নরসিংদী

Narsingdi district

  • নরসিংদীতে বাড়িতে ঢুকে তরুণকে কুপিয়ে হত্যা

    নরসিংদীতে বাড়িতে ঢুকে তরুণকে কুপিয়ে হত্যা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নরসিংদীর মনোহরদীতে এক তরুণকে বাড়িতে ঢুকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

    শনিবার (২২ আগস্ট) সকালে উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের কির্ত্তীবাসদী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন মনোহরদী থানার ওসি জাহাঙ্গীর বাদশা।

    নিহত আকাশ মিয়া (২৩) দৌলতপুর ইউনিয়নের কির্ত্তীবাসদী গ্রামের আফতাব উদ্দিনের ছেলে।

    স্থানীয় ও পরিবারের বরাতে পুলিশ জানায়, সকালে আকাশের বাবা আফতাব উদ্দিন ছেলেকে ঘুম থেকে উঠিয়ে ঘাস কাটার জন্য জমিতে চলে যান।

    এই বিষয়ের আরও খবর:

    এসময় তার মাও জরুরি কাজে পার্শ্ববর্তী গ্রামে যায়।

    পরে আফতাব উদ্দিন বাড়িতে এসে আকাশকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। প্রতিবেশিদের সহযোগিতায় তাকে মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

    ওসি জাহাঙ্গীর বাদশা বলেন, “খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি।

    আরও পড়ুন: ‘সমকামী কর্মকাণ্ড’ অভিযোগে তদন্ত ঘিরে ঢাবির শহীদুল্লাহ হলে শিবির-ছাত্রদলের সংঘর্ষমরদেহ উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ”

    এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং হত্যাকাণ্ডের কারণ উদঘাটনসহ হত্যায় জড়িতদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে বলে জানান ওসি।

  • ‘দিদির জন্য গাড়ি দেন’ তুলির আবদারে মিলল হুইলচেয়ার

    ‘দিদির জন্য গাড়ি দেন’ তুলির আবদারে মিলল হুইলচেয়ার

    নরসিংদীর রায়পুরায় অসহায় এক শিশুর আবদারে তার প্রতিবন্ধী দিদির জন্য হুইলচেয়ার এবং শিশুটিসহ তার সঙ্গীর জন্য নতুন জামাকাপড় দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদ রানা।

    সোমবার দুপুরে তুলি পাল নামে শিশুটি খালি গায়ে ইউএনও কার্যালয়ে এসে তার প্রতিবন্ধী দিদির জন্য হুইলচেয়ার চায়। সরল মনে ইউএনওকে সে বলে- ‘আমার দিদির জন্য গাড়ি দেন।’

    পরে কথা বলে জানা যায়, তুলির মা নেই। তার দিদি হাঁটতে পারেন না। অসহায় পরিবারের এ অবস্থার কথা শুনে তুলির দিদির জন্য একটি হুইলচেয়ার দেওয়ার ব্যবস্থা করেন ইউএনও।

    তুলির সঙ্গে থাকা কৃষ্ণ নামের আরেক শিশুর অবস্থাও নজরে আসে ইউএনওর। পরে তুলি ও কৃষ্ণ দুজনের জন্যই নতুন জামাকাপড় কিনে দেন তিনি।

    নতুন জামা গায়ে দিয়ে এবং দিদির জন্য হুইলচেয়ার নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় তুলির মুখে ফুটে ওঠে মায়াভরা হাসি। পরে ইউএনও কার্যালয়ের স্টাফরা রিকশায় করে তুলি, কৃষ্ণ ও হুইলচেয়ারটি রায়পুরা পৌরসভার হরিপুর এলাকায় তাদের বাড়িতে পৌঁছে দেন।

    তুলির সেই নির্মল হাসি উপস্থিত সবার মন ছুঁয়ে যায়। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ইউএনও মো. মাসুদ রানার এমন মানবিক উদ্যোগ স্থানীয়দের কাছেও প্রশংসিত হয়েছে।

  • ট্রেনের ছাদ থেকে নামার সময় দুই বগির মাঝে পড়ে যুবক নিহত

    ট্রেনের ছাদ থেকে নামার সময় দুই বগির মাঝে পড়ে যুবক নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নরসিংদী রেলস্টেশনে তিতাস কমিউটার ট্রেনের ছাদ থেকে নামার সময় দুই বগির মাঝে পড়ে মো. আমীর হোসেন (২৬) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।

    শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ট্রেনটি স্টেশন ছেড়ে যাওয়ার সময় শত শত মানুষের চোখের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত ওই যুবকের নাম মো. আমীর হোসেন (২৬)। তিনি নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদী থানাধীন নগর বানিয়াদী এলাকার মৃত সামসুল হকের ছেলে।

    রেলওয়ে পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে দুই বন্ধুর সঙ্গে আমীর হোসেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় কেল্লা শাহের মাজারে গিয়েছিলেন। তারা রাতভর সেখানে থেকে সকালে তিতাস কমিউটারের ছাদে উঠে ফিরছিলেন। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ট্রেনটি নরসিংদী রেলস্টেশনে যাত্রাবিরতি দেয়। এ সময় প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যেই অনেক মানুষ ছাদ থেকে নামছিলেন। এদিকে ট্রেন পুনরায় যাত্রা শুরু করলে তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে ট্রেনের দুই বগির মাঝখানে পড়ে যান। পরে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ফরিদা গুলশানারা কবির জানান, ট্রেনে কাটা পড়া ওই ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। পরে তার লাশ রেলওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

    আমীরের ঠিক আগে ট্রেনের ছাদ থেকে নেমেছেন তার বন্ধু আক্রাম হোসেন। তিনি বলেন, একসঙ্গেই আমরা তিন বন্ধু কেল্লা শাহর মাজারে গিয়েছিলাম। ভোরে ট্রেনে ওঠার সময় প্রচণ্ড ভিড়ে ভেতরে যেতে না পেরে ট্রেনের ছাদে উঠি। নরসিংদী আসার পর দুজন ছাদ থেকে নামতে পারলেও আমীর পারেনি। চলতে শুরু করা ট্রেনের দুই বগির মাঝে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে। চোখের সামনেই তার মৃত্যু দেখলাম।

    নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক দিলীপ চন্দ্র সরকার বলেন, তিতাস কমিউটারের ছাদ থেকে দুই বগির মাঝখানে পড়ে ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তার পরিবারের সদস্যদের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিনা ময়নাতদন্তে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • ‘মানুষকে ডাক্তারের পেছনে ঘুরতে হবে না, ডাক্তার মানুষের পেছনে ঘুরবে’

    ‘মানুষকে ডাক্তারের পেছনে ঘুরতে হবে না, ডাক্তার মানুষের পেছনে ঘুরবে’

    স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে সম্পূর্ণরুপে দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটমুক্ত একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হবে। আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থাকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হবে যেন মানুষকে আর ডাক্তারের পেছনে ঘুরতে না হয়, বরং ডাক্তারই সেবার প্রয়োজনে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে।

    তিনি ফেব্রুয়ারি দুপুরে নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার হাফিজপুর গ্রামে নিজ বাসভবনে প্রশাসনের কর্মকর্তা ও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা চিকিৎসা সেবাকে সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য ও সার্বজনীন করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে স্বাস্থ্যখাতের আমূল পরিবর্তন ঘটিয়ে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করা হবে।

    তিনি জানান, নরসিংদীতে একটি নতুন মেডিকেল কলেজ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া জেলার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালসহ যেসব স্বাস্থ্যকেন্দ্র এখনও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি, সেগুলো দ্রুত সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশেষ করে নরসিংদীতে জরুরি চিকিৎসার সুবিধার্থে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দুটি আইসিইউ ইউনিট স্থাপনের ঘোষণা দেন তিনি।

    রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, যারা আমাদের ভোট দিয়েছেন এবং যারা দেননি- সবার প্রতিই আমাদের সমান দায়িত্ব রয়েছে। সব প্রতিহিংসা ও বিদ্বেষ ভুলে আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ভিত্তিতে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চাই।

    এর আগে সকালে মন্ত্রী নিজ এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় প্রশাসন ও দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. কলিমুল্লাহ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিএনপি নেতারা।

  • শিবপুরে শিক্ষকের দুই পায়ের রগ কেটে ফেলার অভিযোগ

    শিবপুরে শিক্ষকের দুই পায়ের রগ কেটে ফেলার অভিযোগ

    নরসিংদীর শিবপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আবু ছাঈদ মোগল নামের এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষককে কুপিয়ে দুই পায়ের রগ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিপক্ষ স্বপন মোগলের বাড়িঘর ভাঙচুর করে অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

    গত শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপজেলার পুটিয়া ইউনিয়নের মোল্লাকান্দা মোগল বাড়িতে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।

    আহত আবু ছাঈদ মোল্লাকান্দা গ্রামের জামাল উদ্দিন মোগলের ছেলে। তিনি ষাশপুর কাজী মফিজ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক। বর্তমানে সংকটাপন্ন অবস্থায় ঢাকার একটি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    আবু ছাঈদের মেয়ে রোকেয়া লিপি বলেন, প্রতিবেশী স্বপন মোগলের সঙ্গে আমাদের জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। বৃহস্পতিবার সকালে আমি ওই জমিতে গেলে স্বপন মোগল এসে বাধা দিয়ে আমাকে মারধর করতে থাকে। আমার ডাক চিৎকারে বাবা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তখন স্বপন মোগল ও তার ভাই কিরণ মোগল দা দিয়ে কুপিয়ে আমার বাবার দুই পায়ের রগ কেটে দেয়। এসময় স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আমার বাবাকে উদ্ধার করে প্রথমে শিবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে যাই।

  • রায়পুরায় ২০০ এতিম শিক্ষার্থী পেলো খাদ্যসামগ্রী

    রায়পুরায় ২০০ এতিম শিক্ষার্থী পেলো খাদ্যসামগ্রী

    রমজান মাসের পবিত্রতা ও মানবিক চেতনা সামনে রেখে তুরস্কের জনগণের পক্ষ থেকে নরসিংদীর রায়পুরায় ২০০ জন এতিম শিক্ষার্থীর মাঝে রমজানের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার অরফান লাভ ফাউন্ডেশন এর আয়োজনে রমজানের জন্য প্রয়োজনীয় এই খাদ্য উপহার দেওয়া হয়।

    রায়পুরা উপজেলার সিরাজনগর উম্মুলকুরা মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে ফুড প্যাকেজে অন্তর্ভুক্ত ছিল চাল, তেল, ডাল, চিনি, ছোলা, আটা, খেজুর ও বিস্কুট।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টার্কিস কো-অপারেশন অ্যান্ড কোর্ডিনেশন এজেন্সি (টিকা) এর ডেপুটি কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর আব্দুলকাদির বায়রাম। তিনি বলেন, এটি তুরস্কের জনগণের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসার একটি ছোট উপহার।

    কর্মসূচির আয়োজনকারী প্রতিষ্ঠান অরফান লাভ ফাউন্ডেশন এর অরফান ডিপার্টমেন্টের প্রধান আমিনুল ইহসান ইসলাম এতিম শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এই উদ্যোগে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

    অরফান লাভ ফাউন্ডেশন (www.orphan.love) একটি সরকার অনুমোদিত বেসরকারি অলাভজনক সংস্থা, যা বাংলাদেশের এতিম ও ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি, সুরক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন সহায়তা প্রদান করে আসছে।

  • পলাশ হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেখলেন ২১ ডাক্তারেরর ৮জন উপস্থিত

    পলাশ হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেখলেন ২১ ডাক্তারেরর ৮জন উপস্থিত

    নরসিংদীর পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। ডাক্তারদের সময়মতো কর্মস্থলে উপস্থিত না হওয়ার অভিযোগের প্রেক্ষিতে হঠাৎ এ পরিদর্শন করেন তিনি।

    শনিবার (৭ মার্চ) সকাল সাড়ে আটটায় পলাশ উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন।

    হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালে কর্তব্যরত ২১ ডাক্তারের মধ্যে ৫ জন ছুটিতে ছিলেন। বাকি ১৬ জনের মধ্যে ৮ জনের উপস্থিতি দেখতে পান। এর মধ্যে ২ ডাক্তার আবার দেরি করে আসেন। পরে তিনি হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, রোগীদের ওয়ার্ড, ডাক্তারদের চেম্বারগুলো পরিদর্শনসহ সার্বিক সেবা কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গত ৫ মার্চ সংবাদ মাধ্যমে একটি প্রতিবেদন দেখতে পাই। সেখানে উল্লেখ ছিল, ‘হাসপাতালে ডাক্তাররা সময়মতো উপস্থিত নন, এর পরতীতে ডাক্তাররা স্টেটমেন্ট দিয়েছিলেন, ডাক্তাররা উপরে ছিলেন, আর সংবাদকর্মীরা নিচে ছিলেন।’ সংবাদটি প্রকাশের পর ঘটনার সত্যতা যাচাই করতেই আজকের এই আকস্মিক পরিদর্শন।

    তিনি বলেন, এখানে এসে আমি নিজেই হতাশ। যেখানে মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে একটি রিপোর্ট প্রকাশ হওয়ার পর আমি ভাবছিলাম সব ডাক্তার যার যার কর্মস্থলে সঠিক সময়ে উপস্থিত থাকবেন, কিন্তু পরিদর্শনে এসে সেটা পাইনি। এ হাসপাতালে মোট ২৭টি পোস্ট রয়েছে, কর্মরত পোস্টে ডাক্তার আছেন ২১ জন, তার মধ্যে আমরা উপস্থিত পেয়েছি মাত্র ৮ জন ডাক্তার। কিন্তু এ ৮ জনের মধ্যেও ২ জন নির্ধারিত সময়ের পর আসেন। এছাড়া ৫ জন ডাক্তার ছুটিতে রয়েছেন।

    মন্ত্রী বলেন, ডাক্তাররা মানবিক কাজ করেন। আমরা স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চাই, তা ডাক্তারদের মাধ্যমেই পৌঁছে দেওয়া হবে। কিন্তু তারাই সময়মতো উপস্থিত হননি। যারা উপস্থিত হননি তাদের বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    মন্ত্রী আরও বলেন, আমরা নগদ টাকা দিয়ে রেবিক্স টিকা কিনছি। প্রতি উপজেলায় টিকা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। দেশে রেবিক্স টিকার আর সমস্যা হবে না।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন— পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইশতিয়াক আহমেদ, পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কাজী মোহাম্মদ আতিকুল ইসলাম, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুল্লাহ আল-মামুন, পলাশ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কুতুবুল আলম প্রমুখ।

  • রাজধানীতে ফের ভূমিকম্প আতঙ্কে জনজীবন

    রাজধানীতে ফের ভূমিকম্প আতঙ্কে জনজীবন

    রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আবারও ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। শনিবার (২২ নভেম্বর) দিনের দ্বিতীয়বারের মতো বিকেল ৬টা ৬ মিনিট ৩২ সেকেন্ডে এই কম্পন অনুভূত হয়।

    প্রাথমিকভাবে ইউরোপিয়ান মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) এ তথ্য জানালেও এর মাত্রা ও উৎপত্তিস্থল সম্পর্কে তাৎক্ষণিক বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।এদিন এটি দ্বিতীয়বারের মতো কম্পন। এর আগে, আজ সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটেও একবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। সেবার রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৩.৩, এবং উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর পলাশ উপজেলা।

    শুক্রবার (২১ নভেম্বর) রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা একটি অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছিল। রিখটার স্কেলে ওই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫.৭। এর উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর মাধবদী। এই শক্তিশালী কম্পনে সারা দেশে অন্তত ১০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়, যা জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

  • ভূমিকম্পে নরসিংদী জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

    ভূমিকম্পে নরসিংদী জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

    ভয়াবহ ভূমিকম্পে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে নরসিংদী জেলা সদর ও পলাশ উপজেলায় ৪ জন নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছেন। এছাড়া আরো ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে জানিয়েছে নরসিংদী জেলা প্রশাসন। শুক্রবার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজ সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে নরসিংদী জেলার সদর ও পলাশ উপজেলার মধ্যবর্তী অঞ্চলে ভূমিকম্প আঘাত হানে। প্রাথমিক তথ্যমতে ভূমিকম্পে আতংকিত হয়ে হুড়োহুড়ি করে উঁচু ভবন থেকে নামতে গিয়ে জেলার বিভিন্ন স্থানে শতাধিক লোকজন আহত হয়েছেন এবং এখন পর্যন্ত ৪ জন নিহত হয়েছেন।

    সদর উপজেলার চিনিশপুর ইউনিয়নের গাবতলি নামক স্থানে নির্মাণাধীন ভবনের মালামাল নিচে পড়ে ৪ জন আহত হন। তন্মধ্যে মারাত্মকভাবে মাথায় আহত ২ (দুই) জনকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজে প্রেরণ করা হয়। প্রেরিত দুই জনের মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশু হাফেজ ওমরকে (৮ বছর) মৃত ঘোষণা করেন এবং তার বাবা দেলোয়ার হোসেন উজ্জ্বলের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানানো হয়।

    অন্যদিকে নরসিংদীর পলাশ উপজেলার চরসিন্দুর ইউনিয়নের মালিতা পশ্চিমপাড়া গ্রামের কাজেম আলী ভূঁইয়া (৭৫) নামক এক বৃদ্ধ মাটির ঘরের নিচে চাপা পড়েন এবং পরবর্তীতে তাকে জেলা হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যুবরণ করেন।
    বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, পলাশ উপজেলার ডাংগা ইউনিয়নের ইসলামপাড়া নয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা নাসিরউদ্দিন (৬০), পিতা: সিরু মিয়া, ভূমিকম্পের সময় ফসলি জমি থেকে আতঙ্কিত হয়ে দৌড়ে আসার পথে রাস্তা থেকে নিচে লাফ দিয়ে পড়ে মারা যান বলে স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে। তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে মৃত্যুবরণ করায় নিকটাত্মীয়গণ তার মরদেহ হাসপাতালে নেননি।

    এদিকে শিবপুর উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের আজকিতলা (পূর্বপাড়া) গ্রামে ফোরকান (আনুমানিক ৪০) ভূমিকম্পের সময় গাছ থেকে পড়ে যান। এরপর তাকে তাৎক্ষণিক নরসিংদী জেলা হাসপাতালে নিলে ঢাকা মেডিকেলে রেফার্ড করে। সেখানে নেওয়ার পথে রাস্তায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

    হতাহত ছাড়াও ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সাবস্টেশনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এছাড়াও সাবস্টেশনের বিপুল পরিমাণ পিটি (প্রডাকশন ট্রান্সফরমার) ভূ-কম্পনের ফলে ভেঙে পড়ে।

    এদিকে ঘোড়াশাল পলাশ ফার্টিলাইজার কারখানার ইউরিয়া প্রডাকশন ভূমিকম্পের কারণে সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। ভূ-কম্পনের সময় ইঞ্জিন মেশিনারিজ ভাইব্রেশনের মাধ্যমে বন্ধ হয়ে যায় এবং মেশিনারিজ চেকিং অপারেশনে আছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

    এছাড়াও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও সার্কিট হাউসহ শতাধিক ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। ভূমিকম্প সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি ও দুর্যোগ সংশ্লিষ্ট তথ্যের জন্য জেলা প্রশাসন থেকে কন্ট্রোল রুম খুলে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে খোজ খবর রাখা হচ্ছে বলেও জানানো হয়।

  • ভূমিকম্পে ৬ জনের মৃত্যু, আহত দুই শতাধিক

    ভূমিকম্পে ৬ জনের মৃত্যু, আহত দুই শতাধিক

    ভূমিকম্পে দেশের বিভিন্ন জেলায় এখন পর্যন্ত ছয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে তিনজন রাজধানীর বংশালে ভবনের রেলিং ধসে নিহত হয়েছেন। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে দেয়াল ধসে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া নরসিংদীতে দুজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. আবু হোসেন মোহাম্মদ মঈনুল আহসান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, ভয়াবহ ভূমিকম্পে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দুই শতাধিক মানুষ আহত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। আহত চিকিৎসাধীনদের মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর। হতাহতদের চিকিৎসায় দেশের সব হাসপাতালে জরুরি মেডিকেল টিম কাজ করছে।

    নারায়ণগঞ্জে শিশুর মৃত্যু

    নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ভূমিকম্পে দেয়াল ধসে ফাতেমা (১) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময় শিশুটির মা কুলসুম বেগম ও প্রতিবেশী জেসমিন বেগম আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

    ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মোখলেসুর রহমান বলেন, ভূমিকম্পে দেয়াল ধসে ফাতেমা নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আহত অবস্থায় তার মা কুলসুম বেগম ও প্রতিবেশী জেসমিন বেগমকে স্থানীয় প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    নরসিংদীতে শিশু ও বৃদ্ধ নিহত

    নরসিংদীতে ভয়াবহ ভূমিকম্পে মাটির ঘরের দেয়াল চাপায় কাজম আলী (৭৫) নামে বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন।
    নিহত কাজম আলী নরসিংদীর পলাশ উপজেলার চরসিন্দুর ইউনিয়নের মালিতা পশ্চিমপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। এ ছাড়া নরসিংদীর গাবতলীতে বাসার দেয়াল চাপা পড়ে ওমর (১০) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    প্রধান উপদেষ্টার শোক

    ভূমিকম্পে দেশের বিভিন্ন জেলায় ঘরবাড়ি ধসে এবং অন্যান্য দুর্ঘটনায় হতাহতের খবরে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

    শোকবার্তায় প্রধান উপদেষ্টা নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন এবং সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশ দেন।