সারাদেশ

  • ভূমিকম্পে ৬ জনের মৃত্যু, আহত দুই শতাধিক

    ভূমিকম্পে ৬ জনের মৃত্যু, আহত দুই শতাধিক

    ভূমিকম্পে দেশের বিভিন্ন জেলায় এখন পর্যন্ত ছয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে তিনজন রাজধানীর বংশালে ভবনের রেলিং ধসে নিহত হয়েছেন। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে দেয়াল ধসে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া নরসিংদীতে দুজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. আবু হোসেন মোহাম্মদ মঈনুল আহসান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, ভয়াবহ ভূমিকম্পে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দুই শতাধিক মানুষ আহত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। আহত চিকিৎসাধীনদের মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর। হতাহতদের চিকিৎসায় দেশের সব হাসপাতালে জরুরি মেডিকেল টিম কাজ করছে।
    অ

    নারায়ণগঞ্জে শিশুর মৃত্যু

    নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ভূমিকম্পে দেয়াল ধসে ফাতেমা (১) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময় শিশুটির মা কুলসুম বেগম ও প্রতিবেশী জেসমিন বেগম আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

    ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মোখলেসুর রহমান বলেন, ভূমিকম্পে দেয়াল ধসে ফাতেমা নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আহত অবস্থায় তার মা কুলসুম বেগম ও প্রতিবেশী জেসমিন বেগমকে স্থানীয় প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    নরসিংদীতে শিশু ও বৃদ্ধ নিহত

    নরসিংদীতে ভয়াবহ ভূমিকম্পে মাটির ঘরের দেয়াল চাপায় কাজম আলী (৭৫) নামে বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন।
    নিহত কাজম আলী নরসিংদীর পলাশ উপজেলার চরসিন্দুর ইউনিয়নের মালিতা পশ্চিমপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। এ ছাড়া নরসিংদীর গাবতলীতে বাসার দেয়াল চাপা পড়ে ওমর (১০) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    প্রধান উপদেষ্টার শোক

    ভূমিকম্পে দেশের বিভিন্ন জেলায় ঘরবাড়ি ধসে এবং অন্যান্য দুর্ঘটনায় হতাহতের খবরে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

    শোকবার্তায় প্রধান উপদেষ্টা নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন এবং সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশ দেন।

  • ঢাকার ভুমিকম্পে এটম বোমার মতো আঘাত করেছে

    ঢাকার ভুমিকম্পে এটম বোমার মতো আঘাত করেছে

    দেশের বিভিন্ন স্থানে শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে তীব্র ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

    আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল নরসিংদীর মাধবদী।

    এটি গত ৩০ বছরের মধ্যে দেশে সবচেয়ে বড় ভূমিকম্প বলে গণমাধ্যমে জানিয়েছেন ভূমিকম্প গবেষণা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবায়েত কবির।

    তিনি বলেন, এক ভয়াবহ হিরোসিমা, নাগাসাকিতে ফেলা একটি বোমা যে শক্তি রিলিজ করে, আজকের ভূমিকম্প সেই মাত্রার শক্তি রিলিজ করেছে।

    আজকের ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ৪ জন নিহতের তথ্য পাওয়া গেছে। যার মধ্যে ৩ জন ঢাকায়। আর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে দেয়াল ধসে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    ভূমিকম্পে শতাধিক মানুষ আহতের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এখন পর্যন্ত নির্দিষ্টসংখ্যা জানা যায়নি। এদিকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অনেক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

    শুক্রবার দুপুরে এক বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে অবিলম্বে মাঠ পর্যায়ে নেমে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    প্রধান উপদেষ্টার বার্তায় আরো বলা হয়েছে, জনগণের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

  • ভূমিকম্প: টঙ্গীতে দুই শতাধিক পোশাক শ্রমিক আহত

    ভূমিকম্প: টঙ্গীতে দুই শতাধিক পোশাক শ্রমিক আহত

    গাজীপুরের টঙ্গী বিসিক এলাকায় ফ্যাশন পালস লিমিটেড পোশাক কারখানায় ভূমিকম্প আতঙ্কে অন্তত দুই শতাধিক শ্রমিক আহত হয়েছেন। শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৯ মিনিটের দিকে হঠাৎ ভূমিকম্প শুরু হয়। এ সময় ওই কারখানার শ্রমিকরা হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    কারখানার শ্রমিকরা জানান, কারখানার নয়তলা ভবনটিতে প্রায় ৩ হাজার শ্রমিক কাজ করছিলেন। সকাল ১০টা ৩৯ মিনিটে ভূমিকম্প শুরু হলে শ্রমিকরা হুড়োহুড়ি করে নিচে নামতে শুরু করেন। এ সময় আরমান (১৭), খোকন (১৭), শারমিন (২৪), আমেনা (৩০), জহুরা (৩২), কৃষ্ণা (৩৩), জান্নাত (১৮), রাণী (৩৫), আকাশ (১৫), কল্পনা (৩৯), সাবিনা (৩০), সীমা (৪০), রহিমাসহ (২৫) অন্তত ২০০ শ্রমিক আহত হন। এদের মধ্যে গুরুতর আহত শারমিনকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে কারখানার কেউ গণমাধ্যমে কথা বলতে রাজি হননি।

    টঙ্গী সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. ইশরাত জাহান এ্যানী ও ডা. তারেকুর রহমান বলেন, শ্রমিকরা হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে আহত হয়েছেন।

    টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কে তাড়াহুড়া করে নামতে গিয়ে ওই কারখানার শ্রমিকরা আহত হয়েছেন। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

  • রাবিতে ভর্তি পরীক্ষার আবেদন শুরু কাল

    রাবিতে ভর্তি পরীক্ষার আবেদন শুরু কাল

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ১ম বর্ষ স্নাতক ও স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন আগামীকাল (২০ নভেম্বর) বেলা ১২টা থেকে শুরু হবে। যা চলবে ৭ ডিসেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত। বুধবার (১৯ নভেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক মো. ছাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, পূর্ব নির্ধারিত সময় অনুযায়ী, আগামীকাল থেকে ভর্তি পরীক্ষার আবেদন শুরু হবে।

    ভর্তি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী জানা গেছে, এ বছর ১৬ জানুয়ারি ‘সি’ (বিজ্ঞান) ইউনিট, ১৭ জানুয়ারি ‘এ’ (মানবিক) ইউনিট ও ২৪ জানুয়ারি ‘বি’ (বাণিজ্য) ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ১১টা থেকে ১২টা ও বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত দুই শিফটে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। রাজশাহী, ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রংপুর ও বরিশাল অঞ্চলে ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে।

    আরও জানা যায়, ‘এ’ (মানবিক) ইউনিটে আছে কলা, আইন, সামাজিক বিজ্ঞান ও চারুকলা অনুষদ এবং শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট। ‘বি’ (বাণিজ্য) ইউনিটে আছে বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ ও ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউট এবং ‘সি’ (বিজ্ঞান) ইউনিটে আছে বিজ্ঞান, কৃষি, প্রকৌশল, জীববিজ্ঞান, ভূ-বিজ্ঞান, ফিশারিজ এবং ভেটেরিনারি এ অ্যান্ড এনিমেল সায়েন্সেস অনুষদ।

    ২০২৪ ও ২০২৫ সালের এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা যোগ্যতা অনুযায়ী তিন ইউনিটেই আবেদন করতে পারবে। ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থী যে ইউনিটেই আবেদন করুক না কেন সে যে শাখা থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে সেই শাখার জন্য নির্ধারিত যোগ্যতা তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এইচএসসি বা সমমান, ডিপ্লোমা-ইন-কমার্স, বিএফএ (প্রাক), বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের আওতায় এইচএসসি ভোকেশনাল এবং A লেভেল সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরাই ভর্তি পরীক্ষার জন্য আবেদন করতে পারবে।

    আবেদনের যোগ্যতা বিষয়ে বলা হয়েছে, ভর্তির জন্য মানবিক ও বাণিজ্য শাখা থেকে উত্তীর্ণ আবেদনকারীদের এসএসসি/সমমান ও এইচএসসি/সমমান উভয় পরীক্ষায় পৃথকভাবে চতুর্থ বিষয়সহ ন্যূনতম জিপিএ ৩.০০ সহ মোট জিপিএ ৭.০০ এবং বিজ্ঞান শাখায় ন্যূনতম জিপিএ ৩.৫০ সহ মোট জিপিএ ৮.০০ থাকতে হবে। ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং পাস শিক্ষার্থীদের প্রাপ্ত জিপিএ ৫.০০ স্কেলে নির্ধারিত হবে। জিসিই O লেভেল পরীক্ষায় ৫টি বিষয়ে এবং A লেভেল পরীক্ষায় অন্তত ২টি বিষয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে। উভয় লেভেলে মোট ৭টি বিষয়ের মধ্যে ৪টি বিষয়ে কমপক্ষে Bও ৩টি বিষয়ে কমপক্ষে C গ্রেড পেতে হবে। ইংরেজি প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিতে ইচ্ছুক প্রার্থীকে চূড়ান্ত আবেদন-কালে অবশ্যই ইংরেজি প্রশ্নপত্রের জন্য অতিরিক্ত ফরম পূরণ করতে হবে। এছাড়া ইউনিট/বিভাগ/ইনস্টিটিউট কর্তৃক আরোপিত শর্তও প্রযোজ্য হবে। প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ-সাপেক্ষে আবেদনকারী সকল শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে।

    আবেদন ফি নিয়ে বলা হয়েছে, ‘এ’ (মানবিক) ইউনিটের আবেদন ফি ১,৩২০ টাকা, ‘বি’ (বাণিজ্য) ইউনিটের আবেদন ফি ১,১০০ টাকা ও ‘সি’ (বিজ্ঞান) ইউনিটের আবেদন ফি ১,৩২০ টাকা। সকল ফি ১০% সার্ভিস চার্জসহ।

    MCQ পদ্ধতিতে ১০০ নম্বরের এক ঘন্টাব্যাপী ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষায় প্রতি ইউনিটে ৮০টি প্রশ্ন থাকবে। প্রতি চারটি ভুলের জন্য এক নম্বর কাটা যাবে। ভর্তি পরীক্ষায় পাশ নম্বর ৪০। অনলাইনে প্রদত্ত নির্দেশনা অনুযায়ী কোটায় (মুক্তিযোদ্ধার পুত্র/কন্যা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, শারীরিক প্রতিবন্ধী, খেলোয়াড় ও বিকেএসপি) ভর্তিচ্ছু প্রার্থীদের আবেদন করতে হবে।

    ভর্তিসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য ও প্রযোজ্য শর্ত পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট http://admission.ru.ac.bd থেকে জানা যাবে।
    সূত্র: আমার দেশ

  • কেশবপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা গেল বিরল প্রজাতির হনুমানটি

    কেশবপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা গেল বিরল প্রজাতির হনুমানটি

    যশোরের কেশবপুরে বিদ্যুৎপৃষ্টে বিরল প্রজাতির ভিন্ন প্রকৃতির একমাত্র মর্দা হনুমানটি মারা গেছে। ২০ নভেম্বর দুপুরে খাদ্যের সন্ধানে গিয়ে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশে বিদ্যুতের তারের উপর দিয়ে লাফিয়ে যাওয়ার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ওই হনুমানটি মারা যায়। সম্প্রতি ভিন্ন প্রকৃতির ওই হনুমানটি কেশবপুরে আসে। হনুমানটি দেখতে কিছুটা বানর আকৃতির। এই হনুমানটি শহরের অফিস পাড়া, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাহাপাড়া এলাকায় অন্য কালোমুখ হনুমানের সঙ্গে বিচরণ করতো। হনুমানের খাদ্য সরবরাহকারী ভ্যানচালক আতিয়ার রহমান বলেন, ভিন্ন প্রকৃতির একমাত্র মর্দা হনুমানটি বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা যাওয়ায় হনুমানের বংশবিস্তারে বেশ ক্ষতি হয়ে গেল।

    উপজেলা বন কর্মকর্তা সমিরন বিশ্বাস বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় হনুমান দলের সঙ্গে ভিন্ন প্রকৃতির ওই হনুমানটি ঘোরাঘুরি করার সময় বৃহ¯পতিবার দুপুরে বিদ্যুৎ পৃষ্টে মারা যায়। খবর পেয়ে ওই হনুমানটি উদ্ধার করে উপজেলা প্রাণি সম্পদ ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে এনে দেখানোর পর মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে।

    উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা অলোকেশ কুমার সরকার বলেন, মৃত অবস্থায় বিরল প্রজাতির ওই হনুমানটিকে বন বিভাগের কর্মীরা প্রাণি সম্পদ দপ্তরে নিয়ে আসেন।

  • গণতান্ত্রিক মহাসড়কে চলা শুরু: অ্যাটর্নি জেনারেল

    গণতান্ত্রিক মহাসড়কে চলা শুরু: অ্যাটর্নি জেনারেল

    নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের ঐতিহাসিক রায়ের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক মহাসড়কে চলা শুরু বলে উল্লেখ করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

    তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের রায়ের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আজ অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ আগামী দিনে নিজের ভোট নিজে দিতে পারবে। দিনের ভোট রাতে হবে না, মৃত মানুষ এসে ভোট দিয়ে যাবে না। এ রকম একটি গণতান্ত্রিক মহাসড়কে চলা শুরু বলে আমরা মনে করি।’

    অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ত্রুটিপূর্ণ বলেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায়টি আজ বাতিল করা হয়েছে। আগের রায়টি লিখার ক্ষেত্রে সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক ও তার সহযোগী যারা ছিলেন, তারা দণ্ডবিধির ২১৯ ধারায় অপরাধ করেছেন বলে আমরা শুনানিতে বলেছি।

    নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের রায় দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

    আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরের নির্বাচন থেকে এই ব্যবস্থা কার্যকর হবে।

    তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায়কে বাতিল ঘোষণা করে বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ সর্বসম্মতভাবে রায় দেন।

    আপিল বেঞ্চের অপর ছয় বিচারপতি হলেন— বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম ইমদাদুল হক, বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।

    বহুল আলোচিত এই আপিলে বিএনপির পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন ও ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। জামায়াতের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।

    পাঁচ বিশিষ্ট নাগরিকের পক্ষে আপিল শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী শরীফ ভূইয়া।

    রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

    তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী জাতীয় সংসদে গৃহীত হয় ১৯৯৬ সালে। এ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে অ্যাডভোকেট এম সলিম উল্লাহসহ তিনজন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট করেন।

    ২০১১ সালের ১০ মে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনে করা সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে, তা বাতিল করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

    ঘোষিত রায়ের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিলোপসহ বেশ কিছু বিষয়ে আনা পঞ্চদশ সংশোধনী আইন ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পাস হয়। এরপর ২০১১ সালের ৩ জুলাই এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়।

    তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসংক্রান্ত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, পাঁচ বিশিষ্ট নাগরিক ও এক ব্যক্তি আবেদন করেন।

    সে রিভিউ আবেদন থেকে আপিল শুনানির জন্য গত ২৭ আগস্ট লিভ মঞ্জুর করে ২১ অক্টোবর আপিল শুনানির দিন ধার্য করেন। পরবর্তী ১০ দিন এই আপিল শুনানি শেষে রায়ের দিন ধার্য করেন সর্বোচ্চ আদালত।
    সুত্র: আমার দেশ

  • বছরের শুরুতেই পাঠ্যবই দিতে চায় এনসিটিবি

    বছরের শুরুতেই পাঠ্যবই দিতে চায় এনসিটিবি

    সব ধরনের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে নতুন বছরের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে পাঠ্যবই তুলে দিতে চায় জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড-এনসিটিবি। এ লক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সার্বিক দিক নির্দেশনায় কাজ করছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

    বৃহস্পতিবার সংস্থাটির জনসংযোগ কর্মকর্তা এস. এম. আসাদুজ্জামানের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের হাতে নির্দিষ্ট সময়ে মানসম্মত পাঠ্যপুস্তক পৌঁছানোর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করে। পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই ও বিতরণের প্রতিটি পর্যায়ে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে এনসিটিবি নিয়মিত মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

    এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যপুস্তক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মুদ্রণ ও বাঁধাই করে শিক্ষার্থীদের নিকট বিতরণ নিশ্চিত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় এনসিটিবি কাজ করছে। পাঠ্যপুস্তকের গুণগত মান নিশ্চিতে এনসিটিবি’র নিজস্ব পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি নিরপেক্ষ ইন্সপেকশন ফার্ম এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বিশেষ মনিটরিং টিম মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত তদারকি করছে এবং প্রেস মালিকগণের সাথে সার্বক্ষণিক সমন্বয় বজায় রাখা হচ্ছে।

    এতে বলা হয়, শিক্ষাবর্ষের শুরুতে মানসম্মত পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে সম্প্রতি এনসিটিবির অডিটোরিয়ামে শিক্ষা উপদেষ্টা মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের মালিকগণের সাথে মতবিনিময় করেন। মতবিনিময় সভায় সম্মানিত মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান মালিকরা কতিপয় সমস্যার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে সেগুলো সমাধান এবং প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করা হলে পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহ আরও গতিশীল হবে এবং নির্দিষ্ট সময়ে পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার সাথে মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান মালিকদের মতবিনিময় সভায় আলোচিত সমস্যাগুলো নিরসনের উদ্দেশ্যে গত মঙ্গলবার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের বিভাগীয় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের এক হাজারেরও বেশি কর্মকর্তার সাথে শিক্ষা উপদেষ্টা ভার্চুয়ালি সভার মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদেরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।

    এরই ধারাবাহিকতায় আজ বৃহস্পতিবার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সরকারি-বেসরকারি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগ ও মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ নেন।

    সভায় বিগত মতবিনিময় সভায় আলোচিত বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের গৃহীত উদ্যোগ ও অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। এরই মধ্যে সরবরাহকৃত পাঠ্যপুস্তকের বিল দ্রুত পরিশোধের বিষয়ে মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান স্বত্বাধিকারীদেরকে আশ্বস্ত করা হয়। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, বই পরিবহন ও সংরক্ষণে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা এবং এ উদ্যোগে স্থানীয় প্রশাসনকে সম্পৃক্ত করা, সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও মাঠ পর্যায়ে পাঠ্যপুস্তক গ্রহণের ব্যবস্থা করা, মাঠ পর্যায়ে পাঠ্যপুস্তক প্রেরণের পূর্বে মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের বই গ্রহণকারী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণকে অবহিত ক

    প্রয়োজনীয় স্থানসংকুলানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান স্বত্বাধিকারীরাও শিক্ষাবর্ষের শুরুতে মানসম্মত পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ নিশ্চিত করবেন বলে আশ্বস্ত করেন। সব অংশীজনের সমন্বিত সহযোগিতায় নির্ধারিত সময়ে দেশের সকল শিক্ষার্থীর হাতে মানসম্মত পাঠ্যপুস্তক পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলেও আশ প্রকাশ করেছে এনসিটিবি।
    সুত্র: কালবেলা

  • এনসিপির মনোনয়ন কিনলেন সেই রিকশাচালক

    এনসিপির মনোনয়ন কিনলেন সেই রিকশাচালক

    ঢাকা-৮ আসন থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মনোনয়ন ফর্ম সংগ্রহ করেছেন জুলাইয়ের আলোচিত রিকশাচালক মো. সুজন।

    বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) সন্ধ্যায় এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয়ে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন তিনি।

    পরে সাংবাদিকদের মো. সুজন বলেন, ‘যারা এতিমের টাকা মেরে, যাত্রাপালা করে সংসদে যেতে পারেন; আমি রিকশাচালক হয়ে কেন সংসদে যেতে পারব না?’

    এসময় এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা উপস্থিত ছিলেন।
    ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। এই আসনে জামায়াতের মনোনয়ন পেয়েছেন অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিন। আর স্বতন্ত্র থেকে এ আসনে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদী।

  • মুজিবনগরে  বিশেষ স্বাস্থ্য ও পুষ্টি ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত

    মুজিবনগরে বিশেষ স্বাস্থ্য ও পুষ্টি ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত

    মেহেরপুরের মুজিবনগরে গুডনেইবারস বাংলাদেশ মেহেরপুর সিডিপির উদ্যোগে মেহেরপুর সিডিপি বল্লভপুর প্রজেক্ট অফিস প্রাঙ্গণে বিশেষ স্বাস্থ্য ও পুষ্টি ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে।বৃহস্পতিবার সকালে স্বাস্থ্য ও পুষ্টি ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠানের সিডিপি ম্যানেজার বিপুল রেমার সভাপতিত্বে, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, গাইনাকোলজিস্ট ডা: সিনথিয়া আফরিন সিমি এবং খাদ্য ও পুষ্টিবিদ ফজলে রাব্বি।হেলথ অফিসার আহসানুল হক সঞ্চালনায় ক্যাম্পেইনে আরও উপস্থিত ছিলেন, সিডিপির সিনিয়র এডমিন অফিসার উত্তম কুমার রায় এবং মেডিকেল অফিসার মেহেদী হাসান (সুইট)।ক্যাম্পেইনের মূল কার্যক্রম মা ও শিশুদের স্বাস্থ্য বিষয়ে আলোচনা, পুষ্টিকর খাবারের উপকারিতা ও সুষম খাদ্যাভ্যাস বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।ক্যাম্পেইনে স্বল্পমূল্যে গাইনি রোগী দেখা এবং অপুষ্ট শিশুদের জন্য ডায়েট চার্ট প্রদান করা হয়ে।এছাড়াও কমিউনিটির জন্য ৩০% ছাড়ে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও পুষ্টি প্যাকেজ সরবরাহ করা হয়ে।গুডনেইবারস বাংলাদেশ জানায়, এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে কমিউনিটির মধ্যে সুলভ সেবা, স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পুষ্টি জ্ঞান সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সাধিত হয়েছে।

  • চৌগাছায় ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

    চৌগাছায় ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার হাকিমপুর ইউনিয়নের চন্দ্রপাড়া গ্রামের একটি আমবাগান থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। মরহেদটি চন্দ্রপাড়া গ্রামের আব্দুল হক ভূঁইয়ার ছেলে শহিদ ভূঁইয়ার বলে শনাক্ত করে স্বজনরা। তিনি একজন ক্ষুদ্র ব্যবাসয়ী ছিলেন।

    ঘটনারদিন বিকেলে পথচারীরা আমবাগানে একটি গাছের ডালে মৃত দেহ ঝুলে থাকতে দেখে প্রথমে স্থানীয়দের খবর দেয়। পরে চৌগাছা থানা পুলিশের খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে মরদেহটি উদ্ধার করে।

    মৃত শহিদের স্বজনরা জানান, শহিদ ভূঁইয়া দীর্ঘদিন লিভারজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। ছেলে বিদেশ পাঠাতে গিয়ে ধারদেনায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। এসব নিয়ে পারিবারিক অশান্তির কারণে তিনি মানসিকভাবে অস্থির ছিলেন। এসব কারণেই তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে স্থানীয়দের ধারণা।

    চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

  • পত্রিকা বিলি করেই কেটেছে স্বপন কুন্ডুর ৩১ বছর

    পত্রিকা বিলি করেই কেটেছে স্বপন কুন্ডুর ৩১ বছর

    নড়াইল শহরের হাতির বাগান মোড় থেকে বৌবাজার, মুচিপোল, রূপগঞ্জ, বাঁধাঘাট, দিবদারতলা, পুরাতন বাস টার্মিনাল, কোর্টচত্বরসহ নড়াইল পুরাতন বাজারের শত শত পত্রিকার পাঠক ও গ্রাহকের কাছে পরিচিত নাম হকার স্বপন কুন্ডু।

    কাক ডাকা ভোর থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত শীত-গরম, রোদ-ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে দীর্ঘ ৩১ বছরেরও বেশি সময় ধরে গ্রাহকের দ্বারে দ্বারে পত্রিকা পৌঁছে দেন হকার স্বপন কুন্ডু। পত্রিকা বিক্রি করেই চলছে তার জীবিকা।

    বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত তার সঙ্গে ঘুরে দেখা গেল নড়াইলের এই দীর্ঘদিনের পত্রিকা বাহকের প্রতিদিনের জীবন। তার বাড়ি সদর উপজেলার হাটবাড়িয়া গ্রামে। সেখান থেকে প্রতিদিন সাইকেল চালিয়ে নড়াইল শহরে এসে তিন দশক ধরে তিনি এই পেশা চালিয়ে যাচ্ছেন। সংসারে স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়ে আর বৃদ্ধ শাশুড়ি সকলেই তাঁর উপার্জনে চলে। বড় ছেলে মাস্টার্সে পড়েন, মেয়ে দ্বাদশ শ্রেণিতে।নড়াইলে কর্মরত সাংবাদিক আবু তাহের মোল্যা বলেন, ‘ত্রিশ বছর ধরে স্বপনদা যে পরিশ্রম করছেন, তার সঙ্গে সততা ও দায়বদ্ধতাও জড়িত। আজকের দিনে তাঁর মতো মানুষ সমাজে বিরল।’গ্রাহক জাহাঙ্গীর মিনা বলেন, ‘আমি প্রতিদিন সকালে স্বপনদার কাছ থেকে পত্রিকা নেওয়ার জন্য বাজারে এসে অপেক্ষা করি। কখন স্বপনদা আসবে আর কখন পত্রিকা পাব। আমি বয়স্ক মানুষ, মোবাইলে সংবাদ পড়তে পারি না। পত্রিকা পড়েই দেশ-বিদেশের খোঁজখবর জানি।’আরেক গ্রাহক রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘স্বপনদা ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে নিয়মিত সময়মতো আমাদের পত্রিকা পৌঁছে দেন। হকার স্বপনদার আচার-আচরণ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।’ব্যবসায়ী মশিউর রহমান বলেন, ‘তিনি ৩১ বছর ধরে পত্রিকা পড়েন। স্বপন কুন্ডু তাঁকে নিয়মিত পত্রিকা দেন। তিনি ভালো মানুষ। আমি তাঁর জন্য দোয়া করি, সে যাতে ভালো থাকে।’হকার স্বপন কুন্ডু জানান, বিয়ে করার পরপরই চোখে মুখে নেমে আসে অন্ধকার। কোনো কুল-কিনারা না পেয়ে সংসারের হাল ধরতে তিনি পত্রিকা বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন। ১৯৯৪ সালে আঞ্চলিক একটি পত্রিকার ব্যবস্থাপক বাদলের পরামর্শ ও সহযোগিতায় শুরু হয় পত্রিকা বিক্রি। তখন থেকে স্বপন কুন্ডু হয়ে যান হকার স্বপন।স্বপন কুন্ডু আরও জানান, একসময় দ্রব্যের মূল্য কম ছিল। পত্রিকা বিক্রি করে যা আয় হতো, তা দিয়ে মোটামুটি সংসার চলে যেত। বর্তমানে ইন্টারনেটে সব পাওয়া যাওয়ায়, দিনদিন কাগজের পাঠক কমে যাওয়ার আক্ষেপও আছে তাঁর কণ্ঠে। তিনি বলেন, ‘১৫ কপি ‘লোকসমাজ’ দিয়ে শুরু করছিলাম। একসময় ৪০০ কপি চালাতাম। পরে ‘লোকসমাজ’ কমলেও অন্য পত্রিকা বাড়ে। এখন নেটের যুগ আসায় পত্রিকার চাহিদা কমছে। তরুণেরা কাগজ পড়ে না। বয়স্করাই বেশি নেয়। এখন স্থানীয়-জাতীয় মিলিয়ে আড়াইশো কপি চালাই।’স্বপন বলেন, ‘একসময় ১৪-১৫ হাজার টাকা আয় হতো। তখন দ্রব্যমূল্যের চাপ কম ছিল, সংসার চালিয়েও কিছু সঞ্চয় হতো। এখন পত্রিকার চাহিদা কমায় আয়ও কমে গেছে। ১০-১২ হাজার টাকা পাই, তাও কষ্টে ধরে রাখা যায়। এই পেশায় নতুন কেউ আসে না। কিন্তু আমার এই কাজের প্রতি ভালোবাসা ছাড়তেও পারি না।’নড়াইল প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি, সিনিয়র সাংবাদিক এডভোকেট মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘স্বপন শুধু পত্রিকা বিক্রেতা নন, তিনি আমাদের একজন সহযোদ্ধা। সংবাদ পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব তিনি হৃদয়ের টানে হাসিমুখে পালন করেন।

  • সেনাকুঞ্জের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যেতে পারেন খালেদা জিয়া

    সেনাকুঞ্জের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যেতে পারেন খালেদা জিয়া

    সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে আগামীকাল শুক্রবার সেনাকুঞ্জের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

    শারীরিক অবস্থা ঠিক থাকলে তিনি গুলশানের বাসভবন থেকে রওনা হতে পারেন বলে আমার দেশকে নিশ্চিত করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহি আকবর।তিনি জানান, ম্যাডাম আজকে শারীরিকভাবে একটু অসুস্থ। তবে আগামীকাল শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন হলে সশস্ত্র বাহিনী দিবসের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার পরিকল্পনা রয়েছে তার।

  • সাকিব আল হাসানকে দুদকে তলব

    সাকিব আল হাসানকে দুদকে তলব

    শেয়ার বাজার সংক্রান্ত মামলার আসামি ক্রিকেটার ও মাগুরা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

    বৃহস্পতিবার দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে পাঠানো চিঠিতে তাকে আগামী ২৬ নভেম্বর হাজির হওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

    দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে পাঠানো চিঠিতে সাকিব আল হাসানকে আগামী ২৬ নভেম্বর হাজির হওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

  • চৌগাছায় সড়ক দূর্ঘটনায় শিক্ষক নিহত

    চৌগাছায় সড়ক দূর্ঘটনায় শিক্ষক নিহত

    যশোরের চৌগাছায় সাধন কুমার মজুমদার (৫৫) নামে এক শিক্ষক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। তিনি উপজেলার সিংহঝুলি ইউনিয়নের গরীবপুর গ্রামের মৃত ওপেন্দ্রনাথ মজুমদারের ছেলে এবং বালিয়া গৌরসুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।

    পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সাধন কুমারের সমর কুমার ও অমল কুমার নামে দুটি ছেলে রয়েছে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার বেলা দুইটার দিকে স্কুল থেকে ভ্যান যোগে বাড়ি ফিরছিলেন সাধন কুমার। তিনি চৌগাছা ঝিকরগাছা সড়কের পলুয়া গ্রামের বাদল মন্ডলের বাড়ির সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি চালবোঝাই ট্রাক ভ্যানটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই সাধন কুমার নিহত হন। চৌগাছা থানার পুলিশ ঘাতক ট্রাকটিকে আটক করেছে। ট্রাকের চালক পালিয়ে গেছেন।

    চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ট্রাকের চালককে আটকের চেষ্টা চলছে।

    আর খান

  • চৌগাছায় আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

    চৌগাছায় আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার সময় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনুর আক্তার।

    সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ও পৌর প্রশাসক তাসমিন জাহান, চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রুহুল আমীন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এমএ সালাম, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা গোলাম মোর্শেদ, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও হাকিমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাসুদুল হাসান, মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামাল আহমেদ, চৌগাছা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি রহিদুল ইসলাম খান, সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান, ছাত্রনেতা রিতম, ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবর রহমান, সিরাজুল ইসলাম, এসএম মোমিনুর রহমান, অধ্যক্ষ মঞ্জুরুল আলম লিটু প্রমুখ। সভায় বিগত এক মাসের আইন শৃঙ্খলা নিয়ে আলোচনা পর্যালোচনা করা হয় । আলোচনায় শহরে চুরি বেড়ে যাওয়া, উচ্চ শব্দে মাইক বাজানো, হাইড্রোলিক হর্ন বাজানো, শহরের যানজট, কপোতক্ষ নদের পাড় কেটে নেওয়া এবং সীমান্ত এলাকা দিয়ে মাদক চোরাচালান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

  • চৌগাছায় সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষক নিহত

    চৌগাছায় সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষক নিহত

    যশোরের চৌগাছায় সাধন কুমার মজুমদার (৫৫) নামে এক শিক্ষক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন।

    তিনি উপজেলার সিংহঝুলি ইউনিয়নের গরীবপুর গ্রামের মৃত ওপেন্দ্রনাথ মজুমদারের ছেলে এবং বালিয়া গৌরসুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান বুধবার বেলা দুইটার দিকে স্কুল থেকে ভ্যান যোগে বাড়ি ফিরছিলেন সাধন কুমার। তিনি চৌগাছা ঝিকরগাছা সড়কের পলুয়া গ্রামের বাদল মন্ডলের বাড়ির সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি চালবোঝাই ট্রাক ভ্যানটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই সাধন কুমার নিহত হন। চৌগাছা থানার পুলিশ ঘাতক ট্রাকটিকে আটক করেছে। ট্রাকের চালক পালিয়ে গেছেন।

    চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ট্রাকের চালককে আটকের চেষ্টা চলছে। পারিবারিক সুত্রে জানাযায় সাধন কুমারের সমর কুমার ও অমল কুমার নামে দুটি ছেলে রয়েছে।

  • দাঁড়িপাল্লা টাঙানো নিয়ে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে আহত ১৩

    দাঁড়িপাল্লা টাঙানো নিয়ে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে আহত ১৩

    চুয়াডাঙ্গায় পৃথক দুটি স্থানে বিলবোর্ড ও প্রতীক টাঙানো নিয়ে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে ১৩ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের আলমডাঙ্গা উপজেলার শ্যামপুর গ্রামে নিয়ে এ ঘটনা ঘটে।

    এতে মহিলা ইউপি সদস্যসহ অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। এ সময় দুটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। আহতদের আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।

    আহতরা হলেন, আলমডাঙ্গা পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম কনক, সদস্য সাজাহান ও আলিম, কুমারী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক তাইজেল হোসেন, ১ নং ওয়ার্ডের মহিলা ইউপি সদস্য রোকসানা খাতুন ও তার স্বামী রাশিদুল ইসলাম। জামায়াত পক্ষের আহতরা হলেন হারুনের ছেলে মুরাদ আলী, মাহাতাবের ছেলে আরিফ, পলাশের ছেলে লাল্টু, সাদেক আলীর ছেলে ওল্টু এবং তার মেয়ে ফাতেমা খাতুন।এ ব্যাপারে আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম রোকন বলেন, জামায়াত পরিচয়ে যুবলীগ কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। আমাদের ৬জন নেতাকর্মী আহত হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন।

    অপরদিকে আলমডাঙ্গা উপজেলা জামায়াতের আমির শফিউল আলম বকুল বলেন, দাঁড়িপাল্লা টাঙাতে গেলে বিএনপির মহিলা ইউপি সদস্য ও তার স্বামী বাধা দেন। পরে বিএনপির নেতাকর্মীরা আমাদের বাড়িতে হামলা করে। এতে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

    আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুদুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। অপরদিকে মঙ্গলবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের দর্শনা থানার মদনা-পারকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের কামারপাড়া গ্রামে বিলবোর্ড স্থাপনকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সকালে শুরু হওয়া বিরোধের জেরে দুপুরে দুপক্ষের সংঘর্ষে দুজন আহত হয়েছেন। আহতরা হচ্ছেন জামায়াত সমর্থক খাজা এবং বিএনপি সমর্থক আজিজুল ইসলাম।

    এ বিষয়ে দর্শনা থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) সুলতান মাহমুদ বলেন, বিলবোর্ড স্থাপনকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। দুইজন আহত হওয়ার কথা শুনেছি। এখন পর্যন্ত কেউ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দেয়নি, অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে

  • পে-স্কেল নিয়ে কমিশনের নতুন পদক্ষেপ

    পে-স্কেল নিয়ে কমিশনের নতুন পদক্ষেপ

    সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবদের সঙ্গে আগামী সোমবার (২৪ নভেম্বর) সচিবালয়ে বৈঠকে বসবে জাতীয় বেতন কমিশন।

    জাতীয় বেতন কমিশনের সভাপতি জাকির আহমেদ খান এতে সভাপতিত্ব করবেন। পে কমিশনের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বর্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    এতে বলা হয়, সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক, সরকারি মঞ্জুরিপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাষ্ট্রায়ত্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বিদ্যমান বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা পর্যালোচনাপূর্বক সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে জাতীয় বেতন কমিশনের সঙ্গে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগের সচিবদের সভা অনুষ্ঠিত হবে।

    এর আগে ১ থেকে ১৫ অক্টোবর সাধারণ নাগরিক, সরকারি চাকরিজীবী, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং অ্যাসোসিয়েশন বা সমিতি এই চার শ্রেণিতে প্রশ্নমালার মাধ্যমে কমিশন অনলাইনে সর্বসাধারণের মতামত সংগ্রহ করেছে।

    গত ২৭ জুলাই গঠন করা হয় জাতীয় বেতন কমিশন। যারা চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিতে চায় আগামী ডিসেম্বরে।

    এদিকে পে কমিশনের জন্য আলাদা কমিশন কাজ করছে জানিয়ে সম্প্রতি অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, তিনটি রিপোর্ট পাওয়ার পর সেগুলো যাচাই-বাছাই করে তারপরই কমিশন দিতে হবে। বর্তমান সরকার একটি ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করবে, আর পরবর্তী সরকার সেটি বাস্তবায়ন করবে।

  • তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল: উন্মোচিত হবে নতুন দিগন্ত

    তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল: উন্মোচিত হবে নতুন দিগন্ত

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালের রায় দেশের রাজনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্রি মেডিকেল ও স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি শেষে সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন।

    আমীর খসরু বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফেরত এসেছে, এটা কিভাবে গঠন হবে সেটা নিয়ে আলোচনা হবে। সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে। গ্রহণযোগ্য অনেকগুলো নির্বাচন এই ব্যবস্থায় হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, অনির্বাচিত সরকারের অধীনে দেশ কতটা পেছাতে পারে সেটা মানুষ দেখেছে। জনগণের রায় নিয়ে কাজ করতে যতটা সহজ হয়, সেটা অনির্বাচিত সরকারের দ্বারা হয় না।

  • যশোর শিক্ষাবোর্ডে পঞ্চাশ কলেজের স্বীকৃতি স্থগিত

    যশোর শিক্ষাবোর্ডে পঞ্চাশ কলেজের স্বীকৃতি স্থগিত

    শর্ত অনুযায়ী শিক্ষার্থী ভর্তি করতে না পারায় ৫০ কলেজের একাডেমিক স্বীকৃতি স্থগিত করেছে যশোর শিক্ষা বোর্ড। কলেজের অধ্যক্ষরা অনলাইনে একাডেমিক স্বীকৃতি নবায়ন করার আবেদন করলে এটি স্থগিত করা হয়। বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর এসএস তৌহিদুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    যশোর শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা যায়, বোর্ডের আওতাধীন ৫৮৬ কলেজের একাদশ শ্রেণিতে আসন ২ লাখ ২১ হাজার ৯৪। এই আসনে ভর্তি হয় ১ লাখ ২৮ হাজার ১৪৪ শিক্ষার্থী। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে বোর্ডের ভর্তির শর্ত ছিলো প্রত্যেকটি কলেজে সর্বনিম্ন ১০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হতে হবে। কিন্তু ৫০টি কলেজে ২ থেকে সর্বোচ্চ ৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। যে কারণে তাদের একাডেমিক স্বীকৃতি স্থগিত করা হয়েছে।

    বোর্ডের উপ-কলেজ পরিদর্শক মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম জানান, সম্প্রতি ওই ৫০টি কলেজ কর্তৃপক্ষ একাডেমিক স্বীকৃতি নবায়ন করতে বোর্ডে অনলাইন আবেদন করেন। নবায়ন করার আগে ভর্তির তথ্য যাচাইকালে জানানো হয়, কলেজগুলো আমাদের শর্ত অনুযায়ী শিক্ষার্থী ভর্তি করতে পারেনি। এ কারণে তাদের একাডেমিক স্বীকৃতি স্থগিত করা হয়েছে। পরর্তীতে তাদের একাডেমিক কার্যক্রম বাতিল হবে কীনা সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

    এ ব্যাপারে বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর এসএম তৌহিদুজ্জামান জানান, বোর্ডে শর্ত অনুযায়ী যেসব কলেজ শিক্ষার্থী ভর্তি করতে ব্যর্থ হচ্ছে, সেসব কলেজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ৫০টি কলেজ বোর্ডের শর্ত অনুযায়ী কম শিক্ষার্থী ভর্তি করায় একাডেমিক স্বীকৃতি স্থগিত করা হয়েছে। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির কার্যক্রম শেষ হলে একই পদক্ষেপ নেয়া হবে। যেসব কলেজে শর্ত অনুযায়ী কম শিক্ষার্থী ভর্তি হবে, ওইসব কলেজের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে শিক্ষকদের সম্মানের স্বার্থে কলেজের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না।

    আর খান

  • যুবলীগের সভাপতি এখন ইয়াবা ব্যবসায়ী

    যুবলীগের সভাপতি এখন ইয়াবা ব্যবসায়ী

    বগুড়ার শাজাহানপুরে ৬৫ পিস ইয়াবাসহ গোহাইল ইউনিয়ন যুবলীগের ওয়ার্ড সভাপতি মিরাজুল ইসলাম মিরাজ (৪০) গ্রেপ্তার হয়েছেন। তিনি গোহাইল সর্দারপাড়া গ্রামের মকবুল হোসেনের ছেলে।

    পুলিশ জানায়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মিরাজুলকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ৬৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। মিরাজ ওই এলাকার মাদক কারবারি।শাজাহানপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম রাতে গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান নিয়মিত চলছে। আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

  • আজ মীর নিসার আলী তিতুমীরের মৃত্যুবার্ষিকী

    আজ মীর নিসার আলী তিতুমীরের মৃত্যুবার্ষিকী

    বিপ্লবী ও বিদ্রোহী মীর নাসির আলী বেশি পরিচিত শহীদ তিতুমীর হিসেবে। তিনি শুধু ব্রিটিশ শাসকদের বিরুদ্ধেই লড়াই করেননি, তিনি বাংলার জমিদারদের বিরুদ্ধে কৃষকদের সংগঠিত করেছিলেন, প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন তার বাঁশের কেল্লা থেকে। ভারতীয় উপমহাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে মীর নিসার আলী তিতুমীরের নাম উজ্জল হয়ে আছে। আজ এই বিপ্লবীর মৃত্যুবার্ষিকী। তিনি সর্বপ্রথম ইস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে লড়াই করে মৃত্যুবরণ করেছিলেন। মীর নিসার আলী তিতুমীর ১৭৮২ খ্রিষ্টাব্দের ২৭ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের ২৪ পরগণা জেলার বারাসত মহকুমার চাঁদপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা সৈয়দ মীর হাসান আলী এবং মা আবিদা রোকেয়া খাতুন।গ্রামের স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষাগ্রহণের পর তিনি স্থানীয় একটি মাদরাসায় লেখাপড়া করেন। কোরান ও হাদিস বিষয়ে অল্প বয়সেই তিনি পাণ্ডিত্য লাভ করেন।পবিত্র হজ পালন করতে গিয়ে মক্কায় অবস্থানকালে তিতুমীর মুক্তি সংগ্রামের পথপ্রদর্শক সৈয়দ আহমদ শহীদের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। ১৮২৭ খ্রিষ্টাব্দে দেশে ফিরে তিনি সমাজ সংস্কারে আত্মনিয়োগ করেন।

    তিতুমীর জীবন শুরু করেছিলেন একজন সমাজ ও ধর্মীয় সংস্কারক হিসাবে। তখন মুসলমান সমাজে যেসব বিদআত (এমন রীতি যা ইসলামসম্মত নয়) এবং শিরক্ (আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে উপাস্য হিসেবে সাব্যস্ত করা বা তার উপাসনা করা) ঢুকে গিয়েছিলো, সেগুলোকে দূর করার উদ্দেশ্য নিয়েই তিনি তার কাজ শুরু করেছিলেন।

    কিন্তু এই ধর্মীয় এবং সামাজিক প্রেক্ষাপট পরে একটা অর্থনৈতিক এবং ব্রিটিশ বিরোধী প্রেক্ষাপটে পরিণত হয়েছিলো।

    তিতুমীর হিন্দু ও মুসলমান কৃষকদের ঐক্যবদ্ধ করেন এবং জমিদার ও ব্রিটিশ নীলকরদের বিরুদ্ধে তাদের হাতে অস্ত্র তুলে নিতে উৎসাহিত করেন। ২৪ পরগণা ও নদীয়ার অনেক কৃষক তার ডাকে সাড়া দিয়ে তার আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

    কৃষকদের নিয়ে তিতুমীরের আন্দোলন অল্প কিছুদিনের মধ্যেই গণ আন্দোলনে রূপ নেয়। তিতুমীরের আন্দোলন, সংগ্রাম, কর্মকাণ্ড এবং জীবনাদর্শ সব কিছুকেই আমাদের মূল্যায়ন করতে হবে ঔপনিবেশিক পটভূমিতে।

    এই বাংলায় ইস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানি ১৭৫৭ খ্রিষ্টাব্দে পলাশী যুদ্ধে জয়ী হবার সুবাদে প্রথম রাজনৈতিক ক্ষমতা গ্রহণ করে এবং সেখান থেকেই ক্রমাগত সারা উপমহাদেশে তাদের রাজ্যসীমা সম্প্রসারিত হয়। আবার এই বাংলা থেকেই ইংরেজ রাজত্বের বিরুদ্ধে শুরু হয় প্রতিরোধ আন্দোলন। একাধিক এবং অসংখ্য প্রতিরোধ আন্দোলন হয়েছে বাংলায় ইংরেজ রাজত্বের বিরুদ্ধে।

    ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনগুলোর পটভূমিতে একটি উজ্জ্বল অধ্যায় হচ্ছে তিতুমীরের সংগ্রাম।

    প্রজাদের ওপর অত্যাচারের প্রতিকার তিতুমীর করতে চেয়েছিলেন শান্তিপূর্ণভাবে ও সমঝোতার মাধ্যমে। কিন্তু ব্যর্থ হয়ে বারাসাতে ইংরেজদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। কোম্পানির বিরুদ্ধে এটাই ছিলো তার প্রথম বিদ্রোহ।

    তিনি ২৪ পরগণার কিছু অংশ, নদীয়া ও ফরিদপুরের একাংশ নিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র ঘোষণা করেন। এই বিদ্রোহ ‘বারাসাতের বিদ্রোহ’ নামে পরিচিত। এই বিদ্রোহে ৮৩ হাজার কৃষক সেনা তিতুমীরের পক্ষে যোগ দিয়েছিলেন।

    তার আন্দোলনের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য, শেষ পর্যন্ত পরিণত হয়েছিলো উপনিবেশ বিরোধিতায়। এবং এই উপনিবেশ বিরোধিতা করতে গিয়ে, ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে নিজের শক্তি পরীক্ষা করতে গিয়ে, তিনি কখনও ভাবেননি যে তিনি অত্যন্ত অসচ্ছল, ক্ষুদ্র একটি শক্তির প্রতিনিধিত্ব করছেন এবং তার বিপরীতে আছে বিরাট, বিশাল, শক্তিধর ইংরেজ রাজশক্তি। বারাসাত বিদ্রোহের পর তিতুমীর বুঝতে পারেন ইংরেজদের সঙ্গে যুদ্ধ অনিবার্য।

    ১৮৩১ খ্রিষ্টাব্দে তিনি বারাসাতের কাছে নারিকেলবাড়িয়া গ্রামে একটি বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করে সেখানে অস্ত্র জমা করেন। বাঁশ এবং কাদা দিয়ে তিনি ও তার অনুসারীরা এই কেল্লা নির্মাণ করেছিলেন।

    তার আন্দোলনের একটি বড় প্রতীকী তাৎপর্য ছিলো অন্যায়, এবং শাসকবর্গের অসঙ্গত শোষণের বিরুদ্ধে একটি ন্যায়সঙ্গত অবস্থান নিয়ে দাঁড়ানো এবং প্রতিবাদে জ্বলে ওঠা।

    তিতুমীরের আন্দোলনের দ্বিমাত্রিক একটা তাৎপর্য রয়েছে। তিনি শুধু উপনিবেশ বিরোধী আন্দোলন করেছেন একথা বললে তার অবদানকে কিছুটা সীমিত করা হয়, খণ্ডিত করা হয়। সমাজে অন্যায়, অবিচার, শোষণের বিরুদ্ধে যে বিদ্রোহ, আন্দোলন ও সংগঠন- সেসব ব্যাপারে তার যে অবদান ছিলো, ঐটিই সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক।

    ১৮৩১ খ্রিষ্টাব্দে কর্নেল স্টুয়ার্টের নেতৃত্বে পদাতিক বাহিনী, অশ্বারোহী ও বন্দুকধারী সৈন্যদের একটি বিশাল বাহিনী পাঠায় ইস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানি তিতুমীরের সঙ্গে লড়াইয়ের লক্ষ্যে। নারিকেলবাড়িয়ায় ১৮৩১ খ্রিষ্টাব্দের এই দিনে ভীষণ যুদ্ধ হয়।

    ব্রিটিশ সৈন্যরা চারিদিক থেকে ঘিরে ফেলে তাদের বাঁশের কেল্লা। তিতুমীর তার অনুসারীদের অভয় দিয়ে বলেন মৃত্যুকে ভয় পলে চলবে না। এই লড়াই আমাদের শেষ লড়াই নয়। আমাদের কাছ থেকে প্রেরণা পেয়েই এ দেশের মানুষ দেশ উদ্ধার করবে। এই লড়াইয়ের পথ ধরেই একদিন দেশ স্বাধীন হবে।

    ইংরেজদের কামানের গোলাবর্ষণে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায় তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা। তিতুমীর ও তার চল্লিশজন সঙ্গী যুদ্ধরত অবস্থায় সেই বাঁশের কেল্লাতেই প্রাণ হারান।

    তিতুমীরের এই আন্দোলন, দেশপ্রেম আর আত্মত্যাগ সব স্বাধীনতাকামীদের মনে প্রেরণার উৎস হয়ে ওঠে।

  • আজ শেষ হচ্ছে ঢাবির ভর্তির সময়; নতুন নির্দেশনা

    আজ শেষ হচ্ছে ঢাবির ভর্তির সময়; নতুন নির্দেশনা

    ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ভর্তি পরীক্ষার আবেদনের সময় আজ বুধবার (১৯ নভেম্বর) শেষ হচ্ছে। এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার পুনঃনিরীক্ষণ ফলাফলে জিপিএ পরিবর্তন হওয়া শিক্ষার্থীদের স্বার্থে তিনদিন সময় বাড়ানোর পর আজ মধ্যরাত পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন শিক্ষার্থীরা। আবেদনের পর ফি রশিদ বুঝে নেওয়ার জন্য নতুন নির্দেশনা দিয়েছে ভর্তি কমিটি।

    ভর্তিবিষয়ক ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সব শিক্ষার্থীকে আবেদনকৃত ইউনিট-এর আবেদন ফি প্রাপ্তি রশিদ বুঝে পেয়েছে কিনা, তা নিশ্চিত হতে অনুরোধ করা হচ্ছে। আবেদনের নির্দিষ্ট সময় শেষ হওয়ার পর, আর কোনোভাবেই পেমেন্ট করার সুযোগ থাকবে না।

    এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিবিষয়ক ওয়েবসাইটে এক বিজ্ঞপ্তিতে সময় বৃদ্ধির তথ্য জানানো হয়। ভর্তি পরীক্ষার জন্য অনলাইনে আবেদন গত ২৯ অক্টোবর দুপুর ১২টা থেকে শুরু হয়। রবিবার (১৬ নভেম্বর) রাত ১১টা ৫৯ মিনিটে অনলাইনে আবেদন কার্যক্রম শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯ নভেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত আবেদন করা যাবে।

    ওয়েবসাইটের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ১৬ নভেম্বর উচ্চ-মাধ্যমিক পরীক্ষার পুনঃনিরীক্ষণের ফলাফল প্রকাশ করা হবে। এ অবস্থায়, ফলাফল পরিবর্তনের ফলে নতুনভাবে আবেদনের যোগ্যতা অর্জনকারী শিক্ষার্থীরা যেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের সুযোগ হতে বঞ্চিত না হয়, সেই প্রেক্ষিতে ভর্তিসংক্রান্ত অন্যান্য সকল তারিখ অপরিবর্তিত রেখে অনলাইনে আবেদনের সময়সীমা তিন দিন বৃদ্ধি করা হয়েছে।

    আগামী ১৯ নভেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত করা হয়েছে ভর্তিচ্ছুরা আবেদন করতে পারবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে পাঁচটি ইউনিটের মাধ্যমে ‘আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম’-এ ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ইউনিটগুলো হচ্ছে ‘কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিট’, ‘বিজ্ঞান ইউনিট’, ‘ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিট’ ‘চারুকলাভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি অনুযায়ী কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা আগামী ১৩ ডিসেম্বর, বিজ্ঞান ইউনিটের পরীক্ষা আগামী ২০ ডিসেম্বর, ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা ৬ ডিসেম্বর, চারুকলা ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা (সাধারণ জ্ঞান ও অঙ্কন) ২৯ নভেম্বর এবং আইবিএ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।

  • চৌগাছায় মনোনয়ন বঞ্চিত বিএনপি নেতার শোডাউন

    চৌগাছায় মনোনয়ন বঞ্চিত বিএনপি নেতার শোডাউন

    চৌগাছা প্রিতিনিধ

    যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনের মনোনয়ন বঞ্চিত বিএনপি নেতা চৌগাছা উপেজলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জহুরুল ইসলাম মোটর সাইকেল শোডাউন করেছেন। মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) দুপুরে চৌগাছা ও ঝিকরগাছার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে এই শোডাউন অনুষ্ঠিত হয়।

    স্থানীয় বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবকদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মী মোটরসাইকেল নিয়ে এতে অংশ নেন। শোডাউন চলাকালে নেতাকর্মীরা দলীয় স্লোগান ও ব্যানার-পোস্টার বহন করে জহুরুল ইসলামের প্রতি মনোনয়নের সমর্থন জানান।

    নেতাকর্মীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের সাথে থেকে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড সক্রিয় রেখেছেন জহুরুল ইসলাম। তাই যশোর-২ আসনে স্থানীয় যোগ্য প্রার্থী হিসেবে তাকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানান তারা।

    এসময় উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি হুসাইন আহমেদ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, মতিউর রহমান মন্টু, পৌর বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আতিয়ার রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক কাউন্সিলর শাহিদুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সদস্য ও উপজেলা কৃষকদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান পলেন, ফুলসারা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ, বিল্লাল হোসেন, পাশাপোল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ড. জহুরুল হক, স্বরুপদাহ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাস্টার শহিদুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মালেক, হাকিমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আবু ছার, পাতিবিলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাস্টার আলী আকবার, সাধারণ সম্পাদক কবীর উদ্দিন বাবলু, জগদীশপুর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুস সাত্তার, সাধারণ সম্পাদক মাস্টার মহিদুল ইসলাম, নারায়নপুর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি কফিল উদ্দীন, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সালাম, বিএনপি নেতা মজনুর রহমান, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম-আহবায়ক সোহেল রানা, কবির হোসেন, কামাল হোসেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আবু বকর সিদ্দিক, যুগ্ম-আহবায়ক আরিফ হোসেন অপু, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব জামাল উদ্দিন, যুবদল নেতা মাষ্টার কামরুল ইসলাম, এম ইলিয়াস আলী, উজ্জ্বল হোসেন, শিমুল রহমান, নাজমুল ইসলাম, উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি আজগর আলী, সহ-সভাপতি বিএম ইকলাচ, সাধারণ সম্পাদক শাহানুর রহমান শাহিন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাত্তার, ফারুক হোসেন, সদর ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির, জেলা ছাত্রদলের সহ সাধারণ সম্পাদক বিএম বাবু, আব্দুল্লাহ আল-মামুন, নারায়নপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মাসুদ রানা পাপ্পু, ছাত্রদল নেতা মাজিদুল ইসলাম, ইমরান নাজির, ইমরান হোসেন, নারায়নপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম, পাতিবিলা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুল ইসলাম, মারুফ হোসেন, রোবায়েত সালাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

    এদিকে একইদিন বিকেলে ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপি আয়োজিত তারুন্যের সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন যশোর-২ আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশী, জেলা বিএনপির সদস্য ও চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জহুরুল ইসলাম।

  • নির্বাচনী প্রচার–প্রচারণায় খরচ হবে ২৫ কোটি টাকা

    নির্বাচনী প্রচার–প্রচারণায় খরচ হবে ২৫ কোটি টাকা

    আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করতে প্রচার–প্রচারণায় ২৫ কোটি টাকা খরচ করবে সরকার। মূলত জনগণের মধ্যে সচেতনতামূলক প্রচারের অংশ হিসেবে দেশের ৬৪টি জেলা এবং ৩০০টি উপজেলায় টিভিসি, ভিডিও ডকুমেন্টারি ইত্যাদি তৈরি করে প্রচারের জন্য এলইডি অ্যাকটিভেশন ক্যারাভানের মাধ্যমে প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

    মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক এ–সংক্রান্ত প্রস্তাবের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    জানা গেছে, এ–সংক্রান্ত কাজ নভেম্বরে শুরু করার নির্দেশনা থাকায় সময় স্বল্পতার জন্য উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা সম্ভব নয়। তাই রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে সরকারি ক্রয় বিধিমালা (পিপিপিআর) অনুসারে ব্র্যান্ড সলিউশন লিমিটেডকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে নিয়োগের ক্রয় প্রস্তাব নিয়ে আসে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়। উপদেষ্টা পরিষদ প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে।

    এদিকে রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে যথাসময়ে চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ৩ লাখ টন চাল আমদানির লক্ষ্যে পিপিআর অনুসারে দরপত্র দাখিলের সময়সীমা পত্রিকা বিজ্ঞাপন প্রকাশের তারিখ হতে ৪২ দিনের পরিবর্তে ১৫ দিন নির্ধারণ করার একটি প্রস্তাব নিয়ে আসে খাদ্য মন্ত্রণালয়। উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি প্রস্তাবটি নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে।

    খান

  • গঠিত হচ্ছে ‘ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়’

    গঠিত হচ্ছে ‘ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়’

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তি বাতিলসহ রাজধানীর সাত সরকারি কলেজকে একীভূত করে ‘ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে নতুন একটি স্বতন্ত্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

    মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) বিকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, মানসম্মত শিক্ষা, সময়মতো পরীক্ষা গ্রহণ, দ্রুত ফল প্রকাশ ও প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নেওয়া এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ভর্তি, রেজিস্ট্রেশন ও পাঠদানের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের অপারেশন ম্যানুয়েলও অনুমোদন করা হয়েছে। এর ভিত্তিতে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করে আগামী ২৩ নভেম্বর ক্লাস শুরুর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) কর্তৃক ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ ২০২৫-এর খসড়া প্রণয়ন করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে পাঠানো হয়। খসড়া অধ্যাদেশটি গত ২৪ সেপ্টেম্বর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সুধীজনের কাছ থেকে পাঁচ হাজারেরও বেশি মতামত সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রাপ্ত প্রতিটি মতামত আইনগত ও বাস্তবতার নিরীখে পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং খসড়াটি পুনর্মূল্যায়ন ও পরিমার্জন কাজ শুরু হয়েছে। মন্ত্রণালয় বিশ্বাস করে, এই বিধিবদ্ধ পদ্ধতি অনুসরণের মাধ্যমে সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য ও সমন্বিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অধ্যাদেশ চূড়ান্তকরণসহ সামগ্রিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে সময় লাগলেও, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম যেন ব্যাহত না হয় সে বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ সচেতন। প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পূর্ব পর্যন্ত শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যাবলী পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যে একজন অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

    শিক্ষামন্ত্রণালয় এই কার্যক্রমকে দেশের উচ্চ শিক্ষার মানোন্নয়নের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচনা করছে এবং সকল অংশীজনের ন্যায্য স্বার্থ রক্ষা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছে। মন্ত্রণালয় ব্যক্তিগত ধারণা বা গুজবের ভিত্তিতে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

    খান

  • জামায়াত আমিরের সঙ্গে বিশ্বব্যাংক প্রতিনিধি দলের বৈঠক

    জামায়াত আমিরের সঙ্গে বিশ্বব্যাংক প্রতিনিধি দলের বৈঠক

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছে বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি দল। মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) সকালে জামায়াত আমিরের কার্যালয়ে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

    বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকাস্থ আঞ্চলিক অফিসের পরিচালক মি. জঁ ডেনিস পেসমে এর নেতৃত্বে তার সঙ্গে ছিলেন বিশ্বব্যাংকের ঢাকা ডিভিশনের অর্থ উপদেষ্টা মিস. মেহরিন এ মাহবুব ও অপারেশন ম্যানেজার এমএস গায়েল মার্টিন।

    জামায়াত আমিরের সঙ্গে ছিলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. মিজানুর রহমান ও সাবেক সিনিয়র সচিব মুহাম্মাদ সফিউল্লাহ এবং জামায়াত আমিরের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মাহমুদুল হাসান।
    বৈঠকে বাংলাদেশের বিভিন্ন আর্থিকখাতের অবকাঠামোগত সংস্কার ও উন্নয়ন, টেকসই অর্থনীতি, করব্যবস্থা ও সামাজিক খাতের বিভিন্ন দিক নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়।

  • কৈ মাছ যশোরের জিআই পণ্যের  স্বীকৃতির জন্য আবেদন করা হবে

    কৈ মাছ যশোরের জিআই পণ্যের স্বীকৃতির জন্য আবেদন করা হবে

    দেশ থেকে এখন দেশি কৈ মাছ হারিয়ে যাচ্ছে। এ মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য কার্যকরি পদক্ষেপ নেয়া হবে। সেই সাথে জিআই পন্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার আবেদন করা হবে বলে জানান জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম মামুন।

    যশোর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কালেক্টরেট সভা কক্ষ অমিত্রাক্ষরে অনুষ্ঠিত জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় তিনি এ কথা বলেন।

    সিভিল সার্জন ডাক্তার মাসুদ রানা বলেন ১২ অক্টোবর থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত জেলায় ৯৭ দশমিক ৩০ শতাংশ টাইফয়েডের টিকা কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।

    ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার হুসাইন সাফায়াত বলেন- হাসপাতালে কুকুরে, বিড়ালে কামড়ানো ভ্যাকসিন যথাযথ পাওয়া যাচ্ছে না। যতটুকু পাওয়া যাচ্ছে তাই দিয়ে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। বাকি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

    স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক রফিকুল হাসান বলেন মশা বেড়েছে। এটি নিধনের কাজ শুরু করা হয়েছে। পৌরসভা থেকে যদি কোন দপ্তরের সেবার প্রয়োজন হয়। আমাদের কর্মকর্তাদের হটসঅ্যাপে জানালে সেবা দেয়া হবে।

    এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আহমেদ মাহাবুবুর রহমান বলেন ব্রিজ নির্মাণের আগে প্রত্যেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হবে। তারা তালিকা সংশোধন করে দিলে মন্ত্রণালয়ে পাঠিনো হবে। সেখান থেকে অনুমোদন হয়ে আসলে কাজ শুরু করা হবে। কিন্তু এখনো সেই তালিকা পায়নি।

    সড়ক ও জনপথ বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া বলেন, পৌরসভার আওতাধীন নীলগঞ্জ তাঁতী পাড়ার রাস্তা মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন হয়ে আসলে সংস্কার কাজ শুরু করা হবে। এক সপ্তাহের মধ্যে শুরু করা হবে পালবাড়ী থেকে মনিহার পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের কাজ। যশোর খুলনা মহাসড়কের পিচ ঢালাইয়ের কাজ শুরু হবে। এজন্য হাইওয়ে পুলিশের সহযোগিতা প্রয়োজন।

    জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আশরাফুল আলম বলেন, ২০২৬ সালের বই চলে এসেছে। ১ম থেকে ৫ম শ্রেণির বই প্রাপ্তির হার ৫ লাখ ৮১ হাজার ২৫৬। প্রাকপ্রাথমিকের প্রাপ্তি বইয়ের সংখ্যা ৩৯ হাজার ২০৯। সব বই উপজেলাগুলোতে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

    সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আজাহারুল ইসলাম বলেন, যেখানে যেভাবে কাজ করি না কেন সেখানকার মানুষের ভালবাসা অর্জন করা বড় কথা। ভালবাসা দিলে বাকিগুলি খুশি হয়ে নেয়া যায়। আমরা যখন কাজ করি, জনগণের কথা চিন্তা করে করা উচিৎ। বিভিন্ন সংকটের মধ্যে দায়িত্ব পালন করতে হয়। যশোরে কাজ করতে এসে সকল কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় পেয়েছি।

    আরো বক্তবক্য রাখেন পুলিশ সুপার রওনক জাহান, কৃষি জেলা কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন, জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ছিদ্দিকুর রহমান, গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন প্রমুখ।

    পরিচালনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকার।

    সভায় গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আসলাম হোসেন, ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মানিকুজ্জামানকে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ক্রেস্ট ও ফুল দিয়ে বিদায় সংবর্ধনা জানানো হয়।

  • বারোবাজারে ট্রেনে কাটা পড়ে নারীর মৃত্যু

    বারোবাজারে ট্রেনে কাটা পড়ে নারীর মৃত্যু

    ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ বারোবাজারে ট্রেনে কাটা পড়ে জাহিদা বেগম (৫৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি উপজেলার মাসলিয়া গ্রামের আব্দুল মাজেদের স্ত্রী। সোমবার দুপুরে বারোবাজার রেলস্টেশনের অদূরে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনে কাটা পড়ে তার মৃত্যু হয়।
    স্থানীয়রা বলেন, নিহত জাহিদা বেগম একজন মানসিক রোগী । ঘটনার সময় ট্রেন লাইন অতিক্রম করে বারোবাজার শহরের দিকে যাচ্ছিলেন। এসময় দ্রুতগামি ট্রেনের নিচে পড়ে তার শরীর খণ্ড খণ্ড হয়ে যায়।

    বারোবাজার রেলস্টেশনের মাস্টার সিদ্দিকুর রহমান জানান, দুপুর ২টা ৪০ মিনিটের সময় ঢাকাগামি সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনটি বারোবাজার অতিক্রম করে। এরপর স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পারেন ওই ট্রেনে কাটা পড়ে এক নারী মারা গেছেন। এ খবর প্রেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে লোক পাঠিয়ে নিশ্চিত হন। বিষয়টি তিনি যশোর রেল পুলিশকে অবহিত করেছেন । তারা এসে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান তিনি।

  • স্বামীর মোটর সাইকেল থেকে পড়ে প্রাণ গেল স্ত্রীর

    স্বামীর মোটর সাইকেল থেকে পড়ে প্রাণ গেল স্ত্রীর

    চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় স্বামীর মোটরসাইকেলের পেছন থেকে পড়ে বিউটি খাতুন (৪৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি দামুড়হুদা উপজেলার ভগিরাতপুর পুরাতন পাড়ার মুস্তাফিজুর রহমানের স্ত্রী।

    মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) সকালে চুয়াডাঙ্গার ভালাইপুর-আলমডাঙ্গা সড়কের চিৎলা রুইতনপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল ৭টার দিকে বিউটি খাতুন স্বামীর মোটরসাইকেলে চড়ে ভগিরাতপুর থেকে দৌলতপুরের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে চিৎলা রুইতনপুর এলাকায় মোটরসাইকেলের পেছন থেকে পড়ে গেলে তার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। স্বামী মুস্তাফিজুর রহমান দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেন। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন। নিহতের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

    আলমডাঙ্গা থানার ওসি মো. মাসুদুর রহমান পিপিএম ঘটনার সত্যতা নিশ্চত করেছেন।

  • এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেন আবারো আলোচনায়

    এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেন আবারো আলোচনায়

    ব্যাংক একাউন্টে অস্বাভাবিক লেনদেন নিয়ে ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের সাবেক এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেন আবারও আলোচনায়।

    তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ওঠে চলতি বছরের শুরুর দিকে।

    ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের সাবেক এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেনের ব্যাংক হিসাবে অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়ার পর দুদক যে তদন্ত শুরু করে তা নানা কারণে স্থবির হয়ে আছে। বছরের শুরুতে তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, বদলি–পদোন্নতিতে প্রভাব খাটানো, মন্ত্রণালয়ের ক্রয়ে কমিশন গ্রহণ এবং ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

    দুদক তার ব্যাংক হিসাব সংগ্রহ করে উল্লেখযোগ্য অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পায়। এ কারণে তাকে তলব করা হলে তিনি জিজ্ঞাসাবাদে উপস্থিত হন; তবে তার ব্যাখায় দুদক সন্তুষ্ট হতে পারেনি।
    দুদক সূত্র জানায়, তদন্ত কর্মকর্তাদের গড়িমসি, নথিপত্র সংগ্রহে বাধা, অভিযুক্তের অসঙ্গত তথ্য এবং রাজনৈতিক চাপের কারণে অনুসন্ধান অগ্রসর হচ্ছে না। তদন্তে কোনো অগ্রগতি না থাকায় দুদক ইতোমধ্যে তিনবার তদন্ত কর্মকর্তা বদল করেছে। প্রয়োজনে আবারও বদলের কথা বিবেচনায় আছে; প্রয়োজনে বিশেষ কমিটি গঠন করা হতে পারে।

    এনসিপির কিছু নেতা প্রায়ই দুদকে গিয়ে অভিযুক্তদের পক্ষে সুপারিশ করছেন বলেও জানা গেছে, যা তদন্তকে আরও জটিল করছে।

    দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) আক্তার হোসেন বলেন, অনুসন্ধান শেষে প্রতিবেদন দেওয়া হবে; তবে সময় নির্দিষ্ট নয়।

  • হাসিনার বিরুদ্ধে রায় প্রমাণ করে, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়

    হাসিনার বিরুদ্ধে রায় প্রমাণ করে, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়

    প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ক্ষমতাচ্যুত পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে আদালতের দণ্ডাদেশ প্রমাণ করেছে যে ক্ষমতার অবস্থান যাই হোক, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।

    সোমবার এক বিবৃতিতে প্রধান উপদেষ্টা এ মন্তব্য করেন।

    প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এ বিবৃতিতে তিনি বলেন, আজ বাংলাদেশের আদালত এমন স্পষ্ট ভাষায় কথা বলেছে যা দেশের ভেতর থেকে বৈশ্বিক পরিসর পর্যন্ত প্রতিধ্বনিত হয়েছে। এ রায় জুলাইুআগস্ট ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত হাজারো মানুষের প্রতি পর্যাপ্ত না হলেও ন্যায়বিচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন।

    প্রফেসর ইউনূস বলেন, দেশ এখন দীর্ঘ বছরের দমন-পীড়নে বিধ্বস্ত গণতান্ত্রিক ভিত্তি পুনর্গঠনের এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে রয়েছে। যেসব অপরাধের বিচার হয়েছে, নিরস্ত্র তরুণ-তরুণী ও শিশুদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের নির্দেশ শুধু আইনের লঙ্ঘনই নয়; রাষ্ট্র ও নাগরিকের মধ্যকার মৌলিক আস্থার বন্ধনও ভেঙে দিয়েছিল।

    তিনি বলেন, এ ঘটনা বাংলাদেশের মৌলিক মূল্যবোধ-মর্যাদা, প্রতিরোধ-ক্ষমতা এবং ন্যায়বিচারের প্রতি অঙ্গীকারে তীব্রভাবে আঘাত করেছিল।

    ‘প্রায় ১,৪০০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। তারা কেবল কোনো সংখ্যা ছিলেন না; ছিলেন ছাত্র-ছাত্রী, বাবা-মা ও অধিকারসম্পন্ন নাগরিক,’ যোগ করেন তিনি।

    প্রফেসর ইউনূস জানান, আদালতে মাসের পর মাসের সাক্ষ্যপ্রমাণে উঠে এসেছে নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের ওপর কীভাবে হেলিকপ্টার থেকেও গুলি চালানো হয়েছিল। এ রায় তাদের দুর্ভোগকে স্বীকৃতি দেয় এবং নিশ্চিত করে যে ন্যায়বিচারের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রশ্নে ছাড় নেই।
    তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন বৈশ্বিক জবাবদিহির মূল স্রোতে পুনরায় যুক্ত হচ্ছে। ‘পরিবর্তনের দাবিতে যারা দাঁড়িয়েছিল, তাদের অনেকে নিজের জীবন বিসর্জন দিয়েছে; তাদের আজকের ত্যাগ আমাদের আগামীর পথ তৈরি করছে।’প্রধান উপদেষ্টা বলেন, শুধু আইনি জবাবদিহি নয়, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকের মধ্যে আস্থা পুনর্গঠনও এখন জরুরি। মানুষ কেন প্রকৃত প্রতিনিধিত্বের জন্য সবকিছু ঝুঁকিতে ফেলতে প্রস্তুত হয়েছিল, এখন তা বোঝা এবং সেই আস্থার উপযোগী সিস্টেম তৈরি করা প্রয়োজন।

    তিনি বলেন, আজকের রায় সেই যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি পূর্ণ আস্থা রাখি ‘বাংলাদেশ সাহস ও বিনয়ের সঙ্গে আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে সক্ষম হবে।’

    আইনের শাসন, মানবাধিকার এবং প্রতিটি মানুষের সম্ভাবনার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকলে বাংলাদেশে ন্যায়বিচার শুধু টিকেই থাকবে না, বরং বিজয়ী হবে এবং তা স্থায়ী হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    এর আগে আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ জুলাই-আগস্ট ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে।

    একই সঙ্গে ঘটনার পূর্ণ বিবরণ দেওয়া ও তদন্তে সহযোগিতা করায় রাষ্ট্রপক্ষের স্বীকারোক্তিকারী হিসেবে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে ‘লঘুদণ্ড’ হিসেবে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

  • হাসিনার রায় নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট, ঢাবির ডেপুটি রেজিস্ট্রার আটক

    হাসিনার রায় নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট, ঢাবির ডেপুটি রেজিস্ট্রার আটক

    মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ডেপুটি রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ লাভলু মোল্লাকে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। সোমবার গভীর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম ও কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে থানায় নিয়ে যায়। এ সময় বিভিন্ন হল সংসদের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

    রায়ের পর লাভলু মোল্লা তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে শেখ হাসিনার ছবিযুক্ত একটি কার্ড পোস্ট করেন। যেখানে তিনি লিখেন— “I don’t care।”

    গ্রেপ্তারের আগ মুহূর্তে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন তিনি। সেখানে তিনি বলেন, ‘আমি নির্দোষ, আমাকে এখন গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ইনশাআল্লাহ শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে।’

    ঘটনা নিশ্চিত করে শাহবাগ থানার ওসি খালিদ মনসুর বলেন, ‘প্রক্টরিয়াল টিম ও শিক্ষার্থীরা তাকে থানায় নিয়ে এসেছে। তিনি শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরোধিতা করে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন। তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’

  • চুয়াডাঙ্গায় বিএনপির ৫৩ নেতাকর্মী জামায়াত ইসলামীতে যোগদান

    চুয়াডাঙ্গায় বিএনপির ৫৩ নেতাকর্মী জামায়াত ইসলামীতে যোগদান

    ওয়ার্ড বিএনপি’র সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদকসহ ৫৩ জন নেতাকর্মী সমর্থক আনুষ্ঠানিক ভাবে জামায়াত ইসলামীতে যোগদান করেছেন।

    চুয়াডাঙ্গা ১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি মাসুদ পারভেজ রাসেলের কাছ থেকে ফুলের মালা, ফুল নিয়ে ও হাতে হাত রেখে যোগদান করেন।শুক্রবার রাতে জেলা সদরের আলোকদিয়া আকন্দবাড়িয়া গ্রামে একটি স্কুল মাঠে যোগদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

    চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলোকদিয়া ইউনিয়নের আকন্দবাড়িয়া গ্রামের ২ নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক আতিয়ার রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি’র ৫৩ নেতাকর্মী ও সমর্থক আনুষ্ঠানিক ভাবে জামায়াত ইসলামীতে যোগদান করেন।

    • অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি মাসুদ পারভেজ রাসেল। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা আমির বিল্লাল হোসাইন, আলোকদিয়া ইউনিয়ন আমির আব্দুল মমিন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্ড সভাপতি তরিকুল ইসলাম লিটন।
  • মাদারীপুরে ঢাকা–বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ, গাছ ফেলে রেখে বিক্ষোভ

    মাদারীপুরে ঢাকা–বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ, গাছ ফেলে রেখে বিক্ষোভ

    মাদারীপুর জেলার ডাসার উপজেলায় ঢাকা–বরিশাল মহাসড়কে গাছ ফেলে অবরোধের ঘটনা ঘটেছে।

    কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা সোমবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ঘোষিত শাটডাউন কর্মসূচি বাস্তবায়নের দাবিতে রবিবার (১৬ নভেম্বর) ভোর থেকে গোপালপুর বাসস্ট্যান্ডের উত্তর পাশসহ বিভিন্ন স্থানে এ কর্মসূচি শুরু করেন।অবরোধকারীরা মহাসড়কের উপর গাছ ফেলে এবং টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এতে মহাসড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট। দূরপাল্লার যাত্রীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থেকে চরম ভোগান্তির শিকার হন।

    অন্যদিকে, সড়ক থেকে গাছ অপসারণ ও নাশকতামূলক কার্যক্রম মোকাবিলায় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার কাজ শুরু করেছে।

    মাদারীপুরের মোস্তফাপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন আল রশিদ বলেন, “ঢাকা–বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে একদল দুর্বৃত্ত। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা সেখান থেকে সরে যায়। এখন আমরা সড়ক স্বাভাবিক করতে কাজ করছি।”ডাসার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ এহতেশামুল ইসলাম জানান, ডাসার ও কালকিনি থানার অংশে সাত–আটটি স্থানে সড়কের পাশের গাছ কেটে ফেলে রাখা হয়েছিল। এ সময় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে।তিনি আরও বলেন, সড়ক থেকে গাছ অপসারণের কাজ চলমান।

  • মুন্সীগঞ্জে ঢাকা–মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২

    মুন্সীগঞ্জে ঢাকা–মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২

    শনিবার (১৫ নভেম্বর) রাত প্রায় ৮টা থেকে সোয়া ৮টার মধ্যে পৃথক এই দুটি দুর্ঘটনা ঘটে বলে নয়া দিগন্তকে নিশ্চিত করেছেন শ্রীনগর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার দেওয়ান আজাদ হোসেন।

    তিনি জানান, রাত ৮টার দিকে খবর পেয়ে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের সমসপুর নামক স্থানে দ্রুতগামী একটি অ্যাম্বুলেন্স মাওয়ামুখী লেনে চলার সময় হঠাৎ এক পথচারীকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। নিহতের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

      • দ্বিতীয় দুর্ঘটনাটি ঘটে রাত সোয়া ৮টার দিকে শ্রীনগর উপজেলার ওমপাড়া নামক স্থানে। বিষয়টি নিশ্চিত করে হাঁসাড়া হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ টি এম মাহমুদুল হক নয়া দিগন্তকে জানান, রাত সোয়া ৮টার দিকে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের শ্রীনগর উপজেলার ওমপাড়া নামক স্থানে ঢাকামুখী একটি মোটরসাইকেল বেপরোয়া গতিতে চালিয়ে এসে পথচারী অজ্ঞাতনামা পুরুষকে (৪৫) ধাক্কা দেয়। এ সময় হাইওয়ে পুলিশের সহায়তায় তাকে শ্রীনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
  • হিরো আলম গ্রেপ্তার

    হিরো আলম গ্রেপ্তার

    কন্টেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম গ্রেপ্তার হয়েছেন । স্ত্রী রিয়ামনির দায়ের করা মামলায় শনিবার দুপুরে তাকে গ্রেপ্তার করেছে হাতিরঝিল থানা পুলিশ।

    এর আগে বুধবার হিরো আলমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ওয়াহিদুজ্জামানের আদালত। সেই প্রেক্ষিতেই আজ তাকে আটক করে পুলিশ।

    রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় হত্যাচেষ্টা, মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে স্ত্রী রিয়া মনি মামলাটি করেন। এ মামলায় হিরো আলমের সঙ্গে আহসান হাবিব সেলিম নামের একজনকে আসামি করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

    তেজগাঁও বিভাগের ডিসি ইবনে মিজান আমার দেশকে বলেন, হিরো আলমের স্ত্রী রিয়া মনির করা মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় হিরো আলমকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

  • সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীতে বালুবোঝাই বাল্কহেডে চাঁদাবাজি, গ্রেপ্তার ১০

    সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীতে বালুবোঝাই বাল্কহেডে চাঁদাবাজি, গ্রেপ্তার ১০

    সিরাজগঞ্জের চৌহালীতে যমুনা নদীতে বাল্কহেড থেকে চাঁদাবাজির সময় হাতেনাতে দশজনকে গ্রেপ্তার করেছে নৌ-পুলিশ। আজ শনিবার তাঁদের চাঁদাবাজি মামলায় আদালতে পাঠাবে চৌহালী থানা পুলিশ।

    তারা হলেন মিজানুরের ছেলে আল আমিন (২৪), আ: খলিফার ছেলে মো: নজরুল ইসলাম (৪৫) মৃত লতিফ সিকদারের ছেলে ইউপি সদস্য মো: মানিক সিকদার, আবুল হোসেন সিকদারের ছেলে মো: শহীদুল ইসলাম (৩৫), আবদুল হামিদের ছেলে আবদুল আলীম (৪০),মৃত আমোদ আলীর ছেলে শরীফুল ইসলাম (৩৫),সোলেমান সিকদারের ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন (৩৫), ইউসুফ আলীর ছেলে ইউনুস আলী( ২৬),মৃত সন্তোষ আলীর ছেলে মো: শহীদুল ইসলাম (৪৫) ও মকবুল হোসেনর ছেলে ফরিদ হোসেন(২৬) তাঁদের সবার বাড়ি উপজেলার ঘোড়জান ইউনিয়নের রেহাই কাউলিয়া গ্রামের ।শনিবার (১৫ নভেম্বর) সকালে উপজেলার ঘোড়জান ইউনিয়নের রেহাই কাউলিয়া মুরাদপুর অংশে উজানে যমুনা নদী থেকে তাঁদের আটক করা হয়। পরে তাঁদের নামে ও অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন হেলাল উদ্দিন মন্ডল নামের এক ভুক্তভোগী।

    চৌহালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল বারিক তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, একজন তার বাল্কহেডে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন। আসামিদের আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।’

    খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীর ইজারা করা বালুমহাল থেকে সিরাজগঞ্জের-যমুনা দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে নৌপথে প্রতিদিন শত শত বাল্কহেড নিয়ে যান ব্যবসায়ীরা। এসব বালু বহনকারী বাল্কহেড থেকে একটি চক্র প্রতিদিন চাঁদা আদায় করে।

    চৌহালী নৌ-পুলিশের আইসি ফিরোজ আহম্মেদ জানান, নদীতে বালুভর্তি বাল্কহেড থেকে চাঁদাবাজি করার সময় তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা, নগদ দুই হাজার টাকা ও ১০টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় চাঁদাবাজির মামলার প্রস্তুতি চলছে।

  • চৌগাছায় ৩ দোকানে চুরি নগদ টাকা ও মালামাল চুরি

    চৌগাছায় ৩ দোকানে চুরি নগদ টাকা ও মালামাল চুরি

    চৌগাছা থেকে,

    যশোরের চৌগাছায় ৩টি দোকানের শাটার ভেঙ্গে চুরি করেছে চোরেরা। বৃহস্পতিবার রাতে পৌর শহরের শফি উদ্দীন মল্লিক মার্কেটে এ চুরির ঘটনা ঘটে। চোরেরা এ মার্কেটের ৩টি দোকানের শার্টার ভেঙ্গে নগদ ২ লাখ ৭৮ হাজার ৫শ টাকা ও মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়। চোরেরা এ মার্কেটের চৌগাছা ডিজিটাল ষ্টিডিও, আল্লাহর দান হোমিও হল ও সুমন গার্মেন্টসের শার্টার ভেঙ্গে চুরি করে।

    চৌগাছা ডিজিটাল ষ্টিডিওর মালিক রবিউল ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার বাজার বন্ধের দিন ছিলো। তাই দোকান সারাদিন বন্ধ ছিলো। সন্ধ্যায় দোকান খুলে রাত ৯ টার দিকে বন্ধ করে বাড়ীতে চলে আসি। পরে শুক্রবার সকালে পাশের দোকানী আমার মোবাইলে খবর দিলে আমি দোকানে আসি। চোরেরা শার্টার ভেঙ্গে দোকানের ভিতরে ঢুকে ক্যাশবাক্স ভেঙ্গে ১ লাখ ১৫ হাজার ৫শ টাকা চুরি করে। আল্লাহর দান হোমিও হলের মালিক শরিফুল ইসলাম বলেন, চোরেরা শার্টার ভেঙ্গে ভিতরে ঢুকে। এ সময় চোরেরা ক্যাশ ভেঙ্গে ১ লাখ ৬৩ হাজার টাকা চুরি করে। পরে চোরেরা সুমন গার্মেন্টসের শার্টার ভেঙ্গে ভিতরে ঢোকে।

    ১ অক্টোবর ভোর রাতে চোরেরা পৌর শহরের প্রেসক্লাব মোড়ে মেসার্স শাওন এন্টারপ্রাইজ নামে একটি মুদি দোকানের ভেন্টিলেটর কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। চোরেরা নগদ প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও ২ লক্ষাধিক টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় দোকানের মালিক আব্দুল মজিদ বাদী হয়ে চৌগাছা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
    চৌগাছা থানার ওসি আনোয়ার হোসেন বলেন, অভিযোগ পেয়েছি চোর ধরার জন্য পুলিশ অভিযান চলছে।

  • বিচারকের ছেলের হত্যাকারী আটক

    বিচারকের ছেলের হত্যাকারী আটক

    রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ (জেলা জজ) আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আবদুর রহমানের ভাড়া বাসায় ঢুকে তার স্কুল পড়ুয়া ছেলে তাওসিফ রহমান সুমনকে (১৮) ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে লিমন মিয়া নামে এক যুবক।

    বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) বিকেলে এ হামলায় বিচারকের স্ত্রী তাসমিন নাহার লুসী গুরুতর আহত হয়েছেন। অজ্ঞান অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    এর আগে ওই যুবক বাড়ির ফটকে নিরাপত্তাকর্মীদের জজের স্ত্রীর ভাই পরিচয় দিয়ে প্রবেশ করে। হত্যার ঘটনার পর জ্ঞান হারিয়ে পড়ে ছিলেন হত্যাকারী লিমন। পরে তাকে আটক করেছে পুলিশ। আটক লিমন মিয়ার (৩৫) বাড়ি গাইবান্ধার ফুলছড়ি এলাকায়।

    রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) কমিশনার আবু সুফিয়ান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, হামলাকারী যুবকও বিচারক পরিবারের পূর্বপরিচতি বলে পুলিশ জানতে পেরেছে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে লিমন বিচারকের বাসায় প্রবেশ করে অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। ধারাল অস্ত্রের কোপে তাওসিফ রহমান সুমন গুরুতর আহত হন। আহত অবস্থায় বিচারকের ছেলে ও স্ত্রী তাসমিন নাহারকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে সুমনকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। ঘটনা সময় বিচারক আবদুর রহমান বাসায় ছিলেন না। খবর পেয়ে তিনি হাসপাতালে ছুটে যান।

    এদিকে হামলাকারী যুবক লিমন মিয়াও আহত অবস্থায় এখন রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। আরএমপির মুখপাত্র ও উপকমিশনার গাজিউর রহমান বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, সেখানে দুপক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে লিমনও আহত হন।’

    রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার আবু সুফিয়ান বলেন, ‘ঘটনাস্থলে তদন্তকারী দল কাজ করছে। হত্যার কারণ এখনো স্পষ্ট নয়, তবে প্রাথমিকভাবে পারিবারিক বা ব্যক্তিগত শত্রুতার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, হামলাকারী লিমন মিয়া যেহেতু অজ্ঞান অবস্থায় আছে, তাই এখনই কী কারণে এটি ঘটেছে—সেটি বলা যাচ্ছে না। আমরা তদন্ত করছি।’

    গত ৬ নভেম্বর সিলেটের সুরমা থানায় একটি জিডি করেছিলেন বিচারকের স্ত্রী লুসি। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, লিমন মিয়ার সঙ্গে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনে তার পরিচয় হয়। এরপর তার দারিদ্রতার কারণে লিমনকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করতেন লুসি। একপর্যায়ে সহযোগিতা করা বন্ধ করে দিলে লিমন আরও টাকা দাবি করেন। কিন্তু টাকা দিতে অস্বীকার করলে লিমন গত ৩ নভেম্বর তাকে সপরিবারে হত্যার হুমকি দেয়। এ ঘটনায় তিনি সিলেটের সুরমা থানায় নিরাপত্তা শঙ্কার কথা জানিয়ে লিমনের বিরুদ্ধে জিডি করেছিলেন।

  • দেশের অর্থনীতিতে বড় চ্যালেঞ্জ

    দেশের অর্থনীতিতে বড় চ্যালেঞ্জ

    সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সংস্কার কার্যক্রমে অগ্রগতি সত্ত্বেও বাংলাদেশ এখনো তিনটি বড় আর্থিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি—দুর্বল রাজস্ব, ঝুঁকিপূর্ণ আর্থিক খাত ও উচ্চ মূল্যস্ফীতি। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে এমন মন্তব্য করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।

    চলমান ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচির আওতায় পঞ্চম পর্যালোচনা শেষে সংস্থাটির ঢাকা সফররত প্রতিনিধিদল এই মূল্যায়ন প্রকাশ করে। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ক্রিস পাপাজর্জিও। ২৯ অক্টোবর থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত তারা সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ও অর্থনৈতিক নীতি–নির্ধারকদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

    আইএমএফ জানায়, বাংলাদেশের রাজস্ব কাঠামো দুর্বল হওয়ায় অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতের মূলধন ঘাটতি ও উচ্চ মূল্যস্ফীতিও স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধির পথে বড় বাধা। সংস্থাটির মতে, টেকসই আর্থিক ভারসাম্য রক্ষা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি অর্জনে সাহসী ও কার্যকর নীতিমালা এখন অত্যন্ত প্রয়োজন। নীতি প্রণয়নে বিলম্ব বা দুর্বলতা দেখা দিলে অর্থনীতি আরও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

    বিবৃতিতে বলা হয়, রাজস্ব প্রশাসনের সংস্কার ও আর্থিক খাতের কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করতে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে। একটি সহজ, স্বচ্ছ ও কার্যকর করব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে রাজস্ব আয় বাড়বে এবং সামষ্টিক স্থিতিশীলতা দৃঢ় হবে।

    আইএমএফের মূল্যায়নে আরও বলা হয়েছে, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে ৩ দশমিক ৭ শতাংশে নেমেছে, যা গত বছরের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটার ফল। অন্যদিকে, টানা কয়েক মাসের প্রচেষ্টায় মূল্যস্ফীতি দুই অঙ্ক থেকে ৮ শতাংশে নেমে এসেছে।

    সংস্থাটি আশা করছে, কর সংস্কার ও আর্থিক খাতের পুনর্গঠন কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে ২০২৫–২৬ এবং ২০২৬–২৭ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি গড়ে প্রায় ৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। তবে ২০২৬–২৭ অর্থবছরে তা সাড়ে ৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে।

    আইএমএফ আরও বলেছে, মধ্য মেয়াদে প্রবৃদ্ধির গতি বাড়াতে শাসনব্যবস্থা শক্তিশালী করা, যুব বেকারত্ব হ্রাস এবং অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণে জোর দিতে হবে। এসব সংস্কার কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের উন্নয়ন আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই হবে বলে সংস্থাটির অভিমত।
    সুত্র: আমার দেশ

  • ঢাকাসহ ২৩ জেলায় নতুন ডিসি নিয়োগ

    ঢাকাসহ ২৩ জেলায় নতুন ডিসি নিয়োগ

    জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে স্থানীয় প্রশাসনের রদবদলের অংশ হিসেবে ঢাকাসহ ২৩ জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনে নতুন ডিসি নিয়োগ করার কথা জানানো হয়েছে।

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জের ডিসি মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞাকে চট্টগ্রামের ডিসি, বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের পরিচালক এস এম মেহেদী হাসানকে লক্ষ্মীপুর, পরিকল্পনা বিভাগের উপসচিব সৈয়দা নুরমহল আশরাফীকে মুন্সিগঞ্জ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. সাইফুর রহমানকে নেত্রকোনা, অর্থ বিভাগের উপসচিব মো. শাহাদাত হোসেন মাসুদকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের পরিচালক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে নওগাঁ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. আনোয়ার সাদাতকে খাগড়াছড়ি, রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মু. রেজা হাসানকে কুমিল্লা এবং জনবিভাগের উপসচিব মো. রায়হান কবিরকে নারায়ণগঞ্জের ডিসি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

    এ ছাড়া তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব শাহেদ মোস্তফাকে পাবনা, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. রেজাউল করিমকে ঢাকা, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ এনামূল আহসানকে রংপুর, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর ফরিদপুরের জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার মোহাম্মদ আশেক হাসানকে যশোর, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার একান্ত সচিব সৈয়দ এনামুল কবিরকে মেহেরপুর, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সচিব (উপসচিব) মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামকে নোয়াখালী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ আলম হোসেনকে গাজীপুর, এস্টাবলিশমেন্ট অব ডিজিটাল ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম প্রকল্পের উপপ্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লাকে গাইবান্ধা, ভূমি সংস্কার বোর্ডের উপ ভূমি সংস্কার কমিশনার অন্নপূর্ণা দেবনাথকে কুড়িগ্রাম, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার একান্ত সচিব জাহাঙ্গীর আলমকে মাদারীপুর, দুর্নীতি দমন কমিশনের পরিচালক তৌহিদুজ্জামান পাভেলকে মৌলভীবাজার, ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিটের সহকারী পরিচালক মো. খায়রুল আলম সুমনকে বরিশাল, কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের উপসচিব তাছলিমা আক্তারকে বরগুনা এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের উপসচিব নাজমা আশরাফীকে রাঙামাটির ডিসি করা হয়েছে।

  • আয়ারল্যান্ড ও আর্জেন্টিনায় দূতাবাস খুলছে বাংলাদেশ

    আয়ারল্যান্ড ও আর্জেন্টিনায় দূতাবাস খুলছে বাংলাদেশ

    এই সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ।

    আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিন ও আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েন্স আয়ার্সে দুটি নতুন দূতাবাস খুলছে বাংলাদেশ।

    ডেস্ক নিউজ: বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এই তথ্য জানিয়েছে।

    প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের ৪৮তম বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই প্রস্তাবনাটি অনুমোদন দেয়া হয়।

  • জামায়াত ইসলামী সরকার গঠন করলে যুবকদের কর্মস্থানের ব্যবস্থা করা হবে -ডাঃ মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ

    জামায়াত ইসলামী সরকার গঠন করলে যুবকদের কর্মস্থানের ব্যবস্থা করা হবে -ডাঃ মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ

    যশোরের চৌগাছায় পৌর জামায়াতের ৭ নং ওয়ার্ড কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) বিকেলে চৌগাছা ছারাপাইলট বালিকা বিদ্যালয় মাঠে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ৭ নং ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপিত সাবেক কাউন্সিলর আব্দুর রহমান।

    সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় জামায়াত মনোনীত যশোর-২ চৌগাছা-ঝিকরগাছা আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ডাঃ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ বলেন, বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী সরকার গঠন করলে দেশের বেকার যুবকদের কর্মস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। বেকারের সংখ্যা কমে আসলে উন্নয়ের দিকে এগিয়ে যাবে দেশ। কমে আসবে চুরি-ডাকাতি, ছিনতাই-চাঁদাবাজী ও সন্ত্রাস।

    সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন, ঝিকরগাছা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন, চৌগাছা উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা গোলাম মোরশেদ, নায়েবে আমির মাওলানা নূরুল ইসলাম, সেক্রেটারি অধ্যাপক নুরুজ্জামান আল মামুন, সহকারি সেক্রেটারি মাস্টার রহিদুল ইসলাম খান, ও সাবেক পৌর প্যানেল মেয়র মাস্টার কামাল আহমেদ বিশ্বাস, পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল খালেক, পৌর জামায়াতের সেক্রেটারী ডাঃ জিল্লুর রহমান প্রমুখ।

  • সোনাতলায় কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

    সোনাতলায় কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

    “শিক্ষা, চরিত্র ও দেশ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে আজকের তরুণ প্রজন্ম”এই মূল প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির উদ্যোগে সরকারি নাজির আকতার কলেজ শাখার বুধবার দুপুর ১২টায় কলেজ মিলনায়তনে এক বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন অনুষ্ঠান।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ও বগুড়া-১ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন। তিনি বলেন, “আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের রাষ্ট্রনায়ক। নৈতিক মূল্যবোধ, আদর্শিক চেতনা ও যোগ্যতার সমন্বয় ঘটাতে পারলেই তারা সমাজ ও দেশের নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।”।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সোনাতলা উপজেলা শিবিরের সভাপতি লাবিবুল হাসান।

    প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক ডা. রেজওয়ানুল ইসলাম। তিনি বলেন, “সঠিক ক্যারিয়ার বেছে নিতে হলে নিজের আগ্রহ, দক্ষতা ও সামাজিক প্রয়োজনের সমন্বয় ঘটাতে হবে। প্রযুক্তি, চিকিৎসা, কৃষি, উদ্যোক্তা উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে তরুণদের ভূমিকা বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে আরও গতিশীল করবে।”অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা বায়তুলমাল সম্পাদক হাফেজ মেহেদী হাসান।এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া জেলা পূর্ব শিবিরের সভাপতি জোবায়ের আহম্মেদ, শহীদ সৈকতের পিতা নজরুল ইসলাম, কৃতি শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও সমাজসেবক সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।

    অনুষ্ঠানে কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হয়। শেষে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

    • অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা বলেন, এই আয়োজন শুধু সংবর্ধনা নয় বরং শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা ও দিকনির্দেশনার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
  • সন্ধ্যায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক

    সন্ধ্যায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক

    বিএনপির শীর্ষ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক ডেকেছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় গুলশানস্থ চেয়ারপার্সন কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

    বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দলটির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবীর খান।

    সভায় দেশের সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি, চলমান নির্বাচন প্রক্রিয়া, দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রমসহ গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে জানা গেছে। বৈঠকে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।

  • গণভোটে যে ৪ বিষয়ে হ্যাঁ-না

    গণভোটে যে ৪ বিষয়ে হ্যাঁ-না

    জুলাই সনদ বাস্তবায়নে চারটি বিষয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এতে ভোটাররা হাঁ অথবা না ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবে। সবগুলোই সংবিধান সংস্কার সম্পৃক্ত। এছাড়া গণভোট এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন একই দিনে হবে।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এ তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টা।

    ভাষণে আমি প্রশ্নটি এখন আপনাদের সামনে পাঠ করে শোনাচ্ছি। প্রশ্নটি হবে এরকম:

    “আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত নিম্নলিখিত প্রস্তাবগুলোর প্রতি আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করছেন?”

    ক) নির্বাচনকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হবে।

    খ) আগামী সংসদ হবে দুই কক্ষ বিশিষ্ট। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ জন সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে এবং সংবিধান সংশোধন করতে হলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন দরকার হবে।

    গ) সংসদে নারীর প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও স্থানীয় সরকার-সহ বিভিন্ন বিষয়ে যে ৩০টি প্রস্তাবে জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যমত হয়েছে সেগুলো বাস্তবায়নে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী দলগুলো বাধ্য থাকবে।

    ঘ) জুলাই সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হবে।”

    গণভোটের দিন এই চারটি বিষয়ের ওপর একটিমাত্র প্রশ্নে আপনি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিয়ে আপনার মতামত জানাবেন।
    সুত্র: আমার দেশ
    বিিএ

  • সংসদ ও গণভোট একই দিনে

    সংসদ ও গণভোট একই দিনে

    জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোট এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন একই দিনে হবে। পিআর (আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতিতে গঠিত হবে সংসদের উচ্চকক্ষ বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে এই ঘোষণা দেন তিনি।

    এর আগে বহুল প্রত্যাশিত জুলাই সনদে সই করেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। বৃহস্পতিবার এই সনদে সই করেন তিনি। তবে ছাত্র-জনতার পক্ষ থেকে এর আগে বলা হয়েছিল, রক্তের বিনিময়ে লেখা জুলাই সনদে যদি ফ্যাসিবাদী হাসিনার নিয়োগ করা রাষ্ট্রপতি সই করেন; তাহলে তা মেনে নেয়া হবে না।

  • প্রার্থী তালিকায় বড় পরিবর্তন আনবে না বিএনপি

    প্রার্থী তালিকায় বড় পরিবর্তন আনবে না বিএনপি

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গত ৩ নভেম্বর ২৩৭ আসনে দলীয় সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে বিএনপি। ঘোষিত এই তালিকা কেন্দ্র করে সীমিত কিছু আসনে মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের সমর্থকদের বিক্ষোভ দেখা গেছে। এ অবস্থায় দলটি সংশ্লিষ্ট এসব আসনের পরিস্থিতি মনিটরিং করছে। তবে দু-এক জায়গায় কিছু সমস্যা হলেও এটি ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যাবে বলে মনে করছে বিএনপির হাইকমান্ড। তাই ঘোষিত তালিকায় বড় কোনো পরিবর্তন আনবে না তারা। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনে কিছু আসনে পরিবর্তন আনা হতে পারে, সেটি খুব বেশি নয়। এদিকে, ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের আসন বণ্টন নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে বিএনপি। তবে সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী জোট শরিকদের নিজ দলের প্রতীকে ভোট করার বিধান ভাবাচ্ছে বিএনপিকে। তাই মিত্রদের আসন বণ্টনের ক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দ্বী দলের প্রার্থিতার পাশাপাশি এ বিষয়টিও গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে দলটি। গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে গত সোমবার স্থায়ী কমিটির বৈঠক এবং গত কয়েকদিন স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে এমন আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। এসব বৈঠকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভার্চুয়ালি সংযুক্ত ছিলেন, অথবা বৈঠকের বিষয়ে অবহিত ছিলেন।

    বিএনপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, দল ঘোষিত প্রার্থী তালিকার মধ্যে যেসব প্রার্থীকে নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই, সেগুলো বাদে বাকি আসনগুলোতে মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থীর অবস্থান যাচাই করা হচ্ছে নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান দিয়ে। যাচাই-বাছাইয়ের পর পরিস্থিতি বিবেচনায় ঘোষিত প্রাথমিক প্রার্থী তালিকাতে হয়তো কিছু পরিবর্তন আনতে পারে দলটি, তবে সেটি খুব বেশি নয়। দলটির অবস্থান হচ্ছে, বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল। ফলে দু-এক জায়গায় কিছু সমস্যা হতে পারে। দলীয় উদ্যোগের কারণে এটি ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যাচ্ছে।

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল। প্রার্থিতা নিয়ে দু-এক জায়গায় সমস্যা হতে পারে। দল থেকে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে করে এগুলো ঠিক হয়ে যাচ্ছে আস্তে আস্তে। তারা আশা করছেন, এর ফলে শিগগির প্রতিটি এলাকায় সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করতে কাজ শুরু করবেন।

    এদিকে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সর্বশেষ বৈঠকে জুলাই জাতীয় সনদের পাশাপাশি শরিকদের আসন বণ্টন নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। শিগগির তারা এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন। অবশ্য যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের আসন ছাড় নিয়ে বিএনপি এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে না আসায় জোটের সম্ভাব্য প্রার্থীরা এক ধরনের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন। কারণ, হাতেগোনা কয়েকজন বাদে জোট শরিকের অধিকাংশকেই এখন পর্যন্ত মনোনয়নের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি। ফলে অনেকে নির্বাচনী এলাকায় সেভাবে কাজ করতে পারছেন না। তাই বিএনপির প্রার্থিতা ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচনের মাঠে পূর্ণ উদ্যোমে কাজ করতে দ্রুত মনোনয়ন নিশ্চয়তা চান তারা।

    জানা গেছে, ফাঁকা রাখা ৬৩ আসনের মধ্যে বিএনপি তাদের দলীয় প্রার্থীদের জন্যও বেশ কিছু আসন রেখেছে। একাদশ সংসদ নির্বাচনে শরিকদের জন্য দলটি ৫৯টি আসন ছাড়লেও এবার তাদের জন্য ২৫-৩০টি আসন ছাড়ার কথা ভাবছে। আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী দলের প্রার্থিতা বিবেচনায় নিয়ে মূলত বিজয়ী হওয়ার মতো শরিকদের ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে আসন ছাড়বে বি

    এনপি। আর আসন ছাড়ের সংখ্যা আরও বাড়বে কি না, সেটি নির্ভর করবে বিএনপির নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী জোটের আকার কেমন হয়, তার ওপর। অবশ্য ফাঁকা রাখা আসন ছাড়াও ঘোষিত ২৩৭ আসনে দলের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায়ও জোট শরিকদের জন্য কোথাও কোথাও পরিবর্তন আনতে পারে বিএনপি।

    এদিকে, আসন বণ্টন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিএনপির চাওয়া অনুযায়ী যুগপতের অধিকাংশ মিত্র এরই মধ্যে তাদের প্রার্থী তালিকা জমা দিয়েছে। এখন পর্যন্ত বিএনপির কাছে ১০৩ জনের প্রার্থী তালিকা জমা দিয়েছে যুগপতের শরিকরা। অন্যদিকে, এখনো প্রার্থী তালিকা জমা না দিলেও এ নিয়ে বিএনপির সঙ্গে গণতন্ত্র মঞ্চের আলোচনা চলছে। বিএনপির সঙ্গে অর্ধশত আসনে ‘সমঝোতা’ চায় ছয় দলীয় এই জোট।

    দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শরিকদের এই প্রার্থী তালিকা থেকে বাস্তবতার নিরিখে দলটি একটি শর্টলিস্ট করেছে। দলের নীতিনির্ধারণী নেতারা সেটা নিয়ে শরিক দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের প্রার্থিতার বিষয়টি নানাভাবে বিচার-বিশ্লেষণ করছেন। মিত্রদের আসন চূড়ান্ত করতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শিগগির লিয়াজোঁ কমিটির সঙ্গে ভার্চুয়ালি বৈঠক করবেন। এরপর মিত্রদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠক করবেন লিয়াজোঁ কমিটির নেতারা। তবে এ নিয়ে গতকাল বুধবার রাতে অনানুষ্ঠানিকভাবে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের সঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত এক নেতা বৈঠক করেছেন বলে জানা গেছে।

    অভ্যুত্থানের ছাত্রনেতাদের নিয়ে গঠিত নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গেও আসন সমঝোতা নিয়ে বিএনপির আলোচনা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। স্থায়ী কমিটির সর্বশেষ বৈঠকে এ বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সেখানে এনসিপির সঙ্গে নির্বাচনী জোট বা সমঝোতা নিয়ে বিএনপির অধিকাংশ নেতা তাদের অনীহার কথা জানান। এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য কালবেলাকে বলেন, ‘১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত যতগুলো আন্দোলন হয়েছে, সবগুলোর সম্মুখভাগে ছিলেন ছাত্ররা। আন্দোলন শেষে ছাত্ররা পড়াশোনায় ফিরে গেছেন, তারা সরকারের অংশ হননি। কিন্তু চব্বিশের গণআন্দোলনের পর ছাত্রদের বর্তমানে সরকারের অংশ করায় তাদের সম্পর্কে নানা অভিযোগ উঠেছে; এখন যদি বিএনপিও একই কাজ করে, তা ঠিক হবে না।’

    বিএনপি ও এনসিপির মধ্যে নির্বাচনী সমঝোতা হচ্ছে কি না—বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের এক অনুষ্ঠানে এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘রাজনীতিতে এসব বিষয়ে শেষ কথা তো বলা যায় না। তবে এখন পর্যন্ত বিএনপির সঙ্গে অন্যান্য রাজনৈতিক দল, যারা যুগপৎ আন্দোলনে ছিল; এর বাইরে যারা গণতান্ত্রিক সংগ্রামে ছিল—এমন কিছু ইসলামিক দলসহ আরও কিছু দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে আমরা নির্বাচন করতে চাই।’

    অবশ্য এনসিপির সঙ্গে আলোচনার খবর অস্বীকার করলেও সমঝোতার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিতে চান না সালাহউদ্দিন। তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত এনসিপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হব কি হব না, কিংবা তারা আমাদের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে ইলেকশন করবে কি করবে না, সেটার কোনো প্রস্তাব তাদের পক্ষ থেকেও আসেনি, আর আমাদের পক্ষ থেকেও যায়নি। তবে একদম সেই সমঝোতা বা সেই জোট হবে না—এটাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সে জন্য আরও অপেক্ষা করতে হবে।’

  • বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা

    বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা

    প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস আগামীকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বিটিভি নিউজ এবং বিটিভি ওয়ার্ল্ড ভাষণটি সরাসরি সম্প্রচার করবে।

    বুধবার সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

    প্রধান উপদেষ্টা তার ভাষণে জুলাই জাতীয় সনদ বা সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    এর আগে গত ৫ আগস্টে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছিলেন প্রধান উপদেষ্টা।

  • নিখোঁজ নাইমুর রহমান মাদারীপুর থেকে উদ্ধার

    নিখোঁজ নাইমুর রহমান মাদারীপুর থেকে উদ্ধার

    নিখোঁজ বাংলাদেশ ব্যাংকের উপপরিচালক নাইমুর রহমানকে মাদারীপুর শহরের একটি আবাসিক হোটেল থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) রাত ১০টার দিকে শহরের পুরান বাজার এলাকার রয়েল রেস্ট হাউস থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর সদর থানার পুলিশ এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নাঈমুর রহমান সরকার।

    জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নাঈমুর রহমান সরকার বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন উপপরিচালক নিখোঁজ ছিলেন।তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারি, তিনি মাদারীপুরের একটি হোটেলে অবস্থান করছেন। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে তিনি থানার হেফাজতে আছেন।

    রয়েল রেস্ট হাউসের ম্যানেজার নটরাজ সরকার জানান, তিনি একদিন আগে হোটেলে এসে নিজেকে চাকরিপ্রার্থী হিসেবে পরিচয় দেন।

    পরে মঙ্গলবার রাতে পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেট এসে তাকে নিয়ে যান।

    মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল হোসেন বলেন, ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করছি। এ বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হবে।

    প্রসঙ্গত, উপপরিচালক নাইমুর রহমান নিখোঁজ হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। পুলিশের তৎপরতায় অবশেষে তিনি নিরাপদে উদ্ধার হয়েছেন।

  • আগামী ৩-৪ দিনের মধ্যেই জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত

    আগামী ৩-৪ দিনের মধ্যেই জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত

    আগামী তিন-চার দিনের মধ্যেই জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে পরিষ্কারভাবে জানা যাবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।

    মঙ্গলবার রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে আইনগত সহায়তা প্রদান অধ্যাদেশ সংশোধন বিষয়ক এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

    আইন উপদেষ্টা বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করে আমাদের একটা ঐক্যবদ্ধ নির্দেশনা দেবে, এ ধরনের প্রত্যাশা আমরা করেছিলাম। কিন্তু প্রত্যাশা করেই আমরা বসে থাকিনি, নিজেদের মতো কাজ করেছি। সনদ বাস্তবায়নের ব্যাপারে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি, তা আগামী তিন-চার দিনের মধ্যে পরিষ্কারভাবে জানতে পারবেন।

    তিনি বলেন, আমরা উপদেষ্টা পরিষদের বিভিন্ন পর্যায়ে এটা আলোচনা করছি। সব দলের প্রত্যাশার প্রতি সমন্বয় ঘটিয়ে দেশের এবং জনগণের স্বার্থে যা করা দরকার সেটাই আমরা করতে যাচ্ছি।’

  • সরকারের প্রশাসন থেকেই দোসরদের প্রশ্রয় দেয়া হচ্ছে: রিজভী

    সরকারের প্রশাসন থেকেই দোসরদের প্রশ্রয় দেয়া হচ্ছে: রিজভী

    ’ বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ড. ইউনুসের প্রশাসন থেকেই দোসরদের প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে। শেখ হাসিনা ভারত থেকে অডিও রেকর্ড পাঠাচ্ছেন, আর দেশে চলছে নাশকতার প্রস্তুতি।

    মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) বিকেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল আয়োজিত জাতীয় সংহতি দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    রিজভী বলেন, ‘শেখ হাসিনা গণতন্ত্রকে আঁচলের নিচে লুকিয়ে রেখেছিলেন। বেগম খালেদা জিয়াকে ভালো চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া হয়নি। এখন আবার শোনা যাচ্ছে, ১৩ তারিখে তারা কিছু করবে—এই সাহস তারা কীভাবে পায়? সরকারকে দোসরদের বিষয়ে কঠোর হতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা, পদ্মা সেতুর টাকা, ফ্লাই ওভারের টাকা, সবকিছুর টাকা আছে আওয়ামী লীগের কাছে। যা দিয়ে নাশকতা তৈরি করে একটা চোরা রাস্তা তৈরি করছে আওয়ামী লীগ। তা দিয়ে নাশকতা তৈরিতে ভারত থেকে অডিও বার্তা দিচ্ছে শেখ হাসিনা।’

    তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে কেউ কেউ বলছে ২০২৯ সালে নির্বাচন হবে। এ তো ফ্যসিবাদী কণ্ঠস্বর।

    বিএনপির এই শীর্ষ নেতা আরও বলেন, ‘৭ই নভেম্বর আমরা সত্যিকারের স্বাধীনতা পেয়েছি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সেই সময় সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন। শেখ মুজিবুর রহমান আত্মপরিচয়ের সংকটে ভুগেছিলেন, আর জিয়াউর রহমান আমাদের সেই সংকট থেকে মুক্তি দিয়েছেন।’

    শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের বিষাক্ত ছোবলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও আক্রান্ত হয়েছিল। ক্যাম্পাসে তখন কোনো সহাবস্থান ছিল না। এখন কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। ছাত্রদল সেই মূল্যবোধকে সামনে রেখে রাজনীতি করবে।’

    অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

    সভায় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, ‘রাকসু নির্বাচনে অনেক অনিয়ম ও ষড়যন্ত্র ছিল। প্রশাসন লেভেল প্লেইং ফিল্ড নিশ্চিত করতে পারেনি। তারপরও আমাদের আরও ভালো ফল করা উচিত ছিল। তবে আমরা হতাশ নই, আমাদের লড়াই চলবে। ইনশা আল্লাহ, ভবিষ্যতের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রদল ভালো ফলাফল করবে

  • খুনি হাসিনার দোসরদের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে: সাদিক কায়েম

    খুনি হাসিনার দোসরদের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে: সাদিক কায়েম

    ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েম বলেছেন, সমগ্র দেশের মুক্তিকামী ছাত্র-জনতাকে খুনি হাসিনা ও তার দোসরদের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

    মঙ্গলবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে আয়োজিত ‘রান উইথ জবি শিবির’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।

    সাদিক কায়েম বলেন, খুনি হাসিনা ও তার দোসরদের বিরুদ্ধে আমাদের সর্বদা সজাগ থাকতে হবে। জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের দোসররা বাংলাদেশ থেকে পালিয়েছে। আগামীর বাংলাদেশ খুনি হাসিনা ও তার নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ-যুবলীগের ঠিকানা হবে না। ফ্যাসিবাদের দোসররা এখনো গুপ্ত অবস্থায় আছে, সবাইকে শনাক্ত করে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করাতে হবে।

    তিনি আরও বলেন, আমরা তাদের ধরে পুলিশের হাতে সোপর্দ করব। খুনি হাসিনাসহ তার দোসরদের বাংলাদেশ থেকে সমূলে উৎপাটন করতে হবে। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ একটি জঙ্গি সংগঠন—এদের প্রতিরোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

    জকসু নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জকসুর তারিখ পেছানোর জন্য ওপর থেকে কারও ‘ওহী নাজিল’ হয়েছে বলে মনে হয়। কর্তৃপক্ষের কাছে আহ্বান জানাই—আপনারা পক্ষপাতিত্ব করবেন না। আমরা চাই না শিক্ষক বনাম ছাত্র পরিস্থিতি তৈরি হোক।

    শরীরচর্চা প্রসঙ্গে কায়েম বলেন, আজকের ‘রান উইথ শিবির’ কর্মসূচিতে আমি শিক্ষার্থীদের উৎসবমুখর পরিবেশ দেখেছি। তরুণ প্রজন্ম যদি দেশের জন্য কিছু করতে চায়, তবে তাদের শারীরিকভাবে ফিট থাকতে হবে। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ছাত্রশিবির এমন সৃজনশীল ও ইতিবাচক কার্যক্রম চালিয়ে আসছে, যা ফ্যাসিস্ট আমলে বাধাগ্রস্ত হয়েছিল।

    দৌড় কর্মসূচিতে অংশ নেয় দুই হাজারের বেশি শিক্ষার্থী

    ‘চলো একসাথে হাঁটি, একসাথে দেশ গড়ি’ স্লোগানকে ধারণ করে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে দুই হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে শুরু হয়ে কোর্ট এলাকা, রায় সাহেববাজার মোড়, ধোলাইখাল ঘুরে ধূপখোলা মাঠে গিয়ে এটি শেষ হয়।

    শাখা সূত্রে জানা গেছে, অনলাইনে প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থী নিবন্ধন করে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করে।

    শিবিরের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক সিগবাতুল্লাহ সিগবা বলেন, বাংলাদেশ এখন এক গভীর সংকটের মধ্যে আছে। এই সময়ে তরুণ প্রজন্মই পারে দেশকে রক্ষা করতে। আমাদের তরুণরা যদি সচেতন ও ফিট থাকে, তবে কোনো ফ্যাসিবাদী বা বিদেশি আধিপত্যবাদী শক্তি বাংলাদেশে মাথা তুলতে পারবে না।

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, আমাদের এ কর্মসূচির মূল প্রতিপাদ্য ‘চলো একসাথে হাঁটি, একসাথে দেশ গড়ি’। শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ না থাকলে দেশগঠন সম্ভব নয়। শিক্ষার্থীদের আগ্রহ দেখে আমরা অনুপ্রাণিত হয়েছি।

    কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী সিফাত বলেন, সকাল সকাল ক্যাম্পাসে গিয়ে এমন পরিবেশ পাব ভাবিনি। অসাধারণ লেগেছে! ধন্যবাদ ছাত্রশিবির জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে।

    শিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক মোহতাসিম বিল্লাহ শাহিদী বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শরীরচর্চার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। আজকের কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখে বোঝা যায়, তারা শারীরিকভাবে ফিট থাকতে চায়। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই—শরীরচর্চার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো দ্রুত গড়ে তোলা হোক।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন জবি শিবিরের সাবেক সভাপতি মাকসুদুর রহমান, আসাদুল ইসলাম, শাখা সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল আলিম আরিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ জাহেদ, ও অফিস সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল প্রমুখ।

  • মাগুরায় রাইস মিলে কেমিক্যাল দুর্ঘটনায় পাঁচ শ্রমিক দগ্ধ

    মাগুরায় রাইস মিলে কেমিক্যাল দুর্ঘটনায় পাঁচ শ্রমিক দগ্ধ

    মাগুরায় সদরের আলোকদিয়া এলাকায় অটো রাইস মিলে কেমিক্যাল ঢালার সময়ে সেটি উথলে পড়ে পাঁচ শ্রমিক দগ্ধ হয়েছেন।

    শনিবার (১১ অক্টোবর) দুপুরে সদরের আলোকদিয়া এলাকায় আমেনা অটো রাইস মিলে’ এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    দগ্ধ শ্রমিকরা হলেন, টাঙ্গাইল জেলার মোহাম্মদ শিপন (৪৫), ফরিদপুর জেলার সবুজ (৩২), শাহিন হোসেন (২০), জয়পুরহাটের অনুকূল (২৪) ও মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর গ্রামের রেজওয়ান (৩৮)। তাদেরকে দ্রুত উদ্ধার করে মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডাক্তার ইমরান আহমেদ জানান, আহতদের শরীরে গুরুতর দগ্ধ হয়েছে। তাদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বর্তমানে সবাইকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

    আহতদের সহকর্মী শ্রমিক জুয়েল শেখ বলেন, মিলে ব্যবহৃত কেমিকেল মাঝেমধ্যেই পরিবর্তন করতে হয়। শনিবার দুপুরে কেমিক্যাল ঢালার সময় তা হঠাৎ উথলে গিয়ে তাদের গায়ে পড়ে যায়। তখন আমরা দ্রুত ছুটে গিয়ে সবাইকে উদ্ধার করে মাগুরা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসি।

    মাগুরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আইয়ুব আলী জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পাশাপাশি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দগ্ধদের খোঁজ খবর নেয়া হয়েছে।

    তবে এ বিষয়ে মিল কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায় নি।

  • গণভোট না হলে নির্বাচন ২৯ সালে: হামিদুর রহমান আযাদ

    গণভোট না হলে নির্বাচন ২৯ সালে: হামিদুর রহমান আযাদ

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, গণভোট সামনে এলে বিএনপি সংবিধান দেখায়, তাহলে বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী পাঁচ বছরের আগে নির্বাচনের সুযোগ নেই। তিনি বলেন, পাঁচ বছর পরপর নির্বাচনের কথা সংবিধানে লেখা আছে। ২০২৪ এ যদি নির্বাচন হয়, তাহলে ২০২৬ সালে নির্বাচন হবে কোথায় লেখা আছে? সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হতে হবে ২০২৯ সালে।

    মঙ্গলবার রাজধানীর পল্টন মোড়ে ৮ দলের সমাবেশে এ মন্তব্য করেন তিনি।

    হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‌‘কেউ কেউ বলছেন সংবিধানে গণভোটের বিধান নেই। তাদের বলতে চাই, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংবিধান সংশোধন করে গণভোটের ধারা বাতিল করেছিলেন শেখ হাসিনা। এখন যারা বলেন সংবিধানে গণভোট নেই, তারা কি তাহলে হাসিনার সুরে কথা বলেন না?’

    তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। সমাজকে নতুন ভিত্তিতে শক্তিশালী করতে এবং নতুন বাংলাদেশের পথে যাত্রা শুরু করতে হলে জাতীয় নির্বাচনের আগে সংস্কারের অংশ হিসেবে গণভোট দিতে হবে। নির্বাচনের আগে গণভোট ছাড়া জুলাই সনদ বাস্তবায়নও হবে না, সুষ্ঠু নির্বাচনও সম্ভব নয়।’

    বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, আপনারা আবার নতুন করে ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চান, বাংলাদেশের জনগণ এ ষড়যন্ত্র বাংলার মাটিতে হতে দেবে না। আসুন সরকারকে বলতে চাই জুলাই সনদ আদেশ জারি করুন।

  • আগে জুলাই সনদের আইনি স্বীকৃতি;  পরে নির্বাচন

    আগে জুলাই সনদের আইনি স্বীকৃতি; পরে নির্বাচন

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ছাড়া ২৬ সালে কোনো নির্বাচন হবে না।

    মঙ্গলবার রাজধানীর পল্টনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনসহ আট দলের ডাকা সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

    শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই বিপ্লবের স্বীকৃতি দিতে হলে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দিতে হবে। এই আইনি ভিত্তি ছাড়া কোনো নির্বাচন হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নাই।

    তিনি আরো বলেন, দেশের মুক্তিকামী মানুষের কথা একটাই- জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গণভোট অনুষ্ঠিত হতে হবে। গণভোটের ব্যাপারে সকল দল একমত। তাহলে তারিখ নিয়ে এই বায়নাবাজি কেন?”

    জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে সাংবিধানিক আদেশ জারি ও নভেম্বর মাসেই গণভোট আয়োজন, নির্বাচনে সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করাসহ পাঁচ দফা দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করেছে যুগপৎ কর্মসূচি চালিয়ে আসা সমমনা আটটি রাজনৈতিক দল।

    দলগুলো হলো- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি।

  • সংঘাত বাড়ছে বিএনপিতে মনোনয়ন নিয়ে

    সংঘাত বাড়ছে বিএনপিতে মনোনয়ন নিয়ে

    বিএনপিতে মনোনয়ন নিয়ে সংঘাত বাড়ছে আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ইতোমধ্যে ২৩৭ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। কিন্তু যতই দিন যাচ্ছে, মনোনয়ন নিয়ে দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে সংঘাত ক্রমেই বাড়ছে। এমনকি মনোনয়ন ঘিরে সংঘর্ষে নিহতের ঘটনাও ঘটেছে। দীর্ঘদিন ধরে নিপীড়িত অনেক নেতা বঞ্চিত হওয়ায় তাদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ থেকে এই সংঘাতের সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    সংঘাত নিরসনে দলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সে সঙ্গে প্রয়োজনে প্রার্থীদের নিয়ে বসে দ্বন্দ্ব নিরসনের পরামর্শ দিয়েছেন তারা।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ ১৫ বছর আওয়ামী ফ্যাসিবাদী আমলে দলের জন্য নির্যাতিত হয়েছেন বিএনপির অনেক নেতাকর্মী ও সমর্থক। গণতন্ত্রে উত্তরণের পথে আগামী নির্বাচন ঘিরে মনোনয়নকে দলের কাছে মূল্যায়িত হওয়ার অংশ হিসেবে দেখেছেন তারা। দীর্ঘদিনের নিপীড়িত-নির্যাতিত এসব নেতাকে ঘিরে স্বপ্ন বুনছেন তাদের কর্মী-সমর্থকরা। কিন্তু প্রত্যাশা পূরণ না হওয়া এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিতর্কিত প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত কোথাও কোথাও প্রাণঘাতী সংঘাতে রূপ নিয়েছে।যদিও বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই মনোনয়নের মাধ্যমে যে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে, সেটি সম্ভাব্য।

    বিভিন্ন স্থানে এটির রদবদলও হতে পারে। তবে বিতর্কিত ও তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক নেই—এমন অনেক প্রার্থীর নাম ঘোষণাকে কেন্দ্র করে প্রার্থী পুনর্বিবিবেচনার দাবি উঠেছে তৃণমূল থেকে। বিক্ষোভ, মশাল মিছিল, সভা-সমাবেশ ও মানববন্ধনে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন অনেক মনোনয়নপ্রত্যাশী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা। এ ছাড়া যেসব আসনে বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্ত হয়নি, সেগুলোর কিছু কিছুতে দলীয় প্রার্থীকে মনোনয়নের দাবি জানিয়েছেন নেতাকর্মীরা।এর মধ্যে গত রোববার ময়মনসিংহের গৌরীপুরে বিএনপির মনোনয়নকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় তানজিন আহমেদ আবিদ (৩০) নামে এক ছাত্রদলকর্মী নিহত হন।

    গৌরীপুর পৌর শহরের মধ্যবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।এ ছাড়া বিএনপির প্রার্থী ঘোষণার পর মাদারীপুর-১ (শিবচর), মেহেরপুর-২ (গাংনী), কুষ্টিয়া-৩ (সদর), চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি), চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড), চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী), কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর), কুষ্টিয়া-৪, কুমিল্লা-৬ (সদর ও সেনানিবাস), কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট ও লালমাই উপজেলা), চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ), বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী), ঠাকুরগাঁও-২, জয়পুরহাট-২, জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ), ঢাকা-১২, টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল), ফরিদপুর-১ (বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলা), সিলেট-৪ (গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ ও জৈন্তাপুর), দিনাজপুর-২ (বিরল-বোচাগঞ্জ), রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর), রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর), চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (ভোলাহাট, গোমস্তাপুর ও নাচোল), কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস), কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ), নাটোর-১ (লালপুর ও বাগাতিপাড়া), ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর), গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি), খুলনা-২ (সোনাডাঙ্গা ও খুলনা সদর) আসনে বিদ্রোহ, বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা, বান্দরবানসহ বেশ কয়েক স্থানে বিক্ষোভ দেখা দিয়েছে।এর মধ্যে ফেনী সদর আসনে বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে ধানক্ষেতে দাঁড়িয়ে ক্রিকেটারের ভঙ্গিতে ‘রিভিউ আবেদন’ করে আলোচনায় এসেছেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল। তার অভিনব এই প্রতিবাদ ইতোমধ্যেই দল ও দলের বাইরে সাড়া ফেলেছে। এ ছাড়া বক্তব্যের শেষে আওয়ামী স্টাইলে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে মনোনয়ন হারিয়েছেন মাদারীপুর-১ (শিবচর উপজেলা) আসনের কামাল জামান মোল্লা। এ নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বইছে। একইসঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ৯০ বছর বয়সি সাবেক সচিব মুশফিকুর রহমানের নাম ঘোষণা করেছে বিএনপি। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ ১৭ বছর রাজনীতি এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন থেকে তিনি ছিলেন সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন। কানাডার নাগরিক সাবেক এই সচিব সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। এ নিয়ে দলের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।এদিকে টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে বিএনপির সম্ভাব্য মনোনয়ন ঘোষণা নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

    কেন্দ্রীয়ভাবে প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতামত উপেক্ষিত হওয়ায় এমন প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। আসনটিতে এবার মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য এসএম ওবায়দুল হক নাসিরকে। এরপর থেকেই লাগাতার আন্দোলন করে যাচ্ছেন সাবেক মন্ত্রী, চারবারের সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক উপদেষ্টা লুৎফর রহমান খান আজাদের কর্মী-সমর্থকরা। বিক্ষোভকারীরা জানান, যে পর্যন্ত এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন পরিবর্তন না হবে, সে পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন তারা।জানতে চাইলে লুৎফর রহমান খান আজাদ আমার দেশকে বলেন, ৩৭ বছর ধরে দলের সঙ্গে আছি। তবে এই মনোনয়ন নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি নই। মনোনয়নের মাধ্যমে নির্বাচনি এলাকার বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে বলে মনে করেন কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে আজাদ বলেন, ‘জনআকাঙ্ক্ষা আদৌ পূরণ হয়নি। তবে দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে—এটি চূড়ান্ত নয়, সম্ভাব্য তালিকা। প্রয়োজনে অদল-বদল হতে পারে। এখন দলের হাইকমান্ড বিষয়টি বিবেচনা করবে। সে সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করব।’

    সংঘাত নিরসনে এখন দলকেই এগিয়ে আসতে হবে বলে মন্তব্য করেন রাজনীতি বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ। বলেন, ‘বিএনপির একটু সহানুভূতিশীল হওয়ার সুযোগ আছে। কারণ, দীর্ঘদিন তারা (নেতাকর্মীরা) নানারকম নির্যাতন-অত্যাচার সহ্য করে রাজনীতি করেছেন। এ কারণে তারা তো মনোনয়ন চাইতেই পারেন। কিন্তু দলের পক্ষে সবাইকে মনোনয়ন দেওয়া সম্ভবও হচ্ছে না। দল অনেক কিছু বিচার-বিশ্লেষণ করছে। পুরোটাই নির্ভর করবে দলের ওপর।

    ড. সাব্বির বলেন, ‘তারা (বিএনপির হাইকমান্ড) যদি সমঝোতা করে, আলাপ-আলোচনা করে নিবৃত্ত করতে পারে—সেটা বরং দলের জন্য ভালো। অন্য কোনোভাবে দল পুরস্কৃত করে তাদের ম্যানেজ করার চেষ্টা করতে পারে। এটা দলকেই করতে হবে।
    এ ক্ষেত্রে মনোনয়নবঞ্চিত এসব নেতার অবদানকে স্বীকার করে, তাদের গুরুত্ব দিয়ে বোঝাতে হবে বলে মনে করেন ড. সাব্বির। তিনি বলেন, ‘সবাইকে তো একসঙ্গে খুশি করা যায় না। কিন্তু তাদের বোঝানোটা মনে হয় দলের জন্য কঠিন কোনো কাজ নয়। তারপরও দলের মধ্যে দু-একজন তো থাকেন, যারা কিছু মানতে চান না। তারা বিদ্রোহী প্রার্থী হবেন—সেটাও দলকে চূড়ান্তভাবে সহ্য করে নিতে হবে।’

  • জামায়াত ক্ষমতায় গেলে বাড়তি সুবিধা পাবে নারী শ্রমিকরা

    জামায়াত ক্ষমতায় গেলে বাড়তি সুবিধা পাবে নারী শ্রমিকরা

    নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করতে পারলে কর্মক্ষেত্রে নারীদের নিরাপত্তা বিধান করা হবে বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

    সোমবার রাতে রাজধানীর মিরপুরে ইসলামী ব্যাংক মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে ‘ডা. শফিকুর রহমান সমর্থক গোষ্ঠী’ মিরপুর-কাফরুল অঞ্চল (ঢাকা-১৫ আসন) আয়োজিত প্রীতি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি ।

    জামায়াতের আমির বলেন, নারীদের কর্মে নিয়োগের নীতিমালা করা হবে। কর্মক্ষেত্রে নারীরা পাঁচ ঘন্টা কাজ করবেন বিনিময়ে আট ঘন্টার পারিশ্রমিক পাবেন। পাঁচ ঘন্টার পারিশ্রমিক মালিকপক্ষ পরিশোধ করবেন এবং তিন ঘন্টার পারিশ্রমিক সরকার পরিশোধ করবে। যারা ঘরের কাজ করবেন তাদেরকে রত্নগর্ভা মা হিসেবে সম্মানিত করা হবে। নারীরা আট ঘন্টা কাজ করতে চাইলে তাদেরকে সম্মানিত করা হবে বলেও জানান তিনি।

    তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে আমার কাছে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না বরং আমি নিজে এসে আপনাদের সমস্যার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধান করব।

    তিনি আরো বলেন, যুবকদের কাজ এখনো শেষ হয়নি তাদেরকে সমাজের সব জায়গা থেকে আবর্জনা পরিষ্কার করতে হবে।

    ডা.শফিকুর রহমান আরো বলেন, সুশিক্ষার অভাবে বাংলাদেশ অনেক সমস্যাগ্রস্ত হয়ে আছে। আল্লাহ আমাদেরকে সরকার গঠন করার সুযোগ দিলে প্রত্যেকটি শিশুকে সুশিক্ষিত করে গড়ে তুলে ঘুনে ধরা সমাজ পরিবর্তন করে দিব ইনশাআল্লাহ।

    সভাপতির বক্তব্যে আব্দুর রহমান মুসা দুর্নীতি, অন্যায় ও অশ্লীলতামুক্ত বাংলাদেশ গড়তে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসন থেকে ডা. শফিকুর রহমানকে বিজয়ী করার জন্য সবাইকে একযোগে কাজ করার আহবান জানান।

    প্রীতি সমাবেশে যোগদানের আগে সেনপাড়ার মসজিদুল আকসা জামে মসজিদে মাগরিবের নামাজ ও মসজিদুর রহমান জামে মসজিদে এশার নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য প্রদান ও কুশল বিনিময় করেন জামায়াত আমির।

    এ সময় তিনি দেশের মানুষের জীবনে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য মসজিদ ও মসজিদের বাইরে কোরআন ও সুন্নাহর অনুসরণ করার জন্য বিনীত অনুরোধ করেন এবং সমাজের সব উন্নয়নমূলক কাজ মসজিদের তত্ত্বাবধানে হওয়া উচিৎ বলে মন্তব্য করেন। তিনি দেশ থেকে মন্দকে তাড়িয়ে ভালোকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য যুবকদেরকে অতীতের মত ভবিষ্যতেও অগ্রণী ভূমিকা রাখতে আহ্বান জানান।

    এছাড়াও আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সৎ শাসক পছন্দের জন্য আল্লাহ ও নবীওয়ালা পথে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়ে বলেন, আল্লাহ যদি আমাদের দায়িত্ব দেয় তাহলে আপনাদের আমানতের পাহারাদার হয়ে কাজ করব ইনশা’আল্লাহ।

    ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমমির আব্দুর রহমান মুসার সভাপতিত্বে ও কাফরুল পশ্চিম থানাদ ভারপ্রাপ্ত আমির আতিক হাসান রায়হানের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দীন মানিক।

    আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরী উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা-১৫ আসনের সদস্য সচিব শাহ আলম তুহীন, উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য মোঃ শহীদুল্লাহ, জোন টিম সদস্য জসীমউদ্দীন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কাফরুল জোন পরিচালক মিজানুর রহমান, শ্রমিক নেতা নেসার উদ্দিন ও মিজানুর রহমান, কাফরুল পশ্চিম থানার কর্ম পরিষদ সদস্য মতিউর রহমান, মো. সাইফুল্লাহ, খন্দকার মাহবুবুর রহমান, সুলতান মাহমুদ, নাসিমুল গনি, আমিনুর রহমান আমানসহ স্থানীয় নেতারা

  • নির্বাচনী প্রচারণায় পোস্টার, ড্রোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

    নির্বাচনী প্রচারণায় পোস্টার, ড্রোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রথমবারের মতো সব প্রার্থীর জন্য একই মঞ্চে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করার বাধ্যবাধকতা রেখে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর জন্য ‘আচরণ বিধিমালা, ২০২৫’ জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সোমবার (১১ নভেম্বর) রাতে বিধিমালাটি গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে। এতে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সুপারিশ এবং ২০০৮ সালের আচরণবিধির সঙ্গে সমন্বয় রেখে বেশ কিছু নতুন ও কঠোর বিষয় যুক্ত করে এই আচরণবিধি প্রণয়ন করা হয়েছে।

    নতুন এই বিধিমালায় ভোটের প্রচারণায় প্রথমবারের মতো পোস্টার ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি ড্রোন ব্যবহার এবং বিদেশে যে কোনো ধরনের প্রচারণা কার্যক্রমেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

    বিধিমালা অনুযায়ী, পরিবেশ দূষণ রোধ ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে নির্বাচনী প্রচারণায় সব ধরনের পোস্টার ব্যবহার এবং ড্রোন ব্যবহারের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। প্রার্থীর পক্ষে ২০টির বেশি বিলবোর্ড, ব্যানার বা ফেস্টুন ব্যবহার করা যাবে না।

    • এ ছাড়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভোটের প্রচারেও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আনা হয়েছে। বিশেষত, অসৎ উদ্দেশ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে কোনো প্রচার চালানো সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

    নতুন বিধান অনুযায়ী, আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের নির্বাচন কমিশনে একটি অঙ্গীকারনামা জমা দেয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

    আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে এবার কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। কোনো প্রার্থী বিধিমালা ভঙ্গ করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড ও দেড় লাখ টাকা জরিমানা হতে পারে। এ ছাড়া, রাজনৈতিক দলের জন্য দেড় লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। গুরুতর লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে তদন্ত সাপেক্ষে প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতাও নির্বাচন কমিশনকে দেয়া হয়েছে।