শিক্ষা মন্ত্রণালয়

  • ৫ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৮ শিক্ষককে শোকজ, বন্ধ বেতন-ভাতা

    ৫ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৮ শিক্ষককে শোকজ, বন্ধ বেতন-ভাতা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বেসরকারি পাঁচ মাদ্রাসার সুপার, অধ্যক্ষসহ আট শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। একই সঙ্গে তাদের বেতন-ভাতা সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। কেন তাদের বেতন-ভাতা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে না, নোটিশে তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

    বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) স্বাক্ষরিত মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এসব শিক্ষক ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জাল স্বাক্ষর ও চিঠি তৈরি, ভুয়া নিয়োগ বোর্ড গঠন করে ফলাফল শিট প্রস্তুত এবং মৃত শিক্ষকের ব্যাংক হিসাব ও ইনডেক্স নম্বর ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলনের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

    শোকজ পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন—বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার নিজবলাইল ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলম, ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার মো. ভেলা ওমরিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মো. মহিউদ্দিন এবং কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার সোনারীপাড়া মীম ছীন বালিকা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. ইস্কেন্দার মির্জা। এ ছাড়া নওগাঁর আত্রাই উপজেলার মস্কিপুর দ্বি-মুখী দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. আফতাব উদ্দীন, সহকারী মৌলভী মো. জহরুল ইসলাম ও মো. আখতার হোসেন এবং মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার হাড়াভাঙ্গা ডি. এইচ. ফাযিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. আব্দুর রাজ্জাক ও সহকারী মৌলভী শামছিয়া খাতুনকে শোকজ করা হয়েছে।

    নোটিশে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের বেতন-ভাতা কেন স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে না, সে বিষয়েও জবাব চাওয়া হয়েছে।

  • কওমি বোর্ডের সনদে মাদ্রাসার দুই পদে নিয়োগের স্বীকৃতি

    কওমি বোর্ডের সনদে মাদ্রাসার দুই পদে নিয়োগের স্বীকৃতি

    ছয়টি কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের সনদকে সরকারি-বেসরকারি মাদ্রাসার দুটি পদে নিয়োগের যোগ্যতা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর ফলে সহকারী মৌলভী (ক্বারী) ও ইবতেদায়ী ক্বারী পদে এসব বোর্ডের সনদধারীদের নিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের তৃতীয় দিনের প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ তথ্য জানান। বিকেল সাড়ে ৩টায় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। শুরুতে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

    লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সব কওমি মাদ্রাসার সমন্বয়, উন্নয়ন ও পাবলিক পরীক্ষা গ্রহণের জন্য ২০০৬ সালে গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে ‘কওমী মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বাংলাদেশ’ নামে একটি স্থায়ী প্রতিষ্ঠান গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    এরপর ‘আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’-এর অধীন ‘কওমি মাদরাসাসমূহের দাওরায়ে হাদিস (তাকমীল)-এর সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি)-এর সমমান প্রদান আইন, ২০১৮’ প্রণয়ন করা হয়। ওই আইনের মাধ্যমে ছয়টি কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    বোর্ডগুলো হলো—বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ, বেফাকুল মাদারিসিল কওমিয়া গওহরডাঙ্গা বাংলাদেশ, আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশ, আযাদ দ্বীনি এদারায়ে তালীম বাংলাদেশ, তানযীমুল মাদারিসিদ দ্বীনিয়া বাংলাদেশ এবং জাতীয় দ্বীনি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বাংলাদেশ।

    প্রধানমন্ত্রী জানান, গত ২৩ জুন ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা, ২০২৬’ সংশোধন করা হয়েছে। এতে সহকারী মৌলভী (ক্বারী) ও ইবতেদায়ী ক্বারী পদে নিয়োগের কাম্য যোগ্যতা হিসেবে ওই ছয়টি কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের সনদকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

    এর ফলে ওই দুটি পদে কওমি মাদ্রাসায় দাওরায়ে হাদিস (তাকমীল) ডিগ্রির পাশাপাশি ইলমে কিরাআত অথবা হিফজুল কোরআন সনদপ্রাপ্তদের নিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

  • রোজার পরে এইচএসসি পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী

    রোজার পরে এইচএসসি পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষা ডেস্ক:

    সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে পবিত্র রমজান মাসের পরই উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মান ও প্রস্তুতির স্বার্থে রোজার পরেই পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল থাকছে বলেও জানান তিনি।

    সোমবার (৩১ আগস্ট) সচিবালয়ে চীন সফর পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী এ তথ্য জানান।

    পরীক্ষার সময় ও সমন্বয়ের পরিকল্পনার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন বলেন, আমাদের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে পরীক্ষাগুলোকে দেশের আবহাওয়া ও বৈশ্বিক শিক্ষা ক্যালেন্ডারের সঙ্গে সমন্বয় করা। বিশেষ করে বর্ষাকালের ভোগান্তি এড়াতে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষাকে এগিয়ে নিয়ে আসা জরুরি। এর সঙ্গে মিল রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা এবং যারা উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যেতে চায়, তাদের সময়সূচিকেও একটি নির্দিষ্ট ও সুশৃঙ্খল জায়গায় নিয়ে আসতে হবে। মন্ত্রী জানান, সেই দৃষ্টিকোণ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার সবচেয়ে উপযুক্ত মাস হচ্ছে ফেব্রুয়ারি। কিন্তু রোজার কারণে এই সময়ে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

    কেন রোজার আগে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হলো না এ প্রসঙ্গে ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, অংশীজনদের অনুরোধে প্রথমে পরীক্ষা এগিয়ে আনার একটি পরিকল্পনা করা হয়েছিল। শিক্ষাবর্ষের হিসাব মিলিয়ে জানুয়ারিতে পরীক্ষা শুরু করলে এক মাসের মধ্যে তা শেষ করা সম্ভব হতো। কারণ আগামী বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে রোজা শুরু হয়ে ১০ মার্চ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। জানুয়ারিতে পরীক্ষা শুরু করলে ফেব্রুয়ারির ৭ তারিখের মধ্যেই তা শেষ হয়ে যেত।

    পরীক্ষা বেশি এগিয়ে নিয়ে আসলে শিক্ষার্থীদের সিলেবাস শেষ হলেও তাদের কোর্স রিভিউ বা রিভিশন করার পর্যাপ্ত সুযোগ থাকে না। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের রিভিউ প্রসেসটা ব্যাহত হবে বলে জানান মন্ত্রী।

    শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে এমন সিদ্ধান্ত জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা তো শিক্ষার্থীদের ক্ষতিগ্রস্ত (হার্ট) করব না। তাদেরকে রিভিউ দেওয়ার ও কোর্সের প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। তাই পুনরায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে পরীক্ষা রোজার পরেই অনুষ্ঠিত হবে। যদিও কিছু পক্ষ রোজার আগেই পরীক্ষা চেয়েছিল, কিন্তু শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মান ও প্রস্তুতির স্বার্থে রোজার পরেই পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল থাকছে।

    এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের কোনো ধরনের বাড়তি চাপ বা আশঙ্কার কারণ নেই উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, কোনো ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় বা অন্য কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি না ঘটলে পরীক্ষা যথাসময়েই হবে।

    শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রায় দেড় বছর আগেই তাদের পরীক্ষার সম্ভাব্য সময় জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং তারা সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাই এই মুহূর্তে পরীক্ষা নিয়ে বাড়তি কোনো চাপ নেওয়ার কারণ নেই।

  • ১৪ মানদণ্ডে সেরা শিক্ষক নির্বাচন, থাকছে পদক ও পুরস্কার

    ১৪ মানদণ্ডে সেরা শিক্ষক নির্বাচন, থাকছে পদক ও পুরস্কার

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষকদের ভালো কাজের স্বীকৃতি দিতে ‘সেরা শিক্ষক’ নির্বাচন করতে এবছর ১৪টি মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব মানদণ্ডের ভিত্তিতে যোগ্য শিক্ষকদের পদক ও পুরস্কার দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

    সোমবার (৩১ আগস্ট) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের এক চিঠিতে এ তথ্য জানা যায়। চিঠিটি সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের পাঠানো হয়েছে।তে বলা হয়, গত ২৮ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ পরিদর্শন করেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার মানোন্নয়নে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেন। এ লক্ষ্যে শিক্ষকদের ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পদক ও পুরস্কারের ব্যবস্থা করে তাদের পাঠদান ও নেতৃত্বগুণ বিকাশে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ করা হয়েছে।

    সেরা শিক্ষক নির্বাচনের ক্ষেত্রে যেসব মানদণ্ড বিবেচনা করা হবে, তার মধ্যে রয়েছে শিক্ষাগত যোগ্যতা, শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা, বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান ও নিষ্ঠা, শিক্ষা উপকরণ ব্যবহারে দক্ষতা।

    এ ছাড়া মূল্যায়নে পারদর্শিতা বা প্রশ্নপত্র

    প্রণয়ন, উত্তরপত্র মূল্যায়নে দক্ষতা, ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক, সহকর্মী ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতার মনোভাবও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

    শিক্ষকের চারিত্রিক দৃঢ়তা, ব্যক্তিত্ব, সততা ও উদ্যম; পোশাক-পরিচ্ছদ ও চ্যালেঞ্জ গ্রহণের সক্ষমতা এবং শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতাও মূল্যায়নের আওতায় থাকবে।

    পাশাপাশি পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নে অবদান, পেশাগত বা গবেষণামূলক সৃজনশীল প্রকাশনা এবং গুণগতমানের শিক্ষার উদ্ভাবনী সৃজনশীল উদ্যোগ ও উত্তম চর্চার নির্দেশনার ভূমিকা বিবেচনা করা হবে।

    এ ছাড়া কমিটির কাজে দক্ষতা ও আর্থিক শৃঙ্খলা, কার্যকর শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনায় পারদর্শিতা এবং সবুজ ও পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাস ও স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান পুন:সজ্জিতকরণও সেরা শিক্ষক নির্বাচনের মানদণ্ড হিসেবে রাখা হয়েছে।

  • এসএসসি-দাখিল পরীক্ষায় অভিন্ন প্রশ্ন

    এসএসসি-দাখিল পরীক্ষায় অভিন্ন প্রশ্ন

    শিক্ষা ডেস্ক:

    এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার বিষয় কোডে পরিবর্তন আনা হয়েছে। সাধারণ শিক্ষা ধারার এসএসসি পরীক্ষার বিষয় কোডের সঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষা ধারার দাখিল স্তরের বিষয় কোড সমন্বয় করে নতুন বিষয় কোড নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এ বিষয় কোড ২০২৭ খ্রিষ্টাব্দের দাখিল পরীক্ষা থেকে নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে।

    সোমবার (৩১ আগস্ট) বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।এতে বলা হয়, এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় অভিন্ন প্রশ্নপত্র প্রণয়নের জন্য সাধারণ শিক্ষাধারার এসএসসির বিষয় কোডের সঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষাধারার দাখিল স্তরের বিষয় কোড সময়োপযোগী পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। দাখিল স্তরের বিষয়গুলোর পুরাতন কোড ও নতুন কোড সম্বলিত তালিকা প্রকাশ করা হলো।

    পুনর্নির্ধারিত নতুন বিষয় কোডগুলো নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে দাখিল পরীক্ষা ২০২৭ থেকে কার্যকর হবে। দাখিল পরীক্ষা ২০২৭ থেকে নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন, ফরম পূরণ, পরীক্ষার্থী সংক্রান্ত সব প্রক্রিয়া, প্রবেশপত্র, প্রশ্নপত্র, উত্তরপত্র, নম্বরপত্র, সনদপত্র এবং পরীক্ষা-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সব কার্যক্রমে সংযুক্ত তালিকায় বর্ণিত নতুন বিষয় কোড ব্যবহার করতে হবে।

    অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে পূর্বের বিষয় কোড বহাল থাকবে। এমন অবস্থায়, সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ করা হলো।

  • প্রাইম মিনিস্টার গোল্ডকাপ: মাঠ প্রস্তুতের নির্দেশ

    প্রাইম মিনিস্টার গোল্ডকাপ: মাঠ প্রস্তুতের নির্দেশ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা ২০২৬ সামনে রেখে দেশের প্রতিটি উপজেলায় অন্তত পাঁচটি করে ফুটবল খেলার উপযোগী মাঠ প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। একই সঙ্গে মাঠগুলো প্রস্তুত হয়েছে কি না, তা সরেজমিনে পরিদর্শন করে সচিত্র প্রতিবেদন পাঠাতে বলা হয়েছে।

    রোববার (৩০ আগস্ট) মাউশির শারীরিক শিক্ষা বিভাগের উপপরিচালক অধ্যাপক মো. শহিদুল ইসলামের সই করা এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

    চিঠিতে বলা হয়েছে, আগামী ১০ সেপ্টেম্বর শুরু হবে প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা। এতে দেশের বিভিন্ন ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অংশ নেবে। স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রায় ৫০ হাজার দল এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

    প্রতিযোগিতাকে সামনে রেখে প্রতিটি উপজেলায় পাঁচটি করে ফুটবল খেলার মাঠ প্রস্তুত আছে কি না, তা সরেজমিনে পরিদর্শনের জন্য মাধ্যমিক ও থানা শিক্ষা কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিদর্শনের পর মাঠের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে সচিত্র প্রতিবেদন আঞ্চলিক পরিচালকের মাধ্যমে মাউশিতে পাঠাতে হবে। এ জন্য নির্ধারিত ই-মেইল ঠিকানায় প্রতিবেদন পাঠাতে বলা হয়েছে। মাঠ প্রস্তুতির অগ্রগতি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়।

    এদিকে মাউশি সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি তাদের মধ্যে ক্রীড়ার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে সারাদেশে প্রথমবারের মতো ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়ে বড় পরিসরে এ ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হচ্ছে।

    প্রতিযোগিতার প্রাথমিক পর্ব উপজেলা পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়ে ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হবে।

    উল্লেখ্য, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে।

  • দাখিলের ৯ম শ্রেণিতে রেজিস্ট্রেশন শুরু ৬ সেপ্টেম্বর

    দাখিলের ৯ম শ্রেণিতে রেজিস্ট্রেশন শুরু ৬ সেপ্টেম্বর

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে দাখিল ৯ম শ্রেণির (দাখিল পরীক্ষা-২০২৮) এর শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম শুরু হবে ৬ সেপ্টেম্বর। তথ্য এন্ট্রি করা যাবে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

    রোববার (৩০ আগস্ট) মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়।

    আরো জানা যায়, অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন ফি জমা দেয়া যাবে ৬ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর। বিলম্বসহ রেজিস্ট্রেশন ফি জমা দেয়া যাবে ১৬ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর। তথ্য (eSIF) এন্ট্রি চলবে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। পূরণকৃত e-SIF Final Submission করা যাবে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

    তদ্বারা অত্র বোর্ডের আওতাধীন স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ও পাঠদানের অনুমতিপ্রাপ্ত দাখিল/আলিম এবং আরবি বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত ফাযিল/কামিল পর্যায়ের মাদ্রাসার অধ্যক্ষ/সুপারসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে জানানো যাচ্ছে যে

    এতে বলা হয়েছে, দাখিল ৯ম শ্রেণিতে ভর্তি ও অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া নির্ধারিত নির্দেশনা অনুসরণ করে সময়ের মধ্যে অনলাইনে e-SIF পদ্ধতিতে সম্পন্ন করার জন্য অনুরোধ করা হলো।

    নির্দেশায় জানা যায়, ৮ম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ও রেজিস্ট্রেশনধারী শিক্ষার্থীরা অবশ্যই ৯ম শ্রেণিতে ভর্তি হবার সুযোগ পাবে। ৬ষ্ঠ শ্রেণির রেজিস্ট্রেশনের তথ্য অনুযায়ী লিস্ট প্রস্তুত করতে হবে এবং প্রস্তুতকৃত টটলিস্ট অনুযায়ী অনলাইনে তথ্য এন্ট্রি দেয়ার সময় ৬ষ্ঠ শ্রেণি পাসের খ্রিষ্টাব্দ, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, শিক্ষা বোর্ড সঠিক ভাবে সিলেক্ট করতে হবে। অন্যথায় ভুল শিক্ষার্থীর তথ্য এন্ট্রি হয়ে থাকলে তার দায়-দায়িত্ব মাদ্রাসা প্রধানকে বহন করতে হবে। যে সব শিক্ষার্থী ৬ষ্ঠ, ৮ম শ্রেণিতে রেজিস্ট্রেশন করার সুয়োগ পায়নি সে সব শিক্ষার্থী প্রতিষ্টানপ্রধানের মাধ্যমে বোর্ডে আবেদন, জন্মনিবন্ধন কার্ডের ফটোকপি, লিষ্ট, ছবি, ২৪১ টাকা ব্যাংক ড্রাগট করে সরাসরি ৯ম শ্রেণিতে রেজিস্ট্রেশন করার সুযোগ পাবে। শিক্ষার্থীর বয়স ১ জানুয়ারি তারিখে ১২ বছর পূর্ণ না হলে এবং ২০ বছরের অধিক হলে কোন শিক্ষার্থী দাখিল নবম শ্রেণিতে ভর্তি ও রেজিস্ট্রেশন হতে পারবেন না। তবে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে দাখিল পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশনের বয়স-সীমা ১২ থেকে ২৩ বছর পর্যন্ত। বোর্ড থেকে সরবরাহকৃত প্রতিষ্ঠানের EIIN ভিত্তিক মোবাইল সিম ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। অনলাইনে শিক্ষার্থীর তথ্য এন্ট্রি দেয়ার সময় অবশ্যই তার ব্যক্তিগত (যদি থাকে) মোবাইল নম্বর অথবা অভিভাবকের মোবাইল নম্বর ইনপুট দিতে হবে। একটি মোবাইল নম্বর দিয়ে শুধুমাত্র একজন শিক্ষার্থীরই রেজিস্ট্রেশন করা যাবে।

  • এসএসসিতে ফেল করা শিক্ষার্থীদের জন্য সুখবর

    এসএসসিতে ফেল করা শিক্ষার্থীদের জন্য সুখবর

    শিক্ষা ডেস্ক:

    এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ফেল করা শিক্ষার্থীরা ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে তাদের জন্য ‘বিশেষ পলিসি’ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন।

    তিনি বলেন, ‘আগের সরকার এসব অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের নিয়ে ভাবেনি। কিন্তু আমরা তাদের জন্য বিশেষ পলিসি তৈরি করছি।’ রোববার (৩০ আগস্ট) রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

    মাহদী আমিন বলেন, ‘এসব তরুণদের টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি), স্বল্পমেয়াদি কারিগরি ও ভোকেশনাল কোর্সে যুক্ত করে কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া হবে। প্রয়োজনে তাদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

    ফল পরিবর্তন ও মূল্যায়নের স্বচ্ছতা প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, ফ্যাসিবাদী আমলে পরিসংখ্যান ভালো দেখানোর জন্য কৃত্রিমভাবে জিপিএ-৫ এর বন্যা ভাসিয়ে দেওয়া হতো। এমনকি পরীক্ষা না দিয়েও পাস করিয়ে দেওয়ার কালচার ছিল। আমরা সেই আত্মঘাতী পথ বন্ধ করেছি। এবার কোনো গ্রেস নম্বর দেওয়া হয়নি। শিক্ষার্থীরা শতভাগ নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ মূল্যায়নে তাদের জিপিএ ও জেনুইন (সঠিক) ফলাফল পেয়েছে।

    গত ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ছিল ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। এ বছর ফেল করেছে ৬ লাখ ৯০ হাজার ৬০৮ জন।প্রকাশিত ফলাফল অনুযাযী- এ বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেন মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন এবং ফেল করেছে ৬ লাখ ৯০ হাজার ৬০৮ জন। ফেল ৬ লাখ ৯০ হাজার ৬০৮ জন।

  • ২০২৭ শিক্ষাবর্ষেই দেশব্যাপী স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু হবে

    ২০২৭ শিক্ষাবর্ষেই দেশব্যাপী স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু হবে

    শিক্ষা ডেস্ক:

    আসন্ন ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকেই দেশব্যাপী প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালুর বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তবে চলমান পাইলটিং কর্মসূচির ফলাফলে কোনো জটিলতা বা ত্রুটি ধরা পড়লে সময় কিছুটা পিছিয়ে গেলেও ২০২৭ সালের মধ্যেই এটি বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

    রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে রংপুরের প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (পিটিআই) প্রশিক্ষণার্থীদের তৈরি মডেল বিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

    প্রতিমন্ত্রী জানান, স্কুল ফিডিংয়ের পাইলটিং কার্যক্রমে এখন পর্যন্ত ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। আগামীকাল সোমবার দিনাজপুরে আয়োজিত একটি কর্মশালায় এই কার্যক্রমের বিস্তারিত চিত্র ও মূল্যায়ন পাওয়া যাবে। পাইলটিং সফল হলে আগামী বছরের শুরুতেই একযোগে দেশব্যাপী এই কর্মসূচি চালু হবে।

    শিক্ষার্থীর সংখ্যা হ্রাস পাওয়াসংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষার্থী বাড়ছে নাকি কমছে—সেটি মুখ্য নয়, বরং প্রতিটি শিশু যেন বিদ্যালয়ে যায় এবং সঠিক ও মানসম্মত শিক্ষা পায়, তা নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

    তিনি আরও বলেন, যে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধায় সঠিক শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে সরকারের কঠোর নজরদারি থাকবে। শিশুদের শিক্ষা অর্জনে কোনো ধরনের আপস করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী পিটিআই প্রশিক্ষণার্থীদের ছয় ঘণ্টাব্যাপী একটি কর্মশালায় অংশ নেন।

  • র‍্যাঙ্কিং বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে বাজেট বরাদ্দ: ইউজিসি চেয়ারম্যান

    র‍্যাঙ্কিং বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে বাজেট বরাদ্দ: ইউজিসি চেয়ারম্যান

    শিক্ষা ডেস্ক:

    আন্তর্জাতিক র‍্যাঙ্কিংয়ের পাশাপাশি দেশীয় মানদণ্ডে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর র‍্যাঙ্কিং বিবেচনা করে বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।

    শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, আন্তর্জাতিক ও দেশীয় র‍্যাংকিং বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বাজেট বরাদ্দ করা হবে। আন্তর্জাতিক র‍্যাঙ্কিংয়ের পাশাপাশি আমরা চেষ্টা করছি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য একটি দেশীয় মানদণ্ডের র‍্যাঙ্কিং ব্যবস্থা তৈরি করতে। এতে অগ্রাধিকারভিত্তিতে কোন বিশ্ববিদ্যালয়কে কতটা গুরুত্ব দেওয়া যায়, সেই সুযোগ তৈরি হবে।

    দেশীয় র‍্যাঙ্কিং চালুর গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমরা কাজ করছি। দ্রুতই আপনারা এর ফল দেখতে পারবেন। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সক্ষমতা ও মান বিবেচনা করে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা ও গবেষণার মান উন্নয়নে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি হবে।

    এ সময় দ্বিতীয় ভাষা শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, দ্বিতীয় ভাষা আমাদের অগ্রাধিকারের অংশ। আমরা ইতোমধ্যে ৩০টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় ভাষাকে প্রাধান্য দিয়ে ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র তৈরি করেছি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতোমধ্যে ভাষা ইনস্টিটিউট রয়েছে। এটিকে আরও সমৃদ্ধ করা হবে, যাতে এখানে শিক্ষার্থীদের ভাষা শেখার আরও ভালো ব্যবস্থা করা যায়।

    নবীনবরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইজন উপ-উপাচার্য, প্রক্টর, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, সিন্ডিকেট সদস্য, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • দাখিল ৮ম শ্রেণিতে বৃত্তি পরীক্ষার ফরম পূরণ শুরু ২ সেপ্টেম্বর

    দাখিল ৮ম শ্রেণিতে বৃত্তি পরীক্ষার ফরম পূরণ শুরু ২ সেপ্টেম্বর

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দাখিলের ৮ম শ্রেণিতে বৃত্তি পরীক্ষার ফরমপূরণ শুরু হবে ২ সেপ্টেম্বর। চলবে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। অনলাইনে বোর্ড ফি জমা দেয়া যাবে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ফরম পূরণের মোট ফি ৬০০ টাকা।

    বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়। বিজ্ঞপ্তিতে জানা যায়, দাখিল ৮ম শ্রেণি বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬ এর ফরমপূরণ প্রক্রিয়া নির্ধারিত নির্দেশনা অনুসরণ করে যথা সময়ের মধ্যে অনলাইনে সম্পন্ন করতে হবে। নির্দেশাগুলো হলো- অনুমোদিত দাখিল, আলিম, ফাযিল ও কামিল মাদ্রাসায় ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশনের ভিত্তিতে শতকরা সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ দাখিল ৮ম শ্রেণি বৃত্তি পরীক্ষার জন্য ফরমপূরণ করতে পারবে; প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর ৪০০ টাকা বোর্ড ফি বাবদ বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অনুকূলে অনলাইনে জমা দিতে হবে। প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর ২০০ টাকা কেন্দ্র ফি বাবদ সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসায় জমা দিতে হবে। অংশগ্রহণকারী সব পরীক্ষার্থীর কেন্দ্র ফি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ বা সুপারিনটেনডেন্ট কর্তৃক সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র সচিবের অনুকূলে জমা দিতে হবে; প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর ফরমপূরণ প্রক্রিয়া মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে অনলাইনে সম্পন্ন করতে হবে।অনলাইনে ফরমপূরণ এবং ফি প্রদান প্রক্রিয়া- বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে অনলাইন সেবা-২ প্যানেলে e-SIF/e-FF এ ক্লিক করে JDC/৮ম বৃত্তি e-FF ২০২৬ সিলেক্ট করে Ccontinue বাটনে click করে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার EIIN ও Password দিয়ে Login করে Probable List এ যেতে হবে এবং Print করে হার্ডকপিতে লালকালি ব্যবহার করে টিক চিহ্ন দিয়ে পরীক্ষার্থী নির্ধারণ করতে হবে; এ হার্ডকপি অনুসরণ করে কম্পিউটারে প্রদর্শনকৃত Probable List থেকে পরীক্ষার্থী Select করতে হবে; Probable List থেকে পরীক্ষার্থী Select করা হলে একটি Temporary List তৈরি হবে; Temporary List প্রিন্ট করে যাচাই বাছাই করে প্রয়োজন হলে পরীক্ষার্থী Select/Unselectকরা যাবে; এরপর পেমেন্ট বাটনে ক্লিক করে সোনালী ব্যাংকের পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে ফরমপূরণের ফি দিতে হবে; ফি এর টাকা ব্যাংকে জমা দেয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যে Final Candidate List Print Active হবে; Final Candidate List Print করে পরীক্ষার্থীর স্বাক্ষর গ্রহণ করতে হবে এবং প্রতি পৃষ্ঠায় মাদ্রাসা প্রধান স্বাক্ষর করবেন; প্রয়োজন হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবশিষ্ট ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে থেকে ফরমপূরণের কাজ একইভাবে সম্পন্ন করতে পারবে।

  • শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সাপ আতঙ্ক

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সাপ আতঙ্ক

    শিক্ষা ডেস্ক:

    সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের করিডোরে তিনটি সাপ দেখা গেছে। জনবহুল অফিসে সাপের উপস্থিতির মতো এমন বিরল ঘটনায় কর্মকর্তার আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

    বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে সচিবালয়ের ৬ নম্বর ভবনের ১৯ তলার করিডোরে সাপগুলো দেখা যায়।

    এত উঁচু ভবনের ১৯ তলায় সাপ উপস্থিতি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের ধারণা, ভবনের কোনো স্টোরেজে আরো সাপ থাকতে পারে।রাজধানী ঢাকায় বসবাস উপযোগী নয় বলে সাপের উপস্থিতি দেখা যায় না সচারাচার। তবে সাপগুলো কোন প্রজাতির তা নিশ্চিত জানা যায়নি।

    গত বছরের নভেম্বরে রাজধানী ঢাকার বেশ কয়েকটি এলাকায় সবচেয়ে সাপ উদ্ধারের ঘটনা ঘটে। সে সময় সব থেকে বেশি সংখ্যক সাপ দেখা যায় রাজধানীতে। গত বছরে চার মাসে ঢাকার বিভিন্ন জনবহুল এলাকা থেকে তিনশো’র বেশি বিষধর সাপ উদ্ধার করা হয়েছে।

    এর আগেও ঢাকায় কিছুসংখ্যক বিষধর সাপ পাওয়া গেলেও সেবারই প্রথম এতো বেশিসংখ্যক সাপের খবর পাওয়া গেছে।

    কিন্তু ঢাকার মতো জনবহুল এলাকায় এ ধরণের বিষধর সাপ পাওয়ায় গবেষকদের কেউ কেউ বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন, আবার কোনো কোনো গবেষক বিষয়টি স্বাভাবিক বলেই মনে করছেন।

    ঢাকার বনশ্রী, আফতাবনগর, মোহাম্মদপুর, বসিলা, উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টর, খিলগাঁও, কচুক্ষেত, মিরপুর-২, নিকেতন, উত্তরার উত্তরখান, দক্ষিণখান থেকে এখন পর্যন্ত বিষধর সাপগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাপ পাওয়া গেছে উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের রাজউকের ফ্ল্যাট প্রকল্প এলাকায়।

  • প্রাথমিকে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ নিয়ে সুখবর

    প্রাথমিকে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ নিয়ে সুখবর

    শিক্ষা ডেস্ক:

    প্রাথমিকে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ নিয়ে সুখবর

    অনেকদিন ধরে আইনি জটিলতায় ঝুলে থাকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩২ হাজারের বেশি প্রধান শিক্ষক পদে শূন্যতা পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বড় এই শূন্যপদ পূরণে অবশেষে অগ্রগতি দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে এ প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান অগ্রগতি হতে পারে।

    প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এরই মধ্যে মাঠপর্যায়ে সহকারী শিক্ষকদের গ্রেডেশন তালিকা প্রস্তুতের কাজ শুরু হয়েছে। তালিকা প্রণয়নের পর তা যাচাই-বাছাই করা হবে। এ সময় কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে সেগুলোও নিষ্পত্তি করা হবে। পরে সংশোধিত তালিকা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সরকারি কর্ম কমিশনে (পিএসসি) পাঠানো হবে।

    পিএসসির অনুমোদন মিললে সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে। প্রায় তিন মাসের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

    অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশন বিভাগের পরিচালক মীর আব্দুল আউয়াল আল মেহেদী বলেন, মামলার জটিলতা ছিল। সেই মামলার জটিলতা নিষ্পত্তি হয়েছে। এখন মাঠপর্যায়ে পদোন্নতির জন্য গ্রেডেশন তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। বাকি কাজ শিগগির শেষ হবে।

    পদোন্নতি আটকা ছিল যে মামলায়

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে শূন্যতা দীর্ঘদিনের। শূন্যপদ থাকলেও এসব পদে বড় পরিসরে পদোন্নতি দেওয়া যাচ্ছিল না। এর পেছনে ছিল জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি নিয়ে আইনি জটিলতা।

    ২০১৩ সালে সারা দেশে বিপুলসংখ্যক বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়। জাতীয়করণকৃত বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সরকারি চাকরিতে অন্তর্ভুক্ত করার পর তাদের চাকরিকাল, জ্যেষ্ঠতা এবং পদোন্নতি কীভাবে নির্ধারণ করা হবে, তা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। এ সংক্রান্ত বিধিমালার জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতির বিধান চ্যালেঞ্জ করে আদালতে মামলা হয়।

    মামলার কারণে কারা জ্যেষ্ঠ হিসেবে বিবেচিত হবেন এবং সেই জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে কারা প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির সুযোগ পাবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। ফলে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়াও আটকে ছিল।দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর চলতি বছরের ২ জুলাই আপিল বিভাগ জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি সংক্রান্ত বিধানের বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল মঞ্জুর করেন। এর ফলে আগে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের কারণে তৈরি হওয়া আইনি জটিলতার অবসান হয় এবং প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির পথ খুলে যায়।

  • শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে সরকারের ৭ নির্দেশনা

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে সরকারের ৭ নির্দেশনা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা ২০২৬’ ঘিরে দেশজুড়ে প্রচার কার্যক্রম জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে দেশের সব স্কুল, কলেজ ও মাদরাসাসহ মাঠপর্যায়ের শিক্ষা অফিসগুলোতে লোগো, মাসকট, ড্রপডাউন-গেট ব্যানার ও ফেস্টুন প্রদর্শনসহ সাত ধরনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতা সম্পর্কে জানানো এবং প্রতিষ্ঠানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ওয়েবসাইটে প্রচারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।


    মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) প্রকাশিত এক পরিপত্রে জানানো হয়েছে, সম্প্রতি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক সভায় প্রতিযোগিতার প্রচার-প্রচারণা জোরদারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২৪ আগস্ট মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) শারীরিক শিক্ষা বিভাগ এবং ২৫ আগস্ট বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড পৃথক বিজ্ঞপ্তি দিয়ে তাদের আওতাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছে।

    নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মাঠপর্যায়ের শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট সব অফিস তাদের আওতাধীন এলাকার গুরুত্বপূর্ণ ও দর্শনীয় স্থানে প্রতিযোগিতার লোগো, মাসকট, ড্রপডাউন-গেট ব্যানার ও ফেস্টুন প্রদর্শনের ব্যবস্থা করবে। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ফটক বা গেটে বাধ্যতামূলকভাবে ব্যানার প্রদর্শন করতে হবে। প্রতিষ্ঠানের ভেতরের দর্শনীয় স্থানেও ড্রপডাউন ব্যানার ঝোলাতে হবে। এছাড়া ক্লাস চলার সময় প্রতিটি শ্রেণিতে নোটিশ পাঠ করে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ‘প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা ২০২৬’ সম্পর্কে জানাতে হবে। প্রতিষ্ঠানের মূল নোটিশ বোর্ডে এ-সংক্রান্ত তথ্য টাঙানোর পাশাপাশি নিজস্ব অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজ বা গ্রুপেও প্রতিযোগিতার প্রচার চালাতে হবে। একইভাবে প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রতিযোগিতা-সংক্রান্ত তথ্য ও ব্যানার প্রকাশ করতে হবে।

    প্রচার উপকরণ হিসেবে লোগো, মাসকট, ব্যানার ও ফেস্টুনের নমুনা সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে নির্দিষ্ট গুগল ড্রাইভে দেয়া হয়েছে। সেখান থেকে এসব উপকরণ সংগ্রহ করে মাঠপর্যায়ে প্রচার ও প্রদর্শনের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।

    তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান ফুটবলার তুলে আনা, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ এবং দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য তৈরির লক্ষ্য নিয়ে ‘প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা ২০২৬’ আয়োজন করা হচ্ছে। প্রায় ৫০ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এ প্রতিযোগিতার সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ফুটবল দল গঠনের উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। সংশোধিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ৯ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু হবে। মাধ্যমিক পর্যায়ের উপজেলা বা থানা পর্যায়ের খেলা হবে ৯ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর। জেলা পর্যায়ের খেলা হবে ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত। শিক্ষা অঞ্চল পর্যায়ের খেলা হবে ২২ থেকে ২৫ অক্টোবর এবং জাতীয় পর্যায়ের খেলা হবে ২৭ থেকে ৩০ অক্টোবর।

    উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে উপজেলা পর্যায়ের খেলা হবে ১ থেকে ১০ অক্টোবর, জেলা পর্যায়ের খেলা ১৩ থেকে ২০ অক্টোবর এবং শিক্ষা অঞ্চল ও জাতীয় পর্যায়ের খেলা যথাক্রমে ২২ থেকে ২৫ অক্টোবর এবং ২৭ থেকে ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে।

    প্রতিযোগিতায় মাধ্যমিক পর্যায় (বালক), মাধ্যমিক পর্যায় (বালিকা-ঐচ্ছিক), উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় (বালক) এবং উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় (বালিকা-ঐচ্ছিক)-এই চার বিভাগে খেলা হবে। প্রতিযোগিতাটি উপজেলা বা থানা, জেলা, শিক্ষা অঞ্চল ও জাতীয়-চার ধাপে অনুষ্ঠিত হবে। প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও যাতায়াত সহজ করতে উপজেলা পর্যায়ের খেলা চার থেকে পাঁচটি ভেন্যুতে আয়োজনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ের বিজয়ী দল জেলা পর্যায়ে এবং জেলা পর্যায়ের বিজয়ী দল শিক্ষা অঞ্চল পর্যায়ে খেলবে। ঢাকা, খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ-এই সাত শিক্ষা অঞ্চলের বিজয়ী দলের সঙ্গে কুমিল্লা ও সিলেট অঞ্চলের যৌথ বাছাই থেকে একটি দল নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে মোট আটটি আঞ্চলিক দল অংশ নেবে।

    জাতীয় পর্যায়ে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক-দুই স্তরে বালক ও বালিকা মিলিয়ে মোট ৩২টি দল খেলবে। এর মধ্যে মাধ্যমিক পর্যায়ের ১৬টি এবং উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের ১৬টি দল থাকবে।

    নীতিমালা অনুযায়ী, মাধ্যমিক পর্যায়ের খেলোয়াড়দের বয়স সর্বোচ্চ ১৭ বছর এবং উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের খেলোয়াড়দের বয়স সর্বোচ্চ ১৯ বছর হতে হবে। বয়স নির্ধারণের তারিখ ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬। অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়কে নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়মিত শিক্ষার্থী হতে হবে। চলমান এসএসসি বা এইচএসসি পরীক্ষার্থীরাও নিজ প্রতিষ্ঠানের হয়ে খেলতে পারবেন। প্রতিটি দলে ১৬ জন খেলোয়াড় এবং দুজন কর্মকর্তা বা শিক্ষক-ম্যানেজার ও কোচ-থাকবেন। বালিকা দলের ক্ষেত্রে অন্তত একজন নারী শিক্ষিকা থাকা বাধ্যতামূলক। খেলা হবে নকআউট পদ্ধতিতে। প্রতিটি ম্যাচের সময় ৯০ মিনিট। নির্ধারিত সময়ে খেলা অমীমাংসিত থাকলে সরাসরি টাইব্রেকারে বিজয়ী নির্ধারণ করা হবে। প্রতি ম্যাচে সর্বোচ্চ পাঁচজন খেলোয়াড় পরিবর্তন করা যাবে।

    প্রতিযোগিতায় অবৈধ, ভুয়া বা অপেশাদার খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করালে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী, শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানপ্রধানের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোনো দল পাতানো খেলায় জড়িত হলে বা ইচ্ছাকৃতভাবে ম্যাচ ছেড়ে মাঠ থেকে উঠে গেলে শৃঙ্খলা উপকমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দলকে সর্বোচ্চ দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হতে পারে। এ ছাড়া রেফারি, প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় বা সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে লাঞ্ছিত করলে দল ও খেলোয়াড়কে বহিষ্কারের বিধান রাখা হয়েছে। প্রতিযোগিতার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, খেলোয়াড়, শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের নীতিমালা কঠোরভাবে মেনে চলতে বলা হয়েছে।

    জাতীয় পর্যায়ের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলকে ট্রফি, মেডেল ও নগদ অর্থ পুরস্কার দেয়া হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন পর্যায়ের বিজয়ী দল এবং সেরা খেলোয়াড়, সেরা গোলরক্ষক ও সর্বোচ্চ গোলদাতাকেও পুরস্কৃত করা হবে।

  • সকল সরকারি প্রাথমিকে  শূন্যপদের তথ্য পাঠানোর নির্দেশ

    সকল সরকারি প্রাথমিকে শূন্যপদের তথ্য পাঠানোর নির্দেশ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত সরকারি শিক্ষকের শূন্যপদের হালনাগাদ তথ্য পাঠানোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। অধিদপ্তরের নির্ধারিত ইমেইলে এ তথ্য পাঠাতে হবে। সোমবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এক চিঠিতে এ তথ্য জানা গেছে। এ চিঠি সব জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের পাঠানো হয়েছে।

    এসব তথ্যে সফট কপি ও হার্ডকপি পাঠাতে হবে। ঠিতে বলা হয়েছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ একটি চলমান প্রক্রিয়া। শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত সরকারি শিক্ষকের শূন্যপদের হালনাগাদ তথ্য প্রয়োজন। আগামী ২৫ আগস্টের মধ্যে ১২টার মধ্যে ad.recruitdpe@yahoo.com-জেলার শূন্যপদের হালনাগাদ তথ্য পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হলো। যেসব তথ্য দিতে হবে তা হলো: উপজেলার নাম, সহকারী শিক্ষকের অনুমোদিত পদের সংখ্যা, কর্মরত পদের সংখ্যা, শূন্যপদের সংখ্যা (চলতি বছরের দায়িত্বের পদসহ) এবং চলতি দায়িত্ব প্রদানকৃত সংখ্যা, নিয়োগযোগ্য পদসংখ্যা, মন্তব্য- মামলা জনিত সংরক্ষণ।

  • কর্মমুখী হবে মাদরাসা শিক্ষা

    কর্মমুখী হবে মাদরাসা শিক্ষা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    মাদরাসা শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে মাদরাসা শিক্ষার কারিকুলাম যুগোপযোগী ও কর্মবাজারমুখী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন। এ বিষয়ে চলতি মাসের মধ্যেই একটি কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

    ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে ‘মাদরাসায় উচ্চশিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন ও কর্মসংস্থান’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অধ্যাপক মামুন বলেন, মাদরাসা শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য হলো কারিকুলামকে কর্ম বাজারমুখী করা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা। এর মাধ্যমে দেশে পাশাপাশি বিদেশেও মাদরাসা শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষেত্র তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করতে চায় সরকার।

    তিনি বলেন, অন্যান্য শিক্ষা ধারার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও সুযোগের যে ব্যবধান তৈরি হয়েছে, তা কমিয়ে আনতে চায় সরকার। দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির মাধ্যমে তাদের জাতি গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখার সুযোগ করে দেওয়াই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।

    কারিকুলাম যুগোপযোগী করার ক্ষেত্রে ‘বটম-আপ অ্যাপ্রোচ’ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে ইউজিসির এ সদস্য বলেন, ওপর থেকে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে না দিয়ে মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করেই কারিকুলাম প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আলোচনার ভিত্তিতে চলতি মাসের মধ্যেই কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করে তা শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে।

    কর্মশালায় মাদরাসা শিক্ষার্থীদের তৃতীয় ভাষা শেখার সুযোগ, ইউজিসির দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণে যুক্ত করা, উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা এবং স্টার্টআপসহ দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ কাজে লাগানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবু জাফর খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস ছিদ্দিকী ও কোষাধ্যক্ষ শাহীনুল ইসলাম। কর্মশালায় ৩০০ জন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী অংশ নেন।

  • এক রাতেই মতিঝিল আইডিয়ালের ৪৬ শিক্ষককে বদলি

    এক রাতেই মতিঝিল আইডিয়ালের ৪৬ শিক্ষককে বদলি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের মূল শাখা থেকে একসঙ্গে ৪৬ শিক্ষককে বনশ্রী ও মুগদা শাখায় বদলি করা হয়েছে। রোববার (২৩ আগস্ট) মধ্যরাতে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের সম্মতিক্রমে এসব শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়।

    প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ অধ্যাপক লাল মোহাম্মদ এই পদক্ষেপকে প্রশাসনিক সংস্কার হিসেবে উল্লেখ করে জানিয়েছেন, দুর্নীতির মূল উৎপাটনের লক্ষ্যেই এমন কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বদলিকৃত শিক্ষকরা গত পাঁচ থেকে সাত বছর ধরে টানা মতিঝিল মূল শাখায় কর্মরত ছিলেন। একাধিক শিক্ষক বলেন, রোববার (২৩ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ করেই ৪৬ শিক্ষককে বদলির আদেশ জারি করা হয়। পরে, বদলি হওয়া শিক্ষকদের একটি অংশ সোমবার (২৪ আগস্ট) সচিবালয়ে গিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন।

    শিক্ষকদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি তাদের বদলির তথ্য ওয়েবসাইটে প্রকাশের আগেই অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী এক ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা শেয়ার করেন। এ ঘটনায় বদলি প্রক্রিয়ার গোপনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা। প্রসঙ্গত, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের তিনটি শাখা রয়েছে। এগুলো হলো, মতিঝিলের মূল শাখা, বনশ্রী ও মুগদা শাখা। তিন শাখায় প্রায় ২৮ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষক রয়েছেন প্রায় ৭০০ জন।এ ছাড়া, কর্মচারী রয়েছেন দুই শতাধিক।

  • ১৪ মার্চ শুরু হবে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা

    ১৪ মার্চ শুরু হবে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    আগামী ২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ৭ জানুয়ারির পরিবর্ততে ১৪ মার্চ শুরু হবে। চলবে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত।

    আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান সোমবার আমার দেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আজই পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করা হবে বলেও তিনি জানান।

    এর আগে ৭ জানুয়ারি এই পরীক্ষা শুরুর প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই পরীক্ষার প্রাথমিক সময়সূচিও প্রকাশ করা হয়েছিল।

    তবে পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতিতে ঘাটতি সহ নানা দিক বিবেচনা করে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে সরকার। দুই মাস পরে ১৪ মার্চ এই পরীক্ষা শুরুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

  • শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোরআন প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে সরকার

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোরআন প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে সরকার

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আগামীতে জাতীয় পর্যায়ে পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতা আয়োজন করবে সরকার।

    শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ বাড়াতে শিক্ষার বিভিন্ন স্তরে এই প্রতিযোগিত চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।গত ১৮ জুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কোরআন প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেছিলেন, সরকার শিক্ষার সব ক্ষেত্রেই সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে আগামীতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কোরআন প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, পারিবারিক মূল্যবোধ এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এসব কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

  • স্কুলের কমিটিতে রাজনৈতিক নেতা নয়, থাকবেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক: ডেপুটি স্পিকার

    স্কুলের কমিটিতে রাজনৈতিক নেতা নয়, থাকবেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক: ডেপুটি স্পিকার

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে পুরোপুরি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেছেন, স্কুলের ম্যানেজিং কমিটিতে কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা থাকতে পারবেন না। বরং অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের এই কমিটিতে যুক্ত করে তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে হবে।

    রোববার (২৪ আগস্ট) বিকেলে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে জেলা পরিষদ মিলনায়তনে মাধ্যমিক পর্যায়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ‘বিদায় সংবর্ধনা-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কায়সার কামাল এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির দুর্গাপুর উপজেলা শাখা এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

    বিগত দিনে দলীয়করণের অপসংস্কৃতির কড়া সমালোচনা করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘স্কুলের পরিচালনা কমিটির কাছে কিছু ক্ষমতা থাকে, যা অনেক সময় রাজনৈতিকভাবে অপব্যবহার করা হয়। যারা রাজনীতি করবেন, তাদের জন্য ইউনিয়ন বা ওয়ার্ড কমিটি রয়েছে। ’

    শিক্ষকতা পেশার মর্যাদার কথা তুলে ধরে কায়সার কামাল বলেন, ‘একজন শিক্ষক আজীবনই শিক্ষক। মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত তারা সমাজের কাছে “স্যার” বা “ম্যাডাম” হিসেবে পরম শ্রদ্ধার পাত্র। ’

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাষ্ট্র মেরামতের সর্বজনীন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তিনি (তারেক রহমান) সবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের জন্য প্রতিদিন ১৮-২০ ঘণ্টা কাজ করে যাচ্ছেন। তার সংস্কারমূলক উদ্যোগগুলোকে দলীয় দৃষ্টিভঙ্গির ঊর্ধ্বে উঠে দেখতে হবে। ’

    বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি দুর্গাপুর উপজেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এ কে এম ফজলুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুনমুন জাহান লিজা, দুর্গাপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আহমেদ সাদাত, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. বজলুর রহমান আনছারী প্রমুখ। অনুষ্ঠান শেষে বিদায়ী শিক্ষকদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।

  • অবসরের টাকা পেতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমার নির্দেশ

    অবসরের টাকা পেতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমার নির্দেশ

    বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ডে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত জমা হওয়া আবেদনগুলোর মধ্যে যেসব শিক্ষক ও কর্মচারী এখনো অবসর সুবিধা পাননি, তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বোর্ডে পাঠানোর জন্য বলা হয়েছে। ইনডেক্স নাম্বার, আবেদন আইডি নাম্বারসহ অন্যান্য তথ্য জমা দিতে হবে।

    সম্প্রতি শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ডের এক নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, অবসর সুবিধা বোর্ডে ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের জুলাই পর্যন্ত জমাকৃত আবেদনগুলোর মধ্যে যে সব শিক্ষক, কর্মচারী অবসর সুবিধা পাননি, তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অবসর সুবিধা বোর্ডে পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হলো।

    শিক্ষক, কর্মচারীর ব্যাংক হিসাব সচল করে হালনাগাদ ব্যাংক স্টেটমেন্ট। শিক্ষক, কর্মচারীর এনআইডি কপি। শিক্ষক, কর্মচারীর (নিজ) এনআইডি দিয়ে রেজিস্ট্রেশনকৃত মোবাইল নাম্বার। মৃত্যুজনিত আবেদনের ক্ষেত্রে অনলাইন মৃত্যু সনদ, ৩০০ টাকার নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে ক্ষমতা হস্তান্তর পত্র, ওয়ারিশ সনদ, নমিনির ব্যাংক হিসাব সচল করে হালনাগাদ ব্যাংক স্টেটমেন্ট, নমিনির এনআইডি ও নমিনির (নিজ) এনআইডি দিয়ে রেজিস্ট্রেশনকৃত মোবাইল নাম্বার। ইনডেক্স নাম্বার, আবেদন আইডি নাম্বার এবং জমার তারিখ উল্লেখ করতে হবে।

    রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেন রোডের প্রবাসী কল্যাণ ভবনের অবসর সুবিধা বোর্ডের অফিসে এসব কাগজপত্র জমা দিতে হবে। স্কুলের শিক্ষকদের ১৪১৫ ও ১৪২১, কলেজ ও কারিগরি শিক্ষকদের ১৪১৬ ও ১৪২১, মাদ্রাসার জন্য ১৪১৩ ও ১৪২১ নম্বর কক্ষে কাগজপত্র জমা দিতে হবে।বিশেষ সতর্কীকরণ: অবসর ভাতা পেতে কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেন থেকে বিরত থাকুন। দালাল, প্রতারক এবং মধ্যস্বত্বভোগীর খপ্পরে পড়বেন না। এ বিষয়ে সবার সহযোগিতা কামনা করছি।

  • প্র্রাথমিকের ১ কোটি ২০ লাখ শিক্ষার্থী পাবে ড্রেস, জুতা ও পাটের ব্যাগ

    প্র্রাথমিকের ১ কোটি ২০ লাখ শিক্ষার্থী পাবে ড্রেস, জুতা ও পাটের ব্যাগ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ শিক্ষার্থীকে প্রতিবছর বিনা মূল্যে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি স্কুল ড্রেস, জুতা ও পরিবেশবান্ধব পাটের ব্যাগ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়ানো, ঝরে পড়া কমানো এবং দরিদ্র পরিবারের শিক্ষা ব্যয় কমানো এ কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।

    সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি মাসেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্কুল ড্রেস বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করতে পারেন। প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে পাইলট প্রকল্পের আওতায় এনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ড্রেস ও ব্যাগ বিতরণ করা হবে। পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ সুবিধা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে ৬ লাখের বেশি স্কুল ড্রেস তৈরির কাজ প্রায় শেষ হয়েছে।

    শিক্ষার্থীদের আরাম ও ব্যবহারিক সুবিধার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ইউনিফর্মের নকশা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    মেয়েদের জন্য আকাশি রঙের ফ্রক বা টিউনিক এবং ছেলেদের জন্য হালকা নীল জামা ও গাঢ় নীল হাফ প্যান্ট দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। শিশুদের সুবিধার জন্য ফিতাবিহীন সাদা জুতার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি দেশীয় পাট দিয়ে তৈরি পরিবেশবান্ধব স্কুল ব্যাগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    সরকারি উদ্যোগে স্কুল ড্রেস তৈরিতে দেশের তৈরি পোশাক খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও টেক্সটাইল মিলও সহযোগিতা করছে। সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে গত ১১ আগস্ট বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) পক্ষ থেকে ১ লাখ শিক্ষার্থীর স্কুল ড্রেস শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে ড্রেস, ব্যাগ ও জুতা দেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দ্রুত এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে।

    প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজও এ উদ্যোগকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, জুলাইয়ে কর্মসূচি শুরুর কথা থাকলেও পরে তা পিছিয়ে ১৬ আগস্ট করা হয়। এরপর আবারও সময় পরিবর্তন করে চলতি মাসের মধ্যে উদ্বোধনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

    প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে ড্রেস, জুতা ও ব্যাগ দেওয়ার উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অনেকে। বিশেষ করে দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এতে পরিবারের আর্থিক চাপ কমতে পারে এবং বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ার প্রবণতা কমাতে সহায়তা করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই ধরনের পোশাক ব্যবহারের ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আর্থিক অবস্থার পার্থক্যও কিছুটা কম দৃশ্যমান হবে। তবে শিক্ষাবিদদের একটি অংশ মনে করেন, পোশাক বা ব্যাগের পাশাপাশি শিক্ষার মান বাড়ানো, শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ উন্নত করা, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। সরকারি পর্যায়ে বড় পরিসরে পোশাক বিতরণে কাপড়ের মান, সঠিক মাপ, সময়মতো সরবরাহ এবং অনিয়মের মতো বিষয় নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।

    প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের প্রস্তাবিত ‘পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৫)’-এর আওতায় স্কুল ড্রেস, ব্যাগ, জুতা ও মোজা সরবরাহের কর্মসূচি রাখা হয়েছে। পুরো প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪১ হাজার ৭৬১ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের অর্থায়ন ৩৩ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ৭ হাজার ৮৮৭ কোটি টাকা পাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

    তবে ড্রেস, ব্যাগ, জুতা ও মোজা সরবরাহে আলাদাভাবে কত অর্থ ব্যয় হবে, তা প্রকল্প প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়নি। প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মনোয়ারা ইসরাত সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা এখনো কোনো দাম ঠিক করিনি। প্রকল্প শুরু হলে বুঝতে পারব ড্রেসপ্রতি কত টাকা ব্যয় হয়।প্রাথমিকের পাশাপাশি মাধ্যমিক পর্যায়েও শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে ড্রেস, জুতা ও ব্যাগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) ‘কমবাইন্ড স্টুডেন্টস ফ্যাসিলিটিস প্রোগ্রাম ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন’ নামে একটি প্রকল্পের প্রস্তাব করেছে।

    প্রস্তাবিত কর্মসূচির আওতায় পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকার ১ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনগ্রসর শিক্ষার্থীদের প্রতিবছর ড্রেস, জুতা, মোজা ও ব্যাগ দেওয়ার পাশাপাশি খাবারের ব্যবস্থা করার কথা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের জন্য কমন রুম, স্বাস্থ্য উপকরণ এবং খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের জন্যও বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।এদিকে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনা মূল্যে স্কুল ব্যাগ বিতরণের জন্য নির্বাচিত বিদ্যালয়ের তালিকা ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা চেয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)। বুধবার বিভাগীয় উপপরিচালকদের কাছে পাঠানো এক জরুরি অফিস আদেশে এ তথ্য চাওয়া হয়েছে।

  • কর্মক্ষম শিক্ষার্থী গড়ে তোলার আহবান মাহদী আমিনের

    কর্মক্ষম শিক্ষার্থী গড়ে তোলার আহবান মাহদী আমিনের

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শুধু সার্টিফিকেটভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে না তুলে শিক্ষার্থীদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, তারা যেন পড়ালেখা শেষে কর্মক্ষম হয়ে উঠতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

    শুক্রবার (২১ আগস্ট) বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ রূপান্তর ও গুণগত মানোন্নয়ন করার লক্ষ্যে সাভারে উপাচার্য ও শিক্ষকদের সঙ্গে দুই দিনব্যাপী জাতীয় পর্যায়ের নীতিনির্ধারণী আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। মাহদী আমিন বলেন, শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনের সঙ্গে মিল রেখে কারিকুলাম তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ বাড়াতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় অন-ক্যাম্পাস পার্টটাইম চাকরির ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিতে হবে। এ ছাড়াও ব্রেইন ড্রেইন বন্ধ করার উদ্যোগ নিতে হবে।

  • স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের ডিজির মেয়াদ বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন

    স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের ডিজির মেয়াদ বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন

    স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) পদে অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেনকে আরও এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

    গত সোমবার (১৭ আগস্ট) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

    সেখানে বলা হয়, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৯ ধারা অনুযায়ী ডা. নাজমুল হোসেনকে আগামী ২৪ আগস্ট ২০২৬ থেকে এক বছর মেয়াদে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পদে পুনরায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, তার অবসরোত্তর ছুটি ও সংশ্লিষ্ট সুবিধাদি স্থগিত এবং অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

    নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

  • একাদশে ভর্তির আবেদন শুরু ২ সেপ্টেম্বর, ক্লাস ২৩ সেপ্টেম্বর

    একাদশে ভর্তির আবেদন শুরু ২ সেপ্টেম্বর, ক্লাস ২৩ সেপ্টেম্বর

    শিক্ষা ডেস্ক:

    এ বছর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন ও ক্লাস শুরুর সময় এগিয়ে নিয়ে আসা হচ্ছে। একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন গ্রহণ আগামী ২ সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে চলবে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ভর্তি কার্যক্রম শেষ করে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস শুরুর প্রস্তাব করেছে শিক্ষাবোর্ডগুলো।

    এবারও এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে, কোনো ভর্তি পরীক্ষা হবে না।

    কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ এবং মেধা ও পছন্দক্রমের ভিত্তিতে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হবে। শিক্ষা বোর্ড সূত্র গণমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার পুনঃনিরীক্ষণের ফলাফল আগামী ১০ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করা হবে। পুনঃনিরীক্ষণে যাদের ফলাফল পরিবর্তন হবে, কিংবা যারা প্রথম ধাপে আবেদন করতে পারেননি—তারা ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর কলেজে ভর্তির জন্য আবেদনের সুযোগ পাবেন।

    এই ধাপের ভর্তির ফলাফল প্রকাশ করা হবে ১৪ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে।

    পরে নির্বাচিতদের ফলাফল যাচাই-বাছাই শেষে ভর্তির কাজ শুরু হবে আগামী ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে। আর একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হবে ২৩ সেপ্টেম্বর।

    গত ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন। এর মধ্যে পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন পরীক্ষার্থী। প্রায় ৭ লাখ পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। এই হিসাবে এবার অর্ধেকের বেশি আসন খালি থাকবে।

    সারা দেশে একাদশ শ্রেণিতে (কলেজ ও মাদ্রাসা) ভর্তিযোগ্য আসন রয়েছে প্রায় ২৫ লাখ। গতবার ভর্তি হয়েছিল মোট আসনের ৫৮ দশমিক ৭ শতাংশ। অর্থাৎ খালি ছিল ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ। এ বছর পাসের হার আরও কমেছে। ফলে আসনসংখ্যা আরও বেশি শূন্য থাকবে।

    তবে মোট আসন খালি থাকলেও জিপিএ-৫ পেয়েও অনেকে তাদের কাঙ্ক্ষিত প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারবে না। কারণ, তুলনামূলক ভালো প্রতিষ্ঠানে আসন কম। এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৯ জন।

  • কিন্ডার গার্টেন স্কুলের জন্য দুঃসংবাদ

    কিন্ডার গার্টেন স্কুলের জন্য দুঃসংবাদ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    নিবন্ধন না নিয়ে পরিচালিত দেশের সব কিন্ডার গার্টেন স্কুল ২০২৮ সালের মধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং এসব প্রতিষ্ঠানকে সরকারি নিয়ম-নীতির আওতায় আনতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

    বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রামের পিটিআই কনফারেন্স হলে ‘প্রাথমিক শিক্ষার রূপান্তর ও কর্মপরিকল্পনা’ বিষয়ক দিনব্যাপী কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে নিবন্ধনহীন কিন্ডারগার্টেনগুলোকে নিয়মের আওতায় আনা হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন না নেওয়া দেশের সব কিন্ডারগার্টেন স্কুল ২০২৮ সালের মধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হবে।

    তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে জনবল সংকট দূর করতেও সরকার কাজ করছে।

    ববি হাজ্জাজ আরও জানান, প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য একটি নতুন সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে। এতে শিক্ষকদের পদোন্নতি, বেতন কাঠামো এবং দায়িত্বের পরিধি পুনর্নির্ধারণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

    নতুন নীতিমালার মাধ্যমে শিক্ষকদের পেশাগত সুযোগ-সুবিধা ও দায়িত্বের মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় করা হবে বলেও জানান তিনি।

  • পেছাতে পারে ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা

    পেছাতে পারে ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ২ মাস পেছানোর চিন্তা হচ্ছে। মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী বছরের ৭ জানুয়ারি থেকে শুরু করার প্রাথমিক পরিকল্পনা থেকে সরে আসার কথা ভাবছে শিক্ষা বিভাগ।

    পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতরের সময়সূচি এবং অভিভাবকদের মতামত বিবেচনায় নিয়ে পরীক্ষা আগামী মার্চে শুরু করার বিষয়ে নতুন করে আলোচনা চলছে।

    সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সবকিছু চূড়ান্ত হলে মার্চের মাঝামাঝি সময়ে পরীক্ষা শুরু হতে পারে। শিক্ষা বিভাগের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা বলেন, রমজান ও ঈদুল ফিতরের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার পাশাপাশি অভিভাবকদের মতামতকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    এসব বিষয় পর্যালোচনা করে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা মার্চে আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা চলছে। তাই আগামী মার্চে পরীক্ষা শুরুর সম্ভাবনা রয়েছে।

    আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে পবিত্র রমজান শুরু হতে পারে।সে হিসাবে রমজান ও ঈদুল ফিতর শেষে মার্চের মাঝামাঝি সময়ে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু করা হতে পারে বলে আলোচনা চলছে। তবে এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

    এর আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছিল, ২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হবে ৭ জানুয়ারি থেকে। আর পরীক্ষা শেষ হবে ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৭। এ দিকে আগামী বছরের (২০২৭) এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ৬ জুন ২০২৭ থেকে শুরু হবে। এ পরীক্ষা চলবে ১৩ জুলাই ২০২৭ পর্যন্ত।

    ১৪ মে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এসএসসি, এইচএসসি ও সমমানের ৪০ লাখ শিক্ষার্থীদের জন্য, ২ বছরে গ্যাপ নিরসনে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ডিসেম্বর মাসকে শিক্ষা বছরের শেষ এবং পরীক্ষার মাস হিসেবে ধরা হবে।

    দীর্ঘদিন ধরে এসএসসি পরীক্ষা ফেব্রুয়ারির শুরুতে এবং এইচএসসি পরীক্ষা এপ্রিলের শুরুতে হয়ে আসছিল। তবে করোনা মহামারির পর সেই সূচি আর বজায় রাখা যাচ্ছে না; বরং পরীক্ষা আরও পিছিয়েছে। চলতি বছরও (২০২৬) এসএসসি পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ২১ এপ্রিল। আর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয় জুলাই মাসে।

    এমন পরিস্থিতিতে আগামী বছরের পরীক্ষা এগিয়ে আনার উদ্যোগ নেয় শিক্ষা বিভাগ। এর আগে ২০২৭ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা ডিসেম্বরে নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছিল। এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

    পরে অংশীজনদের নিয়ে আয়োজিত সভাতেও ডিসেম্বরে পরীক্ষা না নেওয়ার পক্ষে মত আসে। এরপর আগামী বছরের এসএসসি পরীক্ষা জানুয়ারিতে এবং এইচএসসি জুনে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

    তবে শেষ পর্যন্ত পরীক্ষা কোন মাসে অনুষ্ঠিত হবে বিষয়টি নিয়ে আরও যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত জানাবে মন্ত্রণালয় এমনটাই বলছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

  • খাতা পুনর্মূল্যায়নে বদলাচ্ছে নীতিমালা

    খাতা পুনর্মূল্যায়নে বদলাচ্ছে নীতিমালা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, এবার খাতা চ্যালেঞ্জের জন্য অসংখ্য আবেদন পড়েছে। গতকাল আমি খোঁজ নিয়েছি। যে অবস্থা জেনেছি তাতে মনে হয় সব শিক্ষার্থীই খাতা পুনর্মূল্যায়ন করতে চায়। এভাবে তো হতে পারে না। তাই আমরা ভেবেছি খাতা পুনর্মূল্যায়নে নতুন নীতিমালা আনবো। জিপিএ কত পেলে পুনর্মূল্যায়ন করা যাবে, বা কি কি বিষয় থাকবে তা আমরা জানাবো।

    সোমবার (১৭ আগস্ট) ঢাকার শেরাটন হোটেলে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি)-এর উদ্যোগে আয়োজিত এক ফোরাম শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। এসময় তিনি আরো বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী ১৮০ দিনের হানিমুন পিরিয়ড রেখেছেন যেনো ওনার লক্ষ্য, ওনার নির্বাচনি এজেন্ডা এসব কনেসেপ্টকে যেনো আমরা ধারাবাহিকভাবে ধারণ করতে পারি। এর কার্যকর পদক্ষেপ নেই, এইজন্যই তিনি এই ১৮০ দিনের পদক্ষেপ রেখেছেন। এক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রাইমারি শিক্ষা থেকে টারশিয়ারি এডুকেশন পর্যন্ত প্রত্যেকটি বিষয়ে আমরা প্রোগ্রাম করেছি। যেমন, প্রাইমারি এডুকেশনে ওনার যে দৃষ্টিভঙ্গি ছিলো- চিত্ত বিনোদন, লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস, স্পোর্টস কালচার, রিলিজিয়াস ভ্যালুস, ইথিক্যাল-মোরাল ভ্যালুস। উনি স্কুল ড্রেসের ব্যবস্থা করেছেন, স্পোর্টস কম্পিটিশন এর ব্যবস্থা করেছেন, প্রাইমারিতে মিড-ডে মিল রয়েছে, মেধাবী শিক্ষকদের তিনি পদক দিয়েছেন। সেকেন্ডারিতে ইনোভেশন শোকেস হতে শুরু করে সেখানে যেসব ডেভেলপেন্ট দরকার তা তিনি করেছেন। ইউজিসিকে এড্রেস করেছেন তিনি। ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ১২০০ জন শিক্ষককে আইসিটি প্রোগ্রামে এড্রেস করেছেন তিনি। তিনি প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপের শুরু করেছেন, থার্ড ল্যাঙ্গুয়েজের কথা বলেছেন, ক্লাস সিক্স থেকে ডিবেট, লার্নিং উইথ পাঠ্যবইগুলোতে জায়গা পাচ্ছে।

  • জিপিএ-৫ কেলেঙ্কারি, কাদির মোল্লা স্কুলকে শোকজ

    জিপিএ-৫ কেলেঙ্কারি, কাদির মোল্লা স্কুলকে শোকজ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় নরসিংদীর নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমসের শতভাগ জিপিএ-৫ অর্জনের ঘটনা ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি শিক্ষা বোর্ডের নজরে আসে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সার্বিক সত্যতা যাচাই ও ব্যাখ্যা চেয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ পাঠিয়েছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড।

    রোববার (১৬ আগস্ট) ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের এক অফিস আদেশে এই তথ্য জানানো হয়।

    অফিস আদেশে বলা হয়, চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর নরসিংদীর নাসিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল এন্ড হোমস্ এর শতভাগ জিপিএ-৫ অর্জনের জন্য নিয়মবহির্ভূত কৌশল অবলম্বনের অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটিতে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীর তথ্য, ৯ম শ্রেণিতে নিবন্ধিত শিক্ষার্থীর তথ্য, এসএসসির নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর তথ্য এবং এসএসসি পরীক্ষায় ফরমপূরণকৃত শিক্ষার্থীর তথ্যসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র সশরীরে উপস্থিত হয়ে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে উত্থাপিত অভিযোগের কারণ ব্যাখ্যার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    অত্যন্ত জরুরি এই নির্দেশনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জবাব না দিলে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

  • আগামী শিক্ষাবর্ষেই যুক্ত হচ্ছে খেলাধুলা

    আগামী শিক্ষাবর্ষেই যুক্ত হচ্ছে খেলাধুলা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণির পাঠ্যক্রমে খেলাধুলা অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি বলেন, তরুণসমাজকে মাদকাসক্তি থেকে মুক্ত করতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই।

    যুবকদের কর্মসংস্থান হলে সামাজিক অপরাধ কমে আসবে। সরকার খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে কাজ শুরু করেছে। যেখানেই খালি জায়গা থাকবে সেখানেই খেলার মাঠ করার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলাকে এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা হবে।

    গতকাল শুক্রবার ঢাকায় এফডিসিতে আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি। আয়োজনে সহযোগিতা করেছে কেয়ার বাংলাদেশ ও এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজেস বাংলাদেশ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

    প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, গত ১৭ বছরে দক্ষতা বৃদ্ধির নামে দুর্নীতির আখড়া তৈরি করে বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাচার করা হয়েছিল। বর্তমান সরকার দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিগত সরকার যেসব ভুল করেছে বর্তমান সরকার সেই ভুল করবে না। প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে যুবসমাজকে কর্মক্ষম করে গড়ে তোলা হবে।

    তিনি বলেন, ডিগ্রি নিয়ে যুবকরা যাতে বেকার হয়ে ঘরে বসে না থাকে, তারা যাতে বিভিন্ন কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন করে নিজেদের স্বাবলম্বী করে তুলতে পারে, সেই ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার।

    হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, বিগত শাসনামলে চাকরির বাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা হয়নি। সার্টিফিকেটনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল। এতে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা দিনে দিনে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমান সরকার কর্মমুখী শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। দেশে ও বিদেশের চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষিত জনগোষ্ঠী গড়ে তোলার উদ্যোগ নিচ্ছে।

    ‘দক্ষ যুবশক্তি গড়ে তুলতে সরকারের চেয়ে বেসরকারি খাতের সম্পৃক্ততা বেশি গুরুত্বপূর্ণ’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির বিতার্কিকদের পরাজিত করে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতার্কিকরা বিজয়ী হন। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মুহাম্মদ রইস, ড. শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন, ড. এস এম মোর্শেদ, কেয়ার বাংলাদেশের পরিচালক রওনক জাহান এবং এসওএসের ডেপুটি ন্যাশনাল ডিরেক্টর মো. মাসুদ রানা। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র দেওয়া হয়।

  • ঘরে বসেই অবসরের টাকাপাবেন শিক্ষকরা; প্রধানমন্ত্রী

    ঘরে বসেই অবসরের টাকাপাবেন শিক্ষকরা; প্রধানমন্ত্রী

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষকদের অবসরের টাকা পেতে আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না। ঘরে বসেই জানতে পারবেন টাকা জমা হয়েছে কিনা।এমনটি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    শনিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনের বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষকদের অবসরের টাকা পেতে আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না। কোনো ভোগান্তি থাকবে না। মধ্যস্বত্বভোগীর দ্বারস্থ হতে হবে না।’

    তিনি বলেন, ‘শিক্ষকদের বাস্তব অবস্থা আমরা একটা ভিডিওতে দেখেছি। আগে ঘুস দিয়ে ভাতার টাকা নিতে হতো। আজ যত সহজে শিক্ষকদের অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে, আগে এত সহজ ছিল না।’ এখন তারা ঘরে বসেই ম্যাসেজ পেয়ে যাবেন।

    তিনি আরও বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার লুটপাট করে অবসরের দুটি বোর্ড পঙ্গু করে গেছে।’

    তারেক রহমান বলেন, ‘শিক্ষকদের অবসর ভাতার ফান্ডে পর্যাপ্ত টাকা নেই, বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে টাকা দেওয়া হচ্ছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘প্রচলিত নিয়মে শিক্ষকতা থেকে অবসর নিলেও আপনারা এখনো শিক্ষক। আপনাদের ভূমিকা সর্বজনগ্রাহ্য।’

  • ভারতের ভোটার তালিকায় বাংলাদেশে প্রধান শিক্ষকের নাম!

    ভারতের ভোটার তালিকায় বাংলাদেশে প্রধান শিক্ষকের নাম!

    শিক্ষা ডেস্ক:

    খুলনার পাইকগাছার খড়িয়া নবারুণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকারের ভারতীয় নাগরিকত্ব ও ভোটার তালিকায় নাম থাকার অভিযোগ নিয়ে তদন্ত হলেও এখনো তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও জেলা প্রশাসনের দপ্তরের প্রতিবেদনে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় তার নাম থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) তাকে শোকজ করে লিখিত জবাবও পেয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ভারতীয় নাগরিকত্ব থাকার পাশাপাশি দীপক চন্দ্র সরকার বাংলাদেশে বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং সরকারি বেতন-ভাতা গ্রহণ করছেন।

    বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ ও একাধিক তদন্ত হয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি নিজ প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গত ২৯ জুন দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে ‘পশ্চিমবঙ্গের ভোটার হয়েও খুলনায় স্কুলের প্রধান শিক্ষক’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। এরপর প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ে নড়েচড়ে বসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। নথিপত্র ও তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাইকগাছা উপজেলার লস্কর ইউনিয়নের খড়িয়া নবারুণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকারের নাম পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় রয়েছে। সেখানে তাকে উত্তর বর্ধমানের শক্তিগড় থানার ২ নম্বর বরশুল গ্রামের ১ নম্বর মনমোহন দে রোডের পশ্চিমাংশের বাসিন্দা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশে তিনি পাইকগাছার লস্কর ইউনিয়নের খড়িয়া ঢেমশাখালী গ্রামের ভোটার। তার বাবা নগেন্দ্র নাথ সরকার ও মা সুমিত্রা রানী সরকার। অভিযোগকারীদের দাবি, দীপক চন্দ্র সরকারের স্ত্রী, মেয়ে, ভাই ও ভাবিসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্যও ভারতের স্থায়ী বাসিন্দা ও ভোটার। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে দীপক চন্দ্র সরকার বলেন, তিনি বাংলাদেশের নাগরিক এবং নিজে ভারতে ভোটার হননি। প্রাপ্ত অভিযোগের পর পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে উপজেলা রিসোর্স অফিসার মো. ঈমান উদ্দিন ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ২৬ সেপ্টেম্বর একটি তদন্ত প্রতিবেদন দেন।

    এরপর ইউএনওর নির্দেশে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহজাহান আলীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ জানুয়ারি আরেকটি প্রতিবেদন জমা দেয়। একই বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম ছায়েদুর রহমান বিষয়টি নিয়ে আরও একটি তদন্ত করেন। চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো প্রতিবেদনে ইউএনও ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী উল্লেখ করেন, ভোটার তালিকা থেকে দীপক চন্দ্র সরকারের ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নাগরিকত্ব থাকার তথ্য পাওয়া যায়। এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষক-কর্মচারীকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হয়। এ কারণে বিদেশি নাগরিকের এমপিওভুক্ত পদে থাকার বিষয়টি প্রশ্নসাপেক্ষ ও বিতর্কিত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এরপর খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) কানিজ ফাতেমা লিজা গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর ও স্পর্শকাতর উল্লেখ করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রতিবেদন পাঠান। প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে নিয়োগে অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ১২ জুলাই বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মী, নিরাপত্তাকর্মী ও আয়া পদে তিনজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে প্রধান শিক্ষকের ভাইপো ভবেশ সরকার এবং আয়া পদে তার আপন শালিকা লাবনী সরকার নিয়োগ পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

    নিরাপত্তাকর্মী পদে তৎকালীন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির অভিভাবক সদস্য রবীন ঢালীর ভাগ্নে পলাশ কুমার মণ্ডলকে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগের বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিবাদ করেন। ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ জুলাই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ঝাড়ু মিছিল, মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলন ও স্মারকলিপি দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ সময় নিয়োগপত্র না দিয়ে পরে ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের ১ সেপ্টেম্বর ওই তিনজনকে বিদ্যালয়ে হাজির করা হয়। এসব নিয়োগে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও করেন স্থানীয় ব্যক্তিরা। তবে প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

    বিদ্যালয়ের ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রণোদনা অনুদানের পাঁচ লাখ টাকা ব্যয় নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিক্ষক, সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থী এবং প্রতিবন্ধী বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দের ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা যথাযথভাবে ব্যয় করা হয়েছে। তবে অবশিষ্ট অর্থের ব্যয়ের ক্ষেত্রে যথাযথ বিল-ভাউচার পাওয়া যায়নি বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দা প্রকাশ চন্দ্র সরকার বলেন, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। তার ভাষ্য, প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেওয়ার পরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

    মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (বেসরকারি মাধ্যমিক-১) মো. জাকির হোসেন বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকারকে ১০ কার্যদিবসের সময় দিয়ে শোকজ করা হয়েছিল। তিনি প্রথম নোটিশের জবাব দেননি। পরে দ্বিতীয় দফায় নোটিশ দেওয়া হলে তিনি লিখিত জবাব দিয়েছেন। দীপক চন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে জানতে চাইলে মো. জাকির হোসেন বলেন, সংশ্লিষ্ট সব প্রতিবেদন মহাপরিচালকের দপ্তরে উপস্থাপন করা হবে। বিষয়টি পর্যালোচনা করে মহাপরিচালক উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবেন।

    দ্বৈত নাগরিকত্ব ও ভারতীয় ভোটার হওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকার বলেন, আমি এ দেশের নাগরিক। আমি নিজে ভারতে ভোটার হইনি। কেউ আমাকে ফাঁসানোর জন্য ভারতের ভোটার তালিকায় আমার নাম অন্তর্ভুক্ত করেছে। বিদ্যালয়ের অনুদানের অর্থ আত্মসাৎ এবং নিয়োগে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন। তার দাবি, এসব অভিযোগ সত্য নয়।

  • এমপিও হারাতে পারে শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলো

    এমপিও হারাতে পারে শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলো

    শিক্ষা ডেস্ক:

    এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় দেশের ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। শতভাগ ফেল করা এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ২২৬টি, সাধারণ নয়টি শিক্ষা বোর্ডের ৫৭টি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ২৯টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কেন একটি শিক্ষার্থীও কৃতকার্য হতে পারল না, তার মূল কারণ অনুসন্ধানে নেমেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

    ইতোমধ্যে মাদ্রাসা বোর্ডের ২২৬টি প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারাও স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের জবাবদিহির আওতায় আনছেন। পাশাপাশি শিক্ষা বোর্ডগুলো প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের সশরীরে ডেকে ব্যর্থতার কারণ জানার উদ্যোগ নিয়েছে। কারণ দর্শাতে ব্যর্থ হলে কিংবা সন্তোষজনক জবাব না দিতে পারলে এসব প্রতিষ্ঠানের এমপিও সুবিধা বাতিল করা হতে পারে।সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

    বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড থেকে শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এসব প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগই প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত। তবে সেগুলোতে নেই কাঙ্ক্ষিত শিক্ষার্থী। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান থেকে ১৫ জনের কম শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। শতাধিক প্রতিষ্ঠান থেকে মাত্র ৫-৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছে।

    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনেক স্কুল ও মাদ্রাসা গড়ে উঠেছে শুধু সরকারি অনুদান পাওয়ার আশায়। এসব প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত অবকাঠামো নেই, নিয়মিত ক্লাস হয় না এবং অনেক সময় অন্য স্কুলের ফেল করা ড্রপ-আউট শিক্ষার্থীদের টাকা দিয়ে এনে নিজেদের পরীক্ষার্থী হিসেবে নিবন্ধন করানো হয়। পড়াশোনার দিকে শিক্ষকদের কোনো নজর না থাকার কারণেই মূলত উদ্বেগজনকহারে শূন্য পাস প্রতিষ্ঠান বেড়েছে।

    এদিকে চলতি বছরের দাখিল পরীক্ষায় যে ২২৬টি মাদ্রাসা থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করেনি সেসব মাদ্রাসাপ্রধানদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড। গতকাল মঙ্গলবার বোর্ডের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের দাখিল পরীক্ষায় যেসব মাদ্রাসা থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি, অর্থাৎ শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানকে লিখিত বক্তব্যসহ বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মো. ফারুক আহম্মেদের দপ্তরে সশরীরে উপস্থিত হতে হবে।

    এজন্য অঞ্চলভেদে মাদ্রাসাপ্রধানদের উপস্থিতির সময়সূচিও নির্ধারণ করে দিয়েছে বোর্ড। ঢাকা ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের মাদ্রাসাপ্রধানদের আগামী ১৬ আগস্ট, রাজশাহী অঞ্চলের ১৭ আগস্ট এবং রংপুর অঞ্চলের প্রধানদের ১৮ আগস্ট উপস্থিত হতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের প্রধানদের ১৯ আগস্ট, খুলনা ও কুমিল্লা অঞ্চলের ২০ আগস্ট এবং বরিশাল অঞ্চলের প্রধানদের ২৩ আগস্ট লিখিত বক্তব্যসহ উপস্থিত হতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এরই মধ্যে শূন্য পাস প্রতিষ্ঠানগুলোকে শোকজ করতে শুরু করেছেন জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা। ঠাকুরগাঁওয়ের পাঁচটি বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। প্রতিষ্ঠান পাঁচটি থেকে মোট ২৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। এমন ফল বিপর্যয়ের ঘটনায় বিদ্যালয়গুলোর প্রধান শিক্ষকদের কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে জেলা শিক্ষা বিভাগ। বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহীন আকতার বলেন, আগামী দুদিনের মধ্যে ফল বিপর্যয়ের কারণ লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়গুলোর ফল বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের শূন্য পাস ৫৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৮টি প্রতিষ্ঠানই দিনাজপুর বোর্ডে। বোর্ডটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইলিয়াস আহমেদ বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানে আসলে শিক্ষার্থী হাতেগোনা। কোনোটিতে একজন, কোনোটিতে ৩-৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল। এক কথায় প্রতিষ্ঠানগুলোর দুরবস্থা। তাদের শিগগির ডেকে কারণ জানতে চাওয়া হবে। মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও আলোচনা করে ব্যবস্থা নেব।

    এক অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, যেসব প্রতিষ্ঠানে পাসের হার শূন্য, সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমপিও সুবিধা উপভোগ করার পরও একজন শিক্ষার্থীও পাস করবে না—এমন পরিস্থিতি মেনে নেওয়া যায় না।

  • শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি; শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি; শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটি কর্তৃক শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা পুনরায় ফিরিয়ে আনার যে গুঞ্জন উঠেছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানিয়েছেন, ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্তই সরকার গ্রহণ করেনি। কেউ একটি আলোচনার কথা কেটে পত্রিকায় প্রকাশ করেছে।

    মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে এডুকেশন রিফর্ম ইনিশিয়েটিভের (ইআরআই) এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এমপিও শিক্ষকদের নিয়োগ নিয়ে এনটিআরসিএ সংক্রান্ত বিষয়টিতে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি; পুরো প্রক্রিয়াটি প্রাথমিক আলোচনা পর্যায়ে রয়েছে।

    আলোচনায় আসা খবরের পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, গোপন আলোচনার কিছু অংশ খণ্ডিতভাবে বাইরে ছড়িয়ে পড়ে পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে, যা সঠিক চিত্র প্রকাশ করে না। সরকার ম্যানেজিং কমিটির হাতে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

  • প্রাথমিকে যুক্ত হচ্ছে ‘সায়েন্স টয়’: ববি হাজ্জাজ

    প্রাথমিকে যুক্ত হচ্ছে ‘সায়েন্স টয়’: ববি হাজ্জাজ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    খেলতে খেলতে শিশুদের বিজ্ঞান শেখাতে প্রাথমিকের শিক্ষাক্রমে ‘সায়েন্স টয়’ যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

    রোববার রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে ইউনিসেফ আয়োজিত ‘ফাউন্ডেশনাল লার্নিং অ্যাকশন ট্র্যাকার’ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিশুদের শুধু বই পড়ে নয়, হাতে-কলমে ও আনন্দের মাধ্যমে বিজ্ঞান শেখাতে কারিকুলামে সায়েন্স টয় ও বিভিন্ন শেখার উপকরণ যুক্ত করা হবে। পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘ম্যাথ ল্যাব’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    তিনি বলেন, প্রতিটি শিশুর মৌলিক পড়া, লেখা ও গণিতের দক্ষতা নিশ্চিত করাই প্রাথমিক শিক্ষার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা শিশুদের শিক্ষার আওতায় আনতে এবং শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখতে বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্মসহ বিভিন্ন সহায়তা দেওয়া হবে। আগামী ১৬ আগস্ট প্রথমবার বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে বলেও জানান তিনি।

    মিড-ডে মিলের পাইলট প্রকল্পে চিহ্নিত ত্রুটি ও সীমাবদ্ধতা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

  • শিক্ষক নিয়োগ ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার উদ্যোগ

    শিক্ষক নিয়োগ ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার উদ্যোগ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) শিক্ষক নিয়োগ ও সুপারিশের ক্ষমতা সীমিত করে তা আবারও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির হাতে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম, প্রভাব ও ঘুষের সুযোগ ফিরে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন শিক্ষক নেতা ও শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।

    গত ৩ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এনটিআরসিএর সার্বিক কার্যক্রমসংক্রান্ত এক সভায় একজন আমলা এ বিষয়ে মতামত ও নির্দেশনা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে সভায় উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন। তাদের দাবি, ওই সভায় এনটিআরসিএর নিয়োগক্ষমতা কমিটির হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার পক্ষে মত দেওয়া হয় এবং দ্রুত তা বাস্তবায়নের কথাও বলা হয়।

    সভায় উপস্থিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, অনেককে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না দিলেও কার্যবিবরণীতে লেখা হয়েছে—‘সভায় উপস্থিত সবাই এ বিষয়ে একমত পোষণ করেন।’ বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এনটিআরসিএর ভেতরেও।

    সংশ্লিষ্টদের দাবি, এনটিআরসিএর কাঠামো পরিবর্তনের পক্ষে যুক্তি হিসেবে একজন সংসদ সদস্যের সংসদে দেওয়া বক্তব্যকে ব্যবহার করা হয়েছে। ওই বক্তব্যে এনটিআরসিএর নিয়োগ ও সুপারিশসংক্রান্ত বিধানের ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের বক্তব্য জানা যায়নি।

    শিক্ষাবিদ ও শিক্ষক নেতারা বলছেন, ২০০৫ সালে বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগে এনটিআরসিএ প্রতিষ্ঠা এবং ২০১৫ সালে এন্ট্রি লেভেলের শিক্ষক নিয়োগে সুপারিশের দায়িত্ব প্রতিষ্ঠানটির হাতে দেওয়ার ফলে নিয়োগে স্বচ্ছতা ও মেধাভিত্তিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অনেকের মতে, ঘুষ ও প্রভাবমুক্ত নিয়োগের কারণে এনটিআরসিএ ‘দ্বিতীয় সরকারি কর্মকমিশন’ হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।

    তাদের আশঙ্কা, আবারও পরিচালনা কমিটির হাতে নিয়োগক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া হলে সেই অর্জন নষ্ট হবে এবং নিয়োগে আর্থিক লেনদেন ও রাজনৈতিক প্রভাবের সুযোগ বাড়বে।

    ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনধারীসহ দেশের বিপুলসংখ্যক শিক্ষক ও হবু শিক্ষক এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর চাপে নয়, বরং এনটিআরসিএকে আরও শক্তিশালী করেই শিক্ষক নিয়োগব্যবস্থার সংস্কার করতে হবে।

    প্রবীণ শিক্ষক নেতা ও আগারগাঁও-তালতলা সরকারি কলোনী স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. মজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, “শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা এনটিআরসিএর হাত থেকে নিয়ে পরিচালনা কমিটির হাতে দেওয়া চরম ভুল ও আত্মঘাতী হবে।”

    এ অবস্থায় ৩ আগস্টের সভার কার্যবিবরণী, সিদ্ধান্তের ভিত্তি এবং তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছেন শিক্ষক সমাজের অনেকে। তাদের প্রশ্ন—মেধাভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগব্যবস্থাকে দুর্বল করার সিদ্ধান্তের দায় নেবে কে?

  • প্রাইভেট টিউশন মহামারি আকার ধারণ করেছে: গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

    প্রাইভেট টিউশন মহামারি আকার ধারণ করেছে: গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দেশে প্রাইভেট টিউশন মহামারি আকার ধারণ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেছেন, অতিরিক্ত প্রাইভেট নির্ভরতার কারণে অনেক শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষে প্রয়োজনীয় শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই বিদ্যালয়েই শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় পাঠদান ও শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

    রোববার (৯ আগস্ট) সকালে রাজধানীর হোটেল শেরাটনে ইউনিসেফ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা হবে। এজন্য প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি শক্তিশালী করা, কর্মমুখী শিক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

    প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার পরও অনেক শিক্ষার্থী মৌলিক বিষয়গুলো ঠিকভাবে আয়ত্ত করতে পারছে না বলে অভিযোগ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও কর্মমুখী করতে হবে। এ লক্ষ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ধাপে ধাপে ম্যাথ ল্যাব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হবে।

    প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলাকে শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

  • নায়েমে শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের মারামারি, ডিজি লাঞ্ছিত

    নায়েমে শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের মারামারি, ডিজি লাঞ্ছিত

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারভুক্ত সরকারি কলেজের শিক্ষকদের পবিত্র স্থান হিসেবে বিবেচিত জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমির (নায়েম) মহাপরিচালক (ডিজি) প্রফেসর ড. ওয়াসিম মো. মেজবাহুল হককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    মহাপরিচালককে প্রকাশ্যে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ, অপদস্থ এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মো. শাহজাহানের বিরুদ্ধে। তারা দুজনেই প্রতিযোগিতামূলক বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে সরকারি কলেজে প্রভাষক হিসেবে চাকরি শুরু করেন। বর্তমানে দুজনই অধ্যাপক।

    এর আগেও একাধিকবার দুইজন উপপরিচালক ও সহকারি পরিচালকের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। তারাও শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা। অভিযুক্ত একজনের বাড়ি বগুড়ায়। তিনি সবচাইতে বেপরোয়াদের অন্যতম।

    জানা যায়, গত ৪ আগস্ট নায়েমে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে উপস্থিত অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রতিনিধি ডেলিগেশনের সামনেই এই নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে।

    অনুষ্ঠানে ডিজির ওপর চড়াও ও লাঞ্ছনার চেষ্টা

    প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ আগস্ট নায়েমে আয়োজিত ইনডাকশন ট্রেনিং প্রোগ্রামের ‘ফোকাস গ্রুপ ডিসকাশন’ (এফজিডি) সেশনের শুরুতেই পরিচালক মো. শাহজাহান হঠাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে নায়েম ডিজি প্রফেসর ড. ওয়াসিম মো. মেজবাহুল হককে লক্ষ্য করে অশ্রাব্য ভাষা ব্যবহার করতে থাকেন। ওই সময় সেখানে মাউশি অধিদপ্তরের পরিকল্পনা বিভাগের পরিচালক প্রফেসর ড. মীর জাহিদা নাজনীনসহ নায়েমের সব পরিচালক ও প্রোগ্রাম সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    তিনি সাংবাদিকদের জানান, পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এবং নিজের সম্মান রক্ষার্থে ডিজি অনুষ্ঠানস্থল থেকে উঠে নিজ কক্ষে চলে যেতে চাইলে অভিযুক্ত পরিচালক আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। মীর জাহিদা জানান, পরিচালক শাজাহান ডিজিকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার উদ্দেশ্যে তাঁর কক্ষ পর্যন্ত ধাওয়া করেন। শত চেষ্টা করেও অন্যান্য কর্মকর্তারা তাঁকে নিবৃত্ত করতে ব্যর্থ হন। এই ঘটনার পর সুবিচারের দাবিতে নায়েম ডিজি তাৎক্ষণিকভাবে মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ পেশ করেছেন। তবে এলাকা প্রীতির কারণে অভিযুক্ত এই পরিচালক শিক্ষা ভবন থেকে নায়েমে বদলি হতে পেরেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একজন প্রভাবশালী অামলার পছন্দে এই পরিচালককে নায়েমে পদায়ন করা হয়।

    প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন প্রকল্প ও প্রশাসনিক কাজে তিনি অনৈতিক হস্তক্ষেপ চালিয়ে যাচ্ছেন:

    ঝুঁকিপূর্ণ ভবন সংস্কারে অবাস্তব প্রাক্কলন: পাকিস্তান আমলে নির্মিত নায়েমের জরাজীর্ণ ও পরিত্যক্ত প্রশাসনিক ও বিজ্ঞান ভবন সংস্কারের মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য ডরমেটরি তৈরির নামে প্রায় ৭৭ লাখ টাকার মেরামত বাজেট প্রস্তাব করেন তিনি। ঝুঁকিপূর্ণ ও অত্যধিক ব্যয় নির্ধারণের কারণে নায়েম কর্তৃপক্ষ এই প্রস্তাব বাতিল করলে তিনি ডিজির ওপর মারাত্মক ক্ষিপ্ত হন এই পরিচালক।

    প্রশিক্ষণ বাজেট ও গবেষণা বিলে হস্তক্ষেপ: নায়েমে চলমান ইনডাকশন ট্রেনিং প্রোগ্রামের প্রায় ২৩৫ কোটি টাকার ডিডিওশিপের প্রভাব খাঁটিয়ে অর্থ সরানোর অপচেষ্টা এবং বিভিন্ন গবেষণা প্রকল্পের গবেষকদের প্রায় ১৮ লাখ টাকার বকেয়া বিল আটকে রেখে নির্দিষ্ট পার্সেন্টেজ আদায়ের পাঁয়তারা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নায়েম ডিজি এসকল অনিয়মে বাধা দেওয়ায় তাঁকে নানাভাবে কোণঠাসা করার চেষ্টা চলছিলো।

    এছাড়া ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাউশির প্রশাসন বিভাগের সহকারী পরিচালক খালিদ হোসেনকে চাকু দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণের নজির রয়েছে।

    শিক্ষা প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দুতে থেকে একজন কর্মকর্তার এমন একের পর এক উগ্র আচরণ, জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের অপদস্থকরণ এবং আর্থিক অনিয়মের বিষয়ে দ্রুত তদন্তপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন নায়েম ও মাউশির ক্ষুব্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

    এই সুযোগে নায়েমের মহাপরিচালক হতে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগ এমপির মেয়ে।

    অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শাজাহান সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।

  • প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে নতুন সচিব

    প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে নতুন সচিব

    শিক্ষা ডেস্ক:

    প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব নিযুক্ত হয়েছেন মিজ্ জেসমিন নাহার। তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব পদে কর্মরত।

    বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

  • রাষ্ট্রবিরোধী অভিযোগে পবিপ্রবির ১১ শিক্ষক

    রাষ্ট্রবিরোধী অভিযোগে পবিপ্রবির ১১ শিক্ষক

    শিক্ষা ডেস্ক:

    পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) ১১ শিক্ষকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী ও শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

    বুধবার (৫ আগস্ট) উপাচার্যের অনুমোদনক্রমে রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক মোহাম্মদ জামাল হোসেন স্বাক্ষরিত জরুরি নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়।

    নোটিশে বলা হয়, বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ নামের একটি সংগঠন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রবিরোধী অনলাইন তৎপরতার অংশ হিসেবে মানবতাবিরোধী মামলার আসামি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিতে দেশের সংবিধান, আইন, বিচারিক ব্যবস্থা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার অভিযোগে অভিযুক্ত। ইতোমধ্যে অভিযুক্ত শিক্ষকদের কাছ থেকে ব্যাখ্যা চাওয়া, চাকরি থেকে অপসারণসহ বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

    বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই সংগঠনের ব্যানারে শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিগ্রাম, ম্যাসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বৈঠকে অংশ নেওয়া ১১ শিক্ষক পবিপ্রবি আইন অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আচরণ ও শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধান লঙ্ঘন করেছেন।

    এছাড়া নোটিশে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে সংবিধান, আইন-বিধি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, শান্তি-শৃঙ্খলা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ সমুন্নত রাখতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।

  • ফিডিং কর্মসূচি: সব স্কুলের শিক্ষার্থী উপস্থিতির তথ্য পাঠানোর নির্দেশ

    ফিডিং কর্মসূচি: সব স্কুলের শিক্ষার্থী উপস্থিতির তথ্য পাঠানোর নির্দেশ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ফিডিং কর্মসূচির আওতায় থাকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর জুন ও জুলাই মাসের গড় শিক্ষার্থী উপস্থিতির তথ্য পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ক্রমিক, বিদ্যালয়ের নাম, প্রধান শিক্ষকের নাম, প্রধান শিক্ষকের মোবাইল নম্বর, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের সর্বশেষ শ্রেণিভিত্তিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা পাঠাতে হবে। এক্সেল ও পিডিএফ ফরমেটে নির্ধারিত ইমেইলে ১৩ আগস্টের মধ্যে এই তথ্য পাঠাতে হবে।

    সম্প্রতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। এ চিঠি প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সব উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছে।

    এতে বলা হয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরাধীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি নামের প্রকল্পের আওতায় দেশের ৮টি বিভাগের ৬২টি জেলার প্রকল্পভুক্ত ১৫০টি উপজেলার, উপজেলা ভিত্তিক সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিদ্যালয় ক্রমিক, বিদ্যালয়ের নাম, প্রধান শিক্ষকের নাম, প্রধান শিক্ষকের মোবাইল নম্বর, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের শ্রেণিভিত্তিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা, জুন ও জুলাই মাসের গড় উপস্থিতি সংযুক্ত নির্ধারিত এক্সেল শিটে সঠিকভাবে এন্ট্রি করা প্রয়োজন। তথ্যের সঠিকতা ও যথাসময়ে তথ্য পাঠানো অত্যাবশ্যক কেননা এ তথ্যের ওপর ভিত্তিকরে তার উপজেলার খাদ্য সরবরাহের পরবর্তী কল অব নোটিশ, কার্যাদেশ দেয়া হবে।

    উল্লেখ্য, পাঠানো এক্সেল শিটে ফন্ট হবে (NikoshBan), ফন্ট সাইজ ১২, মার্জিন ৪ দিকে হাফ ইঞ্চি, A4 সাইজ ল্যান্ডস্কেপ। এক্সেল শিটের রো, কলাম, কলাম নম্বর, মার্জিন, ফন্ট ও ফন্ট সাইজ পরিবর্তন করা যাবে না। ১ থেকে ১৭ নং কলামের তথ্য অবশ্যই পূরণ করতে হবে এবং শতকরা হারের ঘরে সংখ্যার পরে শতাংশ (%) চিহ্ন ব্যবহার করা যাবে না।

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পিটিআই সংযুক্ত পরীক্ষণ বিদ্যালয় ছাড়া অন্য কোনো বিদ্যালয় তালিকাভুক্ত করা যাবে না।

    এমন অবস্থায় নির্দেশনা অনুসরণ করে উপজেলার তথ্য এক্সেল শিটে এন্ট্রি করে, এক্সেল ও পিডিএফ ফরমেটে আগামী ১৩ আগস্টের মধ্যে আবশ্যিকভাবে ইমেইল (gpsfpdpe@gmail.com) এবং WhatsApp Group (School Feeding UEO 150) এর মাধ্যমে পাঠানোর জন্য তাকে অনুরোধ করা হলো।

  • স্কুলে বুলিং ঠেকাতে নতুন উদ্যোগ

    স্কুলে বুলিং ঠেকাতে নতুন উদ্যোগ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) অধীন বাস্তবায়নাধীন ‘লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন’ প্রকল্পের আওতায় শিক্ষার্থীদের শিখন মূল্যায়নের জন্য মোবাইল অ্যাপ, আধুনিক লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এলএমএস) এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বুলিং ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে একাধিক কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) প্রকাশিত প্রকল্পের বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা (এপিপি) অনুযায়ী, গত ২ আগস্ট এতে অনুমোদন দেন মাউশির মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ।

    বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটির আওতায় ১২টি সেবা প্যাকেজে মোট ৩৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছে। প্রকল্পের প্রজেক্ট ইমপ্লিমেন্টেশন ইউনিটের (পিআইইউ) প্রস্তুত করা এ পরিকল্পনায় ডিজিটাল শিক্ষা, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

    পরিকল্পনা অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ৭ কোটি টাকা ব্যয় হবে দুই বছর মেয়াদি জাতীয় শিক্ষার্থী মূল্যায়ন কার্যক্রমে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের জন্য একটি আধুনিক লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এলএমএস) তৈরি করা হবে। আন্তর্জাতিক মানের এ কার্যক্রমের বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৮ সালের ১০ জুন পর্যন্ত।

    এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের শিখনফল মূল্যায়নের জন্য একটি মোবাইল অ্যাপ তৈরিতে ৩ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। স্কুলে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, বুলিং প্রতিরোধ ও সচেতনতা বাড়াতে টেলিভিশন বিজ্ঞাপন (টিভিসি) নির্মাণ ও প্রচারে ৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা এবং মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধবিষয়ক বিশেষ সমীক্ষা পরিচালনায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।

    প্রকল্পের আওতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহারকে গুরুত্ব দিয়ে মাধ্যমিক পর্যায়ের মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ মূল্যায়ন এবং আইসিটি প্রশিক্ষণের চাহিদা নিরূপণে ২ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। পাশাপাশি দেশের ৬৪০টি স্কুল ও মাদ্রাসায় ভোকেশনাল বা কারিগরি কোর্স চালুর পাইলট কার্যক্রম মূল্যায়নে ৮০ লাখ টাকা এবং মাধ্যমিক শিক্ষায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে গবেষণায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

    প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতা বাড়াতে ডেপুটি টিম লিডার (জাতীয়) নিয়োগে ৪ কোটি ২০ লাখ টাকা, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মিড-টার্ম রিভিউ পরিচালনায় ১ কোটি টাকা, পিআইইউর জন্য তিনটি যানবাহন ভাড়ায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং ৩০ (ম্যান-মান্থ) মাস মেয়াদে আর্থিক ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ নিয়োগে ১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

  • চৌগাছা সরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য, প্রশাসনে অচলাবস্থা

    চৌগাছা সরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য, প্রশাসনে অচলাবস্থা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    যশোরের চৌগাছা সরকারি শাহাদৎ পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। সাধারণ ও বিএম শাখা মিলিয়ে উপজেলার অন্যতম বড় এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে। এরই মধ্যে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকও গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায় শিক্ষা কার্যক্রম ও প্রশাসনিক কাজে দেখা দিয়েছে নানা জটিলতা।

    ১৯২৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী এ বিদ্যালয়টি পরে এমপিওভুক্ত হয়। চৌগাছা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত বিদ্যালয়টি ২০১৮ সালে সরকারিকরণ করা হয়। সর্বশেষ প্রধান শিক্ষক আজিজুর রহমান ২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বর অবসরে যাওয়ার পর থেকে পদটি শূন্য রয়েছে।

    এর আগে ২০১৮ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম। এরপর থেকে তিনি আর নিয়মিত বিদ্যালয়ে ফিরতে পারেননি। বর্তমানে তিনি অর্ধেক বেতনে ছুটিতে রয়েছেন।

    চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক সাইদুল ইসলাম বাবুকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে তিনিও গুরুতর অসুস্থ। নিজের খরচে একজন খণ্ডকালীন শিক্ষক রেখে কোনোভাবে পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। সম্প্রতি তিনি চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। ফলে চলাফেরা থেকে শুরু করে দাপ্তরিক কাজেও অন্য শিক্ষকদের সহযোগিতা নিতে হচ্ছে তাঁকে।

    বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দাবি, প্রধান শিক্ষকসহ তিনটি শিক্ষক পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। সরকারিকরণের পর এনটিআরসিএর মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের সুযোগ নেই। অন্যদিকে সরকার থেকেও নতুন শিক্ষক দেওয়া হচ্ছে না। পাশাপাশি অফিস সহকারী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পদও শূন্য রয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

    সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীর বিদ্যালয়ে সকালের সমাবেশে উপস্থিত ছিল দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ে নিয়মিত শৃঙ্খলা ও তদারকির ঘাটতিও চোখে পড়ে।

    সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক সাংবাদিক আসাদুজ্জামান ও প্রভাষক আজিজুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা অনেকটাই ভেঙে পড়েছে। নির্ধারিত সময়ে ক্লাস শুরু হলেও অনেক শিক্ষার্থী ইচ্ছেমতো বিদ্যালয় ত্যাগ করে। ইউনিফর্ম পরা অবস্থায় তারা দিনের বাকি সময় বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্র, হোটেল ও রেস্তোরাঁয় কাটায়। প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে নিয়মিত ক্লাসও হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তারা।

    বিদ্যালয়ে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত একজন প্রধান শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানান তারা।

    এ বিষয়ে প্রেসক্লাব চৌগাছার সভাপতি অধ্যক্ষ আবু জাফর, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাবুল আক্তার এবং বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি ডা. জিল্লুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়টির প্রশাসনিক নেতৃত্ব কার্যত শূন্য হয়ে পড়েছে। সহকারী প্রধান শিক্ষকও অসুস্থ থাকায় শ্রেণি কার্যক্রম, একাডেমিক তদারকি ও প্রশাসনিক কাজ স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে না। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

    তারা বলেন, চৌগাছার অন্যতম প্রাচীন ও সুনামধন্য এই সরকারি বিদ্যালয় থেকে হাজার হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা শেষ করে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন। এমন একটি প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন প্রধান শিক্ষক না থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। শিক্ষা প্রশাসনের উচিত বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত একজন যোগ্য প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া।

    তাদের মতে, স্থায়ী নিয়োগে সময় লাগলে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে অন্য কোনো সরকারি বিদ্যালয় থেকে একজন জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষককে বদলি করে এনে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। এতে বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও পাঠদান স্বাভাবিক হবে। শিক্ষার স্বার্থে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

    ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাইদুল ইসলাম বলেন, “আমি শুধু দায়িত্বের চেয়ার পেয়েছি। প্রশাসনিক কোনো দায়িত্ব বুঝে পাইনি। এমনকি অফিসের আলমারির চাবিও আমাকে দেওয়া হয়নি। আমার শারীরিক অবস্থায় প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীর বিদ্যালয় পরিচালনা করা সম্ভব নয়।”

    তিনি আরও বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অন্য কোনো সরকারি বিদ্যালয় থেকে একজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে বদলি করে এনে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়ার অনুরোধও করা হয়েছে।

    সহকারী প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “প্রধান শিক্ষক থাকতেই আমি অসুস্থ হয়েছি। এরপর থেকেই আর বিদ্যালয়ে যাওয়া হয়নি। বিদ্যালয়ের কোনো কিছুই আমার কাছে নেই। তাছাড়া বিদ্যালয়ের অফিস বুঝে নেওয়ার দায়িত্ব বর্তমান প্রধান শিক্ষকের।”

    উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এসএম বজলুর রশিদ বলেন, বিদ্যালয়ের অফিস ও শ্রেণি কার্যক্রম কিছুটা এলোমেলো আছে। বিদ্যালয়টিতে একজন প্রধান শিক্ষক নিয়োগ করা অত্যন্ত জরুরি। তবে কবে প্রধান শিক্ষক পাওয়া যাবে, তা এখনই সঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ে দ্রুত একজন প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন শিক্ষা কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।

  • মাদরাসা শিক্ষার নতুন ডিজি  মোজাম্মেল

    মাদরাসা শিক্ষার নতুন ডিজি মোজাম্মেল

    শিক্ষা ডেস্ক:

    মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে অতিরিক্ত সচিব মো. উবায়দুল হককে। নতুন ডিজির (অতিরিক্ত দায়িত্ব) দায়িত্ব দেয়া হয়েছে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মুহাম্মদ মোজাম্মেল হোসেন খানকে।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।আদেশ মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মুহাম্মদ মোজাম্মেল হোসেন খানকে নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসেবে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পদের এবং ” ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেন্ট অব মাদরাসাহ এডুকেশন স্কিমের ‘স্কিম পরিচালক’-এর অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হলো।

  • সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পর্যায়ক্রমে স্কুল মিল

    সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পর্যায়ক্রমে স্কুল মিল

    শিক্ষা ডেস্ক:

    প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধাপে ধাপে ‘স্কুল মিল’ কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে। এর মাধ্যমে প্রতিটি প্রাথমিক শিক্ষার্থীর পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা হবে।

    রোববার সচিবালয়ে প্রতিমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)-এর বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ও আবাসিক প্রতিনিধি কোকো উশিয়ামা সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ কথা বলেন।

    সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল মিল কর্মসূচির সম্প্রসারণ, পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিতকরণ, ভবিষ্যতে পরীক্ষামূলকভাবে রান্না করা গরম খাবার চালুর সম্ভাবনা, কর্মসূচির কার্যকর পর্যবেক্ষণ এবং ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা জোরদারসহ সার্বিক বিষয়ে আলোচনা হয়।

    প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের প্রধান লক্ষ্য প্রতিটি প্রাথমিক শিক্ষার্থীর পুষ্টি নিশ্চিত করা।

    স্কুল মিল কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

    আলোচনায় প্রতিবেশী দেশ ভারতের স্কুল মিল কর্মসূচির অভিজ্ঞতা এবং বাংলাদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতার সঙ্গে তার মিলের বিষয়টি উঠে আসে। পাশাপাশি দেশের শহর ও গ্রামাঞ্চল, ভৌগোলিক বৈচিত্র্য এবং আর্থসামাজিক অবস্থার ভিন্নতা বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনভিত্তিক পৃথক পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর জোর দেন প্রতিমন্ত্রী।

    বৈঠকে ডব্লিউএফপির কান্ট্রি ডিরেক্টর কোকো উশিয়ামা বলেন, স্কুল মিল কেবল শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করে না; বরং বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়াতে, ঝরে পড়া রোধ করতে, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ডব্লিউএফপি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্কুল গার্ডেন, পুষ্টি শিক্ষা এবং স্থানীয় কৃষি ব্যবস্থার সঙ্গে স্কুল মিল কর্মসূচির সমন্বয়ের মাধ্যমে ইতিবাচক সাফল্য অর্জন করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    সাক্ষাৎকালে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের বিদ্যমান সমন্বিত প্রাথমিক শিক্ষা তথ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং ভবিষ্যতে সমন্বিত তথ্য ব্যবস্থাপনা তৈরিতে ডব্লিউএফপির কারিগরি সহযোগিতার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। স্কুল মিল কর্মসূচির কার্যকারিতা বাড়াতে উভয় পক্ষই একমত পোষণ করেন।

    বৈঠকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ডব্লিউএফপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চালু হবে ট্যালেন্ট হান্ট স্কিম: শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চালু হবে ট্যালেন্ট হান্ট স্কিম: শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্রীড়া ক্ষেত্রে সুদৃঢ় অবস্থান তৈরি করা আমাদের অঙ্গীকারের মধ্যে রয়েছে। সেই লক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ট্যালেন্ট হান্ট স্কিম চালু হবে। সুপ্ত প্রতিভাদের বিকাশের পথ উন্মুক্ত করা আমাদের লক্ষ্য। নারী ক্রীড়াবিদের নিরাপত্তা ও সুযোগ বৃদ্ধি করা হবে। স্পোর্টস ইকোনমি সম্প্রসারণ করা; আনন্দময় শিক্ষা নিশ্চিত করা; যুব সমাজকে খেলাধুলা মাধ্যমে সুস্থ ও দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করা হবে।

    বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, চট্টগ্রাম থেকে একই দিনে একই সময়ে দেশের সব উপজেলায় এই টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করা হবে। তবে চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতি ও প্রস্তুতির কারণে পূর্বনির্ধারিত ৯ আগস্টের পরিবর্তে আগামী ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর উদ্বোধনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এই প্রতিযোগিতায় মাদরাসা এবং স্কুল কলেজের ছাত্রীদের অংশগ্রহণ অপশনাল বা ঐচ্ছিক। ইচ্ছে করলে জয়েন করতে পারেন আবার নাও করতে পারেন। এটা ঐচ্ছিক বিষয়ে আমরা রেখেছি।

    বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে কিছু অঙ্গীকার রয়েছে শিক্ষায়। প্রথমত তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলা সম্প্রসারণ। খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাও আমাদের ইশতেহারের একটি অঙ্গীকার।

    ড. মিলন জানান, দেশের প্রায় এক কোটি ৬০ লাখ শিক্ষার্থী এই আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হবে। দেশের ১৯ হাজার ২২১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১ হাজার ৯৫৬টি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ৩ হাজার ৩৮০টি কলেজ, ৯ হাজার ২৯৬টি মাদরাসা এবং ৬৭৮টি কারিগরি প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীরা অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে।এসময় ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনসহ বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্যরা, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • শিক্ষকদের ফেসবুক ব্যবহারে মাউশির নতুন নির্দেশনা

    শিক্ষকদের ফেসবুক ব্যবহারে মাউশির নতুন নির্দেশনা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুক ব্যবহারে বিদ্যমান সরকারি নির্দেশিকা কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

    বুধবার (২৯ জুলাই) এ বিষয়ে একটি চিঠি দেশের সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। চিঠির সঙ্গে ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা, ২০১৯ (পরিমার্জিত সংস্করণ)’ সংযুক্ত করা হয়েছে।

    মাউশি জানিয়েছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত নির্দেশিকা রয়েছে। এ নির্দেশিকা লঙ্ঘন করলে তা আচরণবিধি ভঙ্গের শামিল। পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে এটি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

    এ কারণে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, এর আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর এবং সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত সব শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে ২০১৯ সালের পরিমার্জিত নির্দেশিকা যথাযথভাবে অনুসরণের জন্য পুনরায় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি আবেদন শুরু শিগগিরই

    এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি আবেদন শুরু শিগগিরই

    শিক্ষা ডেস্ক:

    এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অনলাইন বদলি কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রায় ৯৫ শতাংশ তথ্য সংগ্রহ ও হালনাগাদের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি প্রায় ৫ শতাংশ তথ্য পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ তথ্য পাওয়া গেলেই আবেদন গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র দৈনিক শিক্ষাডটকমকে এ তথ্য জানিয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, অবশিষ্ট তথ্য সংগ্রহের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। তথ্য হালনাগাদ সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বদলির আবেদন গ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হবে।

    জানা গেছে, শিক্ষকদের বদলির জন্য স্কুল পর্যায়ে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের তথ্য ইনপুট, ভেরিফিকেশন ও চূড়ান্ত অনুমোদনের সময় শেষ হয় গত ২৫ জুন। উপজেলা বা থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের জন্য সময়সীমা ছিল ৫ জুলাই। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের জন্য ১৫ জুলাই নির্ধারণ করা হয়েছিলো।

    কলেজ পর্যায়ে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের তথ্য ইনপুট, ভেরিফিকেশন ও চূড়ান্ত অনুমোদনের শেষ সময়ও ২৫ জুন শেষ হয়। আঞ্চলিক উপ-পরিচালকের (কলেজ) জন্য ৫ জুলাই এবং আঞ্চলিক পরিচালকদের জন্য ১৫ জুলাই পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়েছিলো।

    এখন শিক্ষকরা অপেক্ষায় রয়েছেন বদলি আবেদন শুরুর।

  • শিক্ষায় ঘুষের হাট, ডিজির নেতৃত্বে বদলি বাণিজ্য

    শিক্ষায় ঘুষের হাট, ডিজির নেতৃত্বে বদলি বাণিজ্য

    শিক্ষা ডেস্ক:

    রাজধানীর আবদুল গনি রোডের শিক্ষা ভবনটিকে এক সময় সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা- এনএসআই “দুর্নীতির ভবন” বলে আখ্যায়িত করেছিল। কিন্তু শিক্ষায় ঘুষ-দুর্নীতি এখন আর শুধুমাত্র এই ভবনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সারাদেশেই এর নেটওয়ার্ক বিস্তৃত হয়েছে। তবে ভবন থেকেই ঘুষ-দুর্নীতির নেতৃত্ব দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষা ক্যাডারের বর্তমানে সর্বোচ্চ পদে যিনি আছেন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল স্বয়ং-এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এ তথ্য জানিয়েছে। বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক-কর্মচারীরা ছাড়াও বাইরের রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরাও ডিজি সোহেলের ঘুষ কালেকশনের কাজে নিয়োজিত আছেন। অবাক ব্যাপার হলো, অনেক ক্ষেত্রে দালালদের নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেও ঘুষ লেনদেন হচ্ছে। এ সংক্রান্ত একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য শীর্ষকাগজ-শীর্ষনিউজের হাতে এসেছে। অতীতে আওয়ামী লীগ আমলে যারা শিক্ষাখাতে দালাল হিসেবে কাজ করেছেন অধিকাংশ ক্ষেত্রে এরাই ডিজি খান মইনুদ্দিন সোহেলের অধীনে নিয়োজিত রয়েছেন, বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

    মাধ্যমিক স্কুল এবং কলেজ উভয় সেক্টরের জন্য আলাদা নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন ডিজি সোহেল। খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল যেহেতু বিএনপির আগের আমলে আ ন ম এহছানুল হক মিলন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে প্রতিমন্ত্রীর এপিএসের দায়িত্ব পালন করেছেন তাই শিক্ষাখাতের দুর্নীতির ফাঁক-ফোকরগুলো সবই তাঁর জানা। তাছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তিনি অধিদপ্তরের পরিচালক (মাধ্যমিক)-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। মূলতঃ এই সময়ই ঘুষ লেনদেনের দেশব্যাপী সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন খান মইনুদ্দিন সোহেল। যা পরবর্তীতে ডিজি (মহাপরিচালক) পদে আসীন হওয়ার পর ব্যাপকভাবে বিস্তৃতি লাভ করে।

    সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমানে ঘুষকাণ্ডে ভেঙে পড়েছে শিক্ষা খাতের শৃঙ্খলা। অধিকাংশ ক্ষেত্রে জুনিয়রদের পদায়ন করা হচ্ছে সিনিয়রদের ডিঙিয়ে। ফ্যাসিস্ট চিহ্নিত কর্মকর্তারা এ বিষয়ে অগ্রাধিকার পাচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে বসানো হচ্ছে পুরনো ফ্যাসিস্টদের! এর মধ্যেই রয়েছে বঙ্গবন্ধু পরিষদের সদস্য, বঙ্গবন্ধু গবেষক ইত্যাদি।ডিজির ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পর্যন্ত পৌঁছেছে
    এসব বদলি বাণিজ্য এবং ঘুষ লেনদেন নিয়ে মাঝেমধ্যে সমস্যাও তৈরি হচ্ছে। কখনো কখনো ঘুষের রেট কমবেশির কারণে অগ্রিম টাকা নিয়েও বদলির কাজ সম্পন্ন করছেন না ডিজি সোহেল। তাছাড়া অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, একটি পদের জন্য একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন তিনি। ফলে সবার কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে ঘুষের টাকাও ফেরত দিচ্ছেন না। এ নিয়ে তদবিরকারী গ্রুপগুলোর সঙ্গে ডিজি সোহেলের মনোমালিন্য, বাক-বিতণ্ডাও হচ্ছে। এমনকি মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পর্যন্ত অভিযোগ যাওয়ারও নজির সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, অতি সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে এ রকমের গুরুতর এক অভিযোগ দিয়েছেন মাগুরার যুবদল নেতা নয়ন, যিনি ‘স্লোগান নয়ন’ হিসেবে পরিচিত। অভিযোগটি হলো, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন নিরীক্ষা ও পরিদর্শন অধিদপ্তরের একজন শিক্ষা পরিদর্শকের বদলির আদেশ বাতিল করা নিয়ে। নিরীক্ষা ও পরিদর্শন অধিদপ্তরের শিক্ষা পরিদর্শক মো. সাইফুর রহমান সুমনকে ইতিপূর্বে অন্যত্র বদলি করা হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকেবদলির আদেশটি জারি হয়। খান মইনুদ্দিন সোহেল তখন শিক্ষামন্ত্রীর পিএস পদে ছিলেন। পরবর্তীতে এই বদলির আদেশ বাতিলের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সোহেল ২০ লাখ টাকা ঘুষ নেন। সাংবাদিক পরিচয়দানকারী ‘মৃধা’ নামে এক দালালের মাধ্যমে ঘুষের লেনদেনটি হয়। কিন্তু এর আগে সুমনের জায়গায় অন্য আরেকজন কর্মকর্তাকে পদায়ন করেন সোহেল আরও বড় অংকের ঘুষ নিয়ে। ওই কর্মকর্তাকে সরানো যায়নি, তাই শিক্ষা পরিদর্শক সুমনেরও বদলির আদেশ বাতিল করা যায়নি। তবে সুমনের কাছ থেকে নেওয়া ঘুষের ২০ লাখ টাকাও ফেরত দেননি ডিজি খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল। এ নিয়ে অনেক চেষ্টা-তদবিরও করেন সুমন। অবশেষে নিজের মাগুরা এলাকার যুবদল নেতা নয়নের সহায়তা চান। যুবদল নেতা নয়ন এ বিষয়ে ডিজি সোহেলের সঙ্গে কথা বলেন একাধিকবার। তাতে ব্যর্থ হয়ে শেষে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দেন। অভিযোগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা। এতো কিছুর পরও ডিজি খান মইনুদ্দিন সোহেল ঘুষের ওই টাকা ফেরত দেননি। তবে টাকাটা-তো তাঁর পকেটে নেই, তাই দিতে পারছেন না- একথা বলছেন সোহেলের ঘনিষ্ঠরা।বদলি বাণিজ্য ও ঘুষ লেনদেনে অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙেছে
    মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর অর্থাৎ ডিজি অফিসে বদলি বাণিজ্য ও ঘুষ লেনদেনের এখন যেসব কাজ কারবার চলছে তাতে অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙে গেছে। শিক্ষা ভবন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ডিজি খান মইনুদ্দিন সোহেল যেভাবে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে ঘুষ লেনদেন জড়িত হয়েছেন এ রকমের পরিস্থিতি অতীতের কোনো ডিজির ক্ষেত্রে দেখা যায়নি। ছোট-খাটো লেনদেনও তিনি নিজে সরাসরি জড়িত হচ্ছেন। ঘুষ ছাড়া তিনি কোনো কাজেই হাত দেন না। ঘুষ লেনদেনে খান মইনুদ্দিন সোহেলের হাত পেকে গেছে ইতিপূর্বে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর এপিএস থাকাকালেই। মূলত: এ যোগ্যতার কারণেই এবার শিক্ষামন্ত্রীর পদ লাভের পর সোহেলকে পিএস (একান্ত সচিব) পদে নিয়োগ দেন এহছানুল হক মিলন। তাও নিয়ম-নীতি লঙ্ঘন করে। পিএস-এপিএস পদগুলো জনপ্রশাসনের। নিয়ম অনুযায়ী জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ই পিএস-এপিএস পদে নিয়োগ দেওয়ার কথা। কিন্তু শিক্ষামন্ত্রী আ ন হ এহছানুল হক মিলন তা শুনতে রাজি নন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকেই তিনি এ সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারির ব্যবস্থা করেন। তখনকার শিক্ষা

    সচিব রেহানা পারভীন অবশ্য এ ধরনের অবৈধ অফিস আদেশ জারিতে রাজি ছিলেন না। কিন্তু যেহেতু তাঁর নিজের চেয়ারও টলটলায়মান তাই মন্ত্রীর ওই অবৈধ নির্দেশ পালনে বাধ্য হন সচিব রেহানা পারভীন। অফিস আদেশটি জারি হয় গত ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬। পরবর্তীতে পিএস পদ থেকে তাকে সরাসরি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) করা হয়। কিন্তু ড. সোহেলের এই ডিজি পদে নিয়োগ নিয়েও তখন অনেক নাটকীয়তা তৈরি হয়।

    একেতো, তিনি আগে থেকেই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা হিসেবে চিহ্নিত ছিলেন। ৫ আগস্ট, ২০২৪-এর পরে পরিচালক (মাধ্যমিক) পদে এসে দেড় বছরে প্রায় ১৭০০ শিক্ষক বদলি করেন। এসব বদলি বাবদ হাতিয়ে নিয়েছেন প্রায় ৫০ কোটি টাকা। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবরও প্রকাশিত হয়েছে। তাছাড়া, শিক্ষা ক্যাডারের তাঁরচেয়ে সিনিয়র ব্যাচের অনেক কর্মকর্তা রয়েছেন। অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক (প্রশিক্ষণ) পদ থেকে অবসরে যাওয়া মোহাম্মদ আবদুস সবুরকে চুক্তিভিত্তিতে নিয়োগের জন্যসুপারিশ করেন বিএনপির মহাসচিব, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপি মহাসচিবের সুপারিশটি বেশ কিছুদিন ঝুলে ছিল। শিক্ষাসচিব আবদুল খালেক পূর্ব নির্ধারিত বিদেশ সফরে যাওয়ার প্রাক্কালে বিএনপি মহাসচিবের ওই সুপারিশ অনুযায়ী আবদুস সবুরকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের নথি অনুমোদন করেন। কিন্তু নথিটি মন্ত্রীর দপ্তরে গেলে মন্ত্রী এহছানুল হক মিলন অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হন। তিনি নথির প্রস্তাব নাকচ করে শাখায় পাঠিয়ে দেন এবং পিএস ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলকে চলতি দায়িত্বে ডিজি পদে নিয়োগের প্রস্তাব দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নতুন করে নথি উপস্থাপনের নির্দেশ দেন। তড়িৎ গতিতে সেভাবেই নথি উপস্থাপিত হয়। পহেলা বৈশাখ (১৪ এপ্রিল, মঙ্গলবার) ছুটির দিনে বিশেষ ‘বার্তা বাহক’ এই নথিটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠান মন্ত্রী। কিন্তু সোহেলকে ডিজি নিয়োগের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন না করে ফেরত দেন। এতে মন্ত্রী আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেন। প্রধানমন্ত্রী নাকচ করার পরও তিনি একই ব্যক্তি অর্থাৎ পিএস সোহেলকে অতিরিক্ত দায়িত্বে ডিজি পদে নিয়োগের অফিস আদেশ জারি করেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ অফিস আদেশটি জারি হয় ১৬ এপ্রিল। এ নিয়ে তখন ব্যাপক কানাঘুষা চলে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সমালোচনা হয়। এর এক সপ্তা পরে ২৩ এপ্রিল তাকে চলতি দায়িত্বে ডিজি করা হয়।

    শিক্ষাখাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পিএস থেকে ডিজি পদে নিয়োগ এবং এতো বেপরোয়া ঘুষখোর কর্মকর্তা অতীতে কখনো অধিদপ্তরের ডিজি অর্থাৎ শিক্ষা ক্যাডারের সর্বোচ্চ এই পদে নিয়োগ পাননি। শিক্ষা ক্যাডারের কর্মরত কর্মকর্তাদের মধ্যে তিনি অত্যন্ত জুনিয়রও বটে। এসব দিক থেকে ডিজি সোহেল অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙেছেন। তাছাড়া ডিজি পদে নিয়োগের পর থেকে খান মইনুদ্দিন সোহেল বদলি বাণিজ্য ও ঘুষের যে নতুন নতুন রেকর্ড তৈরি করেছেন তাতে অতীতের সকল নজির ছাড়িয়ে গেছে, এতে কারো সন্দেহ নেই। যুবদল নেতা নয়নের অভিযোগের চাক্ষুষ উদাহরণ ইতিমধ্যেই এ প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। শীর্ষকাগজের চলতি সংখ্যার আরেকটি আলাদা প্রতিবেদনে ঘুষ সংক্রান্ত গুরুতর অভিযোগের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া ঘুষের রেট নির্ধারণ এবং নেটওয়ার্ক বা দালাল সিন্ডিকেট গড়ে তোলা ও এর মাধ্যমে প্রকাশ্যে ঘুষ লেনদেনের নতুন নজির তো রয়েছেই।

    ডিজি সোহেলের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর দাবি, নিয়োগ বাণিজ্যসহ বিভিন্ন খাতের সংগৃহীত কোটি কোটি টাকার ভাটবাটোয়ারায় মাত্র একটি ক্ষুদ্র অংশ পান ড. সোহেল। বড় একটি অংশ চলে যায় মন্ত্রীর বাসায়। মন্ত্রীর পরিবারের সঙ্গে সোহেলের পরিচয়-সম্পর্ক রয়েছে এপিএস থাকাকালেই। সেই সূত্রে মন্ত্রীর বাসায় সোহেলের নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে বলে জানা যায়।মহাপরিচালক পদে বসে নিজেরই পরিচালক পদের পদায়নগুলো পাল্টে দিলেন!
    ড. খান মইনুদ্দিন সোহেল অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে পরিচালক (মাধ্যমিক) থাকা অবস্থায় ডিজি অফিস ছাড়াও ঢাকা শহরের অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং প্রত্যেক জেলায় একাধিক শিক্ষক নিয়ে গড়ে তুলেন বদলি বাণিজ্যের নেটওয়ার্ক বা সিন্ডিকেট। অনেক ক্ষেত্রেই কলেজ এবং স্কুল পর্যায়ের সিন্ডিকেট একযোগে কাজ করছে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে আলাদা নেটওয়ার্কও রয়েছে। পরিচালক (মাধ্যমিক) পদে থেকেই ঘুষ লেনদেনের একটি অঘোষিত রেট নির্ধারণ করেছেন তিনি। তবে মহাপরিচালক পদে বসার পরে সেই রেট পুরোপুরিভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বলে জানা যায়। যেমন- ঢাকা শহরে প্রধান শিক্ষক স্কুলভেদে ৫-১০ লাখ টাকা, জেলা শিক্ষা অফিসার জেলার গুরুত্ব অনুসারে ৫-১০ লাখ, উপপরিচালক ২০-৩০ লাখ টাকা। সহকারী শিক্ষক ঢাকা শহরে ২-৩ লাখ টাকা, ঢাকার বাইরে ১-২ লাখ টাকা। কলেজের ক্ষেত্রেও তেমনই। কলেজ শিক্ষকদের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ যে কোন দপ্তরের চেয়ারম্যান- দেড় থেকে দুই

    কোটি টাকা, ডিজি পর্যায়ের- দুই কোটি বা তদুর্ধ্ব পরিমাণ, পরিচালক পর্যায়ের পদ এক কোটি, বড় সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ পদ ৩০-৫০ লাখ, আঞ্চলিক পরিচালক পদ ৩০-৪০ লাখ টাকা ইত্যাদি। এছাড়া শিক্ষা ক্যাডারের অন্যান্য পদগুলো ২ লাখ থেকে গুরুত্বভেদে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এই টাকা-তো শুধুমাত্র মহাপরিচালক নেন, দালালরা নেন আরও প্রায় সমপরিমাণ টাকা। বিএনপিপন্থি অর্থাৎ রাজনৈতিক মতাদর্শগত মিল থাকার প্রয়োজন নেই, বরং আগের ক্ষমতাবান আওয়ামী ফ্যাসিস্টরা অগ্রাধিকার পাচ্ছে। কারণ, তাদের হাতে আছে প্রচুর পরিমাণে টাকা।

    শিক্ষা ক্যাডারের যেসব বদলি-পদায়নের দায়িত্বে রয়েছে মন্ত্রণালয়- সেগুলোও পুরোপুরোই নিয়ন্ত্রণ করছেন ডিজি ড. সোহেল। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রতিদিন অসংখ্য বদলি-পদায়নের দরখাস্ত জমা পড়ে। এইসব দরখাস্ত গ্রহণ এবং তাতে মার্ক করারও সুব্যবস্থা আছে মন্ত্রণালয়ে। মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ ব্যক্তিরা এগুলোতে স্বাক্ষর করে সংশ্লিষ্ট শাখায় পাঠান। কিন্তু আদতে এইসব দরখাস্তে কোনো কাজ হয় না। যারা বদলি-পদায়নের ব্যাপারে অতি আগ্রহী তাদেরকে মন্ত্রণালয়ের ভেতর থেকেই বলে দেওয়া হয়, কোথায় বা কার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। ডিজি সোহেলই সবকিছুর মূলে এটা মোটামুটি সবাই জানেন। সোহেলের সবুজ সংকেত ছাড়া কোনো বদলির নথি মন্ত্রণালয়ে উপস্থাপিত বা অনুমোদন হয় না, বলছেন সংশ্লিষ্টরা। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর পিএস পদে বসেই দুর্নীতির ধরন পরিবর্তন করেছেন ড. সোহেল। শুধু টাকাই নয়, টাকার সঙ্গে আবেদনে মন্ত্রী কিংবা এমপির কাছ থেকে সুপারিশ বাধ্যতামূলক করেছেন তিনি। তবে মন্ত্রী-এমপিদের সুপারিশের বিষয়টা হলো লোক দেখানো। অর্থাৎ মন্ত্রী-এমপিদের সুপারিশের নাম ভাঙিয়ে ডিজি সোহেল দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছেন অধিদপ্তরকে। আদতে বদলির ক্ষেত্রে কোনো দলীয় পরিচয় বিবেচনা করা হয় না। টাকা যার বদলি তার। দেশের সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় বা কলেজের যে কোনো শিক্ষককে প্রশ্ন করা হলে এর সত্যতা পাওয়া যাবে। বিএনপির নাম ব্যবহার করে মহাপরিচালক সোহেল যা করছেন তা বিএনপির জন্য খুবই অশনিসংকেত। বিগত সরকারের আমলে যেসব শিক্ষক ফ্যাসিস্টের সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত ছিলেন তাদের মধ্যে থেকে বেশকিছু শিক্ষককে সোহেল পরিচালক (মাধ্যমিক) থাকা অবস্থায় শাস্তিমূলক বদলি করেছিলেন জনস্বার্থে। কিন্তু তিনি মহাপরিচালক পদে বসার পর ফ্যাসিস্টের সহযোগী ওই শিক্ষকদের প্রায় সবাইকে পূর্বপদে ফিরিয়ে এনেছেন মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে। কাউকে কাউকে আগের চেয়েও আকর্ষণীয় পদায়নের চমক দেখিয়েছেন ডিজি সোহেল। শুধু তাই নয়টাকার বিনিময়ে এই শিক্ষকদের এমন জায়গায় ফিরিয়ে এনেছেন যেখানে তাদের পদায়নের সুযোগ নেই অর্থাৎ ওই বিষয়ের পদ শূন্য নেই। এমন অনেক শিক্ষক আছেন যাদেরকে কয়েক মাস আগে ‘জনস্বার্থে’ বদলি করা হলেও কয়েক মাসের মধ্যেই তাদেরকে ‘অফিস আদেশে’ ফিরিয়ে আনা হয়েছে পূর্বের কর্মস্থলে। এমন কিছু বিতর্কিত শিক্ষককে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বদলি করে আনা হয়েছে, যা সারাদেশের শিক্ষকদের অবাক করেছে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়- ময়মনসিংহ জেলা স্কুল থেকে ৩ জন আওয়ামী ফ্যাসিস্ট চিহ্নিত শিক্ষককে কয়েকমাস আগে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় বদলি করা হয়েছিল। কিন্তু বদলির কয়েক মাসের মধ্যেই তাদের ৩ জনের একজনকে ময়মনসিংহের ফুলপুরে আনা হয়। কয়েকদিন আগে সদ্য বদলি করে আনা ওই শিক্ষকসহ মোহনগঞ্জের ফ্যাসিস্ট সমর্থক আরেক শিক্ষককে ময়মনসিংহ বিদ্যাময়ী স্কুলে বদলি করে আনা হয়েছে। আরও অবাক করার বিষয় হলো, ময়মনসিংহ বিদ্যাময়ী স্কুলের ব্যবসা শিক্ষার একটি শূন্য পদের বিপরীতে একজন মানবিক বিজ্ঞান ও একজন গণিতের শিক্ষককে পদায়ন দেওয়া হয়েছে। একইভাবে টাঙ্গাইল বি. বি. সরকারি বালক/ বালিকা বিদ্যালয়ে একটিও ইংরেজি শিক্ষকের শূন্য পদ না থাকলেও ৪ জন

    ইংরেজি শিক্ষককে এখানে বদলিভিত্তিক পদায়ন করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, ঢাকা থেকে শেখ রাসেল উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন ফ্যাসিস্ট চিহ্নিত শিক্ষক, যিনি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রতিহত করার লক্ষ্যে মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মলীগের ব্যানার হাতে জাতীয় পতাকা মাথায় বেঁধে লাঠি হাতে শাহবাগে বসে ছিলেন- এই ছবিটি তখন সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল। ওই শিক্ষককে ড. সোহেল পরিচালক (মাধ্যমিক) থাকাকালে পার্বত্যঞ্চলে শাস্তিমূলক বদলি করেছিলেন। কয়েকদিন আগে তাকে ধানমণ্ডি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে বদলি করে আনা হয়েছে। অর্থাৎ তাকে শেখ রাসেল উচ্চ বিদ্যালয়ের চেয়েও আকর্ষণীয় পদায়নে দেওয়া হয়েছে। কত টাকার বিনিময়ে ডিজি সোহেল এটা করেছেন, এ প্রশ্ন সংশ্লিষ্টদের।

    শিক্ষা ক্যাডারের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ হলো পরিচালক, কলেজ ও প্রশাসন। ড. সোহেল মহাপরিচালক পদের দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র তিন দিন আগে ১৩ এপ্রিল এই পদে পদায়নের ব্যবস্থা করেন ফরিদপুরের সরকারি আইনউদ্দীন কলেজের অধ্যক্ষ মো. নাজমুল হককে। আওয়ামী লীগ আমলে তিনি আইনউদ্দীন কলেজে একনাগাড়ে ১০ বছর ৫ মাস অধ্যক্ষ পদে ছিলেন। অথচ তাকেই পছন্দ সোহেল এবং মন্ত্রীর। সর্বশেষ গত ২৩ জুলাই জাবি ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি এম এম সহিদুল ইসলামকে কোনো কারণ ছাড়াই ডিআইএ’র পরিচালক পদ থেকে সরিয়ে রাজেন্দ্র কলেজেররাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে সংযুক্তি দিয়ে ওএসডি করা হয়েছে। অবশ্য, এর কারণ তো নিশ্চয়ই আছে। তা হলো, নতুন যাকে এই পদে পদায়ন দেওয়া হয়েছে মো. আলফাতুন, তিনি শিক্ষা ক্যাডারের ২০ তম ব্যাচের অর্থাৎ অত্যন্ত জুনিয়র কর্মকর্তা এমনকি আওয়ামীপন্থি হিসেবেও পরিচিত, তাঁর কাছ থেকে পাওয়া গেছে নাকি এককালীন ৫০ লাখ টাকা। এছাড়া প্রতি মাসে পাওয়া যাবে আরও ৫ লাখ টাকা করে। সম্প্রতি শিক্ষা অধিদপ্তরের বেসরকারি কলেজ শাখায় সহকারী পরিচালক পদে নিয়োগ পেয়েছেন মো. ফিরোজ মিয়া। তিনি ৩০তম বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা। ২০২৪ সালের শিক্ষা ক্যাডার সমিতির আওয়ামীপন্থি প্যানেল থেকে নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ী হন তিনি। ‘বঙ্গবন্ধু’কে নিয়ে প্রবন্ধ লিখে বাড়তি সুবিধা নেন তিনি। এর আগে চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল তাকে শিক্ষা প্রশাসনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ করা হয়। শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে একের পর এক মো. ফিরোজ মিয়ার পদায়নকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। শুধু এগুলোই নয়, এ রকমের অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে।

    লেনদেনের দালাল নেটওয়ার্ক
    খান মইনুদ্দিন সোহেলের বদলি বাণিজ্য ও অর্থ লেনদেনের কাজে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে ইতিপূর্বে সারোয়ার হোসেন, নাজিম উদ্দিন, কাওসার আহমেদ অন্যতম ছিলেন। আর্থিক লেনদেন নিয়ে এদের সঙ্গে সমস্যা বেধে যাওয়ায় নানা অভিযোগ তুলে বিভিন্ন সময়ে তাদেরকে শাস্তিমূলক বদলির ব্যবস্থা করেন সোহেল। শিক্ষা ভবনে বর্তমানে অর্থ লেনদেনে মূল ভূমিকায় রয়েছেন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর খোকন রানা, পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) এর পিএ আবদুর রহিম এবং ডিজির পিএ ফরহাদ। ক্ষমতাবান ফরহাদ ইতিপূর্বে অন্তত ৭ জন ডিজির পিএ’র দায়িত্ব পালন করেন। এবং এসব ডিজির কালেক্টর হিসেবেও পরিচিত ছিলেন তিনি। এখন সোহেলের অন্যতম কালেক্টর। ল্যাবরেটরি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাসুদুল হক এবং অধিদপ্তরের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর আব্দুল ওহাবও এরমধ্যে রয়েছেন। সরকারি ল্যাবরেটরি উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক হারুন-অর-রশীদের ব্র্যাক ব্যাংকের ধানমণ্ডি শাখার একটি অ্যাকাউন্টে ইতিপূর্বে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ডিজি সোহেলের বদলি বাণিজ্যের টাকা জমা হয়েছে। ব্যাংক অ্যাকউন্টটির নম্বর হলো- ১৫৪৭১০৫০৮২৮৯১০০১। একজন সাবেক শিক্ষক নেতা শীর্ষকাগজ ও শীর্ষনিউজ প্রতিবেদককে এ তথ্য জানিয়েছেন। এই অ্যাকাউন্টটির কার্যক্রম বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। এই শিক্ষক নেতা নিজেও সোহেলের বদলি বাণিজ্যের সিন্ডিকেটে যুক্ত ছিলেন। তিনি জানান, শুধু এই একটি ব্যাংক হিসাবই নয়, এ রকমের আরও অনেকগুলো ব্যাংক হিসাবে সোহেলের বদলি বাণিজের ঘুষ লেনদেন হয়ে থাকে। সিন্ডিকেটের সারাদেশের সদস্যরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেই টাকা পাঠান। ব্যাংকে টাকা জমা হওয়ার পরেই কাঙ্ক্ষিত পদায়নের আদেশ জারি করা হয়। বেনামী এসব ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলো কোনোটিই ড. সোহেল বেশিদিন ব্যবহার করেন না। দালাল সিন্ডিকেটের সদস্যদের নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে তা নিজের ঘুষ লেনদেনের কাজে ব্যবহার করেন।

    শিক্ষক সমিতির সাবেক ওই নেতা জানিয়েছেন, তিনি নিজেও ড. সোহেলকে বদলি বাণিজ্যের অনেক টাকা সংগ্রহ করে দিয়েছেন। গত বছরের ১২ জানুয়ারি ১৩ জন শিক্ষকের পদায়নের জন্য তিনি তখনকার পরিচালক (মাধ্যমিক) ড. খান মইনুদ্দিন সোহেলের ফোনে হোয়াটসঅ্যাপে তালিকা পাঠান। কিন্তু তালিকার ৮ জনের বদলির আদেশ জারি হলেও বাকি ৫ জনের পদায়ন হয়নি। অথচ ড. সোহেল এ বাবদ অগ্রিম টাকা নিয়েছেন। টাকাও ফেরত দেননি। পরে এ নিয়ে সোহেলের সঙ্গে পরিচালকের দপ্তরে তর্কাতর্কি পর্যন্ত হয়। সেই টাকা এখনো ফেরত পাওয়া যায়নি। সেই থেকে তিনি ড. সোহেলের হয়ে আর কাজ করছেন না বলে জানিয়েছেন।

  • ঢাকা বোর্ডের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জরুরি নির্দেশনা

    ঢাকা বোর্ডের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জরুরি নির্দেশনা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রমের নিয়ে জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম আগামী ২ আগস্ট থেকে শুরু হয়ে এ প্রক্রিয়া চলবে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত।

    সোমবার (২৭ জুলাই) ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর থেকে জারি করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেছেন ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যানের আদেশক্রমে প্রফেসর ড. মো. মাসুদ রানা খান।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিলম্ব ফি ছাড়া জনপ্রতি রেজিস্ট্রেশন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯৬ টাকা। নির্ধারিত সময়ের পর বিলম্ব ফি সহ রেজিস্ট্রেশন করলে অতিরিক্ত ১৪০ টাকাসহ মোট ৩৩৬ টাকা দিতে হবে।

    বোর্ডের দেওয়া নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কেবল ৮ম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরাই নবম শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ পাবে। নিবন্ধনের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের বয়সের সীমা ১২ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে হতে হবে। ১২ বছরের কম বা ১৮ বছরের বেশি বয়সি শিক্ষার্থীরা নিবন্ধনের যোগ্য বিবেচিত হবে না।

    রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম নিখুঁত করতে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রেণি শিক্ষকসহ ৩ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অনলাইনে তথ্য সাবমিটের আগে বিদ্যালয়ের ভর্তি ফরমের সঙ্গে তথ্য মিলিয়ে দেখার দায়িত্ব থাকবে এ কমিটির ওপর। ভুল তথ্যের জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধান ও কমিটির সদস্যগণ যৌথভাবে দায়ী থাকবেন। কোনো অবস্থাতেই রেজিস্ট্রেশনের কাজে শিক্ষার্থীদের নিয়োজিত করা যাবে না।

    শিক্ষার্থীদের বিভাগ নির্বাচনের বিষয়ে বলা হয়েছে, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সম্মতিক্রমে মানবিক, বিজ্ঞান বা ব্যবসায় শিক্ষা শাখা চূড়ান্ত করা হবে। তবে ৮ম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল বিবেচনা করে বিভাগ বিভাজন করা যেতে পারে।

    বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হলে বা কোনো ধরনের জটিলতা তৈরি হলে তার পূর্ণ দায়ভার সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানকে বহন করতে হবে। এছাড়া ফি জমাদানের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের বোর্ডে আসার প্রয়োজন নেই; সোনালী সেবার মাধ্যমে ফি পরিশোধের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অনলাইনে ‘eSIF’ পূরণ করা যাবে।

  • এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ ১০ আগস্ট

    এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ ১০ আগস্ট

    মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে ১০ আগস্ট । সোমবার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আবদুল খালেক এ তথ্য জানান।

    ২০ জুলাই এসএসসির ফল প্রকাশের কথা ছিল, কিন্তু প্রস্তুতি শেষ না হওয়ায় তা পিছিয়ে যায়।

    এ বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয় ২১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে, পরীক্ষা চলে ২০ মে পর্যন্ত। এরপর ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়া হয়।

    ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন দাখিল এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় এ বছর পরীক্ষার্থী ছিল ১৮ লাখ ৫৭ হাজারের বেশি।

  • পাঠদানের অনুমোদন বাতিলের মুখে ৬২১ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

    পাঠদানের অনুমোদন বাতিলের মুখে ৬২১ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দির্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থী ভর্তি না করায় দেশের ৬২১টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড। কেনো এসব প্রতিষ্ঠানের ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত এবং পাঠদান পরিচালনার অনুমোদন বাতিল বা প্রত্যাহার করা হবে না তা আগামী সাত দিনের মধ্যে লিখিতভাবে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে এসএসসি ভোকেশনাল শিক্ষাক্রমে ৪৪৩ টি এবং দাখিল ভোকেশনাল শিক্ষাক্রমে ১৭৮ টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

    শুক্রবার (২৪ জুলাই) কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানদেরকে জানানো হয়েছে।

    বলা হয়, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) শিক্ষাক্রমের যেসব প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ দিন যাবৎ শিক্ষার্থী ভর্তি করা হচ্ছে না সে সকল প্রতিষ্ঠানকে আগামী ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে ভর্তি কার্যক্রম স্থগিতসহ প্রতিষ্ঠানের পাঠদান অনুমোদন কেন বাতিল/প্রত্যাহার করা হবে না মর্মে গত ২২ জুলাইয়ের মধ্যে ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য ওয়েব সাইটে নোটিশ প্রদান করা হয়। কিন্তু এই বিষয়ে কিছু প্রতিষ্ঠানের ব্যাখ্যা পাওয়া গেলেও, বাকি প্রতিষ্ঠান অদ্যবধি কোনো প্রকার ব্যাখ্যা প্রদান করেননি।

    আরও বলা হয়, তালিকাভুক্ত যেসব প্রতিষ্ঠান অদ্যাবধি ব্যাখ্যা প্রদান করেননি তাদেরকে আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে উল্লিখিত বিষয়ে ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

    কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি (ভোকেশনাল) শিক্ষাক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, পাঠদান ও স্বীকৃতি প্রদান সংক্রান্ত নীতিমালা-২০২৪ এর উপবিধি ৪.২, ৪.৪ এবং ৫.৪ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের ভর্তি, ফলাফল, অবকাঠামো, শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ, ব্যবস্থাপনা কমিটি, আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি, লাইব্রেরি, পাঠদানের অনুমতি প্রদানকালে আরোপিত এবং অন্যান্য প্রযোজ্য শর্তাবলি পূরণে ব্যর্থ হলে সরকারের অনুমোদনক্রমে বোর্ড প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমতি বাতিল বা প্রত্যাহার করতে পারবে।

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা দেখুন এখানে…

  • এইচএসসির ৫ বিষয়ের পরীক্ষার্থীদের নতুন নির্দেশনা

    এইচএসসির ৫ বিষয়ের পরীক্ষার্থীদের নতুন নির্দেশনা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বৈরি আবহাওয়ার কারণে নির্ধারিত দিনে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা এইচএসসি ও সমমানের পাঁচ বিষয়ের পরীক্ষার্থীদের জন্য জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি। পুনঃপরীক্ষায় অংশ নিতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের ২৯ জুলাইয়ের মধ্যে নিজ নিজ পরীক্ষাকেন্দ্রে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে হবে।

    শনিবার (২৫ জুলাই) আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর জেসমিন তাসলিমা বানু স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড ছাড়া অন্যান্য সব শিক্ষা বোর্ডের যেসব পরীক্ষার্থী বৈরি আবহাওয়ার কারণে গত ১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি, তারা পুনঃপরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন।এ নির্দেশনা পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, হিসাববিজ্ঞান প্রথম পত্র, যুক্তিবিদ্যা প্রথম পত্র, বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অফিস ম্যানেজমেন্ট বিষয়ের পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

    আন্তঃশিক্ষা বোর্ড আরও জানিয়েছে, পরীক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোকে নিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের তথ্য আগামী ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কাছে জরুরি ভিত্তিতে পাঠাতে হবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • ২৪ জুলাই বাউবির এইচএসসি পরীক্ষা শুরু

    ২৪ জুলাই বাউবির এইচএসসি পরীক্ষা শুরু

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি) পরিচালিত এইচএসসি প্রোগ্রামের পরীক্ষা-২০২৬ পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী আগামী ২৪ জুলাই শুক্রবার থেকে দেশব্যাপী একযোগে শুরু হতে যাচ্ছে। সারাদেশে অবস্থিত বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি স্কুল/শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সর্বোমোট ২১৬টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা একযোগে অনুষ্ঠিত হবে।

    ধবার (২২ জুলাই) বাউবি কর্তৃপক্ষের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    আরো বলা হয়, প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষে মোট ৪৭ হাজার ৪১ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবেন। পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ২৭ হাজার ৭ শত ৯৬ জন ছাত্র এবং ১৯ হাজার ২ শত ৩৮ জন ছাত্রী। প্রতিবছরের মতো এবারও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় নকলমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা নেয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

    এছাড়াও বাউবি থেকে ভিজিল্যান্স টিম বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করবেন। উল্লেখ্য যে, গত ১৭ জুলাই স্থগিত বাংলা ১ম পত্র (HSC 1851) এবং বাংলা ২য় পত্র (HSC 2851) বিষয়ের পরীক্ষারগুলোর সময় পরবর্তীতে জানানো হবে। বাউবির ওয়েবসাইট www.bou.ac.bd থেকে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

  • শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক দুই ডিজিকে হাইকোর্টে তলব

    শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক দুই ডিজিকে হাইকোর্টে তলব

    শিক্ষা ডেস্ক:

    আদালতের আদেশ অমান্য করায় শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক দুই মহাপরিচালক অধ্যাপক ডঃ মুহাম্মদ আজাদ খান ও অধ্যাপক বি এম আব্দুল হান্নানকে তলব করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ১২ আগস্ট তাদের আদালতে হাজির হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

    বুধবার (২২ জুলাই) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

    আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মো. হুমায়ুন কবির। পরে অ্যাডভোকেট মো. হুমায়ুন কবির বলেন, মাদারীপুরের রাজৈর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মরিয়ম মুজাহিদা দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় অন্য একজন ব্যক্তিকে শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক আয়ন-ব্যায়ন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। অধ্যক্ষ মরিয়ম মুজাহিদা ওই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে এক রিট পিটিশন দায়ের করেন। ওই রিট পিটিশনে স্থগিত আদেশ থাকার পরও শিক্ষা অধিদপ্তর এই আদেশ স্থগিত করে কোনো চিঠি পাঠাননি। যার ফলে আদালত অবমাননার আবেদন দায়ের করেন অধ্যক্ষ মরিয়ম মুজাহিদা। ওই আদালত অবমাননার মামলায় আজ আদালত শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক ২ মহাপরিচালক প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আজাদ খান ও প্রফেসর বি এম আব্দুল হান্নানকে স্ব-শরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন।

  • কর্মচারী নিয়োগের ক্ষমতা আবারও পরিচালনা কমিটির হাতে

    কর্মচারী নিয়োগের ক্ষমতা আবারও পরিচালনা কমিটির হাতে

    শিক্ষা ডেস্ক:

    এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ছাড়া অন্যান্য কর্মচারী নিয়োগের সুপারিশের ক্ষমতা আবারও পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা কমিটির হাতে ফিরেছে। এ বিষয়ে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ নতুন পরিপত্র জারি করেছে। একই সঙ্গে এ-সংক্রান্ত ২০২৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বরের পরিপত্র বাতিল করা হয়েছে।

    নতুন পরিপত্র অনুযায়ী, নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও স্নাতক (পাস) কলেজে ট্রেড অ্যাসিস্ট্যান্ট, অফিস সহকারী, কম্পিউটার অপারেটর, হিসাব সহকারী, ল্যাব সহকারী, নিরাপত্তাকর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, নৈশপ্রহরী, আয়া ও অফিস সহায়কসহ শিক্ষক ছাড়া অন্যান্য এমপিওভুক্ত পদে নিয়োগের সুপারিশ প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির মাধ্যমেই হবে।

    এর আগে ২০২৫ সালের পরিপত্রে এসব পদে নিয়োগের সুপারিশের দায়িত্ব জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বাধীন কমিটির ওপর ন্যস্ত করা হয়েছিল। নতুন পরিপত্রে সেই নির্দেশনা বাতিল করায় অশিক্ষক কর্মচারী নিয়োগে আগের ব্যবস্থাই পুনর্বহাল হলো।

  • শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া পরিচালনা কমিটি গঠনের নির্দেশ

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া পরিচালনা কমিটি গঠনের নির্দেশ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা উপলক্ষে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া পরিচালনা কমিটি করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

    সোমবার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। এ চিঠি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষার সব আঞ্চলিক পরিচালক, উপপরিচালক, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছে।

    এতে বলা হয় প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা ২০২৬ উপলক্ষে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (স্কুল ও কলেজ) ক্রীড়া পরিচালনা কমিটি করতে হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া পরিচালনা কমিটি গঠনের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

  • প্রাথমিক বদলি কমিটিতে নতুন ৭ শর্ত

    প্রাথমিক বদলি কমিটিতে নতুন ৭ শর্ত

    শিক্ষা ডেস্ক:

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলি ও পদায়ন পদ্ধতিতে বড় ধরনের সংশোধন এনেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। বিতর্কিত ‘গণ্যমান্য ব্যক্তি’ রাখার বিধান বাতিল করে এবার যুক্ত করা হয়েছে শিক্ষানুরাগী বা বিদ্যোৎসাহী ব্যক্তিদের। একই সঙ্গে জাতীয় কমিটি গঠনে পরিবর্তন আনার পাশাপাশি শিক্ষক বদলিতে সাতটি নতুন শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত ২১ জুন চারস্তরের কমিটির মাধ্যমে সনাতন পদ্ধতিতে বদলির নতুন নিয়ম চালু করা হলে শিক্ষা প্রশাসন ও শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের একাংশের মধ্যে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সেই বিতর্কের মুখেই অবশেষে নীতিমালায় এ পরিমার্জন আনল মন্ত্রণালয়।

    সমালোচনার কারণ ‘গণমান্য ব্যক্তি’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছিল, তা স্পষ্ট ছিল না। এতে আশঙ্কা করা হয়, সরকারি শিক্ষকদের বদলির মতো প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় বাইরের ব্যক্তিদের যুক্ত করা হলে স্বচ্ছতার পরিবর্তে তদবির ও প্রভাব খাটানোর সুযোগ বাড়তে পারে।

    গত মাসে বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বদলি কমিটিতে সভাপতির মনোনীত দুজন করে ‘গণ্যমান্য ব্যক্তি’ সদস্য রাখার বিধান করা হয়েছিল। তবে জাতীয় পর্যায়ের কমিটিতে অবশ্য এ ধরনের কোনো সদস্য রাখা হয়নি।

    এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার পর গত বৃহস্পতিবার বদলির নীতিমালা পরিবর্তন করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

    পরিবর্তিত নীতিমালাতেও উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় ও জাতীয়—এই চারস্তরের কমিটির মাধ্যমেই বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তি করার বিধান রাখা হয়েছে। তবে উপজেলা, জোলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের কমিটিতে সভাপতির মনোনীত দুজন করে ‘গণ্যমান্য ব্যক্তি’র পরিবর্তে বিদ্যোৎসাহী বা শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিদের যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

    বিভাগীয় কমিটির সভাপতি বিভাগীয় কমিশনার, জেলা কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং উপজেলা বা থানা কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) থাকবেন।

    এ ছাড়া জাতীয় কমিটির সভাপতির পদেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাতীয় কমিটির সভাপতি হবেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। কমিটির সদস্য হিসেবে থাকবেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (বিদ্যালয়) ও সদস্য সচিব হবেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পলিসি ও অপারেশন)। গত মাসের নীতিমালায় জাতীয় কমিটির সভাপতি করা হয়েছিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিবকে।

    বদলিতে যুক্ত হলো সাত শর্ত

    বদলির আবেদনের প্রক্রিয়া ও যোগ্যতা কী হবে, তা আগের নীতিমালায় বলা হয়নি। ওই নীতিমালায় বলা হয়েছিল, কমিটিগুলো প্রতি মাসে অন্তত একবার সভা করে বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেবে। একই উপজেলা, জেলা বা বিভাগের মধ্যে বদলির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কমিটির অনুমোদনের ভিত্তিতে আদেশ জারি করা হবে।

    অন্যদিকে আন্তঃবিভাগ ও সিটি করপোরেশনের ক্ষেত্রে বদলির আবেদন জাতীয় কমিটি যাচাই-বাছাই করবে। এ ছাড়া নতুন নিয়োগ পাওয়া সহকারী শিক্ষকদের লটারির মাধ্যমে বিদ্যালয়ে পদায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জেলা কমিটিকে। এসব নিয়মের অধিকাংশই রয়েছে।

    তবে পরিবর্তিত নীতিমালায় সাত ধরনের শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। এক. চাকরির মেয়াদ ন্যূনতম দুই বছর পূর্ণ না হলে কোনো সহকারী শিক্ষক বা শিক্ষিকা বদলিযোগ্য হবেন না। যে ক্ষেত্রে বদলির পর তিন বছর অতিক্রম না হলে কোনো শিক্ষক পুনঃবদলির জন্য বিবেচিত হবেন না। দুই. সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে কেবল শূন্য পদের বিপরীতে বদলি করা যাবে। তিন. কোনো শিক্ষকের আবেদন ছাড়া নিজ বিদ্যালয় থেকে অন্য বিদ্যালয়ে বদলি করা যাবে না। তবে জনস্বার্থে বা প্রশাসনিক কারণে জাতীয় কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে বদলি করা যাবে। চার. যেসব বিদ্যালয়ে পাঁচজন বা তার কমসংখ্যক শিক্ষক কর্মরত আছেন কিংবা শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত ১:৪০-এর বেশি, সেসব বিদ্যালয় থেকে বদলি করা যাবে না। পাঁচ. একই বিদ্যালয়ে একাধিক শিক্ষক আবেদন করলে যথাক্রমে জ্যেষ্ঠ শিক্ষকরা অগ্রাধিকার পাবেন। ছয়. একটি বিদ্যালয়ে সর্বোচ্চ তিনজন শিক্ষককে ‘সংযুক্তি’ পদায়ন করা যাবে। সাত. বদলির ক্ষেত্রে সব শর্তাবলি পূরণ সাপেক্ষে শিক্ষিকারা স্থায়ী ঠিকানা বা স্বামীর ঠিকানার নিকটবর্তী বিদ্যালয়ে বদলির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন।

  • মাউশির ডিজির নামে ভুয়া কল!

    মাউশির ডিজির নামে ভুয়া কল!

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের নাম ও ছবি ব্যবহার করে একটি প্রতারক চক্র বদলি, নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রশিক্ষণের প্রলোভন দেখিয়ে টাকা দাবি করার ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে। এবার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলের ছবি ও পরিচয় ব্যবহার করে একটি নম্বর থেকে দেয়া হচ্ছে ভুয়া কল। এ ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকা এবং কোনো আর্থিক লেনদেন থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) মাউশি অধিদপ্তর এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে অবগত করেছে।

    মোবাইল নম্বরটি হলো ০১৯৪২-১৯১৯৫৮।

    এর আগেও ৬ জুলাই মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এবং এর আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের নাম ও ছবি ব্যবহার করে একটি প্রতারক চক্র বদলি, নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রশিক্ষণের প্রলোভন দেখিয়ে টাকা দাবি করার তথ্য জানানো হয়। সে সময় সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয় মাউশি।

    এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, বিভিন্ন প্রতারক চক্র মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর ও এর আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর বা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে পদোন্নতি, নিয়োগ, প্রশিক্ষণ ও বদলিসহ বিভিন্ন কাজ করিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ দাবি করছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই অসাধু চক্রটি কর্মকর্তাদের ছবি ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপে কল বা মেসেজের মাধ্যমেও অর্থ দাবি করছে বলে বিভিন্ন সূত্রে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, মাউশির আওতাধীন কোনো কর্মকর্তা বা অন্য কোনো পরিচয় দিয়ে কাজ করিয়ে দেওয়ার নামে কেউ যদি অর্থ দাবি করে, তবে সঙ্গে সঙ্গে ওই প্রতারকের ফোন নম্বর নিকটস্থ থানায় অবহিত করতে হবে। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়াসহ এই বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার জন্য মাঠপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশ দিয়েছে মাউশি।

  • পরীক্ষা নির্বিঘ্নে পরীক্ষাসম্পন্ন করতে সরকারের ৫ উদ্যোগ

    পরীক্ষা নির্বিঘ্নে পরীক্ষাসম্পন্ন করতে সরকারের ৫ উদ্যোগ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ৫টি শিক্ষার্থীবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। এর মধ্যে অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ, পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের দুটি ভুল প্রশ্নে পূর্ণ নম্বর প্রদান এবং প্রশ্নপ্রণয়নে দায়ীদের সাময়িক বরখাস্তের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও রয়েছে।

    বুধবার (১৫ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এসব তথ্য জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

    দৈনিক শিক্ষাডটকমের পাঠকদের জন্য মাহদী আমিনের ফেসবুক পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

    আজ চট্টগ্রাম বোর্ড ব্যতীত সারাদেশে ২,৫৮৩টি পরীক্ষা কেন্দ্রে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্বতঃস্ফূর্ত ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আবহাওয়ার উল্লেখযোগ্য উন্নতির পাশাপাশি শিক্ষার্থীরাও যথেষ্ট উদ্দীপনা ও উৎসাহ নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। সম্প্রতি বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষা গ্রহণে জটিলতা নিরসনে নির্বাচিত সরকার সময়োপযোগী ও শিক্ষার্থীবান্ধব কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

    ১। সারাদেশের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা গ্রহণের বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তাগণ, এবং অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে, বিপুল-সংখ্যক সংখ্যাগরিষ্ঠ শিক্ষার্থীর স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে, সর্বসম্মতিক্রমে পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী চট্টগ্রাম বোর্ড ছাড়া সারাদেশে পরীক্ষা চালু রাখা হয়েছে।

    ২। কোথাও যাতায়াত বা জলাবদ্ধতার কারণে সমস্যা হলে প্রয়োজনে কেন্দ্র পরিবর্তন, পরীক্ষা স্থগিত, কিংবা পরীক্ষার সময় বৃদ্ধিসহ যে কোনো প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।৩। প্রতিকূল আবহাওয়া কিংবা সংশ্লিষ্ট অনিবার্য কারণে যারা চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার কোনো বিষয়ে অংশগ্রহণ করতে পারেনি, সেই অনুপস্থিত শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ইতোমধ্যে স্থগিত হওয়া সংশ্লিষ্ট বিষয়ের অভিন্ন পরীক্ষাপত্রে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত একই তারিখ ও সময়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে।

    ৪। পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের দুটি ভুল প্রশ্নের জন্য সকল পরীক্ষার্থীকে ফুল মার্কস দেওয়া হবে।

    ৫। পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের ভুল প্রশ্নপত্র প্রণয়নে দায়ী ব্যক্তিদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

    মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে এইচএসসি শুধু একটি পরীক্ষা নয়; এটি আগামীর বাংলাদেশ গড়ার কারিগরদের ভবিষ্যৎ গঠনের গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। এ কারণে সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পরীক্ষা পরিচালনায় সচেষ্ট রয়েছে। সেই পথযাত্রায় শিক্ষার্থীদের কল্যাণ এবং শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার অন্যতম অগ্রাধিকার