ক্যাম্পাস

  • শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সেলফিতে প্রধানমন্ত্রী

    শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সেলফিতে প্রধানমন্ত্রী

    রংপুরে যাওয়ার পথে নীলফামারীর সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজের সামনে বাস থামিয়ে গাড়িতেই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় গাড়ির গেটের কাছে থাকা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে হাত মেলান, নিজেই সেলফি তোলেন এবং ফুটবল ও ক্রিকেটসহ বিভিন্ন খেলার সামগ্রী উপহার দেন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রীর এমন আকস্মিক উপস্থিতিতে আনন্দ উপভোগ করেন কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এ সময় কলেজের উন্নয়নে ডাবল শিফট চালু, ছেলেদের ও মেয়েদের জন্য পৃথক ভবন নির্মাণ এবং একটি অডিটোরিয়াম প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন অধ্যক্ষ।

    মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকাল ১০টা ১০ মিনিটে বিমানযোগে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    পরে বিশেষ বুলেটপ্রুফ বাসে রংপুরের উদ্দেশে রওনা হন তিনি। পথে সৈয়দপুর বিমানবন্দর সড়কে অবস্থিত সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজের প্রধান ফটকের সামনে শিক্ষার্থীদের দেখতে পেয়ে বাস থামান প্রধানমন্ত্রী।

    কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী জানতে চান, তাদের কী প্রয়োজন। এ সময় তিনি কলেজের ইতিহাস ও উন্নয়নসংক্রান্ত বিভিন্ন চাহিদার কথা তুলে ধরেন।

    অধ্যক্ষ বলেন শহীদ জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানটি স্কুল থেকে কলেজে উন্নীত হয়। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে জানানোর পর তিনি প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আরও জানতে চান। একপর্যায়ে কলেজের কী কী প্রয়োজন, তা জানতে চাইলে অধ্যক্ষ অবকাঠামো উন্নয়ন ও পাঠদানের সুযোগ বাড়ানোর প্রস্তাব তুলে ধরেন।অধ্যক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজে এক শিফটে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হয়। শিক্ষার্থীদের জন্য আরও বেশি সুযোগ সৃষ্টি করতে প্রতিষ্ঠানটিতে ডাবল শিফট চালুর প্রস্তাব দেন তিনি। পাশাপাশি ছেলেদের ও মেয়েদের জন্য পৃথক দুটি ভবন এবং একটি অডিটোরিয়াম নির্মাণের দাবিও জানান। এসব প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন বলে জানান অধ্যক্ষ। এ বিষয়ে কলেজের পক্ষ থেকে লিখিত আবেদনও দেওয়া হয়েছে।

  • নিজ কলেজে প্রধানমন্ত্রী

    নিজ কলেজে প্রধানমন্ত্রী

    রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আকস্মিক পরিদর্শনের একপর্যায়ে নিজের এক সময়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজেও গেলেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন। এ সময় দেশকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ রাখতে তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

    শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ পরিদর্শনে যান প্রধানমন্ত্রী। নিজের একসময়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি তাদের দেশ গড়ার কাজে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

    শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু সরকারের একার পক্ষে দেশকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য করে তোলা সম্ভব নয়। এ জন্য সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে তরুণদের নিজেদের বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি অন্যদেরও সচেতন করতে হবে।

    ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তোমরা গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ২৪-এর আন্দোলন সফল করেছিলে। এটা কি কোনো একক দল করেছিল? সবাই মিলে করেছিল, তাই না?’

    তিনি বলেন, তরুণদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব, সেটি ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। তবে শুধু আন্দোলন করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। দেশ পুনর্গঠন এবং একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলার কাজেও তাদের এগিয়ে আসতে হবে।

    ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর বাতাস ক্রমেই দূষিত হয়ে পড়ছে। এর ফলে বিশেষ করে শিশুরা নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেশি বেশি গাছ লাগানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি।

    শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার ইতোমধ্যে দেশকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ করার উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া এসব উদ্যোগ পুরোপুরি সফল করা সম্ভব নয়।

    বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তোমরা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তোমাদের কাছে আমার দুটি আবেদন—দেশকে পরিষ্কার রাখবে এবং বেশি বেশি গাছ লাগাবে। এটা তোমাদেরই দেশ, এর দায়িত্বও তোমাদের।’

  • চুয়েটে সর্বাত্মক অসহযোগের ডাক

    চুয়েটে সর্বাত্মক অসহযোগের ডাক

    চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য শেখ শরীফুল আলমের নিয়োগের প্রতিবাদে এবং পূর্বঘোষিত দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত পূর্ণ কর্মবিরতির পাশাপাশি এ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে তিনটি সংগঠন।

    সোমবার (১২ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরে এক যৌথ বিবৃতিতে কর্মসূচির বিষয়টি জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, বহিরাগতদের সহায়তায় নবনিযুক্ত উপাচার্যের ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনাকে তিনটি সংগঠন ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে এর সম্পূর্ণ দায়ভার উপাচার্যকে বহন করতে হবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

    সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পূর্বঘোষিত দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সব দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি পূর্ণ কর্মবিরতি ও সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচি চলবে।

    নবনিযুক্ত উপাচার্য শেখ শরীফুল আলমের নিয়োগের প্রতিবাদ এবং সাবেক উপাচার্য আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে চুয়েটে আন্দোলন করছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাংশ। এ আন্দোলনের প্রভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

  • অচলাবস্থা কাটেনি চুয়েটে, দুই দিনের দায়িত্বে নতুন উপাচার্য

    অচলাবস্থা কাটেনি চুয়েটে, দুই দিনের দায়িত্বে নতুন উপাচার্য

    শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলনের কারণে এখনো অচলাবস্থা বিরাজ করছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট)। ১৯ দিনেও স্বাভাবিক হয়নি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। তালা ঝুলছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে। ক্যাম্পাসে এই অচলাবস্থার মধ্যেই দুই দিনের জন্য উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আরাফাত রহমানকে। আগামীকাল রোববার থেকে তিনি এ দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানানো হয়েছে।

    শুক্রবার চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম এ দায়িত্ব দেন। বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ইউজিসি কর্তৃপক্ষ; বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, ডিন ও বিভিন্ন দপ্তর প্রধানকে ই-মেইলে অবহিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। তিনি বলেন, “অধ্যাপক আরাফাত রহমানকে ১১ ও ১২ অক্টোবর, দুই দিনের জন্য রুটিন দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে। আমি সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিষয়টি জানিয়েছি। ”

    গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে চুয়েটের উপাচার্য পদে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে পরদিন থেকে ক্যাম্পাসে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও একই দাবিতে কর্মবিরতি পালন করে আসছেন। উপাচার্য দপ্তরের ফটকে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় তালা। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিক্ষোভের মুখে এখন পর্যন্ত ক্যাম্পাসেই যেতে পারেননি উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম। তবে ২৪ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর যোগদানপত্র পাঠিয়ে উপাচার্য হিসেবে যোগদান করেছেন বলে জানান তিনি।

    চুয়েট সূত্রে জানা গেছে, উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সভায় উপস্থিত হতে দুই দিন ঢাকায় অবস্থান করবেন। সেই সময়ের জন্যই অধ্যাপক আরাফাতকে রুটিন দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে।

    রুটিন দায়িত্ব পালনকালে ক্যাম্পাসের শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক আরাফাত রহমান। তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাদের যত দ্রুত সম্ভব শিক্ষা কার্যক্রমে ফিরিয়ে আনা যায়, সে ব্যাপারে বোঝানোর চেষ্টা করব। ”

    আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের একজন ও পুরকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী নাফিস হাসান বলেন, “নতুন উপাচার্য কাকে কী দায়িত্ব দিলেন, সেটি আমাদের আন্দোলনে কোনো প্রভাব ফেলবে না। ”

    তিনি বলেন, “আমরা সায়েম স্যারকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন করছি, এই আন্দোলন চলবে, শাটডাউন কর্মসূচিও চলবে। উপাচার্য ভবনেও তালা থাকবে। সেই তালা শুধু সায়েম স্যারই খুলতে পারবেন। ”

  • পিকনিকের কথা বলে হলে ডেকে র‍্যাগিং, হাসপাতালে ছাত্রী

    পিকনিকের কথা বলে হলে ডেকে র‍্যাগিং, হাসপাতালে ছাত্রী

    পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) ছাত্রী হলের কক্ষে ডেকে নিয়ে কয়েকজন জুনিয়র শিক্ষার্থীকে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ উঠেছে হলটির সিনিয়র শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এক ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতন্ত্র হলের ১০৩৬ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

    হাসপাতালে ভর্তি ওই শিক্ষার্থীর নাম আনিকা আফরিন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইসিই) বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

    ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পিকনিকের কথা বলে জুনিয়র ব্যাচের কয়েকজন ছাত্রীকে ওই কক্ষে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তাদের বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ, গালাগাল ও ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। একপর্যায়ে তাদের মোবাইল ফোন নিয়ে পরীক্ষা করা হয়। এ ঘটনায় পরে দুই শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে একজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

    অসুস্থ শিক্ষার্থী আনিকা আফরিন জানান, পিকনিকের কথা বলে তাদের কক্ষে ডাকা হয়েছিল। সেখানে যাওয়ার পর পিকনিকের বিষয়ে কিছু না বলে সিনিয়ররা তাদের ধমক দিতে শুরু করেন। তার নামে বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হয়। তাকে চতুষ্পদ প্রাণীর মতো ১০ ধরনের ডাক দিতে বলা হয়। ক্যাম্পাসের লেকে কেন গেছেন, রিডিং রুমে কেন গেছেন এবং ছেলেদের সঙ্গে কেন দেখা যায়—এমন প্রশ্ন করা হয়। এমনকি কোনো ছেলেকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছেন কি না, তা দেখতে তার মোবাইল ফোনও পরীক্ষা করা হয়।

    আনিকা বলেন, একপর্যায়ে তার অস্বস্তি শুরু হয়। ঘাড়ের রগ টেনে আসছিল এবং শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। পরে তিনি শুয়ে পড়েন। এরপর কী হয়েছে, তা আর মনে নেই।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক শিক্ষার্থী বলেন, দীর্ঘক্ষণ র‍্যাগিংয়ের পর তাদের এক বান্ধবী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ করলেও সঙ্গে সঙ্গে অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। এক ঘণ্টার বেশি সময় পরও ওই শিক্ষার্থীর শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তারা কান্নাকাটি শুরু করেন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।

    ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার বিকেলে গণতন্ত্র হলের ১০৩৬ নম্বর কক্ষে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের কয়েকজন ছাত্রী তাদের ডেকে নেন। অভিযুক্তদের মধ্যে সামিহা, উর্মী, নিশাত, শ্রেয়া, মিম, মারিয়া, আফিয়া, ফারজানা ও ইফতির নাম উল্লেখ করেছেন তারা। ওই ঘটনায় জুনিয়র ব্যাচের আনিকা, আশা, ঝুমা, মাসুমা, ফারিয়া, সাথী ও জান্নাতকে হেনস্তা ও র‍্যাগিং করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

    অভিযুক্ত সামিহা ও উর্মীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।

    এদিকে হাসপাতালে অসুস্থ শিক্ষার্থীকে দেখতে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান খান ও ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদুল হক। এ সময় প্রক্টরিয়াল বডি ও ছাত্র উপদেষ্টা বডির অন্য শিক্ষকরাও উপস্থিত ছিলেন।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান খান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন র‍্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে বরাবরই কঠোর অবস্থানে রয়েছে। র‍্যাগিং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের ঘটনার অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের পথেই হাঁটছে ছাত্রদল: শিবির সভাপতি

    ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের পথেই হাঁটছে ছাত্রদল: শিবির সভাপতি

    শিক্ষার্থীদের নিপীড়ন-নির্যাতনের অভিযোগ তুলে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেছেন, ক্যাম্পাসগুলো জাহান্নাম বানিয়ে রেখেছিল ছাত্রলীগ। দুঃখের বিষয়, বর্তমান সরকার ও তাদের ছাত্রসংগঠন (ছাত্রদল) ঠিক আওয়ামীদের জেরক্স কপিতে রূপান্তরিত হয়েছে।

    শহীদ আবরার ফাহাদের শাহাদতবার্ষিকী ও নিপীড়নবিরোধী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও চিত্রপ্রদর্শনীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘ক্ষতচিহ্নের ক্যানভাস : নির্যাতনের ক্যাম্পাস’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখা ছাত্রশিবির। বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে চিত্রপ্রদর্শনী শুরু হয়। এতে ক্যাম্পাসে সংঘটিত বিভিন্ন নিপীড়ন, নির্যাতন ও সহিংসতার ঘটনা চিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। পরে বিকেল ৩টায় একই স্থানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংগঠনটির সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম ও জিএস এস এম ফরহাদ।

    অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসাইন খান। সঞ্চালনা করেন শাখার সেক্রেটারি কাজী আশিক। এ সময় ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, গত ১৭ বছরে আওয়ামী আমলে শত শত নির্যাতন ও নিপীড়নের ঘটনা ঘটেছে। আওয়ামী ফ্যাসিবাদ ও ভারত একই সূত্রে গাঁথা। ক্যাম্পাসগুলোকে জাহান্নাম বানিয়ে রেখেছিল ছাত্রলীগ। দুঃখের বিষয়, বর্তমান সরকার ও তাদের ছাত্রসংগঠন (ছাত্রদল) ঠিক আওয়ামীদের জেরক্স কপিতে রূপান্তরিত হয়েছে।

    বুয়েটে নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, আবরার ফাহাদের কথাগুলো আমাদের সবার কথা। সেই স্ফুলিঙ্গ পাঁচ বছর পরে বিশাল আকার ধারণ করে। হাসিনার মসনদ কাঁপিয়ে তাকে দিল্লিতে পাঠিয়ে দিয়েছে। সমালোচনা মানেই শত্রুতা নয়—এটা বর্তমান ক্ষমতাসীনদের বুঝতে হবে।

    ডাকসুর ভিপি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মো. আবু সাদিক কায়েম বলেন, ডাকসুর সবচেয়ে বড় সফলতা হচ্ছে ভায়োলেন্সমুক্ত ক্যাম্পাস। এই মধুর ক্যান্টিনেই দিনের পর দিন শিক্ষার্থীদের নির্যাতন করা হয়েছিল।

    তিনি বলেন, আবরার ফাহাদ ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলেছিলেন। একই সিলসিলায় কথা বলেছিলেন আমাদের মেজর জিয়া, খালেদা জিয়া, শহীদ ওসমান হাদীসহ জুলাই আন্দোলনকারীরা। এখন এই নতুন বাংলাদেশে আমাদের বুঝতে হবে— আমাদের শত্রু কারা এবং মিত্র কারা।

    ডাকসুর জিএস ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি এস এম ফরহাদ বলেন, আমাদের ক্যাম্পাসে গত ১৫ বছর যত নির্যাতন হয়েছে, তার প্রাইমারি স্ট্রাকচার ছিল গণরুম ও গেস্টরুম। এই গণরুম ও গেস্টরুমের কালচার ছাত্রলীগ শুরু করেনি, বরং ছাত্রদল শুরু করেছিল। আবারও আমরা বিভিন্ন ক্যাম্পাসে তাদের সেই প্রয়াস দেখতে পাচ্ছি।

    সমাপনী বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খান বলেন, যারা নতুন করে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী নির্যাতনের পরিকল্পনা করছে, তাদেরও ছাত্রলীগের মতো ভবিষ্যৎ বরণ করতে হবে। আমরা চাই, সব ছাত্রসংগঠন একত্রে শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করে যাক।

    আলোচনা সভায় বক্তারা শিক্ষাঙ্গনে নিপীড়ন, সহিংসতা ও শিক্ষার্থীদের মানবিক মর্যাদাহানি বন্ধের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মর্যাদা নিশ্চিত করে মানবিক ও নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

  • নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভাগে তালা; অবরুদ্ধ শিক্ষকরা

    নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভাগে তালা; অবরুদ্ধ শিক্ষকরা

    শিক্ষা ডেস্ক

    জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এতে বিভাগের ভেতর অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন শিক্ষকরা।

    বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা তালা ঝুলিয়ে দিয়ে দুই দফা দাবি আদায়ে বিভাগের সামনে অবস্থান নিয়েছেন।

    শিক্ষার্থীদের দাবি হলো–বিভাগের নাম পরিবর্তন করে ‘কমিউনিকেশন, মিডিয়া অ্যান্ড ফিল্ম’ করা এবং বিভাগটিকে কলা অনুষদ থেকে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে স্থানান্তর করা।

    তারা দাবি আদায়ে ‘আমাদের দাবি মানতে হবে, মানতে হবে’, ‘মিডিয়া স্টাডিজের সঙ্গে কমিউনিকেশন যুক্ত করতে হবে’, ‘কারিকুলাম গ্লোবাল, ফ্যাকাল্টি কেন লোকাল,’ এবং ‘সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে বিভাগকে নিয়ে যেতে হবে’—এসব স্লোগান দেন।

    এর আগে, বুধবার একই দাবিতে একাডেমিক কার্যক্রম বর্জন করে বিভাগের সামনে অবস্থান নিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা। পরে তারা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়ে দাবিগুলো উল্লেখ করে বিভাগীয় প্রধানের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন।

    আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ইনজামুল হক অভি জানান, তারা প্রায় ১৪ মাস ধরে দাবিগুলো নিয়ে আন্দোলন করছেন। বিভাগের কারিকুলামে কমিউনিকেশন বিষয়ে পড়ানো হলেও বিভাগের নামে ‘কমিউনিকেশন’ শব্দটি না থাকায় চাকরির বাজারে শিক্ষার্থীদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। একই সঙ্গে বিভাগটি কলা অনুষদের অধীনে থাকায় সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত কিছু চাকরিতে তারা আবেদন করতে পারছেন না।

    তিনি বলেন, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত ও নথি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। তাদের দাবি কোনো অতিরিক্ত সুবিধা নয়; বরং একাডেমিক পরিচয় ও চাকরির সুযোগের মধ্যে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করার দাবি। আগামী সিন্ডিকেট সভায় বিষয়টির স্থায়ী সমাধান হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

    আরেক আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী মহসিন হক শাহ বলেন, দাবির যৌক্তিকতা যাচাইয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল। তদন্ত শেষে কমিটিও তাঁদের দাবির পক্ষে প্রতিবেদন দিয়েছে। এরপরও দাবি বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় তারা আন্দোলনে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

    আন্দোলনস্থলে উপস্থিত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহাবুবুর রহমান জনি বলেন, বিষয়টি আগামী সিন্ডিকেট সভায় উপস্থাপন করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দাবি যৌক্তিক প্রমাণিত হলে তা বাস্তবায়ন করা হবে। আগামী ৩ অক্টোবর সিন্ডিকেটের সব সদস্য এ বিষয়ে তাঁদের সিদ্ধান্ত জানাবেন। তার আগে কিছু জানানো সম্ভব নয়।

    বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, দাবিগুলোর প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে। ওই সময় বিভাগের নাম পরিবর্তন ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে স্থানান্তরের দাবিতে উপাচার্য, বিভাগীয় চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট ডিনের কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেন শিক্ষার্থীরা।

    পরে বিভাগের ১২৯তম একাডেমিক কমিটির সভায় নাম ও অনুষদ পরিবর্তনের বিষয়ে সর্বসম্মতভাবে সুপারিশ করা হয়। এরপর ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।

    ওই কমিটি বিভাগের নাম ‘কমিউনিকেশন, মিডিয়া অ্যান্ড ফিল্ম’ করার পাশাপাশি বিভাগটিকে কলা অনুষদ থেকে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে স্থানান্তরের সুপারিশ করে।

    গত ২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় বিভাগের নাম পরিবর্তনের বিষয়টি উত্থাপিত হয়। সভায় বিভাগের নামের সঙ্গে ‘কমিউনিকেশন’ শব্দটি যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং বিষয়টি পরবর্তী সিন্ডিকেট সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপনের কথা বলা হয়।

    এ বিষয়ে বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. জিল্লুর রহমান পল বলেন, বিভাগের নাম পরিবর্তন ও অনুষদ পরিবর্তনের দাবিকে ১২৯তম বিভাগীয় একাডেমিক কমিটি এবং সিন্ডিকেটের অনুমোদনে গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটি বিস্তারিত আলোচনার পর সর্বসম্মতভাবে যৌক্তিক বলে সমর্থন করেছে। বিষয়টি একাডেমিক কাউন্সিলের চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোশাররফ হোসেন বলেন, আমার ব্যক্তিগতভাবে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়ার সুযোগ নেই। সিন্ডিকেটের ১৪ সদস্যের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে পারি না। তবে অধিকাংশ শিক্ষার্থীর দাবিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। বৃহত্তর স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে বদ্ধপরিকর।

  • বাকৃবির গেস্ট হাউসে ইয়াবার আসর, আটক ৪

    বাকৃবির গেস্ট হাউসে ইয়াবার আসর, আটক ৪

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গেস্ট হাউসের একটি কক্ষ থেকে ইয়াবা ও মাদক সেবনের সরঞ্জামসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশের যৌথ অভিযানে গেস্ট হাউসের ৬ নম্বর কক্ষ থেকে তাদের আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মচারীও রয়েছেন।

    প্রক্টর অফিস সূত্রে জানা যায়, আটক চারজন হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি ব্যবসা ও বিতরণ বিভাগের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী লাবিব হাসান মিথুন, বহিরাগত সামিউল আলীম, সামিউল ইবনে আশিকুর রহমান ও সোয়াদ। তাদের কাছ থেকে ইয়াবা ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। অভিযানের সময় ইয়াবার কিছু অংশ টয়লেটে ফ্লাশ করে নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ সদস্যরা জানান।

    পরে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানার পুলিশ তাদের হেফাজতে নেয়।

    গেস্ট হাউসের অফিসার ইনচার্জ সহকারী অধ্যাপক ড. অনিরুদ্ধ সরকার বলেন, গেস্ট হাউসে তাদের সন্দেহজনক চলাফেরা নজরে আসার পর স্টাফদের কাছ থেকে খবর পান তিনি। কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদের স্টাফ মিথুনের নামে ৬ নম্বর কক্ষটি বুকিং করা ছিল। সেখানে অপরিচিত ব্যক্তিদের আসা-যাওয়া, মোটরসাইকেল রাখা ও সন্দেহজনক চলাফেরা দেখা যাচ্ছিল।

    তিনি বলেন, গেস্ট হাউসে অন্য অতিথিরাও অবস্থান করছিলেন। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে প্রক্টরিয়াল ভিজিল্যান্স টিমসহ তারা দ্রুত কক্ষটিতে যান। দরজা খোলার পর ভেতরে চারজনকে পাওয়া যায়। তাদের মধ্যে বুকিংধারী স্টাফের পাশাপাশি একজন এসি মেকানিক ও দুজন অপরিচিত ব্যক্তি ছিলেন। কক্ষের ভেতর তীব্র গন্ধ পাওয়া যায় এবং তাদের আচরণও অস্বাভাবিক মনে হচ্ছিল।

    পরে পুলিশ বাথরুমে তল্লাশি চালিয়ে ৪-৫টি ইয়াবাসহ একটি কিট জব্দ করে।

    গেস্ট হাউস কর্তৃপক্ষ জানায়, লাবিব হাসান মিথুন অসুস্থতাজনিত বিশেষ কারণ দেখিয়ে তিন দিন আগে এক দিনের জন্য ৬ নম্বর কক্ষটি ভাড়া নেন। পরে তিনি সেখানে তিন দিন অবস্থান করেন।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম বলেন, সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে গেস্ট হাউসের ওই কক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন স্টাফের সঙ্গে বাইরের কয়েকজন লোক অবস্থান করছেন বলে খবর পান। এরপর ক্যাম্প পুলিশ ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা সেখানে যান। কোতোয়ালি থানার পুলিশকেও খবর দেওয়া হয়।

    তিনি বলেন, বাইরে থেকে কয়েকবার ডাক দেওয়ার পর প্রায় ৫ থেকে ১০ মিনিটের মধ্যে তারা দরজা খোলেন। কক্ষে ঢোকার পর বাজে গন্ধ পাওয়া যায় এবং ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম দেখা যায়। পরে পুলিশ ইয়াবা উদ্ধার করে তাদের আটক করে। প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানার এসআই মাহবুব বলেন, চারজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের থানায় নেওয়া হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর সহকারী অধ্যাপক ড. মো. মাসুদ রানা বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বর্তমানে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। আবাসিক হলসহ ক্যাম্পাসের প্রতিটি এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • ‘হুমকি দিয়ে আন্দোলন দমানো যাবে না’, মধ্যরাতে উত্তাল চুয়েট

    ‘হুমকি দিয়ে আন্দোলন দমানো যাবে না’, মধ্যরাতে উত্তাল চুয়েট

    শিক্ষা ডেস্ক:

    চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর বিভিন্ন মহলের চাপ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকির প্রতিবাদে সোমবার মধ্য রাতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে চুয়েটের উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবি জানান।

    সোমবার রাত সাড়ে ১১টায় চুয়েটের স্বাধীনতা চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। এর আগে রাত ১১টা থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হল থেকে স্লোগান দিতে দিতে স্বাধীনতা চত্বরে জড়ো হতে থাকেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

    পরে স্বাধীনতা চত্বর থেকে মিছিলটি যানবাহন শাখা-সংলগ্ন সড়ক দিয়ে চুয়েটের আবাসিক এলাকার গোলচত্বর প্রদক্ষিণ করে। এরপর মিছিলটি পুনরায় স্বাধীনতা চত্বরে এসে শেষ হয়।

    বিক্ষোভ মিছিলে শিক্ষার্থীরা ‘প্রত্যাখ্যান, প্রত্যাখ্যান, অনলাইন ভিসি প্রত্যাখ্যান’, ‘মোদের দাবি একটাই, সায়েম স্যারকে ভিসি চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

    বিক্ষোভ মিছিল শেষে যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাকিব হাসান বলেন, “অনেকেই মনে করতে পারেন আমাদের আন্দোলনে জনবল কমে যাচ্ছে। আজকের মিছিলের উপস্থিতিই তাদের এই মিথ্যা কথার জবাব। ”

    একই বর্ষের পেট্রোলিয়াম ও মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং (পিএমই) বিভাগের শিক্ষার্থী আসাদুল্লাহ হিল গালিব বলেন, “আমাদের এই চলমান আন্দোলনে কতিপয় মহল হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন। পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করার চেষ্টা করছেন। আমরা তাদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলতে চাই, হুমকি দিয়ে আমাদের এই আন্দোলন দমানো যাবে না। আমাদের গণতান্ত্রিক দাবি একটাই—কুয়েটের অধ্যাপক ড. শরীফুল আলমকে উপাচার্য পদে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন বাতিল চাই। অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে চুয়েটের উপাচার্য পদে পুনর্বহাল চাই। ”

    এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্যের পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। একই প্রজ্ঞাপনে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য নিয়োগ করা হয়। এরপর থেকে চুয়েটের শিক্ষার্থীরা উপাচার্য সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনে নামে। একদিন পরেই শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ পুরো চুয়েটের আন্দোলনের রূপ নেয়। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে পূর্ণকর্মবিরতি পালন করছেন সমিতি ও কর্মকর্তা কর্মচারী সমিতিও। উপাচার্য পদে রদবদলকে ঘিরে গত সাত দিন ধরে চুয়েটে অচলাবস্থা বিরাজ করছে।

  • উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে সপ্তম দিনেও অচল চুয়েট

    উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে সপ্তম দিনেও অচল চুয়েট

    শিক্ষা ডেস্ক:

    উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সপ্তম দিনের মতো অচল চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)। এতে স্থবির হয়ে পড়েছে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম।

    শিক্ষার্থীদের দাবির পক্ষে আন্দোলনে আছেন শিক্ষক, কর্মকর্তারাও। এদিকে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ভিসিও যোগাদানের বিষয়ে অটল। এরইমধ্যে অনলাইনে যোগ দিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানান তিনি। এতে বিষয়টি সুরাহা হওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

    সপ্তম দিনে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে সকাল থেকে চুয়েট গেটে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। দুপুরে সাদা কাপড়ে গণসাক্ষ্য কর্মসূচি, বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিবাদ জানাবেন আন্দোলনরতরা। ছাড়া প্রশাসনিক ভবনের দরজাও তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। টানা আন্দোলনে সেশনজটের শঙ্কা বাড়ছে শিক্ষার্থীদের। এমতাবস্থায় দ্রুত সরকারের পক্ষ থেকে দাবি মেনে নিয়ে সংকট সমাধানের দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।

    মাত্র ৫৬ দিন দায়িত্ব পালনের পর আগের ভিসি আবু সাদাত মো সায়েমকে বদলি করে ড শেখ শরিফুল আলমকে নিয়োগ দেয় সরকার। আগের ভিসিকে দক্ষ ও চুয়েট বান্ধব দাবি করে প্রজ্ঞাপন বাতিলের দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়।

  • নতুন ভিসি ঠেকাতে পাহারায় চুয়েট শিক্ষার্থীরা, দেয়ালজুড়ে গ্রাফিতি

    নতুন ভিসি ঠেকাতে পাহারায় চুয়েট শিক্ষার্থীরা, দেয়ালজুড়ে গ্রাফিতি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    নতুন উপাচার্য শুক্রবার গভীর রাতে বা যেকোনো সময় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারেন—এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে শুক্রবার দিবাগত রাত থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে শক্ত অবস্থান নেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তারা রাতভর ফটক পাহারা দেন।

    শনিবার সকাল থেকেও শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে জড়ো হয়ে প্রতিবাদী স্লোগান দিতে থাকেন। সকাল ১০টার দিকে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ চত্বর, ভাস্কর্য এলাকা ও বিভিন্ন একাডেমিক ভবনের দেওয়ালে ব্যঙ্গাত্মক গ্রাফিতি ও প্রতিবাদী ক্যালিগ্রাফি আঁকা শুরু করেন।

    আন্দোলনকারীরা জানান, দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়া উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণ করা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক স্থিতিশীলতা ও যাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করেছে। সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় সম্পূর্ণ অচল থাকবে এবং নবনিযুক্ত উপাচার্যকে কোনোভাবেই ক্যাম্পাসে ঢুকতে দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

    এদিকে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে গতকাল থেকে সর্বাত্মক কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে চুয়েট শিক্ষক সমিতিও। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস, পরীক্ষা ও দাপ্তরিক কাজ শতভাগ বন্ধ রয়েছে।

  • চুয়েটে নতুন ভিসিবিরোধী আন্দোলন তীব্র

    চুয়েটে নতুন ভিসিবিরোধী আন্দোলন তীব্র

    শিক্ষা ডেস্ক:

    চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের প্রবেশ ঠেকানো এবং সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে স্বপদে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন আরো তীব্র রূপ নিয়েছে।

    নতুন উপাচার্য শুক্রবার গভীর রাতে বা যেকোনো সময় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারেন—এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে শুক্রবার দিবাগত রাত থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে শক্ত অবস্থান নেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তারা রাতভর ফটক পাহারা দেন।

    শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেও শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে জড়ো হয়ে প্রতিবাদী স্লোগান দিতে থাকেন। সকাল ১০টার দিকে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ চত্বর, ভাস্কর্য এলাকা ও বিভিন্ন একাডেমিক ভবনের দেওয়ালে ব্যঙ্গাত্মক গ্রাফিতি ও প্রতিবাদী ক্যালিগ্রাফি আঁকা শুরু করেন।আন্দোলনকারীরা জানান, দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়া উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণ করা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক স্থিতিশীলতা ও যাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করেছে। সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় সম্পূর্ণ অচল থাকবে এবং নবনিযুক্ত উপাচার্যকে কোনোভাবেই ক্যাম্পাসে ঢুকতে দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

    এদিকে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে গতকাল থেকে সর্বাত্মক কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে চুয়েট শিক্ষক সমিতিও। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস, পরীক্ষা ও দাপ্তরিক কাজ শতভাগ বন্ধ রয়েছে।

  • মানিকগঞ্জে স্কুলের পাশে তামাকের দোকান থাকলেই জরিমানা

    মানিকগঞ্জে স্কুলের পাশে তামাকের দোকান থাকলেই জরিমানা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    মানিকগঞ্জে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলাধুলার স্থান ও শিশু পার্কের সীমানার ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক ও তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি নিষিদ্ধ। এ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। আইন বাস্তবায়নে শিগগিরই জেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক ও জেলা তামাক নিয়ন্ত্রণ টাস্কফোর্সের সভাপতি নাজমুন আরা সুলতানা।

    শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা প্রশাসক এ তথ্য জানান। এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন আয়োজিত ‘জেলা পর্যায়ে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে টাস্কফোর্স কমিটির ত্রৈমাসিক সভা’য় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    সংশোধিত ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ অনুযায়ী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলাধুলার স্থান ও শিশু পার্কের সীমানার ১০০ মিটারের মধ্যে কোনো ব্যক্তি তামাক ও তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি করতে বা করাতে পারবেন না। এ বিধান লঙ্ঘন করলে অনধিক ৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং একই অপরাধ পুনরায় করলে পর্যায়ক্রমে দ্বিগুণ জরিমানার বিধান রয়েছে। সরকার বা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনে ওই ১০০ মিটারের সীমা আরও বাড়াতে পারবে।

    এ ছাড়া সংশোধিত আইনে পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ বিধান লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে। আগে এ জরিমানার পরিমাণ ছিল ৩০০ টাকা। দ্বিতীয়বার বা পুনরায় একই অপরাধ করলে জরিমানার পরিমাণ পর্যায়ক্রমে দ্বিগুণ হবে।

    সভায় জানানো হয়, চলতি বছরের ১০ এপ্রিল প্রণীত ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর মাধ্যমে তামাক নিয়ন্ত্রণে বেশ কিছু নতুন বিধান যুক্ত হয়েছে। সরকারি আইনভান্ডারেও ২০২৬ সালের ৯১ নম্বর আইন হিসেবে এর প্রজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়েছে।

    জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে জেলায় ১১টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ১৯ জনকে মোট ৩ হাজার ১৫০ টাকা জরিমানা করা হয়।

    টাস্কফোর্সের সভায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার আশপাশে তামাকজাত দ্রব্যের বিক্রি বন্ধে নিয়মিত নজরদারি ও আইন প্রয়োগ জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের তামাকের সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখতে বিক্রয়কেন্দ্রগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    জেলা প্রশাসক ও টাস্কফোর্সের সভাপতি নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কামরুল হাসান, টাস্কফোর্স কমিটির সদস্যসচিব ও সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) ডা. আব্দুল্লাহ-আল-আজিজ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শাহজাহান সিরাজ, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জসীম উদ্দিন আহমেদ, মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস, বিআরটিএর সহকারী পরিচালক মাহবুব কামাল, সমাজসেবা কর্মকর্তা মোস্তফা হাবীব, জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা ফেরদৌসী আক্তার বন্যা, পুলিশ পরিদর্শক মুহাম্মদ রফিকুল ইসলামসহ টাস্কফোর্স কমিটির সদস্যরা।

  • শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ডেঙ্গু মশা নিধন কর্মসূচি বাস্তবায়নের তথ্য আহ্বান

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ডেঙ্গু মশা নিধন কর্মসূচি বাস্তবায়নের তথ্য আহ্বান

    কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ডেঙ্গু মশা নিধন কর্মসূচি বাস্তবায়নের তথ্য আহ্বান করা হয়েছে। এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন কার্যক্রমের ছবি, সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদনসহ প্রয়োজনীয় তথ্য নির্ধারিত মেইলে পাঠাতে হবে।

    গতকাল কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের এক চিঠিতে এ তথ্য জানা যায়। চিঠিটি অধিদপ্তরের আওতাধীন সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানদের পাঠানো হয়েছে।

    এতে জানা যায়, ডেঙ্গু মশা নিধন কর্মসূচি বাস্তবায়ন কার্যক্রমের ছবি, সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদনসহ প্রয়োজনীয় তথ্য প্রমানক এ দপ্তরের ই-মেইল: ad2dte@techedu.gov.bd এ অবগতি ও পরবর্তী প্রয়োজনীয় কার্যার্থে সাপ্তাহিকভাবে পাঠানো জন্য নির্দেশ করা হলো।

    কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের ‘ডেঙ্গু মশা নিধন কর্মসূচি’ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত চিঠিতে জানা যায়, সব সরকারি-বেসরকারি দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বাজার কমিটি, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, স্বেচ্ছাসেবী ও সামাজিক সংগঠনসমূহ প্রতি শনিবার ডেঙ্গু মশক নিধনের লক্ষ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করবে; স্কাউটস, বিএনসিসি, শিক্ষার্থী, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্র, বাসস্থান, জনসমাগমস্থল ও সংলগ্ন এলাকায় সম্ভাব্য এডিস মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে জমে থাকা পানি অপসারণ এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হবে; দপ্তর প্রধানরা প্রতি শনিবার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় তার দপ্তর ও দপ্তরসংলগ্ন স্থানে ডেঙ্গুমশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করবে; ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে র্যালি, মাইকিং, প্রচার-প্রচারণা, সভা, সেমিনার, আলোচনা ও উদ্বুদ্ধকরণ সভাসহ স্থানীয়ভাবে উপযোগী কার্যক্রম নিতে হবে; প্রতি শনিবার পরিচালিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রমের ছবি, সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদনসহ প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণক সংরক্ষণ করতে হবে।

  • ডাকসু নির্বাচনসহ ১৪ দাবি এইচআরডিএস এর

    ডাকসু নির্বাচনসহ ১৪ দাবি এইচআরডিএস এর

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মানবাধিকার সুরক্ষা, বৈষম্যহীন পরিবেশ নিশ্চিত এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন নিয়মিত আয়োজনসহ ১৪ দফা দাবি জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডারস সোসাইটির (এইচআরডিএস) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিট।

    বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের কাছে এসব দাবি সংবলিত স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

    স্মারকলিপি দেওয়ার সময় উপাচার্যকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান সংগঠনের নেতারা। এ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে এইচআরডিএসের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিট। সংগঠনটির ১৪ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থীদের মতপ্রকাশ, বিবেক, সংগঠন ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করতে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন। মানবাধিকার লঙ্ঘন, হয়রানি, বৈষম্য, নিপীড়ন ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে স্বাধীন ও কার্যকর ‘হিউম্যান রাইটস ডেস্ক/সেল’ প্রতিষ্ঠার দাবিও জানানো হয়েছে।

    শিক্ষার্থীরা পরিচয় গোপন রেখে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ জানাতে পারবেন-এমন অনলাইন ও অফলাইন অভিযোগ ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। লিঙ্গ, বিশেষ সক্ষমতা, আর্থিক অবস্থা, অঞ্চল, ভাষা, সামাজিক পরিচয়, ধর্মীয় বিশ্বাসসহ কোনো পরিচয়ের কারণে শিক্ষার্থীরা যাতে বৈষম্যের শিকার না হন, সে জন্য নীতিমালা ও নজরদারি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটিকে আরও কার্যকর করা এবং অভিযোগ তদন্তে গোপনীয়তা, নিরপেক্ষতা, দ্রুততা ও ভুক্তভোগীবান্ধব প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার দাবি রয়েছে। একই সঙ্গে ক্যাম্পাস, আবাসিক হল, পরিবহণ, লাইব্রেরি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা জোরদার এবং হয়রানি বা সহিংসতার ঘটনায় দ্রুত প্রতিকারের ব্যবস্থা চেয়েছে এইচআরডিএস।

    আইনি জটিলতা, বেআইনি হয়রানি বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক আইনগত পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক রেফারেল ব্যবস্থা চালুর দাবিও রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আবাসিক হল সংশ্লিষ্টদের জন্য মানবাধিকার, জেন্ডার সমতা, অ্যান্টি-হ্যারাসমেন্ট, ডিজিটাল রাইটস ও সংঘাত নিরসন বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণের দাবি জানানো হয়েছে।হলগুলোর আসন, খাবার, চিকিৎসা, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক সেবা প্রদানে বৈষম্য ও হয়রানি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবন, পরিবহণ, লাইব্রেরি ও আবাসিক হলে বিশেষ সক্ষমতা সম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য প্রবেশগম্য অবকাঠামো নিশ্চিত করার দাবিও করা হয়েছে।

  • জাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের এজিএস প্রার্থী হওয়া নেত্রীকে বহিষ্কার

    জাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের এজিএস প্রার্থী হওয়া নেত্রীকে বহিষ্কার

    শিক্ষা ডেস্ক:

    সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রদল নেত্রী আঞ্জুমান ইকরাকে প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করেছে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সংসদ।

    বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে দপ্তর সম্পাদক (সহসভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেত্রী আঞ্জুমান ইকরাকে প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

    এতে আরও বলা হয়, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন। তবে আঞ্জুমান ইকরার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ রয়েছে বা কোন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, বিজ্ঞপ্তিতে তা উল্লেখ করা হয়নি।

    এ বিষয়ে জাবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব ওয়াসিম আহমেদ অনিক বলেন, ‘আমিও বিষয়টি দেখেছি। তবে কেন তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে, তা এখনো জানতে পারিনি।’

    আঞ্জুমান ইকরা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। সর্বশেষ জাকসু নির্বাচনে তিনি ছাত্রদল মনোনীত প্যানেলের এজিএস পদপ্রার্থী ছিলেন।

  • রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে র‍্যাগিংসহ বিভিন্ন অপরাধে ৯৯ শিক্ষার্থীর শাস্তি

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে র‍্যাগিংসহ বিভিন্ন অপরাধে ৯৯ শিক্ষার্থীর শাস্তি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) র‍্যাগিং, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, শারীরিক হামলা এবং সিল জালিয়াতির ঘটনায় ৯৯ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শাস্তির মধ্যে রয়েছে এক শিক্ষাবর্ষ (দুই সেমিস্টার) ছাত্রত্ব স্থগিত, আবাসিকতা বাতিল, ভবিষ্যতে আবাসিকতার জন্য বিবেচনা না করা এবং কঠোরভাবে সতর্ক করা। একই সঙ্গে শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি অবহিত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নির্ভরশীল সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। পরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪৯তম সিন্ডিকেট সভায় মঙ্গলবার এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    সিন্ডিকেট সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের মোট ৯৯ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগে ১৪ জন, সিল জালিয়াতির অভিযোগে ৩ জন এবং জুনিয়র কর্তৃক সিনিয়রের ওপর শারীরিক হামলার ঘটনায় একজনসহ মোট ১৮ শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। এ ছাড়া দুই শিক্ষার্থীর আবাসিকতা বাতিল করা হয়েছে। এক বছরের জন্য ছাত্রত্ব স্থগিত হওয়া ১৮ জনসহ মোট ২০ শিক্ষার্থীকে ভবিষ্যতে আবাসিকতার জন্য বিবেচনা না করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।অন্যদিকে, র‍্যাগিংয়ের দায়ে বিভিন্ন বিভাগের ৭৯ শিক্ষার্থীকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে তাদের কেউ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে র‍্যাগিংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত হলে তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের চিঠির মাধ্যমে শাস্তির বিষয়টি জানানো হবে।

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ডিসিপ্লিনারি বোর্ডের সভা-২০২৬-এ উপস্থাপিত অভিযোগের তালিকা বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের ৩১ জন, ইতিহাস বিভাগের ১৮ জন, লোকপ্রশাসন বিভাগের ১৫ জন, ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের ১৩ জন, অ্যাগ্রোনমি অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচার এক্সটেনশন বিভাগের ৭ জন, চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের ৪ জন, শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের ৪ জন, চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের ৪ জন, অর্থনীতি বিভাগের ২ জন এবং গ্রাফিক ডিজাইন, কারুশিল্প ও শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের একজন রয়েছেন।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে প্রায় শত শিক্ষার্থীকে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বার্তা থাকবে র‍্যাগিংয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে কোনো ধরনের কম্প্রোমাইজ করবে না বর্তমান প্রশাসন।

  • চুয়েট উত্তাল, নতুন ভিসিকে প্রবেশে শিক্ষার্থীদের বাধা

    চুয়েট উত্তাল, নতুন ভিসিকে প্রবেশে শিক্ষার্থীদের বাধা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    উপাচার্য পরিবর্তনের প্রতিবাদে পূর্বঘোষিত সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়।

    সকালে চুয়েটের প্রধান ফটকে জড়ো হন শিক্ষার্থীরা। পরে মূল ফটকে তালা দিয়ে সেখানে অবস্থান নেন তারা। এ সময় বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে আগের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণের প্রতিবাদ জানান শিক্ষার্থীরা।

    একই দাবিতে মঙ্গলবার সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভবনের সামনে মানববন্ধন করেন চুয়েটের শিক্ষকরা। এ সময় তারা অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবি জানান এবং বিভিন্ন বক্তব্য দেন।

    চুয়েটের স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. রাশেদুল হাসান বলেন, ‘এক মাস ২২ দিনে আমরা দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখেছি। কাজের মধ্যে গতি ও প্রাণচাঞ্চল্য এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন জীবন ফিরে এসেছে। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতার ক্ষেত্রেও অগ্রগতি হয়েছে। মাত্র এক মাস ২২ দিনের মধ্যে তাকে কেন সরিয়ে দেওয়া হলো, এর সুস্পষ্ট ও যৌক্তিক কারণ আমরা জানতে চাই।’

    তিনি বলেন, ‘নতুন উপাচার্য চুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী। তার প্রতি আমাদের সম্মান রয়েছে। তবে আমরা অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহাল চাই, যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান উন্নয়ন অব্যাহত থাকে। যৌক্তিক ব্যাখ্যা না দেওয়া পর্যন্ত আমরা আমাদের অবস্থানে থাকব।’

    চুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. বশির জিসান বলেন, ‘একজন উপাচার্যকে পদে রাখার দাবিতে আন্দোলন-এমন ঘটনা বিরল। কিন্তু এখানে শিক্ষার্থীরা তা করছে, কারণ তিনি শিক্ষার্থীদের একটি ভিশন দিয়েছেন। সরকার যাচাই-বাছাই করে তাকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল। তাহলে আবার কেন তাকে সরিয়ে দেওয়া হলো?’

    তিনি আরও বলেন, ‘এতে শিক্ষক সমাজ ও চুয়েটকে হেয় করা হয়েছে। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা তার পুনর্বহাল চান। নতুন নিয়োগের প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার করতে হবে। তা না হলে নতুন যিনি এসেছেন, তাকেও যেন কোনোভাবে অপমানিত হতে না হয়। পরিস্থিতি সেদিকেই যাচ্ছে।’

    মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও শিক্ষকদের দাবির সঙ্গে সংহতি জানান।

    যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাকিব হাসান বলেন, ‘আমাদের উপাচার্য আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম স্যারকে কোনো কারণ ছাড়াই সরিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে গতকাল রাত থেকেই আমাদের কর্মসূচি চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ আমরা ক্যাম্পাস অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে। সায়েম স্যার চুয়েট ও শিক্ষার্থীবান্ধব শিক্ষক। আমরা তার পুনর্বহাল চাই।’

    সোমবার রাতে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে চুয়েটের উপাচার্য পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

    এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সোমবার রাতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভ শেষে উপাচার্যের বাসভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন তারা। পরে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেন শিক্ষার্থীরা।

  • জনগণ ক্ষমতায় আনতেও পারে,  নামাতেও পারে: শিবির সভাপতি

    জনগণ ক্ষমতায় আনতেও পারে, নামাতেও পারে: শিবির সভাপতি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সরকারের উদ্দেশে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, জনগণ যেমন আন্দোলন করে ক্ষমতায় বসাতে পারে, তেমনই আবার টেনেহিঁচড়ে নামাতেও পারে। প্রতারণা করে ক্ষমতায় এসেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করছেন না। মনে রাখবেন, এর জন্য চড়া মূল্য দিতে হবে।

    রোববার সকালে চট্টগ্রাম নগরীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণ শাখা আয়োজিত এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ‘এ-প্লাস সংবর্ধনা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি বলেন, আমরা এমন এক রাষ্ট্রে বসবাস করছি, যেখানে (কুমিল্লায় নিহত) অপ্রতিমের মা-বাবা বুকফাটা আর্তনাদ নিয়ে আহাজারি করছেন। তারা জানেন না এই সন্তানকে ছাড়া কীভাবে বেঁচে থাকবেন! দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি থামছে না। আমরা প্রতিটি পণ্যে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ট্যাক্স দিয়ে বসবাস করা সত্ত্বেও কেন সরকার জনগণের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হবে?

    তিনি আরও বলেন, সরকার যেভাবে দেশ পরিচালনা করছে তা দেখে মনে হচ্ছে, আমরা রোহিঙ্গা কিংবা অন্য কোনো দেশ থেকে ঘুরতে এসেছি। গত সাত মাসে দেশে অন্তত ১৫ হাজার শিশু নিখোঁজ হয়েছে। এর মধ্যে বড় একটি অংশকে উদ্ধার করা গেলেও এখনো দুই হাজারের বেশি শিশু নিখোঁজ রয়েছে। আবার সরকারের সরকারি হিসাবের বাইরেও অনেক শিশু প্রতিদিন নিখোঁজ হচ্ছে। জুলাই বিপ্লবের চেতনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে শিবির সভাপতি বলেন, আপনারা জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন করছেন না, সংবিধানের সংস্কার করছেন না, জনগণের যুক্তিসঙ্গত দাবি মানছেন না, এমনকি গণভোটের আলোকে মৌলিক পরিবর্তনগুলো আনছেন না। কেন মানছেন না—তার কোনো ব্যাখ্যাও দিচ্ছেন না। কেবল মুখে বলছেন অক্ষরে অক্ষরে পালন করবেন, আর কালক্ষেপণ করে সব দপ্তরে নিজেদের লোক বসিয়ে রাখছেন। বাংলাদেশের তরুণ সমাজ এসব বোঝে না—তা মনে করার কোনো কারণ নেই। জনগণ সরকারের ওপর ক্ষিপ্ত হলে পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে স্পষ্ট হয়ে গেছে।

    সংবর্ধিত কৃতী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে তিনি বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত তুমি গোলাপের মতো সুবাস ছড়াবে, ততক্ষণ পিতা-মাতা ও এই সমাজ তোমার প্রশংসা করবে। তাই আত্মগঠন ও মেধার বিকাশ ঘটাতে ফলাফলের এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জিপিএ-৫ প্রাপ্ত প্রায় ১,৫০০ শিক্ষার্থীকে সম্মাননা ও বিশেষ উপহার প্রদান করা হয়। সকাল ৯টায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণ বা মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রামের চবি ছাত্রশিবিরের শহীদ আবিদ বিন ইসলামের বাবা। এতে মূল বক্তা হিসেবে আলোচনা করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মো. বরকত আলী।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির নজরুল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আইন সম্পাদক শামিম হোসেন, কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি সম্পাদক এইচ এম আবু মুসা, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)-এর ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি এবং বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. ফজলুল হক।

    বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণ শাখার সভাপতি মাইমুনুল ইসলাম মামুনের সভাপতিত্বে ও পরিচালনা সম্পাদক রাকিবুল ইসলামের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • ঢাবি সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিনস অ্যাওয়ার্ড পেলেন ৪৮ শিক্ষার্থী

    ঢাবি সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিনস অ্যাওয়ার্ড পেলেন ৪৮ শিক্ষার্থী

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ২০২১, ২০২২ ও ২০২৩ সালের ডিনস অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন ৪৮ শিক্ষার্থী। অনুষদের ১৬টি বিভাগের এসব শিক্ষার্থীর পাশাপাশি সেরা গ্রন্থ ও নিবন্ধের জন্য দুই শিক্ষককেও এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

    সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের হাতে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

    সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক কাজী মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। গেস্ট অব অনার হিসেবে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

    বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ্ আল মামুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ ও বাংলাদেশ ইউনেস্কো প্রতিনিধি অফিসের প্রধান ড. সুজান ভাইজ।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শুধু প্রচলিত জ্ঞান অনুসরণ করলে হবে না। তাঁদের প্রশ্ন করতে হবে, যুক্তি দিয়ে বিচার করতে হবে এবং নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করতে হবে। একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল দায়িত্ব হলো নাগরিকত্ববোধ, দক্ষতা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা তৈরি করা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে শুধু ‘টিচিং ইউনিভার্সিটি’ হিসেবে নয়, জ্ঞান সৃষ্টিকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

    ডিনস অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, গবেষণার মাধ্যমে নতুন চিন্তা ও তত্ত্ব সৃষ্টি করতে হবে এবং বিশ্বজ্ঞান ভাণ্ডারে বাংলাদেশের অবদান বাড়াতে হবে। বিজ্ঞান ও গণিত শিক্ষার প্রসার, দক্ষতা উন্নয়ন এবং গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নেতৃত্ব দিতে হবে।

    অধ্যাপক তিতুমীর বলেন, মিথ্যা তথ্য ও অপতথ্য মোকাবিলায় সমালোচনামূলক চিন্তা ও গবেষণাভিত্তিক জ্ঞানচর্চার বিকল্প নেই। উচ্চশিক্ষাকে শুধু সার্টিফিকেট অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত দক্ষতা ও জ্ঞান অর্জন নিশ্চিত করতে হবে।

    তিনি বলেন, জনগণের অর্থে পরিচালিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখার পাশাপাশি সুশাসন, জবাবদিহিতা ও জনস্বার্থ নিশ্চিত করাও অপরিহার্য।

    উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ডিনস অ্যাওয়ার্ড শিক্ষার্থীদের মেধা ও কৃতিত্বের স্বীকৃতি। তবে পুরস্কার পাওয়ার সঙ্গে তাঁদের দায়িত্বও বেড়ে গেছে। এই সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তাঁদের আরও বেশি গবেষণা, অধ্যয়ন ও পরিশ্রম করতে হবে।

    তিনি বলেন, সীমিত সুযোগ ও অর্থায়নের মধ্যেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-গবেষকেরা গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে যাচ্ছেন। গবেষণাকে আরও এগিয়ে নিতে বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। গবেষকদের উৎসাহিত করতে ভবিষ্যতে প্রণোদনার ব্যবস্থাও করা হবে।

    উপাচার্য আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করতে দীর্ঘমেয়াদি একাডেমিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, গবেষণা ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা, কারিকুলাম নিয়মিত পর্যালোচনা ও যুগোপযোগী করা এবং দক্ষতা উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশ-বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একাডেমিক ও গবেষণা সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগও রয়েছে।

    তিনি বলেন, শুধু ভালো ফলাফল নয়, শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও মানবিক গুণাবলির বিকাশও গুরুত্বপূর্ণ। মেধাবী শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে দেশ ও জাতির কল্যাণে অবদান রাখবে এবং উচ্চশিক্ষা শেষে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

    অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট বিভাগের চেয়ারম্যানরা ডিনস অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। সেরা গ্রন্থ ও নিবন্ধের জন্য পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নাম ঘোষণা করেন জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ।

    এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষক, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, প্রাধ্যক্ষ ও পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন।

    ডিনস অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা

    ২০২১ শিক্ষাবর্ষে ইশতিয়াক আহমেদ, মো. হাসান আল আজাদ, মো. হিমেল রহমান, ব্রতোতি সাহা, নাহিয়ান মাশিয়াত এনায়েত, ফারিতা বিনতে হান্নান, ইসনা হক শেওতি, রাবেয়া আক্তার সাথী, নওশিন জারিন প্রাপ্তি, লুদমিলা সারাহ খান, ফাহিন রহমান অঙ্কিতা, নিসর্গ নিঝুম, রাহনুমা বিনতে মালেক ও শেখ রাশিদ বিন ইসলাম।

    ২০২২ শিক্ষাবর্ষে সারারা জাফরিন, ফয়সাল কাইয়ুম, সুরাইয়া জেবিন পাপিয়া, খন্দকার তাহমিদ রেজওয়ান, লিংকন দাস, ফারাহ জাহান শুচি, মো. মহিউদ্দিন খান, মো. আসিফুর রহমান, মো. শাহাদাত, মেহেদি হাসান রিমন, সারাফ ওয়ামিয়া আহমেদ, ফারিহা আহমেদ, বিক্রমাদিত্য, লামিয়া আফজাল, ফাহমিদা মতিন মিম, অনিকা আফিয়া জাহান ও মো. ইফরাত জাহান ভূঁইয়া শাফিন।

    ২০২৩ শিক্ষাবর্ষে লুবাবা বিনত হালিম, মো. মাজহার উদ্দিন ভূঁইয়া, ফারিয়া ইসলাম, রেশমি, আজরা হুমায়রা, মোসাম্মৎ সন্ধ্যা, নূর নিশাত আঞ্জুম, প্রাপ্তি রায়, তানজিমা সাবরিন, জেরিন রাফিজা, এ. আর. তাহসিন জাহান, মহসিনা বিনতে হারুন, এস. এস. সালাহ উদ্দিন আকাশ, নুসাইবা বিনতে মোরশেদ, আফরিন জাহান এনা মনি, শারমিন জাহান মিম ও মো. রবিউল ইসলাম হৃদয়।

  • হাবিপ্রবি অনার্স ভর্তি পরীক্ষা শুরু ২৪ জানুয়ারি

    হাবিপ্রবি অনার্স ভর্তি পরীক্ষা শুরু ২৪ জানুয়ারি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) স্নাতক ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হচ্ছে আগামী ২৪ জানুয়ারি। এ কার্যক্রম চলবে ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। বিস্তারিত সময়সূচি পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে জানানো হবে।সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।আরো বলা হয়েছে, এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে বিভিন্ন অনুষদে স্নাতক কোর্সে লেভেল-১, সেমিস্টার-১-এ ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির জন্য গঠিত ভর্তি কমিটির প্রথম সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

  • ববিতে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

    ববিতে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

    শিক্ষা ডেস্ক:

    মেসবাসার দরজার ছিটকিনি আটকানোকে কেন্দ্র করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) সমাজবিজ্ঞান ও অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে লাঠিসোঁটা নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

    শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন নম্বর গেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে। তবে এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো পক্ষের আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। রাত সোয়া ১১টা পর্যন্ত দুই বিভাগের শিক্ষার্থীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান করার পর শিক্ষকরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ক্যাম্পাসের বাইরের একটি মেসবাসায় সমাজবিজ্ঞান ও অর্থনীতি বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী বসবাস করেন। ওই মেসের দরজায় ছিটকিনি দেওয়া নিয়ে প্রথমে দুই বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

    একপর্যায়ে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দুই বিভাগের অন্যান্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন নম্বর গেটসংলগ্ন এলাকায় জড়ো হয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থান নেন। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

    রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ অর্থনীতি বিভাগের একদল শিক্ষার্থী লাঠিসোঁটা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি গেটের অপর পাশে ছাতিমতলা এলাকায় অবস্থান করছিলেন।

    অন্যদিকে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নম্বর গেটসংলগ্ন ভোলা রোড এলাকায় অবস্থান নেন। এতে ফের সংঘর্ষের আশঙ্কায় ক্যাম্পাসে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

    বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. গাজী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, শিক্ষকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছেন।

  • ছাত্র রাজনীতি ‘সংস্কারের পক্ষে ছাত্রশিবির

    ছাত্র রাজনীতি ‘সংস্কারের পক্ষে ছাত্রশিবির

    ক্যাম্পাসে রাজনীতি পুরোপুরি বাদ না দিয়ে তা সংস্কারের পক্ষে মত দিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম।

    চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের প্রশ্নে তিনি বলেছেন, “দলীয় রাজনীতি বাদ দিলে তো এই প্রোগ্রামটা আপনাদের জন্য কেউ করতে পারত না। এগুলো বাদ দেওয়া ঠিক না। ”

    শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবির আয়োজিত ‘ফ্রেশার রিসেপশন অ্যান্ড ক্যারিয়ার গাইডলাইন’ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। সাদ্দাম বলেন, “মাথাব্যথা হয়েছে, মাথা কেটে দিলে তো আপনার অস্তিত্বই থাকবে না। তো মাথাটা রেখে কীভাবে এটাকে রিফর্ম করা যায়, সেই চিন্তাটা করা উচিত। ”

    শিবির নেতা এস এম ফরহাদ জুলাই আন্দোলনের সময় ৯ দফার একটিতে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি যুক্ত করতে চেয়েছিলেন বলে এর আগে দাবি করেছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা আব্দুল কাদের।

    তার ভাষ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের তৎকালীন সেক্রেটারি ফরহাদ সপ্তম দফায় ‘ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ’ করার দাবি যুক্ত করতে চেয়েছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা ও বিতর্ক হয়। পরে দাবিটি ‘দলীয় লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ’ করার ভাষায় চূড়ান্ত করা হয়।

    ছাত্রশিবিরের বর্তমান সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, তিনি মনে করেন, ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নীতিমালার আওতায় ‘কোড অব কন্ডাক্ট’থাকা উচিত।

    সাদ্দাম বলেন, “আমরা বলেছিলাম, ইউনিভার্সিটিতে একটা কোড অব কন্ডাক্ট থাকা উচিত। ইউনিভার্সিটির নিজস্ব পলিসির আন্ডারে ইউনিভার্সিটিতে পলিটিক্স চলা উচিত। ”

    এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে ছাত্রশিবির প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানান তিনি।

    শিবির সভাপতি বলেন, “ইউনিভার্সিটিটা হবে কমন প্লেস অব ভ্যালুস। এখানে প্রত্যেকটা পলিটিক্যাল স্টুডেন্ট অর্গানাইজেশন তাদের আইডিওলজিক্যাল পারপাস স্টুডেন্টদের সামনে রিপ্রেজেন্ট করবে। স্টুডেন্ট এটা এক্সেপ্ট করতে পারে অথবা রিজেক্ট করতে পারে। ”কাউকে জোর করে কোনো রাজনৈতিক দলের বা ‘মাদার পার্টির’ স্বার্থ বাস্তবায়নে মিছিল-মিটিংয়ে নেওয়া যাবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    ‘গণরুম’ ও ‘গেস্টরুম’ সংস্কৃতির বিরোধিতা করে সাদ্দাম বলেন, “কখনোই গণরুম এবং গেস্টরুম চালু করা যাবে না। যারা চালু করবে, সম্মিলিতভাবে তাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশনে যেতে হবে। ”

    ‘আইডিওলজি বাস্তবায়ন হবে, তবে ক্যাম্পাসের স্বার্থে’

    এক শিক্ষার্থী প্রশ্ন রাখেন, ক্যাম্পাসে লেজুড়বৃত্তির রাজনীতি থাকলে নির্বাচিত প্রতিনিধি নিজ দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নে রাজনীতি করবেন।জবাবে শিবির নেতা নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, “হ্যাঁ, তা তো স্বাভাবিক বিষয় যে, যার যার আইডিওলজি বাস্তবায়ন করবে। কিন্তু সেটা ক্যাম্পাসের স্বার্থে হতে হবে। ”

    তিনি বলেন, “কোনো রাজনৈতিক দলের নেতার পোস্টার ক্যাম্পাসে সাঁটানো যাবে না। কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা আসলে তাদের নামে স্লোগান এখানে দেওয়া যাবে না। ”

    চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকট নিয়েও কথা বলেন শিবির সভাপতি। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কারা হলে থাকেন জানতে চেয়ে তিনি হাত তুলতে বলেন। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকটের সমাধান না হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ছাত্রশিবির সভাপতি বলেন, “ফার্স্ট ইয়ারের একজন স্টুডেন্ট মায়ের পেট ছেড়ে এই ইউনিভার্সিটিতে মেধার ভিত্তিতে চান্স পাওয়ার পরে কেন তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করে হলে একটা সিট বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ৬০ বছরে দিতে পারবে না—এর জবাব কী আছে? এটা আমাদের এই শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য লজ্জা। ”

    চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সুবিধা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে সরকারের দুর্বলতা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, “আপনাদের ইউনিভার্সিটির পরেও এই বাংলাদেশে অন্তত ৪০ থেকে ৪৫টা ইউনিভার্সিটি তৈরি হয়েছে। এতগুলো ইউনিভার্সিটি তৈরি করতে পারে, হাজার হাজার টিচার বরাদ্দ দিতে পারে, অথচ চিটাগাং ইউনিভার্সিটির পূর্ণতা তৈরি করার জন্য সরকারের যে দুর্বলতা—এই দুর্বলতা ইনটেনশনালি তৈরি করা হয়েছে। ”

  • হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজে মারামারি, ৮ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

    হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজে মারামারি, ৮ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

    শিক্ষা ডেস্ক:

    হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারি ও ঝগড়া-বিবাদের ঘটনায় ৮ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ঘটনায় আরও পাঁচ শিক্ষার্থীকে ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।

    শনিবার (২৯ আগস্ট) রাতে হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জাবেদ জিল্লুল বারী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

    অফিস আদেশে বলা হয়, গত ১৯ আগস্ট দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাস-১ এ শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন। এক শিক্ষার্থীর একটি চোখ নষ্ট হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। আহত শিক্ষার্থী তাফসির চহমেদ ঢাকার জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    ঘটনার পর ২০ আগস্ট কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের ২১তম জরুরি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি গত ২৭ আগস্ট তাদের প্রতিবেদন মেডিকেল কলেজের ডিসিপ্লিনারি কমিটির কাছে জমা দেয়। একই দিন ডিসিপ্লিনারি কমিটির সভায় প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

    এর পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত একাডেমিক কাউন্সিলের ২২তম সভায় ওই সুপারিশ অনুমোদন করা হয়। অফিস আদেশ অনুযায়ী, ৭ম ব্যাচের শিক্ষার্থী শরীফ উদ্দিন খানকে ৭ বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ব্যাচের রজব সানিকে ৪ বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আশীষ চন্দ্র চন্দকে ২ বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া ৮ম ব্যাচের আব্দুল্লাহ আবু আফফাজকে ১৮ মাসের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মো. রায়হান আলী ও সাজ্জাদ ইসলাম সম্রাটকে এক বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ফারদিন রহমান ইফতিকে ছয় মাসের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অন্যদিকে, মো. আকিব মাহমুদকে এক বছরের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

    অফিস আদেশে আরও বলা হয়, হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ডি. এম. এ নাঈফ রাজা চৌধুরী, মো. আকিব মাহমুদ, মো. অরণ্য হাসান রিয়ন, মো. ইমতিয়াজ আলম ভূইয়া ও মাহমুদ খানকে মারামারির ইন্ধনদাতা হিসেবে সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাদের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সরকারি মেডিকেল কলেজ পরিচালনা নীতিমালা অনুযায়ী, সংক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা আদেশ জারির তারিখ থেকে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে আপিল করতে পারবেন। আপিলের ক্ষেত্রে শাস্তি হ্রাস, বৃদ্ধি কিংবা পরিবর্তন হতে পারে বলেও অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. জিল্লুল বারী কালবেলাকে বলেন, ‘গত ১৯ আগস্ট মারামারিতে আমার এক ছাত্রের একটি চোখ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। এ ঘটনায় আমি তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছিলাম। তদন্ত কমিটি ডিসিপ্লিনারি কমিটির কাছে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। ডিসিপ্লিনারি কমিটির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে মেডিকেল কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় দোষী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে একাডেমিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তারা আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে এক মাসের মধ্যে আপিল করতে পারবে। তবে মামলার বিষয়টি আদালত ফয়সালা দেবে। ’

    তিনি জানান, ২৯ আগস্ট থেকেই এ আদেশ কার্যকর হয়েছে।

  • হলি ক্রস কলেজে বিবাহিতদের ভর্তি নিষেধ, বিয়ে করলে টিসি

    হলি ক্রস কলেজে বিবাহিতদের ভর্তি নিষেধ, বিয়ে করলে টিসি

    ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে বিবাহিত শিক্ষার্থীদের ভর্তি নেবে না রাজধানীর তেজগাঁওয়ের হলি ক্রস কলেজ। কলেজের প্রকাশিত ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিবাহিতদের আবেদন করার প্রয়োজন নেই। কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় কোনো শিক্ষার্থী বিয়ে করলে তাকে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টিসি) দেয়া হবে।

    কলেজের ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

    বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা—তিন বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫.০০, মানবিক বিভাগে জিপিএ ৩.০০ থেকে ৫.০০ এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে জিপিএ ৪.০০ থেকে ৫.০০ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন।

    এবার বিজ্ঞান বিভাগে ৭৮০টি, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ২৮০টি এবং মানবিক বিভাগে ২৭০টি আসন রয়েছে।

    ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের ২ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে হবে। কলেজের ওয়েবসাইট বা নির্ধারিত লিংকে গিয়ে আবেদন ফরম পূরণ করে বিকাশের মাধ্যমে চার্জ ছাড়া ৫০০ টাকা জমা দিতে হবে। টাকা জমা দেওয়ার পর আবেদন ফরম ও ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্র (Admit Card) ডাউনলোড করা যাবে।

    ভর্তি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের সিলেকশন টেস্টে অংশ নিতে হবে। মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের সিলেকশন টেস্ট হবে ১০ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) এবং বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষা হবে ১১ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার)।

    সিলেকশন টেস্টের শিফট ও সময় ৮ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) দুপুর ১২টার পর কলেজের ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হবে। আর সিলেকশন টেস্টের বিস্তারিত আসন ব্যবস্থা—ভবনের নাম ও রুম নম্বরসহ—৯ সেপ্টেম্বর (বুধবার) দুপুর ১টার পর প্রকাশ করা হবে।

    সিলেকশন টেস্টে বিজ্ঞান বিভাগের বাংলা, ইংরেজি, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, উচ্চতর গণিত, জীববিজ্ঞান ও সাধারণ জ্ঞান বিষয়ে পরীক্ষা হবে। মানবিক বিভাগে বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ গণিত, ভূগোল, পৌরনীতি, অর্থনীতি, ইতিহাস ও সাধারণ জ্ঞান এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ গণিত, হিসাববিজ্ঞান, ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং, ব্যবসায় উদ্যোগ ও সাধারণ জ্ঞান বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়া হবে।

    সিলেকশন টেস্টে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফলাফল ১৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার দুপুর ১টার পর কলেজের ওয়েবসাইট, হলি ক্রস কলেজ ফেসবুক পেজ ও নোটিশ বোর্ডে প্রকাশ করা হবে।

    চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ১৫ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার মধ্যে অনলাইনে বিকাশের মাধ্যমে ভর্তি টাকা জমা দিয়ে ভর্তি নিশ্চিত করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি টাকা জমা না দিলে ভর্তির সুযোগ বাতিল বলে গণ্য হবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, ভর্তি হওয়ার পর নিয়মিত ক্লাস ও ব্যবহারিক ক্লাসে উপস্থিতি, কলেজ নির্ধারিত ইউনিফর্ম পরিধান, শরীরচর্চা ও সহ-পাঠ্যক্রম কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক। কলেজে মোবাইল ফোন আনা ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

    ভর্তি-সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্য কলেজের ওয়েবসাইট www.hcc.edu.bd ও ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হবে।

  • চবিতে ১২ ফুট লম্বা বার্মিজ অজগর উদ্ধার

    চবিতে ১২ ফুট লম্বা বার্মিজ অজগর উদ্ধার

    ফিচার

    চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ১২ ফুট লম্বা একটি বার্মিজ অজগর উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাত ১২টার দিকে সাপ ও সাপের দংশন বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করা সংগঠন সোসাইটি ফর স্নেক অ্যান্ড স্নেকবাইট অ্যাওয়ারনেস (3SA) এর উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা সাপটি উদ্ধার করেন।

    পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের গভীর বনাঞ্চলে অজগরটি অবমুক্ত করা হয়।

    সংগঠন সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ ক্যাম্পাসের মসজিদের পাশের ভাই ভাই স্টোরসংলগ্ন একটি বিল্ডিং থেকে অজগরটি উদ্ধার করা হয়।

    জিরো পয়েন্টের ইমাম মো. ইয়াকুবের হেল্পলাইনে ফোন পেয়ে 3SA-এর উদ্ধারকারী দলের সদস্য মো. ইমরান, মো. জাহিদ ও মো. জিহাদ ঘটনাস্থলে গিয়ে অজগরটি উদ্ধার করেন। উদ্ধার হওয়া অজগরটি বার্মিজ প্রজাতির এবং এর দৈর্ঘ্য প্রায় ১২ ফুট ও ওজন প্রায় ২০ কেজি।

    3SA-এর রেসকিউ টিমের সদস্য মোহাম্মদ ইমরান বলেন, ‘এটি বার্মিজ জাতের। প্রায় ১২ ফুট লম্বা এবং ওজন ২০ কেজি।

    উদ্ধার করার পর আমরা এটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গভীর বনাঞ্চলে অবমুক্ত করেছি। খাবারের অভাব, পাহাড় কেটে ফেলা ও আবাসস্থল ধ্বংসসহ নানা কারণে এ ধরনের সাপ লোকালয়ে চলে আসে’।

  • রাকসু নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার দাবি রাবি শিবিরের

    রাকসু নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার দাবি রাবি শিবিরের

    মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহণ মার্কেট চত্বরে এক সংবাদ সম্মেলন করে এসব দাবি জানায় সংগঠনটি। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়।

    তাদের অন্য দাবিগুলো হচ্ছে- বিশ্ববিদ্যালয়ে শতভাগ আবাসিকতা নিশ্চিত করতে সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়ন, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন ভাতা চালু, পূর্ণাঙ্গ ও আধুনিক মেডিকেল সেন্টার প্রতিষ্ঠা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট কার্যকর করতে হবে।

    সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শাখা ছাত্রশিবির সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল। তিনি রাকসু নির্বাচনকে একাডেমিক ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়ে বলেন, ইতোমধ্যেই রাকসু নির্বাচনের ১০ মাস অতিবাহিত হচ্ছে। এখনই যদি পরবর্তী রাকসু নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা যায়, তবে যথাসময়ে রাকসু বাস্তবায়নে শিক্ষার্থীদের চাওয়া পূরণ করা সম্ভব হবে না। তাই এখনই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুক এবং সিদ্ধান্ত নিক। তার আলোকে যাতে যথা সময়ে তফসিল ঘোষণার মাধ্যমে রাকসু নির্বাচন আয়োজন করতে পারে। আমরা শিক্ষার্থীরা যাতে প্রতি বছর রাকসু নির্বাচন পাই, এটি নিশ্চিত করতে একাডেমিক ক্যালেন্ডারে রাকসু নির্বাচনকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানাচ্ছি।

    আবাসন সংকট ও ভাতার বিষয়ে তিনি আরও বলেন, শতভাগ আবাসিকতার বিষয়ে আমরা শুনেছি গত অর্থবাজেটে এটি সবুজ পাতায় সংযুক্ত হয়েছে। আমরা এটি ইতিবাচকভাবে নিচ্ছি। ২০২৫ সালেই আমরা সংবাদ সম্মেলন করে রোডম্যাপ চেয়েছিলাম। যেহেতু বাজেট হয়েছে, তাই কতদিনের মধ্যে হলগুলো নির্মাণ হবে তার একটি সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া উচিত। তাই আমরা শতভাগ আবাসিকতার রোডম্যাপ চাচ্ছি। যতদিন শতভাগ আবাসিকতা নিশ্চিত না হবে ততদিন অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের একটি ভাতা প্রদান করতে হবে।

    ১০ মাসে রাকসুর অর্জন বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, আপনারা দেখবেন যে ক্যাম্পাসে ট্যাগিং-ফ্রেমিং বা নারী শিক্ষার্থীদের বুলিং কিন্তু আগের মতো ওভাবে হচ্ছে না। আগের মতো ক্যাম্পাসে মাদকের ছড়াছড়ি নেই। ক্যাম্পাসের রাজনৈতিক সহাবস্থান নিশ্চিত হয়েছে এবং সিট বাণিজ্যের কবর রচিত হয়েছে। গেস্টরুম কালচার, গণরুম কালচার নেই। ক্যাম্পাসগুলোতে মেধা এবং সিনিয়রিটির ভিত্তিতে সিট বণ্টন হচ্ছে, যেটি সবচেয়ে বড় একটি পরিবর্তন। এসবই কিন্তু রাকসু থাকার জন্য সম্ভব হয়েছে। ক্যাম্পাসে বর্তমানে একটি জবাবদিহির পরিবেশ বিরাজ করছে।

    এদিকে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রাকসু জিএস সালাউদ্দিন আম্মারের দাপ্তরিক খরচের বাজেট নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাবি ছাত্রশিবিরের সভাপতি।

    রাকসু নির্বাচন দাবিতে পরবর্তী কর্মসূচি বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, বিগত রাকসু নির্বাচনেও আমরা দেখেছি প্রশাসনের সদিচ্ছা ছিল না; কিন্তু শিক্ষার্থীদের সমর্থন নিয়ে আমরা আন্দোলন করেছিলাম, ফলে তারা তফসিল দিতে বাধ্য হয়েছিল। তখন বিভিন্নভাবে নির্বাচন বানচাল এবং বন্ধ করার চেষ্টা হচ্ছিল; কিন্তু আমরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাঁধে-কাঁধ মিলিয়ে তা রুখে দিয়ে রাকসু নির্বাচন আদায় করেছি। আবারও রাকসু নিয়ে যদি প্রশাসন গড়িমসি করে, তাহলে আমরা আবারও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে চূড়ান্ত আন্দোলনের মাধ্যমে রাকসুর দাবি আদায় করে নেব।

  • ঢাকা কলেজ হলে সিটে দলীয় পরিচয়ের অভিযোগ, বিক্ষোভ

    ঢাকা কলেজ হলে সিটে দলীয় পরিচয়ের অভিযোগ, বিক্ষোভ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা কলেজের আবাসিক ছাত্রাবাসে মেধা, উপস্থিতি ও আর্থিক অসচ্ছলতার পরিবর্তে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে সিট বরাদ্দের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ছাত্রদলের সঙ্গে সম্পৃক্ত কয়েকজন শিক্ষার্থীকে সিট দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বঞ্চিত শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনা চলছে।

    সোমবার (২৪ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকা কলেজের ওয়েবসাইটে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে আবাসিক ছাত্রাবাসের সিট বরাদ্দের তালিকা প্রকাশ করা হয়।তালিকা প্রকাশের পর অনেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি, ভালো ফলাফল এবং ভাইভায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও তাঁদের নাম চূড়ান্ত তালিকায় রাখা হয়নি।

    শিক্ষার্থীদের দাবি, সিট বরাদ্দের ক্ষেত্রে মেধা, নিয়মিত উপস্থিতি ও পরিবারের আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করার কথা থাকলেও বাস্তবে রাজনৈতিক পরিচয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কয়েকজন ছাত্রদল-সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী সিট পেয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা।

    মনোবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থী শাহিন আলম জানান, তিনি সিটের জন্য ভাইভায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন এবং প্রাথমিক তালিকাতেও তাঁর নাম ছিল। পরে চূড়ান্ত তালিকায় তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, তাঁর পরিবর্তে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং ভাইভায় অংশ না নেওয়া একজনকে সিট দেওয়া হয়েছে।

    ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের ৪ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক তাজবিউল হাসানও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে সিট বরাদ্দ নিয়ে মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে ঢাকা কলেজ শাখা শিবিরের সেক্রেটারি সাইমুন ইসলাম সানি প্রশাসনের সিট বরাদ্দ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে সমালোচনা করেছেন। ছাত্র অধিকার পরিষদ ঢাকা কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানার অভিযোগ, প্রশাসন উপস্থিতি, পরীক্ষার ফলাফল ও পরিবারের আর্থিক অবস্থা বিবেচনার কথা বললেও বাস্তবে তা অনুসরণ করা হয়নি। বিভাগ থেকে ভাইভার মাধ্যমে সুপারিশ করা শিক্ষার্থীদের নাম পরবর্তীতে কোনো কারণ ছাড়াই বাদ দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

    তবে অভিযোগ অস্বীকার না করে ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস বলেন, আবাসিক ছাত্রাবাসে সিটের সংখ্যা সীমিত। এর বিপরীতে একাধিক শিক্ষার্থী আবেদন করায় সিট বরাদ্দ দিতে সমস্যা হয়েছে। কোনো ভুল হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট সিটের বিষয় পুনর্বিবেচনা করা হবে। এদিকে সিট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুর ২টায় বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছেন একদল শিক্ষার্থী।

  • ঢাবিতে তামাক প্রচারণা বন্ধের দাবি

    ঢাবিতে তামাক প্রচারণা বন্ধের দাবি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে তামাক কোম্পানির ব্র্যান্ড প্রমোশনসহ প্রচারণা বন্ধ এবং পৃথক স্মোকিং জোন স্থাপন নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের (বাটা) ঢাবি সদস্যরা।

    সোমবার (২৪ আগস্ট) বাটার দুই ঢাবি প্রতিনিধি তারানা জাহিদ সন্ধি ও ফাইয়াজ আনাম স্বনন উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে চিঠি দুটি হস্তান্তর করেন।

    চিঠিতে বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তামাক কোম্পানির প্রচারণা, ব্র্যান্ড প্রমোশন, চাকরি ও ক্যারিয়ারভিত্তিক কার্যক্রম এবং করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) আড়ালে তামাক কোম্পানির সম্পৃক্ততার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। এসব কার্যক্রম বন্ধে বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    ক্যাম্পাসে পৃথক স্মোকিং জোন স্থাপনের প্রস্তাব নিয়ে উদ্বেগ জানানো হয়। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নীতিমালার আলোকে পৃথক ধূমপান এলাকা স্থাপনের পরিবর্তে পুরো ক্যাম্পাসে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়।

    উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘যেসব বিষয়ে আইনে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে আইন অনুসরণ করতেই হবে।’

  • ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি শিক্ষার্থীদের ১৩ দাবি

    ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি শিক্ষার্থীদের ১৩ দাবি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    একাডেমিক অধিকার, মানসম্মত শিক্ষা ও আধুনিক উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিতে ১৩ দফা দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির (ডিসিইউ) শিক্ষার্থীরা। রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুর আড়াইটায় কলেজের শহিদ মিনারের সামনে সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান তারা।

    সংবাদ সম্মেলনে ২০২২-২৩ সেশনের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল ফাহাদ বলেন, গত কয়েকদিন আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চাহিদার প্রেক্ষিতে ডিসিইউ প্রশাসন রানিং শিক্ষার্থীদের একাডেমিক মাইগ্রেশনের বিষয়ে গণভোট আয়োজন করে। এই গণভোটের বিষয়ে প্রায় ১৭ হাজারের উপরে শিক্ষার্থী ‘হ্যাঁ’-কে জয়ী করেছে। অর্থাৎ শিক্ষার্থীরা যে সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে মাইগ্রেশন হতে চায় এই বিষয়ে তারা একমত প্রকাশ করেছে। গত বৃহস্পতিবার গণভোটের ফলাফল প্রকাশ হয়েছে কিন্তু এখন পর্যন্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে কোনো প্রজ্ঞাপন জারির উদ্যোগ নেয়নি।

    শিক্ষার্থীদের দ্রুত পরীক্ষা শেষ করে একাডেমিক জটিলতা থেকে মুক্তির আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অতিদ্রুত সকল সেশন বিশেষ করে ২০২১-২২ সেশন এবং প্রথম বর্ষ ২০২৪-২৫ সেশনের পরীক্ষা যাতে অতি দ্রুত সম্পন্ন করা হয় এবং তাদেরকে এই একাডেমিক জটিলতা থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।

    বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক একাডেমিক রোডম্যাপ এবং মন্ত্রণালয় কর্তৃক শিক্ষার্থীদের মাইগ্রেশনের বিষয়ে প্রজ্ঞাপন যাতে আজকের মধ্যেই জারি করা হয় সে দাবি জানান তিনি।

    শিক্ষার্থীরা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করলে এর দায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নিতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যদি একাডেমিক মাইগ্রেশন ব্যাপারে কোনো ব্যত্যয় ঘটে, তাহলে যারা ‘হ্যাঁ’ ভোটকে জয়ী করেছে সেসব শিক্ষার্থীরা যদি ঢাকা শহরে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করে তাহলে এর দায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নিতে হবে। আমরা শিক্ষার্থীরা ঢাকা শহরকে অস্থিতিশীল করতে চাচ্ছি না। আমরা আমাদের যৌক্তিক দাবি গণতান্ত্রিক উপায়ে জানিয়ে দিয়েছি যে আমরা সবাই সর্বসম্মতিক্রমে বিশ্ববিদ্যালয় মাইগ্রেশনের ক্ষেত্রে একমত। এমনকি উপাচার্য এই বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন।

    এসময় শিক্ষার্থীরা ১৩টি দাবি পেশ করেন। দাবিগুলো হলো- ১। শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় উপযোগী’ শিক্ষকের ব্যবস্থা এবং বিদ্যমান শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও পেশাগত উন্নয়নের সুযোগ নিশ্চিত করা ২। শিক্ষার্থীদের একাডেমিক অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং গণস্বাক্ষরের ফলাফল প্রজ্ঞাপন আকারে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ করতে হবে ফল প্রকাশের পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চলমান ব্যাচগুলোর অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা ৩। ডিজিটাল লার্নিং রিসোর্স, ই-জার্নাল, ই-বুক ও ডেটাবেসে সবার জন্য সমান অ্যাক্সেসের ব্যবস্থা করা ৪। বিষয়ভিত্তিক প্রয়োজনে বাংলা ও ইংরেজি-উভয় ভাষায় পাঠদান ও উপকরণ ব্যবহারের সুযোগ রাখা ৫। আধুনিক ল্যাব সুবিধা নিশ্চিত করা ৬। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও পর্যাপ্ত পরিবহন ব্যবস্থা চালু ও সম্প্রসারণ করা এবং প্রত্যেকটি ক্যাম্পাসের জন্য দুটি করে বাস বরাদ্দ দেওয়া ৭। শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত ও নিরাপদ আবাসন ব্যবস্থা করতে হবে ৮। গবেষণাবান্ধব পরিবেশ, অবকাঠামো ও শিক্ষার্থী-শিক্ষকের গবেষণায় অংশগ্রহণ বাড়ানো ৯। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের গবেষণার জন্য নিয়মিত ও পর্যাপ্ত গবেষণা তহবিল চালু করা ১০। বাস্তবসম্মত একাডেমিক ক্যালেন্ডার মেনে সময়মতো ক্লাস, পরীক্ষা, ফলপ্রকাশ ও অন্যান্য কার্যক্রম সম্পন্ন করা ১১। ধারাবাহিক মূল্যায়ন ও মানোন্নয়নে কার্যকর ডুয়াল পরীক্ষা পদ্ধতি চালু ও পরীক্ষার কাঠামো স্পষ্ট করা ১২। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই সাতটি ক্যাম্পাসে যুগোপযোগী এবং বিষয় সংযোজন করা ১৩। উপযুক্ত স্থানে দ্রুত একটি টিএসসি (ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র) নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা এবং টিএসসি কেন্দ্রিক খেলাধুলা, বিতর্ক, সাংস্কৃতিক কাজ, ক্লাব ও স্বেচ্ছাসেবাসহ নানা সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমের সুযোগ নিশ্চিত করা।

  • ১১ মাসে যা করেছি,  ১০৫ বছরেও কেউ পারেনি: সাদিক কায়েম

    ১১ মাসে যা করেছি, ১০৫ বছরেও কেউ পারেনি: সাদিক কায়েম

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ১১ মাসে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে এমন কাজ করা হয়েছে, যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫ বছরের ইতিহাসে আর কেউ করতে পারেননি বলে দাবি করেছেন ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম।

    আজ পটুয়াখালী জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

    সাদিক কায়েম বলেন, ‘১১ মাসে আমরা প্রমাণ করেছি কিভাবে শিক্ষার্থীদের অধিকার নিশ্চিত করতে হয়, শিক্ষার্থীরাই বলে আমরা গত ১১ মাসে ডাকসুতে দায়িত্ব নেওয়ার পরে যে কাজ করেছি বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাসে ১০৫ বছরের সে কাজ করতে পারেনি। ’

    ডাকসুর বর্তমান নেতৃত্বের সময়ে ক্যাম্পাসে মারামারি, হানাহানি, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে বলেও দাবি করেন তিনি। একাধিক জরিপের তথ্য তুলে ধরে ডাকসুর ভিপি বলেন, ৯৩ শতাংশ শিক্ষার্থী মনে করেন, বর্তমান সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সবচেয়ে নিরাপদ অবস্থায় রয়েছে।

    ডাকসুর ভিপি আরও বলেন, একই সঙ্গে ক্যাম্পাসের মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা করা গবেষণা করা চিন্তা করা প্রশ্ন করা এবং নতুন নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কার করা। এজন্য সেই একাডেমিক পরিবেশ আমরা ইতিমধ্যে নিশ্চিত করেছি।

    দেশের তরুণ প্রজন্মকে যথাযথ স্বীকৃতি ও সুযোগ না দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের এই দেশে আমরা গত ৫৫ বছর জুড়ে আমাদের যারা নেতৃত্ব ছিল তারা আমাদেরকে নিয়ে যেভাবে ভাবা দরকার ছিল আমাদের তরুণ প্রজন্মদেরকে নিয়ে আমাদের ছাত্র-ছাত্রীদেরকে নিয়ে যেভাবে ভাবা দরকার ছিল তাদেরকে যেভাবে স্বীকৃতি দেওয়া দরকার ছিল সেটা তারা দিতে পারেনি। সাদিক কায়েম বলেন, দীর্ঘদিনের এ ব্যর্থতার কারণেই জাতি একই বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে। দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীরা বিদেশের নামী বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিলেও দেশে তাদের মেধার যথাযথ বিকাশ ও কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পটুয়াখালী ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আন নাহিয়ান। এতে পটুয়াখালী সদর উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৩০০ কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

  • ২৩ আগস্ট ঢাবির কালো দিবস, স্মরণে নানা কর্মসূচি

    ২৩ আগস্ট ঢাবির কালো দিবস, স্মরণে নানা কর্মসূচি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ‘কালো দিবস’ আগামী ২৩ আগস্ট। দিবসটি উপলক্ষে নানান কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ঢাবি প্রশাসন। ২০০৭ খ্রিষ্টাব্দের ২০-২৩ আগস্ট ঢাবির ছাত্র-শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী তথা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের ওপর সংঘটিত অমানবিক, বেদনার্ত ও নিন্দনীয় ঘটনার স্মরণে দিবসটি প্রতিবছর পালন করা হয়।

    শুক্রবার (২১ আগস্ট) ঢাবি জনসংযোগ দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। কর্মসূচি অনুযায়ী আগামী ২৩ আগস্ট রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কালো ব্যাজ ধারণ করবেন। এছাড়া, সকাল ১১টায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

  • হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজে সিনিয়র-জুনিয়র সংঘর্ষ

    হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজে সিনিয়র-জুনিয়র সংঘর্ষ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের হোস্টেলে সিনিয়র-জুনিয়র নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।

    বুধবার (১৯ আগস্ট) রাতে শহরের অনন্তপুর আবাসিক এলাকায় অবস্থিত মেডিকেল কলেজের হোস্টেলে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুরো হোস্টেল শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

    আহতদের মধ্যে তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।শিক্ষার্থীরা জানান, হোস্টেলে তাফসির ও শরীফ উদ্দিনের মধ্যে সিনিয়র-জুনিয়র বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। তাদের মধ্যে আগে থেকেই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ছিল। একপর্যায়ে তারা দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়ে লোহার রড, স্টাম্পসহ দেশিয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে অন্তত ১৫ শিক্ষার্থী আহত হয়।

    আহতদের মধ্যে রয়েছেন হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী তাসরিফ আহমেদ, শরীফ উদ্দিন, রায়হান রাজ, রজব সানি, ফারদিন ইফতি, সামি, রিয়াদ, আব্দুল্লাহ চৌধুরী, সামিউল আল আরিফ ও হুজাফ সৌমি।

    হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি জাহিদুল হক জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • নোবিপ্রবি ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ; কঠোর অবস্থানে প্রশাসন

    নোবিপ্রবি ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ; কঠোর অবস্থানে প্রশাসন

    শিক্ষা ডেস্ক:

    নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) বহিরাগতদের নিয়ে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার পর পুরো ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও নতুন করে বিশৃঙ্খলা এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও তৎপর রয়েছেন।

    মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে এ সংঘাতের ঘটনা ঘটে। গতকাল মধ্যরাতের পর থেকে বিকেল পর্যন্ত চলমান সংঘর্ষে এক সাংবাদিকসহ অন্তত ৯ জন আহত হন। সংঘর্ষ চলাকালে এক বহিরাগতকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

    অনাকাঙ্ক্ষিত এসব ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। তবে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকার আশ্বাস দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় ও হল প্রশাসন। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসের পকেট গেট বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া ভাষা শহীদ আব্দুস সালাম হল এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক উকিল হলে প্রবেশাধিকার সীমিত করা হয়েছে। কঠোরভাবে শিক্ষার্থীদের পরিচয় নিশ্চিত করার পরই হলে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে প্রক্টরিয়াল বডি সার্বক্ষণিক টহল দিচ্ছে।

    এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ক্যাম্পাসে স্থায়ী শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের যৌথ নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

  • শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে শিবিরের সাংবাদিক সম্মেলন

    শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে শিবিরের সাংবাদিক সম্মেলন

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের খাবারের মান নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক আবাসিক শিক্ষার্থীকে হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইলিয়াস আল মামুনের কক্ষে ডেকে নিয়ে মারধর ও জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

    সোমবার (১৭ আগস্ট) সাংবাদিক সম্মেলনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা এ অভিযোগ করে। সংগঠনটির দাবি, ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ দেখার দাবিতে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের কাছে গেলে ছাত্রদলের শহীদুল্লাহ হল ও ফজলুল হক হল শাখার নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালান। এতে ফজলুল হক হলের ভিপি খন্দকার মো. আবু নাঈম, জিএস ইমামুল হাসানসহ ২০ থেকে ৩০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    শিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মহিউদ্দিন খান অভিযোগ করেন, ওই শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে একটি লিখিত বক্তব্যে স্বাক্ষর নেওয়া হয়।

    অভিযোগ অস্বীকার বা এ বিষয়ে প্রশাসনের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

    শিবির প্রভোস্টের পদত্যাগ ও শাস্তি, জড়িত কর্মচারীদের বহিষ্কার, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং ক্যাম্পাসে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে।

  • প্রাধ্যক্ষকে উদ্ধার ঘিরে ঢাবিতে সংঘর্ষ, ভিপি-জিএসসহ আহত ৬

    প্রাধ্যক্ষকে উদ্ধার ঘিরে ঢাবিতে সংঘর্ষ, ভিপি-জিএসসহ আহত ৬

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রাধ্যক্ষের কক্ষে এক শিক্ষার্থীকে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগের ঘটনায় প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে কার্যালয় অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন শিক্ষার্থীরা।

    রোববার (১৬ আগস্ট) দিবাগত রাত পৌনে ৩টার দিকে প্রাধ্যক্ষকে সেখান থেকে বের করে নিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা গেলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।

    এ সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলায় হল সংসদের ভিপি আবু নাঈম ও জিএস ইমামুল হাসানসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহতদের মধ্যে জিএস ইমামুল হাসানের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। পরে আহতদের অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং হল প্রাধ্যক্ষকে উদ্ধারে রাতে প্রাধ্যক্ষের কার্যালয়ে উপস্থিত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. আল মোজাদ্দেদী আলফেসানী, প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম, ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ড. ইসরাফিল প্রাং এবং কয়েকজন সহকারী প্রক্টর। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা তাদেরও কার্যালয়ের ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখেন।

    পরে দুই প্রো-ভিসি সেখান থেকে বের হয়ে যান। এ সময় প্রাধ্যক্ষের কার্যালয়ের গেটে প্রক্টরের সঙ্গে হল সংসদের ভিপি আবু নাঈম, জিএস ইমামুল হাসানসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী অবস্থান করছিলেন।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ ছাত্রদলের একটি দল শিবিরবিরোধী স্লোগান দিতে দিতে মিছিল নিয়ে প্রাধ্যক্ষের কার্যালয়ের দিকে আসে। মিছিল দেখে হল সংসদের ভিপি আবু নাঈম বলেন, ‘শহীদুল্লাহ হলের সন্ত্রাসীরা এখানে কী করছে?’

    এরপর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ভিপি আবু নাঈমসহ সেখানে থাকা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ ওঠে। এতে ভিপি ও জিএসসহ অন্তত ছয়জন আহত হন।

    হামলার সময় ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ইসরাফিল প্রাংও ধাক্কা খেয়ে একটি পিলারের সঙ্গে পড়ে যান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। পরে ছাত্রদলের একদল নেতাকর্মী তাকে আড়াল করে সেখান থেকে বের করে নিয়ে যান।

    হামলার পর হল সংসদের জিএস ইমামুল হাসানকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। ভিপি আবু নাঈমের গেঞ্জি ও পাঞ্জাবি ছিঁড়ে যায়। পরে আহতদের দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

    ঘটনার পর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হল প্রাধ্যক্ষকে কার্যালয় থেকে বের করে নিয়ে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

    এ সময় সাংবাদিকদের ভিডিও ধারণে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বাধা দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন উপস্থিত সাংবাদিকরা। তবে ঢাবি ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মল্লিক ওয়াসি তামি বলেন, গণমাধ্যমকর্মীদের ভিডিও ধারণে কোনো বাধা দেওয়া হয়নি।

    তিনি বলেন, অন্যান্য হল থেকে শিবিরের নেতাকর্মীরা সেখানে এসেছিলেন। পরে ভিপি-জিএসদের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে যান।

    ছাত্রদলের নেতৃত্বে প্রাধ্যক্ষকে বের করে নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা ভেতরে যাইনি। হল ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে গিয়েছিল।’

    অন্যদিকে, ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ইব্রাহিম বলেন, হলের শিক্ষার্থীরা প্রথমে সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চেয়েছিলেন। ফুটেজ দেখলেই স্পষ্ট হয়ে যেত প্রাধ্যক্ষ কীভাবে দরজা বন্ধ করে তাকে হেনস্তা করেছেন। সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ২টা পেরিয়ে গেলেও ফুটেজ দেখানো হয়নি।

    তিনি বলেন, প্রথমে জানানো হয়েছিল, গণমাধ্যম বা অন্যান্য হলের শিক্ষার্থীরা ফুটেজ দেখতে পারবেন না; শুধু তিনি, হল সংসদ এবং ডাকসুর কয়েকজন প্রতিনিধি তা দেখতে পারবেন। কিন্তু শিক্ষকরা বারবার নিজেদের মধ্যে আলোচনা করার কথা বলে বিষয়টি পিছিয়ে দেন। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা অফিসের ভেতরে প্রবেশ করেন।

    ইব্রাহিমের অভিযোগ, এরপর ঘটনাটি ‘চিরাচরিত প্রথা’ অনুযায়ী ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের দ্বন্দ্বে রূপ নেয়। তার দাবি, উভয় পক্ষই অন্যান্য হল থেকে নিজেদের লোকজন নিয়ে আসে। এর মধ্যে তিনি নিজেই বিচারবঞ্চিত হচ্ছেন।

    তিনি আরও বলেন, ‘ছাত্রদল আমার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এফএইচ হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবিদ হাসনাতের নেতৃত্বে কমিটির আরও কয়েকজন মিলে অভিযুক্ত প্রাধ্যক্ষকে গার্ড দিয়ে বের করে নিয়ে গেছে। আমি বিচার চেয়েছিলাম, সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চেয়েছিলাম। অথচ এখনো বিচার পাচ্ছি না।’

    উল্লেখ্য, প্রাধ্যক্ষের কক্ষে শিক্ষার্থীকে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগের ঘটনায় রোববার সন্ধ্যা থেকেই প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে কার্যালয় অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

  • প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, ববিতে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ

    প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, ববিতে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানকে কেন্দ্র করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে রাতভর মারধর, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় ২০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

    শনিবার রাত ৯টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও প্রধান গেটসংলগ্ন এলাকায় কয়েক দফায় এ সংঘর্ষ হয়।

    শিক্ষার্থীরা জানান, নবীনবরণ অনুষ্ঠানের দিন ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মুসা হোসাইন অর্থনীতি বিভাগের ১৫তম ব্যাচের এক ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। ওই ছাত্রী প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় তাকে র‌্যাগিং ও উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ ওঠে মুসার বিরুদ্ধে। বিষয়টি জানাজানি হলে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীরা জড়ো হন। একপর্যায়ে মুসাকে মারধরের পর দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়।

    রাতভর ক্যাম্পাসের ভেতরে ও বাইরে কয়েক দফা পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলে। অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, রাত ১২টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ নম্বর গেট এলাকায় গাড়ি থামিয়ে তাদের মারধর করা হয়।

    অভিযোগ অস্বীকার করে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীরা বলেন, মূল ঘটনাকে অতিরঞ্জিত করে প্রচার করা হচ্ছে। অভিযুক্ত মুসা আহত হওয়ায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন, দুই পক্ষকে থামানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • রাবিতে ভারতীয় মাদকসহ ছাত্রদল নেতা আটক

    রাবিতে ভারতীয় মাদকসহ ছাত্রদল নেতা আটক

    শিক্ষা ডেস্ক:

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিব হাসানকে ৭ পিস ভারতীয় নিষিদ্ধ মাদক ‘ট্যাপেন্টাডল’সহ আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (১৫ আগস্ট ২০২৬) সন্ধ্যায় রাজশাহী নগরীর মিজানের মোড় এলাকা থেকে তাকে আটক করে মতিহার থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রাজশাহী নগরীর মিজানের মোড়ে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। সেখান থেকেই তাকে আটক করা হয়। সেখানে তার কাছে ৭ পিস ভারতীয় মাদক ট্যাপেন্টাডল পাওয়া যায়।

    রাবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। ছাত্রদল সবসময় মাদকমুক্ত শিক্ষাঙ্গন গড়তে বদ্ধপরিকর। এখনও নিশ্চিত নই, মাদক তার নিজের কাছে ছিল নাকি তার বন্ধুদের কাছে ছিল। যদি এমন কিছু হয়ে থাকে, তাহলে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নেব।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী মাদক নেওয়া ও ক্রয় বিক্রয় করা দণ্ডনীয় অপরাধ। ও যেহেতু মাদক নিয়ে ধরা পড়েছে, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ওর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা প্রশাসনকে জানিয়ে দিয়েছি।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে মতিহার থানার ওসি গোলাম কবির বলেন, হাসিব মাদকসহ আটক হয়েছেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

  • জবি ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ব্যানার

    জবি ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ব্যানার

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শেখ মুজিবুর রহমান, তার সহধর্মিণী শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবসহ ১৫ আগস্টে নিহত পরিবারের সদস্যদের স্মরণে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসের পাশে ব্যানার টানিয়েছে।

    শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় গেটের পাশে ফুটওভারব্রিজ সংলগ্ন বিশ্বজিৎ চত্বর এলাকায় এ ব্যানার টানানো হয়।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন- জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আশিক-ই-আতাহার মেসবাহ ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান।

    এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. আজম খানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

  • চাঁদা তোলা নিয়ে সংঘর্ষ: ছাত্রদলের ৫ নেতা বহিষ্কার

    চাঁদা তোলা নিয়ে সংঘর্ষ: ছাত্রদলের ৫ নেতা বহিষ্কার

    শিক্ষা ডেস্ক:

    নিউমার্কেটে ফুটপাতের দোকান থেকে চাঁদা তোলাকে কেন্দ্র করে যুবদলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের এক দিন পর ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের পাঁচ নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাদের মধ্যে একজনকে প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে এবং চারজনকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

    বুধবার (১২ আগস্ট) ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক (সহসভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ঢাকা কলেজ শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক জুলহাস মৃধাকে প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই অভিযোগে যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন শিকদার, প্রিন্স খন্দকার, সদস্য সাগর খান ও মির্জা গোলাম রায়হানকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

    ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির আজ এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।এর আগে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে নিউমার্কেটের বলাকা সিনেমা হলের সামনে ফুটপাতের দোকান থেকে চাঁদা তোলাকে কেন্দ্র করে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যুবদলের নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ হয়। ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে নিউমার্কেট থানা যুবদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে।

    এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হন। আহতদের মধ্যে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক প্রিন্স খন্দকার, মো. সুমন সিকদার, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহমান, সায়মন ইসলাম, সাগর খান ও জিহাদুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন রয়েছেন।ঘটনার বিষয়ে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য জিহাদুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে নিউমার্কেট যুবদলের সদস্যসচিব কে এম চঞ্চলের কয়েকজন অনুসারী বলাকা সিনেমা হলের সামনে চাঁদা তুলতে আসেন। এ সময় ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা এর প্রতিবাদ জানান। প্রতিবাদ করলে তারা শিক্ষার্থীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। পরে তারা তাদের নেতা চঞ্চলকে ফোন করেন।

    জিহাদুল ইসলাম বলেন, এরপর চঞ্চলের নেতৃত্বে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন লোক পেছন থেকে চাইনিজ কুড়াল, অন্যান্য ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান। এতে ঢাকা কলেজের অনেক শিক্ষার্থী আহত হন। আহতদের মধ্যে মুশফিক, খন্দকার প্রিন্স ও হাসান রয়েছেন। আরও সাত-আটজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

    তিনি আরও বলেন, তারা প্রতিদিন চাঁদা তোলেন। প্রায় ৩৫০টি দোকান থেকে চাঁদা নেওয়া হয়। হামলার সময় তার মাথা ফেটে যায়। পেছন থেকে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে তাকে আঘাত করা হয়েছে। তার হাতও ভেঙে গেছে। এ ঘটনায় আরও আট থেকে ১০ জন আহত হয়েছেন বলে তারা জানতে পেরেছেন।জিহাদুল ইসলাম দাবি করেন, হামলায় আসা ব্যক্তিরা সবাই ছাত্রদলের পদধারী ও কর্মী।

    অন্যদিকে স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বলাকা সিনেমা হলের সামনের ফুটপাতে দোকান বসান নিউমার্কেট থানা যুবদলের সদস্যসচিব কে এম চঞ্চলের লোকজন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা-কর্মী ওই দোকান তুলে দিতে গেলে প্রথমে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে চঞ্চলের নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জন ব্যক্তি লাঠিসোঁটা ও রামদা নিয়ে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

    এ খবর ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রদলের শতাধিক নেতা-কর্মী নিউমার্কেটের প্রিয়াঙ্গন মার্কেট-সংলগ্ন বসুন্ধরা গলিতে চঞ্চলের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ভাঙচুর চালান। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন আহত হন। আহত ব্যক্তিরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রদলের সহদপ্তর সম্পাদক হাসান ফরাজি বলেন, সংঘর্ষে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক প্রিন্স খন্দকার, সুমন শিকদার, আহ্বায়ক সদস্য সাগর খান, সায়মন ইসলাম, মুশফিকুর রহিম ও জিহাদুল ইসলামসহ অন্তত ১৫ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। আহতরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পপুলার হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

    তবে ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কে এম চঞ্চল। তিনি বলেন, ঘটনার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তাকে নিয়ে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।

    কে এম চঞ্চল বলেন, ফুটপাতে যুবদলের কিছু কর্মী ব্যবসা করেন। ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের পরিচয় দিয়ে কিছু বহিরাগত সন্ত্রাসী তাঁদের মারধর করেছেন। তার কার্যালয়ও ভাঙচুর করা হয়েছে। সেখানে লুটপাট চালানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।এ বিষয়ে নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহসিন উদ্দিন বলেন, ফুটপাতে দোকান বসানো নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

    ওসি মোহসিন উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের কাছে এ ধরনের কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

  • চুয়েটের পুকুরে আরও ২ শিক্ষার্থীর মৃত্যু

    চুয়েটের পুকুরে আরও ২ শিক্ষার্থীর মৃত্যু

    শিক্ষা ডেস্ক:

    চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) পুকুরে ডুবে দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন।

    বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুর দেড়টার দিকে কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল-সংলগ্ন পুকুরে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত শিক্ষার্থীরা হলেন, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের চমক দত্ত এবং একই বর্ষের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের শান্ত দেব। তারা দুজনই সিলেটের মৌলভীবাজার জেলার বাসিন্দা।

    প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আজ বুধবার দুপুর ১টার দিকে শান্ত ও চমক বন্ধুদের সঙ্গে কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল-সংলগ্ন পুকুরে গোসল করতে নামেন। দুপুর ১টা ২০ এর দিকে তারা পানিতে তলিয়ে যান। বিষয়টি অন্যদের নজরে এলে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করতে পুকুরে নেমে পড়েন। প্রায় ১০ মিনিট পর চমককে উদ্ধার করতে পারলেও অপর শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করতে লেগে যায় প্রায় ৪০ মিনিট।উদ্ধার পরবর্তী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা শেষে তাদের দ্রুত চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    এর দুই সপ্তাহ আগে, ২৮ জুলাই একই পুকুরে ডুবে মারা যান যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী অর্ণব সাহা। সে ঘটনার রেষ কাটতে না কাটতেই আবারও দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালযয়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

    এদিকে, একের পর এক পুকুরে ডুবে মৃত্যুর ঘটনায় দুর্ঘটনা এড়াতে পুকুরটি সেচে ফেলার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পাশাপাশি পুকুরটি বাঁশ দিয়ে ঘিরে দেওয়ারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    অন্যদিকে, নিহত দুই শিক্ষার্থীর বাড়িতে যাওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে দুটি বাসের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এসব বাসে নিহতদের সহপাঠীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও যেতে পারবেন।

  • ঢাকা আলিয়ায় ছাত্রদল-শিবির সমঝোতা, সহাবস্থানের সিদ্ধান্ত

    ঢাকা আলিয়ায় ছাত্রদল-শিবির সমঝোতা, সহাবস্থানের সিদ্ধান্ত

    শিক্ষা ডেস্ক:

    রাজধানীর ঢাকা আলিয়া মাদরাসা ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা নিরসনে সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে অতীতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরস্পরকে দোষারোপ না করে ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও সহাবস্থান নিশ্চিত করার বিষয়ে একমত হয়েছেন দুই সংগঠনের নেতারা।

    রোববার (৯ আগস্ট) ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিএনপির পক্ষ থেকে মধ্যস্থতা করেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য মো. হামিদুর রহমান হামিদ এবং জামায়াতের পক্ষ থেকে মধ্যস্থতা করেন ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামাল হোসেন। এ সময় ঢাকা মহানগর পুলিশের একজন উপকমিশনার (ডিসি), মাদরাসার উপাধ্যক্ষ ও শিক্ষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) জিএস এস এম ফরহাদ এবং ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

    বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    বৈঠকে সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই সংগঠনের মধ্যে তৈরি হওয়া ভুল বোঝাবুঝি ও উত্তেজনা নিরসনের বিষয়ে আলোচনা হয়। ক্যাম্পাসে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখা এবং ভবিষ্যতে কোনো ধরনের সংঘাতের পরিস্থিতি যাতে তৈরি না হয়, সে বিষয়ে উভয় পক্ষের নেতারা মত দেন।

    বৈঠক শেষে এস এম ফরহাদ বলেন, অতীতে কী ঘটেছে, তা নিয়ে পরস্পরকে দোষারোপ না করে সামনে কীভাবে সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা যায়, সেটিই আলোচনার মূল বিষয় ছিল। ক্যাম্পাসে সবাই যেন সহাবস্থান করতে পারে এবং ভবিষ্যতে কোনো ধরনের সংঘাতের পরিবেশ তৈরি না হয়, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

    তিনি বলেন, দুই ছাত্র সংগঠনের মধ্যে সংঘাত থেকে সরে আসার বিষয়ে বৈঠকে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হয়েছে। ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং সব শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    বৈঠকে ঢাকা আলিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থীদের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে যেসব শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের বিষয়গুলো প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে বৈঠকে জানানো হয়।

    এদিকে সমঝোতা বৈঠক শেষে ঢাকা আলিয়া মাদরাসা শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. আব্দুল আলিমের সঙ্গে ছাত্রদলের এক নেতাকে কোলাকুলি করতে দেখা যায়। এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা করতালি দিয়ে তাদের স্বাগত জানান।

    বৈঠকে উপস্থিত নেতারা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতা থাকলেও তা যেন কোনোভাবেই সংঘাত বা শিক্ষার পরিবেশ নষ্টের কারণ না হয়। পারস্পরিক সহনশীলতা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মাধ্যমে ক্যাম্পাসের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তারা।

  • ঢাবি ছাত্রদলের নতুন কমিটি যেকোনো সময়,

    ঢাবি ছাত্রদলের নতুন কমিটি যেকোনো সময়,

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার নতুন কমিটিও যেকোনো সময় ঘোষণা হতে পারে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে পরিবর্তনের প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত হওয়ায় দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট হিসেবে বিবেচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব নিয়েও জোর আলোচনা চলছে। দলীয় একাধিক সূত্রের দাবি, চলতি সপ্তাহেই কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে ঢাবি শাখার নতুন কমিটিও ঘোষণা হতে পারে।

    ২০২৪ সালের মার্চে গণেশ চন্দ্র রায় সাহসকে সভাপতি এবং নাহিদুজ্জামান শিপনকে সাধারণ সম্পাদক করে এক বছরের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করা হয়। নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন কমিটি গঠনের আলোচনা শুরু হলেও বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কারণে তা পিছিয়ে যায়।

    শীর্ষ পদে একাধিক নেতা আলোচনায়

    দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক নেতা আলোচনায় রয়েছেন। ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জসিম খান, গাজী মোহাম্মদ আল-আমীন ও সহসাধারণ সম্পাদক মো. মাহমুদুল হাসানের নাম সম্ভাব্য শীর্ষ নেতৃত্ব হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।

    এ ছাড়া ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের বিজয় একাত্তর হলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বি এম কাওসার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফ খান ও আলমগীর হোসেন আলমের নামও রয়েছে আলোচনায়।

    ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে যুগ্ম সম্পাদক বজলুর রহমান বিজয় এবং আবিদুল ইসলাম খান; ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক আবু হায়াত মো. জুলফিকার জেসান, শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক মাহমুদুল হাসান এবং প্রচার সম্পাদক তানভীর হাসানের নাম সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকায় রয়েছে।

    এ ছাড়া ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের আপ্যায়ন সম্পাদক আরিফুল ইসলাম, আন্তর্জাতিক সম্পাদক মেহেদী হাসান এবং মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক সৈয়দ ইমাম হাসান অনিকও নেতৃত্বের দৌড়ে রয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

    আন্দোলনে ভূমিকা ও সাংগঠনিক দক্ষতায় গুরুত্ব

    ছাত্রদলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের ভাষ্য, নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা, ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নিয়মিত শিক্ষার্থী ও বিতর্কমুক্ত নেতৃত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়েও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব গুরুত্ব দিচ্ছে।

    এ বিষয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আমার কাছে অফিসিয়ালি কমিটির তথ্য নেই। তবে সংগঠনের গতিশীলতার স্বার্থে পরিবর্তন আসতেই পারে। এটি একটি স্বাভাবিক ও চলমান প্রক্রিয়া।’

    ত্যাগী ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব চান নেতাকর্মীরা

    বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রাখা ত্যাগী নেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে। একই সঙ্গে নতুন কমিটি গঠনে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রভাব যেন না থাকে, সে প্রত্যাশাও রয়েছে তাদের।

    পদপ্রত্যাশী ও বর্তমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জসিম খান বলেন, ‘নতুন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আমাদের নেতা জনাব তারেক রহমানের মূল লক্ষ্য হলো মেধা, ত্যাগ ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির সমন্বয়। নেতার লক্ষ্য বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখতে পারবে এবং একই সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে অনুকরণীয় ও নির্ভরযোগ্য নেতৃত্ব—এমন নেতৃত্বই আমাদের প্রত্যাশা।’

    সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক আবু হায়াত মো. জুলফিকার জেসান বলেন, ‘দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দেশের গণতন্ত্র ও শিক্ষার্থীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে যারা সাহসিকতার সঙ্গে রাজপথে থেকেছেন এবং জেল-জুলুম, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, তাদের অবদান মূল্যায়নের সময় এসেছে। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসের সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যাদের নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে এবং যারা ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সংগঠনের প্রতি সর্বোচ্চ নিষ্ঠা, ত্যাগ ও কমিটমেন্টের পরিচয় দিয়েছেন, তারাই নেতৃত্বের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, সংগঠন ত্যাগ, যোগ্যতা, গ্রহণযোগ্যতা ও সাংগঠনিক দক্ষতার সমন্বয়ে এমন নেতৃত্বই বেছে নেবে, যারা আগামী দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলকে আরও শক্তিশালী ও শিক্ষার্থীবান্ধব সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবে।’

    আরেক পদপ্রত্যাশী ও যুগ্ম সম্পাদক আলমগীর হোসেন আলম বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রাম এবং ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের একচ্ছত্র আধিপত্যের কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রদলের সম্পর্ক প্রত্যাশিতভাবে গভীর হতে পারেনি। তাই শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবি আদায়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম এবং বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে সর্বোচ্চ অবদান রাখা নেতৃত্বই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের জন্য প্রয়োজন।’

    তিনি আরও বলেন, ‘যারা ব্যক্তিস্বার্থের চেয়ে সংগঠনের স্বার্থকে প্রাধান্য দেন, তাদের নেতৃত্বে ছাত্রদল সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়বে।’

    দলীয় সূত্র বলছে, কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার পরপরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নতুন নেতৃত্বের নামও প্রকাশ করা হতে পারে। ফলে নতুন কমিটি ঘিরে ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

  • যবিপ্রবিতে ছাত্রী হয়রানি, ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

    যবিপ্রবিতে ছাত্রী হয়রানি, ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

    শিক্ষা ডেস্ক:

    যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) ছাত্রীদের হয়রানি ও বহিরাগতদের উৎপাত বন্ধে প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

    শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানববন্ধন থেকে এ আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা ছাত্রীদের অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় জড়িতদের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

    শিক্ষার্থীরা বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আরও কঠোর আন্দোলনে যাবেন তারা।

    এর আগে শুক্রবার এক ছাত্রীর অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে কয়েকজন বহিরাগতের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিরাপদ ক্যাম্পাস, বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ ও ছাত্রীদের নিরাপত্তাসহ ১০ দফা দাবিতে প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. হামিদুর রহমান জানান, অভিযুক্তদের অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সরানো হয়েছে। অভিযুক্তরা ভবিষ্যতে এমন ঘটনা না ঘটানোর লিখিত মুচলেকাও দিয়েছে। পাশাপাশি বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

  • আলিয়া মাদ্রাসায় ফের সংঘর্ষের শঙ্কা, সতর্ক অবস্থানে পুলিশ

    আলিয়া মাদ্রাসায় ফের সংঘর্ষের শঙ্কা, সতর্ক অবস্থানে পুলিশ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    রাজধানীর বকশীবাজারে সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা এলাকায় ফের সংঘর্ষের আশঙ্কায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শনিবার (৮ আগস্ট) মাদ্রাসা, আলিয়া মাদ্রাসা সড়ক ও বকশীবাজার মোড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।

    ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মাদ্রাসার গেট, সড়ক ও বকশীবাজার মোড়ে পুলিশ সদস্যরা অবস্থান করছেন।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন আগে সরকারি আলিয়া মাদ্রাসায় হল দখলকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনায় উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। সংঘর্ষের সময় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনাও ঘটে।

    ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, একটি পক্ষ শনিবার মাদ্রাসায় প্রবেশের ঘোষণা দেওয়ায় নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ কারণে আগাম সতর্কতা হিসেবে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

    এর আগে গত মঙ্গলবার বিকেলে হল দখলকে কেন্দ্র করে দুই ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের সময় কয়েকজনকে দেশীয় অস্ত্র হাতে দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতেও অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ানোর দৃশ্য দেখা গেছে। এ সময় কয়েকজন আহত হয়ে মাটিতে পড়ে থাকেন। পরে সহপাঠীরা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

  • ৯ দফা দাবিতে উপাচার্যের কাছে জকসুর স্মারকলিপি

    ৯ দফা দাবিতে উপাচার্যের কাছে জকসুর স্মারকলিপি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    প্রক্টরের অপসারণ ও শাস্তি, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার বিচার, প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং ক্যাম্পাসে নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠাসহ ৯ দফা দাবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)।

    বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) জকসুর সহসভাপতি (ভিপি) রিয়াজুল ইসলামের স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে এসব দাবি জানানো হয়।

    স্মারকলিপিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রকল্পের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, ৭ একর জমিতে এক হাজার ৬০০ শিক্ষার্থীর জন্য অস্থায়ী আবাসন নির্মাণ এবং মেডিক্যাল সেন্টারের উন্নয়নের দাবিতে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে প্ল্যাকার্ড নিয়ে অডিটরিয়ামে প্রবেশ করেন। এ সময় প্রক্টরিয়াল বডি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা প্ল্যাকার্ড কেড়ে নিয়ে শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক বের করে দেন বলে অভিযোগ করা হয়।

    পরে শিক্ষার্থীরা শহীদ ইকরামুল হক সাজিদ ভবনের সামনে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এতে জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, জিএস আব্দুল আলিম আরিফসহ নির্বাচিত প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানান।

    জকসুর অভিযোগ, একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমরা যদি আন্দোলন প্রত্যাহার না করো, তাহলে সিনক্রিয়েট করে তোমাদের এখান থেকে উঠিয়ে দেওয়া হবে।’

    এরপর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বহিরাগতদের নিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ অবস্থানরত শিক্ষার্থী, জকসুর প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায় বলে স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়। এতে জুলাই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ দুই জুলাইযোদ্ধা, ছাত্রশক্তির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ, ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীসহ অসংখ্য সাধারণ শিক্ষার্থী আহত হন বলে দাবি করা হয়।

    এ ছাড়া জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, জিএস আব্দুল আলিম আরিফ ও নির্বাহী সদস্য আব্দুল্লাহ আল ফারুককে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করা হয় বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

    জকসু আরো অভিযোগ করে, দীর্ঘ সময় ধরে হামলা চললেও তা প্রতিরোধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি তাদের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    জকসুর ৯ দফা দাবি হলো— প্রক্টরের পদত্যাগ ও শাস্তি নিশ্চিত করা; হামলাকারীদের চিহ্নিত করে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া; বহিরাগতদের বিরুদ্ধে মামলা করা; ক্যাম্পাসে বহিরাগত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে স্থায়ী নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ; সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ ও বিচার বিভাগীয় তদন্ত করা; আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ব্যয় বহন করা; শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; হাসপাতালে আহতদের খোঁজ না নেওয়ার দায়ে সংশ্লিষ্টদের অপসারণ করা এবং অছাত্রদের অসুস্থ রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠা করা।

    স্মারকলিপির শেষাংশে জকসু জানায়, আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে তারা প্রত্যাশা করছে। অন্যথায় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তাকে শিক্ষার্থীদের প্রতি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং উদ্ভূত পরিস্থিতির দায়ভার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেই বহন করতে হবে।

  • সংঘর্ষের পর আজ একই মঞ্চে ছাত্রদল-শিবির

    সংঘর্ষের পর আজ একই মঞ্চে ছাত্রদল-শিবির

    টানা দুই দিনের সংঘর্ষ ও উত্তেজনার পর রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। বুধবার জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আয়োজিত আনন্দ শোভাযাত্রা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে উপাচার্য, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা একসঙ্গে অংশ নেন।

    বৃষ্টি উপেক্ষা করে শোভাযাত্রা শেষে শহীদদের স্মরণে বৃক্ষরোপণ করা হয়। কয়েকদিন আগে দুই ছাত্রসংগঠনের সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হওয়ার পর নতুন করে উত্তেজনার আশঙ্কা থাকলেও এদিন একই মঞ্চে তাদের উপস্থিতি স্বস্তি ফিরিয়েছে। ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সবাই ক্যাম্পাসে সহাবস্থান, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও ঐক্য বজায় রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

  • ছাত্রদলকে নিয়ন্ত্রণ না করলে পরিণতি হবে ভয়াবহ; শিবির

    ছাত্রদলকে নিয়ন্ত্রণ না করলে পরিণতি হবে ভয়াবহ; শিবির

    ছাত্রদল যেভাবে শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস শুরু করেছে, তা অবিলম্বে নিয়ন্ত্রণ করা না হলে এই সরকারের পরিণতি আওয়ামী লীগের চেয়েও ভয়াবহ হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বক্তারা।

    তারা বলেন, জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে গণহত্যার বিচার এবং জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবি নিয়ে তাদের মাঠে দাঁড়ানোর কথা ছিল। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, জুলাই বিপ্লবের সবচেয়ে বেশি সুবিধাভোগী বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরও গণহত্যার বিচার দীর্ঘসূত্রতায় ফেলে দিয়েছে।

    বক্তারা অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার লাগামহীন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিষয় আড়াল করার জন্য ক্যাম্পাসগুলোকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা করছে।

    বুধবার সকালে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘গণভোটের রায় অনুযায়ী জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, সব গণহত্যার বিচার নিশ্চিতকরণ এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, ঢাকা আলিয়াসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে’ আয়োজিত ছাত্র গণজমায়েতে তারা এসব কথা বলেন।

    সমাবেশে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, গতকাল ক্যাম্পাসগুলোতে যারা হামলা চালিয়েছে, তারা প্রকৃত ছাত্র নয়; বরং তারা ছাত্রসন্ত্রাসী ও বহিরাগত। ছাত্রদল ক্যাম্পাসগুলোতে যাদের দিয়ে কমিটি করেছে, তাদের অনেকের ছাত্রজীবন ১৫ থেকে ২০ বছর আগেই শেষ হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, এসব ‘আদুভাই’ দিয়ে ক্যাম্পাসের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ ও কেরাণীগঞ্জ থেকে ভাড়া করা সন্ত্রাসীদের ক্যাম্পাসে আনা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ ও ঢাকা আলিয়ায় সশস্ত্র হামলা এবং রাতে ঘুমন্ত শিক্ষার্থী ও ঢাকা গ্রাফিক্স আর্টস কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগও করেন তিনি।

    শিবির সভাপতি বলেন, ছাত্রদলের সন্ত্রাসীদের লাগাম টানা না হলে এবং বিএনপির বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণ করা না হলে রাজপথে তাদের সন্ত্রাস প্রতিহত করা হবে।

    তিনি আরও বলেন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে সহনশীলতার পরিচয় দেওয়া হচ্ছে। বারবার তাদের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে ক্যাম্পাসের পরিবেশ শান্ত রাখার আহ্বান জানানো হচ্ছে। কিন্তু পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, পূর্বের ফ্যাসিবাদী বন্দোবস্ত ফিরিয়ে আনতে তারা ক্যাম্পাসগুলোতে আবারও হল দখল, গণরুম ও গেস্টরুম সংস্কৃতি চালু করতে চায়।

    তিনি প্রধানমন্ত্রীকে এই ‘সন্ত্রাসী দলের’ লাগাম টেনে ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে ইসলামী ছাত্রশিবির ছাত্রজনতাকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিটি সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। ইসলামী ছাত্রশিবিরের সহনশীলতাকে দুর্বলতা মনে না করার আহ্বান জানান তিনি।

    তিনি বলেন, গত ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের কোনো কার্যকর ভূমিকা দেখা যায়নি এবং ক্যাম্পাসগুলোতেও তাদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি ছিল না।

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরকার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বারবার অবহিত করা হলেও এবং ডিএমপি কমিশনার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধের আশ্বাস দিলেও হামলাকারীদের হাতে চাপাতি, গ্রিজ, কোদাল ও রিভলভার দেখা গেছে। তাদের পাশে পুলিশ অবস্থান করেছে এবং ছাত্রলীগকে যেভাবে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছিল, পুলিশ বাহিনী আবারও নব্য ফ্যাসিবাদের আশ্রয়দাতায় পরিণত হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

    তিনি বলেন, প্রতিটি ক্যাম্পাসে সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। এরপর কোনো ক্যাম্পাসে রক্তপাত হলে এর দায়ভার সরকারকে নিতে হবে। জাতীয় রাজনীতি উত্তপ্ত হলে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত প্রতিটি রক্তবিন্দুর জবাব নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

    জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, আমরা ভেবেছিলাম বিএনপির সুবুদ্ধির উদয় হয়েছে এবং এবার শিক্ষাঙ্গনে শান্তি ফিরে আসবে। সেখানে মেধার চর্চা ও গবেষণা হবে এবং আলোকিত মানুষ তৈরি হবে। কিন্তু তাদের কর্মকাণ্ড দেখে মনে হচ্ছে, ক্যাম্পাসগুলো দখল করে পুনরায় চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজিতে জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

    তিনি আরও বলেন, শিক্ষার এই পরিবেশ জুলাই বিপ্লবের ফসল। ইসলামী ছাত্রশিবির প্রতিটি শিক্ষাঙ্গনের ছাত্রসংসদ নির্বাচনে নিজেদের চরিত্র ও আদর্শের মাধ্যমে ছাত্রদলকে পরাজিত করেছে এবং ছাত্রসমাজের সমর্থন পেয়েছে। এই রাজনৈতিক ও আদর্শিক পরাজয়কে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়েই ছাত্রদল সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    তিনি সরকারকে অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। অন্যথায় জনগণ সরকারকে তা বাস্তবায়নে বাধ্য করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি পুলিশের আইজিপি ও ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের উদ্দেশে অভিযোগ করে বলেন, গতকাল পুলিশের উপস্থিতিতে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর সন্ত্রাসী, গুন্ডা ও বহিরাগতরা ‘হায়নার মতো’ হামলা চালিয়েছে।

    তিনি পুলিশ কর্মকর্তাদের আগের আইজি ও কমিশনারের পরিণতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, তারাও একই ধরনের কাজ করেছিলেন, কিন্তু শেখ হাসিনা তাদের রক্ষা করতে পারেননি।

    তিনি আরও বলেন, ভারতের সেবাদাস শেখ হাসিনা জনতার আন্দোলনের মুখে কীভাবে পালিয়ে গিয়েছিলেন, সেই ইতিহাস বর্তমান সরকারের জানা আছে। জানা না থাকলে তা জেনে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সেই পরিণতি স্মরণে থাকলে এত দ্রুত এসব কর্মকাণ্ডে জড়ানোর কথা নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমির নূরুল ইসলাম এমপি বলেন, ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ ইসলামী ছাত্রশিবিরকে ভালো করেই চেনে। তারা জানে বলেই গণঅভ্যুত্থানের চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ করেছিল।

    তিনি অভিযোগ করেন, ইসলামী ছাত্রশিবির ও জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে চলমান গণঅভ্যুত্থানকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে ইসলামী ছাত্রশিবির ধৈর্য, সাহসিকতা ও প্রজ্ঞার সঙ্গে চলমান গণআন্দোলন এগিয়ে নিয়ে শেখ হাসিনার পতন ত্বরান্বিত করাকে একমাত্র লক্ষ্য হিসেবে নিয়েছিল বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

    ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের বিরোধের মূল কারণ মেধার ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা নয়; বরং ছাত্রদল টেন্ডারবাজি করতে চায় এবং ছাত্রশিবির তা করতে দিতে চায় না।

    তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টই এর ফয়সালা হয়ে গেছে। নতুন করে টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে ছাত্রদের মন জয় করা যাবে না এবং মেধা ও কোটার ভিত্তিতে কোনো হল তো দূরের কথা, একটি আসনও দখল করতে দেওয়া হবে না।

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, ছাত্রদলের ক্যাম্পাস দখলের পরিকল্পনা শুধু ছাত্রশিবিরকে বের করে দেওয়া নয়; বরং ক্যান্টিনে বিনা মূল্যে খাওয়া এবং ক্যান্টিনগুলোকে দেউলিয়া করার পরিকল্পনাও এর অংশ।

    ৫ আগস্ট বিজয় উৎসব পালনের দিনে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিতে দাঁড়ানো বাংলাদেশ, বিএনপি ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য লজ্জার বিষয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনাকে নিয়ে কথা বলার পরিবর্তে বাধ্য হয়ে তারেক রহমানকে নিয়ে কথা বলতে হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    তিনি তারেক রহমানকে ছাত্রদলকে নিয়ন্ত্রণ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ছাত্রদলকে সামলানো না হলে ছাত্রলীগ যেমন আওয়ামী লীগের পতন ত্বরান্বিত করেছে, এই ছাত্রদলও তারেক রহমানের রাজনৈতিক পতন আরও দ্রুত নিশ্চিত করতে পারে।

    ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহর সঞ্চালনায় আয়োজিত ছাত্র গণজমায়েতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর শাখার নেতারা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এতে সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন।

  • এবার ঢাকা আলিয়ায় ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ

    এবার ঢাকা আলিয়ায় ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    রাজধানীর ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসায় হল দখলকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লেও পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

    মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, হল দখলকে কেন্দ্র করে দুই ছাত্রসংগঠনের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ উত্তেজনা বিরাজ করছিল। বিকেলের দিকে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। শুরুতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও পরে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা পাল্টা অবস্থান নিয়ে প্রাঙ্গণের নিয়ন্ত্রণ নেয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে।

    সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের দেশীয় অস্ত্র হাতে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং মুখোমুখি অবস্থান নিতে দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতেও দেশীয় অস্ত্র হাতে সংঘর্ষে জড়ানোর দৃশ্য দেখা গেছে। এসব ভিডিওতে কয়েকজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে সহপাঠীরা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

    তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের সঠিক সংখ্যা ও পরিচয় জানা যায়নি। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

    ঘটনার পর পুলিশ ক্যাম্পাসে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, বর্তমানে পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত থাকলেও ক্যাম্পাসে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।

    এ ঘটনায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

  • জবিতে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন ঘিরে সংঘর্ষ, হামলার অভিযোগ

    জবিতে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন ঘিরে সংঘর্ষ, হামলার অভিযোগ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, অস্থায়ী আবাসন প্রকল্প চালু ও মেডিকেল সেন্টারের উন্নয়নসহ বিভিন্ন দাবিতে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করতে গিয়ে হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) প্রতিনিধিরা।

    মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ইউজিসি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে একটি অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্ল্যাকার্ড নিয়ে মিলনায়তনে প্রবেশে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে জকসু প্রতিনিধি ও জবি শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষ হয়। এ সময় প্ল্যাকার্ড ছিঁড়ে ফেলা ও হামলার অভিযোগ ওঠে।

    জকসু নেতারা দাবি করেন, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি শান্তিপূর্ণভাবে উপস্থাপন করতে গিয়েই তারা বাধার মুখে পড়েন। তবে এ বিষয়ে ছাত্রদলের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

  • বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৪৪ ধারা

    বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৪৪ ধারা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) ক্যাম্পাসে শাখা ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের ঘোষিত পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ১৪৪ ধারা জারি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে ক্লাস ও পরীক্ষা যথারীতি চলবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

    মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার ও প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান।

    তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মিছিল, মিটিং ও সমাবেশের ওপর ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকবে এবং নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ক্লাস ও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

    এর আগে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির রংপুর মহানগর শাখা বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে লালবাগ চত্বর থেকে আবু সাঈদ চত্বর পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ঘোষণা দেয়।

    অন্যদিকে, রংপুর মহানগর ছাত্রদল বিকেল ৪টায় আবু সাঈদ চত্বর পার্কের মোড়ে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভার কর্মসূচি ঘোষণা করে। সংগঠনটির সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম রবি মহানগরের সব ইউনিটের নেতাকর্মীদের নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানান।

    উল্লেখ্য, সোমবার (৩ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক মাঠে ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক একটি প্রদর্শনীতে টানানো ব্যানারকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এ সময় ইট-পাটকেল নিক্ষেপ, চেয়ার ছোড়াছুড়ি এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন।

  • জাবি ছাত্রশিবিরের ‘জুলাই আপরাইজিং’ মিনি ম্যারাথন

    জাবি ছাত্রশিবিরের ‘জুলাই আপরাইজিং’ মিনি ম্যারাথন

    ‘জুলাই মোদের ধমনিতে টগবগ করবে আমৃত্যু’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে ‘জুলাই আপরাইজিং রান ২০২৬’ শীর্ষক মিনি ম্যারাথন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘রান অ্যাগেইনস্ট ফ্যাসিজম’ স্লোগানে আয়োজিত এ মিনি ম্যারাথনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।

    সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে ম্যারাথনটি শুরু হয়ে জীববিজ্ঞান অনুষদ, এম এম হল, ক্যাফেটেরিয়া, ছাত্রী হলসমূহ ও চৌরঙ্গী হয়ে পুনরায় শহীদ মিনারে এসে শেষ হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম।

    ম্যারাথন শেষে জাবি শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মাজহারুল ইসলাম বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এবং পার্শ্ববর্তী সাভার-আশুলিয়া অঞ্চলের মানুষের অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৫ জুলাই ক্যাম্পাস থেকে ছাত্রলীগকে প্রতিরোধ, ২০ জুলাই কারফিউ ভেঙে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং ৫ আগস্টের পরও সাভার-আশুলিয়ার রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে এ অঞ্চলের মানুষের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

    তিনি আরও বলেন, সেই আত্মত্যাগ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ ও নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে আমরা ‘জুলাই আপরাইজিং রান ২০২৬’ আয়োজন করেছি। ‘রান অ্যাগেইনস্ট ফ্যাসিজম’ প্রতিপাদ্য নিয়ে এই মিনি ম্যারাথনের মাধ্যমে আমরা চাই, নতুন বাংলাদেশে যেন আর কখনো ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে। এই ম্যারাথন সবার মধ্যে দেশপ্রেম, জুলাইয়ের চেতনা এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী মনোভাবকে আরও শক্তিশালী করবে। শহীদ ও গাজীদের আত্মত্যাগের যথাযথ মর্যাদা রক্ষা করে একটি আদর্শ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের অগ্রযাত্রায় এ ধরনের উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

    শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জুলাই আমাদের অনেক কিছু দিয়েছে শত শত শহীদ এবং আমাদের ত্যাগের বিনিময়ে আজকে আমরা এই জুলাই পেয়েছি সেই জুলাই এবং আগস্ট মাসকে স্মরণীয় করে রাখতে এবং যুগে যুগে যারা ফ্যাসিস্ট হতে চায় তাদের একটা বার্তা দেওয়ার জন্যই মূলত আমাদের আজকে এই আয়োজন। এজন্য যারা আমাদের এই আয়োজনের সাড়া নিয়ে উপস্থিত হয়েছেন সবাইকে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার পক্ষ থেকে আন্তরিক মোবারকবাদ এবং ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

    তিনি আরও বলেন, আমরা আশা করি, ছাত্রশিবির জুলাইকে যেভাবে ধারণ করে বাংলাদেশের শহীদ পরিবারকে ছাত্রশিবির যেভাবে ধারণ করে তাদের সেই চেতনাকে আমরা বুকে ধারণ করে আগামীর বাংলাদেশ পুনর্নির্মাণ করব। জুলাই যে আকাঙ্ক্ষা ছিল সেই আকাঙ্ক্ষাকে আমরা বাস্তবায়ন করার জন্য এই জুলাইকে কখনো আমরা ম্যারাথনের মধ্য দিয়ে, কখনো মিছিল মিটিংয়ের মধ্য দিয়ে আমরা এই জুলাইকে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেব।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, আমরা জুলাই ধারণ করতে ব্যর্থ হয়েছি। এখানে দেশের কাঠামোগত একটি পরিবর্তন আমরা চেয়েছিলাম। আমরা চেয়েছিলাম রাষ্ট্রের যে গুরুত্বপূর্ণ অর্গানস গুলো রয়েছে-জুডিশিয়ারি, এডমিনিস্ট্রেশন, ডিফেন্স ফোর্স রাষ্ট্রের সব জায়গাগুলো অটোনোমাসলি ফাংশন করবে। বাংলাদেশের করাপশন বন্ধ হবে, ট্রান্সপারেন্সি ইনসিওর করা সম্ভব হবে। কিন্তু জুলাইয়ের পরে আমরা দেখেছি শুধু ক্ষমতার হাত বদল হয়েছে, কার্যত কোনো সংস্কার বা পরিবর্তন হয়নি। যে কথাগুলো বলে বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার ক্ষমতায় আসীন হয়েছিল সেই নিজের সঙ্গেই নিজেরা আবার প্রতারণা করছে। তিনি আরও বলেন, আমরা চাই যে, এ সরকার যে রক্তের উপরে দাঁড়িয়ে এসেছে, যে ত্যাগের বিনিময়ে এ সরকার গঠিত হয়েছে, তারা সেই ত্যাগের মূল্যায়ন করবে। অন্যথায় এই তরুণ সমাজ তাদের বিরুদ্ধে আবার দাঁড়িয়ে যাবে। আমরা বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে চাই। বাংলাদেশের প্রতিটা অর্গানসকে আগামী নতুন বাংলাদেশের জন্য কাজে লাগাতে চাই। উন্নত একটি বিশ্বে আমরা নিজেদেরকে যেন সেভাবে দেখতে পাই সে আশা রাখছি। সকলকে আজকে এই রানের অংশগ্রহণ করার জন্য ধন্যবাদ।

  • ঢাবির শহীদুল্লাহ হলে শিবির-ছাত্রদল মুখোমুখি অবস্থান

    ঢাবির শহীদুল্লাহ হলে শিবির-ছাত্রদল মুখোমুখি অবস্থান

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ( ঢাবি) ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হলে শিবির-ছাত্রদল মুখোমুখি অবস্থান করায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

    বোরবার ( ২ আগস্ট) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে এই ঘটনা হয়।

    বিস্তারিত আসছে….

  • নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের দফায় দফায় সংঘর্ষ

    নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের দফায় দফায় সংঘর্ষ

    জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাককানইবি) ছাত্রদলের ৬৮ সদস্যবিশিষ্ট নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার মাত্র ২০ দিনের মাথায় সংগঠনটির দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

    মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দিবাগত রাত ১টা থেকে বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুর ৩টা পর্যন্ত তিন দফা সংঘর্ষের ঘটনায় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

    জানা যায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে প্রথম দফায় দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনা ঘটে। পরে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা হলেও বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্নিবীণা হলের ডাইনিংয়ে দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এরপর দুপুরে উভয় পক্ষ আবারও মুখোমুখি হলে তৃতীয় দফায় সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুর রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

    ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাসেল রানা বলেন, ঘটনার সূত্রপাত সাব্বির ও আবু সাঈদ নামে দুই কর্মীর ব্যক্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে। বিষয়টি সমাধানের জন্য ছাত্রদলের সিনিয়র নেতারা সদস্য সচিব মামুন সরকারের উপস্থিতিতে আলোচনায় বসেন। আলোচনার একপর্যায়ে ছাত্রদলের কর্মী রিজওয়ানুল করিম রাব্বী বর্তমান কমিটির ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক ইসরাফিল হোসাইনের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনায় রূপ নেয়।

    জানা যায়, সাব্বির পূর্বে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। এছাড়া সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগে তিনি তিন বছরের জন্য বহিষ্কৃত আছেন। পরে তিনি ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন।

    এদিকে, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্নিবীণা হলের ডাইনিংয়ে দুপুরের খাবার খাওয়ার সময় রিজওয়ানুল করিম রাব্বীর ওপর আবু সাঈদসহ কয়েকজন হামলা চালান। ফুটেজে হামলাকারীদের হাতে লাঠি ও রড দেখা যায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।

    ছাত্রদলের সদস্য সচিব মামুন সরকার বলেন, ‘ঘটনাটি ইতোমধ্যে সমাধান হয়েছে। আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করেছি।’

    বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে যাই। পরে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়। এখন বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত আবু সাঈদ, সাব্বির ও রিজওয়ানুল করিম রাব্বীর সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

  • ছাত্রদলের শীর্ষ পদে দৌড়ে এক ডজন নেতা

    ছাত্রদলের শীর্ষ পদে দৌড়ে এক ডজন নেতা

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন নেতৃত্ব ঘোষণার প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায় ও ছাত্রদলের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে এক ডজনের বেশি নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে।

    বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন, নতুন কমিটি গঠনে আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা, রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং ক্লিন ইমেজকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এদিকে শীর্ষ পদপ্রত্যাশীরা শেষ মুহূর্তের সাংগঠনিক তৎপরতা ও লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন।

    ২০২৪ সালের ১ মার্চ মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে সভাপতি এবং নাছির উদ্দীন নাছিরকে সাধারণ সম্পাদক করে সাত সদস্যের আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। পরে একই বছরের ১৫ জুন ৩৯ জন সহ-সভাপতি ও ১১১ জন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকসহ মোট ২৬০ সদস্যের আংশিক পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।

    বর্তমান কমিটির অধীনে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ, বিভিন্ন পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা, মহানগর ও মেডিকেল কলেজসহ শতাধিক সাংগঠনিক ইউনিট পুনর্গঠন করা হয়। তবে ২০২৬ সালের ১ মার্চ কেন্দ্রীয় কমিটির নির্ধারিত দুই বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন নেতৃত্ব আনতে কাজ করছে বিএনপির হাইকমান্ড।

    বিএনপির এক সিনিয়র নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আগস্টে বিভিন্ন ইস্যু আছে, নয়তো নতুন কমিটি আগস্টেই হতো। তবে এই কমিটির কার্যক্রম আগস্টেই শেষ হচ্ছে। কমিটির তালিকা তারেক রহমানের টেবিলে। আশা করি সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে কমিটি হবে। বিষয়টি খুব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।’

    যাদের নাম আলোচনায়

    সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান, সহ-সভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল, মনজুরুল আলম রিয়াদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল, কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত, রাজু আহমেদ, মমিনুল ইসলাম জিসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস এবং সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন।

    এ ছাড়া শীর্ষ পদে আলোচনায় রয়েছেন আনোয়ার পারভেজ, মো. খোরশেদ আলম সোহেল, এইচ এম আবু জাফর, ইজাজুল কবির রুয়েল, মোস্তাফিজুর রহমান, শরীফ প্রধান শুভ, মাহমুদ ইসলাম কাজল, আজিজুল হক জিয়নসহ আরও অনেকে।

    বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহইয়া এর আগে সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। আন্দোলন-সংগ্রামে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকা ইয়াহইয়া ২০২২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের হামলায় আহত হন। ২০২৩ সালে বিএনপির অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে গ্রেফতার হয়ে কারাবরণ করেন। ২৮ অক্টোবর-পরবর্তী কর্মসূচিতে ঢাকা মহানগর উত্তর ও পশ্চিম অঞ্চলে ছাত্রদলের সমন্বয়কের দায়িত্বও পালন

    করেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় শাহবাগ, বাংলামোটর, সায়েন্সল্যাব, ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুর এলাকায় আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইতিবাচক ছাত্ররাজনীতি নিয়ে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেন।

    বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান এর আগে কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। ২৮ অক্টোবর-পরবর্তী আন্দোলনে গ্রেফতার হয়ে দুই মাস কারাগারে ছিলেন। ৫ আগস্টের পর রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংগঠনকে সুশৃঙ্খল করা এবং ইতিবাচক রাজনীতি নিয়ে কর্মসূচি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করেন।

    যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিতের বিরুদ্ধে ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় থাকার কারণে ৯টি মামলা রয়েছে। তিনি রিমান্ডে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং দুটি মামলায় সাজাভোগ করেছেন। কয়েকটি মামলা এখনও বিচারাধীন। ২০১৫ সালে অবরোধ চলাকালে একটি নির্মাণাধীন ভবন থেকে পুলিশ তাকে ফেলে দিলে প্রায় ১০ মাস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

    সহ-সভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল এর আগে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ১ নম্বর সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সহ-স্বাস্থ্য সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা রয়েছে এবং তিনি একবার গ্রেফতার হন। বর্তমানে তিনি সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজে এফসিপিএস অধ্যয়নরত।

    শীর্ষ পদে নিজের প্রত্যাশা সম্পর্কে তৌহিদুর রহমান আউয়াল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কমিটি গঠন একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। ছাত্রদলের যারা পদপ্রত্যাশী, তারা সকলেই যোগ্য। এর মধ্য থেকে আমাদের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমান যাদের নির্বাচন করবেন, আমরা সবাই তাঁকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবো। আমাদের মাঝে নেতৃত্বের সুস্থ প্রতিযোগিতা আছে। তবে কোনো অসুস্থ প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেই।’

  • ঢাবিতে প্রচলিত সান্ধ্য আইন নিয়ে ছাত্রীদের ক্ষো/ভ

    ঢাবিতে প্রচলিত সান্ধ্য আইন নিয়ে ছাত্রীদের ক্ষো/ভ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্রী হলগুলোতে রাতের নির্ধারিত সময়সীমা, প্রবেশে কড়াকড়ি এবং বিভিন্ন বিধিনিষেধকে কেন্দ্র করে প্রচলিত সান্ধ্য আইনের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। এসব নিয়মকে হয়রানিমূলক ও বৈষম্যমূলক দাবি করে অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। হলের ছাত্রীদের ন্যায্য প্রবেশাধিকার ও মৌলিক সুবিধাগুলো সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে সাত দিনের আলটিমেটাম দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের কাছে তারা একটি স্মারকলিপি দিয়েছেন।

    সোমবার উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলামের কার্যালয়ে ‘বৈষম্যহীন নারী হল চাই’ প্ল্যাটফর্মের ব্যানারে এই স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

    বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল সংসদের সংস্কৃতি সম্পাদক হুমায়রা উপন্যাস বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় ও অবস্থান ভিন্ন হলেও নারীর অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তার প্রশ্নে সবাই একমত হয়েছেন। এ লক্ষ্যেই গত রোববার রাতে ডাকসু ক্যাফেটেরিয়ায় বিভিন্ন হলের নারী প্রতিনিধিদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    স্মারকলিপিতে তিনটি প্রধান দাবি উত্থাপন করা হয়। প্রথমত, বৈধ বিশ্ববিদ্যালয় পরিচয়পত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে আবাসিক ও অনাবাসিক সব ছাত্রীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীহলে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, ছাত্রী হলের মূল ফটকের সময়সীমা বৃদ্ধি করতে হবে এবং বৈধ পরিচয়পত্র দেখিয়ে যেকোনো সময় লেট গেট দিয়ে হলে প্রবেশের সুযোগ দিতে হবে। পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে হল থেকে বের হওয়ার প্রক্রিয়াও হয়রানিমুক্ত করতে হবে। তৃতীয়ত, প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র জমা দেওয়ার শর্তে আবাসিক শিক্ষার্থীদের মা ও বোনদের হলের অভ্যন্তরে, এমনকি রুম পর্যন্ত যাওয়ার অনুমতি দিতে হবে।এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের জন্য নিরাপদ, মানবিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব আবাসিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রচলিত সান্ধ্য আইন শিথিল, হলে প্রবেশের সময়সীমা যৌক্তিকভাবে বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল সিকিউরিটি গেট স্থাপনের দাবি জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)।

  • বাঙলা কলেজের ছাত্র গুলিবিদ্ধ

    বাঙলা কলেজের ছাত্র গুলিবিদ্ধ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন মানিকদি এলাকায় দুর্বৃত্তের গুলিতে মো. করিম (১৮) নামে এক কলেজ ছাত্র আহত হয়েছেন। তিনি মিরপুর বাঙলা কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী।

    সোমবার (২৭ জুলাই) দিনগত রাত সোয়া ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

    তার বাবা রফিকুল ইসলাম জানান, তারা থাকেন মানিকদি আমতলাতেই। রাতে তিনিই ছেলে করিমকে দোকান থেকে মশার কয়েল কিনে আনতে পাঠিয়েছিলেন। এরপর করিম গলির দোকান থেকে কয়েল কিনে তুহিন নামে এক বন্ধুর সঙ্গে কিছুক্ষণ আড্ডা দিয়ে একাই বাসায় ফিরছিল। আমতলা ‘৩২ মালিকের বিল্ডিং’ নামে পরিচিত একটি বাড়ির সামনে দিয়ে সে আসার সময় অন্ধকার থেকেই এলোপাতাড়ি গুলি করা হয়।এতে করিমের দুই পায়ে দুটি গুলিবিদ্ধ হয়।

    পরে স্থানীয় লোকজন বাসায় খবর দিলে তাকে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতাল নিয়ে যাই। পরে সেখান থেকে ঢাকা মেডিক্যালে নেওয়া হয়। রাতেই চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচার করে তার ডান পা থেকে একটি গুলি বের করেন। বাম পায়ের গুলিটি ঘটনার সময়ই বেরিয়ে গেছে।

    তিনি আরও জানান, রাতেই চিকিৎসা শেষে চিকিৎসকরা করিমকে বাসায় পাঠিয়ে দিয়েছেন। এ ঘটনা কারা ঘটিয়েছে, সেটি তাদের জানা নেই। করিমের সঙ্গে এলাকার কারও কোনো দ্বন্দ্ব নেই।

    চিকিৎসকের বরাত দিয়ে ঢাকা মেডিক্যাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (ইন্সপেক্টর) মো. ফারুক জানান, ঘটনাটি ক্যান্টমেন্ট থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে। তারা বিষয়টি তদন্ত করছে।

  • চার দিন পর খুবিতে প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু, আন্দোলন অব্যাহত

    চার দিন পর খুবিতে প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু, আন্দোলন অব্যাহত

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দীর্ঘ চার দিনের অচলাবস্থার পর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) প্রশাসনিক কার্যক্রম আবার শুরু হয়েছে। তবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তিন দফা দাবি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ক্লাশ ও পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনের তালা খুলে দেওয়ায় রোববার (২৬ জুলাই) থেকে দাপ্তরিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়েছে।

    শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার পর আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনের তালা খুলে দেন। রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চলমান তদন্ত ও জরুরি প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখার স্বার্থে শিক্ষার্থীরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

    অন্যদিকে, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রশাসনিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করা তাদের উদ্দেশ্য নয়। তবে যৌন হয়রানি এবং বিজয়-২৪ হলের ছাত্রীদের গোপনে ভিডিও ধারণের ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের আগে কোনো শিক্ষার্থী ক্লাশ বা পরীক্ষায় অংশ নেবেন না।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সালাউদ্দীন জানান, ২২ জুলাই রাতে বিজয়-২৪ হলে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীরা প্রধান ফটকসহ প্রশাসনিক ও অ্যাকাডেমিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো নিয়ে প্রশাসন বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা শুরু করে এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

    এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ডিসিপ্লিনে বিভাগীয় প্রধানরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন। এসব সভায় যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবির প্রতি শিক্ষকরা সমর্থন জানান।

    পরে বিকাল সাড়ে ৪টায় উপাচার্যের সভাপতিত্বে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপ-উপাচার্য, ট্রেজারার, বিভিন্ন স্কুলের ডিন, ডিসিপ্লিন প্রধান, ছাত্রবিষয়ক পরিচালক, প্রভোস্টসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করা হয়।

    পরবর্তীতে ওই আলোচনার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনের তালা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের দ্রুত ক্লাশে ফেরার আহ্বান জানিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবিগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাসও পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

    উল্লেখ্য, দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এবং বিজয়-২৪ হলের ক্যান্টিনকর্মীর বিরুদ্ধে ছাত্রীদের গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগের বিচার দাবিতে শিক্ষার্থীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাশ-পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বর্জনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় প্রত্যাশিত অগ্রগতি না হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।

    শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে রয়েছে—ভিডিও ধারণের অভিযোগে অভিযুক্ত ক্যান্টিনকর্মী ইমাম হাসানের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট হল প্রভোস্ট বডিকে জবাবদিহির আওতায় আনা, যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত বাংলা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক রুবেল আনছার এবং অ্যাগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক রেজাউল ইসলামকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা এবং ‘স্পন্দন-২৪’ ক্লাবের নিবন্ধন বাতিল করা

  • শিক্ষার্থীদের কাছে চাকরি না খাওয়ার অনুরোধ, বদলি হওয়া শিক্ষকের

    শিক্ষার্থীদের কাছে চাকরি না খাওয়ার অনুরোধ, বদলি হওয়া শিক্ষকের

    শিক্ষা ডেস্ক:

    কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজে জলাবদ্ধ পরিবেশে অব্যবস্থাপনার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনায় পরীক্ষা কমিটিতে সম্পৃক্ত সাত শিক্ষককে স্ট্যান্ড রিলিজ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন কলেজটির শিক্ষার্থীরা।

    পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় কলেজ ক্যাম্পাসে মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা সাত শিক্ষকের বদলির আদেশ বাতিলের দাবি জানিয়ে মানববন্ধন করেন। মানববন্ধনে ‘সাত শিক্ষক একসঙ্গে বদলি কেন, জবাব চাই’ এবং ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্লোগান দেন।

    একপর্যায়ে আন্দোলন থেকে বিরত রাখতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ব্যানার নিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন বদলি হওয়া ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মহসীন। তাকে বরগুনা সরকারি কলেজে বদলি করা হয়েছে। পরে শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

    এ সময় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মোহাম্মদ মহসীন বলেন, ‘আমার চাকরি খাইও না। তোমাদের কাছে আমি মাফ চাই। তোমরা আমাদের কোনো ক্ষতি কইরো না।’

    মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী তানহা ও শান্তা বলেন, এই কর্মসূচি সম্পূর্ণ তাদের নিজস্ব উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছে। কোনো শিক্ষক তাদের আন্দোলনে উৎসাহ দেননি। তারা বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষকদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। সব স্যার সরকারি চাকরিজীবী, বদলি হতেই পারেন। তবে বৃষ্টির পানিকে ইস্যু করে একসঙ্গে সাতজন শিক্ষককে বদলি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

    কলেজের নতুন অধ্যক্ষ মোসাম্মৎ আমেনা বেগম সমকালকে বলেন, কিছু শিক্ষার্থী ব্যানার-প্ল্যাকার্ড নিয়ে ক্যাম্পাসে এসে সাত শিক্ষকের বদলি বাতিলের দাবি জানায়। তারা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করেছে। শিক্ষকরা তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। বিষয়টি যেহেতু সরকারি সিদ্ধান্ত, তাই তাদের বোঝানো হয়েছে। পরে শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি শেষ করে চলে যায়।

    কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজে জলাবদ্ধ পরিবেশে চরম অব্যবস্থাপনার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে সমালোচনার পর পরীক্ষাকমিটিতে সম্পৃক্ত সাত শিক্ষককে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়। তাদের নতুন কর্মস্থল নির্ধারণ করা হয়েছে কক্সবাজার, নোয়াখালী, সিলেট, বরগুনাসহ বিভিন্ন জেলায়।

    গত বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজ-২ শাখার উপসচিব মো. আ. কুদ্দুস স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। চিঠিতে বলা হয়, আগামী ২৯ জুলাইয়ের মধ্যে সাত শিক্ষককে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হতে হবে। অন্যথায় একই দিন অপরাহ্ন থেকে তাদের তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত হিসেবে গণ্য করা হবে।

    বদলি হওয়া শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ এ কে এম জহিরুল আলম (চিওড়া সরকারি কলেজ, কুমিল্লা), গণিত বিভাগের অধ্যাপক মো. আবদুল মালেক (কক্সবাজার সরকারি কলেজ), উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কনক বড়ুয়া (হাতিয়া দ্বীপ সরকারি কলেজ, নোয়াখালী), ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ উল্লাহ মজুমদার (লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ), রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নূর মোহাম্মদ নূর উল্লাহ (নবীনগর সরকারি কলেজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া), হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. আল-আমিন (বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজ, সিলেট) এবং ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মহসীন (বরগুনা সরকারি কলেজ)।

  • ছাত্র ইউনিয়ন থেকে পদত্যাগ করলেন মেঘমল্লার বসু

    ছাত্র ইউনিয়ন থেকে পদত্যাগ করলেন মেঘমল্লার বসু

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষা ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক মেঘমল্লার বসু সংগঠন থেকে পদত্যাগ করেছেন।

    একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি মাঈন আহমেদও পদত্যাগ করেছেন।শনিবার সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শিমুল কুম্ভকার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মেঘমল্লার বসু ও মাঈন আহমেদের দাখিল করা পদত্যাগপত্র কেন্দ্রীয় সংসদে গৃহীত হয়েছে। বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ায় একই সঙ্গে দুটি রাজনৈতিক সংগঠনের দায়িত্ব পালন করলে সাংগঠনিক মতদ্বৈধতা বা স্বার্থের দ্বন্দ্ব (কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট) সৃষ্টি হতে পারে। এ বিবেচনায় তারা স্বেচ্ছায় পদত্যাগপত্র জমা দেন।

    এতে আরও বলা হয়, তাদের পদত্যাগের কারণ ও রাজনৈতিক অবস্থান পর্যালোচনা করে কেন্দ্রীয় কমিটি পদত্যাগপত্র গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই প্রেক্ষাপট ও সাংগঠনিক বাস্তবতার কারণে কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি নাজিফা জান্নাতকেও ছাত্র ইউনিয়নের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্র ইউনিয়ন জানায়, সংগঠনের আদর্শ ও সাংগঠনিক স্বচ্ছতা রক্ষার স্বার্থেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে একাধিক রাজনৈতিক সংগঠনের নীতিনির্ধারণী দায়িত্ব পালন ছাত্র ইউনিয়নের সাংগঠনিক কাঠামো ও নীতির পরিপন্থি।বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ছাত্র ইউনিয়ন বিদায়ী নেতাদের দায়িত্ব পালনকালীন অবদানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে এবং তাদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনের সফলতা কামনা করছে। পাশাপাশি সংগঠনটি শিক্ষার অধিকার, অসাম্প্রদায়িকতা, গণতন্ত্র, সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংগ্রাম এবং বৈষম্যহীন সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আগের মতোই দৃঢ় প্রত্যয়ে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।