শিক্ষা মন্ত্রণালয়

  • ডিগ্রি কলেজগুলোকে পর্যায়ক্রমে এমপিওভুক্ত করা হবে: শিক্ষামন্ত্রী

    ডিগ্রি কলেজগুলোকে পর্যায়ক্রমে এমপিওভুক্ত করা হবে: শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, সরকার কর্তৃক পর্যায়ক্রমে এমপিওবিহীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভুক্ত করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত হলে এবং এমপিওভুক্তির নির্ধারিত সব শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এমপিওবিহীন ডিগ্রি কলেজগুলোকে পর্যায়ক্রমে এমপিওভুক্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদে প্রশ্নের উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা বলেন।

    শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, ব্যানবেইসের তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে দেশে ১ হাজার ৫০টি একাডেমিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ডিগ্রি (পাস) কলেজ এবং ৬৯৮টি একাডেমিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ডিগ্রি (সম্মান) কলেজ রয়েছে।

    এছাড়া বর্তমানে ১ হাজার ৫৬টি ডিগ্রি পর্যন্ত এমপিওভুক্ত কলেজ রয়েছে।

  • শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে সংসদের সামনে শিক্ষার্থীরা

    শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে সংসদের সামনে শিক্ষার্থীরা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যেও সোমবার এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে অবস্থান নিয়েছেন বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা।

    মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকাল পৌনে ৬টার দিকে তারা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে সংসদ ভবনের সামনে চলে যান।

    শিক্ষার্থীদের দাবি, যতক্ষণ না তাদের দাবি মেনে নেওয়া না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবে।

    এর আগে, বিকাল ৫টার সময় সায়েন্সল্যাবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষে এ ঘোষণা দেন সিটি কলেজের পরীক্ষার্থী মো. মিরাজ হোসেন বলেন, আজ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে এবং তার অসংগতিপূর্ণ কথাবার্তার জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।

    গতকাল (১৩ জুলাই) অস্বস্তিকর পরিবেশে যারা পরীক্ষা দিয়েছে এবং যারা পরীক্ষা দিতে পারেনি, তাদের কথা বিবেচনা করে ওই পরীক্ষাটি পুনরায় নিতে হবে। একই সঙ্গে আগামীকালের পরীক্ষা বাতিল করে নতুন করে পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ করতে হবে। প্রশ্নপত্রের মানদণ্ডও অবশ্যই শিক্ষার্থীবান্ধব হতে হবে।

    এদিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রথম দফায় সড়ক অবরোধ করে প্রায় ৪৫ মিনিট অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা।

    পরে অবরোধ প্রত্যাহার করে মিছিল নিয়ে ঢাকা কলেজ, নিউমার্কেট হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন।

    সেখান থেকে পুলিশি তত্ত্বাবধানে শিক্ষার্থীরা ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সামনে গিয়ে কিছু সময় অবস্থান করেন।

    পরে পুনরায় সায়েন্সল্যাব মোড়ে ফিরে এসে দ্বিতীয় দফায় সড়ক অবরোধ শুরু করেন।

    এ সময় সায়েন্স ল্যাব, নিউমার্কেট, এলিফ্যান্ট রোডসহ আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

    তবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা মানবিক বিবেচনায় জরুরি সেবার অ্যাম্বুলেন্সগুলোকে অবাধে চলাচলের সুযোগ দেন।

  • পদার্থবিজ্ঞানের ভুল প্রশ্নে পূর্ণ নম্বর পাবে পরীক্ষার্থীরা

    পদার্থবিজ্ঞানের ভুল প্রশ্নে পূর্ণ নম্বর পাবে পরীক্ষার্থীরা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেছেন, ভুল প্রশ্নে অনুষ্ঠিত পদার্থবিজ্ঞানে পূর্ণ নম্বর পাবে পরীক্ষার্থীরা।

    মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা জানান।

    চলমান এইচএসসি ও সমমানের পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার সৃজনশীল অংশের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্ন নিয়ে অভিযোগ ওঠার পর, জাতীয় সংসদ অধিবেশনে শিক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন যে- পদার্থবিজ্ঞানের ভুল দুটি প্রশ্নে পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে।

    বিষয়টি নিয়ে কোনো শিক্ষার্থী যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে জন্য আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটিও একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে।

  • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জরুরি বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জরুরি বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষা ডেস্ক:

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদে তারা বৈঠক করছেন।

    বৈঠকের আলোচ্য বিষয় সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি। তবে এ সময় শিক্ষার্থী আন্দোলন ও এইচএসসি পরীক্ষা ঘিরে সারা দেশে চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এদিকে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ তিনদফা জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এসব দাবি পূরণে আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত আল্টিমেটাম দিয়েছেন তারা। দাবিগুলো হলো- শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, তার বক্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া এবং এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত।

  • ভুল প্রশ্ন, জলাবদ্ধতা—সব বিতর্কের জবাব দিলেন শিক্ষামন্ত্রী

    ভুল প্রশ্ন, জলাবদ্ধতা—সব বিতর্কের জবাব দিলেন শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষা ডেস্ক:

    সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে কথা বলে এইচএসসি পরীক্ষা বহাল রাখা হয়েছে দাবি করে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, বিকেল ৫টা পর্যন্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সবাই বলেছেন- আবহাওয়া ভালো থাকবে, সে কারণেই আমরা পরীক্ষা বহাল রেখেছি।

    মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হলে প্রথমে প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়।

    সম্পূরক প্রশ্নে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, এইচএসসি পরীক্ষা চলছে। গত তিন-চারদিন ধরে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ বড় বড় শহরগুলো পানির নিচে তলিয়ে গিয়েছিল। শিক্ষার্থীরা অনুরোধ করেছিল পরীক্ষা পেছানোর জন্য। কিন্তু এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। যে কারণে আজকে (মঙ্গলবার) আন্দোলন হচ্ছে, ঢাকায় আন্দোলন হচ্ছে। মন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন রাখছি—এইচএসসির মতো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা, যার ওপর নির্ভর করে ছেলে বা মেয়ের ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাবে, সেরকম একটি পরীক্ষায়, ফিজিক্সের মতো বিষয়ে.. মাননীয় মন্ত্রী কি দয়া করে বলবেন, কী সমস্যা ছিল পরীক্ষাটি একদিন বা দুদিনের জন্য পিছিয়ে দেওয়ার?

    জবাবে শিক্ষামন্ত্রী আ নম এহছানুল হক মিলন বলেন, সারা বাংলাদেশে পরীক্ষা আমরা একযোগে নিয়ে থাকি। এইচএসসি পরীক্ষার প্রায় ২,৭০০টি কেন্দ্র রয়েছে এবং ৬৪টি জেলায় একই সময়ে পরীক্ষা শুরু হয়। ইতোমধ্যে আপনারা শুনেছেন, চট্টগ্রামে যখন বন্যা হলো, তখন আমরা পর্যায়ক্রমে প্রথমে রাঙামাটি, তারপর বান্দরবান, পরে খাগড়াছড়ি এবং এরপর পুরো চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত করেছি।

    তিনি বলেন

    , আমরা লক্ষ্য করছিলাম যে- বৃষ্টি হচ্ছিল এবং আমরা পরিস্থিতি নিয়মিত মনিটরিং করছিলাম। সেই সময় ৬৪ জেলার এসপি, আটটি বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার এবং প্রত্যেকটি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। পাশাপাশি আবহাওয়া অধিদপ্তরের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছি। তারা জানিয়েছিল যে আর বৃষ্টি হবে না। বিকেল ৫টা পর্যন্ত আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সংশ্লিষ্ট সবাই বলেছেন যে আবহাওয়া ভালো থাকবে, সে কারণেই আমরা পরীক্ষা বহাল রেখেছি।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কিন্তু সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের মাঠ পানিতে ভরে গেছে। সঙ্গে সঙ্গে আমরা মেয়র, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ এবং জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দিই পরীক্ষাকেন্দ্র স্থানান্তরের ব্যবস্থা করতে। পরে পরীক্ষার্থীদের নৌকায় করে ওই স্কুলের পাঁচতলা ভবনে নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। আমরা পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেছি।

    তিনি বলেন, এ ছাড়া সারা বাংলাদেশের জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। তারা জানিয়েছেন, কোথাও পরীক্ষা গ্রহণে কোনো ধরনের দুর্যোগজনিত সমস্যা হয়নি। শুধু কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজে এ ঘটনা ঘটেছে।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা নির্দেশ দিয়েছিলাম, সেখানে বিলম্বে পরীক্ষা শুরু করা হবে। যে মেয়েটির কাপড় ভিজে গিয়েছিল, তার বাড়ি থেকে কাপড় এনে দেওয়া হয়েছে। তাকে এক ঘণ্টা পরে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে এবং পরীক্ষার সময়ও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। জাতিকে জানাতে চাই, আমাদের পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় প্রশাসন—জেলা প্রশাসক, ইউএনও, পুলিশ প্রশাসন—তাৎক্ষণিকভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন যে কোনো কেন্দ্রে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব কি না। প্রয়োজনে তারা পরীক্ষা স্থগিতও করতে পারেন।

    তিনি বলেন, আ

    মরা বারবার তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বলেছেন, “না স্যার, আমরা ঠিকমতো পরীক্ষা নিচ্ছি।” আপনারাও দেখেছেন কোথায় কোথায় বৃষ্টির পানি ছিল। সেগুলো আমরা সবাই লক্ষ্য করেছি। কোমলমতি সন্তানদের জন্য আমাদেরও মায়া রয়েছে। সে কারণেই আমরা সবসময় পরিস্থিতি মনিটরিং করি।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, একই সঙ্গে পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ভুল ছিল। আমরা দায়িত্ব পেয়েছি মাত্র চার মাস আগে। প্রশ্ন মডারেশন আগেই সম্পন্ন হয়েছিল। আপনারা জানেন, প্রশ্ন মডারেশনের প্রক্রিয়া দুই বছর আগে থেকে শুরু করতে হয়। আমরা এসে নতুন করে কোনো প্রশ্ন প্রস্তুত করতে পারিনি। বিগত সরকারের সময় যারা মডারেটর ছিলেন, তারাই এই প্রশ্নপত্র প্রস্তুত করেছেন।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তবুও আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ঘোষণা দিয়েছি যে ফিজিক্সের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ভুল হয়েছে এবং ওই দুটি প্রশ্নের জন্য শিক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে।

    তিনি বলেন, পরীক্ষা যাতে যথাযথভাবে অনুষ্ঠিত হয়, সে জন্য আমরা সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করেছি। আজও সারাদিন আমরা সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলেছি। আমাদের সব স্টেকহোল্ডার জানিয়েছেন যে পরীক্ষা সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে হয়েছে। শুধু কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজে এই ঘটনাটি ঘটেছে এবং সেখানেও শেষ পর্যন্ত সুন্দরভাবে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

  • যথাসময়ে কলেজে উপস্থিত হতে শিক্ষকদের তাগিদ

    যথাসময়ে কলেজে উপস্থিত হতে শিক্ষকদের তাগিদ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    আবারো যথাসময়ে কলেজে উপস্থিত হতে সরকারি কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের তাগিদ দেয়া হয়েছে। রোববার (১২ জুলাই) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের এক নোটিশে এ তাগিদ দেয়া হয়।

    নোটিশটি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের কলেজ ও প্রশাসন শাখার উপপরিচালকসহ সংশিষ্টদের পাঠানো হয়েছে।

    এতে বলা হয়েছে, সব সরকারি কলেজে কর্মরত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিজ নিজ কর্মস্থলে যথাসময়ে নিয়মিত উপস্থিত থাকার জন্য নির্দেশ করা হলো।

    এর আগে গত বৃহস্পতিবার মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা- কর্মচারীদের সকাল ৯টার মধ্যে নিজ দপ্তরে প্রবেশসহ ছয়টি নির্দেশনা দেয়া হয়। দাপ্তরিক শৃঙ্খলা সমুন্নত রাখা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম আরো গতিশীল করার লক্ষ্যে এমন নির্দেশনা দেয়া হয়, যা না মানলে নেয়া হবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা।

  • শিক্ষার্থীদের ‘আকর্ষণীয়’ পাঠ্যবই দিবে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষার্থীদের ‘আকর্ষণীয়’ পাঠ্যবই দিবে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষা ডেস্ক:

    অতীতের সব ভুলভ্রান্তি থেকে বেরিয়ে এসে আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের মাঝে সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত, মানসম্মত, প্রাণবন্ত ও আকর্ষণীয় পাঠ্যপুস্তক উপহার দেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

    রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের ‘চারটি নতুন পাঠ্যপুস্তকের কাঠামো চূড়ান্তকরণ কর্মশালা’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)’র চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ ফখরুল মাওলার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।

    এছাড়াও অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেনসহ শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বিগত বছরগুলোতে পাঠ্যপুস্তকের পান্ডুলিপিতে অসংখ্য বানান ভুল ও যাচ্ছেতাই বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয়েছে। আমরা এবার শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গ্রুপভিত্তিক নিবিড় কাজ করছি।’

    তিনি বলেন, অতীতের সেই আবর্জনা পরিষ্কার করে, এবার শতভাগ নির্ভুল বই তৈরি করা হচ্ছে। মানসম্মত প্রিন্টিং ও কাগজের গুণগত মানের ক্ষেত্রে কোনো আপস করা হবে না।
    এ সময় ড. এহছানুল হক মিলন আরও বলেন, বইয়ের প্রচ্ছদ ও ভেতরের ছবিগুলো এমন প্রাণবন্ত হতে হবে, যাতে তা কোমলমতি শিক্ষার্থীদেরকে আকর্ষণ করে; ছবি যেন নিজেই কথা বলে।

    তিনি জানান, নতুন এই চারটি বইয়ের পান্ডুলিপি চূড়ান্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দেখার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর গঠিত বিশেষজ্ঞ দলকে আগামী ৫ কার্যদিবসের মধ্যে ক্রীড়া বিষয়ক অধ্যায়ের কনক্লুসিভ স্টেটমেন্ট এবং সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন সাব-কমিটিও আগামী ৫ দিনের মধ্যে তাদের মতামত জমা দেবেন। এরপরই এই পান্ডুলিপি চূড়ান্ত অনুমোদন পাবে।

    ভবিষ্যৎ দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘২০২৭ সালের কাজ শেষ করেই আমরা বসে থাকব না। ২০২৮ শিক্ষাবর্ষের পরিমার্জিত কারিকুলাম করার জন্য আগামী ১ আগস্ট থেকেই আমরা নতুন বইয়ের কাজে হাত দিব, যাতে হাতে পর্যাপ্ত সময় থাকে এবং কোনো তাড়াহুড়ো না হয়।’

    তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা খাতের উন্নয়নকে নিজে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করেন। তাঁর ভিশন বাস্তবায়নে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি চমৎকার ও আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

  • শিক্ষার চেয়ে ঋণ পরিশোধেই ব্যয় হচ্ছে বেশি অর্থ: ইউনেস্কো

    শিক্ষার চেয়ে ঋণ পরিশোধেই ব্যয় হচ্ছে বেশি অর্থ: ইউনেস্কো

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বিশ্বের নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলোর শিক্ষা ব্যবস্থা এক চরম সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। মানুষের অন্যতম মৌলিক অধিকার শিক্ষা হলেও, এই দেশগুলোতে এখন শিক্ষার পেছনে ব্যয়ের চেয়ে ঋণের সুদ পরিশোধেই বেশি অর্থ চলে যাচ্ছে।

    জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কোর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে।

    ইউনেস্কোর ‘পলিসি পেপার অন রিস্টোরিং ফিসক্যাল স্পেস টু সেভ এডুকেশন’ শীর্ষক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের একটি বিশাল জনগোষ্ঠী এখন মানসম্মত শিক্ষা লাভের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মূল কারণ, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে ঋণ পরিশোধের পেছনে সরকারি ব্যয়ের একটি বড় অংশ চলে যাচ্ছে। ফলে এসব দেশের সরকার সামাজিক উন্নয়নের চেয়ে ঋণের কিস্তি শোধ করাকে বেশি অগ্রাধিকার দিতে বাধ্য হচ্ছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে শিক্ষাব্যয়ের ৩ দশমিক ৩ গুণ ব্যয় হচ্ছে ঋণ পরিশোধে। বর্তমানে গ্লোবাল সাউথের ১১৩টি দেশে ঋণ পরিশোধের ব্যয় শিক্ষার পেছনে মোট সরকারি বরাদ্দকে ছাড়িয়ে গেছে। এসব দেশে বিশ্বের প্রায় ৬১০ কোটি মানুষ বসবাস করে।

    ২০১৫ সালে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা অর্জনকারী বাংলাদেশ বর্তমানে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে চূড়ান্তভাবে গ্র্যাজুয়েশন বা মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। অবশ্য সাম্প্রতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সরকারের পক্ষ থেকে এই গ্র্যাজুয়েশন প্রক্রিয়াটি আরও তিন বছর পিছিয়ে দেয়ার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করা হয়েছে। উন্নয়নের এই যাত্রাপথের মধ্যেই দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে একটি বড় উদ্বেগের জায়গা তৈরি করেছে ক্রমবর্ধমান বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ ঋণ পরিশোধের চাপ, যা সরাসরি প্রভাব ফেলছে শিক্ষা খাতের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ বরাদ্দে।

    চলতি অর্থবছরের বাজেট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে শিক্ষায় বরাদ্দের চেয়ে ঋণ পরিশোধেই সরকারের তিন গুণেরও বেশি অর্থ ব্যয় হবে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা খাতে মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা। অপরদিকে সরকারি তথ্য ও প্রাক্কলন অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরে নতুন করে কোনো ঋণ না নিলেও কেবল আগের নেয়া ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধ বাবদ প্রায় ৪ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে সরকারকে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস সালামের মতে, সরকার যখন বিশাল অংকের বৈদেশিক বা অভ্যন্তরীণ ঋণ পরিশোধে ব্যস্ত থাকে, তখন স্বাভাবিকভাবেই অন্যান্য খাতগুলোতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে এই প্রভাব সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান হয় শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে। তবে তিনি মনে করেন, ঋণ পরিশোধের চাপ সামলাতে গিয়ে শিক্ষার বাজেট কমানো কোনো বাধ্যতামূলক বিষয় নয়। সরকার চাইলে অন্য কোনো খাতের খরচ কমিয়েও শিক্ষার বরাদ্দ পুরোপুরি বজায় রাখতে পারে। কারণ শিক্ষা খাতের ব্যয়টি হলো দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ। এর মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করে রাষ্ট্র তার অর্থনৈতিক অবস্থানের সহজে উন্নয়ন ঘটাতে পারে।

    বর্তমানে সরকার শিক্ষাকে অগ্রাধিকার খাত হিসেবেই বিবেচনা করছে জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার যদি রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চায়, তাহলে ভবিষ্যতেও এ অগ্রাধিকার অব্যাহত রাখতে হবে। ঋণ পরিশোধ করতে গিয়ে যদি কোনো খাতে ব্যয় কমাতেই হয়, তাহলে সেক্ষেত্রে শিক্ষা খাতকে এ ধরনের বিবেচনার বাইরে রাখতে হবে।

    ইউনেস্কোর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের পর থেকে গড়ে ঋণ পরিশোধের জন্য অতিরিক্ত ১ ডলার বরাদ্দের বিপরীতে প্রকৃত শিক্ষা ব্যয় দশমিক ২৮ ডলার করে

    হ্রাস পেয়েছে। এ নেতিবাচক প্রভাবের কারণে ২০১৫ সালের পর থেকে বিশ্বের অধিকাংশ দেশই তাদের শিক্ষায় বরাদ্দ বাড়াতে ব্যর্থ হয়েছে। ইউনেস্কোর প্রতিবেদন অনুসারে, বিশ্বের ১৩৭টি দেশ আন্তর্জাতিকভাবে সম্মত শিক্ষা অর্থায়নের ন্যূনতম মানদণ্ড অর্জন করতে পারছে না। ফলে ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি-৪ অর্জনের জন্য নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলো বর্তমানে বার্ষিক ৯৭ বিলিয়ন ডলারের স্থায়ী অর্থায়ন ঘাটতির মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে।

    ইউনেস্কোর মতে, এ সংকটের পেছনে আরেকটি বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে অভ্যন্তরীণ ঋণ। ঐতিহাসিকভাবে কেবল বৈদেশিক ঋণ নিয়ে আলোচনা হলেও বর্তমানে অভ্যন্তরীণ ঋণ শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য আরো বেশি ক্ষতিকর হয়ে উঠেছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে অভ্যন্তরীণ ঋণের মেয়াদ সাধারণত কম হয় এবং সুদের হার থাকে অত্যন্ত চড়া। বর্তমানে মোট ঋণ পরিশোধের প্রায় ৬২ শতাংশই হলো অভ্যন্তরীণ ঋণ এবং ১০১টি দেশ তাদের মোট ঋণ পরিশোধের অর্ধেকেরও বেশি অর্থ ব্যয় করছে দেশের ভেতরের বাণিজ্যিক ব্যাংক ও ঋণদাতাদের পেছনে।অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুসারে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ঋণ পরিশোধের বাধ্যবাধকতার সবচেয়ে বড় অংশটি যাবে অভ্যন্তরীণ খাতের ট্রেজারি বন্ড ও বিলের মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণ পরিশোধে। এর পরিমাণ ১ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের ইতিহাসে একক অর্থবছরে সর্বোচ্চ। এ সময় প্রায় ৯৮ হাজার কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র ম্যাচিউর বা মেয়াদোত্তীর্ণ হবে। এর বাইরে কেবল ঋণের সুদ পরিশোধ বাবদ আগামী অর্থবছরের বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। পাশাপাশি বৈদেশিক ঋণের কিস্তি (আসল) বাবদ পরিশোধ করতে হবে ৩৭৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার, যা স্থানীয় মুদ্রায় প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা। সব মিলিয়ে সামনের অর্থবছরে সরকারের ঋণ পরিশোধের পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ৪ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকায়।

  • ১৬ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত

    ১৬ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বন্যা ও বৈরি আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আগামী ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।

    ইতোমধ্যে গত ৮ জুলাই ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র ও আজকের ১১ জুলাইয়ের তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল। তবে রুটিন অনুযায়ী দেশের অন্যান্য বোর্ডের পরীক্ষা যথানিয়মে অনুষ্ঠিত হবে।

    পরীক্ষা স্থগিতের কথা স্বীকার করে আন্তঃশিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান ও ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর উপস্থিতিতে ও বিভিন্ন বোর্ড চেয়ারম্যানদের নিয়ে অনুষ্ঠিত জুম মিটিংয়ে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    দেশের অন্যান্য জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হলে কি সিদ্ধান্ত আসতে পারে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সিলেট বোর্ডে বন্যার পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে। তবে আজও আমরা পরীক্ষা চালিয়েছি। পরিস্থিতির অবনতি হলে সেখানেও একই ধরনের ঘোষণা আসতে পারে।

    উল্লেখ্য, গত ৭ জুলাই থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ পার্বত্য জেলাগুলোতে প্রবল বর্ষণে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন কেন্দ্রে পানি প্রবেশ করায় গত বুধবার ৮ জুলাইয়ের পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হলে ১১ জুলাই শনিবারের পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়। অপরদিকে এবারই সারাদেশে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

  • এইচএসসিতে ঝরে পড়ার কারণ অনুসন্ধানের উদ্যোগ

    এইচএসসিতে ঝরে পড়ার কারণ অনুসন্ধানের উদ্যোগ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    প্রথমবারের মতো শিক্ষাবোর্ডগুলোর মাধ্যমে পাবলিক পরীক্ষা থেকে বিপুল শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার কারণ অনুসন্ধানের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের নির্দেশে গত রোববার মাধ্য্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. কে এম এ এম সোহেলের সভাপতিত্বে সব শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকদের সঙ্গে সরাসরি ও জুমে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত হয়।

    জানতে চাইলে মহাপরিচালক বলেন, গত অধিদপ্তরে সব বোর্ডের চেয়ারম্যান ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। নয়টি সাধারণসহ মোট ১১টি শিক্ষাবোর্ডের শহর ও গ্রামাঞ্চল মিলিয়ে দৈব চয়নের ভিত্তিতে সারাদেশের মোট ২৬০টি প্রতিষ্ঠান এই গবেষণার আওতাভুক্ত হবে। আগামী সপ্তাহে এই গবেষণা শুরু হতে পারে।

    তিনি বলেন, ঝরে পড়া পরীক্ষার্থী, তাদের অভিভাবক, শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা হবে। শিক্ষাবোর্ড কর্মকর্তা এবং জেলা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারও গবেষণায় অংশ নেবেন। সার্বিক তত্ত্বাবধানে থাকবে বাংলাদেশ পরীক্ষা উন্নয়ন ইউনিট (বেডু)।

    জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ঝরে পড়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের অনুসন্ধানকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকেও প্রথমবারের মতো শিক্ষাবোর্ডগুলোর উদ্যোগে এইচএসসি ও সমমানের বিপুল পরীক্ষার্থীর অংশ না নেওয়া বা ঝরে পড়ার প্রকৃত কারণসমূহ চিহ্নিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    গত ২ জুলাই শুরু হওয়া এবারের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট পরীক্ষায় (এইচএসসি ও সমমান) নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩৬ শতাংশই অংশ নিচ্ছেন না। প্রতিবছর এসএসসি ও এইচএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষায় অনেক শিক্ষার্থী নিবন্ধন (রেজিস্ট্রেশন) করেও শেষ পর্যন্ত পরীক্ষায় অংশ নেন না। তবে এ বছর পরীক্ষায় অংশ না নেওয়ার এই হার অস্বাভাবিক বেশি বলে মনে করছেন শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ডগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দুই বছর আগে (২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ) এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করে একাদশ শ্রেণিতে নিবন্ধন করেছিল প্রায় ১৫ লাখ শিক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেছেন প্রায় সাড়ে ৯ লাখ শিক্ষার্থী। অর্থাৎ নিয়মিত শিক্ষার্থীদের প্রায় সাড়ে ৫ লাখ পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন না।

    গত বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরীক্ষা না দেওয়ার হার ছিল ২৯ শতাংশের কিছু বেশি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে হারটি প্রায় ৭ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে। গত বছর নিবন্ধিত সোয়া ৪ লাখের বেশি শিক্ষার্থী পরীক্ষা দেননি।

    বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চিত্র আরও উদ্বেগজনক। এ বছর এই বোর্ডে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫৪ শতাংশের বেশি পরীক্ষার জন্য ফরমই পূরণ করেননি।

    চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষাতেও দেখা গেছে, দুই বছর আগে নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে নিবন্ধন করেও তাদের মধ্যে ২৩ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। ইদানীং পাবলিক পরীক্ষায় ফরম পূরণ করার পরেও পরীক্ষায় অনুপস্থিত শিক্ষার্থী বাড়ছে। যেমন গত বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রথম দিনে মোট ১৯ হাজার ৭৫৯ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন। এর আগের বছর প্রথম দিনে অনুপস্থিত ছিলেন ১৫ হাজার ২০৩ পরীক্ষার্থী।

    শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, শিক্ষাজীবনের প্রতিটি ধাপ পেরিয়ে ওপরের শ্রেণিতে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে কিছু শিক্ষার্থী ঝরে পড়ে। বাল্যবিবাহ, দারিদ্র্য এবং এসএসসি পাসের পর অনেক শিক্ষার্থীর কর্মক্ষেত্রে যুক্ত হওয়া এ প্রবণতার উল্লেখযোগ্য কারণ।

    সম্প্রতি সচিবালয়ে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, এই দুর্বলতাগুলো বের করা হচ্ছে এবং প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আগামী দিনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর আশা, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঘটবে না।

  • এইচএসসির দ্বিতীয়দিনে অনুপস্থিত ২৭ হাজারের বেশি, বহিষ্কার ১৭

    এইচএসসির দ্বিতীয়দিনে অনুপস্থিত ২৭ হাজারের বেশি, বহিষ্কার ১৭

    শিক্ষা ডেস্ক:

    এইচএসসির দ্বিতীয়দিনে অনুপস্থিত ২৭ হাজারের বেশি, বহিষ্কার ১৭

    ইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার দ্বিতীয় দিনে বহিষ্কারের সংখ্যা প্রথমদিনের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। শনিবার (৪ জুলাই) অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় সারা দেশে অনুপস্থিত ছিলেন ২৭ হাজার ৩২৭ জন।

    এদিন অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে মোট ১৭ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এর আগে প্রথমদিনের পরীক্ষায় বহিষ্কারের সংখ্যা ছিল সাতজন। সে হিসাবে দ্বিতীয় দিনে বহিষ্কারের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি।

    শনিবার বিকেলে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এ তথ্য জানায়।এদিন ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বাংলা দ্বিতীয়পত্র, মাদরাসায় সাধারণ বিভাগে আরবি প্রথমপত্র এবং বিজ্ঞা

    ন ও মুজাব্বিদ মাহির বিভাগে আরবি সাহিত্য ও কারিগরিতে ইংরেজি-২ বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

    আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির তথ্যানুযায়ী, ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বহিষ্কার হয়েছেন সাতজন পরীক্ষার্থী। এরমধ্যে রাজশাহী বোর্ডে একজন, কুমিল্লা বোর্ডে দুজন, বরিশাল বোর্ডে দুজন, দিনাজপুর বোর্ডে একজন এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে একজন বহিষ্কার হয়েছেন। ঢাকা, যশোর, চট্টগ্রাম ও সিলেট বোর্ডে কোনো পরীক্ষার্থী বহিষ্কারের ঘটনা ঘটেনি।

    ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বাংলা দ্বিতীয়পত্রে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ৮ লাখ ৬০ হাজার ৭৬৪ জন। তাদের মধ্যে উপস্থিতি ছিলেন ৮ লাখ ৪১ হাজার ১২৫ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ১৯ হাজার ৬৩৯ জন।

    মাদরাসা বোর্ডের অধীন আলিম পরীক্ষায় মোট ৮৪ হাজার ২৯৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশ নিয়েছেন ৭৯ হাজার ৯১ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ৫ হাজার ২০২ জন। এ বোর্ডে বহিষ্কার হয়েছেন সাতজন পরীক্ষার্থী।

    অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে মোট ৮৫ হাজার ৭৪৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশ নিয়েছেন ৮৩ হাজার ২৬৩ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ২ হাজার ৪৮৬ জন। সেখানে বহিষ্কার হয়েছেন তিনজন পরীক্ষার্থী।

  • মাধ্যমিকে প্রধান শিক্ষকের ৩৮৩ ও সহকারী শিক্ষকের ২৮৪২ পদ শূন্য

    মাধ্যমিকে প্রধান শিক্ষকের ৩৮৩ ও সহকারী শিক্ষকের ২৮৪২ পদ শূন্য

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দেশের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে তীব্র শিক্ষক সংকট দেখা দিয়েছে। বর্তমানে সারাদেশে চলমান ৭০২টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৮ শতাংশের বেশি সহকারী শিক্ষকের পদই খালি পড়ে আছে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের ৭০২টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের অনুমোদিত পদ রয়েছে মোট ১৫ হাজার ২৯৩টি। তবে এর মধ্যে ২ হাজার ৮৪২টি সহকারী শিক্ষকের পদই বর্তমানে শূন্য। অর্থাৎ, প্রায় ১৮.৫৮ শতাংশ পদে কোনো শিক্ষক নেই।

    শিক্ষক সংকটের এই চিত্র কেবল সহকারী শিক্ষকদের ক্ষেত্রেই নয়, বিদ্যালয়গুলোর শীর্ষ প্রশাসনিক পদেও একই অবস্থা বিরাজ করছে। বর্তমানে ৩৮৩টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। প্রধান শিক্ষকের এই শূন্য পদের পাশাপাশি সহকারী প্রধান শিক্ষকের আরও ২৪৯টি পদ খালি পড়ে আছে।

    দীর্ঘদিন ধরে বিপুল সংখ্যক শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় বিদ্যালয়গুলোর স্বাভাবিক পাঠদান যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি ভারপ্রাপ্তদের দিয়ে প্রতিষ্ঠান চালাতে গিয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রমেও স্থবিরতা নেমে এসেছে। দ্রুত এই শূন্য পদগুলো পূরণের ব্যবস্থা না নিলে মাধ্যমিক শিক্ষার গুণগত মান ধরে রাখা কঠিন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

    নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষা খাতকে বিশেষভাবে প্রাধান্য দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিএনপি সরকার। ইশতেহারে বলা হয়েছে, দেশের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক, কর্মমুখী, উৎপাদনমুখী এবং সময়োপযোগী করে গড়ে তোলা হবে। শিক্ষার সব স্তরে জোর দেওয়া হবে। তবে প্রাথমিক শিক্ষা বেশি জোর পাবে। শিক্ষা খাতের বাজেট বরাদ্দ ধাপে ধাপে জিডিপির (মোট দেশজ উৎপাদন) ৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে।

    এদিকে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ জিডিপির ২ শতাংশে উন্নীত করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। মোট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা। বরাদ্দ আগের বছরের চেয়ে বেড়েছে ৪৯ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।

    শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, শিক্ষা খাতে অবকাঠামো উন্নয়ন অনেক হয়েছে। এখন দরকার গুণমান বৃদ্ধিতে নজর দেওয়া। সে জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত ভালো শিক্ষক।

    দেশের শিক্ষা খাতে বিগত বছরগুলোতে দৃশ্যমান অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রচুর হলেও, শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে বলে মনে করছেন শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাদের মতে, ইটের ওপর ইট গেঁথে ভবন নির্মাণ বা ভৌত অবকাঠামো বাড়ালেই শিক্ষার মান বাড়ে না; বরং শিক্ষার আসল মান বাড়াতে এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন পর্যাপ্ত সংখ্যক যোগ্য ও দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ।

  • শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপে পরীক্ষায় বসছেন সুমাইয়া

    শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপে পরীক্ষায় বসছেন সুমাইয়া

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য নির্ধারিত সময়ে টাকা জমা দেওয়ার পরও রেজিস্ট্রেশন নম্বর ভুল হওয়ায় পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি সুমাইয়া আক্তার নামে এক শিক্ষার্থী। এ সংক্রান্ত অভিযোগ মন্ত্রীর কাছে পৌঁছালে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত যথাযথ পদক্ষেপ নিতে বলেন। একইসঙ্গে মন্ত্রী দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিতে বলেন। এরইমধ্যে সুমাইয়ার ফরম পূরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামীকাল থেকে তিনি নিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।

    শুক্রবার (৩ জুলাই) শিক্ষামন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে পরীক্ষা কেন্দ্রের সামনে ওই শিক্ষার্থীকে কান্নারত অবস্থায় দেখা যায়। আগের দিন বুধবার বিকেল পর্যন্ত অপেক্ষা করেও প্রবেশপত্র না পাওয়ায় তার পরীক্ষায় অংশ নেওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

    সুমাইয়া আক্তার উপজেলার চন্দনবাইশা ইউনিয়নের উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত ওবাইদুল হক বাবুর মেয়ে। তিনি চন্দনবাইশা ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী। অভিযোগ উঠেছে, কলেজ কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে প্রবেশপত্র না পাওয়ায় তিনি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি।

    শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার বলেন, আমার বাবা নেই। ভাই অনেক কষ্ট করে আমাকে পড়ালেখা করাচ্ছেন। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে সেই স্বপ্ন ভেঙে গেল। আমি কী করব বুঝতে পারছি না।

    তিনি আরও বলেন, আমার কাছ থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা নেওয়ার পরও কলেজ কর্তৃপক্ষ ফরম পূরণের সময় রেজিস্ট্রেশন নম্বর ভুল করেছে। এ কারণে প্রবেশপত্র পাইনি।

    পরীক্ষাকেন্দ্র সারিয়াকান্দি ডিগ্রি কলেজে প্রবেশ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন ওই শিক্ষার্থী। এ বিষয়ে জানতে চন্দনবাইশা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

    সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমাইয়া ফেরদৌস বলেন, প্রতিষ্ঠান প্রধানকে দ্রুত লিখিত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • এমপিওভুক্তির দাবিতে  শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভিমুখে পদযাত্রা

    এমপিওভুক্তির দাবিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভিমুখে পদযাত্রা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    এমপিওভুক্তির দাবিতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সাড়ে ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভিমুখে পদযাত্রা করবেন শিক্ষকরা। তারা বলছেন, আজকের মধ্যে এমপিও আবেদনের গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না হলে পদযাত্রা করা হবে।

    আজ বুধবার (১০ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ননএমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি থেকে এ ঘোষণা দেয়া হয়। সম্মিলিত ননএমপিও ঐক্য পরিষদের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করে আসছেন তারা। আজ লাগাতার অবস্থান কর্মসূচির চতুর্থ দিন চলছে। পরে সংগঠনের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজ বুধবার বেলা ১০টায় যথারীতি জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সব নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়। এতে অধ্যক্ষ সেলিম মিয়া সভাপতিত্ব করেন। বক্তারা বলেন অবিলম্বে সব নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করতে হবে। আমাদের বরাদ্দের টাকা অন্য খাতে খরচ হবে এটা অন্যায়। তিনি বলেন আজকের মাধ্যে কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের এমপিও আবেদনের গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না হলে আগামীকাল ১১ জুন বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভিমুখে পদযাত্রা কর্মসূচি করা হবে।

    প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমটির অন্যতম সদস্য অ্যাডভোকেট রফিক শিকদার। তিনি বলেন শিক্ষকদের প্রতি জনগণের প্রত্যাশাও বেশি। তিনি সরকারের নিকট অবিলম্বে দেশের সব নন এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির আহ্বান জানান।

    বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ নাগরিক অধিকার ফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহনাজ আকতার রানু বলেন, বেতনহীন নন এমপিও শিক্ষকরা ফুটপাতে বসে থাকবে এটা বিরাট রাষ্ট্রীয় লজ্জা।

    বিশেষ অতিথীর কারিগরি শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি অধ্যক্ষ জাকির হোসেন আকন্দ বলেন আমরা নন এমপিও শিক্ষকদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করছি।

    কারিগরি শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের মহাসচিব অধ্যাপক গাজি হারুন অর রশিদ দ্রুত সব নন এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্তির দাবি জানান।

    নন-এমপিও সংগঠনের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যক্ষ মো. নাজমুস সাহাদাত আজাদী বলেন আমরা ২০-২৫ বছর যাবত নন এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বৈষম্যের শিকার হয়েছি। বর্তমান সরকারের কাছে আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি এই বৈষম্য দূর করে দ্রুত সময়ে এমপিওভুক্ত করা হোক।

    সমন্বয়ক অধ্যক্ষ আব্দস সালামের সঞ্চালনায় লাগাতার অবস্থান কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সমন্বয়ক অধ্যক্ষ আবতাবুল আলম, সমন্বয়ক সুপার ফরহাদ হোসেন বাবুল, সমন্বয়ক প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান বাবুল, অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান ভূঁইয়া, অধ্যক্ষ মিজানুল হক মামুন, সমন্বয়ক প্রভাষক হাবিবুল্লাহসহ সারাদেশ থেকে আসা জেলা ও উপজেলার নেতারা।