লাইফস্টাইল

  • বৃষ্টির দিনে খিচুড়ি খেতে ইচ্ছে করে কেন?

    বৃষ্টির দিনে খিচুড়ি খেতে ইচ্ছে করে কেন?

    লাইফস্টাইল:

    জানালার কাঁচে টুপটাপ শব্দে বৃষ্টি পড়ে। আকাশ ধূসর হয়ে আসে। দূরের গাছগুলো ঝাপসা লাগে। বাতাসে একটা ভেজা গন্ধ। মাটির গন্ধ। সেই গন্ধ নাকে ঢুকতেই মনটা একটু নরম হয়ে যায়। ব্যস্ততা থেমে যায়। সময় ধীর হয়। এই ধীর হয়ে যাওয়ার মুহূর্তেই কোথা থেকে যেন মাথায় আসে এখন যদি এক প্লেট গরম খিচুড়ি পাওয়া যেত!

    এই অনুভূতিটা এত পরিচিত ও গভীর যে, এ নিয়ে আমরা কেউই খুব একটা প্রশ্ন তুলি না। বরং স্বাভাবিকভাবেই ধরে নিই, বৃষ্টি মানেই খিচুড়ি। যেন এই সমীকরণটা আমাদের ভেতরে কোথাও চুপচাপ লিখে রাখা আছে।

    খিচুড়ি আসলে কেবল একটি খাবার নয়। এটি এক ধরনের অনুভূতি, যা আমাদের ভেতরে জমে থাকা বহু দিনের স্মৃতি আর অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিশে আছে। ছোটবেলার বৃষ্টিভেজা দিনগুলোর কথা মনে পড়লেই এই সম্পর্কটা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তখন বৃষ্টি মানেই ছিল ছুটি, ছিল অলস দুপুর, ছিল রান্নাঘর থেকে ভেসে আসা পেঁয়াজ-হলুদের গন্ধ। হাঁড়িতে ধীরে ধীরে ফুটতে থাকা চাল আর ডালের সঙ্গে যেন জমে উঠত এক অদৃশ্য উত্তেজনা কখন খেতে ডাকবে!

    সেই গরম খিচুড়ির প্লেট, পাশে ডিম ভাজি বা বেগুন ভাজা, বাইরে ঝরতে থাকা বৃষ্টি এই দৃশ্যটা শুধু খাবারের নয়, এটি নিরাপত্তা আর স্বস্তির এক নিখুঁত ছবি। মনে হতো, পৃথিবীর সব অস্থিরতা দরজার বাইরে থেমে আছে। এই যে শান্তি, এই যে ঘরের উষ্ণতা এসবই খিচুড়ির স্বাদের সঙ্গে মিশে আমাদের স্মৃতিতে স্থায়ী হয়ে গেছে।

    তবে এই অভ্যাসের শেকড় আরও গভীরে। আমাদের কৃষিভিত্তিক জীবন, বিশেষ করে গ্রামবাংলার বাস্তবতায় বর্ষা মানেই ছিল একদিকে কাজের সময়, আবার অন্যদিকে থেমে যাওয়ার সময়ও। টানা বৃষ্টিতে যখন বাইরে যাওয়া কঠিন হতো, তখন ঘরে যা আছে তা দিয়েই রান্না করতে হতো। চাল আর ডাল এই দুটো উপকরণ প্রায় সব ঘরেই থাকত। সেখান থেকেই তৈরি হতো খিচুড়ি, যা সহজ, পুষ্টিকর এবং পেট ভরানো। ধীরে ধীরে এই বাস্তব প্রয়োজনই পরিণত হয়েছে সংস্কৃতিতে।

    গ্রামের টিনের চালের ওপর বৃষ্টির শব্দ, উঠানে জমে থাকা পানি, কাদায় ডোবা পা এসবের মাঝেও এক হাঁড়ি খিচুড়ি ঘিরে বসে খাওয়ার যে অভ্যাস, তা শুধু ক্ষুধা মেটানোর নয়, এটি একসঙ্গে থাকার আনন্দও তৈরি করে। এই মিলেমিশে থাকা, এই ভাগ করে নেওয়ার অভ্যাস খিচুড়িকে একধরনের সামাজিক প্রতীকে পরিণত করেছে।

    শহর বদলেছে, জীবনযাত্রা বদলেছে, কিন্তু বৃষ্টির দিনের অনুভূতি খুব একটা বদলায়নি। বরং ব্যস্ত শহুরে জীবনে বৃষ্টি যেন একটু বিরতি এনে দেয়। রাস্তা ফাঁকা লাগে, সময় ধীর হয়, মানুষ ঘরে ফিরতে চায়। সেই থেমে যাওয়া সময়টায় সহজ, উষ্ণ, ঝামেলাহীন কিছু খেতে ইচ্ছে করে খিচুড়ি ঠিক সেই জায়গাটায় গিয়ে মিলে যায়।

    আবহাওয়ার প্রভাবও কম নয়। বৃষ্টির দিনে শরীর গরম ও আরামদায়ক খাবার চায়, কিন্তু ভারী কিছু নয়। খিচুড়ির নরম, উষ্ণ স্বভাব শরীরকে যেমন আরাম দেয়, তেমনি মনকেও শান্ত করে। এই শারীরিক আর মানসিক আরামের মিলনই খিচুড়ির প্রতি টানকে আরও গভীর করে তোলে।

    মজার বিষয় হলো, খিচুড়ি আমরা অন্য সময়েও খাই, কিন্তু তখন সেটা কেবল ‘খাওয়া’। আর বৃষ্টির দিনে? সেটি হয়ে ওঠে ‘অনুভব’। একই স্বাদ, একই উপকরণ তবু অন্যরকম লাগে। কারণ তখন চারপাশের আবহাওয়া, স্মৃতি আর মন সব একসঙ্গে মিশে যায়।

    এই মিশে যাওয়ার জায়গাটাই আসল। খিচুড়ি তখন আর শুধু খাবার থাকে না, হয়ে ওঠে ঘরের প্রতীক, মাটির প্রতীক, আপনজনের প্রতীক। তাই বৃষ্টি নামলেই আমরা খিচুড়ির কথা ভাবি শুধু পেট ভরানোর জন্য নয়, বরং একটু ফিরে যাওয়ার জন্য, একটু থেমে থাকার জন্য, নিজের ভেতরে একটু আশ্রয় খুঁজে নেওয়ার জন্য।

    শেষ পর্যন্ত, এক প্লেট গরম খিচুড়ির ভেতরেই আমরা খুঁজে পাই আমাদের জীবনের সহজ ছন্দ, শিকড়ের টান আর সেই নির্ভেজাল শান্তি, যা হয়তো ব্যস্ত জীবনে খুব কমই পাওয়া যায়।

  • ৫ টাকায় ১২০ কিলোমিটার চলে রতনের মোটরসাইকেল

    ৫ টাকায় ১২০ কিলোমিটার চলে রতনের মোটরসাইকেল

    জ্বালানি তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি আর ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইনের ভোগান্তিতে যখন নাভিশ্বাস উঠেছে সাধারণ মানুষের, ঠিক সেই সময়েই সম্ভাবনার এক ভিন্ন দিগন্ত দেখাচ্ছেন রাণীশংকৈল উপজেলার এক তরুণ উদ্ভাবক। স্বল্প খরচে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করে রতন মহন্ত তৈরি করেছেন ব্যাটারিচালিত মোটরসাইকেল, যা ইতোমধ্যেই এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

    রাণীশংকৈল পৌর শহরের মহলবাড়ী এলাকার বাসিন্দা সুরেন মহন্তের ছেলে রতন মহন্ত পেশায় একজন অটোভ্যান মেকানিক। সাইকেল-ভ্যান মেরামতের আয়েই চলে তার সংসার। তবে সীমিত আয়ের মধ্যেও তার উদ্ভাবনী চিন্তা থেমে থাকেনি।

    জানা যায়, ২০১৯ সালে একটি পুরোনো ১০০ সিসির সুজুকি মোটরসাইকেল কেনার পর থেকেই নানা যান্ত্রিক জটিলতায় পড়েন রতন। বারবার মেরামত করেও স্থায়ী সমাধান না পেয়ে এবং জ্বালানি খরচের চাপ বাড়তে থাকায় তিনি নতুন করে ভাবতে শুরু করেন। একপর্যায়ে সাহসী সিদ্ধান্ত নেন প্রচলিত ইঞ্জিন সরিয়ে মোটরসাইকেলটিকে সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক ব্যবস্থায় রূপান্তর করবেন। মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন খুলে সেখানে বসান ১২ ভোল্টের চারটি ব্যাটারি এবং একটি অটোরিকশার মোটর।

    তার এই উদ্ভাবনী প্রচেষ্টার ফল একটি কার্যকর ব্যাটারিচালিত মোটরসাইকেল, যা এখন অনায়াসেই সড়কে চলাচল করছে। একবার চার্জে তার তৈরি এই বাইক প্রায় ১২০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে পারে, যেখানে বিদ্যুৎ খরচ হয় মাত্র ৫ টাকা। বিপরীতে একই দূরত্বে একটি সাধারণ মোটরসাইকেলের জ্বালানি খরচ প্রায় ৪০০ টাকার মতো, যা খরচের দিক থেকে এক বিশাল পার্থক্য তৈরি করেছে।

    রতন মহন্ত বলেন, শুরুর দিকে অনেকেই আমার কাজ নিয়ে হাসাহাসি করেছে। কেউ বিশ্বাসই করতে চায়নি যে এই বাইক চলতে পারে। কিন্তু আমি হাল ছাড়িনি। এখন যখন তেলের জন্য মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছে, তখন তারাই এসে আমার কাজের প্রশংসা করছে।

    তার এই সাফল্য দেখতে প্রতিদিনই ভিড় জমছে তার বাড়িতে। অনেক মোটরসাইকেল চালক ইতোমধ্যেই নিজেদের বাইক ব্যাটারিচালিত ব্যবস্থায় রূপান্তরের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বর্তমান জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে এটি একটি বাস্তবসম্মত বিকল্প হিসেবেই দেখছেন অনেকে।

    রতনের প্রতিবেশী আবু হানিফ বলেন, তেল কিনতে আমাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। অথচ রতন খুব সহজেই চলাফেরা করছে, খরচও অনেক কম। আমিও এখন আমার বাইক ব্যাটারিতে রূপান্তরের কথা ভাবছি।

    স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর, নাজমুল ও আক্তার বলেন, বর্তমানে তেলের সংকট আমাদের জন্য বড় ধরনের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, তবুও নিশ্চয়তা থাকে না তেল পাব কি না। এতে করে দৈনন্দিন কাজকর্ম, বিশেষ করে যাদের চলাফেরার জন্য মোটরসাইকেলের ওপর নির্ভর করতে হয়, তাদের অনেক কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে রতনের এই ব্যাটারিচালিত বাইক আমাদের কাছে নতুন আশার মতো মনে হয়েছে। খুব কম খরচে যদি ১০০-১২০ কিলোমিটার চলা যায়, এটা সত্যিই বড় একটা সুবিধা। এতে যেমন খরচ কমবে, তেমনি তেলের জন্য ভোগান্তিও কমে আসবে।

    তারা আরও বলেন, আমরা নিজের চোখে বাইকটা চলতে দেখেছি, যা আমাদের আরও বেশি আগ্রহী করে তুলেছে। ভবিষ্যতে যদি এই প্রযুক্তি আরও উন্নত করা যায় এবং সহজভাবে সবাই ব্যবহার করতে পারে, তাহলে এটি সাধারণ মানুষের জন্য একটি কার্যকর বিকল্প হয়ে উঠবে। আমরা আশা করি প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এমন উদ্ভাবনকে সহযোগিতা করবে। যাতে রতনের মতো আরও তরুণ সামনে এগিয়ে আসতে পারে।

    এ বিষয়ে রাণীশংকৈল পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মো. মিঠুন বলেন, রতনের এই কাজটা সত্যি অনেক ভালো লাগছে। এত কম খরচে যদি একটা বাইক চলে, তাহলে এটা আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য অনেক উপকারে আসবে। এখন তেলের জন্য যে ভোগান্তি, সেটা কমাতে এই ধরনের উদ্যোগ খুব দরকার। আমি মনে করি তাকে যদি একটু সহযোগিতা করা হয়, তাহলে সে আরও ভালো কিছু করতে পারবে এবং এলাকায় এমন নতুন কিছু করার আগ্রহও বাড়বে।

    এ ব্যাপারে রাণীশংকৈল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা বেগম বলেন, রতন মহন্তের এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। তিনি যে সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তার পরিচয় দিয়েছেন তা অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠতে পারে। বর্তমান জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে তার এই ব্যাটারিচালিত মোটরসাইকেল একটি সম্ভাবনাময় বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এমন উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করব।

    এম কে

  • ঠাকুরগাঁওয়ে চড়ক মেলায় বাঁশ-কাগজের শিল্পে প্রাণ ফিরল গ্রামীণ ঐতিহ্যে

    ঠাকুরগাঁওয়ে চড়ক মেলায় বাঁশ-কাগজের শিল্পে প্রাণ ফিরল গ্রামীণ ঐতিহ্যে

    ঠাকুরগাঁওয়ের সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়নের ফারাবাড়ি গ্রামের শিব মন্দির প্রাঙ্গণে দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়েছে এক ব্যতিক্রমী চড়ক মেলা ও হস্তকারুশিল্প প্রদর্শনী। বাংলা নববর্ষকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এ উৎসব গ্রামীণ ঐতিহ্য ও লোকসংস্কৃতির প্রাণ ফিরে এনে পুরো এলাকাকে রূপ দেয় এক উৎসবমুখর জনসমুদ্রে।

    সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে শুরু হয়ে দুই দিনব্যাপী এই আয়োজনে হাজারো মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে ফারাবাড়ি এলাকা। মেলার মূল আকর্ষণ ছিল স্থানীয় গ্রামীণ শিল্পীদের হাতে তৈরি কাগজ ও বাশের নান্দনিক শিল্পকর্ম। হাতি, হেলিকপ্টার, নৌকা, পালকি, গরু, জিরাফ, মাছসহ বিভিন্ন জীবজন্তু ও যানবাহনের প্রতিরূপে সাজানো এসব শিল্পকর্ম দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। শুধু প্রদর্শনীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এসব শিল্পকর্ম অনেক ক্ষেত্রে হাতে চালিয়ে প্রদর্শন করায় দর্শনার্থীরা পান এক ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা, যা মেলার আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

    শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী নারী-পুরুষের উপস্থিতিতে পুরো মেলা প্রাঙ্গণ পরিণত হয় এক বিশাল উৎসবে। দূর-দূরান্ত থেকেও মানুষ এসে অংশ নেন এই চড়ক মেলায়।

    দর্শনার্থী মানষ চন্দ্র বলেন, এই মেলায় এসে আমি সত্যিই অভিভূত ও আনন্দিত। এখানে এত মানুষের সমাগম আর কাগজ-বাঁশ দিয়ে তৈরি অসাধারণ সব হস্তশিল্প দেখে মন ভরে গেছে। গ্রামবাংলার এমন ঐতিহ্যবাহী আয়োজন যে এখনো এত সুন্দরভাবে টিকে আছে, তা নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। প্রতিটি শিল্পকর্মে রয়েছে শিল্পীদের পরিশ্রম, সৃজনশীলতা আর ভালোবাসার ছাপ। পরিবার-পরিজনসহ এমন একটি উৎসবমুখর পরিবেশে সময় কাটাতে পেরে আমি খুবই খুশি।

    প্রিয়াঙ্কা রায় বলেন, এটি সত্যিই একটি ব্যতিক্রমধর্মী মেলা। গ্রামবাংলার ঐতিহ্যকে নতুনভাবে উপস্থাপন করার এমন উদ্যোগ খুব কমই দেখা যায়। কাগজ ও বাঁশ দিয়ে তৈরি নানান ধরনের শিল্পকর্ম হাতি, নৌকা, পালকি, জীবজন্তু ও যানবাহনের প্রতিরূপ সবকিছুই অত্যন্ত নিখুঁত ও সৃজনশীলভাবে তৈরি করা হয়েছে। এসব হাতে তৈরি শিল্পকর্ম দেখে আমি সত্যিই মুগ্ধ হয়েছি। পুরো মেলা জুড়ে যে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

    জেলা বিএনপির সদস্য মীর জাহিদ বলেন, আমরা ছোটবেলা থেকেই এই চড়ক পূজার মেলা দেখে আসছি। এটি আমাদের এলাকার একটি পুরোনো ঐতিহ্যবাহী আয়োজন, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও বিস্তৃত ও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে ছুটে আসে শুধু এই মেলার টানেই। বিশেষ করে কাগজ ও বাঁশ দিয়ে তৈরি নানান ধরনের প্রতিকৃতি হাতি, নৌকা, পালকি, গরু, বিভিন্ন জীবজন্তু ও যানবাহনের রূপ দেখতে পুরো এলাকা তখন এক জনসমুদ্রে পরিণত হয়। এমন উৎসবমুখর পরিবেশ গ্রামীণ জীবনে এক ভিন্নমাত্রা যোগ করে।

    স্থানীয় ইউপি সদস্য সন্তোষ রায় বালু বলেন, এটি শুধু একটি মেলা নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতির জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। এখানে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য, ধর্মীয় ভাবধারা এবং লোকজ শিল্প একসঙ্গে মিশে গেছে। কাগজ ও বাশ দিয়ে তৈরি নানা ধরনের শিল্পকর্ম এবং মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এই আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে। এমন আয়োজন শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে ধরে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।

    মেলা কমিটির সভাপতি বাবু চন্দ্র বর্মণ বলেন, বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে প্রতি বছর এই চড়ক পূজা ও হস্তকারুশিল্প মেলার আয়োজন করা হয়ে থাকে। এটি আমাদের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী একটি আয়োজন, যার মাধ্যমে গ্রামবাংলার লোকসংস্কৃতি ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের সংমিশ্রণ তুলে ধরা হয়। এবারের আয়োজন ছিল ১০৫তম আসর।

    তিনি আরও বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য হলো গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করা এবং তা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষের জন্য একটি উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে সবাই মিলেমিশে সংস্কৃতি উপভোগ করতে পারে।

    এম কে

  • মাকে বাঁচাতে আকুতি ঢাবি শিক্ষার্থী সজলের

    মাকে বাঁচাতে আকুতি ঢাবি শিক্ষার্থী সজলের

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগের স্নাতকোত্তর পর্বের শিক্ষার্থী সজল কুমার রায়। বেড়ে ওঠা প্রত্যন্ত অঞ্চলের হতদরিদ্র পরিবারে। যাদের নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা। ছোটবেলা থেকেই পড়ালেখায় মেধাবী স্বজল এখন দেশের সেরা বিদ্যাপিঠের শিক্ষার্থী। বাড়িতে ভালো পোশাক কিংবা বেশিরভাগ সময় জোটেনি তিনবেলা খাবার। ঢাবিতে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই টিউশনি করে পড়াশুনার খরচ চালাচ্ছেন সংগ্রামী সজল। তবে, এই সংগ্রামী জীবনে সজলকে নতুন করে যুদ্ধ করতে হচ্ছে তার ৪৬ বছর বয়সী মা স্বপ্না রানীর শরীরে বাঁধা অদৃশ্য এক শত্রুর সঙ্গে।

    জটিল ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত সজলের মা স্বপ্না রানী। বাবা কাঠ মিস্ত্রি ও সজলের টিউশনির আয়ের সমন্বয়ে চলা সংসারের পাশাপাশি চলতো মায়ের চিকিৎসা। রোগটি ধরা পড়ার পর গেল দুই বছরে শেষ সম্বল হিসেবে থাকা নিজেদের ১০ শতক জমি, তিনটি গরুসহ সহায়-সম্বল সবই বিক্রি করতে হয়েছে চিকিৎসার খরচে।

    তবে দীর্ঘ সময়েও দেশের চিকিৎসায় আশানুরূপ ফল মেলেনি। ফলে এখন যতদ্রুত সম্ভব দেশের বাইরে নিয়ে চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

    সজল কুমার রায়ের বাড়ি গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ শ্রীপুর গ্রামে। বাবা মোহননাল চন্দ্র রায় পেশায় কাঠ মিস্ত্রি, মা গৃহিণী। চার ভাইয়ের মধ্যে সজল দ্বিতীয়। পরিবারে বাবা-মা, ভাই-ভাবি ও তাদের এক কন্যা সন্তানসহ সজলের ছোট আরও দুই ভাই রয়েছে। তারা স্থানীয় স্কুলে বিজ্ঞান বিভাগে দশম শ্রেণিতে পড়ে। বড় ভাই টেক্সটাইলের ডে লেবার হিসেবে কাজ করেন।

    সজলের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালে প্রথমে রংপুরের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষায় মা স্বপ্না রানীর ক্যান্সার ধরা পড়ে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় রোগটির নাম ‘সিএআরটি ব্রেস্ট, আইডিসিসি, জি-২’। বেশকিছু দিন সেখানকার চিকিৎসায় আশানুরুপ ফল না পেয়ে পরে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা করানো হয়। সেখানেও চিকিৎসার উন্নতি না হয়ে সর্বশেষ গত ২৩ এপ্রিল ঢাকার আহসানউল্লাহ মিশন ক্যান্সার হাসপাতালে চিকিৎসা শুরু করেন স্বপ্না রানীর। সেখানে মেডিকেল ইকোলজি ও সিনিয়র কনসালটেন্ট ড. পারভিন শাহিদা আখতারের তত্বাবধানে চিকিৎসা চলছে।

    পরিবার জানায়, ২০২৪ সালে সজলের মায়ের ক্যান্সার ধরা পরলেও সমেস্যা দেখা দিয়েছিল আরও দুই বছর আগে। কিন্তু অর্থনৈতিক সংকট আর সিদ্ধান্তহীনতার কারণে ভালো চিকিৎসা কিংবা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করা যায়নি। প্রথম দুই বছর হোমিও চিকিৎসা করা হয় স্বপ্না রানীর। পরে পরিস্থিতি জটিল হতে থাকলে তাকে রংপুরে চিকিৎসা শুরু করা হয়।

    সজল বলেন, আমাদের বর্তমান পরিস্থিতি বিশেষ করে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত শোচনীয়। মায়ের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহযোগিতা জরুরি। মাকে বাঁচাতে হলে অতি দ্রুত ১৫ লাখ টাকার প্রয়োজন। যা আমাদের সংগ্রহ করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। যা ছিল সম্বল আগেই বিক্রি করে দিয়েছি।

    তিনি বলেন, শেষ চারমাস ধরে প্রতিমাসে পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধ বাবদ ৩০ থেকে ৩৫ হাজার করে টাকা যাচ্ছে। এতে আমরা হাঁপিয়ে উঠছি। সামনে হয়তো আর সম্ভব হবে না।

    সজল জানান, সর্বশেষ গত (২৩ মার্চ) আহসানিয়া মিশন এন্ড ক্যান্সার জেনারেল হাসপাতালে মাকে দেখানো হয়েছে। সেখানকার চিকিৎসক প্রথম দিন কোনো ডিসিশন (সিদ্ধান্ত) দিতে পারেননি, তারা সময় নিয়েছেন। আগামী মঙ্গলবার তারা ডেকেছেন। সেদিন হয়তো চিকিৎসা বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলবেন। জানি না তারা কি জানান! গত এক বছর যাবত টানা চিকিৎসা চলছে কিন্তু বাংলাদেশের চিকিৎসায় কোনো রেজাল্ট হচ্ছে না।

    দেশের বাইরে জটিল এই রোগের জন্য চিকিৎসায় ব্যয় হবে প্রায় ১৫ লাখ টাকা। যা সজলের পরিবারের জন্য জোগার করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এমন পরিস্থিতিতে মাকে বাঁচাতে দেশের সরকার ও বিত্তবানসহ সরকারি-বেসরকারি দানশীল প্রতিষ্ঠানের কাছে আর্থিক সহযোগিতা চেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থী।

    স্বজল কুমার রায়ের নম্বর ০১৬১২০২৩৮৮৬ (বিকাশ, নগদ, রকেট)। এ ছাড়া, ব্র্যাক ব্যাংক, নাম: Shojol Kumar, অ্যাকাউন্ট নম্বর: 1066367030001, শাখা: এলিফ্যান্ট রোড, রাউটিং নম্বর: 060261339। ইসলামী ব্যাংক, নাম: Shojol Kumar, অ্যাকাউন্ট নম্বর: 20502156700186003, শাখা: এলিফ্যান্ট রোড, রাউটিং নম্বর: 125261337।

    শ্রীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আজাহারুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। আপনার মাধ্যমে প্রথম শুনলাম। সমাজসেবাসহ বিভিন্ন সেক্টরে চিকিৎসা-সংক্রান্ত সহযোগিতা করা হয়। তারা যোগাযোগ করলে বা খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।

  • নদীতে ফুল নিবেদনের মধ্য দিয়ে পাহাড়ে বর্ষবরণ উৎসব শুরু

    নদীতে ফুল নিবেদনের মধ্য দিয়ে পাহাড়ে বর্ষবরণ উৎসব শুরু

    নদীতে কলাপতা করে ফুল নিবেদনের মধ্য দিয়ে রোববার থেকে তিন দিনব্যাপী পাহাড়ের প্রধান সামাজিক উৎসব বিজু-সাংগ্রাই-বৈসু-বিষু-বিহু সাংক্রাইন, সাংক্রান, পাতা-এর আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে।

    আজ ভোরের দিকে শিশু থেকে নারী-পুরুষ ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিধান করে গঙ্গা মা-এর উদ্দেশ্য উৎসব মুখর পরিবেশে পানিতে ফুল নিবেদন করেছেন।

    তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের ১৩ ভাষাভাষির ১৫টি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পাহাড়ি জাতিসত্তাদের বসবাস। এসব জাতি গোষ্ঠীদের ঐতিহ্যবাহী প্রধান সামাজিক উৎসব হচ্ছে বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিষু, বিহু, সাংক্রাই, পাতা। তবে এ উৎসবকে বিভিন্ন সম্প্রদায় নানান নামে অভিহিত করলেও এর নিবেদন কিন্তু একই। তাই এ উৎসবটি আদিবাসী পাহাড়িদের শুধু আনন্দের নয়, পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল সম্প্রদায়ের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, ঐক্য ও মৈত্রী বন্ধনের প্রতীকও বটে। আজ ‘ফুল বিজু’র দিন ভোরে কলাপতায় ফুল নিবেদনের মধ্য দিয়ে তিন দিনব্যাপী উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেছে পাহাড়ের বসবাসরত জনগোষ্ঠীরা।

    সকালে বিজু-সাংগ্রাই-বৈসু-বিষু-বিহু সাংক্রাইন, সাংক্রান, পাতার উদযাপন কমিটির উদ্যোগে রাঙামাটিতে কেন্দ্রীয়ভাবে সকালে রাজ বন বিহার পুর্বঘাটে পানিতে ফুল নিবেদন করা হয়।

    এসময় উপস্থিত ছিলেন উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা, সদস্য সচিব ইন্টুমনি তালুকদার প্রমুখ। এছাড়া পৃথক পৃথকভাবে রাঙামাটি শহরে কোরানী পাহাড়, আসামবস্তি, গর্জনতলীসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে উৎসব মুখর পরিবেশে পানিতে ফুল নিবেদন করেছেন পাহাড়ি সম্প্রদায়ের লোকজন। শহরের কোরানী পাহাড় এলাকায় ভোর থেকে শত শত নারী-পুরুষ ঐতিহ্যবাহী নিজস্ব পোশাকে কলাপাতায় করে কাপ্তাই হ্রদের পানিতে ফুল নিবেদন করেছেন।

    শহরে কোরানী পাহাড়স্থ কাপ্তাই হ্রদে ফুল নিবেদনে আসা রিপা চাকমা, নন্দিতা চাকমা, রকি চাকমা জানান, উৎসবের প্রথম দিনে ‘ফুল বিজুতে’ পুরাতন বছরের সমস্ত দুঃখ, কষ্ট, গ্লানি, বেদনা, ভয়, অন্তরায় উপদ্রবকে মুছে ফেলে দিয়ে নতুন বছর যাতে সুখ-শান্তি, অনাবিল শান্তি বয়ে আনে সেই উদ্দেশ্য নিয়ে কলাপাতার মাধ্যমে পানিতে গঙ্গা মা এর উদ্দেশ্য ফুল নিবেদন করতে এসেছেন।

    তারা আরও জানান, এ উৎসবটি পাহাড়ি সম্প্রদায়ের এ সংস্কৃতির অংশের একটি ধাপ। ‘ফুল বিজু’র দিন বিশেষ করে যুবক-যুবতীদের মেলা বসে থাকে। এ দিনে আনন্দ উপভোগ করে থাকেন। এছাড়া বিশেষ করে বিগত বছরে অনেক ঝামেলা হয়েছে। তাই ভগবান বুদ্ধের কাছে প্রার্থনা করা হয়েছে নতুন বছর যাতে শান্তিতে কেটে যায়। এছাড়া ফুল বিজুর দিনে ফুল দিয়ে বাড়ি ঘর সাজানো হয়। তরুণ-তরুণীরা পাড়ায় পাড়ায় বৃদ্ধদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্নান করায়। সন্ধ্যায় বৌদ্ধ মন্দির, নদীর ঘাটে, বাড়ীতে প্রদীপ প্রজ্জ্বালন করে থাকে। কাল সোমবার উৎসবের দ্বিতীয় দিন মূল বিজু। এ দিনে বাড়িতে বাড়িতে চলে খাওয়া-দাওয়ার পর্ব ও আনন্দ-পূর্তি। ৩০ থেকে ৪০ প্রকারের তরকারি দিয়ে রান্না করা হয় ঐতিহ্যবাহী পাজন। পরদিন রয়েছে গজ্যাপজ্যা বিজু। এ দিনে বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনটিকে অর্থাৎ পহেলা বৈশাখকে চাকমারা গজ্যাপজ্যা বিজু, ত্রিপুরা-বিসিকাতাল, মারমা-সাংগ্রাই আপ্যাইনং বলে অভিহিত করে থাকেন। এদিনে পাহাড়িরা সারাদিন ঘরে বসে বিশ্রাম নিয়ে থাকে এবং বৌদ্ধ মন্দিরে গিয়ে প্রার্থনা ও বয়োজ্যেষ্ঠদের বাড়িতে ডেকে নিয়ে এসে যত্নসহকারে ভাত খাওয়ানোসহ আর্শীবাদ নিয়ে থাকেন।

    বিজু-সাংগ্রাই-বৈসু-বিষু-বিহু সাংক্রাইন, সাংক্রান, পাতা উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ইন্টু মনি তালুকদার বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও তিন পার্বত্য জেলায় বিজু-সাংগ্রাই-বৈসু-বিষু-বিহু সাংক্রাইন, সাংক্রান, পাতা-এর উৎসব খুব সুন্দরভাবে উদযাপন করছি। এবার নতুন বছরের প্রত্যাশা হচ্ছে সকল গ্লানি মুছে ফেলে, অতীত সব কিছু ভুলে গিয়ে আমরা নতুনভাবে অগ্রসর হবো। পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল সম্প্রদায়কে নিয়ে সামনের দিনগুলোতে এগিয়ে যাবো এবং আমরা যাতে একিভূত হয়ে বিজুর দিনগুলো উপভোগ করতে পারি সে আহ্বান জানান।

  • সালথায় ঘোড় দৌড় অনুষ্ঠিত ‍উল্লসিত এলাকাবাসি

    সালথায় ঘোড় দৌড় অনুষ্ঠিত ‍উল্লসিত এলাকাবাসি

    গ্রামীণ জীবনের ঐতিহ্য ধরে রাখতে দীর্ঘ ১৫ বছর পর ফরিদপুরের সালথায় ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয়দের আয়োজনে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের চিতাইলার বিল থেকে নিশাতলা পর্যন্ত ২ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় ছোট-বড় মোট ৯টি ঘোড়া অংশ নেয়। প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার হিসেবে জসিম মোল্লার ঘোড়া ২৬ ইঞ্চি এলইডি টিভি, দ্বিতীয় পুরস্কার হিসেবে নুরুল ইসলামের ঘোড়া ৮ হাজার টাকা, তৃতীয় পুরস্কার হিসেবে বিলায়েত হোসেনের ঘোড়া নগদ ৬ হাজার টাকা পুরস্কার জিতে নেয়। প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন বয়সের প্রায় লক্ষাধিক দর্শক উপস্থিত হয়ে আনন্দ উপভোগ করে।

    স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন পর এই প্রতিযোগিতা ফিরে আসায় এলাকায় আনন্দ-উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। আয়োজকরাও ভবিষ্যতে নিয়মিত এ ধরনের আয়োজন চালিয়ে যাওয়ার আশাবাদ প্রকাশ করেছেন।

    ১ম স্থান অর্জনকারী ঘোড়ার মালিক জসিম মোল্লা বলেন, দীর্ঘদিন পর অংশগ্রহণ করতে পেরে আনন্দিত। ভবিষ্যতেও নিয়মিত অংশগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। নুরুল ইসলাম মাতুব্বর বলেন, এ ধরনের আয়োজন গ্রামীণ সংস্কৃতি ও সামাজিক বন্ধনকে দৃঢ় করে।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ও ইউনিয়ন রাজনৈতিক নেতাকর্মী, ইউপি চেয়ারম্যান, বিভিন্ন ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

  • লোকজ ঐতিহ্যে মুখর চিলমারী, জমে উঠেছে ‘বউ মেলা’

    লোকজ ঐতিহ্যে মুখর চিলমারী, জমে উঠেছে ‘বউ মেলা’

    উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামের চিলমারীর বালাবাড়ি হাটে বসেছে ঐতিহ্যবাহী ‘বউ মেলা’। এ মেলাকে ঘিরে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। গত শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া এ আয়োজন স্থানীয় সংস্কৃতি, লোকজ ঐতিহ্য এবং নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে নতুন মাত্রা পেয়েছে। প্রতিবছর সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অষ্টমী স্নানকে কেন্দ্র করেই এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়।

    ডেস্ক নিউজঃ

    সরেজমিন শনিবার( ২৮ মার্চ) দুপুরে দেখা যায়, কুড়িগ্রাম জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা নারী-পুরুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে মেলা প্রাঙ্গণ। বিশেষ করে নববধূ ও গৃহবধূদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। রঙিন শাড়ি, গয়না ও গ্রামীণ সাজে সজ্জিত নারীদের উপস্থিতিতে মেলায় তৈরি হয়েছে এক বর্ণিল পরিবেশ।

    মেলায় রয়েছে বিভিন্ন ধরনের পসরা—হাতের তৈরি গহনা, মাটির তৈজসপত্র, নকশিকাঁথা, বাঁশ ও বেতের সামগ্রীসহ নানা রকম গ্রামীণ পণ্য। এছাড়া শিশুদের জন্য খেলনা, নাগরদোলা এবং বাহারি খাবারের দোকান দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করছে।

    উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবু সাইদ হোসেন পাখী বলেন, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অষ্টমী স্নানকে ঘিরে বালাবাড়ি হাটে এ ঐতিহ্যবাহী মেলা বসে আসছে। প্রায় ৪০০ বছরের এই প্রাচীন আয়োজনের অংশ হিসেবে স্নানের পরবর্তী দুই দিন এলাকায় বিশেষ উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। প্রথম দিনে অনুষ্ঠিত হয় ‘জামাই মেলা’ এবং পরদিন ‘বউ মেলা’, যা স্থানীয় সংস্কৃতি ও পারিবারিক বন্ধনের এক অনন্য প্রতিফলন।

    আয়োজকরা জানান, বালাবাড়ি হাটের এ মেলা একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী আয়োজন। মূলত নারীদের জন্য বিশেষভাবে আয়োজন করা এই মেলায় তারা নিজেদের তৈরি পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির সুযোগ পান। এতে নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার পথও সুগম হচ্ছে।

    মেলায় আসা সালেহা বেগম নামে এক গৃহবধূ বলেন, এই মেলায় এসে খুব ভালো লাগছে। এখানে আমরা নিজেদের তৈরি জিনিস বিক্রি করতে পারছি, আবার আনন্দও উপভোগ করছি।

    রংপুর থেকে আসা দোকানী রাবেয়া বেগম বলেন, প্রতিবারে অষ্টমীর আগের দিন আসি। অষ্টমীর দিনে ভালোই বিক্রি হয়েছে। এবারে বউ মেলায় তেমন কোন বিক্রি করতে পারিনি। এখানে এবারে অব্যবস্থাপনা রয়েছে। আশা করি, পরের বার যেন সরকারের ব্যবস্থাপনায় মেলাটি হয়।

    মেলার সার্বিক নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। আয়োজকরা আশা করছেন, আগামীতে এই মেলায় দর্শনার্থীদের ব্যাপক সমাগম ঘটবে এবং এটি হয়ে উঠবে অঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণীয় আয়োজন।

  • নীলফামারীর সৈয়দপুরে কুড়িয়ে পাওয়া টাকাভর্তি মানিব্যাগ মালিককে ফিরিয়ে দিয়েছেন পুলিশ সদস্য ফজলুল হক।

    নীলফামারীর সৈয়দপুরে কুড়িয়ে পাওয়া টাকাভর্তি মানিব্যাগ মালিককে ফিরিয়ে দিয়েছেন পুলিশ সদস্য ফজলুল হক।

    নীলফামারীর সৈয়দপুরে কুড়িয়ে পাওয়া টাকাভর্তি মানিব্যাগ মালিককে ফিরিয়ে দিয়েছেন পুলিশ সদস্য ফজলুল হক। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেলে সৈয়দপুর থানায় প্রকৃত মালিকের কাছে মানিব্যাগ হস্তান্তর করা হয়।

    ডেস্ক নিউজঃ

    জানা যায়, দুপুরের দিকে পুলিশ কনস্টেবল ফজলুল হক সৈয়দপুর থেকে নীলফামারীর দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় ঢেলাপীর বাজার এলাকায় পৌঁছালে সেখানে মাটিতে পড়ে থাকা একটি টাকাভর্তি মানিব্যাগ কুড়িয়ে পান। পরে মানিব্যাগে থাকা মোবাইল নম্বর এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের সূত্র ধরে প্রকৃত মালিক আলমগীর হোসেনকে মানিব্যাগটি ফিরিয়ে দেন তিনি। মানিব্যাগে ১৯ হাজার ৫০০ টাকা ছিল।

    পুলিশ কনস্টেবল ফজলুল হক বলেন, আজকে দুপুরের দিকে নীলফামারিতে যাচ্ছিলাম। এ সময় টাকাভর্তি মানিব্যাগ কুড়িয়ে পাই। পরে মানিব্যাগে থাকা কাগজপত্র দিয়ে মালিকের পরিচয় শনাক্ত করে তাকে কল দিয়ে থানায় ডেকে সবকিছু বুঝিয়ে দেই।

    এ বিষয়ে সৈয়দপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজা বলেন, থানার এক পুলিশ সদস্য এক ব্যক্তির টাকাভর্তি মানিব্যাগ কুড়িয়ে পান। পরে মালিককে ডেকে সেটি হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • নলিতাবাড়িতে বাজি জেতা মহিষ ফেরত দিলেন বিএনপি সমর্থক

    নলিতাবাড়িতে বাজি জেতা মহিষ ফেরত দিলেন বিএনপি সমর্থক

    শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনের নির্বাচনী ফলাফলকে কেন্দ্র করে কলসপাড় ইউনিয়নের উত্তর নাকশী গ্রামে ঘটে যাওয়া ব্যতিক্রমী ‘মহিষ বাজি’ এবার পেল এক মানবিক পরিণতি। মানবিক বিবেচনায় বাজিতে জেতা মহিষটি শেষ পর্যন্ত মালিকের হাতে ফিরিয়ে দিয়েছেন বিএনপি সমর্থক মো. আব্দুল মান্নান।

    শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) নিশ্চিত করেন কলসপাড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবদুল মজিদ। মহিষের মালিকের কষ্ট দেখে হৃদয়ে আঘাত অনুভূত হওয়ায় এমন সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

    নির্বাচনের আগে উত্তর নাকশী গ্রামের আব্দুল মান্নান ও বালুঘাটা গ্রামের আমির হোসেনের মধ্যে অভিনব এক বাজি ধরা হয়। শর্ত ছিল দাঁড়িপাল্লা প্রতীক জয়ী হলে আব্দুল মান্নান দেবেন ৬টি মহিষ, আর ধানের শীষ প্রতীক জয়ী হলে আমির হোসেন দেবেন ১টি মহিষ।

    ভোট গণনা শেষে বেসরকারি ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীক বিজয়ী হওয়ায় বাজিতে পরাজিত হন আমির হোসেন। পূর্বনির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী শুক্রবার দুপুরে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে গ্রামবাসীদের সঙ্গে নিয়ে মহিষটি বুঝে নেন আব্দুল মান্নান। মহিষ নিয়ে বিজয় মিছিলের আদলে গ্রামে প্রবেশ করলে এলাকায় সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। শিশু থেকে বৃদ্ধ সবার কৌতূহলী ভিড় জমে সেই দৃশ্য দেখতে। তবে আনন্দের সেই মুহূর্ত বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।

    স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মহিষটি ছিল আমির হোসেনের পরিবারের অন্যতম আয়ের উৎস। মহিষ হারানোর পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। পরিবারের আর্থিক কষ্ট ও জীবিকার অনিশ্চয়তার বিষয়টি সামনে আসতেই বদলে যায় পরিস্থিতি।

    এলাকাবাসী মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আব্দুল মান্নান ও আমির হোসেন সম্পর্কে ওরা আত্মীয়, নির্বাচনের আগে তারা মহিষ নিয়ে বাজি ধরেছিল। আমির হোসেন বাজিতে হেরে যাওয়ার পর আব্দুল মান্নান বিএনপির সমর্থক লোকজন নিয়ে বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে মহিষটি নিয়ে আসেন এরপর তিনি মানবিক বিবেচনা করে ফেরত দিয়ে দেন। এতে করে আমরা এলাকাবাসী ব্যাপক খুশি হয়েছি।

    আব্দুল মান্নান বলেন, বাজি ছিল নিছক আনন্দের জন্য, কিন্তু কারও জীবিকা বিপন্ন হোক তা তিনি চান না। এরপর গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে মহিষটি আমির হোসেনের হাতে ফিরিয়ে দেন তিনি। তার এই সিদ্ধান্তে উপস্থিত সবাই সাধুবাদ জানান।

    আমির হোসেন বলেন, নির্বাচনের আগে আমরা দুজন মাঠে মহিষ চড়াইতে গিয়ে কথার এক পর্যায়ে বাজি ধরি। নির্বাচনের পর বাজিতে আমি হেরে গেলে আমার প্রতিশ্রুতি মোতাবেক তাকে একটি মহিষ দিয়ে দেই। পরবর্তীতে উনি আমার প্রতি দয়া ও অনুগ্রহ করে, উনার মনোবল বড় বিদায় আমার প্রতি খুব ভালোবেসে মহিষটি ফেরত দেন, এতে করে আমি তার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই।

    উল্লেখ্য, শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনে বেসরকারি ফলাফলে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ফাহিম চৌধুরী বিজয়ী হয়েছেন। স্থানীয়দের মতে, রাজনৈতিক উত্তাপের মাঝেও এমন মানবিকতার দৃষ্টান্ত এলাকাবাসীর কাছে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। আনন্দের বাজি শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠেছে সম্প্রীতি, সহমর্মিতা ও মানবতার অনন্য উদাহরণ।

  • প্রটোকল ভেঙে মরদেহ দাফন, প্রশংসায় ভাসছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী

    প্রটোকল ভেঙে মরদেহ দাফন, প্রশংসায় ভাসছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী

    রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ভেঙে নান্দাইল উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।

    শুক্রবার (২৭ মার্চ) উপজেলার ১২ নং জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নে দুটি উন্নয়নমূলক কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন শেষে উপজেলা সদরে যাচ্ছিলেন তিনি। ফেরার পথে হঠাৎ তার নজরে আসে সড়কের পাশেই একটি কবরস্থানে এক ব্যক্তির মরদেহ দাফন করা হচ্ছে। বিষয়টি দেখার সাথে সাথেই তিনি তার গাড়ি বহর থামিয়ে মানবিক কাজে অংশ নেন।

    প্রত্যক্ষদর্শী নান্দাইল উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. এনামুল কাদির জানান, ‘সরকারি প্রটোকল উপেক্ষা করে গাড়ি থেকে নেমে সোজা কবরস্থানে চলে যান তিনি। কোনো দ্বিধা বা সংকোচ না করে তিনি নিজেই কবরে নেমে পড়েন এবং মরদেহ খাটিয়া থেকে নামিয়ে কবরে শায়িত করার কাজে সরাসরি শরিক হন। একজন মন্ত্রীকে এভাবে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে দাফন কাজে অংশ নিতে দেখে আমরা অভিভূত হই।’

    উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান লিটন বলেন, ‘একজন প্রতিমন্ত্রী এভাবে সাধারণ মানুষের লাশের খাটিয়া ধরবেন এবং কবরে নেমে দাফন করবেন, এটা কল্পনাও করা যায় না। তার এই সাদামাটা জীবন আর মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা আমাদের মুগ্ধ করেছে।’

    জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ‘পদের অহংকার ভুলে মাটির মানুষের কাছে ফিরে আসার এই দৃশ্য বর্তমান সময়ে এক বিরল দৃষ্টান্ত। একজন জনপ্রতিনিধির এমন মানবিক আচরণ সমাজের অন্যদের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।’

    দাফন শেষে মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনায় উপস্থিত সবার সাথে মোনাজাতে অংশ নেন তিনি । এরপর তিনি পুনরায় তার গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

    এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তথ্য প্রতিমন্ত্রীর এই মানবিক কাজের ছবি ও সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক প্রশংসায় ভাসছেন।

  • মাসজুড়ে ১০টাকা কেজিতে গরুর দুধ পেলো করিমগঞ্জবাসী

    মাসজুড়ে ১০টাকা কেজিতে গরুর দুধ পেলো করিমগঞ্জবাসী

    রমজান মাস জুড়ে নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের মাঝে কিশোরগঞ্জে নামমাত্র টাকায় দুধ বিক্রি করে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে জে সি এগ্রো ফার্ম। গত পাঁচ বছর ধরে সিয়াম সাধনার এ পবিত্র মাসে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি, যা জেলাজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে।

    জানা যায়, নিম্নআয়ের মানুষের কথা চিন্তা করে পুরো রমজান মাসজুড়ে মাত্র ১০ টাকা কেজি দরে দুধ বিক্রি করে মানবিকতার নজির স্থাপন করেছে করিমগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর রৌহা গ্রামে অবস্থিত এই অ্যাগ্রো ফার্মটি। এই খামারে বর্তমানে মোটাতাজাকরণসহ প্রায় ২৫০টি গরু রয়েছে। এর মধ্যে ১৮টি দুধেল গাভী থেকে প্রতিদিন প্রায় ১০০ কেজি দুধ উৎপাদিত হচ্ছে।

    খামার কর্তৃপক্ষ জানায়, রমজানের প্রথম দিন থেকেই প্রতিদিন বেলা ১১টায় দুধ বিক্রি শুরু হয়। যাতে বেশি মানুষ উপকৃত হতে পারে, সেজন্য একজন সর্বোচ্চ এক কেজি করে দুধ কিনতে পারছেন। প্রতিদিন গড়ে ৯০-১০০ নিম্নআয়ের মানুষ এ সুবিধা পাচ্ছেন। স্থানীয় এলাকা ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে মানুষ এসে দুধ সংগ্রহ করছেন।

    বর্তমানে বাজারে প্রতি লিটার দুধ ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সেই তুলনায় ১০ টাকায় দুধ পাওয়া অনেক পরিবারের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে।

    নিয়ামতপুর গ্রামের কামাল উদ্দিন বলেন, রমজানে খরচ অনেক বেড়ে যায়। বাজারের দামে দুধ কিনে খাওয়া সম্ভব হয় না। জে সি ফার্ম ১০ টাকায় দুধ দিয়েছেন, তাই অন্তত সেহরিতে পরিবারের জন্য দুধ নিতে পেরেছি।

    এ বিষয়ে জে সি এগ্রো ফার্মের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসাইন মোহাম্মদ রিয়াদ বলেন, রোজার মাসে দুধের চাহিদা বাড়ে, কিন্তু অনেকেই উচ্চ দামে কিনতে পারেন না। তাদের কথা চিন্তা করেই নামমাত্র ১০ টাকা দরে দুধ বিক্রি করেছি।

    তিনি জানান, পুরো মাসে প্রায় দুই টন দুধ ১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে প্রতিদিন গড়ে ৯০ থেকে ১০০ জনের বেশি মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন।

    স্থানীয়দের মতে, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে এমন মানবিক উদ্যোগ শুধু আর্থিক সহায়তাই নয়, বরং সমাজে সহমর্মিতার বার্তাও পৌঁছে দিচ্ছে। রমজানের চেতনায় গরিব মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ এলাকায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

  • কলার মোচা দেখিয়ে ট্রেন থামিয়ে প্রাণ বাঁচালেন

    কলার মোচা দেখিয়ে ট্রেন থামিয়ে প্রাণ বাঁচালেন

    দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে এক অনন্য সাহসিকতা ও উপস্থিত বুদ্ধির পরিচয় দিয়েছেন দিনমজুর এনামুল হক। রেললাইন ভাঙা দেখে তাৎক্ষণিকভাবে লাল কাপড়ের বিকল্প হিসেবে কলার মোচার লাল অংশ ব্যবহার করে সংকেত দেন তিনি। এতে নিশ্চিত দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে পঞ্চগড়গামী একটি আন্তঃনগর ট্রেন এবং এর শত শত যাত্রী।

    ঘটনাটি ঘটেছে গত সোমবার সকাল সাড়ে ৬টায় ফুলবাড়ী-বিরামপুর রেললাইনের মধ্যবর্তী পূর্ব চণ্ডীপুর এলাকায়। এনামুল হক (৬৫) ওই গ্রামের মৃত ফজলুল হক সোনারের ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদের তৃতীয় দিন ভোরে কাজের উদ্দেশ্যে বের হয়ে রেললাইনের পাশ দিয়ে হাঁটার সময় এনামুল লক্ষ্য করেন রেললাইনের প্রায় এক ফুট অংশ ভেঙে বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি বড় ধরনের ট্রেন দুর্ঘটনার আশঙ্কা করেন। আশেপাশে কোনো লাল কাপড় না পেয়ে তিনি উপস্থিত বুদ্ধিতে পাশের বাগান থেকে একটি কলার মোচা ছিঁড়ে নেন এবং এর লালচে পাপড়িগুলো একটি লাঠির মাথায় বেঁধে সংকেত হিসেবে লাইনের ওপর দাঁড়িয়ে যান।ঠিক সেই মুহূর্তেই ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পঞ্চগড়গামী আন্তঃনগর ‍‍`পঞ্চগড় এক্সপ্রেস‍‍` ট্রেনটি ওই এলাকা অতিক্রম করছিল। দূর থেকে এনামুলের লাল সংকেত দেখতে পেয়ে ট্রেনের চালক নিরাপদ দূরত্বে ট্রেনটি থামিয়ে দেন।

    এর ফলে এক ভয়াবহ বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়। এ সময় এনামুলের ডাকে সাড়া দিয়ে প্রতিবেশী শাহিনুর পার্বতীপুর রেলওয়ে অফিসে খবর দেন। সংবাদ পেয়ে রেলওয়ের প্রকৌশলী দল ও শ্রমিকেরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আধা ঘণ্টার চেষ্টায় বিকল্প ব্যবস্থায় ট্রেনটি পার করার ব্যবস্থা করেন। পরে রেললাইনটি স্থায়ীভাবে মেরামত করা হলে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

    ফুলবাড়ী স্টেশন মাস্টার শওকত আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রেললাইন ভেঙে যাওয়ার খবর পাওয়ার পরপরই প্রকৌশলী টিম সেখানে পাঠানো হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, এলাকাবাসীর বিশেষ করে এনামুল হকের এই সচেতনতার কারণে একটি বড় ট্রেন দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে ওই রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং এ ঘটনার জন্য প্রায় আধা ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল।

    এম কে

  • ভালোবাসায় বিদায়

    ভালোবাসায় বিদায়

    ভালোবাসা দিবসে প্রিয় শিক্ষককে জাঁকজমক আয়োজনে বিদায় জানিয়েছেন প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। ফুল দিয়ে সাজানো ছাদখোলা মাইক্রোবাসে করে তাঁকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়। পেছনে ছিল শতাধিক মোটরসাইকেলের বহর—যা চোখে পড়ার মতো দৃশ্য। গতকাল শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়পলাশবাড়ী ইউনিয়নের কাশুয়া খাদেমগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ আয়োজন করা হয়।

    সম্প্রতি অবসর নেওয়া বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক ইউসুফ আলীকে এমন ব্যতিক্রমী আয়োজনে বিদায় জানান প্রায় ৫০০ প্রাক্তন শিক্ষার্থী।

    দুপুরে বিদ্যালয় মাঠে বিদায়ী সংবর্ধনা ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জয়নাল আবেদিন। বক্তব্য দেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম, কাদিহাট উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুলতান আলী মানিক, বালিয়াহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জিল্লুর রহমানসহ আশপাশের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা।

    বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ইউসুফ আলী।

    তিনি বলেন, ‘জীবনের শেষ সময়ে এত ভালোবাসায় বিদায় পাব, তা স্বপ্নেও ভাবিনি। শিক্ষার্থীদের জন্য জীবনের সর্বোচ্চ দেওয়ার চেষ্টা করেছি।’

  • ৪২২ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক ঈদগাহ মসজিদ

    ৪২২ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক ঈদগাহ মসজিদ

    উত্তরবঙ্গের ধর্মীয় ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর মধ্যে ৪২২ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক ঈদগাহ মসজিদ অন্যতম। স্থাপনাটি দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার ভোগনগর ইউনিয়নের ভাবকি গ্রামে অবস্থিত। ছোট আকৃতির এ মসজিদে এখনো নামাজ আদায় করা হয়। দেশি-বিদেশি মানুষ এখনো মসজিদটি দেখতে ছুটে আসেন।

    শালবন ঘেরা মনোরম পরিবেশে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা মসজিদের শিলালিপি থেকে জানা যায়, ১০১০ বঙ্গাব্দ বা ১৬০৪ সালে নির্মিত হয় এটি। ১২ ফুট দৈর্ঘ ও প্রস্থের মসজিদের উচ্চতা মিনারসহ প্রায় ৩০ ফুট। একসময় নিয়মিত নামাজ আদায় করা হতো। বর্তমানে নিয়মিত না হলেও মাঝে মধ্যে দেখতে আসা পর্যটকেরা নামাজ আদায় করেন। এ ছাড়া দুই ঈদের নামাজের জন্য ব্যবহৃত হয়।স্থানীয়রা জানান, মসজিদটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হলে শুধু ধর্মীয় উপাসনালয় নয় বরং গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবেও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টিকে থাকবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগই পারে এই শতাব্দী প্রাচীন স্থাপনাটিকে রক্ষা করতে। যদিও বা অপরিকল্পিত সংস্কারের কারণে মসজিদটি রক্ষা পেলেও অনেকটা নিদর্শন হারিয়ে ফেলেছে।

    মসজিদটি দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা ইউসুফ আলী জানান, তার পূর্বপুরুষরাই মসজিদটি নির্মাণ করেন। সে আমলে জনবসতি এবং জনসংখ্যা কম থাকায় ছোট পরিসরে নির্মিত হয় মসজিদটি। মাত্র ৮ থেকে ১০ জন মুসল্লি দুই কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করতে পারেন। এখন চারপাশে গড়ে উঠেছে জনবসতি। সেই গভীর জঙ্গলের অস্তিত্ব নেই।

    তিনি জানান, মসজিদটি ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে এখনো টিকে আছে। দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকার ফলে এটি প্রায় ধ্বংসের মুখে পড়েছিল। ২০১১ সালে স্থানীয়দের উদ্যোগে সংস্কার করা হয়। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মাধ্যমে সংস্কার করলে বাইরের নকশা এবং কারুকাজ ঠিক রাখা সম্ভব হতো। এতে মসজিদটি জৌলুস হারাতো না। পুরোনো নকশার আদলে নতুন করে ৪টি মিনার ও ১টি গম্বুজ নির্মাণ করলেও বর্তমানে ২টি মিনার ও ১টি গম্বুজ টিকে আছে।স্থানীয় শিক্ষাবিদ মাহাতাব উদ্দীন বলেন, ‘কালের বিবর্তনে মসজিদের ব্যবহারেও পরিবর্তন এসেছে। আমরা শুনেছি, অতীতে এখানে নিয়মিত নামাজ আদায় করা হতো। এখন পর্যটকেরা এসে আত্মতৃপ্তির জন্য নামাজ আদায় করেন। তবে দুই ঈদের জামাতের জন্য ব্যবহৃত হয়। অতীতের সেই জঙ্গলঘেরা নির্জন পরিবেশ আর নেই। ঈদগাহ মসজিদটি এখনো দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে।’

    ২০১১ সালে সংস্কার কাজের মিস্ত্রি নুর আলম বলেন, ‘মসজিদটি ব্যবহারের উপযুক্ত ছিল না। মসজিদটির ওপরে বটগাছসহ জঙ্গলে ভরে গিয়েছিল। চুন, সুরকির পলেস্তারা খসে ইটগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল। চেষ্টা করেছি পূর্বের নকশা অনুযায়ী সংস্কার করার। যদি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মাধ্যমে সংস্কার করা যেত, তাহলে উন্নতমানের প্রযুক্তি ও মেডিসিন ব্যবহার করে আগের অবস্থায় আনা যেতো।’

  • ছাত্রলীগ করায় ছেলেকে ‘ত্যাজ্য’ করলেন বাবা!

    ছাত্রলীগ করায় ছেলেকে ‘ত্যাজ্য’ করলেন বাবা!

    নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের রাজনীতি করায় অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে ছেলেকে ‘ত্যাজ্য’ ঘোষণা করেছেন মীর মো. আব্দুল মালেক নামে এক ব্যক্তি। তার বাড়ি নেত্রকোনা সদর উপজেলার সাতপাই এলাকায়। ছেলে মীর মো. সাজেদুর রহমান ছোটন কৈশোর থেকে পারিবারিক নীতি বিচ্যুত হয়ে ছাত্রলীগ কর্মী হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। সর্বশেষ তিনি জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

    গত ৬ মার্চ নেত্রকোনা জেলা নোটারি পাবলিকের কার্যালয়ে ছোটনকে ত্যাজ্য করে আব্দুল মালেক একটি অ্যাফিডেভিট করেন; যার নাম্বার ৩১০।

    পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের অধিকাংশ বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। রাজনৈতিক মতবিরোধ এবং বিভিন্ন সময়ে তার দাবি- দাওয়া আদায়ে অসদাচারণের কারণে তার সঙ্গে দীর্ঘকাল ধরে তিক্ততার সম্পর্ক চলমান রয়েছে। এসব কারণে ছেলেকে ত্যাজ্য ঘোষণা করেছেন বলে অ্যাফিডেভিটে উল্লেখ করেছেন আব্দুল মালেক।

    নেত্রকোনা জেলা জজ আদালতের আইনজীবী মো. আজিজুল হকের মাধ্যমে এ অ্যাফিডেভিট করেন মীর মো. আব্দুল মালেক।

    অ্যাফিডেভিটে তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সরকার ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেও ছেলে ছোটন তার নিষেধ উপেক্ষা করে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকেছেন। এ ঘটনা জানার পর তিনি তাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন। ভবিষ্যতে ছেলে কোনো বেআইনি কাজে জড়িত থাকলে তার দায়-দায়িত্ব তিনি নেবেন না।

  • বেগম রোকেয়ার দেহাবশেষ পায়রাবন্দে সমাহিত করার দাবি

    বেগম রোকেয়ার দেহাবশেষ পায়রাবন্দে সমাহিত করার দাবি

    মুসলিম নারী জাগরণের পথিকৃৎ মহীয়সী নারী বেগম রোকেয়ার জন্ম ও মৃত্যু দিবস। এই দিনে রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দে জন্মগ্রহণ করেছিলেন তিনি। প্রতিবছর ডিসেম্বরের ৯ তারিখ থেকে তিনদিনব্যাপী বেগম রোকেয়া দিবস পালন করা হয় পায়রাবন্দে।

    ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম নারীদের অন্ধকার থেকে আলোর পথে আনতে যে নারী অবদান রেখেছেন, সেই নারীর জন্মভিটে এখনও অন্ধকারে নিমজ্জিত। এবার পায়রাবন্দবাসীর প্রধান দাবি—ভারতের কলকাতার সোদপুর থেকে বেগম রোকেয়ার দেহাবশেষ পায়রাবন্দে এনে সমাহিত করার। অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—স্মৃতিকেন্দ্র চালু, দখলদারদের হাত থেকে ৫১ একর জমি উদ্ধার।

    একসময় কঠোর পর্দা প্রথা, নানা কুসংস্কার এবং কূপমণ্ডূকতায় ভরা ছিল পায়রাবন্দ। মেয়েরা বন্দিজীবন কাটাতো। ধীরে ধীরে সেই অবস্থা কেটে যাচ্ছে। এখন মেয়েদের বন্দি জীবনযাপন করতে হয় না। এখানকার মেয়েরা দলবেঁধে স্কুল-কলেজে যাচ্ছে। বাল্যবিয়েও কমে গেছে। নারীরা কঠোর পরিশ্রম করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।

    ক্ষণজন্মা নারী বেগম রোকেয়া ১৯৩২ সালের ৯ ডিসেম্বর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার সোদপুরে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। সেখানেই তাকে সমাহিত করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষ তার দেহাবশেষ সেখান থেকে ফিরিয়ে আনার দাবি করেছিলেন। কিন্তু উপেক্ষিতই থেকেছে সেই দাবি। তবে এবার এই দাবি জোরালো হয়েছে। পায়রাবন্দবাসী বেগম রোকেয়ার দেহাবশেষ পায়রাবন্দে এনে সমাহিত করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন।

  • বিয়েতে বরকে ৫ লিটার অকটেন উপহার

    বিয়েতে বরকে ৫ লিটার অকটেন উপহার

    সম্প্রতি জ্বালানি তেলের সরবরাহে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে ঠাকুরগাঁওয়েও। জেলার অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে মিলছে না তেল। দৈনিক একটি পাম্পে সীমিত পরিমাণে পাওয়া গেলেও সড়কজুড়ে লম্বা লাইন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে ভোক্তাদের। এমন বাস্তবতায় ঠাকুরগাঁওয়ের এক বিয়ের অনুষ্ঠানে দেখা গেল ভিন্নধর্মী এক চিত্র।

    সদর উপজেলার বেগুনবাড়ি ইউনিয়নের রাজাপুকুরে এক বিয়ের অনুষ্ঠানে বরকে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছে ৫ লিটার অকটেন। যা উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে সৃষ্টি করে হাস্যরস ও কৌতূহল। অনেকেই এটিকে সময়োপযোগী ও বাস্তবধর্মী উপহার হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত হাসান রায়হান নামে এক অতিথি বলেন, এখনকার সময়ে জ্বালানি তেলই সবচেয়ে দামি ও প্রয়োজনীয় জিনিস। তাই এমন উপহার সত্যিই ব্যতিক্রমী।

  • মায়ের কিডনিতে জীবন ফিরে পেলেন কৃষ্ণ হাজং

    মায়ের কিডনিতে জীবন ফিরে পেলেন কৃষ্ণ হাজং

    ‘মানুষ মানুষের জন্য-জীবন জীবনের জন্য’ এই কথাটি যেন আজ সত্যিতে রূপ নিল। মায়ের দেওয়া কিডনিতেই জীবন ফিরে পেয়েছে ছেলে কৃষ্ণ হাজং। কিডনি প্রতিস্থাপনসহ সামগ্রিক চিকিৎসার ব্যয় নির্বাহ করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ আসনে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। সন্তানের জীবন বাঁচাতে এক মায়ের নিজের কিডনি দানের মতো সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ, অন্যদিকে ব্যারিস্টার কায়সার কামালের মতো জনপ্রতিনিধির নিঃস্বার্থ আর্থিক ও মানসিক সহায়তায় মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এসেছেন নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার এক আদিবাসী যুবক কৃষ্ণ হাজং।

    বুধবার (২৫ মার্চ) দীর্ঘ চিকিৎসার পর সফল কিডনি প্রতিস্থাপন শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন কৃষ্ণ হাজং।

    নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার বিজয়পুর গ্রামের বাসিন্দা কৃষ্ণ হাজং ছিলেন তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। বাবা, মা, স্ত্রী ও এক কন্যাকে নিয়ে ছিল তার অভাবের সংসার। হঠাৎ করেই জানতে পারেন তার দুটি কিডনিই সম্পূর্ণ অকেজো।

    প্রথমে ময়মনসিংহ এবং পরে ঢাকায় চিকিৎসা নিতে গিয়ে কৃষ্ণের পরিবার প্রায় নিঃস্ব হয়ে পড়েন। অর্থাভাবে ডায়ালাইসিস করাতে না পেরে গত বছরের মে মাসের শেষদিকে একপ্রকার মৃত্যুর প্রহর গুনতে গুনতে বাড়িতে ফিরে আসেন তিনি।

    অসহায় কৃষ্ণের নিভু নিভু জীবনের কথা জানতে পারেন তৎকালীন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক এবং বর্তমানে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে তিনি নিজ উদ্যোগে অসহায় এই মানুষটির চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। তার সরাসরি তত্ত্বাবধানে গত ১৮ জুন থেকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) কৃষ্ণের নতুন করে চিকিৎসা ও ডায়ালাইসিস শুরু হয়।

    চিকিৎসকরা জানান, কৃষ্ণকে বাঁচাতে হলে কিডনি প্রতিস্থাপন করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। ছেলের করুণ পরিণতি মেনে নিতে পারেননি তার গর্ভধারিণী মা। নিজের জীবনের ঝুঁকি তুচ্ছ করে তিনি সিদ্ধান্ত নেন তার একটি কিডনি সন্তানকে দান করবেন।

    টানা আট মাস চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে গত ২ মার্চ বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষ্ণ হাজংয়ের কিডনি প্রতিস্থাপনের দিন ধার্য হয়। দীর্ঘ সময়ের জটিল অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়। পুরো এই প্রক্রিয়ার যাবতীয় ব্যয়ভার বহন ও সার্বক্ষণিক তদারকি করেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

    অবশেষে বুধবার হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পান কৃষ্ণ হাজং। আনন্দঘন ও আবেগাপ্লুত মুহূর্তে হাসপাতালে ছুটে যান ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। এ সময় কৃষ্ণের মা দুই হাত তুলে অশ্রুসিক্ত নয়নে মানবিক নেতাকে আশীর্বাদ করেন এবং ডেপুটি স্পিকার অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে তাদের বিদায় জানান।

    মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়ে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই আমি কৃষ্ণ হাজংয়ের পাশে দাঁড়িয়েছি। সবসময় তার চিকিৎসার অগ্রগতির সার্বিক খোঁজখবর নিয়েছি। সবকিছু ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সবার কাছে অনুরোধ, আসুন আমরা প্রার্থনা করি- কৃষ্ণ হাজং সুস্থ হয়ে যেন তার পরিবারের হাল ধরতে পারেন।

  • তরুণীর প্রেমের টানে দিনাজপুরে চীনা যুবক, চলছে বিয়ের প্রস্তুতি

    তরুণীর প্রেমের টানে দিনাজপুরে চীনা যুবক, চলছে বিয়ের প্রস্তুতি

    প্রেম মানে না জাতি-কুল বা কোনো বাধা। এমনই আরও একটি ইতিহাস সৃষ্টি করে বাংলাদেশি প্রেমিকা তরুণীর সঙ্গে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন সুদূর চীন থেকে আসা প্রেমিক যুবক ইয়ং সং সং (২৬)।

    চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা ঘটেছে দিনাজপুরের বিরল উপজেলার রাণীপুকুর ইউপির কাজিপাড়া শিমুলতলা গ্রামে।

    খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর প্রেমিক চীনা যুবককে এক নজর দেখার জন্য প্রেমিকার বাড়িতে শত শত উৎসুক জনতা ভিড় করছেন।

    জানা গেছে, প্রেমিক যুবক ইয়ং সং সং (২৬) পেশায় একজন ইঞ্জিনিয়ার (নির্মাণ)। তার বাড়ি চীনের জিয়াংসু প্রদেশে। তার বাবা মৃত ইউয়ান সিকি এবং মা লিউ ফেনহং।

    প্রায় ১ বছর আগে ভার্চুয়াল হ্যালো ট্যাক অ্যাপসের মাধ্যমে বাংলাদেশি তরুণী প্রেমিকা সুরভী আক্তারের (১৯) সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সুরভী আক্তার বিরল উপজেলার রাণীপুকুর ইউপির কাজিপাড়া শিমুলতলা গ্রামের অটোচালক নুর হোসেন বাবু ও গৃহিণী সাথী আক্তারের মেয়ে। সুরভীরা দুই বোন।

    সুরভী আক্তার ও চীনা যুবক ইয়ং সং সং জানান, তাদের দুজনের পরিচয় হবার পর ভার্চুয়াল যোগাযোগের মাধ্যমে ফ্রেন্ডশিপ থেকে রিলেশনশিপ গড়ে উঠে। একপর্যায়ে প্রেমিক যুবক ইয়ং সং সং প্রেমিকা সুরভী আক্তারের টানে গত ৪ আগস্ট সুদূর চীন থেকে বাংলাদেশে ছুটে আসেন। ১০ আগস্ট রোববার সন্ধ্যায় সুরভী আক্তারের বাড়িতে পৌঁছান ইয়ং সং সং ।

    সুরভীর পরিবারের লোকজন এবং স্থানীয়রা জানান, চীন থেকে আসা যুবকের পরিচয় ও কাগজপত্র পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সব কিছু ঠিক থাকলে সুরভীর সঙ্গে তার বিয়ে দেওয়া হবে।

  • আটোয়ারীর শাহী জামে মসজিদ শিল্প সৌন্দর্যের অপূর্ব নিদর্শন

    আটোয়ারীর শাহী জামে মসজিদ শিল্প সৌন্দর্যের অপূর্ব নিদর্শন

    শিল্প সৌন্দর্যের অপূর্ব নিদর্শন পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর গ্রামে অবস্থিত প্রায় আড়াই শ বছরের পুরোনো মির্জাপুর শাহী মসজিদ। মির্জাপুর শাহী মসজিদের সর্বত্র ইসলামি টেরাকাটা ফুল ও লতাপাতার নকশায় পরিপূর্ণ। মসজিদে ব্যবহৃত ইটগুলো চিকন, রক্তবর্ণ ও অলংকৃত।

    তিন গম্বুজবিশিষ্ট এ মসজিদের দৈর্ঘ্য ৪০ ফুট এবং প্রস্থ ২৫ ফুট। আয়তাকার এক সারিতে তিন গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদ সাধারণত মোগল স্থাপত্যরীতির বৈশিষ্ট্য। গম্বুজের শীর্ষবিন্দু ক্রমহ্রাসমান বেল্টযুক্ত। চার কোণে রয়েছে স্তরযুক্ত ও নকশাখচিত বেল্ট করা চারটি সুচিকন মিনার।

    এছাড়া সম্মুখবর্তী দেওয়ালের মধ্য দরজার দুই পাশে মধ্য গম্বুজের সঙ্গে সমন্বয় রেখে নির্মিত হয়েছে আরও দুটি ক্ষুদ্র মিনার। এই মিনারের দেওয়াল সংযুক্ত অংশ বর্গাকার। অনুরূপ সমমানের ক্ষুদ্রাকৃতির দুটি মিনার রয়েছে পশ্চিম দেওয়ালেও।

    এ মসজিদে সামনের দেওয়ালে রয়েছে সুশোভন লতাপাতা ও ইসলামি টেরাকাটা নকশাখচিত মাঝারি আকৃতির তিনটি দরজা। দরজার কিছুটা দূরবর্তী উভয় পাশে রয়েছে অন্তঃপ্রবিষ্ট প্যানেল। তিনটি দরজায়ই ছাদ ও দরজার উপরিভাগের মাঝামাঝি স্থানে বাইরের দিকে উভয় পাশে ঢালু তোরণ আকৃতির একটি স্ফীত অংশ সংযুক্ত হওয়ায় অলংকরণ বিন্যাসে সৃষ্টি হয়েছে নতুনত্ব।

    সামনের তিনটি দরজার অনুরূপ আরও তিনটি দরজার নকশা ও অন্তঃপ্রবিষ্ট প্যানেল স্থাপিত হয়েছে পশ্চিম দিকের দেওয়ালেও। তবে এই দরজা সম্ভবত স্থাপত্যকৌশল হিসাবেই নির্মিত পশ্চিমের মাঝের দরজা। সুস্পষ্ট কোনো মেহরাব নেই। উত্তর ও দক্ষিণ দেওয়ালও নকশাখচিত। তবে এই দরজা দুটির উপরিভাগের স্ফীত অংশটি সমান্তরাল নয়। গ্রামবাংলার চিরায়ত রীতি অনুযায়ী দোচালা আকৃতির। কথিত আছে, সামনের ইটগুলো নাকি ঘিয়ে ভেজে তৈরি করা হয়েছে।

    দেওয়ালের অলংকরণে ফুল ও পাতার পাশাপাশি পাখি ও অন্যান্য প্রাণীর চিত্র রয়েছে। সম্ভবত নির্মাণকারী কারিগরদের মধ্যে হিন্দু স্থপতিও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। অথবা এমনও হতে পারে যে প্রতিবেশী হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য খচিত হয়েছে জীবজন্তুর চিত্র। অবশ্য বর্তমানে জীবজন্তুর চিত্রগুলো অপসৃত হয়েছে।

    মধ্যবর্তী দরজার উপরিভাগে ফারসিলিপিখচিত একটি ক্ষুদ্র কালো ফলকের ভাষা ও লিপি অনুযায়ী এই মসজিদটি মোগল সম্রাট শাহ আলমের রাজত্বকালে নির্মিত হয় বলে জানা যায়। উল্লিখিত লিপি ফলকটিতে মুদ্রিত সন পারস্য বছর।

    লক্ষণীয় বিষয়, সমসাময়িককালে বাংলাদেশের অন্যান্য মসজিদ বা ইমারতের সন তারিখ হিজরি অথবা খ্রিষ্টাব্দ অনুযায়ী লেখা ছিল। কিন্তু এই মসজিদে পারস্য বছরের উল্লেখ থাকায় অনুমিত হয় যে, যেসব কারিগর ও স্থপতি এই মসজিদের নির্মাণ মেরামত ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজে নিযুক্ত ছিলেন, তারা ছিলেন পারস্য অথবা ইরানের অধিবাসী। বিশেষজ্ঞদের অভিমত, এ ধরনের কারুকার্য সমসাময়িককালে ইরানের মসজিদ ও অন্যান্য অট্টালিকায় বিদ্যমান ছিল।

    মির্জাপুর মসজিদের মূল ভবনের সামনে রয়েছে একটি আয়তকার পাকা অঙ্গন। অঙ্গনের উপরিভাগ উন্মুক্ত। অঙ্গনের বাইরে রয়েছে একটি সুদৃশ্য তোরণ। তোরণটির নির্মাণশৈলী অপূর্ব। এতে রয়েছে খিলান করা অন্তঃপ্রবিষ্ট দরজা। উভয় পাশে খাঁজ করা স্তম্ভ এবং ঢাল ও অর্ধ বৃত্তাকার, চ্যাপ্টা নাতিদীর্ঘ একটি গম্বুজ। গম্বুজের উপরিভাগে রয়েছে কোরক আকৃতির একটি ক্ষুদ্র চূড়া

    মির্জাপুর মসজিদের নির্মাণ সম্পর্কে সুস্পষ্ট তথ্য পাওয়া না গেলেও এই গ্রামের মির্জা বংশীয় উত্তরসূরিদের অভিমত অনুযায়ী মির্জাপুর গ্রামের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা পূর্ব পুরুষরা মসজিদটির নির্মাণকাজ শুরু করেন। অতঃপর ফুল মোহাম্মদের ভাই দোস্ত মোহাম্মদ সম্ভবত এর নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করেন। এটি ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রায় দুই শ বছর আগে মুলুকউদ্দীন বা মালেকউদ্দীন মির্জাপুর মসজিদের মেরামত বা সৌন্দর্যের কাজ শেষ করেন। তিনি হুগলি মসজিদের ইমামের মাধ্যমে ইরান থেকে কারিগর এনেছিলেন।

    মির্জাপুর মসজিদের স্থাপত্য নিদর্শনের সঙ্গে ঢাকার হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে নির্মিত মসজিদের সঙ্গে সাদৃশ্য থাকায় অনুমিত হয় যে উভয় মসজিদ সমসাময়িককালে নির্মিত হয়। হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে স্থাপিত মসজিদের নির্মাণকাল ১৬৭৯ খ্রি.। সেদিক থেকে মির্জাপুর মসজিদের বয়স আড়াই শ বছরের কম নয়। বস্তুত বৃহত্তর দিনাজপুর জেলার মধ্যে একমাত্র মির্জাপুর শাহী মসজিদটিই প্রাপ্ত মোগল আমলে নির্মিত অন্যান্য মসজিদের তুলনায় সবচেয়ে সুষমমণ্ডিত, উৎকৃষ্ট শিল্পনিদর্শন ও সর্বাপেক্ষা মজবুত অবস্থায় বিদ্যমান রয়েছে। বর্তমানে এটি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ সংরক্ষণ করছে।

  • ১০ টাকায় ইফতার বাজার

    ১০ টাকায় ইফতার বাজার

    মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ীতে পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে বিক্রমপুর মানবসেবা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ১০ টাকায় ইফতার সামগ্রী বিক্রি করা হয়েছে। মঙ্গলবার উপজেলার কামারখাড়া মাঠে ৫শ পরিবার মাত্র ১০ টাকা মূল্যে এই ইফতার সামগ্রী ক্রয় করেন।

    প্রত্যেক ক্রেতা মাত্র ১০ টাকা দিয়ে ক্রয় করছেন- ৫০০ গ্রাম খেজুর, ১ কেজি ছোলা, ১ কেজি বুট, ১ লিটার সয়াবিন তেল, ১ কেজি মুড়ি, ১ কেজি চিরা, ১ কেজি চিনি ও ১ কেজি পেঁয়াজ।

    ইফতার সামগ্রী নিতে আসা উপকারভোগীরা আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

    বিক্রমপুর মানবসেবা ফাউন্ডেশনের সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক হিরা জানান- রমজান মাসে যেন কোনো পরিবার ইফতার থেকে বঞ্চিত না হয়, সেই চিন্তা থেকেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন- বিক্রমপুর মানবসেবা ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. বিপ্লব হালদার, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মো. রবিন হাওলাদার, কার্যনির্বাহী সদস্য জসিম মোল্লা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিয়া মনি, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ফাহিম আহমেদ প্রমুখ।

  • শিমুলে রাঙা পথ, পলাশে বসন্তের আমেজ গাংনীতে

    শিমুলে রাঙা পথ, পলাশে বসন্তের আমেজ গাংনীতে

    প্রকৃতি থেকে এখনো পুরোপুরি সরেনি শীতের চাদর। রৌদ্রোজ্জ্বল মিষ্টি দিন গায়ে লাগে আলতোভাবে। পাতা ঝরা গাছে গজিয়েছে নতুন কুঁড়ি, কোকিলের কুহুতানে জেগে উঠছে চারপাশ। বাতাসে ভেসে আসছে নানা ফুলের ঘ্রাণ। এরই মধ্যে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার গ্রামাঞ্চলের রাস্তার ধারে ফুটে থাকা শিমুল ও পলাশ ফুলে রঙিন হয়ে উঠেছে প্রকৃতি।উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তার দুই পাশে সারি সারি শিমুলগাছে লাল ফুল ফুটে আছে। তবে পলাশগাছ তুলনামূলক কম। তেঁতুলবাড়িয়া, কল্যাণপুর, বামন্দী, করমদি, দেবীপুর, বালিয়াঘাট, হারাভাঙ্গাসহ বিভিন্ন গ্রামের সড়কে শিমুলের উপস্থিতি চোখে পড়ে বেশি। পলাশ দেখা যায় অল্প কয়েকটি স্থানে।

    স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শিমুল-পলাশের রঙে প্রকৃতি এখন অপরূপ সাজে সেজেছে। তবে পলাশগাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় আগের মতো দৃষ্টিনন্দন দৃশ্য আর দেখা যায় না।

    কল্যাণপুর গ্রামের ফয়সাল আহাম্মেদ বলেন, ‘আমাদের এলাকার রাস্তায় অনেক শিমুলগাছ রয়েছে। প্রায় প্রতিটি গাছে ফুল ফুটেছে। চারদিকে লাল আভা ছড়িয়ে পড়েছে। যদি পলাশগাছ বেশি থাকত, তাহলে দৃশ্য আরও মনোমুগ্ধকর হতো।’পথচারী রাজু আহমেদ বলেন, ‘পলাশী গ্রামের একটি পলাশগাছে পরিপূর্ণ ফুল ফুটেছে। দেখতে খুবই সুন্দর লাগে। কিন্তু পলাশগাছ খুব কম দেখা যায়। এই ফুল প্রকৃতিকে নতুন রূপ দেয়।’

    বামন্দী ইউনিয়নের পুকুরপাড়া গ্রামের রাসেল আহমেদ বলেন, উপজেলার বিভিন্ন সড়ক ও বাড়ির পাশে শিমুল ফুল ফুটেছে। রাস্তার ধারে আরও বেশি ফুলের গাছ লাগালে সৌন্দর্য বাড়বে।

    তেঁতুলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, এলাকায় পলাশগাছ খুব বেশি নেই। ধীরে ধীরে পলাশগাছ হারিয়ে যাচ্ছে। শিমুলগাছ রয়েছে বেশ কিছু। রাস্তার ধারে পলাশ ও শিমুলগাছ লাগালে পরিবেশ যেমন সুন্দর হবে, তেমনি প্রকৃতিও ফিরে পাবে তার রঙিন রূপ। তিনি নিজ উদ্যোগে পলাশগাছ লাগানোর চেষ্টা করবেন বলেও জানান।

    জেলা বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হামিম হায়দার বলেন, আগামী জুন-জুলাই মাসে বন বিভাগের পরিচালন ব্যয় থেকে প্রায় ২০ হাজার বনজ ও ফলদ গাছ লাগানো হবে। তবে রাস্তার ধারে ফুলের গাছ লাগানোর বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা নেই। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পেলে এই উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে বলে তিনি জানান।

  • ‘আপু’ সম্বোধন করায় আয়োজকের সঙ্গে ইউএনওর বাগবিতণ্ডার অভিযোগ

    ‘আপু’ সম্বোধন করায় আয়োজকের সঙ্গে ইউএনওর বাগবিতণ্ডার অভিযোগ

    লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামিমা আক্তার জাহানকে ‘আপু’ সম্বোধন করাকে কেন্দ্র করে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজকের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

    জানা গেছে, কালীগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ‘রয়েল ফুটবল একাডেমি’র ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সম্প্রতি একটি চড়ুইভাতি (পিকনিক) অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটি শেষ হতে রাত প্রায় ১২টা বেজে গেলে ইউএনও শামিমা আক্তার জাহান একাডেমির সহসভাপতি মেহেরবান মিঠুকে ফোন করে অনুষ্ঠানের বিষয়ে জানতে চান।

    ফোনালাপে মেহেরবান মিঠু জানান, রয়েল ফুটবল একাডেমির একজন সদস্য বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) সুযোগ পাওয়ায় তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছিল, সে কারণেই অনুষ্ঠান শেষ হতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘এখনি শেষ হয়ে যাবে, আপু।’ এ সময় ‘আপু’ সম্বোধন শুনে ইউএনও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান বলে অভিযোগ ওঠে।

    ফোনালাপের একটি অংশে ইউএনওকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি আপনার আপু নই—ফর ইউর কাইন্ড ইনফরমেশন। অনুমতি নেওয়ার সময় তো এত রাত হওয়ার কথা ছিল না। আপনি কি এই অনুষ্ঠানের অনুমতি নিতে এসেছিলেন?’ মিঠু জানান, এ সময় তিনি নিজে অনুমতি নিতে উপস্থিত ছিলেন না। পরে ইউএনওর কঠোর মনোভাবের কারণে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত অনুষ্ঠানটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

    ঘটনার পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

    অনেকেই মন্তব্য করেন, সরকারি কর্মকর্তাদের ‘স্যার’ বা ‘ম্যাম’ বলে সম্বোধনের কোনো সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নেই এবং ‘আপু’ একটি সম্মানসূচক সম্বোধন। আবার কেউ কেউ প্রশাসনিক শৃঙ্খলার বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।

    এ বিষয়ে রয়েল ফুটবল একাডেমির সহসভাপতি মেহেরবান মিঠু বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরি হওয়ায় আমি বিনয়ের সঙ্গে দুঃখ প্রকাশ করে ‘আপু’ বলেছিলাম। কিন্তু এতে তিনি ক্ষুব্ধ হবেন, তা ভাবিনি। বিষয়টি আমাদের সবাইকে কষ্ট দিয়েছে।’

    তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউএনও শামিমা আক্তার জাহান বলেন, ‘আপু বলার কারণে আমি রাগ করিনি। গভীর রাত পর্যন্ত অনুষ্ঠান চলছিল, তাই সেটি বন্ধ করতে বলেছি। বিষয়টি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।’

  • রাজবাড়ীতে পদ্মায় কুমির দেখতে মানুষের ভিড়, বন বিভাগের সতর্কতা

    রাজবাড়ীতে পদ্মায় কুমির দেখতে মানুষের ভিড়, বন বিভাগের সতর্কতা

    রাজবাড়ী সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়নের উড়াকান্দা এলাকায় পদ্মা নদীতে কুমির দেখার পর থেকে প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করছেন। নানা বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে এলাকায় কৌতূহল যেমন বেড়েছে, তেমনি বাড়ছে আতঙ্কও।

    এ পরিস্থিতিতে এলাকাবাসীর সচেতনতায় উড়াকান্দা পদ্মা নদীর পাড়ে রাজবাড়ী সামাজিক বনায়ন নার্সারি ও প্রশিক্ষণকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার পক্ষ থেকে সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড টানানো হয়েছে। পাশাপাশি বন বিভাগের কর্মচারীরাও সেখানে অবস্থান করছেন।

    আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সরেজমিন দেখা যায়, পদ্মা নদীর পাড়ে অবস্থিত ২৮ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নদীমুখী অংশ বাঁশ ও প্লাস্টিকের নেট দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। বিদ্যালয়ের পাশে বড় করে টানানো সতর্কীকরণ সাইনবোর্ডে সাম্প্রতিক সময়ে পদ্মা নদীতে কুমির দেখার তথ্য জানানো হয়েছে। পাশাপাশি নদীতে গোসল, সাঁতার কাটা, মাছ ধরা, গরু গোসল করানোসহ সব ধরনের আনুষঙ্গিক কাজ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

    রাজবাড়ী বন বিভাগ থেকে আসা দেলোয়ার হোসেন নামের এক কর্মচারী লোকজনের ভিড় লক্ষ্য করে মাঝেমধ্যেই সবাইকে সতর্ক করছেন, যাতে কেউ নদীতে গোসল করতে না নামেন বা নদীর পাড়ে বসে কাপড়চোপড় ধোয়ার কাজ না করেন।

    প্রত্যক্ষদর্শী উড়াকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন,

    ‘মঙ্গলবার বেলা তিনটার দিকে শিক্ষার্থীরা কুমির দেখতে পেয়ে চিৎকার করতে থাকে। চিৎকার শুনে দৌড়ে নদীর পাড়ে গিয়ে কুমির দেখতে পাই। আমাদের ধারণা, কুমিরটি বড় হবে। গায়ে শেওলা পড়েছে। এ সময় আমি নিজে মুঠোফোনে কুমিরের ছবি এবং ভিডিও ধারণ করি।’

    স্থানীয় মুদিদোকানি মমিন মোল্লা বলেন, ‘মঙ্গলবার দুপুরের দিকে স্কুলের ছেলেপেলেদের চিৎকারে নদীর পাড়ে গিয়ে একটা খাইটার মতো কুমির দেখতে পাই। এরপর গতকাল বুধবার ও আজ এখন পর্যন্ত কুমিরটি আর দেখিনি। তবে ভয়ে দুই দিন ধরে নদীতে গোসল করিনি। আমার মতো এলাকার অনেকে ভয়ে নদীতে নামছেন না।’

    নদীর পাড়ে কুমির দেখতে রাজবাড়ী শহর থেকে আসা হেলাল সরদার বলেন, ‘পদ্মা নদীতে কুমির দেখা গেছে—এই খবর পেয়ে দেখতে এসেছি। অনেকক্ষণ হলো এখনো কুমিরের দেখা পাইনি।’

    রাজবাড়ী সামাজিক বনায়ন নার্সারি ও প্রশিক্ষণকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী বন সংরক্ষক সানজিদা সুলতানা বলেন, ‘শুষ্ক মৌসুমে খাবারের সন্ধানে কুমির এখানে আসতে পারে। পদ্মা নদী প্রবাহমান হওয়ায় আমরা বিশেষ কোনো ব্যবস্থাও নিতে পারছি না। এলাকাবাসীর সতর্কতার জন্য নদীর পাড়ে

  • পরিত্যক্ত জমি থেকে আধুনিক খেলার মাঠ: সমাজসেবক তুহিনের অনন্য উদ্যোগ

    পরিত্যক্ত জমি থেকে আধুনিক খেলার মাঠ: সমাজসেবক তুহিনের অনন্য উদ্যোগ

    ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে যাত্রা শুরু করেছে একটি নিজস্ব ও আধুনিক খেলার মাঠ। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে গত ১৬ ডিসেম্বর বর্ণাঢ্য কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মাঠটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও কার্যক্রম শুরু হয়।

    এর আগে উপজেলা পরিষদের নিজস্ব মাঠ না থাকায় জাতীয় দিবসের প্রধান অনুষ্ঠানগুলো স্থানীয় আরিফুজ্জামান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজন করা হতো। এবারই প্রথম উপজেলা পরিষদ চত্বরে নিজস্ব মাঠে বিজয় দিবস উদযাপিত হওয়ায় প্রশাসন ও এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক আনন্দ ও উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।

    উপজেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, পরিষদের পুরোনো ভবনের পেছনে অবস্থিত একটি বড় নিচু জমি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল হক জায়গাটিকে ভরাট করে একটি আধুনিক খেলার মাঠে রূপান্তরের উদ্যোগ নেন এবং এ কাজে স্থানীয় সমাজসেবকদের সহযোগিতা কামনা করেন।

    ইউএনওর আহ্বানে সাড়া দিয়ে তরুণ সমাজসেবক তাজমিনউর রহমান তুহিন সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত অর্থায়নে মাঠ নির্মাণের দায়িত্ব নেন। তিনি উপজেলার সদর ইউনিয়নের বিদ্যাধর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মরহুম আলহাজ্ব আলী আহমেদ মৃধার ছেলে।

    হযরত শাহ্ জালাল মৎস্য অ্যান্ড ডেইরি ফার্মের স্বত্বাধিকারী এবং লেবাজ সোয়েটার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান তুহিন প্রায় এক মাস ধরে বিপুল পরিমাণ মাটি ভরাট করে জমিটিকে একটি সমতল ও দৃষ্টিনন্দন খেলার মাঠে রূপান্তর করেন। বর্তমানে মাঠটি সবুজ ঘাসে আচ্ছাদিত একটি মনোরম পরিবেশে পরিণত হয়েছে।

    ১৬ ডিসেম্বর এই মাঠেই সুশৃঙ্খলভাবে কুচকাওয়াজ ও ক্রীড়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়, যা নতুন মাঠে প্রথম বড় আয়োজন হিসেবে সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

    নতুন মাঠে প্রথম আয়োজন সফল হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে তাজমিনউর রহমান তুহিন বলেন, “তৎকালীন ইউএনও রফিকুল হকের অনুপ্রেরণায় আমরা এই উদ্যোগ নিই। আজ যখন দেখি আলফাডাঙ্গাবাসী এই মাঠে একত্রিত হয়ে বিজয় দিবস উদযাপন করছে, তখন সত্যিই ভালো লাগছে। এটি ভবিষ্যতে সবার জন্য একটি স্থায়ী মিলনকেন্দ্র হবে।”

    এই উদ্যোগের প্রশংসা করে আলফাডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মনিরুল হক সিকদার বলেন, “উপজেলা পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একটি খেলার মাঠের অভাব দীর্ঘদিনের সমস্যা ছিল। সমাজসেবক তুহিনের উদ্যোগে সেই সংকট দূর হয়েছে। এ ধরনের তরুণ উদ্যোগ সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে বড় ভূমিকা রাখে।”

    উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় সুধীজনদের মতে, নতুন এই খেলার মাঠটি ভবিষ্যতে খেলাধুলার পাশাপাশি সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

  • সালথায় নান্দনিক স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন হাজী বাড়ি, মুগ্ধ দর্শনার্থীরা

    সালথায় নান্দনিক স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন হাজী বাড়ি, মুগ্ধ দর্শনার্থীরা

    ফরিদপুরের সালথা উপজেলার নারানদিয়া গ্রামে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী হাজী বাড়ি বর্তমানে স্থানীয়দের পাশাপাশি ভ্রমণপ্রেমীদের কাছেও এক আকর্ষণীয় নাম। অনন্য স্থাপত্যশৈলী, নান্দনিক নকশা ও পরিবেশবান্ধব সাজসজ্জার কারণে বাড়িটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, গুগল ম্যাপ এবং বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। প্রতিদিনই দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসছেন এই দৃষ্টিনন্দন বাড়িটি এক নজর দেখতে।

    গ্রামের শান্ত-নিরিবিলি পরিবেশে অবস্থিত হাজী বাড়িটির প্রবেশপথেই চোখে পড়ে একটি সুন্দর নকশার সেতু, যা বাড়ির মূল ভবনের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেছে। সেতুর দু’পাশে কৃত্রিম জলাধার ও সবুজ গাছপালার সমন্বয় দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। মূল ভবনটি বহুতল বিশিষ্ট, যেখানে আধুনিকতা ও ঐতিহ্যের চমৎকার মেলবন্ধন ঘটেছে। কারুকাজ করা বারান্দা, সুদৃশ্য রেলিং, খুঁটিনাটি অলংকরণ এবং রঙের ব্যবহার বাড়িটিকে দিয়েছে রাজকীয় এক আবহ।

    স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, হাজী বাড়ি শুধু একটি আবাসিক ভবন নয়; এটি নারানদিয়া গ্রামের গর্ব। অনেকেই বলেন, এ ধরনের স্থাপনা গ্রামবাংলার সৌন্দর্যকে নতুনভাবে তুলে ধরে। বিশেষ করে তরুণরা এখানে এসে ছবি তুলতে ভালোবাসেন। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে হাজী বাড়ির ছবি ও ভিডিও নিয়মিত ভাইরাল হচ্ছে, যা এলাকাটিকে নতুন করে পরিচিত করে তুলছে।

    দর্শনার্থীদের কেউ কেউ জানান, শহরের কোলাহল ছেড়ে এমন একটি নান্দনিক ও শান্ত জায়গায় সময় কাটানো সত্যিই প্রশান্তিদায়ক। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে এসে বাড়ির সৌন্দর্য উপভোগ করছেন এবং স্মৃতিচারণমূলক ছবি তুলছেন। কেউ কেউ আবার এটিকে সম্ভাবনাময় গ্রামীণ পর্যটন স্পট হিসেবেও দেখছেন।

    স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, হাজী বাড়িকে কেন্দ্র করে যদি পরিকল্পিতভাবে পর্যটনবান্ধব উদ্যোগ নেওয়া হয়, তবে এটি সালথা উপজেলার অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি এলাকার তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হতে পারে।

    সব মিলিয়ে, ফরিদপুরের সালথা উপজেলার নারানদিয়ার হাজী বাড়ি এখন শুধু একটি ব্যক্তিগত স্থাপনা নয়, বরং এটি হয়ে উঠেছে সৌন্দর্যপ্রেমী মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। নান্দনিক স্থাপত্য আর প্রাকৃতিক পরিবেশের অপূর্ব সমন্বয়ে হাজী বাড়ি নিঃসন্দেহে সালথার একটি উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে।

  • ‎পিরোজপুরে নাজিরপুর শীতের  চিতই পিঠার মহোৎসব

    ‎পিরোজপুরে নাজিরপুর শীতের চিতই পিঠার মহোৎসব

    পিরোজপুরের নাজিরপুরে শীতের কুয়াশা ভেদ করে ভেসে আসছিল মাটির চুলার ধোঁয়া আর গরম চিতই পিঠার ঘ্রাণ। কালীমন্দিরের প্রাঙ্গণে সারি সারি জ্বলতে থাকা ১০৮টি মাটির চুলা, নারীদের ব্যস্ত হাত আর চিতই পিঠার গরম ঘ্রাণে তৈরি হয় এক ভিন্ন আবহ। তীব্র শীত উপেক্ষা করে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী চিতই পিঠা উৎসব এবারও রূপ নেয় জনসমাগমের মহোৎসবে।

    শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার সদর ইউনিয়নের কুমারখালী বাজারসংলগ্ন দেবলাল চক্রবর্তীর বাড়ির কালীমন্দিরে অনুষ্ঠিত হয় এ শতবর্ষী পিঠা উৎসব। সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়ে উৎসব চলে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকাল পর্যন্ত। ধর্মীয় আচারকে ঘিরে শুরু হলেও সময়ের পরিক্রমায় এই আয়োজন এখন পরিণত হয়েছে সর্বজনীন উৎসবে।

    অথ্যঅনুসন্ধানে জানা যায়, সারিবদ্ধভাবে গড়ে তোলা হয়েছে ১০৮টি মাটির চুলা। প্রতিটি চুলার ওপর রাখা হয়েছে মাটির সাজ ও সরা। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা নারীরা চালের গুঁড়া দিয়ে চিতই পিঠা তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সন্ধ্যা ঘনানোর সঙ্গে সঙ্গে ভিড় বাড়তে থাকে কেউ ভক্ত, কেউ মানত নিয়ে আসা পুণ্যার্থী, আবার কেউ নিছক দর্শনার্থী। অনেকেই সঙ্গে করে এনেছেন চালের গুঁড়া, জ্বালানি কাঠ ও বাঁশ।

    সন্ধ্যা ৭টার দিকে পুরোহিত দেবলাল চক্রবর্তী মন্ত্রপাঠ শুরু করলে আনুষ্ঠানিকভাবে উৎসবের সূচনা হয়। তিনি প্রতিটি চুলায় আগুন জ্বালিয়ে দিলে নারীরা পিঠা বানাতে শুরু করেন। সরা তুলে সাজ থেকে পিঠা নামিয়ে বড় পাত্রে জমা করা হয়। পরে সেই পিঠা প্রতিমার ভোগে অর্পণ শেষে প্রসাদ হিসেবে উপস্থিত সবার মধ্যে বিতরণ করা হয়। বিশেষ করে মানত নিয়ে আসা পুণ্যার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় চিতই পিঠা।

    বরিশাল থেকে আসা পুণ্যার্থী সুমিত্রা রানী দাস বলেন, ছোটবেলায় মায়ের সঙ্গে আসতাম। বিয়ে হয়ে দূরে চলে গেছি, তবু এই দিনটা এলে মন টানে। মনে হয় এখানকার পিঠার সঙ্গে আমার শৈশব মিশে আছে।

    গতবছর সন্তানের আশায় এখানে মাতন করে গিয়েছিলেন শ্যামা পাল। এবছর সন্তান কোলে নিয়ে এসেছেন পিঠা তৈরি করতে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমার সন্তান হয় না। গত বছর এখানে এসে মানত করে গিয়েছিলাম। মানত করে যাওয়ার ১ মাসের মধ্যেই আমার সুখবর আসে। এ বছর সন্তান কোলে নিয়ে চিতই পিঠা বানাতে এসেছি।

    স্থানীয় বাসিন্দা রাহুল বিশ্বাস বলেন, আগে শুনতাম এটা শুধু মানতের আয়োজন ছিল। এখন এটা আমাদের এলাকার সবচেয়ে বড় উৎসব। ধর্মের গণ্ডি ছাড়িয়ে সবাই এখানে আনন্দ করতে আসে।

    মনোবাসনা পূরণের আশায় আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মুসলিম গৃহবধূ বলেন, আমার সন্তান না হওয়ায় এখানে এসেছি। মানুষের বিশ্বাস আর ভালোবাসার জায়গা তো সবার জন্য তাই এসেছি।

    ১৯৮৬ সাল থেকে বংশপরম্পরায় এই মন্দিরের পুরোহিতের দায়িত্ব পালন করে আসছেন দেবলাল চক্রবর্তী। তিনি বলেন, ৯২ বছর আগে আমাদের পূর্বপুরুষ হরষিত আনন্দ চক্রবর্তী মাঘের অমাবস্যা তিথিতে এই কালীমন্দির প্রাঙ্গণে মেলার আয়োজন করতেন। অমাবস্যায় শুকনা খাবার খাওয়ার রীতি প্রচলিত ছিল। সেই ধারাবাহিকতায় মন্দিরে চিতই পিঠা তৈরি করে প্রসাদ দেওয়ার নিয়ম চালু হয়। মানুষ মনোবাসনা পূরণের আশায় এই পিঠা গ্রহণ করতেন। যুগের পর যুগ ধরে সেই রীতিই আজও চলে আসছে। বর্তমানে পুণ্যার্থীর সংখ্যা অনেক বেড়ে যাওয়ায় পিঠা তৈরির এই আয়োজন ধীরে ধীরে বৃহৎ উৎসবে রূপ নিয়েছে।

    শত বছরের ধারাবাহিকতায় গড়ে ওঠা এই আয়োজন আজ আর কেবল ধর্মীয় রীতি নয় পরিণত হয়েছে নাজিরপুরের সর্বজনীন লোকউৎসবে। বিশ্বাস, ঐতিহ্য ও মানুষের মিলনেই টিকে আছে চিতই পিঠার এই অনন্য উৎসব।

  • বন্দরে সরস্বতীপূজা উপলক্ষে শিক্ষাসামগ্রী ও শীতবস্ত্র বিতরণ

    বন্দরে সরস্বতীপূজা উপলক্ষে শিক্ষাসামগ্রী ও শীতবস্ত্র বিতরণ

    সারাদেশের ন্যায় নারায়ণগঞ্জ বন্দরেও মঙ্গল যজ্ঞ, আরতি ও পুষ্পাঞ্জলির মধ্য দিয়ে পূজিত হলেন জ্ঞানের দেবী সরস্বতী। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে বন্দরের ৩৫নং এস.এস শাহ রোড এলাকায় পুরোহিতের মন্ত্রপাঠের মধ্য দিয়ে শুরু হয় পূজার আনুষ্ঠানিকতা। দেবীর কাছে আশীর্বাদ কামনার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয় মূল পূজা। পূজা শেষে অনেক মণ্ডপে খুদে শিক্ষার্থীদের হাতেখড়ি দেয়া হয়। পরে বিতরণ করা হয় প্রসাদ।

    বন্দরে ঐতিহ্যবাহী একতা সংঘের (প্রাক্তন বালক সমিতি) উদ্যোগে প্রায় ৪৫ বছর ধরে এ পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। তবে এবারের পূজায় তারা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাসামগ্রী ও নারীদের মাঝে আলতা-সিঁদুর ছাড়াও শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র (চাদর) বিতরণ করা হয়।

    মহানগর মৎস্যজীবী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও মহানগর পূজা ফ্রন্টের সদস্য সচিব শ্রী ঋষিকেশ মন্ডল মিঠুর সভাপতিত্বে এ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাকির খানের একমাত্র কন্যা সিদরাতুল মুনতাহা ইহন খান।

    ইহন খান তার বক্তব্যে সম্প্রতির বার্তা ছড়িয়ে দিয়ে বলেন, “সরস্বতী দেবী হলো জ্ঞান ও শিক্ষার প্রতীক। আমরা আমাদের জীবনে তিনটি বিষয় অনুসরণ করবো—জ্ঞান অর্জন করবো আলোকিত ভবিষ্যতের জন্য, শিক্ষা গ্রহণ করবো জাতির অগ্রগতির জন্য আর নিজেকে তৈরি করবো আদর্শ মানুষ হিসেবে। আমি এখানে উপস্থিত সকল শিশু ও সকলের জন্য শুভ কামনা জানাই। আসলেই এ অনুষ্ঠানটি আমার জীবনে স্বরণীয় হয়ে থাকবে। আমরা সকল ধর্মের মানুষ একসাথে মিলেমিশে শান্তি ও সম্প্রীতির সাথে বসবাস করি, এটাই বাংলাদেশে সব চাইতে সুন্দর বৈশিষ্ঠ্য। এ অনুষ্ঠানটি এত সুন্দর করে আয়োজন করার জন্য ঋষিকেশ মন্ডল মিঠু চাচ্চুকে অসংখ্য ধন্যবাদ।”

    সভাপতির বক্তব্যে মিঠু বলেন, “আজকে আমার মনটা ভীষণ আনন্দিত। না, শুধু পূজার জন্যই নয়। আজ আমার মনটা বেশি আনন্দিত কারণ, আমাদের মাঝে আমার প্রাণপ্রিয় নেতা জাকির খানের একমাত্র কন্যা ইহন এসেছে। ইহন এ প্রথমবারের মত কোন অনুষ্ঠানে এসে হাজির হয়েছে এবং সেই অনুষ্ঠানের আয়োজন আমি নিজে করেছি। যাইহোক, ইহন খানের জন্য আশিবাদ করি এখান থেকেই যেন ওনার এগিয়ে যাওয়া শুরু হয়। সবশেষ আমার নেতা জাকির খানের সুস্বাস্থ্য ও আমাদের মা ইহন খান যেন তার পরিবারকে আরও ঐতিহ্যময় করে তোলতে পারে, এজন্য আমি সকলের কাছে দোয়া-আর্শিবাদ কামনা করছি।”

    জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক রাকিব হাসান রাজের সঞ্চালনায় এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন সদর থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক লিংকন খান, সদর থানা জাসাসের যুগ্ম আহ্বায়ক সনেট আহমেদ, জেলা কৃষক দলের সহ সভাপতি শেখ সালেহ আহমেদ (রনি), জুয়েল, একতা সংঘের পূজা কমিটির সঞ্জয় মন্ডল, হৃদয় বনিক, পুসান্ত বর্মন, অমিত মোদক, জয় দাস, লিখন সরকার, সিমান্ত, পোলক, পার্থ, নীরব, নিলয়, ইয়ান্ত, প্রনান্ত, প্রীতম, রণবীর, প্রণয় প্রমুখ।

  • ১২ মিনিট দেরি, মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি সেই সুধীর

    ১২ মিনিট দেরি, মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি সেই সুধীর

    পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া) আসনে নির্ধারিত সময়ের ১২ মিনিট পরে পৌঁছানোয় মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি ৭৪ বছর বয়সি স্বতন্ত্র প্রার্থী সুধীর রঞ্জন বিশ্বাস। তিনি সপ্তমবারের মতো মনোনয়নপত্র জমা দিতে চেয়েছিলেন।

    সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) উপজেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

    তিন ছেলে ও এক মেয়ে সন্তানের জনক উপজেলার দাউদখালী ইউনিয়নের গিলাবাদ গ্রামের সুধীর রঞ্জন বিশ্বাস। এর আগে ৬টি নির্বাচনে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছিল তার। তারপরও সোমবার মনোয়নয়নপত্র দাখিল করতে যান সুধীর।

    জানা গেছে, কখনো নিজের ভোটটি ছাড়া কোনো ভোট পাননি সুধীর বিশ্বাস।

    সুধীর রঞ্জন বিশ্বাস জানান, প্রায় ৪০ বছর আগে তার স্ত্রী অঞ্জলী রানী বিশ্বাস ইউপি সদস্য পদে নির্বাচনে হেরে মারা যান। তিনি মারা যাওয়ার পর থেকেই তার আত্মার সন্তুষ্টির জন্যই নির্বাচন করে আসছেন সুধীর।

    নিজেকে একজন গ্রাম্য চিকিৎসক দাবি করে তিনি বলেন, রোগীদের চিকিৎসাপত্র দিয়ে জমিয়ে রাখা টাকা ও কিছু জিনিসপত্র বিক্রি করে এ বছর মনোনয়নপত্র জমা দিতে এসেছিলাম; কিন্তু নির্ধারিত সময়ের কয়েক মিনিট পরে গেলে আমার কাগজপত্র জমা নেয়নি। আমার বয়স হয়ে গেছে, তাই কাগজপত্র রেডি করে নিয়ে যেতে একটু দেরি হয়।

    উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বাসুদেব সরকার জানান, সুধীর রঞ্জন বিশ্বাস দাউদখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা। নির্বাচন করার অধিকার তার আছে। নির্ধারিত সময়ের পরে আসার কারণে তিনি জমা দিতে পারেননি।

    মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটানিং কর্মকর্তা আকলিমা আক্তার জানান, নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সময় বিকাল ৫টার ১২ মিনিট পরে তিনি কাগজপত্র নিয়ে আসায় জমা নেওয়া সম্ভব হয়নি।

    উল্লেখ্য, পিরোজপুর-৩ আসনে সাতজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তারা হলেন- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী রুহুল আমিন দুলাল, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আব্দুল জলিল শরীফ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শামীম হামিদি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রুস্তম আলী ফরাজী, জাতীয় পার্টির মাসরেকুল আজম রবি, জাসদ মনোনীত প্রার্থী করিম শিকদার এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী তৌহিদুর ইসলাম।

  • মিয়াবাড়ি মসজিদ দেখতে ছুটে আসেন পর্যটকরা

    মিয়াবাড়ি মসজিদ দেখতে ছুটে আসেন পর্যটকরা

    পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ার মিয়াবাড়ি মসজিদটি মোগল আমলের স্থাপত্যের এক দৃষ্টিনন্দন নিদর্শন, যা প্রায় ৪০০ বছরের পুরোনো। ভান্ডারিয়া পৌর শহরের মিয়াবাড়ির কাছে পোনা নদীর তীরে অবস্থিত এই মসজিদ। এক গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদটি এর সূক্ষ্ম নকশার জন্য বিখ্যাত। বর্তমানে এটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে সুরক্ষিত। ছোট এই মসজিদটিতে মোগল আমলের স্থাপত্যশৈলীর পাশাপাশি এর নকশায় স্থানীয় কারুকার্যের প্রভাবও দেখা যায়। এটি প্রায় ৩০ ফুট লম্বা ও ১৭ ফুট চওড়া। এই মসজিদটি শুধু একটি ধর্মীয় স্থানই নয়, বরং এলাকার ইতিহাস ও স্থাপত্যের এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী, যা পর্যটকদের কাছেও আকর্ষণীয়।

    বেশ কিছুদিন ধরে এই স্থাপনাটির সংস্কার দাবি করে আসছিলেন স্থানীয়রা। অবশেষে ২০২২ সালে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর মিয়াবাড়ি মসজিদটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। লাল ইট ও চুনাপাথরের মিশ্রণে তৈরি করা হয়েছে মসজিদের দেওয়াল। স্থানীয়দের মতে, এটি নির্মাণের সময় গম্বুজের ছাদ ও খিলানের কারুকার্যে সোনার প্রলেপ ব্যবহার করা হয়। যদিও বর্তমানে এর কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায় না। দেওয়ালের লাল ইটের বিন্যাস ও পোড়ামাটির ফলকের শিল্পকর্ম সবাইকে আকৃষ্ট করে। প্রতিবছর প্রচুর পর্যটক মসজিদটি দেখার জন্য এখানে ছুটে আসেন।

    আবুল কালাম আজাদ নামের স্থানীয় এক মুসল্লি জানান, কয়েক বছর আগে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে মসজিদটি সংস্কার করে। এই মসজিদটি ছাড়াও এ উপজেলায় স্থানীয় কাজী বাড়ি মসজিদ, ভান্ডারিয়া থানার পেছনের মসজিদ ও ভেলাই চোপদারের বাড়ির মসজিদসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের আরও ৬টি মসজিদ রয়েছে। যা এখনো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে মসজিদগুলো।

    স্থানীয়রা জানান, মসজিদগুলোর দেওয়ালে লাল ইট আর চুনাপাথরের মিশ্রণের কাজে দিল্লির লাল ইটের স্থাপত্যরীতির প্রভাব রয়েছে। এর দেওয়ালগুলোতে রয়েছে ইটের বিন্যাস, পোড়ামাটির ফলকের কাজ। ছাদের গম্বুজ ও খিলানে এক সময় ছিল সোনালি প্রলেপের কাজ। তবে বর্তমানে তা আর দৃশ্যমান নয়। রেলিং ও প্রাচীরে ঘেরা ছোট্ট সুন্দর এই মসজিদগুলোতে মিহরাব এবং এক গম্বুজের ভেতরের অংশ পাথরের ফুল, চমৎকার লতাপাতা ও আরব্য নকশায় খোদাইকৃত। মসজিদের ভেতরে ও বাইরে রয়েছে পোড়ামাটির নকশার কাজ, যা মোগল ও স্থানীয় শিল্পরীতির নিপুণ সমন্বয়। ভেতরের চমৎকার ফুলেল নকশায় নির্মিত মসজিদটি নামাজের কাজ ছাড়াও বিচারকার্য এবং সভা পরিচালনার কাজেও ব্যবহৃত হতো।

    স্থানীয়রা আরও জানান, মিয়াবাড়ির মসজিদে এক কাতারে একসঙ্গে অন্তত ৬ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারতেন। বর্তমানে এ মসজিদের ভেতরের অংশ জরাজীর্ণ থাকায় এখন আর কেউ নামাজ পড়তে আসেন না।

    মিয়াবাড়ির বাসিন্দা তমিজ উদ্দিন কাজল জানান, পূর্ব ভান্ডারিয়া গ্রামে একটি প্রাচীন দিঘি রয়েছে। ভেলাই চোকদার নামের একজন ধনাঢ্য জমিদার প্রায় পাঁচ একর জমির ওপর মোগল আমলে এ দিঘিটি খনন করেন। এ দিঘির পাড়ে ভেলাই চোকদার নির্মিত একটি মসজিদসহ দুটি দালান প্রাচীনকালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। যদিও এ মসজিদগুলোর নির্মাণকাল বা নির্মাতার নিশ্চিত পরিচয় জানা যায়নি, তারপরও স্থাপত্য তথ্য বিশ্লেষণে ধারণা করা হয়, মোগল আমলের শেষদিকে সম্ভবত এই স্থাপনাগুলো নির্মিত হয়েছিল।

    মিয়াবাড়ির মসজিদের চারপাশ ঘিরে রয়েছে ফুলবাগান ও এর সামনে রয়েছে একটি বড় পুকুর। ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর মিয়াবাড়ি মসজিদটি সংস্কার করে এটাকে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি মসজিদ হিসাবে ঘোষণা করে।

    এ/আর-23/01/2026

    পিরোজপুর ভাণ্ডারিয়া

  • লোকালয়ে লজ্জাবতী বানর

    লোকালয়ে লজ্জাবতী বানর

    রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলার বুড়িঘাট ইউনিয়নের লোকালয় থেকে উদ্ধার একটি বিপন্ন প্রজাতির লজ্জাবতী বানর কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে অবমুক্ত করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মাসুম আলমসহ বনকর্মীরা বানরটি অবমুক্ত করেন।

    এ সময় বন বিভাগের কাপ্তাই রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. এএসএম ম‌হিউ‌দ্দিন চৌধুরী, অশ্রেণিভুক্ত বনাঞ্চল বনীকরণ বিভাগের নানিয়ারচর স্টেশন কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম, সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন, বুড়িঘাট স্টেশন অফিসার মো. মনির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

    বন বিভাগের কাপ্তাই রেঞ্জ কর্মকর্তা এএসএম মহিউদ্দিন চৌধুরী জানান, কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে অবমুক্ত হওয়া লজ্জাবতী বানরটি গত সোমবার নানিয়ারচর থেকে উদ্ধার করে বন বিভাগ।

    প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘের (আইইউসিএন) বিপন্ন প্রজাতির লাল তালিকায় রয়েছে ‘বেঙ্গল স্লো লরিস’ প্রজাতির এই লজ্জাবতী বানর।

    বিগত কয়েকমাসে কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে এই প্রজাতির বেশ কিছু বানর অবমুক্ত করা হয়; যেগুলো পার্বত্য চট্টগ্রামের লোকালয় থেকেই উদ্ধার করা হয়েছিল।

  • পলিটেকনিকের ছাত্র হাবিব বানালো মিগ-২৯

    পলিটেকনিকের ছাত্র হাবিব বানালো মিগ-২৯

    মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে মাত্র ১৭ বছর বয়সের কলেজপড়ুয়া ছাত্র কাজী হাসিব টিফিনের টাকা জমিয়ে তৈরি করেছেন মিগ-২৯ মডেলের রাশিয়ার যুদ্ধবিমানের আদলে মিনি বিমান। বিমানটি রিমোট কন্ট্রোলের সাহায্যে আকাশে উড্ডয়ন করা হয়। যুদ্ধবিমানের মতোই দ্রুত গতিতে বিভিন্ন ভঙ্গিতে দৃষ্টিনন্দন ডিগবাজি খেতে খেতে একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে চলে। বিমানের শব্দ শুনে মনে হয়, যেন এটা আসলেই রাশিয়ার যুদ্ধ বিমান।

    বিমানটি মাটি থেকে ৫০০ মিটার ওপরে প্রায় ৩ কিলোমিটার এরিয়া নিয়ে রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে প্রদক্ষিণ করতে পারে বলে জানান এই তরুণ উদ্ভাবক।

    কাজী হাসিব উপজেলার চালা ইউনিয়নের কচুয়া গ্রামের দরিদ্র কৃষক কাজী ইলিয়াসের ছেলে। সে মানিকগঞ্জ ন্যাশনাল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে কম্পিউটার সায়েন্সের (ডিপ্লোমা) প্রথম সেমিস্টারের ছাত্র। কাজী হাসিবের এমন কারিশমায় এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এখন এলাকার বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ।

    জানা গেছে, চলতি বছর উপজেলার ঝিটকা আনন্দ মোহন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করে মানিকগঞ্জ ন্যাশনাল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে কম্পিউটার সায়েন্সে ভর্তি হয় কাজী হাসিব। সে নবম শ্রেণি থেকেই শুরু করে এই বিমান তৈরির গবেষণা। অবশেষে দীর্ঘ তিন বছর পর সে সফলতার মুখ দেখেন। দরিদ্র পরিবারের কাজী হাসিব তার স্বপ্ন পূরণ হয়।

    দীর্ঘদিনের টিফিনের টাকা জমিয়ে তৈরি করেন এই যুদ্ধবিমানের আদলে মিনি বিমান। এ জন্য তার খরচ হয়েছে ২২ হাজার টাকা। সাড়ে তিন ফুট দৈর্ঘ্য ও আড়াই ফুট প্রস্থ এ বিমানটি তৈরিতে তিনি ব্যবহার করেছেন, ডিপরম শিট ও ককশিটের বডি, পাওয়ার ব্যাটারি, ট্রান্সমিটার, রিসিভার, ইলেকট্রনিক স্পিড কন্ট্রোলার, সার্ভো, মোটর, প্রপেলার, ব্লগান, আঠা ও কসটেপ। এরপরই পরীক্ষামূলকভাবে আকাশে ওড়ানো হয় এই মিনি বিমান। বিমানটি যখন আকাশে ওপরের দিকে উঠে তখন তার শব্দে চারপাশ ভারি হয়ে ওঠে। দেখে মনে হয় এটি সত্যিকারের একটি যুদ্ধবিমান।

    তরুণ উদ্ভাবক কাজী হাসিব বলেন, ‘আমার স্বপ্ন ছিল ব্যতিক্রম কিছু একটা করার। ক্লাস নাইন থেকেই এই বিমান তৈরির চিন্তাটা মাথায় ঘুরপাক খায়; কিন্তু আমরা গরিব মানুষ। অনেক কষ্টে আমাকে পড়াশোনা করায়। তাই এই কাজে বাবার কাছে হাত না পেতে আমার টিফিনের টাকা জমিয়ে আমি এই মিনি বিমানটি তৈরি করি। তবে আগে আরও দুইটা বানাইছিলাম। সেগুলো ঠিক মতো হয়নি। পরে এটা তৈরি করি এবং আকাশে উড়াই। এটা আরও উন্নত করতে পারলে অটো পাইলটের এ বিমানটি যুদ্ধ ক্ষেত্রে ব্যবহার সম্ভব হবে।’

    ছবি সংগৃহিত

    স্থানীয় বাসিন্দা সাইমুন বলেন, ‘আমরা আসলে অবাক হয়েছি ওর মেধা দেখে। এত অল্প বয়সে কত সুদূর পরিকল্পনা করে এ বিমানটি সে তৈরি করেছে। নিঃসন্দেহে হাসিব আমাদের এলাকার গর্ব। ওর বাবা গরীব মানুষ। তাই সরকারিভাবে হাসিবকে দেখভাল করলে দেশের জন্য ভালো কিছু হতে পারে। আমি ওর বিষয়ে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।’

    প্রতিবেশী মো. ইমন শেখ বলেন, ‘আমাদের ছোট ভাই হাসিব যে বিমানটি বানিয়েছে নিঃসন্দেহে আমাদের এলাকার গর্বের বিষয়। আমরা এতে গর্ববোধ করি। সরকারিভাবে যদি ওকে দেখভাল করে তাহলে ভালো করতে পারবে। কারণ ওর মেধা আছে। আমরা চাই সরকারিভাবে হাসিবকে সহযোগিতা করা হোক।’

    হাসিবের মা বলেন, আমার ছেলের বিমান তৈরির জন্য এলাকার সব মানুষ অবাক হয়েছে। আমরাও অবাক। আসলে আমরা তো ওর খরচ ঠিক মতো চালাইতে পারি না। নিজের টিফিনের টাকা জোগাড় করে আজ যে বিমান বানিয়েছে অবশ্যই এটা গর্বের। আমার অনুরোধ রইল, আপনারা যদি আমার ছেলের পাশে দাঁড়ান, তাহলে ও ভালো কিছু করতে পারবে। আমরা আপনাদের সহযোগিতা চাই।

    হাসিবের বাবা কাজী ইলিয়াস বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ। কৃষিকাজ করে খাই। আমার ছেলে তার টিফিনের টাকা জমা করে আজ ২২ হাজার টাকা খরচ করে এ বিমানটি বানিয়েছে। এর জন্য আমি গর্ববোধ করি। যদি সমাজের বিত্তবান কিংবা সরকারিভাবে আমার ছেলেকে সহায়তা করে তাহলে সে ভালো কিছু করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

    এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদা আক্তার বলেন, ‘বিষয়টি আগে শুনিনি। আপনার কাছ থেকেই প্রথম জানলাম। আমি ওর বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে দেখি। তারপর দেখা যাবে আমরা ওর জন্য কিছু করতে পারি কি না।’

  • আমি পথের কুকুরদের খাইয়ে আনন্দ পাই

    আমি পথের কুকুরদের খাইয়ে আনন্দ পাই

    দিনভর নানা কাজে ব্যস্ত থাকেন রাজু আহমদ (৪০)। তবে সন্ধ্যা নামলেই দোকান থেকে পাউরুটি বা রুটি কিনে সড়কের পাশ ধরে হাঁটতে থাকেন। এ সময় পথকুকুরদের ডেকে ডেকে এসব খাবার খাওয়ান তিনি। প্রায় দুই বছর ধরে নিয়মিতভাবে কাজটি করে চলেছেন।

    রাজু আহমদের বাড়ি মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নের ভোগতেরা গ্রামে। তিনি একাধারে গণমাধ্যমকর্মী, কবি ও গায়ক। পাশাপাশি উপজেলা সদরের কামিনীগঞ্জ বাজার বড় মসজিদ সড়ক এলাকায় ইট-বালুর ব্যবসা করেন।

    সম্প্রতি এক সন্ধ্যায় দেখা যায়, নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে সড়কের পাশে রাজু দাঁড়ানো। তাঁর হাতে পাউরুটির একটি প্যাকেট। ওই অবস্থায় তাঁকে ঘিরে রয়েছে চার থেকে পাঁচটি কুকুর। পাউরুটি ছিঁড়ে ছিঁড়ে প্রাণীগুলোকে দিচ্ছিলেন রাজু। তৃপ্তি নিয়ে সেগুলো খাচ্ছিল কুকুরগুলো।

    আলাপচারিতায় রাজু বলেন, ‘দুই বছর ধরে প্রায় প্রতিদিনই এ কাজ করছি। সন্ধ্যার পর তেমন কাজ থাকে না। আশপাশের কোনো দোকান বা রেস্তোরাঁ থেকে এসব খাবার কিনে কিছু সময়ের জন্য বেরিয়ে পড়ি।’

    কামিনীগঞ্জ বাজারের বড় মসজিদ সড়ক ও ভবানীগঞ্জ বাজার বাসস্ট্যান্ডের কাছে সন্ধ্যার পর কয়েকটি কুকুর দল বেঁধে থাকে। পালাক্রমে দুটি স্থানে গিয়ে সেগুলোকে খাবার খাওয়ান রাজু।

    কুকুরের প্রতি ভালোবাসার কারণ জানতে চাইলে রাজু বলেন, ‘একেক মানুষ একেক কাজে আনন্দ পায়। পথকুকুরদের অনেকে ভালোবাসেন না। দেখলে দূর দূর করে তাড়িয়ে দেন, ঘেন্না করেন। এটা দেখে কষ্ট লাগে। কুকুরদের খাইয়ে আমি বেশ আনন্দ পাই। সামান্য আয়োজন থাকে। এতে বেশি টাকাও খরচ পড়ে না, সময়ও নষ্ট হয় না।’

    গত কয়েক দিনের শৈত্যপ্রবাহে পথকুকুরগুলো বেশ কষ্ট পোহাচ্ছে জানিয়ে রাজু বলেন, রাতে কোনো নির্দিষ্ট স্থানে প্রাণীগুলো দলবদ্ধ হয়ে থাকে। সম্প্রতি বড় মসজিদ সড়ক এলাকায় তিনি সড়কের পাশে কিছু খড় বিছিয়ে সেগুলোর ওপর চটের বস্তা পেতে রেখেছিলেন। শীত নিবারণে রাতে কুকুরেরা সেখানে বসে থাকে। তবে পরদিন সকালে একই স্থানে গিয়ে দেখেন, বস্তা বা খড় কিছুই নেই। কে বা কারা রাতের আঁধারে সেগুলো পুড়িয়ে ফেলেছে। সেখানে পড়ে শুধু ছাই। বিষয়টি দেখে তিনি কষ্ট পেয়েছেন।

  • দরদাম, হাঁকডাক, সেলফি—পৌষসংক্রান্তিতে জমজমাট মাছের মেলা

    দরদাম, হাঁকডাক, সেলফি—পৌষসংক্রান্তিতে জমজমাট মাছের মেলা

    পৌষসংক্রান্তি এলেই মৌলভীবাজারের শেরপুরে প্রাণ ফিরে পায় শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা। ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’ প্রবাদটির বাস্তব রূপ যেন এই আয়োজন। শুধু মাছকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এ মেলা আজ আর কেবল কেনাবেচার জায়গা নয়, এটি স্থানীয় মানুষের আনন্দ, উৎসব ও মিলনমেলার নাম।

    পৌষসংক্রান্তির আগের সন্ধ্যা থেকেই শুরু হয় মাছ নিয়ে কোলাহল। সারা রাত ধরে চলে পাইকারি কেনাবেচা, পরদিন চলে খুচরা বিক্রি। দুই রাত ও এক দিনব্যাপী এ মেলা বছরে মাত্র একবারই বসে।

    কুশিয়ারা নদীপাড়ের মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর এলাকায় মেলাটির আয়োজন করা হয়। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা থেকে মাছের মেলা শুরু হয়েছে। রাতে প্রধানত পাইকারি কেনাকাটা চলে। আজ মঙ্গলবার সারা দিন ধরে খুচরা বিক্রি চলছে। আগামীকাল বুধবার সকাল পর্যন্ত এভাবেই মেলার আনুষ্ঠানিকতা চলবে। মাছের পাশাপাশি মেলায় রয়েছে খেলনা, রকমারি খাবার, খই-মোয়া-গজা, কৃষিপণ্য ও ঘরসংসারের নানা সামগ্রী।স্থানীয় মানুষ, মৎস্য ব্যবসায়ী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, সন্ধ্যার পর থেকে লোকসমাগম বাড়তে থাকে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ছোট-বড় ট্রাকসহ নানা যানবাহনে করে মাছ নিয়ে বিক্রেতারা মেলায় আসেন। রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আড়তগুলোয় দরদাম হাঁকাহাঁকিতে জমে ওঠে কেনাবেচা। এখান থেকে মাছ ছড়িয়ে পড়ে জেলার ছোট-বড় হাটে।

    সোমবার রাতে দেখা গেছে, ডালায় সাজানো মাছ ঘিরে ভিড় করছেন অনেকে। কেউ ঘুরে ঘুরে দেখছেন, কেউ ছবি তুলছেন, কেউ মাছের সঙ্গে সেলফি তুলছেন। পছন্দ হলে দরদাম করে কিনে নিচ্ছেন।

    মাছ বিক্রেতা আরবেশ মিয়া বলেন, তিনি প্রায় ১০ লাখ টাকার মাছ নিয়ে মেলায় এসেছেন। প্রায় দুই মণ ওজনের একটি বাঘাইড় মাছের দাম তিনি চাইছেন তিন লাখ টাকা। আরেক বিক্রেতা মুহিবুর রহমান বলেন, মানুষ কিনছে কম। সেলফি তুলছে বেশি। প্রায় ১২ লাখ টাকার মাছ নিয়ে তিনি মেলায় এসেছেন।

  • কুয়াশামাখা শীতের সকালে হাইল হাওরের পাড়ে

    কুয়াশামাখা শীতের সকালে হাইল হাওরের পাড়ে

    শুক্রবার সকালে হাওরপারের বাড়িগুলো তখনো ঘুমিয়ে। হাওরপারের সেই স্থান থেকে পথের দুই পাশে গড়ে উঠেছে অনেকগুলো মাছের খামার। এখন বোরোখেত চাষের সময়। বিভিন্ন স্থানে বোরো ফসলের চারা রোপণ শুরু হয়েছে। অনেক স্থানেই হালিচারার জমিকে মনে হয় সবুজ চাদরের মতো, যেন কেউ বিছিয়ে রেখেছে।

    একটি খেতে কয়েকজন কৃষক রোপণের জন্য হালি চারা উত্তোলন করছেন। কোথাও চারা রোপণ করছেন কৃষক। কিছু খেতে এরই মধ্যে চারা রোপণ শেষ হয়ে গেছে। ধূসর কুয়াশায় সেই খেতগুলো ডুবে আছে।

    একটি স্থানে মাছ ধরতে কয়েকজন সেচযন্ত্র লাগিয়ে ডোবার পানি শুকিয়ে নিচ্ছেন। পানি শুকানো হলে তাঁরা মাছ ধরবেন, চলছে সেই প্রস্তুতি। কেউ রাতের বেলা, নয়তো ভোরে হাওরের বিভিন্ন খাল-বিলে মাছ ধরে একা একা বাড়ি ফিরছেন।

    কেউ সেঁউতি (পানি সেচার বাঁশ-বেতের যন্ত্র), কাকরাইন (বাঁশ-বেতের তৈরি মাছ রাখার পাত্র) কাঁধে ঝুলিয়ে হাওরের দিকে ছুটছেন। তাঁরা ‘খাইনজা (ছোট ছোট ডোবা)’ সেচ দিয়ে মাছ ধরবেন। নিজেদের খাওয়ার জন্য মাছ রেখে বাকিগুলো বিক্রি করতে পারেন।

  • এক পাঙাস সাড়ে ২৩ হাজারে বিক্রি

    এক পাঙাস সাড়ে ২৩ হাজারে বিক্রি

    বরগুনার পাথরঘাটায় জেলের বরশিতে ধরা পড়েছে সাড়ে ২৩ কেজি ওজনের একটি পাঙাস মাছ। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার কালমেঘা বাজারের স্লুইসগেট এলাকায় রিয়াজ হোসেন নামের এক জেলের বরশিতে এ মাছটি ধরা পড়ে।

    জেলে রিয়াজ হোসেন জানান, প্রতিদিনের মতো আজ সকালেই স্লুইসগেটে বরশি পেতে অপেক্ষা করছিলেন তিনি। দীর্ঘক্ষণ পর হঠাৎ বরশিতে শক্ত টান অনুভব করলে বড় কোনো মাছ আটকে পড়েছে বুঝতে পারেন। বরশি টেনে তুলতেই দেখা যায় বিশালাকৃতির এ পাঙাস মাছটি।

    পরে দুপুর ১২টার দিকে মাছটি বিক্রির জন্য স্থানীয় কালমেঘা বাজারে নিয়ে গেলে মৎস্য ব্যবসায়ী মো. রাজু মিয়া কেজিপ্রতি ১ হাজার টাকা দরে মোট ২৩ হাজার ৫০০ টাকায় কিনে নেন।

    ব্যবসায়ী রাজু মিয়া বলেন, পাঙাসটির গুণগত মান ভালো হওয়ায় ঢাকায় দেড় হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি সম্ভব বলে আশা করছি। দুপুরেই মাছটি পরিবহনের মাধ্যমে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

  • ভোলার উপকূলে অস্তিত্ব সংকটে অতিথি পাখি

    ভোলার উপকূলে অস্তিত্ব সংকটে অতিথি পাখি

    শীতের চিরচেনা রূপ পাল্টে যাচ্ছে ভোলার উপকূলীয় চরাঞ্চলে। এক সময় দিগন্তজোড়া জলরাশিতে হাজার হাজার অতিথি পাখির জলকেলি আর কিচিরমিচির শব্দে মুখর থাকত যে চরগুলো, সেখানে এখন যান্ত্রিক নৌযানের শব্দ আর মানুষের কোলাহল।

    বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষা ভোলার উপকূলীয় বিচরণভূমিগুলো এখন পরিযায়ী পাখিদের জন্য হয়ে উঠেছে চরম অনিরাপদ। মানুষের সৃষ্ট এসব বহুমুখী সমস্যার কারণে পরিযায়ী পাখির সংখ্যা দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে কমছে এবং পাখিরা প্রতিনিয়ত পরিবর্তন করছে তাদের আবাসস্থল। এতে একদিকে যেমন শীতকালীন উপকূলীয় পরিবেশ তার সহজাত সৌন্দর্য হারাচ্ছে, অন্যদিকে প্রকৃতির ভারসাম্য হারাচ্ছে।

    ভোলার চর কুকরী মুকরী, ঢালচর ও মনপুরাসহ উপকূলের বিভিন্ন ডুবোচরগুলোতে হাজার হাজার অতিথি পাখির ডানা মেলে উড়ে চলা, দলবেঁধে খাবার সংগ্রহের প্রতিযোগিতা আর জলকেলি ছিল শীত মৌসুমের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু বর্তমানে সেসব চরের দৃশ্যপটে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে।


    স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, চর কুকরী মুকরী, চর শাহজালাল, চর শাজাহান, চর পিয়াল, আইলউদ্দিন চর, চরনিজাম, দমার চর, ডেগরারচরসহ মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর মধ্যবর্তী প্রায় অর্ধশত নতুন চর একসময় পাখিদের

    নিরাপদ বিচরণক্ষেত্র ছিল। তীব্র শীত থেকে বাঁচতে এবং খাবারের সন্ধানে সুদূর সাইবেরিয়া বা হিমালয় অঞ্চল থেকে আসা এসব অতিথিদের কলতানে মুখর থাকত সাগরকূলের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল। তবে মানুষের বসতি স্থাপন, কৃষি আবাদ বৃদ্ধি, পর্যটকদের অনিয়ন্ত্রিত ঘোরাঘুরি এবং চরাঞ্চলগুলোকে গোচারণভূমি হিসেবে ব্যবহারের ফলে সেই মুখর পরিবেশ এখন স্তব্ধপ্রায়।

    চর কুকরী মুকরির নারিকেল বাগানের বাসিন্দা নিয়ামুল মাঝি ও তাড়ুয়ার ব্যবসায়ী মিজান খানসহ স্থানীয়রা জানান, দিনরাত যান্ত্রিক নৌযানের শব্দদূষণ এবং মানুষের অযাচিত হস্তক্ষেপের কারণে পাখিরা এখন আর আগের মতো এসব চরে ভিড়ছে না।


    সম্প্রতি বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের রিসার্চ কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ড. সায়াম ইউ. চৌধুরীর নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল গত ১১ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত টানা আট দিন উপকূলীয় এলাকায় পাখি শুমারি পরিচালনা করেছেন। এই দলটির সদস্যরা ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী ও পটুয়াখালীর প্রায় ৫৩টি চরে পাখি গণনার কাজ করেন।


    ড. সায়ামের দেওয়া তথ্য অনুসারে, এবারের জরিপে উপকূলীয় মেঘনা মোহনার ৫৩টি স্থানে ৬৩ প্রজাতির মোট ৪৭ হাজার ১৫৭টি জলপাখির অস্তিত্ব রেকর্ড করা হয়েছে। এবারের শুমারিতে সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে ইউরেশিয়ান উইজিয়ন প্রজাতির পাখি, যার সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ১২টি। এছাড়া ব্ল্যাক-টেইলড গডউইট ৪ হাজার ৪৩৪টি এবং লেসার স্যান্ড প্লোভার ৩ হাজার ৯৬২টি শনাক্ত করা হয়েছে।

    এই জরিপে আরও দেখা গেছে, ভোলার মনপুরার কাছে চর আতাউর, ভাসান চরের কাছে জৈজ্জার চর এবং আন্ডার চরে জলপাখির সর্বাধিক ঘনত্ব বজায় ছিল। এর মধ্যে চর আতাউরে ৬ হাজার ৪৭৯টি, জৈজ্জার চরে ৫ হাজার ৮১৪টি এবং আন্ডার চরে ৪ হাজার ৯৮৭টি পাখি রেকর্ড করা হয়েছে। শুমারি দলটি বর্তমানে ঢাকায় ফিরে সংগৃহীত তথ্য যাচাই-বাছাই করছে এবং শীঘ্রই পাখি কমে যাওয়ার সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান ও প্রতিবেদন প্রকাশ করবে।

    পাখি শুমারি দলের সদস্য ও বিশিষ্ট পর্বতারোহী এম এ মুহিত উপকূলের পরিবর্তিত পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এক সময় ভোলার উপকূলীয় অঞ্চলে বার-হেডেড গুজ বা রাজহাঁস জাতীয় পাখি হাজারেরও বেশি দেখা যেত, অথচ এ বছর সেই সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ২০ থেকে ২৫টিতে। একইভাবে খয়রা চখাচখি ও গাঙচষা পাখির সংখ্যাও আগে হাজারের ঘরে থাকলেও এখন তা মাত্র শতকের ঘরে ঠেকেছে। সংখ্যায় কমে যাওয়া পাখিদের তালিকার মধ্যে আরও রয়েছে উত্তরে খুন্তেহাঁস, লেনজা হাঁস, ইউরেশিয়ান টিল, গ্যাডওয়াল ও বিভিন্ন প্রজাতির সৈকত পাখি। এমনকি হাড়গিলা নামের পরিযায়ী পাখি যা আগে শত শত দেখা যেত, এ বছর শুমারি চলাকালে সেটির একটিরও দেখা মেলেনি। এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে, উপকূলীয় বাস্তুসংস্থান পাখিদের বসবাসের উপযোগীতা হারাচ্ছে।


    বাংলাদেশ বার্ড ক্লাব, স্কোপ ফাউন্ডেশন এবং বার্ডলাইফ ইন্টারন্যাশনালের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই শুমারিতে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার নৌপথ পাড়ি দিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানান শুমারি দলের সদস্য নাজিম উদ্দিন প্রিন্স। তিনি বলেন, ভোলার পার্শ্ববর্তী চরগুলোতে পাখির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাওয়ার পেছনে পাখি শিকারিদের উপদ্রব যেমন দায়ী, তেমনি নতুন আপদ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে তরমুজ চাষ। এই কৃষিকাজের ফলে পাখিদের বিচরণভূমি সংকুচিত হয়ে পড়ছে।

    শুমারি দলের আরেক সদস্য মো. ফয়সাল জানান, তাদের এই কার্যক্রম মূলত জলচর ও পরিযায়ী পাখি কেন্দ্রিক ছিল এবং প্রতিবছরই তারা আবাসস্থল নষ্ট হওয়া ও পাখি শিকারের মতো নেতিবাচক কর্মকাণ্ড প্রত্যক্ষ করছেন।


    শুমারি দলের সঙ্গে পুরো সময় চরের অভয়াশ্রমগুলো পর্যবেক্ষণ করেছেন বন অধিদফতরের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা ফা-তু-জো খালেক মিলা। তিনি বলেন, পরিযায়ী পাখিদের আশ্রয়ের জন্য জোয়ার-ভাটায় প্লাবিত কাদাজলের চরগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু এসব এলাকায় মানুষের আনাগোনা ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ায় পাখিরা ভীত হয়ে এলাকা ছাড়ছে। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় অতি গুরুত্বপূর্ণ এই চরগুলোতে মানুষের অবাধ যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ ও সীমাবদ্ধ করার জন্য বন অধিদফতরের পক্ষ থেকে শীঘ্রই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • বাইসাইকেল উপহার পেল ২৮ শিশু

    বাইসাইকেল উপহার পেল ২৮ শিশু

    পটুয়াখালীর গলাচিপায় টানা ৪১ দিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে বাইসাইকেল উপহার পেয়েছে ২৮ জন শিশু। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেল ৫টায় পৌর এলাকার উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের হাতে এ উপহার তুলে দেওয়া হয়।

    এর আগে গলাচিপা পৌর বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক দল এবং গলাচিপা সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো মসজিদভিত্তিক এ নামাজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

    আয়োজকরা জানায়, মসজিদভিত্তিক প্রজন্ম গঠনের লক্ষ্যে শিশুদের নামাজের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা ও ধর্মীয় চর্চায় আগ্রহ বাড়াতেই এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।প্রতিযোগিতায় ৮ থেকে ১২ বছর বয়সী মোট ৪৬ জন শিশু অংশগ্রহণ করে। ৪১ দিন ধরে তাদের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হয়। এর মধ্যে নিয়মিত নামাজ আদায়কারী ২৮ জন শিশুকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।বিজয়ীদের মাঝে বাইসাইকেল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিকুর রহমান।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন।

  • পাঁচবিবিতে অনুষ্ঠিত হলো গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী ‘পাতা খেলা’

    পাঁচবিবিতে অনুষ্ঠিত হলো গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী ‘পাতা খেলা’

    জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল গ্রাম বাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী ‘পাতা খেলা’। কালের বির্বতনে হারিয়ে যেতে বসেছে এই খেলাটি। তাই এই খেলাকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এমন আয়োজন।

    বুধবার (২৪ ডিসেম্বর ) বিকালে উপজেলার পীরপাল গ্রামে এই খেলাটির উদ্বোধন করা হয়। খেলায় ৫ জন পাতা অংশ নেন এবং ৪টি গ্রুপের ২০ জন তান্ত্রিক দল অংশ নেয়।ঐতিহ্যবাহী খেলাটি দেখতে আশপাশ থেকে ছুটে আসেন সব বয়সের মানুষ। তবে খেলাটি প্রতি বছর ও বড় পরিসরে করার দাবী দর্শনার্থীদের। তবে আগামীতে সহযোগিতা পেলে বড় পরিসরে খেলাটি করার ইচ্ছে আয়োজকদের।

    কয়েকজন দর্শনার্থী বলেন, আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারাতে বসেছে প্রাচীন বাংলার খেলাধুলা। হারিয়ে যাওয়া গ্রামীণ সংস্কৃতির অবিচ্ছিত পাতা খেলা নতুন প্রজন্মের কাছে অনেকটাই অচেনা। তাই তাদের নতুন করে পরিচয় করে দেবার জন্য আয়োজন করেছে পীরপাল গ্রামের যুবসমাজ। খেলাটি চলে বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত।

    মাঠের চারপাশে মন্ত্র পড়ছে কিছু মানুষ। তান্ত্রিক দল মন্ত্র দিয়ে মানুষরূপী পাতাকে মাঠের মাঝখান থেকে নিজের দিকে টানার প্রতিযোগিতা শুরু করেন। যে দল তাদের মন্ত্রের মাধ্যমে পাতাকে নিজের জায়গার মধ্যে নিয়ে আসতে পারবে সেই বিজয়ী। প্রতিযোগিতায় যাদের পয়েন্ট বেশি সেই দলকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

    খেলোয়াড়রা বলেন, এই খেলায় মন্ত্রবিদরা যেমন আনন্দিত তেমনি আনন্দিত খেলোয়াড়রা যা ঐতিহ্যবাহী এই খেলা দেখাতে পেরে উচ্ছ্বসিত দর্শকরা। তারা চান মাঝে মধ্যেই যেন এ বিনোদন খেলাটি মানুষেরা উপভোগ করতে পারেন। কোনো পুরস্কারের আশায় নয় খেলাটি খেলতে এসেছের দর্শকদের বিনোদন দেওয়ার জন্য।এদিকে আয়োজকরা বলেন, গ্রামীণ সংস্কৃতিকে আঁকড়ে ধরা ও নতুনদেরকে এই খেলার সাথে পরিচয় করার জন্য এই খেলার আয়োজন। খেলাটি নিজেদের অর্থায়নে করা। যদি সরকার কিংবা জনপতিনিধিরা একটু সাহায্য করেন তাহলে আগামীতে আরও বড় পরিসরে করা যেতে পারে।খেলায় ৩ টি টিমকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন উপজেলার আটটুল গ্রামের তান্ত্রিক দল । খেলা শেষে চ্যাম্পিয়নকে রাজহাঁস ও রার্নাস আপকে পাতী হাঁস পুরস্কৃত করা হয়।

  • আক্কেলপুর অটোর দখলে হারাচ্ছে প্যাডেল রিকশার ঐতিহ্য

    আক্কেলপুর অটোর দখলে হারাচ্ছে প্যাডেল রিকশার ঐতিহ্য

    এক সময় শহর ও গ্রামের অলিগলিতে মানুষের যাতায়াতের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বাহন ছিল প্যাডেল চালিত রিকশা। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে রিকশাচালকরা ঘুরিয়ে যেতেন জীবনের চাকা, আর তাদের ঘণ্টির ‘ক্রিং ক্রিং’ শব্দে মুখর থাকত পথঘাট। এই রিকশাই ছিল নিম্ন আয়ের অসংখ্য পরিবারের জীবিকার উৎস।

    কিন্তু আধুনিকতার ছোঁয়ায় আজ সেই প্যাডেল রিকশা হারিয়ে যাচ্ছে ব্যাটারিচালিত অটোর দখলে। নিঃশব্দে বিলীন হচ্ছে এক সময়ের প্রাণচঞ্চল ঐতিহ্য, রেখে যাচ্ছে কেবল স্মৃতির শব্দ—‘ক্রিং… ক্রিং…’জয়পুরহাটের আক্কেলপুর পৌর শহরের অলিগলিতে একসময় সকাল-বিকেল ভেসে আসত রিকশার ঘণ্টির সুর। কিন্তু এখন সে দৃশ্য প্রায় বিরল। ব্যাটারিচালিত অটোর দাপটে হারিয়ে যেতে বসেছে প্রাচীন সেই বাহন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জীবিকার ধরন যেমন বদলেছে, তেমনি পাল্টেছে পরিবহন সংস্কৃতিও।

    প্যাডেল রিকশায় পরিশ্রম বেশি হলেও আয় তুলনামূলক কম। অন্যদিকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় কম শ্রমে বেশি আয়ের সুযোগ থাকায় চালকদের বড় একটি অংশ পেশা বদলেছেন। শহর থেকে গ্রাম—সব জায়গাতেই এখন দেখা যায় অটোরিকশার সারি, যা যাত্রীদের কাছেও দ্রুত ও আরামদায়ক বাহন হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

    ৬৫ বছর বয়সী রিকশাচালক রহিম উদ্দিন বলেন, ‘বাবা, অটো কিনতে টাকা লাগে, আমি গরিব মানুষ। এই রিকশাটাই আমার ভরসা। আগে যাত্রী তুলতাম, এখন আইসক্রিম বেচে খাই। দিনে যা পাই, তা দিয়েই সংসার চলে। এখন মানুষ হাঁটতেও চায় না, সবাই অটোতে ওঠে।’

    চোখের কোণে বিষাদ লুকিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘এই ঘণ্টির শব্দেই কেটেছে আমার জীবন। এখন সবাই বলে, ‘দাদু, এইটা চালাও কেন?’ কিন্তু আমি ফেলে দিতে পারি না, এটা তো আমার সঙ্গী।’

    একই কণ্ঠে আক্ষেপ করলেন প্যাডেল রিকশার চালক আজিজার রহমান। তিনি বলেন, ‘মানুষ এখন আর প্যাডেল রিকশায় উঠতে চায় না। তাই বেশিরভাগ সময় বসে থাকতে হয়। আগে দিনে ২০০-৩০০ টাকা আয় হতো, এখন সেটা ৮০-১০০ টাকায় নেমে এসেছে। এত অল্প আয়ে সংসার চালানো কষ্টকর।’

    অন্যদিকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালক মোহন আলী জানান, ‘রিকশায় খাটুনি অনেক, আয় কম। কিন্তু অটোরিকশা চালিয়ে দিনে ৫০০-৭০০ টাকা পর্যন্ত আয় করা যায়। কিস্তিতে পাওয়া যায় বলেও অনেকে সহজেই নিচ্ছে।’

    জয়পুরহাটে বর্তমানে প্রায় ২৩টি কারখানায় প্রতি মাসে গড়ে ৮০ থেকে ৯০টি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা তৈরি হচ্ছে। তবে কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে বহুগুণ। রড, শিট ও ব্যাটারির দাম দুই বছরে বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ।

    স্থানীয় কারখানা মালিক আল-আমিন হোসেন বলেন, ‘একটি অটোরিকশার বডি তৈরিতে খরচ পড়ে অন্তত ৮০ হাজার টাকা। ব্যাটারি ও মোটরসহ সম্পূর্ণ খরচ দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। অনেকে এনজিও ঋণ নিয়ে কাজ করেন, কারণ ব্যাংক ঋণ পাওয়া কঠিন।’

    জয়পুরহাট বিসিক শিল্প নগরীর উপ-ব্যবস্থাপক লিটন চন্দ্র ঘোষ জানান, ‘ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চাহিদা বাড়ায় নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। কারিগরি প্রশিক্ষণ ও উৎপাদন ব্যবস্থায় সহায়তা দিতে বিসিক উদ্যোগ নিচ্ছে।’

    কয়েক বছর আগেও আক্কেলপুর শহরে ৫০টির বেশি কারখানায় রিকশা তৈরি হতো। মাসে প্রায় ২ কোটি টাকার রিকশা বিক্রি হতো। এখন হাতে গোনা মাত্র তিনটি প্যাডেল রিকশা দেখা যায়, আর তাদের চালকরাও বয়সে প্রবীণ।

    যে বাহন একসময় শহর ও গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র নির্ভরতা ছিল, তা এখন অতীত হতে চলেছে। প্রযুক্তির দৌড়ে পিছিয়ে পড়ছে এক প্রজন্মের ঘাম-ঝরা শ্রমের স্মৃতি।

    সময়ের সঙ্গে হয়তো প্যাডেল রিকশা একদিন হারিয়ে যাবে পুরোপুরি, রয়ে যাবে শুধু ইতিহাসের পাতায় কিংবা জাদুঘরের প্রদর্শনীতে—যেখানে কেউ থমকে দাঁড়িয়ে হয়তো আবার শুনতে পাবে সেই চেনা সুর,‘ক্রিং… ক্রিং…’

  • নাটোরে নজর কাড়ছে ধানগাছে আঁকা জাতীয় পতাকা

    নাটোরে নজর কাড়ছে ধানগাছে আঁকা জাতীয় পতাকা

    নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার রশিদপুর গ্রামের তরুণ কৃষক ইমরান হোসাইন ধানখেতে তৈরি করেছেন জাতীয় পতাকার আকৃতি। ধান গাছ দিয়ে সবুজ জমির মাঝে লাল বৃত্ত তৈরি করে তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন দেশের পতাকার রূপ। তার এই উদ্যোগ এখন এলাকাজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

    ইমরান হোসাইন জানান, দেশপ্রেম আর কৃষির প্রতি ভালোবাসা থেকেই তার এই উদ্যোগ। প্রায় ৪৫ শতক জমিতে দুই জাতের ধান রোপণ করে তিনি তৈরি করেছেন এই অনন্য চিত্র। সবুজ অংশে ব্যবহার করেছেন পাকিস্তানি লং বাসমতী ধান, আর মাঝের লাল বৃত্তের স্থানে লাগিয়েছেন বেগুনি রঙের পারপোল রাইস। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, ধানের শীষে আঁকা পতাকাটি যেন বাতাসে দুলছে।

    ইমরান বলেন, দেশকে ভালোবাসা শুধু মুখের কথা নয়। কাজের মাধ্যমেই দেশপ্রেম প্রকাশ পেতে পারে। এই খেত আমার কাছে দেশের প্রতি শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার প্রতীক।

    তার এই ব্যতিক্রমী কাজ দেখতে প্রতিদিনই নানা বয়সী মানুষ ভিড় করছেন। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন, আবার অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করছেন ইমরানের সৃজনশীল এই প্রচেষ্টা।

    জামাল উদ্দিন নামের একজন বলেন, ইমরানের ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কথা শুনে দেখতে এসেছি। জীবন্ত ধান গাছের পতাকা আগে কখনো দেখেনি। দেখে সত্যিই ভালো লাগছে।

    গুরুদাসপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কে এম রাফিউল ইসলাম বলেন, ইমরানের এই উদ্যোগ শুধু দেশপ্রেম নয়, কৃষিক্ষেত্রে সৃজনশীলতারও এক সুন্দর উদাহরণ। এমন উদ্যোগ তরুণদের কৃষির প্রতি উৎসাহিত করবে।

  • নবজাতককে ফেলে পালিয়ে গেলেন মা

    নবজাতককে ফেলে পালিয়ে গেলেন মা

    নওগাঁর মান্দায় জন্মের কয়েকঘণ্টা পর নবজাতক কন্যাকে ফেলে রেখে পালিয়েছেন মা। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন বাবা। বৃহস্পতিবার ১৮ ডিসেম্বর উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

    নবজাতকের বাবার নাম তৌহিদ ইসলাম। তিনি জেলার মহাদেবপুর উপজেলার চকহরি বল্লভ গ্রামের বাসিন্দা। প্রায় দুই বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে মান্দা উপজেলার সাহাপুর (ফজিদারপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা ওই নারীকে বিয়ে করেন তিনি।

    তৌহিদ ইসলাম জানান, স্ত্রী গত তিন মাস ধরে তার বাবার বাড়িতে ছিলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার তার প্রসবের ব্যথার খবর পেয়ে তিনি শ্বশুরবাড়ি যান। এরপর স্ত্রী ও শাশুড়িকে নিয়ে তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রে যান। বিকেল ৫টার দিকে স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে তার স্ত্রী কন্যাসন্তানের জন্ম দেন।

    সন্তান জন্মের পর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আমি ওষুধ আনতে বাজারে যাই। ফিরে এসে দেখি, স্ত্রী ও শাশুড়ি নবজাতক সন্তানকে রেখে চলে গেছেন। বিষয়টি অত্যন্ত অমানবিক। স্ত্রী ও শাশুড়ির এমন আচরণে আমি হতবাক ও দিশেহারা। তাই বাধ্য হয়ে মান্দা থানায় অভিযোগ দিয়েছি।’ বলেন তৌহিদ ইসলাম।

    এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে তৌহিদ ইসলামের স্ত্রী বলেন, বিয়ের পর থেকে স্বামী ও তার পরিবারের সঙ্গে আমার মনোমালিন্য চলছিল। আমি সন্তান নিতে চাইনি। কিন্তু তা হয়ে গেছে। যেহেতু আমি তৌহিদের সঙ্গে আর সংসার করব না। তাই সন্তান পালন করতেও আমি রাজি নই।

    মান্দা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সামছুর রহমান বলেন, তৌহিদ ইসলামের লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। তার স্ত্রী জানিয়েছেন, তিনি স্বামীর সঙ্গে আর সংসার করবেন না এবং সন্তান লালনপালনে আগ্রহী নন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • বরের জুতা লুকানো নিয়ে সংঘর্ষ, ভেঙে গেলো বিয়ে

    বরের জুতা লুকানো নিয়ে সংঘর্ষ, ভেঙে গেলো বিয়ে

    সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে বিয়েবাড়িতে বরের জুতা লুকিয়ে রাখা নিয়ে সংঘর্ষ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বরপক্ষ বউ না নিয়েই ফেরত চলে গেছে।

    শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেলে উপজেলার কৈজুরি ইউনিয়নের গুলিয়াখালীর চর গ্রামের কনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। পরে বিষয়টি সমঝোতা না হওয়ায় একদিন পর জানাজানি হয়।

    রোববার (২১ ডিসেম্বর) দুপুরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুক্রবার ওই ইউনিয়নের গুলিয়াখালী গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে ৬০-৭০ জন বরযাত্রী নিয়ে গুলিয়াখালীর চরে কনের বাড়িতে আসে। বিয়ে উপলক্ষে ওই বাড়িতে সেদিন প্রায় ২০০ লোকের আয়োজন ছিল। কিন্তু জুতা লুকানোকে কেন্দ্র করে বর পক্ষের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে বিয়ে সম্পন্ন না করে কনের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করে চলে যায়।

    কনের মা খাদিজা বেগম অভিযোগ করে বলেন, বরকে স্মার্টফোন ও ১০ আনা সোনার চেইন দিয়ে আমরা বরণ করেছিলাম। শুধু তাই নয় বাড়িতে ২০০ লোকের আয়োজন করতে এক লাখ টাকা মূল্যের একটি গরু ও পাঁচ মণ দই কেনা হয়েছিল। সবাই খাবার খাওয়া শেষ করেছে। কিন্তু তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও লুটপাট হওয়ায় বিয়ে ভেঙে গেছে।শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় থানায় এখনো কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • ভ্রমণপিপাসুদের চাহিদা মেটায় ছোট সোনামসজিদ

    ভ্রমণপিপাসুদের চাহিদা মেটায় ছোট সোনামসজিদ

    ঐতিহ্য, ইতিহাস আর স্থাপত্যশৈলীর এক অপূর্ব মেলবন্ধন চাঁপাইনবাবগঞ্জের ছোট সোনামসজিদ। দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে দিন দিন বাড়ছে এর কদর। শুধু ইতিহাসপ্রেমী নয়, প্রকৃতি ও সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহী ভ্রমণপিপাসুদের কাছেও এটি হয়ে উঠেছে আকর্ষণীয় গন্তব্য। তাই শুধু সারাদেশের মানুষ নয়, বিদেশ থেকেও আসছেন একনজর দেখতে।

    শত শত বছরের পুরোনো স্থাপনাটি যেমন নিখুঁত কারুকাজে পরিপূর্ণ; তেমনই এটি দাঁড়িয়ে আছে গৌরবময় অতীতের সাক্ষী হয়ে। সুলতানি আমলে নির্মিত মসজিদটি ঘিরে গড়ে উঠেছে পর্যটন সম্ভাবনার বিশাল ক্ষেত্র। ইতিহাসের পাতায় যার নাম ‘সুলতানি স্থাপত্যশৈলীর রত্ন’। যা চাঁপাইনবাবগঞ্জের অর্থনীতির সম্ভাবনাময় স্তম্ভ হয়ে উঠেছে। ছোট সোনামসজিদকে কেন্দ্র করে পূর্ণাঙ্গ ‘ঐতিহাসিক পর্যটন করিডোর’ গড়ে তোলার দাবি স্থানীয়দের। আশপাশেই আছে দারসবাড়ি মসজিদ, খনিয়া দিঘি মসজিদ, তোহাখানা প্রাসাদসহ বহু ঐতিহাসিক স্থাপনা।

    নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলা থেকে ছোট সোনামসজিদ দেখতে এসেছেন আয়েশা বেগম। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘অনেক দিনের ইচ্ছে ছিল ছোট সোনামসজিদ নিজ চোখে দেখবো। কিন্তু কোনো দিন হয়ে ওঠেনি। আজকে এসে দেখলাম। খুবই ভালো লাগলো।’পাকিস্তানের করাচি থেকে এসেছেন তারেক জামিল খান। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘গত ১০ দিন আগে বাংলাদেশে এসেছি। চারদিন ধরে রাজশাহীতে অবস্থান করছি। অনেক দিনের ইচ্ছে ছিল সোনামসজিদ দেখবো। বড় সোনামসজিদ ভারতে হওয়ায় দেখার সুযোগ হয়নি। তাই ছোট সোনামসজিদ দেখতে এসেছি। এখানে নামাজ আদায় করলাম।’তিনি বলেন, ‘পাথরের তৈরি মসজিদটি আয়তনে খুব বড় না হলেও শিল্পসৌন্দর্য নজর কেড়েছে। জানতে পারলাম, উত্তর-দক্ষিণে লম্বালম্বিভাবে নির্মিত মসজিদটির ছাদে আছে ১৫টি গম্বুজ—যার মাঝে তিনটি ‘চৌচালা’ ধাঁচের এবং বাকি ১২টি অর্ধগোলাকৃতির। চার কোণে আছে চারটি অষ্টকোণীয় মিনার। যা দেখে মুগ্ধ হয়েছি। নামাজ আদায় করে শান্তি পেলাম। কারণ দেওয়ালগুলো খুবই মোটা, ভেতরটা শীতল হয়ে আছে।’ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে স্ত্রীকে নিয়ে এসেছেন মাহবুব হক। তিনি বলেন, ‘সন্ধ্যায় এসে দেখলাম ছোট সোনামসজিদে দুই শতাধিক মুসল্লি নামাজ আদায় করছেন। দেখে খুবই ভালো লাগলো। মসজিদের দেওয়ালে, দরজায়, জানালায় খচিত খোদাই ও নকশা আজও নজর কাড়ছে। দেখে মনে হচ্ছে, খুব যত্ন করে বানানো হয়েছে মসজিদটি।

    মসজিদটির অভ্যন্তরভাগে আছে তিনটি মেহরাব। যার মাঝখানেরটি অপেক্ষাকৃত বড় এবং পাথরের নিখুঁত কারুকার্যে অলংকৃত। মসজিদের ভেতরের দেওয়ালজুড়ে যে নিপুণ নির্মাণশৈলী দেখা যায়, তা বাংলার মধ্যযুগীয় শিল্পকলার উৎকৃষ্ট উদাহরণ। ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা ও আশপাশের জেলা থেকে প্রতিদিন শতাধিক দর্শনার্থী এখানে আসেন। কেউ আসেন ইতিহাস জানতে, কেউবা ফটোগ্রাফি করতে, কেউ আসেন পাথরের ছোঁয়া আর প্রকৃতির নীরবতায় সময় কাটাতে।

    ঢাকার নতুন বাজার এলাকা থেকে চাঁপাইনবাগঞ্জে বন্ধুর বাড়িতে বেড়াতে এসেছেন স্বজল আহমেদ। তিনি বিকেলবেলায় ছোট সোনামসজিদ দেখতে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা তো ইতিহাস বইয়ে পড়ে এসেছি ছোট সোনামসজিদ সম্পর্কে। আজ বাস্তবে এসে যেন ইতিহাসকে ছুঁয়ে দেখলাম। খুবই ভালো লাগছে।’

  • চাল বিক্রেতা থেকে বড় উদ্যোক্তা প্রতিবন্ধী তরিকুল

    চাল বিক্রেতা থেকে বড় উদ্যোক্তা প্রতিবন্ধী তরিকুল

    স্কুলে ভর্তি হয়েও দ্বিতীয় শ্রেণির গণ্ডি পেরোতে পারেননি চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার মোকরামপুরের আলীনগর গ্রামের তরিকুল ইসলাম। তারপর শৈশবেই পোলিও রোগে আক্রান্ত হয়ে শরীরের একটি অংশের কার্যক্ষমতা হারান। সেই থেকে চলতে–ফিরতে ক্রাচ তাঁর নিত্যসঙ্গী।

    শরীরের একাংশের কার্যক্ষমতা হারিয়েও দমে যাননি তরিকুল। কঠোর চেষ্টা ও উদ্যমে তিনি হয়ে উঠেছেন একজন সফল উদ্যোক্তা। স্থানীয়ভাবে অনেকের জন্য অনুকরণীয়। তরিকুল এখন ফিন্টু সুপার অটো রাইস মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)। তাঁর অধীন কাজ করেন ছয়জন মহাব্যবস্থাপক আর ২০০ কর্মচারী। বর্তমানে দুটি অটো রাইস মিলের মালিক তিনি।

    সমাজের চোখে প্রতিবন্ধী এই ব্যবসায়ীর ডাকনাম ফিন্টু। এই নামেই নামকরণ করেন নিজের প্রতিষ্ঠানের। তাঁর চালকল কারখানা অবস্থিত চাঁপাইনবাবগঞ্জের এনায়েতপুর গ্রামে। এই চালকলের প্রতিদিনের উৎপাদনক্ষমতা তিন হাজার মণ। তাঁর চালকলে উৎপাদিত চাল দেশের দক্ষিণাঞ্চলে অত্যন্ত সুপরিচিত। ‘ফিন্টু রাইস’ ব্র্যান্ড হিসেবে একনামে বিক্রি হয়। এই চালের চাহিদা এতটাই বেশি যে স্থানীয় চালের চেয়ে প্রতিবস্তা ২০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হয়। বিশেষ করে কুষ্টিয়া, রাজবাড়ী, কিশোরগঞ্জ, ফরিদপুরের ভাঙ্গা ও কানাইপুর; মাদারীপুরের টেকেরহাট, বরিশাল, ঝিনাইদহ, কালীগঞ্জ, চুয়াডাঙ্গা, আলমডাঙ্গা এসব এলাকায় এই চাল বেশি বিক্রি হয়। কুষ্টিয়া ও কিশোরগঞ্জে প্রতিদিন দুই ট্রাক করে চাল যায়। নারায়ণগঞ্জে যায় প্রতিদিন এক থেকে তিন ট্রাক, ঝিনাইদহে সপ্তাহে তিন থেকে পাঁচ ট্রাক। কালীগঞ্জ, চুয়াডাঙ্গা, আলমডাঙ্গায়ও যায় এই চাল।

    সম্প্রতি কথা হয় ৬০ বছর বয়সী তরিকুল ইসলামের সঙ্গে। শৈশবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জয় করে কীভাবে একজন সফল উদ্যোক্তা হয়ে ওঠেন, সেই গল্প তিনি শোনান আলাপকালে। গল্পে গল্পে জানা যায়, শৈশবে গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন প্রথম শ্রেণিতে; কিন্তু প্রথম শ্রেণির পরীক্ষায় অকৃতকার্য হন। তরিকুল বলেন, যখন পরীক্ষায় পাস করতে পারলাম না, তখন বাবা বললেন, তোকে দিয়ে লেখাপড়া হবে না। বাবার এই কথার পর লেখাপড়া আর বেশিদূর এগোয়নি। শুরু হলো জীবনযুদ্ধ। শৈশবেই যুক্ত হয়ে যান ব্যবসার সঙ্গে, তা–ও কিছু না জেনে, না বুঝে।

    তরিকুল জানান, সেই ছোটবেলাতেই প্রতিদিন ১০ কেজি চাল নিয়ে ট্রেনে করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে পাবনার ঈশ্বরদীতে যেতেন তিনি। সেই চাল বিক্রি করে আবার ফিরে আসতেন। প্রতিদিন চাল বিক্রি করে পাঁচ থেকে আট টাকা লাভ হতো। তখন ঈশ্বরদীতে ফুটপাতের দোকানে প্রতি প্লেট ভাত বিক্রি হতো আট আনায়। এভাবে একটু একটু করে বিক্রি বাড়তে থাকে। ঈশ্বরদীর পরে কুষ্টিয়ায় গিয়ে চাল বিক্রি শুরু করেন তিনি। হঠাৎ একদিন যাত্রীবাহী ট্রেনে অবৈধভাবে চাল পরিবহনের অভিযো

    বিয়ের কথা বলতে গিয়ে কিছুটা বিষণ্ন হয়ে পড়েন তরিকুল। কিছুক্ষণের মধ্যে নিজেকে সামলে নিয়ে বললেন, বিয়ের পরপরই বাবা দুই মণ ধান ও পাঁচটি ঢেউটিন দিয়ে আলাদা করে দিলেন। এরপর শুরু হলো জীবনের প্রকৃত লড়াই। তরিকুলের মনের মধ্যে শুধু ব্যবসার চিন্তা। সেই চিন্তা থেকে বাবার দেওয়া দুই মণ ধান বিক্রি করে কিনলেন আম; কিন্তু সেই আম বিক্রি করে ২০ টাকা লোকসান গুনতে হলো। লোকসানের পর ভাবলেন, বাড়িতে নতুন বউ, লোকসানের কথা বললে মন খারাপ করতে পারে। তাই লোকসানের কথা ভুলে মাছ কিনে বাড়ি ফিরলেন হাসতে হাসতে। আমের ব্যবসার এক লোকসানেই আর্থিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন তিনি। এ অবস্থা দেখে ঘনিষ্ঠ বন্ধু আতাউর রহমান দুই হাজার টাকা ধার দিলেন কিছু একটা করতে। সেই টাকা দিয়ে প্রথম মুদিদোকান খোলেন তরিকুল। কারণ, আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, যেভাবেই হোক ব্যবসায় করবেন তিনি। এভাবেই চলল কয়েক বছর। ১৯৯১ সালে আবার পুঁজিসংকটে। বাড়িঘরও নেই। এ সময় গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ২ হাজার টাকা ঋণ পেলেন। নগদ হাতে পেলেন ১ হাজার ৮৫০ টাকা। এর মধ্যে ১ হাজার ৮০০ টাকা দিয়ে একটি গরু কিনলেন। সাত-আট মাস পর গরুটা ৩ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি করলেন। গরু বিক্রির ৩ হাজার ৬০০ টাকার সঙ্গে দোকানের জমানো ৪০০ টাকা যোগ করে মোট ৪ হাজার টাকা নিয়ে শুরু করলেন আতপ চালের ব্যবসা।

    তরিকুল জানান, ব্যবসায়ীরা চাল নিয়ে কোথায় বিক্রি করেন, কেউ কাউকে বলেন না। একদিন এক ব্যবসায়ী ঠিকানা দিলেন কুষ্টিয়ার বড়বাজারের ব্যবসায়ী প্রবীর বাবুর। চাল নিয়ে তাঁর কাছে গেলেন। তখন বিকেল হয়ে গেছে। প্রবীর বাবু চাল না কিনে ফিরিয়ে দিলেন তাকে। তিনি ঘুরতে থাকলেন কুষ্টিয়ার বড়বাজারে এ–দোকান, ও–দোকান। একপর্যায়ে এক ব্যবসায়ী তাঁর চাল কিনতে রাজি হলেন। সেই থেকে কুষ্টিয়ায় তাঁর চালের ব্যবসা শুরু। তরিকুলের মতে, এখন কুষ্টিয়ার চালের বাজারে যদি ১০০ বস্তা চাল বিক্রি হয়, তার মধ্যে ৯০ বস্তাই ‘ফিন্টু রাইস’, অর্থাৎ তরিকুলে চালকলের চাল। তরিকুল বলেন, ‘কোনো ভেজাল চাল বিক্রি করি না। তাই আমার চালের চাহিদা বেশি।’

  • মকিমপুর জমিদারবাড়ি

    মকিমপুর জমিদারবাড়ি

    চুন–সুরকি খসে পড়েছে অনেকাংশে। বেরিয়ে এসেছে লাল ইট। বাড়িটির এখন জীর্ণ দশা। হবেই না কেন। বয়স তো কম হলো না—প্রায় দেড় শ বছর। বলছি মকিমপুর জমিদারবাড়ির কথা। সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলা সদর থেকে কিলোমিটার দুয়েক উত্তরে গেলে মকিমপুর গ্রামে দেখা মিলবে বাড়িটির।

    সম্প্রতি বাড়িটিতে গিয়ে কথা হয় জমিদার পরিবারের বর্তমান প্রজন্মের সঙ্গে। তাঁরা জানালেন বাড়িটির ইতিহাস–ঐতিহ্যের নানা কথা। বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন জমিদার গোবিন্দ রায় চৌধুরী। তাঁর ছিল দুই ছেলে। জমিদার জীবিত থাকা অবস্থায় এক ছেলের মৃত্যু হয়। আরেক ছেলের বংশধরেরা বর্তমানে এখানে রয়েছেন।

    মকিমপুরের মূল জমিদারবাড়িটি নির্মাণ করা হয় ১৮৮৫ সালে। এই ভবনে সাতটি কক্ষ। জমিদার পরিবারের পরবর্তী প্রজন্ম কয়েক বছর আগেও এই ভবনেই বসবাস করতেন। এখন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ভবনের উত্তর ও পশ্চিম পাশে আলাদা বাড়ি তৈরি করে বসবাস করছেন। তবে বাড়ির সামনে ১৮৮৭ সালে নির্মাণ করা মন্দিরে এখনো পূজা হয়।

    মন্দিরটিতে বিশেষ করে লক্ষ্মীপূজা হয় বেশ ঘটা করে। আগের দিনের নিয়ম মেনে এলাকার হিন্দুধর্মাবলম্বী এবং আত্মীয়স্বজনদের নিমন্ত্রণ করে জমিদার পরিবার। পরিবারের তৃতীয় প্রজন্মের সদস্য অমল কুমার রায় বলেন, ‘আমাদের দাদু মকিমপুর জমিদারবাড়ি নির্মাণ করেন। তিনি বাড়ির সামনে এই মন্দিরও নির্মাণ করেছিলেন। তাঁর ধারাবাহিকতায় লক্ষ্মীপূজায় সবাইকে আমরা ডাকি।’

    জমিদার গোবিন্দ রায় চৌধুরী সম্বন্ধে ভালো ও মন্দ—দুই ধরনের জনশ্রুতিই রয়েছে। কেউ বলেন, তিনি ছিলেন প্রজাদরদি জমিদার। আবার কেউ বলেন অন্য কথা। তাঁর দাপটের কারণে প্রজারা নাকি জমিদারবাড়ির সামনে দিয়ে ছাতা মাথায় ও জুতা পায়ে যেতে পারতেন না। খাজনা আদায়ের বেলায়ও নাকি জমিদার গোবিন্দ রায় চৌধুরী ছিলেন ভীষণ কড়া।

    একসময় মকিমপুর গ্রামে বসবাস করতেন জামাত আলী সেখ। এখন উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের কোদলা গ্রামে থাকেন। জামাত আলী বলেন, দেশ স্বাধীনের পরে জমিদার পরিবারের লোকজনের সহায়তায় এখানে আসা। তাঁরা ভালো জমিদার ছিলেন।

    তবে জমিদার নিয়ে ভালো–মন্দ যে জনশ্রুতিই থাকুক না কেন—বাড়িটি একনজর দেখতে মানুষের আগ্রহের কমতি নেই।

    সে কথাই বলছিলেন জমিদার পরিবারের সদস্য অশোক কুমার রায়। তিনি জানালেন, জমিদারবাড়ি ও মন্দিরটি দেখতে প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগ্রহী মানুষজন আসেন। বিভিন্ন তথ্য জানতে চান তাঁরা। জমিদারবাড়ির চতুর্থ প্রজন্মের পুত্রবধূ আঁখি রায়ও বললেন একই কথা। তিনি বলেন, ‘আমাদের জানাশোনা যা আছে, তা তাঁদের জানাই।’

    পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার স্কুলশিক্ষক মো. মোকসেদ আলমের সঙ্গে দেখা হয় জমিদারবাড়িতে। তিনি বলেন, ‘ইতিহাসের খোঁজে সারা দেশে ঘুরে বেড়াই। মকিমপুর জমিদারবাড়িতে এসে পুরোনো দিনের নকশার বাড়ি ও মন্দিরটি দেখে খুব ভালো লাগল।’ জমিদার ভবনের করুণ দশার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি সংস্কার করে আগামী প্রজন্মের জন্য টিকিয়ে রাখা দরকার।

    একই আহ্বান রায়গঞ্জ: ইতিহাস সমাজ ও সংস্কৃতি বইয়ের লেখক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট খুলনার অতিরিক্ত পরিচালক খ ম রেজাউল করিমেরও। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, আগের দিনের নির্মাণশৈলী খুবই সুন্দর ছিল। জমিদারবাড়ি ও মন্দিরটি নির্মাণে স্থাপত্যশিল্পের চমৎকার ব্যবহার লক্ষণীয়। কালের বিবর্তনে এ বাড়িটি ধ্বংসের পথে কিন্তু এটি রক্ষার কোনো উদ্যোগ নেই। ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্বের নিদর্শন মকিমপুর জমিদারবাড়িটি রক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

  • ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাক্ষী বাঘা শাহী মসজিদ

    ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাক্ষী বাঘা শাহী মসজিদ

    ১৫২৩-১৫২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত রাজশাহীর বাঘা শাহী মসজিদ। বাংলাদেশের ৫০ টাকার নোট ও ১০ টাকার স্মারক ডাকটিকিটে রয়েছে প্রাচীন এই স্থাপত্যটি।

    পুরো মসজিদজুড়ে অপরূপ কারুকাজ আর টেরাকোটার নকশায় সুসজ্জিত ১০ গম্বুজের মসজিদটিতে রয়েছে পাঁচটি দরজা। মাঝখানের দরজার ওপর ফারসি হরফে একটি শিলালিপি লেখা রয়েছে, যা প্রধান ফটক থেকে অপরূপ নির্মাণশৈলী দর্শনার্থীদের ভেতরে টেনে। মসজিদটির চার কোনায় চারটি চৌচালা গম্বুজ, ভেতরে ছয়টি স্তম্ভ। রয়েছে চারটি অপূর্ব কারুকার্যখচিত মিহরাব। মিহরাবের নকশায় রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী আম, গোলাপ ফুলসহ নানা রকম নকশা রয়েছে।

    ১৫২৩-২৪ খ্রিস্টাব্দে বর্তমান বাংলার স্বাধীন সুলতান নুসরত শাহ মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন। সামনে খনন করেছিলেন প্রায় ২৫৬ বিঘা জমির ওপর সুবিশাল দিঘি। রয়েছে আউলিয়াদের মাজার, মূল দরগাহ শরিফ ও জাদুঘর।

    স্থাপত্যশৈলীর আকর্ষণে দেশ-বিদেশ থেকে পর্যটকরা প্রতিনিয়ত ছুটে আসেন বাঘার এই মসজিদটি দেখতে। মসজিদটি সমতল থেকে ৮-১০ ফুট উঁচু বেদির ওপরে। মসজিদটির আঙিনা ঘিরে সীমানাপ্রাচীর থাকলেও উত্তর ও দক্ষিণে রয়েছে দুটি প্রবেশপথ। প্রবেশপথ দুটির দুপাশেই রয়েছে দুটি ফটক। দক্ষিণ পাশের ফটকটি ঠিক থাকলেও উত্তর পাশেরটির অবস্থা আর আগের মতো নেই।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মসজিদটির দৈর্ঘ্য ৭৫ ফুট, প্রস্থ ৪২ ফুট, উচ্চতা ২৪ ফুট ৬ ইঞ্চি। দেয়াল চওড়ায় ৮ ফুট। গম্বুজের ব্যাস ২৪ ফুট, উচ্চতা ১২ ফুট। এ ছাড়া সবখানেই টেরাকোটার নকশা। ২০০৭ সালে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ অনুরূপ নকশা প্রতিস্থাপন করেছে। সিরাজগঞ্জের টেরাকোটা শিল্পী মদন পাল কাজটি করেছিলেন। ৫০১ বছরে পা দেওয়া মসজিদটিকে দেখতে এখনো দূরদূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা আসেন। ইতিহাস খুঁজতে আসেন ইতিহাসবিদেরাও। প্রাচীন অন্যতম এই নিদর্শন দেখে মুগ্ধ হন সবাই।বাঘা শাহী মসজিদ দেখতে আসা দর্শনার্থী সেকাদুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, বাঘা মসজিদের ছবি দেশের ৫০ টাকার নোটে রয়েছে। একই সঙ্গে ১০ টাকার স্মারক ডাকটিকিটেও দেখা যায়। প্রাচীন স্থাপত্যের এই নিদর্শনটি অনেক সুন্দর। না দেখলে বলা যাবে না এটি কত সুন্দর। মসজিদটি ঘিরে যে ধরনের টেরাকোটার নকশা রয়েছে; তা এই যুগের স্থাপনায় দেখা যাবে না। আসলে সেই সময় প্রযুক্তির ছোঁয়া না থাকলেও এত সুন্দর কাজ সত্যই প্রশংসার দাবি রাখে।

    বাঘা শাহী মসজিদ দেখতে এসে মেয়ের রোগমুক্তির আশায় আল্লাহর কাছে দোয়া করে মসজিদে মুরগি দিলেন সালমা খাতুন। শুধু সালমা খাতুন নয়, তার মতো অনেকেই মুরগি দিচ্ছেন। এ ছাড়া মসজিদের পূর্বদিকের পুকুর পাড়ে বাঘা শাহী মসজিদ দেখতে ও বিভিন্ন ইচ্ছা পূরণের আশায় আসা অনেকেই রান্না করে মানুষদের খাওয়ান।

    সরেজমিনে দেখা গেছে, দূরদূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের যানবাহনগুলো মসজিদের দক্ষিণ পাশে রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। এখানে রয়েছে মসজিদ ঘিরে আউলিয়াদের মাজার,
    দরগা শরিফ ও জাদুঘর। মসজিদের উত্তর পাশে রয়েছে হজরত শাহ দৌলা (র.) এবং তার পাঁচজন সঙ্গীর মাজার। মাজারের দক্ষিণ-পশ্চিমে রয়েছে হজরত শাহ (র.)-এর পরিবারের সদস্যদের মাজার। মসজিদ প্রাঙ্গণের বাইরে দক্ষিণ-পশ্চিমে দুজন বাগদানি দরবেশের মাজার। এ ছাড়া এখানে আসা জহর খাকী পীরসহ আরও অনেক সাধকের মাজার রয়েছে চারপাশে। আর পাশেই রয়েছে নারী মসজিদ। দর্শনার্থীরা বাঘা মসজিদ ছাড়াও আশপাশের আউলিয়াদের মাজার ঘুরে দেখেন। একই সঙ্গে সুবিশাল দিঘীর পাড়ে বসে অনেকেই সময় কাটান।

    মসজিদের মুয়াজ্জিন শাফিকুল ইসলাম প্রায় ১০ ধরে আছেন বাঘার শাহী মসজিদে। ঢাকা পোস্টকে তিনি বলেন, বছরের এই সময়টায় প্রচুর মানুষ (দর্শনার্থী) আসেন বাঘা শাহী মসজিদ দেখতে। এ ছাড়া অনেক পুরোনো এই মসজিদে জুমার দিনে নামাজ আদায় করতে দূরদূরান্ত থেকেও অনেক মানুষ আসেন।

    প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর রাজশাহী আঞ্চলিক পরিচালকের কার্যালয়ের বাঘা জাদুঘর মডেলার (সংযুক্ত) মো. এনায়েত হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, ৫০১ বছর চলছে রাজশাহীর বাঘা মসজিদের বয়স। এখানে একটা জাদুঘর রয়েছে। এটি দেখতে সারা বছরই দেশি-বিদেশি অনেক পর্যটক আসেন। তবে বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত প্রচুর দর্শনার্থী আসেন বাঘায়।
    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব এবং খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল আলম বলেন, বাঘা শাহী মসজিদ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে রয়েছে। তারাই মসজিদের দেখভাল করেন। এটি প্রাচীনতম একটি মসজিদ। প্রায় ৫০০ বছরের বেশি বয়সের মসজিদ এটি। বাংলাদেশের ৫০ টাকার নোট ও ১০ টাকার স্মারক ডাকটিকিটে দেখা যায় প্রাচীন স্থাপত্যের নিদর্শন শাহী মসজিদটিকে।

    বাঘা শাহী মসজিদের বিষয়ে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের রাজশাহী, রংপুর বিভাগ ও বগুড়ার আঞ্চলিক পরিচালক ডা. নাহিদ সুলতানা ঢাকা পোস্টকে বলেন, ১৫২৩ থেকে ১৫২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এই মসজিদটি। বর্তমানে মসজিদটির বয়স ৫০১ বছর। প্রতি বছরই প্রচুর দর্শনার্থী আসেন বাঘা শাহী মসজিদ দেখতে।

    বাঘা শাহী মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তরিকুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, মসজিদটির বয়স ৫০১ বছর হয়েছে। ওজুখানাসহ অনেক উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। আরও কাজ চলমান। মসজিদ থেকে যে টাকা উঠে সেগুলো উন্নয়নের কাজে ব্যয় করা হয়।

    যেভাবে যাবেন

    বাঘা মসজিদ দেখতে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে আসার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে যারা রাজশাহী বিভাগের চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও জয়পুরহাটের বাসিন্দা তাদের রাজশাহী শহরের বাসস্ট্যান্ডে নেমে বাঘা উপজেলা সদরে যেতে হবে। এ ছাড়া যারা নাটোর জেলা হয়ে আসতে চান তাদের রাজশাহী শহরে না এলেও হবে। শহরের অদূরে পুঠিয়ার বানেশ্বর বাজার হয়ে দক্ষিণে চারঘাটের রাস্তায় যেতে হবে। চারঘাটের পরের উপজেলা বাঘা।

    এ ছাড়া পুঠিয়া উপজেলা সদর থেকেও

    যেকোনো যানবাহনে সড়কপথে বাঘা শাহী মসজিদে যাওয়া যায়। তবে কেউ চাইলে ট্রেনেও আসতে পারেন মসজিদটি দেখতে। সেক্ষেত্রে দর্শনার্থীকে এমন ট্রেনে উঠতে হবে যে ট্রেন আড়ানী স্টেশনে থামবে। এরপর এই স্টেশন থেকে ভ্যান, অটোরিকশা বা সিএনজিতে যেতে হবে বাঘা উপজেলা সদরে। সেখান থেকে খুবই কাছে বাঘা শাহী মসজিদ।

  • বান্দরবানে ৯৫ শতাংশ হোটেল আগাম বুকড

    বান্দরবানে ৯৫ শতাংশ হোটেল আগাম বুকড

    বান্দরবানের প্রায় ৯৫ শতাংশ হোটেলের আগাম বুকিং হয়ে গেছে। ১৬-২৫ ডিসেম্বর জেলায় ব্যাপক পর্যটক সমাগমের সম্ভাবনা রয়েছে। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) জেলা সদরের হোটেল মালিকদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা যায়।

    পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, বছরজুড়ে কম-বেশি প্রকৃতিপ্রেমী ভ্রমণ পিপাসু পর্যটকরা ভিড় জমান পাহাড়কন্যা খ্যাত এ অপরূপা বান্দরবানে। বিশেষ ছুটির দিন ও শীত মৌসুমে তা বাড়ে কয়েকগুণ। অদ্ভুত কারণে গত কয়েক বছর জেলার বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার কারণে পর্যটক সমাগম কমে গিয়েছিল। তবে বর্তমানে সব পর্যটনকেন্দ্র ভ্রমণে কোনো প্রকার বিধিনিষেধ না থাকায় জেলায় পর্যটকের সমাগম বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে ভ্রমণে এসে আবাসন নিশ্চিত করতে ১৬-২৫ ডিসেম্বরের জন্য ৯৫ শতাংশ আগাম হোটেল বুকড করে নিয়েছে ভ্রমণ প্রত্যাশীরা।হোটেল গ্র্যান্ড ভ্যালির ম্যানেজার আক্কাছ উদ্দিন বলেন, ‘হোটেলে ৪৫টি কক্ষ রয়েছে। এরমধ্যে আগামী ১৬-২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত কক্ষগুলোর প্রায় ৯০ শতাংশ আগাম বুকিং নিয়ে রেখেছে ভ্রমণ প্রত্যাশীরা।’হোটেল হিল্টনের ম্যানেজার তপন বড়ুয়া বলেন, ‘তাদের হোটেলেও ওই দিনগুলোতে প্রায় ৮০ শতাংশ বুকিং হয়ে গেছে।’হিলভিউ হোটেলের ম্যানেজার মাসুদ পারভেজ বলেন, ‘বর্তমানেও তাদের হোটেলের ৪০ শতাংশ কক্ষে পর্যটক রয়েছে। তবে ১৬-২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৮০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং নিয়ে রেখেছে ভ্রমণ প্রত্যাশীরা।’হোটেল গার্ডেন সিটির মালিক মো. জাফর বলেন, চলতি মাসজুড়ে তাদের হোটেলে ভাল পর্যটকের সাড়া পেয়েছিলেন। মাসের আগামী দিনগুলোতেও গড়ে ৭০-৮০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং নিয়ে রেখেছে ভ্রমণ প্রত্যাশীরা।বান্দরবান হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জসীম উদ্দিন বলেন, চলতি ডিসেম্বরে পর্যটন খাত নতুন করে গতি পেয়েছে। তিনি আশা করছেন, আগাম বুকিংয়ের এ প্রবণতা স্থানীয় পর্যটন ও আবাসন খাতের পূর্বের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • হাঁস-মুরগির ঘর বানিয়ে স্বাবলম্বী কুমিল্লা সদর দক্ষিণের সাইফুল

    হাঁস-মুরগির ঘর বানিয়ে স্বাবলম্বী কুমিল্লা সদর দক্ষিণের সাইফুল

    বাহারি রঙের ঢেউটিন ও কাঠ দিয়ে দৃষ্টিনন্দন হাঁস-মুরগির ঘর তৈরি করে দারিদ্র্যকে জয় করেছেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার পুরাতন চৌয়ারা বাজার এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম। জমিজমা তেমন একটা না থাকলেও সাইফুলের অদম্য চেষ্টায় হাঁস-মুরগির ঘর তৈরির মাধ্যমে অভাব থেকে মুক্তি মিলেছে।

    স্বচ্ছলতা এসেছে ৭ সদস্যের পরিবারে। সাইফুলের সফলতা দেখে পুরাতন চৌয়ারা বাজার এলাকায় বেশ কিছু নারী-পুরুষ কর্মসংস্থান হিসেবে বেছে নিয়েছেন বাহারি রঙের দৃষ্টিনন্দন হাঁস-মুরগির ঘর তৈরির কাজ।

    সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রঙিন ঢেউটিন এবং কাঠ দিয়ে হাঁস-মুরগির ঘর তৈরি করছেন সাইফুল ইসলাম। তাকে সহাযোগিতা করেন তার দুই ছেলে সাকিব ও রাকিব।

    কাজ করার ফাঁকে সাইফুল ইসলাম জানান, প্রায় ২০ বছর ধরে এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এক সময় একাই কাজ করতে হতো। এখন ব্যবসার পরিধি বেড়ে যাওয়ায় আমাকে সহাযোগিতা করে দুই ছেলে। চাহিদা থাকায় বিভিন্ন জায়গা থেকে হাঁস-মুরগির ঘর নিতে আসেন ক্রেতারা। প্রতিটি খাঁচা আকারভেদে ৫-৮ হাজার টাকায় বিক্রি করি। প্রতিটি ঘরে ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা লাভ হয়। এসব খাঁচা বিক্রি করে যা আয় হয় তাই দিয়ে চলে আমার সংসার।

    সাইফুলের বড় ছেলে সাকিব বলেন, গ্রামে হাঁস-মুরগি পালন করতে হলে এসব ঘর লাগে। প্রত্যেক পরিবারে এসব ঘর থাকে। বর্তমানে চাহিদাও ভালো। আমাদের দেখাদেখি আশপাশের অনেকে এ কাজ শুরু করছেন।

    সদর দক্ষিণ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তানজিলা ফেরদৌসী বলেন, হাঁস-মুরগি পালনের জন্য এসব আয়তাকার ঘর সবচেয়ে ভালো। কারণ এগুলো পরিবেশবান্ধব। হাঁস-মুরগির ঘর পূর্ব পশ্চিমে লম্বালম্বি এবং দক্ষিণমুখী হলে ভালো হয় ।তবে গ্রামগঞ্জে গ্যাবল টাইপ বা দোচালা ঘর এবং শেড টাইপ বা একচালা ঘর এ দুধরনের হাঁস-মুরগির ঘর বেশি দেখা যায়। এ ধরনের ঘরের সুবিধা হচ্ছে যেকোনো প্রয়োজনে স্থানান্তর করা যায়।

    কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবাইয়া খানম কালবেলাকে বলেন, উপজেলার এসব উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে আর্থিক সহযোগিতা করা হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাদেরকে সবধরনের সহযোগিতা করা হবে। তারা যদি একটি সমিতি গঠন করে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, তাহলে সেই সমিতিকে নিবন্ধনের বিষয়ে সহযোগিতা করা হবে। সমিতির নিবন্ধন হলে প্রতিবছর একটি আর্থিক অনুদান পাওয়ার সুযোগ থাকবে।

    এআর/এনই

  • রাজস্থলী বন্যহাতির মৃত্যু

    রাজস্থলী বন্যহাতির মৃত্যু

    রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলায় বাচ্চা প্রসবের সময় একটি বন্যহাতির মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে মারা গেছে শাবকটিও।

    মঙ্গলবার বেলা দেড়টার দিকে রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলার গাইন্দ্যা ইউনিয়নের কাইতংপাড়া এলাকা থেকে হাতি ও শাবকটির মরদেহ উদ্ধার করে বন বিভাগ।

    গাইন্দ্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পুচিমং মারমা বলেন, সকালে বনের মধ্যে মৃত অবস্থায় মা হাতি ও শাবকটিকে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিষয়টি বন বিভাগকে জানানো হলে বন বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে হাতি ও শাবকটির মরদেহ উদ্ধার করে।

    রাঙামাটি দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদুজ্জামান বলেন, প্রসবকালে শাবকটির দেহের অর্ধেক আটকে যায়। এ সময় মা হাতি ও শাবকের মৃত্যু হয়েছে। বন বিভাগ মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।

  • ‘সেনাবাহিনীর কাছে আমি চিরকৃতজ্ঞ’

    ‘সেনাবাহিনীর কাছে আমি চিরকৃতজ্ঞ’

    রাঙামাটির পার্বত্য জুরাছড়ির দুর্গম লেবারপাড়া গ্রামের এক কোণে দীর্ঘদিন ধরে দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করছেন বিধবা লুংঘাছড়ি চাকমা (৬৫)। স্বামীর মৃত্যু তাঁর জীবন থেকে যেন সব আলোই কেড়ে নিয়েছিল। টিন আর বাঁশে জোড়াতালি দিয়ে তৈরি নড়বড়ে কুঁড়েঘরে ঝড়-বৃষ্টির রাতগুলো তাঁর জন্য হয়ে উঠত নিদারুণ কষ্টের। নিজের অসহায় জীবনের বোঝা বহন করতে করতে তিনি ভেঙে পড়েছিলেন। এমন অবস্থায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নতুন একটি বসতঘর পেয়ে লুংঘাছড়ির জীবনে ফিরেছে আশার আলো।

    মুহূর্তটি লুংঘাছড়ির জীবনে যেন নতুন জন্মের মতো। ঘরের চাবি হাতে নিয়ে তিনি আর স্থির থাকতে পারেননি, আনন্দে চোখ বেয়ে নেমে আসে অশ্রুধারা।

    লুংঘাছড়ি চাকমা বলেন, ‘আমার আর কিছু চাওয়ার ছিল না। শুধু মাথার ওপর একটা নিরাপদ ছাদ চেয়েছিলাম। আজ সেই স্বপ্ন পূরণ হলো। সেনাবাহিনীর কাছে আমি চিরকৃতজ্ঞ।

    ঘর হস্তান্তরের সময় পাশে ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. বায়েজীদ-বিন-আখন্দ, জুরাছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান ইমন চাকমা, বনযোগীছড়া ইউপি চেয়ারম্যান সন্তোষ বিকাশ চাকমা, দুমদুম্যা ইউপি চেয়ারম্যান শান্তি রাজ চাকমা ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। সবার চোখেমুখে তখন ছিল সন্তুষ্টির হাসি।

  • ক্লান্ত হয়ে আকাশ থেকে পড়ল হিমালয়ান শকুন

    ক্লান্ত হয়ে আকাশ থেকে পড়ল হিমালয়ান শকুন

    চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় একটি পরিযায়ী হিমালয়ান শকুনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করেছে বন বিভাগ।

    মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার উত্তর কাঞ্চনা এলাকা থেকে পাখিটি উদ্ধার করা হয়।

    পাখিটির ডান পায়ের থাবার অংশ নেই এবং শারীরিকভাবে দুর্বল হওয়ায় দীর্ঘ উড়ানের ক্লান্তিতে নিচে পড়ে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    স্থানীয়রা জানায়, মঙ্গলবার বিকেলে উত্তর কাঞ্চনা এলাকার একটি মাদ্রাসার সামনে শকুনটি হঠাৎ আকাশ থেকে নিচে পড়ে যায়। পরে মাদ্রাসার ছাত্ররা বন বিভাগকে খবর দিলে কর্মকর্তারা রাতে গিয়ে শকুনটিকে উদ্ধার করে।

    বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিকূল পরিবেশ ও খাদ্য সংকটের কারণে বাংলাদেশে শকুন বিলুপ্তপ্রায়। উদ্ধার হওয়া শকুনটি পরিযায়ী প্রজাতির ‘হিমালয়ান গৃধিনী’ নামে পরিচিত। এটি শীত এলে ভারত, নেপাল, ভুটান ও তিব্বতের পাহাড়ি অঞ্চল থেকে দক্ষিণে নেমে আসে। দীর্ঘ পরিযায়নের ক্লান্তিতে শীতকালে এ প্রজাতির শকুন প্রায়ই বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে দুর্বল অবস্থায় আটকা পড়ে।

    আইইউসিএনের শকুন সংরক্ষণ প্রকল্পের গবেষক সীমান্ত দীপু জানান, প্রতি বছর শীতকালে হিমালয়ান গৃধিনী শকুন বাংলাদেশে আসে এবং উড়তে না পেরে অনেক সময় আটকা পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত বন বিভাগ বা আইইউসিএনকে খবর দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

    মাদার্শা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. নাজমুল হোসেন বলেন, প্রায় সাত কেজি ওজনের উদ্ধার হওয়া শকুনটির ডান পা ছিল না। দীর্ঘ পথ উড়ার পর খাবার না পেয়ে শকুনটি ক্লান্ত হয়ে মাটিতে পড়ে গিয়েছিল। আমরা শকুনটিকে খাবার দিয়েছি, এখন মোটামুটি সুস্থ। তবে উড়তে পারার মতো শক্তি নেই। শকুনটিকে কক্সবাজারের ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের বন্য প্রাণী হাসপাতালে পাঠানো হ

    য়েছে। সেখানেই পরিচর্যার পর পাখিটিকে প্রকৃতিতে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

    উদ্ধার হওয়া হিমালয়ান গ্রিফন শকুন প্রজাতিটির আইইউসিএনের লাল তালিকায় রাখা হয়েছে ‘প্রায়-বিপদগ্রস্ত’ ক্যাটাগরিতে। এর মানে হলো, এই প্রাণীর প্রজাতি অদূর ভবিষ্যতে বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

  • নোয়াখালীর পরিষ্কার বাজার আসলেই কি পরিষ্কার, কেন এমন নাম

    নোয়াখালীর পরিষ্কার বাজার আসলেই কি পরিষ্কার, কেন এমন নাম

    চারপাশে সবুজে ঘেরা গ্রাম। গ্রামের চারদিক থেকে চারটি পাকা সড়ক এসে মিলেছে এক জায়গায়, একটি বাজারে। সেই বাজারটির নাম পরিষ্কার বাজার। নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজব্বর ইউনিয়নের উত্তর চরজব্বর গ্রামের এই বাজারের নাম শুনলেই যে কারওই মনে কৌতূহল জাগতে পারে, বাজারটি আসলেই কি পরিষ্কার? কেনই–বা বাজারের এমন নাম হলো?

    এসব জানতে সম্প্রতি গিয়েছিলাম সুবর্ণচরের চরজব্বর এলাকায়। সেখানে পরিষ্কার বাজার ঘুরে রাস্তা-দোকানপাট বেশ পরিচ্ছন্নই দেখা গেছে। কিন্তু এমন নামকরণের পেছনে কেবল বাজারের পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতাই নয়, আছে আরও এক কাহিনি। বাজারের বিভিন্ন ব্যবসায়ীর মুখে শোনা সে গল্প বেশ কৌতূহলোদ্দীপক। আজ থেকে অর্ধশতাব্দীর বেশি বছর আগের কথা। আক্তারুজ্জামান নামের এক ব্যক্তি ছিলেন এই এলাকার বাসিন্দা। ব্যক্তিজীবনে লেনদেন থেকে সবকিছুতে স্বচ্ছতা বজায় রাখতেন। যাঁকে, যে কথা দিতেন, সেটি অক্ষরে অক্ষরে পালন করার চেষ্টা করতেন। গ্রামবাসীর কথায় ‘ওয়াদার বরখেলাপ’ তিনি কখনোই করতেন না। পোশাক–পরিচ্ছদেও তিনি সব সময় থাকতেন পরিচ্ছন্ন। এসব কারণে গ্রামের সবাই ‘পরিষ্কার’ নামে ডাকতেন।

    সত্তরের দশকে আক্তারুজ্জামান তাঁর বাড়ির পাশের সড়কের মোড়ে একটি মুদিপণ্যের দোকান নিয়ে বসা শুরু করেন। তাঁর দোকান ঘিরেই গভীর রাত অবধি চলত আশপাশের এলাকার মানুষজনের আড্ডা। পরে সেখানে আরও কয়েকটি দোকান হয়। পরে দোকানগুলো ঘিরে সেখানে হাট মেলান আক্তারুজ্জামান ওরফে পরিষ্কার। প্রতি রোববার ও বৃহস্পতিবার হাট বসতো। গ্রামের লোকজন তাঁর নাম অনুসারে বাজারের নাম দেন পরিষ্কার বাজার। এর পর থেকে ওই বাজারটি সবার কাছে পরিষ্কার বাজার নামে পরিচিতি পায়। বর্তমানে সরকারিভাবেও এই এলাকার নাম পরিষ্কার বাজার।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নিজের নামে বাজার প্রতিষ্ঠার পর ব্যক্তি জীবনের মতো বাজার পরিচালনাসহ সবকিছুতেই স্বচ্ছতা বজায় রাখতেন আক্তারুজ্জামান। বাজারটিকেও সব সময় পরিষ্কার, পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে তিনিসহ সব ব্যবসায়ী সজাগ থাকতেন। প্রায় দুই দশক আগে ৮০ বছর বয়সে আক্তারুজ্জামানের মৃত্যু হয়। এরপর তাঁর দেখানো পথে এখনো চলছে পরিষ্কার বাজার।

  • মিলনের ধোঁয়া ওঠা পিঠা মায়ের কথা মনে করায়

    মিলনের ধোঁয়া ওঠা পিঠা মায়ের কথা মনে করায়

    নোয়াখালী শহরে কর্মসূত্রে অনেকেই পরিবার ছাড়া একা থাকেন। কালেভদ্রে বাড়ি যাওয়ার সুযোগ পান তাঁরা। স্বজনদের সঙ্গ-সংস্পর্শের পাশাপাশি বাড়ির খাবারদাবারের স্বাদ থেকেও বঞ্চিত হতে হয় তাঁদের। এ ধরনের মানুষজনের অনেকেই মো. মিলনের কাছে আসেন পিঠা খেতে। গরম ধোঁয়া ওঠা পিঠা খেতে খেতে তাঁদের মায়ের কথা মনে পড়ে কি না, জানা যায় না। তবে মিলনের পিঠার স্বাদ যে কাউকে স্মৃতিকাতর করতেই পারে।

    রাত তখন ১০টার মতো বাজে। ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেছে পথঘাট। শহরের রাস্তায় লোকজন কমে এসেছে। তবে কলেজ রোডের কাশেম উকিল মোড়ে মো. মিলনের পিঠা বিক্রির ভ্যানগাড়ি ঘিরে অনেক মানুষের জটলা। কাছে যেতেই দেখা গেল, সারি সারি পাতিলে গরম ভাপা পিঠা, আর খোলায় চিতই পিঠা তৈরি হচ্ছে। গুড়, নারকেল, ভর্তা আর কাসুন্দির ঘ্রাণে ভরে আছে জায়গাটা। চুলা থেকে নামতেই গরম পিঠা হাতে তুলে নিচ্ছেন সামনে দাঁড়ানো লোকজন। এত রাতেও ভিড় বাড়ছিল। বিক্রেতা মিলন সেদিনকার মতো দোকান বন্ধ করতে চাইছিলেন। পরদিন একটা বিয়ের অনুষ্ঠানে পিঠা সরবরাহের বায়না নিয়েছেন, তাই দোকান বন্ধ করতে হবে। কিন্তু কে শোনে কার কথা।

    নোয়াখালী জেলার মাইজদীর লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার বাসিন্দা ৫৫ বছর বয়সী মিলন কখনো শহরের রাস্তার ধারে, কখনো শাখা সড়কের ব্যস্ততম মোড়ে, কখনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে কিংবা কারও কোনো অনুষ্ঠানে পিঠা বিক্রি করেন। পিঠা বিক্রি করেই চলে সংসার। চলছে সন্তানদের পড়ালেখা। দুই ছেলে মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে এখন কলেজে। দূরদূরান্ত থেকেও অনেক আসেন তাঁর হাতে বানানো নানা ধরনের পিঠা খেতে।

    আট বছর ধরে পিঠা বিক্রি করছেন বলে জানালেন মিলন। ভাপা পিঠা, স্পেশাল ভাপা পিঠা, ঝাল চিতই, মিষ্টি চিতই, ডিম চিতই, রস চিতই, দুধ চিতই, হাঁস ও সাদা রুটি, মিষ্টি পুলি, নারকেল পুলি, পাটিসাপটা, ছাইয়া পিঠা, পানতোয়া পিঠা বিক্রি করেন তিনি। ঝাল চিতই, ডিম চিতই, ভাপা পিঠা ছাড়া বাকি পিঠাগুলো অর্ডার পেলে তৈরি করে সরবরাহ করেন। শহরের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে, বাসাবাড়িতে প্রায় সময় তাঁর পিঠা সরবরাহের অর্ডার থাকে।

    মিলন জানান, ঝাল চিতইয়ের সঙ্গে মুখরোচক ভর্তা, যেমন ইলিশভর্তা, শর্ষেভর্তা, রসুনভর্তা, শিমভর্তা, ধনেভর্তা, চিংড়িভর্তা, কালিজিরাভর্তাও বিক্রি করেন তিনি। পিঠা বিক্রির টাকায় তাঁর সংসার চলে।

    একসময় মুদিপণ্যের দোকান করতেন মিলন। অনেক লোকসান গুনেছেন। ঋণের দায়ে পড়েছেন। এখন বৃদ্ধ মা ও স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে পিঠা বিক্রির টাকায় তাঁর সুখের সংসার।

    মিলনের দোকানের সামনে আলাপ হয় মো. সোহেলের সঙ্গে। গরম-গরম ভাপা পিঠা খেতে খেতে তিনি বলেন, চাকরির কারণে পরিবার ছেড়ে এখানে থাকছেন। ঠিকমতো বাড়ি যাওয়া হয় না। তা ছাড়া বাড়িতে মা–ও নেই। মা মারা গেছেন কয়েক বছর আগে। শৈশবে শীতের রাতে কিংবা কুয়াশা মোড়ানো সকালে মা মাটির চুলায় ভাপা পিঠা তৈরি করতেন। মিলনের পিঠা মায়ের স্মৃতি এনে দিচ্ছে মনে।

    উৎসবের আয়োজন করেছে। এই অনুষ্ঠানে ভাপা পিঠা সরবরাহের অর্ডার নিয়েছেন তিনি। সে জন্য ভোরে এসে হাজির হয়েছেন। গরম-গরম পিঠা তৈরি করে সরবরাহ করছেন। কারও কম মিষ্টি পছন্দ, কারও বেশি মিষ্টি। যে যেভাবে চাইছেন, তাঁকে সেভাবেই পিঠা তৈরি করে দিচ্ছেন।

    মিলনের পিঠা খেতে ১০ বছরের নাতিকে সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন জয়নাল আবদিন (৬০)। দুজনে মিলে বেশ কয়েকটা ভাপা পিঠা শেষ করলেন। খেতে খেতে জয়নাল আবদিন প্রথম আলোকে বলেন, এখন শহরের জীবনে নানা ব্যস্ততা। বাচ্চাদের পড়ালেখা, সংসারের নানা কাজকর্মের চাপের কারণে বাসাবাড়িতে নারীরা আগের মতো পিঠা বানানোর সময়ও পান না। মিলনের পিঠার স্বাদ একেবারে বাসাবাড়ির মতো।

  • নোয়াখালীতে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ

    নোয়াখালীতে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ

    নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরবাটা ইউনিয়নের আড়াইশ হত-দরিদ্র শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করেছে আইএফএসডি ফাউন্ডেশন। প্রতি বছরের মতো এবার অসহায়, শীতার্ত অসহায়, বাক-বিধবা ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াতে পেরে খুশি আয়োজকরা।

    বিকেলে পূর্ব চরবাটা স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে কম্বলগুলো বিতরণের করা হয়।

    আয়োজকরা জানান, প্রতিষ্ঠার পর থেকে আইএফএসডি ফাউন্ডেশন দেশের শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে হতদরিদ্রদের উন্নয়ন ও জীবনযাপনে ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। নোয়াখালীর উপকূলবর্তী এ অঞ্চলে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় অসহায় মানুষের জীবনযাপন করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। তাই আইএফএসডি ফাউন্ডেশন শীতকালীন কার্যক্রম ‘ঊষ্ণতার হাসি’ এই সকল অসহায় দরিদ্রদের মাঝে কম্বল বিতরণ করে উষ্ণতার হাসি ফোটাতে উদ্যোগ গ্রহণ করে।

    কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন— পূর্ব চরবাটা স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রিন্সিপাল মো. সালেহ উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন— আইএফএসডি ফাউন্ডেশন সভাপতি মো. মেহেদী হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিব হোসেন শুভ, সাংবাদিক মিজানুর রহমান রিয়াদ, আবদুল বারী বাবলু, মুজাহিদুল ইসলাম সোহেল, আরিফুর রহমানসহ আরও অনেকে।

  • মাস্টার্স পাস সুমনের দিনে কৃষিকাজ রাতে ঝালমুড়ি বিক্রি করে চলে সংসার

    মাস্টার্স পাস সুমনের দিনে কৃষিকাজ রাতে ঝালমুড়ি বিক্রি করে চলে সংসার

    ১৬তম শিক্ষক নিবন্ধন- উদ্যোক্তা উন্নয়ন (প্রভাষক) পদে উত্তীর্ণ হয়ে ও জাতীয় মেরিট লিস্টে ৬৫তম আসীন হয়েও সনদের মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে চাকরি হয়নি। এখন দিনে কৃষিকাজ আর রাতে ঝালমুড়ি বিক্রি করে ৮ সদস্যের পরিবারের সংসার চালান। এ নিয়ে কোনো অসম্মান বোধ কিংবা আক্ষেপ নেই। বরং গর্ব করে বলেন, বেকার না থেকে কাজের মধ্যেই সময় যাচ্ছে, তৌফিক হলে খাবারের হোটেল ব্যবসা করব।

    বলছিলাম অনার্স মাস্টার্স (ব্যবস্থাপনা) শেষ করা নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার স্বপ্ন ভাঙা যুবক আবুল কালাম সুমনের কথা। ২০১১ সালে নোয়াখালী সরকারি কলেজ থেকে অনার্স (ব্যবস্থাপনা) এবং ২০১২ সালে একই কলেজ থেকে মাস্টার্স (ব্যবস্থাপনা) শেষ করেন। চেয়েছিলেন ভালো কোনো চাকরি অথবা শিক্ষকতা করবেন। এনটিআরসিএ কর্তৃক উদ্যোক্তা উন্নয়ন ‘প্রভাষক’ (ব্যবস্থাপনা থেকে যারা অনার্স শেষ করে তাদের উদ্যোক্তা উন্নয়ন বিষয় থাকে) সনদপ্রাপ্ত হয়েও সে চাওয়া পূরণ হলো না।

    তিনি বলেন, ১৬তম শিক্ষক নিবন্ধন সিরিয়াল অনুযায়ী আমার চাকরি হওয়ার কথা। কিন্তু, আমার আগে যাদের চাকরি হয়েছে, তাদের চাকরি প্রথমবার স্থায়ী না হওয়ার কারণে, তারা দ্বিতীয় বার চাকরির আবেদনে সুযোগ পায়। যার ফলে আমার চাকরি হয়নি।

    পরে সিডিএসপি-৪ এর আওতায় ফিশারিজ কো-অর্ডিনেটর হিসেবে কাজ করেছিলেন এবং প্রকল্প শেষ হয়ে যাওয়ায় বেকার হয়ে পড়েন। এসময় বাবার সঙ্গে কৃষি কাজ শুরু করেন। কৃষি ক্ষেত্রে তার সহযোগিতার জন্য হাতিয়া পৌরসভা কৃষি উপ-সহকারী মো. হাসান সার-বীজ প্রণোদনা প্রদান করেন বলে জানান তিনি।
    তিনি বলেন, বাবা-মা, ভাই-বোন ও স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারে তাদের ৮ সদস্য। সংসারে বাপের বড় ছেলে তিনি। নিজের এবং বর্গা মিলিয়ে প্রায় দুই একর জমি চাষ করেন। দিনে বাবার সঙ্গে কৃষিকাজ করেন আর রাতে ঝালমুড়ি বিক্রি করে কোনোমতে সংসার চালান।

    নোয়াখালীর হাতিয়া পৌরসভা ২ নম্বর ওয়ার্ড- চরলটিয়া গ্রামের আবুল হাসেমের ছেলে আবুল কালাম সুমন। উদ্যোক্তা ও উদ্যমী মনোভাবের শিক্ষিত এ যুবক এখন প্রতি সন্ধ্যায় হাতিয়া কোর্টের উত্তর কোণে ঝালমুড়ি বিক্রি করেন। যা গত কয়েকমাস ধরে চলছে।

    সম্প্রতি তার ঝালমুড়ির দোকানের সামনে গিয়ে দেখা যায়, ঝালমুড়ি খাওয়ার জন্য বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাসহ নানান শ্রেণি পেশার মানুষ সেখানে ভিড় জমান।

    ঝালমুড়ি খাওয়া অবস্থায় হাতিয়া শহর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সোহেল বলেন, আবুল কালাম সুমন বেকার ও অলস যুবকদের কর্মমুখী হওয়ার জন্য একটি উদাহরণ। সুমন একজন ভালো মানুষ এবং উদ্যমী। সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরের উচিত এমন শিক্ষিত বেকারদের সহযোগিতা করা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।

    ঝালমুড়ি বিক্রি এবং ভবিষ্যৎ ইচ্ছা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার টাকার মতো ঝালমুড়ি বিক্রি করি। এতে খরচপাতি গিয়ে মোটামুটি কিছু টাকা থাকে। পুঁজি হলে খাবার হোটেল ব্যবসা করব।

    তার এ উদ্যমী কাজে সহযোগিতা করার বিষয়ে হাতিয়া উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) খোরশেদ আলম জানান, তার ডিপার্টমেন্টের কিছু ক্রাইটেরিয়া আছে। এ ক্রাইটেরিয়ার ভেতর কিংবা অন্য কোনোভাবে হলেও পর্যালোচনা করে একটা ব্যবস্থা নেব।

  • মেসি হতে চায় চাদপুরের ক্ষুদে বালক

    মেসি হতে চায় চাদপুরের ক্ষুদে বালক

    পায়ে বল, গায়ে আর্জেন্টিনার জার্সি। বলের ওপর অসম্ভব নিয়ন্ত্রণ। তার পায়ে যখন বল থাকে, মন্ত্রমুগ্ধের মতো চেয়ে থাকেন দর্শকেরা। মাত্র সাড়ে পাঁচ বছর বয়সেই এমন ফুটবল প্রতিভা শিশু সোহানের!

    প্রতিপক্ষকে বোকা বানিয়ে বল নিয়ে এগিয়ে যায় অনেকটা লিওনেল মেসির মতো করে, আর তার রেইনবো ফ্লিক ঠিক নেইমারের মতো। মিনিটের পর মিনিট পায়ের ওপর বল রাখতে পারে যেকোনো তারকা ফুটবলারের মতোই। সম্প্রতি নেট দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়া তার ভিডিও যাঁরা দেখেছেন, তাঁদের বেশির ভাগই বিস্মিত—বড় হয়ে কী হবে এই ছেলে!

    লিওনেল মেসির মতো ফুটবলার হতে চায় খুদে ফুটবলার সোহান। এই বয়সেই তার ফুটবল কসরত এবং মেসির মতো ফুটবলার হতে চাওয়ার কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল, যা নজর এড়ায়নি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানেরও। খুদে সোহানের ফুটবল প্রতিভায় মুগ্ধ তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সোহান ও তার পরিবারের দায়িত্ব নিয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক।

    প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে অনুশীলন করে সোহান। তাকে সাহায্য করেন বাবা সোহেল প্রধানিয়া। পেশায় সাইকেল মেকানিক। চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার জহিরাবাদ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে সাড়ে পাঁচআনি গ্রামে বসবাস তাঁদের। প্রধানিয়া জানান, তাঁর ছেলের নির্দিষ্ট কোনো কোচ নেই। সাড়ে তিন বছর বয়স থেকে নিজেই ছেলেকে শেখান ফুটবল খেলার নানান কৌশল। পাস দেওয়া, প্রতিপক্ষকে কাটিয়ে বল নিয়ে এগিয়ে যাওয়া কিংবা রেইনবো ফ্লিক এতই চমৎকার হয় যে তা দেখে মুগ্ধ হয় মানুষ। সোহানের বয়স, বয়স অনুযায়ী খেলার ধরন, সাহস নিয়ে কথা বলা ছড়ায় মুগ্ধতার রেশ। বড় হয়ে বড় ফুটবলার হতে হবে, এমন স্বপ্নের বীজ ছেলের মধ্যে বপন করেছেন সোহেল প্রধানিয়া।

  • একটি সড়কের অপেক্ষায়

    একটি সড়কের অপেক্ষায়

    গ্রামের নাম কাঠালিয়া। চাঁদপুরের কচুয়া ও মতলব দক্ষিণ উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় গ্রামটির অবস্থান। কচুয়া উপজেলার ৫ নম্বর পশ্চিম সহদেবপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এ গ্রামে প্রায় এক হাজার ২শ জনসংখ্যা। অধিকাংশ মানুষ মৎস্যজীবী ও কৃষি শ্রমিকের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

    কাঠালিয়া গ্রামের বাসিন্দা মৎস্য ব্যবসায়ী মাধব সরকার বলেন, আমার বয়স ৫৮। সেই শৈশব কাল থেকে দেখে আসা যাতায়াতের কষ্ট যেন শেষ হয়নি আজও। শেষ বয়সে এসেও আধুনিক যুগে এমন দুর্বিষহ কষ্ট আমাদের গ্রামের মানুষের নিত্যদিনের সঙ্গী।

    দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও যাতায়াতের জন্য একটি রাস্তা পায়নি কাঠালিয়া গ্রামের মানুষজন। গ্রামটিতে রাস্তা না থাকার কারণে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদেরকে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও রোগীদের যাতায়াতে সবচেয়ে বেশি কষ্ট ভোগ করতে হচ্ছে। গ্রামবাসী বর্ষা মৌসুমে কখনও নৌকায়, আবার কখনও হাঁটু বা কোমর পানিতে এবং গ্রীষ্ম মৌসুমে ইরি ক্ষেতের কর্দমাক্ত আইল দিয়ে যাতায়াত করছে।

    ওই গ্রামের কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের গ্রামে যাতায়াতের জন্য কোনও রাস্তা না থাকায় সময়মতো স্কুল-কলেজে যেতে পারছি না। এতে পড়ালেখায় আমরা অনেক পিছিয়ে যাচ্ছি। বর্ষা মৌসুমে নৌকা দিয়ে পারাপার হতে হয়।
    দ্রুত রাস্তা নির্মাণের দাবি জানান তারা।

    কাঠালিয়া গ্রামের বাসিন্দারা বলেন, আমাদের গ্রামটি দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী হওয়ায় আমরা অবহেলিত। দুই উপজেলার মধ্য দিয়ে চলাচলে পথ। একটি পক্ষ আদালতে মামলা করলে সেখানে রাস্তার নির্মাণ কাজ থমকে যায়। আধুনিক যুগেও একরকম যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন জনপদের নাম কাঠালিয়া গ্রাম। অনেকেই জনপ্রতিনিধি হয়ে আসেন কিন্তু আমাদের দুঃখ ও দুর্ভোগ দেখার কেউ নেই।

    স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন বলেন, অনেক বছর ধরে ওই গ্রামে রাস্তা নেই। কিছুদিন আগে আমি ওই গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে যাতায়াতের রাস্তা নির্মাণের জন্য পরিদর্শন করি। কিন্তু যে স্থানে রাস্তা নির্মাণ করা হবে তার দু পাশে কৃষকের মালিকানা জমি থাকায় এবং মামলা থাকায় রাস্তা নির্মাণে সমস্যা হচ্ছে। তবে মতলব ও কচুয়া জনপ্রতিনিধির সমন্বয়ে দ্রুত রাস্তাটি নির্মাণে চেষ্টা চলছে।

    উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল আলিম লিটন বলেন, সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন স্থানের রাস্তা নির্মাণ কাজের বরাদ্দের বিষয়ে যাবতীয় তথ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। কাঠালিয়া গ্রামের রাস্তাটি বরাদ্দের আওতায় বাদ পড়লে তালিকা তৈরি করে পুনরায় পাঠানো হবে।

    উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাজাহান শিশির বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পরে আমি দুবার কাঠালিয়া গ্রাম পরিদর্শন করি। রাস্তা না থাকায় আমি ও আমার সঙ্গের লোকজনকে ওই গ্রামে যেতে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়। রাতে গ্রামবাসীর চলাচলের সুবিধার জন্য আমার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ৪টি সৌর বিদ্যুতের ব্যবস্থা করেছি। কাঠালিয়া গ্রামের মানুষ অনেক কষ্টে যাতায়াত করেন এবং দুর্ভোগ নিরসনের জন্য আমরা জোরালো চেষ্টা করছি।

  • পাহাড়ি নারীদের তৈরি পিনন-হাদির কদর দেশ পেরিয়ে বিদেশে

    পাহাড়ি নারীদের তৈরি পিনন-হাদির কদর দেশ পেরিয়ে বিদেশে

    পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী পোশাক ‘পিনন-হাদি’ এখন কেবল সংস্কৃতির প্রতীক নয়, এটি পাহাড়ি নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম এমনকি বিদেশেও এর চাহিদা বাড়ায় ব্যবসার দ্রুত প্রসার লাভ করছে। তবে এই ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তারা সরকারি ঋণ ও সহযোগিতা না পাওয়ার কারণে পুঁজির সংকটে ভুগছেন।

    জানা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রামে বিভিন্ন ভাষাভাষীর পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর রয়েছে। এসব জনগোষ্ঠীর রয়েছে নিজস্ব ভাষা, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি। পাহাড়ি এসব জনগোষ্ঠী নারীদের প্রধান ঐতিহ্যবাহী পোশাক পিনন-হাদি। ছোট বড় বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি পাহাড়ের প্রধান উৎসব বিজু, বৈসু, সাংগ্রাই, বিহু উপলক্ষে পাহাড়ি নারীদের পছন্দের তালিকায় প্রথমে থাকে নিজ নিজ সম্প্রদায়ের পরিচয় বহন করা এই পোশাকপাহাড়ি নারীদের ঐতিহ্যবাহী এই পরিধেয় বস্ত্রের চাহিদা দিনদিন বাড়ছে। রাঙ্গামাটি শহরের বনরুপা বাজারে সপ্তাহে দুই দিন শনি ও বুধবারে জমজমাট বাজার বসে পিনন-হাদির। খুচরা ও পাইকারি দামে বিক্রি হয় নারীদের এই পোশাক। হাটের দিন ভোরে দূরদূরান্ত থেকে নানা ডিজাইনের পিনন-হাদি নিয়ে বিক্রি করতে আসেন বিক্রেতারা। চাহিদা বাড়তে থাকায় ঢাকা -চট্টগ্রামের গণ্ডি পেরিয়ে যাচ্ছে বিদেশেও। ঐতিহ্যবাহী এই পোশাকের বিক্রি করে স্বাবলম্বী হচ্ছে পাহাড়ি নারীরা।

    সম্প্রতি রাঙ্গামাটির বনরুপা বাজার ঘুরে দেখা যায়, নানা ডিজাইনের সারি সারি পিনন-হাদি বিক্রি করছেন নারী বিক্রেতারা। একজোড়া পিনন-হাদির দাম সর্বনিম্ন পাঁচ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

    ক্রেতা শতাব্দী চাকমা ও পহেলী চাকমা বলেন, আমরা সকালে ঘাগড়া থেকে এসেছি। এখানে কম দামে পিনন-হাদি পাওয়া যায় তাই কিনতে আসেছি।

    বিক্রেতা তিশা চাকমা বলেন, প্রতিটি পিনন-হাদির ডিজাইন ও কাপড়ের কোয়ালিটির ওপর দাম নির্ভর করে। একটা পিনন-হাদি সর্বনিম্ন পাঁচ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।

    বিক্রেতা শ্যামলী চাকমা বলেন, পাহাড়ি নারী কারিগরের মাধ্যমে বুনন করে আমরা সপ্তাহে দুই দিন বাজারে এনে বিক্রি করি। মোটামুটি ভালো বিক্রি হয়। অনেকে পাইকারি দরে কিনে ঢাকা, চট্টগ্রাম, ভারতসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশে নিয়ে যায়। বিশেষ করে যেসব দেশে চাকমা কমিউনিটির লোকজন বসবাস করে।নির্মলা চাকমা বলেন, এই পিনন-হাদি বিক্রি করে আমরা আর্থিকভাবে যেমন স্বাবলম্বী হচ্ছি। অন্যদিকে আমাদের যে ঐতিহ্য সেটা টিকিয়ে রাখছি। বিজু ও বিয়েসহ বিভিন্ন সামাজিক উৎসবে পিননের চাহিদা বেশি থাকে। তবে আমাদের ব্যবসা করতে অনেক অর্থের দরকার হয়। কিন্তু আমরা কোনো সরকারি সহযোগিতা বা কোনো ঋণ পাই না। নিজেদের জমানো টাকা আর নানাজনের থেকে ধারদেনা করে ব্যবসা চালাতে হয়।বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন রাঙ্গামাটি জেলা কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক ইসমাইল হোসেন বলেন, এই ধরনের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য যে প্রণোদনামূলক বিনা সুদে ঋণ দেওয়া হয়ে থাকে সেই প্রকল্প বন্ধ রয়েছে। যার কারণে তাদেরকে ঋণ দেওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। তবে তারা চাইলে আমরা তাদেরকে ঋণের জন্য কর্মসংস্থান ব্যাংকে সুপারিশ করতে পারি।

  • আজ থেকে সেন্টমার্টিনে রাতযাপনের অনুমতি পাচ্ছেন পর্যটকরা

    আজ থেকে সেন্টমার্টিনে রাতযাপনের অনুমতি পাচ্ছেন পর্যটকরা

    পর্যটন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞার ১০ মাস পর দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে অবশেষে রাতযাপনের সুযোগ পাচ্ছেন পর্যটকরা। আজ সোমবার চারটি জাহাজ কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে যাত্রার অনুমতি পেয়েছে। আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত এই অনুমতি বহাল থাকবে।

    সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জেলা প্রশাসনের অনুমোদনক্রমে প্রতিদিন সকাল ৭টায় উত্তর নুনিয়াছড়া জেটিঘাট থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে জাহাজগুলো ছেড়ে যাবে। তবে, পর্যটকদের রাতযাপনের অনুমতি থাকলেও পর্যটকবাহী জাহাজগুলো একই দিন বেলা ৩টায় সেন্টমার্টিন থেকে ফিরতি যাত্রা করবে। সেক্ষেত্রে পর্যটকরা পরেরদিন বেলা ৩টায় ফিরতে পারবেন।কর্তৃপক্ষ আরো জানায়, প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক সেন্টমার্টিনে ভ্রমণ ও রাতযাপন করতে পারবেন। তবে, দ্বীপের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পর্যটকদের সরকার প্রদত্ত বিধিনিষেধ ও নির্দেশনা কঠোরভাবে মানতে হবে।জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে, প্রথম দিনের যাত্রার জন্য এরই মধ্যে দেড় হাজারের বেশি অগ্রিম টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে।এর আগে, দীর্ঘ ৯ মাসের নিষেধাজ্ঞার পর গত ১ নভেম্বর সীমিত পরিসরে সেন্টমার্টিন ভ্রমণের অনুমতি দেয় সরকার। কিন্তু, রাতযাপনের অনুমতি না থাকায় গত এক মাসে কোনো পর্যটকবাহী জাহাজ দ্বীপটিতে যাত্রা করেনি। এছাড়া কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন রুটের পাশাপাশি টেকনাফ-সেন্টমার্টিন সমুদ্রপথও বছর খানেক সময় ধরে বন্ধ ছিল।কক্সবাজার জেলা প্রশাসক আ. মান্নান বলেন, সেন্টমার্টিন দ্বীপ আমাদের জাতীয় সম্পদ। এই সম্পদ রক্ষায় দ্বীপের জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও টেকসই পর্যটনে সহায়তার জন্য পর্যটকদের সহযোগিতা করতে হবে।জেলা প্রশাসন কর্তৃপক্ষ জানায়, ভ্রমণকারীদের বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড অনুমোদিত পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে টিকিট কিনতে হবে। এছাড়া সেন্টমার্টিনে রাতযাপন করতে হলে জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকার ঘোষিত ১২ দফা নির্দেশনা পর্যটকদের কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। দ্বীপের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করতে পর্যটকের সংখ্যা ও ভ্রমণ সময় নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে বলেও জানানো হয়।