ক্যাম্পাস

  • দুই নারী শহীদের উপাখ্যান

    দুই নারী শহীদের উপাখ্যান

    ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে গৌরবময় ও স্বতঃস্ফূর্ত গণবিপ্লব। এটি রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে গ্রামীণ জনপদ পর্যন্ত দেশের সর্বস্তরের, সব ধর্মের মানুষকে এক কাতারে দাঁড় করিয়েছিল স্বৈরশাসক হাসিনার পতনের দাবিতে। আর সর্বস্তরের মানুষের জেগে ওঠার এই লড়াইয়ে নারীদের বলিষ্ঠ অংশগ্রহণ ছিল অনস্বীকার্য। তাদের অকুতোভয় অংশগ্রহণ আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। জুলাই বিপ্লবে নারীদের অবদান ছিল বহুমাত্রিক। শুরু থেকেই তারা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন, নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং আন্দোলনে সহযোদ্ধা ভাইদের আড়াল করে রাখাসহ নানা কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আন্দোলনকে বেগবান করতে সহায়তা করেছেন। স্বৈরাচারীর ‘দেখামাত্র গুলি’ নীতি এতটাই নির্মম ছিল যে, তা যেমন রাজপথের লড়াকু তরুণীদের স্তব্ধ করে দিতে চেয়েছিল, তেমনি ঘরের নিরাপদ বারান্দা কিংবা ছাদে অবস্থানরত নিষ্পাপ শিশু ও

    মা-বোনদেরও প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। ২৪-এর ডিসেম্বর মাসে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে আমরা ১০ জন নারী শহীদের পরিচয় জানতে পারি। তারা হলেন— মায়া ইসলাম (৬০), শাহিনুর বেগম (৫৫), নাছিমা আক্তার (২৪), মেহেরুন নেছা (২২), লিজা আক্তার (২১), সুমাইয়া আক্তার (২০), নাঈমা সুলতানা (১৯), নাফিসা হোসেন মারওয়া (১৭), রিতা আক্তার (১৭) ও রিয়া গোপ (৬)। তাদের মধ্য থেকেআজ আমরা দুজন নারী শহীদের বীরত্বগাথা ও অবিস্মরণীয় অবদান তুলে ধরার চেষ্টা করছি।

    নাঈমা সুলতানা

    জুলাইয়ের প্রথম নারী শহীদ ১৬ বছর বয়সি নাঈমা সুলতানা। সে ছিল মাইলস্টোন স্কুলের বিজ্ঞান বিভাগের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। নাঈমাদের পরিবার উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরের একটি বাসায় ভাড়া থাকত। বাবা ছিলেন একজন পল্লী চিকিৎসক। তিনি গ্রামের বাড়ি ও ঢাকার মধ্যে যাতায়াত করতেন। শুধু নাঈমার পড়াশোনার জন্যই মা সন্তানদের নিয়ে ঢাকায় থাকতেন।

    নাঈমার অবসর কাটত আঁকাআঁকি করে। কোটা সংস্কার আন্দোলনের শুরুতে সে বাসায় বসে খাতায় নানা স্লোগানসংবলিত প্রতিবাদী ছবি এঁকে সময় কাটিয়েছে। মারা যাওয়ার আগের দিন, ১৮ জুলাই ২০২৪, উত্তরায় পুলিশের গুলিতে প্রায় ৩০ জন ছাত্র-জনতা নিহত হন। ওইদিন রাতে নাঈমা আন্দোলনের পোস্টার আঁকছিল এবং মায়ের সঙ্গে গল্প করছিল। একপর্যায়ে সে মাকে বলল, ‘আম্মু, ধরো আমি যদি আন্দোলনে গিয়ে মারা যাই, তুমি মানুষকে কী বলবা?’ মাকে জবাব দেওয়ার সুযোগ না দিয়ে আবার নিজেই বলে উঠল, ‘বলবা যে শহীদ হয়েছে। আমার মেয়ে শহীদ হয়েছে।’

    ১৯ জুলাই ২০২৪, শুক্রবার। তাদের বাসা থেকে একটু দূরে উত্তরা আধুনিক মেডিকেলের সামনে ছাত্র-জনতার সঙ্গে পুলিশ এবং তাদের সহযোগী ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ বাধে। একপর্যায়ে অস্ত্রধারী ছাত্রলীগ নেতাকর্মী ও কিছু পুলিশ আশপাশের গলিতে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে। আনুমানিক বিকাল ৪টার দিকে নাঈমা তার রুমে বসে ‘বয়কট ছাত্রলীগ’, ‘কোটা সংস্কার চাই’সহ নানা স্লোগানসংবলিত প্রতিবাদী পোস্টার রঙিন কালিতে আঁকছিল। একটু পর বাসার সামনে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনে সে দৌড়ে বারান্দায় আসে। তার বাসার নিচে তখন আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে পুলিশ গুলি ছুড়ছিল। সে হাতে থাকা মোবাইলে ভিডিও অন করে নিচের দিকে তাক করতেই তাকে লক্ষ্য করে পুলিশ গুলি ছোড়ে। গুলির আঘাতে মুহূর্তেই মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে নাঈমা।

    নাঈমার মাথার এক পাশ দিয়ে গুলি ঢুকে অন্য পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। মেঝেতে তার মস্তিষ্কের অংশ ছিটকে পড়ে। গুলি লাগার সঙ্গে সঙ্গে ‘মা’ বলে চিৎকার করে ওঠে নাঈমা। পেছনের রুমে থাকা মা ও বড় বোন তার চিৎকার শুনে দৌড়ে বারান্দায় এসে দেখেন, নাঈমা মেঝেতে লুটিয়ে পড়েছে। মাথা থেকে রক্ত ঝরছে। সারা বারান্দায় ছড়িয়ে গেছে তার রক্ত। মেয়ের এ অবস্থা দেখে মা জ্ঞান হারান। বোনের কান্নার আওয়াজে আশপাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা ও নিচে থাকা ছাত্ররা এসে নাঈমাকে ধরে উত্তরা আধুনিক মেডিকেলে নিয়ে যান। কিন্তু তার আগেই পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নেয় নাঈমা।

    সেদিন রাতেই নাঈমার মরদেহ নেওয়া হয় চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার আমুয়াকান্দা গ্রামে, তাদের গ্রামের বাড়িতে। পথে পুলিশের নানা হয়রানির শিকার হতে হয় পরিবারকে। মরদেহ কোথা থেকে এসেছে, কীভাবে মৃত্যু হয়েছে, কোথায় নেওয়া হচ্ছে—এমন নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় তাদের। পরদিন সকাল সাড়ে ৯টায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় নাঈমাকে। মাইলস্টোনের মেধাবী ছাত্রী নাঈমা পড়ালেখায় খুব ভালো ছিল। প্রতিদিন তার ডায়েরি লেখার অভ্যাস ছিল। বড় বোন প্রতিবছর জন্মদিনে কীভাবে তাকে সারপ্রাইজ দেন এ কথাও পাওয়া যায় নাঈমার ডায়েরিতে। বেঁচে থাকলে সে এ বছর ২৫-এ জুলাই ১৭ বছরে পা রাখত। জুলাইয়েই মায়ের কোলজুড়ে পৃথিবীতে এসেছিল নাঈমা, সেই জুলাইয়েই তাকে হারালো। প্রতিবছর জুলাই এলে তার পরিবারের দুঃসহ যন্ত্রণা আরো বেড়ে যায়।

    রিতা আক্তার

    রিতা আক্তার, বয়স মাত্র ১৭ বছর। স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হয়ে দরিদ্র বাবা-মায়ের অভাব-অনটন ঘোচাবে। কিন্তু স্বপ্নপূরণের আগেই তাকে পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে হলো। জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার পুনট ইউনিয়নের তালখুর গ্রামে রিতাদের বাড়ি। বাবা আশরাফ আলী একজন রিকশাচালক, মা রেহেনা বিবি গৃহিণী। তিন ভাই-বোনের মধ্যে রিতা ছিল মেজো। বড় ভাই খুব বেশি পড়াশোনা করেননি; তিনি দিনমজুরের কাজ করেন। ছোট ভাই মাত্র প্রাথমিকের গণ্ডি পেরিয়েছে। পড়াশোনায় ভালো হওয়ায় রিতাই ছিল পরিবারের একমাত্র আশা-ভরসা।

    অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় বাবা-মা অদম্য রিতাকে বাল্যবিয়ে দিতে চাইলে সে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়, সে বিয়ে করতে চায় না। বড় হয়ে ডাক্তার হতে চায়। বাবা-মাকে উপার্জন করে খাওয়াতে চায়। পরিবারের হাল ধরতে চায়। তাই মেয়েকে ভালোভাবে পড়াশোনার সুযোগ করে দিতে বাবা-মা সাধ্যমতো সব চেষ্টা করেছেন। মা রেহেনা বাসাবাড়িতে কাজ করে যে আয় করতেন, সেই টাকা দিয়েই মেয়ের পড়ালেখার খরচ চালাতেন।

    গ্রামের মাদরাসা থেকে দাখিল পাস করার পর উচ্চমাধ্যমিকে শহুরে প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা করানোর জন্য বাবা সপরিবারে ঢাকায় আসেন। মিরপুর দুয়ারীপাড়া সরকারি কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি করান মেয়েকে। মেয়ের পড়ালেখার সুবিধার জন্য কলেজের পাশেই মিরপুর-২ এইচ ব্লকে কম ভাড়ায় একটা ছোট্ট বাসা ভাড়া নেন। বাবা মিরপুর এলাকায় রিকশা চালাতেন। আর মা বাসাবাড়িতে কাজ করতেন।

    ৫ আগস্ট সকালে বাবা-মা তাদের কাজে বের হন। এ সুযোগে রিতা বেলা ১১টার দিকে বাসা থেকে বের হয়ে ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিতে যোগ দিতে যায়। দুপুরে মা ঘরে ফিরে দেখেন, মেয়ে নেই। তিনি খুঁজতে বের হন। আশপাশে অনেক খোঁজাখুঁজির পরও মেয়েকে কোথাও পাননি। সন্ধ্যা পর্যন্ত মেয়ের কোনো খোঁজ না পেয়ে বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের মর্গে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

    এক মেডিকেল থেকে আরেক মেডিকেলে দৌড়াদৌড়ি করে রাত ১০টার পর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে মেয়ের মরদেহ খুঁজে পান তারা। গায়ের জামাকাপড় দেখে মেয়েকে শনাক্ত করেন। আহত রিতাকে মেডিকেলে নিয়ে আসা ব্যক্তিদের কাছ থেকে পরিবার জানতে পারে, তার মাথার এক পাশ দিয়ে গুলি ঢুকে অন্য পাশ দিয়ে বের হয়ে গিয়েছিল। তাকে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলে নিয়ে আসার পর তাৎক্ষণিক চিকিৎসা মেলেনি; চিকিৎসা দিতে বিলম্ব হয়। চিকিৎসকরা যখন রিতার চিকিৎসা শুরু করেন, ততক্ষণে সে আর বেঁচে ছিল না। পরদিন মেয়ের মরদেহ নিয়ে বাবা-মা গ্রামের বাড়িতে চলে যান। গ্রামের কবরস্থানে রিতাকে দাফন করা হয়।

    ছোটবেলা থেকেই পড়ালেখার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমেও সক্রিয় ছিল রিতা। ইসলামি গান, হামদ ও নাতে রাসুলবিষয়ক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে কয়েকবার প্রথম হয়েছে সে। শিক্ষকদেরও স্বপ্ন ছিল, রিতা একদিন অনেক বড় হবে। মেধাবী এই ছাত্রী আদর্শ সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। কিন্তু অকালেই ঝরে গেল আরেকটি ফুল।

  • ১৩ জুলাই অনুপস্থিত শিক্ষার্থীরাই  পরীক্ষা দিতে পারবেন: শিক্ষামন্ত্রী

    ১৩ জুলাই অনুপস্থিত শিক্ষার্থীরাই পরীক্ষা দিতে পারবেন: শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষা ডেস্ক:

    গত ১৩ জুলাইয়ের পরীক্ষাগুলো আবার নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, গত ১৩ জুলাই যারা পদার্থবিজ্ঞান-হিসাববিজ্ঞান-যুক্তিবিদ্যা বিষয়ে পরীক্ষা দিতে পারেননি, তারা নিবন্ধন করে পরীক্ষা দিতে পারবেন

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ১৩ জুলাই অনুপস্থিত শিক্ষার্থীরাই শুধু এ পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।

    যাদের পরীক্ষা খারাপ হয়েছে, তারা সুযোগ পাবেন কি না—এমন প্রশ্নে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘না। এটা তো সম্ভব না। যারা দিয়েছে, তাদের আর পরীক্ষা দিতে হবে না। প্রশ্নে ভুল ছিল, সেটাতে আমরা সবাইকে নম্বর দিয়ে দিচ্ছি তো। এরপর আর কোনো কথা নেই।’

    গত ১৩ জুলাই দেশের ৫৯ জেলায় (চট্টগ্রামের ৫ জেলা বাদে) এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা নেওয়া হয়। ভারি বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যে ওই দিন পরীক্ষা নেওয়ায় তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়।

    এ নিয়ে ১৪ জুলাই সারা দেশে আন্দোলনে নামেন পরীক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত তিনটি বিষয়ের পরীক্ষা পুনরায় নেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী।

  • হল ফি কমানোর দাবিতে তিতুমীর কলেজ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

    হল ফি কমানোর দাবিতে তিতুমীর কলেজ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    হল ফি কমানোর দাবিতে রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছেন। সোমবার (২০ জুলাই) রাতে কলেজের হল গেটের সামনে জড়ো হয়ে তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং ফি পুনর্নির্ধারণের দাবি জানান।

    শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধিভুক্ত অন্যান্য কলেজে হল ফি ৬ হাজার টাকা হলেও তিতুমীর কলেজে তা ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অতিরিক্ত ফি পরিশোধ করতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থী আর্থিক সংকটে পড়ছেন বলেও তারা দাবি করেন।

    আন্দোলনকারীরা জানান, কয়েকদিনের আন্দোলনের পর কলেজ প্রশাসন ফি কমানোর আশ্বাস দিলেও নতুন প্রজ্ঞাপনে মাত্র ২০০ টাকা কমানো হয়েছে। তাদের ভাষায়, এটি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ‘প্রহসন’ ও ‘প্রতারণা’র শামিল।বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক শিক্ষার্থী গণমাধ্যমে বলেন, হল ফি কমানোর জন্য আমরা স্মারকলিপি দিয়েছে। কিন্তু প্রশাসন আমাদের দুইজন ছাত্রনেতাকে ডেকে সমাধান করতে চেয়েছে। তিতুমীর কলেজের হাজার হাজার শিক্ষার্থীর সিদ্ধান্ত দুই জন ছাত্রনেতা নিতে পারে না। তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা নেবে।

    তিনি আরও বলেন, প্রশাসন প্রথমে হল ফি ৭ হাজার টাকা করার আশ্বাস দিলেও পরে ৮ হাজার টাকা থেকে মাত্র ২০০ টাকা কমিয়ে ৭ হাজার ৮০০ টাকা নির্ধারণ করেছে। এটা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা-উপহাস বলে আমরা মনে করি।

    শিক্ষার্থীরা হল ফি ৬ হাজার টাকায় পুনর্নির্ধারণ, সব ধরনের ফি যৌক্তিক পর্যায়ে আনা এবং কলেজের অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবি জানান। একই সঙ্গে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন আরও জোরদার করার ঘোষণা দেন তারা।

  • প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার না করার নির্দেশ

    প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার না করার নির্দেশ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকারি কোনো অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি ব্যবহারে নিষেধ করা হয়েছে। এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা চিঠি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।

    রোববার কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিটি সব কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানকে পাঠানো হয়।বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের ১৫ জুলাইয়ের চিঠি অনুযায়ী এ নির্দেশনা দেয়া হয়। সরকারি কোনো অনুষ্ঠান উপলক্ষে প্রস্তুতকৃত ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি (থ্রিডি বা অন্য কোনো আঙ্গিকে) ব্যবহার সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারিকৃত পরিপত্রের বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেয়া হলো।

  • ২০ জুলাই এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হচ্ছেনা

    ২০ জুলাই এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হচ্ছেনা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    আগামী ২০ জুলাইকে লক্ষ্য ধরে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের জোর প্রস্তুতি চালাচ্ছে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড। তবে ফল প্রকাশের সুনির্দিষ্ট ও চূড়ান্ত তারিখ এখনও ঘোষণা করা হয়নি।

    বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান গণমাধ্যমকে জানান, সরকারের নির্দেশনা ও নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী ফল প্রকাশের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। বর্তমানে ফল প্রস্তুতের মূল কার্যক্রম বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।

    আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, ফলাফল তৈরির কাজ এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ২০ জুলাইয়ের মধ্যে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তারা দিনরাত কাজ করছেন।

    সাধারণত লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করার রেওয়াজ রয়েছে। সেই নিয়ম অনুযায়ী এ বছর ২১ এপ্রিল পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২০ মে। অন্যদিকে, মাদ্রাসা (দাখিল) ও কারিগরি (এসএসসি ভোকেশনাল) বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২৪ মে।

    এ বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিতে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করে। এর মধ্যে সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডে এসএসসিতে ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন, মাদরাসা বোর্ডে দাখিলে ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন ও কারিগরি বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন।

  • ঢাবিতে অপরাজনীতি ফিরতে দেওয়া হবে না: সাদিক কায়েম

    ঢাবিতে অপরাজনীতি ফিরতে দেওয়া হবে না: সাদিক কায়েম

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে আর কখনো অপরাজনীতি ফিরতে দেওয়া হবে না বলে দৃঢ় হুঁশিয়ারি ব্যক্ত করেছেন ঢাবি ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম।

    শুক্রবার (১৭ জুলাই) ‘সন্ত্রাস প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ‘লীগ ধর’ ম্যারাথন কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। কর্মসূচি শেষে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    ২০২৪ সালের এই বিশেষ দিনে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও প্রতিটি আবাসিক হল চরমপন্থী ছাত্রলীগমুক্ত হওয়ার ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণ করেই সংগঠনটির পক্ষ থেকে এই বিশেষ আয়োজন করা হয়।

    ম্যারাথন শেষে ঢাবি ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাদিক কায়েম গণমাধ্যমের সামনে আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ও ভবিষ্যৎ বার্তা তুলে ধরে বলেন, আমরা স্পষ্ট বার্তা দিতে চাই এই ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের যে ফ্যাসিবাদী রাজনীতি, ক্ষমতার অন্যায় দাপট এবং গণরুম-গেস্টরুমের নামে সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাসের মতো ব্যবহার করে নির্মম নির্যাতন চালানোর অন্ধকার অপরাজনীতি ছিল, তা আর কখনো এখানে ফিরে আসতে দেওয়া হবে না।

    তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের মাঝে একটি মজবুত সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং সর্বস্তরের মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যেই আমাদের এই ‘লীগ ধর’ ম্যারাথনের আয়োজন।

    বর্তমান সময়ের ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় নেতাকর্মীদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ক্যাম্পাসগুলোতে কেউ যেন আর কখনো পেশিশক্তির নোংরা রাজনীতিতে লিপ্ত না হয়। সবাই যেন জ্ঞান, আদর্শ ও সুস্থ ধারার ইতিবাচক ছাত্ররাজনীতি বিনির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।

    এদিকে ম্যারাথনের পাশাপাশি পুরো জুলাই মাসজুড়ে ঘোষিত ‘৩৬ দিনের কর্মসূচি’র অংশ হিসেবে আজ থেকে ঢাবিতে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ‘রক্তাক্ত জুলাই’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

    এই বিশেষ প্রদর্শনীতে জুলাই বিপ্লবের বীর শহীদদের আত্মত্যাগ, বিপ্লবের মূল আকাঙ্ক্ষা, আন্দোলনে নারীদের অনবদ্য সাহসী ভূমিকা এবং আলেম-ওলামাদের ঐতিহাসিক অবদানের নানা চিত্র তুলে ধরা হবে।

  • ভুয়া পরিচয়ে আন্দোলন, থানায় অভিযোগ

    ভুয়া পরিচয়ে আন্দোলন, থানায় অভিযোগ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    মাইলস্টোনের কলেজের পরিচয়পত্র ব্যবহার করে এইচএসসি পরীক্ষা ও প্রশ্নপত্র-সংক্রান্ত আন্দোলনে সরকার বিরোধী উস্কানীমূলক বক্তব্য দেয়া এক ছাত্রীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। সেই ছাত্রী আগেই মাইলস্টোন কলেজ থেকে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট নিয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাজধানীর তুরাগ থানায় এ বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি করার জন্য আবেদন করা হয়েছে।

    জানা যায়, অভিযুক্তের নাম রুবাইয়া মেহজাবিন সুহি। তিনি মাইলস্টোন কলেজের কলেজ কোড নং-৮০৭৪, বিজ্ঞান বিভাগ (ইংরেজি মাধ্যম)-এর ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের একজন ছাত্রী ছিলেন। শৃঙ্খলাজনিত কারণে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অনুমতিক্রমে তাকে মাইলস্টোন কলেজ থেকে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টি.সি.) দেয়া হয়। ফলে সে এখন আর মাইলস্টোন কলেজের শিক্ষার্থী নয় এবং প্রতিষ্ঠানের কোনো পরিচয় ব্যবহারের অধিকারও তার নেই। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত একটি ভিডিয়োতে দেখা যায় যে, ওই ছাত্রী মাইলস্টোন কলেজের পরিচয়পত্র ব্যবহার করে এইচএসসি পরীক্ষা ও প্রশ্নপত্র-সংক্রান্ত আন্দোলনে সরকার বিরোধী উস্কানীমূলক জোরালো বক্তব্য দিয়েছে। সে মাইলস্টোন কলেজের শিক্ষার্থী না থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানের পরিচয় ব্যবহার করছেন, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে এবং প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করছে।

    মাইলস্টোন কলেজের সিকিউরিটি অফিসার মুহাম্মদ জহুরুল ইসলাম কলেজ কর্তৃপক্ষের পক্ষ হয়ে এ বিষয়টি সাধারণ ডায়েরিভুক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অনুরোধ জানান।

  • সচিবালয়ে প্রবেশের চেষ্টা শিক্ষার্থীদের, পুলিশের বাধা

    সচিবালয়ে প্রবেশের চেষ্টা শিক্ষার্থীদের, পুলিশের বাধা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের সচিবালয়ে প্রবেশের চেষ্টা পণ্ড করে দিয়েছে পুলিশ।

    বুধবার বিকেলে রাজধানীর সায়েন্সল্যাব মোড়ের অবস্থান ছেড়ে সচিবালয়ে এসে পৌঁছায় শিক্ষার্থীরা।

    এ সময় তারা সচিবালয়ে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের বাধা দেয়। এরপর তারা সেখানেই অবস্থান নেয়। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুরো এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে জলকামান।

    এদিকে একই দাবিতে রাজধানী উত্তরায় আবারও সড়ক অবরোধ করেছেন এইচএসসি শিক্ষার্থীরা। আজ বুধবার দুপুর দেড়টার পর ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করে। রাজধানী ছাড়াও বিভিন্ন জেলাতেও একই দাবিতে বিক্ষোভ করছে শিক্ষার্থীরা।এর আগে গত মঙ্গলবার সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। পরে মঙ্গলবার রাতের মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের আল্টিমেটাম দিয়ে ‘মার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয়’ কর্মসূচি ঘোষণা করে সড়ক ছাড়ে তারা। এরপর আজ আবারও বিকেলে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করে। একই দাবিতে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকাতেও অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা।

    এদিকে একই দাবিতে গত মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাস এলাকায় বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থানে চলে যান তারা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসে বিজিবি মোতায়েন করা হয়।পরে সন্ধ্যায় সংসদ অধিবেশনে শিক্ষার্থীদের নিয়ে করা মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন।

    বিগত বেশ কয়েক দিনের বৃষ্টিতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যা ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এ পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চট্টগ্রাম বোর্ডের সব পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে অন্য বোর্ডগুলোর পরীক্ষা যথারীতি চলছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে শিক্ষার্থীরা চলমান এইচএসসি পরীক্ষা কিছুদিন পেছানোর অনুরোধ জানিয়েছিল।

    এর মধ্যে গত সোমবার প্রবল বর্ষণে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে পরীক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। মূলত এরপরই শিক্ষামন্ত্রীর সমালোচনা শুরু হয়।

  • শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৬ দফা দাবিতে সচিবালয় অভিমুখে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা

    শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৬ দফা দাবিতে সচিবালয় অভিমুখে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    চলমান দুর্যোগ, টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগসহ ছয় দফা দাবিতে সচিবালয় অভিমুখে যাত্রা করেছেন উচ্চমাধ্যমিকের পরীক্ষার্থীরা।

    বুধবার বিকেল ৩টার দিকে রাজধানীতে বিভিন্ন স্থান থেকে শিক্ষার্থীরা সচিবালয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হন। এর আগে বেলা ১১টার দিকে তারা রাজধানীর সায়েন্সল্যাব মোড় অবরোধ করলে আশপাশের সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ যাত্রী ও পথচারীরা ভোগান্তিতে পড়েন।

    কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা ‘ তুমি কে, আমি কে, ফার্মের মুরগি,’ ‘দফা এক, দাবি এক মিলনের পদত্যাগ’, ‘আমাদের ন্যায্য দাবি মানতে হবে, মানতে হবে’, ‘জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জ্বালো’ এবং ‘অ্যাকশন, অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

    আন্দোলনরত পরীক্ষার্থীরা বলেন, চলমান দুর্যোগ, জলাবদ্ধতা ও সার্বিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তে অনেক শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেকেই নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেনি, আবার অনেক শিক্ষার্থী মানসিক চাপের মধ্যেও পরীক্ষায় অংশ নিতে বাধ্য হয়েছে। তাই ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় পুনঃপরীক্ষার সুযোগ, প্রশ্নে ভুল থাকলে পূর্ণ নম্বর প্রদান এবং মূল্যায়নে বিশেষ বিবেচনার দাবি জানান তারা।

    তারা আরো বলেন, এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যর্থতার দায় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ করতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত ছয় দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়নেরও আহ্বান জানান। আর দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।

    শিক্ষার্থীদের ঘোষিত ছয় দফা দাবিগুলো হলো

    ১. দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠিত পরীক্ষাগুলো পুনরায় দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। ২. একই বিষয়ে পুনঃপরীক্ষা হলে পূর্বের পরীক্ষা ও পুনঃপরীক্ষার মধ্যে যে পরীক্ষায় বেশি নম্বর পাওয়া যাবে, সেটিই চূড়ান্ত ফল হিসেবে গণ্য করতে হবে। ৩. প্রশ্নপত্রে ভুল বা অসংগতি থাকা প্রশ্নের পূর্ণ নম্বর সব পরীক্ষার্থীকে দিতে হবে। ৪. বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে প্রস্তুতির জন্য কিছুদিন বিরতি দিয়ে পরে পরীক্ষা শুরু করতে হবে। ৫. হঠাৎ প্রশ্নপত্রের ধরন পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নম্বরায়ন করতে হবে। ৬. পরীক্ষাকেন্দ্রে শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে এবং অপ্রয়োজনীয় কঠোর আচরণ থেকে বিরত থাকতে হবে।

  • এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর

    এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, যেসব শিক্ষার্থী বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি তারা চট্টগ্রাম বোর্ডের স্থগিত হওয়া সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয় নির্ধারিত একই তারিখে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন। এছাড়া পদার্থ বিজ্ঞান প্রথমপত্রে যে দুটি প্রশ্ন ভুল ছিল সেগুলোতে পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে।

    বুধবার জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়ার এক বিবৃতিতে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা জানান।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সারা দেশে ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছেন। সম্প্রতি ভারী বর্ষণ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনস্থ পাঁচটি জেলা তথা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানে অনুষ্ঠিত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের বাইরেও ঢাকাসহ দেশের কিছু কিছু জেলায় বিচ্ছিন্নভাবে কিছু পরীক্ষার্থী বৈরী আবহাওয়া ও বহুবিধ কারণে নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রতিকূল আবহাওয়া কিংবা সংশ্লিষ্ট অনিবার্য কারণে যারা চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার কোনো বিষয়ে অংশগ্রহণ করতে পারেনি, তারা চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ইতোমধ্যে স্থগিত হওয়া সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত একই তারিখে, ওই সময়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যেহেতু এইচএসসি পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের জীবনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ তাই বিশেষ বিবেচনায় এই বিশেষ সুযোগ প্রদান করা হলো। শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, পদার্থ বিজ্ঞান প্রথমপত্রে ভুল প্রশ্নপত্র প্রণয়নের দায়ী ব্যক্তিদের ইতোমধ্যেই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। মাননীয় স্পিকার আমি আবারো বলছি- পদার্থ বিজ্ঞান প্রথমপত্র ছয় নম্বর প্রশ্ন এবং সাত নম্বর প্রশ্নে যে ভুল হয়েছে তার জন্য পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে।

  • ঢাবিতে আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনা, ক্যাম্পাসে বিজিবি মোতায়েন

    ঢাবিতে আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনা, ক্যাম্পাসে বিজিবি মোতায়েন

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা টিএসসিতে অবস্থান নিয়েছে। পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি অবস্থানকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাসে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

    আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি মোতায়েন করা হয়।

    এর আগে, টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যেও গত সোমবার এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব মোড়ে প্রায় এক ঘণ্টা অবরোধ করেন বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা।

    পরে সেখান থেকে মিছিল নিয়ে তারা নীলক্ষেত মোড় হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। বেলা সোয়া ১টার দিকে ভিসি চত্বরের সামনে পুলিশ তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দিলে শিক্ষার্থীরা নীলক্ষেত থেকে টিএসসিগামী সড়কে অবস্থান নেন। এরপরই সেখানে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে মুখোমুখি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

  • সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৩ দাবি ঘোষণা শিক্ষার্থীদের

    সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৩ দাবি ঘোষণা শিক্ষার্থীদের

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ, জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং এইচএসসি পরীক্ষার নতুন সূচি প্রকাশসহ তিন দফা দাবি ঘোষণা করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এসব দাবি বাস্তবায়নে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আল্টিমেটাম দিয়েছেন তারা।

    মঙ্গলবার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষে সিটি কলেজের পরীক্ষার্থী মো. মিরাজ হোসেন এ ঘোষণা দেন।

    তিনি বলেন, সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে এবং তার ‘অসংগতিপূর্ণ’ বক্তব্যের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। পাশাপাশি ১৩ জুলাই প্রতিকূল পরিবেশে যারা পরীক্ষা দিয়েছেন এবং যারা পরীক্ষা দিতে পারেননি, তাদের কথা বিবেচনায় নিয়ে ওই দিনের পরীক্ষা পুনরায় আয়োজন করতে হবে।

    শিক্ষার্থীদের আরেকটি দাবি হলো, আগামী দিনের নির্ধারিত পরীক্ষা বাতিল করে নতুন করে পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ করতে হবে। একই সঙ্গে প্রশ্নপত্রের মান শিক্ষার্থীবান্ধব করারও দাবি জানান তারা।এর আগে বিকেল পৌনে ৪টার দিকে শিক্ষার্থীরা সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় অবস্থান কর্মসূচি শুরু করলে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

    অবস্থান কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। তাদের অভিযোগ, সকাল থেকে আন্দোলন চললেও সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কেউ তাদের সঙ্গে আলোচনায় আসেননি।

  • এমসি কলেজে ধর্ষণ মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন

    এমসি কলেজে ধর্ষণ মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন

    শিক্ষা ডেস্ক:

    সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে এক তরুণীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় আলোচিত মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনের যাবজ্জীবন করাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাকি চারজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

    মঙ্গলবার দুপুরে প্রায় ৫ বছর ১০ মাস পর সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

    রায়ে সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড। শাহ মাহবুবুর রহমান (রনি), তারেকুল ইসলাম (তারেক) ও অর্জুন লস্করকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। খালাসপ্রাপ্তরা হলেন— আইনুদ্দিন, মিসবাউল ইসলাম রাজন, রবিউল ও মাহফুজুর রহমান।

    আসামিরা সাবাই সিলেট নগরের টিলাগড় এলাকার ছাত্রলীগের বিভিন্ন গ্রুপের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

    আদালত সূত্রে জানা গেছে, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের পর মামলায় মোট ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষীদের মধ্যে নির্যাতনের শিকার তরুণী, তার স্বামী, তদন্ত কর্মকর্তা, বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট, এমসি কলেজের এক শিক্ষক এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসকও ছিলেন।

    ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় শাহপরান মাজার এলাকা থেকে ফেরার পথে এমসি কলেজের প্রধান ফটকের সামনে এক দম্পতির প্রাইভেটকার থামিয়ে কয়েকজন যুবক তাদের কলেজ ছাত্রাবাসে নিয়ে যান। সেখানে স্বামীকে আটকে রেখে গাড়ির ভেতরে তরুণীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। একইসঙ্গে দম্পতির কাছ থেকে টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেওয়া এবং গাড়ি আটকে রাখারও অভিযোগ ওঠে।

    ঘটনার রাতে ভুক্তভোগীর স্বামী শাহপরান থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। তদন্তের একপর্যায়ে আরও দুই ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা শনাক্ত হয়। গাড়ি আটকে রেখে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে দায়ের করা পৃথক মামলাটিও এ মামলার সঙ্গে একত্রে বিচার করা হচ্ছে।

    এদিকে এ ঘটনার পর আত্মগোপনে গেলেও তিন দিনের মধ্যে পুলিশ ও র‌্যাবের অভিযানে আট আসামিকেই গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্ত চলাকালে কয়েকজন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এছাড়া ডিএনএ পরীক্ষায় আট আসামির মধ্যে ছয়জনের সঙ্গে আলামতের মিল পাওয়া যায় বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    ২০২১ সালের ৩ ডিসেম্বর শাহপরান থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন।

  • শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে রাজধানীতে সড়ক অবরোধ

    শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে রাজধানীতে সড়ক অবরোধ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানীর একাধিক জায়গায় বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা।

    মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর উত্তরার বিএনএস সেন্টার এবং সায়েন্সল্যাব মোড়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন পরীক্ষার্থীরা। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী তারা এ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।

    ঢাকা সিটি কলেজ, ঢাকা আইডিয়াল কলেজ, সরকারি বাংলা কলেজ, সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ, লালমাটিয়া স্কুল এন্ড কলেজ, রাজারবাগ পুলিশ লাইন স্কুল এন্ড কলেজ, বিএফ শাহীন কলেজসহ ১২ থেকে ১৫ টি কলেজের শিক্ষার্থীরা এই অবরোধে অংশ নেন।

    বিক্ষোভের কারণে সায়েন্সল্যাব, নিউমার্কেট, ধানমন্ডি ও আশপাশের সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও পথচারীরা।

    বিক্ষোভকারীরা এসময় ‘দফা এক দাবি এক, মিলনের পদত্যাগ’, ‘এক দুই তিন চার, মিলন তুই গদি ছাড়’, ‘আমি কে তুমি কে, ফার্মের মুরগি ফার্মের মুরগি’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে শোনা যায়।

    অবরোধকারী শিক্ষার্থীরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন। দাবি আদায় না হলে আরো কঠোর কর্মসূচি দেওয়ারও ঘোষণা দেন তারা।

  • দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় সকল পরীক্ষা স্থগিতের দাবি ছাত্রদলের

    দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় সকল পরীক্ষা স্থগিতের দাবি ছাত্রদলের

    শিক্ষা ডেস্ক:

    আকস্মিক বন্যা, দেশব্যাপী অতিবর্ষণ ও দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি বিবেচনায় চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষাসহ অন্যান্য বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষাসমূহ সাময়িক স্থগিতের দাবি জানিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মানবিক বিবেচনা হিসেবে দেখবে বলেও মনে করে সংগঠনটি। সোমবার এক বিবৃবতিতে সংগঠনটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ দাবি জানান। এতে দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবক সমাজের উদ্বেগ নিরসনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জরুরি ও সহমর্মিতাপূর্ণ পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেন তারা।

    নেতৃদ্বয় বলেন, সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, দেশের ৭ জেলায় বন্যায় ইতিমধ্যে ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবার সম্পূর্ণ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে এবং মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন মানুষ। এই বিপুল ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি উপদ্রুত এলাকার অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখন আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় পরীক্ষার্থীদের পক্ষে কেন্দ্রে যাতায়াত করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও কষ্টসাধ্য। এমতাবস্থায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতি আমাদের পর্যবেক্ষণ ও অনুরোধ হলো, বন্যা কবলিত অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় পরীক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এই মুহূর্তে পরীক্ষা সাময়িক পিছিয়ে দিলে শিক্ষার্থীদের জানমালের নিরাপত্তা ও স্বস্তি নিশ্চিত হবে।

    তারা বলেন, যে দুর্যোগে ১০ লক্ষাধিক মানুষ বিপর্যস্ত, সেখানে অসংখ্য শিক্ষার্থীর বইখাতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। এই অবস্থায় পরীক্ষায় বসলে বন্যা উপদ্রুত এলাকার শিক্ষার্থীরা মনস্তাত্ত্বিকভাবে পিছিয়ে পড়বে, যা তাদের ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। একই সঙ্গে দেশের একটি বিরাট অংশের পরীক্ষার্থীদের সংকটে রেখে পরীক্ষা চালু রাখলে মেধার সঠিক মূল্যায়ন বাধাগ্রস্ত হবে এবং সুযোগের সমতা নষ্ট হবে। তাই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি, পরীক্ষা কেন্দ্রসমূহ পরীক্ষার উপযোগী হওয়া, পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুব্যবস্থা নিশ্চিত হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখাই হবে যৌক্তিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব সিদ্ধান্ত।

    নেতৃদ্বয় আরও বলেন, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে নির্বাচিত বর্তমান জনবান্ধব সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষার্থীদের জীবন, নিরাপত্তা এবং সুন্দর ভবিষ্যতের বিষয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল। ছাত্রদল সবসময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক অধিকার ও কল্যাণের পক্ষে কাজ করে। তাই পরিস্থিতি অনুকূলে না আসা পর্যন্ত চলমান এইচএসসি পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে পরবর্তীতে নতুন সময়সূচী অনুযায়ী পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।

  • বন্যায় এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের দাবি ছাত্রশিবিরের

    বন্যায় এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের দাবি ছাত্রশিবিরের

    রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পরীক্ষাকেন্দ্রে জলাবদ্ধতার কারণে এইচএসসি পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিতের জোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

    সোমবার (১৩ জুলাই) এক যৌথ বিবৃতিতে কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ বলেন, দেশের বিভিন্ন বিভাগের বিস্তীর্ণ অঞ্চল বর্তমানে অভূতপূর্ব প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি। অসংখ্য উপজেলা ও শহরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে এবং অনেক পরীক্ষাকেন্দ্র জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে, যা পরীক্ষা গ্রহণের অনুকূল পরিবেশকে বিনষ্ট করেছে। এমন জাতীয় সংকটের মুহূর্তে বাস্তব পরিস্থিতি উপেক্ষা করে পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক পরীক্ষার পরিবেশকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করছে। তাই চলমান এইচএসসি পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।

    শিবির নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, যেকোনো পাবলিক পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফলাফলের জন্য শিক্ষার্থীদের মানসিক স্থিতিশীলতা ও উপযুক্ত পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ চরম প্রতিকূলতা ও বিপর্যস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থার মধ্যেও শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হতে বাধ্য করা হচ্ছে। প্লাবিত ও ঝুঁকিপূর্ণ পথ অতিক্রম করে প্রতিকূল পরিবেশে অনেক শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়েছে। নীতিনির্ধারকদের এই অনমনীয় অবস্থান শিক্ষার্থীদের শারীরিক নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করেছে। এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই শিক্ষার্থীবান্ধব বা মানবিক হতে পারে না।

    শিবির সভাপতি ও সেক্রেটারি বলেন, এই দুর্যোগের সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব পড়বে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার পথেও। চলমান পরীক্ষার দীর্ঘসূত্রতা এবং মাঠপর্যায়ের অব্যবস্থাপনার কারণে পরীক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় সময় থেকে বঞ্চিত হবে। ফলে তাদের উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি, সুযোগ ও মেধা বিকাশ নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হবে।

    নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, যেকোনো সংকটে শিক্ষার্থীদের জীবন, স্বাস্থ্য ও মানসিক সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব। তাই বন্যা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়া এবং পরীক্ষা পরিচালনার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা চলমান এইচএসসি পরীক্ষা অবিলম্বে সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।

  • শিবির থেকে বিদায় নিলেন ৯ কেন্দ্রীয় নেতা

    শিবির থেকে বিদায় নিলেন ৯ কেন্দ্রীয় নেতা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির থেকে বিদায় নিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) ও সংগঠনটির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক সাদিক কায়েমসহ কেন্দ্রীয় ৯ নেতা।

    সোমবার (১৩ জুলাই) এ তথ্য জানিয়েছেন শিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ।

    সাদিক কায়েম ছাড়া বিদায় নেওয়া অন্যরা হলেন, কেন্দ্রীয় মিডিয়া সম্পাদক মুতাসিম বিল্লাহ শাহেদী, এইচআরডি সম্পাদক শরীফ মাহমুদ, ছাত্র অধিকার সম্পাদক মুহিবুর রহমান মুহিব, প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম, ব্যবসায় শিক্ষা সম্পাদক নুরুল হুদা, পাঠাগার সম্পাদক আরাফাত হোসেন মিলন, বিতর্ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান আরমান ও দাওয়াহ সম্পাদক শাহীন আহমেদ।

  • রামুতে ছাত্রদলের ত্রাণ বিতরণ

    রামুতে ছাত্রদলের ত্রাণ বিতরণ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    কক্সবাজারের রামু উপজেলায় কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের নেতৃত্বে ছাত্রদলের ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার রাকিবুল ইসলাম রাকিব উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের বাড়ি বাড়ি খোঁজখবর নেন। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি।

    উপজেলার দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অসহায়, দুস্থ ও বন্যাদুর্গত পরিবারের মাঝে শুকনো খাদ্য ও জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন তিনি।

    এদিকে ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচির তৃতীয় দিনে ৫০০টি পরিবারের মাঝে চাল, ডাল, আলু, শুকনো খাবার, পানি বিশুদ্ধকরন ট্যাবলেট, খাবার পানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

    রাকিবুল ইসলাম রাকিবে বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কষ্ট লাঘবে মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সব সময় মানুষের পাশে ছিলো, ভবিষ্যতেও যেকোনো দুর্যোগ ও সংকটে পাশে থাকবে।

    ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচিতে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ফাহিমুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক সাঈদ আনোয়ার, সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ ইমরান ও জেলা যুবদলের সহসভাপতি জাবেদ ইকবালসহ, রামু উপজেলা ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, স্বেচ্ছাসেবীরা অংশ নেন।

  • সিসিটিভি ক্যামেরা নিয়ে স্কুল-কলেজকে জরুরি নির্দেশনা

    সিসিটিভি ক্যামেরা নিয়ে স্কুল-কলেজকে জরুরি নির্দেশনা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি স্কুল-কলেজে আইপি ভিত্তিক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও সেন্ট্রাল অনলাইন মনিটরিং সিস্টেম চালুর বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে একটি জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

    শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, নিয়মিত ক্লাস পরিচালনা, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত এবং সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করতে এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ১৩ জুলাই বিকেল ৪টার মধ্যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানকে নির্ধারিত গুগল ফর্মে তাদের প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ও মনিটরিং সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিতে হবেশুক্রবার এক বিজ্ঞপ্তিতে সব স্কুল ও কলেজ প্রধানদের এ নির্দেশনা দেয় মাউশি।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন সুষ্ঠুভাবে ক্লাস পরিচালনা ও উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ এবং সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে জরুরি ভিত্তিতে সেন্ট্রাল অনলাইন মনিটরিং সিস্টেম চালু করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

    এতে বলা হয়, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অধিদপ্তরের আওতাধীন সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (সরকারি ও বেসরকারি) প্রধানদের আগামী ১৩ জুলাই বিকাল ৪টার মধ্যে গুগল ফর্মে (https://forms.gle/2jEaP9MDfmj8VD7y7) গুগল ফর্মে তথ্য প্রদানের জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো।

    এতে আরো ও বলা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য প্রদান করতে ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিষয়টি অতীব জরুরি।

  • নারী প্রধান শিক্ষককে পে/টানোর ঘটনায় মা গ্রেফতার

    নারী প্রধান শিক্ষককে পে/টানোর ঘটনায় মা গ্রেফতার

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধ

    চুয়াডাঙ্গা শহরের ফার্মপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে বিদ্যালয়ে ঢুকে মারধরের ঘটনায় এক গৃহবধূকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, বুধবার রাতে ফার্মপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে মিতালি খাতুন (২৮) নামের ওই নারীকে গ্রেফতার করা হয়। তবে তার স্বামী সামসুর রহমান শুভ পলাতক রয়েছেন।

    ঘটনার বর্ণনায় তিনি বলেন, বুধবার সকালে ফার্মপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে মিতালি খাতুন ও তার স্বামী সামসুর রহমান শুভ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে চড়-থাপ্পড় মারেন।

    ঘটনাটি বিদ্যালয়ের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয় এবং পরে ভিডিয়োটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

    রাতে প্রধান শিক্ষক চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় সামসুর রহমান ও মিতালি খাতুনকে আসামি করে সরকারি কাজে বাধা দেওয়া ও মারধরের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় স্বামী-স্ত্রী দুজনকেই আসামি করা হয়েছে বলে জানান ওসি মিজানুর।

    ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শারমিন আক্তার বলেন, বুধবার সকালে বিদ্যালয়ে অ্যাসেম্বলি চলাকালে জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হচ্ছিল। এ সময় দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সামসুর রহমান ও মিতালি খাতুন দম্পতির মেয়ে বিসমা জান্নাত ঐশি লাইনে দাঁড়িয়ে পেছনের আরেক শিক্ষার্থীর সঙ্গে ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়ে। প্রধান শিক্ষক তাকে ইশারায় থামতে বলেন।

    এরপর জাতীয় সংগীত শেষ হলে প্রধান শিক্ষক ঐশি ও অপর শিক্ষার্থীকে ডেকে মারামারি করার কারণ জিজ্ঞাসা করেন। এসময় ঐশি প্রাধান শিক্ষকের সঙ্গে তর্কতর্কি শুরু করেন। একপর্যায়ে প্রধান শিক্ষক ঐশি ও অপর শিক্ষার্থী দুজনকে দুটি চড় মেরে শাসন করেন।

    তিনি বলেন, স্কুল ছুটির পর ঐশির বাবা সামসুর রহমান ও মা মিতালি খাতুন বিদ্যালয়ে এসে সন্তানকে মারার কারণ জানতে চান। এ নিয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে তাদের তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে সামসুর রহমান প্রধান শিক্ষককে চড় মারেন।

    পুরো ঘটনাটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয় এবং পরে ভিডিয়োটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফার্মপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, ওই শিক্ষার্থীকে বিভিন্নভাবে বোঝানোর চেষ্টা করেও বিশৃঙ্খল আচরণ থেকে বিরত রাখা সম্ভব হয়নি। পরে বাধ্য হয়ে তাকে মৃদু চড় দিই।পরে তার অভিভাবকরা স্কুলে এসে আমাকে মারধর করেন। এ ঘটনায় আমি থানায় মামলা করেছি।

  • নারী প্রধান শিক্ষককে পেটালেন অভিভাবক

    নারী প্রধান শিক্ষককে পেটালেন অভিভাবক

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গায় বিদ্যালয়ে ঢুকে নারী প্রধান শিক্ষককে পিটিয়েছেন এক অভিভাবক। বুধবার দুপুরে জেলা শহরের ফার্মপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

    এ সময় প্রধান শিক্ষক কাবেরী করিমকে আচমকা চড়-থাপ্পড় মারেন ওই অভিভাবক। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ে যেতে নিরাপত্তার অভাব বোধ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষকরা।

    শিক্ষককে মারধরের ভিডিয়ো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেছেন অভিভাবকের এহেন আচরণ বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত করেছে।

    জানা গেছে, বুধবার দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে বিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী ফার্মপাড়ার সামসউর রহমান শুভ বিদ্যালয়ে ঢুকে অসৌজন্যমূলক আচরণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে অফিসকক্ষে বসা অবস্থায় প্রধান শিক্ষক কাবেরী করিমকে চড়-থাপ্পড় মারতে থাকেন। এ সময় কয়েকজন তাকে নিবৃত্ত করে বাইরে বের করে নিয়ে যান।

    বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সামসউর রহমান শুভ ও মিতালী খাতুন দম্পতির মেয়ে বিসমাহ জান্নাত ঐশ্বর্য (৯) তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। সে স্কুলের সমাবেশ চলাকালে এক ছাত্রের সঙ্গে কথা বলাবলি করছিল। এ কারণে তাকে শাসন করতে গিয়ে প্রধান শিক্ষক তার গালে একটি চড় মারেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তার পিতা শুভ বিদ্যালয়ে ঢুকে প্রধান শিক্ষককে মারধর করেন।

    এ ব্যাপারে একাধিকবার কল করা হলেও অভিযুক্ত অভিভাবক শুভ ফোন রিসিভ করেননি।

    এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক কাবেরী করিম বলেন, আমি একজন শিক্ষক হয়ে আদর যেমন করি একটু শাসনও করতে হয়। এ কারণেই আলতো করে একটা চড় মেরেছিলাম। এ কারণে একজন অভিভাবক আমার অফিসে ঢুকে আমার গায়ে হাত তুলবেন এটা আমার ধারণা ছিল না। এ অবস্থায় বিদ্যালয়ে যেতে আমি নিরাপত্তাহীন মনে করছি। আবারও আমার ওপর হামলা হতে পারে বলে আমি আশঙ্কা করছি।

    এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি চুয়াডাঙ্গা কেদারগঞ্জ আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সোয়াইব হোসেন বলেন, এ ধরনের আচরণ আমরা কোনো অভিভাবকের কাছ থেকে আশা করি না। এমন হলে আমরা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মানুষ করব কিভাবে। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং লাঞ্ছনার শিকার শিক্ষকের পাশে থেকে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে চাই।

    এ ব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার অহীন্দ্র কুমার মণ্ডল বলেন, ঘটনাটি নিন্দনীয়। অভিভাবকের কোনো অভিযোগ থাকলে তিনি শিক্ষা অফিসকে জানাতে পারতেন; কিন্তু তিনি তা না করে প্রধান শিক্ষককে মারধর করবেন এটা অন্যায়। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।