জামায়াত

  • বেনজীরকে আটক দেশের পুলিশের কৃতিত্ব নয়, ইন্টারপোলের কৃতিত্ব: জামায়াত আমির

    বেনজীরকে আটক দেশের পুলিশের কৃতিত্ব নয়, ইন্টারপোলের কৃতিত্ব: জামায়াত আমির

    বেনজীরকে আটক দেশের পুলিশের কৃতিত্ব নয়, ইন্টারপোলের কৃতিত্ব, বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। রোববার (১৪ জুন) রাতে সিলেট সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।

    শফিকুর রহমান বলেন, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের ব্যবস্থার কারণেই তাকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। তিনি দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে রেড নোটিস বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ের উদ্যোগও বর্তমান সরকারের সময় যথাযথভাবে নেওয়া হয়নি।

    তিনি আরও বলেন, বেনজীরের গ্রেপ্তার বাংলাদেশের জন্য একটি অর্জন হলেও বিষয়টি নিয়ে অতি উৎসাহ দেখানোর সুযোগ নেই। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে কি না, তা সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    এ সময় নির্বাচন ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর একটি অর্থবহ নির্বাচনের প্রত্যাশা থাকলেও ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তবে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে তারা নির্বাচন মেনে নিয়েছেন।

    তিনি আরও দাবি করেন, নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করলে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হতে পারত।সীমান্ত পরিস্থিতি প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, দেশের ভেতরে ও বাইরে থেকে উসকানি দেওয়া হচ্ছে। তবে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

  • শ্রীপুরে জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

    শ্রীপুরে জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

    গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ৮৪ নম্বর কেওয়া পূর্বখণ্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শ্রীপুর পৌরসভার যুব বিভাগের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    সোমবার (১৫ জুন) সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পরিবেশ সংরক্ষণ, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃক্ষপ্রেম জাগ্রত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ বৃক্ষের চারা রোপণ করা হয়।

    কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রীপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ও ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আবুল কালাম আজাদ।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত শ্রীপুর পৌরসভার মেয়র প্রার্থী ড. মো: হারুন অর রশিদ।

    এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শ্রীপুর পৌর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা আবুল হোসাইন, পৌরসভার অফিস ও বায়তুল মাল সম্পাদক মাছউদুল হাসান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শ্রীপুর পৌরসভার যুব বিভাগের সেক্রেটারি আক্তারুজ্জামান মোল্লার পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই।’

    এসময় তারা শিক্ষার্থীদের বেশি বেশি গাছ লাগানোর পাশাপাশি রোপণকৃত গাছের নিয়মিত পরিচর্যা করার আহ্বান জানান।

    অনুষ্ঠানে অতিথিরা শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং তাদের মনোযোগ সহকারে পড়াশোনা করে দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজেকে গড়ে তোলার পরামর্শ দেন। তারা শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা ও পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    অনুষ্ঠান শেষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের বিভিন্ন স্থানে ফলজ বৃক্ষের চারা রোপণ করা হয়। এ সময় আয়োজকরা ভবিষ্যতেও শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন ও পরিবেশ রক্ষায় এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

  • শ্রীপুরে জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ

    শ্রীপুরে জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ

    পরিবেশ সংরক্ষণ, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃক্ষপ্রেম জাগ্রত করার লক্ষ্যে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শ্রীপুর পৌরসভার যুব বিভাগ।

    সোমবার সকালে উপজেলার ৮৪ নম্বর কেওয়া পূর্বখণ্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ বৃক্ষের চারা রোপণ করা হয়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অংশগ্রহণ করেন। কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রীপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আবুল কালাম আজাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত শ্রীপুর পৌরসভার মেয়র প্রার্থী ড. মো. হারুন অর রশিদ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শ্রীপুর পৌর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা আবুল হোসাইন, পৌরসভার অফিস ও বায়তুল মাল সম্পাদক মাছউদুল হাসান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শ্রীপুর পৌরসভার যুব বিভাগের সেক্রেটারি আক্তারুজ্জামান মোল্লার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব অপরিসীম। একটি সবুজ ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে।

    বক্তারা আরও বলেন, শুধু গাছ লাগালেই হবে না, রোপণকৃত গাছের যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা সৃষ্টি এবং বৃক্ষরোপণের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক এ ধরনের কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

    অনুষ্ঠানে অতিথিরা শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার খোঁজখবর নেন এবং তাদের মনোযোগ সহকারে অধ্যয়ন করে দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান। পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    আলোচনা সভা শেষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের বিভিন্ন স্থানে ফলজ বৃক্ষের চারা রোপণ করা হয়। এ সময় আয়োজকরা শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন ও পরিবেশ রক্ষায় ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

    স্থানীয়রা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বিদ্যালয়ভিত্তিক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের পরিবেশবান্ধব মানসিকতা গড়ে তুলতে সহায়ক হবে এবং এলাকার সবুজায়ন বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

  • ভারতীয় হাইকমিশনারের বক্তব্যের ব্যাখ্যা চাইলেন জামায়াত আমির

    ভারতীয় হাইকমিশনারের বক্তব্যের ব্যাখ্যা চাইলেন জামায়াত আমির

    বাংলাদেশে নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বক্তব্যের ব্যাখ্যা চেয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার দুপুর ১২টা ৬ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া এক পোস্টে তিনি এ ব্যাখ্যা চান।

    ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী শুক্রবার সকালে পেট্রাপোল-বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে সড়কপথে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। সেখানে তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা চেয়ে জামায়াত আমীর বলেন, “গতকাল বাংলাদেশে নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী পৌঁছানোর পর তার একটি বক্তব্য আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। তিনি ‘ভারত-বাংলাদেশের এক হয়ে যাওয়া’ বলতে কী বুঝিয়েছেন, আমাদের সরকারের উচিত হবে তার কাছ থেকে তা জেনে নেয়া। ভারত যেমন একটি স্বাধীন দেশ, বাংলাদেশও তেমনি একটি স্বাধীন দেশ। তার এ বক্তব্য স্পষ্ট না হলে জনমনে অবশ্যই বিভ্রান্তি তৈরি হবে।”তিনি আরও বলেন, “আমরা আমাদের সরকারের কাছে এ বিষয়টির সুরাহা চাই। যদি তিনি আক্ষরিক অর্থে এ ধরনের কিছু বুঝিয়ে থাকেন, তাহলে অবশ্যই তা নিন্দনীয়। বিষয়টি স্পষ্ট হওয়া দরকার।”

  • স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ছাড়া বাজেট কার্যকর হবে না: জামায়াত আমির

    স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ছাড়া বাজেট কার্যকর হবে না: জামায়াত আমির

    সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা না গেলে কোনো সরকারের দেওয়া বাজেটই কার্যকর হবে না বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন। তিনি বলেন, জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করতে হলে বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের প্রতিটি স্তরে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

    মঙ্গলবার (৯ জুন) রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ‘জনমুখী বাজেট ২০২৬-২০২৭ প্রস্তাবনা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    জামায়াত আমির বলেন, আমরা দেশকে ভালোবাসি বলেই জনগণের প্রত্যাশা ও প্রয়োজনের আলোকে কেমন বাজেট হওয়া উচিত, সে বিষয়ে আমাদের চিন্তাভাবনা জনগণের সামনে তুলে ধরছি। এটি কোনো চূড়ান্ত বাজেট নয়, বরং বাজেটের পূর্বধারণা বা প্রস্তাবনা।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচার, বৈষম্যহীন সমাজ ও অর্থনৈতিক মুক্তির প্রত্যাশা করে আসছে।

    কিন্তু বারবার রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও সেগুলোর অনেকটাই বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে জনগণ হতাশ হয়েছে এবং পরিবর্তনের প্রত্যাশায় বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিয়েছে।

    বাজেট প্রস্তাবনার লক্ষ্য সম্পর্কে জামায়াত আমির বলেন, এটি কোনো দলীয় বাজেট নয়; দেশের ১৮ থেকে ২০ কোটি মানুষের কল্যাণের কথা বিবেচনায় রেখেই প্রস্তাবনা তৈরি করা হচ্ছে। সরকার চাইলে এখান থেকে ইতিবাচক বিষয় গ্রহণ করতে পারে। তবে এর বাস্তবায়নের পূর্বশর্ত হলো সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা।

    বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, আর্থিক, রাজনৈতিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও সাংবিধানিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে অযাচিত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক, ব্যাংকিং খাত, বীমা ও বিভিন্ন কর্পোরেশনে অনিয়ম ও প্রভাব বিস্তারের কারণে অর্থনীতির ভিত্তি দুর্বল হচ্ছে। ইতোমধ্যে পুঁজিবাজার সংকটে রয়েছে, আর ব্যাংকিং খাতও ঝুঁকির মুখে পড়লে দেশের অর্থনীতি আরও বড় বিপদের সম্মুখীন হবে।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই-জুন অর্থবছরের পরিবর্তে ক্যালেন্ডার বছরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অর্থবছর নির্ধারণ করা হলে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে তাড়াহুড়া কমবে এবং বছরের শেষ দিকে এডিপি ব্যয়ের নামে অপচয় ও দুর্নীতির সুযোগও হ্রাস পাবে।

    সম্পূরক বাজেট নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বছরের শেষ মুহূর্তে সম্পূরক বাজেট উপস্থাপন করলে সংসদীয় পর্যালোচনার কার্যকারিতা কমে যায়। বরং নিয়ম অনুযায়ী আগেই তা সংসদে আনা হলে জনগণের অর্থ ব্যয়ের বিষয়ে কার্যকর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

  • জামায়াতের ‘ছায়া বাজেট’ ঘোষণা, ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকার প্রস্তাব

    জামায়াতের ‘ছায়া বাজেট’ ঘোষণা, ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকার প্রস্তাব

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকার একটি বিকল্প বা ‘ছায়া বাজেট’ প্রস্তাব করেছে। বাজেটে জনপ্রশাসন, শিক্ষা-প্রযুক্তি এবং ঋণের সুদ পরিশোধ খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৯ জুন) মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই বাজেট উপস্থাপন করা হয়। বাজেট উপস্থাপন করেন জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম খান মিলন।

    প্রস্তাবিত বাজেটে মোট ব্যয়ের ২৪.০৯ শতাংশ জনপ্রশাসন খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার পরিমাণ ২ লাখ ২ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা। শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১ লাখ ২৫ হাজার ৫৭৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

    এছাড়া ঋণের সুদ পরিশোধে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা মোট বাজেটের ১৫.১৯ শতাংশ। পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে ৬৫ হাজার ৩৪০ কোটি টাকা বরাদ্দের রূপরেখা দেওয়া হয়েছে।

    কৃষি খাতে ৫১ হাজার ৬৭০ কোটি টাকা, সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ৪৮ হাজার ১৫০ কোটি টাকা, স্বাস্থ্য খাতে ৪৫ হাজার ২৪০ কোটি টাকা এবং স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন খাতে ৪৫ হাজার ২২০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

    এছাড়া প্রতিরক্ষা খাতে ৪৩ হাজার ৪৬২ কোটি টাকা, জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা খাতে ৩৪ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ২৪ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে।

  • জামায়াত ছায়া বাজেট প্রকাশ করবে মঙ্গলবার

    জামায়াত ছায়া বাজেট প্রকাশ করবে মঙ্গলবার

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট সামনে রেখে ‘ছায়া বাজেট’ প্রকাশ করবে সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী।

    মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে আল ফালাহ মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে এই ছায়া বাজেট উপস্থাপন করবে দলটি।

    জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, ‘ছায়া বাজেট’ প্রকাশের সংবাদ সম্মেলনে সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির শফিকুর রহমানসহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন।

    গত শুক্রবার জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোট ১১ দলীয় ঐক্যের শরিক এনসিপির পক্ষ থেকেও একটি ‘ছায়া বাজেট’ উপস্থাপন করা হয়। এতে দেশের অর্থনীতিকে ১২ খাতে ভাগ করে ৭১টি প্রস্তাব দেয় দলটি।

  • সংবিধান সংশোধন কমিটিতে যাবে না জামায়াত-এনসিপি­

    সংবিধান সংশোধন কমিটিতে যাবে না জামায়াত-এনসিপি­

    সংবিধানের অষ্টাদশ সংশোধনীর জন্য বিএনপির নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন জোট ‘সংবিধান সংশোধন বিশেষ কমিটি’ গঠনের যে প্রস্তাব করেছে, তাতে অংশ নেবে না জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট। তারা গণভোটের ফলাফল অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের দাবি জানিয়ে যাবে।

    বিরোধীদের ভাষ্য, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সরকার যেভাবে চাইবে, সেভাবেই সংবিধান সংশোধন করতে পারে। বিরোধীদের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ আমলে না নিলে কিছুই করার নেই। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশগুলো বাছাইয়ে গঠিত সংসদীয় কমিটিতে বিরোধী দলের নোট অব ডিসেন্ট গ্রহণ করা হয়নি। এগুলো নিয়ে পরে সংসদে আলোচনার সিদ্ধান্ত হলেও তা কার্যকর করা হয়নি।

    বিরোধী জোটের নেতারা বলছেন, শুধু ‘বৈধতা’ দিতে কমিটিতে অংশগ্রহণের কোনো অর্থ নেই। তাই তারা রাজপথেই সমাধান দেখছেন।

    আগামী ১৩ জুন থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত ছয় বিভাগীয় শহরে সমাবেশ করবে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। গত ১৫ মে তারা প্রথম সমাবেশ করেছে রাজশাহীতে। আগস্টে ঢাকায় বড় জমায়েত করার পরিকল্পনা রয়েছে এই জোটের।

    সংবিধান সংশোধনে গত ২৯ এপ্রিল জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। সেদিন তিনি বলেন, ১৭ সদস্যের কমিটি গঠন হবে। এর সাতজন হবেন বিএনপির এমপি। গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন এবং স্বতন্ত্র এমপিদের মধ্যে পাঁচজন হবেন কমিটির সদস্য। বিরোধী দল থেকে আরও পাঁচজন সদস্য থাকবেন।
    বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান সেদিন সংসদে বলেন, কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে তাদের ধারণাগত ভিন্নতা আছে। তারা এ প্রস্তাবটি নিজেরা আলোচনা করে পরে সিদ্ধান্ত জানাবেন। বিরোধী দল চেয়েছে সংস্কার, কিন্তু সরকারি দল করতে চাইছে সংবিধানের সংশোধন।

    সেদিন আইনমন্ত্রী বলেছিলেন, বিরোধী দলের সিদ্ধান্তের জন্য পরবর্তী অধিবেশন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে অসুবিধা হবে না। আগামী ৭ জুন সংসদে বাজেট অধিবেশন শুরু হবে। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ সমকালকে বলেছেন, এই কমিটিতে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে সংসদ এবং কমিটিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সরকারি দল যা চাইবে, তাই হবে। তাই এ ধরনের কমিটিতে অংশগ্রহণ অর্থহীন এবং বৈধতা দেওয়া ছাড়া আর কিছু নয়।

    সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর জন্য ২০১০ সালে গঠিত সংসদের বিশেষ কমিটিতে যোগ দেয়নি তৎকালীন বিরোধী দল বিএনপি। আওয়ামী লীগের সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীকে চেয়ারম্যান এবং সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে কো-চেয়ারম্যান করে গঠিত ১৫ সদস্যের ওই কমিটিতে জাতীয় পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টি এবং জাসদের একজন করে এমপি ছিলেন। বিএনপি থেকে তিনজন সদস্য নেওয়ার প্রস্তাব করেছিল তৎকালীন সরকারি দল আওয়ামী লীগ।

    এই কমিটি সংবিধানে ৫১টি সংশোধনের প্রস্তাব করেছিল। এতে সংবিধানে জাতির পিতা বিধান যোগ করা, গণভোট বাদ দেওয়া, সংবিধান সংশোধনকে কঠিন করা, সংবিধান লঙ্ঘনে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধানের মতো সুপারিশ ছিল। তবে ছিল না তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপের সুপারিশ।

    পরে আদালতের রায়ের নজির দিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের পক্ষে অবস্থান নেন। সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) তথ্যানুযায়ী, এতে কমিটির ১৫ সদস্য আগেই অবস্থান বদলে ফেলেন। সর্বসম্মতিক্রমে সুপারিশ করেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিলোপে।

    অতীতের এই উদাহরণ দিয়ে সেই সংসদের এমপি হামিদুর রহমান আযাদ গতকাল বুধবার সমকালকে বলেন, এবারও তাই হবে। জামায়াত বা ১১ দলের নিজস্ব কোনো দাবি নেই। গণভোটের ফলাফল যেভাবে হয়েছে, সেভাবেই সংবিধান সংস্কার করতে হবে। এ জন্য সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে; কমিটি নয়। আজকের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী প্রচারে গণভোটে হ্যাঁ ভোট চেয়েছিলেন। সেখান থেকে সরে গিয়ে জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংস্কার না করা প্রতারণা। এতে জামায়াত অংশীদার হবে না।

    এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন একই অবস্থানের কথা জানান। তিনি বলেন, গণভোটে অনুমোদিত জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশে স্পষ্ট করে বলা আছে, কীভাবে সংবিধান সংস্কার করতে হবে। কিন্তু সরকারি দল জনগণের অনুমোদিত আদেশকেই অবৈধ বলছে। এনসিপি গণভোটের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা হয় এমন কিছু মানবে না। তাতে অংশও নেবে না।

    বিরোধী দল কমিটিতে অংশ না নিলেও, সংবিধান সংশোধনের কাজ এগিয়ে নেবে বলে সরকারি দলের সূত্রে জানা গেছে। এ বিষয়ে হামিদুর রহমান আযাদ ও আখতার হোসেন সমকালকে বলেন, সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে তা করতেই পারে। কিন্তু পরিণাম কারও জন্যই ভালো হবে না।

    সরকারের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হচ্ছে কিনা– এমন প্রশ্নে হামিদুর রহমান বলেন, অন্যান্য বিষয়ে কথা হলেও সংবিধান সংশোধন বা সংস্কার বিষয়ে আলোচনা নেই। বিরোধী জোট মনে করে, গণভোটের মাধ্যমে বিষয়টি ফয়সালা হয়ে গেছে। রাষ্ট্রের মালিক হিসেবে জনগণ সিদ্ধান্ত দিয়েছে, কীভাবে সংবিধান করতে হবে। যারা তা মানবে না, তারা ফ্যাসিবাদ অব্যাহত রাখার জন্য দায়ী হবে।

    জামায়াত জোটে আরেক শরিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমীন সমকালকে বলেন, জোটগতভাবে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে ১১ দলের অন্য শরিকদের মতো বাংলাদেশ খেলাফতের অবস্থান হলো গণভোটে ৬৮ শতাংশ জনগণ যেভাবে সংবিধান সংস্কারের পক্ষে ভোট দিয়েছে, সেভাবে সংবিধান সংস্কার করতে হবে। অন্য কিছু গ্রহণযোগ্য হবে না।

    রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপে জুলাই জাতীয় সনদ তৈরি করেছিল জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। সনদের ৪৮টি প্রস্তাব সংবিধান-সম্পর্কিত। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠন পদ্ধতি; ভোটের অনুপাতে সংসদের

    উচ্চকক্ষ গঠন ও সংবিধান সংশোধনে অনুমোদন; সাংবিধানিক কমিটির মাধ্যমে সরকারি কর্মকমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, ন্যায়পাল এবং মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক নিয়োগের প্রস্তাবে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট (ভিন্নমত) রয়েছে। গণভোটে অনুমোদিত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশকে অবৈধ আখ্যা দেওয়া দলটি নোট অব ডিসেন্ট অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন করতে যাচ্ছে।

    অন্যদিকে জামায়াত, এনসিপিসহ জোটের শরিকরা জুলাই সনদের সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলো হুবহু বাস্তবায়নের পক্ষে। তাদের ভাষ্য, গণভোটে ৬৮ দশমিক ৬ শতাংশ ভোটার হ্যাঁ ভোট দিয়ে এসব সংস্কারে সম্মতি দিয়েছে। তা মেনে সংশোধন নয়, সংবিধান সংস্কার করতে হবে।

  • জ্বালানি ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভ

    জ্বালানি ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভ

    দফায় দফায় জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাইতুল মোকাররমের উত্তর গেইট থেকে মিছিল বের হয়। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেয়। মূল্যবৃদ্ধি জনবিরোধী ও গণবিরোধী আখ্যা দিয়ে দলটি অবিলম্বে বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।

    বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) সংবাদ সম্মেলন করে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। পাইকারি ও খুচরা—উভয় পর্যায়েই বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ, সঞ্চালন চার্জ ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ ও গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। নতুন দাম জুন থেকে কার্যকর।

  • গফরগাঁও পৌরসভা নির্বাচনে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী ঘোষণা

    গফরগাঁও পৌরসভা নির্বাচনে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী ঘোষণা

    ময়মনসিংহের গফরগাঁও পৌরসভা নির্বাচনে জামায়াতের মনোনীত মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। মেয়র প্রার্থী হলেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সাংবাদিক সংস্থার মহাসচিব মো: একরাম উল্লাহ।

    সম্প্রতি জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দেয়া হয়।

    এ সময় জেলা নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা গফরগাঁও পৌরবাসীর দোয়া, সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করছি।

    মেয়র প্রার্থী একরাম উল্লাহ বলেন, ‘ন্যায়ভিত্তিক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজমুক্ত ও কল্যাণমুখী আধুনিক গফরগাঁও পৌরসভা গঠনে সবাইকে সাথে নিয়ে কাজ করতে চাই।’

  • ‘জেলা বিএনপির সবাই গুপ্ত জামায়াত’—হারুনুর রশিদের বক্তব্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ বিএনপিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া

    ‘জেলা বিএনপির সবাই গুপ্ত জামায়াত’—হারুনুর রশিদের বক্তব্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ বিএনপিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক হারুনুর রশিদের এক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জেলা বিএনপির নেতাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। জেলা বিএনপির বর্তমান নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে দেওয়া তাঁর মন্তব্যকে দলটির নেতারা ‘ভিত্তিহীন, অযৌক্তিক ও কুরুচিপূর্ণ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

    শনিবার (৩০ মে) চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের শহীদ সাটুহল মিলনায়তনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে জেলা ছাত্রদল আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন হারুনুর রশিদ।

    বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিএনপিতে বর্তমানে দায়িত্বে থাকা নেতাদের সবাই ‘গুপ্ত জামায়াত’। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলা বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের কেউই বিএনপির পক্ষে কাজ করেননি।

    হারুনুর রশিদ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিষয়টি তদন্তের আহ্বান জানান। তিনি আরও অভিযোগ করেন, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কিছু নেতা-কর্মী বিভিন্ন সময়ে শিবগঞ্জে সড়ক অবরোধ ও মশাল মিছিলে অংশ নিয়েছেন। পাশাপাশি নাচোল, গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট আসনের প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে রেলপথ অবরোধ ও মশাল মিছিলের ঘটনাও উল্লেখ করেন।

    একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলছি, চাঁপাইনবাবগঞ্জে দায়িত্বে যারা ছিল, একজনও বিএনপির পক্ষে ভোট করেনি।’ এ সময় সভাস্থলে উপস্থিত কিছু নেতা-কর্মী ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দেন বলে জানা যায়।

    অন্যদিকে হারুনুর রশিদের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন জেলা বিএনপির নেতারা।

    জেলা বিএনপির সদস্যসচিব রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘জেলা বিএনপির বর্তমান কমিটি তারেক রহমানের নির্দেশনায় গঠিত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে আমরা সক্রিয় ছিলাম। অথচ হারুনুর রশিদ অতীতে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করেছেন।’

    তিনি আরও দাবি করেন, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর হারুনুর রশিদ পুনরায় রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ তাঁকে গ্রহণ করেননি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম জাকারিয়াও হারুনুর রশিদের বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘হারুনুর রশিদ অতীতে নিজেই বলেছিলেন, জেলা কমিটি বলে কিছু নেই। এখন সেই কমিটিকেই লক্ষ্য করে বিভ্রান্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিচ্ছেন।’

    গোলাম জাকারিয়া আরও অভিযোগ করেন, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে হারুনুর রশিদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, নির্বাচনে পরাজয়ের পর রাজনৈতিক হতাশা থেকেই এমন বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে।

    হারুনুর রশিদের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জেলা বিএনপির অভ্যন্তরে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দলীয় পর্যায়ে আরও প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।

  • সেই ছাত্রদল নেতার বিয়েতে জামায়াত এমপি মাসুদের উপহার

    সেই ছাত্রদল নেতার বিয়েতে জামায়াত এমপি মাসুদের উপহার

    পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল ফাহাদের বিয়ের অনুষ্ঠানে উপহার পাঠালেন জামায়াতের স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

    সোমবার (১ জুন) দুপুরে বাউফল নির্বাচন অফিসের মাঠে আয়োজিত বৌভাত অনুষ্ঠানে এমপির পক্ষ থেকে উপহার সামগ্রী পৌঁছে দেন স্থানীয় জামায়াত ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

    শফিকুল ইসলাম মাসুদের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন সাবেক পটুয়াখালী জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম নুর। এ সময় তিনি নবদম্পতির সুখী ও সমৃদ্ধ দাম্পত্য জীবন কামনা করে ফাহাদের হাতে উপহারসামগ্রী তুলে দেন।

    উপহার সামগ্রী গ্রহণ করে ছাত্রদল নেতা ফাহাদ শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং তার প্রতিনিধি দলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান।

    প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদকে নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা নেতিবাচক মন্তব্য করে বিতর্কের ঝড় তোলেন ফাহাদ। মাসুদকে নিয়ে তার নানা মন্তব্যকে ঘিরে জামায়াত ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষুব্দ ছিলেন। এমন সেময়ে সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে নিজের বিয়েতে দেওয়া উপহার সামগ্রী গ্রহণ করে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন ছাত্রদল নেতা ফাহাদ। অবশ্য ওই উপহারের প্যাকেটে কী ছিল তা জানা যায়নি।

  • ইসলামী ব্যাংক গ্রাহকদের ওপর পুলিশি হামলা ঘটনায় জামায়াতের নিন্দা

    ইসলামী ব্যাংক গ্রাহকদের ওপর পুলিশি হামলা ঘটনায় জামায়াতের নিন্দা

    রোববার (১ জুন) এক বিবৃতিতে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ইসলামী ব্যাংকের স্বার্থ রক্ষা এবং নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত সাধারণ গ্রাহকদের ওপর পুলিশ বলপ্রয়োগ করেছে। তিনি এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে গ্রাহকদের দাবির প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেন।

    ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে আন্দোলনরত গ্রাহকদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ, টিয়ারগ্যাস, জলকামান ব্যবহার এবং গুলি চালানোর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

    বিবৃতিতে তিনি বলেন, সকালে ঢাকার মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ‘ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে গ্রাহকরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছিলেন। তাদের দাবি ছিল ব্যাংকের আমানতকারী ও গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষা করা। কিন্তু পুলিশ কোনো উসকানি ছাড়াই আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠিচার্জ করে এবং টিয়ারগ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার দাবি করেন, পুলিশি অভিযানে বহু আমানতকারী আহত হয়েছেন এবং তারা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বলপ্রয়োগ মানবাধিকারের পরিপন্থী।

    তিনি আরো বলেন, ইসলামী ব্যাংকসহ দেশের ব্যাংকিং খাতে অতীতে সংঘটিত বিভিন্ন অনিয়ম ও বিতর্কের কারণে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগ নিয়ে গ্রাহকদের আপত্তিকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

    বিবৃতিতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ব্যাংক জনগণের আমানতের ওপর পরিচালিত হয়। তাই আমানতকারীদের উদ্বেগ ও মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

    এছাড়া ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগ বিষয়ে গ্রাহকদের উত্থাপিত অভিযোগ ও আপত্তি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার।

  • ঈদুল আজহা উপলক্ষে জামায়াতের নারী এমপির সহায়তা

    ঈদুল আজহা উপলক্ষে জামায়াতের নারী এমপির সহায়তা

    প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দুস্থ ও অসহায় মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থসহায়তা দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার মিরসরাইয়ের বড়তাকিয়া বাজারে ইভা কমিউনিটি সেন্টারে এ বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

    মিরসরাই উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা নুরুল কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াতের এমপি শামসুন্নাহার বেগম।বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, অসহায় ও দুস্থ মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই আমাদের মূল লক্ষ্য। ঈদের আনন্দ সমাজের সব মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। সমাজের বিত্তবানদেরও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো উচিত।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিরসরাই উপজেলা জামায়াতে ইসলামী মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি তানজিনা আক্তার লিপি, তালিমুল কোরআন বিভাগের সেক্রেটারি জোবাইদা আক্তার, মানবসম্পদ বিভাগের সেক্রেটারি জুবাইদা জবা, উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি নুরুল ইসলাম টিটু, মিরসরাই পৌরসভার আমির মাওলানা শিহাব উদ্দিন। এ ছাড়া ১২ নং খৈয়াছড়া ইউনিয়নের আমির হাফেজ একরামুল হকসহ অন্যান্য দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

  • নিজামীর স্বপ্ন পূরণে জামায়াত আমিরের আহ্বান

    নিজামীর স্বপ্ন পূরণে জামায়াত আমিরের আহ্বান

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির, সাবেক মন্ত্রী ও সাবেক এমপি শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা এবং দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি।

    তিনি মাওলানা নিজামীর আদর্শ ও অসমাপ্ত কাজ বাস্তবায়ন এবং বাংলাদেশকে একটি ইসলামী কল্যাণরাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জামায়াতের আন্দোলনে শরিক হওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

    মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দিনকে সামনে রেখে শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে এই আহ্বান জানান তিনি।

    বিবৃতিতে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শহীদ মাওলানা নিজামী বাংলাদেশের জনগণের কাছে এক সুপরিচিত ও শ্রদ্ধাভাজন নাম। তিনি ছিলেন প্রজ্ঞাবান আলেমে দ্বীন, দূরদর্শী ইসলামী চিন্তাবিদ এবং আদর্শনিষ্ঠ রাজনীতিবিদ। সততা, প্রজ্ঞা, বিনয়, উদারতা ও নেতৃত্বগুণ তাকে অনন্য উচ্চতায় অধিষ্ঠিত করেছে।

    তিনি আরো বলেন, মহান আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে শৈশবকাল থেকেই মাওলানা নিজামী প্রতিটি স্তরে নেতৃত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। ছাত্রজীবনের শুরু থেকেই তিনি ইসলামী আদর্শের প্রচার, প্রসার ও প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আত্মনিয়োগ করেন। একজন দায়িত্বশীল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি মানুষের কল্যাণ, ন্যায়বিচার ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। গণতান্ত্রিক ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইসলামের সুমহান আদর্শ প্রতিষ্ঠা করে বাংলাদেশকে একটি ইসলামী কল্যাণরাষ্ট্রে রূপান্তরের লক্ষ্যে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

    বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, মাওলানা নিজামী নিজ এলাকা থেকে ১৯৯১ ও ২০০১ সালে বিপুল ভোটে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। জাতীয় সংসদে তার গঠনমূলক ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয়। ইসলামী শিক্ষার প্রসারে তার অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষত কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার সরকারি স্বীকৃতির ক্ষেত্রে তার ভূমিকা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

    জামায়াত আমির বলেন, তিনি অত্যন্ত সততা, দক্ষতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কৃষি ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। তার দূরদর্শী নেতৃত্ব, কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠার ফলে দেশের শিল্পখাত নতুন গতিশীলতা লাভ করে এবং লাভজনক খাতে পরিণত হয়।

    তিনি আরো বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তার গ্রহণযোগ্যতা ছিল ব্যাপক। ২০০৬ সালের এক বৈশ্বিক জরিপে বিশ্বের প্রভাবশালী ৫০০ ব্যক্তিত্বের তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়। পরবর্তীতে ২০০৯ সালের আরেকটি বৈশ্বিক জরিপে বিশ্বের প্রভাবশালী ৫০ জন মুসলিম ব্যক্তিত্বের অন্যতম হিসেবে তাকে বিবেচনা করা হয়।

    তিনি অসংখ্য মূল্যবান গ্রন্থ রচনা করেছেন, যা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ গঠনে আলোর দিশা হিসেবে কাজ করবে। দেশে-বিদেশে বিভিন্ন সেমিনার, সভা ও সমাবেশে তাঁর দাওয়াতি বক্তব্য মানুষের চিন্তা-চেতনায় গভীর প্রভাব সৃষ্টি করেছে।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় মাওলানা নিজামীকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয় এবং ২০১৬ সালের ১০ মে রাত ১২টা ১০ মিনিটে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

    তিনি গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মানের সঙ্গে মাওলানা নিজামীর অবদান স্মরণ করেন। একই সঙ্গে তাকে শহীদ হিসেবে কবুল করা এবং তাকে জান্নাতুল ফিরদাউসে সর্বোচ্চ মর্যাদায় আসীন করার জন্য মহান রবের দরবারে কায়মনোবাক্যে দোয়া করেন।

  • গাংনীতে পৌর জামায়াতের কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত

    গাংনীতে পৌর জামায়াতের কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত

    রাশিদুল ইসলাম বোরহান, গাংনী (মেহেরপুর) সংবাদদাতা: মেহেরপুরের গাংনীতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পৌর শাখার উদ্যোগে কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৮ মে) গাংনীর চৌগাছা দারুল ইয়াতিম মিলনায়তনে আছর নামাজের পর এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

    গাংনী পৌর জামায়াতের আমীর মোঃ আহসানুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের সংসদ সদস্য মোঃ নাজমুল হুদা।

    সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গাংনী উপজেলা জামায়াতের আমীর মোঃ রবিউল ইসলাম, উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আব্দুল মজিদ, পৌর সেক্রেটারি ওয়াস করুনী জামিল এবং পৌর বায়তুলমাল সেক্রেটারি জিল্লুর রহমান।

    বক্তারা তাদের বক্তব্যে সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার, নৈতিক সমাজ বিনির্মাণ এবং জনসম্পৃক্ত কার্যক্রম বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি আগামী দিনে আদর্শিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও বেগবান করতে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।

    সম্মেলনে পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে আগত জামায়াতের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। অনুষ্ঠান শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

  • মাদারগঞ্জে জামায়াতের কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত

    মাদারগঞ্জে জামায়াতের কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত

    জামালপুরের মাদারগঞ্জে দেশে ন্যায়বিচার, মানবিক মূল্যবোধ ও কল্যাণমুখী একটি সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মাদারগঞ্জ পৌর শাখার উদ্যোগে কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শুক্রবার (৮ মে) সকালে পৌর জামায়াতের কার্যালয়ে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

    মাদারগঞ্জ পৌর জামায়াতের আমির আতিকুর রহমান সেলিমের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি শরিফুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামালপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা আব্দুস সাত্তার।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সময়ে দেশে ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনা জরুরি। একটি দুর্নীতিমুক্ত এবং আদর্শিক সমাজ গঠনে জামায়াতের কর্মীদের আরো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’

    এ ছাড়া কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করাসহ সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরো বেগবান করার আহ্বান জানান তিনি।

    কর্মী সমাবেশ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মজিবুর রহমান আজাদী ও উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা নুরুল আমিন বলেন, জামায়াতে ইসলামী জনগণের অধিকার আদায় এবং একটি সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আগামী দিনেও সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে নেতাকর্মীরা রাজপথে সক্রিয় থাকবে।

    সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন মাদারগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ফরহাদ হোসেন, সাবেক আমির শাহিন আক্তার খান পিটার এবং কর্মপরিষদ সদস্য আব্দুল আজিজ জামালী। সমাবেশে মাদারগঞ্জ পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

  • সাংবাদিক ইমরানকে দেখতে হাসপাতালে গেলেন জামায়াত নেতা

    সাংবাদিক ইমরানকে দেখতে হাসপাতালে গেলেন জামায়াত নেতা

    সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে বেশ কিছুদিন ধরে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আমার দেশের রিপোর্টার ইমরান হোসেন।

    তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে সোমবার দুপুরে হাসপাতালটিতে যান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। এ সময় তিনি সাংবাদিক ইমরান হোসেনের চিকিৎসার সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া ও মোনাজাত করেন।

  • বিএনপি প্রত্যেকটি বিষয়ে ফ্যাসিবাদী পথ অনুসরণ করছে : জামায়াত আমির

    বিএনপি প্রত্যেকটি বিষয়ে ফ্যাসিবাদী পথ অনুসরণ করছে : জামায়াত আমির

    বিএনপিকে তিনি সতর্ক করে বলেন, দেশে জুলাই না হলে এই রাজনীতি থাকতো না। আমাদের ভাই বোনদের স্বামী-সন্তানরা জীবন না দিলে ক্ষমতায় বসতে পারতেন না আপনারা। শহীদ পরিবাররা যখন কান্না করছিলেন, তখন শহীদ পরিবারের পাশে যাওয়ার সময় ছিল না বিএনপির। তখন তারা নির্বাচন চেয়েছিল ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য। বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিএনপি প্রত্যেকটি বিষয়ে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী পথ অনুসরণ করে যাচ্ছে, যে আওয়ামী লীগ জাতি ও বিরোধীদলকে নিয়ে ব্যঙ্গ করত এবং লাঠিয়াল দিয়ে কর্তৃত্ববাদ কায়েম করেছিল। আর বর্তমানে আফসোসের ব্যাপার হলো রাষ্ট্রের যেখানে যেখানে সংস্কার দরকার তার প্রত্যেকটি বিষয়ে বিরোধিতা করছে বিএনপি। এটি জাতির সাথে সুস্পষ্ট প্রতারণা। তিনি শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধা জাতীয় সমাবেশে এসব কথা বলেন।

    জামায়াত আমির বলেন, মহান জাতীয় সংসদে সরকারি দল মুখে ঠিকই জুলাইয়ের কথা বলেন, শহীদ হাদির কথাও বলে; কিন্তু কার্যত আমরা সরকারি দলের কাছ থেকে তার উল্টোটা দেখতে পাই। তারা দুটি ভোটের একটা ৫১% মানেন-যা তাদের নিজেদের স্বার্থের অনুকূলে, কিন্তু আরেকটি গণভোটের ৭০% মানেন না- যা শাসকগোষ্ঠীকে স্বৈরতন্ত্র হওয়া থেকে রক্ষা করবে, জাতিকে বৈষম্যমুক্ত করবে, সুশাসন কায়েম করবে এবং সত্যিকারের স্বাধীনতার স্বাদ জনগণকে দেওয়ার জন্য। তাদের এই দ্বিচারিতা জাতির জন্য লজ্জার, দুঃখের। তিনি বলেন, যেদিন ৭০ শতাংশ ভোটের রায় মানবে, সেদিন বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হবে।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সেদিন আপামর ছাত্রসমাজ রাস্তায় নেমে এসেছিল। সবাই মাস্টারমাইন্ড। প্রত্যেক ব্যক্তি ও পরিবারের কাছে আমাদের দায়বদ্ধতা আছে। আমরা কি পারছি আর পারিনি তার জবাবদিহিতিা আছে।

    তিনি আরোও বলেন, যে আইন বাস্তবায়ন হলে, অধ্যাদেশ পাস করলে রাষ্ট্র সংস্কার হবে- সেগুলো বিএনপি বাতিল করে দিচ্ছে। তারা গণভোটের রায় অস্বীকার করার মধ্যদিয়ে ফ্যাসিবাদের পথে যাত্রা শুরু করেছে।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এমপি মাসুম মোস্তফার উপর হামলা করা হয়েছে। শাহবাগ থানায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপর হামলা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসীদের ক্রিস প্রদর্শনী এমন বাংলাদেশ জুলাইযোদ্ধারা চায়নি। এমন বাংলাদেশ আমরা চাই না। আমরা পরিবর্তনের বাংলাদেশ চাই। মা বোনেরা নিরাপত্তার সাথে বের হবে এবং কাজ শেষে নিরাত্তার সাথে ফিরবে।

    বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, জুলাই আবার ফিরে আসবে। তখন চূড়ান্তভাবে ফ্যাসিবাদ বিদায় হবে। সেই লড়াইয়ে জনগণের বিজয় হবে। আমরা সামনের সারিতে থেকে যুদ্ধ চালিয়ে যাবো। জনতার বিজয় হবে। আমরা আশাবাদী এ বাংলাদেশ পাল্টাবে। আমাদের এই যুদ্ধ সংসদে ও রাজপথে চলমান থাকবে। আমরা দেশবাসীকে মাঠে চাই। ব্যক্তিগত কোনো দাবি দাওয়া আমাদের নেই। সব দাবি দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে।

    জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিল দেশবাসী। ফলে সংস্কার কমিশন গঠিত হয়। কিন্তু প্রতিটি পদক্ষেপে বাধা দিয়েছে বিএনপি। সবশেষে গণভোটে রাজি হলেও নির্বাচনের পর পরই গণভোটের রায়কে অস্বীকার করছে। প্রকৃতপক্ষে বিএনপি তার অস্তিত্বকে অস্বীকার করছে। মাত্র দুই মাস বয়সে আর কোনো সরকার এত অজনপ্রিয় হয়নি, যা হয়েছে বিএনপি সরকার। আমরা জুলাইযোদ্ধাদের সম্মান আদায়ে রাজপথ ও সংসদে আছি। আমরা জনতার দাবি আদায় করে ছাড়বো।

    এলডিপির চেয়াম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় দেশের প্রকৃত অবস্থা তারেক রহমান জানতেন না। তাকে যা বলা হচ্ছে, তাই শুনছেন। জনগণ কৃষক কার্ড চায় না, ফ্যামিলি কার্ড চায় না। তিনি বলেন, সামনে দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা রয়েছে, অর্থনীতিকে সামাল দেয়া যাবে না। যার প্রভাব জনগণের ওপর পড়বে। চাঁদাবাজিতে লিপ্ত বিএনপির লোকেরা। তিনি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, আপনাকে ঘিরে রেখেছে, বেষ্টনী থেকে বের হন। বিরোধীদলীয় নেতার সাথে বসে জাতিকে মুক্তি দিতে সেই পলিসি নির্ধারণেরও পরামর্শ দেন তিনি।

    বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, জনগণের ৭০% গণভোটে ‘হ্যাঁ’ তে রায় দিয়েছে। কিন্তু তলে তলে বিএনপি না এর পক্ষে ক্যাম্পেইন করেছে। বিএনপি মোনাফিকি করে দ্বিচারিতা করে একবার পার পেয়েছে। ভবিষ্যতে জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে তাদের। সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশনের মাধ্যমে জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতে হবে।

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি বলেন, জুলাই আন্দোলন হয়েছিল নতুন বাংলাদেশ গড়তে, আধিপত্যবাদ থেকে মুক্ত করতে। আজ সেই আন্দোলনকে অস্বীকার করা হচ্ছে। আজকে দুমাসের মাথায় রাজপথে নামতে হচ্ছে। এটি কারো জন্য সুখকর হবে না। জুলাইয়ে দেশ আবার স্বাধীন হয়েছে। আজকে আবার এক ব্যক্তির শাসনের দিকে নিতে চায় বিএনপি, কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ তা মেনে নেবে না। সরকার যদি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে, তাহলে ১১ দল আন্দোলনের ডাক দিলে প্রথম কাতারে থেকে প্রথম শহীদ হওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। আমরা গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য জনগণকে সাথে নিয়ে আবার দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবো। যেসব সাংবিধানিক কাঠামো ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার জন্য দায়ী, তার প্রত্যেকটি সংস্কারের জন্য যে প্রস্তাবনা, তাতে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে বিএনপি।

    জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি বলেন, বর্তমান সরকার মানবাধিকার কমিশন, গুম সংক্রান্ত কমিশন, পুলিশ সংস্কার কমিশন, বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় অধ্যাদেশ ও গণভোট মানেন না। গায়ের জোরে তারা এসব বাতিল করে দিয়েছে। বাংলাদেশে কোনো ফ্যাসিবাদী সরকার টিকতে পারেনি। জুলাই শহীদ পরিবার, জুলাই আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী ও জুলাইযোদ্ধারা আজ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে।

    জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, গণভোটের পর জুলাই সনদ বাস্তবায়ের দাবি নিয়ে আবার সমাবেশ করতে হবে, তা জুলাইযোদ্ধারা চিন্তা করেনি। সংসদের প্রথম অধিবেশনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করার কথা ছিল। জুলাই শহীদ পরিবার জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বক্তব্য শুনতে চায় না, বরং সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন কবে ডাকবেন- তা শুনতে চায়। আমরা ১১ দল ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করে জুলাই সনদের বাস্তবায়নের দাবি আদায় করেই ছাড়বো।

    ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, যারা ফ্যাসিবাদকে পুনর্বাসন করছেন তাদের পরিণতি পলাতক আওয়ামী লীগের মতোই হবে। সরকার যে মসনদে বসে আছে- সেই মসনদ জুলাইযোদ্ধাদের রক্তের মসনদ। জুলাইযোদ্ধাদের সাথে গাদ্দারি করে তাদের পা ভাঙতে আসলে আপনাদের পা ভেঙে যাবে। জুলাইযোদ্ধারা আজ শাহবাগে একত্রিত হয়ে যে আওয়াজ তুলেছে, সেই আওয়াজকে বোঝার চেষ্টা করুন। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করুন।

    এছাড়াও বক্তব্য রাখেন এবি পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, জাগপা সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান, বিডিপির চেয়ারম্যান অ্যা্ডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির মুখলেসুর রহমান কাসেমি, খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের আমির সেলিম উদ্দিন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়াম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বাংলাদেশ লইয়ার্স কাউন্সিলের সভাপতি অ্যাডভোকেট জসিম, জুলাইয়ের শিশু শহীদ জাবির ইবরাহিমের মা রোকেয়া বেগম, জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম ও জাকসুর জিএস মাজহরুল ইসলাম।

    সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, জামায়াতের নায়েবে আমিরবৃন্দ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলবৃন্দ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যবৃন্দ, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্যবৃন্দ, ঢাকা মহানগরী জামায়াতের নেতৃবৃন্দ, জামায়াতের মহিলা বিভাগের কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর দায়িত্বশীলবৃন্দ, জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলের মাননীয় এমপিবৃন্দ এবং ডাকসু, জাকসু, চাকসু, জকসু, রাকসু নেতৃবৃন্দ। সমাবেশে সারা দেশ থেকে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যরা যোগ দেন। এছাড়াও জুলাই আন্দোলনে আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী দুই সহস্রাধিক জুলাইযোদ্ধাসহ কয়েক হাজার জুলাইযোদ্ধা সমাবেশে যোগ দেন।

    সমাবেশের উদ্বোধনীতে বক্তব্য দেন জুলাইযোদ্ধা কামরুল হাসান। সমাবেশে জুলাই শহীদ পরিবার, আহত পঙ্গুত্ববরণকারী এবং জুলাইযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন, জুলাই শহীদ যুবায়ের খানের পিতা অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম খান, শহীদ আনাস ফারহান ফাইয়াজের বাবা শহিদুল ইসলাম খান, হাত হারানো জুলাইযোদ্ধা তৌহিদ ফারাজী, জুলাই শহীদের পিতা জাকির হোসেন, শহীদের পিতা শেখ জামাল হোসাইন, শহীদের পিতা গাজিউর রহমান ও হাত হারানো জুলাইযোদ্ধা আতিউর ইসলাম প্রমুখ।

    অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের ও নির্বাহী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ইয়াছিন আরাফাত। সকাল ১০টায় ক্বারী এনায়েত উল্লাহ সাইফি পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সমাবেশ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। কোরআন তেলয়াওয়াতের অনুবাদ করেন শরীফ বায়জীদ মাহমুদ। ইসলামী সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী মশিউর রহমান।

  • যশোরে জামায়াতে ইসলামীর শিক্ষা শিবির অনুষ্ঠিত

    যশোরে জামায়াতে ইসলামীর শিক্ষা শিবির অনুষ্ঠিত

    যশোর প্রতিনিধি: যশোরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে একটি শিক্ষা শিবির অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল ৯টায় যশোর জেলা জামায়াতের কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে এ শিবির আয়োজন করা হয়। শিবিরে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের পরিচালক মোবারক হুসাইন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যশোর জেলা জামায়াতের আমির ও যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল। এতে বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন যশোর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আজিজুর রহমান, যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ, জেলা নায়েবে আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান, জেলা সেক্রেটারি অধ্যক্ষ আবু জাফর সিদ্দিকী, সহকারী সেক্রেটারি গোলাম কুদ্দুস ও বেলাল হুসাইন।

    এছাড়াও বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক শামসুজ্জামান, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক আবুল হাশিম রেজা, অধ্যাপক মনিরুল ইসলাম, আহসান কবীর, জেলা প্রচার সম্পাদক শাহাবুদ্দিন বিশ্বাস ও শিহাব উদ্দিনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোবারক হুসাইন বলেন, জামায়াতে ইসলামী সংসদে এবং সংসদের বাইরে ইনসাফভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার লড়াই অব্যাহত রাখবে। তিনি বলেন, দেশ ও জাতির কল্যাণে জামায়াত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, দলের নেতৃবৃন্দ অতীতে জীবন দিয়ে শহীদ হয়েছেন, তবুও তারা কখনো দেশবিরোধী শক্তির কাছে মাথা নত করেননি।

    শিক্ষা শিবিরে যশোর জেলার ১১টি সাংগঠনিক শাখা থেকে দেড় শতাধিক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।

  • ফুলতলায় জামায়াত সমর্থকের বাড়িতে আগুন

    ফুলতলায় জামায়াত সমর্থকের বাড়িতে আগুন

    খুলনা-৫ আসনের ফুলতলায় এক জামায়াত সমর্থকের বাড়িতে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। জামায়াতে ইসলামীর অভিযোগ, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের লোকজন ঘরটিতে আগুন লাগিয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে আজ রোববার বিকেলে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী।

    গতকাল দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার ১ নম্বর আটরা-গিলাতলা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মশিয়ালী গ্রামের আকুঞ্জিপাড়ার বাসিন্দা শোকর আকুঞ্জির বাড়িতে এ আগুন লাগার ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগুন দেখতে পেয়ে তাঁরা ছুটে যান। সকলে মিলে পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আগুনে শোকর আকুঞ্জির একটি কাঠের জ্বালানি রাখার ঘর পুড়ে গেছে।

    খানজাহান আলী থানা জামায়াতে ইসলামীর আমির সৈয়দ হাসান মাহামুদ টিটো বলেন, খুলনা-৫ আসনে বিএনপি-আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা এলাকার দাঁড়িপাল্লার সমর্থকদের হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিল। তারাই মূলত এই আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে।

    এদিকে খবর পেয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল খুলনা-৫ আসনের ১১ দলীয় নির্বাচনীয় ঐক্য সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার ঘটনাস্থলে যান। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

    ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে খানজাহান আলী থানার এসআই রুবেল বলেন, ক্ষতিগ্রস্তরা মামলা করলে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • স্থানীয় নির্বাচনে জামায়াত একাই লড়বে

    স্থানীয় নির্বাচনে জামায়াত একাই লড়বে

    জাতীয় সংসদের পর এবার রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় রয়েছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। এ নির্বাচন ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। যদিও ১১ সিটি করপোরেশন ও ৪২ জেলা পরিষদে বর্তমান সরকারদলীয় প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ায় ক্ষোভের পাশাপাশি এ নির্বাচন নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মাঝে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। তবে স্থানীয় নির্বাচনের দাবি জোরদারের পাশাপাশি প্রস্তুতিমূলক কাজ এগিয়ে নিচ্ছে জামায়াত।

    ১১ দলীয় ঐক্যের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিলেও এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে এককভাবে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। জোটের আরো কয়েকটি দলের একই ধরনের প্রস্তুতির খবর পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারের প্রায় সব পদে জামায়াতের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা তাদের এলাকায় সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডসহ নানাভাবে গণসংযোগ চালাচ্ছেন। সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে এখনো প্রার্থী চূড়ান্ত না হলেও সম্ভাব্যরা তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

    সূত্রমতে, চব্বিশের জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিশূন্যতা বিরাজ করছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে। তাই জাতীয় নির্বাচনের আগেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দাবি ছিল জামায়াতসহ বিভিন্ন দলের। তবে বিএনপির বিরোধিতায় অন্তর্বর্তী সরকার সে দাবি আমলে নেয়নি। স্বাভাবিকভাবেই জাতীয় নির্বাচনের পর নতুন সরকার দ্রুত স্থানীয় নির্বাচন দেবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু বিভিন্ন পদে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ায় সে আশাও ভঙ্গ হয়ে যাচ্ছে। বিষয়টির কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সরকার গণতান্ত্রিক ধারা ব্যাহত করে দলীয়করণের মাধ্যমে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে। এটা সংবিধানবিরোধী বলে মন্তব্য করে দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে দলটি।

    স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, আমরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। এখন একক দলগতভাবে প্রার্থী ঠিক করা হবে। পরে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত হলে সে অনুযায়ী পরিবর্তন করা হবে।

    তিনি আরো জানান, জুলাই বিপ্লব-পরবর্তীতে আমরা জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচনের দাবি জানিয়েছিলাম। সেভাবে আমাদের প্রস্তুতিও নেওয়া শুরু হয়েছিল। সে প্রস্তুতির সঙ্গে যোগ-বিয়োগ করে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।

    সূত্রমতে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্য করে অংশ নেয় জামায়াতে ইসলামী। এতে জামায়াতের ৬৮টি, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ছয়টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের দুটি এবং খেলাফত মজলিস একটি আসনে বিজয়ী হয়। নির্বাচন-পরবর্তী ৭৭টি আসন নিয়ে জোটগতভাবে সংসদে বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে জামায়াত।

    জামায়াতের মতো জোটের আরো কয়েকটি দল তাদের মতো করে স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। ইতোমধ্যে এনসিপির পক্ষ থেকে পাঁচ মেয়রপ্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, স্থানীয় নির্বাচন জোটগতভাবে করার কোনো সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। তবে জামায়াতের পক্ষ থেকে এ নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি।

    স্থানীয় নির্বাচনকে দ্বিতীয় লড়াই হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। ঈদের আগে সিলেটে দলীয় অনুষ্ঠানে নেতাকর্মীদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, আমাদের প্রথম লড়াই ছিল জাতীয় নির্বাচন আর দ্বিতীয় লড়াই শুরু হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে। এ লড়াইয়ে একটি জায়গাও যেন আমাদের খালি না থাকে। গত ২৫ মার্চ জাতীয় প্রেস ক্লাবে আলোচনা সভায় তিনি সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের তীব্র সমালোচনা করে নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

    সূত্রমতে, স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তুতির ধারাবাহিকতায় গত ১ মার্চ অনুষ্ঠিত জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হয়। তখন এ নির্বাচনের জন্য সর্বাত্মকভাবে প্রস্তুতি নিতে দায়িত্বশীলদের নির্দেশনা দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী কাজ চালাচ্ছেন তারা।

    জামায়াতের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, তৃণমূলের মতামত নিয়ে নির্ধারিত নিয়মানুযায়ী জনপ্রিয় প্রার্থীকে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন নির্বাচনে প্রার্থী করা হবে। এক্ষেত্রে মেয়র প্রার্থী ঠিক করবেন কেন্দ্রীয় নেতারা। উপজেলা পরিষদের জন্য প্রার্থী ঠিক করবেন দলের আঞ্চলিক দায়িত্বশীলরা। ইউনিয়ন পর্যায়ের জন্য জেলা শাখা থেকে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।

    ঢাকার দুই সিটিতে কাউন্সিলর প্রার্থী চূড়ান্ত

    ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে জামায়াত। ইতোমধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণের সংরক্ষিত মহিলাসহ প্রায় সব কাউন্সিলর প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে দলটি। তারা নিজ নিজ এলাকায় শুভেচ্ছা পোস্টারিংসহ বিভিন্ন তৎপরতাও চালাচ্ছেন। তবে মেয়র পদে এখনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়নি। তবে সম্ভাব্যরা তাদের মতো করে প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

    ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, নির্বাচন কবে হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। তবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য জামায়াত প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইতোমধ্যে ৭৫টির মধ্যে ৭০ জনের মতো কাউন্সিলর প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। তারা সংশ্লিষ্ট এলাকায় কাজ চালাচ্ছেন। তবে মেয়র পদে কেন্দ্র থেকে এখনো কাউকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি। এই সিটি এলাকার সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারীদের মধ্য থেকে কেউ প্রার্থী হতে পারেন বলে কেউ কেউ মনে করছেন।

    একই ধরনের মন্তব্য করে ঢাকা উত্তর জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মুসা জানান, এই সিটির অধিকাংশ কাউন্সিলর প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। তারা ঈদের আগে পোস্টার ছাপিয়ে জনগণকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। মেয়র পদে এখনো প্রার্থী ঘোষণা না করা হলেও আগের প্রার্থী হিসেবে মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনকে মনোনয়ন দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ইতোমধ্যে তিনি সংশ্লিষ্ট এলাকায় জনসেবামূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। এর আগে ২০১৮ সালেও উত্তর সিটির মেয়র পদে প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি।

  • সংরক্ষিত নারী আসন: বিএনপি-জামায়াত কে কতটি পাবে?

    সংরক্ষিত নারী আসন: বিএনপি-জামায়াত কে কতটি পাবে?

    জাতীয় সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে বিএনপির জোট ৩৬ আসন, জামায়াত জোট ১৩টি, আর স্বতন্ত্র প্রার্থীরা একটি আসন পাবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

    সোমবার (৬ এপ্রিল) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের সভাকক্ষে ১১তম কমিশনের সভা শেষে জানানো হয়, সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট আগামী ১২ মে অনুষ্ঠিত হবে।

    ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, আজকে মোট পাঁচটি এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এর মধ্যে বৈঠকে সংরক্ষিত মহিলা আসনের নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা ৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে প্রকাশ করা হবে এবং ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ মে। এই নির্বাচনের বিস্তারিত শিডিউল পরবর্তীতে জানানো হবে।

    তিনি বলেন, জোটগতভাবে নির্বাচন করছেন ছয়জন ইন্ডিপেনডেন্ট ক্যান্ডিডেট, যারা একজোট করেছেন। বিএনপির সঙ্গে জোনায়েদ সাকি, নুরুল হক নুর এবং আন্দালিব রহমান পার্থের দল আছে। আর জামায়াতের সঙ্গে আছে এনসিপি এবং খেলাফত আন্দোলন। আর রুমিন ফারহানা জোটের হয়ে যাবেন না, এটা বলেছেন। এক্ষেত্রে বিএনপির জোট ৩৬ আসন পাবে, জামায়াত জোট ১৩, আর স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পাবেন একটি আসন।

    প্রসঙ্গত, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯ আসনে ভোট হয়। শেরপুর-৩ আসনে একজন বৈধ প্রার্থী মারা যাওয়া ভোট স্থগিত থাকে। এছাড়া বগুড়া-৬ আসন তারেক রহমান ছেড়ে দেওয়ায় উপনির্বাচন হবে। এছাড়া চট্টগ্রাম-২ ও ৪ আসনে আইনি জটিলতায় থাকায় ফল প্রকাশ করেনি নির্বাচন কমিশন।

  • জামায়াতের আমির ছেলেদের সরিয়ে দিয়ে মেয়েদের সঙ্গে সেলফি তুলছেন

    জামায়াতের আমির ছেলেদের সরিয়ে দিয়ে মেয়েদের সঙ্গে সেলফি তুলছেন

    লালমনিরহাট-১ আসনে হাতপাখা প্রতীকের নির্বাচনী জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর আমিরের তীব্র সমালোচনা করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। বিশেষ করে জামায়াত আমিরের নারী কর্মীদের সঙ্গে সেলফি তোলা এবং তাদের ‘বন্ধু’ সম্বোধন করার বিষয়টিকে তিনি ইসলামের আদর্শ পরিপন্থি ও ইমান বিধ্বংসী বলে আখ্যা দিয়েছেন।

    ডেস্ক নিউজঃ

    বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি ) দুপুরে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ইসলাম নারীদের সর্বোচ্চ সম্মান ও পর্দার বিধান দিয়েছে। আল্লাহ নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা সীমানা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। কিন্তু আমরা দেখছি, জামায়াতের আমির ছেলেদের সরিয়ে দিয়ে মেয়েদের সঙ্গে সেলফি তুলছেন। তিনি মুরব্বি মানুষ হয়ে বেপর্দা মেয়েদের বলছেন— ‘ছেলে বন্ধুরা সরে যাও, মেয়ে বন্ধুরা আসো’।

    চরমোনাই পীর বলেন, এই আদর্শ থেকে বিচ্যুত হলে ইমান থাকবে না, এমন আচরণ নিয়ে কখনো আল্লাহর দ্বীন কায়েম করা সম্ভব নয়। ইসলামী আন্দোলনের ৩৮ বছরের ইতিহাসে কোনো নেতা পরনারীর সাথে এমন সেলফি তোলেননি।

    তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের পর আমরা ইসলামী দলগুলোর সাথে ঐক্যবদ্ধ হতে চেয়েছিলাম, কিন্তু জামায়াতের নেতৃত্বে ইসলামের আদর্শ বাস্তবায়িত হবে না। জামায়াত নেতা আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের আমেরিকা দূতাবাসে গিয়ে আমাদের জঙ্গি হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে আওয়ামী লীগ বা বিএনপিও আমাদের জঙ্গি বলেনি, কিন্তু তারা ভারতের লক্ষ্য হাসিল করতে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে। এমনকি তারা এমন প্রার্থী দিয়েছে যিনি নিজেই বলছেন জামায়াত কোনো ইসলামী দল নয়।

    এলাকার উন্নয়ন ও মিথ্যাচারের জবাব দিতে হাতপাখা মার্কায় ভোট চেয়ে মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, করোনাকালে যখন স্বজনরা মরদেহ ফেলে পালিয়েছিল, তখন হাতপাখার কর্মীরাই দাফন-কাফনের কাজ করেছে। ৫ আগস্টের পর সংখ্যালঘুদের জানমাল রক্ষায় আমরা পাহারাদারের ভূমিকা পালন করেছি। যাদের পা থেকে মাথা অবধি মিথ্যায় ভরা, তারা ইসলাম কায়েম করতে পারবে না। তাই এলাকার শান্তি ফেরাতে হাতপাখাকে বিজয়ী করুন।

    জনসভায় উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

  • সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত জামায়াত কর্মীর বাড়ি কটিয়াদীতে

    সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত জামায়াত কর্মীর বাড়ি কটিয়াদীতে

    সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত বাংলাদেশির পরিচয় পাওয়া গেছে। তিনি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার বাসিন্দা বাচ্চু মিয়া (৩৫)।

    রোববার (৮ মার্চ) ইফতারের আগ মুহূর্তে সৌদি আরবের আল খারিজ শহরে ইরানি মিসাইল এসে পড়ে। এর বিস্ফোরণে আল তোয়াইক বলদিয়া কোম্পানির একটি শ্রমিক ক্যাম্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ বিস্ফোরণের ঘটনায় তার মৃত্যু হয়।

    নিহত বাচ্চু মিয়া কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ফেকামারা গ্রামের রইস উদ্দিনের ছেলে। তিনি জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন।

    পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বাচ্চু মিয়ার দুই কন্যা সন্তান রয়েছে। তাদের মধ্যে একজন মানসিক প্রতিবন্ধী। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। তার মৃত্যুর খবরে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

    জানা গেছে, বাচ্চু মিয়া সৌদি আরব শাখা জামায়াতে ইসলামীর একজন কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। দেশে থাকাকালেও তিনি জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে নিশ্চিত করেছেন কটিয়াদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক মোজাম্মেল হক জোয়ারদার।

    কটিয়াদী উপজেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে মক্কা প্রবাসী ইমরান হুসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, যে এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে সেখানে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।

    বাচ্চু মিয়ার আকস্মিক মৃত্যুতে তার পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোক বিরাজ করছে।

  • ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে আহত ৪

    ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে আহত ৪

    ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত চারজন আহত হয়েছেন।

    ডেস্ক নিউজঃ

    শুক্রবার রাতে উপজেলার নেকমরদ ইউনিয়নের চন্দনচহট গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে ওই গ্রামে যুবদলের কয়েকজন নেতা জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের প্রতিবাদে জামায়াতের সংসদ সদস্যদের কক্ষ ত্যাগের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছিলেন। এ সময় নেকমরদ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি মো. আক্তার হোসেন সেখানে উপস্থিত হয়ে তাদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হলে দুই দলের সমর্থকেরা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পরে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে বিএনপি নেতা মো. আরিফুল, মো. ফারুক, মো. রুবেল এবং জামায়াত নেতা মো. আক্তার হোসেন আহত হন।

    আহতদের উদ্ধার করে রাণীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এ ঘটনায় আহতদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    এ বিষয়ে রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমানুল্লাহ আল বারী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় বিএনপির পক্ষ থেকে একটি এজাহার দেওয়া হয়েছে অপরদিকে জামায়াতের পক্ষ থেকেও একটি এজাহার পাওয়া গেছে, সেটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।

  • রমেশ সেনের বাড়িতে জামায়াত নেতা দেলোয়ার, কান্নায় ভেঙে পড়লেন অঞ্জলি

    রমেশ সেনের বাড়িতে জামায়াত নেতা দেলোয়ার, কান্নায় ভেঙে পড়লেন অঞ্জলি

    ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক পানিসম্পদ মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেনের মৃত্যুতে জেলাজুড়ে শোকের আবহ বিরাজ করছে। জ্যেষ্ঠ এই রাজনীতিবিদের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় তার রুহিয়ার গ্রামের বাড়িতে শেষবারের মতো দেখতে যান জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. দেলাওয়ার হোসেন।

    সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। রমেশ চন্দ্র সেনের সহধর্মিণী অঞ্জলি রানী সেনকে সান্ত্বনা দিতে গেলে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

    জামায়াত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনকে কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত অঞ্জলি রানী সেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তুমি এসেছ বাবা। আমার আর কেউ নাই। নির্বাচনটা পর্যন্ত (তিনি) থাকলেন না।

    এ সময় তিনি পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে আলোচনার স্মৃতিচারণ করেন এবং দেলাওয়ার হোসেনকে নিজের সন্তানের মতো সম্বোধন করেন। জামায়াত প্রার্থীও পরম মমতায় তাকে পানি খাইয়ে শান্ত করার চেষ্টা করেন।

    উপস্থিত সাংবাদিকদের দেলাওয়ার হোসেন বলেন, রমেশ চন্দ্র সেনের মৃত্যুতে ঠাকুরগাঁও একজন প্রবীণ ও অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে হারাল। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি মানুষের জন্য কাজ করার চেষ্টা করেছেন। আজ শোকাহত পরিবারের পাশে এসে দাঁড়ানোকে আমি নৈতিক দায়িত্ব মনে করেছি। আমি তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি।

    কারা সূত্র ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে দিনাজপুর জেলা কারাগারে অবস্থানকালে রমেশ চন্দ্র সেন অসুস্থ হয়ে পড়েন। সকালের নাস্তা সেরে গোসলের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় তিনি হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে যান। কারা কর্তৃপক্ষ দ্রুত তাকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    রমেশ চন্দ্র সেন ১৯৪০ সালের ৩০ এপ্রিল ঠাকুরগাঁওয়ের কশালগাঁও গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পাঁচবারের নির্বাচিত এই সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১৬ আগস্ট তাকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে হত্যাসহ একাধিক মামলায় তিনি কারাবন্দি ছিলেন।

    তার মৃত্যুতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠন গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছে।

  • ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষ

    ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষ

    ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত চারজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের রাণীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

    শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাত প্রায় ১০টার দিকে উপজেলার নেকমরদ ইউনিয়নের চন্দনচহট গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    সংঘর্ষে আহত চারজন হলেন— বিএনপি নেতা মো. আরিফুল ইসলাম, মো. ফারুক, মো. রুবেল এবং জামায়াত নেতা মো. আক্তার হোসেন। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে রাণীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

  • চৌগাছায় জামায়াতের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

    চৌগাছায় জামায়াতের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

    চৌগাছায় জামায়াতের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত
    যশোরের চৌগাছায় জামায়াতের আয়োজনে এক ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে পৌর শহরের মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে এ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
    এতে সভাপতিত্ব করেন ৫ নং ওয়ার্ড জামায়াতের আমির মাওলানা আজাদ হুসাইন। প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা গোলাম মোর্শেদ। বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও সাবেক পৌর প্যানেল মেয়র মাস্টার কামাল আহমেদ বিশ্বাস, মাস্টার আইনাল হক, মাওলানা আব্দুল আলিম, মাস্টার মনিনুর রহমান, মাস্টার আনিচুর রহমান প্রমুখ।

    এ আর ১২/০৩/২০২৬

  • লালমনিরহাটে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ২০

    লালমনিরহাটে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ২০

    লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় নির্বাচনি প্রচারণা ও গণসংযোগককে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একে অপরকে দোষারোপ করেছে দুই দল।

    রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে হাতীবান্ধা উপজেলার টংভাঙ্গা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মেডিকেল মোড়-সংলগ্ন কসাইটারী এলাকায় এ সংঘর্ষ ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

    স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাট-১ (পাটগ্রাম ও হাতীবান্ধা) আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান রাজীব প্রধান। একই আসনে রোববার বিকেলে ওই এলাকায় দুই প্রার্থীর সমর্থকদের পৃথক গণসংযোগ চলাকালে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী আহত হন।জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট আনোয়ারুল ইসলাম রাজু।

    এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম রাজু জানান, সংঘর্ষের কারণ এবং আহতদের সংখ্যা সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত জানেন না। তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের ঘটনাস্থল থেকে তথ্য সংগ্রহ করার অনুরোধ জানান।

    সংঘর্ষের বিষয়ে জানতে বিএনপির প্রার্থী হাসান রাজীব প্রধানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

    জেলা পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, নির্বাচনি প্রচারণার সময় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিষয়টি নির্বাচনি আচরণবিধির আওতায় পড়ায় আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • নগরকান্দায় জামায়াত নেতাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম

    নগরকান্দায় জামায়াত নেতাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম

    ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় জামায়াতের স্থানীয় এক নেতাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। গতকাল বুধবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার তালমা ইউনিয়নের কদমতলী সেতুর কাছে এ ঘটনা ঘটে। পরে তাঁকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    আহত জামায়াত নেতার নাম আলমগীর শেখ (৩৬)। তিনি কদমতলী গ্রামের হালিম শেখের ছেলে। তিনি তালমা ইউনিয়নের সাত নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা জামায়াতের আমির মো. সোহরাব হোসেন।

    ভুক্তভোগী নেতার দাবি, বিএনপিকে ভোট দিতে রাজি না হওয়ায় এবং জামায়াতে ভোট দিতে চাওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করা হয়। তবে বিএনপির নেতারা বলছেন, রাজনৈতিক বিরোধের কারণে এ ঘটনা ঘটেনি। প্রতিপক্ষের সঙ্গে জমিজমা–সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হামলা হয়।

    ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আলমগীর শেখের ভাষ্য, তিনি একজন জামায়াত নেতা। তাঁর দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সঙ্গে জোট গঠন করেছে। গতকাল রাতে তিনি বাজার থেকে বাড়িতে ফিরছিলেন। কদমতলী সেতুর কাছে এলে কদমতলী গ্রামের রত্তন মোল্লার ছেলে রাশেদ মোল্লা ও নয়ন শেখের ছেলে মিলন শেখ তাঁর পথ আটকান। তাঁরা তাঁকে বলেন, ‘তোর কাজকর্ম সুবিধার মনে হচ্ছে না, তোকে ধানের শীষে ভোট দিতে হবে।’ তখন তিনি অপারগতা প্রকাশ করে বলেন, তিনি জামায়াত করেন এবং ভোট তাঁদের জোটের প্রার্থীকে দেবেন। এতে ওই ব্যক্তিরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করেন।

    অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত শরিফ বলেন, হামলা হয়েছে সত্য। তবে রাজনৈতিক বিরোধের কারণে এ ঘটনা ঘটেনি। আলমগীরের সঙ্গে প্রতিপক্ষের জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে।

    ঘটনার পর রাতেই আহত আলমগীরকে দেখতে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যান ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা-সালথা) আসনে জামায়াত–সমর্থিত জোটের প্রার্থী শাহ আকরাম আলী ও উপজেলা জামায়াতের আমির মো. সোহরাব হোসেন। তিনি বলেন, ‘যদি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জন্য এ ঘটনা না ঘটে, তাহলে বিএনপি নেতা শওকত শরিফ দায়ী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের দাবি কেন জানাচ্ছেন না?’ তিনি বলেন, যাঁরা আলমগীরের ওপর হামলা করেছেন, তাঁরা আগে আওয়ামী লীগের সমর্থক ছিলেন। তাঁরা বর্তমানে বিএনপিতে যোগ দিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর হামলাসহ এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুরু করেছেন।নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রসুল সামদানি আজাদ বলেন, ঘটনা শোনার পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। এ ব্যাপারে জামায়াত–সমর্থিত জোটের প্রার্থীর সঙ্গে কথা হয়েছে। তাঁদের এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে।

  • জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন সাঈদীর দুই ছেলে

    জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন সাঈদীর দুই ছেলে

    মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে পিরোজপুর-১ (সদর, নাজিরপুর, ইন্দুরকানী) ও পিরোজপুর-২ (নেছারাবাদ, কাউখালী, ভান্ডারিয়া) আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন প্রয়াত জামায়াতে ইসলামীর প্রভাবশালী নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে ও জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাসুদ সাঈদী ও শামীম সাঈদী। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে জেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে তারা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন।

    তাদের মধ্যে পিরোজপুর-১ (সদর, নাজিরপুর, ইন্দুরকানী) আসনে লড়বেন মাসুদ সাঈদী এবং পিরোজপুর-২ (নেছারাবাদ, কাউখালী, ভান্ডারিয়া) আসনে লড়বেন শামীম সাঈদী।

    এ সময় পিরোজপুর-১ আসনের প্রার্থী মাসুদ সাঈদী বলেন, আজ একটি আনন্দঘন পরিবেশে আমার বড় ভাই শামীম সাঈদী ও আমি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি। আসলে এই মনোনয়নপত্র জমা দেওয়াটা আমাদের জন্য খুবই কষ্টের, কারণ এই আসনে আমার শহীদ পিতা আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর নির্বাচন করার কথা ছিল। আমি কিংবা আমার ভাই-কারোরই এখানে নির্বাচন করার কথা ছিল না। আমাদের একটি কষ্টের ইতিহাস আছে, জনগণ সেগুলো জানেন এবং জনগণ নিশ্চয়ই সে বিষয়ে যথাসময়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন। আমরা নির্বাচনে এসেছি মূলত এই প্রজন্মের মানুষ বাংলাদেশকে নিয়ে যেভাবে ভাবে, আমরা সেই বাংলাদেশ তৈরি করতে চাই। আমরা একটি শোষণ-বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে চাই। আমরা একটি আধিপত্যবাদমুক্ত বাংলাদেশ চাই, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ চাই। সেই বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আমরা কাজ করতে চাই এবং ইনশাআল্লাহ জনগণ যথোপযুক্ত সময়ে সেই রায় দিয়ে জনগণের মনের প্রত্যাশা পূরণ করবে।

  • নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন জামায়াত প্রার্থী

    নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন জামায়াত প্রার্থী

    চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর-মতলব দক্ষিণ) আসনে ১০ দলীয় জোটের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ডা. আব্দুল মোবিন তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন।

    বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. আব্দুল মোবিন।

    মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) তার নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

    ডা. আব্দুল মোবিন মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মী, সহযোদ্ধা ও সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, মাঠে নেতাকর্মী, সহযোদ্ধা ও শুভানুধ্যায়ী যাদের ভাবনায় আমি শান্তি ও নিরাপত্তার প্রতীক তাদের সবার জন্য সশ্রদ্ধ সালাম, কৃতজ্ঞতা, ভালোবাসা। মতলবের মাটি ও মানুষ তার সন্তানের প্রতি যা কিছু উজাড় করে দিল তা জীবনের শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি।’

    তিনি বলেন, নমিনেশন প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয়ভাবে জানিয়েছে। আমি শপথের কর্মী। আমার কাছে দ্বিতীয় কিছু নেই। মতলব তথা দেশকে দেওয়ার ক্ষুধা আছে। যখনই যে পরিসরে যতটুকু সুযোগ আল্লাহ দান করেন মতলববাসীর সঙ্গে থাকব।

    জামায়াতে ইসলামী প্রার্থীর সরে দাঁড়ানোর পর চাঁদপুর-২ আসনে ১০ দলীয় জোটের চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে এলডিপির (ছাতা প্রতীক) মো. বিল্লাল হোসেন মিয়াজীকে মনোনীত করা হয়েছে।

    ডা. আব্দুল মোবিন বলেন, কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী আমি আমার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছি।

    জোটের মনোনীত প্রার্থী মো. বিল্লাল হোসেন মিয়াজী (এলডিপি) বলেন, ১০ দলীয় জোট থেকে আমাকে চাঁদপুর-২ আসনে মনোনীত করছেন। সবার সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।

  • জামায়াতে ইসলামী রক্ত দিয়ে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করবে : শামীম সাঈদী

    জামায়াতে ইসলামী রক্ত দিয়ে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করবে : শামীম সাঈদী

    প্রয়াত জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে ও পিরোজপুর-২ আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী শামীম সাঈদী বলেছেন, আগামী নির্বাচন অবশ্যই সুষ্ঠু হতে হবে। আমরা ব্যালট বাক্স ছিনতাই, রাতের ভোট বা কেন্দ্র দখলের নির্বাচন চাই না। জনগণের অংশগ্রহণে একটি নিরপেক্ষ ভোট চাই। কৃষক যেমন মাঠে ঘাম ঝরিয়ে ফসল ফলায়, তেমনি জামায়াতে ইসলামী রক্ত দিয়ে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করবে।

    শুক্রবার বিকেলে ফেনীর ফুলগাজী বালিকা বিদ্যালয় মিলনায়তনে পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলা জামায়াতের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ওলামা ও সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    শামীম সাঈদী বলেন, আওয়ামী লীগ ইসলামের পতাকা মুছে ফেলতে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায়ের কার্যালয় পর্যন্ত হামলা-ভাঙচুর চালিয়েছে এবং নেতাকর্মীদের নামে অসংখ্য মিথ্যা মামলা দিয়েছে। তারা জামায়াতের প্রয়াত আমির অধ্যাপক গোলাম আজম, মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, মাওলানা এটিএম ইউছুফ, মাওলানা আজহার, কাদের মোল্লা ও মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ অসংখ্য নেতাকে বিচারের নামে অবিচার করেছে। তিনি বলেন, যে ট্রাইব্যুনালে আমাদের নেতাদের বিরুদ্ধে অন্যায় বিচার করা হয়েছে, আজ সেই ট্রাইব্যুনালেই তাদের বিচার হবে।

    তিনি আরও বলেন, আমার বাবা শহীদ দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ইসলামের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। অন্যায় ও নিপীড়নের মধ্যেও তিনি ইসলামী আদর্শে অটল ছিলেন। আমরা তার আদর্শ ও ত্যাগের পথ অনুসরণ করব।

    এ সময় তিনি ফেনী-১ আসনে জামায়াতে ইসলাম মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য অ্যাডভোকেট এসএম কামাল উদ্দিনের পক্ষে ঘরে ঘরে গিয়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের জন্য ভোট প্রার্থনার আহ্বান জানান

    সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন ফেনী-১ আসনের জামায়াত প্রার্থী অ্যাডভোকেট এসএম কামাল উদ্দিন এবং ফেনী জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মুফতি আবদুল হান্নান।

    জেলা মসজিদ মিশনের সভাপতি মাওলানা নুর মোহাম্মদের সভাপতিত্বে এবং ফুলগাজী উপজেলা জামায়াতের আমির মো. জামাল উদ্দিন চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন পরশুরাম উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আবদুল হালিম, ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান পদে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা সামছুল হক, পরশুরাম উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী অ্যাডভোকেট এমদাদ হোসেন এবং ফুলগাজী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মো. আবুল কালাম শামীম প্রমুখ।

    সমাবেশে ওলামা, স্থানীয় সুধীজন, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাধারণ মুসল্লিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • হবিগঞ্জ-১  মনোনয়ন প্রত্যাহার  জামায়াতের:  ড. রেজা ও শেখ সুজাতের মাঝে সমঝোতা

    হবিগঞ্জ-১ মনোনয়ন প্রত্যাহার জামায়াতের: ড. রেজা ও শেখ সুজাতের মাঝে সমঝোতা

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ গতকাল মঙ্গলবার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রার্থীতা প্রত্যাহার না করায় শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে প্রতিন্দ্বন্দ্বিতা করছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য সাবেক এমপি শেখ সুজাত মিয়া। এনিয়ে বিএনপির মধ্যে ভাঙ্গনের সুর বাজতে শুরু করেছে। এ ব্যাপারে শেখ সুজাত মিয়া বিএনপির মনোনিত প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া’কে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান ড. রেজা কিবরিয়া’কে নির্দেশ দিয়েছিলেন দলের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে দলের কার্যালয়ে আমার সাথে সমঝোতায় বসবেন। কিন্তু সকাল থেকে অপেক্ষা করার পরও তিনি বা তার কোন প্রতিনিধি নির্ধারিত সময়ে না আসায় প্রার্থীতা প্রত্যাহার করা সম্ভব হয়নি। তিনি সন্ধ্যা ৬ টায় দলীয় কার্যালয় গোল্ডেন প্লাজায় আসেন এবং উনার কথা বার্তায় উপস্থিত দলীয় ত্যাগী নেতাকর্মীরা সন্তুষ্ট হতে পারেনি। ফলে কোন সমঝোতা হয়নি।
    এদিকে বিএনপি মনোনিত প্রার্থী বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়া দলীয় নেতাকর্মীসহ সন্ধ্যায় বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়ার সাথে স্বাক্ষাত করতে দলীয় কার্যালয়ে যান। সেখানে উপস্থিত নেতাকর্মীদের’কে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার জন্য আহ্বান জানিয়ে বিদায় নেন। এর আগে বিকাল ৫ টার দিকে উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সরফরাজ চৌধুরী, নবনির্বাচিত সিনিয়র সহ-সভাপতি বয়েত উল্লা, সাধারণ সম্পাদক মজিদুর রহমান মজিদ ও সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অলিউর রহমান অলি শেখ সুজাত মিয়ার মিটিংয়ে উপস্থিত হন। তবে ওই মিটিংয়ে তাদেরকে কোন কথা বলার সুযোগ দেয়া হয়নি। বরং ভুয়া ভুয়া শ্লোগান দেয়ায় তারা বের হয়ে আসেন। ফলে হবিগঞ্জ-১ নির্বাচনী এলাকায় ভোটের মাঠে নতুন সমিকরণ দেখা দিয়েছে। লড়াই হচ্ছে দ্বিমূখী। এদিকে হবিগঞ্জ-১ আসনে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে খেলাফত মজলিশের মাওলানা সিরাজুল ইসলাম মীরপুরীকে দলীয় প্রার্থী চুড়ান্ত করায় দলের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোঃ শাহাজাহান আলী তার প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেছেন। হবিগঞ্জ-১ আসনে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসাবে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মী তাদের প্রার্থী মোঃ শাহাজাহান আলী’কে প্রার্থী হিসেবে বহাল রাখার দাবিতে প্রায় দুই ঘন্টা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক আউশকান্দি এলাকায় অবরোধ ও প্রার্থীকে মহাসড়কে আটকে রাখেন জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা। বিকাল ৪টার দিকে অবরোধ থেকে প্রার্থী মোঃ শাহজাহান আলীকে মুক্ত করে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্য্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। বিকাল ৫টার ১ মিনিট পূর্বে হবিগঞ্জ রিটানিং অফিসারের কার্য্যালয়ে প্রস্তাবকারী ও সর্মথনকারীসহ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মোঃ শাহজাহান আলী মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করেন। নবীগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা আশরাফ আলী জানান, প্রার্থীতা বহাল রাখার দাবীতে কিছু নেতাকর্মী ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে জামায়াতের প্রার্থীকে আটকে রাখে, পরে আমরা তাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হলে তাকে অবরোধ মুক্ত করা হয়। এরপর তিনি দ্রুত হবিগঞ্জ জেলা রির্টানিং অফিসারের কার্য্যালয়ে পৌছে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। হবিগঞ্জ-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মোঃ শাহজাহান আলী বলেন, আমি দলের প্রতি অনুগত্য স্বীকার করে বড় ধরনে ত্যাগ শিকার করেছি। কারন সব ধরনের জনমত জরিপে আমি এগিয়ে ছিলাম তবুও দলের নির্দেশ মেনে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছি। উল্লেখ্য যে হবিগঞ্জ-১ আসনে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিশের মাওলানা সিরাজুল ইসলাম মীরপুরীকে জোট প্রার্থী হিসেবে চুড়ান্ত করা হয়েছে।

  • জামায়াত আমিরের গাড়িবহরে হামলা

    জামায়াত আমিরের গাড়িবহরে হামলা

    সিলেটের হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলায় জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির ও হবিগঞ্জ-৪ আসনের প্রার্থী কাজী মাওলানা মুখলিছুর রহমানের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটেছে।সোমবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার কাসিমনগর বাজারের কাছে দুর্বৃত্তরা তার গাড়িবহরে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে গাড়ির সামনের কাচ ভেঙে যায়। তবে এতে কেউ আহত হননি।

    মাওলানা মুখলিছুর রহমান বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে গণসংযোগ শেষে ফিরছিলাম। হঠাৎ গাড়ির দিকে ইট ছোড়া হয়। আমরা তখন গাড়িতে ছিলাম না। হামলাকারীদের পরিচয় জানি না। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে।”

    হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার এএনএম সাজিদুর রহমান জানান, “ঘটনাটি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

    এদিকে এই হামলার প্রতিবাদে স্থানীয়ভাবে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। সংগঠনের নেতারা বলেন, “পরিকল্পিত এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় প্রশাসনকে এর দায় নিতে হবে।”

  • বরগুনায় জামায়াতসহ ২ প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার

    বরগুনায় জামায়াতসহ ২ প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার

    বরগুনার দুটি আসন থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং খেলাফত মজলিসের দুই প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। ১০ দলীয় জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রার্থীরা।

    মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা তাছলিমা আক্তারের কাছে মনোনয়ন প্রত্যাহারের আবেদন জমা দেন তারা। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার মুখপাত্র ও অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট শজল চন্দ্র শীল বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

    মনোনয়ন প্রত্যাহার করা প্রার্থীরা হলেন: বরগুনা-১ (বরগুনা সদর, আমতলী ও তালতলী) আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. মহিব্বুল্যাহ এবং বরগুনা-২ (পাথরঘাটা, বামনা ও বেতাগী) আসনের খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী মো. রফিকুল ইসলাম।

    মনোনয়ন প্রত্যাহার করা বরগুনা-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর মো. মহিব্বুল্যাহ বলেন, ‘১০ দলীয় জোট হওয়ায় এ আসনে খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী জাহাঙ্গীর হোসেন নির্বাচনে অংশ নিতে জোর দাবি জানিয়েছেন। এ কারণে দল আমাকে প্রত্যাহার করে তাকে এই আসনে প্রার্থী দিয়েছে। জাতির বৃহত্তর স্বার্থে আগামীর ইনসাফ পূর্ণ বাংলাদেশ গড়তে জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১০ দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে আমার মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছি।’

    বরগুনা-২ আসনের খেলাফত মজলিসের মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের জোটের পক্ষ থেকে খেলাফত মজলিসকে বরগুনা-১ আসন দেয়া হয়েছে। এবং বরগুনা-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে সমর্থন দেয়া হয়েছে। এ কারণেই ১০ দলীয় জেটের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বরগুনা-২ আসন থেকে আমার মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছি।’


    এ বিষয়ে বরগুনা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার মুখপাত্র ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শজল চন্দ্র শীল বলেন, ‘বরগুনা ১ ও ২ আসন থেকে দু’জন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছে। বরগুনার এ দুটি আসনে মোট ১৫ জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন। এখন মনোনয়ন প্রত্যাহারের পর বরগুনা-১ আস থেকে ৪ জন এবং বরগুনা-২ আসন থেকে ৯ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।’

  • ভোলা-২ আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেনি জামায়াত

    ভোলা-২ আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেনি জামায়াত

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন দশ দলীয় নির্বাচনী জোট ভোলা-২ (বোরহানউদ্দিন- দৌলতখান) আসন নিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপিকে দিলেও সেখান থেকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী।

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন দশ দলীয় নির্বাচনী জোট ভোলা-২ (বোরহানউদ্দিন- দৌলতখান) আসন নিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপিকে দিলেও সেখান থেকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী।

    তবে ওই জোটের অন্য শরীক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো. আব্দুস সালাম মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) তার মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করেছেন। ফলে বহুল আলোচিত এ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. হাফিজ ইব্রাহিমের সাথে নির্বাচনী লড়াইয় করবেন একই জোটের (১০ দলীয় জোটের) দুই প্রার্থী। তারা হলে জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ ফজলুল করিম ও এলডিপির মোকফার উদ্দিন চৌধুরী।

  • ঝালকাঠিতে শতাধিক হিন্দু ধর্মাবলম্বীর জামায়াতে যোগদান

    ঝালকাঠিতে শতাধিক হিন্দু ধর্মাবলম্বীর জামায়াতে যোগদান

    ঝালকাঠির কীর্ত্তিপাশা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে সুজিত ঘরামীর নেতৃত্বে শতাধিক হিন্দু ধর্মাবলম্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন।

    ঝালকাঠি জেলা বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এক ক্রিকেট টুর্নামেন্টের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদেরকে স্বাগত জানানো হয়।অনুষ্ঠানে নবাগত সদস্যদের ফুল ও শুভেচ্ছা জানিয়ে বরণ করে নেন ঝালকাঠি জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান।
    এসময় উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠি সদর-নলছিটি আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী শেখ নেয়ামুল করিমসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

    ঝালকাঠি জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের বিপুল সংখ্যক মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে যোগদান প্রমাণ করে জামায়াতে ইসলামী একটি গণমানুষের রাজনৈতিক সংগঠন। ন্যায়, সততা ও সুশাসনের রাজনীতির প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ছে। জামায়াতে যোগদানকারী কীর্ত্তিপাশা ইউনিয়নের বাসিন্দা সুজিত ঘরামী বলেন, জামায়াতে ইসলামীর আদর্শ, শৃঙ্খলা ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড আমাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। দেশের কল্যাণ ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে অবদান রাখতেই আমি জামায়াতে যোগ দিয়েছি।

  • বরিশালে জামায়াতের গুরুত্বপূর্ণ আসন ছেড়ে দিতে হচ্ছে জোটকে

    বরিশালে জামায়াতের গুরুত্বপূর্ণ আসন ছেড়ে দিতে হচ্ছে জোটকে

    ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বরিশালে জামায়াতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলো ছেড়ে দিতে হচ্ছে জোটকে। এমনকি দলটির ঘাঁটি হিসেবে বিবেচিত বরিশাল-৫ (সদর) আসনটিও ছাড়তে হচ্ছে। বিজয়ের ক্ষেত্রে দলটির এ গ্রেডের তালিকায় ছিল আসনটি। পাশাপাশি বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনটিও জামায়াতের এ গ্রেডের তালিকায় ছিল। এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদকে আসনটি আগেই ছেড়ে দিয়েছিল দলটি, যে কারণে এ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী বরিশাল মহানগর দলের আমির জহির উদ্দীন বাবর প্রার্থী হিসেবে তার মনোনয়নপত্র জমা দেননি।

    এদিকে বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) এবং বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনটিও জামায়াতের এ গ্রেডের তালিকায় রয়েছে। এ দুটি আসনে কে প্রার্থী হচ্ছেন তা এখনো নিশ্চিত করে জানা যায়নি।এদিকে বরিশাল-৫ ও ৬ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তবে বরিশাল-৫ আসন নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে তার দেনদরবার চলছে। এ আসনে তার মনোনয়ন নিশ্চিত হলে জামায়াতকে ৬ আসনটি ছেড়ে দিতে পারেন বলে নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে।

    সূত্র জানায়, সদর আসনটিতে প্রার্থী হয়েছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুয়াযয্ম হোসাইন হেলাল। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এখানে নির্বাচনি প্রচার চালিয়ে আসছেন।

    জামায়াতে ইসলামীর একটি সূত্র জানায়, বরিশাল নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে পাড়ায়-মহল্লায় তাদের হাজার হাজার সক্রিয় কর্মী-সমর্থক রয়েছে। ইতোমধ্যেই দলের নির্বাচনি কেন্দ্র পাহারা কমিটিও গঠন করা হয়েছে। তবে জোটের কারণে এ আসনটি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে ছেড়ে দিতে হবে বলে শোনা যাচ্ছে।

    এদিকে সদর আসনটি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে গত রোববার সকাল থেকেই নগরীতে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সদর আসনটি নিয়ে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে সমঝোতার আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় আগামী ২০ জানুয়ারির আগেই জামায়াত তাদের প্রার্থী প্রত্যাহার করতে পারে এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

    জানা যায়, সমঝোতার অংশ হিসেবেই জামায়াত সম্প্রতি তাদের সংসদ নির্বাচন পরিচালনা কমিটি পুনর্গঠন করেছে। এতে সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুমকে আহ্বায়ক এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিমকে সদস্যসচিব করে কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্যতম সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে অ্যাডভোকেট মুয়াযয্ম হোসাইন হেলালকে।

    দলীয় সূত্র জানায়, সাধারণত সংসদ নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যরা নির্বাচনে প্রার্থী থাকেন না। সে বিবেচনায় বরিশাল-৫ আসনে হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমের পক্ষে জায়গা ছেড়ে দিয়ে জামায়াতে ইসলামী তাদের প্রার্থী প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

    এ বিষয়ে বরিশাল মহানগর জামায়াতের আমির জহির উদ্দীন মুহাম্মদ বাবর আমার দেশকে বলেন, জোটের স্বার্থে অনেক কিছুই ছাড় দিতে হয়। শুনেছি এ বিষয়ে দলীয় ঘোষণা আসতে পারে। তবে এখনও নিশ্চিত কিছু বলতে পারছি না।

    প্রসঙ্গত, গত ৮ জানুয়ারি গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংসদ নির্বাচন পরিচালনা কমিটি পুনর্গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় ২০ জানুয়ারি হওয়ায় শিগগিরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে জানা গেছে।

  • জামায়াতের রূপকল্পে অগ্রাধিকার তরুণ ও নারীদের প্রত্যাশা

    জামায়াতের রূপকল্পে অগ্রাধিকার তরুণ ও নারীদের প্রত্যাশা

    আসন্ন সংসদ নির্বাচনের জন্য দলীয় ইশতেহার প্রস্তুত করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ‘জনতার ইশতেহার’ শিরোনামে এ ইশতেহারে থাকছে জনগুরুত্বপূর্ণ ২৫ বিষয়ে সুস্পষ্ট অঙ্গীকার। এতে শিক্ষার উন্নয়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার ও দুর্নীতিবিরোধী পরিকল্পনার পাশাপাশি তরুণ ও নারীসমাজের আকাঙ্ক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। গতানুগতিকতার বাইরে গিয়ে সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে প্রস্তুত করা ইশতেহারটি ম্যানুয়ালি এবং ডিজিটাল মাধ্যমে তুলে ধরা হবে। এটি ভোটারদের মাঝে চমকপ্রদভাবে উপস্থাপনের জন্য অত্যাধুনিক ডিজাইনের কাজ চলছে। নির্বাচন কমিশন নির্দেশিত সময়ে অথবা দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০ জানুয়ারির পর এটি প্রকাশ করা হবে বলে জানা গেছে।

    দলীয় সূত্রমতে, জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের নির্দেশনা এবং সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের তত্ত্বাবধানে গঠিত দলীয় কমিটির মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়ে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী এরই মধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে নির্বাচনি ইশতেহার। একই সঙ্গে ‘জনতার ইশতেহার’ অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মতামত গ্রহণ করা হয়। এসব মাধ্যমে অডিও-ভিডিওসহ প্রায় সাড়ে চার হাজার মতামত আসে। এসব মতামতের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ইশতেহারে তুলে ধরা হচ্ছে। অন্যান্য মতামত সংশ্লিষ্ট আর্কাইভে সংরক্ষিত থাকবে। যে কেউ সেটা দেখতে পারবেন।

    নির্বাচনি ইশতেহার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, সর্বশেষ ২০০৮ সালের নির্বাচনে ইশতেহার ঘোষণা করেছিল জামায়াত। এরপর দীর্ঘ সময় পার হয়েছে। তাই এবারের ইশতেহার হবে সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে। বিভিন্ন চমকে ভরা ইশতেহারে তরুণ ও নারীদের চাওয়া-পাওয়াকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে

    তিনি বলেন, তিনভাবে প্রস্তুত করা হচ্ছে ‘জনতার ইশতেহার’। জনসাধারণের সহজে বোঝার সুবিধার্থে প্রথম পর্যায়ে থাকবে বুলেট পয়েন্ট। দ্বিতীয় পর্যায়ে ৪০-৫০ পৃষ্ঠার বই থাকবে। বিস্তারিত তথ্য থাকবে ডিজিটাল আর্কাইভে। পরে যে কেউ সেসব তথ্য দেখতে পারবেন। ইশতেহারে উপস্থাপন করা অঙ্গীকারগুলো বাস্তবায়নের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট টাইমলাইন দেওয়া হবে। এতে প্রথম ১০০ দিনের কর্মসূচি, ছয় মাস, এক বছর—ইত্যাদি পর্যায় উল্লেখ করা হবে।

    এহসানুল মাহবুব জুবায়ের আরো বলেন, আমরা ইশতেহারটি ঘোষণার প্রস্তুতি নিয়ে রাখছি। সব দলের ইশতেহার একই দিনে ঘোষণার জন্য সরকারকে প্রস্তাব দেওয়া আছে। তাদের সিদ্ধান্ত পেলে সেভাবে ঘোষণা দেওয়া হবে। অন্যথায় নিজেদের মতো করে তা প্রকাশ করা হবে।

    সূত্রমতে, নির্বাচনি ইশতেহার তৈরি করতে দলীয় গণ্ডির বাইরে দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ইঞ্জিনিয়ার, সাংবাদিক, চিকিৎসক, অর্থনীতিবিদসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞদের কাজে লাগানো হয়েছে। তাদের দেওয়া মতামতের ভিত্তিতেই এটি প্রস্তুত করা হয়েছে। অতীতের যেকোনো ইশতেহারের চেয়ে এটি ভিন্ন প্যাটার্নের। সব মতের লোকদের নিয়ে বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় জানানো হবে ইশতেহারে।

    দলীয় সূত্র জানায়, কেন্দ্রীয়ভাবে নির্বাচনি ইশতেহার প্রকাশ করা হলেও এর সঙ্গে সব আসনের প্রার্থীর পক্ষ থেকে আলাদাভাবে আঞ্চলিক ও তৃণমূলের পরিকল্পনাও তুলে ধরা হবে। এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের মতামতের ভিত্তিতে পরিকল্পনাগুলো চূড়ান্ত করেছেন প্রার্থীরা।

    এ বিষয়ে কুমিল্লা-১০ আসনের প্রার্থী ইয়াসিন আরাফাত বলেন, আমার নির্বাচনি এলাকার বিভিন্ন সমস্যার আলোকে উন্নয়নমূলক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। যেমন আমার এলাকায় ফায়ার সার্ভিস নেই। উপজেলা পর্যায়ে ১০টি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠা করা হবে। রাস্তাঘাটের উন্নয়নে যেসব বরাদ্দ হবে, তার সব হিসাবের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। এভাবে শিক্ষা-স্বাস্থ্যের উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলছি।

    তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় বিষয় হলো—এ এলাকা থেকে সবচেয়ে বেশি মানুষ কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশে যান। তাই প্রবাসে কর্মসংস্থানে আগ্রহীদের যথাযথ প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এছাড়া সামাজিক বিচারব্যবস্থা এবং মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করব।

    ইশতেহারের বিষয়বস্তু সম্পর্কে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, এতে মৌলিক কিছু বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে। এর মধ্যে শিক্ষার উন্নয়নের ক্ষেত্রে নৈতিক ও কর্মমুখী শিক্ষার কথা বলা হবে। সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিতের বিষয় তুলে ধরা হবে। নারীদের সম্মান ও মর্যাদার অধিকার প্রতিষ্ঠা করা হবে। জুলাই বিপ্লবের পরিপ্রেক্ষিতে তরুণদের আকাঙ্ক্ষাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে ইশতেহারে। সর্বোপরি এতে বিভাজনের রাজনীতিমুক্ত হয়ে সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার অঙ্গীকার থাকবে।

  • ছিনতাইকারীর লাঠির আঘাতে জামায়াত নেতার মৃত্যু

    ছিনতাইকারীর লাঠির আঘাতে জামায়াত নেতার মৃত্যু

    নওগাঁর সাপাহারে ছিনতাইকারীর লাঠির আঘাতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাপাহার উপজেলা শাখার সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ হিল কাফির মৃত্যু হয়েছে।

    শনিবার দুপুরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

    নিহত জামায়াত নেতা সাপাহার উপজেলার কাওয়াভাসা গ্রামের মাওলানা আব্দুর রহিমের ছেলে।

    সাপাহার থানার ওসি পলাশ চন্দ্র দেব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    ওসি জানান, শুক্রবার রাতে দলীয় কার্যালয় থেকে মিটিং শেষে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফিরছিলেন নিহত আব্দুল্লাহ হিল কাফি। পথে উপজেলার সাপাহার-জবই বিল সড়কের সৈয়দপুর ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে একদল দুর্বৃত্ত তার গাড়ি থামিয়ে দেয়। এরপর দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারপিট শুরু করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। কিছু পরে দলীয় কিছু লোকজন তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ তার মৃত্যু হয়।

  • যশোর-২ আসনে জামায়াত প্রার্থীর মনোনয়নপত্র সংগ্রহ

    যশোর-২ আসনে জামায়াত প্রার্থীর মনোনয়নপত্র সংগ্রহ


    যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন জামায়াত মনোনিত প্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ।

    ২২ ডিসেম্বর সোমবার সকাল ১১টায় ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারি রিটানিং কর্মকর্তা মোছা: রনি খাতুনের দপ্তর থেকে প্রার্থীর পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন জামায়াত নেতৃবৃন্দ।

    এসময় প্রার্থী মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের আসন পরিচালক অধ্যাপক জয়নাল আবেদিন, জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আরশাদুল আলম, চৌগাছা উপজেলা আমীর মাওলানা গোলাম মোরশেদ, নায়েবে আমীর মাওলানা নুরুল ইসলাম ও ঝিকরগাছা উপজেলা আমীর মাওলানা আব্দুল আলীম।

    মনোনয়নপত্র প্রদানকালে সহকারি রিটানিং কর্মকর্তা জামায়াত নেতৃবৃন্দকে সকল ধরনের নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে চলার অনুরোধ করেন।

    মনোনয়নপত্র সংগ্রহের পর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে জামায়াতের দলীয় আসন পরিচালক অধ্যাপক জয়নাল আবেদিন সাংবাদিকদের বলেন, ‌‌”আমরা প্রথমেই মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি যে ঝিকরগাছা-চৌগাছা আসনে ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের পক্ষে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে পেরেছি। তিনি বলেন এই আসনে আমরা অতীতে কয়েকবার বিজয়ী হয়েছি। সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আমরা এখানে আবারো বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হবো ইনশায়াল্লাহ।

    চৌগাছা উপজেলা আমীর মাওলানা গোলাম মোরশেদ বলেন, চৌগাছায় দাঁড়িপাল্লার গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সুষ্ঠু ভোট হলে ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে আমরা বিজয়ী করতে পারবো ইনশাআল্লাহ।

  • লক্ষ্মীপুরে জামায়াত প্রার্থীর ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প

    লক্ষ্মীপুরে জামায়াত প্রার্থীর ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প

    লক্ষ্মীপুর জেলা জামায়াতের আমির ও লক্ষ্মীপুর-২ আসনের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী এসইউএম রুহুল আমিন ভুঁইয়ার পক্ষে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজন করা হয়েছে। এতে দিনব্যাপী ৫ শতাধিক মেডিসিন, শিশু, চর্ম ও যৌন, চক্ষু ও ডায়াবেটিক রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হবে।

    শনিবার সকালে সদর উপজেলার রসুলগঞ্জ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে চররুহিতা ইউনিয়ন জামায়াতের উদ্যোগে দিনব্যাপী এ আয়োজন করা হয়েছে।

    চররুহিতা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির ওমর ফারুকের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন লক্ষ্মীপুর-২ আসনের জামায়াতের প্রার্থী রুহুল আমিন ভুঁইয়া।

    রুহুল আমিন ভূঁইয়া বলেন, জামায়াত ইসলাম মানবিক সেবায় নিয়োজিত একটি আদর্শ ইসলামী সংগঠন। আমাদের ভিশনের শুরুর লাইনটি হলো মানবতার সেবা। মানবতার সেবা, দেশ পরিচালনায় যোগ্যতা অর্জন এবং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এই তিনটি কথা নিয়েই জামায়াত ইসলামীর ভিশন। এরমধ্যে শুরুটাই হলো মানবতার সেবা।
    এসময় উপস্থিত ছিলেন রায়পুর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল আউয়াল রাসেল, আলিফ মীম হাসপাতালের চেয়ারম্যান আমির হোসেন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন জেলা কমিটির সহ সেক্রেটারি আবুল বাশার, চররুহিতা ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি আলী আহমেদ, রসুলগঞ্জ বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি শামছুল আলম রিটু প্রমুখ।

  • ইনক্লাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদীর স্বরণে, বেলকুচিতে জামায়াতের দোয়া ও আলোচনা সভা

    ইনক্লাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদীর স্বরণে, বেলকুচিতে জামায়াতের দোয়া ও আলোচনা সভা

    ইনকিলাব মঞ্চের মুখপত্র ও জুলাই আন্দোলনের সম্মুখ যোদ্ধা শহীদ শরিফ ওসমান হাদী আধিপত্যবাদী ফ্যাসিস্টদের হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধিন থাকা অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর শাহাদৎ বরণ করেন। তাঁর এই শহীদি মৃত্যুতে সারা দেশে শোক, ক্ষোভ ও প্রতিবাদের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায়, কেন্দ্রিয় জামায়াতে ইসলামীর দুই দিনের কর্মসূচীর অংশ হিসেবে ,শনিবার (২০ ডিসেম্বর) বিকেলে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলা জামায়াত ইসলামীর আয়োজনে শেরনগরস্থ উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    আলোচনা সভায় বেলকুচি উপজেলা জামায়াতের আমীর আরিফুল ইসলাম সোহেলের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য, সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর ও ৬৬ সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি-চৌহালী) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ,আলহাজ্ব অধ্যক্ষ মোঃ আলী আলম।

    আলোচনা সভায় প্রধান অথিতি বলেন, মহান আল্লাহ রব্বুল আলামিনের কাছে শহীদ হাদীর রূহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং একই সঙ্গে তাঁর জীবনের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থতা ও তার হত্যাকারীদের এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করতে না পারার কারণে সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাদের পদত্যাগ দাবি করছি।

    তিনি বলেন, শহীদ ওসমান হাদীর শাহাদাতের পর দেশের ছাত্র-জনতার মধ্যে যে ক্ষোভ ও আবেগ সৃষ্টি হয়েছে, তা ন্যায্য ও বোধগম্য। কিন্তু এই ক্ষোভকে পুঁজি করে কোনো পক্ষ যদি নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করে, তা কখনোই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা স্পষ্টভাবে আশঙ্কা প্রকাশ করছি- এ ধরনের কর্মকাণ্ড পরিকল্পিতভাবে আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা হতে পারে।

    উপজেলা জামায়াতের আমীর আরিফুল ইসলাম সোহেল তার সভাপতির বক্তব্যে বলেন, শহীদ ওসমান হাদীর হত্যার সাথে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।
    দেশের এই সংকটময় সময়ে সংযম, দায়িত্বশীলতা ও জাতীয় ঐক্যই হতে পারে সামনে এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র পথ। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বিশ্বাস করে গণতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই শহীদদের আত্মত্যাগের যথাযথ মর্যাদা রক্ষা করা সম্ভব। আমরা সকল দেশপ্রেমিক ছাত্র-জনতা ও নাগরিককে ধৈর্য, সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলা করার আহ্বান জানাচ্ছি।

    এসময় আরও বক্তব্য রাখেন, এনায়েতপুর থানা জামায়াতের আমির ডা: সেলিম রেজা, বেলকুচি উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক মাওলানা মাজহারুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা মাহবুবুর রশিদ শামীম, ছাত্রশিবিরে বেলকুচি উপজেলা শাখার সভাপতি ইউসুফ বাবু, সেক্রেটারি আরিয়ান ইসমাইল প্রমুখ। দোয়া ও আলোচনা সভায় উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড জামায়াতের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।আলোচনা সভার শেষে, শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর রুহের মাগফেরাত কামনায় মোনাজাত পরিচালনা করেন উপজেলা কর্ম পরিষদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম আযম।

  • চকরিয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থীর বাড়িতে বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ

    চকরিয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থীর বাড়িতে বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ

    কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুকের বাড়িতে গিয়েছেন একই আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও দলটির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। ফারুকের পিতা নুরুল কবিরে (৭০) মৃত্যুতে শোক ও সমবেদনা জানাতে তার চকরিয়ার হারবাংস্থ বাড়িতে যান তিনি।

    গত মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) রাত ৮টার দিকে সালাহউদ্দিন আহমদ এবং তার স্ত্রী বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, সাবেক সাংসদ এডভোকেট হাসিনা আহমেদ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল ফারুকের বাড়িতে উপস্থিত হন।

    এর আগে এদিন তিনি কক্সবাজারের চকরিয়ার খুটাখালী, ডুলাহাজারা ও ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে ধানের শীষের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে দীর্ঘ ১৭ বছর পর ধানের শীষের পক্ষে নিজ এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা ও গণসংযোগে করেন সালাহউদ্দিন আহমদ।

    উল্লেখ্য, সোমবার (১ ডিসেম্বর) দুপুরে আব্দুল্লাহ আল ফারুকের পিতা নুরুল কবির মৃত্যুবরণ করেন। একই দিন বাদে মাগরিব হারবাং উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মরহুমের জানাযা অনুষ্ঠিত হয়।

  • জামায়াত ক্ষমতায় গেলে ঘুষ জাদুঘরে পাঠানো হবে : সরওয়ার ছিদ্দিকী

    জামায়াত ক্ষমতায় গেলে ঘুষ জাদুঘরে পাঠানো হবে : সরওয়ার ছিদ্দিকী

    কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যাপক ড. ছৈয়দ এ কে এম সরওয়ার উদ্দিন ছিদ্দিকী বলেছেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে ঘুষ জাদুঘরে পাঠানো হবে। ঘুষের কারণে নাগরিকরা কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা পায় না। আমরা মাদকমুক্ত ও ন্যায় ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করব।

    তিনি বলেন, ইসলামী রাষ্ট্রে ভিন্ন ধর্মের মানুষ আমানত। ইসলামী রাষ্ট্রে সকল নাগরিক সমান সুযোগ পাবেন।

    সম্প্রতি লাকসাম পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব লাকসাম এলাকায় আয়োজিত উঠান বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি।

    সরওয়ার উদ্দিন ছিদ্দিকী বলেন, আমি নির্বাচিত হলে চুরি করব না, সম্পদের ন্যায্য বণ্টন করা হবে। পুরো সিস্টেম ঢেলে সাজাব। অনেকে ভুল ফতোয়া দিয়ে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়। এদের বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে।

    পূর্ব লাকসাম মৈশান বাড়ি ইউনিট জামায়াত ইসলামীর আমির মু. জাকির হোসেন আজমের সভাপতিত্বে ও ৮ নম্বর ওয়ার্ড নায়েবে আমির আলম আদম সফিউল্লাহর পরিচালনায় উঠান বৈঠকে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কুমিল্লা-৯ আসনের নির্বাচন পরিচালক ও লাকসাম পৌরসভা জামায়াতের আমির মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন পাটোয়ারী ও সেক্রেটারি অধ্যাপক মাওলানা শহিদ উল্যাহ।

    এ ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন ৮ নম্বর ওয়ার্ড আমির মু. আব্দুল জলিল, মাওলানা রফিক উল্লাহ আফসারী, মাওলানা বিল্লাল হোসেন মালেকী, অধ্যাপক জাকির হোসেন, পূর্ব লাকসাম কালীবাড়ি কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সঞ্জয় সাহা, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সুপন সাহা, লাকসাম কেন্দ্রীয় মহাশশ্মানের সভাপতি দীপংকর সাহা, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সৈয়দ মো. জামাল উদ্দিন ছিদ্দিকী ও সৈয়দ মো. ফরিদ উদ্দিন ছিদ্দিকী।

  • মানুষ জামায়াতে ইসলামীকে আস্থার প্রতীক হিসেবে নিয়েছে : ড. মোবারক

    মানুষ জামায়াতে ইসলামীকে আস্থার প্রতীক হিসেবে নিয়েছে : ড. মোবারক

    বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও কুমিল্লা-৫ আসনের জামায়াত প্রার্থী অ্যাডভোকেট ড. মোবারক হোসাইন বলেছেন, মানুষ জামায়াতে ইসলামীকে আস্থার প্রতীক হিসেবে নিয়েছে। আর সে লক্ষ্যে আমাদের প্রতি মানুষের যে আস্থা, যে ভালোবাসা তা চোখে পড়ার মতো।

    গত রোববার বিকেলে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা সদরে নির্বাচনী অফিস উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

    মোবারক হোসাইন বলেন, আমরা সমাজকে মাদকমুক্ত সমাজে পরিণত করতে চাই। মানুষ মনে করছেন সমাজ থেকে যদি মাদক নির্মূল করতে হয় তাহলে জামায়াতে ইসলামীর বিকল্প কেউ নেই। আগামী দিনে নৈতিক শিক্ষার আলো ঘরে ঘরে জ্বালাতে হলে জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লার বিকল্প নেই।

    তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন জরিপে আসছে জামায়াতে ইসলামী আগামী দিনে ২০০ আসনের বেশি পেয়ে ক্ষমতায় আসবে। আজকে পথে প্রান্তরে যেখানেই আমরা যাই সেখানেই মানুষ দল বেঁধে ছুটে আসেন। যে জায়গাগুলোতে আমরা চিন্তাও করতাম না, সেসব জায়গাগুলোতে আজকে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসছেন। আমাদের সাধুবাদ জানাচ্ছেন, আলহামদুলিল্লাহ।

    ছাত্রশিবিরের সাবেক এই শীর্ষ নেতা বলেন, আমাদের মা-বোনেরা যেভাবে রাস্তায় দাঁড়িয়ে আমাদের স্বাগত জানাচ্ছেন, তা আমাদের অনেক বড় প্রাপ্তি। তারা মনে করছেন আগামী দিনে সমাজকে পরিবর্তন করতে গেলে দাঁড়িপাল্লার কোন বিকল্প নেই। মানুষের এই যে আবেগ-অনুভূতি তাতে মনে হচ্ছে জামায়াতে ইসলামী এখন কোনো একক সংগঠন নয়, পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখা মানুষের সংগঠনে পরিণত হয়েছে।

    মোবারক বলেন, আজকে এই দেশের ইতিহাসে ইসলামী দলগুলো একই জায়গায়, একই বাক্সে পরিণত হওয়ায় বাংলাদেশে একটি নজির স্থাপন হয়েছে। বিভিন্ন লক্ষণ ও বিভিন্ন অবস্থান থেকে মানুষ এখন ধরে নিয়েছে ইসলামের নব সূর্যোদয় হয়ে গেছে।

    নির্বাচনী অফিস উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে ও সদর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মাঈন উদ্দিন সাঈদের পরিচালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনের নির্বাচনী পরিচালক অধ্যাপক আলমগীর সরকার, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা মিজানুর রহমান আতিকী।

    এ সময় কুমিল্লা উত্তর জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক গিয়াস উদ্দিন, বুড়িচং উপজেলা সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সাইফুল আলম, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা আনিছুর রহমানসহ জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

    এআর/নিই

  • জীবননগরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করলেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী রুহুল আমিন

    জীবননগরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করলেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী রুহুল আমিন

    চুয়াডাঙ্গা-২ (জীবননগর-দামুড়হুদা) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ও চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অ্যাডভোকেট মো. রুহুল আমিন রোববার দুপুরে জীবননগরে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

    জীবননগর উপজেলা জামাতের এই মতবিনিময় সভায় তিনি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজের নির্বাচনী অঙ্গীকার, উন্নয়ন ভাবনা এবং এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।
    অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন বলেন, জনগণের কল্যানে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যলয়, চ্যাংখালী স্থলবন্দর, জনগনের অধিকার প্রতিষ্ঠা, সুশাসন নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে, তিনি কাজ করতে চান। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের ভূমিকা ও সহযোগিতার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন।মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন জীবননগর উপজেলা জামাতের সেক্রেটারী মাহফুজুর রহমান, অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথী হিসেবে উপস্থীত ছিলেন জেলা জামাতের নায়েবে আমির মাওলানা আজিজুর রহমানসহ স্থানীয় জামায়াত নেতৃবৃন্দ, সমর্থক ও বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

  • জামায়াত ক্ষমতায় গেলে দেশে বেকার থাকবেনা – এটিএম আজহার

    জামায়াত ক্ষমতায় গেলে দেশে বেকার থাকবেনা – এটিএম আজহার

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, জামায়াত দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে তার সরকার সর্বপ্রথম দেশ থেকে দুর্নীতি মুক্ত করার চেষ্টা করবে। তিনি বলেন, এ দেশটা গরীব দেশ না, সম্পদশালী দেশ। এ দেশে চরিত্রবান নেতাদের অভাব। সে কারনে দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে।

    রোববার (৩০ নভেম্বর) বিকেলে যশোরের চৌগাছা উপজেলা জামায়াতের আয়োজনে বিশাল জনসমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

    চৌগাছা সরকারি শাহাদৎ পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত জনসভায় উপজেলা জামায়াতের আমীর মাও.গোলাম মোরশেদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি আরো বলেন, আমি ফ্যাসিষ্ট সরকারের মিথ্যা মামালায় ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত ছিলাম। একটি না তিনটি মিথ্যা মামলায় আমাকে ফাঁসি রায় দেওয়া হয়। ২৪শের আন্দোলনে, অনেকে বলেন ২য় স্বাধীনতা। সেই আন্দোলনের পরে আমি মুক্ত হয়েছি। তিনি বলেন, অনেকেই বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে আপনারা দুর্নীতি করবে না তার প্রমাণ কি? আমাদের দুই মন্ত্রী তিনটি মন্ত্রণালয় চালিয়েছে সেখানে সবাই খুঁজে কোন দুর্নীতির প্রমাণ করতে পারে নাই। তিনি বলেন আমরা ক্ষমতায় গেলে ৩ থেকে ৫ বছরের মধ্যে বেকারত্ব দূর করবো। দেশে বছরে ৫০ হাজার কোটি টাকা যাকাত আদায় করা সম্ভব। যাকাত ভিত্তিক অর্থনীতির মাধ্যমে সেই টাকা দিয়ে দেশের উন্নয়ন করা হবে।

    তিনি বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়, আমরা অমুসলিমদের মুসলমান বানাবো। আপনারা দেখেছেন আওয়ামীলীগের আমলে মন্দিরে হামলা করে জামায়াত শিবিরকে দায়ী করা হয়েছে। অথচ গত দুই বছরে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা মন্দির পাহারা দিয়েছে। নিরাপদে সনাতনী ভাইয়েরা তাদের পূজা সম্পন্ন করেছেন।

    এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, অনেক নেতা বিদেশে আছেন। তারা দেশে আসার সাহস পাচ্ছেন না। কারন তারা ইংল্যান্ডের নাগরিকত্ব লাভ করেছেন। নাগরিকত্ব ছেড়ে দিয়ে দেশে আসতে হবে। ভয় পাচ্ছেন, নাগরিকত্ব ছেড়ে দিলাম। দেশে এসে নিরাপদ প্রধানমন্ত্রী হইতে না পারলাম। আমার একূল-ওকূল দুই কূলই গেলো। আসার সাহস পাচ্ছে না। কিন্তু আমাদের এই ভাই (যশোর-২ আসনের প্রার্থী মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ) অবিশ্বাস্য হলেও সত্য ত্রিশ বছর ধরে এত সুন্দর জীবন-যাপন করছিলেন। তার আরও উপার্জন করার সুযোগ ছিলো। আন্ত র্জাতিকভাবে উঁচু যায়গায় যাওয়ার সুযোগ ছিলো। কিন্তু আমীরে জামায়াতের কথা শুনে আনুগত্য করে দুনিয়ার সমস্ত সুখ শান্তি ছেড়ে দিয়ে আপনাদের পাশে এসে দাড়িয়েছেন। আপনারা কি তার পাশে দাড়াতে পারেন না?

    তিনি বলেন, সারাদেশে দাড়িপাল্লার জোয়ার উঠেছে। এটা জোয়ারে ভীত হয়ে আমাদের উপর হামলা করার চেষ্টা করছে। আমরা পরিস্কার বলতে চাই আমরা কারও উপর হামলা করবো না। তবে কেউ হামলা করতে আসলে আমাদের কর্মীরাও তাদের ছেড়ে দেবেনা।

    জনসভায় যশোর-২, (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ঢাকা মেডিকেল কলেজ ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি শিশুহৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ প্রধান বক্তার বক্তৃতা করেন।

    উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারী সহকারী অধ্যাপক নূরজ্জামান আল মামুন, সহকারী সেক্রেটারী মাস্টার কামাল আহমেদ বিশ্বাস ও মাওলানা গিয়াস উদ্দীনের যৌথ সঞ্চালনায় জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চল পরিচালক মোবারক হুসাইন। ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

    বক্তৃতায় মোবারক হোসেন বলেন, ইসলামই পারে এদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে।

    ড. শফিুল ইসলাম মাসুদ বলেন, যে দলের কর্মীরা নামাজ চলমান অবস্থায় নিজ দলের কর্মীকে হত্যা করে। তাদের তো রাজনীতিই করার যোগ্যতা নেই। স্বাধীনতার পর ৫৪ বছর পার হয়েছে। ৫৪ বছরে দলের পর দল, প্রতীকের পর প্রতীক দেখতে দেখতে আমরা ক্লান্ত। এবার আওয়াজ তুলতে হবে জমিন যার, আইন তার। সব দল দেখা শেষ, ইসলামের বাংলাদেশ। সব দেখেছি বারবার, ইসলাম এইবার। ডা. মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারীদের ৫ঘন্টা কাজ করে ৮ঘন্টার বেতন দেবে। সরকার ভূর্তকী দেবে। তিনি বলেন আমরা চাঁদাবাজ মুক্ত দেশ গড়বো।

    জনসভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন যশোর আদ্ দ্বীন হাসপাতালের পরিচালক ডা. ইমদাদুল হক, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও যশের-কুষ্টিয়া অঞ্চল পরিচালক যশোর-১ (শার্শা) আসনের এমপি প্রার্থী মাওলানা আজিজুর রহমান, যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসনের এমপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক, যশোর জেলা আমীর ও যশোর-৪ (অভয়নগর-বাঘারপাড়া) আসনের এমপি প্রার্থী অধ্যাপক গোলাম রসুল, জেলা নায়েবে আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন, যশোর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী অধ্যক্ষ আবু জাফর সিদ্দিকী, ঝিনাইদহ-৩ (মহেশপুর-কোটচাঁদপুর) আসনে জামায়াত মনোনীত এমপি প্রার্থী অধ্যাপক মতিয়ার রহমান, ঝিনাইদ-৪ (কালীগঞ্জ) আসনের জামায়াত মনোনীত এমপি প্রার্থী মাওলানা আবু তালেব, শার্শা উপজেলা আমীর উপাধ্যক্ষ ফারুক হাসান, ঝিকরগাছা উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আব্দুল আলীম, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মজলিশে শূরা সদস্য মাওলানা হাফিজুর রহমান, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা নূরুল ইসলাম, চৌগাছা কামিল মাদরাসা মসজিদের খতিব মাওলানা আলী আকবার, উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী মাস্টার রহিদুল ইসলাম খান, চৌগাছা পৌর জামায়াতের আমীর মাওলানা আব্দুল খালেক, চৌগাছা আদর্শ সাথী শাখা ছাত্র শিবিরের সভাপতি মো. আবু সাঈদ প্রমুখ।

  • জামায়াত ক্ষমতায় গেলে দেশে বেকার থাকবেনা – এটিএম আজহার

    জামায়াত ক্ষমতায় গেলে দেশে বেকার থাকবেনা – এটিএম আজহার

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, জামায়াত দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে তার সরকার সর্বপ্রথম দেশ থেকে দুর্নীতি মুক্ত করার চেষ্টা করবে। তিনি বলেন, এ দেশটা গরীব দেশ না, সম্পদশালী দেশ। এ দেশে চরিত্রবান নেতাদের অভাব। সে কারনে দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে।

    রোববার (৩০ নভেম্বর) বিকেলে যশোরের চৌগাছা উপজেলা জামায়াতের আয়োজনে বিশাল জনসমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

    চৌগাছা সরকারি শাহাদৎ পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত জনসভায় উপজেলা জামায়াতের আমীর মাও.গোলাম মোরশেদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি আরো বলেন, আমি ফ্যাসিষ্ট সরকারের মিথ্যা মামালায় ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত ছিলাম। একটি না তিনটি মিথ্যা মামলায় আমাকে ফাঁসি রায় দেওয়া হয়। ২৪শের আন্দোলনে, অনেকে বলেন ২য় স্বাধীনতা। সেই আন্দোলনের পরে আমি মুক্ত হয়েছি। তিনি বলেন, অনেকেই বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে আপনারা দুর্নীতি করবে না তার প্রমাণ কি? আমাদের দুই মন্ত্রী তিনটি মন্ত্রণালয় চালিয়েছে সেখানে সবাই খুঁজে কোন দুর্নীতির প্রমাণ করতে পারে নাই। তিনি বলেন আমরা ক্ষমতায় গেলে ৩ থেকে ৫ বছরের মধ্যে বেকারত্ব দূর করবো। দেশে বছরে ৫০ হাজার কোটি টাকা যাকাত আদায় করা সম্ভব। যাকাত ভিত্তিক অর্থনীতির মাধ্যমে সেই টাকা দিয়ে দেশের উন্নয়ন করা হবে।

    তিনি বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়, আমরা অমুসলিমদের মুসলমান বানাবো। আপনারা দেখেছেন আওয়ামীলীগের আমলে মন্দিরে হামলা করে জামায়াত শিবিরকে দায়ী করা হয়েছে। অথচ গত দুই বছরে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা মন্দির পাহারা দিয়েছে। নিরাপদে সনাতনী ভাইয়েরা তাদের পূজা সম্পন্ন করেছেন।

    এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, অনেক নেতা বিদেশে আছেন। তারা দেশে আসার সাহস পাচ্ছেন না। কারন তারা ইংল্যান্ডের নাগরিকত্ব লাভ করেছেন। নাগরিকত্ব ছেড়ে দিয়ে দেশে আসতে হবে। ভয় পাচ্ছেন, নাগরিকত্ব ছেড়ে দিলাম। দেশে এসে নিরাপদ প্রধানমন্ত্রী হইতে না পারলাম। আমার একূল-ওকূল দুই কূলই গেলো। আসার সাহস পাচ্ছে না। কিন্তু আমাদের এই ভাই (যশোর-২ আসনের প্রার্থী মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ) অবিশ্বাস্য হলেও সত্য ত্রিশ বছর ধরে এত সুন্দর জীবন-যাপন করছিলেন। তার আরও উপার্জন করার সুযোগ ছিলো। আন্ত র্জাতিকভাবে উঁচু যায়গায় যাওয়ার সুযোগ ছিলো। কিন্তু আমীরে জামায়াতের কথা শুনে আনুগত্য করে দুনিয়ার সমস্ত সুখ শান্তি ছেড়ে দিয়ে আপনাদের পাশে এসে দাড়িয়েছেন। আপনারা কি তার পাশে দাড়াতে পারেন না?

    তিনি বলেন, সারাদেশে দাড়িপাল্লার জোয়ার উঠেছে। এটা জোয়ারে ভীত হয়ে আমাদের উপর হামলা করার চেষ্টা করছে। আমরা পরিস্কার বলতে চাই আমরা কারও উপর হামলা করবো না। তবে কেউ হামলা করতে আসলে আমাদের কর্মীরাও তাদের ছেড়ে দেবেনা।

    জনসভায় যশোর-২, (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ঢাকা মেডিকেল কলেজ ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি শিশুহৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ প্রধান বক্তার বক্তৃতা করেন।

    উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারী সহকারী অধ্যাপক নূরজ্জামান আল মামুন, সহকারী সেক্রেটারী মাস্টার কামাল আহমেদ বিশ্বাস ও মাওলানা গিয়াস উদ্দীনের যৌথ সঞ্চালনায় জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চল পরিচালক মোবারক হুসাইন। ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

    বক্তৃতায় মোবারক হোসেন বলেন, ইসলামই পারে এদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে।

    ড. শফিুল ইসলাম মাসুদ বলেন, যে দলের কর্মীরা নামাজ চলমান অবস্থায় নিজ দলের কর্মীকে হত্যা করে। তাদের তো রাজনীতিই করার যোগ্যতা নেই। স্বাধীনতার পর ৫৪ বছর পার হয়েছে। ৫৪ বছরে দলের পর দল, প্রতীকের পর প্রতীক দেখতে দেখতে আমরা ক্লান্ত। এবার আওয়াজ তুলতে হবে জমিন যার, আইন তার। সব দল দেখা শেষ, ইসলামের বাংলাদেশ। সব দেখেছি বারবার, ইসলাম এইবার। ডা. মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারীদের ৫ঘন্টা কাজ করে ৮ঘন্টার বেতন দেবে। সরকার ভূর্তকী দেবে। তিনি বলেন আমরা চাঁদাবাজ মুক্ত দেশ গড়বো।

    জনসভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন যশোর আদ্ দ্বীন হাসপাতালের পরিচালক ডা. ইমদাদুল হক, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও যশের-কুষ্টিয়া অঞ্চল পরিচালক যশোর-১ (শার্শা) আসনের এমপি প্রার্থী মাওলানা আজিজুর রহমান, যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসনের এমপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক, যশোর জেলা আমীর ও যশোর-৪ (অভয়নগর-বাঘারপাড়া) আসনের এমপি প্রার্থী অধ্যাপক গোলাম রসুল, জেলা নায়েবে আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন, যশোর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী অধ্যক্ষ আবু জাফর সিদ্দিকী, ঝিনাইদহ-৩ (মহেশপুর-কোটচাঁদপুর) আসনে জামায়াত মনোনীত এমপি প্রার্থী অধ্যাপক মতিয়ার রহমান, ঝিনাইদ-৪ (কালীগঞ্জ) আসনের জামায়াত মনোনীত এমপি প্রার্থী মাওলানা আবু তালেব, শার্শা উপজেলা আমীর উপাধ্যক্ষ ফারুক হাসান, ঝিকরগাছা উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আব্দুল আলীম, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মজলিশে শূরা সদস্য মাওলানা হাফিজুর রহমান, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা নূরুল ইসলাম, চৌগাছা কামিল মাদরাসা মসজিদের খতিব মাওলানা আলী আকবার, উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী মাস্টার রহিদুল ইসলাম খান, চৌগাছা পৌর জামায়াতের আমীর মাওলানা আব্দুল খালেক, চৌগাছা আদর্শ সাথী শাখা ছাত্র শিবিরের সভাপতি মো. আবু সাঈদ প্রমুখ।

  • তৃতীয়বারের মতো জামায়াতের আমির হিসেবে শপথ নিলেন ডাঃ শফিকুর রহমান

    তৃতীয়বারের মতো জামায়াতের আমির হিসেবে শপথ নিলেন ডাঃ শফিকুর রহমান

    ৯ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত সারাদেশের সদস্যদের (রুকনদের) কাছ থেকে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ করা হয়। এতে প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, ২০২৬-২০২৮ কার্যকালের জন্য সর্বোচ্চ সংখ্যক ভোট পেয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির নির্বাচিত হন ডা: শফিকুর রহমান।

    শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর আল-ফালাহ মিলনায়তনে এ শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।এর আগে, ৯ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত সারাদেশের সদস্যদের (রুকনদের) কাছ থেকে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ করা হয়। ভোটগ্রহণের কার্যক্রম শেষে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত টিম ভোট গণনা শেষ করেন।পরে ১ নভেম্বর রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার সংগঠনের আমির নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন। প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, ২০২৬-২০২৮ কার্যকালের জন্য সর্বোচ্চ সংখ্যক ভোট পেয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির নির্বাচিত হন ডা: শফিকুর রহমান।

  • প্রচারণায় মোটরসাইকেল শোভাযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জামায়াতের

    প্রচারণায় মোটরসাইকেল শোভাযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জামায়াতের

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা করে প্রচারণা চালাতে পারবেন না জামায়াতের কোনো প্রার্থী। দেশের বিভিন্ন স্থানে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদের মোটরসাইকেল শোভাযাত্রায় কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটে।

    এ ঘটনার পর দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব দাঁড়িপাল্লার প্রচারণায় মোটরসাইকেল শোভাযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেন।

    সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় এ কথা জানান দলটির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

    তিনি বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন জেলা/মহানগরী নির্বাচনি এলাকায় মোটরসাইকেল র‌্যালি ও শোভাযাত্রা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এসব কর্মসূচিতে কয়েকটি দুর্ঘটনা ও আহতের প্রেক্ষাপটে আমিরে জামায়াত এখন থেকে সকল জেলা/মহানগরী নির্বাচনি এলাকায় মোটরসাইকেল র‌্যালি ও শোভাযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন।

    আর আই খান

  • ভোলা-২ আসনে জামায়াত প্রার্থীর মোটরসাইকেল শোডাউন

    ভোলা-২ আসনে জামায়াত প্রার্থীর মোটরসাইকেল শোডাউন

    বোরহানউদ্দিন ও দৌলতখান আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও দলটির ভোলা জেলা শাখার নায়েবে আমির মুফতি মাওলানা ফয়জুল করিম দুই হাজার মোটরসাইকেল নিয়ে র‍্যালি করেছেন। শনিবার সকাল ১০ টায় বোরহান উদ্দিন হেলিপোর্ট ভোলা টু চরফ্যাশন মহাসড়ক থেকে এ মোটরসাইকেল শোডাউন শুরু হয়। এ সময় দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ভোট চাওয়া হয়। এছাড়া জামায়াতের সমর্থনে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। কর্মসূচিতে দলটির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা অংশ নিয়েছেন। তাদের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।

    জামায়াতের নেতারা জানিয়েছেন, দুপুর ১টায় দৌলতখান পৌরসভার বিভিন্ন রোড হয়ে দৌলতখান ঈদগাহ প্রাঙ্গণে গিয়ে বক্তব্যের মাধ্যমে র‌্যালিটি শেষ হয়।

    এ সময় ছাদখোলা গাড়ি থেকে সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষদের উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান মুফতি মাওলানা ফয়জুল করিম।

    তিনি বলেন, “এই আসনের প্রকৃত সমস্যা চিহ্নিত করে সেগুলোর সমাধানে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ইশতেহার প্রস্তুত করা হচ্ছে।

    আগামী নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লার বিজয়ের মাধ্যমে বিগত সময়ের অসম্পূর্ণ কাজগুলো সম্পন্ন করে বোরহানউদ্দিন–দৌলতখান দেশের একটি মডেল আসন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হবে।”

    শোভাযাত্রায় প্রার্থীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের বোরহানউদ্দিন উপজেলা সেক্রেটারি মাকসুদুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা অলিউল্লাহ সহ কয়েক হাজার নেতাকর্মী।

  • নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে নতুন ইতিহাস রচিত হবে: জামায়াত আমির

    নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে নতুন ইতিহাস রচিত হবে: জামায়াত আমির

    জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে নতুন ইতিহাস রচিত হবে।

    শনিবার (২২ নভেম্বর) বেলা ১১টায় ঝালকাঠির নেছারাবাদ মাদ্রাসা ময়দানে মুছলিহিনের জাতীয় প্রতিনিধি সম্মেলনে যোগ দিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি সতর্ক করে বলেন, বিগত দিনের মতো যদি কেউ ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং বা কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করে, তবে তার উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।

    জামায়াতের আমির আরও বলেন, সব জুলুম, ফ্যাসিবাদ ও জাতিকে বিভক্ত করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে তাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে। কারো রক্তচক্ষু তোয়াক্কা না করেই ইসলামের পক্ষে সব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

    সম্মেলনে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম।

    তিনি বলেন, ইসলামী দলগুলো এক হতে পারলে এবং আগামী নির্বাচনে সম্মিলিতভাবে ভোটের বাক্স দিলে পারলে দেশে নতুন ইতিহাস রচিত হবে।

    এছাড়া বক্তব্য দেন— খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিদ আজাদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির সাধারণ সম্পাদক আখতার হোসেন, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এবং বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামালসহ আরও অনেকে।

    বক্তারা বলেন, ইসলামী রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয় নিশ্চিত করা সম্ভব। একই সঙ্গে তারা দাবি করেন, দেশ কোন পথে এগোবে, সেটি নির্ধারণ করবে জনগণ এবং ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী শক্তিগুলো।

    নেছারাবাদী হুজুর মুছলিহিনের আমির মাওলানা খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসল্লি উপস্থিত ছিলেন।

  • ভূমিকম্পের ঘটনায় জামায়াত আমিরের শোক

    ভূমিকম্পের ঘটনায় জামায়াত আমিরের শোক

    ভয়াবহ ভূমিকম্পে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখপ্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমানশুক্রবার (২১ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে তিনি এ শোক ও দুঃখপ্রকাশ করেন।

    ওই বিবৃতিতে ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটের সময় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এই ভূমিকম্পে ইতোমধ্যে ঢাকা ও নরসিংদীতে দু’ শিশুসহ কমপক্ষে ছয়জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, গাজীপুরে কারখানা শ্রমিক ও ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তিন শ’র কাছাকাছি মানুষের আহত হওয়ার খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। আমি এই মর্মান্তিক হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখপ্রকাশ করছি।’

    তিনি বলেন, ‘আমি নিহতদের রূহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং আহত ও নিহতদের পরিবার-পরিজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আহত ও নিহতদের পরিবার-পরিজনদের সবরে জামিল দান করুন।’

    তিনি বলেন, ‘আহতদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত এবং নিহত ও আহতদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। পাশাপাশি আহতদের শিগগিরই আরোগ্য কামনা করছি।’

    তিনি আরো বলেন, ‘বিল্ডিং কোড মেনে বহুতল ভবন নির্মাণ হচ্ছে কি না তা কঠোরভাবে তদারকি করতে হবে। পাশাপাশি ভূমিকম্পজনিত ক্ষয়ক্ষতি কমাতে জনগণকে আরো সচেতন করা সরকারের দায়িত্ব। আমি আশা করি, জনগণ ধৈর্য ও সাহসিকতার সাথে এই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি অতিক্রম করতে সক্ষম হবেন, ইনশাআল্লাহ।’

  • প্রধান উপদেষ্টা ও খালেদা জিয়ার সঙ্গে জামায়াত আমিরের সাক্ষাৎ

    প্রধান উপদেষ্টা ও খালেদা জিয়ার সঙ্গে জামায়াত আমিরের সাক্ষাৎ

    অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষৎ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

    শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর সেনাকুঞ্জে সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের ফাঁকে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তারা। এ সময় পারস্পরিক কুশল বিনিময় ও শারীরিক সুস্থতার খোঁজ নেন।
    এর আগে, সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে সেনাকুঞ্জে পৌঁছান বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এ তথ্য জানান বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান।

    প্রধান উপদেষ্টা এ সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক অবস্থার বিষয়ে খোঁজ নেন এবং তার সুস্থতা কামনা করেন।

    বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানান। তিনি প্রধান উপদেষ্টার সহধর্মিণী আফরোজী ইউনূসের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন এবং শুভকামনা জানান।

  • দাঁড়িপাল্লা টাঙানো নিয়ে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে আহত ১৩

    দাঁড়িপাল্লা টাঙানো নিয়ে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে আহত ১৩

    চুয়াডাঙ্গায় পৃথক দুটি স্থানে বিলবোর্ড ও প্রতীক টাঙানো নিয়ে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে ১৩ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের আলমডাঙ্গা উপজেলার শ্যামপুর গ্রামে নিয়ে এ ঘটনা ঘটে।

    এতে মহিলা ইউপি সদস্যসহ অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। এ সময় দুটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। আহতদের আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।

    আহতরা হলেন, আলমডাঙ্গা পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম কনক, সদস্য সাজাহান ও আলিম, কুমারী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক তাইজেল হোসেন, ১ নং ওয়ার্ডের মহিলা ইউপি সদস্য রোকসানা খাতুন ও তার স্বামী রাশিদুল ইসলাম। জামায়াত পক্ষের আহতরা হলেন হারুনের ছেলে মুরাদ আলী, মাহাতাবের ছেলে আরিফ, পলাশের ছেলে লাল্টু, সাদেক আলীর ছেলে ওল্টু এবং তার মেয়ে ফাতেমা খাতুন।এ ব্যাপারে আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম রোকন বলেন, জামায়াত পরিচয়ে যুবলীগ কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। আমাদের ৬জন নেতাকর্মী আহত হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন।

    অপরদিকে আলমডাঙ্গা উপজেলা জামায়াতের আমির শফিউল আলম বকুল বলেন, দাঁড়িপাল্লা টাঙাতে গেলে বিএনপির মহিলা ইউপি সদস্য ও তার স্বামী বাধা দেন। পরে বিএনপির নেতাকর্মীরা আমাদের বাড়িতে হামলা করে। এতে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

    আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুদুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। অপরদিকে মঙ্গলবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের দর্শনা থানার মদনা-পারকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের কামারপাড়া গ্রামে বিলবোর্ড স্থাপনকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সকালে শুরু হওয়া বিরোধের জেরে দুপুরে দুপক্ষের সংঘর্ষে দুজন আহত হয়েছেন। আহতরা হচ্ছেন জামায়াত সমর্থক খাজা এবং বিএনপি সমর্থক আজিজুল ইসলাম।

    এ বিষয়ে দর্শনা থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) সুলতান মাহমুদ বলেন, বিলবোর্ড স্থাপনকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। দুইজন আহত হওয়ার কথা শুনেছি। এখন পর্যন্ত কেউ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দেয়নি, অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে

  • জামায়াত আমিরের সঙ্গে বিশ্বব্যাংক প্রতিনিধি দলের বৈঠক

    জামায়াত আমিরের সঙ্গে বিশ্বব্যাংক প্রতিনিধি দলের বৈঠক

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছে বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি দল। মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) সকালে জামায়াত আমিরের কার্যালয়ে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

    বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকাস্থ আঞ্চলিক অফিসের পরিচালক মি. জঁ ডেনিস পেসমে এর নেতৃত্বে তার সঙ্গে ছিলেন বিশ্বব্যাংকের ঢাকা ডিভিশনের অর্থ উপদেষ্টা মিস. মেহরিন এ মাহবুব ও অপারেশন ম্যানেজার এমএস গায়েল মার্টিন।

    জামায়াত আমিরের সঙ্গে ছিলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. মিজানুর রহমান ও সাবেক সিনিয়র সচিব মুহাম্মাদ সফিউল্লাহ এবং জামায়াত আমিরের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মাহমুদুল হাসান।
    বৈঠকে বাংলাদেশের বিভিন্ন আর্থিকখাতের অবকাঠামোগত সংস্কার ও উন্নয়ন, টেকসই অর্থনীতি, করব্যবস্থা ও সামাজিক খাতের বিভিন্ন দিক নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়।