জাতীয় সংবাদ

  • আগাম শিম চাষে কৃষকের মুখে হাঁসি 

    আগাম শিম চাষে কৃষকের মুখে হাঁসি 

    শীত আসার আগেই ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরের মাঠজুড়ে শিম ফুল ও কচি শিমে ভরে উঠেছে গাছ। আগাম জাতের শিম চাষ করে স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছেন কৃষকরা। মৌসুমের শুরুতে ভালো দাম পাওয়ায় এ আবাদে আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২৫৪ হেক্টর জমিতে আগাম গ্রীষ্মকালীন শিমের চাষ হয়েছে।


    কোটচাঁদপুর উপজেলায় পাঁচটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সবজির আবাদ হলেও সবচেয়ে বেশি শিম চাষ হয় সাবদারপুর ইউনিয়নে। কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ২৫৪ হেক্টর জমিতে আগাম শিমের আবাদ হয়েছে, যা প্রায় ১ হাজার ৮৩০ বিঘার সমান।
    সাবদারপুর ইউনিয়নের মানিকদিহি গ্রামের কৃষক আকিমুল ইসলাম বলেন, ‘এটি আগাম শিমের আবাদ। ফলে অন্যদের আগে শিম বাজারে তুলতে পারি। এ সময় বাজারে শিমের চাহিদা ও দাম দুটোই ভালো থাকে। তাই আমরা এ আবাদ করি।’


    তিনি জানান, এক বিঘা জমি থেকে মৌসুমে ১০০ থেকে ১২০ মণ পর্যন্ত শিম উৎপাদন হয়। এতে এক বিঘা জমি থেকে ১ লাখ ২০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব হয়। গত বছর দুই বিঘা জমিতে শিম চাষ করেছিলেন তিনি। ভালো ফলন ও দাম পাওয়ায় এবার চার বিঘা জমিতে আবাদ করেছেন।
    লক্ষ্মীকুণ্ড গ্রামের শিমচাষি ছামারুল ইসলাম, দেলোয়ার হোসেন ও সাইদুর রহমান বলেন, ‘প্রতি বছরের মতো এবারও ১৫ কাঠা জমিতে শিম চাষ করেছি। ইতোমধ্যে গাছে শিম ধরতে শুরু করেছে। কয়েক দিন ধরে বাজারেও বিক্রি করছি।’


    তারা জানান, শিম তোলার প্রথম দিকে প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১৫০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। পরে কয়েক দিন ধরে প্রতি কেজি ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ দাম ধরে রাখতে পারলে প্রায় এক মাসে ১৫ কাঠা জমি থেকে প্রায় লাখ টাকা আয় করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তারা।
    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, ‘চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২৫৪ হেক্টর জমিতে আগাম গ্রীষ্মকালীন ইপসা-১ জাতের শিম চাষ হয়েছে। পাঁচটি ইউনিয়ন ও পৌরসভার মধ্যে সাবদারপুর ইউনিয়নে এ আবাদ সবচেয়ে বেশি।’


    তিনি বলেন, ‘কোটচাঁদপুরের কৃষকরা সাধারণত এপ্রিল বা এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে এ শিমের আবাদ করেন। এরপর প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মাস পর্যন্ত শিম সংগ্রহ করা যায়। প্রতি বিঘায় ১০০ থেকে ১২০ মণ পর্যন্ত উৎপাদন হয়। আগাম গ্রীষ্মকালীন শিম হওয়ায় বাজারে ভালো দাম পাওয়া যায়। এতে কৃষকরা বিঘাপ্রতি প্রায় ১ লাখ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ করেন।’


    কৃষি কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘সাবদারপুর ফুল, ফল ও সবজি চাষের জন্য সম্ভাবনাময় এলাকা। এখানে অসময়ে উচ্চমূল্যের বিভিন্ন সবজি চাষ হয়। স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি এসব সবজি দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করে কৃষকরা আয় করছেন। এ কারণে আগামীতে শিমের আবাদ আরও বাড়বে বলে আশা করছি।’

  • জেলা প্রশাসকদের জন্য ১৪ দফা নির্দেশনা

    জেলা প্রশাসকদের জন্য ১৪ দফা নির্দেশনা

    ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব করতে মাঠ পর্যায়ের ভূমি অফিসগুলোর কার্যক্রম নিয়মিত মনিটরিং ও তদারকির জন্য দেশের সব জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে ১৪ দফা নির্দেশনা পাঠিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়।

    ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাইজেশন, নলেজ ম্যানেজমেন্ট ও পারফরম্যান্স (ডিকেএমপি) অনুবিভাগের উপসচিব সাদেকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে সম্প্রতি এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

    চিঠিতে বলা হয়েছে, সরকার ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।

    এসব উদ্যোগের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে উপজেলা ভূমি অফিস, রাজস্ব সার্কেল এবং ইউনিয়ন ও পৌর ভূমি অফিসের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তদারকি করা প্রয়োজন।

    সেবার মানোন্নয়ন, নাগরিক হয়রানি কমানো এবং সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    নির্দেশনায় জেলা প্রশাসকদের ভূমি অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি, দাপ্তরিক শৃঙ্খলা ও সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর, খতিয়ান, নকশা ও রেকর্ড সংশোধনসহ বিভিন্ন সেবা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হচ্ছে কি না তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণের কথা বলা হয়েছে।

    এছাড়া নাগরিকবান্ধব আচরণ নিশ্চিত করা, অনলাইন ভূমিসেবা, ই-নামজারি ও ডিজিটাল রেকর্ড ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতা পর্যালোচনা, দালাল ও দুর্নীতিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করা, অভিযোগের দ্রুত তদন্ত এবং সেবার ফি, প্রক্রিয়া ও সময়সীমা দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ‘ভূমিসেবায় অভিযোগ ব্যবস্থাপনা ও কারিগরি সহায়তা সিস্টেম’ কার্যকরভাবে ব্যবহার করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অভিযোগ নিষ্পত্তি করতে হবে।

    একই সঙ্গে অফিসের পরিচ্ছন্নতা, নথি সংরক্ষণ, নাগরিক সনদ, তথ্য বোর্ড ও সেবার মানদণ্ড হালনাগাদ রাখা, আইটি সরঞ্জামের যথাযথ ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং ভূমি আইন, বিধি ও মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসরণ নিশ্চিত করতে হবে।

    এ ছাড়া স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা জোরদার করা, ‘ভূমিসেবা সহায়তা কেন্দ্র’-এর সংখ্যা বৃদ্ধি ও কার্যক্রম তদারকি, আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে অনিয়ম শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    নির্দেশনা অনুযায়ী, জেলা প্রশাসকদের মনিটরিং কার্যক্রমের সারসংক্ষেপ, অগ্রগতি এবং গৃহীত ব্যবস্থা উল্লেখ করে প্রতি মাসের প্রতিবেদন পরবর্তী মাসের ১০ তারিখের মধ্যে ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে।

    ভূমি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিয়মিত তদারকি ও কার্যকর মনিটরিংয়ের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে ভূমিসেবার গুণগত মান আরও উন্নত করা এবং একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনমুখী ভূমি প্রশাসন গড়ে তোলাই এই নির্দেশনার মূল লক্ষ্য।

  • বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় ১০ বছরের পরিকল্পনা সংসদে তুলে ধরা হবে- প্রধানমন্ত্রী

    বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় ১০ বছরের পরিকল্পনা সংসদে তুলে ধরা হবে- প্রধানমন্ত্রী

    বিদ্যুৎ সংকটের সুযোগ নিয়ে কিছু ব্যক্তি রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘কোনো সংকট এক দিনে সমাধান করা সম্ভব নয়। সংকট মোকাবিলায় ধৈর্য ধরে ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পনা নিয়ে ধীরে ধীরে এগোতে হবে।

    আজ রবিবার দুপুর ১২টার দিকে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়িঘাট এলাকায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত, স্থানীয় জেলেদের মধ্যে মাছের পোনা বিতরণ ও স্থানীয় মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলাসহ ঢাকার বহু মানুষ বর্তমানে বিদ্যুতের কষ্ট ভোগ করছেন। স্বৈরাচার সরকারের অপরিকল্পিত বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণেই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে এই সংকট তৈরি হয়েছে। আগামী ২৭ আগস্ট জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হবে। ওই অধিবেশনে সরকার আগামী ১০ বছরে দেশের বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানে কী পরিকল্পনা নিয়েছে, তা জনগণের সামনে উপস্থাপন করবে।’

    বিদ্যুৎ সংকট প্রসঙ্গে তারেক রহমান বললেন, ‘সংকটের সুযোগ নিয়ে কিছুসংখ্যক ব্যক্তি রাস্তায় ও রাজপথে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে। রাজপথে বিশৃঙ্খলা হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন সাধারণ মানুষ। এতে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যেরও ক্ষতি হয়। স্বৈরাচার সরকার দেশের অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ প্রতিটি ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ধ্বংসপ্রাপ্ত অবস্থায় এসব ব্যবস্থা পেয়েছে। এখন ধ্বংস থেকে দেশকে গড়ে তুলতে হচ্ছে।’

    উন্নয়ন ও রাষ্ট্র সংস্কারে বাধা দেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলছিলেন, ‘যারা উন্নয়নকাজে বাধা দেবে, রাজপথে বিশৃঙ্খলা তৈরি করবে এবং মিথ্যা তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করবে, তাদের বিরুদ্ধে জনগণকে রুখে দাঁড়াতে হবে। এখন দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার সময়। সবাইকে হাতে হাত রেখে রাষ্ট্র মেরামত ও পুনর্গঠনের কাজ করতে হবে।’

    তিনি আরও বলছিলেন, দেশের মালিক বাংলাদেশের জনগণ। দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার সমুন্নত রাখতে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

    নারী শিক্ষার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘নারীদের শিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত করতে সরকার অনার্স পর্যন্ত তাদের শিক্ষা ফ্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শিক্ষার সব খরচ সরকার বহন করবে। ভালো ফলাফল করা মেয়েদের জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থাও করা হবে। গ্রামগঞ্জের দরিদ্র পরিবারের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের প্রতিবছর স্কুলড্রেস ও স্কুলব্যাগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রায় এক কোটি ২০ লাখ শিশুর হাতে স্কুলব্যাগ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’

    নারীদের স্বাবলম্বী করার প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘দেশের চার কোটি পরিবারের মধ্যে নারী পরিবারের প্রধান ও সংসার পরিচালনা করেন এমন নারীদের পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। আগামী পাঁচ বছরে দেশের প্রতিটি ঘরে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে কিশোরগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ডের কার্যক্রম উদ্বোধন করা হচ্ছে।’

    মৎস্য খাতের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানালেন, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে অবমুক্ত করা মাছ বড় হয়ে ডিম ছাড়বে এবং বিভিন্ন খাল-বিলে ছড়িয়ে পড়বে। এর উপকার বাংলাদেশের মানুষই পাবেন।

    অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ও বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন; স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতারাসহ মৎস্যজীবী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

    এর আগে প্রধানমন্ত্রী মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়িঘাট এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ তাকে স্বাগত জানান। পরে তিনি পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন।

  • অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ

    অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ

    অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল সুপ্রিম কোর্ট। রোববার দুপুরের তার পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। এ সময় জেনারেলকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন আন্দোলনকারীরা। অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলের পদত্যাগের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে বিক্ষোভ করেছেন আইনজীবীরা। ‘দফা এক, দাবি এক—অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ’ স্লোগানে রোববার সুপ্রিম কোর্টের অ্যানেক্স ভবনের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।

    ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম’-এর ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে আইনজীবীরা মিছিল নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট এলাকা প্রদক্ষিণ করেন। এ সময় তারা ডিএজি ও এএজি নিয়োগে অনিয়ম ও কথিত নিয়োগ-বাণিজ্যের তদন্ত, ফোরামের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়নসহ কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন।

    বিক্ষোভ কর্মসূচিতে আইনজীবী শরীফ ইউ আহমেদ বলেন, ‘আমরা অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলের পদত্যাগ চাই। ওয়ান-ইলেভেনের সময় তিনি বলেছিলেন, তিনি বিএনপির রাজনীতি করেন না। কিন্তু এখন তিনি ফ্যাসিস্টদের পৃষ্ঠপোষকতা করছেন এবং তাদের পুনর্গঠনের চেষ্টা করছেন।’
    তিনি আরও বলেন, ‘রুহুল কুদ্দুস কাজল অ্যাটর্নি জেনারেলের পদে থাকার সব ধরনের যোগ্যতা হারিয়েছেন।’ অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে নিয়োগের ক্ষেত্রে শত কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে’—এমন অভিযোগ করে তিনি এর তদন্ত দাবি করেন।

    শরীফ ইউ আহমেদ বলেন, ‘আজকের এই সভা থেকে আমরা রুহুল কুদ্দুস কাজলকে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করছি। তার পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।’

    বিক্ষোভে অংশ নেয়া আইনজীবীরা বলেন, ‘‘তারা ‘ফ্যাসিস্ট, গুপ্ত, সুপ্ত ও দুর্নীতিমুক্ত’ অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় চান।’’ এ দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দেন তারা।

  • রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ২৪৭ বনাম ৯০, তবু হিসাব ভোটের বাইরেই

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ২৪৭ বনাম ৯০, তবু হিসাব ভোটের বাইরেই

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী জোটের দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্রই বৈধ হয়েছে। ২০ আগস্ট ভোট হবে। প্রাথমিক সমীকরণে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে ২৪৭ এবং জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদের পক্ষে ৯০ জন সংসদ সদস্য রয়েছেন।

    সংখ্যার এই ব্যবধানে জয়-পরাজয় নিয়ে কার্যত কোনো অনিশ্চয়তা নেই। মির্জা ফখরুলের জয় প্রায় নিশ্চিত। এরপরও ভোটটিতে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা আছে। তবে সেটি ফলাফলের চেয়ে অলি আহমদ কত ভোট পান, বিরোধী জোটের ৯০টি ভোট অটুট থাকে কি না এবং দুই শিবিরের বাইরের সংসদ সদস্যরা কোন দিকে যান—এসব প্রশ্নকে ঘিরে।

    আজ রোববার রাষ্ট্রপতি পদে জমা দেওয়া মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। বিএনপির সদ্য সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং এলডিপির চেয়ারম্যান অলি আহমদ—দুজনের মনোনয়নপত্রই বৈধ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ রয়েছে। তবে কোনো প্রার্থীরই মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সম্ভাবনা নাই। ফলে ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদকক্ষে দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোট হবে। ভোটার হবেন সংসদ সদস্যরা।

    গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। সংবিধান অনুসারে, পদত্যাগের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হয়।

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও কর্নেল (অব.) অলি আহমদ; রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপি ও ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী তাঁরা ফাইল ছবি

    সংখ্যার চেয়ে ভোটের বিন্যাসে নজর

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনসহ বর্তমানে সদস্য রয়েছেন ৩৪৯ জন। বিএনপির সদস্য ২৪৭ জন। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের সদস্য ৯০ জন। চট্টগ্রাম-৪ আসনে নির্বাচিত ঘোষিত বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা আদালতের রায়ে বাতিল হওয়ায় তিনি শপথ নিতে পারেননি। ফলে আসনটি শূন্য রয়েছে।

    দুই প্রধান রাজনৈতিক শিবিরের বাইরে থাকা ১২ সদস্যের মধ্যে তিনজন বিএনপির মিত্র গণসংহতি আন্দোলন, গণ অধিকার পরিষদ ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি)। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সদস্য একজন। বাকি আটজন স্বতন্ত্র; তাঁদের প্রায় সবাই একসময় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

    এই সমীকরণে মির্জা ফখরুলের জয় প্রায় নিশ্চিত হলেও বাকি ১২টি ভোট রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অলি আহমদ স্বতন্ত্র কিংবা ইসলামী আন্দোলনের ভোট টানতে পারলে বিরোধী জোট সেটিকে রাজনৈতিক অর্জন হিসেবে তুলে ধরতে পারবে। অন্যদিকে মির্জা ফখরুল বিএনপির বাইরের ভোট পেলে ক্ষমতাসীন দল তাঁর প্রতি বৃহত্তর রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার বার্তা দিতে পারবে।

    অলি আহমদের সামনে মূল লক্ষ্য তাই রাষ্ট্রপতি হওয়া নয়; নিজের জোটের ভোট অটুট রেখে এর বাইরে কতটি ভোট পাওয়া যায়, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

    ভোট প্রকাশ্য, ৭০ অনুচ্ছেদে বিতর্ক

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যরা প্রকাশ্যে ভোট দেন। ব্যালট পেপারে পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশাপাশি ভোটদাতা সদস্যের নাম ও আসন নম্বরও উল্লেখ করতে হয়। ফলে কে কাকে ভোট দিয়েছেন, তা শনাক্ত করা যায়।

    জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি ১১ আগস্ট বলেছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর থাকবে। কেউ দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দিলে তাঁর সংসদ সদস্য পদ শূন্য হবে।

    জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হবেন রাষ্ট্রপতি ফাইল ছবি

    সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো দলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত সংসদ সদস্য দল থেকে পদত্যাগ করলে কিংবা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তাঁর আসন শূন্য হবে। তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নির্বাচন কমিশন পরিচালিত একটি স্বতন্ত্র সাংবিধানিক প্রক্রিয়া হওয়ায় এতে ৭০ অনুচ্ছেদ প্রযোজ্য হবে কি না, তা নিয়ে ভিন্ন আইনি মত রয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইনে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে দেওয়া বৈধ ভোট বাতিলেরও কোনো বিধান নেই।

    রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, আইনি ব্যাখ্যা যা-ই হোক, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে কোনো সংসদ সদস্য ভোট দেবেন—এমন সম্ভাবনা খুবই কম।

    সর্বশেষ ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোট হয়েছিল। ওই সংসদে বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামী, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টিসহ বেশ কয়েকটি দলের সদস্য ছিলেন। মোট ৩৩০ সদস্যের মধ্যে ৬৬ জন ভোট দেননি। এবারের সংসদের প্রায় সব সদস্যই ক্ষমতাসীন ও বিরোধী—এই দুই রাজনৈতিক শিবিরে বিভক্ত। ফলে বড় ধরনের ভোট-বিচ্যুতির সম্ভাবনা আরও কম।

    অলির প্রার্থিতায় রাজনৈতিক বার্তা

    অলি আহমদ শুধু একজন বিরোধী প্রার্থী নন। তিনি বিএনপির সাবেক নেতা, জিয়াউর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং বীর বিক্রম খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৮০ সালে সেনাবাহিনী ছেড়ে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। খালেদা জিয়ার প্রথম সরকারের যোগাযোগমন্ত্রীও ছিলেন তিনি।

    অর্থাৎ একসময়ে বিএনপির ঘরের মানুষ অলি আহমদ এখন বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর প্রার্থিতার এই প্রতীকী দিকটি জামায়াতের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

    রাজনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের মধ্যে একজন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করে জোটটি আলাদা রাজনৈতিক বার্তা দিতে চাইছে। জাতীয় নির্বাচনের আগেও অলি আহমদকে সামনে রেখে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের প্রশ্নে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছিল জামায়াত। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও সেই রাজনীতির ধারাবাহিকতা দেখা যাচ্ছে।

    জোটসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়ার আশ্বাসের ভিত্তিতে এলডিপি জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটে এসেছিল। ফলে পরাজয় নিশ্চিত জেনেও তাঁকে প্রার্থী করা একদিকে সেই রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি রক্ষা, অন্যদিকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার বিপরীতে বিরোধী পক্ষের উপস্থিতি জানান দেওয়ার চেষ্টা।

    জাতীয় নির্বাচনের পর বিরোধী দলগুলোর ঐক্য কতটা টেকসই, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সেই ঐক্যের পরীক্ষা হবে। অলি আহমদ জোটের ৯০টি ভোটের সব কটি পেলে বিরোধীরা ঐক্যের বার্তা দিতে পারবে। ভোট কমে গেলে জোটের ভেতরের দুর্বলতাও প্রকাশ পাবে।

    মির্জা ফখরুল দীর্ঘদিন বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্ব এবং তারেক রহমানের দেশের বাইরে থাকার সময়ে তিনি দলের কঠিন সময়ের অন্যতম প্রধান মুখ ছিলেন। তাঁকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়ার মধ্য দিয়ে বিএনপি দীর্ঘদিনের একজন পরীক্ষিত নেতাকে সক্রিয় দলীয় রাজনীতি থেকে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক কাঠামোর ভিন্ন ভূমিকায় নিয়ে যাচ্ছে।

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফল প্রায় নিশ্চিত হলেও ২০ আগস্টের ভোট তাই অর্থহীন আনুষ্ঠানিকতা নয়। ফখরুলের জয়ের চেয়ে অলি কত ভোট পেলেন, বিরোধী জোটের ৯০টি ভোট অটুট থাকল কি না, দুই শিবিরের বাইরের ভোট কোন দিকে গেল এবং কোনো ভোট-বিচ্যুতি ঘটল কি না, ভোটের পরের রাজনীতিতে এসব প্রশ্নই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

  • ভারতের স্বাধীনতা উদযাপনে জয়া আহসান, কটাক্ষ শ্রীলেখার

    ভারতের স্বাধীনতা উদযাপনে জয়া আহসান, কটাক্ষ শ্রীলেখার

    নারীদের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা এবং সমমর্যাদার বার্তা দিতে কলকাতায় আয়োজিত হয় ‘ফ্রিডম বিয়ন্ড মিডনাইট’ শীর্ষক পদযাত্রা। ভারতের স্বাধীনতা দিবস ছিল গতকাল শনিবার। এ উপলক্ষে ১৪ আগস্ট রাতে অনুষ্ঠিত নারীদের এই আয়োজনে টালিউডের নারী শিল্পীদের সঙ্গে অংশ নেন বাংলাদেশের অভিনেত্রী জয়া আহসান।

    পশ্চিমবঙ্গের সংবাদ দ্য ওয়াল-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই পদযাত্রায় অংশ নেন প্রায় ৫ হাজার নারী। উপস্থিত ছিলেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, চৈতি ঘোষাল, ইন্দ্রাণী হালদার, ইমন চক্রবর্তী, পৌষালী বন্দ্যোপাধ্যায়, লাজবন্তী রায়, ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়, মৌবনী সরকার, মুমতাজ সরকার, রিচা শর্মার মতো তারকারাও।

    এ পদযাত্রায় জয়াকে হাঁটতে দেখে অনেকেই ভ্রু কুঁচকেছেন। অনেকেই আবার করছেন সমালোচনা। টালিপাড়ার অন্যতম ঠোঁটকাটা অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র তাদেরই একজন। জয়া আহসানকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট করেছেন তিনি। নবমিতা বসুর একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন তিনি। সেখানে লেখা আছে, ‘জয়া আহসান কবে থেকে ভারতীয় হয়ে উঠল, প্লিজ জানাবেন। আজন্ম আমি জেনে এসেছি- ১৫ আগস্ট ভারতবর্ষ স্বাধীন হয়েছিল? আর কদিন আগে অবধি “দিপু দাস হত্যাকাণ্ড” নিয়ে ভারতবর্ষ তোলপাড় হয়েছিল। রিসেন্টলি দিলীপ ঘোষ মহাশয় ভারতীয় মুসলমান গোষ্ঠীকে নামাজ পড়তে হলে পাকিস্তান চলে যাওয়ার সাজেশন অবধি দিয়েছেন। জয়া আহসান হচ্ছেন সনাতনী, পিউর, আদি ও আসল ভারতীয়। নেতাজির পূর্বপুরুষ। আমার উত্তর চাই কেন? জয়া আহসান থেকে তাসলিমা নাসরিন, তা হলো- তাদের জন্মভূমির কাছে দেশদ্রোহী।’

    আর পোস্টটি শেয়ার করে শ্রীলেখা লিখেছেন, ‘ধর্ম… ধান্দা… ও দেশপ্রেম…। বাকিরা দেশদ্রোহী…। হিংটিংছট।’

  • চৌগাছায় এক কৃষকে পিটিয়ে দুই হাত ভেঙ্গে দেওয়ার অভিযোগ

    চৌগাছায় এক কৃষকে পিটিয়ে দুই হাত ভেঙ্গে দেওয়ার অভিযোগ

    চৌগাছা প্রিতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় পূর্বশত্রুতার জের ধরে আব্দুল জব্বার (৫০) নামে এক ব্যাক্তিকে দা দিয়ে পিটিয়ে দুই হাত ভেঙ্গে দিয়েছে প্রতিপক্ষ। গত শুক্রবার সকালে উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়নের বুন্দলীতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    আহত আব্দুল জব্বার বুন্দলীতলা গ্রামের আব্দুল খালেক বিশ্বাসের ছেলে।

    আহত কৃষক আব্দুল জব্বার জানান, পূর্ব শত্রুতার জেরে একই গ্রামের রমজান আলী তার ছেলে রিংকু (৪২) ও রিপন হোসেন (৩৮) আমার উপর হামলা চালায়।

    এ সময় তারা আমাকে লোহার রড ও দা দিয়ে পিটিয়ে মারাত্মক আহত করে। এতে আমার দুই হাত ভেঙ্গে যায়।

    পরে আমার ডাক চিৎকারে স্থানীয় লোকজন আমাকে উদ্ধার করে চৌগাছা উপজেলা সরকারি মডেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে সেখানে আমার অবস্থার অবনতি হলে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে রেফার করেন।

    এদিকে আমার প্রতিপক্ষ এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় থানায় গিয়ে এ ব্যাপারে অভিযোগ দিতে পারছিনা। বর্তমানে আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তা হীনতায় ভূগছি।

  • ব্যাংকে অলস টাকার নতুন রেকর্ড, তবুও ঋণ নিচ্ছেন না উদ্যোক্তারা

    ব্যাংকে অলস টাকার নতুন রেকর্ড, তবুও ঋণ নিচ্ছেন না উদ্যোক্তারা

    ব্যাংকে আমানত বাড়ছে, কিন্তু সেই অর্থ ঋণ হিসেবে বিনিয়োগ হচ্ছে না। নতুন শিল্পকারখানা স্থাপন কিংবা ব্যবসা সম্প্রসারণে উদ্যোক্তাদের আগ্রহ কমে যাওয়ায় ব্যাংক খাতে জমছে অতিরিক্ত তারল্য। গত জুন শেষে এই অলস বা উদ্বৃত্ত তারল্যের পরিমাণ প্রথমবারের মতো ৪ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। একই সময়ে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুন শেষে ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত তারল্য দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকা। মে শেষে যা ছিল প্রায় ৩ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ এক মাসেই উদ্বৃত্ত তারল্য বেড়েছে ৭০ হাজার কোটি টাকার বেশি।

    অন্যদিকে জুনে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ব্যাংক আমানতের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০ দশমিক ৭৪ শতাংশ। বিপরীতে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে মাত্র ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশে। অর্থাৎ ব্যাংকে যে হারে টাকা জমা হচ্ছে, সেই তুলনায় ঋণ হিসেবে অর্থ বের হচ্ছে অনেক কম।

    অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা বলছেন, এই পরিস্থিতি শুধু ব্যাংক খাতে অতিরিক্ত টাকা জমে থাকার বিষয় নয়; বরং এটি দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতির দুর্বলতারও বড় একটি সংকেত। উদ্যোক্তারা ঋণ নিতে চাইছেন না, আবার ব্যাংকগুলোও অতীতের ঋণ অনিয়ম ও খেলাপি ঋণের অভিজ্ঞতায় নতুন ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক। ফলে ঋণের চাহিদা ও সরবরাহ— দুই দিক থেকেই বেসরকারি খাত চাপে রয়েছে।

    কেন ঋণ নিতে চাইছেন না উদ্যোক্তারা?

    ব্যাংকারদের মতে, নতুন বিনিয়োগে উদ্যোক্তাদের অনাগ্রহের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় সমস্যা গ্যাস ও বিদ্যুতের অনিশ্চিত সরবরাহ। একটি শিল্পকারখানা স্থাপন করে নিয়মিত উৎপাদন করা না গেলে ব্যাংক ঋণের সুদ পরিশোধ করাই উদ্যোক্তার জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়ায়।

    এর সঙ্গে রয়েছে উচ্চ সুদহার, ব্যবসা পরিচালনার বাড়তি খরচ, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং কর ও নীতির অনিশ্চয়তা। এসব কারণে নতুন বিনিয়োগের ঝুঁকি নিতে চাইছেন না অনেক উদ্যোক্তা।

    ব্যাংকাররা জানান, বর্তমানে যে ঋণ বিতরণ হচ্ছে, তার বড় অংশই যাচ্ছে চলতি মূলধন, কাঁচামাল আমদানি ও ব্যবসার দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে। নতুন শিল্প স্থাপন বা বড় ধরনের ব্যবসা সম্প্রসারণে ঋণের চাহিদা তুলনামূলকভাবে কম।

    ব্যাংকেও বাড়ছে সতর্কতা

    উদ্যোক্তাদের ঋণ নেওয়ার আগ্রহ কমার পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণেও এসেছে বড় ধরনের পরিবর্তন। অতীতে পর্যাপ্ত যাচাই-বাছাই ছাড়াই বিপুল পরিমাণ ঋণ বিতরণ করা হয়েছিল। এর একটি বড় অংশ প্রকৃত বিনিয়োগে ব্যবহার হয়নি। পরে এসব ঋণের অনেকটাই খেলাপিতে পরিণত হয়েছে।

    বর্তমানে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের চাপ অনেক বেশি। ফলে নতুন ঋণ দেওয়ার আগে উদ্যোক্তার ব্যবসা, জামানত, নগদ প্রবাহ ও ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা যাচাইয়ে ব্যাংকগুলো বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে।

    বিশেষ করে দুর্বল ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণ সক্ষমতা কমে যাওয়ায় বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ আরও সংকুচিত হয়েছে। ফলে ভালো ব্যাংকগুলোর কাছে অর্থ থাকলেও তারা ঝুঁকিপূর্ণ খাতে ঋণ দেওয়ার পরিবর্তে তুলনামূলক নিরাপদ সরকারি বিল ও বন্ডে অর্থ বিনিয়োগ করছে।

    টাকা আছে, কিন্তু বিনিয়োগের জায়গা নেই

    ব্যাংকে উদ্বৃত্ত তারল্য মানেই সব টাকা নগদ অবস্থায় পড়ে আছে– বিষয়টি এমন নয়। এই অর্থের বড় অংশ সরকারি ট্রেজারি বিল, বন্ড, কলমানি মার্কেটসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করা থাকে। প্রয়োজন হলে এসব বিনিয়োগ নগদায়ন করা যায়। তবে ব্যাংকের দৃষ্টিতে মূল সমস্যা হলো, উৎপাদনশীল খাতে ঋণের চাহিদা তৈরি হচ্ছে না। ফলে আমানতকারীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা অর্থ দিয়ে কাঙ্ক্ষিত হারে ঋণ বিতরণ করা যাচ্ছে না।

    ব্যাংক এশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরফান আলী বলেন, ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নতি না হওয়ায় উদ্যোক্তারা এখন ঋণ নিতে তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। একইসঙ্গে উদ্বৃত্ত তারল্যের বড় অংশ কয়েকটি ব্যাংকের কাছে রয়েছে। এসব ব্যাংক ঝুঁকি না নিয়ে সরকারি বিল ও বন্ডে অর্থ খাটানোকে বেশি নিরাপদ মনে করছে।

    তিনি বলেন, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধান না হলে বিনিয়োগের চাহিদা বাড়বে না। ঋণের সুদহার কমলেও বিনিয়োগের পরিবেশ ঠিক না হলে পরিস্থিতির বড় পরিবর্তন হবে না।

    আমানত বাড়ছে, ঋণ বাড়ছে না

    ব্যাংক খাতের বর্তমান পরিস্থিতি সবচেয়ে পরিষ্কারভাবে বোঝা যায় আমানত ও ঋণের প্রবৃদ্ধির তুলনা করলে।

    জুনে ব্যাংক আমানতের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০ দশমিক ৭৪ শতাংশ। একই সময়ে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি মাত্র ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ। অর্থাৎ আমানতকারীরা ব্যাংকে টাকা রাখছেন, কিন্তু উদ্যোক্তারা সেই অর্থ ঋণ নিয়ে বিনিয়োগ করছেন না।

    এই ব্যবধান যত বাড়ছে, ব্যাংকে উদ্বৃত্ত তারল্যও তত বাড়ছে।

    দুই বছর আগেও ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত তারল্যের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৯৩ হাজার ৯৬৪ কোটি টাকা। গত বছরের জুনে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ৮৩ হাজার ৬৪০ কোটি টাকায়। চলতি বছরের জুনে এসে তা ৪ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। অর্থাৎ মাত্র দুই বছরে ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত তারল্য দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে।

    সুদ কমলেই কি বিনিয়োগ বাড়বে?

    বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি নীতি সুদহার ৫০ ভিত্তি পয়েন্ট কমিয়েছে। রেপো হার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে ৯ শতাংশ করা হয়েছে।

    এছাড়া অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও বন্ধ শিল্পকারখানা চালুর লক্ষ্যে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে উদ্বৃত্ত তারল্য থাকা ব্যাংকগুলো প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা সরবরাহ করবে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই উদ্যোগে ঋণের সুদ কমে উদ্যোক্তাদের মধ্যে ঋণ নেওয়ার আগ্রহ বাড়তে পারে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু সুদহার কমিয়ে বিনিয়োগের স্থবিরতা কাটানো সম্ভব নয়।

    একজন উদ্যোক্তার কাছে ঋণের সুদহার যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই গুরুত্বপূর্ণ হলো সেই ঋণ নিয়ে উৎপাদন চালানোর পরিবেশ। গ্যাস-বিদ্যুৎ না থাকলে, পণ্য পরিবহনে সমস্যা হলে, ব্যবসার খরচ বাড়লে কিংবা নীতিতে ঘন ঘন পরিবর্তন হলে কম সুদের ঋণও বিনিয়োগে উৎসাহ তৈরি করবে না।

    গ্যাস-বিদ্যুৎই বড় বাধা

    অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ মনে করেন, ব্যাংক খাতের বর্তমান অতিরিক্ত তারল্য স্থায়ী নয়। বাজেট পাস হওয়া এবং রেমিট্যান্সপ্রবাহ বাড়ার কারণে ব্যাংকগুলোতে আমানত বেড়েছে। তবে এসব অর্থ আমানতকারীদের, তাই ব্যাংকগুলোকে তা উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ করতে হবে।

    তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মাইক্রো, কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। বড় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আপাতত কিছুটা সতর্ক থাকা উচিত।

    বিনিয়োগের পরিবেশ সম্পর্কে তিনি বলেন, জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি সরবরাহব্যবস্থা উন্নত করা এবং ব্যবসা পরিচালনার খরচ কমানো দরকার। এসব ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

    শিল্পায়ন না হলে অলস টাকা আরও বাড়তে পারে

    ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ উদ্বৃত্ত তারল্য থাকা আপাতদৃষ্টিতে ব্যাংকগুলোর তারল্য সক্ষমতার ভালো দিক মনে হতে পারে। কিন্তু অর্থনীতির জন্য এটি সবসময় সুখবর নয়।

    কারণ ব্যাংকের টাকা যদি শিল্প, ব্যবসা ও উৎপাদনে না যায়, তাহলে কর্মসংস্থান তৈরি হবে না। উৎপাদন বাড়বে না। নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হবে না। অর্থনীতিতে চাহিদা সৃষ্টি হবে না। এর ফলে ব্যাংকেও নতুন ঋণের চাহিদা তৈরি হবে না।

    বর্তমানে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সেখানে একদিকে ব্যাংকে আমানত বাড়ছে, অন্যদিকে বিনিয়োগ কমছে। ফলে ব্যাংকের অর্থ সরকারি ঋণ বা নিরাপদ বিনিয়োগে আটকে থাকছে। এতে বেসরকারি খাতের সম্প্রসারণ বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

    সমাধান কোথায়?

    ব্যাংকে জমে থাকা ৪ লাখ কোটি টাকার বেশি উদ্বৃত্ত অর্থ অর্থনীতির উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহার করতে হলে প্রথমে বিনিয়োগের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে। নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ, স্থিতিশীল করনীতি, উন্নত অবকাঠামো, নিরাপদ ব্যবসায়িক পরিবেশ এবং ব্যবসার খরচ কমানো– এসব বিষয়ে দ্রুত অগ্রগতি প্রয়োজন।

    একইসঙ্গে ব্যাংক খাতেও আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। ঋণ বিতরণে রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপ বন্ধ করে প্রকৃত উদ্যোক্তাদের ঋণ পাওয়ার সুযোগ বাড়াতে হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে।

    সবচেয়ে বড় কথা, ব্যাংকে টাকা থাকলেই অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ায় না। সেই টাকা যখন কারখানার মেশিন কেনা, নতুন ব্যবসা শুরু, উৎপাদন বাড়ানো এবং কর্মসংস্থান তৈরিতে ব্যবহৃত হয়, তখনই তা অর্থনীতির জন্য কার্যকর হয়।

    তাই ব্যাংকে অলস টাকার নতুন রেকর্ড আসলে শুধু ব্যাংক খাতের সমস্যা নয়; এটি দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতিরও একটি বড় সতর্কবার্তা। উদ্যোক্তাদের আস্থা ফিরিয়ে এনে বিনিয়োগ বাড়ানো না গেলে ব্যাংকে জমে থাকা এই বিপুল অর্থ অর্থনীতির গতি বাড়ানোর বদলে আরও দীর্ঘ সময় অলস পড়ে থাকার ঝুঁকি রয়েছে।

  • অব্যবহৃত জলাশয়ে মাছ চাষে তরুণদের সহায়তা দেবে সরকার

    অব্যবহৃত জলাশয়ে মাছ চাষে তরুণদের সহায়তা দেবে সরকার

    মৎস্য খাতকে আরও সমৃদ্ধ ও কর্মসংস্থানমুখী করতে দেশের অব্যবহৃত পুকুর, হাওর-বাঁওড় ও অন্যান্য জলাশয় সংস্কার করে তরুণদের মধ্যে বণ্টনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসব জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করে স্থানীয় তরুণদের মাধ্যমে মাছ চাষের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

    আজ রোববার দুপুরে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের জর্জ ইনস্টিটিউট মিনি স্টেডিয়ামে জাতীয় মৎস্য পক্ষের কেন্দ্রীয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    তারেক রহমান বলেন, নদীমাতৃক বাংলাদেশে পুকুর, হাওর-বাঁওড় ও অন্যান্য জলাশয় কাজে লাগিয়ে কিংবা অল্প জমিতে মাছ চাষের মাধ্যমে মানুষের স্বাবলম্বী হওয়ার বড় সুযোগ রয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনেক জলাশয় পড়ে আছে। সরকার এসব জলাশয় সংস্কার করে সেখানে মাছের পোনা ছাড়ার উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘যে পুকুরগুলো, যে হাওর-বিলগুলো, জলাশয়গুলো যে এলাকায় হবে, সেই এলাকার তরুণ যাঁরা আছেন, তাঁদের মধ্যে সুন্দরভাবে আমরা এটা বণ্টন করতে চাই, যাতে করে তাঁদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়।’ এ বিষয়ে মৎস্য মন্ত্রণালয়ে এরই মধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, মৎস্য খাত দেশের মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে। মাছ চাষ, আহরণ, পরিবহন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিক্রির সঙ্গে বহু মানুষ যুক্ত। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আয় বাড়াতেও এ খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

    মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানির প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিশ্বের ৫২টি দেশে মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ ছয় হাজার কোটি টাকার বেশি সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করেছে। এই অর্জনের কৃতিত্ব মৎস্য উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী ও চাষিদের।

    তারেক রহমান বলেন, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার গত জুনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে মৎস্য ও জলজ প্রাণী উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বের পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে। আর অভ্যন্তরীণ জলাশয় থেকে মাছ আহরণে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে পারলে এ খাত থেকে আরও কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব।

    প্রধানমন্ত্রী জানান, খুলনা অঞ্চলে ৩০০টি ক্লাস্টার গঠন করে ক্লাস্টারভিত্তিক চিংড়ি চাষ উন্নয়নের ফলে ৭ হাজার ৫০০ ঘেরে উৎপাদন গড়ে দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। পাশাপাশি কক্সবাজারের চকরিয়ায় সাত হাজার একর জমিতে চিংড়ি চাষ উন্নয়নে অবকাঠামো উন্নয়নসহ ‘শ্রিম সিটি মাস্টারপ্ল্যান’ প্রণয়ন করা হয়েছে।

    ইলিশ উৎপাদন ও সংরক্ষণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইলিশ শুধু জাতীয় মাছ ও অর্থনৈতিক সম্পদ নয়, এটি বাংলাদেশের জিআই পণ্য হিসেবেও বিশ্বে স্বীকৃত। দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনে ইলিশের অবদান ১০ শতাংশ এবং জিডিপিতে এর অবদান ১ শতাংশের বেশি। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশের প্রায় দুই কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মৎস্য খাতের ওপর নির্ভরশীল। তাই এ খাতকে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন রাখতে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো সুন্দরবন ও হাওর অঞ্চলে মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধকালীন জেলেদের ভিজিএফের আওতায় আনা হয়েছে।

    অনুষ্ঠানে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি এবং বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এবং কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন বক্তব্য দেন।

  • কাটছে না গ্যাস সংকট, বাড়ছে ভোগান্তি

    কাটছে না গ্যাস সংকট, বাড়ছে ভোগান্তি

    রাজধানী ঢাকায় গ্যাসের তীব্র সংকট এখনও কাটেনি। অধিকাংশ সিএনজি স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। যে দু-একটি স্টেশনে সরবরাহ মিলছে, সেখানেও চাপ এত কম যে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও প্রয়োজনীয় গ্যাস নিতে পারছেন না চালকরা। ফলে বিভিন্ন এলাকায় সিএনজি স্টেশনের সামনে তৈরি হয়েছে দীর্ঘ সারি।

    অপরদিকে, বাসাবাড়িতে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও স্বস্তি ফেরেনি। শুক্রবার ও শনিবার অনেক এলাকায় চুলায় গ্যাস না এলেও রবিবার (১৬ আগস্ট) সকাল থেকে কিছু কিছু এলাকায় গ্যাস এসেছে। তবে চাপ এতটাই কম যে চুলা জ্বললেও তাতে স্বাভাবিকভাবে রান্না করা যাচ্ছে না।

    সিএনজি স্টেশনের কর্মী, চালক ও গৃহিণীদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।

    সিএনজি স্টেশনে গ্যাস নেই, দীর্ঘ অপেক্ষা

    প্রাইভেটকার চালক সানাউল্লাহ বলেন, মালিবাগ থেকে কমলাপুর পর্যন্ত বেশিরভাগ সিএনজি স্টেশনেই গ্যাস দেওয়া হচ্ছে না। কখন সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, সেটিও জানাতে পারছেন না স্টেশন কর্তৃপক্ষ।

    গ্যাস নেওয়ার আশায় দুপুর ১২টা থেকে মালিবাগে অপেক্ষা করছিলেন তিনি।

    সানাউল্লাহ বলেন, গাড়িতে ঠিকমতো গ্যাস নিতে না পারায় গাড়ি চালাতেও পারছেন না। মাসে ৩০ হাজার টাকা চুক্তিতে রেন্ট-এ-কার হিসেবে গাড়ি চালান তিনি। কিন্তু গ্যাসের সংকটে নিয়মিত ট্রিপ দিতে না পারায় চলতি মাসের চুক্তির টাকা কীভাবে পরিশোধ করবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন।

    হাজীপাড়া পাম্পের কর্মী আসাদ বলেন, গ্যাস কখন আসবে বলতে পারব না। সরবরাহ পেলেই গ্যাস দেওয়া শুরু হবে।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাড্ডা, মালিবাগ ও কমলাপুর এলাকার সিএনজি স্টেশনগুলো প্রায় পুরোপুরি বন্ধ। তেজগাঁও ও মহাখালীর অনেক স্টেশনেও একই অবস্থা। খিলক্ষেত এলাকায় কোথাও কোথাও গ্যাস দেওয়া হলেও চাপ খুবই কম।

    প্রাইভেটকার চালক ইউনুস আলী বলেন, খিলক্ষেতে দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করে মাত্র ১২০ টাকার গ্যাস পেয়েছেন। তিনি বলেন, এটা আসলে হাওয়া। নাইনটি সিলিন্ডারে সাধারণত এক হাজার থেকে ১২শ টাকা পর্যন্ত গ্যাস ঢোকে। সেখানে ১২০ টাকার গ্যাস দিয়ে কী হবে?

    তিনি বলেন, রাতে পরিস্থিতি কিছুটা ভালো থাকে। তবে দিনের বেলায় গ্যাসের চাপ একেবারেই কম।

    আকিজের পাম্পকর্মী তারেক বলেন, এখন আমরা বন্ধ রেখেছি। রাতে সরবরাহ পেলে গ্যাস দিতে পারব। গত রাতেও দিয়েছি। মিরপুর ও গাবতলী এলাকার পাম্পগুলোর অবস্থাও একই।

    উত্তরা-আব্দুল্লাহপুরেও দীর্ঘ সারি

    উত্তরা-আব্দুল্লাহপুরের পূর্ব পাশের খন্দকার ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় বিভিন্ন স্টেশনের সামনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। অপেক্ষা করেও গ্যাস না পেয়ে অনেক বাস ও মোটরসাইকেল চালক ডিজেল ও অকটেন নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

    মেসার্স মাসুদ হাসান স্টেশনের ম্যানেজার বলেন, পরিবহনের বড় একটি অংশ সিএনজিনির্ভর। কিন্তু গ্যাসের সরবরাহ না থাকায় বিক্রি বন্ধ রয়েছে এবং স্টেশনের সামনে গাড়ির লাইন বাড়ছে।

    তিনি বলেন, আমরা পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছি না। তিতাস আমাদের ঠিকমতো গ্যাস সরবরাহ করছে না। আমাদের কাছে না থাকলে আমরা কোথা থেকে দেব? আমাদের অধিকাংশ গ্রাহকের গাড়িই গ্যাসে চলে। গত এক সপ্তাহ ধরে পাম্পে গ্যাস পাচ্ছি না। ফলে বিক্রি পুরোপুরি বন্ধ।

    ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উত্তরা-আব্দুল্লাহপুর অংশের পশ্চিম পাশের আরএসআর ফিলিং স্টেশনেও একই চিত্র দেখা গেছে।

    সিএনজি চালক মানিক বলেন, সকাল ৫টায় গ্যাসের জন্য আসছি। এখনো গ্যাস পাইনি। গাড়ির মালিককে জমা দেব কোথা থেকে? সংসার চালাব কীভাবে? সামনে মেয়ের স্কুলের বেতন দিতে হবে। এখন কী করব জানি না।

    চালকদের অভিযোগ, গ্যাসের সংকটে তাদের আয়-রোজগারও কমে গেছে। প্রতিদিনের গাড়ির জমা পরিশোধ করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে।

    আরেক চালক জাহিদ হোসেন বলেন, প্রতিদিন মহাজনকে ১২০০ টাকা জমা দিতে হয়। গ্যাসে প্রায় ৪০০ টাকা খরচ হয়। এর বাইরে দৈনিক আরও ২০০ থেকে ২৫০ টাকা খরচ থাকে। সব মিলিয়ে প্রতিদিন ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। কিন্তু গ্যাস না পাওয়ায় গত সাত দিন ধরে তার আয় বন্ধ।

    মাসুদ ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. শাকিব হোসেন বলেন, এক সপ্তাহ ধরে গ্যাসের চাপ নেই। আশপাশের সব ফিলিং স্টেশন বন্ধ। বিদ্যুৎ খরচ করে পাম্প চালালেও গ্যাসের চাপ একেবারেই নেই।

    চুলা জ্বলছে, রান্না হচ্ছে না

    এদিকে রবিবার সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বাসাবাড়িতে কিছুটা গ্যাস সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। তবে চাপ এত কম যে চুলা জ্বললেও স্বাভাবিকভাবে রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না।

    বনশ্রীর গৃহিণী কানিজ ফাতেমা বলেন, লাইনে যে গ্যাস আসছে, তাতে পানি গরম করে চাও খাওয়া যাবে না। পানি গরম করতেই ২০ মিনিট লাগছে।

    গ্যাসের চাপ কম থাকায় তিনি ইলেকট্রিক চুলা ব্যবহার করছেন। সকালে রুটিও ইলেকট্রিক চুলায় তৈরি করেছেন বলে জানান তিনি।

    বাড্ডার গৃহিণী আনোয়ারা বেগম বলেন, সকালে চুলা জ্বলেছে। কিন্তু সেই চুলায় রান্না বসালে কতক্ষণ লাগবে, বলা যায় না। চুলা জ্বললেও রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। শুক্রবার-শনিবার তো চুলাই জ্বলেনি।

    মিরপুরের গৃহিণী আফরোচা বেগম বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। বিকল্প হিসেবে ইলেকট্রিক চুলা ব্যবহার করছি।

    রাজধানীর উত্তরা, মোহাম্মদপুর, পুরান ঢাকা, খিলগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়েও গ্যাস সংকটের একই চিত্র পাওয়া গেছে।

    অর্থাৎ কোথাও চুলা পুরোপুরি বন্ধ, কোথাও আবার চুলা জ্বলছে নামমাত্র—কিন্তু সেই আগুনে রান্নার হাঁড়ি বসানোর মতো চাপ নেই।

  • এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়…

    এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়…

    সেই কবে ১৮৮২ সালের ওভালে গিয়ে প্রথমবার ব্রিটিশ সিংহকে খাঁচায় পুরেছিল অসিরা, আর বুক চাপড়ে দ্য স্পোর্টিং টাইমস লিখেছিল ইংরেজ ক্রিকেটের ‘মৃত্যুসংবাদ’। কল্পনায় সেই মৃতদেহ দাহ করে ছাই অস্ট্রেলিয়া নিয়ে গিয়েছে বলেও ব্যঙ্গ করেছিলেন সাংবাদিক রেজিনাল্ড শার্লি ব্রুকস। সেই থেকেই তো ছাই-ভস্মের সেই অ্যাশেজ সিরিজ। দেড় শতাব্দী পর ডারউইনের বাইশ গজে আজ কি তবে ক্যাঙারু-বধের পর অস্ট্রেলিয়ান মিডিয়াও নিজেদের ক্রিকেটের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া করবে?

    ডেভিড হুকস (ইনি সেই ভদ্রলোক, যিনি কিনা ২০০৩ সালে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ায় খেলতে গেলে সিডনি মর্নিং হেরাল্ডে লিখেছিলেন– এক দিনের টেস্টের জন্য সবাই প্রস্তুত হও) বেঁচে থাকলে আজ হয়তো ঠিক এই হাহাকারটাই করতেন। অথচ কী আশ্চর্য, মাররা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে কোনো শোরগোল হলো না, কোনো আগাম দামামা বাজল না; অথচ টেস্ট ক্রিকেটের দীর্ঘ মহাকাব্যে ঘটে গেল এক নিঃশব্দ রূপান্তর-পর্ব!

    কোনো সমঝদার বাংলাদেশি চাইলে ডারউইনের এই পুণ্যমাটি মুঠোভরে দেশে নিয়ে আসতেই পারেন। দলের সঙ্গে থাকা নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমনের কাছে সেই প্রত্যাশার কথা রাখতেই হাসিতে সম্মতি দিয়েছেন। এই শতাব্দীর পাকিস্তান যা পারেনি, আধুনিক ক্রিকেটের কোনো শ্রীলঙ্কান মায়াজাল যা করতে পারেনি, দীর্ঘ ২৩ বছর পর অসি মুলুকে ব্রাত্য ও উপেক্ষিত থাকার পর মাত্র এক সপ্তাহের আমন্ত্রণে এসে নাজমুল হোসেন শান্তর বাংলাদেশ সেটাই করে দেখাল! অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে অস্ট্রেলিয়াকেই টেস্টে হারাল। পরাশক্তির অহংকার চূর্ণ করে বাঘেদের এই জিগীষা দেখে আজ ডারউইনের গ্যালারি ছাড়িয়ে গোটা ক্রিকেটবিশ্ব থমকে দাঁড়িয়েছে।

    সুকান্তের সেই লাইনগুলো খুব মনে পড়ছে– ‘সাবাস বাংলাদেশ, এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়: জ্বলে-পুড়ে মর ছারখার, তবু মাথা নোয়াবার নয়।’ ডারউইনের সবুজগালিচায় আজ লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা যেন সেই অবিনাশী স্পর্ধার এক মহিমান্বিত উপাখ্যানই লিখে গেল!

    কোথায় টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ের মগজে বসে থাকা ক্রিকেটের এক নম্বর রাজাধিরাজ অস্ট্রেলিয়া, আর কোথায় তলানির নবমতম স্থানে ধুঁকতে থাকা এক লড়াকু বাংলাদেশ! বোদ্ধাদের ক্রিকেটীয় খেরোখাতায় এই ম্যাচের ফলাফল তো টসের আগেই একতরফা লিখে রাখা হয়েছিল। অসম, অসমঞ্জস্য এবং অসমাপ্ত এক দ্বৈরথ। হয়েছেও অবশ্য তাই– অসম লড়াইয়েই জিতেছে বাংলাদেশ, প্রথমে অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে গুটিয়ে দিয়ে; অসমঞ্জস্যও হয়েছে– সেখানে তানজিদ তামিমের সেঞ্চুরি আর মেহেদী হাসান মিরাজের ৬৫ রানের ইনিংসে ভর দিয়ে চার শতাধিক(৪২৬) রান তুলেছে বাংলাদেশ। এবং শেষ পর্যন্ত সাড়ে তিন দিনের অসমাপ্ত এক দ্বৈরথ– অস্ট্রেলিয়াকে দ্বিতীয় ইনিংসেও ২৮৪ রানে গুটিয়ে দিয়েছে হাসান মাহমুদ-মেহেদী হাসানরা। যদিও এই জয়টিকে কেউ কেউ ‘আপসেট’ বলছেন। কিন্তু যেভাবে পুরো টেস্টের এগারো সেশনে পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলেছেন শান্তরা, তাতে আপসেট বলাটা অসম্মানের মতোই।

    টেস্টটি শুরু হওয়ার আগেও অসি মিডিয়া দুদিন, না তিন দিনে তা শেষ হবে– প্যাট কামিন্সের কাছে জানতে চেয়েছিল। অতিথিদের নিয়ে একটা অবজ্ঞা ছিল তাদের মধ্যে। সেই জেদেই কিনা ট্রাভিস হেড-স্টিভ স্মিথদের অস্ট্রেলিয়াকেই কিনা সাড়ে তিন দিনে স্রেফ মুড়ি-মুড়কির মতো শাসন করল শান্তর বাংলাদেশ! হাসান মাহমুদের সেই সুইং আর মিরাজের ঘূর্ণিজালে যখন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল ক্যাঙারুদের দর্প, ডারউইনের আকাশ-বাতাস তখন সাক্ষী থাকল এক নতুন মহাজাগরণের। কোনো অলৌকিক মোজেজা বা ফ্লুক নয়; সাড়ে তিন দিন ধরে ক্রিকেটের কুলীন রাজাদের এভাবে ব্যাকফুটে ঠেলে দেওয়া– তা তো আসলে বাঘেদের এক পঞ্জরীভূত লড়াকু মানসিকতা এবং ক্রিকেট ইতিহাসের তীব্রতম এক বৈপ্লবিক বিবর্তনের নাম! তা ছাড়া এটি অস্ট্রেলিয়ার ‘এ’, ‘বি’ কিংবা ‘সি’ দল খেলেছে বলেও জয়ের মাহাত্ম্য হালকা করা যাবে না। ট্রাভিস হেড, লাবুশেন, স্মিথ, গ্রিন, ক্যারি, কামিন্স, স্টার্ক, হ্যাজেলউড, লায়ন– রীতিমতো অস্ট্রেলিয়ার অ্যাশেজ জয়ী দল এটা।

    ম্যাচের মাঝে অসি পেসার হ্যাজেলউড অসহায়ের মতো স্বিকারক্তি দিয়েছিলেন এই বলে যে বাংলাদেশের এই দলের অনেক ক্রিকেটারের ভিডিও তাদের কাছে ছিল না। তারা অনেকটা অচেনা ছিল ! টেস্টের এক নম্বর দলের কেউ যখন এই কথা বলে তখন তার পেশাদারিত্ব নিয়েই প্রশ্ন তোলা যায়। নয়তো তারা যে বাংলাদেশকে নিয়ে উদাসীন ছিলেন সেটা বোঝা যায়। তাদের নতুন মৌসুমের প্রথম ম্যাচ ছিল এটি। অথচ তারা ডারউইনে এসেই ছিল দুই দিন আগে। ব্রিজবেনে দলের কেউ কেউ একসঙ্গে হলেও ক্যাম্পটি বেশি দিনের ছিল না। হয়ত তারা বাংলাদেশের নাম ভেবেই ধরে নিয়েছিল অত পড়ালেখার দরকার নেই। এমনও হতে পারে তারা পড়ে এসেছিল মুশফিক, তাসকিনদের মতো ক্রিকেটারদের, কিন্তু টেস্টের পরীক্ষায় এসেগেছে হাসান মাহমুদ, তানজিদ তামিম, মেহেদী হাসান মিরাজরা। যারা কিনা প্রায় দুই বছর ধরে এই সিরিজের জন্যই মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলেন। হাসান মাহমুদ ইংল্যান্ডের কেন্টে গিয়ে ট্রায়াল দিয়ে তাদের দলে জায়গা করে নিয়েছিলেন। কাউন্ট খেলার সেই অভিজ্ঞতাটা তিনি কাজে লাগিয়েছেন এই ম্যাচে।

    ১৯৯৭ সালের কুয়াশাচ্ছন্ন কুয়ালালামপুরে আইসিসি ট্রফি জিতে বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নেওয়ার সেই যে বাঁধভাঙা কান্না, কিংবা ২০০৭-এর ত্রিনিদাদে তারুণ্যের ঔদ্ধত্যে পরাক্রমশালী ভারতকে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দেওয়ার সেই অবিশ্বাস্য কীর্তি—বাঙালির আবেগের মণিকোঠায় এদের স্থান চিরন্তন। এর ঠিক দুই বছর পর, ২০০৯ সালে খোদ ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে গিয়ে উইন্ডিজদের হোয়াইটওয়াশ করার সেই মহাকাব্য, কিংবা ঘরের মাঠে ক্রিকেটের জনক ইংল্যান্ডের অহংকার গুঁড়িয়ে দেওয়ার সেই রোমাঞ্চকর টেস্ট জয়—সময়ের নিক্তিতে মেপে দেখুন, সেগুলোর কোনটির মূল্য কিন্তু এক রত্তি কম নয়! প্রতিটি জয়ই ছিল তৎকালীন প্রেক্ষাপটে, তখনকার চড়াই-উতরাইয়ের বাস্তবতায় আমাদের ক্রিকেট ইতিহাসের একেকটি ‘সেরা’ বিজ্ঞাপন।

    মাউন্ট মঙ্গানুইয়ের ২০২২ সালে সেই বিখ্যাত টেস্ট জয় কিংবা ২০২৪ রাওয়ালপিন্ডির বুক চিরে ইতিহাস ছিনিয়ে আনা—সবকিছুকে এক লহমায় ম্লান করে দিল ডারউইনের এই ৯ উইকেটের জয়। একে স্রেফ একটা ক্রিকেট ম্যাচ জেতা বললে ক্রিকেটের ব্যাকরণকে অপমান করা হয়; এটি আসলে বাইশ গজের এক নিঃশব্দ, নির্মম সাম্রাজ্য-খর্বতার উপাখ্যান! দীর্ঘ তেইশ বছর ধরে যে ক্রিকেটীয় অস্পৃশ্যতার দেয়াল তুলে লাল-সবুজকে নিজেদের আঙিনায় ঢুকতে দেয়নি অজিরা, সিডনি–মেলবোর্নের মতো স্টেডিয়ামে আমন্ত্রন না জানিয়ে ডারউইনের মতো পার্কে খেলতে ডাকার মতো অবজ্ঞাকে পায়ে মারিয়ে এই জয় ছিনিয়ে নিয়েছে শান্তরা।

    ডারউইনের এই মহাকাব্যিক বিজয়ের পর বিশ্ব ক্রিকেটের মানচিত্রে বাংলাদেশের দিকে তাকানোর দৃষ্টিভঙ্গিটাই চিরতরে বদলে গেল; এখন থেকে লাল-সবুজের এই দলটিকে সবাই সমীহ আর পরম সম্মানের চোখে দেখবে। এতকাল যারা বাংলাদেশকে কেবলই ‘কন্ডিশনের সুবিধা নেওয়া’ হোম-টিম কিংবা অঘটন ঘটানো কোনো ক্ষণস্থায়ী দল হিসেবে ভাবত, তাদের সেই পুরনো চশমাটা আজ ভেঙে চুরমার। বিশ্ব ক্রিকেটের কুলীন প্রধানদের ডেরায় গিয়ে, তাদেরই পাতা ফাঁদে তাদের ধুলিসাৎ করে শান্তর দল প্রমাণ করল—বাংলাদেশ এখন আর কোনো ব্রাত্য বা করুণাপ্রার্থী দল নয়, বরং বাইশ গজের এক নতুন পরাশক্তি। ডারউইনের সবুজ গালিচায় আজ যে সম্মানের রাজমুকুট বাঘেরা মাথায় পরল, তা ক্রিকেট বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশকে এনে দিল এক পরম স্বীকৃতি ও চিরস্থায়ী কৌলিন্য।

  • বেক্সিমকোর সম্পত্তি নিলামে তুলছে রূপালী ব্যাংক

    বেক্সিমকোর সম্পত্তি নিলামে তুলছে রূপালী ব্যাংক

    খেলাপি ঋণ আদায়ে এবার বেক্সিমকো লিমিটেডের বন্ধক রাখা জমি নিলামে তুলছে রূপালী ব্যাংক। ব্যাংকটির কাছে বেক্সিমকো টেক্সটাইলের ঋণ ১৯০ কোটি ৯১ লাখ টাকা। এই ঋণ আদায়ে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে বন্ধক রাখা ২৬ একর জমি ও সম্পত্তি নিলামে ডাকা হয়েছে। গত শুক্রবার এই নিলাম বিজ্ঞপ্তির কথা জানানো হয়। রূপালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বেক্সিমকো টেক্সটাইলের কাছে রূপালী ব্যাংকের সর্বশেষ পাওনা ১৯০ কোটি ৯২ লাখ টাকা। এর মধ্যে অনাদায়ী সুদ অন্তর্ভুক্ত নয়। ব্যাংকের পাওনা, অন্যান্য খরচ এবং আদালতের সুদসহ আদায়ের জন্য তফসিলে বর্ণিত স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি যে অবস্থায় আছে, সে অবস্থায় নিলামে বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঋণগ্রহীতা হিসেবে সর্বশেষ বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি লিমিটেডের (বেক্সিমকো লিমিটেড) নাম উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি আগে বেক্সটেক্স লিমিটেড নামে পরিচিত ছিল। বেক্সিমকো লিমিটেডের সঙ্গে পদ্মা টেক্সটাইল মিলস এবং বেক্সিমকো নিটিং একীভূত হয়েছে।

    এ বিষয়ে বেক্সিমকো লিমিটেডের কোম্পানি সেক্রেটারি আসাদ উল্লাহ আমার দেশকে বলেন, রূপালী ব্যাংকের এই নিলামের কথা আমি জানি না। তবে কোম্পানি বন্ধ করে দিলে আমরা ঋণ পরিশোধ করব কীভাবে। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত আমরা কোনো ঋণখেলাপি ছিলাম না। এরপর ড. ইউনূস সরকার আমাদের কোম্পানি বন্ধ করে দেয়। তার মতে, ‘কোম্পানি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছে ব্যবসা করার জন্য। ব্যবসা না করতে পারলে টাকা আসবে কীভাবে। কোম্পানি বন্ধ থাকায় হাজার হাজার শ্রমিক বেকার। এখন কোম্পানিগুলোতে শুধু লোহালক্কড় পড়ে আছে। এমন পরিস্থিতি হলে আমরা ব্যাংকের টাকা কীভাবে দেব।’

    নিলাম বিজ্ঞপ্তিতে গাজীপুরের জয়দেবপুর, কালিয়াকৈর ও কাপাসিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক তফসিলের জমির বিবরণ দেওয়া হয়েছে। এসব জমির মধ্যে কোথাও একরের হিসাবে, আবার কোথাও শতাংশের হিসাবে জমির পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে। গাজীপুরের একটি তফসিলে ২.১৯ একর, আরেকটিতে ৪৮ শতাংশ এবং অন্য এক তফসিলে ৩.৬৬ একর জমির উল্লেখ রয়েছে। আরো কয়েকটি তফসিলে দশমিক একর ও শতাংশ হিসাবে জমি রয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে গাজীপুর মৌজার সরাবো, থানা ও জেলা গাজীপুর এলাকায় ৮.৫৫ একর জমির পৃথক বিবরণও দেওয়া হয়েছে। সেখানে সিএস খতিয়ানের বিভিন্ন দাগে মোট জমির পরিমাণ ৮.৫৫ একর উল্লেখ করা হয়েছে।

    নারায়ণগঞ্জের তারাবো ও যাত্রামুড়া মৌজাতেও বেক্সিমকোর বন্ধক রাখা জমি নিলামের তালিকায় রয়েছে। তারাবো মৌজার দুটি অংশে মোট ৮.৩৯ একর জমি রয়েছে। এর মধ্যে একটি অংশে ৪.৫২ একর এবং অন্য অংশে ৩.৮৭ একর জমির বিবরণ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া যাত্রামুড়া মৌজার আরেক তফসিলে ৯.২ একর জমি রয়েছে। অর্থাৎ, শুধু এ তিনটি তফসিলেই নারায়ণগঞ্জে ১৭.৪১ একর জমি রয়েছে। গাজীপুরের ৮.৫৫ একরসহ তফসিলে মোট ২৫.৯৬ একর জমির বিবরণ রয়েছে।

    জানা গেছে, নিলামে অংশ নিতে আগ্রহী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর বেলা ২টার মধ্যে নির্ধারিত কার্যালয়ে দরপত্র জমা দিতে হবে। ওইদিন বেলা ২টা ৫ মিনিটে দরপত্রদাতাদের উপস্থিতিতে দরপত্র খোলা হবে। নিলামে অংশগ্রহণকারীদের প্রস্তাবিত দরের ওপর নির্ধারিত হারে জামানত দিতে হবে। ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত দর হলে এর ওপর ২০ শতাংশ; ১০ থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত হলে ১৫ শতাংশ; ৫০ লাখ টাকার বেশি হলে ১০ শতাংশ হারে জামানত দিতে হবে। তবে সম্পত্তির প্রস্তাবিত মূল্য অস্বাভাবিকভাবে কম বা অপর্যাপ্ত মনে হলে কর্তৃপক্ষ দরপত্র বাতিল করতে পারবে।

    বেক্সিমকোর আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত কোম্পানিটির দীর্ঘমেয়াদি ঋণের মধ্যে রূপালী ব্যাংকের ছিল ৪৮২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। তবে বর্তমান নিলাম বিজ্ঞপ্তিতে যে ১৯০ কোটি ৯২ লাখ টাকা পাওনার কথা বলা হয়েছে, সেটিই এ নিলাম প্রক্রিয়ার জন্য প্রাসঙ্গিক পাওনা। সার্বিকভাবে রূপালী ব্যাংকের এই নিলাম বেক্সিমকোর ঋণ আদায়ে বড় ধরনের পদক্ষেপ। প্রায় ১৯১ কোটি টাকা পাওনা আদায়ে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে বন্ধক রাখা সম্পত্তি বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেবেচিন্তেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে নিলামে সম্পত্তির সঠিক মূল্য না পাওয়ার আশঙ্কা থাকায় গ্রাহক ও ব্যাংকের পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান হওয়াই সবচেয়ে ভালো।

  • মডেল রিধির মরদেহ উদ্ধার: প্রেমিক হাসিবুর কারাগারে

    মডেল রিধির মরদেহ উদ্ধার: প্রেমিক হাসিবুর কারাগারে

    রাজধানীর ভাটারা থানার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে মডেল ও অভিনেত্রী লিনা আক্তার ওরফে রিধিকা রিধির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার প্রেমিক হাসিবুর রহমানকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    দুপুরের পর হাসিবুর রহমানকে আদালতে হাজির করে ভাটারা থানা পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল ওয়াদুদ মামলার তাঁকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

    প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই কামাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আসামির পক্ষের আইনজীবীরা জামিন আবেদন করেন। পরে জামিন শুনানির জন্য আদালত ১৮ আগস্ট তারিখ ধার্য করেন। এর আগে, গতকাল রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ আগস্ট ভাটারা এলাকার একটি বাসার সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় লিনা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই বাসায় ভাড়া থেকে মিডিয়ায় কাজ করতেন তিনি। লিনার সঙ্গে হাসিবুর রহমানের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল।

    এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, সম্পর্কের শুরু থেকেই হাসিবুর তাঁকে বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিলেন। ঘটনার আগের রাতে, অর্থাৎ ১৪ আগস্ট লিনা তাঁর দুই বান্ধবী ইশান ও জান্নাতের সঙ্গে বাসায় ছিলেন। রাত ১১টার দিকে মোবাইল ফোনে লিনা ও হাসিবুরের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এরপর লিনা তাঁর বান্ধবীদের ড্রয়িংরুমে গিয়ে ঘুমাতে বলেন।

    পরে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে হাসিবুর লিনার ফ্ল্যাটে গিয়ে ডাকাডাকি করেন। তাঁর বান্ধবীরা দরজা খুলে দিলে হাসিবুর জানান, লিনা তাঁর ওপর রাগ করে গলায় ফাঁস দিয়েছেন। পরে সবাই ঘরে ঢুকে লিনাকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    এ ঘটনায় লিনার মা মনি বেগম আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে ভাটারা থানায় মামলা করেন।

    তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করেন, হাসিবুর মোবাইল ফোনে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লিনাকে মানসিকভাবে যন্ত্রণা দিতেন এবং তাঁকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেন। এসব নির্যাতন ও প্ররোচনা সহ্য করতে না পেরে লিনা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

    পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হাসিবুর অপরাধ স্বীকার করেছেন এবং ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা জানিয়েছেন। মামলাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

  • ভারত সম্পর্কে কোন দেশের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি কেমন, কী ভাবছেন বাংলাদেশিরা

    ভারত সম্পর্কে কোন দেশের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি কেমন, কী ভাবছেন বাংলাদেশিরা

    বিশ্বের ৩৬টি দেশের গড়ে ৪৫ শতাংশ মানুষের মধ্যে ভারতকে নিয়ে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। ৪১ শতাংশ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ভারতের অনুকূলে নয়। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টার ৩৬টি দেশের প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর জরিপ চালিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।

    এ বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৩ মে পর্যন্ত জরিপটি চালানো হয়। গবেষণাপ্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বেশির ভাগ মানুষের মধ্যে ভারত সম্পর্কে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বেশি। ইউরোপ আর লাতিন আমেরিকার কয়েকটি দেশেও তা বাড়ছে।

    অন্যদিকে আফ্রিকার দেশগুলোর মানুষের মধ্যে মোটাদাগে ভারত সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক। আর প্রতিবেশী দেশগুলোর মানুষের মধ্যে ভারত সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি মিশ্র। যেমন শ্রীলঙ্কার বেশির ভাগ মানুষের মধ্যে ভারত সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। আবার পাকিস্তানের চিত্রটা ঠিক উল্টো। বাংলাদেশের অর্ধেকের বেশি মানুষের ভারত সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক নয়।

    পিউ রিসার্চের জরিপ অনুযায়ী, ভারত সম্পর্কে কোন দেশের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি কেমন, আসুন দেখে নিই

    উত্তর আমেরিকা

    যুক্তরাষ্ট্র থেকে জরিপে অংশ নেওয়া ৫০ শতাংশ মানুষের ভারত সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক নয়। কানাডায় এ হার ৪০ শতাংশ। অন্যদিকে কানাডার ৫১ শতাংশ ও যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫ শতাংশ মানুষের মধ্যে ভারত সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে।

    পিউ রিসার্চ জানিয়েছে, মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে ভারত সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ২০০৮ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। বিশেষ করে ২০২৩ সালের পর থেকে তা দ্রুত কমতির দিকে রয়েছে। ওই বছর ৫১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ভারতের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কথা জানিয়েছিলেন।

    মূলত রিপাবলিকান ও রিপাবলিকান-সমর্থকদের তুলনায় ডেমোক্র্যাট ও ডেমোক্র্যাট-সমর্থক স্বতন্ত্রদের মধ্যে ভারত সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি থাকার সম্ভাবনা বেশি। ৬৫ বছর ও তার বেশি বয়সী মার্কিন নাগরিকেরা ভারতের প্রতি বেশি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন। আর ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে এ হার ৪২ শতাংশ।

    বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ভারতের প্রভাব সম্পর্কে জরিপে অংশ নেওয়া মার্কিন নাগরিকদের জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। অর্ধেকেরও বেশি (৫৪ শতাংশ) বলেছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় তা আগের মতোই আছে। ৩০ শতাংশ বলেছেন, ভারতের বৈশ্বিক প্রভাব জোরদার হয়েছে। আর ১৩ শতাংশের মতে, ভারতের প্রভাব দুর্বল হয়ে পড়ছে।

    ইউরোপ

    ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্যের মানুষের মধ্যে ভারত সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি বেশ ভালো। দেশটি থেকে জরিপে অংশ নেওয়া ৭১ শতাংশ মানুষ ভারত সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন। নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে ২৪ শতাংশের।

    অন্যদিকে জার্মানির ৬৩ শতাংশ, ইতালির ৫৬ শতাংশ, সুইডেনের ৫৫ শতাংশ, ফ্রান্সের ৫০ শতাংশ, নেদারল্যান্ডসের ৪৯ শতাংশ, হাঙ্গেরির ৪০ শতাংশ, গ্রিসের ৩৯ শতাংশ এবং পোল্যান্ড ও স্পেনের ৩৭ শতাংশ মানুষের ভারত সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক।

    আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্য

    ইসরায়েলের সঙ্গে ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বেশ মধুর। দেশটির ৬০ শতাংশ মানুষ ভারত সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন। নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে ২৯ শতাংশের। অধিকৃত পশ্চিম তীর বা পূর্ব জেরুজালেমে অধিবাসীদের মাত্র ১৮ শতাংশের ভারত সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক।

    তুরস্ক থেকে জরিপে অংশ নেওয়া ৭২ শতাংশের ভারত সম্পর্কে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। দেশটির মাত্র ১৫ শতাংশ মানুষ ভারত সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন।

    দক্ষিণ আফ্রিকার ৩৮ শতাংশ ভারত সম্পর্কে ইতিবাচক এবং ৪৬ শতাংশ নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন। অন্যদিকে কেনিয়ার ৭১ শতাংশ, ঘানার ৫০ শতাংশ, নাইজেরিয়ার ৪৭ শতাংশ মানুষের ভারত সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি বেশ ইতিবাচক।

    লাতিন আমেরিকা

    ব্রাজিলের ৩৭ শতাংশ, কলম্বিয়ার ৩৬ শতাংশ, মেক্সিকোর ৩০ শতাংশ, পেরুর ২৯ শতাংশ, চিলির ২৫ শতাংশ ও আর্জেন্টিনার ২৪ শতাংশ মানুষের মধ্যে ভারত সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে।

    এশিয়া–ওশেনিয়া

    জাপান ও থাইল্যান্ড থেকে জরিপে অংশ নেওয়া ৫৫ শতাংশ মানুষের ভারত সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি বেশ ইতিবাচক। সিঙ্গাপুরে এই হার ৫১ শতাংশ। অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়ার ৫০ শতাংশ, ফিলিপাইনের ৪৯ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়ার ৪৪ শতাংশ, অস্ট্রেলিয়ার ৪৪ শতাংশ এবং মালয়েশিয়ার ৪১ শতাংশ মানুষের ভারত সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে।

    প্রতিবেশী দেশগুলো

    ভারত সম্পর্কে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মাত্র তিনটিতে জরিপ করা হয়েছে। এর মধ্যে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে ঐতিহাসিক বৈরিতা রয়েছে। এর প্রভাব দেখা গেছে জরিপেও। জরিপে অংশ নেওয়া মাত্র ৭ শতাংশ পাকিস্তানি বলেছেন, ভারত সম্পর্কে তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক। অন্যদিকে ৯১ শতাংশ পাকিস্তানির ভারত সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি নেতিবাচক।

    শ্রীলঙ্কায় চিত্রটা উল্টো। দেশটির মাত্র ১১ শতাংশ মানুষের ভারত সম্পর্কে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। অন্যদিকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কথা জানিয়েছেন ৭৯ শতাংশ মানুষ। ২০২৪ সালে তা ৬৫ শতাংশ ছিল।

    বাংলাদেশের অর্ধেকের বেশি (৫১ শতাংশ) মানুষের ভারত সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক নয়। আর ৪২ শতাংশ ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কথা জানিয়েছেন। পিউ রিসার্চ জানিয়েছে, এর আগে বাংলাদেশে সর্বশেষ ২০২৪ সালে একটি জরিপ চালানো হয়েছিল। তখনকার তুলনায় ভারতের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির হার ১৫ শতাংশ কমেছে। এমনকি ওই সময় জরিপে অংশ নেওয়া ২৪ শতাংশ মতামত দিতে চাননি। সেটাও এবারের জরিপে মাত্র ৭ শতাংশে নেমে এসেছে।

    মতাদর্শভেদে দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতা

    পিউ রিসার্চ জানিয়েছে, কয়েকটি দেশে রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে জরিপে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মতামতে ভিন্নতা রয়েছে। যেমন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় ডানপন্থীদের তুলনায় বামপন্থী মতাদর্শের মানুষদের ভারত সম্পর্কে বেশি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করতে দেখা গেছে।

    যুক্তরাষ্ট্রে জরিপে অংশ নেওয়া ৫৪ শতাংশ উদারপন্থী ও ৪০ শতাংশ রক্ষণশীল মানুষের ভারত সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। অন্যদিকে কানাডায় জরিপে অংশ নেওয়া ৫৮ শতাংশ বামপন্থী ও ৪৫ শতাংশ ডানপন্থীর ভারত সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক।

    ইসরায়েলে চিত্রটা আবার পুরোপুরি বিপরীত। বামপন্থী ইসরায়েলিদের ৪৬ শতাংশ ভারত সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন। দেশটির ডানপন্থীদের মধ্যে এ হার ৬৮ শতাংশ।

  • বাংলাদেশের আইসিটি ও ফিনটেকে বিনিয়োগে আগ্রহী লিথুয়ানিয়া

    বাংলাদেশের আইসিটি ও ফিনটেকে বিনিয়োগে আগ্রহী লিথুয়ানিয়া

    বাংলাদেশ ও লিথুয়ানিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে তথ্যপ্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা ও ফিনটেক খাতে যৌথ সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের লক্ষে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত লিথুয়ানিয়ার অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত ডায়ানা মিকেভিচিয়েনের এক বৈঠকে এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    রোববার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, বিনিয়োগ সহযোগিতা এবং প্রযুক্তি খাতে অংশীদারিত্বের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।

    বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশ ও লিথুয়ানিয়ার মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্যের পরিমাণ বর্তমানে সীমিত হলেও দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের দ্রুত বিকাশমান আইসিটি খাত, দক্ষ তরুণ জনশক্তি এবং ফ্রিল্যান্সারদের সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে লিথুয়ানিয়ার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো দক্ষিণ এশিয়ার বাজারে তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করতে পারে।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে বিনিয়োগের জন্য একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্য। দেশে বিনিয়োগ প্রত্যাহার ও মুনাফা নিজ দেশে ফেরত নেওয়ার (Repatriation) ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশে স্থিতিশীল ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ রয়েছে।

    লিথুয়ানিয়ার রাষ্ট্রদূত ডায়ানা মিকেভিচিয়েন বলেন, লিথুয়ানিয়া বিশ্বমানের লেজার প্রযুক্তি, গভটেক (GovTech) এবং ফিনটেক সেবায় অন্যতম অগ্রগামী দেশ। বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তর, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং সাইবার নিরাপত্তা শক্তিশালী করতে লিথুয়ানিয়া অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বিনিময়ে আগ্রহী।

    তিনি আরও বলেন, দুই দেশের সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে কার্যকর অংশীদারিত্ব গড়ে উঠলে প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।

    বৈঠকে বাংলাদেশ ও লিথুয়ানিয়ার মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, ব্যবসায়ী পর্যায়ে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিনির্ভর খাতে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

  • ‘তোমরা আমাদের অবাক করে দিয়েছ’, মিরাজকে গিলক্রিস্ট

    ‘তোমরা আমাদের অবাক করে দিয়েছ’, মিরাজকে গিলক্রিস্ট

    ঐতিহাসিক জয়ের পর অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটারদের কাছ থেকে প্রশংসা পাচ্ছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে কিংবদন্তি অ্যাডাম গিলক্রিস্টের প্রশংসা আলাদাভাবে উল্লেখ করেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

    মিরাজ বলেন, ‘যেটা আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে, এখানে সব কিংবদন্তি খেলোয়াড়কে দেখেছি। আজ আমি পাঁচ উইকেট নেওয়ার পর অ্যাডাম গিলক্রিস্ট আমার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন, বিষয়টি আমার খুব ভালো লেগেছে।’

    গিলক্রিস্ট বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে বিস্ময় প্রকাশ করে প্রশংসা করেছেন বলেও জানান মিরাজ। ‘তিনি আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং বলেছেন, বাংলাদেশ খুব ভালো ক্রিকেট খেলেছে।’

    গিলক্রিস্ট বলেন, ‘তোমরা আমাদের অবাক করে দিয়েছ। আমরা কখনো ভাবিনি তোমরা এভাবে ক্রিকেট খেলতে পারো।’

    মিরাজের মত গিলক্রিস্টের এমন মন্তব্য বাংলাদেশের জন্য বিশেষ। ‘এমন একজন কিংবদন্তি যখন আমাদের দল সম্পর্কে এত ভালো কথা বলেন, তখন নিজের কাছেও খুব ভালো লাগে।’

  • বিএনপিতে যোগ দিলেন আ.লীগ সমর্থিত ১১ ইউপি সদস্য

    বিএনপিতে যোগ দিলেন আ.লীগ সমর্থিত ১১ ইউপি সদস্য

    কুমিল্লার তিতাস উপজেলার ৮ নম্বর জিয়ারকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের আওয়ামী লীগ সমর্থিত ১১ ইউপি সদস্য বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন।

    শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় হোমনায় কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়ার বাসভবনে গিয়ে তার হাতে ধানের শীষ তুলে দিয়ে তারা বিএনপিতে যোগ দেন। যোগদানকারীরা সবাই নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।

    যোগদানকারীরা হলেন—১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য বিল্লাল মোল্লা, ২ নম্বর ওয়ার্ডের হারুনুর রশিদ, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মো. আমীর হোসেন গাজী, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আশরাফ উদ্দিন, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের খুরশিদ আলম, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শাহ আলী, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মো. জাবেদ হোসেন, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মুনসুর আলী, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হান্নান মিয়া এবং সংরক্ষিত ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রিপা বেগম ও ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রোজিনা আক্তার।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন তিতাস উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ওসমান গনি ভূঁইয়া, তিতাস উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান সেলিম ভূঁইয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিম মোল্লা এবং তিতাস উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম।

    যোগদানের পর বিএনপিতে সদ্য যোগ দেওয়া মো. বিল্লাল মোল্লা তার ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, দূর থেকে আমরা অনেকেই অনেক সময় নেতিবাচক চিন্তাভাবনা করি। সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া সত্যিই ভালো মনের মানুষ। তাই আজ জিয়ারকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের সব সদস্য (মেম্বার) সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে বিএনপির রাজনীতিতে যোগদান করলাম।

  • বাংলাদেশের সৌরবিদ্যুৎ খাতে ২০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে ম্যাক্স

    বাংলাদেশের সৌরবিদ্যুৎ খাতে ২০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে ম্যাক্স

    বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ খাতের ব্যাপক সম্ভাবনা ও উন্নয়নকে সামনে রেখে বড় বিনিয়োগ করবে ম্যাক্স গ্রুপ।

    বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ঢাকার একটি অভিজাত হোটেলে চীনভিত্তিক সৌর ফটোতিল্টাইক প্রতিষ্ঠান অ্যাস্ট্রোনার্জি আয়োজিত ‘অ্যাস্ট্রোনার্জি ও ওয়ার্ল্ড ফিউচার ২০২৬–বাংলাদেশ রোডশো’ অনুষ্ঠানে ম্যাক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোহাম্মদ আলমগীর এ ঘোষণা দেন।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার বর্তমানে সৌরবিদ্যুতের বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে চিন্তাভাবনা করছে। দেশজুড়ে সোলার ছাদ এবং সোলার সেচের মতো পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে সরকারি পর্যায়ে জোর আলোচনা চলছে। এ ধারাবাহিকতায় আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশে ১০,০০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। সৌরবিদ্যুতের এই বিশাল বাজারে অংশীদার হিসেবে যুক্ত হতে ২০ কোটি টাকার সরঞ্জাম অর্ডার করেছে ম্যাক্স গ্রুপ, যা খুব শীঘ্রই দেশে এসে পৌঁছাবে।

    তিনি আরো বলেন, ম্যাক্স গ্রুপ এবং আন্তর্জাতিক সোলার খাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘ব্লু কার্বন’ যৌথভাবে এ বিষয়ে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটা বাংলাদেশের সোলার মার্কেটে ‘ম্যাক্স ব্লু কার্বন’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে। পাওয়ার সেক্টরে ম্যাক্স গ্রুপের দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। বর্তমানে আমাদের একটি ১৬৫ মেগাওয়াটের গ্যাস-ভিত্তিক কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্ল্যান্ট চালু রয়েছে এবং আমরা ইপিসি ঠিকাদার হিসেবেও কাজ করছি। এছাড়া ম্যাক্সের নিজস্ব ফ্যাক্টরিতে কোনো স্টোরেজ বা ব্যাটারি ছাড়াই সফলভাবে প্রায় ২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার সোলার সিস্টেম স্থাপনের অভিজ্ঞতা রয়েছে বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান।

    চীনা প্রযুক্তি ও গুণগত মান প্রসঙ্গে ম্যাক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান বলেন, ভালো মানের চীনা পণ্য কিনলে ক্রেতার অভিজ্ঞতা কখনোই খারাপ হয় না। রেলওয়ে ও সড়কপথের বড় বড় ইপিসি চুক্তি ও অন্যান্য ব্যবসায়িক খাতে চীনা অংশীদারদের সাথে কাজ করার দীর্ঘ ও ইতিবাচক অভিজ্ঞতা রয়েছে। ভালো চীনা কোম্পানি নির্বাচন করা হলে কাজের মান সবসময়ই চমৎকার হয়। সৌরবিদ্যুৎ খাতে যারা কাজ করতে আগ্রহী, তাদের তিনি অ্যাস্ট্রোনার্জি এবং ভবিষ্যতে বাজারে আসতে যাওয়া ‘ম্যাক্স ব্লু কার্বন’-এর ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানান।

    অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত ম্যাক্স গ্রুপের চেয়ারম্যানসহ বাংলাদেশের শিল্প ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ উপস্থিতিতে অ্যাস্ট্রোনার্জির নতুন সোলার মডিউল ‘এন৭ প্রো’ উন্মোচন করা হয়।

    এছাড়া অ্যাস্ট্রোনার্জির এই অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য সেরা পরিবেশক, কৌশলগত অংশীদার এবং সেরা সৌর প্রকল্প বিভাগগুলোতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও প্রতিনিধিদের সম্মাননা প্রদান এবং বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনাকে আরও দৃঢ় করতে একটি কৌশলগত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

  • ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ে টাইগারদের প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

    ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ে টাইগারদের প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

    অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাদেরই মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট ম্যাচ জয়ের ঐতিহাসিক সাফল্যে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    আজ রোববার ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্টে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে স্মরণীয় এই জয় তুলে নেয় টাইগাররা। দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমেই এই সাফল্য অর্জন করল বাংলাদেশ।

    টাইগার দল যখন এই ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করে, তখন কিশোরগঞ্জের পথে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেন এবং ঐতিহাসিক জয়ের জন্য তাদের অভিনন্দন জানান।এ সময় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের মানুষের পক্ষ থেকেও দলের খেলোয়াড়দের শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন।

    তারেক রহমান বলেন, অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে তাদের মাটিতে বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক জয় দেশের ক্রিকেটের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। দলের খেলোয়াড়দের দৃঢ় মনোবল, আত্মবিশ্বাস, দক্ষতা ও দলগত প্রচেষ্টার ফলেই এই অসাধারণ সাফল্য অর্জিত হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, পরের টেস্টেও বাংলাদেশ ভালো খেলবে এবং সিরিজ জয়ের এই সম্ভাবনাকে সাফল্যে রূপ দেবে।

    উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৭ সালে মিরপুরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একটি টেস্ট ম্যাচে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। এবার টেস্ট র‍্যাংকিংয়ের এক নম্বর দল অস্ট্রেলিয়াকে তাদেরই মাটিতে হারিয়ে নতুন ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ।

  • অস্ট্রেলিয়ায় দ্রুততম টেস্ট জয়ী দ্বিতীয় দল এখন বাংলাদেশ

    অস্ট্রেলিয়ায় দ্রুততম টেস্ট জয়ী দ্বিতীয় দল এখন বাংলাদেশ

    অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জিতে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন দলটি ডারউইনের মারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে চলমান দুই ম্যাচের সিরিজের প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে।

    প্রথম ইনিংসে ২২৮ রানের বিশাল লিড নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে ২৮৪ রানে গুটিয়ে দেয় বাংলাদেশ। ফলে জয়ের জন্য মাত্র ৫৭ রানের লক্ষ্য পায় সফরকারীরা। প্রথম ইনিংসে শতক করা তানজিদ হাসান তামিম মাত্র পাঁচ বল খেলে শূন্য রানে ফিরে গেলেও কোনো বিপদ হয়নি। মাত্র ১৪ দশমিক ২ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।

    এই ঐতিহাসিক জয়ের ফলে গত ৩০ বছরে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জেতা এশিয়ার মাত্র দ্বিতীয় দল হলো বাংলাদেশ। এর আগে এই সময়ে কেবল ভারতই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জিতেছিল। পাকিস্তানের সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়া জয় এসেছিল ১৯৯৫ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরে।

    অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট জিততে পাকিস্তানকে সপ্তম প্রচেষ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল। ভারতকে অপেক্ষা করতে হয়েছিল নিজেদের ১২তম টেস্ট পর্যন্ত। সেখানে বাংলাদেশ মাত্র তৃতীয় টেস্টেই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে জয়ের কীর্তি গড়েছে।

    অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট জিততে বাংলাদেশের চেয়ে কম ম্যাচ লেগেছে কেবল ইংল্যান্ডের।

    ডারউইনে রোববারের স্মরণীয় জয়ের আগে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে মাত্র দুটি টেস্ট খেলেছিল বাংলাদেশ। দুটি ম্যাচই হয়েছিল ২০০৩ সালের জুলাইয়ে। দুটিতেই ইনিংস ব্যবধানে জয় পেয়েছিল অস্ট্রেলিয়া।

    অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট জিততে যে কয়টি ম্যাচ লেগেছে…

    ইংল্যান্ড — ২ ম্যাচ, ১৮৭৭ সালে ৪ উইকেটে জয়

    বাংলাদেশ — ৩ ম্যাচ, ২০২৬ সালে ৯ উইকেটে জয়

    দক্ষিণ আফ্রিকা — ৩ ম্যাচ, ১৯১১ সালে ৩৮ রানে জয়

    ওয়েস্ট ইন্ডিজ — ৫ ম্যাচ, ১৯৩১ সালে ৩০ রানে জয়

    পাকিস্তান — ৭ ম্যাচ, ১৯৭৭ সালে ৮ উইকেটে জয়

    নিউজিল্যান্ড — ৭ ম্যাচ, ১৯৮৫ সালে ইনিংস ও ৪১ রানে জয়

    ভারত — ১২ ম্যাচ, ১৯৭৭-৭৮ সালে ২২২ রানে জয়

    শ্রীলঙ্কা — এখনো জিততে পারেনি

    জিম্বাবুয়ে — এখনো জিততে পারেনি

    বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ে বড় অবদান রেখেছেন পেসার হাসান মাহমুদ। প্রথম ইনিংসে তিনি ৬ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি দ্বিতীয় ইনিংসেও অস্ট্রেলিয়ার তিন ব্যাটারকে সাজঘরে ফেরান।

    অন্যদিকে দ্বিতীয় ইনিংসে স্পিন অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ ৬৬ রানে ৫ উইকেট নিয়ে দুর্দান্ত বোলিং করেন।

    তবে পাঁচ উইকেট নেওয়ার আগে ব্যাট হাতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন মেহেদী। সাত নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ১৫৪ বলে ৬৫ রান করেন তিনি। এর আগে তানজিদ হাসান তামিম ১৯৭ বলে ১০১ এবং অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ১২৬ বলে ৮৪ রান করেন।

  • রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে ৭০ অনুচ্ছেদের প্রশ্নটা অবান্তর: গয়েশ্বর

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে ৭০ অনুচ্ছেদের প্রশ্নটা অবান্তর: গয়েশ্বর

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা ৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে সংবিধানের ৭০ নং অনুচ্ছেদ নিয়ে প্রশ্ন তোলাটা অবান্তর।

    রোববার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কনফারেন্স রুমে নির্বাচনি কর্তা ও সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিন যাচাই-বাছাই শেষে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন। এরপর সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

    গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আগামী ২০ আগস্ট। এ মাসের ১৩ তারিখে আমরা বিএনপির পক্ষ থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি এবং আজকে বাছাই পর্ব ছিল। আমাদের পক্ষ থেকে প্রার্থী ঘোষণা করেছিলাম আমাদের দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে। এর প্রস্তাবক ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান। সমর্থনকারী হিসেবে ছিলাম আমি।

    তিনি বলেন, আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, আমাদের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে বৈধ ঘোষিত হয়েছেন। এখন আমরা অপেক্ষায় থাকবো, ২০ তারিখের নির্বাচনের জন্য।

    জামায়াতের প্রতিনিধি, অর্থাৎ ১১ দলের প্রতিনিধিরা বলছেন, ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন হওয়া দরকার। এ বিষয়ে সংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গয়েশ্বর বলেন, ‘সেটা পরের চ্যাপ্টার। পরবর্তী সংসদ যদি বিবেচনা করে সবাই মিলে, এটা হতে পারে। এখন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগেই প্রশ্নটা অবান্তর। একটা কনফিউশন সৃষ্টি করে লাভ নেই।’

    ‘১১ দলীয় জোট বলছে এটা বড় অন্তরায়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এটা বড় বাধা’ এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘না, বড় বাধা না। প্রচলিত সংবিধান অনুযায়ী, আমাকে পথ চলতে হবে। সেই সংবিধানে যেখানে বাধা আছে, সেই বাধা অতিক্রম করার জন্য আমাকে সংসদ থেকেই সংশোধন করতে হবে।’

    এ সময় দলের মহাসচিব নিয়ে কি কোনো চিন্তাভাবনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দলের মহাসচিব তো নির্বাচন কমিশনের চিন্তাভাবনা না। ওটা আমাদের গুলশান অফিসে আমাদের স্থায়ী কমিটির চিন্তা।’

    এ সময় বিএনপির প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু।

  • শেখ হাসিনা ক্ষমতায় টিকে থাকতে দিল্লিকে সব উজাড় করে দিয়েছিলেন: রিজভী

    শেখ হাসিনা ক্ষমতায় টিকে থাকতে দিল্লিকে সব উজাড় করে দিয়েছিলেন: রিজভী

    সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় চিরদিন টিকে থাকার জন্য পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের দিল্লির কাছে সবকিছু উজাড় করে দিয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

    তিনি বলেছেন, তারা দেশের সার্বভৌমত্বকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছে। শুধু ক্ষমতায় টিকে থাকতেই তিনি এত রক্ত ঝরিয়েছেন, কাউকে পাত্তা না দিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করেছেন।

    রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪’-এর ২য় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘জুলাইয়ের চেতনা ও আগামী বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন রিজভী।

    তিনি আরও বলেন, দুঃশাসনের নানা চিত্র ছিল—রিমান্ড, গুম, খুন এমন কোনো অপরাধ নেই যা শেখ হাসিনা করেননি। ফ্যাসিস্ট হিসেবে শেখ হাসিনার সঙ্গে পৃথিবীর অন্য কোনো ফ্যাসিস্টের মিল নেই। হিটলারসহ বিশ্বের অন্য ফ্যাসিস্টদের মধ্যে কিছুটা হলেও দেশপ্রেম ছিল; তারা চেয়েছিল তাদের দেশকে বিশ্বের সেরা হিসেবে প্রমাণ করতে। কিন্তু শেখ হাসিনা চেয়েছেন দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিক্রি করে হলেও ক্ষমতায় টিকে থাকতে। এ জন্যই তিনি জনগণের ওপর সব ধরনের অত্যাচার চালিয়েছেন।

    শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়ে রিজভী বলেন, ফেরারি পাখিরা কখনও ফেরে না, শেখ হাসিনাও আর ফিরতে পারবেন না। তবে তিনি ফিরতে পারতেন, যদি তাকে জোর করে দেশ থেকে বের করা হতো। লেনিন ফিরেছিলেন, ইমাম খোমেনি ফিরেছিলেন; কারণ তারা দেশের টাকা পাচার করেননি, প্লট নেননি, ব্যাংকের টাকা মেরে খাননি। এ জন্যই তারা ফিরতে পেরেছিলেন। তবে আমাদের মধ্যে ঐক্য না থাকলে ফ্যাসিবাদ অন্য কোনো রূপে ফিরে আসার চেষ্টা করতে পারে।

    আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, জুলাইয়ের শহীদদের স্মৃতির প্রতি যথাযথ সম্মান জানাতে হলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যাকে বৈশ্বিক মানদণ্ডে এগিয়ে নিতে হবে। সে লক্ষ্যেই আমরা ‘কোয়ালিটি এডুকেশন’, ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’, ভাষা শিক্ষা এবং দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-সহ আধুনিক সব প্রযুক্তি কীভাবে শিক্ষাব্যবস্থায় যুক্ত করা যায়, সে বিষয়েও আমরা কাজ করছি।

    জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান এবং ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হোসাইন।

    অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক সমন্বয় দপ্তরের পরিচালক মো. আমিনুল আকতার ও ভারপ্রাপ্ত কলেজ পরিদর্শক নাজিম উদ্দীন আহমেদ।

  • অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী; গ্যাস-বিদ্যুতের ভোগান্তি আরও দুই বছর পোহাতে হবে

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী; গ্যাস-বিদ্যুতের ভোগান্তি আরও দুই বছর পোহাতে হবে

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন,বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট অতীত থেকে পাওয়া। এ সমস্যা ছয় মাস কিংবা এক বছরের মধ্যে সমাধান করা সম্ভব নয়। দুই বছর সময় লাগবে। তবে গ্যাস ও বিদ্যুতের সমস্যার সমাধানে সরকার কোনো সময় নষ্ট করছে না।

    রোববার দুপুরে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে অ্যামচেম আয়োজিত এক সেমিনারে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস ছাড়া দেশের অর্থনীতি এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। সংকট নিরসনে সরকার কাজ করছে।

    সংকট নিরসনে নিরলসভাবে কাজ করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতের জ্বালানি ব্যবস্থায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গ্যাস ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের সমন্বয়ে একটি এনার্জি মিক্স তৈরি করা হচ্ছে।

    অর্থমন্ত্রী বলেন, কর ব্যবস্থায় লাল ফিতার দৌরাত্ম্য, দুর্নীতি ও হয়রানি কমিয়ে ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করতে কাজ করছে সরকার। এ সময় দেশের পুঁজিবাজারও আগের চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

  • ধর্ম মন্ত্রণালয়ে ভিন্ন মতাদর্শের প্রতিমন্ত্রী দেখতে চাই না

    ধর্ম মন্ত্রণালয়ে ভিন্ন মতাদর্শের প্রতিমন্ত্রী দেখতে চাই না

    ধর্ম মন্ত্রণালয়ে ভিন্ন মতাদর্শের কাউকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের মহাপরিচালক মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী।

    মন্ত্রিসভায় নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ, রদবদল কিংবা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ধর্ম মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী নিয়োগের বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দেশের আলেম-উলামা, পীর-মাশায়েখ ও ধর্মপ্রাণ মানুষের অনুভূতির বিষয়টি বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।সম্প্রতি নিজের এক লেখায় মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী বলেন, ধর্ম মন্ত্রণালয়ে একজন প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হতে পারে বলে একটি সূত্রে জানা গেছে। তার দাবি, দেশের বিপুলসংখ্যক মুসলমানের কাছে বিচ্ছিন্ন হিসেবে বিবেচিত কোনো মতাদর্শের ব্যক্তিকে এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব না দেওয়াই ভালো।

    তিনি লেখেন, বাংলাদেশের অধিকাংশ মুসলমান হানাফি মাজহাবের অনুসরণ করে থাকেন। তার ভাষ্য, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের সাধারণ মুসলমানরা কোরআন-সুন্নাহ পালনের ক্ষেত্রে চার মাজহাবের যেকোনো একটির অনুসরণ করেন। শরিয়ার বিভিন্ন ব্যাখ্যাসাপেক্ষ বিষয়ে অনুসরণীয় আলেমদের মত অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগকেও তিনি ইসলামের সৌন্দর্য হিসেবে উল্লেখ করেন।

    ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের ক্ষেত্রে প্রচলিত ধর্মীয় জীবনাচারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়ার পক্ষে মত দেন তিনি। এ ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে একজন হানাফি মাজহাব অনুসারী ব্যক্তিকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে বলেও মত দেন মাওলানা নদভী।

    তিনি সতর্ক করে বলেন, ধর্মীয়ভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল এই বিষয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে দেশের মুসলমানদের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে। এতে সরকারের প্রতি ভুল বোঝাবুঝির পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

  • মহেশপুর স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঝটিকা সফর

    মহেশপুর স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঝটিকা সফর

    মনিরুজ্জামান মহেশপুর (ঝিনাইদহ)

    ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন ঝটিকা সফর করেছেন। ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন এবং হাসপাতালের জনবল সংকট,তাৎক্ষণিক ভাবে সমাধানের নির্দেশ প্রদান দান করেন।

    রবিবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন হঠাৎ ঝটিকা পরিদর্শনে আসেন। এ সময় তিনি রোগীদের ওয়ার্ডে যান এবং রোগীদের সাথে কথা বলেন। পরে ঔষধের স্টোর,স্টোক রেজিষ্টার, অপারেশন থিয়েটার এবং অফিসের বিভিন্ন রুম ঘুরে ঘুরে দেখেন । স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বর্তমান ম্যানেজম্যান্ট ও পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। হাসপাতালের অফিস রুমে ডাক্তার ও কর্মচারিদের সাথে মতবিনিময় করেন।

    উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ নেলেনা আক্তার নিপা স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে জানান হাসপাতালে ডাক্তার,নার্স ও পরিচ্ছন্ন কর্মী সংকট। তিনি তাৎক্ষণিক ভাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমডিকে ফোন করে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে আউটসোর্সিংয়ে কর্মরত লোকজনের কাছে জনৈক ঠিকাদার ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করায় তাৎক্ষণিক টাকা না দেওয়ার নির্দেশ দেন ও ঠিকাদার মনিরুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া আশ্বাস দেন।

    এছাড়া সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে আউটসোর্সিংয়ে যারা এখনো বেতন পায়নি তাদের বেতন দেওয়ার ব্যবস্থা ও হাসপাতালের সমস্যা গুলো দ্রুত সমাধান করা হবে বলে আশ্বাস দেন। মহেশপুরের ভৈরবা হাসপাতালটি বন্ধ থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারের নানা প্রকার পরিকল্পনা রয়েছে। তাতে প্রতিটা ইউনিয়নের একটি করে হেলথ সেন্টার চালু করা হবে।

    এছাড়া তিনি আরো বলেন সারাদেশে ২ থেকে আড়াই হাজার বেডের ১০/১২ টি বিশেষায়িত হাসপাতাল করা হবে। যার মধ্যে ২ টি থাকবে মহিলাদের জন্য। আকস্মিক পরিদর্শন কেনা করা হচ্ছে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, অনেক হাসপাতালে ডাক্তার অনুপস্থিত থাকেন, সরকারি ঔষধ থাকা সত্ত্বেও রোগীদের বাইরে থেকে ঔষধ কিনতে হয়। হাসপাতালের পরিবেশ নোংরা থাকে। এসকল রোধ করার জনই এই আকস্মিক পরিদর্শন করা হচ্ছে।

  • যেকোনো সময় পে-স্কেল ঘোষণা; প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব

    যেকোনো সময় পে-স্কেল ঘোষণা; প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব

    নতুন পে-স্কেল চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে এবং যেকোনো সময় ঘোষিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার।

    রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।

    প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব বলেন, ‘গত ১১ বছর পে-স্কেল না হওয়ায় ১৮ লক্ষ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী মুদ্রাস্ফীতির চাপে আছেন। জনগণের জন্য কষ্টকর হলেও সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনযাত্রার সমন্বয় করতে হবে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ অর্থনীতি। সংকট সমাধানে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে সরকার।’

    মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং পূর্ববর্তী সরকারের বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বর্তমান গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব।

    প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব বলেন, ‘রাশিয়া, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া ও চীন থেকে বহুমুখী সাপ্লাই চেইন তৈরির চেষ্টা করছে সরকার।’

  • ওসমান হাদীর খুনিদের ফেরতের বিষয়ে কঠোর অবস্থানে ঢাকা

    ওসমান হাদীর খুনিদের ফেরতের বিষয়ে কঠোর অবস্থানে ঢাকা

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফরের সম্ভাবনা আপাতত বাতিল করেছে ঢাকা। রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে বলেছে, ‘এই সফরের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন।’

    দিল্লি সফরের অনুকূল পরিবেশ তৈরির জন্য যে দুটি শর্ত দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে—শেখ হাসিনা এবং অন্যান্য পলাতক অপরাধীদের দ্রুত ফেরত পাঠানো এবং শহীদ শরীফ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ঘাতকদের বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনা এবং অন্যান্য পলাতক অপরাধীদের দ্রুত ফেরত পাঠাতে এবং শহীদ শরীফ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ঘাতকদের বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানিয়েছি। বাংলাদেশ এই জবাবের অপেক্ষায় আছে।’

    ‘বাংলাদেশ প্রথম’ নীতিতে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এ সময় সরকারের পক্ষ থেকে পুনর্ব্যক্ত করা হয়, সার্বভৌম সমতা, জাতীয় মর্যাদা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে প্রতিবেশীসহ অন্যান্য সকল দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে আমরা আমাদের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ (বাংলাদেশ প্রথম) নীতি অব্যাহত রাখব।’

    হাদী হত্যা মামলার আসামিদের ফেরত চেয়ে বাংলাদেশ এরইমধ্যে প্রয়োজনীয় আইনি নথিপত্র ভারতের কাছে পাঠিয়েছে। গত জুলাইয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছিলেন, হাদী হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদসহ তিন সন্দেহভাজনের প্রত্যর্পণের জন্য প্রয়োজনীয় নথি ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া হয়েছে। তারা ভারতে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন। বাংলাদেশ-ভারত প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী প্রয়োজন হলে বিচার চলমান অবস্থাতেও তাদের বাংলাদেশে হস্তান্তরের সুযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি।এর আগে হাদী হত্যা মামলার প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীরকে ভারতে গ্রেপ্তার করা হয়। বাংলাদেশ তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে মামলার বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে নিতে চায়।

  • তারেক রহমানের দিল্লি সফর বাতিল করল ঢাকা

    তারেক রহমানের দিল্লি সফর বাতিল করল ঢাকা

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফরের সম্ভাবনা আপাতত বাতিল হয়ে গেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে বলেছে, ‘এই সফরের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন।’

    ঢাকায় রোববার দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম।

    এর আগে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো আভাস দিয়েছিল, আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি দুই দিনের সফরে ভারত যেতে পারেন তারেক রহমান।

    মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম বলেছেন, ‘দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনা এবং অন্যান্য পলাতক অপরাধীদের দ্রুত ফেরত পাঠাতে এবং শহীদ শরীফ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ঘাতকদের বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানিয়েছি। বাংলাদেশ এই জবাবের অপেক্ষায় আছে।’

    প্রসঙ্গত, তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসা ভারতীয় লোকসভার স্পিকার দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে তারেক রহমানকে ভারত সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।

    এছাড়া ভারতের দিক থেকে আরও একটি আমন্ত্রণ ছিল। সেটি হলো, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লিতে ব্রিকসের যে সম্মেলন হবে, সেখানে বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাতের পর এসব আমন্ত্রণের কথা জানিয়ে বলেছিলেন, তারা তখনো এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেননি।

    কিন্তু এর মধ্যেই দুই দেশের সংবাদমাধ্যমে কর্তৃপক্ষের সূত্রকে উদ্ধৃত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহে দিল্লি সফরে যেতে পারেন বলে খবর বেরিয়েছিল।

    রোববার দুপুরে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম এক সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন।

    তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে ‘উভয় দেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে পরস্পরের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করছে।’

    ‘তবে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা গত ৫ আগস্ট নতুন দিল্লিতে যেভাবে প্রকাশ্য সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেছেন, তাতে এই প্রক্রিয়ার পরিবেশ বিনষ্ট হয়েছে। আমরা এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছি। আমরা মনে করি, এই সফরের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন।’

    শহীদুল করিম বলেন, ‘দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনা এবং অন্যান্য পলাতক অপরাধীদের দ্রুত ফেরত পাঠাতে এবং শহীদ শরীফ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ঘাতকদের বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানিয়েছি। বাংলাদেশ এই জবাবের অপেক্ষায় আছে।’

    ‘এ সময় সরকারের পক্ষ থেকে পুনর্ব্যক্ত করা হয়, সার্বভৌম সমতা, জাতীয় মর্যাদা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে প্রতিবেশীসহ অন্যান্য সকল দেশের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে আমরা আমাদের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ (বাংলাদেশ প্রথম) নীতি অব্যাহত রাখব।’

  • নারীদের অনার্স পর্যন্ত শিক্ষা ফ্রি করে দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

    নারীদের অনার্স পর্যন্ত শিক্ষা ফ্রি করে দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

    শিক্ষা ডেস্ক:

    নারীদের শিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত করতে সরকার অনার্স পর্যন্ত তাদের শিক্ষা বিনামূল্যে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, সব খরচ সরকার বহন করবে। একই সঙ্গে ভালো ফল করা নারী শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থাও করা হবে।

    রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়িঘাট এলাকায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত, স্থানীয় জেলেদের মধ্যে মাছের পোনা বিতরণ ও স্থানীয় মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, তখন নারীদের শিক্ষা ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত ফ্রি করে দিয়েছিলেন। দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। এই নারী সমাজকে যদি আমরা পিছিয়ে রাখি, তাহলে দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। সে কারণেই বর্তমান সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, নারীদের অনার্স পর্যন্ত শিক্ষা ফ্রি করে দেওয়া হবে। সব খরচ বহন করবে সরকার।

    তিনি বলেন, এখানে অনেক বোন ও সন্তানতুল্য মেয়েরা আছে। তোমাদের ভালোভাবে মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করতে হবে, যাতে বড় হয়ে তোমরা এই দেশের হাল ধরতে পারো। শুধু তাই নয়, যেসব মেয়েরা ভালো ফলাফল করবে, তাদের জন্য সরকার থেকে উপবৃত্তিরও ব্যবস্থা করা হবে।

    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, গ্রামগঞ্জে ছড়িয়ে থাকা হাজার হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গরিব পরিবারের শিশুদের আমরা সরকারের পক্ষ থেকে বছরে একবার স্কুল ড্রেস দিতে চাই। শুধু স্কুল ড্রেস নয়, প্রায় এক কোটি ২০ লাখ শিশুর হাতে স্কুল ব্যাগও পৌঁছে দিতে চাই। প্রতিবছর নতুন বই দেওয়ার পাশাপাশি তাদের নতুন স্কুল ব্যাগ ও স্কুল ড্রেসও আমরা ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে চাই।

    নারীদের স্বাবলম্বী করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের নারী সমাজকে যেমন শিক্ষায় সামনে এগিয়ে নিতে চাই, একইভাবে তাদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে চাই। নির্বাচনের আগে আমরা বলেছিলাম, বাংলাদেশের চার কোটি পরিবারের মধ্যে যে নারী পরিবারের প্রধান ও সংসার পরিচালনা করেন, পর্যায়ক্রমে তার হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। আল্লাহর রহমতে ফ্যামিলি কার্ডের কাজও শুরু হয়েছে।’

    প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছেন, আগামী পাঁচ বছরে পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি ঘরে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।

  • অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেষ্ট জয়

    অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেষ্ট জয়

    ২৩ বছরের পুরোনো গল্পটা এবার বদলে দিল বাংলাদেশ। যে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এতদিন জয় বা ড্র ছিল অধরা, সেই অস্ট্রেলিয়াকেই ডারউইনে হারিয়ে ইতিহাস লিখল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এটাই বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়। শুধু একটি ম্যাচের জয় নয়, বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। পুরো ক্রিকেট বিশ্বের জন্য বাংলাদেশের পরিস্কার এবং শক্তিশালী একটা বার্তা।

    ম্যাচের তৃতীয় দিনেই জয়ের ভিতটা শক্ত করে ফেলেছিল বাংলাদেশ। চতুর্থ দিন লাঞ্চের পর শুধু শেষ পেরেকটা ঠোকার অপেক্ষা। শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়াকে দ্বিতীয় ইনিংসে ২৮৪ রানে অলআউট করে জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে দাঁড়ায় মাত্র ৫৭ রানের লক্ষ্য। ছোট্ট সেই পথ পেরোতে অবশ্য শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান তানজিদ হাসান তামিম ফিরেছেন শূন্য রানে।

    তাতে অবশ্য জয়ের পথে কোনো বাধা তৈরি হয়নি। সাদমান ইসলামকে পাশে নিয়ে মুমিনুল হক ঠান্ডা মাথায় বাকি কাজটা শেষ করেন। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ ৯ উইকেটে। মুমিনুলের ব্যাটে জয়সূচক রান আসার সঙ্গে সঙ্গে ডাগআউট পুরো বাংলাদেশ দল আনন্দ উদযাপনে আত্মহারা। মারারা স্টেডিয়ামের গ্যালারির এক কোণে প্রবাসীরা তখন গলা ফাটাচ্ছেন বাংলাদেশ বাংলাদেশ ধ্বনিতে।

    এই জয়ের নায়ক বাংলাদেশের বোলাররা। দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ৬৬ রানে ৫ উইকেট নিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, চতুর্থ ইনিংসে চাপের মুখে স্পিন কতটা ভয়ংকর হতে পারে। হাসান মাহমুদ নিয়েছেন ৩ উইকেট। পুরো ম্যাচে তার শিকার ৯ উইকেট। দুই ইনিংসেই অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের পরীক্ষা নিয়েছেন বাংলাদেশের বোলাররা।

    অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যামেরন গ্রিনের সেঞ্চুরি তাদের ইনিংস পরাজয়ের লজ্জা থেকে বাঁচিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো বড় পুঁজি এনে দিতে পারেনি। ২৮৪ রানেই থেমে যায় অস্ট্রেলিয়ার লড়াই।

    সিরিজ শুরুর আগে অস্ট্রেলিয়াই ছিল পরিষ্কার ফেভারিট। টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর দল তারা। বাংলাদেশ সেখানে নয় নম্বরে। র‌্যাঙ্কিংয়ের সেই বিশাল ব্যবধানকে মাঠে মুছে দিল শান্তর দল। ডারউইনের চারদিনে বারবার মনে হয়েছে, র‌্যাঙ্কিং নয়, ক্রিকেটটা খেলছে বাংলাদেশই।

    প্রথম দিন প্রথম বল থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখেছিল বাংলাদেশ। ব্যাটে, বলে, ফিল্ডিংয়ে অস্ট্রেলিয়াকে এক মুহূর্তের জন্যও স্বস্তি দেয়নি তারা। অথচ সিরিজ শুরুর আগে শান্ত বলেছিলেন, ম্যাচটাকে পঞ্চম ও শেষ দিন পর্যন্ত নিয়ে যেতে চান। বাস্তবতা ছিল একেবারেই ভিন্ন। অস্ট্রেলিয়াই পঞ্চম দিনে যেতে পারল না!

    ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটে ফিরেছিল বাংলাদেশ। সেই ফেরা যে ইতিহাস হয়ে যাবে, হয়তো কেউ ভাবেনি। কিন্তু ডারউইনে বাংলাদেশ শুধু একটি টেস্ট জেতেনি। তারা বদলে দিয়েছে নিজেদের গল্পও।

    এবার সেই গল্পে লেখা থাকবে, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেও বাংলাদেশ পারে।

    দুই ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশ এখন এগিয়ে ১-০ ব্যবধানে। সামনে আরও একটি টেস্ট। ইতিহাসের দরজা একবার খুলেছে। এবার সেটি আরও বড় করে খোলার পালা।

    সংক্ষিপ্ত স্কোর

    অস্ট্রেলিয়া: ১৯৮ ও ২৮৪ (গ্রিন ১০৪, স্মিথ ৪৪, লাবুশেন ৩১, ক্যারি ৩০, স্টার্ক ১৮, লায়ন ১৫; মিরাজ ৫/৬৬, হাসান ৩/৫৬, তাসকিন ১/৬৬, তাইজুল ১/৫১, ইবাদত ০/৩৮)

    বাংলাদেশ: ৪২৬ ও ১/৫৭ (মুমিনুল ৩০, সাদমান ২৫, তানজিদ ০; হ্যাজলউড ১/৫, স্টার্ক ০/১৫, লায়ন ০/২৩)।

    ফল: বাংলাদেশ ৯ উইকেটে জয়ী।

    ম্যাচ অব দ্য ম্যাচ: হাসান মাহমুদ।

  • অধস্তন আদালত: মামলা বাড়লেও বাড়েনি বিচারক

    অধস্তন আদালত: মামলা বাড়লেও বাড়েনি বিচারক

    • দেশের জনসংখ্যার তুলনায় লাখ মানুষের জন্য বিচারক মাত্র একজন।
    • বর্তমানে বিচারক ২ হাজার ২৩৭ জন, বিচারকাজে থাকেন ১ হাজার ৮৩৭ জন।
    • বিচারকের সংখ্যা ১০ হাজার করার পক্ষে মত আইনজীবী-বিচারকদের।
    • ১১ বছরেও বাস্তবায়িত হয়নি সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা।

    সারা দেশের অধস্তন আদালতে বর্তমানে বিচারক আছেন ২ হাজার ২৩৭ জন। তাঁদের মধ্যে প্রেষণ, মন্ত্রণালয়ে সংযুক্তি, শিক্ষা ছুটি, মাতৃত্বকালীন ছুটিসহ নানা কারণে চার শতাধিক বিচারককে আদালতের বিচারকাজ থেকে দূরে থাকতে হয় সারা বছর। তাতে আদালতের বিচারকাজ করছেন ১ হাজার ৮৩৭ বিচারক। সে হিসাবে দেশের জনসংখ্যার তুলনায় গড়ে এক লাখের বেশি মানুষের জন্য বিচারক মাত্র একজন।

    সুপ্রিম কোর্টে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত প্রায় ৪৮ লাখ মামলা বিচারাধীন। এগুলোর মধ্যে সারা দেশের জেলা আদালতে বিচারাধীন ৪০ লাখ ৭৮ হাজার মামলা। ২০০৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত অধস্তন আদালতে বিচারাধীন ছিল ১৪ লাখ ৮৯ হাজার ১২১টি মামলা। দেড় যুগে মামলা বেড়েছে প্রায় ২৬ লাখ। তবে জনসংখ্যা ও মামলার সংখ্যা পাল্লা দিয়ে বাড়লেও সেই তুলনায় বাড়েনি বিচারকের সংখ্যা।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে বিচারকের সংখ্যা বাড়ানোই একমাত্র সমাধান নয়। তবে বর্তমান সংখ্যাও অপ্রতুল। অবশ্যই দক্ষ বিচারকের সংখ্যা আরও বাড়াতে হবে।

    আইন কমিশন এবং সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ২০১৫ সালে করা সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় অধস্তন আদালতের জন্য বিচারকের সংখ্যা ৫ হাজারে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছিল; তবে তা বাস্তবায়িত হয়নি ১১ বছরেও। যদিও অন্যান্য দেশের তুলনায় এই সংখ্যাও অপ্রতুল। তাই মামলাজটের কথা বিবেচনায় নিয়ে অধস্তন আদালতে বিচারকের সংখ্যা অন্তত ১০ হাজার হওয়া উচিত বলে মনে করেন আইনজীবী ও বিচারকেরা।

    জানতে চাইলে অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. শাহজাহান সাজু বলেন, বর্তমানে মামলার যে জট, তা নিষ্পত্তি করতে অধস্তন আদালতে অন্তত ১০ হাজার বিচারক প্রয়োজন। সেই সঙ্গে প্রয়োজন সহায়ক জনবল, প্রয়োজনীয় অফিস সরঞ্জাম এবং এজলাস। এ ছাড়া বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির দিকেও জোর দিতে হবে। তাহলেই মামলাজট কমবে বলে মনে করেন তিনি।

    অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিচার বিভাগের নানা সংস্কার নিয়ে প্রস্তাব দিয়েছিল বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। ২০২৪ সালে বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনকে দেওয়া ওই প্রস্তাবে বলা হয়, জনসংখ্যার হিসাবে প্রতি এক লাখ মানুষের বিপরীতে বিচারক একজন। ডেনমার্কে ১৫ হাজারের বিপরীতে ১ জন, জাপানে ৫৭ হাজারের জন্য ১ জন, পাকিস্তানে ৫০ হাজারের জন্য ১ জন এবং ভারতে ৪৭ হাজারের বিপরীতে ১ জন বিচারক থাকার কথা উল্লেখ করা হয়।

    জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রায় ৪০০ বিচারককে নানা কারণে বিচারকাজের বাইরে থাকতে হয়। আর একজন বিচারকের বিপরীতে ৫০০ মামলা থাকলে সহজে নিষ্পত্তি করা যায়। বর্তমানে গড়ে ৩ হাজারের বেশি মামলা। এ কারণে ঠিকভাবে মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হয় না।

    মোস্তাফিজুর রহমানের মতে, বিচারকের সংখ্যা ১০ হাজার হওয়া উচিত। শুধু বিচারক বাড়ালেই মামলাজট শিগগির কমবে না; এর সঙ্গে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির দিকে জোর দিতে হবে। প্রয়োজনে মামলার আগে প্রি-মেডিয়েশন করতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

    বিচারক সংকটের কারণে নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও একজনকে অনেক মামলার বিচার নিষ্পত্তি করতে হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারকেরা সিভিল আপিল, সিভিল রিভিশন, ক্রিমিনাল আপিল, ক্রিমিনাল রিভিশন, ক্রিমিনাল মিস, দুদক, আরবিট্রেশন, মাদক, বিশেষ ক্ষমতা আইন, অস্ত্র মামলা, হত্যা মামলা, সাধারণ দায়রা মামলা, মোবাইল কোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারার অধীন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেওয়া কার্যধারার বিরুদ্ধে রিভিশন আবেদনের নিষ্পত্তি করেন। অতিরিক্ত জেলা জজের পৃথক কোনো ক্ষমতা নেই। তাঁরা জেলা জজ পদমর্যাদার বিচারকের সমান ক্ষমতা প্রয়োগ করেন। তবে তাঁদের দায়িত্ব জেলা জজ নির্ধারণ করে দেন।

    যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারকেরা ২৫ লাখ টাকার ঊর্ধ্বে সব ধরনের দেওয়ানি মামলা, সিভিল আপিল, মাদক, ১০ বছর পর্যন্ত সাজার সব মামলা, বিশেষ আদালতে ১০ বছরের বেশি সাজার মামলা, এনআই অ্যাক্ট, অর্থঋণ, বিশেষ ক্ষমতা আইনসহ আরও কিছু মামলার শুনানি করেন। আর সিনিয়র সহকারী জজ ও সহকারী জজ আদালতের বিচারকেরা প্রায় ২৫ ধরনের মামলার শুনানি করেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

    সুপ্রিম কোর্টের স্পেশাল অফিসার মো. মাজহারুল হক, বর্তমানে অধস্তন আদালতে বিচারকের সংখ্যা দেশের জনসংখ্যা ও মামলার অনুপাতে অপর্যাপ্ত। এ কারণে একজন বিচারককে প্রতিদিন অনেক বেশি মামলা পরিচালনা ও নিষ্পত্তি করতে হয়। ফলে গুণগত মানসম্পন্ন বিচার নিশ্চিত করা প্রায়শই কঠিন হয়ে পড়ে।

    মাজহারুল হক বলেন, সেই সঙ্গে বিচারসংশ্লিষ্ট কার্যাদি সম্পন্ন করার জন্য পর্যাপ্ত দক্ষ সহায়ক জনবল ও সরঞ্জামাদির প্রয়োজন রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী বিচারক, দক্ষ সহায়ক জনবল ও সরঞ্জামাদির সরবরাহ বৃদ্ধি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলে মামলা নিষ্পত্তির পরিমাণ আরও বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।

  • দুপুরের মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস

    দুপুরের মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস

    আবহাওয়া ডেস্ক:

    দুপুরের মধ্যে দেশের কয়েকটি জেলায় ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। একইসঙ্গে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিরও আশঙ্কা রয়েছে।

    রোববার (১৬ আগস্ট) দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত আবহাওয়া অধিদফতরের দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়েছে, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলগুলোর ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।এসব অঞ্চলে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এসব এলাকার নদী বন্দরগুলোকে ১ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

  • ‘চ্যালেঞ্জ’ গ্রহণ করে জ্বালানি সংকট সমাধানের পরিকল্পনা হাসনাতের

    ‘চ্যালেঞ্জ’ গ্রহণ করে জ্বালানি সংকট সমাধানের পরিকল্পনা হাসনাতের

    জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী যে ছয় মাসের সময়সীমা দিয়েছেন, সেটিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। একই সঙ্গে সংকট সমাধানে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে দেওয়া পরিকল্পনাগুলো বিবেচনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

    শনিবার (১৫ আগস্ট) রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে হাসনাত আব্দুল্লাহ এসব কথা জানান।

    হাসনাত বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলকে বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানের পরিকল্পনা প্রদানের জন্য ছয় মাসের আলটিমেটাম দিয়ে চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন। আমরা চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলাম এবং সমাধান পরিকল্পনা প্রস্তাব করছি।’

    তার দাবি, প্রধানমন্ত্রী চ্যালেঞ্জ দেওয়ার আগেই জানতে পারতেন যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট সমাধানে বিরোধী দলের প্রস্তাব ইতোমধ্যে রয়েছে। তিনি বলেন, ‘চ্যালেঞ্জ দেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রীর জানা দরকার ছিল যে সমাধান ইতোমধ্যেই টেবিলে আছে। এনসিপির আহ্বায়ক, সংসদ সদস্য ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ জনাব নাহিদ ইসলাম স্বল্প (৩০ দিন), মধ্য (৬ থেকে ১৮ মাস) ও দীর্ঘমেয়াদি নিয়ে মোট ১৫ দফা সুনির্দিষ্ট সমাধান প্রস্তাব দিয়েছেন।’

    হাসনাতের ভাষ্য, এসব প্রস্তাবে সংকটের পেছনে কোন সিদ্ধান্তগুলো ভুল ছিল এবং কোথায় কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, তা ধাপে ধাপে তুলে ধরা হয়েছে। ভর্তুকি নীতি, ফুয়েল প্ল্যান, কন্টিনজেন্সি প্ল্যান ও ডিজাস্টার রিকভারি প্ল্যান নিয়েও বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। নাগরিক সমাজ ও বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মতামতও এ বিষয়ে এসেছে বলে জানান তিনি। তার দাবি, এসব বিষয় জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সেমিনারেও আলোচনা হয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ঢাউস সাইজের মন্ত্রিসভা ও উপদেষ্টা পরিষদ থাকা সত্ত্বেও এই তথ্য তার কাছে পৌঁছায়নি, এটি লজ্জার কথা।’

    ‘প্রধানমন্ত্রীর টিমের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন’

    সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীর সংখ্যা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর টিমের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন হাসনাত। তিনি বলেন, ‘মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারী মিলিয়ে ৬২ জনের সভাসদ। এর একজনও নাগরিক মতামত বা বিরোধী দলের প্রস্তাবনা পড়ে দেখেননি, গণতান্ত্রিক চর্চায় এর চেয়ে খারাপ উদাহরণ কম আছে। প্রশ্নটা আর নীতির নয়, প্রশ্নটা এখন এই টিমের কার্যকারিতা ও যোগ্যতার।’

    এনসিপির পক্ষ থেকে দেওয়া স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ১৫ দফা প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর পড়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এর মধ্যে ৩০ দিনের জন্য পাঁচটি, ৬ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য ছয়টি এবং দীর্ঘমেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য চারটি প্রস্তাব রয়েছে বলে জানান হাসনাত।

    বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বিশেষ সংসদীয় অধিবেশন আয়োজনের যে অনুরোধ জানানো হয়েছে, তাতেও সরকারের সাড়া দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। হাসনাত বলেন, ‘আমরা সরকারের এমন ইগ্নোরেন্সকে খুবই হতাশার চোখে দেখি এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশালাকার টিমের সক্ষমতা, যোগ্যতা ও আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলি।’

    ‘ফুয়েল প্ল্যান নেই, কন্টিনজেন্সি প্ল্যান নেই’

    প্রশাসনে গত ছয় মাসে ব্যাপক দলীয় পদায়নের কারণে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিজ্ঞতা ও ধারাবাহিকতা বা ‘ইনস্টিটিউশনাল মেমরি’ নষ্ট হয়েছে বলে অভিযোগ করেন হাসনাত। এর ফলে ফুয়েল প্ল্যান, কন্টিনজেন্সি প্ল্যান এবং ডিজাস্টার রিকভারি প্ল্যানের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

    তিনি বলেন, ‘ভর্তুকি কাটা হয়েছে ঠিক সেখান থেকে যেখান থেকে বিদ্যুৎ আসে, আর ক্যাপাসিটি চার্জ অক্ষত। সচিবালয়ে যারা এসেছেন তারা নতুন, অনভিজ্ঞ এবং লবি গ্রুপের পরামর্শে চলছেন।’

    মহেশখালী এফএসআরইউতে অগ্নিকাণ্ডের পর রক্ষণাবেক্ষণে কোনো ত্রুটি ছিল কি না, তা নিয়ে স্বাধীন তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ করা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে হাসনাত বলেন, ‘নাশকতা নাকি অবহেলা, সরকার নিজেই জানে না’।

    মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি

    ডলার সংকট ও বকেয়ার কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি কেনা সম্ভব হচ্ছে না—সরকারের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন হাসনাত। তার দাবি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের অনেক ভারী শিল্প বন্ধ হয়ে গেলেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অনুমোদিত ‘মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসি ২০২৫’ এখনো বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না।

    হাসনাতের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই নীতির আওতায় বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারবে। বিদ্যুতের দাম ক্রেতা ও বিক্রেতা নিজেদের মধ্যে নির্ধারণ করবে, আর বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত থাকবে। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাবে। তার দাবি, এতে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে কোনো অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন হবে না।

    তিনি বলেন, ‘বাকি কাজ কেবল এসএলএ ফরম্যাট ও হুইলিং চার্জ চূড়ান্ত করা, যা কয়েক সপ্তাহের প্রশাসনিক কাজ, রকেট সায়েন্স নয়।’

    প্রধানমন্ত্রীর ছয় মাসের সময়সীমা প্রসঙ্গে হাসনাত বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি বলার আগেই আমরা সমাধান দিয়েছি। আপনারা সেটা পড়ার দরকার মনে করেননি কিংবা আপনার কাছে পৌঁছানো হয়নি। তথাপি, ছয় মাসের হিসাবটা আমরা মেনে নিলাম। কিন্তু ঘড়িটা বিরোধী দলের নয়, আপনার সরকারের।’

    মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসি বাস্তবায়নে ছয় মাসের বেশি সময় প্রয়োজন হলে সেটিকে কেবল নীতিগত ব্যর্থতা হিসেবে দেখা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, ‘সেটি হবে সক্ষমতার ব্যর্থতার স্বীকারোক্তি।’

    ‘প্রধানমন্ত্রীর উচিত ছিল জবাবদিহি করা’

    কৌশলগত খাতে ব্যর্থ বা অযোগ্য ব্যক্তিদের দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানোর সমালোচনা করে হাসনাত বলেন, ‘প্রমাণিতভাবে ব্যর্থ মন্ত্রী ও অযোগ্য লোক দিয়ে কৌশলগত খাতে পরীক্ষা-নিরীক্ষাকে ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ বলে না। এটা হচ্ছে ‘আই হ্যাভ নো প্ল্যান’-এর টেস্টিং।’

    গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকারের ভূমিকা নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। হাসনাত বলেন, ‘একটি প্র্যাক্টিসিং ডেমোক্রেসিতে প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদলকে আল্টিমেটাম কিংবা চ্যালেঞ্জ দেন না, বরং সরকারই তার কাজের জবাবদিহি করে।’

  • সংসদে আসছে ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা

    সংসদে আসছে ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা

    দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে আগামী ২৭ আগস্ট শুরু হতে যাওয়া সংসদ অধিবেশনে ১০ বছর মেয়াদি একটি জ্বালানি পরিকল্পনা উপস্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশের ৫০৩টি উপজেলার প্রত্যেকটিতে ১৫১ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

    শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি কলোনি মাঠে দরিদ্র ও অসহায়দের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার দেশের অর্থনীতিসহ প্রতিটি ব্যবস্থাকে ফোকলা করে দিয়ে গেছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে বাংলাদেশের মানুষ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে এই ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে গড়ে তুলতে হবে।

    দেশের স্বাস্থ্যখাতে ব্যাপক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আগামী ৫ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের ৫০৩টি উপজেলার ইনশাল্লাহ প্রত্যেকটিতে আমরা ১৫১ শয্যার উপজেলা হাসপাতাল তৈরি করব। যেখানে মানুষ তার প্রয়োজনমতো চিকিৎসা সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে।’

    বর্তমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নিয়ে দেশবাসীর কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সমগ্র বাংলাদেশের মানুষ যে বিদ্যুতের কষ্ট পাচ্ছেন, আমি আন্তরিকভাবে তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি।

    কিন্তু এই সরকার আপনাদের সরকার এবং আমরা কাজ করছি যত দ্রুত সম্ভব মানুষকে এই কষ্টের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য।’
    তিনি ঘোষণা দেন, ‘আগামী যে সংসদ ২৭ তারিখে শুরু হবে, এই সংসদেই আমরা বাংলাদেশের জনগণের সামনে উপস্থাপন করব—আগামী ১০ বছর আমরা কীভাবে এই দেশের মানুষের জন্য জ্বালানি সমস্যার সমাধান করব, সেই পরিকল্পনা দেব।’

    গ্যাস সংকট সমাধানে সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকার তৃতীয় এলএনজি জাহাজের পারমিশন বাতিল করেছিল, যা এখন নতুন করে করতে হচ্ছে।

    চীনের সঙ্গে ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, তৃতীয় জাহাজটি চলে এলে গ্যাসের সমস্যা অনেকাংশে কমে যাবে। তবে জাহাজ তৈরিতে সময় লাগে বিধায় দেশবাসীকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

    সামনে হারিকেন, পেছনে ফ্যান
    সম্প্রতি বিদ্যুৎ-গ্যাসের দাবিতে হারিকেন হাতে একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিবাদের কড়া সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘দুদিন আগে দেখলাম একটি দলের কিছু সদস্য গ্যাস-বিদ্যুৎ চেয়ে সামনে হারিকেন নিয়ে বসে আছে। অথচ তাদের পেছনে ফ্যান চলছে, তারা ফ্যানের বাতাস খাচ্ছে। এই হচ্ছে তাদের হঠকারিতা।’

    ওইসব রাজনৈতিক দলের উদ্দেশে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, ‘শুধুমাত্র জনগণকে বিভ্রান্ত করার রাজনীতি বাদ দিন। আপনাদের কাছে যদি এমন কোনো বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা থাকে যা আগামী তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে সমস্যার সমাধান করতে পারবে, তবে সংসদে নিয়ে আসুন। আমরা আপনাদের পরিকল্পনাই বাস্তবায়ন করবো। আর যদি কেবল বিভ্রান্ত করার জন্য এসব বলে থাকেন, তবে জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।’

    ১৭ বছর তাদের রাজপথে দেখা যায়নি
    বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলের কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, ‘বিগত ১৭ বছর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রত্যেকটি নেতাকর্মী যুদ্ধ করে এই রাজপথেই টিকেছিল। আজ যারা বড় বড় গলা উঁচু করে বিভ্রান্তিকর কথা বলছে, গত ১৭ বছর মানুষ আপনাদেরকে রাজপথে দেখতে পায়নি।’

    পত্রিকার পাতা খুঁজলেই বিগত দিনে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর গুম, খুন ও নির্যাতনের চিত্র উঠে আসবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘রাস্তায় বসে ভাঙচুর করা বা বিশৃঙ্খলা তৈরি করার দিন শেষ। জনগণ এখন সেই রাজনীতি আর সমর্থন করে না। মুরোদ থাকলে শার্টের হাতা গুটিয়ে, কোদাল হাতে মাঠে নামুন, মানুষের জন্য কাজ করুন।’

    ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত
    দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘এই ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কর্মীর হাতে, শ্রমিকের হাতে রূপান্তরিত করতে হবে। আজ আমি কী পেলাম সেটি বড় কথা নয়, আমি এই দেশ এবং দেশের মানুষের জন্য কী দিতে পারলাম সেটিই হচ্ছে বড় কথা।’

    শনিবার বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে সবার কাছে দোয়া চান তারেক রহমান।

  • গাংনীতে র‍্যাবের অভিযানে অনলাইন জুয়ার এজেন্টসহ ২ জুয়ারি আটক

    গাংনীতে র‍্যাবের অভিযানে অনলাইন জুয়ার এজেন্টসহ ২ জুয়ারি আটক

    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের রুয়েরকান্দি (পশ্চিমপাড়া) এলাকায় অভিযান চালিয়ে অনলাইন জুয়ার এজেন্টসহ ২ জুয়ারিকে আটক করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)-১২। এ সময় তাদের কাছ থেকে অনলাইন জুয়ার কাজে ব্যবহৃত ৩টি স্মার্টফোন, ৫টি সিমকার্ড এবং নগদ ১০ হাজার ২শত ৮০ টাকা জব্দ করা হয়।

    শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোররাত আনুমানিক ১টা ১০ মিনিটে র‍্যাব-১২ এর সিপিসি-৩, মেহেরপুর ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গাংনী থানাধীন রায়পুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রুয়েরকান্দি (পশ্চিমপাড়া) এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করে।

    আটক ব্যক্তিরা হলেন রুয়েরকান্দি (পশ্চিমপাড়া) গ্রামের মৃত রবিউল হকের ছেলে আনোয়ার (৩৫) এবং একই এলাকার ষোলটাকা ইউনিয়নের বাসিন্দা বাবুল হোসেনের ছেলে মো: হাসান (১৯)।

    র‍্যাব জানায়, আনোয়ারের নিজস্ব গরুর খামারের একটি কক্ষে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা বিভিন্ন ওয়েবসাইট ব্যবহার করে 1XBET প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনলাইন জুয়া পরিচালনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেছে র‍্যাব।

    এ ঘটনায় গাংনী থানায় জুয়া প্রতিরোধ আইন-২০২৬ এর ১৬, ১৭, ১৯(১) ও ২৫ ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

    র‍্যাব-১২ এর কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত সরকার, পিপিএম স্বাক্ষরিত রাত সাড়ে ৩টায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, অনলাইন জুয়াসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে র‍্যাবের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

  • লা লিগা মাঠে গড়াচ্ছে আজ

    লা লিগা মাঠে গড়াচ্ছে আজ

    ক্লাব ফুটবলের অন্যতম আকর্ষণীয় আসর ‘লা লিগা’ মাঠে গড়াচ্ছে আজ। বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১১টায় দেপোর্টিভো আলভেস-গেতাফে ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে দীর্ঘ এ লড়াই। তবে প্রথম সপ্তাহে লা লিগার দুই জায়ান্টের কোনো ম্যাচ নেই। ২৪ আগস্ট রাত দেড়টায় এলচের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে হ্যাটট্রিক শিরোপা মিশন শুরু করবে বার্সেলোনা। তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ লিগ শুরু করবে ২৩ আগস্ট রাত দেড়টায় এস্পানিওলের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। তৃতীয় শক্তি হিসেবে খ্যাত অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ নামবে ২০ আগস্ট রাত ১টায় মালাগার বিপক্ষে।

    ২৪ আগস্ট রাত দেড়টায় এলচের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে হ্যাটট্রিক শিরোপা মিশন শুরু করবে বার্সেলোনা। তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ লিগ শুরু করবে ২৩ আগস্ট রাত দেড়টায় এস্পানিওলের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। তৃতীয় শক্তি হিসেবে খ্যাত অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ নামবে ২০ আগস্ট রাত ১টায় মালাগার বিপক্ষে।

    রিয়াল-বার্সার ম্যাচ এত দেরিতে শুরু হওয়ার কারণ, এ দুই দলের অধিকাংশ খেলোয়াড় বিশ্বকাপ খেলে ক্লান্ত। তাদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম দিতেই সপ্তাহখানেক দেরিতে ফেলা হয়েছে দুই জায়ান্টের ম্যাচ। এর মধ্যে বার্সার জার্মান কোচ হ্যান্সি ফ্লিক অন্য রকম একটি চ্যালেঞ্জ নিয়ে মাঠে নামছেন। একবিংশ শতাব্দীতে বার্সেলোনার চারজন কোচ তাদের প্রথম দুই মৌসুমেই টানা লা লিগে জিতেছেন। তাদের মধ্যে কেবল পেপ গার্দিওলাই লা লিগার হ্যাটট্রিক শিরোপা জিততে পেরেছিলেন। হ্যান্সি ফ্লিক কি পারবেন তাঁকে স্পর্শ করতে? তাঁর জন্য কাজটা ভীষণ কঠিন হতে চলেছে। কারণ সেন্টার ফরোয়ার্ড ছাড়াই লিগ শুরু করতে হচ্ছে বার্সাকে।

    আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার জুলিয়ান আলভারেজের সঙ্গে অনেক আগে থেকেই কথা পাকা করে রেখেছিল বার্সা। কিন্তু অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ বেঁকে বসায় আলভারেজের বার্সায় আসা হচ্ছে না। এরই মধ্যে বর্ষীয়ান ফরোয়ার্ড রবাট লেভানডস্কিকে ছেড়ে দিয়েছে, বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করা ফেরান তোরেসও পিএসজিতে চলে গেছেন। তাদের অভাব পূরণে বার্সা এখন কোনো সেন্টার ফরোয়ার্ড পাচ্ছে না। হ্যান্সি ফ্লিক ও স্পোর্টিং ডিরেক্টর ডেকো এখন হন্যে হয়ে সেন্টার ফরোয়ার্ড খুঁজছেন। শেষ পর্যন্ত তারা স্পোর্টিং লিসবন থেকে কলম্বিয়ান ফরোয়ার্ড লুইস সুয়ারেজকে আনার চেষ্টা করছেন। বিশ্বকাপে গোল্ডেন বল জেতা রদ্রির ট্রান্সফার নিয়েও ম্যানসিটির সঙ্গে দর কষাকষি চলেছে। এর পরও লামিনে ইয়ামাল, রাফিনহা, পেদ্রি, গাভি, দানি ওলমো, কুবার্সিরা রয়েছেন। বরুশিয়া ডর্টমুন্ড থেকে তরুণ জার্মান ফরোয়ার্ড করিম আদিয়েমিকে টেনেছে তারা।

    বার্সার এই হ্যাটট্রিক শিরোপা ছিনিয়ে নিতে ১৩ বছর পর আবার হোসে মরিনহোকে কোচের দায়িত্ব দিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। দলবদলের বাজারেও ভীষণ সক্রিয় তারা। মরিনহোর চাওয়া মতো এরই মধ্যে চেলসি থেকে বিশ্বকাপজয়ী লেফট-ব্যাক মার্ক কুকুরেয়া, লিভারপুল থেকে ফরাসি সেন্টার ব্যাক ইব্রাহিম কোনাতে, ম্যানসিটি থেকে পর্তুগিজ মিডফিল্ডার বার্নার্দো সিলভা, ইন্টার মিলান থেকে রাইট-ব্যাক ডেনজেল ডামফ্রিসকে দলে ভিড়িয়েছে তারা। লাইপজিগ থেকে রেকর্ড ১৪০ মিলিয়ন ইউরো ট্রান্সফার ফি দলে টেনেছে তরুণ আইভরিয়ান প্রতিভা ইয়ান দিয়ামান্দেকে।

    আর সবচেয়ে বড় বিষয় হলো কিলিয়ান এমবাপ্পে-ভিনিসিয়ুস জুনিয়র জুটি ভাঙতে দেননি মরিনহো। ভিনির নতুন চুক্তি নিয়ে তৈরি হওয়া অচলাবস্থা দূর করায় নতুন উদ্যমে মাঠে নামবেন তারা।

    আর সবচেয়ে বড় বিষয় হলো কিলিয়ান এমবাপ্পে-ভিনিসিয়ুস জুনিয়র জুটি ভাঙতে দেননি মরিনহো। ভিনির নতুন চুক্তি নিয়ে তৈরি হওয়া অচলাবস্থা দূর করায় নতুন উদ্যমে মাঠে নামবেন তারা। টানা দুই বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জেতা এমবাপ্পে যে রিয়ালের তারকাপুঞ্জে সবচেয়ে বড় তারা, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। ভিনিও কম যান না, নতুন চুক্তিই প্রমাণ করে রিয়ালের কাছে ব্রাজিলিয়ান এ তারকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। ইংল্যান্ডের জার্সিতে গত বিশ্বকাপে ৭ গোল করা জুড বেলিংহামও কম যান না। এই ত্রয়ীর ওপরই নির্ভর করছে রিয়ালের শিরোপা উদ্ধার মিশন।

  • পরাজয়ের শঙ্কায় অস্ট্রেলিয়া, ডারউইন টেস্ট কি বাংলাদেশের হতে চলেছে

    পরাজয়ের শঙ্কায় অস্ট্রেলিয়া, ডারউইন টেস্ট কি বাংলাদেশের হতে চলেছে

    ম্যাচটা চতুর্থ দিনে যাবে কি না সংশয় হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত গিয়েছে। তবে পঞ্চম দিনে যাওয়ার সম্ভাবনা যে খুবই কম, আজ এই বিশ্বাস নিয়েই ঘরে ফিরে গেছেন ডারউইনের দর্শকেরা।

    ‘বিশ্বাস’ বলাটা কি ঠিক হলো! অস্ট্রেলিয়ানরা তো নিশ্চিতভাবেই চাইবে টেস্টটা শেষ দিনে যাক। তাহলেই তাদের মানসম্মান কিছুটা বাঁচার সম্ভাবনা থাকবে। চতুর্থ দিনে শেষ হওয়ার যে সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে, সেটা তো আসলে বাংলাদেশের পক্ষে! কাল টেস্ট শেষ হওয়া মানে তো বাংলাদেশেরই জয় আসলে।

    ভাবতে একটু অন্য রকমই লাগছে যে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে একটি টেস্ট যেন চতুর্থ দিনে শেষ হয়ে যায়, সেই পালে হাওয়া দেওয়া দলটির নাম বাংলাদেশ! আর স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া মনেপ্রাণে চাইছে যেন তা না হয়। কাল তাদের দ্বিতীয় ইনিংসটা যেন এতটাই লম্বা হয় যে শেষ দিনেও অন্তত লড়াইটা করা যায়।

    টেস্টের আয়ু নিয়ে এই আলোচনার কারণটা ডারউইন টেস্টে স্কোরকার্ডের দিকে তাকালেই পরিষ্কার হবে। আজ তৃতীয় দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ উইকেটে ১৬১ রান করে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশের চেয়ে এখনো পিছিয়ে ৬৭ রানে। এর আগে টেলএন্ডারদের দৃঢ়তায় ২২৮ রানের লিড নিয়ে লাঞ্চের পরপর বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস শেষ হয় ৪২৬ রানে। টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান। ২০০৬ সালে ফতুল্লা টেস্টের প্রথম ইনিংসে করা ৪২৭–ই এখনো সর্বোচ্চ।

    সকালের সেশনে টেল এন্ডারদের নিয়ে দারুণ ব্যাট করেন মিরাজ

    বাংলাদেশের লিড ২০৬ অতিক্রম করার পর থেকেই ইতিহাসের পাতা চোখ রাঙাতে শুরু করেছে অস্ট্রেলিয়াকে। নিজেদের টেস্ট ইতিহাসেই যে কখনো ঘরের মাঠে প্রথম ইনিংসে ২০৬ রানের বেশি পিছিয়ে থাকা ম্যাচে জেতেনি তারা! অর্থাৎ ডারউইনে জিততে ঘরের মাঠে প্রথম ইনিংসে সবচেয়ে বেশি রানে পিছিয়ে থাকার ঘাটতি কাটিয়ে ওঠার রেকর্ড গড়তে হবে তাদের।

    কিন্তু তৃতীয় দিনে শেষ সেশনে ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়া যেভাবে উইকেট হারাতে শুরু করল, তাতে রেকর্ডটা নতুন করে লিখতে একটু কষ্টই হওয়ার কথা তাদের। প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়া হাসান মাহমুদ এবারও কাঁপিয়ে দিয়েছেন স্বাগতিকদের শুরুটা। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে বোল্ড করেছেন ওপেনার জেক ওয়েদারাল্ডকে এবং ট্রাভিস হেডকে ১১তম ওভারে। হাসানকে কাট করতে গিয়েছিলেন হেড। কিন্তু শরীরের কাছাকাছি থাকা বলটা ব্যাটে লেগে ভেঙে দেয় স্টাম্প।

    ৩৭ রানে ২ উইকেট হারানো অস্ট্রেলিয়ার ভরসা তখন মারনাস লাবুশেন আর স্টিভেন স্মিথের তৃতীয় উইকেট জুটি। ৩৬ রানের জুটিতে দুজনই মোটামুটি থিতু হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু ২০তম ওভারের শেষ বলে তাইজুল ইসলাম ৫৯ বলে ৩১ রান করা লাবুশেনেকে বোল্ড করে দিলে আরেকবার কেঁপে ওঠে স্বাগতিকেরা। স্মিথ ফিরেছেন আরেকটু এগিয়ে, ৪৪ রান করে মেহেদী হাসান মিরাজের বলে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে। অস্ট্রেলিয়া ১২২ রানে চতুর্থ উইকেট হারানোর পর ডারউইনের প্রেসবক্সে আলোচনা—টেস্টটা চতুর্থ দিনে যাবে তো!

    আবারও হাসান মাহমুদের বলে বোল্ড ট্রাভিস হেড

    ক্যামেরন গ্রিন তো বটেই, অস্ট্রেলিয়ারও সৌভাগ্য যে তাসকিন আহমেদের একটি বল তাঁর স্টাম্পে লাগলেও বেলস পড়েনি। অবিশ্বাস্যভাবে স্টাম্পে আঘাত করে বলটা ছাড়িয়ে গেছে বাউন্ডারিও! সেই সৌভাগ্য নিয়েই অস্ট্রেলিয়া দিন শেষ করেছে আর কোনো উইকেট না হারিয়ে।

    ডারউইন টেস্টটা যে তৃতীয় দিন শেষে এই জায়গায় দাঁড়িয়ে, সেটির বড় কৃতিত্ব প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের টেলএন্ডের ব্যাটিংয়ের। কিন্তু সেখানে কোনটি বিশেষ? নাথান লায়নকে স্লগ সুইপে ডিপ মিড উইকেটের ওপর দিয়ে মারা ইবাদত হোসেনের বিশাল ছক্কা? নাকি হাসান মাহমুদের ১৪ রান করার ছলে ৯২টি বল খেলে যাওয়া!

    অস্ট্রেলিয়ানরা বলবে—এর কিছুই নয়। ঝামেলা তো পাকিয়েছে আমাদের ফিল্ডাররা। এক সেশনে তিনটা ক্যাচ ফেলে কেউ? তা–ও আবার এক ওভারে দুইটা। ক্যাচ ফেললে টেলএন্ডার ব্যাটসম্যান কেন, শিশুরাও রান করত পারবে।

    মিরাজের ব্যাটে ভর করে লিড দুই শ পেরিয়ে যায় বাংলাদেশের

    যে যেভাবেই দেখুক, আজ ডারউইন টেস্টের আরও একটি দিনকে শুরু থেকেই বাংলাদেশ করে নিয়েছিল নিজেদের এবং সে কৃতিত্বের প্রায় পুরোটাই টেলএন্ডারদের দারুণ ব্যাটিংয়ের। ১৫৪ বলে মিরাজের ৬৫–কে খুঁটি বানিয়ে সেটাকে চক্কর দিয়ে ব্যাটিং করে গেছেন আগের দিনের অপরাজিত হাসান, তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ আর ইবাদত।

    কাল দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশের লেজের দিকের ব্যাটিং শুরু হয়েছিল ৮৩.৩ ওভারে, মুশফিকুর রহিমের আউটের পর রান তখন ৬ উইকেটে ৩০৮। মিরাজের সঙ্গে এরপর কালকের শেষ সেশন আর আজকের প্রথম সেশন মিলিয়ে টেলএন্ডাররাই অস্ট্রেলিয়ান বোলারদের দিয়ে বল করিয়েছেন ৫২.৩ ওভার। এই সময়ে রান যোগ হয়েছে আরও ১১৮, যার ৭৫–ই এসেছে আজ। এসব কারণেই সম্ভবত হ্যাজলউড ৬ উইকেট নিয়ে টেস্টে ৩০০ উইকেটের মাইলফলকের দেখা পেলেও অর্জনটি অস্ট্রেলিয়ানরা ঠিক উদ্‌যাপন করতে পারেনি।

    জুটিগুলোর দিকেও একটু তাকিয়ে দেখুন। মিরাজ–হাসানের সপ্তম উইকেটে ৪৬, মিরাজ–তাইজুলের অষ্টম উইকেটে ১৮, মিরাজ–তাসকিনের নবম উইকেটে ৪, এমনকি তাসকিন–ইবাদতের শেষ উইকেটে ৮ রান, যার মধ্যে ইবাদতের ওই ছক্কাটাও আছে।

    মারারা স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে টেস্টের তৃতীয় দিনটাও দারুণ কাটল বাংলাদেশের সমর্থকদের

    টুপিখোলা অভিনন্দন পাওয়ার যোগ্য টেলএন্ডারদের এই কীর্তিতেই তৃতীয় দিনের প্রথম সেশন পার করে লাঞ্চের পরও ৫ ওভার ব্যাটিং করেছে বাংলাদেশ। হাসান, ইবাদতের কথা তো বলাই হলো, মাঝে এক ছক্কা এক চারে তাইজুলের ২৩ বলে ১৭ আর তাসকিনের দুই বাউন্ডারি মেশানো ৩২ বলে অপরাজিত ১৪ রানের ইনিংস দুটির সময়ও মনে হয়নি অস্ট্রেলিয়ার পেস–বাউন্স খুব একটা ভোগাচ্ছে তাঁদের। হ্যাঁ, তিনটা ক্যাচ পড়েছে প্রথম সেশনে, যার দুটি আবার এক ওভারে।

    কিন্তু তাতে কী! তানজিম হাসান তো আগের দিনই বলে দিয়েছেন, ক্যাচ ধরবে–ক্যাচ পড়বে এসব খেলারই অংশ।

    সংক্ষিপ্ত স্কোর

    অস্ট্রেলিয়া : ১৯৮ ও ৫৩ ওভারে ১৬১/৪ (স্মিথ ৪৪, গ্রিন ৪৩*, লাবুশেন ৩১, হেড ১৭, ক্যারি ৭*; হাসান ২/৩৩, তাসকিন ০/৩৮, ইবাদত ০/৩৮, তাইজুল ১/২৮, মিরাজ ১/২০)। বাংলাদেশ: ৪২৬।

  • মহেশপুর সাংবাদিকদের সাথে বিএনপি নেত্রী নার্গিস সুলতানা দীপার মতবিনিময় সভা।

    মহেশপুর সাংবাদিকদের সাথে বিএনপি নেত্রী নার্গিস সুলতানা দীপার মতবিনিময় সভা।

    মনিরুজ্জামান মহেশপুর (ঝিনাইদহ)

    ঝিনাইদহের মহেশপুর প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নার্গিস সুলতানা দিপা। শনিবার সকালে মহেশপুর প্রেসক্লাবের হলরুমে এ মতবিনিময় সভায করা হয়।

    এ সময় নার্গিস সুলতানা বলেন,শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আমার বাবা মহেশপুর উপজেলা বিএনপির একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় আমি ও আমার পরিবার বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। বর্তমানে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছি। আজকের এই দিনে প্রয়াত নেতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।

    বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশ পরিচালনায় নারীদেরকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য কাজ করছেন। তার প্রতি কৃজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

    মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন মহেশপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ আব্দুর রহমান,সহ সভাপতি ইশারত মন্ডল, সাধারণ সম্পাদক মোঃ বাবর আলী বাবু, সহ-সম্পাদক আব্দুল হালিম চঞ্চল,হাসান আলী,আলমগীর হোসেন,নাজমুল হোসেন, মেহেদী হাসান, এনামুল ইসলাম, জাহিদুল ইসলাম প্রমুখ।

    এক প্রশ্নের উত্তরে নার্গিস সুলতানা বলেন দল যেখানে চাইবে আমি সেখানে নির্বাচন করতে আগ্রহী। বিএনপির এই নেত্রী তার উন্নয়ন পরিকল্পনা তথা সমাজ নিয়ে তার ভাবনার কথা তুলে ধরেন।

  • ছয় মাসে ঝিনাইদহে আত্মহত্যার রেকর্ড,১৮৯ জন

    ছয় মাসে ঝিনাইদহে আত্মহত্যার রেকর্ড,১৮৯ জন

    মনিরুজ্জামান মহেশপুর (ঝিনাইদহ)

    ঝিনাইদহ জেলায় ২০২৬ সালে ছয় মাসে আত্মহত্যা ১৮৯ জন । এর মধ্যে পুরুষ ৯২ জন আর নারী ৯৭ জন। শনিবার সকালে মানবধিকার সংগঠন আরডিসির মহেশপুর কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে আরডিসি নির্বাহী প্রধান মোঃ আব্দুর রহমান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ২০২৬ সালে জানু থেকে জুন পর্যন্ত গলায় ফাঁস ও বিষ পান করে আত্মহত্যা করেছে ১৮৯ জন । এর মধ্যে পুরুষ ৯২ জন,নারী ৯৭ জন। সির্ভিল সার্জন ও ডিসি অফিসের রেজুলেশন ও অন্যান্য সূত্র পর্যালোচনা করে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

    সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয় এই বছর গত ৬ মাসে যে আত্মহত্যা হয়েছে এর মধ্যে র্শীষে রয়েছে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা। যার সংখ্যা ৫৯ জন। এদের মধ্যে নারী ২৯ পুরুষ ৩০ জন। ২য় অবস্থানে রয়েছে শৈলকুপা উপজেলা যার সংখ্যা ৪৪। পুরুষ ১৮,নারী ২৬,৩য় অবস্থানে হরিনাকুন্ড যার সংখ্যা ২৫। পুরুষ ১০,নারী ১৫। ৪র্থ স্থানে আছে কোঁটচাদপুর ২১। পুরুষ ১৪, নারী ৭ জন এবং ৫ম আর ৬ষ্ঠ স্থানে আছে কালিগঞ্জ ও মহেশপুর ২০ জন করে। পুরুষ ১২ আর নারী ৮ জন।

    ঝিনাইদাহ জেলা প্রশাসন থেকে আত্মহত্যা প্রতিরোধে নানা ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তার পরও গত বছর থেকে এ বছর ঝিনাইদাহ জেলায় আত্মহত্যার সংখ্যা ( ৬৪ জন ) বেশি। ২০২৫ সালে জানু-জুন পর্যন্ত এর সংখ্যা ছিল ১২৫ জন , পুরুষ ৫৭ ,নারী ৬৮ ।

    ঝিনাইদহ জেলা সির্ভিল সার্জন অফিসার ডাঃ মোঃ কামরুজ্জামান বলেন, এখানকার মানুষ অতি আবেগী,ভৌগোলিক সমস্যা এবং ধৈর্য্য ধারণের ক্ষমাত কম। এ সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি,গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে আত্মহত্যা রোধে এড্যাভোকেচি সভা, কাউন্সিলিং বাড়ানো, যুব সমাজের অভিভাবকদের সাথে মত বিনিময় করা।

    আরডিসি নির্বাহী প্রধান মোঃ আব্দুর রহমান বলেন, আত্মহত্যা রোধে সামাজিক সচেতনা বৃদ্ধি করতে হবে। জিও এনজি এর সমন্বয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম মাঠ পর্যায়ে পরিচালনা করতে হবে। তিনি আত্মহত্যা রোধে সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানান ।

  • গ্যাস সংকট সমাধানে দুই বছর সময় লাগবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

    গ্যাস সংকট সমাধানে দুই বছর সময় লাগবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

    বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেছেন, ‘গ্যাসের সংকট কাটাতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করতে হবে। আর এই অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হলে আগামী দুই বছরের মধ্যে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হবে। গ্যাসের এ সংকট আগের সরকারের সময় থেকে পাওয়া। সমাধানে সময় লাগবে।’

    আজ শনিবার দুপুরে সিলেট নগরের ধোপাদিঘীরপার এলাকায় কৃষিবিষয়ক একটি কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, ‘গ্যাস–সংকটের কারণে কলকারখানা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, এ বাস্তবতা স্বীকার করে দেশে গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে নতুন করে অনুসন্ধান, এলএনজি আমদানি বৃদ্ধি এবং নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গ্যাসের সংকট কাটাতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করতে হবে। আর এই অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হলে আগামী দুই বছরের মধ্যে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হবে।’

    বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ‘বর্তমানে দেশে মাটির নিচ থেকে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে। এর সঙ্গে দুটি এফএসআরইউ থেকে সর্বোচ্চ ৯০০ এমএমসিএফডি গ্যাস পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে দেশে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ৬০০ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র, মিল-কারখানা এবং নতুন শিল্প সংযোগের জন্য অপেক্ষমাণ চাহিদা বিবেচনায় এই পরিমাণ গ্যাস প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেকেরও কম বলে তিনি জানান।’

    এলএনজি আমদানি বাড়ানোর বিষয়েও সরকারের উদ্যোগ নিয়ে খন্দকার মুক্তাদির জানান, ‘চাইলেই এলএনজি আমদানি বাড়ানো সম্ভব নয়। নতুন এফএসআরইউ স্থাপন করতে হলে সেটি তৈরি করতে সময় লাগে। পাশাপাশি সমুদ্র থেকে জাতীয় গ্রিড পর্যন্ত পানির নিচ দিয়ে পাইপলাইন স্থাপনের কাজও করতে হয়। এসব প্রক্রিয়ায় প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে। তিনি বলেন, এর মধ্যে একটি বিকল্প উদ্যোগ হিসেবে মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পেট্রোনাসের মাধ্যমে বড় জাহাজে এলএনজি এনে ছোট জাহাজে স্থানান্তর করে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে পেট্রোনাসের জাহাজগুলো বর্তমানে বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত থাকায় অতিরিক্ত জাহাজ পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি সমাধানে জ্বালানি মন্ত্রণালয় কাজ করছে।’

  • কুষ্টিয়ায় আদম ব্যবসায়ীর ছেলেকে  তুলে নিয়েছে লিবিয়ায় জিম্মিকৃত প্রবাসীর স্বজনেরা

    কুষ্টিয়ায় আদম ব্যবসায়ীর ছেলেকে তুলে নিয়েছে লিবিয়ায় জিম্মিকৃত প্রবাসীর স্বজনেরা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আদম ব্যবসায়ী জাফর আলীকে না পেয়ে তার ছেলে হুসাইন আলীকে (৮) তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে লিবিয়ায় জিম্মিকৃত এক প্রবাসীর স্বজনদের বিরুদ্ধে। শনিবার সকাল ৮টায় ছাতিয়ান ইউনিয়নের কালিনাথপুর গ্রামের ওই আদম ব্যবসায়ীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মিরপুর উপজেলার ছাতিয়ান ইউনিয়নের কালিনাথপুর গ্রামের আদম ব্যবসায়ী জাফর আলী ইতালীতে পাঠানোর নামে মানুষকে লিবিয়ায় পাঠায়।

    পরে লিবিয়ায় অবস্থানরত জাফর গ্রুপের সদস্যরা মানুষকে জিম্মি করে দেশে থাকা স্বজনদের কাছ থেকে লাখ-লাখ টাকা নিয়ে থাকে। সূত্রমতে, সম্প্রতি চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার পুলতাডাঙ্গা গ্রামের একজনকে লিবিয়ায় জিম্মি করে দেশে থাকা স্বজনদের কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা নিয়েছে জাফর গ্রুপের সদস্যরা।

    এরই ধারাবাহিকতায় লিবিয়ায় জিম্মি থাকা ওই ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা জাফরের বাড়ি থেকে তার ছেলে হুসাইন আলীকে তুলে নিয়ে গেছে।

    সূত্র আরো জানায়, জাফর আলী মানুষকে ইটালিতে পাঠানোর নাম করে লিবিয়ায় পাঠানোর পর জিম্মি করে টাকা আদায়কারী চক্রের অন্যতম সদস্য। মানুষকে জিম্মি করে পাওয়া টাকা দিয়ে কালিনাথপুরের এই অট্টালিকা নির্মাণ করেছেন।

    শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় ছাতিয়ান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কবির হোসেন শিশুটিকে ধরে নিয়ে যাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জাফর আলী লিবিয়া থেকে ইতালীতে লোক পাঠান বলে শুনেছি। বিদেশগামী অনেক লোকের পরিবার তাকে খুঁজতে আসে। লিবিয়ায় পাঠানোর পর মানুষকে সে দেশে জিম্মি করে দেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে জাফরের বিরুদ্ধে।

    তিনি আরো বলেন, শুনেছি লিবিয়ায় জিম্মিকৃত আলমডাঙ্গার এক প্রবাসীর স্বজনেরা এসে জাফরের শিশুপুত্রকে তুলে নিয়ে গেছে আজ সকালে।

    এ ব্যাপারে মিরপুর থানার ওসি মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, শিশু অপহরণের বিষয়টি তার জানা নেই।

  • ৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে ফেরাতে রাজি মিয়ানমার, রয়েছে শর্ত

    ৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে ফেরাতে রাজি মিয়ানমার, রয়েছে শর্ত

    বাংলাদেশে আশ্রয়রত ৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে পর্যায়ক্রমে ফেরত নিতে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে মিয়ানমারের সামরিক-সমর্থিত সরকার। বাংলাদেশ থেকে পাঠানো তালিকা থেকে চার লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে যাচাই-বাছাই শেষে এই তালিকা নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হওয়া পর্যন্ত কোনো প্রত্যাবাসন শুরু হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে মিয়ানমার।

    শনিবার (১৫ আগস্ট) মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। ২০১৭ সালে রাখাইনে সেনা অভিযানের পর শুরু হওয়া এই রোহিঙ্গা সংকট ৯ বছরে পদার্পণ করার মুখে এই বিবৃতি এল।

    বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশের পাঠানো ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জনের তালিকা থেকে ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৪৫ জন শরণার্থীর তথ্য চূড়ান্তভাবে যাচাই করে মিয়ানমার। এর মধ্যে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জন রাখাইনের নিবন্ধিত অধিবাসী ছিলেন বলে নিশ্চিত করা হয়।

    অন্যদিকে ১ লাখ ১৩ হাজার ৫০৭ জনের পরিচয় যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং ৪ হাজার ২৪১ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে ফেরত নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে নেপিদো।

    মিয়ানমারের জান্তা সরকার জানায়, ২০১৮ সালের দ্বিপাক্ষিক প্রত্যাবাসন চুক্তি বাস্তবায়নে ২০২১ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং পরবর্তীতে আরাকান আর্মির সাথে সামরিক বাহিনীর তীব্র সশস্ত্র সংঘাত বড় বাধা হিসেবে কাজ করেছে। রাখাইনে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হলে নিবন্ধিত ৩ লাখের বেশি নাগরিককে ফেরত নিতে ঢাকার সাথে আলোচনা চালু রাখা হবে।

    বর্তমানে কক্সবাজার ও ভাসানচরে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা অনিশ্চিত জীবন যাপন করছেন। টানা শরণার্থী জীবনের হতাশা ও আন্তর্জাতিক সাহায্য কমে যাওয়ায় অনেকেই এখন সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় পাড়ি জমানোর চেষ্টা করছেন।

    সম্প্রতি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম কূটনীতির মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরাতে সমঝোতার কথা উল্লেখ করলেও, মিয়ানমার জানায় নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়া সাপেক্ষেই কেবল এই নিবন্ধিত অধিবাসীদের ফেরত নেওয়া হবে।

  • বিএনপির শূন্য মহাসচিব পদে কে আসছেন?

    বিএনপির শূন্য মহাসচিব পদে কে আসছেন?

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পদত্যাগ করায় বিএনপির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মহাসচিব পদটি শূন্য হয়ে গেছে। রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ার পর তিনি মহাসচিব ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যপদ থেকে সরে দাঁড়ান। এতে এই পদ কাকে দিয়ে পূরণ করা হবে তা নিয়ে দলের ভেতরে-বাইরে আলোচনা এখন তুঙ্গে।

    মহাসচিব পদে আসতে বিএনপির অনেক সিনিয়র নেতাই আগ্রহী। তারা ভেতরে ভেতরে লবিংও করছেন। তবে মহাসচিব বেছে নেওয়ার দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকেই নিতে হবে।

    অতীতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব থেকে যেভাবে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ছিলেন, সেই আদলে বর্তমানে রুহুল কবির রিজভীকে অনেকেই ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসাবে বিবেচনা করছেন। তবে এখন পর্যন্ত দলের পক্ষ থেকে কারও নাম চূড়ান্ত করা হয়নি। তবে রিজভীকে শনিবার (১৫ আগস্ট) স্থায়ী কমিটির সদস্য পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।

    এদিন চার নেতাকে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য করা হয়। তারা হলেন—রুহুল কবির রিজভী, আমান উল্লাহ আমান, ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার ও ইসমাইল জবিউল্লাহ।

    এখন মহাসচিব পদটিতে তারেক রহমান কাকে বেছে নেন সেটি দেখার অপেক্ষায় দলের নেতাকর্মীরা। এই পদের দৌড়ে সিনিয়র নেতাদের একটি অংশ সক্রিয় রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কার পক্ষে যায় তা পুরোপুরি নির্ভর করছে দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর।

    রিজভী ছাড়াও মহাসচিব পদে আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহউদ্দিন আহমেদ। দলের একটি অংশ চাচ্ছে স্থায়ী কমিটি থেকে কাউকে মহাসচিব করতে। তাদের যুক্তি এতে দলের ভারসাম্য রক্ষা হবে। আমির খসরু ও সালাহউদ্দিন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দুটি মন্ত্রণালয় সামলাচ্ছেন।

    রুহুল কবির রিজভীকে স্থায়ী কমিটির সদস্য করায় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের পদটি ফাঁকা হয়েছে। এই পদেও অন্তত তিনজন নেতা আলোচনায়। তারা হলেন—যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী, হাবিব উন নবী খান সোহেল, রকিবুল ইসলাম বকুল। তিনজনই সাবেক ছাত্রনেতা।

    এদিকে এই সরকারের প্রথম ৬ মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে ১৬ আগস্ট। অন্যদিকে, ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে রাষ্ট্রপতি হিসাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথ নেবেন ২০ অথবা ২১ আগস্ট।

    দায়িত্বশীল সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতির শপথগ্রহণের পরপরই বর্তমান মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন করা হতে পারে। এ নিয়ে বর্তমানে বিএনপির সর্বস্তরে আলোচনা ও গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হতে আগ্রহীদের মধ্যে যেমন অস্থিরতা তৈরি হয়েছে; তেমনি অস্থিরতা বিরাজ করছে বাদ পড়ার আশঙ্কায় থাকা মন্ত্রীদের মধ্যেও। উভয়পক্ষই প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের প্রভাশালী কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সিনিয়র মন্ত্রী ও নেতাদের কাছে দৌড়ঝাঁপ করে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছেন।

    আগ্রহীরা তদবির করছেন মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে; আর বাদ পড়ার আশঙ্কায় থাকা মন্ত্রীরা চেষ্টা চালাচ্ছেন টিকে থাকতে।

  • ভেড়ামারায় ইউপি চেয়ারম্যান ও তার ভাই গ্রেপ্তার

    ভেড়ামারায় ইউপি চেয়ারম্যান ও তার ভাই গ্রেপ্তার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী যুবলীগের উপজেলা সহসভাপতি সোহেল রানা পবন এবং তাঁর ভাই ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি রুবেল মাহমুদ রতনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে কুচিয়ামোড়া বাজারসংলগ্ন ইউনিয়ন পরিষদের পাশ থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

    ভেড়ামারা থানা সূত্রে জানা গেছে, পবন ও রতন দীর্ঘদিন ধরে গোপনে দলীয় কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন বলে পুলিশের কাছে তথ্য ছিল। ১৫ আগস্ট উপলক্ষে তাঁরা গোপনে নেতাকর্মীদের সংগঠিত করার চেষ্টা করছেন এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালায় পুলিশ। পরে ভেড়ামারা থানা ও কুচিয়ামোড়া ক্যাম্পের পুলিশ সদস্যরা ইউনিয়ন পরিষদের পাশ থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যান।

    কুচিয়ামোড়া ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. আব্দুস সালাম বলেন, শুক্রবার রাতে ইউনিয়ন পরিষদের পাশে পবন ও তাঁর ভাই রতনের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ১৫ আগস্ট উপলক্ষে খিচুড়ি রান্না করছিলেন। তাঁদের সংগঠিত হওয়ার তথ্য পেয়ে ভেড়ামারা থানা পুলিশের সহযোগিতায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহম্মদ জাহেদুর রহমান বলেন, তাঁরা দুজনই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সক্রিয় নেতা ছিলেন। সংগঠিত হওয়ার খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • টানা তিন দফা বাড়ার পর কমল স্বর্ণের দাম

    টানা তিন দফা বাড়ার পর কমল স্বর্ণের দাম

    দেশের বাজারে টানা তিন দফা বাড়ার পর এবার স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমানো হয়েছে। এতে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা।

    শুক্রবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন দাম ঘোষণা করে বাজুস। সকাল ১০টা থেকে নতুন এ দাম কার্যকর হয়েছে।

    বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম কমেছে। এ কারণে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

    বিভিন্ন মানের স্বর্ণের নতুন দাম

    নতুন দর অনুযায়ী, ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৪ হাজার ৬৫ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯২ হাজার ৩৯৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    এ ছাড়া সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৭ হাজার ১৭২ টাকা করা হয়েছে।

    পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছে বাজুস। তবে অলঙ্কারের নকশা অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে।

    বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্বর্ণালঙ্কার ও রৌপ্যালঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট নেওয়া যাবে না। এ ছাড়া নির্ধারিত ভ্যাট, মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে বাজুসের আগের নিয়ম বহাল থাকবে।

    এক দিন আগেই বেড়েছিল দাম

    এর আগে সর্বশেষ গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সেদিন ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ১৩৩ টাকা বাড়ানো হয়। ফলে ভ্যাটসহ প্রতি ভরির দাম দাঁড়িয়েছিল ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৭৯ টাকা।

    সেদিন ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ২৬ হাজার ১৬৫ টাকা। ১৮ ক্যারেটের দাম ছিল ১ লাখ ৯৪ হাজার ২৬০ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩০ টাকা। ওই দামও সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছিল।

    ১০৩ বার সমন্বয় এ বছর

    চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ১০৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছে বাজুস। এর মধ্যে ৫১ দফা দাম বাড়ানো হয়েছে। সমানসংখ্যক ৫১ দফা দাম কমানো হয়েছে। আর এক দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে।

    গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়। কমানো হয়েছিল ২৯ বার।

  • ভারতের সঙ্গে সীমান্ত চুক্তির দলিল হারিয়ে ফেলেছে নেপাল

    ভারতের সঙ্গে সীমান্ত চুক্তির দলিল হারিয়ে ফেলেছে নেপাল

    ভারতের সঙ্গে সীমান্তসংক্রান্ত বিরোধের আইনি ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত ১৮১৬ সালের ঐতিহাসিক ‘সুগৌলি চুক্তি’র মূল দলিল নেপালের কাছে আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে পারছে না দেশটির সরকার। নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল দেশটির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় ইঙ্গিত দিয়েছেন, ১৮১৬ সালের সুগৌলি চুক্তির মূল স্বাক্ষরিত দলিলটি সরকারের হেফাজতে রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

    নেপালের জাতীয় আর্কাইভে কিছু কাগজপত্র থাকলেও সরকারের বিভিন্ন বিভাগে অনুসন্ধানের পরও চূড়ান্ত ও মূল সনদটির অবস্থান শনাক্ত করা যায়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

    পার্লামেন্টে শিশির খানাল বলেন, ‘আমাদের কাছে চুক্তিপত্রটি রয়েছে কি না, সে বিষয়ে নেপাল সরকারের কাছে কোনো স্পষ্ট তথ্য নেই। জাতীয় আর্কাইভে নির্দিষ্ট কিছু চুক্তির দলিল রাখার রেকর্ড দেখা গেলেও সেগুলোই যে আসল এবং মূল সনদপত্র, তা নিয়ে আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।’

    এর আগে ২০১৯ সালে নেপালের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রদীপ গাওয়ালী দাবি করেছিলেন, চুক্তির অনুলিপি বা কপিগুলো নেপালের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

    ১৮১৪ থেকে ১৮১৬ সাল পর্যন্ত চলা অ্যাংলো-নেপাল যুদ্ধের পর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সঙ্গে ১৮১৬ সালে এই সুগৌলি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এটিই নেপালের আধুনিক ভৌগোলিক সীমানার মূল আইনি ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পক্ষে লেফটেন্যান্ট কর্নেল প্যারিস ব্র্যাডশ ও নেপালের রাজা গিরবাণ যুদ্ধ বিক্রম শাহের পক্ষে রাজগুরু গজরাজ মিশ্র এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

    তবে সুগৌলি চুক্তিটি ছিল ভারতের স্বাধীনতার আগের সময়ের একটি দলিল। ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় পররাষ্ট্র সম্পর্ক মূলত অন্যান্য দলিলের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়ে আসছে। তবে সীমান্ত বিরোধের ক্ষেত্রে সুগৌলি চুক্তিটি এখনো মৌলিক ভিত্তি হিসেবে রয়ে গেছে। বর্তমানে ভারত-নেপাল সীমান্তব্যবস্থা ১৯৫০ সালের ‘ভারত-নেপাল শান্তি ও মৈত্রী চুক্তি’ এবং যৌথ দ্বিপক্ষীয় ওয়ার্কিং গ্রুপের কারিগরি দলিলের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।

    বর্তমানে দুই দেশের সীমানাকেন্দ্রিক মূল বিরোধ গ্রেটার হিমালয়ের কালাপানি অঞ্চল নিয়ে, যা ভারতের ভৌগোলিক সীমানার ভেতরে অবস্থিত। ২০১৯ সালে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নতুন মানচিত্র প্রকাশ করলে নেপাল তাতে আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানায়। কাঠমান্ডুর দাবি অনুযায়ী, ওই অঞ্চল তাদের সুদূরপশ্চিম প্রদেশের দারচুলা জেলার অংশ হিসেবে চিহ্নিত।

    ভারত ও চীনের মধ্যে লিম্পিয়াধুরা-লিপুলেখ পাস দিয়ে বাণিজ্যপথ পুনরায় চালুর সমঝোতা হওয়ার পর থেকে ভারত-নেপাল সীমান্ত বিরোধ নতুন করে তীব্র রূপ নেয়। নেপাল দাবি করে আসছে—লিপুলেখ, লিম্পিয়াধুরা ও কালাপানি তাদের ভূখণ্ড। অন্যদিকে ভারতের অবস্থান হচ্ছে, এই অঞ্চলগুলো তাদের নিজেদের উত্তরাখন্ড রাজ্যের অংশ।

    চলতি বছরের জুনে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ দাবি করেন, ভারতের বিরুদ্ধে নেপালের ভূখণ্ড দখলের অব্যাহত অভিযোগের মধ্যেই হিমালয়ের কোলঘেঁষা এই দেশ নিজেরাও বিভিন্ন স্থানে ভারতীয় ভূখণ্ড দখল করে রেখেছে।

    তবে নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরে জানায়, লিম্পিয়াধুরা, লিপুলেখ, কালাপানিসহ বিতর্কিত সীমান্ত এলাকা নিয়ে কাঠমান্ডুর আনুষ্ঠানিক অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। পাশাপাশি ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক আলোচনা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমেই এই অমীমাংসিত সীমান্ত সমস্যাগুলো নিরসন করা হবে বলে জানানো হয়। পরে নেপালের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়, তারা সমস্যাটি দীর্ঘায়িত না করে দ্রুত সমাধান চায় এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগ্রহী।

    সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল বলেন, ‘নেপাল অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে আমাদের প্রতিবেশী দুই দেশের সমৃদ্ধিকে স্বাগত জানায়। সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, পারস্পরিক সম্মান, পারস্পরিক সুবিধা এবং একে অপরের বৈধ স্বার্থ ও উদ্বেগের প্রতি সংবেদনশীলতার ভিত্তিতে নেপাল দুই দেশের সঙ্গেই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করতে চায়।’

  • গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল ১২ কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ চান ব্যবসায়ীরা

    গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল ১২ কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ চান ব্যবসায়ীরা

    গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় তৈরি পোশাক শিল্পের জুলাই ও আগস্ট মাসের গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল এককালীন পরিশোধে ছাড় চেয়েছে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)। সংগঠনটি ওই দুই মাসের বিল আগামী ১২ মাসে সমান কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছে।

    এ বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদকে চিঠি দিয়েছেন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। গত ৯ আগস্ট দেওয়া চিঠিতে তিনি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার জন্য মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

    চিঠিতে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জুলাই ও আগস্ট মাসে গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সংকটে দেশের অধিকাংশ শিল্পকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বিশেষ করে খোলা সিলিন্ডার বা ক্যাসকেড সিলিন্ডারের মাধ্যমে শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় অনেক কারখানা স্বাভাবিক উৎপাদন চালাতে পারেনি।

    উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে রফতানি আদেশ, শ্রমিকের কর্মসংস্থান এবং ব্যবসার ধারাবাহিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় অনেক কারখানা বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করতে বাধ্য হয়েছে। এ জন্য ডিজেল, এলপিজি ও অন্যান্য জ্বালানি নগদ অর্থে কিনতে হয়েছে। এসব অতিরিক্ত ব্যয় কারখানাগুলোর নির্ধারিত উৎপাদন ব্যয়ের মধ্যে ছিল না।

    বিকেএমইএ বলছে, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে একদিকে উৎপাদন কমেছে, অন্যদিকে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারে উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে একই সময়ে গ্যাস ও বিদ্যুতের বিপুল পরিমাণ বিল এককালীন পরিশোধ করা শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।

    সংগঠনটির মতে, এই পরিস্থিতিতে বিল পরিশোধের জন্য অতিরিক্ত সময় দেওয়া হলে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো কিছুটা আর্থিক চাপ সামাল দিতে পারবে। এতে উৎপাদন ও রফতানি কার্যক্রম সচল রাখার পাশাপাশি শ্রমিকদের কর্মসংস্থানও সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হবে।

    চিঠিতে মোহাম্মদ হাতেম বলেন, রফতানি কার্যক্রম সচল রাখা, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থান সুরক্ষার স্বার্থে জুলাই ও আগস্ট মাসের গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল আগামী ১২ মাসে সমান কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

    এ জন্য সংশ্লিষ্ট দফতর ও সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার জন্য মন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানিয়েছে বিকেএমইএ।

    চিঠির অনুলিপি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি), বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড এবং ঢাকা ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (ডেসকো) ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

    শিল্প উদ্যোক্তাদের আশঙ্কা, চলমান জ্বালানি সংকটের মধ্যে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার সঙ্গে যদি বাড়তি বিলের আর্থিক চাপও যুক্ত হয়, তাহলে অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তাই সংকটকালীন সময়ে বিল পরিশোধে কিস্তির সুযোগ দিলে শিল্পকারখানাগুলোকে টিকিয়ে রাখা এবং রফতানি আয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সহজ হবে বলে মনে করছে বিকেএমইএ।

  • রামিসা হত্যা মামলায় আসামিদের ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টের তালিকায়

    রামিসা হত্যা মামলায় আসামিদের ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টের তালিকায়

    রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনের আপিল ও ডেথ রেফারেন্স শুনানির জন্য হাইকোর্টের কার্যতালিকায় এসেছে।

    রোববার (১৬ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে মামলাটি কার্যতালিকায় ২২ নম্বর ক্রমিকে রাখা হয়েছে।

    মামলার বিবরণী অনুসারে, রামিসার বাবা তার পরিবারের লোকজন নিয়ে পল্লবী থানাধীন এলাকায় একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া বাসায় থেকে বনানীতে একটি বেসরকারি অফিসে চাকরি করেন। আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারও একই বাসার অন্য ফ্ল্যাটে থাকতেন। ভিক্টিম রামিসা পপুলার মডেল হাইস্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণিতে লেখাপড়া করতো।

    গত ১৯ মে রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। হত্যার পর রুমের জানালার গ্রিল কেটে ১ নং আসামি সোহেল রানা পালিয়ে যায়। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে আসামি স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। আর নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়।

    এ ঘটনায় রামিসার বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি মামলা করেন। গত ২১ মে সেই মামলায় সোহেল রানা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দেন। এরপর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

    গত ২৫ মে আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান। ওইদিনই মামলাটি পরবর্তী বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।

    গত ১ জুন দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। পর দিন ২ জুন মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ১৬ জন সাক্ষ্য দেন। এর মাধ্যমে একদিনেই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এরপর ৩ জুন ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামিদের পরীক্ষা করা হয়।

    গত ৭ জুন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন।

    রায়ে ট্রাইব্যুনাল বলেছেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৬৮ ধারা মোতাবেক আসামিদের মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত গলায় ফাঁসি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখতে হবে। আর ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা মোতাবেক হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে।

    এছাড়া আসামি সোহেলকে ৫ লাখ ও স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারকে দিতে বলা হয়েছে।

    জরিমানার টাকা না দিলে কালেক্টরেট অফিসকে তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও তা বিক্রি করে রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারদের প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    হত্যাকাণ্ডের ১৯ দিনের মাথায় এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।

    এরপর রামিসা হত্যায় আসামিদের মৃত্যুদণ্ডের ডেথ রেফারেন্স (যাবতীয় নথি) হাইকোর্টে এসে পৌঁছে। তারপর দুই আসামি হাইকোর্টে জেল আপিল করেন।

  • চুনারুঘাটে আ.লীগের ৬৪ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

    চুনারুঘাটে আ.লীগের ৬৪ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

    হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৬৪ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।শনিবার দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন চুনারুঘাট থানার ওসি সাইফুল ইসলাম। তিনি জানান, থানার এসআই সুমন মিয়া বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

    মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে চুনারুঘাট থানাধীন মিরাশী ইউনিয়নের পূর্ব পাকুরিয়া গ্রামে ইউপি চেয়ারম্যান মানিক সরকারের বাড়িতে আসামিরা দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে মানিক সরকারকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় অন্য আসামিরা পালিয়ে যান।

    মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন—উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মানিক সরকার, সভাপতি আকবর হোসেন জিতু, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার আলী, সহসভাপতি মো. রজব আলী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওয়াহিদ আলী, সাইফুল ইসলাম রুবেল ও সজল দাশ, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান রিপন, সভাপতি রাসেল মিয়া, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম রুবেল, পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি সম্রাট মিয়া, উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মর্তুজ সরদার এবং উপজেলা তাঁতী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বাবুল।

    এছাড়া উপজেলা যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, তাঁতী লীগ এবং বিভিন্ন ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীর নামও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

    হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৬৪ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

    শনিবার দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন চুনারুঘাট থানার ওসি সাইফুল ইসলাম। তিনি জানান, থানার এসআই সুমন মিয়া বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

    মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে চুনারুঘাট থানাধীন মিরাশী ইউনিয়নের পূর্ব পাকুরিয়া গ্রামে ইউপি চেয়ারম্যান মানিক সরকারের বাড়িতে আসামিরা দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে মানিক সরকারকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় অন্য আসামিরা পালিয়ে যান।

    মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন—উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মানিক সরকার, সভাপতি আকবর হোসেন জিতু, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার আলী, সহসভাপতি মো. রজব আলী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওয়াহিদ আলী, সাইফুল ইসলাম রুবেল ও সজল দাশ, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান রিপন, সভাপতি রাসেল মিয়া, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম রুবেল, পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি সম্রাট মিয়া, উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মর্তুজ সরদার এবং উপজেলা তাঁতী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বাবুল।

    এছাড়া উপজেলা যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, তাঁতী লীগ এবং বিভিন্ন ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীর নামও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

  • আকিকার গোশত দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নারীর অলংকার ছিনতাই, যুবক আটক

    আকিকার গোশত দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নারীর অলংকার ছিনতাই, যুবক আটক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় আকিকার গোশত দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীর কাছ থেকে স্বর্ণ ও রুপার অলংকার ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগে সম্রাট (২৭) নামে এক যুবকে আটক করেছে স্থানীয়রা। পরে তাকে অটোরিকশাসহ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

    শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার ভাগ্যকুল কবুতরখোলা মাদরাসার পাশে এ ঘটনা ঘটে।

    আটক সম্রাট মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার জসিলদিয়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি অটোরিকশা চালান। তার বাবার নাম জানা যায়নি।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার চর জানাজা খাসের হাট এলাকার বাসিন্দা আমেনা (৬০) একটি বাড়িতে কাজের উদ্দেশ্যে কবুতরখোলা মাদবরবাড়ি এলাকায় আসেন। তবে যে বাড়িতে তিনি কাজ করতে এসেছিলেন, সেটির মালিকের নাম বলতে না পারায় অটোরিকশাচালক সম্রাট তাকে কৌশলে আকিকার গোশত দেয়ার কথা বলে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান।

    সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে আমেনার সাথে থাকা স্বর্ণের কানের দুল, রুপার চেইন ও হাতের চুড়ি নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। এ সময় স্থানীয় লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে সম্রাটকে অটোরিকশাসহ আটক করেন। পরে শ্রীনগর থানা পুলিশকে খবর দেয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়।

    শ্রীনগর থানার পুলিশ উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোয়াজ্জেম বলেন, স্থানীয়রা এক যুবককে আটক করে পুলিশে খবর দেয়া হয়। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়া হয়। আটক ব্যক্তির কাছ থেকে একটি রুপার চেইন উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • গুম-খুন-নির্যাতনের শিকার পরিবারগুলোকে সহায়তায় আলাদা অধিদপ্তর: মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী

    গুম-খুন-নির্যাতনের শিকার পরিবারগুলোকে সহায়তায় আলাদা অধিদপ্তর: মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী

    গত ১৭ বছরে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার পরিবারগুলোকে মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান। তিনি বলেন, এসব পরিবারের জন্য নতুন করে একটি অধিদপ্তর করা হবে এবং তাদের গেজেটভুক্ত করে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হবে।

    আজ শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আহমেদ আজম খান এসব কথা বলেন। বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি ফাউন্ডেশন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

    আহমেদ আজম খান বলেন, ‘নির্যাতিতদের পরিবারগুলোর জন্য সরকার কিছু করতে চায়। এ-সংক্রান্ত নতুন করে একটি অধিদপ্তর করা হবে এবং তাদের গেজেটভুক্ত করে স্বীকৃতি দেওয়া হবে।’

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানে যারা গ্যাজেটভুক্ত হওয়ার কথা…অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় তড়িঘড়ি করে সেটা ক্লোজ করে দিয়েছে। কিন্তু আমরা বঞ্চিতদের মূল্যায়ন করতে সেটা আবার ওপেন করেছি। মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে বিএনপির অনেক লোককে বাদ দেওয়া হয়েছে। ফ্যাসিবাদী শক্তি যাদের বঞ্চিত করেছে, আমরা তাদের মূল্যায়ন করব।’

    বর্তমান গ্যাস, জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সংকটকে বিগত সরকারের রেখে যাওয়া সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আজ বিরোধী দল এই ৫ মাসেই বলছেন আমরা ব্যর্থ। অথচ ১৮ বছরের জঞ্জাল পরিষ্কার করা তো ১৮ মাসেও সম্ভব নয়। আজকের বিদুৎ, গ্যাস ও অর্থনৈতিক সংকট এগুলো কি আমাদের তৈরি? এগুলো ফ্যাসিবাদী সরকারের তৈরি।’

    মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বদ্ধপরিকর যে, এ দেশকে বিনির্মাণ করবেন। কিন্তু যারা নানা রকম ষড়যন্ত্র করছে তাদের বলব, আপনারা আওয়ামী রেজিমে যাবেন না।’ তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর এই দেশকে বিনির্মানে নেতৃত্বে আসা একজন ব্যক্তির প্রতি মানুষের প্রত্যাশা ছিল, তবে তিনিও যেমন নিন্দিত হয়ে বিদায় নিয়েছেন, তাঁর কন্যাও তেমন নিন্দিত, ফ্যাসিবাদী হয়ে বিদায় নিয়েছেন। অপরদিকে আরেকটি পরিবার জিয়াউর রহমান নিজের জীবন বাজি রেখে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। আরাম করে জীবন উপভোগ করেননি, লড়াই করে স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। তিনি ভগ্ন বাহিনীকে নতুন করে গঠন করেছেন। যার প্রতি মানুষের আশা থাকবার কথা ছিল না, তার জীবনের কর্ম দিয়ে মানুষের মনে আশা জাগিয়েছেন।

    মন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়া জীবিতকালে যেমন ইতিহাস ছিলেন, মৃত্যুর পরও ইতিহাস হয়ে আছেন। দেড় কোটির বেশি মানুষ তাঁর জানাযায় উপস্থিত হয়েছেন। ১০ কোটির বেশি মানুষ টিভিতে জানাজা দেখেছেন। আর ১৫ কোটি মানুষ ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন বলেছেন। এমন জনপ্রিয়তা পৃথিবীর ইতিহাসে একটা বিরল ঘটনা। যতবার নির্বাচনে এসেছেন, তিনি ততবারই মানুষের ভালোবাসা পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।’

    সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। তিনি বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া হচ্ছেন একটা অসমাপ্ত ইতিহাস…আমরা যারা উনার সাথে কাজ করেছি, তারা সবাই উনার কাছে মায়ের মতো ভালোবাসা পেয়েছি। আমার মায়ের মৃত্যুবার্ষিকীতে উনার সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম। তখন উনি বলেছিলেন, “আলাল তোমার মা মারা গেছে তুমি জেলে থাকতে, আমার মাও মারা গেছে আমি জেলে থাকতে।” এই কথা শুনে আমার মন শান্ত হয়ে গেছিল। শোক ভুলে গিয়েছিলাম।’

    বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এম জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য শিরিন সুলতানা ও সেলিনা সুলতানা নিশিতা; বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাছের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ ও কৃষকদের সহসভাপতি জামাল উদ্দিন খান মিলন।

  • খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকীতে বায়তুল মোকাররমে বিশেষ দোয়া

    খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকীতে বায়তুল মোকাররমে বিশেষ দোয়া

    সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন মরহুম বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শনিবার বাদ জোহর আয়োজিত দোয়া ও মোনাজাতে বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়। একইসঙ্গে তার জীবনের ভুলত্রুটি ক্ষমা করে মহান আল্লাহ তায়ালা যেন তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন- এ কামনা করা হয়।

    এছাড়া দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি, সার্বভৌমত্ব ও কল্যাণ এবং বাংলাদেশের মানুষের সুখ-শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য মহান আল্লাহর রহমত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

    দোয়া ও মোনাজাতে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের ইমাম, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, মুসল্লি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

    মোনাজাত পরিচালনায় বায়তুল মোকাররমের পেশ ইমাম মুফতি মহিউদ্দিন কাসেম বেগম খালেদা জিয়ার রূহের মাগফিরাত, কবরের শান্তি এবং পরকালীন জীবনে মহান আল্লাহর বিশেষ রহমত কামনা করেন। একইসঙ্গে তার পরিবারের সদস্য, স্বজন, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের জন্যও দোয়া করা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করে দোয়া করা হয়।

  • বিরোধীদলের এমপিদের আসনে উন্নয়ন বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জামায়াত নেতাদের

    বিরোধীদলের এমপিদের আসনে উন্নয়ন বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জামায়াত নেতাদের

    বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের নির্বাচনি এলাকায় উন্নয়ন বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতারা। তারা বলেন, যে রক্তের ওপর দিয়ে বর্তমান সরকার গঠিত হয়েছে, সেই রক্তের মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে সরকার জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

    শুক্রবার রাজধানীর মগবাজার আল- ফালাহ মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী উত্তর হাতিরঝিল অঞ্চলের উদ্যোগে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী দায়িত্বশীল শিক্ষাশিবিরের সমাপনী অধিবেশনে বক্তারা এসব কথা বলেন।

    বক্তারা বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নিরসন এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। চাঁদাবাজি ও লুটপাটের কারণে জনগণ বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। অবিলম্বে এসব সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

    বৃহস্পতি ও শুক্রবার অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী এ শিক্ষাশিবিরে থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের দায়িত্বশীলরা অংশ নেন।

    জামায়াতের হাতিরঝিল অঞ্চল পরিচালক হেমায়েত হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সহকারী অঞ্চল পরিচালক আতাউর রহমান সরকারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি।

    বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মাসুম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য আব্দুর রব, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জাহিদুর রহমান ও ড. মাওলানা আব্দুস সামাদ এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ড. মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বাশার।

    শিক্ষাশিবিরে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা, মেধা যাচাই, গ্রুপ ডিসকাশন, দারসুল কুরআন ও দারসুল হাদিসসহ বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

  • ঘাটাইলে অস্ত্র ঠেকিয়ে ইটভাটায় ডাকাতি

    ঘাটাইলে অস্ত্র ঠেকিয়ে ইটভাটায় ডাকাতি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে এক ইটভাটায় সংঘবদ্ধ ডাকাত দল ভাটার ম্যানেজার স্বপনকে পিস্তল ঠেকিয়ে জিম্মি ও চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে অজ্ঞান করে নগদ টাকা, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারসহ কয়েক লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে।

    শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার ধলাপাড়া ইউনিয়নের রূপসা ইটভাটায় এ ঘটনা ঘটে।

    পুলিশ ও ইটভাটা সূত্রে জানা গেছে, রাতে একদল অস্ত্রধারী ডাকাত রূপসা ইটভাটার অফিসে অতর্কিতভাবে প্রবেশ করে। ডাকাত দলের সদস্যরা ভেতরে ঢুকেই দায়িত্বরত ম্যানেজার স্বপনকে পিস্তল ঠেকিয়ে জিম্মি করে ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। একপর্যায়ে তাকে জোরপূর্বক ঘুমের ওষুধ মেশানো পানি পান করানো হয়। ম্যানেজার অচেতন হয়ে পড়লে ডাকাতচক্র অফিসে তাণ্ডব চালায়। তারা অফিসের ড্রয়ার ভেঙে নগদ টাকা ও ইটভাটার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও নথি লুট করে নেয়। ইটভাটার আহত ম্যানেজার স্বপন টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধিন রয়েছে।

    ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মোকছেদুর রহমান জানান, ঘটনাটি শুনার পর পরই ধলাপাড়া ফাঁড়ির দায়িত্বে থাকা ইনচার্জকে অবগত করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব: আইনমন্ত্রী

    ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব: আইনমন্ত্রী

    আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা মানবাধিকার নিশ্চিত করারই অংশ। প্রত্যেক মানুষের কিছু অবিচ্ছেদ্য, সহজাত ও সার্বজনীন অধিকার রয়েছে। নাগরিকরা যাতে এসব অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

    আজ শনিবার সকালে গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরে ব্র্যাক-সিডিএম-এ বিচারক, লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অংশগ্রহণে ‘অ্যাক্সেলারেটিং ডিজিটাল লিগ্যাল এইড সার্ভিসেস ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের দুই দিনব্যাপী সমন্বয় সভার উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    সভায় আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হচ্ছে সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে ডিজিটাল আইনি সহায়তা কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়া। এ লক্ষ্যে নয়টি জেলায় ৫৭টি উপজেলা লিগ্যাল এইড কমিটি এবং ৪১৩টি ইউনিয়ন লিগ্যাল এইড কমিটির কার্যক্রম আরও কার্যকর ও সমন্বিত করার বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। জেলাগুলো হলো— রাজবাড়ী, হবিগঞ্জ, বরগুনা, নেত্রকোনা, জয়পুরহাট, ঠাকুরগাঁও, ঝিনাইদহ, খাগড়াছড়ি ও বগুড়া। এসব কমিটিকে তৃণমূল পর্যায়ে আইনি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে দরিদ্র, নারী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও অন্যান্য সুবিধাবঞ্চিত মানুষ সহজে আইনি পরামর্শ ও সহায়তা পান এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আদালতে যাওয়ার আগেই মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ পান।

    আইনমন্ত্রী বলেন, ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার শুধু কোনো বিরোধ নিষ্পত্তি বা মধ্যস্থতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর মূল লক্ষ্য হলো প্রত্যেক নাগরিকের মানবাধিকার সংরক্ষণ, সুরক্ষা ও নিশ্চিত করা। এমনকি গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিরও আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার রয়েছে এবং রাষ্ট্রকে তা নিশ্চিত করতে হবে।

    তিনি বলেন, বিচারককে শুধু আইনের কালো অক্ষরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। মামলার বাস্তবতা, সামাজিক প্রেক্ষাপট ও ন্যায়বিচারের উদ্দেশ্য বিবেচনায় নিয়ে আইনের ব্যাখ্যা করতে হবে। বিচারিক কর্মকর্তাদের সর্বোপরি জনগণের সেবা করতে হবে।

    তিনি বলেন, যেসব লিগ্যাল এইড অফিসার নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে আইনগত সহায়তা সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে অসাধারণ ও অনুকরণীয় ভূমিকা রাখবেন, তাদের যথাযথভাবে মূল্যায়ন ও উৎসাহিত করার লক্ষ্যে দেশের আটটি বিভাগের প্রতিটি থেকে একজন করে মোট আটজন ‘সেরা লিগ্যাল এইড অফিসার’-কে স্বীকৃতি প্রদানের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেন।

    এছাড়া বিচার বিভাগে কর্মরত কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে সারাদেশের ২০ জন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার অসাধারণ ও অনুকরণীয় কর্মসম্পাদন মূল্যায়নের মাধ্যমে তাদের স্বীকৃতি প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের কথাও তিনি বলেন।

    তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এ ধরনের স্বীকৃতি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কর্মসম্পাদনে উৎসাহ বৃদ্ধি, আর্থিক প্রণোদনা প্রদান এবং পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ পদায়নের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার প্রদানের বিষয়টি বিবেচনার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

    ডিজিটালাইজেশনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে আইনি সহায়তা সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি আবেদন গ্রহণ, মামলার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ আরও সহজ করা সম্ভব। তবে এ ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহারের সম্ভাব্য ঝুঁকিও বিবেচনায় নিতে হবে।

    সভায় আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০-এর ২০২৬ সালের সংশোধনীর আলোকে অনলাইন বিরোধ নিষ্পত্তি (ODR) ব্যবস্থা প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ এবং মধ্যস্থতার সঙ্গে ডিজিটাল আইনি সহায়তা ব্যবস্থার সমন্বয় নিয়েও আলোচনা হয়। ডিজিটাল লিগ্যাল এইড সিস্টেমের নকশা, উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন এবং এ বিষয়ে পরিচালিত গবেষণার ফলাফলও উপস্থাপন করা হয়।

    আইনমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে প্রায় ৪৫ লাখ বিচারাধীন মামলা রয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে। এ ক্ষেত্রে লিগ্যাল এইড, মধ্যস্থতা, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও বিচারিক কার্যক্রমের সমন্বিত ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মঞ্জুরুল হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ইউএনডিপি বাংলাদেশের সিনিয়র রুল অব ল, জাস্টিস অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার রোমানা শোয়েগার, বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স বাইবা জারিনা এবং আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা বক্তব্য রাখেন।

    আগামীকাল (১৬ আগস্ট) সভার দ্বিতীয় দিনে জেলা ও দায়রা জজরা প্রশিক্ষণ, লিগ্যাল এইড কমিটির কার্যক্রম, আইনি সহায়তা-সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ ও প্রতিবেদন প্রণয়ন বিষয়ে আলোচনা করবেন। নারী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও দারিদ্র্যপীড়িত মানুষের জন্য বিচারিক সেবা ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হবে এবং ডিজিটাল সেবা উন্নয়নের ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হবে।

  • আনারস চাষে বাম্পার ফলন

    আনারস চাষে বাম্পার ফলন

    মধুপুর উপজেলা ঘেঁষা ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার নাওগাঁও ও রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের কৃষকদের অর্থনীতির মূল জোগানদাতা হলো আনারস। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে এ উপজেলার কৃষকরা প্রায় ১২৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকার জলডুগি, ক্যালেন্ডার ও হানিকুইন জাতের আনারস বিক্রি করার সম্ভাবনা রয়েছে।ফুলবাড়িয়া উপজেলার কৃষকরা এখন জলডুগি চাষে বেশি ঝুঁকছেন। এর প্রধান কারণ হলো—এই আনারস চাষে সময়, জমি ও উৎপাদন খরচ কম লাগে এবং অধিক লাভ পাওয়া যায়। যেখানে ক্যালেন্ডার ও হানিকুইন আনারসের ফলন পেতে দেড় বছর অপেক্ষা করতে হয়, সেখানে জলডুগির পূর্ণাঙ্গ ফলন মেলে এক বছরের মধ্যেই। স্বাদ ও গন্ধে অতুলনীয় হওয়ায় বাজারে এর ব্যাপক চাহিদাও রয়েছে।

    উপজেলা কৃষি অফিসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ৭৫০ হেক্টর জমিতে আনারসের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ৩১৫ হেক্টরে জলডুগি, ৪২৫ হেক্টরে ক্যালেন্ডার এবং ১০ হেক্টরে হানিকুইন চাষ হয়েছে। গত বছরের তুলনায় জলডুগির আবাদ ৬৫ হেক্টর বেড়েছে। ৩১৫ হেক্টর জমি থেকে প্রায় ২ কোটি ৫২ লাখ পিস জলডুগি উৎপাদিত হবে। প্রতিটি ফল গড়ে ২৫ টাকা দরে বিক্রি হলে এর বাজারমূল্য দাঁড়াবে ৬৩ কোটি টাকা। অন্যদিকে, ৪২৫ হেক্টর জমিতে উৎপাদিত ১ কোটি ৫৩ লাখ পিস ক্যালেন্ডার আনারস ৪০ টাকা দরে বিক্রি করে ৬১ কোটি ২০ লাখ টাকা আয় হবে। এ ছাড়া হানিকুইনসহ অন্যান্য জাতের ৩ লাখ ৬০ হাজার আনারস থেকে আসবে ১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।

    সন্তোষপুর গ্রামের চাষি সোলমান সরকার ৩ একর জমিতে ৬০ হাজার চারা লাগিয়ে ১১ লাখ টাকার ফল বিক্রি করেছেন। এ ক্ষেত্রে প্রতি ফলের দাম আনুমানিক ১৫ থেকে ১৬ টাকা করে পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নুর মোহাম্মদ জানালেন, চলতি মৌসুমে ৭৫০ হেক্টর জমিতে আবাদ করা আনারস থেকে কৃষকরা ১২৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকার বেশি আয় করবেন বলে তাঁরা আশাবাদী।

  • খণ্ডকালীন শিক্ষক পুল গড়বে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

    খণ্ডকালীন শিক্ষক পুল গড়বে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষক সংকট মোকাবিলায় খণ্ডকালীন শিক্ষক পুল গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষার্থী বিবেচনায় দেশের সর্ববৃহৎ এ প্রতিষ্ঠানটির একাডেমিক কাউন্সিলের ১০৩তম সভায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ পুলে অবসরপ্রাপ্ত যোগ্য ও অভিজ্ঞ শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষ ও বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করা হবে। শনিবার গাজীপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহর সভাপতিত্বে সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মিশন ও ভিশন অনুমোদনসহ শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ কর্মজীবনকে আরও সহজ, কার্যকর ও সময়োপযোগী করতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ৩৪ বছর পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ করা হলো।

    সভায় স্নাতক (সম্মান) কোর্সের ২০১৩-১৪ থেকে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের বিশেষ বিবেচনায় আরও একবার পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া বিভিন্ন কলেজে শিক্ষকসংকট কমাতে বিষয়ভিত্তিক খণ্ডকালীন শিক্ষক পুল গঠনের নীতিমালাও অনুমোদন করা হয়েছে।

    সভায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কিল-বেইজড পিজিডি প্রোগ্রামে ফ্রিল্যান্সিং—গ্রাফিকস ডিজাইন, ভিডিয়ো এডিটিং ও ওয়েব ডিজাইন; কালিনারি সায়েন্স (শেফ) এবং হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিষয় অন্তর্ভুক্তির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে স্নাতক (পাস) ও স্নাতক (সম্মান) প্রোগ্রামের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য ৪ ক্রেডিটের অ্যাপ্লাইড আইসিটি কোর্স এবং প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য ফাংশনাল ইংরেজি কোর্স অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব কোর্সের সিলেবাস ও রেগুলেশন অনুমোদন করা হয়।

    বিশ্ববিদ্যালয় মনে করছে, এসব উদ্যোগের ফলে শিক্ষক সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ও মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করা সহজ হবে। একইসঙ্গে দক্ষতাভিত্তিক ও কর্মমুখী শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা এবং উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

    এছাড়াও সভায় বিসিএসসহ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ৩ বছর মেয়াদি ডিগ্রি (পাস) কোর্স এবং ১ বছর মেয়াদি মাস্টার্স (প্রিলিমিনারি) কোর্স সম্পন্নকারীদের সনদের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়। এ ক্ষেত্রে ৪ বছর মেয়াদি ডিগ্রি সনদ এবং মাস্টার্স প্রিলিমিনারি সনদকে ৪ বছর সমতুল্য ডিগ্রি হিসেবে দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করার লক্ষ্যে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।

    এ ছাড়া সিজিপিএ ২.২৫-এর কম পাওয়া শিক্ষার্থীরা যাতে শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে না পড়েন, সে বিষয়েও আলোচনা হয়। তাঁদের বিশেষ বিবেচনায় মানোন্নয়ন পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব বিবেচনা করা হয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে ৪ বছর মেয়াদি এলএলবি (সম্মান) কোর্সের অধিভুক্তি রেগুলেশন অনুমোদন করা হয়েছে।

    সার্বিক বিষয়ে সভায় ভাইস-চ্যান্সেলর ড. আমানুল্লাহ বলেন, ‘আমাদের প্রতিটি একাডেমিক সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ। একজন শিক্ষার্থী যেন নিজের পড়াশোনা শেষ করে দক্ষতা নিয়ে কর্মজীবনে প্রবেশ করতে পারেন—আমরা সেই জায়গাটিকেই গুরুত্ব দিচ্ছি। অবসর নেওয়া অভিজ্ঞ শিক্ষকদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষ বিশেষজ্ঞদের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষার্থীদের শেখানোর সুযোগ তৈরি করতে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক পুল গঠন করা হচ্ছে।’

    স্কিল-বেইজড পিজিডিতে নতুন বিষয় যুক্ত করার বিষয়ে ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, ‘শুধু প্রচলিত ডিগ্রি যথেষ্ট নয়; শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষেত্রে সরাসরি ব্যবহারযোগ্য দক্ষতা অর্জন করতে হবে। একাডেমিক শিক্ষার সঙ্গে দক্ষতা ও বাস্তবমুখী শিক্ষার সমন্বয়ের মাধ্যমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কর্মবাজারের জন্য প্রস্তুত করার লক্ষ্য রয়েছে।’

  • ধর্মীয় অবমাননায় যুবক আটক

    ধর্মীয় অবমাননায় যুবক আটক

    কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও ধর্ম অবমাননার অভিযোগে রাকিবুল হাসান নামে যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

    শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাতে উপজেলার বাড়েরা ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়।আটক রাকিবুল হাসান উপজেলার বাড়েরা ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রামের মৃত ময়নাল হোসেনের ছেলে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাকিবুল হাসান দীর্ঘদিন ধরে ইসলাম ধর্ম, হিন্দু ধর্মসহ বিভিন্ন ধর্ম নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তিমূলক পোস্ট করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

    অভিযোগে আরও বলা হয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিভিন্ন ছবি সম্পাদনার মাধ্যমে তিনি পবিত্র মক্কা নগরীর কাবা শরিফের সামনে হিন্দু ধর্মীয় সাধক লোকনাথ ব্রহ্মচারীর ছবি সংযোজন করে ফেসবুকে প্রকাশ করেন। ওই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

    পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে চান্দিনা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।

    এ বিষয়ে চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, “ধর্ম অবমাননার অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।”

  • বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হলেন রিজভী, ইসমাইল জবিউল্লাহসহ চারজন

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হলেন রিজভী, ইসমাইল জবিউল্লাহসহ চারজন

    বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে নতুন করে চার নেতাকে সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। দলের সাংগঠনিক গতিশীলতা বাড়ানোর লক্ষ্যে তাদের এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

    নতুন মনোনীত চার নেতা হলেন—অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, মো. আমান উল্লাহ আমান, ফরহাদ হালিম ও মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।

    শনিবার বিএনপির সহদপ্তর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওই চার নেতাকে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।

    বিএনপি আশা প্রকাশ করেছে, নতুন দায়িত্ব পাওয়া নেতারা তাদের মেধা ও বিচক্ষণতার মাধ্যমে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেবেন। পাশাপাশি দল ও জনগণের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণেও তারা ভূমিকা রাখবেন।

  • নারায়ণগঞ্জে ম্যারাথনে দৌড়ের সময় দৌড়বিদের মৃত্যু

    নারায়ণগঞ্জে ম্যারাথনে দৌড়ের সময় দৌড়বিদের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ম্যারাথন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে দৌড়ানোর সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে টিপু সুলতান নামে এক দৌড়বিদের মৃত্যু হয়েছে। আজ শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে সোনারগাঁ রানার্সের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘সোনারগাঁ ৭.৫ কে রান ২০২৬’ প্রতিযোগিতায় এ ঘটনা ঘটে।

    আয়োজক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পানাম নগরের আমিনপুর মাঠ থেকে ৭ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ দৌড় প্রতিযোগিতা শুরু হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রায় ৬০০ দৌড়বিদ এতে অংশ নেন। দৌড়ের প্রায় অর্ধেক পথ অতিক্রম করার পর বালুয়াদীঘির পার এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন টিপু সুলতান।

    ঘটনার পরপরই প্রতিযোগিতার মেডিকেল টিম দ্রুত তাকে উদ্ধার করে সোনারগাঁ সেবা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে মদনপুরের আল বারাকা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক টিপু সুলতানকে মৃত ঘোষণা করেন।

    নিহত টিপু সুলতান (৪০) সোনারগাঁয়ের মোগরাপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী ও ব্যবসায়ী আশরাফ প্রধানের ব্যক্তিগত সহকারী ছিলেন।

    ‘সোনারগাঁ ৭.৫ কে রান ২০২৬’-এর প্রধান আয়োজক শিমুল ভূঁইয়া বলেন, প্রতিযোগিতায় দেশজুড়ে আসা রানারদের সঙ্গে টিপু সুলতানও অংশ নিয়েছিলেন। দৌড়ের সময় অসুস্থ হয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের মেডিকেল টিম তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়। কিন্তু চিকিৎসকেরা চেষ্টা করেও তাকে বাঁচাতে পারেননি।

    ম্যারাথনে দৌড়বিদ টিপু সুলতানের আকস্মিক মৃত্যুতে সহ-দৌড়বিদ ও আয়োজকদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।