিদ্ধ করা হতে পারে।

    ঢাকার সমস্যা সমাধানে শুধু সিটি করপোরেশন নয়, ওয়াসা, রাজউক, বিদ্যুৎসহ নগর সেবার সঙ্গে যুক্ত সব প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় প্রয়োজন উল্লেখ করে আবদুস সালাম বলেন, বিভিন্ন উন্নয়নকাজে রাস্তা কাটার পর সঠিক সময়ে তা মেরামত না হওয়ায় সিটি করপোরেশনকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। তাই নগর ব্যবস্থাপনায় সমন্বিতভাবে কাজ করার চেষ্টা চলছে।

  • দেশজুড়ে লোডশেডিং; হামলার আশঙ্কায় পুলিশের সহায়তা চাইল পল্লী বিদ্যুৎ

    দেশজুড়ে লোডশেডিং; হামলার আশঙ্কায় পুলিশের সহায়তা চাইল পল্লী বিদ্যুৎ

    জ্বালানি সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় গ্রামাঞ্চলে দীর্ঘ সময় লোডশেডিং প্রেক্ষিতে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ স্থাপনায় হামলা ও ভাঙচুরের তথ্য তুলে ধরে দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশকে চিঠি দিয়েছে।

    এসব সমিতির গ্রিড, উপকেন্দ্র ও কার্যালয়ে নিরাপত্তা বাড়াতে পুলিশের মহাপরিদর্শক-আইজিপিকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন।

    সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠিটি বুধবার পুলিশের মহাপরিদর্শক-আইজিপির কাছে পাঠানো হয়।

    চিঠিতে বলা হয়, দেশে বর্তমানে জ্বালানি সংকট ও তীব্র তাপদাহের কারণে চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে যাওয়ায় সারাদেশে, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন এলাকায় অতিরিক্ত লোডশেডিং হচ্ছে। এতে জনরোষ বাড়ছে এবং কিছু কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র ও অফিস হামলার শিকার হচ্ছে।

    বাপবিএ জানায়, দেশের প্রায় ৫ কোটি ২০ লাখ বিদ্যুৎ গ্রাহকের মধ্যে প্রায় ৪ কোটি গ্রাহককে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলো বিদ্যুৎ সেবা দিয়ে থাকে। অর্থাৎ মোট গ্রাহকের প্রায় ৮০ শতাংশ পল্লী বিদ্যুতের আওতায়। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলো বিদ্যুৎ উৎপাদন করে না; উৎপাদিত বিদ্যুতের বরাদ্দ অনুযায়ী গ্রাহকদের মধ্যে সরবরাহ করে।

    চিঠিতে আরও বলা হয়, গত কয়েকদিনে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর গড় চাহিদা প্রায় ৮ থেকে ৯ হাজার মেগাওয়াট হলেও বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে গড়ে ৫ থেকে ৬ হাজার মেগাওয়াট। ফলে কোথাও কোথাও প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে।

    এতে আরও বলা হয়, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় দেশের বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে পল্লী বিদ্যুতের উপকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের মতো ঘটনা ঘটাচ্ছেন। ফলে উপকেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালন করা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।

    এ অবস্থায় দেশের প্রতিটি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন গ্রিড, উপকেন্দ্র ও অফিসে নিরাপত্তা জোরদারে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার জন্য আইজিপির প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে বাপবিএ।

    চিঠির অনুলিপি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের একান্ত সচিব, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব, সব জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) দেওয়া হয়েছে।

  • সরকারি দপ্তরে কাগজের কলম ব্যবহারের নির্দেশ; মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের চিঠি

    সরকারি দপ্তরে কাগজের কলম ব্যবহারের নির্দেশ; মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের চিঠি

    প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ সরকারি সব দপ্তরে প্লাস্টিকের কলমের বদলে পরিবেশবান্ধব কলম ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এরই মধ্যে রিসাইকেল্ড (পুনঃচক্রায়িত) কাগজের তৈরি কলম ব্যবহারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে গত ২৮ জুলাই সব মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) চিঠি পাঠানো হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয়গুলো নিজ অধীনস্থ দপ্তরগুলোতে চিঠি দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

    চিঠিতে বলা হয় ‘প্লাস্টিক দূষণ বর্তমানে বিশ্বব্যাপী এবং বাংলাদেশেরও অন্যতম প্রধান পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ। অনিয়ন্ত্রিত প্লাস্টিকের ব্যবহার ও প্লাস্টিক বর্জ্যের কারণে পরিবেশ ও মানবস্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়ছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনাক্রমে প্লাস্টিকের ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশবান্ধব বিকল্প উপকরণের ব্যবহার বৃদ্ধি ও প্রসারে বাংলাদেশ সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। এ প্রেক্ষাপটে সরকারি কার্যালয়ে প্লাস্টিকের তৈরি কলমের পরিবর্তে রিসাইকেল্ড কাগজের তৈরি কলম এবং পুনঃচক্রায়িত কাগজের (রিসাইকেল্ড পেপার) ব্যবহার পরিবেশ সংরক্ষণ ও প্লাস্টিক বর্জ্য হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এ অবস্থায় মন্ত্রণালয়/বিভাগ এবং এর আওতাধীন অধিদপ্তর, পরিদপ্তর, দপ্তর, সংস্থা ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহকে সরকারি কাজে পর্যায়ক্রমে পুনঃচক্রায়িত কাগজ (রিসাইকেল্ড পেপার) ও অন্যান্য সামগ্রীর পুনঃব্যবহার এবং পুনঃচক্রায়িত কাগজের তৈরি কলমের ব্যবহার উৎসাহিতকরণ ও অগ্রাধিকার প্রদানের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।’

    জানা গেছে, পরিবেশবান্ধব কলমের প্রধান বৈশিষ্ট্য, এটিতে প্লাস্টিকের পরিবর্তে কাগজ ব্যবহার করা হয়েছে। কাগজ, আঠা এবং শিস বাবদ প্রতিটি পরিবেশবান্ধব কলম তৈরিতে ব্যয় হয় ৩ থেকে ৫ টাকা। আর এসব কলম বিক্রি করেন ৫ থেকে ৭ টাকা দরে। কাগজের তৈরি এই কলমে কালি শেষ হলে মাটিতে রোপণ করলে জন্ম নেবে বিভিন্ন রকমের গাছ। আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তন হ্রাসে এই কলম ব্যবহারে কমাবে প্লাস্টিকের চাহিদা। ফিরবে পরিবেশ ও ভারসাম্য। এরই মধ্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে পরিবেশবান্ধব কলম বানানো হচ্ছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এসব কলম পাওয়া যাচ্ছে।

    বাংলাদেশে প্রতিদিন প্রায় ৮ লাখ টন প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হয়। এর মধ্যে ৩৬ শতাংশ পুনঃচক্রায়ণ, ৩৯ শতাংশ ভূমি ভরাট এবং অবশিষ্ট ২৫ শতাংশ সরাসরি পরিবেশে দূষক হিসেবে যোগ হচ্ছে। সিঙ্গেল ইউজ বা একবার ব্যবহারযোগ্য পলিথিন ব্যাগ প্লাস্টিক বর্জ্যের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক। কারণ এসব প্লাস্টিকের যত্রতত্র ব্যবহার এবং ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থাপনার ফলে খাল, নদী ও নালার স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। ২০০২ সালে আইন করে পলিথিনের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হলেও যথাযথ প্রয়োগের অভাবে দেশে প্রায় ১২০০ কারখানায় পলিথিন তৈরি হচ্ছে। এগুলোর অধিকাংশই রাজধানী ঢাকাকেন্দ্রিক।

  • চাঁদা তোলা নিয়ে সংঘর্ষ: ছাত্রদলের ৫ নেতা বহিষ্কার

    চাঁদা তোলা নিয়ে সংঘর্ষ: ছাত্রদলের ৫ নেতা বহিষ্কার

    শিক্ষা ডেস্ক:

    নিউমার্কেটে ফুটপাতের দোকান থেকে চাঁদা তোলাকে কেন্দ্র করে যুবদলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের এক দিন পর ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের পাঁচ নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাদের মধ্যে একজনকে প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে এবং চারজনকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

    বুধবার (১২ আগস্ট) ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক (সহসভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ঢাকা কলেজ শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক জুলহাস মৃধাকে প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই অভিযোগে যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন শিকদার, প্রিন্স খন্দকার, সদস্য সাগর খান ও মির্জা গোলাম রায়হানকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

    ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির আজ এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।এর আগে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে নিউমার্কেটের বলাকা সিনেমা হলের সামনে ফুটপাতের দোকান থেকে চাঁদা তোলাকে কেন্দ্র করে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যুবদলের নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ হয়। ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে নিউমার্কেট থানা যুবদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে।

    এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হন। আহতদের মধ্যে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক প্রিন্স খন্দকার, মো. সুমন সিকদার, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহমান, সায়মন ইসলাম, সাগর খান ও জিহাদুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন রয়েছেন।ঘটনার বিষয়ে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য জিহাদুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে নিউমার্কেট যুবদলের সদস্যসচিব কে এম চঞ্চলের কয়েকজন অনুসারী বলাকা সিনেমা হলের সামনে চাঁদা তুলতে আসেন। এ সময় ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা এর প্রতিবাদ জানান। প্রতিবাদ করলে তারা শিক্ষার্থীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। পরে তারা তাদের নেতা চঞ্চলকে ফোন করেন।

    জিহাদুল ইসলাম বলেন, এরপর চঞ্চলের নেতৃত্বে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন লোক পেছন থেকে চাইনিজ কুড়াল, অন্যান্য ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান। এতে ঢাকা কলেজের অনেক শিক্ষার্থী আহত হন। আহতদের মধ্যে মুশফিক, খন্দকার প্রিন্স ও হাসান রয়েছেন। আরও সাত-আটজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

    তিনি আরও বলেন, তারা প্রতিদিন চাঁদা তোলেন। প্রায় ৩৫০টি দোকান থেকে চাঁদা নেওয়া হয়। হামলার সময় তার মাথা ফেটে যায়। পেছন থেকে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে তাকে আঘাত করা হয়েছে। তার হাতও ভেঙে গেছে। এ ঘটনায় আরও আট থেকে ১০ জন আহত হয়েছেন বলে তারা জানতে পেরেছেন।জিহাদুল ইসলাম দাবি করেন, হামলায় আসা ব্যক্তিরা সবাই ছাত্রদলের পদধারী ও কর্মী।

    অন্যদিকে স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বলাকা সিনেমা হলের সামনের ফুটপাতে দোকান বসান নিউমার্কেট থানা যুবদলের সদস্যসচিব কে এম চঞ্চলের লোকজন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা-কর্মী ওই দোকান তুলে দিতে গেলে প্রথমে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে চঞ্চলের নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জন ব্যক্তি লাঠিসোঁটা ও রামদা নিয়ে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

    এ খবর ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রদলের শতাধিক নেতা-কর্মী নিউমার্কেটের প্রিয়াঙ্গন মার্কেট-সংলগ্ন বসুন্ধরা গলিতে চঞ্চলের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ভাঙচুর চালান। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন আহত হন। আহত ব্যক্তিরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রদলের সহদপ্তর সম্পাদক হাসান ফরাজি বলেন, সংঘর্ষে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক প্রিন্স খন্দকার, সুমন শিকদার, আহ্বায়ক সদস্য সাগর খান, সায়মন ইসলাম, মুশফিকুর রহিম ও জিহাদুল ইসলামসহ অন্তত ১৫ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। আহতরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পপুলার হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

    তবে ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কে এম চঞ্চল। তিনি বলেন, ঘটনার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তাকে নিয়ে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।

    কে এম চঞ্চল বলেন, ফুটপাতে যুবদলের কিছু কর্মী ব্যবসা করেন। ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের পরিচয় দিয়ে কিছু বহিরাগত সন্ত্রাসী তাঁদের মারধর করেছেন। তার কার্যালয়ও ভাঙচুর করা হয়েছে। সেখানে লুটপাট চালানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।এ বিষয়ে নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহসিন উদ্দিন বলেন, ফুটপাতে দোকান বসানো নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

    ওসি মোহসিন উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের কাছে এ ধরনের কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

  • বাংলাদেশি কর্মী নিতে চায় থাইল্যান্ড, মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক

    বাংলাদেশি কর্মী নিতে চায় থাইল্যান্ড, মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক

    প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হকের সঙ্গে বৈঠক করেছে থাইল্যান্ডের একটি প্রতিনিধি দল। আজ বুধবার দুপুরে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

    বৈঠকে থাইল্যান্ডের শ্রম বিষয়ক সিনেট স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান নিতরুত্তি সুথিনন, ভাইস চেয়ারম্যান চিনাচট সেনস্যাঙ্ক ও শ্রম বিষয়ক ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য ড. পিরাসিথ কুনলার্তারিপন উপস্থিত ছিলেন।

    থাইল্যান্ডের শ্রম বিষয়ক সিনেট স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান নিতরুত্তি সুথিনন জানান, থাইল্যান্ড বর্তমানে কর্মী নিয়োগের জন্য চারটি দেশের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ। তবে কম্বোডিয়ার সঙ্গে সাম্প্রতিক সীমান্ত উত্তেজনার কারণে দেশটির নির্মাণ, হালাল ফ্যাক্টরি ও কৃষি খাতে কর্মী নেওয়া বন্ধ রয়েছে। ফলে সৃষ্টি হওয়া কর্মী সংকট কাটাতে পঞ্চম দেশ হিসেবে থাইল্যান্ড বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করতে আগ্রহী। তবে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার ক্ষেত্রে ভিসা মেয়াদ শেষের পর অবস্থান, থাইল্যান্ডকে অন্য দেশে যাওয়ার ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার এবং মানবপাচারের মতো বিষয়গুলো নিয়ে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

    এ সময় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, ‘আমরা এমন ব্যবস্থা চাই যেখানে নিয়োগের প্রাথমিক ব্যয় নিয়োগকর্তা বহন করবেন, স্থানীয় ভাষায় প্রমিত কর্মসংস্থান চুক্তি নিশ্চিত করা হবে এবং কর্মীদের কল্যাণ, ন্যায্য মজুরি, আবাসন ও চিকিৎসা বীমার জন্য কার্যকর সুরক্ষা ব্যবস্থা বিদ্যমান থাকবে।’

    বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, আরিফুল হক চৌধুরী থাই প্রতিনিধি দলের প্রস্তাব গ্রহণ করেন। থাইল্যান্ডের উদ্বেগের বিষয়গুলো দ্রুত সমাধান করে দ্রুতই দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

    প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেছেন, থাইল্যান্ডের দক্ষ জনশক্তি প্রয়োজন, আর বাংলাদেশের রয়েছে জনশক্তির অফুরন্ত ভাণ্ডার। থাইল্যান্ড সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) মাধ্যমে দক্ষ বাংলাদেশি কর্মী নিতে পারে।

    প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ উল্লেখ করেন, থাইল্যান্ডে ‘ব্লু কলার’ জবের পাশাপাশি ‘হোয়াইট কলার’ জবের জন্যও বাংলাদেশে উপযুক্ত কর্মী রয়েছে। সাংস্কৃতিক ও আবহাওয়াগত দিক বিবেচনায় থাইল্যান্ড বাংলাদেশের কর্মীদের জন্য একটি উৎকৃষ্ট স্থান। তবে এক্ষেত্রে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া, কম খরচে কর্মী প্রেরণ এবং কর্মীদের অধিকার নিশ্চিত করতে যৌথভাবে কাজ করতে হবে।

    প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আহমাদুল হক, যুগ্মসচিব দেবজিৎ সিংহসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

  • পুলিশের শীর্ষ পদে বড় রদবদল

    পুলিশের শীর্ষ পদে বড় রদবদল

    বাংলাদেশ পুলিশের কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) ও উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) পদে বড় ধরনের রদবদল করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা পৃথক চারটি প্রজ্ঞাপনে বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ২৩ জন কর্মকর্তাকে বদলি ও নতুন কর্মস্থলে পদায়ন করা হয়েছে।

    বুধবার (১২ আগস্ট) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব তৌছিফ আহমেদের সই করা প্রজ্ঞাপনে এসব আদেশ জারি করা হয়। জনস্বার্থে জারি করা এসব আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করতে বলা হয়েছে।

    পৃথক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার (ডিআইজি) মোহাম্মদ আবদুল মাবুদকে রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। শিল্পাঞ্চল পুলিশের ডিআইজি মো. জুলফিকার আলী হায়দারকে বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। পুলিশ সুপার এমআরটি, মেট্রোরেলের ডা. কানিজ হোসেন জাহানকে এনপিবিএনের পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

    র‍্যাবের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. ছালেহ উদ্দিনকে হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি ও হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মীর মোদ্দাছের হোসেনকে রাজশাহীর সারদা বিপিএতে অতিরিক্ত ডিআইজি পদে বদলি করা হয়েছে।

    জেলা পর্যায়েও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। কুষ্টিয়ার এসপি মোহাম্মদ জসীম উদ্দিনকে গাজীপুরের এসপি করা হয়েছে। সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের এসপি মো. আমিনুল ইসলামকে কুষ্টিয়ার এসপি এবং পুলিশ স্টাফ কলেজের এসপি সরকার ওমর ফারুককে খুলনার এসপি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। খুলনার বর্তমান এসপি মোহাম্মদ তাজুল ইসলামকে এপিবিএনে বদলি করা হয়েছে।

    গাজীপুরের এসপি মো. শরিফ উদ্দিন, নারায়ণগঞ্জের এসপি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী, পিবিআইয়ের এসপি মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান এবং এপিবিএনের এসপি দীপক জ্যোতি খীসাকে হাইওয়ে পুলিশের এসপি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

    ঢাকা মহানগর পুলিশেও (ডিএমপি) চার কর্মকর্তাকে ডিসি পদে পদায়ন করা হয়েছে। তারা হলেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের মো. শরফুদ্দীন, এপিবিএনের মুহম্মদ আবদুল ওয়াহাব, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মো. আকতার হোসেন এবং সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. তৌহিদুল আরিফ।

    এ ছাড়া বিশেষ শাখার (এসবি) সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ শাহিনুর আলম খানকে এসবির পুলিশ সুপার পদে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলমকে নোয়াখালী পিটিসিতে বদলি করা হয়েছে।

    মেট্রোরেলের (এমআরটি) পুলিশ সুপার ডা. কানিজ হোসেন জাহানকে এপিবিএনে এবং হাইওয়ে পুলিশের এসপি মো. রেজাউল করিমকে এপিবিএনের এসপি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

    এসবির বিশেষ পুলিশ সুপার জেরিন আখতারকে টাঙ্গাইল পিটিসিতে এবং মোহাম্মদ এহসান সাত্তারকে খুলনা পিটিসির সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি পদে বদলি করা হয়েছে।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, পুলিশ প্রশাসনের কার্যক্রমে গতিশীলতা আনা এবং জনস্বার্থে এসব বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে।

  • কাদের, নাছিম, আরাফাত, পরশ, নিখিল, সাদ্দাম, ইনানের সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ

    কাদের, নাছিম, আরাফাত, পরশ, নিখিল, সাদ্দাম, ইনানের সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তৎকালীন সরকারের সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ও সেতুমন্ত্রী এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছে প্রসিকিউশন (রাষ্ট্রপক্ষ)। একই সঙ্গে তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ চেয়েছে প্রসিকিউশন।

    আজ বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

    ওবায়দুল কাদের ছাড়াও অন্য আসামিরা হলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। আসামিদের সবাই পলাতক।

    আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ শাস্তি দাবি করেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। প্যানেলের অপর সদস্যরা হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

    ট্রাইব্যুনালে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘এ মামলায় সাত আসামিরই অপরাধ গুরুতর। তাদের বিরুদ্ধে আনা চারটি অভিযোগই আমরা প্রমাণ করতে পেরেছি। চব্বিশের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে বহু মানুষকে হত্যা ও আহত করার জন্য তারা দায়ী। তাদের দৃষ্টান্ত শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। কোনো অনুকম্পা না দিয়ে এই সাত আসামির সর্বোচ্চ সাজা চাই। যেন এমন রাজনীতিবিদ দেশে আর জন্ম না নেন।’

    ষষ্ঠ দিনের মতো প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্কে প্রথমেই আইনি দিক তুলে ধরেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম। এরপর শুরু করেন চিফ প্রসিকিউটর। প্রসিকিউশনের যুক্তি উপস্থাপন শেষে পলাতক আসামিদের পক্ষে সরকারি খরচে নিয়োগ পাওয়া রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী এম হাসান ইমাম যুক্তিতর্ক শুরু করেন।

    এর আগে, ৪ আগস্ট এ মামলায় প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক শুরু হয়। প্রথম দিন মামলার সামগ্রিক পটভূমি তুলে ধরেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম। টানা পাঁচ কার্যদিবসে পর্যায়ক্রমে সাত আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পক্ষে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও যুক্তি উপস্থাপন করা হয়।

    প্রসিকিউশনের যুক্তি অনুযায়ী, জুলাই-আগস্টে আন্দোলন দমনে সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেন আসামিরা। নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে আন্দোলন প্রতিরোধে আহ্বান জানানো, বিভিন্ন বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনাসহ কোথাও কোথাও সশস্ত্র হামলা ও কঠোর দমন-পীড়নে ভূমিকা রাখার প্রমাণ হিসেবে দাখিল করা হয় বেশ কয়েকটি ফোনালাপও। একইসঙ্গে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও কয়েকজন আসামির ভূমিকার কথা তুলে ধরা হয়েছে। আসামিদের এসব কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় দেশজুড়ে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটে বলে উল্লেখ করেছে প্রসিকিউশন।

    গত ২ আগস্ট এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছেন মোট ২৮ জন। চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দেওয়া ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়।

  • বাংলাদেশের সরকারি ক্রয়চুক্তির তথ্য প্রকাশের আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের

    বাংলাদেশের সরকারি ক্রয়চুক্তির তথ্য প্রকাশের আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের

    বাংলাদেশে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত চুক্তির তথ্য জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার সুপারিশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা বাড়াতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নীতিমালা অনুসরণ করে বাজেট নথি প্রস্তুত এবং দেশের সর্বোচ্চ নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) কার্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী স্বাধীনতা দেয়ার তাগিদ দিয়েছে ওয়াশিংটন।

    সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর প্রকাশিত ‘২০২৬ ফিসকাল ট্রান্সপারেন্সি রিপোর্ট: বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে। ১১ আগস্ট মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই বার্ষিক প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে।


    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অর্থবছর শেষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হিসাব বিবরণী জনসাধারণের জন্য প্রকাশ করে আর্থিক স্বচ্ছতার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। একই সঙ্গে আগের সরকারের বাজেটসংক্রান্ত সুপারিশ ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া অনুসরণ করার পাশাপাশি আর্থিক স্বচ্ছতা বাড়াতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছে।

    মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাদের নির্বাহী বাজেট প্রস্তাব এবং অনুমোদিত বাজেট অনলাইনে প্রকাশ করেছে। বাজেট নথি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানদণ্ড পুরোপুরি অনুসরণ করে তৈরি না হলেও এতে থাকা তথ্য সামগ্রিকভাবে নির্ভরযোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছে। সরকারের ঋণসংক্রান্ত দায়ের তথ্যও জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত ছিল। এ ছাড়া বাজেট নথিতে প্রাকৃতিক সম্পদ থেকে পাওয়া রাজস্বসহ সরকারের পরিকল্পিত আয় ও ব্যয়ের মোটামুটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। তবে প্রতিবেদনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

    এতে বলা হয়, সরকারের নির্বাহী কার্যালয়গুলোর পরিচালন ব্যয়ের পৃথক ও বিস্তারিত হিসাব বাজেটে তুলে ধরা হয়নি। একইভাবে সরকারের মোট রাজস্ব ও ব্যয়ের একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্রও বাজেট নথিতে পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানও প্রতিবেদনে সমালোচনার মুখে পড়েছে।
    মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মতে, প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী প্রয়োজনীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারেনি। এমনকি সরকারের হিসাব পর্যালোচনার ক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমে সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

    প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ই-জিপি বা ইলেকট্রনিক সরকারি ক্রয়ব্যবস্থা চালু করলেও এতে জনসাধারণের প্রবেশাধিকার ও তথ্যের সহজলভ্যতা আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
    আর্থিক স্বচ্ছতা আরও জোরদার করতে বাংলাদেশ সরকারের জন্য বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে রয়েছে, প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণের চুক্তি ও লাইসেন্স দেয়ার ক্ষেত্রে মৌলিক তথ্য জনসাধারণের জন্য প্রকাশ করা, সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত চুক্তির তথ্য উন্মুক্ত করা এবং অনুমোদিত বাজেটের সঙ্গে বাস্তব আয়-ব্যয়ের যথাসম্ভব সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা।

    এ ছাড়া সিএজি কার্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী স্বাধীনতা ও পর্যাপ্ত সম্পদ দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। পুরো বছরের বাস্তবায়িত বাজেটে সিএজি যেন সময়মতো ও সরাসরি প্রবেশাধিকার পেয়ে নিরীক্ষা করতে পারে, সেটিও নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নিরীক্ষা প্রতিবেদন যথাসময়ে প্রকাশ করা প্রয়োজন এবং সেসব প্রতিবেদনে গুরুত্বপূর্ণ নিরীক্ষা-ফলাফল, সুপারিশ ও সংশ্লিষ্ট ব্যাখ্যা থাকা উচিত। এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা আরও শক্তিশালী হবে বলে প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে।

  • ২৫ বছরের কোন বছর কত ছিল এসএসসি’র জিপিএ-৫

    ২৫ বছরের কোন বছর কত ছিল এসএসসি’র জিপিএ-৫

    শিক্ষা ডেস্ক:

    মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট বা এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হয়েছে । তাতে দেখা গেছে, আগের বছরগুলোর তুলনায় এ বছর পাস ও জিপিএ-৫ পাওয়ার হার, দু’টোই কমেছে।

    বাংলাদেশের এসএসসি ও এইচএসসিসহ পাবলিক পরীক্ষাগুলোয় ২০০০-এর শুরুর দিকে পাস করা এবং জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল হাতে গোনা।

    কিন্তু সেই চিত্র নাটকীয়ভাবে বদলে যায় গত ২৫ বছরে। বিশেষ করে ২০১৪ সাল থেকে প্রতি বছর সর্বোচ্চ গ্রেড জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে; এই সংখ্যা লাখের ঘর ছাড়িয়ে যেতো। এমনটা জানা যাচ্ছে তথ্য-পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে।

    যদিও শিক্ষাবিদরা বলছেন, যদি দেশের সব শিক্ষার্থীও পরীক্ষায় পাস করে, তাহলেও বলা যাবে না যে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা গুণগত-মান অর্জন করেছে। কারণ এই মান নির্ভর করে শিক্ষাদান পদ্ধতি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুযোগ-সুবিধা এবং মানসম্মত শিক্ষকের ওপর।

    তাদের মতে, বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার ক্ষেত্রে এগুলোর ঘাটতি রয়ে গেছে। কিন্তু তারপরও গত ২৫ বছরে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা এত কীভাবে বেড়েছে? আর কোন কোন ক্ষেত্রে যোগ্যতার মাপকাঠি হিসেবে এসএসসির ফল বিবেচনা করা হয়?

    উনিশ বছরের মাঝে সর্বনিম্ন পাসের হার

    বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে প্রথম কোনো পাবলিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ হলো।

    সোমবার প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষার এই ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, এবার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে , যা গত ১৯ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। সর্বশেষ এর চেয়ে কম পাসের হার ছিল ২০০৭ সালে, যখন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সম্মিলিত পাসের হার ছিল ৫৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

    ২০০৭ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৩২ হাজার ৬৪৬ জন শিক্ষার্থী।

    আর, এ বছর পাস করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে এক লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন।

    গত বছর মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করেছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল এক লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন।

    সে হিসেবে, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর মাধ্যমিকে পাশের হার ও জিপি-৫, দু’টোই কমেছে।

    উল্লেখ্য, এ বছর ১৮ লাখ ৫৭ হাজারের বেশি নিয়মিত ও অনিয়মিত শিক্ষার্থী এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিতে ফরম পূরণ করেছিলেন।

    এর মধ্যে এসএসসিতে ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন, দাখিলে তিন লাখ চার হাজার ২৮৬ জন এবং এসএসসি ও দাখিল ভোকেশনালে এক লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন পরীক্ষার্থী ছিলেন।

    তবে ফরম পূরণ করেও পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিলেন সাড়ে ৩৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী।

    এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয় গত ২১শে এপ্রিল, শেষ হয় গত ২৪শে মে।

    ছিয়াত্তর জন থেকে দুই লাখের বেশি

    বাংলাদেশে ২০০১ সালে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সনাতন পদ্ধতিতে নম্বর দেওয়ার পরিবর্তে গ্রেড পদ্ধতি চালু করা হয়। শুরুর দিকে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল খুবই কম।

    গ্রেড পদ্ধতি চালুর আগে আশি নম্বর পেলে বলা হতো লেটার মার্কস। কিন্তু ওই বছর থেকে এটিকে বলা হয় জিপিএ-৫।

    স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়া প্রতিবেদন থেকে গত ২৫ বছরের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গ্রেড পদ্ধতি শুরুর বছরে মাত্র ৭৬ জন জিপিএ-৫ পেয়েছিলো।

    পরের বছর, ২০০২ সালে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছিল৩৩০ জন শিক্ষার্থী। ২০০৩ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে হয় এক হাজার ৩৯২।

    এরপর থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে।

    ২০০৪ সালে এই সংখ্যা দাঁড়ায় আট হাজার ৫৯৭ জনে। ২০০৫ সালে ১৭ হাজার ৬৩১ জন এবং ২০০৬ সালে ২৪ হাজার ৩৮৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়।

    পরবর্তী বছরগুলোতে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা আরও বাড়ে।

    ২০০৭ সালে জিপিএ-৫ পায় ২৫ হাজার ৭৩২ জন শিক্ষার্থী। পরের বছর ২০০৮ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪১ হাজার ৯১৭ জনে এবং ২০০৯ সালে আরও বেড়ে হয় ৪৫ হাজার ৯৩৪ জন।

    ২০১০ সালে এই সংখ্যা এক লাফে বেড়ে ৫২ হাজার ১৩৪ জনে পৌঁছায়।

    ২০১১ সালে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৬২ হাজার ২৪৪ জন। ২০১২ সালে তা কিছুটা বেড়ে হয় ৮২ হাজার ২১২ জন এবং ২০১৩ সালে ৯১ হাজার ১২২ জন।

    এরপর ২০১৪ সালে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রথমবারের মতো লাখের ঘরে চলে যায়। সে বছর মোট এক লাখ ৪২ হাজার ২৭৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়।

    পরের বছর ২০১৫ সালে এক লাখ ১১ হাজার ৯০১ জন জিপিএ-৫ পায়। ২০১৬ সালে পায় এক লাখ নয় হাজার ৭৬১ জন শিক্ষার্থী। ২০১৭, ২০১৮ ও ২০১৯ সালে পায় যথাক্রমে এক লাখ চার হাজার ৭৬১ জন, এক লাখ ১০ হাজার ৬২৯ জন ও এক লাখ পাঁচ হাজার ৫৯৪ জন।

    ২০২০ সালে করোনা মহামারীর বছরে এই সংখ্যা ছিল এক লাখ ৩৫ হাজার ৮৯৮। ২০২১ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় এক লাখ ৮৩ হাজার ৩৪০ জনে, সেবার অটোপাশ দেওয়া হয়েছিল।

    এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি জিপিএ-৫ আসে ২০২২ সালে। ওই বছর দুই লাখ ৬৯ হাজার ৬০২ জন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ এই গ্রেড অর্জন করে।এরপর অবশ্য সংখ্যাটি টানা কমেছে। ২০২৩ সালে জিপিএ-৫ পায় এক লাখ ৮৩ হাজার ৫৭৮ জন, ২০২৪ সালে এক লাখ ৮২ হাজার ১২৯ জন এবং ২০২৫ সালে এক লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন। আর এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছে এক লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী।

    এসএসসি’র ফল কেন গুরুত্বপূর্ণ

    বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে পরবর্তী ধাপের শিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল গুরুত্বপূর্ণ।

    আবার কিছু চাকরি ও কারিগরি শিক্ষায় প্রবেশের ক্ষেত্রেও ন্যূনতম ফলের শর্ত রয়েছে।

    এসএসসির ফলের সবচেয়ে সরাসরি প্রভাব পড়ে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে।

    কারণ বর্তমানে একাদশ শ্রেণির ভর্তি প্রক্রিয়া অনলাইনে পরিচালিত হয়। এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় পাওয়া জিপিএ ও মোট নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম তৈরি হয় এবং শিক্ষার্থীর পছন্দের তালিকা অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে কলেজে আসন বরাদ্দ দেওয়া হয়।

    ফলে একজন শিক্ষার্থীর ফল যত ভালো, পছন্দের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগও তত বেশি।

    বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রেও শুধু এইচএসসি নয়, এসএসসির ফল বিবেচনায় নেওয়া হয়।

    বাংলাদেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের ন্যূনতম যোগ্যতা নির্ধারণে এসএসসি ও এইচএসসির জিপিএর শর্ত থাকে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভর্তি পরীক্ষার চূড়ান্ত মেধাক্রম তৈরিতেও এই দুই পরীক্ষার ফল থেকে নম্বর যোগ করা হয়।

    যেমন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার আবেদনের জন্য দুই পরীক্ষার জিপিএ’র যোগফল বিজ্ঞান শাখায় ন্যূনতম আট, আর মানবিক ও বাণিজ্য শাখায় ন্যূনতম সাড়ে সাত হওয়া জরুরি।

    আবার বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) বা মেডিক্যালে পড়ার আবেদন করতে হলে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মোট জিপিএ ১০ থাকতে হবে।

    এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীরা সরকারি ও বেসরকারি বৃত্তিও পেয়ে থাকে।

    এদিকে, যারা সাধারণ উচ্চশিক্ষার বদলে কারিগরি শিক্ষা নিতে চান, তাদের ক্ষেত্রেও এসএসসির ফল গুরুত্বপূর্ণ। কারিগরি বোর্ডে চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা পর্যায়ের ভর্তির আবেদনের জন্য এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় ন্যূনতম জিপিএ দুই দশমিক পাঁচ থাকতে হয়। যদিও কোর্স অনুযায়ী ফলাফলের চাহিদা কখনও কখনও বাড়তে বা কমতে পারে।

    আবার, সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ভর্তির জন্য প্রার্থীর সামগ্রিক জিপিএ এবং গণিতে আলাদা জিপিএ তিন বা তার বেশি প্রয়োজন হতে পারে।

    তবে শিক্ষাখাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশে শিক্ষাজীবনের তুলনায় কর্ম জীবনের সংস্পর্শ কম। ফলে কর্মজীবনে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের সরাসরি ভূমিকা ‘সীমিত’। তারপরও কিছু চাকরিতে আবেদনের ক্ষেত্রে এটি যোগ্যতার মাপকাঠি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

    যেমন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিতে অনেক ক্ষেত্রেই এসএসসি ও এইচএসসিতে ন্যূনতম ফলের শর্ত দেওয়া থাকে। আবার, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির বিভিন্ন চাকরিতে শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে এসএসসি বা সমমানের সনদ চাওয়া হয়।

    তবে প্রায়ই আলোচনায় থাকা বাংলাদেশে সরকারি কর্ম কমিশন বা বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্যে এসএসসি পরীক্ষার ন্যূনতম কোনো ফলাফল থাকা জরুরি নয়।

    যেমন, ৫০ তম বিসিএস পরীক্ষার জন্য দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতেও এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার জন্য সুনির্দিষ্ট ফলাফল চাওয়া হয়নি। তবে বলা হয়েছে, “কোনো প্রার্থীর শিক্ষা জীবনে একাধিক তৃতীয় বিভাগ/শ্রেণি বা সমমানের জিপিএ থাকলে তিনি যোগ্য বিবেচিত হবেন না।”

    এর বাইরে এসএসসির সনদ অনেকের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। বিভিন্ন চাকরি, লাইসেন্স বা সনদ পাওয়ার ক্ষেত্রে এর প্রয়োজন হতে পারে।

    বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও কোনো কোনো প্রবাসী কর্মীর শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণপত্র হিসেবে এসএসসি বা সমমানের সনদ ব্যবহৃত হয়।

    ফলে এসএসসির ফলের সবচেয়ে বড় প্রভাব পরবর্তী ধাপের শিক্ষায় দেখা গেলেও, উচ্চশিক্ষা থেকে শুরু করে বৃত্তি, কারিগরি শিক্ষা এবং নির্দিষ্ট কিছু চাকরিতেও এর প্রভাব থেকে যায়।

    পাশের হার ও সর্বোচ্চ গ্রেডের সংখ্যা কমছে কেন?

    গত ২৫ বছরের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় ২০১০ সালের পর থেকে এসএসসি’র পাশের হার ও জিপিএ-৫ এর সংখ্যা ক্রমশই বেড়েছে।

    তবে গত বছর থেকে, অর্থাৎ ২০২৫ সাল থেকে এই হার অনেকাংশে কমে গেছে। দুই বছর ধরে এই যে পাশের হার ও জিপিএ ৫ এর সংখ্যা কমছে, নানাভাবে ব্যাখ্যা করছেন বিশ্লেষকেরা।

    শিক্ষাবিদ ও গবেষকদের কারও কারও মতে, দুই বছর ধরে যথার্থ মূল্যায়ন হয়েছে বলেই ফলাফলে প্রকৃত চিত্র উঠে এসেছে।

    তবে ফলাফলের এই পরিবর্তনের পেছনে আরও বেশ কিছু কারণের কথা বলছেন তারা।

    যেমন– খাতা মূল্যায়নে কড়াকড়ি, বারবার কারিকুলাম পরিবর্তনে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতিতে ঘাটতি, শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম, কিংবা রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান বলেন, “মূল্যায়নকে একটা ব্র্যান্ডিং-এর মাঝে নিয়ে গেছি আমরা। মূল জায়গায় কেউ হাত দিচ্ছে না। আমাদের দেশের শিক্ষা খাতে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়। প্রতিষ্ঠানগুলো (বোর্ড/এনসিটিবি) নিজেরা সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। সরকার যা বলে, সেটাই করে।”

    ‘অতীতে রাজনৈতিক বিবেচনায় বাড়িয়ে দেখানোর প্রবণতা ছিল’

    অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে এখন কলেজ, সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা অনেক এবং এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো থাকার কারণে ফলাফলের পরিসংখ্যান বদলে যায়।

    “কলেজে আসন ফাঁকা থাকবে, সেজন্য আমি পাস করিয়ে দিবো? পাশের হার না বাড়লে ইউনিভার্সিটিগুলো ছাত্র পাবে কোথায়? এই পরিসংখ্যানই রেজাল্ট ঘুরিয়ে দেয়। তাই, এই রেজাল্ট দিয়ে শিক্ষার্থীরা কতটুকু শিখছে, তা নিয়ে আমি আস্থা রাখতে পারি না।”

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. এস এম হাফিজুর রহমান শিক্ষাপদ্ধতি ও শিক্ষকদের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

    একই সাথে তিনি এ-ও জানান, সকল শিক্ষার্থী যদি জিপিএ-৫ পায়, তাহলে তিনি খুশি হবেন। “কিন্তু যে লেভেলে তারা পাস করছে, ওই লেভেলের সামর্থ্য যেন তারা অর্জন করতে পারে।”

    জিপিএ-৫ ও পাসের হার বাড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা খাতা দেখার ব্যাপারে নমনীয়তার কথা শুনি। হয়তো কারিকুলাম ছোট করা হয়েছে, প্রশ্নের ধরন চেঞ্জ হয়েছে। তবে যারা এ+ পাওয়ার, তারা ঠিকই পাচ্ছে। কেউ কেউ হয়তো পলিসিগত ইস্যুর কারণে বেশি পেয়ে যাচ্ছে।”

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ মনিনুর রশিদ বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, অতীতে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিজেদের সফলতা দেখাতে পাশের হার ও জিপিএ-৫ বাড়িয়ে দেখানোর প্রবণতা ছিল।

    “মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ওভার মার্কিং বা আন্ডার মার্কিং ইস্যুতে ধিরে ধিরে একটি সঠিক জায়গায় আসার চেষ্টা করবে সরকার। এ বছর পাশের হার যতটা হয়েছে সামনের বছর এই হার এর থেকেও কম হতে পারে,” বলেছিলেন অধ্যাপক মোহাম্মদ মনিনুর রশিদ।