সারাদেশ

  • কালীগঞ্জে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মাংস বিক্রি, জরিমানা

    কালীগঞ্জে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মাংস বিক্রি, জরিমানা

    কালীগঞ্জে মাংস বিক্রির দোকানে অভিযান চালিয়ে জরিমানা আদায় করা হয়েছে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে বুধবার সকালে পৌরসভার হাটচাঁদনী ও খাদ্য অফিসের সামনে মাংসের দোকানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) শাহিন আলম।

    এ সময় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গরু ও ছাগলের মাংস বিক্রি করার অপরাধে ২ মাংস ব্যবসায়ীকে দেড় হাজার টাকা করে মোট ৩ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এছাড়াও নলডাঙ্গা রোডে পচা মাংস বিক্রির অপরাধে এক ব্যবসায়ীর মাংস মাটিতে পুতে ফেলা হয়।

    উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহিন আলম জানান, স্বাস্থ্য সম্মত পরিবেশে মাংস বিক্রি করতে হবে। অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থায় জেল জরিমানা হতে পারে।

    অভিযানকালে প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা জিল্লু রাইন, পৌর স্যানিটারী ইন্সপেক্টর আলমগীর হোসেনসহ কালিগঞ্জ থানার পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

  • চৌগাছায় বিজিবির গাড়ি চালকের বিরুদ্ধে মামলা

    চৌগাছায় বিজিবির গাড়ি চালকের বিরুদ্ধে মামলা

    চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধ

    চৌগাছার মশ্বমপুর গ্রামের বকুল হোসেনকে গাড়ি চাপা দিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনায় বিজিবি হাবিলদার শহিদুলের বিরুদ্ধে যশোর আদালতে মামলা হয়েছে। বুধবার বকুল হোসেনের স্ত্রী শাহানারা বাদী হয়ে এ মামলা করেছেন। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জুবাইদা রওশন আরা অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের আদেশ দিয়েছেন চৌগাছা থানার ওসিকে।

    আসামি হাবিলদার শহিদুল ৪৯ ব্যাটলিয়ন বিজিবি যশোরের চৌগাছার উপজেলার আন্দুলিয়া ক্যাম্পে গাড়ি চালক হিসেবে কর্মরত আছেন।

    মামলার অভিযোগে জানা গেছে, গত ২৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে বকুল হোসেন শাহজাদপুর বিজিবি ক্যাম্পের কাছে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় হাবিলদার শহিদুল গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার সময় অসতর্কতাবশত বকুল হোসেনকে চাপা দেন। এতে বকুল হোসেনের কোমরের হাড় ভেঙে যায় এবং তলপেট কেটে ভুড়ি বের হয়ে যায়। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল নিয়ে ভর্তি করা হয়।

    এসময় স্থানীয় লোকজন বিজিবি’র গাড়ি আটক করে হাবিলদার শহিদুলের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। কিন্তু তিনি ক্ষতিপূরণ দিতে টালবাহনা করেন এবং এক পর্যায়ে সেখান থেকে চলে যান। বকুল হোসেনের চিকিৎসায় ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫ লাখ টাকা। এ টাকা বকুলের স্ত্রী আত্মীয় স্বজনের কাছ থেকে ধার করে পরিশোধ করেছেন। এ টাকা দিতে দিতে তিনি হিমশিম খাচ্ছেন। বিষয়টি আসামির সাথে মীমাংসায় ব্যর্থ হয়ে তিনি আদালতে এ মামলা করেছেন।

  • মদপানে মারা যাওয়া চারজনের লাশ উত্তোলন

    মদপানে মারা যাওয়া চারজনের লাশ উত্তোলন

    চুয়াডাঙ্গায় বিষাক্ত মদপানে মারা যাওয়া ছয়জনের মধ্যে চারজনের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করেছে পুলিশ। ময়নাতদন্ত ছাড়া দাফন করায় আদালতের নির্দেশে এসব লাশ তোলা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সকালে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ডিঙ্গেদহ এলাকার পৃথক চারটি গ্রাম থেকে লাশগুলো উত্তোলন করা হয়।

    অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জামাল আল নাসের আলী জানান, আদালতের নির্দেশে ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন হওয়া সদর উপজেলার পিরোজখালী গ্রামের লাল্টু হোসেন, খেজুরা গ্রামের মোহাম্মদ সেলিম, নফরকান্দি গ্রামের খেদের আলী ও শংকরচন্দ্র গ্রামের শহিদুল মোল্লার লাশ উত্তোলন করা হয়। লাশগুলো চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত করা হবে।

    চুয়াডাঙ্গা সদর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) হোসেন আলী জানান, ৯ অক্টোবর রাতে সদর উপজেলার ডিঙ্গেদহ এলাকার কয়েকজন শ্রমিক একসঙ্গে মদপান করেন। পরে ১১ অক্টোবর অসুস্থ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়।

    একই দিন তাদের লাশ গোপনে দাফন করে পরিবারের লোকজন। পরদিন ১২ অক্টোবর মৃত্যু হয় আরও দুজনের। তখন বিষয়টি জানাজানি হয় এবং পুলিশ ১২ অক্টোবর লাশ দুটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে।

  • কুষ্টিয়ায় হেরোইনসহ নারী আটক

    কুষ্টিয়ায় হেরোইনসহ নারী আটক

    কুষ্টিয়ায় র‌্যাবের অভিযানে হেরোইনসহ এক নারীকে আটক করা হয়েছে ।

    গোপন সংবাদের প্রেক্ষিতে গতকাল সকালে র‌্যাব-১২, সিপিসি-১, কুষ্টিয়া ক্যাম্পের পুলিশ শহরের ফুলতলা এলাকায় যৌথ অভিযান চালায়। এসময় তার কাছ থেকে ১’শ ২০ পুরিয়া (১২ গ্রাম) হেরোইন ও নগত ১ লাখ ২ হাজার ৭’শ ৫৫ টাকা সহ তাকে আটক করে।

    আটক লতা খাতুন ওরফে রিয়া (২৬), শহেরর কুঠিফাড়া এলাকার জুয়েল বিশ্বাসের স্ত্রী।

    পরে তাকে কুষ্টিয়া জেলার সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়।

  • নড়াইলের কবিরুল আরও চার মামলায় গ্রেপ্তার

    নড়াইলের কবিরুল আরও চার মামলায় গ্রেপ্তার

    নড়াইলের কালিয়া ও নড়াগাতী থানায় হওয়া চারটি মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কবিরুল হক মুক্তিকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। সেই সঙ্গে এসব মামলায় জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে আদালতে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ বুধবার সকালে নড়াইলের কালিয়া ও নড়াগাতী আমলি আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রত্না সাহা ও মারুফ হাসান পৃথকভাবে এ আদেশ দেন। পরে তাঁকে নড়াইল জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

    আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) আজিজুল ইসলাম ও আদালত পুলিশের পরিদর্শক সরেস চন্দ্র প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    আইনজীবী ও আদালত পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গুলশান থানায় করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গুলশানের নিকেতন এলাকার একটি বাসা থেকে কবিরুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ছয় দিনের রিমান্ড শেষে ১ অক্টোবর আদালতে হাজির করলে তাঁকে কেরানীগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয়।

    সুত্র: প্রথম আলো

  • মেহেরপুর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ঔষধ বিতরণ

    মেহেরপুর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ঔষধ বিতরণ

    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সাহারবাটী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে ঔষধ ও স্বাস্থ্য উপকরণসহ আসবাবপত্র বিতরণ করা হয়েছে। বিতরণকৃতগুলাের মধ্যে রয়েছে-এন্টাসিড ট্যাবলেট ২৮বক্স, মেট্রোনিডাজল ট্যাবলেট ২৪ বক্স, নাপা এক্সট্রা ১৬ বক্স,ওরস্যালাইন ১৬ বক্স,হিস্টাসিন ১০ বক্স,চেয়ার ৬টি, টেবিল ১টি,বিপি মেশিন ৪টি ওওয়েট মেশিন- ২টি।

    বুধবার দুপুর ২টার দিকে সাহারবাটী ইউনিয়ন পরিষদে বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
    ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষে এসব বিতরণ করেন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আসমাতারা।

    এসময় উপস্থিত ছিলেন পরিষদের সচিব ফয়সাল আহম্মেদ, ইউনিয়ন পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক আশিইল ইশরাক,স্যাকমাে আমির হামজা,স্বাস্থ্য কর্মী নাজমুন নাহার ও নাহিদা আক্তারসহ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য-সদস্যাবৃন্দ।

    এদিকে,বিতরণকৃত এসব ঔষধ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র এবং কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলের মানুষ স্বাস্থ্য সেবা পাবে।

  • সাতক্ষীরায় ভাড়া বাসায় তরুণীর মরদেহ

    সাতক্ষীরায় ভাড়া বাসায় তরুণীর মরদেহ

    সাতক্ষীরায় একটি ভাড়া বাসা থেকে তাসলিমা আক্তার হিরা (১৯) নামে এক তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে শহরের পলাশপোল এলাকার একটি বাড়ি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

    নিহত তাসলিমা আক্তার হিরা যশোরের বাগআঁচড়া গ্রামের শাজাহান আলীর মেয়ে। তিনি সাতক্ষীরা শহরের অ্যাডলিব শোরুমে কাজ করতেন এবং প্রায় এক মাস আগে শহরের পলাশপোল এলাকায় একটি বাসায় ভাড়া উঠেছিলেন।

    তাসলিমার বাড়ির মালিক মাসুম বিল্লাহ শুভ বলেন, হিরা আমার বাসায় এক মাস ধরে থাকছিলেন। তিনি অ্যাডলিব শোরুমে চাকরি করতেন। বিস্তারিত তথ্য শোরুম থেকেই জানা যাবে।

    অ্যাডলিব শোরুমের ম্যানেজার আতিয়ার রহমান বলেন, হিরা আমাদের স্টাফ ছিলেন। আজ তার অফ ডে ছিল। সে সকালে বলেছিল যশোর যাবে, তাই আমরা খোঁজ নেইনি।

    সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

  • মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই বন্ধু নিহত

    মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই বন্ধু নিহত

    মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের সার্ভিস লেনে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই বন্ধুর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার কুচিয়ামোড়ায় ধলেশ্বরী সেতুর ওপর এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত ব্যক্তিরা হলেন ইমন ভূঁইয়া (২৬) ও সামিউল ইসলাম (২৭)। ইমন সিরাজদিখান উপজেলার ঘন শ্যামপুর এলাকার সেন্টু ভূঁইয়ার ছেলে। সামিউলের বাড়ি ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার কলাকোপা ভৌড়াহাটি এলাকায়।

    হাসাড়া হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকাল রাতে ইমন ভূঁইয়া ও সামিউল মোটরসাইকেলে মাওয়ার দিকে যাচ্ছিলেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে এক্সপ্রেসওয়ের সার্ভিস লেনের কুচিয়ামোড়ায় ধলেশ্বরী সেতুর ওপর পৌঁছালে পেছন থেকে একটি গাড়ি তাঁদের ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেলটি সেতুর ওপর ছিটকে পড়ে। ঘটনা স্থলে ওই দুজন নিহত হন।

    সুত্র: প্রথম আলো

  • মানিকগঞ্জে ছুরিকাঘাতে শিক্ষার্থী নিহত

    মানিকগঞ্জে ছুরিকাঘাতে শিক্ষার্থী নিহত

    মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার পুটাইল এলাকায় ছুরিকাঘাতে রাব্বী (১৫) নামে এক কিশোর নিহত হয়েছে। এঘটনায় দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে এনেছে পুলিশ।

    গতকাল লক্ষ্মীপূজার মেলায় দুই পক্ষের কথা-কাটাকাটি জেরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রাব্বী ওই এলাকার মানিক মিয়ার ছেলে এবং স্থানীয় কাফাটিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সনাতন ধর্মের লক্ষ্মীপূজার মেলায় আগত দুই পক্ষের কথা-কাটাকাটির জেরে এক পক্ষ রাব্বিকে ছুরিকাঘাতে আঘাত করে। এতে রাব্বী গুরুতর আহত হলে উপস্থিত লোকজন তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    মানিকগঞ্জ সদর থানার ওসি (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চত করে বলেন, এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন ।

  • কিশোরগঞ্জ শ্যামাপূজার মণ্ডপে গাজার কঙ্কালসার শিশু!

    কিশোরগঞ্জ শ্যামাপূজার মণ্ডপে গাজার কঙ্কালসার শিশু!

    আলো, উল্লাস আর ঢাকের তালে মুখর চারপাশ। কিশোরগঞ্জ শহরের বত্রিশ এলাকার প্রগতি সংঘের শ্যামাপূজা মণ্ডপে ঢুকলে প্রথমেই মনে হয়, এ এক রঙিন উৎসবের জগৎ। কিন্তু কয়েক পা এগোতেই চোখে পড়ে ধোঁয়ায় ঢাকা মুখ, ধ্বংসস্তূপের ভেতর কাঁদছে এক শিশু, কেউ খুঁজছে হারানো বাবা-মাকে। আলোয় মোড়ানো পূজামণ্ডপজুড়ে সাজানো এসব ছবি মিলেমিশে যেন পরিণত হয়েছে যুদ্ধবিধ্বস্ত

    গাজার দৃশ্যপট। পূজার আনন্দের মধ্যেও সেখানে যুদ্ধবিধ্বস্ত শিশুদের আর্তনাদের ছবিতে ছবিতে যেন শিউরে উঠছে মানবতা।

    এবার ৭২তম বর্ষে ‘দুঃখরূপং’ থিমে গড়ে উঠেছে প্রগতি সংঘের মণ্ডপটি। পূজার আলোয় জেগে উঠেছে পৃথিবীর গভীরতম বেদনা আর এক মানবিক আহ্বান—যুদ্ধ নয়, চাই শান্তি। মণ্ডপের চারপাশে টাঙানো দুই শতাধিক ছবিতে ফুটে উঠেছে গাজার ধ্বংসস্তূপে হারিয়ে যাওয়া শৈশব।

    কালীপ্রতিমার চারপাশে সাজানো হয়েছে গাজায় যুদ্ধবিধ্বস্ত শিশুদের ছবিতে। আলো আর অন্ধকারের খেলায় সাজানো প্যান্ডেল। তবু চারদিকে এক অদ্ভুত নীরবতা।

    দর্শনার্থীরা জানান, উৎসবে ঠাঁই পাওয়া গাজার কঙ্কালসার শিশুদের ছবিগুলো এবারের পূজায় পৃথিবীর গভীরতম দুঃখের বার্তা মনে করিয়ে দিচ্ছে বারবার। পূজার মণ্ডপটি হয়ে উঠেছে প্রতিবাদের কণ্ঠ, আর মানবতার পাঠশালা। সোম থেকে আজ বুধবার রাত পর্যন্ত চলবে শ্যামাপূজা।

    সৈকত মজুমদার নামের এক আয়োজক জানান, ‘আমরা চাই শ্যামাপূজার আনন্দের মধ্যেও মানবতার কথা ভাবা হোক। আমরা বলতে চেয়েছি, আনন্দ তখনই পূর্ণ হয়, যখন এতে থাকে মানবতার ছোঁয়া।

    পূজাতে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা জানান ‘আমরা দূর থেকে শুধু যুদ্ধ যুদ্ধ খেলার কথা শুনি। কিন্তু এর যে কতটুকু নির্মমতা—এসব ছবিই তার প্রমাণ। আমরা যুদ্ধ চাই না, শান্তি চাই। আয়োজকদের ধন্যবাদ দিতে চাই।’

    এমন আয়োজনের কারণ হিসেবে প্রগতি সংঘের পূজা আয়োজক কমিটি সভাপতি রবীন সাহা বলেন, ‘এই শিশুরা শুধু গাজার নয়, এরা মানবতার প্রতীক। আমরা বোঝাতে চেয়েছি, একটি জাতি ও দেশ কীভাবে নৃশংসতার শিকার হয়। গাজার শিশুদের আর্তনাদের ছবিগুলো দেখে যেন মানুষ নিজেদের সম্প্রীতি ও ভালোবাসাকে জীবিত রাখে—সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।

  • টাঙ্গাইলে বাস–ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ৩

    টাঙ্গাইলে বাস–ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ৩

    ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বাসাইল উপজেলার বাঐখোলা এলাকায় বাস ও ট্রাক সংঘর্ষে নারীসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১২ জন। হতাহত ব্যক্তিদের সবাই বাসযাত্রী।

    আজ বুধবার বেলা আড়াইটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তিরা হলেন, সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার চকনুর গ্রামের সোহরাব আলী সরকার (৭৮), জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার কাঞ্চনপুর গ্রামের শিল্পী বেগম (৪২), একই উপজেলার বারইপটল গ্রামের ফাহিম (২২)।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, জামালপুরের তারাকান্দি থেকে ছেড়ে আসা ভাই ভাই পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। বাসটি মহাসড়কের বাঐখোলা এলাকায় ঢাকাগামী একটি ট্রাককে অতিক্রম করার চেষ্টা করে। এ সময় ঢাকাগামী রডভর্তি অন্য একটি ট্রাকের সঙ্গে বাসটির সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে এক নারী নিহত হন। পুলিশ আহত ১৪ জনকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক আরও দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

  • যুবদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে বৃদ্ধ নিহত

    যুবদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে বৃদ্ধ নিহত

    নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে বিরোধের জেরে যুবদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষে আব্দুল বাতেন মিয়া (৬৫) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

    এর আগে, বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলা সাতগ্রাম ইউনিয়নের রসুলপুর এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেই সংঘর্ষে আব্দুল বাতেন মিয়া আহত হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    নিহত আব্দুল বাতেন ওই এলাকার মৃত লাল মিয়ার ছেলে। তিনি সাতগ্রাম ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি শাহজাহান মিয়ার বাবা।

    এ ছাড়া যুবদল নেতা শাহজাহান মিয়ার ভাই আজিজুল হক আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। আহত অপর ভুক্তভোগীদের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাতগ্রাম ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি রেজাউল করিমের ছোট ভাই হাসান মিয়ার সঙ্গে ওই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহজাহান মিয়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ রয়েছে। গত সপ্তাহে দুই পক্ষের কয়েকজনের সঙ্গে এ নিয়ে বাগবিতণ্ডা হয়। এর জেরে বুধবার সন্ধ্যায় উভয়পক্ষের অনুসারীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।

    এতে কমপক্ষে ছয় জন আহত হয়। এদের মধ্যে শাহজাহান মিয়ার ভাই আজিজুল হক ও তার বাবা আব্দুল বাতেন মিয়া গুরুতর জখম হওয়ায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আব্দুল বাতেন মিয়া মারা যান। তার ছেলে আজিজুল হকের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

    আড়াইহাজার থানার ওসি খন্দকার নাসির উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

  • চাঁদা আদায়ের অভিযোগে শ্রমিক ইউনিয়নের দুই নেতা আটক

    চাঁদা আদায়ের অভিযোগে শ্রমিক ইউনিয়নের দুই নেতা আটক

    শরীয়তপুর-মাদারীপুর আঞ্চলিক সড়কে ট্রাক থামিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে জেলা ট্রাক, ট্যাংক-লরি ও কাভার্ডভ্যানচালক শ্রমিক ইউনিয়নের দুই নেতাকে আটক করেছে পুলিশ।

    গতকাল দুপুরে শরীয়তপুর-মাদারীপুর আঞ্চলিক সড়কের আঙ্গারিয়া বাইপাস এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

    আটকৃতরা হলেন- শরীয়তপুর জেলা ট্রাক, ট্যাংক-লরি ও কাভার্ডভ্যানচালক শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ হাওলাদার এবং একই সংগঠনের সদস্য নারায়ণ পোদ্দার।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল থেকেই আঙ্গারিয়া বাইপাস এলাকায় শ্রমিক ইউনিয়নের নাম ব্যবহার করে ১০ থেকে ১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র ট্রাক থামিয়ে প্রতি ট্রাক থেকে ৫০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করছিলেন। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা চাঁদা তোলার বৈধতা জানতে চান। কিন্তু কোনো অনুমতিপত্র দেখাতে না পারায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে খবর পেয়ে আঙ্গারিয়া পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুইজনকে আটক করে। এসময় চাঁদা আদায়ের রশিদ ও আদায়কৃত নগদ অর্থ জব্দ করা হয়।

    এ বিষয়ে আঙ্গারিয়া পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক মতিউর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চত করেন।

  • মাহিদার চায়ের কপে সন্তানদের স্বপ্ন

    মাহিদার চায়ের কপে সন্তানদের স্বপ্ন

    মাহিদা বেগম (৪০)। স্বামী মৃত আবু বকর হাওলাদার । ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে গত এক মাস আগে মারা গেছেন আবুবকর। স্বামীকে হারিয়ে এখন তিন সন্তান নিয়ে অভাবে দিন কাটাচ্ছেন তিনি। তবে সন্তানদের স্বপ্ন বাঁচাতে ও সংসারের অভাব দূর করতে ভাড়ায় নেওয়া একটি চায়ের দোকানই একমাত্র সম্বল। সন্তানের স্বপ্ন বুনছেন চায়ের কাপে।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাদারীপুর সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের শিমুল তলা এলাকার মো.আবু বকর হাওলাদারের সঙ্গে বরিশালের ইব্রাহিম হাওলাদের মেয়ে মাহিদা বেগমের বিয়ে হয় প্রায় ২৪ বছর আগে। তাদের ঘরে ২ মেয়ে ও এক ছেলে সন্তান রয়েছে। বড় মেয়ে আফসান আক্তার মিম মাদারীপুর সরকারী কলেজে অর্নাসের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। ছোট মেয়ে মোসা. আফরিন কুলপদ্বী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রী। ছেলে আরিয়ান আহম্মেদ মাহিমের বয়স আড়াই বছর।

    সংসারের অভাব দূর করতে স্বামী-স্ত্রী মিলে ৯ বছর আগে বাড়ির কাছেই শিমুল তলা বাজার এলাকায় একটি চায়ের দোকান দেন। ভালোই চলছিলো দোকান। হঠাৎ পাঁচ বছর আগে আবু বকর অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার পর জানতে পারেন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন তিনি। শেষের দুই বছর বেশি অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে যান তিনি। এরপর তার চিকিৎসার জন্য ঋণ করে ও অন্যের সহযোগিতায় কোনভাবে চলছিলো দিন। গত ১৫ সেপ্টেম্বর মারা যান আবু বকর হাওলাদার। এরপর একাই সংসার আর দোকানের হাল ধরেছেন মাহিদা বেগম।

    ভাড়া নেয়া দোকানে চা বিক্রির পাশাপাশি পান ও সামন্য কিছু বিস্কুট বিক্রি করেন তিনি। দোকানটি বেশ বড় হলেও সেলসগুলো ফাকা পড়ে আছে। টাকার অভাবে প্রয়োজনীয় মালামাল তুলতে পারেন না তিনি। শুধু চা বিক্রির টাকায় দুই মেয়ের পড়াশুনাসহ সংসারের সব খরচ জোগাড় করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তার। তাছাড়া প্রায় তিন লাখ টাকার মতো দেনা থাকায় মাহিদা বেগম এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

    মাহিদা বেগমের মেয়ে আফরিন বলেন, আমার আর আমার বোনের পড়াশুনার খরচ জোগাড় করতে মায়ের খুব কষ্ট হয়। এই চায়ের দোকান থেকেই যা আয় হয়, তা দিয়ে আমাদের সংসারের পুরো খরচ জোগাড় করতে হয়। বাবা দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। তার চিকিৎসার জন্য অনেক দেনা করতে হয়েছে।

    মাহিদা বেগম বলেন, এই চায়ের দোকান দিয়েই আমার সব খরচ জোগাড় করতে হয়। প্রতিদিন এক হাজার টাকার মতো বিক্রি হয়। খরচ বাদ দিয়ে অল্প কিছু আয় থাকে। তা দিয়েই পুরো সংসার চালাতে হয়। দুই মেয়ের পড়াশুনার খরচ জোগাড় করতে হয়। ছেলে ছোট। আমাকে সহযোগিতা করার মতো কেউ নেই। যদি কেউ আমার দোকানের বিক্রির জন্য কিছু মালামাল কিনে দেয় তাহলে আমি তা বিক্রি করে একটু আয় করতে পারতাম। এতে আমার অনেক উপকার হতো। আমার দুই মেয়ের পড়াশুনাটা ঠিকমতো চালাতে পারতাম।

    মাদারীপুর মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক নাজনীন আফরোজ বলেন, মাহিদা বেগম চাইলে ঋণ নিতে পারবেন। এছাড়াও এখানে বিভিন্ন ধরণের ট্রেনিং হয়। ট্রেনিং নিয়েও তিনি কাজ করে আয় করতে পারবেন। কয়েকদিন আগেই ইউনিয়নগুলোতে ভিজিডি’র কার্ড দেয়া হয়ে। এরপর দিলে তিনি চাইলে তাকেও দেয়া হবে।

  • চৌগাছায় বৃদ্ধের আত্মহত্যা

    চৌগাছায় বৃদ্ধের আত্মহত্যা

    যশোরের চৌগাছায় আব্দুল আজিজ( ৬৫) নামে এক বৃদ্ধ গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তিনি উপজেলার জগদীশপুর ইউনিয়নের কান্দি গ্রামের মৃত জলিল দফাদারের ছেলে। পারিবারিক সুত্রে জানাযায়, সোমবার রাতে তিনি খাওয়া দাওয়া শেষ করে স্ত্রীর সাথে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। পরে গভীর রাতে নিজ ঘরের ফ্যানের সাথে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন। একপর্যায়ে রাতে তার স্ত্রীর ডাকচিৎকারে লোকজন এসে তার লাশ উদ্ধার করেন।
    চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে লাশ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

  • ৫৫ লাখ টাকার সোনার বারসহ রাজশাহীর এক যুবক গ্রেফতার

    ৫৫ লাখ টাকার সোনার বারসহ রাজশাহীর এক যুবক গ্রেফতার

    রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে ভারতে সোনা পাচারকারী একজনকে গ্রেফতার করেছেন পুলিশ। সোমবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে গোদাগাড়ী পৌরসভার হাটপাড়া ঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তার কাছে থেকে ২৯৪ দশমিক ১৩ গ্রাম সোনা উদ্ধার করা হয়।

    গ্রেফতার মো. মোশারফ হোসেন (২০) চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের চর আলাতলী ইউনিয়নের বকচর গ্রামের মো. নাইমুল ইসলামের ছেলে।
    গোদাগাড়ী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোয়াজ্জেম হোসেন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি জানান, সোমবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশের একটি বিশেষ দল। এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মোশাররফ পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ তাকে ঘটনাস্থলেই আটক করে। এসময় তার কাছ থেকে পাঁচটি সোনার বারের কাটা অংশ উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারকৃত সোনার ওজন ২৯৪ দশমিক ১৩ গ্রাম। যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫৪ লাখ ৮১ হাজার টাকা।

    তিনি আরও বলেন, মোশারফ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানান পলাতক ডাবলু ও জাহিদসহ আরও দুই-তিনজনের সহযোগিতায় তিনি বিভিন্ন জেলা থেকে সোনা সংগ্রহ করে ভারতে পাচারের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। উদ্ধারকৃত সোনা ও আসামির বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়েছে।

    ওসি আরও বলেন, এটি একটি আন্তর্জাতিক সোনা পাচারচক্রের অংশ হতে পারে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে ও পলাতক সহযোগীদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে।

  • বীরগঞ্জে দেড় শ বছরের ঐতিহ্যের ঘোড়া-মহিষের মেলা শুরু

    বীরগঞ্জে দেড় শ বছরের ঐতিহ্যের ঘোড়া-মহিষের মেলা শুরু

    দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলা সংবাদ

    দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের বৈরবাড়ী, চাপাপাড়া ও হিরামণি মৌজাজুড়ে শুরু হয়েছে উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী ও দেড়শ বছরের পুরোনো ঢেমঢেমিয়া কালিমেলা। বাংলা কার্তিক মাসের শ্যামাপূজার অমাবস্যা উপলক্ষে আয়োজন করা এই মেলা। শুধু পূজাকেন্দ্রিক নয়, এটি আজ গ্রামীণ সমাজ, লোকজ সংস্কৃতি ও বাণিজ্যের মহামিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। সাত দিনের পূজার আনুষ্ঠানিকতার পরও মেলার রেশ থাকে পুরো মাসজুড়ে।

    মেলায় সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ ঘোড়ার হাট। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী ও রংপুর থেকে আগত বিক্রেতারা এনেছেন তাজি, ভুটানি, মনিপুরী, পঙ্খীরাজ ও রাজা বাহাদুরসহ বিরল জাতের ঘোড়া।

    চিরিরবন্দর থেকে আসা বিক্রেতা ইউসুফ আলী জানান, তিনি চারটি ঘোড়া মেলায় নিয়ে এসেছেন। এর মধ্যে একটি তাজি জাতের ঘোড়ার দাম চেয়েছেন ৩ লাখ টাকা, তবে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত প্রস্তাব পাওয়া গেছে।ঘোড়ার পাশাপাশি মহিষের হাটেও চলছে পাল্টাপাল্টি দর-কষাকষি। সারি সারি পাড়া মহিষ, গয়াল ও দেশি জাতের মহিষ নিয়ে উপস্থিত হয়েছেন বিক্রেতারা। আকার ও ওজনভেদে প্রতি জোড়া মহিষের দাম দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত।

    ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরের আলম হোসেন বলেন, তিনি তিন জোড়া পাড়া জাতের মহিষ এনেছিলেন, যার মধ্যে দুই জোড়া তিনি বিক্রি করেছেন।এক জোড়া ৫ লাখ ৫০ হাজার ও আরেক জোড়া ৫ লাখ টাকা।

    মেলা প্রাঙ্গণে শুধু পশু বেচাকেনা নয়, রয়েছে গ্রামীণ উৎসবের পুরো আবহ। শিশুদের খেলনা, মিঠাই-মিষ্টি, নাগরদোলা, গৃহস্থালির সামগ্রী, হস্তশল্প ও লোকজ পণ্যের অসংখ্য দোকানে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। পুরোনো দিনের মেলার রঙ, তাল আর উচ্ছ্বাস এখনো অক্ষুণ্ন রেখেছে ঢেমঢেমিয়া কালিমেলা।

    মেলার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর আহমেদ বলেন, মেলা ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

    ক্রেতা-বিক্রেতা ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ঐতিহ্য ও স্বকীয়তা রক্ষায় স্থানীয় মেলা কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    উত্তরবঙ্গের গ্রামীণ ঐতিহ্য, সামাজিক সম্প্রীতি ও লোকসংস্কৃতির অমূল্য নিদর্শন হিসেবে ঢেমঢেমিয়া কালিমেলা প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধরে শুধু একটি মেলা নয়, বরং গ্রামবাংলার মানুষের মিলনমেলা ও স্মৃতির উৎসব হয়ে আছে।

  • আত্মগোপনে চেয়ারম্যান অদৃশ্যভাবে চলছে ইউপি, জনদুর্ভোগ চরমে

    আত্মগোপনে চেয়ারম্যান অদৃশ্যভাবে চলছে ইউপি, জনদুর্ভোগ চরমে

    • ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান আত্মগোপনে থেকে চালাচ্ছেন পরিষদের কার্যক্রম। ট্রেড লাইসেন্স, জন্মনিবন্ধন সনদ, নাগরিক সেবাসহ পরিষদের কাগজপত্র গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে পাঠিয়ে দিয়ে স্বাক্ষর নিয়ে কোনো রকমে চলছে পরিষদের কার্যক্রম। অন্যদিকে কাগজে-কলমে গ্রাম আদালত পরিচালনা হলেও বাস্তবে পরিষদ থাকে বন্ধ। জনগণের সেবায় পরিষদের চেয়ারম্যানের উপস্থিতি থাকা বাধ্যতামূলক হলেও দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে থেকে অদৃশ্যভাবে চালানো হচ্ছে পরিষদ। ফলে কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। চিত্রটি নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার চাঁদখানা ইউনিয়ন পরিষদের।গত বৃহস্পতিবার দুপুরে দেখা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সচিব, ইউপি সদস্য, গ্রাম আদালত পরিচালনার রুম তালাবদ্ধ। দুপুর ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থানকালে পরিষদের রুমগুলো বন্ধ পাওয়া যায়। এসময় শুধু অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটরের রুম খোলা পাওয়া যায়।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চাঁদখানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান যাদু মিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। ফ্যাসিস্ট সরকার পালিয়ে গেলে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম অদৃশ্য স্থান থেকে পরিচালনা করছেন। তিনি এক বছর ধরে পরিষদে আসেন না। তবে পরিষদের কাগজপত্র একজন গ্রাম পুলিশকে দিয়ে তার কাছে পাঠিয়ে দিয়ে স্বাক্ষর নেয়া হয়।গ্রাম আদালত পরিচালনা নেই বললে চলে। ট্রেড লাইসেন্স, জন্মনিবন্ধনসহ নাগরিক সেবার কাগজপত্রে জনগণকে বুড়িরহাটে গিয়ে স্বাক্ষর নিয়ে আসতে হয়। ফলে কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়াসহ জনগণের দুর্ভোগ বেড়েছে। চেয়ারম্যান মাঝে মধ্যে পরিষদের এলেও পাঁচ থেকে দশ মিনিটের বেশি থাকেন না বলে জানা গেছে। এছাড়া তিনি উপজেলা পরিষদের মাসিক সভা, আইনশৃঙ্খলা সভাসহ অন্যান্য সভায় রয়েছেন প্রায় ৮ মাস ধরে অনুপস্থিত। তবু তিনি রয়েছেন বহালতবিয়তে।ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন এলাকাবাসী একরামুল জানান, চেয়ারম্যান অনেক দিন ধরে অফিসে আসে না। ফলে জনগণের ভোগান্তি বেড়েছে। জনগণ যেখান থেকে সেবা পাওয়ার কথা, সেখান থেকে পাচ্ছে ভোগান্তি। দূরদূরান্ত থেকে লোকজন এসে যখন দেখছেন পরিষদে চেয়ারম্যান নেই, তখন তাদের বুড়িরহাটে চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়।গ্রাম পুলিশ আব্দুল ওহাবকে কাগজপত্রে স্বাক্ষর নিয়ে আসার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি স্বীকার করে বলেন, আমি কাগজপত্র চেয়ারম্যান সাহেবে যেখানে থাকে, সেখানে গিয়ে স্বাক্ষর নিয়ে আসি। আমাকে সচিব কাগজ দেন, আমি স্বাক্ষর নিয়ে আসি।হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মোর্শেদুল হক বলেন, আমরা জনগণকে সেবা দিচ্ছি। প্রথমে চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতির বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে তিনি তা স্বীকার করেন। অফিসের সব রুমে তালাবদ্ধ, কেউ কি অফিসে আসেন না, জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, সচিব ম্যাডাম কিছুক্ষণ আগে চলে গেছেন। গ্রাম আদালতের সব মামলা মীমাংসার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তাই আজ গ্রাম আদালত বসেনি। নাগরিক সনদে স্বাক্ষর নেয়া রয়েছে, জনগণ এলে দেয়া হয়। ট্রেড লাইসেন্স, জন্মনিবন্ধনসহ অন্যান্য নাগরিক সেবার জন্য চেয়ারম্যান সাহেবের কাছে পাঠিয়ে দেয়া হয়। চেয়ারম্যান না আসায় ট্রেড লাইসেন্সসহ নাগরিক সেবায় একটু হলেও ভোগান্তি হচ্ছে।ইউপি সচিব আনোয়ারা বেগম জানান, চেয়ারম্যান মাঝে মধ্যে আসেন। জনগণের অতি প্রয়োজন হলে বুড়িরহাটে তার নিজস্ব অফিসে পাঠানো হয়। নাগরিক সেবা দেয়া হচ্ছে। আমি অফিস থেকে কিছুক্ষণ আগে বাড়ি এসেছি।উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রীতম সাহা জানান, নাগরিক সেবা বঞ্চিত হচ্ছে, ভোগান্তি হচ্ছে এ রকম অভিযোগ আমাকে এখন পর্যন্ত কেউ দেয়নি। উপজেলা পরিষদের সভায় তিনি প্রতিনিধি পাঠান। ওই চেয়ারম্যানের সাথে এখন পর্যন্ত আমার দেখা হয়েছে বলে মনে পড়ে না। অফিস সময়ে ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান-ইউপি সদস্যদের উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক। কেন অফিস বন্ধ থাকে, কেন তিনি উপস্থিত থাকছেন না, এ ব্যাপারে খোঁজ-খবর নেয়া হচ্ছে।

  • বগুড়ায় সারজিসের সভাস্থল চত্বরে ককটেল হামলা

    বগুড়ায় সারজিসের সভাস্থল চত্বরে ককটেল হামলা

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের সভাস্থল চত্বরে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এর আগে সারজিস আলম বগুড়ায় এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয় উদ্বোধন করেন। তবে এই ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি বলে জানিয়েছেন এনসিপি নেতৃবৃন্দ ও জেলা পুলিশ।

    সোমবার (২০ অক্টোবর) বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে বগুড়া শহরের জেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম চত্বরে এই ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের কিছু পরেই বিকাল সাড়ে ৪টায় পুলিশি পাহারায় সারজিস আলম পঞ্চগড়ের উদ্দেশ্যে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এই ঘটনার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল করেছে এনসিপির কেন্দ্রীয় ও জেলার নেতৃবৃন্দ।

    বগুড়া জেলা এনসিপি নেতা সৈকত হাসান বলেন, সারজিস আলম বগুড়া জেলার কার্যালয় উদ্বোধন শেষে জেলা পরিষদ হলরুমে সমন্বয় সভায় অংশ নিয়েছিলেন। সভা চলাকালীন সময়ে জেলা পরিষদ চত্বরে একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। অপর একটি ককটেল অবিস্ফোরিত অবস্থায় পুলিশ উদ্ধার করেছে। এতে করে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল নিরাপত্তার চাদরে ঘিরে ফেলে।

    জেলা পরিষদ থেকে যাওয়ার পূর্বে সারজিস আলম গণমাধ্যমকর্মীদের আক্ষেপ করে বলেন, পুলিশের ভূমিকা আরো দায়িত্বশীল হওয়ার দরকার ছিল। রক্তের উপর দাঁড়িয়ে আমরা যাদেরকে অন্তবর্তী সরকারে বসিয়েছি তারা আমাদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

    তিনি বলেন, বর্তমান সরকার নমনীয়ভাবে দেশ চালাচ্ছে এতে জুলাই স্পিড থেকে অনেক দূরে।তিনি বলেন বিমানবন্দরসহ বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।

    এ ব্যাপারে বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাসান বাসির জানান, পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে কাজ করছে। এই ঘটনার সাথে যারাই জড়িত থাকুক তাদেরকে অতিদ্রুত শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • সালমান শাহ’র মৃত্যু হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ

    সালমান শাহ’র মৃত্যু হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ

    নায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় ২৯ বছর পর অপমৃত্যু থেকে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের আদেশ দিয়েছে আদালত।

    সোমবার ঢাকার ৬ষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক এ আদেশ দেন। সালমান শাহ’র মা নীলা চৌধুরীর আইনজীবী আবিদ হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

    এদিন চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় করা অপমৃত্যুর মামলায় তার মায়ের রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত।

    এ বিষয়ে সালমান শাহর বাবা কমর উদ্দিনের অভিযোগ এবং ঘটনায় জড়িত রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদের জবানবন্দি সংযুক্ত করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের জন্য রমনা মডেল থানা পুলিশকে আদেশ দিয়েছেন।

    ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান সালমান শাহ। অভিনেতার হঠাৎ মৃত্যুকে ‘আত্মহত্যা’ বলে দাবি করেন তার সাবেক স্ত্রী সামিরা হক। কিন্তু ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে মামলা করেন সালমানের বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী।

    ওই সময় অপমৃত্যুর মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি একসঙ্গে তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। সিআইডির চূড়ান্ত প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে ১৯৯৭ সালের ২৫ নভেম্বর সিএমএম আদালত সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনাকে ‘আত্মহত্যা’ বলে রায় দেন। যা প্রত্যাখ্যান করেন সালমান শাহর বাবা এবং পরবর্তীতে রিভিশন মামলা করেন।

    ২০০৩ সালে সেই রিভিশন মামলার বিচার বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়। দীর্ঘ ১১ বছর পর ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইমদাদুল হক ‘অপমৃত্যু’ উল্লেখ করে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

    এরপর ছেলের মৃত্যুর বিচারপ্রার্থী কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী মারা গেলে মামলার বাদী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী। ২০১৫ সালে তিনি সিএমএম আদালতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজির আবেদন করেন। তখন মামলাটি তদন্তের ভার পড়ে পিবিআইয়ের ওপর।

    ২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিবিআইয়ের পুলিশ পরিদর্শক সিরাজুল ইসলাম চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করলে ২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর আদালত ওই প্রতিবেদন গ্রহণ করে মামলাটি নিষ্পত্তি করেন।

    মামলার নিষ্পত্তি আদেশের বিরুদ্ধে ২০২২ সালের ১২ জুন ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে আবারও রিভিশন মামলা দায়ের করে বাদীপক্ষ। ওই রিভিশন মামলায় বলা হয়, একাধিক ব্যক্তির প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে হত্যাকে ধামাচাপা দেয়া হয়েছে। সুপরিকল্পিত হত্যাকে ‘আত্মহত্যা’ ও ‘অপমৃত্যু’ বলা হচ্ছে। তাই সত্য প্রতিষ্ঠায় সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

  • জবি ছাত্রদল নেতা হত্যার ঘটনায় তার ছাত্রী আটক

    জবি ছাত্রদল নেতা হত্যার ঘটনায় তার ছাত্রী আটক

    পুরান ঢাকার আরমানিটোলাতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ছাত্রদলের নেতা জুবায়েদ আহমেদকে হত্যার ঘটনায় তার ছাত্রীকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃত ছাত্রীর নাম বর্ষা আক্তার। তাকে বাসায় গিয়ে পড়াতেন জুবায়েদ।

    রোববার রাত ১১টা ২০ মিনিটের বর্ষাকে তার নিজ বাসা রাজধানীর বংশালে নূর বক্স রোডে রৌশান ভিলা থেকে আটক করা হয়। এছাড়া বাড়ির বাকি সদস্যদেরও কড়া নজরদারিতে রেখেছে পুলিশ।

    নিহত জুবায়েদ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী ছিলেন। এছাড়া শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য ছিলেন এবং কুমিল্লা জেলা ছাত্র কল্যাণের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

    টিউশনি করতে যাওয়ার পথে খুন হওয়া জুবায়েদের মরদেহ ঘটনাস্থল থেকে ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর মিডফোর্ট হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ।

    পুলিশ জানিয়েছেন, হত্যায় সন্দেহভাজনদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে। অতি দ্রুত খুনিদের আটক করে আইনের আওতায় আনা হবে।

  • আরমানিটোলা থেকে জবি শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার

    আরমানিটোলা থেকে জবি শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার

    পুরান ঢাকার আরমানিটোলার পানির পাম্প গলিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ১৫ তম ব্যাচের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য জুবায়েদ হোসাইনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

    রোববার সন্ধ্যার দিকে টিউশনিতে যাওয়ার পথে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা লাশটি দেখে পুলিশকে খবর দেন।

    মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, জুবায়েদ হোসাইন ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন। ওইখানে তার টিউশনের বাসা ছিল। এখনো মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আমরা তদন্ত করছি।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তাজাম্মুল হক বলেন, ঘটনা শোনামাত্রই আমি সেখানে গিয়েছি। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে ছুরিকাঘাতে মৃত্যু হয়েছে। আশপাশের সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বলেছি। তারা সেটি সংগ্রহ করার চেষ্টা করছেন

  • চৌগাছা সীমান্ত দিয়ে নারী-শিশুসহ ৯ বাংলাদেশি পুশব্যাক

    চৌগাছা সীমান্ত দিয়ে নারী-শিশুসহ ৯ বাংলাদেশি পুশব্যাক

    যশোরের চৌগাছা উপজেলার মাশিলা সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশুসহ নয় বাংলাদেশিকে পুশব্যাক করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। রবিবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে ভারতের বয়রা বিএসএফ ও বাংলাদেশের মাশিলা বিজিবি ক্যাম্পের মধ্যে পতাকা বৈঠকের পর তাদের বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পাঠানো হয়।

    পুশব্যাক হওয়া ব্যক্তিরা হলেন, বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার ফুড়িয়াখালি গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক খান (৪৭), তার স্ত্রী খাজিদা আক্তার (৩৫) ও ছেলে মাস্টার আব্দুল্লাহ খান (৮), সিলেট সদর উপজেলার ইয়াসমিন খাতুন (৩০), গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার রাজিয়া বেগম (৩০), ময়মনসিংহ সদর উপজেলার কাজল লিপি (৪৫), দিনাজপুরের বিরল উপজেলার লিটন খান (২৪), বোচাগঞ্জ উপজেলার সুনিল টুডু (২৬) ও জাহাঙ্গীর হোসেন (২২)।

    ৪৯ মাশিলা বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েক সুবেদার ফরিদ উদ্দিন বলেন, ভারতের বহেরা সীমান্তে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিএসএফ বিকেলে নয়জন বাংলাদেশিকে হস্তান্তর করে। পরে তাদের চৌগাছা থানা হেফাজতে দেওয়া হয়েছে।

    পুশব্যাক হওয়া আব্দুর রাজ্জাক খান জানান, তারা কেউ ভারতের গোয়ায়, কেউ হরিয়ানায় ও কেউ উত্তরখণ্ডে কাজ করতেন। সেখান থেকে বিএসএফ তাদের আটক করে ক্যাম্পে নিয়ে যায় এবং পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়।

    চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, সন্ধ্যায় নয়জন বাংলাদেশিকে পুশব্যাকের মাধ্যমে থানায় আনা হয়েছে। এ বিষয়ে পুলিশের আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

  • গোপালগঞ্জে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

    গোপালগঞ্জে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

    গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় পুকুরের পানিতে ডুবে মালিহা পাইক (২) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    আজ সকালে কোটালীপাড়া উপজেলার বান্দাবাড়ি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

    নিহত মালিহা পাইক কোটালীপাড়া উপজেলার বান্দাবাড়ি গ্রামের বায়জিদ পাইকের মেয়ে।

    কোটালীপাড়া থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার হাফিজুর রহমান জানান, শিশু মালিহা বাড়ির সামনের উঠানে খেলছিল। এ সময় সবার অজান্তে বাড়ির পাশের পুকুরে পড়ে যায়। পরে মালিহাকে অনেক খোঁজা-খুঁজির পর পুকুর থেকে উদ্ধার করে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মালিহাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    পরিবারের অবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

  • পদ্মায় ইলিশ ধরায় ৯ জে‌লে গ্রেপ্তার

    পদ্মায় ইলিশ ধরায় ৯ জে‌লে গ্রেপ্তার

    মা ইলিশ রক্ষায় সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার পদ্মা নদীতে মা ইলিশ শিকারের দায়ে ৯ জেলেকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

    মঙ্গলবার (০৭ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে দৌলতদিয়া নৌ-পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা এ অভিযান পরিচালনা করেন।

    এ সময় পদ্মা নদীর কলাবাগান এলাকা থেকে ৬ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও আনুমানিক ১০ কেজি মা ইলিশ জব্দ করা হয়। পরে ইলিশ স্থানীয় দৌলতদিয়া খানকা শরিফের এতিমখানায় বিতরণ করা হয়।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে দৌলতদিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ত্রিনাথ সাহা বলেন, মা ইলিশ রক্ষায় পদ্মা নদীতে আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছি। এরই ধারাবাহিকতায় ৯ জেলেকে আটক করে তাদের বিরুদ্ধে মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন মতে ২টি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাদের আদালত পাঠানো হয়েছে। সেই সাথে উদ্ধাকৃত জালগুলো আলামত হিসেবে রাখা হয়েছে।

  • নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও পদ্মার চরে ইলিশের বাজার

    নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও পদ্মার চরে ইলিশের বাজার

    মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকার ঘোষিত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলমান থাকলেও ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার পদ্মা নদীর চরে বসছে ইলিশের অস্থায়ী বাজার। নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে প্রশাসনের দুর্বলতা ও নজরদারির অভাবে প্রতিদিনই এ বাজার থেকে পাচার হচ্ছে বিপুল মা ইলিশ।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের মুন্সীরচরের মোল্লা কান্দিঘাট এলাকায় প্রতিদিন ভোর ও সন্ধ্যায় বসছে এ অবৈধ মাছের হাট। বাজারটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী বলে পরিচিত আক্কাস ও কুদ্দুস নামের দুই ব্যক্তি।

    জেলেরা নিষিদ্ধ সময়ে মাছ শিকার করে তা এই বাজারে এনে বিক্রি করেন, এবং পরে চোরাই পথে ইলিশ সরবরাহ করা হয় জেলার বিভিন্ন স্থানে, এমনকি পার্শ্ববর্তী মাদারীপুর জেলার শিবচরের কাজীরসুরা চর এলাকাতেও।

    অভিযুক্ত কুদ্দুসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে ক্রেতা পরিচয়ে আক্কাসের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করে সাংবাদিক। সাংবাদিককে জানান জানান, ১০-২০ কেজি ইলিশ দেওয়া যাবে। মাছ নিতে চাইলে মোল্লাকান্দি ঘাটে আসতে হবে। প্রশাসনিক তৎপরতা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই এলাকায় প্রশাসন আসে না। এখান থেকে মাছ নিতে কোনো ঝুঁকি নেই।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, দীর্ঘদিন ধরেই নিষেধাজ্ঞার সময় এ ধরনের অবৈধ বাজার বসে আসছে। প্রতিদিন ভোর ও সন্ধ্যায় এই বাজারে চলে ইলিশ বেচাকেনা। বাইক ও নৌকায় করে গোপনে এসব মাছ পাচার করা হচ্ছে জেলার বিভিন্ন এলাকায়।

    এ প্রসঙ্গে সদরপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, আমাদের জনবল সংকট রয়েছে। অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় নৌযানও নেই। উপরন্তু, অঞ্চলটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় প্রশাসনের সহযোগিতা ছাড়া সেখানে কার্যকর অভিযান চালানো সম্ভব নয়। আমরা শিগগির প্রশাসনের সহায়তায় অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

  • গাজীপুরে বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

    গাজীপুরে বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

    গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে দুই মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে প্রায় ১০ ঘণ্টা আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা।

    আজ শনিবার সকাল আটটা থেকে সন্ধ্যা পৌনে ছয়টা পর্যন্ত কোনাবাড়ী পল্লী বিদ্যুৎ জরুন আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে রাখেন স্বাধীন গার্মেন্টস লিমিটেডের শতাধিক শ্রমিক। এ সময় রাস্তাজুড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে পথচারী ও যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন।

    কারখানার শ্রমিকেরা জানান, স্বাধীন গার্মেন্টস লিমিটেডের শ্রমিকদের দুই মাস ধরে বেতন পরিশোধ করেনি কারখানা কর্তৃপক্ষ। বেতন পরিশোধ করা হবে বলে বারবার নোটিশ দেওয়া হলেও এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সর্বশেষ ৫ অক্টোবর কারখানা কর্তৃপক্ষ ১৮ অক্টোবর বেতন পরিশোধের তারিখ নির্ধারণ করে। পূর্বনির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী আজ সকালে শ্রমিকেরা কারখানার সামনে এসে দরজা বন্ধ দেখতে পান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁরা কারখানার সামনের আঞ্চলিক সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।

    কারখানার সুইং অপারেটর হাসি বেগম বলেন, ‘গত দুই মাস আমরা ডিউটি করেছি এবং ওভারটাইমও করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমাদের বেতন দেওয়া হয়নি। চলতি মাসও প্রায় শেষের দিকে। অনেক কষ্টে দিন যাচ্ছে। বাধ্য হয়ে রাস্তা অবরোধ করেছি।’

    স্বাধীন গার্মেন্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) কামরুজ্জামান বলেন, ‘শ্রমিকদের গত দুই মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ করার চেষ্টা করছি। কারখানার আর্থিক সংকটের কারণে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।’

    গাজীপুর শিল্প পুলিশের পরিদর্শক মোর্শেদ জামান বলেন, শ্রমিকেরা বকেয়া বেতনের দাবিতে সড়ক অবরোধ করেন। চলতি মাসের ২৪ তারিখে বেতন দেওয়া হবে বলে মালিকপক্ষ থেকে কারখানার প্রধান ফটকে একটি নোটিশ টাঙানো হয়েছে। তবে শ্রমিকেরা তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

  • সাফল্যের ধারাবাহিকতায় আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ

    সাফল্যের ধারাবাহিকতায় আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ

    সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে নরসিংদীর আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় প্রকাশিত ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলে প্রতিষ্ঠানটি থেকে অংশ নেওয়া ১ হাজার ৬৬৩ পরীক্ষার্থীর মধ্যে কৃতকার্য হয়েছেন ১ হাজার ৬৫৮ জন। তাঁদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৬৯৬ জন। শতকরা পাসের হার ৯৯ দশমিক ৭০।

    কলেজের প্রশাসনিক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ ২০১২ সাল থেকে টানা তিন বছর ঢাকা বোর্ডে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে। ২০১৫ সাল থেকে বোর্ড কর্তৃক সেরাদের তালিকায় না হলেও নিজেদের ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রেখেছে।

    এ বছর উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় মোট ১ হাজার ৬৬৩ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে ৫ জন অকৃতকার্য হয়েছেন। জিপিএ–৫ পেয়েছেন ৬৯৬ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১ হাজার ১৪১ জন অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪৮০ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ৩ জন। ব্যবসায় শিক্ষা শাখা থেকে ১৮৩ জন অংশ নিয়ে জিপিএ–৫ পেয়েছেন ৪৩ জন, অকৃতকার্য হয়েছেন ২ জন। মানবিক শাখা থেকে ৩৩৪ জন অংশ নিয়ে শতভাগ পাসসহ জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৭৩ জন।

    কলেজের অধ্যক্ষ হেরেম উল্লাহ আহসান বলেন, ‘আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। আমাদের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান আবদুল কাদির মোল্লার সরাসরি নির্দেশনায় নিয়মিত ক্লাস, বিশেষ ক্লাস, হোম ভিজিট, টিউটেরিয়াল, মাসিক পরীক্ষা, গাইড টিচারের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানসহ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি আমরা কঠোর পরিশ্রম করেছি। এই প্রতিষ্ঠানের ইতিহাসে কখনো এমন ফলাফল হয়নি। এবারের ঘাটতিগুলোয় গুরুত্ব দিয়ে ভবিষ্যতে পূর্বের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ফিরব ইনশা আল্লাহ।’

  • আলীকদমে মাইন বিস্ফোরণ

    আলীকদমে মাইন বিস্ফোরণ

    বান্দরবানের আলীকদম উপজেলা সীমান্তের শূন্যরেখায় মাইন বিস্ফোরণে এক বাংলাদেশি আহত এবং মিয়ানমারের এক নাগরিক নিহত হয়েছেন।

    মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ১০টায় পোয়ামুহুরী সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে হটাওমগপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    আহত বাংলাদেশি যুবকের নাম ম্যাংসার মোরং (৩০)। তিনি আলীকদমের কুরুকপাতা ইউপির গর্জনপাড়া এলাকার শাংওয়ান মোরংয়ের ছেলে। অপরদিকে নিহত মিয়ানমারের নাগরিকের নাম মেনথ্যাং (৪০)। তিনি দেশটির নতুন পাড়া এলাকার তাংলাইয়ের ছেলে বলে জানা যায়।

    স্থানীয় ও বিজিবি সূত্রে জানা যায়, জুম খেত দেখতে যাওয়ার সময় আরাকান আর্মির পুঁতে রাখা স্থল মাইন বিস্ফোরণের কবলে পড়েন তারা। এতে ঘটনাস্থলে থেকে আহত অবস্থায় বাংলাদেশি যুবক ম্যাংসার মোরং ফিরতে পারলেও ঘটনাস্থলেই নিহত হন মিয়ানমারের নাগরিক মেনথ্যাং। ঘটনাটি মিয়ানমারের অভ্যন্তরে হটাওমগপাড়া এলাকায় ঘটেছে।

    কুরুকপাতা ইউপি চেয়ারম্যান ক্রাতপুং ম্রো জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে তিনি ঘটনাটি শুনেছেন। ঘটনাস্থলটি অত্যন্ত দুর্গম এলাকায় হওয়ায় সেখানে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

  • ঝালকাঠিতে জমে উঠেছে পেয়ারার ভাসমান হাট

    ঝালকাঠিতে জমে উঠেছে পেয়ারার ভাসমান হাট

    বরিশালের ঝালকাঠি সদর উপজেলার কীর্ত্তিপাশা ইউনিয়নের ভীমরুলি খালে বসে ভাসমান পেয়ারার হাট। ভাসমান এ হাট দেখতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটক আসেন। এমনকি বিদেশি পর্যটকরাও পেয়ারা বাগান ও ভাসমান হাট দেখে মুগ্ধ হন।

    সম্প্রতি ভাসমান পেয়ারার বাজার দেখতে আসেন বাংলাদেশে নিযুক্ত আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত আবদেলোহাব সায়দানি। পরিদর্শন শেষে রাষ্ট্রদূত জানান, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ঐতিহ্যবাহী ভাসমান বাজার দেখে তিনি মুগ্ধ। আলজেরিয়ায় পেয়ারা উৎপাদিত হয় না। এখান থেকে পেয়ারা রপ্তানির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

    প্রতিদিন সকালে ছোট ছোট নৌকায় করে পেয়ারা বিক্রির জন্য এ হাটে আসেন চাষিরা। শ্রাবণ মাসের প্রথম থেকে ভাদ্র মাস পর্যন্ত পেয়ারার মৌসুম। এ সময় প্রতিদিনই এখানে পেয়ারা বিক্রি হয়। তবে অন্য দিনের তুলনায় শুক্রবার কেনাবেচা বেশি হয়। বর্তমানে মণপ্রতি পেয়ারা পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ৭০০-৮০০ টাকা। এখানে পেয়ারার পাশাপাশি আমড়া, লেবুসহ অন্যান্য ফল ও শাকসবজিও বিক্রি হয়। পর্যটককে বিনোদন দিতে বেসরকারি উদ্যোগে এখানের পেয়ারা বাগানের মধ্যে পার্ক গড়ে উঠেছে। শিশুদের খেলনাসহ বিভিন্ন রকমের বিনোদনের ব্যবস্থা রয়েছে এখানে।

    পেয়ারা চাষি পরিমল হালদার, বস্রজিৎসহ কয়েকজন জানান, এ বছর পেয়ারার ফলন তেমন ভালো হয়নি। দাম মোটামুটি ভালো পাওয়া যচ্ছে। বিগত বছরের চেয়ে এ বছর চাষিরা বেশি লাভবান হবেন। আমাদের প্রধান আয়ের মাধ্যম হলো পেয়ারা চাষ। এ বছর বৃষ্টি না হওয়ায় ফলন ভালো হয়নি। বিগত বছরগুলোতে প্রতিদিন ৪-৫ মণ পেয়ারা বিক্রি করেছি আর এ বছর ১০ থেকে ৬০ কেজি পেয়ারা বিক্রি করি।

    পেয়ারা আড়তদার সঞ্চয় হালদার বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আমাদের এখানে পাইকাররা পেয়ারা ক্রয় করার জন্য আসেন। বিগত বছরের তুলনায় এ বছর পেয়ারার দাম দ্বিগুণ কারণ পেয়ারার ফলন কম। এতে পাইকারদের তেমন লাভ হয় না।

  • খাগড়াছড়িতে যাত্রীবাহী বাস উল্টে নিহত ২

    খাগড়াছড়িতে যাত্রীবাহী বাস উল্টে নিহত ২

    খাগড়াছড়িতে যাত্রীবাহী বাস উল্টে গিয়ে দুইজন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে কমপক্ষে ১৩ জন। শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) বেলা সোয়া ১১টার দিকে ঢাকা-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক সড়কের সাপমারা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন, বাসটির সুপারভাইজার চৌধুরীপাড়া এলাকার বিন্দু চাকমার ছে‌লে অ‌নিল চাকমা (৩২) ও দী‌ঘিনালা কোবাখালী মুস‌লিমপাড়া এলাকার মৃত আব্দুল ক‌রিমের ছেলে আবদুর রাজ্জাক সওদাগর (৭২) ।

    পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালের দিকে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী শান্তি পরিবহনের একটি বাস সাপমারা এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ চেকপোস্টর পর পাহাড় নামার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এ ঘটনায় কমপক্ষে ১৩ জন আহত হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। আহতদের মধ্যে ৬ জনকে মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ৭ জনকে খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে পাঠায়।সহকারী পুলিশ সুপার কাজী ওয়াজেদ আলী বলেন, ঘটনাস্থল থেকে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে তাদের মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম চলমান আছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি উদ্ধার করে হেফাজতে আনা হয়েছে।

  • কক্সবাজার হবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের কেন্দ্র

    কক্সবাজার হবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের কেন্দ্র

    কক্সবাজারের উন্নয়ন কেবল জাতীয় ইস্যু নয়, এটি এখন বৈশ্বিক পরিপ্রেক্ষিতের অংশ, বঙ্গোপসাগরের অর্থনীতি ও আঞ্চলিক রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

    কক্সবাজারের পর্যটন, নিরাপত্তা, পরিবেশ, শিক্ষা ও অবকাঠামো—এই পাঁচ স্তম্ভেই টেকসই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ভরশীল।

    আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত ‘কক্সবাজারের উন্নয়নযাত্রার জোয়ার ভাটা: সমস্যা, সম্ভাবনা ও বৈশ্বিক পরিপ্রেক্ষিত’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এই অভিমত তুলে ধরেন।

    কক্সবাজার কমিউনিটি অ্যালায়েন্স (সিসিএডি) এ সংলাপের আয়োজন করে। রাজনীতিক, অর্থনীতিবিদ, প্রকৌশলী, শিক্ষাবিদ, আইনজীবী, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও মানবাধিকারকর্মীরা সংলাপে অংশ নেন।

    বক্তারা বলেন, কক্সবাজার এখন একটি গ্লোবাল হাব। এটি এখন আন্তর্জাতিক ব্যবসা, পর্যটন, নীল অর্থনীতি ও ভূরাজনৈতিক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দু। কক্সবাজারের উন্নয়ন এখন আর সম্ভাবনার প্রশ্ন নয়; বরং কৌশলগত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময় এসেছে।

    আলোচনায় অংশ নেন কক্সবাজার-২ (পেকুয়া-কুতুবদিয়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ, কক্সবাজার-৩ (সদর, রামু) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির নির্বাহী সদস্য মো. সহিদুজ্জামান, কোস্ট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম চৌধুরী, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফখরুল ইসলাম, এনসিপির সাংগঠনিক সমন্বয়ক এম এম সুজা উদ্দিন প্রমুখ।

    হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, রাষ্ট্রকে দেওয়ার মতো কক্সবাজারের অনেক কিছু আছে—অসীম প্রাকৃতিক সম্পদ, সমুদ্র অর্থনীতি ও সম্ভাবনাময় মানুষ। এই উন্নয়নকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে এনে জনগণ ও স্থানীয় নেতৃত্বের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে হবে।

    রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, আগামীর কক্সবাজার হবে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতির মূল কেন্দ্র হবে কক্সবাজার। কক্সবাজারের খনিজ নিয়ে প্রযুক্তিবান্ধব সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে।

  • মিরসরাইয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে প্রাণ গেল দুজনের

    মিরসরাইয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে প্রাণ গেল দুজনের

    চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে পৃথক দুই স্থানে ট্রেনে কাটা পড়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে ও সন্ধ্যায় জোরারগঞ্জ ও বারইয়ারহাট এলাকায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

    সীতাকুণ্ড রেল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) আশরাফ সিদ্দিকী এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

    জানা যায়, বিকেল ২টার দিকে উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ সোনাপাহাড় এলাকায় চট্টগ্রামমুখী রেললাইনের ডাউন লেনে খদিজা বেগম (৫৫) নামে এক নারী ট্রেনে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত খতিজা সোনাপাহাড় এলাকার একটি দরগা থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে চট্টগ্রামগামী আন্তঃনগর সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় তার মৃত্যু হয়। নিহত খতিজা বেগম উপজেলার ৮ নম্বর দুর্গাপুর ইউনিয়নের রায়পুর গ্রামের মোহাম্মদ হানিফের স্ত্রী।

    অন্যদিকে একই দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে জোরারগঞ্জ থানাধীন বারইয়ারহাট কলেজ গেইট এলাকায় ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাতপরিচয় আনুমানিক ২৫ বছর বয়সী এক যুবক নিহত হন। দুর্ঘটনায় তার দেহের বিভিন্ন অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, ফলে তাৎক্ষণিকভাবে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

    ঘটনার পর রেলওয়ে পুলিশ দুই মরদেহ উদ্ধার করে।

  • চাঁদপুর কিশোর গ্যাংসহ ১২ জন আটক

    চাঁদপুর কিশোর গ্যাংসহ ১২ জন আটক

    চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে যৌথবাহিনী পরিচালিত বিশেষ অভিযানে সাত কিশোর গ্যাং সদস্যসহ ১২ জনকে আটক করেছে যৌথবাহিনী। বৃহস্পতিবার সকালে এক প্রেস রিলিজে এমন তথ্য নিশ্চিত করেছে আর্মি ক্যাম্প।

    বুধবার রাতে হাজীগঞ্জ পৌরসভার টোরাগড় হামিদিয়া জুট মিল এলাকার চিহ্নিত কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য রবিউল আহম্মেদ, মাঈনুদ্দিন খান, বিল্লাল কাজী, কাজী পলাশ, হৃদয় হোসেন, শফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়।

    এ সময় তাদের কাছ থেকে ৪টি ছুরি, ১টি চায়নিজ কুড়াল ও তিনটি স্থানীয়ভাবে তৈরি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হাজীগঞ্জ থানায় পাঠানো হয়।

    পৃথক অভিযানে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিত্যক্ত ভবনে মাদক সেবনকালে তিনজনকে আটক করা হয়। তারা হলেন, হিরণ, রাশেদ ও শফিউল আলম। এছাড়া টোরাগড় এলাকা থেকে ২০ পিস ইয়াবাসহ শামীম হোসেন ও ৫০ পিস ইয়াবাসহ পলি বেগমকে আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হাজীগঞ্জ থানায় পাঠানো হয়।

    হাজীগঞ্জ থানা ওসি মহিউদ্দিন ফারুক বলেন, আটকদের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা করে চাঁদপুর আদালতে পাঠানো হবে।

  • বগুড়ার সারিয়াকান্দির ‘চর ধারাবর্ষা’ হতে পারে সম্ভাবনাময় পর্যটন এলাকা 

    বগুড়ার সারিয়াকান্দির ‘চর ধারাবর্ষা’ হতে পারে সম্ভাবনাময় পর্যটন এলাকা 

    .বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার নদীর কোল ঘেঁষে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ভরপুর চর ধারাবর্ষা। যেন নৈসর্গিক সৌন্দর্যের পসরা সাজিয়ে বসে আছে চরটি। এখানে পা রাখতেই কানে বাজবে শোঁ শোঁ শব্দ। মূলত বাতাসে বিভিন্ন গাছের পাতার নাচনে এমন শব্দ তৈরি হয়।

    মাঝেমধ্যে গর্জন করে বিভিন্ন শ্যালো মেশিন চালিত নৌকা চলে যাচ্ছে বিভিন্ন জায়গায়। হালকা শব্দে নিজের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে নদীর ঢেউ।

    সেই গর্জনের সঙ্গে পাখির কলকাকলি মিশে অন্যরকম এক আবহ সৃষ্টি করছে। শুধু তাই নয়, সকাল বেলায় পূর্বগগনে নদীর বুক চিরে জেগে ওঠা রক্তলাল সূর্য, বেলা শেষে পশ্চিম আকাশে তার হেলে পড়ার দৃশ্য উপভোগ করারও অতুলনীয় স্থান চর ধারাবর্ষা। বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি বোহাইল ইউনিয়নের যমুনা নদীতে বন অধিদপ্তরের তও্বাবধায়নে গাছ লাগিয়ে নদীতে জেগে ওঠা চরটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি হিসেবে জনপ্রিয় হতে শুরু করেছে।

    প্রতিদিন হাজারো পর্যটক ভিড় করছেন এখানে। যত্নআত্তি করলে সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে ধারাবর্ষা। চরটিতে রয়েছে কয়েক লক্ষ গাছ। পর্যটনের ব্যাপক সম্ভাবনা থাকলেও যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ রয়েছে নানা সংকট। তবু সেই সংকট উপেক্ষা করেই প্রকৃতির নয়নাভিরাম চর ধারাবর্ষা পর্যটকের মিলন মেলায় পরিণত হচ্ছে। পৃষ্ঠপোষকতা পেলে উওরবঙ্গের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে এই চর।

  • বীরগঞ্জে হত্যা মামলায় ৬ আ.লীগ নেতা কারাগারে

    বীরগঞ্জে হত্যা মামলায় ৬ আ.লীগ নেতা কারাগারে

    বিডি নিউজ ডেস্ক:
    ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

    দিনাজপুরের বীরগঞ্জে শিবির কর্মী সালাউদ্দীন ও আসাদুল ইসলাম হত্যা মামলায় আ.লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুর ইসলাম নূর (৫৪), সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এমএ খালেক (৫৬) ও রেজাউল করিম শেখ (৫২)সহ ৬ নেতাকে কারাগারে প্রেরণ করেছে আদালত

    গ্রেপ্তারকৃত অন্যরা হলেন শতগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি অব. প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা (৬২), মো. আমিনুল ইসলাম (৫৫) ও যুবলীগ মরিচা ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক শফিউল আজম (৪৫)। বিকেলে তাদেরকে দিনাজপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

    বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক মো. আমিনুল ইসলাম।

    সূত্র মতে জানা যায়, গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর বীরগঞ্জ উপজেলার ভগিরপাড়া গ্রামের আবুল কালাম আজাদের স্ত্রী জহুরা বেগম বাদী হয়ে বীরগঞ্জ থানায় তার দুইপুত্রের হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য মনোরঞ্জনশীল গোপালসহ ২৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও প্রায় শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়।

    এজাহারে বলা হয়, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন বীরগঞ্জের ভেলাপুকুর এলাকায় আসামিদের হামলায় শিবির কর্মী সালাউদ্দিন (১৬) ও আসাদুল হক (১৫) গুরুতর আহত হন। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনই মারা যায়। তৎকালীন সময়ে পুলিশ মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানায় কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত বছর মামলাটি দায়ের করা হয়।

    বীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুল গফুর জানান, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

  • চৌগাছায় বিএনপির যৌথসভা অনুষ্ঠিত

    চৌগাছায় বিএনপির যৌথসভা অনুষ্ঠিত

    যশোরের চৌগাছায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৮ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় শহরের ডিভাইন সেন্টারে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সালামের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও হাকিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুল হাসানের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন।

    সভায় আরও বক্তব্য রাখেন যশোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান খান, ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য সাবিরা নাজমুল মুন্নি, জেলা বিএনপির সদস্য ও চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জহুরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সদস্য, যশোর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট ইসাহক আলী, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ইউনুস আলী দফাদার, সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক, পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র সেলিম রেজা আওলিয়ার এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম চঞ্চল।

    সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক এম এ মান্নান, সদস্য সচিব আরিফুল ইসলাম ওয়াসিম, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান, সদস্য সচিব আবু বকর সিদ্দিক, উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি আজগর আলী, সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর রহমান, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ইমন হাসান রকি প্রমুখ।

    এসময় উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • শাহজালাল বিমানবন্দরে বিমান ওঠানামা বন্ধ

    শাহজালাল বিমানবন্দরে বিমান ওঠানামা বন্ধ

    হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কার্গো ভিলেজের একটি অংশে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বিমানবন্দরে বিমান ওঠানামা সাময়িক স্থগিত ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। অগ্নকাণ্ডের কারনে ঢাকার একটি ফ্লাইট সিলেটে নেমেছে।

    শনিবার (১৮ অক্টোবর) বিকাল সাড়ে ৩টায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) জনসংযোগ কর্মকর্তা কাওসার মাহমুদ।

    এর আগে দুপুর ২টা ১৫ মিনিটের দিকে বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ এলাকায় আকস্মিকভাবে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। আগুন নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে ফায়ার সার্ভিসের ২৬টি ইউনিট কাজ করছে। কার্গো ভিলেজের এ অংশে আমদানি করা পণ্য মজুত রাখা হয়।

    শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার পরপরই বিমানবন্দর ফায়ার সেকশন, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ফায়ার ইউনিট এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সম্মিলিতভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।

  • নিঝুমদ্বীপে বালু উত্তোলন, বিএনপির ৬ নেতাকর্মীর নামে মামলা

    নিঝুমদ্বীপে বালু উত্তোলন, বিএনপির ৬ নেতাকর্মীর নামে মামলা

    নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের সমুদ্র সৈকত থেকে বালু উত্তোলনের অভিযোগে বিএনপির ৬ নেতাকর্মীর নামে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ৪–৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

    শনিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম আজমল হুদা। এর আগে বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) জাহাজমারা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে হাতিয়া থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

    আসামিরা হলেন, নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সাবেক সহ সভাপতি মো. শাহেদ উদ্দিন, নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এনায়েত হোসেন, হাতিয়া উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য রাসেল, নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়ন বিএনপির কর্মী আব্দুর রহিম ও সমর্থক আফছার উদ্দিন।

    এজহারে উল্লেখ করা হয়, আসামিরা নিঝুমদ্বীপ নামার বাজারের পশ্চিম-দক্ষিণ পাশে অবস্থিত সরকারি সমুদ্র সৈকত এলাকায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে অন্যায়ভাবে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে মিলিত হয়। পরবর্তীতে তারা সরকারি সি-বিচ এলাকায় জোরপূর্বক প্রবেশ করে ড্রেজার মেশিন স্থাপন করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করতে থাকে।

    এ সময় ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির বালু উত্তোলনে বাধা দিলে আসামিরা তাকে গালাগাল করে এবং খুন-জখমের হুমকি দেয়। তাদের এই অবৈধ কর্মকাণ্ডে সরকারের প্রায় ১০ (দশ) লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

    এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) বিএনপি মনোনীত এমপি প্রার্থী ও সাবেক উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. শাখাওয়াত হোসেনের বন্দোবস্ত জমিতে চাষাবাদের জন্য বালু অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার কাজ পান নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়ন বিএনপির কর্মী আব্দুর রহিম। তিনি নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেনের ড্রেজার মেশিন ভাড়া নিয়ে বালু উত্তোলন করেন। বালু উত্তোলনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। তারপর প্রশাসন বালু উত্তোলন বন্ধ করেন এবং সরঞ্জাম জব্দ করে মামলা দায়ের করেন।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা ঢাকা পোস্টকে বলেন, সাবেক বিএনপি সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও আব্দুর রহিম নিঝুম দ্বীপ সী-বীচ এলাকা থেকে অবৈধভাবে ড্রেজিং মেশিন বসিয়ে বালি উত্তোলন করেছে। যা দ্বীপের পরিবেশ ও উপকূলীয় জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি।

    এ বিষয়ে সাবেক উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমার বন্দোবস্ত জমিতে ধান হয়। কিন্তু জোয়ারে বালু আসায় ধান চাষ করতে কষ্ট হচ্ছিল। তাই বালু উত্তোলনের জন্য আব্দুর রহিমকে দায়িত্ব দিয়েছি। কে বা কারা গুজব বানিয়ে ফেসবুকে লেখালেখি করেছে এবং প্রশাসন বালু উত্তোলন বন্ধ করেছে।

    হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম আজমল হুদা বলেন, মামলা দায়ের হয়েছে। এজহারভুক্ত আসামি ৬ জন এবং অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।

  • কাউখালীতে জামায়াতের নির্বাচনী প্রচারণা

    কাউখালীতে জামায়াতের নির্বাচনী প্রচারণা

    রাঙ্গামাটির কাউখালী উপজেলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে দিনব্যাপী ব্যাপক নির্বাচনী প্রচারণা চলিয়েছ। আজ সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামীণ জনপদে এই প্রচারণা চালায় চালায়।

    দিনব্যাপী প্রচারণার নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত রাঙ্গামাটি-২৯৯ নং আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোখতার আহম্মদ। এসময় তিনি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ, পথসভা ও মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।

    প্রচারণাকালে তিনি জনগণের উদ্দেশে বলেন, “আমরা জনগণের ভোটে বিজয়ী হয়ে ন্যায়, ও সুশাসনের ভিত্তিতে একটি কল্যাণকর সমাজ গড়ে তুলতে চাই। জনগণের প্রত্যাশা পূরণই হবে আমাদের মূল লক্ষ্য। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে মানুষের অধিকার ও মর্যাদা সর্বাধিক অগ্রাধিকার পাবে।”

    এ সময় তিনি নৌকা, পাহাড় ও নদীর জনপদ কাউখালীর উন্নয়ন, শিক্ষার প্রসার, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, কৃষি ও পর্যটন খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগানোসহ নানা উন্নয়ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।

    প্রচারণার সময় দলিটর স্থানীয় নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • শিক্ষকদের আন্দোলন ইস্যুতে বিএনপির হুঁশিয়ারি

    শিক্ষকদের আন্দোলন ইস্যুতে বিএনপির হুঁশিয়ারি

    শিক্ষকদের চলমান আন্দোলন ও দাবির পক্ষে সমর্থন জানিয়ে অপচেষ্টা প্রতিহতের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

    তিনি বলেছেন, বিএনপি শিক্ষকদের ন্যায্য দাবির সঙ্গে নীতিগতভাবে একমত। তবে এই আন্দোলনকে পুঁজি করে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মাধ্যমে অপচেষ্টা চালালে তা প্রতিহত করা হবে।

    শনিবার (১৮ অক্টোবর) বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. তাইফুর ইসলাম টিপু স্বাক্ষরিত প্রেস বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়।দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বরাতে মির্জা ফখরুল ইসলাম জানান, দেশের একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি শিক্ষকদের ন্যায্য দাবির সঙ্গে নীতিগতভাবে একমত। সহজভাবে শিক্ষকদের জন্য তাদের অঙ্গীকার হলো— মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শিক্ষকদের চাকরির নিরাপত্তা, শিক্ষকদের সর্বোচ্চ সামাজিক মর্যাদা এবং তাদের অবদানের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি।বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিএনপি বিশ্বাস করে রাষ্ট্র ও জাতির সাংগঠনিক কিংবা নাগরিক উন্নয়নে আমাদের যত উদ্যোগই গ্রহণ করি না কেন শিক্ষাব্যবস্থাপনায় আধুনিকায়ন এবং শিক্ষকদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করা না গেলে কাঙ্ক্ষিত সফলতা পাওয়া যাবে না।

    জনগণের ভোটে বিএনপি আবারও রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে রাষ্ট্রের আর্থিক অনুকূলতা শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি, চাকরির স্থায়ীকরণ এবং সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পর্যায়ক্রমে জাতীয়করণের বিষয়ে ইতিবাচকভাবে বিবেচনার বিষয়ে বিএনপির কোনো দ্বিমত নেই।

    তবে শিক্ষকদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আন্দোলনের ছদ্মবেশে পড়ে কোনো স্বৈরাচারী সহযোগী পরিকাঠামো নিঃস্বার্থভাবে গড়ে তোলার (দেশের) দায়িত্বশীল করে তোলার মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক উত্তরণের কোনো প্রয়াস প্রতিহত করার প্রচেষ্টা চালালে সেটি প্রতিহত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি কোনো নমনীয়তা দেখাবে না বলেও জানানো হয়।

  • এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ‘কালো পতাকা মিছিল’

    এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ‘কালো পতাকা মিছিল’

    মূল বেতনের ২০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া ভাতা, চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধি এবং সব বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলনরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা ‘কালো পতাকা মিছিল’ করেছে।

    শনিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুর সোয়া ১২টায় জাতীয় শহীদ মিনার থেকে মিছিল শুরু হয়ে হাইকোর্টের সামনে কদম ফোয়ারা সংলগ্ন সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে।

    গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন মিছিলে সংহতি প্রকাশ করেছেন। আন্দোলনকারীদের মধ্যে একটি অংশ শহীদ মিনারে ‘আমরণ অনশন’ চালিয়ে যাচ্ছেন।

    শিক্ষক-কর্মচারীরা দাবি, বাড়ি ভাড়া ভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশ, চিকিৎসা ভাতা ৫০০

    টাকা থেকে ১,৫০০ টাকা করা হোক এবং উৎসব ভাতা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হোক। এছাড়া তারা সব বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের দাবিও জানিয়েছেন।

    আগামী রোববার তারা ‘মার্চ টু যমুনা’ কর্মসূচি পালন করবেন। এ পর্যন্ত আন্দোলন চলাকালীন তারা কর্মবিরতি, লংমার্চ এবং সড়ক অবরোধের মতো কর্মসূচি পালন করেছেন।

  • শাহজালাল বিমানবন্দরে ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে ২৮ ইউনিট

    শাহজালাল বিমানবন্দরে ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে ২৮ ইউনিট

    হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো এলাকায় ভয়াবহ আগুনের ঘটনা ঘটেছে। এই আগুন নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে সেনা ও নৌবাহিনীসহ ফায়ার সার্ভিসের ২৮ টি ইউনিট।

    শনিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুর সোয়া ২টার দিকে আকস্মিকভাবে এ আগুনের সূত্রপাত ঘটে।

    হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালকের মুখপাত্র মো. মাসুদুল হাসান মাসুদ জানান, কার্গো ভিলেজের পাশে একটি অংশে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীসহ বিমানবন্দের দায়িত্বরতরা কাজ করছে।

    শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার পরপরই বিমানবন্দর ফায়ার সেকশন, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ফায়ার ইউনিট এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সম্মিলিতভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কার্যক্রম শুরু করে।

    বিমানবন্দরের সব ফ্লাইট অপারেশন বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে জানিয়ে সবাইকে নিরাপদ এবং সচেতন থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

  • ময়মন সিংহের ১৫ কলেজে শতভাগ ফেল!

    ময়মন সিংহের ১৫ কলেজে শতভাগ ফেল!

    ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে এবার পাসের হার ৫১ দশমিক ৫৪ শতাংশ। এটি গত চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এবার জিপিএ–৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে। বোর্ডে শতভাগ পাশ করেছে ৩ টি কলেজে। কেউ পাশ করেনি ১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।

    ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য দেন বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. শহীদুল্লাহ।

    প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, এবার এইচএসসি পরীক্ষার জন্য ৩০৬টি প্রতিষ্ঠানের ৭৯ হাজার ২৩৭ শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেন। পরীক্ষায় অংশ নেন ৭৫ হাজার ৮৫৫ জন। এই শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাস করেছেন ৩৯ হাজার ৯৬ জন। পাসের হার ৫১ দশমিক ৫৪ শতাংশ। বোর্ডে এবার জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ৬৮৪ শিক্ষার্থী। শাখাভিত্তিক পাসের হার সবচেয়ে কম ব্যবসায় শিক্ষা শাখায়।

    শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ, জেলার ঈশ্বরগঞ্জের চরজিথর হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং নেত্রকোনার খালিয়াজুরি উপজেলার আবদুল জব্বার রাবেয়া খাতুন গার্লস হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ।

    ১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কেউ পাস করেননি। এর মধ্যে ময়মনসিংহের ৭টি, জামালপুরের ২টি, শেরপুরের ২টি ও নেত্রকোনার ৪টি কলেজ আছে। এই ১৫টি কলেজ থেকে পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন ১৩২ জন। এর মধ্যে ১০ জনের বেশি পরীক্ষার্থী ছিল চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। বাকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় শিক্ষার্থী ২ থেকে ৯–এর ঘরে ছিল।

    এবার জিপি এ ৫ পেয়েছে ২ হাজার ৬৪৮ জন। এ বছর পাসের হার ৫১ দশমিক ৫৪।

  • কুমিল্লায় ১০০ শয্যার বিশেষায়িত হাসপাতাল চালু

    কুমিল্লায় ১০০ শয্যার বিশেষায়িত হাসপাতাল চালু

    কুমিল্লা নগরের বিষ্ণুপুর মুন্সেফ কোয়ার্টার এলাকায় চালু হয়েছে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট ‘খায়রুন্নেসা-ইব্রাহিম জেনারেল হাসপাতাল’। বিশেষায়িত এই হাসপাতালে উন্নতমানের স্বাস্থ্যসেবা পাবেন ডায়াবেটিক রোগীরা। পাশাপাশি সব রোগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা ও অত্যাধুনিক ডায়াগনস্টিক সেবাও মিলবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

    শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) সকালে এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে হাসপাতালটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন অর্ন্তবর্তী সরকারের মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ। ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন তিনি। উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেন, এই হাসপাতাল কুমিল্লার স্বাস্থ্যসেবায় নতুন দিগন্ত সৃষ্টি করবে। ঢাকায় গিয়ে নয়, এখন থেকে কম খরচে কুমিল্লাতেই ডায়াবেটিকসহ যেকোনো রোগের উন্নত সেবা পাবেন রোগীরা।’হাসপাতালটি নির্মাণ করেছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সমাজসেবা অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি। কুমিল্লার বাসিন্দা জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক সচিব প্রয়াত এ টি এম শামসুল হক এই প্রতিষ্ঠান নির্মাণের জন্য ১ দশমিক ২৫ একর) সম্পত্তি বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতিকে দান করেছেন।

    হাসপাতালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অথিতির বক্তব্য দেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আবু ইউসুফ।

    বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক এ কে আজাদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির মহাসচিব মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন, ন্যাশনাল হেলথকেয়ার নেটওয়ার্ক (এনএইচএন) বোর্ড অব অ্যাডভাইজার্সের চেয়ারম্যান সৈয়দ রেজওয়ানুল কবির, কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এ বি এম মশিউজ্জামান, জেলার ডেপুটি সিভিল সার্জন রেজা মো. সারোয়ার আকবর, অধ্যাপক হাজেরা মাহাতাব, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত এটিএম শামসুল হকে সহধর্মিণী রাবেয়া হক, ন্যাশনাল হেলথকেয়ার নেটওয়ার্কের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডা. এম এ সামাদ প্রমুখ।

  • লক্ষীপুরে অর্ধশতাধিক বিএনপি নেতা-কর্মীর জামায়াতে যোগদান

    লক্ষীপুরে অর্ধশতাধিক বিএনপি নেতা-কর্মীর জামায়াতে যোগদান

    লক্ষ্মীপুরে অর্ধশতাধিক কর্মী–সমর্থক নিয়ে বিএনপি নেতা হোসেন আহমেদ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন। শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) রাতে সদর উপজেলার চররুহিতা ইউনিয়নের নবীগঞ্জ বাজার এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি জামায়াতে যোগ দেন।

    হোসেন আহমেদ চররুহিতা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

    অনুষ্ঠানে চররুহিতা ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর ওমর ফারুক, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শফিকুল ইসলামসহ স্থানীয় জামায়াত নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

    জামায়াত নেতা ওমর ফারুক বলেন, ‘হোসেন আহমেদ অর্ধশতাধিক কর্মী–সমর্থক নিয়ে জামায়াতে যোগ দিয়েছেন।’

    নতুন সদস্য হোসেন আহমেদ বলেন, ‘শেখ হাসিনার পতনের পরও আমি বিএনপি করতাম। পরে বুঝেছি, বিএনপির সঙ্গে ইসলামী আদর্শের কোনো সম্পর্ক নেই। একজন মুসলিম হিসিবে ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য জামায়াতে যোগ দিয়েছি।

  • ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, আহত ৩০

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, আহত ৩০

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে পুকুরে গোসলকে কেন্দ্র করে শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) রাতে ছোট দেওয়ানপাড়া ও হাওলাপাড়া গ্রামের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন।

    স্থানীয়রা জানান, দুপুরে হাওলাপাড়া গ্রামের তাইম কয়েকজন বন্ধু নিয়ে ছোট দেওয়ানপাড়া গ্রামের একটি পুকুরে গোসল করতে যান। এ সময় ছোট দেওয়ানপাড়ার শাকিল ও শিপনসহ কয়েকজন হাওলাপাড়ার তরুণদের মারধর করে। এরপর রাতের আঁধারে দুই গ্রামবাসী দেশীয় অস্ত্র, বল্লম ও টেঁটা ব্যবহার করে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। তারা টর্চ লাইট জ্বালিয়ে একে অপরের উপর হামলা চালায়। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, ইট-পাটকেল নিক্ষেপে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিনত হয়।

    সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোশারফ হোসাইন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘণ্টাব্যাপী চেষ্টা চালিয়ে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনে। ফের সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

  • জুলাই সনদে স্বাক্ষর না করার কারণ জানােলা এনসিপি

    জুলাই সনদে স্বাক্ষর না করার কারণ জানােলা এনসিপি

    ঐতিহাসিক জুলাই সনদে স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নেয়নি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এর কারণ জানিয়েছেন দলটির সদস্যসচিব আখতার হোসেন।

    শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) বিবিসি বাংলার সঙ্গে আলাপকালে অংশ না নেওয়ার কারণ জানান তিনি।

    তিনি বলেন, জুলাই সনদের বেশ অনেকগুলো দিক নিয়ে স্বাক্ষরের আগেই সরকারের দিক থেকে নিশ্চিত হতে চাইলেও সনদ ‘বাস্তবায়নের পথটাই’ অনুল্লেখ থেকে যায়। সনদে ধোঁয়াশা থাকলে আমাদের সব অর্জন বিফলে যাবে। এজন্য আমরা আজকের সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থেকেছি।

    আখতার হোসেন বলেন, সনদের বিষয়ে অমীমাংসিত দিকগুলোর সমাধান না হলে ‘জনগণকে সাথে নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত’ নেওয়া হবে। সনদ ঘিরে সক্রিয় ভূমিকা থাকলেও এখন যেসব অর্জন রয়েছে, সেগুলো কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে তার বিস্তারিত যেন জনগণের সামনে প্রকাশ করা হয় বলেও দাবি জানান তিনি।

    তিনি বলেন, আমরা যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছি, সনদে যতটুকু অর্জিত হয়েছে সেটাকে টেকসইভাবে বাস্তবায়ন, সনদের ড্রাফট আদেশের প্রাপ্তি, গণভোটের বিষয়ে ফয়সালা, নোট অফ ডিসেন্টের (আপত্তি) জায়গাগুলো পরিষ্কার করা– এসব বিষয়ে কমিশনের সঙ্গে আলাপ অব্যাহত থাকবে। প্রয়োজনে জনগণকে সাথে নিয়ে আমাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করব।

    এর আগে জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) না থাকাকে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ বলে উল্লেখ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এনসিপির বিচক্ষণতার অভাব রয়েছে।

    বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমাদের সঙ্গে আলোচনায়, ঐকমত্য কমিশনে যে আলোচনা হয়েছে, তারা প্রায় সব ব্যাপারে পজিটিভ ছিল। যে ব্যাপারটাতে সমস্যা আছে সেটা আলোচনার মাধ্যমে… পরেও তারা এ ব্যাপারে আলোচনা করতে পারত… সেটা নিয়ে আমরা পরে আরও বসতে পারতাম, কথা বলতে পারতাম। আমি মনে করি যে, এটা বিচক্ষণতার অভাবে হয়েছে। নাহলে তারা অবশ্যই এটা আজকে সই করত।

    মির্জা ফখরুল বলেন, এটা বিভক্তি নয়। তারা ভুল বুঝতে পারবে এবং সঠিক জায়গায় এসে পৌঁছাবে। বিতর্কের জায়গা রয়ে গেল কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা কখনো কোনো দেশেই, কোনো কালেই পিছু ছাড়বে না। আর দুর্ভাগ্যক্রমে আমাদের স্বভাব হচ্ছে যে, আমরা বিতর্ক করতে খুব পছন্দ করি। তবে সবকিছুর মধ্যেই যা হয়েছে, তা ‘গ্রেট এচিভমেন্ট’ বা বড় অর্জন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

  • নারী টি-টোয়েন্টিতে ৩৪ বলে সেঞ্চুরি!

    নারী টি-টোয়েন্টিতে ৩৪ বলে সেঞ্চুরি!

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    স্বীকৃত নারী টি–টোয়েন্টিতে দ্রুততম সেঞ্চুরির বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন কিরন নাবগিরে। আজ ভারতের সিনিয়র উইমেন্স টি–টোয়েন্টি ট্রফিতে ৩৪ বলে সেঞ্চুরি করেছেন তিনি। বিশ্ব রেকর্ড গড়ার পথে নাবগিরে ভেঙেছেন সোফি ডিভাইনের ৩৬ বলে সেঞ্চুরির রেকর্ড।

    ১৭ সেপ্টম্বর নাবগিরে শুধু নতুন রেকর্ডই গড়েননি, পাঞ্জাব উইমেন্সের বিপক্ষে ১১০ রান তাড়ায় মহারাষ্ট্রের হয়ে একাই করেছেন ১০৬ রান। তাঁর ৩৫ বলের ইনিংসে ছিল ১৪টি চার ও ৭টি ছক্কা।

    ১০৩ রানের অবিচ্ছিন্ন দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে মুক্তার অবদান ১০ বলে ৬ রান। অন্য প্রান্তে রীতিমতো ঝড় তুলেছেন নাবগিরে। ৩৪ বলে তিন অঙ্ক স্পর্শ করে গড়ে ফেলেন বিশ্ব রেকর্ডই। এর আগে ২০২১ সালে নিউজিল্যান্ড জাতীয় নারী দলের অধিনায়ক ডিভাইন ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় ওয়েলিংটনের হয়ে ওটাগোর বিপক্ষে ৩৬ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন।

    নাবগিরে ব্যাট করেছেন ৩০২.৮৬ স্ট্রাইক রেটে। নারী ক্রিকেটে ৩০০‍+ স্ট্রাইক রেটে সেঞ্চুরির প্রথম কীর্তি এটি।

  • জুলাই সনদ স্বাক্ষর একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা: মির্জা ফখরুল

    জুলাই সনদ স্বাক্ষর একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা: মির্জা ফখরুল

    জুলাই সনদ স্বাক্ষর বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই সনদ স্বাক্ষর শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এই প্রতিক্রিয়া জানান তিনি।

    বিএনপি মহাসচিব বলেন, অন্তবর্তীকালীন সরকার যে কমিশনগুলো গঠন করেছিলেন সেগুলো প্রায় দীর্ঘ ৮ মাস পরিশ্রম করে আজকে এই সনদ (জুলাই সনদ) স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।

    তিনি এজন্য প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, রাজনৈতিক দল এবং জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ও বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদসহ সব দলের সদস্যদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

  • জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে যা বলল জামায়াত

    জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে যা বলল জামায়াত

    জুলাই সনদ স্বাক্ষরের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এর আইনি ভিত্তি এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিশ্চিতের ওপর জোর দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, আজকের স্বাক্ষরের মাধ্যমে আমরা সনদে একমত হয়েছি, তবে এর আইনি ভিত্তি এখনো বাকি রয়েছে। সরকারের উচিত তা দ্রুত নিশ্চিত করা।

    শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জুলাই সনদ স্বাক্ষর শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি।

    এদিকে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘পাঁচদিন অব্যাহতভাবে আমরা আলোচনা করেছি। সমাপনী সেশনে ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ সাহেব কনক্লুশান দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি বলেছেন, বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার ওপর একটা সুপারিশমালা তৈরি হবে, সেটার খসড়া আমরাও পাবো, সরকারের কাছেও যাবে। কিন্তু আমরা উনাদের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করেও পাইনি। আজকেও কথা বলেছি, সেই জায়গা থেকে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াটা জাতির কাছে অস্পষ্ট রয়ে গেল।’

    ‘আমরা বলেছি আইনি ভিত্তি দিতে হবে। আইনি ভিত্তি যদি না দেন তাহলে এই সনদটা, বিপ্লবের স্পিরিট, ঐকমত্যে পৌঁছানোর জন্য যে সংস্কার সেই উদ্দেশ্যটা ব্যবহত হবে এবং অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। এজন্য আমরা আইনি ভিত্তির জন্য আগেও বলেছি, একটা আদেশ জারি করতে হবে এবং গণভোটের মাধ্যমে এটা টেকসই করতে হবে’-যোগ করেন আযাদ।

    ডা. তাহেরও আইনগত স্বীকৃতির ওপর জোর দিয়ে যোগ করেন, সনদে স্বাক্ষর করা হলেও আইনগত স্বীকৃতি না থাকায় এর কার্যকরী প্রয়োগ এখনো সম্পন্ন হয়নি। দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মিটিংয়ে যে নীতি ও দৃষ্টিভঙ্গি নির্ধারিত হয়েছে, সেটি যেন সরকার দ্রুত বাস্তবায়ন করে।
    জামায়াতের এ নেতা সতর্ক করে বলেন, যদি সরকার ডিলে করে বা এমন কিছু চিন্তা করে, তাহলে সেটা আবার জুলাইয়ের সাথে জাতীয় গাদ্দারি হিসেবে বিবেচিত হবে এবং নতুন রাজনৈতিক জটিলতা সৃষ্টি করবে।

  • কী আছে জুলাই সনদের অঙ্গীকারনামায়?

    কী আছে জুলাই সনদের অঙ্গীকারনামায়?

    বহুল আকাঙ্ক্ষিত জুলাই জাতীয় সনদে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ঐকমত্য কমিশনের সদস্যরা এবং রাজনৈতিক দলের নেতারা স্বাক্ষর করেছেন।

    শুক্রবার বিকালে এ স্বাক্ষর গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। জুলাই সনদের অঙ্গীকারনামায় কী আছে তা পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো:

    জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫ বাস্তবায়নের অঙ্গীকারনামা

    গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রকাশিত জনগণের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়ে আমরা নিম্নস্বাক্ষরকারীগণ এই মর্মে অঙ্গীকার ও ঘোষণা করছি যে-

    ১। জনগণের অধিকার ফিরে পাওয়া এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুদীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে হাজারো মানুষের জীবন ও রক্তদান এবং অগণিত মানুষের সীমাহীন ক্ষয়ক্ষতি ও ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে অর্জিত সুযোগ এবং তৎপ্রেক্ষিতে জন-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে প্রণীত ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহীত নতুন রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এর পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করব।

    ২। যেহেতু জনগণ এই রাষ্ট্রের মালিক, তাদের অভিপ্রায়ই সর্বোচ্চ আইন এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সাধারণত জনগণের অভিপ্রায় প্রতিফলিত হয় রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে সেহেতু রাজনৈতিক দল ও জোটসমূহ সম্মিলিতভাবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে জনগণের অভিপ্রায়ের সুস্পষ্ট অভিব্যক্তি হিসেবে জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫ গ্রহণ করেছি বিধায় এ সনদ পূর্ণাঙ্গভাবে সংবিধানে তফশিল হিসেবে বা যথোপযুক্তভাবে সংযুক্ত করব।

    ৩। জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫ এর বৈধতা ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে কোনো আদালতে প্রশ্ন উত্থাপন করব না, উপরন্তু উক্ত সনদ বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপে আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা নিশ্চিত করব।

    ৪। গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য জনগণের দীর্ঘ ১৬ বছরের নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রাম এবং বিশেষত ২০২৪ সালের অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক তাৎপর্যকে সাংবিধানিক তথা রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান করব।

    ৫। গণঅভ্যুত্থানপূর্ব বাংলাদেশে ১৬ বছরের আওয়ামী ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রামে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানকালে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কতিপয় সদস্যদের দ্বারা সংঘটিত সকল হত্যাকাণ্ডের বিচার, শহীদদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান ও শহীদ পরিবারকে এবং জুলাই আহতদের রাষ্ট্রীয় বীর, আহত জুলাই বীর যোদ্ধাদের যথোপযুক্ত সহায়তা প্রদান যেমন মাসিক ভাতা, সুচিকিৎসা, পুনর্বাসন ব্যবস্থা এবং শহীদ পরিবার ও আহত বীর যোদ্ধাদের আইনগত দায়মুক্তি, মৌলিক অধিকার সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবো।

    ৬। জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এ বাংলাদেশের সামগ্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা তথা সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থা, বিচার ব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, পুলিশি ব্যবস্থা ও দুর্নীতি দমন ব্যবস্থা সংস্কারের বিষয়ে যেসব সিদ্ধান্ত লিপিবদ্ধ রয়েছে সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান এবং বিদ্যমান আইনগুলোর প্রয়োজনীয় সংশোধন, সংযোজন, পরিমার্জন বা নতুন আইন প্রণয়ন, প্রয়োজনীয় বিধি প্রণয়ন বা বিদ্যমান বিধি ও প্রবিধির পরিবর্তন বা সংশোধন করব।

    ৭। জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫ এর ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহীত যেসব সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাস্তবায়নযোগ্য সেগুলো কোনো ধরনের কালক্ষেপণ না করেই দ্রুততম সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করবে।

  • ১০ বছরের বেশি কেউ প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না

    ১০ বছরের বেশি কেউ প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না

    অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও দেশের রাজনৈতিক দলের নেতারা শুক্রবার বিকেলে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই সনদ স্বাক্ষর করেছেন। যা ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে জনগণের ত্যাগ ও রক্তদানের প্রতি শ্রদ্ধা ও সমঝোতার দলিল হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

    তবে বহুল আলোচিত এই জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী- বাংলাদেশে একজন ব্যক্তি ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী পদে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। এজন্য সংবিধানের সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদসমূহের প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবে বলেও জাতীয় সনদে উল্লেখ করা হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী পদে ১০ বছরের বেশি নয় সিদ্ধান্তে বিএনপি ও জামায়াতসহ মোট ৩৩টি রাজনৈতিক দল একমত পোষণ করে।

  • পুলিশের হাতে জুলাই যোদ্ধাদের মার খাওয়া লজ্জাজনক: জামায়াত আমির

    পুলিশের হাতে জুলাই যোদ্ধাদের মার খাওয়া লজ্জাজনক: জামায়াত আমির

    জুলাই সনদ স্বাক্ষরের দিনেও জুলাই যোদ্ধাদের রাস্তায় নামতে হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের পুলিশের হাতে মার খেতে হয়েছে- এটা লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

    শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) মিরপুর ১০ নম্বরের শ্রমিক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

    জামায়াত আমির বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের পুলিশের হাতে জুলাই যোদ্ধাদের মার খাওয়া লজ্জাজনক। অনেকের দাবি

    মেনে নেওয়া হচ্ছে অথচ তাদেরকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে জামায়াতের মতো আর কাউকে এব বেশি জুলুমের শিকার হতে হয়নি। তাই জুলাই মজলুমদের কষ্ট আমরা সবচেয়ে ভালো বুঝি।

    জামায়াত কারো বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেয়নি উল্লেখ করে দলটির আমির বলেন, জুলাই আন্দোলনের পর থেকে এখন পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত প্রতিশোধ নেওয়া হয়নি।

    সুযোগ থাকার সত্ত্বেও জামায়াত কোনো অপরাধে লিপ্ত হয়নি উল্লেখ করেন ডা. শফিকুর রহমান। এমনকি সামনের দিনগুলোতে কাউকে অপরাধ করতে দেওয়া হবে না বলেও প্রতিশ্রুতি দেন জামায়াত আমির।

  • জুলাই সনদে জরুরি সংশোধন হয়েছে: আলী রীয়াজ

    জুলাই সনদে জরুরি সংশোধন হয়েছে: আলী রীয়াজ

    জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনা করে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ এর অঙ্গীকারনামার ৫নং দফার পরিবর্তন করা হয়েছে৷

    জুলাই বীর যোদ্ধাদের দাবির প্রতিফলন ঘটিয়ে প্রয়োজনীয় জরুরি সংশোধন করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি৷ শুক্রবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আন্দোলনরত জুলাই বীর যোদ্ধাদের উদ্দেশ্যে এসব কথা বলেন।

    এ সময় অধ্যাপক আলী রীয়াজ অঙ্গীকারনামার ৫নং দফার সংশোধিত ভাষ্যটি পাঠ করেন।

    এতে বলা হয়েছে, গণঅভ্যুত্থানপূর্ব বাংলাদেশে ১৬ বছরের আওয়ামী ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রামে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান কালে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কতিপয় সদস্যদের দ্বারা সংঘটিত সব হত্যাকাণ্ডের বিচার, শহীদদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান ও শহীদ পরিবারকে এবং জুলাই আহতদের রাষ্ট্রীয় বীর, আহত জুলাই বীর যোদ্ধাদের যথোপযুক্ত সহায়তা প্রদান যেমন মাসিক ভাতা, সুচিকিৎসা, পুনর্বাসন ব্যবস্থা এবং শহীদ পরিবার ও আহত বীর যোদ্ধাদের আইনগত দায়মুক্তি, মৌলিক অধিকার সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবো।

    কমিশনের সহসভাপতি জানান, কমিশন এই অঙ্গীকারনামা বাস্তবায়নের ব্যাপারে সরকারকে সুস্পষ্ট এবং সুনির্দিষ্টভাবে উপস্থাপন করবে। এ বিষয়ে রাজনৈতিক দল এবং ঐকমত্য কমিশনের কোনো মতপার্থক্য নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি৷

    এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সদস্যদের মধ্যে বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. মো. আইয়ুব মিয়া এবং ঐকমত্য গঠন প্রক্রিয়ায় যুক্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।

  • জুলাই যোদ্ধাদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ; রণক্ষেত্র সংসদ এলাকা

    জুলাই যোদ্ধাদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ; রণক্ষেত্র সংসদ এলাকা

    জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ‘জুলাই সনদ ২০২৫’ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানস্থলে অবস্থান নেওয়া ‘জুলাই শহীদের পরিবার ও আহত’ ব্যক্তিদের সরিয়ে দিয়েছে পুলিশ।

    শুক্রবার দুপুরের দিকে তাদের ওপর লাঠিপেটা করে সরিয়ে দেওয়া হয়। এর আগে ডিএমপি কমিশনার তাদের সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জুলাইযোদ্ধারা। ভাঙচুরেরও চেষ্টা চালান।

    জুলাই যোদ্ধা, আহত জুলাই যোদ্ধা বিভিন্ন ব্যানারে শুক্রবার সকাল থেকে মানিক মিয়া এভিনিউতে বেশ কিছু তরুণ জড়ো হতে থাকেন। এক পর্যায়ে তারা পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে স্থাপিত জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানস্থলে ঢুকে পড়েন।পুলিশি বাধা উপেক্ষ করে বৈধ আমন্ত্রপত্র ছাড়াই প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেদ করে জোরপূর্বক অবৈধ অনুপ্রবেশের ব্যাপারে পুলিশ সতর্ক করলেও তারা বিষয়টি আমলে নেয়নি।

    একপর্যায়ে ফটক টপকে ভেতরে ঢুকে মঞ্চের সামনে সাজানো চেয়ারগুলোতে বসে পড়েন তারা।

    এরপর মাইক হাতে নিয়ে তাদেরকে শান্ত হবার অনুরোধ করেন একজন প্রতিনিধি। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশের একাধিক টিম উপস্থিত হন।

    পুলিশের ব্যারিকেড একত্রিত করে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। এতে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ আছে।

    জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে মানিক মিয়া এভিনিউয়ে সেচ ভবনের সামনে তৈরি করা অস্থায়ী তাঁবুতেও আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। দুপুর ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আন্দোলনকারীদের মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে সরিয়ে দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। পরিস্থিতি এখন থমথমে রয়েছে।এক পর্যায়ে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের মঞ্চের সামনে থেকে জুলাইযোদ্ধাদের সরে যাওয়ার আহ্বান জানান। অন্যথায় বলপ্রয়োগের হুঁশিয়ারি দেন।

    কিন্তু অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা হুশিয়ারি আমলে না নিলে এক পর্যায়ে পুলিশ বলপ্রয়োগ করে এবং লাঠিপেটা করে তাদের ভেন্যু থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে দেয়। পুলিশের লাঠিপেটায় বেশ কয়েকজন আহত হন।

    এর আগে শুক্রবার সকালে তিন দফা দাবিতে সংসদ ভবনের ফটক টপকে মঞ্চের সামনে অবস্থান নেন জুলাইযোদ্ধারা। এক পর্যায়ে ফটক টপকে ভেতরে ঢুকে মঞ্চের সামনে সাজানো চেয়ারে বসে পড়েন তারা। এরপর মাইক হাতে নিয়ে তাদের শান্ত থাকার অনুরোধ জানান একজন প্রতিনিধি। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশের একাধিক দল উপস্থিত হয়।

  • বদলে যাচ্ছে জামালপুরের মানচিত্র!

    বদলে যাচ্ছে জামালপুরের মানচিত্র!

    নদীমাতৃক বাংলাদেশে যে কয়টি জেলা সারা বছর ভাঙনের মুখে থাকে তার মধ্যে জামালপুর একটি।

    জামালপুরে বর্ষার ভরা মৌসুমে কিংবা শীতের শুকনো মৌসুমেও যমুনা নদীর পাড় ভাঙতে দেখা যায়। এ ছাড়া পুরাতন ব্রহ্মপুত্রেও ভাঙনে বদলে যাচ্ছে। বেশ কয়েক বছর ধরে ভরা নদীতে ভাঙন দেখা দিচ্ছে জিঞ্জিরাম নদীতে।

    যমুনার করালগ্রাস আর ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনেই বদলে গেছে জেলার মূল মানচিত্র। শুধু ভাঙনেই থেমে নেই নদীগুলো, শুকনো মৌসুমে জেগে ওঠা চর নিয়ে হতে দেখা যায় কাটাকাটি।

    নদীমাতৃক বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে ‘সেচ, পানি উন্নয়ন ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ মন্ত্রণালয়’ -এর যাত্রা শুরু হয়। ১৯৯৪ সালে ‘পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়’ হিসেবে নতুনভাবে এর নামকরণ করা হয়। জামালপুরে পাউবোর কার্যক্রম রয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকেই নদীভাঙনের শিকার জামালপুরের মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা পায়নি বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

    জানা গেছে, ইমার্জেন্সি ডাম্পিং, এনডিআরসহ বিভিন্ন প্রকল্পে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা খরচ করা হলেও স্থায়ী বাঁধ তৈরির প্রকল্প সহজে পাস হয় না। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ভাঙতে ভাঙতে, লাল ফাইলের দৌরাত্ম্য চলতে থাকে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ বসতভিটা ভাঙার পর হয়ত একটা সময় গিয়ে একটা প্রকল্প পাস হয়।

    দেওয়ানগঞ্জের পোল্লাকান্দি এলাকার স্থানীয় এক সাংবাদিক বলেন, আমি জন্মের পর যখন বুঝতে শিখেছি তখন থেকেই দেখি প্রায়ই নদীভাঙন। এ পর্যন্ত অসংখ্যবার আমাদের বাড়িঘর সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। যাদের একটু জায়গাজমি বেশি আছে তারা ঘরবাড়ি সরিয়ে নেয়। আর যাদের শুধু বাড়ির জায়গাটুকু নদীগর্ভে হারিয়ে যায়, তাদের সপরিবারে অন্য কোথাও চলে যেতে হয়। বেশিরভাগই চলে যায় ঢাকায়। রাজধানীতে গিয়ে তারা জীবনসংগ্রামে টিকে থাকার চেষ্টা করে।

    স্থানীয় ইউপি সদস্য হাসমত আলী বলেন, আমাদের বাড়িঘর ২৫-২৬ বার পরিবর্তন করতে হয়েছে। আগেও নদীভাঙন ছিল, এ বছরও পাশের গ্রামে নদীভাঙন চলছে।

    জামালপুর জেলার উত্তর পশ্চিম, পশ্চিম এবং পশ্চিম দক্ষিণ অংশে পুরো যমুনা নদীতে ঘেরা। দেওয়ানগঞ্জ, ইসলামপুর, মেলান্দহ, মাদারগঞ্জ এবং সরিষাবাড়ী উপজেলা যমুনার ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বদলে গেছে জামালপুর জেলার মূল মানচিত্র। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে হাজার হাজার একর আবাদি জমি, বাজারঘাট, সরকারি বেসরকারি অসংখ্য স্থাপনা নিমেষেই তলিয়ে গেছে যমুনার করালগ্রাসে। ২০৩২ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের জামালপুর জেলায় বর্তমানে পঁচিশ লাখ মানুষের বসবাস।

    জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নকিবুজ্জামান খান বলেন, আমরা আমাদের কাজ করছি। কোনো এলাকায় নদীভাঙনের খবর পেলে দ্রুত সেখানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করি। প্রকল্প অনুমোদনের জন্য যা যা করার করে থাকি কিন্তু পাশ করার দায়িত্ব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের।

    তিনি আরও বলেন, যমুনা নদীতে বিশ কিলোমিটার এবং ব্রহ্মপুত্রে দশ কিলোমিটারের মতো স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হলে হয়ত নদীভাঙন মোটামুটি স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। এতে তিন হাজার কোটি টাকার মতো ব্যয় হতে পারে বলে জানান তিনি।

  • নেত্রকোনার ‘বালিশ মিষ্টি’ পেল জিআই স্বীকৃতি

    নেত্রকোনার ‘বালিশ মিষ্টি’ পেল জিআই স্বীকৃতি

    নেত্রকোনার শতবর্ষের ঐতিহ্যের ধারক ‘বালিশ মিষ্টি’। নেত্রকোনার অনন্য এই মিষ্টি এবার দেশের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। সম্প্রতি পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর (ডিপিডিটি) বালিশ মিষ্টিকে দেশের ৫৮তম জিআই পণ্য হিসাবে তালিকাভুক্ত করেছে।

    বালিশ মিষ্টির উৎপত্তি নেত্রকোনা শহরের বারহাট্টা রোড এলাকায়। আনুমানিক ১২০ বছর আগে স্থানীয় মিষ্টান্ন প্রস্তুতকারক গয়ানাথ ঘোষ প্রথম এই মিষ্টি তৈরি করেন। ছোট বালিশের মতো লম্বাটে ও তুলতুলে আকারের জন্যই এর নাম ‘বালিশ মিষ্টি’। সাধারণ সন্দেশ বা রসগোল্লা থেকে একেবারেই ভিন্ন এই মিষ্টি এখন নেত্রকোনার সামাজিক অনুষ্ঠান, উৎসব ও উপহারের অপরিহার্য অংশ। গয়ানাথ ঘোষের তৃতীয় প্রজন্ম এখনো এই মিষ্টি বানানোর ঐতিহ্য ধরে রেখেছে।

    নেত্রকোনা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ২০২৩ সালে ডিপিডিটিতে বালিশ মিষ্টির জিআই স্বীকৃতির জন্য আবেদন করা হয়। পণ্যের ইতিহাস, উৎপাদন প্রক্রিয়া ও বিশেষ বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে বিস্তৃত প্রতিবেদন দাখিলের পর যাচাই-বাছাই শেষে সম্প্রতি এর স্বীকৃতি মিলল। গয়ানাথ মিষ্টান্ন ভান্ডারের বর্তমান কর্ণধার ও গয়ানাথ ঘোষের নাতি বাবুল চন্দ্র মোদক বলেন, ‘বালিশ মিষ্টি জিআই পণ্য হিসাবে স্বীকৃতি পাওয়ায় আমরা গর্বিত। দাদার হাতে যে মিষ্টির সূচনা হয়েছিল, তা আজ দেশের গৌরবের প্রতীকে পরিণত হলো।’ তিনি জানান, ১৯৬৫ সাল থেকে তার বাবা নিখিল চন্দ মোদক এবং এখন তৃতীয় প্রজন্মের তিন ভাই মিলে প্রতিষ্ঠানটি চালিয়ে যাচ্ছেন।

    নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান বলেন, ‘এর আগে বিজয়পুরের সাদামাটি জিআই সনদ পেয়েছিল। এবার বালিশ মিষ্টি যুক্ত হওয়ায় নেত্রকোনাবাসীর গর্ব আরও বেড়ে গেল। আমরা এটিকে জেলার ব্র্যান্ডিং হিসাবে তুলে ধরতে কাজ করব।’ এর আগে ২০২১ সালে নেত্রকোনার দুর্গাপুরের বিজয়পুরের সাদামাটি জিআই স্বীকৃতি পেয়েছিল। ২০২৫ সালে এসে বালিশ মিষ্টির এই অর্জন জেলার জন্য আরেকটি ঐতিহাসিক গৌরব যোগ করল। শত বছর আগে গড়ে ওঠা এই মিষ্টি এখন শুধু স্থানীয় স্বাদের সীমায় নয়, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে।

  • ভারতে অনুপ্রবেশকালে শেরপুর সীমান্তে ২৪ জন আটক

    ভারতে অনুপ্রবেশকালে শেরপুর সীমান্তে ২৪ জন আটক

    শেরপুর সীমান্তে অবৈধ পথে দালাল চক্রের সহযোগিতায় ভারতে পাচারকালে পাচারকারী চক্রের দুই সদস্যসহ ২৪ জনকে আটক করে বিজিবি। এসময় তাদের থেকে ১৪টি মোবাইল ফোন, একটি হাত ঘড়ি এবং নগদ ৫৪ হাজার টাকা জব্দ করা হয়।

    মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) ভোরে শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার হলদীগ্রাম বিওপির সীমান্ত পিলার ১১১০/এমপি এর পাশে শালবাগান হতে তাদের আটক করা হয়।

    বিজিবি সূত্র জানায়, মঙ্গলবার ভোরে শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার হলদীগ্রাম বিওপির সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বিজিবি। এসময় ৪টি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বহন করা মোট ২৪ জনকে আটক করে বিজিবি। পরে তারা জানায়, ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার চুক্তি হয় শেরপুরের দুইজন দালাল চক্রের সঙ্গে। আর আটককৃতরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক এবং রাজশাহী, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং শেরপুর জেলার স্থায়ী বাসিন্দা। আটকের সময় তাদের কাছ থেকে ১৪ টি মোবাইল ফোন, একটি হাত ঘড়ি এবং নগদ ৫৪ হাজার টাকা জব্দ করা হয়।

    এ বিষয়ে ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন (৩৯ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মেহেদী হাসান জানান, অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের মাধ্যমে ভারতের চেন্নাই শহরে রাজমিস্ত্রি ও শ্রমিক হিসেবে কাজ করার পরিকল্পনা ছিল তাদের। আটককৃত দুই মানব পাচারকারীর বিরুদ্ধে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০১২ অনুযায়ী ঝিনাইগাতী থানায় মামলা কার হয়েছে।

  • মঙ্গলবার শুরু হচ্ছে  ফেনীর ডিসি গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট

    মঙ্গলবার শুরু হচ্ছে ফেনীর ডিসি গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট

    খেলায় জেলার ছয়টি উপজেলার দল অংশ নিচ্ছে। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বেলুন উড়িয়ে ও পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্ট উদ্বোধন করেন ফেনী জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম। উদ্বোধনী খেলা ফেনী সদর ও ফুলগাজী উপজেলার মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়।

    আয়োজক সূত্রে জানায়, টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন দলকে দেওয়া হবে এক লাখ টাকা। রানার্স-আপ দল পাবেন ৫০ হাজার টাকা। অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দল পাবে ২০ হাজার টাকা। টুর্নামেন্টের ক গ্রুপে রয়েছে পরশুরাম, সদর ও ফুলগাজী উপজেলা, আর খ গ্রুপে আছে ছাগলনাইয়া, সোনাগাজী ও দাগনভূঞা উপজেলা। টুর্নামেন্টের প্রতিটি দল দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে প্রথমে লীগ পর্ব খেলবে। লীগ পর্ব শেষ করে সেমি-ফাইনাল ও ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ২৫ অক্টোবর ফাইনাল খেলার মাধ্যমে টুর্নামেন্টটি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। প্রতি ম্যাচে ম্যান অব দ্যা ম্যাচ নির্বাচন করা হবে এবং দুই হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। এছাড়া টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড়, সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং সেরা গোলকিপারকে যথাক্রমে পাঁচ হাজার টাকা দেওয়া হবে।