কুষ্টিয়া

Kushtia district

  • কুষ্টিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ৩ কোটি ১৭ লাখ টাকার চেক বিতরণ

    কুষ্টিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ৩ কোটি ১৭ লাখ টাকার চেক বিতরণ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের অনুকূলে মঞ্জুরীকৃত ৩ কোটি ১৭ লাখ টাকার চেক বিতরণ করা হয়েছে।

    রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ পরিমাণ টাকার চেক ক্ষতিগ্রস্তদের স্বজন ও পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়।

    বিআরটিএ সদর দফতরের পরিচালক (অপারেশন) যুগ্ম সচিব মোছাম্মদ মমতাজ বেগম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ চেক বিতরণ করেন।

    এ সময় বক্তব্য রাখেন বিআরটিএ খুলনার উপপরিচালক তানভীর আহমেদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ, কুষ্টিয়া বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক কাজী রফিকুর রহমান রফিক, কুষ্টিয়া মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মাহাবুবুল আলম ও বিআরটিএ কুষ্টিয়ার সহকারী পরিচালক প্রমুখ।

    এবার ৮৩টি চেকের মাধ্যমে ৩ কোটি ১৭ লাখ টাকার চেক বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে ৫৫ জন নিহতের পরিবারের মাঝে ৫ লাখ টাকা করে ২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং আহত ২৮টি পরিবারের জন্য ৪২ লাখ টাকার চেক দেয়া হয়। এর মধ্যে গুরুতর আহত বা অঙ্গহানিদের ৩ লাখ টাকা এবং সামান্য আহতদের ১ লাখ টাকার চেক বিতরণ করা হয়।

  • কুষ্টিয়ায় আদম ব্যবসায়ীর ছেলেকে  তুলে নিয়েছে লিবিয়ায় জিম্মিকৃত প্রবাসীর স্বজনেরা

    কুষ্টিয়ায় আদম ব্যবসায়ীর ছেলেকে তুলে নিয়েছে লিবিয়ায় জিম্মিকৃত প্রবাসীর স্বজনেরা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আদম ব্যবসায়ী জাফর আলীকে না পেয়ে তার ছেলে হুসাইন আলীকে (৮) তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে লিবিয়ায় জিম্মিকৃত এক প্রবাসীর স্বজনদের বিরুদ্ধে। শনিবার সকাল ৮টায় ছাতিয়ান ইউনিয়নের কালিনাথপুর গ্রামের ওই আদম ব্যবসায়ীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মিরপুর উপজেলার ছাতিয়ান ইউনিয়নের কালিনাথপুর গ্রামের আদম ব্যবসায়ী জাফর আলী ইতালীতে পাঠানোর নামে মানুষকে লিবিয়ায় পাঠায়।

    পরে লিবিয়ায় অবস্থানরত জাফর গ্রুপের সদস্যরা মানুষকে জিম্মি করে দেশে থাকা স্বজনদের কাছ থেকে লাখ-লাখ টাকা নিয়ে থাকে। সূত্রমতে, সম্প্রতি চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার পুলতাডাঙ্গা গ্রামের একজনকে লিবিয়ায় জিম্মি করে দেশে থাকা স্বজনদের কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা নিয়েছে জাফর গ্রুপের সদস্যরা।

    এরই ধারাবাহিকতায় লিবিয়ায় জিম্মি থাকা ওই ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা জাফরের বাড়ি থেকে তার ছেলে হুসাইন আলীকে তুলে নিয়ে গেছে।

    সূত্র আরো জানায়, জাফর আলী মানুষকে ইটালিতে পাঠানোর নাম করে লিবিয়ায় পাঠানোর পর জিম্মি করে টাকা আদায়কারী চক্রের অন্যতম সদস্য। মানুষকে জিম্মি করে পাওয়া টাকা দিয়ে কালিনাথপুরের এই অট্টালিকা নির্মাণ করেছেন।

    শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় ছাতিয়ান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কবির হোসেন শিশুটিকে ধরে নিয়ে যাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জাফর আলী লিবিয়া থেকে ইতালীতে লোক পাঠান বলে শুনেছি। বিদেশগামী অনেক লোকের পরিবার তাকে খুঁজতে আসে। লিবিয়ায় পাঠানোর পর মানুষকে সে দেশে জিম্মি করে দেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে জাফরের বিরুদ্ধে।

    তিনি আরো বলেন, শুনেছি লিবিয়ায় জিম্মিকৃত আলমডাঙ্গার এক প্রবাসীর স্বজনেরা এসে জাফরের শিশুপুত্রকে তুলে নিয়ে গেছে আজ সকালে।

    এ ব্যাপারে মিরপুর থানার ওসি মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, শিশু অপহরণের বিষয়টি তার জানা নেই।

  • ভেড়ামারায় ইউপি চেয়ারম্যান ও তার ভাই গ্রেপ্তার

    ভেড়ামারায় ইউপি চেয়ারম্যান ও তার ভাই গ্রেপ্তার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী যুবলীগের উপজেলা সহসভাপতি সোহেল রানা পবন এবং তাঁর ভাই ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি রুবেল মাহমুদ রতনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে কুচিয়ামোড়া বাজারসংলগ্ন ইউনিয়ন পরিষদের পাশ থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

    ভেড়ামারা থানা সূত্রে জানা গেছে, পবন ও রতন দীর্ঘদিন ধরে গোপনে দলীয় কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন বলে পুলিশের কাছে তথ্য ছিল। ১৫ আগস্ট উপলক্ষে তাঁরা গোপনে নেতাকর্মীদের সংগঠিত করার চেষ্টা করছেন এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালায় পুলিশ। পরে ভেড়ামারা থানা ও কুচিয়ামোড়া ক্যাম্পের পুলিশ সদস্যরা ইউনিয়ন পরিষদের পাশ থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যান।

    কুচিয়ামোড়া ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. আব্দুস সালাম বলেন, শুক্রবার রাতে ইউনিয়ন পরিষদের পাশে পবন ও তাঁর ভাই রতনের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ১৫ আগস্ট উপলক্ষে খিচুড়ি রান্না করছিলেন। তাঁদের সংগঠিত হওয়ার তথ্য পেয়ে ভেড়ামারা থানা পুলিশের সহযোগিতায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহম্মদ জাহেদুর রহমান বলেন, তাঁরা দুজনই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সক্রিয় নেতা ছিলেন। সংগঠিত হওয়ার খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • কুষ্টিয়ার মিরপুরে তালিমুল কোরআন মাহফিলে হামলার অভিযোগ

    কুষ্টিয়ার মিরপুরে তালিমুল কোরআন মাহফিলে হামলার অভিযোগ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার মিরপুরে তালিমুল কোরআন মাহফিলে হামলা, মহিলাদের লাঞ্ছিত ও অশালীন আচরণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বহলবাড়িয়া ইউনিয়ন শাখার মহিলা বিভাগ। মিরপুর পৌরসভার দারুস ছালাম একাডেমির উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বহলবাড়িয়া ইউনিয়ন জামায়াতের মহিলা বিভাগের সভানেত্রী। এ সময় সংগঠনটির মহিলা বিভাগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্র ঘোষিত মাসব্যাপী মহিলাদের গণসংযোগ ও দাওয়াতি কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার বহলবাড়িয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের খাঁড়ারা নতুনপাড়া গ্রামে মো. সোহেলের বাড়িতে একটি তালিমুল কোরআন মাহফিলের আয়োজন করা হয়। মাহফিলের শেষের দিকে স্থানীয় বিএনপি নেতা হিসেবে পরিচিত রাজ্জাক মাস্টারের নেতৃত্বে এলেম, মোহাম্মদ ফারুক, রুবেলসহ আরও ৪-৫ জন ব্যক্তি বাড়ির প্রাচীর টপকে মাহফিলে অংশ নেওয়া নারীদের মধ্যে প্রবেশ করেন। পরে তারা নারীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করেন এবং কয়েকজন নারীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ করা হয়।

    জামায়াতের মহিলা বিভাগের নেত্রী বলেন, ধর্মীয় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের ধর্মীয় ও সামাজিক অধিকার রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।

    তিনি অভিযোগের সঙ্গে জড়িত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আইনানুগ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি ভবিষ্যতে ধর্মীয় কর্মসূচি এবং নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

  • দৌলতপুরে ২ কোটি টাকার নকল সিগারেট জব্দ

    দৌলতপুরে ২ কোটি টাকার নকল সিগারেট জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে গরুর খামার ভাড়া নিয়ে গড়ে তোলা নকল সিগারেটের কারখানার সন্ধান পেয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার উপজেলার গড়বাড়িয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে প্রায় ২ কোটি ৪ লাখ ১৪ হাজার টাকা মূল্যের নকল সিগারেট ও কাঁচামাল জব্দ করা হয়েছে।

    বুধবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রদীপ কুমার দাসের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গড়বাড়িয়া গ্রামের একটি গরুর খামারে অভিযান চালানো হয়। তবে অভিযানের সময় কারখানায় কাউকে পাওয়া যায়নি।

    প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, জয়রামপুর গ্রামের আজিরুদ্দিন সরকারের ছেলে শাকিল আহমেদ এবং বৈদ্যনাথতলা গ্রামের ইনসার আলীর ছেলে লোকমান হোসেন লিওন ওই খামার ভাড়া নিয়ে নকল সিগারেট তৈরি করে আসছিলেন।

    অভিযানে মোট ২৫ লাখ ৫০ হাজার শলাকা নকল সিগারেট ও বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ৯৬ লাখ টাকা মূল্যের ১২ লাখ শলাকা ‘ডার্বি’, ৮৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা মূল্যের ১১ লাখ ৫০ হাজার শলাকা ‘রয়েলস’ ও ‘রয়েল নেক্সট’, ২০ লাখ টাকা মূল্যের ২ লাখ শলাকা ‘নেভি’ এবং ১ লাখ ৮৯ হাজার টাকা মূল্যের ৩০ বস্তা বা ২ হাজার ১০০ কেজি অপ্রক্রিয়াজাত পচা তামাক রয়েছে। জব্দ করা মালামালের মোট আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি ৪ লাখ ১৪ হাজার টাকা।

    সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রদীপ কুমার দাস বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নকল সিগারেট ও নিম্নমানের তামাক উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জড়িতরা আগেই পালিয়ে যায়। জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এ অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে কারখানার সব মালামাল জব্দ করা হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় জড়িত শাকিল আহমেদ ও লোকমান হোসেন লিওনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় নিয়মিত মামলা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • যশোর বোর্ডে প্রথম স্থান অধিকার করেছে সিমন

    যশোর বোর্ডে প্রথম স্থান অধিকার করেছে সিমন

    সর্বোচ্চ ১২২২ নম্বর পেয়ে কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের শিক্ষার্থী সিমন যশোর বোর্ডে প্রথম স্থান অধিকার করেছে। একই স্কুলের শিক্ষার্থী আহাদ হোসেন প্রিন্স ও যুখরুফ হাসনাইন ১২২০ নম্বর পেয়ে যৌথভাবে তৃতীয় স্থান লাভ করেছে। আর ১২২১নম্বর পেয়ে খোকসা জানিপুর সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী দ্বিতীয় স্থান লাভ করেছে বলে জানা যায়। যশোর বোর্ডে এ সাফল্যে শিক্ষাঙ্গনে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। প্রশংসায় ভাসছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কৃতি শিক্ষার্থীরা।

    প্রথম স্থান অধিকারী জেলা স্কুলের মেধাবী শিক্ষার্থী সামিউল হক সিমন যশোর মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২২২নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান লাভ করেছে।

    সিমনের পিতা জিল বাংলা সুগার মিলের জেনারেল ম্যানেজার (প্রশাসন) রকিবুল হক জানান, বিভিন্ন বোর্ডের তথ্য নিয়ে জানতে পেরেছি আমার ছেলে যশোর বোর্ডের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে উর্ত্তীর্ণ হয়েছে। এব্যাপারে কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক মুন্সী কামরুজ্জামান জানান, আমাদের শিক্ষার্থী সিমন যশোর বোর্ডের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২২২নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান লাভ করেছে। আমি তার সাফল্য কামনা করি। সেই সাথে জিলা স্কুলেরা আরো ২জন শিক্ষার্থী যৌথভাবে তৃতীয় স্থান লাভ করেছে।

    এদিকে কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক ও বর্তমান চুয়াডাঙ্গা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আনিসুর রহমান জানান, যশোর জিলা স্কুলের শিক্ষার্থী মাহিম সর্বোচ্চ ১২১৯নম্বর পেয়ে ৪র্থ স্থান লাভ করেছে। খুলনা জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বলে জেনেছি যে, খুলনা জিলা স্কুলের দুজন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ ১২১৫ নম্বর পেয়েছে।

    আর যশোর সরকারী বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাইশা সর্বোচ্চ ১২১৬ নম্বর পেয়ে মেয়েদের মধ্যে যশোর বোর্ডের প্রথম স্থান লাভ করেছে। তিনি আরো জানান, আমি কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের শিক্ষার্থী সিমনের নম্বর পত্র দেখেছি সে ১২২২ নম্বর তাতে সিমনের নম্বরটি যশোর শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর হবে।

    যশোর শিক্ষাা বোর্ডের উপ-পরিক্ষা নিয়ন্ত্রক (মাধ্যমিক) জানান, বোর্ডের মাধ্যমে মেধা তালিকা বাছাই করা সম্ভব হয়নি। তাই মেধা তালিকা নিয়ে আমাদের সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য নেই।

    কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই রোডের নিজ ফ্লাটে সিমনের সাথে এই প্রতিবেদকের কথা হয়। সিমন মহান সৃষ্টিকর্তার শোকরিয়া জ্ঞাপন করে বলেন, নিমমাবর্তিতার মধ্যে দিয়ে লেখাপড়া করেছি। সময় নষ্ট না করে লেখাপড়ার প্রতিমনোযোগী হওয়ার ফলে আজকের এই কাংখিত ফলাফল।

    সে জানায়, পিতা-মাতার পাশাপাশি স্কুলের শিক্ষকেরা তাকে সহযোগিতা করেছেন। সিরিয়াসনেস না থাকলে ভাল কিছু করা অসম্ভব। তাই আমি লেখাপড়াকে সিরিয়াস হিসেবে নিয়েছিলাম। সে লেখাপড়ার পাশাপাশি গনিত অলিম্পিয়াডে জাতীয় পর্যায়ের পদক অর্জন করেছে। বাসার শোকেচে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার পদক ক্রেষ্ট দেখা গেল। অবসরে বই পড়ে সময় কাটে সিমনের। সিমনের মা শামীমা আহমেদ জানান, সিমন ছোট বেলা থেকেই লেখাপড়ায় ভাল ফলাফল অর্জন করে আসছিল। তারই ধারাবাহিকতায় সে যশোর জেলার প্রথম স্থান অধিকার করে। আমরা দারুন খুশি। আশা করি পরবর্তিতে আরো ভাল ফলাফল অর্জনের মাধ্যমে সে আমাদেও সম্মানকে সমুজ্জল করবে।

    নিয়োমিত পড়ালেখা এবং বই পড়ার মাধ্যমে অবসর সময় কাটাই। সিমন বুয়েট থেকে উচ্চতর ডিগ্রী নিতে আগ্রহী। সিমনের মা সমাজসেবা অধিদপ্তরে কর্মরত। সিমনের পিতা রকিবুল হক জানান, ছেলের ফলাফলে আমরা দারুন খুশি এবং তৃপ্ত। তার মেধা, আত্ম বিশ্বাস,অক্লান্ত পরিশ্রম,কঠোর অধ্যবসায় ও নিয়মাবর্তিতাই তাকে গৌরবময় ফলাফল অর্জনে সহায়তা করেছে। ওর স্বপ্ন বিজ্ঞানী হয়ে দেশ গড়ার কাজে নিজেকে নিয়োজিত করবে। তিনি আরো বলেন সিমনের এই সাফল্যের পিছনে তার মায়ের ভুমিকা অনেকাংশে প্রশংসার দাবী রাখে। সন্তানকে সর্ব সময়লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ করে তুলতে সে সাংঘাতিক কৌশলী ভুমিকা রেখেছে।

  • কুষ্টিয়ায় অবৈধ ক্লিনিকের রমরমা ব্যবসা, ৫ মাসে ১১ রোগীর মৃত্যু

    কুষ্টিয়ায় অবৈধ ক্লিনিকের রমরমা ব্যবসা, ৫ মাসে ১১ রোগীর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ায় কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই যত্রতত্র ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠছে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক। স্বাস্থ্য বিভাগের দুর্বল নজরদারি এবং প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় এসব প্রতিষ্ঠানে ভুল চিকিৎসায় একের পর এক জীবনহানি ঘটছে। গত পাঁচ মাসে জেলার বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় অন্তত ১১ জন রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। জেলায় দুই শতাধিক এমন প্রতিষ্ঠান থাকলেও বৈধ কাগজপত্র রয়েছে মাত্র ১৪টির।

    জানা যায়, চিকিৎসা সেবার নামে কুষ্টিয়া জেলার ৬ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে প্রায় ২ শতাধিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এসব প্রতিষ্ঠানের কোন বৈধ কাগজপত্র নেই। যার ফলে তারা সরকারি সকল নিয়মনীতি উপেক্ষা করে রমরমা ব্যবসা করে যাচ্ছে। এসব অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে একের পর এক দূর্ঘটনা। গত ৫ মাসে এসব সেন্টারে চিকিৎসা নিতে আসা ১১ রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

    তথ্যসূত্রে জানা গেছে, কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গা ঘেঁষেই গড়ে উঠেছে লোটাস হাসপাতাল, লোটাস চক্ষু হাসপাতাল ও লোটাস ডায়াগনস্টিক সেন্টার। প্রতিষ্ঠানটির ভবনের সিঁড়ি অত্যন্ত অপ্রশস্ত এবং লিফটে রোগীর ট্রলি পর্যন্ত ঢোকে না। ফলে অস্ত্রোপচারের মতো স্পর্শকাতর প্রক্রিয়ার পর রোগীদের হুইল চেয়ারে করে ওঠানো-নামানো হয়। সার্বক্ষণিক তিনজন চিকিৎসক থাকার নিয়ম থাকলেও বাস্তবে একজনও থাকেন না বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। গত ৭ আগস্ট এই হাসপাতালেই ডাক্তারের অভাবে পিত্তথলির অস্ত্রোপচার করা এক রোগীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। মৃত রোগীর ছেলের ভাষ্যমতে, শুক্রবার সকালে ভর্তির পর তড়িঘড়ি করে ওইদিন বিকালেই তাঁর মায়ের অপারেশন করা হয়।

    পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁকে দ্রুত কুষ্টিয়া সদরে নেওয়ার পরামর্শ দেয়, কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়। এছাড়া কুষ্টিয়ার আরেকটি চক্ষু হাসপাতালেও সম্প্রতি অপারেশন করতে গিয়ে এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

    অভিযোগ রয়েছে, লোটাস হাসপাতাল মালিকপক্ষের ছোট ভাই প্রসেনজিৎ বিশ্বাস স্বাস্থ্য বিভাগের একজন কর্মী। কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর এই সখ্যের সুবাদেই অবৈধ কারবার নির্বিঘ্নে চলছে। তবে প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী বিশ্বজিৎ বিশ্বাস এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তাঁরা নিয়ম মেনেই হাসপাতাল চালাচ্ছেন এবং লাইসেন্স নবায়নের জন্য টাকা জমা দিয়ে আবেদন করা আছে। রোগীর মৃত্যুর বিষয়ে তাঁর দাবি, ওই রোগী হাসপাতালে বমি করে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছিল এবং সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। অন্যদিকে, তাঁর ভাই প্রসেনজিৎ বিশ্বাস দাবি করেন, শ্বাসকষ্টের ওই রোগী দুই সপ্তাহ ধরে ভর্তি ছিলেন, যা নিছকই দুর্ঘটনা।

    জেলার অন্যান্য ক্লিনিকের অবস্থাও একই রকম। কুমারখালী চক্ষু হাসপাতাল পৌরসভা থেকে শুধুমাত্র একটি ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছে। বাইরে রেজিস্ট্রেশন নম্বরের সাইনবোর্ড ঝোলানো থাকলেও মালিক আলিমুজ্জামান বদর বৈধ কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।

    তিনি জানান, লাইসেন্সের আবেদন করা হয়েছে এবং বর্তমানে মোসাব্বির নামের এক চিকিৎসক সাধারণ রোগীদের দেখছেন। তবে ওই চিকিৎসকের ডিগ্রি বা শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি, যা জনমনে আরও সন্দেহের সৃষ্টি করেছে।

    এসব তুঘলকি কাণ্ড ও অনিয়মের বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কুমারখালী দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য হাবিব চৌহান জানান, লাইসেন্স ও উপযুক্ত পরিবেশ ছাড়াই সরকারি নিয়ম উপেক্ষা করে এসব ব্যবসা চলছে, ফলে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন। স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কোনো আপস করা উচিত নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

    স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, এসব হাসপাতালে অনেক সময় গ্রামের হাতুড়ে ডাক্তার দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচার করানো হয়, যা সরাসরি মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার শামিল।

    এদিকে, ২৮ এপ্রিল কুষ্টিয়ায় একতা ক্লিনিকে শিশুর মৃত্যু হয়েছে। কুষ্টিয়া শহরের মোল্লাতেঘরিয়া এলাকায় অবস্থিত একটি বেসরকারি ক্লিনিক—একতা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসা নিতে গিয়ে ওই শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়।

    পরিবারের সদস্যরা জানান, সামান্য শারীরিক সমস্যার চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে ক্লিনিকে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসকরা অপারেশনের পরামর্শ দেন। তবে অপারেশন থিয়েটারে পর্যাপ্ত এনেস্থিসিয়া সুবিধা ছিল না—এমন অভিযোগ তুলেছেন স্বজনরা। তাদের দাবি, যথাযথ প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ছাড়াই অজ্ঞান করার পর শিশুটির শারীরিক জটিলতা শুরু হয়। এরপর শিশুটি মারা যায়।

    সে সময় একতা ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে এক ডাক্তারকে আটক করা হয়। সিলগালা করা হয় ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টার।

    স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, এ ধরনের ঘটনায় বেসরকারি ক্লিনিকগুলোর চিকিৎসা মান, লাইসেন্সিং ও তদারকি ব্যবস্থার দুর্বলতা আবারও সামনে এসেছে। তারা রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত পরিদর্শনের দাবি জানিয়েছেন।

    সার্বিক বিষয়ে কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা. এস এম কামাল জেলার বেহাল বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবার কথা স্বীকার করেছেন।

    তিনি জানান, জেলায় দুই শতাধিক বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতাল থাকলেও বৈধ কাগজপত্র রয়েছে মাত্র ১৪টির। অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলে প্রায়শই রাজনৈতিক নেতাদের সুপারিশ ও চাপে তাঁদের বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। অতি সম্প্রতি স্থানীয় এক শীর্ষ নেতা সুপারিশ নিয়ে তাঁর অফিসেও এসেছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে রাজনৈতিক চাপ সত্ত্বেও নিয়মিত তদারকি ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে সিভিল সার্জন দাবি করেন।

    এত অনিয়ম ও প্রাণহানির পরও এসব অবৈধ প্রতিষ্ঠান কীভাবে টিকে আছে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবারকে যেন এমন দুর্ভোগ পোহাতে না হয়, সেজন্য অবিলম্বে এসব ক্লিনিকের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা।

  • কুষ্টিয়ায় লোডশেডিং নিয়ে ওজোপাডিকোর কর্মকর্তাদের সাথে এমপি আমীর হামজার মতবিনিময়

    কুষ্টিয়ায় লোডশেডিং নিয়ে ওজোপাডিকোর কর্মকর্তাদের সাথে এমপি আমীর হামজার মতবিনিময়

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার সর্বত্র ঘন ঘন লোডশেডিং এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। লোডশেডিংয়ের নির্দিষ্ট সময় না থাকায় আরো বেশি ভোগান্তিতে জনগণ।

    ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের খোঁজখবর নিতে বুধবার বেলা ১১টার দিকে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের এমপি মুফতি আমীর হামজা স্থানীয় ওজোপাডিকো কার্যালয়ে যান।

    এ সময় তিনি কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেন। শহরের আড়ুয়াপাড়ার ওজোপাডিকো কুষ্টিয়ার তত্ত্বাবধায়কের সভাকক্ষে এ মতবিনিময়কালে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জাহান-ই-শবনম কুষ্টিয়া এলাকার লোডশেডিং বিষয়ে বলেন, জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা দিনে ১৫০ থেকে ১৬০ মেগাওয়াট, সেখানে পাচ্ছি ১০০ থেকে ১০৫ মেগাওয়াট। রাতে বিদ্যুতের চাহিদা ১৮০ মেগাওয়াট, সেখানে পাচ্ছি ১০০ থেকে ১১৫ মেগাওয়াট। দেশে চাহিদার তুলনায় ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হওয়ায় এই লোডশেডিংয়ের ঘটনা ঘটছে। তবে কবে নাগাদ বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক পর্যায়ে আসবে—সে ব্যাপারে তিনি কিছু বলতে পারেননি।

    এ সময় এমপি মুফতি আমীর হামজা কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদ্যুতের লোডশেডিং বিষয়টি জাতীয় সমস্যা। আশা করি দ্রুত স্বাভাবিক হবে। তবে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের এই বিপর্যয় মুহূর্তে দায়িত্ব পালনে আন্তরিক থাকতে হবে।’

    ভৌতিক বিলের ব্যাপারে তিনি কর্মকর্তাদের বিশেষ সতর্কতার সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘জনগণ যেন কোনোভাবেই প্রতারিত এবং হয়রানির শিকার না হয় সে ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে।’

    তিনি কর্মকর্তাদের নিকট থেকে বিভিন্ন বিষয়ে শোনেন এবং আগামী জাতীয় সংসদ অধিবেশনে কুষ্টিয়ার বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি, সেই সাথে শিল্প এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতকরণের বিষয় তুলে ধরবেন বলে জানান।

    এমপি আমীর হামজা বলেন, ‘কুষ্টিয়ায় অনেক বড় বড় শিল্পকারখানা রয়েছে। সেই সাথে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের রোগীদের কথা বিবেচনায় এনে এই জেলার বিদ্যুৎ চাহিদা বৃদ্ধির পাশাপাশি ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে আমি বিদ্যুৎমন্ত্রীকে বিষয়গুলো অবগত করাব।’

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন ওজোপাডিকো কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী (বিক্রয় ও বিতরণ-১) আমজাদ হোসেন, নির্বাহী প্রকৌশলী (বিক্রয় ও বিতরণ-২) অনুপম চক্রবর্তী, জেলা জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি অধ্যাপক সুজাউদ্দিন জোয়ার্দ্দার, সহকারী সেক্রেটারি মোমিনুল ইসলাম।

  • কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় এসএসসিতে অকৃতকার্য হয়ে শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

    কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় এসএসসিতে অকৃতকার্য হয়ে শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পর তানিয়া খাতুন (১৬) নামে এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। সোমবার দিবাগত রাতে ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

    তানিয়া উপজেলার কুচিয়ামোড়া গ্রামের চেয়ারম্যান গেটসংলগ্ন এলাকার প্রবাসী আক্তারুল ও কবিতা দম্পতির মেয়ে। সে বাহাদুরপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল।

    বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম জানান, তানিয়া এ বছর বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল।

    বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী মুনির উদ্দিন জানান, সোমবার (১০ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে তানিয়ার আত্মহত্যার খবর তারা জানতে পারেন। প্রকাশিত ফলাফলে তানিয়া বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছিল বলে বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফলাফল প্রকাশের পর তানিয়া মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল। সোমবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে নিজ কক্ষে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। খবর পেয়ে কুচিয়ামোড়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. আব্দুস সালাম ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে মরদেহটি ভেড়ামারা থানায় নেওয়া হয়।

    ভেড়ামারা থানা পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা হয়েছে।

    এ,আর

  • কুষ্টিয়ায় নারীদের কোরআন মাহফিলে হামলার অভিযোগ

    কুষ্টিয়ায় নারীদের কোরআন মাহফিলে হামলার অভিযোগ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার মিরপুরে তালিমুল কোরআন মাহফিলে হামলা, নারীদের লাঞ্ছিত ও অশালীন আচরণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বহলবাড়িয়া ইউনিয়ন শাখার মহিলা বিভাগ।

    মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে মিরপুর পৌরসভার দারুস সালাম একাডেমিতে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করা হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বহলবাড়িয়া ইউনিয়ন জামায়াতের মহিলা বিভাগের সভানেত্রী। এ সময় সংগঠনটির মহিলা বিভাগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্র ঘোষিত মাসব্যাপী নারীদের গণসংযোগ ও দাওয়াতি কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেলে বহলবাড়িয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের খাঁড়ারা নতুনপাড়া গ্রামে মো. সোহেলের বাড়িতে তালিমুল কোরআন মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

    বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, মাহফিলের শেষ পর্যায়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা হিসেবে পরিচিত রাজ্জাক মাস্টারের নেতৃত্বে এলেম, মোহাম্মদ ফারুক, রুবেলসহ আরো চার-পাঁচজন ব্যক্তি বাড়ির প্রাচীর টপকে মাহফিলে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা নারীদের সাথে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করেন এবং কয়েকজন নারীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।

    সংবাদ সম্মেলনে মহিলা বিভাগের নেত্রী বলেন, ধর্মীয় কর্মসূচিতে অংশ নেয়া নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের ধর্মীয় ও সামাজিক অধিকার রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।

    তিনি ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনানুগ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সাথে ভবিষ্যতে ধর্মীয় কর্মসূচিতে অংশ নেয়া নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান।

  • কুষ্টিয়ায় জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেয়ার অভিযোগ ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে

    কুষ্টিয়ায় জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেয়ার অভিযোগ ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ায় জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। সোমবার (১০ আগস্ট) দিবাগত গভীর রাতে শহরের শহিদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামের সামনে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে এ ঘটনা ঘটে।

    এ সংক্রান্ত একটি ভিডিওক্লিপ মঙ্গলবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে একজনকে (পুরুষ) বলতে শোনা যায়, ‘ভয় করি না বুলেট বোমা, শেখ হাসিনা আসবে- বাংলাদেশ হাসবে’, ‘আমার সোনার বাংলায় রাজাকারের ঠাঁই নাই, জয় বাংলা- জয় বঙ্গবন্ধু। হানিফ সাহেবের ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই। কামারুল ভাইয়ের ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই। ষড়যন্ত্র করে জঙ্গিবাদীরা আমার নেত্রীকে বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত করেছে, বাংলাদেশ থেকে যেতে বাধ্য করেছে। আমরা এই জুলাই মানিনা, কখনও মানবো না। শেখ হাসিনার বাংলাদেশ, আমরা শেখ হাসিনাকে ডিসেম্বরে ইনশাল্লাহ ওয়েলকাম করে নিয়ে আসবো’।

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা আলমাস হোসেন জানান, এটি পরিকল্পিত ঘটনা। এমন ঘটনা যে ঘটবে তা আগেই তারা জানতে পেরেছিলেন। বিয়টি তারা পুলিশকেও জানিয়েছিলেন।

    এদিকে ঘটনা জানাজানি হলে মঙ্গলবার দুপুরে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার সরকার, কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি কবির হোসেন মাতুব্বরসহ পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেন।

  • কুষ্টিয়ায় ঘনঘন লোডশেডিং, জনজীবনে অতিষ্ঠ

    কুষ্টিয়ায় ঘনঘন লোডশেডিং, জনজীবনে অতিষ্ঠ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ায় বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন এলাকায় ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

    তীব্র গরমের মধ্যে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের দুর্ভোগ বেড়েছে। বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানেও এর প্রভাব পড়ছে। কুষ্টিয়া ৬ উপজেলার গ্রামাঞ্চলের মানুষও বিদ্যুতের লোডশেডিং এ নাকাল।

    স্থানীয়রা জানান, দিনের পাশাপাশি রাতেও বারবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। ফলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি পেলেও সরবরাহ পর্যাপ্ত না থাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।

    বাংলাদেশের বৃহত্তম চালকল কুষ্টিয়া খাজানগরের ব্যবসায়িকরা বলেন, এখন আমাদের অটো রাইস মিলে ধান ভাঙা চলছে। মিলে একবারে প্রায় ১ হাজার ৮০০ মণ ধান সেদ্ধ হয়। এ সময় বিদ্যুৎ চলে গেলে পুরো ধানের মান নষ্ট হয়ে যাবে। মানে চাল ভেঙে খুদ হয়। এ জন্য অবশ্য মিলে ব্যাকআপ হিসেবে জেনারেটর রাখা হয়। কিন্তু জেনারেটর যেভাবে চলছে, এতে আমাদের ব্যয় কোন পর্যায়ে যাবে তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছি।

    কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মিরপুর জোনাল অফিস সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে বাধ্য হয়ে পর্যায়ক্রমে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। সাধারণত দুই থেকে তিন ঘণ্টা পরপর প্রায় এক ঘণ্টা করে লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। এতে ব্যবসায়ী, পোল্ট্রী খামারী ও চাতাল মালিকরা পড়েছেন চরম বেকায়দায়।

    একজন বিদ্যুতের কর্মকর্তা বলেন, কাগজ-কলমে সময়সূচি থাকলেও তা বাস্তবে মানা হচ্ছে না। কারণ জেলাতে চাহিদা মোতাবেক বিদ্যুৎ না পাওয়াই সময়সূচি অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। সাম্প্রতিক এমন লোডশেডিংয়ে নাজেহাল হয়ে পড়েছে কুষ্টিয়াবাসী। এর মধ্যে অনেক এলাকায় গভীর রাত পর্যন্ত লোডশেডিং পোহাতে হচ্ছে মানুষদের। সারাদিন এক ঘন্টা বিদ্যুৎ দিলেও ৩ ঘন্টা লোডশেডিং দিচ্ছে।

    কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এক কর্মকর্তা বলেন, আসলে আমরা যে বরাদ্দ পাচ্ছি সেই বরাদ্দে সব এলাকায় বিদ্যুৎ নিরবচ্ছিন্ন রাখা সম্ভব হচ্ছে না। তাই লোডশেডিং হচ্ছে।

    সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ বাড়লে লোডশেডিংয়ের মাত্রাও কমে আসবে। এদিকে, দীর্ঘ সময় ধরে এমন লোডশেডিং চলতে থাকায় দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন জেলার বিদ্যুৎ গ্রাহকরা।

  • কুষ্টিয়া সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংসদের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

    কুষ্টিয়া সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংসদের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়া সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংসদের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া শহর জামায়াতের অফিসে এ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

    আলোচনা সভায় সভাপতি হিসেবে ছিলেন অধ্যাপক ড. নুরুল আমিন। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের সাবকে অধ্যক্ষ প্রফেসর মোল্লা মোঃ রুহুল আমীন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কুষ্টিয়া জেলা সেক্রেটারি এনামুল হক।

    আরও বক্তব্য রাখেন খোকসা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ওয়াজেদ বাঙালি ও কুষ্টিয়া আদর্শ ডিগ্রী মহাবিদ্যালয়ের রাজী উদ্দিন আহমেদ শাহিনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

    অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শিক্ষাবিদ সালাউদ্দিন। অনুষ্ঠানে অনেক তরুন শিল্পী জুলাইয়ের উপরে আবেগঘন সংগীত পরিবেশন করে অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করেন।

  • ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ নিয়ে কুমারখালীতে ইউএনও কার্যালয় ঘেরাও

    ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ নিয়ে কুমারখালীতে ইউএনও কার্যালয় ঘেরাও

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের নিয়োগ দেওয়ার দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ( ইউএনও) বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করা হয়েছে। এসময় বিক্ষোভকারীরা ইউএনওর কার্যালয় ঘেরাও করে তার কুশপুত্তলিকা দাহ করেন।

    রোববার (৯ আগষ্ট) দুপুর বেলা সাড়ে ১১টা দুপুর থেকে ১টা পর্যন্ত আন্দোলনকারীরা ইউএনওর কার্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থান নিয়ে কার্যালয় ঘেরাও করে রাখেন।

    খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দুপুর ১২টা ১১ মিনিটে ইউএনও কার্যালয়ের কেচিগেট খুলে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। পরে অবরুদ্ধ অবস্থায় দ্বিতীয় তলায় দাঁড়িয়ে নিয়োগপ্রাপ্তদের পুনরায় যাচাই-বাছাইয়ের আশ্বাস দিলে দুপুর একটার দিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইউএনওকে অপসারণের আলটিমেটাম দিয়ে উপজেলা পরিষদ চত্বর ত্যাগ করেন আন্দোলনকারীরা।

    উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সোহানুর রহমান ও সদস্য সচিব আবু কাউসার অপুর নেতৃত্বে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সংরক্ষিত মহিলা এমপির প্রতিনিধি সাজেদা পারভিন, পান্টি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কুদরতে নুর, কুমারখালী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি হৃদয় হোসেন, উপজেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্রজনতা আন্দোলন কমিটির সাবেক মুখপাত্র আশরাফুল ইসলাম তিহা, কুমারখালী পৌর ছাত্রদল নেতা কামরুজ্জামান সোয়াদসহ উপজেলা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন পর্যায়ের কয়েকশ ছাত্রদল ও ছাত্রজনতা অংশ নেন।

    এ সময় পান্টি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কুদরতে নুর বলেন, বিএনপির ফ্যামিলিতে আওয়ামী লীগের দোসরদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই নিয়োগ বাতিল করে বিএনপির লোকদের নিয়োগ দিতে হবে। না হলে দুর্বার আন্দোলন করা হবে।

    উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আবু কাউসার অপু জানান, ছাত্রদলের যোগ্য ছেলে থাকলেও ফ্যামিলি কার্ডে শুমারিতে প্রায় ৫০ জন আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের লোকজন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর প্রতিবাদে আজ বিক্ষোভ সমাবেশ ও কুশপুত্তলিকা দাহ এবং ইউএনওর কার্যালয ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইউএনও ফারজানাকে অপসারণ করতে হবে।

    তিনি বলেন, শুমারির ফলাফল বাতিল ও স্বেচ্ছায় ইউএনকে পদত্যাগ করতে হবে। না হলে আগামীকাল (সোমবার) সকাল ১০টায় কঠোর আন্দোলন করা হবে।

    কুমারখালী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি হৃদয় হোসেন বলেন, আমরা ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাতে হটাতে পেরেছি। সেখানে আপনি ( ইউএনও) কিছুই না। আপনি (ইউএনও) দ্রুত কুমারখালী ত্যাগ করেন। তা না হলে কঠোর আন্দোলন করা হবে।

    উপজেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্রজনতা আন্দোলন কমিটির সাবেক মুখপাত্র আশরাফুল ইসলাম তিহা বলেন, প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে ধরে ধরে আওয়ামী লীগের লোকদের নিয়োগ দিয়েছে ইউএনও। এই ইউএনওকে আর আমরা চাই না।

    এরপর দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে অবরুদ্ধ অবস্থায় কার্যালয়ে দোতলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে ইউএনও ফারজানা আখতার আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, কোনো অভিযোগ থাকলে তথ্য প্রমাণ দিয়ে সহায়তা করুন। আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব। এই বক্তব্যের পর আন্দোলনকারীরা চলে যান।

    তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে ইউএনও ফারজানা আখতার বলেন, আন্দোলনকারীদের বলা হয়েছে, তথ্য-প্রমাণসহ অভিযোগ জমা দিলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপপরিচালক (উপসচিব) আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম জানান, ফ্যামিলি কার্ড বিষয়ের সমস্যা সমাধানে ইউএনওকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

  • কুষ্টিয়ায় বাঁশ চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা, উৎপাদন কম হওয়ায় পেশা ছাড়ছে অনেকে

    কুষ্টিয়ায় বাঁশ চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা, উৎপাদন কম হওয়ায় পেশা ছাড়ছে অনেকে

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বাঁশ চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। বাঁশের তৈরি তৈজষপত্র বিক্রি করে সংসার চালায় এখানকার ৫শত পরিবার। কিন্তু বাঁশের উৎপাদন কম হওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী বাঁশ না পাওয়ায় কুটির শিল্পের কারিগরদের ব্যবসায় ভাটা পড়ছে। তাই অনেকেই পেশা ছাড়ছে।

    জানা যায়, বাঁশ চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও পরিকল্পনা ও পরিচর্যার অভাবে বাঁশ চাষের উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে। এখানকার পতিত জমিতে অন্যান্য ফসল ও বাঁশ চাষের ভালো সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাবে আবাদের আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে না।

    গত ২ দশক আগে বন সম্পদের অফিসের অধীনে এক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচির আওতায় পতিত জমির সুষ্ঠু ব্যবহারের লক্ষ্যে গাছ লাগানো হয়। ওই সময় বাঁশের প্রতি গুরুত্বারোপ করা হলে বাঁশ ঝাড় বৃদ্ধি পায়। গ্রামাঞ্চলে প্রচুর বাঁশের আবাদ করা হয়।

    মৃত্তিকা বাঁশ, বরাক, মুলি, তল্লা, মাকলা, বারিয়ানা, নল, ভুদুম, রেঙ্গুন ও কালি বাঁশ বাঁশ ঝাড়গুলোতে উৎপন্ন হয়। এসব বাঁশ ও বেতের উপর নির্ভর করেই পল্লীতে কুটির শিল্প গড়ে ওঠে।

    কুষ্টিয়ার জগতিতে মীরপুর ও খোকসা এবং কুমারখালীতে আদিবাসী সম্প্রদায় বাঁশের তৈরি তৈজষপত্র তৈরি করা হয়।

    কুষ্টিয়ার এসব এলাকার বহু পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বাঁশ ও বেত দিয়ে বিভিন্ন ধরনের গৃহস্থালি ও শৌখিন সামগ্রী তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তাদের তৈরি ঝুড়ী, চালুনি, ডালা, কুলা, ফুলের টব, শোপিস, আসবাবপত্রসহ নানা ধরনের হস্তশিল্প স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকায়ও বিক্রি হয়।

    বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী কুটির শিল্পের অন্যতম খাত বাঁশ ও বেত শিল্প। পরিবেশবান্ধব, টেকসই এবং দেশীয় সংস্কৃতির ধারক এই শিল্প এখন নতুন করে সম্ভাবনার আলো দেখছে। গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানিমুখী শিল্প হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)।

    এরই অংশ হিসেবে বিসিক জেলা কার্যালয়, কুষ্টিয়ার উদ্যোগে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পাটিকাবাড়ী দাসপাড়া, মিরপুর উপজেলার আবুরি দাসপাড়া, মালিহাদ দাসপাড়া এবং খন্দকবাড়িয়া এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়। এ সময় ১০২ জন বাঁশ ও বেত পণ্য উৎপাদনকারী কুটির শিল্প উদ্যোক্তাকে চিহ্নিত করা হয়।

    বাঁশ দিয়ে কুটির শিল্পে তৈরি করা হয়- কুলা, চালনা, ডোল, খালই, পলো, চাটাই, ডালি, দোলনা, চেয়ারসহ বিভিন্ন ধরনের খেলনা ও ব্যবহার্য জিনিসপত্র। এছাড়াও বাঁশ দিয়ে কাঁচা ঘরবাড়ী তৈরিতে প্রধান উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বলতে গেলে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত বাঁশের প্রয়োজনীয়তা অনেক। গ্রাম-গঞ্জ শহরে এর চাহিদা ব্যাপক। এ বাঁশ বেতের উপর নির্ভর করেই কুটির শিল্প গড়ে উঠেছে। বাঁশের তৈরি তৈজষপত্র বিক্রি করেই এরা সংসার চালায়। তারা বাঁশ-বেত শিল্পের সাথে জড়িত। মানুষ এ বাঁশ বেত শিল্পের উপর নির্ভরশীল। জনসংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে দিনের পর দিন বাড়ছে বাঁশের চাহিদা। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী বাড়ছে না বাঁশের আবাদ। লাগানো হচ্ছে না বাঁশের ঝাড়। বাঁশ কেটে সাবাড় করে নষ্ট করা হচ্ছে পরিবেশ।

    বাঁশের মুতাও কেটে ইট ভাটায় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করে ধ্বংস করে ফেলা হচ্ছে বাঁশ ঝাড়। চাহিদার তুলনায় বাঁশ না লাগানোর জন্য বাঁশের ঘাটতি পড়ছে প্রতি বছর। বাঁশ চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনাময় এ জেলায় সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও জনসাধারণকে এ ব্যাপারে উৎসাহিত না করায় বাঁশ আবাদ বাড়ছে না। তাই ধ্বংস হতে চলেছে বাঁশ বেত শিল্প।

    কুষ্টিয়ার বাঁশ ও বেত শিল্পীরা বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই পেশার সঙ্গে জড়িত। কিন্তু আধুনিক ডিজাইন জানা না থাকায় বাজারে নতুন ধরনের পণ্য আনতে পারছি না। আমাদের যদি মাঠ পর্যায়ে বিনা ফি-তে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে, তাহলে আমরা আন্তর্জাতিক মানের শৌখিন ও ব্যবহারযোগ্য পণ্য তৈরি করতে পারব।”

    “শিল্প সম্প্রসারণের জন্য সহজ শর্তে ক্ষুদ্র ঋণ বা অনুদান অত্যন্ত প্রয়োজন। পর্যাপ্ত মূলধন না থাকায় অনেক সময় বড় অর্ডার পেলেও কাজ করা সম্ভব হয় না। সরকারি সহায়তা পেলে উৎপাদন বাড়বে, নতুন কর্মসংস্থান হবে এবং তরুণ প্রজন্মও এই শিল্পে আগ্রহী হবে।”

    এ ব্যাপারে বিসিক জেলা কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক সোহেল রানা বলেন, “বাঁশ ও বেত শিল্প বাংলাদেশের ঐতিহ্যের অংশ। সঠিক পরিকল্পনা, আধুনিক নকশা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বাজার সংযোগ নিশ্চিত করা গেলে এই খাত শুধু স্থানীয় চাহিদাই পূরণ করবে না, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। বিসিকের লক্ষ্য কুটির শিল্পকে বাণিজ্যিকভাবে আরও শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলা।”

    জেলা বন বিভাগের অধীনে বাঁশ লাগানো কর্মসূচী নিয়ে যদি গণসচেতনতা সৃষ্টি করতে পারে এবং জেলার পতিত জমির সুষ্ঠু ব্যবহার করাতে সক্ষম হয় তাহলে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে এ জেলায় বাঁশের আবাদ বাড়বে। উৎপাদিত বাঁশ জেলার চাহিদা পূরণ করে বাইরে পাঠাতে পারবে এবং বাঁশ ভিত্তিক প্রচুর শিল্পের বিকাশ ঘটবে।

  • কুষ্টিয়ায় ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে নিহত ১

    কুষ্টিয়ায় ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে নিহত ১

    কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে আব্দুল্লাহ আল মনসুর নোমান (৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার চড়াইকোল রেলগেট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত আব্দুল্লাহ আল মনসুর নোমান উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের মহেন্দ্রপুর গ্রামের মরহুম আব্দুর রশীদের ছেলে।

    জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কুষ্টিয়া থেকে মোটরসাইকেলযোগে কুমারখালীতে ফিরছিলেন নোমান। পথিমধ্যে চড়াইকোল রেলগেট এলাকায় পৌঁছালে একটি ট্রাক তার মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। এ সময় ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।

    খবর পেয়ে কুমারখালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

    কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘাতক ট্রাকটি পালিয়ে গেছে। ট্রাকটি আটকের ব্যাপারে কাজ করা হচ্ছে।

  • খোকসায় ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন

    খোকসায় ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন

    কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার বশোয়া গ্রামে ৬ বছর বয়সী এক শিশুকন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শিশুটিকে প্রথমে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।

    ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে শিশুটি বাড়ির পাশের রাস্তায় খেলছিল। এ সময় তার বাবা-মা নিকটবর্তী বিলে পাট ধোয়ার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, সেই সুযোগে প্রতিবেশী সৈকত শেখ (১৫) শিশুটিকে বাবা-মায়ের কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে রাজবাড়ীর পাংশা সীমান্তসংলগ্ন একটি কলাবাগানে নিয়ে যায়।

    সেখানে শিশুটির ওপর যৌন নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। পরে বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য তাকে পটেটো চিপস কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়। কিছুক্ষণ পর অভিযুক্ত শিশুটিকে তার মায়ের কাছে পৌঁছে দিলে সে কান্নাকাটি করতে করতে ঘটনার বর্ণনা দেয় এবং বুকে ও তলপেটে তীব্র ব্যথার কথা জানায়।

    পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় চিকিৎসক তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে রেফার করেন।

    অভিযুক্ত সৈকত শেখ বশোয়া গ্রামের গ্রাম পুলিশ এরশাদ শেখের ছেলে বলে জানা গেছে।

    ঘটনার পর এলাকায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

    এ বিষয়ে খোকসা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোল্লা জাকির হোসেন বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে পুলিশ অবগত রয়েছে। এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া মাত্র প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • কুষ্টিয়ায় বাণিজ্যিকভাবে গড়ে উঠেছে দুম্বার খামার

    কুষ্টিয়ায় বাণিজ্যিকভাবে গড়ে উঠেছে দুম্বার খামার

    একসময় যে উদ্যোগ ছিল কল্পনার বাইরে, সেটিই বাস্তবে রূপ দিয়েছেন কুষ্টিয়ার মিরপুরের দুম্বা খামারি রাকিবুল ইসলাম। মরুভূমির পশু দুম্বা এখন আর শুধু বিদেশের শুষ্ক অঞ্চলের দৃশ্য নয়, দেখা মিলছে কুষ্টিয়ার মাটিতেও। এই অসাধ্যকে সাধ্য করে মরু অঞ্চলের পশু দুম্বা পালনে সফল এবং স্বাবলম্বী হচ্ছেন কুষ্টিয়ার মিরপুরের রাকিবুল।

    মহিষ পালন ছেড়ে মাত্র দুটি দুম্বা দিয়ে শুরু করা খামারে এখন রয়েছে ১৫টি দুম্বা। দেশীয় খাবার ও পরিচর্যায় তুর্কি জাতের এই দুম্বা পালন করে নতুন সম্ভাবনা দেখাচ্ছেন তিনি। গরু-ছাগলের মতো দেশীয় প্রাকৃতিক খাবার দিয়েই লালন-পালন করা হচ্ছে এই দুম্বা। বিদেশি পশুর এ খামার দেখতে প্রতিদিনই রাকিবুলের খামারে ভিড় জমাচ্ছেন দর্শনার্থীরা। বড় পরিসরে বাণিজ্যিকভাবে দুম্বার খামার গড়ে তোলার স্বপ্ন রাকিবুলের।

    জানা যায়, কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার সাহেবনগর এলাকার খামারি রাকিবুল ইসলাম হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে মহিষ লালন-পালন করা ছেড়ে দেন। পরে কিছুটা সুস্থ হলেও মহিষ পালন করা সম্ভব না হওয়ায় তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে দুম্বা পালনের খবর পান। পরে তিনি ২০২৩ সালে একটি খামার থেকে ২টি দুম্বা কিনে শুরু করেন দুম্বার খামার। অল্প সময়ে পান সফলতাও। দুম্বাগুলো ছিল তুর্কি জাতের। চলতি বছরের মে ও জুন মাসে ৩টি দুম্বা যথাক্রমে দুই লাখ, দেড় লাখ ও এক লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন তিনি। দুম্বার ক্রেতারা বেশিরভাগই কুষ্টিয়া জেলার বাইরের মানুষ।

    Islam

    সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এক পাশে টিনশেডের একটি বড় ঘর। ঘরের ভেতরে মাচা করে চারপাশ ঘেরা। দুম্বাগুলো সেখানে স্বাভাবিকভাবেই ছোটাছুটি করছে। নিয়মিত দেশীয় প্রাকৃতিক খাবার, ঘরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও রোগ প্রতিরোধ—সবকিছুতেই রয়েছে আধুনিকতার ছোঁয়া। স্থানীয়দের অনেকেই প্রতিদিন খামারটি দেখতে আসেন, নতুন এই প্রাণী সম্পর্কে জানতে চান এবং অনেকে আগ্রহী হচ্ছেন এমন উদ্যোগে যুক্ত হতে। দুম্বা পালনে রোগবালাই কম ও লাভ বেশি হওয়ায়, অনেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে এ ধরনের খামারে যুক্ত হতে চাচ্ছেন।

    খামারি রাকিবুল ইসলাম বলেন, “আমি আগে মহিষ লালন-পালন করতাম। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে যাই। চলাফেরা ঠিকমতো করতে পারতাম না। সেজন্য মহিষ লালন-পালন করা বন্ধ করে দিই। পরে সুস্থ হলে বিভিন্ন মাধ্যমে খবর পেয়ে ৩ বছর আগে ২টি দুম্বা কিনে এনে খামার শুরু করি। এর পেছনে পরিশ্রম কম দেওয়া লাগে। বর্তমানে খামারে রয়েছে ১৫টি দুম্বা। গরু-ছাগলের মতো দেশীয় প্রাকৃতিক খাবার দিয়েই লালন-পালন করা হয় এই দুম্বা।”

    তিনি আরও বলেন, “এই খামারে তুর্কি জাতের দুম্বা পালন করা হচ্ছে। আমি নিজে ছাড়াও আমার এই খামারের দুম্বা দেখাশোনার জন্য লোক আছে। খামারে প্রতিদিনই দর্শনার্থীরা আসেন। তারা দেখেন দুম্বা পালন। কেউ কেউ আবার আগ্রহ দেখাচ্ছেন দুম্বার খামার গড়ে তোলার।”

    তাঁর সহকর্মী ইমদাদুল হক ইমরান বলেন, “দুম্বা জান্নাতি পশু। হযরত ইব্রাহিমের (আঃ) কোরবানির স্মৃতিবিজড়িত এ পশু। আমিও পরিবার নিয়ে দুম্বা পালন শুরু করতে চাই।”

    সাধারণ ভেড়ার চেয়ে আকারে বড়, আকর্ষণীয় গঠন ও পেছনে ভারী চর্বি থাকার কারণে প্রাণীটি দেখার জন্য অনেকে রাকিবুলের খামারে আসেন। দর্শনার্থী মনিরা জানান, “কখনো দুম্বা কাছ থেকে দেখিনি। হুজুরের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ দেখে আমরা খুব আনন্দিত।”

    দুম্বা পালনে আগ্রহী উদ্যোক্তা মিজান জানান, “আমি এখানে সকাল-বিকাল আসি। সব সময় টিভিতে দেখতাম। এখন এই জায়গায় দুম্বা পালন হওয়ায় নিয়মিত দেখতে আসি। তাদের খাবার দেওয়া, পরিচর্যা ও লালন-পালন করা দেখি। আগ্রহ আছে এই বিদেশি জাতের দুম্বা পালনের।”

    জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আল মামুন হোসেন মন্ডল জানান, “শুধু মরুভূমি নয়, দেশীয় আবহাওয়াতেও দুম্বা লালন-পালন সম্ভব; যার দৃষ্টান্ত দেখিয়েছেন রাকিবুল। আমরা সব সময় খামারের খোঁজখবর রাখি। কোনো সমস্যা হলে আমাদের জানালে আমরা তাৎক্ষণাৎ সমাধান করি। নিয়মিত ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হয়।” এছাড়াও সব ধরনের সহযোগিতাসহ যারা দুম্বা পালনে আগ্রহী, তাঁদের পাশে থাকার কথাও জানান তিনি।

  • কুমারখালীতে নিখোঁজ ব্যবসায়ীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

    কুমারখালীতে নিখোঁজ ব্যবসায়ীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

    কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার পান্টি ইউনিয়নের পান্টি গোলাবাড়ি বাজারে একটি ফার্নিচারের দোকান থেকে মো. হাবিবুল্লাহ (৪০) নামে এক ব্যবসায়ীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ঋণের চাপে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করছে পুলিশ।

    শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে দোকান থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

    পরিবার ও পুলিশ জানান, নিহত হাবিবুল্লাহ পান্টি গোলাবাড়ি বাজার এলাকার আব্দুল হামিদ বিশ্বাসের ছেলে। দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পর দেশে ফিরে তিনি আদম ব্যবসার পাশাপাশি ফার্নিচারের ব্যবসা করতেন। গত বুধবার থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন খোলা থাকলেও তিনি কারও ফোন রিসিভ করছিলেন না।

    নিহতের বাবা আব্দুল হামিদ বিশ্বাস বলেন, সকালে দোকান থেকে দুর্গন্ধ বের হতে দেখে সবাই ধারণা করছিল কিছু একটা পচে গেছে। পরে শাটার খুলে ভেতরে ছেলের মরদেহ দেখতে পান। পরিবারের সবাই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন এবং হাবিবুল্লাহর স্ত্রী বাবার বাড়িতে ছিলেন। চার-পাঁচ দিন ধরে ছেলে বাড়িতে আসেনি। অনেক খোঁজাখুঁজিও করা হয়েছে।

    নিহতের স্ত্রী রুমা খাতুন বলেন, বুধবার থেকে স্বামীকে একাধিকবার ফোন করলেও কল রিসিভ করেননি। শনিবার সকালেও ফোন দিয়েছিলাম, কিন্তু কোনো সাড়া পায়নি।

    কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ঋণের চাপে হাবিবুল্লাহ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে মরদেহ অর্ধগলিত হওয়ায় বিষয়টি স্পষ্ট নয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

  • কুষ্টিয়ায় পুকুরের পানিতে ডুবে কলেজছাত্রের মৃত্যু

    কুষ্টিয়ায় পুকুরের পানিতে ডুবে কলেজছাত্রের মৃত্যু

    কুষ্টিয়ায় বন্ধুদের সাথে গোসল করতে নেমে পুকুরের পানিতে ডুবে কাওসার হোসেন (২৫) নামে এক কলেজছাত্রের মৃত্যু হয়েছে।

    শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে ডিসি পার্কের পুকুরে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত কলেজছাত্র কাওসার হোসেন পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার ইসলাম পাড়া এলাকার আফসার উদ্দিনের ছেলে। কুষ্টিয়া শহরের উদিবাড়ি এলাকায় ভাড়া বাসায় বাবা-মায়ের সাথে বসবাস করতেন তিনি। কাওসার কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন।

    নিহত কলেজছাত্রের বন্ধু শাওন জানান, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তারা কয়েকজন বন্ধু ডিসি পার্কের পুকুরে গোসল করতে নামেন। তারা পুকুরের একপাশ থেকে সাঁতরে আরেক পাশে যান। পরে পেছনে তাকিয়ে দেখেন কাওসার পুকুরের মাঝ বরাবর এসে ‘বাঁচাও, বাঁচাও’ বলে চিৎকার করছে। এ অবস্থায় শাওন দ্রুত গিয়ে বন্ধু কাওসারকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তারা দু’জনেই তলিয়ে যান। এরপর শাওন বন্ধুকে ছেড়ে পানির উপরে উঠে আসেন।

    খবর পেয়ে কুষ্টিয়ার ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টা উদ্ধার কাজ চালিয়ে কাওসারের লাশ উদ্ধার করেন।

    কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মো: ওয়াদুদ হোসেন জানান, পুকুরে ডুবে নিখোঁজের সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী উদ্ধার কার্যক্রমের পর কাওসারকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

  • কুষ্টিয়ায় টিটির ছুরিকাঘাতে বাবা-ছেলে আহত

    কুষ্টিয়ায় টিটির ছুরিকাঘাতে বাবা-ছেলে আহত

    কুষ্টিয়ায় ট্রেনে ওঠাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে বাবা-ছেলেকে ছুরিকাঘাত করেছেন টিটি।

    শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কুষ্টিয়া থেকে খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনে এই ঘটনা ঘটে।

    আহতরা হলেন চুয়াডাঙ্গা জেলার পলাশীপাড়ার আব্দুর রহিম (৬০) ও তার ছেলে সুমন (৩৫)।

    প্রত্যক্ষদর্শী ট্রেনের যাত্রী রিয়াজ জানান, দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটের দিকে সুন্দরবন ট্রেনটি কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়ার মুহূর্তে একজন যাত্রী ট্রেনে নিজ বগিতে উঠতে না পেরে ‘খ’ বগিতে উঠতে গেলে ঘটনার সূত্রপাত হয়। এ সময় টিটি এবং ট্রেনের কর্মচারিদের সাথে বাকবিতন্ডার জেরে টিটি নিজেই দেশীয় ছুরি দিয়ে দুইজনকে কুপিয়ে জখম করেন। ঘটনার সাথে সাথে ট্রেনটি স্টেশন থেকে কিছু এগিয়ে থেমে যায়।

    আহতদের স্বজন কাকলী নামের একজন জানান, তার বোন বেবি (৫০) ক্যান্সারে আক্রান্ত। কুষ্টিয়ায় ডাক্তার দেখিয়ে চুয়াডাঙ্গা নিজ বাড়িতে যাচ্ছিলেন। তারা আড়ুয়াপাড়া বাসা থেকে স্টেশনে এসে ট্রেনে চুয়াডাঙ্গার উদ্দেশে যাচ্ছিলেন তার বোন, ভগ্নিপতি ও ভাগিনা। স্টেশন পৌঁছানোর সাথে সাথে ট্রেন ছেড়ে দেয়ায় তাড়াতাড়ি করে তার ভগ্নিপতি ও তার ছেলে অসুস্থ বোনকে ‘খ’ বগিতে উঠাতে গেলে টিটির সাথে বাকবিতন্ডা হয়। ট্রেনটি পোড়াদহের উদ্দেশে ছেড়ে দিলে ট্রেনের টিটি একটি ধারালো ছুরি দিয়ে প্রথমে তার ভগ্নিপতিকে আঘাত করে। এ সময় ছেলে সুমন এগিয়ে গেলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। তাদের পেট ও শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করা হয়। এ ঘটনায় যাত্রীরা ট্রেনের শিকল টেনে ট্রেন থামালে ঘটনাস্থলে থেকে টিটি এবং ট্রেনের অন্য স্টাফরা গা ঢাকা দেন।

    খবর পেয়ে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এ সময় আহতদের কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। পুলিশ জিজ্ঞাসবাদের জন্য ঘটনাস্থল থেকে আহতদের দু’জন স্বজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

    পরে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রেনটি ২টা ১৪মিনিটের দিকে কোর্ট স্টেশন ছেড়ে পোড়াদহে অভিমুখে যায়।

    ইউএনও হারুন অর রশিদ বলেন, ‘খবর শুনেই আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে ট্রেনের দুই হাজার যাত্রীর কথা বিবেচনা করে দোষীদের পরে আইনের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ট্রেনটি ছাড়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’

    ওসি কবির উদ্দিন মোল্লা বলেন, ‘ট্রেনে ওঠাকে কেন্দ্র করেই ট্রেনের স্টাফদের সাথে এই ঘটনা। শুনেছি টিটি নিজেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে যাত্রীদের জখম করেছে। তদন্ত স্বাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।’

    কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশনের ইনচার্জ ইতি বেগম জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ৭২৬ ডাউন সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেন ৫২ মিনিট বিলম্বে ১২টা ২২মিনিটে কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশনে পৌঁছে যাত্রী নামিয়ে ছাড়ার মুহূর্তে আবার ট্রেন থেমে যায়। পরে জানা গেল যাত্রীর সাথে ট্রেনের স্টাফদের সাথে বাকবিতন্ডায় ট্রেনের মধ্যেই টিটি কর্তৃক ছুরিকাঘাত করার ঘটনার জেরে ট্রেনটি স্টেশনে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে আছে। প্রশাসনের সাথে ফলপ্রসু আলোচনা শেষে ট্রেনটি ২টা ১৪মিনিটে খুলনার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।

  • কুষ্টিয়ায় বাঁশের মাচা থেকে চা বিক্রেতার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার

    কুষ্টিয়ায় বাঁশের মাচা থেকে চা বিক্রেতার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার

    কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ধর্মদহ এলাকায় বাঁশের মাচা থেকে সামিরুল শাহ (৬০) নামে এক চা বিক্রেতার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শরীর ও মুখে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন থাকায় তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

    শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার সীমান্তবর্তী আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের ধর্মদহ এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

    নিহত সামিরুল শাহ উপজেলার তেকালা পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত বিশারদ শাহের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে চা বিক্রির পাশাপাশি ধর্মদহ এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে ব্যাংগাড়ি-ধর্মদহ সড়কের পাশে একটি মাঠের বাঁশের মাচার ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে তেকালা পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন।

    দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে।

    তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

  • কুষ্টিয়া সীমান্তে ৮ জনকে পুশইনের চেষ্টা, প্রতিহত করল বিজিবি

    কুষ্টিয়া সীমান্তে ৮ জনকে পুশইনের চেষ্টা, প্রতিহত করল বিজিবি

    কুষ্টিয়া সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক আটজনকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশইনের অপচেষ্টা প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    শুক্রবার ভোর ৫টা ১০ মিনিটের দিকে বিজিবির কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর অধীন জয়পুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত পিলার ১৫২/১-এস সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, প্রতিপক্ষ ১৪৬ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের চর মেঘনা ক্যাম্পের সদস্যরা অজ্ঞাতনামা দুইজন পুরুষ, চারজন নারী ও দুইজন ট্রান্সজেন্ডারসহ মোট আটজনকে নদীপথে সাঁতার কেটে বাংলাদেশে অবৈধভাবে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। বিষয়টি টহলরত বিজিবি সদস্যদের নজরে এলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেন। বিজিবির দৃঢ় অবস্থানের মুখে ওই ব্যক্তিরা নদীপথেই পুনরায় ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যেতে বাধ্য হন।

    কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত আইন লঙ্ঘনের চেষ্টা প্রতিহত করতে বিজিবি সর্বদা সতর্ক রয়েছে। সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিজিবি পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

  • খোকসায় মাদক-আধিপত্যের জেরে জোড়া খুন

    খোকসায় মাদক-আধিপত্যের জেরে জোড়া খুন

    কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় মাদক বেচাকেনা ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বিরোধে সশস্ত্র হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার ওসমানপুর ইউনিয়নের দেবীনগর ব্রিক ফিল্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলায় আরও অন্তত দুজন আহত হয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।

    নিহতরা হলেন, ওসমানপুর ইউনিয়নের হিজলাবট ব্রিক ফিল্ড এলাকার মৃত চাঁদ আলীর ছেলে ফারুক হোসেন (৪০) এবং একই ইউনিয়নের খানপুর গ্রামের আতিয়ার শেখের ছেলে আব্দুল শেখ (২৫)। আহতদের মধ্যে মুল্লুক মণ্ডল কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে গ্রামপুলিশ মিন্টু চৌকিদার ও নূর আমিন নামে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।

    পুলিশ ও স্থানীয় বরাতে জানা যায়, এলাকায় মাদক বেচাকেনা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় ছালিম হোসেন ও মিন্টু চৌকিদার গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছিল। গত ১৩ জুলাই ওই বিরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রতিপক্ষের হামলায় হাসান শেখ নামে একজন গুরুতর আহত হন। এ ঘটনার পর রাতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

    স্থানীয়দের দাবি, রাত সাড়ে ১২টার দিকে ৮০ থেকে ১০০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ছালিম হোসেনের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলার সময় ছালিম হোসেন পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও বাড়িতে থাকা ফারুক হোসেন, আব্দুল শেখ ও মুল্লুক মণ্ডল হামলাকারীদের কবলে পড়েন। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাদের গুরুতর আহত করে। ঘটনাস্থলেই ফারুক ও আব্দুল শেখের মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়রা আহত মুল্লুক মণ্ডলকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।

    নিহত ফারুকের স্ত্রী রাহেলা অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষ তার স্বামীকে মাদক বেচাকেনায় যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। রাজি না হওয়ায় এক মাস আগে তাদের বাড়িঘর ভাঙচুর করে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা হয়। এরপর থেকে প্রাণভয়ে ফারুক দেবীনগরে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেখানেই হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

    অন্যদিকে নিহত আব্দুল শেখের মা ময়না খাতুন বলেন, প্রতিপক্ষের ভয়ে তার ছেলে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে বাড়ির বাইরে অবস্থান করছিলেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় তার স্বামীকে কুপিয়ে আহত করার পর গভীর রাতে ছেলেকেও হত্যা করা হয়।

    তবে পুলিশ বলছে, স্থানীয় দুই পক্ষের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কারা এতে জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

    খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা জাকির হোসেন বলেন, স্থানীয় মিন্টু চৌকিদার ও ছালিম হোসেন গ্রুপের মধ্যে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। ইতোমধ্যে দুজনকে আটক করা হয়েছে।

    পুলিশ জানায়, মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।

  • কুষ্টিয়া কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত কয়েদির মৃত্যু

    কুষ্টিয়া কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত কয়েদির মৃত্যু

    কুষ্টিয়া জেলা কারাগারের ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এক কয়েদির মৃত্যু হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে বুকে ব্যথা অনুভব করলে ওই কয়েদিকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন বলে জানিয়েছেন জেল সুপার শরিফুল আলম।

    মৃত কয়েদির নাম আরিফুল ইসলাম (২৮)। তিনি কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার শোমসপুর ইউনিয়নের রাজীনাথপুর গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে।
    একটি ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হয়ে ২০১৯ সাল থেকে কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে সাজা ভোগ করছিলেন তিনি।

    জেল সুপার শরিফুল বলেন, “মঙ্গলবার রাতে কারাগারের ভেতরে আরিফুল হঠাৎ বুকে ব্যথায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।”

    বুধবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে আরিফুলের লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে শরিফুল জানান।

    কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ইকবাল হাসান বলেন, মঙ্গলবার রাতে কুষ্টিয়া জেলা কারাগারের পুলিশ আরিফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়।

  • ভেড়ামারায় বালু মহাল নিয়ে দ্বন্দ্বে  বিএনপি নেতা গুলিবৃদ্ধ

    ভেড়ামারায় বালু মহাল নিয়ে দ্বন্দ্বে বিএনপি নেতা গুলিবৃদ্ধ

    কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় বালুমহাল নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এক বিএনপি নেতা। রোববার বিকেলে বাহিরচর ইউনিয়নের ১৬ দাগ হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ নাসিরুল বিশ্বাস (৫০) বাহিরচর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় বালু ব্যবসায়ী।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বালু বিক্রির উদ্দেশ্যে ভেড়ামারার হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকায় গেলে নাসিরুল বিশ্বাসের ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এ সময় তার পিঠে গুলি করা হয়। পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র দিয়ে পায়েও আঘাত করা হয়। স্থানীয়রা তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।

    হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ইকবাল হাসান জানান, ওই ব্যক্তির পিঠ থেকে একটি গুলি বের করা হয়েছে। পায়েও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এখন তিনি আশঙ্কামুক্ত।

    ভেড়ামারা বাহিরচর ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জহুরুল ইসলাম বিজলী বলেন, নাসিরুল ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকায় আমাদের বালু ব্যবসা আছে। তিনিই দেখাশোনা করেন। বালু বিক্রির জন্য ব্যবসাস্থলে গেলে দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে।

    ভেড়ামারা থানার ওসি মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, বালু ব্যবসার দ্বন্দ্ব নিয়েই এ ঘটনা ঘটেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাত হামলাকারীর ছয়জন মুখোশধারী। একজনের মুখ খোলা থাকলেও তারা কাউকে চিনতে পারেননি। খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি, খুঁটিবগাড়ি বালুমহাল নিয়ে দ্বন্দ্বে এই ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি।

  • মিরপুরে করলা চাষে ভাগ্য বদল সৌদি ফেরত জহিরুলের

    মিরপুরে করলা চাষে ভাগ্য বদল সৌদি ফেরত জহিরুলের

    মিরপুরে জহিরুল ইসলামের করলা চাষে বাজিমাত

    ডেক্স নিউজ: কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার বহলবাড়ীয়া ইউনিয়নের খাঁড়ারা গ্রামের মোকাম্মেলের ছেলে কৃষক ও সৌদি প্রবাসী জহিরুল ইসলাম (৪৭) টিয়া জাতের করলা চাষে লাভবান হয়েছেন। কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কৃষির এক নতুন জোয়ার বইছে। এখানে স্থানীয় কৃষকরা এখন দেশি-বিদেশি ফল-ফলাদি ও উচ্চমূল্যের সবজি চাষে ঝুঁকছেন।

    এই পরিবর্তনের অগ্রদূতদের মধ্যে অন্যতম হলেন মিরপুর উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. ময়নুল ইসলাম রাজীব। তিনি মিরপুর উপজেলার বহলবাড়ীয়া ইউনিয়নের খাঁড়ারা ব্লকে যশোর অঞ্চলে টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় তিন দিনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করেছেন। তেমনি একজন সফল কৃষি উদ্যোক্তা হলেন ২২ বছর ধরে সৌদি প্রবাসী বর্তমানে টিয়া জাতের করলা চাষি জহিরুল ইসলাম। তিনি বিদেশ না গিয়ে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজ উদ্যোগে করলা চাষ করে বদলে দিয়েছেন নিজের ভাগ্য। পাশাপাশি অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন আশপাশের বহু তরুণ কৃষককে।

    জহিরুল ইসলাম জানান, এ বছরই প্রথম টিয়া করলার চাষাবাদ শুরু করেন। তার ১৫ কাঠা জমিতে মিরপুর কৃষি অফিস থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে এই চাষাবাদ শুরু করেন। তার ১৫ কাঠা জমি প্রস্তুত, সার প্রয়োগ, মাচা নির্মাণ, কীটনাশক ও পরিচর্যা বাবদ প্রাথমিক খরচ হয় প্রায় ৬০ হাজার টাকা।

    পরিশ্রমের ফল তিনি পান মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ দিনের মাথায়। এখন তিনি প্রতিদিন প্রায় ৫০ কেজি করলা বিক্রি করে আয় করছেন প্রায় ৩ হাজার টাকা। ইতোমধ্যে তিনি স্থানীয় পাইকারি ও খুচরা বাজারে প্রায় ১২ হাজার টাকার করলা বিক্রি করেছেন। তিনি ইতোমধ্যে লাভের মুখ দেখেছেন এবং পেয়েছেন আত্মবিশ্বাস।

    স্থানীয় তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা সৌরভ এগ্রো সায়েন্সের প্রোপ্রাইটর মো. সৌরভ জানান, করলা চাষের এ সফলতা প্রমাণ করেছে—চেষ্টা ও পরিশ্রম থাকলে অসম্ভব কিছুই নয়। জহিরুল ইসলাম আজ শুধু একজন কৃষক নন, তিনি মিরপুর উপজেলার সবুজ বিপ্লবের এক মুখ। তাঁর করলার মাচা যেন নতুন প্রজন্মের জন্য এক পাঠশালা, যেখানে শেখা যায়—মাটিকে ভালোবাসলে মাটিও প্রতিদান দেয় সোনা হয়ে।

    মিরপুর উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. ময়নুল ইসলাম রাজীব জানান, জহিরুল ইসলামের মতো উদ্যমী কৃষকরা এখন এলাকার কৃষিকে এগিয়ে নিচ্ছেন নতুন উচ্চতায়। এই এলাকার মাটি ও আবহাওয়া করলা চাষে বেশ উপযোগী। জহিরুল ইসলাম সেই সুযোগটি সফলভাবে কাজে লাগিয়েছেন। মিরপুরে যশোর অঞ্চলে টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় এ বছর করলাসহ অন্যান্য সবজি চাষের পরিমাণ বেড়েছে। এতে স্থানীয় বাজারে সবজির জোগান বাড়ছে, পাশাপাশি গ্রামীণ তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে।

    এ এম

  • গড়াই নদী খনন প্রকল্প

    গড়াই নদী খনন প্রকল্প

    ৩৫০ কোটি টাকার বালু গায়েব

    ডেক্স নিউজ :কাগজে-কলমে বিপুল পরিমাণ বালু অপসারণের তথ্য থাকলেও বাস্তবে এর কোনো অস্তিত্ব নেই। কুষ্টিয়ার গড়াই নদী খনন প্রকল্পের প্রায় ১০ কোটি ঘনমিটার বালুর কোনো হদিস নেই। সরকারি হিসাবে এ বালুর দাম ৩৫০ কোটি টাকা। তবে টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি হলে বালুর দাম হতো দ্বিগুণ।

    স্থানীয়রা বলছেন, প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রকাশ্যে এসব বালু লুট করেছেন রাজনৈতিক দলের নেতারা। আওয়ামী লীগ আমল থেকে একই স্টাইলে চলছে বালু লুট। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, সব দপ্তরে চিঠি চালাচালি করেও বালু লুট ঠেকানো যায়নি।

    সূত্রে জানা যায়, চার ধাপে প্রায় ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে কুষ্টিয়ার গড়াই নদী খনন করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। ২০১৮ সালে সর্বশেষ ধাপে ৫৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে খননকাজ শেষ করা হয়। এ সময় নদীর তলদেশ থেকে ৪ কোটি ১৭ লাখ ঘনমিটার বালু অপসারণ করে ১০টি মৌজায় সংরক্ষণ করা হয়। বিপুল পরিমাণ এ বালুর মধ্যে টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে মাত্র ১৭ লাখ ঘনমিটার বালু। বর্তমানে ছয়টি মৌজায় সংরক্ষিত আছে মাত্র ৬০ লাখ ঘনমিটার। বাকি ৩ কোটি ৪০ লাখ ঘনমিটার বালু কাগজে-কলমে থাকলেও বাস্তবে তার কোনো অস্তিত্ব নেই।

    কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যালয়ে গড়াই খননের সর্বশেষ ধাপে ৫৯০ কোটি টাকা ব্যয়ের নথি সংরক্ষিত আছে। সর্বশেষ ধাপের নথি অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে ৩ কোটি ৪০ লাখ ঘনমিটার বালু লুটের তথ্য। কিন্তু আগের তিন ধাপে ১ হাজার ৬৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে গড়াই খননের কোনো তথ্য কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডে সংরক্ষিত নেই। আবার খোদ কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, আগের তিন ধাপের খননের কোনো বালু বিক্রি করা হয়নি। তাহলে এত বালু কোথায় গেল-এমন প্রশ্ন করা হলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক কর্মকর্তা রসিকতা করে বলেন, ‘বালু বাতাসে উড়ে গেছে।’ গড়াই নদী খনন প্রকল্পের অপসারণ করা প্রায় সাড়ে তিন লাখ ঘনমিটার বালু ওই দুই মৌজায় সংরক্ষণ করে কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড।

    ৫ জানুয়ারি জেলা পানিসম্পদ উন্নয়ন কমিটির সভায় সংরক্ষিত ওই বালু টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রির অনুমতি পায় মেসার্স শান্তা অ্যাসোসিয়েট নামে একটি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু টেন্ডারের কয়েকদিন পরই শান্তা অ্যাসোসিয়েটের প্রোপ্রাইটর শান্তা ইসলাম পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসককে লিখিত চিঠি দিয়ে জানান, ওই দুই মৌজায় খনন প্রকল্পের কোনো বালুই নেই। স্থানীয়রা বলছেন, এক বছর ধরে প্রতিদিন শত শত ডাম্প ট্রাকে এসব বালু পাচার করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, গড়াই নদী খনন প্রকল্পের বালু লুটে এখানে সবাই মিলেমিশে একাকার। প্রশাসনের সহযোগিতায় আওয়ামী লীগের শাসনামলে শুরু হয় বালু লুটের মহোৎসব। ২০২৪ সালে গণ-অভ্যুত্থানের পর সেই একই স্টাইলে চলছে বালু লুট। এখানে আ.লীগ-বিএনপি, এনসিপি-সবাই বালু লুটে তারা এখন ‘এক গোয়ালের গরু’। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, গড়াই নদীর নাব্য ফেরাতে প্রায় ২ হাজার ২২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে খনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড। ১৯৯৭ সাল থেকে চার ধাপে কুষ্টিয়ার ৪০ কিলোমিটারজুড়ে গড়াই নদীর তলদেশ থেকে বালু অপসারণ করা হয়।

    সর্বশেষ ২০১৮ সালে ৫৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে খনন প্রকল্প থেকে প্রায় ৪ কোটি ১৭ লাখ ঘনমিটার বালু অপসারণ করা হয়। সে হিসাবে চার ধাপে প্রায় ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকার খননে নদীর তলদেশ থেকে ১৬ কোটি ঘনমিটার বালু অপসারণ করা হয়েছে। বিপুল পরিমাণ এ বালুর মধ্যে ৬ কোটি ২০ লাখ ঘনমিটার বালুর হিসাব মিলেছে। এর মধ্যে খননের ৪০ কিলোমিটারে তীরবর্তী নিচু স্থান ভরাট ও স্থাপনা নির্মাণে ব্যবহার হয়েছে সর্বোচ্চ ৪ কোটি ঘনমিটার বালু। অপরদিকে পদ্মা-গড়াই মোহনায় বাংলো নির্মাণ ও বনায়নে ব্যবহার হয়েছে সর্বোচ্চ এক কোটি ঘনমিটার বালু। আর বর্তমানে ছয়টি মৌজায় সংরক্ষণ রয়েছে আনুমানিক ৬০ লাখ ঘনমিটার বালু। এছাড়া টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে ১৭ লাখ ঘনমিটার। বালুখেকো আওয়ামী লীগের কয়েকটি গ্রুপ প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এসব বালু লুট করেছে। নদীর তীরবর্তী এলাকা থেকে এক যুগ ধরে বড় বড় ডাম্প ট্রাকে বালু পাচার করা হয়। সেসময় গড়াই খননের বালু লুটের সংবাদ একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে কৌশল পরিবর্তন করে বালুখেকোরা। এরপর জেলা প্রশাসনের দপ্তর থেকে নদীর বালুমহালের ইজারার কাগজ নিয়ে শুরু হয় প্রকাশ্যে খননের বালু লুট। এক বছরের জন্য ইজারা নিয়ে নদীর বালু উত্তোলনের পাশাপাশি প্রতিদিন শত শত ডাম্প ট্রাকে পাচার হয়েছে খননের বালু। এভাবে একের পর এক বিভিন্ন মৌজায় সংরক্ষিত লাখ লাখ ঘনমিটার বালু চলে যায় বালুখেকোদের পেটে। এ লুটের সঙ্গেও একজোট থেকে কমিশন নিয়েছেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারাও। যুগান্তরের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ১৭ লাখ ঘনমিটার বিক্রির অনুমতি নিয়ে প্রায় ১ কোটি ঘনমিটার বালু নিয়ে গেছেন ইজারাদারের নামে রাজনৈতিক দলের নেতারা। এ স্টাইলে সবচেয়ে বেশি লুটপাট হয়েছে তিনটি মৌজার বালু। এর মধ্যে রয়েছে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার জুগিয়া মৌজা এবং কুমারখালী উপজেলার লাহিনীপাড়া ও জয়নাবাদ মৌজা। তবে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর পালটে যায় বালু লুটের স্টাইল। এবার স্থানীয় প্রশাসনের দপ্তর থেকে নদীর তীরে কয়েক মাসের জন্য খাশকালেকননের কাগজ নিয়ে গড়াই খননের বালু লুটে মাঠে নামে এনসিপি ও বিএনপি নেতারা। অন্তত পাঁচটি শক্তিশালী ড্রেজার মেশিনের সাহায্যে দিনে-রাতে শত শত ট্রাকে বালু বিক্রি করেন দুই দলের নেতারা। অল্পদিনে এ চক্রটিও প্রায় ১০ লাখ ঘনমিটার বালু খেয়ে ফেলেছে। কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জাহেদুর রহমান বলেন, ‘প্রকল্প চলাকালীন আমি এখানে ছিলাম না। ২০২৫ সালের জুনে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হয়ে গেছে। আমি তারপর এখানে যোগদান করেছি। তখন যারা কর্মরত ছিলেন, তারা বলতে পারবেন ওই প্রকল্পের বালু কখন কোন কাজে ব্যবহার করেছেন।’

    এ এম

  • পাবনা-কুষ্টিয়া মহাসড়কে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১

    পাবনা-কুষ্টিয়া মহাসড়কে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১

    কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পাবনা-কুষ্টিয়া মহাসড়কে শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস ও মালবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে মনির হোসেন (২১) ট্রাকের হেলপার মারা গেছেন। তিনি বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি এলাকার সুরুজ আলীর ছেলে। মঙ্গলবার সকাল ৭টায় দুর্ঘটনাটি বাহিরচর ইউনিয়নের দশমাইল এলাকায় সংঘটিত হয়।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে শ্যামলী পরিবহনের একটি দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস কুষ্টিয়া অভিমুখে যাচ্ছিল। বিপরীত দিক থেকে আসা লালন শাহ সেতুগামী পাটের বস্তা বোঝাই একটি ট্রাক পাবনা-কুষ্টিয়া মহাসড়কের দশমাইল নামক স্থানে এলে তার সামনের চাকার টায়ার ফেটে যায়। ট্রাকটি মুহূর্তেই নিয়ন্ত্রণ হারায় এবং দুই পরিবহনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে ট্রাকের হেলপার মনির হোসেন ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।

    এ ঘটনায় তিনজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দুর্ঘটনার পর সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ভেড়ামারা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

    ভেড়ামারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। এরপর যানজট নিরসন করি এবং হাইওয়ে থানাকে বিষয়টি অবগত করি।

    কুষ্টিয়া চৌড়হাস হাইওয়ে থানার ওসি শেখ সেকেন্দার আলী বলেন, সকালে পাবনা-কুষ্টিয়া হাইওয়ের ১০ মাইলে শ্যামলী পরিবহন ও মালবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছে। এতে ট্রাকের হেলপার ঘটনাস্থলেই মারা গেছে। লাশ স্বজনদের বুঝিয়ে দিয়ে আইন অনুযায়ী পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে আগুন, গ্রেফতার ৩

    প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে আগুন, গ্রেফতার ৩

    প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে আগুনের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতারের তথ্য দিয়ে পুলিশ বলছে, স্টোর রুমে রাখা ল্যাপটপসহ মালামালের ক্ষতি করতে ‘উদ্দেশ্যমূলকভাবে’ আগুন দেওয়া হয়েছিল।

    আসমাউল ইসলাম নামে একজন পুরুষ পরিচ্ছন্নতাকর্মী বোরকা পরে সেখানে আগুন দেয়। ওই আগুন দিতে তার সঙ্গে ৫ লাখ টাকার চুক্তির তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ।

    শনিবার (২ মে) রাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসে পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মো. মোস্তাক সরকার এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতারসহ এসব তথ্য দেন।

    গ্রেফতার আসমাউল মাস্টাররোলে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে অধিদপ্তরে কাজ করতেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেফতার বাকি দুজন হলেন- স্টোর ইনচার্জ জিনাত আলী বিশ্বাস ও মাস্টাররোলে স্টোর কিপার হিসেবে কর্মরত হুয়ামুন কবীর খান।

    গতকাল শুক্রবার ভোরে অধিদপ্তরের দ্বিতীয় তলার স্টোর রুমে আগুন লাগে। সেখানে ৭৩৫টি ল্যাপটপ ছিল, যেগুলো মাঠপর্যায়ে বিতরণের জন্য রাখা হয়েছিল।

    সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ বলছে, আগুনে ১৪০টি ল্যাপটপ পুরোপুরি পুড়ে যায়। ২৯টির বেশির ভাগ অংশ এবং ৩৩টি ল্যাপটপ আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়। আর ৪৫০টি ল্যাপটপ অক্ষত ছিল।

    হিসাব অনুযায়ী বাকি ৮৩টি ল্যাপটপের ‘হদিস মেলেনি’ বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    সংবাদ সম্মেলনে উপকমিশনার মোস্তাক বলেন, ‘আগুন দেওয়া’ আসমাউলের সঙ্গে সেখানে কর্মরত আরো দুইজনসহ অন্তত তিনজনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে।

    “স্টোররুমে রক্ষিত ল্যাপটপ ও মালামালের ক্ষতি করতে আগুন দেওয়া হয়েছিল। আগুনে প্রায় ২-৩ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি।”

    ঘটনার পরপরই কাজ শুরুর ধারাবাহিকতায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার সঙ্গে জড়িত একজনকে চিহ্নিত করে পুলিশ।

    মোস্তাক সরকার বলেন, “চিহ্নিত করার পর আমরা যাচাই-বাছাই করে দেখি, আসলে সে প্রকৃত জড়িত কি না। নিশ্চিত হওয়ার পরে তাকে গ্রেফতার করে হেফাজতে নেওয়া হয়।”

    এরপর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার আসমাউল তার সঙ্গে জড়িতদের আরো তিনজনের বিষয়ে তথ্য দেয়- যাদের মধ্যে দুইজনকে গ্রেফতারের কথা বলেন তিনি।

    “যে তথ্য পেয়েছি, হৃদয় নামে আরেকজন শনাক্ত হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের কার্যক্রম চলমান আছে।”

    পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, “আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। মূল যে মোটিভ এবং পরিকল্পনায় তাদের বাইরে আর কেউ আছে কি না সেগুলো বের করতে কাজ করছি। তাদেরকে হেফাজতে নিয়ে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে আবেদন করব, আশা করি মূল মোটিভ উদ্ধার করতে সক্ষম হব।”

    এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “তারা কিছু জিনিস বলেছে, এটা আরও যাচাই করতে হবে। অনেকগুলো বিষয় সামনে আছে। এটা একটা সরকারি ভবন, মাঠপর্যায়ে বিতরণের জন্য ল্যাপটপগুলো রাখা ছিল, এই সময়ে কেন আগুন দেওয়া হল।

    “যে আগুন দিয়েছে সে ওখানেই চাকরি করে। অন্যান্য যারা আছে, তাদের উদ্দেশ্য কী? জানতে পেরেছি, যে আগুন দিয়েছে তাকে আর্থিক প্রলোভন দেওয়া হয়েছিল। ৫ লাখ টাকার চুক্তি হয়েছিল এ কাজটা করে দেওয়ার জন্য। এরমধ্যে নগদ ৮০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে, যা দিয়ে সে বিভিন্ন জিনিস কিনেছে। এ তথ্যগুলো আছে, জিনিসগুলো উদ্ধারসহ অন্যান্য কাজগুলো করতে একটু সময় লাগবে।”

    তার ভাষ্য, “যেহেতু তদন্ত চলমান, সবগুলো বিষয় খোলাসা করে বলা যাবে না। তাতে তদন্তকাজ বাধাগ্রস্থ হতে পারে।”

    ৮৩টি ল্যাপটপের হদিস না মিললেও সিসিটিভি ভিডিয়োতে সেখান থেকে কোনোকিছু সরানোর প্রমাণ পায়নি পুলিশ।

    কার সঙ্গে ৫ লাখ টাকার চুক্তি হয়েছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আপাতত জানতে পেরেছি এ বিষয়ে তাদের নিজেদের মধ্যেই কথাবার্তা হয়েছে।

  • কুষ্টিয়ার পীর হত্যা মামলায় দুইজন গ্রেপ্তার

    কুষ্টিয়ার পীর হত্যা মামলায় দুইজন গ্রেপ্তার

    কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নে পীর আব্দুর রহমান ওরফে শামীম জাহাঙ্গীরকে (৫৭) হত্যার ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে দৌলতপুর থানা-পুলিশ। রোববার (২৭ এপ্রিল) রাতভর অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- ফিলিপনগর পশ্চিম দক্ষিণ এলাকার রবিউল ইসলামের ছেলে আলিফ ইসলাম ও একই এলাকার নাহারুল মন্ডলের ছেলে বিপ্লব।

    বিষয়টি নিশ্চিত করেন দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা (ওসি) আরিফুর ইসলাম। তিনি বলেন, রোববার দিবাগত রাতে ফিলিপনগর এলাকায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিপ্লব ও আলিফ নামের দুইজনকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় ফরজ আলী নামের একজন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ফরজ আলী নামের ওই ব্যক্তিকে মুচলেকা নিয়ে তার পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

    ওসি আরও বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা শামিম জাহাঙ্গীর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার একাধিক ভিডিও ফুটেজ ও প্রমাণ পুলিশের হাতে এসে পৌঁছালে অভিযান পরিচালনা করা হয় এবং তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে আজ সোমবার বেলা ৩ টার দিকে কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    প্রসঙ্গত, কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে গত (১১ এপ্রিল) শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে ইসলাম ধর্ম বিকৃতির অভিযোগে দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নে শামীম জাহাঙ্গীর নামের এক পীরের আস্তানায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও ও মূল্যবান সামগ্রী লুটপাট করে স্থানীয় মুসল্লী ও এলাকাবাসী। এ সময় পীর শামীম জাহাঙ্গীর ও তার অনুসারীদের বেধড়ক মারধর করেন তারা। এই ঘটনায় পীর শামীম জাহাঙ্গীরকে আহত অবস্থায় দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন বিকেল ৪টায় মারা যান তিনি। এই হামলায় দরবার শরীফে তার আরও তিন অনুসারী মহন আলী, জামিরুন নেছা ও জুবায়ের আহত হন। নিহত শামীম জাহাঙ্গীর ওই দরবার শরীফের প্রধান ছিলেন। পরদিন ১২ এপ্রিল রোববার দুপুরে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কড়া পুলিশ পাহারায় ফিলিপনগর এলাকার পশ্চিম-দক্ষিণ কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়।

    পরে গত সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাতে দৌলতপুর থানায় নিহত শামীম জাহাঙ্গীরের বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক ফজলুর রহমান বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখসহ ১৮০ থেকে ২০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৬ দিন পর এই প্রথম দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করল দৌলতপুর থানাপুলিশ।

  • কুষ্টিয়ায় কথিত পীরের আস্তানায়  জনতার হামলা নিহত -১

    কুষ্টিয়ায় কথিত পীরের আস্তানায় জনতার হামলা নিহত -১

    কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে শামিম নামের এক ‘পীরের’ আস্তানায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে আস্তানাটির প্রধান আব্দুর রহমান ওরফে শামিম (৬৫) নিহত হন। আহত তিনজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    আজ শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকায় ‘শামিম বাবার দরবার শরিফ’ নামে পরিচিত ওই পাকা স্থাপনায় হামলা-ভাঙচুর চালানো হয়। ধর্ম নিয়ে কটূক্তির জেরে এই ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।

    খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পাশাপাশি পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

    স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আব্দুর রহমান ওরফে শামিমের একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে তিনি ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করেছেন, এমন অভিযোগে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তাঁর আস্তানায় হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এতে শামিমসহ কয়েকজন আহত হন।

    পরে পুলিশ আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক জানান, শামিম মারা গেছেন। তিনি ফিলিপনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ ফিলিপনগর গ্রামের মৃত জেসের মাস্টারের ছেলে।

    উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তৌহিদুল হাসান তুহিন বলেন, আহত অবস্থায় চারজনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাঁদের মধ্যে একজন মারা গেছেন এবং অন্যদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

    এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান মোবাইল ফোনে বলেন, ‘আমি ছুটিতে আছি। তবে বিষয়টি সম্পর্কে জেনেছি।’

    পরে থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ মোহাম্মদ আলী মর্তুজা জানান, তাঁরা ঘটনাস্থলে রয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত জানাতে পারবেন।

  • বিরল রোগের যন্ত্রণায় ঢাবি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

    বিরল রোগের যন্ত্রণায় ঢাবি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

    কুষ্টিয়ার মিরপুরে নিজ ঘর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী সুমি আক্তারের (২৬) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    সোমবার (২৪ নভেম্বর) ভোরে উপজেলার আমবাড়িয়া গ্রামের নিজ ঘর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    মিরপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    সুমি আক্তার আমবাড়িয়া গ্রামের কৃষক গোলাপ রহমানের মেয়ে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের ক্ষার্থী ছিলেন।

    জানা গেছে, আত্মহত্যার আগে সুমি একটি ফেসবুক পোস্ট দিয়েছিলেন। সে পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, `SORRY 2 ME….’ যার মানে হল- ‘আমি নিজের কাছে নিজেই দুঃখ প্রকাশ করছি অর্থাৎ আসলে আমার কিছুই করার ছিলনা’।

    সুমির সহপাঠীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিরল রোগ ফাইব্রাস ডিসপ্লেশিয়াসহ গুরুতর শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন সুমি। এ রোগের কারণে তার হাঁড় ক্ষয় গিয়েছিল এবং একাধিকবার অস্ত্রোপচার করলেও অবস্থার উন্নতি হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে তীব্র ব্যথা, চলাফেরায় সীমাবদ্ধতা ও শারীরিক দুর্বলতার কারণে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। অসুস্থতা সত্ত্বেও সুমি সবসময় চেষ্টা করতেন স্বাভাবিক জীবনযাপন ও পড়াশোনা চালিয়ে যেতে। বিভিন্ন ডাক্তার ও হাসপাতালে চিকিৎসা নিলেও স্থায়ী সমাধান মিল ছিল না।

    তারা আরও জানান, পরিবারের জন্য কিছু করতে না পারার আক্ষেপ এবং ক্রমাগত যন্ত্রণায় ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন তিনি। একা একাই লড়াই করলেও শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি সামলাতে পারেননি বলে তাদের ধারণা।

    সুমির ছোট খালা মোসা. কাঞ্চনী জানান, আজ ভোর রাতে (ফজরের নামাজের আগে) সুমির বাবা ও মা তার রুমে মধ্যে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে দেখতে পেয়ে পরে রশি কেটে নামায়। সকালে পুলিশ এসে তার রোগের রিপোর্টগুলো দেখে যায় এবং তার বাবাকে সঙ্গে করে থানায় নিয়ে যায় এবং তাকে দাফন করতে বলা হয়। আজ বাদ যোহর তার জানাযা অনুষ্ঠিত হবে।

    সুমি বেশ মেধাবী ও শান্ত স্বভাবের ছাত্রী ছিলেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. অসীম সরকার। মেয়েটি খুব ভালো ও মেধাবী ছিল। অসুস্থতার কারণে এক বছর পড়াশোনায় বিরতিও দিতে হয়। তার ‍এভাবে চলে যাওয়ার বিষয়টি আমরা মেনে নিতে পারছি না। আমরা বিভাগের সবাই শোকাহত। আর কোনো শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে যেন এমন না হয়।

    এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিনুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, সুমি নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। তার মরদেহটি ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে।

  • মেহেরপুরে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে যুবক নিহত

    মেহেরপুরে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে যুবক নিহত

    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে তাসিম নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।

    শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে মঠমুড়া ইউনিয়নের আকুবপুর গ্রামে মোজাম্মেল হকের বাড়ির সামনে মেহেরপুর-কুষ্টিয়া মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে।তাসিম কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার হিদিরামপুর গ্রামের আ. লতিফের ছেলে। আহতরা হলেন-কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার হিদিরামপুর গ্রামের রমজান আলীর ছেলে আকাশ (২০), একই গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে রাজা (২০) এবং কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার মহিশকুন্ডি মিস্ত্রিপাড়ার মোটরসাইকেল চালক খোকনের ছেলে জিসান (২২) ও তার সঙ্গে থাকা এক অজ্ঞাত যুবক।স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা যায়, আকাশ ও রাজাসহ চার যুবক খলিষাকুন্ডি থেকে বামন্দী পর্যন্ত মোটরসাইকেল রেস করছিলেন। একটি বাসকে পাশ কেটে যাওয়ার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা জিসানের মোটরসাইকেলের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তাসিমের মৃত্যু হয়।আহত আকাশ, রাজা, জিসান ও অজ্ঞাত যাত্রীকে দ্রুত উদ্ধার করে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তাদের চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে।স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, মহাসড়কে মোটরসাইকেল রেসিং প্রায় নিয়মিতই হয়; কোনো নিয়ন্ত্রণ না থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে।গাংনী থানা ওসি বানী ইসরাইল জানিয়েছেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

  • কুষ্টিয়ায় দুর্নীতিবিরোধী অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা।

    কুষ্টিয়ায় দুর্নীতিবিরোধী অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা।

    কুষ্টিয়ায় দুর্নীতিবিরোধী অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা।

    বিডিনিউজ ডেক্স : কুষ্টিয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলন বিষয়ক অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)’র যৌথ উদ্যোগে শনিবার সকালে শিল্পকলা একাডেমিতে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সনাকের সভাপতি আসমা আনসারী মিরুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে দুর্নীতিবিরোধী শপথ বাক্য পাঠ করান সনাক সদস্য অশোক সাহা। বক্তব্য রাখেন টিআইবির সমন্বয়কারী কাজী শফিকুর রহমান, খুলনা ক্লাস্টারের সমন্বয়কারী ফিরোজ উদ্দিন, সনাকের সদস্য রফিকুল আলম টুকু, ড. সরোয়ার মোর্শেদ, নীলিমা বিশ্বাস, হালিমা খাতুন, নজরুল ইসলাম, মিজানুর রহমান লাকি, তারিকুল হক তারিক প্রমুখ। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সনাকের সহ-সভাপতি শাহজাহান আলী। দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলনের অভিজ্ঞতা অর্জন ও প্রতিবন্ধকতা সমূহ পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে উপস্থাপন করেন টিআইবির এরিয়া কো-অর্ডিনেটর রায়হানুল ইসলাম। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ইয়ুথ এনগেজমেন্ট সাপোর্ট গ্রুপের সদস্য সুমাইয়া খাতুন ও অ্যাকটিভ সিটিজেন্স গ্রুপের সদস্য ইমাম মেহেদী। এতে সনাক, ইয়েস ও এসিজির সদস্যরা অংশ নেন। সভায বক্তারা বলেন বৈষম্যমুক্ত সমাজ ও দেশ গঠনে দুর্নীতি প্রধান অন্তরায়। এটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সুশাসন এবং সামাজিক ন্যায়বিচারকে ব্যাহত করে। তাই দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে দুর্নীতিমুক্ত দেশ গঠনের বিকল্প নেই। বিকেলে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়

  • কুষ্টিয়ার মিরপুরে কৃষি বিষয়ক লাইব্রেরি ও সংগঠন ‘কৃষকের বাতিঘর’

    কুষ্টিয়ার মিরপুরে কৃষি বিষয়ক লাইব্রেরি ও সংগঠন ‘কৃষকের বাতিঘর’

    কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা গ্রামে অবস্থিত কৃষি বিষয়ক লাইব্রেরি ও সংগঠন ‘কৃষকের বাতিঘর’। এই সংগঠনটি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও টেকসই কৃষিতে কৃষকদের উদ্বুদ্ধকরণসহ কাজ করে যাচ্ছে এলাকার তরুণ শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে।

    সংগঠনটির কার্যক্রমে দেখা যায়, স্বেচ্ছাসেবকরা গ্রামের কৃষকদের কাছে, মাঠে গিয়ে তাদের বই পড়ে শুনিয়ে আসেন। জানান চাষের আধুনিকতা, জীবনমান উন্নয়নের গল্প, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার উপায়, সাহিত্য, ভ্রমণসহ নানাবিধ বিষয়ে। এছাড়া গ্রামীণ নারীদের উন্নয়নেও একই ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করছে এই সংগঠন; যা জীবনমান উন্নয়নে সহায়তা করছে গ্রামের নিরক্ষর চাষি এবং সাধারণ মানুষদের।

    এছাড়া বর্তমানে তীব্র তাপদাহ, খরা এবং অতিবৃষ্টি বা স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত না থাকায় ভোগান্তি বেড়েছে কৃষিতে। আলাদা সেচের ফলে যোগ হয়েছে অতিরিক্ত খরচ। এ নিয়ে ফসল চাষ করেও ক্ষতি পুনরুদ্ধারের ব্যাপারে শঙ্কায় আছেন কৃষকরা। জলবায়ুর এমন পরিবর্তন লক্ষ্য করে কৃষকদের উন্নয়নের জন্য জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক পরামর্শ ও সেবা দিচ্ছে এই সংগঠন। ফসলের মাঠ ঘুরে কৃষকের বাতিঘরের সদস্যরা জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে কৃষকদের অবহিত করেন এবং পরামর্শ দেন।

    কৃষকের বাতিঘরের কার্যক্রমে অংশ নেওয়া মিরপুর উপজেলার চরপাড়া গ্রামের কৃষক ছামিদুল ইসলাম বলেন, কৃষকের বাতিঘরের সদস্যরা এসে আমাদের জলবায়ু পরিবর্তন ও কৃষি আবহাওয়া সম্পর্কে জানিয়েছেন। বই পড়ে শোনান কিভাবে ফসলের ভালো উৎপাদন করা যাবে। এটা আমাদের কৃষকদের জন্য অনেক বড় উপকার। আমরা এখন জমিতে রাসায়নিক সার কমিয়ে জৈব সারের ব্যবহার বাড়িয়েছি। আর জমিতে পার্চিং করা সহ ক্ষেতের আইলে বিভিন্ন বৃক্ষ রোপণের মাধ্যমে এখন ফসলের মাঠ দেখতেও আরও সুন্দর লাগে।

    এদিকে এই কার্যক্রমের মধ্য দিয়েই দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে কাজ করছে এই সংগঠনটি। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের বইয়ের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা, নেতৃত্ব শেখানো এবং কম্পিউটার প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে এই সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবী কর্মী এবং সদস্যদের। কৃষিতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্যই এই দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা বলে মন্তব্য সংশ্লিষ্টদের।

    এ বিষয়ে সংগঠনের সদস্য সাদিয়া খাতুন বলেন, আমরা যখন কৃষকদের বই পড়ে শোনায়, তার আগে নিজেরা সেই বইটি ভালো করে পড়ি; তা না হলে তো আমরা সেটি পড়ে কৃষকদের বোঝাতে পারবো না। এদিক থেকে আমাদের উন্নয়নটা অনেক বেশি। আমরা পাঠ্যক্রমের বাইরেও অনেক বিষয়ে জানতে পারছি। আর সব থেকে বড় ব্যাপার হলো এগুলো আমরা শুধু পড়িই না, বরং তা আত্মস্থ করি। কেননা সেগুলো আমাদের আবার কৃষককে বোঝাতে হয়। অনেক সময় একটা বই পড়ার পরেই আমরা তা ভুলে যায়, কিন্তু এভাবে চর্চার ফলে আমরা সহজে ভুলি না। ফলে বিভিন্ন বিষয় খুব ভালোভাবে জানার মধ্য দিয়ে আমরা নিজেদের অন্যদের তুলনায় আরও দক্ষ করে তুলতে পারছি। এছাড়া সংগঠনের পক্ষ থেকে আমাদের কম্পিউটার প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়।

    কৃষকের বাতিঘরের স্বেচ্ছাসেবী মো. শোয়েব মল্লিক বলেন, আমি আগে কম্পিউটার চালাতে পারতাম না। এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার পর আমি কৃষকের বাতিঘরের সঙ্গে যুক্ত হয়। এরপর এখানে থেকে আমাকে ৬ মাসের কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। আমি এখন কম্পিউটারে দক্ষ। এখন নিজে একটা কম্পিউটার কিনে সংগঠনের কাজেও সহায়তা করি, অন্যদেরও কম্পিউটার শিখতে সাহায্য করি।

    কৃষকের বাতিঘর সংগঠনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিগুলির মধ্যে রয়েছে- কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, ইংরেজি ভাষা প্রশিক্ষণ, নেতৃত্ব প্রশিক্ষণ, উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থানমূলক দক্ষতা প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন বিষয়। আর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা কৃষি, ব্যবসা, এবং অন্যান্য ক্ষেত্রেও পেয়েছে কর্মসংস্থান।

    সংগঠনের কার্যক্রম নিয়ে মিরপুর উপজেলার সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. জামশেদ আলী বলেন, কৃষকের বাতিঘর সংগঠন আমাদের উপজেলায় জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও টেকশই কৃষিতে উদ্বুদ্ধের মাধ্যমে দক্ষ মানব সম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে। এই উদ্যোগটি অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বর্তমান সময়ে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিয়ে টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃষকের বাতিঘর সংগঠন এই লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সংগঠনটি বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে তরুণ শিক্ষার্থীদের জলবায়ু পরিবর্তন ও টেকসই কৃষি সম্পর্কে সচেতন করছে। এছাড়াও সংগঠনটি এলাকার শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে। আমি আশা করি, কৃষকের বাতিঘর সংগঠনের এই উদ্যোগ আমাদের উপজেলায় ব্যাপক প্রভাব ফেলবে।

    সার্বিক বিষয়ে কৃষকের বাতিঘরের উদ্যোক্তা হোসাইন মোহাম্মদ সাগর বলেন, কৃষকের বাতিঘরের কার্যক্রম কৃষকদের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এটি কৃষকদের ফসলের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। কৃষকদের প্রযুক্তি সহায়তা দিচ্ছে। একইসঙ্গে গ্রামে বসবাসকারী তরুণ শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। সংগঠনটি বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা, নেতৃত্ব, এবং কর্মসংস্থানমূলক দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে। কৃষকের বাতিঘর সংগঠনের উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের গ্রামীণ এলাকায় বসবাসকারী তরুণদের জন্য একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা। সংগঠনটি বিশ্বাস করে যে দক্ষ মানবসম্পদের মাধ্যমেই বাংলাদেশের গ্রামীণ এলাকার উন্নয়ন সম্ভব। সূত্রঃ দৈনিক আমাদেরসময়

  • খোকসায় ডলফিন হত্যায় যুবক আটক

    খোকসায় ডলফিন হত্যায় যুবক আটক

    কুষ্টিয়ার খোকসায় ডলফিন হত্যা করে ফেসবুক-টিকটক করার অপরাধে এক যুবককে আটক করেছেন থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে খোকসা কলেজ রোড থেকে অভিযুক্ত যুবককে আটক করে শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে সোপর্দ করা হয়েছে।

    অভিযুক্ত যুবক খোকসা উপজেলার আমবাড়িয়া পূর্বপাড়া গ্রামের আ. আওয়ালের ছেলে সাদ্দাম হোসেন (৩০)।

    জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে সাদ্দাম একটি ডলফিন পদ্মা নদী থেকে ধরে হত্যা করে সেটি কাঁধে নিয়ে ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করে।

    ঘটনাটি কুষ্টিয়া বনবিভাগের দৃষ্টিগোচর হওয়ায় বনবিভাগ কমকর্তা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে সাদ্দামের বিরুদ্ধে খোকসা থানায় মামলা করেন। থানা পুলিশ শুক্রবার রাতে খোকসা কলেজ রোড থেকে সাদ্দামকে আটক করে জেলহাজতে প্রেরণ করেন।

    খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মো. মঈদুল ইসলাম জানান, বন বিভাগ খোকসা থানায় অভিযোগ করে আমবাড়িয়ার সাদ্দাম নামে একটি ছেলে পদ্মা নদী থেকে ডলফিন ধরে এনে সেটি হত্যা করে টিকটক ভিডিও করেছিল। বন বিভাগ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পরে এটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করেছি এবং আসামিকে তাৎক্ষণিক আটক করা হয়েছে। ডলফিনটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। আদালতে আসামির রিমান্ডের আবেদন করেছি। ডলফিন উদ্ধারের কাজে আমরা তৎপর থাকব।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি বলেন, তাদের বাড়ির পাশ দিয়েই ডলফিনটি একজন ভ্যান চালক নিয়ে যাচ্ছিলেন। সে তার কাছ থেকে নিয়ে ভিডিওটি করেছেন। ভ্যানচালককে তিনি মুখ দেখলে চিনবেন। তবে ভ্যানচালকের নাম জানেন না বলে জানিয়েছে আসামি।

    বিডি/ আর/এনই/

  • পান তোলা ও পরিবহন খরচই উঠছে না

    পান তোলা ও পরিবহন খরচই উঠছে না

    কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পানের দাম কম হওয়ায় পানচাষিরা হতাশ। দাম অত্যন্ত কম ও খরচ অত্যধিক বেশির কারণে পান চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন প্রান্তিক কৃষক। ভেঙে ফেলছেন পানের বরজ। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ভেড়ামারা উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে প্রায় ৬৪৫ হেক্টর জমিতে পান চাষ হয়। যেখানে প্রতি বছরে ৭ হাজার মেট্রিক টন পান উৎপাদন হয়। তা ছাড়াও ব্রিটিশ আমল থেকে এই অঞ্চল পান চাষের জন্য প্রসিদ্ধ।

    উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন জুনিয়াদহ, ধরমপুর ও বাহাদুরপুরের প্রান্তিক পান চাষিদের দুঃখ দুর্দশার চিত্র ফুটে ওঠে। বিঘা প্রতি নতুন পান বরজে খরচ হয় ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা। যেখানে পান বিক্রি করে আসছে ১ লাখেরও কম। পান বরজের সরঞ্জামের দাম বেড়েছে পূর্বের চেয়ে তিনগুণ। পূর্বে যে শ্রমিকের দাম ছিল ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, বর্তমানে তা হয়েছে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা। তাই অনেকেই পান বরজ মেরামত না করে রেখে দিয়েছেন। দাম কম হওয়ায় কেউ আবার বরজের পান ভাঙছেন না। ঋণের দায়ে জর্জরিত কেউ কেউ বরজ ভেঙে অন্য চাষাবাদ করার মনস্থির করেছেন। বরজের ওপর ঋণ নিয়ে পরিশোধ করতে না পেরে অনেকে হয়েছেন এলাকা ছাড়া।

    উপজেলার বৃহত্তম হাট জগশ্বর পান হাটে গিয়ে দেখা যায়, ৫০ থেকে ২০০ টাকা বিড়ার পান বিক্রি হচ্ছে ৫ থেকে ৩০ টাকায়। খুব ভালো মানের পান বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা বিড়া। পান বিক্রি করতে আসা পানচাষি মো. রফি জানান, প্রতি বিড়া ৭ টাকায় বিক্রি করলাম, যা গত বছর করেছি ৯০ থেকে ১০০ টাকায়। পান ভাঙা আর যাতায়াত খরচই উঠল না। এ ব্যবসা আর হবে না। (এক বিড়া সমান ৮০টি)।

    বাহাদুরপুরের পানচাষি ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধা জমেলা খাতুন কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘৪০ বছরের পুরোনো পান বরজ আমার। না পারছি ভাঙতে, না পারছি রাখতে। পান বাজারে নিলে খরচের টাকাও ফিরে পাচ্ছি না।’

    জগশ্বর পানহাটের সাধারণ সম্পাদক মঈন উদ্দিন জানান, উৎপাদন বেশি ও রপ্তানি না থাকায় এ বছর অন্যান্য বছরের তুলনায় পানের দাম অনেক কম। কিন্তু শ্রমিক ও পান বরজের সরঞ্জামের দাম পূর্বের থেকে দুই থেকে তিনগুণ বেশি। সরকারি কোনো প্রণোদনা না থাকায় প্রান্তিক পানচাষিদের মধ্যে হাহাকার লক্ষ করছি। ভেড়ামারা উপজেলার (ভারপ্রাপ্ত) কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আশফাকুর রহমান কালবেলাকে জানান, দাম কম হওয়ায় পানচাষিদের বেহাল দশার বিষয়টি আমরা শুনেছি। পূর্বে মধ্যপ্রাচ্যসহ বেশ কিছু দেশে পান রপ্তানি হলেও এখন সেটা হচ্ছে না বললেই চলে। আপাতত পানচাষিদের সরকারের তরফ থেকে কোনো প্রণোদনার ব্যবস্থা নেই।

  • লাখো মানুষের ভিড়ে জমজমাট লালন উৎসব

    লাখো মানুষের ভিড়ে জমজমাট লালন উৎসব

    লাখো মানুষের উপস্থিতি আর বাউল সাধুদের মিলন মেলায় মুখর ছেঁউড়িয়ায় লালন সাঁইজির আখড়াবাড়ি। দেশ-বিদেশ থেকে ছুটে এসেছেন লালন অনুসারী সাধু-গুরুরা। তারা গাইছেন, সত্য বল দু-পথে চল ওরে আমার মন।

    লালন সাঁইজির ১৩৫তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে এবার জাতীয়ভাবে পালিত হচ্ছে লালন স্মরণ উৎসব। তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী দিনে শুক্রবার লালন সাঁইজির ওপর আলোচনায় অংশ নেন দেশ-বিদেশের সাহিত্য সমালোচক ও তাত্ত্বিকরা।

    অনুষ্ঠানের মুখ্য আলোচক ছিলেন গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক। গায়ত্রী চক্রবর্তী তার বক্তব্যে লালনকে বহুমাত্রিকভাবে উপস্থাপন করেন তার গানে গানে।

    অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজার ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার প্রমুখ।

    সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী উপস্থিত না হতে পারলেও পাঠান ভিডিও বক্তব্য। আলোচনা সভা শেষে প্রয়াত লালন সংগীত শিল্পী ফরিদা পারভিনের স্মরণে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

    তিন দিনের অনুষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে- আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং লালন সংগীতের আসর। প্রতিদিন গভীর রাত পর্যন্ত চলবে লালন গান।

    তিন দিনব্যাপী এ আয়োজনে আগেভাগেই ছেঁউড়িয়ায় জড়ো হয়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের লাখো মানুষ। এমন জনস্রোত আগে কখনো হয়নি বলে জানান বাউল-সাধুরা।

    কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক ও লালন একাডেমির সভাপতি আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন জানান, উৎসবকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

  • কুষ্টিয়ার দৌলতপুর: পদ্মার দুর্গম চরে সক্রিয় ডজনখানেক বাহিনী

    কুষ্টিয়ার দৌলতপুর: পদ্মার দুর্গম চরে সক্রিয় ডজনখানেক বাহিনী

    • চরে সক্রিয় কাকন, মণ্ডল, টুকু, সাইদ, লালচাঁদ, রাখি, কাইগি, রাজ্জাক ও বাহান্ন বাহিনী
    • জমি দখল, ফসল কেটে নেওয়া, চাঁদাবাজি, বালু উত্তোলন, মাদক ও অস্ত্র পাচারে জড়িত এসব বাহিনী
    • অনেকে বংশপরম্পরায় ধরেছেন বাহিনীর হাল। পুলিশের অভিযান শুরু। প্রথম দিনে গ্রেপ্তার নেই

    ডেস্ক নিউজ

    কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার পদ্মা নদীর দুর্গম চরাঞ্চল এবং ভারত সীমান্তঘেঁষা অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি পদ্মার চরে জমি দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ এবং ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলিতে তিনজন নিহতের ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। খোঁজ নিয়ে জানা যাচ্ছে, শুধু কাকন কিংবা মণ্ডল বাহিনী নয়; টুকু, সাইদ, লালচাঁদ, রাখি, কাইগি, রাজ্জাক ও বাহান্ন বাহিনীও সক্রিয় এই চরাঞ্চলে।

    রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ে এসব বাহিনী জমি দখল, ফসল কেটে নেওয়া, চাঁদাবাজি, বালু উত্তোলন, মাদক, অস্ত্র পাচারসহ নানা অপরাধে জড়িত। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব বাহিনী পদ্মার এমন দুর্গম চরে ‘সাম্রাজ্য’ গড়ে তুলেছে, যেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রবেশ সীমিত। রাজশাহী, নাটোর ও পাবনা জেলার দুর্গম চরাঞ্চলজুড়ে তাদের বিস্তার।

    সম্প্রতি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার পদ্মা নদীর দুর্গম চরে কাকন বাহিনী ও মণ্ডল গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের তিনজন নিহত হন। এরপর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। এ ঘটনায় করা মামলায় ‘কাকন বাহিনীর’ প্রধান কাকনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এরপর গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলা পুলিশের একাধিক ইউনিট শতাধিক সদস্য নিয়ে পদ্মার চরে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছে। তবে প্রথম দিনের অভিযানে কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। প্রশাসন জানিয়েছে, অভিযান অব্যাহত থাকবে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দৌলতপুরের পদ্মা চরাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে ডজনখানেক সন্ত্রাসী গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। তবে ২০ বছর আগে দুটি সন্ত্রাসী বাহিনীর উত্থান ঘটেছিল বিস্তৃত পদ্মার দুর্গম এই চরাঞ্চলে। তাদের ভাগ না দিয়ে কেউ চরের ফসল ঘরে তুলতে পারত না। এ নিয়ে দ্বন্দ্বে তাদের হাতে ওই সময় ৪১ জন খুন হয় বলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। তখন চরের মাটিতে পা দিতে গা ছমছম করত। দুই বাহিনীর নাম ছিল ‘পান্না বাহিনী’ ও ‘লালচাঁদ বাহিনী’। পান্নার ওস্তাদ ছিলেন এই কাকন। সূত্র জানায়, এ বছরের জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ‘কাকন বাহিনী’র বিরুদ্ধে ঈশ্বরদী, বাঘা, লালপুর ও দৌলতপুর থানায় মোট ছয়টি মামলা হয়েছে। বাহিনীর প্রধান কাকন পাবনার ঈশ্বরদী কলেজ রোডের বাসিন্দা হলেও তাঁর পৈতৃক নিবাস কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের মরিচা ইউনিয়নের মাজদিয়াড় গ্রামে।

    ১৯৯৪ সালে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি চাকরি করলেও ২০০৫ সালে পান্না নিহত হওয়ার পর ২০০৭ সালে সৌদি আরব থেকে ফিরে এসে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রচ্ছায়ায় বালুমহাল দখল ও নিয়ন্ত্রণ শুরু করেন। এর পর থেকে তিনি নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন করেন। বর্তমানে তাঁর বাহিনীতে প্রায় ৪০ জন সদস্য রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

    গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নইম উদ্দিন সেন্টুকে নিজ কার্যালয়ে গুলি করে হত্যার ঘটনায় আলোচনায় আসে টুকু বাহিনী। বাহিনীর প্রধান তরিকুল ইসলাম ওরফে টুকু ফিলিপনগর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর দলের সদস্য ২০ জনের বেশি। হত্যাকাণ্ডের পর টুকুসহ বেশ কয়েকজন সহযোগীর নামে মামলা হয়, যদিও আটকের পরে তাঁরা জামিনে মুক্তি পান।

    চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি রাতে মরিচা ইউনিয়নের বৈরাগীরচর মণ্ডলপাড়া এলাকায় রাজু আহমেদ (১৮) নামের এক যুবককে গুলি চালিয়ে হত্যা করে সাইদ বাহিনী। বাহিনীর প্রধান আবু সাঈদ মণ্ডল (৩৫) মরিচা ইউনিয়নের বৈরাগীরচর দক্ষিণ ভাঙ্গাপাড়া এলাকার ভাদু মণ্ডলের ছেলে। তাঁর বিরুদ্ধে দৌলতপুর থানায় ৯টির বেশি মামলা রয়েছে।

    ২০০৯ সালে লালচাঁদ বাহিনীর প্রধান লালচাঁদ নিহত হওয়ার পর তাঁর ভাই সুখচাঁদ দায়িত্ব নেন। তাঁরা ফিলিপনগর এলাকার বাসিন্দা।

    বাহিনীতে লালচাঁদের ছেলে রুবেলসহ একাধিক সদস্য সক্রিয় রয়েছেন। এ বাহিনীর বিরুদ্ধে মাদক, অস্ত্র ও ডাকাতির অভিযোগ রয়েছে।

    দৌলতপুর থানায় আলোচনায় থাকা আরেক বাহিনী ‘রাখি বাহিনী’র প্রধান রাকিবুল ইসলাম রাখি। তাঁর বিরুদ্ধে সাতটি মামলা রয়েছে। তাঁর বাড়ি ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড়ে। এ ছাড়া রয়েছে কাইগি বাহিনী, রাজ্জাক বাহিনী ও বাহান্ন বাহিনী।

    একাধিক গোয়েন্দা সূত্র বলছে, ৫ আগস্টের পর দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে বিপুল অস্ত্র দেশে ঢোকার তথ্য রয়েছে। জানা গেছে, তিন চালানে মোট প্রায় ২ হাজার আগ্নেয়াস্ত্র এসেছে দেশে।

    দুর্গম চরে অভিযান

    গত বৃহস্পতিবার কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ ১২০ জন সদস্য নিয়ে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ৭টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। তবে পুলিশ এই অভিযানে চরবাসী খুবই খুশি। এতে জনমনে স্বস্তি ফিরবে বলে তাঁরা আশা করছেন সেখানকার বাসিন্দারা।

    গতকাল শুক্রবার সকালে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এই অভিযান রাতেও চলবে। অভিযান শেষ হবে না। এটা যে শুধু আসামি ধরা, তা নয়। মানুষকে আশ্বস্ত করা হচ্ছে, সন্ত্রাসীদের আশ্রয় এই চরগুলোতে আর হবে না।’ সূত্রঃ আজকের পত্রিকা

  • নির্বাচন ঠেকানোর পাঁয়তারা করে লাভ হবে না : জুয়েল

    নির্বাচন ঠেকানোর পাঁয়তারা করে লাভ হবে না : জুয়েল

    কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ও ঢাকা উত্তর মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক শরিফ উদ্দিন জুয়েল বলেছেন, জনগণের ভোটই নির্ধারণ করবে দেশের নেতৃত্ব। নির্বাচন ঠেকানোর চেষ্টা বা বানচালের পাঁয়তারা করে কোনো লাভ হবে না।

    তিনি বলেন, নির্বাচন নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে, আর জনগণ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করবেন।

    শনিবার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় দৌলতপুর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের বোয়ালিয়া বাজার ও শেহালা এলাকায় বিএনপির দুটি আঞ্চলিক কার্যালয় উদ্বোধনের পর টানা দুটি উঠান বৈঠকে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন শরিফ উদ্দিন জুয়েল। এ সময় তিনি স্থানীয় নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জনগণের প্রত্যাশা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

    শরিফ উদ্দিন জুয়েল বলেন, জনগণ এখন অনেক সচেতন। তারা জানে, অরাজকতা বা ষড়যন্ত্র করে কোনো রাজনৈতিক দল টিকে থাকতে পারে না। দেশের মানুষ শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন চায়। তারা গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে চায়। তিনি আরও বলেন, যারা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করতে চাচ্ছে, তারা আসলে জনগণকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে।

    বৈঠকে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত রাষ্ট্র মেরামতের একটি দফা ৩১ দফা বাস্তবায়নে লিফলেট বিতরণ করেন। পাশাপাশি ৩১ দফা সুফল সাধারণ মানুষের মধ্যে তুলে ধরে তিনি ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

    স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, শরিফ উদ্দিন জুয়েল দীর্ঘদিন ধরে দৌলতপুরের মানুষের পাশে আছেন। তিনি যুবসমাজকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের বিশ্বাস, আসন্ন নির্বাচনে তিনি দৌলতপুরবাসীর আস্থা অর্জন করবেন।

    উঠান বৈঠক শেষে শরিফ উদ্দিন জুয়েল এলাকাবাসীর খোঁজখবর নেন ও তাদের বিভিন্ন সমস্যা শোনেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, বিএনপি থেকে যদি মনোনয়ন পাই, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে দৌলতপুরকে একটি আধুনিক, শিক্ষিত ও সমৃদ্ধ উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলবেন।

    স্থানীয় তরুণরা বলেন, শরিফ উদ্দিন জুয়েলের মতো নেতৃত্বই দেশের প্রয়োজন যিনি রাজনীতিকে জনগণের সেবার হাতিয়ার হিসেবে দেখেন এবং মাঠপর্যায়ে মানুষের সঙ্গে কাজ করতে জানেন।

    বৈঠকে যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা আসন্ন নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

  • কুষ্টিয়ায় রেলসেতুর নিচে নারীর লাশ, ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ

    কুষ্টিয়ায় রেলসেতুর নিচে নারীর লাশ, ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ

    কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে রেলসেতুর নিচ থেকে এক নারীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাঁর মাথায় আঘাতের ক্ষত রয়েছে। পুলিশ ও তাঁর স্বজনদের ধারণা, ধর্ষণের পর ওই নারীকে হত্যা করা হয়েছে।

    শনিবার (১নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়ন পরিষদসংলগ্ন রেলসেতুর নিচ থেকে ৫২ বছর বয়সী ওই নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়।

    পরে তাঁর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। নিহত নারী উপজেলার একটি গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর স্বামী ও সন্তান রয়েছে।

    জানা গেছে, এদিন ৬টার দিকে রেলসেতুর নিচে এক নারীর রক্তাক্ত লাশ দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে খবর পেয়ে ওই নারীর ছেলে এসে তাঁর লাশ শনাক্ত করে। বেলা ১১টার দিকে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।

    নিহত নারীর ছেলে বলেন, ‘মা মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। কয়েক দিন আগে তিনি বাড়ি থেকে বের হন। এরপর অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়নি। গত শুক্রবার সকালে গোয়ালন্দ রেলস্টেশনে মাকে দেখা গিয়েছিল বলে জানা গেছে। এরপর সেখানে গিয়ে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। সকালে লাশের সন্ধান পেয়ে কুমারখালী এসে মাকে মৃত অবস্থায় পেয়েছি। তাঁর মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ধর্ষণের পর হত্যা করা হতে পারে বলে পুলিশের সন্দেহ। সে জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। মামলার বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।’

    কুমারখালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রশিদ বলেন, ‘লাশ উদ্ধার করা নারীর মাথায় আঘাতের ক্ষত রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ধর্ষণের পর তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। তবে এ বিষয়ে এখনো মামলা হয়নি।’ সূত্রঃ দৈনিক আজকের পত্রিকা

    বিডি/ এআর/ নিইআর/

  • কুষ্টিয়ায় হেরোইনসহ নারী আটক

    কুষ্টিয়ায় হেরোইনসহ নারী আটক

    কুষ্টিয়ায় র‌্যাবের অভিযানে হেরোইনসহ এক নারীকে আটক করা হয়েছে ।

    গোপন সংবাদের প্রেক্ষিতে গতকাল সকালে র‌্যাব-১২, সিপিসি-১, কুষ্টিয়া ক্যাম্পের পুলিশ শহরের ফুলতলা এলাকায় যৌথ অভিযান চালায়। এসময় তার কাছ থেকে ১’শ ২০ পুরিয়া (১২ গ্রাম) হেরোইন ও নগত ১ লাখ ২ হাজার ৭’শ ৫৫ টাকা সহ তাকে আটক করে।

    আটক লতা খাতুন ওরফে রিয়া (২৬), শহেরর কুঠিফাড়া এলাকার জুয়েল বিশ্বাসের স্ত্রী।

    পরে তাকে কুষ্টিয়া জেলার সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়।