অপরাধ ও বিচার

  • ধর্ষণের শিকার হচ্ছে মৃত নারীও, নিরাপত্তা কোথায়?

    ধর্ষণের শিকার হচ্ছে মৃত নারীও, নিরাপত্তা কোথায়?

    মৃত্যুর পর মানুষের শেষ ঠিকানা কবর কিংবা চিতা। মৃত মানুষকে সব সমাজেই সম্মানের সাথে বিদায় দেওয়া হয়। এটাই সভ্যতার রীতি।

    কিন্তু মৃত্যুর পরও যদি একটা মরদেহ কারও যৌন লালসার শিকার হয়, তাহলে মরদেহের নিরাপত্তা কোথায়? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে ‘আলাপ’এর অনুসন্ধানে এমন কিছু তথ্য উঠে এসেছে, যা অস্বস্তিকর, ভয়াবহ এবং বিকৃত মানসিকতার নিকৃষ্ট দৃষ্টান্ত।

    বিষয়টার নাম নেক্রোফিলিয়া। বাংলায় বলা হয় মৃতকামিতা, মানে মৃতদেহের প্রতি যৌন আকর্ষণ। একজন নারীর মরদেহ মর্গে পড়ে আছে আর এক বা একাধিক লোক তার সাথে যৌনাচার করছে!

    ব্যাপারটা ভাবতেই রাগে শরীর জ্বলে ওঠে, গা ঘিনঘিন করে। কিন্তু এটা সম্ভব, এবং বাংলাদেশেই ঘটছে। এমন অভিযোগ আগেও উঠেছে, গ্রেফতারও হয়েছে ।

    পৃথিবীর এক কুখ্যাত অপরাধী

    বাংলাদেশের ঘটনায় যাওয়ার আগে একজন কুখ্যাত অপরাধীর কথা জেনে নিই, যিনি নেক্রোফিলিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন।

    তার নাম জেফরি ডাহমার, বিশ্ব তাকে চেনে ‘মিলওয়াকি ক্যানিবাল’ নামে। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম কুখ্যাত সিরিয়াল কিলার। ১৯৭৮ থেকে ১৯৯১ সালের মধ্যে তিনি ১৭ জন তরুণ ও কিশোরকে হত্যা করেন।

    জেফরির অপরাধের সবচেয়ে ভয়াবহ দিকগুলো একটি ছিলো তীব্র নেক্রোফিলিয়া। হত্যা করেই ক্ষান্ত হতেন না, মৃতদেহের সাথে যৌনকর্মে লিপ্ত হতেন আর লাশের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংরক্ষণ করে নিজের বাসাতেই রেখে দিতেন।

    জেফরির নেক্রোফিলিয়া পেছনে ছিলো চরম একাকিত্ব, ছেড়ে যাওয়ার ভয় ও নিয়ন্ত্রণের তীব্র আকাঙ্ক্ষা। তিনি এমন সঙ্গী খুঁজতেন যে তাকে কখনো ছেড়ে যাবে না, তর্ক করবে না এবং পুরোপুরি তার নিয়ন্ত্রণে থাকবে। জীবিত কারো পক্ষে এভাবে নিজেকে সঁপে দেওয়া সম্ভব না। তাই তিনি হত্যা করতেন আর মৃতদেহের ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ খাটাতেন।

    পদ্ধতিটা ছিল এমন: প্রথমে ভুক্তভোগীদেরকে অচেতন করতেন, পানীয়ের সাথে উচ্চমাত্রার ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দিতেন, তারপর শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলতেন। তারপর দিনের পর দিন মৃতদেহের সাথে যৌনকর্ম করতেন। লাশ যাতে পচে না যায়, সেজন্য কখনো কখনো ফ্রিজে রেখে দিতেন।

    শেষ পর্যন্ত পুলিশ জেফরিকে ধরে জেলে পাঠায়। ১৯৯৪ সালে কারাগারের ভেতরেই এক কৃষ্ণাঙ্গ কয়েদি তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলে।

    জেফরির মতো আরো বহু মানুষ আছে পৃথিবীতে। কেউ ধরা পড়লে কিছুদিন আলোচনা হয়, তারপর অন্য ঘটনার আড়ালে চাপা পড়ে।

    ঢাকার এক মধ্যরাত

    ২০২৬ সালের জানুয়ারী মাস। ঢাকা উত্তর সিটির একটি বাসায় মধ্যরাতে পুলিশ এসে হাজির। তাদের কাছে খবর ছিলো, ওই বাসায় থাকা এক নারীর কোন খোঁজ মিলছে না। পুলিশের উপস্থিতিতে ভেঙ্গে ফেলা হলো ঘরের দরজা। ভেতরে পাওয়া গেল সেই নারীর মৃতদেহ।

    তার মৃত্যু কীভাবে হয়েছিলো সেটি এই গল্পের বিষয় নয়। গল্প হলো লাশ মর্গে নেবার পর কী ঘটেছিলো।

    সে রাতে পুলিশ মরদেহ উদ্ধারের পর হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়ে দেয়। খুব জরুরী বা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছাড়া রাতে মর্গে ময়নাতদন্ত হয় না। তাই ময়নাতদন্ত না করে মরদেহটি রেখে দেয়া হয় হিমঘরে।

    এরপর নিয়ম অনুযায়ী ময়নাতদন্ত শেষে প্রতিবেদন এলো। তাতে বলা হলো, সেই নারীর মৃত্যু ছিলো স্বাভাবিক, মানে হত্যাকাণ্ড বা আত্মহত্যা নয়। এ পর্যন্ত সব ঠিকঠাকই ছিলো।

    কিন্তু একই সাথে মরদেহটি নিয়ে হাসপাতালটির ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসকদের মধ্যে কিছু সন্দেহ দেখা দেয়। অনুসন্ধানের মূল পর্বের শুরু এখান থেকেই।

    সন্দেহের কারণে মরদেহের ভিসেরাসহ প্রয়োজনীয় কিছু নমুনা পাঠানো হয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ, সিআইডি’র রাসায়নিক পরীক্ষাগারে। আর সেখানেই ধরা পড়ে, ওই নারীর মরদেহে শুক্রাণুর উপস্থিতি।

    মৃতদেহে শুক্রাণু এলো কিভাবে? প্রশ্নটি হাসপাতালের ফরেনসিক চিকিৎসকদের মাথাব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কারণ মরদেহটি ছিল হাসপাতালের মর্গে। তাহলে মর্গে কী করে এই ঘটনা ঘটলো?

    আর এটি একবারের ঘটনা নয়। এর কয়েকমাস আগেও এমন ঘটনা চিকিৎসকদের নজরে এসেছিলো।

    একই মর্গে আরেকটি ঘটনা

    ২০২৫ সালের নভেম্বরে ঢাকাতে এক নারীর অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্তের জন্য তারও মরদেহ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে আনা হয়। যতদূর জানা যায়, সেদিন ময়নাতদন্ত শেষ হয়নি বলে লাশ মর্গেই রাখা ছিলো।

    ময়নাতদন্তের সময় ফরেনসিক চিকিৎসকদের চোখে অস্বাভাবিক কিছু ধরা পরে। সিআইডি’র ল্যাব পরীক্ষায় ওই নারীর মরদেহে একাধিক পুরুষের শুক্রাণু মেলে। ওই প্রতিবেদনের কপি আলাপ-এর কাছে রয়েছে।

    শুধু এই দুটো নয়, আরো তিনটি ঘটনার নথি বিশ্লেষণ করে, ফরেনসিক চিকিৎসক আর সংশ্লিষ্ট অন্যদের সঙ্গে কথা বলে সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে এ ধরনের যৌনচারের কথা নিশ্চিত হওয়া গেছে।

    একবার নিজেকে এসব মৃত নারীদের স্বজনদের জায়গায় ভাবুন। ক্ষোভ, রাগ আর কষ্টের সীমা থাকবে না, অথচ কিছু করার নেই। সরকারি হাসপাতালের মর্গে মৃত নারীর সাথে কেউ এমন কিছু করবে, এ আপনার কল্পনারও বাইরে।

    ফরেনসিক চিকিৎসকদের চোখ কপালে

    সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় হাসপাতালগুলোরও একটি। এখানকার ঘটনাগুলো থেকে দেশের সব মর্গে মৃতদেহের সম্মান ও নিরাপত্তার প্রশ্নটি সামনে আসে। এসব ঘটনা যখন প্রকাশিত হয় তখন ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসকরাও বিব্রত ও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

    নাম পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে অন্তত তিনজন চিকিৎসক সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলেছেন। তারা জানান, গত এক বছরে ময়নতদন্তের সময় বেশ কয়জন নারীর মরদেহে তারা সন্দেহজনক বস্তুর উপস্থিতি পেয়েছেন। তাদের মতে, সবকিছু বিবেচনা করলে এটা বুঝতে বাকি থাকে না যে এই মর্গেই লাশের সঙ্গে যৌনাচার হয়েছে।

    এমনকি নানা সময়ে গুরুত্বপূর্ণ আলামত, কাগজপত্র খোয়া যাওয়ার ঘটনাও তাদের নজরে এসেছে। তারা সংশ্লিষ্ট বিভাগ আর কর্তৃপক্ষকেও জানিয়েছেন। এ কারণে কেউ কেউ তাদের ওপর ক্ষিপ্তও হয়েছে ।

    অভিযোগ রয়েছে, আগের মর্গ প্রধানের লোকজন ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ঘুরিয়ে ‍দিতেও পরোক্ষভাবে চাপ দিয়েছে। একাধিক চিকিৎসক এটাও বলেছেন, ফরেনসিক বিভাগের দুজন মেডিক্যাল অফিসার মর্গের ওই সিন্ডিকেটকে সরাসরি ইন্ধন দিচ্ছিলেন।

    কলেজ কর্তৃপক্ষ যা বলছে

    মৃতকামিতার এসব ঘটনায় কলেজ প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। কারণ, একই ঘটনা আগেও ঘটেছে এখানে।

    লাশকাটা ঘরে দিনে একাধিক মরদেহের পোস্টমর্টেম হয়। তবে মরদেহগুলো হাসপাতালে আসা মাত্রই পোস্টমর্টেম করা হয় না। মর্গে পৌঁছানোর পর একটা নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। প্রক্রিয়া যত দ্রুত শেষ হয়, পোস্টমর্টেমও তত দ্রুত হয়। দেরি হলে মরদেহ হিমঘরে রাখা হয়। পরিচয়হীন, বেওয়ারিশ বা নানা জটিলতার কারণে কিছু মরদেহ দিনের পর দিন হিমঘরে পড়ে থাকে। আর মৃতকামিতার এই অপরাধগুলো ঘটে মর্গের ভেতরেই।

    সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডা. অধ্যাপক মো. আঈনুল ইসলাম খান বলেন, ফরেনসিক চিকিৎসকদের কাছ থেকে মরদেহের সঙ্গে অস্বাভাবিক যৌনাচারের তথ্য পাওয়া যাচ্ছিলো। এরপর তদন্ত শুরু করে একটি প্রতিনিধিদল।

    প্রথমেই তদন্তকারীরা খোঁজ করেন সিসিটিভি ফুটেজের। কিন্তু সেখানে কিছু পাওয়া যায়নি। ঘটনার সময়ের কোনো ফুটেজ নেই, কারণ কেননা অপরাধীরা আগেই ক্যামেরা নষ্ট করে ফেলেছিলো।

    প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হলেও নেক্রোফিলিয়ার ঘটনাগুলো আরো সূক্ষ্মভাবে খতিয়ে সুক্ষ করে দেখা হচ্ছে বলে জানান কলেজের অধ্যক্ষ। তিনি বলেন, এই গুরুতর অভিযোগে মর্গ সহকারী শান্তকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তার আগে মর্গ ইনচার্জ যতনকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মিরপুরে ডেন্টাল কলেজে ফিরিয়ে নিয়েছে। তার সময়েই মর্গ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পান শান্ত। তদন্তে উঠে এসেছে যতন ও শান্ত দায়িত্বে থাকার সময়ই এসব ঘটনা ঘটেছে।

    অধ্যক্ষ আইনুল নিজেই অভিযোগ করে বলেন, “এখানে একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে।”

    ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের অন্তত পাঁচ জন চিকিৎসক অনেক দিন ধরেই কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করে আসছিলেন যে, এই মর্গ ঘিরে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে।

    সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত প্রধান ডা. নাশাত জাবীন বলেন, ময়নাতদন্তকারীদের অভিযোগগুলো তারা গুরুত্ব দিয়ে কাজ শুরু করেন। একটি দুটি নয়, বেশ কয়েকটি নারী মরদেহের সঙ্গে মৃত্যু-পরবর্তী যৌনাচার বা নেক্রোফিলিয়ার ঘটনা স্পষ্ট হতে থাকে। তিনি বলেন, এসব ঘটনা কর্তৃপক্ষের আড়ালে করা হচ্ছিল।

    অনুসন্ধানে যা পাওয়া গিয়েছে

    মর্গের ভেতরে সিসিটিভি ক্যামেরা নষ্ট করে ফেলায় ওই সময়ের কোনো ফুটেজ পাওয়া যায়নি। তবে বাইরের ক্যামেরা থেকে মর্গ সহকারী শান্তর কিছু স্থিরচিত্র পাওয়া গেছে। সেগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে ঘটনার আগে শান্ত মর্গে ঢুকেছেন এবং বের হয়েছেন। হাসপাতালের প্রাথমিক অনুসন্ধান দল এটি নিশ্চিত করেছে, আর তাই তাকে প্রধান সন্দেহভাজনের তালিকায় রেখেছে ।

    ডা. নাশাত জানান, তাকে ও মর্গের প্রধানকে সরে যেতে হুমকি দেওয়া হয়েছে। পরে তারা শেরেবাংলা নগর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন।

    শান্ত সাবেক মর্গ প্রধান যতন লালের সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা নিশ্চিত হয়েছেন, ঘটনার ওই রাতে শান্তই মর্গে ছিলেন।

    অনুসন্ধান দলের একজন বলেন, তারা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছেন যে ওই রাতে ওই সময়ে মর্গে নতুন কোনো মরদেহ রিসিভ করা হয়নি।

    খোঁজখবর নিয়ে দলের সন্দেহ আরও দুজনের ওপর পড়ে। একজন তখনকার মর্গ প্রধান, আরেকজন লাশবাহী ফ্রিজিং গাড়ির এক চালক। অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, মর্গ ও ফরেনসিক বিভাগ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু আলামত ও নথি খোয়া গেছে।

    একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অনুসন্ধান শুরু করার পরপরই শান্ত তা টের পেয়ে যান। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আগের মর্গ প্রধানকে সরিয়ে নতুন একজনকে ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ করে। কিন্তু শান্ত গং নতুন ভারপ্রাপ্ত প্রধানকে হুমকি-ধমকি দিতে শুরু করে, দায়িত্ব ছেড়ে দিতেও বলে।

    যতন লাল ও শান্ত যা বলছেন

    সোহরাওয়ার্দীর মর্গের সাবেক ইনচার্জ যতন লালের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নেক্রোফিলিয়া ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এরপর তাকে আবার ফিরিয়ে নেওয়া হয় মিরপুরে ঢাকা ডেন্টাল কলেজে।

    যতন লাল দাবি করেন, তার দায়িত্বকালে মর্গে যা ঘটেছে বলা হচ্ছে, সেগুলো আসলে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। শান্তকে মর্গের সহকারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিলো তার সময়েই ।

    মূল সন্দেহভাজন শান্তকে পাওয়া যায় কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায়। তিনি দাবি করেন, যতন লাল ছুটিতে থাকায় তিনি ওই সময় দায়িত্বে ছিলেন। মর্গের বাইরের ছবি নিয়ে তার ব্যাখ্যা, লাশ আসলে তা গ্রহণ করতেই ভিতর বাইরে আসা-যাওয়া করেছিলেন তিনি।

    তিনি আরও বলেন, সেখানে রাতে “ভৈৗতিক কিছু থাকায়” এক জায়গায় থাকা সম্ভব হয় না। মরদেহের সঙ্গে যৌনাচারে জড়িত নন বলেও দাবি করেন শান্ত।

    আগের ঘটনা: ২০১৯ সাল

    এবার একটু পেছনে যাওয়া যাক। তাহলে যতন লাল সম্পর্কে আরো তথ্য জানা যাবে।

    ২০১৯ সালে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গের সহকারী ছিলেন মুন্না ভগত। একাধিক মৃত নারীর সঙ্গে যৌনাচারের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। তদন্তে তার জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়। মুন্না ভগত হলেন যতন লালের ভাগ্নে আর তার নিয়োগও হয়েছিলো তার হাত ধরেই।

    ওই ঘটনায় যতন লালের বিরুদ্ধেও অভিযোগ ওঠে। গ্রেফতার করা হয় তাকে।কারাভোগ করে এখন জামিনে রয়েছেন যতন লাল। কিন্তু ভাগ্নে মুন্না ভগত এখনো কারাগারে।

    ২০১৯ সালের ওই ঘটনাই বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে আসা নেক্রোফিলিয়ার ঘটনা, যা নিয়ে তখন বেশ আলোড়ন হয়েছিল।

    সিন্ডিকেট আতঙ্কে বর্তমান মর্গ ইনচার্জ

    জানু লাল ওরফে জীবন এখন সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গের প্রধান। আগেও তিনি একই কাজ করতেন। তিনিও মনে করেব এই হাসপাতালে মরদেহের সঙ্গে যৌনাচার করা হয়, এমন একটি চক্র থাকতে পারে।

    জীবন জানান ওই সিন্ডিকেটের লোকজন ষড়যন্ত্র করে আগে তাকে এই হাসপাতাল থেকে সরিয়ে দিয়েছিলো। তার অভিযোগ এই ঘটনার নেপথ্যে ছিলো যতন লাল নিজেই। এর কারণ হিসাবে জীবন জানান, সেসময় নারীদের মরদেহ গ্রহণের পর এক রকম থাকতো,আর সকালে সেই দেহটি অন্যরকম লাগতো। প্রায়ই এমনটা হওয়ায় সন্দেহ হয় মর্গ ইনচার্জ যতন লালকে। তিনি আরো জানান, তার কথায় কান দিতেন না যতন লাল।

    “আমাকে ফোন ছাড়াও রাস্তায় চলাচলের সময় অপরিচিত মানুষ এখান থেকে সরে যেতে হুমকি দিচ্ছেন,” বলে জানান যতন লাল।

    অন্যান্য মর্গেও একই ঘটনা

    সিআইডির কর্মকর্তারা বলছেন, ২০২১ সালে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গেও মৃত নারীর সঙ্গে যৌনাচারের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিলো। ২০২৫ সালে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে এক তরুণীর মরদেহের সঙ্গেও যৌনাচারের অভিযোগে লাশ বাহক আবু সাঈদকে গ্রেফতার করেছিলো পুলিশ। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছিলো আবু সাঈদ।

    সিআইডি’র মিডিয়া বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার জসীমউদ্দিন খান জানিয়েছেন, সোহরাওয়ার্দীর মর্গের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর তদন্তও চলমান রয়েছে। তিনি সম্প্রতি বদলি হয়েছেন। দায়িত্বে থাকার সময় এই বক্তব্য নেওয়া হয়েছে।

    তবে ঘটনার স্পর্শকাতরতা বিবেচনায় খুব বেশি তথ্য দিতে চায়নি সিআইডি।

    বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন ও আইনে কী আছে

    মনরোগ বিশেষজ্ঞ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ডা. মো. আজিজুল ইসলাম আলাপ-কে বলেন, নেক্রোফিলিয়া একটি ভয়াবহ রোগ। যার চিকিৎসা বাংলাদেশে এখনো তেমন একটা নেই।

    এসব রোগীর ক্ষেত্রে মানসিক চিকিৎসার বিকল্প নেই বলে মনে করেন তিনি।

    সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. কাজী জাহেদ ইকবাল বলেন, বাংলাদেশে প্রচলিত আইনে নেক্রোফিলিয়া সংক্রান্ত সরাসরি কোনো সুনির্দিষ্ট আইন বা শাস্তির বিধান নেই। সুনির্দিষ্ট আইনের অনুপস্থিতির কারণে বাংলাদেশে এ ধরনের অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এনিয়ে দেশের আইনবিদ ও মানবাধিকার কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে দণ্ডবিধি সংশোধনের দাবি জানিয়ে আসছেন। নতুন আইন না করেও ধারা সংশোধনের মাধ্যমে নেক্রোফিলিয়ার অপরাধে সাজা দেওয়া যেতে পারে বলে মত দেন তিনি।

    আর নেক্রোফিলিয়ার ঘটনা বাংলাদেশে কয়েকবার সামনে আসায় নারী মরদেহের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক। তিনি মনে করেন, এমন ভয়ংকর ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা না করে অভিযুক্তদের আইনের কাঠামোর মধ্যে এনে বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি বলেন,নেক্রোফিলিয়ার অপরাধে সুস্পষ্ট আইন না থাকায় নারী মৃতদেহের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে।

    মৃত্যুর পর কেউ আর প্রতিবাদ করতে পারে না। তাই মরদেহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্র, সমাজ, এবং আমাদের ।

    সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গ ঘিরে যেসব অভিযোগ উঠছে, তাতে সেই নিরাপত্তা নিয়েই এখন তৈরি হয়েছে বড় প্রশ্ন। ২০১৯ সালের ঘটনা থেকে শুরু, সাম্প্রতিক অভিযোগ, বারবার একই ধরনের ঘটনা সামনে আসা, এগুলো শুধু কোনো একজনের বিকৃত আচরণের ব্যাপার না। এর সঙ্গে মর্গের ব্যবস্থাপনা, নজরদারি, জবাবদিহি, তদন্ত আর শাস্তির প্রশ্নও জড়িয়ে আছে।

    অভিযোগগুলোর সত্যি কি-না তা নির্ধারণ করবে আদালত। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, মরদেহ নিরাপদ রাখার মতো একটি কার্যকর ব্যবস্থা রাষ্ট্রকেই নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে এই অপরাধের জন্য আইনি কাঠামো স্পষ্ট করা দরকার, আর অপরাধ প্রমাণিত হলে কঠোর বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।

    সুত্র: আলাপ

  • আওয়ামী আমলে উন্নয়নের নামে ২৮ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি

    আওয়ামী আমলে উন্নয়নের নামে ২৮ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি

    উন্নয়ন প্রকল্প, সড়ক-কালভার্ট নির্মাণ, সরকারি নিয়োগ, ঠিকাদারি বিল, ভ্যাট-কর আদায় থেকে শুরু করে বাজার ও মার্কেটের ভাড়া—স্থানীয় সরকার খাতের এমন ৬৬টি ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে সরকারি তদন্তে।

    গত ১৭ বছরে এসব খাতে ২৭ হাজার ৮৫৯ কোটি টাকার অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের তথ্য পেয়েছে তদন্ত কমিটি। অধিকতর তদন্তের জন্য প্রতিবেদনটি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠানো হয়েছে।

    উন্নয়নের নামে সরকারি অর্থ ব্যয়ের নানা অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে স্থানীয় সরকার বিভাগের তদন্ত প্রতিবেদনে। আওয়ামী লীগ সরকারের টানা সাড়ে ১৫ বছর এবং পরবর্তী সময়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যালোচনা করে তৈরি এ প্রতিবেদনে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও ঢাকা ওয়াসার বিভিন্ন কার্যক্রমের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

    ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৬৬টি খাতে অনিয়মের এসব তথ্য পাওয়া যায়। প্রকল্পের অর্থ ব্যবহারে অসংগতি, সরকারি কোষাগারে ভ্যাট-কর জমা না দেওয়া, নির্মাণকাজের মান যাচাই ছাড়াই বিল পরিশোধ, নিয়োগে অনিয়ম এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো বিষয় রয়েছে তদন্ত প্রতিবেদনে।

    গত ১৯ অক্টোবর স্থানীয় সরকার বিভাগের পক্ষ থেকে অধিকতর নিরপেক্ষ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের জন্য প্রতিবেদনটি দুদকে পাঠানো হয়। প্রতিবেদনে বিভিন্ন ঘটনায় আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখ করার পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

    পিরোজপুরে প্রকল্পে ৬ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির তথ্য

    তদন্ত প্রতিবেদনের উল্লেখযোগ্য অভিযোগগুলোর একটি পিরোজপুরে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ঘিরে। এসব প্রকল্পে ৬ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির তথ্য উল্লেখ করেছে তদন্ত কমিটি।

    এ ছাড়া প্রকল্পের অর্থ ব্যয়, মোটরযান কেনা ও মেরামত, অনুমোদিত জনবল কাঠামোর বাইরে বেতন-ভাতা প্রদান এবং সড়ক ও কালভার্ট নির্মাণেও বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে।

    প্রতিবেদনে প্রকল্পের অর্থ ব্যয় ও তিনটি মোটরযান-সংক্রান্ত ঘটনায় ১১ কোটি ৬০ লাখ টাকা, গাড়ি মেরামতের অর্থ চালকের ব্যাংক হিসাবে পরিশোধের ঘটনায় ২৫ লাখ ৮৮ হাজার টাকা এবং অনুমোদিত জনবল কাঠামোর বাইরে বেতন-ভাতার ক্ষেত্রে ৪৮ কোটি ১০ লাখ টাকার অনিয়মের কথা বলা হয়েছে।

    এ ছাড়া সরকারি নকশা অনুসরণ না করে সড়ক নির্মাণ এবং পাঁচটি কালভার্ট নির্মাণ না করেও ব্যয় দেখানোর অভিযোগও রয়েছে।

    সিটি করপোরেশনে রাজস্ব ও ভাড়া আদায়ে অনিয়ম

    ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ, গাজীপুর, বরিশাল, রংপুর, খুলনা এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন কার্যক্রমে অনিয়মের তথ্য পেয়েছে তদন্ত কমিটি। এসবের মধ্যে রয়েছে রাজস্ব আদায়, ভ্যাট-কর জমা, ঠিকাদারি বিল, নির্মাণকাজ, বাজার ও মার্কেট বরাদ্দ এবং নিয়োগসংক্রান্ত বিষয়।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২০১৬-১৭ অর্থবছরে রোড কাটিং ফি থেকে আদায় করা অর্থের ওপর প্রযোজ্য ভ্যাট সরকারি কোষাগারে জমা না দেওয়ায় দণ্ডসুদসহ ২ কোটি ৩২ লাখ টাকার বেশি আর্থিক ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে। একই সিটি করপোরেশনের ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ অর্থবছরের আরও কিছু কাজ ও সেবার বিপরীতে ভ্যাট কর্তন এবং জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে ৯ কোটি ১৫ লাখ টাকার বেশি আর্থিক ক্ষতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

    এ ছাড়া ঢাকা দক্ষিণ, গাজীপুর, রংপুর ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের ২০১৮-১৯ অর্থবছরের নির্মাণকাজে নির্মাণসামগ্রী পরীক্ষা না করেই ৬ কোটি ৭৯ লাখ ৪৮ হাজার ২২৯ টাকার বিল পরিশোধের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

    বাজার ও মার্কেটের ভাড়া থেকে শতকোটি টাকার অনিয়ম

    সিটি করপোরেশনগুলোর বাজার, মার্কেট ও বিভিন্ন স্থাপনার ভাড়া আদায় নিয়েও বড় অঙ্কের অনিয়মের তথ্য রয়েছে তদন্ত প্রতিবেদনে।

    ঢাকা দক্ষিণ, গাজীপুর, রংপুর, বরিশাল ও খুলনা সিটি করপোরেশনের মার্কেট বা স্থাপনার ভাড়া আদায়সংক্রান্ত ঘটনায় ১৮৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা আত্মসাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া ট্রেড লাইসেন্স ফি আদায় না করার ঘটনায় ১১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা এবং কমিউনিটি সেন্টার ও মার্কেটের দোকানভাড়া আদায় না করার ঘটনায় ৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকার অনিয়মের তথ্য রয়েছে।

    রংপুর সিটি করপোরেশনে অর্থবছর শেষে প্রকল্পের অব্যবহৃত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত না দিয়ে অন্য তহবিলে স্থানান্তরের ঘটনাও তদন্তে উঠে এসেছে। এ ক্ষেত্রে ২০ কোটি ৫ লাখ টাকা স্থানান্তরের তথ্য উল্লেখ করে একে আর্থিক অনিয়ম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

    সাবেক মেয়রদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

    গাজীপুরের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে ৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর ও সিটি করপোরেশনের প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও সম্পদসংক্রান্ত ৬৬ কোটি ৬৬ লাখ টাকার অনিয়মের বিষয়ও তুলে ধরা হয়েছে।

    বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে ৩০০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগও তদন্ত প্রতিবেদনে তালিকাভুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের মেয়াদকালে নিয়োগ-বাণিজ্য ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এবং রংপুর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন কার্যক্রম ও বাজার ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।ত

    বে এসব অভিযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায় চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করতে পৃথক তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া প্রয়োজন।

    জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলেও কোটি কোটি টাকার অনিয়ম

    জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্পেও অনিয়মের তথ্য পেয়েছে তদন্ত কমিটি। কুমিল্লা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ নসরুলের বিরুদ্ধে ৬০ কোটি টাকার টয়লেট নির্মাণ প্রকল্পে অনিয়মের বিষয়টি প্রতিবেদনে রয়েছে। এ ঘটনায় অধিকতর তদন্তের পাশাপাশি বিভাগীয় ও ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

    পানির গুণগতমান পরীক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ প্রকল্পে কেনাকাটা, দরপত্র ও বিল পরিশোধ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগও উঠে এসেছে। এ প্রকল্পে ২৪ কোটি টাকা বিল পরিশোধে অনিয়ম পেয়েছে তদন্ত কমিটি। এ ছাড়া জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সাবেক প্রধান প্রকৌ

    সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে ৫৮ কোটি টাকার অনিয়মের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

    ঠিকাদারদের জরিমানা আদায়েও অনিয়ম

    প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি-পিইডিপি-৩-এর অর্থ ব্যবহারে প্রায় ৫৮ কোটি টাকার অনিয়মের তথ্য রয়েছে প্রতিবেদনে। তদন্ত কমিটির তথ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না করলেও শতাধিক ঠিকাদারের কাছ থেকে বিলম্বজনিত জরিমানা আদায় করা হয়নি।

    কিছু ক্ষেত্রে কাজ শেষ করতে দেরি হওয়ার পরও জরিমানার বড় অংশ মওকুফ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে দায় নির্ধারণ ও আদায়যোগ্য অর্থের পরিমাণ নিশ্চিত করতে অধিকতর তদন্তের সুপারিশ করা হয়েছে।

    দায়ীদের শনাক্তে অধিকতর তদন্তের সুপারিশ

    স্থানীয় সরকার বিভাগের তদন্ত কমিটি বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার অভিযোগপত্র, প্রকল্পের অডিট প্রতিবেদন, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের নিরীক্ষা প্রতিবেদন, সংশ্লিষ্ট নথি এবং পূর্ববর্তী তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরি করেছে।

    প্রতিবেদনে বিভিন্ন খাতে আর্থিক অনিয়মের পরিমাণ তুলে ধরার পাশাপাশি দুদকের মাধ্যমে অধিকতর তদন্ত, বিভাগীয় ব্যবস্থা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

    তবে তদন্ত প্রতিবেদনে অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ উঠে আসা মানেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অপরাধ আদালতে প্রমাণিত হওয়া নয়। অভিযোগগুলোর সত্যতা, দায়ী ব্যক্তি এবং অর্থের প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে পরবর্তী তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ।

  • সরকারি চাকরি: ৯ মাসে আটক, জেল ৩১৯ ভুয়া পরীক্ষার্থীর

    সরকারি চাকরি: ৯ মাসে আটক, জেল ৩১৯ ভুয়া পরীক্ষার্থীর

    চাকরির জন্য আবেদন করেন একজন, আর নিয়োগের পরীক্ষায় বসেন অন্যজন। সরকারি নিয়োগে এমন ভুয়া পরীক্ষার্থীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। গত ৯ মাসে রাজধানীতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ পরীক্ষার সময় ভুয়া পরীক্ষার্থী হিসেবে ধরা পড়েছেন ৩ শতাধিক। তাঁদের তাৎক্ষণিক সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। চাকরির পরীক্ষায় এমন প্রতারণার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

    সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ বি এম আলতাফ হোসেন বলেন, ‘নৈতিক অবক্ষয়ের কারণে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সির ঘটনা বাড়ছে। এটি খুবই উদ্বেগজনক। এর জন্য শুধু সংক্ষিপ্ত বিচার করলেই হবে না। প্রতারণার দায়ে জড়িত আবেদনকারী ও পরীক্ষায় অংশ নেওয়া উভয়ের বিরুদ্ধেই নিয়মিত মামলা এবং তাঁদের আজীবন পাবলিক পরীক্ষায় নিষিদ্ধ করা উচিত।’ বায়োমেট্রিকসহ পরীক্ষা পদ্ধতিও উন্নত করা দরকার। যাতে একজনের পরীক্ষায় অন্যজন অংশ গ্রহণের সুযোগ না পায়। এ ছাড়া পাবলিক পরীক্ষার জন্য নতুন নীতিমালা করার পরামর্শ দেন সুপ্রিম কোর্টের এই সিনিয়র আইনজীবী।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রতারণামূলকভাবে অংশগ্রহণের ঘটনায় ৩১৯ জনকে আটক করা হয়েছে। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে ১১৫টি মামলা দায়েরের পর সংক্ষিপ্ত সাজার মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছেন বিচারক। এঁদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আটক হয়েছে জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে। বিচারক নিয়োগের এই পরীক্ষায় ২৪৬ জনকে আটক করে ১০৫টি মামলা করা হয়েছে। কারারক্ষী নিয়োগ পরীক্ষায় আটক করা হয়েছে ৩০ জনকে আর মামলা করা হয়েছে তিনটি।

    এর বাইরে রেলওয়ের নিয়োগ পরীক্ষায় আটক হয়েছেন দুজন, সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের নিয়োগ পরীক্ষায় দুজন, সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ পরীক্ষায় তিনজন, ভূমি মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ পরীক্ষায় আটজন এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের পরীক্ষায় আটক হয়েছেন ২৮ জন। যাঁদের সংক্ষিপ্ত বিচারের মাধ্যমে সর্বনিম্ন ১৫ দিন থেকে ১ বছর পর্যন্ত সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের গেস্ট ফ্যাকাল্টি ব্যারিস্টার মশিউর রহমান সবুজ বলেন, একজনের হয়ে অন্যজন পরীক্ষা দেওয়ার ঘটনা বাড়ছে। এর জন্য আবেদনকারী ও প্রক্সি দিতে আসা উভয়কে শাস্তির আওতায় আনা দরকার। সেই সঙ্গে তাঁদের অন্তত পাঁচ বছর যেকোনো পাবলিক পরীক্ষায় নিষিদ্ধ করা উচিত।

  • গায়েব হয়ে যাচ্ছে একের পর এক পণ্যভর্তি কনটেইনার

    গায়েব হয়ে যাচ্ছে একের পর এক পণ্যভর্তি কনটেইনার

    ভয়াবহ নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরে। একের পর এক আমদানি পণ্যবোঝাই কনটেইনার গায়েব হয়ে যাওয়ার ঘটনায় বন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পাশাপাশি অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও মারাত্মক হুমকি হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, এসব কনটেইনারে কী পণ্য এসেছে, কারা আনছে—সে সম্পর্কে ধারণা নেই কারো।

    শুধু রাজস্ব ফাঁকি দেওয়াই মূল উদ্দেশ্য, নাকি আড়ালে বড় ধরনের মানিলন্ডারিং বা কোনো ষড়যন্ত্র চলছে—তা নিয়েও সন্দেহ দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি কাস্টমসের এসাইকোডা সিস্টেমে ডেলিভারি স্ট্যাটাসে লক করে রাখা ২৫০ কনটেইনার গায়েব হয়ে যাওয়ার রেশ কাটতে না কাটতে তিন কোটি টাকার কাপড় বোঝাই আরেকটি কনটেইনার গায়েব হয়ে যাওয়ার বিষয়টি সামনে আসার পর নতুন করে শুরু হয়েছে চাঞ্চল্য।

    গত জুলাইয়ের শুরুতে কাস্টমসের এআইআর শাখা থেকে ডেলিভারি নিষিদ্ধ ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত চার বছরে ২৫০ কনটেইনার গায়েব হয়ে যাওয়ার সংবাদ প্রকাশিত হয় আমার দেশসহ কয়েকটি গণমাধ্যমে। মূলত খাতা-কলমে বন্দরের অভ্যন্তরে থাকা কনটেইনারগুলোর হদিস চেয়ে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ দফায় দফায় বন্দরকে চিঠি দিলেও তার উত্তর দিচ্ছিল না বন্দর কর্তৃপক্ষ। আমার দেশ-এ সংবাদ প্রকাশের পর বন্দরের পক্ষ থেকে কনটেইনারগুলো বিভিন্ন ইয়ার্ডে রয়েছে দাবি করে চিঠি পাঠানো হয় কাস্টমসে। একই চিঠি বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপন আকারে প্রকাশও করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু অদ্যাবধি শুধু চিঠি ছাড়া কনটেইনারগুলোর অস্তিত্ব খুঁজে পায়নি কাস্টমস।

    চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের মুখপাত্র ও সহকারী কমিশনার শরীফ মোহাম্মদ আল আমিন জানান, গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর বিভিন্ন ইয়ার্ডে কনটেইনারগুলো রক্ষিত আছে—এমন একটি চিঠি বন্দর থেকে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সবগুলো ইয়ার্ডে হাজার হাজার কনটেইনারের মধ্যে ওইসব সুনির্দিষ্ট কনটেইনারগুলো কোনটি, তা চিহ্নিত করে দেওয়া হয়নি। তাই এখন পর্যন্ত কনটেইনারের অবস্থানসংক্রান্ত একটি কাগজের চিঠি ছাড়া আর কিছুই জানে না কাস্টমস। তবে বন্দরের চিঠিটি কাস্টমস পেয়েছে। সে অনুযায়ী মিলিয়ে দেখা কিংবা যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। কনটেইনারগুলো হারিয়ে গেছে; কিংবা সবগুলো পাওয়া গেছে—এমন কোনো বক্তব্য দেওয়ার সময় এখনো আসেনি বলে জানান তিনি।

    তিন কোটি টাকা মূল্যের শতভাগ রপ্তানিমুখী পণ্য তৈরির কাপড় ভর্তি ৪০ ফুটের একটি কনটেইনার ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে বের করে নিয়ে যায় বন্দরকেন্দ্রিক জালিয়াতচক্র। এ ঘটনায় সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট প্রতিষ্ঠানের দুই কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হলেও খোয়া যাওয়া কনটেইনারটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

    সবশেষ খোয়া যাওয়া কনটেইনারটির নম্বর ছিল MRSU-8692827। ফ্রান্সের এক বায়ারের অর্ডারের ওপর ভিত্তি করে লেডিস পোশাক তৈরির কাপড় আমদানি করে ঢাকার গোল্ড স্টার গার্মেন্টস লিমিটেড নামে প্রতিষ্ঠান। MV MCC Danang নামের জাহাজে করে বন্দরে আসার পর কনটেইনারটি খালাস করা হয় এনসিটি টার্মিনালের দুই নম্বর জেটি থেকে। পরে কনটেইনারটি সিসিটি ইয়ার্ডে রাখা হয়। কাস্টমসের শুল্কায়ন ও অন্যান্য ডেমারেজসহ কনটেইনারটির বিপরীতে ৪৫ লাখ টাকা পরিশোধ করে দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষে গত ৩০ আগস্ট কনটেইনারটি ডেলিভারি নিতে যায় আমদানিকারকের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এসআরএস সাইন্ড।

    কিন্তু বন্দর কর্তৃপক্ষ কনটেইনারটি ডেলিভারি দিতে শুরু করে টালবাহানা। তিন দিন ধরে সিসিটি ইয়ার্ডে ধরনা দেওয়ার পর ২ সেপ্টেম্বর বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ করে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান। এক পর্যায়ে বন্দর থেকে জানানো হয়, ১১ আগস্ট N4 সিস্টেমে কনটেইনারটির অন-ডেট, অন-চ্যাসিস ডেলিভারি দেখানো হয়েছে। অর্থাৎ, কনটেইনারটি ইতোমধ্যে ডেলিভারি হয়ে গেছে।

    ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে করা হয় ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি। পরে থানায় মামলাও দায়ের করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট প্রতিষ্ঠান প্যারামাউন্ট ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের দুই জেটি শ্রমিক মোর্শেদ আলম ও সাইদুর রহমানের নাম উল্লেখ করে আরো তিন-চার অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়।

    চট্টগ্রাম বন্দরে এ ধরনের ঘটনা এবারই প্রথম নয়। ২০২৫ সালে ছয় মাসের মধ্যে প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের কাপড় ভর্তি দুটি কনটেইনার বন্দর থেকে গায়েব হয়ে যায়। এক ঘটনায় এক ক্রেতা কাস্টমসের নিলামে ২৭ টন কাপড়ের জন্য ৮৫ লাখ টাকা এবং শুল্ক, ভ্যাট ও বন্দর ফি বাবদ আরো ২২ লাখ টাকা পরিশোধ করেন। কিন্তু পণ্য নিতে গিয়ে দেখেন কনটেইনারটি নেই। অন্য এক ক্রেতা নিলামে কাপড় কিনতে ৪২ লাখ টাকা পরিশোধ করেও কনটেইনার খুঁজে না পাওয়ায় পণ্য নিতে পারেননি। চলতি বছরও পণ্যভর্তি আরো দুটি কনটেইনার নিখোঁজের ঘটনায় আলাদা মামলা করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দরের হিসাবে এক বছরে পাঁচটি কনটেইনার উধাও হয়েছে বন্দরের ইয়ার্ড থেকে, যা নিয়ে বিভিন্ন সময় থানায় মামলাও করেছে কর্তৃপক্ষ।

    চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) বন্দর জোনের ডিসি আমিরুল ইসলাম জানান, চট্টগ্রাম বন্দর কেপিআই জোন। এটা আমাদের এলাকার মধ্যে হলেও ভেতরে পুলিশের অবাধ প্রবেশাধিকার নেই। এখানে কোনো ঘটনা ঘটলে প্রাথমিকভাবে বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজেরা তদন্ত করে। এরপর পুলিশের কাছে আসে। কিন্তু এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বেশ কিছু সময় পার হয়ে যায়। তখন পুলিশের কাজ করাটা কঠিন হয়ে যায়। কনটেইনার গায়েবের ঘটনাগুলোও উদ্ঘাটনের কাজও এভাবেই দুরূহ হয়ে গেছে; তারপরও কিন্তু পুলিশ কাজ করছে।

    তিনি আরো জানান, বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার সমন্বয় করা হয়েছে। বন্দরের নিরাপত্তায় বেশ কয়েকটি ঘাটতি পয়েন্ট তাদের জানানো হয়েছে। সে অনুযায়ী বন্দর কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থাও নিচ্ছে। এ ত্রুটিগুলো থাকার পরও একটি কনটেইনার বের করতে হলে যতগুলো ধাপ পার হতে হয়, সেখানে চোখ বন্ধ করে বলা যায় ভেতরের লোক জড়িত না থাকলে এত বড় কনটেইনার গায়েব করে দেওয়া সম্ভব নয়। তাই সবাইকে সন্দেহের মধ্যে রেখে পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে এমন ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করতে কাজ করছে বলে জানান তিনি।

    বন্দরের মতো সুরক্ষিত এলাকা থেকে একের পর এক কনটেইনার গায়েবের ঘটনায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত দেশের সবচেয়ে বড় এই আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিয়ে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। কারণ, ইতঃপূর্বে ১০ ট্রাক অস্ত্রের চালান ও দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় কোকেনের চালান আটক হয়েছে এই বন্দর থেকে। এছাড়া ছোট-বড় অসংখ্যা অস্ত্র ও মাদকের চালান আটক হয় নিয়মিত বিরতিতে। এর বাইরে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে বেশি শুল্কের পণ্য আমদানির ঘটনা তো ঘটছে অহরহ।

    আবুল খায়ের গ্রুপের সিইও ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শহীদ উল্লাহ চৌধুরী জানান, চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের অর্থনীতির হৃদপিণ্ড। এখানে কোনো অঘটন ঘটলে তা পুরো দেশের জন্য ঝুঁকিপুর্ণ। ইতঃপূর্বে ১০ ট্রাক অস্ত্রের চালান এসেছে। বড় বড় মাদকের চালান ধরা পড়েছে। ধরা পড়া চালানগুলোর আমদানিকারকদের ঠিকানা যাচাই করতে গেলে দেখা যায় প্রায় শতভাগই ভুয়া। এটা এলার্মিং। কারণ, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে অবৈধ যে কোনো চালান ধরা পড়ার সংখ্যা সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ। বাকি ৮০ শতাংশের বেশি বের হয়ে যায়।

    তিনি আরো জানান, হারিয়ে যাওয়া কনটেইনারগুলোর বেশিরভাগ আইজিএম পড়েছে। অর্থাৎ, কনটেইনার এসেছে; কিন্তু ওই কনটেইনার ছাড়িয়ে নিতে কেউ বিল অব এন্ট্রি দাখিল করেনি। তার অর্থ হলো এই, যারা কনটেইনারগুলো আনছে, তারাই ভিন্ন কৌশলে বের করে নিয়ে যাচ্ছে। এটা দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি। কারণ, এসব কনটেইনারে কী আনা হচ্ছে, তার কোনো তথ্য নেই সরকারের কাছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে হবে।

    চট্টগ্রাম বন্দরের সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা ও প্রশাসন) জাফর আলম জানান, বন্দর ও কাস্টমস কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততা ছাড়া কনটেইনার বের করার সুযোগ নেই। কোনো ঘটনা সামনে এলে সবাই বলেন স্বাক্ষর জাল করে কনটেইনার গায়েব করা হয়েছে। এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। এর সহজ সমাধান আছে। প্রতিটি ডকুমেন্টে কিউআর কোড ব্যবহার করা যেতে পারে। কিন্তু এটা করা হয় না কেন? যারা এই উদ্যোগ নেয় না, তারা জবাবও দেয় না। আসলে কেউ এই সংকটের গোড়ায় গিয়ে সমাধান করতে চায় না। শুধু শ্রমিকদের আটক করে তদন্ত ভিন্ন খাতে নেওয়ার কোনো যুক্তি নেই।

    এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম বন্দরের মুখপাত্র সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, কাস্টমস কর্তৃপক্ষ যে ২৫০ কনটেইনারের হদিস চেয়েছিল, সেই কনটেইনারগুলোর সন্ধান দিয়ে চিঠি কাস্টমসকে পাঠানো হয়েছে। কাস্টমস যে কনটেইনারগুলো এখনো পায়নি, সে ব্যাপারে বন্দরকে লিখিতভাবে কিছু জানানো হয়নি। তাই বন্দর কর্তৃপক্ষ এখনো মনে করে কনটেইনারগুলো সব বন্দরেই সংরক্ষিত আছে। এছাড়া গত এক বছরে যে পাঁচটি কনটেইনার হারিয়ে গেছে, সেগুলো খুঁজে বের করতে কাজ চলছে।

    এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে, সে ব্যাপারে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠিত হয়েছে। ওই কমিটি সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। শিগগির তারা রিপোর্ট দেবে। এরপর বন্দর কর্তৃপক্ষ সে সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করবে।

  • স্কুল স্থানান্তরে শিক্ষকের এমপিও বাতিল নয়: হাইকোর্ট

    স্কুল স্থানান্তরে শিক্ষকের এমপিও বাতিল নয়: হাইকোর্ট

    শিক্ষা ডেস্ক:

    এমপিওভুক্ত বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এক স্থান থেকে অন্যত্র স্থানান্তরের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের পূর্বানুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক। তবে, বিদ্যালয় স্থানান্তরের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার পরও শুধু এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষককে দায়ী করে তার এমপিও বাতিল ও বেতন-ভাতা বন্ধের সিদ্ধান্ত আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও বেআইনি ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

    ‘মো. মোজাম্মেল হক বনাম রাষ্ট্র’ মামলায় জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

    ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের ১০ জুলাই হাইকোর্টের বিচারপতি মো. হাবিবুল গণি ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় দেন। সম্প্রতি রায়ের অনুলিপি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। রায়টি লিখেছেন বিচারপতি শেখ তাহসিন আলী।

    প্রকাশিত রায়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৭ খ্রিষ্টাব্দে ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার চর নিয়ামত আইডিয়াল হাইস্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য খেলার মাঠ না থাকায় স্থানীয় ব্যক্তি ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ২০০০ খ্রিষ্টাব্দে বিদ্যালয়টি উপযুক্ত স্থানে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়।

    ওই বছরের ১১ জুলাই বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর প্রধান শিক্ষক মো. মোজাম্মেল হক ১৯ জুলাই ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে বিদ্যালয় ভবন স্থানান্তরের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন।

    এর পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড ২০০২ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ মার্চ বিদ্যালয়টি নতুন স্থানে স্থানান্তরের অনুমতি দেয়। তবে, পরবর্তীতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে ওই অনুমতি একই বছরের ৬ অক্টোবর বাতিল করা হয়। এরই মধ্যে নতুন স্থানে বিদ্যালয়ের তিনতলা ভবন নির্মাণ করা হয় এবং সেখানে শিক্ষা কার্যক্রমও শুরু হয়। পরে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী বিদ্যালয়টি আবার মূল স্থানে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

    এরপর বিদ্যালয় ভবন অন্যত্র স্থানান্তরের তথ্য গোপন এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগে প্রধান শিক্ষক মো. মোজাম্মেল হককে ২০০৮ খ্রিষ্টাব্দের ৭ জুলাই কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

    নোটিশে তথ্য গোপনের অভিযোগে কেন তার এমপিও বাতিল করা হবে না, সে বিষয়ে সাত দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়। প্রধান শিক্ষক ১৭ জুলাই ওই নোটিশের জবাব দেন।

    এরপর ২০০৮ খ্রিষ্টাব্দের ১০ নভেম্বর কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ না করেই মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের একজন সহকারী পরিচালকের স্বাক্ষরে আদেশ জারি করা হয়। এতে প্রধান শিক্ষক মো. মোজাম্মেল হকের এমপিও বাতিল এবং তার বেতন-ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

    পরে এমপিও বাতিলের আদেশ প্রত্যাহারের জন্য তিনি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে আবেদন করেন। তবে এতে কোনো প্রতিকার না পেয়ে ২০০৯ খ্রিষ্টাব্দে হাইকোর্টে রিট করেন তিনি। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আদালত রুল জারি করেন। পরবর্তীতে বিচারাধীন ওই রিটে একটি সম্পূরক আবেদন করেন রিটকারী শিক্ষক। উভয় পক্ষের বক্তব্য ও নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে হাইকোর্ট রুল যথাযথ ঘোষণা করে রায় দেন।

    এ রায়ে মো. মোজাম্মেল হকের এমপিও বাতিল এবং বেতন-ভাতা বন্ধের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে রিটকারী শিক্ষকের চাকরির মেয়াদ পর্যন্ত তার প্রাপ্য সব বেতন ও অন্যান্য সুবিধা পরিশোধের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া রায়ের অনুলিপি অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর নির্দেশও দিয়েছেন আদালত।

  • গাজী নজরুলকে ফের ৭ দিনের রিমান্ডে চায় ডিবি

    গাজী নজরুলকে ফের ৭ দিনের রিমান্ডে চায় ডিবি

    সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ফের সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আদালতে আবেদন করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

    ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেনের আদালতে এ বিষয়ে শুনানি হবে বলে তথ্য দিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রফিকুল ইসলাম।

    এরইমধ্যে গাজী নজরুলকে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়েছে। শুনানিকালে তাকে এজলাসে তোলা হবে বলে বলেছেন হাজতখানার ইনচার্জ এসআই মোরশেদ আলম।

    গত রোববার রাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলায় ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের লাশ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। তখন বাসায় থাকা নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রীকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। একই সময়ে নিহত মরিয়মের বাবাও উপস্থিত ছিলেন। তিনি মামলা করার পর গাজী নজরুল ইসলামকে চারদিন ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে একদিনের রিমান্ডে পাঠায় আদালত।

  • যশোর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা অনুমোদন

    যশোর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা অনুমোদন

    যশোর পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. জহিরুল ইসলাম চাকলাদার ও তার স্ত্রী শামীমা শারমিনের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

    বুধবার দুদকের প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়।

    দুদকের তথ্য অনুযায়ী, জহিরুল ইসলাম চাকলাদারের বিরুদ্ধে ২৪ কোটি ৫৮ লাখ ৪৫ হাজার ২২১ টাকার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।

    এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় মামলা হবে।

    অন্যদিকে, তার স্ত্রী শামীমা শারমিনের বিরুদ্ধে ৬ কোটি ৭২ লাখ ৯ হাজার ৪৫৩ টাকার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। এ মামলায় স্বামী জহিরুল ইসলাম চাকলাদারকে সহায়তাকারী হিসেবে আসামি করা হবে।

    তাদের বিরুদ্ধে ২৭(১) ধারা ও দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় পৃথক মামলা হবে।

  • অভিযুক্তকেই প্রমাণ করতে হবে পাচার করা অর্থ বৈধ

    অভিযুক্তকেই প্রমাণ করতে হবে পাচার করা অর্থ বৈধ

    বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে বিদ্যমান ‘মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২’-এ বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, পাচার করা সম্পদের বিষয়ে অভিযোগ প্রমাণের প্রচলিত ধারায় বড় পরিবর্তন এনে ‘নিরপরাধ প্রমাণের দায়ভার’ অভিযুক্ত ব্যক্তির ওপরই অর্পণ করা হচ্ছে। ফলে নতুন আইন পাস হলে অভিযুক্তকেই নিজ দায়িত্বে প্রমাণ করতে হবে তার অর্জিত বা পাচার করা সম্পদ সম্পূর্ণ বৈধ।

    এদিকে বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ থেকে শুল্ক-কর আদায়ের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে সাত সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া নিরপরাধ কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হন, সেজন্য আইনে সুনির্দিষ্ট প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে এবং বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি ফেরত পাওয়ার আবেদনের সময়সীমাও বাড়ানো হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সময়ের চাহিদা অনুযায়ী এই আইন প্রণয়নের ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

    সম্প্রতি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারকের সভাপতিত্বে বিদেশে পাচার করা সম্পদ পুনরুদ্ধারের জন্য বিদ্যমান মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর কিছু ধারার সংশোধন সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় ও অংশীজন সভার কার্যবিবরণী সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বিএফআইইউয়ের (বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট) প্রতিনিধিরা অংশ নিয়ে মতামত দিয়েছেন।

    বিদেশে পাচার হওয়া অবৈধ অর্থ ও সম্পদ উদ্ধারে বিদ্যমান আইনি কাঠামোর বিভিন্ন ঘাটতি দূর করার লক্ষ্যে প্রথমে বিশেষ অধ্যাদেশ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে তা পরিবর্তন করে বিদ্যমান আইন সংশোধনের পথ বেছে নেয় সরকার। নতুন প্রস্তাবিত খসড়ায় মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে অবৈধ অর্থের লেয়ারিং বা বারবার হাতবদল রোধে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড কঠোরভাবে অনুসরণ করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, মানি লন্ডারিংয়ের জটিল অপরাধে অপরাধীরা নানা উপায়ে অর্থের উৎস ও আসল মালিকানা লুকিয়ে ফেলে। এতে প্রচলিত আইনে প্রসিকিউশনের পক্ষে অপরাধ প্রমাণ করা অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়ে। এই আইনি মারপ্যাঁচ ও দীর্ঘসূত্রতা দূর করতেই আন্তর্জাতিক আইন বা ভারত, পাকিস্তান, যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার মতো দেশের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে অভিযুক্তের ওপর অপরাধ প্রমাণের দায়ভারের বিধান যুক্ত করা হচ্ছে।

    হয়রানি রোধে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা

    আইন সংশোধনের এই প্রক্রিয়ায় কঠোরতার পাশাপাশি মানুষের আইনি সুরক্ষা ও হয়রানি রোধের বিষয়টিতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রস্তাবিত সংশোধনীতে নিরপরাধ কোনো মানুষ যেন অযথা হয়রানির শিকার না হন, সেজন্য ‘দ্য এভিডেন্স অ্যাক্ট, ১৮৭২’-এর আলোকে সামগ্রিক বিধানগুলো অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

    পাশাপাশি মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ধারা ১৮-এর বিধান অনুযায়ী বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি বা সম্পদ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে ফেরত দেওয়ার জন্য আবেদন করার নির্ধারিত সময়সীমা ৩০ দিন থেকে বাড়িয়ে ৪৫ দিন করা হচ্ছে। এই সময়সীমা বৃদ্ধির ফলে ক্ষতিগ্রস্ত বা সংশ্লিষ্ট দাবিদার পক্ষ তাদের আইনি অধিকার সাব্যস্ত করার জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ পাবেন।

    এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ আমার দেশকে বলেন, সময়ের প্রয়োজনে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে সংশোধনী আনা অত্যন্ত জরুরি। পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। বিশেষ করে আধুনিক প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।

    শুল্ক-কর আদায়ে কমিটি

    বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদের মধ্যে আদালতে অবরুদ্ধ বা ফ্রিজ হওয়া ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে সরকারের প্রাপ্য শুল্ক ও কর আদায়ের উপায় নির্ধারণে সাত সদস্যের আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করেছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। সম্প্রতি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কেন্দ্রীয় ব্যাংক শাখা এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। অ্যাটর্নি জেনারেলকে এই কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব, দুদকের মানিলন্ডারিং শাখার মহাপরিচালক, বিএফআইইউর প্রধান কর্মকর্তা, এনবিআরের সিআইসির মহাপরিচালক এবং সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম শাখার ডিআইজি। আর এনবিআরের কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) মহাপরিচালক কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

    এই কমিটির মূল কার্যপরিধির মধ্যে রয়েছে—বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধান পর্যালোচনা করে অবরুদ্ধ হিসাব থেকে রাষ্ট্রের প্রাপ্য অর্থ আদায়, প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা। পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ উদ্ধারের চলমান প্রক্রিয়াকে আরো গতিশীল করতে এবং রাষ্ট্রের আর্থিক স্বার্থ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • এমপি গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রী মাকসুদা কারাগারে

    এমপি গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রী মাকসুদা কারাগারে

    আইন-আদালত:

    রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় গ্রেপ্তার সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেন এ নির্দেশ দেন।

    আজ দুপুরের পর মাকসুদা বেগমকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    শেরেবাংলা নগর থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

    গতকাল সোমবার মাকসুদা বেগমকে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। একই দিনে এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।

    এর আগে গত রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের পাঁচ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে গাজী নজরুল ও তাঁর প্রথম স্ত্রীকে আটক করা হয়।

    রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় গ্রেপ্তার সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেন এ নির্দেশ দেন।

    আজ দুপুরের পর মাকসুদা বেগমকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    শেরেবাংলা নগর থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

    গতকাল সোমবার মাকসুদা বেগমকে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। একই দিনে এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।

    এর আগে গত রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের পাঁচ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে গাজী নজরুল ও তাঁর প্রথম স্ত্রীকে আটক করা হয়।এ ঘটনায় মৃত মরিয়ম খাতুনের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেন। মামলায় এমপি গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর স্ত্রী মাকসুদা বেগম ও মাসুম বিল্লাহর শ‍্যালক ওবায়দুর রহমান—এই তিনজনকে আসামি করা হয়।মামলায় বাদী অভিযোগ করেন, গত জুনে গাজী নজরুলের সঙ্গে ভুক্তভোগীর ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী বিয়ে হয়। তিনি সংসদ সদস্য হওয়ায় ভুক্তভোগী মরিয়ম, এমপির প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমসহ শেরেবাংলা নগর থানার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় সংসদ ভবনের বিপরীত পাশে ন্যাম ভবনের পাঁচ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলায় বসবাস করতেন। আসামি ওবায়দুর রহমানের প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় গাজী নজরুলের সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে নজরুল ও তাঁর প্রথম স্ত্রী ভুক্তভোগী মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে মরিয়ম বিভিন্ন সময়ে মোবাইল ফোনে তাঁর পরিবারকে জানিয়েছেন। গত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গাজী নজরুল ভুক্তভোগীর বাবাকে ফোন করে দ্রুত তাঁদের বাসায় যেতে বলেন। বাসায় গিয়ে মরিয়মের বাবা জানতে পারেন, বাসার ভেতরের কক্ষে মরিয়ম ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। শেরেবাংলা নগর পুলিশ পরে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে মরিয়মের লাশ উদ্ধার করে। এ সময় বিছানা থেকে একটি সুইসাইড নোটও উদ্ধার করা হয়। আসামিদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে এবং আসামিদের প্ররোচনায় তাঁর মেয়ে মরিয়ম আত্মহত্যা করেছেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।উল্লেখ্য, গত জুলাইয়ে মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁকে ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

  • ভারতে পাচার করে বিক্রি, এক যুগ পর দেশে ফিরল কিশোরী

    ভারতে পাচার করে বিক্রি, এক যুগ পর দেশে ফিরল কিশোরী

    ভারতে পাচারের এক যুগ পর বাংলাদেশি এক কিশোরীকে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলা সীমান্ত থেকে উদ্ধার করেছে বিজিবি। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর কিশোরীকে তার বাবার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

    আজ মঙ্গলবার বিকেলে ৫১ বিজিবির রংপুর ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর এ এফ এম জুলকার নাঈন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    উদ্ধার কিশোরীর বাড়ি শরীয়তপুর জেলার গোসাইরহাট উপজেলায়। সে জানায়, প্রায় ১২ বছর আগে একটি নারী পাচারকারী দল তাঁকে ভারতে নিয়ে বেঙ্গালুরুতে বিক্রি করে দেয়।

    বিজিবি ও সীমান্ত সূত্র জানায়, গত রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে পাটগ্রাম উপজেলার পানবাড়ী গ্রামের পাইকারপাড়া সীমান্ত এলাকায় দিগ্‌বিদিক ঘুরে বেড়াচ্ছিল ওই কিশোরী। স্থানীয়রা বিষয়টি পানবাড়ী বিজিবি ক্যাম্পে জানালে বিজিবির সদস্যরা কিশোরীকে উদ্ধার করেন। পরে কিশোরীর দেওয়া পরিচয় ও ঠিকানায় যোগাযোগ করে তার বাবাকে ডাকা হয়।

    আজ মঙ্গলবার সকালে কিশোরীর বাবা ও তার এলাকার ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্য পানবাড়ী বিজিবি ক্যাম্পে এসে কিশোরীকে শনাক্ত করেন। পরে প্রয়োজনীয় যাচাই শেষে বিজিবি ওই কিশোরীকে তার বাবার হাতে তুলে দেয়।

    মেজর এ এফ এম জুলকার নাঈন বলেন, বিজিবির হেফাজতে থাকা কিশোরীকে তার বাবার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র হত্যা ঘটনায় মামলা

    বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র হত্যা ঘটনায় মামলা

    চুরির অভিযোগ তুলে খুলনায় বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্র মো. আজমুল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। গতকাল শনিবার রাতে নিহত আজমুলের বাবা মো. কুতুব উদ্দিন খুলনার হরিণটানা থানায় হত্যা মামলাটি করেন।

    মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীসহ অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল হোসেন। তবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কাউকে এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

    ওসি বলেন, খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল রাতেই ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ তাঁর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করছে পুলিশ।

    নিহত আজমুল হোসেন চুয়াডাঙ্গার দর্শনার বড় শলুয়া গ্রামের কুতুব উদ্দিনের ছেলে। তিনি খুলনার নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

    আজমুল খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খানজাহান আলী আবাসিক হলের (খাজা হল) পেছনের ইসলামনগর সড়কের মসজিদ গলির একটি মেসে থাকতেন। গত শুক্রবার রাতে চুরির অভিযোগ তুলে আজমুলকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তিনি সেখান থেকে পড়ে যান বলে আশপাশের ছাত্রদের ভাষ্য। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়।ওই মেসের পাশের একটি বাড়ির এক নারী বলেন, ছাত্রদের কাছে তিনি শুনেছেন, শুক্রবার রাতে আজমুল এক ছাত্রের মিল (খাবার) খেয়ে ফেলেন। এরপর ভাত চুরি করে খাওয়া নিয়ে কয়েকজন ছাত্র ও বহিরাগত আজমুলকে ছাদে নিয়ে মারধর করেন। দিবাগত রাত আনুমানিক একটার দিকে তিনি চিৎকারের শব্দ শুনতে পান। এরপর ছাদ থেকে কিছু একটা নিচে পড়ে যাওয়ার শব্দ পান।

    আজমুলের বাবা কুতুব উদ্দিন গতকাল হাসপাতালে সাংবাদিকদের বলেন, শুক্রবার রাত একটার দিকে কয়েকজন ছেলে কল করে বলে, ‘আপনার ছেলে আমাদের জিনিস চুরি করছে, এখনই এক লাখ টাকা দিতে হবে।’ এরপর তিনি খুলনা এসে প্রথমে মেসে যান। পরে সেখান থেকে হাসপাতালে গিয়ে ছেলে লাশ দেখতে পান।

    আজমুলের হত্যার পেছনে কী কারণ ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে জানিয়ে ওসি ইকবাল হোসেন বলেন, হত্যাকাণ্ডে যতজনই জড়িত থাকুক, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। আজমুল যে মেসে থাকতেন, সে ভবনে ৬০ থেকে ৭০ জন শিক্ষার্থী থাকতেন। তাঁদের অনেকের সঙ্গে আজমুলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ ছিল। তাঁর প্রতি অনেক ক্ষোভ ছিল। বিভিন্ন সময় অনেকের জামা, গেঞ্জিসহ বিভিন্ন জিনিস চুরির অভিযোগ আছে তাঁর বিরুদ্ধে। সব বিষয়ই তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

  • অপ্রতীম হত্যার নেপথ্যে কী, উদঘাটনে মাঠে নেমেছে পাঁচ বাহিনী

    অপ্রতীম হত্যার নেপথ্যে কী, উদঘাটনে মাঠে নেমেছে পাঁচ বাহিনী

    কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকার ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম (১৩) হত্যাকাণ্ড নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় চলছে। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে নানা বিষয় জড়িত থাকতে পারে বলে আলোচনা চলছে। এ ঘটনায় কোটবাড়ী-সালমানপুর এলাকার মাদক সিন্ডিকেট এবং কিশোর গ্যাং জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আইফোন ছিনতাই এবং অপ্রীতমের মায়ের ওপর ক্ষুব্ধ কোনো চক্র এতে জড়িত থাকতে পারে বলে আলোচনা চলছে।

    এদিকে তাকে প্রলোভন দেখিয়ে পাহাড়ে নিয়ে যাওয়ার একটি সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ হয়েছে। অপরদিকে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে মাঠে নেমেছে পুলিশ, ডিবি, সিআইডি, পিবিআই, এসআরবি।

    অনুসন্ধানে জানা গেছে, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম তার স্বামী এবং একমাত্র সন্তান অপ্রীতমকে নিয়ে কোটবাড়ী গন্ধমতি এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চে একমাসের জন্য তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

    স্থানীয়রা জানায়, ২০২৫ সালের ১ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বসে মাদক সেবনরত অবস্থায় সালমানপুর এলাকার ৮জন কিশোরকে আটক করে শিক্ষার্থীরা। পরে প্রক্টর নাহিদা বেগম তাদেরকে পুলিশে সোপর্দ করেন। সে সময় সালমানপুরের মাদক ব্যবসায়ী মিলন এবং আল আমিনের নাম উঠে আসে।

    ওই ঘটনায় এলাকার কিশোর গ্যাং এবং মাদক চক্র তার ওপর ক্ষুব্ধ থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাছাড়া অপ্রীতমের হাতের মূল্যবান আইফোন ছিনতাইসহ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে একাধিক কারণ থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে বেশ কয়েকজন কিশোর গ্যাং সদস্য জড়িত রয়েছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে।

    অনুসন্ধানে জানা যায়, শুক্রবার প্রথমে ছবি তোলার প্রলোভন দেখিয়ে তুহিন নামের এক কিশোর গ্যাং সদস্য তাকে পাহাড়ে নিয়ে যায়। এ সময় আনাছ নামের অপর কিশোরসহ কয়েকজন সেখানে অবস্থান করছিল বলে জানা যায়।

    সূত্র জানায়, সেখানে কিশোর গ্যাং এর একটি চক্র আগে থেকেই ওতপেতে ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাকে শ্বাসরুদ্ধ এবং মারধর করে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। তার আইফোন এবং মানিব্যাগ লুটে নেওয়া হয়। পরে ঘাতকরা পাহাড়ের ডালে তার লাশ ফেলে পালিয়ে যায়।

    শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ‘ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্ক’-এর পেছনের একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতীমের লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তুহিন নামের এক কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ।

    এদিকে চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে কুবি ক্যাম্পাস এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে শিক্ষার্থীরা। নিহতের মা-বাবাকে সান্ত্বনা দিতে ঘটনাস্থলে ছুটে যান কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী।

    এর আগে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে সদর দক্ষিণ থানাধীন ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয় অপ্রতীম। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি সে। বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও সন্ধান না পেয়ে ওইদিন সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার বাবা কেএম ফিরোজ শাহরিয়ার।

    নিখোঁজের পর থেকেই অপ্রতীমকে উদ্ধারে স্বজনদের পাশাপাশি পুলিশও তৎপর ছিল। তার সর্বশেষ অবস্থান এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করছিল পুলিশ।

    নিহত অপ্রতীমের মা ড. নাহিদা বেগম বলেন, কী কারণে আমার একমাত্র ছেলেকে হত্যা করা হলো আমি জানি না। আমি ঘাতকদের বিচার চাই।

    কুমিল্লার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান বলেন, হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ত সন্দেহে একাধিক সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যেই আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন হবে।

    তিনি বলেন, অপ্রতীম নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নামে। এ হত্যাকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ একাধিক ক্লু পাওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডটির পেছনে শুধু আইফোন ছিল, নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল তা দ্রুত উদ্ঘাটন করা হবে। হত্যাকাণ্ডে যতজনই জড়িত থাকুক তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

    সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কয়েকজন পুলিশের হেফাজতে আছে। তবে তাদের নাম তদন্তের স্বার্থে এখনই বলা যাবে না। লাশ উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

    অপ্রতীমের লাশের প্রথম প্রত্যক্ষদর্শী আবদুল কাদের জিলানী বলেন, আমরা বাঁশ কাটার জন্য এখানে এসেছিলাম। হাতে ঘড়ি বা সঙ্গে মোবাইল ছিল না। সময়টা আনুমানিক সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা হবে। আমাকে ছেলে বলছিল ওখানে কেউ ঘুমায়। ভালোভাবে খেয়াল করে দেখি ওর মাথায় জখম আছে। ভয় পেয়ে যাই। তারপর বিশ্ববিদ্যালয়ের খবর দেই।

    কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আবদুল হাকিম বলেন, ঘটনার পর থেকেই আমরা পুলিশ, ডিবি, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-এসআরবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, আমরা ছেলেটিকে আর জীবিত পেলাম না। তার সঙ্গে থাকা মায়ের আইফোনটিও পাওয়া যায়নি।উল্লেখ্য, ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও কেএম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান।

  • মানিকগঞ্জে একই পরিবারের তিনজনের লাশ উদ্ধার

    মানিকগঞ্জে একই পরিবারের তিনজনের লাশ উদ্ধার

    মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের জান্নাকান্দি গ্রামে একই পরিবারের তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

    শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের জান্নাকান্দি গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়।

    মানিকগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    মৃতরা হলেন সৌদি আরব প্রবাসী একরাম খালাসী (৪০), তার স্ত্রী ও দেড় বছর বয়সী মেয়ে।

    একরাম খালাসীকে ঘরের মধ্যে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। তার স্ত্রী ও শিশুকন্যার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

  • কুবি শিক্ষিকার সন্তান হত্যায় যুবক আটক

    কুবি শিক্ষিকার সন্তান হত্যায় যুবক আটক

    কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষিকার একমাত্র সন্তান ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তুহিন নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।

    মৃত অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের সন্তান এবং কুমিল্লার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলবে বলে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে বের হয় সে। এরপর থেকেই শিশুটি নিখোঁজ হয়।

    আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রযুক্তির সহায়তায় আইফোনের সর্বশেষ অবস্থান কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন সামাজিক বনায়ন এলাকায় শনাক্ত করে। পরে শনিবার দুপুর ১২টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কের পেছনে সানন্দা এলাকার একটি পাহাড়ে অপ্রতিমের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।

    স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুল কাদের জিলানী জানান, আমরা ভাতিজাকে সঙ্গে নিয়ে টিলায় বাঁশ কাটতে এসেছিলাম। এ সময় ভাতিজা হঠাৎ লক্ষ্য করে একটি শিশু নিস্তেজ অবস্থায় শুয়ে আছে। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

    সদর দক্ষিণ থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, বিশ্ববিদ্যালয় ও এর আশপাশের কয়েকটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে অপ্রতিমকে এক অজ্ঞাত যুবকের সঙ্গে দেখা গেছে। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

    পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক। আমরা ইতিমধ্যে জড়িত সন্দেহে তুহিন নামে একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছি। ঘটনার পেছনে অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশের কয়েকটি টিম একযোগে কাজ করছে।

  • কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের নিখোঁজ ছেলের লাশ উদ্ধার

    কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের নিখোঁজ ছেলের লাশ উদ্ধার

    কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের নিখোঁজ ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের (১৩) লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

    শনিবার দুপুরে ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী জঙ্গল লালমাই সানন্দা পাহাড় এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

    অপ্রতীম নিখোঁজের ঘটনায় তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

    শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সাড়ে ৩টার দিকে সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ী এলাকার বাসা থেকে হেঁটে বের হয় অপ্রতীম। এরপর সে আর বাসায় ফেরেনি।

    নিখোঁজ ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম সিটি করপোরেশনের কোটবাড়ী গন্ধমতি এলাকার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের ছেলে। সে বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র।এদিকে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের মা ড. নাহিদা বেগম ফেসবুকের এক পোস্টে লিখেছেন, ‘আমার ছেলেকে আমি বেলা ৩টা থেকে খুঁজে পাচ্ছি না। ওর নাম অপ্রতীম। বয়স ১৩, ক্লাস সেভেনে পড়ে।

  • সংঘর্ষ জড়িত জবি ছাত্রদলের দুই নেতাকে শোকজ

    সংঘর্ষ জড়িত জবি ছাত্রদলের দুই নেতাকে শোকজ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদলের নবীনবরণ ও কনসার্ট অনুষ্ঠানে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় সংগঠনটির দুই নেতাকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ।

    বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের অফিশিয়াল প্যাডে এ শোকজ দেওয়া হয়।

    শোকজ পাওয়া দুই নেতা হলেন- জবি শাখা ছাত্রদলের ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সরদার ও ২ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান রুমি।

    নোটিশে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ থেকে ওই দুই নেতার কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের ভিত্তিতে কেন তাদের বিরুদ্ধে স্থায়ী সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না— তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

    নোটিশে বলা হয়, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে।

    নোটিশে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ নির্দেশনা দিয়েছেন।উল্লেখ্য, বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে জবি শাখা ছাত্রদল আয়োজিত কনসার্ট অনুষ্ঠান চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের সামনে কাঁঠালতলা এলাকায় ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে অন্তত তিনজন আহত হন বলে জানা যায়। আহতদের মধ্যে দুজনের মাথায় আঘাত লাগে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। আহতদের ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, কনসার্ট চলাকালে স্টেজে বসাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের এক গ্রুপের কর্মীর সঙ্গে অন্য গ্রুপের এক কর্মীর কথা কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। পরে সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের সামনে কাঁঠালতলা এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয় বলে জানা গেছে।

    তবে জবি শাখা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার ও সংঘর্ষের সুনির্দিষ্ট কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।

  • রাজধানীর মালিবাগে দুটি ককটেল বিস্ফোরণ

    রাজধানীর মালিবাগে দুটি ককটেল বিস্ফোরণ

    রাজধানীর মালিবাগ রেলগেট সংলগ্ন সড়কে সোহাগ পরিবহনের কাউন্টারের পাশে দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

    শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জুমার নামাজের পর এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তবে এতে কোনো হতাহতর খবর পাওয়া যায়নি।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলে মালিবাগ ফ্লাইওভারের ওপর থেকে নিচে দুইটা ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। এ সময় দোকানপাট বন্ধ ও রাস্তায় কেউ না থাকায় কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে, ঘটনার পরপর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় পুলিশ।

    এ বিষয়ে শাহজানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আমিরুল ইসলাম বলেন, দুপুর ২টা থেকে আড়াইটার মধ্যে মালিবাগ ফ্লাইওভারের ওপর থেকে নিচে সড়কে ককটেল নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি এবং ঘটনায় জড়িত কাউকে শনাক্ত করা যায় নি। তবে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দুর্বৃত্তদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

  • রাজধানীর তেজগাঁও মসজিদে গোপন বৈঠক; আটক ২৩

    রাজধানীর তেজগাঁও মসজিদে গোপন বৈঠক; আটক ২৩

    রাজধানীর ফার্মগেটে তেজগাঁও মসজিদে গোপন বৈঠক চলাকালে জঙ্গি সন্দেহে ২৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার বিকাল সোয়া ৪টার দিকে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতদের তেজগাঁও থানায় নেয়া হয়েছে । সেখানে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের কর্মকর্তা আসছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    এ বিষয়ে ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান বলেন, তেজগাঁও মসজিদ থেকে গোপন বৈঠক চলাকালে সন্দেহজনক জঙ্গি হিসেবে ২৩ জনকে আটক করা হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাদের আটক করা হয়।

  • শিশুপুত্রকে কুপিয়ে হত্যা করলেন মা

    শিশুপুত্রকে কুপিয়ে হত্যা করলেন মা

    টাঙ্গাইলের সখীপুরে সাড়ে ৩ বছরের শিশুপুত্র আশরাফুলকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার মা আকলিমা বেগমের (৩৫) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সিদরাতুল (৮) নামে আরেক শিশু গুরুতর আহত হয়েছে। ঘটনার পর শিশুটির মাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে।

    বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার খালিয়ার বাইদ (মুজিবনগর মোড়) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত সিদরাতুল আকলিমা বেগমের আগের স্বামীর ঘরের মেয়ে। তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

    স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শাহীন মিয়া প্রায় ৩০ বছর আগে প্রথম বিয়ে করেন। ওই সংসারে সন্তান না থাকায় পরবর্তীতে প্রথম স্ত্রীর উদ্যোগে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন। দ্বিতীয় স্ত্রী আকলিমা বেগমের ঘরে আশরাফুলের জন্ম হয়।

    আকলিমা বেগম ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করায় বেশির ভাগ সময় বাড়ির বাইরে থাকতেন। ফলে আশরাফুলকে শাহীন মিয়ার প্রথম স্ত্রী নাসিমা আক্তার লালন-পালন করতেন। শিশুটি নাসিমাকে ‘বড়মা’ বলে ডাকত। স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য, সে নিজের মাকেও ‘আন্টি’ বলে ডাকত।

    স্থানীয় কয়েকজন ধারণা করছেন, শিশুটি নিজের মাকে ‘আন্টি’ বলে ডাকায় আকলিমার মধ্যে ক্ষোভ বা অভিমান তৈরি হয়ে থাকতে পারে। তবে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, আকলিমা ও শাহীন মিয়ার মধ্যে কোনো পারিবারিক কলহ ছিল না। ফলে হামলার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। পুলিশ তদন্তের পর ঘটনার কারণ স্পষ্ট হতে পারে।

    শাহীন মিয়া বলেন, প্রায় ৩০ বছর পর তিনি একটি পুত্রসন্তান পেয়েছিলেন। সেই সন্তানকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী এভাবে হত্যা করেছেন। শুধু তার সন্তান নয়, আকলিমার আগের স্বামীর ঘরের মেয়ে সিদরাতুলকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেন।

    ঘটনার পর আশরাফুলকে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মরদেহ ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই রয়েছে।

    সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুরাদ হোসেন বলেন, ঘটনাস্থল সখীপুর ও ভালুকা থানার মধ্যবর্তী এলাকায়। ঘটনার পর শিশুটির মাকে নিরাপত্তার স্বার্থে সখীপুর থানা-পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় অন্যান্য আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

    ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। সাড়ে ৩ বছরের শিশুর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

  • ভাঙারির দোকানে ১ টন সরকারি পাঠ্যবই উদ্ধার, ব্যবসায়ী আটক

    ভাঙারির দোকানে ১ টন সরকারি পাঠ্যবই উদ্ধার, ব্যবসায়ী আটক

    শিক্ষা ডেস্ক:

    টাঙ্গাইলের মধুপুরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য নির্ধারিত প্রায় এক টন (১ হাজার কেজি) সরকারি পাঠ্যবই উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ। এ সময় বই পাচারের অভিযোগে ইব্রাহিম হোসেন নামে এক ভাঙারি ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়।

    জানা যায়, গত বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার নরকোনা গ্রামে ওই ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে নবম ও দশম শ্রেণির এসব বই উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিনামূল্যে বিতরণের এই বইগুলো শিক্ষার্থীদের হাতে না পৌঁছে কীভাবে এক ভাঙারি ব্যবসায়ীর বাড়িতে গেল, তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের গুদাম থেকে অবৈধভাবে এসব বই কিনে পাচার করা হচ্ছিল। খবর পেয়ে প্রশাসন অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বইসহ ইব্রাহিমকে আটক করে।

    মধুপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বাবুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সরকারি বই পাচারের অভিযোগে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান এবং নিয়মিত মামলা করা হচ্ছে।

    এদিকে সরকারি অর্থে ছাপানো এই বইগুলো গুদাম থেকে বাইরে যাওয়ার পেছনে কারা জড়িত, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সচেতন এলাকাবাসী।

  • ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ আসামির মৃত্যুদণ্ড

    ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ আসামির মৃত্যুদণ্ড

    আইন-আদালত

    জুলাই বিপ্লবে গণহত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল-২।

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করে। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

    মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল। এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

    এছাড়া ওবায়দুল কাদের, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ এবং মাইনুল হোসেন খান নিখিলের সকল স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির ৫০ শতাংশ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই সম্পত্তি বিক্রয় করে পাওয়া টাকা জুলাই/আগস্ট ২০২৪ সময়কালে শহীদ ও আহত সব ব্যক্তি বা তাদের পরিবারকে জুলাই ফাউন্ডেশন বা অন্যকোন বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    মামলার বিচার প্রক্রিয়া: এই মামলা প্রথমে ৫/২০২৫ মিস কেস হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়। এরপর তদন্ত শুরু হয় গত বছরের ১৮ জুন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা ৭ ডিসেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। এরপর যাচাই-বাছাই শেষে ১৮ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। এতে আসামিদের বিরুদ্ধে ৯টি অভিযোগ আনা হয়। ওই দিনই অভিযোগ আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয়।সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করা হয় এ বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি। ওই দিনই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। প্রসিকিউশন আসামিদের বিরুদ্ধে ২৯ জন সাক্ষী উপস্থাপন করে। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয় ২ আগস্ট। যুক্তিতর্ক শুরু ৪ আগস্ট এবং শেষ হয় ১৭ আগস্ট। ওই দিনই মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখে ট্রাইব্যুনাল।

  • সাবেক এমপি আজিজুল হক আটক

    সাবেক এমপি আজিজুল হক আটক

    রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার মো. আজিজুল হক আরজুকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে লালমাটিয়ার মিনা বাজারের সামনে থেকে স্থানীয় ছাত্রদল নেতাদের সহায়তায় তাকে আটক করা হয়।

    আটক খন্দকার মো. আজিজুল হক আরজুর বয়স ৬৯ বছর। তিনি পাবনা জেলার আমিনপুর থানার নাটিয়াবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা। ২০১৪ সালে পাবনা-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।

    মঙ্গলবার মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল হালিম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

    ওসি জানান, আটকের সময় ধস্তাধস্তিতে আজিজুল হক আরজু সামান্য আহত হন। তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ায় পুলিশি প্রহরায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাকে চিকিৎসকের কাছে পাঠানো হয়েছে।

    পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

  • ডিজিএফআই পরিচয়ে প্রতারক আটক

    ডিজিএফআই পরিচয়ে প্রতারক আটক

    প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) পিএস পরিচয় দিয়ে জালিয়াতির চেষ্টাকালে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা। আটক হওয়া মাসুদুর রহমান (৩৪) রাজধানীর মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কার্যালয়ে গত দুই দিন ধরে একটি ফাইলে স্বাক্ষরের জন্য এক প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে চাপ দিয়ে আসছিল।

    বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাকে আটক করে আনসার সদস্যরা। বাহিনীটির সহকারী পরিচালক ও গণসংযোগ কর্মকর্তা মোঃ নাজমুস সাকিব স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সে ওই কর্মকর্তার পিএসকে ভয়ভীতি দেখিয়ে হুমকি দিয়ে বলে, ‘তোমার নামে অনেক রিপোর্ট আছে, তোমাকে দেখে নেব। ’

    বিষয়টি সেখানে দায়িত্ব পালনরত আনসার সদস্যদের নজরে এলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে ওই ব্যক্তির মুখোমুখি হন। তার পরিচয় ও সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে কথাবার্তায় অসঙ্গতি ও প্রতারণার প্রমাণ মেলে। পরবর্তীতে আনসার সদস্যরা তাকে আটক করে বনানী থানা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে প্রতারককে তাদের নিকট হস্তান্তর করা হয়। আনসার বাহিনীর পিসি মোঃ সাহাবউদ্দীনের নেতৃত্বে এ অভিযানে অংশ নেন এপিসি জালাল উদ্দীন, আনসার মনিরুল ইসলাম ও আনসার শ্রী পূর্ণ রায়।

  • রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টার অভিযানে ৫১ মামলায় গ্রেপ্তার ৫৪২

    রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টার অভিযানে ৫১ মামলায় গ্রেপ্তার ৫৪২

    রাজধানীতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় ৫৪২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় রাজধানীর বিভিন্ন থানায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মোট ৫১টি মামলা করেছে পুলিশ।

    গত বুধবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় এসব অভিযান চালানো হয়। ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন আজ এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মিরপুর বিভাগ এলাকার—১৯৩ জন। এ ছাড়া তেজগাঁও বিভাগে ৯১ জন, ওয়ারীতে ৬০ জন, মতিঝিলে ৫২ জন, উত্তরায় ৪২ জন, গুলশানে ৪১ জন, লালবাগে ২৮ জন এবং রমনা বিভাগে ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) ১২ জন ও কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট একজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

    অভিযানের সময় আসামিদের কাছ থেকে ৪৫ কেজি ৪৯০ গ্রাম গাঁজা, ৩ হাজার ২৯১টি ইয়াবা বড়ি, ১টি শটগান, ১টি প্রাইভেট কার, ১৫টি মুঠোফোন ও ১ জোড়া হাতকড়া উদ্ধার করা হয়। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে বুধবার দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত) রাজধানীতে অভিযান চালিয়ে মোট ৪৭৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল ডিএমপি।

  • আদাবরে হাত-গলাকাটা ১০ টুকরো লাশ উদ্ধার

    আদাবরে হাত-গলাকাটা ১০ টুকরো লাশ উদ্ধার

    জধানীর আদাবর থেকে হাত ও গলাকাটা অবস্থায় এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। লাশটি প্রায় ১০ টুকরো করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

    শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) আদাবর ১০ নম্বরের হাক্কার মোড় এলাকা থেকে লাশটিটি উদ্ধার করা হয়।

    পুলিশ জানায়, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি টি উদ্ধার করা হয়। তবে নিহত ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। কী কারণে এবং কারা তাকে হত্যা করেছে, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও হত্যার রহস্য উদঘাটনে কাজ চলছে।

  • ইসকন মন্দিরে ভাঙচুর হিন্দু শিক্ষার্থী আটক

    ইসকন মন্দিরে ভাঙচুর হিন্দু শিক্ষার্থী আটক

    পাবনা শহরের ইসকন মন্দিরে প্রতিমা ও বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুরের অভিযোগে প্রান্থ কুমার দাস (২৫) নামে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে।

    গত সোমবার সকালে পাবনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসংলগ্ন মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে। পরে মন্দির কর্তৃপক্ষ তাকে আটক করে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।


    প্রান্থ কুমার দাস পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সুধিরপুর এলাকায়। তিনি প্রশান্ত চন্দ্র ম-লের ছেলে বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।


    মন্দির কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে মন্দির খোলার পর প্রান্থ সেখানে প্রবেশ করে মন্দিরে ভাঙচুর করেন। বিষয়টি টের পেয়ে মন্দিরের লোকজন তাকে ঘটনাস্থলেই আটক করেন। আটকের পর মন্দির কর্তৃপক্ষের লোকজন তাকে মারধর করেন বলে একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।


    পাবনা সদর থানার ওসি তরিকুল ইসলাম জানান, প্রান্থ মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন বলে জানো গেছে। মন্দিরে প্রবেশের পর তার মানসিক সমস্যা বেড়ে যাওয়ায় তিনি ভাঙচুর শুরু করেন বলে পুলিশের দাবি। তবে তার মানসিক অসুস্থতার বিষয়ে কোনো চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি বা বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।


    পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় প্রান্থের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। পরে তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। মামলায় কী কী ধারা দেওয়া হয়েছে এবং মন্দিরের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কত এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি নিয়ে পাবনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে ভাঙচুরের প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সময় ওই শিক্ষার্থীর মানসিক অবস্থা কী ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

  • ভারতের সিইসির জেলা শাসক মেয়ের শাস্তি, বেতন থেকে কাটা যাবে ৫ লাখ রুপি

    ভারতের সিইসির জেলা শাসক মেয়ের শাস্তি, বেতন থেকে কাটা যাবে ৫ লাখ রুপি

    ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের মতো তাঁর মেয়েও চলে এসেছেন খবরের শিরোনামে। বাবার মতো বিতর্কিত হয়ে উঠেছেন উত্তর প্রদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জেলা গৌতম বুদ্ধ নগরের জেলা শাসক (ডিএম) মেধা রুপম। মশা মারতে কামান দাগার অপরাধে এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায়ে ৫ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণের অর্থ এবার তাঁর বেতন থেকে কাটা হবে।

    শুধু তাই নয়, অন্যায়ভাবে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের (এনএসএ) প্রয়োগ করে কাউকে পাঁচ মাস বন্দী রাখার এই ব্যতিক্রমী ঘটনা নিয়ে আদালতের রায় ও পর্যবেক্ষণের বিষয়টি মেধা রুপমের চাকরিসংক্রান্ত রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশও হাইকোর্টের বিচারপতিরা দিয়েছেন। সরকারি আমলাদের বেতন থেকে ক্ষতিপূরণের অর্থ কাটার এই রায় অভূতপূর্ব ও নজিরবিহীন না হলেও নিশ্চিতভাবেই দৃষ্টান্তমূলক। আদালত মনে করেন, এর ফলে আমলাশাহি ও পুলিশ প্রশাসনের বেপরোয়া হয়ে ওঠা রোখা যাবে। তাঁদের আইন ও সংবিধানের প্রতি অনুগত থাকতে বাধ্য করা যাবে।

    মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার কিছুদিন ধরেই বিরোধীদের নিশানায় জ্বলজ্বল করছেন। সারা দেশে ভোটের তালিকা সংশোধনের নামে বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘এসআইআর’ চালু করার মধ্য দিয়ে তিনি বিতর্কে জড়িয়েছেন। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন রাজ্যের ১০ কোটি ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের ঠিক আগে এভাবে বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা ছিল ১ কোটি। এখনো ২৭ লাখ ভোটারের নাম বিভিন্ন ট্রাইব্যুনালের বিবেচনাধীন। বিরোধীদের অভিযোগ, এসআইআরের নামে নির্বাচন কমিশন বেছে বেছে বিরোধী অনুগত ভোটারদের নাম বাদ দিচ্ছে। বিশেষ করে বাদ দেওয়া হচ্ছে সংখ্যালঘু মুসলমানদের নাম। এভাবে তিনি শাসকদল বিজেপির সুবিধা করে দিচ্ছেন। এর বিরুদ্ধে প্রতিকারের কোনো উপায়ও নেই, যেহেতু কেন্দ্রীয় আইন অনুযায়ী নির্বাচনসংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্বাচন কমিশনারদের কারও বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না।

    মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের মেয়ে মেধা রুপম। তিনি দিল্লির লাগোয়া উত্তর প্রদেশের গৌতম বুদ্ধ নগরের জেলা শাসক। এই জেলা নয়ডা নামেই বেশি পরিচিত। ২০২৫ সালে মাত্র ৩৫ বছর বয়সে তাঁর এত গুরুত্বপূর্ণ জেলার দায়িত্বভার পাওয়া নিয়ে নানা কথা উঠেছিল। বাবার প্রভাব নিয়ে বেশ চর্চা হয়েছিল। এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায়ে তাঁর বিরুদ্ধে যেসব কথা বলা হয়েছে, যেভাবে তাঁকে ভর্ৎসনা করা হয়েছে এবং জরিমানার টাকা যেভাবে তাঁর বেতন থেকে কাটার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তা নিশ্চিতভাবেই তাঁর কর্মজীবনের কালো অধ্যায় হয়ে থাকবে। মাস কয়েক আগে দিল্লির উপকণ্ঠে অবস্থিত নয়ডার শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকেরা বেতন বৃদ্ধি ও অন্যান্য সুবিধার দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছিলেন। আকৃতি সেই আন্দোলনের সমর্থক ছিলেন। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের সেই শ্রমিক আন্দোলন হিংসাত্মক হয়ে ওঠে। উত্তর প্রদেশ পুলিশের অভিযোগ, শ্রমিক আন্দোলনকে হিংসাত্মক করে তোলার প্ররোচনা দিয়েছিলেন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাঙালি ছাত্রী আকৃতি চৌধুরী। সেই অভিযোগে আকৃতিকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাঁর বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের বিভিন্ন ধারা প্রয়োগ করা হয়। ওই আইনে তাঁকে ৫ মাস বিনা বিচারে আটকও রাখা হয়। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে মোট ১১টি মামলা রুজু করা হয়।

    সেপ্টেম্বর মাসের ২ তারিখে এলাহাবাদ হাইকোর্ট আকৃতির বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে আনা মামলা বাতিল করার নির্দেশ দেন। বিচারপতি অতুল শ্রীধরন ও বিচারপতি অচল সচদেবের ডিভিশন বেঞ্চ এনএসএতে আনা মামলা খারিজ করে জানান, আকৃতিকে অন্যায়ভাবে আটক করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর একটাও পুলিশ প্রমাণ করতে পারেনি। এমন কোনো প্রমাণ দাখিল করতে পারেনি যাতে প্রমাণিত হয় তিনি শ্রমিকদের সহিংস আচরণে প্ররোচনা জুগিয়েছেন। তা ছাড়া দেখা যাচ্ছে, শ্রমিক অসন্তোষ শুরু হওয়ার আগেই আকৃতিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। দুই বিচারপতি তাঁদের রায়ে জেলা শাসিকা মেধা রুপমের বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ এনে বলেছেন, সংবিধানের প্রতি অনুগত না থেকে তিনি রাজনৈতিক প্রশাসনের কাছে অনুগত থাকতে চেয়েছেন। দৃষ্টান্ত স্থাপনের তাগিদে তাই তিনি আকৃতির বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের ধারা প্রয়োগের অনুমতি দিয়েছেন। বিচারপতিরা বলেন, পুলিশ ও আমলাদের মনে রাখা উচিত তাঁরা সংবিধানের প্রতি দায়বদ্ধ। অন্য কারও প্রতি নন। তাঁদের এমন আচরণ করা উচিত নয় যাতে মনে হয় যে তাঁরা ব্রিটিশ আমলের মতো দমনপীড়নের বাহকে পরিণত হয়েছেন।

    বিশিষ্ট ঔপন্যাসিক জর্জ অরওয়েলের বিখ্যাত উপন্যাস ‘১৯৮৪’–এর উল্লেখ করে বিচারপতিরা কড়া ভাষায় বলেছেন, এভাবে চললে উত্তর প্রদেশ ক্রমেই ‘অরওয়েলীয় দুঃসহ সমাজব্যবস্থায়’ পরিণত হবে। রাজ্যটা পরিণত হবে ‘সম্পূর্ণভাবে জীবনগ্রাসী রাষ্ট্রে’।

    শুধু এনএসএতে আনা মামলা খারিজ করেই বিচারপতিরা ক্ষান্ত হননি, আকৃতিকে তাঁরা ৫ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, জেলা শাসিকা মেধা রুপম মতপ্রকাশের অধিকারে বাধা সৃষ্টি করে তাঁর সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা লঙ্ঘন করেছেন। একই অপরাধ করেছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। আকৃতিকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে যে ৫ লাখ রুপি দেওয়া হবে, তা মেধা ও অন্য কর্মকর্তাদের বেতন থেকে কাটতে হবে। জরিমানার অর্থ রাষ্ট্র দেবে না। সেই সঙ্গে আদালতের রায় ও পর্যবেক্ষণ মেধার কর্মজীবনের রিপোর্ট ও রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

    মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কন্যা মেধা দিল্লির সেন্ট স্টিফেন্স কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী। জাতীয় স্তরের সাবেক শুটারও ছিলেন তিনি। তিনিই নয়ডার প্রথম নারী জেলা শাসক। বাবার মতো তিনিও বিতর্কে জড়ালেন। আইন অনুযায়ী জ্ঞানেশ কুমার আইন আদালতের ঊর্ধ্বে হলেও কন্যা মেধা আদালতের রোষ থেকে বাঁচতে পারলেন না। বরং এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায় তাঁর কর্মজীবনের রেকর্ডভুক্ত হয়ে রইল।

  • পূর্ণাঙ্গ মানুষ থেকে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ

    পূর্ণাঙ্গ মানুষ থেকে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ

    তুরস্কের শিক্ষাবিদ ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মাহমুদ ওজেরে ‘পূর্ণাঙ্গ মানুষ’ ও ‘ন্যায়ভিত্তিক নগরসমাজ’ধারণাগুলোকে ‘জাস্টিস ইন ইসলামিক থট’ বইয়ের আলোকে নতুনভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। ওমর তুর্কার ও ইউনুস কাপলান সম্পাদিত বইটি ইসলামি চিন্তায় ন্যায়বিচারের ধারণা কীভাবে ব্যক্তি, পরিবার, রাজনীতি ও রাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে- তা বিশ্লেষণ করে। লেখাটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য হলো—ন্যায়বিচার কেবল আদালত, আইন বা রাষ্ট্র পরিচালনার বিষয় নয়; এটি মানুষের অস্তিত্ব ও চরিত্র থেকে শুরু হয়ে পুরো সামাজিক ব্যবস্থাকে ধারণ করে।

    এখানে ‘পূর্ণাঙ্গ মানুষ’ ও ‘ন্যায়ভিত্তিক সমাজ’ দুটি আলাদা আদর্শ নয়। বরং একটি আরেকটির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। যে মানুষ নিজের আত্মার ভেতরে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে পারে, সে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখে। আবার যে সমাজ ন্যায়, নৈতিকতা ও সুবিচারের ওপর প্রতিষ্ঠিত, সেই সমাজ ব্যক্তিকে নৈতিকভাবে বিকশিত হওয়ার পরিবেশ দেয়। অর্থাৎ ব্যক্তি সমাজকে তৈরি করে, আবার সমাজও ব্যক্তিকে তৈরি করে।

    এই ধারণার কেন্দ্রে রয়েছে মানুষের আত্মার শৃঙ্খলা। প্লেটোনীয় ঐতিহ্যে মানুষের আত্মার তিনটি প্রধান শক্তির কথা বলা হয়—বুদ্ধি, উদ্দীপনা বা সাহসের শক্তি এবং আকাঙ্ক্ষা ও ভোগের প্রবৃত্তি। প্রত্যেকটির মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা হলে জ্ঞান, সাহস ও সংযমের মতো গুণের বিকাশ ঘটে। আর এই গুণগুলোর মধ্যে সামগ্রিক সমন্বয় ঘটায় ন্যায়বিচার। ফলে ন্যায় হয়ে ওঠে অন্যান্য নৈতিক গুণের সমন্বিত ভিত্তি।

    এই দৃষ্টিতে পূর্ণাঙ্গ মানুষ সেই ব্যক্তি, যিনি নিজের বুদ্ধি, সাহস ও আকাঙ্ক্ষাকে যথাযথ ভারসাম্যের মধ্যে আনতে পেরেছেন। তার চরিত্রে জ্ঞান আছে, কিন্তু জ্ঞান অহংকারে পরিণত হয়নি; সাহস আছে, কিন্তু তা উগ্রতায় রূপ নেয়নি; আকাঙ্ক্ষা আছে, কিন্তু তা তাকে নিয়ন্ত্রণ করছে না। ন্যায়বোধ এই প্রবৃত্তিগুলোকে যথাস্থানে রাখে।

    ইসলামি নৈতিক দর্শনে এই ধারণা ব্যক্তি থেকে পরিবারের দিকে বিস্তৃত হয়। নাসিরুদ্দিন তুসির ‘আখলাক-ই নাসিরি’তে নৈতিক দর্শনকে ব্যক্তি, পরিবার ও রাষ্ট্র—এই তিনটি আন্তঃসম্পর্কিত স্তরে দেখা হয়েছে। এখানে নৈতিকতা ও ন্যায়বিচার আলাদা বিষয় নয়। ব্যক্তি যেমন নিজের চরিত্রে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করবে, তেমনি পরিবার পরিচালনা এবং বৃহত্তর রাজনৈতিক জীবনের ক্ষেত্রেও একই নীতি কার্যকর হবে।

    আধুনিক যুগে ন্যায়বিচারকে আমরা সাধারণত আইন, আদালত, অধিকার কিংবা রাষ্ট্রীয় নীতির সঙ্গে যুক্ত করি। কিন্তু ধ্রুপদি ইসলামি চিন্তায় ন্যায়বিচারের পরিধি আরো বিস্তৃত। সেখানে ন্যায় মানে শুধু কারও অধিকার রক্ষা করা নয়; বরং প্রতিটি বিষয়কে তার যথাযথ অবস্থানে রাখা এবং প্রতিটি সম্পর্ককে তার উপযুক্ত ভারসাম্যের মধ্যে পরিচালনা করা। অন্যায় হলো কোনো কিছুকে তার যথার্থ স্থান থেকে সরিয়ে দেওয়া।

    এই ধারণাটি আল-গাজ্জালির চিন্তাতেও গুরুত্বপূর্ণ। তার কাছে ন্যায় এমন একটি বাস্তব নৈতিক গুণ, যা মানুষের আচরণে প্রকাশ পেতে হবে। শুধু ন্যায় সম্পর্কে জ্ঞান থাকা যথেষ্ট নয়; ন্যায়কে চরিত্রে পরিণত করতে হবে এবং জীবনের কাজে তার প্রকাশ ঘটাতে হবে। ফলে নৈতিকতা কোনো বক্তৃতা বা তাত্ত্বিক আলোচনার বিষয় নয়—এটি জীবনযাপনের বিষয়।

    এই জায়গায় ব্যক্তি ও রাষ্ট্রের সম্পর্কটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। একটি সমাজের ন্যায়বিচার শুধু ভালো আইন দিয়ে নিশ্চিত হয় না। আইন প্রয়োগকারী মানুষ, প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, পরিবার এবং সাধারণ নাগরিক—সবাইকে ন্যায়বোধের চর্চা করতে হয়। ন্যায়বান মানুষ ছাড়া ন্যায়বান প্রতিষ্ঠান টেকসই হয় না। আবার ন্যায়ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ছাড়া ব্যক্তির নৈতিক বিকাশও কঠিন হয়ে পড়ে।

    আল-ফারাবির ‘গুণী নগর’ ধারণার মূল শক্তি এখানেই। গুণী নগর এমন একটি সমাজ, যেখানে মানুষের সর্বোচ্চ কল্যাণ বা সুখ অর্জনের পরিবেশ তৈরি হয়। শিক্ষা, আইন, পরিবার, বাণিজ্য, প্রশাসন—সব সামাজিক প্রতিষ্ঠান মানুষের নৈতিক বিকাশে ভূমিকা রাখে। ফলে রাষ্ট্র কেবল নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার যন্ত্র নয়; এটি মানুষের চরিত্র গঠনের পরিবেশও তৈরি করে।

    এই ধারণার সঙ্গে আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। আধুনিক রাষ্ট্রে রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব সাধারণত নাগরিকের অধিকার, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা। কিন্তু ধ্রুপদি ইসলামি রাজনৈতিক দর্শনে রাষ্ট্রের লক্ষ্য আরও বিস্তৃত—মানুষের নৈতিক ও সামগ্রিক উৎকর্ষের জন্য এমন পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে ব্যক্তি নিজেকে উন্নত করতে পারে।

    এ কারণে ন্যায়বিচারের প্রশ্নটি শুধু জনগণের জন্য নয়, শাসকের জন্যও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একটি রাষ্ট্রের ন্যায় অনেকাংশে নির্ভর করে তার নেতৃত্বের নৈতিক চরিত্রের ওপর। ধ্রুপদি ইসলামি চিন্তায় শাসককে নিজেকেই ন্যায় ও আত্মশুদ্ধির পথে অগ্রসর একজন মানুষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। কারণ শাসকের চরিত্র রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। লেখক আল-গাজ্জালির আলোচনার সূত্র ধরে দেখিয়েছেন, শাসকের ন্যায়বিচার শুধু তার ব্যক্তিগত আচরণের বিষয় নয়; তার চারপাশের ক্ষমতাকাঠামো ও সমাজেও এর প্রতিফলন ঘটে।

    এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শিক্ষা পাওয়া যায়। শুধু আইন তৈরি করে একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা যায় না। যদি রাষ্ট্রের কর্মকর্তারা দুর্নীতিগ্রস্ত হন, বিচারব্যবস্থা পক্ষপাতদুষ্ট হয়, ক্ষমতাবানরা আইনের ঊর্ধ্বে অবস্থান করেন এবং নাগরিকের মধ্যে ন্যায়বোধ দুর্বল থাকে, তাহলে সংবিধান ও আইন থাকা সত্ত্বেও সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হবে না।

    ন্যায় তাই একটি সামগ্রিক সংস্কৃতি। এটি পরিবারে যেমন প্রয়োজন, রাষ্ট্রেও তেমন প্রয়োজন। ব্যবসায় যেমন প্রয়োজন, রাজনীতিতেও তেমন প্রয়োজন। আদালতে যেমন প্রয়োজন, ব্যক্তিগত সম্পর্কেও তেমন প্রয়োজন। একজন নাগরিকের ন্যায়বোধ এবং একজন শাসকের ন্যায়বোধ একই নৈতিক মূলনীতির অংশ।

    ইসলামি চিন্তায় ন্যায়কে আরও বৃহত্তর এক মহাজাগতিক শৃঙ্খলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। ইবনে আরাবির চিন্তায় আল্লাহর ‘আল-আদল’—ন্যায়বিচারক—নামের সঙ্গে সৃষ্টিজগতের শৃঙ্খলার সম্পর্ক রয়েছে। মানুষের জগতে অন্যায় সেই শৃঙ্খলাকে বিঘ্নিত করে। ফলে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রে ন্যায় প্রতিষ্ঠা কেবল রাজনৈতিক প্রয়োজন নয়; এটি অস্তিত্বের একটি বৃহত্তর নৈতিক শৃঙ্খলার সঙ্গে মানুষের সম্পর্কেরও অংশ।

    এই জায়গায় আধুনিক বিশ্বের সংকটগুলোর সঙ্গে ধ্রুপদি ইসলামি চিন্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ তৈরি হয়। আজকের পৃথিবীতে আমরা দুর্নীতি, রাজনৈতিক মেরুকরণ, সামাজিক বৈষম্য, পারিবারিক সংকট, ক্ষমতার অপব্যবহার ও আস্থার সংকট নিয়ে আলোচনা করি। এসব সমস্যার সমাধান খুঁজতে আমরা প্রায়ই নতুন আইন, নতুন প্রতিষ্ঠান কিংবা নতুন প্রশাসনিক কাঠামোর কথা বলি। কিন্তু মানুষের চরিত্রের পরিবর্তন ছাড়া এসব প্রতিষ্ঠান কতটা কার্যকর হবে—সেই প্রশ্নটি অনেক সময় আড়ালে থেকে যায়।

    ‘পূর্ণাঙ্গ মানুষ’ ও ‘গুণী নগর’-এর ধারণা সেই জায়গাটিই সামনে আনে। একটি ভালো সমাজের জন্য শুধু ভালো প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন নয়; ভালো মানুষও প্রয়োজন। আবার ভালো মানুষ তৈরির জন্য প্রয়োজন এমন সামাজিক প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি, যা নৈতিকতাকে উৎসাহিত করবে।

    অর্থাৎ পরিবর্তনের পথ একমুখী নয়। শুধু মানুষ বদলালে সমাজ বদলাবে—এটিও পুরো সত্য নয়। আবার শুধু প্রতিষ্ঠান বদলালেই মানুষ বদলে যাবে—এটিও যথেষ্ট নয়। ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে একসঙ্গে পরিবর্তিত হতে হয়। ন্যায়বান নাগরিক ন্যায়বান প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে, আর ন্যায়বান প্রতিষ্ঠান নতুন প্রজন্মের ন্যায়বান নাগরিক তৈরিতে সহায়তা করে।

    এখানেই ‘পূর্ণাঙ্গ মানুষ’ থেকে ‘গুণী নগর’-এর যাত্রা। ব্যক্তি তার আত্মার মধ্যে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করবে; পরিবার সেই ন্যায়কে সম্পর্কের মধ্যে বাস্তবায়ন করবে; সমাজ সেটিকে সামাজিক প্রতিষ্ঠানে রূপ দেবে; রাষ্ট্র সেটিকে আইন ও শাসনের কাঠামোর মাধ্যমে সংরক্ষণ করবে। আবার রাষ্ট্র ও সমাজের সেই ন্যায়ভিত্তিক পরিবেশ ব্যক্তির নৈতিক বিকাশকে আরও শক্তিশালী করবে।

    এই দৃষ্টিভঙ্গির সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—ন্যায় কোনো বিচ্ছিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান নয়। এটি একটি জীবনদর্শন। ব্যক্তি যদি ন্যায়বান না হন, পরিবারে ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হয় না; পরিবারে ন্যায় না থাকলে সমাজে ন্যায় দুর্বল হয়; সমাজে ন্যায় দুর্বল হলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানও শেষ পর্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়ে।

    তাই একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রের প্রশ্ন শেষ পর্যন্ত একজন মানুষের আত্মার প্রশ্নেও ফিরে আসে। রাষ্ট্রের ন্যায় শুরু হয় মানুষের ভেতর থেকে, আবার মানুষের নৈতিক বিকাশের জন্য ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র ও সমাজ প্রয়োজন। ব্যক্তি ও সমাজের এই পারস্পরিক নির্মাণই ‘পূর্ণাঙ্গ মানুষ’ ও ‘গুণী নগর’-এর সবচেয়ে গভীর শিক্ষা।

    সমকালীন পৃথিবীতে যখন ন্যায়বিচারকে অনেক সময় শুধু আদালত, অধিকার ও আইনের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ করা হয়, তখন ইসলামি চিন্তার এই বিস্তৃত ধারণা নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করে। ন্যায় মানে শুধু অপরাধীর বিচার নয়; ন্যায় মানে প্রত্যেক মানুষ, প্রতিষ্ঠান ও সম্পর্ককে তার যথাযথ মর্যাদা ও অবস্থান দেওয়া। ন্যায় মানে ক্ষমতার ব্যবহারেও সংযম, সম্পদের বণ্টনে ভারসাম্য, পরিবারে দায়িত্বশীলতা এবং ব্যক্তিজীবনে আত্মশুদ্ধি।

    এই অর্থে একটি ন্যায়ভিত্তিক শহর বা রাষ্ট্র কেবল উন্নত অবকাঠামো, শক্তিশালী অর্থনীতি কিংবা কার্যকর প্রশাসনের নাম নয়। এটি এমন একটি নৈতিক পরিবেশ, যেখানে মানুষ নিজেকে উন্নত করতে পারে এবং অন্যের উন্নতির পথও তৈরি করে। আর সেই সমাজের সূচনা হয় একজন মানুষের নিজের ভেতরে ন্যায় প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে।

    পূর্ণাঙ্গ মানুষ ও গুণী নগর তাই দুটি আলাদা স্বপ্ন নয়। একটি অন্যটির কারণও, ফলও। ন্যায় তাদের মধ্যে সেতুবন্ধন। ব্যক্তি ন্যায়বান হলে সমাজের ভিত্তি শক্ত হয়; সমাজ ন্যায়বান হলে ব্যক্তির উৎকর্ষের পথ প্রশস্ত হয়। এই পারস্পরিক সম্পর্কের মধ্যেই একটি ন্যায়ভিত্তিক সভ্যতার সম্ভাবনা নিহিত।

    মানুষ একা বসবাসের জন্য সৃষ্টি হয়নি। পারস্পরিক প্রয়োজন ও সম্পর্কের কারণে মানুষ পরিবার গড়ে, সমাজ তৈরি করে এবং শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্র ও নগরসভ্যতার জন্ম দেয়। কিন্তু মানুষের সম্মিলিত জীবন কীভাবে এমনভাবে সংগঠিত হবে, যাতে ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ের কল্যাণ নিশ্চিত হয়—এই প্রশ্নটি প্রাচীনকাল থেকেই দর্শন ও রাজনৈতিক চিন্তার অন্যতম প্রধান বিষয়।

    প্লেটো ও অ্যারিস্টটল থেকে আল-ফারাবি, ইবনে সিনা, আল-গাজ্জালি, নাসিরুদ্দিন তুসি, ইবনে বাজ্জাহ ও ইবনে খালদুন পর্যন্ত মুসলিম ও অমুসলিম বহু চিন্তক এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছেন। ইসলামি বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্যে এ আলোচনার দুটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হলো ‘আল-ইনসান আল-কামিল’—পূর্ণাঙ্গ বা পরিপূর্ণ মানুষ এবং ‘আল-মাদিনাহ আল-ফাদিলাহ’—গুণী বা ন্যায়ভিত্তিক নগররাষ্ট্র। আল-ফারাবি এই চিন্তার অন্যতম প্রধান ভিত্তি নির্মাণ করেন।

  • মুসলিম নারীকে পুশইন: আসাম সরকারকে জরিমানা করল ভারতীয় হাইকোর্ট

    মুসলিম নারীকে পুশইন: আসাম সরকারকে জরিমানা করল ভারতীয় হাইকোর্ট

    বাংলাভাষী এক মুসলিম নারীকে জোর করে বাংলাদেশে পুশইন করার ঘটনায় ভারতে আসামের রাজ্য সরকারকে দু’লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে গৌহাটি হাইকোর্ট।

    ভারত থেকে কাউকে বাংলাদেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে ডিপোর্টেশন সংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘনের জন্য কোনো রাজ্য সরকারকে আদালতের খরচ বা ক্ষতিপূরণ দিতে বলার ঘটনা এই প্রথম।

    মুমতাজ বেগমের পরিবার গৌহাটি হাইকোর্টে হেবিয়াস কর্পাস মামলা দায়ের করার পর জানতে পারে যে তাকে জোর করে ভারত থেকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

    এই মামলায় হাইকোর্ট ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কেও পক্ষভুক্ত করে।

    আদালত আরো জানিয়েছে, এই নারীকে বাংলাদেশ থেকে খুঁজে বের করে তাকে ভারতে ফিরিয়ে আনার জন্য দেশটির সরকারকে ‘চেষ্টা চালাতে’ নির্দেশ দেওয়া হবে।

    মুমতাজ বেগমকে বাংলাদেশে পাঠানোর ঘটনায় আসামের নগাঁও ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের ভূমিকাতেও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট।

    হেবিয়াস কর্পাস মামলার ভিত্তিতে শুনানি করতে গিয়ে বিচারপতি কল্যাণ রাই সুরানা এবং বিচারপতি সুস্মিতা ফুকন খাউন্ডের বেঞ্চ বলেছে, ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল যে ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে, তাতে আদালত মনে করেছে যে আইনের অপপ্রয়োগের মাধ্যমে বিদ্বেষপ্রসূত পদক্ষেপের বিষয়টি নথি থেকেই স্পষ্ট।

  • মাদক মামলা

    মাদক মামলা

    মিসরে টিভি উপস্থাপকসহ ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড

    মাদকদ্রব্য তৈরি ও পাচারের মামলায় মিসরে জনপ্রিয় এক নারী টেলিভিশন উপস্থাপকসহ ১২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। গতকাল শনিবার দেশটির সরকারি গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।

    মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ওই উপস্থাপকের নাম সারাহ খলিফা। তার বয়স ৩৯ বছর। ‘মিশন ইমপসিবল’ নামের একটি অনুষ্ঠান উপস্থাপনার জন্য তিনি বেশি পরিচিত। অনুষ্ঠানটিতে নিরাপত্তা ও অপরাধ নিয়ে আলোচনা করা হতো।

    সরকার-সংশ্লিষ্ট পত্রিকা আল-আহরামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাদক তৈরিতে ব্যবহৃত উপকরণ সংগ্রহ এবং সেগুলো পাচারের জন্য একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র গঠনের অভিযোগে সারাহ খলিফা ও অপর ১১ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে লাইসেন্সবিহীন আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ রাখা এবং বহনের অভিযোগও রয়েছে।

    কায়রোর একটি আদালত এই রায় দেন। রায় ঘোষণার আগে আদালত মিসরের গ্র্যান্ড মুফতির কাছে ফতোয়া বা ধর্মীয় মতামত জানতে চেয়েছিলেন। দেশটির আইনে মৃত্যুদণ্ডের মামলায় এটি বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া। তবে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ রয়েছে।

    রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন আখবার এল-ইয়োম-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসামিদের বিরুদ্ধে পাচারের উদ্দেশ্যে সিনথেটিক মাদক তৈরি এবং বিদেশ থেকে মাদক তৈরির উপকরণ আমদানির অভিযোগ আনা হয়েছে।

    আল-আহরাম জানিয়েছে, অভিযানে ৭৫০ কেজির বেশি মাদকদ্রব্য ও মাদক তৈরির কাঁচামাল জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া মাদক তৈরির পরীক্ষাগার হিসেবে ব্যবহৃত দুটি অ্যাপার্টমেন্ট এবং লাইসেন্সবিহীন আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।

    সারাহ খলিফার একটি কসমেটিক সার্জারি ক্লিনিক রয়েছে। তিনি বিভিন্ন পার্টি ও অনুষ্ঠানের আয়োজন করা একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানেরও মালিক।

    অন্য মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড

    অন্য একটি মামলায় সারাহ খলিফা ও অপর আসামিদের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। ওই মামলায় এক তরুণকে অপহরণ ও মারধরের অভিযোগ ছিল।

    মিসরে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, ধর্ষণসহ কয়েক ধরনের অপরাধ এবং মাদক পাচারের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে।

    মিসরীয় কমিশন ফর রাইটস অ্যান্ড ফ্রিডমসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটিতে ৫৪১ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

  • প্রেমিকা কথা না বলায় বাড়িতে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ, গ্রেফতার যুবক

    প্রেমিকা কথা না বলায় বাড়িতে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ, গ্রেফতার যুবক

    ভারতের তামিলনাড়ুর মাদুরাই জেলায় প্রেমিকার বাড়ির সামনে পেট্রলবোমা নিক্ষেপের অভিযোগে ২৩ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ভোরে এ ঘটনা ঘটে। পুরো ঘটনাটি ধরা পড়েছে সিসিটিভি ক্যামেরায়।

    গ্রেফতার যুবকের নাম নাগার্জুন। তিনি মালামাল বহনের কাজ করেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সময় তিনি মাতাল ছিলেন। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রেমিকা তার সঙ্গে কথা না বলায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি এ ঘটনা ঘটান বলে অভিযোগ।

    পুলিশ জানায়, ওই তরুণীর সঙ্গে নাগার্জুনের প্রায় ছয় বছরের সম্পর্ক। সম্প্রতি তরুণী তার সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শুক্রবার ভোরে প্রেমিকার বাড়ির কাছে গিয়ে পেট্রলবোমা ছোড়েন তিনি।

    এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘নাগার্জুন মদ্যপ ছিলেন। ছয় বছরের সম্পর্কের প্রেমিকা গত এক সপ্তাহ ধরে তার সঙ্গে কথা না বলায় তিনি ক্ষুব্ধ ছিলেন। তাকে বিচারিক হেফাজতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।’

    সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, নাগার্জুন একটি বস্তুতে আগুন ধরিয়ে সেটি ছুড়ে দেন। বস্তুটি আগুন ধরে বিস্ফোরিত হলেও সেটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে তার শরীরের ওপর পড়ে যায়। এরপর তিনি দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

    ঘটনার সময় কাছের একটি দোকানের বাইরে আরেক ব্যক্তিকে ঘুমিয়ে থাকতে দেখা যায় সিসিটিভি ফুটেজে।

    পুলিশ নাগার্জুনকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। ঘটনার বিষয়ে আরও তদন্ত চলছে।

    তামিলনাড়ুতে অপরাধ, আইনশৃঙ্খলা ও নারীর নিরাপত্তা নিয়ে বিধানসভায় উত্তপ্ত বিতর্কের এক দিন পরই এ ঘটনা ঘটল। মুখ্যমন্ত্রী বিজয় বৃহস্পতিবার তার দপ্তরের জন্য বরাদ্দ চাওয়ার বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

    বিরোধী দলীয় নেতা উদয়নিধি স্টালিন রাজ্যে হত্যা, যৌন অপরাধ, হেফাজতে মৃত্যু ও সম্মানহত্যা বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন। তিনি দাবি করেন, টিভিকে সরকারের ১১৬ দিনে ২০০টি হত্যা, ১০টি সম্মানহত্যা ও আটটি হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

    অন্যদিকে, পিডব্লিউডি মন্ত্রী আধব অর্জুনা আগের ডিএমকে সরকারের আমলে অপরাধের তথ্য নিয়ে স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগ করেন।

    বিতর্কের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী বিজয় বলেন, সোমবার তিনি বিরোধীদের সব প্রশ্নের জবাব দেবেন।

  • ‘যৌনাঙ্গ চুরির’ গুজবে আফ্রিকায় হত্যার শিকার ৮০

    ‘যৌনাঙ্গ চুরির’ গুজবে আফ্রিকায় হত্যার শিকার ৮০

    ‘যৌনাঙ্গ চুরি’র অদ্ভুত ও ভিত্তিহীন গুজবে আফ্রিকার অন্তত ৮টি দেশে ব্যাপক গণপিটুনি ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। বিবিসির গ্লোবাল ডিসইনফরমেশন ইউনিটের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই কুসংস্কার ও গুজবের জেরে গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের জুলাই মাসের মধ্যে ৮০ জনেরও বেশি মানুষ হত্যার শিকার হয়েছেন।

    দেশগুলোর পুলিশ বাহিনীর কাছ থেকে এই তথ্য সংগ্রহ করেছে বিবিসি গ্লোবাল ডিসইনফরমেশন ইউনিট।

    হাত দিয়ে পিঠে সামান্য টোকা দিলেই পুরুষের যৌনাঙ্গ ছোট কিংবা অদৃশ্য হয়ে যেতে পারে- এমন গুজবের সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডগুলোর যোগসূত্র রয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুয়া তথ্যের কারণে এসব গুজব আরও তীব্র আকার ধারণ করছে।

    তানজানিয়ার মেকানিক বনিফাস এমগালা বিবিসিকে জানান, তাকে ও তার এক বন্ধুকে ঘিরে ধরে একদল মানুষ অভিযোগ করে তারা নাকি কারও যৌনাঙ্গ চুরি করেছেন। পরে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।

    বিবিসির যাচাই করা ভিডিওতেও এমন বেশ কয়েকটি ঘটনার প্রমাণ মিলেছে।

    একটি মিথ্যা গুজব কীভাবে মুহূর্তেই গণহিংসায় রূপ নিয়ে প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে আফ্রিকার সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো তারই ভয়াবহ উদাহরণ।

  • কলেজ ছাত্র দিগন্ত হত্যায় দুই আসামি গ্রেপ্তার, গাজীপুরে বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

    কলেজ ছাত্র দিগন্ত হত্যায় দুই আসামি গ্রেপ্তার, গাজীপুরে বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাজীপুর বিজ্ঞান কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান দিগন্ত (১৮) হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন কলেজটির সাধারণ শিক্ষার্থী, শিক্ষক, নিহতের স্বজন ও স্থানীয় এলাকাবাসী। একই সঙ্গে মামলার তদন্তে অগ্রগতি হিসেবে দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গাজীপুর-শিমুলতলী সড়কের ভূরুলিয়া এলাকায় গাজীপুর বিজ্ঞান কলেজের উদ্যোগে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, নিহতের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় এলাকাবাসী অংশ নেন।

    গাজীপুর বিজ্ঞান কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি শামিম মাঝির সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন, কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ আরিফুজ্জামান, নিহতের বাবা সিরাজ মোড়ল, মা রাশিদা বেগম, চাচা শাহীন দর্জি, ভাই শান্ত ইসলাম রাব্বি, বিএনপি নেতা ভিপি জয়নাল আবেদীন তালুকদারসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

    মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মেহেদী হাসান দিগন্ত একজন মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে তিনি হত্যার শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে তদন্তে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন এবং প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানান তারা।

    বক্তব্য দেওয়ার সময় নিহতের মা রাশিদা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি ছেলের হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আহ্বান জানান।

    মানববন্ধন শেষে দিগন্ত হত্যার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

  • ফেনীতে অপহরণ-চাঁদাবাজি মামলায় বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা কারাগারে

    ফেনীতে অপহরণ-চাঁদাবাজি মামলায় বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা কারাগারে

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ফেনীর দাগনভূঞায় অপহরণ ও চাঁদাবাজির মামলায় জেলা ছাত্রদলের বহিষ্কৃত সহ-সভাপতি জামশেদুর রহমান ফটিককে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

    বৃহস্পতিবার যুগ্ম-জেলা ও দায়রা জজ মো: জাহিদ হোসাইনের আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    আদালতের বেঞ্চ সহকারী শাহাদাত হোসাইন মিনার জানান, জামশেদুর রহমান ফটিকের বিরুদ্ধে ফেনী মডেল থানায় অপহরণ ও চাঁদাবাজির মামলা রয়েছে। তিনি ওই মামলার একমাত্র আসামি।

    তিনি জানান, জামিনে গিয়ে ফটিক অনুপস্থিত থাকায় তার বিরুদ্ধে আদালত ওয়ারেন্ট ইস্যু করেন। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি ফেনীর যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফয়জুল আজিম নোমান জানান, ফটিকের বিরুদ্ধে অপহরণ ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১১টি মামলা রয়েছে।

  • চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে প্রায় ৭০ লক্ষ টাকার মাদক ও চোরাচালানি পণ্য জব্দ

    চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে প্রায় ৭০ লক্ষ টাকার মাদক ও চোরাচালানি পণ্য জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে বিশেষ অভিযান চালিয়ে সাড়ে ৬৭ লাখ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ মাদক ও চোরাচালানি পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    ২৯ আগস্ট চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি)-এর অধীন দর্শনা, বাজিতপুর, মুন্সিপুর ও আইসিপি বিওপির টহল দল সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে এসব মালামাল জব্দ করে।

    বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে ৫০ বোতল ভারতীয় ইস্কাফ সিরাপ, ৩ বোতল ভারতীয় মদ, ৩০ গ্রাম ভারতীয় হেরোইন, ১০ হাজার ৪৪০ পিস ভারতীয় সাইপ্রোহেপ্টাডিন ট্যাবলেট এবং ১০ হাজার ৮০০ পিস ভারতীয় ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

    এ ছাড়া ৩৪ পিস বিভিন্ন ধরনের ভারতীয় প্রসাধনী, ২৫ পিস ভারতীয় চকলেট, একটি ভারতীয় কম্বল এবং একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।

    উদ্ধার করা এসব অবৈধ পণ্যের আনুমানিক সিজার মূল্য ৬৭ লাখ ৫৩ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।

    বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিজিবির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

    চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান বলেন, দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সবসময় সতর্ক ও তৎপর রয়েছে।

    তিনি বলেন, সীমান্ত এলাকায় সব ধরনের অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি, নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদার করা হবে।

    বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সীমান্তে মাদক, চোরাচালান ও অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বাহিনীর সদস্যরা পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন।

  • নেপাল-তিব্বতে মৃত বেড়ে ১২৭৩, নিখোঁজ প্রায় ৫ হাজার

    নেপাল-তিব্বতে মৃত বেড়ে ১২৭৩, নিখোঁজ প্রায় ৫ হাজার

    নেপাল ও তিব্বতে হিমবাহ ধসে সৃষ্ট বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৭৩ জনে। আজ বৃহস্পতিবার নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিআরআরএমএ) জানিয়েছে, দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ২৫২টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ২১৬ জনেরও বেশি। অন্যদিকে তিব্বতে চীনা কর্তৃপক্ষ ২১ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে। সেখানে এখনো ৫৪১ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

    আল-জাজিরা প্রতিবেদনে জানা যায়, চীন সীমান্তের কাছে কয়েকটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের ভেতরে সুড়ঙ্গে শত শত শ্রমিক আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভেতরে আটকা পড়া শ্রমিকদের কাছে পৌঁছাতে দিনরাত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।

    নেপালের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি রাসুয়া জেলায় একটি সুড়ঙ্গের প্রবেশপথে জমে থাকা বিশাল কাদার স্তূপ সরাতে দেখা যায় উদ্ধারকারীদের। সেখানে উপস্থিত নেপালি সেনাবাহিনীর প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তা সঞ্জয় কেসি বলেন, ‘আমরা এখনো আশা করছি, ভেতরে কেউ জীবিত থাকতে পারেন। বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভেতরের জায়গাটি বড়। আমাদের ধারণা, পুরো বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পানিতে তলিয়ে যায়নি।’

    নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনেরা প্রতিদিন সকালে তাঁদের প্রিয়জনের কোনো খবর পাওয়ার আশায় উদ্ধারকেন্দ্রগুলোতে জড়ো হচ্ছেন। অনেকের জন্য এই অপেক্ষা হয়ে উঠেছে অসহনীয়।

    নিখোঁজ এক প্রকৌশলীর ছেলে প্রতীক রানা বলেন, ‘প্রতিদিন এখানে আসি বাবাকে খুঁজে পাওয়ার আশায়। কিন্তু প্রতিদিন সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে মনে হয়, আমার আশাও ফিকে হয়ে যাচ্ছে। বাবা সবার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু আমার কাছে তিনি ছিলেন জীবনের অত্যন্ত মূল্যবান অংশ।’

    এদিকে রাজধানী কাঠমান্ডুতে উদ্ধার হওয়া মরদেহ শনাক্তে কাজ করছেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। উদ্ধার হওয়া অনেক মরদেহের অবস্থা এমন যে সেগুলো শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। উল্কি ও গয়নার মতো কিছু বিষয় পরিচয় শনাক্তে সহায়তা করলেও অনেক ক্ষেত্রেই তা যথেষ্ট নয়।

    গতকাল বুধবার নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ বলেন, জীবিত কাউকে খুঁজে পাওয়ার অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনের কাজও শুরু করা হবে।

    ক্ষতিগ্রস্ত অন্য এলাকাগুলোতে দুর্গম গ্রামে আটকা পড়া মানুষদের উদ্ধারে জিপলাইন ও হেলিকপ্টারসহ বিভিন্ন উপায় ব্যবহার করছে কর্তৃপক্ষ। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) হিসাব অনুযায়ী, বন্যা ও কাদার স্রোতে অন্তত ২২ লাখ টন ধ্বংসাবশেষ জমেছে।

    এনডিআরআরএমএর প্রধান ধর্ম রাজ উপ্রেতি জানান, দেশটিতে প্রায় ২০ হাজার বাড়ি পুনর্নির্মাণ করতে হবে। এর মধ্যে ৭ হাজার ৫০০ বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। উপ্রেতি আরও বলেন, একই স্থানে বাড়িঘর পুনর্নির্মাণের কোনো অর্থ নেই। কারণ, এতে মানুষ আবার একই ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে। ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীকে স্থানান্তরের জন্য নিরাপদ এলাকা চিহ্নিত করে সেখানে নতুন বসতি গড়ে তোলার চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ।

    জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার পর্যন্ত নুয়াকোট ও রাসুয়ার ২৭টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩ হাজার ৪০০ জনের বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষ অবস্থান করছিলেন। তাঁদের বেশির ভাগই স্কুলে আশ্রয় নিয়েছেন।

    এদিকে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য ঐতিহাসিকভাবে দায়ী বড় গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনকারী দেশগুলোর নেপালের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দায়িত্ব রয়েছে। আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জলবায়ু ক্ষতিপূরণের দাবি–সংক্রান্ত একটি চিঠি’ পাঠিয়েছে।

  • মার্কিন মুদ্রায় ট্রাম্পের মুখ: আইন কী বলে?

    মার্কিন মুদ্রায় ট্রাম্পের মুখ: আইন কী বলে?

    যুক্তরাষ্ট্রের একটি মুদ্রায় এবার স্থান পেয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিকৃতি—গত এক শতাব্দীর মধ্যে এই প্রথম কোনো জীবিত মার্কিন প্রেসিডেন্টের মুখ দেশটির মুদ্রায় স্থান পেল।

    গতকাল বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের টাঁকশাল (ইউএস মিন্ট) ট্রাম্পের প্রতিকৃতি–সংবলিত ১ ডলারের মুদ্রা উন্মোচন করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন উপলক্ষে মুদ্রাটিতে ট্রাম্পের প্রতিকৃতির পাশাপাশি ‘লিবার্টি’ এবং ‘ইন গড উই ট্রাস্ট’ লেখা রয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের টাঁকশাল জানিয়েছে, বিশেষ সংস্করণের এই মুদ্রায় ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন করতে থাকা একটি দেশের চেতনা, গর্ব ও ঐতিহ্যকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

    টাঁকশালের ওয়েবসাইটে বিক্রির জন্য মুদ্রাগুলোর দাম রাখা হয়েছিল, ২৫টি মুদ্রার একটি রোলের জন্য ৬১ ডলার এবং ১০০টি মুদ্রার একটি ব্যাগের জন্য ১৫৪ ডলার ৫০ সেন্ট।

    বিক্রি শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই টাঁকশালের ওয়েবসাইটে সব মুদ্রা বিক্রি হয়ে যায়। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে বিবিসি যুক্তরাষ্ট্রের টাঁকশাল, ট্রেজারি বিভাগ এবং হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের টাঁকশাল বলেছে, ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জাতীয়ভাবে ‘ঐতিহাসিক মাইলফলক উদ্‌যাপন’ উপলক্ষে মুদ্রাটি তৈরি করা হয়েছে। বিশেষ নকশায় তৈরি করা মুদ্রাটি আধুনিক কালে মুদ্রা সংগ্রহে একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন হিসেবে জায়গা করে নেবে।

    ওয়াশিংটন ডিসিতে যুক্তরাষ্ট্রের টাঁকশালের দোকানে থাকা ভেন্ডিং মেশিনেও মুদ্রাগুলো বিক্রি করা হচ্ছিল। মুদ্রাটির রং সোনালি, তবে এটি সোনার তৈরি নয়। যুক্তরাষ্ট্রের টাঁকশালের তথ্য অনুযায়ী, মুদ্রাগুলোতে ৮৮ শতাংশের বেশি তামা রয়েছে। বাকি অংশে রয়েছে দস্তা, ম্যাঙ্গানিজ ও নিকেল।

    গত মে মাসে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছিলেন, তাঁর দপ্তর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতিকৃতি–সংবলিত নতুন ২৫০ ডলারের নোট বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা করছে।

    তবে মার্কিন ফেডারেল আইন অনুযায়ী, জীবিত কোনো ব্যক্তির ছবি–সংবলিত মার্কিন মুদ্রা ছাপা নিষিদ্ধ। ট্রাম্পের মিত্র হিসেবে পরিচিত কংগ্রেস সদস্যরা এই নিষেধাজ্ঞা থেকে ব্যতিক্রম রাখার জন্য একটি বিল উত্থাপন করেছেন। তবে প্রস্তাবটি বর্তমানে কংগ্রেসে আটকে আছে।

    ওয়াশিংটন ডিসিতে যুক্তরাষ্ট্রের টাঁকশালের দোকানে থাকা ভেন্ডিং মেশিনেও মুদ্রাগুলো বিক্রি করা হচ্ছিল।

    সে সময় বেসেন্ট উল্লেখ করেছিলেন, এর আগেও একজন জীবিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট দেশটির মুদ্রায় স্থান পেয়েছিলেন। ১৯২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ১৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রকাশিত একটি ৫০ সেন্টের মুদ্রায় তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ক্যালভিন কুলিজের প্রতিকৃতি ছিল।

    ট্রাম্প প্রশাসন ২০২০ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে পাস হওয়া ‘সার্কুলেটিং কালেক্টিবল কয়েন রিডিজাইন অ্যাক্ট’-এর কথাও উল্লেখ করেছে।

    এই আইনে মুদ্রার পেছনের দিক বা রিভার্স-এ জীবিত ব্যক্তির প্রতিকৃতি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে মুদ্রার সামনের দিক বা অবভার্স এর ক্ষেত্রে আইনে স্পষ্টভাবে এমন নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়নি। নতুন ১ ডলারের মুদ্রায় ট্রাম্পের প্রতিকৃতি সামনের দিকে।

    এ ছাড়া ১৮৬৬ সালের থেয়ার সংশোধনী অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের কাগজের নোটে কোনো জীবিত ব্যক্তির প্রতিকৃতি ব্যবহার নিষিদ্ধ। তবে প্রচলিতভাবে এই বিধান মুদ্রার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

  • ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় ফের হামলার হুমকি ইসরাইলের

    ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় ফের হামলার হুমকি ইসরাইলের

    ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ বলেছেন, ইরান যদি ইসরাইলকে আক্রমণ করে, তবে তার দেশ ইরানের জ্বালানি ও বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালাবে। খবর আলজাজিরার।

    বৃহস্পতিবার এক ভাষণে কাটজ বলেন, ইসরাইলের ওপর ইরানের হামলা হলে, ইরানকে আক্রমণ করার ক্ষেত্রে ইসরাইল যেকোনো বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্ত হয়ে যাবে।

    তিনি আরো বলেন, ‘আমরা ইরানের সমস্ত জাতীয় সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামো – যার মধ্যে জ্বালানি অবকাঠামোও রয়েছে – অচল করে দেব এবং ইরানকে প্রস্তর যুগ ও অন্ধকারের গভীরে ফিরিয়ে দেব।’

    ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে মিলে ইরানের বিরুদ্ধে একটি যৌথ বিমান যুদ্ধ শুরু করেছিল, তবে সাম্প্রতিক এই লড়াইয়ে জড়িত ছিল না ইসরাইল।

    কাটজের এই হুমকির ফলে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এছাড়া বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও ছয় সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠে। এর আগের দিনে বিশ্ব শেয়ারে বাজারে বড় ধরনে পতন লক্ষ্য করা গেছে।

  • জামানত ছাড়া তরুণ উদ্যোক্তাদের ২০ লাখ টাকা ঋণ দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক

    জামানত ছাড়া তরুণ উদ্যোক্তাদের ২০ লাখ টাকা ঋণ দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক

    দেশের উপজেলা পর্যায়ে তরুণ উদ্যোক্তা তৈরি এবং তাদের ব্যবসায়িক উদ্যোগে অর্থায়নের জন্য নতুন কর্মসূচি চালু করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘উদ্যোগ—উপজেলাভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়ন কর্মসূচি’র আওতায় নির্বাচিত প্রত্যেক উদ্যোক্তাকে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন দেওয়া হবে। এর অর্ধেক হবে ব্যাংক ঋণ, বাকি অর্ধেক অনুদান। ঋণ নিতে কোনো সহায়ক জামানত দিতে হবে না।

    বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, ‘উদ্যোগ’ প্রচলিত অর্থে কোনো প্রতিযোগিতা নয়। এ কর্মসূচির আওতায় তফসিলি ব্যাংকগুলো তাদের বিদ্যমান শাখা নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে উপজেলা পর্যায়ে সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তাদের খুঁজে বের করবে। এরপর তাদের ব্যবসায়িক ধারণা ও প্রকৃত অর্থের প্রয়োজন যাচাই করে অর্থায়নের ব্যবস্থা করা হবে।

    ঋণের অর্ধেক অনুদান

    নির্বাচিত প্রত্যেক উদ্যোক্তা তার প্রকৃত চাহিদা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকার একটি অর্থায়ন প্যাকেজ পাবেন। এর অর্ধেক হবে ব্যাংকঋণ। বাকি অর্ধেক দেওয়া হবে অনুদান হিসেবে।

    গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের সুদ বা মুনাফার হার হবে সর্বোচ্চ ৪ থেকে ৭ শতাংশ। এ ঋণের জন্য কোনো সহায়ক জামানত দিতে হবে না।

    তবে নির্ধারিত সময়ে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে অনুদানের অর্থ সুদবিহীন ঋণে রূপান্তরিত হবে। এ ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ঋণ হিসাব শ্রেণিকৃত হবে। ঋণগ্রহীতা খেলাপি হিসেবে বিবেচিত হবেন। পরবর্তী সময়ে তিনি নতুন করে ঋণ পাওয়ার যোগ্যতাও হারাবেন।

    আবেদন করতে পারবেন যারা

    আবেদনের শেষ তারিখে যেসব প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের বয়স ২৮ বছরের বেশি নয় এবং যারা সংশ্লিষ্ট উপজেলার বাসিন্দা, তারা এ কর্মসূচিতে আবেদন করতে পারবেন।

    আবেদনকারীর আগে ব্যবসা পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকা বাধ্যতামূলক নয়। একটি বাস্তবসম্মত ব্যবসায়িক ধারণা থাকলেই আবেদন করা যাবে।

    কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হস্তশিল্প, মৎস্য, পশুপালন, পর্যটন, সেবা এবং প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্যোগসহ সব ধরনের বৈধ উদ্যোগকে সমানভাবে বিবেচনা করা হবে।

    আবেদনের জন্য কোনো টাকা লাগবে না। সংশ্লিষ্ট উপজেলার যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের শাখায় নির্ধারিত ফরমে আবেদন জমা দেওয়া যাবে।

    আবেদন শুরু সেপ্টেম্বরে

    কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিস্তারিত নির্দেশনা সংবলিত সার্কুলার আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর জারি করা হবে। সার্কুলার জারির পরবর্তী এক মাস আবেদন দাখিলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

    প্রথম ধাপে ৬৪০ উদ্যোক্তা

    প্রাথমিকভাবে দেশের আট বিভাগের আট জেলা—মানিকগঞ্জ, ফেনী, নওগাঁ, ঝিনাইদহ, ভোলা, হবিগঞ্জ, রংপুর ও নেত্রকোণার—৬৪টি উপজেলায় কর্মসূচিটি চালু করা হবে।

    প্রতিটি উপজেলা থেকে ১০ জন করে মোট ৬৪০ জন তরুণ উদ্যোক্তা নির্বাচন করা হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য জেলার উপজেলাতেও কর্মসূচিটি সম্প্রসারণ করা হবে।

    প্রতি বছর ৫ হাজার তরুণ উদ্যোক্তাকে অর্থায়ন ও সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের।

    অর্থায়নের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, শুধু অর্থায়নের মধ্যেই কর্মসূচিটি সীমাবদ্ধ থাকবে না। নির্বাচিত উদ্যোক্তাদের উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। অভিজ্ঞ মেন্টরের কাছ থেকে তারা ধারাবাহিক পরামর্শও পাবেন।

    এ ছাড়া ব্যবসা নিবন্ধন ও ব্যবসায়িক পরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়তা এবং বাজারসংযোগের সুযোগ দেওয়া হবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, একজন সফল ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা গড়ে তিন থেকে পাঁচজনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেন। এ বিবেচনায় ‘উদ্যোগ’ কর্মসূচি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

  • ২০২৫-এর তুলনায় বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ‘অনেক ভালো’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    ২০২৫-এর তুলনায় বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ‘অনেক ভালো’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘২০২৫ সালের তুলনায় বর্তমানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক ভালো রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত হতে আরও সময় লাগবে, তবে বর্তমান চিত্র অনুযায়ী আমরা সন্তুষ্ট।’ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

    সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘২০২৫ সালের তুলনায় আমাদের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক ভালো, এটা হচ্ছে আমাদের সরকারি সূত্র। আপনারা চাইলে যাচাই করতে পারেন। খুন, অপহরণ, ধর্ষণ, অস্ত্র মামলা, নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপরাধের মাসিক পরিসংখ্যান পুলিশ সদর দপ্তরে কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষণ ও নিয়মিত হালনাগাদ করা হয়। এসব তথ্যের সঙ্গে আগের বছরের পরিসংখ্যান তুলনা করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হচ্ছে।’

    অন্য কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা উপদেষ্টার বক্তব্যের সঙ্গে পুলিশের তথ্যের বিরোধ তৈরি না করার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘কারও কাছে ভিন্ন কোনো পরিসংখ্যান থাকলে তা যাচাইয়ের জন্য পুলিশকে দিতে হবে। পুলিশ সদর দপ্তরে প্রতিটি জেলা থেকে মাসিক অপরাধের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পরে সেগুলো কেন্দ্রীয়ভাবে সংকলন করে সারাদেশের অপরাধচিত্র তৈরি করা হয় এবং নিয়মিত তা পর্যবেক্ষণ করা হয়।’

    সাম্প্রতিক ছিনতাইয়ের ঘটনায় এক শিক্ষিকার মৃত্যুর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এ ঘটনার ১২ ঘণ্টার মধ্যে আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে এবং মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। পরে গোয়েন্দা পুলিশ আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে।’

    ছিনতাইকারীরা এখনো সক্রিয়—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের কারণে ছিনতাইয়ের প্রবণতা এরই মধ্যে কমেছে এবং ভবিষ্যতে আরও কমবে।’

    বাহিনীর ভেতরে থাকা কিছু পুলিশ সদস্য সরকারকে বিব্রত করতে বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে গোপনে বাধা দিচ্ছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এ ধরনের কোনো তথ্য থাকলে তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিতে হবে। বাহিনীর অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা কার্যক্রম চালু রয়েছে এবং সেখান থেকেও বিষয়গুলো শনাক্ত করা হয়। আপনার কাছে তথ্য থাকলে দেন, আমরা যাচাই করবো।’

  • শাড়িকাণ্ডে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পায়নি পিবিআই

    শাড়িকাণ্ডে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পায়নি পিবিআই

    আলোচিত শাড়িকাণ্ডে অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে করা অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ফ্যাশন ডিজাইনার আয়েশাহ আনুম ফায়যাহ সানায়া চৌধুরীর করা প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ ও হুমকির বিষয়ে কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি মর্মে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে নারাজি দিয়েছেন বাদীপক্ষ।

    বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতউল্লাহর আদালতে সানায়ার পক্ষে আইনজীবী শুভ্র সিনহা রায় রনি নারাজি আবেদন জমা দেন।

    আইনজীবী জানান, বাদী ও তিন সাক্ষীকে আগামী ২০ অক্টোবর আদালতে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে। ওইদিন এ বিষয়ে শুনানি হবে।

    ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মামলাটি করেন সানায়া চৌধুরী। মামলার অভিযোগ, ২০২৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর একটি অনুষ্ঠানে পরার জন্য তিশা তার কাছ থেকে ৭৫ হাজার টাকা দামের একটি শাড়ি নেন। অনুষ্ঠান শেষে শাড়িটি ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও তা ফেরত দেওয়া হয়নি।

    শাড়ি ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে তিশা তাকে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করেন সানায়া। পরে ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর মেসেঞ্জারে মামলা করা ও সামাজিকভাবে হেয় করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ১২ নভেম্বর গুলশান থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তিনি।

    পিবিআইয়ের এসআই মো. জাহাঙ্গীর আলম গত ২৫ মে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেন। এতে বলা হয়, তিশা তার সাবেক চালকের মাধ্যমে শাড়িটি নিয়েছিলেন। দুই পক্ষের মেসেঞ্জার কথোপকথন পর্যালোচনা করে পিবিআই বলেছে, শাড়ি ফেরত চেয়ে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর সানায়া বার্তা পাঠালেও তিশা তা দেখেননি।

    ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর শাড়িটির ছবি পাঠানোর পর তিশা জানান, বিষয়টি তার মনে নেই এবং খুঁজে দেখে জানাবেন। তিশার বক্তব্য অনুযায়ী, তার সাবেক চালক শাড়িটি ফেরত না দিয়ে চাকরি ছেড়ে চলে যান। পরে মামলার বিষয়টি জানার পর তিশা ডাকযোগে শাড়িটি ফেরত পাঠান।

    পিবিআইয়ের মতে, শাড়িটি ফেরত পাঠানোয় প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। একইভাবে মেসেজের শেষাংশে শাড়ি ফেরত পাঠানোর ঠিকানা জানতে চাওয়া ও সানায়ার সুন্দর জীবন কামনা করার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে হুমকির অভিযোগেরও প্রমাণ মেলেনি।

    তবে বাদীপক্ষের দাবি, তদন্তের সময় হুমকির অডিওসহ বিভিন্ন প্রমাণ দেওয়া হলেও সেগুলো যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। এ কারণে তারা পিবিআইয়ের প্রতিবেদন গ্রহণ করছেন না।

    শাড়ি নিয়ে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে এটি দ্বিতীয় মামলা। এর আগে অনলাইন ফ্যাশন পেজ ‘অ্যাপোনিয়া’র কাছ থেকে প্রায় ২৮ হাজার ৮০০ টাকা দামের একটি শাড়ি নেওয়া এবং প্রচার ও মূল্য পরিশোধের প্রতিশ্রুতি না রাখার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। ওই মামলায় ডিবির তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা বলা হয়। পরে আদালতে হাজির হয়ে গত ১৩ আগস্ট জামিন পান তিশা।

  • কোটচাঁদপুরে ১৮ পিস ভারতীয় স্ক্রুফ কফ সিরাপসহ নারী আটক

    কোটচাঁদপুরে ১৮ পিস ভারতীয় স্ক্রুফ কফ সিরাপসহ নারী আটক

    মোঃ খালেদুর রহমান, কোটচাদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধিঃ

    ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে অভিযান চালিয়ে ১৮ পিস ভারতীয় স্ক্রুফ কফ সিরাপসহ আসমা খাতুন (৩২) নামে এক নারীকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ।
    বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার দুধসরা ঝোলপাড়া মোড় এলাকায় একটি ভাঙারি দোকানের সামনে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
    আটক আসমা খাতুন চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনা থানার শ্যামকুড় গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আফসার হোসেনের স্ত্রী এবং মো. ইউনুচ আলীর মেয়ে।
    ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুধসরা ঝোলপাড়া মোড় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় আসমা খাতুনকে আটক করে তার কাছ থেকে ১৮ পিস ভারতীয় স্ক্রুফ কফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়।
    এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

  • শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড: শেখ হাসিনা-আজিজসহ পলাতক ৩০ আসামিকে আত্মসমর্পণে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ

    শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড: শেখ হাসিনা-আজিজসহ পলাতক ৩০ আসামিকে আত্মসমর্পণে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ

    শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের মামলায় পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ, সাবেক আইজিপি বেনজীরসহ ৩০ জনকে ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আত্মসমর্পণে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

    বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।

    এদিন সকালে গ্রেপ্তার হাসানুল হক ইনু, শাহরিয়ার কবির, দীপু মনিসহ ১০ আসামিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তবে অসুস্থ থাকায় হাজির করা হয়নি সাংবাদিক ফারজানা রুপাকে।

    এর আগে গত ২৭ জুলাই শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে পলাতকদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল।

    অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালের ৫ মে আসামিদের যোগসাজশে রাতের আঁধারে বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট বন্ধ করে হেফাজতে ইসলামকে নির্মূল করতে হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়। প্রসিকিউশন বলছে, শাপলা চত্বরের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৬১ জন নিহতের তালিকা পাওয়া গেছে, যাদের মধ্যে ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। এ মামলায় গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি, হাসানুল হক ইনু, শামসুল হক টুকু, জিয়াউল আহসান, এ কে এম শহীদুল হক, শাহরিয়ার কবির, আবদুল জলিল মণ্ডল, সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবু।

  • তিন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের এমডির নিয়োগ বাতিল

    তিন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের এমডির নিয়োগ বাতিল

    তিন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করেছে সরকার। এইগুলো হলো অগ্রণী, বেসিক ব্যাংক, ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক। বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে থেকে পৃথক তিনটি চিঠিতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদকে এ বিষয়ে পরবর্তী বিধিগত কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    উপসচিব আফরোজা আক্তার রিবা স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনোয়ারুল ইসলাম, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের জসীম উদ্দিন এবং বেসিক ব্যাংকের কামরুজ্জামান খান এর সঙ্গে ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদের সম্পাদিত চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের বিষয়ে সরকার সুপারিশ ও সম্মতি জানিয়েছে।

    এতে আরও বলা হয়, ব্যাংক কোম্পানি আইন এবং পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিপত্রের শর্ত অনুযায়ী আনোয়ারুল ইসলামের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের বিষয়ে পরবর্তী বিধিসম্মত কার্যক্রম গ্রহণ করতে অগ্রণী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে।

  • ডুবেছে কলকাতা, বড় বিপদের পূর্বাভাস

    ডুবেছে কলকাতা, বড় বিপদের পূর্বাভাস

    দফায় দফায় ভারী বৃষ্টিতে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বুধবারও কলকাতায় সকাল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে। এতে শহরের বিভিন্ন সড়কে পানি জমে যানজট ও জনদুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। স্কুল-কলেজ, অফিস ও কর্মস্থলে যাতায়াতকারীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। ভারী বৃষ্টিতে বাঁকুড়া ও পুরুলিয়াতেও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে।

    বাঁকুড়ায় ভেঙে পড়েছে একটি সেতু, পানিতে ডুবেছে একাধিক কজওয়ে। এদিকে বীরভূমে ময়ূরাক্ষী নদীর পানিস্তর বাড়ায় প্লাবনের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। হাওড়ায় জমা পানিতে এক যুবকের লাশ ভাসতে দেখা গেছে।

    বঙ্গোপসাগরের উপরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ অঞ্চলটি ক্রমে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করায় সোমবার থেকে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। বুধবারও এর প্রভাবে কলকাতা-সহ বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে আগামী কয়েক ঘণ্টাতেও বৃষ্টি চলতে পারে।

    কলকাতা পৌরসভার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বুধবার দুপুর ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত পামার ব্রিজ এলাকায় ৫৬ মিলিমিটার, তপসিয়ায় ৪৬ মিলিমিটার, বালিগঞ্জে ৪৪ মিলিমিটার এবং মোমিনপুরে ৪৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

    বৃষ্টির জেরে বাঘাযতীন উড়ালপুলের নিচে এবং ঠাকুরপুকুরের কয়েকটি এলাকায় পানি জমেছে। এছাড়া উডবার্ন পার্ক রোড, হসপিটাল রোড, এটিএম রোড, জাস্টিস চন্দ্রমাধব রোড, হেস্টিংস পার্ক রোড, উত্তীর্ণের সামনে, পিটিএস, পোর্ট এরিয়া-গেট নম্বর ৫, বর্ধমান রোড ও ডিএইচ রোডেও পানি জমেছে।

    হেস্টিংসের কাছে উড়ালপুল থেকে নামার মুখেও জমে থাকা পানির কারণে সমস্যায় পড়তে হয়েছে পথচারী ও যানবাহনকে। সেন্ট্রাল-আমহার্স্ট স্ট্রিট, থিয়েটার রোড ও ওয়াটার লু স্ট্রিটেও পানি জমেছে। ভবানীপুর বিধানসভা এলাকার কালীঘাট, হরিশ মুখার্জি স্ট্রিট এবং ন্যাশনাল লাইব্রেরির সামনের রাস্তাও জলমগ্ন হয়ে পড়ে। এতে যানজটে আটকে পড়েন নিত্যযাত্রীরা। টানা বৃষ্টির কারণে রাস্তায় যানবাহনের সংখ্যাও তুলনামূলক কম থাকায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে।

    বাঁকুড়ায় ভেঙে পড়ল ভাসা সেতু

    লাগাতার ভারী বৃষ্টিতে বাঁকুড়া জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দুমনি খালের পানির প্রবল স্রোতে জেলার পাত্রসায়র ব্লকের জামকুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ভেঙে গেছে একটি ভাসা সেতু। ফলে দুই পাশের মানুষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

    স্থানীয়দের দাবি, প্রায় তিন বছর আগে বাঁকুড়া জেলা পরিষদের বরাদ্দ করা অর্থে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল। সেটি ভেসে যাওয়ায় পাত্রসায়র ব্লক সদর থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এলাকার ২০ থেকে ২৫টি গ্রাম।

    এদিকে দ্বারকেশ্বর নদের জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় ভাদুল ও মীনাপুরের দুটি পৃথক কজওয়ে পানিতে ডুবে গেছে। মেজিয়ায় মাতাবেল খালের পানিতে কজওয়ে ডুবে যাওয়ায় মেজিয়া-ছাতনা রাজ্য সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

    ওই কজওয়ে দিয়েই বালিয়াড়া, সোনাতপল-সহ প্রায় ২০টি গ্রামের মানুষ বাঁকুড়া শহরে যাতায়াত করেন। কজওয়ের ওপর দিয়ে প্রবল স্রোতে দ্বারকেশ্বর নদের পানি প্রবাহিত হওয়ায় যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। একইভাবে বাঁকুড়া শহর লাগোয়া মীনাপুর কজওয়েতেও যাতায়াত বন্ধ রয়েছে।

    ময়ূরাক্ষীর পানি বাড়ছে, প্লাবনের শঙ্কা

    বৃষ্টির কারণে বীরভূমের ময়ূরাক্ষী নদীর পানিস্তরও বাড়ছে। বুধবার সকালে ডিম পাড়া বাঁধ থেকে ৯ হাজার কিউসেক পানি ছাড়া হয়েছে। এতে নদী-সংলগ্ন এলাকাগুলো প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নদীর পানি যেভাবে বাড়ছে, তাতে বাঁধ থেকে আরও পানি ছাড়া হতে পারে। ফলে নদী পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

    হাওড়ায় জমা পানিতে যুবকের লাশ

    অন্যদিকে, হাওড়ার ডোমজুরের মাকড়দহ এলাকায় বৃষ্টির জমা পানিতে এক যুবকের লাশ ভাসতে দেখা গেছে। মৃত যুবকের নাম সহদেব বাছার।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুরে বাজারে গিয়েছিলেন সহদেব। বাজার করে বাড়ি ফেরার সময় বাড়ির কাছেই তার মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়রা ডোমজুর থানায় খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।

    তবে কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। স্থানীয়দের একাংশের ধারণা, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।

    স্থানীয়দের দাবি, মাকড়দহ এলাকায় কোথাও কোমরসমান, আবার কোথাও হাঁটুপানি জমেছে। দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় জল জমার সমস্যা রয়েছে। বিষয়টি প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

  • বিচার বিভাগে এআইয়ের ঝুঁকি, সতর্ক থাকার আহ্বান আইনমন্ত্রীর

    বিচার বিভাগে এআইয়ের ঝুঁকি, সতর্ক থাকার আহ্বান আইনমন্ত্রীর

    সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামো না থাকায় বিচার বিভাগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার নতুন ধরনের আইনি ও বিচারিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এআই ব্যবহার করে ভুয়া জবানবন্দি ও প্রমাণ তৈরি, বিচারকদের প্রভাবিত করার চেষ্টা এবং রায় নিয়ে অপপ্রচার চালানোর মতো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিচারকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

    বুধবার এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ প্রাঙ্গণে ‘বাংলাদেশ এআই গভর্নেন্স সামার স্কুল’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    আইনমন্ত্রী বলেন, এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে মিথ্যা জবানবন্দি তৈরি কিংবা ছবি ও অন্যান্য ডিজিটাল উপকরণের মাধ্যমে ভুয়া প্রমাণ বানিয়ে আদালতকে বিভ্রান্ত করা সম্ভব। এর ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত বিচারপ্রার্থীরা। একই সঙ্গে প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও নতুন ধরনের সামাজিক ও আইনি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন।

    তিনি বলেন, কোনো রায় কারও পছন্দ না হলে এআই ব্যবহার করে বিচারকদের ওপর চাপ সৃষ্টি কিংবা তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর আশঙ্কাও রয়েছে। তাই সাক্ষ্য-প্রমাণ যাচাই ও সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বিচারকদেরই সর্বপ্রথম এআইয়ের সম্ভাব্য অপব্যবহার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।

    আইনগত সংস্কারের প্রসঙ্গ তুলে আইনমন্ত্রী বলেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশের বিচার বিভাগ অতীতেও আইনের ব্যাখ্যায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এনেছে। স্ত্রী হত্যা মামলায় আসামির ওপর প্রমাণের দায় আরোপের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত এবং নব্বইয়ের দশকে অস্ত্র আইনের মামলায় জব্দ তালিকার সাক্ষীদের ওপর একক নির্ভরতা কমানোর নজিরও তিনি তুলে ধরেন।
    এআইয়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আনুষ্ঠানিক আইন প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত বিচার বিভাগকে একইভাবে প্রজ্ঞা, সতর্কতা ও অভিযোজন ক্ষমতার পরিচয় দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত জ্যেষ্ঠ আইন বিশেষজ্ঞদের এআই নিয়ন্ত্রণে একটি খসড়া আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ ধরনের একটি খসড়া বিল সংসদে উপস্থাপন ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তিনি সহযোগিতা করবেন।

    পাঁচ দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ এআই গভর্নেন্স সামার স্কুল’-এর যৌথ আয়োজন করে সোসাইটি ফর জাস্টিস অ্যান্ড এআই (এসজেএআই) ও লিগ্যালাইজড এডুকেশন বাংলাদেশ লিমিটেড (এলইবিএল)। অংশীদার হিসেবে এতে সার্বিক সহযোগিতা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। আয়োজনে সহায়তা করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, আইন ও বিচার বিভাগ এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ একরামুল হক, আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. বোরহান উদ্দিন খান এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাসনুভা শেলী। সমাপনী সেশনে প্রধান বিচারপতি, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক, আইনজীবী, শিক্ষক, প্রযুক্তিবিদ ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

    সামার স্কুলে বিচার বিভাগ, মানবাধিকার, অর্থসেবা, স্বাস্থ্য ও জনপ্রশাসনসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতে এআই গভর্নেন্সের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশে এআই গভর্নেন্স সক্ষমতা বাড়ানোর দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগের প্রথম ধাপ হিসেবে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করা হয়।

  • যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় আইআরজিসির ৪ সদস্য নিহত

    যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় আইআরজিসির ৪ সদস্য নিহত

    ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) জনসংযোগ দফতর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় কেরমানশাহ প্রদেশে আইআরজিসির চারজন সদস্য নিহত হয়েছেন।

    গত রাতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর কেরমানশাহর উপ-গভর্নর বলেছিলেন, কেরমানশাহ প্রদেশের কোনো স্থানই লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

    ইরানি গণমাধ্যমের তথ্যমতে, দিয়ার শহরে সাইয়্যেদ আল-শোহাদা কোরের উপ-কমান্ডার আজ বলেছেন যে, লাভান দ্বীপে হামলায় ‘তিনজন বাসিজ সদস্য’ নিহত এবং আরো কয়েকজন আহত হয়েছেন।

  • হৃদয়ের ট্রিপল সেঞ্চুরি

    হৃদয়ের ট্রিপল সেঞ্চুরি

    দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের ৫১২ রানের পাহাড়ের নিচে চাপা পড়তে যাচ্ছিল বাংলাদেশ ‘এ’ দল। তখন ম্যাচে লড়াই করাটাই কঠিন মনে হচ্ছিল। কিন্তু শেষ দিনে বদলে গেল পুরো চিত্র। ব্যাট হাতে একাই যেন ম্যাচের গতিপথ ঘুরিয়ে দিলেন বাংলাদেশ ‘এ’ দলের অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়। আগের দিনই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন। সেখানেই থামেননি হৃদয়। চতুর্থ দিনে দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং আক্রমণের ওপর আধিপত্য ধরে রেখে দলকে নিয়ে গেলেন প্রথম ইনিংসে লিডের পথে। যে মাঠে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জিতেছিলেন, সেই মাঠেই গড়লেন নতুন ইতিহাস। দক্ষিণ আফ্রিকার পচেফস্ট্রুমের সেনওয়েস পার্কে অবিশ্বাস্য এক ট্রিপল সেঞ্চুরি হাঁকালেন হৃদয়। ৪৫০ বলে ট্রিপল সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। বাংলাদেশের মাত্র তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৩০০ রানের মাইলফলক ছুঁয়েছেন তিনি।

    হৃদয়ের এই অবিশ্বাস্য ইনিংসের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন জাকের আলী। পঞ্চম উইকেটে তার সঙ্গে হৃদয়ের ১৫১ রানের জুটি ম্যাচে বাংলাদেশকে ফিরিয়ে আনে। মাত্র ছয় রানের জন্য সেঞ্চুরি হাতছাড়া করেন জাকেরÑ১৬৮ বলে ৯৪ রান করে থামেন তিনি।

    এরপর মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকে সঙ্গে নিয়ে আরও বড় জুটি গড়েন হৃদয়। ষষ্ঠ উইকেটে দুজনে যোগ করেন ১৮৫ রান। সাইফউদ্দিনের অবদান ১৭১ বলে ৮৭। অন্যদিকে, ম্যাচের শুরুতে দাপট দেখিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’। প্রথম ইনিংসে ৫১২ রান করে স্বাগতিকরা। সেই বিশাল স্কোরের জবাব দিতে নেমে তৃতীয় দিন শেষে বাংলাদেশ ‘এ’ ছিল ৩৭১/৬। সেখান থেকে শেষ দিনে হৃদয়ের ব্যাটে গল্পটাই বদলে গেল।

  • নবীনগরে জলাবদ্ধ জমিতে ভাসমান সবজি চাষ

    নবীনগরে জলাবদ্ধ জমিতে ভাসমান সবজি চাষ

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে বর্ষাকালে জলাবদ্ধ ও পতিত জমিকে কাজে লাগিয়ে ভাসমান ডালি পদ্ধতিতে সবজি চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বছরের ৪-৫ মাস পানিতে নিমজ্জিত থাকা জমিতে প্রচলিত পদ্ধতিতে চাষাবাদ সম্ভব না হলেও আধুনিক প্রযুক্তি কৃষকদের সামনে খুলে দিয়েছে নতুন সম্ভাবনার দ্বার। পানিতে ডুবে থাকা জমিকে আর অনাবাদি না রেখে সেখানে উৎপাদনমুখী কৃষির সুযোগ তৈরি হওয়ায় কৃষকদের মধ্যেও বাড়ছে আগ্রহ।

    হাওর ও জলাভূমি অধ্যুষিত নবীনগর উপজেলায় প্রায় ৮ হাজার ৫০০ হেক্টর কৃষি জমি বর্ষা মৌসুমে দীর্ঘ সময় জলাবদ্ধ থাকে। বছরের অন্যান্য সময়ে এ সব জমিতে বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন হলেও বর্ষাকালে পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অধিকাংশ জমি অনাবাদি পড়ে থাকে। ফলে দীর্ঘদিন যাবত কৃষকদের জন্য এটি ছিল একটি চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জলাবদ্ধ জমিকে উৎপাদনের আওতায় আনতে ভাসমান পদ্ধতিতে সবজি চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    উপজেলার ইব্রাহিমপুর, নাটঘর, রছুল্লাবাদ, বড়িকান্দি, সলিমগঞ্জ, নবীনগর পূর্ব ও সাতমোড়া এলাকায় গত দুই বছর ধরে কৃষি বিভাগের পরামর্শে ভাসমান ডালি পদ্ধতিতে সবজি আবাদ হচ্ছে। চলতি মৌসুমে প্রায় ২০ বিঘা জমিতে এ পদ্ধতিতে সবজি চাষ করা হয়েছে।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের চলমান ফ্রিপ এবং কুমিল্লা অঞ্চলে টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের দেওয়া হয়েছে সরকারি সহায়তা। পাশাপাশি দুই শতাধিক কৃষককে ভাসমান ডালি পদ্ধতিতে সবজি চাষের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এ পদ্ধতিতে বাঁশের তৈরি কাঠামোর ওপর মাঁচা নির্মাণ করে সেখানে লতা জাতীয় বিভিন্ন সবজি চাষ করা হয়। লাউ, চালকুমড়া, শসা ও করলাসহ বিভিন্ন সবজি এ পদ্ধতিতে ভাল ফলন দেয়। বর্ষাকালে স্বাভাবিক ভাবে যখন বাজারে সবজির সরবরাহ কমে যায়- তখন ভাসমান পদ্ধতিতে উৎপাদিত সবজি বাজারজাত করে কৃষকরা বাড়তি আয় করতে পারেন। বর্ষা শেষ হলে ঐ কাঠামো দিয়ে পুনরায় জমিতে সবজি আবাদ করা যায়, এতে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় পরবর্তীতে অনেক কমে যায়।

    স্থানীয় কৃষকদের অভিজ্ঞতায়, এ পদ্ধতিতে রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ তুলনামূলক কম এবং আলাদা করে সেচের প্রয়োজন হয় না। ফলে জলাবদ্ধ ও পতিত জমিকে কাজে লাগিয়ে তুলনামূলক কম খরচে নিরাপদ সবজি উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। ভাসমান এ চাষাবাদ পদ্ধতিতে রাসায়নিক সার এবং বালাইনাশকের ব্যবহার কম হওয়াতে খেতেও দারুন সুস্বাদু।

    ইব্রাহিমপুর গ্রামেরর মধ্য পাড়ার কৃষক ইসমাইল মিয়া বলেন, ‘কৃষি বিভাগের পরামর্শে ভাসমান পদ্ধতিতে সবজি চাষ দুই বছর ধরে আবাদ করছি, আগে বছরে ২-৩ মাস সবজি আবাদ করার সুযোগ ছিল না। আমাকে দেখে এলাকার আরো অনেকেই আগ্রহী হয়ে উঠছে।’

    ইব্রাহিমপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামের প্রবাস ফেরত সুজন গত বছর কৃষি বিভাগের পরামর্শ এবং প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রথমবারের মত ভাসমান ডালি পদ্ধতিতে লাউয়ের আবাদ করেছেন ২৫ শতাংশ জমিতে। প্রথমে ইউটিউবে এ ধরনের আবাদ দেখে তিনি আগ্রহী হয়ে উপজেলা কৃষি অফিসের সাথে যোগাযোগ করেন। কৃষি অফিসের সহযোগিতায় ইতোমধ্যে কলমি শাক, শসা ও লাউচাষ শুরু করেন। এখন পর্যন্ত তিনি প্রায় ৩০ হাজার টাকা আয় করেছেন।

    তিনি বলেন, ‘উৎপাদন ভাল হওয়া এবং রোগবালাই কম থাকায় এ পদ্ধতির প্রতি কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।’

    রছুল্লাবাদ ইউনিয়নের কৃষক এমরান ২০ শতক জমিতে লাউ ও চালকুমড়া চাষ করেছেন। তার নিকট বর্ষাকালে পানিতে ডুবে থাকা জমিতে সবজি উৎপাদন একসময় স্বপ্নের মত মনে হলেও কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় সেটি এখন বাস্তবে পরিণত হয়েছে। তিনি ভাসমান ডালি পদ্ধতিতে ১৫ শতাংশ জমিতে লাউয়ের আবাদ করেছেন। ইতিমধ্যে প্রায় ১৫ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করেছেন।

    আরো দুই মাস লাউ উত্তোলন করতে পারবেন বলে জানান।

    নবীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন, ‘নবীনগরে প্রথমবারের মতো ভাসমান পদ্ধতিতে সবজি চাষ শুরু করা হয়েছে। কৃষকদের হাতে-কলমে এ প্রযুক্তিটি শেখাতে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি প্রদর্শনী স্থাপন, ভাসমান কাঠামো তৈরি, বীজ ও সার দিয়ে সহযোগিতা করা হচ্ছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘ভাসমান পদ্ধতিতে চাষ নিরাপদ কৃষি উৎপাদনের একটি সম্ভাবনাময় প্রযুক্তি। জলাবদ্ধ ও পরিত্যক্ত জমি ব্যবহার করে কম খরচে সবজি উৎপাদন করা সম্ভব। বিশেষ করে লতাজাতীয় সবজির ফলনও এ পদ্ধতিতে ভালো হয়। ভবিষ্যতে নবীনগরের জলাবদ্ধ এলাকা গুলোতে এ প্রযুক্তির ব্যাপক সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে। নবীনগরের জলাবদ্ধ জমিতে ভাসমান সবজি চাষ শুধু কৃষকদের বাড়তি আয়ের পথ তৈরি করছে না, বরং বর্ষাকালে নিরাপদ সবজি উৎপাদন, পতিত জমির সর্বোত্তম ব্যবহার এবং স্থানীয় বাজারে সবজির সরবরাহ বাড়াতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।’

  • কৌশলগত লক্ষ্য নিয়ে খুবই বিভ্রান্তিতে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

    কৌশলগত লক্ষ্য নিয়ে খুবই বিভ্রান্তিতে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

    এক মাসের বিরতির পর ইরানের ওপর আবার হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এমন হামলায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষক সামির পুরি। কিংস কলেজ লন্ডনের যুদ্ধবিষয়ক বিভাগের প্রভাষক সামির বলেন, ‘এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কারণ ইরানের পাল্টা হামলার নির্ভুলতা ও কার্যকারিতা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হচ্ছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা শুরুর ছয় মাসেরও বেশি সময় পরও ইরানের পাল্টা হামলা চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘ইরানের অস্ত্র ও গোলাবারুদ ফুরিয়ে আসছে—এমন কোনো লক্ষণ নেই। বরং এমন সব লক্ষণ দেখা যাচ্ছে যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে বেশ কিছু দৃশ্যমান ছাড় দিতে বাধ্য করতে চায়। তাই এই মুহূর্তে সংঘাত আরো তীব্র হওয়ার যথেষ্ট আশঙ্কা রয়েছে।’

    আলজাজিরাকে পুরি বলেন, ছয় মাস ধরে চলা এই যুদ্ধের শেষ পরিণতি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বার্তাগুলো অত্যন্ত বিভ্রান্তিকর’।

    তিনি বলেন, চলতি সপ্তাহে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনে চীন, রাশিয়া, ভারতসহ অন্যান্য দেশের ইরানের প্রতি সমর্থন প্রমাণ করে যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তেহরান ‘স্পষ্টতই এতটা বিচ্ছিন্ন নয়’।

    পুরির ভাষায়, ‘তাই আমি মনে করি, এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র তার কৌশলগত লক্ষ্য নিয়ে খুবই বিভ্রান্ত অবস্থায় রয়েছে।’

  • সন্তান নিলে প্রায় ৬৮ লাখ টাকা দিবে সিঙ্গাপুর, তবুও অনীহা দম্পতিদের

    সন্তান নিলে প্রায় ৬৮ লাখ টাকা দিবে সিঙ্গাপুর, তবুও অনীহা দম্পতিদের

    সিঙ্গাপুরে জন্মহারের ঐতিহাসিক পতন ঘটেছে। পরিস্থিতি বদলাতে ও দম্পতিদের সন্তান নিতে উৎসাহিত করার জন্য ১৭ বছর বয়স পর্যন্ত প্রতিটি শিশুর জন্য প্রায় ৭০ হাজার সিঙ্গাপুরি ডলার (প্রায় ৬৮ লাখ টাকা) সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার।

    তবে উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়, পড়াশোনার প্রচণ্ড চাপ ও ক্যারিয়ারের জটিলতার কারণে বিপুল এই আর্থিক প্রণোদনা সত্ত্বেও বহু তরুণ দম্পতি পরিবারের সদস্য বাড়াতে আগ্রহী হচ্ছেন না। এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে গার্ডিয়ান।

    সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং জানিয়েছেন, শিশুর জন্মের পরপরই দেয়া হবে ১০ হাজার ডলারের বিশেষ অনুদান এবং চিকিৎসার জন্য ৫ হাজার ডলার ও শিক্ষার খরচের জন্য আরও ৫ হাজার ডলার করে আলাদা সহায়তা মিলবে।

    এছাড়া এক থেকে ১৬ বছর বয়স পর্যন্ত প্রতি বছর ২ হাজার ডলার শিশু সহায়তা, প্রাক-প্রাথমিক স্কুলের ফি কমিয়ে মাসে ১৫০ ডলারে নামিয়ে আনা এবং বেতনসহ মাতৃত্ব ও পিতৃত্বকালীন ছুটির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তার শক্তিশালী পারিবারিক কাঠামোর ওপর।

    বর্তমানে সিঙ্গাপুরে নারীপ্রতি সন্তান জন্মদানের হার বা ফার্টিলিটি রেট নেমে দাঁড়িয়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ৮৭-তে, যা বিশ্বে সর্বনিম্নগুলোর একটি। জনসংখ্যার ভারসাম্য রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ২ দশমিক ১ হারের চেয়ে এটি অনেক কম।

    চলতি বছরই সিঙ্গাপুরের মোট জনসংখ্যার ২১ ভাগের বেশি ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সে পৌঁছাবে, যাকে জাতিসংঘ ‘সুপার-এজড’ বা অতি-বয়স্ক সমাজ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে। কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কমে প্রবীণদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় দেশটি দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। জনমত জরিপ সংস্থা ইউগভ পরিচালিত এক সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, সিঙ্গাপুরের প্রতি চারজন প্রাপ্তবয়স্কের একজন কোনো সন্তান না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

    অনেকেই মনে করছেন, কেবল সরকারি আর্থিক সহায়তা দিয়ে সন্তান লালন-পালনের বিপুল সময় ও সামাজিক প্রতিযোগিতার চাপ সামলানো সম্ভব নয়। অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক শিক্ষাব্যবস্থা, প্রাইভেট টিউশনির সংস্কৃতি এবং কর্মক্ষেত্রে অতিরিক্ত চাপের কারণে অনেকে নিজেদের স্বাধীন জীবনযাত্রা বজায় রাখতে সন্তান নেয়া থেকে দূরে থাকছেন।

  • ইমরান খান-বুশরার একাকী বন্দিত্ব নিষিদ্ধ করলো পাক আদালত

    ইমরান খান-বুশরার একাকী বন্দিত্ব নিষিদ্ধ করলো পাক আদালত

    পাকিস্তানের কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে একাকী বন্দী রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন দেশটির আদালত। একই সঙ্গে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট (আইএইচসি) আদিয়ালা কারা কর্তৃপক্ষকে কারাবিধি অনুযায়ী ইমরান খান ও তার স্ত্রীর মধ্যে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছেন।
    ৭৩ বছর বয়সী সাবেক তারকা ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিক হয়ে ওঠা ইমরান খান এবং তার স্ত্রী বর্তমানে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দী। দুর্নীতি ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মামলায় তাদের দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
    পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে একাকী বন্দিত্বে রাখার অভিযোগে তার বোন আলিমা খান আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পর এই রায় এলো।

    অন্যদিকে, বুশরা বিবির মেয়ে মুবাশশারা খাওয়ার মানেকা তার মায়ের বিষয়ে পৃথক একটি পিটিশন দায়ের করেন।
    রায় ঘোষণার সময় আইএইচসির বিচারপতি খাদিম হুসাইন সোমরো নির্দেশ দেন, কারাবিধি অনুযায়ী ইমরান খানের পরিবারের সদস্যদের তার সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দিতে হবে। পাশাপাশি তার দুই ছেলের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার ব্যবস্থাও করতে হবে।
    আদিয়ালা কারা কর্তৃপক্ষকে প্রতিদিন ইমরান খানকে সংবাদপত্র ও বই সরবরাহ করার এবং কারাবিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার নির্দেশও দিয়েছেন আদালত।

    আদিয়ালা কারাগারের সুপারিনটেনডেন্টকে আদালতের নির্দেশগুলো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্দেশ বাস্তবায়নের বিষয়ে ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে একটি প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

  • রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলে ঋণ দিয়ে বিপাকে সোনালী ব্যাংক

    রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলে ঋণ দিয়ে বিপাকে সোনালী ব্যাংক

    লোকসানে জর্জরিত রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলোর আর্থিক সংকটের বোঝা এবার চাপছে সোনালী ব্যাংকের ওপর। সরকারি এসব প্রতিষ্ঠানে দেওয়া ঋণের বড় অংশ দীর্ঘদিনেও আদায় করতে পারছে না ব্যাংকটি। এসব ঋণের বিপরীতে সরকারের দেওয়া গ্যারান্টির মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে। ফলে প্রায় ৭,০০০ কোটি টাকার ঋণ খেলাপি হয়ে যাওয়ার শঙ্কায় পড়েছে সোনালী ব্যাংক।

    এ পরিস্থিতিতে ঋণ পরিশোধে সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছে ব্যাংকটি। একইসঙ্গে ব্যাংকের ব্যালান্সশিটের ওপর চাপ কমাতে বকেয়া ঋণের বিপরীতে সরকারি বন্ড ইস্যু অথবা নতুন করে রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টি দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    গত ১৯ আগস্ট অর্থ বিভাগের সচিবকে লেখা এক চিঠিতে সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শওকত আলী খান বলেন, অনাদায়ী ঋণের বিপরীতে উচ্চ হারে নিরাপত্তা সঞ্চিতি বা প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হবে। এতে ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি বিপুল পরিমাণে বাড়বে। একইসঙ্গে ব্যাংকের মুনাফার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

    জানা গেছে, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশন (বিএসএফআইসি) এবং এর অধীন ৯টি চিনিকলকে বিভিন্ন সময়ে মোট ৩,১০৫ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে সোনালী ব্যাংক। শুধু বিএসএফআইসির অনুকূলে বিতরণ করা ঋণের বিপরীতে ব্যাংকটির পাওনা রয়েছে ২,৭৬২ কোটি টাকা।

    দীর্ঘদিন ঋণ পরিশোধ না হওয়ায় এর সঙ্গে সুদ ও অন্যান্য চার্জ যুক্ত হয়েছে প্রায় ৪,০৮৬ কোটি টাকা। ফলে মোট পাওনা দাঁড়িয়েছে ৭,১৯২ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২৫৩ কোটি টাকা পরিশোধের পর নিট বকেয়া রয়েছে ৬,৯৩৮ কোটি টাকা।

    ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বিএসএফআইসির অনুকূলে বিতরণ করা ঋণের বিপরীতে ১,০০০ কোটি টাকার সরকারি গ্যারান্টি ছিল। তবে ওই গ্যারান্টির মেয়াদ গত বছরের ডিসেম্বরে শেষ হয়ে গেছে। এর আগে বিএসএফআইসি ও চিনিশিল্পের ঋণের বিপরীতে সোনালী ব্যাংকের অনুকূলে ইস্যু করা মোট ৬টি সরকারি গ্যারান্টির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে এসব গ্যারান্টির মেয়াদও শেষ হয়ে যাওয়ায় ঋণগুলো নিয়ে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

    চিনিকলগুলোর ঋণের একটি অংশ বিএসএফআইসি, সংশ্লিষ্ট চিনিকল এবং সোনালী ব্যাংকের মধ্যে সম্পাদিত ত্রিপক্ষীয় চুক্তির ভিত্তিতে মঞ্জুর ও বিতরণ করা হয়। সরকারি গ্যারান্টি ও ত্রিপক্ষীয় চুক্তি থাকায় এতদিন হিসাবগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও অশ্রেণিকৃত রাখা হয়েছিল। তবে সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রান্তিকে এসব ঋণ আবার শ্রেণিকৃত বা খেলাপি হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছে সোনালী ব্যাংক।

    বর্তমান পরিস্থিতিতে ঋণখেলাপি হওয়া ঠেকাতে এবং ব্যাংকের পাওনা সমন্বয়ের জন্য দীর্ঘদিন ধরে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি দিয়ে আসছে সোনালী ব্যাংক। ২০২৫ সালের মার্চে ব্যাংকটি বিএসএফআইসি ও এর আওতাধীন চিনিকলগুলোর ঋণের বিপরীতে সুদ মওকুফ করে অবশিষ্ট আদায়যোগ্য অর্থের বিপরীতে সরকারি বন্ড ইস্যুর উদ্যোগ নিতে অর্থ বিভাগকে অনুরোধ জানায়।

    একই বছরের ১৩ এপ্রিল অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় শিল্প মন্ত্রণালয়, বিএসএফআইসি ও সোনালী ব্যাংকের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তবে ওই সভায় কী সিদ্ধান্ত বা সুপারিশ হয়েছিল- সে বিষয়ে পরে সোনালী ব্যাংককে কিছু জানানো হয়নি।

    চলতি বছরের শুরুতে এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে আবার আবেদন জানায় সোনালী ব্যাংক। বকেয়া অর্থ পরিশোধ অথবা সমপরিমাণ সরকারি গ্যারান্টি দেওয়ার জন্য গত ৬ জানুয়ারি অর্থ বিভাগে চিঠি দেওয়া হয়। এরপর ২৬ এপ্রিল আবারও চিঠি দিয়ে সরকারি গ্যারান্টি দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। সব শেষে গত ১৯ আগস্ট একই দাবি জানিয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি পাঠায় ব্যাংকটি।

    সোনালী ব্যাংক বলেছে, চিনিকলগুলোর ঋণ হিসাব শ্রেণিকৃত হওয়া ঠেকাতে এবং বকেয়া অর্থ সমন্বয়ের জন্য জরুরি ভিত্তিতে সরকারি গ্যারান্টি, সরকারি বন্ড ইস্যু অথবা বকেয়া অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

    এদিকে সোনালী ব্যাংকের নিজস্ব দায়-সম্পদ ব্যবস্থাপনা কমিটির (অ্যালকো) সভাতেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সভায় চিনিশিল্প খাতের অসমন্বিত ঋণ হিসাব সমন্বয়ের জন্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যে ব্যাংক গ্যারান্টি দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, তা দ্রুত বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়।

    ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, সরকারি গ্যারান্টির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী এসব ঋণের বিপরীতে বিপুল পরিমাণ প্রভিশন রাখতে হবে। এতে সোনালী ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি বেড়ে যেতে পারে এবং মুনাফার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

    এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদনে সোনালী ব্যাংককে একক ঋণগ্রহীতার ক্ষেত্রে নির্ধারিত ঋণসীমা বা সিঙ্গেল বরোয়ার এক্সপোজার লিমিট অতিক্রমকারী ঋণগুলো নির্ধারিত সীমার মধ্যে নামিয়ে আনার অগ্রগতি জানাতে বলা হয়েছে।

    এ বিষয়ে জানতে সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে একাধিকবার ফোন ও বার্তা দেওয়া হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    এদিকে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশনের আওতায় রয়েছে ১৫টি চিনিকল। ২০২০ সালে সরকার ৬টি চিনিকল বন্ধ করে দেয়। বর্তমানে চালু থাকা ৯টি চিনিকলের মধ্যে অধিকাংশই লোকসানে রয়েছে।

    বিএসএফআইসির কর্মকর্তারা বলছেন, চিনিকলগুলোর উৎপাদন মূল্য ও সরকার নির্ধারিত মূল্যের পার্থক্যের কারণে ট্রেড গ্যাপ তৈরি হচ্ছে। ট্রেড গ্যাপের কারণে চিনিকলগুলো লোকসান দিচ্ছে- এমনটা মনে হতে পারে। ট্রেড গ্যাপ ও ভর্তুকি বাবদ ২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষে সরকারের কাছে বিএসএফআইসির পাওনা ৮,০৪১ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এটি পাওয়া গেলে এ ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হতো না বলে তারা জানান।

    এ বিষয়ে জানতে বিএসএফআইসির চেয়ারম্যান শামছুজ্জামান সুরুজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অফিসে গিয়ে কথা বলতে বলেন। পরে তার অফিসে গিয়েও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

  • হরমুজ প্রণালিতে রকেট দিয়ে মাইন পাতছে ইরান—যুক্তরাষ্ট্র

    হরমুজ প্রণালিতে রকেট দিয়ে মাইন পাতছে ইরান—যুক্তরাষ্ট্র

    দীর্ঘ এক মাসের শান্তিপূর্ণ অবস্থার অবসান ঘটিয়ে গত রোববার ইরানে আবার হামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এবার হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত লারাক দ্বীপে দেশটির রকেট উৎক্ষেপণব্যবস্থা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।

    মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, ইরান যাতে হরমুজ প্রণালিতে রকেটের মাধ্যমে মাইন বসাতে না পারে, সে জন্যই এ হামলা চালানো হয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্র এ হামলাকে মাইন স্থাপনে নিযুক্ত ইরানি বাহিনীর বিরুদ্ধে ‘সীমিত ও সুনির্দিষ্ট অভিযান’ বলে উল্লেখ করেছে।

    মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) মুখপাত্র টিম হকিন্স বলেন, মার্কিন বাহিনী ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে (আইআরজিসি) সামুদ্রিক মাইন বহনকারী রকেট উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নিতে দেখেছে।

    এদিকে ইরানের নেতারা এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এটিকে আগ্রাসী পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এ হামলার পর বসে থাকেনি ইরানও। প্রতিশোধ হিসেবে আইআরজিসি জর্ডানে দুটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে বলে জানায়।

    আইআরজিসি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় তাদের সদস্য ও বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, এতে অন্তত দুজন নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন।

    ইরানের স্বল্প পাল্লার একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র

    কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অনুযায়ী আসলেই কি রকেটের মাধ্যমে সমুদ্রে মাইন পাতা সম্ভব, উঠেছে এমন প্রশ্ন। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত যা জানা গেছে—

    রকেটের সাহায্যে সামুদ্রিক মাইন স্থাপনের বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের দাবিকে অযৌক্তিক বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হারলান উলম্যান।

    উলম্যানের ধারণা, মার্কিন গোয়েন্দারা হয়তো গোপনে খবর পেয়েছেন যে ইরান যুদ্ধজাহাজ থেকে উৎক্ষেপণব্যবস্থার মাধ্যমে সমুদ্রে নতুন মাইন স্থাপনে প্রস্তুত। কিন্তু আন্তর্জাতিক মহলে এ হুমকিকে ছোট করে দেখাতে তাঁরা রকেটের গল্প সাজিয়েছে।

    উলম্যান বলেন, রকেট যখন তীব্রগতিতে এসে পানিতে আছড়ে পড়বে, সেই ধাক্কাতেই মাইন বিস্ফোরিত বা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। সাগরে মাইন পাতার জন্য ইরানের কাছে অনেক ভালো উপায় ও প্রযুক্তি আছে। তারা কেন এত ঝুঁকি নিয়ে রকেট ব্যবহার করতে যাবে? পুরো বিষয়টি তাঁর কাছে একেবারেই অদ্ভুত মনে হয়েছে বলেও জানান তিনি।

    তবে ইরান নিজেই এর আগে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে সমুদ্রে মাইন স্থাপনের সক্ষমতার কথা প্রচার করেছে।

    ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত একটি প্রতিবেদনে দেখা যায়, নৌ মহড়ার সময় আইআরজিসি ফজর-৫ মাল্টিপল লঞ্চ রকেট সিস্টেম ব্যবহার করে মাইন স্থাপন করছে।

    সাধারণত কীভাবে সমুদ্রে মাইন স্থাপন করা হয়

    সাধারণত বিশেষ ধরনের যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন কিংবা উড়োজাহাজ ব্যবহার করে সাগরে মাইন পাতা হয়। এগুলো সাগরের একদম তলদেশে ফেলে রাখা যায়, আবার পানির নিচে কিছুটা ওপরেও ভাসিয়ে রাখা যায়। মাইনগুলো এমনভাবে তৈরি, যা পাশ দিয়ে কোনো জাহাজ যাওয়ার সময় তার ইঞ্জিনের কাঁপুনি বা চৌম্বকীয় সংকেত টের পেয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিস্ফোরিত হয়।

    ধারণা করা হয়, হরমুজ প্রণালিতে বেশ কিছু বিস্ফোরক ফেলার জন্য ইরান ছোট ও দ্রুতগতির যুদ্ধজাহাজ ব্যবহার করেছে। এ জাহাজগুলো সাগরে মাইন ফেলে খুব দ্রুত ওই এলাকা থেকে সরে যায়। তবে মার্কিন বাহিনী ইরানের এমন কয়েকটি দ্রুতগতির নৌযানে ইতিমধ্যে হামলা চালিয়েছে।

    গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, সেন্টকম হরমুজ প্রণালিতে মাইন সরানোর কাজ শেষ করেছে। প্রণালিটি মাইনমুক্ত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। নতুন করে মাইন পাততে যেসব জাহাজ বা নৌযান ব্যবহার করা হবে, সেগুলো ধ্বংস করা হবে বলে ইরানকে সতর্ক করেন ট্রাম্প।

    সেন্টকমের প্রকাশ করা ছবিতে ইরানে হামলায় অংশ নেওয়া একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান

    বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালিকে নিরাপদ করতে সেন্টকমকে অত্যন্ত ধীরগতির একটি অভিযান চালাতে হবে। প্রতিটি মাইন খুঁজে বের করে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে সেটি নিষ্ক্রিয় করতে হবে।

    মার্কিন নৌবাহিনী সাধারণত মাইন অপসারণের কাজে অ্যাভেঞ্জার শ্রেণির মাইনবিধ্বংসী জাহাজ ব্যবহার করে। এগুলো তৈরিতে এমন কিছু উপাদান ব্যবহার করা হয়, যাতে এর ভেতরের চৌম্বকীয় কম্পন বা ইঞ্জিনের কাঁপুনি সাগরের পানিতে খুব একটা ছড়ায় না। ফলে সাগরের নিচে লুকিয়ে থাকা মাইন এ জাহাজের উপস্থিতি সহজে টের পায় না এবং এটি বিস্ফোরিত হওয়ার ঝুঁকিও অনেক কম থাকে।

    ইরানের ফজর-৫ রকেটব্যবস্থা সম্পর্কে কী জানা যায়

    কম খরচে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে—এমন কৌশল বা অসম যুদ্ধপদ্ধতি ব্যবহারে আন্তর্জাতিক মহলে বেশ পরিচিত ইরান।

    গত বছরের জানুয়ারিতে ইরানের সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, নৌ মহড়ার সময় আইআরজিসি সাগরে মাইন পাতার সম্পূর্ণ নতুন একটি কৌশল প্রদর্শন করেছে। এ কৌশলে স্থলভাগ থেকে ফজর-৫ রকেটব্যবস্থা ব্যবহার করে সরাসরি সাগরে মাইন স্থাপন করে তারা।

    সে সময় বিশ্লেষকেরা কৌশলটিকে ‘অভিনব’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। তবে একই সঙ্গে তাঁরা উদ্বেগও প্রকাশ করেন। কারণ, এ পদ্ধতিতে একবার রকেট ছুড়েই আইআরজিসি সমুদ্রের বিশাল এলাকায় হাজার হাজার মাইন ছড়িয়ে দিতে পারে।

    ১৯৯০-এর দশকে প্রথম তৈরি করা এ ফজর-৫ হলো ৩৩৩ মিলিমিটার ব্যাসের মাঝারি পাল্লার একটি রকেটব্যবস্থা। এটি সাধারণত দূরপাল্লার কামানের মতো রকেট ছোড়ার কাজে ব্যবহার করা হয়।

    এ রকেটব্যবস্থার মূল সুবিধা হলো, এটি একটি চলন্ত ট্রাকের ওপর বসানো থাকে। ট্রাকে থাকা উৎক্ষেপণ যন্ত্র থেকে একনাগাড়ে সর্বোচ্চ চারটি রকেট ছোড়া যায়। প্রতিটি রকেটে প্রায় ১৭৫ কেজি ওজনের প্রচণ্ড ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক থাকে। রকেটটি যখন বিস্ফোরিত হয়, তখন এর ভেতরের অংশগুলো দ্রুতগতির অসংখ্য ধারালো ধাতব টুকরায় পরিণত হয়ে চারপাশের একাধিক লক্ষ্যবস্তুকে একসঙ্গে ঝাঁঝরা করে দিতে পারে।

    ফজর-৫-এর পাল্লা প্রায় ৭৫ কিলোমিটার। ইরানি বাহিনী মূলত বিমানঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনায় হামলার জন্য এটি ব্যবহার করেছে।

    ৭৫ কিলোমিটার পাল্লা থাকায় স্থলভাগ থেকে ব্যবহার করা হলেও ফজর-৫ রকেট দিয়ে খুব সহজেই পুরো হরমুজ প্রণালির গুরুত্বপূর্ণ জলসীমায় মাইন ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব।

    পরে ইরান এ প্রযুক্তির আরও উন্নয়ন ঘটিয়েছে। ফজর-৫সি-এর মতো নতুন সংস্করণগুলোতে আরও আধুনিক ও জিপিএসভিত্তিক নির্ভুল নেভিগেশনব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে। এ উন্নত রকেটগুলো এখন আগের চেয়ে দূরে—প্রায় ১৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে।

    মার্চে ধারণ করা ভিডিওর একটি দৃশ্যে হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের একটি নৌযানের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুটতে দেখা যাচ্ছে।

    ফজর-৫ দিয়ে কীভাবে মাইন পাতা হতে পারে

    ফজর-৫ বা অন্য কোনো রকেটব্যবস্থা দিয়ে ইরান বর্তমানে সমুদ্রে মাইন ছড়াচ্ছে কি না, তা দেশটি নিশ্চিত করেনি।

    তাত্ত্বিক দিক থেকে বিচার করলে, রকেটের মাথায় যেখানে সাধারণত বিস্ফোরক বা বোমা থাকে, সেই জায়গাটিতে বিস্ফোরকের বদলে সাগরে পাতার মাইন রেখে দেওয়া সম্ভব। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে আইআরজিসির নৌ মহড়ায় ঠিক এমন একটি পদ্ধতিই দেখানো হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।

    এ ব্যবস্থায় প্রথমে সমুদ্রের উপকূলীয় স্থলভাগ থেকে ট্রাকে বসানো উৎক্ষেপণ যন্ত্র ব্যবহার করে রকেটটি ছোড়া হয়। এরপর মাইনবাহী রকেটটি সমুদ্রসীমার ওপর দিয়ে উড়ে যাবে। রকেটটি যখন নির্ধারিত সমুদ্র এলাকার আকাশে পৌঁছাবে, তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে আকাশেই রকেটের ওপরের খোলস বা আবরণ খুলে যাবে।

    রকেটের ভেতরের অবিস্ফোরিত মাইনগুলো তখন আকাশ থেকে সরাসরি সমুদ্রের পানির দিকে পড়তে থাকবে। পানিতে পড়ার সময় মাইনগুলো যাতে তীব্র বেগে আছাড় খেয়ে নিজে নিজেই বিস্ফোরিত না হয়, সে জন্য প্রতিটি মাইনের সঙ্গে ছোট প্যারাসুট বা গতি কমানোর অন্য কোনো বিশেষ ব্যবস্থা যুক্ত থাকে। ফলে মাইনগুলো বেশ আলতোভাবে পানিতে গিয়ে পড়ে।

    সাগরের পানিতে পড়ার পর মাইনগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমুদ্রের একদম তলদেশে ডুবে যেতে পারে অথবা পানির নিচে নির্দিষ্ট গভীরতায় ভেসে থাকতে পারে।

  • ইরানের ওপর ‘কঠোর’ আঘাত হানা হবে: ট্রাম্প

    ইরানের ওপর ‘কঠোর’ আঘাত হানা হবে: ট্রাম্প

    ইরানের ওপর ‘কঠোর’ আঘাত হানার হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কয়েক সপ্তাহের বিরতির পর দেশ দুটির মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল সোমবার ট্রাম্প এ হুমকি দিলেন। সেই সঙ্গে ইরানের অর্থনীতি দুর্বল করার জন্য চাপ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।

    ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর যুদ্ধ শুরুর ছয় মাস পেরিয়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে অচলাবস্থা এখনো কাটেনি। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ রেখেছে ইরান। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে পাল্টা অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছে।

    হরমুজ প্রণালিতে গত রোববার ইরানের একটি দ্বীপে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায় তেহরান। পাল্টাপাল্টি হামলায় নতুন করে বড় ধরনের সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে কঠোর জবাব দেওয়ার হুমকি দিলেন ট্রাম্প।

    ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদকের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা তাদের (ইরান) ওপর কঠোর আঘাত করব। দেশটিকে জবাব দেওয়া হবে।’

    যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে ইরান যাতে আর মাইন পেতে রাখতে না পারে, সেজন্যই লারাক দ্বীপে ইরানের রকেট উৎক্ষেপণব্যবস্থায় হামলা চালানো হয়েছে। জবাবে জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। তেহরান বলেছে, এসব হামলার লক্ষ্য ছিল, সেখানে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনী।

    তবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান গতকাল দিনের শেষে উত্তেজনা প্রশমনে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। মধ্য এশিয়ার দেশ কিরগিজস্তানে এক সম্মেলনে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সমঝোতা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার পথ খুঁজছি। যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া ইরান কিংবা এ অঞ্চলের কারও স্বার্থ নয়।’

    ইরানের প্রেসিডেন্টের ভাষ্যমতে, বিদ্যমান সমস্যা সমাধানের উপায় হলো সংলাপ ও সহযোগিতা।

    ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন

    লারাক দ্বীপে রোববার যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

    ইরানের শক্তিশালী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, জর্ডানে দুটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। এতে ‘বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে।

    তবে ট্রাম্প ফক্স নিউজকে বলেন, মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা সব ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে। শুধু একটি ভূপাতিত করা যায়নি। তবে সেটি হুমকি সৃষ্টি করেনি।

    জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, আটটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে এগুলো কোথা থেকে ছোড়া হয়েছিল, তা জানানো হয়নি।

    ইরান আরও জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি বিমানঘাঁটিতে থাকা মার্কিন সেনাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।

    অন্যদিকে আবুধাবি জানিয়েছে, দেশটির জলসীমায় একটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। এ ছাড়া আল মিনহাদ বিমানঘাঁটিতে হামলার দাবি ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে তারা।

    আইআরজিসি গতকাল সন্ধ্যায় জানায়, হরমুজ প্রণালিতে আরেকটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড আঞ্চলিক প্রতিবেশীদের সতর্ক করে বলেছে, হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্রকে যেন তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে না দেওয়া হয়।

    এদিকে হরমুজ প্রণালি থেকে বেরিয়ে আসা একটি তেলবাহী ট্যাংকারে তিনটি ‘অজ্ঞাত বস্তু’ আঘাত করেছে। ওমানের উত্তর-পূর্ব উপকূলের কাছে এ ঘটনা ঘটে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সংস্থা গতকাল রাতে এ তথ্য জানিয়েছে।

    সংস্থাটি বলেছে, এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। পরিবেশের ওপরও কোনো ক্ষতিকর প্রভাব পড়েনি।

    ‘চাপ অব্যাহত থাকবে’

    মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক সপ্তাহ ধরে তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতি বজায় ছিল। এখন আবারও ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা হয়েছে। সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধের’ দিকেও মনোযোগ দিয়েছে।

    ট্রাম্প গতকাল ইরানকে একটি ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ বলেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেন, ইরানের সামরিক বাহিনী এখন বিপর্যস্ত। অর্থনীতিও ভেঙে পড়ছে। নেতৃত্ব পুরোপুরি বিশৃঙ্খল হয়ে পড়েছে।

    অন্যদিকে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখা হবে। নর্থ ক্যারোলাইনায় জি-২০-এর সম্মেলনে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা (ইরানের ওপর) চাপপ্রয়োগ অব্যাহত রাখব। এর ফলে কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাসের মধ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।’

    হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ অব্যাহত রেখে ইরানও অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করেছে। বিশ্ববাজারে এরই মধ্যে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। জ্বালানি তেলসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রেও জ্বালানিসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়তির দিকে। দেশটিতে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে এটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠছে।

    হরমুজ ঘিরে উত্তেজনা

    ইরান যুদ্ধের কারণে ছয় মাস ধরে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ইতিমধ্যে ট্রাম্প দাবি করেন, প্রণালিটির ওপর মার্কিন নৌবাহিনীর ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে।

    গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছিল, তারা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি থেকে মাইন সরানোর কাজ শেষ করেছে।

    তবে ইরান বলছে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতেই আছে। গতকাল আইআরজিসি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির কাছে একটি ‘বেপরোয়া’ তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন ধরেছে। অবৈধ পথ ধরে ট্যাংকারটি প্রণালি পার হচ্ছিল। তখন দুটি মাইনের বিস্ফোরণ হয়।

    ইরানের এ দাবি নাকচ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। তারা এটিকে ‘অপপ্রচার’ বলে আখ্যায়িত করেছে। মার্কিন বাহিনী বলেছে, ‘হরমুজ প্রণালিতে কোনো জাহাজে মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেনি।’

    ইরানে যুদ্ধ বন্ধে কয়েক মাস ধরে মধ্যস্থতার চেষ্টা চলছে। যদিও এর আগে করা একটি যুদ্ধবিরতির সমঝোতা স্মারক শেষ পর্যন্ত ভেস্তে গেছে।

    আগের ওই চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে ইরান। গতকাল ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ‘সমাধানের পথ একেবারে পরিষ্কার ও সরল। যুক্তরাষ্ট্রকে নিজের প্রতিশ্রুতিতে ফিরতে হবে।’

  • সার-কীটনাশকের চড়া দাম, কৃষকের মাথায় হাত

    সার-কীটনাশকের চড়া দাম, কৃষকের মাথায় হাত

    মাঠের দিকে তাকালে বুক ভরে যায় শান্তিতে। সবুজ পাতায় হাওয়া খেলছে, ৪৫ দিনের লকলকে আমনখেত যেন সবুজের গালিচা। কিন্তু সেই সবুজ মাঠের ভেতরে নেমেই কৃষকের মুখে ফুটে উঠছে দুশ্চিন্তার ছাপ। কোথাও আগাছা পরিষ্কার করছেন কৃষক, কোথাও সার ছিটাচ্ছেন, আবার কোথাও মাজরা পোকার আক্রমণ ঠেকাতে কীটনাশক প্রয়োগ করছেন।

    পরিচর্যায় ব্যস্ত থাকলেও উৎপাদন খরচের হিসাব মেলাতে গিয়ে দিশেহারা জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার আমন চাষিরা। সেচ, সার, কীটনাশক, শ্রমিকের মজুরি ও পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতে খরচ বাড়লেও ধানের বাজারদর তেমন বাড়েনি। ফলে ধান ঘরে তোলার পর লাভ কতটা থাকবে, তা নিয়েই শঙ্কায় কৃষকেরা।

    উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ক্ষেতলালে ১০ হাজার ৮৬০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে, যা গত মৌসুমের তুলনায় ৫ হেক্টর বেশি। ১০-১৫ দিন আগেই শেষ হয়েছে আমনের চারা রোপণ। এখন চলছে খেত পরিচর্যার সময়।

    কৃষকেরা বলছেন, ধান কাটা-মাড়াই পর্যন্ত খরচের এ চাপ আরও বাড়বে।

    কৃষি বিভাগের টাঙানো সরকারি মূল্য তালিকা অনুযায়ী, প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) সারের নির্ধারিত দাম ইউরিয়া ১ হাজার ৩৫০ টাকা (কেজিপ্রতি ২৭ টাকা), টিএসপি ১ হাজার ৩৫০ টাকা (কেজিপ্রতি ২৭ টাকা), ডিএপি ১ হাজার ৫০ টাকা (কেজিপ্রতি ২১ টাকা) এবং এমওপি ১ হাজার টাকা (কেজিপ্রতি ২০ টাকা)।

    কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী, এক বিঘা জমিতে ১৫ কেজি ইউরিয়া, ১০ কেজি টিএসপি, ১০ কেজি এমওপি ও ১ কেজি জিংক ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। তবে কৃষকদের কেউ কেউ বেশি ফলনের আশায় ইউরিয়া প্রায় ২০ কেজি পর্যন্ত ব্যবহার করছেন।

    কৃষকদের অভিযোগ, কৃষি বিভাগের টাঙানো সরকারি মূল্যতালিকার দামে তারা সবসময় সার কিনতে পারছেন না।

    তাদের দাবি, প্রয়োজনের সময় নির্ধারিত দামে সার না পাওয়ায় অনেক সময় ডিলার বা খুচরা বাজার থেকে বেশি দামে সার কিনতে হয়েছে। ফলে সার বাবদ বিঘাপ্রতি তাদের খরচ হচ্ছে প্রায় ১০০০-১৫০০ টাকা। এর সঙ্গে কীটনাশকের খরচও যোগ হচ্ছে।

    কৃষকদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, এক বিঘা জমি প্রস্তুত করতে প্রায় ১ হাজার ৩০০ টাকা, চারা ও রোপণে ৫০০ টাকা, সার বাবদ ১০০০-১৫০০ টাকা, কীটনাশকে ১ হাজার টাকা, আগাছা পরিষ্কারে ১০০ টাকা, সেচে ১ হাজার ২০০ টাকা, ধান কাটায় ৪ হাজার টাকা, মাড়াইয়ে ৬০০ টাকা এবং পরিবহনে প্রায় ৪ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। সব মিলিয়ে জমি পত্তনের খরচ বাদে এক বিঘা আমন চাষে কৃষকের ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১৩ হাজার ৭০০ থেকে ১৪ হাজার ২০০ টাকা।

    তবে যারা জমি পত্তন নিয়ে আমন চাষ করছেন, তাদের খরচ আরও বেড়ে যাচ্ছে।

    কৃষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিন ফসলি জমি এক বছরের জন্য পত্তন নিতে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। তিন ফসলের মধ্যে এক ফসলের আনুপাতিক পত্তন খরচ হিসাব করলে আমন মৌসুমে বিঘাপ্রতি প্রায় ১০ হাজার থেকে ১১ হাজার ৬৭০ টাকা জমির পেছনে চলে যায়। ফলে পত্তনের খরচসহ এক বিঘা আমন চাষে মোট ব্যয় দাঁড়াচ্ছে প্রায় ২৩ হাজার ৭০০ থেকে ২৫ হাজার ৮৭০ টাকা।

    কৃষি অফিসের হিসাব অনুযায়ী, বিঘাপ্রতি আমনের ফলন ১৭ মণ হলে এবং প্রতি মণ ধান ১ হাজার ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হলে ধান থেকে আয় হবে ২২ হাজার ৯৫০ টাকা। এর সঙ্গে খড় বিক্রি করে আরও ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা পাওয়া গেলে মোট আয় দাঁড়াতে পারে প্রায় ২৫ হাজার ৯৫০ থেকে ২৬ হাজার ৯৫০ টাকা।

    নিজস্ব জমিতে কৃষকদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী ১৩ হাজার ৭০০ থেকে ১৪ হাজার ২০০ টাকা খরচ হলে ধান ও খড় মিলিয়ে প্রায় ২৫ হাজার ৯৫০ থেকে ২৬ হাজার ৯৫০ টাকা আয় হতে পারে। সে হিসাবে খড়সহ সম্ভাব্য উদ্বৃত্ত থাকতে পারে প্রায় ১১ হাজার ৭৫০ থেকে ১৩ হাজার ২৫০ টাকা। তবে এ হিসাবের মধ্যে কৃষকের নিজের শ্রমের মূল্য এবং বাজারদরের ওঠানামা ধরা হয়নি।অন্যদিকে, পত্তন নেওয়া জমিতে একই ফলন ও বাজারদর ধরে হিসাব করলে চিত্রটি অনেকটাই বদলে যায়। পত্তনসহ মোট খরচ ২৩ হাজার ৭০০ থেকে ২৫ হাজার ৮৭০ টাকা হলে ধান ও খড় মিলিয়ে ২৫ হাজার ৯৫০ থেকে ২৬ হাজার ৯৫০ টাকা আয়ের বিপরীতে উদ্বৃত্ত থাকতে পারে মাত্র প্রায় ৮০ টাকা থেকে ৩ হাজার ২৫০ টাকা। এতে কৃষকের নিজের শ্রমের মূল্যসহ অন্যান্য অনির্ধারিত খরচ বাদ দিলে প্রকৃত লাভ আরও কমে যেতে পারে।

    ক্ষেতলালের আমন চাষি আইজুল বলেন, ‘ধানের ফলন ভালো দেখা গেলেও চাষের খরচ অনেক বেড়ে গেছে। সার, ওষুধ, জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ আর ধান কাটার খরচ মিলিয়ে প্রতি বিঘায় প্রায় ২৪ হাজার টাকা খরচ হয়ে যাচ্ছে। ১৭ মণ ধান পেয়ে বর্তমান বাজারদরে বিক্রি করলে হাতে খুব একটা লাভ থাকে না। নিজের জমি হলে কিছুটা সাশ্রয় হয়, কিন্তু পত্তন নেওয়া জমিতে চাষ করলে লাভের সুযোগ আরও কমে যায়।’

    আরেক কৃষক সোবাহান বলেন, ‘বাজারে এখন ধানের যে দাম আছে, তা একেবারে খারাপ না। কিন্তু খরচের সঙ্গে মেলালে লাভ খুবই কম। সার ও অন্যান্য জিনিসপত্র সরকারি দামের চেয়ে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। ধান কাটার সময় আরও খরচ হবে। শেষ পর্যন্ত ধান বিক্রি করে ঘরে কত টাকা তুলতে পারব, সেটাই এখন চিন্তার বিষয়।’

    পত্তন নেওয়া জমিতে আমন চাষ করা কৃষক রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘এক বছরের জন্য তিন ফসলি জমি পত্তন নিতে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা লাগে। হিসাব করলে শুধু আমন ফসলের জন্যই প্রায় ১০ থেকে ১১ হাজার ৬০০ টাকা জমির পেছনে চলে যায়। এরপর সার, ওষুধ, সেচ, পরিচর্যা, ধান কাটা-মাড়াই ও পরিবহনের খরচ তো আছেই। ধানের ভালো দাম না পেলে আমাদের মতো পত্তন নেওয়া কৃষকদের টিকে থাকা কঠিন।’ক্ষেতলালের কৃষকদের দাবি, উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি সারের নির্ধারিত সরকারি মূল্য বাস্তবে কার্যকর করা এবং কৃষকের প্রয়োজনের সময় সঠিক দামে সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কঠোর তদারকি চান তারা।

    এ বিষয়ে ক্ষেতলাল উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাফিজার রহমান বলেন, ‘কৃষকেরা মনে করেন, বেশি সার দিলেই বেশি ধান হবে। অথচ অতিরিক্ত সার ব্যবহারে শুধু উৎপাদন খরচই বাড়ে। আমরা মাঠে মাঠে গিয়ে অপ্রয়োজনীয় সার ও কীটনাশক ব্যবহার না করার পরামর্শ দিচ্ছি। সরকারি নির্ধারিত দামে সার বিক্রি নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছে।’

    তবে কৃষি বিভাগ ও প্রশাসনের আশ্বাসের পরও ক্ষেতলালের মাঠে কৃষকের দুশ্চিন্তা কাটেনি। সবুজে ভরা আমনখেত দেখে ফলনের আশা জাগলেও উৎপাদন খরচের চাপ সেই আশায় ফাটল ধরাচ্ছে। কৃষকের অপেক্ষা এখন একটাই ধান ঘরে তোলার সময় বাজারে ন্যায্য দাম মিলবে কি না।

  • হামে শিশু মৃত্যু: ড. ইউনূসসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণে রুল

    হামে শিশু মৃত্যু: ড. ইউনূসসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণে রুল

    আইন-আদালত

    হামে আক্রান্ত এক শিশু মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারকে কেন ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

    আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে ড. ইউনূসসহ সংশ্লিষ্ট ছয়জনকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

  • ফুটপাতে ফের বসলে গ্রেপ্তার

    ফুটপাতে ফের বসলে গ্রেপ্তার

    ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনাকারীদের উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে। উচ্ছেদের পর আবার ফুটপাতে বসলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে গ্রেপ্তারও করা হবে।

    মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বকশীবাজার থেকে চানখাঁরপুল এলাকায় সিটি করপোরেশনের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, রাজস্ব আদায় ও মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পরিচালিত অভিযানে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম।

    ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, আজ বেশির ভাগ লোককে আমরা ওয়ার্নিং দিয়ে যাব, তাদের সময় দিয়ে যাব। এই সময়ের মধ্যে যদি তারা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না করে এবং আইন অনুযায়ী যেভাবে থাকা দরকার সেভাবে না থাকে, তাহলে পরবর্তী পর্যায়ে আইনি ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হব।

    তিনি বলেন, বকশীবাজার থেকে চানখাঁরপুল পর্যন্ত সড়ক ও ফুটপাত পরিষ্কার রাখতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হবে। যারা ফুটপাতে ব্যবসা করছেন, তাদের ফুটপাত থেকে সরে যেতে বলা হবে। পাশাপাশি যাদের ট্রেড লাইসেন্স নেই, তাদের লাইসেন্স নেওয়া এবং যাদের লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি, তাদের নবায়নের জন্য অনুরোধ করা হবে।

    তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কোনো অ্যাকশনে যেতে চাই না। আপনারা নিজে থেকে আইন মেনে সবকিছু করলে আমরা কোনো অ্যাকশনে যেতে চাই না। অভিযানে সিটি করপোরেশনের মশক নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা বিভাগের কর্মীরা কাজ করবেন জানিয়ে তিনি এলাকাবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।

  • রংপুরে ৪ খুন

    রংপুরে ৪ খুন

    সিদ্ধার্থ-মুগ্ধের তিন দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রংপুর নগরীতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজন হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ।

    তবে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়া, নতুন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগসহ সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তাদের দুই দিন প্রতিদিন তিন ঘণ্টা করে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

    সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে রংপুরের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মো. রফিকুল ইসলাম এ আদেশ দেন।

    রংপুরে ৪ খুন / সিদ্ধার্থ-মুগ্ধের ডোপ টেস্টে মাদকের অস্তিত্ব নেই: পুলিশ

    পরে সংবাদ সম্মেলনে মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার পরও বেশ কিছু নতুন তথ্য পাওয়া গেছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই এবং নতুন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগের পর অধিকতর তদন্তের জন্য তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল।’

    চার খুনে দায় স্বীকার, কারাগারে সিদ্ধার্থ-মুগ্ধ

    তিনি বলেন, ‘আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়নি। তবে তাদের পক্ষে লিগ্যাল এইডের আইনজীবীরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শুনানিতে যুক্ত ছিলেন। শুনানি শেষে আদালত দুই দিন প্রতিদিন তিন ঘণ্টা করে জেলগেটে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন।’

    এর আগে রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে ডোপ টেস্টের জন্য সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষায় তাদের শরীরে মাদকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে।

    উল্লেখ্য, গত ২২ আগস্ট রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

    এ ঘটনায় নগরীর কোতোয়ালি থানায় নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে মামলাটি থানা থেকে মহানগর ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে ডিবির পরিদর্শক জিন্নাত আলীকে নিযুক্ত করা হয়।

  • শিশু আছিয়া হত্যা মামলায় হাইকোর্টে মৃত্যুদণ্ড বহাল

    শিশু আছিয়া হত্যা মামলায় হাইকোর্টে মৃত্যুদণ্ড বহাল

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মাগুরায় আট বছরের শিশু আছিয়া আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট।

    সোমবার (৩১ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর নেতৃত্বে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

    আলোচিত এ মামলায় গত ২৪ আগস্ট শুনানি শেষে ২৫ আগস্ট রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য করেছিলেন হাইকোর্ট। তবে নির্ধারিত দিনে রাষ্ট্রপক্ষ আদালতকে জানায়, মামলাটিতে অ্যাটর্নি জেনারেল শুনানি করবেন। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত রায় ঘোষণার দিন পিছিয়ে ৩১ আগস্ট নির্ধারণ করেন।

    সোমবার নির্ধারিত দিনে আদালত হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের বিষয়ে রায় ঘোষণা করেন। এ সময় আদালতে আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক উপস্থিত ছিলেন।

    ২০২৫ সালের ৫ মার্চ রমজানের ছুটিতে মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে যায় শিশু আছিয়া। ওই রাতে শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়। নিহত শিশুর বোনের শ্বশুর হিটু শেখ ধর্ষণের পাশাপাশি তাকে হত্যারও চেষ্টা করেন বলে মামলার অভিযোগে বলা হয়।

    গুরুতর অবস্থায় শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। পরে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আট বছর বয়সী আছিয়ার মৃত্যু হয়।

    এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে পুলিশ মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করে।

    ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল এ মামলায় অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। এরপর ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। ২৭ এপ্রিল শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৯ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন।

    গত বছরের ৭ মে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। মাত্র ১৩ কার্যদিবসে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম শেষ করা হয়।

    একই বছরের ১৩ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসানের আদালতে মামলার শেষ দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। যুক্তিতর্ক শেষে ১৭ মে রায় ঘোষণা করা হয়।

    শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি হিটু শেখকে (৪৭) মৃত্যুদণ্ড দেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

    তবে মামলার অপর তিন আসামিকে খালাস দেন আদালত। তারা হলেন নিহত শিশুর বোনের স্বামী সজীব শেখ (১৯), সজীব শেখের ছোট ভাই (১৭) এবং সজীবের মা জাহেদা বেগম (৪০)।

    ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, কোনো বিচারিক আদালত মৃত্যুদণ্ড দিলে তা অনুমোদনের জন্য মামলার যাবতীয় নথি উচ্চ আদালতে পাঠাতে হয়। সে অনুযায়ী এ মামলার নথি ২০২৫ সালের ২১ মে হাইকোর্টে পাঠানো হয়।

    পরে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে মামলার পেপারবুক তৈরির জন্য বিজি প্রেসে পাঠানো হয়। পেপারবুক প্রস্তুত হওয়ার পর গত বছরের ৮ জুন তা হাইকোর্টে পাঠানো হয়।

    এরপর মামলাটি শুনানির জন্য হাইকোর্টের বিশেষায়িত বেঞ্চের কার্যতালিকায় আসে। শুনানি শেষে আজ প্রধান আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখলেন হাইকোর্ট।